(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الواردة في أحسن الناس   (حسين بن غازي التويجري)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: الأحاديث الواردة في أحسن الناس [بحث محكَّم]

المؤلف: حسين بن غازي التويجري

الناشر: (الناشر المتميز- الرياض)، (دار النصيحة - المدينة النبوية)

الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2020 م

عدد الصفحات: 59

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1446

শ্রেষ্ঠ মানুষের বর্ণনায় বর্ণিত হাদিসসমূহ   (হুসাইন বিন গাজি আত-তুওয়াইজরি)

বিভাগ: হাদিসের উৎস বিশ্লেষণ ও প্রান্তসমূহ (আত-তাখরিজ ওয়া আল-আতরাফ)


বই: শ্রেষ্ঠ মানুষের বর্ণনায় বর্ণিত হাদিসসমূহ [পিয়ার-রিভিউড গবেষণা]

লেখক: হুসাইন বিন গাজি আত-তুওয়াইজরি

প্রকাশক: (আন-নাশির আল-মুতামায়্যিজ - রিয়াদ), (দারুন নাসিহা - মদিনা আন-নাবাবিয়্যাহ)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة:

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ به من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}(1)

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}(2)

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}(3)

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران (102).

(2) سورة النساء (1).

(3) سورة الأحزاب (70 - 71).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}(১)

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}(২)

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}(৩)

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান (১০২)।

(২) সূরা আন-নিসা (১)।

(৩) সূরা আল-আহজাব (৭০ - ৭১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ৬)
أما بعد:

فإن المتأمل في السنة النبوية، وألفاظها يجد العجب العجاب، من حيث سهولتها، وبلاغتها، وتنوعها، مما تؤثر على قارئها وسامعها، بل تشد لبَّه إلاها، وتجذب انتباهه إلى ما فيها، ولا غرْو في ذلك، فقد أعطي صلى الله عليه وسلم جوامع الكلم(1)، ومن خلال قراءتي لبعض كتب السنة، توقفت عند قوله صلى الله عليه وسلم: " أحسن الناس"، فوجدت أنه صلى الله عليه وسلم قد ذكر هذه الكلمة في عدة مواطن، مرغبًا في الاتصاف بهذا الأمر، واستعماله، حتى ينطبق عليه اللفظ، ويكون داخلًا فيه، ومشمولًا بهذه الخيرية، و لأهمية الموضوع، بدأت بجمع الأحاديث التي تشتمل على هذه اللفظة: "أحسن الناس"، وتخريجها مع تمييز ضعيفها من صحيحها، وقد اجتمع عندي قرابة الثلاث عشرة حديثًا، فعنونت لها باسم:

الأحاديث الواردة في أحسن الناس جمعًا ودراسةً.

--------------------------------------------

(1) ثبت من حديث أبي هريرة، أخرجه البخاري في صحيحه (9/ 36، 7013)، ومسلم في صحيحه (1/ 371، 523).
অতঃপর:

সুন্নাহে নববী এবং এর শব্দাবলির প্রতি যে ব্যক্তি গভীরভাবে মনোনিবেশ করবেন, তিনি এক বিস্ময়কর নিপুণতা খুঁজে পাবেন—তা এর সাবলীলতা, অলংকারশাস্ত্রীয় মাধুর্য এবং বৈচিত্র্যের দিক থেকে; যা এর পাঠক ও শ্রোতাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। বরং তা তার অন্তরকে এর প্রতি নিবদ্ধ করে এবং এর ভেতরে নিহিত বিষয়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাওয়ামিউল কালিম (সংক্ষেপে ব্যাপক অর্থপূর্ণ কথা বলার ক্ষমতা) দান করা হয়েছে(১)। সুন্নাহর কিছু কিতাব অধ্যয়নকালে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর প্রতি দৃষ্টিপাত করি: "মানুষের মাঝে সর্বোত্তম ব্যক্তি"। আমি দেখতে পেলাম যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই গুণটি অর্জনে এবং এর চর্চায় উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন স্থানে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যাতে করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর এই বিশেষত্বটি প্রযোজ্য হয় এবং সে এই শ্রেষ্ঠত্বের অন্তর্ভুক্ত ও শামিল হতে পারে। বিষয়ের গুরুত্বের বিবেচনায় আমি সেই সকল হাদিসগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করি যাতে "মানুষের মাঝে সর্বোত্তম ব্যক্তি" শব্দটি রয়েছে। সেগুলোর উৎস নির্দেশ করার (তাখরিজ) পাশাপাশি আমি সহিহ ও জয়িফ হাদিসগুলোকে আলাদা করেছি। আমার নিকট প্রায় তেরোটি হাদিস সংগৃহীত হয়েছে। অতঃপর আমি এর শিরোনাম দিয়েছি:

মানুষের মাঝে সর্বোত্তম ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ: সংকলন ও পর্যালোচনা।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে প্রমাণিত, ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৯/৩৬, ৭০১৩) এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১/৩৭১, ৫২৩) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الدراسات السابقة:

لم أقف على من أفرد هذا المبحث برسالة خاصة وجمع أحاديثها في مكان واحد، وإنما هي مبثوثة في كتب السنة المسندة.

 

‌‌خطة البحث:

قسمت البحث إلى مقدمة، وثلاثة عشر مطلبًا، وخاتمة، وفهارس:

فالمقدمة بينت فيه أهمية البحث، والمنهج الذي سلكته في البحث، والخطة التي سرت عليه في جمع الأحاديث وطريقة تخريجها.

وأما المطالب:

المطلب الأول: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس.

المطلب الثاني: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خُلقًا.

المطلب الثالث: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس وجهًا.

المطلب الرابع: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس ثغرًا.

المطلب الخامس: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس عيادةً.

المطلب السادس: كان موسى صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خَلقًا.
পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ:

আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এই বিষয়টিকে একটি স্বতন্ত্র গবেষণাপত্র হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন এবং এর হাদিসগুলোকে এক স্থানে সংকলন করেছেন; বরং এগুলো মুসনাদ হাদিসগ্রন্থগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

 

গবেষণা পরিকল্পনা:

আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, তেরটি পরিচ্ছেদ, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টে বিভক্ত করেছি:

ভূমিকায় আমি গবেষণার গুরুত্ব, গবেষণায় অনুসৃত পদ্ধতি এবং হাদিস সংগ্রহ ও তা তাখরিজ করার ক্ষেত্রে যে পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি তা বর্ণনা করেছি।

আর পরিচ্ছেদগুলো হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর দাঁতের (হাসির) অধিকারী।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে রোগী পরিদর্শনে সর্বোত্তম।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মূসা আলাইহিস সালাম ছিলেন মানুষের মধ্যে শারীরিক গঠনে সবচেয়ে সুন্দর।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ৮)
المطلب السابع: كانت دوس أحسن الناس وجوهًا.

المطلب الثامن: أحسن الناس صوتًا بالقرآن.

المطلب التاسع: أحسن الناس إسلامًا أحسنهم خُلقًا.

المطلب العاشر: أحسن الناس خُلقًا أحسنهم دينًا.

المطلب الحادي عشر: أحسن الناس قتلة.

المطلب الثاني عشر: أحسن الناس قولًا.

المطلب الثالث عشر: أحسن الناس منزلة.

والخاتمة، وذكرت فيها أهم النتائج والفوائد من البحث، ثم ذكرت فهرس المراجع والمصادر، ثم فهرس الموضوعات.

 

‌‌منهج البحث:

أولًا: جمعت الأحاديث من مصادر السنة المسندة، على الطريقة التالية:

أ - فإن كان الحديث في الصحيحين، أو أحدهما، اكتفيت بالعزو لهما، وربما عزوت إلى السنن الأربعة أو لغيرها من أجل فائدة إسنادية أو متنية.

ب - فإن لم يكن الحديث بالصحيحين أو أحدهما، عزوته
সপ্তম পরিচ্ছেদ: দাওস গোত্র চেহারার দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর ছিল।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কণ্ঠস্বর।

নবম পরিচ্ছেদ: ইসলামের দিক থেকে সর্বোত্তম মানুষ তারাই, যাদের চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।

দশম পরিচ্ছেদ: চরিত্রের দিক থেকে সর্বোত্তম মানুষ তারাই, যাদের দ্বীন সবচেয়ে উত্তম।

একাদশ পরিচ্ছেদ: হত্যার পদ্ধতির দিক থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তি।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: কথার দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: মর্যাদার দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম।

এবং উপসংহার, এতে আমি গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও উপকারিতাগুলো উল্লেখ করেছি, অতঃপর তথ্যসূত্র ও উৎসের তালিকা এবং শেষে বিষয়সূচি উল্লেখ করেছি।

 

গবেষণার পদ্ধতি:

প্রথমত: আমি মুসনাদ সুন্নাহর উৎসসমূহ থেকে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে হাদীসসমূহ সংগ্রহ করেছি:

ক - হাদীসটি যদি সহীহাইনে অথবা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কেবল সেই কিতাবদ্বয়ের উদ্ধৃতি দেওয়ার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। তবে কখনো কখনো সনদ বা মতনগত কোনো উপকারের উদ্দেশ্যে সুনানে আরবাআ অথবা অন্য কিতাবের উদ্ধৃতিও প্রদান করেছি।

খ - আর হাদীসটি যদি সহীহাইনে বা এর কোনো একটিতেও না থাকে, তবে আমি তা উদ্ধৃত করেছি...
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ৯)
لأصحاب السنن الأربعة، مع الحكم عليه، وربما عزوته لغير السنن من أجل فائدة في الإسناد، أو في المتن.

ت - فإن لم يكن في السنن الأربعة أو في أحدها خرجته من بقية الكتب مرتبًا في العزو على سنة الوفاة، مع الحكم عليه، بعد ذكر المتابعات والشواهد إن احتاج الأمر إلى ذلك، ولا أستوعب جميع من أخرج الحديث، طلبًا للاختصار.

ث - أذكر ما وقفت عليه من أحكام أهل العلم على الحديث من غير قصد الاستيعاب.

ج - أعرضت عن ذكر الأحاديث الموضوعة والمكذوبة على رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ح - اقتصرت على الأحاديث التي نصت على لفظة " أحسن الناس".

ثانيًا: الترجمة لرجال الإسناد ممن يقتضي المقام الترجمة لهم، على النحو التالي:

أ - إذا كان الراوي من رجال الكتب الستة، فأكتفي بكلام
চার সুনান গ্রন্থকারের সংকলন থেকে, সাথে সেটির ওপর হুকুম বর্ণনা করেছি। কখনো কখনো আমি সনদ বা মতনের কোনো উপকারের জন্য সুনান ব্যতীত অন্য গ্রন্থের দিকেও সম্বন্ধযুক্ত করেছি।

ত - যদি হাদিসটি চার সুনান বা তার কোনো একটিতে না থাকে, তবে আমি সেটি অন্যান্য কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছি, যা মৃত্যুসন অনুযায়ী বিন্যস্ত। সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী মুতাবা'আত ও শাওয়াহিদ উল্লেখ করার পর তার হুকুম বর্ণনা করেছি। সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে হাদিসটি যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সবার উল্লেখ আমি করিনি।

স - হাদিসের ওপর আহলুল ইলমের যে সকল হুকুম আমার নজরে এসেছে তা উল্লেখ করেছি, তবে সব বর্ণনা করা আমার উদ্দেশ্য নয়।

জ - আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে বর্ণিত জাল ও মিথ্যা হাদিসগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি।

হ - আমি কেবল সেই হাদিসগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যাতে "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম" শব্দগুচ্ছটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

দ্বিতীয়ত: সনদের বর্ণনাকারীদের জীবনী বর্ণনা করা যাদের জীবনী উল্লেখ করা প্রয়োজন, তা নিম্নরূপ:

অ - যদি বর্ণনাকারী কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে আমি কেবল...
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ১০)
الحافظ ابن حجر في التقريب، ما لم يظهر لي خلافه، فحينئذ أذكر بعضًا من كلام أئمة الجرح والتعديل في تأييد ما ظهر لي من حال هذا الراوي.

