(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: -)
أمالي ابن منده- رواية ابن حيويه   (ابن منده يحيى بن عبد الوهاب)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أمالي ابن منده- رواية ابن حيويه

المؤلف: يحيى بن عبد الوهاب بن محمد ابن إسحاق بن محمد بن يحيى العبدي الأصبهاني، أبو زكريا، ابن منده (ت 511 هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

عدد الصفحات: 28

[الكتاب مخطوط]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আমালি ইবনু মানদাহ- ইবনু হাইউওয়াইহ-এর বর্ণনা   (ইবনু মানদাহ ইয়াহইয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আমালি ইবনু মানদাহ- ইবনু হাইউওয়াইহ-এর বর্ণনা

লেখক: ইয়াহইয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-আবদি আল-আসবাহানি, আবু যাকারিয়া, ইবনু মানদাহ (মৃত্যু ৫১১ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলাম ওয়েব সাইটের অন্তর্গত জাওয়ামিউল কালিম নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮

[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১)
جُزْءٌ فِيهِ مِنْ أَمَالِي الشَّيْخِ الْحَافِظِ أَبِي زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنِ الشَّيْخِ أَبِي عَمْرِو بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ الْحَافِظِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْدَةَ الأَصْفَهَانِيِّ رحمهم الله.

رِوَايَةُ الشَّيْخِ الْجَلِيلِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَيْوِيَةَ الْحَبَّارِ ، عَنْهُ.

بسم الله الرحمن الرحيم
শেখ, হাফেজ আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবন শেখ আবু আমর ইবন আব্দুল ওয়াহহাব ইবন হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন মান্দাহ আল-আসবাহানি (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর শ্রুতলিপি (আমালি) থেকে একটি অংশ।

মর্যাদাবান শেখ আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ ইবন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন হাইওয়াহ আল-হাব্বার কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণিত।

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْحَافِظُ أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ الْحَافِظِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقِ بْنِ مَنْدَه ، رحمهم الله ، إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ يَوْمَ الْخَمِيسِ الثَّالِثِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ صَفَرَ سَنَةَ عَشْرٍ وَخَمْسِ مِائَةٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ وَالِدِي أَبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْوَهَّابِ ، قَالَ: أنبا أَبِي ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ ، وَأنبا الإِمَامُ عَمِّي ، قَالَ: أنبا أَبِي ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ ، قَالا: ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ ، قَالا: ثنا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ ، حَدَّثَنِي مُحَدِّثُ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ ، أَنَّهَا قَالَتْ: " لَمْ يَكُنْ مِنْ وَلَدِ أَبِي وَعَمِّي أَحَدٌ أَحَبُّ إِلَيْهِمَا مِنِّي لَمْ أَلْقَهُمَا فِي وَلَدِهِمَا قَطُّ أَهَشَّ إِلَيْهِمَا إِلا أَخَذَانِي دُونَهُ ، فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي قَبَاءِ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ غَدَا إِلَيْهِ أَبِي وَعَمِّي أَبُو يَاسِرِ بْنُ أَخْطَبَ مُغَلِّسِينَ فَوَاللَّهِ مَا جَاءَنَا إِلا مَعَ مُغَيْرِبَانِ الشَّمْسِ ، فَجَاءَنَا كَسْلانَيْنِ سَاقِطَيِ النَّفْسِ نَاكِرَيْنِ يَمْشِيَانِ هُوَيْنًا، فَهَشَشْتُ إِلَيْهِمَا كَمَا كُنْتُ أَصْنَعُ فَوَاللَّهِ مَا نَظَرَ إِلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمَا ، وَسَمِعْتُ عَمِّي أَبَا يَاسِرٍ يَقُولُ لأَبِي: أَهُوَ هُوَ؟ قَالَ: نَعَمْ وَاللَّهِ ، فَقَالَ: تَعْرِفُهُ بِعَيْنِهِ وَصِفَتِهِ؟ قَالَ: نَعَمْ وَاللَّهِ ، قَالَ: فَمَاذَا فِي نَفْسِكَ؟ قَالَ: عَدَاوَتُهُ وَاللَّهِ مَا بَقِيتُ "

2 - أنبا الإِمَامُ عَمِّي ، أنبا أَبُو الْفَضْلِ الْعَاصِمِيُّ ، ثنا الْمُسْتَمْلِي ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَوْرٍ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ التِّرْمِذِيُّ ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الإِسْفَاطِيُّ ، ثنا يَحْيَى بْنِ كَثِيرٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ شُعْبَةَ ، يَقُولُ: مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي الْحَدِيثِ
1 - আমাদের জানিয়েছেন শায়খ হাফেজ আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মানদাহ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন); তিনি পাঁচশ দশ হিজরি সনের তেইশে সফর বৃহস্পতিবার নিজ মুখে তা শ্রুতিলিপি করিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আমার পিতা শায়খ আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল আলা। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আমার চাচা। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা। তিনি সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ থেকে। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আব্দুল জব্বার। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে বুকাইর। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর থেকে। তিনি বলেন: আমার নিকট একজন বর্ণনাকারী সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাফিয়্যাহ) বলেছেন: "আমার পিতা ও চাচার সন্তানদের মধ্যে আমার চেয়ে প্রিয় তাঁদের কাছে আর কেউ ছিল না। আমি যখনই তাঁদের সন্তানদের সাথে থাকাবস্থায় তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করতাম, তাঁরা অন্য সব সন্তানকে বাদ দিয়ে আমাকেই আগে কাছে টেনে নিতেন। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বনু আমর ইবনে আউফের কুবায় আগমন করলেন, তখন আমার পিতা এবং আমার চাচা আবু ইয়াসির ইবনে আখতাব খুব ভোরে তাঁর কাছে গেলেন। আল্লাহর কসম, তাঁরা সূর্যাস্তের পর ছাড়া আমাদের কাছে ফিরে আসেননি। তাঁরা যখন ফিরে এলেন, তখন তাঁরা অত্যন্ত ক্লান্ত-শ্রান্ত ও অবসন্ন এবং বিষণ্ণ অবস্থায় ধীরপদে হাঁটছিলেন। আমি বরাবরের মতোই তাঁদের কাছে আহ্লাদ নিয়ে এগিয়ে গেলাম, কিন্তু আল্লাহর কসম, তাঁদের কেউ আমার দিকে ফিরেও তাকালেন না। আমি আমার চাচা আবু ইয়াসিরকে আমার পিতার উদ্দেশে বলতে শুনলাম: 'তিনি কি তিনিই (অর্থাৎ প্রতিশ্রুত নবী)?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, আল্লাহর কসম।' চাচা বললেন: 'আপনি কি তাঁকে তাঁর সত্তা ও বৈশিষ্ট্য দ্বারা নিশ্চিতভাবে চিনতে পেরেছেন?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, আল্লাহর কসম।' চাচা বললেন: 'তাহলে আপনার মনে এখন কী সিদ্ধান্ত?' তিনি বললেন: 'আল্লাহর কসম, যতদিন বেঁচে থাকি তাঁর সাথে শত্রুতা করে যাব'।"

