(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المنحة الإلهية في شرح الفتوى الحموية   (محمد بن خليفة التميمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: المنحة الإلهية في شرح الفتوى الحموية

لشيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن تيمية (ت 728 هـ)

المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي

اعتنى به وأعده للنشر: عبد الجبار بن عبد العظيم بن محمد آل ماجد

الناشر: دار الأماجد للطباعة والنشر

الطبعة: الأولى، 1444 هـ - 2022 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 رجب 1446

আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউইয়্যাহ   (মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমি)

বিভাগ: আক্বীদা


বই: আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউইয়্যাহ

শাইখুল ইসলাম তাক্বিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৭২৮ হি.)

লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিফা বিন আলি আত-তামিমি

তদারকি ও প্রকাশনা বিন্যাস: আব্দুল জব্বার বিন আব্দুল আজিম বিন মুহাম্মদ আল মাজিদ

প্রকাশক: দারুল আমাজিদ মুদ্রণ ও প্রকাশনা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৪ হি. - ২০২২ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১১ রজব ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم، وبعد،

فقد من الله علي بعونه ومنه وتوفيقه بالقيام بشرح رسالة شيخ الإسلام ابن تيمية المسماة " الفتوى الحموية الكبرى" في عدة دروس على بعض الطلبة، ويسر الله لي معاودة النظر في ذلك الشرح المسموع بعد تفريغ أشرطته، وكنت أمام أحد خيارين:

الخيار الأول: إما أن أكتفي بذلك الشرح الذي هو عبارة عن تعليقات مختصرة تناسب ذلك المقام، وكما يفعل البعض من الذين شرحوا تلك الكتب والرسائل والمسائل، وكما هو الحال فيما وقفت عليه من شروح للفتوى الحموية الكبرى.

والخيار الثاني: -وهو الذي اخترته هنا-وهو أن أقوم بشرح موسع لهذه الفتوى وذلك ليتناسب مع مقام التأليف كما قيل لكل مقام مقال، وسيراً على نهج من توسع في الشروح كما فعل شارح العقيدة الطحاوية -رحمه الله تعالى- والذي لايزال نفع كتابه وفائدته أعم وأكبر، حيث يستفيد منه الطالب المبتدئ والمتوسط في الطلب والمتقدم فيه، وبحكم تخصصي الدقيق في باب الأسماء والصفات وانصراف قدر كبير من عمري واطلاعي على جوانب دقيقة في هذا الباب تأصيلاً وتقعيداً وتأليفاً، فقد سرت في هذا الشرح هذا المسلك لعلي أفيد فيه طلبة العلم وليجدوا فيه قدراً متميزاً على غيره من الشروح التي ألفت في شرح الفتوى الحموية الكبرى.

كما حرصت على تضمين هذا الشرح الكثير من النقول والاستشهاد بكلام شيخ الإسلام ابن تيمية من مؤلفاته الأخرى المتعلقة بذات الموضوع، وكذلك من كلام تلاميذه وكذلك بكلام بقية العلماء حرصاً على تناول المسألة بأكبر قدر ممكن من النقول والاستشهادات وبخاصة إذا كانت تلك النقول تحمل المزيد من التوضيح التفصيل والتقسيم الموضحة لذلك الموضع.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শন করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর,

আল্লাহ তাআলা তাঁর সাহায্য, অনুগ্রহ ও তাওফিকের মাধ্যমে আমাকে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর 'আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ আল-কুবরা' নামক রিসালাহটি কিছু তালিবে ইলমের সামনে কয়েকটি পাঠে ব্যাখ্যা করার তাওফিক দান করেছেন। আল্লাহ আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন সেই শ্রুত ব্যাখ্যাটি অডিও রেকর্ড থেকে লিপ্যন্তর করার পর পুনরায় তাতে দৃষ্টি দেওয়ার। তখন আমি দুটি বিকল্পের সম্মুখীন ছিলাম:

প্রথম বিকল্প: হয় আমি সেই ব্যাখ্যার ওপরই সন্তুষ্ট থাকব যা মূলত সেই মজলিশের উপযোগী সংক্ষিপ্ত কিছু টীকা-টিপ্পনী ছিল, যেমনটি সেই সব কিতাব, রিসালাহ ও মাসআলাসমূহের ব্যাখ্যাদানকারী কেউ কেউ করে থাকেন এবং ফাতওয়া হামাবিয়্যাহ আল-কুবরার যেসব ব্যাখ্যা আমি দেখেছি সেগুলোর ক্ষেত্রেও যেমনটি পরিলক্ষিত হয়।

দ্বিতীয় বিকল্প: —আর এটিই আমি এখানে গ্রহণ করেছি— তা হলো এই ফতোয়াটির একটি বিস্তারিত ও বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রদান করা, যাতে তা গ্রন্থ রচনার স্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; যেমনটি বলা হয়ে থাকে: 'প্রত্যেক ক্ষেত্রের জন্য উপযোগী বক্তব্য রয়েছে'। এটি তাদের অনুসৃত পথ অনুযায়ী যারা ব্যাখ্যায় প্রশস্ততা এনেছেন, যেমনটি করেছেন আকিদাহ তাহাবিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাকার —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— যার কিতাবটির উপকার ও ফায়দা আজও ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী, যার মাধ্যমে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরের সকল ইলম অন্বেষণকারী উপকৃত হতে পারে। আসমা ওয়া সিফাত (আল্লাহর নাম ও গুণাবলি) অধ্যায়ে আমার নিবিড় বিশেষজ্ঞতা এবং আমার জীবনের একটি বড় অংশ ও অধ্যয়ন এই অধ্যায়ের সূক্ষ্ম দিকসমূহ, মূলনীতি নির্ধারণ ও গ্রন্থ রচনায় ব্যয় করার কারণে আমি এই ব্যাখ্যায় এই পথটিই অনুসরণ করেছি। যাতে আমি ইলম অন্বেষণকারীদের উপকৃত করতে পারি এবং তারা এতে ফাতওয়া হামাবিয়্যাহ আল-কুবরার ওপর রচিত অন্যান্য ব্যাখ্যার তুলনায় একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও মান খুঁজে পায়।

আমি এই ব্যাখ্যায় শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর একই বিষয় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গ্রন্থ থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি ও প্রমাণাদি অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। একইভাবে তাঁর ছাত্রবর্গ এবং অন্যান্য আলেমদের বক্তব্য থেকেও উদ্ধৃতি দিয়েছি, যাতে মাসআলাটি যথাসম্ভব অধিক উদ্ধৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা করা যায়; বিশেষ করে যদি সেই উদ্ধৃতিগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য অধিকতর ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও শ্রেণিবিভাগ প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
مع إقراري بأن الشرح الموسع قد يعتريه بعض التطويل أو التكرار لذكر بعض المسائل ومعاودة سردها في أكثر من موطن، ولكن لعله يشفع لي أن ذلك سببه ورود المسألة في أكثر من موطن مما يستدعي الأمر أحيانا معاودة شرحها مرة أخرى، أو ذكر طرف منها، فكلام شيخ الإسلام في الفتوى الحموية الكبرى قد يتكرر في المسألة لداعى من الدواعي ولمناسبة مقاربة لتلك المناسبة التي ورد فيها سابقاً.

كما أن الفتوى الحموية حوت نقولاً عن جملة من العلماء الذين نقل الإمام ابن تيمية قولهم في عدد من المسائل العقدية، فاستدعى المقام بيان تلك المسائل وشرحها حتى يقف الطالب على مضمون تلك المسائل وشرحها بالرغم أنها ليست من كلام شيخ الإسلام نفسه.

وفي العموم يبقى هذا الشرح محاولة لإخراج الفتوى الحموية الكبرى بصورة أوضح وأجلى وأحسب أن المطلع عليه سيقف بشكل مفصل ومقعد عن مسائل ومباحث باب الأسماء والصفات الذي هو موضوع الفتوى تأصيلاً وتقريراً، مع أن بعض تلك المسائل لا تختص بهذا الباب تحديداً وإنما تتعلق بأبواب العقيدة عامة.

ويبقى مع ذلك أن جهد البشر يعتريه النقص والخلل، فأرجو أن أكون قد أصبت بما كتبت، وإن كان الأمر على خلاف ذلك فأرجو على المطلع على ذلك الخلل والنقص أن يرشدني لذلك لعلي أستدركه، والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
আমি স্বীকার করছি যে, বিস্তারিত ব্যাখ্যায় কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা বা কোনো কোনো মাসআলা একাধিক স্থানে উল্লেখ করার কারণে পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে, তবে আমার পক্ষ থেকে ওজর হলো এই যে, মাসআলাটি একাধিক স্থানে আসার কারণেই কখনও কখনও তা পুনরায় ব্যাখ্যা করার বা তার আংশিক উল্লেখ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কেননা আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ আল-কুবরা-তে শাইখুল ইসলামের বক্তব্য কোনো বিশেষ কারণে অথবা আগের প্রসঙ্গের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে পুনরাবৃত্ত হতে পারে।

তদুপরি ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ বেশ কিছু আলেমদের উদ্ধৃতিও অন্তর্ভুক্ত করেছে, যাদের বক্তব্য ইমাম ইবনে তাইমিয়া আকিদাগত বিভিন্ন বিষয়ে উদ্ধৃত করেছেন। ফলে সেই মাসআলাগুলো স্পষ্ট করা এবং ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যাতে একজন ছাত্র সেই মাসআলাগুলোর মর্মার্থ ও ব্যাখ্যা সম্পর্কে অবগত হতে পারে, যদিও সেগুলো স্বয়ং শাইখুল ইসলামের বক্তব্য নয়।

সাধারণভাবে, এই ব্যাখ্যাটি আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ আল-কুবরা-কে আরও স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল রূপে উপস্থাপন করার একটি প্রয়াস। আমি মনে করি, যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে আসমা ওয়াস-সিফাত (আল্লাহর নাম ও গুণাবলী) অধ্যায়ের মাসআলা ও আলোচনাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত এবং মূলনীতিভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে, যা এই ফাতওয়ার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ও সমর্থিত। যদিও এই মাসআলাগুলোর মধ্যে কিছু কেবল এই অধ্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং সাধারণভাবে আকিদার অন্যান্য অধ্যায়ের সাথেও সম্পৃক্ত।

এতৎসত্ত্বেও, মানুষের প্রচেষ্টায় ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা স্বাভাবিক। তাই আমি আশা করি, যা লিখেছি তাতে আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। আর যদি বিষয়টি এর বিপরীত হয়, তবে যে কেউ সেই ভুল বা ত্রুটি লক্ষ্য করবেন, আমি তাকে অনুরোধ করব আমাকে তা সংশোধন করে দিতে যাতে আমি তা শুধরে নিতে পারি। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।

আর আমাদের সর্বশেষ ঘোষণা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌توطئة

‌‌موضوع الفتوى:

هذه رسالة الفتوى الحموية الكبرى لشيخ الإسلام ابن تيمية، ويعرف من سؤال السائل في أول الكتاب، أن مضمون الكتاب هو مسائل توحيد الأسماء والصفات.

وقد سلك الإمام ابن تيمية في جوابه مسلك التأصيل أولاً ثم مسلك التقرير.

والمقصود بمسلك التأصيل أنه رحمه الله بين الأصول التي يرجع إليها أهل السنة والجماعة في تقرير أصول التلقي فيباب العقيدة عموماً وفي باب الأسماء خصوصاً، وشرح تلك الأصول على ما سيأتي تفصيله أثناء الشرح.

ثم تكلم في معرض عرض الجوانب التأصيلية عن مناهج أصحاب الفرق التي ضلت في هذا الباب وبين أصولهم التي قام عليها معتقدهم، وتحدث في أثناء ذلك عن أصول مقالاتهم وعن أول من قال بها وعن أسباب ظهورها وانتشارها والقائلين بها.

ثم ذكر الجوانب التقريرية المتضمنة لذكر عقيدة أهل السنة في هذا الباب عموماً وفي بعض مسائل الصفات خصوصاً.

ثم ذكر طرفاً من أقوال العلماء في تقرير إثبات الصفات على وجه العموم والخصوص، وحرص أن يتناول تلك الأقوال بحسب تنوع مذاهب أصحابها الفقهية أو انتماءاتهم الأخرى كالصوفية.

وبعد ذلك لخص مواقف الطوائف من نصوص الصفات وذكر أقسامهم.

وعندما تقرأ في كتب شيخ الإسلام ابن تيمية عليك أن تعلم أن من طريقته في كل مسألة وقع فيها اختلاف، اعتماده الخطوات الآتية:

أولاً: يؤصل للمسألة بحيث يبين أصول أهل السنة فيها والتي تتمثل بالرجوع إلى الكتاب السنة وفق فهم السلف الصالح.

ثانياً: يبين معتقد أهل السنة والجماعة في المسألة مستدلاً لذلك بنصوص الكتاب والسنة وأقوال سلف الأمة، فهذا هو معتقد أهل السنة: كتابٌ وسنة وفق فهم سلف الأمة،
ভূমিকা

ফতোয়ার বিষয়বস্তু:

এটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর 'আল-ফাতওয়া আল-হামাওয়িয়্যাহ আল-কুবরা' নামক পুস্তিকা। কিতাবের শুরুতে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন থেকে জানা যায় যে, কিতাবটির বিষয়বস্তু হলো আসমা ওয়াস সিফাতের (নাম ও গুণাবলি) তাওহিদ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তার জবাবে প্রথমে মূলনীতি নির্ধারণের পথ এবং এরপর বর্ণনার পথ অবলম্বন করেছেন।

মূলনীতি নির্ধারণের পথ বলতে উদ্দেশ্য হলো এই যে, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সেই মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করেছেন যেগুলোর দিকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত সাধারণভাবে আকিদার অধ্যায়ে এবং বিশেষভাবে নামসমূহের অধ্যায়ে উৎস গ্রহণের মূলনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন করে। তিনি সেই মূলনীতিগুলোর ব্যাখ্যাও করেছেন যা পরবর্তীতে ব্যাখ্যার সময় বিস্তারিতভাবে আসবে।

এরপর তিনি মূলনীতিগত দিকগুলো উপস্থাপনের সময় সেই সমস্ত দলগুলোর মানহাজ বা কর্মপন্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যারা এই অধ্যায়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে, এবং সেই মূলনীতিগুলো বর্ণনা করেছেন যার ওপর তাদের আকিদা প্রতিষ্ঠিত। এই আলোচনার মাঝে তিনি তাদের মতবাদগুলোর উৎস, সর্বপ্রথম কে তা বলেছে, এবং সেগুলো প্রকাশ ও প্রচারের কারণ এবং প্রবক্তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

তারপর তিনি বর্ণনামূলক দিকগুলো উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে সাধারণভাবে এই অধ্যায়ে এবং বিশেষভাবে গুণাবলির কিছু মাসআলায় আহলুস সুন্নাহর আকিদার বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এরপর তিনি সাধারণ ও বিশেষ উভয়ভাবে গুণাবলি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আলেমদের বক্তব্যের কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন। তিনি সেই বক্তব্যগুলোকে তাদের ফিকহি মাযহাবের বৈচিত্র্য বা অন্যান্য সম্পৃক্ততা যেমন সুফিবাদের আলোকে গ্রহণ করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন।

এরপর তিনি গুণাবলি সম্পর্কিত নস বা দলীলগুলোর ব্যাপারে বিভিন্ন দলের অবস্থান সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন এবং তাদের বিভাজনসমূহ উল্লেখ করেছেন।

যখন আপনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাবসমূহ পড়বেন, তখন আপনার জানা উচিত যে, মতভেদপূর্ণ প্রতিটি মাসআলায় তার পদ্ধতি হলো নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা:

প্রথমত: তিনি মাসআলাটির মূলনীতি নির্ধারণ করেন এমনভাবে যাতে সেখানে আহলুস সুন্নাহর মূলনীতিগুলো স্পষ্ট হয়, যা সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।

দ্বিতীয়ত: তিনি মাসআলাটির ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা বর্ণনা করেন এবং এর স্বপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর দলীল এবং উম্মাহর সালাফদের উক্তি পেশ করেন। এটাই হলো আহলুস সুন্নাহর আকিদা: উম্মাহর সালাফদের বুঝ অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহ।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ثالثاً: يبين أقوال المخالفين يتعرض للشُبهة التي يحاول هؤلاء أن يلحقوها بالحق، ثم بعد ذلك من منهجه أنه يردُّ على الأُسُسَ التي اعتمدها أولئك في باطلهم.

فهذه طريقته وهذا منهجه في سائر المسائل التي يتكلم عنها، فهو من جهة يعيد الأمر إلى أصله وأساسه ويحيي ما اندثر من علم السلف، وهذه قضية ميزت كلام وكتب شيخ الإسلام ابن تيمية، فامتاز بذلك أنه في سائر كتبه إذا ناقش مسألة من المسائل فإنه يعيدك إلى أصولها حتى تفهم أن هذا هو قول الله فيها، وهذا هو قول رسوله صلى الله عليه وسلم، وهذا قول السلف الصالح.

 

‌‌ما حصل لشيخ الإسلام بعد كتابة هذه الفتوى:

حصلت محنة لشيخ الإسلام ابن تيمية بدمشق بسبب الفتوى الحموية، وقد ذكرت هذه المحنة في العقود الدرية من مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية (ص 219 - 218). قال الشيخ علم الدين: وفي شهر ربيع الأول من سنة ثمان وتسعين وستمائة وقع بدمشق محنة للشيخ الإمام تقي الدين ابن تيمية.

وكان الشروع فيها في أول الشهر، وظهرت يوم الخامس منه واستمرت إلى آخر الشهر.

وملخصها: أنه كان كتب جوابا سئل عنه من حماة في الصفات، فذكر فيه مذهب السلف، ورجحه على مذهب المتكلمين، وكان قبل ذلك بقليل أنكر أمر المنجمين. واجتمع بسيف الدين جاغان في ذلك في حال نيابته بدمشق وقيامه، فقام نائب السلطنة، وامتثل أمره. وقبل قوله، والتمس منه كثرة الاجتماع به.

فحصل بذلك ضيق لجماعة، مع ما كان عندهم قبل ذلك من كراهية الشيخ وتألمهم لظهوره وذكره الحسن.

فانضاف شيء إلى أشياء. ولم يجدوا مساغاً إلى الكلام فيه لزهده، وعدم إقباله على الدنيا، وترك المزاحمة على المناصب، وكثرة علمه، وجودة أجوبته وفتاويه، وما يظهر فيها من غزارة العلم، وجودة الفهم. فعمدوا إلى الكلام في العقيدة. لكونهم يرجحون مذهب المتكلمين في الصفات والقرآن على مذهب السلف، ويعتقدونه الصواب. فأخذوا الجواب الذي كتبه، وعملوا عليه أوراقا في رده، ثم سعوا السعي الشديد إلى القضاة والفقهاء، واحدة واحدة. وأغروا خواطرهم، وحرفوا الكلام، وكذبوا الكذب الفاحش، وجعلوه يقول بالتجسيم -حاشاه من ذلك - وأنه قد أوعز ذلك المذهب إلى أصحابه. وأن العوام قد فسدت عقائدهم بذلك. ولم يقع من ذلك شيء والعياذ بالله.
তৃতীয়ত: তিনি বিরোধীদের মতামত বর্ণনা করেন এবং সেই সংশয়ের অবতারণা করেন যা তারা সত্যের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করে। অতঃপর তার পদ্ধতির অন্যতম দিক হলো, তিনি তাদের বাতিলের ভিত্তিগুলোর দাঁতভাঙ্গা জবাব প্রদান করেন।

যে সকল বিষয়েই তিনি আলোচনা করেন, এটিই তার পদ্ধতি ও মানহাজ। একদিকে তিনি বিষয়টিকে এর মূল ও ভিত্তির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং সালাফদের বিলুপ্তপ্রায় ইলমকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এটি এমন একটি বিষয় যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বক্তব্য ও কিতাবসমূহকে অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। ফলশ্রুতিতে তিনি স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেছেন যে, তিনি তার সকল কিতাবে যখনই কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তিনি আপনাকে তার মূল ভিত্তির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান, যাতে আপনি বুঝতে পারেন যে এটিই এ বিষয়ে আল্লাহর বাণী, এটিই তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এবং এটিই সালাফে সালেহীনের বক্তব্য।

 

‌‌এই ফতোয়াটি লেখার পর শায়খুল ইসলামের সাথে যা ঘটেছিল:

ফাতাওয়া আল-হামাবিয়্যাহ-এর কারণে দামেস্কে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একটি পরীক্ষার সম্মুখীন হন। এই পরীক্ষার কথা 'আল-উকুদ আদ-দুরিইয়্যাহ মিন মানাকিবি শায়খিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা ২১৮-২১৯) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। শায়খ আলম উদ্দিন বলেন: ৬৯৮ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসে দামেস্কে শায়খ ইমাম তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ এক পরীক্ষার সম্মুখীন হন।

এটি মাসের শুরুতে আরম্ভ হয়েছিল, পঞ্চম দিনে তা প্রকাশ পায় এবং মাসের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

এর সারসংক্ষেপ হলো: হামা শহর থেকে আল্লাহর সিফাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি একটি উত্তর লিখেছিলেন। সেখানে তিনি সালাফদের মাজহাব উল্লেখ করেন এবং কালাম শাস্ত্রবিদদের মতবাদের উপর একে প্রাধান্য দেন। এর কিছুকাল আগে তিনি জ্যোতিষীদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন। সাইফুদ্দীন জাগান যখন দামেস্কের নায়েব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তিনি এই বিষয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন। সুলতানের নায়েব উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর আদেশ পালন করলেন। তিনি তাঁর কথা গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সাথে অধিক সাক্ষাতের অনুরোধ জানালেন।

এর ফলে একদল লোকের মনে সংকীর্ণতা সৃষ্টি হলো, আর আগে থেকেই তাদের মধ্যে শায়খের প্রতি বিদ্বেষ এবং তাঁর সুনাম ও সুখ্যাতির কারণে ক্ষোভ ছিল।

ফলে একটার সাথে আরেকটা বিষয় যুক্ত হলো। তাঁর যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা), দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহ, পদের প্রতি লালসা না থাকা, অগাধ ইলম এবং চমৎকার জবাব ও ফতোয়ায় ফুটে ওঠা জ্ঞানের গভীরতা ও সঠিক বোধশক্তির কারণে তারা তাঁর সমালোচনা করার কোনো সুযোগ পাচ্ছিল না। তাই তারা তাঁর আকিদার বিষয়ে আলোচনার পথ বেছে নিল। কারণ তারা আল্লাহর সিফাত এবং কুরআনের ব্যাপারে সালাফদের মাজহাবের চেয়ে মুতাকাল্লিমীনদের মাজহাবকে প্রাধান্য দিত এবং সেটিকে সঠিক বলে বিশ্বাস করত। অতঃপর তারা তাঁর লিখিত উত্তরটি সংগ্রহ করল এবং তার খণ্ডনে কিছু লিখনী তৈরি করল। এরপর তারা বিচারক ও ফকিহদের কাছে একের পর এক জোরালো চেষ্টা চালাল। তারা তাদের মনকে বিষিয়ে তুলল, কথা বিকৃত করল এবং চরম মিথ্যাচার করল। তারা অপবাদ দিল যে, তিনি তাজসিম (আল্লাহকে দেহধারী ভাবা)-এর কথা বলেন—অথচ তিনি এ থেকে মুক্ত—এবং তিনি তাঁর অনুসারীদের মাঝে এই মতবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তারা আরও দাবি করল যে, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আকিদা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ আল্লাহর পানাহ, এর কিছুই ঘটেনি।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وسعوا في ذلك سعيا شديداً، في أيام كثيرة المطر والوحل والبرد، وسعوا في ذلك سعيا شديدا.

