(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: -)
مسند أبي بكر الصديق - لابن كثير   (ابن كثير)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند الإمام أبي بكر الصديق وأيامه وأحكامه

(يُطبع لأول مرة عن مخطوطة عمانية وحيدة ونادرة في العالم)

المؤلف: أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير (الدمشقي البصروي) الشافعي (701 - 774 هـ)

دراسة وتحقيق: غالية بنت سالم بن علي آل سعيد

أصل التحقيق: رسالة ماجستير للمحققة

الناشر: مكتبة الوراق - سلطنة عُمان

الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م

عدد الصفحات: 712

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 جُمادَى الآخرة 1446

আবু বকর সিদ্দীকের মুসনাদ - ইবনে কাসীর   (ইবনে কাসীর)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: ইমাম আবু বকর সিদ্দীকের মুসনাদ, তাঁর যুগ এবং তাঁর ফয়সালাসমূহ

(বিশ্বের একমাত্র ও বিরল ওমানি পাণ্ডুলিপি থেকে প্রথমবারের মতো মুদ্রিত)

লেখক: আবুল ফিদা ইসমাঈল ইবনে উমর ইবনে কাসীর (দামেশকি বাসরাভি) আশ-শাফিঈ (৭০১ - ৭৭৪ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: গালিয়া বিনতে সালেম ইবনে আলী আল সাঈদ

সম্পাদনার উৎস: সম্পাদিকার মাস্টার্স থিসিস

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ওয়াররাক - ওমান সালতানাত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌كلمة حمد وشكر وتقدير

أحمد الله عز وجل حمدًا كثيرًا على أن مَنَّ عَلَيَّ بالتسهيل والتوفيق في عمل هذا البحث المتواضع وإتمامه، وأسأله تعالى أن يجعل هذا العمل صالحًا، نافعًا للإسلام والمسلمين، وأن يبارك لي فيه، وأن يعفو ويغفر لوالديّ ويرحمهما كما ربياني صغيرًا، وأن يدخلهما الفردوس الأعلى.

وأتقدم بالشكر الجزيل، والعرفان إلى الدكتور/ أحمد بن يحيى بن أحمد الكندي، المشرف الرئيس على هذه الرسالة على ما بذله من جهد واهتمام، ورحابة صدر، وإخلاص في العمل.

وأقدم جزيل الشكر، والتقدير، والاحترام لأعضاء لجنة المناقشة وهم:

 

الأستاذ الدكتور/ أحمد معبد عبد الكريم الكليباتي، أستاذ الحديث بالأزهر، وعضو هيئة كبار العلماء بالأزهر.

الأستاذ الدكتور/ جلال الدين إسماعيل حسن عجوة، أستاذ الحديث بالأزهر، وعضو هيئة كبار العلماء بالأزهر.

 

على قبولهم مناقشة رسالتي، وعلى ما قدموه لي من نصائح وتوجيهات مهمة جدًّا، أفادتني كثيرًا في إخراجها، وأسأل الله عز وجل أن يغفر لهم، ويسدِّد خُطاهم في أعمالهم، وأن يبارك لهم في جهودهم، ويوفقهم لخيري الدنيا والآخرة، اللهم آمين.

 

الباحثة
প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতির বাণী

আমি সুমহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা করছি যে তিনি আমাকে এই বিনম্র গবেষণাটি সম্পাদন ও সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহজসাধ্যতা ও তাওফিক দান করেছেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কর্মকে কবুল করেন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য একে উপকারী করে দেন; তিনি যেন আমাকে এতে বরকত দান করেন এবং আমার পিতামাতাকে ক্ষমা ও মার্জনা করেন এবং তাদের প্রতি তেমন দয়া করেন যেমনটি তারা আমাকে শৈশবে লালনপালন করেছিলেন এবং তাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করেন।

আমি এই গবেষণাপত্রের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ডক্টর আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন আহমদ আল-কিন্দি-এর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা, প্রশস্ত চিত্তে সহযোগিতা এবং কাজের প্রতি একনিষ্ঠতার জন্য।

আমি পরীক্ষক কমিটির সদস্যবৃন্দের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করছি, যাঁরা হলেন:

 

প্রফেসর ডক্টর আহমদ মাবাদ আব্দুল করিম আল-কুলাইবাতি, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের অধ্যাপক এবং আল-আজহারের জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের সদস্য।

প্রফেসর ডক্টর জালালুদ্দিন ইসমাইল হাসান আজওয়া, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের অধ্যাপক এবং আল-আজহারের জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের সদস্য।

 

আমার এই গবেষণাপত্রটি মূল্যায়নের জন্য তাঁরা যে সম্মতি প্রদান করেছেন এবং আমাকে যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, তার জন্য তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; যা এই গবেষণাপত্রটিকে চূড়ান্ত রূপদানে আমাকে প্রভূত সহায়তা করেছে। আমি সুমহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে তিনি যেন তাঁদের ক্ষমা করেন, তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, তাঁদের প্রচেষ্টায় বরকত দান করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণে তাঁদের তাওফিক দান করেন। হে আল্লাহ, কবুল করুন (আমিন)।

 

গবেষিকা
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌تقديم

الحمد لله المتفرد بوحدانيته والقائل في محكم آياته: {إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [التوبة: 40] والصلاة والسلام على خير مخلوقاته والقائل في أحاديثه وكلماته: يا أبا بكر لا تبك، إن أمن الناس عليَّ في صحبته وماله أبو بكر، ولو كنت متخذًا خليلًا من أمتي لاتخذت أبا بكر، ولكن أخوة الإسلام ومودته، لا يبقين في المسجد باب إلا سد، إلا باب أبي بكر"، وعلى آله وأصحابه ومن اتبع أوامره وتوجيهاته، صلاة سرمدية إلى اليوم الذي تغشاه الرحمة بشفاعته.

أما بعد: فإن أصدق الحديث كلام الله وأفضل الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشرّ الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار. ولقد دأب المسلمون منذ صدر الإسلام في الحفاظ على هدي النبي صلى الله عليه وسلم من خلال جمع أحاديثه وروايتها حفظًا وكتابة وتدارسًا وإملاءًا ومن ثم ذبًا عن حياضه من الكذابين والوضاعين حتى أضحى المصدر الثاني للتشريع في الإسلام، وعلمًا قائمًا بذاته ومصادره وقواعده. ومن جملة تلكم الأحاديث النبوية ما رواها عنه أبو بكر الصديق رضي الله عنه وهو من هو في مكانته وعلمه وقدره، فاهتم الحفاظ والمحدثون بحصر مروياته وجمع طرقها في كتاب خاص ومن أوائلهم
উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর একত্ববাদে অদ্বিতীয় এবং যিনি তাঁর সুদৃঢ় আয়াতে বলেছেন: {যদি তোমরা তাঁকে (রাসূলকে) সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তো তাঁকে সাহায্য করেছিলেন যখন কাফিররা তাঁকে বের করে দিয়েছিল; তিনি ছিলেন দুজনের দ্বিতীয়জন, যখন তাঁরা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন, যখন তিনি তাঁর সাথীকে বলছিলেন, 'চিন্তা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন'। অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওপর নিজের পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং তাঁকে এমন এক সৈন্যবাহিনী দিয়ে শক্তিশালী করলেন যা তোমরা দেখতে পাওনি। আর তিনি কাফিরদের কথাকে নিচু করে দিলেন এবং আল্লাহর কথাই সমুন্নত। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আত-তাওবাহ: ৪০] আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তার ওপর, যিনি তাঁর হাদীস ও বাণীসমূহে বলেছেন: "হে আবু বকর, কেঁদো না। মানুষের মধ্যে আমার প্রতি সাহচর্য ও সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহকারী হলো আবু বকর। আমি যদি আমার উম্মতের মধ্য থেকে কাউকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই গ্রহণ করতাম। তবে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসাই যথেষ্ট। আবু বকরের প্রবেশপথ ছাড়া মসজিদের আর কোনো দরজা যেন খোলা রাখা না হয়, বরং সব বন্ধ করে দেওয়া হোক।" এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাথীবর্গ এবং যারা তাঁর নির্দেশ ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করেছেন তাদের ওপরও চিরন্তন রহমত বর্ষিত হোক সেই দিন পর্যন্ত, যেদিন তাঁর সুপারিশের মাধ্যমে রহমত সকলকে আচ্ছন্ন করবে।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কালাম এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মদ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে প্রবর্তিত নতুন বিষয়গুলো, এবং প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই মুসলমানরা নবী (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর হিদায়াত সংরক্ষণের জন্য তাঁর হাদীসসমূহ মুখস্থকরণ, লিখন, পঠন-পাঠন এবং শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সংগ্রহ করার ব্যাপারে ব্রতী ছিলেন। অতঃপর মিথ্যাবাদী ও জালিয়াতিচক্রের হাত থেকে একে রক্ষা করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত ছিলেন, যতক্ষণ না এটি ইসলামে শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস এবং নিজস্ব উৎস ও মূলনীতিসহ একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞানে পরিণত হয়েছে। সেই সকল নববী হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই বর্ণনাগুলো, যা আবু বকর সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বর্ণনা করেছেন; যাঁর মর্যাদা, জ্ঞান এবং অবস্থান অত্যন্ত সুউচ্চ। তাই হাদীস সংরক্ষণকারী ও মুহাদ্দিসগণ তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহকে সুনির্দিষ্ট করতে এবং সেগুলোর বর্ণনাপথসমূহ একটি বিশেষ গ্রন্থে একত্রিত করতে গুরুত্বারোপ করেছেন, এবং তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্যরা হলেন-
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٥)
الحافظ أبو إسحاق إبراهيم بن سعيد الجوهري البغدادي (ت: 247 هـ) حيث خرج مسندًا لأحاديث الصديق في نيف وعشرين جزءًا، وإلى ذلك أشار عبد الله بن جعفر بن خاقان حيث يقول: سألت إبراهيم بن سعيد الجوهري عن حديث لأبي بكر الصديق، فقال لجاريته: "أخرجي لي الجزء الثالث والعشرين من مسند أبي بكر"، فقلت له: أبو بكر لا يصح له خمسون حديثًا، من أين ثلاثة وعشرون جزءًا؟ فقال: "كل حديث لا يكون عندي من مائة وجه فأنا فيه يتيم". ومن ثم صنف الحافظ أبو بكر أحمد بن علي بن سعيد المروزي (ت: 292 هـ) مسندًا أسماه بمسند أبي بكر الصديق حيث جمع فيه 140 حديثًا وأثرًا لأبي بكر الصديق رضي الله عنه. ومن ثم قام الحافظ أبو محمد يحيى بن محمد بن صاعد (ت:318 هـ) بتصنيف مسند أسماه بمسند أبي بكر الصديق في جزأين. وقام من بعده الحافظ محمد بن حاتم بن زنجويه البخاري الشافعي (ت: 359 هـ) بتصنيف كتاب أسماه بالروض الأنيق في إثبات إمامة أبي بكر الصديق. ثم جاء الحافظ أبو علي الحسين بن محمد بن أحمد الماسرجسي النيسابوري الشافعي (ت: 365 هـ) وصنف مسندًا معللًا لأبي بكر الصديق رضي الله عنه مع جمع طرقه وشواهده في أكثر من ستين جزءًا. وتتابع من بعده الحفاظ في التصنيف حول مناقب الصديق ومنهم الحافظ محمد بن عبد الله بن حمدويه الضبي النيسابوري الشهير بابن البيع (ت: 405 هـ) حيث صنف كتابًا بعنوان: مناقب الصديق. وشابه ذلك ما قام به الحافظ علي بن أبي محمد الحسن بن هبة الله الدمشقي الشافعي الشهير بابن عساكر (ت: 571 هـ) حيث صنف كتابًا أسماه بفضائل الصديق. وعلى ثرى من سبق من الحفاظ قام الحافظ المفسر الإمام أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي الدمشقي الشافعي (ت: 774 هـ) بجمع مرويات أبي بكر الصديق رضي الله عنه بشتي طرقها وشواهدها وآثاره من دواوين السنة الشهيرة وقام بترتيبها على أبواب الفقه مع التطرق إلى ما فيها من بيان العلل والفوائد الحديثية والنكات الفقهية والتي لا تصدر إلا من الجهابذة في العلوم.

হাফেজ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারি আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ২৪৭ হিজরি) বিশটিরও বেশি খণ্ডে সিদ্দীকের হাদিসসমূহের একটি মুসনাদ সংকলন করেছেন। সেদিকে ইঙ্গিত করে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে খাকান বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারিকে আবু বকর সিদ্দীকের একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁর দাসীকে বললেন: "আবু বকরের মুসনাদের তেইশতম খণ্ডটি আমার কাছে নিয়ে এসো"। তখন আমি তাঁকে বললাম: আবু বকরের তো পঞ্চাশটি হাদিসও সহিহভাবে প্রমাণিত নয়, তবে তেইশ খণ্ড কোত্থেকে এলো? তিনি বললেন: "যে হাদিস আমার নিকট একশত সূত্রে নেই, সেই হাদিসের ক্ষেত্রে আমি নিজেকে অনাথ মনে করি।"

এরপর হাফেজ আবু বকর আহমদ ইবনে আলি ইবনে সাঈদ আল-মারওয়াজি (মৃত্যু: ২৯২ হিজরি) 'মুসনাদে আবু বকর সিদ্দীক' নামে একটি মুসনাদ সংকলন করেন, যেখানে তিনি আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ১৪০টি হাদিস ও আসার (সাহাবীর বাণী) একত্রিত করেন। পরবর্তীতে হাফেজ আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়েদ (মৃত্যু: ৩১৮ হিজরি) দুই খণ্ডে 'মুসনাদে আবু বকর সিদ্দীক' নামে একটি মুসনাদ সংকলন করেন। তাঁর পরে হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে হাতেম ইবনে জানজাওয়াইহ আল-বুখারি আল-শাফিঈ (মৃত্যু: ৩৫৯ হিজরি) 'আর-রাওযুল আনীক ফি ইসবাত ইমামাত আবি বকর আস-সিদ্দীক' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন।

অতঃপর হাফেজ আবু আলি আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মাসারজাসি আল-নিশাপুরি আল-শাফিঈ (মৃত্যু: ৩৬৫ হিজরি) আসেন এবং তিনি আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য একটি 'মুসনাদে মুআল্লাল' (সূক্ষ্ম ত্রুটি বিশ্লেষণমূলক মুসনাদ) সংকলন করেন, যেখানে তিনি এর সনদসমূহ ও সাক্ষ্যসমূহকে ষাটটিরও বেশি খণ্ডে একত্রিত করেন। তাঁর পরবর্তী হাফেজগণও সিদ্দীকের মর্যাদা সম্পর্কে গ্রন্থ রচনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হামদুওয়াইহ আদ-দব্বি আল-নিশাপুরি, যিনি ইবনুল বাইয়ি' নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৪০৫ হিজরি); তিনি 'মানাকিবে সিদ্দীক' শিরোনামে একটি কিতাব রচনা করেন। অনুরূপভাবে হাফেজ আলি ইবনে আবি মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ আদ-দিমাশকি আল-শাফিঈ, যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৫৭১ হিজরি), 'ফাযায়েলে সিদ্দীক' নামে একটি কিতাব সংকলন করেন।

পূর্ববর্তী হাফেজদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে হাফেজ মুফাসসির ইমাম আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি আল-শাফিঈ (মৃত্যু: ৭৭৪ হিজরি) প্রসিদ্ধ সুন্নাহর সংকলনসমূহ থেকে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসসমূহকে বিভিন্ন সনদ, সাক্ষ্য ও আসারসহ সংগ্রহ করেন এবং সেগুলোকে ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন। সেই সাথে তিনি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলল), অন্যান্য উপকারিতা এবং ফিকহি সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ আলোচনা করেন, যা কেবল অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী বিজ্ঞ আলেমদের দ্বারাই সম্ভব।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٦)
فالحمد لله الذي يسر إخراج هذا الكتاب القيم الذي استبشر العلماء بخبر إخراجه أمثال الشيخ عبد الباري ابن العلامة حماد الأنصاري فقال (بشرى عظيمة). فدونك أيها القارئ الكريم هذا المسند الذي حكم بفقده منذ طباعة مسند الفاروق لابن كثير. وعلاوة على ذلك نفاسة النسخة في كونها منسوخة عن نسخة بخط الحافظ ابن كثير وفي حياته، حيث كان النسخ في عام 740 هـ. وقد كان المؤمل أن يتجشم أحد الباحثين في علم الحديث النبوي لتحقيق المسند وإخراجه إلى عالم المطبوع وتيسر ذلك بفضل الله على يد الباحثة السيدة غالية بنت سالم بن علي آل سعيد والتي قامت بتحقيق المخطوطة كرسالة لاستكمال متطلبات شهادة الماجستير، حيث لم تألُ جهدًا ولا وسعًا في العمل الذي ترى ثمرته بين يديك، الآن، فجزاها الله خير الجزاء على ما قدمت.

ولأهمية الكتاب ومصنفه فقد قامت مكتبة الوراق العامة بنشر الكتاب ضمن جهودها الدؤوبة لإحياء التراث الإسلامي، وخدمة العلوم الشرعية، ورفد المكتبة الإسلامية بكل ما هو نافع ومفيد سائلين الله جلَّ في علاه أن يؤجر الأجر الحسن في الدارين لكل من اهتم بإخراجه في الحلة التي تراها بين يديك، ونسأله جل وعز أن ينفع به كل من قرأه وأقرأه واستفاد منه، والله من وراء القصد والسبيل.

 

الدكتور / إبراهيم بن حسن البلوشي

الدكتور / هادي بن صالح العوبثاني
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এই মূল্যবান কিতাবটি প্রকাশের পথ সুগম করেছেন, যার প্রকাশের সংবাদে শায়খ আব্দুল বারি ইবনুল আল্লামা হাম্মাদ আল-আনসারীর মতো উলামায়ে কেরাম আনন্দিত হয়ে বলেছেন, "এটি একটি মহান সুসংবাদ"। হে সম্মানিত পাঠক, আপনার সম্মুখে পেশ করা হলো এই মুসনাদটি, যা ইবনে কাসীরের 'মুসনাদুল ফারূক' মুদ্রিত হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ বলে গণ্য করা হচ্ছিল। তদুপরি, এই পাণ্ডুলিপির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি হাফেজ ইবনে কাসীরের জীবদ্দশায় তাঁর স্বহস্তে লিখিত কপি থেকে প্রতিলিপি করা হয়েছে, যার অনুলিপি তৈরির কাজ হিজরি ৭৪০ সনে সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাশা ছিল যে, ইলমে হাদিসের কোনো গবেষক এই মুসনাদটির তাহকিক ও তা মুদ্রিত আকারে প্রকাশের কষ্টসাধ্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আর আল্লাহর অনুগ্রহে গবেষক সায়্যিদা গালিয়া বিনতে সালেম বিন আলী আল-সাঈদের মাধ্যমে তা সহজতর হয়েছে, যিনি তাঁর মাস্টার্স ডিগ্রির প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের অংশ হিসেবে এই পাণ্ডুলিপিটির তাহকিক ও সম্পাদনা সম্পন্ন করেছেন। আপনার হাতে বর্তমানে যে ফলপ্রসূ কাজটির ফসল দৃশ্যমান, তা সম্পন্ন করতে তিনি তাঁর শ্রম ও সামর্থ্যের কোনো ত্রুটি করেননি। তিনি যা উপস্থাপন করেছেন, তার জন্য আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

কিতাব এবং এর সংকলকের গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রেখে মাকতাবাতুল ওয়াররাক আল-আম্মাহ (আল-ওয়াররাক পাবলিক লাইব্রেরি) ইসলামী ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করা, শরিয়াহ বিজ্ঞানের খিদমত এবং ইসলামী লাইব্রেরিকে কল্যাণকর ও উপকারী উপকরণে সমৃদ্ধ করার নিরলস প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এটি প্রকাশ করেছে। আমরা সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, কিতাবটি আপনার হাতে যে সুশোভিত রূপে পৌঁছেছে, এর প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে তিনি যেন উভয় জাহানে উত্তম প্রতিদান দান করেন। আর আমরা মহান প্রতাপশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর মাধ্যমে প্রত্যেক পাঠক, শিক্ষক এবং এর থেকে উপকৃত হওয়া ব্যক্তিদের ধন্য করেন। আল্লাহই মূল লক্ষ্য এবং সঠিক পথের দিশারি।

 

ডক্টর ইব্রাহিম বিন হাসান আল-বালুশি

ডক্টর হাদি বিন সালেহ আল-আওবাছানি
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مقدمة

بسم الرحمن الرحيم

الحمدُ لله أولًا وآخرًا، ظاهرًا وباطنًا، والحمدُ للهِ عدد خلقه، ورضا نفسه، وزِنَةَ عرشه، ومداد كلماته، على نَعْمائِه، ومواهبه، وأفضاله.

