(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: -)
شروط الطلاق - الزومان   (أحمد الزومان)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: شروط الطلاق

المؤلف: أبو عبد الرحمن أحمد بن عبد الرحمن الزومان

الناشر: دار اللؤلؤة للنشر والتوزيع - مصر

الطبعة: الأولى، 1445 هـ - 2024 م

عدد الصفحات: 824

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 ربيع الآخر 1446

তালাকের শর্তাবলি - আল-জুমান   (আহমদ আল-জুমান)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: তালাকের শর্তাবলি

লেখক: আবু আবদুর রহমান আহমদ বিন আবদুর রহমান আল-জুমান

প্রকাশক: দার আল-লুলুআহ প্রকাশনী ও বিতরণ - মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৫ হিজরী - ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله هذا الجزء موضوعه شروط الطلاق ذكرت فيه أهم المسائل المتعلقة بهذا الباب وسلكت فيه ما سلكت في الطلاق السني والبدعي وبينت فيه منهجي في البحث والنية متجهة إلى بحث أهم مسائل الطلاق على نفس المنهج - لمسيس الحاجة لذلك - إن أمد الله بالعمر ولم يُحَل بيني وبين ذلك وإن كانت الأخرى فأسأل الله أن ييسر من يتم هذا المشروع وأن يبلغني الأجر بنيتي وأن ينفع بهذا الكتاب وبسائر ما كتبته وأن يجعل ذلك في ميزان حسناتي يوم ألقاه.

 

وكتبه: أبو عبد الرحمن

أحمد بن عبد الرحمن بن إبراهيم الزومان

ضحى الخميس 26/ 5/ 1434

في اللسيب من أرياف مدينة بريدة

0505154265

ahmedalzoman@gmail.com
উপোদ্ঘাত

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এই খণ্ডের বিষয়বস্তু হলো তালাকের শর্তাবলি। এতে আমি এই অধ্যায় সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ উল্লেখ করেছি এবং সুন্নাহসম্মত ও বিদআতি তালাক বিষয়ক আলোচনায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, এখানেও তা-ই অবলম্বন করেছি। আমি এতে আমার গবেষণার পদ্ধতিও স্পষ্ট করেছি। আমার নিয়ত রয়েছে তালাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ একই পদ্ধতিতে গবেষণা করার —যেহেতু এর বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে— যদি আল্লাহ দীর্ঘ হায়াত দান করেন এবং আমার ও সেই কাজের মাঝে কোনো বাধা না আসে। আর যদি অন্যটি (মৃত্যু) ঘটে, তবে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এমন কাউকে সহজ করে দেন যে এই প্রকল্পটি সমাপ্ত করবে, এবং তিনি যেন আমার নিয়ত অনুযায়ী আমাকে প্রতিদান দান করেন, আর এই কিতাব ও আমার লিখিত অন্যান্য রচনার মাধ্যমে উপকার করেন এবং যেদিন আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করব সেদিন যেন এগুলোকে আমার নেক আমলের পাল্লায় স্থান দেন।

 

এটি লিখেছেন: আবু আব্দুর রহমান

আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম আল-জুমান

২৬/০৫/১৪৩৪ হিজরি, বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্ণ

বুরাইদাহ শহরের উপকণ্ঠ আল-লুসায়িব-এ

0505154265

ahmedalzoman@gmail.com
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الباب الأول لفظ الطلاق

• تعريف الركن والشرط والفرق بينهما

• أركان الطلاق عند فقهاء المذاهب الأربعة

• الشروط الأول: اللفظ بالطلاق

• الطلاق في النفس

• العزم على الطلاق

• الوعد بالطلاق

• إذا حرك لسانه بالطلاق ولم يُسْمع نفسه

• اعتقاد وقوع الطلاق
প্রথম অধ্যায়: তালাকের শব্দ

• রুকন ও শর্তের সংজ্ঞা এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য

• চার মাযহাবের ফকীহগণের নিকট তালাকের রুকনসমূহ

• প্রথম শর্ত: তালাকের শব্দ উচ্চারণ করা

• মনে মনে তালাক

• তালাকের সংকল্প

• তালাকের প্রতিশ্রুতি

• যদি তালাকের জন্য জিহবা নাড়ায় কিন্তু নিজে শুনতে না পায়

• তালাক পতিত হওয়ার বিশ্বাস
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الفصل الأول‌‌ تعريف الركن والشرط والفرق بينهما

قبل الكلام على شروط الطلاق أذكر تعريف الركن والشرط والفرق بينهما والخلاف في ما عدا لفظ الطلاق هل هي من أركان الطلاق أو من شروطه.

 

• تعريف الركن:

لغة: قال ابن فارس: الراء والكاف والنون أصل واحد يدل على قوة. فركن الشيء: جانبه الأقوى(1). وللركن في كلام العرب عدة معانٍ(2).

اصطلاحًا: ركن الشيء نفس الشيء أو بعض ماهيته(3).

 

•‌‌ تعريف الشرط:

لغة: قال ابن فارس: الشين والراء والطاء أصلٌ يدلُّ على عَلَمٍ وعلامة، وما قارب ذلك من عَلَم. من ذلك الشَّرط العَلَامة. وأشراط الساعة: علاماتُها … وسمِّي الشُّرَط لأنّهم جعلوا لأنفسهم عَلامةً يُعرَفون بها(4) وللشرط معانٍ أخرى(5).

اصطلاحًا: هو الذي يلزم من عدمه العدم ولا يلزم من وجوده وجود ولا عدم لذاته(6).

 

•‌‌ الفرق بين الركن والشرط:

قال الطوفي: اعلم أنَّ كل واحد من الركن والشرط يتوقف وجود الماهية عليه،

--------------------------------------------

(1) مقاييس اللغة (2/ 430).

(2) انظر: الصحاح (5/ 2126)، ولسان العرب (13/ 185)، والتعريفات ص: (112)، وتاج العروس (35/ 111).

(3) انظر: كشف الأسرار شرح أصول البزدوي (3/ 267)، والمصباح المنير (1/ 237)، وفصول البدائع في أصول الشرائع (1/ 265) (2/ 335)، ومراقي السعود ص: (75).

(4) مقاييس اللغة (3/ 260).

(5) انظر: المحكم والمحيط الأعظم (8/ 13)، وتهذيب اللغة (11/ 211)، والصحاح (3/ 1136)، والقاموس المحيط ص: (673).

(6) انظر: الفروق للقرافي (1/ 62)، والتقرير لأصول البزدوي (7/ 180)، والبحر المحيط (1/ 309)، وشرح مختصر الروضة (1/ 430)، ومراقي السعود ص: (75).
প্রথম অধ্যায় রুকন ও শর্তের সংজ্ঞা এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য

তালাকের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার পূর্বে আমি রুকন ও শর্তের সংজ্ঞা, তাদের মধ্যকার পার্থক্য এবং তালাকের শব্দ ব্যতীত অন্যান্য বিষয়গুলো তালাকের রুকন নাকি শর্ত—এই সংক্রান্ত মতভেদ আলোচনা করব।

 

• রুকন-এর সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থ: ইবনে ফারিস বলেন: রা, কাফ এবং নুন—এই মূলবর্ণত্রয় এমন একটি মূল ভিত্তি যা শক্তির প্রমাণ দেয়। সুতরাং কোনো বস্তুর 'রুকন' হলো তার শক্তিশালী পার্শ্ব(১)। আরবদের ভাষায় রুকন-এর আরও বেশ কিছু অর্থ রয়েছে(২)।

পারিভাষিক অর্থ: কোনো বস্তুর রুকন হলো ওই বস্তুটি স্বয়ং অথবা তার মূল সত্তার কোনো অংশ(৩)।

 

•‌ শর্ত-এর সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থ: ইবনে ফারিস বলেন: শিন, রা এবং ত্বা—এই মূলবর্ণত্রয় নিদর্শন ও চিহ্নের অর্থ প্রদান করে এবং এর সমার্থক বিষয় বুঝায়। এর থেকেই 'শর্ত' অর্থ হলো চিহ্ন। কিয়ামতের 'আশরাত' হলো তার নিদর্শনসমূহ... আর পুলিশ বাহিনীকে 'শুরাত' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা নিজেদের জন্য বিশেষ নিদর্শন বা প্রতীক নির্ধারণ করেছে যার মাধ্যমে তাদের চেনা যায়(৪)। শর্ত-এর আরও অন্যান্য অর্থও রয়েছে(৫)।

পারিভাষিক অর্থ: শর্ত এমন বিষয়কে বলা হয়, যার অনুপস্থিতিতে ফলাফল অনুপস্থিত থাকা আবশ্যক হয়, তবে শর্ত বিদ্যমান থাকার কারণে ফলাফল বিদ্যমান থাকা বা না থাকা কোনোটিই আবশ্যিক হয় না(৬)।

 

•‌ রুকন ও শর্তের মধ্যকার পার্থক্য:

তুফী বলেন: জেনে রাখুন যে, রুকন এবং শর্ত—উভয়ের ওপরই কোনো বিষয়ের মূল সত্তার অস্তিত্ব নির্ভর করে,

--------------------------------------------

(১) মাকায়িসুল লুগাহ (২/ ৪৩০)।

(২) দেখুন: আস-সিহাহ (৫/ ২১২৬), লিসানুল আরব (১৩/ ১৮৫), আত-তারিফাত পৃষ্ঠা: (১১২), তাজুল আরুস (৩৫/ ১১১)।

(৩) দেখুন: কাশফুল আসরার শরহু উসুলিল বাজদাবি (৩/ ২৬৭), আল-মিসবাহুল মুনির (১/ ২৩৭), ফুসুলুল বাদায়ি ফি উসুলিশ শারি (১/ ২৬৫) (২/ ৩৩৫), মারাতিউস সুউদ পৃষ্ঠা: (৭৫)।

(৪) মাকায়িসুল লুগাহ (৩/ ২৬০)।

(৫) দেখুন: আল-মুহকাম ওয়াল মুহিতুল আ'জম (৮/ ১৩), তাহজিবুল লুগাহ (১১/ ২১১), আস-সিহাহ (৩/ ১১৩৬), আল-কামুসুল মুহিত পৃষ্ঠা: (৬৭৩)।

(৬) দেখুন: আল-কারাফি রচিত আল-ফুরুক (১/ ৬২), আত-তাকরীর লি-উসুলিল বাজদাবি (৭/ ১৮০), আল-বাহরুল মুহিত (১/ ৩০৯), শারহু মুখতাসারি রওদা (১/ ৪৩০), মারাতিউস সুউদ পৃষ্ঠা: (৭৫)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ১১)
لكن الفرق بينهما من وجهين:

أحدهما: أنَّ الركن داخل في الماهية كالركوع للصلاة وسائر أركانها، والشرط خارج عنها، كالوضوء لها وسائر شروطها.

الوجه الثاني: أنَّ الركن يتوقف عليه الوجود الذهني والخارجي جميعًا، والشرط إنَّما يتوقف عليه الوجود الخارجي فقط مع تحقق الوجود في الذهن، فيمكننا أن نتصور صورة الصلاة بلا وضوء، ولا يمكننا أن نتصورها في أذهاننا بلا ركوع. وأبين من هذا أنَّنا نتصور حقيقة العلم بدون تصور حقيقة الحياة، لكن قيام العلم بمحله في الخارج لا بد فيه من الحياة؛ لأنَّها شرطه(1).

ويشترك الركن والشرط في أنَّ الطلاق لا يصح إلا بتوفرهما فلا بد من وجود الأركان والشروط(2).

--------------------------------------------

(1) شرح مختصر الروضة (3/ 227).

(2) انظر: كشاف القناع (5/ 37)، ومطالب أولي النهى (7/ 48).
কিন্তু তাদের দুটির মধ্যে পার্থক্য দুই দিক থেকে:

একটি হলো: রুকন সত্তার অন্তর্ভুক্ত, যেমন সালাতের জন্য রুকু এবং এর অন্যান্য রুকনসমূহ; আর শর্ত সত্তার বহির্ভূত, যেমন সালাতের জন্য ওযু এবং এর অন্যান্য শর্তসমূহ।

দ্বিতীয় দিকটি হলো: রুকনের ওপর মানসিক এবং বাহ্যিক—উভয় অস্তিত্বই নির্ভর করে; আর শর্তের ওপর কেবল বাহ্যিক অস্তিত্ব নির্ভর করে, যদিও মানসপটে এর অস্তিত্ব লাভ সম্ভব। সুতরাং আমরা ওযু ছাড়াই সালাতের রূপ কল্পনা করতে পারি, কিন্তু আমাদের মানসপটে রুকু ছাড়া সালাতের কল্পনা করা সম্ভব নয়। এর চেয়েও স্পষ্ট বিষয় হলো যে, আমরা জীবনের বাস্তবতা কল্পনা করা ছাড়াই জ্ঞানের বাস্তবতা কল্পনা করতে পারি, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো আধারে জ্ঞান বিদ্যমান থাকার জন্য জীবন থাকা অপরিহার্য; কারণ জীবন হলো তার শর্ত(১)।

আর রুকন ও শর্ত এ বিষয়ে অভিন্ন যে, উভয়ের উপস্থিতি ছাড়া তালাক শুদ্ধ হয় না; তাই রুকন ও শর্তসমূহ বিদ্যমান থাকা আবশ্যক(২)।

--------------------------------------------

(১) শারহু মুখতাসারির রওদাহ (৩/২২৭)।

(২) দেখুন: কাশশাফুল কিনা' (৫/৩৭), এবং মাতালিবু উলিন নুহা (৭/৪৮)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الفصل الثاني أركان الطلاق

•‌‌ أركان الطلاق عند فقهاء المذاهب الأربعة:

•‌‌ ركن الطلاق عند الأحناف:

قال الكاساني: ركن الطلاق هو اللفظ الذي جعل دلالة على معنى الطلاق(1). وقال شرائط الركن فأنواع بعضها يرجع إلى الزوج وبعضها يرجع إلى المرأة وبعضها يرجع إلى نفس الركن وبعضها يرجع إلى الوقت(2).

 

•‌‌ أركان الطلاق عند المالكية:

قال ابن جزي: أركان الطلاق: وهي ثلاثة المطلق والمطلقة والصيغة وهي اللفظ وما في معناه فأمَّا المطلق فله أربعة شروط الإسلام والعقل والبلوغ والطوع وأما المطلقة فهي الزوجة سواء كانت في العصمة أو في عدة من طلاق وأمَّا ألفاظ الطلاق فهي أربعة أنواع (النوع الأول) الصريح .... وإن طلق باللفظ دون نية كمن سبق لسانه إلى الطلاق ولم يرده لم ينفذ(3) وعدها ثلاثة ابن شاس(4).

وعدَّها ابن الحاجب وخليل أربعة فقالا: وركنه: أهل وقصد ومحل ولفظ(5) وقال الدردير شارحًا: أركانه أربعة (أهل) والمراد به موقعه من زوج أو نائبه أو وليه … (وقصد) أي قصد النطق باللفظ الصريح والكناية الظاهرة ولو لم يقصد حل العصمة وقصد حلها في الكناية الخفية، واحترز به عن سبق اللسان في الأولين وعدم قصد حلها في الثالث (ومحل) أي عصمة مملوكة تحقيقًا أو تقديرًا … (ولفظ) صريح أو كناية(6).

--------------------------------------------

(1) بدائع الصنائع (3/ 98).

وانظر: البحر الرائق (3/ 410)، والدر المختار مع حاشية ابن عابدين (4/ 431).

(2) بدائع الصنائع (3/ 99).

(3) القوانين الفقهية ص: (171 - 172).

(4) انظر: التاج والإكليل ومواهب الجليل (5/ 307).

(5) مختصر ابن الحاجب ص: (167).

(6) الشرح الكبير مع حاشية الدسوقي (2/ 365).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তালাকের রুকনসমূহ

•‌চার মাযহাবের ফকীহগণের নিকট তালাকের রুকনসমূহ:

•‌হানাফীগণের নিকট তালাকের রুকন:

ইমাম কাসানী বলেন: তালাকের রুকন হলো এমন শব্দ যা তালাকের অর্থ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে(১)। তিনি আরও বলেন, রুকনের শর্তাবলি কয়েক প্রকার; কিছু স্বামী সংশ্লিষ্ট, কিছু স্ত্রী সংশ্লিষ্ট, কিছু রুকনের নিজস্ব সত্তা সংশ্লিষ্ট এবং কিছু সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট(২)।

 

•‌মালিকীগণের নিকট তালাকের রুকনসমূহ:

ইবন জুযাই বলেন: তালাকের রুকন তিনটি: তালাকদাতা, তালাকপ্রাপ্তা এবং সিগাহ (বাক্য), আর তা হলো শব্দ এবং যা শব্দের অর্থ প্রদান করে। তালাকদাতার জন্য চারটি শর্ত রয়েছে: ইসলাম, বিবেক-বুদ্ধি, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া এবং স্বেচ্ছাধীন হওয়া। আর তালাকপ্রাপ্তা হলো স্ত্রী, চাই সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাক অথবা তালাক পরবর্তী ইদ্দত পালনরত অবস্থায় থাক। তালাকের শব্দাবলি চার প্রকার (প্রথম প্রকার) স্পষ্ট (সারিহ) .... আর যদি কেউ নিয়ত ছাড়া তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে, যেমন যার মুখ ফসকে তালাক শব্দ বেরিয়ে গেছে কিন্তু সে তা চায়নি, তবে তা কার্যকর হবে না(৩)। ইবনে শাস একে তিনটি গণ্য করেছেন(৪)।

ইবনুল হাজিব ও খলিল একে চারটি গণ্য করেছেন। তারা বলেছেন: এর রুকন হলো: যোগ্য ব্যক্তি (আহল), উদ্দেশ্য (কাসদ), ক্ষেত্র (মাহাল) এবং শব্দ (লফজ)(৫)। আদ-দারদীর এর ব্যাখ্যায় বলেন: এর রুকন চারটি: (আহল বা যোগ্য ব্যক্তি) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তালাক প্রদানকারী স্বামী অথবা তার প্রতিনিধি অথবা তার অভিভাবক ... (কাসদ বা উদ্দেশ্য) অর্থাৎ স্পষ্ট (সারিহ) শব্দ এবং সুস্পষ্ট পরোক্ষ (কেনায়া জাহেরা) শব্দ উচ্চারণের ইচ্ছা করা, যদিও বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন করার ইচ্ছা না থাকে; আর অস্পষ্ট পরোক্ষ (কেনায়া খাফিয়া) শব্দের ক্ষেত্রে বন্ধন ছিন্ন করার নিয়ত করা। এর মাধ্যমে প্রথম দুই প্রকারের ক্ষেত্রে মুখ ফসকে শব্দ বেরিয়ে যাওয়া এবং তৃতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে বন্ধন ছিন্ন করার নিয়ত না থাকাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। (মাহাল বা ক্ষেত্র) অর্থাৎ প্রকৃতভাবে বা সম্ভাব্যভাবে মালিকানাধীন বৈবাহিক বন্ধন ... (লফজ বা শব্দ) চাই তা স্পষ্ট হোক বা পরোক্ষ হোক(৬)।

--------------------------------------------

(১) বাদায়েউস সানায়ে (৩/ ৯৮)।

আরও দেখুন: আল-বাহরুর রায়েক (৩/ ৪১০), আদ-দুররুল মুখতার মাআ হাশিয়াত ইবনে আবিদীন (৪/ ৪৩১)।

(২) বাদায়েউস সানায়ে (৩/ ৯৯)।

(৩) আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়্যাহ পৃষ্ঠা: (১৭১ - ১৭২)।

(৪) দেখুন: আত-তাজ ওয়াল ইকলীল এবং মাওয়াহিবুল জলীল (৫/ ৩০৭)।

(৫) মুখতাসার ইবনুল হাজিব পৃষ্ঠা: (১৬৭)।

(৬) আশ-শারহুল কাবীর মাআ হাশিয়াত আদ-দুসুকী (২/ ৩৬৫)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ১৩)
واعترض ابن عرفة قال الحطاب: رده ابن عرفة بأنَّها خارجة عن حقيقته وكل خارج عن حقيقة الشيء غير ركن له وجعل هو الأهل والمحل شرطين والقصد مع اللفظ أو ما يقوم مقامه سببين ونصه: وشرط الطلاق أهل ومحل والقصد مع لفظ أو ما يقوم مقامه من فعل أو إشارة سبب(1).

