(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
الولاء والبراء في الإسلام القسم: العقيدة
الكتاب: الولاء والبراء في الإسلام من مفاهيم عقيدة السلف
المؤلف: محمد بن سعيد بن سالم القحطاني
تقديم: فضيلة الشيخ عبد الرزاق عفيفي [ت 1415 هـ]
الناشر: دار طيبة، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 431
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামে আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা বিভাগ: আকিদাহ
বই: সালাফদের আকিদাহর মূলনীতি অনুযায়ী ইসলামে আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা
লেখক: মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে সালেম আল-কাহতাহনি
উপস্থাপনা: সম্মানিত শায়খ আব্দুর রাজ্জাক আফীফি [মৃত্যু ১৪১৫ হিজরি]
প্রকাশক: দার তাইয়িবাহ, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
الولاء والبراء
في الإسلام
تأليف
محمد بن سعيد القحطاني
تقديم فضيلة الشيخ
عبد الرزاق عفيفي
আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা
ইসলামে
রচনায়
মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-কাহতানি
উপস্থাপনায় ফযীলাতুশ শাইখ
আব্দুর রাজ্জাক আফীফী
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة فضيلة الشيخ العلامةعبد الرزاق عفيفيالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:
فموضوع هذا الكتاب له شأنه وله أهميته في نفسه، وبالنسبة لكتابته في هذا الوقت، فبين كتابته وبين الوقت الذي نعيش فيه الآن مناسبة قوية.
أما أهميته في نفسه: فذلك لأنه في أصل من أصول الإسلام هو: (الولاء والبراء) .
وهما مظهران من مظاهر إخلاص المحبة لله، ثم لأنبيائه وللمؤمنين.
والبراء: مظهر من مظاهر كراهية الباطل وأهله. وهذا أصل من أصول الإيمان وأما أهميته بالنظر للوقت الحاضر: فلأنه قد اختلط الحابل بالنابل!، وغفل الناس عن مميزات المؤمنين التي يتميزون بها عن
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্মানিত শাইখ আল্লামাআব্দুর রাজ্জাক আফীফীর ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:
এই বইটির বিষয়বস্তু নিজস্বভাবেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ; আর বর্তমান সময়ে এটি রচনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে, এর রচনা এবং আমরা বর্তমানে যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তার মধ্যে এক গভীর প্রাসঙ্গিকতা বিদ্যমান।
এর নিজস্ব গুরুত্বের কারণ হলো, এটি ইসলামের অন্যতম মূলনীতি অর্থাৎ: (আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা) সংক্রান্ত।
এ দুটি হলো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর নবীগণ ও মুমিনদের প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
আর ‘বারা’ (বিচ্ছিন্নতা) হলো বাতিল ও বাতিলপন্থীদের প্রতি ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। এটি ঈমানের অন্যতম মূল ভিত্তি। আর বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্বের কারণ হলো: সত্য-মিথ্যা ও ভালো-মন্দ আজ চরমভাবে সংমিশ্রিত হয়ে গেছে! মুমিনদের যে সকল বৈশিষ্ট্য তাদের অন্যদের থেকে পৃথক করে, সে সম্পর্কে মানুষ আজ উদাসীন হয়ে পড়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الكافرين، وضعف الإيمان في قلوبهم حتى ظهرت فيهم مظاهر يكرهها المؤمن.
والوا الكافرين أمماً ودولاً، وزهدوا في كثير من المؤمنين، وحطوا من قدرهم وساموهم سوء العذاب.
ومن هنا: تأتي أهمية نشر هذا الكتاب في هذا الوقت الحاضر بالذات.
ولقد جاء المؤلف على جوانب الولاء والبراء، ونقل في ذلك كثيراً من كلام العلماء، وقدم له ومهد، وعقب عليه وعلق، واستدل على ما جاء به من مبادئ الولاء والبراء بآيات من القرآن، وبأحاديث صحيحة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبكثير من آثار الصحابة ومن تبعهم من السلف.
وبين وجه الاستشهاد بهذا وبهذا، ورقم للآيات وبين سورها، وأخرج الأحاديث والآثار وبين درجتها في الغالب الكثير.
وبرزت شخصية الباحث في كتابه مما يدل على سعة اطلاعه وقوة بحثه. وأسأل الله جل شأنه أن ينفع المسلمين بهذا الكتاب، وأن يهيئ لمؤلفه إخواناً ينهجون نهجه، فالأمل كبير، الأمل في الله عظيم أن ينشأ كثير من شبابنا الحاضر على هذا المبدأ القيم، مبدأ نصرة دين الإسلام وإحياء ما اندرس منه فإن ربي مجيب الدعاء.
عبد الرزاق عفيفي
কাফেরদের প্রতি আনুগত্য এবং তাদের অন্তরে ঈমানের দুর্বলতা, যার ফলে তাদের মধ্যে এমন সব বিষয় প্রকাশ পেয়েছে যা একজন মুমিন অপছন্দ করে।
তারা কাফের জাতি ও রাষ্ট্রসমূহের সাথে বন্ধুত্ব করেছে এবং অনেক মুমিনের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছে, তাদের মর্যাদাহানি করেছে এবং তাদের কঠিনতম আজাব আস্বাদন করিয়েছে।
আর এখান থেকেই বর্তমান এই সময়ে বিশেষভাবে এই বইটি প্রকাশের গুরুত্ব ফুটে ওঠে।
লেখক আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (বন্ধুত্ব ও বিমুখতা)-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে আলেমদের অনেক বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। তিনি এর ভূমিকা ও পটভূমি পেশ করেছেন এবং এর ওপর পর্যালোচনা ও টীকা প্রদান করেছেন। তিনি আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা সম্পর্কে যেসব মূলনীতি উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর সপক্ষে কুরআনের আয়াত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহীহ হাদীস এবং সাহাবী ও সালাফদের অনেক আসারের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।
তিনি দলিলের প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করেছেন, আয়াতের নম্বর ও সূরার নাম উল্লেখ করেছেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদীস ও আসারগুলোর সূত্র ও মান বর্ণনা করেছেন।
বইটিতে গবেষকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে যা তার গভীর অধ্যয়ন ও শক্তিশালী গবেষণার প্রমাণ দেয়। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই বইয়ের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং লেখকের জন্য এমন সব উত্তরসূরি প্রস্তুত করেন যারা তার পথ অনুসরণ করবেন। আশা অনেক এবং আল্লাহর ওপর অগাধ ভরসা যে বর্তমান প্রজন্মের অনেক যুবক এই মহান আদর্শের ওপর গড়ে উঠবে—যা হলো ইসলাম ধর্মকে সাহায্য করা এবং এর বিলুপ্তপ্রায় শিক্ষাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার আদর্শ; নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক দোয়া কবুলকারী।
আব্দুর রাজ্জাক আফীফী
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانية
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده وعلى آله وأصحابه ومن يسلك سبيله إلى يوم الدين، أما بعد:
فقد شاء الله تبارك وتعالى أن يطبع هذا الكتاب أول مرة في لبنان إبان اشتداد الحرب الدائرة هناك، مما حال بيني وبين تصحيحه بعد الطبع فخرجت الطبعة الأولى وبها نقص في بعض المواضع، وأخطاء تحيل المعنى في مواضع أخرى.
لذلك فقد أعدت النظر فيه مستفيداً من ملاحظات القراء الكرام سائلاً المولى عز وجل أن يجعل عملي خالصاً لوجهه الكريم، وأن تكون هذه الطبعة أقرب إلى المراد والله ولي التوفيق.
المؤلف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবে তাদের ওপর। এরপর:
মহান আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন যে, এই বইটি প্রথমবার লেবাননে তখন মুদ্রিত হোক যখন সেখানে যুদ্ধ চরম আকার ধারণ করেছিল। যার ফলে মুদ্রণের পর তা সংশোধন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ফলে প্রথম সংস্করণে কিছু কিছু স্থানে অসম্পূর্ণতা রয়ে গিয়েছিল এবং অন্য কিছু স্থানে এমন কিছু ভুল ছিল যা অর্থের বিকৃতি ঘটায়।
তাই আমি সম্মানিত পাঠকদের পর্যবেক্ষণসমূহ থেকে উপকৃত হয়ে বইটি পুনরায় পর্যালোচনা করেছি; আমি মহান রবের কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমার এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে কবুল করেন এবং এই সংস্করণটিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের অধিকতর নিকটবর্তী করেন। আল্লাহই তাওফিক দাতা।
লেখক
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الأولى
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فهو المهتدي، ومن يضلل الله فلن تجد له ولياً مرشداً وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن سلك سبيله واهتدى بهداه وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فإنه من رحمة الله سبحانه وتعالى وعظيم لطفه بخلقه: أن جعل الرسالة المحمدية هي خاتمة الرسالات السماوية، وجعلها سبحانه وتعالى كاملة صافية نقية لا يزيغ عنها إلا هالك. وكتب تبارك اسمه وتعالى جدّه السعادة في الدّارين لأتباع هذه الرسالة الذين قدروها حق قدرها، وقاموا بها على وفق ما أراد الله وعلى هدي نبي الله صلى الله عليه وسلم وسماهم أولياء الله وحزبه. وكتب عز وجل الشقاء والذلة على من حاد عن هذه الشريعة وتنكب الصراط المستقيم وسماهم أولياء الشيطان وجنده.
وأصل هذه الرسالة الخالدة: كلمة التوحيد (لا إله إلا الله محمد رسول الله) هذه الكلمة العظيمة - كما يقول ابن القيم -:
(التي لأجلها نصبت الموازين، ووضعت الدوواين، وقام سوق الجنة والنار، وبها انقسمت الخليقة إلى المؤمنين والكفار، والأبرار والفجار وأسست الملة، ولأجلها جردت السيوف للجهاد، وهي حق الله على جميع العباد) .
وحقيقة هذه الكلمة: (مركبة من معرفة ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم علماً، والتصديق به عقداً، والإقرار به نطقاً، والانقياد له محبة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে হিদায়াত কামনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন আপনি তার জন্য কোনো সাহায্যকারী পথপ্রদর্শক পাবেন না। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর পথ অনুসরণ করে ও তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী চলে তাদের ওপর দয়া ও অফুরন্ত শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর দয়া এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি তাঁর সুমহান করুণার বহিঃপ্রকাশ হলো এই যে, তিনি মুহাম্মাদী রিসালাতকে আসমানী রিসালাতসমূহের পরিসমাপ্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এবং তিনি একে পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ করেছেন, যা থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ বিচ্যুত হয় না। আর যাঁর নাম বরকতময় এবং যাঁর মহিমা সুউচ্চ, তিনি এই রিসালাতের অনুসারীদের জন্য উভয় জগতে সৌভাগ্য লিখে দিয়েছেন, যারা এর যথাযথ মূল্যায়ন করেছে এবং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী ও আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রদর্শিত হিদায়াত মোতাবেক এর ওপর অটল থেকেছে; আর তিনি তাদের আল্লাহর বন্ধু ও তাঁর দল হিসেবে নামকরণ করেছেন। এবং মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য দুর্ভাগ্য ও লাঞ্ছনা লিখে দিয়েছেন, যে এই শরীয়ত থেকে বিমুখ হয়েছে এবং সরল পথ ছেড়ে অন্য পথে চলেছে; আর তিনি তাদের শয়তানের বন্ধু ও তার বাহিনী হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আর এই চিরন্তন রিসালাতের মূল ভিত্তি হলো তাওহীদের কালিমা (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল)। এই মহান কালিমার ব্যাপারে ইবনুল কাইয়্যিম বলেন:
(যার জন্য দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করা হয়েছে, আমলনামার খাতা রাখা হয়েছে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর যার মাধ্যমেই সৃষ্টিজগত মুমিন ও কাফির এবং নেককার ও বদকার—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরই জন্য জিহাদের তলোয়ার কোষমুক্ত করা হয়েছে এবং এটাই সকল বান্দার ওপর আল্লাহর প্রাপ্য হক)।
আর এই কালিমার হাকীকত বা বাস্তবতা হলো: (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা জ্ঞানত অবগত হওয়া, বিশ্বাসের সাথে তা সত্যায়ন করা, মৌখিকভাবে তা স্বীকার করা এবং ভালোবাসার সাথে তার আনুগত্য করার সমন্বিত রূপ)।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
وخضوعاً، والعمل به باطناً وظاهراً، وتنفيذه والدعوة إليه بحسب الإمكان، وكماله في الحب في الله، والبغض في الله، والعطاء لله، والمنع لله، وأن يكون الله وحده إلهه ومعبوده.
والطريق إليه: تجريد متابعة رسوله الله صلى الله عليه وسلم ظاهراً وباطناً، وتغميض عين القلب عن الالتفات إلى سوى الله ورسوله) (1) .
هذه الكلمة العظيمة بكل مفاهيمها ومقتضياتها قد غابت عن حس الناس اليوم إلا من رحم الله، ومن هذه المفاهيم بل من أهمها موضوع: الولاء والبراء.