والصَّلاة والسَّلام على حبيبنا، وسيدنا ونبينا، محمد صلى الله عليه وسلم، وعلى آله، وصحبه، وإخوانه من النَّبِيِّين والمُرسَلِين.

أما بعد، فإِنَّ خير ما أنزله الله عز وجل على النَّاس هو: القُرآن الكريم، وخير ما أوحَى به على لسان نبيه الكريم صلى الله عليه وسلم هو: الحديث الشريف.

يقول الله عز وجل: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4) عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى} [النجم: 3 - 5].

ويقول: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} [النساء: 165].

فالحديث النبوي المقبول فيه من مبشرات النبوة، والأحكام الشَّرعية، والتربية الأخلاقية، الدِّينية الصَّحيحة الشيء الكثير، وله أهمية كُبرى؛ فهو مصدر أساس للشَّريعة الإسلامية.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এবং আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর নিজের সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ এবং তাঁর কালেমাসমূহের কালি পরিমাণ—তাঁর নেয়ামত, দান এবং অনুগ্রহের জন্য।

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয়তম, আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথি এবং তাঁর নবী ও রাসুল ভাইদের ওপর।

অতঃপর, মহান আল্লাহ মানুষের ওপর যা নাজিল করেছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো পবিত্র কুরআন, আর তিনি তাঁর সম্মানিত নবীর জবানিতে যা ওহি করেছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো হাদিস শরিফ।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। (৩) এটি তো ওহি যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। (৪) তাঁকে শিক্ষা দান করেছেন এক শক্তিশালী সত্তা।} [আন-নাজম: ৩ - ৫]।

তিনি আরও বলেন: {সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসুলগণ (প্রেরণ করা হয়েছে), যাতে রাসুলগণের পরে আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান।} [আন-নিসা: ১৬৫]।

সুতরাং গ্রহণযোগ্য নববী হাদিসে নবুওয়তের সুসংবাদ, শারঈ বিধান এবং সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অনেক কিছু রয়েছে এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম; কারণ এটি ইসলামী শরিয়তের একটি অন্যতম মূল উৎস।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٨)
وكما حَفِظ الله عز وجل كتابه العزيز من التحريف والتبديل؛ فقد حَفِظ سُنَّةَ نبيه صلى الله عليه وسلم فقيَّضَ لها رجالًا أجِلاء، فُضلاء، شُرفَاء، نقلوا الحديث النَّبوي، جيلًا بعد جيل، وثقة عن ثقة في صدورهم، ودَوَّنُوه في كتبهم، وتَوَلَّوه بالرعاية، والرواية، ولم يُدْخِروا جُهْدًا أو بَدلًا في شرحِهِ، وتقريبه، وتَوْضيحِهِ، وبذلوا الغالي والنَّفيس في سبيله، وذادُوا عنه كل الذَوْدِ، وكانت خدمة الحديث الشريف لهم غايَة، ومَطْلبًا، وشَرَفًا، وأَيَّمَا شَرَف.

وكان تدوين الصِّحاح، والسُّنَنِ والجَوامِع، والمسَانيد، وغيرها من كتب الحديث، آثارًا باقية، خالدة، شاهدة على صدقهم، وأمانتهم، وحبهم للرسول صلى الله عليه وسلم، وسنته النبوية الشَّريفة.

ومن العُلماء الأفذاذ الذين دَأَبُوا على خدمة الحديث الشريف بالجمع، والحفظ، والرِّواية، والكتابة، والعناية: الإمام الحافظ، الثِّقة أبو الفِدَاء إسماعيل بن عمر بن كَثير؛ فكان رحمه الله بمساهماته العِلمية الغزيرة، النافعة، المتنوعة، مُجتهدًا بِهِمَّة؛ وكان بحفظه للمُتون، ومعرفته بصحيحها، وسقيمها، وعِلَلِها ورجالها، من المتميزين في عصره.

وها هو كتاب (مُسند الإمام أبي بكر الصديق وأيامه وأحكامه) - بين أيديكم - ثمرة من ثمرات جُهْدِ مؤلفِهِ الإمام الحافظ ابن كثير رحمه الله الذي صنَّفه قبل كتبه: (جامع المسَانيد والسُّنن)، و (مُسند الفاروق)، و (مُسند عائشة)، وقد قيل: إنه من مصنفاته المفقودة(1).

--------------------------------------------

(1) ابن كثير: إسماعيل بن عمر بن كثير الدمشقي، جامع المسانيد والسنن، تحقيق د. عبد المعطي، قلعجي، دار الفكر/ دار الكتب العلمية، بيروت، ط 2، 1423 هـ 2002 م (ص: 150 - 151)، آل شلش: عدنان بن محمد بن عبد الله آل شلش، الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث رواية ودراية، دار النفائس، عمان، ط 1، 1425 هـ 2005 م (ص: 104 - 107). الزحيلي: محمد الزحيلي، ابن كثير الدمشقي، الحافظ المفسر، المؤرخ، الفقيه، دار القلم، دمشق، ط 1، 1415 هـ - 1995 م (ص: 311 - 312).

মহান আল্লাহ যেমন তাঁর সম্মানিত কিতাবকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে রক্ষা করেছেন, তেমনি তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহকেও রক্ষা করেছেন। এজন্য তিনি কিছু মহান, মর্যাদাবান ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বকে নির্ধারিত করেছেন, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এবং এক বিশ্বস্ত ব্যক্তি থেকে অন্য বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে হৃদয়ে ধারণ করে হাদিসে নববী বর্ণনা করেছেন, তাঁদের গ্রন্থে তা সংকলন করেছেন এবং এর যত্ন ও বর্ণনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁরা এটি ব্যাখ্যা, সহজীকরণ এবং স্পষ্টীকরণের ক্ষেত্রে কোনো শ্রম বা ত্যাগের ত্রুটি করেননি এবং এর পথে মূল্যবান ও প্রিয় সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁরা সর্বাত্মকভাবে একে রক্ষা করেছেন এবং হাদিসে শরিফের খেদমত ছিল তাঁদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও এক মহান মর্যাদা।

সিহাহ, সুনান, জামে‘, মুসনাদ এবং হাদিসের অন্যান্য গ্রন্থসমূহের সংকলন ছিল অবিনশ্বর ও চিরস্থায়ী কীর্তি, যা তাঁদের সততা, আমানতদারি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সুন্নাহর প্রতি তাঁদের ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে আছে।

সেই সব অনন্য পণ্ডিতদের মধ্যে যারা সংগ্রহ, মুখস্থকরণ, বর্ণনা, লিখন এবং যত্নের মাধ্যমে হাদিসে শরিফের খেদমতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা হলেন: ইমাম হাফেজ, নির্ভরযোগ্য আবু আল-ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বিপুল, উপকারী ও বহুমুখী ইলমি অবদানের মাধ্যমে ছিলেন একনিষ্ঠ পরিশ্রমী; এবং হাদিসের মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ রাখা এবং সহিহ, সাকিম (দুর্বল), ইলাল (ত্রুটি) ও বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে জ্ঞানের কারণে তিনি তাঁর যুগের বিশিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আর এই যে (মুসনাদে ইমাম আবু বকর সিদ্দিক এবং তাঁর সময়কাল ও বিধানসমূহ) গ্রন্থটি—আপনাদের সামনে—এটি এর লেখক ইমাম হাফেজ ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রচেষ্টার অন্যতম ফসল। তিনি এটি তাঁর ‘জামেউল মাসানিদ ওয়াস সুনান’, ‘মুসনাদুল ফারুক’ এবং ‘মুসনাদে আয়েশা’ গ্রন্থসমূহের পূর্বে রচনা করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটি তাঁর হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল(১)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসির: ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির আদ-দিমাশকি, জামেউল মাসানিদ ওয়াস সুনান, তাহকিক: ড. আবদুল মুতি কালাজি, দারুল ফিকর/ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২য় সংস্করণ, ১৪২৩ হিজরি ২০০২ খ্রিস্টাব্দ (পৃষ্ঠা: ১৫০-১৫১), আল শালাশ: আদনান বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল শালাশ, আল-ইমাম ইবনে কাসির ওয়া আসারুহু ফি ইলমিল হাদিস রিওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান, দারুন নাফায়েস, আম্মান, ১ম সংস্করণ, ১৪২৫ হিজরি ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ (পৃষ্ঠা: ১০৪-১০৭)। জুহাইলি: মুহাম্মদ জুহাইলি, ইবনে কাসির আদ-দিমাশকি, আল-হাফিজ আল-মুফাসসির, আল-মুওয়াররিখ, আল-ফকিহ, দারুল কালাম, দামেস্ক, ১ম সংস্করণ, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ (পৃষ্ঠা: ৩১১-৩১২)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٩)
وقد احتوى هذا المسند القَيِّم على أحاديث رواها الصديق رضي الله عنه في الأحكام وغيرها، وعلى آثار رُويت عنه، وقد جاء المسند مُرتبًا على أبواب الفقهِ، كما قال مؤلفه في مقدمة كتابه هذا: "مُرتبًا على أبواب الفقه ليسهل كشفه على من أراده"(1).

 

‌‌دوافع البحث:

كان من مُتطلبات نَيْلِ درجة الماجستيرِ أن أختار بين دراسة موضوع ما، أو تَحقيقِ مخطوطةٍ؛ وقد كانت المخطوطات - دَوْمًا تُثير اهتمامي بأوراقها الصفراء العتيقة، وتثير الفضول والتَّحَدِيَ لديَّ بما قد تحتويه من كُنوز وأسرارٍ لم تُكشف بعد؛ فلذلك سارعتُ بالبحث عن مخطوطة صالحة للتحقيق في أماكن عِدَّة، وبعد بحثٍ مُضنٍ في مكتبات ودُور مخطوطات عديدة؛ مَنَّ الله عز وجل علي بأن أخبرني أحد الأخوة الكرام بوجود مخطوطة نفيسة، نادرة - تعود إلى القرن الثامن الهجري - للإمام الحافظ إسماعيل بن كثير الدمشقي وهي بعنوان (مسند الإمام أبي بكر الصديق وأيامه وأحكامه) بمكتبة السيد محمد بن أحمد بن سعود البُوسعيدي (ت 2012 م)(2) بولاية السِّيب(3)،

--------------------------------------------

(1) انظر: مقدمة المؤلف (ص: 167).

(2) هو: السيد محمد بن أحمد بن سعود البوسعيدي، الإمام المفتي الوزير، مستشار جلالة السلطان قابوس للشؤون الدينية والتاريخية، صاحب أكبر مكتبة تاريخية خاصة في سلطنة عُمان، توفي الله عام 2012 م.

(3) ولاية السِّيْب: هي أكبر ولايات محافظة مسقط، وهي منطقة ساحلية تطل على خليج عمان، وتشتهر بصيد الأسماك، وتنقسم إلى قرى عدة منها: السيب القديمة، والحيل الجنوبية، والحيل الشمالية، والموالح الجنوبية، والموالح الشمالية، والمعبيلة الجنوبية، والمعبيلة الشمالية، والخوض القديمة، والخوض الجديدة، والرسيل، قال ياقوت الحموي في معنى (السَّيْب): "وأصله مجرى الماء كالنهر" ياقوت الحموي: أبو عبد الله ياقوت بن عبد الله، معجم البلدان، دار الكتب العلمية، بيروت، ط 2، 2012 م (3/ 333). مجموعة دكاترة، السياحة في سلطنة عمان، مكتبة بيروت سلطنة عُمان، 2009 م (ص: 163، 164، 165).

এই মূল্যবান মুসনাদটিতে সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত আহকাম (বিধান) এবং অন্যান্য বিষয়ের হাদীসসমূহ স্থান পেয়েছে। এছাড়াও এতে তাঁর থেকে বর্ণিত আছারসমূহ (সাহাবীর বাণী ও কর্ম) সংকলিত হয়েছে। এই মুসনাদটি ফিকহী অধ্যায়ের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যেমনটি এর লেখক তাঁর এই কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: "এটি ফিকহী অধ্যায়ের বিন্যাসে সাজানো হয়েছে যাতে যে ব্যক্তি এটি অনুসন্ধান করতে চায় তার জন্য এর সন্ধান পাওয়া সহজ হয়"(১).

 

‌‌গবেষণার প্রেষণা:

মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের অন্যতম শর্ত ছিল কোনো একটি বিষয়ের ওপর গবেষণা অথবা একটি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (তাহকীক) করার মধ্য থেকে একটিকে বেছে নেওয়া। প্রাচীন জীর্ণ হলুদ পাতাবিশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলো সর্বদা আমার মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করত এবং এর ভেতরে থাকা অনাবিষ্কৃত রত্নভাণ্ডার ও রহস্যসমূহ আমার মধ্যে কৌতূহল ও উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলত। ফলে আমি বিভিন্ন স্থানে সম্পাদনার যোগ্য একটি পাণ্ডুলিপির সন্ধানে দ্রুত ব্রতী হই। বহু লাইব্রেরি ও পাণ্ডুলিপি কেন্দ্রে ক্লান্তিকর অনুসন্ধানের পর মহান আল্লাহ আমার প্রতি এই অনুগ্রহ করেন যে, জনৈক সম্মানিত ভাই আমাকে হিজরী অষ্টম শতাব্দীর একটি মূল্যবান ও দুর্লভ পাণ্ডুলিপির কথা অবহিত করেন। এটি ইমাম হাফিয ইসমাইল ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকীর লেখা, যার শিরোনাম হলো (মুসনাদ আল-ইমাম আবী বকর আস-সিদ্দীক ওয়া আইয়্যামুহু ওয়া আহকামুহু)। এটি সীব প্রশাসনিক অঞ্চলে(৩) অবস্থিত সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সউদ আল-বুসাইদী (মৃত্যু: ২০১২ খ্রি.)-এর লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে(২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: লেখকের ভূমিকা (পৃষ্ঠা: ১৬৭)।

(২) তিনি হলেন: সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সউদ আল-বুসাইদী; ইমাম, মুফতি ও মন্ত্রী এবং ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক বিষয়ে সুলতান কাবুসের উপদেষ্টা। তিনি ওমান সালতানাতের বৃহত্তম বেসরকারি ঐতিহাসিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

(৩) উইলয়াহ সীব: এটি মাস্কাট প্রদেশের বৃহত্তম উইলয়াহ (প্রশাসনিক অঞ্চল)। এটি ওমান উপসাগরের তীরবর্তী একটি উপকূলীয় অঞ্চল যা মৎস্য শিকারের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি বেশ কয়েকটি গ্রামে বিভক্ত, যার মধ্যে রয়েছে: প্রাচীন সীব, দক্ষিণ হাইল, উত্তর হাইল, দক্ষিণ মাওয়ালিহ, উত্তর মাওয়ালিহ, দক্ষিণ মাবিলা, উত্তর মাবিলা, প্রাচীন খুদ, নতুন খুদ এবং রুসাইল। ইয়াকুত আল-হামাভী 'সীব' এর অর্থ প্রসঙ্গে বলেছেন: "এর মূল অর্থ হলো নদীর ন্যায় পানির প্রবাহ।" ইয়াকুত আল-হামাভী: আবু আবদুল্লাহ ইয়াকুত বিন আবদুল্লাহ, মুজামুল বুলদান, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২য় সংস্করণ, ২০১২ খ্রি. (৩/৩৩৩)। একদল ডক্টরেট, আস-সিয়াহাহ ফি সালতানাত ওমান, মাকতাবাত বৈরুত সালতানাত ওমান, ২০০৯ খ্রি. (পৃষ্ঠা: ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ١٠)
فسارعت للذهاب إلى المكتبة، وسَعِدْتُ لرؤيتها كثيرًا، ووقفتُ أَتَمَعَنُ فيها، وأتصفَّحُ أوراقها، وأتلَمَّسُ جِلْدَتِها برهبةٍ، مُستشعرةَ العَصر الذي نُسِخت فيه، وعظمة المؤلف الذي نُقلت عنه، وجَلَالَة الشَّخصية التي رَوَت ما فيها؛ وقد كان - حَقًّا - شُعورًا لا يُوصَف.

وقد منحتني إدارة المكتبة - بعد ذلك مشكورةً - رسالةً تُثبت أحَقِّيتي في تحقيقها، وصُوَرًا إلكترونيةً لها؛ كانت البِذْرَة الأُولى لهذا البحث.

ورغم قِلَّةِ عِلمي، وزَادِي، ودِرَايَتي بهذا العِلْم الجليل، فقد أعجبتني فِكْرَة دراسة الحديث النَّبوي الشَّريف وتحقيقه، ومما زاد حمَاسِي هو أنني سأقضي وقتي - كله أو مُعظمه - في رِحَابِ السُنَّةِ النَّبويةِ الشَّريفة، وسأكون مع النَّبي صلى الله عليه وسلم من خلال أحاديثه، ومع أبي بكر الصِّديق رضي الله عنه من خلال آثاره ومَرْوِياتِهِ؛ وقد زادني هذا الشُعور هِمَّةً، وحماسًا، وتعلُّقًا بالمخطوطة.

لم يكن الخليفة أبو بكر الصديق رضي الله عنه بالرَّجلِ العاديّ؛ فقد كان رجلًا عظيمًا من عظمة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان لفِقْه الصديق أهمية كبرى؛ وذلك لملازمته رسول الله صلى الله عليه وسلم في حالِهِ وترحاله، ونقله عنه السُّنَّة النبوية كما عاشها، وسَمِعَها من النبي صلى الله عليه وسلم؛ فقد كان الصاحب، والرفيق، والصَّدِيق الصَّدُوق له صلى الله عليه وسلم، ولأنَّه أوَّل خليفةً للمُسلمين؛ فقد كان إمامهم وقُدْوَتُهم بعد وفاة النَّبي صلى الله عليه وسلم: فكان خيرَ خَلَفٍ لخير سَلَفٍ.

كانت شخصيَّة الصحابي الجليل أبي بكر الصديق رضي الله عنه - دومًا - تعجبني لمواقفه الجليلة، الكريمة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، غير أنّي - في أثناء قراءتي للمسند وتحقيقي له - ازددتُ إعجابًا به، وإجلالًا له.