فوافقهم جلال الدين الحنفي، قاضي الحنفية يومئذ، على ذلك. ومشي معهم إلى دار الحديث الأشرفية. وطلب حضوره، وأرسل إليه فلم يحضر.

وأرسل إليه في الجواب: إن العقائد ليس أمرها إليك، وإن السلطان إنما ولاك التحكم بين الناس، وإن إنكار المنكرات ليس مما يختص به القاضي.

فوصلت إليه هذه الرسالة فأغروا خاطره، وشوشوا قلبه، وقالوا لم يحضر. ورد عليه.

فأمر بالنداء على بطلان عقيدته في البلدة، فأجاب إلى ذلك. فنودي في بعض البلد ثم بادر سيف الدين جاغان، وأرسل طائفة. فضرب المنادي وجماعة ممن حوله، وأخرق بهم. فرجعوا مضروبين في غاية الإهانة.

ثم طلب سيف الدين جاغان من قام في ذلك وسعى فيه، فدارت الرسل والأعوان عليهم في البلدة، فاختفوا واحتمي مقدمهم ببدر الدين الأتابكي، ودخل عليه في داره. وسأله أن يجيره من ذلك؟ فترفق في أمره إلى أن سكن غضب سيف الدين جاغان. ثم إن الشيخ جلس يوم الجمعة على عادته ثالث عشر الشهر. وكان تفسيره في قوله تعالى: (وإنك لعلى خلق عظيم) القلم: 4] وذكر الحلم وما ينبغي استعماله. وكان ميعاداً جليلا. ثم إنه اجتمع بالقاضي إمام الدين الشافعي، وواعده لقراءة جزئه الذي أجاب فيه. وهو المعروف بالحموية.

فاجتمعوا يوم السبت رابع عشر الشهر، من بكرة النهار إلى نحو الثلث من ليلة الأحد، ميعادة طويلا مستمرة. وقرئت فيه جميع العقيدة، وبين مراده في مواضع أشكلت. ولم يحصل إنكار عليه من الحاكم، ولا ممن حضر المجلس، بحيث انفصل عنهم، والقاضي يقول: كل من تكلم في الشيخ يعزر. وانفصل عنهم عن طيبة.

وخرج الناس ينظرون ما يسمعون من طيب أخباره. فوصل إلى داره في ملأ كثير من الناس، وعندهم استبشار وسرور به، وهو في ذلك كله ثابت الجأش، قوى القلب، واثق بالنصر الإلهي لا يلتفت إلى نصر مخلوق، ولا يعول عليه.

وكان سعيهم في حقه أتم السعي، لم يبقوا ممكنا من الاجتماع بمن يرتجون منه أدنى نصر لهم، وتكلموا في حقه بأنواع الأذى، وبأمور يستحي الإنسان من الله
তারা এ বিষয়ে অত্যন্ত জোর প্রচেষ্টা চালালো, এমন অনেক দিন পর্যন্ত যা ছিল বৃষ্টি, কাদা ও ঠান্ডায় পূর্ণ; তারা এ বিষয়ে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।

তৎকালীন হানাফী বিচারক জালালুদ্দিন আল-হানাফী তাদের সাথে একমত হলেন। তিনি তাদের সাথে দারুল হাদিস আশরাফিয়ার দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি তাকে উপস্থিত হওয়ার তলব দিলেন এবং তার কাছে লোক পাঠালেন, কিন্তু তিনি উপস্থিত হলেন না।

উত্তরে তিনি তাকে বলে পাঠালেন: আকিদার বিষয়টি আপনার এখতিয়ারাধীন নয়। সুলতান আপনাকে কেবল মানুষের মধ্যে বিচার ফয়সালার দায়িত্ব দিয়েছেন। আর অন্যায় প্রতিরোধ করা কেবল বিচারকের বিশেষ কোনো কাজ নয়।

যখন এই বার্তা তার কাছে পৌঁছাল, তারা তাকে প্ররোচিত করল এবং তার মনকে বিষিয়ে তুলল। তারা বলল যে, তিনি উপস্থিত হননি এবং তাকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন।

অতঃপর তিনি শহরে ঘোষণা দিতে নির্দেশ দিলেন যে তার আকিদা বাতিল। এতে সম্মতি দেওয়া হলো। শহরের কিছু অংশে এই ঘোষণা দেওয়া হলো। এরপর সাইফুদ্দীন জাগান এগিয়ে এলেন এবং একদল লোক পাঠালেন। তারা ঘোষক ও তার আশেপাশের একদল লোককে প্রহার করল এবং তাদের নাজেহাল করল। ফলে তারা চরম অপদস্থ ও প্রহৃত হয়ে ফিরে গেল।

এরপর সাইফুদ্দীন জাগান তাদের তলব করলেন যারা এই কাজে লিপ্ত ছিল এবং এর জন্য চেষ্টা চালিয়েছিল। দূত ও প্রহরীরা শহরে তাদের খুঁজতে বের হলো। তারা আত্মগোপন করল এবং তাদের প্রধান বদরুদ্দীন আল-আতাবকীর কাছে আশ্রয় নিল এবং তার বাড়িতে প্রবেশ করল। সে তাকে এই বিপদ থেকে রক্ষার অনুরোধ জানাল। সে অত্যন্ত বিনম্রভাবে বিষয়টি পরিচালনা করল যতক্ষণ না সাইফুদ্দীন জাগানের রাগ প্রশমিত হলো। এরপর শায়খ মাসের তেরো তারিখ শুক্রবার তার নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ী বসলেন। তাঁর তাফসির ছিল আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ওপর: "আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত" [কলাম: ৪]। তিনি ধৈর্য ও সহনশীলতা এবং তা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করলেন। এটি ছিল এক মহিমান্বিত মজলিস। এরপর তিনি শাফেয়ী বিচারক ইমামুদ্দীনের সাথে মিলিত হলেন এবং তাঁর সেই পুস্তিকাটি পাঠের জন্য সময় নির্ধারণ করলেন যেটিতে তিনি জবাব দিয়েছিলেন। এটি 'হামাবিয়্যাহ' নামে পরিচিত।

তারা মাসের চৌদ্দ তারিখ শনিবার সকাল থেকে রবিবার রাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত এক দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন মজলিসে মিলিত হলেন। সেখানে পূর্ণ আকিদা পাঠ করা হলো এবং অস্পষ্ট স্থানগুলোতে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করলেন। শাসকের পক্ষ থেকে বা মজলিসে উপস্থিত কারো পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি কোনো প্রতিবাদ আসেনি। এমনকি যখন তিনি সেখান থেকে বিদায় নিলেন, তখন বিচারক বলছিলেন: শায়খ সম্পর্কে যে কেউ কথা বলবে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে। তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্টির সাথে তাদের থেকে বিদায় নিলেন।

মানুষ তার সম্পর্কে প্রাপ্ত সুসংবাদগুলো দেখার জন্য বেরিয়ে পড়ল। তিনি বিপুল জনসমাবেশ নিয়ে নিজ গৃহে পৌঁছালেন। তাদের মধ্যে ছিল তাকে নিয়ে আনন্দ ও খুশির আমেজ। এই সবকিছুর মাঝে তিনি ছিলেন অবিচল ও দৃঢ়চিত্ত। তিনি আল্লাহর সাহায্যের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল ছিলেন, কোনো সৃষ্টির সাহায্যের দিকে তিনি ভ্রূক্ষেপ করেননি এবং তার ওপর নির্ভরও করেননি।

তার বিরুদ্ধে তাদের প্রচেষ্টা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের। যাদের কাছ থেকে সামান্যতম সাহায্যের আশা করা যায়, এমন কারো সাথে সাক্ষাতের কোনো সুযোগই তারা বাকি রাখেনি। তারা তার ব্যাপারে নানা ধরণের কটু কথা বলেছে এবং এমন সব বিষয় নিয়ে কথা বলেছে যা বলতে একজন মানুষ আল্লাহর কাছে লজ্জা বোধ করবে।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
سبحانه أن يحكيها، فضلا عن أن يختلقها، ويلفقها، فلا حول ولا قوة إلا بالله.

والذين سعوا فيه معروفون عندنا وعند كل أحد، قد اشتهر عنهم هذا الفعل الفظيع. وكذلك من ساعدهم بقول، أو تشنيع، أو إغراء أو إرسال رسالة، أو إفتاء، أو شهادة، أو أذى لبعض أصحاب الشيخ ومن يلوذ به، أو شتم، أو غيبة، أو تشويش باطن، فإنه وقع من ذلك شيء كثير من جماعة كثيرة.

ورأى جماعة من الصالحين والأخيار في هذه الواقعة وعقيبها للشيخ مرائي حسنة جليلة، ولو ضبطت كانت مجلدة تامة. انتهى ما ذكره).

وذكر الإمام ابن كثير رحمه الله في بدايته في أحداث سنة ثمان وتسعين وستمائة وبعد ذكره لمقتل الملك المنصور لاجين قال ص 4 من الجزء الرابع عشر:

وكان قد وقع في أواخر دولة لاجين بعد خروج قبجق من البلد محنة للشيخ تقي الدين بن تيمية؛ قام عليه جماعة من الفقهاء، وأرادوا إحضاره إلى مجلس القاضي جلال الدين الحنفي، فلم يحضر، فنودي في البلد في العقيدة التي كان قد سأله عنها أهل حماة المسماة (بالحموية)، فانتصر له الأمير سيف الدين جاغان، وأرسل يطلب الذين قاموا عنده، فاختفى كثير منهم، وضرب جماعة من نادي على العقيدة فسكت الباقون، فلما كان يوم الجمعة عمل الشيخ تقي الدين الميعاد بالجامع على عادته. وفسر في قوله تعالى: (وإنك لعلى خلق عظيم» [القلم: 4] ثم اجتمع بالقاضي إمام الدين يوم السبت واجتمع عنده جماعة من الفضلاء وبحثوا في الحموية وناقشوه في أماكن فيها، فأجاب عنها بما أسكتهم بعد كلام كثير، ثم ذهب الشيخ تقي الدين، وقد تمهدت الأمور وسكنت الأحوال، وكان القاضي إمام الدين معتقده حسنا، ومقصده حسنا. اه.
তিনি তা বর্ণনা করা থেকে পবিত্র, তা উদ্ভাবন বা জাল করা তো পরের কথা। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

যারা এর পেছনে চেষ্টা চালিয়েছে তারা আমাদের কাছে এবং সবার কাছে পরিচিত; তাদের এই জঘন্য কর্মটি তাদের পক্ষ থেকে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। একইভাবে যারা তাদেরকে কথা দিয়ে সাহায্য করেছে, অথবা কুৎসা রটিয়ে, অথবা প্ররোচনা দিয়ে, অথবা কোনো বার্তা পাঠিয়ে, অথবা ফতোয়া প্রদান করে, অথবা সাক্ষ্য দিয়ে, অথবা শাইখের কোনো সঙ্গী বা তাঁর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কষ্ট দিয়ে, অথবা গালি দিয়ে, অথবা গিবত করে, অথবা মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সাহায্য করেছে; একটি বড় দলের পক্ষ থেকে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে।

একদল নেককার ও ভালো মানুষ এই ঘটনার সময় এবং এর পরপরই শাইখের ব্যাপারে অনেক উত্তম ও চমৎকার স্বপ্ন দেখেছেন; যদি সেগুলো সংকলন করা হতো, তবে তা একটি পূর্ণাঙ্গ খণ্ডে রূপ নিত। (তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা এখানেই শেষ)।

ইমাম ইবনে কাসির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর 'আল-বিদায়া' গ্রন্থে ৬৯৮ হিজরি সালের ঘটনাবলির বর্ণনায় এবং সুলতান আল-মানসুর লাজিনের হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করার পর চতুর্দশ খণ্ডের ৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন:

লাজিনের শাসনের শেষ দিকে, দেশ থেকে কিবজাক চলে যাওয়ার পর, শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যার ওপর একটি পরীক্ষা নেমে এসেছিল। একদল ফকিহ তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাঁরা তাঁকে কাজি জালালুদ্দীন হানাফির মজলিসে উপস্থিত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। অতঃপর শহরের সেই আকিদার বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হলো যে সম্পর্কে হামাহবাসী তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন এবং যা 'আল-হামাউইয়্যাহ' নামে পরিচিত। তখন আমির সাইফুদ্দীন জাগান তাঁর সমর্থনে এগিয়ে আসেন এবং যারা শাইখের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল তাদের তলব করেন। এতে তাদের অনেকে আত্মগোপন করে। আর যারা আকিদার বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়েছিল তাদের একটি দলকে প্রহার করা হলো, ফলে বাকিরা চুপ হয়ে গেল। এরপর যখন শুক্রবার এল, শাইখ তাকিউদ্দীন তাঁর নিয়ম অনুযায়ী জামে মসজিদে দরস প্রদান করেন। তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসির করেন: "এবং নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত" [আল-কালাম: ৪]। এরপর শনিবার তিনি কাজি ইমামুদ্দীনের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানে একদল বিজ্ঞ ব্যক্তি সমবেত হন। তাঁরা 'আল-হামাউইয়্যাহ' নিয়ে গবেষণা করেন এবং এর বিভিন্ন স্থান নিয়ে তাঁর সাথে বিতর্ক করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি এমন উত্তর প্রদান করেন যা তাঁদের স্তব্ধ করে দেয়। এরপর শাইখ তাকিউদ্দীন চলে যান এবং সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে ও পরিস্থিতি শান্ত হয়। কাজি ইমামুদ্দীনের আকিদা ছিল উত্তম এবং তাঁর উদ্দেশ্যও ছিল সৎ। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

(1) "ما قولكم في آيات الصفات كقوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5]، وقوله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ} [فصلت: 11]، إلى غير ذلك من الآيات وأحاديث الصفات؛ كقوله صلى الله عليه وسلم: «إن قلوب بني آدم بين أصبعين من أصابع الرحمن» وقوله: «يضع الجبار قدمه في النار» إلى غير ذلك من الأحاديث [وما قالت العلماء، وابسُطوا القول في ذلك مأجورين إن شاء الله تعالى؟] فأجاب: "


 

الحمد الله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم، وبعد:

السائل سأل سؤالاً وهو: "ما قول السادة العلماء أئمة الدين في آيات الصفات كقوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5]، وقوله: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ}، وقوله: {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ} "، إلى غير ذلك من صفات، وسأل كذلك عن أحاديث الصفات، فالسؤال عن نصوص الصفات بما فيها الآيات والأحاديث.

ومعلومٌ أن الناس قد انقسموا في هذا الباب إلى ثلاثة أقسام:

 

‌‌القسم الأول: أهل السنة والجماعة.

الذين أثبتوا تلك الأسماء والصفات التي جاء ذكرها في كلام الله عز وجل وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم، فإذا قال الله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى}، فإن هذا النص خبر، أخبر الله فيه أنه استوى على عرشه، فأهل السنة والجماعة يقولون: إن الله استوى على عرشه استواءً يليق بجلاله وكماله، لا يماثله فيه أحدٌ من خلقه والله أعلم بكيفيته.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

(১) "আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াতসমূহ সম্পর্কে আপনাদের বক্তব্য কী? যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্ব-হা: ৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি আসমানের দিকে উঠলেন যখন তা ছিল ধোঁয়াকার} [ফুসসিলাত: ১১], এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত ও গুণাবলি সম্পর্কিত হাদিসসমূহ; যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «নিশ্চয়ই বনী আদমের অন্তরসমূহ পরম করুণাময়ের আঙুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙুলের মাঝে রয়েছে» এবং তাঁর বাণী: «প্রবল পরাক্রমশালী (আল্লাহ) জাহান্নামে তাঁর পা রাখবেন» এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিসসমূহ [এবং আলেমগণ কী বলেছেন? সবিস্তারে বর্ণনা করুন, ইনশাআল্লাহ এর জন্য আপনারা প্রতিদান পাবেন]? উত্তরে তিনি বলেন: "


 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়েত কামনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

প্রশ্নকারী একটি প্রশ্ন করেছেন, যা হলো: "দ্বীনের ইমাম ও আলেম মহোদয়গণের বক্তব্য কী আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াতসমূহ সম্পর্কে? যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্ব-হা: ৫], তাঁর বাণী: {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন}, এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর তিনি আসমানের দিকে উঠলেন যখন তা ছিল ধোঁয়াকার}", এবং এই জাতীয় অন্যান্য গুণাবলি। তিনি গুণাবলি সম্পর্কিত হাদিসসমূহ সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করেছেন। সুতরাং প্রশ্নটি হচ্ছে গুণাবলি সংক্রান্ত নصوص (নস বা পাঠ্যপ্রমাণ) তথা আয়াত ও হাদিসসমূহ সম্পর্কে।

এটা সুবিদিত যে, এই বিষয়ে মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে:

 

‌‌প্রথম ভাগ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত।

যারা সেই সকল নাম ও গুণাবলিকে সাব্যস্ত করেন যেগুলোর কথা মহান আল্লাহর কালামে এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে এসেছে। সুতরাং যখন আল্লাহ তাআলা বলেন: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন}, তখন এই নসটি (পাঠ্যপ্রমাণটি) একটি খবর বা সংবাদ, যাতে আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন। তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর আরশের উপর এমনভাবে উঠেছেন যা তাঁর মর্যাদা ও পূর্ণতার উপযোগী; তাঁর সৃষ্টির কেউই এতে তাঁর সদৃশ নয় এবং এর ধরন বা পদ্ধতি সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فهذا الجواب تضمن ثلاثة أمور:

الأمر الأول: إثبات صفة الاستواء لله عز وجل.

الأمر الثاني: نفي مماثلة صفات الله عز وجل لصفات المخلوقين.

الأمر الثالث: عدم الخوض في كيفية صفات الله عز وجل.

فما أخبر الله به في هذه الآية يجب أن يُثبت لله تعالى، فإذا قال تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى}، فإن هذا يوجب على المؤمن أن يصدق به، لأن نصوص القرآن والسنة تدور حول حالين:

الحال الأول: إما أن يُخبر الله تعالى بشيء.

كقوله: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى}، هذا إخبارٌ.

الحال الثاني: وإما أن يأمر بشيء.

مثل قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ}، فهنا أمر من الله لعباده بأن يقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة.

فالخبر يجب على المؤمن تجاهه التصديق، فإذا أخبرنا الله تعالى بأنه استوى على عرشه، فإن علينا أن تصدق بأن الله تعالى استوى على عرشه، وإذا جاءنا الأمر مثل: وأقيموا الصلاة وأتوا الزكاة، فيجب علينا الامتثال والانقياد، فإن كان أمر إيجاب يجب علينا أن نقوم به، وإن كان أمر نهيٍ فيجب علينا أن ننتهي عنه.

فالواجب على الموحد إذا أخبر الله تعالى باستوائه على عرشه أن يعتقد ثلاثة أمور:

أولاً: يجب عليه أن يؤمن بأن الله سبحانه وتعالى مستوٍ على عرشه استواءً حقيقة كما أخبر في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.

ثانياً: أن يثبت لله استواءً يليق بجلاله وكماله تعالى؛ لِأن الله تعالى قد قال في آية أخرى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ}، فمعنى هذا أن الله في استوائه على عرشه لا يماثله في ذلك أحدٌ من خلقه، ونعني بذلك أن الله تعالى لا يحتاج إلى العرش ولا يفتقر إليه.

ثالثاً: يجب علينا ألا نخوض في كيفية استوائه، هذا أمرٌ لا ينبغي ولا يجوز للمسلم أن يخوض فيه.

فإذاً تُثبتُ ما أثبته الله لنفسه؛ لأن الله أخبر بذلك، ومع إثبات ذلك يجب أن تعتقد أن الله تعالى لا يماثله ولا يساويه في ذلك أحدٌ من خلقه، مع عدم الخوض في كيفية الاستواء.
সুতরাং এই উত্তরটি তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম বিষয়: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য আরশের উপর উঠার গুণ সাব্যস্ত করা।

দ্বিতীয় বিষয়: সৃষ্টিজগতের গুণাবলির সাথে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলির সাদৃশ্য অস্বীকার করা।

তৃতীয় বিষয়: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলির ধরণ নিয়ে আলোচনায় লিপ্ত না হওয়া।

সুতরাং আল্লাহ এই আয়াতে যা সংবাদ দিয়েছেন তা আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত করা আবশ্যক। যেমন মহান আল্লাহ যখন বলেন: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন}, তখন এটি মুমিনের জন্য এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক করে দেয়। কারণ কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ দুটি অবস্থার ওপর আবর্তিত হয়:

প্রথম অবস্থা: হয় আল্লাহ তাআলা কোনো বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করবেন।

যেমন তাঁর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন}, এটি একটি সংবাদ।

দ্বিতীয় অবস্থা: অথবা তিনি কোনো বিষয়ে আদেশ প্রদান করবেন।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো}, এখানে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি সালাত কায়েম করার এবং জাকাত দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সুতরাং সংবাদের প্রতি মুমিনের দায়িত্ব হলো তা সত্য বলে বিশ্বাস করা। অতএব আল্লাহ যখন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, তখন আমাদের এটি বিশ্বাস করা আবশ্যক যে আল্লাহ তাআলা তাঁর আরশের উপর উঠেছেন। আর যখন আমাদের কাছে কোনো আদেশ আসে যেমন: "তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো", তখন আমাদের জন্য তা পালন করা ও অনুগত হওয়া আবশ্যক। সেটি যদি কোনো বাধ্যতামূলক আদেশ হয় তবে তা পালন করা আমাদের ওপর কর্তব্য, আর যদি কোনো নিষেধমূলক বিষয় হয় তবে তা থেকে বিরত থাকা আমাদের ওপর কর্তব্য।

একজন তাওহীদপন্থীর জন্য আবশ্যক হলো, আল্লাহ যখন তাঁর আরশের উপর উঠার সংবাদ প্রদান করেন তখন তিনটি বিষয় বিশ্বাস করা:

প্রথমত: তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রকৃতভাবেই তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানিতে সংবাদ দিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহর জন্য এমনভাবে আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত করা যা তাঁর মহিমা ও পূর্ণতার উপযোগী; কারণ আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেছেন: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই}। এর অর্থ হলো আল্লাহ তাঁর আরশের উপর উঠার ক্ষেত্রে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে কেউ তাঁর সদৃশ নয়। আর এর দ্বারা আমরা এটিই উদ্দেশ্য করি যে, আল্লাহ তাআলা আরশের মুখাপেক্ষী নন এবং তিনি এর প্রতি অভাবী নন।

তৃতীয়ত: আমাদের জন্য তাঁর আরশের উপর উঠার ধরণ নিয়ে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। এটি এমন বিষয় যাতে লিপ্ত হওয়া কোনো মুসলিমের জন্য সমীচীন নয় এবং বৈধ নয়।

অতএব আপনি তা-ই সাব্যস্ত করবেন যা আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন; কারণ আল্লাহ নিজেই সেই সংবাদ দিয়েছেন। আর তা সাব্যস্ত করার পাশাপাশি আপনাকে এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তাআলার এই বিষয়ের ক্ষেত্রে তাঁর সৃষ্টির কেউ তাঁর সদৃশ বা সমকক্ষ নয় এবং সেই সাথে আরশের উপর উঠার ধরণ নিয়ে কোনো প্রকার আলোচনায় লিপ্ত হওয়া যাবে না।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فالمقصود والمراد من نفي المماثلة أن لله خصائص، أي أمورٌ يختص بها لا يماثله في ذلك أحدٌ من خلقه، ثم بعد ذلك فالله تعالى ما أطلعنا ولا أخبرنا ولا تعبدنا بمعرفة كيفية استوائه، وكلنا يعلم جواب الإمام مالك رحمه الله-إذ سأله السائل: الرحمن على العرش استوى، كيف استوى؟ فغضب الإمام مالك من سؤال السائل وقال: "الاستواء معلوم والكيف مجهول والإيمان به واجب والسؤال عنه بدعة"(1).

