(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: -)
الأمالي بجامع دمشق   (الخطيب البغدادي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأمالي بجامع دمشق (أربعة مجالس إملاء)

المؤلف: أحمد بن علي الخطيب البغدادي

المحقق: محمد بن ناصر العجمي

الطبعة: الأولى، 1432 هـ

الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت

عدد الصفحات: 37

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الأول 1443

দামেস্কের জামে মসজিদে শ্রুতিলিপি (আল-আমালি)   (আল-খাতিব আল-বাগদাদি)

বিভাগ: সুন্নাহ বিষয়ক গ্রন্থাবলি


বই: দামেস্কের জামে মসজিদে শ্রুতিলিপি (আল-আমালি) (চারটি শ্রুতিলিপি মজলিস)

লেখক: আহমাদ বিন আলী আল-খাতিব আল-বাগদাদি

সম্পাদক: মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরি

প্রকাশক: দার আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ، বৈরুত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৬৫)
الْجُزْءُ فِيهِ الْجُزْءُ الْخَامِسُ مِنَ الأَمَالِي بِجَامِعِ دِمَشْقَ.

فِيهِ أَرْبَعَةُ مَجَالِسَ أَمْلاهَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْخَطِيبُ.

رِوَايَةُ الشَّيْخِ الإِمَامِ الثِّقَةُ الأَمِينُ أَبِي مَنْصُورِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ خَيْرُونَ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ الشَّيْخِ الثِّقَةِ أَبِي الْفَضْلِ سُلَيْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمَوْصِلِيُّ، عَنْهُ.
এই খণ্ডটিতে দামেস্কের জামে মসজিদে প্রদানকৃত 'আল-আমালি' এর পঞ্চম অংশ রয়েছে।

এতে চারটি মজলিস রয়েছে যা শায়খ, ইমাম, হাফিজ আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন সাবিত বিন মাহদী আল-খাতীব শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান করেছেন।

এটি তাঁর সূত্রে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত শায়খ, ইমাম আবু মনসুর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক বিন আল-হাসান বিন খাইরুন-এর বর্ণনা।

এটি তাঁর সূত্রে নির্ভরযোগ্য শায়খ আবু আল-ফজল সুলায়মান বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-মাওসিলি-এর বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৬৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الثِّقَةُ أَبُو الْفَضْلِ سُلَيْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمَوْصِلِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، بِمَدِينَةِ السَّلامِ، فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ ثَالِثِ وَعِشْرِينَ مِنْ شَوَّالٍ سَنَةَ عَشْرٍ وَسِتِّ مِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الأَمِينُ الثِّقَةُ أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ حَسَنِ بْنِ خَيْرُونَ الْمُقْرِئُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنَ الأَصْلِ الَّذِي خَطَّ الْخَطِيبُ، وَهُوَ يَسْمَعُ، وَأَنَا أَسْمَعُ، بِالْمَسْجِدِ بِدَرْبِ نُصَيْرٍ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلاثِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، أَخْبَرَكُمُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ، فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَسِتِّينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য শাইখ ও ইমাম আবুল ফজল সুলাইমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মাওসিলী; যখন তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি শ্রবণ করছিলাম। এটি ছিল মাদিনাতুস সালামে (বাগদাদে), ৬১০ হিজরী সনের ২৩শে শাওয়াল, জুমুআর দিনে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমানতদার ও নির্ভরযোগ্য শাইখ ও ইমাম আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে হাসান ইবনে খাইরুন আল-মুকরি; যখন তাঁর নিকট সেই মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ করা হয়েছিল যা খতীব (বাগদাদী) স্বহস্তে লিখেছিলেন এবং তিনি শ্রবণ করছিলেন ও আমিও শ্রবণ করছিলাম। এটি ছিল ৫৩৫ হিজরী সনের শাওয়াল মাসে, দারবে নুসায়েরের মসজিদে। হাফিজ আবু বকর আহমাদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খতীব আল-বাগদাদী ৪৬৩ হিজরী সনের মুহাররাম মাসে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৬৮)
‌‌مَجْلِسُ إِمْلاءٍ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ ثَانِي عَشَرَ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ.

أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَهْدِيٍّ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْفَارِسِيُّ، ثنا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ الْقُرَشِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَنَا مَالِكٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ أَبِي مُرَّةَ مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ، أَنَّهُ دَخَلَ مَعْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَلَى أَبِيهِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، فَقَرَّبَ إِلَيْهِ طَعَامًا فَقَالَ: كُلْ.

قَالَ: إِنِّي صَائِمٌ.

فَقَالَ عَمْرٌو: كُلْ فَهَذِهِ الأَيَّامُ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «يَأْمُرُنَا أَنْ نُفْطِرَهَا، وَيَنْهَانَا عَنْ صِيَامِهَا».

قَالَ مَالِكٌ: وَهِيَ أَيَّامُ التَّشْرِيقِ
চারশত আটান্ন হিজরি সনের বারো জিলহজ, জুমার দিনের একটি হাদিস শ্রুতিলিখনের মজলিস.

আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-ফারিসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বকর বিন সাহল আল-কুরাশি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মালিক আমাদের ইয়াজিদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাদ থেকে, তিনি উম্মে হানির আযাদকৃত গোলাম আবু মুররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আসের সাথে তাঁর পিতা আমর ইবনুল আসের নিকট প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি (আমর) তাঁর সামনে খাবার পরিবেশন করেন এবং বলেন: খাও।

তিনি (আব্দুল্লাহ) বললেন: আমি তো রোজা রাখা অবস্থায় আছি।

অতঃপর আমর বললেন: খাও, কারণ এগুলো সেই দিনসমূহ যেগুলোতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের রোজা না রাখার নির্দেশ দিতেন এবং রোজা রাখতে নিষেধ করতেন।

মালিক বলেন: আর এগুলো হলো আইয়্যামুত তাশরিক।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৬৯)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ شَاذَانَ، نا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدَّقَّاقُ، ثنا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرٍ، أَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ هُوَ ابْنُ عَطَاءٍ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «نَهَى عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الْفِطْرِ، وَيَوْمِ النَّحْرِ، وَأَيَّامِ التَّشْرِيقِ»

 

3 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِئُ، أَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ، ثنا أَبُو خَيْثَمَةَ، ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنَا سَلامُ بْنُ مِسْكِينٍ، عَنْ عَائِذِ اللَّهِ الْمُجَاشِعِيِّ، عَنْ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذِهِ الأَضَاحِي؟ قَالَ: «سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ».

قَالُوا: فَمَا لَنَا مِنْهَا؟ قَالَ: «بِكُلِّ شَعْرَةٍ حَسَنَةٌ».

