(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: -)
أحاديث أبي الحسين الكلابي   (أبو الحسين الكلابي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أحاديث أبي الحسين الكلابي

المؤلف: أَبُو الحُسَيْنِ عَبْدُ الوَهَّابِ بنُ الحَسَنِ بنِ الوَلِيْدِ بنِ مُوْسَى الكِلَابِيُّ الدِّمَشْقِيُّ (ت 396هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 66

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু আল-হুসাইন আল-কিলাবির হাদিসসমূহ   (আবু আল-হুসাইন আল-কিলাবি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু আল-হুসাইন আল-কিলাবির হাদিসসমূহ

লেখক: আবু আল-হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-হাসান বিন আল-ওয়ালিদ বিন মুসা আল-কিলাবি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৩৯৬ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলামি নেটওয়ার্ক (ইসলামিক ওয়েব) সাইটের অধীনস্থ জাওয়ামিউল কালিম নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪

[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرِ بْنِ أَبِي الْفَتْحِ الصَّيْدَلانِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، فِي شَهْرِ جُمَادَى الأُولَى مِنْ سَنَةِ تِسْعٍ وَتِسْعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْمُقْرِئُ الْحَدَّادُ، فِي رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ ثَمَانِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، وَأَنْتَ حَاضِرٌ، قَالَ: أنبا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ مَرَدَةَ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْوَلِيدِ الْكِلابِيُّ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَتَّابِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ كَثِيرٍ الْخُزَاعِيُّ، ثنا أَبُو مُوسَى عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أنبا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَخِيهِ عَبَّادِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الأَرْبَعِ: مِنْ عِلْمٍ لا يَنْفَعُ، وَمِنْ قَلْبٍ لا يَخْشَعُ، وَمِنْ نَفْسٍ لا تَشْبَعُ، وَمِنْ دُعَاءٍ لا يُسْمَعُ "
1 - শেখ আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন নাসর বিন আবুল ফাতহ আস-সায়দালানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—৫৯৯ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসে। আমি তাঁকে বললাম: আবু আলী হাসান বিন আহমাদ বিন হাসান আল-মুকারি আল-হাদ্দাদ কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন ৫৮০ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে, যখন আপনি উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন: আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন মারাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-হুসাইন বিন আল-ওয়ালিদ আল-কিলাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস আব্দুল্লাহ বিন আত্তাব বিন আহমাদ বিন কাসির আল-খুজায়ি আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু মুসা ঈসা বিন হাম্মাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আল-লায়স বিন সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ বিন আবি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তাঁর ভাই আব্বাদ বিন আবি সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় চাচ্ছি: এমন জ্ঞান যা উপকারে আসে না, এমন অন্তর যা বিনীত হয় না, এমন নফস যা তৃপ্ত হয় না এবং এমন দোয়া যা শোনা হয় না।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢)
2 - أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَطَاءٍ، يَقُولُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ بَعْثًا وَهُمْ يَسِيرُونَ فَدَعَاهُمْ، فَقَالَ لِكُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ: مَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ يَا فُلانُ؟ فَيَقُولُ: كَذَا وَكَذَا، حَتَّى أَتَى عَلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ فَقَالَ: مَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ يَا فُلانُ؟ فَقَالَ: مَعِيَ كَذَا وَكَذَا وَسُورَةُ الْبَقَرَةِ.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَعَكَ سُورَةُ الْبَقَرَةِ؟» .

قَالَ: نَعَمْ.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اذْهَبْ فَأَنْتَ أَمِيرٌ عَلَيْهِمْ» .

فَقَالَ رَجُلٌ وَهُوَ مِنْ أَشْرَافِهِمْ: إِنِّي لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَتَعَلَّمَ الْقُرْآنَ إِلا خَشْيَةَ أَنْ أَرْقُدَ وَلا أَقُومَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ وَاقْرَءُوهُ وَارْقُدُوا بِهِ فَإِنَّ مَثَلَ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ ، فَقَرَأَهُ وَقَامَ بِهِ كَمَثَلِ الْجِرَابِ مَحْشُوٍّ مِسْكًا يَفُوحُ رِيحُهُ كُلَّ مَكَانٍ، مَنْ تَعَلَّمَهُ وَرَقَدَ بِهِ وَهُوَ فِي جَوْفِهِ كَمَثَلِ الْجِرَابِ أُوكِيَ عَلَى مِسْكٍ»
২ - লায়স ইবনে সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সেনাদল প্রেরণ করেছিলেন এবং তারা যখন যাত্রা করছিলেন তখন তিনি তাদের ডাকলেন। অতঃপর তিনি তাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন: "হে অমুক, তোমার কুরআনের কতটুকু মুখস্থ আছে?" সে উত্তরে বলল: "অমুক অমুক অংশ।" পরিশেষে তিনি তাদের মধ্যে এক ব্যক্তির নিকট আসলেন এবং বললেন: "হে অমুক, তোমার কুরআনের কতটুকু মুখস্থ আছে?" সে বলল: "আমার অমুক অমুক অংশ এবং সূরা আল-বাকারা মুখস্থ আছে।"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমার কি সূরা আল-বাকারা মুখস্থ আছে?"

