(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الواردة في الابتلاء القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: الأحاديث الواردة في الابتلاء جمعا ودراسة [بحث محكَّم]
المؤلف: أ. د. حسين بن غازي التويجري
الناشر: (الناشر المتميز- الرياض)، (دار النصيحة - المدينة النبوية)
الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2022 م
عدد الصفحات: 92
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1446
পরীক্ষা ও বিপদের বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
বই: পরীক্ষা ও বিপদের বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ: সংগ্রহ ও পর্যালোচনা [পিয়ার-রিভিউড গবেষণা]
লেখক: প্রফেসর ড. হুসাইন বিন গাজি আত-তুওয়াইজরি
প্রকাশক: (আন-নাশির আল-মুতামাইয়িজ - রিয়াদ), (দারুন নাসিহাহ্ - আল-মদিনাহ্ আন-নাবাবিয়্যাহ)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة:إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ به من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}
(1){يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}
(2){يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}
(3)أما بعد:
فالابتلاء سنة الله في هذه الحياة، قال تعالى: {الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
(১){হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একজন ব্যক্তি থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট কিছু চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}
(২){হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো; তবেই তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।}
(৩)অতঃপর:
পরীক্ষা এই জীবনে আল্লাহর একটি রীতি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ৬)
وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ}
(1)، والابتلاء تتعد صوره، وتتنوع أشكاله: فتارة يكون فيما يحبه الإنسان، وتارة أخرى فيما يكره، فمرة بالخير يكون الابتلاء، ومرة بالشر، قال تعالى: {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ}
(2)، وقد شرع الرسول صلى الله عليه وسلم لكل ابتلاء ما يناسبه، فالابتلاء بالخير والنعماء مما يحبه الإنسان يناسبه الشكر والثناء على الله عز وجل، والابتلاء بالشر، وفيما يكره الإنسان من أمراض وحوادث مؤلمة ونحوها يناسبه الصبر واحتساب الأجر والثواب، وعدم التسخط على قضاء الله وقدره، فَعَنْ صُهَيْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ"
(3)، ومن أجل هذا كله ينبغي للمسلم أن يوطن نفسه على هذا، وأنه منذُ جرى عليه قلم التكليف فهو مبتلى بالسراء والضراء، فيبتلى بنعمة الصحة ونعمة البصر والسمع واللسان ونحوها، مبتلى بوجود الوالدين والزوجة والأولاد وغيرها، ومبتلى بضدها من أمراض وفقد للحواس أو بعضها،
--------------------------------------------
...এবং জীবন, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে শ্রেষ্ঠ? তিনি মহাপরাক্রমশালী, অত্যন্ত ক্ষমাশীল।}
(১) আর পরীক্ষার রূপ অনেক এবং এর ধরন বিচিত্র: কখনও তা মানুষের পছন্দনীয় বিষয়ের মাধ্যমে হয়, আবার কখনও অপছন্দনীয় বিষয়ের মাধ্যমে। কখনও মঙ্গলের মাধ্যমে পরীক্ষা হয়, আবার কখনও অমঙ্গলের মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে; আর আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।}
(২) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি পরীক্ষার জন্য তার উপযুক্ত আমল বিধিবদ্ধ করেছেন। সুতরাং মানুষের পছন্দনীয় কল্যাণ ও নেয়ামতের মাধ্যমে পরীক্ষার ক্ষেত্রে উপযুক্ত আমল হলো মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় ও প্রশংসা করা। আর মানুষের অপছন্দনীয় অকল্যাণ, রোগব্যাধি, বেদনাদায়ক দুর্ঘটনা ও অনুরূপ বিষয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার ক্ষেত্রে উপযুক্ত আমল হলো ধৈর্য ধারণ করা এবং সওয়াবের আশা রাখা, আর আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের প্রতি অসন্তুষ্ট না হওয়া। সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “মুমিনের বিষয়টি আশ্চর্যজনক, তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। আর এটি মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য নয়। যদি সে সচ্ছলতা ও সুখ লাভ করে তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি সে দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হয় তবে সে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।”
(৩) এই সবকিছুর কারণেই একজন মুসলমানের উচিত নিজেকে এর ওপর অভ্যস্ত করা। সে যখন থেকেই শরঈ দায়বদ্ধতার (তাকলিফ) উপযুক্ত হয়েছে, তখন থেকেই সে সুখ ও দুঃখের মাধ্যমে পরীক্ষিত হচ্ছে। সে সুস্থতা, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও বাকশক্তির ন্যায় নেয়ামত দ্বারা যেমন পরীক্ষিত হয়, তেমনি পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানাদির উপস্থিতির মাধ্যমেও পরীক্ষিত হয়। আবার এগুলোর বিপরীত অবস্থা—যেমন রোগব্যাধি এবং সব বা কিছু ইন্দ্রিয়শক্তি হারানোর মাধ্যমেও সে পরীক্ষিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وفقد للوالدين، والأودلاد وغيرها، ولأهمية هذا الموضوع حاولت أن أجمع الأحاديث الواردة في الابتلاء ودراستها، وشرحها، وقد اسميت البحث:
الأحاديث الواردة في الابتلاء جمعًا ودراسةً
منهج البحث:قسمت البحث إلى مقدمة، ومبحثين، وخاتمة:
فالمقدمة ذكرت فيها أهمية هذا البحث، وخطة البحث، والمنهج الذي سرت عليه في جمع أحاديث الموضوع، وطريقة تخريج الأحاديث.
والمبحث الأول: يحتوي على مطالب ثلاثة:
المطلب الأول: تعريف الابتلاء.
المطلب الثاني: ذكر الابتلاء في القرآن الكريم.
المطلب الثالث: من حِكم الابتلاء.
المبحث الثاني: الأحاديث الواردة في الابتلاء، ويحتوي على تسعة عشر مطلبًا:
المطلب الأول: الابتلاء على قدر الإيمان.
المطلب الثاني: البلاء قد يكون سببًا لتكفير السيئات.
এবং পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও অন্যদের হারানো। এই বিষয়ের গুরুত্বের কারণে আমি পরীক্ষা ও বিপদ-আপদ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো সংকলন, পর্যালোচনা ও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি এবং এই গবেষণার নাম দিয়েছি:
বিপদ-আপদ ও পরীক্ষার বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ: সংকলন ও পর্যালোচনা
গবেষণা পদ্ধতি:আমি গবেষণাকে একটি ভূমিকা, দুটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:
ভূমিকায় আমি এই গবেষণার গুরুত্ব, গবেষণার পরিকল্পনা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের হাদিসগুলো সংকলনের ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং হাদিসগুলোর তাখরিজ পদ্ধতি উল্লেখ করেছি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি তিনটি অনুচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পরীক্ষার সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে পরীক্ষার আলোচনা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পরীক্ষার কতিপয় রহস্য ও তাৎপর্য।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরীক্ষার বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ, যা উনিশটি অনুচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ঈমানের পরিমাপ অনুযায়ী পরীক্ষা হওয়া।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পরীক্ষা বা বিপদ-আপদ গুনাহ মোচনের কারণ হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ৮)
المطلب الثالث: السعيد من جنب الفتن، وإذا ابتلي صبر.
المطلب الرابع: تعجيل العقوبة في الدنيا خير من المعاقبة عليها في الآخرة.
المطلب الخامس: مشروعية الرضا بالبلاء وعدم التسخط.
المطلب السادس: حال المؤمن عند الابتلاء بالسراء أو بالضراء.
المطلب السابع: إذا أراد الله بأحد خيرًا أصاب منه.
المطلب الثامن: مواصلة كتابة ثواب الأعمال عند توقفها بسبب الابتلاء.
المطلب التاسع: تنوع البلاء للإنسان فقد يكون في نفسه، أو ماله، أو ولده.
المطلب العاشر: قد يكون البلاء سببًا في وصولك لدرجة عالية في الجنة لاتبلغها بعملك.
المطلب الحادي عشر: الفرق بين بلاء المؤمن والكافر.
المطلب الثاني عشر: مشروعية التعوذ من البلاء.
المطلب الثالث عشر: كثرة الابتلاء في آخر الزمان، مع غلبة ضعف الإيمان.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সে-ই ভাগ্যবান যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, আর যখন সে বিপদগ্রস্ত হয় তখন ধৈর্য ধারণ করে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আখেরাতে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে দুনিয়াতে দ্রুত শাস্তি প্রদান করা উত্তম।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিপদে সন্তুষ্ট থাকা এবং অসন্তুষ্টি প্রকাশ না করার বিধান।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সুখ বা দুঃখে পরীক্ষার সময় মুমিনের অবস্থা।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ যখন কারো কল্যাণ চান, তখন তাকে বিপদাপদে লিপ্ত করেন।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: বিপদের কারণে নেক আমল বন্ধ হয়ে গেলেও তার সওয়াব লেখা অব্যাহত থাকা।
নবম পরিচ্ছেদ: মানুষের ওপর আপতিত বিপদের ভিন্নতা; যা নিজের ওপর, সম্পদের ওপর কিংবা সন্তানের ওপর হতে পারে।
দশম পরিচ্ছেদ: বিপদ জান্নাতে এমন উচ্চ মকামে পৌঁছানোর কারণ হতে পারে, যা কেবল আমলের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়।
একাদশ পরিচ্ছেদ: মুমিন ও কাফিরের বিপদের মধ্যে পার্থক্য।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনার বিধান।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: শেষ যামানায় ঈমানের দুর্বলতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিপদের আধিক্য।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ৯)
المطلب الرابع عشر: فضل الدعاء، وأثره على رد البلاء، أو تخفيفه.
المطلب الخامس عشر: مشروعية الهرب من البلاء، وعدم التعرض له.
المطلب السادس عشر: عظم جزاء المبتلين يوم القيامة، وغبطة الناس لهم.
المطلب السابع عشر: مشروعية سؤال الله العافية عند رؤية أصحاب البلاء.
المطلب الثامن عشر: النهي الشديد عن استعجال البلاء.
المطلب التاسع عشر: ذكر بعض البلايا وثواب من صبر عليها:
أولا: فضل الصبر على الحمى.
ثانيًا: فضل الصبر على الصرع.
الثالث: فضل الصبر على فقد الحبيب.
الرابع: فضل الصبر على البنات وتربيتهن.
الخامس: فضل الصبر على فقد البصر.
والخاتمة: ذكرت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال هذا البحث، ثم وضعت فهرسًا للمصادر والمراجع، وآخر
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: দুআর শ্রেষ্ঠত্ব এবং বালা-মুসিবত দূরীকরণে বা তা লাঘব করার ক্ষেত্রে এর প্রভাব।
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: বিপদ থেকে পালানো এবং নিজেকে বিপদের সম্মুখীন না করার বৈধতা।
ষোড়শ পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের দিন বিপদগ্রস্তদের বিশাল প্রতিদান এবং তাদের প্রতি মানুষের ঈর্ষা।
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের দেখে আল্লাহর কাছে সুস্থতা চাওয়ার বৈধতা।
অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: বিপদ ত্বরান্বিত করার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ: কিছু বিপদের বর্ণনা এবং যারা তাতে ধৈর্য ধারণ করে তাদের সওয়াব:
প্রথমত: জ্বরের ওপর ধৈর্য ধারণের শ্রেষ্ঠত্ব।
দ্বিতীয়ত: মৃগীরোগের ওপর ধৈর্য ধারণের শ্রেষ্ঠত্ব।
তৃতীয়ত: প্রিয়জনকে হারানোর ওপর ধৈর্য ধারণের শ্রেষ্ঠত্ব।
চতুর্থত: কন্যা সন্তানদের লালন-পালন ও তাদের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণের শ্রেষ্ঠত্ব।
পঞ্চমত: দৃষ্টিশক্তি হারানোর ওপর ধৈর্য ধারণের শ্রেষ্ঠত্ব।
উপসংহার: এতে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উল্লেখ করেছি, এরপর উৎস ও তথ্যসূত্রের একটি নির্ঘণ্ট এবং অপর একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ১০)
للموضوعات.