وقد صَدَقَ الصحابي الجليل حسان بن ثابت رضي الله عنه (ت 50 هـ أو 54 هـ) حين قال:
আমি দ্রুত লাইব্রেরিতে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লাম এবং সেটি দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। আমি গভীর মনোযোগের সাথে সেটি পর্যবেক্ষণ করতে দাঁড়ালাম, এর পাতাগুলো উল্টাতে লাগলাম এবং এক বিশেষ সম্ভ্রমের সাথে এর প্রচ্ছদ স্পর্শ করলাম; আমি সেই যুগের আবহ অনুভব করছিলাম যখন এটি অনুলিপি করা হয়েছিল, সেই মহান লেখকের শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করছিলাম যাঁর থেকে এটি নকল করা হয়েছে এবং সেই মহান ব্যক্তিত্বের গাম্ভীর্য অনুধাবন করছিলাম যিনি এর বিষয়বস্তু বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল এক অবর্ণনীয় অনুভূতি।

এরপর লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ—তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি—আমাকে এটি সম্পাদনার অধিকার প্রমাণকারী একটি পত্র এবং এর কিছু ইলেকট্রনিক অনুলিপি প্রদান করেন; যা ছিল এই গবেষণার প্রথম বীজ।

এই মহান ইলম সম্পর্কে আমার সামান্য জ্ঞান, পাথেয় এবং প্রজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, পবিত্র নববী হাদিস অধ্যয়ন ও তা সম্পাদনার চিন্তাটি আমাকে মুগ্ধ করেছিল। আমার উদ্দীপনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এই বিষয়টি যে, আমি আমার সময়ের সবটুকু বা অধিকাংশ সময় পবিত্র নববী সুন্নাহর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করব এবং আমি তাঁর হাদিসসমূহের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এবং তাঁর আছার ও বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে থাকব। এই অনুভূতি আমার সংকল্প, উদ্দীপনা এবং পাণ্ডুলিপির প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

খলিফা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো সাধারণ মানুষ ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহত্ত্বের ছোঁয়ায় এক মহান ব্যক্তিত্ব। সিদ্দিকের ফিকহের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম; কারণ তিনি আবাসে ও সফরে সর্বাবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথী ছিলেন এবং নববী সুন্নাহকে যেভাবে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শুনেছেন, ঠিক সেভাবেই তা বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন তাঁর সহচর, সফরসঙ্গী এবং পরম সত্যবাদী বন্ধু। যেহেতু তিনি ছিলেন মুসলমানদের প্রথম খলিফা, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তিনি ছিলেন তাঁদের ইমাম ও আদর্শ। তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ পূর্বসূরির সুযোগ্য উত্তরসূরি।

মহান সাহাবী আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর ব্যক্তিত্ব আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর মহান ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের কারণে সর্বদা আমাকে মুগ্ধ করত। তবে এই মুসনাদ পাঠ এবং এটি সম্পাদনার সময় তাঁর প্রতি আমার মুগ্ধতা ও শ্রদ্ধা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আর মহান সাহাবী হাসান বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু (মৃত্যু ৫০ হিজরি বা ৫৪ হিজরি) যথার্থই বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ١١)
إذا تذكَّرْتَ شَجُوا من أخي ثقةٍ … فاذكُر أخاك أبا بَكْر بما فَعَلا

خَيْرَ البَرِيَّةِ أَوْفاها وأعدَلَها … بعد النَّبيِّ وأولاها بما حملا

والتَّالِيَ الثَّانِيَ المَحْمُودَ مَشْهَدُه … وأوَّل النَّاس منهم صَدَّقَ الرُّسُلا

عاش حميدًا لأمرِ اللهِ مُتَّبعًا … بأمر صاحبِهِ الماضي وما انتقلا(1)

 

‌‌عملي في الكتاب:

اعتمدتُ في ضبط الكتاب على النُّسْخَةِ المحفوظة بمكتبة السيد محمد بن أحمد بن سُعود البوسَعيدي تحت الرقم العام (747)، والتي نسخها محمد بن محمد بن فائد الحنفي(2) في يوم الثلاثاء 9 من شعبان سنة 740 هـ، ورَمَزْتُ لها بالأصل، وكان منهجي في تحقيقها هو: منهج النص المختار.

وقد جعلت عنوان البحث - من أول الكتاب إلى خاتمته - (مسند الإمام أبي بكر الصديق وأيامه وأحكامه).

--------------------------------------------

(1) ابن أبي شيبة: أبو بكر عبد الله بن محمد بن أبي شيبة، المصنف في الأحاديث والآثار، دار الفكر، بيروت، ط 1، 1409 هـ 1989 م، كتاب التأريخ (حديث رقم 29) (8/ 44)، ابن كثير: أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير، البداية والنهاية، دار ابن كثير، دمشق/ بيروت، ط 3، 1434 هـ - 2013 م (3/ 226)، الجوهري: أبو محمد الحسن بن علي الجوهري، حديث الزهري أبي الفضل عبيد الله بن عبد الرحمن، أضواء السلف، ط 1، 1418 هـ - 1998 م (2/ 159).

(2) هو محمد بن محمد بن فائد الحنفيّ، الكاتب الناسخ، دمشقي الأصل، حنفي المذهب، كان حيًا في عام (726 هـ)، نسخ كتاب (بيان المختصر شرح مختصر ابن الحاجب) لابن حاجب بخط نسخي في عام (726 هـ)، ونسخ كتاب (جامع الأصول في أحاديث الرسول) لابن الأثير بالمدرسة العادلية في دمشق القديمة بتأريخ (21) شوال عام 733 هـ)، بخط معتاد، جيد مقروء، وبعد البحث لم أجد له ترجمة أخرى في المصادر التي بين يديّ. مقدمة كتاب (بيان المختصر شرح مختصر ابن الحاجب) لأبي الثناء محمود بن عبد الرحمن الأصفهاني، تحقيق الدكتور محمد مظهر بَقَا، مركز البحث العلمي وإحياء التراث/ دار المدني، السعودية، ط 1، 1406 هـ - 1986 م (1/ 34)، مقدمة التحقيق لكتاب (جامع الأصول في أحاديث الرسول) لابن الأثير، تحقيق عبد القادر الأرنؤوط، مكتبة دار البيان، 1389 هـ 1969 م (1/هـ).

তুমি যদি কোনো বিশ্বস্ত ভাইয়ের শোকের কথা স্মরণ করো … তবে তোমার ভাই আবু বকরকে তিনি যা করেছেন তার জন্য স্মরণ করো।

তিনি সৃষ্টির সেরা ব্যক্তি, তাদের মধ্যে সবচেয়ে অনুগত এবং ইনসাফকারী … নবীর পরে, এবং তিনি যা বহন করেছেন (দায়িত্ব) তার জন্য তিনি সর্বাধিক যোগ্য।

তিনি ছিলেন নবীর অনুসারী, গুহার সেই দ্বিতীয় সাথী যাঁর উপস্থিতি প্রশংসিত … আর মানুষের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন।

তিনি আল্লাহর আদেশের অনুসারী হয়ে প্রশংসিত জীবন অতিবাহিত করেছেন … তাঁর সেই প্রয়াত সঙ্গীর নির্দেশিত পথে এবং তিনি তা হতে বিচ্যুত হননি।(১)

 

‌‌গ্রন্থে আমার কাজ:

গ্রন্থটির পাঠ নির্ধারণে আমি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সউদ আল-বুসাঈদী লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি যার সাধারণ নম্বর (৭৪৭)। এটি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ফায়িদ আল-হানাফি(২) মঙ্গলবার, ৯ই শাবান ৭৪০ হিজরি সনে অনুলিপি করেছিলেন; আমি একে ‘মূল পাণ্ডুলিপি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। আর এটি সম্পাদনায় আমার পদ্ধতি ছিল: মনোনীত পাঠ্য পদ্ধতি (মনহাজুন নাসসিল মুখতার)।

আমি গবেষণার শিরোনাম—গ্রন্থের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত—নির্ধারণ করেছি: (ইমাম আবু বকর সিদ্দিকের মুসনাদ, তাঁর জীবনকাল ও তাঁর বিচারিক বিধানসমূহ)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি শাইবাহ: আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ ফিল আহাদিসি ওয়াল আসার, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪০৯ হিজরি ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ, কিতাবুত তারিখ (হাদিস নং ২৯) (৮/ ৪৪); ইবনে কাসির: আবু আল-ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, দারু ইবনে কাসির, দামেস্ক/বৈরুত, ৩য় সংস্করণ, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ (৩/ ২২৬); আল-জাওহারি: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী আল-জাওহারি, হাদিসুয যুহরি আবি আল-ফজল উবাইদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান, আদওয়াউস সালাফ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ (২/ ১৫৯)।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ফায়িদ আল-হানাফি, একজন লেখক ও অনুলিপিকার, দামেস্কের বংশোদ্ভূত এবং হানাফি মাজহাবের অনুসারী। তিনি (৭২৬ হিজরি) সনে জীবিত ছিলেন। তিনি ইবনে হাজিবের ‘বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনে হাজিব’ গ্রন্থটি নসখ লিপিতে ৭২৬ হিজরিতে অনুলিপি করেন এবং দামেস্কের প্রাচীন আল-মাদরাসাতুল আদিলিয়্যাহ-তে ইবনুল আসিরের ‘জামি উল উসুল ফি আহাদিসির রাসূল’ গ্রন্থটি ২১শে শাওয়াল ৭৩৩ হিজরি সনে সাধারণ এবং সুন্দর পাঠযোগ্য হস্তাক্ষরে অনুলিপি করেন। গবেষণার পর আমার নিকট বিদ্যমান উৎসগুলোতে তাঁর সম্পর্কে আর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। দ্রষ্টব্য: আবু সানা মাহমুদ বিন আবদুর রহমান আল-ইসফাহানি রচিত ‘বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনে হাজিব’ গ্রন্থের ভূমিকা, ডক্টর মুহাম্মদ মাজহার বাকা সম্পাদিত, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র/দারুল মাদানি, সৌদি আরব, ১ম সংস্করণ, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ (১/ ৩৪); ইবনুল আসির রচিত ‘জামি উল উসুল ফি আহাদিসির রাসূল’ গ্রন্থের সম্পাদকের ভূমিকা, আব্দুল কাদির আরনাউত সম্পাদিত, মাকতাবাতু দারিল বায়ান, ১৩৮৯ হিজরি ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ (১/৫)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ١٢)
أما بالنسبة إلى عملي في تحقيق الكتاب فقد كان على الوجه الآتي:

1 - توثيق نسبة الكتاب إلى المؤلف.

2 - وضع ترجمة موجزة للمؤلف.

3 - ضبط النص - قدر المستطاع - لإخراجه بطريقة صحيحة وسليمة، ومن ذلك:

أ - تقسيم النص إلى فقراتٍ.

ب - وضع عناوين رئيسة وفرعية لبعض مواضيع الكتاب، التي ربما سقطت سهوًا من المؤلف أو الناسخ.

ج - ترقيم الأحاديث والآثار بأرقام متسلسلة أمام السند.

د - توثيق النصّ من المصادر الأصيلة التي نقل عنها المؤلف، وإن وُجد اختلافٌ بين النص وما نقله المؤلف أشير إلى ذلك في الهامش؛ إلا إذا وجدت تصحيفًا أو خطأ ما.

وإن وجدت سقطًا في النص بذلت الجهد في إتمامه.

هـ - ضبط النصّ بعلامات الترقيم المختلفة.

و - تصويب الأخطاء الإملائية، واللَّغوية، والنَّحوية، والتَّصحيفات.

ز - ضبط الكلمات والأسماء التي قد تلتبس قراءتها على القارئ.

ح - تغيير رسم الكلمات التي كتبها الناسخ بطريقة تخالف قواعد الكتابة الحديثة، وإرجاعها إلى قواعد الكتابة الحديثة.

4 - تخريج الآيات القرآنية وعَزْوِها إلى مظانِّها، وكتابتها بالرَّسم العثماني.

5 - تخريج الأحاديث المرفوعة، والآثار الموقوفة بعزوها إلى مصادرها، والحُكم عليها بالصِّحَّة، أو الحسن، أو الضعف؛ استئناسًا بِحُكْم أحد العُلماء
আমার এই কিতাব তাহকীক বা সম্পাদনার কাজ নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে:

১ - লেখকের নিকট কিতাবটির সম্বন্ধের (নিসবত) বিষয়টি সুনিশ্চিত করা।

২ - লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী উপস্থাপন করা।

৩ - সাধ্যমতো মূল পাঠ্য (নস) সংস্কার করা যেন তা নির্ভুল ও বিশুদ্ধভাবে উপস্থাপিত হয়, যার অন্তর্ভুক্ত হলো:

ক - পাঠ্যকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত করা।

খ - কিতাবের কিছু বিষয়ের জন্য মূল ও উপ-শিরোনাম যুক্ত করা, যা সম্ভবত লেখক বা অনুলিপিকারীর অসাবধানতাবশত বাদ পড়ে গিয়েছিল।

গ - সনদের পূর্বে হাদীস ও আসারসমূহকে ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করা।

ঘ - লেখক যে মূল উৎসসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, সেখান থেকে পাঠ্যের সত্যতা যাচাই করা। আর যদি মূল পাঠ্য ও লেখকের উদ্ধৃতির মধ্যে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়, তবে তা টিকায় উল্লেখ করা হয়েছে; তবে অনুলিখনজনিত বিচ্যুতি (তাসহিফ) বা স্পষ্ট ভুল থাকলে তা সংশোধন করা হয়েছে।

আর মূল পাঠ্যে যদি কোনো অংশ বাদ পড়ে থাকতে দেখি, তবে তা পূর্ণ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

ঙ - বিভিন্ন যতিচিহ্নের মাধ্যমে পাঠ্য বিন্যস্ত করা।

চ - বানানরীতি, ভাষাগত ও ব্যাকরণগত ভুল এবং অনুলিখনজনিত বিচ্যুতিসমূহ সংশোধন করা।

ছ - যে সকল শব্দ ও নাম পড়তে পাঠকের বিভ্রান্তি হতে পারে, সেগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা।

জ - অনুলিপিকারীর লেখা যে শব্দগুলো আধুনিক লিখন পদ্ধতির পরিপন্থী, সেগুলোর লিখনশৈলী পরিবর্তন করে আধুনিক নিয়মে ফিরিয়ে আনা।

৪ - কুরআনের আয়াতসমূহের তাখরীজ করা ও সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং রসম-ই উসমানী অনুযায়ী তা লিপিবদ্ধ করা।

৫ - মারফু হাদীস ও মাওকুফ আসারসমূহের তাখরীজ করে সেগুলোকে তাদের মূল সূত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং কোনো বিজ্ঞ আলেমের রায়ের আলোকে সেগুলোর শুদ্ধাশুদ্ধি অর্থাৎ সহীহ, হাসান কিংবা যঈফ হওয়ার বিষয়ে হুকুম প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ١٣)
المعروفين في هذا المجال: كالبزَّار (ت 292 هـ)(1)، والدَّارقطني (ت 385 هـ)(2)، وابن حَجَر (ت 852 هـ)(3)، وغيرهم.

6 - الترجمة لمعظم الأعلام والرواة الواردة أسماؤهم في الكتاب، ولم أترجم للصحابة رضوان الله عليهم لأنهم عدول إلا من ظننت أنه غير معروف؛ ولم أترجم لبعض الأعلام والرُّوَاة المشهورين ومنهم: الإمامين البخاري (ت 256 هـ)، ومسلم (ت 261 هـ)، وبعض أئمة المذاهب كالإمام أبو حنيفة (ت 150 هـ)، والإمام مالك (ت 179 هـ)، والإمام محمد بن إدريس الشافعي (ت 204 هـ)، والإمام أحمد بن حنبل (ت 241 هـ).

7 - التعريف بالمواضع، والبلدان، والأحداث التَّاريخية، وغيرها.

8 - تفسير الكلمات والمُصْطَلَحَات الغريبة وشرحها.

9 - تخريج الشَّواهد الشَّعرية، ونسبتها إلى أصحابها، وتَعيين بُحورِها.

10 - وضع كشَّافات وفهارس فنية مختلفة لتُسهِّل على القارئ الرجوع إلى مواد الكتاب.

--------------------------------------------

(1) البَزَّار هو: أحمد بن عمرو بن عبد الخالق البصري، البزَّار، الإمام الحافظ، المحدث، مات عام 294 هـ، وقيل: عام 292 هـ. تاريخ بغداد للخطيب البغدادي (4/ 154)، سير أعلام النبلاء للذهبي (3/ 435)، كشف الظنون لحاجي خليفة (3/ 257).

(2) الدارقطني هو: أبو الحسن عليّ بن عُمر بن أحمد البَغداديُّ، الدَّارقُطني، التَّابِعِيُّ، العالم، الإمام، الحافظ، المقرئ المُحدّث المعروف بالدارقطني، مات عام (385 هـ). تاريخ بغداد للخطيب البغدادي (10/ 26)، أعلام النبلاء للذهبي (3/ 1040).

(3) ابن حَجَر هو: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد الكنانيّ، العسقلانيّ الأصل، المصري المولد العالم، المحدّث، الفقيه، القاضي، المؤلف، المعروف بابن حَجَر، مات عام 852 هـ. السخاوي: محمد بن عبد الرحمن بن محمد السخاوي، الضوء اللامع لأهل القرن التاسع، دار الكتب العلمية، بيروت، ط 1، 1424 هـ - 2003 م) (2/ 33)، ذيل طبقات الحفاظ للسيوطي (3/ 251)، شذرات الذهب لابن العماد (7/ 407).

