0/0
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: -)
قواعد ابن رجب - ط ركائز   (ابن رجب الحنبلي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: تقرير القواعد وتحرير الفوائد [المشهور بـ «قواعد ابن رجب»]

المؤلف: أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن رجب البغدادي الحنبلي (ت 795 هـ)

ومعه حاشية نفيسة: لتلميذه محب الدين أحمد بن نصر الله البغدادي (ت 844 هـ)، وغيرها من حواشي علماء المذهب

المحقق: أ. د. خالد بن علي المشيقح، د. عبد العزيز بن عدنان العيدان، د. أنس بن عادل اليتامى

الناشر: ركائز للنشر والتوزيع - الكويت، توزيع دار أطلس - الرياض

الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م

عدد الأجزاء: 3

أهداه للشاملة: ركائز للنشر والتوزيع؛ جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 جُمادَى الأولى 1443

ইবনে রাজাবের কাওয়ায়িদ - রাকায়েজ সংস্করণ   (ইবনে রাজাব আল-হাম্বলী)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: তাকরিরুল কাওয়ায়িদ ওয়া তাহরিরুল ফাওয়ায়িদ [যা «কাওয়ায়িদে ইবনে রাজাব» নামে প্রসিদ্ধ]

লেখক: আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রাজাব আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৭৯৫ হিজরি)

সাথে রয়েছে একটি মূল্যবান টীকা: তাঁর ছাত্র মুহিব্বুদ্দীন আহমদ বিন নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদীর (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরি), এবং মাযহাবের অন্যান্য আলেমগণের টীকাসমূহ

তাহকীককারী: প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ, ড. আবদুল আজিজ বিন আদনান আল-আইদান, ড. আনাস বিন আদিল আল-ইয়াতামা

প্রকাশক: রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - কুয়েত, পরিবেশনায় দার আতলাস - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩

শামিলা লাইব্রেরিকে উপহার দিয়েছেন: রাকায়েজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন; আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুমাদাল উলা ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد ألا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد؛

فإن معرفة القواعد الفقهية والمسائل المنتظمة تحتها من أهم ما ينبغي على طالب علم الفقه تقليب نظره فيه، وذلك أن «القواعد تضبط للفقيه أصول المذهب، وتطلعه من مآخذ الفقه على نهاية المطلب، وتنظم عقده المنثور في سلك، وتستخرج له ما يدخل تحت ملك»(1).

وإن من أعظم ما كُتب في هذا العلم في سائر المذاهب الفقهية؛ كتاب الحافظ الإمام الفقيه الزاهد شيخ الحنابلة وعلامة المحدثين؛ زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي، في كتابه المشهور: «تقرير القواعد وتحرير الفوائد»، فقد أجاد فيه وأفاد، حتى قيل إنه من عجائب الدهر.

--------------------------------------------

(1) المنثور في القواعد (1/ 66)، نقلًا عن قطب الدين السنباطي رحمه الله.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর অগণিত দরুদ ও প্রচুর সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর;

ফিকহি মূলনীতিসমূহ এবং এর অধীনে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত মাসআলাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ফিকহ শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার প্রতি তার নিবিষ্ট দৃষ্টি নিবদ্ধ করা উচিত। কারণ, «মূলনীতিসমূহ ফকিহর জন্য মাযহাবের উসুল বা মূল ভিত্তিগুলোকে সুসংহত করে, তাকে ফিকহের উৎসসমূহ থেকে ফিকহ শাস্ত্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত করে, তার বিক্ষিপ্ত মুক্তাগুলোকে একটি সুতোয় গেঁথে দেয় এবং তার আয়ত্তে থাকা বিষয়গুলো থেকে প্রয়োজনীয় নির্যাস বের করে আনে»(1)।

আর সকল ফিকহি মাযহাবের মধ্যে এই শাস্ত্রের ওপর রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো হাফেজ, ইমাম, ফকিহ, জাহেদ, হাম্বলিগণের শায়খ এবং মুহাদ্দিসগণের অনন্য পণ্ডিত যয়নুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে রজব আল-হাম্বলির প্রসিদ্ধ কিতাব: «তাকরীরুল কাওয়ায়েদ ওয়া তাহরীরুল ফাওয়ায়েদ»। তিনি এতে অত্যন্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন এবং ব্যাপক জ্ঞান দান করেছেন, এমনকি বলা হয়েছে যে এটি সমকালের এক বিস্ময়।

--------------------------------------------

(1) আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়েদ (১/ ৬৬), কুতুবুদ্দীন আস-সিনবাতি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বরাতে।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد تفضَّل الله الكريم علينا بنسخ خطيَّة لهذا الكتاب تُعد من أنفس النسخ، نسختان منها مقروءتان على الحافظ ابن رجب رحمه الله وعليها خطه، ونسخ أخرى بخطوط تلاميذه وعلماء مذهبه.

