(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: -)
عجائب المخلوقات وغرائب الموجودات القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: عجائب المخلوقات وغرائب الموجودات
المؤلف: زكريا بن محمد بن محمود القزويني (600 - 682 هـ)
المحقق: محمد بن يوسف القاضي
الناشر: مكتبة الثقافة الدينية، القاهرة - مصر
الطبعة: الأولى، 2006 م
عدد الصفحات: 400
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الآخر 1446
মাখলুকাতের বিস্ময় এবং বিদ্যমান বস্তুর বিচিত্রাবলি বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনি
কিতাব: মাখলুকাতের বিস্ময় এবং বিদ্যমান বস্তুর বিচিত্রাবলি
লেখক: যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আল-কাযওয়িনি (৬০০ - ৬৮২ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-কাদি
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দিনিয়্যাহ, কায়রো - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০০
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
العظمة لك، والكبرياء لجلالك، اللهم يا قائم الذات ويا مفيض الخيرات، واجب الوجود، وواهب العقول، وفاطر الأرض والسموات، مبدئ الحركة والزمان، ومبدع الخير والمكان، فاعل الأرواح والأشباح وجاعل النور والظلمات، محرك الأفلاك ومزينها بالثوابت والسيارات، ومقر الأرض وممهدها لأنواع الحيوان وأصناف المعادن والنبات، دام حمدك وجل ثناؤك وتعالى ذكرك وتقدست أسماؤك، لا إله إلا أنت وسعت رحمتك وكثرت آلاؤك ونعماؤك، أفض علينا أنوار معرفتك، وطهر قلوبنا عن كدورات معصيتك، وأمطر علينا سحائب فضلك ومرحمتك، واضرب علينا سرادقات عفوك ومغفرتك، وأدخلنا في حفظ عنايتك ومكرمتك، وصل على ذوي الأنفس الطاهرات، والمعجزات الباهرات، خصوصا على سيد المرسلين، وإمام المتقين، وقائد الغر المحجلين «محمد» بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم، الذي اخترته للنبوة وآدم بين الماء والطين، وأرسلته رحمة للعاملين، أيدته بنصرك وبالمؤمنين، وختمت به الأنبياء والمرسلين، وعلى إخوانه من النبيين والصالحين وآله وصحبه أجمعين.
يقول العبد الأصغر زكريا بن محمد بن محمود القزويني تولاه الله بفضله، وهو من أولاد بعض الفقهاء الذين كانوا موطنين بمدينة قزوين وينتهي نسبه إلى أنس بن مالك خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم: لما حكم الله تعالى ببعد الدار والوطن ومفارقة الأهل والسكن، أقبلت على مطالعة الكتب على رأي من قال: «وخير جليس في الزمان كتابي» وكنت مستغرقا بالنظر في عجائب صنع الله تعالى في مصنوعاته، وغرائب إبداعه في مبتدعاته، كما أرشد الله سبحانه إليه حيث قال تعالى: {أَفَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى السَّماءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْناها وَزَيَّنّاها وَما لَها مِنْ فُرُوجٍ} [ق: 6] ليس المراد من النظر تقليب الحدقة نحوها فإن البهائم تشارك الإنسان فيه. ومن لم ير من السماء إلا زرقتها، ومن الأرض إلا غبرتها فهو مشارك للبهائم في ذلك، وأدنى حالا منها وأرشد غفلة كما قال تعالى: {لَهُمْ قُلُوبٌ لا يَفْقَهُونَ بِها وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لا يُبْصِرُونَ بِها} إلى أن قال {أُولئِكَ كَالْأَنْعامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ} [الأعراف: 179] والمراد من هذا النظر التفكير في المعقولات، والنظر في المحسوسات والبحث عن حكمتها وتصاريفها ليظهر له حقائقها، فإنها سبب اللذات الدنيوية والسعادات الأخروية؛ لهذا قال صلى الله عليه وسلم: «اللهم أرني الأشياء كما هي»، وكلما أمعن النظر فيها
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মহিমা আপনার জন্য, এবং শ্রেষ্ঠত্ব আপনার গাম্ভীর্যের জন্য। হে আল্লাহ, হে স্বয়ংপ্রতিষ্ঠিত সত্তা এবং কল্যাণ বিচ্ছুরণকারী, হে অনিবার্য অস্তিত্ব এবং বিবেক দানকারী, পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলীর স্রষ্টা, গতি ও সময়ের সূচনাকারী এবং কল্যাণ ও স্থানের উদ্ভাবক। আপনিই আত্মা ও দেহের নির্মাতা এবং আলো ও অন্ধকারের প্রবর্তক, জ্যোতির্ময় কক্ষপথসমূহের চালক এবং সেগুলোকে স্থির নক্ষত্র ও গ্রহরাজি দ্বারা সুশোভিতকারী। পৃথিবীকে স্থিতিশীলকারী এবং একে বিভিন্ন প্রকার প্রাণী, খনিজ এবং উদ্ভিদের জন্য বিস্তৃতকারী। আপনার প্রশংসা চিরস্থায়ী হোক, আপনার স্তুতি মহিমান্বিত হোক, আপনার স্মরণ উন্নত হোক এবং আপনার নামসমূহ পবিত্র হোক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনার দয়া প্রশস্ত এবং আপনার অনুগ্রহ ও নেয়ামতরাজি অগণিত। আমাদের ওপর আপনার মা’রিফাতের নূর বর্ষণ করুন, গুনাহের পঙ্কিলতা থেকে আমাদের অন্তরসমূহকে পবিত্র করুন, আমাদের ওপর আপনার করুণা ও দয়ার মেঘমালা বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর আপনার ক্ষমা ও মার্জনা বিছিয়ে দিন এবং আপনার তত্ত্বাবধান ও অনুগ্রহের সুরক্ষায় আমাদের প্রবেশ করান। রহমত বর্ষণ করুন সেই পবিত্র আত্মাসম্পন্ন এবং প্রকাশ্য মুজিযাসমূহের অধিকারীদের ওপর, বিশেষ করে রাসূলগণের নেতা, মুত্তাকীদের ইমাম এবং শুভ্র ললাট ও হাত-পা বিশিষ্টগণের অগ্রনায়ক ‘মুহাম্মাদ’ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমের ওপর, যাঁকে আপনি নবুওয়তের জন্য মনোনীত করেছেন যখন আদম পানি ও কাদার মাঝে ছিলেন; এবং আপনি তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন, আপনার সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা তাঁকে শক্তিশালী করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই নবী ও রাসূলগণের সিলসিলা সমাপ্ত করেছেন; এবং তাঁর নবী ও সৎকর্মশীল ভাইদের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীদের ওপর রহমত বর্ষিত হোক।
নগণ্য বান্দা যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ আল-কাযউইনী বলেন—আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করুন—তিনি সেই সব ফকীহদের বংশধর যারা কাযউইন শহরে বসবাস করতেন এবং তাঁর বংশপরম্পরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম আনাস ইবনে মালিক পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে: যখন মহান আল্লাহ ঘর ও স্বদেশ থেকে বিচ্ছেদ এবং পরিবার ও আবাসস্থল থেকে আলাদা হওয়ার ফয়সালা করলেন, তখন আমি কিতাব অধ্যয়নের দিকে মনোনিবেশ করলাম, যেমনটি এক কবি বলেছেন: “যুগের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী হলো কিতাব।” আমি আল্লাহর সৃষ্টিরাজিতে তাঁর কারুকার্যের বিস্ময় এবং তাঁর উদ্ভাবনসমূহে চমৎকারিত্বের গভীর পর্যবেক্ষণে মগ্ন ছিলাম, যেভাবে মহান আল্লাহ নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন: {তবে কি তারা তাদের মাথার ওপরকার আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, আমি তা কীভাবে নির্মাণ করেছি ও সুশোভিত করেছি এবং তাতে কোনো ফাটল নেই?} [ক্বাফ: ৬]। এখানে দেখার উদ্দেশ্য কেবল চক্ষুগোলক ঘোরানো নয়, কারণ এতে চতুষ্পদ জন্তুরাও মানুষের সমান। যে ব্যক্তি আসমানের কেবল নীলিমা এবং জমিনের কেবল ধূলিকণা দেখে, সে এ বিষয়ে পশুদের সমান, বরং তাদের চেয়েও হীন এবং অধিকতর গাফেল, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না...} এমনকি তিনি বলেছেন {তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও পথভ্রষ্ট} [আল-আরাফ: ১৭৯]। এই দেখার উদ্দেশ্য হলো বিবেক দিয়ে চিন্তা করা, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহ পর্যবেক্ষণ করা এবং সেগুলোর হিকমত ও পরিবর্তনসমূহ অনুসন্ধান করা, যাতে সত্যের স্বরূপ উদ্ভাসিত হয়; কারণ এগুলোই হলো দুনিয়াবী তৃপ্তি এবং পরকালীন সৌভাগ্যের মাধ্যম। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: “হে আল্লাহ, আমাকে বস্তুসমূহের প্রকৃত রূপ দেখান”, এবং যখনই এগুলোতে গভীর পর্যবেক্ষণ করা হবে...
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
ازداد من الله تعالى هداية ويقينا ونورا وتحقيقا، ولهذا قال صلى الله عليه وسلم: «تفكروا في خلق الله»
(1)، والفكر في المعقولات لا يتأتى إلا لمن له خبرة بالعلوم والرياضيات بعد تحسين الأخلاق وتهذيب النفس
(2)، فعند ذلك ينفتح له عين البصيرة ويرى في كل شيء من العجب ما يعجز عن إدراك بعضها، فلو ذكر طرفا منها لغيره لأنكره، ولله در
(3) القائل:
إني سمعت عجيبا كنت أحسبه
… طيفا من النوم أو هجرا من السمر
لما ألفت به ألفيت صحته
… وقد رأيت ألوفا مثل ذا العبر
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা থেকে হিদায়াত, ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস), নূর এবং সত্য উদ্ঘাটন বৃদ্ধি পায়, আর এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করো”
(১)। বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলী নিয়ে চিন্তা করা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যাদের ইলম ও রিয়াজত বা আধ্যাত্মিক সাধনায় অভিজ্ঞতা আছে, চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন এবং নফসকে পরিশীলিত করার পর
(২)। তখন তার অন্তর্দৃষ্টির চোখ খুলে যায় এবং সে প্রতিটি জিনিসের মধ্যে এমন সব বিস্ময় দেখতে পায় যার কিয়দাংশ উপলব্ধি করতেও সে অক্ষম হয়। যদি সে এর কিছুটা অন্য কারও কাছে প্রকাশ করত তবে সে তা অস্বীকার করত। আর বক্তার কী চমৎকার কৃতিত্ব
(৩):
আমি এক অদ্ভুত কথা শুনেছি যা আমি মনে করতাম
… ঘুমের স্বপ্ন অথবা নৈশ আড্ডার কোনো প্রলাপ
যখন আমি তাতে অভ্যস্ত হলাম, তখন তার সত্যতা খুঁজে পেলাম
… আর আমি এই ধরণের হাজারো শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত দেখেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومن هذا القبيل ما أخبر الله تعالى في كتابه عما جرى بين الخضر وموسى عليهما الصلاة والسلام وما ذكر أيضا أن موسى اجتاز بعين ماء في سفح جبل فتوضأ ثم ارتقى الجبل ليصلي إذ أقبل فارس وشرب من ماء العين وترك عندها كيسا فيه دراهم فجاء بعده راعي غنم فرأى الكيس فأخذه ومضى ثم جاء بعده شيخ عليه أثر البؤس والمسكنة، على ظهره حزمة حطب فحط حزمته هناك واستلقى ليستريح فما كان إلا قليل حتى عاد الفارس يطلب كيسه فلما لم يجده أقبل على الشيخ يطالبه به، فلم يزل يضربه حتى قتله فقال موسى: يا رب كيف العدل في هذه الأمور؟ فأوحى الله عز وجل إليه: إن الشيخ كان قد قتل أبا الفارس وكان على أبي الفارس دين لأبي الراعي مقدار ما في الكيس؛ فجرى بينهما القصاص وقضى الدين وأنا حكيم عادل.
ولقد حصل لي بطريق السمع والبصر والفكر والنظر حكم عجيبة وخواص غريبة فأحببت أن أقيدها لتثبت، وكرهت الذهول عنها مخافة أن تفلت، وقد كثرت على عواطف المولى الصاحب الصدر الكبير العادل المؤيد المظفر، شمس الدولة ظهير الملة علاء الدين عماد الإسلام نظام الملك غياث الأمة عطاء الملك بن محمد بن محمد، ضاعف الله جلاله وأدام في العز العلاء إقباله، فإنه مع شريف منزلته على مرتبته مشهور بالكرم والإحسان، مذكور لوفور الفضل عن أهل الزمان، وقد خصه الله تعالى بمكارم الأخلاق وفضائل الحسب والمجد الموروث والمجد المكتسب، فخدمت بهذا الكتاب مجلسه الرفيع أدام الله رفعه وكبت أعداءه
(1) وحسدته فإنه منبع الخيرات ومعدن المسرات، شكرا لأياديه السابقة
(2)؛ وقضاء لحقوقه اللاحقة ورجاء أن يتخلد اسمى بتخليد ذكره الشريف، ويتأيد وسمى بتأيد عزه المنيف، والله ولي التوفيق وعلى ما يشاء قدير وبالإجابة جدير.
فصلوعلى الناظر في كتابي هذا أن يعني في جمع ما كان مبددا، وتلفيق ما كان مشتتا وقد ذكر فيه
--------------------------------------------
এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো যা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে খিজির ও মুসা আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালামের মাঝে যা ঘটেছিল তা সংবাদ দিয়েছেন এবং আরও যা বর্ণিত হয়েছে যে, মুসা পাহাড়ের পাদদেশে একটি ঝরনার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেখানে তিনি অজু করলেন এবং পাহাড়ের উপরে উঠলেন সালাত আদায়ের জন্য। এমতাবস্থায় একজন ঘোড়সওয়ার আসলেন এবং ঝরনার পানি পান করলেন এবং সেখানে দিরহাম ভর্তি একটি থলে ফেলে রেখে গেলেন। এরপর একজন মেষপালক আসলেন এবং থলেটি দেখে তা নিয়ে চলে গেলেন। তারপর একজন বৃদ্ধ আসলেন যার ওপর দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের ছাপ ছিল, তাঁর পিঠে ছিল কাঠের বোঝা। তিনি সেখানে তাঁর বোঝাটি রাখলেন এবং বিশ্রামের জন্য শুয়ে পড়লেন। কিছু সময় অতিবাহিত হতে না হতেই ঘোড়সওয়ারটি তার থলে খুঁজতে ফিরে আসলেন। যখন তিনি তা পেলেন না, তখন বৃদ্ধের কাছে তা দাবি করতে লাগলেন এবং তাকে প্রহার করতে থাকলেন যতক্ষণ না তাকে হত্যা করে ফেললেন। তখন মুসা বললেন: হে রব! এই বিষয়গুলোতে ন্যায়বিচার কীভাবে হলো? তখন মহান আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী পাঠালেন: সেই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি ঘোড়সওয়ারের পিতাকে হত্যা করেছিল, আর ঘোড়সওয়ারের পিতার কাছে মেষপালকের পিতার ঋণের পরিমাণ ছিল থলেতে থাকা দিরহামের সমান। ফলে তাদের মধ্যে কিসাস বা প্রতিশোধ কার্যকর হয়েছে এবং ঋণও পরিশোধ হয়েছে; আর আমি প্রজ্ঞাময় ও ন্যায়বিচারক।
শ্রবণ, দর্শন, চিন্তা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার কাছে কিছু চমৎকার হিকমত এবং অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য ধরা পড়েছে, তাই আমি সেগুলো লিখে রাখতে চেয়েছি যেন তা স্থায়ী হয়; এবং তা ভুলে যাওয়া অপছন্দ করেছি যেন হারিয়ে না যায়। আর মহান অধিপতি, সুহৃদ, উচ্চমর্যাদাশীল ও ন্যায়পরায়ণ বক্ষধারী, স্বর্গীয় সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী, রাষ্ট্রের সূর্য, মিল্লাতের সাহায্যকারী, আলাউদ্দীন, ইসলামের স্তম্ভ, নিজামুল মুলক, উম্মতের আশ্রয়স্থল, আতাউল মুলক বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ-এর অনুগ্রহ আমার ওপর অনেক বেশি, আল্লাহ তাঁর মহিমা দ্বিগুণ করুন এবং সম্মান ও উচ্চ মর্যাদায় তাঁর সৌভাগ্য দীর্ঘায়িত করুন। কারণ তিনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও দানশীলতা ও সদাচরণের জন্য সুপরিচিত এবং সমসাময়িকদের মধ্যে তাঁর প্রচুর শ্রেষ্ঠত্বের কথা আলোচিত হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁকে মহৎ চরিত্র, উচ্চবংশীয় মর্যাদা, এবং উত্তরাধিকারসূত্রে ও অর্জিত গৌরবের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন। তাই আমি আমার এই কিতাবের মাধ্যমে তাঁর সুউচ্চ মজলিসের খিদমত করেছি, আল্লাহ তাঁর উচ্চতা চিরস্থায়ী করুন এবং তাঁর শত্রুদের লাঞ্ছিত করুন ও তাদের প্রতি ঈর্ষাকারীদের দমন করুন।
(১) কেননা এটি কল্যাণসমূহের উৎস এবং আনন্দের খনি। এটি তাঁর পূর্ববর্তী অনুগ্রহসমূহের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ
(২) এবং তাঁর পরবর্তী প্রাপ্য অধিকারসমূহ আদায়ের লক্ষ্যে; আর এই প্রত্যাশায় যে তাঁর মর্যাদাপূর্ণ স্মৃতির স্থায়িত্বের সাথে আমার নামও চিরস্থায়ী হবে এবং তাঁর সুউচ্চ সম্মানের স্থায়িত্বের মাধ্যমে আমার নামও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। আল্লাহই তাওফীকদাতা এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তাতে সক্ষম ও দোয়া কবুলের যোগ্য।
অনুচ্ছেদআমার এই কিতাবের পাঠকের উচিত হবে যা কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল তা একত্রিত করার এবং যা বিচ্ছিন্ন ছিল তা সংযুক্ত করার প্রতি মনোনিবেশ করা, আর এতে উল্লেখ করা হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
أسبابا تأباها طباع الغبي الغافل، ولا ينكره نفس الذكي العاقل، فإنها وإن كانت بعيدة من العادات المعهودة والمشاهدات المألوفة لكن لا يستعظم شيء مع قدرة الخالق وجبلة المخلوق
(1).
وجميع ما فيه: إما عجائب صنع البارئ تعالى، وذلك إما محسوس أو معقول لا ميل فيهما ولا خلل، وإما حكاية طريفة منسوبة إلى رواتها لا ناقة لي فيها ولا جمل، وإما خواص غريبة وذلك مما لا يفي العمر بتجربتها ولا معنى لتركها كلها لأجل الميل في بعضها، فإن أحببت أن تكون منها على ثقة فشمر لتجربتها، وإياك أن تغتر أو تلم أو تمل إذا لم تصب في مرة أو مرتين فإن ذلك قد يكون لفقد شرط أو حدوث مانع، وحسبك ما ترى من حال المغناطيس وجذبه الحديد فإنه إذا أصابه رائحة الثوم بطلت تلك الخاصية فإذا غسلته بالخل عاد إليه، فإذا رأيت مغناطيسا لا يجذب الحديد فلا تنكر خاصيته فاصرف عنايتك إلى البحث عن أحواله حتى يتضح لك أمره، على أني أشهد الله تعالى أن شيئا منها ما افتريته، بل كتبت الكل كما علمته فإن نظرت إليها بعين الرضا؛ فإنها عن كل عيب كليلة، وإن نظرت بعين السخط؛ فإن المساوئ كثيرة وعين الكريم عن المعائب عميا
(2) وأذنه عن المساوئ صما، ولله در القائل:
فقلت لهم لا تنسوا الفضل بينكم
… فليس يرى عين الكريم سوى الحسن
وسميته: عجائب المخلوقات وغرائب الموجودات.
ولا بد من ذكر مقدمات أربع في شرح هذه الألفاظ ليتبين منها مقصود الكتاب، والله الموفق للصواب.