সে বলল: "হ্যাঁ।"

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যাও, তুমিই তাদের আমীর (নেতা)।"

তখন তাদের মধ্যকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বললেন: "আমি কেবল এই ভয়ে কুরআন শিখতে বিরত থেকেছি যে, পাছে আমি ঘুমিয়ে পড়ি এবং (তা তিলাওয়াতের জন্য রাতে) না দাঁড়াই।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা কুরআন শেখো এবং তা পাঠ করো এবং তা নিয়ে ঘুমাও। কারণ যে ব্যক্তি কুরআন শিখল, তা পাঠ করল এবং তা নিয়ে (রাতে সালাতে) দাঁড়াল, তার উদাহরণ হলো কস্তুরীভর্তি এমন এক চামড়ার থলির মতো যার সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি তা শিখল অথচ তা তার অন্তরে থাকা অবস্থায় সে ঘুমিয়ে থাকল, তার উদাহরণ হলো এমন এক চামড়ার থলির মতো যার মুখ কস্তুরীর ওপর বেঁধে রাখা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٣)
3 - أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: خَرَجَ عَلَى أَصْحَابِهِ وَهُوَ بِالْجُحْفَةِ وَهُمْ جُلُوسٌ يَنْتَظِرُونَهُ، فَلَمَّا خَرَجَ عَلَيْهِمْ فَجَلَسَ مَعَهُمْ.

قَالَ: «أَبْشِرُوا أَلَسْتُمْ تَشْهَدُونَ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وَتَشْهَدُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَتَشْهَدُونَ أَنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ؟» .

قَالُوا: بَلَى نَشْهَدُ عَلَى هَذَا.

قَالَ: «أَبْشِرُوا فَإِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ سَبَبٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ طَرْفُهُ بِيَدِ اللَّهِ وَطَرْفُهُ بِأَيْدِيكُمْ فَاسْتَمْسِكُوا بِهِ لا تَضِلُّوا وَلا تَهْلِكُوا بَعْدَهُ أَبَدًا»
৩ - লাইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ থেকে, তিনি নাফি ইবনে জুবায়র থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিকট বের হলেন যখন তিনি জুহফায় ছিলেন এবং তাঁরা বসে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অতঃপর তিনি যখন তাঁদের নিকট আসলেন, তখন তাঁদের সাথে বসলেন।

তিনি বললেন: «তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমরা কি সাক্ষ্য দাও না যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আর তোমরা সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম); এবং তোমরা সাক্ষ্য দাও যে, এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে?»।

তাঁরা বললেন: অবশ্যই, আমরা এর ওপর সাক্ষ্য দিচ্ছি।

তিনি বললেন: «তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি মাধ্যম (রশি), যার এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে এবং অপর প্রান্ত তোমাদের হাতে। অতএব, তোমরা একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো; তবে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না এবং এরপর কখনো ধ্বংস হবে না।»
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٤)
4 - أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ وَأَنَاخَهُ فِي الْمَسْجِدِ، ثُمَّ عَقَلَهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُمْ: أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ؟ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَّكِئٌ بَيْنَ ظَهْرَانِيهِمْ.

قَالَ: فَقُلْنَا: هَذَا الرَّجُلُ الأَبْيَضُ الْمُتَّكِئُ.

فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ: يَا ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَدْ أَجَبْتُكَ» .

فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ: يَا مُحَمَّدُ إِنِّي سَائِلُكَ فَمُتَشَدِّدٌ عَلَيْكَ فِي الْمَسْأَلَةِ فَلا تَجِدْ عَلَيَّ فِي نَفْسِكَ.

فَقَالَ: «سَلْ مَا بَدَا لَكَ» .

فَقَالَ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلِكَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ إِلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ نَعَمْ» .

قَالَ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ نَعَمْ» .

قَالَ: أَنْشُدُكَ اللَّهَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَصُومَ هَذَا الشَّهْرَ مِنَ السَّنَةِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ نَعَمْ» .

قَالَ: فَأَنْشُدُكَ اللَّهَ آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا فَتُقَسِّمَهَا عَلَى فُقَرَائِنَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ نَعَمْ» .