خطة البحث:أولًا: جمعت الأحاديث من مصادر السنة المسندة، على الطريقة التالية:
فإن كان الحديث في الصحيحين، أو أحدهما، اكتفيت بالعزو لهما، وربما عزوت إلى السنن الأربعة أو لغيرها من أجل فائدة إسنادية أو متنية.
فإن لم يكن الحديث بالصحيحين أو أحدهما، عزوته لأصحاب السنن الأربعة، مع الحكم عليه، وربما عزوته لغير السنن من أجل فائدة في الإسناد، أو في المتن.
فإن لم يكن في السنن الأربعة أو في أحدها خرجته من بقية الكتب مرتبًا في العزو على سنة الوفاة، مع الحكم عليه، بعد ذكر المتابعات والشواهد إن احتاج الأمر إلى ذلك، ولا أستوعب جميع من أخرج الحديث، طلبًا للاختصار.
أذكر ما وقفت عليه من أحكام أهل العلم على الحديث من غير قصد الاستيعاب.
إذا ثبت حديث الباب فلا أتوسع بذكر الشواهد.
বিষয়সমূহের জন্য।
গবেষণার পরিকল্পনা:প্রথমত: আমি হাদীসের মুসনাদ উৎসসমূহ থেকে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হাদীসগুলো সংগ্রহ করেছি:
যদি হাদীসটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কেবল তাদের উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি। তবে কখনও কখনও সনদ বা মতনের কোনো বিশেষ উপকারের জন্য চার সুনান গ্রন্থ বা অন্যান্য গ্রন্থের উদ্ধৃতিও দিয়েছি।
যদি হাদীসটি সহীহাইনের কোনোটিতে না থাকে, তবে আমি হাদীসের হুকুম বর্ণনা করার সাথে সাথে চার সুনান গ্রন্থের সংকলকদের দিকে তা নিসবত করেছি। সনদ বা মতনের বিশেষ কোনো উপকারের জন্য কখনও কখনও সুনান গ্রন্থ ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থের উদ্ধৃতিও দিয়েছি।
যদি হাদীসটি চার সুনান গ্রন্থের কোনোটিতে না থাকে, তবে আমি তা অন্যান্য গ্রন্থ থেকে চয়ন করেছি এবং উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রন্থকারদের মৃত্যুসন অনুযায়ী ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি। সেই সাথে প্রয়োজন সাপেক্ষে মুতাবাআত ও শাওয়াহিদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) উল্লেখপূর্বক হাদীসটির হুকুম বর্ণনা করেছি। সংক্ষেপ করার তাগিদে আমি হাদীসটি যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সবার নাম উল্লেখ করিনি।
হাদীসটির ব্যাপারে আলেমগণের যেসব হুকুম বা সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমি অবগত হয়েছি, তা উল্লেখ করেছি; তবে এক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ব্যাপ্তির সংকল্প করিনি।
যদি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের মূল হাদীসটি সাব্যস্ত হয়ে যায়, তবে আমি শাওয়াহিদ বা সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ আলোচনা করিনি।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثانيًا: الترجمة لرجال الإسناد ممن يقتضي المقام الترجمة لهم، على النحو التالي:
أ-إذا كان الراوي من رجال الكتب الستة، فأكتفي بكلام الحافظ ابن حجر في التقريب، ما لم يظهر لي خلافه، فحينئذ أذكر بعضًا من كلام أئمة الجرح والتعديل في تأييد ما ظهر لي من حال هذا الراوي.
ب- إذا لم يكن الراوي من رجال التقريب، فإني أعرَّف به من مظانِّ ترجمته بإيجاز.
ثالثًا: بيان معاني الكلمات الغريبة.
رابعًا: أذكر كلام شراح الحديث في بيان معنى الحديث، وتوجيههم له، وربما ذكرت بعض الفوائد المتعلقة بالحديث.
خامسًا: ضبط الكلمات والأسماء المشكلة.
سادسًا: الالتزام بعلامات الترقيم.
وأسأل الله التوفيق والسداد، وأن يجعل أعمالنا صالحة، ولوجهه خالصة، وهذا وقت البدء بالمقصود، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
দ্বিতীয়ত: সনদের বর্ণনাকারীদের জীবনী উল্লেখ করা যাদের জীবনী আলোচনা করা আবশ্যক, তা নিম্নরূপ:
ক- যদি বর্ণনাকারী কুতুবুস সিত্তার বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে আমি তাকরীব গ্রন্থে হাফিয ইবনে হাজারের বক্তব্যের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব, যতক্ষণ না আমার নিকট এর বিপরীত কিছু প্রকাশ পায়; সেক্ষেত্রে আমি সেই বর্ণনাকারীর অবস্থা সম্পর্কে আমার নিকট যা প্রকাশ পেয়েছে তার সমর্থনে জারহ ও তা’দীল ইমামগণের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করব।
খ- যদি বর্ণনাকারী তাকরীবের অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে আমি তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ থেকে সংক্ষেপে তাঁর পরিচয় প্রদান করব।
তৃতীয়ত: অপরিচিত শব্দসমূহের অর্থ বর্ণনা করা।
চতুর্থত: হাদীসের অর্থ বর্ণনায় এবং সেটির ব্যাখ্যায় হাদীস ব্যাখ্যাকারীদের বক্তব্য উল্লেখ করব এবং সম্ভবত হাদীস সংশ্লিষ্ট কিছু ফায়দা (উপকারী শিক্ষা) উল্লেখ করব।
পঞ্চমত: জটিল শব্দ ও নামসমূহের সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ করা।
ষষ্ঠত: বিরামচিহ্নের অনুসরণ করা।
আমি আল্লাহর নিকট তাওফীক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন আমাদের আমলসমূহকে নেক আমলে পরিণত করেন এবং কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন। আর এটাই মূল বিষয়ে শুরু করার সময়। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الأول: ويحتوي على ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: تعريف الابتلاء:قال ابن فارس: "الباء واللام والواو والياء، أصلان: أحدهما إخلاق الشيء، والثاني نوع من الاختبار، ويحمل عليه الإخبار أيضًا"
(1).
وقال الفيومي: "وبلاه الله بخير أو شر يبلوه بلوًا وأبلاه بالألف وابتلاه ابتلاءً بمعنى امتحنه "
(2).
قال ابن الأثير: "والابتلاء في الأصل الاختبار والامتحان. "
(3).
* * *
المطلب الثاني: ذكر الابتلاء في القرآن (4):
قال تعالى: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি তিনটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত:প্রথম অনুচ্ছেদ: পরীক্ষার (ইবতিলা) সংজ্ঞা:ইবনু ফারিস বলেন: "বা, লাম এবং ওয়াও ও ইয়া—এই মূলবর্ণগুলোর দুটি মূল অর্থ রয়েছে: একটি হলো কোনো বস্তুর জীর্ণ হয়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয়টি হলো এক প্রকারের পরীক্ষা; সংবাদ প্রদানও এর অন্তর্ভুক্ত হয়"
(১).
আল-ফাইয়ূমী বলেন: "আল্লাহ তাকে কল্যাণ বা অকল্যাণ দ্বারা পরীক্ষা করেছেন, তিনি তাকে পরীক্ষা করেন, পরীক্ষা করা। আর অতিরিক্ত আলিফ যোগে 'আবলাহু' এবং 'ইবতালাহু' শব্দের অর্থও হলো তাকে পরীক্ষা করা"
(২).
ইবনুল আসীর বলেন: "মূলত 'ইবতিলা' অর্থ হলো যাচাই ও পরীক্ষা করা।"
(৩).
* * *
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআনে পরীক্ষার (ইবতিলা) বর্ণনা (৪):
মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আমি অবশ্যই তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করব...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ}
(1)قال السعدي: "أخبر تعالى أنه لا بد أن يبتلي عباده بالمحن، ليتبين الصادق من الكاذب، والجازع من الصابر، وهذه سنته تعالى في عباده؛ لأن السراء لو استمرت لأهل الإيمان، ولم يحصل معها محنة، لحصل الاختلاط الذي هو فساد، وحكمة الله تقتضي تمييز أهل الخير من أهل الشر، هذه فائدة المحن، لا إزالة ما مع المؤمنين من الإيمان، ولا ردهم عن دينهم، فما كان الله ليضيع إيمان المؤمنين، فأخبر في هذه الآية أنه سيبتلي عباده {بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ} من الأعداء {وَالْجُوعِ} أي: بشيء يسير منهما؛ لأنه لو ابتلاهم بالخوف كله، أو الجوع، لهلكوا، والمحن تمحص لا تهلك.
{وَنَقْصٍ مِنَ الأمْوَالِ} وهذا يشمل جميع النقص المعتري للأموال من جوائح سماوية، وغرق، وضياع، وأخذ الظلمة للأموال من الملوك الظلمة، وقطاع الطريق وغير ذلك.
{وَالأنْفُسِ} أي: ذهاب الأحباب من الأولاد، والأقارب، والأصحاب، ومن أنواع الأمراض في بدن العبد، أو بدن من يحبه، {وَالثَّمَرَاتِ} أي: الحبوب، وثمار النخيل، والأشجار كلها،
--------------------------------------------
...এবং জীবন ও ফল-ফসলের (ক্ষতি দিয়ে)। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।
(১)আস-সা'দী বলেন: "আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, সত্যবাদী থেকে মিথ্যাবাদীকে এবং অস্থিরচিত্ত থেকে ধৈর্যশীলকে পৃথক করার জন্য তিনি অবশ্যই তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করবেন। এটি তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার একটি সুন্নাত বা নিয়ম; কারণ ইমানদারদের জন্য যদি সর্বদা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অব্যাহত থাকত এবং এর সাথে কোনো পরীক্ষা না আসত, তবে এমন সংমিশ্রণ ঘটে যেত যা একটি ফাসাদ বা বিপর্যয়। আর আল্লাহর প্রজ্ঞা দাবি করে যে, মন্দ লোক থেকে ভালো লোককে পৃথক করা হোক। এটিই পরীক্ষার উপকারিতা; মুমিনদের সাথে থাকা ইমানকে বিলুপ্ত করা কিংবা তাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দেওয়া এর উদ্দেশ্য নয়। আল্লাহ মুমিনদের ইমানকে নষ্ট করার নন। তাই তিনি এই আয়াতে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করবেন {কিছুটা ভীতি} অর্থাৎ শত্রুর পক্ষ থেকে ভয় {এবং ক্ষুধা} দ্বারা; অর্থাৎ এই দুটির সামান্য পরিমাণ দিয়ে; কারণ তিনি যদি তাদের পূর্ণ ভীতি বা ক্ষুধা দিয়ে পরীক্ষা করতেন, তবে তারা ধ্বংস হয়ে যেত। আর পরীক্ষা তো পরিশুদ্ধ করার জন্য, ধ্বংস করার জন্য নয়।
{এবং ধন-সম্পদের হ্রাস} এটি সম্পদের সেই সকল ঘাটতিকে অন্তর্ভুক্ত করে যা আসমানি বিপদ-আপদ, ডুবে যাওয়া, হারিয়ে যাওয়া এবং জালেম বাদশাহ ও ডাকাতদের মাধ্যমে সম্পদ কেড়ে নেওয়া বা অন্যকিছুর কারণে ঘটে থাকে।
{এবং জীবনের} অর্থাৎ সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের মৃত্যু এবং বান্দার নিজের শরীরে কিংবা তার প্রিয়জনদের শরীরে বিভিন্ন প্রকার রোগব্যাধি। {এবং ফল-ফসলের} অর্থাৎ শস্যদানা, খেজুরের ফল এবং সকল প্রকার গাছের ফলসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والخضر ببرد، أو برد، أو حرق، أو آفة سماوية، من جراد ونحوه.