فأجابوا: المراد بالركن ما تتوقف الماهية عليه وإن لم يدخل فيها توسعًا ثم صار حقيقة عرفية(2).

 

•‌‌ أركان الطلاق عند الشافعية:

قال الشربيني: أركانه خمسة صيغة ومحل وولاية وقصد ومطلق(3).

وقال النووي: أركان الطلاق خمسة: الركن الأول: المطلق، وشرطه التكليف، فلا يقع طلاق صبي ولا مجنون …

الركن الثاني: اللفظ، وفيه ثلاثة أطراف: أحدها في اللفظ الذي يقع به الطلاق، والثاني، في الأفعال القائمة مقامه. والثالث في تفويض الطلاق إلى الزوجة وأحكام تفويضه .... الركن الثالث: القصد إلى الطلاق … الركن الرابع: المحل وهو المرأة .... الركن الخامس: الولاية على المحل، فلو قال لمطلقته الرجعية في عدتها: أنت طالق. طلقت.(4)

واستشكل بعض الشافعية جعل الزوج [قلت وكذلك ما زاد على الصيغة] أركانًا قال الفيومي: الغزالي جعل الفاعل ركنًا في مواضع كالبيع والنكاح ولم يجعله ركنًا في مواضع كالعبادات والفرق عسر ويمكن أن يقال الفرق أنَّ الفاعل علة لفعله والعلة غير المعلول فالماهية معلولة فحيث كان الفاعل متحدًا استقل بإيجاد الفعل كما في العبادات وأعطي حكم العلة العقلية ولم يجعل ركنًا وحيث كان الفاعل متعددًا لم يستقل كل واحد بإيجاد الفعل بل يفتقر إلى غيره لأنَّ كل واحد من العاقدين غير

--------------------------------------------

(1) مواهب الجليل (5/ 307).

وانظر: التاج والإكليل (5/ 307)، ومنح الجليل (2/ 206).

(2) انظر: الشرح الكبير مع حاشية الدسوقي (2/ 365)، ومنح الجليل (2/ 206).

(3) الإقناع في حل ألفاظ أبي شجاع (4/ 270).

(4) روضة الطالبين (8/ 2268).

وانظر: أسنى المطالب (3/ 269285)
ইবনে আরাফাহ আপত্তি জানিয়েছেন। আল-হাত্তাব বলেন: ইবনে আরাফাহ এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এই যুক্তিতে যে, এগুলো তালাকের প্রকৃত সত্তার বহির্ভূত, আর কোনো জিনিসের প্রকৃত সত্তার বহির্ভূত কোনো বিষয় তার রুকন (অপরিহার্য অংশ) হতে পারে না। তিনি যোগ্য ব্যক্তি (আহল) এবং পাত্র (মাহাল)-কে দুটি শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তালাকের শব্দের সাথে ইচ্ছাকে অথবা শব্দের স্থলাভিষিক্ত বিষয়কে দুটি কারণ (সবব) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাঁর মূল পাঠ হলো: তালাকের শর্ত হলো যোগ্য ব্যক্তি ও পাত্র, আর তালাকের শব্দের সাথে ইচ্ছা অথবা শব্দের স্থলাভিষিক্ত কোনো কাজ বা ইশারা হলো এর কারণ।(১)

তাঁরা উত্তর দিয়েছেন: রুকন দ্বারা এমন বিষয় উদ্দেশ্য যার ওপর কোনো জিনিসের প্রকৃত সত্তা বা হাকীকত নির্ভর করে, যদিও পারিভাষিক প্রসারের কারণে তা সত্তার অন্তর্ভুক্ত না হয়; পরবর্তীতে এটি একটি শাস্ত্রীয় পরিভাষায় পরিণত হয়েছে।(২)

 

•‌‌ শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী তালাকের রুকনসমূহ:

আশ-শিরবিনী বলেন: তালাকের রুকন পাঁচটি—সিগাহ (শব্দ বা পদ্ধতি), পাত্র (মাহাল), কর্তৃত্ব (বিলায়াহ), ইচ্ছা (কাসদ) এবং তালাকদাতা (মুতাল্লিক)।(৩)

ইমাম নববী বলেন: তালাকের রুকন পাঁচটি: প্রথম রুকন: তালাকদাতা; তার শর্ত হলো শরয়ি দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন হওয়া (তাকলীফ), সুতরাং শিশু বা উন্মাদের তালাক কার্যকর হবে না...

দ্বিতীয় রুকন: শব্দ; এতে তিনটি দিক রয়েছে: প্রথমটি হলো সেই শব্দ যার মাধ্যমে তালাক কার্যকর হয়। দ্বিতীয়টি হলো সেই সমস্ত কাজ যা শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয়। তৃতীয়টি হলো স্ত্রীর ওপর তালাকের ক্ষমতা অর্পণ এবং এর বিধানাবলি... তৃতীয় রুকন: তালাকের ইচ্ছা করা... চতুর্থ রুকন: পাত্র, আর তা হলো স্ত্রী... পঞ্চম রুকন: পাত্রের ওপর কর্তৃত্ব থাকা; সুতরাং কেউ যদি তার রাজঈ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে তার ইদ্দত পালনকালীন সময়ে বলে: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে তালাক কার্যকর হবে।(৪)

জনৈক শাফেয়ী আলিম স্বামীকে [আমি (লেখক) বলছি: একইভাবে সিগাহর অতিরিক্ত বিষয়গুলোকে] রুকন হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। আল-ফাইয়ূমী বলেন: আল-গাযালী ক্রয়-বিক্রয় ও বিবাহের মতো ক্ষেত্রগুলোতে কর্তাকে (ফায়েল) রুকন হিসেবে গণ্য করেছেন, কিন্তু ইবাদতের মতো ক্ষেত্রগুলোতে তাকে রুকন হিসেবে গণ্য করেননি। এই পার্থক্যের রহস্য উদঘাটন করা কঠিন। তবে বলা যেতে পারে যে, পার্থক্যটি হলো—কর্তা তার নিজের কাজের জন্য কারণ (ইল্লাত), আর কারণ ও ফলাফল (মালুল) ভিন্ন জিনিস। কোনো বিষয়ের প্রকৃত সত্তা হলো তার ফলাফল। সুতরাং যেখানে কর্তা একক, সেখানে তিনি কাজটি অস্তিত্বে আনার ক্ষেত্রে স্বাধীন বা সয়ংসম্পূর্ণ, যেমন ইবাদতের ক্ষেত্রে; তাই তাকে যৌক্তিক কারণের বিধান দেওয়া হয়েছে এবং রুকন হিসেবে গণ্য করা হয়নি। আর যেখানে কর্তা একাধিক, সেখানে প্রত্যেকে এককভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে সয়ংসম্পূর্ণ নয়, বরং অন্যের মুখাপেক্ষী; কারণ চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয়ের প্রত্যেকেই আলাদা...

--------------------------------------------

(১) মাওয়াহিবুল জলীল (৫/ ৩০৭)।

আরও দেখুন: আত-তাজ ওয়াল ইকলীল (৫/ ৩০৭), এবং মিনাহুল জলীল (২/ ২০৬)।

(২) দেখুন: আশ-শারহুল কাবীরসহ হাশিয়াতুদ দিসূকী (২/ ৩৬৫), এবং মিনাহুল জলীল (২/ ২০৬)।

(৩) আল-ইকনা ফী হাল্লি আলফাযি আবী শুজা (৪/ ২৭০)।

(৪) রওজাতুত তালিবীন (৮/ ২২৬৮)।

আরও দেখুন: আসনী আল-মাতালিব (৩/ ২৬৯২৮৫)
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ১৪)
عاقد بل العاقد اثنان فكل واحد من المتبايعين مثلًا غير مستقل فَبَعُدَ بهذا الاعتبار عن شبه العلة وأشبه جزء الماهية في افتقاره إلى ما يقومه فناسب أن يجعل ركنًا(1).

 

•‌‌ أركان الطلاق عند الحنابلة:

لم أقف على نصوص عند فقهاء الحنابلة في تعيين أركان الطلاق لكن يمكن أن يقال إنَّ فقهاء الحنابلة لهم قولان في المسألة تخريجًا:

القول الأول: ركن الطلاق الصيغة(2).

القول الثاني: الزوجان والصيغة(3).

الترجيح: ركن الشيء هو عين الشيء أو بعضه إذا كان الشيء مركب من أجزاء فالطلاق لفظ واحد فهو ركن واحد والصلاة أقوال وأفعال فالفاتحة ركن والركوع ركن والمصلي خارج عن ماهية الصلاة فلا نعده من الأركان ولذا استشكل بعض فقهاء المالكية والشافعية إدخال غير اللفظ في أركان الطلاق فالذي يترجح لي أنَّ رأي الأحناف أرجح في جعل ركن الطلاق اللفظ وما يتعلق بالمطلق والمطلقة شروطًا للطلاق لا أركانًا والله أعلم.

ثمرة الخلاف: ليس للخلاف ثمرة سواء جعلنا ما عدا الصيغة أركانًا أو شروطًا فلا يتغير الحكم.

--------------------------------------------

(1) المصباح المنير (1/ 237).

(2) بعض الحنابلة جعلوا ركني النكاح الإيجاب والقبول فيخرج عليه أنَّ ركن الطلاق هو الصيغة والله أعلم

انظر: المبدع (7/ 17)، والإنصاف (8/ 45)، ودليل الطالب ص: (202)، وشرح منتهى الإرادات (3/ 389)، ومعونة أولي النهى (9/ 38).

(3) بعض الحنابلة جعلوا أركان النكاح الزوجين والإيجاب والقبول فيخرج عليه أنَّ أركان الطلاق الزوجان والصيغة والله أعلم.

انظر: كشاف القناع (5/ 37)، والروض المربع مع حاشية ابن قاسم (6/ 146)، ومطالب أولي النهى (7/ 48).
চুক্তি সম্পাদনকারী, বরং চুক্তি সম্পাদনকারী দুইজন, যেমন উদাহরণস্বরূপ ক্রেতা-বিক্রেতার প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র নয়। এই বিবেচনায় এটি কারণের সদৃশ হওয়া থেকে দূরে সরে গেছে এবং সত্তার অংশের সদৃশ হয়েছে, যা তাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী। তাই এটিকে রুকন বা মূল স্তম্ভ সাব্যস্ত করা সমীচীন হয়েছে।(১).

 

•‌‌ হাম্বলী মাযহাবে তালাকের রুকনসমূহ:

তালাকের রুকন নির্ধারণের বিষয়ে আমি হাম্বলী ফকীহগণের নিকট কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা পাইনি, তবে আহকাম নিরূপণের (তাখরীজ) ভিত্তিতে বলা যেতে পারে যে, এই মাসআলায় হাম্বলী ফকীহগণের দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথম মত: তালাকের রুকন হলো সিগাহ বা শব্দ(২)।

দ্বিতীয় মত: স্বামী-স্ত্রী এবং শব্দ(৩)।

অগ্রাধিকারমূলক মত: কোনো জিনিসের রুকন হলো সেই জিনিসের সত্তা অথবা তার কোনো অংশ যদি জিনিসটি একাধিক অংশের সমন্বয়ে গঠিত হয়। তালাক যেহেতু একটি শব্দ মাত্র, তাই এটি একটি রুকন। অন্যদিকে সালাত হলো কতগুলো কথা ও কাজের সমষ্টি; ফলে ফাতিহা পাঠ একটি রুকন, রুকু একটি রুকন। কিন্তু সালাত আদায়কারী সালাতের সত্তার বহির্ভূত, তাই তাকে আমরা রুকনের অন্তর্ভুক্ত করি না। এই কারণেই কিছু মালিকী ও শাফেয়ী ফকীহ শব্দ ব্যতীত অন্য কিছুকে তালাকের রুকনের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আপত্তি তুলেছেন। সুতরাং আমার নিকট এটিই অগ্রাধিকারযোগ্য যে, হানাফীদের মতটি অধিকতর সঠিক, যেখানে তালাকের শব্দকে রুকন গণ্য করা হয়েছে এবং তালাকদাতা ও তালাকপ্রাপ্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে তালাকের শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, রুকন হিসেবে নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

মতভেদের ফলাফল: শব্দ ব্যতীত অন্য বিষয়গুলোকে রুকন অথবা শর্ত যা-ই ধরা হোক না কেন, এতে এই মতভেদের কোনো ব্যবহারিক ফলাফল নেই, কারণ হুকুম বা বিধিবিধান এতে পরিবর্তন হয় না।

--------------------------------------------

(১) আল-মিসবাহুল মুনীর (১/ ২৩৭)।

(২) কোনো কোনো হাম্বলী ফকীহ বিয়ের রুকন হিসেবে ইজাব ও কবুলকে নির্ধারণ করেছেন। এর ভিত্তিতে নিরূপিত হয় যে, তালাকের রুকন হলো শব্দ। আল্লাহই ভালো জানেন।

দেখুন: আল-মুবদি (৭/ ১৭), আল-ইনসাফ (৮/ ৪৫), দালিলুত তালিব পৃষ্ঠা: (২০২), শারহু মুনতাহাল ইরাদাত (৩/ ৩৮৯), মাউনাতু উলিন নুহা (৯/ ৩৮)।

(৩) কোনো কোনো হাম্বলী ফকীহ বিয়ের রুকন হিসেবে স্বামী-স্ত্রী এবং ইজাব ও কবুলকে নির্ধারণ করেছেন। এর ভিত্তিতে নিরূপিত হয় যে, তালাকের রুকন হলো স্বামী-স্ত্রী এবং শব্দ। আল্লাহই ভালো জানেন।

দেখুন: কাশশাফুল কিনা (৫/ ৩৭), আর-রওদুল মুরবি মাআ হাশিয়াতুবনি কাসিম (৬/ ১৪৬), মাতালিবু উলিন নুহা (৭/ ৪৮)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الفصل الثالث الشرط الأول: اللفظ بالطلاق

فلا بد من لفظ يخرج من المطلق حال القدرة.

قال ابن حزم: اتفقوا أنَّ طلاق المسلم العاقل البالغ الذي ليس سكران ولا مكرهًا ولا غضبان ولا مكرهًا [هكذا مكرر] ولا محجورًا ولا مريضًا لزوجته التي قد تزوجها زواجًا صحيحًا جائز إذا لفظ به بعد النكاح مختارًا له حينئذ وأوقعه في وقت الطلاق بلفظ من ألفاظ الطلاق على سنة الطلاق فإنَّه طلاق(1).

فاتفقوا على وقوع الطلاق إذا لفظ به واختلفوا في الطلاق بالكتابة والإشارة وحديث النفس وإذا حرك لسانه من غير إسماع.

وتأتي أدلة هذا الشرط في قول من يرى عدم وقوع الطلاق إذا كان حديث نفس.

--------------------------------------------

(1) مراتب الإجماع ص: (71).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ। প্রথম শর্ত: তালাকের শব্দ উচ্চারণ করা

সুতরাং সক্ষম অবস্থায় তালাকদাতার পক্ষ থেকে অবশ্যই কোনো শব্দ বা উচ্চারণ নির্গত হতে হবে।

ইবনে হাজম বলেন: তারা (উলামায়ে কেরাম) এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, একজন মুসলিম, বুদ্ধিমান ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি—যিনি নেশাগ্রস্ত নন, বাধ্য নন, রাগান্বিত নন, বাধ্য নন [মূল পাঠে এভাবেই পুনরুক্ত হয়েছে], আইনত অবরুদ্ধ নন এবং অসুস্থ নন—তার সেই স্ত্রীর প্রতি তালাক প্রদান কার্যকর হবে যাকে তিনি সঠিক বিবাহের মাধ্যমে বিবাহ করেছেন, যদি তিনি বিবাহের পর স্বেচ্ছায় তালাকের শব্দ উচ্চারণ করেন এবং তালাকের সুন্নাহ অনুযায়ী তালাকের কোনো শব্দের মাধ্যমে তা প্রয়োগ করেন; তবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে(১)।

তারা তালাক উচ্চারণের মাধ্যমে তা কার্যকর হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন; তবে তারা লেখা, ইশারা, মনের কথা এবং অন্যকে না শুনিয়ে কেবল জিহ্বা সঞ্চালনের মাধ্যমে তালাক হওয়ার বিষয়ে মতভেদ করেছেন।

এই শর্তের দলিলসমূহ তাদের বক্তব্যের আলোচনায় আসবে যারা মনে করেন যে, মনে মনে তালাক দিলে তা কার্যকর হয় না।

--------------------------------------------

(১) মারাতিবুল ইজমা, পৃষ্ঠা: (৭১)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الفصل الرابع الطلاق في النفس

‌‌تحرير محل النزاع: إذا أجرى الطلاق في قلبه نيةً من غير تلفظ فيقول في قلبه: أنت طالق ونحو ذلك من غير أن يحرك لسانه بالطلاق فهذا محل الخلاف.

قال القرافي: إذا أنشأ الطلاق بقلبه بكلامه النفساني ولم يلفظ به بلسانه فهو موضع الخلاف(1).

فلأهل العلم في الطلاق في النفس من غير تلفظ به قولان قول بوقوع الطلاق وقول بعدم وقوعه:

 

•‌‌ القول الأول: إذا طلق في نفسه وقع الطلاق:

وهو رواية في مذهب الإمام مالك(2) وينسب للزهري(3) وابن سيرين(4).

الدليل الأول: عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: لما نزلت هذه الآية {وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ} [البقرة: 284] قَالَ: دَخَلَ قُلُوبَهُمْ مِنْهَا شَيْءٌ لَمْ يَدْخُلْ قُلُوبَهُمْ مِنْ شَيْءٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «قُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَسَلَّمْنَا» قَالَ: فَأَلْقَى اللَّهُ الْإِيمَانَ فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} قَالَ: «قَدْ فَعَلْتُ» {رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا} قَالَ: «قَدْ فَعَلْتُ» {وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا} [البقرة: 286] قَالَ: «قَدْ فَعَلْتُ»(5).

وجه الاستدلال: المحاسبة على ما في القلوب دليل على اعتبار ما في القلب.

--------------------------------------------

(1) الفروق (1/ 52).

(2) انظر: المعونة (1/ 573)، والإشراف على مسائل الخلاف (2/ 746)، والتفريع (2/ 12)، والمقدمات (1/ 262)، والفروق للقرافي (1/ 52)، ومختصر ابن الحاجب ص: (171)، والبيان والتحصيل (6/ 269).

(3) انظر: المحلى (10/ 199)، وفتح الباري (9/ 394)، ولم أقف عليه مسندًا.

(4) انظر: الحاوي الكبير (10/ 150)، ولم أقف عليه مسندًا.