قَالَ الرَّجُلُ: آمَنْتُ بِمَا جِئْتَ بِهِ، وَأَنَا رَسُولٌ مِمَّنْ وَرَائِي مِنْ قَوْمِي، وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ ، أَخِي بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ
৪ - লাইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনু আবি সাঈদ থেকে, তিনি শারিক ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবি নামির থেকে, তিনি আনাস ইবনু মালিককে বলতে শুনেছেন: আমরা বসা অবস্থায় ছিলাম, এমন সময় উটের পিঠে চড়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করলেন এবং মসজিদের ভেতরে উটটি বসালেন। এরপর তিনি তা বাঁধলেন এবং তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ কে?’ আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের মাঝে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন।

তিনি (আনাস) বললেন: আমরা বললাম, ‘এই যে ফর্সা মানুষটি, যিনি হেলান দিয়ে বসে আছেন।’

তখন সেই ব্যক্তি তাঁকে বললেন, ‘হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র!’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়েছি।’

ব্যক্তিটি তাঁকে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব এবং প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে আপনার প্রতি কঠোর হব, এতে আপনি মনে কিছু নেবেন না।’

তিনি বললেন, ‘তোমার মনে যা আসে তা-ই জিজ্ঞেস করো।’

তখন তিনি বললেন, ‘আমি আপনাকে আপনার রব এবং আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি—আল্লাহ কি আপনাকে সমস্ত মানুষের নিকট রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে আল্লাহ, হ্যাঁ।’

তিনি বললেন, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি—আল্লাহ কি আপনাকে দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার আদেশ দিয়েছেন?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে আল্লাহ, হ্যাঁ।’

তিনি বললেন, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি—আল্লাহ কি আপনাকে বছরের এই মাসে সিয়াম পালন করার আদেশ দিয়েছেন?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে আল্লাহ, হ্যাঁ।’

তিনি বললেন, ‘আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি—আল্লাহ কি আপনাকে আদেশ দিয়েছেন যে, আপনি আমাদের ধনীদের কাছ থেকে এই সদকা গ্রহণ করবেন এবং তা আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দেবেন?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে আল্লাহ, হ্যাঁ।’

ব্যক্তিটি বললেন, ‘আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর আমি ঈমান আনলাম। আমি আমার গোত্রের যারা পেছনে রয়ে গেছে তাদের প্রতিনিধি। আর আমি হলাম দিমাম ইবনু সা'লাবাহ, বনু সাদ ইবনু বাকর গোত্রের ভাই।’
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٥)
5 - حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، أَنَّهُ قَالَ: «إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا عَجَّلَ لَهُ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا، وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ شَرًّا أَمْسَكَ ذَنْبَهُ حَتَّى يُوَافِيَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
৫ - আমাদের নিকট লায়স বর্ণনা করেছেন ইয়াজীদ ইবন আবূ হাবীব থেকে, তিনি সা'দ ইবন সিনান থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যখন আল্লাহ কোনো বান্দার মঙ্গল চান, তখন তিনি দুনিয়াতেই তার শাস্তি ত্বরান্বিত করেন। আর যখন আল্লাহ কোনো বান্দার অমঙ্গল চান, তখন তিনি তার গুনাহের শাস্তি আটকে রাখেন যাতে কিয়ামতের দিন তাকে এর পূর্ণ প্রতিফল প্রদান করেন।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٦)
6 - أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ تَبُوكَ خَطَبَ النَّاسَ وَهُوَ عَلَى مُضِيفٌ ظَهْرَهُ إِلَى نَخْلَةٍ، فَقَالَ: «أَلا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ النَّاسِ، وَشَرِّ النَّاسِ؟ إِنَّ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ رَجُلٌ عَمِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَلَى ظَهْرِ فَرَسِهِ أَوْ عَلَى ظَهْرِ بَعِيرِهِ أَوْ عَلَى قَدَمَيْهِ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمَوْتُ عَلَى ذَلِكَ، وَمِنْ شَرِّ النَّاسِ رَجُلٌ فَاجِرٌ جَرِئٌ يَقْرَأُ كِتَابَ اللَّهِ لا يَرْعَوِي إِلَى شَيْءٍ مِنْهُ»
6 - লাইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি আবু আল-খাত্তাব থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) তাবুক যুদ্ধের বছর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন। তখন তিনি একটি খেজুর গাছের কাণ্ডে পিঠ ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে ছিলেন। তিনি বললেন: «আমি কি তোমাদেরকে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে অবগত করব না? নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর পথে নিজ ঘোড়ার পিঠে বা উটের পিঠে সওয়ার হয়ে অথবা পদব্রজে আমল করে, যতক্ষণ না এই অবস্থায় তার নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়। আর মানুষের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হলো সেই পাপাচারী ও ধৃষ্ট ব্যক্তি, যে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে অথচ তার কোনো কিছু থেকেই (নিষিদ্ধ কাজ থেকে) বিরত হয় না।’
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٧)
7 - أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، أَنَّهُ قَالَ: «تَقَبَّلُوا لِي بِسِتٍّ أَتَقَبَّلْ لَكُمُ الْجَنَّةَ» .