فهذه الأمور، لا بد أن تقع، لأن العليم الخبير، أخبر بها، فوقعت كما أخبر، فإذا وقعت انقسم الناس قسمين: جازعين وصابرين، فالجازع، حصلت له المصيبتان، فوات المحبوب، وهو وجود هذه المصيبة، وفوات ما هو أعظم منها، وهو الأجر بامتثال أمر الله بالصبر، ففاز بالخسارة والحرمان، ونقص ما معه من الإيمان، وفاته الصبر والرضا والشكران، وحصل له السخط الدال على شدة النقصان.
وأما من وفقه الله للصبر عند وجود هذه المصائب، فحبس نفسه عن التسخط، قولًا وفعلًا واحتسب أجرها عند الله، وعلم أن ما يدركه من الأجر بصبره أعظم من المصيبة التي حصلت له، بل المصيبة تكون نعمة في حقه، لأنها صارت طريقًا لحصول ما هو خير له وأنفع منها، فقد امتثل أمر الله، وفاز بالثواب"
(1).
قال تعالى: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ}
(2)قال ابن كثير: "أحسبتم أن تدخلوا الجنة ولم تبتلوا بالقتال
--------------------------------------------
এবং ফসলসমূহ শিলাবৃষ্টি, অতিশীত, দহন অথবা আসমানি দুর্যোগ যেমন পঙ্গপাল ও এই জাতীয় কিছুর মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়া।
এই বিষয়গুলো অবশ্যই ঘটবে, কারণ সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত সত্তা এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, ফলে তা সেভাবেই ঘটেছে যেভাবে তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন। সুতরাং যখন এগুলো ঘটে, তখন মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়: অস্থির ও ধৈর্যহীন এবং ধৈর্যশীল। যে অস্থির, তার ক্ষেত্রে দু'টি মুসিবত ঘটে: প্রিয় বস্তু হারানো—যা এই বিপদের মাধ্যমেই ঘটে—এবং এর চেয়েও বড় কোনো কিছু হারানো, আর তা হলো সবর করার মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ পালনের সওয়াব। ফলে সে ক্ষতি ও বঞ্চনার শিকার হলো এবং তার ঈমান হ্রাস পেল। সে সবর, সন্তুষ্টি ও শুকরিয়া থেকে বঞ্চিত হলো এবং তার মধ্যে অসন্তুষ্টি প্রকাশ পেল যা তার চরম ঘাটতির পরিচায়ক।
আর আল্লাহ যাকে এই বিপদগুলোর সময় সবর করার তাওফিক দান করেন, সে কথা ও কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান আশা করে। সে জানে যে, সবরের মাধ্যমে সে যে সওয়াব লাভ করবে তা তার ওপর আসা বিপদের চেয়ে অনেক বড়। বরং এই বিপদ তার জন্য নেয়ামত স্বরূপ, কারণ এটি এমন এক কল্যাণ লাভের মাধ্যম হয়েছে যা তার জন্য ওই বিপদের চেয়েও বেশি উপকারী। ফলে সে আল্লাহর নির্দেশ পালন করল এবং সওয়াব লাভে ধন্য হলো"
(১)।
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা কি মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ এখনো তোমাদের মধ্য থেকে যারা জিহাদ করেছে এবং যারা ধৈর্যশীল তাদের প্রকাশ করেননি?}
(২)ইবনে কাসীর বলেন: "তোমরা কি মনে করেছ যে যুদ্ধের মাধ্যমে পরীক্ষিত হওয়া ছাড়াই তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والشدائد،
… أي لا يحصل لكم دخول الجنة حتى تبتلوا ويرى الله منكم المجاهدين في سبيله والصابرين على مقارنة الأعداء"
(1).
وقال السعدي: "هذا استفهام إنكاري، أي: لا تظنوا، ولا يخطر ببالكم أن تدخلوا الجنة من دون مشقة واحتمال المكاره في سبيل الله وابتغاء مرضاته، فإن الجنة أعلى المطالب، وأفضل ما به يتنافس المتنافسون، وكلما عظم المطلوب عظمت وسيلته، والعمل الموصل إليه، فلا يوصل إلى الراحة إلا بترك الراحة، ولا يدرك النعيم إلا بترك النعيم، ولكن مكاره الدنيا التي تصيب العبد في سبيل الله عند توطين النفس لها، وتمرينها عليها ومعرفة ما تؤول إليه، تنقلب عند أرباب البصائر منحًا يسرون بها، ولا يبالون بها، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء"
(2).
قال تعالى: {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ}
(3)قال ابن جرير الطبري: "يقول تعالى ذكره: ونختبركم أيها الناس بالشر وهو الشدة نبتليكم بها، وبالخير وهو الرخاء والسعة العافية
--------------------------------------------
...এবং কঠোরতা,
... অর্থাৎ তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ লাভ হবে না যতক্ষণ না তোমাদের পরীক্ষা করা হয় এবং আল্লাহ তোমাদের মধ্য থেকে যারা তাঁর পথে জিহাদকারী এবং শত্রুদের মোকাবিলায় ধৈর্যশীল, তাদের দেখে নেন।"
(১).
আস-সাদী বলেন: "এটি একটি অস্বীকৃতিমূলক প্রশ্ন, অর্থাৎ: তোমরা ধারণা করো না এবং তোমাদের মনে যেন এমনটি না আসে যে, আল্লাহর পথে কষ্ট সহ্য করা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করা ছাড়াই তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। কারণ জান্নাত হলো সর্বোচ্চ লক্ষ্য এবং শ্রেষ্ঠ বিষয় যা লাভের জন্য প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করে। আর লক্ষ্যবস্তু যত মহৎ হয়, তার মাধ্যম এবং সেখানে পৌঁছানোর আমলও তত বড় হয়। সুতরাং আরাম বর্জন করা ছাড়া আরাম লাভ করা যায় না এবং বিলাসিতা ত্যাগ করা ছাড়া প্রকৃত সুখ পাওয়া যায় না। তবে দুনিয়ার যেসব দুঃখ-কষ্ট আল্লাহর পথে বান্দার ওপর আপতিত হয়, যখন নফসকে তার জন্য প্রস্তুত করা হয়, সেগুলোতে অভ্যস্ত করা হয় এবং এর পরিণাম সম্পর্কে জানা যায়, তখন তা প্রজ্ঞাবানদের কাছে এমন এক দানে পরিণত হয় যাতে তারা আনন্দিত হন এবং সেগুলোর পরোয়া করেন না। আর তা আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।"
(২).
মহান আল্লাহ বলেন: {প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে; আর আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করি এবং আমারই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।}
(৩)ইবনে জারীর আত-তাবারী বলেন: "আল্লাহ তাআলা বলছেন: হে মানুষ! আমি তোমাদের মন্দ অর্থাৎ কঠোরতা দিয়ে পরীক্ষা করি এবং ভালো অর্থাৎ স্বাচ্ছন্দ্য, সচ্ছলতা ও সুস্থতা দিয়েও পরীক্ষা করি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فنفتنكم به"
(1).
قال السعدي: "قال: {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ} وهذا يشمل سائر نفوس الخلائق، وإن هذا كأس لا بد من شربه وإن طال بالعبد المدى، وعمّر سنين، ولكن الله تعالى أوجد عباده في الدنيا، وأمرهم، ونهاهم، وابتلاهم بالخير والشر، بالغنى والفقر، والعز والذل والحياة والموت، فتنة منه تعالى ليبلوهم أيهم أحسن عملًا ومن يفتتن عند مواقع الفتن ومن ينجو، {وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ} فنجازيكم بأعمالكم، إن خيرًا فخير، وإن شرًا فشر"
(2).
قال تعالى: {أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ}
(3)قال السعدي: "يخبر تعالى عن تمام حكمته وأن حكمته لا تقتضي أن كل من قال " إنه مؤمن " وادعى لنفسه الإيمان، أن يبقوا في حالة يسلمون فيها من الفتن والمحن، ولا يعرض لهم ما يشوش عليهم إيمانهم وفروعه، فإنهم لو كان الأمر كذلك، لم يتميز الصادق من الكاذب، والمحق من المبطل، ولكن سنته وعادته في
--------------------------------------------
আমরা তোমাদের এর দ্বারা পরীক্ষা করি"
(১).
আস-সাদী বলেন: "তিনি বলেছেন: {প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে} এবং এটি সৃষ্টির সকল প্রাণের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি এমন এক পেয়ালা যা পান করা অনিবার্য, যদিও বান্দার আয়ু দীর্ঘ হয় এবং সে বহু বছর জীবন লাভ করে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের দুনিয়াতে সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের আদেশ ও নিষেধ করেছেন এবং তাঁদের পরীক্ষা করেছেন ভালো ও মন্দ দ্বারা, প্রাচুর্য ও দারিদ্র্য দ্বারা, সম্মান ও লাঞ্ছনা দ্বারা এবং জীবন ও মৃত্যু দ্বারা; এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা যাতে তিনি যাচাই করেন যে আমলের দিক থেকে তাদের মধ্যে কে সর্বোত্তম, আর কে ফিতনার সম্মুখীন হয়ে বিভ্রান্ত হয় এবং কে মুক্তি পায়। {আর আমাদের কাছেই তোমরা ফিরে আসবে} অতঃপর আমরা তোমাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেব; যদি ভালো হয় তবে ভালো, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ"
(২).
মহান আল্লাহ বলেন: {মানুষ কি মনে করে যে, তারা ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না?}
(৩)আস-সাদী বলেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁর পূর্ণ প্রজ্ঞা সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তাঁর প্রজ্ঞা এটি দাবি করে না যে, যারা কেবল বলে ‘সে মুমিন’ এবং নিজের জন্য ঈমানের দাবি করে, তাদের এমন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হবে যেখানে তারা ফিতনা ও পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকবে এবং তাদের সামনে এমন কিছু আসবে না যা তাদের ঈমান ও এর শাখা-প্রশাখাকে সংশয়াচ্ছন্ন করবে। কারণ যদি বিষয়টি এমনই হতো, তবে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীর মধ্যে এবং হকপন্থী ও বাতিলপন্থীর মধ্যে পার্থক্য করা যেত না। কিন্তু আল্লাহর সুন্নাহ ও নিয়ম হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الأولين وفي هذه الأمة، أن يبتليهم بالسراء والضراء، والعسر واليسر، والمنشط والمكره، والغنى والفقر، وإدالة الأعداء عليهم في بعض الأحيان، ومجاهدة الأعداء بالقول والعمل ونحو ذلك من الفتن، التي ترجع كلها إلى فتنة الشبهات المعارضة للعقيدة، والشهوات المعارضة للإرادة، فمن كان عند ورود الشبهات يثبت إيمانه ولا يتزلزل، ويدفعها بما معه من الحق وعند ورود الشهوات الموجبة والداعية إلى المعاصي والذنوب، أو الصارفة عن ما أمر الله به ورسوله، يعمل بمقتضى الإيمان، ويجاهد شهوته، دل ذلك على صدق إيمانه وصحته.