ولئن كان هذا المفهوم العقدي الهام قد غاب اليوم عن واقع حياة المسلمين - إلا من رحم ربك - فإن ذلك لا يغير من حقيقته الناصعة شيئاً.
ذلك أن الولاء والبراء: هما الصورة الفعلية للتطبيق الواقعي لهذه العقيدة. وهو مفهوم ضخم في حس المسلم بمقدار ضخامة وعظمة هذه العقيدة.
ولن تتحقق كلمة التوحيد في الأرض إلا بتحقيق الولاء لمن يستحق الولاء والبراء ممن يستحق البراء.
ويحسب بعض الناس أن هذا المفهوم العقدي الكبير يدرج ضمن القضايا الجزئية أو الثانوية ولكن حقيقة الأمر بعكس ذلك.
إنها قضية إيمان وكفر كما قال الله تعالى:} يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ آبَاءكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاء إَنِ اسْتَحَبُّواْ الْكُفْرَ عَلَى الإِيمَانِ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ {23} قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللهِ وَرَسُولِهِ
--------------------------------------------
এবং বশ্যতা স্বীকার করা, অন্তরে ও প্রকাশ্য কার্যে তা বাস্তবায়ন করা, সাধ্যানুযায়ী এটি কার্যকর করা ও এর দিকে দাওয়াত দেওয়া। আর এর পূর্ণতা নিহিত রয়েছে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা, আল্লাহর জন্য ঘৃণা, আল্লাহর জন্য দান করা এবং আল্লাহর জন্যই প্রদান না করার মধ্যে; আর যেন একমাত্র আল্লাহই হন তাঁর ইলাহ ও উপাস্য।
আর এর পথ হলো: বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠ হওয়া এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা থেকে অন্তরের চোখ বন্ধ রাখা। (১)
এই মহান কালেমা তার যাবতীয় মর্মার্থ ও দাবিদাওয়াসহ বর্তমান যুগের মানুষের অনুভূতি থেকে হারিয়ে গেছে, তবে আল্লাহ যাদের ওপর দয়া করেছেন তারা ব্যতীত। আর এই মর্মার্থগুলোর মধ্য থেকে বরং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (বন্ধুত্ব ও শত্রুতা)।
যদিও এই গুরুত্বপূর্ণ আকিদাগত ধারণাটি বর্তমান মুসলমানদের বাস্তব জীবন থেকে বিলীন হয়ে গেছে—আপনার রব যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ছাড়া—তবুও এটি এর উজ্জ্বল ধ্রুব সত্যের কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।
এর কারণ হলো, আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (বন্ধুত্ব ও শত্রুতা): এই আকিদার বাস্তব প্রয়োগের বাস্তব চিত্র। আর একজন মুসলমানের অনুভূতিতে এই ধারণাটি ততটাই সুমহান ও বিশাল যতটা এই আকিদার মাহাত্ম্য ও বিশালত্ব।
জমিনে তাওহীদের কালেমা ততক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে না, যতক্ষণ না যার প্রতি আনুগত্য বা বন্ধুত্ব রাখা প্রাপ্য তার প্রতি তা রাখা হয় এবং যার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ বা শত্রুতা পোষণ করা প্রাপ্য তার থেকে তা করা হয়।
কিছু মানুষ মনে করে যে এই বৃহৎ আকিদাগত ধারণাটি আংশিক বা গৌণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু প্রকৃত বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত।
এটি ঈমান ও কুফরের বিষয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের পিতা ও ভাইদেরকেও বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমানের মোকাবিলায় কুফরকে পছন্দ করে নেয়। তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, তারাই জালিম। (২৩) বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার তোমরা আশঙ্কা করো এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমরা পছন্দ করো—আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে বেশি প্রিয় হয়...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُواْ حَتَّى يَأْتِيَ اللهُ بِأَمْرِهِ وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ { [سورة التوبة:23: 24]
وقال جل جلاله:
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ {. [سورة المائدة:51]
وقد قال أحد العلماء - وهو الشيخ حمد بن عتيق رحمه الله (إنه ليس في كتاب الله تعالى حكم فيه من الأدلة أكثر ولا أبين من هذا الحكم - أي الولاء والبراء - بعد وجوب التوحيد وتحريم ضده) (1) .
ولقد قامت الأمة الإسلامية بقيادة البشرية دهراً طويلاً حيث نشرت هذه العقيدة الغراء في ربوع المعمورة، وأخرجت الناس من عبادة العباد إلى عبادة رب العباد، ومن ضيق الدنيا إلى سعة الدنيا والآخرة.
ثم ما الذي حدث؟
* لقد تقهقرت هذه الأمة إلى الوراء بعد أن تركت الجهاد وأخذت بأذناب البقر!
* تراجعت بعد أن زهدت في الجهاد وهو ذروة سنام الإسلام.
* تبعت الأمم الأخرى بعد أن ركنت إلى حياة الدعة والرفاهية والبذخ والمجون.
* تبلبلت أفكارها بعد أن خلطت نبعها الصافي بالفلسفات الجاهلية والهرطقة البشرية.
* دخلت هذه الأمة في طاعة الكافرين واطمأنت إليهم، وطلبت صلاح دنياها بذهاب دينها فخسرت الدنيا والآخرة.
وبرزت صور موالاة الكفار في أمور شتى منها:
(1) محبة الكفار وتعظيمهم ونصرتهم على حرب أولياء الله، وتنحية شريعة الله عن الحكم في الأرض ورميها بالقصور والجمود وعدم مسايرة العصر ومواكبة التقدم الحضاري.
(2) ومنها: استيراد القوانين الكافرة - شرقية كانت أم غربية - وإحلالها محل شريعة الله الغراء وغمز كل مسلم يطالب بشرع الله بـ: التعصب والرجعية والتخلف!
(3) ومنها: التشكيك في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم والطعن في دواوينها الكريمة والحط من قدر أولئك الرجال الأعلام الذين خدموا هذه السنة حتى وصلت إلينا.
(4) قيام دعوات جاهلية جديدة تعتبر جديدة في حياة المسلمين، ذلك مثل دعوة القومية الطورانية والقومية العربية والقومية الهندية و.. و
… الخ.
(5) إفساد المجتمعات الإسلامية عن طريق وسائل التربية والتعليم وبث سموم الغزو الفكري في المناهج والوسائل الإعلامية بكل أصنافها.
وأمام هذه الصور وغيرها من الصور الكثيرة تنشأ أسئلة كثيرة تحتاج إلى إجابات صادقة وافية يدعمها الدليل من الكتاب والسنة والاسترشاد بآراء العلماء الأعلام ومن هذه الأسئلة:
لمن ينتمي المسلم؟
ولمن يكون ولاؤه؟
وممن يكون براؤه؟
ما حكم تولي الكفار ونصرتهم؟
ما حكم الإسلام في المذاهب الفكرية التي يروج لها المستغفلون أو الحاقدون من أبناء أمتنا وممن ينطقون بألسنتنا؟
كيف ينبغي أن تكون صورة الولاء للمسلمين الذين يضطهدون اليوم وغير اليوم في مشارق الأرض ومغاربها حيث تكالبت عليهم قوى الشر والكفر؟
ما هو طريق الخلاص بعدما تقبل المسلمون لباس العبودية العقلية الذي خلعته عليهم المدنية الأجنبية؟
--------------------------------------------
...এবং তাঁর পথে জিহাদ করা; তবে অপেক্ষা করো যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাঁর ফয়সালা নিয়ে আসেন। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। [সূরা আত-তাওবাহ: ২৪]
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন:
হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও নাসারাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না; তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে অবশ্যই তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। [সূরা আল-মায়িদাহ: ৫১]
জনৈক আলেম—তিনি হলেন শেখ হামাদ বিন আতিক (রহিমাহুল্লাহ)—বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে এমন কোনো বিধান নেই যার দলিল তাওহিদ ওয়াজিব হওয়া এবং এর বিপরীত (শিরক) হারাম হওয়ার পর এই বিধানের—অর্থাৎ আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (বন্ধুত্ব ও সম্পর্কচ্ছেদ)—চেয়ে বেশি বা স্পষ্ট) (১)।
ইসলামি উম্মাহ দীর্ঘকাল যাবত মানবতার নেতৃত্ব দিয়েছিল যখন তারা এই উজ্জ্বল আকিদাকে বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিয়েছিল, এবং মানুষকে বান্দার ইবাদত থেকে বের করে বান্দাদের রবের ইবাদতের দিকে, এবং দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে নিয়ে এসেছিল।
অতঃপর কী ঘটেছিল?
* এই উম্মাহ পেছনে সরে গেছে জিহাদ ত্যাগ করার এবং গরুর লেজ ধরার (পার্থিব মোহে মগ্ন হওয়ার) পর!
* তারা পিছু হটেছে জিহাদের ব্যাপারে বিমুখ হওয়ার পর, অথচ এটি হলো ইসলামের সর্বোচ্চ শিখর।
* তারা অন্যান্য জাতির অনুগামী হয়েছে আরাম-আয়েশ, বিলাসিতা, অপচয় ও পাপাচারের জীবনের দিকে ঝুঁকে পড়ার পর।
* তাদের চিন্তাধারা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে তাদের (দ্বীনের) স্বচ্ছ ঝরনার সাথে জাহেলি দর্শন ও মানবীয় ধর্মদ্রোহিতাকে মিশ্রিত করার পর।
* এই উম্মাহ কাফিরদের আনুগত্যে প্রবেশ করেছে এবং তাদের ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়েছে, আর নিজের দ্বীন বিলিয়ে দিয়ে দুনিয়ার সংশোধন চেয়েছে; ফলে তারা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারিয়েছে।
কাফিরদের সাথে বন্ধুত্বের চিত্রসমূহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
(১) কাফিরদের ভালোবাসা, তাদের সম্মান করা এবং আল্লাহর বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের সাহায্য করা; জমিনের শাসনব্যবস্থা থেকে আল্লাহর শরিয়তকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং একে অপূর্ণতা, স্থবিরতা এবং আধুনিক যুগ ও সভ্যতার অগ্রগতির সাথে তাল মেলাতে অক্ষম বলে অভিযুক্ত করা।
(২) তন্মধ্যে রয়েছে: কাফিরদের আইন—তা প্রাচ্যের হোক বা প্রতীচ্যের—আমদানি করা এবং আল্লাহর উজ্জ্বল শরিয়তের স্থলাভিষিক্ত করা এবং যে মুসলিম আল্লাহর বিধান দাবি করে তাকে গোঁড়ামি, প্রতিক্রিয়াশীল ও পশ্চাৎপদ বলে বিদ্রূপ করা!
(৩) তন্মধ্যে রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ নিয়ে সংশয় তৈরি করা, সুন্নাহর বরেণ্য সংকলনসমূহের নিন্দা করা এবং সেইসব প্রখ্যাত ব্যক্তিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা যারা এই সুন্নাহর সেবা করেছেন যাতে তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে।
(৪) এমন সব নতুন জাহেলি দাওয়াত বা মতবাদের উত্থান যা মুসলিমদের জীবনে নতুন হিসেবে গণ্য; যেমন তুরানি জাতীয়তাবাদ, আরব জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি মতবাদসমূহ।
(৫) শিক্ষা ও লালন-পালনের মাধ্যমগুলোর সাহায্যে ইসলামি সমাজগুলোকে কলুষিত করা এবং পাঠ্যক্রম ও সকল প্রকার প্রচারমাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের বিষ ছড়িয়ে দেওয়া।
এইসব চিত্র এবং এ জাতীয় আরও অনেক চিত্রের সামনে অনেক প্রশ্ন জাগে যার জন্য কিতাব ও সুন্নাহর দলিল এবং বরেণ্য আলেমদের মতামতের আলোকে সত্য ও পূর্ণাঙ্গ উত্তরের প্রয়োজন। সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে:
একজন মুসলিম কার অন্তর্ভুক্ত হবে?
তার আনুগত্য কার জন্য হবে?
কার সাথে তার সম্পর্কচ্ছেদ হবে?
কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব ও তাদের সাহায্য করার বিধান কী?
আমাদের জাতির সন্তানদের মধ্যে যারা অসতর্ক বা বিদ্বেষপরায়ণ এবং যারা আমাদের ভাষায় কথা বলে, তাদের প্রচারিত এই বুদ্ধিবৃত্তিক মতবাদগুলোর ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী?
আজ এবং অতীতে বিশ্বের আনাচে-কানাচে যে মুসলিমরা নির্যাতিত হচ্ছে, যাদের ওপর কুফরি ও অশুভ শক্তিগুলো ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তাদের প্রতি আনুগত্যের রূপ কেমন হওয়া উচিত?