قَالُوا: فَالصُّوفُ؟ قَالَ: «بِكُلِّ شَعْرَةٍ مِنَ الصُّوفِ حَسَنَةٌ»
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আবু বকর ইবনে শাজান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে জাফর, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব (যিনি ইবনে আতা), তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাইল ইবনে মুসলিম, আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন, কুরবানীর দিন এবং আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোতে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।

 

৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে উমর আল-মুকরি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবি কায়স, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু খাইসামাহ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াযীদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালাম ইবনে মিসকীন, আইযুল্লাহ আল-মুজাশি’ঈ থেকে, তিনি আবু দাউদ থেকে, তিনি যায়দ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এই কুরবানীগুলো কী? তিনি বললেন: «তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের সুন্নাত»।

তারা বললেন: এতে আমাদের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে? তিনি বললেন: «প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে»।

তারা বললেন: আর পশম (ভেড়ার লোম)? তিনি বললেন: «পশমের প্রতিটি আঁশের বিনিময়েও একটি করে নেকি রয়েছে»।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৭০)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الصَّيْدَلانِيُّ، أَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْوَبَرِيُّ، أَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، نا أَبُو سَعِيدٍ الشَّامِيُّ، ثنا عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «ضَحُّوا وَطَيِّبُوا بِهَا أَنْفُسَكُمْ فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ مُسْلِمٍ يُوَجِّهُ ضَحِيَّتَهُ إِلَى الْقِبْلَةِ إِلا كَانَ دَمُهَا وَفَرْثُهَا وَصُوفُهَا حَسَنَاتٍ مَحْضَرَاتٍ فِي مِيزَانِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ».

وَكَانَ يَقُولُ: «أَنْفِقُوا قَلِيلا تُؤْجَرُوا كَثِيرًا، إِنَّ الدَّمَ وَإِنْ وَقَعَ فِي التُّرَابِ فَهُوَ فِي حِرْزِ اللَّهِ حَتَّى يُوَفِّيَهُ صَاحِبَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»

 

5 - وَبِهِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلابَةَ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ:
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আস-সাইদালানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমাদ আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-ওয়াবারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আশ-শামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা বিন আবি রাবাহ, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা কুরবানি করো এবং এর মাধ্যমে নিজেদের মনকে প্রফুল্ল করো; কেননা কোনো মুসলিম যখন তার কুরবানির পশুকে কিবলার দিকে মুখ করে রাখে, তখন কিয়ামতের দিন তার মিযানে (আমলনামার পাল্লায়) ঐ পশুর রক্ত, বিষ্ঠা ও পশম উপস্থিত নেকি হিসেবে গণ্য হবে।»

তিনি আরও বলতেন: «তোমরা সামান্য ব্যয় করো, তোমাদেরকে প্রচুর প্রতিদান দেওয়া হবে। নিশ্চয়ই রক্ত যদিও মাটিতে পড়ে, তবুও তা আল্লাহর হেফাজতে থাকে যতক্ষণ না কিয়ামতের দিন তিনি তার মালিককে তা পূর্ণভাবে প্রদান করেন।»

 

৫ - এবং একই সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু আল-আশ'আস আস-সানআনি থেকে, তিনি শাদ্দাদ বিন আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৭১)
حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اثْنَتَيْنِ، أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى كَتَبَ الإِحْسَانِ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذِّبْحَ، وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ، وَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ»

 

6 - أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ بْنِ عَلِيٍّ الْبَزَّازُ، أَنَا عُمْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْقَاضِي، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، نا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ،
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দুটি কথা মুখস্থ করেছি, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রতিটি ক্ষেত্রে ইহসান (উত্তম আচরণ) করা অপরিহার্য করেছেন। অতএব, যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করো; আর যখন যবেহ করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে যবেহ করো। তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার যবেহকৃত পশুকে আরাম দেয়।"

 

৬ - আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল ফারাজ ইবনে আলী আল-বাযযার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-কাজী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আ'লা ইবনে হাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে জাবির থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৭২)
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى بِكَبْشَيْنِ أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ عَظِيمَيْنِ مَوْجُوءَيْنِ، فَأَضْجَعَ أَحَدَهُمَا، فَقَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ عَنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ».

ثُمَّ أَضْجَعَ الآخَرَ فَقَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ عَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ مَنْ شَهِدَ لَكَ بِالتَّوْحِيدِ وَشَهِدَ لِي بِالْبَلاغِ»

 

7 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَوَارِسِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَزَّازُ، ثنا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدِ بْنِ عُبْدُوسٍ السَّرَّاجُ، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، ثنا أَبُو الْمُغِيرَةِ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَا فَاطِمَةُ اشْهَدِي أُضْحِيَّتَكِ، فَإِنَّهُ يُغْفَرُ لَكِ بِأَوَّلِ قَطْرَةٍ مِنْ دَمِهَا كُلُّ ذَنْبٍ عَمِلْتِيهِ، وَقُولِي: إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ".

قَالَ عِمْرَانُ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا لَكُمْ خَاصَّةً، وَلأَهْلِ بَيْتِكَ، وَأَنْتُمْ أَهْلُ ذَلِكَ، أَمْ لِلنَّاسِ عَامَّةً؟ قَالَ: «لِلنَّاسِ عَامَّةً»
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি বিশাল, শিংওয়ালা, সাদা-কালো মিশ্রিত এবং খাসি করা মেষ নিয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি তাদের একটিকে শোয়ালেন এবং বললেন: "আল্লাহর নামে, আর আল্লাহ সবচাইতে মহান; মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের পক্ষ থেকে।"

অতঃপর তিনি অন্যটিকে শোয়ালেন এবং বললেন: "আল্লাহর নামে, আর আল্লাহ সবচাইতে মহান; মুহাম্মদ এবং তার উম্মতের ঐসব লোকের পক্ষ থেকে যারা আপনার তাওহীদের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং আমার দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছে।"

 

৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবিল ফাওয়ারিস আল-হাফিয, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহীম আল-বাযযার, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুস আস-সাররাজ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী ইবনুল জাদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আল-মুগীরাহ, আবু হামযাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে ফাতিমা! তোমার কুরবানীর নিকট উপস্থিত থাকো। কেননা এর রক্তের প্রথম ফোঁটা পড়ার সাথেই তোমার কৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর বলো: 'নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিজগতের রব আল্লাহরই জন্য'।"

ইমরান (রা.) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এটি কি বিশেষ করে আপনাদের এবং আপনার পরিবারবর্গের জন্য—আর আপনারাই এর অধিক যোগ্য—নাকি সাধারণ সকল মানুষের জন্য? তিনি বললেন: "সাধারণ সকল মানুষের জন্য।"
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৭৩)
8 - أَنَا أَبُو الْفَتْحِ هِلالُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْحَفَّارُ، أَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَيَّاشٍ الْقَطَّانُ، ثنا عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ، نا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ جُرَيِّ بْنِ كُلَيْبٍ يَعْنِي السَّدُوسِيَّ، سَمِعَ عَلِيًّا رضي الله عنه، يَقُولُ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُضَحَّى بِعَضْبَاءِ الأُذُنِ وَالْقَرْنِ».

قَالَ قَتَادَةُ: فَسَأَلْتُ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ عَنِ الْعَضْبِ، فَقَالَ: النِّصْفُ فَمَا زَادَ.

