(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
نحو الفقهاء = مجرد مقالات أبي إسحاق الشاطبي في العربية   (أحمد فتحي البشير)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: نحو الفقهاء

(مجرد مقالات أبي إسحاق الشاطبي في منزلة العربية من الشريعة)

المؤلف: أحمد فتحي البشير

الناشر: مركز تراث للبحوث والدراسات، الجيزة - مصر

الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2022 م

عدد الصفحات: 262

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 جُمادَى الأولى 1446

নাহু আল-ফুকাহা = আরবী ভাষা প্রসঙ্গে আবু ইসহাক আল-শাতিবির প্রবন্ধসমূহের সারসংক্ষেপ   (আহমদ ফাতহি আল-বাশির)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


বই: নাহু আল-ফুকাহা

(শরীআতে আরবী ভাষার মর্যাদার বিষয়ে আবু ইসহাক আল-শাতিবির প্রবন্ধসমূহের সংকলন)

লেখক: আহমদ ফাতহি আল-বাশির

প্রকাশক: মারকাজুত তুরাস লি-বুহুস ওয়াদ দিরাসাত, গিজা - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ জুমাদাল উলা ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
"حدَّثني الشيخ الفقيه الأستاذ النحوي الفاضل أبو عبد الله محمد بن علي البَلَنْسي رضي الله عنه، قال: أصابت أبي أزمةٌ شديدة لحقنا بسببها كربٌ عظيمٌ، فبينما أنا ليلةً نائمٌ، إذ أتاني رجل حَسَنُ القَدِّ والصورة، أشبَه رجل بالأستاذ أبي عبد الله بن الفَخَّار شيخنا رحمه الله، فقال لي: أين دعاء الخَضِر عليه السلام، فقلتُ له: وأين هو؟ فقال لي قل: "اللَّهم يا مَن لا يشغَله سمعٌ عن سمعٍ، ويا مَن لا تُغلِّطه المسائل، ويا مَن لا يتبرَّم من إلحاح المُلِحِّين أذقْنِي بَرْدَ عفوك وحلاوةَ مغفرتك".

قال: وقد كنتُ حفِظتُه قديمًا، ونسيتُه، فذكرتُه عند ذلك، ثم قال: قل: "اللهم أدِّ عني الدَّين، وأغنني من الفقر، اللهم خِرْ لي واختَرْ لي، فإني قد عجزتُ عن صلاح نفسي، وفوضتُ لك أمري".

فاستيقظتُ وقد حفظتُه، فدعوتُ الله به فلم يكُن إلا يسيرًا ثم فرَّج الله عنا ببركة هذا الدعاء.

قال: فلم أزَل أدعو به إثر الصلوات إلى الآن.

قلتُ: وقد سمعتُه يدعو بهنَّ إثر الصلوات، وما تركتُهنَّ أنا منذ حدَّثني بهذا".

[أبو إسحاق الشاطبي في "الإفادات"، ص 94، 95]
আমাকে শায়খ (شيخ), ফকিহ (فقيه), উস্তাদ, ব্যাকরণবিদ এবং বিদগ্ধ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী আল-বালানসি (রা.) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা এক কঠিন সংকটে নিপতিত হয়েছিলেন যার দরুন আমাদের ওপর চরম দুঃখ-কষ্ট আপতিত হয়েছিল। এক রাতে আমি যখন নিদ্রিত ছিলাম, তখন এক সুঠাম দেহ ও সুন্দর অবয়বের অধিকারী ব্যক্তি আমার নিকট আগমন করলেন, যিনি আমাদের শায়খ (شيخ) উস্তাদ আবু আবদুল্লাহ বিন আল-ফাখখার (রহ.)-এর সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: খিজির (আ.)-এর সেই দোয়াটি কোথায়? আমি তাকে বললাম: সেটি কী? তখন তিনি আমাকে বললেন, বলো: "হে আল্লাহ! হে সেই সত্তা, যাঁর নিকট একটি শ্রবণ অন্য শ্রবণ থেকে প্রতিবন্ধক হয় না, যাঁকে অগণিত প্রার্থনা বিভ্রান্ত করে না এবং যাঁর নিকট অনুনয়কারীদের পিড়াপীড়ি বিরক্তির উদ্রেক করে না; আমাকে আপনার ক্ষমার শীতলতা ও মাগফিরাতের মিষ্টতা আস্বাদন করান।"

তিনি বললেন: আমি এটি পূর্বে মুখস্থ করেছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে ভুলে গিয়েছিলাম, সেই মুহূর্তে তা আমার পুনরায় স্মরণ হলো। অতঃপর তিনি বললেন: বলো: "হে আল্লাহ! আমার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাকে অভাবমুক্ত করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য যা কল্যাণকর তা নির্ধারিত করুন এবং আমার জন্য তা মনোনীত করুন, কেননা আমি নিজের সংশোধনে অক্ষম হয়ে পড়েছি এবং আপনার নিকট আমার যাবতীয় বিষয় সোপর্দ করেছি।"

অতঃপর আমি জাগ্রত হলাম এবং সেটি আমার মুখস্থ ছিল। আমি এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম। এরপর সামান্য সময়ও অতিবাহিত হয়নি, তার মধ্যেই এই দোয়ার বরকতে আল্লাহ আমাদের বিপদ দূর করে দিলেন।

তিনি বললেন: আমি আজ অবধি সালাতসমূহের পর নিয়মিত এই দোয়াটি পাঠ করে আসছি।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আমি তাকে সালাতসমূহের পর এই দোয়াগুলো পাঠ করতে শুনেছি এবং তিনি আমাকে এই বর্ণনাটি প্রদান করার পর থেকে আমিও কখনো তা বর্জন করিনি।

[আবু ইসহাক আশ-শাতিবি, "আল-ইফাদাত", পৃষ্ঠা ৯৪, ৯৫]
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌كلمة حقٍّ

"إنَّ الشريعة عربية، وإذا كانت عربية؛ فلا يفهمها حقَّ الفهم إلا مَن فهم اللغة العربية حقَّ الفهم؛ لأنهما سيَّان في النمط … ؛ فإذا فرَضْنا مبتدئًا في فهم العربية فهو مبتدئٌ في فهم الشريعة، أو متوسطًا فهُو متوسطٌ في فهم الشريعة والمتوسطُ لم يبلُغ درجة النهاية، فإن انتهى إلى درجة الغاية في العربية كان كذلك في الشريعة؛ فكان فَهمُه فيها حُجة كما كان فهم الصحابة وغيرهم من الفصحاء الذين فهموا القرآن حُجةً، فمن لم يبلُغ شأوَهم؛ فقد نقصه من فهم الشريعة بمقدار التقصير عنهم، وكلُّ مَن قصُر فَهمُه لم يُعَدَّ حُجةً، ولا كان قوله فيها مقبولًا …

الحاصلُ أنه لا غنى للمجتهد في الشريعة عن بلوغ درجة الاجتهاد في كلام العرب، بحيث يصير فَهمُ خطابها له وصفًا غيرَ متكلَّف ولا متوقَّف فيه في الغالب إلا بمقدار توقُّف الفَطِن لكلام اللبيب".

[أبو إسحاق الشاطبي في "الموافقات" 5/ 53 - 57]
‌একটি ধ্রুব সত্য

"নিশ্চয়ই শরিয়ত আরবি ভাষায় রচিত; আর যেহেতু এটি আরবি, তাই একে যথাযথভাবে বুঝতে পারবে না কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে আরবি ভাষাকে যথাযথভাবে বুঝেছে। কারণ তারা উভয়ই গঠনরীতির দিক থেকে অভিন্ন … ; সুতরাং আমরা যদি কাউকে আরবি ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের (مبتدئ) মনে করি, তবে সে শরিয়ত বোঝার ক্ষেত্রেও প্রাথমিক স্তরের (مبتدئ)। আর যদি সে মধ্যম স্তরের (متوسط) হয়, তবে শরিয়ত বোঝার ক্ষেত্রেও সে মধ্যম স্তরের (متوسط)। আর যে মধ্যম স্তরের (متوسط), সে এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। কিন্তু যদি সে আরবি ভাষায় পারদর্শিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তবে শরিয়ত অনুধাবনের ক্ষেত্রেও সে সেই স্তরে উন্নীত হয়। তখন শরিয়তের বিষয়ে তার অনুধাবন দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি সাহাবায়ে কেরাম এবং অন্যান্য বিশুদ্ধভাষী ব্যক্তিবর্গের অনুধাবন দলিল (حجة) ছিল, যারা কুরআন বুঝেছিলেন। অতঃপর যে ব্যক্তি তাদের স্তরে পৌঁছাতে পারেনি, তাদের তুলনায় তার যতটুকু ঘাটতি রয়েছে, শরিয়ত অনুধাবনের ক্ষেত্রেও তার ততটুকু অপূর্ণতা থাকবে। আর যার অনুধাবন অসম্পূর্ণ, তার কথাকে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং শরিয়তের বিষয়ে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য (مقبول) হবে না …

সারকথা হলো, শরিয়তের বিষয়ে গবেষণাকারী মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য আরবি ভাষাশৈলীতে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর স্তরে পৌঁছানো অপরিহার্য, যেন আরবি ভাষার বক্তব্য অনুধাবন করা তার জন্য এমন এক স্বতঃস্ফূর্ত গুণ হয়ে দাঁড়ায় যাতে সাধারণত কোনো কৃত্রিমতা বা দ্বিধাবোধ থাকে না; কেবল একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি অপর একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির কথা বুঝতে যতটুকু সময় নেন, ততটুকু ব্যতীত।"

[আবু ইসহাক আশ-শাতিবি, "আল-মুওয়াফাকাত" ৫/ ৫৩ - ৫৭]
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه تعالي نستعين

الحمد لله الذي حفظ شريعته من عبث العابثين، وأهواءِ أصحاب الشهوات المُرتابين، والدُّخلاء الجاهلين، وصلَّى الله على سيدنا وإمامنا محمد رسول الله الذي بلَّغ ما أُنزِل إليه من ربِّ العالمين، وعلى أصحابه الذين تحمَّلوا همَّ هذا الدِّين، وبذلوا من أجله كلَّ غالٍ وثمين، وعلى تابعيهم ومَن جاء بعدَهم من العلماء الجِلَّة الذين بيَّنوا هذه الشريعة أحسن تبيين.

أما بعدُ؛

فإن شريعتنا نحن المسلمين شريعة عربية؛ فأصلُها وأسُّها القرآنُ الكريم وقد نزل باللسان العربي وعلى معهوده، وكذا السُّنة النبوية المشرَّفة عربية اللسان، قال تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا} [يوسف: 2]، وقال: {بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء: 195]، وقال: {لِسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُبِينٌ} [النحل: 103]، وقال: {وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ} [فصلت: 44]، وقال: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44].

فمن جهة هذا اللسان يُفهَمان، لا سبيل إلى فهمهما بغيره.

وبهذا القيد أُغلق باب التكلُّم فيهما أمام وجه غير المتحقِّق بعلوم هذا اللسان فاقد الرسوخ فيها؛ فكانت العربية لذلك من أهمِّ دُرُوع وقاية الشريعة من
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

এবং তাঁরই নিকট আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর শরিয়তকে অনর্থক অনিষ্টকারীদের তছরুপ, সন্দেহপোষণকারী প্রবৃত্তি পূজারীদের কামনা-বাসনা এবং মূর্খ অনুপ্রবেশকারীদের থেকে রক্ষা করেছেন। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও ইমাম মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ-এর ওপর, যিনি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিয়েছেন। আরও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সাহাবীগণের ওপর, যারা এই দ্বীনের মহান দায়িত্ব বহন করেছেন এবং এর জন্য মূল্যবান সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন। এবং রহমত বর্ষিত হোক তাঁদের অনুসারী তাবিঈ ও পরবর্তী সময়ের সেই সকল মহান আলেমদের ওপর, যারা এই শরিয়তকে সর্বোত্তমভাবে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন।

অতঃপর;

নিশ্চয়ই আমরা মুসলিমদের এই শরিয়ত হলো আরবি শরিয়ত; এর মূল ও ভিত্তি হলো আল-কুরআনুল কারিম, যা আরবি ভাষায় এবং এর চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী অবতীর্ণ হয়েছে। অনুরূপভাবে সম্মানিত সুন্নাতে নববীও আরবি ভাষার। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি" [ইউসুফ: ২]। তিনি আরও বলেন: "স্পষ্ট আরবি ভাষায়" [শুয়ারা: ১৯৫]। তিনি আরও বলেন: "তারা যার প্রতি ইঙ্গিত করে তার ভাষা তো অনারবি, অথচ এটি হচ্ছে স্পষ্ট আরবি ভাষা" [নাহল: ১০৩]। তিনি আরও বলেন: "যদি আমি একে অনারবি কুরআন করতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত—এর আয়াতগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়নি কেন? ভাষা অনারবি আর রসূল কি আরবি?" [ফুসসিলাত: ৪৪]। তিনি আরও বলেন: "আর আমি আপনার প্রতি এই উপদেশ নাজিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে" [নাহল: ৪৪]।

সুতরাং এই ভাষার মাধ্যমেই এই উভয়টিকে (কুরআন ও সুন্নাহ) বোঝা সম্ভব; এটি ছাড়া এ দুটো উপলব্ধি করার আর কোনো পথ নেই।

আর এই শর্তের মাধ্যমেই কুরআন ও সুন্নাহর বিষয়ে কথা বলার দ্বার সেই ব্যক্তির সামনে রুদ্ধ করা হয়েছে, যে এই ভাষার জ্ঞানসমূহে দক্ষ নয় এবং যাতে তার গভীর পাণ্ডিত্য নেই। তাই আরবি ভাষা ছিল শরিয়তকে রক্ষার জন্য অন্যতম প্রধান ঢাল...
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الجاهلين بها والمرتابين فيها والجاحدين لها.

ومن هنا كثُر تنبيه العلماء على اختلاف فنونهم وعلومهم على أهمية العربية بالنسبة للشريعة وعلومها؛ هكذا تجد الفقهاء والأصوليين والمفسرين والبيانيين وأهل الأدب وعلماء الكلام.

ولما كانت العربية بهذه المرتبة والأهمية أفرد جَمْعٌ من العلماء بيان أهميتها هذه بالتصنيف والتأليف، وأوَّل هذه المصنَّفات المطبوعة في حدود اطلاعنا كتاب "تنبيه الألباب على فضائل الإعراب" لأبي بكر الشَّنتَريني (ت 549 هـ)، وهو كتاب صغير الحجم(1)، وهو أشبه بالإشارات والتنبيهات، لكنه نفيس من جهة تقدُّمه في الزمن، ومن جهة اشتماله على بعض النصوص المهمة.

ويليه كتاب النجم الطُّوفي (ت 716 هـ) المسمَّى "الصعقة الغضبية في الرد على منكري العربية"، وقد استوعب فيه الطُّوفي جهات أهمية العربية بشيء من البسط والبيان مع ما فيه من النكات والإشارات المهمة كما هي عادة الطُّوفي في كتبه.

وآخرُها وأكثرها بسطًا كتاب "روضة الإعلام بمنزلة العربية من علوم الإسلام" لابن الأزرق الأندلسي (ت 896 هـ)، ويكاد ابن الأزرق أن يكون قد جمع فيه كلَّ ما يتعلَّق بهذا الموضوع، هذا مع كثرة النقول النادرة النفيسة والفوائد العزيزة.