قَالُوا: وَمَا هُنَّ؟ قَالَ: «إِذَا حَدَّثَ أَحَدُكُمْ فَلا يَكْذِبْ، وَإِذَا وَعَدَ فَلا يُخْلِفْ، وَإِذَا ائْتُمِنَ فَلا يَخُنْ، وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ، وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ، وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ»
৭ - লায়স আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবন আবি হাবিব থেকে, তিনি সাদ ইবন সিনান থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের জিম্মাদার হও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব।"

তারা বললেন: সেগুলো কী? তিনি বললেন: "যখন তোমাদের কেউ কথা বলে সে যেন মিথ্যা না বলে, যখন ওয়াদা করে সে যেন তা ভঙ্গ না করে, যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে যেন খেয়ানত না করে, আর তোমরা তোমাদের দৃষ্টি অবনত রাখো, তোমাদের হাত সংবরণ করো এবং তোমাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করো।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٨)
8 - أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، زَعَمَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ: وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم رَسُولا، وَبِالإِسْلامِ دِينًا، غَفَرَ اللَّهُ ذَنْبَهُ "
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি হাকাম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কাইস থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আজান শুনে বলে: আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল; আমি আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রাসুল হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছি, তবে আল্লাহ তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٩)
9 - أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، وَنَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّيْمِيِّ، عَنْ حُمْرَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ ، رضي الله عنه ، أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّلاةِ الْمَكْتُوبَةِ، فَصَلَّى مَعَ الْإِمَامِ غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ»
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লায়স, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি সালামাহ এবং নাফি ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে, তিনি মুয়ায ইবনে আবদুর রহমান আত-তায়মি থেকে, তিনি উসমানের মুক্তদাস হুমরান থেকে, তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: «যে ব্যক্তি অজু করল এবং উত্তমরূপে অজু সম্পন্ন করল, অতঃপর ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে হেঁটে গেল এবং ইমামের সাথে নামাজ আদায় করল, তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।»
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١٠)
10 - أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، أَنَّهُ قَالَ: «يَكُونُ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنٌ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُصْبِحُ مُؤْمِنًا، وَيَبِيعُ أَقْوَامٌ دِينَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا»
১০ - লাইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি সাদ ইবনে সিনান থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «কিয়ামতের প্রাক্কালে অন্ধকার রাতের ঘনঘটার ন্যায় ফিতনা প্রকাশ পাবে। তখন ব্যক্তি সকালে মুমিন থাকবে কিন্তু সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে, আবার সন্ধ্যায় কাফির থাকবে কিন্তু সকালে মুমিন হয়ে যাবে। অনেক সম্প্রদায় দুনিয়ার নগণ্য সামগ্রীর বিনিময়ে তাদের দ্বীন বিক্রি করে দেবে»
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١١)
11 - أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الأَشَجِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ، قَالَ: «سَيَأْتِي أُنَاسٌ يُجَادِلُونَكُمْ بِشُبُهَاتِ الْقُرْآنِ فَخُذُوهُمْ بِالسُّنَنِ، فَإِنَّ أَصْحَابَ السُّنَنِ أَعْلَمُ بِكِتَابِ اللَّهِ عز وجل»
১১ - লাইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি উমর ইবনুল আশাজ থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «অচিরেই এমন কিছু লোক আসবে যারা কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তোমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে, তখন তোমরা সুন্নাহর মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করো; কেননা সুন্নাহর পণ্ডিতগণই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।»
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١٢)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْوَلِيدِ، ثنا أَبُو نَصْرٍ، ثنا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلانِيِّ، قَالَ: جَلَسْتُ خَلْفَ مُعَاذٍ وَهُوَ يُصَلِّي، فَلَمَّا انْصَرَفَ مِنَ الصَّلاةِ، قُلْتُ: إِنِّي لأُحِبُّكَ فِي اللَّهِ.

قَالَ؟ فَأَدْنَانِي مِنْهُ.

قَالَ: إِنَّكَ لَتُحِبُّنِي فِي اللَّهِ؟ قُلْتُ: نَعَمْ.

قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «الْمُتَحَابُّونَ فِي اللَّهِ فِي ظِلِّ عَرْشِهِ يَوْمَ لا ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ»
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুল হাসান ইবনুল ওয়ালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নাসর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুবারক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, ইয়াযিদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইদরিস আল-খাওলানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মুআয-এর পেছনে বসলাম যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, আমি বললাম: নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপনাকে ভালোবাসি।