وَقَالَ هِشَامٌ بِهَذَا الإسْنَادِ: النِّصْفُ فَمَا فَوْقَهُ
৮ - আমি আবু আল-ফাতহ হিলাল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-হাফফার; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়াশ আল-কাত্তান; আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে মুসলিম; আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ; তিনি শু'বাহ থেকে; তিনি কাতাদাহ থেকে; তিনি জুরাই ইবনে কুলাইব অর্থাৎ আস-সাদুসী থেকে বর্ণনা করেন; তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিং ভাঙা এবং কান কাটা পশু কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন।"

কাতাদাহ বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে 'আদব' (শিং ভাঙা বা কান কাটা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: অর্ধেক বা তার বেশি।

এবং হিশাম এই একই সনদে বর্ণনা করেছেন: অর্ধেক বা তার বেশি।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৭৪)
9 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْحَرُشِيُّ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ الشَّيْبَانِيُّ، بِالْكُوفَةِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمٍ، أَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ النُّعْمَانِ الصَّائِدِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، قَالَ: «أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَيْنَ وَالأُذُنَ، وَأَنْ لا نُضَحِّيَ بِمُقَابِلَةٍ وَلا بِمُدَابِرَةٍ وَلا شَرْقَاءَ وَلا خَرْقَاءَ».

قَالَ: الْمُقَابِلَةُ مَا قُطِعَ طَرْفُ أُذُنِهَا، وَالْمُدَابِرَةُ مَا قُطِعَ مِنْ جَانِبِ الأُذُنِ، وَالشَّرْقَاءُ الْمَشْقُوقَةُ، وَالْخَرْقَاءُ الْمَثْقُوبَةُ "
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-হারুশি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে দুহায়ম আশ-শায়বানি কুফায়, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে হাযিম, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসরাঈল, আবু ইসহাক থেকে, তিনি শুরাইহ ইবনে নুমান আস-সাঈদি থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন (কুরবানির পশুর) চোখ ও কান ভালো করে পরীক্ষা করে নিই, এবং আমরা যেন এমন পশু কুরবানি না করি যা মুকাবিলাহ, মুদাবিরাহ, শারকা অথবা খারকা।"

তিনি বলেন: মুকাবিলাহ হলো ওই পশু যার কানের অগ্রভাগ কাটা হয়েছে, মুদাবিরাহ হলো যার কানের পাশ থেকে কাটা হয়েছে, শারকা হলো যার কান লম্বালম্বিভাবে চেরা, এবং খারকা হলো যার কান ছিদ্রযুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৭৫)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ، ثنا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، نا أَبُو دَاوُدَ، ثنا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ فَيْرُوزٍ، قَالَ: سَأَلْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ مَا كَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ نَهَى عَنِ الأَضَاحِي؟ قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَكَذَا وَيَدِي أَقْصَرُ مِنْ يَدِهِ، فَقَالَ: " أَرْبَعٌ لا يُجْزِئْنَ: الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا، وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا، وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا، وَالْكَسِيرَةُ الَّتِي لا تُنْقِي ".

قُلْتُ: إِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَكُونَ فِي السِّنِّ نَقْصٌ أَوْ فِي الأُذُنِ نَقْصٌ.

قَالَ: «فَمَا كَرِهْتَ مِنْهُ فَدَعْهُ فَلا تُحَرِّمْهْ عَلَى أَحَدٍ»
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুয়াইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন আহমদ বিন ফারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন হাবিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উবাইদ বিন ফাইরুযকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল-বারা বিন আযিবকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানির পশুর ক্ষেত্রে কী কী অপছন্দ করেছেন বা নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে এভাবে দাঁড়িয়েছিলেন—আর আমার হাত ছিল তাঁর হাতের চেয়ে ছোট—অতঃপর তিনি বললেন: "চার প্রকার পশু কুরবানি করা যথেষ্ট নয়: যে পশুর এক চোখ কানা হওয়া স্পষ্ট, যে পশু অসুস্থ এবং যার অসুস্থতা স্পষ্ট, যে পশু ল্যাংড়া এবং যার খুঁড়িয়ে চলা স্পষ্ট, এবং এমন অতিশয় দুর্বল ও কৃশ পশু যার হাড়ে মজ্জা নেই।"

আমি বললাম: আমি তো দাঁতে বা কানে ত্রুটি থাকাও অপছন্দ করি।

তিনি বললেন: "তুমি যা অপছন্দ করো তা বর্জন করো, তবে তা অন্য কারো জন্য হারাম করো না।"
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৭৬)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ الْبَزَّازُ، أَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، أَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُمَيْرٍ، ثنا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، ثنا حَمَّادٌ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنِ الْحَسَنِ، وَعَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، قَالَا: يُضَحَّى إِلَى آخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ

 

12 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْمُقْرِئُ، أَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ هِلالٍ، قَالَ: قُلْتُ لأَبِي عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: أَيُّهَا أْفَضَلُ عِنْدَكَ يُضَحَّى أَوْ يُتَصَدَّقُ بِثَمَنِ الضَّحِيَّةِ؟ قَالَ: لا، بَلْ يُضَحَّى.
১১ - আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল ফারাজ আল-বায্যায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনে উমাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল আ'লা ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি হাসান ও আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: তাশরীকের দিনগুলোর শেষ পর্যন্ত কুরবানী করা যাবে।

 

১২ - আলী ইবনে আহমদ আল-মুকরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবি কায়েস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলকে বললাম: আপনার নিকট কোনটি অধিক উত্তম—কুরবানী করা, নাকি কুরবানীর পশুর মূল্য সদকা করে দেওয়া? তিনি বললেন: না, বরং কুরবানী করাই উত্তম।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৭৭)
فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ كَيْفَ قُلْتَ؟ قَالَ: قُلْتُ: يُضَحَّى أَفْضَلُ عِنْدَنَا إِذًا تَذْهَبُ هَذِهِ السُّنَّةُ، يَدَعُ النَّاسُ الأَضْحَى إِنْ كَانَ غَيْرُهُ أَفْضَلَ

آخِرُ الْمَجْلِسِ الأَوَّلِ من هذا الجزء
এক ব্যক্তি তাকে বললেন, "আপনি কী বলেছিলেন?" তিনি বললেন, "আমি বলেছি: আমাদের নিকট কুরবানি করাই অধিক উত্তম, নতুবা এই সুন্নাহটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে; যদি অন্য কিছু এর চেয়ে উত্তম হতো, তবে মানুষ কুরবানি করা ছেড়ে দিত।"

এই খণ্ডের প্রথম মজলিসের সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৭৮)
‌‌مَجْلِسٌ أُمْلِيَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ رابع بَقِينَ مِنْ شَوَّالٍ سَنَةَ تِسْعٍ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ

13 - أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَهْدَيِ، أَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى الْقَطَّانُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ محْمَدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، ثنا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا لَيْثٌ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ،

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الأذَانَ: وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا، غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ "
৪৫৯ হিজরী সনের শাওয়াল মাসের চার দিন অবশিষ্ট থাকতে জুমার দিনে শ্রুতিলিখিত মজলিস

১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে মাহদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সাব্বাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে সুলাইমান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন লাইস, তিনি হাকিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে, তিনি সাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে,

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আযান শোনার সময় বলে: ‘আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট’, তবে তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।"
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৭৯)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ السُّتُورِيُّ، ثنا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ يُسَيْعٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ».