ومن كان عند ورود الشبهات تؤثر في قلبه شكًا وريبًا، وعند اعتراض الشهوات تصرفه إلى المعاصي أو تصدفه عن الواجبات، دلَّ ذلك على عدم صحة إيمانه وصدقه.
والناس في هذا المقام درجات لا يحصيها إلا الله، فمستقل ومستكثر، فنسأل الله تعالى أن يثبتنا بالقول الثابت في الحياة الدنيا وفي الآخرة، وأن يثبت قلوبنا على دينه، فالابتلاء والامتحان للنفوس بمنزلة الكير، يخرج خبثها وطيبها"
(1).
* * *
--------------------------------------------
পূর্ববর্তীদের এবং এই উম্মতের ক্ষেত্রে (আল্লাহর রীতি হলো) যে, তিনি তাদেরকে সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতা, কষ্ট ও স্বাচ্ছন্দ্য, উৎসাহ ও অনিচ্ছা, ধনাঢ্যতা ও দারিদ্র্য, এবং কোনো কোনো সময় তাদের ওপর শত্রুদের আধিপত্য দান এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ইত্যাদি ফিতনার মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। এই সকল ফিতনা মূলত আকিদার পরিপন্থী সংশয় এবং সংকল্পের পরিপন্থী কামনা-বাসনার ফিতনার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সংশয় উপস্থিত হওয়ার সময় যার ঈমান অবিচল থাকে ও বিচলিত হয় না এবং নিজের কাছে থাকা সত্যের মাধ্যমে তা প্রতিহত করে; আর পাপাচারের দিকে আহ্বানকারী প্রবৃত্তি কিংবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত বিষয় থেকে বিমুখকারী বিষয়ের উপস্থিতিতে যে ব্যক্তি ঈমানের দাবি অনুযায়ী আমল করে এবং নিজ প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে, তা তার ঈমানের সত্যতা ও বিশুদ্ধতার প্রমাণ দেয়।
আর যার অন্তরে সংশয় উপস্থিত হওয়ার ফলে সন্দেহ ও দ্বিধা তৈরি হয় এবং প্রবৃত্তিগত তাড়না তাকে নাফরমানির দিকে ধাবিত করে কিংবা ওয়াজিব কাজ থেকে বিমুখ করে দেয়, তবে তা তার ঈমানের বিশুদ্ধতা ও সত্যতার অভাবকে নির্দেশ করে।
এই ক্ষেত্রে মানুষের স্তর এত অধিক যে আল্লাহ ছাড়া কেউ তা গণনা করতে পারে না; কেউ সামান্য স্তরে আবার কেউ অনেক উচ্চে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের পার্থিব জীবনে ও পরকালে সুদৃঢ় বাক্যের ওপর অবিচল রাখেন এবং আমাদের অন্তরকে তাঁর দ্বীনের ওপর দৃঢ় রাখেন। বস্তুত আত্মার জন্য এই পরীক্ষা ও যাচাই হলো কামারের হাপরের ন্যায়, যা তার মন্দ ও ভালোকে পৃথক করে দেয়"
(১).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المطلب الثالث: من حِكَم الابتلاء:
1 - اختبار للإيمان: قال تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انْقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ (11)}
(1)قال السعدي: "أي: ومن الناس من هو ضعيف الإيمان، لم يدخل الإيمان قلبه، ولم
تخالطه بشاشته، بل دخل فيه، إما خوفًا، وإما عادة على وجه لا يثبت عند المحن، {فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ} أي: إن استمر رزقه رغدًا، ولم يحصل له من المكاره شيء، اطمأن بذلك الخير، لا بإيمانه. فهذا، ربما أن الله يعافيه، ولا يقيض له من الفتن ما ينصرف به عن دينه، {وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ} من حصول مكروه، أو زوال محبوب {انْقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ} أي: ارتد عن دينه، {خَسِرَ الدُّنْيَا وَالآخِرَةَ} أما في الدنيا، فإنه لا يحصل له بالردة ما أمله الذي جعل الردة رأسًا لماله، وعوضًا عما يظن إدراكه، فخاب سعيه، ولم يحصل له إلا ما قسم له، وأما الآخرة، فظاهر، حرم الجنة التي عرضها السماوات والأرض، واستحق النار، {ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ} أي:
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পরীক্ষার কিছু হিকমত:১ - ঈমানের পরীক্ষা: মহান আল্লাহ বলেন: "মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে; যদি সে কল্যাণের সম্মুখীন হয়, তবে সে তাতে প্রশান্তি লাভ করে, আর যদি সে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তবে সে তার মুখ ফিরিয়ে নেয় (পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়)। সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারাল; এটাই তো সুষ্পষ্ট ক্ষতি (১১)।"
(১)আস-সাদী বলেন: "অর্থাৎ: মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান দুর্বল, ঈমান তার অন্তরে প্রবেশ করেনি এবং এর মাধুর্য তার অন্তরের সাথে মিশে যায়নি। বরং সে এতে প্রবেশ করেছে হয় ভয়ের কারণে, অথবা অভ্যাসবশত এমন এক অবস্থায় যা পরীক্ষার সময় অটল থাকে না। {যদি সে কল্যাণের সম্মুখীন হয়, তবে সে তাতে প্রশান্তি লাভ করে} অর্থাৎ: যদি তার রিযিক সচ্ছলভাবে চলতে থাকে এবং তার কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়, তবে সে সেই কল্যাণের কারণে আশ্বস্ত হয়, তার ঈমানের কারণে নয়। সম্ভবত আল্লাহ তাকে বিপদমুক্ত রাখেন এবং তার জন্য এমন কোনো ফিতনা বা পরীক্ষা নির্ধারণ করেন না যার মাধ্যমে সে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়। {আর যদি সে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়} কোনো অপছন্দনীয় বিষয় ঘটার মাধ্যমে বা প্রিয় কোনো বস্তু হারানোর মাধ্যমে, {তবে সে তার মুখ ফিরিয়ে নেয়} অর্থাৎ: সে তার দ্বীন থেকে ধর্মত্যাগী হয়ে যায়। {সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারাল} দুনিয়ার ক্ষেত্রে কথা হলো, ধর্মত্যাগের মাধ্যমে সে তার সেই আশা পূরণ করতে পারে না যাকে সে তার পুঁজি হিসেবে স্থির করেছিল এবং যা অর্জনের সে ধারণা করেছিল। ফলে তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তার ভাগ্যে যা নির্ধারিত ছিল তার অতিরিক্ত কিছুই সে পায় না। আর আখিরাতের ব্যাপারটি তো স্পষ্ট; সে এমন জান্নাত থেকে বঞ্চিত হলো যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের সমান এবং সে জাহান্নামের উপযুক্ত হলো। {এটাই তো সুষ্পষ্ট ক্ষতি} অর্থাৎ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الواضح البين"
(1).
2 - تكفير السيئات لقوله صلى الله عليه وسلم: " فَمَا يَبْرَحُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي عَلَى الْأَرْضِ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ"
(2).
3 - رفعة الدرجات لقوله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الرَّجُلَ لَتَكُونُ لَهُ الدَّرَجَةُ عِنْدَ اللهِ تَعَالَى، فَمَا يَبْلُغُهَا بِعَمَلٍ حَتَّى يُبْتَلَى فِي جَسَدِهِ، فَيَبْلُغُهَا بِذَلِكَ الْبَلَاءِ»
(3).
قال ابن القيم: "إنه سبحانه هيأ لعباده المؤمنين منازل في دار كرامته لم تبلغها أعمالهم، ولم يكونوا بالغيها إلا بالبلاء والمحنة، فقيض لهم الأسباب التي توصلهم إليها من ابتلائه وامتحانه، كما وفقهم للأعمال الصالحة التي هي من جملة أسباب وصولهم إليها"
(4).
4 - ولابن القيم رحمه الله كلام قيم حول حِكَم الابتلاء فيقول: " إن ابتلاء المؤمن كالدواء له يستخرج منه الأدواء التى لو بقيت فيه أهلكته، أو نقصت ثوابه، وأنزلت درجته، فيستخرج الابتلاء والامتحان منه تلك الأدواء ويستعد به لتمام الأجر، وعلو
--------------------------------------------
সুস্পষ্ট এবং প্রকট"
(১).
২ - পাপ মোচন, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বান্দার ওপর পরীক্ষা চলতেই থাকে যতক্ষণ না তা তাকে এমন অবস্থায় জমিনে চলাফেরা করতে ছেড়ে দেয় যে, তার ওপর কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না।"
(২).
৩ - মর্যাদা বৃদ্ধি, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট এমন উচ্চ মর্যাদা নির্ধারিত থাকে যা সে তার আমল দ্বারা লাভ করতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার শরীরে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়; অতঃপর সে ওই পরীক্ষার মাধ্যমেই সেই মর্যাদায় পৌঁছে যায়»
(৩).
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য তাঁর সম্মানধন্য আবাসে এমন সব স্তর প্রস্তুত করেছেন যেখানে তাদের আমল পৌঁছাতে পারে না এবং তারা পরীক্ষা ও বিপদ-আপদ ব্যতীত সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হতো না। তাই তিনি তাদের জন্য সেখানে পৌঁছানোর উপায় হিসেবে পরীক্ষা ও দুঃখ-কষ্ট নির্ধারিত করেছেন, ঠিক যেমন তিনি তাদের সৎ আমলের তাওফিক দিয়েছেন যা সেখানে পৌঁছানোর অন্যতম কারণ।"
(৪).
৪ - পরীক্ষার হিকমত সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহর এক মূল্যবান বক্তব্য রয়েছে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই মুমিনের পরীক্ষা তার জন্য ওষুধের মতো, যা তার ভেতর থেকে এমন সব ব্যাধি বের করে আনে যা যদি সেখানে অবশিষ্ট থাকতো তবে তাকে ধ্বংস করে দিত অথবা তার সওয়াব কমিয়ে দিত এবং তার মর্যাদা অবনমিত করত। সুতরাং পরীক্ষা ও বিপত্তি তার মধ্য থেকে সেসব ব্যাধি বের করে দেয় এবং এর মাধ্যমে সে পূর্ণ প্রতিদান ও উচ্চ মর্যাদার জন্য প্রস্তুত হয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ২০)
المنزلة
… وما يصيب المؤمن فى هذه الدار من إدالة عدوه عليه، وغلبته له، وأذاه له فى بعض الأحيان: أمر لازم، لابد منه، وهو كالحر الشديد، والبرد الشديد، والأمراض والهموم والغموم، فهذا أمر لازم للطبيعة والنشأة الإنسانية فى هذه الدار، حتى للأطفال والبهائم، لما اقتضته حكمة أحكم الحاكمين، فلو تجرد الخير فى هذا العالم عن الشر، والنفع عن الضر، واللذة عن الألم، لكان ذلك عالمًا غير هذا، ونشأة أخرى غير هذه النشأة، وكانت تفوت الحكمة التى مزج لأجلها بين الخير والشر، والألم واللذة، والنافع والضار، وإنما يكون تخليص هذا من هذا، وتمييزه فى دار أخرى، غير هذه الدار .. "
(1).