এই ক্ষেত্রে সুপরিচিত ব্যক্তিবর্গ: যেমন আল-বাযযার (মৃ. ২৯২ হি.)(১), আদ-দারাকুতনী (মৃ. ৩৮৫ হি.)(২), ইবনে হাজার (মৃ. ৮৫২ হি.)(৩) এবং অন্যান্যরা।

৬ - বইটিতে উল্লিখিত অধিকাংশ প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব ও বর্ণনাকারীদের জীবনী সংকলন করা হয়েছে; তবে আমি সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) জীবনী উল্লেখ করিনি কারণ তারা সকলেই ন্যায়পরায়ণ, কেবল তাদের ব্যতীত যাদের সম্পর্কে আমি মনে করেছি যে তারা সুপরিচিত নন। এছাড়া আমি কিছু প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব ও বর্ণনাকারীর জীবনী উল্লেখ করিনি, যাদের মধ্যে রয়েছেন: দুই ইমাম—ইমাম বুখারী (মৃ. ২৫৬ হি.) ও ইমাম মুসলিম (মৃ. ২৬১ হি.), এবং মাযহাবের ইমামগণের মধ্য থেকে ইমাম আবু হানিফা (মৃ. ১৫০ হি.), ইমাম মালিক (মৃ. ১৭৯ হি.), ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদরীস আশ-শাফেয়ী (মৃ. ২০৪ হি.) এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (মৃ. ২৪১ হি.)।

৭ - স্থান, দেশ, ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং অন্যান্য বিষয়ের পরিচয় প্রদান।

৮ - বিরল শব্দ ও পারিভাষিক শব্দাবলির ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ।

৯ - কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের উৎস নির্দেশ করা, সেগুলো তাদের মূল রচয়িতাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং সেগুলোর ছন্দ নির্ধারণ করা।

১০ - পাঠকের জন্য মূল বইয়ের বিষয়বস্তুতে ফিরে যাওয়া সহজ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নির্ঘণ্ট ও বিশেষ সূচিপত্র সংযোজন করা।

--------------------------------------------

(১) আল-বাযযার হলেন: আহমাদ বিন আমর বিন আব্দুল খালিক আল-বাসরী, আল-বাযযার, হাফিজ ইমাম, মুহাদ্দিস, তিনি ২৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ২৯২ হিজরি। খতীব আল-বাগদাদী কৃত 'তারিখ বাগদাদ' (৪/ ১৫৪), আয-যাহাবী কৃত 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (৩/ ৪৩৫), হাজী খলীফা কৃত 'কাশফুয যুনুন' (৩/ ২৫৭)।

(২) আদ-দারাকুতনী হলেন: আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন আহমাদ আল-বাগদাদী, আদ-দারাকুতনী, অনুসারী, আলেম, ইমাম, হাফিজ, ক্বারী, মুহাদ্দিস, যিনি আদ-দারাকুতনী নামে পরিচিত, তিনি ৩৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। খতীব আল-বাগদাদী কৃত 'তারিখ বাগদাদ' (১০/ ২৬), আয-যাহাবী কৃত 'আলামুন নুবালা' (৩/ ১০৪০)।

(৩) ইবনে হাজার হলেন: আবুল ফজল আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-কিনানী, মূলে আসকালান নিবাসী, জন্মসূত্রে মিশরীয়, আলেম, মুহাদ্দিস, ফকীহ, বিচারক, লেখক, যিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত, তিনি ৮৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আস-সাখাভী: মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আস-সাখাভী, 'আদ-দাওউল লামি লি-আহলিল করনিল তাসি', দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪২৪ হি. - ২০০৩ খ্রি. (২/ ৩৩), আস-সুয়ূতী কৃত 'যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ' (৩/ ২৫১), ইবনুল ইমাদ কৃত 'শাযারাতুয যাহাব' (৭/ ৪০৭)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌خطة البحث:

تبدأ خطتي في البحث بمقدِّمةٍ، ثم تنقسم إلى قسمين هما: الدِّراسة والتَّحقيق، وأما الدِّراسة فتنقسم إلى فَصلين واثني عشر مبحثًا.

وأما قسم التحقيق ففيه النَّص المحقق، ثم خاتمة مع النتائج والتوصيات، وكشّافات وفهارس تفصيلية للمواضيع والمراجع، وغيرها.

مقدمة الكتاب: وقد تضمنت عرضًا مبدئيًا، وتقديمًا له وللمؤلف، مع ذكر الأسباب الدافعة لاختيار الموضوع، وأهميته باختصار، وأخيرًا خُطَّة البحث مع الكشّافات والفهارس.

القسم الأول: الدراسة: وتشتمل على فصلين، واثني عشر مبحثًا.

الفصل الأول: التعريف بالمؤلف.

تمهيد.

عصر المؤلف.

المبحث الأول: نَسَبه ومولده، ونشأته وحياته، وأخلاقه وصفاته.

المبحث الثاني: ثقافته وشخصيته العلمية.

المبحث الثالث: شُيوخه وتلاميذه وأصحابه.

المبحث الرابع: مؤلفاته.

المبحث الخامس: مكانته وثناء العلماء عليه.

المبحث السادس: وفاته.

الفصل الثاني: دراسة كتاب (مسند الإمام أبي بكر الصديق وأيامه وأحكامه).

المبحث الأول: توثيق العنوان ونسبة الكتاب إلى المؤلف.

المبحث الثاني: المنهج العام للمؤلف في تأليف الكتاب.
গবেষণা পরিকল্পনা:

আমার গবেষণা পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকার মাধ্যমে শুরু হয়েছে, যা পরবর্তীতে দুইটি প্রধান অংশে বিভক্ত হয়েছে: গবেষণা ও সম্পাদনা। গবেষণা অংশটি আবার দুইটি পরিচ্ছেদ ও বারোটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত।

আর সম্পাদনা অংশে রয়েছে মূল পাণ্ডুলিপির সম্পাদিত পাঠ, অতঃপর ফলাফল ও সুপারিশসহ উপসংহার এবং বিষয়ভিত্তিক ও সূত্রগ্রন্থের বিস্তারিত নির্ঘণ্ট ও সূচিপত্র ইত্যাদি।

গ্রন্থের ভূমিকা: এতে রয়েছে প্রাথমিক উপস্থাপনা, গ্রন্থ ও লেখকের পরিচিতি, বিষয়বস্তু নির্বাচনের কারণ, সংক্ষেপে এর গুরুত্ব এবং সবশেষে নির্ঘণ্ট ও সূচিপত্রসহ গবেষণা পরিকল্পনা।

প্রথম অংশ: গবেষণা: এটি দুইটি পরিচ্ছেদ ও বারোটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতি।

প্রস্তাবনা।

লেখকের সমকাল।

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয় ও জন্ম, বেড়ে ওঠা ও জীবনকাল এবং তাঁর চরিত্র ও গুণাবলি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রবৃন্দ ও সহচরগণ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘মুসনাদ আল-ইমাম আবু বকর আস-সিদ্দিক ওয়া আইয়ামুহু ওয়া আহকামুহু’ গ্রন্থটির পর্যালোচনা।

প্রথম অনুচ্ছেদ: শিরোনামের প্রামাণিকতা ও লেখকের দিকে গ্রন্থটির সম্বন্ধ নিশ্চিতকরণ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: গ্রন্থটি রচনায় লেখকের সাধারণ কর্মপদ্ধতি।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ١٥)
المبحث الثالث: موارد المؤلف في كتابه.

المبحث الرابع: مزايا الكتاب ومآخذه.

المبحث الخامس: وصف نسخة الكتاب.

المبحث السادس: منهج تحقيق الكتاب.

القسم الثاني: التحقيق: وفيه النَّص المحقق:

كتاب (مسند الإمام أبي بكر الصديق وأيامه وأحكامه).

الخاتمة: النتائج والتوصيات.

الكشافات والفهارس:

1 - فهرس المحتويات.

2 - كشاف الآيات القرآنية.

3 - كشاف أطراف الأحاديث والآثار.

4 - كشاف الشواهد الشعرية.

5 - كشاف الأعلام والرواة.

6 - كشاف الكلمات الغريبة.

7 - كشاف مصطلحات علوم الحديث.

8 - كشاف الطوائف والقبائل والجماعات.

9 - كشاف الغزوات والأحداث التاريخية.

10 - كشاف المذاهب والفرق.

11 - كشاف المواضع والبلدان.

12 - كشاف الجوامع والمدارس ودور الحديث بدمشق.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের গ্রন্থে ব্যবহৃত উৎসসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য ও সমালোচনা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ সম্পাদনার (তাহকীক) পদ্ধতি।

দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদনা: এতে রয়েছে সম্পাদিত মূল পাঠ:

গ্রন্থ (ইমাম আবু বকর সিদ্দীকের মুসনাদ এবং তাঁর শাসনকাল ও আহকামসমূহ)।

উপসংহার: ফলাফল ও সুপারিশমালা।

নির্দেশিকা ও সূচিপত্রসমূহ:

১ - বিষয়সূচি।

২ - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্দেশিকা।

৩ - হাদীস ও আছারের প্রথমাংশের নির্দেশিকা।

৪ - কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের নির্দেশিকা।

৫ - ব্যক্তিবর্গ ও বর্ণনাকারীদের নির্দেশিকা।

৬ - অপরিচিত শব্দসমূহের নির্দেশিকা।

৭ - হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষাসমূহের নির্দেশিকা।

৮ - সম্প্রদায়, গোত্র ও গোষ্ঠীসমূহের নির্দেশিকা।

৯ - যুদ্ধ ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির নির্দেশিকা।

১০ - মাযহাব ও ফিরকাসমূহের নির্দেশিকা।

১১ - স্থান ও দেশসমূহের নির্দেশিকা।

১২ - দামেস্কের জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও দারুল হাদীসসমূহের নির্দেশিকা।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ١٦)
13 - كشاف أنواع الكتب.

14 - فهرس المصادر والمراجع.

وفي نهاية مقدمتي - هذه - أشكُر كل من ساندني ووقف بجانبي في مسيرة إعدادي هذه الرسالة، سواءً أكانوا دكاترة، أو أكاديميين، أو أفرادًا؛ وأخصّ بالشكر منهم:

 

الدكتورة / شريفة بنت سالم بن علي آل سعيد، جامعة السلطان قابوس، قسم العلوم الإسلامية.

الدكتور/ إبراهيم بن حسن البلوشي، وزارة التراث والثقافة، قسم المخطوطات، مسقط.

الدكتور / هادي بن صالح العوبثاني، باحث مكتبة الوراق العامة، السيب.

الدكتور / محمد بن عبد الرحيم الزيني، كلية العلوم الشرعية، مسقط.

وأخيرًا، فإن أصبت فمن الله عز وجل، وإن أخطأت فمن نفسي، وإلى الله الملجأ، وإليه المُستعان.

أسألُ الله عز وجل لبِضاعَتِي الْمَزْجَاةِ - هذه - القبول والتَّوفيق، وله الحمدُ والمِنَّةَ، وعليه التُكلان.

والسَّلام عليكم ورحمة الله وبركاته، وصلَّ اللهم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

{دَعْوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [يونس: 10].

 

غالية بنت سالم بن علي آل سعيد

مسقط - 12/ 12/ 2017 م
১৩ - বইয়ের প্রকারভেদের সূচি।

১৪ - উৎস এবং তথ্যসূত্রসমূহের সূচি।

আমার এই ভূমিকার শেষে—আমি সেই সকলকে ধন্যবাদ জানাই যারা এই গবেষণাপত্রটি প্রস্তুত করার যাত্রায় আমাকে সমর্থন করেছেন এবং আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁরা ডাক্তার (পিএইচডিধারী), শিক্ষাবিদ বা সাধারণ ব্যক্তি যাই হোন না কেন; তাঁদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি:

 

ডক্টর শরিফা বিনতে সালেম বিন আলি আল সাঈদ, সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি বিজ্ঞান বিভাগ।

ডক্টর ইব্রাহিম বিন হাসান আল বালুশি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পাণ্ডুলিপি বিভাগ, মাস্কাট।

ডক্টর হাদি বিন সালেহ আল আউবথানি, গবেষক, আল-ওয়াররাক পাবলিক লাইব্রেরি, আস-সীব।

ডক্টর মুহাম্মদ বিন আবদুর রহিম আল জাইনি, শরীয়াহ বিজ্ঞান কলেজ, মাস্কাট।

পরিশেষে, যদি আমি সঠিক কিছু করে থাকি তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি কোনো ভুল করে থাকি তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে; আল্লাহর কাছেই আশ্রয় এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।

আমি মহান আল্লাহর কাছে আমার এই তুচ্ছ প্রচেষ্টার কবুলিয়াত এবং তাওফীক প্রার্থনা করছি, সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ তাঁরই জন্য, এবং তাঁর ওপরই আমি ভরসা করি।

আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

"সেখানে তাদের প্রার্থনা হবে: 'হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র'; এবং সেখানে তাদের শুভেচ্ছা হবে: 'সালাম' (শান্তি)। আর তাদের প্রার্থনার সমাপ্তি হবে এই বলে: 'সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য'।" [ইউনুস: ১০]।

 

গালিয়া বিনতে সালেম বিন আলি আল সাঈদ

মাস্কাট - ১২/ ১২/ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌القسم الأول الدراسة

* الفصل الأول: التعريف بالمؤلف.

* الفصل الثاني: دراسة مسند الإمام أبي بكر الصديق وأيامه وأحكامه.
প্রথম অংশ: গবেষণা

* প্রথম অধ্যায়: লেখকের পরিচিতি।

* দ্বিতীয় অধ্যায়: ইমাম আবু বকর সিদ্দিকের মুসনাদ, তাঁর সময়কাল এবং তাঁর ফয়সালাসমূহের পর্যালোচনা।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌الفصل الأول التعريف بالمؤلف

- المبحث الأول: نسبه ومولده، ونشأته وحياته، وأخلاقه وصفاته.

- المبحث الثاني: ثقافته وشخصيته العلمية.

- المبحث الثالث: شيوخه وتلاميذه وأصحابه.

- المبحث الرابع: مؤلفاته.

أ - في علوم القرآن الكريم.

ب - في السنة النبوية وعلومها.

ج - في الفقه وأصوله.

د. في التاريخ والسير والمناقب.

- المبحث الخامس: مكانته وثناء العلماء عليه.

- المبحث السادس: وفاته.
প্রথম অধ্যায়: লেখকের পরিচিতি

- প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বংশ পরিচয় ও জন্ম, তাঁর বেড়ে ওঠা ও জীবন এবং তাঁর চরিত্র ও গুণাবলি।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সংস্কৃতি ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক, ছাত্র ও সঙ্গীগণ।

- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।

ক - কুরআনুল কারীমের উলূম বা বিজ্ঞানসমূহ।

খ - সুন্নাতে নববী ও এর বিজ্ঞানসমূহ।

গ - ফিকহ ও উসূলে ফিকহ।

ঘ - ইতিহাস, সীরাত ও জীবনী।

- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।

- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌تمهيد

كان الإمام، الحافظ، المفسر، المؤرخ، الفقيه: ابن كثير عَلَمٌ من أعلامِ الفِكْرِ الديني، وفارسٌ من فرسان التاريخ، ورائد من رواد عِلم الحديث والفقه، عاش في القرن الثامن الهجري، وبالتحديد في الفترة ما بين (701 - 774 هـ)؛ في عصرٍ تميّز بظهور كبار العلماء والمفكرين، مثل ابن تَيْمِيَّة (ت 728 هـ)(1)، والذَّهَبي (ت 748 هـ)(2)، وابن قَيم الجَوْزِيَّة (ت 751 هـ)(3) وغيرهم(4)؛ وتميّز - ذلك العصر - بظهور كبار علماء الدين، وأعمدته، وكان ابن كثير أحد هذه الأعمدة؛ فهو مؤرخ، ومحدّث، وفقيه، ترك أثرًا خالدًا، باقيًا منذ ظهوره وحتى وقتنا الحاضر.

وقبل أن نلقي الضوء على حياة المؤلف ابن كثير، الشخصية والعلمية؛ فمن المهم أن نتعرف على العصر الذي عاش فيه، بكافة جوانبه: السياسية، والاجتماعية والاقتصادية.

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية هو: أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام الحراني. انظر ترجمته في شيوخ المؤلف (ص: 60).

(2) الذهبي هو: أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي. انظر ترجمته في شيوخ المؤلف (ص: 65).

(3) ابن قيم الجَوْزِيّة هو: محمد بن أبي بكر بن أيوب الزرعي. انظر: ترجمته في أصحاب المؤلف (ص: 73).

(4) الزيني: محمد عبد الرحيم الزيني، ابن القيم وآراؤه الكلامية، دار اليقين، القاهرة، 2010 م (ص: 14، 16).

প্রস্তাবনা

ইমাম, হাফিজ, মুফাসসির, ঐতিহাসিক এবং ফকিহ ইবনে কাসির ছিলেন ধর্মীয় চিন্তাধারার অন্যতম একজন দিকপাল, ইতিহাসের অন্যতম এক বীর এবং হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম এক পথিকৃৎ। তিনি হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন, সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে ৭০১ থেকে ৭৭৪ হিজরি সময়কালে। এই যুগটি ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৭২৮ হি.), যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হি.), ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হি.) এবং তাঁদের মতো আরও অনেক বড় বড় আলেম ও চিন্তাবিদদের আবির্ভাবের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিল। সেই যুগটি ইসলামের মহান আলেম ও দ্বীনের স্তম্ভদের আবির্ভাবের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিল এবং ইবনে কাসির ছিলেন এই স্তম্ভগুলোরই অন্যতম। তিনি ছিলেন একজন ঐতিহাসিক, মুহাদ্দিস ও ফকিহ, যিনি তাঁর আবির্ভাবের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এক অমর ও অক্ষয় প্রভাব রেখে গেছেন।

গ্রন্থকার ইবনে কাসিরের ব্যক্তিগত ও ইলমি জীবনের ওপর আলোকপাত করার আগে, তিনি যে যুগে বাস করতেন তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সকল দিক সম্পর্কে অবগত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ হলেন: আবু আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুস সালাম আল-হাররানি। লেখকের উস্তাদগণের জীবনী অংশে তাঁর জীবনী দেখুন (পৃষ্ঠা: ৬০)।

(২) যাহাবি হলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান আজ-যাহাবি। লেখকের উস্তাদগণের জীবনী অংশে তাঁর জীবনী দেখুন (পৃষ্ঠা: ৬৫)।

(৩) ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ হলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আইয়ুব আয-যুরয়ি। লেখকের সঙ্গীগণের জীবনী অংশে তাঁর জীবনী দেখুন (পৃষ্ঠা: ৭৩)।

(৪) আয-যাইনি: মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আয-যাইনি, ইবনুল কায়্যিম ওয়া আরাউহুল কালামিয়্যাহ, দারুল ইয়াকিন, কায়রো, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ (পৃষ্ঠা: ১৪, ১৬)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌عصر المؤلف:

عاش المؤلف في عصر كانت فيه بلاد الشام - آنذاك - موحدة مع مصر تحت حكم دولة المماليك البحرية (648 - 784 هـ)(1)، وكان الحاكم الأعلى والفِعْلِيُّ هو: السلطان المملوكي بمصر(2).

ولم يكن للخلافة العباسية في القاهرة من نفوذ يذكر؛ فقد كان على الخليفة العباسي أن يكتب للسلطان عهدًا بالسلطنة، ويُفَوِّض الأمور العامة إليه(3)؛ وذلك لأنَّ سبب وجود هذه الخلافة وإحياءها من قِبَل المماليك كان - فقط - لإضفاء الشرعية لحكمهم على مصر والشام بعد سقوطها في بغداد على أيدي المغول(4) سنة 656 هـ(5).

--------------------------------------------

(1) المماليك البحرية: جمع مملوك، وهم من الرقيق الأتراك، المماليك البحرية: هم مماليك تُرك استقدمهم الملك الصالح نجم الدين أيوب بن الكامل عام (603 هـ) ليكوّن منهم جيشًا قويّا يسانده بعد أن لمسَ غدر الطوائف الأخرى من جنده، وقد سُمُّوا بالمماليك البحرية بسبب اختيار السلطان الصالح لجزيرة الروضة - على بحر النيل - مركزًا لهم، وسموا بالصالحية أيضًا نسبة للملك الصالح، وقد تمكن هؤلاء المماليك من الاستئثار بحكم مصر والشام في المدة ما بين (648 - 784 هـ). الصلابي: علي بن محمد الصلابي، المغول (التتار) بين الانتشار والانكسار، المكتبة العصرية، بيروت، 1435 هـ - 2014 م (ص: 251 - 252، 254 - 255)، عاشور: سعيد عبد الفتاح عاشور، مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك، دار النهضة العربية، بيروت (ص: 166 - 167)، الصلابي: علي بن محمد الصلابي، الأيوبيين بعد صلاح الدين دار المعرفة، بيروت، 1431 هـ - 2010 م (ص: 331، 346).

(2) مقدمة كتاب البداية والنهاية لابن كثير (1/ 11)، مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك لسعيد عاشور (ص: 167) ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 15).

(3) مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك لعاشور (ص: (196).