(5) رواه مسلم (126).
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মনের অভ্যন্তরে তালাক

‌‌বিরোধপূর্ণ বিষয়ের নির্ধারণ: যদি কেউ মুখে উচ্চারণ করা ছাড়াই মনে মনে তালাকের নিয়ত করে এবং মনে মনে বলে: তুমি তালাকপ্রাপ্তা—অথবা এই জাতীয় কিছু, অথচ সে তালাক উচ্চারণে জিহ্বা নাড়াচাড়া করেনি, তবে এটিই হলো মতপার্থক্যের ক্ষেত্র।

কারাফি বলেছেন: যদি কেউ তার মনের অভ্যন্তরে নিজের মানসিক কথনের (কালাম নাফসানি) মাধ্যমে তালাক সৃষ্টি করে এবং জিহ্বা দিয়ে তা উচ্চারণ না করে, তবে সেটিই হলো মতভেদের ক্ষেত্র(১)।

উচ্চারণ ব্যতিরেকে মনের অভ্যন্তরে তালাক হওয়ার বিষয়ে আলেমদের দুটি মত রয়েছে; একমতে তালাক কার্যকর হবে এবং অন্যমতে তালাক কার্যকর হবে না:

 

•‌‌ প্রথম মত: যদি সে মনে মনে তালাক দেয়, তবে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে:

এটি ইমাম মালিকের মাযহাবের একটি বর্ণনা(২) এবং এটি যুহরী(৩) ও ইবনে সিরিনের(৪) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।

প্রথম দলিল: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো— {এবং তোমরা তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ করো কিংবা তা গোপন করো, আল্লাহ তোমাদের থেকে তার হিসাব নিবেন} [আল-বাকারা: ২৮৪], তখন তাদের অন্তরে এমন কিছু প্রবেশ করল যা অন্য কোনো কিছুতে প্রবেশ করেনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা বলো: আমরা শুনলাম, আনুগত্য করলাম এবং আত্মসমর্পণ করলাম»। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ তাদের অন্তরে ঈমান ঢেলে দিলেন এবং আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা ভালো করেছে তা তারই জন্য এবং সে যা মন্দ করেছে তার প্রতিফল তারই ওপর বর্তাবে। হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না}। তিনি (আল্লাহ) বললেন: «আমি তা করেছি (মঞ্জুর করেছি)»। {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন ভারী বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমনটি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন}। তিনি বললেন: «আমি তা করেছি»। {এবং আমাদের ক্ষমা করুন ও আমাদের ওপর দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক} [আল-বাকারা: ২৮৬]। তিনি বললেন: «আমি তা করেছি»(৫)।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: অন্তরে যা আছে তার ওপর হিসাব গ্রহণ করা অন্তরের বিষয়ের গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ।

--------------------------------------------

(১) আল-ফুরূক (১/ ৫২)।

(২) দেখুন: আল-মাউনা (১/ ৫৭৩), আল-ইশরাফ আলা মাসাইলিল খিলাফ (২/ ৭৪৬), আত-তাফরী (২/ ১২), আল-মুকাদ্দিমাত (১/ ২৬২), আল-কারাফির আল-ফুরূক (১/ ৫২), মুখতাসার ইবনুল হাজিব পৃষ্ঠা: (১৭১), আল-বায়ান ওয়াত তাহসীল (৬/ ২৬৯)।

(৩) দেখুন: আল-মুহাল্লা (১০/ ১৯৯), ফাতহুল বারী (৯/ ৩৯৪); তবে আমি এটি সনদসহ পাইনি।

(৪) দেখুন: আল-হাভি আল-কাবীর (১০/ ১৫০); তবে আমি এটি সনদসহ পাইনি।

(৫) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১২৬)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ১৭)
الرد من وجهين:

الأول: ليس في الآية أنَّ من المحاسبة بما يخفيه العبد إلزامه بأحكامه بالشرع، وإنَّما فيها محاسبته بما يبديه أو يخفيه، ثم هو مغفور له أو معذب، فأين هذا من وقوع الطلاق بالنية(1).

الثاني: دلت الأدلة الخاصة على العفو عن حديث النفس.

الدليل الثاني: قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى»(2).

وجه الاستدلال: من نوى الطلاق في قلبه وقع طلاقه.

الرد: يأتي وجه استدلال من لا يرى وقوع الطلاق بهذا الحديث.

الدليل الثالث: الطلاق فراق من شرطه قصد القلب والنطق به للإخبار بوقوعه فقط فإذا عدم الكلام لم يؤثر عدم النطق(3).

الرد: دل حديث أبي هريرة رضي الله عنه «إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي … » أنَّ النطق شرط لوقوع الطلاق وليس الغاية منه الإخبار بما في القلب فقط(4).

الدليل الرابع: القياس على الكفر فكلاهما اعتقاد في القلب فلو اعتقد الكفر بقلبه كفر ولو لم يتكلم به(5).

الرد من وجوه:

الأول: الإيمان عقد القلب مع الإقرار، فإذا زال العقد الجازم كان نفس زواله كفرًا، فإنَّ الإيمان أمر وجودي ثابت قائم بالقلب، فما لم يقم بالقلب، حصل ضده وهو الكفر، وهذا كالعلم والجهل إذا فقد العلم حصل الجهل، وكذلك كل نقيضين

--------------------------------------------

(1) انظر: زاد المعاد (5/ 204).

(2) رواه البخاري (1)، ومسلم (1907) من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه.

(3) انظر: المعونة (1/ 573)، والإشراف على مسائل الخلاف (2/ 746)، والمقدمات (1/ 262).

(4) انظر: منح الجليل (2/ 238).

(5) انظر: المعونة (1/ 574)، والتفريع (2/ 12).
দুই দিক থেকে উত্তর:

প্রথমত: আয়াতে এমনটি বলা হয়নি যে, বান্দা যা গোপন করে সে বিষয়ে হিসাব নেওয়ার অর্থ হলো তার ওপর শরিয়তের বিধানসমূহ আবশ্যক করা। বরং তাতে রয়েছে সে যা প্রকাশ করে বা গোপন করে সে বিষয়ে তার হিসাব নেওয়া হবে, অতঃপর তাকে ক্ষমা করা হবে অথবা শাস্তি দেওয়া হবে। সুতরাং কেবল নিয়তের মাধ্যমে তালাক পতিত হওয়ার সাথে এর সম্পর্ক কোথায়?(১)।

দ্বিতীয়ত: বিশেষ দলীলসমূহ মনের কথার ক্ষমার ওপর প্রমাণ পেশ করে।

দ্বিতীয় দলীল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে তা-ই পাবে»(২)।

দলীল গ্রহণের পদ্ধতি: যে ব্যক্তি অন্তরে তালাকের নিয়ত করবে, তার তালাক পতিত হবে।

উত্তর: যারা এই হাদীসের মাধ্যমে তালাক পতিত না হওয়ার সপক্ষে মত দেন, তাদের দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি সামনে আসছে।

তৃতীয় দলীল: তালাক হলো এমন একটি বিচ্ছেদ যার শর্ত হলো অন্তরের সংকল্প এবং মুখে উচ্চারণ কেবল তা সংঘটিত হওয়ার সংবাদ দেওয়ার জন্য। সুতরাং যখন কথাবার্তা অনুপস্থিত থাকে, তখন উচ্চারণ না করা কোনো প্রভাব ফেলবে না(৩)।

উত্তর: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস— «নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য ক্ষমা করেছেন...»—প্রমাণ করে যে, তালাক পতিত হওয়ার জন্য মুখে উচ্চারণ করা একটি শর্ত, অন্তরের বিষয়টি কেবল সংবাদ দেওয়াই এর একমাত্র উদ্দেশ্য নয়(৪)।

চতুর্থ দলীল: কুফরের ওপর কিয়াস করা; কারণ উভয়ই অন্তরের বিশ্বাসের বিষয়। সুতরাং কেউ যদি অন্তরে কুফরের বিশ্বাস পোষণ করে তবে সে কাফির হয়ে যাবে, যদিও সে মুখে তা উচ্চারণ না করে(৫)।

কয়েকটি দিক থেকে উত্তর:

প্রথমত: ঈমান হলো স্বীকৃতির সাথে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস। সুতরাং যখন দৃঢ় বিশ্বাস বিলুপ্ত হয়, তখন সেই বিলুপ্তিই কুফর হিসেবে গণ্য হয়। কারণ ঈমান হলো একটি ইতিবাচক ও প্রতিষ্ঠিত বিষয় যা অন্তরে অবস্থান করে। যতক্ষণ এটি অন্তরে না থাকবে, তার বিপরীত অর্থাৎ কুফর অর্জিত হবে। এটি জ্ঞান ও অজ্ঞতার মতো; যখন জ্ঞান অনুপস্থিত থাকে তখন অজ্ঞতা দেখা দেয়। তেমনিভাবে প্রতিটি বিপরীতমুখী জোড়াও একই রূপ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যাদুল মাআদ (৫/ ২০৪)।

(২) বুখারী (১) এবং মুসলিম (১৯০৭) বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস থেকে।

(৩) দেখুন: আল-মাউনা (১/ ৫৭৩), আল-ইশরাফ আলা মাসাইলিল খিলাফ (২/ ৭৪৬), এবং আল-মুকাদ্দিমাত (১/ ২৬২)।

(৪) দেখুন: মিনাহুল জলীল (২/ ২৩৮)।

(৫) দেখুন: আল-মাউনা (১/ ৫৭৪) এবং আত-তাফরী (২/ ১২)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ১৮)
زال أحدهما خلفه الآخر(1).

الثاني: العفو عن حديث النفس لهذه الأمة والكافر ليس منها(2).

الثالث: خرج الكفر من عموم الحديث بقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ} [المائدة: 41](3).

الدليل الخامس: القياس على الكفر فكلاهما حق لله(4).

الرد: يكتفى بالنية في التكاليف القلبية، لا فيما بين الآدميين فالطلاق ليس حقًا محضًا لله(5).

الدليل السادس: العازم على المعصية فاسق مؤاخذ بها وإن لم يفعلها(6).

الرد: ورود المعصية على النفس له أحوال:

الحال الأولى: تخطر المعصية ثم تزول فهذا حديث نفس معفو عنه.

الحال الثانية: أن يعزم على فعلها ويبذل وسعه في حصولها فهذا هو الآثم حكمه حكم الفاعل فعن أبي كبشة الأنماري أنَّه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إِنَّمَا الدُّنْيَا لأَرْبَعَةِ نَفَرٍ، عَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ مَالًا وَعِلْمًا فَهُوَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ، وَيَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ، وَيَعْلَمُ لِلَّهِ فِيهِ حَقًّا، فَهَذَا بِأَفْضَلِ الْمَنَازِلِ، وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ مَالًا فَهُوَ صَادِقُ النِّيَّةِ يَقُولُ: لَوْ أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ بِعَمَلِ فُلَانٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ فَأَجْرُهُمَا سَوَاءٌ، وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ مَالًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ عِلْمًا، فَهُوَ يَخْبِطُ فِي مَالِهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ لَا يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ، وَلَا يَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ، وَلَا يَعْلَمُ لِلَّهِ فِيهِ حَقًّا، فَهَذَا بِأَخْبَثِ الْمَنَازِلِ، وَعَبْدٍ لَمْ يَرْزُقْهُ اللَّهُ مَالًا وَلَا عِلْمًا فَهُوَ يَقُولُ: لَوْ

--------------------------------------------

(1) انظر: زاد المعاد (5/ 203)، والفروق للقرافي (1/ 52).

(2) انظر: المحلى (10/ 200)، والتوضيح لشرح الجامع الصحيح (25/ 296)، وفتح الباري (9/ 394).

(3) انظر: التوضيح لشرح الجامع الصحيح (25/ 297).

(4) انظر: الإشراف على مسائل الخلاف (2/ 746).

(5) انظر: التوضيح شرح مختصر ابن الحاجب (4/ 94)، ومنح الجليل (2/ 238)، وبلغة السالك (2/ 370).

(6) انظر: زاد المعاد (5/ 203).
একটি চলে গেলে অন্যটি তার স্থলাভিষিক্ত হয়(১)।

দ্বিতীয়: এই উম্মতের জন্য মনের অনিচ্ছাকৃত চিন্তাভাবনা (হাদিসুন নাফস) ক্ষমাযোগ্য, আর কাফির এই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়(২)।

তৃতীয়: মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে কুফর সাধারণ হাদিসের হুকুম থেকে বের হয়ে গেছে: {হে রাসূল! যারা কুফরির দিকে দ্রুত ধাবিত হয় তারা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে, যারা মুখে বলে "আমরা ঈমান এনেছি" অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি} [আল-মায়িদাহ: ৪১](৩)।

পঞ্চম দলিল: কুফরির সাথে তুলনা করা; কারণ উভয়ই আল্লাহর হক(৪)।

জবাব: অন্তরের ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে নিয়তই যথেষ্ট, কিন্তু মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক বিষয়ের ক্ষেত্রে তা নয়; সুতরাং তালাক নিছক আল্লাহর হক নয়(৫)।

ষষ্ঠ দলিল: পাপে লিপ্ত হওয়ার দৃঢ় সংকল্পকারী ব্যক্তি পাপাচারী এবং সে এর জন্য জিজ্ঞাসিত হবে, যদিও সে তা বাস্তবে না করে(৬)।

জবাব: মনে পাপের চিন্তা উদয় হওয়ার কয়েকটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথম অবস্থা: মনে পাপের চিন্তা আসা এবং এরপর তা চলে যাওয়া; এটি মনের কুমন্ত্রণা যা ক্ষমাযোগ্য।

দ্বিতীয় অবস্থা: পাপটি করার দৃঢ় সংকল্প করা এবং তা অর্জনে সাধ্যমতো চেষ্টা করা; এই ব্যক্তিই গুনাহগার এবং তার হুকুম আমলকারীর হুকুমের মতো। আবু কাবশাহ আল-আনমারি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: «নিশ্চয়ই দুনিয়া চার প্রকার ব্যক্তির জন্য: এমন এক বান্দা যাকে আল্লাহ সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন, ফলে সে এতে তার রবকে ভয় করে, এর মাধ্যমে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে এবং এতে আল্লাহর যে হক রয়েছে তা জানে; সে সর্বোত্তম মর্যাদায় রয়েছে। আর এক বান্দা যাকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন কিন্তু সম্পদ দান করেননি, সে সত্যনিষ্ঠ নিয়তের অধিকারী, সে বলে: "যদি আমার সম্পদ থাকত তবে আমি অমুক ব্যক্তির মতো আমল করতাম।" সে তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে, ফলে তাদের উভয়ের সওয়াব সমান। আর এক বান্দা যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন কিন্তু জ্ঞান দান করেননি, ফলে সে না বুঝে তার সম্পদের ব্যাপারে যা ইচ্ছা তাই করে, এতে তার রবকে ভয় করে না, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে না এবং এতে আল্লাহর হক সম্পর্কেও অবগত নয়; সে নিকৃষ্টতম অবস্থানে রয়েছে। আর এক বান্দা যাকে আল্লাহ সম্পদও দেননি, জ্ঞানও দেননি, সে বলে: "যদি...»

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যাদুল মা'আদ (৫/ ২০৩), এবং আল-ক্বারাফির আল-ফুরুক্ব (১/ ৫২)।

(২) দেখুন: আল-মুহাল্লা (১০/ ২০০), আত-তাওদীহ লি-শারহিল জামিইস সহীহ (২৫/ ২৯৬), এবং ফাতহুল বারী (৯/ ৩৯৪)।

(৩) দেখুন: আত-তাওদীহ লি-শারহিল জামিইস সহীহ (২৫/ ২৯৭)।

(৪) দেখুন: আল-ইশরাফ আলা মাসাইলিল খিলাফ (২/ ৭৪৬)।

(৫) দেখুন: আত-তাওদীহ শারহু মুখতাসার ইবনিল হাজিব (৪/ ৯৪), মিনাহুল জলীল (২/ ২৩৮), এবং বুলগাতুস সালিক (২/ ৩৭০)।

(৬) দেখুন: যাদুল মা'আদ (৫/ ২০৩)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ১৯)
أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ فِيهِ بِعَمَلِ فُلَانٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ فَوِزْرُهُمَا سَوَاءٌ»(1).

الحال الثالثة: أن يعزم على فعلها ثم يتركها ولا يخلو من حالين:

الأولى: أن يتركها عجزًا عنها بعد بذل وسعه فحكمه حكم الفاعل فعن أبي بكرة رضي الله عنه سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول «إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ إِنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ»(2).

الثانية: أن يتركها خوفًا من الله فتركه لها طاعة تكتب له به حسنة فعن أبي هريرة رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «يَقُولُ اللَّهُ إِذَا أَرَادَ عَبْدِي أَنْ يَعْمَلَ سَيِّئَةً فَلَا تَكْتُبُوهَا عَلَيْهِ حَتَّى يَعْمَلَهَا فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا بِمِثْلِهَا وَإِنْ تَرَكَهَا مِنْ أَجْلِي فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْمَلَ حَسَنَةً فَلَمْ يَعْمَلْهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ»(3).

الدليل السادس: عن البراء رضي الله عنه، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لَا يُحِبُّهُمْ إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَلَا يُبْغِضُهُمْ إِلَّا مُنَافِقٌ، مَنْ أَحَبَّهُمْ أَحَبَّهُ اللهُ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ أَبْغَضَهُ اللهُ»(4).

الدليل السابع: قال علي رضي الله عنه: والذي فلق الحبة، وبرأ النسمة، إنَّه لعهد النبي الأمي صلى الله عليه وسلم إليَّ: «أن لا يحبني إلا مؤمن، ولا يبغضني إلا منافق»(5).

وجه الاستدلال: أعمال القلوب في الثواب والعقاب كأعمال الجوارح ولهذا يثاب على الحب والبغض والموالاة والمعاداة في الله، وعلى التوكل والرضا والعزم على الطاعة، ويعاقب على الكبر والحسد والعجب والشك والرياء وظن السوء بالأبرياء(6).

الرد: الطلاق في النفس أمر خارج عن الثواب والعقاب، ولا تلازم بين الأمرين،

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي (2325) وغيره وإسناده حسن خرجته في تذكير الناسك بفوائد أجمع أحاديث المناسك (ص: 206).

(2) رواه البخاري (31)، ومسلم (2888).

(3) رواه البخاري (7501)، ومسلم (129).

(4) رواه البخاري (3783)، ومسلم (75).

(5) رواه مسلم (78).

(6) انظر: التبصرة (6/ 2752)، وزاد المعاد (5/ 203).
যে, 'আমার যদি সম্পদ থাকত তবে আমিও অমুকের মতো কাজ করতাম', তবে সে তার নিয়ত অনুযায়ী গণ্য হবে এবং তাদের উভয়ের পাপ সমান হবে।"(১).

তৃতীয় অবস্থা: তা (পাপ) করার সংকল্প করা এবং তারপর তা পরিত্যাগ করা। এটি দুই অবস্থার বাইরে নয়:

প্রথমটি: স্বীয় সাধ্যমতো চেষ্টা করার পর অক্ষমতাবশত তা পরিত্যাগ করা। এমতাবস্থায় তার হুকুম (পাপের ক্ষেত্রে) সম্পাদনকারীর হুকুমেরই অনুরূপ হবে। আবু বাকরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যখন দুজন মুসলিম তাদের তলোয়ার নিয়ে মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত উভয়ই জাহান্নামী।" আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো হত্যাকারীর ক্ষেত্রে ঠিক আছে, কিন্তু নিহতের কী অপরাধ?" তিনি বললেন, "সেও তার সাথীকে হত্যা করার ব্যাপারে অতি আগ্রহী ছিল।"(২).

দ্বিতীয়টি: আল্লাহর ভয়ে তা পরিত্যাগ করা। তার এই বর্জন একটি আনুগত্যের কাজ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর কারণে তার জন্য একটি নেকি লেখা হবে। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ বলেন: যখন আমার বান্দা কোনো মন্দ কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে, তখন সে তা না করা পর্যন্ত তার নামে তা লিখো না। যদি সে তা করে ফেলে, তবে তাকে একটি মন্দ হিসেবেই লেখো। আর যদি সে তা আমার খাতিরে বর্জন করে, তবে তার জন্য একটি নেকি লিখে দাও। আর যখন সে কোনো নেক কাজ করার ইচ্ছা করে কিন্তু তা করতে পারে না, তখনও তার জন্য একটি নেকি লেখো। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত নেকি লিখে দাও।"(৩).

ষষ্ঠ দলীল: বারা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিন ব্যতীত কেউ তাদের (আনসারদের) ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ব্যতীত কেউ তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করবে না। যে তাদের ভালোবাসল আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন, আর যে তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করল আল্লাহ তাকে ঘৃণা করবেন।"(৪).

সপ্তম দলীল: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: সেই সত্তার কসম যিনি শস্যবীজ বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন, নিরক্ষর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে: "মুমিন ব্যতীত কেউ আমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ব্যতীত কেউ আমার সাথে বিদ্বেষ পোষণ করবে না।"(৫).