2 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আমার চাচা। তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আল-আসেমি থেকে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুস্তামলি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ তিরমিযি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাওর। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে আব্দুল মালেক আল-ইসফাতি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে কাসির। তিনি বলেন: আমি শু'বাহকে বলতে শুনেছি: "মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক হাদীস শাস্ত্রে আমীরুল মু'মিনীন (মুমিনদের নেতা)।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - أنبا أَبِي ، وَعَمَّايَ ، وَعُمَرُ بْنُ سَهْلَبٍ ، وَغَيْرُهُمْ ، قَالُوا: أنبا الإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مَنْدَةَ ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الشَّيْبَانِيُّ ، ثنا السَّرِيُّ بْنُ خُزَيْمَةَ ، ثنا أَبُو سَلَمَةَ مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ ، عَنْ ثَابِتٍ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ: " كَانَتْ صَفِيَّةُ لِدِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ بِقِسْمَةٍ ، فَجَعَلُوا يَذْكُرُونَهَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ، وَيَقُولُونَ: رَأَيْنَا فِي سَبْيِ امْرَأَةٍ مَا رَأَيْنَا مِثْلَهَا ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، فَاشْتَرَاهَا مِنْهُ " يَعْنِي بِسَبْعَةِ أَرْؤُسٍ
২ - আমাকে আমার পিতা, আমার দুই চাচা, উমর বিন সাহলাব এবং অন্যান্যরা সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ বিন মান্দাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আশ-শাইবানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আস-সারী বিন খুজাইমাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু সালামাহ মুসা বিন ইসমাইল, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুলাইমান বিন আল-মুগীরাহ, থাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "সাফিয়া বণ্টনের মাধ্যমে দিহইয়া আল-কালবীর ভাগে পড়েছিলেন। এরপর তাঁরা আল্লাহর রাসূলের নিকট তাঁর কথা আলোচনা করতে শুরু করলেন এবং বলছিলেন: 'আমরা যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে এমন একজন নারীকে দেখেছি যার মতো আর কাউকে দেখিনি।' তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট লোক পাঠালেন এবং তাঁর কাছ থেকে তাঁকে ক্রয় করে নিলেন।" অর্থাৎ সাতজন দাসের বিনিময়ে।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، أنبا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَعْمَرِيُّ ، ثنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ بَشِيرٍ السَّامِيُّ ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ وَاقِدٍ ، ثنا النَّهَّاسُ بْنُ قَهْمٍ ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَوْفٍ الشَّيْبَانِيِّ ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ ، قَالَ: نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ خَيْبَرَ وَصَفِيَّةُ عَرُوسٌ فِي مَجَاسِدِهَا فَرَأَتْ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ الشَّمْسَ نَزَلَتْ حَتَّى وَقَعَتْ عَلَى صَدْرِهَا ، فَقَصَّتْ ذَلِكَ عَلَى زَوْجِهَا ، فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا تُمَنِّيَنَّ إِلا هَذَا الْمُلْكَ الَّذِي نَزَلَ فَفَتَحَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، فَضَرَبَ عُنُقَ زَوْجِهَا ، وَتَعَرَّضَ مِنْ هُنَالِكَ مِنْ فِتْيَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ لِيَتَزَوَّجُوهَا ، حَتَّى أَلْقَى لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ تَمْرًا عَلَى سَفِيفٍ ، فَقَالَ: «كُلُوا وَلِيمَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَلَى صَفِيَّةَ» قَالَ: فَتْحُ خَيْبَرَ كَانَ فِي مُحَرَّمِ سَنَةِ سَبْعٍ، وَتُوُفِّيَتْ صَفِيَّةُ سَنَةَ سِتٍّ وَثَلاثِينَ رَوَى مِنَ الصَّحَابَةِ جَمَاعَةٌ ، وَلَمْ يُصِبْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ مِنْهَا وَلَدًا
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ুব, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আলী আল-মামারি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল মালিক বিন বাশির আস-সামি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উসমান বিন ওয়াকিদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আন-নাহহাস বিন কাহম, আল-কাসিম বিন আউফ আশ-শায়বানি থেকে বর্ণিত, তিনি আবু বারজাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারে অবতরণ করলেন, এমতাবস্থায় সাফিয়্যা তাঁর নববধূর বেশভূষায় সজ্জিত ছিলেন। তিনি স্বপ্নে দেখলেন যেন সূর্য নিচে নেমে এসেছে এবং তাঁর বুকের ওপর পড়েছে। তিনি তা তাঁর স্বামীর কাছে বর্ণনা করলেন। স্বামী বলল: "আল্লাহর শপথ! তুমি তো কেবল এই রাজত্বই কামনা করছ যা এখানে অবতীর্ণ হয়েছে।" এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার জয় করলেন এবং তাঁর স্বামীর গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হলো। সেখানে উপস্থিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুবকদের কেউ কেউ তাঁকে বিবাহ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেন। অবশেষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর পাতার তৈরি একটি পাত্রে তাদের জন্য কিছু খেজুর রাখলেন এবং বললেন: "তোমরা সাফিয়্যার সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহের ওলিমা ভক্ষণ করো।" তিনি বলেন: খায়বার বিজয় হয়েছিল সপ্তম হিজরির মহররম মাসে এবং সাফিয়্যা ছত্রিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। সাহাবীদের একটি দল এটি বর্ণনা করেছেন এবং সাফিয়্যার গর্ভে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সন্তান জন্মায়নি।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ فَضْلَوَيْهِ ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ بْنِ خَالِدٍ ، ثنا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ سُلَيْمَانَ ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ ، " أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ أَوْلَمَ عَلَى صَفِيَّةَ حِينَ أُدْخِلَتْ عَلَيْهِ ، قُلْتُ: مَا كَانَتْ وَلِيمَتُهُ؟ قَالَ: مَا كَانَ إِلا التَّمْرُ وَالسَّوِيقُ "
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ফাদলওয়াইহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল ফুরাত ইবনে খালিদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে সুলাইমান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল হামিদ ইবনে সুলাইমান, আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেন যে, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাফিয়্যাকে তাঁর নিকট আনয়ন করা হলো (বাসর রাতে), তখন তাঁর পক্ষ থেকে ওলীমা দিয়েছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তাঁর ওলীমা কী ছিল? তিনি বললেন: তা খেজুর এবং ছাতু ব্যতীত আর কিছুই ছিল না।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - ٍٍٍٍ أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الضَّبِّيُّ ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ الطَّبَرَانِيُّ ، ثنا أَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الدِّمَشْقِيُّ ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ بِعَيْنِ صَفِيَّةَ خُضْرَةٌ ، فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: " مَا هَذِهِ الْخُضْرَةُ بِعَيْنِكِ؟ قَالَتْ: قُلْتُ لِزَوْجِي: إِنِّي رَأَيْتُ فِيمَا يَرَى النَّائِمُ قَمَرًا وَقَعَ فِي حِجْرِي ، فَلَطَمَنِي ، فَقَالَ: أَتُرِيدِينَ مَلِكَ يَثْرِبَ؟ قَالَتْ: وَمَا كَانَ أَبْغَضُ إِلَيَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَتْلَ أَبِي وَزَوْجِي ، مَا زَالَ يَعْتَذِرُ إِلَيَّ ، وَقَالَ: «يَا صَفِيَّةُ إِنَّ أَبَاكِ أَلَّبَ عَلَيَّ الْعَرَبَ وَفَعَلَ وَفَعَلَ حَتَّى ذَهَبَ ذَلِكَ مِنِّي»
৫ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দব্বী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসেম আত-তাবারানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জুরআ আবদুর রহমান ইবনে আমর আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর হতে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাফিয়ার চোখে একটি সবুজ চিহ্ন (কালশিটে) ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তোমার চোখে এই সবুজ চিহ্নটি কিসের?" তিনি বললেন: আমি আমার স্বামীকে বলেছিলাম যে, আমি স্বপ্নে দেখেছি একটি চাঁদ আমার কোলে পড়েছে। তখন তিনি আমাকে চড় মারলেন এবং বললেন: "তুমি কি ইয়াসরিবের বাদশাহর আকাঙ্ক্ষা করছ?" তিনি (সাফিয়া) বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে বেশি অপ্রিয় আমার নিকট আর কেউ ছিল না, কারণ তিনি আমার পিতা ও স্বামীকে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু তিনি আমার কাছে ওজর পেশ করতে থাকলেন এবং বললেন: "হে সাফিয়া, তোমার পিতা আরবদের আমার বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছিলেন এবং তিনি এই এই কাজ করেছিলেন", শেষ পর্যন্ত আমার মন থেকে সেই (বিদ্বেষ) দূর হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - أنبا مُحَمَّدٌ هَذَا ، أنبا الطَّبَرَانِيُّ ، أنبا الدَّبَرِيُّ ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ ، عَنْ مَعْمَرٍ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسٍ ، «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ أَعْتَقَ صَفِيَّةَ وَجَعَلَ عِتْقَهَا صَدَاقَهَا» قَالَ الشَّيْخُ: رَوَاهُ ، عَنْ قَتَادَةَ ، وَعَنْ أَنَسٍ جَمَاعَةٌ
৬ - এই মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাবারানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, দাবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে যে, «নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাফিয়্যাহকে মুক্ত করেছেন এবং তাঁর মুক্তিদানকেই তাঁর মোহরানা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন» শায়খ বলেন: একদল বর্ণনাকারী এটি কাতাদাহ এবং আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ ، ثنا الْقَبَّابُ ، ثنا ابْنُ أَبِي عَاصِمٍ ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدٍ ، ثنا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ ، عَنْ حُمَيْدٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ أَرْدَفَ صَفِيَّةَ مُقَدِّمَةً مِنْ خَيْبَرَ فَلَمَّا رَأَى جُدْرَانَيِ الْمَدِينَةِ حَرَّكَ بَعِيرَهُ ، فَسَقَطَتْ صَفِيَّةُ»
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাব্বাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আবি আসিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবন হুমাইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস ইবন ইয়াদ, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বার থেকে ফেরার পথে সাফিয়্যাকে সওয়ারিতে নিজের পেছনে বসিয়েছিলেন; অতঃপর যখন তিনি মদিনার প্রাচীরসমূহ দেখলেন, তখন তিনি তাঁর উটকে দ্রুত চালিত করলেন, ফলে সাফিয়্যা পড়ে গেলেন।»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - أنبا أَبُو طَاهِرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ ، أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمَقْدَمِيُّ ، ثنا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، ثنا فَائِدٌ مَوْلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ ، قَالَ: أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ يَوْمَ خَيْبَرَ وَقَدْ أَرْدَفَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيِّ بْنِ أَخْطَبَ عَلَى حَقِيبَتِهِ ، وَأَبُو رَافِعٍ عَلَى جَمَلٍ ، فَلَمَّا دَنَوْنَا مِنَ الْمَدِينَةِ ، قَالَ: «يَا أَبَا رَافِعٍ انْزِلْ عَنِ الْجَمَلِ وَاحْمِلْ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيٍّ» ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَفْضَحَنِي الصُّبْحُ قَبْلَ أَنْ نَدْخُلَ الْمَدِينَةَ ، قَالَ: فَسَاقَ بِهَا أَبُو رَافِعٍ حَتَّى أَدْخَلَهَا الْمَدِينَةَ ، قَالَ الشَّيْخُ: رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ ، وَعَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو مَوْلَى الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، كِلاهُمَا ، عَنْ أَنَسٍ ، بِمِثْلِ مَعْنَاهُ
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের ইবনে আব্দুর রহীম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আল-মাকদামী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফুদাইল ইবনে সুলাইমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আলীর মুক্তদাস ফায়েদ, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আলী হতে, তিনি আবু রাফে হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি (ওয়াসাল্লাম) খায়বারের দিন এগিয়ে এলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি সাফিয়্যা বিনতু হুয়াই ইবনে আখতাবকে তাঁর সওয়ারির গদিতে পেছনে বসিয়েছিলেন, আর আবু রাফে একটি উটের উপর ছিলেন। যখন আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলাম, তিনি বললেন: «হে আবু রাফে, উট থেকে নামো এবং সাফিয়্যা বিনতু হুয়াইকে বহন করো», আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি ভয় পাচ্ছি যে আমরা মদীনায় প্রবেশের পূর্বেই ভোর আমাদের উন্মোচিত করে দেবে। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আবু রাফে তাকে নিয়ে পথ চললেন যতক্ষণ না তাকে মদীনায় প্রবেশ করালেন। শায়খ বলেন: এটি ইয়াহইয়া ইবনে আবু ইসহাক এবং মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাবের মুক্তদাস আমর ইবনে আবু আমর বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই আনাস হতে এর সমার্থবোধক বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، أنبا الطَّبَرَانِيُّ ، ثنا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى ، ثنا شَاذُّ بْنُ فَيَّاضٍ ، ثنا هَاشِمُ بْنُ سَعِيدٍ ، عَنْ كِنَانَةَ ، عَنْ صَفِيَّةَ ، قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَبَيْنَ يَدَيَّ أَرْبَعَةُ آلافِ نَوَاةٍ أُسَبِّحُ بِهِنَّ ، فَقَالَ: «قَدْ سَبَّحْتِ مُنْذُ قُمْتُ عَلَى رَأْسِكِ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا» .

