(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: -)
نيل الأماني في توضيح مقدمة القسطلاني - ط عطاءات العلم   (عبد الهادي نجا الأبياري)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: نيل الأماني في توضيح مقدمة القسطلاني

(مطبوع مع شرح القسطلاني إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري)

المؤلف: عبد الهادي نجا بن رضوان الأبياري الشافعي المصري (ت 1305 هـ)

تحقيق: المكتب العلمي بدار الكمال المتحدة

الناشر: دار عطاءات العلم - دار ابن حزم

الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 353

تنبيه: نص هذه النسخة الإلكترونية، أهداه للشاملة «عطاءات العلم» عن موسوعة (صحيح البخاري) المنشورة عام 1437 هـ. أما المطبوع، فقد زيد في تحقيقه وحواشيه

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 جُمادَى الآخرة 1446

নাইলুল আমানি ফি তাওদিহি মুকাদ্দিমাতিল কাসতালানি - আতাআতুল ইলম সংস্করণ   (আবদুল হাদি নাজা আল-আবিয়ারি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


বই: নাইলুল আমানি ফি তাওদিহি মুকাদ্দিমাতিল কাসতালানি

(এটি কাসতালানির শরাহ 'ইরশাদুস সারি লি-শারহি সহিহ বুখারি'-এর সাথে মুদ্রিত)

লেখক: আবদুল হাদি নাজা বিন রিদওয়ান আল-আবিয়ারি আশ-শাফিয়ি আল-মিসরি (মৃত্যু ১৩০৫ হিজরি)

সম্পাদনা: দারুল কামাল আল-মুত্তাহিদার ইলমি মাকতাব

প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম - দারু ইবনে হাজম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৩

সতর্কবার্তা: এই ডিজিটাল সংস্করণের মূল পাঠটি ১৪৩৭ হিজরিতে প্রকাশিত «সহিহ বুখারি» বিশ্বকোষ থেকে «আতাআতুল ইলম» শামেলা লাইব্রেরিকে উপহার হিসেবে প্রদান করেছে। তবে মুদ্রিত সংস্করণে এর সম্পাদনা ও টীকা আরও বর্ধিত করা হয়েছে।

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৫ জুমাদাল আখিরা ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌عمل المعتني بالكتاب (عن موسوعة صحيح البخاري)[*]:

تمت المقابلة على الطبعة الميمنية المطبوعة بعد وفاة المصنف، واعلم أنا رجعنا في عملنا هذه إلى تقريرات شمس الدين محمد بن محمد بن حسين الأنبابي، ت: 1313 هـ، وهو قرين المصنف رحمهما الله، والدافع له للتصنيف كما ذكر المصنف في مقدمته هذه، وقد لاحظنا بينهما تشابهًا كبيرًا، لكن في تقريرات الأنبابي بعض الزيادات التي ليست في نسختنا، ولكتاب الأنبابي نسختين خطيتين موجودتين في المكتبة الأزهرية، الأولى منهما مسودة المصنف تحت رقم: 336561، والثانية مبيضة مقابلة ومستدرك عليها تحت الرقم: 336553.

 

قابله: عبد الرحيم محمد يوسفان

--------------------------------------------

[*] (تعليق الشاملة): هذا العمل خاص بنص النسخة الإلكترونية المنشورة بموسوعة صحيح البخاري 1473 هـ، وهو نفسه النص المنشور هنا بالمكتبة الشاملة

أما المطبوع، 1442 هـ، فقد زيد في تحقيقه وحواشيه

গ্রন্থের যত্নকারীর কাজ (সহীহ বুখারী এনসাইক্লোপিডিয়া হতে)[*]:

গ্রন্থকারের মৃত্যুর পর মুদ্রিত 'মায়মানিয়্যাহ' সংস্করণের সাথে এই পাঠ্যটি মেলানো (مقابلة) হয়েছে। জেনে রাখুন যে, আমরা আমাদের এই কাজে শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন হুসাইন আল-আনবাবী (মৃত্যু: ১৩১৩ হি.)-এর 'তাকরীরাত'-এর (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) শরণাপন্ন হয়েছি; তিনি গ্রন্থকারের সমসাময়িক ছিলেন—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন—এবং গ্রন্থকার তাঁর এই মুখবন্ধে যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তিনি (আনবাবী)-ই তাকে এই গ্রন্থটি রচনার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। আমরা উভয়ের মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য লক্ষ্য করেছি, তবে আনবাবীর 'তাকরীরাত'-এ কিছু অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যা আমাদের পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) নেই। আনবাবীর কিতাবটির দুটি পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) আযহারিয়া লাইব্রেরিতে বিদ্যমান রয়েছে: প্রথমটি গ্রন্থকারের খসড়া (مسودة) যার নম্বর: ৩৩৬৫৬১, এবং দ্বিতীয়টি একটি পরিমার্জিত কপি যা মূলের সাথে মেলানো (مقابلة) হয়েছে এবং তাতে পরবর্তী সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে (مستدرك), যার নম্বর: ৩৩৬৫৫৩।

 

পুনর্নিরীক্ষণ করেছেন: আব্দুর রহীম মুহাম্মদ ইউসুফান

--------------------------------------------

[*] (শামেলা'র মন্তব্য): এই কাজটি সহীহ বুখারী এনসাইক্লোপিডিয়া ১৪৭৩ হিজরিতে প্রকাশিত ইলেকট্রনিক কপির জন্য নির্দিষ্ট, এবং এটি বর্তমানে মাকতাবাতুশ শামেলা'তে প্রকাশিত মূল পাঠের অনুরূপ।

তবে ১৪৪২ হিজরিতে মুদ্রিত সংস্করণের তাহকীক (تحقيق) এবং টীকা (حاشية)-তে কিছু পরিবর্ধন করা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم(1)

يقولُ أحمد بن محمَّدٍ الخطيبُ القسطلانيُّ غفر الله تعالى(2) له ولوالديه ولجميع المسلمين:

الحمد لله الذي شرح بمعارف عوارف السُّنَّة النَّبويَّة صدور أوليائه، وروَّح بسماع أحاديثها الطَّيِّبة أرواح أهل وداده وأصفيائه، فسرَّح سِرَّ سرائرهم في رياض روضة قُدسه وثنائه، أحمده على ما وفَّق من إرشاده وأسدى من آلائه، وأشكره على فضله المتواتر الكامل الوافر، وأسأله المزيد


 

بسم الله الرحمن الرحيم

أحسنُ ما تسهلُ به طوالعُ مقدِّمات الحديث حمدُ الله القديم الَّذي نزَّل أحسن الحديث، كما أنَّ أبلجَ ما تستضيء به مشارق الصَّلاح بوارق شوارق الوآم وصوادق ضوابط الاصطلاح، فله الحمدُ على تسلسل نَعْمائه الحسنة، ولهُ الشكرُ على تواترِ لآلئ آلائه بتواتر الأزمنة، والصَّلاة والسَّلام على فاتح أبواب العلا ومانح أسباب السّعود، وشارح صحيح صريح الشَّريعة بقوله الفصل وفعله المحمود؛ سيِّدنا محمَّد القائل في ظلِّ روضِ القربِ اليانعِ، القائل صلى الله عليه وسلم: «رُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ» صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه، المتَّصلُ سندُ عزِّهم إليه ما تَرَاسَلَتِ الأخبارُ وتَرَنَّمَت في حدائق الأزهارِ سواجعُ الأطيارِ.

--------------------------------------------

(1) زيد في (د): «وبه نستعين، الحمد لله رب العالمين، وصلَّى الله على سيِّدنا محمَّدٍ وآله وصحبه وسلَّم، وبالله التوفيق والإعانة»، وزيد في (ص): «وبه ثقتي».

(2) «تعالى» زيادة من (د).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।(১)

আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-খাতিব আল-কাসতাল্লানি—আল্লাহ তাআলা(২) তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন—বলছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নব্যুওয়াতের সুন্নাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ জ্ঞান দ্বারা তাঁর অলীদের বক্ষসমূহ উন্মোচিত করেছেন এবং এর পবিত্র হাদিসসমূহ শ্রবণের মাধ্যমে তাঁর অনুরাগী ও মনোনীত বান্দাদের রূহসমূহকে প্রশান্তি দান করেছেন। ফলে তিনি তাঁদের অন্তরের গূঢ় রহস্যসমূহকে তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসার উদ্যানে বিচরণ করিয়েছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর প্রদর্শিত হিদায়াত ও অবারিত নিআমতের জন্য। আমি তাঁর শুকরিয়া জানাই তাঁর অবিচ্ছিন্ন (متواتر), পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত অনুগ্রহের জন্য এবং তাঁর কাছে আরও বৃদ্ধি প্রার্থনা করি।


 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হাদিসের ভূমিকার প্রারম্ভিক আলোচনা সহজ করার সর্বোত্তম পন্থা হলো সেই অনাদি আল্লাহর প্রশংসা করা, যিনি সর্বোত্তম বাণী (হাদিস) অবতীর্ণ করেছেন। যেমন সংশোধন ও কল্যাণের উদয়স্থলসমূহ যা দ্বারা সর্বাধিক আলোকিত হয় তা হলো ঐকমত্যের উজ্জ্বল জ্যোতি এবং পারিভাষিক নীতিমালার (ضوابط الاصطلاح) সত্যনিষ্ঠ মানদণ্ড। সুতরাং তাঁরই প্রশংসা তাঁর সুন্দর নিআমতসমূহের ধারাবাহিকতার (تسلسل) জন্য, আর তাঁরই শুকরিয়া যুগে যুগে তাঁর নিআমতরাজির মুক্তাসমূহের অবিচ্ছিন্ন (تواتر) প্রবাহের জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক উচ্চ মর্যাদার দ্বার উন্মোচনকারী, সৌভাগ্যের উপকরণ দানকারী এবং অকাট্য কথা ও প্রশংসনীয় কর্মের মাধ্যমে শরীয়তের বিশুদ্ধ (صحيح) ও সুস্পষ্ট বিধানের ব্যাখ্যাদানকারীর প্রতি; আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যিনি নৈকট্যের সজীব উদ্যানের ছায়াতলে বলেছেন: "অনেক ক্ষেত্রে যার কাছে (বার্তা) পৌঁছানো হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়েও বেশি সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর, যাঁদের সম্মানের সূত্র (سند) তাঁর সাথে অবিচ্ছিন্ন (متصل) রয়েছে—যতক্ষণ সংবাদ আদান-প্রদান চলবে এবং পুষ্পকাননে পক্ষীকুল কলকাকলি মুখর থাকবে।

--------------------------------------------

(১) (দ) পাণ্ডুলিপিতে বর্ধিত অংশ: "আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি; সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর; আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক ও সহায়তা আসে।" এবং (স) পাণ্ডুলিপিতে বর্ধিত অংশ: "তাঁর ওপরই আমার ভরসা।"

(২) "তাআলা" শব্দটি (দ) পাণ্ডুলিপির সংযোজন।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ৮)
من عطائه وكشف غطائه، وأشهد أنْ لا إله إِلَّا اللهُ وحدَه لا شريك له، الفرد المنفرد في صمدانيَّته بعزِّ كبريائه، واصلُ من انقطع إليه إلى حضرة قربه وولائه، ومدرجُه في سلسلة خاصَّته وأحبابه(1)، وأشهد أنَّ سيِّدنا محمَّدًا عبدُه ورسولُه، المُرسَلَُ بصحيح القول وحَسَنِهِ؛ رحمةً لأهل أرضه وسمائه، الماحي للمختلَق الموضوع بشوارق بوارق لألائه، فأشرقت مشكاة مصابيح «الجامع الصَّحيح» من أنوار شريعته وأنبائه، صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه وخلفائه(2)، آمين(3).

وبعدُ:

فإنَّ علم السُّنَّة النَّبويَّة بعد الكتاب العزيز أعظم العلوم قدرًا، وأرقاها شرفًا وفخرًا؛ إذ عليه مبنى قواعد أحكام الشَّريعة الإسلاميَّة، وبه تظهر تفاصيل مُجمَلات الآيات القرآنيَّة، وكيف لا ومصدره عمَّن لا ينطق عن الهوى، إن هو إلَّا وحيٌ يُوحَى.

فهو المفسِّر للكتاب، وإنَّما نطق النَّبيُّ لنا به عن ربِّه، وإنَّ كتاب البخاريِّ «الجامع» قد


 

أما بعدُ:

فيقولُ الموقوفُ الرَّجاءِ على فيض فضل جَنَابِ الخالقِ الباري عبد الهادي بن رضوان المشهور بِنَجَا الأَبْيَاري:

لمَّا شرعتُ في قراءة صحيح البخاري بالأزهر لا زال معمورًا بالعلم الأنور، مغمورًا بالفضل الأزهر، ألزمني أجلُّ أحبابي وأخصُّ أصحابي؛ الفاضل الهُمام الشيخ محمد الأَنْبَابِي أن أكتبَ على مقدمة شرح القسطلاني على البخاري حاشيةً، قال: فإنَّها لصُعوبتها صارت العناية بها مع الحاجة إليها واهيةً فحاولت قصورًا فلم تُجْدِّ المحاولة، فامتثلتُ مستعينًا بالله الَّذي لا يخيب مؤمِّله، وكتبتُ عليها ما اقتضاه المقام من توضيح ما أَشْكلهُ الشَّارح وإبداء ما أخفاه، وما تنشرح له من المطالب نفس الطَّالب وتقرُّ بهِ عيناه، فجاءت بحمد الله حاشية كحاشية بَرَد الخودِ كافلةً بحلِّ كلِّ معقودٍ، وافيةً بجلِّ ما هو مقصود، جمعتُ من المصطلح أصلحه وأنفعه، ومنعتُ الأذهانَ أن تُشَتَّتْ في

--------------------------------------------

(1) في (د) و (س): «وأحبائه»، وقد زيد عقبه في (ص): «فأشرقت مشكاة اندراجه في سلسلة خاصَّته وأحبائه»، والظاهر أنَّها مقحمة، مكرِّرة بعض ما تقدَّم وما يأتي.

(2) في (د): «صلَّى الله وسلَّم عليه وعلى آله وخلفائه».

(3) «آمين»: ليس في (د).
তাঁর দান এবং তাঁর আবরণ উন্মোচনের বদৌলতে; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যিনি তাঁর একত্বের মহিমায় ও গৌরবে অদ্বিতীয়; যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি নিবিষ্ট হয়, তাকে তিনি তাঁর সান্নিধ্য ও আনুগত্যের দরবারে পৌঁছে দেন এবং তাকে তাঁর খাস বান্দা ও প্রিয়জনদের সিলসিলায় অন্তর্ভুক্ত করেন(1)। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, যাকে সঠিক (صحيح) ও উত্তম (حسن) বাণী দিয়ে পাঠানো হয়েছে; যা তাঁর জমিন ও আসমানের অধিবাসীদের জন্য রহমত স্বরূপ। যিনি তাঁর নূরের প্রখর ঔজ্জ্বল্যে মনগড়া (مختلق) ও জাল (موضوع) বিষয়গুলোকে বিলুপ্তকারী; ফলে তাঁর শরিয়ত ও সংবাদসমূহের নূর থেকে 'আল-জামি আস-সহিহ'-এর প্রদীপসমূহ উদ্ভাসিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও খলিফাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন(2), আমিন(3)।

আর এরপর:

নিশ্চয়ই মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের পর সুন্নাহর জ্ঞান হলো মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সম্মান ও গৌরবে সর্বোচ্চ; কেননা এর ওপরই ইসলামি শরিয়তের বিধি-বিধানের ভিত্তি স্থাপিত এবং এর মাধ্যমেই কুরআনের আয়াতের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ ফুটে ওঠে। আর কেনই বা এমন হবে না, যখন এর উৎস এমন এক সত্তা, যিনি নিজের খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না; বরং এটি তো ওহি যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।

এটিই কিতাবুল্লাহর ব্যাখ্যাকারী এবং নবী (সা.) তাঁর রবের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে এটি ব্যক্ত করেছেন। আর ইমাম বুখারির 'আল-জামি' গ্রন্থটি...


 

আর এরপর:

স্রষ্টা ও উদ্ভাবক মহান আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর যাঁর আশা নির্ভরশীল, সেই আব্দুল হাদি বিন রেদওয়ান—যিনি নাজা আল-আবইয়ারি নামে পরিচিত—বলছেন:

আমি যখন আল-আযহারে সহিহ বুখারি পাঠ শুরু করলাম—যা সর্বদা জ্ঞানের আলোয় আবাদ থাকুক এবং শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহে সিক্ত থাকুক—তখন আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বিশেষ সাথী, বিচক্ষণ ও ফাজিল শায়খ মুহাম্মদ আল-আনবিবা আমাকে অনুরোধ করলেন যেন আমি বুখারির ওপর ইমাম কাসতাল্লানির শারাহ-এর মুকাদ্দিমার ওপর একটি হাশিয়া (টীকা) লিখি। তিনি বললেন: এর কঠিনতার কারণে এবং প্রয়োজনের তুলনায় এর প্রতি মনোযোগ কম হওয়ায় এটি অবহেলিত হয়ে পড়েছে। আমি আমার অক্ষমতা সত্ত্বেও চেষ্টা করলাম, কিন্তু প্রথমে সফল হতে পারিনি। অতঃপর আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে তাঁর আদেশ পালনে সচেষ্ট হলাম, যিনি তাঁর কাছে আশা পোষণকারীকে নিরাশ করেন না। আমি এর ওপর প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ব্যাখ্যা লিখলাম, যাতে ব্যাখ্যাকারীর অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে এবং যা উহ্য ছিল তা প্রকাশ করা হয়েছে; যা পাঠ করলে শিক্ষার্থীর মন প্রফুল্ল হবে এবং চোখ জুড়িয়ে যাবে। আল্লাহর প্রশংসায় এটি এমন এক হাশিয়া হিসেবে তৈরি হয়েছে যা রেশমি কাপড়ের আঁচলের মতো সুন্দর, যা প্রতিটি জটিল জট খুলতে সক্ষম এবং মূল উদ্দেশ্যের অধিকাংশ পূরণে যথেষ্ট। আমি এতে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (المصطلح) থেকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও উপকারী বিষয়গুলো সংকলন করেছি এবং মেধা যেন বিক্ষিপ্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেছি...

--------------------------------------------

(1) 'দাল' ও 'সিন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «এবং তাঁর প্রিয়জনদের», আর 'সাদ' পাণ্ডুলিপিতে এর পরে বৃদ্ধি করা হয়েছে: «অতঃপর তাঁর খাস বান্দা ও প্রিয়জনদের সিলসিলায় অন্তর্ভুক্তির প্রদীপ জ্বলে উঠল», তবে স্পষ্টত এটি অনধিকার প্রবেশ ও পুনরাবৃত্তি, যা পূর্বের ও পরের কথার অংশ বিশেষ।

(2) 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও খলিফাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন»।

(3) «আমিন» শব্দটি 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ৯)
أظهر من كنوز مطالبها العالية إبريز البلاغة وأبرز، وحاز قَصَبَ السَّبق في ميدان البراعة وأحرز(1)، وأتى من صحيح الحديث وفقهه بما لم يُسبَق إليه، ولا عرَّج أحدٌ عليه، فانفرد بكثرة فرائد فوائده، وزوائد عوائده، حتَّى جزم الرَّاوون بعذوبة موارده؛ فلذا رَجَحَ على غيره من الكتب بعد كتاب الله، وتحرَّكت بالثَّناء عليه الألسن والشِّفاه، ولطالما خطر في الخاطر المخاطر أنْ أُعلِّق عليه شرحًا أَمزجه فيه مزجًا، وأدرجه ضمنه درجًا، أُميِّز فيه الأصل من الشَّرح بالحمرة والمداد، واختلاف الرِّوايات بغيرهما، ليدرِك النَّاظر سريعًا المراد، فيكون باديًا بالصَّفحة، مدركًا باللَّمحة، كاشفًا بعض أسراره لطالبيه، رافع النِّقاب عن وجوه معانيه لمعانيه، موضِّحًا مُشكِلَه، فاتحًا مُقفَلَه، مقيِّدًا مهملَه، وافيًا بتغليق(2) تعليقه، كافيًا في إرشاد السَّاري لطريق تحقيقه، محرِّرًا لرواياته، مُعْرِبًا عن غرائبه وخفيَّاته، فأَجِدُني أُحجم عن سلوك هذا المسرى، وأُبصِرُني أقدِّم رجلًا وأؤخِّر أخرى؛ إذ أنا بمَعْزِلٍ عن هذا المنزل، لا سيَّما وقد قِيلَ: إنَّ أحدًا لم يستصبح سراجَه، ولا استوضح منهاجَه، ولا اقتعد صهوتَه، ولا


 

طلب فنون الحديث الضَّائع أوجهًا في أرجاء الأسفار المتَّسعة، لاسيَّما في هذه الأزمان القاصرةِ الهمم المتكاثرةِ الغُمم القليلةِ الالتفات إلى هذه العلوم العظيمة النَّفعِ الجليلة الوقعِ، إذ أضحت فيها غريبة ليس لها مأوًى منقطعةَ الصُّحبة لا تجدُ لها مَن يهوى، على أنَّها جديرةٌ بالوصل والضمِّ حقيقةٌ

--------------------------------------------

(1) في (ص): «وأبرز»، وسقط من (م).

(2) في (ص): «بتعليق».

তিনি এর উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যসমূহের ভাণ্ডার থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের বিশুদ্ধ স্বর্ণ প্রকাশ ও উন্মোচন করেছেন, এবং নিপুণতার ময়দানে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণ করে তা জয় করেছেন(১)। তিনি সহিহ (صحيح) হাদিস এবং এর ফিকহ (গভীর জ্ঞান) থেকে এমন কিছু উপস্থাপন করেছেন যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি এবং কেউ সেদিকে নজর দেয়নি। ফলে তিনি এর দুর্লভ উপকারিতা এবং অতিরিক্ত প্রাপ্তির প্রাচুর্যে অনন্য হয়ে উঠেছেন, এমনকি বর্ণনাকারীগণ (الراوون) এর উৎসের মাধুর্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। তাই আল্লাহর কিতাবের পর এটি অন্যান্য সকল গ্রন্থের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে এবং জিহ্বা ও ওষ্ঠাধর এর প্রশংসায় মুখরিত হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে আমার মনে এই বড় আকাঙ্ক্ষাটি জাগছিল যে, আমি এর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখব যা মূল পাঠের সাথে এমনভাবে মিশিয়ে দেব এবং এর অন্তর্ভুক্ত করব যাতে মূল পাঠকে ব্যাখ্যা থেকে লাল রঙ এবং কালির মাধ্যমে পৃথক করা যায়, এবং পাঠান্তরের (الروايات) ভিন্নতাকে অন্য রঙের মাধ্যমে চিহ্নিত করব, যাতে পাঠক দ্রুত উদ্দেশ্য বুঝতে পারে, যা পৃষ্ঠায় স্পষ্ট হবে এবং পলকেই বোধগম্য হবে; যা এর অন্বেষণকারীদের জন্য কিছু রহস্য উন্মোচন করবে, এর অর্থের নিগূঢ় অর্থসমূহ থেকে পর্দা সরিয়ে দেবে, এর অস্পষ্ট (مشكل) বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করবে, তালাবদ্ধ বিষয়গুলো খুলে দেবে, অসংজ্ঞায়িত বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট করবে, এর বিচ্ছিন্ন (تعليق) বিষয়গুলোর সংযোগ স্থাপনে(২) পরিপূর্ণ হবে এবং সত্যান্বেষী পথিকের দিশা দিতে (ইরশাদুস সারি) এর গবেষণালব্ধ পদ্ধতির পথে যথেষ্ট হবে। এটি হবে এর বর্ণনাগুলোর (رواياته) ভুলত্রুটি সংশোধনকারী এবং এর বিরল (غرائب) ও গোপন বিষয়সমূহ ব্যক্তকারী। কিন্তু আমি নিজেকে এই পথে চলতে কুণ্ঠিত বোধ করছি এবং আমি দেখছি যে আমি এক পা এগোচ্ছি তো আরেক পা পিছিয়ে নিচ্ছি; যেহেতু আমি এই উচ্চ মর্যাদা থেকে অনেক দূরে রয়েছি। বিশেষ করে যেখানে বলা হয়েছে: কেউ এর প্রদীপ থেকে আলো গ্রহণ করেনি, কেউ এর পথ স্পষ্ট করেনি এবং কেউ এর শিখরে আরোহণ করেনি।


 

বিশাল গ্রন্থরাজির মাঝে হাদিস শাস্ত্রের হারিয়ে যাওয়া দিকগুলোর সন্ধান করা অত্যন্ত কঠিন, বিশেষ করে এই সময়ে যখন মানুষের হিম্মত বা সংকল্প কমে গেছে, বিপদাপদ বেড়েছে এবং মহান উপকারী ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই জ্ঞানসমূহের প্রতি মনোযোগ অত্যন্ত সামান্য। কেননা এটি এখন অপরিচিত (غريبة) হয়ে পড়েছে যার কোনো আশ্রয় নেই, এর সঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং এর কোনো অনুরাগী পাওয়া যাচ্ছে না, যদিও এটি প্রকৃতপক্ষে নৈকট্য ও সংযোগ পাওয়ার যোগ্য।

--------------------------------------------

(১) ‘সোয়াদ’ (ص) পাণ্ডুলিপিতে: «وأبرز» (প্রকাশ করেছেন), তবে ‘মীম’ (م) পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই।

(২) ‘সোয়াদ’ (ص) পাণ্ডুলিপিতে: «بتعليق» (সংযুক্তিকরণ)।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ১০)
افترع ذروتَه، ولا تبوَّأ خلالَه، ولا تفيَّأ ظلالَه، فهو دُرَّةٌ لم تُثْقَب، ومُهرةٌ لم تُركَب، وللَّه درُّ القائل:

أعيا فحولَ العلم حَلُّ رموز ما … أبداه في الأبوابِ من أسرارِ

فازوا من الأوراقِ منه بما جَنَوا … منها، ولم يَصِلوا إلى الأثمار

ما زال بِكرًا لم يُفَضَّ خِتامُه … وعُراه ما حُلَّت عنِ(1) الأزرارِ

حُجِبَت معانيه التي أوراقُها … ضُرِبَت على الأبواب كالأستار

مِن كلِّ بابٍ حين يُفتَح بعضُه … يَنْهار منه العلمُ كالأنهارِ

لا غَرْوَ أن أمسى البخاريْ للورى … مثلَ البحارِ لمنشأ الأمطارِ

خضعتْ له الأقرانُ فيه إذ بدا … خرُّوا على الأذقان والأكوارِ

ولم أَزَلْ على ذلك مدَّةً من الزَّمان، حتَّى مضى عصر الشَّباب وبان، فانبعث الباعث إلى ذلك راغبًا، وقام خطيبًا لبنات أبكار الأفكار خاطبًا، فشمَّرتُ ذيل العزم عن ساق الحزم، وأتيتُ بيوت التَّصنيف من أبوابها، وقمتُ في جامع جوامع التَّأليف بين أئمَّته بمحرابها، وأطلقتُ لسان القلم في ساحات الحِكَم بعبارةٍ صريحةٍ واضحةٍ، وإشارةٍ قريبةٍ لائحةٍ، لخَّصتُها من كلامِ الكُبَرَاء، الذين رَقَتْ في معارج علوم هذا الشَّأن أفكارُهم، وإشاراتِ الألبَّاء الذين أنفقوا


 

بأن يدأبَ في إيوائها إليه وإدراجها لديه الجمُّ، ولخوفي من التَّطويل مع حرصي على الجمع والتَّحقيق أدمجت فيها تارةً وفصَّلتُ أخرى، ولم ألتفت إلى التَّنميق والتَّدقيق بل إلى التَّوفيق إذ ذلك أحرى، هذا مع جمودِ قريحتي وخمود فكرتي، وتبلبلِ بالي وتشتت أحوالي.