ب- إذا لم يكن الراوي من رجال التقريب، فإني أعرَّف به من مظانِّ ترجمته بإيجاز.

ثالثًا: بيان معاني الكلمات الغريبة.

رابعًا: ضبط الكلمات والأسماء المشكلة.

خامسًا: الالتزام بعلامات الترقيم.

وأسأل الله التوفيق والسداد، وأن يجعل أعمالنا صالحة، ولوجهه خالصة، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
আল-হাফেজ ইবনে হাজার তার 'তাকরিব' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, যতক্ষণ না আমার নিকট এর বিপরীত কিছু প্রতীয়মান হয়; এমতাবস্থায় আমি এই রাবীর অবস্থা সম্পর্কে আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে তার সমর্থনে জারহ ও তা'দিল শাস্ত্রের ইমামগণের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করি।

খ- যদি বর্ণনাকারী 'তাকরিব' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে আমি তার জীবনী সংক্রান্ত মূল উৎসসমূহ থেকে সংক্ষিপ্তভাবে তার পরিচয় প্রদান করি।

তৃতীয়ত: অপরিচিত শব্দাবলির অর্থ বর্ণনা করা।

চতুর্থত: জটিল শব্দ ও নামসমূহের সঠিক উচ্চারণ ও বিন্যাস নির্ধারণ করা।

পঞ্চমত: বিরামচিহ্নের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি, এবং তিনি যেন আমাদের আমলসমূহকে নেক আমল হিসেবে কবুল করেন এবং তা কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المطلب الأول: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس:

1 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَشْجَعَ النَّاسِ، وَلَقَدْ فَزِعَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَانْطَلَقَ نَاسٌ قِبَلَ الصَّوْتِ، فَتَلَقَّاهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَاجِعًا، وَقَدْ سَبَقَهُمْ إِلَى الصَّوْتِ وَهُوَ عَلَى فَرَسٍ لِأَبِي طَلْحَةَ(1) عُرْيٍ(2) فِي عُنُقِهِ السَّيْفُ، وَهُوَ يَقُولُ: لَمْ تُرَاعُوا، لَمْ تُرَاعُوا. قَالَ: وَجَدْنَاهُ بَحْرًا(3) - أَوْ: إِنَّهُ لَبَحْرٌ. قَالَ: وَكَانَ فَرَسًا يُبَطَّأُ.

--------------------------------------------

(1) هو: زيد بن سهل بن الأسود بن حرام الأنصاري النجاري أبو طلحة زوج أم سليم، مشهور بكنيته، من كبار الصحابة، شهد بدرًا وما بعدها، مات سنة أربع وثلاثين للهجرة. انظر: الإصابة (2/ 502)، والتقريب (2151).

(2) عُري: بضمّ العين المهملة، وسكون الراء، وتخفيف الياء وقرأها بعضهم بكسر الراء، وتشديد الياء والمعنى: لا سرج عليه. انظر: النهاية في غريب الحديث (3/ 225)، والمصباح المنير (2/ 406)، والتوضيح لشرح الجامع الصحيح (28/ 352).

(3) وصف للفرس بأنه واسع الجري، خلافًا لما عرف عنه بأنه بطيء السير، وهذا من عظيم بركة النبي صلى الله عليه وسلم ومعجزته في انقلاب الفرس سريعًا بعد أن كان يبطأ: انظر: النهاية لابن الأثير (1/ 99)، والمنهاج (15/ 68).
প্রথম পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দর:

১ - আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দর, মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল এবং মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সাহসী। এক রাতে মদীনার অধিবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে কিছু লোক শব্দের উৎসের দিকে অগ্রসর হলেন। পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হলো যখন তিনি ফিরে আসছিলেন। তিনি তাদের পূর্বেই শব্দের উৎসের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিনি আবু তালহার একটি জীনবিহীন ঘোড়ার পিঠে সওয়ার ছিলেন এবং তাঁর গলায় তলোয়ার ঝুলানো ছিল। তিনি বলছিলেন: তোমরা ভয় পেও না, তোমরা ভয় পেও না। আনাস (রা.) বলেন: আমরা ঘোড়াটিকে সমুদ্রের মতো (দ্রুতগামী) পেলাম—অথবা তিনি বলেছিলেন: নিশ্চয়ই এটি একটি সমুদ্র। তিনি আরও বলেন: ইতিপূর্বে ঘোড়াটি অত্যন্ত ধীরগতির ছিল।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: যায়েদ ইবন সাহল ইবন আল-আসওয়াদ ইবন হারাম আল-আনসারী আন-নাজ্জারী আবু তালহা, উম্মু সুলাইমের স্বামী। তিনি তাঁর উপনামেই সমধিক পরিচিত। তিনি প্রবীণ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বদর এবং তৎপরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি হিজরি চৌত্রিশ সালে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: আল-ইসাবাহ (২/৫০২), এবং আত-তাকরীব (২১৫১)।

(২) 'উরি': আইন বর্ণে পেশ, রা বর্ণে সুকুন এবং ইয়া বর্ণে তাশদীদ ছাড়া। কেউ কেউ এটি রা বর্ণে যের এবং ইয়া বর্ণে তাশদীদসহ পড়েছেন। এর অর্থ হলো: ঘোড়ার পিঠে কোনো জীন বা আসন ছিল না। দেখুন: আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস (৩/২২৫), আল-মিসবাহুল মুনীর (২/৪০৬) এবং আত-তাওদীহ লি-শারহিল জামিইস সহীহ (২৮/৩৫২)।

(৩) ঘোড়াটির দ্রুতগতি সম্পন্ন হওয়ার গুণ বর্ণনা করা হয়েছে, যদিও ইতিপূর্বে এটি ধীরগতির হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান বরকত ও মুজিযার বহিঃপ্রকাশ যে, ধীরগতির ঘোড়াটি দ্রুতগামীতে পরিণত হয়েছিল। দেখুন: ইবনুল আসীরের আন-নিহায়াহ (১/৯৯), এবং আল-মিনহাজ (১৫/৬৮)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ১২)
أخرجه البخاري(1)، ومسلم(2).

 

‌‌فائدة:

وفي هذا الحديث ما يدلُّ على أن النبي صلى الله عليه وسلم كان قد جمع له من جودة ركوب الخيل، والشجاعة، والشهامة، والانتهاض الغائي في الحروب، والفروسية وأهوالها، ما لم يكن عند أحد من الناس، ولذلك قال أصحابه عنه: إنه كان أشجع الناس، وأجرأ الناس في حال البأس، ولذلك قالوا: إن الشجاع منهم كان الذي يلوذ بجنابه إذا التحمت الحروب، وناهيك به، فإنَّه ما ولَّى قطٌّ منهزمًا، ولا تحدَّث أحد عنه قط بفرار(3).

* * *

--------------------------------------------

(1) الصحيح (8/ 13، 6033).

(2) الصحيح (4/ 1802، 2307).

(3) المفهم (6/ 98).
এটি বুখারী(১) ও মুসলিম(২) বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌উপকারিতা:

এই হাদিসে এমন কিছু দলীল রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে অশ্বারোহণে পারদর্শিতা, বীরত্ব, মহত্ত্ব, যুদ্ধে সর্বোচ্চ তৎপরতা এবং অশ্বারোহন ও এর ভয়াবহতা মোকাবিলায় এমন সব গুণাবলি একত্রিত হয়েছিল যা অন্য কোনো মানুষের মাঝে ছিল না। আর এ কারণেই তাঁর সাহাবীগণ তাঁর সম্পর্কে বলতেন: তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী এবং যুদ্ধের ভয়াবহ মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভীক। আর এ কারণেই তাঁরা বলতেন: যুদ্ধ যখন তীব্র রূপ ধারণ করত তখন তাঁদের মধ্যে যিনি সাহসী হতেন তিনি তাঁরই আশ্রয় নিতেন। তাঁর মর্যাদার বর্ণনায় এতটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি কখনও পরাজিত হয়ে পিঠ প্রদর্শন করেননি এবং কখনও কেউ তাঁর পলায়ন সম্পর্কে কোনো আলোচনাও করেনি(৩)।

* * *

--------------------------------------------

(১) আস-সহীহ (৮/ ১৩, ৬০৩৩)।

(২) আস-সহীহ (৪/ ১৮০২, ২৩০৭)।

(৩) আল-মুফহিম (৬/ ৯৮)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المطلب الثاني: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خُلقًا:

2 - عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقًا، وَكَانَ لِي أَخٌ يُقَالُ لَهُ أَبُو عُمَيْرٍ(1)، قَالَ: أَحْسَبُهُ فَطِيمٌ، وَكَانَ إِذَا جَاءَ قَالَ: يَا أَبَا عُمَيْرٍ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ(2)؟ نُغَرٌ كَانَ يَلْعَبُ بِهِ، فَرُبَّمَا حَضَرَ الصَّلَاةَ وَهُوَ فِي بَيْتِنَا فَيَأْمُرُ بِالْبِسَاطِ الَّذِي تَحْتَهُ فَيُكْنَسُ وَيُنْضَحُ(3)، ثُمَّ يَقُومُ وَنَقُومُ خَلْفَهُ فَيُصَلِّي بِنَا".

أخرجه البخاري(4)، ومسلم(5).

--------------------------------------------

(1) أبو عمير بن أبي طلحة زيد بن سهل الأنصاري، يقال اسمه حفص، أخو أنس من أمه، مات في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، ولموته قصة عجيبة مؤثرة فلتراجع. انظر: الإصابة (7/ 246).

(2) هُوَ تَصْغِيرُ النُّغَرِ، وَهُوَ طَائِرٌ يُشْبِه العُصْفور، أَحْمَرُ المِنْقار، ويُجمع عَلَى: نِغْرَان. النهاية (5/ 86).

(3) النضح: الرش بالماء لأجل أن يلين، فإنه كان من جريد النخل. انظر: النهاية (5/ 70)، والمجموع (5/ 164).

(4) الصحيح (8/ 45، 6203).