قُلْتُ: فَعَلِّمْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: قُولِي: «سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ مِنْ شَيْءٍ» .

قَالَ الشَّيْخُ: كِنَانَةُ هُوَ مَوْلَى صَفِيَّةَ

آخِرُ الْمَجْلِسِ بَلَغَ مَرْوَانَ سَمَاعًا مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ أَبِي زَكَرِيَّا بِاسْتِمْلاءِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ اللَّفْتُوَانِيِّ ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكْرٍ الْحَبَّالُ وَرَوَيَنَاهُ مُحَمَّدٌ ، وَأَحْمَدُ ، فِي التَّارِيخِ.
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়ায বিন আল-মুসান্না, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায বিন ফায়্যাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাশিম বিন সাঈদ, কিনানাহ থেকে বর্ণিত, তিনি সাফিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমার সামনে চার হাজার খেজুরের আঁটি ছিল যা দিয়ে আমি তাসবীহ পাঠ করছিলাম। তিনি বললেন: «আমি তোমার শিয়রে দাঁড়ানোর পর থেকে এর চেয়েও বেশি (তাসবীহ) পাঠ করেছি»।

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তবে আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: তুমি বলো: «আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর সৃষ্ট প্রতিটি বস্তুর সংখ্যার সমান»।

শাইখ বলেন: কিনানাহ হলেন সাফিয়্যাহর আযাদকৃত দাস।

মজলিসের সমাপ্তি। মারওয়ান এটি শাইখ আবু যাকারিয়ার কণ্ঠ থেকে সরাসরি শুনে প্রাপ্ত হয়েছেন, যা আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবি নাসর আল-লাফতুওয়ানির শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন বকর আল-হাব্বাল এবং আমাদের নিকট মুহাম্মদ ও আহমাদ এটি ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مَجْلِسٌ آخَرُ
অন্য একটি অধিবেশন
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১২)
10 - ثنا الشَّيْخُ أَبُو زَكَرِيَّا بْنُ مَنْدَهْ مِنْ لَفْظِ يَوْمِ الْخَمِيسِ سَلْخَ صَفَرَ سَنَةَ عَشْرٍ وَخَمْسِ مِائَةٍ ، أنبا الشَّيْخُ وَالِدِي أَبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْوَهَّابِ، أنبا أَبِي ، أنبا أَبِي ، ثنا أَبِي ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ.

ح وَأنبا الإِمَامُ عَمِّي ، أنبا أَبِي ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنُ يَزِيدَ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ ، ثنا عُمَرُ بْنُ سَعِيدٍ ، ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ ، ثنا أَبُو رَوْقٍ ، عَنِ الضَّحَّاكِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، فِي قَوْلِهِ عز وجل: {مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ} [البقرة: 97] .

قَالَ: «إِنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام كَانَ عِنْدَ الْيَهُودِ صَاحِبَ عَذَابٍ ، وَلَمْ يَكُنْ عِنْدَهُمْ صَاحِبَ وَحْيٍ ، فَأَخْبَرَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ» إِنَّ جِبْرِيلَ صَاحِبُ وَحْيٍ ، وَصَاحِبُ رَحْمَةٍ "
১০ - শায়খ আবু জাকারিয়া বিন মান্দাহ ৫১০ হিজরির সফর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার নিজ মুখে উচ্চারিত বয়ানে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আমাদের অবহিত করেছেন শায়খ আমার পিতা আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-আলা।