وقال - أيضًا -: " أن يعلم أنه لولا محن الدنيا ومصائبها لأصاب العبد - من أدواء الكبر والعجب والفرعنة وقسوة القلب - ما هو سبب هلاكه عاجلًا وآجلًا فمن رحمة أرحم الراحمين أن يتفقده في الأحيان بأنواع من أدوية المصائب، تكون حمية له من هذه الأدواء، وحفظًا لصحة عبوديته، واستفراغًا للمواد الفاسدة الرديئة المهلكة منه، فسبحان من يرحم ببلائه، ويبتلي بنعمائه كما قيل:
--------------------------------------------
মর্যাদা
… আর এই পৃথিবীতে মুমিনের উপর তার শত্রুর বিজয় লাভ করা, তার উপর প্রভাব বিস্তার করা এবং মাঝে মাঝে তাকে কষ্ট দেওয়া একটি অনিবার্য বিষয়, যা ঘটবেই। এটি প্রচণ্ড গরম, প্রচণ্ড শীত, রোগব্যাধি, উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তার মতোই। মানুষের প্রকৃতি ও এই পৃথিবীতে তার মানবিক বিকাশের জন্য এটি একটি অনিবার্য বিষয়, এমনকি শিশু ও পশুপাখির ক্ষেত্রেও; যা মহাবিজ্ঞ বিচারকের হিকমতের দাবি। যদি এই জগতে কল্যাণ অকল্যাণ থেকে, উপকার ক্ষতি থেকে এবং সুখ বেদনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকত, তবে তা এই জগৎ ও বর্তমান সৃষ্টির চেয়ে ভিন্ন অন্য কোনো জগত ও ভিন্ন কোনো সৃষ্টি হতো। এতে সেই প্রজ্ঞা ব্যাহত হতো যার কারণে কল্যাণ ও অকল্যাণ, বেদনা ও সুখ এবং উপকারী ও ক্ষতিকারকের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। মূলত এই একটিকে অন্যটি থেকে আলাদা করা এবং তাদের মাঝে পার্থক্য করা হবে এই জগত ব্যতীত অন্য এক জগতে .. "
(১).
তিনি আরও বলেছেন: "বান্দার জানা উচিত যে, দুনিয়ার পরীক্ষা ও বিপদ-আপদ না থাকলে তার মধ্যে অহংকার, আত্মমুগ্ধতা, ফেরাউনি স্বভাব এবং অন্তরের কঠোরতার মতো এমন সব ব্যাধি বাসা বাঁধত, যা দুনিয়া ও আখেরাতে তার ধ্বংসের কারণ হতো। সুতরাং পরম দয়ালু আল্লাহর করুণার একটি দিক হলো এই যে, তিনি মাঝে মাঝে তাকে বিভিন্ন ধরনের বিপদ-আপদরূপী ওষুধের মাধ্যমে তদারকি করেন, যা তার জন্য এসব ব্যাধি থেকে সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে, তার দাসত্বের সুস্থতা রক্ষা করে এবং তার ভেতর থেকে ক্ষতিকারক, মন্দ ও ধ্বংসাত্মক উপাদানগুলো বের করে দেয়। সুতরাং সেই সত্তা পবিত্র, যিনি বিপদের মাধ্যমে দয়া করেন এবং নিয়ামতের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, যেমনটি বলা হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ২১)
قد ينعم بالبلوى وإن عظمت
… ويبتلي الله بعض القوم بالنعم
فلولا أنه سبحانه يداوي عباده بأدوية المحن، والابتلاء لطغوا، وبغوا وعتوا والله سبحانه إذا أراد بعبد خيرا سقاه دواء من الابتلاء، والامتحان على قدر حاله يستفرغ به من الأدواء، المهلكة حتى إذا هذبه ونقاه وصفاه أهله لأشرف مراتب الدنيا، وهي عبوديته وأرفع ثواب الآخرة، وهو رؤيته وقربه .. "
(1).
وقال: " فالابتلاء كير العبد محل إيمانه: فإما أن يخرج تبرًا أحمر، وإما أن يخرج زغلًا غضًا، وإما أن يخرج فيه مادتان ذهبية ونحاسية، فلا يزال به البلاءُ حتى يخرج المادة النحاسية من ذهبه، ويبقى ذهبًا خالصًا فلو علم العبد أن نعمة الله عليه فى البلاءِ ليست بدون نعمة الله عليه فى العافية لشغل قلبه بشكره ولسانه، اللَّهم أعنِّى على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك، وكيف لا يشكر من قيض له ما يستخرج خبثه ونحاسه وصيره تبرًا خالصًا يصلح لمجاورته والنظر إليه فى داره؟ فهذه الأسباب ونحوها تثمر الصبر على البلاء، فإن قويت أثمرت الرضا والشكر، فنسأل الله أن يسترنا بعافيته،
--------------------------------------------
কখনো বিপদাপদের মাধ্যমেও তিনি নেয়ামত দান করেন, যদিও তা অনেক বড় হয়
... আবার আল্লাহ কোনো কোনো সম্প্রদায়কে নেয়ামতের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলেন।
সুতরাং তিনি সুবহানাহু যদি তাঁর বান্দাদেরকে বিপদাপদ ও পরীক্ষার ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা না করতেন, তবে তারা সীমালঙ্ঘন করত, অবাধ্য হত এবং ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত। আর আল্লাহ সুবহানাহু যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে তার অবস্থা অনুযায়ী পরীক্ষা ও বিপদের ওষুধ পান করান, যার মাধ্যমে তিনি তাকে ধ্বংসাত্মক ব্যাধিগুলো থেকে মুক্ত করেন। অবশেষে যখন তিনি তাকে মার্জিত, নির্মল ও পরিচ্ছন্ন করেন, তখন তাকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মর্যাদার যোগ্য করে তোলেন—যা হলো তাঁর দাসত্ব (উবুদিয়্যাত), এবং আখেরাতের সর্বোচ্চ পুরস্কারের যোগ্য করেন—যা হলো তাঁর দর্শন ও নৈকট্য... "
(১)।
তিনি বলেন: "পরীক্ষা হলো বান্দার ঈমানের হাপর: এর ফলে হয় সে বিশুদ্ধ স্বর্ণ হিসেবে বেরিয়ে আসে, নয়তো ভেজাল ও নিকৃষ্ট ধাতু হিসেবে বের হয়, অথবা তাতে স্বর্ণ ও তামা—উভয় পদার্থ থাকে। সুতরাং বিপদাপদ তার পিছু ছাড়ে না যতক্ষণ না সে তার স্বর্ণ থেকে তামার অংশ দূর করে এবং খাঁটি সোনা হিসেবে অবশিষ্ট থাকে। যদি বান্দা জানত যে, বিপদের মধ্যে তার প্রতি আল্লাহর নেয়ামত সুস্থতার নেয়ামতের চেয়ে কম নয়, তবে সে তার অন্তর ও জিহবাকে তাঁর শুকরিয়ায় নিয়োজিত রাখত—হে আল্লাহ! আমাকে আপনার জিকির, আপনার শুকরিয়া এবং আপনার উত্তম ইবাদতে সাহায্য করুন। আর সে কেনই-বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না সেই সত্তার প্রতি, যিনি তার জন্য এমন ব্যবস্থা করেছেন যা তার ভেতরের আবর্জনা ও তামা বের করে আনে এবং তাকে বিশুদ্ধ স্বর্ণে পরিণত করে, যা তাঁর সান্নিধ্যে থাকার এবং তাঁর আবাসে তাঁর দিকে তাকানোর যোগ্য করে তোলে? এই কারণগুলো ও অনুরূপ বিষয়গুলো বিপদে ধৈর্যের ফল দেয়; আর যদি তা শক্তিশালী হয়, তবে তা সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা উৎপন্ন করে। সুতরাং আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তাঁর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ২২)
ولا يفضحنا بابتلائه بمنه وكرمه"
(1).
وأخيرًا نختم بهذه القاعدة الذهبية، يقول رحمه الله: " قاعدة": إذا ابتلى الله عبده بشيء من أَنواع البلايا والمحن فإن رده ذلك الابتلاء والمحن إلى ربه وجمعه عليه وطرحه ببابه فهو علامة سعادته وإرادة الخير به. والشدة بتراء لا دوام لها وإن طالت، فتقلع عنه حين تقلع وقد عوض منها أجلّ عوض وأفضله، وهو رجوعه إلى الله بعد أن كان شاردًا عنه، وإقباله عليه بعد أن كان نائبًا عنه وانطراحه على بابه بعد أن كان معرضًا، وللوقوف على أبواب غيره متعرضًا.
وكانت البلية فى حق هذا عين النعمة، وإن ساءَته وكرهها طبعه ونفرت منها نفسه فربما كان مكروه النفوس إِلى محبوبها سببًا ما مثله سبب وقوله تعالى فى ذلك هو الشفاءُ والعصمة: {وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ، وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيئًا وَهُوَ شَر لَكُمْ، وَاللهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ}
(2)، وإِن لم يرده ذلك البلاءُ إليه بل شرد قلبه عنه ورده إلى الخلق وأنساه ذكر ربه والضراعة إليه والتذلل بين يديه والتوبة والرجوع إليه فهو علامة شقاوته وإرادة الشر به، فهذا إذا أقلع عنه البلاء رده إلى حكم طبيعته وسلطان شهوته ومرحه وفرحه، فجاءت
--------------------------------------------
এবং তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহ ও দয়াগুণে তাঁর পরীক্ষার মাধ্যমে আমাদের লাঞ্ছিত না করেন।
(১).
পরিশেষে আমরা এই স্বর্ণালী মূলনীতির মাধ্যমে সমাপ্ত করছি, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মূলনীতি": আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দাকে কোনো প্রকার পরীক্ষা ও বিপদে নিপতিত করেন, আর সেই পরীক্ষা ও বিপদ যদি তাকে তার রবের দিকে ফিরিয়ে নেয়, তাঁর প্রতি নিবিষ্ট করে এবং তাঁরই দুয়ারে উপপতিত করে, তবে তা তার সৌভাগ্যের এবং তার জন্য কল্যাণ কামনার চিহ্ন। আর কষ্ট হলো ক্ষণস্থায়ী, তার কোনো স্থায়িত্ব নেই যদিও তা দীর্ঘ হয়। ফলে তা যখন তার থেকে দূর হয় তখন তাকে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিময় প্রদান করেই দূর হয়। আর তা হলো আল্লাহর দিকে তার প্রত্যাবর্তন করা—যা থেকে সে বিচ্যুত ছিল; তাঁর দিকে অভিমুখী হওয়া—যা থেকে সে বিমুখ ছিল; এবং তাঁর দুয়ারে নিজেকে সঁপে দেওয়া—যা থেকে সে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্যের দুয়ারে দাঁড়ানোর জন্য উদগ্রীব ছিল।
আর এ ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিপদটিই ছিল প্রকৃত নেয়ামত, যদিও তা তাকে ব্যথিত করেছিল, তার স্বভাব তা অপছন্দ করেছিল এবং তার নফস তা থেকে পালিয়েছিল। নফসের নিকট যা অপছন্দনীয়, হয়তো সেটিই তার প্রিয় বস্তু লাভের এমন এক কারণ যার সমতুল্য অন্য কোনো কারণ নেই। এ বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণীই হলো আরোগ্য ও সুরক্ষা: {হয়তো তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আবার হয়তো তোমরা কোনো বিষয় পছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর; আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না}
(২), কিন্তু সেই বিপদ যদি তাকে তাঁর (আল্লাহর) দিকে ফিরিয়ে না নেয়, বরং তার অন্তরকে তা থেকে বিচ্যুত করে সৃষ্টির দিকে ঠেলে দেয় এবং তাকে তার রবের স্মরণ, তাঁর কাছে কাকুতি-মিনতি, তাঁর সামনে বিনয় প্রদর্শন এবং তাওবাহ ও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করার কথা ভুলিয়ে দেয়, তবে তা তার দুর্ভাগ্যের এবং তার অমঙ্গল কামনার লক্ষণ। এমতাবস্থায় যদি তার ওপর থেকে বিপদ দূর হয়ে যায়, তবে তা তাকে পুনরায় তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি, প্রবৃত্তির তাড়না, দম্ভ এবং অতি-উল্লাসের দিকেই ফিরিয়ে নিয়ে যায়। অতঃপর আসলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
طبيعته القدرة بأنواع الأشر والبطر والإعراض عن شكر المنعم عليه بالسراء كما أعرض عن ذكره والتضرع إليه فى الضراء فبلية هذا وبال عليه وعقوبة ونقص فى حقه، وبلية الأول تطهير له ورحمة وتكميل. وبالله التوفيق"
(1).