ثُمَّ قَرَأَ: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} [غافر: 60]

 

15 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عِيسَى الْبَلَدِيُّ، أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ الْإِمَامَ، ثنا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لا يُصِيبُ الْمُؤْمِنَ شَوْكَةٌ فَمَا فَوْقَهَا إِلا رَفَعَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً»
১৪ - আবু আল-কাসিম আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন নাসর আস-সুতুরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান বিন আলী বিন আফফান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমাশ থেকে, তিনি যারর থেকে, তিনি ইউসাই' থেকে, তিনি নুমান বিন বাশির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «দুআই হলো ইবাদত।»

অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {তোমাদের রব বলেছেন: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদত থেকে অহংকারবশত বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।} [গাফির: ৬০]

 

১৫ - আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন উমর বিন ঈসা আল-বালাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন আহমদ আল-ইমাম আমাদের জানিয়েছেন, আলী বিন হারব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মুমিন ব্যক্তিকে একটি কাঁটা বিঁধলে বা তার চেয়ে বেশি কিছু স্পর্শ করলে আল্লাহ তাআলা তার বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার থেকে একটি পাপ মোচন করে দেন।»
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৮০)
16 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْهَاشِمِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّزَّازُ، ثنا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ أَبُو يَحْيَى الْقَطَّانُ، ثنا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، ثنا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ أَبِي مُعَيْدٍ وَاسْمُهُ حَفْصُ بْنُ غَيْلانَ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَبْعَثُ الأَيَّامَ يوَمَ الْقِيَامَةِ عَلَى هَيْئَتِهَا، وَيَبْعَثُ الْجُمُعَةَ زَهْرَاءَ مُنِيرَةً، أَهْلُهَا يَحُفُّونَ بِهَا كَالْعَرُوسِ تُهْدَى إِلَى كَرِيمِهَا تُضِيءُ بِهِمْ، يَمْشُونَ فِي ضَوْئِهَا، أَلْوَانُهُمْ كَالثَّلْجِ بَيَاضًا وَرِيحُهُمْ تَسْطَعُ كَالْمِسْكِ، يَخُوضُونَ فِي جِبَالِ الْكَافُورِ يَنْظُرُ إِلَيْهِمُ الثَّقَلانُ مَا يَطْرِفُونَ تَعَجُّبًا، يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ لا يُخَالِطُهُمْ أَحَدٌ إِلا الْمُؤَذِّنُونَ الْمُحْتَسِبُونَ»

 

17 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ الْحِنَّائِيُّ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، ثنا عَلِيُّ بْنُ دَاوُدَ الْقَنْطَرِيُّ، ثنا آدَمُ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ، ثُمَّ لا يَصْعَدُ إِلَى السَّمَاءِ إِلا طَيِّبٌ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَتَقَبَّلُهَا
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহীম আল-হাশিমী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আমর আর-রাযযায, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল করীম বিন আল-হাইসাম আবু ইয়াহইয়া আল-ক্বাত্তান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আর-রাবী বিন নাফি আবু তাওবা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-হাইসাম বিন হুমাইদ, আবু মুয়াইদ থেকে—যার নাম হাফস বিন গাইলান—তিনি তাউস থেকে, তিনি আবু মূসা আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন দিনসমূহকে তাদের প্রকৃত আকৃতিতে পুনরুত্থিত করবেন, এবং জুমআর দিনকে উজ্জ্বল ও আলোকময় করে তুলবেন। জুমআর দিনের অনুসারীরা তাকে এমনভাবে ঘিরে রাখবে যেমনভাবে কনেকে তার সম্মানিত পতির নিকট উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়; জুমআ তাদের দ্বারা আলোকিত হবে এবং তারা এর আলোতে পথ চলবে। তাদের বর্ণ হবে বরফের মতো শুভ্র এবং তাদের সুগন্ধি কস্তুরীর ন্যায় ছড়িয়ে পড়বে। তারা কর্পূরের পাহাড়সমূহ অতিক্রম করবে। মানুষ ও জিন জাতি বিস্ময়ে পলকহীন নেত্রে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সওয়াবের প্রত্যাশী মুয়াযযিনরা ব্যতীত অন্য কেউ তাদের সাথে মিশতে পারবে না।»

 

১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-হিন্নায়ী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আস-সাফফার, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী বিন দাউদ আল-ক্বানতারী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আদম, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু জাফর আর-রাযী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন দীনার, বাশীর বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি বৈধ উপার্জন থেকে একটি খেজুরের সমপরিমাণ দান করে—আর আল্লাহর দিকে কেবল পবিত্র বস্তুই আরোহণ করে—নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা কবুল করেন...»
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৮১)
بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لَهُ، كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ»

 

18 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْحَسَنُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْمُنْذِرِ الْقَاضِي، أَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، ثنا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرٍ، أَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنَا أَصْبَغُ هُوَ ابْنُ يَزِيدَ، ثنا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرَيَّةِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ جَمَعَ طَعَامًا أَرْبَعِينَ يَوْمًا يَتَرَبَّصُ بِهِ فَقَدْ بَرِئَ مِنَ اللَّهِ، وَبَرِئَ اللَّهُ مِنْهُ، وَأَيُّمَا أَهْلِ عَرْصَةٍ ظَلَّ فِي نَادِيهِمُ امْرُؤٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ جَائِعًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُمُ الذِّمَّةُ، ذِمَّةُ اللَّهِ عز وجل»
স্বীয় ডান হাতে, তারপর তিনি তা তার জন্য লালন-পালন করেন, যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন-পালন করে, যতক্ষণ না তা পাহাড়ের মতো হয়ে যায়।»

 

১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-হাসান ইবনে আল-হাসান ইবনে আলী ইবনুল মুনযির আল-কাজী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে জাফর, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযীদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসবাগ—যিনি ইবনে ইয়াযীদ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বিশর, তিনি আবুয যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি কাসীর ইবনে মুররা আল-হাদরামী থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন যাবত খাদ্য মজুত করে রাখল (দাম বাড়ার) অপেক্ষায়, সে আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হলো এবং আল্লাহও তার থেকে বিচ্ছিন্ন হলেন। আর কোনো জনবসতির অধিবাসীদের মাঝে যদি কোনো মুসলমান ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে, তবে তাদের থেকে আল্লাহর জিম্মাদারি তথা মহান আল্লাহর নিরাপত্তা উঠে যায়।»
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৮২)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَسَنَوَيْهِ الأَصْبَهَانِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الْخَشَّابُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مَهْدِيٍّ، ثنا الْحَجَّاجُ بْنُ مَنِيعٍ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنها، زَوْجَ النَّبِيِّ أَخْبَرَتْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلاةِ، فَيَقُولُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ».

قَالَتْ: فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ: مَا أَكْثَرَ مَا تَسْتَعِيذُ مِنَ الْمَغْرَمِ.

فَقَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَرِمَ حَدَّثَ فَكَذَبَ، وَوَعَدَ فَأَخْلَفَ»

 

20 - ثنا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، إِمْلاءً، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ المَرْهَبِيُّ، ثنا عُبَيْدُ بْنُ غَنَّامٍ، ثنا أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مَيْمُونٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلانَ، عَنْ وَاقِدِ بْنِ سَلامَةَ، عَنِ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:
১৯ - আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসানুওয়াইহ আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-খাশ্শাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাজ্জাজ ইবনে মানী’ তাঁর দাদা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, উরওয়াহ ইবনে যুবাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে অবহিত করেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দু’আ করতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি আপনার নিকট মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, এবং আমি আপনার নিকট জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট গুনাহ ও ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

তিনি (আয়িশা) বলেন: জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বলল: আপনি ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে কতই না বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করেন!