(4) المَغُول هم: قوم بَدْو، موطنهم الأصلي منغوليا، استطاعوا في القرن السابع الهجري تأسيس امبراطورية واسعة الأرجاء بقيادة جنكيز خان فاحتل خراسان وفارس، وفي عهد حفيده منكوخان تم احتلال بغداد وبلاد الشام بقيادة أخيه الأصغر هولاكو، فعاثوا فيها الفساد هزمهم المماليك بقيادة السلطان المظفر سيف الدين قطز في معركة عين جالوت وطردهم من بلاد الشام، وتتوزع المغول حاليًا ما بين منغوليا والصين. العيني: محمود العيني، عقد الجمان في تاريخ أهل الزمان، الهيئة المصرية العامة للكتاب، 1407 هـ - 1987 م (1/ 243، 239، 269). المغول للصلابي (ص: 27، 28، 126، 169 - 170، 183، 185، 188، 327 - 332، 348 - 353).

(5) مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك لعاشور (ص: 192).

‌‌লেখকের যুগ:

লেখক এমন এক যুগে বসবাস করতেন যখন শাম দেশ (বিলাদুশ শাম) — তৎকালীন সময়ে — বাহরি মামলুক সালতানাতের (৬৪৮ - ৭৮৪ হি.) শাসনাধীনে মিসরের সাথে ঐক্যবদ্ধ ছিল(১), এবং সর্বোচ্চ ও প্রকৃত শাসক ছিলেন মিসরের মামলুক সুলতান(২)।

কায়রোতে আব্বাসীয় খিলাফতের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ছিল না; আব্বাসীয় খলিফাকে সুলতানের অনুকূলে সালতানাতের একটি অঙ্গীকারনামা লিখে দিতে হতো এবং সাধারণ বিষয়াবলি তাঁর কাছে অর্পণ করতে হতো(৩); কারণ মামলুকদের পক্ষ থেকে এই খিলাফতের অস্তিত্ব বজায় রাখা এবং একে পুনরুজ্জীবিত করার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ৬৫৬ হিজরিতে(৫) মঙ্গোলদের হাতে বাগদাদের পতনের পর মিসর ও শামে তাঁদের শাসনের বৈধতা প্রদান করা(৪)।

--------------------------------------------

(১) বাহরি মামলুক: মামলুক শব্দের বহুবচন, তারা তুর্কি ক্রীতদাসদের অন্তর্ভুক্ত। বাহরি মামলুকরা হলো তুর্কি মামলুক যাদেরকে আল-মালিকুস সালিহ নাজমুদ্দিন আইয়ুব ইবনুল কামিল (৬০৩ হি.) তাঁর সৈন্যবাহিনীর অন্যান্য দলের বিশ্বাসঘাতকতা লক্ষ্য করার পর এক শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠনের জন্য নিয়ে এসেছিলেন। তাদেরকে বাহরি মামলুক বলা হতো কারণ সুলতান সালিহ নীল নদের অববাহিকার 'রওজা' দ্বীপকে তাদের কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। আল-মালিকুস সালিহ-এর নামানুসারে তাদেরকে 'সালিহিয়্যাহ'ও বলা হতো। এই মামলুকরা ৬৪৮ থেকে ৭৮৪ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে মিসর ও শামের শাসনভার এককভাবে ভোগ করতে সক্ষম হয়েছিল। সাল্লাবি: আলী বিন মুহাম্মদ আস-সাল্লাবি, আল-মাগুল (তাতারি) বাইনাল ইনতিশার ওয়াল ইনকিসার, আল-মাকতাবাতুল আশরিয়্যাহ, বৈরুত, ১৪৩৫ হি. - ২০১৪ খ্রি. (পৃ: ২৫১ - ২৫২, ২৫৪ - ২৫৫)। আশুর: সাঈদ আব্দুল ফাত্তাহ আশুর, মিসর ওয়াশ শাম ফি আসরিল আইয়ুবীয়িন ওয়াল মামালিক, দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ, বৈরুত (পৃ: ১৬৬ - ১৬৭)। সাল্লাবি: আলী বিন মুহাম্মদ আস-সাল্লাবি, আল-আইয়ুবীয়ুন বা'দা সালাহউদ্দিন, দারুল মা'রিফাহ, বৈরুত, ১৪৩১ হি. - ২০১০ খ্রি. (পৃ: ৩৩১, ৩৪৬)।

(২) ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের ভূমিকা (১/ ১১), সাঈদ আশুরের মিসর ওয়াশ শাম ফি আসরিল আইয়ুবীয়িন ওয়াল মামালিক (পৃ: ১৬৭), জুহায়লির ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকি (পৃ: ১৫)।

(৩) আশুরের মিসর ওয়াশ শাম ফি আসরিল আইয়ুবীয়িন ওয়াল মামালিক (পৃ: ১৯৬)।

(৪) মঙ্গোলরা হলো: এক যাযাবর জাতি, যাদের আদি নিবাস মঙ্গোলিয়া। তারা সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় এবং খোরাসান ও পারস্য দখল করে। তাঁর পৌত্র মঙ্গু খানের যুগে তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা হালাকু খানের নেতৃত্বে বাগদাদ ও শাম দেশ অধিকৃত হয় এবং তারা সেখানে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। সুলতান আল-মুজাফফর সাইফউদ্দিন কুতুজের নেতৃত্বে মামলুকরা আইন জালুত যুদ্ধে তাদের পরাজিত করে এবং শাম দেশ থেকে বিতাড়িত করে। মঙ্গোলরা বর্তমানে মঙ্গোলিয়া ও চীনে ছড়িয়ে রয়েছে। আইনি: মাহমুদ আল-আইনি, ইকদুল জুমান ফি তারিখি আহলিয যামান, আল-হায়আতুল মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিল কিতাব, ১৪০৭ হি. - ১৯৮৭ খ্রি. (১/ ২৪৩, ২৩৯, ২৬৯)। সাল্লাবির আল-মাগুল (পৃ: ২৭, ২৮, ১২৬, ১৬৯ - ১৭০, ১৮৩, ১৮৫, ১৮৮, ৩২৭ - ৩৩২, ৩৪৮ - ৩৫৩)।

(৫) আশুরের মিসর ওয়াশ শাম ফি আসরিল আইয়ুবীয়িন ওয়াল মামালিক (পৃ: ১৯২)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وأما عن دمشق وغيرها من المدن الشامية فقد كانت تسمى - آنذاك - نيابات، يحكم كل منها نائب السلطنة، وهو سلطانٌ - في حقيقة أمره - تابعٌ لسلطان مصر، له حاشيته، وأتباعه، ومماليكه، يقوم مقام السلطان في كافة شؤون نيابته، ويقوم الأمراء من حاشيته بخدمته كخدمة السلطان، وقد يطلق عليه اسم (ملك الملوك)(1)، ولكنه ليس مُطلق التصرف في كثير من النَّواحي(2).

وقد عاصر الحافظ ابن كثير منذ ولادته وحتى وفاته: خمسة من الخلفاء العباسين، وخمسة عشر سلطانًا من المماليك البحرية، وعشرين نائبا تولّوا نيابة دمشق(3).

ولم تكن الحياة السياسية في الشام، ودمشق - خاصة - مستقرة؛ فما كاد الناس يتخلصون من التَّتَار(4) في وَقْعة مرج الصفر سنة (702 هـ)(5) حتى لاح لهم خطَر الصَّليبيين(6) على الساحل الغربي من دمشق. وتفرُّد المماليك

--------------------------------------------

(1) مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك لعاشور (ص: 327 - 328)، ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 15).

(2) مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك لعاشور (ص: 330).

(3) مقدمة كتاب البداية والنهاية لابن كثير (1/ 11).

(4) التَّتار هم: فرعٌ من المغول، كانت لهم دولة مستقلة، سيطرت على المغول حقبة من الزمن، ثم جاء المغول بقيادة جنكيز خان فهزمهم وسيطر على دولتهم فعرفت تلك الدولة بعد ذلك بالمغول وليس التتار. المغول للصلابي (ص: 27 - 28).

(5) وقعة مرج الصفر: هي معركة: (شَقْحب) أيضًا، كانت في عام (702 هـ) بين جيوش المماليك بقيادة السلطان محمد قلاوون والمغول (التتار) بقيادة غازان، انتهت بهزيمة المغول وطردوا من الشام. البداية والنهاية لابن كثير (17/ 22 - 27) مصر والشام لعاشور (ص: 225 - 226).

(6) الصليبيون هم: جيوش أوروبية مسيحية لاتينية (كاثوليكية)، ينتسبون إلى الحركة الصليبية التي أسسها أوربان أو أربان الثاني بابا الكاثوليك في القرن العاشر (10 م)، وروجوا لها بحجة تحرير الأراضي المقدسة في فلسطين من المسلمين، وهي في الأساس ذات مطامع اقتصادية واستعمارية في بلدان الشرق الإسلامي، وأول ما اتخذوا الصليب شعارا لهم كان في القرن الثاني عشر (12 م)؛ وقد خاض السلطان والقائد صلاح الدين الأيوبي حروبًا ضدهم، وهزمهم في معارك عدة، إلى أن استطاع تحرير بيت المقدس وبعض المدن الإسلامية؛ وبعد أن أجهدت الحرب الطرفين عقد صلاح الدين صلحًا مع قائد الصليبيين: الملك ريتشارد قلب=

আর দামেস্ক এবং সিরিয়ার অন্যান্য শহরের ক্ষেত্রে, সেগুলোকে তখন ‘নিয়াবাত’ (প্রদেশ) বলা হতো। প্রতিটির শাসনে একজন করে ‘নায়েব আস-সালতানাহ’ (সুলতানাতের প্রতিনিধি) নিয়োজিত থাকতেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন মিশরের সুলতানের অনুগত একজন সুলতান, যার নিজস্ব পার্শ্বচর, অনুসারী এবং মামলুক ছিল। তিনি তাঁর প্রদেশের সমস্ত বিষয়ে সুলতানের স্থলাভিষিক্ত হতেন এবং তাঁর পার্শ্বচর আমীরগণ সুলতানের সেবার মতোই তাঁর সেবা করতেন। কখনো কখনো তাঁকে ‘মালিকুল মুলুক’ (রাজাদের রাজা) উপাধিও দেওয়া হতো(১), তবে অনেক ক্ষেত্রে তাঁর অবাধ ক্ষমতা ছিল না(২)।

হাফিজ ইবনে কাসীর তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পাঁচজন আব্বাসীয় খলিফা, পনেরোজন বাহরি মামলুক সুলতান এবং দামেস্কের দায়িত্ব পালনকারী বিশজন নায়েবকে সমসাময়িক হিসেবে পেয়েছিলেন(৩)।

সিরিয়া এবং বিশেষ করে দামেস্কের রাজনৈতিক জীবন স্থিতিশীল ছিল না। ৭০২ হিজরিতে মারজ আস-সুফফারের যুদ্ধে(৫) মানুষ তাতারদের(৪) হাত থেকে রেহাই পেতে না পেতেই দামেস্কের পশ্চিম উপকূলে ক্রুসেডারদের(৬) বিপদ তাদের সামনে হাজির হয়। আর মামলুকদের একক ক্ষমতা...

--------------------------------------------

(১) আশুর রচিত ‘আইয়ুবী ও মামলুক যুগে মিশর ও সিরিয়া’ (পৃ. ৩২৭ - ৩২৮), জুহাইলি রচিত ‘ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী’ (পৃ. ১৫)।

(২) আশুর রচিত ‘আইয়ুবী ও মামলুক যুগে মিশর ও সিরিয়া’ (পৃ. ৩৩০)।

(৩) ইবনে কাসীর রচিত ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থের ভূমিকা (১/ ১১)।

(৪) তাতাররা হলো মোঙ্গলদের একটি শাখা, যাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল এবং তারা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মোঙ্গলদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এরপর চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে মোঙ্গলরা এসে তাদের পরাজিত করে এবং তাদের রাষ্ট্র দখল করে নেয়। ফলে সেই রাষ্ট্রটি পরবর্তীতে মোঙ্গল হিসেবে পরিচিতি পায়, তাতার হিসেবে নয়। সাল্লাবি রচিত ‘আল-মুগুল’ (মোঙ্গল) (পৃ. ২৭ - ২৮)।

(৫) মারজ আস-সুফফারের যুদ্ধ: এটি ‘শাকহাব’ যুদ্ধ নামেও পরিচিত। এটি ৭০২ হিজরিতে সুলতান মুহাম্মদ কালাউনের নেতৃত্বে মামলুক বাহিনী এবং গাজানের নেতৃত্বে মোঙ্গলদের (তাতার) মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। এটি মোঙ্গলদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবং তারা সিরিয়া থেকে বিতাড়িত হয়। ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (১৭/ ২২ - ২৭), আশুরের ‘মিশর ও সিরিয়া’ (পৃ. ২২৫ - ২২৬)।

(৬) ক্রুসেডাররা হলো: ইউরোপীয় ল্যাটিন (ক্যাথলিক) খ্রিস্টান সেনাবাহিনী, যারা দশম শতাব্দীতে (১০ খ্রি.) ক্যাথলিক পোপ দ্বিতীয় আরবান বা উরবান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ক্রুসেডার আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত। তারা ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমি মুসলমানদের কাছ থেকে মুক্ত করার অজুহাতে এই আন্দোলনের প্রচার চালায়, যদিও মূলত এর মূলে ছিল মুসলিম প্রাচ্যের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক ও ঔপনিবেশিক লালসা। দ্বাদশ শতাব্দীতে (১২ খ্রি.) তারা প্রথম ক্রুশকে তাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে। সুলতান ও সেনাপতি সালাহউদ্দীন আইয়ুবী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধে তাদের পরাজিত করেন, এমনকি তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস ও কিছু মুসলিম শহর মুক্ত করতে সক্ষম হন। উভয় পক্ষ যুদ্ধের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ার পর সালাহউদ্দীন ক্রুসেডারদের নেতা রাজা রিচার্ড দ্য লায়নহার্টের সাথে সন্ধি করেন...

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٢٤)
البحرية في الحكم بالتآمر والتسلط، والغدر والخيانة؛ جعل البلاد - طوال فترة حكمهم - مسرحًا للفتن والفوضى والثورات والمؤامرات، والاغتيالات المستمرة، والانقلابات المتلاحقة(1)؛ عدا مدة حكم السلطان الناصر محمد بن قلاوون(2) بعد عودته للمرة الثالثة (709 - 741 هـ)، ومدة حكم نائب السلطنة سَيْف الدِّين تَنْكِز(3) على دِمَشْق (712 - 740 هـ)(4).

--------------------------------------------

=الأسد في عام 588 هـ، على أن تكون بيت المقدس بيد المسلمين مع السماح للمسيحين بالحج إليها، وقد توالت الحملات الصليبية بعد ذلك على مصر والشام، واستمر كفاح المسلمين ضدهم حتى عصر دولة المماليك حيث تلاشى الوجود الصليبي رويدًا رويدًا في عهد السلطانين: بيبرس وقلاوون. قاسم: قاسم عبده قاسم، ماهية الحروب الصلبية، عالم المعرفة، الكويت (ص: 9 - 12، 39، 109، 142 - 148، 150 - ، 159)، الصلابي: علي بن محمد الصلابي، صلاح الدين الأيوبي، وجهوده في القضاء على الدولة الفاطمية وتحرير بيت المقدس، دار ابن كثير، دمشق، بيروت (ص: 21 - 25) رنسيمان: ستيفن رنسيمان، تاريخ الحروب الصليبية، ترجمة: السيد الباز العريني، دار الثقافة، بيروت، ط 2، 1982 م (ص: 173).

(1) مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك لسعيد عاشور (ص: 348)، ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 18) مقدمة كتاب البداية والنهاية لابن كثير (1/ 12).

(2) هو: السلطان، الملك الناصر محمد بن قلاوون بن عبد الله الصالحي، سلطان مصر والشام، تولَّى الحكم ثلاث مرات، كان يعزل نفسه في المرتين الأولَيَيْن، وهو قائد وقعة شقحب التي انتصر فيها المسلمون على المغول بنى الجوامع والمدارس والخوانق، وفُتِحت في أيامه: ملطية وطرابلس، وغيرها، مات عام (741 هـ). البداية والنهاية لابن كثير (16/ 295)، ابن حجر: ابن حجر العسقلاني، الدرر الكامنة في أعيان المئة الثامنة، دار الكتب العلمية، بيروت، ط 1، 1418 هـ - 1997 م (4/ 90)، ابن العماد: أبو الفلاح عبد الحيّ بن أحمد، شذرات الذهب في أخبار من ذهب، دار الكتب العلمية، بيروت، ط 2، 1433 هـ - 2012 م (6/ 311).

(3) هو سيف الدين، أبو سعيد تَنْكِز بُغَا الأشرفي، الناصري، الأمير الكبير، المملوكي، نائب السلطنة بالشام، بدأ حياته مملوكًا في مصر ثم تدرّج في المناصب حتى أصبح أقوى شخصية إدارية وعسكرية في عهد السلطان محمد بن قلاوون بنى أوقافًا كثيرة بدمشق وغيرها من المدن، قُتِلَ بالإسكندرية عام (740 هـ)، وقيل: عام (741 هـ)، وقيل: عام (744 هـ)، وقيل: (759 هـ). البداية والنهاية لابن كثير (16/ 290)، الدرر الكامنة لابن حجر (1/ 308)، ابن تغري بردي: أبو المحاسن يوسف بن تغري بردي الأتابكي، النجوم الزاهرة في ملوك مصر والقاهرة، دار الكتب العلمية بيروت، ط 1، 1413 هـ 1992 م (10/ 259).

(4) مقدمة كتاب البداية والنهاية لابن كثير (1/ 1)، مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك لسعيد عاشور (ص: 231).