দলীলের ভিত্তি: সওয়াব ও আযাবের ক্ষেত্রে অন্তরের আমলসমূহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের মতোই। এই কারণেই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা ও ঘৃণা এবং বন্ধুত্ব ও শত্রুতা পোষণ করা, এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা), সন্তুষ্টি ও আনুগত্যের সংকল্পের ওপর সওয়াব প্রদান করা হয়। তেমনিভাবে অহংকার, হিংসা, আত্মমুগ্ধতা, সন্দেহ, রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত) এবং নিরপরাধীদের প্রতি কুধারণা পোষণ করার কারণে শাস্তি প্রদান করা হয়।(৬).

উত্তর: মনের মধ্যে তালাকের চিন্তা করা সওয়াব ও শাস্তির ঊর্ধ্বে এবং এই দুই বিষয়ের মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী (২৩২৫) এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান; আমি এটি 'তাজকিরুন নাসিক বি-ফাওয়াইদি আজমাই আহাদিসিল মানাসিক' (পৃ. ২০৬) গ্রন্থে বিশ্লেষণ করেছি।

(২) বুখারী (৩১), এবং মুসলিম (২৮৮৮) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) বুখারী (৭৫০১), এবং মুসলিম (১২৯) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) বুখারী (৩৭৮৩), এবং মুসলিম (৭৫) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) মুসলিম (৭৮) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৬) দেখুন: আত-তাবসিরাহ (৬/২৭৫২), এবং যাদুল মাআদ (৫/২০৩)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ২০)
فما يعاقب عليه من أعمال القلوب معاص قلبية من أعمال القلوب، كما يستحقه على المعاصي البدنية فمثلا الكبر والعجب والرياء وظن السوء من أعمال القلوب وليست نية فقط وهي أمور اختيارية يمكن اجتنابها(1).

 

•‌‌ القول الثاني: لا يقع الطلاق:

قال به سعيد بن جبير(2)، وعطاء بن أبي رباح(3)، وأبو الشعثاء جابر بن زيد(4)، والحسن البصري(5)، ومحمد بن سيرين(6)، وقتادة(7)، وروي عن الشعبي(8)، وتبويب الترمذي(9)، والنسائي(10)، وابن ماجه(11) يفهم منه أنَّهم يختارون هذا القول واختاره إسحاق بن راهويه(12).

--------------------------------------------

(1) انظر: زاد المعاد (5/ 204)، والتوضيح لشرح الجامع الصحيح (25/ 297).

(2) رواه عبد الرزاق (11430)، وابن أبي شيبة (5/ 54) بإسناد صحيح.

(3) رواه عبد الرزاق (11428)، وابن أبي شيبة (5/ 54)، ورواته ثقات.

(4) رواه عبد الرزاق (11429)، وابن أبي شيبة (5/ 54) بإسناد صحيح.

(5) رواه عبد الرزاق (11430)، (11431)، وابن أبي شيبة (5/ 54) بإسناد صحيح.

(6) رواه ابن أبي شيبة (5/ 54)، ورواته ثقات.

* تنبيه: روى عبد الرزاق (11432) عن معمر، سأل رجل الحسن، فقال: طلقت امرأتي في نفسي، فقال: «أَخَرَجَ مِنْ فِيكَ شَيْءٌ؟» قَالَ: لَا قَالَ: «فَلَيْسَ بِشَيْءٍ» قال: وسأل قتادة، فقال له مثل قول الحسن قال: فسأل ابن سيرين، فقال: «أَوَ لَيْسَ قَدْ عَلِمَ اللَّهُ الَّذِي فِي نَفْسِكَ» قَالَ: بَلَى قَالَ: «فَلَا أَقُولُ فِيهَا شَيْئًا» إسناده صحيح وفي هذه الرواية توقف ابن سيرين.

(7) رواه عبد الرزاق (11431) بإسناد صحيح.

(8) رواه ابن أبي شيبة (5/ 54) بإسناد ضعيف.

في إسناده جابر بن يزيد الجعفي ضعيف.

(9) بوب على حديث أبي هريرة رضي الله عنه في سننه (3/ 489) باب ما جاء فيمن يحدث نفسه بطلاق امرأته وقال: العمل على هذا عند أهل العلم: أنَّ الرجل إذا حدث نفسه بالطلاق لم يكن شيء حتى يتكلم به.

(10) بوب على حديث أبي هريرة رضي الله عنه في السنن الصغرى (6/ 156) باب: من طلق في نفسه.

(11) بوب على حديث أبي هريرة رضي الله عنه في سننه (1/ 658) باب: من طلق في نفسه ولم يتكلم به.

(12) انظر: مسائل حرب الكرماني تحقيق فايز حابس (2/ 507).
অন্তরের যে কাজগুলোর জন্য শাস্তি দেওয়া হয়, সেগুলো মূলত অন্তরের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত কলবি গোনাহ (অন্তরের পাপ), যেমনটি শারীরিক পাপাচারের ক্ষেত্রে প্রাপ্য হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ অহংকার, আত্মমুগ্ধতা, রিয়া (প্রদর্শনপ্রিয়তা) এবং কুধারণা—এগুলো অন্তরের কর্ম, কেবল নিয়ত নয় এবং এগুলো ইচ্ছাধীন বিষয় যা পরিহার করা সম্ভব(১).

 

•‌‌ দ্বিতীয় মত: তালাক পতিত হবে না:

সাঈদ ইবনে জুবায়ের(২), আতা ইবনে আবি রাবাহ(৩), আবুশ শা’সা জাবের ইবনে যায়েদ(৪), হাসান বসরী(৫), মুহাম্মদ ইবনে সিরীন(৬), কাতাদা(৭) এই মত ব্যক্ত করেছেন। আর শা’বী(৮) থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে। তিরমিযী(৯), নাসাঈ(১০) এবং ইবনে মাজাহর(১১) অধ্যায় বিন্যাস থেকে বোঝা যায় যে তাঁরা এই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন; আর ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহি(১২) এই মতটি পছন্দ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যাদুল মাআদ (৫/ ২০৪), এবং আত-তাওযীহ লি-শারহিল জামিইস সহীহ (২৫/ ২৯৭)।

(২) আব্দুর রাজ্জাক (১১৪৩০) এবং ইবনে আবি শাইবাহ (৫/ ৫৪) সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) আব্দুর রাজ্জাক (১১৪২৮) এবং ইবনে আবি শাইবাহ (৫/ ৫৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

(৪) আব্দুর রাজ্জাক (১১৪২৯) এবং ইবনে আবি শাইবাহ (৫/ ৫৪) সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) আব্দুর রাজ্জাক (১১৪৩০), (১১৪৩১) এবং ইবনে আবি শাইবাহ (৫/ ৫৪) সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৬) ইবনে আবি শাইবাহ (৫/ ৫৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

* সতর্কবার্তা: আব্দুর রাজ্জাক (১১৪৩২) মা'মার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি হাসান বসরীকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমি মনে মনে আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি। তিনি বললেন: «তোমার মুখ থেকে কি কিছু বের হয়েছে?» সে বলল: না। তিনি বললেন: «তাহলে এটি কিছুই নয়»। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি কাতাদাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও হাসানের অনুরূপ উত্তর দেন। এরপর তিনি ইবনে সিরীনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: «আল্লাহ কি তোমার মনের খবর জানেন না?» সে বলল: অবশ্যই জানেন। তিনি বললেন: «তাহলে আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না»। এর সনদ সহীহ এবং এই বর্ণনায় ইবনে সিরীন নীরবতা পালন (তাওয়াককুফ) করেছেন।

(৭) আব্দুর রাজ্জাক (১১৪৩১) সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৮) ইবনে আবি শাইবাহ (৫/ ৫৪) দুর্বল সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে জাবের ইবনে ইয়াজিদ আল-জু'ফী রয়েছেন যিনি দুর্বল।

(৯) তিনি তাঁর সুনান গ্রন্থে (৩/ ৪৮৯) আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদীসের ওপর "যে ব্যক্তি মনে মনে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা চিন্তা করে" অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং বলেছেন: আলেমদের নিকট আমল এর ওপরই যে, কোনো ব্যক্তি যখন মনে মনে তালাকের চিন্তা করে, তবে কথা না বলা পর্যন্ত তা কার্যকর হয় না।

(১০) তিনি আস-সুনান আস-সুগরা গ্রন্থে (৬/ ১৫৬) আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদীসের ওপর "যে ব্যক্তি মনে মনে তালাক দেয়" অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন।

(১১) তিনি তাঁর সুনান গ্রন্থে (১/ ৬৫৮) আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদীসের ওপর "যে ব্যক্তি মনে মনে তালাক দেয় এবং তা মুখে উচ্চারণ করে না" অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন।

(১২) দেখুন: মাসায়িলু হারব আল-কিরমানী, ফয়েজ হাবিস সম্পাদিত (২/ ৫০৭)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ২১)
وهو مذهب الأحناف(1)، ورواية في مذهب مالك(2)، وهو مذهب الشافعية(3) والحنابلة(4) وقال به ابن حزم(5) وابن القيم(6) والشيخ عبد العزيز بن باز(7) وشيخنا الشيخ محمد العثيمين(8).

الدليل الأول: عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ»(9).

وفي رواية: «إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَا وَسْوَسَتْ بِهِ صُدُورُهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَكَلَّمْ»(10).

وجه الاستدلال: لا يترتب على حديث النفس شيء إذا لم ينطق به أو يعمل(11).

الرد: الجازم بذلك في النفس ليس من حديث النفس(12).

الجواب: بين الحديث أنَّ التجاوز عن حديث النفس إلى غاية وهي الكلام به أو

--------------------------------------------

(1) انظر: عمدة القاري (17/ 37)، وتحفة الفقهاء (2/ 182)، والتوضيح لشرح الجامع الصحيح (25/ 296)، ومجموع الفتاوى (10/ 746).

(2) انظر: الإشراف على مسائل الخلاف (2/ 746)، والتفريع (2/ 12)، والمقدمات (1/ 262)، ومختصر ابن الحاجب ص: (171)، والفروق للقرافي (1/ 52)، والشرح الصغير (2/ 370)، ومنح الجليل (2/ 238)، والبهجة في شرح التحفة (1/ 569).

(3) انظر: الأم (5/ 261)، والأوسط (9/ 201)، والحاوي (10/ 150)، وشرح الخطيب مع تحفة الحبيب (4/ 274).

(4) انظر: المغني (7/ 263)، والفروع (5/ 394)، والمسائل الخلافية للعكبري (4/ 196)، والإنصاف (8/ 498)، وكشاف القناع (5/ 259).

(5) انظر: المحلى (10/ 198).

(6) انظر: زاد المعاد (5/ 203).

(7) انظر: مجموع فتاوى الشيخ ابن باز (22/ 58).

(8) انظر: الشرح الممتع (13/ 88).

(9) رواه البخاري (5269)، و مسلم (127).

(10) رواه البخاري (2528).

(11) انظر: المحلى (10/ 198)، وزاد المعاد (5/ 203).

(12) انظر: مجموع الفتاوى (10/ 746).
এটি হানাফীদের মাযহাব(১), এবং মালেকী মাযহাবের একটি বর্ণনা(২), এটি শাফেঈ(৩) ও হাম্বলী(৪) মাযহাবের মত। ইবনে হাযম(৫), ইবনুল কায়্যিম(৬), শেখ আব্দুল আজিজ বিন বায(৭) এবং আমাদের শেখ মুহাম্মদ আল-উসাইমীন(৮) এই মত পোষণ করেছেন।

প্রথম দলিল: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কল্পনাকে ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না তারা সে অনুযায়ী কাজ করে বা কথা বলে”(৯)।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার খাতিরে আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না তারা সে অনুযায়ী কাজ করে বা কথা বলে”(১০)।

দলিলের যৌক্তিকতা: মনের কল্পনার ওপর কোনো কিছু বর্তায় না যদি না তা মুখে উচ্চারণ করা হয় বা সে অনুযায়ী কাজ করা হয়(১১)।

খণ্ডন: মনের দৃঢ় সংকল্প মনের সাধারণ কল্পনার অন্তর্ভুক্ত নয়(১২)।

উত্তর: হাদিসটি স্পষ্ট করেছে যে, মনের কল্পনা ক্ষমা করার একটি সীমা রয়েছে, আর তা হলো তা মুখে বলা বা

--------------------------------------------

(১) দেখুন: উমদাতুল ক্বারী (১৭/ ৩৭), তুহফাতুল ফুক্বাহা (২/ ১৮২), আত-তাওদীহ লি-শারহিল জামিইস সহীহ (২৫/ ২৯৬), মাজমুউল ফাতাওয়া (১০/ ৭৪৬)।

(২) দেখুন: আল-ইশরাফ আলা মাসাইলিল খিলাফ (২/ ৭৪৬), আত-তাফরী (২/ ১২), আল-মুকাদ্দিমাত (১/ ২৬২), মুখতাসার ইবনুল হাজিব পৃষ্ঠা: (১৭১), আল-ফুরূক লি-কারাফী (১/ ৫২), আশ-শারহুস সাগীর (২/ ৩৭০), মিনহুল জলীল (২/ ২৩৮), আল-বাহজাহ ফী শারহিত তুহফাহ (১/ ৫৬৯)।

(৩) দেখুন: আল-উম্ম (৫/ ২৬১), আল-আওসাত (৯/ ২০১), আল-হাবী (১০/ ১৫০), শারহুল খতীব মাআ তুহফাতিল হাবীব (৪/ ২৭৪)।

(৪) দেখুন: আল-মুগনী (৭/ ২৬৩), আল-ফুরূ (৫/ ৩৯৪), আল-মাসাইলুল খিলাফিয়্যাহ লিল আকবারী (৪/ ১৯৬), আল-ইনসাফ (৮/ ৪৯৮), কাশশাফুল কিনা (৫/ ২৫৯)।

(৫) দেখুন: আল-মুহাল্লা (১০/ ১৯৮)।

(৬) দেখুন: যাদুল মাআদ (৫/ ২০৩)।

(৭) দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া আশ-শেখ বিন বায (২২/ ৫৮)।

(৮) দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি (১৩/ ৮৮)।

(৯) বুখারী (৫২৬৯) ও মুসলিম (১২৭) বর্ণনা করেছেন।

(১০) বুখারী (২৫২৮) বর্ণনা করেছেন।

(১১) দেখুন: আল-মুহাল্লা (১০/ ১৯৮), যাদুল মাআদ (৫/ ২০৩)।

(১২) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (১০/ ৭৪৬)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ২২)
العمل(1).

الدليل الثاني: قول النبي صلى الله عليه وسلم «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى»(2).

وجه الاستدلال: العمل يعتبر مع النية جميعًا والنية وحدها ليست عملًا فلا يترتب أثر على أحدهما دون الآخر(3).

الرد: إذا تلفظ بالطلاق من غير إرادة الطلاق وقع الطلاق فلم تعتبر النية فدل ذلك على عدم اشتراط اجتماعهما.

الجواب: يشترط قصد لفظ الطلاق وقد وجد فلو تلفظ بالطلاق خطأ لم يقع طلاقه لعدم نية اللفظ.

الدليل الثالث: أجمعوا على أنَّ حديث النفس في الصلاة ليس كلامًا فإذا حدث نفسه في الصلاة فصلاته صحيحة ولو كثرت الوساوس ولا يشرع له إعادتها وقد حرم الله تعالى الكلام في الصلاة فلو كان حديث النفس كالكلام لبطلت صلاته(4).

الدليل الرابع: قال الخطابي أجمعوا على أنَّه لو عزم على الظهار لم يلزمه حتى يلفظ به وهو بمعنى الطلاق(5).

الرد: الظهار لا تخرج المرأة به من عصمة الزوج بخلاف الطلاق إنَّما يحرم وطؤها تحريمًا مؤقتًا.

الدليل الخامس: لو حدث نفسه بالقذف لم يكن قذفًا بالإجماعً(6).

الرد: يترتب على القذف الحد فيدرأ بالشبهة فلا يترتب على حديث النفس به أثر.

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع الفتاوى (10/ 746).

(2) رواه البخاري (1)، ومسلم (1907) من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه.

(3) انظر: الأوسط (9/ 201)، والمحلى (10/ 199)، وزاد المعاد (5/ 203).

(4) انظر: الأوسط (9/ 201)، ومعالم السنن (3/ 215).

(5) معالم السنن (3/ 214).

(6) انظر: الأوسط (9/ 201)، ومعالم السنن (3/ 215).
আমল(১)।

দ্বিতীয় দলিল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে"(২)।

দলিলের যৌক্তিক ভিত্তি: আমলকে নিয়তের সাথেই গণ্য করা হয় এবং শুধু নিয়ত কোনো আমল নয়। সুতরাং একটি ছাড়া অপরটির কোনো প্রভাব কার্যকর হয় না(৩)।

খণ্ডন: যদি কেউ তালাকের ইচ্ছা ছাড়াই তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে, তবে তালাক পতিত হয়ে যায়। সেখানে নিয়তকে গণ্য করা হয়নি, যা প্রমাণ করে যে উভয়ের একত্র হওয়া শর্ত নয়।

উত্তর: তালাকের শব্দ উচ্চারণের ইচ্ছা থাকা শর্ত এবং তা এখানে পাওয়া গেছে। কিন্তু যদি কেউ ভুলবশত তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে ফেলে, তবে শব্দ উচ্চারণের নিয়ত না থাকার কারণে তার তালাক পতিত হবে না।

তৃতীয় দলিল: আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, সালাতের মধ্যে মনের কল্পনা বা কথা (হাদিসে নাফস) কোনো কথাবার্তা নয়। সুতরাং কেউ যদি সালাতের মধ্যে মনে মনে কথা বলে, তবে তার সালাত সহীহ হবে, যদিও কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) অধিক হয়; এবং তার জন্য সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয়। অথচ আল্লাহ তাআলা সালাতের মধ্যে কথা বলা হারাম করেছেন। যদি মনের কল্পনা সাধারণ কথার মতো হতো, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যেত(৪)।

চতুর্থ দলিল: খাত্তাবী বলেছেন, আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, কেউ যদি যিহার করার সংকল্প করে, তবে মুখে উচ্চারণ না করা পর্যন্ত তা তার ওপর আবশ্যক হবে না। আর এটি তালাকের অর্থেই অন্তর্ভুক্ত(৫)।

খণ্ডন: যিহারের মাধ্যমে স্ত্রী স্বামীর বৈবাহিক বন্ধন থেকে বের হয়ে যায় না, যা তালাকের বিপরীত। এর মাধ্যমে কেবল তার সাথে সহবাস সাময়িকভাবে হারাম হয়।

পঞ্চম দলিল: যদি কেউ মনে মনে কাউকে অপবাদ (কাযফ) দেওয়ার কথা চিন্তা করে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা অপবাদ বলে গণ্য হবে না(৬)।

খণ্ডন: অপবাদের ওপর হদ্দ (শাস্তি) কার্যকর হয়, যা সন্দেহের কারণে রহিত হয়ে যায়। তাই মনে মনে কথা বলার ওপর কোনো প্রভাব কার্যকর হয় না।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (১০/ ৭৪৬)।

(২) বুখারী (১) ও মুসলিম (১৯০৭), উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস।

(৩) দেখুন: আল-আওসাত (৯/ ২০১), আল-মুহাল্লা (১০/ ১৯৯) এবং যাদুল মাআদ (৫/ ২০৩)।

(৪) দেখুন: আল-আওসাত (৯/ ২০১) এবং মাআলিমুস সুনান (৩/ ২১৫)।

(৫) মাআলিমুস সুনান (৩/ ২১৪)।

(৬) দেখুন: আল-আওসাত (৯/ ২০১) এবং মাআলিমুস সুনান (৩/ ২১৫)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ২৩)
الدليل السادس: الطلاق حل عقد لا ينحل بمجرد النية كالبيع(1).

الرد: الفروج يحتاط لها فيقع الطلاق.

الجواب: الاحتياط يكون بإبقاء الزوجية.