তখন তিনি বললেন: "মানুষ যখন ঋণগ্রস্ত হয়, তখন সে কথা বললে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে।"

 

২০ - আবু নুআইম আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিয শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হারিস আল-মারহাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদ ইবনে ঘান্নাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মাইমুন আজ-জাফরানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আজলান ওয়াকিদ ইবনে সালামাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি রাকাশী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৮৩)
«أَلا أُخْبِرُكُمْ بِقَوْمٍ لَيْسُوا بِأَنْبِيَاءَ وَلا شُهَدَاءَ، وَأَنَّ الأَنْبِيَاءَ وَالشُّهَدَاءَ يَغْبِطُونَهُمْ بِمَنَازِلِهِمْ مِنَ اللَّهِ، عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ يُعْرَفُونَ بِهَا».

فَقُلْنَا: مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الَّذِينَ يُحَبِّبُونَ اللَّهَ إِلَى الْعِبَادِ، وَيُحَبِّبُونَ الْعِبَادَ إِلَى اللَّهِ، يَمْشُونَ فِي الأَرْضِ نُصَحَاءَ».

قَالَ: قُلْنَا: هَذِهِ يُحَبِّبُونَ اللَّهَ إِلَى الْعِبَادِ، فَكَيْفَ يُحَبِّبُونَ الْعِبَادَ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: «يَأْمُرُونَهُمْ بِأَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ، وَيَنْهَوْنَهُمْ عَمَّا نَهَى عَنْهُ، فَإِذَا أَطَاعُوهُمْ أَحَبَّهُمُ اللَّهُ عز وجل»

 

21 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي طَاهِرٍ الدَّقَّاقُ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النَّجَّادُ، ثنا مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ الأَنْصَارِيُّ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ يَعْنِي التَّيْمِيَّ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى اخْتَارَنِي، وَاخْتَارَ لِي أَصْحَابِي، وَجَعَلَ مِنْهُمْ وُزَرَاءَ وَأَنْصَارًا، وَأَخْتَانًا وَأَصْهَارًا،
«আমি কি তোমাদের এমন এক কওমের কথা জানাবো না যারা নবীও নন এবং শহীদও নন, অথচ আল্লাহ তাআলার নিকট তাদের মর্যাদার কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করবেন? তারা নূরের মিম্বরসমূহের উপরে থাকবেন যার মাধ্যমে তাদের চেনা যাবে।»

আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: «যারা বান্দাদের নিকট আল্লাহকে প্রিয় করে তোলে এবং আল্লাহর নিকট বান্দাদের প্রিয় করে তোলে, আর তারা পৃথিবীতে হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে বিচরণ করে।»

বর্ণনাকারী বলেন: আমরা বললাম: তারা বান্দাদের নিকট আল্লাহকে প্রিয় করে তোলে (তা তো বুঝলাম), কিন্তু তারা কীভাবে আল্লাহর নিকট বান্দাদের প্রিয় করে তোলে? তিনি বললেন: «তারা লোকেদের সেই বিষয়ের আদেশ দেয় যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন এবং তাদের সেইসব বিষয় থেকে নিষেধ করে যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন; অতঃপর তারা যখন তাদের আনুগত্য করে, তখন মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।»

 

২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি তাহের আদ-দাক্কাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে সুলাইমান আন-নাজ্জাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ইসহাক আল-আনসারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে আল-মুনজির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে তালহা অর্থাৎ আত-তাইমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনুল হারিস আল-আনসারী, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য আমার সাহাবীগণকে মনোনীত করেছেন। আর তাদের মধ্য থেকে উজির (সহযোগী), সাহায্যকারী এবং বৈবাহিক আত্মীয় ও শ্বশুরকুলের আত্মীয় বানিয়েছেন,
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৮৪)
فَمَنْ سَبَّهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلا عَدْلا»

 

22 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يَزْدَاذَ الْقَارِئُ، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الأصْبَهَانِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ أَيُّوبَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا أَبُو سُفْيَانَ صَالِحُ بْنُ مِهْرَانَ،
সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের গালি দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার পক্ষ থেকে কোনো ফরজ কিংবা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।

 

২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন ইয়াজদাদ আল-ক্বারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-আসফাহানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্বাস বিন আইয়ুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সুফিয়ান সালিহ বিন মিহরান,
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৮৫)
ثنا النُّعْمَانُ بْنُ عَبْدِ السَّلامِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يُجْمَعُ النَّاسُ غَدًا فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ، ثُمَّ يُلْتَقَطُ مِنْهُمْ قَذَفَةُ أَصْحَابِي وَمُبْغِضُوهُمْ فَيُحْشَرُونَ إِلَى النَّارِ»

 

23 - أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ مَنْصُورُ بْنُ رَامِشٍ النَّيْسَابُورِيُّ، أَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الإِسْفَرَايِينِيُّ، ثنا أَبِي، قَالَ: سَمِعْتُ الْمُقْرِئَ سَعِيدًا وَهُوَ ابْنُ عَيَّاشٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ ذَا النُّونِ الْمِصْرِيَّ، يَقُولُ: مَنْ نَظَرَ فِي عُيُوبِ النَّاسِ عُمِيَ عَنْ عُيُوبِ نَفْسِهِ، وَمَنْ هَرَبَ مِنَ النَّاسِ سَلِمَ مِنْ شُرُورِهِمْ

 

24 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ يَحْيَى بْنِ جَعْفَرٍ، إِمَامُ الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ بِأَصْبَهَانَ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الرَّيَّانِ الْمُقْرِئُ، بِالْبَصْرَةِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نُبَيْطٍ الأَشْجَعِيُّ، بِمِصْرَ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه:
আন-নুমান ইবনে আব্দুস সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আগামীকাল (কিয়ামতের দিন) মানুষকে একটি সমতল প্রান্তরে সমবেত করা হবে, অতঃপর তাদের মধ্য থেকে আমার সাহাবীদের গালিদানকারী ও তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের আলাদা করে নেওয়া হবে এবং তাদেরকে জাহান্নামের দিকে হাশর করা (একত্রিত করে তাড়িয়ে নেওয়া) হবে»

 

২৩ - আবু নাসর মানসুর ইবনে রামীশ আন-নায়সাবুরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল মালিক ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-ইসফিরায়িনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ক্বারী সাঈদকে—যিনি ইবনে আইয়াশ—বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি যুন-নূন আল-মিসরীকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি মানুষের দোষ-ত্রুটির দিকে দৃষ্টিপাত করে, সে নিজের দোষ-ত্রুটি দর্শনে অন্ধ হয়ে যায়; আর যে ব্যক্তি মানুষ থেকে দূরে থাকে, সে তাদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে।

 

২৪ - আসফাহানের জামে মসজিদের ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বসরার আহমদ ইবনুল কাসিম ইবনুর রায়য়ান আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মিশরের আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ইবনে নুবাইত আল-আশজায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৮৬)
إِذَا اشْتَمَلَتْ عَلَى الْيَأْسِ الْقُلُوبُ… فَضَاقَ لِمَا بِهِ الصُّدْرُ الرَّحِيبُ