বাহরিয়া (মামলুকদের) শাসন ব্যবস্থায় ষড়যন্ত্র, আধিপত্য বিস্তার, বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রবঞ্চনার প্রাধান্য ছিল; যা দেশটিকে—তাদের সমগ্র শাসনকাল জুড়ে—ফিতনা, বিশৃঙ্খলা, বিপ্লব, ষড়যন্ত্র, নিরবচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড এবং একের পর এক অভ্যুত্থানের রঙ্গমঞ্চে পরিণত করেছিল(১); তবে সুলতান আন-নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউন(২)-এর তৃতীয়বার ক্ষমতা লাভের পরবর্তী শাসনকাল (৭০৯ - ৭৪১ হিজরি) এবং দামেস্কে সালতানাতের প্রতিনিধি (নায়েবে সালতানাত) সাইফুদ্দীন তানকিজ(৩)-এর শাসনকাল (৭১২ - ৭৪০ হিজরি)(৪) এর ব্যতিক্রম ছিল।

--------------------------------------------

=৫৮৮ হিজরিতে আল-আসাদ (চুক্তি অনুসারে), এই শর্তে যে বাইতুল মাকদিস মুসলমানদের হাতে থাকবে এবং খ্রিস্টানদের সেখানে হজ্জ (তীর্থযাত্রা) করার অনুমতি দেওয়া হবে। এরপর মিশর ও শামে একের পর এক ক্রুসেড অভিযান চলতে থাকে এবং তাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সংগ্রাম মামলুক সালতানাতের যুগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, যেখানে সুলতান বাইবার্স এবং কালাউনের আমলে ক্রুসেডারদের অস্তিত্ব ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়। কাসেম: কাসেম আবদু কাসেম, মাহিয়াতুল হুরূব আস-সালিবিয়্যাহ (ক্রুসেড যুদ্ধের স্বরূপ), আলমুল মা'রিফাহ, কুয়েত (পৃষ্ঠা: ৯ - ১২, ৩৯, ১০৯, ১৪২ - ১৪৮, ১৫০ - , ১৫৯), সাল্লাবি: আলী বিন মুহাম্মদ আস-সাল্লাবি, সালাহউদ্দীন আইয়ুবী ওয়া জুহুদুহু ফি আল-কাদা আলা আদ-দাওলা আল-ফাতিমিয়্যাহ ওয়া তাহরির বাইতিল মাকদিস (সালাহউদ্দীন আইয়ুবী এবং ফাতেমি রাষ্ট্র নির্মূল ও বাইতুল মাকদিস মুক্তকরণে তার প্রচেষ্টা), দারু ইবনে কাসির, দামেস্ক, বৈরুত (পৃষ্ঠা: ২১ - ২৫), রানসিম্যান: স্টিফেন রানসিম্যান, তারিখুল হুরূব আস-সালিবিয়্যাহ (ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস), অনুবাদ: আস-সাইয়্যিদ আল-বাজ আল-আরিনি, দারুস সাকাফাহ, বৈরুত, ২য় সংস্করণ, ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দ (পৃষ্ঠা: ১৭৩)।

(১) সাঈদ আশুর রচিত মিসর ওয়াশ শাম ফি আসরিল আইয়ুবিয়্যিন ওয়াল মামালিক (আইয়ুবী ও মামলুক যুগে মিশর ও শাম) (পৃষ্ঠা: ৩৪৮), জুহাইলি রচিত ইবনে কাসির আদ-দিমাশকি (পৃষ্ঠা: ১৮), ইবনে কাসির রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের ভূমিকা (১/১২)।

(২) তিনি হলেন: সুলতান, আল-মালিকুল নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউন বিন আবদুল্লাহ আস-সালিহি, মিশর ও শামের সুলতান। তিনি তিনবার ক্ষমতা গ্রহণ করেন, প্রথম দুইবার তিনি নিজেই নিজেকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন। তিনি শাকহাব যুদ্ধের সেনাপতি ছিলেন যেখানে মুসলমানরা মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিল। তিনি অনেক জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর আমলে মালটিয়া, ত্রিপোলি এবং অন্যান্য শহর বিজিত হয়। তিনি (৭৪১ হিজরিতে) মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/২৯৫), ইবনে হাজার: ইবনে হাজার আসকালানি, আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আয়ানিল মিআতিস সামিনাহ (অষ্টম শতাব্দীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী), দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ (৪/৯০), ইবনুল ইমাদ: আবুল ফালাহ আবদুল হাই বিন আহমাদ, শাযারাতুজ যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২য় সংস্করণ, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ (৬/৩১১)।

(৩) তিনি হলেন সাইফুদ্দীন, আবু সাঈদ তানকিজ বুগা আল-আশরাফি আন-নাসিরি, প্রবীণ আমির, মামলুক, শামে সালতানাতের প্রতিনিধি (নায়েবে সালতানাত)। তিনি মিশরে একজন মামলুক হিসেবে জীবন শুরু করেন, এরপর পর্যায়ক্রমে উচ্চপদে আসীন হন এবং সুলতান মুহাম্মদ বিন কালাউনের আমলে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যক্তিতে পরিণত হন। তিনি দামেস্ক ও অন্যান্য শহরে অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি নির্মাণ করেন। তিনি (৭৪০ হিজরিতে) আলেকজান্দ্রিয়ায় নিহত হন; কারো মতে (৭৪১ হিজরি), কারো মতে (৭৪৪ হিজরি), আবার কারো মতে (৭৫৯ হিজরি)। ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/২৯০), ইবনে হাজারের আদ-দুরারুল কামিনাহ (১/৩০৮), ইবনে তাগরি বারদি: আবুল মাহাসিন ইউসুফ বিন তাগরি বারদি আল-আতাবেকি, আন-নুজুমুজ জাহিরাহ ফি মুলুকি মিসর ওয়াল কাহিরাহ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪১৩ হিজরি ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ (১০/২৫৯)।

(৪) ইবনে কাসির রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের ভূমিকা (১/১), সাঈদ আশুর রচিত মিসর ওয়াশ শাম ফি আসরিল আইয়ুবিয়্যিন ওয়াল মামালিক (পৃষ্ঠা: ২৩১)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وقد كانت مدة حكم السلطان النَّاصِر من أفضل عصور المماليك ازدهارًا، واستقرارًا، ورقيًا، ورخاءً(1)؛ وبعد وفاته تولّى الحكم ثمانية من أولاده في الفترة ما بين (741 - 762 هـ)، وأربعة من أحفاده في الفترة ما بين (762 - 784 هـ)؛ عانت فيها الدولة الكثير من الضعف، والاضطراب، والفوضى، وعدم الاستقرار؛ أثر عليها سلبًا سياسيًا، واجتماعيًا، واقتصاديًا(2).

وتعرضت البلاد للكوارث الطبيعية كالزلازل، والفيضانات، والجراد، والمجاعات، والأوبئة؛ فقد بُليت البلاد بانتشار وباء خطير عُرِفَ بالوباء الأسود أو الطاعون سنة (749 هـ)، تسبب في وفاة الكثير من الناس، فساءت الحياة الاجتماعية، والأحوال الاقتصادية حتى كادت أن تتوقف تمامًا؛ فقد تراجعت الزراعة، وأفلست التجارة، وغَلَت الأسعار، وفُرضت الضرائب وتفشّت البطالة، وانتشر البغاء بسبب الفقر رغم مُحاربة العلماء له بفتواهم وكتاباتهم(3).

ولحسن الحظ لم تؤثر هذه الأحوال السيئة على الحياة العلمية في بلاد الشام ومصر بل ظلَّت مزدهرة؛ فنشطت الحركة العلمية بازدياد نشاط العلماء وكَثُرَ عددهم وتآليفهم، وأنشئت المكتبات العامة، وبُنيت المدارس الكثيرة، ودور القرآن والحديث، وأوْقِفَت عليها الأوقاف الخيرية، ورُصِدَت لها الأموال لأجل رعاية ومعيشة وسكنى طلابها، وعلمائها، وموظفيها؛ وذلك لأنَّ سلاطين المماليك كانوا يتقربون إلى الناس برفع منزلة العلماء، وتكريمهم بالوظائف الدينية المختلفة، وتقديم الجوائز لهم، ويعززون نفوذهم في الشعب ببناء المساجد والمدارس(4).

وقد امتاز القرن الثامن الهجري، وخاصة عصر المماليك، بالعناية الشديدة

--------------------------------------------

(1) مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك لعاشور (ص: 233).

(2) مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك لعاشور (ص: 236).

(3) مصر والشام في عصر الأيوبيين والمماليك لعاشور (ص: 236)، مقدمة كتاب البداية والنهاية لابن كثير (1/ 13).

(4) ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 21، 22، 40) الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص/35)، مقدمة كتاب البداية والنهاية لابن كثير (1/ 14).

সুলতান আন-নাসিরের শাসনামল ছিল মামলুক যুগের সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা, উন্নতি ও স্বাচ্ছন্দ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়(১); তাঁর মৃত্যুর পর (৭৪১ - ৭৬২ হিজরী) সময়ের মধ্যে তাঁর আটজন পুত্র এবং (৭৬২ - ৭৮৪ হিজরী) সময়ের মধ্যে তাঁর চারজন পৌত্র ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এই সময়ে রাষ্ট্র চরম দুর্বলতা, অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার শিকার হয়; যা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল(২)।

দেশটি ভূমিকম্প, বন্যা, পঙ্গপাল, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়; ৭৪৯ হিজরীতে দেশে 'কৃষ্ণ মৃত্যু' বা প্লেগ নামে পরিচিত একটি ভয়াবহ মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটে, যা অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়। ফলে সামাজিক জীবন ও অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটে, এমনকি তা প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছিল; কৃষি উৎপাদন হ্রাস পায়, ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়, নতুন কর আরোপ করা হয় এবং বেকারত্ব ছড়িয়ে পড়ে। দারিদ্র্যের কারণে অনৈতিকতা ও ব্যভিচার বৃদ্ধি পায়, যদিও উলামায়ে কেরাম তাঁদের ফতোয়া ও লেখনীর মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন(৩)।

সৌভাগ্যবশত এই মন্দাবস্থা শাম (সিরিয়া) ও মিশরের জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি, বরং তা সমৃদ্ধ ছিল; উলামায়ে কেরামের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং তাঁদের সংখ্যা ও গ্রন্থ রচনার আধিক্যের কারণে ইলমি আন্দোলন প্রাণবন্ত ছিল। গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, অসংখ্য মাদ্রাসা এবং দারুল কুরআন ও দারুল হাদিস নির্মিত হয়েছিল; এগুলোর জন্য জনকল্যাণমূলক ওয়াকফ সম্পদ উৎসর্গ করা হয়েছিল এবং ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লালন-পালন, জীবনযাত্রা ও আবাসের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর কারণ ছিল মামলুক সুলতানগণ আলেমদের মর্যাদা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ধর্মীয় পদে তাঁদের সম্মানিত করা এবং পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে জনগণের নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতেন এবং মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণের মাধ্যমে জনগণের মাঝে নিজেদের প্রভাব সুসংহত করতেন(৪)।

অষ্টম হিজরী শতাব্দী, বিশেষ করে মামলুক যুগ, অত্যন্ত যত্নের সাথে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল

--------------------------------------------

(১) আশুর রচিত ‘মিশর ওয়াশ শাম ফী আসরিল আয়ূবিয়্যীন ওয়াল মামালিক’ (পৃষ্ঠা: ২৩৩)।

(২) আশুর রচিত ‘মিশর ওয়াশ শাম ফী আসরিল আয়ূবিয়্যীন ওয়াল মামালিক’ (পৃষ্ঠা: ২৩৬)।

(৩) আশুর রচিত ‘মিশর ওয়াশ শাম ফী আসরিল আয়ূবিয়্যীন ওয়াল মামালিক’ (পৃষ্ঠা: ২৩৬), ইবনে কাসীর রচিত ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থের ভূমিকা (১/ ১৩)।

(৪) যুহায়লী রচিত ‘ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী’ (পৃষ্ঠা: ২১, ২২, ৪০), আল-শালাশ রচিত ‘আল-ইমাম ইবনে কাসীর ওয়া আসারুহু ফী ইলমিল হাদীস’ (পৃষ্ঠা: ৩৫), ইবনে কাসীর রচিত ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থের ভূমিকা (১/ ১৪)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٢٦)
للعلوم المختلفة، لاسيَّما عِلْمَا الحديث والتاريخ، وشهد نشاطًا كبيرًا، واضحًا فيهما؛ كما امتاز هذا العصر بظهور المصنفات، والمجاميع، والموسوعات، والملخصات، والمعاجم؛ وتميز - أيضًا - بكثرة الحفاظ، والعلماء، والأئمة الذين اشتهروا بالدقة والإتقان في عملهم حتى غدَا عصر المماليك بفضلهم من العصور الذهبية في الحديث وعلومه(1)، ونسرد - هاهنا بإيجاز - جُملة من الذين عاصرهم الحافظ ابن كثير رحم اللهُ وهم:

الذهبي، وابن تيمية، والمزي (ت 742 هـ)(2)، وابن دقيق العيد (ت 702 هـ)(3)، والزَّيلعي (ت 762 هـ)(4)، وصلاح الدين العلائي(5)، والصَّفدي(6)، وابن السَّبكي (ت 771 هـ)(7)، والبرزالي (ت 739 هـ)(8)،

--------------------------------------------

(1) ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 250).

(2) المزي هو: يوسف بن عبد الرحمن بن يوسف القضاعي، المزِّي. انظر: ترجمته في شيوخ المؤلف في (ص: 64).

(3) ابن دقيق العيد هو: أبو الفتح محمد بن عليّ بن وهب القشيري، المنفلوطي، المصري، الإمام، العالم، الحافظ، القاضي، المعروف كأبيه بابن دقيق العيد، مات عام 702 هـ. سير أعلام النبلاء للذهبي (4/ 1002)، البداية والنهاية لابن كثير (16/ 28)، شذرات الذهب لابن العماد (6/ 139).

(4) الزيلعي هو: عبد الله بن يوسف الزيلعي. انظر: ترجمته في تلاميذ المؤلف (ص:66).

(5) صلاح الدين العَلائي هو: خليل بن كيكلدي بن عبد الله العلائي، العلامة، الإمام الحافظ، المفسر، المحدّث، المفتي المدرس، سكن القدس، ولي التدريس في عدة مدارس، ووُلِيَ مشيخة دار حديث بالقدس، مات عام 761 هـ. البداية والنهاية لابن كثير (16/ 397)، النعيمي: عبد القادر بن محمد النعيمي، الدارس في تاريخ المدارس، دار الكتب العلمي، ط 1، 1410 هـ - 1990 م (1/ 45 - 46)، شذرات الذهب لابن العماد (6/ 381 - 382).

(6) الصَّفَدي هو: أبو الصفا خليل بن أيبك بن عبد الله الألبكي، الصفدي، الإمام، العالم، الكاتب، وكيل بيت المال بدمشق، مات عام 764 هـ. البداية والنهاية لابن كثير (16/ 445)، شذرات الذهب لابن العماد (6/ 393).

(7) ابن السبكي هو: عبد الوهاب بن عليّ بن عبد الكافي السبكي، القاضي، مات عام 771 هـ. شذرات الذهب لابن العماد (6/ 419).

(8) البرزالي هو: القاسم بن محمد بن يوسف البرزالي. انظر: ترجمته في شيوخ المؤلف (ص: 64).

বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের জন্য, বিশেষ করে হাদিস ও ইতিহাস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই যুগটি এক বিশাল কর্মতৎপরতার সাক্ষী ছিল, যা এই উভয় শাস্ত্রে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। অনুরূপভাবে এই যুগটি বিভিন্ন রচনা, সংকলন, বিশ্বকোষ, সারসংক্ষেপ ও অভিধানের আবির্ভাবের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। এছাড়া এই সময়কালটি এমন বহু হাফেজ, আলেম ও ইমামদের আধিক্যের কারণেও স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেছিল, যারা তাদের কর্মক্ষেত্রে সূক্ষ্মতা ও নিপুণতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন; যার ফলে মামলুক যুগ তাদের অবদানে হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম স্বর্ণযুগে পরিণত হয়েছিল(১)। আমরা এখানে সংক্ষেপে হাফেজ ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সমসাময়িক একদল মনীষীর নাম উল্লেখ করছি, তারা হলেন:

আয-যাহাবি, ইবনে তাইমিয়া, আল-মিযযি (মৃত্যু ৭৪২ হি.)(২), ইবনে দাকিকুল ঈদ (মৃত্যু ৭০২ হি.)(৩), আয-যাইলাই (মৃত্যু ৭৬২ হি.)(৪), সালাহউদ্দিন আল-আলাই(৫), আস-সাফাদি(৬), ইবনে আস-সুবকি (মৃত্যু ৭৭১ হি.)(৭), আল-বারযালি (মৃত্যু ৭৩৯ হি.)(৮),

--------------------------------------------

(১) আয-জুহায়লি রচিত ইবনে কাসির আদ-দিমাশকি (পৃষ্ঠা: ২৫০)।

(২) আল-মিযযি হলেন: ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-কুদায়ী, আল-মিযযি। দেখুন: গ্রন্থকারের শিক্ষকদের জীবনী অংশে (পৃষ্ঠা: ৬৪)।

(৩) ইবনে দাকিকুল ঈদ হলেন: আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আলি বিন ওয়াহাব আল-কুশাইরি, আল-মানফালুতি, আল-মিসরি; ইমাম, আলেম, হাফেজ ও বিচারক। তিনি তার পিতার মতো ইবনে দাকিকুল ঈদ নামে পরিচিত ছিলেন এবং ৭০২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আয-যাহাবি রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা (৪/ ১০০২), ইবনে কাসির রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ২৮), ইবনুল ইমাদ রচিত শাযারাতুয যাহাব (৬/ ১৩৯)।

(৪) আয-যাইলাই হলেন: আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ আয-যাইলাই। দেখুন: গ্রন্থকারের ছাত্রদের জীবনী অংশে (পৃষ্ঠা: ৬৬)।

(৫) সালাহউদ্দিন আল-আলাই হলেন: খলিল বিন কাইকালদি বিন আব্দুল্লাহ আল-আলাই; আল্লামা, ইমাম, হাফেজ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, মুফতি ও শিক্ষক। তিনি কুদসে বসবাস করতেন এবং বেশ কয়েকটি মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি কুদসের দারুল হাদিসের প্রধান ছিলেন। তিনি ৭৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ৩৯৭), নুয়াইমি: আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ আন-নুয়াইমি রচিত আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১০ হি. - ১৯৯০ খ্রি. (১/ ৪৫ - ৪৬), শাযারাতুয যাহাব (৬/ ৩৮১ - ৩৮২)।

(৬) আস-সাফাদি হলেন: আবুস সাফা খলিল বিন আইবাক বিন আব্দুল্লাহ আল-আলবাকি, আস-সাফাদি; ইমাম, আলেম, লেখক এবং দামেস্কের বায়তুল মালের প্রতিনিধি। তিনি ৭৬৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ৪৪৫), শাযারাতুয যাহাব (৬/ ৩৯৩)।

(৭) ইবনে আস-সুবকি হলেন: আব্দুল ওয়াহাব বিন আলি বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকি, বিচারক, তিনি ৭৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। শাযারাতুয যাহাব (৬/ ৪১৯)।

(৮) আল-বারযালি হলেন: আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-বারযালি। দেখুন: গ্রন্থকারের শিক্ষকদের জীবনী অংশে (পৃষ্ঠা: ৬৪)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وابن الجزري (ت 833 هـ)(1)، وابن شاكر الكتبي (ت 764 هـ)(2)، وابن الشّيرازي (ت 723 هـ)(3)، وابن حجي (ت 726 هـ)(4)، وابن قاضي شهبة (ت 726 هـ)(5) وابن رافع(6).

ومما يؤسف له أن ظهرت في المجتمع بعض الظواهر السلبية؛ كالخلافات الاعتقادية بين السنة والشيعة، ووُجود التعصب المذهبي بين المذاهب الأربعة، واحيانًا بين أصحاب المذهب الواحد؛ ودور بعض الفرق الصوفية في نشر البدع، والخرافات، والعادات الباطلة، ومجاهدة العلماء في كشفها ومحاربتها؛ وعدم الاهتمام بالعلوم الدنيوية كالزراعة، والتجارة، والصناعة والنجارة، والملاحة، والاقتصار على تحصيل العلوم الشرعية؛ والجمود الفقهي، وعدم الاجتهاد في مسائله؛ والتقليد الأعمى للمذاهب، ونقل النصوص والتقليد، وعدم الابتكار والإبداع؛ والخلافات العديدة بين بعض الأئمة، وبين الفقهاء

--------------------------------------------

(1) ابن الجزري هو: محمد بن محمد بن محمد بن علي الجزري. انظر: ترجمته في تلاميذ المؤلف (ص: 71).

(2) ابن شاكر الكتبي هو: محمد بن شاكر بن أحمد الداراني، وقيل الدَّارني، الدمشقي، المؤرخ، مات عام 764 هـ. البداية والنهاية لابن كثير (16/ 444)، شذرات الذهب لابن العماد (6/ 396).

(3) ابن الشيرازي هو: محمد بن محمد بن محمد بن هبة الله الشيرازي. انظر: ترجمته في شيوخ المؤلف (ص: 57 - 58).

(4) ابن حجي هو: أحمد بن حجي بن موسى السعدي. انظر ترجمته في تلاميذ المؤلف (ص 70).

(5) ابن قاضي شهبة هو: عبد الوهاب بن محمد بن ذؤيب الأسدي. انظر: ترجمته في شيوخ المؤلف (ص: 59).