--------------------------------------------

(1) نُشِر عدة نشرات آخرُها وأفضلُها النشرة التي حقَّقها مكتب إحياء التراث الإسلامي بمشيخة الأزهر الشريف، وصدرت كهدية مع مجلة الأزهر، عدد جمادى الأولى 1442 هـ، وفي مقدِّمة تحقيقهم تكلَّموا عن النشرات السابقة للكتاب.
যারা এর সম্পর্কে অজ্ঞ, এতে সন্দিহান এবং যারা এটিকে অস্বীকারকারী।

এ কারণেই বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিজ্ঞানের আলেমগণ শরিয়ত ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের জন্য আরবি ভাষার গুরুত্বের বিষয়ে অত্যধিক তাকিদ দিয়েছেন; এভাবেই আপনি ফকিহ (فقهاء), উসুলবিদ (أصوليون), মুফাসসির (مفسرون), অলঙ্কারবিদ (بيانيون), সাহিত্যিক এবং ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের (علماء الكلام) দেখতে পাবেন।

যেহেতু আরবি ভাষা এই পর্যায়ের মর্যাদা ও গুরুত্বের অধিকারী, তাই একদল আলেম এর গুরুত্ব বর্ণনার জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা (تصنيف) ও সংকলনে (تأليف) মনোনিবেশ করেছেন। আমাদের জানামতে এ বিষয়ক মুদ্রিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে প্রথম হলো আবু বকর আশ-শামতারিনি (মৃ. ৫৪৯ হি.) রচিত "তানবিহুল আলবাব আলা ফাদাইলিল ই'রাব"। এটি একটি ক্ষুদ্রাকৃতির বই(১), যা অনেকটা ইশারা ও সতর্কবার্তার মতো; তবে এটি রচনার সময়ের দিক থেকে প্রাচীন হওয়ার কারণে এবং এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য (نصوص) অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে অত্যন্ত মূল্যবান।

এর পরবর্তী গ্রন্থটি হলো নাজমুদ্দীন আত-তুফি (মৃ. ৭১৬ হি.) রচিত "আস-সাইকাতুল গাদাবিয়্যাহ ফির রাদ্দি আলা মুনকিরিল আরাবিয়্যাহ"। আত-তুফি তার কিতাবসমূহের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এতে বেশ বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বর্ণনার মাধ্যমে আরবি ভাষার গুরুত্বের দিকগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বহু সূক্ষ্ম বিষয় (نكات) ও গুরুত্বপূর্ণ ইশারা।

এসবের মধ্যে সর্বশেষ এবং সবচেয়ে বিস্তারিত গ্রন্থ হলো ইবনুল আজরাক আল-আন্দালুসি (মৃ. ৮৯৬ হি.) রচিত "রাওদাতুল ই'লাম বি-মানযিলাতিল আরাবিয়্যাহ মিন উলুমিল ইসলাম"। ইবনুল আজরাক এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় সবকিছুই এতে সংকলন করেছেন, সেই সঙ্গে এতে প্রচুর দুর্লভ ও মূল্যবান উদ্ধৃতি (نقول) এবং বিরল জ্ঞানগর্ভ আলোচনা (فوائد) বিদ্যমান রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ এবং সর্বোত্তম হলো আল-আযহার আশ-শারিফ-এর ইসলামি ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ ব্যুরো কর্তৃক সম্পাদিত (تحقيق) সংস্করণটি। এটি জামাদিউল উলা ১৪৪২ হিজরি সংখ্যায় আল-আযহার ম্যাগাজিনের সাথে উপহার হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে এবং তাদের সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকায় তারা বইটির পূর্ববর্তী সংস্করণগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وكلُّ هذه التصانيف قد أُقيمت في بيانها أهميةَ العربية على ثلاثة محاور(1):

الأول: كون النحو أداة لفهم نصوص الشرع من الكتاب والسُّنة، والسبيلَ الأول لتقرير المعاني واستنباطها منهما.

الثاني: الحاجة إلى النحو في سائر العلوم، فالنحو يُرشِّح صاحبَه إلى الخوض فيها؛ لأن سائر العلوم مفتقرة إلى النحو، ومن لم يُحصِّل النحو على الوجه اللائق فلا ثقة فيما حصَّله من هذه العلوم.

الثالث: قُبح اللحن وضرره؛ لما يترتب عليه من الخطأ في قراءة القرآن والحديث، وغير ذلك من أضرار اللحن.

ومما يدخل ضمن المصنَّفات المبيِّنة لأهمية العربية الكتبُ التي أُفرِدت لتخريج الفروع الفقهية على القواعد النحوية ككتاب الإسنوي (ت 772 هـ) المسمَّى "الكوكب الدُّري فيما يتخرج على الأصول النحوية من الفروع الفقهية"، وكتاب ابن المِبرَد الحنبلي (ت 909 هـ) المسمَّى "زينة العرائس من الطُّرف والنفائس في تخريج الفروع الفقهية على القواعد النحوية"، وكتاب ابن طولون الحنفي (ت 953 هـ) المسمَّى "قمر الصحو في تنزيل الفقه على النحو"، وغيرها مما صُنِّف في هذا الشأن.

وهذا النوع من الكتب يُفصِّل في جانب مما يذكره بعدم تفصيل وإسهاب أصحابُ الكتب المفردة في فضائل العربية وأهميتها، وهذا الجانب داخلٌ في المحور الأول من المحاور الثلاث السابقة الذِّكر.

--------------------------------------------

(1) راجع: مقدمة تحقيق تنبيه الألباب 27، 28.
এই সকল রচনা আরবি ভাষার গুরুত্ব বর্ণনায় তিনটি মূল অক্ষের(১) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:

প্রথমত: কুরআন ও সুন্নাহর শারয়ী পাঠসমূহ (نصوص) বোঝার ক্ষেত্রে নাহু (ব্যাকরণ) একটি মাধ্যম হওয়া এবং এই উভয় উৎস থেকে অর্থের মর্মার্থ অনুধাবন ও তা চয়ন (استنباط) করার প্রধান উপায় হওয়া।

দ্বিতীয়ত: অন্যান্য সকল বিদ্যায় নাহুর প্রয়োজনীয়তা। কেননা নাহুই এর অধিকারীকে অন্যান্য বিদ্যায় প্রবেশ করতে যোগ্য করে তোলে; যেহেতু সকল বিদ্যাই নাহুর মুখাপেক্ষী। আর যে ব্যক্তি যথাযথভাবে নাহু অর্জন করেনি, এসব বিদ্যা থেকে সে যা অর্জন করেছে তার ওপর কোনো নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) নেই।

তৃতীয়ত: ব্যাকরণগত ভুল (لحن) এর কদর্যতা ও ক্ষতি; কারণ এর ফলে কুরআন ও হাদিস পাঠে ভুল সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এটি ব্যাকরণগত ভুল (لحن) এর অন্যান্য নানাবিধ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরবি ভাষার গুরুত্ব বর্ণনাকারী গ্রন্থসমূহের মধ্যে সেই সব কিতাবও অন্তর্ভুক্ত, যা নাহুর মূলনীতি (أصول) সমূহের ওপর ভিত্তি করে ফিকহি শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবন (تخريج) করার জন্য বিশেষভাবে রচিত হয়েছে। যেমন: আল-ইসনাবি (মৃত্যু ৭৭২ হিজরি) রচিত কিতাব "আল-কাওকাবুদ দুরি ফিমা ইয়াতাখাররাজু আলাল উসুলিন নাহউয়িয়্যা মিনাল ফুরুইল ফিকহিয়্যা", ইবনুল মিবরাদ আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৯০৯ হিজরি) রচিত কিতাব "যিনাতুল আরাইস মিনাত তুরাফি ওয়ান নাফাইস ফি তাখরিজিল ফুরুইল ফিকহিয়্যা আলাল কাওয়াইদিন নাহউয়িয়্যা", ইবনে তুলুন আল-হানাফি (মৃত্যু ৯৫৩ হিজরি) রচিত কিতাব "কামারুস সাহও ফি তানযিলিল ফিকহি আলান নাহও" এবং এই বিষয়ে রচিত অন্যান্য গ্রন্থাবলি।

এই ধরণের কিতাবসমূহ এমন একটি দিকের বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করে, যা আরবি ভাষার ফজিলত ও গুরুত্ব বিষয়ক স্বতন্ত্র গ্রন্থকারগণ বিস্তারিত ও দীর্ঘভাবে আলোচনা করেননি। আর এই দিকটি পূর্বে উল্লিখিত তিনটি অক্ষের মধ্যে প্রথমটির অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তানবিহুল আলবাব-এর তাহকিকের ভূমিকা পৃষ্ঠা ২৭, ২৮।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وهذا الاعتناء من العلماء ببيان أهمية العربية وتأكيد التنبيه عليها في ثنايا كتبهم على تنوُّعها، كلُّ أهل فنٍّ لا تكاد كتبهم تخلو من هذا إما نصًّا وإما إشارةً وإما إيماءً، ثم إفرادهم التصانيف والتواليف في بيان هذه الأهمية - إنما كان ذلك منهم لمعرفتهم عِظَم خطرها واشتداد مسيس الحاجة إليها في الشريعة؛ فإن قاعدة الشرع أن الشيء إذا عَظُم قدره شُدِّد فيه، وكثُر التنبيه عليه، وبُسِط الكلام فيه(1).

ومن تأمَّل حال علماء الشريعة وجَد أن الواحد منهم كلما زاد عِلمه ورسوخُه في العربية زاد فَهمُه لكلام الشارع وبصرُه بمراميه ومقاصده، وما علَت رتبة الشافعي على غيره من الأئمة إلا بالعربية، وهو أول من صنَّف في الأصول في "الرسالة" المشهورة، وقد نبَّه فيها على منزلة العربية من الشريعة وعظيم مكانها منها(2)؛ ولهذا فإن كلَّ أتباع مذهب إمام من الأئمة المتبوعين كانوا حريصين - وهو حقٌّ، أعني أصل التنبيه - على بيان تقدُّم إمامهم في العربية والذَّبِّ عنه فيما يُوهِم بخلاف ذلك(3).

--------------------------------------------

(1) راجع الفروق، للقرافي 3/ 253.

(2) راجع: الرسالة 40 - 53.

(3) راجع: أحكام القرآن، لأبي بكر بن العربي 1/ 410، 411؛ مناقب الإمام أحمد، لابن الجوزي، ص 668. وأما ما يقال بشأن الإمام أبي حنيفة في هذا فهو كلام ساقط جملةً وتفصيلًا كما بيَّنتُه بالتفصيل في كتاب: "مَن نُسب إلى الضَّعف في العربية أو التقصير من الأعلام والمشاهير"، يسَّر الله نشره، ولولا أن ما نُسب إلى الإمام مسطور في بعض الكتب، وأن بعض الجهلة المبتدعة قد أطلقوا لسانهم في الإمام في أيامنا هذه، وأن كلامنا فيه بعض الفوائد والتنبيهات المهمة = ما كان ينبغي عند أهل العقل والعِلم النظر في هذا الذي قيل في الإمام بَلْهَ أن يُفرَد بالردِّ والمناقشة.
আলেমগণের আরবি ভাষার গুরুত্ব বর্ণনা এবং তাঁদের বৈচিত্র্যময় কিতাবসমূহের ভাঁজে ভাঁজে এ বিষয়ে সজাগ করার প্রতি এই যে বিশেষ যত্ন—কোনো শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের কিতাবই এ থেকে প্রায় খালি নেই, তা সরাসরি বর্ণনার মাধ্যমে হোক কিংবা ইঙ্গিত বা ইশারায়। অতঃপর এই গুরুত্ব বর্ণনায় তাঁদের স্বতন্ত্র গ্রন্থ ও সংকলনসমূহ রচনা—এসবই মূলত শরিয়তে আরবি ভাষার সুদূরপ্রসারী প্রভাব এবং এর তীব্র প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাঁদের সম্যক অবগতির কারণে। কেননা শরিয়তের একটি মূলনীতি হলো, কোনো বিষয়ের মর্যাদা যখন বৃদ্ধি পায়, তখন সে বিষয়ে কড়াকড়ি করা হয়, সে সম্পর্কে অধিক মাত্রায় সতর্ক করা হয় এবং তার আলোচনা বিস্তারিতভাবে করা হয়(১)。

আর যে ব্যক্তি শরিয়তবিদ আলেমগণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে, সে দেখতে পাবে যে, তাঁদের মধ্যে যারই আরবি ভাষায় পাণ্ডিত্য ও গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, আইনদাতার বাণীর মর্ম উপলব্ধি এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুধাবনে তাঁর প্রজ্ঞা ততটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। ইমাম শাফেয়ী অন্য ইমামগণের ওপর যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তা মূলত আরবি ভাষার কারণেই। তিনি মূলনীতি (أصول) শাস্ত্রের ওপর তাঁর বিখ্যাত 'আল-রিসালা' গ্রন্থে সর্বপ্রথম সংকলন করেন এবং সেখানে তিনি শরিয়তে আরবি ভাষার মর্যাদা ও সুউচ্চ স্থান সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন(২); এই কারণেই অনুসৃত ইমামগণের প্রত্যেক মাযহাবের অনুসারীগণ তাঁদের ইমামের আরবি ভাষায় পারদর্শিতা বর্ণনা করতে এবং এর বিপরীতে কোনো সংশয় দেখা দিলে তা নিরসনে সচেষ্ট ছিলেন—আর এটিই যথার্থ পদ্ধতি, অর্থাৎ আমি মূলত এই সতর্ককরণের বিষয়টিই বোঝাচ্ছি(৩)。

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ফুরুক, আল-কারাফি ৩/ ২৫৩।

(২) দেখুন: আল-রিসালা ৪০-৫৩।

(৩) দেখুন: আহকামুল কুরআন, আবু বকর ইবনুল আরাবি ১/ ৪১০, ৪১১; মানাকিবে ইমাম আহমাদ, ইবনুল জাওযি, পৃ. ৬৬৮। আর এ বিষয়ে ইমাম আবু হানিফা সম্পর্কে যা বলা হয়, তা সামগ্রিকভাবে ও বিস্তারিতভাবে একটি অসার উক্তি, যেমনটি আমি আমার কিতাব: "মুন নুসিবা ইলাদ দঈফি ফিল আরাবিয়া আওত তাকসিরি মিনাল আলামি ওয়াল মাশাহির" (যাঁদের আরবি ভাষায় দুর্বল (ضعيف) হওয়ার বা ত্রুটি থাকার অপবাদ দেওয়া হয়েছে এমন বরেণ্য ও বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ)-তে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি; আল্লাহ যেন কিতাবটির প্রকাশনা সহজ করে দেন। ইমামের প্রতি যা নিসবত করা হয়েছে তা যদি কিছু কিতাবে লিপিবদ্ধ না থাকতো এবং বর্তমান যুগে কিছু মূর্খ বিদআতিরা যদি ইমামের ব্যাপারে তাঁদের জবান দরাজ না করতো, আর আমাদের আলোচনায় যদি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা ও সতর্কতা না থাকতো; তবে বুদ্ধিমান ও জ্ঞানীদের নিকট ইমামের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে তা বিবেচনা করাও উচিত ছিল না, এর খণ্ডন ও আলোচনা তো সুদূরপরাহত বিষয়।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ومن الذين كانت لهم قَدَمٌ راسخة في الشريعة، وكان أحد الأسباب في رسوخه هذا وأهمُّها هو تحقُّقه بالعربية وأخذُه بناصية علومها - الإمام النَّظَّار الشهير أبو إسحاق الشاطبي، ومن طالع كتبه وتأمَّلها حقَّ التأمُّل يجِد أن أحد أركان مشروعه الذي انشغل ببيانه وتقريره في هذه الكتب - هو عِلم العربية؛ فهو عنده المدخل إلى الشريعة، وهو العِلم أكيد الاشتراط في رتبة الاجتهاد؛ فلا يكفي فيها اليسير منه في حقِّ مَن أراد تحصيل هذه الرتبة، بل لا بُدَّ له من تحصيله على كماله حتى يكون من أهله، وهو العِلم الذي بسبب إهماله رفَعت البِدَعُ رءوسها، واتسع الخرق في الأزمنة الأخيرة على الراقع؛ فكثُرت الدعاوي على الشريعة.

وقد كنتُ في أثناء إعداد رسالة الماجستير الموسومة "أصول العربية بين متقدِّمي النحاة ومتأخِّريهم؛ دراسة في فكر أبي إسحاق الشاطبي" أتنبَّه إلى هذا المأخذ عنده، وكثرة كلامه ونصوصه فيه، فكنتُ أجمع تلك النصوص في قُصاصات، ثم انشغلتُ عن ذلك بالعمل في الدكتوراة وبعض الأعمال العلمية.