وَأَوْطَأَتِ الْمَكَارِهُ وَاطْمَأَنَّتْ… وَأَرْسَتْ فِي أَمَاكِنِهَا الْخُطُوبُ

وَلَمْ تَرَ لانْكِشَافِ الضُّرِّ وَجْهًا… وَلا أَغْنَى بِحِيلَتِهِ الأَرِيبُ

أَتَاكَ عَلَى قُنُوطٍ مِنْكَ غَوْثٌ… يُجْبِي بِه الْقَرِيبُ الْمُسْتَجِيبُ

وَكُلُّ الْحَادِثَاتِ إِذَا تَنَاهَتْ… فَمَوْصُولٌ بِهَا الْفَرَجُ الْقَرِيبُ

 

آخِرُ الْمَجْلِسِ الثَّانِي مِنْ هَذَا الْجُزْءِ.
যখন হৃদয়সমূহ হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে… আর তার দরুন প্রশস্ত বক্ষও সংকীর্ণ হয়ে যায়।

যখন বিপদসমূহ জেঁকে বসে ও স্থির হয়… আর সংকটসমূহ আপন স্থানে নোঙর গেড়ে বসে।

আর যখন তুমি কষ্ট দূরীভূত হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাবে না… এমনকি কোনো বুদ্ধিমানের কৌশলও আর ফলপ্রসূ হবে না।

তখন তোমার চরম নিরাশার মাঝে তোমার নিকট আসবে সাহায্য… যা নিকটবর্তী ও প্রার্থনা কবুলকারী মহান রব প্রদান করবেন।

সকল বিপদ যখন চূড়ান্ত সীমায় উপনীত হয়… তখন তার সাথে অতি নিকটবর্তী মুক্তি যুক্ত থাকে।

 

এই খণ্ডের দ্বিতীয় মজলিসের সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৮৭)
‌‌مَجْلِسٌ آخَرُ أُمْلِيَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ثَالِثِ الْمُحَرَّمِ سَنَةَ تِسْعٍ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ

25 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْهَاشِمِيُّ، بِالْبَصْرَةِ، ثنا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَمْرٍو اللُّؤْلُؤِيُّ، ثنا أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ، ثنا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا حَمَّادٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ سَوَاءٍ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ: الاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ وَالاثْنَيْنِ مِنَ الْجُمُعَةِ الأخرى "

 

26 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَرَشِيُّ، بِنَيْسَابُورَ، أَنَا حَاجِبُ بْنُ أَحْمَدَ الطُّوسِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانٍ، ثنا أَبِي، عَنْ عِكْرِمَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ:
অন্য একটি মজলিস যা চারশত উনষাট হিজরীর তিন মহররম শুক্রবার শ্রুতিলিখানো হয়েছে।

২৫ - বসরার বিচারক আবু উমর আল-কাসিম ইবনে জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আমর আল-লুলুয়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাম্মাদ আসিম ইবনে বাহদালা থেকে, তিনি সাওয়া আল-খুজায়ী থেকে, তিনি হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন: সোমবার, বৃহস্পতিবার এবং পরবর্তী সপ্তাহের সোমবার।"

 

২৬ - নিশাপুরে বিচারক আবু বকর আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ আল-হারাশী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাজিব ইবনে আহমদ আত-তুসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে রাফি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবরাহীম ইবনুল হাকাম ইবনে আবান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি বলেন যে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৮৮)
" ثَلاثُ خِلالٍ أَوْصَانِي بِهَا خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم لا أَتْرُكُهُنَّ فِي سَفَرٍ وَلا فِي حَضَرٍ مَا دُمْتُ حَيًّا: صَوْمُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ، وَنَوْمٌ عَلَى وِتْرٍ، وَرَكْعَتَانِ مِنَ الضُّحَى فِي سَفَرٍ كُنْتُ أَوْ حَضَرٍ "

 

27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الصَّهْبَاءِ وَلادُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سَهْلٍ الْكُوفِيُّ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ الشَّيْبَانِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ حَازِمٍ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي شَيْبَةَ، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: أَتَى رَجُلٌ عَلِيًّا رضي الله عنه، فَقَالَ: أَخْبِرْنِي بِشَهْرٍ أَصُومُهُ بَعْدَ رَمَضَانَ.

قَالَ: لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْ شَيْءٍ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا سَأَلَ عَنْهُ بَعْدَ رَجُلٍ سَأَلَ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ: «إِنْ كُنْتَ صَائِمًا شَهْرًا بَعْدَ رَمَضَانَ فَصُمِ الْمُحَرَّمَ، فَإِنَّهُ شَهْرُ اللَّهِ عز وجل،
তিনটি বৈশিষ্ট্য যা আমার বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে অসিয়ত করেছেন, আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত সফরে বা বাড়িতে থাকাবস্থায় তা কখনো ছাড়ব না: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, বিতর পড়ে ঘুমানো এবং সফরে বা বাড়িতে থাকাবস্থায় চাশতের দুই রাকাত সালাত আদায় করা।

 

২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুস সাহবা ওয়ালাদ বিন আলী বিন সাহল আল-কুফি, তিনি মুহাম্মদ বিন আলী বিন দুহাইম আশ-শায়বানি থেকে, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন হাযিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর অর্থাৎ ইবনে আবি শায়বাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুআবিয়াহ, তিনি আবদুর রহমান বিন ইসহাক থেকে, তিনি নুমান বিন সাদ থেকে। তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে বলল: আপনি আমাকে এমন একটি মাসের কথা বলুন যাতে আমি রমজানের পর রোজা রাখতে পারি।

তিনি বললেন: তুমি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এক ব্যক্তির জিজ্ঞাসা করার পর আর কাউকে জিজ্ঞাসা করতে শুনিনি। তখন তিনি তাকে বলেছিলেন: «যদি তুমি রমজানের পর কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মুহাররম মাসে রোজা রাখো। কারণ এটি আল্লাহর মাস আযযা ওয়া জাল্লা,
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৮৯)
وَفِيهِ يَوْمٌ تَابَ فِيهِ قَوْمٌ، وَيُتَابُ فِيهِ عَلَى آخَرِينَ»

 

28 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ غَالِبٍ الْخُوَارِزْمِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ إِبْرَاهِيمَ الأَبَنْدُونِيَّ، يَقُولُ: قُرِئَ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ السَّرَّاجُ، حَدَّثَكُمْ قُتَيْبَةُ، ثنا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُحَرَّمُ، وَأَفْضَلُ الصَّلاةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلاةُ اللَّيْلِ»

 

29 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الصَّيْرَفِيُّ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأَصَمُّ، ثنا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا ابْنُ وَهْبٍ، أَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ زَبَّانَ، أَنَّ لَهِيعَةَ بْنَ عُقْبَةَ حَدَّثَهُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ رَبِيعَةَ، كَذَا قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: وَالصَّوَابُ عَمْرُو بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ قَيْصَرَ،
এবং এতে এমন একটি দিন রয়েছে যাতে এক সম্প্রদায় তওবা করেছিল এবং এতে অন্যদেরও তওবা কবুল করা হবে।

 

২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন গালিব আল-খাওয়ারিজমি, তিনি বলেন: আমি আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ বিন ইবরাহিম আল-আবান্দুনিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাররাজ-এর নিকট পাঠ করা হয়েছে, কুতাইবা আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আওয়ানাহ, আবু বিশর থেকে, তিনি হুমাইদ বিন আবদুর রহমান আল-হিময়ারি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন: «রমজান মাসের পর সর্বোত্তম রোজা হলো মুহাররম মাস, এবং ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ।»

 

২৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন মুসা আস-সাইরাফি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম্ম, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আর-রাবি বিন সুলাইমান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে লাহিয়াহ, জাব্বান থেকে, যে লাহিয়াহ বিন উকবাহ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর বিন রাবিয়াহ থেকে—আবু সাঈদ এভাবেই বলেছেন, তবে সঠিক হলো আমর বিন রাবিয়াহ—সালামাহ বিন কায়সার থেকে,
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৯০)
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ عز وجل بَعَّدَهُ اللَّهُ مِنْ جَهَنَّمَ كَبُعْدِ غُرَابٍ طَارَ وَهُوَ فَرْخٌ حَتَّى مَاتَ هَرِمًا».