فإذاً الكيف مجهول، فلا يقال كيف استوى؟ أو كيف ينزل؟ أو كيف يداه؟ أو كيف قدماه؟ إلى غير ذلك من أسمائه وصفاته سبحانه وتعالى لا نعلم كيفيتها وهذا سيأتي جوابه إن شاء الله تعالى.

فإذاً هذه نصوص وردت لإثبات صفاتٍ لله تعالى، فهناك من أثبتها وهم أهل السنة.

 

‌‌القسم الثاني: المعطلة.

هذا القسم يندرج تحته فئات:

1. فمنهم من أنكر جميع الأسماء والصفات، ويقول: لا نثبت لله اسماً ولا صفة، ومن هؤلاء؟ الجهمية.

2. وهناك من أثبت الأسماء إثباتاً لفظياً وأنكر جميع الصفات، لذلك يقولون: سميعٌ بلا سمع، وعليمٌ بلا علم، وبصيرٌ بلا بصر، وهؤلاء المعتزلة ومن وافقهم.

3. وهناك من أثبت بعض الصفات وأنكر البعض الآخر، وهؤلاء هم الأشاعرة والماتريدية والكلابية، وإن كان الذي يُعرف اليوم الأشاعرة والماتريدية دون الكلابية.

فمن نفى تلك الصفات، أخذ يغير معاني تلك الآيات، فإذا جاء إلى قوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى}، قال الاستواء بمعنى الاستيلاء، ويريد بهذا أن ينكر أن الله استوى على عرشه حقيقة،

وسنأتي إن شاء الله إلى ما يثبته الأشاعرة وما ينفونه من الصفات، فهم أثبتوا البعض ونفوا البعض، فممَّا نفوه الاستواء، فهم لا يثبتونه لله تعالى.

 

‌‌القسم الثالث: المشبهة.

وهؤلاء أثبتوا الصفات، ولكنهم أدخلوا في الإثبات أموراً لا تليق لله تعالى.

--------------------------------------------

(1) انظر الموطأ للإمام مالك الجزء الأول صفحة (253).
সাদৃশ্য অস্বীকার করার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো এই যে, আল্লাহর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শুধুমাত্র তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট, তাঁর সৃষ্টির কেউ এ বিষয়ে তাঁর সদৃশ নয়। এরপর কথা হলো, আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর উঠার ধরণ সম্পর্কে অবহিত করেননি, আমাদের জানাননি এবং তাঁর উঠার ধরণ জানার মাধ্যমে আমাদের ইবাদত করতেও বলেননি। আমাদের সকলেই ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সেই জবাবটি জানি—যখন এক প্রশ্নকারী তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "রাহমান আরশের উপর উঠেছেন, তিনি কীভাবে উঠেছেন?" এতে ইমাম মালিক প্রশ্নকারীর প্রশ্নে রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "উঠা সুপরিচিত, কিন্তু এর ধরণ অজ্ঞাত, এতে ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত"(১)।

সুতরাং ধরণ অজ্ঞাত, তাই বলা যাবে না যে তিনি কীভাবে উঠেছেন? অথবা তিনি কীভাবে অবতরণ করেন? অথবা আল্লাহর হাত কেমন? অথবা আল্লাহর পা কেমন? এভাবে সুবহানাহু ওয়া তাআলার অন্যান্য নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রেও; আমরা সেগুলোর ধরণ জানি না এবং ইনশাআল্লাহ সামনে এর উত্তর আসবে।

সুতরাং, এগুলো হলো আল্লাহ তাআলার গুণাবলী সাব্যস্ত করার জন্য আসা দলীলসমূহ। এখানে একদল রয়েছেন যারা এগুলো সাব্যস্ত করেছেন এবং তারা হলেন আহলুস সুন্নাহ।

 

‌‌দ্বিতীয় বিভাগ: মুয়াত্তিলা (গুণাবলী অস্বীকারকারী)।

এই বিভাগের অধীনে কয়েকটি উপদল রয়েছে:

১. তাদের মধ্যে কেউ কেউ সকল নাম ও গুণাবলী অস্বীকার করেছে এবং বলে: আমরা আল্লাহর জন্য কোনো নাম বা গুণ সাব্যস্ত করি না। তারা কারা? তারা হলো জাহমিয়াহ সম্প্রদায়।

২. আবার কেউ কেউ নামসমূহকে কেবল শাব্দিকভাবে সাব্যস্ত করেছে এবং সকল গুণাবলী অস্বীকার করেছে। এজন্য তারা বলে: তিনি শ্রবণকারী কিন্তু তাঁর শ্রবণশক্তি নেই, তিনি সর্বজ্ঞ কিন্তু তাঁর জ্ঞান নেই, তিনি সর্বদ্রষ্টা কিন্তু তাঁর দৃষ্টিশক্তি নেই। এরা হলো মুতাযিলা এবং যারা তাদের মতের অনুসারী।

৩. আবার কেউ কেউ কিছু গুণাবলী সাব্যস্ত করেছে এবং অন্যগুলো অস্বীকার করেছে। তারা হলো আশআরিয়াহ, মাতুরিদিয়াহ এবং কুল্লাবিয়াহ সম্প্রদায়। যদিও বর্তমানে কুল্লাবিয়াহ ব্যতীত আশআরিয়াহ ও মাতুরিদিয়াহরাই পরিচিত।

যারা ঐ সকল গুণাবলী অস্বীকার করেছে, তারা সেই আয়াতগুলোর অর্থ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। তাই যখন তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সম্মুখীন হয়: "রাহমান আরশের উপর উঠেছেন", তখন তারা বলে যে 'উঠা' এর অর্থ হলো 'দখল করা' বা 'কর্তৃত্ব গ্রহণ করা'। এর মাধ্যমে তারা এটি অস্বীকার করতে চায় যে, আল্লাহ প্রকৃতপক্ষে তাঁর আরশের উপর উঠেছেন।

ইনশাআল্লাহ সামনে আমরা আলোচনা করব আশআরিয়াহরা কোন কোন গুণাবলী সাব্যস্ত করে এবং কোনগুলো অস্বীকার করে। তারা কিছু সাব্যস্ত করেছে এবং কিছু অস্বীকার করেছে। তারা যা অস্বীকার করেছে তার মধ্যে রয়েছে 'উঠা'; তারা আল্লাহ তাআলার জন্য এটি সাব্যস্ত করে না।

 

‌‌তৃতীয় বিভাগ: মুশাব্বিহা (সাদৃশ্যদানকারী)।

তারা গুণাবলী সাব্যস্ত করেছে, কিন্তু সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে যা আল্লাহ তাআলার শানে সমীচীন নয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইমাম মালিকের আল-মুওয়াত্তা, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৫৩।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقالوا: استواءٌ كاستوائي، أو يدٌ كيدي، أو سمعٌ كسمعي، وبصرٌ كبصري، فزادوا في الإثبات إلى درجة التشبيه.

وفحوى هذه الفتوى الحموية يدور على مسألتين يريد المؤلف أن يتحدث عنهما:

الأولى: الكلام في توحيد الأسماء والصفات.

الثانية: أن الناس انقسموا في هذا الباب إلى ثلاثة أقسام.
আর তারা বলল: (আল্লাহর) উঠা আমার উঠার মতো, অথবা (আল্লাহর) হাত আমার হাতের মতো, অথবা (আল্লাহর) শ্রবণ আমার শ্রবণের মতো এবং (আল্লাহর) দৃষ্টি আমার দৃষ্টির মতো; এভাবে তারা সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য প্রদানের স্তর পর্যন্ত অতিরঞ্জন করল।

এই হামাবিইয়া ফতোয়ার মূল বক্তব্য দুটি বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয়েছে, যা নিয়ে লেখক আলোচনা করতে চেয়েছেন:

প্রথমটি: নাম ও গুণাবলির তাওহিদ সংক্রান্ত আলোচনা।

দ্বিতীয়টি: এই ক্ষেত্রে মানুষ তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
(2) " [الحمد لله رب العالمين] قولنا فيها ما قاله الله ورسوله صلى الله عليه وسلم والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان، وما قاله أئمة الهدى بعد هؤلاء الذين أجمع المسلمون على هدايتهم ودرايتهم، وهذا هو الواجب على جميع الخلق في هذا الباب وغيره"


 

المصنف يريد قبل الجواب على سؤال السائل أن يضع مقدمة على اعتبار أن الأمور التأصيلية تسبق الأمور التقريرية، فيقول: إن الذي يجب أن يقوله كل أحد والذي يقوله هو أن نأخذ بما جاء في الكتاب وما جاء في السنة وما كان عليه سلف الأمة، فيجب أن نرجع إلى كلام الله تعالى، وإلى كلام رسوله صلى الله عليه وسلم، وإلى ما كان عليه السلف الصالح من الصحابة ومن التابعين وتابعي التابعين ومن تبعهم بإحسان.

فهذا الأمر الذي يجب أن يرجع إليه عند هذه المسألة بل وعند جميع مسائل الدين، بمعنى أنه يجب على كل مسلمٍ أن يرضى بكلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم وبما كان عليه الصحابة وما كان عليه التابعون وما كان عليه تابعوا التابعين.

وبحمد الله كل هذا محفوظ، فكتاب الله بين أيدينا، وسنة المصطفى صلى الله عليه وسلم محفوظة منقولة، نعرف الصحيح منها والضعيف، فنعرف ما ثبت وما لم يثبت، وحتى ما ذكره وقاله الصحابة وما قاله التابعون أو ما قاله تابعو التابعين ومن بعدهم من أئمة الهدى، فكلام هؤلاء كله مسطر ومدون فيجب الرجوع إليه، ويجب الأخذ به.

وهذه طريقة شيخ الإسلام ابن تيمية أنه يُرجع المسائل إلى أصولها، التي هي أصول المسلمين التي هي قال الله عز وجل وقال الرسول صلى الله عليه وسلم وما كان عليه سلف الأمة، فهذه أصول الإسلام، فلا يجوز أن تُهجر وتُترك ويستبدل بها أراء وكلام الرجال والفلسفة والمنطق فهذا أمرٌ لا يقبله المسلم أو يرتضيه في دينه، إذ كيف يرتضي قال الفضلاء، وقال الحكماء، وقال العقلاء، ومنطق اليونان وفلسفتهم بدلاً من كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم وما كان عليه سلف الأمة، فهذا أمرٌ لا يقبل.

والمصنف رحمه الله يريد أن يقرر الأمور التأصيلية قبل الدخول في المسائل التقريرية
(২) " [সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য] এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য তাই, যা আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), মুহাজির ও আনসারদের মধ্য হতে প্রথম পর্যায়ের অগ্রগামীগণ এবং যাঁরা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁরা বলেছেন। আর যা বলেছেন তাঁদের পরবর্তী হিদায়াতের ইমামগণ, যাঁদের হিদায়াত ও প্রজ্ঞার ব্যাপারে মুসলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এই বিষয়টি এবং অন্য সকল বিষয়ে সকল সৃষ্টির জন্য এটিই হলো আবশ্যকীয় কর্তব্য।"


 

গ্রন্থকার প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে একটি ভূমিকা পেশ করতে চাচ্ছেন এই বিবেচনায় যে, মৌলিক নীতিগত বিষয়গুলো বর্ণনামূলক বিষয়ের পূর্বেই আসে। তাই তিনি বলছেন: প্রত্যেক ব্যক্তির যা বলা উচিত এবং যা তিনি বলছেন তা হলো, আমাদের তা গ্রহণ করতে হবে যা কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহতে এসেছে এবং উম্মতের সালাফগণ (পূর্বসূরীগণ) যার ওপর ছিলেন। সুতরাং আমাদের অবশ্যই আল্লাহ তাআলার কালামের দিকে, তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কালামের দিকে এবং সাহাবী, তাবিঈ, তাবি-তাবিঈ ও যাঁরা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন সেই নেককার পূর্বসূরীগণ (সালাফ আস-সালেহীন) যাঁর ওপর ছিলেন, তার দিকে ফিরে যেতে হবে।

এটিই সেই বিষয় যার দিকে এই মাসআলায় বরং দ্বীনের সকল মাসআলায় ফিরে যাওয়া ওয়াজিব। এর অর্থ হলো, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এটি আবশ্যক যে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কালামে এবং সাহাবী, তাবিঈ ও তাবি-তাবিঈগণ যার ওপর ছিলেন তাতে সন্তুষ্ট থাকবে।

আল্লাহর প্রশংসায় এই সবকিছুই সংরক্ষিত। আল্লাহর কিতাব আমাদের সামনে বিদ্যমান এবং মুস্তাফার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ সংরক্ষিত ও বর্ণিত অবস্থায় আছে। আমরা তার মধ্য থেকে সহীহ ও যঈফ কোনটি তা জানি, আমরা জানি কোনটি প্রমাণিত আর কোনটি প্রমাণিত নয়। এমনকি সাহাবীগণ যা উল্লেখ করেছেন ও বলেছেন, তাবিঈগণ যা বলেছেন বা তাবি-তাবিঈগণ এবং তাঁদের পরবর্তী হিদায়াতের ইমামগণ যা বলেছেন—তাও সংরক্ষিত। তাঁদের এই সকল বক্তব্য লিপিবদ্ধ ও সংকলিত রয়েছে, তাই সেদিকেই ফিরে যাওয়া ওয়াজিব এবং তা গ্রহণ করা আবশ্যক।

এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পদ্ধতি যে, তিনি মাসআলাগুলোকে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে দেন, যা মূলত মুসলিমদের মূল ভিত্তি। আর তা হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যা বলেছেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বলেছেন এবং উম্মতের সালাফগণ যার ওপর ছিলেন। এগুলোই ইসলামের মূলনীতি। সুতরাং এগুলোকে বর্জন করা, ত্যাগ করা এবং এর বদলে মানুষের রায় (মত), কথা, দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার অনুপ্রবেশ ঘটানো জায়েয নয়। এটি এমন বিষয় যা কোনো মুসলিম তার দ্বীনের ক্ষেত্রে গ্রহণ করবে না বা সন্তুষ্ট হবে না। কেননা, সে কীভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথা এবং উম্মতের সালাফগণের আদর্শের পরিবর্তে 'বিদ্বানরা বলেছেন', 'জ্ঞানীরা বলেছেন', 'বুদ্ধিমানরা বলেছেন' কিংবা গ্রিকদের যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনকে পছন্দ করে নিতে পারে? এটি অগ্রহণযোগ্য বিষয়।

গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনামূলক মাসআলাগুলোতে প্রবেশের পূর্বে মৌলিক নীতিগত বিষয়গুলোকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
على اعتبار أن الخلاف في هذا الباب مع المخالفين من المعطلة كان أساساً في تحديد مصادر التلقي في هذا الباب حيث جعل المعطلة الأصل لديهم هو العقل دون الرجوع إلى الكتاب والسنة وكلام السلف الصالح، ولذلك هذه كتب أهل الكلام كالأشاعرة المتأخرين في الاعتقاد-على سبيل المثال-إذا نظر الناظر فيها في باب التوحيد وباب النبوات، لا يجد لهؤلاء تأصيلاً أو تقريراً من الكتاب أو من السنة أو من كلام السلف الصالح في هذين البابين، فهم لا يذكرون آية أو حديثاً أو قولاً للسلف الصالح، إنما إذا تصفحت مثل هذه الكتب ستجد كلاماً مركباً من المنطق والفلسفة وغاية أدلتهم أن يقولوا قال الفضلاء وقال الحكماء وقال العقلاء.

بل إن الأمر يصل إلى أكبر من ذلك حتى إنهم قدموا أقوال هؤلاء على كلام الله عز وجل وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم،

فأهل التعطيل جعلوا أقوال البشر أو ما يسمونه "العقل" وحده هو أصل علمهم، فالشبه العقلية هي الأصول الكلية الأولية عندهم، وهي التي تثبت وتنفي، ثم يعرضون الكتاب والسنة على تلك الشبه العقلية، فإن وافقتها قبلت اعتضادًا لا اعتمادًا، وإن عارضتها ردت تلك النصوص الشرعية وطرحت، وفي هذا يقول قائلهم: (كل ما ورد السمع به ينظر فإن كان العقل مجوزا له وجب التصديق به، وأما ما قضى العقل باستحالته فيجب فيه تأويل ما ورد السمع به، ولا يتصور أن يشمل السمع على قاطع مخالف للمعقول. وظواهر أحاديث التشبيه -يعني بها أحاديث الصفات-أكثرها غير صحيحة، والصحيح منها ليس بقاطع، بل هو قابل للتأويل) 1(1).

وقال: "كل ما دل العقل فيه على أحد الجانبين فليس للتعارض فيه مجال، إذ الأدلة العقلية يستعجل نسخها وتكاذبها، فإن ورد دليل سمعي على خلاف العقل، فإما أن لا يكون متواترًا فيعلم أنه غير صحيح، وإما أن يكون متواترًا فيكون مؤولاً ولا يكون متعارضًا"(2)

فهذا النقل يبين لك مدى تقديم هؤلاء لشبههم العقلية وتعصبهم لها، وكيف أنهم يجعلونها هي الأصول والسمع معروض عليها، فما أجازته عقولهم قبلوه، وما لم تجزه عقولهم شككوا فيه وانتقصوه، ومن ثم سعوا في تأويله وتحريفه، ومن يلقي

--------------------------------------------

(1) الاقتصاد في الاعتقاد لأبي حامد الغزالي ص 132 - 133.

(2) المستصفى 2/ 137 - 138
এই বিবেচনায় যে, এই অধ্যায়ে আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী তথা মুআত্তিলাদের সাথে বিরোধের মূল ভিত্তি ছিল শরয়ী জ্ঞান অর্জনের উৎস নির্ধারণের ক্ষেত্রে; যেখানে মুআত্তিলারা পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং পূর্বসূরি পুণ্যবানদের (সালাফে সালেহীন) বক্তব্যের দিকে না ফিরে বরং নিজেদের বিবেক-বুদ্ধিকেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। আর এই কারণেই আকিদার ক্ষেত্রে কালামশাস্ত্রবিদদের কিতাবসমূহ—উদাহরণস্বরূপ পরবর্তী যুগের আশআরিদের গ্রন্থসমূহ—যখন কোনো পাঠক তাওহীদ এবং নবুওয়াতের অধ্যায়ে দেখেন, তখন তিনি সেগুলোতে পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ কিংবা পূর্বসূরি পুণ্যবানদের বক্তব্য থেকে কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি বা সিদ্ধান্ত খুঁজে পান না। তারা সেখানে কোনো আয়াত, হাদিস কিংবা পূর্বসূরিদের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করেন না। বরং আপনি যদি এই জাতীয় কিতাবগুলো উল্টে দেখেন, তবে যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের সমন্বয়ে গঠিত কথাবার্তা দেখতে পাবেন। তাদের দলিলের চূড়ান্ত সীমা হলো এই কথা বলা যে, ‘সুধীগণ বলেছেন’, ‘প্রাজ্ঞগণ বলেছেন’ এবং ‘বিবেকবানগণ বলেছেন’।

বরং বিষয়টি এর চেয়েও গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে, এমনকি তারা এই ব্যক্তিদের কথাকে মহান আল্লাহর বাণী এবং তাঁর রাসূলের (সা.) বাণীর ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছে।

সুতরাং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারীরা মানুষের বক্তব্য কিংবা যেটিকে তারা "আকল" (বিবেক) বলে অভিহিত করে, সেটিকে তাদের ইলমের মূল ভিত্তি বানিয়েছে। ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক সংশয়গুলোই তাদের নিকট প্রাথমিক সামগ্রিক মূলনীতি হিসেবে গণ্য হয়; যা কোনো কিছু সাব্যস্ত করে কিংবা নাকচ করে। অতঃপর তারা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহকে সেই সকল বুদ্ধিবৃত্তিক সংশয়ের সামনে উপস্থাপন করে। যদি তা বুদ্ধির অনুকূলে হয়, তবে তারা তা সমর্থক হিসেবে গ্রহণ করে, মূল ভিত্তি হিসেবে নয়। আর যদি তা বুদ্ধির বিরোধী হয়, তবে সেই শরয়ী পাঠগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে এবং ছুড়ে ফেলে দেয়। এই বিষয়ে তাদের একজন প্রবক্তা বলেন: (শ্রুতির মাধ্যমে যা কিছু সাব্যস্ত হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে; যদি বিবেক সেটি সম্ভব মনে করে তবে তা সত্য বলে মেনে নেওয়া আবশ্যক। আর বিবেক যেটিকে অসম্ভব বলে রায় দেয়, সেক্ষেত্রে শ্রুত বিষয়টিকে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে। আর এটি কল্পনা করাও সম্ভব নয় যে, শ্রুত দলিলের মধ্যে এমন কোনো অকাট্য বিষয় থাকবে যা বিবেকের পরিপন্থী। সাদৃশ্য স্থাপনের হাদিসসমূহের বাহ্যিক রূপ—যার দ্বারা তিনি গুণাবলির হাদিসসমূহকে বুঝিয়েছেন—তার অধিকাংশই সহিহ নয়, আর যা সহিহ তা অকাট্য নয়, বরং তা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে) ১(১)।

তিনি আরও বলেন: "বিবেক যে সকল ক্ষেত্রে কোনো এক দিককে সুনির্দিষ্ট করে দেয়, সেখানে বিরোধের কোনো অবকাশ নেই। কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলসমূহের বাতিল হওয়া বা পরস্পর বিরোধী হওয়া দ্রুতই নাকচ হয়ে যায়। সুতরাং যদি বিবেকের বিপরীতে কোনো শ্রুত দলিল আসে, তবে হয় সেটি মুতাওয়াতির হবে না, যার ফলে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে সেটি সহিহ নয়; অথবা সেটি মুতাওয়াতির হবে, সেক্ষেত্রে সেটির ব্যাখ্যা করতে হবে এবং তখন আর সেটি বিবেকের বিরোধী থাকবে না"(২)

এই উদ্ধৃতিটি আপনার কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে, এই লোকেরা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সংশয়গুলোকে কতটা প্রাধান্য দেয় এবং সেগুলোর প্রতি কতটা অন্ধ অনুরাগী। আর কীভাবে তারা এগুলোকে মূলনীতি বানায় এবং ওহীর বর্ণনাকে সেটির অধীনস্থ করে। ফলে তাদের বিবেক যা অনুমোদন করে তারা তা গ্রহণ করে, আর যা তাদের বিবেক অনুমোদন করে না সেটিকে তারা সংশয়ের চোখে দেখে এবং অবজ্ঞা করে। অতঃপর তারা সেটির ব্যাখ্যা ও বিকৃতি সাধনে সচেষ্ট হয়। এবং যে ব্যক্তি

--------------------------------------------

(১) আবু হামিদ আল-গাজ্জালির আল-ইকতিসাদ ফিল ইতিকাদ, পৃষ্ঠা ১৩২ - ১৩৩।

(২) আল-মুস্তাসফা ২/ ১৩৭ - ১৩৮
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
نظرةً على كتب الأشاعرة مثلاً يجد أن القوم يقسمون أبواب العقيدة إلى إلهيات- ونبوَّات- وسمعيات، وهم في باب الإلهيات والنبوات لا يقبلون نصوص الكتاب والسنة، ولذلك لن تجد في هذين البابين إلا الشبه العقلية المركبة وفق القواعد المنطقية، ويا عجبا أنأخذ ديننا من كلام الله ورسوله، أم من ملاحدة اليونان وتلاميذهم!