--------------------------------------------

(1) في (د): «من».
তিনি এর চূড়ায় আরোহণ করতে পারেননি, এর অভ্যন্তরে স্থান করে নিতে পারেননি এবং এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারেননি। এটি যেন একটি ছিদ্রহীন মুক্তা এবং এক অদম্য ঘোটকী। আর আল্লাহ সেই কবির মঙ্গল করুন যিনি বলেছেন:

বড় বড় পণ্ডিতগণ সেই সব রহস্যের সমাধান করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন যা তিনি তাঁর অধ্যায়সমূহের অন্তরালে নিগূঢ় রহস্য হিসেবে প্রকাশ করেছেন।

তারা এর পাতাগুলো থেকে কেবল যা আহরণ করতে পেরেছেন তাতেই ধন্য হয়েছেন, কিন্তু তারা প্রকৃত ফলের নাগাল পাননি।

এটি এখনও অক্ষত রয়ে গেছে যার মোহর ভাঙা হয়নি, এবং এর বোতামগুলোও খোলা হয়নি।(১)

এর অর্থসমূহ আবৃত ছিল, যার পাতাগুলো দরজার ওপর পর্দার মতো ঝোলানো ছিল।

প্রতিটি অধ্যায় যখন আংশিক উন্মোচিত হয়, তখন সেখান থেকে ইলম বা জ্ঞান নদীধারার মতো প্রবাহিত হতে থাকে।

এতে বিস্ময়ের কিছু নেই যে, বৃষ্টির উৎপত্তিস্থলের জন্য সমুদ্র যেমন, সৃষ্টির জন্য বুখারি আজ তেমনই হয়ে উঠেছেন।

যখন তিনি আত্মপ্রকাশ করলেন, তখন সমসাময়িক পণ্ডিতগণ তাঁর সামনে নতিস্বীকার করলেন; তারা মুখ থুবড়ে ও বাহন থেকে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন।

আমি দীর্ঘকাল এই অবস্থায় ছিলাম, অবশেষে যৌবনকাল অতিবাহিত হয়ে গেল এবং বিদায় নিল। অতঃপর এই বিষয়ের প্রতি এক প্রবল অনুপ্রেরণা জাগ্রত হলো এবং আমার চিন্তাশক্তির নবজাতক ভাবনার পাণিপ্রার্থী হয়ে বাগ্মী হিসেবে দণ্ডায়মান হলো। তাই আমি দৃঢ় সংকল্পের সাথে কর্মতৎপর হলাম এবং রচনার ঘরগুলোতে তার সঠিক প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করলাম। আমি সংকলনসমূহের এই মহান সংকলনের ইমামদের মাঝে এর মিহরাবে দণ্ডায়মান হলাম। আমি হিকমতের ময়দানে কলমের জিহ্বাকে সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল অভিব্যক্তিতে এবং নিকটবর্তী ও সুস্পষ্ট ইঙ্গিতে উন্মুক্ত করলাম। আমি এগুলোকে সেই সব মনীষীদের কথা থেকে সারসংক্ষেপ করেছি, যাদের চিন্তাধারা এই শাস্ত্রের উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছে, এবং সেই সব বুদ্ধিমানদের ইঙ্গিত থেকে যারা ব্যয় করেছেন...


 

যাতে করে এক বিশাল জনগোষ্ঠী একে নিজেদের আয়ত্তে আনতে এবং অন্তর্ভুক্ত করতে সচেষ্ট হয়। দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকা সত্ত্বেও বিষয়বস্তু সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাই (تحقيق) করার প্রবল আগ্রহের কারণে আমি কখনো সংক্ষেপে এবং কখনো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। আমি বাহ্যিক অলঙ্করণ বা অতি সূক্ষ্মতার দিকে ভ্রুক্ষেপ করিনি, বরং ঐশী তাওফিকের (توفيق) দিকেই লক্ষ্য রেখেছি, কারণ এটিই অধিকতর সমীচীন। এর সাথে ছিল আমার প্রতিভার স্থবিরতা, চিন্তার নিস্তেজতা, মনের ব্যাকুলতা এবং পরিস্থিতির অস্থিরতা।

--------------------------------------------

(১) 'দা' পাণ্ডুলিপিতে: «থেকে»।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ১১)
على اقتناص شوارده أعمارَهم، وبذلتُ الجهد في تفهُّم أقاويل الفهماء(1) المشار إليهم بالبنان، وممارسة الدَّواوين المؤلَّفة في هذا الشَّان، ومراجعة الشُّيوخ الذين حازوا قَصَبَ السَّبق في مضماره، ومباحثة الحذَّاق الذين غاصوا على جواهر الفرائد(2) في بحاره، ولم أتحاشَ عن الإعادة في الإفادة عند الحاجة إلى البيان، ولا في ضبط الواضح عند علماء هذا الشأن، قصدًا لنفع الخاصِّ والعامِّ، راجيًا ثواب ذي الطَّوْل والإنعام.

فدونَك شرحًا قد أشرقت عليه من شرفات هذا الجامع أضواء نوره اللَّامع، وصدع خطيبه على منبره السَّامي بالحجج القواطع القلوب والمسامع، أضاءت بهجته، فاختفت منه كواكب الدَّراري، وكيف لا وقد فاض عليه النُّور من فتح الباري! على أنَّني أقول كما قال الحافظ أبو بكرٍ البَرقانيُّ:

وما ليَ فيهِ سوى أنَّني أَُ … راه هوًى وافق المقصدا

وأرجو الثَّواب بكتب الصَّلاةِ … على السَّيِّد المُصطفَى أحمدا

وبالجملة: فإنَّما أنا من لوامع أنوارهم مقتبِسٌ، ومن فواضل فضائلهم ملتمِسٌ، وخدمت


 

فإليك أيها الأخ الرَّفيق المعذرة ما وجدتَ زلَّةَ قدمٍ أو زلَّة فهمٍ أو سبقَ قلمٍ أو فلتةَ وهمٍ، فجائزٌ على أبناء جنسك ما تعهده أنت من نفسك، والإنسان محلُّ الخطأ والنِّسيان، وسمَّيتُ هذه الحاشية:

«نيل الأماني في توضيح مقدِّمة القسطلاني»

وعلى الله الاعتماد وإليه الاستناد

--------------------------------------------

(1) في (د) و (ص): «الفقهاء».

(2) في (د): «الفوائد».
যাঁরা এর দুর্লভ বিষয়গুলো আহরণে তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, আমি অঙ্গুলি নির্দেশিত প্রাজ্ঞজনদের(১) কথাগুলো অনুধাবনে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি এবং এই শাস্ত্রের সংকলিত গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেছি। যাঁরা এই ময়দানে শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ায় আসীন হয়েছেন, সেই শায়খদের শরণাপন্ন হয়েছি এবং এর সমুদ্রে অনন্য রত্নরাজি(২) অন্বেষণে ডুব দেওয়া বিজ্ঞ পণ্ডিতদের সাথে আলোচনা করেছি। বর্ণনার প্রয়োজনে উপকারের জন্য পুনরাবৃত্তি করতে বা এই শাস্ত্রের আলেমদের কাছে যা স্পষ্ট, তা সঠিকভাবে নির্ধারণ (ضبط) করতে আমি কুণ্ঠাবোধ করিনি; উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলের কল্যাণ এবং সুমহান ও দাতা প্রতিপালকের নিকট সওয়াব প্রত্যাশা করা।

সুতরাং আপনার সামনে এমন এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ উপস্থিত, যার ওপর এই জামে-র উচ্চ মিনারসমূহ থেকে উজ্জ্বল নূর উদ্ভাসিত হয়েছে। এর খতিব তাঁর সুউচ্চ মিম্বর থেকে অকাট্য দলিলাদি দ্বারা হৃদয় ও শ্রবণেন্দ্রিয় জয় করেছেন। এর দীপ্তিতে নক্ষত্ররাজি ম্লান হয়ে গেছে; আর হবেই বা না কেন, যখন এর ওপর ফাতহুল বারী-র নূর বিচ্ছুরিত হয়েছে! তবে আমি হাফিজ আবু বকর আল-বারকানি যা বলেছেন, তা-ই বলছি:

এতে আমার কোনো কৃতিত্ব নেই, কেবল এটাই যে... আমি একে আমার লক্ষ্য অর্জনের অনুকূল এক প্রিয় কাজ হিসেবে দেখি।

এবং সাইয়্যিদুল মুস্তফা আহমাদ (সা.)-এর ওপর দরুদ লিখে... আমি সওয়াব প্রত্যাশা করি।

মোদ্দা কথা: আমি কেবল তাঁদের উজ্জ্বল আলোর বিচ্ছুরণ থেকে আহরণকারী এবং তাঁদের সুমহান শ্রেষ্ঠত্ব থেকে প্রার্থী। আমি খিদমত করেছি...


 

হে প্রিয় বন্ধু ও ভাই! আপনি যদি কোনো পদস্খলন, বুঝার ভুল, লিখনীর ভ্রান্তি বা অনিচ্ছাকৃত বিভ্রম লক্ষ্য করেন, তবে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কারণ আপনার স্বজাতির মানুষের ক্ষেত্রে তা ঘটা স্বাভাবিক যা আপনি নিজের মাঝেও অনুভব করেন; আর মানুষ মাত্রই ভুল ও বিস্মৃতির আধার। আমি এই টীকাগ্রন্থটির (حاشية) নামকরণ করেছি:

«নাইলুল আমানি ফি তাওদিহি মুকাদ্দিমাতিস কাসতালানি»

আল্লাহর ওপরই ভরসা এবং তাঁরই ওপর নির্ভরতা।

--------------------------------------------

(১) 'দাল' এবং 'সদ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «ফুকাহা» (ফকিহগণ)।

(২) 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «ফাওয়ায়িদ» (উপকারিতা)।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ১২)
به الأبواب النَّبويَّة، والحضرة المُصطَفويَّة، راجيًا أن يُتوِّجني بتاج القبول والإقبال، ويجيزني بجائزة الرِّضا في الحال والمآل، وسمَّيته:

«إرشاد السَّاري لشرح صحيح البخاري»

واللهَ أسأل التَّوفيق والإرشاد إلى سلوك طريق السَّداد، وأن يعينَني على التَّكميل، فهو حسبي ونِعْمَ الوكيل.

وهذه مقدِّمةٌ مشتملةٌ على وسائل المقاصد، يهتدي بها إلى الإرشاد السَّالك والقاصد، جامعةٌ لفصولٍ، هي لفروعِ قواعد هذا الشَّرح أصولٌ.


 

. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
এর মাধ্যমে আমি নববী দ্বারসমূহ এবং মুস্তফাবী দরবারে হাযির হয়েছি, এই প্রত্যাশায় যে তিনি আমাকে কবুলিয়াত ও অনুগ্রহের মুকুটে ভূষিত করবেন এবং ইহকাল ও পরকালে তাঁর সন্তুষ্টির পুরস্কার দান করবেন। আর আমি এর নামকরণ করেছি:

‘ইরশাদুস সারি লি-শারহি সহিহিল বুখারি’

আর আল্লাহর কাছেই আমি তাওফিক এবং সঠিক পথে চলার দিশা প্রার্থনা করছি, আর তিনি যেন আমাকে এটি সমাপ্ত করতে সাহায্য করেন; কেননা তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।

এটি একটি ভূমিকা যা মূল উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের মাধ্যমগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মাধ্যমে পথিক ও জ্ঞানান্বেষী সঠিক পথের দিশা পাবে; এটি এমন সব পরিচ্ছেদের সমষ্টি যা এই ব্যাখ্যার শাখা-প্রশাখার নিয়মাবলীর (قواعد) জন্য মূল ভিত্তি (أصول) স্বরূপ।


 

. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأوّل

في فضيلة أهل الحديث وشرفهم
في القديم والحديث

أقول مستمدًّا من الله تعالى الإعانة على التَّوفيق للإيضاح والإبانة:


 

قال رحمه الله: (الفصل الأول): يُطلق الفصلُ في اللُّغة على معانٍ منها الحاجز بين الشَّيئين كما في القاموس، والمصنِّفون يترجمون به أثناء الكتب؛ إمَّا لأنَّه نوعٌ من المسائل مفصولٌ عن غيره، أو لأنَّه ترجمةٌ فاصلةٌ بينه وبين غيره فهو بمعنى مفعول أو فاعل.

قوله: (أهل الحديث) سيأتي أنَّه في الاصطلاح: ما أضيف إلى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قولًا أو فعلًا أو تقريرًا، وبينه وبين الحديث التَّالي الجناس التَّام، ووقع منه في القرآن كثير، وإن قال بعضهم لم يقع منه فيه إلَّا موضعان: {وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يُقْسِمُ الْمُجْرِمُونَ مَا لَبِثُوا غَيْرَ سَاعَةٍ} [الرُّوم: 55]، {يَكَادُ سَنَا بَرْقِهِ يَذْهَبُ بِالْأَبْصَارِ. يُقَلِّبُ اللَّهُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُوْلِي الْأَبْصَارِ} [النُّور: 43 - 44] إذ الأوَّلُ جمعُ «بصرٍ» والثَّاني جمعُ «بصيرةٍ»، فقد بُنيت سورة النَّاس عليه كما بيَّنه المفسرون، ووقع في قوله تعالى: {وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُم بِالْكِتَابِ} الآية [آل عمران: 78]، على ما ذكره بعض المفسِّرين من أنَّ المراد بالأوَّل المكتوب في التَّوراة وبالثَّاني نفس التَّوراة وبالثَّالث جنس الكتب الإلهيَّة وغير ذلك كما فصَّلناه في غير ما هنا(1).

قوله: (في القَدِيْمِ والْحَدِيْثِ)؛ أي: الزَّمن السَّابق واللَّاحق (والإِبَانَةُ) مصدرُ أَبَنْتُهُ، بمعنى أوضحته فهو بمعنى ما قبله. وفي «القاموس»: بَيَّنْتُهُ وتَبَيَّنْتُهُ وأَبَنْتُهُ واسْتَبَنْتُهُ: أوضحْتُهُ وعَرِفْتُهُ فبَانَ، وبَيَّنَ وتَبَيَّنَ وأَبَانَ واسْتَبَانَ كُلُّهَا لازمةٌ ومتعدِّيةٌ، والتِّبْيَانُ، ويفتح: مصدرٌ شاذٌ. انتهى.

فقوله: (لازِمَةٌ ومُتَعَدِّيَةٌ)؛ يعني: أنَّ هذه الأوزان الخمسة تُسْتَعْمَلُ لازمةً ومتعدِّيةً؛ فيُقال: بَانَ الشَّيءُ وبِنْتُهُ، وأَبَانَ الشَّيءَ وأَبَنْتُهُ، وتَبَيَّنَ وتَبَيَّنْتُهُ، وبَيَّنَ الشَّيءَ وبَيَّنْتُهُ، واسْتَبَانَ الشيءَ واسْتَبَنْتُهُ.

وقوله: (والتِّبْيَان، ويفتحٍ مصدرٌ شاذٌ)؛ أي: مصدر لبَيَّنَ وهو بالكسر وفيه الفتحُ، ومجيءُ المصدرِ منهُ على هذا الوزنِ؛ -أي: التِّفعال- بالكسر شاذٌّ؛ فإنَّ المصادر إنَّما تجيء على التَّفْعَال بالفتح، قال في «الصّحاح»: ولم يجئ بالكسر إلَّا التِّبيان والتِّلقاء. انتهى.

وانْحصار تِفعال بالكسر في هذين اللَّفظين به جزم الجماهير من أئمَّة اللُّغة والصَّرف.

--------------------------------------------

(1) هذه المقدمة ليست في مخطوطتي الكتاب، وإنَّما أثبتناها من الطبعة الحجرية.
প্রথম পরিচ্ছেদ

হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের (أهل الحديث) মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে
প্রাচীন ও বর্তমান যুগে

আমি মহান আল্লাহ তাআলার নিকট বিষয়টি স্পষ্টকরণ ও বিবৃত করার তৌফিক প্রাপ্তিতে সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি:


 

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (প্রথম পরিচ্ছেদ): ‘ফাসল’ (الفصل) শব্দটি অভিধানে কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে একটি হলো দুই বস্তুর মধ্যবর্তী অন্তরায়, যেমনটি ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। গ্রন্থকারগণ কিতাবের বিষয়বস্তুর আলোচনার মাঝে এই শিরোনামটি ব্যবহার করেন; হয় এটি এমন এক প্রকার মাসআলা যা অন্য বিষয় থেকে পৃথক, অথবা এটি এমন একটি শিরোনাম যা এর এবং এর পরবর্তী বিষয়ের মধ্যে পার্থক্যকারী। ফলে এটি ‘মাফউল’ (কর্মবাচ্য) বা ‘ফায়িল’ (কর্তৃবাচ্য) উভয় অর্থই প্রদান করে।

তাঁর উক্তি: (হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ) অচিরেই সামনে আসবে যে, পরিভাষায় (اصطلاح) হাদিস বলা হয়: যা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে কথা (قول), কাজ (فعل) কিংবা মৌনসম্মতি (تقرير) হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। এই ‘হাদিস’ এবং এর পরবর্তী ‘হাদিস’ (বর্তমান/নতুন) শব্দদ্বয়ের মধ্যে ‘জিনাসে তাম’ বা পূর্ণ শব্দালঙ্কার রয়েছে। কুরআনে এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে, যদিও কেউ কেউ বলেছেন যে কুরআনে এর ব্যবহার মাত্র দুটি স্থানে হয়েছে: {আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে যে, তারা এক মুহূর্তের (সاعة) বেশি অবস্থান করেনি} [রুম: ৫৫], {বিদ্যুতের চমক যেন দৃষ্টিশক্তি (الأبصار) কেড়ে নিতে চায়। আল্লাহ রাত ও দিনের পরিবর্তন ঘটান, এতে অবশ্যই অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের (أولى الأبصار) জন্য শিক্ষা রয়েছে} [নূর: ৪৩-৪৪]। কেননা প্রথম ‘আবসারি’ হলো ‘বাসার’ (দৃষ্টি)-এর বহুবচন এবং দ্বিতীয়টি হলো ‘বাসিরাহ’ (অন্তর্দৃষ্টি)-এর বহুবচন। আবার সূরা আন-নাস এই অলঙ্কারের উপর ভিত্তি করেই গঠিত হয়েছে, যেমনটি মুফাসসিরগণ বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলার এই বাণীতেও এটি ঘটেছে: {আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা কিতাব পাঠকালে নিজেদের জিহ্বাকে বক্র করে...} [আল-ইমরান: ৭৮]। এখানে কিছু মুফাসসিরের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম ‘কিতাব’ দ্বারা তাওরাতের লিখিত অংশ, দ্বিতীয়টি দ্বারা স্বয়ং তাওরাত এবং তৃতীয়টি দ্বারা আসমানি কিতাবসমূহের সাধারণ শ্রেণি বুঝানো হয়েছে, যা আমরা অন্যত্র বিস্তারিত আলোচনা করেছি।(1)

তাঁর উক্তি: (প্রাচীন ও বর্তমান যুগে); অর্থাৎ: অতীত ও বর্তমান সময়। ‘আল-ইবানাহ’ (الإِبَانَةُ) শব্দটি ‘আবানতুহু’ ক্রিয়ামূল থেকে নির্গত, যার অর্থ আমি স্পষ্ট করেছি। সুতরাং এটি তার পূর্ববর্তী শব্দের সমার্থক। ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে রয়েছে: ‘বাইয়্যানতুহু’, ‘তাবাইয়্যানতুহু’, ‘আবানতুহু’ এবং ‘ইস্তাবানতুহু’—সবগুলোর অর্থ হলো আমি বিষয়টি স্পষ্ট করেছি ও জেনেছি, ফলে তা স্পষ্ট হয়েছে। আবার ‘বানা’, ‘বাইয়্যানা’, ‘তাবাইয়্যানা’, ‘আবানা’ এবং ‘ইস্তাবানা’—এগুলো অকর্মক এবং সকর্মক উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। ‘তিবইয়ান’ শব্দটি ‘তা’ বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে, তবে ফাতহা (জবর) দিয়েও পড়া যায়, যা একটি বিরল (شاذ) মাসদার বা ক্রিয়ামূল। (সমাপ্ত)।

সুতরাং তাঁর উক্তি: (অকর্মক ও সকর্মক); এর অর্থ হলো: এই পাঁচটি ওজনের শব্দ অকর্মক ও সকর্মক উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। যথা বলা হয়: বস্তুটি স্পষ্ট হয়েছে এবং আমি তা স্পষ্ট করেছি, বস্তুটি প্রকাশ পেয়েছে এবং আমি তা প্রকাশ করেছি, সে সুস্পষ্ট হয়েছে এবং আমি তা স্পষ্টভাবে জেনেছি, সে বস্তুটি স্পষ্ট করেছে এবং আমি তা স্পষ্ট করেছি, বস্তুটি সুস্পষ্ট হয়েছে এবং আমি তা স্পষ্টভাবে জেনেছি।

এবং তাঁর উক্তি: (‘তিবইয়ান’, যা ফাতহা দিয়েও হতে পারে, একটি বিরল ক্রিয়ামূল); অর্থাৎ এটি ‘বাইয়্যানা’ এর মাসদার, যা সাধারণত কাসরা দিয়ে হয় এবং ফাতহা দিয়েও পড়া যায়। এই ওজনে অর্থাৎ ‘তিফআল’ ওজনে কাসরা দিয়ে মাসদার আসা বিরল (شاذ); কেননা মাসদার সাধারণত ‘তাফআল’ অর্থাৎ ফাতহা দিয়েই হয়ে থাকে। ‘আস-সিহাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: কাসরা দিয়ে কেবল ‘তিবইয়ান’ এবং ‘তিলকা’ শব্দ দুটিই এসেছে। (সমাপ্ত)।

‘তিফআল’ ওজনটি কাসরা সহকারে কেবল এই দুটি শব্দে সীমাবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি ভাষা ও শব্দতত্ত্ববিদ অধিকাংশ ইমামগণ দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(1) এই ভূমিকাটি কিতাবের মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল না, বরং আমরা এটি প্রস্তর মুদ্রণ সংস্করণ থেকে যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ১৪)
رُوِّينا عن ابن مسعودٍ رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «نضَّر اللهُ امرءًا سمع مقالتي، فحفظها ووعاها وأدَّاها، فَرُبَّ حامل فقهٍ إلى مَنْ هو أفقه منه» رواه الشَّافعيُّ والبيهقيُّ،


 

قوله: (نَضَّرَ اللهُ امْرءًا) امرؤ مُنَكَّرُ المرءِ؛ فإنَّه إذا دخل عليه الألف واللَّام سقطت الهمزة الَّتي كانت في أوله قبل دخولهما، قال ابن الطَّيّب: لأنَّ ألف الوصل إنَّما تدخل في (مرء) و (مرأة) إذا كانتا نَكِرَتين، وسُكِّن أوَّلهما من أجل حركة الإتْباع عند اجتماع السَّاكنين، وإذا عُرِّفَا بالألف واللَّام رُدَّا إلى الأصل فحُرِّك أوَّلُهُمَا واستُغني عن ألف الوصل فيهما وسقطت حركة الإتْباع من وَسَطِهِما؛ لذهابِ السَّاكنين كما يُفعل بالبنين والبنات، قال ابن دَرَسْتُوَيه: هكذا الاستعمال في المرء والمرأة؛ لأنَّهما اسمان صحيحان، فأمَّا سائر الأسماء الَّتي في أوَّلها ألف الوصل كابن وابنة فإنَّ التَّعريف يدخل عليها مع تسكين أوَّلها؛ لأنَّها معتلَّةٌ محذوفة الأواخر. انتهى.

قال القزَّاز: ومن العرب من يقول هذا الامرء الصَّالح، وهذه الامرأة. انتهى.

ثمَّ هو لا يُطلق على الأنثى إلَّا مجازًا، وما نقله ابن الأعرابيِّ أنَّه يُقال للأنثى «امرؤ» صريح بغرابته ونُدرته في «المُحكم» وغيره، ولا يجمع من لفظه لا جمعَ سلامة ولا جمع تكسير، وإنَّما يُثَنَّى فيقال: «مرآن» بإسقاط الألف أوَّله كما نبَّه عليه الجوهريُّ، وقال في «الفصيح»: وتقول: هو امرؤ وامرآن وقوم وامرأة ونسوة، قال شرَّاحه: يعني: أنَّ امرأً وامرأةً لا يُجمعان بلفظهما ولكن يستغنى عن ذلك بقوم ونسوةٍ، وهكذا استعمال العرب وهو خلاف القياس؛ لأنَّ امرأً وامرأةً اسمان بمنزلة ابن وابنة أولهما مسكن وألف الوصل داخل عليهما ومع ذلك جمعوهما على لفظهما فقالوا: أبناء وبنون ولكن تُرِك القياس فيهما. انتهى.

وقيل: سُمع جمع «المرء» على «مرؤون»؛ إلحاقًا له بجمع المذكَّر السَّالم، كأنَّهم اعتبروا فيه معنى الوصفيَّة بالمروءة من قال ذلك قال في المرأة أيضًا: «مَرَات» بحذف ألف الوصل وفتح الميم على الأصل، وقيل: في «المرأة» أيضًا «مَرَة» بحذف الهمزة ونقل حركتها إلى الرَّاء، والامرأة بدخول (ال) على امرأة المقرون بهمزة الوصل لكنَّها لغة ضعيفة، ومَرْأَةٌ كفتاةٌ كما في «إصلاح المنطق» وامراةٌ بألف بعد الرَّاء غير مهموز كما في «شرح الفصيح».