* * *
--------------------------------------------
তার স্বভাব নানাবিধ দম্ভ, ঔদ্ধত্য এবং স্বাচ্ছন্দ্যের সময় নিআমতদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ থেকে বিমুখ হওয়া, যেমনটি সে বিপদের সময় তাঁকে স্মরণ করা ও তাঁর সমীপে অনুনয়-বিনয় করা থেকে বিমুখ হয়েছিল। সুতরাং এই ব্যক্তির জন্য বিপদ হলো এক প্রকার অমঙ্গল, শাস্তি এবং তার হকের ক্ষেত্রে ঘাটতি; পক্ষান্তরে প্রথম ব্যক্তির বিপদ তার জন্য পবিত্রতা, রহমত ও পূর্ণতা। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল কাজ সুসম্পন্ন হয়।
(১).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الثاني: الأحاديث الواردة في الابتلاء:
المطلب الأول: الابتلاء على قدر الإيمان:1 - عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً؟ قَالَ: الْأَنْبِيَاءُ، ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ، يُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ، فَإِنْ كَانَ دِينُهُ صُلْبًا اشْتَدَّ بَلَاؤُهُ، وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَّةٌ ابْتُلِيَ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ، فَمَا يَبْرَحُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي عَلَى الْأَرْضِ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ".
أولًا: التخريج:
أخرجه الترمذي
(1)، وابن ماجه
(2)، والنسائي في الكبرى
(3)، كلهم من طريق حماد ابن زيد، وأبو داود الطيالسي
(4) من طريق هشام الدستوائي، وحماد بن سلمة، وشعبة، وأحمد
(5) من طريق الثوري
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরীক্ষা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ:প্রথম অনুচ্ছেদ: ঈমান অনুযায়ী পরীক্ষা:১ - সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, মানুষের মধ্যে কাদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়? তিনি বললেন: "নবীগণের, এরপর যারা তাদের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ, এরপর যারা তাদের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ। মানুষকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। যদি তার দ্বীন দৃঢ় হয় তবে তার পরীক্ষা কঠিন হয়, আর যদি তার দ্বীনে শিথিলতা থাকে তবে তাকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। বিপদ-আপদ বান্দার ওপর লেগেই থাকে যতক্ষণ না তা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে, সে জমিনে বিচরণ করে অথচ তার কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না।"
প্রথমত: তাখরিজ:
তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং নাসাঈ ‘আস-সুনানুল কুবরা’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন; তারা সকলে হাম্মাদ ইবনে যাইদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আবু দাউদ আত-তায়ালিসি হিশাম আদ-দাস্তুওয়াঈ, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ও শু'বাহ-এর সূত্রে এবং আহমদ সাওরী-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كلهم عن عاصم بن بهدلة.
وأخرجه البزار
(1) والطحاوي
(2) كلاهما من طريق شريك النخعي عن سماك بن حرب.
وأخرجه البزار
(3) من طريق عبد الرحمن المحاربي، عن العلاء بن المسيب، كلهم (عاصم بن بهدلة، وسماك، والعلاء بن المسيب) عن مصعب بن سعد، عن أبيه.
وأخرجه ابن حبان
(4) من طريق جرير بن عبد الحميد، والحاكم
(5) من طريق خالد ابن عبد الله، والضياء
(6) من طريق عبيدة بن حميد كلهم (جرير، وخالد، وعبيدة) عن العلاء بن المسيب عن أبيه، عن سعد بن أبي وقاص به، والمسيب بن رافع عن سعد مرسل
(7).
--------------------------------------------
তারা সবাই আসিম ইবনে বাহদালা থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর এটি আল-বাযযার
(১) এবং আত-তহাবী
(২) বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ই শারীক আন-নাখায়ীর সূত্রে সিমাক বিন হারব থেকে।
আর আল-বাযযার
(৩) এটি আব্দুর রহমান আল-মুহারিবীর সূত্রে আল-আলা ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই (আসিম ইবনে বাহদালা, সিমাক এবং আল-আলা ইবনুল মুসাইয়িব) মুসআব ইবনে সা'দ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর ইবনে হিব্বান
(৪) জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ থেকে, আল-হাকিম
(৫) খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে এবং আদ-দিয়া
(৬) উবাইদাহ ইবনে হুমাইদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই (জারীর, খালিদ এবং উবাইদাহ) আল-আলা ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং মুসাইয়িব ইবনে রাফে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন যা মুরসাল
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد اختلف على العلاء بن المسيب، فرواه جرير بن عبد الحميد، وخالد بن عبد الله، وعبيدة بن حميد عنه عن أبيه، وخالفهم عبد الرحمن بن محمد المحاربي فرواه عنه، عن مصعب بن سعد به، وقال ابن فضيل وهو الصواب
(1)، وقال عنه الترمذي: " حسن صحيح"، وصححه ابن حبان، والحاكم، وأحمد شاكر
(2)، والألباني
(3).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
قوله: (أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً؟ قَالَ: الْأَنْبِيَاءُ): قال النووي: " قَالَ الْعُلَمَاءُ وَالْحِكْمَةُ فِي كَوْنِ الْأَنْبِيَاءِ أَشَدَّ بَلَاءً ثُمَّ الْأَمْثَلَ فَالْأَمْثَلَ أَنَّهُمْ مَخْصُوصُونَ بِكَمَالِ الصَّبْرِ وَصِحَّةِ الِاحْتِسَابِ وَمَعْرِفَةِ أَنَّ ذَلِكَ نِعْمَةً مِنَ اللَّهِ تَعَالَى لِيَتِمَّ لَهُمُ الْخَيْرُ وَيُضَاعَفُ لَهُمُ الْأَجْرُ وَيَظْهَرُ صَبْرُهُمْ وَرِضَاهُمْ "
(4).
قوله: (ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ): قال ابن حجر: "وَالْأَمْثَلُ أَفْعَلُ مِنَ الْمَثَالَةِ وَالْجَمْعُ أَمَاثِلُ وَهُمُ الْفُضَلَاءُ
… لَهُ شَاهِد مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ وَلَفْظُهُ قَالَ الْأَنْبِيَاءُ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ الْعُلَمَاءُ قَالَ ثُمَّ
--------------------------------------------
আলা ইবনে আল-মুসাইয়িবের বর্ণনায় মতপার্থক্য ঘটেছে। জারির ইবনে আবদিল হামিদ, খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং উবাইদাহ ইবনে হুমাইদ এটি তাঁর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি তাঁদের বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি এটি তাঁর সূত্রে মুসআব ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে ফুদাইল বলেছেন এটিই সঠিক
(১)। ইমাম তিরমিযী এটি সম্পর্কে বলেছেন: "হাসান সহীহ", এবং ইবনে হিব্বান, হাকিম, আহমাদ শাকির
(২) ও আলবানী
(৩) একে সহীহ বলেছেন।
দ্বিতীয়: হাদীসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
তাঁর বাণী: (মানুষের মধ্যে কার পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন? তিনি বললেন: নবীগণের): ইমাম নববী বলেছেন: "উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, নবীগণ এবং এরপর যারা তাঁদের অনুরূপ ও এরপর যারা তাঁদের সদৃশ—তাঁদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হওয়ার পেছনে হিকমত বা প্রজ্ঞা হলো, তাঁরা ধৈর্যধারণের পূর্ণতা, নির্ভুলভাবে সওয়াবের আশা রাখা এবং এটি যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নেয়ামত তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। যেন তাদের জন্য কল্যাণ পরিপূর্ণ হয়, প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং তাদের ধৈর্য ও সন্তুষ্টি প্রকাশ পায়"
(৪)।
তাঁর বাণী: (অতঃপর যারা তাঁদের অনুরূপ, এরপর যারা তাঁদের সদৃশ): ইবনে হাজার বলেছেন: "আল-আমসাল শব্দটি 'মাসালাহ' থেকে ইসমে তাফযীল (অধিকতর অর্থবোধক), এর বহুবচন হলো 'আমাযিল', আর তাঁরা হলেন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ … আবু সাঈদ (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে এর একটি শাহিদ (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে, যার শব্দমালা হলো: তিনি বললেন: নবীগণ। তিনি বললেন: এরপর কে? তিনি বললেন: আলেমগণ। তিনি বললেন: এরপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مَنْ قَالَ الصَّالِحُونَ الْحَدِيثَ "
(1).
قوله: (يُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ): أَيْ مِقْدَارِهِ ضَعْفًا وَقُوَّةً وَنَقْصًا وَكَمَالًا
(2).
قوله: (فَإِنْ كَانَ دِينُهُ صُلْبًا اشْتَدَّ بَلَاؤُهُ): صُلْبًا بِضَمِّ الصَّادِ الْمُهْمَلَةِ أَيْ قَوِيًّا شَدِيدًا، واشْتَدَّ أَيْ كَمِّيَّةً وَكَيْفِيَّةً
(3).
قوله: (وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَّةٌ ابْتُلِيَ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ): رِقَّةٌ أيّ ضَعْفًا وَلِينًا، ابْتُلِيَ بِبَلَاءٍ هَيِّنٍ سَهْلٍ وَالْبَلَاءُ فِي مُقَابَلَةِ النِّعْمَةِ فَمَنْ كَانَتِ النِّعْمَةُ عَلَيْهِ أَكْثَرَ فَبَلَاؤُهُ أَغْزَرُ
(4).
قوله: (فَمَا يَبْرَحُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي عَلَى الْأَرْضِ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ): أَيْ مَا يُفَارِقُ أَوْ مَا يُزَالُ، (وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ) كِنَايَةً عَنْ خَلَاصِهِ مِنَ الذُّنُوبِ فَكَأَنَّهُ كَانَ مَحْبُوسًا ثُمَّ أُطْلِقَ وَخُلِّيَ سَبِيلُهُ يَمْشِي مَا عَلَيْهِ بَأْسٌ
(5).