ثم بعد أن انتهيتُ مما كنتُ مشغولًا به عُدتُ إلى النظر في هذه القصاصات، فوجدتُها مادة نافعة ثريَّة، فيها من التحقيق والتحرير ما فيها كما هي عادة الشاطبي فيما يكتب، فرأيتُ أنها تستحقُّ أن تُفرَد بالتصنيف؛ فاستشرتُ في هذا بعض النُّبهاء من الأصدقاء والزملاء؛ فأجابوني بالموافقة وبأنها فكرة موفَّقة؛ فاستعنتُ بالله تعالى وجردتُ مصادر هذه المادة مرة أخرى؛ خوفًا من أن يكون قد فاتني شيء منها لم أنتبه إليه في جردي لها في المرة الأولى.
শরিয়তের (شريعة) জ্ঞানে যাঁদের সুদৃঢ় অবস্থান ছিল এবং এই দৃঢ়তার অন্যতম ও প্রধান কারণ ছিল আরবি ভাষায় পারদর্শিতা এবং এর জ্ঞানশৃঙ্খলার ওপর পূর্ণ আধিপত্য—তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিখ্যাত তত্ত্বজ্ঞানী ইমাম আবু ইসহাক আল-শাতিবি। যে ব্যক্তি তাঁর কিতাবসমূহ পাঠ করেছেন এবং সেগুলো যথাযথভাবে অনুধাবন করেছেন, তিনি দেখতে পাবেন যে তাঁর প্রকল্পের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ—যা তিনি এই গ্রন্থগুলোতে বিস্তারিত বর্ণনা ও প্রতিষ্ঠা করেছেন—তা হলো আরবি ভাষা বিজ্ঞান। তাঁর মতে, এটি শরিয়তে প্রবেশের মাধ্যম এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) স্তরে পৌঁছানোর জন্য একটি অবধারিত শর্ত। এই উচ্চতর স্তর অর্জনে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য ভাষার সামান্য জ্ঞান যথেষ্ট নয়, বরং তাঁকে এতে পূর্ণতা অর্জন করতে হবে যাতে তিনি এই শাস্ত্রের যোগ্য হিসেবে গণ্য হতে পারেন। এটি এমন এক বিদ্যা যার অবহেলার কারণেই বিদআত (بدعة) মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং বর্তমান সময়ে ফাটল এতটাই প্রশস্ত হয়েছে যা তালি দিয়ে ঢাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে; ফলে শরিয়তের নামে নানাবিধ ভিত্তিহীন দাবির প্রাচুর্য দেখা দিয়েছে।

আমার মাস্টার্স থিসিস—যার শিরোনাম ছিল "প্রাচীন ও পরবর্তী বৈয়াকরণদের নিকট আরবির মূলনীতি: আবু ইসহাক আল-শাতিবির চিন্তাধারা বিষয়ক একটি গবেষণা"—প্রস্তুত করার সময় আমি তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং এ বিষয়ে তাঁর প্রচুর বক্তব্য ও উদ্ধৃতির বিষয়ে সচেতন হই। আমি তখন সেই উদ্ধৃতিগুলো বিভিন্ন চিরকুটে সংগ্রহ করতাম, কিন্তু পরবর্তীতে পিএইচডি গবেষণা ও অন্যান্য জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় বিষয়টি স্থগিত হয়ে যায়।

অতঃপর ব্যস্ততা শেষ করে আমি যখন সেই চিরকুটগুলোর দিকে পুনরায় দৃষ্টিপাত করলাম, তখন সেগুলোকে অত্যন্ত মূল্যবান ও সমৃদ্ধ উপাদান হিসেবে পেলাম। এতে ইমাম শাতিবির লেখনীর চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাই বিদ্যমান। আমি অনুভব করলাম যে, এটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে সংকলিত হওয়ার যোগ্য। এ বিষয়ে আমি আমার কিছু প্রাজ্ঞ বন্ধু ও সহকর্মীর সাথে পরামর্শ করলে তাঁরা একমত পোষণ করেন এবং এটিকে একটি সফল চিন্তা বলে অভিহিত করেন। তাই আমি মহান আল্লাহর সাহায্য নিয়ে পুনরায় এই বিষয়ের মূল উৎসগুলো অনুসন্ধান শুরু করলাম, যাতে প্রথমবার সংগ্রহের সময় কোনো কিছু বাদ পড়ে থাকলে তা আর বাদ না যায়।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وقد رأيتُ بعد التفكير ومشاورة من هو بهذا الأمر خبير وَسْمَ عملي هذا بـ "نَحْوِ الفقهاء؛ مُجَرَّد مقالات أبي إسحاق الشاطبي في منزلة العربية من الشريعة".

والمراد بـ "نحو الفقهاء" هو النحو كأداة وآلة لفَهم كلام الشارع وتقرير الأحكام الشرعية والفروع الفقهية، والذي يدلُّ على هذا رسالةُ ابن طولون الحنفي المسمَّاة "إتحاف النبهاء بنحو الفقهاء"(1)، ولعلَّ الميداني (ت 518 هـ) في كتابه المسمَّى "نحو الفقهاء" قد أراد تقرير هذا المعنى.

ومما يدلُّ على هذا أيضًا صنيع القاضي ابن العربي (ت 543 هـ) في كتابه المسمَّى "ملجئة المتفقهين إلى معرفة غوامض النحويين واللغويين"(2).

--------------------------------------------

(1) حُقِّقت ونُشرت أكثر من مرة.

(2) وهو من كتبه المفقودة إلى الآن، لكنه أحال إليه كثيرًا في كتبه التي وصلت إلينا، وهذه الإحالات مُبِينة بوضوح عن طبيعة الكتاب ومادته، والتي تؤيِّد المعنى الذي قرَّرتُه لعبارة "نحو الفقهاء"، وقد جمع مسائل هذا الكتاب من خلال هذه الإحالات، ودرَسها: الدكتور فريد بن عبد العزيز الزامل، في بحثه: "مسائل ملجئة المتفقهين إلى معرفة غوامض النحويين واللغويين النحوية، لأبي بكر بن العربي (ت 543 هـ) جمعًا ودراسة"، ونشره في مجلة "الدراسات اللغوية"، المجلد 18، العدد 4، شوال - ذو الحجة 1437 هـ / يوليو - سبتمبر 2016 م. ثم خرج هذا البحث في كتاب عن دار الحديث الكتانية، 1439 هـ - 2018 م. وقد كنتُ جمعتُ مسائل كتاب "ملجئة المتفقهين" ووضعتُ لها خطة عمل قبل صدور عمل الدكتور فريد بزمن، لكن على غير نهج الدكتور، وهي أنني أجعل متن الكتاب خالصًا لكلام ابن العربي بمنهج معيَّن، فهذا في نظري أقرب إلى تقريب الكتاب وإبراز أهميته وإظهار صنيع أبي بكر فيه، أما ما فعله الدكتور فهو - في رأيي - إشغال شديد للقارئ عن تأمُّل كلام ابن العربي وصنيعه ونهجه.

وقد راودتني فكرة إخراج هذه المسائل على النحو الذي أردتُ، لكن صدَّني عنها أنني لا أُحب الولوج في شيء ولَجه غيري، إلا بشروط شديدة، ولعلَّ الله يُحدِث بعد ذلك أمرًا.
চিন্তা-ভাবনা এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করার পর আমি আমার এই কর্মের নাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: "ফকিহদের নাহব (ব্যাকরণ); শরিয়তে আরবি ভাষার মর্যাদার বিষয়ে আবু ইসহাক আশ-শাতিবির প্রবন্ধসমূহের সংকলন।"

"ফকিহদের নাহব" বলতে উদ্দেশ্য হলো—নাহব বা ব্যাকরণকে বিধানদাতা (الشارع)-র কালাম বোঝার এবং শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) ও ফিকহি ফুরু (الفروع الفقهية) নির্ধারণের একটি উপকরণ ও মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো ইবনে তুলুন আল-হানাফি রচিত পুস্তিকা, যার নাম "ইতহাফুন নুবাহা বি-নাহবিল ফুকাহা"(১)। সম্ভবত আল-মায়দানি (মৃত ৫১৮ হিজরি) তাঁর "নাহবুল ফুকাহা" নামক গ্রন্থে এই অর্থটিই সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন।

এ বিষয়ের আরও একটি প্রমাণ হলো কাজি ইবনুল আরাবি (মৃত ৫৪৩ হিজরি)-র কর্মপদ্ধতি, যা তাঁর "মালজিআতুল মুতাফাক্কিহিনা ইলা মা’রিফাতি গাওয়ামিদিন নাহউয়্যিনা ওয়াল লুগাউয়্যিন"(২) নামক গ্রন্থে পরিলক্ষিত হয়।

--------------------------------------------

(১) এটি একাধিকবার সম্পাদিত ও প্রকাশিত হয়েছে।

(২) এটি তাঁর এমন এক গ্রন্থ যা এখন পর্যন্ত নিখোঁজ (مفقود), তবে তিনি আমাদের কাছে পৌঁছানো তাঁর অন্যান্য কিতাবে এর প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এই উদ্ধৃতিগুলো গ্রন্থের প্রকৃতি ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করে, যা "ফকিহদের নাহব" পরিভাষার ব্যাপারে আমার গৃহীত অর্থকে সমর্থন করে। ডক্টর ফরিদ বিন আব্দুল আজিজ আজ-জামিল তাঁর গবেষণায় এই গ্রন্থের মাসয়ালাগুলো সংকলন ও বিশ্লেষণ করেছেন, যার শিরোনাম: "মাসায়িলু মালজিআতিল মুতাফাক্কিহিনা ইলা মা’রিফাতি গাওয়ামিদিন নাহউয়্যিনা ওয়াল লুগাউয়্যিন আন-নাহউইয়্যাহ, লি-আবি বকর ইবনিল আরাবি (মৃত ৫৪৩ হিজরি) জামআন ওয়া দিরাসাহ"। এটি "মাজাল্লাতুদ দিরাসাতিল লুগাউইয়্যাহ"-তে প্রকাশিত হয়েছে (ভলিউম ১৮, সংখ্যা ৪, শাওয়াল - জিলহজ ১৪৩৭ হিজরি / জুলাই - সেপ্টেম্বর ২০১৬ খ্রি.)। পরবর্তীতে এই গবেষণাটি দারুল হাদিস আল-কাত্তানিয়া থেকে ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ডক্টর ফরিদের কাজ প্রকাশের অনেক আগেই আমি "মালজিআতুল মুতাফাক্কিহিন" গ্রন্থের মাসয়ালাগুলো সংগ্রহ করেছিলাম এবং একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছিলাম, তবে তা ডক্টরের পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন ছিল। আমার পরিকল্পনা ছিল কিতাবের মূল পাঠ (متن) ইবনুল আরাবির নিজস্ব বক্তব্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংরক্ষিত রাখা। আমার দৃষ্টিতে এটি কিতাবটির গুরুত্ব ও আবু বকরের কর্মপদ্ধতি ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর। কিন্তু ডক্টর যা করেছেন—আমার মতে—তা পাঠককে ইবনুল আরাবির বক্তব্য ও তাঁর পদ্ধতির ওপর চিন্তা করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট বিঘ্ন সৃষ্টি করে।

আমি এই মাসয়ালাগুলো আমার কাঙ্ক্ষিত পদ্ধতিতে প্রকাশের কথা ভেবেছিলাম, কিন্তু অন্য কেউ যে বিষয়ে প্রবেশ করেছে তাতে পুনরায় প্রবেশের ব্যাপারে আমার অনীহা আমাকে পিছিয়ে দিয়েছে (যদি না সেখানে বিশেষ কোনো শর্ত পূরণ হয়)। সম্ভবত আল্লাহ এরপরে নতুন কোনো পথ তৈরি করে দেবেন।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أما قول أبي حيان الأندلسي عن مقدِّمة ابن الحاجب في النحو بأنها "نحو الفقهاء"(1)، وقد أراد الانتقاص منها، فهو مع مراده هذا لا يطعن في هذا المعنى الذي قرَّرناه؛ إذ أراد أن ابن الحاجب تعرَّض لمسائل في العربية هي أليق بكتابات الأصوليين والفقهاء، وهي هذه المسائل المحتاج إليها في تقرير معاني كلام الشارع(2)، فكأنه يرميه بأنه أَدخل فنًّا في فنٍّ آخَر.

وفي هذا الذي قرَّرناه من خلال إشارات العلماء من المراد بـ "نحو الفقهاء" تنبيهٌ من طَرْف خفي على أن مِن مسائل الصناعة النحوية ومباحثها ما لا يُساعِد بالنظر الأصلي والقصد الأوَّل على أخذ المعاني وتقريرها من نصوص الشارع، وهو ما مثَّل له الشاطبي وذكرناه ضمن مقالاته هنا.

ولهذا كلِّه وضعتُ عبارة: "نحو الفقهاء" في عنوان الكتاب.

 

‌‌أهمية هذا العمل:

وأنا أُرجِع أهمية هذا العمل وكونَه محتاجًا إليه إلى عدة أوجه:

الأول: أن كلام الشاطبي في هذا الشأن كامل الأركان والمباحث والمسائل؛ فكلامه فيه من هذه الجهة كأنه مصنَّف مستقل قد قصد إليه الشاطبيُّ قصدًا، إلا أن كلام الشاطبي على الصورة التي قرَّرتُها في عملي هذا لم يكن مني على طَرَف الثُّمام؛ إذ كلامه الذي يخصُّ موضوع كتابنا كان متناثرًا في كتبه تحت مباحث أفردها لغير هذا الموضوع بالخصوص وإن كانت دالَّةً عليه ولا بُدَّ،

--------------------------------------------

(1) نقل عن أبي حيان قوله هذا تلميذُه الصفدي، راجع: الوافي بالوفيات 5/ 175.

(2) راجع: التداخل والتمايز المعرفي بين النحويين والفقهاء والأصوليين، ص 454.
আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি কর্তৃক ইবনুল হাজিব-এর নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক মুকাদ্দিমাহ সম্পর্কে একে "ফকিহদের নাহু" হিসেবে অভিহিত করা(১)—যদিও এর মাধ্যমে তিনি একে খাটো করতে চেয়েছেন—তা আমাদের নির্ধারিত অর্থের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইবনুল হাজিব আরবি ভাষার এমন কিছু মাসআলা বা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন যা উসুলবিদ (أصوليين) এবং ফকিহদের (فقهاء) রচনার জন্য অধিক উপযোগী। এগুলো মূলত সেই সকল মাসআলা যা শারিয়াহ প্রবর্তকের বাণীর অর্থ নির্ধারণে প্রয়োজন হয়(২)। যেন তিনি তাকে এই বলে অভিযুক্ত করছেন যে, তিনি এক শাস্ত্রকে অন্য শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

"ফকিহদের নাহু" বলতে কী বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে আলেমদের ইশারা-ইঙ্গিত থেকে আমরা যা স্থির করেছি, তাতে এই মর্মে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে যে, নাহু শাস্ত্রের এমন কিছু মাসআলা ও গবেষণা রয়েছে যা মৌলিক দৃষ্টি ও প্রাথমিক উদ্দেশ্যের বিচারে শারিয়াহর নস (نصوص) থেকে অর্থ আহরণ ও তা নির্ধারণে সহায়ক নয়। ইমাম শাতিবি এরই উদাহরণ দিয়েছেন এবং আমরা তাঁর আলোচনাগুলোর মধ্যেই তা এখানে উল্লেখ করেছি।

আর এই সকল কারণেই আমি বইটির শিরোনামে "ফকিহদের নাহু" বাক্যাংশটি ব্যবহার করেছি।

 

‌‌এই কাজের গুরুত্ব:

আমি এই কর্মের গুরুত্ব এবং এর প্রয়োজনীয়তাকে কয়েকটি দিক থেকে বিবেচনা করি:

প্রথমত: এই বিষয়ে ইমাম শাতিবির আলোচনা রোকন (أركان), গবেষণা ও মাসআলাসমূহের বিচারে পূর্ণাঙ্গ। এ দিক থেকে তাঁর কথাগুলো যেন একটি স্বতন্ত্র রচনা (مصنف) যা ইমাম শাতিবি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই রচনা করেছেন। তবে ইমাম শাতিবির বক্তব্যকে আমি এই গ্রন্থে যেভাবে বিন্যস্ত করেছি, তা আয়ত্ত করা সহজসাধ্য ছিল না। কারণ আমাদের গ্রন্থের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁর বক্তব্যগুলো তাঁর বিভিন্ন কিতাবের এমন সব আলোচনার অধীনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল যা তিনি মূলত ভিন্ন প্রসঙ্গের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন, যদিও তা অনিবার্যভাবেই এই প্রসঙ্গের নির্দেশক।

--------------------------------------------

(১) আবু হাইয়ানের এই উক্তিটি তাঁর ছাত্র আস-সাফাদি উদ্ধৃত করেছেন। দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৫/১৭৫।

(২) দেখুন: আত-তাদাখুল ওয়াত তামায়ুজ আল-মা'রিফি বাইনাল নাহভিয়্যিন ওয়াল ফুকাহা ওয়াল উসুলিয়্যিন, পৃষ্ঠা ৪৫৪।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وما كان هذا شأنه - لا سيما أنه لِعَلَم كالشاطبي - فهو حقيق على أن يُفرَد بمؤلَّف.

الثاني: أن ما سطره الشاطبي في هذا الموضوع يزيد على الكتب المصنَّفة فيه السابقة الذكر من ثلاث جهات:

1 - عدد المباحث والمسائل؛ فقد زاد الشاطبي فيها عما سطره غيره، يُدرَك ذلك بأدنى اطلاع عما في هذه الكتب وما في كتابنا هنا.