وإذا صُغِّرَ المرء والمرأة سقطت منهما ألف الوصل فقيل مُرَيْء ومريئة، قال الشَّاعر:

تَعَرَّضَتْ مُرَيْئَةُ الحَيَّاكِ … لناشئٍ دَمَكْمَكٍ نَيَّاكِ
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ করেছে, স্মরণে রেখেছে এবং প্রচার করেছে। কেননা অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তি আছে, যে তা নিজের চেয়ে অধিক প্রাজ্ঞ ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়।” এটি শাফেয়ী ও বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।


 

তাঁর বাণী: (আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব রাখুন); ‘ইমরুউন’ শব্দটি ‘আল-মারউ’-এর অনির্দিষ্ট রূপ; কারণ যখন এর শুরুতে আলিফ এবং লাম যুক্ত হয়, তখন এর প্রারম্ভিক হামযাটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইবনুত তায়্যিব বলেন: কারণ ‘আলিফ আল-ওয়াসল’ কেবল ‘মারউ’ এবং ‘মারআতুন’ শব্দে তখনই যুক্ত হয় যখন তারা অনির্দিষ্ট অবস্থায় থাকে, আর শব্দদ্বয়ের শুরুতে সাকিন থাকার কারণে দুই সাকিনের মিলনের ফলে অনুবর্তিতার হরকতের প্রয়োজনে শুরুতে আলিফ আনা হয়। যখন শব্দ দুটি আলিফ এবং লাম যোগে নির্দিষ্ট হয়, তখন তাদের মূল রূপের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রথম অক্ষরে হরকত প্রদান করা হয়, ফলে আলিফ আল-ওয়াসল-এর আর প্রয়োজন থাকে না এবং শব্দের মধ্যস্থল থেকে অনুবর্তিতার হরকতও বিলুপ্ত হয়; যেহেতু সাকিনদ্বয় আর অবশিষ্ট নেই, যেমনটি ‘বানিন’ ও ‘বানাত’ শব্দের ক্ষেত্রে করা হয়। ইবনে দারাস্তাওয়াইহ বলেন: ‘আল-মারউ’ ও ‘আল-মারআতুন’ শব্দের ক্ষেত্রে এভাবেই ব্যবহার প্রচলিত; কারণ এ দুটি শুদ্ধ (صحيح) শব্দ। পক্ষান্তরে অন্যান্য বিশেষ্য যেগুলোর শুরুতে আলিফ আল-ওয়াসল থাকে, যেমন ‘ইবনুন’ ও ‘ইবনাতুন’, সেগুলোর শুরুতে সাকিন বজায় রেখেই নির্দিষ্টকারী অব্যয় যুক্ত হয়; কারণ সেগুলো ত্রুটিযুক্ত শব্দ যার শেষাংশ বিলুপ্ত। (সমাপ্ত)।

আল-কাযযায বলেন: আরবদের মধ্যে কেউ কেউ ‘হাযাল ইমরুউস সালিহ’ এবং ‘হাযিহিল ইমরাআতু’ বলে থাকে। (সমাপ্ত)।

অতঃপর, এই শব্দটি রূপক অর্থ ব্যতিরেকে নারীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। ইবনুল আরাবী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, নারীর ক্ষেত্রেও ‘ইমরুউন’ ব্যবহৃত হয়, তা ‘আল-মুহকাম’ ও অন্যান্য গ্রন্থে এর বিরলতা ও অদ্ভুত হওয়ার কারণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই শব্দের নিজস্ব রূপ থেকে কোনো জমা সালেম বা জমা তাকসির (বহুবচন) গঠিত হয় না। তবে এর দ্বিবচন ব্যবহৃত হয় এবং তখন শুরুর আলিফ বিলুপ্ত করে ‘মারআন’ বলা হয়, যেমনটি আল-জাওহারী সতর্ক করেছেন। ‘আল-ফাসিহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: আপনি বলবেন—সে একজন পুরুষ (ইমরুউন), তারা দুইজন পুরুষ (ইমরাআন), তারা একদল লোক (কাওম), তিনি একজন নারী (ইমরাআতুন) এবং তারা একদল নারী (নিসওয়াহ)। এর ব্যাখ্যাকারগণ বলেন: এর অর্থ হলো ‘ইমরুউন’ ও ‘ইমরাআতুন’ শব্দদ্বয়ের নিজস্ব রূপ থেকে বহুবচন গঠিত হয় না, বরং তার পরিবর্তে ‘কাওম’ ও ‘নিসওয়াহ’ শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়। আরবদের ব্যবহাররীতি এমনই এবং এটি ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী; কারণ ‘ইমরুউন’ ও ‘ইমরাআতুন’ শব্দ দুটি ‘ইবনুন’ ও ‘ইবনাতুন’ শব্দের সমপর্যায়ের—যাদের শুরুতে সাকিন থাকে এবং আলিফ আল-ওয়াসল যুক্ত হয়। তা সত্ত্বেও তারা পরবর্তী শব্দ দুটির বহুবচন তাদের নিজস্ব শব্দরূপ থেকে ‘আবনা’ ও ‘বানুন’ হিসেবে গঠন করেছে, কিন্তু প্রথমোক্ত শব্দ দুটির ক্ষেত্রে নিয়মিত নিয়ম বর্জন করা হয়েছে। (সমাপ্ত)।

বলা হয়ে থাকে: ‘আল-মারউ’ শব্দের বহুবচন ‘মারউনা’ হিসেবেও শোনা গেছে; একে জমা মুযাক্কার সালেম-এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য—যেন তারা এতে পৌরুষত্বের গুণের আধিক্য বিবেচনা করেছেন। যারা এটি বলেন, তারা নারীর বহুবচনের ক্ষেত্রেও ‘মারাত’ বলেন, যাতে আলিফ আল-ওয়াসল বিলুপ্ত করা হয় এবং মূল নিয়ম অনুযায়ী মীম বর্ণে জবর প্রদান করা হয়। আরও বলা হয়েছে: ‘ইমরাআতুন’ শব্দকে হামযা বিলুপ্ত করে এবং এর হরকত রা বর্ণের দিকে স্থানান্তর করে ‘মারাহ’ বলা হয়। আর ‘ইমরাআতুন’ শব্দের শুরুতে ‘আল’ যুক্ত করে ‘আল-ইমরাআহ’ বলা হয় যেখানে হামযা আল-ওয়াসল বহাল থাকে, তবে এটি একটি দুর্বল (ضعيف) ভাষা-রীতি। ‘ইসলাহুল মানতিক’ গ্রন্থে ‘মারআতুন’ শব্দটি ‘ফাতাতুন’-এর ওজনে আসার কথা উল্লেখ আছে। আর ‘শারহুল ফাসিহ’ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে রা বর্ণের পর আলিফ যোগে হামযা ছাড়া ‘ইমরাআহ’ ব্যবহারের কথাও বর্ণিত হয়েছে।

যখন ‘আল-মারউ’ ও ‘আল-ইমরাআতুন’ শব্দদ্বয়ের তাসগির (ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ) করা হয়, তখন আলিফ আল-ওয়াসল বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং ‘মুরাইউন’ ও ‘মুরাইআতুন’ বলা হয়। কবি বলেছেন:

হাইয়্যাক গোত্রের সেই ক্ষুদ্র নারীটি আমাদের সামনে এলো … এক হৃষ্টপুষ্ট কামুক যুবকের তরে।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وكذا أبو داود والتِّرمذيُّ بلفظ: «نضَّر اللهُ امرءًا سمع منَّا شيئًا فبلَّغه كما سمعه، فَرُبَّ مُبلَّغٍ أوعى من سامعٍ»، وقال التِّرمذيُّ: حسنٌ صحيحٌ، وعن أبي سعيدٍ الخدريِّ رضي الله عنه، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أنَّه قال في حجَّة الوداع: «نضَّر اللهُ امرءًا سمع مقالتي فوعاها، فَرُبَّ حامل فقهٍ ليس بفقيهٍ … » الحديثَ، رواه البزَّار بإسنادٍ حسنٍ، وابن حبَّان في «صحيحه» من حديث زيد بن ثابتٍ رضي الله عنه، وكذا رُوِي من حديث معاذ بن جبلٍ والنُّعمان بن بشيرٍ وجُبير بن مُطعمٍ وأبي الدَّرداء وأبي قِرصافة، وغيرهم من الصَّحابة رضي الله عنهم، وبعض أسانيدهم صحيحٌ، كما قاله المنذريُّ، وقوله: «نضَّر الله» بتشديد الضَّاد المُعجمَة وتُخفَّف، والنُّضْرة: الحُسْن والرَّونق.


 

والنسبة إليه «مَرَئي» بفتح الراء -كما قاله الجوهريّ- وكذا النِّسبة إلى امرئ القيس ممن لُقِّبَ بذلك من الصَّحابة والشُّعراء جميعًا إلَّا ابن حُجْر الملك الضَّليل الشَّاعر الشَّهير فالنسبة إليه مرقسيّ كما نصَّ عليه في «القاموس» في باب السِّين، فاغتنم هذه الفوائد فإنَّها من ذخائر الفرائد.

قوله: (وَوَعَاهَا) في «القاموس»: وَعَى الشَّيءَ: حفظه وجمعه. انتهى.

فيُحتمل أن يكون ما هنا من الأوّل ويكون المراد بأحد الحفظين الاستحضار عن ظهر قلب وبالآخر عدم التَّفريط فيه، وأن يكون من الثَّاني ويكون المراد جمعُ ما تفرَّقَ منها أو جمعُ معانيها.

وقوله: (وَأَدَّاهَا)؛ أي: ألقاها إلى غيره وبلَّغها إياه.

قوله: (كَمَا سَمِعَهَا)؛ أي: من غيرِ تغييرٍ ولا زيادة ولا نقص لا في اللَّفظ ولا في المعنى، وهذا ممَّا اسْتُدِلَّ به على عدم جواز الرِّواية بالمعنى، وسيأتي بسط ذلك إن شاء الله تعالى.

قوله: (فَرُبَّ مُبَلَّغٍ) بفتح اللَّام: اسم مفعول.

وقوله: (أوعى)؛ أي: أحفظْ؛ أي: رُبَّ شخصٍ بلَّغه غيرُه الحديثَ يكون أحفظ ممَّن بلَّغه فينتفع هو ويُبلِّغ غيره وهكذا.

قوله: (والنُّضْرَة الحُسَن)؛ أي: ونَضَّرَ: مشتقٌ منه، فمعناه حسَّن الله … إلى آخره، والفعل منه كنَصَر

وكَرُمَ وفَرِحَ، ويُقال: نَضَّرهُ الله، ونَضَرَهُ، مُخفَّفًا ومشَّددًا، كما في «القاموس».
অনুরূপভাবে আবু দাউদ ও তিরমিজি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল (نضّر) রাখুন, যে আমাদের থেকে কিছু শুনেছে এবং তা যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে; কেননা অনেক সময় যার কাছে সংবাদ পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও বেশি সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।» তিরমিজি বলেন: এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) বিদায় হজ্জে ইরশাদ করেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে এবং তা মনে রেখেছে, কারণ অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকিহ নয়...» হাদিস। এটি বাজ্জার একটি হাসান (حسن) সনদে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ-তে যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে মুয়াজ ইবনে জাবাল, নুমান ইবনে বশির, জুবাইর ইবনে মুতইম, আবু দারদা ও আবু কিরসাফাহ এবং অন্যান্য সাহাবিদের (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে এবং তাদের কিছু সনদ সহিহ (صحيح), যেমনটি মুনজিরি উল্লেখ করেছেন। এবং তাঁর উক্তি: «নাদ্দারা আল্লাহ» (نضَّر الله), এখানে 'দদ' (ض) অক্ষরটি তাশদিদসহ এবং তাশদিদ ছাড়াও পড়া যায়। আর 'নুদরাহ' (النضرة) অর্থ হলো সৌন্দর্য ও লাবণ্য।


 

আর এর সাথে সম্পর্কিত বিশেষণ (নিসবাত) হলো 'মারাঈ' (মীম ও রা-এর জবরসহ) - যেমনটি জাওহারি বলেছেন। অনুরূপভাবে যে সকল সাহাবি বা কবি 'ইমরুল কায়েস' উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন তাদের সবার নিসবাতও এমনই, কেবল বিখ্যাত কবি ও পথভ্রষ্ট রাজা ইবনে হুজর ব্যতীত; তার ক্ষেত্রে নিসবাত হলো 'মারকাসি', যেমনটি 'আল-কামুস' গ্রন্থের 'সিন' পরিচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গ্রহণ করুন, কারণ এগুলো দুষ্প্রাপ্য জ্ঞানের ভাণ্ডার।

তাঁর উক্তি: (وَوَعَاهَا); 'আল-কামুস' গ্রন্থে রয়েছে: কোনো কিছু 'ওয়াআ' (وعى) করার অর্থ হলো তা সংরক্ষণ করা ও একত্রিত করা। সমাপ্ত।

সম্ভাবনা রয়েছে যে, এখানে প্রথম অর্থটি উদ্দেশ্য এবং দুটি সংরক্ষণের একটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুখস্থ রাখা আর অন্যটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাতে কোনো অবহেলা না করা। অথবা দ্বিতীয় অর্থটিও উদ্দেশ্য হতে পারে, সেক্ষেত্রে এর অর্থ হবে বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করা অথবা এর অর্থসমূহ অনুধাবন করা।

এবং তাঁর উক্তি: (وَأَدَّاهَا); অর্থাৎ তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তাকে তা অবগত করা।

তাঁর উক্তি: (كَمَا سَمِعَهَا); অর্থাৎ কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন ছাড়াই—শব্দে বা অর্থে কোনোটিই নয়। এটি এমন একটি দলিল যা দ্বারা অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (রেওয়ায়েত বিল মা'না) নাজায়েজ হওয়ার পক্ষে প্রমাণ পেশ করা হয়। ইনশাআল্লাহ সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

তাঁর উক্তি: (فَرُبَّ مُبَلَّغٍ), লাম অক্ষরে জবরসহ: এটি ইসমে মাফউল।

এবং তাঁর উক্তি: (أوعى); অর্থাৎ অধিক সংরক্ষণকারী; অর্থাৎ এমন হতে পারে যে যার কাছে হাদিসটি পৌঁছে দেওয়া হলো সে শ্রবণকারী অপেক্ষা অধিক সংরক্ষণকারী, ফলে সে এর দ্বারা উপকৃত হয় এবং অন্যদের কাছে পৌঁছে দেয় এবং এভাবেই চলতে থাকে।

তাঁর উক্তি: (والنُّضْرَة الحُسَن); অর্থাৎ 'নাদ্দারা' (نضَّر) শব্দটি এ থেকেই ব্যুৎপন্ন হয়েছে, এর অর্থ হলো আল্লাহ তাকে সুন্দর করুন... শেষ পর্যন্ত। এর ক্রিয়ারূপগুলো নাসারা, কারুমা এবং ফারিহা বাব-এর অনুরূপ হয়। আল্লাহ তাকে সজীব করুন অর্থে 'নাদ্দারাহু' (نضَّره) এবং 'নাদারাহু' (نضره)—তাশদিদযুক্ত ও তাশদিদহীন উভয়ভাবে ব্যবহার করা হয়, যেমনটি 'আল-কামুস' গ্রন্থে এসেছে।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ১৬)
والمعنى: خصَّه الله تعالى بالبهجة والسُّرور؛ لأنَّه سعى في نَضارة العلم وتجديد السُّنَّة، فجازاه في دعائه له بما يُناسب حالَه في المُعامَلة. وأيضًا: فإنَّ مَنْ حفظ ما سمعه وأدَّاه كما سمعه من غير تغييرٍ كأنَّه جعل المعنى غضًّا طريًّا، وخُصَّ الفقه بالذِّكر دون العلم؛ إيذانًا بأنَّ الحامل غيرُ عارٍ عن العلم، إذ الفقه علمٌ بدقائق العلوم المُستنبَطة من الأقيسة، ولو قال: غير عالم لَزِم جهله،


 

قوله: (والمعنى: خَصَّهُ اللهُ بِالْبَهْجَةِ … ) إلى آخره، أقولُ: لا بهجةَ في وجه التَّخصيص بل لا وجه له إلَّا لو قال: وخصَّ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم هذا المرء بالدُّعاء، وبخصوص الدُّعاء بالنَّضرة … إلى آخره، والبهجةُ هي: الحسنُ والفرحُ، والفعل منه بمعنى الأول بَهُجَ -كَكَرُمَ- بهاجةً فهو بهيجٌ، وبمعنى الثَّاني -كفعله- فهو بهيج وبهج، وأما بَهَجَ -كمَنَعَ- فمعناه: أَفْرَحَ وسرَّ، والابتهاج: السُّرور، كما في «القاموس».

قوله: (فَجَازَاهُ في دِعَائِهِ … ) إلى آخره، وقد أجاب الله دعاء نبيِّه صلى الله عليه وسلم، قال سفيان بن عيينة: ليس من أهل الحديث أحدٌ إلَّا وفي وجههِ نضرة؛ لهذا الحديث. انتهى.

وإذا كان هذا في الدُّنيا فما بالك في الآخرة، وقد رُوي أنَّه: «يُوْضَعُ لَهُم مَنَابِرُ مِنْ نُوْرٍ يُحَدِّثُوْنَ عَلَيْهَا يَوْمَ القِيَامَةِ»، وقيل في تفسير قوله تعالى: {يَوْمَ نَدْعُو كُلَّ أُنَاسٍ بِإِمَامِهِمْ} [الإسراء: 71]: ليس لأهل الحديث مَنْقَبَةٌ أشرفُ من ذلك؛ لأنَّه لا إمام لهم غيره صلى الله عليه وسلم، وناهيك بأنَّه العِلْمُ الموصل إلى الله تعالى والباحث عن تصحيح أقواله صلى الله عليه وسلم وأفعاله والذَّابُّ عنه أن يُنْسَبَ إليه ما لم يقله، وسائر العلوم محتاجةٌ إليه، أمَّا الفقه فواضحٌ، وأمَّا التَّفسير فلأنَّ أولى ما فُسِّرَ به كلام الله تعالى ما ثبتَ عن نبيِّه صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم.

قوله: (غَضًّا) بفتح الغين وتشديد الضَّاد المعجمتين بمعنى طريًّا، قال في «القاموس»: والغضيض: الطَّري، والطَّلع النَّاعم كالغضِّ فيهما. انتهى.

 

قوله: (إذ الفِقْهُ عِلْمٌ بِدَقَائِقِ الأُمُوْرِ)؛ أي: بالأمور الدَّقيقة؛ -أي: الخفيَّة- لا بمطلق الأشياء، فلا يُقال مثلًا: فَقِهْتُ السَّماءَ والأرض، بخلاف العلم فأعمُّ، وهذا ما جرى عليه جماعة من اللُّغويِّين، إلَّا أنَّ التَّقييد بكون تلك الدَّقائق مستنبطة من الأقيسة كما ذكره الشَّارح لم أره لأحد منهم وكأنَّه سرى له من معناه الشَّرعيِّ، وقيل: الفقه هو العلم بالشيء مع الفهم له بخلاف العلم فأعمُّ، وقيل: هو شدَّة الفهم بخلاف العلم فمطلق الفهم، وعلى كلٍّ من هذه الأقوال فليس الفقه مرادفًا للعلم بلْ أخصُّ منه، فكلُّ فقيهٍ عالمٌ ولا عَكْسَ.
ওভার অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা তাকে লাবণ্য ও আনন্দ দিয়ে বিশেষভাবে ভূষিত করেছেন; কারণ সে ইলমের সজীবতা রক্ষা ও সুন্নাহর পুনর্জীবনে সচেষ্ট ছিল। ফলে তিনি তাঁর নবি (সা.)-এর দোয়ার বরকতে তাকে তার কর্মের অনুরূপ প্রতিদান দান করেছেন। এছাড়াও, যে ব্যক্তি যা শ্রবণ করেছে তা মুখস্থ রেখেছে এবং কোনো পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু তা পৌঁছে দিয়েছে, সে যেন বিষয়টির অর্থকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রেখেছে। এখানে সাধারণভাবে ইলমের (জ্ঞানের) কথা না বলে বিশেষভাবে ফিকহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; এটা বোঝানোর জন্য যে, (হাদিসের) বাহক জ্ঞানশূন্য নয়। কারণ ফিকহ হলো কিয়াস (أقيسة) থেকে উদ্ভাবিত (مستنبطة) সূক্ষ্ম বিষয়াবলির জ্ঞান। আর যদি তিনি 'অজ্ঞ' বলতেন, তবে তার মূর্খতা প্রকাশ পেত।


 

লেখকের কথা: (এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাকে লাবণ্য দ্বারা বিশেষিত করেছেন … ) শেষ পর্যন্ত। আমি বলি: এই বিশেষায়িত করার ক্ষেত্রে লাবণ্যের কোনো কারণ নেই, বরং এর কোনো যৌক্তিকতা নেই, যদি না তিনি বলতেন: নবি (সা.) এই ব্যক্তিকে দোয়ার মাধ্যমে এবং বিশেষভাবে লাবণ্যের (নদরাহ) দোয়ার মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন … শেষ পর্যন্ত। 'বাহজাহ' অর্থ হলো সৌন্দর্য ও আনন্দ। প্রথম অর্থ অনুযায়ী ক্রিয়াটি 'বাহুজা' (কারুমা-এর ওজনে), এর ক্রিয়ামূল হলো 'বাহাজাহ', তখন এর কর্তৃবাচক বিশেষ্য হলো 'বাহিজ'। দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ীও এটি 'বাহিজ' এবং 'বাহাজ' হিসেবে আসে। পক্ষান্তরে 'বাহাজা' (মানায়া-এর ওজনে) হলে এর অর্থ হয় আনন্দিত করা ও খুশি করা। আর 'ইবতিহাজ' মানে হলো আনন্দ, যেমনটি 'কামুস' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেখকের কথা: (অতঃপর তিনি তাঁর দোয়ার মাধ্যমে তাকে প্রতিদান দিয়েছেন … ) শেষ পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি (সা.)-এর দোয়া কবুল করেছেন। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ বলেছেন: "হাদিসের অনুসারীদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার চেহারায় লাবণ্য নেই; আর তা এই হাদিসের কারণেই।" সমাপ্ত।

যদি এটি দুনিয়াতে হয়, তবে আখিরাতে কী অবস্থা হবে! বর্ণিত হয়েছে যে: "কিয়ামতের দিন তাদের জন্য নূরের মিম্বর স্থাপন করা হবে, যেখানে বসে তারা হাদিস বর্ণনা করবেন।" আল্লাহ তাআলার বাণী: {যেদিন আমি প্রত্যেক মানুষকে তাদের ইমামসহ আহ্বান করব} [সূরা বনী ইসরাঈল: ৭১]-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: হাদিসের অনুসারীদের জন্য এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো মর্যাদা নেই; কারণ নবি (সা.) ছাড়া তাদের আর কোনো ইমাম নেই। আর তোমার জন্য এটি জানাই যথেষ্ট যে, এটিই সেই জ্ঞান যা আল্লাহ তাআলা পর্যন্ত পৌঁছায় এবং যা নবি (সা.)-এর বাণী ও কার্যাবলি সঠিক কি না তা যাচাই (تصحيح) করে এবং তাঁর প্রতি এমন কিছু সম্বন্ধ করাকে প্রতিহত করে যা তিনি বলেননি। অন্যান্য সকল শাস্ত্রই এই শাস্ত্রের মুখাপেক্ষী। ফিকহের বিষয়টি তো স্পষ্ট, আর তাফসিরের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো—আল্লাহর কালামের ব্যাখ্যার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হলো যা তাঁর নবি (সা.) এবং সাহাবী (রাযি.)-গণের নিকট থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে।

লেখকের কথা: (গাদদান) গাইন বর্ণে জবর এবং দদ বর্ণে তাশদিদ যোগে, এর অর্থ হলো সতেজ। 'কামুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'গাদিদ' মানে হলো সতেজ, আর কোমল মুকুলকেও সতেজ বলা হয়। সমাপ্ত।

 

লেখকের কথা: (যেহেতু ফিকহ হলো সূক্ষ্ম বিষয়াবলির জ্ঞান); অর্থাৎ অতি সূক্ষ্ম ও অপ্রকাশ্য বিষয়াবলির জ্ঞান; সাধারণ কোনো বিষয়ের জ্ঞান নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা হয় না যে: 'আমি আকাশ ও পৃথিবী সম্পর্কে ফিকহ লাভ করেছি', পক্ষান্তরে ইলম বা জ্ঞান আরও ব্যাপক। ভাষাবিদগণের একটি দল এই মতই ব্যক্ত করেছেন। তবে ব্যাখ্যাকার যেমনটি উল্লেখ করেছেন যে—এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো কিয়াস (أقيسة) থেকে উদ্ভাবিত (مستنبطة) হতে হবে—এমন শর্ত আমি অন্য কারো কাছে পাইনি; মনে হচ্ছে এটি তাঁর কাছে এর শারঈ অর্থ থেকে এসেছে। কেউ কেউ বলেছেন: ফিকহ হলো কোনো বিষয় অনুধাবনসহ জানা, পক্ষান্তরে ইলম বা জ্ঞান আরও ব্যাপক। আবার কেউ বলেছেন: এটি হলো প্রখর বোধশক্তি, পক্ষান্তরে ইলম হলো সাধারণ বোধশক্তি। এই সবকটি মত অনুযায়ী, ফিকহ 'ইলম' বা জ্ঞানের সমার্থক নয়, বরং এটি তার চেয়ে বিশেষ অর্থবোধক। সুতরাং প্রত্যেক ফকিহ-ই আলেম, কিন্তু প্রত্যেক আলেম ফকিহ নন।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقوله: «رُبَّ» وُضِعَت للتَّقليل، فاستُعيرَت في الحديث للتَّكثير، وقوله: «إلى من هو أفقه منه»


والظَّاهرُ أنَّ الفقه في الحديث مصدرٌ بمعنى اسم المفعول؛ أي: علمٌ مَفْقُوهٌ ومفهومٌ، وحينئذٍ فيكون معنى الرِّواية الأولى: رُبَّ حَامِلِ عِلْمٍ قَد فهمه فهمًا ما، يؤدِّيه إلى من هو أفقه وأفهم منه، فيفهم بذهنه الرَّائق وفكره الفائق من ذلك العلم معاني وأحكامًا قَصُرَ عنها مَن بَلَّغَهُ فيَعلمها هو وغيره، فتكثرُ الفائدة وتحصل الثَّمرة المقصودة من الحديث الشريف، وحينئذٍ فوجه التَّعبير بالفقه دون العلم ما قاله الشَّارح من الإيذان بأنَّ الحامل غير عارٍ عن العلم؛ أي: أنَّ حقَّه أن يكون كذلك، فهو حثٌّ له على التَّفقُّه فيما حمل ولا يكون كمثل الحمار يحمل أسفارًا، ولو قال: رُبَّ حامل علم إلى مَن هو أعلم منه، لم يكن مؤذنًا بذلك كما لا يخفى، وأما الرِّواية الثَّانية فالمعنى فيها: ربَّ حامل علم عظيم قد اشتمل على معان كثيرة يفقه ويفهم منه نوعًا ما من الفهم إلَّا أنَّه قاصر الفهم ليس بكثير الفقه بحيث لا يتوصل إلى فهم جميع ما اشتمل عليه ما حمله، وإذا اقتصر على نفسه ضاع ذلك الفقه فليبلِّغه فرُبَّمَا بلَّغَهُ إلى مَن هو أفقه منه فآثر التَّعبير بالفقه أيضًا؛ إيذانًا بما ذكر، ولو عَبَّر بالعلم بأن قال: ربَّ حامل علم ليس بعالم، لفات ذلك المعنى بل تبادر التَّناقض من هذا المبنى إذ يصير الكلام رُبَّ عالمٍ ليس بعالم، هذا توضيح ما أشار إليه الشارح، وربما عَنَّ لك أن تقول: كان يتأدَّى ذلك لو قال في الرِّواية: الأولى: رُبَّ حامل علم إلى من هو أفقه منه، وفي الثَّانية: رُبَّ حامل علم ليس بفقيه؛ فإنَّ التَّفضيل في الأولى والمبالغة في الثَّانية يؤذنان بأنَّ الحامل له نوعٌ من الفقه والفهم لِمَا علمه فيظهر في الجواب أنَّه عبَّر بذلك ليُفيد تلك النُّكتة المقصودة، أعني: حثُّ حاملِ العلمِ على فهم ما حمل من أول وَهْلَةٍ؛ اهتمامًا بها مع ما فيه من حُسن التَّجانس دون ذاك.