এবং (অন্য সূত্রে) আমাদের অবহিত করেছেন ইমাম আমার চাচা, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াজিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-আলা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন উমারা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু রওক, তিনি যাহহাক থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {যে ব্যক্তি জিবরীলের শত্রু হয়} [সূরা বাকারা: ৯৭] সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই জিবরীল (আলাইহিস সালাম) ইয়াহুদিদের নিকট শাস্তির বাহক ছিলেন, আর তাদের নিকট তিনি ওহীর বাহক ছিলেন না। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সংবাদ দিলেন যে, 'নিশ্চয়ই জিবরীল ওহীর বাহক এবং রহমতের বাহক'।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
11 - أنبا الإِمَامُ عَمِّي ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ بِنَيْسَابُورَ ، أنبا أَبُو عَمْرِو بْنُ َمُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ سُفْيَانَ ، أَخْبَرَهُمْ ، قَالَ: ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ، أنبا أَبُو أُسَامَةَ ، ثنا مُجَالِدٌ ، ثنا عَامِرٌ ، قَالَ: " انْطَلَقَ عُمَرُ إِلَى يَهُودَ ، فَقَالَ: أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى ، هَلْ تَجِدُونَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فِي كُتُبِكُمْ؟ قَالُوا: نَعَمْ ، قَالَ: فَمَا مَنَعَكُمْ أَنْ تَتَّبِعُوهُ؟ فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَمْ يَبْعَثْ رَسُولا إِلا كَانَ لَهُ مِنَ الْمَلائِكَةِ كِفْلٌ وَإِنَّ جِبْرِيلَ كِفْلُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، وَهُوَ الَّذِي يَأْتِيهِ ، وَهُوَ عَدُوُّنَا مِنْ بَيْنِ الْمَلائِكَةِ ، وَمِيكَائِيلُ سَلَمُنَا ، وَلَوْ كَانَ مِيكَائِيلُ هُوَ الَّذِي يَأْتِيهِ أَسْلَمْنَا ، قَالَ: فَإِنِّي أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلى مُوسَى مَا مَنْزِلَتُهُمَا مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ؟ قَالُوا: جِبْرِيلُ عَنْ يَمِينِهِ ، وَمِيكَائِيلُ عَنْ شِمَالِهِ ، قَالَ عُمَرُ: فَإِنِّي أَشْهَدُ مَا يَتَنَزَّلانِ إِلا بِإِذْنِ اللَّهِ عز وجل ، فَمَا كَانَ مِيكَائِيلُ لِيُسَالِمَ عَدُوَّ جِبْرِيلَ ، وَمَا كَانَ جِبْرِيلُ لِيُسَالِمَ عَدُوَّ مِيكَائِيلَ ، فَبَيْنَمَا هُوَ عِنْدَهُمْ إِذْ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، فَقَالُوا: هَذَا صَاحِبُكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ ، فَقَامَ إِلَيْهِ عُمَرُ فَأَتَاهُ وَقَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ {مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ إِلَى قَوْلِهِ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ} [البقرة: 97 - 98]
১১ - আমার চাচা ইমাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন আলী নিশাপুরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমর বিন মুহাম্মদ বিন আবু আল-হুসাইন বিন সুফিয়ান তাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আবু শাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুজালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উমর ইয়াহুদীদের নিকট গেলেন এবং বললেন: আমি তোমাদের সেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যিনি মূসার ওপর তাওরাত নাযিল করেছেন, তোমরা কি তোমাদের কিতাবসমূহে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাও? তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে তাঁকে অনুসরণ করতে তোমাদের কিসে বাধা দিচ্ছে? তারা বলল: নিশ্চয়ই মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ এমন কোনো রাসূল পাঠাননি যাঁর জন্য ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন অভিভাবক নির্ধারিত ছিল না। আর জিবরাঈল হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভিভাবক, এবং তিনিই তাঁর কাছে আসেন; আর ফেরেশতাদের মধ্যে তিনি আমাদের শত্রু। মিকাইল হলেন আমাদের বন্ধু; যদি মিকাইল তাঁর কাছে আসতেন তবে আমরা ইসলাম গ্রহণ করতাম। উমর বললেন: আমি তোমাদের সেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যিনি মূসার ওপর তাওরাত নাযিল করেছেন, রব্বুল আলামীনের নিকট তাঁদের দুইজনের মর্যাদা কী? তারা বলল: জিবরাঈল তাঁর ডানে এবং মিকাইল তাঁর বামে। উমর বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তাঁরা মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে অবতীর্ণ হন না। সুতরাং মিকাইল জিবরাঈলের শত্রুর সাথে সন্ধি করতে পারেন না এবং জিবরাঈল মিকাইলের শত্রুর সাথে সন্ধি করতে পারেন না। এমতাবস্থায় যখন তিনি তাদের নিকট ছিলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন। তারা বলল: হে ইবনুল খাত্তাব, এই যে আপনার সাথী। তখন উমর তাঁর দিকে উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর নিকট আসলেন; ইতোমধ্যে তাঁর ওপর নাযিল হয়েছে: {যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হয়, তবে সে তো আল্লাহর নির্দেশেই তা তোমার হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছে... আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের শত্রু} [সূরা আল-বাকারা: ৯৭-৯৮]"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
12 - أنبا أَبِي ، أنبا أَبِي ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو ، وَغَيْرُهُ ، قَالَ: أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ ، ثنا أَبِي ، ثنا وَكِيعٌ ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ شِهَابٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَسْعُودٍ الْعَبْدِيِّ ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ، أَنَّهُ خَرَجَ ذَاتَ يَوْمٍ إِلَى الأَحْبَارِ فِي آخِرِ النَّهَارِ ، فَقَالَ: مَا جَمَعَكُمْ؟ فَقَالُوا: هَذَا يَوْمٌ فِينَا عَظِيمٌ عِيدٌ لَنَا ، فَقَالَ: مَا هَذِهِ الصُّحُفُ الْمَطْوِيَّةُ الَّتِي أَرَى بَيْنَ أَيْدِيكُمْ؟ قَالُوا: هَذِهِ التَّوْرَاةُ ، فَقَالَ لَهُمْ: أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى بِطُورِ سَيْنَاءَ ، أَتَعْلَمُونَ أَنَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ مُرْسَلٌ مِنْ رَبِّهِ؟ فَكَرِهُوا ذَلِكَ وَاشْمَأَزُّوا مِنْهُ ، فَقَالَ: إِنَّمَا سَأَلْتُكُمْ لِتَصْدُقُونِي ، فَقَالُوا: نَعَمْ ، قَالَ: فَمَا يَمْنَعُكُمْ أَنْ تُصَدِّقُوا بِهِ ، لِتُؤْمِنُوا بِهِ ، قَالُوا: يَأْتِيهِ عَدُوُّنَا مِنَ الْمَلائِكَةِ ، قَالَ: وَمَنْ عَدُوُّكُمْ مِنَ الْمَلائِكَةِ؟ قَالُوا: جِبْرِيلُ ، قَالَ: فَأَيْنَ مَكَانُ جِبْرِيلَ مِنَ الرَّحْمَنِ عز وجل؟ قَالُوا: عَنْ يَمِينِهِ ، قَالَ: فَمَنْ عَنْ يَسَارِهِ؟ قَالُوا: مِيكَائِيلُ ، قَالَ: فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَئِنْ كَانَ الَّذِي عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عز وجل عَدُوَّكُمْ ، فَإِنَّ الَّذِي عَنْ يَسَارِهِ أَعْدَى لَكُمْ ، قَالَ: فَبَصُرُوا بِالنَّبِيِّ وَقَدْ أَقْبَلَ ، فَقَالُوا: هَذَا صَاحِبُكَ قَدْ أَقْبَلَ ، فَانْصَرِفْ إِلَيْهِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: " أَبَا حَفْصٍ أَخْبَرَنِي جِبْرِيلُ عليه السلام بِمَا قَالَ لَكَ الأَحْبَارُ ، وَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل {مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ} [البقرة: 98]
১২ - আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন আমর এবং অন্যরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুনজির ইবন শিহাব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন মাসউদ আল-আবদি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একদিন দিনের শেষভাগে ইয়াহুদি পণ্ডিতদের কাছে বের হলেন এবং বললেন: "কী বিষয় তোমাদেরকে একত্রিত করেছে?" তারা বলল: "এটি আমাদের কাছে একটি মহিমান্বিত দিন, আমাদের জন্য ঈদের দিন।" তিনি বললেন: "এই যে ভাঁজ করা সহিফাগুলো আমি তোমাদের সামনে দেখছি, এগুলো কী?" তারা বলল: "এটি তাওরাত।" তিনি তাদের বললেন: "আমি তোমাদেরকে সেই আল্লাহর কসম দিচ্ছি যিনি তুর পাহাড়ে মূসার ওপর তাওরাত নাজিল করেছেন, তোমরা কি জানো যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল?" তারা বিষয়টি অপছন্দ করল এবং এতে অত্যন্ত বিরক্ত হলো। তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে কেবল সত্য বলার জন্যই জিজ্ঞাসা করেছি।" তারা বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তাহলে তাঁকে সত্য বলে মেনে নিতে এবং তাঁর ওপর ঈমান আনতে তোমাদের কিসে বাধা দিচ্ছে?" তারা বলল: "ফেরেশতাদের মধ্যে আমাদের যে শত্রু রয়েছে সে তাঁর কাছে আসে।" তিনি বললেন: "ফেরেশতাদের মধ্যে তোমাদের শত্রু কে?" তারা বলল: "জিবরাঈল।" তিনি বললেন: "রহমান আযযা ওয়া জাল্লার কাছে জিবরাঈলের স্থান কোথায়?" তারা বলল: "তাঁর ডানে।" তিনি বললেন: "তাহলে তাঁর বামে কে?" তারা বলল: "মিকাইল।" তিনি বললেন: "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যদি রহমানের ডানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের শত্রু হন, তবে তাঁর বামে যিনি আছেন তিনিও তোমাদের অতি বড় শত্রু।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আসতে দেখলেন এবং বললেন: "এই যে তোমার সঙ্গী আসছেন, তুমি তাঁর কাছে চলে যাও।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে আবু হাফস! জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) ইয়াহুদি পণ্ডিতরা তোমাকে যা বলেছে সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা অবতীর্ণ করেছেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাইলের শত্রু হয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের শত্রু} [সূরা বাকারা: ৯৮]।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
13 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّائِغُ ، ثنا الْفِرْيَابِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خَالِدٍ ، ثنا إِبْرَاهِيمُ ابْنُ سَعِيدٍ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ ، قَالَ: أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، قَالَ: " تُمَدُّ الأَرْضُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَدَّ الأَدِيمِ لِعَظَمَةِ الرَّحْمَنِ عز وجل ، ثُمَّ لا يَكُونُ لِلْبَشَرِ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْهَا إِلا مَوْضِعُ قَدَمَيْهِ ، ثُمَّ أُدْعَى أَوَّلَ النَّاسِ فَأَخِرُّ سَاجِدًا ، ثُمَّ يُؤْذَنُ لِي فَأَقُومُ ، فَأَقُولُ: أَخْبَرَنِي هَذَا جِبْرِيلُ عليه السلام وَهُوَ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عز وجل أنَّكَ أَرْسَلْتَهُ إِلَيَّ ، وَجِبْرِيلُ عليه السلام سَاكِتٌ لا يَتَكَلَّمُ ، حَتَّى يَقُولَ اللَّهُ عز وجل: صَدَقَ عَبْدِي ، ثُمَّ يُؤْذَنُ لِي بِالشَّفَاعَةِ ، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ عِبَادُكَ عَبَدُوكَ فِي أَطْرَافِ الأَرْضِ، فَذَلِكَ الْمَقَامُ الْمَحْمُودُ ".