--------------------------------------------
এমন কিছু কারণ যা নির্বোধ গাফেল ব্যক্তির স্বভাব প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু বুদ্ধিমান প্রাজ্ঞ ব্যক্তি তা অস্বীকার করে না। কারণ সেগুলো যদিও প্রচলিত অভ্যাস এবং পরিচিত প্রত্যক্ষদর্শনের পরিমণ্ডলের বাইরে, তবুও স্রষ্টার ক্ষমতা এবং সৃষ্টির স্বভাবের সামনে কোনো কিছুই অসম্ভব বা বিশাল কিছু নয়
(১)।
আর এতে যা কিছু রয়েছে: তা হয় মহান স্রষ্টার সৃষ্টিশৈলীর বিস্ময়কর নিদর্শনাদি—যা হয় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নতুবা বুদ্ধিগ্রাহ্য, যেগুলোতে কোনো বিচ্যুতি বা ত্রুটি নেই; অথবা বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতিতে কোনো চমৎকার কাহিনী যাতে আমার কোনো ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা নেই; অথবা কোনো অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শেষ করার মতো দীর্ঘ জীবন কারো নেই, আর কয়েকটিতে বিচ্যুতি থাকার কারণে সবগুলোকে বর্জন করারও কোনো মানে হয় না। আপনি যদি এগুলোর ওপর আস্থা রাখতে চান, তবে সেগুলো পরীক্ষার জন্য কোমর বেঁধে প্রস্তুত হোন। আর সাবধান, একবার বা দুবার সফল না হলে প্রতারিত হবেন না, কাউকে দোষারোপ করবেন না বা বিরক্ত হবেন না; কারণ কোনো শর্তের অনুপস্থিতি বা কোনো বাধার উদভবের কারণে এমন হতে পারে। আপনার জন্য চুম্বকের অবস্থা এবং লোহাকে তার আকর্ষণ করাই যথেষ্ট; কারণ এতে যদি রসুনের ঘ্রাণ লাগে তবে তার সেই বিশেষ গুণটি নষ্ট হয়ে যায়, আবার যখন একে ভিনেগার দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয় তখন সেই গুণটি ফিরে আসে। সুতরাং আপনি যদি কোনো চুম্বককে লোহা আকর্ষণ করতে না দেখেন, তবে এর বৈশিষ্ট্যকে অস্বীকার করবেন না; বরং এর অবস্থা অনুসন্ধানে আপনার মনোযোগ নিবদ্ধ করুন যতক্ষণ না বিষয়টি আপনার কাছে স্পষ্ট হয়। উপরন্তু আমি মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, এর কোনো কিছুই আমি নিজে বানিয়ে লিখিনি, বরং যা জেনেছি তার সবই হুবহু লিপিবদ্ধ করেছি। আপনি যদি সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে এগুলোর দিকে তাকান, তবে তা সব ত্রুটি দেখতে অক্ষম হবে; আর যদি অসন্তুষ্টির দৃষ্টিতে দেখেন, তবে মন্দ দিকগুলো অনেক মনে হবে। অথচ মহৎ ব্যক্তির চোখ দোষ দেখার ক্ষেত্রে অন্ধ এবং তার কান মন্দ শোনার ক্ষেত্রে বধির। কবির কী চমৎকার উক্তি:
আমি তাদের বললাম, তোমরা নিজেদের মধ্যকার অনুগ্রহের কথা ভুলে যেও না
… কারণ মহৎ ব্যক্তির চোখ সৌন্দর্য ব্যতীত আর কিছুই দেখে না।
আমি এর নামকরণ করেছি: সৃষ্টিজগতের বিস্ময় ও বিদ্যমান বস্তুর অদ্ভুত বিষয়াবলি।
এই শব্দগুলোর ব্যাখ্যায় চারটি ভূমিকার কথা উল্লেখ করা আবশ্যক যাতে এই কিতাবের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আল্লাহই সঠিক বিষয় অনুধাবনের তাওফিকদাতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة الأولى: في شرح العجبقالوا: العجب حيرة تعرض للإنسان لقصوره عن معرفة سبب الشيء أو عن معرفة كيفية تأثيره فيه
(1)، مثاله: أن الإنسان إذا رأى خلية النحل ولم يكن شاهده قبل لكثرته حيره لعدم معرفة فاعله فلو علم أنه من عمل النحل فتحير أيضا من حيث إن ذلك الحيوان الضعيف كيف أحدث هذه المسدسات المتساوية الأضلاع التي عجز عن مثلها المهندس الحاذق مع الفرجار والمسطرة ومن أين لها هذا الشمع الذي اتخذت منه بيوتها المتساوية التي لا تخالف بعضها بعضا كأنها أفرغت في قالب واحد، ومن أين لها هذا العسل الذي أودعته فهيا ذخيرة للشتاء؟ وكيف عرفت أن الشتاء يأتيها وأنها تفقد فيه الغذاء؟ وكيف اهتدت إلى تغطية خزانة العسل بغشاء رقيق ليكون الشمع محيطا بالعسل من جميع جوانبه، فلا ينشفه الهواء ولا يصيبه الفأر ويبقى كالبرنية
(2) المنضمة الرأس، فهذا معنى العجب
(3)، وكل ما في العالم بهذه المثابة، إلا أن الإنسان يدركه في زمن صباه عند فقد التجربة ثم تبدو فيه غريزة العقل قليلا قليلا، وهو مستغرق الهم في قضاء حوائجه وتحصيل شهواته وقد أنس بمدركاته ومحسوساته فسقط عن نظره بطول الأنس بها، فإذا رأى بغتة حيوانا غريبا أو فعلا خارقا للعادات انطلق لسانه بالتسبيح فقال: سبحان الله وهو يرى طول عمره أشياء تتحير فيها عقول العقلاء وتدهش فيها نفوس الأذكياء.
فمن أراد صحة أو صدق هذا القول فلينظر بعين البصيرة إلى هذه الأجسام الرفيعة وسعتها وصلابتها وحفظها من التغير والفساد إلى أن يبلغ الكتاب أجله، فإن الأرض والهواء والبحار
--------------------------------------------
প্রথম ভূমিকা: বিস্ময়ের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গেতারা বলেন: বিস্ময় হলো মানুষের এমন এক কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা, যা কোনো বস্তুর কারণ অথবা তার প্রভাব বিস্তারের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে সৃষ্টি হয়। এর উদাহরণ হলো: কোনো মানুষ যদি মৌমাছির মৌচাক দেখে এবং তা এর আগে কখনও না দেখে থাকে, তবে অধিক বিস্ময়কর হওয়ার দরুন এর নির্মাতা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়বে। আবার যদি সে জানতেও পারে যে এটি মৌমাছির কাজ, তবুও সে এই ভেবে বিস্মিত হবে যে—এই দুর্বল প্রাণীটি কীভাবে এমন সুষম ষড়ভুজাকৃতি তৈরি করল, যা একজন দক্ষ স্থপতি কম্পাস ও রুলার ব্যবহার করেও তৈরি করতে সক্ষম হয় না। আর এই মোমই বা সে কোত্থেকে পেল যা দিয়ে সে এমন সুষম ঘরগুলো তৈরি করেছে যে একটির সাথে অন্যটির কোনো অমিল নেই, যেন সেগুলো একই ছাঁচে ঢালাই করা হয়েছে। আর এই মধু সে কোত্থেকে পেল যা সে সেখানে শীতকালের রসদ হিসেবে জমা রেখেছে? সে কীভাবে জানল যে শীতকাল আসছে এবং তখন সে খাদ্য হারাবে? সে কীভাবে মধুর ভাণ্ডারকে একটি পাতলা আবরণ দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পথ খুঁজে পেল, যাতে মোমটি মধুকে সব দিক থেকে পরিবেষ্টিত করে রাখে এবং বাতাস তাকে শুকিয়ে না ফেলে কিংবা ইঁদুর যেন তার ক্ষতি করতে না পারে এবং তা যেন মুখ বন্ধ করা প্রশস্ত পাত্রের মতো সংরক্ষিত থাকে। এটাই হলো বিস্ময়ের অর্থ। আর জগতের প্রতিটি বিষয়ই এই পর্যায়ের, কিন্তু মানুষ শৈশবে অভিজ্ঞতাহীন অবস্থায় তা উপলব্ধি করে। এরপর ধীরে ধীরে তার মধ্যে বিচারবুদ্ধির স্বভাব ফুটে ওঠে, আর সে তার প্রয়োজন পূরণ এবং প্রবৃত্তি অর্জনে নিমগ্ন হয়ে পড়ে। সে তার পরিচিত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যায়, ফলে দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে সেগুলো তার দৃষ্টি থেকে ঝরে পড়ে (অর্থাৎ সেগুলোর অলৌকিকত্ব সে আর দেখে না)। তাই হঠাৎ কোনো অদ্ভুত প্রাণী বা অস্বাভাবিক কাজ দেখলে তার মুখ দিয়ে তাসবিহ বেরিয়ে আসে এবং সে বলে: 'আল্লাহ পবিত্র ও মহান' (সুবহানাল্লাহ)। অথচ সে সারা জীবন এমন সব বিষয় দেখে আসছে যাতে জ্ঞানীদের বুদ্ধি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে এবং মেধাবীদের প্রাণ স্তম্ভিত হয়ে যায়।
সুতরাং যে ব্যক্তি এই বক্তব্যের সঠিকতা বা সত্যতা দেখতে চায়, সে যেন অন্তর্দৃষ্টির সাথে এই সুউচ্চ বস্তুসমূহ, তাদের বিশালতা ও দৃঢ়তা এবং নির্ধারিত সময় আসা পর্যন্ত পরিবর্তন ও বিনাশ থেকে তাদের সুরক্ষার প্রতি লক্ষ্য করে। কেননা পৃথিবী, বায়ুমণ্ডল এবং সমুদ্রসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
بالإضافة إليها كحلقة ملقاة في فلاة
(1)، قال الله تعالى: {وَالسَّماءَ بَنَيْناها بِأَيْدٍ وَإِنّا لَمُوسِعُونَ} [الذاريات: 47]، ثم إلى دورانها مختلفا؛ فإن بعضها يدور بالنسبة إلينا رحوية وبعضها حمائلية وبعضها دولابية وبعضها يدور سريعا وبعضها يدور بطيئا، ثم إلى دوام حركتها من غير فتور وإلى إمساكها من غير عمد تعمد بها
(2) أو تدلى بها أو علاقة تدلى بها.
ثم لتنظر على كواكبها وكثرتها واختلاف ألوانها فإن بعضها يميل إلى الحمرة، وبعضها إلى البياض، وبعضها إلى لون الرصاص، ثم إلى مسير الشمس وفلكها مدة سنة، وطلوعها وغروبها كل يوم لاختلاف الليل والنهار، ومعرفة الأوقات وتمييز وقت المعاش عن وقت الاستراحة
(3)، ثم إلى إمالتها عن وسط السماء حتى وقع الصيف والشتاء والربيع والخريف.
--------------------------------------------
এর তুলনায় এটি মরুভূমিতে নিক্ষিপ্ত একটি আংটির মতো
(১)। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি আকাশ নির্মাণ করেছি হাত দিয়ে এবং আমি অবশ্যই প্রশস্তকারী।" [আদ-যারিয়াত: ৪৭]। এরপর সেগুলোর বিভিন্নভাবে আবর্তনের দিকে লক্ষ করো; কারণ আমাদের সাপেক্ষে সেগুলোর কোনোটি যাঁতার মতো ঘোরে, কোনোটি কাঁধের ওপর বহনের মতো, কোনোটি চাকার মতো; আবার কোনোটি দ্রুত ঘোরে এবং কোনোটি ধীরগতিতে। এরপর কোনো ক্লান্তিহীনভাবে সেগুলোর গতির স্থায়িত্ব এবং কোনো খুঁটি ছাড়াই সেগুলোর স্থির থাকার দিকে লক্ষ করো যা দিয়ে তাকে ধরে রাখা হবে, অথবা ঝুলে থাকার কোনো মাধ্যম বা রশি ছাড়াই যা দিয়ে একে ঝুলিয়ে রাখা হবে।
এরপর আকাশের নক্ষত্ররাজি, সেগুলোর আধিক্য এবং বিভিন্ন বর্ণের দিকে লক্ষ করো; সেগুলোর কোনোটি লালচে, কোনোটি সাদাটে এবং কোনোটি সিসার বর্ণের। এরপর সূর্যের গতিপথ এবং এক বছরব্যাপী এর কক্ষপথের দিকে এবং দিন ও রাতের পার্থক্যের জন্য প্রতিদিন এর উদয় ও অস্তের দিকে লক্ষ করো; এছাড়া সময়জ্ঞান লাভ এবং জীবিকা অন্বেষণের সময়কে বিশ্রামের সময় থেকে আলাদা করার দিকে লক্ষ করো
(৩)। এরপর আকাশের মধ্যভাগ থেকে সূর্যের হেলে পড়ার দিকে লক্ষ করো যার ফলে গ্রীষ্ম, শীত, বসন্ত ও শরৎ কাল সংঘটিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
قد اتفق الباحثون على أنها مثل كرة الأرض مائة مرة ونيفا وستين مرة وفي لحظة تسير أكثر من قطر كرة الأرض، وقد عرض ذلك جبريل عليه السلام حيث قال للنبي صلى الله عليه وسلم: «من وقت لا إلى أن قلت نعم سارت الشمس خمسمائة عام». ثم لينظر إلى جرم القمر وكيفية اكتسابه النور من الشمس لينوب عنها بالليل، ثم إلى امتلائه وانمحاقه ثم إلى كسوف الشمس وخسوف القمر.
ومن العجائب السواد الذي في جرم القمر فإنه لم يسمع فيه قول شاف إلى زماننا هذا
(1)، وكذلك في المجرة وهي البياض الذي يقال له: شرج السماء وهو على ذلك يدور بالنسبة إلينا رحوية.
وعجائب السموات لا نستطيع إحصاء عشرها لكن القدر الذي جرى في جرم القمر ذكرناه تبصرة لكل عبد منيب.
ثم لينظر إلى ما بين السماء والأرض من انقضاض الشهب والغيوم والرعود والبروق والصواعق والأمطار والثلوج والرياح المختلفة المهاب
(2).
وليتأمل السحاب الكثيف المظلم كيف اجتمع في جو صاف لا كدورة فيه؟ وكيف حمل الماء، وتسخير الرياح؟ فإنها تتلاعب به وتسوقه إلى المواضع التي أرادها الله تعالى فترش وجه الأرض وترسله قطرات متفاضلة لا تدرك قطرة ليصيب وجه الأرض برفق، فلو صبه صبّا لأفسد الزرع بخدشه وجه الأرض ويرسلها مقدارا كافيا لا كثيرا زائدا على الحاجة فيعفن النبات، ولا قليلا ناقصا عن الحاجة فلا يتم به النمو كما قال تعالى: {وَأَنْزَلْنا مِنَ السَّماءِ ماءً بِقَدَرٍ} [سورة المؤمنون: 18]، ثم إلى اختلاف الرياح فإن منها ما يسوق السحب
(3) ومنها من ينشرها ومنها ما
--------------------------------------------
গবেষকরা একমত হয়েছেন যে এটি (সূর্য) পৃথিবীর গোলকের তুলনায় একশত ষাটেরও বেশি গুণ বড় এবং এটি এক মুহূর্তেই পৃথিবীর ব্যাসের চেয়েও বেশি পথ অতিক্রম করে। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এ বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন যখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন: "আপনি 'না' বলার পর থেকে 'হ্যাঁ' বলা পর্যন্ত সূর্য পাঁচশত বছরের পথ অতিক্রম করেছে।" অতঃপর চাঁদের অবয়ব এবং সূর্যের কাছ থেকে তার আলো গ্রহণের পদ্ধতির দিকে তাকাও, যাতে সে রাতে সূর্যের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। এরপর তার পূর্ণতা ও ক্ষয়, এবং সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের দিকে লক্ষ্য করো।
বিস্ময়কর বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো চাঁদের অবয়বে বিদ্যমান কালো দাগ, যার ব্যাপারে আমাদের এই সময় পর্যন্ত কোনো সন্তোষজনক বক্তব্য শোনা যায়নি
(১)। একইভাবে ছায়াপথ, যাকে আকাশের ফাটল বলা হয়, এবং এটি আমাদের সাপেক্ষে যাঁতাকলের মতো ঘুরছে।
আসমানসমূহের বিস্ময়কর বিষয়াবলির এক দশমাংশও আমরা গণনা করতে সক্ষম নই, তবে চাঁদের অবয়ব সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা আমরা প্রত্যেক অনুরাগী দাসের জন্য উপদেশস্বরূপ উল্লেখ করেছি।
অতঃপর আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী উল্কাপাত, মেঘমালা, বজ্রধ্বনি, বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাত, বৃষ্টি, তুষার এবং বিভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত বাতাসের দিকে দৃষ্টিপাত করো
(২)।
আর এই ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন মেঘমালার কথা চিন্তা করো, কীভাবে এটি কোনো আবিলতাহীন স্বচ্ছ আকাশে পুঞ্জীভূত হয়? কীভাবে এটি পানি বহন করে এবং বাতাস একে কীভাবে বশীভূত রাখে? কেননা বাতাস একে নিয়ে খেলা করে এবং মহান আল্লাহ যেখানে ইচ্ছা করেন সেখানে একে পরিচালনা করেন। অতঃপর এটি জমিনের উপরিভাগকে সিক্ত করে এবং ফোঁটায় ফোঁটায় বর্ষিত হয় যা একে অপরের থেকে পৃথক, যেন তা জমিনকে কোমলভাবে স্পর্শ করে। তিনি যদি সজোরে এটি ঢেলে দিতেন তবে তা জমিনের উপরিভাগকে ক্ষতবিক্ষত করে ফসলাদি নষ্ট করে দিত। তিনি এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে বর্ষণ করেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনেক বেশি নয় যে উদ্ভিদ পচে যাবে, আবার প্রয়োজনের তুলনায় কমও নয় যে এর দ্বারা বৃদ্ধি ব্যাহত হবে; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি আসমান থেকে পরিমিতভাবে পানি বর্ষণ করেছি} [সূরা আল-মুমিনুন: ১৮]। অতঃপর বাতাসের বিভিন্ন প্রকারের দিকে লক্ষ্য করো, যার কিছু মেঘমালাকে হাঁকিয়ে নিয়ে যায়
(৩) এবং কিছু তা ছড়িয়ে দেয় এবং কিছু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
يجمعها، ومنها ما يعصرها، ومنها ما يلقح الأشجار
(1)، ومنها ما يربي الزرع والثمار ومنها ما يجففها، ثم لينظر إلى الأرض وجعلها قرارا لتكون فراشا ومهادا ثم إلى سعة أكنافها وبعد أقطارها حتى عجز الآدميون عن بلوغ جميع جوانبها: {وَالْأَرْضَ فَرَشْناها فَنِعْمَ الْماهِدُونَ} [الذاريات: 48]، ثم إلى جعل ظهرها محلاّ للأحياء، وبطنها للأموات، فتراها وهي ميتة {أَنْزَلْنا عَلَيْهَا الْماءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنْبَتَتْ} [الحج: 5]، وأظهرت أجناس المعادن وأنبتت أنواع النباتات وأخرجت أصناف الحيوان، ثم إلى إحكام أطرافها بالجبال الشامخات كأوتاد لها يمنعونها من أن تميد، ثم إلى إيداع أوشال المياه في خزانات ليخرج منها قليلا قليلا؛ فتنفجر منها العيون وتجري منها الأنهار دائما.
ثم لينظر إلى البحار العميقة التي هي خلجان من البحر الأعظم المحيط بجميع الأرض، حتى إن جميع المكشوف من البوادي والجبال بالإضافة إلى الماء كجزيرة صغيرة في بحر عظيم وبقية الأرض مستورة بالماء.
ثم إلى ما فيها من الحيوان والجواهر، وما من صنف من أصناف حيوان البر إلا وفي البحر أمثاله وأضعافه، وفيها أجناس لا يعهد لها نظير في البر.
ثم لينظر إلى خلق اللؤلؤ في صدفه تحت الماء ثم إلى إنبات المرجان في صميم الصخر تحت الماء وهو نبات على هيئة شجر ينبت من الحجر.
ثم إلى ما عداه من العنبر وإلى أصناف النفائس التي يقذفها البحر ويستخرج منه.
ثم إلى السفن كيف سيرت في البحار وسرعة جريها وإلى إيجاد الأنهار ومعرفة النواتي
(2) وموارد الرياح ومهابها وسواقيها.
وعجائب البحار كثيرة لا مطمع في إحصائها، وقد قيل: حدث عن البحر ولا حرج، وفيما ذكرناه كافية.
ثم لينظر إلى أنواع المعادن المودوعة تحت الجبال: فمنها ما ينطبع كالذهب والفضة، والنحاس والحديد والرصاص، ومنها ما لا ينطبع كالفيروز والياقوت والزبرجد.
--------------------------------------------
(বাতাস) সেগুলো একত্রিত করে, কোনোটি সেগুলোকে নিংড়ে দেয়, কোনোটি বৃক্ষরাজিতে পরাগায়ন ঘটায়
(১), কোনোটি শস্য ও ফলমূলের বর্ধন ও পুষ্টিসাধন করে এবং কোনোটি সেগুলোকে শুকিয়ে দেয়। অতঃপর মানুষের উচিত জমিনের দিকে লক্ষ্য করা, যাকে তিনি স্থিতিশীল করেছেন যেন তা শয্যা ও দোলনা হয়। তারপর এর প্রান্তসমূহের বিশালতা এবং দিকসমূহের দূরত্বের দিকে লক্ষ্য করা, যার সকল প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে মানুষ অক্ষম হয়েছে: {আর আমি জমিনকে বিছিয়েছি, কতই না চমৎকার শয্যা প্রস্তুতকারী আমি} [আয-যারিয়াত: ৪৮]। অতঃপর লক্ষ্য করা—কীভাবে এর উপরিভাগকে জীবিতদের আবাসস্থল এবং এর অভ্যন্তরকে মৃতদের আশ্রয়স্থল করা হয়েছে। আপনি জমিনকে মৃতাবস্থায় দেখতে পান, অতঃপর {আমি যখন তার ওপর পানি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং (সবুজ উদ্ভিদ) উৎপন্ন করে} [আল-হাজ্ব: ৫]। এটি নানা প্রকারের খনিজ পদার্থ প্রকাশ করেছে, বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছে এবং নানা প্রজাতির প্রাণী বের করে এনেছে। এরপর লক্ষ্য করা—কীভাবে সুউচ্চ পাহাড়সমূহের মাধ্যমে এর প্রান্তসমূহকে পেরেকের মতো মজবুত করা হয়েছে, যা জমিনকে প্রকম্পিত হতে বাধা দেয়। অতঃপর ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডারে স্বল্প পরিমাণ পানি গচ্ছিত রাখার দিকে লক্ষ্য করা, যেন তা অল্প অল্প করে নির্গত হয়; ফলে তা থেকে ঝরনাধারা উৎসারিত হয় এবং নদীসমূহ সর্বদা প্রবাহিত হতে থাকে।
অতঃপর মানুষের লক্ষ্য করা উচিত গভীর সমুদ্রসমূহের দিকে, যা মূলত সমগ্র পৃথিবীকে পরিবেষ্টনকারী মহাসাগরের শাখা বিশেষ; এমনকি সমুদ্রের বিশালতার তুলনায় উন্মুক্ত স্থলভাগ ও পাহাড়সমূহ একটি বিশাল সাগরের মাঝে ছোট্ট একটি দ্বীপের মতো, আর জমিনের বাকি অংশ পানিতে ঢাকা।
অতঃপর তাতে বিদ্যমান প্রাণী ও রত্নরাজির দিকে লক্ষ্য করা; স্থলচর প্রাণীর এমন কোনো প্রজাতি নেই যার সদৃশ বা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি প্রজাতি সমুদ্রে নেই। আর সেখানে এমন সব প্রজাতি রয়েছে যার কোনো দৃষ্টান্ত স্থলভাগে পরিচিত নয়।
অতঃপর পানির নিচে ঝিনুকের ভেতর মুক্তা তৈরির প্রক্রিয়ার দিকে লক্ষ্য করা; তারপর পানির নিচে পাথরের হৃদয়ে প্রবাল জন্মানোর দিকে লক্ষ্য করা, যা পাথর থেকে উৎপন্ন হওয়া বৃক্ষ সদৃশ এক প্রকার উদ্ভিদ।
অতঃপর আম্বর এবং সাগরের নিক্ষিপ্ত ও সাগর থেকে উত্তোলিত নানা প্রকার মূল্যবান বস্তুর দিকে লক্ষ্য করা।
অতঃপর সমুদ্রের বুকে জাহাজসমূহ কীভাবে চলাচল করে এবং সেগুলোর দ্রুত গতির দিকে লক্ষ্য করা; সাথে সাথে নদীসমূহের সৃষ্টি, সমুদ্রের উঁচু ঢেউসমূহ
(২) এবং বায়ুপ্রবাহের গতিপথ, উৎসস্থল ও সেগুলোর প্রবাহের দিকে লক্ষ্য করা।
সমুদ্রের বিস্ময়কর বিষয়সমূহ অগুনতি, যা গণনা করার আশা করা যায় না। বলা হয়ে থাকে: সমুদ্র সম্পর্কে আলোচনা করো, তাতে কোনো সংকীর্ণতা নেই। আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট।
অতঃপর পাহাড়ের নিচে গচ্ছিত বিভিন্ন প্রকার খনিজ পদার্থের দিকে লক্ষ্য করা: তার মধ্যে কিছু আছে যা আকার গ্রহণ করে যেমন সোনা, রুপা, তামা, লোহা ও সিসা; আর কিছু আছে যা আকার গ্রহণ করে না যেমন ফিরোজা, ইয়াকুত ও জবরজদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثم إلى كيفية استخراجها وتنقيتها واتخاذ الحلي والآلات والأواني منها، ثم إلى معادن الأرض كالنفط
(1)، والقير
(2) والكبريت، وغيرها وأقلها الملح فلو خلت منه بلد لتسارع الفساد إلى أهلها.