* * *
--------------------------------------------
নেককার ব্যক্তিগণ হাদিসটি বলেছেন
(১)।
তাঁর উক্তি: (ব্যক্তি তার দীনের স্তর অনুযায়ী পরীক্ষিত হয়): অর্থাৎ এর পরিমাণ অনুযায়ী—দুর্বলতা ও সবলতা এবং অসম্পূর্ণতা ও পূর্ণতা হিসেবে
(২)।
তাঁর উক্তি: (যদি তার দীন দৃঢ় হয়, তবে তার পরীক্ষা কঠিন হয়): 'সুলবান' সদ বর্ণে পেশ যোগে, যার অর্থ শক্তিশালী ও মজবুত। আর 'কঠিন হওয়া' বলতে পরিমাণ ও ধরন উভয় দিক থেকে বুঝানো হয়েছে
(৩)।
তাঁর উক্তি: (আর যদি তার দীনে শিথিলতা থাকে, তবে তার দীন অনুযায়ী সে পরীক্ষিত হয়): 'শিথিলতা' অর্থ দুর্বলতা ও কোমলতা। তাকে সহজ ও হালকা পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। আর পরীক্ষা হলো নিয়ামতের বিপরীতে; সুতরাং যার ওপর নিয়ামত বেশি, তার পরীক্ষা ততো অধিক ব্যাপক
(৪)।
তাঁর উক্তি: (বান্দার ওপর থেকে পরীক্ষা ততক্ষণ পর্যন্ত দূর হয় না, যতক্ষণ না তা তাকে এমন অবস্থায় জমিনে বিচরণ করতে ছেড়ে দেয় যে, তার ওপর কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না): অর্থাৎ যা পৃথক হয় না বা যা অপসারিত হয় না। (তার ওপর কোনো গুনাহ থাকে না) এটি তার পাপ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার রূপক বর্ণনা; যেন সে কারাবন্দি ছিল, এরপর তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং তার পথ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সে এমনভাবে বিচরণ করছে যে তার ওপর কোনো দায় নেই
(৫)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
2 - عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم وَهُوَ مَوْعُوكٌ، عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ، وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهَا فَوَجَدَ حَرَارَتَهَا فَوْقَ الْقَطِيفَةِ، فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ: مَا أَشَدَّ حَرَّ حُمَّاكَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم: إِنَّا كَذَلِكَ يُشَدَّدُ عَلَيْنَا الْبَلَاءُ وَيُضَاعَفُ لَنَا الْأَجْرُ. ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَنْ أَشَدُّ النَّاسِ بَلَاءً؟ قَالَ: " الْأَنْبِيَاءُ "، قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: " الْعُلَمَاءُ "، قَالَ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: " ثُمَّ الصَّالِحُونَ، كَانَ أَحَدُهُمْ يُبْتَلَى بِالْفَقْرِ حَتَّى مَا يَجِدُ إِلَّا الْعَبَاءَةَ يَلْبَسُهَا، وَيُبْتَلَى بِالْقُمَّلِ حَتَّى تَقْتُلَهُ، وَلَأَحَدُهُمْ كَانَ أَشَدَّ فَرَحًا بِالْبَلَاءِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِالْعَطَاءِ.
التخريج:
أخرجه أحمد
(1)، وعبد بن حميد
(2)، عن عبد الرزاق، عن معمر، عن زيد بن أسلم، عن رجل، عن أبي سعيد به، ورجاله ثقات لكن فيه رجلًا لم يسم، وقد جاء مصرحًا به، أخرجه ابن ماجه
(3)، والبخاري في الأدب المفرد
(4)، وأبو يعلى
(5)،
--------------------------------------------
২ - আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত যে, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর ওপর একটি পশমি চাদর ছিল। তিনি (আবু সাঈদ) তাঁর হাত চাদরের ওপর রাখলেন এবং চাদরের ওপর থেকেই তাঁর শরীরের উত্তাপ অনুভব করলেন। আবু সাঈদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জ্বরের উত্তাপ কতই না তীব্র! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমাদের ক্ষেত্রে এমনই হয়; আমাদের ওপর বিপদ কঠিন করা হয় এবং আমাদের জন্য প্রতিদানও দ্বিগুণ করা হয়।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মাঝে সবচেয়ে কঠিন বিপদের সম্মুখীন হন কারা? তিনি বললেন: "নবীগণ।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এরপর কারা? তিনি বললেন: "আলেমগণ।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এরপর কারা? তিনি বললেন: "অতঃপর নেককার বান্দাগণ। তাঁদের কাউকে দারিদ্র্য দ্বারা এমনভাবে পরীক্ষা করা হতো যে, তিনি পরিধান করার মতো একটি জুব্বা বা চাদর ছাড়া আর কিছুই পেতেন না। আর কাউকে উকুন দ্বারা এমনভাবে পরীক্ষা করা হতো যে, শেষ পর্যন্ত তা তাকে মেরেই ফেলত। তোমাদের কেউ যেমন দান-উপহার পেয়ে আনন্দিত হও, তাঁদের কেউ বিপদে তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হতেন।"
তখরিজ (উৎস নির্দেশ):
এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ
(১) এবং আবদ ইবনে হুমাইদ
(২), আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে এই সূত্রে। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এতে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে অন্য সূত্রে স্পষ্টভাবে তাঁর নাম এসেছে। ইবনে মাজাহ
(৩), আল-বুখারী 'আল-আদাবুল মুফরাদ'
(৪) গ্রন্থে এবং আবু ইয়ালা
(৫) এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والطبراني
(1)، والحاكم
(2)، والبيهقي
(3) كلهم من طريق هشام بن سعد، عن زيد ابن أسلم، عن عطاء بن أبي رباح، عن أبي سعيد به، وإسناده حسن، فيه هشام بن سعد، صدوق ربما وهم
(4)، لكنه من أثبت الناس في زيد بن أسلم كما قال أبو داود
(5)، ويشهد له حديث سعد بن أبي وقاص المتقدم قبله، وحديث ابن مسعود بعده، والحديث صححه الحاكم، والبوصيري
(6)، والألباني
(7).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
قوله: (وَهُوَ مَوْعُوكٌ): الْوَعْكُ بِفَتْحِ الْوَاوِ وَسُكُونِ الْعَيْنِ الْمُهْمَلَةِ وَقَدْ تُفْتَحُ هِيَ الْحُمَّى، وَقِيلَ أَلَمُ الْحُمَّى، وَقِيلَ تَعَبُهَا، وَقِيلَ إِرْعَادُهَا الْمَوْعُوكَ وَتَحْرِيكُهَا إِيَّاهُ، وَمَوْعوكٌ: مَحْمُومٌ
(8).
قوله: (عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ): الْقَطِيفَةُ كِسَاءٌ مُخْمَلٌ
(9).
--------------------------------------------
এবং তাবারানি
(১), আল-হাকিম
(২) এবং আল-বায়হাকি
(৩) সকলেই হিশাম বিন সা’দ-এর সূত্রে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবু সা’ঈদ (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ হাসান (উত্তম), এতে হিশাম বিন সা’দ রয়েছেন; তিনি সত্যবাদী তবে কখনো কখনো বিভ্রান্তিতে পড়েন
(৪), কিন্তু তিনি যায়েদ বিন আসলামের বর্ণনার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত যেমনটি আবু দাউদ বলেছেন
(৫)। ইতিপূর্বে বর্ণিত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের হাদিস এবং এর পরবর্তী ইবনে মাসউদের হাদিস একে সমর্থন করে। হাদিসটিকে আল-হাকিম, আল-বুসাইরি
(৬) এবং আল-আলবানি
(৭) সহিহ বলেছেন।
দ্বিতীয়ত: হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
তাঁর উক্তি: (আর তিনি জ্বরাক্রান্ত ছিলেন): ‘আল-ওয়াক’ (ওয়াও বর্ণে ফাতহ এবং আইন বর্ণে সুকুন যোগে, কখনো আইন বর্ণে ফাতহও হতে পারে) এর অর্থ হলো জ্বর। বলা হয়ে থাকে যে, এটি হলো জ্বরের বেদনা, আবার বলা হয় এটি জ্বরের ক্লান্তি, কেউ কেউ বলেন এটি হলো জ্বরাক্রান্ত ব্যক্তিকে জ্বরের কারণে কাঁপানো এবং তাকে নাড়ানো; আর ‘মাউউক’ অর্থ হলো জ্বরাক্রান্ত ব্যক্তি
(৮)।
তাঁর উক্তি: (তাঁর ওপর একটি চাদর ছিল): ‘আল-কাতিফাহ’ হলো মখমলের কাপড় বা কম্বল
(৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قوله: (وَلَأَحَدُهُمْ كَانَ أَشَدَّ فَرَحًا بِالْبَلَاءِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِالْعَطَاءِ): كَرَاهِيَةُ الْبَلَاءِ أَمْرٌ طَبِيعِيٌّ، وَلَكُنَّ بِسَبَبِ قُوَّةِ إيمَانِهِمْ وَمَعْرِفَتِهِمْ بِمَا عِنْدَ اللَّهِ مِنَ الْإكْرَامِ وَالْإحْسَانِ صَيَّرَ ذَلِكَ مَحْبُوبًا عِنْدهُمْ مَرْغُوبًا فِيهِ، وَلِأَنَّ الْمَعْرِفَةَ بِاللَّهِ كَلَمَّا قَوِيَتْ بِالْمُبْتَلَى هَانَ الْبَلَاءُ، وَلَا يُزَالُ يَرْتَقِي فِي الْمَقَامَاتِ حَتَّى يَلْتَذُّ بِالضَّرَّاءِ أَعْظُمُ مِنَ اِلْتِذَاذِهِ بِالسَّرَّاءِ
(1).
* * *
المطلب الثاني: البلاء قد يكون سببًا لتكفير السيئات3 - عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُوعَكُ، فَمَسِسْتُهُ بِيَدِي فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَجَلْ إِنِّي أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلَانِ مِنْكُمْ قَالَ: فَقُلْتُ: ذَلِكَ أَنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَجَلْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى مِنْ مَرَضٍ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللهُ بِهِ سَيِّئَاتِهِ، كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا.
التخريج:
أخرجه البخاري
(2)، ومسلم
(3).
--------------------------------------------
তাঁর বাণী: (তাদের প্রত্যেকে বিপদে তোমাদের উপহার প্রাপ্তির আনন্দের চেয়েও বেশি আনন্দিত হতেন): বিপদ অপছন্দ করা একটি স্বভাবজাত বিষয়, কিন্তু তাদের ঈমানের শক্তি এবং আল্লাহর নিকট যে সম্মান ও অনুগ্রহ রয়েছে সেই সম্পর্কে তাদের মারেফাত বা জ্ঞানের কারণে তা তাদের কাছে প্রিয় ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। কারণ আল্লাহর পরিচয় বা মারেফাত বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির মাঝে যখনই শক্তিশালী হয়, তখন বিপদ সহজ হয়ে যায়। আর সে ক্রমাগত উচ্চ মাকাম বা স্তরে আরোহণ করতে থাকে, এমনকি সে দুঃখ-কষ্টে সুখের চেয়েও বেশি স্বাদ অনুভব করে
(১).