وقد تزيَّن الكتاب بحواشٍ وتعليقات كثيرة في نسخه الخطية، منها ما هو بخط الحافظ ابن رجب، ومنها ما هو بخط تلاميذه؛ كعلاء الدين ابن اللحام، ومحب الدين ابن نصر الله البغدادي، ومنها ما هو بخط علماء المذهب بعدهم؛ مثل تلميذ ابن نصر الله البغدادي؛ عبد الله ابن هشام الأنصاري الحنبلي، وأحمد بن عبد العزيز الفتوحي، وإبراهيم ابن ضويان، وغيرهم، فانكشف بتعليقاتهم كثيرٌ مما أُغلق من القواعد، واتضح بعض ما أَشكل من كلام الحافظ ابن رجب، ومنها ما هو استدراك عليه، أو اعتراض، أو توضيح وبيان، أو غير ذلك.

فلما رأينا أن الكتاب بحاجة إلى إعادة إخراج وتحقيق، وأن جُلَّ هذه الحواشي - خاصة حاشية ابن نصر الله - لم تخرج من قبل، وأن الكتاب بحاجة إلى أن يكون بين يدي القارئ بهيئة مرضية، وقراءة صحيحة؛ عزمنا جهدنا على العمل بتحقيقه وخدمته، فما كان فيه من صواب فمن الله وحده، وما كان من اجتهاد خاطئ فمنَّا ومن الشيطان، ونرجو من الله العفو والغفران، ومن القارئ النصح والبيان.

 

والحمد لله رب العالمين

المحققون
এবং দয়াময় আল্লাহ আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এই কিতাবটির এমন কিছু পাণ্ডুলিপি প্রদানের মাধ্যমে যা অত্যন্ত মূল্যবান পাণ্ডুলিপি হিসেবে পরিগণিত হয়; এর মধ্যে দুটি পাণ্ডুলিপি হাফেজ ইবনে রাজাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর নিকট পঠিত এবং সেগুলোর ওপর তাঁর নিজ দস্তখত বিদ্যমান, আর অন্য পাণ্ডুলিপিগুলো তাঁর ছাত্র ও তাঁর মাযহাবের আলেমদের হস্তাক্ষরে লিখিত।

কিতাবটির পাণ্ডুলিপিগুলো প্রচুর টীকা ও মন্তব্য দ্বারা সুশোভিত হয়েছে, যার কিছু হাফেজ ইবনে রাজাবের হস্তাক্ষরে, আর কিছু তাঁর ছাত্রদের হস্তাক্ষরে; যেমন আলাউদ্দিন ইবনুল লাহহাম এবং মুহিব্বুদ্দিন ইবনে নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদি। আবার কিছু রয়েছে পরবর্তী যুগের মাযহাবের আলেমদের হস্তাক্ষরে; যেমন ইবনে নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদির ছাত্র আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম আল-আনসারি আল-হাম্বলি, আহমদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-ফুতুহি, ইবরাহিম ইবনে দুওয়াইয়ান এবং আরও অনেকে। তাঁদের এই মন্তব্যগুলোর মাধ্যমে অনেক জটিল মূলনীতি উন্মোচিত হয়েছে এবং হাফেজ ইবনে রাজাবের বক্তব্যের অস্পষ্ট দিকগুলো স্পষ্ট হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে তাঁর ওপর সম্পূরক সংযোজনী, বা আপত্তি, অথবা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ, কিংবা অন্য কিছু।

যখন আমরা দেখলাম যে কিতাবটি পুনরায় প্রকাশ ও গবেষণার (তাহকিক) প্রয়োজন, এবং এই টীকাগুলোর অধিকাংশ—বিশেষ করে ইবনে নাসরুল্লাহর টীকা—এর আগে প্রকাশিত হয়নি, আর কিতাবটি পাঠকের সামনে একটি সন্তোষজনক রূপ ও সঠিক পাঠে উপস্থাপন করা প্রয়োজন; তখন আমরা এর তাহকিক ও খিদমতের জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার সংকল্প করি। এর মধ্যে যা কিছু সঠিক তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল ইজতিহাদ তা আমাদের নিজেদের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করি এবং পাঠকের কাছে সদুপদেশ ও সংশোধনী প্রত্যাশা করি।

 

আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য

গবেষকবৃন্দ
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة المؤلف (1)

-‌‌ اسمُه ونسبُه:

هو عبد الرحمن بن أحمد بن رجب - واسمه عبد الرحمن - بن الحسين بن محمد بن مسعود، زين الدين، أبو الفرج، البغدادي ثم الدمشقي.