মুক্তির পথই বা কী, বিশেষ করে মুসলিমরা যখন সেই মানসিক দাসত্বের পোশাক গ্রহণ করেছে যা বিদেশি সভ্যতা তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يستثير هذه الأسئلة وغيرها غياب المفهوم الصحيح لكلمة التوحيد، وبعد ذلك عن واقع المسلمين اليوم حيث مسخت مفاهيمها حتى صار من يقر بتوحيد الربوبية فقط دون توحيد الألوهية يعتبر موحداً عند كثير من الناس!!!
أما كون لا إله إلا الله ولاء وبراء، أما كونها توحيد ألوهية وعبادة: فهذه معان لا تخطر على أذهان الكثير - إلا من رحم الله -
ورحم الله الإمام الداعية شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب حين قال: (إن الإنسان لا يستقيم له إسلام ولو وحد الله وترك الشرك إلا بعداوة المشركين كما قال تعالى في سورة المجادلة) :
{لا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءهُمْ أَوْ أَبْنَاءهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُوْلَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الإِيمَانَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٍ مِّنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُوْلَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ { [سورة المجادلة: 22] .
وانطلاقاً من مجموع هذه الأمور، وحباً في خدمة هذه العقيدة، ورغبة في تفنيد الباطل وبيان الحق: عقدت العزم واستعنت بالله وكتبت هذا الموضوع وسميته: الولاء والبراء في الإسلام.
وأنا أعلم - يقيناً - أن مثلي لا يعطي هذا الموضوع حقه من البحث والدراسة نظراً لقلة البضاعة وسعة الموضوع، لكنني بذلت جهد المقل، واجتهدت أن أصل به إلى الصورة التي تليق به، فإن أصبت فذاك ما أردت والفضل لله أولاً وآخراً.
وإن كانت الأخرى فأستغفر الله لذنبي. وحسبي أني بذلت طاقتي ووضعت لبنة في طريق من يريد إكمال البناء.
وأقول كما قال سلفنا الصالح: رحم الله امرءاً أهدى إلي عيوبي.
তাওহীদের সঠিক ধারণার অনুপস্থিতি এবং বর্তমান সময়ের মুসলিমদের বাস্তব অবস্থা থেকে এর দূরত্বের কারণেই এই প্রশ্নগুলো ও অন্যান্য জিজ্ঞাসার উদ্রেক হয়েছে। বর্তমান সময়ে এর ধারণাগুলোকে এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছে যে, এমনকি যারা কেবলমাত্র তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ স্বীকার করে কিন্তু তাওহীদে উলুহিয়্যাহ বর্জন করে, তাদেরও অনেক মানুষের নিকট মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী) বলে গণ্য করা হয়!!!
পক্ষান্তরে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' যে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা (ওয়ালা ও বারা) এবং এটি যে উলুহিয়্যাহ ও ইবাদতের তাওহীদ—এই মর্মার্থগুলো অনেকের মনেই উদয় হয় না—আল্লাহ যাকে দয়া করেছেন তিনি ছাড়া।
ইমাম, দাঈ এবং শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের প্রতি আল্লাহ রহম করুন, তিনি যখন বলেছিলেন: (কোনো ব্যক্তির ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না, যদিও সে আল্লাহর একত্ববাদ মেনে নেয় এবং শিরক বর্জন করে, যতক্ষণ না সে মুশরিকদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করবে; যেমন আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মুজাদিলাহ-তে বলেছেন):
{আপনি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবেন না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, অথচ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা আত্মীয়-স্বজন হোক না কেন। আল্লাহ তাদের অন্তরে ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা তাদের শক্তিশালী করেছেন। তিনি তাদের এমন জান্নাতে দাখিল করবেন যার তলদেশে নহর প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম।} [সূরা আল-মুজাদিলাহ: ২২]।
এই সামগ্রিক বিষয়াবলীর প্রেক্ষাপটে, এই আকিদার খিদমতের প্রতি ভালোবাসা এবং বাতিলকে খণ্ডন ও সত্যকে সুস্পষ্ট করার আকাঙ্ক্ষা থেকে: আমি দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলাম এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এই বিষয়টি লিখলাম এবং এর নামকরণ করলাম: ইসলামে আল-ওয়ালা ওয়াল বারা (বন্ধুত্ব ও শত্রুতা)।
আমি নিশ্চিতভাবেই জানি যে, বিষয়ের ব্যাপকতা এবং নিজের জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে আমার মতো একজন ব্যক্তি এই বিষয়ের ওপর গবেষণা ও পর্যালোচনার যথাযথ হক আদায় করতে সক্ষম নয়। তবে আমি একজন অল্পপুঁজির মানুষের সাধ্যমতো শ্রম ব্যয় করেছি এবং একে একটি উপযুক্ত রূপ দান করার চেষ্টা করেছি। যদি আমি সঠিক হতে পারি তবে সেটিই আমার উদ্দেশ্য ছিল এবং এর সকল কৃতিত্ব প্রথম ও শেষ পর্যন্ত আল্লাহর।
আর যদি বিষয়টি অন্যরকম (ভুল) হয়, তবে আমি আমার গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রম দিয়েছি এবং এই ইমারতটি পূর্ণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের পথে একটি ইট স্থাপন করেছি।
আর আমি আমাদের সালাফে সালেহীনদের মতোই বলছি: আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে আমার ত্রুটিগুলো আমার নিকট উপহার হিসেবে পেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كما أنني أطلب من كل قارئ كريم - عالم أو متعلم - قرأ هذا الكتاب ووجد فيه خللاً أن ينبهني إلى ذلك وله من الله الأجر والمثوبة على قيامه بواجب النصح ثم له مني الدعاء بظاهر الغيب.
وأخيراً أتقدم بخالص الشكر والتقدير لأستاذي الكبير العالم العامل الشيخ محمد قطب حفظه الله لما أسداه إلي من نصح وتوجيه، وإرشاد وتنبيه إبان إشرافه على هذا البحث، سائلاً الله العلي القدير أن يجزيه عني خير ما جازى معلم عن تلميذه والله الهادي إلى سواء السبيل.
اللهم اجعل عملنا خالصاً صائباً، خالصاً لوجهك الكريم صائباً وفق كتابك وسنة نبيك صلى الله عليه وسلم.
ربنا لا تؤاخذنا إن نسينا أو أخطأنا ربنا ولا تحمل علينا إصراً كما حملته على الذين من قبلنا ربنا ولا تحملنا ما لا طاقة لنا به واعف عنا واغفر لنا وارحمنا أنت مولانا فانصرنا على القوم الكافرين.
محمد بن سعيد بن سالم القحطاني
مكة المكرمة
15/5/1402هـ
সেইসাথে আমি প্রত্যেক সম্মানিত পাঠক—চাই তিনি আলেম হোন বা শিক্ষার্থী—যিনি এই বইটি পড়েছেন এবং এতে কোনো ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন, তাঁর কাছে অনুরোধ করছি যে তিনি যেন আমাকে সে বিষয়ে অবহিত করেন। নসিহতের (উপদেশ প্রদানের) এই আবশ্যিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান ও সওয়াব লাভ করবেন, আর আমার পক্ষ থেকেও তাঁর অগোচরে তাঁর জন্য দোয়া রইল।
পরিশেষে, আমি আমার মহান উস্তাদ, আমলকারী আলেম শায়খ মুহাম্মদ কুতুব (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)-এর প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। এই গবেষণাটি তত্ত্বাবধানকালে তিনি আমাকে যে নসিহত, দিকনির্দেশনা, পথপ্রদর্শন এবং সতর্কবাণী প্রদান করেছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে তাঁকে এমন সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন যা একজন শিক্ষক তাঁর ছাত্রের পক্ষ থেকে পেয়ে থাকেন। আর আল্লাহই সঠিক পথের দিশারি।
হে আল্লাহ! আমাদের এই কাজকে একনিষ্ঠ এবং সঠিক করে দিন; যা হবে একমাত্র আপনার মহান সন্তুষ্টির জন্য এবং যা হবে আপনার কিতাব ও আপনার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী।
হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি, তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমনটি আপনি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের প্রতিপালক! যে ভার বহন করার সামর্থ্য আমাদের নেই, তা আমাদের ওপর চাপাবেন না। আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের মার্জনা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক, সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন সালেম আল-কাহতানি
মক্কাতুল মুকাররমা
১৫/০৫/১৪০২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التمهيدلكي نتحدث عن الولاء والبراء من واقع التصور الإسلامي الصحيح لا بد أن نتحدث في هذا التمهيد عن حقائق ثلاث هي:
(1) حقيقة الإسلام الممثلة في كلمة التوحيد (لا إله إلا الله محمد رسول الله) ومدلول هذه الكلمة وشروطها.
(2) الولاء والبراء من لوازم كلمة التوحيد.
(3) نواقض الإسلام: الشرك والكفر والنفاق والردة.
وهدفي من هذا هو: أن أحاول - بقدر الطاقة - إبراز حقيقة الإسلام، وحقيقة ما يناقضه. مع إبراز حقيقة قضية الولاء والبراء ودورهما في حياة المسلمين. لأن الولاء والبراء جزء من هذه العقيدة فالحديث عنه يستلزم الحديث عن أساس هذه العقيدة وهي كلمة التوحيد. ومعرفة هذه العقيدة معرفة صحيحة أمر ضروري للمسلم ليكون ولاؤه وبراؤه بحبسها. إذ من المحال أن تكون هناك عقيدة سليمة بدون تحقيق الموالاة والمعاداة الشرعية.
ثم إن الوقوف على حقيقة دعوة رسول الله صلى الله عليه وسلم وما أحدثته هذه الدعوة من تحول في تاريخ البشرية، وما بنته من حضارة سعد بها الإنسان المسلم منذ أول لحظة عرف فيها ربه ودينه ونبيه: لأمر جدير بالتأمل، تلك الدعوة التي جاءت وقد كان الناس يعيشون في جاهلية جهلاء، وضلالة عمياء، ثم أنقذتهم وأحيتهم بعد ممات:
{أَوَ مَن كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِّنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ { [سورة الأنعام: 122] .
প্রারম্ভিকাইসলামের সঠিক আকিদা ও বিশ্বাসের আলোকে আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (আনুগত্য ও সম্পর্কচ্ছেদ) সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে এই প্রারম্ভিকায় তিনটি ধ্রুব সত্য নিয়ে আলোচনা করা আবশ্যক, সেগুলো হলো:
(১) তাওহিদের বাণী (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল) এর মাধ্যমে উপস্থাপিত ইসলামের হাকিকত বা বাস্তবতা এবং এই বাণীর তাৎপর্য ও শর্তাবলি।
(২) আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা হচ্ছে তাওহিদের বাণীর অপরিহার্য দাবি।
(৩) ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ: শিরক, কুফর, নিফাক ও ধর্মত্যাগ।
এক্ষেত্রে আমার উদ্দেশ্য হলো: সাধ্যানুযায়ী ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ এবং এর পরিপন্থী বিষয়গুলোর বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা। সেইসাথে আল-ওয়ালা ওয়াল-বারার স্বরূপ এবং মুসলিম জীবনে এ দুটির ভূমিকা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। কারণ আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা এই আকিদারই অংশ, তাই এটি নিয়ে আলোচনার জন্য এই আকিদার ভিত্তি অর্থাৎ তাওহিদের বাণী নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন পড়ে। আর একজন মুসলিমের জন্য এই আকিদা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখা অপরিহার্য, যাতে করে তার আনুগত্য ও সম্পর্কচ্ছেদ এর অনুগামী হয়। কেননা শরিয়তসম্মত আনুগত্য ও শত্রুতা বাস্তবায়ন করা ছাড়া বিশুদ্ধ আকিদা থাকা অসম্ভব।
অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের স্বরূপ অনুধাবন করা এবং এই দাওয়াত মানব ইতিহাসে যে পরিবর্তন এনেছে, আর এটি যে সভ্যতার বনিয়াদ গড়েছে—যার মাধ্যমে একজন মুসলিম তার প্রতিপালক, ধর্ম ও নবীকে চেনার প্রথম মুহূর্ত থেকেই ধন্য হয়েছে—তা অত্যন্ত গভীর চিন্তার বিষয়। এই দাওয়াত এমন এক সময়ে এসেছিল যখন মানুষ ঘোর জাহিলিয়াত ও অন্ধ পথভ্রষ্টতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। অতঃপর এটি তাদের উদ্ধার করেছে এবং মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেছে:<
{আর যে ব্যক্তি মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তার জন্য একটি নূর (আলো) তৈরি করে দিয়েছি যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো হতে পারে যে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এভাবেই কাফেরদের জন্য তাদের কাজগুলোকে সুশোভিত করে দেওয়া হয়েছে।} [সুরা আল-আনআম: ১২২]।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ولقد أوضح حقيقة تلك الحال التي كانوا عليها الصحابي الجليل المقداد (1) بن الأسود رضي الله عنه فيما رواه أبو نعيم في الحلية (.. والله لقد بعث النبي صلى الله عليه وسلم على أشد حال بعث عليه نبي من الأنبياء، في فترة وجاهلية. ما يرون ديناً أفضل من عبادة الأوثان، فجاء بفرقان فرق به بين الحق والباطل، وفرق بين الوالد وولده، حتى أن الرجل ليرى والده أو ولده أو أخاه كافراً – وقد فتح الله تعالى قفل قلبه للإيمان – ليعلم أنه قد هلك من دخل النار، فلا تقر عينه وهو يعلم أن حميمه في النار، وإنها للتي قال الله عز وجل:
{رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ { [سورة الفرقان: 74] (2) .