ثم لينظر إلى أنواع النبات وأصناف فواكهها مختلفة الأشكال والألوان والطعم والأراييج {يُسْقى بِماءٍ واحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَها عَلى بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ}
(3)، مع اتحاد الأرض والهواء والماء فيخرج من نواة نخلة مطوقة بعناقيد الرطب، وبرة حبة {سَبْعَ سَنابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ}.
ثم لينظر إلى أرض البوادي وتشابه أجزائها فإنها إذا نزل القطر عليها {وَرَبَتْ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ}.
ثم إلى كثرتها واختلاف أصنافها متشابهة وغير متشابهة.
ثم إلى كثرة أشكالها وألوانها وطعمها ورائحتها واختلاف طبعائها وكثرة منافعها، فلم ينبت من الأرض ورقة إلا وفيها منفعة أو منافع يقف فهم البشر دون إدراكها
(4).
ثم لينظر إلى أصناف الحيوان وانقسامها إلى: ما يطير ويقوم ويمشي وانقسام الماشي إلى: ما يمشي على بطنه وإلى ما يمشي على رجلين وإلى ما يمشي على أربع
(5) وإلى أشكالها وألوانها وصورها وأخلاقها وأفعالها ليرى عجائب تدهش منها العقول بل في البقة أو النمل أو العنكبوت أو النحل فإنها من ضعاف الحيوانات ليرى ما يتحير منه من: بنائها البيت وجمعها
--------------------------------------------
এরপর তা নিষ্কাশন, পরিশোধন এবং তা থেকে অলঙ্কার, সরঞ্জাম ও তৈজসপত্র তৈরির পদ্ধতির দিকে, এরপর খনিজ সম্পদের দিকে যেমন পেট্রোলিয়াম
(১), পিচ
(২), সালফার এবং অন্যান্য বস্তুর দিকে লক্ষ্য করা উচিত। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নগণ্য হলো লবণ, কিন্তু যদি কোনো দেশ তা থেকে শূন্য হতো, তবে তার অধিবাসীদের মাঝে দ্রুত পচন ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ত।
অতঃপর লক্ষ্য করা উচিত উদ্ভিদের প্রকারভেদ এবং তাদের ফলমূলের বৈচিত্র্যের দিকে, যা আকার, বর্ণ, স্বাদ ও সুবাসে ভিন্ন ভিন্ন; অথচ "সেগুলো একই পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয় এবং আমি স্বাদে একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করি"
(৩)। একই মাটি, বাতাস ও পানি হওয়া সত্ত্বেও একটি খেজুরের আঁটি থেকে থোকা থোকা তাজা খেজুর সমৃদ্ধ খেজুর গাছ উৎপন্ন হয় এবং একটি শস্যদানা থেকে বের হয় "সাতটি শিষ, প্রতিটি শিষে একশত দানা"।
অতঃপর মরুভূমির প্রান্তরের দিকে এবং তার অংশগুলোর সাদৃশ্যের দিকে লক্ষ্য করা উচিত, কেননা যখন তার ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়, তখন "তা সজীব ও স্ফীত হয় এবং প্রত্যেক প্রকারের সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে"।
এরপর এগুলোর প্রাচুর্য এবং এদের সদৃশ ও বিসদৃশ প্রকারভেদের বৈচিত্র্যের দিকে লক্ষ্য করা উচিত।
এরপর এদের আকার, বর্ণ, স্বাদ ও ঘ্রাণের আধিক্য, এদের স্বভাবের বৈচিত্র্য এবং এদের বহুবিধ উপকারের দিকে লক্ষ্য করা উচিত। মাটি থেকে এমন কোনো পাতা জন্মায় না যাতে কোনো না কোনো উপকার বা বহুমুখী কল্যাণ নেই, যা অনুধাবন করতে মানুষের বুদ্ধি অক্ষম হয়ে পড়ে
(৪)।
অতঃপর প্রাণিকুল এবং তাদের বিভাজনের দিকে লক্ষ্য করা উচিত: যারা উড্ডয়ন করে, যারা দাঁড়িয়ে থাকে এবং যারা বিচরণ করে। আবার বিচরণশীলদের শ্রেণিবিন্যাস: যারা পেটে ভর দিয়ে চলে, যারা দুই পায়ে হাঁটে এবং যারা চার পায়ে হাঁটে
(৫)। তাদের আকৃতি, বর্ণ, গঠন, স্বভাব ও কর্মতৎপরতার দিকে লক্ষ্য করলে এমন সব বিস্ময়কর বিষয় দেখা যায় যা দেখে বুদ্ধি স্তম্ভিত হয়ে যায়। বরং মশা, পিঁপড়া, মাকড়সা বা মৌমাছির মতো ক্ষুদ্র ও দুর্বল প্রাণীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায় যা দেখে মানুষ বিস্মিত হয়; যেমন তাদের ঘর নির্মাণ ও খাদ্য সংগ্রহ করার কৌশল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
الغذاء وادخارها القوت لوقت الشتاء، وحذقها في هندستها، ونصبها الشبكة للصيد، وما من حيوان صغير ولا كبير إلا وفيه من العجائب ما لا يحصى، وإنما سقط التعجب هنا للأنس وكثرة المشاهدة.
وعجائب السموات والأرض كما قال تعالى: {قُلِ انْظُرُوا ماذا فِي السَّماواتِ وَالْأَرْضِ} [يونس: 101]، بحار لا يدرى سواحلها ولا يعرف أوائلها ولا أواخرها
(1) والله الموفق للصواب.
--------------------------------------------
খাদ্য এবং শীতকালের জন্য জীবনোপকরণ সঞ্চয় করা, তাদের কারিগরি নৈপুণ্য এবং শিকারের জন্য জাল বিস্তার করা; ছোট কিংবা বড় এমন কোনো প্রাণী নেই যাতে অসংখ্য বিস্ময় বিদ্যমান নেই। কেবল সচরাচর দেখা এবং অভ্যস্ততার কারণেই এখানে বিস্ময়বোধ লোপ পেয়েছে।
আর আসমান ও জমিনের বিস্ময়াবলি যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, তোমরা লক্ষ্য করো আসমানসমূহ ও জমিনে কী আছে} [ইউনুস: ১০১], এ যেন এমন এক সমুদ্র যার তটরেখা জানা নেই এবং যার শুরু বা শেষও পরিজ্ঞাত নয়
(১) আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদানকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المقدمة الثانية: في تقسيم المخلوقاتوالمخلوق كل ما هو غير الله سبحانه وتعالى، وهو إما أن يكون قائما بالذات أو قائما بالغير، والقائم بالذات إما أن يكون متحيزا أو لم يكن، فإن كان متحيزا فهو الجسم وإن لم يكن فهو الجوهر الروحاني، وهو إما أن يكون متعلقا بالأجسام تعلق التدبير وهو النفس أو لا يكون، وهو إما أن يكون سليما عن الشهوة والغضب وهو الملك أو لا يكون وهو الجن القائم بالغير، فإن كان قائما بالمتحيزات فهو الأعراض الجسمانية، وإن كان قائما بالمفارقات فهو الأعراض الروحانية كالعلم والقدرة، والأعراض الجسمانية إما أن يلزم من صدقها حصول صدق النسبة أو صدق قبول النسبة أو لا هذا ولا ذاك.
فإن كان الأول فالنسبة إما حصول في المكان وهو الأين أو في الزمان وهو الشيء أو نسبة متكررة وهو الإضافة أو تأثير الشيء في الشيء، وهو الفعل أو تأثر الشيء عن الشيء وهو الانفعال.
وكون الشيء محيطا بالشيء يجب أن ينتقل المحيط بانتقال المحاط به وهو الملك، أو هيئة حاصلة بمجموع الجسم بسبب حصول النسب بين أجزاء بعضها إلى بعض وبين أجزائه والأمور الخارجية وهو الوضع.
وإن كان يلزم من حصولها صدق قبول النسبة فهو إما أن يكون بحيث لا يحصل بين أجزائه حدود مشتركة وهو العدد، أو يحصل وهو المقدار.
وإن كان لا يلزم من حصولها صدق قبول النسبة فإما أن يكون مشروطا بالحياة أو لم يكن، فإن كان؛ فإما أن يتوقف على الشهوة والنقرة وهو التحريك أو لا يتوقف، وهو الإدراك، ثم الإدراك إما إدراك الكليات وهو العلوم والظنون والجهالات أو إدراك الجزئيات وهو الحواس الخمس، وإن لم يكن مشروطا بالحياة فهو الأعراض المحسوسة بالحواس الخمس.
أما المحسوسات بالقوة الباصرة فكالأضواء والألوان، وأما المحسوسات بالقوة الشامة فالكطيب والنتن.
وأما المحسوسات بالقوة السامعة فالأصوات والحروف.
وأما المحسوسات بالقوة اللامسة فكالحرارة والبرودة والرطوبة واليبوسة والثقل والخفة والصلابة واللين والخشونة والملامسة.
দ্বিতীয় ভূমিকা: সৃষ্টিজগতের শ্রেণিবিভাগ প্রসঙ্গেসৃষ্টি (মাখলুক) হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতিরেকে যা কিছু আছে তা-ই। আর তা হয় স্বয়ংনির্ভর হবে অথবা অন্যনির্ভর হবে। যা স্বয়ংনির্ভর তা হয় স্থান দখলকারী হবে অথবা হবে না। যদি তা স্থান দখলকারী হয় তবে তা হলো দেহ, আর যদি না হয় তবে তা হলো আধ্যাত্মিক সারসত্তা। আর এই আধ্যাত্মিক সারসত্তা হয় দেহের সাথে পরিচালনার সম্পর্কের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে—যা হলো আত্মা (নফস), অথবা যুক্ত থাকবে না। আর তা হয় কামলিপ্সা ও ক্রোধ থেকে মুক্ত থাকবে—যা হলো ফেরেশতা, অথবা মুক্ত থাকবে না—যা হলো জ্বিন। আর যা অন্যনির্ভর, তা যদি স্থান দখলকারী বস্তুর আশ্রয়ে থাকে তবে তা হলো শারীরিক গুণাবলি, আর যদি তা দেহ-বিচ্ছিন্ন বস্তুর আশ্রয়ে থাকে তবে তা হলো আধ্যাত্মিক গুণাবলি, যেমন জ্ঞান ও ক্ষমতা। আর শারীরিক গুণাবলি বিদ্যমান হওয়ার ফলে হয় কোনো সম্পর্কের সত্যতা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হবে, অথবা কোনো সম্পর্কের গ্রহণযোগ্যতার সত্যতা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হবে, অথবা এর কোনোটিই নয়।
যদি প্রথম প্রকারটি হয়, তবে সম্পর্কটি হয় কোনো স্থানে অবস্থান হওয়া—যা হলো 'স্থান', অথবা কোনো সময়ে অবস্থান হওয়া—যা হলো 'কাল', অথবা পুনরাবৃত্তিমূলক সম্পর্ক—যা হলো 'সংযুক্তি', অথবা এক বস্তুর অন্য বস্তুর ওপর প্রভাব বিস্তার—যা হলো 'ক্রিয়া', অথবা এক বস্তু অন্য বস্তু থেকে প্রভাবিত হওয়া—যা হলো 'প্রতিক্রিয়া'।
আর এক বস্তু অন্য বস্তুকে পরিবেষ্টন করে থাকা যাতে পরিবেষ্টিত বস্তুর স্থানান্তরের সাথে পরিবেষ্টনকারীও স্থানান্তরিত হওয়া আবশ্যক হয়—তা হলো 'অধিকার' বা 'মালিকানা', অথবা কোনো দেহের সামগ্রিক অবস্থার মাধ্যমে অর্জিত এমন এক অবস্থা যা এর অঙ্গসমূহের পরস্পরের মধ্যকার সম্পর্কের কারণে অথবা এর অঙ্গসমূহ ও বাহ্যিক বিষয়াবলির মধ্যকার সম্পর্কের কারণে সৃষ্টি হয়—তা হলো 'বিন্যাস'।
আর যদি তা অর্জিত হওয়ার ফলে সম্পর্কের গ্রহণযোগ্যতা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হয়, তবে তা হয় এমন হবে যে এর অংশগুলোর মধ্যে কোনো সাধারণ সীমা পাওয়া যাবে না—যা হলো 'সংখ্যা', অথবা পাওয়া যাবে—যা হলো 'পরিমাণ'।
আর যদি তা অর্জিত হওয়ার ফলে সম্পর্কের গ্রহণযোগ্যতা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক না হয়, তবে তা হয় জীবনের ওপর শর্তযুক্ত হবে অথবা হবে না। যদি শর্তযুক্ত হয়, তবে তা হয় কামলিপ্সা ও তাড়নার ওপর নির্ভরশীল হবে—যা হলো 'সঞ্চালন', অথবা নির্ভরশীল হবে না—যা হলো 'উপলব্ধি'। এরপর উপলব্ধি হয় সামগ্রিক বিষয়াবলির উপলব্ধি হবে—যা হলো জ্ঞান, ধারণা ও অজ্ঞতা, অথবা বিশেষ বিষয়াবলির উপলব্ধি হবে—যা হলো পঞ্চ ইন্দ্রিয়। আর যদি জীবনের ওপর শর্তযুক্ত না হয়, তবে তা হলো পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত গুণাবলি।
দর্শনশক্তির মাধ্যমে অনুভূত বিষয়সমূহ হলো আলো ও বর্ণসমূহ, আর ঘ্রাণশক্তির মাধ্যমে অনুভূত বিষয়সমূহ হলো সুগন্ধি ও দুর্গন্ধ।
শ্রবণশক্তির মাধ্যমে অনুভূত বিষয়সমূহ হলো শব্দ ও বর্ণসমূহ।
আর স্পর্শশক্তির মাধ্যমে অনুভূত বিষয়সমূহ হলো তাপ, শীতলতা, আর্দ্রতা, শুষ্কতা, ভারিত্ব, লঘুতা, কঠোরতা, কোমলতা, রুক্ষতা এবং স্পর্শ।
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فهذه جملة أقسام الممكنات وسيأتي الكلام في كل قسم منها إن شاء الله تعالى.
فصلذكر أهل السير أنه وجد في السفر الأول من التوراة: إن الله تعالى خلق جواهر ثم نظر إليها نظر الهيبة فذاب الجوهر، وصعد منه دخان، ورسب منه رسوب، فخلق سبحانه من الدخان السموات ومن الرسوب الأرض ويدل على ذلك قوله تعالى: {أَنَّ السَّماواتِ وَالْأَرْضَ كانَتا رَتْقاً فَفَتَقْناهُما}
(1) وأحكم جلت قدرته خلق المجموع في ستة أيام.
قال بعض العلماء: إن اليوم في اللغة الكون الحادث، والأيام هاهنا مراتب مصنوعاته؛ لأن قبل الزمان لا يمكن تجدد الزمان، فمن الأيام الستة: يوم لمادة الأرض ويوم لصورتها ويوم لمادة السماء ويوم لصورتها ويوم لمكملاتها من الجبال والكواكب والنفوس وغيرها.
وقال أيضا: كل ما فوق الأرض فهو سماء، في طريق اللغة يقولون: ما علاك فهو سماؤك، وما دونك فلك القمر، فهو بالنسبة إلى الأفلاك أرض قال تعالى: {خَلَقَ سَبْعَ سَماواتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ} [الطلاق: 12]، يعني: سبعا؛ فالأولى: كرة النار، والثانية: كرة الهواء، والثالثة: كرة الماء، والرابعة: كرة الأرض، وثلاثة طبقات ممتزجات بين الأربعة الأولى من النار والهواء، والثانية من الهواء والماء، والثالثة من الماء والأرض.
ثم دبر بعناية بعد الجماد أمر المعادن الداخلة في الجماد ثم النبات ثم الحيوان.
هذا هو القول الكلي في المخلوقات وسيأتي القول في جزئياتها في مقالتين إن شاء الله تعالى، والله الموفق للصواب.
--------------------------------------------
এগুলো হলো সম্ভাব্য বস্তুসমূহের প্রকারভেদের সারসংক্ষেপ এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা এর প্রতিটি প্রকার সম্পর্কে পরবর্তীতে আলোচনা আসবে।
পরিচ্ছেদইতিহাসবেত্তাগণ উল্লেখ করেছেন যে, তাওরাতের প্রথম খণ্ডে পাওয়া যায়: আল্লাহ তাআলা কিছু মৌলিক পদার্থ সৃষ্টি করেন, অতঃপর সেগুলোর প্রতি মহিমার দৃষ্টিপাত করেন, ফলে সেই সারবস্তু গলে যায়। তা থেকে ধোঁয়া উর্ধ্বে আরোহণ করে এবং তলানি নিচে জমে যায়। অতঃপর সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই ধোঁয়া থেকে আসমানসমূহ এবং তলানি থেকে জমিন সৃষ্টি করেন। মহান আল্লাহর এই বাণী এর প্রমাণ বহন করে: "নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিন একে অপরের সাথে মিশে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম" এবং তাঁর সুমহান কুদরতে তিনি এই সবকিছুকে ছয় দিনে সুনিপুণভাবে সৃষ্টি করেছেন।
কতিপয় আলিম বলেছেন: শাব্দিক অর্থে 'দিন' বলতে কোনো নতুন ঘটনার উদ্ভবকে বোঝায়, আর এখানে 'দিনসমূহ' দ্বারা তাঁর সৃষ্টিকুলের পর্যায়ক্রমিক স্তরসমূহ উদ্দেশ্য; কারণ সময়ের সূচনার পূর্বে সময়ের নবায়ন হওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং ছয় দিনের মধ্যে: একদিন জমিনের উপাদানের জন্য, একদিন তার অবয়বের জন্য, একদিন আসমানের উপাদানের জন্য, একদিন তার অবয়বের জন্য এবং একদিন তার পরিপূরকসমূহ যেমন পাহাড়-পর্বত, গ্রহ-নক্ষত্র, প্রাণ এবং অন্যান্য বিষয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল।
তিনি আরও বলেন: ভূপৃষ্ঠের উপরে যা কিছু আছে তা-ই আসমান। ভাষাতাত্ত্বিক পদ্ধতিতে বলা হয়: যা তোমার উপরে আছে তা-ই তোমার আসমান। আর তোমার নিচে যা আছে তা হলো চাঁদের কক্ষপথ, যা অন্যান্য কক্ষপথের তুলনায় জমিন হিসেবে গণ্য। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তিনি সাত আসমান এবং জমিনও সেই পরিমাণে সৃষ্টি করেছেন" [আত-তালাক: ১২], অর্থাৎ সাতটি; প্রথমটি: আগুনের গোলক, দ্বিতীয়টি: বাতাসের গোলক, তৃতীয়টি: পানির গোলক, চতুর্থটি: মাটির গোলক এবং প্রথম চারটির মাঝে তিনটি মিশ্রিত স্তর রয়েছে; প্রথমটি আগুন ও বাতাসের সমন্বয়ে, দ্বিতীয়টি বাতাস ও পানির সমন্বয়ে এবং তৃতীয়টি পানি ও মাটির সমন্বয়ে গঠিত।
অতঃপর তিনি তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধানে জড় পদার্থের পর জড় পদার্থের অন্তর্গত খনিজ দ্রব্যসমূহ, এরপর উদ্ভিদ এবং এরপর প্রাণিকুলের ব্যবস্থাপনা করেন।
এটি হলো মাখলুকাত বা সৃষ্টিজগত সম্পর্কে সামগ্রিক বক্তব্য। ইনশাআল্লাহ তাআলা দুটি প্রবন্ধে এদের বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিক দানকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المقدمة الثالثة: في معنى الغريبالغريب: كل أمر عجيب، قليل الوقوع مخالف للعادات المعهودة والمشاهدات المألوفة، وذلك إما من تأثير نفوس قوية أو تأثير أمور فلكية أو أجرام عنصرية كل ذلك بقدرة الله تعالى وإرادته (فمن) ذلك معجزات الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين كانشقاق القمر، وانفلاق البحر، وانقلاب العصا ثعبانا، وكون النار بردا وسلاما، وخروج الناقة من الصخرة الصماء، وإبراء الأكمه والأبرص، وإحياء الموتى ومنها كرامات الأولياء الأبرار فإن تأثير نفوسهم يتعدى إلى غير أبدانهم حتى يحدث عنها انفعالات غريبة في العالم فيشفى المريض باستشفائهم وتسقى الأرض باستسقائهم، وربما يحدث الخسف والزلزلة والطوفان والصواعق بدعواتهم، ويصرف الوباء والموتان باستدعائهم، وتبدل لهم نفرة الطيور بالهدوء والوقوع، وصولة السباع وشدتها باللين والخضوع.
(ومنها) إخبار الكهنة والكهانة التي اندرست بمبعث النبي صلى الله عليه وسلم وكانوا يأتون الجاهلية بأمور غريبة؛ زعموا أنها كانت بواسطة اختلاط نفوسهم بنفوس الجن.
(ومنها) الإصابة بالعين فإن العائن
(1) إذا تعجب من شيء كان تعجبه مهلكا للمتعجب منه بخاصية لنفسه لا يوقف عليها.
(ومنها) اختصاص بعض النفوس من الفطرة بأمر غريب لا يوجد مثله لغيرها، كما ذكر أن من الهند قوما إذا اهتموا بشيء اعتزلوا عن الناس وصرفوا همتهم إلى ذلك الشيء فيقع على وفق اهتمامهم.
(ومن) هذا القبيل ما حكي أن السلطان محمود غزا بلاد الهند وكان فيها مدينة كل من قصدها مرض فسأل عن ذلك؛ فقالوا: إن عندهم جمعا من الهند يصرفون هممهم على ذلك فيقع المرض على وفق اهتمامهم؛ فأشار عليه بعض أصحابه بدق الطبول، ونفخ البوقات الكثيرة ليشوش هممهم ففعلوا ذلك فزال المرض واستخلصوا المدينة.