اشتهر رحمه الله بـ: ابن رجب، و (رجب) هو لقب جدِّه عبد الرحمن.

--------------------------------------------

(1) مصادر الترجمة:

الرد الوافر، تأليف: ابن ناصر الدين الدمشقي الشافعي، مطبوع عن المكتب الإسلامي - بيروت، (ص 106).

الدرر الكامنة، تأليف: الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، مطبوع عن مجلس دائرة المعارف العثمانية - حيدر آباد/ الهند، (3/ 108).

إنباء الغمر بأبناء العمر، تأليف: الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، مطبوع عن المجلس الأعلى للشئون الإسلامية - لجنة إحياء التراث الإسلامي، مصر، (1/ 460).

المقصد الأرشد في ذكر أصحاب الإمام أحمد، تأليف: برهان الدين إبراهيم ابن مفلح، مطبوع عن مكتبة الرشد - الرياض، (2/ 81).

شذرات الذهب، تأليف: ابن العماد الحنبلي، مطبوع عن دار ابن كثير، دمشق - بيروت، (8/ 578).

لحظ الألحاظ بذيل طبقات الحفاظ، تأليف: ابن فهد الهاشمي المكي الشافعي، مطبوع عن دار الكتب العلمية، (ص 118).

الجوهر المنضد في طبقات متأخري أصحاب أحمد، تأليف: يوسف بن حسن ابن عبد الهادي الصالحي، ابن المِبْرَد الحنبلي، مطبوع عن مكتبة العبيكان، الرياض، (ص 46).

الشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية، تأليف: مرعي بن يوسف الكرمي الحنبلي، مطبوع عن دار الفرقان - بيروت، (ص 49).

مختصر طبقات الحنابلة، تأليف: الشيخ محمد جميل البغدادي المعروف بابن شطي، مطبوع عن دار الكتاب العربي في بيروت، (ص 71).

 

السحب الوابلة على ضرائح الحنابلة، تأليف: محمد بن عبد الله بن حميد النجدي ثم المكي، مطبوع عن مؤسسة الرسالة، (2/ 902)، ترجمة رقم: (296).

تسهيل الوابلة لمريد معرفة الحنابلة، تأليف: صالح بن عبد العزيز العثيمين، مطبوع عن مؤسسة الرسالة، (3/ 1567)، ترجمة رقم: (2643).

هدية العارفين، تأليف: إسماعيل بن محمد أمين بن مير، مطبوع عن دار إحياء التراث العربي بيروت - لبنان، (1/ 527).

معجم المؤلفين، تأليف: عمر بن رضا كحالة، مطبوع عن مكتبة المثنى في بيروت، (5/ 118).

‌লেখকের জীবনী (১)

-‌‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব - এবং তাঁর (দাদার) নাম হলো আব্দুর রহমান - ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মাসউদ, যয়নুদ্দীন, আবু আল-ফারাজ, আল-বাগদাদি অতঃপর আদ-দিমাশকি।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ‘ইবনে রজব’ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন, আর ‘রজব’ হলো তাঁর দাদা আব্দুর রহমানের উপাধি।

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎসসমূহ:

আর-রাদ্দুল ওয়াফির, লেখক: ইবনে নাসিরুদ্দীন আদ-দিমাশকি আশ-শাফেয়ি, আল-মাকতাবুল ইসলামি - বৈরুত থেকে প্রকাশিত, (পৃষ্ঠা ১০৬)।

আদ-দুরারুল কামিনাহ, লেখক: আল-হাফিয আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি, মজলিসে দায়িরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া - হায়দারাবাদ/ ভারত থেকে প্রকাশিত, (৩/ ১০৮)।

ইনবাউল গুমর বি-আবনাইল উমর, লেখক: আল-হাফিয আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি, আল-মাজলিসুল আ’লা লিশ-শুউনিল ইসলামিয়া - লেজনাতু ইহয়াইত তুরাসিল ইসলামি, মিশর থেকে প্রকাশিত, (১/ ৪৬০)।

আল-মাকসাদুল আরশাদ ফি যিকরি আসহাবি আল-ইমাম আহমদ, লেখক: বুরহানুদ্দীন ইব্রাহিম ইবনে মুফলিহ, মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ থেকে প্রকাশিত, (২/ ৮১)।