وأما باب السمعيات-أي البعث والحشر والجنة والنار والوعد والوعيد-فهم يقبلون فيه النصوص الشرعية، وبالتالي سموا هذا الباب بالسمعيات. في مقابل باب الإلهيات والنبوات، إذ إنهم يعتمدون فيهما على العقليات، وهؤلاء شابهوا حال من قال الله تعالى فيهم: {أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلاَّ خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} 2.

ومن ذلك مثلاً هناك مسألة يطرحها بعض الأشاعرة ويطرحها غيرهم فيقولون: الدلائل النقلية، ويقصدون بها الكتاب والسنة، هل تفيد اليقين؟(1) بمعنى هل هي قاطعة الدلالة؟

فالجواب عندهم: لا، ويبدؤون تعليلاتهم بعد ذلك بقولهم: قيل: لا،

أولاً: لتوقفه على العلم بالوضع والإرادة، أي بما أنه كلامٌ لفظي فإنه لابد عند ذلك من النظر في وضع اللغة، وأصل اللغة ومراد المتكلم.

والأول: الذي هو وضع اللغة قالوا: يثبت بنقل اللغة والنحو والصرف، يعني تعرف أن اللغة ينقلها علماء اللغة، ويتناقلها الناس، وكذلك علم النحو والصرف وأصولها، أي أصول هذه العلوم تثبت برواية الآحاد وفروعها بالأقيسة وكلاهما ظنيان.

وكل هذا كلام فلسفي لنقضٌ وهدمٌ لكلام الله عز وجل وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم بأرائهم وعقولهم.

والثاني: الذي هو الإرادة، أي: مراد المتكلم يتوقف على أمورٍ ذكروها وهي: عدم النقل، والاشتراك، والمجاز، والإضمار، والتقسيط، والتقديم، والتأخير، والكل لجوازه لا يجزم بانتفائه بل غايته الظن".

--------------------------------------------

(1) انظر المواقف لعضد الدين الإيجي ص 40
উদাহরণস্বরূপ আশআরিদের কিতাবসমূহের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, তারা আকিদার অধ্যায়গুলোকে ইলাহিয়্যাত (আল্লাহ সংক্রান্ত), নবুওয়াত (নবী সংক্রান্ত) এবং সামঈয়্যাত (পরকাল সংক্রান্ত)—এই তিন ভাগে ভাগ করে। তারা ইলাহিয়্যাত এবং নবুওয়াত অধ্যায়ে কিতাব ও সুন্নাহর দলিলসমূহ গ্রহণ করে না। এই কারণে আপনি এই দুই অধ্যায়ে যুক্তিবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী সাজানো জটিল বুদ্ধিবৃত্তিক সংশয় ছাড়া আর কিছুই পাবেন না। বড়ই আশ্চর্য! আমরা কি আমাদের দ্বীন আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূলের বাণী থেকে গ্রহণ করব, নাকি গ্রিক নাস্তিক এবং তাদের শিষ্যদের কথা থেকে!

আর সামঈয়্যাত অধ্যায়—অর্থাৎ পুনরুত্থান, হাশর, জান্নাত, জাহান্নাম এবং পরকালের ওয়াদা ও ধমকি—এই ক্ষেত্রে তারা শরয়ি দলিলসমূহ গ্রহণ করে। ফলে তারা এই অধ্যায়কে সামঈয়্যাত (শ্রুত বিষয়সমূহ) বলে নামকরণ করেছে। ইলাহিয়্যাত ও নবুওয়াত অধ্যায়ের বিপরীতে তারা এগুলোতে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করে। তারা তাদের মতোই হয়ে গেছে যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখো আর কিছু অংশকে অস্বীকার করো? তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন তাদের কঠিনতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফেল নন।} ২।

এরই একটি উদাহরণ হলো, কিছু আশআরি এবং অন্যরাও একটি মাসআলা উত্থাপন করেন। তারা বলেন: নকলি বা শ্রুত দলিলসমূহ, যা দ্বারা তারা কিতাব ও সুন্নাহ উদ্দেশ্য গ্রহণ করেন—তা কি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে?(১) অর্থাৎ এগুলোর নির্দেশিকা কি অকাট্য?

তাদের নিকট উত্তর হলো: না। এরপর তারা এই যুক্তি দিতে শুরু করেন যে: বলা হয়েছে, না;

প্রথমত: কারণ এটি শব্দপ্রয়োগ (ওয়াজ) এবং বক্তার উদ্দেশ্য (ইরাদা) জানার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ যেহেতু এটি শাব্দিক কথা, তাই এর জন্য ভাষার প্রয়োগরীতি, ভাষার মূল উৎস এবং বক্তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুসন্ধান করা আবশ্যক।

প্রথম বিষয়টি—যা হলো ভাষার প্রয়োগরীতি—তারা বলেন: এটি ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ) এবং সরফ (শব্দতত্ত্ব)-এর বর্ণনার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়। অর্থাৎ আপনি জানেন যে ভাষা ভাষাবিদগণ বর্ণনা করেন এবং মানুষ তা পরস্পর বর্ণনা করে। একইভাবে নাহু ও সরফের জ্ঞান এবং সেগুলোর মূলনীতিসমূহও ‘আহাদ’ (একক ব্যক্তির) বর্ণনার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় এবং এর শাখা-প্রশাখাসমূহ কিয়াসের (অনুমান) মাধ্যমে। আর এ উভয় পদ্ধতিই কেবল ধারণানির্ভর (যন)।

আর এই সব কিছু হলো দর্শনের কথা, যা দিয়ে তারা নিজেদের মতামত ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীকে খণ্ডন ও ধ্বংস করতে চায়।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো ইরাদা বা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ বক্তার উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে যা তারা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো: অর্থের পরিবর্তন না হওয়া, একাধিক অর্থের সম্ভাবনা, রূপক হওয়া, ঊহ্য থাকা, বণ্টন হওয়া, শব্দ আগে আসা বা পরে আসা। এগুলোর প্রত্যেকটির সম্ভাবনা থাকার কারণে এগুলোর অনুপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না, বরং এর চূড়ান্ত পর্যায় হলো ধারণা মাত্র।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদুদুদ্দিন আল-ঈজি রচিত ‘আল-মাওয়াকিফ’, পৃষ্ঠা ৪০।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فهو يشكك في النصوص الشرعية، ويقول: "إن غايتها الظن"، ثم بعد ذلك يقول: "ثم بعد الأمرين"، أي الوضع والإرادة،

ثانياً: لابد من العلم بعدم المعارض العقلي، يعني إذا جاء النص وجاء المنطق الذي وضعوه وركبوه فعارض النص، فعند ذلك تحدث مشكلة، فعلى سبيل المثال جاء نصٌ يقول: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} ويثبت الاستواء، وفي عقولهم أن الله تعالى لا يوصف بتلك الصفات، فهنا يقولون: "ما بعد الأمرين لابد من العلم بعدم المعارض العقلي، إذ لو وجد المعارض العقلي لقدم على الدليل النقلي قطعاً"، بمعنى أن المسألة ليس فيها تردد عندهم بل يجب قطعاً أن تقدم الدليل العقلي على الدليل النقلي.

وانظر وتأمل في كلامهم فيقول قائلهم هنا مبرراً ومعللاً هذا الحكم وفق أربع فرضيات هي:

الفرضية الأولى: إذ لا يمكن العمل بهما، فإذا كان النقل يقول نعم، والعقل يقول لا، فلا يمكن أن نعمل بنعم ولا في وقتٍ واحد، فتقول استوى ولم يستو،

الفرضية الثانية: ولا يمكن العمل بنقيضهما، يعني لا يمكن أن تنفي الاثنين هذا يقول نعم وهذا يقول لا تقول لا نعم ولا لا.

الفرضية الثالثة: أن تقديم النقل على العقل إبطالٌ للأصل بالفرع، عندهم أن العقل هو الأصل هو الأساس الذي يجب التحاكم إليه، فإن قضى العقل بشيء فيجب الأخذ به، فأنت لو قدمت النقل على العقل فإنك أبطلت النقل، لأن النقل عندهم: لا يثبت إلا بالعقل، فعندهم أن النقل فرع والعقل أصل وهذه قضية واسعة لا يمكن أن ندخل فيها ونتوسع فيها بعمق.

الفرضية الرابعة: أن يقدم العقل على النقل باعتباره هو الأصل على حد قولهم.

والشاهد من هذا الكلام: أن القوم قدموا عقولهم على كلام الله عز وجل وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم.

فانظر إلى كلام شيخ الإسلام وانظر إلى كلامهم، فكلام شيخ الإسلام يقول: "قولنا فيها ما قاله الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار، ".

وهؤلاء يقولون: يجب أن نعود في الأمر إلى ما جاءت به العقول ونترك المنقول، وأنت إذا تأملت كتب المتأخرين من الأشاعرة وأمثالهم في باب الإلهيات والنبوات لا تجد قال الله وقال رسوله.
তিনি শরয়ী দলিলসমূহের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন এবং বলেন: "এগুলোর চরম সীমা হলো কেবল ধারণা (প্রসূত জ্ঞান)", অতঃপর তিনি বলেন: "অতঃপর দুটি বিষয়ের পর", অর্থাৎ শব্দ গঠন এবং উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয়ত: কোনো বুদ্ধিগত বিরোধ না থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ যখন কোনো বর্ণনা (নাস) আসে এবং তাদের তৈরিকৃত ও সুবিন্যস্ত যুক্তি সেই বর্ণনার বিরোধিতা করে, তখন সেখানে সমস্যা সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি বর্ণনা এসেছে: "দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন" এবং এটি আল্লাহর উঠে যাওয়াকে সাব্যস্ত করে। কিন্তু তাদের বুদ্ধিতে আল্লাহ তাআলা এই ধরণের গুণে গুণান্বিত হতে পারেন না। এখানে তারা বলে: "ঐ দুটি বিষয়ের পর কোনো বুদ্ধিগত বিরোধ না থাকার বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক, কারণ যদি বুদ্ধিগত বিরোধ পাওয়া যায় তবে বর্ণনাগত প্রমাণের ওপর অবশ্যই বুদ্ধিগত প্রমাণকে প্রাধান্য দিতে হবে।" এর অর্থ হলো, তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই, বরং বর্ণনাগত প্রমাণের ওপর বুদ্ধিগত প্রমাণকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে।

তাদের বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করুন এবং চিন্তা করুন। তাদের একজন প্রবক্তা এখানে চারটি অনুমিতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তের কারণ ও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলছেন:

প্রথম অনুমিতি: যেহেতু উভয়টির ওপর আমল করা সম্ভব নয়। যদি বর্ণনা বলে 'হ্যাঁ' এবং বুদ্ধি বলে 'না', তবে একই সময়ে 'হ্যাঁ' এবং 'না' উভয়টির ওপর আমল করা সম্ভব নয়। সুতরাং আপনি বলবেন তিনি উঠেছেন আবার তিনি উঠেননি—এমনটি হতে পারে না।

দ্বিতীয় অনুমিতি: তাদের বিপরীত দুটি বিষয়ের ওপরও আমল করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ আপনি উভয়টিকে অস্বীকার করতে পারবেন না। এটি বলছে 'হ্যাঁ' এবং ওটি বলছে 'না'—এমতাবস্থায় আপনি বলতে পারবেন না যে 'হ্যাঁ'-ও নয় আবার 'না'-ও নয়।

তৃতীয় অনুমিতি: বুদ্ধির ওপর বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়া হলো শাখার মাধ্যমে মূলকে বাতিল করা। তাদের মতে বুদ্ধিই হলো মূল এবং ভিত্তি যার কাছে বিচারপ্রার্থনা করতে হবে। বুদ্ধি যদি কোনো ফয়সালা দেয় তবে তা গ্রহণ করা আবশ্যক। সুতরাং আপনি যদি বুদ্ধির ওপর বর্ণনাকে প্রাধান্য দেন তবে আপনি প্রকারান্তরে বর্ণনাকেই বাতিল করে দিলেন। কারণ তাদের নিকট: বুদ্ধির মাধ্যমেই কেবল বর্ণনা সাব্যস্ত হয়। তাই তাদের কাছে বর্ণনা হলো শাখা আর বুদ্ধি হলো মূল। এটি একটি বিস্তৃত বিষয় যার গভীরে প্রবেশ করা এবং বিস্তারিত আলোচনা করা এখানে সম্ভব নয়।

চতুর্থ অনুমিতি: বুদ্ধিকে বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে, কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী বুদ্ধিই হলো মূল।

এই বক্তব্যের সারকথা হলো: এই সম্প্রদায় আল্লাহ তাআলার কালাম এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর ওপর নিজেদের বুদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়েছে।

শাইখুল ইসলামের বক্তব্যের দিকে তাকান এবং তাদের বক্তব্যের সাথে তুলনা করুন। শাইখুল ইসলাম বলেন: "এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো তা-ই যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী ছিলেন তারা যা বলেছেন।"

আর তারা বলে: এই বিষয়ে আমাদের বুদ্ধির কাছে ফিরে যাওয়া এবং বর্ণিত দলিল বর্জন করা আবশ্যক। আপনি যদি ইলাহিয়াত (ঈশ্বরতত্ত্ব) ও নবুয়ত অধ্যায়ে পরবর্তী যুগের আশায়েরা এবং তাদের সমমনাদের কিতাবসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে সেখানে 'আল্লাহ বলেছেন' এবং 'রাসূল বলেছেন' এমন দলিল পাবেন না।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فهذا أول كتاب الإرشاد للجويني، في أول مسألة يقررها يقول: "بابٌ في أحكام النظر" أي النظر في وجود الله، فأول مسألة يقررها يقول: "أول ما يجب على العاقل البالغ باستكمال سن البلوغ أو الحلم شرعاً القصد إلى النظر الصحيح المفضي إلى العلم بحدث العالم"(1) وهذه عبارات كلامية يصعب فهمها فلو قرأت من هذا عشرات الصفحات لابد أن تكون قد درست المنطق والفلسفة لكي تستطيع أن تفهم.

لكن مراده بهذا: أنه يجب على الإنسان إذا بلغ سن البلوغ أن ينظر في وجود الله، وعندهم أن هذا النظر لابد أن يسبقه شك أولاً بوجود الله، فأين الدليل من كلام الله وكلام رسوله الذي يوجب على المسلم أن ينظر بعد بلوغه سن التكليف.

والسؤال الذي يفرض نفسه لكل من قد تجاوز سن البلوغ، هل قام بهذا الواجب الذي أوجبه الجويني، لأنه ليس في كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم ما يوجب ذلك، فما يقرره ليس مبنياً على الكتاب والسنة بل على الفلسفة والمنطق.

ولذلك لا تجد مدرسة أشعرية إلا والفلسفة والمنطق يُدرسان فيها؛ لأنهما هما السبيلان الوحيدان لفهم مثل هذه الكتب، ولا تجد اعتناءً ولا اهتماماً بالكتاب ولا بالسنة في هذه المسائل من مسائل الدين وهذا لا يعني التعميم فالأشاعرة على سبيل المثال يأخذون في باب السمعيات كما يسمونه أي ما يتعلق باليوم الآخر وأشراط الساعة والوعد والوعيد ونحوها بكلام الله وكلام رسوله ولذلك سمو هذا الباب باب السمعيات وكذلك الشأن في الأمور العملية المتعلقة بالعبادات والمعاملات يأخذون بالكتاب والسنة دون باب الإلهيات والنبوات بحسب تقسيمهم لأبواب الاعتقاد.

والسؤال الذي يفرض نفسه هل يقبل أن نأخذ أحكام الصلاة والصيام والزكاة والحج والمعاملات وغير ذلك والآداب والأخلاق واليوم الآخر وأشراط الساعة من الكتاب والسنة وتترك أبواب الإلهيات والنبوات؟ هذا أمر غير مقبول.

لذلك شيخ الإسلام هنا يريد أن يقرر هذه المسألة، وأن الذي يجب على الإنسان أن يرجع إليه ما دام أن الاختلاف قد حصل ووقع إنما هو الرجوع للكتاب والسنة وفهم سلف الأمة، فذلك الذي يحتكم إليه في حال وقوع النزاع بين هؤلاء جميعاً.

--------------------------------------------

(1) الإرشاد للجويني ص 11
এটি জুওয়ায়নীর 'আল-ইরশাদ' কিতাবের শুরু। তিনি প্রথম যে মাসআলাটি নির্ধারণ করেছেন সেখানে বলেন: "নজরের (চিন্তা-গবেষণা) বিধানাবলি বিষয়ক অধ্যায়", অর্থাৎ আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা। তিনি প্রথম যে বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন তা হলো: "শরিয়ত অনুযায়ী সাবালগ বা স্বপ্নদোষের মাধ্যমে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া বুদ্ধিমান ব্যক্তির ওপর সর্বপ্রথম যা ওয়াজিব, তা হলো এমন সঠিক নজরের (চিন্তা-গবেষণা) সংকল্প করা যা বিশ্বজগতের সৃষ্টিতত্ত্ব (হাদাস) সংক্রান্ত জ্ঞানের দিকে পরিচালিত করে।"(১) এগুলো ইলমুল কালামের পরিভাষা যা বোঝা কঠিন। আপনি যদি এ থেকে কয়েক ডজন পৃষ্ঠাও পড়েন, তবু এগুলো বোঝার জন্য আপনাকে অবশ্যই যুক্তিবিদ্যা ও দর্শন অধ্যয়ন করতে হবে।

কিন্তু এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো: কোনো ব্যক্তি যখন বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাবে, তখন তার ওপর আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা করা ওয়াজিব। তাদের মতে, এই নজরের আগে অবশ্যই আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে প্রথমে সন্দেহ থাকতে হবে। অথচ আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূলের কালামে এমন দলিল কোথায় আছে, যা একজন মুসলিমের ওপর তার শরিয়তি দায়িত্বপ্রাপ্তির বয়সে পৌঁছানোর পর এমন চিন্তা-গবেষণা করা ওয়াজিব করে?

যে কেউ বয়ঃসন্ধি পার করেছে তার মনে এই প্রশ্নটি আসা স্বাভাবিক যে, সে কি জুওয়ায়নী কর্তৃক আরোপিত এই ওয়াজিবটি পালন করেছে? কারণ আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে এমন কিছুই নেই যা একে ওয়াজিব করে। সুতরাং তিনি যা নির্ধারণ করেছেন তা কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার ওপর ভিত্তি করে।

আর একারণেই আপনি এমন কোনো আশআরি মাদ্রাসা পাবেন না যেখানে দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা পড়ানো হয় না; কারণ এই ধরনের কিতাব বোঝার জন্য এই দুটিই একমাত্র পথ। দ্বীনের এই মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ বা গুরুত্ব লক্ষ্য করা যায় না। তবে এর মানে এই নয় যে সব ক্ষেত্রেই এমন; উদাহরণস্বরূপ, আশআরিগণ 'সামইয়াত' (যা কেবল শ্রুতির ওপর নির্ভরশীল) অধ্যায়ে—অর্থাৎ পরকাল, কিয়ামতের আলামত, জান্নাতের ওয়াদা ও জাহান্নামের ধমকি ইত্যাদি বিষয়ে—আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূলের বাণী গ্রহণ করে থাকেন। একারণেই তারা এই অধ্যায়ের নাম দিয়েছেন 'সামইয়াত'। অনুরূপভাবে ইবাদত ও মুয়ামালাত (লেনদেন) সংক্রান্ত ব্যবহারিক বিষয়গুলোতে তারা কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণ করেন; কেবল আকিদার পরিচ্ছেদগুলোর ক্ষেত্রে তাদের করা বিভাজন অনুযায়ী 'ইলাহিয়াত' (উলুহিয়াত সংক্রান্ত) ও 'নুবুওয়াত' (নবুয়ত সংক্রান্ত) অধ্যায়গুলো ছাড়া।

প্রশ্ন হলো, এটি কি গ্রহণযোগ্য হতে পারে যে আমরা নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ, লেনদেন, আদব-আখলাক, পরকাল এবং কিয়ামতের আলামত সংক্রান্ত বিধানগুলো কিতাব ও সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করব, আর ইলাহিয়াত ও নুবুওয়াতের অধ্যায়গুলো বর্জন করব? এটি একটি অগ্রহণযোগ্য বিষয়।

এজন্য শায়খুল ইসলাম এখানে এই মাসআলাটি সুসাব্যস্ত করতে চেয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত মতবিরোধ বিদ্যমান থাকবে ততক্ষণ মানুষের জন্য যাঁর দিকে ফিরে যাওয়া ওয়াজিব তা হলো কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের (পূর্বসূরিদের) বুঝ। এদের সবার মাঝে বিবাদ দেখা দিলে সেটিই হবে ফয়সালাকারী মানদণ্ড।

--------------------------------------------

(১) আল-ইরশাদ লিজ-জুওয়ায়নী, পৃষ্ঠা ১১
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أفلا نرضى بكتاب الله عز وجل حكماً ألا نرضى بكلام رسوله صلى الله عليه وسلم حكماً؟ وهذا أمرٌ لله تعالى أمرنا به فقال سبحانه: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ}، وهذا أمرٌ ليس في باب العقيدة وليس في باب الأسماء والصفات فقط، بل في جميع مسائل الدين، أوليس النبي صلى الله عليه وسلم قد أكمل هذا الدين وبلغه وتركنا كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لَا يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ»(1).