قَالَ الشَّيْخُ: رَوَاهُ عَلِيُّ بْنُ عَاصِمِ بْنِ عَلِيٍّ ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ ، كِلاهُمَا ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، مِنْهُمْ مَنْ قَالَ: حَدَّثَنِي بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ
১৩ - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুর রাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস-সায়িগ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, আলী বিন আল-হুসাইন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আলেমদের মধ্য হতে একজন ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মহান ও মহিমান্বিত রহমানের মহত্ত্বের কারণে জমিনকে চামড়া প্রসারিত করার ন্যায় প্রসারিত করা হবে। অতঃপর আদম সন্তানদের মধ্য হতে কোনো মানুষের জন্য তাতে তার দুই পা রাখার জায়গা ব্যতীত আর কোনো স্থান থাকবে না। এরপর আমাকে সর্বপ্রথম ডাকা হবে এবং আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। অতঃপর আমাকে অনুমতি দেওয়া হবে এবং আমি দাঁড়াব। তখন আমি বলব: এই জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম), যিনি মহান ও মহিমান্বিত রহমানের ডান দিকে রয়েছেন, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আপনি তাঁকে আমার নিকট পাঠিয়েছেন। আর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নিশ্চুপ থাকবেন, কোনো কথা বলবেন না, যতক্ষণ না আল্লাহ মহান ও মহিমান্বিত বলবেন: 'আমার বান্দা সত্য বলেছে'। এরপর আমাকে শাফাআতের অনুমতি দেওয়া হবে। তখন আমি বলব: হে আমার রব! আপনার বান্দারা জমিনের প্রান্তসমূহ থেকে আপনার ইবাদত করেছে। আর এটাই হলো মাকামে মাহমুদ (প্রশংসিত স্থান)।"