তিনি বললেন (সত্যিই)? এরপর তিনি আমাকে তাঁর নিকটবর্তী করলেন।

তিনি বললেন: তুমি কি সত্যিই আল্লাহর জন্য আমাকে ভালোবাসো? আমি বললাম: হ্যাঁ।

তিনি বললেন: তবে নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসে, তারা তাঁর আরশের ছায়াতলে থাকবে সেদিন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।»
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١٣)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثنا ابْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرَّحْبِيُّ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَا شَدَّادُ إِذَا رَأَيْتَ النَّاسَ كَنَزُوا الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ، فَاكْنِزْ هَؤُلاءِ الْكَلِمَاتِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الأَمْرِ، وَالْعَزِيمَةَ عَلَى الرُّشْدِ، وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ، وَحُسْنَ عَافِيَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ قَلْبًا سَلِيمًا، وَلِسَانًا صَادِقًا، وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تَعْلَمُ، إِنَّكَ أَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ "
১৩ - আমাদের নিকট আবু যুরআ বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ আর-রাহবি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আশ’আস আস-সান’আনি থেকে, তিনি শাদ্দাদ বিন আউস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে শাদ্দাদ! যখন তুমি দেখবে যে মানুষ সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করছে, তখন তুমি এই বাক্যগুলো সঞ্চয় করো: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দ্বীনের বিষয়ে অবিচলতা এবং সঠিক পথের ওপর দৃঢ় সংকল্প প্রার্থনা করছি। আমি আপনার নিকট আপনার নিআমতের শুকরিয়া এবং আপনার প্রদানকৃত উত্তম সুস্থতা প্রার্থনা করছি। আমি আপনার নিকট একটি সুস্থ অন্তর এবং সত্যবাদী জিহ্বা প্রার্থনা করছি। আপনি যা জানেন তার মধ্য হতে যা কল্যাণকর তা আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আর আপনি যা জানেন তার মধ্য হতে যা অকল্যাণকর তা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যা জানেন এমন (আমার সকল অপরাধ) থেকে আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١٤)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الأَصْبَغِ، ثنا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ قَتَادَةُ: لأَنْ كَانَتِ الدَّارُ نَائِيَةً، فَإِنَّ أُلْفَةَ الإِسْلامِ لَجَامِعَةٌ
১৪ - আমাদের নিকট আবু যুরআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল মালিক ইবনুল আসবাগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন আওযায়ী থেকে, তিনি বলেন: কাতাদাহ আমার নিকট লিখেছেন: যদি বাসস্থান দূরবর্তীও হয়, তবে ইসলামের সৌহার্দ্য অবশ্যই একত্রিতকারী।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١٥)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، ثنا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ، ثنا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «مَا مِنِ امْرِئٍ يَرُدُّ عَنْ عِرْضِ أَخِيهِ إِلا كَانَ حَقِيقًا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَرُدَّ عَنْهُ نَارَ جَهَنَّمَ» ، فَتَلا هَذِهِ الآيَةَ: " {وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ} [الروم: 47] "
১৫ - আমাদের নিকট আবু যুরআ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসা ইবনে আ’ইয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইস থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা থেকে এবং তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তার ভাইয়ের সম্মান রক্ষা করে, তবে আল্লাহর ওপর এটি অবধারিত হয়ে যায় যে তিনি তার থেকে জাহান্নামের আগুনকে হটিয়ে দেবেন», অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: "{আর মুমিনদের সাহায্য করা আমাদের ওপর অবধারিত কর্তব্য}" [রুম: ৪৭]
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌إِلَى هُنَا عَنْ أَبِي زُرْعَةَ
এ পর্যন্ত আবু যুরআহ থেকে
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْوَلِيدِ، أَنَبا أَحْمَدُ بْنُ عُمَيْرِ بْنِ جَوْصَا أَبُو الْحَسَنِ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خُبَيْقٍ، قَالَ: قَالَ يُوسُفُ بْنُ أَسْبَاطٍ: عَجِبْتُ كَيْفَ تَنَامُ عَيْنٌ مَعَ الْمَخَافَةِ، أَوْ يَغْفَلُ قَلْبٍ بَعْدَ الْيَقِينِ بِالْمُحَاسَبَةِ، مَنْ عَرَفَ وُجُوبَ حَقِّ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ لَمْ تَسْتَحِلَّ عَيْنَاهُ أَجْرًا إِلا بِإِعْطَاءِ الْمَجْهُودِ مِنْ نَفْسِهِ، خَلَقَ اللَّهُ الْقُلُوبَ مَسَاجِدَ لِلذِّكْرِ فَصَارَتْ مَسَاكِنًا لِلشَّهَوَاتِ، وَالشَّهَوَاتُ مَفْسَدَةٌ لِلْقُلُوبِ، وَتَلَفٌ لِلأَمْوَالِ، لا يَمْحُو الشَّهَوَاتِ مِنَ الْقُلُوبِ إِلا خَوْفٌ مُزْعِجٌ أَوْ شَوْقٌ مُقْلِقٌ
১৬ - আবুল হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুল হাসান ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল হাসান আহমদ ইবনে উমাইর ইবনে জাওসা তাঁর উপস্থিতিতে শ্রবণেরত অবস্থায় পাঠকালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইক আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে আসবাত বলেছেন: "আমি বিস্মিত হই যে, ভীতির উপস্থিতিতে চক্ষু কীভাবে ঘুমাতে পারে? অথবা হিসাব-নিকাশের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর অন্তর কীভাবে উদাসীন থাকতে পারে? যে ব্যক্তি বান্দাদের ওপর আল্লাহর হকের আবশ্যকতা সম্পর্কে অবগত হয়েছে, সে নিজের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা উৎসর্গ না করা পর্যন্ত তার চোখের জন্য কোনো প্রশান্তিকে বৈধ মনে করবে না। আল্লাহ তাআলা অন্তরসমূহকে জিকিরের জন্য মাসজিদ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, অথচ সেগুলো এখন কুপ্রবৃত্তির আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। আর কুপ্রবৃত্তি হৃদয়ের জন্য বিনাশকারী এবং সম্পদের জন্য ধ্বংসাত্মক। প্রকম্পিতকারী ভয় অথবা ব্যাকুলকারী প্রবল আকাঙ্ক্ষা ব্যতীত অন্তর থেকে কুপ্রবৃত্তিগুলোকে মিটিয়ে ফেলা সম্ভব নয়।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌مُدْرَجٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ
আব্দুল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ١٩)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا يُوسُفُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْعَلاءِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ: «أَدِّ مَا افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكَ تَكُنْ مِنْ أَعْبَدِ النَّاسِ، وَاجْتَنِبْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكَ تَكُنْ مِنْ أَوْرَعِ النَّاسِ، وَارْضَ بِمَا قَسَمَ لَكَ تَكُنْ مِنْ أَغْنَى النَّاسِ»
১৭ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইউসুফ থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আলা ইবনে খালিদ থেকে, তিনি শাকিক ইবনে সালামা থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহ তোমার ওপর যা ফরজ করেছেন তা পালন করো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হতে পারবে; এবং যা তোমার জন্য হারাম করেছেন তা থেকে বেঁচে থাকো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরহেজগার হতে পারবে; আর আল্লাহ তোমার জন্য যা বন্টন করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধনী হতে পারবে।»
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢٠)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا يُوسُفُ، ثنا إِسْحَاقُ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ: " ثَلاثٌ مَنْ ضَيَّعَهُنَّ فَقَدْ ضَيَّعَ الإِيمَانَ، وَمَنْ جَمَعَهُنَّ فَقَدْ جَمَعَ الإِيمَانَ: الإِنْفَاقُ مِنَ الإِقْتَارِ، وَإِنْصَافُ النَّاسِ مِنْ نَفْسِكَ، وَبَذْلُ النَّاسِ لِلْعَالِمِ "
১৮ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সিলাহ ইবন যুফার থেকে, তিনি আম্মার ইবন ইয়াসির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তিনটি বিষয় এমন, যে ব্যক্তি এগুলোকে নষ্ট করল সে ঈমানকে নষ্ট করল, আর যে ব্যক্তি এগুলোকে একত্রিত করল সে ঈমানকে পূর্ণ করল: অভাবের সময় দান করা, নিজের পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি ইনসাফ করা এবং বিশ্ববাসীর নিকট সালাম প্রসার করা।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢١)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا يُوسُفُ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ مُصْعَبٍ، عَنِ الْعَلاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الذُّنُوبَ، وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ؟» .

قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ.

قَالَ: «إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ»
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ, তিনি ইউসুফ থেকে, তিনি খারিজাহ ইবনে মুসআব থেকে, তিনি আলা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি কি তোমাদের এমন কিছুর সংবাদ দেব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ পাপসমূহ মিটিয়ে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন?»

তারা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল।

তিনি বললেন: «কষ্টকর পরিস্থিতিতেও পূর্ণাঙ্গরূপে ওজু করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচারণা করা এবং এক সালাতের পর পরবর্তী সালাতের জন্য অপেক্ষা করা।»
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢٢)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا يُوسُفُ، عَنْ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ، عَنْ أَنَسٍ، فِي قَوْلِهِ: {ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ السَّيِّئَةَ} [المؤمنون: 96] .

قَالَ: " قَوْلُ الرَّجُلِ لأَخِيهِ مَا لَيْسَ فِيهِ.

فَيَقُولُ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَأَنَا أَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَغْفِرَ لَكَ، وَإِنْ كُنْتَ صَادِقًا فَأَنَا أَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَغْفِرَ لِي "
২০ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব থেকে, তিনি আব্দুল ওয়ারিস থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {মন্দের মোকাবিলা করুন যা সর্বোত্তম তা দ্বারা} [আল-মুমিনুন: ৯৬]।

তিনি বলেন: "তা হলো এক ব্যক্তির তার ভাইকে এমন কিছু বলা যা তার মধ্যে নেই।

তখন সে (অপরজন) বলে: 'যদি আপনি মিথ্যাবাদী হন তবে আমি আল্লাহর কাছে আপনার ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করছি, আর যদি আপনি সত্যবাদী হন তবে আমি আল্লাহর কাছে আমার নিজের ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করছি'।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢٣)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ يُوسُفَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ مِسْعَرَ بْنَ كِدَامٍ، يَقُولُ: مَنْ أَبْغَضَنِي فَجَعَلَهُ اللَّهُ مُحَدِّثًا.