هذا وذهب بعض اللُّغويين إلى أنَّ الفقه أَنْزَلُ من العلم كما نقله ابن الطَّيِّب في حواشي القاموس، وعليه فيظهر أنَّ وجه إيثاره على العلم حينئذٍ الإيذان بطلب نشر مُطلَق العلم النَّافع لا بقيد كونه على وجه مخصوص، فليُتأمَّل.

 

قوله: (وُضِعَت لِلتَّقْلِيلِ) هو أحد قولين، والمشهور أنَّها للتَّكثير، وقال الشَّارح نفسه في «كتاب العلم» ما نَصُّهُ: ورُبَّ حرفُ جرٍ يُفيد التَّقليل لكنَّه كَثُرَ في الاستعمال للتكثير بحيث غلب حتَّى صار كأنَّه حقيقة فيه. انتهى.

ولذا قيل:

خَلِيْلِي لِلْتَّكْثِيْرِ رُبَّ كَثِيْرَةٌ … وَجَاءَتْ لَتَقْلِيْلٍ وَلَكِنَّهُ يَقِلْ

وكذا ذكر الأشمونيُّ إذ قال: هي للتَّكثير كثيرًا وللتَّقليل قليلًا، فالأوَّل كقوله صلى الله عليه وسلم: «يا رُبَّ
وقوله: «رُبَّ» وُضِعَت للتَّقليل، فاستُعيرَت في الحديث للتَّكثير، وقوله: «إلى من هو أفقه منه»


প্রকাশ্যত হাদিসে 'ফিকহ' (الفقه) শব্দটি এখানে কর্মবাচক বিশেষ্যের (اسم المفعول) অর্থে ব্যবহৃত একটি ক্রিয়ামূল (مصدر); অর্থাৎ: এমন জ্ঞান যা অনুধাবন ও উপলব্ধি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথম বর্ণনা (رواية)-এর অর্থ হবে: ইলমের অনেক বহনকারী এমন রয়েছে যে তা কিছুটা অনুধাবন করেছে, সে তা এমন ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দিচ্ছে যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার (أفقه) ও প্রজ্ঞাবান। ফলে সেই ব্যক্তি তার স্বচ্ছ মেধা ও উন্নত চিন্তাশক্তি দ্বারা সেই ইলম থেকে এমন সব অর্থ ও বিধিবিধান উদ্ঘাটন করতে পারবে, যা পৌঁছেদানকারী ব্যক্তি অনুধাবনে সক্ষম হয়নি। এর ফলে সে নিজে এবং অন্যরাও তা জানতে পারবে, উপযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং হাদিস শরিফ থেকে উদ্দিষ্ট ফল লাভ হবে। এমতাবস্থায় 'ইলম' শব্দের পরিবর্তে 'ফিকহ' শব্দ ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যাকার যা বলেছেন তা হলো—ইঙ্গিত প্রদান করা যে, বহনকারী ব্যক্তি জ্ঞানশূন্য নয়; অর্থাৎ তার কর্তব্য হলো এমনই হওয়া। এটি তাকে তার বহনকৃত ইলম সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞা (فقه) অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করা, যাতে সে কিতাব বহনকারী গাধার মতো না হয়। যদি তিনি বলতেন: "অনেক ইলম বহনকারী এমন আছে যে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী (أعلم) ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয়", তবে তাতে এমন ইঙ্গিত থাকত না, যা অস্পষ্ট নয়। আর দ্বিতীয় বর্ণনা (رواية)-এর অর্থ হলো: অনেক মহান ইলম বহনকারী এমন রয়েছে যা বহুবিধ অর্থ শামিল করে, সে তা কোনোভাবে বুঝতে পারে, তবে তার বোধশক্তি সীমাবদ্ধ হওয়ায় সে গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী (فقيه) নয়, যাতে সে যা বহন করছে তার অন্তর্ভুক্ত সমস্ত বিষয় অনুধাবন করতে পারে। সে যদি নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে তবে সেই প্রজ্ঞা (فقه) হারিয়ে যাবে, তাই তার উচিত তা পৌঁছে দেওয়া। কারণ সম্ভবত সে এমন ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেবে যে তার চেয়েও অধিক সমঝদার (أفقه)। এখানেও 'ফিকহ' শব্দকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে উল্লিখিত বিষয়ে সতর্ক করার জন্য। যদি তিনি 'ইলম' শব্দ ব্যবহার করে বলতেন: "অনেক ইলম বহনকারী এমন রয়েছে যে আলেম (عالم) নয়", তবে উক্ত অর্থটি হারিয়ে যেত; বরং এই বাক্যগঠন থেকে আপাতবৈপরীত্য পরিলক্ষিত হতো। কারণ তখন কথার অর্থ দাঁড়াত: "অনেক আলেম (عالم) এমন রয়েছে যে আলেম (عالم) নয়।" এটিই ব্যাখ্যাকার যা নির্দেশ করেছেন তার স্পষ্টীকরণ। সম্ভবত আপনার মনে হতে পারে: এই উদ্দেশ্য তো তখনই সফল হতো যদি প্রথম বর্ণনা (رواية)-এ বলা হতো: "অনেক ইলম বহনকারী এমন রয়েছে যে তার চেয়ে অধিক সমঝদার (أفقه) ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়", এবং দ্বিতীয়টিতে: "অনেক ইলম বহনকারী এমন রয়েছে যে সমঝদার (فقيه) নয়"। কারণ প্রথমটির ক্ষেত্রে আধিক্যসূচক শব্দ এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন নির্দেশ করে যে, বহনকারীর মধ্যে তার জানাশোনা বিষয়ে কিছুটা প্রজ্ঞা (فقه) ও উপলব্ধি রয়েছে। উত্তরে বলা যায়, তিনি এই শব্দ চয়ন করেছেন যাতে সেই বিশেষ সূক্ষ্ম উদ্দেশ্যটি হাসিল হয়—অর্থাৎ, ইলম বহনকারীকে প্রথম থেকেই তা অনুধাবনে উৎসাহিত করা; এর গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং এর মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সামঞ্জস্যের কারণে।

উল্লেখ্য যে, কোনো কোনো ভাষাবিদ মনে করেন 'ফিকহ' (الفقه) এর মর্যাদা 'ইলম' (العلم) অপেক্ষা নিম্নতর, যেমনটি ইবনে তাইয়্যিব 'ক্বামুস'-এর টীকায় উল্লেখ করেছেন। সেই অনুযায়ী, ইলমের ওপর একে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হতে পারে কোনো বিশেষ শর্ত ছাড়াই সাধারণ উপকারী জ্ঞান প্রচারের আহ্বান জানানো। বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।

 

তাঁর উক্তি: (স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়)—এটি দুটি মতের একটি। প্রসিদ্ধ (مشهور) মত হলো এটি আধিক্য বোঝানোর জন্য। ব্যাখ্যাকার নিজেও 'কিতাবুল ইলম'-এ যা লিখেছেন তার পাঠ হলো: "'রুব্বা' (رُبَّ) একটি অব্যয় যা স্বল্পতা বোঝায়, কিন্তু ব্যবহারে এটি আধিক্য বোঝানোর জন্য এত বেশি ব্যবহৃত হয়েছে যে মনে হয় যেন এটি এর প্রকৃত অর্থেই পরিণত হয়েছে।" সমাপ্ত।

একারণেই বলা হয়েছে:

হে আমার বন্ধু! আধিক্য বোঝাতে 'রুব্বা' শব্দের প্রয়োগ অনেক … আর স্বল্পতা বোঝাতেও এটি আসে কিন্তু তা খুবই কম

আশমুনিও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আধিক্য এবং অল্প ক্ষেত্রে স্বল্পতা বোঝাতে আসে। প্রথমটির উদাহরণ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "হে রুব্বা..."
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ১৮)
صفةٌ لمدخول «رُبَّ» استُغنِي بها عن جوابها، أي: رُبَّ حامل فقهٍ أدَّاه إلى مَنْ هو أفقه منه


كَاسِيَةٍ في الدُّنْيَا عَارِيَةٌ في الْآخِرَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»؛ أي: لأنَّ الحديث مسوق للتَّخويف، والتَّقليل لا يُناسبه، والثَّاني كقوله:

أَلَا رُبَّ مَوْلُوْدٍ وَلَيْسَ لَهُ أَبٌ … … … … …

وعلى هذا لا استعارة في الحديث، وقيل: موضوعةٌ لهما سواء، وقيل: للتَّقليل مجازًا والتَّكثير حقيقة، وقيل: للتَّكثير في موضع المباهاة والتَّقليل فيما عداه، وقال في «القاموس»: لم تُوضع لتقليلٍ ولا لتكثيرٍ بل يُستفادان من سياق الكلام. انتهى.

قوله: (عَنْ جَوَابِهَا) المرادُ به: خبر المبتدأ الَّذي دخلت عليه رُبَّ، وكأنَّه سمَّاه جوابًا؛ تشبيهًا لرُبَّ
এটি 'রুব্বা' (رُبَّ)-এর পরবর্তী পদের এমন একটি বিশেষণ যার মাধ্যমে এর উত্তর (جواب) থেকে অমুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ: অনেক ফিকহ বহনকারী এমন আছেন যিনি তা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেন যিনি তাঁর চেয়েও অধিক ফিকহ বিশেষজ্ঞ।


"(দুনিয়াতে) পোশাক পরিহিতা কিন্তু কিয়ামতের দিন আখিরাতে উলঙ্গ"; অর্থাৎ: কারণ হাদিসটি ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বর্ণিত হয়েছে, আর স্বল্পতা (تقليل) বুঝানো এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দ্বিতীয় উদাহরণটি তাঁর এই বাণীর মতো:

জেনে রেখো! অনেক নবজাতক এমন আছে যাদের কোনো পিতা নেই … … … … …

আর এই ভিত্তিতে, হাদিসের মধ্যে কোনো রূপক (استعارة) নেই। কেউ কেউ বলেছেন: এটি উভয় অর্থের জন্যই সমানভাবে নির্ধারিত। আবার বলা হয়েছে: এটি রূপকভাবে স্বল্পতা (تقليل) এবং প্রকৃত অর্থে আধিক্য (تكثير) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। আরও বলা হয়েছে: এটি গর্বের (مباهاة) স্থানে আধিক্য (تكثير) এবং অন্যান্য স্থানে স্বল্পতা (تقليل) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। 'আল-কামুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি স্বল্পতা (تقليل) বা আধিক্য (تكثير) কোনোটির জন্যই নির্ধারিত নয়, বরং প্রসঙ্গের ধারাবাহিকতা (سياق الكلام) থেকে এগুলো বোঝা যায়। সমাপ্ত।

তাঁর কথা: (এর উত্তর থেকে) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সেই মুক্তাদা (مبتدأ)-এর খবর (خبر) যার ওপর 'রুব্বা' (رُبَّ) প্রবেশ করেছে। আর তিনি সম্ভবত একে উত্তর (جواب) হিসেবে নামকরণ করেছেন; 'রুব্বা'-কে (শর্তের হরফের সাথে) সাদৃশ্য প্রদানের কারণে।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ১৯)
لا يفقه ما يفقهه المحمول إليه، وعن ابن عبَّاس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللهمَّ ارحم خلفائي»، قلنا: يا رسول الله، ومَنْ خلفاؤك؟ قال: «الذين يروون أحاديثي ويعلِّمونها النَّاس»، رواه الطَّبرانيُّ في «الأوسط»، ولا ريبَ أنَّ أداء السُّنن إلى المسلمين نصيحةً لهم مِن وظائف الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين، فمَنْ قام بذلك كان خليفةً لمن يبلِّغ عنه، وكما لا يليق بالأنبياء عليهم السلام أن يهملوا أعاديهم ولا ينصحوهم، كذلك لا يحسن بطالب الحديث وناقل السُّنن أن يمنحها صديقه ويمنعها عدوَّه، فعلى العالم بالسُّنَّة أن يجعل أكبرَ همِّه نشرَ الحديث، فقد أمر النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم بالتَّبليغ عنه، حيث قال: «بلِّغوا عنِّي ولو آيةً» الحديثَ، رواه البخاريُّ رحمه الله، قال المُظْهِريُّ: أي: بلِّغوا عنِّي أحاديثي ولو كانت قليلةً. قال البيضاويُّ رحمه الله: قال: «ولو آيةً» ولم يقل: ولو حديثًا؛ لأنَّ الأمر بتبليغِ الحديثِ يُفهَم منه بطريق الأولويَّة، فإنَّ الآياتِ مع انتشارها وكثرةِ حَمَلَتِها، تكفَّل الله تعالى بحفظها وصونها عن الضَّياع والتَّحريف. انتهىَ.

وقال إمام الأئمَّة مالكٌ رحمه الله تعالى: بلغني أنَّ العلماء يُسأَلون يوم القيامة عن تبليغهم العلم كما يُسألُ الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، وقال سفيان الثَّوريُّ: لا أعلم عملًا أفضل من علم(1) الحديث لمن


 

وخبر مدخولها بالشَّرط وجوابه لتوقف معناها عليه تَوَقُّفَ المبتدأ على الخبر، وتقدير الشَّارح المحذوف (أدَّاه) لا يضره كونه خاصًّا والعامل الخاصُّ لا يُحذف؛ إذ محله ما لم تدلَّ عليه قرينةٌ، إلَّا أنَّ كون ذلك صفة مستغنى بها عن الجواب الظَّاهر أنَّه غير متعيَّن بل يصحُّ أن يكون هو الجواب.

 

قوله: (خُلَفَائِي)؛ أي: الَّذين يخلفوني في الدِّين: جمع خليفة.

قوله: (الَّذِيْنَ يَرْوونَ أَحَادِيْثِي)؛ أي: فَهُم الخلفاء حقيقةً، ولذا كان المحدِّث في العصر الأولي يُلقَّب

--------------------------------------------

(1) في (د) و (م): «طلب».
যাকে হাদিস পৌঁছে দেওয়া হয় সে হয়তো বহনকারীর চেয়ে অধিক অনুধাবনকারী হতে পারে। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! আমার উত্তরসূরিদের (خلفاء) ওপর দয়া করুন।" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উত্তরসূরি (خلفاء) কারা? তিনি বললেন: "যারা আমার হাদিস বর্ণনা (يروون) করে এবং তা মানুষকে শিক্ষা দেয়।" এটি তাবারানি তাঁর ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সুন্নাহসমূহ নসিহতস্বরূপ মুসলমানদের কাছে পৌঁছে দেওয়া নিঃসন্দেহে নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) অন্যতম দায়িত্ব। যে ব্যক্তি এই কাজ সম্পাদন করবে, সে মূলত যার পক্ষ থেকে প্রচার করছে তার উত্তরসূরি (خليفة) হিসেবে গণ্য হবে। যেভাবে নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) জন্য এটি শোভনীয় নয় যে তারা তাদের শত্রুদের অবহেলা করবেন এবং তাদের নসিহত করবেন না, তেমনি হাদিসের শিক্ষার্থী ও সুন্নাহর বর্ণনাকারীর (ناقل) জন্যও এটি সমীচীন নয় যে সে তার বন্ধুকে তা প্রদান করবে আর শত্রুকে তা থেকে বঞ্চিত করবে। সুতরাং সুন্নাহর আলিমের উচিত হাদিস প্রচার করাকে তার সর্ববৃহৎ লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পক্ষ থেকে প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত (آية) হয়।" হাদিসটি ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন। মুযহিরি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: অর্থাৎ আমার পক্ষ থেকে আমার হাদিসসমূহ পৌঁছে দাও, যদিও তা সংখ্যায় অল্প হয়। বায়যাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি বলেছেন "যদিও তা একটি আয়াত (آية) হয়" এবং "যদিও একটি হাদিস হয়" বলেননি; কারণ হাদিস প্রচারের নির্দেশটি এর মাধ্যমে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে (بطريق الأولويَّة) বোঝা যায়। কেননা আয়াতসমূহ ব্যাপক প্রচার এবং এর বাহক (حملة) অধিক হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা তা বিলুপ্তি ও বিকৃতি (تحريف) থেকে রক্ষা ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। (সমাপ্ত)।

আইম্মাহগণের ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আলিমদের কিয়ামতের দিন তাদের ইলম প্রচার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, যেমন নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) জিজ্ঞাসা করা হবে। সুফিয়ান সাওরি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: যার জন্য হাদিসের ইলম (علم الحديث) অর্জন করা প্রয়োজন, তার জন্য এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো আমল আমার জানা নেই।(1)


 

এবং শর্ত ও জওয়াবের মাধ্যমে এর ওপর যা দাখিল হয়েছে তার খবর, যেহেতু এর অর্থের পূর্ণতা তার ওপর নির্ভরশীল, যেমন মুক্তাদার নির্ভরতা খবরের ওপর। আর ব্যাখ্যাকারীর পক্ষ থেকে উহ্য (محذوف) মান্য করা—'তিনি তা আদায় করেছেন' (أدَّاه)—তার জন্য ক্ষতিকর নয় যদিও তা বিশেষ (خاص), আর বিশেষ আমিল (العامل الخاص) সাধারণত বিলুপ্ত হয় না; যতক্ষণ না তার ওপর কোনো ইঙ্গিত (قرينة) পাওয়া যায়। তবে এটি এমন একটি গুণ হওয়া যা জওয়াবের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়—তা সুনিশ্চিত নয়, বরং এটিই জওয়াব হওয়া সঠিক হতে পারে।

 

তাঁর বাণী: (خُلَفَائِي); অর্থাৎ: যারা দ্বীনের ব্যাপারে আমার স্থলাভিষিক্ত হয়: এটি 'খলিফা' (خليفة)-এর বহুবচন।

তাঁর বাণী: (الَّذِيْنَ يَرْوونَ أَحَادِيْثِي); অর্থাৎ: তারাই প্রকৃতপক্ষে উত্তরসূরি (خلفاء), আর এই কারণেই প্রথম যুগে হাদিস বিশারদকে (المحدث) এই উপাধিতে ভূষিত করা হতো।

--------------------------------------------

(1) (দ) এবং (ম) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "অন্বেষণ করা" (طلب)।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ২০)
أراد به وجه الله تعالى، إنَّ النَّاس يحتاجون إليه حتَّى في طعامهم وشرابهم، فهو أفضل من التَّطوُّع بالصَّلاة والصِّيام؛ لأنَّه فرض كفايةٍ، وفي حديث أسامة بن زيدٍ رضي الله عنه عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: «يَحملُ هذا العلمَ من كلِّ خَلَفٍ عُدُولُه، ينفون عنه تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين»(1)


 

بأمير المؤمنين؛ أخذًا من هذا الحديث، وممَّن لُقِّبَ بذلك سفيان وابن رَاهُوْيَه والبخاريُّ وغيرهم.

قوله: (فَهُوَ أَفْضَلُ مِنَ التَّطَوعِ بِالصَّلاةِ) بل قال أبو سعيد الخُدريُّ: مذاكرةُ الحديث أفضل من قراءة القرآن. ورُوي عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: مذاكرةُ الحديث ساعةٌ خيرٌ من إحياءِ ليلةٍ.

 

قوله: (مِنْ كُلِّ خَلَفٍ) بفتح اللَّام فيما يُخلَف في الخير، وسكونها فيما يخلف في الشَّرِّ، قال تعالى: {فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ} الآية [مريم: 59].

وقوله: (عُدُوْلُهُ) بالرَّفع فاعل يحمل.

قوله: (الغَالِيْنَ) بالغين المعجمة؛ أي: الَّذين يغلون في الدِّين؛ أي: يتجاوزون الحدَّ.

قوله: (وانْتِحَالَ … ) إلى آخره، بالحاء المهملة، يُقَالُ: انْتَحَلَ الشَّيء وتَنَحَّلَهُ ادَّعاهُ لنفسه وهو لغيره؛ وأُريدَ به هنا الدَّعوى الكاذبة، والانتحال والتَّأويل والغلوُّ ترجعُ كلُّها لمعنى واحد، وهو تغيير لفظ الحديث أو معناه؛ لغرض من الأغراض الفاسدة.

--------------------------------------------

(1) «تعالى» زيادة من (د).
তিনি এর দ্বারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করেছেন; কেননা মানুষ তাদের খাদ্য ও পানীয়ের মতো এই ইলমের মুখাপেক্ষী। সুতরাং এটি নফল (تطوع) সালাত ও সিয়ামের চেয়ে উত্তম; কারণ এটি ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)। আর উসামা ইবনে যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য (عدول) ব্যক্তিগণ এই ইলম বহন করবেন; তারা একে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি (انتحال) এবং জাহেলদের অপব্যাখ্যা (تأويل) থেকে মুক্ত রাখবেন।"(১)


 

এই হাদিস থেকে গ্রহণ করে 'আমিরুল মুমিনিন' উপাধি দেওয়া হয়েছে; আর যাদের এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে তাদের মধ্যে সুফিয়ান, ইবনে রাহওয়ায়হ, বুখারি এবং আরও অনেকে রয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য: (সুতরাং এটি নফল (تطوع) সালাতের চেয়ে উত্তম) বরং আবু সাঈদ খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: হাদিস আলোচনা করা কুরআন তিলাওয়াতের চেয়েও উত্তম। আর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: এক মুহূর্তের হাদিস আলোচনা পুরো রাত জেগে ইবাদত করার চেয়ে উত্তম।

 

তাঁর বক্তব্য: (প্রত্যেক প্রজন্ম থেকে - من كل خلف) ল্যাম বর্ণে 'ফাতহা' (যবর) যোগে শব্দটি কল্যাণের উত্তরসূরিদের (خلف) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর ল্যাম বর্ণে 'সুকুন' (জযম) যোগে অকল্যাণের উত্তরসূরিদের (خلف) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর তাদের পরে এমন অপদার্থ উত্তরসূরিদের (خلف) স্থলাভিষিক্ত করা হলো যারা সালাত নষ্ট করল..." [সূরা মারইয়াম: ৫৯]।

এবং তাঁর বক্তব্য: (এর নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ - عدوله) এটি রফ (رفع) অবস্থায় রফ-যুক্ত শব্দ এবং এটি 'ইয়াহমিলু' ক্রিয়ার ফায়েল বা কর্তা।

তাঁর বক্তব্য: (সীমালঙ্ঘনকারীগণ - الغالين) এটি 'গইন' বর্ণের মাধ্যমে; অর্থাৎ যারা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি (غلو) করে বা সীমা অতিক্রম করে।

তাঁর বক্তব্য: (এবং মিথ্যা দাবি - وانتحال...) শেষ পর্যন্ত, এটি 'হা' বর্ণের মাধ্যমে। বলা হয়ে থাকে: কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয় নিজের বলে দাবি করল যা আসলে অন্যের; আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মিথ্যা দাবি। মিথ্যা দাবি (انتحال), অপব্যাখ্যা (تأويل) এবং বাড়াবাড়ি (غلو) - এই সবকটি মূলত একই অর্থে ফিরে আসে, আর তা হলো কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে হাদিসের শব্দ বা অর্থে পরিবর্তন সাধন করা।

--------------------------------------------

(১) 'তাআলা' শব্দটি (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে অতিরিক্ত সংযোজন।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ২১)
وهذا الحديث رواه من الصَّحابة عليٌّ وابن عمر وابن عمرٍو وابن مسعودٍ وابن عبَّاسٍ وجابر بن سَمُرة ومعاذٌ وأبو أُمامة وأبو هريرة رضي الله عنهم، وأورده ابن عديٍّ من طرقٍ كثيرةٍ كلُّها ضعيفةٌ، كما صرَّح به الدَّارقطنيُّ وأبو نُعيمٍ وابن عبد البرِّ، لكن يمكن أن يتقوَّى بتعدُّد طرقه، ويكون حسنًا كما جزم به ابن كيكلدي العلائيُّ، وفيه تخصيص حملة السُّنَّة بهذه المَنْقَبَة العليَّة، وتعظيمٌ لهذه الأمَّة المحمَّديَّة، وبيانٌ لجلالة قدر المحدِّثين، وعلوِّ مرتبتهم في العالَمين؛ لأنَّهم يحمون مشارع الشَّريعة ومتون الرِّوايات من تحريف الغالين وتأويل الجاهلين؛ بنقل النُّصوص المُحكَمة لردِّ المتشابه إليها.

وقال النَّوويُّ في أوَّل «تهذيبه»: هذا إخبارٌ منه صلى الله عليه وسلم بصيانة هذا العلم وحفظه وعدالة ناقليه، وأنَّ الله تعالى يوفِّق له في كلِّ عصرٍ خَلَفًا من العُدُول يحملونه، وينفون عنه التَّحريف فلا يضيع، وهذا تصريحٌ بعدالة حامليه في كلِّ عصرٍ. وهكذا وقع ولله الحمد، وهو من أعلام النُّبوَّة، ولا يضرُّ كون


قوله: (وَيَكُوْنُ حَسَنًا)؛ أي: ولذا استدلَّ به ابن عبد البرِّ، ووافقه ابن الموَّاق من المتأخِّرين على أنَّ حامل كل علمٍ معروفُ العناية به فهو عدلٌ محمول في أمره أبدًا على العدالة حتَّى يتبيَّن جرحه.
এই হাদিসটি সাহাবীগণের (صحابة) মধ্যে আলী, ইবনে উমর, ইবনে আমর, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, জাবির বিন সামুরা, মুয়াজ, আবু উমামা এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি এটি অনেকগুলো সূত্র বা তুরুক (طرق) থেকে বর্ণনা করেছেন যার সবগুলোই দুর্বল (ضعيفة), যেমনটি দারাকুতনি, আবু নুআইম এবং ইবনে আবদিল বারর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তবে এর বহুবিধ সূত্রের কারণে এটি শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং হাসান (حسنًا) পর্যায়ের হতে পারে, যেমনটি ইবনে কায়কালদি আল-আলাঈ দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন। এতে সুন্নাহর বাহকদের জন্য এই উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ গুণের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে এবং এটি এই উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য এক সম্মান ও মুহাদ্দিসগণের (محدثين) মর্যাদার মহত্ব এবং বিশ্ববাসীর নিকট তাদের সুউচ্চ অবস্থানের বর্ণনা দেয়। কারণ তারা শরীয়তের উৎসসমূহ এবং বর্ণনার মূল পাঠ বা মতনসমূহকে (متون) সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে রক্ষা করেন; তারা অস্পষ্ট বা মুতাশাবিহ (متشابه) বিষয়গুলোকে নিরসন করার জন্য সুস্পষ্ট বা মুহকাম (محكمة) নসসমূহ বর্ণনা করার মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালন করেন।

ইমাম নববী তাঁর ‘তাহযীব’ গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন: এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এই ইলমের সুরক্ষা, সংরক্ষণ এবং এর বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি যুগে এই ইলমের জন্য একদল ন্যায়পরায়ণ (عدول) উত্তরসূরি নির্ধারণ করবেন যারা একে বহন করবেন এবং বিকৃতি থেকে একে রক্ষা করবেন, ফলে এটি বিনষ্ট হবে না। এটি প্রতিটি যুগের ইলম বহনকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ঘোষণা। আর এভাবেই বাস্তবতা অতিবাহিত হয়েছে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; এটি নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর এতে কোনো ক্ষতি হয় না যে...