(ومن) هذا القبيل ما ذكر أن رجلا فيلسوفا في زمن خوارزم شاه محمد بن تكش جاء من بلاد الهند إلى خراسان فأسلم، وكان يقال له: داناي هند، يستخرج طالع كل إنسان أراد حتى جربوه بالطوالع الرصيدية فلم يخطئ شيئا، وزعم أن ذلك له بواسطة حساب يعرفه، فرفع أمره
--------------------------------------------
তৃতীয় ভূমিকা: ‘গারিব’ বা অদ্ভুত বিষয়ের অর্থ প্রসঙ্গেগারিব বা অদ্ভুত হলো: এমন প্রতিটি বিস্ময়কর বিষয়, যা সচরাচর ঘটে না এবং যা প্রচলিত অভ্যাস ও পরিচিত পর্যবেক্ষণের পরিপন্থী। এটি হয় শক্তিশালী আত্মার প্রভাবে, নতুবা মহাজাগতিক বিষয়ের প্রভাবে অথবা মৌলিক উপাদানের প্রভাবে; আর এসবই মহান আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় ঘটে থাকে। (এর মধ্যে) রয়েছে নবীগণের (তাঁদের উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) মুজিযাসমূহ, যেমন চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া, সমুদ্র বিদীর্ণ হওয়া, লাঠি সাপে পরিণত হওয়া, অগ্নিকুণ্ড শীতল ও নিরাপদ হওয়া, নিরেট পাথর থেকে উষ্ট্রী বের হওয়া, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা এবং মৃতকে জীবিত করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো পুণ্যবান ওলিগণের কারামাতসমূহ; কেননা তাঁদের আত্মার প্রভাব তাঁদের শরীরের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যের ওপরও পড়ে, ফলে পৃথিবীতে তা থেকে অদ্ভুত সব ক্রিয়া সংঘটিত হয়। যেমন তাঁদের আরোগ্য প্রার্থনার মাধ্যমে রোগী সুস্থ হয় এবং তাঁদের বৃষ্টি প্রার্থনার মাধ্যমে ভূমিতে সেচ হয়। কখনও কখনও তাঁদের দোয়ার ফলে ভূমিধস, ভূমিকম্প, তুফান ও বজ্রপাত সংঘটিত হয়, আবার তাঁদের আহ্বানে মহামারি ও মড়ক দূরীভূত হয়। বন্য পাখিদের বিতৃষ্ণা তাঁদের জন্য প্রশান্তি ও বশ্যতায় পরিণত হয় এবং হিংস্র পশুর আক্রমণ ও উগ্রতা কোমলতা ও আনুগত্যে রূপ নেয়।
(এর অন্তর্ভুক্ত হলো) গণকদের সংবাদ প্রদান এবং গণনাবিদ্যা, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তারা জাহেলি যুগে বিচিত্র সব বিষয় নিয়ে আসত; তাদের দাবি ছিল যে, জিনের আত্মার সাথে তাদের আত্মার সংমিশ্রণের মাধ্যমে এটি সম্ভব হতো।
(এর অন্তর্ভুক্ত হলো) বদনজরের প্রভাব। কারণ বদনজরকারী
(১) যখন কোনো বিষয়ে বিস্মিত হয়, তখন তার সেই বিস্ময় নিজ আত্মার এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে সেই বস্তুটিকে ধ্বংস করে দেয়, যার প্রকৃত স্বরূপ জানা যায় না।
(এর অন্তর্ভুক্ত হলো) কিছু আত্মার এমন বিশেষ প্রকৃতিগত অদ্ভুত ক্ষমতা, যা অন্য কারও মধ্যে পাওয়া যায় না। যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, হিন্দুস্তানের একদল মানুষ যখন কোনো বিষয়ে গুরুত্বারোপ করত, তখন তারা মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত এবং সেই বিষয়ের ওপর তাদের পূর্ণ মনোযোগ নিবিষ্ট করত, ফলে তাদের সেই একাগ্রতা অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটে যেত।
(এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত) সেই কাহিনী যা বর্ণিত হয়েছে যে, সুলতান মাহমুদ হিন্দুস্তান আক্রমণ করেছিলেন। সেখানে এমন একটি শহর ছিল যেখানে যে কেউ প্রবেশ করতে চাইত, সে-ই অসুস্থ হয়ে পড়ত। তিনি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলা হলো: সেখানে হিন্দুদের একটি দল রয়েছে যারা তাদের একাগ্রতা এর ওপর প্রয়োগ করে, ফলে তাদের একাগ্রতা অনুযায়ী অসুস্থতা ঘটে থাকে। তখন তাঁর এক সঙ্গী তাঁকে পরামর্শ দিলেন যেন অনেক ঢাক-ঢোল পেটানো হয় এবং প্রচুর তূর্য বাজানো হয় যাতে তাদের একাগ্রতায় বিঘ্ন ঘটে। তাঁরা তা-ই করলেন, ফলে অসুস্থতা দূর হয়ে গেল এবং তাঁরা শহরটি জয় করলেন।
(এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত) যা বর্ণিত হয়েছে যে, খাওয়ারিজম শাহ মুহাম্মদ বিন তুকশ-এর যুগে হিন্দুস্তান থেকে একজন দার্শনিক খোরাসানে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁকে ‘দানায়ে হিন্দ’ (ভারতের মহাজ্ঞানী) বলা হতো। তিনি যে কোনো মানুষের রাশিফল বের করে দিতেন। এমনকি লোকজন জ্যোতির্বিদ্যার মানদণ্ড অনুযায়ী তা পরীক্ষা করে দেখেছে এবং তিনি কোনো ভুল করেননি। তিনি দাবি করতেন যে, এটি তাঁর জানা একটি গণনার মাধ্যমে ঘটে থাকে। এরপর বিষয়টি উত্থাপন করা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إلى السلطان، فقال له هل تقدر على استخراج غير الطوالع؟ قال: نعم، قال: أخبرني عما رأيت البارحة في نومي فرجع إلى نفسه وحسب، ثم قال: رأى السلطان أنه في سفينة وبيده سيف فقال السلطان: لقد أصاب لكنا لا نقنع بهذا القدر؛ لأني على طرف جيحون
(1) كثيرا ما أركب السفينة والسيف لا يفارقني فربما قال اتفاقا، فامتحنه مرة أخرى فأصاب فقربه من نفسه وكان يستعين به في أموره.
(ومن) ذلك أمور سماوية كظهور الكواكب ذوات الأذناب والتماثيل والشانين وانقضاض شهب يستضيء الجو منها.
(ومنها) سقوط جسم من الجو ثقيل كما ذكر الشيخ الرئيس
(2) أنه سقط في زمانه بأرض جوزجان جسم كقطعة حديد قدر خمسين منّا مثل حبات الجاورش المنضمة فأرادوا كسرها فما كان يعمل فيها الحديد البتة
(3).
(ومنها) سقوط ثلج أو برد في غير أوانه كما حكي عن بعض شيوخ قزوين أنه أتاهم في زمن الشمس برد عظيم كل واحدة على قدر الجوزة
(4) فأهلك كثيرا من الحيوانات والنبات، والمشمش لا يدرك بقزوين إلا في الصيف.
(ومنها) سقوط أحجار من الحديد والنحاس في وسط الصواعق، وذلك يوجد ببلاد الترك، وربما يوجد بأرض جيلان أيضا.
(وحكى) أبو الحسن علي بن الأثير الجزري في تاريخه: أنه نشأت بأفريقية في سنة إحدى عشر وأربعمائة سحابة شديدة الرعد والبرق فأمطرت حجارة كثيرة، وأهلكت كل من أصابته.
(وأغرب) من هذا ما حكاه الجاحظ أنه نشأت سحابة بايدج وهي مدينة بين أصبهان وجوزستان سحابة طحيا تكاد تمس رءوس الناس وسمعوا منها كهدير الفحل، ثم إنها دفعت بأشد مطر ثم استسلموا للغرق ثم دفعت بالضفادع والشبابيط العظام السمان، والشبوط: نوع من السمك فأكلوا وملحوا وادخروا كثيرا.
--------------------------------------------
সুলতানের কাছে গেলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: "তুমি কি রাশিফল ছাড়া অন্য কিছু বের করতে সক্ষম?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সুলতান বললেন: "গত রাতে স্বপ্নে আমি যা দেখেছি সে সম্পর্কে আমাকে জানাও।" তখন তিনি নিজের অন্তরে মনোনিবেশ করলেন এবং গণনা করলেন, তারপর বললেন: "সুলতান দেখেছেন যে তিনি একটি নৌকায় আছেন এবং তাঁর হাতে একটি তলোয়ার রয়েছে।" সুলতান বললেন: "তিনি সঠিক বলেছেন, তবে আমরা কেবল এতেই সন্তুষ্ট নই; কারণ আমি জয়হুন
(১) নদীর তীরে বাস করি এবং প্রায়ই নৌকায় চড়ি, আর তলোয়ারও আমার থেকে আলাদা হয় না, তাই সম্ভবত তিনি দৈবক্রমে এটি বলেছেন।" এরপর তিনি তাকে পুনরায় পরীক্ষা করলেন এবং তিনি সঠিক উত্তর দিলেন, ফলে তিনি তাকে নিজের নিকটবর্তী করে নিলেন এবং তাঁর বিভিন্ন কাজে তার সাহায্য নিতেন।
(এবং) এর মধ্যে মহাজাগতিক বিষয়াদিও রয়েছে যেমন ধুমকেতুর আবির্ভাব, বিভিন্ন প্রতিকৃতি ও অবয়বের প্রকাশ এবং উল্কাপাত যার দ্বারা বায়ুমণ্ডল আলোকিত হয়।
(এবং তার মধ্যে) আকাশ থেকে ভারী বস্তুর পতনও রয়েছে যেমন শায়খুর রইস
(২) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সময়ে জুজজান ভূমিতে লোহার টুকরোর মতো একটি বস্তু পড়েছিল যার ওজন ছিল প্রায় পঞ্চাশ মান এবং যা ছিল একত্রে মিশে থাকা জোয়ারের দানার মতো। তারা সেটি ভাঙতে চাইলেন কিন্তু লোহা তাতে একেবারেই কোনো কাজ করতে পারছিল না
(৩)।
(এবং তার মধ্যে) অসময়ে তুষার বা শিলাবৃষ্টি হওয়াও অন্তর্ভুক্ত যেমন কাজভিনের জনৈক শায়খ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রখর রোদের সময়ে তাদের সেখানে বড় বড় শিলা পড়েছিল যার প্রতিটি ছিল একটি আখরোটের আকারের
(৪)। এটি অনেক পশুপাখি ও উদ্ভিদ ধ্বংস করে দিয়েছিল; আর কাজভিনে গ্রীষ্মকাল ছাড়া খুবানি পাকে না।
(এবং তার মধ্যে) বজ্রপাতের সময় লোহা ও তামার পাথর পড়াও রয়েছে, যা তুর্কি দেশগুলোতে দেখা যায় এবং সম্ভবত জিলান ভূমিতেও পাওয়া যায়।
(এবং বর্ণনা করেছেন) আবু আল-হাসান আলি ইবনে আল-আসির আল-জাজারি তাঁর ইতিহাসে: ৪১১ হিজরি সনে আফ্রিকায় প্রচণ্ড বজ্রপাত ও বিদ্যুৎসহ এক ঘন মেঘের সৃষ্টি হয় যা প্রচুর পাথর বর্ষণ করে এবং এটি যার উপরই পড়েছিল তাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।
(এর চেয়েও আশ্চর্যজনক) হলো যা আল-জাহিজ বর্ণনা করেছেন যে, আইদাজ নামক শহরে—যা ইসফাহান ও খুজেস্তানের মধ্যবর্তী একটি শহর—একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন মেঘের সৃষ্টি হয়েছিল যা মানুষের মাথার কাছাকাছি চলে এসেছিল এবং তারা সেখান থেকে উটের গর্জনের মতো শব্দ শুনতে পাচ্ছিল। এরপর তা প্রচণ্ড বৃষ্টি বর্ষণ করল এবং তারা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলো। এরপর তা থেকে ব্যাঙ এবং বড় বড় চর্বিযুক্ত শাব্বুত মাছ পড়তে লাগল। শাব্বুত হলো এক প্রকার মাছ। অতঃপর তারা তা আহার করল, লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করল এবং প্রচুর মজুদ করে রাখল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومن ذلك أمور أرضية مثل صيرورة اليبس بحرا كأرض اليونان فإنها كانت بلادا معمورة، والآن استولى الماء عليها، وصيرورة البحر يبسا كأرض ساوة فإنها كانت بحرا والآن لا يرى فيها أثر البحر.
(ومنها) ما زعموا أنه يصعد من الأرض بخار لا يصيب شيئا من الحيوان والنبات إلا جعله حجرا صلدا وآثار ذلك ظاهرة من أرض مصر ومثله ثم بأرض قزوين.
(ومنها) وقوع خسف بناحية من الأرض وخروج ماء أسود منها وقد شوهد ذلك في كثير من النواحي منها مدينة عنجرة بأرض الروم، وقرية دركزين من أعمال همدان.
ومنها زلزلة تبقى شهرا أو أكثر في بعض النواحي، وقد شوهد ذلك بأرض نيسابور والري.
وحدثني أبو القاسم الرافعي - قدس الله روحه - أنه شاهد في هذه الزلزلة سقفا قد انشق حتى رأى الكواكب من جانب، ثم عاد إلى حاله ولم يظهر عليه أثر الشق.
(ومنها) ظهور معدن ببعض الأصقاع لم يعرف قبل ذلك من الزمان كظهور معدن الذهب عند الإسماعيلية.
(ومنها) ظهور نبت بأرض لا عهد للناس بوجوده هناك كظهور الترنجبين بأرض ساوة.
(ومنها) تولد حيوان غريب الشكل لم ير مثله. كما روي الشافعي
(1) رضي الله عنه، أنه رأى باليمن إنسانا من وسطه إلى أسفله بدن امرأة، ومن وسطه إلى فوق بدنان مفترقان بأربع أياد ورأسين ووجهين وهما يأكلان ويشربان يختصمان ويصطلحان.
وذكر أن امرأة بكلوسامان من قرى بلخ ولدت شخصا له نصف بدن ونصف رأس ويد واحدة ورجل واحدة على صورة النسناس؛ الذي يوجد في غياض الشجر باليمن ثم حملت مرة أخرى فولدت بدنا له رأسان.
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে পার্থিব বিষয়াবলি, যেমন শুষ্ক ভূমির সাগরে পরিণত হওয়া, যেমন গ্রিসের ভূমি; কারণ এটি আগে জনবসতিপূর্ণ এলাকা ছিল, আর এখন পানি একে গ্রাস করেছে। আবার সমুদ্রের শুষ্ক ভূমিতে পরিণত হওয়া, যেমন সাওয়াহর ভূমি; কারণ এটি আগে সমুদ্র ছিল, আর এখন সেখানে সমুদ্রের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না।
(তার মধ্যে রয়েছে) তারা যে ধারণা পোষণ করে যে, ভূমি থেকে এমন বাষ্প নির্গত হয় যা কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের গায়ে লাগলেই তাকে শক্ত পাথরে পরিণত করে দেয়; এর নিদর্শনসমূহ মিশরের ভূমিতে প্রকট এবং কাজউইন ভূমিতেও অনুরূপ বিদ্যমান।
(তার মধ্যে রয়েছে) পৃথিবীর কোনো কোনো অংশে ভূমিধস ঘটা এবং সেখান থেকে কালো পানি নির্গত হওয়া; এটি অনেক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ করা হয়েছে, যার মধ্যে রোমান ভূমির আনজারা শহর এবং হামাদানের অন্তর্ভুক্ত দারজাকিন গ্রাম অন্যতম।
এর মধ্যে রয়েছে এমন ভূমিকম্প যা কোনো কোনো অঞ্চলে এক মাস বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হয়; এটি নিশাপুর ও রাই ভূমিতে দেখা গিয়েছে।
আবুল কাসিম আর-রাফিয়ী —আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন— আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এই ভূমিকম্পের সময় একটি ছাদ ফেটে যেতে দেখেছেন, এমনকি তিনি এক পাশ থেকে নক্ষত্রগুলোও দেখতে পাচ্ছিলেন; এরপর সেটি আবার তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় এবং তাতে ফাটলের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে না।
(তার মধ্যে রয়েছে) কোনো কোনো অঞ্চলে এমন খনিজ দ্রব্যের আবির্ভাব হওয়া যা আগে কখনও পরিচিত ছিল না; যেমন ইসমাইলিয়া অঞ্চলে স্বর্ণখনির প্রকাশ পাওয়া।
(তার মধ্যে রয়েছে) এমন ভূমিতে উদ্ভিদের উদ্ভব হওয়া যেখানে মানুষ আগে কখনও এর অস্তিত্ব দেখেনি; যেমন সাওয়াহর ভূমিতে 'তুরুঞ্জাবীন' এর আবির্ভাব।
(তার মধ্যে রয়েছে) অদ্ভুত আকৃতির প্রাণী জন্মগ্রহণ করা যার সদৃশ আগে দেখা যায়নি। যেমনটি ইমাম শাফেয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইয়ামেনে এমন একজন মানুষকে দেখেছেন যার কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত একজন নারীর দেহ, আর কোমর থেকে ওপরের অংশটি পৃথক দুটি দেহ, যাতে চারটি হাত, দুটি মাথা এবং দুটি মুখ ছিল; তারা দুজনই আহার করত, পান করত, ঝগড়া করত এবং আবার আপোষও করত।
আরও বর্ণিত আছে যে, বলখের গ্রামগুলোর মধ্যে কুলুসামান নামক স্থানের এক মহিলা এমন এক ব্যক্তির জন্ম দিয়েছেন যার অর্ধেক দেহ, অর্ধেক মাথা, একটি হাত এবং একটি পা ছিল, যা অনেকটা 'নাসনাস' (এক প্রকার বিশেষ প্রাণী) এর আকৃতির মতো; যা ইয়ামেনের ঘন বনে পাওয়া যায়। এরপর সেই মহিলা পুনরায় গর্ভধারণ করেন এবং দুই মাথা বিশিষ্ট একটি দেহ জন্ম দেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وزعم الحكماء أنهم وجودوا ثلاثة معان في الأمور غريبة؛ وقد وضعوا لكل معنى اسما:
(وأحد هذه المعاني): الآثار النفسانية، والانفعالات التابعة للتصورات من غير واسطة أمر طبيعي، فاستعمال تلك التصورات في الخير معجزة من الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين، وكرامة من الأولياء عليهم الرحمة والرضوان، واستعمالها في الشر سحر من النفوس البشرية.
(وثانيهما): أمور غريبة تحدث من قوى سماوية وأجسام عنصرية مخصوصة بهيئات وأشكال وأوضاع تسمى الطلسمات.
(وثالثهما): أمور غريبة تحدث من أجساد أرضية كجذب المغناطيس الحديد وتسمى النيرنجات.
وهذا هو القول الكلي في الأمور الغريبة وسيأتي الكلام في جزئياتها إن شاء الله تعالى.
দার্শনিকগণ দাবি করেছেন যে, তাঁরা বিস্ময়কর বিষয়সমূহের মধ্যে তিনটি প্রকার লক্ষ্য করেছেন এবং তাঁরা প্রতিটি প্রকারের জন্য একটি করে নাম নির্ধারণ করেছেন:
(এই প্রকারগুলোর একটি হলো): মানসিক প্রভাব এবং সেই প্রতিক্রিয়া যা কোনো প্রাকৃতিক মাধ্যম ছাড়াই কল্পনাপ্রসূত ভাবনার অনুগামী হয়। সুতরাং সেই ভাবনাগুলোকে কল্যাণের কাজে ব্যবহার করা হলো নবীদের পক্ষ থেকে মুজিযা—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এবং ওলিদের পক্ষ থেকে কারামত—তাঁদের ওপর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক; আর সেগুলোকে মন্দের কাজে ব্যবহার করা হলো মানবীয় আত্মার পক্ষ থেকে জাদু।
(দ্বিতীয়টি হলো): বিস্ময়কর বিষয়াদি যা আসমানি শক্তি এবং নির্দিষ্ট আকৃতি, রূপ ও বিন্যাস সংবলিত মৌলিক উপাদানসমূহ থেকে উদ্ভূত হয়, যাকে 'তিলিসমাত' বলা হয়।
(তৃতীয়টি হলো): বিস্ময়কর বিষয়াদি যা পার্থিব বস্তু থেকে উদ্ভূত হয়, যেমন চুম্বক কর্তৃক লোহাকে আকর্ষণ করা, আর একে 'নাইরানজাত' বলা হয়।
বিস্ময়কর বিষয়সমূহের ব্যাপারে এটিই হলো সামগ্রিক আলোচনা এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المقدمة الرابعة: في تقسيم الموجوداتكل موجود سوى الواحد سبحانه مخلوق، وكل ذرة من جوهر وعرض وصفة موصوف فيها غرائب وعجائب يظهر فيها حكم الله تعالى وقدرته، وإحصاء ذلك غير ممكن.
لكنا نشير إلى ذلك ونقول إجمالا: الموجودات منقسمة: إلى ما لا نعرف أصلها ولا يمكننا النظر فيها، فكم من موجود لا نعلمه كما قال الله تعالى: {وَيَخْلُقُ ما لا تَعْلَمُونَ} [النحل: 8]، وإلى ما نعرف جملها ولا نعرف تفصيلها، وهي منقسمة إلى ما لا يدرك بالبصر: كالعرش والكرسي والملائكة والجن والشياطين وغيرها فمحال النظر فيها، ولا يمكن أن يقال فيها إلا ما صح بالنصوص والأخبار والآثار.
وأما المدركات بالبصر: كالسموات والأرض وما بينهما، والسموات مشاهدة بكواكبها وشمسها وقمرها ودورانها، والأرض مشاهدة بما فيها من جبالها وبحارها وأنهارها ومعادنها ونباتها وحيوانها وما بين السماء والأرض: وهو الجو مدرك بغيومها وأمطارها وثلوجها ورعودها وبروقها وصواعقها وشهبها وعواصف أرياحها، فهذه هي أجناس المشاهدات من السموات والأرض وما بينهما، وكل جنس منها ينقسم إلى أنواع، وكل نوع ينقسم إلى أصناف، وكل صنف ينقسم إلى أقسام.