(5) الصحيح (3/ 1692، 2150).
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী:

২ - আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। আমার আবু উমাইর নামক এক ভাই ছিল। আনাস (রা.) বলেন: আমার মনে হয় সে তখন কেবল দুধ পান ছেড়েছিল। যখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসতেন, তখন বলতেন: হে আবু উমাইর, নুগাইরটি (ছোট পাখি) কী করছে? সেটি ছিল একটি ছোট পাখি যা দিয়ে সে খেলা করত। অনেক সময় আমাদের ঘরে থাকা অবস্থায় সালাতের সময় হতো, তখন তিনি তাঁর নিচের বিছানাটি ঝাড়ু দিতে ও পানি ছিটিয়ে পরিষ্কার করতে বলতেন। তারপর তিনি দাঁড়াতেন এবং আমরা তাঁর পেছনে দাঁড়াতাম, এরপর তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন।

বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আবু উমাইর বিন আবি তালহা যাইদ বিন সাহল আল-আনসারী। বলা হয় তাঁর নাম হাফস। তিনি মাতা পক্ষ থেকে আনাস (রা.) এর ভাই ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকাল নিয়ে একটি চমৎকার ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা রয়েছে, যা দেখে নেওয়া উচিত। দেখুন: আল-ইসাবাহ (৭/ ২৪৬)।

(২) এটি 'নুগার' শব্দের ক্ষুদ্রতাবোধক রূপ। এটি চড়ুই সদৃশ একটি পাখি যার ঠোঁট লাল। এর বহুবচন হলো: নিগরান। আন-নিহায়া (৫/ ৮৬)।

(৩) আন-নাদহ: নরম করার উদ্দেশ্যে পানি ছিটানো। কারণ সেটি খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। দেখুন: আন-নিহায়া (৫/ ৭০) এবং আল-মাজমু' (৫/ ১৬৪)।

(৪) আস-সহীহ (৮/ ৪৫, ৬২০৩)।

(৫) আস-সহীহ (৩/ ১৬৯২, ২১৫০)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌فائدة:

قال النووي: (وفي هذا الحديث فوائد كثيرة، منها جواز تكنية من لم يولد له، وتكنية الطفل وأنه ليس كذبًا، وفيه جواز المزح فيما ليس بإثم، وجواز تصغير بعض المسميات، وجواز التسجيع في الكلام الحسن بلا كلفة، وملاطفة الصبيان وتأنيسهم، وبيان ما كان عليه صلى الله عليه وسلم من حسن الخلق وكرم الشمائل، والتواضع … )(1)

* * *

--------------------------------------------

(1) المنهاج (14/ 306)، وقال ابن حجر في الفتح (10/ 598): (وَذَكَرَ ابْنِ الْقَاصِّ فِي أَوَّلِ كِتَابِهِ أَنَّ بَعْضَ النَّاسِ عَابَ عَلَى أَهْلِ الْحَدِيثِ أَنَّهُمْ يَرْوُونَ أَشْيَاءَ لَا فَائِدَةَ فِيهَا، وَمَثَّلَ ذَلِكَ بِحَدِيثِ أَبِي عُمَيْرٍ هَذَا قَالَ: وَمَا دَرَى أَنَّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ مِنْ وُجُوهِ الْفِقْهِ وَفُنُونِ الْأَدَبِ وَالْفَائِدَةِ سِتِّينَ وَجْهًا. ثُمَّ سَاقَهَا مَبْسُوطَةً، فَلَخَّصْتُهَا مُسْتَوْفِيًا مَقَاصِدَهُ، ثُمَّ أَتْبَعْتُهُ بِمَا تَيَسَّرَ مِنَ الزَّوَائِدِ عَلَيْهِ … ).
উপকারিতা:

আন-নববী (রহ.) বলেন: (এই হাদীসে অনেক উপকারিতা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো: যার সন্তান জন্মায়নি তাকে কুনিয়া (উপনাম) প্রদান করা বৈধ, শিশুকে কুনিয়া দেওয়া বৈধ এবং এটি মিথ্যা নয়। এতে পাপ নেই এমন বিষয়ে কৌতুক করার বৈধতা রয়েছে, কিছু নামকে ক্ষুদ্রতাসূচক শব্দে রূপান্তর করার বৈধতা রয়েছে, এবং কৃত্রিমতা বর্জিত উত্তম কথার মধ্যে ছন্দ ব্যবহারের বৈধতা রয়েছে। এছাড়াও শিশুদের সাথে নম্র আচরণ করা ও তাদের সাথে হৃদ্যতা গড়ে তোলা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উত্তম চরিত্র, মহান গুণাবলি ও বিনয় প্রকাশ পায় … )(১)

* * *

--------------------------------------------

(১) আল-মিনহাজ (১৪/ ৩০৬), এবং ইবনে হাজার আল-ফাতহ গ্রন্থে (১০/ ৫৯৮) বলেন: (ইবনুল কাস তার কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, কিছু লোক আহলে হাদীসদের এই বলে দোষারোপ করত যে তারা এমন সব বিষয় বর্ণনা করে যার কোনো উপকারিতা নেই। তারা এর উদাহরণ হিসেবে আবু উমাইরের এই হাদীসটি পেশ করত। তিনি বলেন: সে জানত না যে এই হাদীসের মধ্যে ফিকহী দিক, শিষ্টাচারের বিভিন্ন প্রকার এবং উপকারিতার ষাটটি দিক রয়েছে। অতঃপর তিনি সেগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন, আর আমি তার উদ্দেশ্যসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে সংক্ষেপ করেছি। এরপর আমি এতে আরও কিছু সহজলব্ধ অতিরিক্ত বিষয় যোগ করেছি … )।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المطلب الثالث: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس وجهًا:

3 - عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ وَجْهًا، وَأَحْسَنَهُمْ خَلْقًا، لَيْسَ بِالطَّوِيلِ الذَّاهِبِ(1) وَلَا بِالْقَصِيرِ".

أخرجه البخاري(2)، ومسلم(3) وهذا لفظه.

* * *

--------------------------------------------

(1) أي: المفرط في طوله. انظر: إكمال المعلم (7/ 315)، ومطالع الأنوار (3/ 81).

(2) الصحيح (4/ 188، 3549).

(3) الصحيح (4/ 1819، 2337).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী:

৩ - বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী এবং শারীরিক গঠনে সবচেয়ে সুন্দর। তিনি অতি দীর্ঘকায়(১) ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না।"

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী(২) ও মুসলিম(৩), আর এই শব্দগুলো তাঁর (মুসলিম)।

* * *

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: যার উচ্চতা অত্যধিক। দেখুন: ইকমালুল মুয়াল্লিম (৭/ ৩১৫), এবং মাতালিউল আনওয়ার (৩/ ৮১)।

(২) আস-সহীহ (৪/ ১৮৮, ৩৫৪৯)।

(৩) আস-সহীহ (৪/ ১৮১৯, ২৩৩৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المطلب الرابع: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس ثغرًا:

4 - حديث عمر الطويل في ذكر قصة اعتزال النبي صلى الله عليه وسلم لنسائه رضي الله عنهن وذكر فيه: قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَالْمُسْلِمُونَ يَنْكُتُونَ(1) بِالْحَصَى يَقُولُونَ: طَلَّقَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ، أَفَأَنْزِلُ فَأُخْبِرَهُمْ أَنَّكَ لَمْ تُطَلِّقْهُنَّ؟ قَالَ: نَعَمْ إِنْ شِئْتَ، فَلَمْ أَزَلْ أُحَدِّثُهُ حَتَّى تَحَسَّرَ(2) الْغَضَبُ عَنْ وَجْهِهِ، وَحَتَّى كَشَرَ(3) فَضَحِكَ، وَكَانَ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ ثَغْرًا(4) ".

أخرجه البخاري(5)، ومسلم(6) وهذا لفظه.

--------------------------------------------

(1) يَنْكُتُونَ: بتاء مثناة بعد الكاف أي يضربون الأرض كفعل المهموم المفكر. المنهاج (10/ 65).

(2) تَحَسَّرَ: معناه زال وانكشف عن وجهه الغضب. انظر: النهاية (1/ 383)، والمنهاج (10/ 65).

(3) كَشَر: بفتح الشين المعجمة المخففة ومعناه أظهر أسنانه مبتسمًا. انظر: النهاية (4/ 176)، والمنهاج (10/ 65).

(4) ثَغْرًا: أي فمًا، أو الأسنان، أو مقدم الأسنان. انظر: الصحاح (2/ 605)، والقاموس المحيط ص 359.

(5) الصحيح (3/ 133، 2468).

(6) الصحيح (2/ 1105، 1479).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর সম্মুখ দন্তবিশিষ্ট:

৪ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাঁর স্ত্রীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না) থেকে পৃথক থাকার ঘটনা বর্ণনায় ওমরের দীর্ঘ হাদীস, যাতে তিনি উল্লেখ করেছেন: তিনি (ওমর) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম মুসলমানগণ নুড়ি পাথর দিয়ে মাটিতে টোকা দিচ্ছেন এবং বলছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন। আমি কি নিচে গিয়ে তাদের সংবাদ দেব যে আপনি তাদের তালাক দেননি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তুমি চাইলে পারো।" এরপর আমি তাঁর সাথে কথা বলতেই থাকলাম যতক্ষণ না তাঁর চেহারা থেকে রাগের চিহ্ন দূরীভূত হলো এবং তিনি মৃদু হেসে দাঁত প্রকাশ করলেন। আর তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর সম্মুখ দন্তবিশিষ্ট।

এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং এটি মুসলিমের শব্দ।

--------------------------------------------

(১) ইয়ানুকতূন: কাফ বর্ণের পর 'তা' বর্ণসহ, অর্থাৎ তাঁরা চিন্তিত ও ভাবুক ব্যক্তির মতো মাটিতে আঘাত করছিলেন। আল-মিনহাজ (১০/৬৫)।

(২) তহাসসারা: এর অর্থ হলো তাঁর চেহারা থেকে রাগ দূরীভূত ও অপসারিত হলো। দেখুন: আন-নিহায়াহ (১/৩৮৩) এবং আল-মিনহাজ (১০/৬৫)।

(৩) কাশারা: শীন বর্ণে ফাতহাহ ও তাশদীদহীন উচ্চারণে, এর অর্থ হলো হাসিমুখে দাঁত বের করা। দেখুন: আন-নিহায়াহ (৪/১৭৬) এবং আল-মিনহাজ (১০/৬৫)।

(৪) সাগ্‌রান: অর্থাৎ মুখ, অথবা দাঁতসমূহ, অথবা সামনের পাটির দাঁত। দেখুন: আস-সিহাহ (২/৬০৫) এবং আল-কামুস আল-মুহিত, পৃষ্ঠা ৩৫৯।

(৫) সহীহ (৩/১৩৩, ২৪৬৮)।

(৬) সহীহ (২/১১০৫, ১৪৭৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌فائدة:

قال ابن حجر: (وَفِيهِ أَنَّ الْمَرْءَ إِذَا رَأَى صَاحِبَهُ مَهْمُومًا اسْتُحِبَّ لَهُ أَنْ يُحَدِّثَهُ بِمَا يُزِيلُ هَمَّهُ وَيُطَيِّبُ نَفْسَهُ، لِقَوْلِ عُمَرَ: لَأَقُولَنَّ شَيْئًا يُضْحِكُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.(1) وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ بَعْدَ اسْتِئْذَانِ الْكَبِيرِ فِي ذَلِكَ كَمَا فَعَلَ عُمَرُ .. )(2).

* * *

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم (2/ 1104، 1478).