শাযারাতুয যাহাব, লেখক: ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি, দারু ইবনে কাসীর, দামেস্ক - বৈরুত থেকে প্রকাশিত, (৮/ ৫৭৮)।

লাহযুল আলহায বি-যায়লি তবকাতিল হুফফায, লেখক: ইবনে ফাহাদ আল-হাশেমি আল-মাক্কি আশ-শাফেয়ি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত, (পৃষ্ঠা ১১৮)।

আল-জাওহারুল মুনাদ্দাদ ফি তবকাতিল মুতাআখখিরি আসহাবি আহমদ, লেখক: ইউসুফ ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল হাদি আস-সালিহি, ইবনুল মিবরাদ আল-হাম্বলি, মাকতাবাতুল উবাইকান, রিয়াদ থেকে প্রকাশিত, (পৃষ্ঠা ৪৬)।

আশ-শাহাদাতুয জাকিয়্যাহ ফি সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনে তাইমিয়্যাহ, লেখক: মারঈ ইবনে ইউসুফ আল-কারমি আল-হাম্বলি, দারুল ফুরকান - বৈরুত থেকে প্রকাশিত, (পৃষ্ঠা ৪৯)।

মুখতাসার তবকাতিল হানাবিলাহ, লেখক: শায়খ মুহাম্মাদ জামিল আল-বাগদাদি যিনি ইবনে শাত্তি নামে পরিচিত, দারুল কিতাবিল আরাবি - বৈরুত থেকে প্রকাশিত, (পৃষ্ঠা ৭১)।

 

আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ আলা দরইহিল হানাবিলাহ, লেখক: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হুমাইদ আন-নাজদি অতঃপর আল-মাক্কি, মুআসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত, (২/ ৯০২), জীবনী নম্বর: (২৯৬)।

তাসহিলুল ওয়াবিলাহ লি-মুরিডি মা’রিফাতিল হানাবিলাহ, লেখক: সালিহ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-উসাইমিন, মুআসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত, (৩/ ১৫৬৭), জীবনী নম্বর: (২৬৪৩)।

হাদিয়্যাতুল আরিফিন, লেখক: ইসমাইল ইবনে মুহাম্মাদ আমিন ইবনে মীর, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত - লেবানন থেকে প্রকাশিত, (১/ ৫২৭)।

মুজামুল মুআল্লিফিন, লেখক: উমর ইবনে রিদা কাহহালাহ, মাকতাবাতুর মুসান্না - বৈরুত থেকে প্রকাশিত, (৫/ ১১৮)।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ৮)
-‌‌ مولدُه، ونشأتُه، ورحلاتُه، وعلمُه:

ولد ابن رجب في بغداد سنة 736 هـ، ونشأ في أسرة علمية ذات دين وخُلق وسمتٍ صالح، فقد كان أبوه وجده من العلماء المحدثين، وكان لأبيه عناية بالعلم، وقد اجتهد في تعليم أولاده - بما فيهم الحافظ ابن رجب - وهم صغار والرحلة بهم للقاء المحدثين والمسندين.

وقد طلب الحافظ ابن رجب العلم في سن مبكرة، قبل البلوغ، وسمع الحديث قبل سن الخامسة، وأجازه العلماء والمحدثون وهو
তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, সফরসমূহ এবং তাঁর ইলম:

ইবনে রজব ৭৩৬ হিজরিতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বীনদারি, সচ্চরিত্র ও নেক স্বভাবের এক ইলমি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা ও দাদা উভয়েই বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ছিলেন। ইলমের প্রতি তাঁর পিতার বিশেষ যত্ন ছিল। তিনি তাঁর সন্তানদের—যাদের মধ্যে হাফেজ ইবনে রজবও ছিলেন—শৈশবেই শিক্ষা দিতে এবং মুহাদ্দিস ও মুসনিদদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে তাঁদের নিয়ে সফরে যেতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

হাফেজ ইবনে রজব খুব অল্প বয়সে, সাবালগ হওয়ার পূর্বেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই হাদিস শ্রবণ করেন। আলিম ও মুহাদ্দিসগণ তাঁকে ইজাজত প্রদান করেছেন যখন তিনি...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ৯)
صغير، وارتحل به والده إلى دمشق وهو صغير أيضًا وسمع فيها من كبار المحدثين آنذاك؛ كابن النقيب، والسبكي، والنووي، وغيرهم.

ثم رجع مع والده إلى بغداد وسمع من شيوخها وعلمائها، ولازمهم وقرأ عليهم.

ثم حج مع والده والتقى في الحج بجماعة من الشيوخ، ثم رجع إلى دمشق ولازم ابن قيم الجوزية سنة كاملة حتى مات سنة (751 هـ).