ولا نهاية لاستيعاب ذلك وانقسامها في اختلاف صفاتها وهيئاتها ومعانيها الظاهرة والباطنة، وفي جميع ذلك مجال البصر فلا تتحرك ذرة في السموات والأرض إلا وفي تحريكها حكمة أو حكمتان أو عشرة أو ألف، وكل ذلك دليل على وحدانيته وكبريائه وعظمته كما قال بعضهم:
ولله في كل تحريكة
… وتسكينة أبدا شاهد
وفي كل شيء له آية
… تدل على أنه واحد
চতুর্থ উপক্রমণিকা: বিদ্যমান বস্তুসমূহের বিভাজন প্রসঙ্গেসেই এক পবিত্র সত্তাকে ব্যতীত প্রতিটি বিদ্যমান বস্তু সৃষ্টি, এবং প্রতিটি অণু পরিমাণ মৌলিক পদার্থ, গুণ ও বিশেষিত বস্তুর গুণের মধ্যে এমন অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বিষয়াবলী রয়েছে যাতে মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা ও ক্ষমতা প্রকাশ পায়; আর তা গণনা করা অসম্ভব।
তবে আমরা সেই দিকে ইঙ্গিত করছি এবং সংক্ষেপে বলছি: বিদ্যমান বস্তুসমূহ বিভক্ত: এমন কিছু বস্তুতে যার মূল আমরা জানি না এবং সেগুলোর ব্যাপারে গবেষণা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়; কতই না বিদ্যমান বস্তু রয়েছে যা আমরা জানি না, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তিনি এমন কিছু সৃষ্টি করেন যা তোমরা জানো না" [নাহল: ৮]। এবং এমন কিছু বস্তুতে যার সম্পর্কে আমরা স্থূলভাবে জানি কিন্তু বিস্তারিত জানি না; আর এগুলো এমন কিছুতে বিভক্ত যা দৃষ্টির অগোচর: যেমন আরশ, কুরসি, ফেরেশতাকুল, জিন, শয়তান এবং অন্যান্য। সুতরাং এগুলোর রহস্য উদ্ঘাটন করা অসম্ভব এবং এগুলোর ব্যাপারে তা-ই বলা সম্ভব যা বিশুদ্ধভাবে কুরআন-সুন্নাহর বক্তব্য, সংবাদ এবং পূর্বসূরীদের বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত।
আর দৃষ্টিগ্রাহ্য বস্তুসমূহের ক্ষেত্রে: যেমন আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু রয়েছে। আর আসমানসমূহ এর নক্ষত্ররাজি, সূর্য, চন্দ্র এবং এদের আবর্তনের মাধ্যমে দৃশ্যমান; আর জমিন এর পর্বতমালা, সমুদ্র, নদ-নদী, খনিজ সম্পদ, উদ্ভিদ এবং প্রাণীকুলসহ দৃশ্যমান। আর আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান—যা হলো বায়ুমণ্ডল—তা এর মেঘমালা, বৃষ্টি, তুষার, বজ্রধ্বনি, বিদ্যুৎ চমক, বজ্রপাত, উল্কাপিন্ড এবং ঝঞ্ঝাবায়ুসহ দৃষ্টিগ্রাহ্য। সুতরাং এগুলোই হলো আসমান, জমিন এবং এই দুয়ের মধ্যবর্তী দৃশ্যমান বস্তুসমূহের প্রকারভেদ। আর এগুলোর প্রতিটি প্রকার আবার বহু প্রজাতিতে, প্রতিটি প্রজাতি বিভিন্ন শ্রেণিতে এবং প্রতিটি শ্রেণি বহু ভাগে বিভক্ত।
এগুলোর গুণাবলি, আকৃতি এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অর্থের ভিন্নতার কারণে এগুলোর পূর্ণ উপলব্ধি এবং বিভাজনের কোনো শেষ নেই। আর এই সবকিছুর মধ্যেই দৃষ্টির বিচরণক্ষেত্র রয়েছে; সুতরাং আসমান ও জমিনে একটি অণু পরিমাণ কণা নড়ে না যার নড়াচড়ার পেছনে একটি বা দুটি বা দশটি বা হাজারটি প্রজ্ঞা বিদ্যমান নেই। আর এই সবকিছুই তাঁর একত্ববাদ, মাহাত্ম্য এবং শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ, যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন:
আল্লাহর জন্য প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থবিরতার মাঝে সর্বদা এক সাক্ষী বর্তমান।
আর প্রতিটি বস্তুর মাঝেই তাঁর এমন নিদর্শন রয়েছে যা প্রমাণ করে যে তিনি এক।
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
المقالة الأولى: في العلوياتوالنظر فيها في أمور
(النظر الأول: في حقيقة الأفلاك وأشكالها وأوضاعها وحركاتها بطريق الإجمال) ذهب الحكماء إلى أن الفلك جسم كروي مشتمل على الوسط متحرك عليه ليس بخفيف ولا ثقيل ولا بارد ولا حار ولا رطب ولا يابس ولا قابل للخرق ولا للالتئام، ولهم على ذلك أدلة مذكورة في الكتب الحكمية، وكتابنا هذا ليس بصددها، والأفلاك كرات محيطة بعضها ببعض حتى حصلت من جملتها كرة واحدة يقال لها: العالم، وأدناها إلى العناصر فلك القمر، ثم فلك عطارد، ثم فلك الزهرة، ثم فلك الشمس، ثم فلك المريخ، ثم فلك المشترى، ثم فلك زحل، ثم فلك الثوابت، ثم فلك الأفلاك.
واعلم أن لكل فلك مكانا لا ينتقل عنه، لكنه متحرك فيه بأجرامه لا يقف طرفة عين، وسرعة حركاتها أسرع من كل شيء شاهده الإنسان حتى صح في الهندسة أن الفرس في حالة الركض الشديد من الوقت الذي رفع يديه إلى أن يضعها يتحرك الفلك الأعظم بثلاثة آلاف فرسخ، ثم إن من الأفلاك ما يتحرك من المشرق إلى المغرب؛ كالفلك الأعظم، ومنها ما يتحرك من المغرب إلى المشرق؛ كفلك الثوابت وأفلاك السيارات، ومنها ما يتحرك بالنسبة إلينا دولابية، ومنها ما يتحرك حمائلية
(1)، ومنها ما يتحرك رحوية، ومنها ما يشمل على الوسط ولكن ليس
--------------------------------------------
প্রথম নিবন্ধ: ঊর্ধ্বজগত প্রসঙ্গেএবং এতে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা রয়েছে:
(প্রথম আলোচনা: গোলকসমূহের স্বরূপ, তাদের আকৃতি, অবস্থান এবং গতিবিধি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা) দার্শনিকগণ মনে করেন যে, গোলক (ফলাক) হলো একটি গোলাকার বস্তু যা তার কেন্দ্রকে বেষ্টন করে আছে এবং তার ওপর আবর্তিত হয়। এটি হালকাও নয়, ভারীও নয়; এটি শীতলও নয়, উষ্ণও নয়; এটি আর্দ্রও নয় এবং শুষ্কও নয়। এটি বিদীর্ণ হওয়া বা পুনরায় জোড়া লাগার যোগ্য নয়। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে এমন সব প্রমাণ রয়েছে যা দর্শনশাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে, আর আমাদের এই গ্রন্থ সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করার স্থান নয়। গোলকসমূহ হলো একে অপরকে পরিবেষ্টনকারী কতগুলো মণ্ডল, যা সমষ্টিগতভাবে একটি গোলক গঠন করেছে যাকে বলা হয়: 'জগত'। মৌলিক উপাদানসমূহের (আনাছির) সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো চন্দ্রের গোলক, এরপর বুধের গোলক, এরপর শুক্রের গোলক, এরপর সূর্যের গোলক, এরপর মঙ্গলের গোলক, এরপর বৃহস্পতির গোলক, এরপর শনির গোলক, এরপর স্থির নক্ষত্রপুঞ্জের গোলক এবং সবশেষে গোলকসমূহের গোলক (মহা গোলক)।
জেনে রাখুন যে, প্রতিটি গোলকের একটি নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে যা থেকে সেটি স্থানচ্যুত হয় না, তবে সেটি নিজ দেহ নিয়ে তাতে সর্বদা ঘূর্ণায়মান থাকে, চোখের পলক ফেলার মতো সময়ের জন্যও তা থামে না। এদের গতির তীব্রতা মানুষের দেখা সব কিছুর চেয়ে দ্রুততর। এমনকি জ্যামিতিক হিসাবে এটি সঠিক প্রমাণিত হয়েছে যে, একটি ঘোড়া প্রচণ্ড বেগে দৌড়ানোর সময় তার পা মাটি থেকে উপরে তুলে পুনরায় নিচে রাখার মধ্যবর্তী সময়ে মহা গোলকটি (আল-ফলাক আল-আজম) তিন হাজার ফারসাখ পথ অতিক্রম করে। এরপর গোলকসমূহের মধ্যে কোনটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে আবর্তিত হয়, যেমন মহা গোলক; আর কোনটি পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তিত হয়, যেমন স্থির নক্ষত্রপুঞ্জ ও গ্রহসমূহের গোলক। এদের মধ্যে কোনোটির গতি চাকার মতো, কোনোটির গতি তীর্যক
(১), কোনোটির গতি যাঁতার মতো এবং কোনোটি কেন্দ্রকে বেষ্টন করে থাকলেও তা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
مركزه مركز العالم كالأفلاك التسعة، ومنها ما يشتمل على الوسط لكن ليس مركزه مركز العالم كخارج المراكز، ومنها ما ليس مشتملا على الوسط كأفلاك التداوير، وسيأتي شرحها إن شاء الله تعالى.
ومن الأفلاك ما لم يعرف له إلا كوكب واحد كأفلاك السيارات، ومنها ما لم يعلم عدد كواكبها إلا الله تعالى كفلك الثوابت، ومنها ما ليس له كوكب أصلا في العالم بحسب ما عرف من آراء المتقدمين وأصحاب الأرصاد ولا سيّما بطليموس؛ فإن اعتماد القوم على رصده خمس وأربعون حركة للفلك الأعظم، وحركة لفلك الثوابت، وثمان عشرة حركة لأفلاك الكواكب العلوية لكل واحد منها ست حركات، وحركتان لفلك الشمس، وست حركات لفلك الزهرة، وتسع حركات لفلك عطارد، وست حركات لفلك القمر، وحركتان لما دون فلك القمر وهما حركتا الثقل والخفة، وهذا ما بلغ إليه فهم العقلاء وذهن الأذكياء، والله هو الموفق.
(النظر الثاني) في نظرية القمر وهو يحده سطحان كرويان متوازيان مركزهما مركز العالم:
السطح الأعلى منهما لمقعر فلك عطارد، والأدنى لمحدب كرة النار ويتم دورته في كل ثمانية وعشرين يوما بحركته التي تختص به من المغرب إلى المشرق
(1)، وفلك تدويره يدور في الفلك الحاوي في كل أربعة عشر يوما مرة، ففي الدورة الأولى يكون القمر بوجهه الممتلئ إلى مركز الأرض، ثم إن فلكه الكلي ينقسم إلى أربعة أفلاك: ثلاثة منها شاملة للأرض، وواحد صغير غير شامل أما الشاملة فالأول منها: يسمى فلك الجوزهر وهو الذي يماس السطح الأعلى منه السطح الأدنى من فلك عطارد، والثاني منها: يماس السطح الأعلى منه مقعر فلك الجوزهر والثالث منها:
فلك خارج المركز في الفلك المائل من مركزه خارج عن مركز العالم مائل إلى جنب من الفلك الكلي بحيث يماس مقعر سطحية السطح الأدنى من الفلك الكلي على نقطة مشتركة بينهما، ويسمى الأوج، ويماس مقعر سطحيه السطح الأدنى من الفلك الكلي على نقطة مشتركة بينهما، ويسمى الحضيض فيحصل سطحان مختلفا الثخن: أحدهما: حاو للفلك الخارج. والآخر: محوي فيه.
--------------------------------------------
এর কেন্দ্রটি বিশ্বের কেন্দ্রের মতো, যেমন নয়টি আকাশমণ্ডলীর কেন্দ্র। তাদের মধ্যে কিছু আছে যা মধ্যভাগকে পরিবেষ্টন করে কিন্তু সেটির কেন্দ্র বিশ্বের কেন্দ্র নয়, যেমন উৎকেন্দ্রিক মণ্ডলী। আবার কিছু আছে যা মধ্যভাগকে পরিবেষ্টন করে না, যেমন অনুচক্র মণ্ডলী (তাদাভীর); আল্লাহ চাহেন তো অচিরেই এগুলোর ব্যাখ্যা আসবে।
আকাশমণ্ডলীর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার জন্য কেবল একটি গ্রহ বা নক্ষত্রই পরিচিত, যেমন গ্রহমণ্ডলসমূহ। আবার এমন কিছু আছে যার নক্ষত্র সংখ্যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কেউ জানে না, যেমন স্থির নক্ষত্রমণ্ডল। আবার এমন কিছু আছে যার বিশ্বের মধ্যে কোনো নক্ষত্রই নেই, যা পূর্ববর্তী পণ্ডিতগণ ও পর্যবেক্ষণকারীগণের বিশেষত টলেমি-এর অভিমত অনুযায়ী জানা গেছে। কেননা তাদের নির্ভরতা ছিল তাঁর পর্যবেক্ষণের ওপর: মহাকাশমণ্ডলীর পঁয়তাল্লিশটি গতি, স্থির নক্ষত্রমণ্ডলীর একটি গতি, উচ্চতর গ্রহমণ্ডলসমূহের আঠারোটি গতি—যার প্রত্যেকটির জন্য ছয়টি করে গতি, সূর্যমণ্ডলীর জন্য দুটি গতি, শুক্র মণ্ডলীর জন্য ছয়টি গতি, বুধ মণ্ডলীর জন্য নয়টি গতি, চন্দ্রমণ্ডলীর জন্য ছয়টি গতি এবং চন্দ্রমণ্ডলীর নিচে যা আছে তার জন্য দুটি গতি—আর তা হলো গুরুভার ও লঘুভার হওয়ার গতি। বুদ্ধিমান ও মেধাবীদের অনুধাবন এতটুকুই পৌঁছেছে, আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণ) চন্দ্রমণ্ডলী সংক্রান্ত আলোচনা: এটি দুটি সমান্তরাল গোলাকার পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ যার কেন্দ্র বিশ্বের কেন্দ্র:
এর মধ্যে উপরের পৃষ্ঠটি বুধ মণ্ডলীর অবতল অংশের সাথে এবং নিচের পৃষ্ঠটি অগ্নি-গোলকের উত্তল অংশের সাথে যুক্ত। এটি পশ্চিম থেকে পূর্বে তার নিজস্ব গতিতে প্রতি আটাশ দিনে একবার আবর্তন সম্পন্ন করে
(১)। এর অনুচক্র মণ্ডলীটি ধারণকারী মণ্ডলীর মধ্যে প্রতি চৌদ্দ দিনে একবার আবর্তিত হয়। প্রথম আবর্তনে চাঁদ তার পূর্ণ অবয়ব নিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে মুখ করে থাকে। এরপর এর সামগ্রিক মণ্ডলীটি চারটি মণ্ডলীতে বিভক্ত হয়: এর তিনটি পৃথিবীকে পরিবেষ্টনকারী এবং একটি ছোট যা পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে না। পরিবেষ্টনকারীগুলোর মধ্যে প্রথমটিকে বলা হয় জাওজাহর মণ্ডলী, যার উপরের পৃষ্ঠ বুধ মণ্ডলীর নিচের পৃষ্ঠকে স্পর্শ করে। দ্বিতীয়টি: যার উপরের পৃষ্ঠ জাওজাহর মণ্ডলীর অবতল পৃষ্ঠকে স্পর্শ করে। এবং তৃতীয়টি:
বাঁকা মণ্ডলীর ভেতরে থাকা একটি উৎকেন্দ্রিক মণ্ডলী, যার কেন্দ্র বিশ্বের কেন্দ্রের বাইরে এবং যা সামগ্রিক মণ্ডলীর একপাশে ঝুঁকে থাকে; এমনভাবে যে এটি সামগ্রিক মণ্ডলীর নিচের পৃষ্ঠের অবতল অংশকে তাদের মধ্যকার একটি সাধারণ বিন্দুতে স্পর্শ করে যাকে উচ্চবিন্দু (আওজ) বলা হয়, এবং তার পৃষ্ঠতলের অবতল অংশকে সামগ্রিক মণ্ডলীর নিচের পৃষ্ঠের একটি সাধারণ বিন্দুতে স্পর্শ করে যাকে নিচুবিন্দু (হাদিজ) বলা হয়। ফলে ভিন্ন ভিন্ন পুরুত্বের দুটি পৃষ্ঠ তৈরি হয়: একটি উৎকেন্দ্রিক মণ্ডলীকে ধারণকারী এবং অন্যটি তার মধ্যে বেষ্টিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
ورقة الحاوي مما يلي الأوج، وغلظه مما يلي الحضيض، ورقة المحوي وغلظه بالعكس، ويقال لكل واحد منهما: المتمم. أما الفلك الصغير فهو في ثخن الفلك الخارج المركز، يقال له:
فلك التدوير والقمر مركوز فيه يتحرك بحركته وحركة هذا الفلك حركة مختصة به، مغايرة لحركة الفلك الكلي، وزعموا أن ثخن فلك القمر وهو بعد ما بين سطحه الأعلى وسطحه الأدنى مائة ألف وثمانية عشر ألفا وستة وستون ميلا، وبطليموس قد ذكر ثخن الأفلاك ومقادير أجرام الكواكب ودوائرها وأقطارها
(1)، ولا تستصعبن ذلك فإنه لا يصعب إلا على من لا دراية له بعلم الهندسة، وأما من حل الثانية من إقليدس فيسهل عليه ذلك إن كان فطنا.
فصلوأما القمر فهو كوكب مكانه الطبيعي الفلك الأسفل من شأنه أن يقبل النور من الشمس على أشكال مختلفة، ولونه الداني إلى السواد يبقى في كل برج ليلتين وثلث الليلة، ويقطع جميع الفلك في شهر، وهو أصغر الكواكب فلكا، وأسرعها سيرا، وزعموا أن جرم القمر جزء من تسعة وثلاثين جزءا، أو ربع الجزء من جرم الأرض، ودورة القمر أربعمائة واثنان وخمسون ميلا بالتقريب.
هذا ما وصل إليه آراء الحكماء بحكم المقدمات الحسابية.
فصل: في زيادة ضوئه ونقصانهالقمر جرم كثيف مظلم قابل للضياء لا القليل منه على ما يرى في ظاهره، فالوجه الذي يواجه الشمس مضيء أبدا، فإذا كان قريبا من الشمس كان الوجه المظلم مواجها للأرض، وإذا بعد عن الشمس إلى المشرق ومال النصف المظلم من الجانب الذي يلي المغرب إلى الأرض تظهر من النصف المضيء قطعة هي الهلال، ثم يتزايد الانحراف وتزداد بتزايده القطعة من النصف
--------------------------------------------
ধারণকারী গোলকের পাতলা অংশ অপভূর দিকে এবং এর পুরুত্ব অনুভূর দিকে। আর ধারণকৃত গোলকের পাতলা অংশ ও পুরুত্ব এর বিপরীত। এদের প্রত্যেকটিকে পরিপূরক গোলক বলা হয়। আর ছোট গোলকটি কেন্দ্রবহির্ভূত গোলকের পুরুত্বের মধ্যে অবস্থিত, একে বলা হয়:
পরিক্রমণ গোলক (এপিসাইকেল) এবং চাঁদ এতে প্রোথিত, যা তার গতির সাথে সাথে ঘোরে। এই গোলকের গতি তার নিজস্ব স্বতন্ত্র গতি, যা সামগ্রিক গোলকের গতির চেয়ে ভিন্ন। তারা দাবি করেছেন যে, চন্দ্র গোলকের পুরুত্ব—যা এর উপরের পৃষ্ঠ ও নিচের পৃষ্ঠের মধ্যবর্তী দূরত্ব—এক লক্ষ আঠারো হাজার ছেষট্টি মাইল। টলেমি গোলকসমূহের পুরুত্ব, গ্রহসমূহের দেহের পরিমাপ, তাদের কক্ষপথ এবং ব্যাস উল্লেখ করেছেন
(১)। আপনি এটিকে কঠিন মনে করবেন না, কারণ এটি কেবল তাদের কাছেই কঠিন মনে হয় যাদের জ্যামিতি শাস্ত্রে জ্ঞান নেই। আর যে ব্যক্তি ইউক্লিডের দ্বিতীয় অধ্যায় সমাধান করেছে, সে যদি বুদ্ধিমান হয় তবে তার জন্য এটি সহজ হবে।
পরিচ্ছেদআর চাঁদ হলো একটি গ্রহ যার প্রাকৃতিক অবস্থান হলো সর্বনিম্ন গোলক। সূর্যের কাছ থেকে বিভিন্ন আকৃতিতে আলো গ্রহণ করা এর বৈশিষ্ট্য। এর রঙ কালোত্বের কাছাকাছি। এটি প্রতিটি রাশিতে দুই রাত এবং রাতের এক-তৃতীয়াংশ অবস্থান করে এবং এক মাসে সম্পূর্ণ কক্ষপথ অতিক্রম করে। এটি গ্রহগুলোর মধ্যে কক্ষপথে সবচেয়ে ছোট এবং গতিতে সবচেয়ে দ্রুত। তারা দাবি করেছেন যে, চাঁদের দেহ পৃথিবীর দেহের ঊনচল্লিশ ভাগের এক ভাগ অথবা এক চতুর্থাংশের এক ভাগ। চাঁদের পরিধি আনুমানিক চারশত বায়ান্ন মাইল।
গাণিতিক প্রাঙ্গণের বিচারে এটিই বিজ্ঞদের মতামতের নির্যাস।
পরিচ্ছেদ: তার আলোর বৃদ্ধি ও হ্রাস প্রসঙ্গেচাঁদ একটি ঘন অন্ধকার দেহ যা আলো গ্রহণ করতে সক্ষম, বাহ্যত যা দেখা যায় তার সামান্য অংশ নয়। সুতরাং যে দিকটি সূর্যের মুখোমুখি থাকে তা সর্বদা আলোকিত থাকে। যখন এটি সূর্যের কাছাকাছি থাকে, তখন অন্ধকার দিকটি পৃথিবীর মুখোমুখি থাকে। আর যখন এটি সূর্য থেকে পূর্ব দিকে দূরে সরে যায় এবং পশ্চিমের দিকে থাকা অন্ধকার অর্ধেক অংশ পৃথিবীর দিকে হেলে পড়ে, তখন আলোকিত অর্ধেক থেকে একটি অংশ দৃশ্যমান হয় যা হলো ‘হিলাল’ (নতুন চাঁদ)। এরপর বিচ্যুতি বাড়তে থাকে এবং এর সাথে সাথে আলোকিত অর্ধেকের অংশটিও বাড়তে থাকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المضيء، حتى إذا كان في مقابلة الشمس ينقص الضياء من الجانب الذي بدأ بالضياء على الترتيب الأول حتى إذا صار في مقابلة الشمس كان النصف المواجه للشمس هو النصف المواجه لنا فنراه بدرا، ثم يقرب من الشمس فينقص الضياء من الجانب الذي بدأ بالضياء على الترتيب الأول حتى إذا صار في مقابلة الشمس ينمحق نوره ويعود إلى الموضع الأول، وينزل كل ليلة منزلا من المنازل الثمانية والعشرين ثم يستتر ليلة، فإن كان الشهر تسعة وعشرين استتر ليلة ثمانية وعشرين، وإن كان ثلاثين استتر ليلة تسعة وعشرين، ويقطع في استتاره منزلا ثم يتجاوز الشمس فيرى هلالا، وذلك قوله تعالى: {وَالْقَمَرَ قَدَّرْناهُ مَنازِلَ حَتّى عادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ} [يس: 39] يريد أنه ينزل كل ليلة منزلا منها حتى يصير كأصل العذق إذا قدم، ورقّ، واستقوس.