هذه الجاهلية التي تحدث القرآن عنها وهو يمتن على المسلمين بالهداية. قال تعالى:
{وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ وَاذْكُرُواْ نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىَ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فأنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ { [سورة آل عمران:103] .
--------------------------------------------
মহান সাহাবী মিকদাদ (১) বিন আসওয়াদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের সেই অবস্থার বাস্তবতা স্পষ্ট করেছেন যা আবু নুআঈম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "...আল্লাহর কসম, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নবীদের মধ্যে প্রেরিত কঠিনতম এক অবস্থায় পাঠানো হয়েছিল, ওহি বন্ধ থাকার এক যুগে ও জাহিলিয়াতের সময়ে। তারা মূর্তিপূজার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো ধর্ম দেখত না। এরপর তিনি 'ফুরকান' (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী) নিয়ে আসলেন যার মাধ্যমে তিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দিলেন এবং পিতা ও তার সন্তানের মধ্যে বিভেদ তৈরি করলেন। এমনকি একজন লোক তার পিতা, সন্তান বা ভাইকে কাফির হিসেবে দেখত—অথচ মহান আল্লাহ ইতিপূর্বেই তার অন্তরের ঈমানের তালা খুলে দিয়েছিলেন—যাতে সে জানতে পারে যে, যে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করেছে সে ধ্বংস হয়েছে। ফলে তার চক্ষু শীতল হতো না যখন সে জানত যে তার প্রিয়জন জাহান্নামে আছে। আর এটিই ছিল সেই বিষয় যা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন:
{হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের জন্য আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদের পক্ষ থেকে নয়নপ্রীতি দান করো।} [সূরা আল-ফুরকান: ৭৪] (২) ।
এটি সেই জাহিলিয়াত যার সম্পর্কে কুরআন আলোচনা করেছে এবং মুসলিমদেরকে হিদায়াতের অনুগ্রহ দান করার মাধ্যমে ইহসান প্রকাশ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন:
{তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতির সঞ্চার করলেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা আগুনের গর্তের কিনারে ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের সেখান থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাবলী স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও।} [সূরা আল-ইমরান: ১০৩] ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولما عرف الصحابة رضوان الله عليهم الجاهلية، ثم عرفوا الإسلام خرجوا – نتيجة للتربية القرآنية والعناية النبوية – وهم أعظم جيل عرفه تاريخ هذه الدعوة.
ترى، ما سر تلك العظمة التي نقرأ عنها ونسمع، وكأنها شبه أحلام، نظراً للهوة السحيقة التي وصلنا إليها؟ ذلك الجيل الذي كان الواحد منهم إذا دخل في الإسلام خلع على عتبته كل ماضيه في الجاهلية، وانتقل نقلة بعيدة من عالم مظلم سحيق، وتصور قاصر، ومفاهيم كليلة، وعبودية للمال والعبيد، إلى حياة رحبة فسيحة، وعالم يملؤه نور الله، وتصور كامل شامل، واستعلاء على كل عبودية إلا العبودية لله عز وجل. (1) .
إن سر ذلك النجاح، وتلك العظمة هو نقطة البدء التي بدأ بها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي كلمة (لا إله إلا الله محمد رسول الله) هذه الكلمة التي مزقت كل رابطة، وأهدرت كل وشيجة إلا وشيجة العقيدة. رابطة الحب في الله، رابطة المؤاخاة الإيمانية التي يتهاوى دونها كل عرق ودم وتراب وجنس ولون.
ورد في صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: - قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (إن الله يقول يوم القيامة: أين المتحابون بجلالي. اليوم أظلهم في ظلي يوم لا ظلي إلا ظلي) (2)
وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إن من عباد الله لأناساً ما هم بأنبياء ولا شهداء يغبطهم الأنبياء والشهداء يوم القيامة بمكانهم
--------------------------------------------
যখন সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) জাহিলিয়াত সম্পর্কে জানলেন, অতঃপর ইসলাম সম্পর্কে জানলেন, তখন তাঁরা বেরিয়ে এলেন —কুরআনী তরবিয়ত এবং নববী যত্নের ফলস্বরূপ— এমতাবস্থায় যে তাঁরা ছিলেন এই দাওয়াতের ইতিহাসে পরিচিত সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম।
আপনি কি মনে করেন, সেই মহত্ত্বের রহস্য কী যা সম্পর্কে আমরা পড়ি ও শুনি, অথচ বর্তমানে আমরা যে অতল গহ্বরে পৌঁছেছি তার পরিপ্রেক্ষিতে একে প্রায় স্বপ্নের মতো মনে হয়? সেই প্রজন্ম, যাঁদের মধ্যে কেউ যখন ইসলামে প্রবেশ করতেন, তখন তিনি তাঁর জাহিলিয়াতের সমস্ত অতীতকে এর চৌকাঠে ফেলে আসতেন এবং এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অতল জগত, ত্রুটিপূর্ণ কল্পনা, দুর্বল ধারণা এবং অর্থ ও দাসের দাসত্ব থেকে এক সুপ্রশস্ত জীবনে স্থানান্তরিত হতেন; এমন এক জগত যা আল্লাহর নূরে পরিপূর্ণ, এক পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক ধারণা এবং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর দাসত্ব ব্যতীত অন্য সকল দাসত্বের ঊর্ধ্বে আরোহণ। (১) ।
নিশ্চয়ই সেই সাফল্য ও মহত্ত্বের রহস্য হলো সেই সূচনাবিন্দু যা দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুরু করেছিলেন, আর তা হলো এই বাণী (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল)। এই বাণী প্রতিটি সম্পর্ককে ছিন্ন করেছে এবং আকিদার বন্ধন ব্যতীত অন্য প্রতিটি বন্ধনকে বিলীন করে দিয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসার বন্ধন, ঈমানী ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, যার সামনে প্রতিটি বংশ, রক্ত, মাটি, জাতি ও বর্ণ তুচ্ছ হয়ে যায়।
সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, (নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন: আমার মহত্ত্বের খাতিরে একে অপরকে যারা ভালোবাসত তারা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার ছায়ায় ছায়া দান করব, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া নেই) (২)
এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা নবী বা শহীদ নন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তাঁদের সুউচ্চ অবস্থানের কারণে নবী ও শহীদগণ তাঁদের প্রতি ঈর্ষা বোধ করবেন)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
من الله تعالى) قالوا: يا رسول الله تخبرنا من هم؟ قال: (هم قوم تحابوا بروح الله على غير أرحام بينهم، ولا أموال يتعاطونها، فوالله إن وجوههم لنور، وإنهم على نور، لا يخافون إذا خاف الناس، ولا يحزنون إذا حزن الناس) وقرأ هذه الآية:
{أَلا إِنَّ أَوْلِيَاء اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ { (1) [سورة يونس: 62] .
ولقد مكث رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة ثلاثة عشر عاماً يدعو الناس إلى هذه العقيدة ويمكنها في نفوس العصبة المسلمة، مما جعل آثار ذلك تنعكس في أفعالهم الحميدة، وجهادهم المستمر لنشر كلمة الله في الأرض، حيث قامت دولة المصطفي صلى الله عليه وسلم في المدينة المنورة.
إن الذي يجعلنا نتحدث عن قضية الألوهية، ومفهومها الصحيح الذي جاء به الإسلام هو الحاجة الماسة لشرحها اليوم، وبيانها للناس. بعد أن انحرف الناس - إلا من رحم الله - عن العقيدة الصافية التي جاء بها الرسول صلى الله عليه وسلم.
لقد أصبحت هذه القضية عند سواد الناس اليوم مجرد لفظة ترددها الألسنة دون وعي وتدبر لمعناها ولوازمها، ولم يقتصر الأمر على هذا فحسب، بل تعداه إلى إيراد بعض النصوص للاستشهاد بها على ما يرون من معتقد، دون نظر لكامل النصوص في هذه القضية، ودون رجوع إلى بيان ذلك في كتب أهل العلم من كتب الحديث وشروحها وكتب التفسير وشروح جهابذة رجال الدعوة والإصلاح على مدار تاريخ هذه الأمة.
ومسخ أيضاً مفهوم العبادة الشامل الكامل للحياة الدنيا والآخرة إلى جزء يسير منها وهو الشعائر التعبدية من صلاة وصيام وزكاة وحج.
أما النظام الذي تقوم عليه الحياة. أما الولاء لمن يكون؟ والبراء ممن يكون؟
--------------------------------------------
(আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে) তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আমাদের জানাবেন তারা কারা? তিনি বললেন: (তারা এমন এক জাতি যারা নিজেদের মধ্যে কোনো রক্তীয় সম্পর্ক বা পারস্পরিক ধন-সম্পদের লেনদেন ছাড়াই আল্লাহর রুহ (প্রদত্ত ভালোবাসা) এর মাধ্যমে একে অপরকে ভালোবাসত। আল্লাহর শপথ, তাদের মুখমণ্ডল অবশ্যই নূরানি হবে এবং তারা নূরের ওপর অবস্থান করবে। যখন মানুষ ভীত হবে তখন তারা ভীত হবে না এবং যখন মানুষ দুঃখিত হবে তখন তারা দুঃখিত হবে না।) এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন:
{জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।} (১) [সূরা ইউনুস: ৬২] ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করে মানুষকে এই আকিদার দিকে আহ্বান জানান এবং মুসলিম জামাতের অন্তরে তা বদ্ধমূল করে দেন। যার ফলে তাদের প্রশংসনীয় কার্যাবলিতে এবং দুনিয়ার বুকে আল্লাহর বাণী প্রচারের জন্য তাদের নিরন্তর জিহাদে এর প্রভাব প্রতিফলিত হয়, যার মাধ্যমে মদিনা মুনাওয়ারায় আল-মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
যে বিষয়টি আজ আমাদের উলুহিয়াতের (ইলাহত্ব) বিষয়টি এবং ইসলাম যে সঠিক ধারণা নিয়ে এসেছে তা নিয়ে আলোচনা করতে এবং মানুষের সামনে তা স্পষ্ট করতে বাধ্য করছে, তা হলো বর্তমান সময়ে এর ব্যাখ্যা প্রদানের চরম প্রয়োজনীয়তা। কেননা মানুষ—যাদের ওপর আল্লাহ দয়া করেছেন তারা ছাড়া—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিশুদ্ধ আকিদাহ নিয়ে এসেছিলেন তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে।
বর্তমানকালে সাধারণ মানুষের কাছে এই বিষয়টি কেবল মুখে উচ্চারিত একটি শব্দে পরিণত হয়েছে, যা তারা এর অর্থ এবং এর আবশ্যিক দাবিগুলো সম্পর্কে কোনো সচেতনতা ও চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই আওড়ে থাকে। বিষয়টি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তারা তাদের মনগড়া আকিদাহর স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কিছু কিছু দলিল পেশ করতে শুরু করেছে, অথচ তারা এই বিষয়ের সমস্ত দলিলের প্রতি সামগ্রিক দৃষ্টিপাত করে না এবং এই উম্মতের ইতিহাসের সকল যুগান্তকারী দাঈ ও সংস্কারকদের ব্যাখ্যা এবং হাদিসের কিতাব, তার ভাষ্যগ্রন্থ ও তাফসিরের কিতাবসমূহে বিজ্ঞ আলেমগণ এই বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন তার শরণাপন্ন হয় না।
একইভাবে দুনিয়া ও আখেরাত পরিব্যাপ্ত ইবাদতের ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ ধারণাকেও বিকৃত করে কেবল এর একটি সামান্য অংশে সংকুচিত করা হয়েছে, আর তা হলো সালাত, সিয়াম, জাকাত ও হজের মতো কিছু ইবাদতের আনুষ্ঠানিকতা।
অথচ জীবনের ভিত্তি যে ব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা কি হবে? আনুগত্য কার প্রতি হবে? আর সম্পর্কচ্ছেদ কাদের সাথে হবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
أما الحب لمن؟ والبغض لمن؟ فهذه معان بعيدة عن تصورهم ومجال تفكيرهم!!
إن هذا الدين لم يكن توحيد ربوبية فحسب. وإنما هو أيضاً توحيد ألوهية وتوحيد أسماء وصفات تليق بجلال الله وعظمته.