فإذاً لا يحتاج هذا الدين إلى من يزيد فيه ولا إلى من ينقص فيه ولا إلى من يغير أو يبدل فيه أبداً فهو دينٌ كاملٌ لكن الخلل يأتي من الناس، إما لجهلهم أو لتركهم أو لبعدهم عن الكتاب والسنة.

فمسائل الدين، الواجب على الإنسان أن ينظر فيها بهدي كلام الله تعالى وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم وكلام السلف الصالح، وينظر ماذا قالوا في هذه المسائل، فإذاً قول المصنف رحمه الله: "قولنا فيه ما قال الله ورسوله صلى الله عليه وسلم والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين ابتعوهم بإحسان وما قاله أئمة الهدى بعد هؤلاء الذين أجمع المسلمون على هدايتهم ودرايتهم. "

فهذا هو ما أمرٌ الله تعالى وأخبر به، ألم يقل سبحانه وتعالى: {ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ} [البقرة: 2].

ألم يقل سبحانه وتعالى: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ}. ألم يقل عن رسوله صلى الله عليه وسلم: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الشورى: 52].

ألم يقل: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} [الجمعة: 2].

فنصوص الكتاب والسنة، نطقت به ودعت إليه، فعلى الإنسان أن يرجع في مسائل الدين إلى كلام الله تعالى وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم.

والله سبحانه وتعالى زكى الصحابة، ولذلك قال: {وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ}، فانظر إلى قوله {اتَّبَعُوهُمْ}، أي ساروا على نهجهم وهديهم، فلو كان نهجهم نهجاً منحرفاً أيقول اتبعوهم؟ أيأمر باتباعهم؟

فإذاً ما يقوله شيخ الإسلام هنا ليس رأياً من عنده، وإنما هو أمرٌ دعت إليه النصوص.

--------------------------------------------

(1) انظر سنن ابن ماجه برقم (43)، والإمام أحمد في المسند (مُسْنَدُ الشَّامِيِّينَ) (17142)، قال الشيخ الالباني في صحيح وضعيف سنن ابن ماجه الجزء الأول، صفحة (115): صحيح.
আমরা কি মহান আল্লাহর কিতাবকে ফয়সালাকারী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হব না? আমরা কি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাকে ফয়সালাকারী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হব না? এটি এমন এক বিষয় যা আল্লাহ তাআলা আমাদের আদেশ করেছেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "অতঃপর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও"। আর এটি কেবল আকীদার বিষয় কিংবা কেবল নাম ও গুণাবলির (আসমা ওয়া সিফাত) বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়, বরং দ্বীনের সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এই দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেননি এবং তা পৌঁছে দেননি? তিনি কি আমাদের সেভাবে রেখে যাননি যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গিয়েছি, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ আমার পর এই পথ থেকে বিচ্যুত হবে না"(১).

সুতরাং এই দ্বীনের জন্য এমন কারোর প্রয়োজন নেই যে এতে কিছু বৃদ্ধি করবে, না এমন কারোর যে এর থেকে কিছু কমিয়ে দেবে এবং না এমন কারোর যে একে পরিবর্তন বা পরিমার্জন করবে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীন। তবে বিচ্যুতি আসে মানুষের পক্ষ থেকে—হয় তাদের অজ্ঞতার কারণে, অথবা দ্বীন ছেড়ে দেওয়ার কারণে কিংবা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে।

তাই দ্বীনি মাসয়ালাসমূহের ক্ষেত্রে মানুষের ওপর ওয়াজিব হলো সে যেন আল্লাহ তাআলার কালাম, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এবং সালাফে সালেহীনের নির্দেশনার আলোকে তা বিবেচনা করে; সে যেন দেখে তারা এই মাসয়ালাগুলোতে কী বলেছেন। অতএব গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য: "এই বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম ও অগ্রগামী তারা যা বলেছেন এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন তারা যা বলেছেন, আর হিদায়াতের ইমামগণ তাদের পর যা বলেছেন যাদের হিদায়াত ও বিচক্ষণতার ওপর মুসলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন।"

এটিই হলো সেই বিষয় যার আদেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন এবং এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ কি বলেননি: "এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক।" [আল-বাকারাহ: ২]।

তিনি কি বলেননি: "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথের দিকে পরিচালিত করে যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।" তিনি কি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেননি: "এবং নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে হিদায়াত দিচ্ছেন (পরিচালিত করছেন)।" [আশ-শুরা: ৫২]।

তিনি কি বলেননি: "তিনিই সেই সত্তা যিনি উম্মীদের (নিরক্ষরদের) মাঝে তাদের মধ্য হতেই একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিল।" [আল-জুমুআহ: ২]।

সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহর নসসমূহ (দলিলসমূহ) এ কথাই ব্যক্ত করেছে এবং এর প্রতিই আহ্বান জানিয়েছে। অতএব মানুষের কর্তব্য হলো দ্বীনের মাসয়ালাগুলোতে আল্লাহ তাআলার কালাম ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর দিকে ফিরে যাওয়া।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সাহাবায়ে কেরামের প্রশংসা করেছেন ও তাদের গ্রহণযোগ্যতা বর্ণনা করেছেন, তাই তিনি বলেছেন: "আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম ও অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে।" এখানে লক্ষ্য করুন তাঁর বাণী "তাদের অনুসরণ করেছে" এর প্রতি; অর্থাৎ তারা তাদের পথ ও নির্দেশনার ওপর চলেছে। যদি তাদের পথ বিচ্যুত হতো, তবে কি তিনি বলতেন "তাদের অনুসরণ করো"? তিনি কি তাদের অনুসরণের আদেশ দিতেন?

সুতরাং শায়খুল ইসলাম এখানে যা বলছেন তা তাঁর নিজস্ব কোনো মত নয়, বরং এটি এমন এক বিষয় যার দিকে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ আহ্বান জানিয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর ৪৩; ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ (মুসনাদুশ শামিয়্যীন), ১৭১৪২; শায়খ আলবানি 'সহীহ ওয়া যঈফ সুনান ইবনে মাজাহ' এর প্রথম খণ্ড, ১১৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: সহীহ।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
والنبي صلى الله عليه وسلم قال: «عَليْكُمْ بسُنَّتِي وسُنَّةِ الخُلَفاءِ الرَّاشِدِينَ المَهْدِيِيِّنَ عَضُّوا عَلَيْهَا بالنَّواجِذِ»(1).

وقال صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ أُمَّتِي الْقَرْنُ الَّذِينَ يَلُونِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ»(2).

فإذاً شهد لهم النبي صلى الله عليه وسلم بالخيرية وشهد لهم بالفضل وأمر بالسير على نهجهم والتمسك بهديهم.

--------------------------------------------

(1) انظر سنن أبي داود برقم (4607)، والترمذي (2676)، وابن ماجه (43)، والإمام أحمد في المسند مُسْنَدُ الشَّامِيِّينَ (17142)، والدارمي (96)، قال الشيخ الالباني في صحيح الجامع الجزء الثاني صفحة (805): صحيح.

(2) انظر صحيح البخاري كِتَابُ الشَّهَادَاتِ، بَابٌ: لَا يَشْهَدُ عَلَى شَهَادَةِ جَوْرٍ إِذَا أُشْهِدَ برقم (2652)، ومسلم كتاب فَضَائِلِ الصَّحَابَةِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، بَابُ فَضْلِ الصَّحَابَةِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ (2533)، والترمذي (3859)، وابن ماجه (2362)، والإمام أحمد في المسند مُسْنَدُ الْمُكْثِرِينَ مِنَ الصَّحَابَةِ (3594).
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো, একে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো।"(১).

আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম প্রজন্ম হলো যারা আমার নিকটবর্তী (আমার সময়কার), অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী হবে, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী হবে।"(২).

সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তাদের মর্যাদার সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর তিনি তাদের পথে চলার এবং তাদের হিদায়াতকে শক্তভাবে ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং (৪৬০৭), তিরমিজি (২৬৭৬), ইবনে মাজাহ (৪৩), ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে, মুসনাদুশ শামিয়্যিন (১৭১৪২), দারেমি (৯৬)। শাইখ আলবানী 'সহীহুল জামি' গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড, ৮০৫ পৃষ্ঠায় হাদিসটিকে 'সহীহ' বলেছেন।

(২) দেখুন: সহীহ বুখারী, কিতাবুশ শাহাদাত (সাক্ষ্যদানের অধ্যায়), অনুচ্ছেদ: যখন সাক্ষ্য দিতে বলা হয় তখন যেন অন্যায় সাক্ষ্য না দেয়, হাদিস নং (২৬NT২); মুসলিম, কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবা (রা.), অনুচ্ছেদ: সাহাবায়ে কিরামের মর্যাদা, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী এবং অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী (২৫৩৩); তিরমিজি (৩৮৫৯), ইবনে মাজাহ (২৩৬২), এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে, মুসনাদুল মুকসিরিন মিনাস সাহাবা (৩৫৯৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
(3) "فإن الله بعث محمداً صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق ليُخرج الناس من الظلمات إلى النور بإذن ربهم إلى صراط العزيز الحميد، وشهد له بأنه بعثه داعياً إليه بإذنه وسراجاً منيرا، وأمره أن يقول: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُوا إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف: 108] ".


 

أي أن ما يجب اعتقاده في هذا الباب إنما هو أمرٌ دعت إليه النصوص، فأخذ يقرر هذا بالأدلة، إذ لا يعقل أن يُترك ويُهجر كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم في هذه المسائل لا لشيءٍ إلا لأن عقول القوم ومنطقهم الفاسد الباطل لم يصدق بكلام الله تعالى وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم ولم يؤمن بأسماء الله وصفاته، وكما قال الشاعر:

"وكم من عائب قولاً صحيحا … وآفته من الفهم السقيم"(1)،

والمقصود: أنه إذا كان الدليل واضحاً وجاء من كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم ثم يأتي من يعيب كلام الله وكلام رسوله لا لشيء، فما ذلك إلا لأن فهمه سقيم مريض.

فالعيب إذاً في فهمه وليس في كلام الله تعالى وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم، وهذا يقرر في المسلم عقيدة وهي: أن الأمر والحكم في هذا الباب هو لكلام الله تعالى وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم وكلام السلف الصالح رضوان الله عليهم.

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب الأمثال السائرة من شعر المتنبي صفحة (35).
(3) "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, মহাপরাক্রান্ত ও প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে বের করে আনেন। আর তিনি তাঁর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি তাঁকে তাঁর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি বলেন: {বলুন, এটাই আমার পথ; আমি ও যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি} [ইউসুফ: ১০৮]।"


 

অর্থাৎ, এই অধ্যায়ে যা বিশ্বাস করা আবশ্যক তা এমন এক বিষয় যার প্রতি দলীল-প্রমাণসমূহ আহ্বান জানিয়েছে। তাই তিনি দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত করতে শুরু করেছেন। কারণ, এটি কোনোভাবেই বোধগম্য নয় যে, এই সব বিষয়ে আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে বর্জন করা হবে এবং তা পরিত্যাগ করা হবে—কেবল এই কারণে যে, একদল লোকের বুদ্ধি এবং তাদের ভ্রান্ত ও বাতিল যুক্তি আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে সত্য বলে স্বীকার করেনি এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ওপর ঈমান আনেনি। কবি যেমনটি বলেছেন:

"কতই না মানুষ আছে যারা সঠিক কথার দোষ খুঁজে বেড়ায় … অথচ তার বিপদটি এসেছে তার নিজস্ব অসুস্থ বুঝ থেকে"(1),

উদ্দেশ্য হলো: যখন দলীল স্পষ্ট এবং তা আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে আগত, এরপর কেউ যদি বিনা কারণে আল্লাহর কালাম ও রাসূলের বাণীর দোষ ধরে, তবে তা কেবল এই জন্য যে তার বুঝ অসুস্থ ও রুগ্‌ণ।

সুতরাং দোষ তার বুঝের মধ্যে, মহান আল্লাহর কালাম বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মধ্যে নয়। এটি একজন মুসলিমের অন্তরে এই আকীদা বা বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করে যে: এই অধ্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও হুকুম হলো মহান আল্লাহর কালাম, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এবং সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-দের বক্তব্যের জন্য।

--------------------------------------------

(1) আল-আমছালুস সাইয়িরাহ মিন শি'রি আল-মুতানাব্বী গ্রন্থটি দেখুন, পৃষ্ঠা (৩৫)।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
(4) "فمن المحال في العقل والدين أن يكون السراج المنير الذي أخرج الله به الناس من الظلمات إلى النور وأنزل معه الكتاب بالحق ليحكم بين الناس فيما اختلفوا فيه وأمر الناس أن يردوا ما تنازعوا فيه من أمر دينهم إلى ما بُعث به من الكتاب والحكمة، وهو يدعو إلى الله وإلى سبيله بإذنه على بصيرة وقد أخبر الله بأنه أكمل له ولأمته دينه، وأتم عليه نعمته.

محالٌ مع هذا وغيره أن يكون قد ترك باب الإيمان بالله والعلم به ملتبساً مشتبهاً فلم يميز بين ما يجب لله من الأسماء الحسنى والصفات العليا، وما يجوز عليه وما يمتنع عليه. ".


 

مقصود المصنف رحمه الله أن هؤلاء لما جاءوا وألفوا مثل هذه الكتب وتحدثوا عن أسماء الله وصفاته وعن التوحيد، فدونوا وسطروا في كتبهم كلام المنطق والفلسفة وتركوا كلام الله تعالى وكلام رسولهِ صلى الله عليه وسلم.

هل هذا سببه أن الآيات والأحاديث لم تتحدث في هذا الباب ولم تبينه؟ هل يُعقل هذا؟، فلنسأل أنفسنا هذا السؤال: هل يمكن أن يكون النبي صلى الله عليه وسلم ترك هذا الباب ولا دليل فيه ولا كلام فيه حتى احتاج هؤلاء إلى أن يعودوا إلى كتب الفلسفة والمنطق فيأخذوا منها أحكاماً ويقرروا فيها مسائل من المنطق والفلسفة؟ هل سبب هذا هو نقص النصوص وقصورها؟ لا والله، هذا أمرٌ لا يقبله المسلم.
(৪) "বুদ্ধি এবং দ্বীনের বিচারে এটি অসম্ভব যে, সেই প্রদীপ্ত চেরাগ—যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন এবং তাঁর সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন যাতে তিনি মানুষের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করেন, আর মানুষকে আদেশ দিয়েছেন যে তারা তাদের দ্বীনি বিষয়ে যা কিছুতে বিবাদে লিপ্ত হবে তা যেন কিতাব ও হিকমতের দিকে ফিরিয়ে দেয় যা নিয়ে তিনি প্রেরিত হয়েছেন; এমতাবস্থায় তিনি আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে এবং তাঁর পথের দিকে চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে আহ্বান জানাচ্ছেন, আর আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তাঁর জন্য ও তাঁর উম্মতের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর ওপর নেয়ামত সমাপ্ত করেছেন।

এই এবং অন্যান্য বিষয়ের সাথে এটিও অসম্ভব যে, তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর সম্পর্কে ইলম লাভের বিষয়টিকে অস্পষ্ট ও গোলমেলে অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছেন, যেখানে আল্লাহর জন্য তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির মধ্য থেকে যা যা অপরিহার্য, যা যা জায়েজ এবং যা যা অসম্ভব—তার মধ্যে কোনো পার্থক্য রেখা টানেননি। ".


 

লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্য হলো, এই লোকেরা যখন এসে এ জাতীয় কিতাবসমূহ রচনা করল এবং আল্লাহর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি ও তাওহীদ সম্পর্কে আলোচনা করল, তখন তারা তাদের কিতাবসমূহে যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের কথাবার্তা লিপিবদ্ধ করল এবং আল্লাহ তাআলার বাণী ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী বর্জন করল।

এর কারণ কি এই যে, আয়াত ও হাদীসসমূহ এই বিষয়ে কথা বলেনি এবং তা স্পষ্ট করেনি? এটি কি যুক্তিসঙ্গত? আসুন আমরা নিজেদের এই প্রশ্নটি করি: এটা কি সম্ভব যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বিষয়টি এমন অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছেন যেখানে কোনো দলীল নেই বা কোনো কথা নেই, যার ফলে এই লোকদের দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার কিতাবের দিকে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ল যাতে তারা সেখান থেকে বিধান গ্রহণ করতে পারে এবং সেখানে যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের মাসআলাসমূহ সাব্যস্ত করতে পারে? এর কারণ কি দলীলসমূহের অপর্যাপ্ততা ও সীমাবদ্ধতা? আল্লাহর কসম, না; এটি এমন একটি বিষয় যা কোনো মুসলিম গ্রহণ করে না।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
(5) "فإن معرفة هذا أصل الدين، وأساس الهداية، وأفضل ما اكتسبته القلوب، وحصلته النفوس، وأدركته العقول، فكيف يكون ذلك الكتاب، وذلك الرسول وأفضل خلق الله بعد النبيين لم يحكموا هذا الكتاب اعتقادًا وقولاً؟!

ومن المحال أيضًا أن يكون النبي صلى الله عليه وسلم قد علَّم أُمَّتَه كل شيء حتى الخراءة.

وقال: «تركتكم على البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها بعدي إلا هالك».

وقال فيما صح عنه أيضًا: «ما بعث الله من نبي إلا كان حقًا عليه أن يدل أمته على خير ما يعلمه لهم وينهاهم عن شر ما يعلمه لهم».

وقال أبو ذر رضي الله عنه: «لقد توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وما من طائر يقلب جناحيه في السماء إلا ذكر لنا منه علمًا».

وقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: «قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم [مقامًا] فذكر بدء الخلق حتى دخل أهل الجنة منازلهم وأهل النار منازلهم، حفظ ذلك من حفظه ونسيه من نسيه» رواه البخاري.


 

قول المصنف: "فإن معرفة هذا أصل الدين، وأساس الهداية" لا شك أن أعظم أبواب الدين وأهمها وأصلها هو الإيمان بالله وتوحيده سبحانه وتعالى لأنه على أساسه يقوم الدين، ألم يقل الله سبحانه وتعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم: {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ}، والشرك ضد التوحيد، فلو اختل التوحيد لحبط العمل وبطل الدين، فهو الأصل والأساس.

وقول المصنف: "فإن معرفة هذا" أي معرفة أسماء الله وصفاته "أصل الدين وأساس الهداية، بل وأفضل وأوجب ما اكتسبته القلوب، وحصلته النفوس"، أي أن أفضل شيء هو أن تعرف الله سبحانه وتعالى؛ لأنك إن عرفت الله عبدت الله اتقيته وخفته وحدثت الخشية والرجاء والخوف والإنابة والمحبة، وغير ذلك من الأمور كل هذا يأتي بعد معرفة الله سبحانه وتعالى.

وقال المصنف: "فكيف يكون ذلك الكتاب، وذلك الرسول وأفضل خلق الله بعد النبيين لم يحكموا هذا الباب اعتقادًا وقولاً؟! " أي أيعقل أن يكونوا قد تركوا هذا الباب ولم يحكموه ولم يتقنوه حتى يأتي هؤلاء ويأتوا بشيءٍ من عند أنفسهم ويهجروا
(৫) "নিশ্চয়ই এটি জানা দীনের মূল ভিত্তি, হিদায়াতের উৎস এবং অন্তর যা অর্জন করেছে, আত্মা যা হাসিল করেছে এবং আকল যা উপলব্ধি করেছে তার মধ্যে সর্বোত্তম। সুতরাং কীভাবে সম্ভব যে, সেই কিতাব, সেই রাসূল এবং নবীদের পর আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ বিশ্বাস ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকে সুদৃঢ় করেননি?!

আর এটিও অসম্ভব যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন এমনকি মলত্যাগের আদব পর্যন্ত।

এবং তিনি বলেছেন: «আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার। আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না»।

তাঁর সম্পর্কে সহীহ বর্ণনায় আরও এসেছে: «আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যার ওপর এটা আবশ্যক ছিল না যে, তিনি তাঁর উম্মতকে তাদের জন্য তিনি যা কল্যাণকর জানেন তা প্রদর্শন করবেন এবং তাদের জন্য যা অকল্যাণকর জানেন তা থেকে তাদের সতর্ক করবেন»।

আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন যে, আকাশের কোনো পাখি তার ডানা ঝাপটালে সে সম্পর্কেও তিনি আমাদের কাছে কোনো না কোনো জ্ঞান উল্লেখ করেছেন»।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে (এক স্থানে) দাঁড়ালেন এবং সৃষ্টির শুরু থেকে জান্নাতবাসীদের জান্নাতে এবং জাহান্নামীদের জাহান্নামে প্রবেশ করা পর্যন্ত সবকিছু বর্ণনা করলেন। যে তা মনে রাখার সে মনে রাখল, আর যে ভুলে যাওয়ার সে ভুলে গেল» এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।


 

গ্রন্থকারের কথা: "নিশ্চয়ই এটি জানা দীনের মূল এবং হিদায়াতের ভিত্তি" - এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দীনের সবচেয়ে মহান, গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল অধ্যায় হলো আল্লাহর ওপর ঈমান এবং মহান আল্লাহর তাওহীদ। কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই দীন প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কি তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেননি: {তুমি যদি শিরক করো তবে অবশ্যই তোমার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে}, আর শিরক হলো তাওহীদের বিপরীত। সুতরাং তাওহীদে যদি ত্রুটি দেখা দেয় তবে আমল বাতিল হয়ে যায় এবং দীনও বাতিল হয়ে যায়। তাই এটিই মূল এবং ভিত্তি।

গ্রন্থকারের কথা: "নিশ্চয়ই এটি জানা" অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান রাখা হলো "দীনের মূল এবং হিদায়াতের ভিত্তি, বরং এটিই সর্বোত্তম ও সর্বাধিক আবশ্যক বিষয় যা অন্তরসমূহ অর্জন করেছে এবং আত্মাগুলো হাসিল করেছে।" অর্থাৎ সর্বোত্তম বিষয় হলো মহান আল্লাহকে চেনা; কারণ আপনি যদি আল্লাহকে চেনেন তবেই আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন, তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করবেন, তাঁকে ভয় করবেন এবং আপনার মধ্যে তাঁর প্রতি ভয়, আশা, শঙ্কা, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন ও ভালোবাসা ইত্যাদি সৃষ্টি হবে। এই সবকিছুই মহান আল্লাহকে চেনার পরেই অর্জিত হয়।

গ্রন্থকার বলেছেন: "সুতরাং কীভাবে সম্ভব যে, সেই কিতাব, সেই রাসূল এবং নবীদের পর আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ বিশ্বাস ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই অধ্যায়টি সুদৃঢ় করেননি?!" অর্থাৎ এটা কি বুদ্ধিগ্রাহ্য যে, তারা এই অধ্যায়টি ছেড়ে দিয়েছেন এবং একে সুদৃঢ় ও সুবিন্যস্ত করেননি, শেষ পর্যন্ত এদের আসতে হয়েছে এবং তারা নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু নিয়ে এসেছে এবং বর্জন করেছে
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الكتاب والسنة؛ بحجة أن الكتاب والسنة لم يتكلما في هذه المسائل أو لم تتقن ولم تحكم هذه المسائل، هل هذا يتصوره مسلم؟

وقال المصنف: "ومن المحال أيضاً أن يكون النبي صلى الله عليه وسلم قد علَّم أُمَّتَه كل شيء" نعم والله لم يمت النبي صلى الله عليه وسلم إلا وقد علم الأمة كل ما تحتاج إليه من أمر دينها، فقد بين ووضح حتى أنه في حجة الوداع أشهد الناس فقال: «اللَّهُمَّ إِنِّي قَدْ بَلَّغْتُ»(1)، فقالوا: بلى، فكان النبي صلى الله عليه وسلم يرفع أصبعه السبابة إلى السماء فيقول: اللهم اشهد اللهم اشهد اللهم اشهد ثلاثاً» فقد بلغ الرسالة وأدى الأمانة ونصح الأمة فيقول: وقال صلى الله عليه وسلم: «تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لَا يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ»(2)، ويقول: «إنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبيٌّ قَبْلِي إِلاَّ كَانَ حَقّاً عَلَيْهِ»، أي واجباً عليه «أَنْ يَدُلَّ أُمَّتَهُ عَلَى خَيْرِ مَا يَعْلَمُهُ لَهُمْ وَيُنْذِرَهُمْ شَرَّ مَا يَعْلَمُهُ لَهُمْ»(3).