فصل: في خسوفهوسببه توسط الأرض بينه وبين الشمس فإذا كان القمر في إحدى نقطتي الرأس والذنب، أو قريبا منه عند الاستقبال تتوسط الأرض بينه وبين الشمس فيقع في ظل الأرض، ويبقى على سواده الأصلي فيرى منخسفا، والشمس أعظم من الأرض فيكون ظل الشمس مخروطا قاعدته دائرة صفحة الأرض؛ لأن الخطوط الشعاعية التي تخرج من الشمس إلى جرم الأرض لا تكون متوازية فإذا اتصلت بمحيط الأرض ونفذت في الجهة الأخرى تلاقيا عند نقطة فيحصل ظل الأرض على شكل المخروط، فإذا لم يكن للقمر عرض عن فلك البروج عند الاستقبال وقع كله في جرم المخروط فيخسف كله حينئذ، وإن كان له عرض يخسف بعضه، وربما يماس جرم القمر مخروط الظل ولا يقع فيه شيء وذلك إذا كان عرض القمر مساويا لنصف مجموع القطرين، أعني: قطر القمر، وقطر الظل، وإذا كان أقل من نصف القطرين يخسف بعضه.
فصل: في خواص القمر وتأثيراته العجيبةوزعموا أن تأثيراته بواسطة الرطوبة كما أن تأثيرات الشمس بواسطة الحرارة ويدل عليها اعتبار أهل التجارب، ومنها أمر البحار، فإن القمر إذا صار في أفق من آفاق البحر أخذ ماؤه في المد مقبلا مع القمر، ولا يزال كذلك إلى أن يصير القمر في وسط سماء ذلك الموضع فإذا صار هناك انتهى المد منتهاه فإذا انحط القمر من وسط سمائه جزر الماء ولا يزال كذلك راجعا إلى أن يبلغ القمر مغربه فعند ذلك ينتهي الجزر منتهاه، فإذا زال القمر من مغرب ذلك الموضع ابتدأ المد مرة ثانية إلا أنه أضعف من الأولى، ثم لا يزال كذلك إلى أن يصير القمر في وتد الأرض فحينئذ ينتهي المد منتهاه في المرة الثانية في ذلك الموضع، ثم يبتدئ بالجزر والرجوع، ولا يزال كذلك
আলোকোজ্জ্বল, এমনকি যখন এটি সূর্যের মুখোমুখি হয় তখন প্রথম ক্রমানুসারে যে দিক থেকে আলো শুরু হয়েছিল সেই দিক থেকে আলো কমতে থাকে। অবশেষে যখন এটি সূর্যের বিপরীতে পৌঁছে, তখন সূর্যের সম্মুখভাগের অর্ধাংশই আমাদের সম্মুখভাগে থাকে, ফলে আমরা একে পূর্ণিমার চাঁদ হিসেবে দেখি। এরপর এটি সূর্যের নিকটবর্তী হতে থাকে এবং প্রথম ক্রমানুসারে যে দিক থেকে আলো শুরু হয়েছিল সেই দিক থেকে আলো কমতে থাকে। অবশেষে যখন এটি সূর্যের সমান্তরালে আসে তখন এর আলো বিলীন হয়ে যায় এবং এটি প্রথম স্থানে ফিরে আসে। এটি প্রতি রাতে আটাশটি মঞ্জিলের একটি মঞ্জিলে অবতরণ করে, এরপর এক রাত অদৃশ্য থাকে। যদি মাস ঊনত্রিশ দিনের হয় তবে আটাশতম রাতে অদৃশ্য থাকে, আর যদি ত্রিশ দিনের হয় তবে ঊনত্রিশতম রাতে অদৃশ্য থাকে। অদৃশ্য থাকার সময়ে এটি একটি মঞ্জিল অতিক্রম করে এবং এরপর সূর্যকে ছাড়িয়ে গেলে নতুন চাঁদ হিসেবে পরিদৃষ্ট হয়। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {আর চাঁদের জন্য আমি মঞ্জিলসমূহ নির্ধারিত করেছি, অবশেষে তা পুরনো খেজুর শাখার ন্যায় হয়ে যায়} [সূরা ইয়াসিন: ৩৯]। এর অর্থ হলো চাঁদ প্রতি রাতে এর একটি মঞ্জিলে অবতরণ করে যতক্ষণ না তা শুকিয়ে যাওয়া, চিকন হয়ে যাওয়া এবং ধনুকাকৃতি ধারণ করা পুরনো খেজুরের ডালের গোড়ার মতো হয়ে যায়।
পরিচ্ছেদ: চন্দ্রগ্রহণ প্রসঙ্গেএর কারণ হলো চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে পৃথিবীর অবস্থান। যখন চাঁদ রাহু বা কেতু নামক বিন্দুদ্বয়ের কোনো একটিতে থাকে, অথবা পূর্ণিমার সময় এর নিকটবর্তী হয়, তখন পৃথিবী চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে। ফলে চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে পড়ে যায় এবং এর আদি অন্ধকার অবস্থায় থাকে, ফলে একে গ্রহণ লাগা অবস্থায় দেখা যায়। সূর্য পৃথিবী অপেক্ষা অনেক বড়, তাই সূর্যের ছায়া (পৃথিবীর ছায়া) মোচাকৃতির হয় যার ভূমি হলো পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠ; কারণ সূর্য থেকে পৃথিবীর পিণ্ডের দিকে নির্গত আলোক রশ্মিগুলো সমান্তরাল হয় না, ফলে যখন সেগুলো পৃথিবীর পরিধির সাথে মিলিত হয়ে অপর দিকে অতিক্রম করে তখন একটি বিন্দুতে গিয়ে মিলিত হয় এবং পৃথিবীর ছায়াটি মোচাকৃতির রূপ পায়। সুতরাং পূর্ণিমার সময় যদি রাশিচক্রের সমতল থেকে চাঁদের কোনো অক্ষাংশীয় বিচ্যুতি না থাকে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে সেই মোচাকৃতির ছায়ার ভেতরে পড়ে যায় এবং তখন পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। আর যদি তার অক্ষাংশীয় বিচ্যুতি থাকে, তবে আংশিক গ্রহণ ঘটে। কখনো কখনো চাঁদের পিণ্ড ছায়ার মোচাকৃতিকে স্পর্শ করে কিন্তু তার ভেতরে কিছুই পড়ে না; এটি তখন হয় যখন চাঁদের অক্ষাংশীয় বিচ্যুতি চন্দ্র ও ছায়ার ব্যাসার্ধদ্বয়ের সমষ্টির সমান হয়। আর যদি তা ব্যাসার্ধদ্বয়ের সমষ্টির চেয়ে কম হয়, তবে আংশিক গ্রহণ ঘটে।
পরিচ্ছেদ: চাঁদের বৈশিষ্ট্য ও এর বিস্ময়কর প্রভাব প্রসঙ্গেপণ্ডিতগণ মনে করেন যে, চাঁদের প্রভাব আর্দ্রতার মাধ্যমে হয়ে থাকে, যেমন সূর্যের প্রভাব উত্তাপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। অভিজ্ঞ মহলের পর্যবেক্ষণ এর প্রমাণ দেয়। এর মধ্যে একটি হলো সমুদ্রের বিষয়াবলী; কেননা চাঁদ যখন সমুদ্রের কোনো দিগন্তে উপস্থিত হয়, তখন এর পানি চাঁদের সাথে সাথে জোয়ারের রূপ নিয়ে ধেয়ে আসতে শুরু করে। এটি অব্যাহত থাকে যতক্ষণ না চাঁদ সেই স্থানের মধ্যগগনে পৌঁছে। যখন সেখানে পৌঁছে, জোয়ার তখন তার সর্বোচ্চ সীমায় উপনীত হয়। এরপর যখন চাঁদ মধ্যগগন থেকে নামতে শুরু করে, তখন ভাটা শুরু হয় এবং এটি অব্যাহতভাবে ফিরে যেতে থাকে যতক্ষণ না চাঁদ অস্তমিত হয়। সেই মুহূর্তে ভাটা তার শেষ সীমায় পৌঁছায়। এরপর চাঁদ যখন সেই স্থানের অস্তগমন বিন্দু থেকে সরে যায়, তখন দ্বিতীয়বার জোয়ার শুরু হয়, তবে তা প্রথমটির তুলনায় দুর্বল থাকে। এরপর এটি চলতেই থাকে যতক্ষণ না চাঁদ পৃথিবীর বিপরীত মেরুতে (অতল বিন্দু) পৌঁছে, তখন সেই স্থানে দ্বিতীয়বারের মতো জোয়ার পূর্ণতা পায়। এরপর পুনরায় ভাটা ও পিছুটান শুরু হয় এবং এভাবেই চলতে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
حتى يبلغ القمر أفق مشرق ذلك الموضع فيعود المد إلى ما كان عليه أوّلا، فيكون في كل يوم وليلة مقدار مسير القمر فيهما في ذلك البحر مدان وجزران.
(ومنها) أمر أبدان الحيوانات فإنها في وقت زيادة القمر وضوئه تكون أقوى، والسخونة والرطوبة والنمو عليها أغلب وتكون الأخلاط في بدن الإنسان ظاهرة والعروق تكون ممتلئة وبعد الامتلاء تكون الأبدان أضعف، والبرد عليها أغلب والنمو أقل، والأخلاق في غور البدن، والعروق أقل امتلاء، وذلك أمر ظاهر عند علماء الطب.
(ومنها) أن الأطباء ذهبوا إلى أن أحوال البحر أنات وتقارب أيامها مبنية على زيادة ضوء القمر ونقصانه، وكتب الطب ناطقة بذلك، وزعموا أن الذين يمرضون في أول الشهر أبدانهم وقواهم على دفع المرض أقوى، والذي يمرضون في آخر الشهر بالضد.
(ومنها) أن شعور الحيوانات يسرع نباتها ما دام القمر زائد النور ويغلظ ويكبر، وإذا كان ناقص النور أبطأ نباته ولم يغلظ.
(ومنها) أن الحيوانات تكثر ألبانها من ابتداء زيادة نور القمر إلى الامتلاء وتزداد أدمغتها، وبياض البيض المنعقد في أول الشهر أكثر، وإذا نقص نور القمر نقصت غزارة الألبان ومادة الأدمغة وكثرة بياض البيض.
(ومنها) أن الإنسان إذا أكثر القعود أو النوم في ضوء القمر تولّد في بدنه الكسل والاستراخاء ويهيج عليه الزكام والصداع، وإذا كانت لحوم الحيوانات بادية لضوء القمر تغيرت رائحتها وطعمها.
(ومنها) أن السمك يوجد في البحار والأنهار من أول الشهر إلى الامتلاء أكثر مما يوجد من الامتلاء إلى آخر الشهر، ويكون أيضا في النصف الأول من الشهر أسمن منه في النصف الأخير.
(ومنها) أن حشرات الأرض خروجها من أجحرتها في النصف الأول من الشهر أكثر من خروجها منه في النصف الأخير، وكل حيوان يلسع أو يعض فإنه في النصف الأول من الشهر أقوى منه في النصف الأخير، وسمّه أشد تأثيرا.
(ومنها) أن السباع في النصف الأول أشد طلبا للصيد منها في النصف الأخير. (ومنها) أن الأشجار إذا غرست والقمر زائد النور علقت وأسرعت النشوء والحمل، وإن وقع اللقاح والحمل والقمر زائد النور كانا جيدين، وإن وقعا والقمر ناقص النور أو زائلا من وسط السماء لم
যতক্ষণ না চাঁদ সেই স্থানের পূর্ব দিগন্তে পৌঁছায়, তখন জোয়ার তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে; ফলে সেই সমুদ্রে চাঁদের পরিক্রমণ অনুযায়ী প্রতিদিন ও রাতে দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
(তন্মধ্যে একটি হলো) প্রাণীদের দেহের বিষয়; চাঁদের বৃদ্ধি ও জ্যোৎস্নার সময় এগুলো অধিক শক্তিশালী থাকে এবং তাদের মধ্যে উষ্ণতা, আর্দ্রতা ও বৃদ্ধি প্রবল হয়। মানুষের দেহের ধাতুসমূহ প্রকাশ্য থাকে এবং শিরাগুলো পূর্ণ থাকে। আর পূর্ণতার পরে দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে, শীতলতা প্রবল হয় এবং বৃদ্ধি কমে যায়। তখন ধাতুসমূহ দেহের গভীরে চলে যায় এবং শিরাগুলোর পূর্ণতা হ্রাস পায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিকট এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয়।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) চিকিৎসকদের অভিমত এই যে, সমুদ্রের অবস্থা এবং সময়ের সামঞ্জস্য চাঁদের আলো বৃদ্ধি ও হ্রাসের ওপর নির্ভরশীল; চিকিৎসাবিজ্ঞানের গ্রন্থসমূহ এই বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেয়। তারা ধারণা করেন যে, মাসের শুরুতে যারা অসুস্থ হয়, তাদের দেহ ও রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা অধিক শক্তিশালী থাকে, আর মাসের শেষে যারা অসুস্থ হয় তাদের অবস্থা এর বিপরীত।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) প্রাণীদের লোম বা চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায় যতক্ষণ চাঁদের আলো বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তা স্থূল ও বড় হয়। আর যখন চাঁদের আলো কমতে থাকে, তখন তার বৃদ্ধি মন্থর হয় এবং তা স্থূল হয় না।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) চাঁদের আলো বৃদ্ধি পেতে শুরু করার পর থেকে পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রাণীদের দুধ বৃদ্ধি পায় এবং তাদের মগজ বৃদ্ধি পায়। মাসের শুরুতে ডিমের জমাটবদ্ধ শুভ্র অংশ অধিক থাকে। আর যখন চাঁদের আলো কমে যায়, তখন দুধের প্রাচুর্য ও মগজের উপাদান কমে যায় এবং ডিমের শুভ্র অংশও হ্রাস পায়।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) মানুষ যদি চাঁদের আলোতে অধিক সময় বসে থাকে বা ঘুমায়, তবে তার দেহে অলসতা ও শৈথিল্য সৃষ্টি হয় এবং তার সর্দি ও মাথাব্যথা বৃদ্ধি পায়। আর যদি প্রাণীদের মাংস চাঁদের আলোর সংস্পর্শে থাকে, তবে তার গন্ধ ও স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে যায়।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) মাসের শুরু থেকে পূর্ণতা পর্যন্ত সমুদ্র ও নদীতে মাসের শেষার্ধের তুলনায় অধিক মাছ পাওয়া যায়। মাসের প্রথমার্ধে মাছ শেষার্ধের তুলনায় অধিক হৃষ্টপুষ্ট হয়।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) মাসের প্রথমার্ধে মাটির পোকামাকড় তাদের গর্ত থেকে বের হওয়ার হার শেষার্ধের তুলনায় বেশি। প্রতিটি প্রাণী যা দংশন করে বা কামড়ায়, তারা মাসের প্রথমার্ধে শেষার্ধের তুলনায় অধিক শক্তিশালী থাকে এবং তাদের বিষ অধিক তীব্র হয়।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) হিংস্র প্রাণীরা মাসের প্রথমার্ধে শেষার্ধের তুলনায় অধিক শিকার অন্বেষণ করে। (তন্মধ্যে আরও একটি হলো) চাঁদের আলো বৃদ্ধির সময় বৃক্ষ রোপণ করা হলে তা শিকড় বিস্তার করে এবং দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও ফল দেয়। যদি চাঁদের আলো বৃদ্ধির সময় পরাগায়ন ও গর্ভধারণ ঘটে, তবে তা উত্তম হয়। আর যদি তা চাঁদের আলো হ্রাস পাওয়ার সময় বা আকাশের মধ্যভাগ থেকে চাঁদ সরে যাওয়ার সময় ঘটে, তবে তা ভাল হয় না।
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يسرع النبات، وأبطأت في الحمل وربما يبست.
(ومنها) أن الفواكه والرياحين والزرع والبقول والأعشاب زيادتها من وقت زيادة القمر إلى الامتلاء أكثر من زيادتها ونموها من الامتلاء إلى المحاق، وهذا أمر ظاهر عند أرباب الفلاحة حتى عند عامتهم فضلا عن علمائهم، فإنهم يجدون تأثير ذلك ولا سيما في البقول والخوخ والبطيخ والسمسم والقثاء والخيار والقرع من أول الشهر إلى نصفه يزيد أكثر مما يزيد من نصف الشهر إلى آخره.
(ومنها) أن الفواكه إذا وقع عليها ضوء القمر أعطاها لونا عجيبا من حمرة أو صفرة، فالتي يقع عليها الضوء في النصف الأول من الشهر أحسن لونا مما يقع عليها في النصف الأخير.
(ومنها) أن نبات القصب والكتان إذا وقع عليهما ضوء القمر في النصف الأول أشد تقطعا مما وقع عليهما آخر الشهر.
(ومنها) أن المعادن التي تتكون يكون جوهرها وصفاؤها أشد إذا كان تولدها من أول الشهر ولو كان في آخره لا يكون كذلك.
خاتمة: في المجرةوهو البياض الذي يرى في السماء يقال لها: شرج السماء إلى زماننا هذا لم يسمع في حقيقتها قول شاف
(1).
زعموا أنها كواكب صغار متقاربة بعضها من بعض، والعرب تسميها أم النجوم؛ لاجتماع النجوم وفيها زعموا أن النجوم تقاربت من المجرة فطمس بعضها بعضا فصارت كأنها سحاب، وهي ترى في الشتاء أول الليل في ناحية من السماء وفي الصيف أول الليل في وسط السماء ممتدّا من الشمال إلى الجنوب، وبالنسبة إلينا تدور دورا رحويّا فتراها نصف الليل من المشرق إلى المغرب، وفي الليل من الجنوب إلى الشمال فما كان منها شماليّا يكون جنوبيّا، وما كان جنوبيّا يكون شماليّا، والله أعلم بحقيقتها، وتكون على فلك يختص بها يدور بالنسبة إلينا رحويّا أو على شيء من الأفلاك المذكورة.
--------------------------------------------
উদ্ভিদ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, এবং গর্ভধারণে বিলম্ব ঘটে এবং সম্ভবত শুকিয়ে যায়।
(তন্মধ্যে একটি হলো) ফলমূল, সুগন্ধি ফুল, শস্য, ডালজাতীয় শস্য ও তৃণলতার বৃদ্ধি চাঁদের বাড়ার সময় থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত সময়ে, পূর্ণিমা থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত সময়ের বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হয়। এটি কৃষি বিশেষজ্ঞদের নিকট একটি সুস্পষ্ট বিষয়, এমনকি তাদের সাধারণ লোকদের কাছেও, পণ্ডিতদের কথা তো বলাই বাহুল্য। কেননা তারা এর প্রভাব অনুভব করেন, বিশেষ করে ডাল, পিচ ফল, তরমুজ, তিল, কাঁকুড়, শসা এবং লাউয়ের ক্ষেত্রে; মাসের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত এগুলোর বৃদ্ধি মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত সময়ের চেয়ে বেশি হয়।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) ফলের ওপর চাঁদের আলো পড়লে তা তাতে লাল বা হলুদের এক অদ্ভুত রঙ দান করে। সুতরাং মাসের প্রথম অর্ধে যে ফলের ওপর আলো পড়ে, তার রঙ মাসের শেষ অর্ধে আলো পড়া ফলের চেয়ে সুন্দর হয়।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) নলখাগড়া এবং তিসি গাছের ওপর যদি মাসের প্রথম অর্ধে চাঁদের আলো পড়ে, তবে তা মাসের শেষে আলো পড়ার চেয়ে বেশি সহজে ভঙ্গুর হয়।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) যেসব খনিজ পদার্থ গঠিত হয়, সেগুলোর উপাদান ও স্বচ্ছতা মাসের শুরুতে উৎপন্ন হলে অধিকতর দৃঢ় হয়; কিন্তু মাসের শেষে উৎপন্ন হলে তেমন হয় না।
উপসংহার: ছায়াপথ প্রসঙ্গেএটি হলো সেই শুভ্রতা যা আকাশে দেখা যায়। একে আকাশের 'শারজ' বলা হয়। আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক বক্তব্য শোনা যায়নি
(১)।
তারা ধারণা করেন যে, এগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নক্ষত্র। আর আরবরা নক্ষত্রদের সমাবেশের কারণে একে 'উম্মুন নুজুম' (নক্ষত্রজননী) বলে অভিহিত করে। তারা আরও ধারণা করেন যে, নক্ষত্রগুলো ছায়াপথের কাছাকাছি আসায় একে অপরের ওপর মিশে যায়, ফলে তা মেঘের মতো দেখায়। এটি শীতকালে রাতের শুরুতে আকাশের এক প্রান্তে এবং গ্রীষ্মকালে রাতের শুরুতে আকাশের মাঝখানে উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত অবস্থায় দেখা যায়। আমাদের সাপেক্ষে এটি যাঁতার মতো ঘোরে, ফলে আপনি একে মধ্যরাতে পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং রাতে দক্ষিণ থেকে উত্তরে দেখতে পান। ফলে এর যা কিছু উত্তরে ছিল তা দক্ষিণে চলে যায় এবং যা দক্ষিণে ছিল তা উত্তরে চলে যায়। আল্লাহই এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে ভালো জানেন। এটি তার নিজস্ব একটি কক্ষপথে থাকে যা আমাদের সাপেক্ষে যাঁতার মতো ঘোরে অথবা উল্লিখিত কোনো কক্ষপথের ওপর আবর্তিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(النظر الثالث في فلك عطارد) وهو يحده سطحان كرويان متوازيان مركزهما مركز العالم:
السطح الأعلى منهما مماس لمقعر فلك الزهرة، والأدنى لمحدب فلك المقر ويتم دورته التي تختص به من المغرب إلى المشرق في سنة واحدة وينفصل عنه فلك خارج المركز بمنزلة الفلك الخارج المركز للقمر في داخل ثخن الفلك الكلي، ويقال له: المدير، وينفصل عن فلك المدير فلك آخر خارج المركز يقال له: خارج المركز الثاني والكوكب في فلك التدوير، ويلزم أن يكون لعطارد أوجان: أحدهما: في الفلك الكلي، والثاني: في المدير، ويكون له أيضا حضيضان، وزعموا أن ثخن فلك عطارد وهو مسافة ما بين سطحه الأدنى ثلاثمائة ألف وثمانمائة وثمانون ألفا واثنان وثمانون ميلا، على رأي بطليموس صاحب الرصد، فإنه استخرج ذلك بالبراهين الهندسية، والله أعلم.
فصلوأما عطارد فسماه المنجمون
(1) منافقا؛ لكونه مع السعد سعدا، ومع النحس نحسا على زعمهم، وجرمه جزء من اثنين وعشرين جزءا من جرم الأرض، ودورة جرمه مائتان وستة وثمانون فرسخا، وقطر جرمه مائتان وثلاثة وسبعون ميلا، ويبقى في كل برج سبعة وعشرين يوما تقريبا وهو كثير الرجعة والاستقامة، يدور حول الشمس.