وتأمل - كما يقول الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله:
(حال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قام ينذر المشركين عن الشرك، ويأمرهم بضده وهو التوحيد، لم يكرهوا واستحسنوا، وحدثوا أنفسهم بالدخول فيه، إلى أن صرح بسب دينهم وتجهيل علمائهم، فحينئذ شمروا له ولأصحابه عن ساق العداوة، وقالوا: سفه أحلامنا، وعاب ديننا، وشتم آلهتنا، ومعلوم أنه صلى الله عليه وسلم لم يشتم عيسى وأمه، ولا الملائكة، ولا الصالحين، ولكن لما ذكر أنهم لا يدعون ولا ينفعون، ولا يضرون: جعلوا ذلك شتماً.
فإذا عرفت هذا، عرفت أن الإنسان لا يستقيم له إسلام - ولو وحد الله وترك الشرك - إلا بعداوة المشركين، والتصريح لهم بالعدواة والبغض، كما قال تعالى في سورة المجادلة:
{لا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءهُمْ أَوْ أَبْنَاءهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُوْلَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الإيمان { [سورة المجادلة: 22] .
(فإذا فهمت هذا جيداً عرفت أن كثير من الذين يدعون الدين لا يعرفونها - أي لا إله إلا الله - وإلا فما الذي حمل المسلمين على الصبر على ذلك والعذاب والأسر، والضرب، والهجرة للحبشة، مع أنه صلى الله عليه وسلم أرحم الناس لو يجد لهم رخصة لأرخص لهم) (1) .
--------------------------------------------
কিন্তু ভালোবাসা কার জন্য? আর ঘৃণা কার জন্য? এই অর্থগুলো তাদের কল্পনা এবং চিন্তার পরিধি থেকে অনেক দূরে!!
নিশ্চয়ই এই দ্বীন কেবল তাওহিদে রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্বের একত্ববাদ) নয়; বরং এটি তাওহিদে উলুহিয়্যাহ (উপাসনার একত্ববাদ) এবং আল্লাহর মহিমা ও মহানুভবতার যোগ্য তাওহিদুল আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলির একত্ববাদ)।
আর লক্ষ্য করুন—যেমনটি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুশরিকদের শিরক থেকে সতর্ক করতে এবং এর বিপরীত তাওহিদের আদেশ দিতে শুরু করলেন, তখন তারা অপছন্দ করেনি বরং ভালোই মনে করেছিল এবং মনে মনে এতে প্রবেশের চিন্তা করেছিল। যতক্ষণ না তিনি স্পষ্টভাবে তাদের ধর্মের নিন্দা করলেন এবং তাদের আলেমদের মূর্খ বলে অভিহিত করলেন, তখন তারা তাঁর এবং তাঁর সাহাবীদের বিরুদ্ধে চরম শত্রুতার কোমর বেঁধে নামল। তারা বলল: সে আমাদের জ্ঞান-বুদ্ধিকে তুচ্ছ করেছে, আমাদের ধর্মকে দোষারোপ করেছে এবং আমাদের উপাস্যদের গালি দিয়েছে। অথচ এটি জানা কথা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈসা এবং তাঁর মাকে গালি দেননি, ফেরেশতাদেরকেও না, সৎকর্মশীলদেরকেও না। কিন্তু তিনি যখন উল্লেখ করলেন যে, তাদের ডাকা যাবে না এবং তারা কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না, তখন তারা সেটাকেই গালি হিসেবে গণ্য করল।
যখন আপনি এটি জানলেন, তখন বুঝলেন যে কোনো মানুষের ইসলাম সঠিক হবে না—এমনকি সে যদি আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করে এবং শিরক বর্জনও করে—যতক্ষণ না সে মুশরিকদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে এবং তাদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মুজাদালায় বলেছেন:
{আপনি এমন কোনো সম্প্রদায়কে পাবেন না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে—হোক না কেন তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা আত্মীয়-স্বজন। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন।} [সূরা আল-মুজাদালা: ২২]।
(যদি আপনি এটি ভালোভাবে বুঝতে পারেন, তবে জানতে পারবেন যে যারা ধর্মের দাবি করে তাদের অনেকেই এটি—অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—জানে না। অন্যথায় মুসলিমদের কেন এর ওপর ধৈর্য ধারণ করতে হতো এবং আজাব, বন্দিত্ব, প্রহার ও হাবাশায় হিজরতের কষ্ট সহ্য করতে হতো? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের প্রতি সবচেয়ে দয়ালু ছিলেন; তিনি যদি তাদের জন্য কোনো সহজ পথ পেতেন তবে অবশ্যই তা সহজ করে দিতেন।) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
وما دام أن هناك من يجهل حقيقة (لا إله إلا الله) فلا بد من الشرح لها، والبيان لمدلولها وحقيقتها، وشروطها ونواقضها ولوازمها وإليك ذلك مفصلاً.
ومن الله نستمد العون والسداد.
যেহেতু এমন লোক রয়েছে যারা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)-এর প্রকৃত হাকীকত সম্পর্কে অজ্ঞ, সেহেতু এর ব্যাখ্যা প্রদান এবং এর মর্মার্থ, হাকীকত, শর্তাবলি, ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ ও এর দাবিগুলোর বর্ণনা প্রদান করা অপরিহার্য। আপনার নিকট তা বিস্তারিতভাবে পেশ করা হলো।
আর আমরা আল্লাহর নিকটই সাহায্য ও সঠিক পথের তাওফীক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كلمة التوحيد (لا إله إلا الله محمد رسول الله)
ومعناها: لا معبود بحق إلا الله، وبذلك تنفي الإلهية عما سوى الله ونثبتها لله وحده (1) .
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله:
(ليس للقلوب سرور ولا لذة تامة إلا في محبة الله، والتقرب إليه بما يحبه، ولا تمكن محبته إلا بالإعراض عن كل محبوب سواه، وهذا حقيقة (لا إله إلا الله) وهي ملة إبراهيم الخليل عليه السلام وسائر الأنبياء والمرسلين صلاة الله وسلامه عليهم أجمعين) (2) أما شقها الثاني (محمد رسول الله) فمعناه تجريد متابعته صلى الله عليه وسلم فيما أمر والانتهاء عما نهى عنه وزجر.
ومن هنا كانت (لا إله إلا الله) ولاء وبراء، نفياً وإثباتاً.
ولاء لله ولدينه وكتابه وسنة نبيه وعباده الصالحين.
وبراء من كل طاغوت عبد من دون الله (3) :
{فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىَ { [سورة البقرة:256] .
--------------------------------------------
তাওহীদের বাণী (আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল)
এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই। এর মাধ্যমে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে উপাস্য হওয়ার যোগ্যতাকে অস্বীকার করা হয় এবং তা একমাত্র আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা হয় (১)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
(অন্তরের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা এবং তাঁর পছন্দনীয় কাজের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন ব্যতীত অন্য কোনো কিছুতে পূর্ণ আনন্দ বা স্বাদ নেই। আর তাঁর ভালোবাসা কেবল তখনই সম্ভব, যখন তিনি ছাড়া অন্য সকল প্রিয় বস্তু থেকে বিমুখ হওয়া যায়। আর এটাই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর হাকিকত। এটাই ইবরাহিম খলিল আলাইহিস সালাম এবং অন্যান্য সকল নবী ও রাসুলের (তাদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) মিল্লাত বা আদর্শ) (২)। আর এর দ্বিতীয় অংশ (মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ)-এর অর্থ হলো: তিনি যা আদেশ করেছেন তাতে কেবল তাঁরই অনুসরণ করা এবং তিনি যা থেকে নিষেধ ও বারণ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা।
এখান থেকেই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' হচ্ছে আনুগত্য ও বিচ্ছিন্নতা (ওয়ালা ও বারা), অস্বীকার ও সাব্যস্তকরণ (নফি ও ইসবাত)।
আল্লাহর জন্য, তাঁর দ্বীনের জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর নবীর সুন্নাতের জন্য এবং তাঁর নেককার বান্দাদের জন্য আনুগত্য।
এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে ইবাদত করা হয় এমন প্রত্যেক তাগুত থেকে বিচ্ছিন্নতা (৩):
{সুতরাং যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে, সে অবশ্যই এক মজবুত হাতল ধারণ করল।} [সুরা আল-বাকারাহ: ২৫৬] ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي هذا يقول الشيخ محمد بن عبد الوهاب: واعلم أن الإنسان ما يصير مؤمناً بالله إلا بالكفر بالطاغوت والدليل هذه الآية (1) يعني الآية السابقة 256 سورة البقرة.
وكلمة التوحيد ولاء لشرع الله: {
اتَّبِعُواْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُواْ مِن دُونِهِ أَوْلِيَاء قَلِيلاً مَّا تَذَكَّرُونَ { [سورة الأعراف:3] .
{فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا { [سورة الروم:30] .
وبراء من حكم الجاهلية:
{أفحكم الجاهلية يبغون ومن أحسن من الله حكماً لقوم يوقنون} [سورة المائدة:50] .
وبراء من كل دين غير دين الإسلام:
{وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ {. [سورة آل عمران:85] .
ثم هي نفي وإثبات تنفي أربعة أمور. وتثبت أربعة أمور.
(تنفي: الآلهة، والطواغيت، والأنداد، والأرباب.
--------------------------------------------
এ বিষয়ে শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব বলেন: জেনে রাখো, কোনো মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমানদার হতে পারে না যতক্ষণ না সে তাগুতকে অস্বীকার করে, আর এর দলিল হলো এই আয়াত (১) অর্থাৎ সূরা আল-বাকারার পূর্ববর্তী ২৫৬ নম্বর আয়াত।
আর তাওহীদের কালিমা হলো আল্লাহর বিধানের প্রতি আনুগত্য: {তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না; তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।} [সূরা আল-আরাফ: ৩]।
{কাজেই তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো; আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।} [সূরা আর-রুম: ৩০]।
এবং জাহিলিয়াতের বিধান থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা:
{তবে কি তারা জাহিলিয়াতের বিধান কামনা করে? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহর চেয়ে উত্তম বিধানদাতা আর কে হতে পারে?} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৫০]।
এবং ইসলাম ছাড়া অন্য সকল ধর্ম থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা:
{আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তা কখনোই তার থেকে কবুল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} [সূরা আল-ইমরান: ৮৫]।
অতঃপর এটি (কালিমায়ে তাওহীদ) হলো অস্বীকার ও সাব্যস্তকরণের নাম, যা চারটি বিষয়কে অস্বীকার করে এবং চারটি বিষয়কে সাব্যস্ত করে।
(অস্বীকার করে: উপাস্যসমূহ, তাগুতসমূহ, সমকক্ষসমূহ এবং প্রতিপালকসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فالآلهة: ما قصدته بشيء من جلب خير أو دفع ضر، فأنت متخذه إلهاً.
والطواغيت: من عبد وهو راض، أو رشح للعبادة.
والأنداد: ما جذبك عن دين الإسلام، من أهل، أو مسكن، أو عشيرة، أو مال: فهو ند لقوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللهِ أَندَاداً يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللهِ { [سورة البقرة: 165] .
والأرباب: من أفتاك بمخالفة الحق وأطعته، مصداقاً لقوله تعالى:
{اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أرباباً من دون الله { [سورة التوبة:31] .
وتثبيت أربعة أمور:
القصد: وهو كونك ما تقصد إلا الله.
والتعظيم والمحبة: لقوله تعالى:
{وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلّهِ { [سورة البقرة:165] .
والخوف والرجاء: لقوله تعالى:
{وَإِن يَمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَاّ هُوَ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا راد لِفَضْلِهِ يُصَيبُ بِهِ مَن يَشَاء مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ { [سورة يونس: 107] .
فمن عرف هذا قطع العلاقة مع غير الله ولا تكبر عليه جهامة الباطل، كما
উপাস্যসমূহ: আপনি কোনো কল্যাণ অর্জন বা অকল্যাণ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে যার প্রতি লক্ষ্য করেন, আপনি তাকেই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
আর তাগুতসমূহ: যাদের ইবাদত করা হয় এবং সে তাতে সন্তুষ্ট থাকে, অথবা নিজেকে ইবাদতের যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে।
আর সমকক্ষসমূহ: যা আপনাকে ইসলামের দীন থেকে বিচ্যুত করে—হোক তা পরিবার, বাসস্থান, আত্মীয়-স্বজন বা সম্পদ; তবে তা আল্লাহর সমকক্ষ। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা তাদের আল্লাহকে ভালোবাসার ন্যায় ভালোবাসে} [সূরা আল-বাকারাহ: ১৬৫]।
আর রবসমূহ: যারা আপনাকে সত্যের বিরোধিতা করার ফতোয়া দেয় এবং আপনি তাদের আনুগত্য করেন; মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যয়নস্বরূপ:
{তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আলেম ও দরবেশদের রব হিসেবে গ্রহণ করেছে} [সূরা আত-তাওবাহ: ৩১]।
এবং চারটি বিষয় সুদৃঢ় করা:
উদ্দেশ্য: আর তা হলো আপনি একমাত্র আল্লাহকেই উদ্দেশ্য করবেন।
সম্মান ও ভালোবাসা: মহান আল্লাহর বাণীর কারণে:
{আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় অত্যন্ত সুদৃঢ়} [সূরা আল-বাকারাহ: ১৬৫]।
ভয় ও আশা: মহান আল্লাহর বাণীর কারণে:
{আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো কষ্টের স্পর্শ দেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [সূরা ইউনুস: ১০৭]।
সুতরাং যে ব্যক্তি এটি জানবে, সে আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং বাতিলের অন্ধকার তার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না, যেমন...