وارتحل إلى مصر، والتقى بشيوخها وعلمائها، وحج مرة أخرى والتقى بالعلماء أيضًا.

قال ابن حجر: (ورافق شيخنا زين الدين العراقي في السماع كثيراً).

ثم استقر في دمشق عاصمة العلم آنذاك، ودرَّس وصنَّف، وولي حلقة شيخه ابن قاضي الجبل، وهي حلقة الثلاثاء، ودرَّس بالمدرسة الحنبلية، وتخرَّج عليه العلماء والفضلاء، رحمه الله رحمة واسعة.

قال ابن مفلح: (وكان لا يعرف شيئًا من أمور الناس، ولا يتردد إلى أحد من ذوي الولايات، وكان يسكن المدرسة السكرية بالقصاعين).

وكان ابن رجب رحمه الله له اطلاع واسع في مذهبه - مذهب الإمام أحمد -، وكتابه هذا من أدل ما يكون على ذلك الاطلاع، قال ابن قاضي شهبة لما ذكر مصنفاته: (والقواعد التي له تدل على معرفته بالمذهب)، وقد اعتمده المرداوي في الإنصاف من ضمن الكتب التي
শৈশবেই তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে দামেস্কে গমন করেন এবং তিনিও তখন অল্পবয়স্ক ছিলেন। সেখানে তিনি তৎকালীন বড় বড় মুহাদ্দিসদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন; যেমন ইবনুন নাকীব, সুবকী, নববী এবং আরও অনেকের থেকে।

অতঃপর তিনি তাঁর পিতার সাথে বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখানকার শাইখ ও উলামাদের থেকে ইলম অর্জন করেন, তাঁদের সান্নিধ্যে থাকেন এবং তাঁদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।

এরপর তিনি তাঁর পিতার সাথে হজ পালন করেন এবং হজের সফরে একদল শাইখের সাথে সাক্ষাৎ করেন। অতঃপর তিনি দামেস্কে ফিরে আসেন এবং ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর সান্নিধ্যে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত করেন, এমনকি তিনি (ইবনুল কাইয়্যিম) ৭৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি মিশরেও সফর করেন এবং সেখানকার শাইখ ও উলামাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি পুনরায় হজ করেন এবং সেখানেও আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

ইবনে হাজার বলেন: (তিনি আমাদের শাইখ যায়নুদ্দীন আল-ইরাকির সাথে হাদিস শ্রবণে অনেক সময় অতিবাহিত করেছেন)।

অতঃপর তিনি তৎকালীন ইলমের রাজধানী দামেস্কে স্থায়ী হন এবং সেখানে অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি তাঁর শাইখ ইবনে কাদী আল-জাবালের হালকার (শিক্ষাচক্র) দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা ছিল মঙ্গলবারি হালকা। তিনি মাদ্রাসা হানবালিয়্যাহতে পাঠদান করতেন। তাঁর নিকট থেকে অনেক আলেম ও বিদগ্ধ ব্যক্তি শিক্ষা সম্পন্ন করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।

ইবনে মুফলিহ বলেন: (তিনি মানুষের পার্থিব বিষয়াদি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং পদস্থ বা ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের দ্বারে যাতায়াত করতেন না। তিনি কাসসাঈন এলাকার মাদ্রাসা আস-সুক্কারিয়্যাহতে বসবাস করতেন)।

ইবনে রাজাব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর মাযহাব—ইমাম আহমদের মাযহাব—সম্পর্কে ব্যাপক পাণ্ডিত্য রাখতেন এবং তাঁর এই গ্রন্থটি সেই পাণ্ডিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। ইবনে কাদী শুহবা যখন তাঁর রচনাবলির কথা উল্লেখ করেন তখন বলেন: (তাঁর প্রণীত ‘আল-কাওয়ায়েদ’ গ্রন্থটি মাযহাব সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞানের পরিচয় দেয়)। আল-মারদাভী ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে এই গ্রন্থটিকে সেই সকল কিতাবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ১০)
يُعرف بها راجح المذهب، قال ابن المبرد: (وله تحقيق في المسائل على نصوص أحمد، وكلام الأصحاب، وله مسائل كثيرة غريبة).

وكان له اطلاع واسع في علم الحديث وعلله وطرقه لا يقل عن علمه بمذهب الإمام أحمد، قال الحافظ ابن حجر: (ومهر في فنون الحديث أسماء ورجالاً وعللاً وطرقاً واطلاعاً على معانيه، صنف شرح الترمذي فأجاد فيه في نحو عشرة أسفار، وشرح قطعة كبيرة من البخاري، وشرح الأربعين للنووي في مجلد)، ونقل عن ابن حجي أنه قال: (أتقن الفن، وصار أعرف أهل عصره بالعلل وتتبع الطرق).