(النظر الرابع في فلك الزهرة) وهو يحده سطحان متوازيان مركزهما مركز العالم: الأعلى منهما مماس لفلك الشمس، والأدنى لفلك عطارد، وتتم دورته المختصة به من المغرب إلى المشرق في سنة واحد مثل فلك الشمس، غير أن فلك تدويره يسرع تارة فتصير الزهرة قدّام الشمس، ويبطئ أخرى فتصير الزهرة خلف الشمس، وثخن جرم فلك الزهرة وهو مسافة ما بين سطحه الأعلى والأدنى ثلاثة آلاف وسبعمائة وخمسة وتسعون ميلا، وصورته مشابهة لصورة فلك القمر سواء وفلك الشمس، على تقدير أن يكون جرم الشمس فلك التدوير من غير فرق.
فصلوأما الزهرة فسماها المنجمون السعد الأصغر؛ لأنها في السعادة دون المشترى، وأضافوا إليها الطرب والسرور واللهو، وجرم الزهرة جزء من أربعة وثلاثين جزءا وثلث الجزء من جرم
--------------------------------------------
(তৃতীয় পর্যবেক্ষণ: বুধ গ্রহের কক্ষপথ সম্পর্কে) এটি দুইটি সমান্তরাল গোলকীয় তল দ্বারা সীমাবদ্ধ যাদের কেন্দ্র হলো মহাবিশ্বের কেন্দ্র:
এগুলোর মধ্যে উপরের তলটি শুক্রের কক্ষপথের অবতল অংশের সাথে স্পর্শক অবস্থায় আছে এবং নিচের তলটি চাঁদের কক্ষপথের উত্তল অংশের সাথে। এটি পশ্চিম থেকে পূর্বে তার নিজস্ব আবর্তন এক বছরে সম্পন্ন করে। সমগ্র কক্ষপথের স্থূলতার অভ্যন্তরে এটি থেকে একটি উৎকেন্দ্রিক কক্ষপথ পৃথক হয়, যা চাঁদের উৎকেন্দ্রিক কক্ষপথের স্তরের মতো; একে বলা হয় 'আল-মুদির'। মুদির কক্ষপথ থেকে আরও একটি উৎকেন্দ্রিক কক্ষপথ পৃথক হয় যাকে 'দ্বিতীয় উৎকেন্দ্রিক' বলা হয় এবং গ্রহটি আবর্তনকারী বৃত্তে (এপিসাইকেল) থাকে। বুধের জন্য দুইটি অনুসূর (অপভূ) থাকা আবশ্যক: একটি পূর্ণ কক্ষপথে এবং দ্বিতীয়টি মুদির কক্ষপথে। এর দুইটি অপসূর (অনুভূ) ও থাকে। তারা দাবি করেন যে, বুধের কক্ষপথের স্থূলতা অর্থাৎ এর ওপরের ও নিচের তলের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো এগারো লক্ষ আশি হাজার বিরাশি মাইল। এটি পর্যবেক্ষণকারী টলেমির মতানুসারে, কেননা তিনি জ্যামিতিক প্রমাণের সাহায্যে এটি বের করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
পরিচ্ছেদবুধ গ্রহ সম্পর্কে জ্যোতিষীরা
(১) একে 'মুনাফিক' (কপট) বলে অভিহিত করেছে; কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী এটি শুভ নক্ষত্রের সাথে থাকলে শুভ এবং অশুভ নক্ষত্রের সাথে থাকলে অশুভ হিসেবে কাজ করে। এর অবয়ব পৃথিবীর অবয়বের বাইশ ভাগের এক ভাগ। এর পরিধি দুইশ ছিয়াশি ফারসাখ এবং এর ব্যাস দুইশ তিয়াত্তর মাইল। এটি প্রতিটি রাশিতে প্রায় সাতাশ দিন অবস্থান করে এবং এটি অনেক বেশি বক্রগতি ও সরলগতি সম্পন্ন হয়; এটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
(চতুর্থ পর্যবেক্ষণ: শুক্র গ্রহের কক্ষপথ সম্পর্কে) এটি দুইটি সমান্তরাল তল দ্বারা সীমাবদ্ধ যাদের কেন্দ্র হলো মহাবিশ্বের কেন্দ্র: এর উপরের তলটি সূর্যের কক্ষপথের সাথে স্পর্শক অবস্থায় আছে এবং নিচেরটি বুধের কক্ষপথের সাথে। এটি পশ্চিম থেকে পূর্বে তার নির্দিষ্ট আবর্তন সূর্যের কক্ষপথের ন্যায় এক বছরে সম্পন্ন করে। তবে এর আবর্তনকারী বৃত্ত কখনও দ্রুত গতিপ্রাপ্ত হয় ফলে শুক্র সূর্যের সামনে চলে আসে, আবার কখনও ধীর গতিপ্রাপ্ত হয় ফলে শুক্র সূর্যের পিছনে চলে যায়। শুক্রের কক্ষপথের স্থূলতা অর্থাৎ এর উপরের ও নিচের তলের মধ্যবর্তী দূরত্ব তিন হাজার সাতশ পঁচানব্বই মাইল। এর আকৃতি হুবহু চন্দ্র ও সূর্যের কক্ষপথের আকৃতির অনুরূপ, যদি সূর্যের গোলককে কোনো পার্থক্য ছাড়াই আবর্তনকারী বৃত্ত হিসেবে ধরা হয়।
পরিচ্ছেদশুক্র গ্রহ সম্পর্কে জ্যোতিষীরা একে 'সা'দে আসগর' (ছোট শুভ নক্ষত্র) বলে অভিহিত করেছে; কারণ সৌভাগ্যের দিক থেকে এটি বৃহস্পতির চেয়ে নিচে। তারা এর সাথে আনন্দ, উল্লাস ও আমোদ-প্রমোদকে সম্পর্কিত করে। শুক্রের অবয়ব পৃথিবীর অবয়বের চৌত্রিশ ভাগের এক ভাগ এবং একটি ভাগের এক-তৃতীয়াংশ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الأرض، وقطر جرمها أربعمائة وتسعة وأربعون ميلا وسدس الميل، تبقى في كل برج سبعة وعشرين يوما، وأما خواصها فزعموا أن النظر إليها مما يوجب فرحا وسرورا، وإذا كان بالناظر إليها حرارات السل تخفف عنه، وزعموا أن من شأنها الشبق والباه والألفة، حتى لو نكح رجل امرأة والزهرة حسنة الحال وقع بينهما من المحبة والألفة ما يتعجب منه.
(النظر الخامس في فلك الشمس) وهو يحده سطحان كرويان مركزهما مركز العالم: الأعلى منهما مماس لمقعر فلك المريخ، والأدنى منها مماس لمحدب فلك الزهرة، ودورته من المشرق إلى المغرب تتم في ثلاثمائة وستين يوما وربع اليوم، وينفصل عنه فلك شامل للأرض مركزه خارج المركز كما ذكره في أفلاك الكواكب الثلاثة من غير فرق إلا أن الشمس ها هنا بمنزلة فلك التدوير؛ إذ ليس للشمس فلك التدوير، وذلك من لطف الله تعالى وعنايته بالعباد؛ لأنه لو كان فلك التدوير كما لسائر الكواكب السيارة رجعت، وبرجعتها يتمادى الصيف ستة أشهر، وكذلك الشتاء فيؤدي إلى هلاك الحيوان والنبات؛ لأن الشمس إذا بقيت مسامتة لرءوس قوم ستة أشهر لتغير مزاج حيوانهم واحترق نباتهم، وإن بعدت عن قوم ستة أشهر استولى البرد على مزاجهم وانطفأت حرارتهم وفسد نباتهم، وثخن جرم فلك الشمس ثلاثمائة ألف وخمسة وخمسون ألفا وأربعة وسبعون ميلا.
فصل: في الشمسوهي أعظم الكواكب جرما وأشدها ضوءا ومكانها الطبيعي الكرة الرابعة
(1) وهي بين الكواكب
--------------------------------------------
পৃথিবী, এবং এর গোলকের ব্যাস চারশত উনপঞ্চাশ মাইল এবং এক মাইলের ছয় ভাগের এক ভাগ, এটি প্রতিটি রাশিতে সাতাশ দিন অবস্থান করে। এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তারা দাবি করে যে, এর দিকে দৃষ্টিপাত করা আনন্দ ও প্রফুল্লতার কারণ হয়। আর যখন দৃষ্টিদানকারীর যক্ষ্মার দহন থাকে তখন তা তার থেকে লাঘব হয়। তারা আরও দাবি করে যে, এর কাজ হলো কামাসক্তি, যৌনশক্তি এবং হৃদ্যতা বৃদ্ধি করা, এমনকি যদি কোনো পুরুষ কোনো নারীকে বিবাহ করে এবং শুক্র গ্রহ শুভ অবস্থায় থাকে, তবে তাদের মধ্যে এমন ভালোবাসা ও হৃদ্যতা সৃষ্টি হয় যা দেখে বিস্ময় জাগে।
(পঞ্চম পর্যবেক্ষণ: সূর্যের মণ্ডল প্রসঙ্গে) এটি দুটি গোলকাকার পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ যাদের কেন্দ্র হলো জগতের কেন্দ্র: তাদের মধ্যে উচ্চতরটি মঙ্গল গ্রহের মণ্ডলের অবতল অংশের সাথে সংযুক্ত এবং নিম্নতরটি শুক্র গ্রহের মণ্ডলের উত্তল অংশের সাথে সংযুক্ত। এর পূর্ব থেকে পশ্চিমে আবর্তন তিনশ ষাট দিন এবং এক দিনের চার ভাগের এক ভাগে সম্পন্ন হয়। এটি থেকে পৃথিবীকে পরিবেষ্টনকারী একটি মণ্ডল পৃথক হয় যার কেন্দ্র মূল কেন্দ্রের বাইরে, যেমনটি অন্যান্য তিনটি গ্রহের মণ্ডলের বর্ণনায় কোনো পার্থক্য ছাড়াই উল্লেখ করা হয়েছে—কেবল পার্থক্য এই যে সূর্য এখানে উপচক্রের স্থলাভিষিক্ত; কারণ সূর্যের কোনো উপচক্র নেই। এটি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ এবং বান্দাদের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন ও করুণা; কারণ যদি অন্যান্য বিচরণশীল গ্রহের মতো এর উপচক্র থাকত তবে এটি পশ্চাদগামী হতো, আর এর পশ্চাদগমনের ফলে গ্রীষ্মকাল ছয় মাস দীর্ঘ হতো, একইভাবে শীতকালও, যা প্রাণী ও উদ্ভিদের বিনাশের কারণ হতো; কারণ সূর্য যদি কোনো সম্প্রদায়ের মাথার ওপর সরাসরি ছয় মাস অবস্থান করত তবে তাদের প্রাণীদের মেজাজ বা শারীরিক প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়ে যেত এবং তাদের উদ্ভিদসমূহ পুড়ে যেত। আর যদি কোনো সম্প্রদায় থেকে এটি ছয় মাস দূরে থাকত তবে তাদের মেজাজে শীত জেঁকে বসত, তাদের শারীরিক উত্তাপ নির্বাপিত হতো এবং তাদের উদ্ভিদ নষ্ট হয়ে যেত। সূর্যের মণ্ডলের পুরুত্ব তিন লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার চুয়াত্তর মাইল।
পরিচ্ছেদ: সূর্য প্রসঙ্গেএটি গ্রহসমূহের মধ্যে আয়তনে সর্ববৃহৎ এবং আলোতে সর্বাধিক তীব্র। এর প্রাকৃতিক অবস্থান হলো চতুর্থ মণ্ডল
(১) এবং এটি গ্রহসমূহের মাঝে অবস্থিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كالملك وسائر الكواكب كالأعوان والجنود، فالقمر كالوزير وولي العهد، وعطارد كالكاتب، والمريخ كصاحب الجيش، والمشترى كالقاضي، وزحل كصاحب الخزائن، والزهرة كالخادم والجواري، والأفلاك كالأقاليم، والبروج كالبلدان، والحدود والوجوه كالمدن، والدرجات كالقرى، والدقائق كالمحال، والثواني كالمنازل، وهذا تشبيه جيد، ومن لطف الله تعالى جعلها في وسط الكواكب السبعة؛ لتبقى الطبائع والمطبوعات في هذا العالم بحركاتها على حدها الاعتدالي؛ إذ لو كانت في فلك الثوابت لفسدت الطبائع من شدة البرد، ولو انحدرت إلى فلك القمر لاحترق هذا العالم بالكلية، وخلقها سائرة غير واقفة وإلا لاشتدت السخونة في موضع والبرودة في موضع ولا يخفى فسادهما، بل تطلع كل يوم من المشرق، ولا تزال تمشي موضعا بعد موضع إلى أن تنتهي إلى المغرب، فلا يبقى موضع مكشوف مواز لها إلا ويأخذ موضع شعاعها، وتميل كل سنة مرة إلى الجنوب ومرة إلى الشمال؛ لتعم فائدتها، وأما جرمها فضعف جرم الأرض مائة وستّ وستون مرة، وقطر جرمها أحد وأربعون ألف وتسعمائة وثمانية وسبعون ميلا.
فصل: في كسوفهاوسببه كون القمر حائلا بين الشمس وبين أبصارنا؛ لأن جرم القمر كمد فيحجب ماوراءه عن الأبصار، فإذا قارن الشمس وكان في إحدى نقطتي الرأس والذنب أو قريبا منه فإنه يمر تحت الشمس فيصير حائلا بينها وبين الإبصار؛ لأن الخطوط الموهومة الشعاعية التي تخرج من أبصارنا متصلة بالبصر على هيئة مخروط رأسه نقطة البصر وقاعدته المبصر، فإذا حال بيننا وبين الشمس يتحصل مخروط الشعاع أولا بالقمر، فإن لم يكن للقمر عرض عن فلك البروج وقع جرم القمر في وسط المخروط عن الشمس بمقدار ما يوجب العرض فينكسف بعضها، وذلك إذا كان العرض أقل من مجموع نصف القطرين، فإذا كان يماس جرم القطر مخروط الشعاع لا تنكسف الشمس، ثم إذا انكسفت الشمس لا يكون لكسفوها مكث؛ لأن قاعدة مخروط الشعاع إذا انطبق على صفحة القمر انحرف عنه في الحال فتبتدئ الشمس بالانجلاء ولكن يختلف قدر الكسوفات باختلاف أوضاع المساكن بسبب اختلاف المنظر، وقد لا تنكسف في بعض البلاد أصلا.
রাজাসদৃশ এবং অবশিষ্ট গ্রহসমূহ সাহায্যকারী ও সৈন্যবাহিনীর ন্যায়। অতএব চন্দ্র হচ্ছে উজির বা যুবরাজসদৃশ, বুধ হচ্ছে লেখকের ন্যায়, মঙ্গল হচ্ছে সেনাপতির ন্যায়, বৃহস্পতি হচ্ছে বিচারকের ন্যায়, শনি হচ্ছে কোষাধ্যক্ষের ন্যায়, এবং শুক্র হচ্ছে সেবক ও পরিচারিকার ন্যায়। আর আকাশমণ্ডল হচ্ছে অঞ্চলের ন্যায়, রাশিচক্র হচ্ছে দেশের ন্যায়, সীমা ও মুখসমূহ হচ্ছে নগরের ন্যায়, ডিগ্রিগুলো গ্রামের ন্যায়, মিনিটগুলো মহাল্লার ন্যায় এবং সেকেন্ডগুলো গৃহের ন্যায়। এটি একটি চমৎকার সাদৃশ্য। আর আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি একে সাতটি গ্রহের মাঝখানে রেখেছেন; যাতে এই জগতের প্রকৃতি ও প্রভাবগুলো তার গতির মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে। কারণ এটি যদি স্থির নক্ষত্রমণ্ডলে থাকত, তবে প্রচণ্ড ঠান্ডায় প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে যেত, আর যদি চন্দ্রের কক্ষপথে নেমে আসত, তবে এই জগৎ সম্পূর্ণ পুড়ে যেত। তিনি একে গতিশীল করে সৃষ্টি করেছেন, স্থির নয়; অন্যথায় এক স্থানে প্রচণ্ড তাপ ও অন্য স্থানে প্রচণ্ড শীত হতো এবং উভয়ের ক্ষতিকর দিক কারো অজানা নয়। বরং এটি প্রতিদিন পূর্ব দিক থেকে উদিত হয় এবং পশ্চিম দিকে শেষ হওয়া পর্যন্ত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলতে থাকে; ফলে সূর্যের সমান্তরালে উন্মুক্ত এমন কোনো স্থান বাকি থাকে না যা তার কিরণ লাভ করে না। এটি প্রতি বছর একবার দক্ষিণ দিকে এবং একবার উত্তর দিকে ঝুঁকে পড়ে; যাতে এর উপযোগিতা ব্যাপক হয়। আর এর আয়তন পৃথিবীর আয়তনের একশ ৬৬ গুণ এবং এর ব্যাস একচল্লিশ হাজার নয়শ আটাত্তর মাইল।
পরিচ্ছেদ: সূর্যগ্রহণ প্রসঙ্গেএর কারণ হলো সূর্য ও আমাদের দৃষ্টির মাঝখানে চন্দ্রের অন্তরায় হওয়া; কারণ চন্দ্রের দেহ অন্ধকারাচ্ছন্ন, যা তার পেছনের বস্তুকে দৃষ্টি থেকে আড়াল করে দেয়। সুতরাং যখন এটি সূর্যের সমান্তরালে আসে এবং রাহু বা কেতুর কোনো একটি বিন্দুতে অথবা তার কাছাকাছি অবস্থান করে, তখন এটি সূর্যের নিচ দিয়ে অতিক্রম করে এবং সূর্য ও দৃষ্টির মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। কেননা আমাদের দৃষ্টি থেকে নির্গত কাল্পনিক রশ্মিরেখাগুলো চোখের সাথে একটি মোচড়াকৃতি আকারে যুক্ত থাকে, যার শীর্ষবিন্দু হলো চোখ এবং ভূমি হলো দৃশ্যমান বস্তু। ফলে যখন এটি আমাদের ও সূর্যের মাঝে অন্তরায় হয়, তখন রশ্মি-মোচড়টি প্রথমে চন্দ্রের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত হয়। যদি রাশিচক্র থেকে চন্দ্রের কোনো অক্ষাংশীয় বিচ্যুতি না থাকে, তবে চন্দ্রের দেহটি সূর্যের মোচড়াকৃতি রশ্মির ঠিক মাঝখানে পড়ে, আর অক্ষাংশীয় বিচ্যুতির পরিমাণ অনুযায়ী তার কিছু অংশ গ্রহণযুক্ত হয়; আর তা ঘটে যখন অক্ষাংশীয় বিচ্যুতি উভয় ব্যাসার্ধের সমষ্টির চেয়ে কম হয়। আর যখন চন্দ্রের দেহ কেবল রশ্মি-মোচড়কে স্পর্শ করে, তখন সূর্যগ্রহণ হয় না। অতঃপর যখন সূর্যগ্রহণ হয়, তখন তার স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয় না; কারণ রশ্মি-মোচড়ের ভূমি যখন চন্দ্রপৃষ্ঠের ওপর আপতিত হয়, তখন তা তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে সরে যায় এবং সূর্য পুনরায় আলোকিত হতে শুরু করে। তবে প্রেক্ষাপটের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন জনপদে গ্রহণের মাত্রার ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, এমনকি কোনো কোনো দেশে একেবারেই গ্রহণ দেখা যায় না।
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فصل: في خواص الشمس وعجيب تأثيرها في العلويات والسفليات(أما) في العلويات فإخفاؤها جميع الكواكب؛ لكمال شعاعها، وإعطاؤها للقمر النور؛ بسبب قربه منها وبعده عنها، وجميع ما ذكرنا من فوائد القمر فائدة إذا أشرقت على الماء صعدت منه أبخرة بسبب السخونة، فإذا بلغ البخار إلى الهواء البارد تكاثف من البرد وانعقد سحابا ثم تذهب به الرياح إلى الأماكن البعيدة عن البخار فينزل مطرا يحيي الله به الأرض بعد موتها، وتظهر منه الأنهار والعيون فيصير سببا لبقاء الحيوان وخروج النبات وتكون بالمعادن وقد قال عز وجل: {وَهُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّياحَ بُشْراً بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ حَتّى إِذا أَقَلَّتْ سَحاباً ثِقالاً سُقْناهُ لِبَلَدٍ مَيِّتٍ فَأَنْزَلْنا بِهِ الْماءَ فَأَخْرَجْنا بِهِ مِنْ كُلِّ الثَّمَراتِ} [الأعراف: 57].
(ومنها) أمر المعادن فإن العصارات التي تنحلب في باطن الأرض في مياه الأمطار إذا اختلطت بالأجزاء الأرضية تصحبها الشمس فتتولد منها الأجساد المعدنية بحسب مواده كالذهب والفضة وسائر الفلزات، وكالياقوت والزبرجد وسائر الأحجار النفيسة، وكالزئبق والكبريت والزرنيخ والملح والنوشادر، ولا يخفى عموم فوائد هذه الأشياء كلها.
(ومنها) أمر النبات فإن الزروع والأشجار لا تنبت إلا في المواضع التي تطلع عليها الشمس، وكذلك، لا ينبت تحت النخل والأشجار العظيمة التي لها ظلال واسعة شيء من الزروع؛ لأنها تمنع شعاع الشمس عما تحتها وحسبك ما ترى من تأثير الشمس بسبب الحركة اليومية في النيلوفر، والأذريون، وورق الخروع؛ فإنها تنمو وتزداد عند أخذ الشمس في الارتفاع والصعود فإذا زالت الشمس أخذت في الذبول حتى إذا غابت ذبلت وضعفت، ثم عادت في اليوم التالي إلى حالها.