তাঁর উক্তি: (এবং তা হাসান (حسنًا) হবে); অর্থাৎ: এই কারণেই ইবনে আবদিল বারর এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে ইবনে আল-মুওয়াক্ব তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন যে, ইলমের প্রতিটি বাহক যিনি এর প্রতি যত্নে সুবিদিত, তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل); তাঁর বিষয়টি সর্বদা ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) গুণের ওপর ন্যস্ত থাকবে যতক্ষণ না তাঁর কোনো ত্রুটি বা জারহ (جرح) প্রকাশিত হয়।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ২২)
بعض الفسَّاق يعرف شيئًا من علم الحديث؛ فإنَّ الحديث إنَّما هو إخبارٌ بأنَّ العدول يحملونه، لا أنَّ غيرهم لا يعرف شيئًا منه. انتهىَ.

على أنَّه قد يُقال: ما يعرفه الفسَّاق من العلم ليس بعلمٍ حقيقةً؛ لعدم عملهم، كما أشار إليه المولى سعد الدِّين التَّفتازانيُّ في تقرير قول «التَّلخيص»: وقد يُنزَّل العالم منزلة الجاهل، وصرَّح به الإمام الشَّافعيُّ في قوله: ولا العلم إلَّا مع التُّقى، ولا العقل إلَّا مع الأدب.

ولَعَمْري


قوله: (إِنَّمَا هُوَ إِخْبَارٌ) رَدَّهُ العراقيُّ فقال: لا يصحُّ حمله على الخبر؛ لوجود من يحمل العلم وهو غير عدل وغير ثقة فلم يبقَ له محمل إلَّا على الأمر، ومعناه: أنَّه أمر للثقات بحمل العلم؛ لأنَّ العلم إنَّما يُقبل عنهم، والدَّليل على ذلك أنَّ في بعض طرقه عند ابن أبي حَاتِم: «ليَحملْ هذا العلم» بلام الأمر. انتهى.

وهذا يَرُدُّ ما ذهب إليه ابنُ عبد البَرِّ.

قوله: (لَيْسَ بِعِلْمٍ حَقِيْقَةً) ليس المراد بالحقيقة الحقيقة اللَّفظيَّة بل المعنويَّة، فإنَّ الحقيقة والمجاز كما يأتيان في الألفاظ كذلك يَرِدَانِ في المعاني كما نقلته في «الفواكه الجنوية»، كما يقالُ في الحياة الحقيقية هي الأخروية لا الدنيوية ونحو ذلك.

وذكر ابن الصَّلاح في «فوائد رحلته» أنَّ بعضهم ضبط الحديث بضمِّ الياء وفتح الميم مبنيًّا للمفعول ورفع «العلم»، وفتح العين واللام من «عَدُولَة» وآخره تاء فوقية -فعلة بمعنى فاعل-؛ أي: كامل في عدالته؛ والمعنى أنَّ هذا العلم يُحمل؛ -أي: يُؤخذ- عن كلِّ خلفٍ عدلٍ فهو أمر بأخذ العلم عن العدول، قال: والمعروف في ضبطه فتح ياء «يَحْمِلُ» مبنيًا للفاعل ونصب «العلمَ» مفعوله والفاعل «عدوله» جمع عدل. انتهى.

قوله: (وَلَعَمْرِي) اللام قسمية، و (العمر) في «القاموس»: بالفتح وبالضَّمِّ، وبضمتين: الحياة وجمعه أعمار. انتهى.

وفي «كليَّات أبي البقاء»: الفتح غالب في القسم ولا يجوز فيه الضَّمُّ. انتهى.

لكن في «شرح أدب الكاتب»: أنَّه سُمع نادرًا (لعُمرك) بضم العين.

وفي «نسيم الرِّياض»: العَمر بالفتح مصدر (عَمَّر) المشدَّد، وأصلُهُ (التَّعمير) فحُذفت زوائده؛ وله معنيان: تعمير الله إياك أو قلبك، وهو على هذا صفة من صفاته تعالى فيصحُّ القَسَم به حقيقة، وهذا ما جنح له الحنفيَّة والنُّحاة.

و (العُمر) بضمِّ العين؛ مخصوص بالإنسان وهو مدَّة وجوده في الدُّنيا فلا يصحُّ القَسم به شرعًا،
কিছু ফাসেক ব্যক্তিও হাদিস শাস্ত্রের কিছুটা জ্ঞান রাখে; কারণ হাদিস হলো এই মর্মে একটি সংবাদ যে, ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিরাই এটি বহন করবেন, এর অর্থ এটি নয় যে অন্যরা এর কিছুই জানবে না। সমাপ্ত।

তবে বলা যেতে পারে যে, ফাসেকরা যা জানে তা প্রকৃতপক্ষে জ্ঞান নয়; কারণ তারা সে অনুযায়ী আমল করে না। যেমনটি আল্লামা সাদউদ্দীন তাফতাজানি 'আত-তালখিস'-এর ব্যাখ্যায় ইঙ্গিত করেছেন: কখনও কখনও একজন আলেমকে (عالم) একজন জাহেলের (جاهل) স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ইমাম শাফেয়ীও এটি স্পষ্টভাবে বলেছেন: 'তাকওয়া ছাড়া কোনো ইলম নেই এবং আদব ছাড়া কোনো বুদ্ধি নেই।'

আমার জীবনের কসম


তাঁর উক্তি: (এটি কেবলই একটি সংবাদ) - আল্লামা ইরাকি এটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন: একে সংবাদ হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক নয়; কারণ এমন ব্যক্তিও ইলম বহন করেন যিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) নন এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন। তাই এটিকে 'আদেশ' হিসেবে গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই। এর অর্থ হলো: এটি নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তিদের প্রতি ইলম বহনের একটি আদেশ; কারণ ইলম কেবল তাঁদের থেকেই গ্রহণ করা হয়। এর প্রমাণ হলো ইবনে আবি হাতিমের কিতাবে বর্ণিত কিছু সূত্রে 'লাম-এ-আমর' (আদেশসূচক লাম) সহকারে 'এই ইলম যেন বহন করা হয়' শব্দে এসেছে। সমাপ্ত।

এটি ইবনে আব্দুল বার যে মত পোষণ করেছেন তাকে খণ্ডন করে।

তাঁর উক্তি: (প্রকৃতপক্ষে এটি জ্ঞান নয়) - এখানে 'প্রকৃত' (হাকিকত) দ্বারা আক্ষরিক অর্থ উদ্দেশ্য নয় বরং এর মর্মার্থগত অর্থ উদ্দেশ্য। কারণ রূপক ও প্রকৃত অর্থের ব্যবহার যেমন শব্দের ক্ষেত্রে ঘটে, তেমনি অর্থের ক্ষেত্রেও ঘটে, যা আমি 'আল-ফাওয়াকিহুল জানুবিয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। যেমন বলা হয়—প্রকৃত জীবন হলো আখিরাতের জীবন, দুনিয়ার জীবন নয়; এবং এই জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ।

ইবনুস সালাহ তাঁর 'ফাওয়াইদু রিহলাতিহি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কেউ কেউ হাদিসটিকে 'ইয়া' বর্ণে পেশ এবং 'মীম' বর্ণে জবর দিয়ে মাজহুল (কর্মবাচ্য) হিসেবে এবং 'আল-ইলম' শব্দটিকে রাফা (পেশ) দিয়ে পড়েছেন। আর 'আদুলাহ' শব্দটির 'আইন' ও 'লাম' বর্ণে জবর এবং শেষে 'তা' যুক্ত করে 'ফালাহ' ওজনে ফায়েল (কর্তৃকারক) অর্থে পড়েছেন; অর্থাৎ যে তার ন্যায়পরায়ণতায় পূর্ণ। এমতাবস্থায় অর্থ হবে: এই ইলম প্রতিটি পরবর্তী প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ (عدল) ব্যক্তি থেকে গ্রহণ করা হবে; সুতরাং এটি ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিদের থেকে ইলম গ্রহণের একটি আদেশ। তিনি বলেন: তবে এর পরিচিত পাঠ হলো 'ইয়াহমিলু' শব্দে 'ইয়া' বর্ণে জবর দিয়ে মারুফ (কর্তৃবাচ্য) হিসেবে এবং 'আল-ইলম' শব্দটিকে নসব (জবর) দিয়ে মাফউল (কর্ম) হিসেবে এবং 'আদুলুহু' শব্দটিকে ফায়েল (কর্তা) হিসেবে পড়া, যা ন্যায়পরায়ণ (عدل) শব্দের বহুবচন। সমাপ্ত।

তাঁর উক্তি: (আমার জীবনের কসম) - এখানে 'লাম' শপথের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। 'আল-কামুস' গ্রন্থে এসেছে: 'আম্বর' শব্দটি জবর ও পেশ উভয় যোগে এবং দুই পেশ যোগে পড়া যায়, যার অর্থ জীবন; এর বহুবচন হলো 'আ'মার'। সমাপ্ত।

আবুল বাকার 'কুল্লিয়াত' গ্রন্থে রয়েছে: শপথের ক্ষেত্রে জবর দিয়ে পড়াই অধিক প্রচলিত এবং এতে পেশ দিয়ে পড়া জায়েজ নয়। সমাপ্ত।

তবে 'শারহু আদাবিল কাতিব' গ্রন্থে রয়েছে যে, বিরল ক্ষেত্রে 'আইন' বর্ণে পেশ দিয়েও শপথ শোনা গেছে।

'নাসিমুর রিয়াদ' গ্রন্থে রয়েছে: জবর যোগে 'আম্বর' শব্দটি তাশদীদযুক্ত 'আম্মারা' এর মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার মূল ছিল 'তামীর', পরবর্তীতে অতিরিক্ত অক্ষরগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর দুটি অর্থ রয়েছে: আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার দীর্ঘায়ু দান অথবা আপনার অন্তরকে আবাদ করা। এই হিসেবে এটি মহান আল্লাহর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, তাই এর মাধ্যমে প্রকৃত অর্থেই শপথ করা সহিহ। হানাফি ফকিহগণ এবং ব্যাকরণবিদগণ এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন।

আর 'আইন' বর্ণে পেশ যোগে 'উমর' শব্দটি মানুষের জন্য নির্দিষ্ট, যা দুনিয়াতে তার অবস্থানের সময়কালকে বোঝায়; তাই শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এর মাধ্যমে শপথ করা সঠিক নয়।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ২৩)
إنَّ هذا الشَّأن من أقوى أركان الدِّين، وأوثق عُرى اليقين، لا يَرْغَبُ في نشره إلَّا صادقٌ تقيٌّ، ولا يَزْهَدُه إلَّا كلُّ منافقٍ شقيٍّ، قال ابن القطَّان: ليس في الدُّنيا مبتدعٌ إلَّا وهو يُبغض أهل الحديث، وقال الحاكم: لولا كثرة طائفة المحدِّثين على حفظ الأسانيد لَدرس منار الإسلام، ولتمكَّن أهل الإلحاد والمبتدعة من وضع الأحاديث وقلب الأسانيد.

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال: «العلم ثلاثةٌ: آيةٌ مُحكمَةٌ أو سُنَّةٌ قائمةٌ، أو فريضةٌ عادلةٌ، وما سوى ذلك فهو فضلٌ» رواه أبو داود وابن ماجه، قال في «شرح المشكاة»: والتَّعريف في «العلم» للعهد، وهو ما عُلِمَ من الشَّارع، وهو العلم النَّافع في الدِّين، وحينئذٍ العلم مطلقٌ، فينبغي تقييده بما يُفهَم منه المقصود، فيُقال: علم الشَّريعة معرفة ثلاثة أشياء، والتَّقسيم حاصرٌ، وبيانه: أن قوله: «آيةٌ محكمةٌ» يشتمل على معرفة كتاب الله تعالى وما يتوقَّف عليه معرفته؛ لأنَّ المُحكَمة هي التي أُحكِمت عبارتُها،


 

لكنَّ الله أَقسم به في قوله: {لَعُمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ} [الحجر: 72] على قراءة ضمِّ العين، ولله أن يُقسم بما شاء، فأصله الضمُّ؛ لاختصاصه به في غير القسم فإذا أريد بالمفتوح هذا لا بأس أن يُقال إنَّه من قبيل معناه أو معدول به عنه، وإن لم يَرد هذا المعنى في قَسَمِ النَّاس صحَّ أن يقال إنَّه كناية؛ لتوقفه على النِّيَّة كالمشترك. انتهى.

وفي «القاموس»: في الحديث النَّهي عن قول لعمر الله.

قوله: (إنَّ هَذَا الشَأْنَ)(1)؛ أي: علمَ الحديث.

قوله: (عُرَى) بضم العين المهملة جمع عروة.

قوله: (إِلَّا وَهُوَ يُبْغِضُ أَهْلَ الْحَدِيْثِ)؛ أي: لمعارضة حديثه لما ينتحله في ترويج بدعته.

قوله: (مِنْ وَضْعِ الأَحَادِيثِ)؛ أي: مع اشتباهها بالصَّحيح وإضلال النَّاس بالعمل بها، وإلَّا فقد وضع كثيرون منهم كثيرًا منها، أو المراد أكثر ممَّا وضعوا.

قوله: (فَهُوَ فَضْلٌ)؛ أي: زائدٌ غير محتاج إليه.

قوله: (وَمَا يَتَوَقَّفُ عَلَيْهِ مَعْرِفَتُهُ)؛ أي: من العلوم كالنَّحو واللُّغة والبيان.

--------------------------------------------

(1) في المطبوع: «لشأن».
নিশ্চয়ই এই বিষয়টি (ইলমে হাদিস) দ্বীনের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ এবং একিনের (দৃঢ় বিশ্বাসের) সবচেয়ে মজবুত অবলম্বন। সত্যবাদী ও মুত্তাকি ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এর প্রচারে আগ্রহী হয় না এবং দুর্ভাগা মুনাফিক ছাড়া কেউ এতে অনীহা প্রদর্শন করে না। ইবনুল কাত্তান বলেন: পৃথিবীতে এমন কোনো বিদয়াতি (مبتدع) নেই যে হাদিস বিশারদদের ঘৃণা করে না। আল-হাকিম বলেন: বর্ণনাকারীদের সূত্র বা বর্ণনাধারা (الأسانيد) সংরক্ষণে যদি মুহাদ্দিসগণের এক বিশাল জামাত না থাকত, তবে ইসলামের আলোকবর্তিকা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং নাস্তিক ও বিদয়াতিরা (مبتدع) হাদিস জালকরণ (وضع) ও বর্ণনাধারা (الأسانيد) পাল্টে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যেত।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জ্ঞান হলো তিনটি: সুস্পষ্ট আয়াত (آية محكمة), অথবা সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ (سنة قائمة), অথবা সুষম বিধান (فريضة عادلة); এছাড়া যা আছে তা অতিরিক্ত জ্ঞান।» এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ‘শারহুল মিশকাত’-এ বলা হয়েছে: এখানে ‘জ্ঞান’ শব্দটি নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা শরিয়তদাতার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত; আর তা হলো দ্বীনের উপকারী জ্ঞান। এমতাবস্থায় জ্ঞান এখানে নিঃশর্ত, তাই একে এমন অর্থে সীমাবদ্ধ করা উচিত যা দ্বারা উদ্দিষ্ট লক্ষ্য বোঝা যায়। ফলে বলা হবে: শরিয়তের জ্ঞান হলো তিনটি বিষয় জানা। এই বিভাজনটি সীমাবদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ। এর ব্যাখ্যা হলো: তাঁর বাণী «সুস্পষ্ট আয়াত (آية محكمة)» মহান আল্লাহর কিতাব জানা এবং তা জানার ওপর যা কিছু নির্ভরশীল তা অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ ‘মুহকাম’ (সুস্পষ্ট) হলো সেই আয়াত যার শব্দ ও অর্থ সুসংহত।


 

কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে এর মাধ্যমে শপথ করেছেন: {আপনার জীবনের শপথ! নিশ্চয়ই তারা তাদের নেশায় অন্ধ হয়ে ঘুরছিল} [হিজর: ৭২] এখানে আইন বর্ণে পেশ দিয়ে পাঠ করা অনুযায়ী। আল্লাহর জন্য জায়েজ তিনি যা ইচ্ছা তা দিয়ে শপথ করা। মূলত এর মূলরূপ হলো পেশযুক্ত; কারণ শপথ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে এটি এর জন্যই নির্দিষ্ট। সুতরাং যখন জবরযুক্ত শব্দ দিয়ে এটি উদ্দেশ্য করা হবে, তখন এটি তার সমার্থবোধক বা তা থেকে পরিবর্তিত বলাতে কোনো বাধা নেই। আর যদি মানুষের শপথের ক্ষেত্রে এই অর্থ উদ্দেশ্য না হয়, তবে একে রূপক বলা সঠিক হবে; কারণ এটি নিয়তের ওপর নির্ভরশীল যেমনটি দ্ব্যর্থবোধক শব্দের ক্ষেত্রে হয়। সমাপ্ত।

এবং ‘আল-কামুস’-এ রয়েছে: হাদিসে ‘লা আমরুল্লাহ’ (আল্লাহর জীবনের শপথ) বলতে নিষেধ করা হয়েছে।

তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই এই বিষয়টি)(১); অর্থাৎ: হাদিস বিজ্ঞান।

তাঁর বাণী: (অবলম্বনগুলো); এটি ‘উরওয়াহ’ শব্দের বহুবচন।

তাঁর বাণী: (সে হাদিস বিশারদদের ঘৃণা করে); অর্থাৎ: তার প্রচারিত বিদয়াতের প্রসারে হাদিস অন্তরায় হওয়ার কারণে।

তাঁর বাণী: (হাদিস জালকরণ (وضع) থেকে); অর্থাৎ: বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের সাথে জাল হাদিসের সাদৃশ্য তৈরি হওয়া এবং তা আমল করার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার আশঙ্কা থেকে। নতুবা তাদের অনেকেই প্রচুর হাদিস জাল (وضع) করেছে; অথবা এর উদ্দেশ্য হলো—তারা যা জাল করেছে তার চেয়েও অধিক জাল করার সুযোগ পাওয়া।

তাঁর বাণী: (তা অতিরিক্ত); অর্থাৎ: অতিরিক্ত বিষয় যার আবশ্যিক প্রয়োজন নেই।

তাঁর বাণী: (এবং যা জানার ওপর তা নির্ভর করে); অর্থাৎ: সেই সব জ্ঞান যেমন নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (ভাষা) এবং বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র)।

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: «বিষয়টির জন্য»।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ২৪)
بأن حُفِظت من الاحتمال والاشتباه، فكانت أمَّ الكتاب، فتُحمَل المتشابهات عليها وتُردُّ إليها، ولا يتمُّ ذلك إلَّا للماهر الحاذق في علم التَّفسير والتَّأويل، الحاوي لمقدِّماتٍ يُفتقَر إليها من الأصلين وأقسام العربيَّة، وقوله: «سُنَّةٌ قائمةٌ» معنى قيامها: ثَباتُها ودوامُها بالمُحافَظَة عليها، مِنْ «قامت السُّوق» إذا نَفَقَت؛ لأنَّها إذا حُوفِظ عليها كانت كالشَّيء النَّافق الذي تتوجَّه إليه الرَّغبات، ويتنافس فيه المحصِّلون بالطَّلِبات، ودوامُها: إمَّا أن يكون بحفظ أسانيدها من معرفة أسماء الرِّجال والجرح والتعديل، ومعرفة الأقسام مِنَ الصَّحيح والحسن والضَّعيف المتشعِّب منه أنواعٌ كثيرةٌ، وما يتَّصل بها من المتمِّمات ممَّا يُسمَّى علمَ الاصطلاح، ممَّا يأتي في الفصل الثَّالث إن شاء الله تعالى، وإما أن يكون بحفظ متونها من التَّغيير والتَّبديل؛ بالإتقان وتفهُّم معانيها واستنباط العلوم منها، كما سيأتي إن شاء الله تعالى(1) في هذا الشَّرح بعون الله سبحانه؛ لأنَّ جُلَّها بل كلَّها من جوامع كَلِمِهِ التي اختُصَّ بها، لا سيَّما هذه الكلمة الفاذَّة الجامعة -مع قِصَر متنها وقُرْب طرقها- علومَ الأوَّلين والآخرين، وقوله: «أو فريضةٌ عادلةٌ» أي: مستقيمةٌ مُستَنبَطَةٌ من الكتاب والسُّنَّة والإجماع، وقوله: «وما سوى ذلك فهو فضلٌ» أي: لا مدخل له في أصل علوم الدِّين، بل ربَّما يُستعاذ منه حينًا، كقوله: «أعوذ بك من علمٍ لا ينفع»، ولله دَرُّ أبي بكرٍ حميدٍ القرطبيِّ، فلقد أحسن وأجاد حيث قال رحمه الله:


 

قوله: (من الأَصْلَيْن)؛ أي: التَّوحيدَ وأصولَ الفقهِ.

قوله: (الفَاذَّة) بالفاء والذَّال المعجمة المشدَّدة؛ أي: المنفردة.

--------------------------------------------

(1) سقط من (ص) قوله: «منها، كما سيأتي إن شاء الله تعالى».
কারণ তা সংশয় ও অস্পষ্টতা থেকে সংরক্ষিত হয়েছে, ফলে তা হয়েছে কিতাবের মূল ভিত্তি (উম্মুল কিতাব)। সুতরাং অস্পষ্ট বিষয়াবলিকে (متشابهات) এর ওপর প্রয়োগ করা হবে এবং এর মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। আর এটি কেবল তাফসির ও তাবিল বিদ্যায় পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব, যিনি মূলনীতিদ্বয় এবং আরবির বিভিন্ন শাখা থেকে প্রয়োজনীয় প্রারম্ভিক জ্ঞান অর্জন করেছেন। এবং তাঁর বাণী: «সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নত»; এখানে এর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অর্থ হলো: তা সংরক্ষণের মাধ্যমে এর স্থায়িত্ব ও অবিচলতা। এটি «বাজার জমে ওঠা» (قامت السُّوق) পরিভাষা থেকে এসেছে যখন সেখানে বেচাকেনা ধুম পড়ে; কারণ যখন তা সংরক্ষিত হয়, তখন এটি এমন এক চাহিদাসম্পন্ন বস্তুর মতো হয়ে যায় যার প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি হয় এবং ইলম অন্বেষণকারীরা তা হাসিলের জন্য প্রতিযোগিতা করে। আর এর স্থায়িত্ব হবে: হয়তো বর্ণনাকারীদের নাম জানা এবং জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) তথা রাবীদের দোষগুণ বিচারবিদ্যার মাধ্যমে এর সনদসমূহের (أسانيد) সংরক্ষণের দ্বারা, এবং সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) ও দুর্বল (ضعيف) —যা থেকে আরও অনেক প্রকারের সৃষ্টি হয়েছে—এর প্রকারভেদসমূহ জানার মাধ্যমে; আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরিপূরক বিষয়াবলি যাকে পরিভাষা বিজ্ঞান বলা হয়, যা তৃতীয় পরিচ্ছেদে আসবে ইনশাআল্লাহ তাআলা। অথবা এর মতনসমূহের (متون) সংরক্ষণের মাধ্যমে যাতে কোনো পরিবর্তন ও পরিবর্ধন না ঘটে; আর তা হবে এর নির্ভুলতা নিশ্চিত করা, এর মর্ম উপলব্ধি করা এবং তা থেকে জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্যে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইনশাআল্লাহ তাআলা আসবে(১); কারণ এর অধিকাংশ বরং পুরোটাই তাঁর «জাওয়ামিউল কালিম» (সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ বাণী)-এর অন্তর্ভুক্ত যা বিশেষভাবে তাঁকে দান করা হয়েছে। বিশেষ করে এই অনন্য ও সংকলনকারী বাণীটি—যার মতন (متن) সংক্ষিপ্ত এবং সনদসমূহ (طرق) নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও—তা পূর্বাপর সকলের জ্ঞানকে ধারণ করে আছে। আর তাঁর বাণী: «অথবা ইনসাফপূর্ণ ফরজ বিধান»; অর্থাৎ: যা সঠিক এবং যা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এবং তাঁর বাণী: «আর এ ছাড়া যা আছে তা অতিরিক্ত»; অর্থাৎ: দ্বীনি জ্ঞানের মূল বিষয়ের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই, বরং কখনো কখনো তা থেকে পানাহ চাওয়া হয়, যেমন তাঁর বাণী: «আমি আপনার নিকট এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাই যা কোনো উপকারে আসে না»। আবু বকর হুমাইদ আল-কুরতুবী কতই না চমৎকার বলেছেন, তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও উত্তম কাজ করেছেন যখন তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:


 

তাঁর বাণী: (মূলনীতিদ্বয় থেকে); অর্থাৎ: তাওহিদ এবং উসুলুল ফিকহ।

তাঁর বাণী: (আল-ফাযযাহ); 'ফা' এবং 'যাল' বর্ণে তাশদীদসহ; এর অর্থ: অনন্য বা একক।

--------------------------------------------

(১) (সদ) পাণ্ডুলিপি থেকে তাঁর এই উক্তিটি বাদ পড়েছে: «তা থেকে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে»।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ২৫)
نور الحديث مُبينٌ فَادْنُ واقتبسِ … واحْدُ الرِّكابَ له نحو الرِّضى النَّدِسِ

واطلُبْهُ بالصِّين فهْو العلم إن رُفِعَتْ … أعلامُه بِرُباها يا بن أندلسِ

فلا تُضِعْ في سوى تقييد شارِدِه … عُمْرًا يفوتك بين اللَّحْظ والنَّفَسِ


قوله: (فَادْنُ) أمرٌ من الدُّنوِّ وهو القُرب.

وقوله: (واقْتَبِسْ) أمرٌ من الاقتباس، وهو من النَّار الأخذ، ومن العلم الاستفادة.

قوله: (وَاحْدُ الرِّكَابِ) أُحْدُ أمرٌ من الحدو، يقال: حدا الإبل يحدوها وبها حدوًا: زجرها وساقها، فدال (احدُ) مضمومة، و (الرِّكاب) -ككتاب- الإبل كما في «القاموس»، قال: واحدتها راحلة. انتهى.