 

-‌‌ مشايخه:

أخذ العلم سماعًا، وإجازة، وقراءة، ومدارسة عن جماعة من العلماء والمحدثين، فمن هؤلاء:

1 - أبو العباس، أحمد بن الحسن بن عبد الله، المشهور بابن قاضي الجبل (771 هـ).

2 - أبو العباس، أحمد بن سليمان الحنبلي.

3 - عز الدين، عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة (767 هـ).

4 - صفي الدين، عبد المؤمن بن عبد الحق بن عبد الله البغدادي الحنبلي (739 هـ).

5 - أبو يعلى، حمزة بن موسى بن أحمد بن بدران، المعروف بابن شيخ السلامية (769 هـ).
এর মাধ্যমে মাযহাবের অগ্রগণ্য (রাজীহ) মতসমূহ জানা যায়। ইবনুল মুবাররাদ বলেন: (ইমাম আহমাদ রহ.-এর বর্ণনা এবং তাঁর সাথীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে মাসয়ালাসমূহের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ও বিশ্লেষণ ছিল। আর তাঁর অনেক বিরল মাসয়ালা রয়েছে)।

ইলমে হাদিস, এর ইল্লাত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) এবং এর সনদসমূহের (তরীক) ক্ষেত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল, যা ইমাম আহমাদ রহ.-এর মাযহাবে তাঁর পাণ্ডিত্যের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন: (হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা যথা—রাবিদের নাম, রিজাল শাস্ত্র, ইল্লাত এবং তরীকসমূহে তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং হাদিসের অর্থের ওপর তাঁর ব্যাপক দখল ছিল। তিনি জামি তিরমিযীর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন, যা প্রায় দশ খণ্ডে অত্যন্ত চমৎকারভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া তিনি বুখারী শরীফের একটি বড় অংশের এবং ইমাম নববীর ‘আরবাঈন’-এর এক খণ্ডের ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন)। ইবনে হাজ্জী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (তিনি এই শিল্পে নিপুণতা অর্জন করেছিলেন এবং হাদিসের ইল্লাত ও তরীকসমূহ অনুসন্ধানে তিনি তাঁর যুগের সবচেয়ে বড় বিশেষজ্ঞে পরিণত হয়েছিলেন)।

 

-‌‌ তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:

তিনি একদল আলিম ও মুহাদ্দিসের নিকট শ্রবণ, ইজাজত, পাঠ এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - আবুল আব্বাস, আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আবদুল্লাহ, যিনি ‘ইবনে কাযিল জাবাল’ নামে পরিচিত (৭৭১ হিজরি)।

২ - আবুল আব্বাস, আহমাদ ইবনে সুলায়মান আল-হাম্বলি।

৩ - ইযযুদ্দিন, আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে সাদুল্লাহ ইবনে জামাআহ (৭৬৭ হিজরি)।

৪ - সফিউদ্দিন, আবদুল মুমিন ইবনে আবদুল হক ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাগদাদী আল-হাম্বলি (৭৩৯ হিজরি)।

৫ - আবু ইয়ালা, হামজা ইবনে মুসা ইবনে আহমাদ ইবনে বাদরান, যিনি ‘ইবনে শাইখিস সালামিয়্যাহ’ নামে পরিচিত (৭৬৯ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ১১)
6 - سراج الدين، عمر بن علي بن عمر القزويني (750 هـ).

7 - شمس الدين، محمد بن أبي بكر الزرعي، المعروف ابن قيم الجوزية (751 هـ).

وغيرهم من المحدثين والفقهاء والمؤرخين والمسندين.

 

-‌‌ تلاميذه:

أخذ عنه جمع من أعيان العلماء، منهم:

1 - أبو العباس، أحمد بن أبي بكر الحموي الحنبلي، ويعرف بابن الرسام (844 هـ).

2 - محب الدين، أحمد بن نصر الله بن أحمد بن محمد بن عمر البغدادي، مفتي الديار المصرية (844 هـ).

3 - زين الدين عبد الرحمن بن سليمان بن أبي الكرم الحنبلي المعروف بأبي شعر (844 هـ).

4 - علاء الدين أبو الحسن، علي بن محمد بن عباس البعلي، المعروف بابن اللحام (803 هـ).

5 - علاء الدين أبو المواهب، علي بن محمد الحموي الحنبلي، المعروف بابن المغلي (828 هـ).