كَذَا يَقُولُ ابْنُ وَهْبٍ: سَلَمَةُ بْنُ قَيْصَرَ.

وَغَيْرُهُ يَقُولُ سَلامَةُ

 

30 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الأَشْنَانِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأَصَمُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى اللَّخْمِيُّ التِّنِّيسِيُّ، ثنا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، ثنا أَبُو مُعِيدٍ حَفْصُ بْنُ غَيْلانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: «لا يَنْبَغِي لامْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ مَالٌ يُوصِى فِيهِ أَنْ يَأْتِيَ عَلَيْهِ لَيْلَتَانِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ وَصِيَّتُهُ»
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর চেহারা কামনায় একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে ততটা দূরত্বে সরিয়ে দেন, যতটা দূরত্ব একটি কাক তার ছানা অবস্থা থেকে ওড়া শুরু করে বৃদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া পর্যন্ত অতিক্রম করে।"

ইবনে ওয়াহব এভাবেই বলেছেন: সালামাহ বিন কায়সার।

এবং অন্য বর্ণনাকারী বলেন সালামাহ।

 

৩০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-আশনানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ বিন ঈসা আল-লাখমি আত-তিননিসি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমর বিন আবু সালামাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুঈদ হাফস বিন গাইলান, সুলায়মান বিন মুসা থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "কোনো মুসলিম ব্যক্তি যার অসিয়ত করার মতো সম্পদ রয়েছে, তার জন্য তার ওপর দিয়ে দুটি রাত অতিবাহিত হওয়া উচিত নয় এমতাবস্থায় যে, তার অসিয়তনামা তার নিকট রক্ষিত নেই।"
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৯১)
31 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْبَزَّازُ، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلِ بْنِ الْإِمَامِ، ثنا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلانَ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قَاتَلْتُ بِسَيْفِي هَذَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى أُقْتَلَ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلا غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ ذَلكَ مِنْ سَيِّئَاتِي شَيْئًا؟ قَالَ: «نَعَمْ».

فَوَلَّى الرَّجُلُ، فَقَالَ: «أَيْنَ السَّائِلُ؟» قَالَ: هَا أَنَا ذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ.

قَالَ: «مَاذَا قُلْتَ؟» قَالَ: قُلْتُ: أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ بِسَيْفِي هَذَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى أُقْتَلَ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلا غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ ذَلكَ عَنِّي مِنْ سَيِّئَاتِي شَيْئًا؟ قَالَ: «نَعَمْ، إِلا الدَّيْنَ، سَارَّنِي بِهِ جِبْرِيلُ عليه السلام آنِفًا»

 

32 - أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْهَاشِمِيُّ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدَّقَّاقُ، ثنا أَبُو شُعَيْبٍ صَالِحُ بْنُ عِمْرَانَ الدَّعَّاءُ، ثنا عَلِيُّ بْنُ جَعْفَرٍ الأَحْمَرُ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، أَنَا حُمَيْدٌ الْمَكِّيُّ مَوْلَى عَلْقَمَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنْ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أُشْهِدُكَ وَكَفَى بِكَ شَهِيدًا، وَأُشْهِدُ
৩১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসান আল-বাযযায, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাহল ইবনুল ইমাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসিম, ইবনে আজলান থেকে, তিনি মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন যদি আমি আল্লাহর পথে আমার এই তলোয়ার নিয়ে লড়াই করি, এমনকি আমি ধৈর্যশীল হয়ে, সওয়াবের প্রত্যাশায়, সম্মুখপানে অগ্রসর হয়ে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করা অবস্থায় নিহত হই, তবে কি তা আমার পাপসমূহ থেকে কিছু মোচন করবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"

অতঃপর লোকটি ফিরে যেতে লাগল। তখন তিনি বললেন: "প্রশ্নকারী কোথায়?" সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই তো এখানে।

তিনি বললেন: "তুমি কী বলেছিলে?" সে বলল: আমি বলেছিলাম, আপনি কি মনে করেন যদি আমি আল্লাহর পথে আমার এই তলোয়ার নিয়ে লড়াই করি, এমনকি আমি ধৈর্যশীল হয়ে, সওয়াবের প্রত্যাশায়, সম্মুখপানে অগ্রসর হয়ে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করা অবস্থায় নিহত হই, তবে কি তা আমার পাপসমূহ থেকে কিছু মোচন করবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, ঋণ ব্যতীত; জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এইমাত্র গোপনে আমাকে এটি জানিয়ে গেলেন।"

 

৩২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আল-হাশেমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাক্কাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শুয়াইব সালিহ ইবনে ইমরান আদ-দাআ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে জাফর আল-আহমার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনুল হুবাব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলকামার মুক্তদাস হুমাইদ আল-মাক্কি, আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সালমান আল-ফারিসি (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলে: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি এবং আপনিই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট, আর আমি সাক্ষী রাখছি..."
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৯২)
مَلائِكَتَكَ، وَحَمَلَةَ الْعَرْشِ، وَالسَّمَاءَ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَالأَرْضَ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَأُشْهِدُ جَمِيعَ خَلْقِكَ مَنْ مَضَى مِنَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ، أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ، لَكَ الْحَمْدُ لا شَرِيكَ لَكَ، مَنْ قَالَهَا مَرَّةً عُتِقَ ثُلُثُهُ مِنَ النَّارِ، وَمَنْ قَالَهَا مَرَّتَيْنِ عُتِقَ ثُلُثَاهُ مِنَ النَّارِ، وَمَنْ قَالَهَا ثَلاثًا عُتِقَ كُلُّهُ مِنَ النَّارِ "

 

33 - أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عُبْدُوسٍ الأَهْوَازِيُّ، أَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ، ثنا أَبُو يَزِيدَ الْقَرَاطِيسُّي، ثنا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، ثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَافِرِيِّ ثُمَّ الْعِجْلِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَسْتَخْلِصُ رَجُلا مِنْ أُمَّتِي عَلَى رُؤُوسِ الْخَلائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَيَنْشُرُ عَلَيْهِ سَبْعَةً وَسَبْعِينَ سِجِلا كُلُّ سِجِلٍّ مَدُّ الْبَصَرِ، ثُمَّ يَقُولُ لَهُ: «أَتُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا؟ أَظَلَمَكَ كَتَبَتِي الْحَافِظُونَ؟» فَيَقُولُ: لا.