2 - التفصيل والبسط في بعض المباحث والمسائل التي اشترك في تناوُلها مع أصحاب هذه الكتب.

3 - نُزُوعه إلى ذكر الأصول والكليات الحاكمة لما يذكره، والتعليل لما يُقرِّره، والإجابة عما يُورَد عليه، وهذا شأنُه في سائر مصنَّفاته(1).

الثالث: هو أن ما أودعه الشاطبي في كتبه الكبار: "الموافقات"، و "الاعتصام"، و"المقاصد الشافية" من صُلب فكره ومشروعه الإصلاحي الذي رآه - قد أقامه على ضرورة الرجوع إلى ما كان عليه السلف وأهل العلم الأوائل من جهة:

- الإحاطة بمقاصد الشريعة.

- التحقُّق بلسان الشريعة ولغتها، وهو اللسان العربي الذي نزل به القرآن.

فأما كلامه في مقاصد الشريعة فقد أفرده كثيرون بالتصنيف والدرس والشرح والتحليل والاستدراك، أما كلامه في الجهة الثانية، وهو الكلام عن اللسان العربي على الوجه الذي يُبيِّن منزلة العربية من الشريعة، فلم أرَ مَن أفرده بالتصنيف على الوجه الذي فعلتُ في هذا العمل؛ ففيما قمتُ به فيه يُعَدُّ من باب إلقاء

--------------------------------------------

(1) راجع: الإمام الشاطبي والخصائص العامة لفكرة (1)، ص 235 - 249.
আর যার অবস্থা ও মর্যাদা এমন—বিশেষ করে এটি যখন ইমাম শাতিবির মতো একজন বরেণ্য মনীষীর পক্ষ থেকে—তখন এটি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে রচিত হওয়ার দাবি রাখে।

দ্বিতীয়ত: এই বিষয়ে ইমাম শাতিবি যা লিখেছেন, তা এই বিষয়ে ইতিপূর্বে রচিত ও উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের তুলনায় তিনটি দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব রাখে:

১ - আলোচনার বিষয়বস্তু ও মাসআলাসমূহের (المسائل) সংখ্যা; শাতিবি এতে অন্যদের তুলনায় অধিক আলোচনা করেছেন। এই গ্রন্থসমূহ এবং আমাদের বর্তমান গ্রন্থে যা রয়েছে, তার ওপর সামান্যতম দৃষ্টিপাত করলেই তা অনুধাবন করা যায়।

২ - এমন কিছু আলোচনা ও মাসআলাসমূহের (المسائل) ক্ষেত্রে বিস্তারিত বর্ণনা ও দীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রদান, যে বিষয়গুলো নিয়ে তিনি উক্ত গ্রন্থকারদের সাথে যৌথভাবে আলোচনা করেছেন।

৩ - তিনি যা উল্লেখ করেন তার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক মূলনীতি (الأصول) ও সামগ্রিক নিয়মাবলি (الكليات) বর্ণনার প্রতি তাঁর ঝোঁক, তিনি যা স্থির করেন তার সপক্ষে কারণ দর্শানো (التعليل) এবং তাঁর ওপর উত্থাপিত আপত্তির জবাব প্রদান। তাঁর অন্যান্য সকল রচনার ক্ষেত্রেও এটিই তাঁর চিরাচরিত পদ্ধতি(১)।

তৃতীয়ত: শাতিবি তাঁর বৃহৎ গ্রন্থসমূহ: "আল-মুয়াফাকাত", "আল-ইতিসাম" এবং "আল-মাকাসিদুশ শাফিয়া"-তে তাঁর চিন্তা ও সংস্কারমূলক প্রকল্পের যে মূল নির্যাস গচ্ছিত রেখেছেন—যা তিনি যথাযথ মনে করেছেন—তা তিনি গড়ে তুলেছেন পূর্বসূরি (السلف) ও আদি যুগের আলেমগণ যে বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, সেদিকে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে; আর তা হলো:

- শরিয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) পরিবেষ্টন করা।

- শরিয়তের ভাষা ও বচনের ওপর গভীর জ্ঞান অর্জন করা; আর তা হলো সেই আরবি ভাষা (اللسان العربي) যাতে কুরআন নাজিল হয়েছে।

শরিয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) সম্পর্কে তাঁর আলোচনার ক্ষেত্রে অনেকেই স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা, পাঠদান, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও পরিমার্জন বা সংশোধনের (الاستدراك) কাজ করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিষয়ের আলোচনা—অর্থাৎ শরিয়তে আরবি ভাষার মর্যাদা স্পষ্ট হয় এমনভাবে আরবি ভাষা নিয়ে তাঁর আলোচনা—আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি একে সেভাবে স্বতন্ত্র গ্রন্থাকারে তুলে ধরেছেন যেভাবে আমি এই কাজে করেছি। আমি এতে যা করেছি তা মূলত আলোকপাতের...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইমামুশ শাতিবি ওয়া আল-খাসায়িসুল আম্মাহ লি-ফিকরিহি (১), পৃষ্ঠা ২৩৫ - ২৪৯।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الضوء على هذا الركن الذي أقام عليه الشاطبي مشروعَه الفكري مع الركن الثاني مقاصد الشريعة.

الرابع: أن هذا العمل فيه تذكير وتنبيه لأهل الزمان على وجوب تحصيل علوم العربية لمن أراد أن يرتقي في علوم الشريعة وفَهم الكتاب والسُّنة على الوجه الذي أراده الشارع؛ إذ قد رأينا كثيرين ممن ينسُبون أنفسهم إلى الاشتغال بالعِلم قليلي الاعتناء بعلوم العربية، والمجتهد فيهم هو الذي يقنع فيها برتبة لا تؤهِّله إلى أن يكون مستقلَّ النظر في كلام الشارع، ولا أن يكون مؤهَّلًا لمجاراة العلماء في الحِجاج والنقاش، وهذا من علامات غلبة هوى النفس عليهم؛ فكلما قلَّ دين المرء وورعه وفَهْمه قلَّ صبرُه على تحصيل العِلم - لا سيما علوم الآلة؛ لأنها ليست كعلوم المقاصد التي ينال بها المرء حظَّه من الشهرة والتعظيم بين العامَّة - مع ازدياد جرأته على الكلام فيه.

ولو فرض أن ثمَّة طائفة عدمُ الاعتناء بعلوم العربية طريقٌ مَهْيَعٌ لأصحابها، فهي بهذا داخلة في الفرق المبتدعة ولا بُدَّ؛ إذ خالَفت في أصلٍ كليٍّ من أصول الشريعة اتفق عليه في الجملة كلُّ العلماء، بل هم بهذه الحال في الحقيقة أقرب إلى جهلة العوام المتكلِّمين في أمور الشرع، فالأولى في حقِّهم هو الحُكم عليهم بحُكم من يتكلَّم في الشريعة وهو جاهل بها، وهذا التقرير يدلُّ عليه كلامُ الشاطبي كما سيأتي ذكره في ثنايا المقالات.

الخامس: أن في هذه المقالات على هذه الهيئة تنبيهات على آفاق معرفية وموضوعات بحثية فيما يتعلَّق بهذا الحقل المعرفي؛ اللغوي الشرعي.
এই স্তম্ভটির ওপর আলোকপাত করা, যার ওপর ভিত্তি করে আশ-শাতিবি তার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকল্প এবং এর দ্বিতীয় স্তম্ভ শরয়ি উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) সমন্বয় সাধন করেছেন।

চতুর্থত: এই কাজটিতে বর্তমান যুগের লোকদের জন্য একটি স্মরণিকা এবং সতর্কতা রয়েছে যে, যারা শরিয়তের জ্ঞানে উচ্চতর স্তরে আরোহণ করতে এবং কিতাব ও সুন্নাহকে শারে' (الشارع) যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে বুঝতে চান, তাদের জন্য আরবি ভাষার জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। কেননা আমরা এমন অনেককে দেখেছি যারা নিজেদের ইলমি গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন কিন্তু আরবি ভাষার জ্ঞান অর্জনে তাদের যত্ন খুবই নগণ্য। আর তাদের মধ্যে যিনি মুজতাহিদ (مجتهد) হিসেবে গণ্য, তিনিও এমন একটি স্তরেই তুষ্ট থাকেন যা তাকে শারে'-এর বাণীর ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে গবেষণা করার যোগ্য করে তোলে না, এমনকি বিতর্ক ও আলোচনার ক্ষেত্রেও আলেমদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার যোগ্যতা প্রদান করে না। এটি তাদের ওপর নফসের কুপ্রবৃত্তির প্রভাবেরই একটি নিদর্শন; কারণ কোনো ব্যক্তির দ্বীনদারিতা, পরহেজগারি (ورع) এবং সঠিক বুঝ (فهم) যখন কমে যায়, তখন তার ইলম অর্জনের ধৈর্যও কমে যায়—বিশেষ করে সহায়ক জ্ঞান (علوم الآلة) অর্জনের ক্ষেত্রে। কারণ এগুলো লক্ষ্যভিত্তিক জ্ঞান (علوم المقاصد) এর মতো নয় যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে খ্যাতি ও সম্মান অর্জন করা যায়। ফলে ইলমি বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে তাদের দুঃসাহস কেবল বৃদ্ধিই পায়।

যদি ধরে নেওয়া হয় যে, এমন একটি দল রয়েছে যাদের কাছে আরবি ভাষার জ্ঞানের প্রতি যত্নহীনতা একটি প্রশস্ত পথ হিসেবে গণ্য, তবে তারা এর মাধ্যমে অবশ্যই বিদআতি সম্প্রদায় (الفرق المبتدعة) সমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। কারণ তারা শরিয়তের এমন একটি মৌলিক মূলনীতি (أصل كلي) এর বিরোধিতা করেছে যা নিয়ে সমস্ত আলেম সাধারণভাবে একমত হয়েছেন। বরং এই অবস্থায় তারা মূলত শরিয়তের বিষয়ে কথা বলা অজ্ঞ জনসাধারণের অতি নিকটবর্তী। তাই তাদের ব্যাপারে সেই ব্যক্তির হুকুম বা ফয়সালাই প্রযোজ্য হবে যে শরিয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও তা নিয়ে কথা বলে। এই বিবরণটি আশ-শাতিবির বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যেমনটি প্রবন্ধগুলোর মাঝে পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে।

পঞ্চমত: এই প্রবন্ধগুলোতে এমন বিন্যাসে বেশ কিছু সতর্কতা রয়েছে যা এই জ্ঞানতাত্ত্বিক ক্ষেত্র—অর্থাৎ ভাষাতাত্ত্বিক ও শরয়ি ক্ষেত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জ্ঞানগত দিগন্ত এবং গবেষণামূলক বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومما يمكن أن يوضع ضمن أوجه أهمية هذا العمل أن عبارة الشاطبي فيما يكتبه في الغالب عالية سِلسة، وألفاظه رشيقة عذبة، حتى إنه في بعض المواضع ينتشي منها قارئُها.
এই কর্মের গুরুত্বের দিকগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে যে, ইমাম আল-শাতিবি তাঁর লেখনিতে সাধারণত যে প্রকাশভঙ্গি ব্যবহার করেন তা অত্যন্ত উন্নত ও সাবলীল এবং তাঁর শব্দসমূহ সুচারু ও শ্রুতিমধুর; এমনকি কোনো কোনো স্থানে পাঠক তা পাঠ করে বিমোহিত হয়ে পড়েন।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ترجمة أبي إسحاق الشاطبي (*)

الشاطبي عَلَمٌ شهير ترجم له جماعةٌ، وتعرَّض آخرون لذكر شذرات عنه في ثنايا كتبهم دُون أن يُفردوا ترجمته بموضع فيها، ثم كثُرت الترجمات له لدى الدارسين المعاصرين في مقدِّمات ما كتبوه عنه من دراسات. وعلى كلٍّ فقد أصبح الشاطبي في عصرنا هذا ممن لا تخفى مكانته ومنزلتُه، فهو فيه من الأعلام ذائعي الصيت شأنه كشأن غيره من العلماء في هذا الأمر كابن تيمية والتقي السبكي والذهبي وغيرهم، كلُّ هذا جعلني أُفكِّر في عدم إفراد ترجمة له هنا في عملي هذا.

لكن رأيتُ أن ليس من الحكمة أن يكون هذا مني في كتاب أُفرِد لمقالات له، فاستقرَّ رأيي على أن أذكر له ترجمة جامعة تكون مختصرة أو تكاد، فوقع اختياري على ترجمة أحمد بابا التُّنبُكتي له في كتابه الماتع "نيل الابتهاج"، حيث قال فيه:

"إبراهيم بن موسى بن محمد اللَّخمي الغَرْناطي أبو إسحاق الشهير بالشاطبي.

--------------------------------------------

(*) راجع ترجمته في: برنامج المجاري 116 - 122؛ درة الحجال 1/ 182؛ نيل الابتهاج 48 - 52؛ نفح الطيب 5/ 193، 194، 265، 341، 355، 356، 378 - 382، 513، 7،514/ 279؛ أزهار الرياض 2/ 7، 297؛ فهرس الفهارس 1/ 191؛ شجرة النور الزكية 1/ 332، 333؛ مقدِّمة الإفادات والإنشادات؛ 11 - 53؛ مقدِّمة فتاوي الإمام الشاطبي 29 - 32؛ أصول العربية 49 - 60.
আবু ইসহাক আশ-শাতিবির জীবনী(*)

আশ-শাতিবি একজন সুপ্রসিদ্ধ মনীষী, যাঁর জীবনী একদল (বিদ্যান) বর্ণনা করেছেন। আবার অনেকে তাঁদের গ্রন্থরাজির বিভিন্ন স্থানে তাঁর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন, তবে পৃথকভাবে তাঁর জন্য কোনো অধ্যায় বরাদ্দ করেননি। পরবর্তীতে সমকালীন গবেষকদের নিকট তাঁদের লিখিত গবেষণাগ্রন্থসমূহের ভূমিকায় তাঁর জীবনী বর্ণনার আধিক্য দেখা যায়। যাহোক, বর্তমান যুগে আশ-শাতিবি এমন এক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন যাঁর মর্যাদা ও অবস্থান কারো অজানা নয়। এ ক্ষেত্রে তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাকিউদ্দীন আস-সুবকি, আয-যাহাবি এবং তাঁদের মতো অন্যান্য সুপ্রসিদ্ধ মনীষীদের সমপর্যায়ের। এসকল বিষয় আমাকে আমার এই কর্মে তাঁর জন্য পৃথক কোনো জীবনী উল্লেখ না করার কথা ভাবিয়েছিল।

কিন্তু আমি মনে করলাম যে, তাঁরই প্রবন্ধাবলির জন্য নিবেদিত একটি গ্রন্থে আমার পক্ষ থেকে এমনটা করা সমীচীন হবে না। তাই আমি তাঁর একটি পূর্ণাঙ্গ অথচ সংক্ষিপ্ত অথবা সংক্ষিপ্তপ্রায় জীবনী উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ লক্ষ্যে আমি আহমাদ বাবা আত-তিম্বুকতির চমৎকার গ্রন্থ 'নাইলুল ইবতিহাজ'-এ বর্ণিত তাঁর জীবনীটি নির্বাচন করেছি, যেখানে তিনি বলেছেন:

"ইব্রাহিম বিন মুসা বিন মুহাম্মদ আল-লাখমি আল-গারনাতি আবু ইসহাক, যিনি আশ-শাতিবি নামে সমধিক পরিচিত।

--------------------------------------------

(*) তাঁর জীবনী দেখুন: বারনামাজুল মাজারি ১১৬ - ১২২; দুররাতুল হিজাল ১/ ১৮২; নাইলুল ইবতিহাজ ৪৮ - ৫২; নাফহুত তীব ৫/ ১৯৩, ১৯৪, ২৬৫, ৩৪১, ৩৫৫, ৩৫৬, ৩৭৮ - ৩৮২, ৫১৩, ৫১৪, ৭/ ২৭৯; আযহারুর রিয়াদ ২/ ৭, ২৯৭; ফিহরিসুল ফাহারিস ১/ ১৯১; শাজারাতুন নূরুজ জাকিয়্যাহ ১/ ৩৩২, ৩৩৩; মুকাদ্দিমাতুল ইফাদাত ওয়াল ইনশাদাত ১১ - ৫৩; মুকাদ্দিমা ফাতাওয়া আল-ইমাম আশ-শাতিবি ২৯ - ৩২; উসুলুল আরাবিয়্যাহ ৪৯ - ৬০।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الإمام العلَّامة المحقِّق القُدوة الحافظ الجليل المجتهد، كان أصوليًّا مفسِّرًا فقيهًا، محدِّثًا لُغويًّا بيانيًّا نَظَّارًا، ثبتًا ورِعًا صالحًا زاهدًا سُنيًّا، إمامًا مطلَقًا، بحَّاثًا مدقِّقًا جَدَليًّا، بارعًا في العلوم، مِن أفراد العلماء المحقِّقين الأثبات وأكابر الأئمة المتفنِّنين الثقات، له القدم الراسخ والإمامة العظمى في الفنون فقهًا وأصولًا وتفسيرًا وحديثًا وعربيةً وغيرها، مع التحرِّي والتحقيق.