وغيرهم من العلماء والمحدثين والشيوخ، قال ابن حجي: (تخرج به غالب أصحابنا الحنابلة بدمشق).
৬ - সিরাজুদ্দীন, উমর বিন আলী বিন উমর আল-কাযউইনী (৭৫০ হিজরি)।

৭ - শামসুদ্দীন, মুহাম্মদ বিন আবী বকর আজ-জুরায়ী, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ নামে পরিচিত (৭৫১ হিজরি)।

এবং অন্যান্য মুহাদ্দিস, ফকীহ, ঐতিহাসিক ও মুসনিদগণ।

 

-‌‌ তাঁর ছাত্রগণ:

তাঁর নিকট থেকে একদল বরেণ্য আলেম জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - আবুল আব্বাস, আহমাদ বিন আবী বকর আল-হামাভী আল-হাম্বলী, এবং তিনি ইবনুর রাসসাম নামে পরিচিত (৮৪৪ হিজরি)।

২ - মুহিব্বুদ্দীন, আহমাদ বিন নাসরুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-বাগদাদী, মিশরের মুফতী (৮৪৪ হিজরি)।

৩ - যাইনুদ্দীন আবদুর রহমান বিন সুলাইমান বিন আবিল কারাম আল-হাম্বলী, যিনি আবু শা'র নামে পরিচিত (৮৪৪ হিজরি)।

৪ - আলাউদ্দীন আবুল হাসান, আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-বালী, যিনি ইবনুল লাহহাম নামে পরিচিত (৮০৩ হিজরি)।

৫ - আলাউদ্দীন আবুল মাওয়াহিব, আলী বিন মুহাম্মদ আল-হামাভী আল-হাম্বলী, যিনি ইবনুল মুগলী নামে পরিচিত (৮২৮ হিজরি)।

এবং অন্যান্য আলেম, মুহাদ্দিস ও শায়খগণ। ইবনে হাজ্জী বলেন: (দামেস্কের আমাদের অধিকাংশ হাম্বলী সাথীরা তাঁর মাধ্যমে শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন)।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ১২)
-‌‌ ثناء العلماء عليه:

أثنى على الحافظ ابن رجب جماعة من العلماء، من تلاميذه وغيرهم، فمن ذلك:

قال شمس الدين ابن ناصر الدين الدمشقي: (الشيخ الإمام، العلامة، الزاهد، القدوة، البركة، الحافظ، العمدة، الثقة، الحجة، أوعظ المسلمين، مفيد المحدثين)، ونقله عنه الشيخ مرعي الكرمي رحمه الله.

وقال ابن قاضى شهبة: (الشيخ الإمام، العلامة، الحافظ، الزاهد، الورع، شيخ الحنابلة وفاضلهم، أوحد المحدثين)، ثم قال بعد كلام في ترجمته: (وبالجملة فلم يخلف بعده مثله).

وقال تلميذه علاء الدين البعلي المعروف بابن اللحام: (سيدنا، وشيخنا، الإمام، العالم، العلامة، الأوحد، الحافظ، شيخ الإسلام، مجلي المشكلات، وموضح المبهمات)، وقال أيضًا: (شيخنا الإمام، العالم، الحافظ، بقية السلف الكرام، وحيد عصره، وفريد دهره، شيخ الإسلام).

وقال ابن المبرد: (الشيخ الإمام، أوحد الأنام، قدوة الحفاظ، جامع الشتات والفضائل، الفقيه الزاهد البارع، الأصولي، المفيد، المحدث).

وقال ابن فهد المكي: (الإمام الحافظ الحجة، والفقيه العمدة، أحد العلماء الزهاد، والأئمة العباد، مفيد المحدثين، واعظ المسلمين
‌তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

হাফেজ ইবনে রজবের প্রশংসা তাঁর ছাত্র ও অন্য আলেমদের এক বিশাল জামাত করেছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

শামসুদ্দিন ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি বলেছেন: (শাইখ ইমাম, আল্লামা, যাহিদ, আদর্শ পুরুষ, বরকতস্বরূপ, হাফেজ, প্রধান অবলম্বন, বিশ্বস্ত, হুজ্জত বা প্রমাণস্বরূপ, মুসলিমদের শ্রেষ্ঠ উপদেশদাতা, মুহাদ্দিসগণের উস্তাদ), আর শাইখ মারঈ আল-কারমি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে কাজি শুহবাহ বলেন: (শাইখ ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, যাহিদ, পরহেজগার, হাম্বলি মাযহাবের শাইখ ও তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং মুহাদ্দিসদের মধ্যে অনন্য), এরপর তাঁর জীবনী আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেন: (সারকথা হলো, তিনি তাঁর পরে নিজের মতো কাউকে রেখে যাননি)।