قَالَ يُوسُفُ: وَمَنْ أَبْغَضَنِي جَعَلَهُ اللَّهُ مُفْتِيًا
২১ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইউসুফকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মিসআর ইবনে কিদামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: যে ব্যক্তি আমাকে ঘৃণা করবে, আল্লাহ তাকে একজন মুহাদ্দিস বানিয়ে দেবেন।

ইউসুফ বলেন: আর যে ব্যক্তি আমাকে ঘৃণা করবে, আল্লাহ তাকে একজন মুফতি বানিয়ে দেবেন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢٤)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا يُوسُفُ، قَالَ: كَانَ سُفْيَانُ إِذَا كَتَبَ إِلَى رَجُلٍ، كَتَبَ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مِنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ إِلَى فُلانِ بْنِ فُلانٍ، سَلامٌ عَلَيْكَ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللَّهَ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ، وَهُوَ لِلْحَمْدِ أَهْلٌ تبارك وتعالى لَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.

أَمَّا بَعْدُ.

فَإِنِّي أُوصِيكَ وَنَفْسِي بِتَقْوَى اللَّهِ الْعَظِيمِ فَإِنَّهُ مَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا، وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ، جَعَلَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكَ مِنَ الْمُتَّقِينَ
২২ - আব্দুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান যখন কোনো ব্যক্তির কাছে লিখতেন, তখন লিখতেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সুফিয়ান ইবনে সাঈদের পক্ষ থেকে অমুকের পুত্র অমুকের প্রতি, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আপনার কাছে সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, এবং তিনি সমস্ত প্রশংসার যোগ্য; তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

অতঃপর।

আমি আপনাকে এবং নিজেকে মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি; কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢٥)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قثنا يُوسُفُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ، رضي الله عنه، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يَعْمَلُ الْعَمَلَ فِي الْبَيْتِ فَيَطَّلِعُ عَلَيْهِ فَيَفْرَحُ.

فَقَالَ: " لَهُ أجْرَانِ: أَجْرُ السِّرِّ، وَأَجْرُ الْعَلانِيَةِ "
২৩ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি হাবীব থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু যার (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তি ঘরের ভেতর কোনো আমল করে, অতঃপর কেউ তা দেখে ফেলে এবং সে এতে আনন্দিত হয়।

অতঃপর তিনি বললেন: "তার জন্য দু’টি প্রতিদান রয়েছে: গোপনে করার প্রতিদান এবং প্রকাশ্যে হওয়ার প্রতিদান।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢٦)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا يُوسُفُ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَرْوَانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ مُوسَى بْنُ عِمْرَانَ: يَا رَبِّ قَرِيبٌ فَأُنَاجِيكَ أَمْ بَعِيدٌ أَنْتَ فَأُنَادِيكَ؟ قَالَ: فَأَوْحَى اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِ: «يَا مُوسَى أَنَا جَلِيسُ مَنْ ذَكَرَنِي» .

قَالَ: يَا رَبِّ إِنَّا نَكُونُ فِي الْحَالِ عَلَى الْحَالِ ، نُجِلُّكَ أَنْ نَذْكُرَكَ فِيهَا.

قَالَ: «مَا هُوَ يَا مُوسَى؟» .

قَالَ: الْبَوْلُ وَالْغَائِطُ.

قَالَ: «اذْكُرْنِي عَلَى كُلِّ حَالٍ»
২৪ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি মারওয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুসা ইবনে ইমরান বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি কি নিকটে যে আমি আপনার সাথে গোপনে কথা বলব, নাকি আপনি দূরে যে আমি আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকব? তিনি বলেন: তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: «হে মুসা! যে আমাকে স্মরণ করে, আমি তার সঙ্গী»।

তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আমরা কখনও এমন অবস্থায় থাকি যে, সে অবস্থায় আপনাকে স্মরণ করতে আপনার মহান মর্যাদার কারণে আমরা সংকোচ বোধ করি।