(ومنها) تأثيرها في الحيوانات؛ فإنا نرى الحيوانات إذا طلع نور الصبح خلق الله تعالى في أبدانها قوة فتظهر فيها قوة حركة وزيادة نشاط وانتعاش، وكلما كان طلوع نور الشمس أكثر إلى أن تصل إلى وسط سمائهم أخذت حركاتهم وقواهم في الضعف، ولا تزال تزاد ضعفا إلى زمان غيوبها، فإذا غابت الشمس رجعت الحيوانات إلى أماكنها ولزمتها كالموتى فإذا طلعت الشمس عليهم في اليوم الثاني عادوا إلى الحالة الأولى، ومن عجيب تأثيرها في الحيوانات أن تجعل أهل البلاد القريبة عن مسامتتها كبلاد السودان الذين هم الإقليم الأول سودا محترقين، وتجعل وجوههم من شدة الحرارة قحلة، وجثثهم خفيفة، وأخلاقهم وحشية شبيهة بأخلاق السباع،
পরিচ্ছেদ: সূর্যের বৈশিষ্ট্য এবং ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতে এর বিস্ময়কর প্রভাব প্রসঙ্গে(ঊর্ধ্বজগত সম্পর্কে) ঊর্ধ্বজগতে এর একটি প্রভাব হলো সমস্ত নক্ষত্রকে অদৃশ্য করে দেওয়া; কারণ এর রশ্মির পূর্ণতা। আর চাঁদকে আলো প্রদান করা; তার থেকে নিকটবর্তী হওয়া বা দূরবর্তী হওয়ার কারণে। আমরা চাঁদের যেসব উপকারের কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলো মূলত সূর্যেরই উপকার। যখন এটি পানির ওপর উদিত হয়, তখন তাপের কারণে তা থেকে বাষ্প উপরে ওঠে। যখন সেই বাষ্প শীতল বাতাসে পৌঁছায়, তখন তা ঠান্ডায় ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। এরপর বাতাস সেটিকে বাষ্পহীন দূরবর্তী স্থানসমূহে নিয়ে যায়। ফলে বৃষ্টি বর্ষিত হয় যার মাধ্যমে আল্লাহ মৃত জমিনকে জীবিত করেন। তা থেকে নদী ও ঝরনাধারা প্রকাশ পায়, যা প্রাণীদের বেঁচে থাকার এবং উদ্ভিদ নির্গত হওয়ার ও খনিজ দ্রব্য তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তিনিই বৃষ্টির আগে সুসংবাদ স্বরূপ বায়ু প্রেরণ করেন, এমনকি যখন তা ভারী মেঘ বহন করে, তখন আমি সেটিকে মৃত জনপদের দিকে চালিত করি, অতঃপর তার মাধ্যমে পানি বর্ষণ করি এবং তার সাহায্যে সব রকমের ফলমূল উৎপাদন করি।" [আরাফ: ৫৭]।
(অন্যতম প্রভাব হলো) খনিজ দ্রব্যের বিষয়টি। বৃষ্টির পানির সাথে মাটির অভ্যন্তরে যে রসগুলো চুইয়ে পড়ে, যখন সেগুলো মাটির উপাদানের সাথে মিশ্রিত হয়, তখন সূর্যের প্রভাবে সেগুলোর উপাদান অনুযায়ী খনিজ পিণ্ড তৈরি হয়। যেমন: সোনা, রুপা ও অন্যান্য ধাতু; এবং ইয়াকুত, যমরুদ ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর; আর পারদ, গন্ধক, সেঁকোবিষ, লবণ ও নিশাদল। এসব জিনিসের ব্যাপক উপকারিতা কারো কাছে গোপন নয়।
(অন্যতম প্রভাব হলো) উদ্ভিদের বিষয়টি। নিশ্চয়ই ফসল ও গাছপালা কেবল সেই সব স্থানেই জন্মায় যেখানে সূর্য উদিত হয়। তেমনিভাবে, খেজুর গাছ ও বিশাল বৃক্ষ যেগুলোর ছায়া অনেক বড়, সেগুলোর নিচে কোনো ফসল জন্মায় না; কারণ সেগুলো সূর্যের রশ্মিকে নিজের নিচের অংশে পৌঁছাতে বাধা দেয়। নীলুফার, গাঁদা ফুল এবং রেড়ির পাতার ওপর সূর্যের প্রাত্যহিক গতির যে প্রভাব আপনি দেখেন, তাই আপনার জন্য যথেষ্ট। কারণ এগুলো সূর্যের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উদিত হওয়ার সময় বাড়তে থাকে ও সজীব হয়। যখন সূর্য হেলে পড়ে, তখন এগুলো ম্লান হতে শুরু করে, এমনকি যখন সূর্য ডুবে যায় তখন এগুলো নেতিয়ে পড়ে ও দুর্বল হয়ে যায়। অতঃপর পরবর্তী দিনে এগুলো আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে।
(অন্যতম প্রভাব হলো) প্রাণীদের ওপর এর প্রভাব। আমরা দেখি যে যখন ভোরের আলো উদিত হয়, আল্লাহ তাআলা প্রাণীদের শরীরে শক্তি সৃষ্টি করেন, ফলে তাদের মধ্যে নড়াচড়ার শক্তি এবং অতিরিক্ত প্রফুল্লতা ও সজীবতা প্রকাশ পায়। সূর্যের আলো যতক্ষণ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তাদের আকাশের মধ্যভাগে পৌঁছানো পর্যন্ত তাদের গতিবিধি ও শক্তি কমতে শুরু করে। আর এটি অস্ত যাওয়ার সময় পর্যন্ত ক্রমশ দুর্বল হতেই থাকে। যখন সূর্য ডুবে যায়, প্রাণীরা তাদের আপন ঠিকানায় ফিরে যায় এবং মৃতদের মতো নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। যখন দ্বিতীয় দিন তাদের ওপর সূর্য উদিত হয়, তারা পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। প্রাণীদের ওপর এর বিস্ময়কর প্রভাবের অন্যতম হলো—এটি প্রথম জলবায়ু অঞ্চলের সুদানীদের মতো সূর্যের সমান্তরালে থাকা নিকটবর্তী অঞ্চলের মানুষদের গায়ের রং কালো ও দগ্ধ করে দেয়। তীব্র তাপের কারণে তাদের চেহারা শুষ্ক ও রুক্ষ হয়, তাদের দেহ হালকা হয় এবং তাদের স্বভাব বন্যপ্রাণীর স্বভাবের সদৃশ হিংস্র হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والمواضع البعيدة عن مسامتتها كبلاد الصقالبة والروس تجعلهم لضعف حرارتها بيضا، وتجعل شعورهم سبطة شقرا، وأبدانهم رخصة عظيمة، وأخلاقهم شبيهة بأخلاق البهائم.
(ومنها) ما زعمت البراهمة أن أوج الشمس في كل برج ثلاثة آلاف سنة وتقطع الفلك في ستة وثلاثين ألف سنة، والآن إذا انتقل إلى البروج الجنوبية انتقلت أحوال الأرض وهيئاتها فصار العامر غامرا، والغامر عامرا، والبحر يبسا، واليبس بحورا، والجنوب شمالا، والشمال جنوبا.
(النظر السادس في فلك المريخ) وهو يحده سطحان متوازيان مركزهما مركز العالم: فالأعلى منهما مماس لفلك المشترى، والأدنى مماس لفلك الشمس، وتتم دورته التي تختص به من المغرب إلى المشرق في سنة واحدة وعشرة أشهر واثنين وعشرين يوما، وصورته كفلك القمر وفلك الزهرة من غير فرق ولا حاجة إلى إعادته، وكذلك فلك زحل، وعلى رأي بطليموس: ثخن فلك المريخ وهو المسافة التي بين سطحه الأعلى وسطحه الأسفل عشرون ألف ألف وثلاثمائة ألف وستة وسبعون ألفا وتسعمائة وثمانية وتسعون ميلا.
فصلوالمنجمون يسمون المريخ النحس الأصغر؛ لأنه دون زحل في النحوسة، وأضافوا إليه البطش والقتل والقهر والغلبة، وجرم المريخ مثل جرم الأرض مرة ونصف المرة بالتقريب، وثخن جرمه تسعمائة ألف وثمانمائة وخمسة وثمانون ميلا، ويبقى في كل برج إذا كان مستفيما أربعين يوما.
(النظر السابع في فلك المشترى) وهو يحده سطحان متوازيان: الأعلى منهما مماس لفلك زحل، والأدنى مماس لفلك المريخ مركزهما مركز العالم، ويتم دورته المختصة به من المغرب إلى المشرق في إحدى وعشرين سنة وعشرة أشهر وخمسة عشر يوما، وصورته كصورة فلك المريخ والزهرة وقد مضى ذكرهما، وثخن جرمه وهو المسافة التي بين سطحه الأعلى وسطحه الأسفل عشرون ألف ألف وثلاثمائة واثنان وثلاثون ألفا واثنان وثلاثون ميلا بالتقريب.
فصلوأما المشترى فسماه المنجمون السعد الأكبر؛ لأنه فوق الزهرة في السعادة، وأضافوا إليه الخيرات الكثيرة والسعادة العظيمة، وجرم المشترى مثل جرم الأرض أربعة وثمانون مرة، وثلث وربع وقطر جرم المشترى كقطر جرم الأرض أربع مرات وربع وسدس، يقطع في كل يوم خمس دقائق.
আর সেসকল স্থান যা এর সরাসরি অবস্থানের চেয়ে দূরে, যেমন সাকালিবা ও রুশদের দেশ, সেখানে উত্তাপের স্বল্পতার কারণে তাদের বর্ণ শ্বেত হয়, তাদের চুল হয় মসৃণ ও পিঙ্গলবর্ণ, তাদের দেহ হয় সুকোমল ও স্থূল এবং তাদের চরিত্র চতুষ্পদ জন্তুর চরিত্রের ন্যায় হয়ে থাকে।
(আর তার মধ্যে একটি হলো) যা ব্রাহ্মণরা দাবি করেছে যে, সূর্যের উচ্চবিন্দু প্রতিটি রাশিতে তিন হাজার বছর অবস্থান করে এবং ছত্রিশ হাজার বছরে সম্পূর্ণ কক্ষপথ অতিক্রম করে। আর এখন যদি তা দক্ষিণ রাশির দিকে স্থানান্তরিত হয়, তবে পৃথিবীর অবস্থা ও আকৃতি পরিবর্তিত হবে; ফলে আবাদি অঞ্চল জনশূন্য হবে, জনশূন্য অঞ্চল আবাদি হবে, সমুদ্র শুষ্ক ভূমিতে পরিণত হবে, শুষ্ক ভূমি সমুদ্রে পরিণত হবে, দক্ষিণ হবে উত্তর এবং উত্তর হবে দক্ষিণ।
(ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ প্রসঙ্গে) এটি দুটি সমান্তরাল পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ যাদের কেন্দ্র হলো মহাবিশ্বের কেন্দ্র: তাদের মধ্যে উচ্চতরটি বৃহস্পতির কক্ষপথকে স্পর্শ করে এবং নিম্নতরটি সূর্যের কক্ষপথকে স্পর্শ করে। এর নিজস্ব আবর্তন পশ্চিম থেকে পূর্বে এক বছর দশ মাস বাইশ দিনে পূর্ণ হয়। এর চিত্র চাঁদ ও শুক্রের কক্ষপথের চিত্রের ন্যায় কোনো পার্থক্য ছাড়াই, তাই তা পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই; শনি গ্রহের কক্ষপথও তদ্রূপ। টলেমির মতে: মঙ্গলের কক্ষপথের পুরুত্ব—যা এর ঊর্ধ্ব পৃষ্ঠ ও নিম্ন পৃষ্ঠের মধ্যবর্তী দূরত্ব—হলো দুই কোটি তিন লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার নয়শত আটানব্বই মাইল।
পরিচ্ছেদজ্যোতিষীরা মঙ্গলকে 'ক্ষুদ্র অশুভ' নামে অভিহিত করে; কারণ অশুভত্বের দিক থেকে এটি শনির চেয়ে কম। তারা এর সাথে সহিংসতা, হত্যা, দমন ও আধিপত্যকে সংশ্লিষ্ট করেছে। মঙ্গলের আয়তন প্রায় পৃথিবীর আয়তনের দেড় গুণ এবং এর দেহের পুরুত্ব নয় লক্ষ আটশত পঁচাশি মাইল। এটি প্রতিটি রাশিতে—যদি তা সোজা পথে চলে—চল্লিশ দিন অবস্থান করে।
(সপ্তম পরিচ্ছেদ: বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ প্রসঙ্গে) এটি দুটি সমান্তরাল পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ: তাদের মধ্যে উচ্চতরটি শনির কক্ষপথকে স্পর্শ করে এবং নিম্নতরটি মঙ্গলের কক্ষপথকে স্পর্শ করে, যাদের কেন্দ্র হলো মহাবিশ্বের কেন্দ্র। এর নিজস্ব আবর্তন পশ্চিম থেকে পূর্বে একুশ বছর দশ মাস পনের দিনে পূর্ণ হয়। এর চিত্র মঙ্গল ও শুক্রের কক্ষপথের চিত্রের ন্যায় যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এর পরিমণ্ডলের পুরুত্ব—যা এর ঊর্ধ্ব পৃষ্ঠ ও নিম্ন পৃষ্ঠের মধ্যবর্তী দূরত্ব—হলো প্রায় দুই কোটি তিন লক্ষ বত্রিশ হাজার বত্রিশ মাইল।
পরিচ্ছেদআর বৃহস্পতির কথা বলতে গেলে, জ্যোতিষীরা একে 'মহা শুভ' নামে অভিহিত করেছেন; কারণ শুভত্বের দিক থেকে এটি শুক্রের ঊর্ধ্বে। তারা এর সাথে প্রচুর কল্যাণ ও মহান সৌভাগ্যকে সংশ্লিষ্ট করেছেন। বৃহস্পতির আয়তন পৃথিবীর আয়তনের চুরাশি পূর্ণ এক-তৃতীয়াংশ ও এক-চতুর্থাংশ গুণের সমান। বৃহস্পতির ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের চার পূর্ণ এক-চতুর্থাংশ ও এক-ষষ্ঠাংশ গুণের সমান। এটি প্রতিদিন পাঁচ মিনিট পথ অতিক্রম করে।
(খণ্ড: ১)
আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাওজুদাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(النظر الثامن في فلك زحل) وهو يحده سطحان متوازيان مركزهما مركز العالم: الأعلى منهما مماس لفلك الكواكب الثابتة، والأدنى منها مماس لفلك المشترى، وتتم دورته المختصة به من المغرب إلى المشرق في تسع وعشرين سنة وخمسة أشهر وستة أيام، قال بطليموس: ثخن جرم فلك زحل أحد وعشرون ألف ألف ميل وستمائة وستة وثلاثون ألفا وستمائة وستة أميال.
فصلوسماه المنجمون النحس الأكبر؛ لأنه في النحوسة فوق المريخ، وأضافوا إليه الخراب والهلاك والهم والغم وجرم زحل كجرم الأرض إحدى وثمانين مرة وقطره كقطر جرم الأرض أربعين مرة وثلثي المرة، وزعموا أن النظر إليه يفيد غمّا وحزنا، كما أن النظر إلى الزهرة يفيد فرحا وسرورا.
(النظر التاسع في فلك الثوابت) وهو يحده سطحان متوازيان مركزهما مركز العالم: فالأعلى منهما مماس للفلك الأعظم المحيط بجميع الأفلاك المحرك لها، والأدنى منها مماس لفلك زحل، وهذا الفلك أيضا يتحرك من المغرب إلى المشرق حركة بطينة فيقطع في كل مائة سنة جزءا من الأجزاء التي بها تكون الدائرة ثلاثمائة وستين جزءا، ودورته تتم في سنة وثلاثين ألف سنة، وقطباها قطبا دائرة البروج التي ترسمها الشمس، وسيأتي ذكر ذلك إن شاء الله تعالى.
وقد وجد في رصد بطليموس، وأرصاد من كان قبله أن جميع الكواكب الثابتة مركوزة في جرم هذا الفلك ولذلك لا تختلف أوضاعها وكلها تتحرك بحركة فلكها البطيئة على محيط دائرته غير مفارقة لها وكثيرة مختلفة الأقدار مثبتة في جميع جرم هذا الفلك، قال بطليموس: ثخن فلك الثوابت وهو المسافة التي بين سطحه الأدنى أربعة وثلاثون ألفا وسبعمائة وأربعون وأربعون ميلا بالتقريب، وهذا المقدار هو قطر الكواكب الثابتة التي هي في العظم الأول وجرم الكواكب الذي هو في العظم الأول مثل جرم الأرض أربعة وسبعين مرة وخمس، وجرم أصغر الكواكب الثابتة وهو الذي يكون في العظم السادس مثل جرم الأرض ثماني عشرة مرة، وقطر فلك الكواكب الثابتة وهو محدد فلك البروج مائة وأحد وخمسون ألف ألف ميل وخمسمائة وسبعة وثلاثون ألفا ومائة وأربعة وثمانون ميلا، ولعل البعض يستبعد معرفة مقادير هذه الأجرام، ويخطر له أن الذي على سطح الأرض كيف يدري ثخن الفلك وأجرام كواكبه؟ فالأولى بتركه الاستبعاد؛ فإن الأمر الذي لا يعرفه هو لايستحيل أن يعرفه غيره ومن مارس علم الهندسة لا يتعذر عليه براهين هذه الأمور؛ فإن لكل عمل رجالا فسبحان من أبدع هذه الأجسام الرفيعة، وزينها بهذه الأجسام المنيرة، وخص كل واحد منها بما شاء من المقدار، وأعطى الإنسان آلة يدرك بها هذه الأمور الغامضة، فقال تعالى: {وَفَضَّلْناهُمْ عَلى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنا تَفْضِيلاً} [الإسراء: 70].
(অষ্টম দৃষ্টি: শনি গ্রহের কক্ষপথ প্রসঙ্গে) এটি দুটি সমান্তরাল তল দ্বারা সীমাবদ্ধ যাদের কেন্দ্র হচ্ছে জগতের কেন্দ্র: এদের মধ্যে উচ্চতর তলটি স্থির নক্ষত্ররাজির কক্ষপথকে স্পর্শ করে আছে এবং নিম্নতর তলটি বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথকে স্পর্শ করে আছে। পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে এর নিজস্ব আবর্তনকাল ঊনত্রিশ বছর পাঁচ মাস ছয় দিনে সম্পন্ন হয়। টলেমি বলেছেন: শনি গ্রহের কক্ষপথের পুরুত্ব হলো দুই কোটি ষোলো লক্ষ ছত্রিশ হাজার ছয়শত ছয় মাইল।
পরিচ্ছেদজ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একে 'মহা অশুভ' (নাহসে আকবর) নামে অভিহিত করেছেন; কারণ অশুভত্বের দিক থেকে এটি মঙ্গল গ্রহের ঊর্ধ্বে। তারা এর সাথে ধ্বংস, বিনাশ, দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতাকে সম্পৃক্ত করেছেন। শনি গ্রহের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের একাশি গুণ এবং এর ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের চল্লিশ ও দুই-তৃতীয়াংশ গুণ। তারা দাবি করেছেন যে, এর দিকে দৃষ্টিপাত করলে বিষণ্ণতা ও দুঃখের সৃষ্টি হয়, ঠিক যেমন শুক্র গ্রহের দিকে তাকালে আনন্দ ও প্রফুল্লতা অনুভূত হয়।
(নবম দৃষ্টি: স্থির নক্ষত্ররাজির কক্ষপথ প্রসঙ্গে) এটি দুটি সমান্তরাল তল দ্বারা সীমাবদ্ধ যাদের কেন্দ্র হলো জগতের কেন্দ্র: এদের মধ্যে উচ্চতর তলটি সমস্ত কক্ষপথকে পরিবেষ্টনকারী এবং গতি প্রদানকারী 'মহা কক্ষপথ' (আল-ফালাক আল-আ'জম)-কে স্পর্শ করে আছে এবং নিম্নতর তলটি শনি গ্রহের কক্ষপথকে স্পর্শ করে আছে। এই কক্ষপথটিও পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অত্যন্ত ধীরগতিতে আবর্তিত হয়, ফলে প্রতি একশ বছরে এটি বৃত্তের ৩৬০ ভাগের এক ভাগ (এক ডিগ্রি) অতিক্রম করে। এর পূর্ণ আবর্তনকাল ছত্রিশ হাজার বছরে সম্পন্ন হয়। এর মেরুদ্বয় হলো রাশিচক্রের (দাইরাতুল বুরুজ) মেরুদ্বয় যা সূর্য দ্বারা অঙ্কিত হয়। ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই এর বর্ণনা আসবে।
টলেমির পর্যবেক্ষণ এবং তাঁর পূর্বসূরিদের পর্যবেক্ষণে পাওয়া গেছে যে, সমস্ত স্থির নক্ষত্র এই কক্ষপথের দেহে প্রোথিত। এ কারণেই তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না এবং সবগুলোই তাদের কক্ষপথের ধীরগতির সাথে সাথে এর পরিধির ওপর স্থির থেকে আবর্তিত হয় এবং কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয় না। এই কক্ষপথের সমগ্র অবয়বে বিভিন্ন আকৃতির অসংখ্য নক্ষত্র স্থাপিত রয়েছে। টলেমি বলেছেন: স্থির নক্ষত্ররাজির কক্ষপথের পুরুত্ব—যা এর নিম্নতল থেকে দূরত্ব—তা আনুমানিক চৌত্রিশ হাজার সাতশত চুয়াল্লিশ মাইল। এই পরিমাণটিই হলো প্রথম শ্রেণির বিশালাকার স্থির নক্ষত্রগুলোর ব্যাস। প্রথম শ্রেণির একটি নক্ষত্রের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের চুয়াত্তর ও পাঁচ ভাগের এক ভাগ। আর ষষ্ঠ শ্রেণির ক্ষুদ্রতম স্থির নক্ষত্রগুলোর আয়তন পৃথিবীর আয়তনের আঠারো গুণ। স্থির নক্ষত্ররাজির কক্ষপথের ব্যাস—যা রাশিচক্রের কক্ষপথের সীমানা নির্ধারণকারী—তা হলো পনেরো কোটি পনেরো লক্ষ সাইত্রিশ হাজার একশত চুরাশি মাইল। সম্ভবত কেউ কেউ এই জ্যোতিষ্কগুলোর পরিমাপ জানাকে অসম্ভব মনে করতে পারেন এবং তাদের মনে এই খটকা জাগতে পারে যে, পৃথিবীর পৃষ্ঠে অবস্থান করে মানুষ কীভাবে মহাকাশীয় কক্ষপথের পুরুত্ব এবং নক্ষত্ররাজির আয়তন জানতে পারে? তাদের জন্য উচিত হবে এই অসম্ভব হওয়ার ধারণাটি পরিহার করা; কারণ যে বিষয়টি তিনি জানেন না, তা অন্য কেউ জানতে পারা অসম্ভব নয়। যারা জ্যামিতি শাস্ত্র চর্চা করেন, তাদের নিকট এই বিষয়গুলোর প্রমাণাদি উপস্থাপন করা দুঃসাধ্য নয়। কেননা প্রত্যেক বিশেষ কার্যের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি রয়েছে। সুতরাং পবিত্র ও মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি এই সুউচ্চ দেহসমূহ নিপুণভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে এই জ্যোতির্ময় বস্তু দ্বারা সুশোভিত করেছেন। তিনি এগুলোর প্রত্যেকটিকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সুনির্দিষ্ট পরিমাপ দান করেছেন এবং মানুষকে এমন মাধ্যম বা মেধা দান করেছেন যার দ্বারা সে এই সূক্ষ্ম ও গূঢ় বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আমি তাদের (আদম সন্তানদের) আমার অনেক সৃষ্টির ওপর বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।" [সুরা আল-ইসরা: ৭০]।