هذا كلامه صلى الله عليه وسلم، أخبر أنه قد بين ووضح وبلغ، فهل يُعقل أنه ترك هذا الباب ولم يوضح ما يجب فيه ولم يبين ما يجب اعتقاده فيه؟ هذا محال، وأصحابه صلى الله عليه وسلم شهدوا بأن النبي صلى الله عليه وسلم قد علمهم وبلغهم وأفهمهم أمور دينهم حتى يقول أبو ذر: " لَقَدْ تَرَكَنَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم، وَمَا يُحَرِّكُ طَائِرٌ جَنَاحَيْهِ فِي السَّمَاءِ إِلَّا أَذْكَرَنَا مِنْهُ عِلْمًا "(4) بمعنى أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يبين لهم كل شيء.

وقال عمر: " قَامَ فينا رسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم-مَقَاما، فَأخبَرَنَا عنْ بَدءِ الخَلقِ حتى دَخَلَ أهلُ الجنةِ مَنَازِلَهُم، وأهلُ النَّارِ منازِلَهم "(5) أي تحدث من بدء الخليقة إلى دخول الناس إلى الجنة وإلى النار. " حَفِظَ ذَلِكَ مَنْ حَفِظَهُ، وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ".

--------------------------------------------

(1) انظر صحيح البخاري كِتَابُ المَغَازِي، بَابُ حَجَّةِ الوَدَاعِ، برقم (4406)، ومسلم كِتَابُ الْقَسَامَةِ وَالْمُحَارِبِينَ وَالْقِصَاصِ وَالدِّيَاتِ، بَابُ تَغْلِيظِ تَحْرِيمِ الدِّمَاءِ وَالْأَعْرَاضِ وَالْأَمْوَالِ (1679)، والإمام أحمد في المسند أَوَّلُ مُسْنَدِ الْبَصْرِيِّينَ (20386)، والدارمي (1957).

(2) تقدم تخريجه، انظر صفحة رقم (7).

(3) انظر صحيح مسلم كِتَابُ الْإِمَارَةِ، بَابُ الْأَمْرِ بالْوَفَاءِ بِبَيْعَةِ الْخُلَفَاءِ، الْأَوَّلِ فَالْأَوَّلِ، برقم (1844)، وابن ماجه (3956)، والنسائي (4191)، والإمام أحمد في المسند مُسْنَدُ الْمُكْثِرِينَ مِنَ الصَّحَابَةِ (6793).

(4) انظر مسند الإمام أحمد مُسْنَدُ الْأَنْصَارِ برقم (21361)، قال الشيخ شعيب الأرنؤوط في حاشية المسند الجزء (35) صفحة (290): حديث حسن.

(5) انظر صحيح البخاري كِتَابُ بَدْءِ الخَلْقِ، بَابُ مَا جَاءَ فِي قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ} [الروم: 27]، برقم (3192).
কিতাব এবং সুন্নাহ; এই অজুহাতে যে, কিতাব এবং সুন্নাহ এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেনি অথবা এই বিষয়গুলো সুচারুভাবে ও সুদৃঢ়ভাবে সম্পন্ন করেনি—কোনো মুসলিম কি এমনটি কল্পনা করতে পারে?

লেখক বলেছেন: "এটিও অসম্ভব যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন।" হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না তিনি উম্মতকে তাদের দ্বীনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বর্ণনা ও পরিষ্কার করেছেন, এমনকি বিদায় হজের সময় তিনি লোকজনকে সাক্ষী রেখে বলেছিলেন: «হে আল্লাহ, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?», তারা বললেন: হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর তর্জনী আঙুল আকাশের দিকে তুলতেন এবং বলতেন: «হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন (তিনবার)»। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতকে নসিহত করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো (পরিষ্কার); আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না।» তিনি আরও বলেন: «আমার পূর্বে এমন কোনো নবী গত হননি যাঁর ওপর এটি হক (অর্থাৎ কর্তব্য) ছিল না যে, তিনি তাঁর উম্মতকে সেই উত্তম বিষয়টি বাতলে দেবেন যা তিনি তাদের জন্য জানেন এবং সেই মন্দ বিষয় থেকে সতর্ক করবেন যা তিনি তাদের জন্য জানেন।»

এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী, যা সংবাদ দিচ্ছে যে তিনি বর্ণনা করেছেন, স্পষ্ট করেছেন এবং পৌঁছে দিয়েছেন। তাহলে কি এটি বিবেকগ্রাহ্য যে তিনি এই অধ্যায়টি বাদ রেখেছেন এবং এতে যা ওয়াজিব তা স্পষ্ট করেননি এবং এতে কী বিশ্বাস করা ওয়াজিব তা বর্ণনা করেননি? এটি অসম্ভব। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁদেরকে তাঁদের দ্বীনি বিষয়সমূহ বুঝিয়ে দিয়েছেন। এমনকি আবু যার (রা.) বলেন: "মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের (এমন অবস্থায়) রেখে গেছেন যে, আকাশে ডানা ঝাপটানো কোনো পাখির বিষয়েও তিনি আমাদের কোনো না কোনো জ্ঞান দান করেছেন।" অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট প্রতিটি বিষয় বর্ণনা করতেন।

উমর (রা.) বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে এক স্থানে দাঁড়ালেন, অতঃপর তিনি আমাদের সৃষ্টির সূচনা থেকে নিয়ে জান্নাতিদের জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নামিদের জাহান্নামে প্রবেশ পর্যন্ত সংবাদ দিলেন।" অর্থাৎ তিনি সৃষ্টির শুরু থেকে নিয়ে মানুষের জান্নাত ও জাহান্নামে প্রবেশ পর্যন্ত কথা বলেছেন। "যিনি তা মুখস্থ রাখার তিনি রেখেছেন, আর যিনি ভুলে যাওয়ার তিনি ভুলে গেছেন।"

--------------------------------------------

(১) দেখুন সহীহ বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, পরিচ্ছেদ: বিদায় হজ, হাদিস নং (৪৪০৬); মুসলিম, কিতাবুল কাসামাহ ওয়াল মুহারিবীন ওয়াল কিসাস ওয়াদ দিয়াত, পরিচ্ছেদ: রক্ত, সম্মান ও সম্পদের অলঙ্ঘনীয়তা কঠোর করা (১৬৭৯); ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ, প্রথম মুসনাদ আল-বাসরিয়্যীন (২০৩৮৬); আদ-দারিমী (১৯৫৭)।

(২) এর তথ্যসূত্র পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, দেখুন পৃষ্ঠা নং (৭)।

(৩) দেখুন সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ, পরিচ্ছেদ: একের পর এক খলিফাদের বায়আত পূর্ণ করার নির্দেশ, হাদিস নং (১৮৪৪); ইবনে মাজাহ (৩৯৫৬); আন-নাসায়ী (৪১৯১); ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ, মুসনাদুল মুকসিরীন মিনাস সাহাবাহ (৬৭৯৩)।

(৪) দেখুন ইমাম আহমাদ কৃত মুসনাদ, মুসনাদুল আনসার, হাদিস নং (২১৩৬১); শেখ শুআইব আরনাউত মুসনাদ-এর টীকায় (৩৫তম খণ্ড, ২৯০ পৃষ্ঠা) বলেছেন: হাদিসটি হাসান।

(৫) দেখুন সহীহ বুখারী, কিতাব: সৃষ্টির সূচনা, পরিচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী—{তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তিনি তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন, আর এটি তাঁর জন্য সহজতর} [রুম: ২৭] প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নং (৩১৯২)।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
(6) "محال مع تعليمهم كل شيء لهم فيه منفعة في الدين وإن دقت أن يترك تعليمهم ما يقولونه بألسنتهم [ويعتقدونه] بقلوبهم في ربهم ومعبودهم رب العالمين، الذي معرفته غاية المعارف، وعبادته أشرف المقاصد، والوصول إليه غاية المطالب، بل هذا خلاصة الدعوة النبوية وزبدة الرسالة الإلهية، فكيف يتوهم من في قلبه أدنى مُسكة من إيمان وحكمة، أن لا يكون [بيان] هذا الباب قد وقع من الرسول صلى الله عليه وسلم على غاية التمام. "


 

قول المصنف: "فمحال مع تعليمهم كل شيء لهم فيه منفعة في الدين وإن دقت أن يترك تعليمهم ما يقولونه بألسنتهم وما يعتقدونه بقلوبهم في ربهم ومعبودهم رب العالمين، " أي محال أن يعلمهم صغائر الأمور والأمور الفرعية ويترك الأمور الأصلية هل هذا يتوقع من النبي صلى الله عليه وسلم؟.

فإذاً على هذا يجب أن يعلم أن الخلل ليس من الكتاب والسنة ولكن من القوم الذين ابتعدوا عن الكتاب والسنة.

فلا شك أن العلم بالله تعالى هو أشرف وأعلى ما يكون في العلم والمعرفة؛ لأنه كما يُقال: "شرف العلم من شرف المعلوم"(1) فالمعلوم أن المعلوم هنا هو الله سبحانه وتعالى.

فذلك كل أمرٍ يتعلق بالله سبحانه وتعالى من أشرف وأهم ما يكون، فلذلك عندما يدرس هذا الجانب من توحيد الله تعالى فاليعرف أن هذا أشرف علم يدرسه العبد، كيف لا والمعلوم هو أسماء الله وصفاته، وتوضيح ما يجب اعتقاده في الله سبحانه وتعالى.

فلا شك أن هذا أشرف علم تكتسبه النفوس، لأنه يجب على العبد أن يعرف ما يليق بالله وما لا يليق به سبحانه وتعالى ما يجب لله وما يمتنع عن الله سبحانه وتعالى وتميز ما بين الحق والباطل في هذا الباب، فيعرف العبد أسماء الله سبحانه وتعالى وصفاته التي أثبتها لنفسه ويعرف كذلك ما نفاه عن نفسه سبحانه وتعالى فهذا أشرف علم تكتسبه النفوس.

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب النبوات لابن تيمية الجزء الأول، صفحة (408).
(৬) "দ্বীনের মধ্যে তাদের জন্য কল্যাণকর এমন প্রতিটি বিষয়—তা যত সূক্ষ্মই হোক না কেন—তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার সাথে সাথে এটা অসম্ভব যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের রব ও মা’বুদ রাব্বুল আলামীন সম্পর্কে তাদের মুখে যা বলতে হবে এবং অন্তরে যা [বিশ্বাস করতে হবে], তা শিক্ষা দেওয়া বাদ রাখবেন; অথচ তাঁকে জানাই হচ্ছে সকল জ্ঞানের চরম লক্ষ্য, তাঁর ইবাদত হলো সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য এবং তাঁর কাছে পৌঁছানোই হলো সকল অন্বেষার চূড়ান্ত গন্তব্য। বরং এটাই তো নববী দাওয়াতের নির্যাস এবং ঐশী রিসালাতের মূল কথা। সুতরাং যার অন্তরে সামান্যতম ঈমান ও হিকমত রয়েছে, সে কীভাবে কল্পনা করতে পারে যে, এই অধ্যায়ের [বর্ণনা] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন হয়নি?"


 

গ্রন্থকারের বক্তব্য: "দ্বীনের মধ্যে তাদের জন্য কল্যাণকর এমন প্রতিটি বিষয়... তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার সাথে সাথে এটা অসম্ভব যে, তিনি তাদের মুখে যা বলবে এবং অন্তরে যা বিশ্বাস করবে তাদের রব ও মা’বুদ রব্বুল আলামীন সম্পর্কে তা শিক্ষা দেওয়া বাদ দেবেন," অর্থাৎ এটা অসম্ভব যে, তিনি তাদেরকে ছোটখাটো ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো শিক্ষা দেবেন আর মৌলিক বিষয়গুলো বাদ দেবেন। এটা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে প্রত্যাশিত হতে পারে?।

সুতরাং এর ভিত্তিতে অবশ্যই জানতে হবে যে, ত্রুটি কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে নয়, বরং ত্রুটি সেই সব লোকদের মধ্যে যারা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দূরে সরে গেছে।

নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কিত জ্ঞানই হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বোচ্চ; কারণ যেমন বলা হয়ে থাকে: "জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে জ্ঞাত বিষয়ের মর্যাদার ওপর"(১) আর এখানে জ্ঞাত বিষয় হলেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা।

তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ। একারণে যখন আল্লাহর তাওহীদের এই দিকটি অধ্যয়ন করা হয়, তখন জানা উচিত যে এটিই একজন বান্দার পঠিত সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান। কেনই বা হবে না, যখন জ্ঞাত বিষয় হলো আল্লাহর নামসমূহ ও আল্লাহর গুণাবলি এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সম্পর্কে যা বিশ্বাস করা ওয়াজিব তার ব্যাখ্যা।

নিঃসন্দেহে এটিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান যা আত্মা অর্জন করতে পারে, কারণ বান্দার ওপর আবশ্যিক হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার জন্য কোনটি শোভনীয় এবং কোনটি অশোভন তা জানা; আল্লাহর জন্য কোনটি অপরিহার্য এবং কোনটি অসম্ভব তা জানা এবং এই অধ্যায়ে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা। ফলে বান্দা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সেই সব নামসমূহ ও আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে জানতে পারে যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তেমনিভাবে জানতে পারে যা তিনি নিজের থেকে নাকচ করেছেন। সুতরাং এটিই আত্মা সমূহের অর্জিত সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ইবনে তায়মিয়্যাহ রচিত কিতাবুন নুবুওয়্যাত, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা (৪০৮)।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فأفضل وأغلى وغاية ما يكتسبه الإنسان من العلم والمعرفة هو أن يعرف الله سبحانه وتعالى، وكما أوصى النبي صلى الله عليه وسلم ابن عباس وهو غلام فقال له: «يَا غُلَامُ أَوْ يَا غُلَيِّمُ، احْفَظِ اللهَ يَحْفَظْكَ»(1)، ومعنى احفظ الله؟ أي اعرف الله تعالى، واعرف حدوده، واعرف ما أوجبه عليك من شرائع وأحكام، فإذا أنت حفظت الله تعالى فإن الله يحفظك، وقال صلى الله عليه وسلم: " تَعَرَّفْ إِلَى اللهِ فِي الرَّخَاءِ يَعْرِفْكَ فِي الشِّدَّةِ "(2)

وقول المصنف: " الذي معرفته غاية المعارف، وعبادته سبحانه وتعالى أشرف المقاصد والوصول إليه غاية المطالب بل هذا خلاصة الدعوة النبوية وزبدة الرسالة الإلهية. "

 

تتجلى‌‌ أهمية باب الأسماء الحُسنى والصِّفات العُلى في الأمور التالية:

‌‌أولًا: هو شَطر باب الإيمان بالله تعالى:

فلا يخفى على المسلم أهمية الإيمان بالله، فهو أول أركان الإيمان، بل هو أعظمها، فما بقية الأركان إلا تَبَع له وفرع عنه، فهو أهم ما خُلق لها الخلق، وأُرسلت به الرسل، وأُنزلت به الكتب، وأُسِّست عليه الملة؛ فالإيمان بالله هو أساس كل خير، ومصدر كل هداية، وسبب كل فلاح، ذلك لأنَّ الإنسان لما كان مخلوقًا مَربوبًا عاد في علمه وعمله إلى خالقه وبارئه؛ فبه يهتدي، وله يعمل، وإليه يصير، فلا غِنى له عنه، وانصرافه إلى غيره هو عين هلاكه وفساده، والإنسان له بالله عن كل شيء عِوض، وليس لكل شيء عن الله عوض؛ فليس للعبد صلاح ولا فلاح إلا بمعرفة ربِّه وعبادته، فإذا حصل له ذلك فهو الغاية المرادة له والتي خُلق من أجلها، فما سوى ذلك إما فضل نافع، أو فُضول غير نافعة، أو فضول ضارة، ولهذا صارت دعوة الرسل لأممهم إلى الإيمان بالله وعبادته؛ فكل رسول يبدأ دعوته بذلك كما يُعلم من تَتبع دعوات الرسل في القرآن.

وملاك السعادة والنجاة والفوز يكون بتحقيق التوحيدين اللذين عليهما يقوم الإيمان بالله تعالى، وبتحقيقهما بَعث الله سبحانه وتعالى رسوله صلى الله عليه وسلم، وإليه دَعت الرسل-صلوات الله وسلامه عليهم-من أولهم إلى آخرهم.

--------------------------------------------

(1) انظر سنن الترمذي برقم (2516)، وقال عقبه: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، والإمام أحمد في المسند وَمِنْ مُسْنَدِ بَنِي هَاشِمٍ (2669)، قال الشيخ الالباني في المشكاة الجزء الثالث، صفحة (1459): صحيح.

(2) انظر مسند الإمام أحمد مِنْ مُسْنَدِ بَنِي هَاشِمٍ برقم (2803)، قال الشيخ شعيب الأرنؤوط في الجزء الخامس صفحة (19): حديث صحيح.
মানুষের অর্জিত জ্ঞান ও পরিচয়ের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, মহামূল্যবান এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহ সুুবহানাহু ওয়া তাআলাকে জানা। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্বাসকে (রা.) উপদেশ দিয়েছিলেন যখন তিনি একজন বালক ছিলেন; তিনি তাকে বলেছিলেন: «হে বালক বা হে বৎস! তুমি আল্লাহর (বিধানের) হিফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হিফাজত করবেন»(১)। 'আল্লাহর হিফাজত করো'—এর অর্থ কী? অর্থাৎ তুমি মহান আল্লাহকে জানো, তাঁর নির্ধারিত সীমাগুলো জানো এবং তিনি তোমার ওপর যেসব শরিয়ত ও বিধান ওয়াজিব করেছেন তা জানো। সুতরাং তুমি যদি মহান আল্লাহর হিফাজত করো, তবে আল্লাহ তোমাকে হিফাজত করবেন। আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তুমি সচ্ছল অবস্থায় আল্লাহকে চেনো, তিনি তোমাকে কঠিন অবস্থায় চিনবেন।"(২)

গ্রন্থকারের বক্তব্য: "যাঁর পরিচয় লাভ সমস্ত জ্ঞানের চূড়ান্ত লক্ষ্য, যাঁর ইবাদত সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য এবং যাঁর সান্নিধ্য লাভ সকল চাহিদার শেষ গন্তব্য; বরং এটাই হলো নববী দাওয়াতের নির্যাস এবং ঐশী রিসালাতের মূল নির্যাস।"

 

আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির অধ্যায়ের গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়াবলিতে প্রকাশ পায়:

প্রথমত: এটি আল্লাহর প্রতি ঈমানের অধ্যায়ের অর্ধেক অংশ:

একজন মুসলিমের কাছে আল্লাহর প্রতি ঈমানের গুরুত্ব গোপন নয়, কেননা তা ঈমানের প্রথম রুকন; বরং তা সর্বশ্রেষ্ঠ রুকন। অন্য রুকনগুলো কেবল এরই অনুগামী ও শাখা। আর এটিই সেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার জন্য সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করা হয়েছে, রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর প্রতি ঈমানই হলো সকল কল্যাণের ভিত্তি, সকল হিদায়াতের উৎস এবং সকল সফলতার কারণ। কারণ মানুষ যেহেতু এক সৃষ্টি ও লালিত সত্তা, তাই সে তার জ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে তার স্রষ্টা ও প্রস্তুতকারকের দিকেই ফিরে যায়। তাঁর মাধ্যমেই সে পথনির্দেশ পায়, তাঁর জন্যই সে আমল করে এবং তাঁর দিকেই সে প্রত্যাবর্তন করবে। তাকে ছাড়া মানুষের এক মুহূর্তও চলার উপায় নেই। তাঁকে ছেড়ে অন্যের দিকে ধাবিত হওয়া হলো ধ্বংস ও বিনাশের নামান্তর। আল্লাহ তাআলার পরিবর্তে মানুষের জন্য অন্য সবকিছুর বিকল্প হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কোনো বিকল্প নেই। একজন বান্দার জন্য তার রবকে চেনা এবং তাঁর ইবাদত করা ছাড়া কোনো মুক্তি বা কল্যাণ নেই। যদি সে তা অর্জন করতে পারে, তবে সেটাই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এর বাইরে যা কিছু আছে তা হয় উপকারী অতিরিক্ত বিষয়, অথবা নিরর্থক অনাবশ্যক বিষয়, অথবা ক্ষতিকর অনাবশ্যক বিষয়। এই কারণেই রাসুলগণের দাওয়াত ছিল তাঁদের উম্মতদের আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর ইবাদতের দিকে আহ্বান করা; যেমনটি কুরআনে রাসুলগণের দাওয়াতসমূহ পর্যালোচনা করলে জানা যায়।

আর সৌভাগ্য, মুক্তি ও সফলতার মূল ভিত্তি হলো সেই দুই তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা যার ওপর আল্লাহর প্রতি ঈমান দণ্ডায়মান। এই দুই তাওহিদ প্রতিষ্ঠার জন্যই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠিয়েছেন এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল রাসুল—তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর দিকেই আহ্বান জানিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) সুনানে তিরমিজি দেখুন, হাদিস নং (২৫১৬); তিনি এর পরে বলেছেন: এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস। এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে, মুসনাদে বনী হাশিম অংশে (২৬৬৯); শেখ আলবানী মিশকাতের ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা (১৪৫৯) এ বলেছেন: সহিহ।

(২) মুসনাদে ইমাম আহমাদ, মুসনাদে বনী হাশিম অংশ, হাদিস নং (২৮০৩) দেখুন; শেখ শুআইব আরনাউত ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা (১৯) এ বলেছেন: সহিহ হাদিস।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأحدهما: التوحيد العِلمي الخبري الاعتقادي المتضمن إثبات صفات الكمال لله تعالى، وتنزيهه فيها عن التشبيه والتمثيل، وتنزيهه عن صفات النقص.