(2) الفتح (9/ 187).
‌জ্ঞাতব্য:

ইবনে হাজার বলেন: (এতে এই বিষয়টি রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যখন তার সঙ্গীকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দেখে, তখন তার জন্য মুস্তাহাব হলো তার সাথে এমন কিছু বলা যা তার দুশ্চিন্তা দূর করে এবং তার মনকে প্রফুল্ল করে। কারণ উমর (রা.) বলেছিলেন: আমি অবশ্যই এমন কিছু বলব যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাসাবে।(১) আর বড় বা ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির নিকট হতে অনুমতি গ্রহণের পর এমনটি করা মুস্তাহাব, যেমনটি উমর (রা.) করেছিলেন... )(২).

* * *

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম (২/ ১১০৪, ১৪৭৮)।

(২) আল-ফাতহ (৯/ ১৮৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المطلب الخامس: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أحسن الناس عيادةً:

5 - عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ قَالَ: اشْتَكَتِ امْرَأَةٌ(1) مِنْ أَهْلِ الْعَوَالِي، فَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُ عَنْهَا، وَكَانَ أَحْسَنَ شَيْءٍ أَوْ قَالَ: أَحْسَنَ النَّاسِ عِيَادَةً لِلْمَرِيضِ، قَالَ: فَقَالَ: " إِنْ مَاتَتْ فَآذِنُونِي بِهَا " فَتُوُفِّيَتْ لَيْلًا، فَأَصْبَحَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ فَأَخْبَرُوهُ بِخَبَرِهَا، وَأَنَّهُمْ دَفَنُوهَا لَيْلًا، قَالَ: فَأَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَبْرَهَا فَصَلَّى عَلَيْهَا وَكَبَّرَ أَرْبَعًا.

أخرجه النسائي(2)، ومالك(3)، وعبد الرزاق(4) -وهذا لفظه-

--------------------------------------------

(1) لم أقف على اسمها، ولعلها المرأة السوداء التي كانت تقم المسجد وحديثها في الصحيحين كما سيأتي، قال الحافظ في الفتح (1/ 553): "ورواه البيهقي بإسناد حسن من حديث ابن بريدة عن أبيه فسماها " أم محجن "، وأفاد أن الذي أجاب النبي صلى الله عليه وسلم عن سؤاله عنها أبو بكر الصديق. وذكر ابن منده في الصحابة: " خرقاء امرأة سوداء كانت تقم المسجد " ووقع ذكرها في حديث حماد بن زيد، عن ثابت، عن أنس، وذكرها ابن حبان في الصحابة بذلك بدون ذكر السند، فإن كان محفوظا فهذا اسمها وكنيتها " أم محجن "، وفي الإصابة (8/ 314): محجنة، وقيل أم محجن.

(2) السنن (1/ 409، 1980) من طريق ابن عيينة، عن الزهري به.

(3) الموطأ (1/ 227، 533) عن الزهري به.

(4) المصنف (3/ 479، 6394)، عن ابن جريج، عن الزهري به.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে সর্বোত্তম ছিলেন:

৫ - আবু উমামা ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আওয়ালি অঞ্চলের এক মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে খোঁজ নিতেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: তিনি (রাসূল) ছিলেন সর্বোত্তম, অথবা বললেন: অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে সর্বোত্তম। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি সে মারা যায়, তবে তোমরা আমাকে সংবাদ দিও।" সে রাতে মারা গেল। সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা তাকে খবরটি দিলেন এবং জানালেন যে তারা তাকে রাতে দাফন করেছেন। তিনি বলেন: অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কবরে আসলেন এবং তার জানাজার নামাজ পড়লেন ও চারবার তাকবীর দিলেন।

নাসায়ি, মালিক এবং আবদুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করেছেন - আর এটি তার (আবদুর রাজ্জাকের) শব্দায়ন -

--------------------------------------------

(১) আমি তার নাম জানতে পারিনি। সম্ভবত তিনি সেই কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা ছিলেন যিনি মসজিদে ঝাড়ু দিতেন, যার হাদিসটি সহীহাইনে সামনে আসবে। আল-হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে (১/৫৫৩) বলেছেন: "বায়হাকি একে হাসান সনদে ইবনে বুরাইদা থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে তার নাম 'উম্মে মাহজান' বলা হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন আবু বকর সিদ্দিক। ইবনে মানদাহ সাহাবীদের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন: 'খারকা একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা ছিলেন যিনি মসজিদে ঝাড়ু দিতেন।' হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে সাবিত ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বর্ণনায় তার উল্লেখ পাওয়া যায়। ইবনে হিব্বান সনদ ছাড়াই সাহাবীদের তালিকায় তাকে এই নামে উল্লেখ করেছেন। যদি এটি সংরক্ষিত থাকে, তবে এটিই তার নাম এবং তার উপনাম হলো 'উম্মে মাহজান'। আল-ইসাবাহ (৮/৩১৪) গ্রন্থে রয়েছে: মাহজানাহ, আর কেউ কেউ বলেছেন উম্মে মাহজান।

(২) আস-সুনান (১/৪০৯, ১৯৮০), ইবনে উইয়াইনা থেকে যুহরির মাধ্যমে এই সূত্রে।

(৩) আল-মুয়াত্তা (১/২২৭, ৫৩৩), যুহরির সূত্রে।

(৪) আল-মুসান্নাফ (৩/৪৭৯, ৬৩৯৪), ইবনে জুরাইজ থেকে যুহরির মাধ্যমে এই সূত্রে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ১৯)
من طريق الزهري، عن أبي أمامة به، وإسناده صحيح، لكنه مرسل، وقد اختلف فيه على الزهري على ثلاثة أوجه:

الأول: رواه مالك، وابن عيينة، ويونس بن يزيد، وابن جريج كلهم عن الزهري، أبي أمامة به مرسلًا.

الثاني: رواه سفيان بن حسين المعلم، عن الزهري، عن أبي أمامة بن سهل، عن أبيه به، أخرجه ابن أبي شيبة(1)، والطحاوي(2)، والطبراني(3)، وسفيان بن حسين ثقة في غير الزهري(4)، وهذا من روايته عن الزهري.

الثالث: رواه الأوزاعي، والنعمان بن راشد الأزدي، عن الزهري، عن أبي أمامة،

عن أحد الصحابة، أخرجه الحارث بن محمد(5)، والطحاوي(6)، والبيهقي(7)، والنعمان صدوق سيء

--------------------------------------------

(1) المصنف (2/ 476، 11223).

(2) شرح معاني الآثار (1/ 494، 2836).

(3) المعجم الكبير (6/ 84، 5586).

(4) التقريب (2450).

(5) المطالب العالية (5/ 443، 878) عن محمد بن مصعب، عن الأوزاعي به.

(6) شرح معاني الآثار (1/ 494، 2837)، من طريق النعمان بن راشد، عن الزهري به.

(7) السنن الكبرى (4/ 79، 7019) من طريق بشر بن بكر، عن الأوزاعي به.
যুহরীর সূত্রে, আবু উমামাহ থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে এবং এর সনদ সহীহ, তবে এটি মুরসাল। আর যুহরীর সূত্রে এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনটি ভিন্ন রূপ বা ধরণ পাওয়া যায়:

প্রথম: মালিক, ইবনে উইয়াইনাহ, ইউনুস বিন ইয়াজিদ এবং ইবনে জুরাইজ—তাঁরা সকলে যুহরী থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়: সুফিয়ান বিন হুসাইন আল-মুআল্লিম যুহরী থেকে, তিনি আবু উমামাহ বিন সাহল থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি সংকলন করেছেন ইবনে আবি শাইবাহ(১), ত্বহাবী(২) এবং তাবারানী(৩)। সুফিয়ান বিন হুসাইন যুহরী ব্যতীত অন্যদের বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য(৪), আর এটি যুহরী থেকে তাঁর অন্যতম বর্ণনা।

তৃতীয়: আওযাঈ এবং নুমান বিন রাশিদ আল-আযদি যুহরী থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে,

জনৈক সাহাবীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি সংকলন করেছেন হারিস বিন মুহাম্মদ(৫), ত্বহাবী(৬) এবং বায়হাকী(৭)। আর নুমান সত্যবাদী কিন্তু স্মৃতিশক্তি দুর্বল

--------------------------------------------

(১) আল-মুসান্নাফ (২/ ৪৭৬, ১১২২৩)।

(২) শারহু মাআনিল আসার (১/ ৪৯৪, ২৮৩৬)।

(৩) আল-মুজামুল কাবীর (৬/ ৮৪, ৫৫৮৬)।

(৪) আত-তাকরীব (২৪৫০)।

(৫) আল-মাতালিবুল আলিয়া (৫/ ৪৪৩, ৮৭৮) মুহাম্মদ বিন মুসআব-এর সূত্রে, তিনি আওযাঈ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৬) শারহু মাআনিল আসার (১/ ৪৯৪, ২৮৩৭), নুমান বিন রাশিদ-এর সূত্রে, তিনি যুহরী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৭) আস-সুনানুল কুবরা (৪/ ৭৯, ৭০১৯) বিশর বিন বাকর-এর সূত্রে, তিনি আওযাঈ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ২০)
الحفظ(1)، والأوزاعي إمام لكن الراوي عنه: محمد بن مصعب صدوق كثير الغلط(2)، وبشر بن بكر التنيسي ثقة يغرب(3)، وقد خالف الأوزاعي جملة من الأئمة الثقات (مالك، وابن عيينة، ويونس بن يزيد) وهم الأكثر عددًا، والمقدمون من أصحاب الزهري من الطبقة الأولى، والأوزاعي من أصحاب الطبقة الثانية من الرواة عن الزهري(4)، فالقول قولهم، ورجح المرسل أبو حاتم(5)، والحديث وقصته -دون وجه الشاهد منه " أَحْسَنَ النَّاسِ عِيَادَةً لِلْمَرِيضِ " -ثابت بحمد الله بأحاديث كثيرة منها:

حديث أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَجُلًا أَسْوَدَ أَوِ امْرَأَةً سَوْدَاءَ كَانَ يَقُمُّ الْمَسْجِدَ فَمَاتَ، فَسَأَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ، فَقَالُوا: مَاتَ، قَالَ: أَفَلَا كُنْتُمْ آذَنْتُمُونِي بِهِ؟ دُلُّونِي عَلَى قَبْرِهِ، أَوْ قَالَ قَبْرِهَا. فَأَتَى قَبْرَهُ فَصَلَّى عَلَيْهَا. أخرجه البخاري(6)، ومسلم(7).

--------------------------------------------

(1) التقريب (7204).

(2) التقريب (6342).

(3) التقريب (683).

(4) شرح علل الترمذي (1/ 113).

(5) العلل لابن أبي حاتم (2/ 393، 463).

(6) الصحيح (1/ 99، 458).