أي: لا واحد له من لفظه، وقيل واحده: ركوبة، وهي كالرَّكوب بالفتح: النَّاقة المعدَّة للحمل والرَّكوب كما في «العناية»، يقال: ما له ركوبة ولا حمولة ولا حلوبة؛ أي: ما يركبه ويحمل عليه ويحلبه.

وقوله: (نَحْوَ الرِّضى)؛ أي: جهة الرجل الرَّضيِّ؛ أي: المرضيِّ الأخلاق والأطوار.

وقوله: (النَّدس) بضم الدال المهملة وكسرها، وفيه السُّكون أيضًا بعد النُّون المفتوحة: وهو الرَّجل السَّريع الفهم، وفعله كفرح، كما في «القاموس»؛ وهو كناية عن التَّعب في تحصيله وأخذه عن الثِّقات ولو بتحمُّل المشاقِّ العديدة بالأسفار البعيدة وقد نوَّره بما بعده.

قوله: (وَاطْلُبْهُ) المأمور (ابن الأندلس) في قوله: يا ابن أندلس (بالصِّين) ولو بَعُدَت الشِّقة وعظمت المشقَّة (فهو العلم)؛ أي: النَّافع الَّذي لا ينبغي الجدُّ والاجتهاد في غيره (إن رفعت أعلامه) كنايةً عن العمل به وإظهاره ونشره للنَّاس، و (الرُّبى) بضم الراء جمع رَبْوة، مثَّلث الرَّاء كالرُّباوة: ما ارتفع من الأرض والضمير في (رُبَاها) للأَعْلَامِ جمع عَلَمَ بالتَّحريك وهو الرَّاية.

قوله: (فَلَا تُضِعْ) بضمِّ الفوقيَّة من الإضاعةِ، ومفعوله قوله: (عمر … ) إلى آخره، وقوله: (شَارِدَةٌ) بإضافةِ شاردٍ إلى الضَّمير العائد على علم الحديث؛ أي: ما شَرَدَ وتَفَرَّقَ منه.
নুরুল হাদিস (হাদিসের নূর) সুস্পষ্ট, অতএব নিকটবর্তী হও এবং তা আহরণ করো … আর সন্তোষভাজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তির অভিমুখ পানে বাহন চালিত করো।

একে চীনে গিয়ে হলেও অন্বেষণ করো, কারণ এটিই সেই প্রকৃত জ্ঞান যার পতাকা … উচ্চভূমিতে উত্তোলন করা হয়েছে, হে আন্দালুস-তনয়!

এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত অন্য কাজে এমন জীবন … বিনষ্ট করো না, যা চোখের পলক ও নিঃশ্বাসের ব্যবধানে তোমার হাতছাড়া হয়ে যায়।


তাঁর উক্তি: (ফাদনু/فَادْنُ) এটি 'আদ-দুনুউ' থেকে উদ্ভূত একটি আদেশসূচক ক্রিয়া, যার অর্থ হলো নিকটবর্তী হওয়া।

তাঁর উক্তি: (ওয়াকতাবিস/واقْتَبِسْ) এটি 'আল-ইকতিবাস' থেকে উদ্ভূত একটি আদেশসূচক ক্রিয়া; যার অর্থ আগুন থেকে শিখা গ্রহণ করা এবং জ্ঞান থেকে উপকার লাভ করা।

তাঁর উক্তি: (ওয়াহদুর রিকাব/وَاحْدُ الرِّكَابِ) 'উহদু' শব্দটি 'আল-হাদউ' থেকে উদ্ভূত একটি আদেশসূচক ক্রিয়া। বলা হয়: সে উটকে হাঁকিয়ে নিয়ে গেল; অর্থাৎ সেটিকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। সুতরাং 'উহদু' (احدُ) শব্দের 'দাল' বর্ণটি পেশযুক্ত। আর 'আর-রিকাব' (الرِّكাব) -'কিতাব' শব্দের ওজনে- এর অর্থ হলো উট, যেমনটি 'আল-কামুস' গ্রন্থে এসেছে; তিনি বলেছেন: এর একবচন হলো 'রাহিলাহ'। সমাপ্ত।

অর্থাৎ: এর মূল শব্দ থেকে কোনো একবচন নেই। কেউ কেউ বলেছেন এর একবচন হলো: 'রাকুবাহ', যা যবরযুক্ত 'রাকুব'-এর মতো। এটি সেই উটনী যা মাল বহন এবং আরোহণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়, যেমনটি 'আল-ইনায়াহ' গ্রন্থে রয়েছে। বলা হয়: তার কোনো আরোহণের পশু নেই, মালবাহী পশু নেই এবং দুগ্ধবতী পশুও নেই; অর্থাৎ যাতে সে আরোহণ করবে, যাতে মাল বহন করবে এবং যা থেকে সে দুধ দোহন করবে।

তাঁর উক্তি: (নাহওয়ার রিদা/نَحْوَ الرِّضى); অর্থাৎ সন্তোষভাজন ব্যক্তির দিকে; অর্থাৎ যার চরিত্র ও স্বভাব পছন্দনীয়।

তাঁর উক্তি: (আন-নাদাস/النَّدس) দাল বর্ণে পেশ বা যের দিয়ে পঠিত হয়, আবার নুন বর্ণে যবর হওয়ার পর দাল বর্ণটি সাকিনও হতে পারে। এর অর্থ হলো অত্যন্ত প্রখর মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি। এর ক্রিয়ারূপ 'ফারিহা' এর মতো, যেমনটি 'আল-কামুস' গ্রন্থে উল্লেখ আছে। এটি মূলত নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিদের নিকট হতে জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূরপ্রসারী সফরের কষ্ট সহ্য করাসহ বিবিধ শ্রম ও সাধনার একটি রূপক বর্ণনা; যা পরবর্তী বাক্য দ্বারা তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন।

তাঁর উক্তি: (ওয়াতলুবহু/وَاطْلُبْهُ) এখানে যাকে আদেশ করা হয়েছে সে হলো 'আন্দালুস-তনয়', যা তাঁর উক্তি: "হে আন্দালুস-তনয়" (يا ابن أندلس) এর মধ্যে উল্লেখ আছে। (বিস-সিন/بالصِّين) অর্থাৎ চীনে গিয়ে হলেও, যদিও দূরত্ব অনেক বেশি হয় এবং কষ্ট অনেক বৃদ্ধি পায়। (ফাহুওয়াল ইলমু/فهو العلم) অর্থাৎ এটিই সেই প্রকৃত উপকারী জ্ঞান যা ব্যতীত অন্য কিছুতে প্রচেষ্টা ও সাধনা করা সমীচীন নয়। (ইন রুফিয়াত আলামুহু/إن رفعت أعلامه) এটি উক্ত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা এবং মানুষের নিকট তা প্রকাশ ও প্রচার করার একটি রূপক। আর (আর-রুবা/الرُّبى) র বর্ণে পেশযোগে এটি 'রাবওয়াহ' শব্দের বহুবচন, যা র বর্ণের তিন হরকতেই (যবর, যের, পেশ) পড়া যায়; যেমন- 'রুবাহওয়াহ': যার অর্থ জমিনের উঁচু অংশ। 'রুবাহা' (رُبَاها) শব্দের সর্বনামটি 'আল-আলাম' (الأَعْلَامِ) শব্দের দিকে নির্দেশ করছে, যা যবরযুক্ত 'আলাম' শব্দের বহুবচন এবং এর অর্থ হলো নিশান বা পতাকা।

তাঁর উক্তি: (ফালা তুদি’/فَلَا تُضِعْ) শুরুতে পেশযুক্ত বর্ণসহ এটি 'ইদাআহ' (বিনষ্ট করা) থেকে উদ্ভূত। এর কর্মপদ বা অবজেক্ট হলো "জীবন" (عمر ...) থেকে শেষ পর্যন্ত। আর তাঁর উক্তি: (শারিদাহ/شَارِدَةٌ) এর অর্থ হলো হাদিস শাস্ত্রের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামের সাথে 'শারীদ' শব্দের সম্বন্ধ করা; অর্থাৎ এই শাস্ত্রের যা কিছু বিক্ষিপ্ত ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَخَلِّ سمْعَك عن بلوى أخي جَدِلٍ … شُغْلُ اللَّبيبِ بها ضَرْبٌ من الهَوَسِ

ما إنْ سَمَتْ بأبي بكرٍ ولا عمرٍ … ولا أتتْ عن أبي هِرٍّ ولا أَنَسِ

إلَّا هوًى وخصوماتٍ ملفَّقةٍ … ليست برطْبٍ إذا عُدَّتْ ولا يَبَسِ

فلا يغرَّك من أربابها هَذَرٌ … أجْدى وجدِّك منها نَغْمة الجَرَسِ


قوله: (وخَلِّ سَمْعَكَ … ) إلى آخره؛ أي: أفرغ سمعك، والمراد عدم السَّماع رأسًا.

وقوله: (عَنْ بَلْوَى أَخِي جَدَلٌ) هو بالجيم والدَّال محرَّكًا: اللّدد في الخصومة والقدرة عليها، كما في «القاموس»؛ أي: عمَّا ابتُلي به صاحب الشِّدَّة في الخصومة والمجادلة.

وقوله: (شُغْلُ اللَّبِيْبِ) مبتدأٌ و (بها) متعلق به، والضمير للبلوى، و (ضربٌ)؛ أي: نوع (من الهوس) خبره، والجملة صفة لبلوى، والهوس بالتَّحريك: طرفٌ من الجنون واسم المفعول منه مُهْوَس، كمعظم، كما في «القاموس».

قوله: (مَا إِنْ سَمَتْ … ) إلى آخره، ما نافية، وإن زائدة، وسمت بمعنى علت، وضميره للبلوى المذكورة، فالجملة صفةٌ لها أيضًا، ويصحُّ أن يكون استئنافًا بيانيًّا؛ علَّة لعدم سماعها والاشتغال بها كأنَّه قال: لأنَّها لم تَسْمُ من السُّمو (بأبي بكر … ) إلى آخره، و (أبو هر) بكسر الهاء هو أبو هريرة رضي الله عنه؛ أي: لم تُسند إليهما أصلًا؛ لعدم وقوعها منهما ولو كان فيها خير لسبقانا إليها، فهي مجرد بدعة مذمومة ولو فرض أنَّهما تلبَّسا بهما إذ لا يتلبسان إلَّا بحَسن.

قوله: (لَيْسَت بِرَطْبٍ) بفتح الراء؛ أي: بشيء رطب. وقوله: (إذا عُدَّتَ) بضمِّ العين وتشديد الدَّال المهملتين، مبني للمجهول من العدِّ معترض بين المتعاطفين، و (اليبس) بالفتح والكسر الَّذي كان رطبًا فجفَّ، والمعنى: ليست شيئًا من الأشياء رطبها أو يابسها، فنزَّلها منزلةَ العدم.

قوله: (هَذَرٌ) بتحريك المعجمة؛ وهو سقط الكلام، أو الكثير الرَّديء، يٌقال: هَذِرَ كلامه كَفَرِحَ يهذر، ويهذر بالكسر والضم هذرًا كَثُر في الخطأ والباطل.
এবং তোমার শ্রবণেন্দ্রিয়কে বিমুখ রাখো ঝগড়াটে ব্যক্তির আপদ হতে … বিচক্ষণ ব্যক্তির এতে মশগুল হওয়া এক প্রকার উন্মাদনা।

তা আবু বকর কিংবা উমরের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেনি … কিংবা তা আবু হির ও আনাস থেকে বর্ণিত হয়ে আসেনি।

কেবল প্রবৃত্তি এবং সাজানো কিছু বিবাদ মাত্র … বিচারের মানদণ্ডে যা সতেজ কিংবা শুষ্ক (গুরুত্বপূর্ণ) কোনো কিছুই নয়।

সুতরাং এর প্রবক্তাদের প্রলাপ যেন তোমাকে প্রতারিত না করে … তোমার রবের শপথ, এর চেয়ে ঘণ্টার ধ্বনিও অধিক ফলদায়ক।


তাঁর উক্তি: (এবং তোমার শ্রবণেন্দ্রিয়কে বিমুখ রাখো...) শেষ পর্যন্ত; অর্থাৎ: তোমার কানকে ফারেগ বা বিমুখ করো, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পুরোপুরি না শোনা।

এবং তাঁর উক্তি: (ঝগড়াটে ব্যক্তির আপদ থেকে) এটি ‘জিম’ ও ‘দাল’ বর্ণের হরকত যোগে গঠিত: বিবাদে চরম হঠকারিতা এবং তাতে পারদর্শিতা, যেমনটি ‘আল-কামুস’-এ বর্ণিত হয়েছে; অর্থাৎ: বিবাদ ও তর্কে কঠোরতা অবলম্বনকারী ব্যক্তি যে আপদে লিপ্ত হয়েছে, তা থেকে (বিমুখ থাকো)।

এবং তাঁর উক্তি: (বিচক্ষণ ব্যক্তির কর্ম) এটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য), এবং ‘এতে’ (বিহা) শব্দাংশটি এর সাথে সংশ্লিষ্ট, যেখানে সর্বনামটি ‘আপদ’ (বালওয়া)-এর দিকে ফিরছে। এবং (এক প্রকার) অর্থাৎ: ধরন (উন্মাদনা হতে) হলো এর খবর (বিধেয়)। এই বাক্যটি আপদ বা ‘বালওয়া’-এর সিফাত (গুণ) বর্ণনা করছে। আর ‘হাওয়াস’ হরকত যোগে: পাগলামির একটি পর্যায়, আর এর ইসমে মাফউল রূপ হলো ‘মুহওয়াস’, যা ‘মুয়াযযাম’-এর ওজনে, যেমনটি ‘আল-কামুস’-এ বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর উক্তি: (তা মর্যাদা লাভ করেনি...) শেষ পর্যন্ত। এখানে ‘মা’ হলো না-বোধক এবং ‘ইন’ হলো অতিরিক্ত। ‘সামাত’ অর্থ উন্নীত হওয়া, এর সর্বনামটি উল্লিখিত ‘বালওয়া’-এর দিকে ফিরছে। সুতরাং এই বাক্যটিও তার একটি সিফাত (গুণ)। এটি ব্যাখ্যামূলক প্রারম্ভ হওয়াও সম্ভব; যা উক্ত বিবাদ না শোনা এবং তাতে লিপ্ত না হওয়ার কারণ দর্শায়। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: কারণ তা আবু বকর... প্রমুখের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেনি। আর ‘আবু হির’ হা-বর্ণের কাসরাহ সহকারে, তিনি হলেন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু); অর্থাৎ: এটি তাঁদের উভয়ের প্রতি মোটেই সনদযুক্ত করা হয়নি; কারণ তাঁদের থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায়নি। যদি এতে কোনো কল্যাণ থাকত, তবে তাঁরা আমাদের আগেই তা গ্রহণ করতেন। সুতরাং এটি নিছক একটি নিন্দনীয় বিদআত। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তাঁরা এতে লিপ্ত হতেন, তবে তাঁরা কেবল উত্তম বিষয়েই লিপ্ত হতেন।

তাঁর উক্তি: (সতেজ নয়) র-বর্ণের ফাতহা সহকারে; অর্থাৎ: কোনো সতেজ বা আর্দ্র বস্তু নয়। তাঁর উক্তি: (যদি বিচার করা হয়) এটি আইন বর্ণের পেশ এবং দাল বর্ণের তাশদীদ সহকারে, যা ‘গণনা করা’ বা ‘বিচার করা’ অর্থে মাজহুল (কর্মবাচ্য) হিসেবে গঠিত এবং এটি সমজাতীয় পদের মাঝে বিযুক্তকারী হিসেবে এসেছে। আর ‘শুষ্ক’ (আল-ইয়াবাস) ফাতহা ও কাসরাহ সহকারে, যা আগে সতেজ ছিল কিন্তু পরে শুকিয়ে গেছে। এর অর্থ হলো: এটি সতেজ কিংবা শুষ্ক কোনো বস্তুর মধ্যেই গণ্য নয়; লেখক একে অস্তিত্বহীন বা অসার হিসেবে গণ্য করেছেন।

তাঁর উক্তি: (প্রলাপ) যাল বর্ণে হরকত সহকারে; এটি হলো অসার কথা অথবা অতিশয় মন্দ কথা। বলা হয়ে থাকে: তার কথা অসার হয়েছে, যার বর্তমান কাল হলো ‘সে অসার কথা বলে’; আর এটি ভুল ও মিথ্যায় লিপ্ত হওয়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ২৭)
أَعِرْهُمُ أُذُنًا صُمًّا إذا نطقوا … وكُنْ إذا سألوا تُعزَى إلى خَرَسِ(1)

ما العلم إلَّا كتاب الله أو أَثَرٌ … يَجْلُو بنور هُدَاه كلَّ ملتبِسِ

نورٌ لُمقتبِسٍ، خيرٌ لُملتمِسٍ … حِمًى لمُحترِسٍ، نُعْمَى لمُبْتَئِسِ

فاعكُف ببابِهما على طِلابِهما … تَمْحُ العَمَى بهما عن كلِّ ملتمِسِ(2)


 

وقوله: (أَجْدَى) بالجيم السَّاكنة أفعل تفضيل من الجِدَّةِ؛ أي: أنفع منها، وهو مبتدأ خبره (نغمة الجرس) بفتح النُّون وسكون الغين المعجمة، والجَرَس بالجيم والرَّاء المفتوحتين الَّذي يُعلَّق في عنق البعير ويضرب به أيضًا، وما بينهما قسمٌ بحياة الجدِّ معترض بينهما؛ يعني: أنَّ سماع صوت هذا الجرس أنفع من سماع الجدليَّات المذكورة.

قوله: (أَعِرْهُم) بفتح الهمزة وكسر العين المهملة أمرٌ من العارية، والضَّمير في (هم) لأهل الجدل؛ أي: إذا أفضى بك الحال إلى سماعهم فسدَّ أذنك وأعطها إيَّاهم عارية، وهو كناية عن عدم الإصغاء إليهم بالكلِّيَّة.

وقوله: (وَكُنْ إِذَا سَأَلَوا تُعزى إلى خَرَسٍ)؛ أي: تُنسب إلى عدم النُّطق؛ أي: إذا سألوك وأرادوا خطابك فأَرِهم أنَّك أخرس لا تطيق الكلام، والمعنى لا تَسمع لقولهم ولا تخاطبهم أصلًا.

قوله: (أو أَثَرٍ)؛ أي: حديثٍ، وقوله: (يَجْلُو) بالجيم؛ أي: يُزيل، والمُلْتَبِس بكسر الموحدة: المُشتبه.

قوله: (نورٌ لمُقْتَبَسٍ) خبرٌ لمبتدأ محذوف، أي هما؛ أي: كتاب الله والأثر نورٌ … إلى آخره، والمُلْتَمس: الطَّالب للشَّيء، والحِمَى: ما يُحمى عن الغير، والمُحْتَرِس: المتحفِّظ.

وقوله: (نُعْمَى) بضم النون وسكون العين المهملة؛ أي: نعيم.

وقوله: (لِمُبْتَئِسِ) بسكون الموحَّدة وفتح الفوقيَّة بعدها همزة مكسورة آخره مهملة؛ أي: فقير.

قوله: (فاعْكُف) بضمِّ الكاف؛ أي: أَقِم.

وقوله: (بِبَابِهِمَا)؛ أي: باب أربابهما.

وقوله: (عَلَى طِلَابِهِمَا) متعلقٌ بـ (اعكف) والطِّلاب كالمطالبة: طلب الإنسان حقّه.

--------------------------------------------

(1) سقط من (ص) قوله: «أَعِرْهُمُ أُذُنًا … تُعزَى إلى خَرَسِ».

(2) سقط من (ص) قوله: «فاعكف … عن كلِّ ملتمِسِ».
তারা যখন কথা বলে তখন তাদের প্রতি বধির কর্ণ অর্পণ করো … আর তারা যখন প্রশ্ন করবে, তখন এমন থেকো যেন তোমাকে মূক বা বোবা মনে করা হয়।(১)

আল্লাহর কিতাব অথবা আছার (أثر) ছাড়া প্রকৃত কোনো জ্ঞান নেই … যা তার হিদায়াতের আলো দিয়ে সকল অস্পষ্ট বিষয়কে দূরীভূত করে।

আলো সন্ধানীর জন্য তা নূর, অন্বেষণকারীর জন্য তা কল্যাণ … সতর্ক ব্যক্তির জন্য তা সুরক্ষা, আর দুর্গত ব্যক্তির জন্য তা নেয়ামত।

সেই দুইটির অন্বেষণে তাদের দ্বারে পড়ে থাকো … তবেই তুমি এই দুইটির মাধ্যমে প্রত্যেক অন্বেষণকারীর অন্ধত্ব মোচন করতে পারবে।(২)


 

এবং তাঁর উক্তি: (أَجْدَى) জীম বর্ণে সুকুনসহ, এটি الجِدَّة ধাতু থেকে ‘আফয়ালুত তাফদিল’ বা আতিশয্যবোধক বিশেষ্য; অর্থাৎ: তা অপেক্ষা অধিক উপকারী। এটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য), যার খবর (বিধেয়) হলো: (نغمة الجرس) নূন বর্ণে ফাতহ এবং গাইন বর্ণে সুকুনসহ। আর الجرس (ঘণ্টা) জীম ও রা বর্ণে ফাতহসহ, যা উটের গলায় ঝুলানো হয় এবং যা দ্বারা শব্দ করা হয়। তাদের মাঝে যে অংশটুকু রয়েছে তা দাদার জীবনের কসম (শপথ), যা বাক্য দুটির মাঝে মা’তারিজাহ বা মধ্যবর্তী বাক্য হিসেবে এসেছে। এর অর্থ হলো: এই ঘণ্টার আওয়াজ শোনা উপরে উল্লিখিত বিতর্ককারীদের কথা শোনার চেয়ে অধিক উপকারী।

তাঁর উক্তি: (أَعِرْهُم) হামযাহ বর্ণে ফাতহ এবং আইন বর্ণে কাসরাসহ, এটি العارية (ধার দেওয়া) থেকে নির্গত আদেশসূচক ক্রিয়া। আর (هم) সর্বনামটি বিতর্ককারীদের দিকে ফিরছে। অর্থাৎ: যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে তাদের কথা শুনতে হচ্ছে, তবে তোমার কানকে বন্ধ করে দাও এবং তা তাদের নিকট কেবল ধারের মতো দাও। এটি মূলত তাদের প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগ না দেওয়ার একটি রূপক প্রকাশ।

এবং তাঁর উক্তি: (وَكُنْ إِذَا سَأَلَوا تُعزى إلى خَرَسٍ); অর্থাৎ: কথা বলতে না পারার গুণের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়া। এর অর্থ হলো: তারা যখন তোমাকে প্রশ্ন করবে এবং তোমার সাথে কথা বলতে চাইবে, তখন তাদের দেখাও যে তুমি একজন বোবা ব্যক্তি যে কথা বলতে সক্ষম নয়। এর মর্মার্থ হলো, তাদের কথা শুনো না এবং তাদের সাথে মোটেও বাক্যালাপ করো না।

তাঁর উক্তি: (أو أَثَرٍ); অর্থাৎ আছার (أثر) বা হাদিস। আর তাঁর উক্তি: (يَجْلُو) জীম বর্ণসহ; অর্থাৎ: অপসারিত করা। আর المُلْتَبِس বা বর্ণে কাসরাসহ; যার অর্থ: অস্পষ্ট বা সন্দেহযুক্ত বিষয়।

তাঁর উক্তি: (نورٌ لمُقْتَبَسٍ) এটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর; অর্থাৎ তারা উভয়ই—আল্লাহর কিতাব ও আছার (أثر)—হলো আলো... শেষ পর্যন্ত। আর المُلْتَمس অর্থ: কোনো কিছু অন্বেষণকারী। আর الحِمَى অর্থ: যা অন্যের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা হয়। আর المُحْتَرِس অর্থ: সতর্ক বা রক্ষণশীল ব্যক্তি।

এবং তাঁর উক্তি: (نُعْمَى) নূন বর্ণে যম্মাহ এবং আইন বর্ণে সুকুনসহ; অর্থাৎ: সুখ বা নেয়ামত।

এবং তাঁর উক্তি: (لِمُبْتَئِسِ) বা বর্ণে সুকুন এবং তা বর্ণে ফাতহ, এরপর কাসরাযুক্ত হামযাহ এবং শেষে সীন বর্ণসহ; এর অর্থ: অভাবগ্রস্ত বা দুঃখী।

তাঁর উক্তি: (فاعْكُف) কাফ বর্ণে যম্মাহসহ; অর্থাৎ: অবস্থান করো।

এবং তাঁর উক্তি: (بِبَابِهِمَا); অর্থাৎ: এই দুইটির ধারক ও বাহকদের দ্বারে।

এবং তাঁর উক্তি: (عَلَى طِلَابِهِمَا) এটি (اعكف) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর الطِّلَاب শব্দটি المطالبة শব্দের ন্যায়; যার অর্থ: মানুষের স্বীয় অধিকার অনুসন্ধান করা।

--------------------------------------------

(১) (সোয়াদ) পাণ্ডুলিপি থেকে তাঁর এই উক্তিটি বাদ পড়েছে: "তারা যখন কথা বলে তাদের প্রতি বধির কর্ণ... যেন তোমাকে মূক মনে করা হয়।"

(২) (সোয়াদ) পাণ্ডুলিপি থেকে তাঁর এই উক্তিটি বাদ পড়েছে: "অতঃপর অবস্থান করো... প্রত্যেক অন্বেষণকারীর পক্ষ থেকে।"
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَرِدْ بقلبك عَذْبًا من حياضه … ماتَغْسِل بماء الهدى ما فيه من دنَسِ

واقْفُ النَّبيَّ وأتباع النَّبيِّ وكُنْ … من هديهم أبدًا تدنو إلى قَبَسِ

والزم مَجالسَهم واحفظ محاسنهم … واندُب مدارسَهم بالأربُع الدُّرُسِ

واسلك طريقهمُ واتْبعْ فريقهمُ … تكن رفيقهمُ في حَضْرةِ القُدُسِ

تِلكَ السَّعادةُ إن تُلْمِم بساحتها … فَحُطَّ رَحْلكَ قد عُوفِيت من تَعَسِ


وقوله: (تَمْحُ الْعَمَى) مجازٌ عن الضَّلالة والجهل. وقوله: (عَنْ كُلِ مُلْتَمِسٍ)؛ أي: طالب محو عماه.

قوله: (وَرِدْ) بكسر الرَّاء أمر من الورود، والدَّنس محرَّكًا: الوسخ، يُقال: دنس الثَّوب والعِرض والخُلِق كفرح، دَنَسًا ودَنَاسة فهو دَنِسٌ: اتَّسخ ودَنِسَ ثوبه وعرضه تدنيسًا: فُعِلَ به ما يشينه.

قوله: (واقْفُ النَّبيَّ) بضمِّ الفاء أمرٌ من القفو وهو التَّتبُّع، يقال: قَفَوْتَهُ قَفْوًا وقُفُوًّا بفتحٍ فسكون، وبضمَّتين وشدِّ الواو: تبعته كتقفَّيته واقتفيته.