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أخبر تعالى عن إبراهيم عليه وعلى نبينا أفضل الصلاة والسلام بتكسير الأصنام وتبريه من قومه:
{قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَاء مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاء أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ { [سورة الممتحنة: 4] . (1)
ولقد جاء القرآن من أوله إلى آخره يبين معنى لا إله إلا الله، بنفي الشرك وتوابعه، ويقرر الإخلاص وشرائعه، فكل قول وعمل صالح يحبه الله ويرضاه هو من مدلول كلمة الإخلاص، لأن دلالتها على الدين كله إما مطابقة وإما تضمناً وإما التزاماً (2) ، يقرر ذلك أن الله سماها كلمة التقوى.
والتقوى: أن يتقي سخط الله وعقابه بترك الشرك والمعاصي، وإخلاص العبادة بطاعة الله، على نور من الله، ترجو ثواب الله، وأن تترك معصية الله على نور من الله، تخاف عقاب الله) (3) .
أما كيف تم لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم معرفة هذه الكلمة والتزام أحكامها والعمل بمقتضياتها ولوازمها فيشرح ذلك الإمام الجليل سفيان بن عيينة: (4) .
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ ইব্রাহিম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমাদের নবীর উপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সম্পর্কে তাঁর মূর্তি ভেঙে ফেলা এবং নিজ কওম থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা সংবাদ দিয়েছেন:
{তোমাদের জন্য ইব্রাহিম ও তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে; যখন তাঁরা তাঁদের কওমকে বলেছিল, “তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করলাম। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ স্পষ্ট হয়ে উঠল, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো।"} [সূরা আল-মুমতাহিনা: ৪]। (১)
নিশ্চয়ই কুরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিরক ও এর অনুষঙ্গসমূহকে অস্বীকার করার মাধ্যমে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর অর্থ বর্ণনা করে এবং ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ও এর বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠা করে। সুতরাং আল্লাহ পছন্দ করেন ও সন্তুষ্ট হন এমন প্রতিটি কথা এবং সৎকর্মই হলো এই কালেমায়ে ইখলাসের অর্থের অন্তর্ভুক্ত; কেননা সমগ্র দ্বীনের উপর এর নির্দেশক হওয়ার বিষয়টি হয় সরাসরি (মুত্বাবাক্বাহ), নয়তো অংশীভূতভাবে (তাদাম্মুন), অথবা অনিবার্য অনুষঙ্গ হিসেবে (ইলতিজাম) (২)। বিষয়টি একথার দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ একে ‘কালেমায়ে তাকওয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আর তাকওয়া হলো: শিরক ও পাপাচার ত্যাগের মাধ্যমে এবং আল্লাহর পক্ষ হতে প্রাপ্ত আলোর ওপর ভিত্তি করে তাঁর পুরস্কারের আশায় ইবাদতকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত করার মাধ্যমে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও শাস্তি থেকে বেঁচে থাকা; এবং আল্লাহর পক্ষ হতে প্রাপ্ত আলোর ওপর ভিত্তি করে তাঁর শাস্তির ভয়ে আল্লাহর অবাধ্যতা বর্জন করা। (৩)
কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ কীভাবে এই কালেমার জ্ঞান লাভ করেছেন, এর বিধানসমূহ আঁকড়ে ধরেছেন এবং এর চাহিদা ও আবশ্যকীয় কার্যাবলি অনুযায়ী আমল করেছেন, তা ব্যাখ্যা করেছেন মহান ইমাম সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ্: (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(حدث محمد بن عبد الملك المصيصي قال: كنا عند سفيان بن عيينة في سنة سبعين ومائة، فسأله رجل عن الإيمان؟ فقال: قول وعمل. قال: يزيد وينقص؟ قال: يزيد ما شاء الله، وينقص حتى لا يبقى منه مثل هذه، وأشار سفيان بيده. قال الرجل: كيف نصنع بقوم عندنا يزعمون: أن الإيمان قول بلا عمل؟ قال سفيان: كان القول قولهم قبل أن تقرر أحكام الإيمان وحدوده.
إن الله عز وجل بعث نبينا محمداً صلى الله عليه وسلم إلى الناس كلهم كافة أن يقولوا: لا إله إلا الله، وأنه رسول الله. فلما قالوها عصموا بها دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله عز وجل، فلما علم الله عز وجل صدق ذلك من قلوبهم، أمره أن يأمرهم بالصلاة، فأمرهم ففعلوا، فوالله لو لم يفعلوا ما نفعهم الإقرار الأول ولا صلاتهم (1) .
(فلما علم الله جل وعلا صدق ذلك من قلوبهم أمره أن يأمرهم بالهجرة إلى المدينة فأمرهم ففعلوا، فوالله لو لم يفعلوا ما نفعهم الإقرار الأول ولا صلاتهم، فلما علم الله تبارك وتعالى صدق ذلك من قلوبهم أمرهم بالرجوع إلى مكة ليقاتلوا آباءهم وأبنائهم حتى يقولوا كقولهم، ويصلوا صلاتهم ويهاجروا هجرتهم، فأمرهم ففعلوا، حتى أتى أحدهم برأس أبيه فقال: يا رسول الله: هذا رأس شيخ الكافرين، فوالله لو لم يفعلوا ما نفعهم الإقرار الأول ولا صلاتهم ولا هجرتهم، ولا قتالهم، فلما علم الله عز وجل صدق ذلك أمره أن يأمرهم بالطواف بالبيت تعبداً، وأن يحلقوا رؤسهم تذللاً ففعلوا، فوالله لو لم يفعلوا ما نفعهم الإقرار الأول، ولا صلاتهم، ولا هجرتهم، ولا قتلهم آباءهم، فلما علم الله عز وجل صدق ذلك من قلوبهم أمره أن يأخذ من أموالهم صدقة يطهرهم بها، فأمرهم ففعلوا حتى أتوا بها قليلها وكثيرها، والله لو لم يفعلوا
--------------------------------------------
(মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক আল-মাসিসী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা একশত সত্তর হিজরিতে সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়নার নিকট উপস্থিত ছিলাম। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "ঈমান হলো কথা ও কাজ।" সে জিজ্ঞাসা করল: "এটি কি বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়?" তিনি বললেন: "আল্লাহ যা চান তা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পেতে পেতে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে এর আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না," এই বলে সুফিয়ান তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন। লোকটি বলল: "আমাদের কাছে এমন একদল লোক আছে যারা দাবি করে যে, ঈমান হলো কর্মহীন কেবল মৌখিক স্বীকৃতি; তাদের ব্যাপারে আমরা কী করব?" সুফিয়ান বললেন: "ঈমানের বিধানসমূহ ও এর সীমারেখা নির্ধারিত হওয়ার পূর্বে তাদের এই কথাটিই (একমাত্র দাবি) ছিল।
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সকল মানুষের প্রতি এই আহ্বান নিয়ে পাঠিয়েছেন যেন তারা বলে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তিনি আল্লাহর রাসূল'। যখন তারা এটি বলল, তখন তারা এর মাধ্যমে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিল—তবে এর হকের বিষয় ভিন্ন—আর তাদের হিসাব মহান আল্লাহর ওপর। অতঃপর যখন মহান আল্লাহ তাদের অন্তরের সত্যতা জানলেন, তখন তিনি তাঁকে (নবীকে) নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাদের সালাত আদায়ের আদেশ দেন। তিনি তাদের আদেশ দিলেন এবং তারা তা পালন করল। আল্লাহর কসম! তারা যদি তা না করত, তবে তাদের প্রথম স্বীকৃতি তাদের কোনো উপকারে আসত না এবং তাদের সালাতও না (১)।
(অতঃপর যখন মহান আল্লাহ তাদের অন্তরের সত্যতা জানলেন, তখন তিনি তাঁকে মদিনায় হিজরত করার নির্দেশ দিতে আদেশ দিলেন। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন এবং তারা তা পালন করল। আল্লাহর কসম! যদি তারা তা না করত, তবে তাদের প্রথম স্বীকৃতি এবং তাদের সালাত তাদের কোনো উপকারে আসত না। অতঃপর যখন বরকতময় ও মহান আল্লাহ তাদের অন্তরের সত্যতা জানলেন, তখন তিনি তাদের মক্কায় ফিরে গিয়ে তাদের পিতা ও সন্তানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন, যতক্ষণ না তারা তাদের মতো কথা বলে, তাদের মতো সালাত আদায় করে এবং তাদের মতো হিজরত করে। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন এবং তারা তা পালন করল। এমনকি তাদের একজন তার পিতার মস্তক নিয়ে এসে বলল: 'হে আল্লাহর রাসূল! এটি কাফেরদের প্রধানের মস্তক'। আল্লাহর কসম! তারা যদি এটি না করত, তবে তাদের প্রথম স্বীকৃতি, সালাত, হিজরত এবং তাদের যুদ্ধ কোনো উপকারে আসত না। এরপর যখন মহান আল্লাহ এই সত্যতা জানলেন, তখন তিনি তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাদের ইবাদত হিসেবে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার এবং বিনয়াবনত হয়ে মাথা মুণ্ডন করার নির্দেশ দেন। তারা তা করল। আল্লাহর কসম! তারা যদি তা না করত, তবে তাদের প্রথম স্বীকৃতি, সালাত, হিজরত এবং তাদের পিতাদের হত্যা করা—কোনো কিছুই তাদের উপকারে আসত না। অতঃপর যখন মহান আল্লাহ তাদের অন্তরের সত্যতা জানলেন, তখন তিনি তাঁকে তাদের সম্পদ থেকে সাদাকা গ্রহণ করার নির্দেশ দিলেন যাতে তিনি তাদের পবিত্র করতে পারেন। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন এবং তারা তা পালন করল, এমনকি তারা অল্প হোক বা বেশি—তা নিয়ে আসল। আল্লাহর কসম! তারা যদি তা না করত—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ما نفعهم الإقرار الأول ولا صلاتهم، ولا هجرتهم، ولا قتلهم آباءهم، ولا طوافهم. فلما علم الله تبارك وتعالى الصدق من قلوبهم فيما تتابع عليهم من شرائع الإيمان وحدوده قال عز وجل: قل لهم:
{الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإسلام دِينًا { [سورة المائدة:3] .
(قال سفيان: فمن ترك خله من خلال الإيمان كان بها عندنا كافراً، ومن تركها كسلاً أو تهاوناً بها، أدبناه وكان بها عندنا ناقصاً. هكذا السنة أبلغها عني من سألك من الناس) (1) .
وقد ذكر العلماء رحمهم الله شروطاً سبعة لـ (لا إله إلا الله) لا تنفع صاحبها إلا باجتماع هذه الشروط فيه. وإليك شرحها:
--------------------------------------------
তাদের প্রথম স্বীকৃতি, তাদের সালাত, তাদের হিজরত, তাদের পিতাদের হত্যা করা (জিহাদের ময়দানে) কিংবা তাদের তাওয়াফ—কোনোটিই তাদের উপকারে আসত না। এরপর বরকতময় ও মহান আল্লাহ যখন ঈমানের বিধানাবলি ও সীমারেখা পালনের ক্ষেত্রে তাদের অন্তরের সত্যতা সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন তিনি (মহামহিম) বললেন: আপনি তাদের বলুন:
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” [সূরা আল-মায়িদা: ৩]
(সুফিয়ান বলেন: সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের কোনো একটি বৈশিষ্ট্য বর্জন করল, সে আমাদের নিকট সেটির কারণে কাফির বলে গণ্য। আর যে ব্যক্তি অলসতাবশত বা অবহেলাবশত তা ছেড়ে দিল, আমরা তাকে সংশোধন করব এবং সে আমাদের নিকট ত্রুটিপূর্ণ (ঈমানদার) হিসেবে বিবেচিত হবে। সুন্নাহ এমনই; যে কেউ তোমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবে তাকে আমার পক্ষ থেকে এটি পৌঁছে দিও।) (১)।
ওলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর জন্য সাতটি শর্ত উল্লেখ করেছেন, যা এই শর্তগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে একত্রে পাওয়া যাওয়া ছাড়া তার কোনো উপকারে আসবে না। নিচে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
شروط لا إله إلا اللهينبغي أن نعلم أنه
[ليس المراد من هذا عد ألفاظها وحفظها، فكم من عامي اجتمعت فيه والتزمها، ولو قيل له أعددها لم يحسن ذلك، وكم حافظ لألفاظها يجري فيها كالسهم، وتراه يقع كثيراً فيما يناقضها والتوفيق بيد الله] (1) .