له استنباطات جليلة، ودقائق مُنِيفَة، وفوائد لطيفة، وأبحاث شريفة، وقواعد محرَّرة محقَّقة، على قَدَم راسخ من الصلاح والعِفَّة والتحرِّي والوَرَع، حريصًا على اتباع السُّنة، مجانبًا للبدع والشُّبهة، ساعيًا في ذلك مع تثبُّت تامٍّ، منحرف عن كلِّ ما ينحو للبدع وأهلها، وقع له في ذلك أمور مع جماعة من شيوخه وغيرهم في مسائل، وله تآليف جليلة مشتملة على أبحاث نفيسة وانتقادات وتحقيقات شريفة.

قال الإمام الحفيد ابن مرزوق في حقِّه: "إنه الشيخ الأستاذ الفقيه الإمام المحقِّق العلَّامة الصالح أبو إسحاق". انتهى. وناهيك بهذه التحلية من مِثل هذا الإمام، وإنما يعرف الفضلَ لأهله أهلُه.

أخذ العربية وغيرها عن أئمة منهم:

الإمام المفتوح عليه في فَنِّها ما لا مَطمَع فيه لسواه بحثًا وحفظًا وتوجيهًا ابن الفَخَّار البِيريُّ، لازَمه إلى أن مات.

والإمامُ الشريف رئيس العلوم اللسانية أبو القاسم السَّبْتي شارح مَقصُورة حازم.

والإمامُ المحقِّق أعلمُ أهل وقته الشريف أبو عبد الله التِّلِمْساني.
ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, গবেষক (المحقق), আদর্শ ব্যক্তিত্ব, সুমহান হাফিজ (الحافظ) ও মুজতাহিদ (المجتهد); তিনি ছিলেন একাধারে উসুলবিদ, মুফাসসির, ফকিহ, মুহাদ্দিস, ভাষাবিদ, অলঙ্কারবিদ ও গভীর চিন্তাশীল তার্কিক। তিনি ছিলেন সুদৃঢ় (ثبت), খোদাভীরু (ورع), পুণ্যবান, দুনিয়াবিমুখ ও সুন্নাহর অনুসারী; একজন একচ্ছত্র ইমাম, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক ও যুক্তিবাদী এবং বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী। তিনি অনন্য গবেষক (المحقق) ও সুদৃঢ় (ثبت) আলেমদের অন্তর্ভুক্ত এবং বহুমুখী বিদ্যায় পারদর্শী মহান নির্ভরযোগ্য (الثقات) ইমামগণের অন্যতম। ফিকহ, উসুল, তাফসির, হাদিস ও আরবিসহ অন্যান্য শাস্ত্রে তাঁর ছিল সুগভীর পাণ্ডিত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব, আর সেই সঙ্গে ছিল পরম সতর্কতা ও সূক্ষ্ম গবেষণা।

তাঁর রয়েছে অত্যন্ত উচ্চমানের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباطات), সুউচ্চ সূক্ষ্মতত্ত্ব, চমৎকার শিক্ষণীয় বিষয়, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এবং সুসংহত ও সঠিক গবেষণালব্ধ মূলনীতি। তিনি ছিলেন চারিত্রিক সততা, পবিত্রতা, সতর্কতা ও তাকওয়ার (ورع) এক সুদৃঢ় অবস্থানে। তিনি সুন্নাহর অনুসরণে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন এবং বিদআত (البدع) ও সংশয় থেকে দূরে থাকতেন। এ ক্ষেত্রে তিনি পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে প্রচেষ্টা চালাতেন এবং বিদআত (البدع) ও বিদআতিদের দিকে ধাবিত করে এমন প্রতিটি বিষয় থেকে বিমুখ থাকতেন। এই কারণে কতিপয় মাসআলায় তাঁর কয়েকজন শিক্ষক ও অন্যদের সাথে কিছু পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁর রয়েছে অত্যন্ত চমৎকার সব গ্রন্থ, যা মূল্যবান তাত্ত্বিক আলোচনা, সূক্ষ্ম সমালোচনা ও উচ্চমানের গবেষণায় সমৃদ্ধ।

ইমাম হাফিদ ইবনে মারজুক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি হলেন শাইখ, উস্তাদ, ফকিহ, ইমাম, গবেষক (المحقق), প্রাজ্ঞ আলেম ও পুণ্যবান আবু ইসহাক।" ইবনে মারজুকের মতো ইমামের পক্ষ থেকে এমন প্রশংসাই আপনার জন্য যথেষ্ট; কেননা গুণী ব্যক্তির কদর কেবল গুণীজনরাই দিতে জানেন।

তিনি যাঁদের কাছ থেকে আরবি ভাষাসহ অন্যান্য বিদ্যা অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

ইবনে আল-ফাকখার আল-বিরি, যাঁর নিকট এই শাস্ত্রের এমন সব দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল যা অন্য কারও পক্ষে গবেষণা, হিফজ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন।

শরীফ ইমাম, ভাষাতত্ত্বের প্রধান, ‘মাকসুরাহ হাজেম’-এর ব্যাখ্যাকার আবু আল-কাসিম আল-সাবতি।

গবেষক (المحقق) ইমাম এবং তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম শরীফ আবু আব্দুল্লাহ আল-তিলিমসানি।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
والإمامُ علَّامة وقته بإجماع أبو عبد الله المَقَّري.

وقطب الدائرة شيخ الشيوخ الجِلَّة الإمام الشهير أبو سعيد بن لُب.

والإمامُ الجليل الرُّحلة الخطيب أبو جعفر الشَّقُوري.

وممن اجتمع معه واستفاد منه العالم الحافظ الفقيه أبو العباس القَبَّاب، والمُفتي المحدِّث أبو عبد الله الحَفَّار وغيرهم.

اجتهد وبرع وفاق الأكابر والتحق بكبار الأئمة في العلوم، وبالغ في التحقيق، وتكلَّم مع كثير من الأئمة في مشكلات المسائل؛ من شيوخه وغيرهم كالقبَّاب وقاضي الجماعة الفشْتالي، والإمام ابن عَرَفة، والولي الكبير أبي عبد الله بن عباد.

وجرى له معهم أبحاث ومراجعات أجلت عن ظهوره فيها وقوة عارضته وإمامته؛ منها: مسألة مراعاة الخلاف في المذهب. له فيها بحث عظيم مع الإمامين القَبَّاب وابن عَرَفة، وله أبحاث جليلة في التصوف وغيره.

وبالجملة فقَدْرُه في العلوم فوقَ ما يذكر، وتحليتُه في التحقيق فوقَ ما يُشهَر.

ألَّف تآليف نفيسة اشتملت على تحريرات للقواعد وتحقيقات لمهمات الفوائد؛ منها:

- شرحُه الجليل على الخلاصة في النحو في أسفار أربعة كبار لم يؤلَّف عليها مثله بحثًا وتحقيقًا فيما أعلم.

- وكتاب "الموافقات" في أصول الفقه كتاب جليل القدر لا نظير له، يدلُّ على إمامته وبُعد شأوه في العلوم سيما عِلم الأصول، قال الإمام الحفيد ابن
ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-মাক্কারি সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর সময়ের মহাজ্ঞানী (علامة) ছিলেন।

এবং যুগের প্রাণপুরুষ, মহান শায়খদের শায়খ, প্রসিদ্ধ ইমাম আবু সাঈদ বিন লুব।

এবং মহান ইমাম, দেশভ্রমণকারী পর্যটক (رحلة), খতিব আবু জাফর আশ-শাকুরি।

আর যাঁরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আলেম, হাফেজ (حافظ), ফকিহ আবু আব্বাস আল-কাব্বাব এবং মুফতি, মুহাদ্দিস (محدث) আবু আবদুল্লাহ আল-হাফফার প্রমুখ।

তিনি কঠোর সাধনা করেছেন, শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন এবং সমকালীন বড়দের ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি ইলমি অঙ্গনের মহান ইমামদের কাতারে শামিল হয়েছেন এবং গবেষণায় চরম উৎকর্ষ সাধন করেছেন। তিনি তাঁর শিক্ষক ও অন্যদের মধ্য থেকে বহু ইমামের সাথে জটিল মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন; যেমন— আল-কাব্বাব, কাজিউল জামাআত আল-ফাশতালি, ইমাম ইবনে আরাফাহ এবং মহান অলি (ولي) আবু আবদুল্লাহ বিন আব্বাদ।

তাঁদের সাথে তাঁর বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যালোচনা সংঘটিত হয়েছে, যা তাঁর পাণ্ডিত্য, বিতর্কে পারদর্শিতা এবং নেতৃত্বের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো মাযহাবের মধ্যকার মতপার্থক্য বিবেচনা করার মাসআলা। এই বিষয়ে ইমাম কাব্বাব ও ইমাম ইবনে আরাফাহর সাথে তাঁর দীর্ঘ তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া তাসাউফ ও অন্যান্য বিষয়েও তাঁর মহিমান্বিত গবেষণা রয়েছে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর মর্তবা বর্ণনাতীত এবং গবেষণার গভীরতায় তাঁর অলংকরণ লোকমুখে প্রচলিত খ্যাতির চেয়েও অনেক ঊর্ধ্বে।

তিনি বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা বিভিন্ন উসুলি মূলনীতি পরিষ্কারকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ইলমি ফায়দা বা তত্ত্বসমূহের গবেষণায় সমৃদ্ধ; যার মধ্যে রয়েছে:

- নাহু শাস্ত্রের আল-খুলাসা-এর ওপর তাঁর রচিত চার বিশাল খণ্ডের মহান ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আমার জানামতে, গবেষণা ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের দিক থেকে এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ আজ পর্যন্ত রচিত হয়নি।

- এবং উসূল আল-ফিকহ বিষয়ে তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ "আল-মুওয়াফাকাত"। এটি এমন এক অনন্য গ্রন্থ যার কোনো নজির নেই; যা তাঁর ইমামত এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে, বিশেষ করে উসুল (أصول) শাস্ত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে। ইমামের নাতি ইবনে...
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
مرزوق: "كتاب "الموافقات" المذكور من أنبل(1) الكتب". وهو في سفرين.

- وتأليفٌ نفيس في الحوادث والبدع في سِفر في غاية الإجادة.

- وكتابُ "المجالس" شرح فيه كتاب البيوع من "صحيح البخاري"، فيه من الفوائد والتحقيقات ما لا يعلمه إلا الله.

- وكتابُ "الإفادات والإنشادات" في كرَّاسين، فيه طُرَف وتُحَف ومُلَح أدبيات وإنشادات.

- وله أيضًا كتاب "عنوان الاتفاق في عِلم الاشتقاق"، وكتاب "أصول النحو"، وقد ذكرهما معًا في شرح الألفية، ورأيتُ في موضع آخَر أنه أتلف الأول في حياته، وأن الثاني أُتلف أيضًا.

وله غيرُها وفتاوي كثيرة.

ومن شِعره لما ابتُلي بالبدع: [البسيط]

بُليتُ يا قوم والبلوى منوَّعةٌ … بمَن أُداريه حتى كاد يُردِيني

دفعُ المَضرَّة لا جلبٌ لمصلحة … فحسبي الله في عقلي وفي دِيني

أنشدهما تلميذَه الإمام يحيى بن عاصم له مشافهةً …

أخذ عنه جماعةٌ من الأئمة كالإمامين العلَّامتين: أبي يحيى بن عاصم الشَّهير، وأخيه القاضي المؤلِّف أبي بكر بن عاصم، والشيخ أبي عبد الله البياني وغيرهم.

--------------------------------------------

(1) في مطبوعة "نيل الابتهاج": "أقبل"، والظاهر أنه تحريف، والصواب: "أنبل" كما جاء في كتابين لأحمد بابا نقل فيهما هذا القول عن ابن مرزوق؛ كفاية المحتاج؛ 1/ 155؛ أسئلة موجهة إلى علماء مصر (ق 67 و).
মারজুক বলেন: "উল্লিখিত 'আল-মুওয়াফাকাত' গ্রন্থটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ (أنبل) গ্রন্থ।" আর এটি দুই খণ্ডে (سفر) সমাপ্ত।

- এবং নব-উদ্ভাবিত বিষয় ও বিদআত (بدعة) প্রসঙ্গে এক খণ্ডে (سفر) অত্যন্ত সুনিপুণভাবে লিখিত একটি মূল্যবান রচনা।

- এবং 'আল-মাজালিস' নামক গ্রন্থ, যাতে তিনি 'সহীহ বুখারী'র ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় ব্যাখ্যা করেছেন; এতে এমন সব উপকারিতা ও সূক্ষ্ম গবেষণা (تحقيق) রয়েছে যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না।

- এবং 'আল-ইফাদাত ওয়াল ইনশাদাত' গ্রন্থটি দুই পুস্তিকায় সমাপ্ত, এতে বিরল কৌতুক, সাহিত্যিক চমৎকারিত্ব ও পঙক্তিমালা রয়েছে।

- তাঁর আরও রয়েছে 'উনওয়ানুল ইত্তিফাক ফি ইলমিল ইশতিকাক' এবং 'উসুলুন নাহু' নামক গ্রন্থ। তিনি এই উভয় গ্রন্থের কথা 'শারহুল আলফিয়া'-তে একত্রে উল্লেখ করেছেন। আমি অন্য এক স্থানে দেখেছি যে, তিনি প্রথমটি তাঁর জীবদ্দশাতেই নষ্ট করে ফেলেছিলেন এবং দ্বিতীয়টিও নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

তাঁর আরও অন্যান্য গ্রন্থ এবং বহু ফতোয়া (فتاوى) রয়েছে।

যখন তিনি বিদআত (بدعة) দ্বারা পরীক্ষিত হলেন, তখন তাঁর কবিতা থেকে: [আল-বাসীত ছন্দ]

হে কওম! আমি পরীক্ষিত হয়েছি আর পরীক্ষা হয় নানাবিধ … এমন ব্যক্তির দ্বারা যার সাথে আমাকে কৌশলে চলতে হয়, এমনকি সে আমাকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল।

ক্ষতি দূর করাই (উদ্দেশ্য), কোনো কল্যাণ লাভ নয় … সুতরাং আমার বুদ্ধি ও দ্বীনের বিষয়ে আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট।

তাঁর ছাত্র ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে আসিম তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণযোগে (مشافهة) এ দুটি পঙক্তি বর্ণনা করেছেন …

একদল ইমাম তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছেন, যেমন দুই প্রখ্যাত মহা-বিদ্বান (علامة): প্রসিদ্ধ আবু ইয়াহইয়া ইবনে আসিম এবং তাঁর ভাই বিচারক ও গ্রন্থকার আবু বকর ইবনে আসিম, এবং শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-বায়ানি ও অন্যান্যরা।

--------------------------------------------

(১) "নাইলুল ইবতিহাজ"-এর মুদ্রিত কপিতে "আকবাল" (أقبل) রয়েছে, তবে এটি স্পষ্টত বিকৃতি (تحريف); সঠিক হলো "আনবাল" (أنبل), যেমনটি আহমদ বাবার দুটি কিতাবে এসেছে, যেখানে তিনি ইবনে মারজুক থেকে এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন; কিফায়াতুল মুহতাজ; ১/১৫৫; আসইলাতু মুওয়াজ্জাহাতু ইলা উলামাই মিসর (৬৭ ও)।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
توفي يوم الثلاثاء الثامن من شعبان سنة تسعين وسبعمئة، ولم أقِف على مولده رحمه الله"(1).

--------------------------------------------

(1) نيل الابتهاج 48 - 50.
তিনি সাতশত নব্বই হিজরি সনের আটই শাবান মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন এবং আমি তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।"(1).

--------------------------------------------

(1) নায়লুল ইবতিহাজ ৪৮ - ৫০।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌خطوات العمل والمنهج المتبَع فيه

‌‌أولًا: مادة المجرَّد ومواردها:

مادةُ المقالات هي كلُّ كلام للشاطبي يُبِين عن منزلة العربية من الشريعة أو يساعد على ذلك، وقد كان هذا من جهات عِدَّة كما سيأتي بيانها عند الكلام عن تقسيم مادة الكتاب.