(7) الصحيح (2/ 659، 956).
সংরক্ষণ বা মুখস্থশক্তির অধিকারী(১), এবং আওযায়ী একজন ইমাম কিন্তু তাঁর থেকে বর্ণনাকারী: মুহাম্মদ বিন মুসআব সত্যবাদী তবে প্রচুর ভুল করেন(২), এবং বিশর বিন বকর আত-তান্নীসী নির্ভরযোগ্য তবে অদ্ভুত (গরীব) বর্ণনা করেন(৩)। আর আওযায়ী একদল নির্ভরযোগ্য ইমামদের (মালিক, ইবনে উইয়াইনাহ, এবং ইউনুস বিন ইয়াযীদ) বিরোধিতা করেছেন, যাঁরা সংখ্যায় অধিক এবং যুহরীর প্রথম স্তরের শ্রেষ্ঠ সাথীদের অন্তর্ভুক্ত; আর আওযায়ী যুহরীর থেকে বর্ণনাকারীদের দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত(৪)। সুতরাং তাঁদের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য বক্তব্য, এবং আবু হাতিম মুরসাল বর্ণনাটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন(৫)। আর হাদীসটি এবং এর ঘটনা—এর সাক্ষ্যদানের অংশ "রোগী দেখার ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে সর্বোত্তম" ব্যতীত—আল্লাহর প্রশংসায় অনেকগুলো হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত, যার মধ্যে রয়েছে:

আবু হুরায়রা-এর হাদীস: জনৈক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি বা কৃষ্ণাঙ্গ নারী মসজিদ ঝাড়ু দিতেন, অতঃপর তিনি মারা গেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁরা বললেন: তিনি মারা গেছেন। তিনি বললেন: "তোমরা কি আমাকে তাঁর সংবাদ দিলে না? আমাকে তাঁর কবরের পথ দেখিয়ে দাও", অথবা বললেন "তাঁর (নারীর) কবরের"। অতঃপর তিনি তাঁর কবরের নিকট আসলেন এবং তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন। এটি বুখারী(৬) এবং মুসলিম(৭) বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আত-তাকরীব (৭২০৪)।

(২) আত-তাকরীব (৬৩৪২)।

(৩) আত-তাকরীব (৬৮৩)।

(৪) শারহু ইলালিত তিরমিযী (১/ ১১৩)।

(৫) আল-ইলাল—ইবনে আবু হাতিম (২/ ৩৯৩, ৪৬৩)।

(৬) আস-সহীহ (১/ ৯৯, ৪৫৮)।

(৭) আস-সহীহ (২/ ৬৫৯, ৯৫৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌فوائد:

منها: مشروعية الأذن بالجنازة.

ومنها: مشروعية عيادة المريض.

ومنها: مشروعية عيادة الرجال للنساء.

ومنها: ماكان عليه النبي صلى الله عليه وسلم من التواضع في عيادة الفقراء والمساكين.

ومنها: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يعلم الغيب، إلا أن يطلعه الله تعالى عليه.

ومنها: جواز الدفن بالليل، ومنها جواز الصلاة على القبر بعد دفنه.

* * *
উপকারী দিকসমূহ:

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: জানাজার সংবাদ প্রদানের বৈধতা।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার বৈধতা।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: পুরুষদের জন্য নারীদের দেখতে যাওয়ার বৈধতা।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: দরিদ্র ও অভাবী ব্যক্তিদের দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয় ও নম্রতা।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন না, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে যতটুকু অবহিত করেন সেটুকু ব্যতীত।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: রাতে দাফন করার বৈধতা এবং দাফনের পর কবরের ওপর জানাজার সালাত আদায়ের বৈধতা।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المطلب السادس: كان موسى صلى الله عليه وسلم أحسن الناس خَلقًا:

6 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " كَانَ مُوسَى حَيِيًّا سِتِّيرًا، لَا يُرِي مِنْ جِلْدِهِ شَيْئًا اسْتِحْيَاءً، فَآذَاهُ بَعْضُ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَقَالُوا: مَا يَسْتَتِرُ هَذَا السِّتْرَ إِلَّا مِنْ شَيْءٍ بِجِلْدِهِ، إِمَّا بَرَصٌ، وَإِمَّا أُدْرَةٌ(1)، أَوْ آفَةٌ(2)، فَدَخَلَ لِيَغْتَسِلَ، وَوَضَعَ ثِيَابَهُ عَلَى الْحَجَرِ، فَعَدَا الْحَجَرُ بِثِيَابِهِ، فَخَرَجَ يَشْتَدُّ فِي أَثَرِهِ، فَرَآهُ بَنُو إِسْرَائِيلَ أَحْسَنَ النَّاسِ خَلْقًا، وَأَبْرَأَهُ مِمَّا يَقُولُونَ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَكُونُوا كَالَّذِينَ آذَوْا مُوسَى}(3).

أخرجه البخاري(4)، ومسلم(5)، والنسائي(6) وهذا لفظه.

--------------------------------------------

(1) أُدْرَةٌ: بضم الهمزة وسكون الدال على المشهور، وبفتحهما: وهو انتفاخ في الخصيتين. انظر: النهاية (1/ 31)، وفتح الباري (1/ 73)، و (6/ 437).

(2) الآفَةُ: بمعنى العاهة والمرض. انظر: لسان العرب (9/ 16).

(3) سورة الأحزاب، آية (69).

(4) الصحيح (4/ 156، 3404).

(5) الصحيح (1/ 267، 339).

(6) السنن الكبرى (10/ 227، 11360).
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মূসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শারীরিক অবয়বে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ছিলেন:

৬ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মূসা অত্যন্ত লাজুক ও পর্দানশীন ছিলেন, লজ্জাবশত তিনি তার দেহের কোনো অংশ দেখাতেন না। এতে বনী ইসরাঈলের কিছু লোক তাকে কষ্ট দিয়ে বলল: 'তিনি কেবল তার দেহের কোনো ত্রুটির কারণেই এভাবে পর্দা করেন; হয় তিনি ধবল রোগী, না হয় তার অণ্ডকোষ স্ফীত, অথবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে।' একদা তিনি গোসল করতে প্রবেশ করলেন এবং একটি পাথরের ওপর নিজের কাপড় রাখলেন। পাথরটি তার কাপড় নিয়ে দৌড়াতে লাগল। তিনি কাপড়টির পিছু পিছু দ্রুত বেরিয়ে এলেন। তখন বনী ইসরাঈলের লোকেরা তাকে দেখে ফেলল যে, তিনি শারীরিক গঠনে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং তারা যা বলত তা থেকে আল্লাহ তাকে মুক্ত করলেন। আর এটিই হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা মূসাকে কষ্ট দিয়েছিল}।"

এটি বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন এবং এটি নাসাঈর শব্দ।

--------------------------------------------

(১) উদরাহ: প্রসিদ্ধ মতে হামযাহ-তে পেশ এবং দাল-এ সাকিন দিয়ে, আবার দুটিতেই যবর দিয়েও পড়া হয়: এর অর্থ অণ্ডকোষের স্ফীতি বা ফুলে যাওয়া। দেখুন: আন-নিহায়া (১/৩১), ফাতহুল বারী (১/৭৩) এবং (৬/৪৩৭)।

(২) আল-আফাহ: এর অর্থ শারীরিক ত্রুটি বা ব্যাধি। দেখুন: লিসানুল আরব (৯/১৬)।

(৩) সূরা আল-আহযাব, আয়াত (৬৯)।

(৪) সহীহ (৪/১৫৬, ৩৪০৪)।

(৫) সহীহ (১/২৬৭, ৩৩৯)।

(৬) আস-সুনানুল কুবরা (১০/২২৭, ১১৩৬০)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌فوائد:

منها: معجزة ظاهرة لموسى عليه السلام

ومنها: ومنها: جواز الغُسل عريانًا في الخلوة، وإن كان ستر العورة أفضل

ومنها: أن الأنبياء في خَلْقِهِمْ وخُلُقِهِمْ على غاية الكمال

ومنها: مَا كَانَ فِي الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ مِنَ الصَّبْرِ عَلَى الْجُهَّالِ وَاحْتِمَالِ أَذَاهُمْ، وَجَعَلَ اللَّهُ تَعَالَى الْعَاقِبَةَ لَهُمْ عَلَى مَنْ آذَاهُمْ(1).

* * *

--------------------------------------------

(1) انظر: المنهاج (15/ 511) وفتح الباري (6/ 503).
উপকারিতাসমূহ:

তার মধ্যে একটি হলো: মূসা আলাইহিস সালামের একটি প্রকাশ্য মুজিজা বা অলৌকিক নিদর্শন।

আরও রয়েছে: নির্জনে বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করার বৈধতা, যদিও সতর আবৃত রাখা উত্তম।

আরও রয়েছে: নবীগণ তাঁদের শারীরিক গঠন ও চারিত্রিক গুণাবলিতে পূর্ণতার চূড়ান্ত স্তরে অধিষ্ঠিত।

আরও রয়েছে: মূর্খদের আচরণের ওপর নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ধৈর্য ধারণ এবং তাদের দেওয়া কষ্ট সহ্য করা; আর আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে কষ্টদানকারীদের ওপর শুভ পরিণাম ও বিজয় দান করেছেন(১)।

* * *

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মিনহাজ (১৫/৫১১) এবং ফাতহুল বারী (৬/৫০৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المطلب السابع: كانت دوس أحسن الناس وجوهًا:

7 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعُمِائَةٍ مِنْ دَوْسٍ(1)، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَرْحَبًا أَحْسَنَ النَّاسِ وُجُوهًا، وَأَطْيَبَهُمْ أَفْوَاهًا، وَأَعْظَمَهُمْ أَمَانَةً".

أخرجه الطبراني(2)، والحاكم(3) وقال: "صحيح الإسناد ولم يخرجاه"، قلت: بل إسناده ضعيف جدًا، فمدار إسناده على: عمر بن صالح بن أبي الزاهرية الأزدي متروك(4)، وله شاهد

--------------------------------------------

(1) الدوسي بفتح الدال المهملة وسكون الواو وفي آخرها سين مهملة - هذه النسبة إلى دوس بن عدثان بن عبد الله بن زهران بن كعب بن الحارث بن نصر بن الأزد بطن كبير من الأزد. انظر: الأنساب (5/ 402)، واللباب في تهذيب الأنساب (1/ 513)، ولب الألباب في تحرير الأنساب ص 108.

(2) المعجم الكبير (12/ 222، 12948)، والأوسط (7/ 47، 6809).

(3) المستدرك (2/ 106، 2525) إلا أنه قال: الأزد بدلًا من دوس، ولاتعارض فدوس بطن من الأزد كما تقدم في التعريف بها.