قال الإمامُ ابنُ القَيِّم رحمه الله: «ولا ريبَ أنَّ العِلم به وبأسمائه وصفاته وأفعاله أَجَلُّ العلوم وأَفضلها، ونِسبته إلى سائر العلوم كنسبة معلومه إلى سائر المعلومات، وكما أنَّ العلمَ به أَجَلُّ العلوم وأشرفُها، فهو أصلها كلها، كما أنَّ كل موجود فهو مستند في وجوده إلى الملك الحق المبين ومفتقر اليه في تحقق ذاته وأينيته، وكل علم فهو تابع للعلم به مُفتقر في تحقق ذاته إليه، فالعلم به أصل كل علم، كما أنَّه- سبحانه- ربُّ كل شيء ومليكه ومُوجده … »، إلى أن قال: «فالعِلم بذاته- سبحانه- وصفاته وأفعاله يستلزم العلم بما سواه فهو- في ذاته- ربُّ كل شيء ومليكه، والعلم به أصل كل علم ومَنشؤه؛ فمَن عَرف الله عرف ما سواه، ومَن جهل ربَّه فهو لما سواه أجهل»(1).

والنوع الثاني: عبادته وحده لا شريك له، وتجريد محبته والإخلاص له وخوفه ورجاؤه والتوكل عليه، والرضا به ربًّا وإلهًا ووليًّا، وأن لا يَجعل له عدلًا في شيء من الأشياء.

وقد جمع سبحانه وتعالى هذين النوعين في سورتي الإخلاص، وهما سورة: {قُلْ يَاأَيُّهَا الْكَافِرُونَ} المتضمنة للتوحيد العملي الإرادي.

وسورة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} المتضمنة للتوحيد العلمي الخبري.

فسورة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} فيها بيانُ ما يجب لله تعالى من صفات الكمال، وبيان ما يجب تنزيهه عنه من النقائص والأمثال.

وسورة {يَاأَيُّهَا الْكَافِرُونَ} فيها إيجاب عبادته وحده لا شريك له، والتبري من عبادة كل ما سواه.

ولا يتمُّ أحدُ التوحيدين إلا بالآخر، ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ بهاتين السورتين في سُنَّة الفجر والوتر والمغرب، وقد ورد كذلك في سُنَّة المغرب القراءة بهاتين السورتين(2)؛ ليكون فاتحة العمل وخاتمته توحيدًا؛ إذ مبدأ النهار توحيدًا وخاتمته

--------------------------------------------

(1) «مفتاح دار السعادة» (1/ 86)، دار الكتب العلمية-بيروت.

(2) قد ثبت في «صحيح مسلم» (726) عن أبي هريرة رضي الله عنه: «أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قَرَأَ فِي رَكعَتَي الفَجرِ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} و {يَاأَيُّهَا الْكَافِرُونَ}».

وأخرج الترمذي (462) عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: «كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في الوتر: ب {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}، و {? ? ?}، و {يَاأَيُّهَا الْكَافِرُونَ} في ركعة ركعة»، وأخرجه الدارمي بنحوه (1630)، وصححه الألباني في «صلاة التراويح» (ص 108).

وأخرج النسائي (922) عن ابن عمر رضي الله عنه قال: «رَمَقتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عِشرين مَرَّةً يقرأ في الرَّكعَتَينِ بعد المغرب، وفي الرَّكعَتَين قبل الفجرِ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}، و {يَاأَيُّهَا الْكَافِرُونَ}، وقال النووي في «المجموع» (3/ 385): «إسناده جيد»، وصححه الشيخ أحمد شاكر في «تحقيق المسند» (8/ 89)، والألباني في «السلسلة الصحيحة» (3328).
এর একটি হলো: জ্ঞানগত, সংবাদমূলক ও বিশ্বাসগত তাওহীদ, যা আল্লাহ তাআলার জন্য পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির সাব্যস্তকরণ এবং সেই গুণাবলির ক্ষেত্রে তাঁকে সাদৃশ্য ও উপমা থেকে পবিত্র রাখা এবং সব ধরনের ত্রুটিযুক্ত গুণ থেকে তাঁকে পবিত্র রাখার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হলো সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। অন্যান্য জ্ঞানের তুলনায় এই জ্ঞানের মর্যাদা ততটুকুই, যতটুকু অন্যান্য জ্ঞানের বিষয়ের তুলনায় তাঁর মর্যাদা। আর যেহেতু তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাই হলো সবচেয়ে মহান ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান, তাই এটিই হলো সকল জ্ঞানের মূল। ঠিক যেভাবে প্রতিটি বিদ্যমান বস্তু তার অস্তিত্বের জন্য চিরন্তন সত্য ও সুস্পষ্ট অধিপতির ওপর নির্ভরশীল এবং তার স্বীয় সত্তা ও অবস্থানের বাস্তবতায় তাঁর মুখাপেক্ষী, তেমনি প্রতিটি জ্ঞানই তাঁর সম্পর্কিত জ্ঞানের অনুসারী এবং নিজ সত্তার বাস্তবতায় তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী। সুতরাং তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানই হলো প্রতিটি জ্ঞানের মূল, ঠিক যেমন তিনি—সুবহানাহু—সবকিছুর রব, মালিক ও অস্তিত্বদানকারী … », তিনি আরও বলেন: «সুতরাং তাঁর সত্তা—সুবহানাহু—গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা অন্য সবকিছু সম্পর্কে জ্ঞান রাখাকে আবশ্যক করে। কেননা তিনি—স্বীয় সত্তাগতভাবে—সবকিছুর রব ও মালিক। তাই তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানই হলো প্রতিটি জ্ঞানের মূল ও উৎস; যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনেছে, সে অন্য সবকিছুকেও চিনতে পেরেছে। আর যে ব্যক্তি তার রব সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে, সে অন্য সবকিছুর ব্যাপারে আরও বেশি অজ্ঞ হবে»(১)।

আর দ্বিতীয় প্রকার হলো: কোনো শরিক ছাড়া একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা এবং তাঁর জন্য ভালোবাসাকে একনিষ্ঠ করা, তাঁর জন্য ইখলাস বজায় রাখা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর নিকট আশা রাখা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করা এবং তাঁকে রব, ইলাহ ও অভিভাবক হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করা এবং কোনো কিছুতেই তাঁর সমকক্ষ কাউকে সাব্যস্ত না করা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই দুই প্রকার তাওহীদকে দুই ইখলাস সূরায় একত্র করেছেন। আর তা হলো সূরা: {বলুন, হে কাফির সম্প্রদায়}, যা কর্মগত ও ইচ্ছাগত তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এবং সূরা {বলুন, তিনিই আল্লাহ এক}, যা জ্ঞানগত ও সংবাদমূলক তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে।

সুতরাং সূরা {বলুন, তিনিই আল্লাহ এক}-এ আল্লাহ তাআলার জন্য যে সকল পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি সাব্যস্ত করা ওয়াজিব তা বর্ণিত হয়েছে এবং যে সকল ত্রুটি ও সাদৃশ্য থেকে তাঁকে পবিত্র রাখা ওয়াজিব তাও বর্ণিত হয়েছে।

আর সূরা {হে কাফির সম্প্রদায়}-এ কোনো শরিক ছাড়া একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা ওয়াজিব হওয়া এবং তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুর ইবাদত থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।

এই দুই প্রকার তাওহীদের একটি অন্যটি ছাড়া পূর্ণ হয় না। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সুন্নাত, বিতর এবং মাগরিবের সুন্নাতে এই দুই সূরা পাঠ করতেন। মাগরিবের সুন্নাতেও এই দুই সূরা পাঠ করার কথা বর্ণিত হয়েছে(২); যেন আমলের সূচনা ও সমাপ্তি তাওহীদের মাধ্যমে হয়। যেহেতু দিনের শুরু তাওহীদের মাধ্যমে এবং এর সমাপ্তিও—

--------------------------------------------

(১) «মিফতাহু দারিস সা'আদাহ» (১/ ৮৬), দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ-বৈরুত।

(২) 'সহীহ মুসলিম'-এ (৭২৬) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের দুই রাকাতে: {বলুন, তিনিই আল্লাহ এক} এবং {বলুন, হে কাফির সম্প্রদায়} পাঠ করতেন»।

তিরমিজি (৪৬২) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিতরের প্রতি রাকাতে: {বলুন, তিনিই আল্লাহ এক}, এবং {আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন}, এবং {বলুন, হে কাফির সম্প্রদায়} পাঠ করতেন», দারেমি-ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (১৬৩০), এবং আলবানী একে «সালাতুত তারাবীহ» (পৃ. ১০৮) গ্রন্থে সহীহ বলেছেন।

নাসায়ী (৯২২) ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মাগরিবের পরের দুই রাকাতে এবং ফজরের আগের দুই রাকাতে বিশবার লক্ষ্য করেছি, তিনি পাঠ করতেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ এক} এবং {বলুন, হে কাফির সম্প্রদায়}। ইমাম নববী «আল-মাজমু» (৩/ ৩৮৫) গ্রন্থে বলেছেন: «এর সনদ উত্তম», শেখ আহমদ শাকির «তাহকীকুল মুসনাদ» (৮/ ৮৯) গ্রন্থে এবং আলবানী «আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ» (৩৩২৮) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
توحيدًا(1).

فالتوحيد المطلوب من العبد شَطره هو توحيد الأسماء والصفات.

 

‌‌ثانيًا: توحيد الأسماء والصِّفات أشرف العلوم وأهمها على الإطلاق:

إنَّ شرف العلم تابع لشرف معلومه؛ لوثوق النفس بأدلة وجوده وبراهينه، ولشدة الحاجة إلى معرفته وعِظم النفع بها.

ولا ريب أن أَجَلَّ مَعلوم وأعظمه وأكبره هو الله الذي لا إله إلا هو ربُّ العالمين، وقَيُّوم السموات والأرضين، الملك الحق المبين، الموصوف بالكمال كله، المنزه عن كل عيب ونقص وعن كل تشبيه وتمثيل في كماله.

فلا ريب أن العلمَ به وبأسمائه وصفاته وأفعاله أَجَلُّ العلوم وأفضلها، ونسبته إلى سائر العلوم كنسبة معلومه إلى سائر المعلومات(2).

فإن قيل: فالعلم إنما هو وسيلة إلى العمل ومراد له، والعمل هو الغاية، ومعلوم أنَّ الغاية أشرف من الوسيلة؛ فكيف تُفضل الوسائل على غاياتها؟

قيل: كل مِنْ العلم والعمل ينقسم إلى قسمين؛ منه ما يكون وسيلة، ومنه ما يكون غاية، فليس العلم كله وسيلة مرادة لغيرها، فإنَّ العلم بالله وأسمائه وصفاته هو أشرف العلوم على الإطلاق، وهو مطلوب لنفسه، مراد لذاته؛ قال الله تعالى: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاَطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْماً}، فقد أخبر- سبحانه- أنه خلق السموات والأرض، ونَزَّل الأمر بينهن؛ ليَعلم عباده أنه بكل شيء عليم، وعلى كل شيء قدير؛ فهذا العلم هو غاية الخلق المطلوبة، وقال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ}؛ فالعلم بوحدانيته تعالى وأنه لا إله إلا هو مطلوب لذاته وإن كان لا يُكتفى به وحده، بل

--------------------------------------------

(1) انظر «اجتماع الجيوش الإسلامية على غزو المعطلة الجهمية» لابن القيم (ص 35، 36).

(2) «مفتاح دار السعادة» (1/ 86).
একত্ববাদ।(১).

সুতরাং বান্দার নিকট থেকে তাওহীদের যে অংশটি কাম্য, তা হলো নাম ও গুণাবলীর তাওহীদ।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: নাম ও গুণাবলীর তাওহীদ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইলম:

নিশ্চয়ই কোনো ইলমের মর্যাদা তার বিষয়ের মর্যাদার অনুগামী; যেহেতু মন তার অস্তিত্বের দলিল ও প্রমাণের ওপর আস্থা রাখে এবং তাকে জানার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র ও এর উপকারিতা অত্যন্ত মহান।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সবচেয়ে মহান, শ্রেষ্ঠ ও বড় জ্ঞাতব্য বিষয় হলেন আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি বিশ্বজগতের রব, আসমান ও যমীনসমূহের ধারক ও পরিচালক, সত্য ও সুস্পষ্ট রাজাধিরাজ, যিনি সকল পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত এবং সকল দোষ-ত্রুটি থেকে এবং তাঁর পূর্ণতায় সব ধরণের সাদৃশ্য ও উপমা থেকে পবিত্র।

অতএব এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর নাম, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ ইলম। অন্যান্য সকল ইলমের তুলনায় এর মর্যাদা ঠিক তেমনই, যেমনটি অন্যান্য সকল বিষয়ের তুলনায় এই ইলমের বিষয়ের (আল্লাহর) মর্যাদা।(২).

যদি বলা হয়: ইলম তো কেবল আমলের মাধ্যম এবং তার জন্যই উদ্দিষ্ট, আর আমলই হলো লক্ষ্য। আর এটা সুবিদিত যে, লক্ষ্য মাধ্যমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; তাহলে মাধ্যম কীভাবে তার লক্ষ্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব পায়?

উত্তরে বলা হবে: ইলম এবং আমল প্রত্যেকটিই দুই ভাগে বিভক্ত; তার মধ্যে কিছু হলো মাধ্যম এবং কিছু হলো লক্ষ্য। সুতরাং সকল ইলম এমন নয় যে তা অন্য কিছুর জন্য মাধ্যম হিসেবে উদ্দিষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে ইলম হলো নিঃশর্তভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম, যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবেই কাম্য এবং যা নিজস্ব সত্তার কারণেই উদ্দিষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ তিনি, যিনি সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং যমীনও সেই পরিমাণে। এগুলোর মধ্যে নির্দেশ নাযিল হয়, যাতে তোমরা জানতে পারো যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহ তাঁর জ্ঞান দিয়ে সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন}। তিনি সুবহানাহু জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলোর মধ্যে নির্দেশ নাযিল করেছেন; যাতে তাঁর বান্দারা জানতে পারে যে তিনি সর্ববিষয়ে জ্ঞানী এবং তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। সুতরাং এই ইলমই হলো সৃষ্টির কাম্য লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {অতএব জেনে নাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই}। সুতরাং আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ এবং তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ না থাকার বিষয়ে ইলম অর্জন করা নিজস্ব সত্তার কারণেই কাম্য, যদিও কেবল তা দিয়েই যথেষ্ট হবে না, বরং

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিমের 'ইজতিমাউল জুইউশ আল-ইসলামিয়্যাহ আলা গযউইল মুয়াত্তিলাতুল জাহমিয়্যাহ' দেখুন (পৃষ্ঠা ৩৫, ৩৬)।

(২) 'মিফতাহু দারিস সাআদাহ' (১/ ৮৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
لابد معه من عبادته وحده لا شريك له؛ فهما أمران مطلوبان لأنفسهما.

الأمر الأول: أن يُعرف الربُّ تعالى بأسمائه وصفاته وأفعاله وأحكامه.

والأمر الثاني: أن يُعبد بمُوجبها ومُقتضاها.

فكما أنَّ عبادته مطلوبة مرادة لذاتها، فكذلك العلم به ومعرفته أيضًا، فإنَّ العلم من أفضل العبادات(1).

 

‌‌ثالثًا: توحيد الأسماء والصفات هو أصل العلوم الدينية:

كما أن العلم بأسماء الله وصفاته وأفعاله أجل العلوم وأشرفها وأعظمها فهو أصلها كلها، فكل علم هو تابع للعلم به، مفتقر في تحقق ذاته إليه، فالعلم به أصل كل علم ومَنشؤه؛ فمَن عرف الله عَرف ما سواه، ومَن جهل ربَّه فهو لما سواه أجهل؛ قال تعالى: {وَلا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنْسَاهُمْ أَنْفُسَهُمْ}، فتأمل هذه الآية تجد تحتها معنى شريفًا عظيمًا، وهو: أنَّ مَنْ نسي ربَّه أنساه ذاته ونفسه، فلم يَعرف حقيقته ولا مصالحه، بل نَسي ما به صلاحه وفلاحه في معاشه ومعاده؛ لأنَّه خرج عن فطرته التي خلق عليها، فنسي ربَّه فأنساه نفسه وصفاتها وما تكمل به وتزكو به وتسعد به في معاشها ومعادها؛ قال تعالى: {وَلا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطاً}، فغفل عن ذكر ربه؛ فانفرط عليه أمره وقلبه، فلا التفات له إلى مصالحه وكماله وما تزكو به نفسه وقلبه، بل هو مُشتت القلب مُضيعه، مفرط الأمر حيران لا يهتدي سبيلًا.

فالعِلم بالله أصل كل علم، وهو أصل علم العبد بسعادته وكماله ومصالح دنياه وآخرته، والجهل به مُستلزم للجهل بنفسه ومصالحها وكمالها وما تزكو به وتفلح به، فالعلم به سعادة العبد والجهل به أصل شقاوته(2).

 

‌‌رابعًا: معرفة أسماء الله وصفاته أصل عظيم في منهج السلف:

معرفة أسماء الله وصفاته هي الأساس الذي يَنبني عليه عمل العبد، ومن خلالها تتحدد العلاقة التي تربط العبد بربه، وعلى ضوئها يَعبد المسلم ربَّه، ويتقرب إليه.

قال شيخُ الإسلام ابنُ تيمية رحمه الله: «وأصلُ الإيمان: قولُ القلب الذي هو التَّصديق. وعمل القلب الذي هو المحبة على سبيل الخضوع؛ إذ لا مُلائمة لأرواح العباد أتم من ملاءمة إلهها؛ الذي هو الله الذي لا إله إلا هو».

--------------------------------------------

(1) «مفتاح دار السعادة» (1/ 178).

(2) «مفتاح دار السعادة» (1/ 86).
এর সাথে অবশ্যই শরীকহীনভাবে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে হবে; এই দুটি বিষয়ই মূলত কাঙ্ক্ষিত।

প্রথম বিষয়টি হলো: সুমহান রবকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি, কার্যাবলি এবং বিধানাবলির মাধ্যমে চেনা।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: এগুলোর দাবি ও আবশ্যকতা অনুযায়ী তাঁর ইবাদত করা।

যেহেতু তাঁর ইবাদত করা স্বয়ং একটি কাঙ্ক্ষিত ও উদ্দিষ্ট বিষয়, ঠিক তেমনি তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং তাঁকে চেনা বা জানাও অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত(১)।

 

‌‌তৃতীয়ত: নাম ও গুণাবলির তাওহীদ হলো দ্বীনি ইলমের মূলভিত্তি:

আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত জ্ঞান যেহেতু শ্রেষ্ঠতম, সর্বাধিক সম্মানিত এবং মহান ইলম, তাই এটি সকল ইলমের মূল। সুতরাং প্রতিটি ইলমই এই ইলমের অনুগামী এবং নিজের অস্তিত্বে এর মুখাপেক্ষী। সুতরাং তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানই হলো প্রতিটি ইলমের মূল ও উৎস; যে আল্লাহকে চিনল সে অন্য সবকিছুকেও চিনল, আর যে তার রব সম্পর্কে অজ্ঞ থাকল সে অন্য সবকিছুর ব্যাপারে আরও বেশি অজ্ঞ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল, ফলে আল্লাহ তাদের নিজেদেরকেও ভুলিয়ে দিয়েছিলেন}। এই আয়াতের প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করলে এর অধীনে একটি সুমহান ও শ্রেষ্ঠ অর্থ খুঁজে পাবেন, আর তা হলো: যে ব্যক্তি তার রবকে ভুলে যায়, আল্লাহ তাকে তার নিজের সত্তা ও জানকে ভুলিয়ে দেন। ফলে সে তার প্রকৃত স্বরূপ ও কল্যাণসমূহ বুঝতে পারে না, বরং সে তার জীবন ও পরকালের সংশোধন ও সফলতার মাধ্যমগুলোকেও ভুলে যায়; কেননা সে সেই ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি থেকে বিচ্যুত হয়েছে যার ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল। সে তার রবকে ভুলে গেছে, তাই তিনি তাকে তার নিজ নফস, এর গুণাবলি এবং যার মাধ্যমে এটি পূর্ণতা পায়, পবিত্র হয় এবং ইহকাল ও পরকালে সৌভাগ্য লাভ করে—তা ভুলিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আপনি এমন ব্যক্তির আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে তার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ সীমালঙ্ঘনমূলক}। সে তার রবের স্মরণ থেকে গাফেল হয়েছে, ফলে তার কাজ ও তার অন্তর বিশৃঙ্খল হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় সে তার নিজের কল্যাণ, পূর্ণতা এবং যার মাধ্যমে তার নফস ও অন্তর পবিত্র হয় তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। বরং তার অন্তর বিক্ষিপ্ত ও পথভ্রষ্ট, তার কাজ বিশৃঙ্খল এবং সে দিশেহারা হয়ে কোনো পথ খুঁজে পায় না।

সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে ইলমই হলো প্রতিটি ইলমের মূল, আর এটিই হলো বান্দার নিজ সৌভাগ্য, পূর্ণতা এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ সম্পর্কিত জ্ঞানের ভিত্তি। আর আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা নিজ নফস, এর কল্যাণ, পূর্ণতা এবং যার মাধ্যমে তা পবিত্র ও সফল হয়—সে সম্পর্কেও অজ্ঞতাকে অনিবার্য করে তোলে। সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে ইলমই বান্দার সৌভাগ্য এবং তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞতাই তার দুর্ভাগ্যের মূল(২)।

 

‌‌চতুর্থত: আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলি চেনা সালাফদের মানহাজে একটি মহান ভিত্তি:

আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলি চেনার মাধ্যমেই বান্দার আমল বা কর্মের ভিত্তি রচিত হয়, আর এর মাধ্যমেই বান্দার সাথে রবের সম্পর্ক নির্ধারিত হয় এবং এর আলোকেই একজন মুসলিম তার রবের ইবাদত করে ও তাঁর নৈকট্য লাভ করে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «ঈমানের মূল হলো অন্তরের কথা—যা হলো সত্যায়ন; এবং অন্তরের কাজ—যা হলো বিনম্রতাপূর্ণ ভালোবাসা। কেননা বান্দাদের আত্মার জন্য তাদের ইলাহ তথা আল্লাহ ছাড়া—যিনি ব্যতীত সত্য কোনো মাবুদ নেই—অন্য কারো সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ আর কিছু নেই»।

--------------------------------------------

(১) «মিফতাহু দারিস সাআদাহ» (১/ ১৭৮)।

(২) «মিফতাহু দারিস সাআদাহ» (১/ ৮৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ولذلك كان منهج السلف يقوم على أمرين؛ هما:

1 - العلم بالله.