وقد قال وهب بن منبه (2) لمن سأله: أليس (لا إله إلا الله) مفتاح الجنة؟ قال: بلى. ولكن ما من مفتاح إلا وله أسنان، فإن جئت بمفتاح له أسنان فتح لك، وإلا لم يفتح لك (3) .
وأسنان هذا المفتاح هي شروط (لا إله إلا الله) الآتية: -
الشرط الأول: العلم بمعناها المراد منها نفياً وإثباتا، المنافي للجهل بذلك قال تعالى:
{فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ { [سورة محمد:19] .
--------------------------------------------
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর শর্তাবলিআমাদের জানা উচিত যে,
[এর উদ্দেশ্য কেবল এর শব্দগুলো গণনা করা বা মুখস্থ করা নয়। কারণ কত সাধারণ মানুষ এমন আছে যার মধ্যে এগুলো বিদ্যমান এবং সে তা মেনে চলে, অথচ তাকে যদি এগুলো গণনা করতে বলা হয় তবে সে তা ভালোভাবে পারবে না। আবার এর শব্দগুলো মুখস্থকারী এমন কত লোক আছে যে তীরের মতো তা দ্রুত আউড়ে যায়, অথচ তাকে দেখা যায় যে সে প্রায়ই এর পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হয়। আর তাওফিক আল্লাহর হাতে।] (১) ।
ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (২) তাকে প্রশ্নকারী এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" কি জান্নাতের চাবিকাঠি নয়? তিনি বললেন: অবশ্যই। তবে এমন কোনো চাবি নেই যার দাঁত নেই। সুতরাং তুমি যদি এমন চাবি নিয়ে আসো যার দাঁত আছে, তবে তোমার জন্য (জান্নাত) খোলা হবে, নতুবা তোমার জন্য খোলা হবে না (৩) ।
আর এই চাবির দাঁতগুলো হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর নিম্নোক্ত শর্তাবলি: -
প্রথম শর্ত: এর উদ্দেশ্যগত অর্থ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা—যা নেতিবাচক ও ইতিবাচক উভয় দিককেই শামিল করে—যা এই বিষয়ে অজ্ঞতার পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা বলেন:
{সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই} [সুরা মুহাম্মাদ: ১৯] ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال تعالى:
{إِلَاّ مَن شَهِدَ بِالْحَقِّ { [سورة الزخرف:86] .
أي: بـ "لا إله إلا الله": (وهم يعلمون) بقلوبهم ما نطقوا به بألسنتهم.
وقال تعالى: {شَهِدَ اللهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُوْلُواْ الْعِلْمِ قَآئِمَاً بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ { [سورة آل عمران:18] .
وفي الصحيح عن عثمان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله علبه وسلم (من مات وهو يعلم أنه لا إله إلا الله دخل الجنة) (1) .
الشرط الثاني: اليقين المنافي للشك. معنى ذلك: أن يكون قائلها مستيقناً بمدلول هذه الكلمة، يقيناً جازماً، فإن الإيمان لا يغني فيه إلا علم اليقين لا علم الظن (2) قال تعالى:
{إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ { [سورة الحجرات:15] .
وفي الصحيح من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (أشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله، لا يلقي الله بهما عبد غير شاك فيهما إلا
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ বলেন:
{তবে সে ব্যক্তি নয় যে সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছে} [সূরা আয-যুখরুফ: ৮৬]।
অর্থাৎ: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) এর মাধ্যমে: (এবং তারা জানে) তাদের জিহ্বা দিয়ে যা উচ্চারণ করেছে সে সম্পর্কে তাদের অন্তর দিয়ে।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, এবং ফেরেশতাগণ ও জ্ঞানীগণও (সাক্ষ্য দিয়েছেন), তিনি ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [সূরা আল ইমরান: ১৮]।
এবং সহীহ গ্রন্থে উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই জ্ঞান নিয়ে মৃত্যুবরণ করল যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" (১)।
দ্বিতীয় শর্ত: একিন (দৃঢ় বিশ্বাস) যা সন্দেহের পরিপন্থী। এর অর্থ হলো: এই কালিমা উচ্চারণকারীকে এই কালিমার মর্মার্থের ওপর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী হতে হবে, সুনিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে। কেননা ঈমানের ক্ষেত্রে নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়া কেবল ধারণা কোনো কাজে আসে না (২)। মহান আল্লাহ বলেন:
{মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি এবং তাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারাই হলো সত্যবাদী} [সূরা আল-হুজুরাত: ১৫]।
এবং সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যে বান্দা এই দুই সাক্ষ্যের বিষয়ে কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে অবশ্যই..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
دخل الجنة) (1) . وفي رواية (لا يلقي الله بهما عبد غير شاك فيهما فيحجب عن الجنة) . وعن أبي هريرة أيضاً من حديث طويل (من لقيت من وراء هذا الحائط يشهد أن لا إله إلا الله مستيقناً بها قلبه فبشره بالجنة) (2) .
وقال القرطبي: في (المفهم على صحيح مسلم) : (باب لا يكفي مجرد التلفظ بالشهادتين، بل لا بد، بل لابد من استيقان القلب. وهذه الترجمة تنبيه على فساد مذهب غلاة المرجئة القائلين بأن التلفظ بالشهادتين كاف في الإيمان، وأحاديث هذا الباب تدل على فساده. بل هو مذهب معلوم الفساد من الشريعة لمن وقف عليها، ولأنه يلزم منه تسويغ النفاق، والحكم للمنافق بالإيمان الصحيح وهو باطل قطعاً) (3) .
الشرط الثالث: القبول لما اقتضته هذه الكلمة بقلبه ولسانه، وقد قص الله عز وجل علينا من أنباء ما قد سبق من إنجاء من قبلها، وانتقامه ممن ردها وأباها كما قال تعالى:
{وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِّن نَّذِيرٍ إِلَاّ قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِم مُّقْتَدُونَ {23} قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُم بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدتُّمْ عَلَيْهِ آبَاءكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ كَافِرُونَ {24} فانتَقَمْنَا مِنْهُمْ فانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ { [سورة الزخرف:23-25] .
وقال تعالى:
{ثُمَّ نُنَجِّي رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُواْ كَذَلِكَ حَقًّا عَلَيْنَا نُنجِ الْمُؤْمِنِينَ { [سورة يونس:103] .
--------------------------------------------
জান্নাতে প্রবেশ করবে) (১)। এবং অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: (কোনো বান্দা যদি এই দুটি সাক্ষ্য নিয়ে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করে যে তাতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে এসেছে: (এই দেয়ালের পেছনে তুমি যার সাথে সাক্ষাৎ পাবে, যে তার অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও) (২)।
এবং ইমাম কুরতুবী 'আল-মুফহিম আলা সহীহ মুসলিম' গ্রন্থে বলেন: (অধ্যায়: কেবল দুই শাহাদাত উচ্চারণ করাই যথেষ্ট নয়, বরং অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস থাকা আবশ্যক। এই শিরোনামটি চরমপন্থী মুরজিয়াদের মতবাদের অসারতার প্রতি একটি সতর্কবার্তা, যারা দাবি করে যে ঈমানের জন্য কেবল দুই শাহাদাত মুখে উচ্চারণ করাই যথেষ্ট। এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো তাদের মতবাদের অসারতা প্রমাণ করে। বরং শরীয়তের বিষয়ে যারা অবগত, তাদের নিকট এটি একটি সুস্পষ্ট ভ্রান্ত মতবাদ। কারণ এটি নিফাক বা কপটতাকে বৈধ করার নামান্তর এবং মুনাফিকের জন্য বিশুদ্ধ ঈমানের হুকুম দেওয়ার শামিল, যা নিশ্চিতভাবেই বাতিল) (৩)।
তৃতীয় শর্ত: অন্তর ও জিহ্বা দিয়ে এই কালিমার দাবিকে কবুল বা গ্রহণ করে নেওয়া। মহান আল্লাহ আমাদের কাছে পূর্ববর্তী সংবাদসমূহ বর্ণনা করেছেন যে, যারা এটি কবুল করেছিল তাদের তিনি মুক্তি দিয়েছেন এবং যারা একে প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করেছিল তাদের কাছ থেকে তিনি প্রতিশোধ গ্রহণ করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
{আর এভাবেই আপনার পূর্বে আমি যখনই কোনো জনপদে কোনো সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিলাসপ্রিয়রা বলেছে, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি’। তিনি বললেন, ‘আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ পথনির্দেশ নিয়ে আসি যার ওপর তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছ, তবুও কি তোমরা তাই বলবে?’ তারা বলল, ‘তোমরা যা দিয়ে প্রেরিত হয়েছ তা আমরা অস্বীকার করি’। অতঃপর আমি তাদের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম। সুতরাং দেখুন মিথ্যাচারীদের পরিণাম কী হয়েছিল} [সূরা আয-যুখরুফ: ২৩-২৫]।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেন:
{অতঃপর আমি আমার রাসূলদের এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের উদ্ধার করি। এভাবেই মুমিনদের উদ্ধার করা আমার দায়িত্ব} [সূরা ইউনুস: ১০৩]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ويقول تعالى:
{إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لا إِلَهَ إِلَاّ اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ {35} وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوا آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍ { (1) . [سورة الصافات:35- 36] .
الشرط الرابع: الانقياد لما دلت عليه، المنافي لترك ذلك
قال تعالى: {وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ { [سورة الزمر:54] . وقال: {ومن أحسن ديناً ممن أسلم وجه لله وهو محسن} [سورة النساء: 125] . وقال تعالى: {وَمَن يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى { [سورة لقمان:22] .
أي بلا إله إلا الله
وفي الحديث (لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعاً لما جئت به) (2) وهذا هو تمام الانقياد وغايته
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই তাদের যখন বলা হতো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তখন তারা অহংকার করত। এবং বলত, 'আমরা কি এক উন্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করব?'” (১)। [সূরা আস-সাফফাত: ৩৫-৩৬]।
চতুর্থ শর্ত: এটি (কালিমা) যা নির্দেশ করে তার প্রতি অনুগত হওয়া, যা একে বর্জন করার পরিপন্থী।
মহান আল্লাহ বলেন: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো।” [সূরা আয-যুমার: ৫৪]। তিনি আরও বলেন: “দীনের ক্ষেত্রে তার চেয়ে উত্তম আর কে, যে সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করে?” [সূরা আন-নিসা: ১২৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: “যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে পূর্ণরূপে সমর্পণ করে, সে তো এক মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরল।” [সূরা লুকমান: ২২]।
অর্থাৎ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) দ্বারা।
হাদীসে এসেছে: “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।” (২) আর এটাই হলো আনুগত্যের পূর্ণতা ও চূড়ান্ত পর্যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا { [سورة النساء:65] .
قال ابن كثير رحمه الله في تفسيرها: يقسم الله تعالى بنفسه الكريمة المقدسة أنه لا يؤمن أحد حتى يحكم الرسول صلى الله عليه وسلم في جميع الأمور فما حكم به فهو الحق الذي يجب الانقياد له باطناً وظاهراً، ولهذا قال: (ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجاً مما قضيت ويسلموا تسليماً) أي إذا حكموك يطيعونك في بواطنهم فلا يجدون في أنفسهم حرجاً مما حكمت به، وينقادون له في الظاهر والباطن فيسلمون لذلك تسليماً كلياً من غير ممانعة ولا مدافعة، ولا منازعة، كما ورد في الحديث (والذي نفسي بيده لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعاً لما جئت به) (1) .
الشرط الخامس: الصدق المنافي للكذب، وهو أن يقولها صدقاً من قلبه، ويواطئ قلبه لسانه، قال تعالى: {الم {1} أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لا يُفْتَنُونَ {2} وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ { (2) [سورة العنكبوت:1 – 3] .