وقد جمعتُ مادة المجرَّد من كتب الشاطبي بالأصالة وممن نقل عنه وليس موجودًا في هذه الكتب، وهي جميعًا كالتالي:

• "الموافقات"(1).

• "المقاصد الشافية".

• "الاعتصام"(2).

• "الإفادات والإنشادات".

--------------------------------------------

(1) وقد اعتمدتُ في جمع المادة منه على نشرة دار ابن عفان بتحقيق: مشهور آل سلمان؛ لأنها الأكثر شهرةً وتداولًا، بخلاف النشرة الأحدث منها، وهي نشرة منشورات البشير بن عطية بتحقيق الدكتور: الحسين أيت سعيد، فهي لما تنتشر وتُتداوَل بعدُ. لكن لما كانت نشرة الدكتور أيت أتقن من جهة صحة النص، فكنتُ في مواضع أُثبتُ ما أثبته الدكتور أيت في نشرته عندما أرى صحته أو وجاهته.

(2) اعتمدتُ على النشرة الصادرة عن دار ابن الجوزي الرياض. وإن كنتُ قد خالفتُ في بعض ما أثبتَه المحقِّقون بالرجوع إلى النسخ الخطية التي رجعوا إليها وأثبتوا قراءتها في هامش التحقيق، فقد يكون ما وضعوه في الهامش أوجه في نظري مما أثبتوه في المتن.
‌‌কাজের ধাপ ও অনুসৃত পদ্ধতি

‌‌প্রথমত: 'আল-মুজাররাদ'-এর বিষয়বস্তু ও এর উৎসসমূহ:

নিবন্ধসমূহের বিষয়বস্তু হলো ইমাম শাতিবি-র সেই সকল বক্তব্য, যা শরিয়তে আরবি ভাষার মর্যাদা স্পষ্ট করে অথবা এ ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এটি বিভিন্ন দিক থেকে সম্পন্ন হয়েছে, যা গ্রন্থটির বিষয়বস্তুর বিভাজন আলোচনার সময় বিস্তারিত আসবে।

আমি 'আল-মুজাররাদ'-এর বিষয়বস্তু মূলত শাতিবি-র নিজস্ব গ্রন্থসমূহ থেকে এবং যারা তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন অথচ তা এই মূল গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান নেই—তাদের থেকে সংগ্রহ করেছি। সেগুলো নিম্নরূপ:

• "আল-মুওয়াফাকাত"(১)।

• "আল-মাকাসিদ আল-শাফিয়া"।

• "আল-ইতিসাম"(২)।

• "আল-ইফাদাত ওয়াল-ইনশাদাত"।

--------------------------------------------

(১) এখান থেকে বিষয়বস্তু সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমি মাশহুর আল-সালমানের সম্পাদনা (تحقيق) করা দার ইবনে আফফান সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি; কারণ এটি অধিক পরিচিত ও বহুল প্রচলিত। এর বিপরীতে ড. আল-হুসাইন আইত সাঈদ সম্পাদিত মানশুরাত আল-বাশির বিন আতিয়্যাহ সংস্করণটি অপেক্ষাকৃত নতুন হওয়ায় তা এখনো সেভাবে প্রচার ও প্রসার লাভ করেনি। তবে ড. আইত-এর সংস্করণটি পাঠের বিশুদ্ধতার দিক থেকে অধিক নিখুঁত হওয়ার কারণে, কোনো কোনো স্থানে আমি তাঁর সংস্করণের পাঠই গ্রহণ করেছি যখন তা আমার নিকট সঠিক বা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে।

(২) আমি রিয়াদের দার ইবনে আল-জাওজি থেকে প্রকাশিত সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি। তবে কোনো কোনো স্থানে আমি সম্পাদকদের (المحققون) সিদ্ধান্তের ভিন্নতা পোষণ করে সেই সকল হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির (النسخ الخطية) দিকে ফিরে গিয়েছি যেগুলোর পাঠ তারা সম্পাদনার টীকায় (هامش التحقيق) উল্লেখ করেছেন। কারণ আমার দৃষ্টিতে মূল পাঠে (المتن) তারা যা নির্ধারণ করেছেন, তার চেয়ে টীকায় রাখা পাঠটিই অধিক সঠিক মনে হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
• "روضة الإعلام بمنزلة العربية من علوم الإسلام"، لابن الأزرق الأندلسي.

• "فتاوي الإمام الشاطبي"(1) جمعها: الدكتور محمد أبو الأجفان.

 

‌‌ثانيًا: منهج العمل المتبع:

1 - جمعتُ مادة المقالات من المصادر السابق ذكرها.

2 - جمعتُ كلَّ كلام تحت فكرته ومبحثه، وصُغتُه كأن الشاطبي هو الذي نظمه على هذه الصورة، فلم أتدخل بكلام لي إلا بأن ألَّفتُ بين كلامه في هذا السياق الجديد بعد أخذه من سياقه الأصلي.

وقد كنتُ منتبِهًا إلى أن إعادة صوغ كلامه في سياق جديد قد يحصُل معه إخلال بمراده أو نسبة أمر إليه لم يقُل هو به، وقد ساعدني على تحامي هذا أنني على دربة بكلامه الذي يتعلَّق بمباحث هذا العمل؛ لعكوفي على كتبه زمنًا طويلًا في أثناء إعداد رسالة الماجستير وبعد الانتهاء منها، إلا ما يعتري البشر من الغلط والسهو والنسيان.

3 - اعتنيتُ بكلام كلِّ مَن اشتبك مع الشاطبي فيما يتعلَّق بمادة المقالات، وكنتُ أقرِّر هذا بعد الانتهاء من تقرير كلامه وسبكه؛ بأن أفصِل بين تقريري وبين كلامه بفاصل أقول بعده: قلتُ بخطٍّ غليظ، ثم أذكر ما أريد بيانه وتقريره.

وقد يكون الذي أذكره هو تنبيه مني على شيء في كلامه أو توضيح أو استدراك.

4 - كلُّ نصٍّ أنقله عن الشاطبي أضعه بين علامتي تنصيص ""، مع عزوه في الهامش إلى الكتاب المنقول منه، وأيُّ كلام له ليس بلفظه لا أضعه بين

--------------------------------------------

(1) اعتمدتُ على نشرة مكتبة العبيكان، الرياض.
• "রাওজাতুল ইলাম বি মানযিলাতিল আরাবিয়্যাহ মিন উলুমিল ইসলাম", লেখক: ইবনুল আজরাক আল-আন্দালুসি।

• "ফাতাওয়া আল-ইমাম আশ-শাতবি"(১) সংকলক: ডক্টর মুহাম্মদ আবু আল-আজ্জাফান।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: অনুসৃত কর্মপদ্ধতি:

১ - আমি প্রবন্ধসমূহের উপাদানসমূহ পূর্বে উল্লিখিত উৎসসমূহ হতে সংগ্রহ করেছি।

২ - আমি প্রতিটি বক্তব্যকে তার সংশ্লিষ্ট মূল ধারণা ও বিষয়ের অধীনে বিন্যস্ত করেছি এবং এমনভাবে সাজিয়েছি যেন মনে হয় ইমাম শাতবি নিজেই সেগুলোকে এই রূপে বিন্যস্ত করেছেন। আমি নিজস্ব কোনো কথা এখানে অন্তর্ভুক্ত করিনি; কেবল তার মূল প্রেক্ষাপট থেকে বক্তব্যগুলো গ্রহণ করে এই নতুন কাঠামোতে সেগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধন করেছি।

আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলাম যে, ইমাম শাতবির বক্তব্যের এই নতুন বিন্যাসের ফলে তার মূল অভিপ্রায়ের ব্যত্যয় ঘটতে পারে অথবা এমন কিছু তার প্রতি সম্বন্ধিত হতে পারে যা তিনি বলেননি। এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে আমাকে সাহায্য করেছে তার রচনাবলীর সাথে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয় ও দক্ষতা; কেননা আমি আমার মাস্টার্স থিসিস প্রস্তুতকালীন সময়ে এবং তা সম্পন্ন করার পরবর্তী দীর্ঘ সময় জুড়ে তার গ্রন্থসমূহ নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করেছি। তবে মানুষের ওপর আপতিত হওয়া ভুল (غلط), অসাবধানতা (سهو) এবং বিস্মৃতি (نسيان) এর ব্যতিক্রম হতে পারে।

৩ - প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর সাথে ইমাম শাতবির সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের বক্তব্যের প্রতিও আমি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি। ইমাম শাতবির বক্তব্য উপস্থাপন ও বিন্যাস শেষ করার পরই আমি তাদের কথাগুলো সাব্যস্ত করেছি; সেক্ষেত্রে আমার নিজস্ব বিশ্লেষণ এবং শাতবির বক্তব্যের মাঝে একটি ব্যবধান রেখেছি এবং এরপর মোটা হরফে লিখেছি: "আমি বলছি", অতঃপর আমি যা ব্যাখ্যা বা সাব্যস্ত করতে চেয়েছি তা উল্লেখ করেছি।

আমার এই উল্লেখ করার বিষয়টি হতে পারে তার কোনো কথার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ, কোনো বিষয়ের স্পষ্টীকরণ অথবা কোনো সংশোধন (استدراك)।

৪ - ইমাম শাতবি থেকে উদ্ধৃত প্রতিটি পাঠ (نص) আমি উদ্ধৃতি চিহ্নের "" মধ্যে রেখেছি এবং পাদটীকায় তা কোন গ্রন্থ হতে সংগৃহীত হয়েছে তার উৎস নির্দেশ (عزو) করেছি। আর তার যেসব বক্তব্য হুবহু শব্দে (لفظ) বর্ণিত হয়নি, সেগুলো আমি উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে স্থাপন করিনি...

--------------------------------------------

(১) আমি রিয়াদের মাকতাবাতুল ওবাইকান সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
علامتي التنصيص؛ سواءٌ كان بالمعنى أو كان لي مستمدًّا من فحوى كلامه وهذا قليل، ومُعظَم الكلام له بلفظه.

5 - خرَّجتُ كل الوارد في كلامه من القراءات والأحاديث والآثار والأشعار.

6 - ترجمتُ لغير المشاهير من الأعلام.

تقسيم المجرَّد وخطته:

اقتضت طبيعة مادة المجرَّد أن أقسِّمه إلى:

- مقدِّمات. وتحتهاست مقالات.

- وستة فصول.

تحت كلِّ فصل عِدَّة مقالات، وقد اعتنيتُ أن يكون ترتيب المقالات داخل الفصول ترتيبًا منطقيًّا؛ بأن تُسلِم كل مقالة إلى ما بعدها أو يكون بينهما علاقة تناسُب:

أما الفصل الأول فبعنوان: بيان وجه الاحتياج إلى عِلم العربية في الشريعة. وتحته خمس مقالات.

وأما الفصل الثاني فبعنوان: من ضوابط فَهم كلام الشارع وَفق العربية. وتحته ست مقالات.

وأما الفصل الثالث فبعنوان: بيان تأثير العربية في القرآن والسُّنة والفروع الفقهية. وتحته خمس مقالات.

وأما الفصل الرابع فبعنوان: من مباحث الأصوليين المتعلِّقة بالعربية. وتحته مقالتان.
উদ্ধৃতি চিহ্ন; চাই তা অর্থগতভাবে (بالمعنى) হোক অথবা তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম থেকে আমার আহরিত হোক—আর এটি খুব কমই হয়েছে, বরং অধিকাংশ বক্তব্য তাঁর নিজস্ব শব্দেই উদ্ধৃত।

৫ - আমি তাঁর বক্তব্যে উল্লিখিত সকল কিরাত (قراءات), হাদিস, আছার (آثار) ও কবিতাসমূহ তাখরিজ (تخريج) করেছি।

৬ - আমি অখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত (ترجمة) লিখেছি।

আল-মুজাররাদের বিন্যাস ও এর পরিকল্পনা:

মুজাররাদের বিষয়বস্তুর প্রকৃতি অনুযায়ী আমি একে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করেছি:

- মুকাদ্দিমাসমূহ (مقدمات); যার অধীনে রয়েছে ছয়টি প্রবন্ধ।

- এবং ছয়টি অধ্যায় (فصول)।

প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে কয়েকটি প্রবন্ধ রয়েছে। আমি অধ্যায়গুলোর ভেতরে প্রবন্ধগুলোর বিন্যাস যৌক্তিক অনুক্রমে রাখার ব্যাপারে যত্নবান হয়েছি; যাতে প্রতিটি প্রবন্ধ তার পরবর্তী প্রবন্ধের দিকে ধাবিত করে অথবা তাদের মাঝে সুসংগত সম্পর্ক বজায় থাকে:

প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম: ‘শরিয়াহর ক্ষেত্রে আরবি ভাষার প্রয়োজনীয়তার দিকসমূহ’। এর অধীনে পাঁচটি প্রবন্ধ রয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম: ‘আরবি ভাষা অনুযায়ী শরিয়াহদাতার (الشارع) বাণী অনুধাবনের কতিপয় নীতিমালা (ضوابط)’। এর অধীনে ছয়টি প্রবন্ধ রয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম: ‘কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহ শাস্ত্রের শাখাগত বিষয়সমূহের (فروع فقهية) ওপর আরবি ভাষার প্রভাব’। এর অধীনে পাঁচটি প্রবন্ধ রয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়ের শিরোনাম: ‘উসুলবিদদের (الأصوليون) আরবি ভাষা সংশ্লিষ্ট কতিপয় আলোচনা’। এর অধীনে দুইটি প্রবন্ধ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وأما الفصل الخامس فبعنوان: من الأحكام الشرعية المتعلِّقة بالعربية. وتحته سبع مقالات.

وأما الفصل السادس فبعنوان: ما جاء مما قد يُوهِم خلاف ما تقدَّم من منزلة العربية من الشريعة. وتحته أربع مقالات.

- وخاتمة. وهي في بعض الآداب والنصائح للمشتغل بالعربية عالِمًا كان أو متعلِّمًا، وتحتها أربع مقالات.

ثم الكشافات العلمية؛ وهي كشاف الآيات القرآنية، وكشاف الأحاديث النبوية، وكشاف الآثار السلفية، وكشاف الأشعار، وكشاف الأعلام، وكشاف أسماء الكتب الواردة في المتن. ثم يأتي ثَبَت المصادر والمراجع.

وصلَّى الله على سيِّدنا محمَّد وعلى آله وصحبه والتابعين، وآخِر دعوانا أن الحمد لله ربِّ العالمين.
পঞ্চম পরিচ্ছেদের শিরোনাম হলো: আরবি ভাষার সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ি বিধানসমূহ। এর অধীনে সাতটি প্রবন্ধ রয়েছে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদের শিরোনাম হলো: শরিয়তে আরবি ভাষার যে উচ্চমর্যাদা ইতঃপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তার বিপরীত বলে প্রতীয়মান হতে পারে—এমন বিষয়াবলি। এর অধীনে চারটি প্রবন্ধ রয়েছে।

- এবং একটি উপসংহার। এটি আরবি ভাষা চর্চায় নিয়োজিত আলেম বা শিক্ষার্থী—উভয় শ্রেণির জন্য কিছু আদব ও নসিহত সংবলিত, যার অধীনে চারটি প্রবন্ধ রয়েছে।

এরপর রয়েছে জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্টসমূহ; যথা—কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট, নববী হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট, সালাফদের আসার (آثار)-এর নির্ঘণ্ট, কবিতার নির্ঘণ্ট, ব্যক্তিবর্গের নামের নির্ঘণ্ট এবং মূল পাঠে উল্লিখিত গ্রন্থাবলির নামের নির্ঘণ্ট। এরপর তথ্যসূত্র ও সহায়িকা গ্রন্থের তালিকা।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী এবং তাবেয়ি (تابعين)-দের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌المُقدِّمات
উপক্রমণিকা
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌مقالةٌ في تعريف النحو

"أصلُ النحو في اللغة: القصدُ. وهو ضد اللَّحن الذي هو العُدُول عن القصد والصواب، والنحوُ قصدٌ إليه.

وهو في الاصطلاح: عِلم بالأحوال والأشكال التي بها تدلُّ ألفاظ العرب على المعاني. ويعني بالأحوال: وضع الألفاظ بعضها مع بعض في تركيبها للدلالة على المعاني المُركَّبة. ويعني بالأشكال: ما يعرض في أحد طرفي اللفظ أو وسطه أو جُملته من الآثار والتغييرات التي بها تدلُّ ألفاظ العرب على المعاني، هذا حَدُّ بعض المتأخِّرين.