2 - والعمل لله.

فجمعوا بذلك بين التصديق العِلمي والعَمل الحُبِّي، وبذلك تميز منهج أهل السنة والجماعة (السلف) عن المناهج الأخرى.

وحققوا كِلا الأمرين؛ من القول التصديقي المعتمد على معرفة أسماء الله وصفاته وأفعاله الواردة في الكتاب والسنة. والعمل الإرادي، وذلك باتباع الأوامر واجتناب النواهي وفق ما شرعه الله في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.

ولذلك كان كلامهم وعملهم باطنًا وظاهرًا بعلم، وكان كل واحد من قولهم وعملهم مقرونًا بالآخر، وهؤلاء هم المسلمون حقًّا؛ الذين سَلِموا من آفات منحرفة المتكلمة والمتصوفة.

فوقعت كل طائفة من هاتين الطائفتين المنحرفتين في مفسدتين:

إحداهما: القول بلا علم إن كان متكلمًا، والعمل بلا علم إن كان متصوفًا.

والمفسدة الثانية: فوت المتكلم العمل، وفوت المتصوف القول والكلام(1).

وهو ما وقع من البدع الكلامية والعملية المخالفة للكتاب والسنة.

فالكلاميون: غالب نظرهم وقولهم في الثبوت والانتفاء، والوجود والعدم، والقضايا التصديقية؛ فغايتهم مجرد التصديق والعلم والخبر؛ فاعتنوا بجانب علمي لم يَنْبَنِ على الكتاب والسنة؛ لذلك عَطَّلوا أسماء الله تعالى، وعَطَّلوا صفاتِه عز وجل.

وعندما عَرَّفوا التوحيد؛ قالوا: «واحد في ذاته، وواحد في صفاته، وواحد في أفعاله». وأهملوا جانب توحيد العبادة: «واحد في ذاته» قالوا: «لا شريكَ له». و «واحد في صفاته»: «لا نظير له». و «واحد في أفعاله»: «لا نِدَّ له». فهذا تقسيمهم للتوحيد(2)، ويُلاحظ أنه قد خلا في هذه الثلاثة من الجانب العملي، فلا يوجد عمل، ثم إذا تحدثوا عن ذات الله تعالى تحدثوا بالتعطيل؛ فقالوا بما قالوا: «ليس في جهة، ولا في عُلو، ولا في مكان، ولا في حيز» ولا إلى غير ذلك؛ فجعلوه والعدم سواء، وإذا تحدثوا عن صفات الله تعالى تحدثوا عن سبع صفات فقط، وإذا

--------------------------------------------

(1) «مجموع الفتاوى» (2/ 41) بتصرف.

(2) انظر: «المِلل والنِّحَل» للشهرستاني (1/ 42)، مؤسسة الحلبي.
আর এই কারণেই সালাফদের মানহাজ বা পদ্ধতি দুটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল; সেগুলো হলো:

১ - আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান।

২ - আল্লাহর জন্য আমল বা কর্ম।

এর মাধ্যমে তারা ইলমী বা জ্ঞানগত সত্যায়ন এবং মহব্বতপূর্ণ আমলের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। আর এভাবেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের (সালাফদের) মানহাজ অন্যান্য মানহাজ থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে।

তারা উভয় বিষয়ই বাস্তবায়ন করেছেন; কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত আল্লাহর নামসমূহ, তাঁর সিফাতসমূহ ও কার্যাবলীর মারেফাত বা পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল সত্যায়নমূলক কথার মাধ্যমে, এবং ইচ্ছাধীন আমল বা কর্মের মাধ্যমে। আর তা হলো আল্লাহর কিতাবে ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানীতে আল্লাহ যা শরীয়তসম্মত করেছেন, সেই অনুযায়ী আদেশসমূহ পালন এবং নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে।

ফলে তাদের কথা ও কাজ—অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয়ভাবেই—জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে ছিল। তাদের প্রতিটি কথা ও কাজ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। এরাই প্রকৃত মুসলিম; যারা বিভ্রান্ত মুতাকাল্লিম (কালামশাস্ত্রবিদ) ও সূফীদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিলেন।

এই দুটি বিভ্রান্ত দলের প্রত্যেকেই দুটি করে ক্ষতির মধ্যে নিপতিত হয়েছে:

একটি হলো: জ্ঞানহীন কথা বলা—যদি সে মুতাকাল্লিম হয়; আর জ্ঞানহীন আমল করা—যদি সে সূফী হয়।

দ্বিতীয় ক্ষতিটি হলো: মুতাকাল্লিমের আমল ছুটে যাওয়া এবং সূফীর কথা ও কালাম ছুটে যাওয়া(১)।

আর এভাবেই কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিদআতসমূহের উৎপত্তি হয়েছে।

যারা কালামশাস্ত্রবিদ (মুতাকাল্লিম): তাদের অধিকাংশ চিন্তা ও বক্তব্য হলো সাব্যস্ত করা ও নাকচ করা, অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব এবং সত্যায়নমূলক বিষয়াদি নিয়ে। ফলে তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবল সত্যায়ন, জ্ঞান ও তথ্য লাভ করা। তাই তারা এমন একটি ইলমী বা জ্ঞানগত দিকের যত্ন নিয়েছে যা কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। এ কারণেই তারা মহান আল্লাহর নামসমূহকে অকেজো করেছে এবং তাঁর সিফাতসমূহকেও অকেজো বা অস্বীকার করেছে।

তারা যখন তাওহীদের সংজ্ঞা দেয়, তখন তারা বলে: «তিনি তাঁর সত্তায় এক, তাঁর সিফাতে এক এবং তাঁর কার্যাবলীতে এক»। কিন্তু তারা ইবাদতের তাওহীদের দিকটিকে উপেক্ষা করেছে। «সত্তায় এক» বলতে তারা বলেছে: «তাঁর কোনো অংশীদার নেই»। এবং «সিফাতে বা গুণাবলীতে এক» বলতে বলেছে: «তাঁর কোনো সদৃশ নেই»। আর «কার্যাবলীতে এক» বলতে বলেছে: «তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই»। এটিই হলো তাওহীদ সম্পর্কে তাদের বিভাজন(২)। লক্ষ্যণীয় যে, এই তিনটির মধ্যে আমল বা ব্যবহারিক দিকটি অনুপস্থিত, সেখানে কোনো আমল নেই। এরপর তারা যখন মহান আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে আলোচনা করে, তখন তারা 'তাতীল' বা গুণাবলী অস্বীকারের মাধ্যমে আলোচনা করে। তারা যা বলেছে তা হলো: «তিনি কোনো দিকে নেই, কোনো উঁচুতে নেই, কোনো স্থানে নেই, কোনো পরিসরে নেই» ইত্যাদি। এভাবে তারা তাঁকে অনস্তিত্বের সমান বানিয়ে ফেলেছে। আর যখন তারা আল্লাহর সিফাত সম্পর্কে কথা বলে, তখন তারা কেবল সাতটি সিফাত নিয়ে আলোচনা করে এবং যখন

--------------------------------------------

(১) «মাজমুউল ফাতাওয়া» (২/ ৪১) সংক্ষেপিত।

(২) দেখুন: শাহরাস্তানির «আল-মিলাল ওয়ান নিহাল» (১/ ৪২), মুয়াসসাসাতুল হালাবি।
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
تحدثوا عن أفعال الله تعالى هذا هو الذي سَلِم لهم: «توحيد الربوبية»؛ فلم يَسلم لهم إلا توحيد الربوبية، ونحن نعلم أن كفار قريش كانوا مُقِرِّين بتوحيد الربوبية: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} [الزمر: 38]؛ فهذا حاصل توحيد هؤلاء.

وأمَّا الصُّوفيون: فغالب طلبهم وعملهم في المحبة والبغضة، والإرادة والكراهة، والحركات العملية؛ فاعتنوا بجانب العمل، وأهملوا جانب العلم، وكذلك عملهم لم ينبنِ على السنة، وإنَّما انبنى على البدعة؛ إذ غايتهم المحبة والانقياد والعمل والإرادة.

وهكذا إذا جئنا إلى أهل التصوف لم نجد عندهم من حقيقة التوحيد شيء.

أمَّا توحيدُ أهل السُّنَّة فيقوم على هذين الأصلين العظيمين: أن تَعرف اللهَ، وذاك بمعرفة أسمائه وصفاته التي وردت في الكتاب والسُّنَّة. وأن تعبد الله، وهذا باتِّباع شرع الله 5 على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.

فالسلف وأتباعهم جعلوا من توحيد الأسماء والصفات إحدى الرَّكيزتين التي قام عليها منهجهم المعتمد على نصوص الكتاب والسنة، وذلك لما لهذا التوحيد من أهمية ومنزلة، وهذا ما تشهد له كثرة النصوص الشرعية الواردة في هذا الشأن.

فلذلك لا بد لصاحب السُّنَّة أن يدرس هذا الباب، وأن يَبني هذه الدراسة على الكتاب والسنة؛ ليعرف الله عز وجل، فلن تكون من أصحاب السنة ولن تكون من أتباع السلف حتى تُعنى بهذا الباب، وطبعًا العلم بهذا الباب- كما ذكر العلماء مطلوب لذاته، ليس وسيلة للعمل كما يزعم البعض؛ فكلٌّ من العِلم بالله والعمل لله مطلوب لذاته؛ فقد يكون منه ما هو وسيلة، ومنه ما هو غاية؛ فيجب أن نعلم أنه لا بد من معرفة هذا الباب وتعلمه؛ باعتبار أنه أمر مطلوب لذاته، وإن كان لا يُكتفى به وحده، بل لا بد وأن يجتمع معه عبادة الله عز وجل، وإلا فإن العبد لا يكون مؤمنًا، وبهذا نعلم أن من أهمية هذا الباب أنه أصلٌ عظيمٌ في منهج أهل السنة والجماعة؛ فبالتالي لا بد من الاعتناء به، ولا بد من الاهتمام به، ولا بد من تعلُّمِه، وكما أشار المصنف: لا بد منه لأهميته وعِظمه ومنزلته، وكذلك لوقوع الاختلاف والافتراق في هذا الباب بين الفِرَق والطوائف لا بد من مزيد جهد وعناية بفهمه وتوضيحه ودراسته وتعلمه وتطبيقه.

والله تعالى ليس له مَثيل حتى يُقاس عليه، وعقول البشر لا يمكن أن تستقلَّ
তারা মহান আল্লাহর কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, আর এটিই তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে: 'তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ'; কেবল তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহই তাঁদের কাছে বিশুদ্ধ রয়ে গেছে। আর আমরা জানি যে, কুরাইশ কাফেররা তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি দিত: "আর আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন যে, কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে: আল্লাহ" [যুমার: ৩৮]; এটিই হলো তাঁদের তাওহীদের সারকথা।

আর সুফিদের কথা হলো: তাদের অধিকাংশ অন্বেষণ ও আমল হলো মহব্বত ও ঘৃণা, ইচ্ছা ও অপছন্দ এবং আমলি তৎপরতা কেন্দ্রিক; তারা আমলের দিকটির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে এবং ইলম বা জ্ঞানের দিকটি অবহেলা করেছে। তেমনিভাবে তাদের আমল সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি, বরং তা বিদআতের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; যেহেতু তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মহব্বত, আনুগত্য, আমল ও ইচ্ছা।

একইভাবে আমরা যদি তাসাউফপন্থীদের কাছে যাই, তবে তাদের কাছে তাওহীদের হাকীকত বা প্রকৃত তত্ত্বের কিছুই খুঁজে পাব না।

তবে আহলুস সুন্নাহর তাওহীদ এই দুটি মহান মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত: আল্লাহকে চেনা, আর তা হলো কিতাব ও সুন্নাহয় বর্ণিত তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি জানার মাধ্যমে। এবং আল্লাহর ইবাদত করা, আর তা হলো তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানে বর্ণিত আল্লাহর শরীয়ত অনুসরণের মাধ্যমে।

ফলে সালাফ এবং তাঁদের অনুসারীরা তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতকে সেই দুটি স্তম্ভের একটি সাব্যস্ত করেছেন যার ওপর কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের ওপর নির্ভরশীল তাঁদের মানহাজ প্রতিষ্ঠিত। আর এটি এই তাওহীদের গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণে, যার সাক্ষ্য দেয় এই বিষয়ে বর্ণিত অসংখ্য শরয়ি দলীল।

তাই একজন সুন্নাহর অনুসারীকে অবশ্যই এই অধ্যায়টি অধ্যায়ন করতে হবে এবং এই অধ্যায়নকে কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে; যাতে তিনি মহান আল্লাহকে চিনতে পারেন। আপনি আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না এবং সালাফদের অনুসারী হতে পারবেন না যতক্ষণ না আপনি এই অধ্যায়ের প্রতি যত্নশীল হবেন। আর অবশ্যই এই অধ্যায়ের জ্ঞান অর্জন করা—যেমনটি ওলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন—তা নিজস্ব সত্তায় কাম্য, এটি কেবল আমলের মাধ্যম নয় যেমনটি কেউ কেউ দাবি করেন; বরং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং আল্লাহর জন্য আমল—উভয়টিই নিজস্ব সত্তায় কাম্য। এর মধ্যে কোনটি মাধ্যম হতে পারে আবার কোনটি লক্ষ্য হতে পারে। সুতরাং আমাদের জানতে হবে যে, এই অধ্যায়টি জানা এবং শেখা অপরিহার্য; কারণ এটি নিজস্ব সত্তায় একটি কাম্য বিষয়, যদিও কেবল এটিই যথেষ্ট নয়, বরং এর সাথে মহান আল্লাহর ইবাদত যুক্ত হতে হবে, অন্যথায় বান্দা মুমিন হতে পারবে না। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, এই অধ্যায়ের গুরুত্ব হলো এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজের একটি মহান মূলনীতি; ফলশ্রুতিতে এর প্রতি যত্নশীল হওয়া, গুরুত্ব প্রদান করা এবং এটি শেখা অপরিহার্য। আর গ্রন্থকার যেমনটি ইঙ্গিত করেছেন: এর গুরুত্ব, বিশালত্ব ও মর্যাদার কারণে এটি অপরিহার্য। তেমনিভাবে, এই অধ্যায়ে বিভিন্ন দল ও উপদলের মধ্যে মতভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টি হওয়ার কারণে এটি বোঝা, ব্যাখ্যা করা, অধ্যায়ন করা, শিক্ষা করা এবং প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে আরও অধিক প্রচেষ্টা ও যত্নের প্রয়োজন।

আর মহান আল্লাহর কোনো সদৃশ নেই যার ওপর ভিত্তি করে তাঁর ওপর তুলনা করা যায়, এবং মানুষের বিবেক বুদ্ধি স্বতন্ত্রভাবে সমর্থ হতে পারে না...
(খণ্ড: ১) আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ ফি শারহিল ফাতওয়াহ আল-হামাউিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بمعرفة الله تعالى استقلالًا؛ لأنها قاصرة عاجزة، كما قال تعالى: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا} [الإسراء: 85]؛ فالله تعالى تَعَرَّف إليك! فضلًا منه ومِنَّة عليك عَرَّفك بأسمائه وصفاته، عَرَّفك بأنه العليم، وأنه السميع، وأنه البصير، وأنه القدير، وأنه الغفور، وأنه الرحيم، وأنه الجبَّار، وأنه المتكبر .. إلى غير ذلك مِنْ أسماء الله 5 وصفاتِه الواردة في الكتاب والسُّنَّة؛ فمِنَّةٌ عُظمى فتحها الله عليك! بالله عليك كيف تُغلقها على نفسِك؟! بل إن الله رَغَّبك في هذه المعرفة فقال: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180]، وقال: {لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الحشر: 24]، وقال: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [طه: 8] .. إلى غير ذلك من المواطن التي ذُكرت فيها أسماء الله عز وجل؛ إمَّا جملة وإما تفصيلًا.

فافتح بابَ معرفة الله تعالى! لا تُغلقه على نفسك! لا تحرم هذا القلب من أن يَعرف ربَّه، ويَعرف معبودَه!

 

‌‌خامسًا: العلم بأسماء الله وصفاته يَفتح للعبد باب معرفة الله:

إنَّ محبة الشيء فرع عن الشعور به، وأعرف الخلق بالله أشدهم حُبًّا له، فكل من عرف الله أحبه، والعلم يَفتح هذا الباب العظيم الذي هو سِرُّ الخَلق والأمر(1)؛ فمن أعظم أصول الدين: المحبة، بل هي قاعدة العبادة، فكيف يكون حبٌّ في قلب العبد المؤمن وهو لم يعرف الله 5؛ فالله تعالى فتح لنا باب معرفته من هذا الطريق، فإن شئت فادخل وتعَرَّف على أسماء الله وصفاته وأفعاله، وإلا فإنك محروم مِنْ ضِمن مَنْ حُرم مِنْ هذا الخير العظيم؛ فطمأنينة القلب وحياته هي في هذا الأمر العظيم: في معرفة الله عز وجل، ولا سبيل للحصول على هذه المعرفة إلا من باب العلم بأسماء الله وصفاته، فلا تَستقر للعبد قَدَم في معرفة الله إلا بالتعرف على أسمائه وصفاته الواردة في القرآن والسنة؛ فالعلم بأسماء الله وصفاته يَفتح للعبد هذا البابَ العظيمَ، فالله عز وجل لم يجعل السبيل إلى معرفته من طريق الاطلاع على ذاته، فهذا الباب موصود إلى قيام الساعة، كما أخبرنا بذلك نبينا محمد صلى الله عليه وسلم حيث قال: «تَعَلَّمُوا أنَّه لن يَرى أحدٌ مِنكم ربَّه عز وجل حتى يَموت»(2).

وكذلك فإنَّ من المحال أن تَستقل العقول البشرية بمعرفة ذلك وإدراكه على وجه

--------------------------------------------

(1) «مفتاح دار السعادة» (1/ 87).

(2) أخرجه مسلم (2931) من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما.
মহান আল্লাহকে স্বাধীনভাবে জানার ক্ষেত্রে; কারণ এটি (মানবীয় বুদ্ধি) সীমাবদ্ধ ও অক্ষম, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে} [আল-ইসরা: ৮৫]। অতএব মহান আল্লাহ আপনার নিকট নিজের পরিচয় প্রদান করেছেন! তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও অনুকম্পা স্বরূপ তিনি আপনাকে তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আপনাকে জানিয়েছেন যে তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি সর্বশ্রোতা, তিনি সর্বদ্রষ্টা, তিনি সর্বশক্তিমান, তিনি পরম ক্ষমাশীল, তিনি পরম দয়ালু, তিনি মহা প্রতাপশালী, তিনি অতিশয় অহঙ্কারী... এ ছাড়া কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত আল্লাহর অন্যান্য নাম ও গুণাবলি। এটি এক মহান অনুগ্রহ যা আল্লাহ আপনার জন্য উন্মুক্ত করেছেন! আল্লাহর দোহাই, আপনি কীভাবে এটি নিজের জন্য বন্ধ করে দিচ্ছেন?! বরং আল্লাহ আপনাকে এই জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো} [আল-আরাফ: ১৮০]। তিনি আরও বলেছেন: {তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ} [আল-হাশর: ২৪]। এবং তিনি বলেছেন: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ} [ত্বহা: ৮]... এ ছাড়াও অন্যান্য স্থান যেখানে মহান আল্লাহর নামসমূহ সংক্ষেপে বা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং মহান আল্লাহকে জানার দ্বার উন্মুক্ত করুন! এটি নিজের জন্য বন্ধ করবেন না! এই অন্তরকে তার রবকে চেনা এবং তার উপাস্যকে জানা থেকে বঞ্চিত করবেন না!

 

‌‌পঞ্চম: আল্লাহর নাম ও গুণাবলির জ্ঞান বান্দার জন্য আল্লাহকে জানার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়:

নিশ্চয়ই কোনো কিছুর প্রতি ভালোবাসা হলো তা অনুধাবনের একটি শাখা। সৃষ্টির মধ্যে যারা আল্লাহ সম্পর্কে অধিক অবগত, তারাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। সুতরাং যে আল্লাহকে চিনেছে, সে তাঁকে ভালোবেসেছে। আর জ্ঞান এই মহান দ্বারটি উন্মুক্ত করে দেয়, যা সৃষ্টি ও নির্দেশের রহস্য(১)। দ্বীনের অন্যতম মহান মূলনীতি হলো ভালোবাসা, বরং এটিই ইবাদতের ভিত্তি। মুমিন বান্দার হৃদয়ে কীভাবে ভালোবাসা থাকবে যখন সে আল্লাহকে চিনল না? মহান আল্লাহ আমাদের জন্য এই পথেই তাঁকে জানার দ্বার উন্মুক্ত করেছেন। আপনি চাইলে প্রবেশ করুন এবং আল্লাহর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে অবগত হোন; অন্যথায় আপনি সেই বঞ্চিতদের অন্তর্ভুক্ত হবেন যারা এই মহান কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হৃদয়ের প্রশান্তি ও জীবন এই মহান বিষয়ের মধ্যেই নিহিত: মহান আল্লাহকে জানার মধ্যে। আর এই জ্ঞান অর্জনের কোনো পথ নেই আল্লাহর নাম ও গুণাবলির জ্ঞান ছাড়া। আল্লাহর পরিচয়ের ক্ষেত্রে বান্দার পা ততক্ষণ স্থির হয় না যতক্ষণ না সে কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জানতে পারে। আল্লাহর নাম ও গুণাবলির জ্ঞান বান্দার জন্য এই মহান দ্বারটি খুলে দেয়। মহান আল্লাহ তাঁর সত্তাকে সরাসরি দেখার মাধ্যমে তাঁকে জানার পথ রাখেননি, কিয়ামত পর্যন্ত এই দ্বার রুদ্ধ। যেমনটি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের অবহিত করেছেন এই বলে যে: «জেনে রেখো, তোমাদের কেউ তার মহান রবকে মৃত্যু পর্যন্ত দেখতে পাবে না»(২)।

অনুরূপভাবে, মানবীয় বুদ্ধির পক্ষে স্বাধীনভাবে এটি জানা এবং যথাযথভাবে উপলব্ধি করা অসম্ভব...

--------------------------------------------

(১) «মিফতাহু দারিস সা'আদাহ» (১/ ৮৭)।

(২) মুসলিম (২৯৩১) এটি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।