فَيَقُولُ: «أَلَكَ عُذْرٌ أَوْ حَسَنَةٌ؟» فَبُهِتَ الرَّجُلُ، فَقَالَ: لا يَا رَبِّ.

فَيَقُولُ: «بَلَى، إِنَّ لَكَ عِنْدِي حَسَنَةً، وَإِنَّهُ لا ظُلْمَ الْيَوْمَ».

فَيُخْرِجُ لَهُ بِطَاقَةً فِيهَا أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.

فَيَقُولُ: «احْضِرْ وَزْنَكَ».

فَيَقُولُ: يَا رَبِّ مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ فِي هَذِهِ السِّجِلاتِ؟ فَيَقُولُ: «إِنَّكَ لا تُظْلَمُ».
আপনার ফেরেশতাগণ, আরশ বহনকারীগণ, আসমানসমূহ ও তাতে যারা আছে এবং জমিন ও তাতে যারা আছে তাদের আমি সাক্ষী রাখছি, এবং আপনার সমস্ত সৃষ্টি—পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যারা গত হয়েছে—সবাইকে আমি সাক্ষী রাখছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই; আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসূল। আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আপনার কোনো শরিক নেই। যে ব্যক্তি এটি একবার বলবে, তার এক-তৃতীয়াংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে; যে ব্যক্তি এটি দুইবার বলবে, তার দুই-তৃতীয়াংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে; আর যে ব্যক্তি এটি তিনবার বলবে, তার পুরো সত্তা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।

 

৩৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমদ ইবনে আলী ইবনে আবদুস আল-আহওয়াজী, আমাদের জানিয়েছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানী, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াজিদ আল-কারাতীসি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন নুআইম ইবনে হাম্মাদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস ইবনে সাদ, আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমির ইবনে ইয়াহইয়া, আবু আবদির রহমান আল-মুয়াফিরি অতঃপর আল-ইজলি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন সমগ্র সৃষ্টির সামনে আমার উম্মতের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে পৃথক করবেন এবং তার সামনে সাতাত্তরটি আমলনামার খাতা উন্মোচন করবেন, যার প্রতিটি খাতা হবে দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর তিনি তাকে বলবেন: «তুমি কি এর মধ্য থেকে কোনো কিছু অস্বীকার করো? আমার সংরক্ষণকারী লেখক ফেরেশতারা কি তোমার ওপর কোনো জুলুম করেছে?» সে বলবে: না।

অতঃপর তিনি বলবেন: «তোমার কি কোনো ওজর বা কোনো নেকি আছে?» লোকটি হতভম্ব হয়ে পড়বে এবং বলবে: না, হে আমার রব।

অতঃপর তিনি বলবেন: «অবশ্যই, আমার কাছে তোমার একটি নেকি রয়েছে, আর আজ তোমার ওপর কোনো জুলুম করা হবে না»।

অতঃপর তার জন্য একটি কার্ড বের করা হবে যাতে লেখা থাকবে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

অতঃপর তিনি বলবেন: «তোমার ওজনের জন্য উপস্থিত হও»।

সে বলবে: হে আমার রব, এই বিশাল আমলনামার খাতাগুলোর বিপরীতে এই সামান্য কার্ডটির কী ওজন হবে? তিনি বলবেন: «নিশ্চয়ই তোমার ওপর কোনো জুলুম করা হবে না»।
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৯৩)
فَتُوضَعُ السِّجِلاتُ فِي كِفَّةٍ وَالْبِطَاقَةُ فِي كِفَّةٍ فَطَاشَتِ السِّجِلاتُ، وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ.

قَالَ: وَلا يَثْقُلُ مَعَ اسْمِ اللَّهِ شَيْءٌ

 

34 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي طَاهِرٍ الدَّقَّاقُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ النَّجَّادُ، نا أَحْمَدُ بْنُ مُلاعِبٍ، ثنا ثَابِتُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّاهِدُ، نا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ مِثْلا بِمِثْلٍ، حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ، حَتَّى لَوْ كَانَ فِيهِمْ مَنْ نَكَحَ أُمَّهُ عَلانِيَةً كَانَ فِي أُمَّتِي، وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ افْتَرَقَتْ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَسَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلا وَاحِدَةً».

فَقِيلَ: مَنْ هَذِهِ الْوَاحِدَةُ؟ قَالَ: «مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي»
তখন আমলনামার দফতরগুলো পাল্লার এক পাশে এবং কার্ডটি অন্য পাশে রাখা হবে, ফলে দফতরগুলো হালকা হয়ে উপরে উঠে যাবে এবং কার্ডটি ভারী হবে।

তিনি বলেন: আল্লাহর নামের সাথে কোনো কিছুই ভারী হতে পারে না।

 

৩৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবি তাহের আদ-দাক্কাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন সুলাইমান আন-নাজ্জার, আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুলায়িব, আমাদের বর্ণনা করেছেন সাবিত বিন মুহাম্মদ আজ-জাহিদ, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন জিয়াদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার উম্মতের ওপর হুবহু তা-ই আসবে যা বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল, যেমন এক জোড়া জুতার একটি অপরটির সমান হয়। এমনকি তাদের মধ্যে যদি কেউ প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন কেউ হবে যে তা করবে। আর বনী ইসরাঈল একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, কিন্তু আমার উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, একটি ব্যতীত তাদের সবই হবে জাহান্নামী।»

জিজ্ঞেস করা হলো: সেই একটি দল কোনটি? তিনি বললেন: «আমি এবং আমার সাহাবীগণ আজ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।»
(খণ্ড: ১) আল-আমালি বিজামিই দিমাসক (পৃষ্ঠা: ৯৪)
35 - أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ الْوَاسِطِيُّ، ثنا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَجَرِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ خُبَيْقٍ، يَقُولُ: لا تَغْتَمَّ إِلا مِنْ شَيْءٍ يَضُرُّكَ غَدًا، وَلا تَفْرَحْ بِشَيْءٍ إِلا بِشَيْءٍ يَسُرُّكَ غَدًا، وَأَنْفَعُ الْخَوْفِ مَا حَجَزَكَ عَنِ الْمَعَاصِي، وَأَطَالَ مِنْكَ الْحُزْنَ عَلَى مَا فَاتَكَ، وَأَلْزَمَكَ الْفِكْرَةَ فِي بَقِيَّةِ عُمْرِكَ

آخِرُ الْمَجْلِسِ الثَّالِثِ مِنْ هَذَا الْجُزْءِ.
৩৫ - আবূ নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উসমান আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর বিন আব্দুল্লাহ আল-হাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন খুবাইককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আগামীকাল (পরকালে) যা তোমার ক্ষতি করবে তা ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে তুমি বিষণ্ণ হয়ো না, এবং আগামীকাল যা তোমাকে আনন্দিত করবে তা ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে তুমি আনন্দিত হয়ো না। আর সবচাইতে উপকারী ভয় হলো তা, যা তোমাকে পাপাচার থেকে বিরত রাখে, যা তোমার থেকে অতিবাহিত হয়ে গেছে তার জন্য তোমার দুঃখকে দীর্ঘায়িত করে এবং তোমার জীবনের অবশিষ্ট সময়ের ব্যাপারে তোমাকে চিন্তাশীল করে তোলে।

এই খণ্ডের তৃতীয় মজলিসের সমাপ্তি।