তিনি বললেন: «হে মুসা! সেটি কী?»।

তিনি বললেন: প্রস্রাব ও মলত্যাগের অবস্থা।

তিনি বললেন: «তুমি আমাকে সর্বাবস্থায় স্মরণ করো»।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢٧)
25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا يُوسُفُ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ مُصْعَبٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، قَالَ: مَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ إِلا وَشَيْطَانٌ مُتَبَطِّنٌ فَقَارَةَ ظَهْرِهِ، عَاطِفٌ عُنُقَهُ عَلَى عَاتِقِهِ، فَاغِرٌ فَاهُ عَلَى غَمْرَةِ قَلْبِهِ، وَمَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ إِلا وَلَهُ أَرْبَعَةُ أَعْيُنٍ: عَيْنَانِ لِمَعِيشَتِهِ وَمَا يُصْلِحُهُ، وَعَيْنَانِ فِي قَلْبِهِ، فَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا صَدَقَتِ الْعَيْنَانِ الَّتِي فِي الْقَلْبِ فَيُصَدِّقُ الْعَبْدُ الْغَيْبَ عَمَلا لِذَلِكَ، وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ شَرًّا تَرَكَهُ، لِذَلِكَ قَوْلُهُ: {أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} [محمد: 24]
২৫ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইউসুফ থেকে, তিনি খারিজাহ ইবনে মুসআব থেকে, তিনি সাওরি ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা'দান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মানুষের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মেরুদণ্ডের হাড়ের সাথে লেগে থাকা এমন এক শয়তান নেই, যে তার ঘাড়টি সেই ব্যক্তির কাঁধের ওপর হেলিয়ে রেখেছে এবং তার মুখটি সেই ব্যক্তির হৃদয়ের গভীরে হা করে রেখেছে। আর মানুষের মধ্যে এমন কেউ নেই যার চারটি চক্ষু নেই: দুটি চোখ তার জীবন-জীবিকা ও তার জন্য যা কল্যাণকর তার জন্য, এবং দুটি চোখ তার অন্তরে। অতঃপর আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তার অন্তরে থাকা চোখ দুটি সত্য দর্শন করে, ফলে বান্দা অদৃশ্যের বিষয়গুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং সেই অনুযায়ী আমল করে। আর যখন আল্লাহ কোনো বান্দার অকল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে (সেই অবস্থায়) ছেড়ে দেন। এ কারণেই আল্লাহর বাণী: {নাকি তাদের হৃদয়ে তালা লাগানো হয়েছে?} [মুহাম্মাদ: ২৪]
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
26 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا يُوسُفُ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ: كَتَبَ عَامِلٌ لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ يَسْأَلُهُ عَنِ الأَهْوَاءِ.

فَكَتَبَ إِلَيْهِ أَمَّا بَعْدُ: فَإِنِّي أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَاتِّبَاعِ سُنَّةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، وَتَرْكِ مَا أَحْدَثَ الْمُحْدِثُونَ بَعْدَهُ فِيمَا جَرَتْ بِهِ سُنَّتُهُ، وَكُفُّوا مُؤْنَتَهُ، فَعَلَيْكَ بِلُزُومِ السُّنَّةِ فَإِنَّهَا لَكَ بِإِذْنِ اللَّهِ عِصْمَةٌ
২৬ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ আমাদের জানিয়েছেন, সুফিয়ান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজের জনৈক প্রশাসক তাকে প্রবৃত্তি (ভ্রান্ত আকিদা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে পত্র লিখলেন।

অতঃপর তিনি তাকে লিখে পাঠালেন: এরপর কথা হলো, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে আল্লাহভীতির এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অনুসরণের ও তাঁর পরে নব উদ্ভাবনকারীরা তাঁর সুন্নাহর বিপরীতে যা প্রবর্তন করেছে তা বর্জনের উপদেশ দিচ্ছি। অথচ তারা (পূর্বসূরিগণ) এর ভার বহনে যথেষ্ট ছিলেন। সুতরাং আপনি সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরুন, কেননা আল্লাহর অনুমতিক্রমে এটিই আপনার জন্য সুরক্ষা।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হুসাইন আল-কিলাবি (পৃষ্ঠা: ٢٩)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، ثنا الْهَيْثَمُ، عَنْ بَكْرِ بْنِ خُنَيْسٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مُرَّةَ، حَدَّثَتْنِي أُمِّي، قَالَتْ: سَمِعْتُ نَوْحَ الْجِنِّ يَوْمَ قَتْلِ عُثْمَانَ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ تَنُوحُ عَلَيْهِ

لَبَّيْكَ عَلَى الْإِسْلَامِ مَنْ كَانَ بَاكِيًا … فَقَدْ أَوْشَكُوا هَلْكًا وَمَا قَدُمَ الْعَهْدُ

وَأَدْبَرَتِ الدُّنْيَا وَأَدْبَرَ خَيْرُهَا … وَقَدْ مَلَّهَا مَنْ كَانَ يُوقِنُ بِالْوَعْدِ
২৭ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আল-হাইসাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বকর ইবনে খুনাইস থেকে, তিনি উসমান ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি বলেন: আমার মা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উসমানের (আল্লাহর সন্তুষ্টি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) হত্যার দিন জিনদের বিলাপ শুনেছিলাম, তারা তাঁর উদ্দেশ্যে বিলাপ করছিল:

যে ক্রন্দন করতে চায় সে ইসলামের জন্য সাড়া দিক … কেননা তারা ধ্বংসের নিকটবর্তী হয়েছে এবং সেই সময়কাল খুব বেশি অতীত হয়নি।

দুনিয়া পিঠ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং তার কল্যাণ বিদায় নিয়েছে … আর যে ব্যক্তি (পরকালের) প্রতিশ্রুতির প্রতি নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে, সে দুনিয়া নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।