الدليل السابع: الطلاق فسخ، والفسخ لا بد أن يكون باللفظ كالعقد(2).

الرد: لا يشترط اللفظ(3) والطلاق بالإشارة(4).

الجواب: الكتابة والإشارة قائمة مقام اللفظ.

الدليل الثامن: الطلاق إزالة ملك فلا يحصل بمجرد النية كالعتق والصدقة(5).

الرد: فرق بين الملك الحسي والملك المعنوي.

الدليل التاسع: ينعقد النكاح بقول ونية فكذلك حله بالطلاق(6).

الرد: من وجهين:

الأول: عقد النكاح آكد من الطلاق فيشترط في النكاح ما لا يشترط في الطلاق.

الثاني: الكلام النفسي غير النية فالتطليق به حل العصمة بكلام ونية فساوى عقدها بهما(7).

الجواب: الكلام في النفس لغو شرعًا فلا يترتب عليه أثر.

الدليل العاشر: القاضي لو اعتقد الطلاق في حق المولي والعنين لم يقع الطلاق حتى ينطق به فكذلك الزوج(8).

الرد: القاضي قائم مقام غيره بخلاف الزوج.

--------------------------------------------

(1) انظر: المعونة (1/ 574)، والحاوي (10/ 150)، والمغني (7/ 263)، والمسائل الخلافية للعكبري (4/ 197).

(2) انظر: الشرح الممتع (13/ 88).

(3) انظر: (ص: 64).

(4) انظر: (ص: 51).

(5) انظر: الحاوي (10/ 150)، وكشاف القناع (5/ 245).

(6) انظر: التوضيح شرح مختصر ابن الحاجب (4/ 93)، ومنح الجليل (2/ 238).

(7) انظر: منح الجليل (2/ 238).

(8) انظر: المسائل الخلافية للعكبري (4/ 197).
ষষ্ঠ দলীল: তালাক হলো একটি চুক্তির বিচ্ছেদ যা কেবল নিয়তের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না, যেমন বিক্রয়(১)।

খণ্ডন: লজ্জাস্থানের (বৈবাহিক সম্পর্কের) ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, তাই তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।

উত্তর: সতর্কতা মূলত বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রাখার মধ্যেই নিহিত।

সপ্তম দলীল: তালাক হলো একটি নাকচকরণ (ফসখ), আর নাকচকরণের জন্য অবশ্যই উচ্চারণ থাকতে হবে যেমন চুক্তির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে(২)।

খণ্ডন: উচ্চারণ শর্ত নয়(৩) এবং ইশারার মাধ্যমেও তালাক হয়(৪)।

উত্তর: লিখন এবং ইশারা উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত।

অষ্টম দলীল: তালাক হলো মালিকানা বিলোপ করা, তাই কেবল নিয়তের মাধ্যমে তা অর্জিত হয় না যেমন দাসমুক্তি ও সদকা(৫)।

খণ্ডন: দৃশ্যমান মালিকানা এবং অর্থগত মালিকানার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

নবম দলীল: বিবাহ কথা এবং নিয়তের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তদ্রূপ তালাকের মাধ্যমে তার বিচ্ছেদও সম্পন্ন হয়(৬)।

খণ্ডন: এটি দুই দিক থেকে বিচার্য:

প্রথমত: বিবাহের চুক্তি তালাকের চেয়ে অধিক সুদৃঢ়, তাই বিবাহে যা শর্ত করা হয় তালাকের ক্ষেত্রে তা শর্ত করা হয় না।

দ্বিতীয়ত: মানসিক কথোপকথন নিয়ত থেকে ভিন্ন; সুতরাং এর মাধ্যমে তালাক প্রদান হলো কথা ও নিয়তের দ্বারা বৈবাহিক সুরক্ষা ছিন্ন করা, ফলে এটি কথা ও নিয়তের মাধ্যমে বিবাহ চুক্তির সমতুল্য হলো(৭)।

উত্তর: মনে মনে কথা বলা শরীয়তের দৃষ্টিতে অনর্থক, তাই এর ওপর কোনো হুকুম বা প্রভাব বর্তায় না।

দশম দলীল: বিচারক যদি 'মুউলি' (ঈলাকারী) এবং 'আনীন' (সহবাসে অক্ষম ব্যক্তি) এর ক্ষেত্রে তালাকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তবুও তালাক কার্যকর হবে না যতক্ষণ না তিনি তা উচ্চারণ করেন; স্বামীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ(৮)।

খণ্ডন: বিচারক অন্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কাজ করেন, যা স্বামীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাউনা (১/ ৫৭৪), আল-হাভি (১০/ ১৫০), আল-মুগনি (৭/ ২৬৩), আল-মাসায়েলুল খিলাফিয়্যাহ লিল আকবারী (৪/ ১৯৭)।

(২) দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি (১৩/ ৮৮)।

(৩) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ৬৪)।

(৪) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ৫১)।

(৫) দেখুন: আল-হাভি (১০/ ১৫০), কাশশাফুল কিনা (৫/ ২৪৫)।

(৬) দেখুন: আত-তাওদিহ শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব (৪/ ৯৩), মিনাহুল জলীল (২/ ২৩৮)।

(৭) দেখুন: মিনাহুল জলীল (২/ ২৩৮)।

(৮) দেখুন: আল-মাসায়েলুল খিলাফিয়্যাহ লিল আকবারী (৪/ ১৯৭)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ২৪)
الجواب: كلاهما حدث نفسه بشيء فلا يترتب على ذلك حكم.

الدليل الحادي عشر: حديث النفس صادر من الشيطان فليس من كسب الإنسان وصنعه ويتوهم الشخص أنَّها من نفسه لما كان الشيطان يحدث بها القلب(1).

الرد: ليس الكلام على حديث نفس عابر إنَّما الكلام على إذا أَجْرَى الطلاق في قلبه.

الدليل الثاني عشر: الخواطر التي ترد على النفس لا تدخل تحت الاختيار، فلو ترتبت عليها الأحكام لكان في ذلك أعظم حرج وهو مرفوع عن الأمة(2).

الرد: الكلام ليس على مجرد خاطرة تمر وتذهب في وقتها إنَّما إذا طلق في نفسه.

الترجيح: الذي يترجح لي عدم وقوع طلاق من طلق في نفسه لأنَّه من حديث النفس الذي عفا الله عنه والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) انظر: التاج والإكليل (5/ 379).

(2) انظر: إعلام الموقعين (3/ 117).
উত্তর: তারা উভয়ই মনে মনে কিছু চিন্তা করেছে, তাই এর ওপর কোনো বিধান কার্যকর হবে না।

একাদশ দলিল: মনের কুমন্ত্রণা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, তাই এটি মানুষের নিজের অর্জন বা কাজ নয়। ব্যক্তি একে নিজের চিন্তা বলে ভ্রম করে কারণ শয়তান অন্তরে এসব কুমন্ত্রণা দেয়(১)।

উত্তর: এখানে সাময়িক কোনো মানসিক চিন্তার কথা বলা হচ্ছে না, বরং আলোচনা হচ্ছে সেই বিষয় নিয়ে যখন কেউ নিজের অন্তরে তালাক কার্যকর করে।

দ্বাদশ দলিল: মনের মাঝে যেসব চিন্তা আসে তা মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। সুতরাং যদি সেগুলোর ওপর শারয়ী বিধান কার্যকর হতো, তবে তা চরম কষ্টের কারণ হতো, যা এই উম্মত থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে(২)।

উত্তর: আলোচনা কেবল সাময়িক কোনো খেয়ালের বিষয়ে নয় যা আসে এবং চলে যায়, বরং বিষয়টি হলো যদি কেউ মনে মনে তালাক দেয়।

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত: আমার কাছে যা অগ্রগণ্য মনে হয় তা হলো, যে ব্যক্তি মনে মনে তালাক দেয় তার তালাক পতিত হবে না; কারণ এটি মনের সেই অনিচ্ছাকৃত চিন্তার অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তাজ ওয়াল ইকলিল (৫/ ৩৭৯)।

(২) দেখুন: ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন (৩/ ১১৭)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الخامس العزم على الطلاق

لا تطلق الزوجة بعزم الزوج على طلاقها فمجرد نية الطلاق من غير أن يتلفظ به أو يجري الطلاق في قلبه سواء كان ذلك في نفسه ولم يخبر به أحدًا أو أخبر بذلك العزم كمن أتى لشخص يستشيره في طلاق زوجته أو أخبر زوجته أنَّه عازم على طلاقها.

الدليل الأول: قوله تعالى: {وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ} [الأحزاب: 37].

وجه الاستدلال: عزم زيد بن ثابت رضي الله عنه على طلاق زوجته زينب بنت جحش رضي الله عنها فلم يكن ذلك موجبًا للفرقة أو قادحًا في بقاء النكاح(1).

الدليل الثاني: عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ»(2).

وجه الاستدلال: العزم على الطلاق حديث نفس لا يترتب عليه حكم(3).

الدليل الثالث: عن ابن عمر رضي الله عنهما حينما طلق زوجته وهي حائض فسأل عمر رضي الله عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك؟ فقال: «مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لِيَتركْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ»(4).

وجه الاستدلال: من وجهين:

الأول: لو كان العزم على الطلاق طلاقًا لبين النبي صلى الله عليه وسلم لابن عمر رضي الله عنهما ذلك.

الثاني: من أُلزِم بالرجعة غالبًا عازم على الطلاق ولو كان العزم على الطلاق طلاقًا لما احتاج إلى طلاق بعد الطهر.

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع الفتاوى (32/ 150).

(2) رواه البخاري (5269)، ومسلم (127).

(3) انظر: معالم السنن (3/ 214).

(4) رواه البخاري (5251)، ومسلم (1471).
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তালাক দেওয়ার সংকল্প

স্বামীর তালাক দেওয়ার সংকল্পের কারণে স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয় না। তালাকের নিছক নিয়ত করা, যতক্ষণ না তিনি তা উচ্চারণ করছেন বা অন্তরে তালাক কার্যকর করছেন—চাই তা কেবল মনে মনেই হোক এবং কাউকে না জানানো হোক, অথবা সেই সংকল্প সম্পর্কে কাউকে অবহিত করা হোক—যেমন কেউ এমন ব্যক্তির কাছে এলো যার কাছে সে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ করতে চায় অথবা তার স্ত্রীকে জানালো যে সে তাকে তালাক দেওয়ার সংকল্প করেছে।

প্রথম দলীল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর স্মরণ করুন, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তাকে যখন আপনি বলেছিলেন: ‘তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও’} [আল-আহযাব: ৩৭]।

দলীল প্রদানের ধরণ: যায়েদ বিন সাবিত (রা.) তাঁর স্ত্রী যয়নাব বিনতে জাহাশ (রা.)-কে তালাক দেওয়ার সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু তা বিচ্ছেদের কারণ হয়নি বা বিবাহ বহাল থাকার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করেনি(১)।

দ্বিতীয় দলীল: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কল্পনা বা কুমন্ত্রণা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা কার্যে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে»(২)।

দলীল প্রদানের ধরণ: তালাকের সংকল্প হলো মনের কল্পনা মাত্র, যার ওপর কোনো বিধান কার্যকর হয় না(৩)।

তৃতীয় দলীল: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দিয়েছিলেন, তখন উমর (রা.) এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন: «তাকে নির্দেশ দাও সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়, তারপর সে যেন তাকে নিজের কাছেই রাখে যতক্ষণ না সে পবিত্র হয়, তারপর পুনরায় ঋতুবতী হয়, এরপর আবার পবিত্র হয়। এরপর চাইলে সে তাকে নিজের কাছে রেখে দিতে পারে অথবা সহবাস করার আগেই তালাক দিতে পারে। এটাই হলো সেই ইদ্দত বা সময়কাল, যে অনুযায়ী আল্লাহ স্ত্রীদের তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন»(৪)।

দলীল প্রদানের ধরণ: দুইভাবে:

প্রথমত: যদি তালাকের সংকল্পই তালাক হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনে উমর (রা.)-এর নিকট তা স্পষ্ট করে দিতেন।

দ্বিতীয়ত: যাকে তালাক ফিরিয়ে নেওয়ার (রুজু করার) জন্য বাধ্য করা হয়, সে সাধারণত তালাক দেওয়ার বিষয়ে সংকল্পবদ্ধই থাকে। যদি তালাকের সংকল্পই তালাক হিসেবে গণ্য হতো, তবে পবিত্র হওয়ার পর নতুন করে তালাকের প্রয়োজন হতো না।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া (৩২/১৫০)।

(২) বুখারি (৫২৬৯) ও মুসলিম (১২৭) কর্তৃক বর্ণিত।

(৩) দেখুন: মাআলিমুস সুনান (৩/২১৪)।

(৪) বুখারি (৫২৫১) ও মুসলিম (১৪৭১) কর্তৃক বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ২৬)
الدليل الرابع: قال كعب بن مالك رضي الله عنهما في قصة تخلفه عن غزوة تبوك: «فَطَفِقْتُ أَغْدُو لِكَيْ أَتَجَهَّزَ مَعَهُمْ، فَأَرْجِعُ وَلَمْ أَقْضِ شَيْئًا، فَأَقُولُ فِي نَفْسِي: أَنَا قَادِرٌ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَزَلْ يَتَمَادَى بِي حَتَّى اشْتَدَّ بِالنَّاسِ الجِدُّ، فَأَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالمُسْلِمُونَ مَعَهُ، وَلَمْ أَقْضِ مِنْ جَهَازِي شَيْئًا، فَقُلْتُ أَتَجَهَّزُ بَعْدَهُ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ، ثُمَّ أَلْحَقُهُمْ، فَغَدَوْتُ بَعْدَ أَنْ فَصَلُوا لِأَتَجَهَّزَ، فَرَجَعْتُ وَلَمْ أَقْضِ شَيْئًا، ثُمَّ غَدَوْتُ، ثُمَّ رَجَعْتُ وَلَمْ أَقْضِ شَيْئًا، فَلَمْ يَزَلْ بِي حَتَّى أَسْرَعُوا وَتَفَارَطَ الغَزْوُ، وَهَمَمْتُ أَنْ أَرْتَحِلَ فَأُدْرِكَهُمْ، وَلَيْتَنِي فَعَلْتُ»(1).

وجه الاستدلال: كان كعب بن مالك رضي الله عنه عازمًا على الجهاد في سبيل الله ثم تخلف فكان عاصيًا ثم تاب الله عليه وعلى صاحبيه فلو كانت الأحكام تترتب بالعزم لم يكن كعب رضي الله عنه عاصيًا.

الدليل الخامس: الإجماع فأهل العلم مجمعون على أنَّ من عزم على طلاق زوجته، ثم بدا له عدم الطلاق فلا يلزمه بذلك العزم طلاق(2).

الدليل السادس: قال الخطابي: أجمعوا على أنَّه لو عزم على الظهار لم يلزمه حتى يتلفظ به وهو بمعنى الطلاق(3).

الدليل السابع: لو عزم على فعل ما يجب عليه من حقوق الخالق كالصلاة أو حقوق المخلوقين كالنفقة لا يكون فاعلًا بهذا العزم ولا تبرأ ذمته به.

الدليل الثامن: الطلاق حل عقد النكاح ولا ينحل بمجرد النية كالبيع(4).

الدليل التاسع: الطلاق فسخ، والفسخ لا بد فيه من كلام أو كتابة أو فعل كسائر العقود(5).

الدليل العاشر: الطلاق إزالة ملك فلا يحصل بمجرد النية كالعتق والصدقة(6).

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (4418)، ومسلم (2769).

(2) انظر: مجموع الفتاوى (33/ 113)، والشرح الكبير (2/ 385)، والفروق للقرافي (1/ 52) (3/ 163)، وعمدة القاري (17/ 37)، ومنح الجليل (2/ 238)، وشرح خليل للخرشي (4/ 477).

(3) معالم السنن (3/ 214).

(4) انظر: المعونة (1/ 574)، والحاوي (10/ 150)، والمغني (7/ 263)، والمسائل الخلافية للعكبري (4/ 197).

(5) انظر: الشرح الممتع (13/ 88).

(6) انظر: الحاوي (10/ 150)، وكشاف القناع (5/ 245).
চতুর্থ দলিল: কাব ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার ঘটনা সম্পর্কে বলেন: «আমি তাদের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য খুব ভোরে বের হতে শুরু করলাম, এরপর ফিরে আসতাম কিন্তু কোনো কিছুই সম্পন্ন করতে পারতাম না। তখন আমি মনে মনে বলতাম: আমি তো এটি করতে সক্ষম। এটি আমার সাথে চলতেই থাকল যতক্ষণ না মানুষের মধ্যে চূড়ান্ত ব্যস্ততা শুরু হলো। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথে মুসলিমরা সকালে বেরিয়ে পড়লেন, অথচ আমি আমার প্রস্তুতির কিছুই সম্পন্ন করতে পারিনি। এরপর আমি মনে মনে বললাম, আমি তাঁর চলে যাওয়ার এক বা দুই দিন পর প্রস্তুতি নেব, এরপর তাঁদের সাথে গিয়ে মিলে যাব। তাঁরা বিদায় হওয়ার পর আমি প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সকালে বের হলাম, এরপর ফিরে এলাম কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না। এরপর আবার বের হলাম এবং ফিরে এলাম কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না। আমার এই অবস্থা চলতে থাকল যতক্ষণ না তাঁরা দ্রুত এগিয়ে গেলেন এবং যুদ্ধ অতিক্রান্ত হয়ে গেল। আমি রওয়ানা হয়ে তাঁদের সাথে মিলিত হওয়ার সংকল্প করলাম, আফসোস! যদি আমি তা করতাম!»(১).

দলিল উপস্থাপনের ধরণ: কাব ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর পথে জিহাদ করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন, কিন্তু পরে তিনি পিছিয়ে পড়েন এবং এর ফলে তিনি অবাধ্য হিসেবে গণ্য হন। এরপর আল্লাহ তাঁর এবং তাঁর দুই সঙ্গীর তওবা কবুল করেন। যদি কেবলমাত্র সংকল্পের মাধ্যমেই বিধান কার্যকর হতো, তবে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু পাপে লিপ্ত হতেন না (কারণ তার সংকল্প ছিল ভালো)।

পঞ্চম দলিল: ইজমা বা ঐক্যমত। আলেমগণ এই বিষয়ে একমত যে, যদি কেউ তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সংকল্প করে, এরপর তার কাছে তালাক না দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়, তবে কেবলমাত্র সেই সংকল্পের কারণে তালাক কার্যকর হবে না(২)।

ষষ্ঠ দলিল: খাত্তাবি রহ. বলেন: আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, যদি কেউ যিহার করার সংকল্প করে, তবে মুখে উচ্চারণ না করা পর্যন্ত তা কার্যকর হবে না। আর এটি তালাকের অর্থেই গণ্য(৩)।

সপ্তম দলিল: যদি কেউ স্রষ্টার কোনো হক যেমন সালাত, কিংবা সৃষ্টির কোনো হক যেমন ভরণপোষণ আদায়ের সংকল্প করে, তবে কেবলমাত্র এই সংকল্পের দ্বারা সে ঐ কাজ সম্পাদনকারী হিসেবে গণ্য হবে না এবং তার দায় থেকেও সে মুক্ত হবে না।

অষ্টম দলিল: তালাক হলো বিবাহের চুক্তি ছিন্ন করা, আর কেনা-বেচার মতোই এটি কেবল নিয়ত বা সংকল্পের মাধ্যমে ছিন্ন হয় না(৪)।

নবম দলিল: তালাক হলো একটি চুক্তি রদ বা ফাসখ, আর অন্যান্য সকল চুক্তির মতোই ফাসখের ক্ষেত্রে অবশ্যই কথা, লেখা কিংবা কাজের প্রয়োজন রয়েছে(৫)।

দশম দলিল: তালাক হলো মালিকানা বা কর্তৃত্বের অবসান ঘটানো, সুতরাং গোলাম আজাদ করা এবং সাদাকার মতো এটিও কেবল নিয়তের মাধ্যমে অর্জিত হয় না(৬)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৪৪১৮) এবং মুসলিম (২৭৬৯) বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (৩৩/ ১১৩), আশ-শারহুল কাবীর (২/ ৩৮৫), আল-ফুরুক লিল কারাফি (১/ ৫২) (৩/ ১৬৩), উমদাতুল কারি (১৭/ ৩৭), মিনাহুল জলীল (২/ ২৩৮), শারহু খলীল লিল খারশি (৪/ ৪৭৭)।

(৩) মাআলিমুস সুনান (৩/ ২১৪)।

(৪) দেখুন: আল-মাউনা (১/ ৫৭৪), আল-হাউয়ি (১০/ ১৫০), আল-মুগনি (৭/ ২৬৩), আল-মাসাইলুল খিলাফিয়্যাহ লিল আকবারি (৪/ ১৯৭)।

(৫) দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি (১৩/ ৮৮)।

(৬) দেখুন: আল-হাউয়ি (১০/ ১৫০), কাশশাফুল কিনা (৫/ ২৪৫)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الفصل السادس إذا حرك لسانه بالطلاق ولم يُسْمع نفسه

• إذا تكلم بالطلاق صريحًا أو كناية فلا يخلو من حالين:

الأولى: أن يتكلم بكلام مسموع سواء أسمع نفسه أو أسمع غيره فيقع الطلاق وليس في المسألة خلاف.