শাইখ বলেন: এটি আলী বিন আসিম বিন আলী এবং আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর উভয়েই ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: "আমাকে কোনো কোনো আলেম সংবাদ দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
14 - أنا عَمِّي الإِمَامُ ، أنبا أَبُو الْفَضْلِ الْعَاصِمِيُّ ، ثنا إِبْرَاهِيمُ صَاحِبُ الطَّبَقَاتِ ، ثنا ابْنُ طَرْخَانَ ، ثنا حَمْدَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْهَرَوِيُّ بِبَلْخَ ، أَبُو سَعِيدٍ ، ثنا حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السَّعْدِيُّ الْهَرَوِيُّ ، ثنا حَسَّانُ بْنُ حَسَّانٍ ، عَنِ الْفُرَاتِ بْنِ السَّائِبِ ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ ، عَنْ سَلْمَانَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، عَنْ جِبْرِيلَ عليه السلام ، قَالَ: " كُنْتُ وَاقِفًا عِنْدَ رَبِّ الْعِزَّةِ تبارك وتعالى حِينَ قَالَ فِرْعَوْنُ: وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ؟ فَنَشَرْتُ جَنَاحَيَّ لِلْعَذَابِ كُلِّهِ ، فَقَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: «مَهْ يَا جِبْرِيلُ إِنَّمَا يُعَجِّلُ بِالْعُقُوبَةِ مَنْ يَخَافُ الْفَوْتَ»
১৪ - আমাকে আমার চাচা ইমাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফজল আল-আসিমী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তবাকাত প্রণেতা ইব্রাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে তরখান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বালখের আবু সাঈদ হামদান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-হারাউই, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হামিদ বিন মুহাম্মদ আস-সাদী আল-হারাউই, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসসান বিন হাসসান, তিনি ফোরাত বিন আস-সাইব থেকে, তিনি মায়মুন বিন মিহরান থেকে, তিনি সালমান থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এবং তিনি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি রব্বুল ইজ্জত তাবারাকা ওয়া তায়ালার নিকট দণ্ডায়মান ছিলাম যখন ফেরাউন বলেছিল: ‘জগতসমূহের প্রতিপালক আবার কে?’ তখন আমি পূর্ণ আযাব প্রদানের জন্য আমার উভয় ডানা বিস্তার করলাম। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বললেন: ‘ক্ষান্ত হও হে জিবরাঈল! কেবল সেই সত্তাই শাস্তি প্রদানে তড়িঘড়ি করে, যে (সুযোগ) হাতছাড়া হওয়ার ভয় করে।’"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
15 - أنبا شَيْبَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْجَرْقُوِيُّ ، أَجَازَهُ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ ، أَخْبَرَهُمْ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقُرْقُسَانِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ ، ثنا أَبُو عُبَيْدَةَ الْحَدَّادُ ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " مَا أَتَانِي جِبْرِيلُ عليه السلام قَطُّ ، إِلا وَمَا بَيْنَ عَيْنَيْهِ مَصْرُورٌ ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ ، فَقَالَ: وَالَّذِي بَعَثَنِي وَبَعَثَكَ بِالْحَقِّ ، وَجَعَلَنِي أَمِينًا بَيْنَكَ وَبَيْنَ خَلْقِهِ مَا ضَحِكْتُ مُنْذُ خُلِقَتِ النَّارُ "
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়বান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-জারকুয়ি, তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আল-হাসান, তিনি তাদের অবহিত করেছেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-কুরকুসানি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসআব, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু উবায়দাহ আল-হাদ্দাদ, আবু ওয়াইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) কখনো আমার নিকট আসেননি তাঁর দুই ভ্রুর মধ্যভাগ (চিন্তায়) সংকুচিত থাকা ব্যতীত। আমি তাঁর নিকট এ বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ, যিনি আমাকে ও আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন এবং আমাকে আপনার ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে বিশ্বস্ত করেছেন; জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে আমি আর কখনো হাসিনি।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
16 - أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، أنبا الطَّبَرَانِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مَاهَانَ الأَيْلِيُّ ، ثنا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ الْمُقَدِّمُ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ حَبِيبِ بْنِ نُدْبَةَ ، ثنا أَبُو حُبَابٍ الْكَلْبِيُّ يَحْيَى بْنُ أَبِي حَيَّةَ ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: " دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَسَمِعْتُ خَشْفَةً بَيْنَ يَدَيَّ ، فَقُلْتُ: يَا جِبْرِيلُ مَا هَذِهِ الْخَشْفَةُ؟ فَقَالَ: بِلالٌ يَمْشِي أَمَامَكَ " قَالَ الشَّيْخُ: قَالَ الطَّبَرَانِيُّ: لا يَرْوِي أَبُو الْعَالِيَةِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ إِلا هَذَا الْحَدِيثَ الْوَاحِدَ
১৬ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আত-তাবারানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে মাহান আল-আইলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে হাকিম আল-মুকাদ্দাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে হাবিব ইবনে নুদবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুবাব আল-কালবি ইয়াহইয়া ইবনে আবি হাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল আলিয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু উমামাহ আল-বাহিলি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম এবং আমার সামনে পদধ্বনি শুনতে পেলাম। আমি বললাম: হে জিবরাঈল, এই পদধ্বনি কিসের? তিনি বললেন: বিলাল আপনার সামনে হাঁটছেন।" শায়খ বলেন: আত-তাবারানি বলেছেন: আবুল আলিয়াহ আবু উমামাহ থেকে এই একটি মাত্র হাদিস ছাড়া আর কিছু বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
17 - أنبا الإِمَامُ عَمِّي ، أنبا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، أنبا أَبُو إِسْحَاقَ الْمُسْتَمْلِي ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ طَاهِرٍ ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ حَمُّوَيْهِ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ ، ثنا جَعْفَرٌ ، عَنْ مُسْلِمٍ ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّ جِبْرِيلَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللَّهَ عز وجل يَأْمُرُكَ أَنْ تَسْتَخْلِفَ أَبَا بَكْرٍ بَعْدَكَ ، ثُمَّ عُمَرَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «يَا جِبْرِيلُ ، أَلا آمُرُ بِلالا يُنَادِي بِهِ فِي النَّاسِ؟» فَقَالَ جِبْرِيلُ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل قَضَى قَضَاءً فَهُوَ بَالِغُ أَمْرِهِ
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আমার চাচা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুস সামাদ ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আল-মুস্তামলি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে তাহির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে হাম্মুওয়াইহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর, মুসলিম থেকে বর্ণিত, তিনি ইসমাইল ইবনে উমাইয়া থেকে, তিনি আতা থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, জিবরাঈল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাকে আদেশ করছেন যেন আপনি আপনার পরে আবু বকরকে আপনার স্থলাভিষিক্ত করেন, অতঃপর উমরকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে জিবরাঈল, আমি কি বিলালকে আদেশ করব না যে সে মানুষের মাঝে এটি ঘোষণা করে দেবে?» জিবরাঈল বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা একটি ফয়সালা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি তাঁর আদেশ পূর্ণ করবেন।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ২০)
18 - أنبا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، كِتَابَةً ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الشَّافِعِيَّ حَدَّثَهُمْ ، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَسْبَاطٍ ، ثنا أَبُو إِبْرَاهِيمَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجُ ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُبَيْدٍ الْعِجْلِيُّ ، ثنا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ ، ثنا الْمُغِيرَةُ ، أَوْ حَمَّادٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ ، عَنْ عَلْقَمَةَ ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: " سَأَلْتُ جِبْرِيلَ عليه السلام ، فَقُلْتُ: أَخْبِرْنِي عَنْ فَضَائِلِ عُمَرَ ، قَالَ: فَقَالَ: لَوْ كُنْتُ مَعَكَ مَا لَبِثَ نُوحٌ فِي قَوْمِهِ أَلْفَ سَنَةٍ إِلا خَمْسِينَ عَامًا مَا نَفِدَتْ فَضَائِلُ عُمَرَ ، وَإِنَّمَا عُمَرُ حَسَنَةٌ مِنْ حَسَنَاتِ أَبِي بَكْرٍ ، رضي الله عنه " قَالَ الشَّيْخُ: رَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ نَافِعٍ الْعِجْلِيُّ ، أَيْضًا ، عَنْ حَمَّادٍ ، وَلَمْ يَذْكُرْ خَلَفًا إِلا الْمُغِيرَةُ.

أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، أنبا الطَّبَرَانِيُّ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ مُسَاوِرٍ الْجَوْهَرِيُّ ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ الْفَضْلِ الْعَنْزِيُّ ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ. . .
১৮ - মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আমাদের লিখিতভাবে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর আশ-শাফিঈ তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আসবাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইবরাহিম ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান আল-আ’রাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল বিন উবাইদ আল-ইজলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালাফ বিন খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুগিরা অথবা হাম্মাদ ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আম্মার বিন ইয়াসির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: আমাকে উমরের ফজিলত সম্পর্কে জানান। তিনি বললেন: নূহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর কওমের মাঝে পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর যে সময়কাল অবস্থান করেছিলেন, আমি যদি ততক্ষণও আপনার সাথে থাকতাম, তবুও উমরের ফজিলতসমূহ শেষ হতো না। আর উমর হলেন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পুণ্যসমূহের মধ্যে একটি পুণ্য মাত্র।" শাইখ বলেন: ইসমাইল বিন উবাইদ বিন নাফি আল-ইজলিও এটি হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি মুগিরা ব্যতীত খালাফের উল্লেখ করেননি।

মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আত-তাবারানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন কাসিম বিন মুসাভির আল-জাওহারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ বিন ফাদল আল-আনজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল বিন...
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ২১)
19 - ثنا الشَّيْخُ أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ مَنْدَةَ ، إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ يَوْمَ الْخَمِيسِ السَّادِسِ مِنْ رَبِيعٍ الآخِرِ سَنَةَ عَشْرٍ وَخَمْسِ مِائَةٍ ، قَالَ: ثنا وَالِدِي أَبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْوَهَّابِ ، قَالَ: أنبا أَبِي قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي ، حَدَّثَنِي أَبِي ، ثنا هَنَّادٌ ، ثنا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، أَوْ عِكْرِمَةَ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: " قَالَتِ الْيَهُودُ: إِنَّمَا الدُّنْيَا سَبْعَةُ آلافِ سَنَةٍ ، وَإِنَّمَا يُعَذَّبُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِكُلِّ أَلْفِ سَنَةٍ يَوْمٌ مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا يَوْمًا وَاحِدًا، وَإِنَّمَا هِيَ سَبْعَةُ أَيَّامٍ ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلا أَيَّامًا مَعْدُودَةً} [البقرة: 80] .

فَأَخْبَرَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى أنَّ الثَّوَابَ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ مَعَهُمْ أَبَدًا " قَالَ الشَّيْخُ: رَوَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ ، عَنْ يُونُسَ ، وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ فَأَخْبَرَهُمُ اللَّهُ ، وَرَوَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ وَغَيْرُهُ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، نَحْوَهُ
১৯ - শায়খ আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মান্দাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—পাঁচশ দশ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের ছয় তারিখ বৃহস্পতিবার তার নিজ কণ্ঠে শ্রুতলিখন অনুযায়ী—তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের বর্ণনা করেছেন হান্নাদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন বুকাইর, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর, সাঈদ বিন জুবাইর অথবা ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ইহুদিরা বলত: দুনিয়া মাত্র সাত হাজার বছরের, আর কিয়ামতের দিন মানুষকে প্রতি এক হাজার বছরের বিনিময়ে দুনিয়ার দিনগুলোর একদিনের সমান শাস্তি দেওয়া হবে, সে হিসেবে শাস্তি হবে মাত্র সাত দিন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {আর তারা বলে: আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না সামান্য কয়েক দিন ছাড়া} [বাকারা: ৮০]।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ভালো ও মন্দের প্রতিদান তাদের সাথে সর্বদা থাকবে।" শায়খ বলেন: আবু কুরাইব এটি ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে 'অতঃপর আল্লাহ তাদের সংবাদ দিয়েছেন' অংশটি উল্লেখ করেননি। ইব্রাহিম বিন সাদ এবং অন্যরা মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ২২)
20 - أنبا الإِمَامُ عَمِّي ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ الْهَيْثَمِ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ أَبَانٍ ، حَدَّثَنِي أَبُو أَحْمَدَ تَقِيُّ بْنُ مَخْلَدٍ ، ثنا وَكِيعٌ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ كَعْبٍ ، قَالَ: " بَدَأَ اللَّهُ عز وجل بِخَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ يَوْمَ: الأَحَدِ ، وَالاثْنَيْنِ ، وَالثُّلاثَاءِ ، وَالأَرْبِعَاءِ ، وَالْخَمِيسِ ، وَالْجُمُعَةِ ، ثُمَّ جَعَلَ مَعَ كُلِّ يَوْمٍ أَلْفَ سَنَةٍ "
২০ - সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আমার চাচা, সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনুল হাইসাম, সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে আবান, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ তাকি ইবনে মাখলাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির সূচনা করেছেন: রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দিনে; অতঃপর তিনি প্রতিটি দিনের সাথে এক হাজার বছর যুক্ত করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 21 - أنبا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الصَّفَّارُ ، كِتَابَةً ، أَنَّ الْعَبَّاسَ بْنَ الْفَضْلِ ، أَخْبَرَهُمْ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ نَجْدَةَ ، ثنا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ ، ثنا أَيُّوبُ ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ ، أَنَّ رَجُلا سَأَلَ ابْنَ عَبَّاسٍ ، مَا يَوْمٌ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ؟ فَكَأَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ اتَّهَمَهُ ، فَقَالَ: مَا يَوْمٌ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ؟ فَقَالَ: إِنَّمَا سَأَلْتُكَ لِتُحَدِّثَنِي ، وَلِتُخْبِرَنِي ، فَقَالَ: هُمَا يَوْمَانِ ذَكَرَهُمَا اللَّهُ عز وجل فِي كِتَابِهِ ، اللَّهُ أَعْلَمُ بِهِمَا ، وَأَكْرَهُ أَنْ أَقُولَ فِي كِتَابِهِ مَا لا أَعْلَمُ

২২ ২১ - মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সাফফার আমাদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, আব্বাস বিন আল-ফজল তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন নাজদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে যে, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করল, "সেই দিনটি কোনটি যার পরিমাণ এক হাজার বছর?" ফলে ইবনে আব্বাস যেন তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "সেই দিনটি কোনটি যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর?" লোকটি বলল, "আমি তো আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছি যেন আপনি আমাকে বর্ণনা করেন এবং আমাকে অবহিত করেন।" তখন তিনি বললেন, "সেগুলো হলো দুটি দিন যা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন, আল্লাহই সে সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত। আর আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এমন কিছু বলা অপছন্দ করি যা আমি জানি না।"

(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
21 - أنبا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْبَزَّازُ بِنَيْسَابُورَ ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ الْعَدْلُ ، أنبا جَدِّي الإِمَامُ ، ثنا بِشْرُ بْنُ هِلالٍ.

ح وَأنبا الإِمَامُ عَمِّي ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ ، ثنا سِمَّوَيْهِ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ ، قَالا: ثنا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، عَنِ الْمُعَلَّى بْنِ زِيَادٍ ، عَنِ الْعَلاءِ بْنِ بَشِيرٍ ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: كُنْتُ فِي عِصَابَةٍ مِنْ ضُعَفَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الْحَدِيثَ ، وَفِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «أَبْشِرُوا يَا مَعْشَرَ صَعَالِيكِ الْمُهَاجِرِينَ مِنْ نُورٍ تَامٍّ ، يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَاءِ الْمُؤْمِنِينَ بِنِصْفِ يَوْمٍ ، وَذَلِكَ خَمْسُ مِائَةِ سَنَةٍ» قَالَ الشَّيْخُ: وَفِي الْبَابِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ: أَبُو هُرَيْرَةَ ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَغَيْرُهُمَا
২১ - নাইসাপুরে আহমদ বিন মানসুর আল-বাজ্জাজ আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন, মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-আদল আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন, আমার দাদা ইমাম আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন, বিশর বিন হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

(তহবিল) এবং আমার চাচা ইমাম আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন, আহমদ বিন মুসা আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন, আবদুল্লাহ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সিম্মাওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই বলেছেন: জাফর বিন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআল্লা বিন যিয়াদ থেকে, তিনি আলা বিন বশীর থেকে, তিনি আবু সিদ্দিক আন-নাজী থেকে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাজিরদের অভাবী ও দুর্বলদের একটি দলের মধ্যে ছিলাম (হাদীসটি দীর্ঘ), এবং তাতে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে অভাবী মুহাজির সম্প্রদায়! তোমরা কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করো; তোমরা মুমিন ধনীদের চেয়ে অর্ধেক দিন আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর তা হলো পাঁচশত বছর।» শায়খ বলেছেন: এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একদল (সাহাবীর) বর্ণনা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু হুরায়রা, আবদুল্লাহ বিন উমর এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، كِتَابَةً ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، حَدَّثَهُمْ ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَزَّالٍ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ مُسْلِمٍ ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، قَالَ: «وَاللَّهِ لا يَخْرُجُ مَنْ دَخَلَ النَّارَ حَتَّى يَمْكُثَ فِيهَا أَحْقَابًا ، الْحُقْبُ بِضْعٌ وَثَمَانُونَ سَنَةً ، وَكُلُّ سَنَةٍ ثَلاثُ مِائَةٍ وَسِتُّونَ يَوْمًا ، كُلُّ يَوْمٍ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ»

22 - ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَيَّانَ أَبُو الشَّيْخِ ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ الرَّازِيُّ ، ثنا وَكِيعٌ ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ عَمَّارٍ الدُّهْنِيِّ ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ ، أَنَّ عَلِيًّا رحمه الله سَأَلَ الْهَجَرِيَّ ، مَا تَعُدُّونَ الْحُقْبَ فِيكُمْ؟ قَالَ: نَجِدُهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل ثَمَانِينَ سَنَةً ، السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا ، الشَّهْرُ ثَلاثُونَ يَوْمًا ، الْيَوْمُ أَلْفُ سَنَةٍ ، قَالَ الشَّيْخُ: وَبِهِ ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ ، ثنا عِيسَى ، ثنا إِسْرَائِيلُ ، عَنْ سِمَاكٍ ، عَنْ عِكْرِمَةَ ، {فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} [المعارج: 4] .

قَالَ: يَوْمُ الْقِيَامَةِ ، وَقَوْلُهُ: {يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ} [السجدة: 5] .

قَالَ: مِنْ أَيَّامِ السَّنَةِ ، وَثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ ، ثنا وَكِيعٌ ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ سِمَاكٍ {فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ} [السجدة: 5] .