(6) ابن رافِع هو: أبو المعالي محمد بن رافع بن هَجرس السّلامي، العميدي، وقيل: الصميدي الأصل، المصري، الدمشقي، الإمام العالم، الحافظ، المحدّث، سكن دمشق، مات عام 742 هـ، وقيل: عام 774 هـ. أبو المحاسن الدمشقي: محمد بن علي بن الحسن الحسيني الدمشقي، ذيل تذكرة الحفاظ للذهبي، دار الكتب العلمية، بيروت، ط 2، 2007 م (3/ 34)، ذيل طبقات الحفاظ للسيوطي (3/ 242)، شذرات الذهب لابن العماد (6/ 435).

এবং ইবনুল জাযারি (মৃত্যু ৮৩৩ হিজরি)(১), এবং ইবনে শাকির আল-কুতুবি (মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি)(২), এবং ইবনুশ শিরাজি (মৃত্যু ৭২৩ হিজরি)(৩), এবং ইবনে হাজ্জি (মৃত্যু ৭২৬ হিজরি)(৪), এবং ইবনে কাদি শুহবা (মৃত্যু ৭২৬ হিজরি)(৫) এবং ইবনে রাফে(৬)।

আর দুঃখের বিষয় এই যে, সমাজে কিছু নেতিবাচক প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছিল; যেমন আহলুস সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যে আকিদাগত বিরোধ, এবং চার মাযহাবের মধ্যে মাযহাবি গোঁড়ামির উপস্থিতি, আর কখনও কখনও একই মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যেও; এবং বিদআত, কুসংস্কার ও বাতিল প্রথা প্রসারে কিছু সুফি ফেরকার ভূমিকা, এবং সেগুলো উন্মোচন ও মোকাবিলায় ওলামায়ে কেরামের সংগ্রাম; এবং কৃষি, বাণিজ্য, শিল্প, কাঠমিস্ত্রি ও নৌবিদ্যার মতো পার্থিব জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি অমনোযোগিতা এবং কেবল শরয়ি জ্ঞান অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা; এবং ফিকহি জড়তা ও ফিকহি মাসআলাসমূহে ইজতিহাদ না থাকা; এবং মাযহাবগুলোর অন্ধ অনুকরণ, কেবল মূল পাঠের উদ্ধৃতি ও তাকলিদ করা এবং নতুনত্ব ও সৃজনশীলতার অভাব; এবং কিছু ইমাম ও ফকিহদের মধ্যে বিদ্যমান নানাবিধ মতভেদ।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল জাযারি হলেন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আল-জাযারি। দেখুন: লেখকের ছাত্রবৃন্দের তালিকায় তাঁর জীবনী (পৃষ্ঠা: ৭১)।

(২) ইবনে শাকির আল-কুতুবি হলেন: মুহাম্মদ বিন শাকির বিন আহমাদ আদ-দারানি, কারও মতে আদ-দারিনি, দামেস্কি, ইতিহাসবিদ, তিনি ৭৬৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ৪৪৪), ইবনুল ইমাদের শাজারাতুজ জাহাব (৬/ ৩৯৬)।

(৩) ইবনুশ শিরাজি হলেন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হিবাতুল্লাহ আশ-শিরাজি। দেখুন: লেখকের শিক্ষকদের তালিকায় তাঁর জীবনী (পৃষ্ঠা: ৫৭ - ৫৮)।

(৪) ইবনে হাজ্জি হলেন: আহমাদ বিন হাজ্জি বিন মুসা আস-সাদি। দেখুন লেখকের ছাত্রবৃন্দের তালিকায় তাঁর জীবনী (পৃষ্ঠা: ৭০)।

(৫) ইবনে কাদি শুহবা হলেন: আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মদ বিন জুআইব আল-আসাদি। দেখুন: লেখকের শিক্ষকদের তালিকায় তাঁর জীবনী (পৃষ্ঠা: ৫৯)।

(৬) ইবনে রাফে হলেন: আবু আল-মাআলি মুহাম্মদ বিন রাফে বিন হাজারাস আস-সালামি, আল-আমিদি, কারও মতে: আস-সুমিদি বংশোদ্ভূত, মিসরি, দামেস্কি, বিজ্ঞ ইমাম, হাফেজ, মুহাদ্দিস, তিনি দামেস্কে বসবাস করতেন, তিনি ৭৪২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, কারও মতে: ৭৭৪ হিজরি সনে। আবু আল-মাহাসিন আদ-দামেস্কি: মুহাম্মদ বিন আলি বিন হাসান আল-হুসাইনি আদ-দামেস্কি, জাহাবিকৃত তাযকিরাতুল হুফফাজের পরিশিষ্ট, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২য় সংস্করণ, ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ (৩/ ৩৪), সুয়ুতিকৃত তাবাকাতুল হুফফাজের পরিশিষ্ট (৩/ ২৪২), ইবনুল ইমাদের শাজারাতুজ জাহাব (৬/ ৪৩৫)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٢٨)
والمتصوفة. والخوض في علم الكلام، وغيره من الأمور التي تهدد الأمة بالفرقة، وانقسام الصفوف بين علمائها وأفرادها(1).

وفي نهاية القول نستطيع أن نجزم أنَّ هذا العصر بما فيه من تناقضات، كان عصرًا مجيدًا تمّت فيه إنجازات علمية كثيرة في مجال علوم القرآن والحديث واللغة والرياضيات، والتاريخ، وغيرها من العلوم المختلفة(2).

* * *

--------------------------------------------

(1) ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 41، 42) الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 43، 48)، مقدمة كتاب البداية والنهاية لابن كثير (1/ 14 - 15).

(2) الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 48).

এবং সূফীবৃন্দ। আর ইলমে কালামে মগ্ন হওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা উম্মাহকে বিভক্তির হুমকির মুখে ফেলেছিল এবং এর আলিম সমাজ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করেছিল(১)।

পরিশেষে আমরা এটি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, এই যুগ তার সমস্ত বৈপরীত্য সত্ত্বেও একটি গৌরবময় যুগ ছিল, যাতে কুরআন, হাদীস, ভাষা, গণিত, ইতিহাস এবং অন্যান্য বিভিন্ন শাস্ত্রের ক্ষেত্রে অনেক জ্ঞানতাত্ত্বিক সাফল্য অর্জিত হয়েছিল(২)।

* * *

--------------------------------------------

(১) জুহাইলী রচিত ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী (পৃষ্ঠা: ৪১, ৪২); আল-শালাশ রচিত আল-ইমাম ইবনে কাসীর ওয়া আসারুহু ফী ইলমিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৪৩, ৪৮); ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের ভূমিকা (১/ ১৪ - ১৫)।

(২) আল-শালাশ রচিত আল-ইমাম ইবনে কাসীর ওয়া আসারুহু ফী ইলমিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৪৮)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌المبحث الأول نسبه ومولده، ونشأته وحياته، وأخلاقه وصفاته

‌‌أولًا: نسبه:

هو: الشيخ(1)، العلامة، الإمام، الحافظ المفسِّر، المحدِّث، المؤرخ، الفقيه عِمَادُ الدِّين، أبو الفِدَاء(2) إسماعيل بن عُمر بن كَثِير بن ضَوْء بن كثير بن ضوْء بن درع(3)، وقيل: ذُرع(4)، وقيل: زرع(5)، القُرَشيُّ(6)، القَيْسِيُّ(7)،

--------------------------------------------

(1) ذيل تذكرة الحفاظ لأبي المحاسن الدمشقي (3/ 38)، الدرر الكامنة لابن حجر (1/ 218).

(2) الأدنروي: أحمد بن محمد الأدنروي، طبقات المفسرين، مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة (ص: 260)، بروكلمان: كارل بروكلمان، تاريخ الأدب العربي، الهيئة المصرية العامة للكتاب، مصر (ص: 183) ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 52).

(3) ابن حجر: أبو الفضل أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، إنباء الغمر بأبناء الغمر، دار الكتب العلمية (1/ 45). البداية والنهاية لابن كثير (16/ 35).

(4) ذيل تذكرة الحفاظ للذهبي لأبي المحاسن الدمشقي (3/ 38). ابن قاضي شهبة الدمشقي أبو بكر بن أحمد بن محمد الدمشقي، طبقات الشافعية، مطبعة مجلس دائرة المعارف العثمانية، الهند، ط 1، 1399 هـ - 1979 م (3/ 113). المقريزي:: أحمد بن علي المقريزي، درر العقود الفريدة في تراجم الأعيان المفيدة، دار الكتب العلمية، 2009 م (1/ 312).

(5) الدارس للنعيمي (1/ 27) شذرات الذهب لابن العماد (6/ 432).

(6) نسبة إلى قريش، وقيل: قُرَيْش هو فهر بن مالك بن النَّضَر، وينتهي إلى مضر، ولا يقال قريش إلا لمن كان من ولد فهر. البداية والنهاية لابن كثير (16/ 35)، القلقشندي: أبو العباس أحمد بن علي بن أحمد، نهاية الأرب في معرفة أنساب العرب، دار الكتب العلمية، بيروت، ط 2، 2012 م (ص: 356). الداوودي: محمد بن علي بن أحمد الداوودي، طبقات المفسرين، مراجعة وضبط: لجنة من العلماء، دار الكتب العلمية، بيروت، 1403 هـ - 1983 م. (1/ 112). الطيب با مخرمة: أبو محمد الطيب بن عبد الله بن أحمد بامخرمة الهجراني، قلادة النحر في وفيات أعيان الدهر، دار المنهاج، السعودية، ط 1، 1428 هـ - 2008 م (6/ 313)، تاريخ الأدب العربي لبروكلمان (ص: 183).

(7) نسبة إلى قيس بن عَيْلان، ويقال قيس بن عيلان بن مُضر، وقيس بطن من بكر بن وائل. ذيل=

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয়, জন্ম, বেড়ে ওঠা, জীবন, চরিত্র ও গুণাবলি

প্রথমত: তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন: শাইখ(১), আল্লামা, ইমাম, হাফেজ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক, ফকিহ ইমাদউদ্দীন, আবুল ফিদা(২) ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর বিন দাউ বিন কাসীর বিন দাউ বিন দির'আ(৩), মতান্তরে: জুর'আ(৪), মতান্তরে: যার'আ(৫), আল-কুরাশি(৬), আল-কাইসি(৭),

--------------------------------------------

(১) জাইলু তাজকিরাতিল হাফিজ, আবু মাহাসিন আদ-দিমাশকি (৩/ ৩৮); আদ-দুরারুল কামিনাহ, ইবনে হাজার (১/ ২১৮)।

(২) আল-আদানরাবি: আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আদানরাবি, তাবাকাতুল মুফাসসিরিন, মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা (পৃ. ২৬০); ব্রোকলম্যান: কার্ল ব্রোকলম্যান, তারিখুল আদাবিল আরাবি, আল-হাইআতুল মিসরিয়্যাতুল আম্মাহ লিল কিতাব, মিসর (পৃ. ১৮৩); জুহাইলি রচিত ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকি (পৃ. ৫২)।

(৩) ইবনে হাজার: আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি, ইনবাউল গুমর বি আবনাইল গুমর, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ (১/ ৪৫)। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর (১৬/ ৩৫)।

(৪) আবু মাহাসিন আদ-দিমাশকি রচিত আয-যাহাবীর তাজকিরাতিল হাফিজ-এর পরিশিষ্ট (৩/ ৩৮)। ইবনে কাজি শুহবা আদ-দিমাশকি আবু বকর বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি, তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ, মাতবাআতু মজলিসি দাইরাতিল মাআরিফিল উসমানিয়্যাহ, ভারত, ১ম সংস্করণ, ১৩৯৯ হি. - ১৯৭৯ খ্রি. (৩/ ১১৩)। আল-মাকরিজি: আহমদ বিন আলী আল-মাকরিজি, দুরারুল উকুদিল ফারিদাহ ফি তারাজিমিল আইয়ানিল মুফিদাহ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ২০০৯ খ্রি. (১/ ৩১২)।

(৫) আদ-দারিস, নুআইমি (১/ ২৭); শাজারাতুজ জাহাব, ইবনুল ইমাদ (৬/ ৪৩২)।

(৬) কুরাইশ বংশের প্রতি সম্বন্ধিত। বলা হয়েছে: কুরাইশ হলেন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদর, যার বংশধারা মুদার পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফিহরের বংশধর ছাড়া অন্য কাউকে কুরাইশ বলা হয় না। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর (১৬/ ৩৫); আল-কালকাশান্দি: আবু আব্বাস আহমদ বিন আলী বিন আহমদ, নিহায়াতুল আরাব ফি মা'রিফাতি আনসাবিল আরব, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২য় সংস্করণ, ২০১২ খ্রি. (পৃ. ৩৫৬)। আদ-দাউদি: মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ আদ-দাউদি, তাবাকাতুল মুফাসসিরিন, পর্যালোচনা ও সম্পাদনা: একদল আলেম, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৪০৩ হি. - ১৯৮৩ খ্রি. (১/ ১১২)। আত-তাইয়্যিব বা মাখরামা: আবু মুহাম্মদ আত-তাইয়্যিব বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বা মাখরামা আল-হাজরانی, কিলাদাতুন নাহর ফি ওয়াফায়াতিল আইয়ানিদ দাহর, দারুল মিনহাজ, সৌদি আরব, ১ম সংস্করণ, ১৪২৮ হি. - ২০০৮ খ্রি. (৬/ ৩১৩); ব্রোকলম্যান রচিত তারিখুল আদাবিল আরাবি (পৃ. ১৮৩)।

(৭) কায়েস বিন আয়লানের প্রতি সম্বন্ধিত। বলা হয় কায়েস বিন আয়লান বিন মুদার। আর কায়েস হলো বকর বিন ওয়ায়েলের একটি শাখা। জাইল=
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٣٠)
الخُصَيْليُّ(1)، وقيل: الحَصليُّ(2)، الجَعْفَريُّ(3)، البُصرويُّ(4) الأصل، ثم الدِّمَشْقِيُّ(5)، الشَّافِعِيُّ(6)، المعروف بابن كثير(7).

واسم والده: شهاب الدِّين أبو حَفْص عُمر بن كثير بن ضوء القُرشيّ، الخُصَيْليّ، وكان أبوه من العلماء، الفقهاء، الخطباء، وكان له عناية باللغة

--------------------------------------------

= طبقات الحفاظ للسيوطي (3/ 238). الدرر الكامنة لابن حجر (1/ 218). نهاية الأرب للقلقشندي (ص: 362).

(1) من خُصيلة، وهو: بُطين ينتسب إلى الشرف الرفيع لقريش. البداية والنهاية (16/ 35). الفاسي: محمد بن أحمد الفاسي، وفيات، وفيات سير أعلام النبلاء للذهبي، دار المعرفة، بيروت (ص: 224).

كحالة: عمر رضا كحالة، معجم قبائل العرب، مؤسسة الرسالة دمشق /بيروت، ط 1، 1432 هـ 2011 م (1/ 439).

(2) من بني حصلة الذين ينتسبون في الشرف الرفيع إلى قريش. البداية والنهاية لابن كثير (16/ 35)، الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 53)، ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 49)، مقدمة التحقيق كتاب البداية والنهاية لابن كثير (1/ 16).

(3) نسبة إلى بني جعفر بن كلاب بن ربيعة بن عامر بن قيس بن عيلان. ابن حزم: أبو محمد علي بن سعيد بن حزم الأندلسي، جمهرة أنساب العرب، تحقيق: أ. ليفي بروفنسال، شركة نوابغ الفكر، القاهرة، ط 1، 1430 هـ - 2009 م (ص: 286 - 290)، وفيات سير أعلام النبلاء للفاسي (ص: 224)، معجم قبائل العرب لعمر رضا كحالة (1/ 256).

(4) نسبة إلى بصرى الشام، حيث تقع قريته مجيدل بها، وتقع بصرى في الجنوب الشرقي من سورية الآن. الدرر الكامنة لابن حجر (1/ 218) تاريخ الأدب العربي لبروكلمان (ص: 183)، ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 50).

(5) الدارس للنعيمي (1/ 27).

(6) نسبة إلى الإمام الشافعي؛ فقد تفقه الحافظ ابن كثير على مذهب الإمام أبي عبد الله محمد بن إدريس الشافعيّ (ت 204 هـ)، وتأثر به، وصنف بعض الكتب ملتزما بأصول هذا المذهب وفروعه. درر العقود للمقريزي (1/ 212)، تاريخ الأدب العربي لبروكلمان (ص: 183)، ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 51).

(7) ذيل طبقات الحفاظ للسيوطي (3/ 238)، كحالة: محمد رضا كحالة، معجم المؤلفين، مؤسسة الرسالة، بيروت، ط 1، 1414 هـ - 1993 م (1/ 283).

আল-খুসাইলি(১), মতান্তরে: আল-হাসলি(২), আল-জা'ফারি(৩), মূলে আল-বুসরাভি(৪), পরবর্তীতে আদ-দিমাশকি(৫), আশ-শাফিঈ(৬), যিনি ইবনে কাসীর(৭) নামে পরিচিত।

তাঁর পিতার নাম: শিহাবুদ্দিন আবু হাফস উমর ইবনে কাসীর ইবনে দাউ আল-কুরাশি আল-খুসাইলি। তাঁর পিতা ছিলেন আলেম, ফকিহ ও খতিবদের অন্তর্ভুক্ত এবং ভাষার প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগ ছিল।

--------------------------------------------

= সুয়ুতির তাবাকাতুল হুফফাজ (৩/ ২৩৮)। ইবনে হাজারের আদ-দুরারুল কামিনাহ (১/ ২১৮)। কালকাশান্দির নিহায়াতুল আরাব (পৃষ্ঠা: ৩৬২)।

(১) খুসাইলা থেকে, যা একটি ক্ষুদ্র গোত্র যা কুরাইশদের উচ্চ মর্যাদার সাথে সম্পৃক্ত। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ৩৫)। আল-ফাসি: মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফাসি, ওয়াফায়াত, জাহাবির সিয়ারু আলামিন নুবালা-এর পরিশিষ্ট, দারুল মা'রিফাহ, বৈরুত (পৃষ্ঠা: ২২৪)।

কাহহালা: উমর রিদা কাহহালা, মু'জাম কাবাইলিল আরব, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ দামেস্ক/বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪৩২ হি. ২০১১ খ্রি. (১/ ৪৩৯)।

(২) বনু হাসলা থেকে যারা কুরাইশদের উচ্চ মর্যাদার সাথে সম্পৃক্ত। ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ৩৫), আল-শলাশ-এর আল-ইমাম ইবনে কাসীর ওয়া আসারুহু ফি ইলমিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৫৩), জুহাইলির ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকি (পৃষ্ঠা: ৪৯), ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকা (১/ ১৬)।

(৩) বনু জাফর ইবনে কিলাব ইবনে রাবিয়া ইবনে আমির ইবনে কাইস ইবনে আইলান-এর সাথে সম্পৃক্ত। ইবনে হাজম: আবু মুহাম্মদ আলী বিন সাঈদ বিন হাজম আল-আন্দালুসি, জামহারাতু আনসাবিল আরব, তাহকিক: এ. লেভি প্রোভেনসাল, শিরকাতু নাওয়াগিহিল ফিকর, কায়রো, ১ম সংস্করণ, ১৪৩০ হি. - ২০০৯ খ্রি. (পৃষ্ঠা: ২৮৬ - ২৯০), আল-ফাসির সিয়ারু আলামিন নুবালা-এর পরিশিষ্ট (পৃষ্ঠা: ২২৪), উমর রিদা কাহহালার মু'জাম কাবাইলিল আরব (১/ ২৫৬)।

(৪) বুসরা আশ-শামের সাথে সম্পৃক্ত, যেখানে তাঁর গ্রাম 'মাজিদাল' অবস্থিত ছিল। বুসরা বর্তমানে সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। ইবনে হাজারের আদ-দুরারুল কামিনাহ (১/ ২১৮), ব্রোকলম্যানের তারিখুল আদাবিল আরাবি (পৃষ্ঠা: ১৮৩), জুহাইলির ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকি (পৃষ্ঠা: ৫০)।

(৫) নুআইমির আদ-দারিস (১/ ২৭)।

(৬) ইমাম শাফিঈর সাথে সম্পৃক্ত; কেননা হাফেজ ইবনে কাসীর ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈর (মৃত্যু ২০৪ হি.) মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন, তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন এবং এই মাজহাবের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা অনুসরণ করে কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন। মাকরিজির দুরারুল উকুদ (১/ ২১২), ব্রোকলম্যানের তারিখুল আদাবিল আরাবি (পৃষ্ঠা: ১৮৩), জুহাইলির ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকি (পৃষ্ঠা: ৫১)।

(৭) সুয়ুতির জাইলো তাবাকাতিল হুফফাজ (৩/ ২৩৮), কাহহালা: মুহাম্মদ রিদা কাহহালা, মু'জামুল মুয়াল্লিফিন, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪১৪ হি. - ১৯৯৩ খ্রি. (১/ ২৮৩)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٣١)
والشعر والأدب، توفي في شهر جمادى الأولى سنة 703 هـ(1)، واسم أمه: مريم بنت فرج بن مفرج عليّ، وهي من قرية مُجَيْدل، توفيت في عام 729 هـ(2).