قوله: (إِلَى قَبَسٍ) مجازٌ عن النُّور، وهو بفتح القاف والموحَّدة.

قوله: (والْزَمْ مَجَالِسَهُم) بفتح الميم جمع مجلس، والثَّاني بضمِّها بمعنى: الَّذي يُجالسهم.

قوله: (وانْدُبْ مَدَارِسَهُم) أمرٌ من النُّدْبَةِ بالضَّمِّ، وهي بكاء الميت وعدُّ محاسنه، والمدارس جمع مدرسة، وهي محل دراسة العلوم.

وقوله: (بالأربُع)؛ أي: مع الأربع بضمِّ الموحَّدة، جمع رَبْع -بفتح الرَّاء وسكون الموحَّدة-: الدَّار حيث كانت، وجمعه أَرْبُع ورِبَاع ورُبُوع، والدُّرس بضمِّ الدَّال والرَّاء؛ أي: الدِّراسة الذَّاهبة من قولهم: دَرَسَ الرَّسمُ، كذهب وزنًا ومعنىً كنايةً عن التَّأسُّف على مَن فاتك منهم.

قوله: (فِيْ حَضْرَةِ القُدُسِ) بضمَّتين من إضافة الموصوف لصفته؛ أي: في الحضرة المقدَّسة؛ أي: المُطهَّرة من النَّقائص، وهي حضرة ذي الجلال والإكرام.

قوله: (تِلْكَ السَّعَادَة)؛ أي: هذه الخصال المذكورة من العكوف على بابهما … إلى آخره، هي السَّعادة؛ أي: أسباب السَّعادة، أو: هي مبالغة على حدِّ: زيدٌ عدلٌ.

وقوله: (إِنْ تُلْمَم) بضمِّ الفوقيَّة مِن ألمَّ بالمكان نزل به؛ أي: متى جئت إلى تلك السَّاحة (فحطَّ
তোমার হৃদয়ের মাধ্যমে তাঁর প্রস্রবণ হতে সুপেয় সুধা পান করতে উপস্থিত হও … যাতে তুমি হিদায়াতের পানি দিয়ে (অন্তরের) কালিমা ধুয়ে ফেলতে পারো।

নবী এবং তাঁর অনুসারীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো এবং সর্বদা … তাদের হিদায়াত থেকে আলোকবর্তিকা সংগ্রহ করো।

তাদের মজলিসগুলো আঁকড়ে ধরো এবং তাদের মহত্ত্বসমূহ স্মরণে রাখো … আর তাদের বিরান হয়ে যাওয়া পাঠশালাগুলোর ধ্বংসাবশেষ দেখে বিলাপ করো।

তাদের পথে চলো এবং তাদের দলের অনুসারী হও … তবেই তুমি পবিত্র সান্নিধ্যে তাদের সঙ্গী হতে পারবে।

এটুকুই তো পরম সৌভাগ্য—যদি তুমি এর অঙ্গনে উপস্থিত হতে পারো … তবে তোমার বাহন সেখানে থামাও, তুমি তো দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তি পেয়েছ।


আর তাঁর উক্তি: (অন্ধত্ব মোচন করা) এটি ভ্রষ্টতা ও মূর্খতা থেকে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর তাঁর উক্তি: (প্রত্যেক অনুসন্ধানকারীর নিকট থেকে); অর্থাৎ: যে ব্যক্তি তার অন্ধত্ব দূর করতে আগ্রহী।

তাঁর উক্তি: (উপস্থিত হও) ‘রা’ বর্ণে কাসরা যোগে এটি ‘আগমনের উৎস’ হতে নির্গত একটি আদেশসূচক ক্রিয়া। আর ‘কালিমা’ (দানাস) শব্দটি হরকতযুক্ত; এর অর্থ: ময়লা। বলা হয়: কাপড়, মর্যাদা এবং চরিত্র কলুষিত হয়েছে; এটি ‘ফারিহা’ এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হলো ময়লাযুক্ত হওয়া। আর তার কাপড় ও মর্যাদাকে ‘তাদনীস’ বা কলঙ্কিত করার অর্থ হলো—তার সাথে এমন কিছু করা যা তাকে দোষী বা কলঙ্কিত করে।

তাঁর উক্তি: (নবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করো) ‘ফা’ বর্ণে যম্মাহ যোগে এটি অনুসরণ করা অর্থে একটি আদেশসূচক ক্রিয়া, যার অর্থ হলো পেছনে পেছনে চলা বা অনুসরণ করা। বলা হয়: আমি তাকে অনুসরণ করেছি—এর বিভিন্ন শব্দরূপ রয়েছে—অর্থাৎ আমি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি বা তার পেছনে চলেছি।

তাঁর উক্তি: (আলোকবর্তিকার দিকে) এটি নূরের একটি রূপক। এটি কাফ ও বা বর্ণে ফাতহাহ যোগে গঠিত।

তাঁর উক্তি: (তাদের মজলিস আঁকড়ে ধরো) মিম বর্ণে ফাতহাহ যোগে এটি মজলিস শব্দের বহুবচন। আর দ্বিতীয় শব্দটি মিম বর্ণে যম্মাহ যোগে—যার অর্থ: যে ব্যক্তি তাদের সাথে বসে বা সাহচর্যে থাকে।

তাঁর উক্তি: (তাদের পাঠশালাগুলোর জন্য বিলাপ করো) এটি ‘নুদবাহ’ শব্দ থেকে নির্গত আদেশসূচক ক্রিয়া, যার অর্থ হলো মৃত ব্যক্তির জন্য ক্রন্দন করা এবং তার গুণাবলি বর্ণনা করা। ‘মাদারিস’ হলো মাদরাসা শব্দের বহুবচন, যা শিক্ষা অর্জনের স্থান।

আর তাঁর উক্তি: (বাসস্থানের সাথে); অর্থাৎ বসতির সাথে, এক নুক্তাবিশিষ্ট ‘বা’ বর্ণে যম্মাহ যোগে। এটি ‘রাবউ’—রা বর্ণে ফাতহাহ ও বা বর্ণে সুকুন যোগে—এর বহুবচন। এর অর্থ হলো ঘর বা বাসস্থান যেখানেই হোক না কেন। এর বেশ কিছু বহুবচন রূপ রয়েছে। আর ‘দুরুস’ শব্দটিতে দাল ও রা বর্ণে যম্মাহ রয়েছে; যার অর্থ হলো বিলীন হয়ে যাওয়া পাঠ। এটি তাদের এই প্রবাদ থেকে নেওয়া হয়েছে: ‘চিহ্নটি বিলীন হয়ে গেছে’, যা অর্থ ও ওজনে ‘চলে যাওয়া’র সমার্থক। এটি তাদের মধ্য থেকে যারা গত হয়েছেন, তাদের জন্য আক্ষেপ প্রকাশের একটি রূপক।

তাঁর উক্তি: (পবিত্র সান্নিধ্যে) দুটি যম্মাহ যোগে, এখানে বিশেষ্যের সাথে তার বিশেষণের সম্বন্ধ করা হয়েছে; অর্থাৎ পবিত্রতম সান্নিধ্য, যা যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত। আর তা হলো মহিমান্বিত ও পরম দয়ালু আল্লাহর দরবার।

তাঁর উক্তি: (সেটিই সৌভাগ্য); অর্থাৎ উপরোক্ত গুণাবলি—যেমন তাদের দ্বারে নিবিষ্ট থাকা থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত—এগুলোই হলো সৌভাগ্য; অর্থাৎ সৌভাগ্যের উপকরণসমূহ। অথবা এটি অতিরঞ্জন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন বলা হয়: ‘যায়েদ তো ইনসাফের মূর্ত প্রতীক’।

আর তাঁর উক্তি: (যদি তুমি উপনীত হও) উপরের বর্ণে যম্মাহ যোগে, এটি কোনো স্থানে অবতরণ করা বা উপস্থিত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত। অর্থাৎ: যখনই তুমি সেই প্রাঙ্গণে আসবে (অতঃপর তোমার বাহন থামাও...
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومن شرف أهل الحديث ما رويناه من حديث عبد الله بن مسعودٍ رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنَّ أولى النَّاس بي يوم القيامة أكثرُهم عليَّ صلاةً»، قال التِّرمذيُّ: حديثٌ(1) حسنٌ غريبٌ، وفي سنده موسى بن يعقوب الزَّمعيُّ، قال الدَّارقطنيُّ: إنَّه تفرَّد به، وقال ابن حِبَّان في «صحيحه»: في هذا الحديث بيانٌ صحيحٌ على أنَّ أولى النَّاس برسول الله صلى الله عليه وسلم في القيامة أصحابُ الحديث؛ إذ ليس من هذه الأمَّة قومٌ أكثر صلاةً عليه منهم. وقال غيره: المخصوص بهذا الحديث نَقَلَة الأخبار الذين يكتبون الأحاديث، ويذبُّون عنها الكذب آناء اللَّيل وأطراف النَّهار، وقال الخطيب في كتابه «شرف أصحاب الحديث»: قال لنا أبو نُعيمٍ: هذه مَنقَبةٌ شريفةٌ يختصّ بها رواة الآثار ونَقَلتُها؛ لأنَّه لا يُعرَف لِعصابةٍ من العلماء من الصَّلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر ما يُعرَف لهذه العِصابة نسخًا وذكرًا، وقال أبو اليُمْن بن عساكرَ:


 

رحلك) يُكنَى به عن الإقامة، والمراد قد أوتيت سؤلك وصادفت حاجتك وسعادتك الحقيقية فالزمها، فإذا ألزمتها فـ (قد عوفيت من تَعْسٍ) بالفوقيَّة والعين المهملة محرَّكًا؛ أي: خيبة.

 

قوله: (الزَّمْعِي) بفتح الزَّاي وسكون الميم وبالعين المهملة، نسبة لجده وهب بن زمعة القرشيِّ، كما في «اللُّباب».

قوله: (نَسْخًا)؛ أي: كتابة، وقد ورد: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ فِي كِتَابٍ لَمْ تَزَل الْمَلَائِكَةُ تَسْتَغْفِرُ لَهُ مَا دَامَ اسْمِي فِي ذَلِكَ الْكِتَابِ»، وهذا الحديث وإن كان ضعيفًا فهو ممَّا يَحسن إيراده في ذلك المعنى، قال الحافظ السُّيوطيُّ: ولا يلتَفَتُ إلى ذكر ابن الجوزي له في «الموضوعات» فإنَّ له طُرقًا تُخرجه عن الوضع وتقتضي أنَّ له أصلًا في الجملة، فأخرجه الطَّبرانيُّ من حديث أبي هريرة وأبو الشَّيخ والدَّيلميُّ من طريق أخرى عنه، وابن عديٍّ من حديث أبي بكر الصِّدِّيق، الأصبهانيُّ في «ترغيبه» من حديث ابن عبَّاس، وأبو نُعيم من حديث عائشة رضي الله عنها، وقد روي من طريق صحيح(2) عن أنس يرفعه: «إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ جَاءَ أَصْحَابُ الْحَدِيْثِ وَبِأَيْدِيْهِم الْمَحَابِرُ فَيُرْسِلُ الله إِلَيْهِمْ جِبْرِيْلَ

--------------------------------------------

(1) «حديث»: مثبتٌ من (ص).

(2) قال الخطيب: (تاريخ بغداد 4/ 648): هذا الحديث موضوع، والحمل فيه على الرقي. والرقي هو محمد بن يوسف بن يعقوب أبو بكر الرقي قال عنه الذهبي (ميزان الاعتدال 4/ 72): وضع على الطبراني حديثًا باطلًا في حشر العلماء بالمحابر.
আহলে হাদিসের অন্যতম মর্যাদা হলো যা আমরা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই ব্যক্তি, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করে।» ইমাম তিরমিজি বলেন: হাদিসটি(১) সুন্দর-অপরিচিত (حسن غريب), এর সনদে মুসা ইবনে ইয়াকুব আল-জাময়ি রয়েছেন। ইমাম দারা কুতনি বলেন: তিনি এটি বর্ণনায় একাকী (تفرَّد)। ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে বলেন: এই হাদিসে একটি বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ হবে হাদিস বিশারদগণ; কেননা এই উম্মতের মধ্যে তাদের চেয়ে বেশি দরুদ পাঠকারী আর কোনো দল নেই। অন্য ইমামগণ বলেন: এই হাদিসের বিশেষ উদ্দেশ্য হলো হাদিসের সেই বাহকগণ যারা হাদিসসমূহ লিপিবদ্ধ করেন এবং দিন-রাত হাদিসের ওপর থেকে মিথ্যার কালিমা দূর করেন। খতিব আল-বাগদাদি তাঁর ‘শরাফু আসহাবিল হাদিস’ গ্রন্থে বলেন: আবু নুয়াইম আমাদের বলেছেন: এটি একটি মহান মর্যাদা যা কেবল হাদিস ও আসার বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট; কারণ আলেমদের কোনো দলের মধ্যেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর এত অধিক দরুদ পাঠ করার বিষয়টি জানা যায় না, যা এই দলের পাণ্ডুলিপি লিখন ও আলোচনার মাধ্যমে জানা যায়। আবুল ইয়ামন ইবনে আসাকির বলেন:


 

(তোমার সওয়ারি - رحلك) এটি দ্বারা অবস্থান করাকে রূপকভাবে বোঝানো হয়েছে। এর অর্থ হলো তুমি যা চেয়েছিলে তা তোমাকে দেওয়া হয়েছে এবং তুমি তোমার প্রয়োজন ও প্রকৃত সৌভাগ্যের দেখা পেয়েছ, সুতরাং একে আঁকড়ে ধরো। আর যখন তুমি তা আঁকড়ে ধরবে তখন (তুমি ব্যর্থতা থেকে মুক্তি পাবে - قد عوفيت من تعس); এখানে ‘তা’ এবং ‘আইন’ বর্ণদ্বয় হরকতযুক্ত, যার অর্থ হলো: ব্যর্থতা বা নিরাশা।

 

তাঁর উক্তি: (আল-জাময়ি - الزَّمْعِي) যা-তে জবর, মিম-এ সাকিন এবং ‘আইন’ বর্ণের সাথে, যা তাঁর দাদা ওয়াহাব ইবনে জামআ আল-কুরাশির দিকে সম্পৃক্ত, যেমনটি ‘আল-লুবাব’ গ্রন্থে রয়েছে।

তাঁর উক্তি: (লিখন - نَسْخًا); অর্থাৎ লিপিবদ্ধ করা। বর্ণিত হয়েছে যে: «যে ব্যক্তি কোনো কিতাবে আমার ওপর দরুদ লিখবে, ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে যতক্ষণ সেই কিতাবে আমার নাম থাকবে।» এই হাদিসটি যদিও দুর্বল (ضعيف), তবুও এই বিষয়ের অর্থ প্রকাশে এটি বর্ণনা করা সুন্দর। হাফেজ সুয়ুতি বলেন: ইবনে জাউজি কর্তৃক তাঁর ‘আল-মাউদুআত’ গ্রন্থে এই হাদিসটির উল্লেখ করার দিকে ভ্রূক্ষেপ করা হবে না; কারণ এর এমন কিছু সূত্র (طرق) রয়েছে যা একে বানোয়াট (وضع) হওয়া থেকে মুক্ত করে এবং সামগ্রিকভাবে এর একটি ভিত্তি রয়েছে বলে প্রমাণ করে। ইমাম তাবারানি এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আবুশ শায়খ ও দাইলামি তাঁর থেকে অন্য সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি আবু বকর সিদ্দীক (রা.) থেকে, আসবাহানি তাঁর ‘তারগিব’ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এবং আবু নুয়াইম আয়েশা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং আনাস (রা.) থেকে একটি বিশুদ্ধ (صحيح)(২) সূত্রে মারফু (يرفعه) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: «কিয়ামতের দিন যখন আসবে, তখন হাদিস বিশারদগণ তাদের হাতে দোয়াত নিয়ে উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ তাদের নিকট জিবরাঈলকে পাঠাবেন...

--------------------------------------------

(১) «হাদিস»: (স) পাণ্ডুলিপি থেকে সাব্যস্ত।

(২) খতিব (তারিখ বাগদাদ ৪/৬৪৮) বলেন: এই হাদিসটি বানোয়াট (موضوع) এবং এর দায় রাক্কি-র ওপর। রাক্কি হলো মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আবু বকর আল-রাক্কি। তার সম্পর্কে জাহাবি (মিযানুল ইতিদাল ৪/৭২) বলেন: সে তাবারানির নামে আলেমদের দোয়াত নিয়ে হাশরে আসার ব্যাপারে একটি বাতিল (باطل) হাদিস তৈরি করেছে।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ৩০)
لِيُهْنَ أهل الحديث كثَّرهم الله تعالى هذه البشرى، فقد أتمَّ الله تعالى نِعَمَه عليهم بهذه الفضيلة الكبرى، فإنَّهم أولى النَّاس بنبيِّهم صلى الله عليه وسلم، وأقربهم -إن شاء الله تعالى- وسيلةً يوم القيامة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإنَّهم يخلِّدون ذكره في طروسهم(1)، ويجدِّدون الصَّلاة والتَّسليم عليه في معظم الأوقات في مجالس مذاكرتهم وتحديثهم ودروسهم، فهم إن شاء الله تعالى الفِرقةُ النَّاجية، جعلنا الله تعالى منهم، وحشرنا في زمرتهم، آمين.


 

فَيَسْأَلُهُمْ مَنْ أَنْتُم؟ وَهُوَ أَعْلَمُ، فَيَقُوْلُوْنَ: أَصْحَابَ الْحَدِيْثِ. فَيَقُوْلُ: ادْخُلُوا الْجَنَّةَ طَالَمَا كنْتُم تُصَلُّوْنَ عَلَى نَبِيِّي فِي دَارِ الدُّنْيَا».

تنبيه: ينبغي أن يَجمعَ عند ذكره صلى الله عليه وسلم بين الصَّلاة عليه ببنانه ولسانه ولو لم تكن مكتوبة في الأصل كما سبق فيكتبها ويتلفَّظ بها مطلقًا، قال ابن عبَّاس العنبريُّ وابن المدينيُّ: ما تركنا الصَّلاة على النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم في كلِّ حديث سمعناه وربَّما عَجَّلنا فَنُبَيِّضُ الكتاب في كل حديث حتَّى نرجعَ إليه.

قوله: (لِيَُهَن أهلَ الْحَدِيْثَ … ) إلى آخره، يهن بضم الياء، وأهل الحديث بالنَّصب مفعول مقدَّم، و (هذه البُشْرَى) بالرَّفع فاعل مؤخَّر، و (كَثَّرَهُم الله) جملة دعائية؛ أي: لتكن هذه البشرى مهنئة لهم؛ والمراد: ليكونوا مهنئين بها.

--------------------------------------------

(1) الطرس: الكتاب أو الصحيفة التي محيت ثم كتب فيها.
হাদিস বিশারদগণ—আল্লাহ তাআলা তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন—এই সুসংবাদে আনন্দিত হোন। আল্লাহ তাআলা এই মহান শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করেছেন। নিশ্চয়ই তাঁরা তাঁদের নবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মানুষ এবং কিয়ামতের দিন তাঁরাই—ইনশাআল্লাহু তাআলা—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটবর্তী হওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কেননা তাঁরা তাঁদের পাণ্ডুলিপিতে(১) তাঁর স্মরণকে চিরস্থায়ী করে রাখেন এবং তাঁদের পারস্পরিক আলোচনা, হাদিস বর্ণনা (تحديث) ও পাঠদানের মজলিসসমূহে অধিকাংশ সময় তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ নবায়ন করেন। সুতরাং তাঁরাই—ইনশাআল্লাহু তাআলা—হলেন মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الفرقة الناجية); আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাদের তাঁদের দলেই পুনরুত্থিত করুন, আমিন।


 

অতঃপর তিনি তাঁদের জিজ্ঞেস করবেন, ‘তোমরা কারা?’ অথচ তিনি ভালোভাবেই অবগত। তাঁরা বলবেন, ‘আমরা হাদিসের অনুসারী’। তখন তিনি বলবেন, ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, যেহেতু তোমরা দুনিয়াতে আমার নবির ওপর দরুদ পাঠ করতে’।

সতর্কবার্তা: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম উল্লেখ করার সময় হাত (লিখনী) এবং জিহ্বা উভয়টির মাধ্যমে দরুদ পাঠ করা বাঞ্ছনীয়, যদিও মূল পাণ্ডুলিপিতে তা লেখা না থাকে—যেমনটি আগে গত হয়েছে। অতএব তিনি তা লিখবেন এবং স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করবেন। ইবনে আব্বাস আল-আনবারি এবং ইবনুল মাদিনি বলেন: আমরা যে হাদিসই শুনেছি, তার প্রতিটিতে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা বর্জন করিনি। কখনো কখনো আমরা তাড়াহুড়োয় থাকতাম, তখন আমরা মূল কিতাবে প্রতিটি হাদিসের পরে জায়গা খালি (সাদা) রাখতাম যেন পরে ফিরে এসে তা পূর্ণ করতে পারি।

তাঁর উক্তি: (হাদিস বিশারদগণ আনন্দিত হোন...) শেষ পর্যন্ত। ‘ইউহনা’ শব্দটি ‘ইয়া’ বর্ণে পেশ (رفع) যোগে গঠিত। ‘আহলুল হাদিস’ শব্দটি যবর (نصب) যোগে অগ্রবর্তী কর্ম (مفعول مقدم) এবং ‘এই সুসংবাদ’ শব্দটি পেশ (رفع) যোগে পরবর্তী কর্তা (فاعل مؤخر) হিসেবে ব্যবহৃত। আর ‘আল্লাহ তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন’ অংশটি একটি দুআসূচক বাক্য; অর্থাৎ: এই সুসংবাদ যেন তাঁদের অভিনন্দন জানায়; যার উদ্দেশ্য হলো: তাঁরা যেন এর দ্বারা অভিনন্দিত হন।

--------------------------------------------

(১) তর্স (طرس): এমন কিতাব বা পৃষ্ঠা যা একবার মুছে পুনরায় তাতে লেখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الفصل الثَّاني

في ذكر أوَّل مَن دوَّن الحديث والسُّنن
ومَن تلاه في ذلك سالكًا أَحْسَنَ السُّنن


 

(الفصل الثاني)

 

قوله: (مَنْ دَوَّنَ الأَحَادِيْثَ) بفتح الدَّال والواو المشدَّدة؛ أي: ذكرها في الدَّواوين، أو: جعلها دواوين جمع ديوان؛ وهو الكتاب، وأصله: ما تعلَّق بحقوق السَّلطنة في الأعمال والأموال ومَن يقوم بها من الجيوش والعمَّال كما في الباب الثَّاني عشر من «الأحكام السُّلطانيَّة» للماورديِّ، ثمَّ أُطلق على الدفتر ثم قيل لكل كتابٍ، وقد يخص بشعرِ شاعرٍ معين مجازًا، وشاع حتى صار حقيقة فيه، فمعانيه خمسة كما في «الشِّفاء»: الكَتَبَة، ومحلهم، والدَّفتر، وكلُّ كتاب، ومجموع الشِّعر.

وهل هو عربيٌّ أو معرَّب من الفارسيِّ؟ خلافٌ مشهور.

والأحاديث جمع حَدِيث، وهو لغة ضدُّ القديم، واصطلاحًا: ما أضيف إلى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قولًا أو فعلًا أو تقريرًا؛ -أي: عدم إنكار لما فُعِل بحضرته عليه الصلاة والسلام أو في غيبته وبَلَغه- أو هَمًّا؛ -أي: عزمًا كقوله صلى الله عليه وسلم: «وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ» - أو وَصْفًا خَلقيًّا -بفتح الخاء ككونه عليه الصلاة والسلام ليس بالطَّويل ولا بالقصير- أو خُلُقيًّا -بضمَّتين؛ أي: متعلِّقًا بخُلُقه وطبعه الشَّريف ككونه أحسن النَّاس خُلقًا وكونه كان لا يُواجه أحدًا بمكروه وغير ذلك-.

قوله: (وَالسُّنَن) جمع سُنَّة وهي لغةً: الطَّريق، وأمَّا اصطلاحًا فقيل: إنَّها مرادفة للحديث بمعناه الاصطلاحيِّ، وقيل: الحديث خاصٌّ بفعله وقوله عليه الصلاة والسلام، والسنَّة أعمُّ منهما.

قوله: (وَمَنْ تَلَاهُ)؛ أي: تَبِعَهُ؛ أي: من دَوَّنَ.

وقوله: (فِيْ ذَلِكَ)؛ أي: التَّدوين.