الثانية: أن يحرك لسانه بالطلاق بكلام لا يسمعه هو ولا غيره فلأهل العلم في هذه المسألة قولان قول بوقوع الطلاق وقول بعدم الوقوع:

 

•‌‌ القول الأول: يقع الطلاق:

فإذا حرك لسانه بالطلاق وقع الطلاق ولو لم يُسْمِع قال به بعض الأحناف(1)، وهو مذهب الإمام مالك(2)، والشافعي(3)، والحنابلة(4).

وقال به ابن حزم(5)، وابن القيم(6)، واختاره شيخنا الشيخ محمد العثيمين(7).

الدليل الأول: قوله تعالى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ} [القيامة: 16].

وجه الاستدلال: تحريك اللسان بالحروف داخل تحت النهي فتترتب عليه

--------------------------------------------

(1) انظر: تحفة الفقهاء (2/ 193)، وبدائع الصنائع (3/ 154)، والجوهرة النيرة (2/ 193)، والبناية شرح الهداية (5/ 196)، والبحر الرائق (4/ 67)، وحاشية ابن عابدين (4/ 626).

(2) انظر: البيان والتحصيل (2/ 401، 419)، (6/ 270)، والمقدمات (1/ 211)، ومواهب الجليل (5/ 380).

(3) انظر: الأم (5/ 261)، وروضة الطالبين (8/ 45).

(4) انظر: الفروع (5/ 394)، والإنصاف (8/ 498)، وكشاف القناع (5/ 259)، وشرح منتهى الإرادات (3/ 559).

(5) انظر: المحلى (8/ 45)، والإحكام في أصول الأحكام (1/ 46).

(6) انظر: مختصر الصواعق المرسلة (2/ 332)، وإعلام الموقعين (3/ 382)، (4/ 81).

* تنبيه: إلى أي القولين يذهب شيخ الإسلام ابن تيمية في هذه المسألة؟ لم يتبين لي.

انظر: الاختيارات ص: (259)، وإعلام الموقعين (3/ 382)، (4/ 81).

(7) انظر: الشرح الممتع (3/ 21)، (13/ 88).
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: যদি তালাকের ক্ষেত্রে জিহ্বা নাড়াচাড়া করে কিন্তু নিজেকে না শোনায়

• যখন কেউ স্পষ্টভাবে অথবা ইঙ্গিতে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে, তখন বিষয়টি দুই অবস্থার বাইরে নয়:

প্রথম: এমন শব্দে কথা বলা যা শোনা যায়, চাই সে নিজে শুনুক অথবা অন্যকে শোনায়; এমতাবস্থায় তালাক পতিত হবে এবং এই বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।

দ্বিতীয়: তালাকের ক্ষেত্রে এমনভাবে জিহ্বা নাড়াচাড়া করা যা সে নিজে বা অন্য কেউ শুনতে পায় না। এ বিষয়ে আহলে ইলমদের (বিদ্বানদের) দুটি মত রয়েছে; একমতে তালাক পতিত হবে এবং অন্যমতে তালাক পতিত হবে না:

 

• প্রথম মত: তালাক পতিত হবে:

যদি সে তালাকের উদ্দেশ্যে জিহ্বা নাড়াচাড়া করে তবে তালাক পতিত হবে, যদিও সে তা শ্রবণ না করায়। কোনো কোনো হানাফী আলেম এই মত পোষণ করেছেন(১), আর এটি ইমাম মালিক(২), শাফেঈ(৩) এবং হাম্বলীদের(৪) মাযহাব।

ইবনে হাযম(৫) ও ইবনুল কাইয়্যিম(৬) এই মত ব্যক্ত করেছেন এবং আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ বিন উসাইমীন(৭) একে পছন্দ করেছেন।

প্রথম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না} [সূরা আল-কিয়ামাহ: ১৬]।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: হরফ বা অক্ষর উচ্চারণে জিহ্বা নাড়াচাড়া করা এই নিষেধারজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, ফলে এর ওপর (তালাকের হুকুম) বর্তাবে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তুহফাতুল ফুকাহা (২/ ১৯৩), বাদায়িউস সানায়ি (৩/ ১৫৪), আল-জাওহারাতুন নিইয়েরাহ (২/ ১৯৩), আল-বিনায়াহ শারহুল হিদায়াহ (৫/ ১৯৬), আল-বাহরুর রায়েক (৪/ ৬৭), এবং হাশিয়াতু ইবনে আবিদিন (৪/ ৬২৬)।

(২) দেখুন: আল-বায়ান ওয়াত তাহসিল (২/ ৪০১, ৪১৯), (৬/ ২৭০), আল-মুকাদ্দিমাত (১/ ২১১), এবং মাওয়াহিবুল জলীল (৫/ ৩৮০)।

(৩) দেখুন: আল-উম্ম (৫/ ২৬১), এবং রওজাতুত তালিবীন (৮/ ৪৫)।

(৪) দেখুন: আল-ফুরু (৫/ ৩৯৪), আল-ইনসাফ (৮/ ৪৯৮), কাশশাফুল কিনা (৫/ ২৫৯), এবং শারহু মুনতাহাল ইরাদাত (৩/ ৫৫৯)।

(৫) দেখুন: আল-মুহাল্লা (৮/ ৪৫), এবং আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম (১/ ৪৬)।

(৬) দেখুন: মুখতাসারুস সাওয়ায়েকিল মুরসালাহ (২/ ৩৩২), ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন (৩/ ৩৮২), (৪/ ৮১)।

* সতর্কতা: এই মাসআলায় শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কোন মতটি পোষণ করেন? তা আমার নিকট স্পষ্ট হয়নি।

দেখুন: আল-ইখতিয়ারাত পৃষ্ঠা: (২৫৯), এবং ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন (৩/ ৩৮২), (৪/ ৮১)।

(৭) দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি (৩/ ২১), (১৩/ ৮৮)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ২৮)
الأحكام(1).

الرد: من وجوه:

الأول: عن ابن عباس رضي الله عنهما قال كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَالِجُ مِنْ التَّنْزِيلِ شِدَّةً وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما فَأَنَا أُحَرِّكُهُمَا لَكُمْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَرِّكُهُمَا … فَحَرَّكَ شَفَتَيْهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ (16) إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ} فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَمَا قَرَأَهُ(2) فتحريك اللسان في الآية مع الشفتين يكون معه إسماع والله أعلم.

الثاني: عن أبي هريرة رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ كَذَا مَنْ خَلَقَ كَذَا حَتَّى يَقُولَ مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ فَإِذَا بَلَغَهُ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ وَلْيَنْتَهِ»(3).

وجه الاستدلال: أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالانتهاء من الوساوس ولا يترتب عليها حكم.

الرد: تحريك اللسان قدر زائد على حديث النفس المعفو عنه.

الثالث: تحريك اللسان تحت مقدور المكلف لكن هل يترتب عليه حكم هذا محل الخلاف.

الدليل الثاني: تحريك اللسان أقوى في الدلالة على إرادة الطلاق من كتابته مع النية(4).

الرد: تحريك اللسان في حكم النية المجردة، بخلاف كتابة الطلاق لحصول الإفهام ولا يحصل الإفهام بالتحريك(5).

الدليل الثالث: الكلام هو الحروف المنظومة وقد وجدت والسماع ليس شرطًا فيصح من الأصم وهو لا يسمع نفسه(6).

--------------------------------------------

(1) انظر: مختصر الصواعق المرسلة (2/ 332).

(2) رواه البخاري (5)، ومسلم (448).

(3) رواه البخاري (3276)، ومسلم (134).

(4) انظر: روضة الطالبين (8/ 45).

(5) انظر: روضة الطالبين (8/ 46).

(6) انظر: تحفة الفقهاء (2/ 193)، وبدائع الصنائع (3/ 154)، والبناية شرح الهداية (5/ 196).
বিধানসমূহ(১)।

উত্তর: কয়েকটি দিক থেকে:

প্রথমত: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহী নাযিলের সময় অনেক কষ্ট সহ্য করতেন এবং তিনি তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়াতেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, "আমি তোমাদের সামনে আমার ঠোঁট নাড়ছি যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ঠোঁট নাড়াতেন … অতঃপর তিনি তাঁর ঠোঁট নাড়ালেন। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {আপনি ওহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনার জিহ্বা নাড়াবেন না। (১৬) এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই।} এরপর থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে যখন জিবরাঈল আসতেন, তিনি মন দিয়ে শুনতেন। যখন জিবরাঈল চলে যেতেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেভাবে পাঠ করা হয়েছে ঠিক সেভাবেই তা পাঠ করতেন।"(২) সুতরাং আয়াতে ঠোঁট নাড়ানোর সাথে জিহ্বা নাড়ানো হলে তার সাথে শব্দ শোনাও অন্তর্ভুক্ত থাকে, আল্লাহ ভালো জানেন।

দ্বিতীয়ত: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শয়তান তোমাদের কারোর কাছে আসে এবং বলে, 'একে কে সৃষ্টি করেছে? ওকে কে সৃষ্টি করেছে?' এমনকি শেষ পর্যন্ত বলে, 'তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে?' যখন সে এই পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং এ থেকে বিরত থাকে।"(৩)

দলীল প্রদানের দিক: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর ওপর কোনো বিধান কার্যকর হয় না।

উত্তর: জিহ্বা নাড়ানো হলো মনের কথার (হাদিসে নাফস) চেয়ে অতিরিক্ত বিষয়, যা ক্ষমাযোগ্য বিষয়ের ঊর্ধ্বে।

তৃতীয়ত: জিহ্বা নাড়ানো মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) ক্ষমতার অধীন, কিন্তু এর ফলে কোনো বিধান কার্যকর হবে কি না, তা মতভেদের বিষয়।

দ্বিতীয় দলীল: তালাকের নিয়তের সাথে তা লিখে জানানোর চেয়ে জিহ্বা নাড়ানো তালাক প্রদানের ইচ্ছার ওপর অধিক শক্তিশালী প্রমাণ।(৪)

উত্তর: জিহ্বা নাড়ানো কেবল নিয়তের পর্যায়ে পড়ে; অন্যদিকে তালাক লেখা ভিন্ন বিষয়, কারণ তাতে বক্তব্য স্পষ্ট হয়, যা কেবল জিহ্বা নাড়ানোর দ্বারা অর্জিত হয় না।(৫)

তৃতীয় দলীল: কথা হলো সুবিন্যস্ত বর্ণমালার সমষ্টি এবং তা এখানে বিদ্যমান। আর শোনা শর্ত নয়, তাই বধির ব্যক্তির ক্ষেত্রেও তা শুদ্ধ হবে যদিও সে নিজের কথা নিজে শুনতে পায় না।(৬)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুখতাসার আস-সাওয়ায়িক আল-মুরসালাহ (২/ ৩৩২)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৫) এবং মুসলিম (৪৪৮)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৩২৭৬) এবং মুসলিম (১৩৪)।

(৪) দেখুন: রওদাতুত তালিবিন (৮/ ৪৫)।

(৫) দেখুন: রওদাতুত তালিবিন (৮/ ৪৬)।

(৬) দেখুন: তুহফাতুল ফুকাহা (২/ ১৯৩), বাদায়েউস সানায়ে (৩/ ১৫৪) এবং আল-বিনায়াহ শারহুল হিদায়াহ (৫/ ১৯৬)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ২৯)
الرد: الحروف المنظومة لا تتحقق بدون الأصوات المتقطعة بتقطيع خاص فإذا لم يوجد الصوت لم توجد الحروف فلم يوجد الكلام والكلام في حق الأصم وجد لكنَّه لم يسمعه لعلة(1).

الدليل الرابع: حركة اللسان تميز الحروف بعضها من بعض وإن لم يكن هناك صوت(2).

الرد: تقدم.

 

•‌‌ القول الثاني: لا يقع الطلاق:

فإذا حرك لسانه بالطلاق من غير إسماع لم يقع الطلاق قال به بعض الأحناف(3)، وهو قول للشافعي(4)، واستظهره النووي(5)، ومال إليه من الحنابلة محمد بن مفلح(6).

الدليل الأول: قوله تعالى: {وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلَاقَ فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [البقرة: 227].

وجه الاستدلال: دلت الآية أنَّ الطلاق لابد أن يكون مسموعًا، وذلك بوجود صوت الطلاق إذ غير الصوت لا يحتمل السماع(7).

الرد من وجهين:

الأول: العزم يكون في القلب وقوله تعالى: {فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} إذا طلق الزوج ويصح الطلاق بغير الكلام كالكتابة والإشارة فلا دليل على أنَّ الطلاق لا بد فيه من إسماع.

--------------------------------------------

(1) انظر: بدائع الصنائع (3/ 155).

(2) انظر: مختصر الصواعق المرسلة (2/ 332).

(3) انظر: بدائع الصنائع (3/ 155، 176)، والجوهرة النيرة (2/ 193)، والبحر الرائق (4/ 67)، وحاشية ابن عابدين (4/ 626).

(4) انظر: روضة الطالبين (8/ 45)، وتحفة المحتاج (3/ 345)، ومغني المحتاج (3/ 341)، ونهاية المحتاج (6/ 425)، وشرح الخطيب مع تحفة الحبيب (4/ 274).

(5) انظر: روضة الطالبين (8/ 46).

(6) انظر: الفروع (5/ 394).

(7) انظر: بدائع الصنائع (3/ 176).
উত্তর: সুবিন্যস্ত অক্ষরসমূহ বিশেষ প্রকারের বিচ্ছিন্ন শব্দ ছাড়া বাস্তবায়িত হয় না। সুতরাং যদি শব্দ না থাকে তবে অক্ষরও থাকে না, ফলে কথাও থাকে না। আর বধিরের ক্ষেত্রে কথা পাওয়া গেছে, কিন্তু সে কোনো ত্রুটির কারণে তা শুনতে পায়নি(১).

চতুর্থ দলিল: জিহ্বার নড়াচড়া অক্ষরগুলোকে একে অপরের থেকে পৃথক করে দেয়, যদিও সেখানে কোনো শব্দ না থাকে(২).

উত্তর: পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

 

•‌‌ দ্বিতীয় মত: তালাক পতিত হবে না:

সুতরাং যদি কেউ নিজেকে না শুনিয়ে তালাকের শব্দে জিহ্বা নাড়ায়, তবে তালাক পতিত হবে না। কিছু হানাফি আলেম এই মত পোষণ করেছেন(৩), এটি ইমাম শাফেয়ীর একটি বক্তব্য(৪), ইমাম নববী একে প্রধান হিসেবে গণ্য করেছেন(৫) এবং হাম্বলিদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে মুফলিহ এর দিকে ঝুঁকেছেন(৬).

প্রথম দলিল: আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যদি তারা তালাকের সংকল্প করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} [আল-বাকারাহ: ২২৭]।

দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি: আয়াতটি প্রমাণ করে যে তালাক অবশ্যই শ্রবণযোগ্য হতে হবে, আর তা হলো তালাকের শব্দের উপস্থিতির মাধ্যমে; কারণ শব্দ ছাড়া অন্য কিছু শ্রবণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না(৭).

উত্তর দুইভাবে:

প্রথমত: সংকল্প হৃদয়ে থাকে। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} যখন স্বামী তালাক দেয় (তখন প্রযোজ্য হয়)। আর কথা ছাড়াই তালাক সহিহ হয়, যেমন লেখা বা ইশারার মাধ্যমে; সুতরাং তালাক হওয়ার জন্য নিজেকে শোনানো আবশ্যক হওয়ার কোনো দলিল নেই।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে (৩/ ১৫৫)।

(২) দেখুন: মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুরসালাহ (২/ ৩৩২)।

(৩) দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে (৩/ ১৫৫, ১৭৬), আল-জাওহারাতুন নাইয়িরাহ (২/ ১৯৩), আল-বাহরুর রায়িক (৪/ ৬৭) এবং হাশিয়া ইবনে আবিদিন (৪/ ৬২৬)।

(৪) দেখুন: রওদাতুত তালিবিন (৮/ ৪৫), তুহফাতুল মুহতাজ (৩/ ৩৪৫), মুগনীল মুহতাজ (৩/ ৩৪১), নিহায়াতুল মুহতাজ (৬/ ৪২৫) এবং তুহফাতুল হাবিব-এর সাথে শারহুল খাতিব (৪/ ২৭৪)।

(৫) দেখুন: রওদাতুত তালিবিন (৮/ ৪৬)।

(৬) দেখুন: আল-ফুরু (৫/ ৩৯৪)।

(৭) দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে (৩/ ১৭৬)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ৩০)
الثاني: إذا مضت مدة الإيلاء هل يقع الطلاق أم لا؟ محل خلاف فعلى هذا لا دليل في الآية أصلًا أو لا بد من الطلاق(1).

الدليل الثاني: الطلاق لفظ ولم يوجد(2).

الرد: يقع الطلاق بغير اللفظ كالكتابة والإشارة.

الجواب: الكتابة والإشارة تقومان مقام اللفظ.

الدليل الثالث: تحريك اللسان ليس كلامًا ولهذا يشترط في قراءة الصلاة أن يسمع نفسه(3).

الرد: هل تحريك اللسان لا يسمى كلامًا؟ هذه من مسائل الخلاف(4) وهل يشترط الإسماع في قراءة الفاتحة والتكبير والأذكار أيضًا هذه من مسائل الخلاف(5).

الدليل الرابع: إثبات الطلاق بالشهادة فلابد من صوت يسمعه الشاهد(6).

الرد: الشهادة في الطلاق مستحبة على الصحيح ويحتاج لها حال جحد الطلاق.

الترجيح: المالكية والأحناف - في أحد القولين طردوا مذهبهم فاعتبروا حركة اللسان من غير إسماع في الصلاة والطلاق بخلاف الشافعية والحنابلة والأحناف في أحد القولين أوجبوا الإسماع في الصلاة وأوقعوا الطلاق بحركة اللسان من غير إسماع فالذي يظهر لي طرد الأمر في المسألتين. فمذهب المالكية أقعد فيقع الطلاق إذا حرك لسانه ولو لم يُسْمِع والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) انظر: (ص: 493).

(2) انظر: الشرح الممتع (13/ 88).

(3) انظر: روضة الطالبين (8/ 45)، ومغني المحتاج (3/ 341)، وشرح الخطيب مع تحفة الحبيب (4/ 274).

(4) انظر: مختصر الصواعق المرسلة (2/ 332).

(5) هل يجب أن يسمع نفسه في قراءة الفاتحة؟

القول الأول: يجب إسماع نفسه قول للأحناف ومذهب الشافعية والحنابلة.

القول الثاني: تكفي حركة اللسان قول للأحناف ومذهب المالكية.