* * *
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিপদ-আপদ গুনাহ মোচনের কারণ হতে পারে৩ - আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। আমি আমার হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো অত্যন্ত তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হ্যাঁ, তোমাদের দুইজন লোক যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই। তিনি (রা.) বলেন: আমি বললাম: এটি সম্ভবত এ কারণে যে আপনার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কোনো মুসলিম যখন রোগ বা অন্য কোনো কষ্টের শিকার হয়, তখন আল্লাহ তার মাধ্যমে তার গুনাহসমূহ এমনভাবে ঝরিয়ে দেন, যেমন গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়।
উৎস:
এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী
(২) ও মুসলিম
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
قوله: (: مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى مِنْ مَرَضٍ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللهُ بِهِ سَيِّئَاتِهِ، كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا): جاء في بعض الروايات
(1): (مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى شَوْكَةٌ، فَمَا فَوْقَهَا إِلَّا كَفَّرَ اللهُ بِهَا سَيِّئَاتِهِ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا)، وَكِلَاهُمَا صَحِيحٌ، وَهَذِهِ أَمْثِلَةٌ عَلَى الْاِبْتِلَاَءِ، وقَوْلُهُ: (أَذًى شَوْكَةً) التَّنْوِينُ فِيهِ لِلتَّقْلِيلِ لَا لِلْجِنْسِ لِيَصِحَّ تَرَتُّبُ فَوْقِهَا وَدُونِهَا فِي الْعِظَمِ وَالْحَقَارَةِ عَلَيْهِ بِالْفَاءِ، وَهُوَ يَحْتَمِلُ فَوْقَهَا فِي الْعِظَمِ وَدُونَهَا فِي الْحَقَارَةِ وَعَكْسِهِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ، وَقَوْلُهُ كَمَا تَحُطُّ بِفَتْحِ أَوَّلِهِ وَضَمِّ الْمُهْمَلَةِ وَتَشْدِيدِ الطَّاءِ الْمُهْمَلَةِ أَيْ تُلْقِيهِ مُنْتَثِرًا وَالْحَاصِلُ أَنَّهُ أَثْبَتَ أَنَّ الْمَرَضَ إِذَا اشْتَدَّ ضَاعَفَ الْأَجْرَ ثُمَّ زَادَ عَلَيْهِ بَعْدَ ذَلِكَ أَنَّ الْمُضَاعَفَةَ تَنْتَهِي إِلَى أَنْ تُحَطَّ السَّيِّئَاتُ كُلُّهَا أَوِ الْمَعْنَى قَالَ نَعَمْ شِدَّةُ الْمَرَضِ تَرْفَعُ الدَّرَجَاتِ وَتَحُطُّ الْخَطِيئَاتِ أَيْضًا حَتَّى لَا يَبْقَى مِنْهَا شَيْءٌ
(2).
* * *
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
তাঁর বাণী: (কোনো মুসলিম যখন রোগ বা অন্য কোনো কষ্টের শিকার হয়, তখন আল্লাহ তার মাধ্যমে তার পাপসমূহ ঝরিয়ে দেন, যেমনভাবে গাছ তার পাতা ঝরিয়ে ফেলে): কিছু বর্ণনায় এসেছে
(১): (কোনো মুসলিম যদি একটি কাঁটা বিঁধলে বা তার চেয়ে বেশি কোনো কষ্টের শিকার হয়, তবে আল্লাহ তার মাধ্যমে তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন, যেমনভাবে গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়), এবং উভয় বর্ণনাই সহিহ, আর এগুলো হলো পরীক্ষার উদাহরণ। তাঁর বাণী: (কষ্টকর কোনো কাঁটা) এখানে ‘তানউইন’ শব্দটি সামান্যতা বা নগণ্যতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, জাতিবাচক হিসেবে নয়; যাতে এর পরবর্তী ‘ফা’ অব্যয় যোগে বড় হওয়া বা ছোট হওয়ার বিষয়টি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক হয়। আর এটি আধিক্যের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি এবং তুচ্ছতার ক্ষেত্রে এর চেয়ে কম—উভয় সম্ভাবনা রাখে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। তাঁর বাণী ‘তাহুত্তু’ শব্দটি প্রথম বর্ণে ফাতহাহ (যবর), নুক্তাবিহীন ‘হা’ বর্ণে দম্মাহ (পেশ) এবং নুক্তাবিহীন ‘ত্বা’ বর্ণে তাশদিদ যোগে পঠিত; এর অর্থ হলো সেটি বিক্ষিপ্তভাবে ফেলে দেয়। সারকথা হলো, এটি সাব্যস্ত করেছে যে রোগ যখন তীব্র হয়, তখন প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়; অতঃপর এর সাথে আরও যোগ করা হয়েছে যে, এই বহুগুণ বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে সমস্ত গুনাহ ঝরে যায়। অথবা এর অর্থ হলো: হ্যাঁ, রোগের তীব্রতা মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং গুনাহসমূহকেও এমনভাবে ঝরিয়ে দেয় যে তার আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকে না
(২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المطلب الثالث: السعيد من جنب الفتن، وإذا ابتلي صبر:4 - عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَ: ايْمُ اللهِ لَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ، إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ، إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ، وَلَمَنِ ابْتُلِيَ فَصَبَرَ فَوَاهًا.
أولًا: التخريج:
أخرجه أبو داود
(1)، والبزار
(2)، والطبراني
(3) كلهم من طريق معاوية بن صالح
(4) عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير الحضرمي، عن أبيه، عن المقداد به، وإسناده صحيح، وحسن إسناده البزار، وصححه الألباني
(5).
ثانيًا: شرح ألفاظ الحديث:
قوله: (ايْمُ اللهِ): ايْمُ اللَّهِ بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ وَكَسْرِهَا وَالْمِيمُ مَضْمُومَةٌ
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে ফেতনা থেকে দূরে থাকে এবং যখন বিপদে পড়ে তখন ধৈর্য ধারণ করে:৪ - মিকদাদ বিন আসওয়াদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যাকে ফেতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যাকে ফেতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যাকে ফেতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। আর যাকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে অতঃপর সে ধৈর্য ধারণ করেছে, তার জন্য কতই না চমৎকার!"
প্রথমত: হাদিসের উৎস (তাখরিজ):
এটি আবু দাউদ, আল-বাযযার এবং তাবারানী বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলেই মুআবিয়া বিন সলিহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান বিন জুবাইর বিন নুফাইর আল-হাদরামি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মিকদাদ (রা.) থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ সহিহ (বিশুদ্ধ)। আল-বাযযার এর সনদকে হাসান বলেছেন এবং আলবানী একে সহিহ বলেছেন।
দ্বিতীয়ত: হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা:
তাঁর উক্তি: (আইমুল্লাহ): এটি একটি শপথ বাক্য, যা হামযাহ-র ফাতহাহ (যবর) অথবা কাসরাহ (যের) এবং মীম-এর যম্মাহ (পেশ) সহ উচ্চারিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফীল ইবতিলা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أَصْلُهُ ايْمُنُ اللَّهِ وَهُوَ اسْمٌ وُضِعَ لِلْقَسَمِ هَكَذَا ثُمَّ حُذِفَتْ مِنْهُ النُّونُ تَخْفِيفًا وَأَلِفُهُ أَلِفُ وَصْلٍ مَفْتُوحَةٌ وَلم يَجِيء كَذَلِكَ غَيْرُهَا وَهُوَ مَرْفُوعٌ بِالِابْتِدَاءِ وَخَبَرُهُ مَحْذُوفٌ وَالتَّقْدِيرُ ايْمُ اللَّهِ قَسَمِي وَفِيهَا لُغَاتٌ .. مِنْهَا: أَيْمُنُ اللَّهِ مُثَلَّثَةُ النُّونِ، وَمُنُ اللَّهِ مُخْتَصَرَةٌ مِنَ الْأُولَى مُثَلَّثَةُ النُّونِ أَيْضًا، وَايْمُ اللَّهِ كَذَلِكَ، وَمُ الله كَذَلِك بِكَسْر الْهمزَة أَيْضا، وَأم الله"
(1).
وسبب إقسام المقداد رضي الله عنه ما جاء عند البزار والطبراني بقوله (عَجِبْتُ لِقَوْمٍ مَرَرْتُ بِهِمْ يَتَمَنَّوْنَ الْفِتَنَ يَزْعُمُونَ لَيُبْلِيَنَّهُمُ اللهُ فِيهَا مَا أَبْلَى رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم، وَأَصْحَابَهُ رضي الله عنهم وَايْمُ اللهِ لَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ).
قوله: (إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ): (إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ): بِاللَّامِ الْمَفْتُوحَةِ لِلتَّأْكِيدِ فِي خَبَرِ إِنَّ، (جُنِّبَ): بِضَمِّ الْجِيمِ وَتَشْدِيدِ النُّونِ الْمَكْسُورَةِ، أَيْ بَعُد، وَالتَّكْرَارُ لِلْمُبَالَغَةِ فِي التَّأْكِيدِ، وَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ التَّكْرَارُ بِاعْتِبَارِ أَوَّلِ الْفِتَنِ وَآخِرِهَا
(2).
قوله: (وَلَمَنِ ابْتُلِيَ فَصَبَرَ فَوَاهًا): اللَّامُ لِلِابْتِدَاءِ، أَيْ: لَمَنِ امْتُحِنَ بِتِلْكَ الْفِتَنِ فَصَبَرَ، وقوله (فَوَاهًا): بِالتَّنْوِينِ اسْمُ صَوْتٍ
--------------------------------------------
এর মূল হলো 'আইমুনুল্লাহ' এবং এটি শপথের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ্য। এরপর উচ্চারণের সহজতার জন্য এটি থেকে 'নুন' বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর আলিফ হলো ফাতহা বা যবরযুক্ত 'আলিফে ওয়াসল'; এটি ব্যতীত অন্য কোনো শব্দে এমনটি আসেনি। এটি 'ইবতিদা' (উদ্দেশ্য) হিসেবে মারফু বা পেশযুক্ত এবং এর খবর (বিধেয়) উহ্য রয়েছে। এর পূর্ণরূপ হলো: 'আল্লাহর শপথই আমার শপথ'। এতে বিভিন্ন ভাষাতাত্ত্বিক রূপ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো: নুন বর্ণে তিন প্রকার হরকতসহ 'আইমুনুল্লাহ', প্রথম শব্দটির সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে নুন বর্ণে তিন হরকতসহ 'মুনুল্লাহ', একইভাবে 'আইমুল্লাহ', একইভাবে 'মুল্লাহ', হামযার নিচে কাসরা বা যেরসহ 'ইমুল্লাহ' এবং 'আমুল্লাহ'
(১)।
মিকদাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শপথ করার কারণ হলো বাজ্জার ও তাবারানিতে বর্ণিত তাঁর এই উক্তি: (আমি এমন এক সম্প্রদায়ের বিষয়ে বিস্মিত হলাম যাদের পাশ দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম, যারা ফিতনার আকাঙ্ক্ষা করছিল। তারা ধারণা করছিল যে, আল্লাহ তাদেরকে ফিতনার মাধ্যমে এমনভাবে পরীক্ষা করবেন যেভাবে তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের রাদিয়াল্লাহু আনহুম পরীক্ষা করেছিলেন। আল্লাহর শপথ! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: 'নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান সে-ই, যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে')।
তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান সে-ই যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হয়েছে): (নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান সে-ই): এখানে 'ইন্না'-র খবরের শুরুতে তাকিদ বা দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যবরযুক্ত 'লাম' ব্যবহৃত হয়েছে। (দূরে রাখা হয়েছে): জীম বর্ণে পেশ এবং নুন বর্ণে তাশদীদ ও যেরসহ, যার অর্থ হলো—তাকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এর পুনরাবৃত্তি তাকিদে অতিশয্য বুঝাতে হতে পারে, অথবা ফিতনার শুরু ও শেষ বিবেচনাতেও এই পুনরাবৃত্তি হতে পারে
(২)।
তাঁর বাণী: (আর যে ব্যক্তি পরীক্ষিত হলো এবং ধৈর্য ধারণ করল, তবে তার জন্য চমৎকার): এখানে 'লাম' বর্ণটি প্রারম্ভিক ব্যবহারের জন্য। অর্থাৎ: যাকে সেই ফিতনার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সে ধৈর্য ধারণ করেছে। আর তাঁর উক্তি (চমৎকার): এটি তানভীনসহ একটি ধ্বন্যাত্মক বিশেষ্য।
--------------------------------------------