وقال تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ {8} يُخَادِعُونَ اللهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَاّ أَنفُسَهُم
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব তোমার রবের শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেবে; অতঃপর তোমার দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা পাবে না এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে।} [সূরা আন-নিসা: ৬৫]।
ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এর তাফসীরে বলেন: মহান আল্লাহ তাঁর নিজ মহাসম্মানিত ও পবিত্র সত্তার শপথ করে বলছেন যে, কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ মুমিন হবে না যতক্ষণ না সে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সকল বিষয়ে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করবে। আর তিনি যা ফয়সালা করবেন সেটিই হলো হক (সত্য), যার আনুগত্য করা অন্তরে ও বাইরে (প্রকাশ্যে ও গোপনে) অপরিহার্য। আর একারণেই তিনি বলেছেন: (অতঃপর তোমার দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা পাবে না এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে) অর্থাৎ তারা যখন তোমাকে বিচারক মানবে, তখন তারা তাদের অন্তরে তোমার প্রতি আনুগত্য পোষণ করবে। ফলে তুমি যে ফয়সালা করবে সে ব্যাপারে তারা তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা বা দ্বিধা পাবে না এবং তারা বাহ্যিকভাবে ও অভ্যন্তরীণভাবে এর অনুগামী হবে। ফলে তারা কোনো বাধা, প্রতিরোধ বা বিতর্ক ছাড়াই তা পূর্ণরূপে গ্রহণ করে নেবে। যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে (সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের মধ্যে কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়) (১)।
পঞ্চম শর্ত: সত্যবাদিতা যা মিথ্যার পরিপন্থী। আর তা হলো ব্যক্তি (কালিমাটি) অন্তর থেকে সত্যতার সাথে বলবে এবং তার জিহ্বা যা বলছে তার সাথে অন্তরের মিল থাকবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি। সুতরাং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী।} [সূরা আল-আনকাবুত: ১–৩]।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছি’, অথচ তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহ ও মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়, অথচ তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিচ্ছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَمَا يَشْعُرُونَ {9} فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللهُ مَرَضاً وَلَهُم عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ { [سورة البقرة:8-10] .
وفي "الصحيحين" عن معاذ بن جبل رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: "ما من أحد يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله صدقاً من قلبه إلا حرمه الله على النار" (1) .
قال العلامة ابن القيم:
(والتصديق بلا إله إلا الله يقتضي الإذعان والإقرار بحقوقها وهي شرائع الإسلام التي هي تفصيل هذه الكلمة، والتصديق بجميع أخباره وامتثال أوامره واجتناب نواهيه.. فالمصدق بها على الحقيقة هو الذي يأتي بذلك كله، معلوم أن عصمة المال والدم على الإطلاق لم تحصل إلا بها وبالقيام بحقها، وكذلك النجاة من العذاب على الإطلاق لم تحصل إلا بها وبحقها) (2) .
وفي الحديث، قال صلى الله عليه وسلم: "شفاعتي لمن شهد أن لا إله إلا الله مخلصاً يصدق قلبه لسانه ولسانه قلبه] (3) .
وقال ابن رجب:
(أما من قال: لا إله إلا الله بلسانه، ثم أطاع الشيطان وهواه في معصية الله ومخالفته فقد كذب فعله قوله، ونقص من كمال توحيده بقدر معصية الله في طاعة الشيطان والهوى.
{وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ { (4) [سورة القصص:50] .
--------------------------------------------
আর তারা তা উপলব্ধি করে না {৯} তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি, অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যা বলত { [সূরা আল-বাকারা: ৮-১০] ।
এবং "সহীহাইন"-এ মুয়ায বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অন্তরের সত্যতা সহকারে সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেবেন" (১) ।
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেন:
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সত্যায়ন এর হকসমূহের প্রতি আনুগত্য ও স্বীকৃতির দাবি রাখে; আর তা হলো ইসলামের বিধানসমূহ যা এই কালিমার বিস্তারিত ব্যাখ্যা। এছাড়া তাঁর সকল সংবাদকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, তাঁর নির্দেশসমূহ পালন করা এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করা... সুতরাং প্রকৃতপক্ষে এর সত্যায়নকারী সেই ব্যক্তি, যে এ সব কিছুই পালন করে। এটা সুবিদিত যে, জান ও মালের চূড়ান্ত নিরাপত্তা কেবল এর মাধ্যমেই এবং এর হক আদায়ের মাধ্যমেই অর্জিত হয়; একইভাবে আযাব থেকে চূড়ান্ত মুক্তিও কেবল এর মাধ্যমে এবং এর হক আদায়ের মাধ্যমেই অর্জিত হয়) (২) ।
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার সুপারিশ তার জন্য যে নিষ্ঠার সাথে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, এমতাবস্থায় যে তার অন্তর তার জিহ্বাকে সত্যায়ন করে এবং তার জিহ্বা তার অন্তরকে সত্যায়ন করে] (৩) ।
এবং ইবনে রজব বলেন:
(পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মুখে বলল: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', অতঃপর আল্লাহর নাফরমানি ও তাঁর বিরোধিতায় শয়তান ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করল, তবে তার কর্ম তার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আর শয়তান ও প্রবৃত্তির আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়ার মাত্রা অনুযায়ী তার তাওহীদের পূর্ণতা হ্রাস পেল।
{আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হেদায়াত ছাড়াই যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? { (৪) [সূরা আল-কাসাস: ৫০] ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
{وَلا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ { [سورة ص:26] .
الشرط السادس: الإخلاص، وهو تصفية العمل بصالح النية عن جميع شوائب الشرك (1) .
قال تعالى {ألا لله الدين الخالص { [سورة الزمر: 3]
وقال تعالى: {وما أمروا إلا ليعبدوا الله مخلصين له الدين حنفاء} [سورة البينة: 5] .
وفي الصحيح عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم:
(أسعد الناس بشفاعتي من قال لا إله إلا الله خالصاً من قلبه) : أو نفسه) (2) .
وفي الصحيح عن عتبان بن مالك (3) رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله حرم على النار من قال: لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله عز وجل (4) .
وللنسائي في اليوم والليلة من حديث رجلين من الصحابة عن النبي صلى الله عليه وسلم (من قال لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك، وله الحمد وهو على كل شيء قدير مخلصاً بها قلبه، يصدق بها لسانه، إلا فتق الله لها السماء فتقاً حتى ينظر إلى قائلها من أهل الأرض، وحق لعبد نظر الله إليه أن يعطيه سؤله) (5)
--------------------------------------------
"এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে।" [সূরা সোয়াদ: ২৬]।
ষষ্ঠ শর্ত: ইখলাস (একনিষ্ঠতা), আর তা হলো সৎ নিয়তের মাধ্যমে আমলকে শিরকের সকল কলুষতা থেকে মুক্ত করা (১)।
মহান আল্লাহ বলেন: "জেনে রেখো, খাঁটি আনুগত্য কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য" [সূরা আয-যুমার: ৩]
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "তাদেরকে কেবল এই আদেশই দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে হানিফ হিসেবে তাঁর ইবাদত করে" [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ৫]।
এবং সহীহ (বুখারী)-তে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(আমার সুপারিশের মাধ্যমে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি হবে, যে ব্যক্তি তার অন্তরে—বা নিজের মনে—একনিষ্ঠতা নিয়ে বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) (২)।
এবং সহীহ (মুসলিম)-এ ইতবান ইবনে মালিক (৩) (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহান্নামের জন্য সেই ব্যক্তিকে হারাম করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর চেহারার প্রত্যাশায় বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) (৪)।
এবং নাসাঈর 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে দুইজন সাহাবীর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত: (যে ব্যক্তি তার অন্তরের একনিষ্ঠতা নিয়ে এবং জিহ্বার সত্যতা বজায় রেখে বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁরই আর তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান; তবে আল্লাহ তার জন্য আসমান বিদীর্ণ করে দেন এবং জমিনের অধিবাসীদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি এটি বলেছে তার দিকে দৃষ্টি দেন। আর যে বান্দার দিকে আল্লাহ দৃষ্টি দেন, তার জন্য এটাই সঙ্গত যে তিনি তাকে তার চাওয়া প্রদান করবেন) (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقال الفضيل بن عياض رحمة الله: (إن العمل إذا كان خالصاً ولم يكن صواباً لم يقبل وإذا كان صواباً ولم يكن خالصاً لم يقبل، حتى يكون خالصاً صواباً. والخالص أن يكون لله، والصواب أن يكون على السنة) (1) .
ولقد ضرب الله سبحانه في القرآن العظيم مثلاً واضحاً للمخلص في توحيده وللمشرك قال تعالى:
{ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً رَّجُلاً فِيهِ شُرَكَاء مُتَشَاكِسُونَ وَرَجُلاً سَلَمًا لِّرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلاً} [سورة الزمر: 29] .
يقول الأستاذ سيد قطب رحمه الله في تفسيرها:
(هذا مثل يضربه الله للعبد الموحد والعبد المشرك، بعبد يملكه شركاء يخاصم بعضهم بعضاً فيه، وهو بينهم موزع، ولكل منهم فيه توجيه، ولكل منهم عليه تكليف، وهو بينهم حائر لا يستقر على نهج ولا يستقيم على طريق ولا يملك أن يرضي أهواءهم المتنازعة المتشاكسة.. وعبد يملكه سيد واحد، وهو يعلم ما يطلبه منه، ويكلفه به، فهو مستريح مستقر على منهج واحد صريح) (هل يستويان) ؟ لا. لأن الذي يخضع لسيد واحد ينعم براحة الاستقامة والمعرفة واليقين، وتجمع الطاقة ووحدة الاتجاه، ووضوح الطريق. والذي يخضع لسادة مشتركين معذب مقلقل، لا يستقر على حال، ولا يرضى واحداً منهم فضلاً عن أن يرضي الجميع. وهذا المثل يصور حقيقة التوحيد، وحقيقة الشرك في جميع الأحوال. فالقلب المؤمن بحقيقة التوحيد هو القلب الذي يسير على هدى من الله يستمد منه وحده ويتجه إليه وحده) (2) .
--------------------------------------------
ফুযাইল ইবনে আইয়ায রহিমাহুল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই আমল যদি একনিষ্ঠ হয় কিন্তু সঠিক না হয়, তবে তা কবুল করা হবে না। আর যদি তা সঠিক হয় কিন্তু একনিষ্ঠ না হয়, তবেও তা কবুল করা হবে না, যতক্ষণ না তা একনিষ্ঠ ও সঠিক উভয়ই হয়। একনিষ্ঠ হলো যা আল্লাহর জন্য হয়, আর সঠিক হলো যা সুন্নাহ অনুযায়ী হয়) (১)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মহান কুরআনে তাওহীদের প্রতি একনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং মুশরিকের জন্য একটি স্পষ্ট উদাহরণ পেশ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন:
{আল্লাহ একটি উপমা পেশ করছেন: একজন ব্যক্তি, যার মালিকানায় রয়েছে পরস্পর বিরোধী একাধিক অংশীদার; আর একজন ব্যক্তি, যে কেবলমাত্র একজনের অনুগত। তারা কি উপমায় সমান?} [সূরা আয-জুমার: ২৯]।
উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব রহিমাহুল্লাহ এর তাফসীরে বলেন:
(এটি একটি উপমা যা আল্লাহ তাওহীদপন্থী বান্দা এবং মুশরিক বান্দার জন্য পেশ করেছেন—এমন এক দাসের মাধ্যমে যাকে এমন কিছু অংশীদার মালিকানা নিয়েছে যারা তার ব্যাপারে পরস্পর বিবাদমান, সে তাদের মধ্যে বিভক্ত। তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তার প্রতি নির্দেশনা রয়েছে এবং প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তার ওপর দায়িত্ব রয়েছে। সে তাদের মধ্যে কিংকর্তব্যবিমূঢ়, কোনো নির্দিষ্ট পথে স্থির হতে পারে না, কোনো পথে সোজা চলতে পারে না এবং তাদের পরস্পর বিরোধী ও বিবাদমান কামনা-বাসনাগুলোকে সন্তুষ্ট করার সামর্থ্যও তার নেই... পক্ষান্তরে এমন এক দাস যার মালিক মাত্র একজন, সে জানে তার মালিক তার কাছে কী চায় এবং তাকে কী দায়িত্ব দেয়। ফলে সে আরামদায়কভাবে একটি স্পষ্ট ও একক মানহাজের ওপর স্থির থাকে) (তারা কি সমান?) না। কারণ যে ব্যক্তি একজন মালিকের অনুগত থাকে, সে সরলতা, জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাসের প্রশান্তি এবং শক্তির একমুখীকরণ, উদ্দেশ্যের ঐক্য ও পথের স্পষ্টতা উপভোগ করে। আর যে ব্যক্তি একাধিক অংশীদার মালিকের অনুগত, সে যন্ত্রণাকাতর ও অস্থির; সে কোনো অবস্থায় স্থির হতে পারে না এবং তাদের একজনকে সন্তুষ্ট করতে পারে না, সকলকে সন্তুষ্ট করা তো দূরের কথা। এই উপমাটি সকল অবস্থায় তাওহীদের হাকীকত এবং শিরকের হাকীকতকে চিত্রায়িত করে। সুতরাং তাওহীদের হাকীকতে বিশ্বাসী মুমিন হৃদয় হলো সেই হৃদয় যা আল্লাহর হিদায়াতের ওপর চলে, শুধুমাত্র তাঁর থেকেই শক্তি আহরণ করে এবং শুধুমাত্র তাঁর দিকেই ধাবিত হয়) (২)।
--------------------------------------------