(4) قال البخاري: "منكر الحديث"، وقال أبو حاتم: "ضعيف الحديث … ويحدث عن أبي جمرة نصر بن عمران أحاديث بواطيل" قلت: "هذا الحديث منها"، وقال النسائي، وابن عدي، والدارقطني: "متروك الحديث". انظر: الضعفاء للبخاري (258)، وعلل الحديث لابن أبي حاتم (4/ 45)، والضعفاء والمتروكون للنسائي (465)، والكامل لابن عدي (5/ 29)، ولسان الميزان (6/ 115)
সপ্তম পরিচ্ছেদ: দাওস গোত্রের লোকেরা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী ছিল:

৭ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: দাওস গোত্রের চারশত লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "স্বাগতম সেই সব লোকদের প্রতি যারা চেহারার দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, মুখে সবচেয়ে বেশি সুগন্ধিযুক্ত এবং আমানতদারীতে সবচেয়ে মহান।"

এটি তাবারানি এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন: "এর সনদ সহীহ, তবে তারা (বুখারী ও মুসলিম) এটি উদ্ধৃত করেননি।" আমি বলছি: বরং এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল; কারণ এই সনদের মূল ভিত্তি হলো: উমর বিন সালেহ বিন আবি আল-যাহিরিয়া আল-আযদি, সে পরিত্যক্ত (মাত্রুক), তবে এর একটি শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আদ-দাওসি—দাল বর্ণে ফাতহা, ওয়াও বর্ণে সুকুন এবং শেষে সিন বর্ণ যোগে। এই নিসবতটি (সম্বন্ধ) দাওস বিন আদসান বিন আব্দুল্লাহ বিন যাহরান বিন কাব বিন আল-হারিস বিন নাসর বিন আল-আযদি-এর দিকে, যা আযদ গোত্রের একটি বড় শাখা। দেখুন: আল-আনসাব (৫/৪০২), আল-লুবাব ফি তাহযিবিল আনসাব (১/৫১৩) এবং লুব্বুল আলবাব ফি তাহরিরিল আনসাব পৃষ্ঠা ১০৮।

(২) আল-মু'জামুল কাবির (১২/২২২, ১২৯৪৮) এবং আল-আওসাত (৭/৪৭, ৬৮০৯)।

(৩) আল-মুস্তাদরাক (২/১০৬, ২৫২৫), তবে এতে 'দাওস'-এর পরিবর্তে 'আযদ' উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ দাওস আযদ গোত্রেরই একটি শাখা যেমনটি ইতিপূর্বে এর সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে।

(৪) ইমাম বুখারী বলেছেন: "সে মুনকারুল হাদিস (তার বর্ণিত হাদিস অগ্রহণযোগ্য)", আবু হাতিম বলেছেন: "সে যঈফুল হাদিস (তার হাদিস দুর্বল)... এবং সে আবু জামরা নাসর বিন ইমরান থেকে বাতিল হাদিসসমূহ বর্ণনা করে।" আমি বলছি: "এই হাদিসটিও সেগুলোর একটি।" নাসায়ী, ইবনে আদী এবং দারাকুতনী বলেছেন: "সে মাত্রুকুল হাদিস (পরিত্যক্ত)।" দেখুন: বুখারীর আদ-দুয়াফা (২৫৮), ইবনে আবি হাতিমের ইলালুল হাদিস (৪/৪৫), নাসায়ীর আদ-দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকুন (৪৬৫), ইবনে আদীর আল-কামিল (৫/২৯) এবং লিসানুল মিজান (৬/১১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ২৫)
لايفرح به من حديث عبد الرحمن بن أبي صعصة المازني أخرجه الطبراني(1)، وأبو نعيم(2) وفي إسناده سليمان بن داود الشاذكوني متروك(3).

وله شاهد من حديث أَبِي هُرَيْرَةَ ولفظه: "نِعْمَ الْقَوْمُ الْأَزْدُ، طَيِّبَةٌ أَفْوَاهُهُمْ، بَرَّةٌ أَيْمَانُهُمْ، نَقِيَّةٌ قُلُوبُهُمْ" أخرجه ابن وهب(4)، وأحمد(5) وفي إسناده عبد الله بن لهيعة صدوق، خلط بعد احتراق كتبه، ورواية ابن المبارك وابن وهب عنه أعدل من غيرهما(6)، قلت: والراوي عنه ابن وهب لكن ليس فيه ذكر" أحسن الناس وجوهًا"، والحديث ضعفه أبو زرعة(7)، وابن طاهر(8)، والهيثمي(9).

--------------------------------------------

(1) المعجم الأوسط (3/ 166، 2816).

(2) معرفة الصحابة (4/ 1863، 4691).

(3) التقريب (8583).

(4) الجامع ح 45.

(5) المسند (14/ 264، 8615).

(6) التقريب (3587).

(7) علل الحديث لابن أبي حاتم (4/ 45)،

(8) ذخيرة الحفاظ (3/ 1674، 3758).

(9) مجمع الزوائد (10/ 21، 16589).
আবদুর রহমান ইবনে আবি সা’সা আল-মাজিনি বর্ণিত হাদিসটি নির্ভরযোগ্য নয়; এটি তাবারানি(১) এবং আবু নুআয়ম(২) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে সুলায়মান ইবনে দাউদ আল-শাযকুনি রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)(৩)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এর একটি শাহিদ (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে যার শব্দাবলী হলো: "আযদ গোত্র কতই না চমৎকার সম্প্রদায়, তাদের মুখসমূহ পবিত্র, তাদের শপথসমূহ সত্যনিষ্ঠ এবং তাদের অন্তরসমূহ পরিচ্ছন্ন।" এটি ইবনে ওয়াহাব(৪) এবং আহমাদ(৫) বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া রয়েছেন, তিনি সত্যবাদী (সাদুক), তবে তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার পর তিনি সংমিশ্রণ (স্মৃতিবিভ্রম) ঘটিয়েছিলেন। তাঁর থেকে ইবনুল মুবারক এবং ইবনে ওয়াহাবের বর্ণনা অন্যদের তুলনায় অধিক সঠিক(৬)। আমি বলছি: তাঁর থেকে বর্ণনাকারী হলেন ইবনে ওয়াহাব, কিন্তু এতে "মানুষের মধ্যে তাদের চেহারা সবচেয়ে সুন্দর" কথাটির উল্লেখ নেই। হাদিসটিকে আবু যুরআ(৭), ইবনে তাহির(৮) এবং হাইসামি(৯) দুর্বল বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মুজামুল আওসাত (৩/ ১৬৬, ২৮১৬)।

(২) মারিফাতুস সাহাবা (৪/ ১৮৬৩, ৪৬৯১)।

(৩) আত-তাক্বরিব (৮৫৮৩)।

(৪) আল-জামি হাদিস নং ৪৫।

(৫) আল-মুসনাদ (১৪/ ২৬৪, ৮৬১৫)।

(৬) আত-তাক্বরিব (৩৫৮৭)।

(৭) ইবনে আবি হাতিম প্রণীত ইলালুল হাদিস (৪/ ৪৫),

(৮) যখিরাতুল হুফফাজ (৩/ ১৬৭৪, ৩৭৫৮)।

(৯) মাজমাউয যাওয়াইদ (১০/ ২১, ১৬৫৮৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المطلب الثامن: أحسن الناس صوتًا بالقرآن:

8 - عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ صَوْتًا بِالْقُرْآنِ، الَّذِي إِذَا سَمِعْتُمُوهُ يَقْرَأُ حَسِبْتُمُوهُ يَخْشَى اللهَ".(1)

أخرجه ابن ماجه(2)، والآجري(3) من طريق عبد الله بن جعفر المدني(4)، عن إبراهيم بن إسماعيل الأنصاري(5)، عن أبي الزبير(6) عن جابر به، وإسناده ضعيف، فيه عبد الله بن جعفر، وشيخه ضعيفان، أبو الزبير مدلس، وللحديث شواهد منها:

--------------------------------------------

(1) قال السندي في حاشيته على ابن ماجه: ((أَيِ الْمَطْلُوبُ مِنْ تَحْسِينِ الصَّوْتِ بِالْقُرْآنِ أَنْ تُنْتِجَ قِرَاءَتُهُ خَشْيَةَ اللَّهِ فَمَنْ رَأَيْتُمْ فِيهِ الْخَشْيَةَ فَقَدْ حَسَّنَ الصَّوْتَ بِالْقُرْآنِ الْمَطْلُوبِ شَرْعًا فَيُعَدُّ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ صَوْتًا .. ))

(2) السنن (1/ 425، 1339).

(3) أخلاق حملة القرآن ح 84.

(4) ضعيف، يقال: تغير حفظه بآخره. التقريب (3272).

(5) ضعيف. التقريب (149).

(6) محمد بن مسلم بن تدرس، بفتح المثناة وسكون الدال المهملة وضم الراء، الأسدي مولاهم، أبو الزبير المكي، صدوق إلا أنه يدلس، وهو من الطبقة الثالثة. انظر: التقريب (6331)، وتعريف أهل التقديس (101).
অষ্টম পরিচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াতে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কণ্ঠস্বর:

৮ - জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কুরআন তিলাওয়াতে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কণ্ঠস্বরের অধিকারী সেই ব্যক্তি, যাকে তিলাওয়াত করতে শুনলে তোমাদের মনে হয় যে সে আল্লাহকে ভয় করছে।"(১)

এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ, এবং আল-আজুরি; আবদুল্লাহ বিন জাফর আল-মাদানী-এর সূত্রে, তিনি ইব্রাহিম বিন ইসমাইল আল-আনসারি থেকে, তিনি আবুয যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে। হাদিসটির সনদ দুর্বল; এতে আবদুল্লাহ বিন জাফর এবং তার শাইখ উভয়েই দুর্বল, আবুয যুবায়ের মুদাল্লিস। তবে হাদিসটির স্বপক্ষে অন্যান্য বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে, যার মধ্যে আছে:

--------------------------------------------

(১) সিন্দি ইবনে মাজাহর হাশিয়ায় (টীকায়) বলেছেন: ((অর্থাৎ কুরআনের কণ্ঠস্বর সুন্দর করার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো যেন তার তিলাওয়াত আল্লাহর ভয় উৎপন্ন করে। অতএব, যার মধ্যে তোমরা আল্লাহর ভয় দেখতে পাও, সে-ই শরিয়ত অনুযায়ী কুরআনের কণ্ঠস্বর সুন্দর করেছে এবং সে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কণ্ঠস্বরের অধিকারী হিসেবে গণ্য হয়... ))

(২) আস-সুনান (১/ ৪২৫, ১৩৩৯)।

(৩) আখলাকু হামালাতিল কুরআন, হাদিস নং ৮৪।

(৪) দুর্বল, বলা হয় শেষ জীবনে তার স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। আত-তাকরীব (৩২৭২)।

(৫) দুর্বল। আত-তাকরীব (১৪৯)।

(৬) মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন তাদরাস (তা বর্ণে ফাতহা, দাল বর্ণে সুকুন এবং রা বর্ণে পেশ যোগে), আল-আসাদি তাদের মুক্তদাস, আবুয যুবায়ের আল-মাক্কি; তিনি সত্যবাদী তবে তিনি তাদलीस (বর্ণনাকারীর নাম গোপন) করতেন এবং তিনি তৃতীয় স্তরের বর্ণনাকারী। দেখুন: আত-তাকরীব (৬৩৩১) এবং তারিফু আহলিত তাকদিস (১০১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ২৭)
حديث ابن عمر قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: مَنْ أَحْسَنُ النَّاسِ صَوْتًا بِالْقُرْآنِ؟ قَالَ: مَنْ إِذَا سَمِعْتَ قِرَاءَتَهُ رَأَيْتَ أَنَّهُ يَخْشَى اللهَ عز وجل"

أخرجه البزار(1)، والطبراني(2) من طريق حميد بن حماد بن خُوَار، عن مسعر بن كِدَام، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر به، وفي إسناده حميد بن حماد ليِّن الحديث(3)، وقد خولف كما سيأتي(4)، وقد تابعه عبد الله بن كيسان، عن يحيى بن يعمر، عن ابن عمر به أخرجه أبو يعلى الخليلي(5)، وعبد الله بن كيسان ضعيف(6)، وتابعه - أيضًا - مزوق أبو بكر الباهلي، عن سليمان الأحول، عن طاوس عن ابن عمر به، أخرجه عبد بن حميد(7)

--------------------------------------------

(1) البحر الزخار (12/ 300، 6136).

(2) المعجم الأوسط (6/ 208، 6205).

(3) التقريب (1552).