انظر: الجوهرة النيرة (1/ 151)، والشرح الصغير مع بلغة السالك (1/ 206)، والمجموع (3/ 394)، وكشاف القناع (1/ 332).

(6) انظر: البحر المحيط في أصول الفقه (2/ 303).
দ্বিতীয়ত: যখন ইলার সময়সীমা অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন তালাক কার্যকর হবে কি হবে না? এটি একটি মতপার্থক্যের বিষয়। অতএব, এই আয়াতের মধ্যে এ বিষয়ে মূলত কোনো দলিল নেই অথবা তালাক হওয়া আবশ্যক(১).

দ্বিতীয় দলিল: তালাক হলো একটি শব্দ বা উচ্চারণ, আর এখানে তা পাওয়া যায়নি(২).

খণ্ডন: শব্দ বা উচ্চারণ ছাড়াও তালাক কার্যকর হয়, যেমন লিখন এবং ইশারা।

উত্তর: লিখন এবং ইশারা উচ্চারণের স্থলাভিষিক্ত হয়।

তৃতীয় দলিল: জিহ্বা নাড়ানোই কথা বলা নয়, এই কারণেই সালাতে কিরাত পড়ার সময় নিজেকে শোনানো শর্ত করা হয়েছে(৩).

খণ্ডন: জিহ্বা নাড়ানোকে কি কথা বলা বলা হবে না? এটি মতভেদপূর্ণ মাসয়ালাসমূহের অন্তর্ভুক্ত(৪) এবং সূরা ফাতিহা পাঠ, তাকবীর এবং জিকিরের ক্ষেত্রেও কি নিজেকে শোনানো শর্ত? এটিও মতভেদপূর্ণ মাসয়ালাসমূহের অন্তর্ভুক্ত(৫)।

চতুর্থ দলিল: সাক্ষ্যের মাধ্যমে তালাক সাব্যস্ত করা; তাই এমন শব্দের প্রয়োজন যা সাক্ষী শুনতে পায়(৬).

খণ্ডন: বিশুদ্ধ মতানুসারে তালাকের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য রাখা মুস্তাহাব এবং তালাক অস্বীকার করার অবস্থায় এর প্রয়োজন পড়ে।

প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (তারজীহ): মালিকিগণ এবং হানাফিগণ—তাদের দুটি মতের একটি অনুযায়ী—স্বীয় মাযহাবের মূলনীতি অনুসরণ করেছেন; তারা সালাত এবং তালাকের ক্ষেত্রে নিজেকে না শুনিয়ে কেবল জিহ্বা নাড়ানোকেই ধর্তব্য গণ্য করেছেন। পক্ষান্তরে শাফিঈ, হাম্বলি এবং হানাফিদের অপর একটি মত অনুযায়ী তারা সালাতে নিজেকে শোনানো ওয়াজিব করেছেন এবং নিজেকে না শুনিয়ে কেবল জিহ্বা নাড়ানোর মাধ্যমে তালাক কার্যকর করেছেন। আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো উভয় মাসয়ালায় একই মূলনীতি অনুসরণ করা। তাই মালিকি মাযহাব অধিকতর শক্তিশালী; অতএব জিহ্বা নাড়ালে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে, যদিও সে নিজেকে না শোনায়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ৪৯৩)।

(২) দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি (১৩/ ৮৮)।

(৩) দেখুন: রাওজাতুত তালিবিন (৮/ ৪৫), মুগনিল মুহতাজ (৩/ ৩৪১), এবং তুহফাতুল হাবিব-এর সাথে শারহুল খাতিব (৪/ ২৭৪)।

(৪) দেখুন: মুখতাসারুস সাওয়ায়িকিল মুরসালাহ (২/ ৩৩২)।

(৫) সূরা ফাতিহা পাঠের সময় কি নিজেকে শোনানো ওয়াজিব?

প্রথম মত: নিজেকে শোনানো ওয়াজিব; এটি হানাফিদের একটি বক্তব্য এবং শাফিঈ ও হাম্বলিদের মাযহাব।

দ্বিতীয় মত: জিহ্বা নাড়ানোই যথেষ্ট; এটি হানাফিদের একটি বক্তব্য এবং মালিকি মাযহাব।

দেখুন: আল-জাওহারাতুন নাইয়্যিরাহ (১/ ১৫১), বুলগাতুস সালিক-এর সাথে আশ-শারহুস সাগির (১/ ২০৬), আল-মাজমু (৩/ ৩৯৪) এবং কাশশাফুল কিনা (১/ ৩৩২)।

(৬) দেখুন: আল-বাহরুল মুহিত ফি উসুলিল ফিকহ (২/ ৩০৩)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الفصل السابع الوعد بالطلاق

إذا وعد الرجل امرأته بالطلاق كقوله: إن حصل كذا سأطلقك أو قالت له طلقني فقال إذا طهرت طلقتك فهذا لا يقع به طلاق قال به الزهري(1) وهو مذهب الأحناف(2) والمالكية(3) والشافعية(4) والحنابلة(5) واختاره شيخ الإسلام ابن تيمية(6) وابن القيم(7) والشيخ عبد العزيز بن باز(8) وشيخنا الشيخ محمد العثيمين(9) ولم أقف على خلاف في هذه المسألة.

الدليل الأول: قوله تعالى {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا} [الأحزاب: 28].

--------------------------------------------

(1) رواه عبد الرزاق (11304) عن معمر، وابن أبي شيبة (5/ 50) حدثنا عبد الأعلى، عن معمر عن الزهري في رجل قال لامرأته: إن خرجت لأطلقنَّك، وله امرأتان فسمعت بذلك امرأته الأخرى، فاستعارت ثياب التي وعدت الطلاق فلبستها، ثم خرجت، فرآها فطلقها وحسبها التي نهاها عن الخروج، فقال: «تطلق التي نوى» وإسناده صحيح.

عبد الأعلى هو ابن عبد الأعلى السامي.

(2) انظر: المبسوط (6/ 216)، والمحيط البرهاني (3/، 211، 472)، ومجمع الأنهر (3/ 385).

(3) انظر: الشرح الكبير وحاشية الدسوقي (2/ 359)، ومواهب الجليل (5/ 324، 352)، وشرح خليل للخرشي وحاشية العدوي (4/ 429)، ومنح الجليل (2/ 199).

(4) انظر: أسنى المطالب (1/ 576)، وروضة الطالبين (8/ 180)، والفتاوى الفقهية الكبرى (4/ 70)، وحاشية الرشيدي على نهاية المحتاج (7/ 19)، وحاشية الشرواني على تحفة المحتاج (8/ 103).

(5) انظر: شرح الزركشي (2/ 467)، وأخصر المختصرات ص: (260)، والفروع (6/ 415)، وكشاف القناع (6/ 284).

(6) انظر: مجموع الفتاوى (33/ 111).

(7) انظر: إغاثة اللهفان من مصايد الشيطان (2/ 92).

(8) انظر: مجموع فتاوى ابن باز (22/ 37).

(9) انظر: الشرح الممتع (13/ 61، 68).
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তালাকের প্রতিশ্রুতি

যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাকের প্রতিশ্রুতি দেয়, যেমন তার এই কথা: "যদি এমনটি ঘটে তবে আমি তোমাকে তালাক দেব" অথবা স্ত্রী তাকে বলল, "আমাকে তালাক দাও", তখন সে বলল, "তুমি যখন পবিত্র হবে তখন তোমাকে তালাক দেব", তবে এর মাধ্যমে তালাক পতিত হবে না। ইমাম যুহরী এটি বলেছেন এবং এটিই হানাফী, মালিকী, শাফি'য়ী ও হাম্বলী মাযহাব। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল কাইয়্যিম, শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায এবং আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন এটিই চয়ন করেছেন। আর এই মাসআলায় আমি কোনো দ্বিমত খুঁজে পাইনি।

প্রথম দলীল: মহান আল্লাহর বাণী {হে নবী, আপনার স্ত্রীদের বলুন: তোমরা যদি দুনিয়ার জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা কর, তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগের সামগ্রী দান করি এবং তোমাদেরকে সৌজন্যের সাথে বিদায় দেই} [সূরা আল-আহযাব: ২৮]।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক (১১৩০৪) মা'মার থেকে, এবং ইবনে আবি শাইবাহ (৫/ ৫০) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল আ'লা থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে তার স্ত্রীকে বলেছিল: 'যদি তুমি বের হও তবে আমি অবশ্যই তোমাকে তালাক দেব'। তার দুজন স্ত্রী ছিল। তার অন্য স্ত্রী বিষয়টি শুনতে পেয়ে যে স্ত্রীকে তালাকের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার কাপড় ধার করে পরিধান করল। এরপর সে বের হলো এবং স্বামী তাকে দেখে (অন্য স্ত্রী মনে করে) তালাক দিল এবং তাকেই সেই নারী মনে করল যাকে সে বের হতে নিষেধ করেছিল। অতঃপর তিনি (যুহরী) বললেন: "যাকে সে নিয়ত করেছিল সেই তালাকপ্রাপ্তা হবে।" এর সনদ সহীহ।

আব্দুল আ'লা হলেন ইবনে আব্দুল আ'লা আস-সামী।

(২) দেখুন: আল-মাবসূত (৬/ ২১৬), আল-মুহিত আল-বুরহানী (৩/ ২১১, ৪৭২), মাজমাউল আনহুর (৩/ ৩৮৫)।

(৩) দেখুন: আশ-শারহুল কাবীর ও হাশিয়াতুদ দাউসূকী (২/ ৩৫৯), মাওয়াহিবুল জালীল (৫/ ৩২৪, ৩৫২), আল-খারশী রচিত শারহু খালীল ও হাশিয়াতুল আদাবী (৪/ ৪২৯), মিনাহুল জালীল (২/ ১৯৯)।

(৪) দেখুন: আসনা আল-মাতালিব (১/ ৫৭৬), রওজাতুত তালিবীন (৮/ ১৮০), আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা (৪/ ৭০), নিহায়াতুল মুহتاج-এর ওপর হাশিয়াতুর রাশিদী (৭/ ১৯), তুহফাতুল মুহتاج-এর ওপর হাশিয়াতুশ শারওয়ানী (৮/ ১০৩)।

(৫) দেখুন: শারহুয যারকাশী (২/ ৪৬৭), আখসারুল মুখতাসারাত পৃষ্ঠা: (২৬০), আল-ফুরু (৬/ ৪১৫), কাশশাফুল কিনা (৬/ ২৮৪)।

(৬) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (৩৩/ ১১১)।

(৭) দেখুন: ইগাছাতুল লাহফান মিন মাসায়িদুশ শাইতান (২/ ৯২)।

(৮) দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বায (২২/ ৩৭)।

(৯) দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি (১৩/ ৬১, ৬৮)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ৩২)
وجه الاستدلال: خير النبي صلى الله عليه وسلم نساءه بين البقاء معه أو الطلاق وهذا وعد بالطلاق ولم يقع به طلاق.

الدليل الثاني: عن أبي هريرة رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «يَقُولُ اللَّهُ: إِذَا أَرَادَ عَبْدِي أَنْ يَعْمَلَ سَيِّئَةً، فَلَا تَكْتُبُوهَا عَلَيْهِ حَتَّى يَعْمَلَهَا، فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا بِمِثْلِهَا، وَإِنْ تَرَكَهَا مِنْ أَجْلِي فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْمَلَ حَسَنَةً فَلَمْ يَعْمَلْهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً، فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ»(1).

وجه الاستدلال: لا يؤاخذ الله الناس بالإرادة المجردة ما لم يأتوا بالقول أو العمل ومن وعد بالطلاق لم يصدر منه طلاق.

الدليل الثالث: عن عبد الرحمن بن سمرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ وَائْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ»(2).

وجه الاستدلال: كل من حلف على يمين ويدخل في ذلك من حلف على تطليق زوجته فيستحب له الحنث والتكفير ولا يقع الطلاق بمجرد الحلف ومن باب أولى إذا كان وعدًا من غير حلف.

الدليل الرابع: عن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف قال: «كَانَ فِي تماضر رضي الله عنها سوء خلق وكانت على تطليقين. فَلَمَّا مَرِضَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ رضي الله عنه جَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا شَيْءٌ فَقَالَ لَهَا: وَاللَّهِ لَئِنْ سَأَلْتِنِي الطَّلاقَ لأُطَلِّقَنَّكِ. فَقَالَتْ: وَاللَّهِ لأَسْأَلَنَّكَ. فَقَالَ: إِمَّا لا فَأَعْلِمِينِي إِذَا حِضْتِ وَطَهُرْتِ. قَالَ: فَلَمَّا حَاضَتْ وَطَهُرَتْ أَرْسَلَتْ إِلَيْهِ تُعْلِمُهُ.

قَالَ: فَمَرَّ رَسُولُهَا بِبَعْضِ أَهْلِهِ فَظَنَّ أَنَّهُ لِذَلِكَ فَدَعَاهُ فَقَالَ: أَيْنَ تَذْهَبُ؟ قَالَ: أَرْسَلَتْنِي تُمَاضِرُ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ رضي الله عنه أُعْلِمُهُ أَنَّهَا قَدْ حَاضَتْ ثُمَّ طَهُرَتْ. قَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهَا فَقُلْ لَهَا لا تَفْعَلِي فو الله مَا كَانَ لِيَرُدَّ قَسَمَهُ. فَرَجَعْتُ إِلَيْهَا فَقَالَتْ لَهَا فَقَالَتْ: أَنَا وَاللَّهِ لا أَرُدُّ قَسَمِي أَبَدًا. اذْهَبِي إِلَيْهِ فَأَعْلِمِيهِ. قَالَ: فَذَهَبْتُ إِلَيْهِ فَأَعْلَمْتُهُ فَطَلَّقَهَا»(3).

وجه الاستدلال: وعد عبد الرحمن بن عوف زوجته رضي الله عنهما بالطلاق إذا طهرت فلم يقع الطلاق بمجرد الوعد.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (7501)، ومسلم (128).

(2) رواه البخاري (6722)، ومسلم (1652).

(3) انظر: الطلاق السني والطلاق البدعي (ص: 529).
দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদেরকে তাঁর সাথে থাকা অথবা তালাক গ্রহণ করার মধ্যে ইখতিয়ার বা সুযোগ দিয়েছিলেন। এটি ছিল তালাকের একটি প্রতিশ্রুতি মাত্র, কিন্তু এর মাধ্যমে কোনো তালাক কার্যকর হয়নি।

দ্বিতীয় দলীল: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ তাআলা বলেন: যখন আমার বান্দা কোনো মন্দ কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন তোমরা তা তার আমলনামায় লিখো না যতক্ষণ না সে তা করে। যদি সে তা করে ফেলে, তবে তার জন্য সমপরিমাণ পাপ লিখো। আর যদি সে আমার খাতিরে তা বর্জন করে, তবে তার জন্য একটি নেকি লিখে দাও। আর যখন সে কোনো নেক কাজ করার ইচ্ছা করে কিন্তু তা করতে পারেনি, তবুও তার জন্য একটি নেকি লিখো। আর যদি সে তা করে ফেলে, তবে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত নেকি লিখে দাও»(১)।

দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি: আল্লাহ তাআলা মানুষকে কেবল মনের সংকল্পের জন্য পাকড়াও করেন না, যতক্ষণ না তারা তা কথা বা কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করে। আর যে ব্যক্তি তালাকের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার থেকে তালাক সংঘটিত হয়নি।

তৃতীয় দলীল: আবদুর রহমান ইবনে সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন তুমি কোনো বিষয়ে শপথ করো এবং তার বিপরীতে অন্য কোনো কাজকে উত্তম মনে করো, তবে তোমার শপথের কাফফারা আদায় করো এবং সেই উত্তম কাজটি করো»(২)।

দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি: যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে শপথ করে—যার অন্তর্ভুক্ত স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয়ে শপথ করাও—তার জন্য মুস্তাহাব বা উত্তম হলো শপথ ভঙ্গ করা ও কাফফারা দেওয়া। কেবল শপথের মাধ্যমে তালাক পতিত হয় না। আর শপথহীন প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে তালাক না হওয়া তো আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।

চতুর্থ দলীল: ইবরাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «তুমাযির রাদিয়াল্লাহু আনহার মেজাজ কিছুটা রুক্ষ ছিল এবং তিনি ইতিপূর্বেই দুই তালাকপ্রাপ্তা ছিলেন। যখন আবদুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু অসুস্থ হলেন, তখন তাঁর ও স্ত্রীর মধ্যে কোনো একটি বিষয়ে মনোমালিন্য হলো। তখন তিনি তাঁকে বললেন: আল্লাহর কসম! তুমি যদি আমার কাছে তালাক প্রার্থনা করো, তবে আমি তোমাকে অবশ্যই তালাক দিয়ে দেব। স্ত্রী বললেন: আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই আপনার কাছে তালাক প্রার্থনা করব। তখন তিনি বললেন: তাহলে তুমি মাসিক থেকে পবিত্র হওয়ার পর আমাকে জানিও। বর্ণনাকারী বলেন: যখন তিনি ঋতুমতী হয়ে পবিত্র হলেন, তখন তাঁকে জানানোর জন্য সংবাদবাহক পাঠালেন।

বর্ণনাকারী বলেন: সেই দূত পরিবারের এক সদস্যের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে ডেকে বললেন: তুমি কোথায় যাচ্ছ? দূত বলল: তুমাযির আমাকে আবদুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে পাঠিয়েছেন তাঁকে এ সংবাদ দিতে যে, তিনি পবিত্র হয়েছেন। তিনি বললেন: তুমি তুমাযিরের কাছে ফিরে যাও এবং বলো যে তিনি যেন এমনটি না করেন। কারণ আল্লাহর কসম! আবদুর রহমান তাঁর শপথ ভঙ্গ করবেন না। দূত ফিরে গিয়ে তুমাযিরকে এ কথা বললে তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমিও কখনো আমার শপথ থেকে ফিরব না। তুমি তাঁর কাছে যাও এবং তাঁকে সংবাদ দাও। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি তাঁর কাছে গিয়ে সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাঁকে তালাক দেন»(৩)।

দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি: আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর স্ত্রীকে পবিত্র হওয়ার পর তালাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে কেবল প্রতিশ্রুতির কারণে তালাক কার্যকর হয়নি।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৭৫০১), এবং মুসলিম (১২৮)।

(২) বুখারি (৬৭২২), এবং মুসলিম (১৬৫২)।

(৩) দেখুন: আত-তালাকুস সুন্নি ওয়াত-তালাকুল বিদয়ি (পৃ: ৫২৯)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الدليل الخامس: إجماع الصحابة رضي الله عنهم لفعل عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه ولا يعرف له مخالف.

الدليل السادس: القاعدة الشرعية يشرع الوفاء بالوعد إذا كان خيرًا وعدم الوفاء به إذا كان شرًا ومن ذلك الوعد بالطلاق من غير حاجة.
পঞ্চম দলিল: আব্দুর রহমান বিন আউফের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্মের প্রেক্ষিতে সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইজমা, যার কোনো বিরোধিতাকারী জানা নেই।

ষষ্ঠ দলিল: শরয়ী মূলনীতি হলো—প্রতিশ্রুতি যদি কল্যাণকর হয় তবে তা পূরণ করা বিধিবদ্ধ এবং যদি তা অকল্যাণকর হয় তবে তা পূরণ না করা; আর প্রয়োজন ব্যতীত তালাক প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌الفصل الثامن اعتقاد الطلاق

من اعتقد وقوع طلاقه لا يخلو من حالين:

الأولى: أن لا يتلفظ بالطلاق.

الثانية: أن يتلفظ بالطلاق بناءً على هذا الاعتقاد.

 

• إذا كان مجرد اعتقاد:

‌‌إذا كان مجرد اعتقاد الطلاق فلا يلزم به طلاق إجماعًا فمن اعتقد أنَّه طلق امرأته، كمن أفتاه من هو ليس أهلًا للفتوى بوقوع طلاقه ثم تبين له خطأ المفتي لا يضره اعتقاده وتبقى زوجته اتفاقًا(1).