وقال الفارسي(1): النحو عِلم بالمقاييس المستنبَطة من استقراء كلام العرب. ويعني بالمقاييس: القوانين الكلية الحاصلة في مَلَكَة الإنسان من تتبُّع كلام العرب"(2).

و"التصريف … هو الشطر الثاني من شطرَي علم النحو، وهو أغمضُهما وأشرفُهما عند أهل هذا الشأن؛ لما فيه من الفائدة العائدة عليهم في تصرُّفات كلام العرب، ولأجل ذلك خصَّه كثيرٌ من النحويين بالتأليف على الاستقلال، كالمازني والمُبرِّد وابن جني وغيرهم ممن لَهِج به، وأغرق في النظر فيه، وقد

--------------------------------------------

(1) تكملة الإيضاح 2/ 3.

(2) المقاصد الشافية 1/ 17، 18.
নাহু শাস্ত্রের সংজ্ঞা বিষয়ক একটি নিবন্ধ

“অভিধানে নাহু শাস্ত্রের মূল অর্থ হলো: লক্ষ্য বা অভিপ্ৰায়। এটি ‘লাহন’-এর বিপরীত, যার অর্থ সঠিক লক্ষ্য ও নির্ভুলতা থেকে বিচ্যুত হওয়া; আর নাহু হলো সেই সঠিক লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হওয়া।

পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন এক বিদ্যা যা ঐসব অবস্থা ও রূপ সম্পর্কে আলোচনা করে যার মাধ্যমে আরবদের শব্দাবলি নির্দিষ্ট অর্থের ওপর পথপ্রদর্শন করে। ‘অবস্থা’ বলতে তিনি বুঝিয়েছেন গঠনগত বিন্যাসে শব্দসমূহকে একটির সাথে অন্যটির স্থাপন করে যৌগিক অর্থ প্রকাশ করা। আর ‘রূপ’ বলতে বুঝিয়েছেন শব্দের শেষাংশে, মধ্যখানে কিংবা সামগ্রিক অবয়বে প্রকাশ পাওয়া ঐসব প্রভাব ও পরিবর্তনকে যার মাধ্যমে আরবদের শব্দাবলি নির্দিষ্ট অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে। এটি পরবর্তীকালের কিছু আলেমের প্রদত্ত সংজ্ঞা।

আল-ফারসি(১) বলেন: নাহু হলো আরবদের বাক্যাবলি পর্যালোচনার মাধ্যমে উদ্ভাবিত নিয়মনীতি সম্বলিত একটি বিদ্যা। আর ‘নিয়মনীতি’ বলতে তিনি বুঝিয়েছেন মানুষের সহজাত যোগ্যতায় আরবদের বাকরীতি অনুসরণের মাধ্যমে অর্জিত সামগ্রিক বিধানসমূহ”(২)।

এবং “তাসরিফ (রূপান্তর বিদ্যা)... এটি নাহু শাস্ত্রের দুটি অংশের মধ্যে দ্বিতীয় অংশ। এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের নিকট এটি অধিকতর সূক্ষ্ম ও মর্যাদাপূর্ণ; কারণ এতে আরবদের ভাষাগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানাবিধ উপকারিতা নিহিত রয়েছে। একারণেই বহু নাহুবিদ একে স্বতন্ত্রভাবে রচনার প্রয়াস পেয়েছেন, যেমন—মাজিনি, মুবাররিদ, ইবনে জিন্নি এবং অন্যান্য যারা এই বিদ্যায় অনুরাগী ছিলেন এবং এর তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় গভীরভাবে নিমগ্ন ছিলেন। আর নিশ্চিতভাবেই

--------------------------------------------

(১) তাকমিলাতুল ইদাহ ২/৩।

(২) আল-মাকাসিদুশ শাফিয়া ১/১৭, ১৮।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
أطنبوا في مدحه بما هو مذكور في مواضعه …

وقد حدَّه في "التسهيل"(1) بأنَّه: "عِلمٌ يتعلَّق ببنية الكلمة وما لحروفها من أصالة وزيادة وصحة وإعلال، وشِبه ذلك".

فقولُه: عِلم، هو الجنس الأقرب؛ إذ التصريف المراد حدُّه من جنس العلوم.

وقوله: يتعلَّق ببنية الكلمة، هو معرفة أبنية الأسماء والأفعال، وأعداد حروف تلك الأبنية من ثلاثي ورباعي وما فوقَ ذلك، وما هو منها مجرَّد من الزيادة أو مزيد فيه، وكيف يُوزَن بالتفعيل؟ وكيف بناءُ ما يُبنى منها إن أُطلق القياسُ فيها، أو سُوِّغ للتدُّرب والامتحان، ونحو ذلك.

وقوله: وما لحروفها من أصالة وزيادة، أي: وما لحروف تلك الأبنية من أصالة، يعني: حيث تكون أصولًا لا زوائد. وزيادة، يعني: حيث تكون الزوائد في تلك الأبنية، وأين تُزاد؟ وما الذي يُزاد؟ وما الذي لا يُزاد؟

وقوله: وصحة وإعلال، يعني بالصحة: إقرارَ الحرف على وضعه الأصلي كالياء في "بياض" و"أبيض"، والواو في "سواد" و"أسود". وبالإعلال: تغييرَ الحرف عن وضعه الأصلي كالواو في "قام" و"أقام"، و"عاذ عياذًا"، والياء في "أبان" و"مُوقِن" و"بائع" ونحو ذلك.

وقوله: وشبه ذلك، يعني: كالقلب والحذف، نحو: "لاثٍ" في "لائث"، "أينُق" في جمع "ناقة". وحذف واو "يَعِدُ"، و "تَعِدُ"، و"نَعِدُ"، و"عِدَةٍ" و"زِنَةٍ" وما أشبه ذلك.

--------------------------------------------

(1) تسهيل الفوائد، ص 290.
তারা তাঁর প্রশংসায় অনেক দীর্ঘায়িত করেছেন যা যথাস্থানে বর্ণিত হয়েছে …

আর তিনি "তাসহিল"(1) গ্রন্থে এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে: "এটি এমন একটি বিদ্যা (عِلم) যা শব্দের গঠন এবং এর অক্ষরগুলোর মৌলিকত্ব (أصالة), অতিরিক্ততা (زيادة), সুস্থতা (صحة) ও রূপান্তর (إعلال) এবং এই জাতীয় বিষয়াবলির সাথে সংশ্লিষ্ট"।

সুতরাং তাঁর উক্তি: বিদ্যা (عِلم), এটি হলো নিকটবর্তী প্রকার (الجنس الأقرب); কারণ তাসরিফ বা রূপান্তরবিদ্যা যার সংজ্ঞা প্রদান করা উদ্দেশ্য, তা বিদ্যার প্রকারভুক্ত।

আর তাঁর উক্তি: শব্দের গঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট, তা হলো বিশেষ্য ও ক্রিয়ার গঠন এবং সেই গঠনগুলোর অক্ষরের সংখ্যা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, চাই তা তিন অক্ষরবিশিষ্ট (ثلاثي), চার অক্ষরবিশিষ্ট (رباعي) বা তার অধিক হোক। এছাড়া সেগুলোর কোনটি অতিরিক্ত অক্ষর বর্জিত (مجرَّد) বা অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত (مزيد فيه), এবং কীভাবে তাফঈল (التفعيل) এর মাধ্যমে ওজন করা হবে? আর যদি তাতে নিয়ম (القياس) প্রয়োগ করা হয় অথবা অনুশীলন ও পরীক্ষার জন্য বৈধ করা হয়, তবে সেগুলোর গঠনরীতি কেমন হবে—ইত্যাদি বিষয়াবলি এর অন্তর্ভুক্ত।

আর তাঁর উক্তি: এবং এর অক্ষরগুলোর মৌলিকত্ব ও অতিরিক্ততা, অর্থাৎ: সেই গঠনগুলোর অক্ষরসমূহের মৌলিকত্ব (أصالة), যার অর্থ হলো: যখন সেগুলো মূল অক্ষর হবে, অতিরিক্ত নয়। আর অতিরিক্ততা (زيادة) মানে হলো: যখন সেই গঠনগুলোতে অতিরিক্ত অক্ষর থাকবে; আর কোথায় তা বৃদ্ধি পাবে? কোনটি বৃদ্ধি পাবে? আর কোনটি বৃদ্ধি পাবে না?

আর তাঁর উক্তি: সুস্থতা ও রূপান্তর, সুস্থতা (صحة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অক্ষরকে তার মূল অবস্থায় বহাল রাখা, যেমন: "বিয়ায" ও "আবইয়ায" শব্দের 'ইয়া', এবং "সাওয়াদ" ও "আসওয়াদ" শব্দের 'ওয়াও'। আর রূপান্তর (إعلال) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অক্ষরকে তার মূল অবস্থা থেকে পরিবর্তন করা, যেমন: "ক্বামা" ও "আক্বামা" এবং "আযা-ইয়াযান" শব্দের 'ওয়াও', এবং "আবান", "মুক্বিন" ও "বা-ই' " শব্দের 'ইয়া' এবং এই জাতীয় উদাহরণ।

আর তাঁর উক্তি: এবং এই জাতীয় বিষয়, অর্থাৎ: যেমন অক্ষর পরিবর্তন (القلب) এবং বিলোপ (الحذف); যেমন: "লাইসুন" এর পরিবর্তে "লাসিন", "নাক্বাতুন" এর বহুবচনে "আইনুক্বুন"। এবং "ইয়া'ইদু", "তা'ইদু", "না'ইদু", "ইদাতুন" ও "যিনাতুন" থেকে 'ওয়াও' বিলোপ হওয়া এবং এই ধরণের বিষয়াবলি।

--------------------------------------------

(1) তাসহিলুল ফাওয়াইদ, পৃষ্ঠা ২৯০।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
فهذه هي أجزاء التصريف قد نبَّه عليها، ومعرفة ذلك كلِّه هو عِلم التصريف. وإنما سُمِّي هذا العِلم تصريفًا من التصريف الذي هو التقليبُ، وتقول: صرَفتُ الرجلَ في أمري: إذا جعلته يتقلَّبُ فيه بالذهاب والمجيء. وصروفُ الدَّهر: تقلُّباتُه وتحوُّلاتُه من حال إلى حال. فهذا العِلم فيه هذا المعنى من جهتين:

إحداهما: من جهة مُتعلَّقه؛ إذ هو مُتعلِّق بالتصرُّفات الموجودة في الألفاظ العربية، فقولُ العربي: ضرَب، ويضرِب، وضارب، ومضروب، واضطرب، وما كان نحو ذلك - تصريفٌ للمصدر الذي هو الضَّرْب، وهو مُتعلَّق نظر صاحب هذا العِلم، فينظُر في هذه التصرُّفات؛ في الزيادة والنقصان، والصحة والإعلال، وشبه ذلك، فقيل للعلم المتعلِّق بهذا التصريف: تصريفٌ، تسميةً له باسم متعلَّقه.

والجهةُ الثانيةُ: جهةُ فائدتِه، وهو انتحاءُ سمت كلام العرب بالبناء مثل أبْنِيتها، والتصرُّفُ في الكلام بنحوٍ من تصرُّف العرب. وإلى هذا المعنى ردَّ ابن جني وغيرُه حقيقة التصريف المبوَّب عليه؛ إذ قال: "إن التصريف هو أن تجيء إلى الكلمة الواحدة فتُصرِّفها على وجوه شتى، مثالُ ذلك أن تأتي إلى "ضرَب" فتبني منه مثل "جعفر"، فتقول: "ضَرْبَبٌ"، ومثل "قِمَطْر": "ضِرَبٌّ"، ومثل "دِرْهم": "ضِرْبَبٌ"، ومثل "عَلِم": "ضَرِبَ"، ومثل "ظَرُف": "ضَرُب". قال: أفلا ترى إلى تصريفك الكلمة على وُجوه كثيرة".

فحدَّه كما ترى بفائدته، وعلى ذلك نصَّ في كتاب "الخصائص"(1)، فذكر أن الغرض من مسائل التصريف على ضربَين:

--------------------------------------------

(1) 2/ 289، 490.
এগুলোই হলো শব্দরূপান্তরের (تصريف) বিভিন্ন অংশ যার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং এই সবকিছুর জ্ঞানই হলো শব্দরূপান্তর বিদ্যা (تصريف)। মূলত এই বিদ্যাকে শব্দরূপান্তর (تصريف) নামকরণ করা হয়েছে 'আবর্তন (تقليب)' থেকে; আপনি বলেন: 'আমি লোকটিকে আমার কাজে আবর্তিত করেছি', যখন আপনি তাকে সে কাজের আসা-যাওয়ার মাধ্যমে পরিবর্তনের মধ্যে রাখেন। আর কালের আবর্তন বলতে বুঝায় এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় তার রূপান্তর ও পরিবর্তন। সুতরাং এই বিদ্যার মধ্যে এই অর্থটি দুটি দিক থেকে বিদ্যমান:

প্রথমটি: তার বিষয়ের দিক থেকে; যেহেতু এটি আরবি শব্দাবলিতে বিদ্যমান পরিবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন কোনো আরবের উক্তি: দারা-বা, ইয়াদরিবু, দ্বরিবুন, মাদরুবুন, ইদত্বরবা এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ—এগুলো মূলত ক্রিয়ামূল (مصدر) 'দ্বরব' এর শব্দরূপান্তর (تصريف)। আর এটিই হলো এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞের পর্যালোচনার বিষয়; ফলে তিনি এই রূপান্তরসমূহের ক্ষেত্রে বর্ণ বৃদ্ধি ও হ্রাস, সুস্থতা (صحة) ও বর্ণ-পরিবর্তন (إعلال) এবং এই জাতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাই এই রূপান্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট বিদ্যাকে শব্দরূপান্তর (تصريف) বলা হয়, যা মূলত তার বিষয়ের নামানুসারে নামকরণ।

দ্বিতীয় দিকটি হলো: এর উপযোগিতার দিক থেকে। আর তা হলো আরবদের শব্দ-কাঠামোর (بناء) অনুকরণে শব্দ গঠনের মাধ্যমে তাদের বাকরীতির পথ অনুসরণ করা এবং আরবদের বাচনভঙ্গির অনুরূপ ভাষায় রূপান্তর ঘটানো। ইবনে জিন্নি এবং অন্যান্যরা এই অর্থের দিকেই শব্দরূপান্তরের (تصريف) প্রকৃত রূপকে ফিরিয়ে নিয়েছেন যে বিষয়ে অধ্যায় রচিত হয়েছে; তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই শব্দরূপান্তর (تصريف) হলো একটি একক শব্দকে গ্রহণ করে তাকে বিভিন্ন রূপে পরিবর্তন করা। উদাহরণস্বরূপ, আপনি 'দারা-বা' শব্দটিকে নিলেন এবং তা থেকে 'জা'ফার' এর ওজনে শব্দ গঠন করলেন, অতঃপর আপনি বললেন: 'দ্বারবাবুন', এবং 'কিমাত্রুন' এর ওজনে: 'দ্বিরব্বুন', এবং 'দিরহামুন' এর ওজনে: 'দ্বিরবাবুন', এবং 'আলিমা' এর ওজনে: 'দ্বারিবা', এবং 'যারুফা' এর ওজনে: 'দ্বরুবা'। তিনি বলেন: আপনি কি দেখছেন না যে আপনি একটি শব্দকে কতগুলো রূপে পরিবর্তন (تصريف) করছেন!"

সুতরাং তিনি এর সংজ্ঞায়ন করেছেন এর উপযোগিতা অনুযায়ী, যেমনটি আপনি দেখছেন। আর তিনি আল-খাসাইস গ্রন্থেও এর ওপর স্পষ্টভাবে আলোকপাত করেছেন(১)। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শব্দরূপান্তরের (تصريف) মাসয়ালাগুলোর উদ্দেশ্য দুই প্রকার:

--------------------------------------------

(১) ২/ ২৮৯, ৪৯০।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
أحدهما: الإدخال لما تبنيه في كلام العرب والإلحاق له به. ومثَّله بما ذكر في الحدِّ.

والآخر: الْتِماسُك الرياضةَ به والتدُّرب بالصنعة فيه. ومَثَّله بأن تبني من "شَوَيت" مثل "فَيْعَلول"، فتقول: "شَيْوَوِيّ"، ونحو ذلك.

فكلاهما راجعٌ إلى معنى واحد، إلا أن أحدهما في الصحيح والآخَر في المعتل.

[فـ] موضوعُ كلِّ عِلمٍ ما يُبحث في ذلك العِلم عن عوارضه الذاتية، كما تقول: موضوعُ عِلم العَرُوض الشعرُ، وموضوعُ عِلم اللغة مفرداتُ كلام العرب؛ فكذلك تقول: موضوعُ عِلم التصريف الأسماءُ المتمكِّنة والأفعال المتصرِّفة. وما ليس باسم متمكِّن ولا فعل متصرِّف فليس بموضوع له.