وللحافظ ابن كثير أخوة من جهة والده وهم: إسماعيل، ويونس، وإدريس، ومن جهة والدته: عبد الوَهَّاب (ت 750 هـ)(3)، ومحمد، وعبد العزيز، وله أخوات عدَّة(4)، وكان هو أصغر الجميع(5).

 

‌‌ثانيا: مولده:

وُلِدَ الحافظ ابن كَثير في مطلع القرن الثامن الهجري(6)، سنة 701(7) هـ وقيل: سنة 700 هـ(8) (عام 1301 م)(9)، والأول أصحّ(10).

--------------------------------------------

(1) انظر: ترجمته في البداية والنهاية لابن كثير (16/ 35 - 36). النجوم الزاهرة لابن تغري بردي (11/ 98). الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 51 - 52).

(2) انظر ترجمتها في البداية والنهاية لابن كثير (16/ 220).

(3) انظر: ترجمته في شيوخ المؤلف (ص: 65).

(4) البداية والنهاية لابن كثير (16/ 36)، الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 52).

(5) البداية والنهاية لابن كثير (16/ 36)، الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 52).

(6) ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 58).

(7) البداية والنهاية لابن كثير (16/ 19)، إنباء الغمر لابن حجر (1/ 45)، ذيل طبقات الحفاظ للسيوطي (3/ 23)، شذرات الذهب لابن العماد (6/ 432).

(8) النجوم الزاهرة لابن تغري بردي (11/ 98)، طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة (3/ 113).

الشوكاني: محمد بن علي الشوكاني، البدر الطالع بمحاسن من بعد القرن التاسع، المكتبة العصرية، بيروت، ط 1، 1432 هـ - 2011 م (1/ 121).

(9) تاريخ الأدب العربي لبروكلمان (ص: 183).

(10) قطع الحافظ ابن كثير الشك باليقين عندما حدّد سنة ولادته في عام 701 هـ. البداية والنهاية لابن كثير (16/ 19).

এবং কবিতা ও সাহিত্য, তিনি ৭০৩ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে মৃত্যুবরণ করেন(১), এবং তাঁর মাতার নাম: মারইয়াম বিনতে ফারাজ ইবনে মুফাররাজ আলী, তিনি মুজাইদিল গ্রামের অধিবাসী ছিলেন, তিনি ৭২৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন(২)।

হাফেজ ইবনে কাসিরের পিতার দিক থেকে ভাইরা হলেন: ইসমাইল, ইউনুস এবং ইদ্রিস; আর মাতার দিক থেকে ভাইরা হলেন: আবদুল ওয়াহহাব (মৃত্যু ৭৫০ হিজরি)(৩), মুহাম্মদ এবং আবদুল আজিজ। তাঁর বেশ কয়েকজন বোনও ছিলেন(৪), আর তিনি ছিলেন সবার ছোট(৫)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম:

হাফেজ ইবনে কাসির হিজরি অষ্টম শতাব্দীর শুরুতে জন্মগ্রহণ করেন(৬), ৭০১(৭) হিজরি সনে। আর বলা হয়েছে: ৭০০ হিজরি সনে(৮) (১৩০১ খ্রিস্টাব্দ)(৯), তবে প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক(১০)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কাসিরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'-তে তাঁর জীবনী (১৬/ ৩৫ - ৩৬)। ইবনে তাগরি বারদির 'আন-নুজুমুজ জাহিরা' (১১/ ৯৮)। আল শাল্লাশের 'আল-ইমাম ইবনে কাসির ওয়া আসারুহু ফি ইলমিল হাদিস' (পৃষ্ঠা: ৫১ - ৫২)।

(২) দেখুন: ইবনে কাসিরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'-তে তাঁর (মাতার) জীবনী (১৬/ ২২০)।

(৩) দেখুন: 'শুয়ুখুল মুয়াল্লিফ'-এ তাঁর জীবনী (পৃষ্ঠা: ৬৫)।

(৪) ইবনে কাসিরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১৬/ ৩৬), আল শাল্লাশের 'আল-ইমাম ইবনে কাসির ওয়া আসারুহু ফি ইলমিল হাদিস' (পৃষ্ঠা: ৫২)।

(৫) ইবনে কাসিরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১৬/ ৩৬), আল শাল্লাশের 'আল-ইমাম ইবনে কাসির ওয়া আসারুহু ফি ইলমিল হাদিস' (পৃষ্ঠা: ৫২)।

(৬) জুহাইলির 'ইবনে কাসির আদ-দিমাশকি' (পৃষ্ঠা: ৫৮)।

(৭) ইবনে কাসিরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১৬/ ১৯), ইবনে হাজারের 'ইনবাউল গুমর' (১/ ৪৫), সুয়ুতির 'যাইলুত তাবাকাতিল হুফফাজ' (৩/ ২৩), ইবনুল ইমাদের 'শাযারাতুয যাহাব' (৬/ ৪৩২)।

(৮) ইবনে তাগরি বারদির 'আন-নুজুমুজ জাহিরা' (১১/ ৯৮), ইবনে কাজি শুহবাহর 'তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ' (৩/ ১১৩)।

শাওকানি: মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানি, আল-বদরুত তালি' বি মাহাসিনি মান বা'দাল করনিত তাসি', মাকতাবাতুল আশরিয়্যাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ (১/ ১২১)।

(৯) ব্রোকলম্যানের 'তারিখুল আদাবিল আরবি' (পৃষ্ঠা: ১৮৩)।

(১০) হাফেজ ইবনে কাসির সুনিশ্চিতভাবে সন্দেহ দূর করেছেন যখন তিনি তাঁর জন্ম সাল ৭০১ হিজরি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ইবনে কাসিরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১৬/ ১৯)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وكانت ولادته بمُجَيْدل القرية من أعمال مدينة بُصرى(1)، والتي منها والدته - رحمها الله - وكان أبوه خطيبًا فيها(2).

وقد سُمِّيَ ابن كثير على اسم أخيه الأكبر: إسماعيل، الذي سقط من سَطحِ إحدى المدارس فلم يمكث سوى أيامًا ومات(3).

 

‌‌ثالثًا: نشأته وحياته:

في عصر مضطرب، مشبع بالفتن والقلاقل، والمؤامرات السياسية، والانقلابات بين سلاطين المماليك؛ وفي قلب أحداث دامية، وحروب متوالية عانى منها العالم العربي، لاسيَّما مصر والشام وفي وسط مجتمع مليء بالتناقضات والصراعات المذهبية بين أفرادها؛ وفي مناخ علمي نشط، حافل بالعلم والعلماء ظهر مؤلفنا: ابن كثير إلى النور، فيجيء ميلاده ليضيف فرحة أخرى إلى قلب أبيه، وأمه، وإخوته، وأملًا بمستقبل أفضل(4).

كانت نشأة ابن كثير في أسرة علمية، متدينة، محافظة؛ فقد كان أبوه شهاب الدين أبو حفص عُمر بن كثير، الشيخ، الإمام، العالم، الفقيه، الخطيب(5)، معتنيًا باللغة العربية والنحو، حافظًا لأشعار العرب وقصائدهم حتى أنه كان يقول بعض الشّعر الجيد في المدح، والرِّثاء، والهِجاء(6)، وحريصًا كل الحرص على

--------------------------------------------

(1) درر العقود للمقريزي (1/ 312) ذيل تذكرة الحفاظ لأبي المحاسن الدمشقي (3/ 38).

(2) البداية والنهاية لابن كثير (16/ 36)، ذيل تذكرة الحفاظ لأبي المحاسن الدمشقي (3/ 38).

(3) البداية والنهاية لابن كثير (16/ 36)، الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 52).

(4) ابن القيم وآراؤه الكلامية لمحمد الزيني (ص: 26).

(5) ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص:58)، مقدمة كتاب البداية والنهاية لابن كثير (1/ 18).

(6) البداية والنهاية لابن كثير (16/ 36)، الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 53).

তাঁর জন্ম হয়েছিল বুসরা শহরের প্রশাসনিক এলাকাভুক্ত মুজাইদিল গ্রামে(১), যা ছিল তাঁর মাতার—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—অঞ্চল; আর তাঁর পিতা সেখানে খতিব ছিলেন(২)।

ইবনে কাসীরের নাম রাখা হয়েছিল তাঁর বড় ভাই ইসমাইলের নামানুসারে, যিনি একটি মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিলেন এবং মাত্র কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পরই মৃত্যুবরণ করেছিলেন(৩)।

 

‌‌তৃতীয়: তাঁর বেড়ে ওঠা ও জীবন:

এক অস্থির যুগে, যা ফিতনা-ফ্যাসাদ ও অস্থিরতা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং মামলুক সুলতানদের মধ্যকার অভ্যুত্থানে পরিপূর্ণ ছিল; রক্তক্ষয়ী ঘটনাপ্রবাহ এবং ধারাবাহিক যুদ্ধের মাঝে যার দ্বারা আরব বিশ্ব বিশেষ করে মিসর ও শাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; এবং বৈপরীত্য ও মাযহাবগত দ্বন্দ্বে লিপ্ত এক সমাজের মাঝে; আবার জ্ঞান ও উলামায়ে কেরামে মুখরিত এক সক্রিয় ইলমি পরিবেশে আমাদের লেখক ইবনে কাসীর আলোর মুখ দেখেন। তাঁর জন্ম তাঁর পিতা, মাতা এবং ভাইদের হৃদয়ে এক নতুন আনন্দ বয়ে আনে এবং এক উন্নত ভবিষ্যতের আশা জাগিয়ে তোলে(৪)।

ইবনে কাসীরের বেড়ে ওঠা ছিল একটি ইলমি, ধার্মিক ও রক্ষণশীল পরিবারে। তাঁর পিতা ছিলেন শায়খ, ইমাম, আলিম, ফকিহ ও খতিব শিহাবুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবনে কাসীর(৫)। তিনি আরবি ভাষা ও নাহু শাস্ত্রের প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং আরবদের কাব্য ও কাসিদা মুখস্থ রাখতেন, এমনকি তিনি প্রশংসা, শোকগাথা ও ব্যঙ্গাত্মক বিষয়ে কিছু উন্নত মানের কবিতা রচনা করতেন(৬)। তিনি অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) আল-মাকরিযী রচিত দুরারুল উকূদ (১/ ৩১২), আবু মাহাসিন আদ-দিমাশকী রচিত যাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ (৩/ ৩৮)।

(২) ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ৩৬), আবু মাহাসিন আদ-দিমাশকী রচিত যাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ (৩/ ৩৮)।

(৩) ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ৩৬), আল-শালশ রচিত আল-ইমাম ইবনু কাসীর ওয়া আসারুহু ফী ইলমিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫২)।

(৪) মুহাম্মাদ আয-যাইনী রচিত ইবনুল কাইয়্যিম ওয়া আ-রাউহুল কালামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)।

(৫) আয-যুহাইলী রচিত ইবনু কাসীর আদ-দিমাশকী (পৃষ্ঠা: ৫৮), ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের ভূমিকা (১/ ১৮)।

(৬) ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৬/ ৩৬), আল-শালশ রচিত আল-ইমাম ইবনু কাসীর ওয়া আসারুহু ফী ইলমিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫৩)।

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি বকরিস সিদ্দিক - লিবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ٣٣)
تنشئة أولاده تنشئة إسلامية صحيحة؛ فكان من ذلك أن حفظ ابنه إسماعيل الأوّل(1) القرآن على يديه، وصار ابنه عبد الوهاب ذا علم ومعرفة بالفِقه(2).

وبعد وفاة والده، انتقل ابن كثير مع عائلته وأخيه الأكبر كمال الدين عبد الوهاب إلى دمشق في سنة 707 هـ(3) - وكان عمره سبع سنين - فكان قدومه إليها وسكنه فيها مباركًا عليه(4)؛ إذ كانت دمشق - آنذاك - حاضرة العلم والعلماء، ومدارسها ومكتباتها الكثيرة كانت قبلة للعلماء وطلبة العلم من كل صَوْب وحَدْب.

وقد اعتنى به أخوه عبد الوهاب أشدّ الاعتناء، وكان خير أخٍ له؛ فتلقى على يديه العلم.

ومن المهم بمكان أن نُبَيِّن أنَّ العلم السائد في الحضارة الإسلامية هو العلم الديني: حفظ القرآن، وتعلّم مناهج المفسرين، والاطلاع على كتب الفقه بمذاهبه المختلفة، وكتابة الحديث، وهذا ما سنراه واضحًا عند ابن كثير(5).

وقد حفظ ابن كثير القرآن الكريم في عام 711 هـ(6) على يد الشيخ الإمام أبي عبد الله محمد بن حسين بن غيلان الحنبليّ (ت 730 هـ)(7).

--------------------------------------------

(1) هو: إسماعيل بن عمر بن كثير، الأخ الأكبر للمؤلف من الزوجة الأولى، سقط من سطح إحدى المدارس بدمشق، وعندما وُلِدَ ابن كثير سَمَّاهُ أبوه باسمه. البداية والنهاية لابن كثير (16/ 36)، ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 60)، مقدمة كتاب البداية والنهاية لابن كثير (1/ 21).

(2) ابن تغري بردي: يوسف بن تَغْرِي بَرْدي الأتابكي، المنهل الصافي، الهيئة المصرية العامة للكتاب/ مركز تحقيق الكتاب، 1984 م (2/ 415)، ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 58، 71).

(3) البداية والنهاية لابن كثير (16/ 37)، الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 53).

(4) الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 53).

(5) البداية والنهاية لابن كثير (16/ 37)، ابن كثير الدمشقي للزحيلي (ص: 58).

(6) البداية والنهاية لابن كثير (16/ 231) الإمام ابن كثير وأثره في علم الحديث لآل شلش (ص: 53).

(7) هو: ابن غيلان البعلبكي. انظر: ترجمته في شيوخ المؤلف (ص: 62).

তার সন্তানদের সঠিক ইসলামী লালন-পালনের মাধ্যমে গড়ে তোলা; এর ফলশ্রুতিতে তার প্রথম পুত্র ইসমাঈল(১) তার কাছেই কুরআন হিফজ করেন, এবং তার পুত্র আব্দুল ওয়াহহাব ফিকহ শাস্ত্রে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী হন(২)।

তার পিতার মৃত্যুর পর, ইবনে কাসীর তার পরিবার এবং বড় ভাই কামালুদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাবের সাথে ৭০৭ হিজরিতে(৩) দামেস্কে চলে যান —তখন তার বয়স ছিল সাত বছর— সেখানে তার আগমন এবং বসবাস তার জন্য বরকতময় হয়েছিল(৪); কারণ দামেস্ক —তৎকালীন সময়ে— ছিল ইলম ও ওলামাদের কেন্দ্র, এবং এর অসংখ্য মাদ্রাসা ও লাইব্রেরিগুলো ছিল সকল প্রান্তের আলেম ও তালিবে ইলমদের মিলনস্থল।

তার ভাই আব্দুল ওয়াহহাব তার অত্যন্ত যত্ন নেন এবং তিনি তার জন্য একজন শ্রেষ্ঠ ভাই ছিলেন; ফলে তিনি তার কাছেই ইলম অর্জন করেন।

এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা গুরুত্বপূর্ণ যে, ইসলামী সভ্যতায় প্রচলিত জ্ঞান ছিল মূলত ধর্মীয় জ্ঞান: কুরআন হিফজ করা, মুফাসসিরদের কর্মপদ্ধতি শিক্ষা করা, বিভিন্ন মাযহাবের ফিকহী কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করা এবং হাদীস সংকলন করা, আর এটিই আমরা ইবনে কাসীরের মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখতে পাব(৫)।

ইবনে কাসীর ৭১১ হিজরিতে(৬) শাইখ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন গাইলান আল-হাম্বলী (মৃ. ৭৩০ হি.)-এর(৭) কাছে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: ইসমাঈল বিন উমর বিন কাসীর, লেখকের প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত বড় ভাই। তিনি দামেস্কের একটি মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। এরপর যখন ইবনে কাসীর জন্মগ্রহণ করেন, তখন তার পিতা বড় ভাইয়ের নামেই তার নামকরণ করেন। ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ (১৬/৩৬), জুহাইলী রচিত ‘ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী’ (পৃষ্ঠা: ৬০), ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ গ্রন্থের ভূমিকা (১/২১)।

(২) ইবনে তাগরি বারদি: ইউসুফ বিন তাগরি বারদি আল-আতাবাকী, আল-মানহাল আস-সাফী, আল-হায়আতুল মিসরিয়্যা আল-আম্মাহ লিল-কিতাব/ মারকায তাহকীকিল কিতাব, ১৯৮৪ খ্রি. (২/৪১৫), জুহাইলী রচিত ‘ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী’ (পৃষ্ঠা: ৫৮, ৭১)।

(৩) ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ (১৬/৩৭), আল-শালাশ রচিত ‘আল-ইমাম ইবনে কাসীর ওয়া আসারুহু ফী ইলমিল হাদীস’ (পৃষ্ঠা: ৫৩)।

(৪) আল-শালাশ রচিত ‘আল-ইমাম ইবনে কাসীর ওয়া আসারুহু ফী ইলমিল হাদীস’ (পৃষ্ঠা: ৫৩)।

(৫) ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ (১৬/৩৭), জুহাইলী রচিত ‘ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী’ (পৃষ্ঠা: ৫৮)।

(৬) ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ (১৬/২৩১), আল-শালাশ রচিত ‘আল-ইমাম ইবনে কাসীর ওয়া আসারুহু ফী ইলমিল হাদীস’ (পৃষ্ঠা: ৫৩)।

(৭) তিনি হলেন: ইবনে গাইলান আল-বালবাক্কী। দেখুন: লেখকের উস্তাদগণের জীবনী অধ্যায়ে তার জীবনী (পৃষ্ঠা: ৬২)।