قَالَ: يَوْمُ الْقِيَامَةِ
২২ - মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট লিখিতভাবে বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কায্যাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইমান আত-তাইমী থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আল্লাহর কসম, যে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে, সে সেখানে দীর্ঘ যুগ (আহকাব) অবস্থান না করা পর্যন্ত সেখান থেকে বের হবে না। এক 'হুকব' হলো আশি বছরের কিছু বেশি সময়, এবং প্রতিটি বছর তিনশ ষাট দিনের হয়, আর প্রতিটি দিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান।"

২২ - মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাইয়ান আবুশ শাইখ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ইমরান আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আম্মার আদ-দুহনী থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) হাজারীকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমাদের মাঝে 'হুকব' বলতে কী গণনা করা হয়?" তিনি বললেন, "আমরা মহান আল্লাহর কিতাবে একে আশি বছর হিসেবে পাই, বছর হলো বারো মাসে, মাস হলো ত্রিশ দিনে, আর প্রতিটি দিন হলো এক হাজার বছরের সমান।" শাইখ বলেন: এবং এই সনদেই আব্দুল্লাহ ইবনে ইমরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে [আল্লাহর বাণী সম্পর্কে] বর্ণনা করেন: {এমন এক দিনে, যার পরিমাণ ছিল পঞ্চাশ হাজার বছর} [আল-মাআরিজ: ৪]।

তিনি বললেন: এটি কিয়ামতের দিন। এবং আল্লাহর বাণী: {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন, তারপর তা এমন এক দিনে তাঁর দিকে আরোহণ করে যার পরিমাণ তোমাদের গণনার এক হাজার বছর} [আস-সাজদাহ: ৫]।

তিনি বললেন: এটি বছরের দিনসমূহ থেকে। এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ইমরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সিমাক থেকে {এমন এক দিনে যার পরিমাণ এক হাজার বছর} [আস-সাজদাহ: ৫] সম্পর্কে বর্ণনা করেন।

তিনি বললেন: কিয়ামতের দিন।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
23 - أَخْبَرَنِي أَخِي مُحَمَّدٌ ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ مَحْمُودٍ الْوَاعِظُ ، أنبا الْعَبَّاسُ الأَسَدِيُّ ، ثنا. . . ، ثنا أَبُو خَيْثَمَةَ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى ، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ ، ثنا دَرَّاجٌ ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، قِيلَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، {فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ} [السجدة: 5] ، مَا أَطْوَلَ هَذَا! فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «إِنَّهُ لَيُخَفَّفُ عَلَى الْمُؤْمِنِ حَتَّى يَكُونَ أَخَفَّ عَلَيْهِ مِنْ صَلاةٍ مَكْتُوبَةٍ يُصَلِّيهَا فِي الدُّنْيَا»
২৩ - আমার ভাই মুহাম্মদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আল-ওয়াইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্বাস আল-আসাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, . . . আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু খাইসামা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান ইবনে মুসা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে লাহিয়া, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন দাররাজ, আবুল হাইসাম থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলা হলো, {এমন এক দিনে যার পরিমাণ এক হাজার বছর} [আস-সাজদাহ: ৫], এটি কতই না দীর্ঘ! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «নিশ্চয়ই মুমিনের জন্য তা লাঘব করা হবে, এমনকি এটি তার কাছে দুনিয়াতে আদায় করা একটি ফরজ সালাতের চেয়েও অধিক হালকা মনে হবে»।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
24 - ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنِ مَرْدَوَيْهِ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَيِّعُ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ. . . . . . ، ثنا عَمْرُو بْنُ ثَابِتٍ ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ ، عَنْ عِكْرِمَةَ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: سَأَلَهُ رَجُلٌ مَا هُؤَلاءِ الآيَاتِ؟ {فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} [المعارج: 4] ، {يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ} [السجدة: 5] ، {وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَإِنَّ يَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ} [الحج: 47] .

قَالَ: " يَوْمُ الْقِيَامَةِ حِسَابُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ ، وَخَلْقُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ، كُلَّ يَوْمٍ أَلْفُ سَنَةٍ ، و {يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ} [السجدة: 5] .

قَالَ: ذَلِكَ مِقْدَارُ الْخَمْسِينَ "

25 - ثنا أَبِي ، وَعَمَّايَ ، قَالُوا: أنبا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ يَوَّةَ ، ثنا أَبُو الْحُسَيْنِ اللِّبْنَانِيُّ ، ثنا ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا ، ثنا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو ، ثنا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ ، فِي قَوْلِ اللَّهِ عز وجل: {وَيَسْتَعْجِلُونَكَ بِالْعَذَابِ وَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَإِنَّ يَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ} [الحج: 47] .

قَالَ: يُجْعَلُ لَهُمْ أَوْتَادٌ فِي جَهَنَّمَ فِيهَا سَلاسِلُ فَتُلْقَى فِي أَعْنَاقِهِمْ ، قَالَ: فَتَزْفِرُ بِهِمْ جَهَنَّمُ زَفْرَةً فَتَذْهَبُ بِهِمْ مَسِيرَةَ خَمْسِ مِائَةِ سَنَةٍ ، ثُمَّ يَجِيءُ بِهِمْ فِي يَوْمٍ ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ: {وَإِنَّ يَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ} [الحج: 47]
24 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুসা বিন মারদাওয়াইহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-বায়্যি', আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ... আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন সাবিত, সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই আয়াতগুলোর তাৎপর্য কী? {এমন এক দিনে যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর} [আল-মা'আরিজ: ৪], {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর নিকট এমন একদিনে আরোহণ করে যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় এক হাজার বছর} [আস-সাজদাহ: ৫], {আর তারা আপনাকে শাস্তির জন্য ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ কখনই তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না; এবং আপনার রবের নিকট একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান} [আল-হাজ্জ: ৪৭]।

তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: "কিয়ামতের দিন হলো পঞ্চাশ হাজার বছরের হিসাবের সমান। আর আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা হয়েছে ছয় দিনে, যার প্রতিটি দিন এক হাজার বছরের সমান। আর {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর নিকট এমন একদিনে আরোহণ করে যার পরিমাণ এক হাজার বছর} [আস-সাজদাহ: ৫]।"

তিনি বললেন: "সেটি হলো সেই পঞ্চাশের পরিমাণ।"

25 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা এবং আমার দুই চাচা, তাঁরা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন ইয়াউওয়াহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন আল-লিবনানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আবিদ দুনিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ বিন আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ বিন খালিফাহ, আবু হাশিম থেকে আল্লাহর (যিনি মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) এই বাণী সম্পর্কে: {আর তারা আপনাকে শাস্তির জন্য ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ কখনই তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না; এবং আপনার রবের নিকট একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান} [আল-হাজ্জ: ৪৭]।

তিনি বললেন: তাদের জন্য জাহান্নামে কিছু পেরেক বা কীলক নির্ধারণ করা হবে যাতে শিকল থাকবে এবং তা তাদের গলায় পরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন: অতঃপর জাহান্নাম তাদের নিয়ে এক বিকট গর্জন বা দীর্ঘশ্বাস ছাড়বে যা তাদের পাঁচশ বছরের পথের দূরত্বে নিয়ে যাবে, এরপর একদিনে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে; আর এটাই হলো তাঁর বাণী: {এবং আপনার রবের নিকট একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান} [আল-হাজ্জ: ৪৭]।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে মানদাহ- রিওয়ায়াতু ইবনি হাইওয়াইহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
25 - أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ السَّامَانِيُّ ، إِجَازَةً ، أنبا أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، أنبا الْوَلِيدُ بْنُ أَبَانٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ ، ثنا أَبُو غَسَّانَ ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ ، ثنا سَلَمَةُ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، قَالَ: هَلْ تَعْلَمُونَ مِنْ أُمَّةٍ عُمِّرَتْ أَلْفَ سَنَةٍ؟ قُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلا خَمْسِينَ عَامًا} [العنكبوت: 14] .

قَالَ: صَدَقْتَ ، فَإِنَّ النَّاسَ لَمْ يَزَالُوا يَنْقُصُونَ مِنْ أَخْلاقِهِمْ ، وَمِنْ أَجْسَامِهِمْ ، وَمِنْ أَعْمَارِهِمْ إِلَى يَوْمِهِمْ هَذَا "
২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আলী বিন আহমদ আস-সামানি, অনুমতিক্রমে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ওয়ালিদ বিন আবান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু গাসসান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সালামাহ বিন কুহাইল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালামাহ, মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমরা কি এমন কোনো জাতির কথা জানো যাদের আয়ু এক হাজার বছর হয়েছিল?" আমি বললাম: "হে আবু আবদুর রহমান, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর তিনি তাদের মধ্যে পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর অবস্থান করেছিলেন} [আল-আনকাবুত: ১৪]।"

তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ। নিশ্চয়ই মানুষ তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, তাদের শারীরিক গঠন এবং তাদের আয়ুর ক্ষেত্রে আজ অবধি ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে চলেছে।"