(4) خالفه إسماعيل بن عمرو بن نجيح فرواه عن مسعر، عن عبد الكريم، عن طاوس، عن ابن عباس به، وخالفهما وكيع وجعفر بن عون فروياه عن مسعر، عن عبد الكريم، عن طاوس مرسلًا وهو المحفوظ كما سيأتي بيانه.

(5) الإرشاد في معرفة علماء الحديث (3/ 969).

(6) التقريب (3582) ولفظه: "صدوق يخطيء كثيرًا".

(7) المنتخب من مسند عبد بن حميد (2/ 38، 800).
ইবনে উমরের হাদিস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে কার কণ্ঠস্বর সবচাইতে সুন্দর? তিনি বললেন: "যার তিলাওয়াত শুনলে তোমার মনে হবে যে সে মহান আল্লাহকে ভয় করে।"

এটি আল-বাজার(১) এবং আত-তাবারানি(২) হুমাইদ ইবনে হাম্মাদ ইবনে খুওয়ার-এর সূত্রে মাসআর ইবনে কিদাম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে হুমাইদ ইবনে হাম্মাদ রয়েছেন, যিনি হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিল(৩)। এর বিপরীতে অন্য বর্ণনাও রয়েছে যা সামনে আলোচিত হবে(৪)। আর আব্দুল্লাহ ইবনে কায়সান ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে একে সমর্থন করে বর্ণনা করেছেন যা আবু ইয়ালা আল-খলিলি বর্ণনা করেছেন(৫)। আব্দুল্লাহ ইবনে কায়সান দুর্বল(৬)। আরও তাবাহ (সমর্থন) করেছেন মুযাওওয়াক আবু বকর আল-বাহিলি সুলাইমান আল-আহওয়াল থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে; এটি আবদ ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন(৭)

--------------------------------------------

(১) আল-বাহরুল যাখখার (১২/ ৩০০, ৬১৩৬)।

(২) আল-মুজামুল আওসাত (৬/ ২০৮, ৬২০৫)।

(৩) আত-তাকরিব (১৫৫২)।

(৪) ইসমাইল ইবনে আমর ইবনে নাজিহ তার বিরোধিতা করেছেন; ফলে তিনি মাসআর থেকে, তিনি আব্দুল কারিম থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ওকি' এবং জাফর ইবনে আউন এই উভয়ের বিরোধিতা করেছেন; তারা মাসআর থেকে, তিনি আব্দুল কারিম থেকে, তিনি তাউস থেকে মুরসাল হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটিই সংরক্ষিত বর্ণনা (মাহফুজ), যা সামনে স্পষ্ট করা হবে।

(৫) আল-ইরশাদ ফি মারিফাতি উলামাউল হাদিস (৩/ ৯৬৯)।

(৬) আত-তাকরিব (৩৫৮২), সেখানে শব্দগুলো হলো: "তিনি সত্যবাদী তবে প্রচুর ভুল করেন"।

(৭) আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদ (২/ ৩৮, ৮০০)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ২৮)
وإسناده حسن، فمرزوق صدوق(1)، لكنه قد اختلف على طاوس: فرواه عنه سليمان الأحول موصولًا كما تقدم، وخالفه عبد الكريم بن أبي المخارق البصري، فرواه عن طاوس مرسلًا، أخرجه عبد الرزاق(2)، وابن أبي شيبة(3)، والدرامي(4)، وعبد الكريم ضعيف(5)، والمرسل هو المحفوظ كما قال الدارقطني(6).

وله شاهد - أيضًا- من حديث ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ النَّاسِ أَحْسَنُ قِرَاءَةً؟ قَالَ: "الَّذِي إِذَا سَمِعْتَهُ يَقْرَأُ رَأَيْتَ أَنَّهُ يَخْشَى اللهَ عز وجل".

أخرجه أبو نعيم(7)، والضياء(8) من طريق ابن جريج(9)، عن

--------------------------------------------

(1) التقريب (6599).

(2) المصنف (2/ 487، 4185) عن ابن جريج، عن عبد الكريم به.

(3) المصنف (2/ 57، 8742)، عن وكيع، عن مسعر، عن عبد الكريم به.

(4) السنن (4/ 2187، 3532)، عن جعفر بن عون، عن مسعر، عن عبد الكريم به.

(5) التقريب (4184).

(6) العلل (12/ 384، 2810).

(7) حلية الأولياء (3/ 317).

(8) المختارة (11/ 228، 223).

(9) عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج الأموي مولاهم، المكي، ثقة فقيه فاضل، وكان يدلس ويرسل، وهو من الطبقة الثالثة من المدلسين. انظر: التقريب (4221)، وتعريف أهل التقديس (83).
এর সানাদ হাসান, কেননা মারযুক সত্যবাদী(১), তবে তাউসের বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে: সুলাইমান আল-আহওয়াল তাঁর থেকে এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা আগে অতিক্রান্ত হয়েছে, আর আব্দুল কারিম বিন আবুল মুখারিক আল-বাসরি তার বিরোধিতা করেছেন, তিনি তাউস থেকে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক(২), ইবনে আবি শায়বাহ(৩), এবং আদ-দারেমি(৪)। আর আব্দুল কারিম হলেন যয়িফ (দুর্বল)(৫), এবং মুরসাল বর্ণনাটিই সংরক্ষিত (মাহফুজ), যেমনটি আদ-দারাকুতনি বলেছেন(৬)।

এর একটি শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকেও, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন ব্যক্তির কিরাআত সবচেয়ে সুন্দর? তিনি বললেন: "সেই ব্যক্তি, যাকে যখন তুমি তিলাওয়াত করতে শুনবে, তখন তোমার মনে হবে যে সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে ভয় করছে।"

এটি বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম(৭) এবং আদ-দিয়া(৮) ইবনে জুরাইজের(৯) সূত্র থেকে...

--------------------------------------------

(১) আত-তাকরিব (৬৫৯৯)।

(২) আল-মুসান্নাফ (২/ ৪৮৭, ৪১৮৫), ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আব্দুল কারিম থেকে।

(৩) আল-মুসান্নাফ (২/ ৫৭, ৮৭৪২), অকি' থেকে, তিনি মিসআর থেকে, তিনি আব্দুল কারিম থেকে।

(৪) আস-সুনান (৪/ ২১৮৭, ৩৫৩২), জাফর বিন আউন থেকে, তিনি মিসআর থেকে, তিনি আব্দুল কারিম থেকে।

(৫) আত-তাকরিব (৪১৮৪)।

(৬) আল-ইলাল (১২/ ৩৮৪, ২৮১০)।

(৭) হিলইয়াতুল আউলিয়া (৩/ ৩১৭)।

(৮) আল-মুখতারা (১১/ ২২৮, ২২৩)।

(৯) আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ বিন জুরাইজ আল-উমায়ি, তাদের মুক্তদাস, মক্কি; তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), ফকিহ এবং ফাযিল ছিলেন। তিনি তাদলিস ও ইরসাল করতেন, আর তিনি মুদাল্লিসদের তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। দেখুন: আত-তাকরিব (৪২২১), এবং তারিফু আহলিত তাকদিস (৮৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ২৯)
عطاء، عن ابن عباس به، وابن جريج مدلس ولم يصرح بالتحديث، وقد تابعه ابن لهيعة، عن عمرو بن دينار، عن طاوس، عن ابن عباس به، أخرجه الطبراني(1) وابن لهيعة ضعيف(2)، وتابعه أيضًا مسعر بن كدام، عن عبد الكريم بن أبي المخارق، عن طاوس، عن ابن عباس به، أخرجه أبو نعيم(3)، والبيهقي(4) لكن الرواي عن مسعر هو إسماعيل بن عمرو بن نجيح البجلي، وهو ضعيف(5)، وقد خالفه وكيع، وجعفر بن عون فروياه عن مسعر، عن طاوس مرسلًا كما تقدم بيانه في الحديث السابق.

وله شاهد - أيضًا- من حديث الزهري مرسلًا قَالَ: بَلَغَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم -قَالَ: " أَحْسَنُ النَّاسِ صَوْتًا بِالْقُرْآنِ مَنْ إِذَا سَمِعْتَهُ يَقْرَأُ

--------------------------------------------

(1) المعجم الكبير (11/ 7، 10852).

(2) التقريب (3587).

(3) الحلية (4/ 19).

(4) شعب الإيمان (3/ 465، 1958).

(5) ضعفه أبو حاتم، والدارقطني، وقال ابن عدي: "حدث عن مسعر، والثوري، والحسن بن صالح وغيرهم بأحاديث، لَا يُتَابَعُ عَليها". انظر: الكامل لابن عدي (1/ 523)، والضعفاء للدارقطني (87)، ولسان الميزان (2/ 155).
আতা, ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে জুরায়জ হলেন মুদাল্লিস এবং তিনি স্পষ্টভাবে শ্রবণের কথা ব্যক্ত করেননি। তবে ইবনে লাহিয়াহ তাকে অনুসরণ করেছেন, তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন(১) এবং ইবনে লাহিয়াহ দুর্বল(২)। মিসআর বিন কিদামও আব্দুল কারিম বিন আবিল মুখারিক থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করে তাকে অনুসরণ করেছেন। এটি আবু নুআইম(৩) এবং বায়হাকি(৪) বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মিসআর থেকে বর্ণনাকারী হলেন ইসমাইল বিন আমর বিন নাজিহ আল-বাজালি, আর তিনি দুর্বল(৫)। ওয়াকি এবং জাফর বিন আউন তার বিরোধিতা করেছেন, তারা দুজন মিসআর থেকে, তিনি তাউস থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি পূর্ববর্তী হাদিসের বর্ণনায় ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।

যুহরির বর্ণিত মুরসাল হাদিস থেকে এর একটি শাহেদ (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে। তিনি বলেন: আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কুরআন পাঠে মানুষের মাঝে সবচেয়ে সুন্দর কণ্ঠস্বর হচ্ছে সেই ব্যক্তির, যাকে তুমি তিলাওয়াত করতে শুনলে...

--------------------------------------------

(১) আল-মুজাম আল-কাবির (১১/ ৭, ১০৮৫২)।

(২) আত-তাকরিব (৩৫৮৭)।

(৩) আল-হিলইয়াহ (৪/ ১৯)।

(৪) শুআবুল ইমান (৩/ ৪৬৫, ১৯৫৮)।

(৫) আবু হাতিম এবং দারা কুতনি তাকে দুর্বল বলেছেন এবং ইবনে আদি বলেছেন: "তিনি মিসআর, সাওরি, হাসান বিন সালিহ এবং অন্যদের থেকে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেগুলোতে তাকে অনুসরণ করা হয় না।" দেখুন: আল-কামিল লি ইবনি আদি (১/ ৫২৩), আদ-দুয়াফা লিত-দারা কুতনি (৮৭) এবং লিসানুল মিজান (২/ ১৫৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ৩০)
رَأَيْتَ أَنَّهُ يَخْشَى اللَّهَ".

أخرجه ابن المبارك(1)، وإسناده صحيح إلى الزهري لكنه مرسل، وبهذه الشواهد - والتي لا تسلم من ضعف - يتقوى حديث الباب ويصل إلى درجة الحسن لغيره، والله أعلم، والحديث صححه لغيره الألباني(2).