فالأسماء المتمكِّنة والأفعال المتصرِّفة يُبحث في هذا العِلم عن عوارضها التي تلحَقها في التقلُّبات من الزيادة والنقصان، والصحة والإعلال بالقلب والإبدال، ومحالِّها وشروطها وموانعها وأسبابها وشِبه ذلك"(1).

--------------------------------------------

(1) المقاصد الشافية 8/ 218 - 221.
একটি হলো: আপনি যা তৈরি করছেন তা আরবদের কথাবার্তায় অনুপ্রবেশ ঘটানো এবং এর সাথে সেটিকে সংযুক্ত করা। সংজ্ঞায় যা বর্ণিত হয়েছে তা দিয়ে তিনি এর উদাহরণ দিয়েছেন।

আর অন্যটি হলো: অনুশীলনের মাধ্যমে এতে অভ্যস্ত হওয়া এবং এই শিল্পে নিজেকে দক্ষ করে তোলা। তিনি এর উদাহরণ দিয়েছেন যে, আপনি "শাওয়াইতু" থেকে "ফাই'আলুল" এর ওজনে শব্দ গঠন করবেন, ফলে আপনি বলবেন: "শাইওয়ায়িয়্যুন", এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।

সুতরাং এই উভয়টিই একটি মূল অর্থের দিকে ফিরে যায়, তবে পার্থক্য হলো এর একটি সঠিক (صحيح) এবং অন্যটি দুর্বল (معتل) শব্দের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত।

[সুতরাং] প্রতিটি শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (موضوع) হলো সেই সব বিষয়, যে শাস্ত্রে তার মৌলিক অবস্থাসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়; যেমনটি আপনি বলে থাকেন: ছন্দবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হলো কবিতা এবং ভাষাবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হলো আরবদের কথাবার্তার একক শব্দসমূহ। অনুরূপভাবে আপনি বলবেন: শব্দরূপান্তর বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হলো পরিবর্তনশীল বিশেষ্য এবং রূপান্তরযোগ্য ক্রিয়া। আর যা পরিবর্তনশীল বিশেষ্য নয় এবং রূপান্তরযোগ্য ক্রিয়াও নয়, তা এর আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।

সুতরাং এই পরিবর্তনশীল বিশেষ্য এবং রূপান্তরযোগ্য ক্রিয়াগুলোর সেই সকল অবস্থা নিয়ে এই শাস্ত্রে আলোচনা করা হয়, যা এগুলোর রূপান্তরের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়; যেমন—বৃদ্ধি ও হ্রাস, সঠিক (صحة) হওয়া এবং বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে দুর্বল (إعلال) হওয়া ও বর্ণ বিনিময় (إبدال), এগুলোর প্রয়োগস্থল, শর্তাবলি, প্রতিবন্ধকতা, কারণসমূহ এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।"(১).

--------------------------------------------

(১) আল-মাকাসিদ আশ-শাফিয়া ৮/ ২১৮ - ২২১।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌مقالةٌ في السبب الموجب لوضع هذا العِلم ومَن وضَعه

"أهلُ العربية يحكُون عن أبي الأسود الدؤلي: أنَّ علي بن أبي طالب رضي الله عنه هو الذي أشار عليه بوضع شيء في النحو، حين سمِع الأعرابيُّ قارئًا يقرأ: {أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ} [التوبة: 3] بالجرِّ، فقال برئتُ مما بَرئ الله منه، فبلغت عليًّا رضي الله عنه فأشار على أبي الأسود؛ فوضَع النحوَ(1).

وقد روي عن ابن أبي مُلَيْكة(2): أنَّ عمر بن الخطاب رضي الله عنه أمَر أن لا يقرئ القرآن إلا عالم باللغة، وأمر أبا الأسود؛ فوضَع النحوَ"(3).

إلا أن وضعَ أبي الأسود الدؤلي ومَن جاء بعدَه للنحو إنما هو بمعنى أولية الوضع وفتح الباب إليه، لا أنهم أتوا على المحتاج إليه منه؛ إذ "سيبويه وشيوخه هم الذين جمعوا أطراف النحو، واستولوا على أمره، وأَتوا على آخره، وتكلَّموا مع المخالفين؛ فإليهم يُنسَب، وأما من قبلَهم فإنما وضعَوا نُتَفًا وأبوابًا لا تفي بالمقصود من ضبط اللسان.

[وكذلك] الكسائي وأصحابه هم الذين مهَّدوا العِلم، وبثُّوا حِكمتَه، وناظَروا المخالفين، نظيرَ الخليل وسيبويه ومَن والاهُما"(4).

--------------------------------------------

(1) راجع: أخبار النحويين البصريين، ص 13؛ تاريخ العلماء النحويين 166، 167.

(2) ذكره بسنده إلى ابن أبي مليكة أبو بكر الأنباري في: إيضاح الوقف والابتداء 1/ 37 - 39.

(3) الاعتصام 1/ 338، 339.

(4) المقاصد الشافية 3/ 191 - 193.
এই শাস্ত্র উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয় কারণ এবং এর উদ্ভাবক সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ

আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞগণ আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী থেকে বর্ণনা করেন যে: আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) তাকে নাহু শাস্ত্রের কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এটি তখন ঘটেছিল যখন এক মরুবাসী আরব জনৈক পাঠককে {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও} [আত-তাওবা: ৩] আয়াতটি 'রাসূল' শব্দটিকে 'জার' (জের) দিয়ে পাঠ করতে শুনেছিলেন। তখন সেই মরুবাসী আরব বলেছিলেন, "আল্লাহ যা থেকে দায়মুক্ত হয়েছেন, আমিও তা থেকে দায়মুক্ত হলাম।" বিষয়টি আলী (রা.)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি আবুল আসওয়াদকে ইঙ্গিত প্রদান করেন; ফলে তিনি নাহু শাস্ত্র উদ্ভাবন করেন।(১)

ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন ভাষাজ্ঞানে পণ্ডিত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ কুরআন পাঠ না করায়। তিনি আবুল আসওয়াদকে নির্দেশ দিয়েছিলেন; অতঃপর তিনি নাহু শাস্ত্র উদ্ভাবন করেন।(৩)

তবে আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী এবং তাঁর পরবর্তীগণ কর্তৃক নাহু শাস্ত্রের এই উদ্ভাবন কেবল প্রারম্ভিক উদ্ভাবন এবং এর পথ উন্মোচনের অর্থেই ছিল; এমন নয় যে তাঁরা এর যাবতীয় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সুসম্পন্ন করেছিলেন। কেননা "সিবওয়াইহি এবং তাঁর উস্তাদগণই নাহু শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখাগুলো একত্রিত করেছেন, এর ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করেছেন, এর শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছেন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের সাথে আলোচনা করেছেন; ফলে এটি তাঁদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। আর তাঁদের পূর্ববর্তীগণ কেবল কিছু অংশ ও পরিচ্ছেদ প্রণয়ন করেছিলেন, যা ভাষা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট ছিল না।

[অনুরূপভাবে] আল-কিসায়ী এবং তাঁর সহচরগণই এই জ্ঞানকে সুবিন্যস্ত করেছেন, এর প্রজ্ঞা প্রচার করেছেন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের সাথে বিতর্ক করেছেন; যেমনটি খলিল, সিবওয়াইহি এবং তাঁদের অনুসারীগণ করেছিলেন।"(৪)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আখবারুন নাহুয়্যিয়্যিন আল-বসরিয়্যিন, পৃষ্ঠা ১৩; তারিখুল উলামা আন-নাহুয়্যিয়্যিন ১৬৬, ১৬৭।

(২) আবু বকর আল-আনবারি এটি তাঁর সনদে ইবনে আবি মুলাইকার সূত্রে উল্লেখ করেছেন: ইদাহুল ওয়াকফি ওয়াল ইবতিদা ১/ ৩৭ - ৩৯।

(৩) আল-ইতিসাম ১/ ৩৩৮, ৩৩৯।

(৪) আল-মাকাসিদ আশ-শাফিয়া ৩/ ১৯১ - ১৯৩।
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌مقالةٌ في مذاهب النحويين

النحاة في صناعتهم على مذهبين: "أهل البصرة، [و] هم النحويون الناشئون بالبصرة، ويُعنى بهم: سيبويه ومَن أخذ هو عنهم كالخليل، ويونس، وأبي عمرو بن العلاء، ومَن تبع هؤلاء في المذهب وإن لم ينشأ بالبصرة فهو أيضًا بصريٌّ نسبةً إلى المذهب.

وقد يُطلَق لفظ البصريين ويُراد بهم ما هو أعمُّ من هؤلاء كأبي الأسود - وهو أول الواضعين في العربية -، وعبد الرحمن بن هُرْمُز، ويحيى بن يَعْمَر، وعبد الله بن أبي إسحاق، وعيسى بن عمر، وغيرهم.

والأشهرُ من الإطلاقَين هو الأول؛ لأنَّ سيبويه وشيوخه هم الذين جمعوا أطراف النحو، واستولوا على أمره، وأَتوا على آخِره، وتكلَّموا مع المخالفين؛ فإليهم يُنسَب، وأما مَن قبلهم فإنما وضعوا نُتَفًا وأبوابًا لا تفي بالمقصود من ضبط اللسان.

وأهل الكوفة، وهُم النحويون الناشئون بالكوفة، وأشهرُهم الكسائي علي بن حمزة القارئ ومَن أخذ عنه: كيحيى بن زياد الفَرَّاء، وخَلَف الأحمر، وهشام بن معاوية الضرير، وإسحاق البغوي، وأضرابهم، وكذلك مَن تبع مذهبَهم وطريقتَهم وإن لم ينشأ بالكوفة فهو كوفيٌّ نسبةً إلى المذهب.

وقد يُطلق اسم الكوفيين أيضًا على ما هو أعمُّ من هذا، فيدخُل تحتَه مَن
ব্যাকরণবিদগণের মাযহাবসমূহের (مذاهب) ওপর একটি নিবন্ধ

ব্যাকরণবিদগণ তাঁদের শাস্ত্রীয় কর্মতৎপরতায় দুইটি মাযহাবের (مذهبين) ওপর বিভক্ত: "বসরাবাসী, [এবং] তাঁরা হলেন সেই সকল ব্যাকরণবিদ যারা বসরায় বেড়ে উঠেছেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন: সিবওয়াইহি এবং যাঁদের নিকট থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন যেমন খলীল, ইউনুস, আবু আমর বিন আল-আ’লা এবং যারা এই মাযহাবের (المذهب) অনুসরণ করেছেন; যদিও তিনি বসরায় বেড়ে না ওঠেন, তবুও মাযহাবের (المذهب) নিসবতের কারণে তিনি বসরী।

কখনো কখনো বসরী শব্দটি এমন ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা এদের চেয়েও ব্যাপক, যেমন আবু আল-আসওয়াদ—যিনি আরবি ব্যাকরণের প্রথম প্রবর্তক—এবং আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুজ, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক, ঈসা ইবনে উমর এবং অন্যান্যরা।

শব্দটির ব্যবহারের এই দুই প্রকারের মধ্যে প্রথমটিই অধিক প্রসিদ্ধ; কারণ সিবওয়াইহি এবং তাঁর উস্তাদগণই (شيوخه) নাহুর (ব্যাকরণের) সকল প্রান্ত একত্র করেছেন, এর বিষয়াদির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছেন, একে চূড়ান্ত রূপ দান করেছেন এবং বিরোধীদের সাথে বিতর্ক করেছেন; ফলে তাঁদের দিকেই এটি সম্পৃক্ত করা হয়। আর তাঁদের পূর্ববর্তীগণ কেবল কিছু বিক্ষিপ্ত অংশ ও পরিচ্ছেদ (أبوابًا) প্রণয়ন করেছিলেন যা ভাষার বিশুদ্ধতা রক্ষার (ضبط اللسان) কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট ছিল না।

আর কুফাবাসী, তাঁরা হলেন কুফায় বেড়ে ওঠা ব্যাকরণবিদগণ। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন কিসায়ি আলী বিন হামযা আল-কারি এবং যাঁরা তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন: যেমন ইয়াহইয়া বিন যিয়াদ আল-ফাররা, খালাফ আল-আহমার, হিশাম বিন মুয়াবিয়া আদ-দারির, ইসহাক আল-বাগাওয়ি এবং তাঁদের সমগোত্রীয়গণ। অনুরূপভাবে, যারা তাঁদের মাযহাব (مذهبهم) ও কর্মপন্থা (طريقتهم) অনুসরণ করেছেন, যদিও তিনি কুফায় বেড়ে না ওঠেন, মাযহাবের (المذهب) সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তিনিও কুফী।

কখনো কখনো কুফী নামটি এর চেয়েও ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার অধীনে তাঁরাও অন্তর্ভুক্ত হন যারা...
(খণ্ড: ১) নাহউিল ফুকাহা - মুজাররাদ মাকালাতি আবি ইসহাক আশ-শাতিবি ফিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
كان قبل الكسائي كأبي جعفر الرُّؤاسي، ومعاذ بن مُسلِم الهَرَّاء، وأبي مُسلِم مؤدِّب عبد الملك بن مروان.

والأشهرُ من الإطلاقَين هو الأول؛ لأنَّ الكسائي وأصحابه هم الذين مهَّدوا العِلم، وبثُّوا حِكمتَه، وناظَروا المخالفين، نظيرَ الخليل وسيبويه ومَن والاهُما.

[و] مع أن النحويين ليسوا بمنحصرين في هاتين الفرقتين؛ [لكن] … يرجع غيرُهم إليهم غالبًا؛ لأنهم الذين تجرَّدُوا الضبط كلام العرب من بين سائر الناس؛ فهم المنفردون فيه بالتقدُّم(1) "(2).

--------------------------------------------

(1) بهذا التعليل الذي ذكره الشاطبي تُدرِك علة تقييد النحاة إجماعهم بقولهم: هو اتفاق أهل البلدَين؛ البصرة والكوفة. وتعرف تهافت ما اعترض به بعضهم على كون إجماع النحاة حجة؛ لأنه لا يشمل جميع النحويين. راجع: أصول العربية، ص 318 - 320.

(2) المقاصد الشافية 3/ 191 - 193.
কিসায়ীর পূর্বেও আবু জাফর আর-রুআসি, মুয়ায ইবনে মুসলিম আল-হাররা এবং আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের শিক্ষক আবু মুসলিমের ন্যায় পণ্ডিতগণ ছিলেন।

আর উভয় প্রকার ব্যবহারের মধ্যে প্রথমটিই অধিক প্রসিদ্ধ; কারণ কিসায়ী এবং তাঁর সাথীরাই এই শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছেন, এর প্রজ্ঞা প্রচার করেছেন এবং বিরোধীদের সাথে বিতর্ক করেছেন, যেমনটি খলীল, সিবওয়াইহি এবং তাঁদের অনুসারীরা করেছিলেন।

[এবং] যদিও ব্যাকরণবিদগণ (النحويين) কেবল এই দুটি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; [কিন্তু] … অন্যরা সাধারণত তাঁদের কাছেই ফিরে যান; কারণ তাঁরাই অন্য সব মানুষের মধ্য থেকে আরবের বাচনভঙ্গি নিখুঁতভাবে সংরক্ষণের (الضبط) জন্য নিবেদিত ছিলেন; ফলে এই শাস্ত্রে অগ্রগামিতার ক্ষেত্রে তাঁরাই অনন্য(1) "(2).

--------------------------------------------

(1) আল-শাতিবি বর্ণিত এই যুক্তির মাধ্যমেই আপনি ব্যাকরণবিদদের (النحاة) সর্বসম্মতিকে (إجماع) 'দুই শহরের (বসরা ও কুফা) অধিবাসীদের ঐক্য' বলে সীমাবদ্ধ করার কারণ বুঝতে পারবেন। এছাড়া আপনি সেই আপত্তির অসারতা সম্পর্কেও জানতে পারবেন যা কেউ কেউ ব্যাকরণবিদদের সর্বসম্মতি (إجماع) প্রামাণ্য (حجة) হওয়ার বিষয়ে উত্থাপন করেছেন এই বলে যে, এটি সকল ব্যাকরণবিদকে অন্তর্ভুক্ত করে না। দেখুন: উসুল আল-আরাবিয়্যাহ, পৃ. ৩১৮ - ৩২০।

(2) আল-মাকাসিদ আশ-শাফিয়াহ ৩/ ১৯১ - ১৯৩।