ومن القواعد الفقهية لا عبرة بالظن البين خطؤه(2) فاعتقاد الطلاق لا يقع به طلاق لأنَّه ظن تبين خطؤه.

 

•‌‌ من طلق معتقدًا وقوع الطلاق:

من طلق امرأته معتقدًا أنَّه وقع عليها طلاقه كمن قال لزوجته إن كلمت فلانًا فأنت طالق فقيل له كلمتْه أو افتاه مفتٍ بوقوع الطلاق ونحو ذلك فقال مخبرًا طلقت زوجتي أو أقر بالطلاق أو كتبه ثم تبين عدم وقوع الطلاق فهل يقع الطلاق؟.

لأهل العلم في هذه المسألة قولان قول بوقوع الطلاق وقول بعدم وقوعه.

 

•‌‌ القول الأول: يقع الطلاق:

والظاهر لي أنَّه مذهب المالكية(3)

--------------------------------------------

(1) انظر: الفروق للقرافي (1/ 52)، (3/ 163، 198)، ومنح الجليل (2/ 238)، وحاشية الدسوقي (2/ 385).

(2) انظر: المنثور (2/ 93)، والأشباه والنظائر للسيوطي ص: (15)، والأشباه والنظائر لابن نجيم ص: (161)، وبيان المختصر شرح مختصر ابن الحاجب (1/ 364).

(3) قال الإمام مالك في المدونة (2/ 400): يؤخذ الناس في الطلاق بلفظهم، ولا تنفعهم نياتهم في ذلك.

وعندهم إذا طلق وشك هل واحدة أو ثلاثًا يحمل على الثلاث. فإذا تيقن أنَّه تلفظ بالطلاق وقع طلاقه والله أعلم.

انظر: المعونة (1/ 576)، والذخيرة (2/ 124)، وتهذيب الفروق (1/ 174).
‌‌অষ্টম পরিচ্ছেদ: তালাক হয়ে যাওয়ার বিশ্বাস

যে ব্যক্তি তার তালাক হয়ে যাওয়ার বিশ্বাস পোষণ করে, সে দুটি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়:

প্রথমত: তালাকের শব্দ উচ্চারণ না করা।

দ্বিতীয়ত: এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করা।

 

• যদি তা কেবল বিশ্বাস হয়:

‌‌যদি তা কেবল তালাকের বিশ্বাস হয় তবে সর্বসম্মতিক্রমে (ইজমা অনুযায়ী) এর দ্বারা কোনো তালাক কার্যকর হওয়া আবশ্যক হয় না। সুতরাং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে সে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিয়েছে—যেমন এমন কেউ তাকে ফতোয়া দিল যে ফতোয়া দেওয়ার যোগ্য নয় যে তার তালাক হয়ে গেছে, অতঃপর তার কাছে মুফতির ভুল স্পষ্ট হলো—তবে তার এই বিশ্বাস কোনো ক্ষতি করবে না এবং সর্বসম্মতিক্রমে তার স্ত্রী বিবাহ বন্ধনেই বহাল থাকবে(১)।

ফিকহী মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: 'যে ধারণা বা বিশ্বাসের ভুল স্পষ্ট হয়ে যায়, তার কোনো ধর্তব্য নেই'(২)। সুতরাং তালাকের বিশ্বাসের কারণে তালাক কার্যকর হবে না, কারণ এটি এমন এক ধারণা যার ভুল স্পষ্ট হয়ে গেছে।

 

•‌‌ তালাক হয়ে গেছে মনে করে যে ব্যক্তি তালাক দেয়:

যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দেয় এই বিশ্বাসে যে তার ওপর তালাক পতিত হয়ে গেছে—যেমন কেউ তার স্ত্রীকে বলল, "যদি তুমি অমুকের সাথে কথা বলো তবে তোমার তালাক", অতঃপর তাকে বলা হলো যে সে কথা বলেছে, অথবা কোনো মুফতি তাকে তালাক হয়ে যাওয়ার ফতোয়া দিল বা এই জাতীয় কিছু, এরপর সে সংবাদ দিয়ে বলল "আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি" অথবা তালাকের স্বীকৃতি দিল কিংবা তা লিখে দিল, অতঃপর দেখা গেল যে আসলে তালাক কার্যকর হয়নি, তবে কি এখন তালাক কার্যকর হবে?

এ বিষয়ে আলেমগণের দুটি মত রয়েছে। একটি মত হলো তালাক কার্যকর হওয়া এবং অন্যটি হলো তালাক কার্যকর না হওয়া।

 

•‌‌ প্রথম মত: তালাক কার্যকর হবে:

আমার কাছে যা স্পষ্ট হয় তা হলো এটি মালিকী মাযহাবের মত(৩)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কারাফি রচিত আল-ফুরুক (১/ ৫২), (৩/ ১৬৩, ১৯৮), মানহুল জলিল (২/ ২৩৮) এবং হাশিয়াতুদ দিসুকি (২/ ৩৮৫)।

(২) দেখুন: আল-মানসুর (২/ ৯৩), আস-সুয়ুতি রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাজা’ইর পৃষ্ঠা: (১৫), ইবনে নুজাইম রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাজা’ইর পৃষ্ঠা: (১৬১) এবং বায়ানুল মুখতাসার শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব (১/ ৩৬৪)।

(৩) ইমাম মালিক আল-মুদাওয়ানা (২/ ৪০০)-তে বলেছেন: তালাকের ক্ষেত্রে মানুষের উচ্চারিত শব্দের ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা করা হবে এবং এ বিষয়ে তাদের অন্তরের নিয়ত কোনো উপকারে আসবে না।

আর তাদের নিকট যদি কেউ তালাক দেয় এবং সন্দেহ করে যে তা এক তালাক নাকি তিন তালাক, তবে সেটাকে তিন তালাক হিসেবেই গণ্য করা হবে। অতএব, যদি সে নিশ্চিত হয় যে সে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করেছে, তবে তার তালাক কার্যকর হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

দেখুন: আল-মাউনা (১/ ৫৭৬), আজ-জাখিরা (২/ ১২৪) এবং তাহজিবুল ফুরুক (১/ ১৭৪)।
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقال به بعض الشافعية(1) ورواية عند الحنابلة(2).

الدليل الأول: لأنَّها زوجته باطنًا وقد خاطبها بالطلاق فيقع(3).

الرد: ليس كل من خاطب زوجته بالطلاق وقع طلاقه فلا يقع طلاق المدهوش ولا الصبي ولا يقع طلاق المخطئ على الصحيح(4).

الدليل الثاني: لو قال لزوجته يعتقد أنَّها أجنبية أنت طالق وقع عليها الطلاق؛ لأنَّه استعمل اللفظ لمعناه ولا عبرة بظنه فكذا إذا طلقها معتقدًا وقوع الطلاق(5).

الرد: هذه من مسائل الخلاف.

الدليل الثالث: تطلق تغليبًا لجانب التحريم(6).

الرد: إذا حرمناها على زوجها وأبحناها لغيره والواقع خلاف ذلك وقعنا في محظورين بخلاف إذا لم نوقع الطلاق فلو كان الأمر بخلاف ذلك فلا نقع إلا في محظور واحد والله أعلم.

وتأتي بقية الأدلة في طلاق المخطئ(7) وطلاق الناسي والجاهل(8).

 

•‌‌ القول الثاني: لا يقع طلاقه ديانة ويقع في القضاء:

وهو مذهب الأحناف(9)، والشافعية(10)، ورواية عند الحنابلة(11) واختاره

--------------------------------------------

(1) انظر: الفتاوى الفقهية الكبرى (4/ 118).

(2) انظر: الإنصاف (8/ 425).

(3) انظر: الفتاوى الفقهية الكبرى (4/ 118).

(4) انظر: (ص: 171، 104، 776).

(5) انظر: الفتاوى الفقهية الكبرى (4/ 118).

(6) انظر: المعونة (1/ 576).

(7) انظر: (ص: 776).

(8) انظر: (ص: 802).

(9) انظر: البحر الرائق (3/ 451)، وغمز عيون البصائر (1/ 461)، والعقود الدرية في تنقيح الفتاوى الحامدية (2/ 53)، وحاشية ابن عابدين (4/ 449).

(10) انظر: الفتاوى الفقهية الكبرى (4/ 118)، وتحفة المحتاج (3/ 356)، وفتح المعين مع إعانة الطالبين (4/ 25)، وفتاوى الخليلي (2/ 91).

(11) انظر: الإنصاف (8/ 425 - 427)، والفروع (5/ 392)، وكشاف القناع (5/ 247)، وشرح =
এবং কিছু শাফেয়ি ফকীহগণ এই মত ব্যক্ত করেছেন(১) এবং এটি হাম্বলিদের একটি বর্ণনা(২)।

প্রথম দলীল: কারণ সে বাস্তবে তার স্ত্রী এবং সে তাকে তালাকের মাধ্যমে সম্বোধন করেছে, সুতরাং তা কার্যকর হবে(৩)।

উত্তর: যে ব্যক্তিই তার স্ত্রীকে তালাকের মাধ্যমে সম্বোধন করে তার তালাক কার্যকর হয় না। সুতরাং কিংকর্তব্যবিমূঢ় ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয় না, শিশুর তালাক কার্যকর হয় না এবং বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী ভুলকারীর তালাকও কার্যকর হয় না(৪)।

দ্বিতীয় দলীল: যদি সে তার স্ত্রীকে পরনারী মনে করে বলে "তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে তার উপর তালাক আপতিত হবে; কারণ সে শব্দটিকে তার অর্থের জন্যই ব্যবহার করেছে এবং তার ধারণার কোনো গুরুত্ব নেই। অনুরূপভাবে যদি সে তালাক কার্যকর হওয়ার বিশ্বাস নিয়ে তাকে তালাক দেয় (তবে তা কার্যকর হবে)(৫)।

উত্তর: এটি মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয় দলীল: হারাম হওয়ার দিকটিকে প্রাধান্য দিয়ে তালাক কার্যকর হবে(৬)।

উত্তর: যদি আমরা তাকে তার স্বামীর জন্য হারাম করি এবং অন্যের জন্য বৈধ করি অথচ বাস্তবতা এর বিপরীত হয়, তবে আমরা দুটি নিষিদ্ধ বিষয়ে পতিত হব। পক্ষান্তরে যদি আমরা তালাক কার্যকর না করি এবং বিষয়টি যদি এর বিপরীত হয়, তবে আমরা কেবল একটি নিষিদ্ধ বিষয়ে পতিত হব। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

ভুলকারীর তালাক এবং বিস্মৃত ও অজ্ঞ ব্যক্তির তালাকের আলোচনায় অবশিষ্ট দলীলসমূহ আসবে(৭) (৮)।

 

•‌‌ দ্বিতীয় মত: ধর্মীয়ভাবে তার তালাক কার্যকর হবে না, তবে বিচারিক ক্ষেত্রে কার্যকর হবে:

এটি হানাফিদের মাযহাব(৯), শাফেয়িদের মাযহাব(১০) এবং হাম্বলিদের একটি বর্ণনা(১১) এবং এটি পছন্দ করেছেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১১৮)।

(২) দেখুন: আল-ইনসাফ (৮/৪২৫)।

(৩) দেখুন: আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১১৮)।

(৪) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ১৭১, ১০৪, ৭৭৬)।

(৫) দেখুন: আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১১৮)।

(৬) দেখুন: আল-মাউনা (১/৫৭৬)।

(৭) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ৭৭৬)।

(৮) দেখুন: (পৃষ্ঠা: ৮০২)।

(৯) দেখুন: আল-বাহরুর রায়েক (৩/৪৫১), গামযু উয়ুনিল বাসার (১/৪৬১), আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ ফি তানকিহিল ফাতাওয়া আল-হামিদিয়্যাহ (২/৫৩), এবং হাশিয়া ইবনে আবিদিন (৪/৪৪৯)।

(১০) দেখুন: আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১১৮), তুহফাতুল মুহনাজ (৩/৩৫৬), ফাতহুল মুঈন মাআ ইয়ানাতুত তালিবিন (৪/২৫), এবং ফাতাওয়া আল-খালিলা (২/৯১)।

(১১) দেখুন: আল-ইনসাফ (৮/৪২৫ - ৪২৭), আল-ফুরু (৫/৩৯২), কাশশাফুল কিনা (৫/২৪৭), এবং ব্যাখ্যা =
(খণ্ড: ১) শুরূতুত্ব ত্বলাক - আয-ঝুমান (পৃষ্ঠা: ৩৬)
شيخ الإسلام ابن تيمية(1) وابن القيم(2).

الدليل الأول: أنشد كعب بن زهير رضي الله عنه أمام النبي صلى الله عليه وسلم قصيدته التي مطلعها:

بَانَتْ سُعَادُ فَقَلْبِي الْيَوْمَ مَتْبُولُ … مُتَيَّمٌ إِثْرَهَا لَمْ يُفْدَ مَكْبُولُ(3)

--------------------------------------------

= منتهى الإرادات (3/ 551)، ومعونة أولى النهى (9/ 369).

(1) انظر: مجموع الفتاوى (33/ 113).

(2) انظر: إعلام الموقعين (4/ 83).

(3) الحديث جاء موصولًا ومرسلًا:

أولًا الموصول: رواه ابن دَيْزِيل إبراهيم بن الحسين الهمداني في جزئه (15)، ورواه الحاكم (3/ 579) بإسناده عنه ورواه ابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني (2706) نا يحيى بن عمر المعروف بجريج يرويانه عن إبراهيم بن المنذر الحِزَمي، ثنا حجاج ابن ذي الرقيبة بن عبد الرحمن بن كعب بن زهير بن أبي سلمى، عن أبيه، عن جده رضي الله عنه. إسناده ضعيف.

حجاج بن ذي الرقيبة وأبوه وجده مجاهيل.

قال الحاكم (3/ 583) هذا حديث له أسانيد قد جمعها إبراهيم بن المنذر الحِزَمي فأمَّا حديث محمد بن فليح، عن موسى بن عقبة وحديث الحجاج بن ذي الرقيبة فإنَّهما صحيحان. وقال الحافظ ابن حجر في نتائج الأفكار (1/ 306): حديث غريب تفرد به إبراهيم بن المنذر.

* تنبيه: وقع خطأ مطبعي في سند الحاكم والتصحيح من سنن البيهقي (10/ 243).

ثانيًا المرسل: رواه:

1: ابن دَيْزِيل في جزئه (17) حدثنا إبراهيم بن المنذر حدثني محمد بن فليح عن موسى بن عقبة. مرسل أو معضل رواته ثقات.

ورواه الحاكم (3/ 582) حدثنا القاضي [عبد الرحمن بن الحسن] ثنا إبراهيم بن الحسين به. وصححه.

* تنبيه: جاء في الأغاني (17/ 93) قال الحزامي قال علي ابن المديني لم أسمع قط في خبر كعب بن زهير رضي الله عنه حديثًا قط أتم ولا أحسن من هذا [يعني رواية موسى بن عقبة] ولا أبالي ألا أسمع من خبره غير هذا.

2: الحاكم (3/ 578) حدثني أبو بكر محمد بن أحمد بن بالويه، ثنا إبراهيم بن إسحاق الحربي، ثنا مصعب بن عبد الله الزبيري. رواته ثقات لكنَّه معضل.

مصعب بن عبد الله الزبيري من كبار أتباع التابعين.

3: ابن إسحاق في السيرة (4/ 204) عن عاصم بن عمر بن قتادة. مرسل إسناده حسن.

عاصم بن عمر بن قتادة من صغار التابعين. =
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ(১) এবং ইবনুল কাইয়্যিম(২)।

প্রথম দলিল: কাব বিন জুহাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে তাঁর সেই কাসিদা (কবিতা) পাঠ করেছিলেন যার সূচনাটি ছিল নিম্নরূপ:

সুয়াদ পৃথক হয়ে গেছে, তাই আজ আমার হৃদয় রুগ্ন... তার বিরহে সে দিওয়ানা, যাকে মুক্ত করা হয়নি বরং সে শৃঙ্খলিত।(৩)

--------------------------------------------

= মুনতাহাল ইরাদাত (৩/ ৫৫১), এবং মাউনাতু উলিন নুহা (৯/ ৩৬৯)।

(১) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (৩৩/ ১১৩)।

(২) দেখুন: ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন (৪/ ৮৩)।

(৩) হাদিসটি সংযুক্ত (মাউসুল) এবং বিচ্ছিন্ন (মুরসাল) উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে:

প্রথমত সংযুক্ত (মাউসুল): এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে দাইযিল ইবরাহিম বিন আল-হুসাইন আল-হামদানি তাঁর 'জুয' (১৫)-এ, এবং হাকিম (৩/ ৫৭৯) তাঁর সনদে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আবি আসিম 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানি' (২৭০৬)-তে বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন উমর যিনি জুরাইজ নামে পরিচিত, তাঁরা উভয়ে এটি ইবরাহিম বিন আল-মুনযির আল-হিযামি থেকে বর্ণনা করেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাজ্জাজ ইবনে যির রুকাইবা বিন আবদুর রহমান বিন কাব বিন জুহাইর বিন আবি সুলমা, তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। এর সনদ দুর্বল।

হাজ্জাজ ইবনে যির রুকাইবা এবং তাঁর পিতা ও দাদা অজ্ঞাত (মাজহুল)।

হাকিম (৩/ ৫৮৩) বলেছেন, এই হাদিসের এমন কিছু সনদ রয়েছে যা ইবরাহিম বিন আল-মুনযির আল-হিযামি একত্র করেছেন। তবে মুসা বিন উকবা থেকে মুহাম্মদ বিন ফুলাইহ-এর হাদিস এবং হাজ্জাজ ইবনে যির রুকাইবার হাদিস উভয়টিই সহিহ। হাফেজ ইবনে হাজার 'নাতাইযুল আফকার' (১/ ৩০৬)-এ বলেছেন: এটি একটি বিরল (গারিব) হাদিস যা কেবল ইবরাহিম বিন আল-মুনযির এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

* সতর্কতা: হাকিমের সনদে একটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি ঘটেছে এবং এর সঠিক রূপটি 'সুনানুল বাইহাকি' (১০/ ২৪৩) থেকে নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত বিচ্ছিন্ন (মুরসাল): এটি বর্ণনা করেছেন:

১: ইবনে দাইযিল তাঁর 'জুয' (১৭)-এ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবরাহিম বিন আল-মুনযির, তিনি বলেন আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ফুলাইহ, তিনি মুসা বিন উকবা থেকে। এটি মুরসাল বা মুদাল, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

এবং হাকিম (৩/ ৫৮২) বর্ণনা করেছেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাজি [আবদুর রহমান বিন আল-হাসান], আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবরাহিম বিন আল-হুসাইন উক্ত সনদে। এবং তিনি একে সহিহ বলেছেন।

* সতর্কতা: 'আল-আগানি' (১৭/ ৯৩)-তে এসেছে, আল-হিযামি বলেন, আলি ইবনুল মাদিনি বলেছেন: আমি কাব বিন জুহাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংবাদ সম্পর্কে এর [অর্থাৎ মুসা বিন উকবার বর্ণনা] চেয়ে পূর্ণাঙ্গ বা সুন্দর কোনো হাদিস কখনো শুনিনি এবং এটি শোনার পর তাঁর সংবাদ সম্পর্কে অন্য কিছু না শুনলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই।

২: হাকিম (৩/ ৫৭৮) বর্ণনা করেছেন, আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন বালুওয়াইহি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবরাহিম বিন ইসহাক আল-হারবি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসআব বিন আব্দুল্লাহ আজ-যুবাইরি। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য তবে এটি মুদাল।

মুসআব বিন আব্দুল্লাহ আজ-যুবাইরি বড় স্তরের তাবে-তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত।

৩: ইবনে ইসহাক 'আস-সিরাহ' (৪/ ২০৪)-তে আসিম বিন উমর বিন কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি মুরসাল এবং এর সনদ হাসান।

আসিম বিন উমর বিন কাতাদাহ ছোট স্তরের তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত। =