 

‌‌فائدة:

قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ القاسم بن سلَّام (: وَعَلَى هَذَا الْمَعْنَى تُحْمَلُ هَذِهِ الْأَحَادِيثُ الَّتِي ذَكَرْنَاهَا فِي حُسْنِ الصَّوْتِ، إِنَّمَا هُوَ طَرِيقُ الْحُزْنِ وَالتَّخْوِيفِ وَالتَّشْوِيقِ، يُبَيِّنُ ذَلِكَ حَدِيثُ أَبِي مُوسَى: أَنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اسْتَمَعْنَ قِرَاءَتَهُ، فَأُخْبِرَ بِذَلِكَ، فَقَالَ: لَوْ عَلِمْتُ لَشَوَّقْتُ تَشْوِيقًا، أَوْ حَبَّرْتُ تَحْبِيرًا. فَهَذَا وَجْهُهُ لَا الْأَلْحَانُ الْمُطْرِبَةُ الْمُلْهِيَةُ .. )(3).

* * *

--------------------------------------------

(1) الزهد والرقائق (1/ 37، 114).

(2) صحيح الترغيب والترهيب (2/ 177، 1450).

(3) فضائل القرآن ص 164
তুমি দেখতে পাবে যে সে আল্লাহকে ভয় করছে।"

এটি ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন(১), এবং যুহরি পর্যন্ত এর সনদ সহিহ কিন্তু এটি মুরসাল। এই সাক্ষ্যগুলোর মাধ্যমে—যা দুর্বলতা মুক্ত নয়—আলোচ্য হাদিসটি শক্তিশালী হয় এবং হাসান লি-গাইরিহি স্তরে পৌঁছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। আলবানি হাদিসটিকে সহিহ লি-গাইরিহি বলেছেন(২)।

 

‌‌ফায়দা:

আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সাল্লাম বলেছেন: (সুন্দর কণ্ঠস্বর সম্পর্কে আমরা যে হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি, তা এই অর্থের ওপরই প্রয়োগ হবে যে, তা মূলত বিষণ্ণতা, ভীতি সঞ্চার ও আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টির পথ। আবু মুসার হাদিসটি তা স্পষ্ট করে দেয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীগণ তাঁর তিলাওয়াত শুনছিলেন, তাঁকে যখন বিষয়টি জানানো হলো, তখন তিনি বললেন: আমি যদি জানতাম তবে আমি অবশ্যই তাদের হৃদয়ে আরও আকাঙ্ক্ষা তৈরি করতাম অথবা আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে তিলাওয়াত করতাম। সুতরাং এটাই এর উদ্দেশ্য, বিনোদনদায়ক ও অন্যমনস্ককারী সুর নয়... )(৩)।

* * *

--------------------------------------------

(১) আয-যুহদ ওয়া আর-রাকাইক (১/ ৩৭, ১১৪)।

(২) সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব (২/ ১৭৭, ১৪৫০)।

(৩) ফাযাইলুল কুরআন, পৃষ্ঠা ১৬৪।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المطلب التاسع: أحسن الناس إسلامًا أحسنهم خُلقًا:

9 - عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: كُنْتُ فِي مَجْلِسٍ فِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: وَأَبِي سَمُرَةُ جَالِسٌ أَمَامِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ الْفُحْشَ وَالتَّفَحُّشَ(1) لَيْسَا مِنَ الْإِسْلَامِ فِي شَيْءٍ، وَإِنَّ أَحْسَنَ النَّاسِ إِسْلَامًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا.

أخرجه ابن أبي شيبة(2)، وأحمد(3)، وأبو يعلى(4)، والطبراني(5) وفي إسناده علي بن عمارة مقبول(6)، ولم يتابع، قال العراقي(7): "إسناده صحيح"، وقال الهيثمي(8)، والبوصيري(9)،

--------------------------------------------

(1) الفَاحِش: ذُو الفُحْش فِي كَلَامِهِ وفِعَاله. والمُتَفَحِّش: الَّذِي يَتكلَّف ذَلِكَ ويَتَعمدَّه. انظر: النهاية في غريب الحديث (3/ 415).

(2) المصنف (5/ 210، 25316).

(3) المسند (34/ 479، 20944).

(4) المسند (13/ 458، 7468).

(5) المعجم الكبير (2/ 256، 2072).

(6) التقريب (4808).

(7) تخريج أحاديث الإحياء ص 1011.

(8) مجمع الزوائد (8/ 54، 12693).

(9) إتحاف الخيرة (6/ 13، 5205).
‌নবম পরিচ্ছেদ: ইসলামের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি তিনিই যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর:

৯ - জাবির ইবনে সামুরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি মজলিসে উপস্থিত ছিলাম যেখানে নবী (সা.) ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এবং আমার পিতা সামুরা আমার সামনে উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: নিশ্চয়ই অশ্লীলতা ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। আর নিশ্চয়ই ইসলামের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি তিনিই যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।

এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি শায়বাহ, আহমাদ, আবু ইয়া’লা এবং তাবারানি। এর সনদে আলী বিন উমারাহ রয়েছেন যিনি মাকবুল (গ্রহণযোগ্য), তবে তার কোনো মুতাবি’ (সমর্থনকারী বর্ণনাকারী) নেই। ইরাকি বলেছেন: "এর সনদ সহিহ", এবং হাইসামি ও বুসিরিও অনুরূপ বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) ফাহিশ: যার কথা ও কাজে অশ্লীলতা ও কুরুচিপূর্ণতা রয়েছে। আর মুতাফাহহিশ: যে ব্যক্তি কৃত্রিমভাবে তা করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাতে লিপ্ত হয়। দেখুন: আন-নিহায়াহ ফি গরিবিল হাদিস (৩/ ৪১৫)।

(২) আল-মুসান্নাফ (৫/ ২১০, ২৫৩১৬)।

(৩) আল-মুসনাদ (৩৪/ ৪৭৯, ২০৯৪৪)।

(৪) আল-মুসনাদ (১৩/ ৪৫৮, ৭৪৬৮)।

(৫) আল-মু’জাম আল-কাবীর (২/ ২৫৬, ২০৭২)।

(৬) আত-তাকরীীব (৪৮০৮)।

(৭) তাখরীজ আহাদিসিল ইহয়া পৃষ্ঠা ১০১১।

(৮) মাজমাউয যাওয়াইদ (৮/ ৫৪, ১২৬৯৩)।

(৯) ইতহাফুল খাইরাহ (৬/ ১৩, ৫২০৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ৩২)
وابن حجر(1): "رجاله ثقات" وقال الألباني(2): " حسن، قلت: مدار الحديث على علي بن عمار وقد ترجم له البخاري(3)، وابن أبي حاتم(4)، ولم يذكرا فيها جرحًا ولا تعديلًا، وذكره ابن حبان في الثقات(5)، لكن الحديث له شواهد كثيرة يتقوى بها، منها:

حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما قَالَ لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَكَانَ يَقُولُ: "إِنَّ مِنْ خِيَارِكُمْ أَحْسَنَكُمْ أَخْلَاقًا". أخرجه البخاري(6)، ومسلم(7).

 

‌‌فائدة:

قال النووي: ((فِيهِ الْحَثُّ عَلَى حُسْنِ الْخُلُقِ وَبَيَانُ فَضِيلَةِ صَاحِبِهِ وَهُوَ صِفَةُ أَنْبِيَاءِ اللَّهِ تَعَالَى وَأَوْلِيَائِهِ قَالَ الْحَسَنُ

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (10/ 458).

(2) صحيح الترغيب (3/ 11، 2653)، وقد ضعفه في الضعيفة (3032).

(3) التاريخ الكبير (6291).

(4) الجرح والتعديل (6/ 197) إلا أن قال: علي بن عمارة.

(5) الثقات (2/ 362).

(6) الصحيح (4/ 189، 3559).

(7) الصحيح (4/ 1810، 2321).
এবং ইবনে হাজার(১) বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।" আলবানি(২) বলেছেন: "হাসান (উত্তম)। আমি বলি: হাদিসটির মূল ভিত্তি আলী বিন আম্মারের ওপর, যার জীবনী ইমাম বুখারি(৩) এবং ইবনে আবি হাতিম(৪) উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তারা তার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (জারহ) বা প্রশংসা (তাদীল) উল্লেখ করেননি। ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের তালিকায়(৫) উল্লেখ করেছেন। তবে হাদিসটির অনেকগুলো সমর্থিত বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে যা দ্বারা এটি শক্তিশালী হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

আবদুল্লাহ বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বভাবগতভাবে অশ্লীলভাষী ছিলেন না এবং ইচ্ছাকৃতভাবেও অশালীন কথা বলতেন না। তিনি বলতেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি(৬) ও মুসলিম(৭)।

 

‌‌শিক্ষা:

ইমাম নববী বলেন: "এতে উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারীর মর্যাদার বর্ণনা রয়েছে। এটি মহান আল্লাহর নবী ও তাঁর ওলীদের বৈশিষ্ট্য। হাসান (বসরী) বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (১০/ ৪৫৮)।

(২) সহিহ আত-তারগিব (৩/ ১১, ২৬৫৩), তবে তিনি এটি যয়িফাহ-তে (৩০৩২) দুর্বল বলেছেন।

(৩) আত-তারিখুল কাবির (৬২৯১)।

(৪) আল-জারহু ওয়াত তাদীল (৬/ ১৯৭), তবে সেখানে নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আলী বিন আম্মারা।

(৫) আস-সিকাত (২/ ৩৬২)।

(৬) আস-সহিহ (৪/ ১৮৯, ৩৫৫৯)।

(৭) আস-সহিহ (৪/ ১৮১০, ২৩২১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদিসুল ওয়ারিদাহ ফী আহসানিন নাস (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْبَصْرِيُّ حَقِيقَةُ حُسْنِ الْخُلُقِ بَذْلُ الْمَعْرُوفِ وَكَفُّ الْأَذَى وَطَلَاقَةُ الْوَجْهِ قَالَ الْقَاضِي عِيَاضٌ هُوَ مُخَالَطَةُ النَّاسِ بِالْجَمِيلِ وَالْبِشْرِ وَالتَّوَدُّدُ لَهُمْ وَالْإِشْفَاقُ عَلَيْهِمْ وَاحْتِمَالُهُمْ وَالْحِلْمُ عَنْهُمْ وَالصَّبْرُ عَلَيْهِمْ فِي الْمَكَارِهِ وَتَرْكُ الْكِبْرِ وَالِاسْتِطَالَةِ عَلَيْهِمْ وَمُجَانَبَةُ الْغِلَظِ وَالْغَضَبِ وَالْمُؤَاخَذَةِ))(1)

* * *

--------------------------------------------

(1) المنهاج (15/ 472).
বাসরি বলেন: উত্তম চরিত্রের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য হলো কল্যাণ করা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং হাস্যোজ্জ্বল থাকা। কাজী আইয়াজ বলেন: এটি হলো মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ, প্রফুল্লতা ও হৃদ্যতার সাথে মেলামেশা করা, তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা, তাদের আচরণ সহ্য করা, তাদের প্রতি সহনশীল হওয়া, অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে তাদের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা, অহংকার ও তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা বর্জন করা এবং রুক্ষতা, ক্রোধ ও কঠোরতা পরিহার করা।))(১)

* * *

--------------------------------------------

(১) আল-মিনহাজ (১৫/ ৪৭২)।