وقوله: (أَحْسَنَ السُّنَنِ) بالضَّمِّ جمع سُنَّة بمعنى الطَّريقة، فالمراد بها هنا المعنى اللُّغويُّ وفي الأوَّل المعنى الاصطلاحيُّ، وهو أحسنُ من قراءته بفتحتين بمعنى الطريق.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

হাদিস ও সুন্নাহর প্রথম সংকলন (تدوين) এবং উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করে যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের আলোচনায়


 

(দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)

 

লেখকের উক্তি: (যারা হাদিস সংকলন করেছেন -دوَّن-) 'দাল' বর্ণে ফাতাহ এবং 'ওয়াও' বর্ণে তাশদিদ সহযোগে; অর্থাৎ: তিনি এগুলোকে দিওয়ানসমূহে উল্লেখ করেছেন, অথবা এগুলোকে দিওয়ান তথা কিতাব হিসেবে বিন্যস্ত করেছেন। 'দিওয়ান' শব্দের মূল অর্থ হলো: রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কার্যাবলি ও অর্থ-সম্পদ সংক্রান্ত অধিকার এবং সেকাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও কর্মচারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, যেমনটি আল-মাওয়ার্দী বিরচিত 'আল-আহকাম আস-সুলতানিয়্যাহ' গ্রন্থের দ্বাদশ পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। পরবর্তীতে এটি দপ্তর বা খাতার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে, এরপর একে সাধারণ কিতাব অর্থেও বলা হতে থাকে। কখনো কখনো রূপকভাবে একে নির্দিষ্ট কোনো কবির কাব্যগ্রন্থের জন্য খাস বা নির্দিষ্ট করা হয় এবং এটি এতটাই প্রচলিত হয়েছে যে এখন তা এই অর্থেই হাকিকত বা প্রকৃত অর্থে পরিণত হয়েছে। সুতরাং 'আশ-শিফা' গ্রন্থে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী এর অর্থ পাঁচটি: লেখকগণ, তাঁদের বসার স্থান, খাতা বা রেজিস্টার, যে কোনো কিতাব এবং কাব্যসমগ্র।

শব্দটি কি আরবি নাকি ফারসি থেকে আরবিতে রূপান্তরিত? এ নিয়ে প্রসিদ্ধ মতপার্থক্য রয়েছে।

'আহাদিস' হলো 'হাদিস'-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে এটি 'কাদিম' বা প্রাচীনের বিপরীত। আর পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا): যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, চাই তা কথা (قول), কাজ (فعل), মৌনসম্মতি (تقرير) -অর্থাৎ তাঁর উপস্থিতিতে কোনো কাজ করা হয়েছে অথচ তিনি তা নিষেধ করেননি অথবা তাঁর অনুপস্থিতিতে করা হয়েছে এবং তিনি তা জানতে পেয়েছেন- অথবা সংকল্প (همّ) -অর্থাৎ কোনো কাজের ইচ্ছা পোষণ করা, যেমন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি: "আমি সংকল্প করেছি যে এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দেব সে মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করবে"- কিংবা তাঁর শারীরিক গঠনগত বৈশিষ্ট্য (وصف خلقي) -যেমন তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘকায় বা খর্বকায় না হওয়া- অথবা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (وصف خلقي) -অর্থাৎ তাঁর মহান চরিত্র ও স্বভাবজাত আচরণের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন তিনি ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং তিনি কারো সাথে অপ্রীতিকর আচরণ করতেন না ইত্যাদি।

লেখকের উক্তি: (ও সুন্নাহসমূহ) এটি সুন্নাহ-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে এটি হলো: পথ বা পদ্ধতি। আর পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحًا) বলা হয়েছে: এটি এর পারিভাষিক অর্থ অনুযায়ী হাদিসের সমার্থক। আবার কেউ কেউ বলেছেন: হাদিস কেবল তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কাজের সাথে নির্দিষ্ট, আর সুন্নাহ এ দুটির চেয়েও ব্যাপক।

লেখকের উক্তি: (এবং যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন); অর্থাৎ: যারা তাঁদের অনুগামী হয়েছেন; অর্থাৎ: যারা সংকলন (تدوين) করেছেন।

লেখকের উক্তি: (সেই বিষয়ে); অর্থাৎ: সংকলন (تدوين) করার বিষয়ে।

লেখকের উক্তি: (উত্তম পদ্ধতিসমূহ) এখানে 'সুনান' শব্দটি পেশ সহযোগে 'সুন্নাহ'-এর বহুবচন যা পদ্ধতি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং এখানে আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য, আর প্রথমটির ক্ষেত্রে পারিভাষিক অর্থ (اصطلاحًا) উদ্দেশ্য ছিল। আর জবর সহযোগে রাস্তা অর্থে পড়ার চেয়ে এটিই উত্তম।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ৩২)
اعلم أنَّه لم يَزَلِ الحديث النَّبويُّ -والإسلامُ غضٌّ طريٌّ، والدِّين مُحكَمُ الأساسِ قويٌّ- أشرفَ العلوم وأجلَّها لدى الصَّحابة والتَّابعين وأتباعهم خلفًا بعد سلفٍ، لا يشرُف بينهم أحدٌ بعد حفظ التَّنزيل إلَّا بقدر ما يحفظ منه، ولا يعظم في النُّفوس إلَّا بحسب ما سُمِعَ من الحديث عنه، فتوفَّرت الرَّغبات فيه، وانقطعت الهمم على تعلُّمه، حتَّى رحلوا المراحل ذوات العدد، وأفنَوا الأموال والعُدَد، وقطعوا الفيافي في طلبه، وجابوا البلاد شرقًا وغربًا بسببه،


قوله: (والْإِسْلَامُ غَضٌّ … ) إلى آخره، جملة حالية معترضة بين اسم (زال) وخبرها وهو أشرف العلوم.

قوله: (لا يَشْرُفُ) بفتح أوَّله وضمِّ ثالثه؛ أي: لا يصير شريفًا.

قوله: (بَعْدَ حِفْظِ التَّنْزِيْلِ)؛ أي: القرآن.

قوله: (إِلَّا بِحَسَبِ مَا سُمِعُ مِنَ الحَدِيْثِ عَنْهُ)؛ أي: إلَّا بحسب ما يُروى عنه من الأحاديث كَثْرَةً وقلَّة وصحَّةً وضعفًا؛ فكلَّما أكثر من الحديث تحمُّلًا وأداءً وعُني بمعرفة رجاله ومتنه كان أجلَّ عندهم وأشرفَ وبالعكس.

قوله: (وانْقَطَعَت الهِمَمُ … ) إلى آخره، لعلَّه ضمَّنَهُ معنى قصرت فعَدَّاهُ بعَلَى، وإلَّا فكان حقُّهُ التَّعدية باللَّام.

قوله: (ذَوَاتِ العَدَدِ) بفتح العين؛ أي: المعدودة؛ والمراد الكثيرة وإن كان ذلك كناية عن القلَّة بإشارة قوله تعالى: {وَشَرَوْهُ بِثَمَنٍ بَخْسٍ دَرَاهِمَ مَعْدُودَةٍ} [يوسف: 20]، وقوله: (والعُدد) بضمِّ العين جمع عُدَّة بضمِّها وفتح الدَّال مشدَّدة، وهي ما يعِدُّه الإنسان للأمر من مال وغيره.

قوله: (وَقَطَعُوا الفَيَافِي) بفاءين جمع فيفاء بالمد ويُقصر، كما في «القاموس» وهي: المفازةُ لا ماءَ فيها كالفيفاة، ويُجمع أيضًا على أفياف وفيوف.

قوله: (وَجَابُوا)؛ أي: قطعوا بمسيرهم.
জেনে রাখুন যে, নবিজির হাদিস—যখন ইসলাম ছিল নবীন ও সতেজ এবং দ্বীন ছিল সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত—সর্বদাই সাহাবী, তাবিঈ এবং পরবর্তী অনুসারীদের নিকট প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও মহান ইলম হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। মহান ওহি (التنزيل) মুখস্থ করার পর তাদের মধ্যে কেউ মর্যাদাবান হতেন না কেবল হাদিস যতটুকু হিফজ করতেন তার পরিমাণ ব্যতিরেকে। আর মানুষের অন্তরে কারোর মহিমা অনুভূত হতো না কেবল তার নিকট থেকে যতটুকু হাদিস শ্রবণ করা হতো সেই অনুপাতে। ফলে এর প্রতি আগ্রহের আধিক্য ঘটেছিল এবং তা শেখার জন্য যাবতীয় সংকল্প নিয়োজিত হয়েছিল, এমনকি তারা অগণিত পথ পাড়ি দিয়েছিলেন, অর্থ-কড়ি ও পাথেয় নিঃশেষ করেছিলেন, এর সন্ধানে মরুপ্রান্তরসমূহ অতিক্রম করেছিলেন এবং এর কারণে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের দেশসমূহ চষে বেড়িয়েছিলেন।


তাঁর বক্তব্য: (এবং ইসলাম ছিল নবীন...) শেষ পর্যন্ত; এটি একটি অবস্থা-জ্ঞাপক বাক্য, যা 'নিশ্চয়' (زال) এর ইসিম এবং তার খবর—যা হলো 'ইলমসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ'—এর মাঝে বিরতি হিসেবে এসেছে।

তাঁর বক্তব্য: (সে সম্মানিত হয় না) প্রথম বর্ণে ফাতহ (যবর) এবং তৃতীয় বর্ণে দ্বম্মাহ (পেশ) সহযোগে; অর্থাৎ: সে শরিফ বা মর্যাদাবান হয় না।

তাঁর বক্তব্য: (ওহি (التنزيل) সংরক্ষণের পর); অর্থাৎ: কুরআন।

তাঁর বক্তব্য: (কেবল তার নিকট থেকে হাদিস যতটুকু শোনা হয়েছে সে অনুযায়ী); অর্থাৎ: তার নিকট থেকে হাদিস বর্ণনার আধিক্য, স্বল্পতা এবং বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতার (ضعف) অনুপাত অনুযায়ী। সুতরাং যে ব্যক্তি হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও প্রদানের (أداء) ক্ষেত্রে অধিক পারদর্শী ছিলেন এবং বর্ণনাকারী (رجال) ও মূলপাঠ (متن) সম্পর্কে জানার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন, তিনি তাদের নিকট অধিক মহান ও মর্যাদাবান হতেন, আর এর বিপরীত ক্ষেত্রে বিষয়টিও বিপরীত হতো।

তাঁর বক্তব্য: (এবং সংকল্পসমূহ নিয়োজিত হয়েছিল...) শেষ পর্যন্ত; সম্ভবত তিনি একে 'সীমাবদ্ধ হওয়া' অর্থের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাই একে 'আলা' (على) অব্যয় দ্বারা প্রয়োগ করেছেন। নতুবা এর নিয়ম ছিল 'লাম' (ل) অব্যয় দ্বারা প্রয়োগ করা।

তাঁর বক্তব্য: (অগণিত) 'আইন' বর্ণে ফাতহ যোগে; অর্থাৎ: গণনাকৃত। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অধিক সংখ্যা, যদিও মহান আল্লাহর বাণী: “তারা তাকে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করেছিল, যা ছিল সামান্য কয়েক দিরহাম” [ইউসুফ: ২০]-এর ইশারা অনুযায়ী এটি স্বল্পতার রূপক হিসেবেও আসে। আর তাঁর বক্তব্য: (এবং উপকরণসমূহ) 'আইন' বর্ণে দ্বম্মাহ যোগে, এটি 'উদ্দাহ' শব্দের বহুবচন যা 'আইন' বর্ণে দ্বম্মাহ এবং 'দাল' বর্ণে তাশদীদ ও ফাতহ যোগে গঠিত। এটি হলো সেই সরঞ্জাম যা মানুষ কোনো কাজের জন্য অর্থ বা অন্য কিছু থেকে প্রস্তুত করে রাখে।

তাঁর বক্তব্য: (এবং তারা মরুপ্রান্তর পাড়ি দিয়েছিল) দুই 'ফা' বর্ণ যোগে, এটি 'ফিফা' শব্দের বহুবচন যা দীর্ঘ বা হ্রস্ব উভয়ভাবেই পড়া যায়, যেমনটি 'কামুস' অভিধানে রয়েছে। আর তা হলো: এমন মরুভূমি যাতে পানি নেই। এর বহুবচন 'আফইয়াফ' এবং 'ফুইউফ'-ও হয়ে থাকে।

তাঁর বক্তব্য: (এবং তারা চষে বেড়িয়েছিল); অর্থাৎ: তারা তাদের ভ্রমণের মাধ্যমে পথ অতিক্রম করেছে।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

والأصل في الرِّحلة ما رواه البيهقيُّ والخطيب عن عبد الله بن محمَّد بن عقيل عن جابر بن عبد الله قال: بلغني حديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم أسمعه فابتعت بعيرًا فشددت عليه رحلي وسرت شهرًا حتَّى قَدِمتُ الشَّام، فأتيت عبد الله بن أُنَيس فقلت للبوَّاب: قل له: جابر على الباب، فأتاه فقال: جابر بن عبد الله؟! فأتاني فقال لي فقلت: نعم، فرجع فأخبره، فقام يطأُ ثوبه حتَّى لقيني، فاعتنقني واعتنقته، فقلت: حديث بلغني عنك سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم في القصاص لم أسمعه فخشيتُ أن تموت أو أموت قبل أن أسمعه، فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «يَحْشُرُ اللهُ الْعِبَادَ، أو قال: النَّاس عُرَاةً غُرْلًا بُهْمًا، قُلْنَا: ما بُهْمًا؟ قال: ليس مَعَهُمْ شيء، ثُمَّ يُنَادِيهِمْ رَبُّهُم بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعُدَ كَمَا يَسْمَعُهُ من قَرُبَ: أنا الْمَلِكُ أنا الدَّيَّانُ لَا ينبغي لأَحَدٍ من أَهْلِ الْجَنَّةِ أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ وَلأَحَدٍ من أَهْلِ النَّارِ عِندَهُ مَظْلَمَةٌ حتى أَقُصَّها مِنْهُ حَتَّى اللَّطْمَةُ، قُلْنَا: كَيْفَ وإِنَّمَا نَأْتِي اللَّهَ عُرَاةً غُرْلًا بُهْمًا؟ قال: بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ».

واستدلَّ البيهقيُّ أيضًا برِحلة موسى إلى الخَضِر.

وروي أيضًا من طريق عيَّاش عن واهب بن عبد الله المعافريِّ قال: قَدِم رجل من أصحاب النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم من الأنصار على مَسْلمة بن مَخْلد فألفاه نائمًا، فقال: أيقظوه. فأيقظوه، فرحَّب به وقال: انزل، قال: لا حتَّى تُرسل إلى عقبة بن عامر لحاجة لي، فأرسل إلى عقبةَ فأتاه فقال: هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من وَجَدَ مُسْلِمًا على عَوْرَةٍ فَسَتَرَه فَكَأَنَّمَا أَحْيَا مَوْؤُودَةً من قَبْرِهَا»، فقال عُقبة: قد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ذلك(1).

وسأل عبد الله بن أحمد أباه عمَّن طلب العلم: ترى له أن يلزم رجلًا عنده علمٌ فيكتب عنه؟ أو ترى له أن يرحل إلى المواضع الَّتي فيها العلم فيسمع منهم؟ قال: يرحل يكتب عن الكوفيِّين والبصريِّين وأهل المدينة ومكَّة.

قال إبراهيم بن أدهم: إنَّ الله يدفع البلاء عن هذه الأمة برحلة أصحاب الحديث.

قال الخطيب: والمقصود بالرِّحلة أمران:

أحدهما: تحصيل علوِّ الإسناد وقِدَم السَّماع.

والثَّاني: لقاء الحفَّاظ والمذاكرة لهم والاستفادة منهم، فإذا كان الأمران موجودين في بلدةٍ ومعدومين في غيره فلا فائدة في الرِّحلة أو موجودين في كلٍّ منهما فليُحَصِّل حديثَ بلده ثمَّ يرحلُ.

--------------------------------------------

(1) انظر: الرحلة في طلب الحديث للخطيب ح/ 34/ وما بعده.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

হাদিস অন্বেষণে সফরের (الرحلة) মূল ভিত্তি হলো যা বায়হাকি এবং খাতিব, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকিলের সূত্রে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে একটি হাদিস আমার কাছে পৌঁছালো যা আমি নিজে শুনিনি। তাই আমি একটি উট ক্রয় করলাম এবং তাতে আমার হাওদা শক্ত করে বাঁধলাম। এরপর এক মাস সফর করে আমি সিরিয়ায় পৌঁছলাম। আমি আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসের নিকট উপস্থিত হয়ে দারোয়ানকে বললাম: তাকে গিয়ে বলো যে, জাবির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। সে তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো: জাবির ইবনে আবদুল্লাহ? এরপর সে আমার কাছে আসলো এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি বললাম: হ্যাঁ। সে ফিরে গিয়ে তাকে সংবাদ দিলে তিনি তার পরিধেয় বস্ত্র পদদলিত করে (তাড়াহুড়ো করে) বেরিয়ে আসলেন এবং আমাকে আলিঙ্গন করলেন, আমিও তাকে আলিঙ্গন করলাম। আমি বললাম: কিাসাস (القصاص) সম্পর্কে আপনার পক্ষ থেকে একটি হাদিস আমার কাছে পৌঁছেছে যা আপনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে শুনেছেন কিন্তু আমি তা শুনিনি। তাই আমি আশঙ্কা করলাম যে, তা শোনার আগেই হয়তো আপনি মারা যাবেন অথবা আমি মারা যাবো। তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: «আল্লাহ বান্দাদের—অথবা তিনি বলেছেন: মানুষদের—নগ্ন, খতনাবিহীন এবং রিক্তহস্ত (بُهْمًا) অবস্থায় হাশরের ময়দানে একত্রিত করবেন। আমরা বললাম: রিক্তহস্ত (بُهْمًا) কী? তিনি বললেন: তাদের সাথে কোনো কিছুই থাকবে না। এরপর তাদের রব তাদের এমন এক আওয়াযে ডাকবেন যা দূর থেকে আসা ব্যক্তিও যেমন শুনবে, কাছ থেকে আসা ব্যক্তিও তেমনই শুনবে: আমিই বাদশাহ, আমিই বিচার ও প্রতিদানদাতা (الدَّيَّانُ)। জান্নাতবাসীদের কারও পক্ষে জান্নাতে প্রবেশ করা সমীচীন নয় যতক্ষণ না জাহান্নামবাসীদের কারও তার নিকট কোনো পাওনা বা জুলুমের অভিযোগ (مظلمة) বাকি থাকে এবং আমি তার ফয়সালা (أقصها) না করি—এমনকি তা একটি চড় মারার বিষয় হলেও। আমরা বললাম: এটা কীভাবে সম্ভব যখন আমরা আল্লাহর নিকট আসব নগ্ন, খতনাবিহীন এবং রিক্তহস্ত অবস্থায়? তিনি বললেন: সওয়াব (الحسنات) এবং গুনাহের (السيئات) বিনিময়ে»।

বায়হাকি খিজিরের নিকট মুসা (আ.)-এর সফর (الرحلة) দ্বারাও প্রমাণ পেশ করেছেন।

আইয়াশ-এর সূত্রে ওয়াহিব ইবনে আবদুল্লাহ আল-মাআফিরি থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী (সা.)-এর আনসারী সাহাবীদের একজন মাসলামা ইবনে মাখলাদ-এর নিকট আসলেন এবং তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলেন। তিনি বললেন: তাকে জাগাও। এরপর তারা তাকে জাগালেন এবং তিনি তাকে স্বাগত জানিয়ে বললেন: সওয়ারি থেকে নামুন। তিনি বললেন: না, যতক্ষণ না আপনি উকবা ইবনে আমিরের নিকট আমার একটি প্রয়োজনে লোক পাঠান। তিনি উকবার নিকট লোক পাঠালে উকবা আসলেন। তিনি বললেন: আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের গোপনীয় দোষ (عورة) প্রত্যক্ষ করে তা গোপন (ستره) রাখলো, সে যেন জীবন্ত কবরস্থ কোনো শিশুকে তার কবর থেকে উদ্ধার করে প্রাণদান করলো»। উকবা বললেন: হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তা বলতে শুনেছি।

আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ তার পিতাকে ইলম অন্বেষণকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কি মনে করেন তার জন্য নির্দিষ্ট একজন জ্ঞানী ব্যক্তিকে আঁকড়ে থাকা এবং তার থেকে লিখে নেওয়া উচিত? নাকি আপনি মনে করেন তার উচিত বিভিন্ন স্থানে সফর (يرحل) করা এবং সেখানে থাকা আলেমদের থেকে শ্রবণ করা? তিনি বললেন: সে যেন সফর (يرحل) করে এবং কুফাবাসী, বসরাবাসী, মদিনাবাসী ও মক্কাবাসীদের থেকে হাদিস লিখে নেয়।

ইব্রাহিম ইবনে আদহাম বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ হাদিস অন্বেষণকারীদের সফরের (الرحلة) উসিলায় এই উম্মতের ওপর থেকে বিপদ-আপদ দূর করে দেন।

খাতিব বলেন: সফরের (الرحلة) উদ্দেশ্য হলো দুটি বিষয়:

প্রথমত: ইসনাদের উচ্চমান (علو الإسناد) অর্জন করা এবং শ্রবণ বা শ্রুতির প্রাচীনত্ব (قدم السماع) লাভ করা।

দ্বিতীয়ত: হাদিস বিশারদ হাফেজদের (الحفاظ) সাথে সাক্ষাৎ করা, তাদের সাথে জ্ঞান চর্চা (المذاكرة) করা এবং তাদের থেকে উপকৃত হওয়া। যদি এই উভয় বিষয়ই নিজ শহরে বিদ্যমান থাকে এবং অন্য কোথাও না থাকে, তবে সফরের কোনো ফায়দা নেই। আর যদি উভয় জায়গাতেই এগুলো বিদ্যমান থাকে, তবে উচিত হবে আগে নিজ শহরের হাদিস সংগ্রহ করা এবং এরপর সফরে (يرحل) বের হওয়া।

--------------------------------------------

(1) দেখুন: খাতিবের ‘আর-রিহলা ফি তলাবিল হাদিস’, হাদিস নং ৩৪ এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) নেইলুল আমানি ফি তাওজিহি মুকাদ্দিমাতি আল-কাসতালানি - ত আতায়াতুল ইলম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وكان اعتمادُهم أوَّلًا على الحفظ والضَّبط في القلوب والخواطر، غير مُلْتفتين إلى ما يكتبونه، ولا معوِّلين على ما يَسْطُرونه، وذلك لسرعة حفظهم وسيلان أذهانهم، فلمَّا انتشر الإسلام واتَّسعت الأمصار، وتفرَّقت الصَّحابة في الأقطار، وكثُرت الفتوحات، ومات معظم الصَّحابة، وتفرّق أصحابهم وأتباعهم، وقلَّ الضَّبط واتَّسع الخَرْق، وكاد الباطل أن يلتبس بالحقِّ؛ احتاج العلماء إلى تدوين الحديث وتقييده بالكتابة، فمارسوا الدَّفاتر،


 

قوله: (وَكَانَ اعتِمَادَهُم)؛ أي: السَّلف والخلف(1).

وقوله: (أوَّلًا)؛ أي: في أوَّلِّ الأمر قبل انتشار الإسلام وتَفَرُّقُ الصَّحابةِ في الأمصار فكانت كتابة الحديث إذ ذاك قليلة؛ لما ذكره الشَّارح من سرعة حفظهم، ولأنَّ أكثرهم كان لا يحسن الكتابة، ولوقوع الخلاف بين السَّلف في كتابة الحديث؛ فقد كَرِهَهَا طائفةٌ منهم؛ لما رواه مسلم عن أبي سعيد الخُدريِّ أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: «لَا تَكْتُبُوا عنِّي شَيْئًا إِلَّا الْقُرْآنَ، فَمَنْ كَتَبَ عنِّي شَيْئًا غير الْقُرْآنِ فَلْيَمْحُهُ»، وأباحها آخرون؛ لحديث ابن عمرو قال: قلت: يا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَسْمَعُ مِنْكَ الشَّيءَ أَفَأَكْتُبُهُ؟ قال: «نعم». قلت: في الْغَضَبِ وَالرِّضَى؟ قال: «نعم؛ فإنِّي لَا أَقُولُ فِيهِمَا إلَّا حَقًّا».

وحديث رافع بن خَدِيج قال: قُلْتُ: يا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا نَسْمَعُ مِنْكَ أَشْيَاءَ أَفَنَكْتُبُهَا؟ فقال: «اكْتُبُوا وَلا حَرَجَ».

وأسند الدَّيلميُّ عن عليٍّ مرفوعًا: «إِذَا كَتَبْتُم الْحَدِيْثَ فَاكْتُبُوْهُ بِسَنَدِهِ».

ثمَّ أجمعوا بعد ذلك على جوازها وزال الخلاف وجمعوا بين هذه الأحاديث؛ بأنَّ الإذن لمن خافَ نسيانه، والنَّهي لِمَن أمن ووَثِقَ بحفظه، أو النَّهي خاصٌّ بوقت نزول القرآن؛ خشية التباسه، والإذن في غيره.

 

قوله: (فَمَارَسُوا الدَّفَاتِرَ) جمعُ دفتر -بفتح الدَّال وقد تُكسر، كما في «القاموس» - وهو جماعة

--------------------------------------------

(1) كذا قال رحمه الله، وقوله: (والخلف) لا يتوافق مع قوله: (أولًا).
وكان শুরুতে তাদের নির্ভরতা ছিল মূলত অন্তরে এবং স্মৃতিতে মুখস্থ ও নির্ভুল সংরক্ষণের (ضبط) ওপর। তারা যা লিখতেন তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না এবং যা লিপিবদ্ধ করতেন তার ওপর নির্ভর করতেন না। এটি ছিল তাদের প্রখর স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতার কারণে। যখন ইসলাম বিস্তার লাভ করল এবং নগরসমূহ বিস্তৃত হলো, সাহাবীগণ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লেন, বিজয়াভিযান বৃদ্ধি পেল এবং অধিকাংশ সাহাবী মৃত্যুবরণ করলেন, তাদের সঙ্গী ও অনুসারীগণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন, নির্ভুল সংরক্ষণের (ضبط) ক্ষমতা কমে গেল এবং বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পেল, আর সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণের উপক্রম হলো; তখন উলামায়ে কেরাম হাদিস সংকলন এবং তা লেখার মাধ্যমে আবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। ফলে তারা নোটবুক ব্যবহারে অভ্যস্ত হলেন।


 

তার উক্তি: (وَكَانَ اعتِمَادَهُم); অর্থাৎ: পূর্বসূরি (سلف) এবং উত্তরসূরিগণ (خلف)(১)।

এবং তার উক্তি: (أوَّلًا); অর্থাৎ: ইসলামের প্রসার এবং বিভিন্ন জনপদে সাহাবীগণের ছড়িয়ে পড়ার আগে প্রাথমিক সময়ে। তখন হাদিস লিখনের হার কম ছিল; কারণ ব্যাখ্যাদাতার উল্লেখ অনুযায়ী তাদের দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতা এবং তাদের অধিকাংশের লিখনশৈলী না জানা। এছাড়া হাদিস লিখনের ব্যাপারে পূর্বসূরিদের (سلف) মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান ছিল। একদল এটি অপছন্দ করতেন; কারণ মুসলিম-এ আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: «তোমরা আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখো না। যে ব্যক্তি কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।» আবার অন্যগণ এর অনুমতি দিয়েছেন; ইবনে আমর (রা.)-এর হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার কাছ থেকে কোনো কিছু শুনি, আমি কি তা লিখব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ।» আমি বললাম: রাগান্বিত এবং সন্তুষ্ট উভয় অবস্থায়? তিনি বললেন: «হ্যাঁ; কারণ আমি এই উভয় অবস্থায় সত্য ছাড়া কিছু বলি না।»

এবং রাফি ইবনে খাদিজ (রা.)-এর হাদিসে আছে, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার নিকট থেকে অনেক কিছু শুনি, আমরা কি তা লিখব? তিনি বললেন: «লেখো, এতে কোনো দোষ নেই।»

আলী (রা.) থেকে দায়লামি মারফূ (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: «যখন তোমরা হাদিস লিখবে, তখন তা তার সনদসহ (بسنده) লিখবে।»

এরপর তারা এর বৈধতার ব্যাপারে ঐক্যমত্য পোষণ করেন (أجمعوا) এবং মতপার্থক্য দূর হয়ে যায়। তারা এই হাদিসগুলোর মধ্যে এভাবে সমন্বয় করেন যে: অনুমতি ছিল তাদের জন্য যারা ভুলে যাওয়ার ভয় করতেন, আর নিষেধাজ্ঞা ছিল তাদের জন্য যারা তাদের নির্ভুল সংরক্ষণের (ضبط) ব্যাপারে আশ্বস্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। অথবা নিষেধাজ্ঞাটি কুরআন নাজিল হওয়ার সময়ের সাথে নির্দিষ্ট ছিল যাতে কুরআনের সাথে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে, আর অনুমতি অন্য সময়ের জন্য।

 

তার উক্তি: (فَمَارَسُوا الدَّفَاتِرَ) এটি 'دفتر' (নোটবুক)-এর বহুবচন - দাল বর্ণে জবরসহ, কখনো যেরও হতে পারে, যেমনটি 'আল-কামূস'-এ রয়েছে - এটি একটি দল বা সমষ্টি...

--------------------------------------------

(১) তিনি (রহ.) এমনটিই বলেছেন। তার উক্তি: (والخلف) এটি (أولًا) শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।