তাঁর ছাত্র আলাউদ্দিন আল-বালি, যিনি ইবনুল লাহহাম নামে পরিচিত, বলেন: (আমাদের নেতা, আমাদের শাইখ, ইমাম, আলেম, আল্লামা, অনন্য ব্যক্তি, হাফেজ, শাইখুল ইসলাম, জটিল বিষয়াদির উন্মোচনকারী এবং অস্পষ্ট বিষয়াবলির স্পষ্টকারী), তিনি আরও বলেন: (আমাদের শাইখ ইমাম, আলেম, হাফেজ, নেককার পূর্বসূরিদের সুযোগ্য উত্তরসূরি, আপন যুগের অদ্বিতীয় এবং সমকালের অপ্রতিম ব্যক্তিত্ব, শাইখুল ইসলাম)।

ইবনুল মুবাররিদ বলেন: (শাইখ ইমাম, সৃষ্টির মধ্যে অনন্য, হাফেজদের আদর্শ, বিচিত্র জ্ঞান ও গুণের সমাহারকারী, দক্ষ ফকিহ ও যাহিদ, উসুলবিদ, মুফিদ এবং মুহাদ্দিস)।

ইবনে ফাহদ আল-মাক্কি বলেন: (ইমাম হাফেজ হুজ্জত, এবং নির্ভরযোগ্য ফকিহ, যাহিদ আলেম ও ইবাদতকারী ইমামগণের অন্যতম, মুহাদ্দিসগণের উস্তাদ, মুসলিমদের উপদেশদাতা...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ১৩)
كان رحمه الله تعالى إمامًا ورعًا زاهدًا، مالت القلوب بالمحبة إليه، وأجمعت الفرق عليه، كانت مجالس تذكيره الناس عامة نافعة، وللقلوب صادعة).

وقال برهان الدين ابن مفلح: (الشيخ العلامة، الحافظ، الزاهد، شيخ الحنابلة).

وسماه المرداوي في مواطن من الإنصاف بـ (العلامة ابن رجب).

 

-‌‌ مصنفاته:

للحافظ ابن رجب رحمه الله مصنفات كثيرة نافعة، منها ما هو كبير، ومنها ما هو صغير، قال ابن العماد الحنبلي: (له مصنفات مفيدة ومؤلفات عديدة)، وغالبها مطبوع، ومنها ما هو مفقود، ومن تلك المصنفات:

1 - "فتح الباري في شرح البخاري"، شرح منه إلى كتاب الجنائز، وهو مطبوع.

2 - "شرح الترمذي"، وقد احترق غالب ما عمله عليه في الفتنة، وقد وُجدت منه قطعة صغيرة، ووجد شرحه على كتاب العلل من الجامع، وهما مطبوعان.

3 - "لطائف المعارف فيما لمواسم العام من الوظائف"، وهو مطبوع.

4 - "ذيل طبقات الحنابلة"، ذيَّله على طبقات الحنابلة لابن أبي يعلى، وهو مطبوع.
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ ও দুনিয়াবিমুখ ইমাম। মানুষের অন্তরসমূহ তাঁর ভালোবাসার দিকে ঝুঁকে পড়েছিল এবং সকল দল তাঁর বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছিল। মানুষকে নসিহত করার জন্য তাঁর মজলিসগুলো ছিল সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর এবং অন্তর বিদীর্ণকারী (প্রভাববিস্তারকারী)।

বুরহানুদ্দীন ইবনুল মুফলিহ বলেছেন: (শায়খ, আল্লামা, হাফিজ, দুনিয়াবিমুখ, হাম্বলিদের শায়খ)।

আর আল-মারদাভি 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে তাঁকে (আল্লামা ইবনে রজব) নামে অভিহিত করেছেন।

 

-‌‌ তাঁর রচনাবলি:

হাফিজ ইবনে রজব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর অনেকগুলো উপকারী গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে কিছু বৃহৎ আকারের এবং কিছু ছোট। ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি বলেছেন: (তাঁর অনেকগুলো উপকারী ও অসংখ্য রচনাবলি রয়েছে)। এগুলোর অধিকাংশ মুদ্রিত হয়েছে, আর কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাঁর সেই রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

১ - "ফাতহুল বারি ফি শারহিল বুখারি", তিনি জানাজা অধ্যায় পর্যন্ত এর ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং এটি মুদ্রিত।

২ - "শারহুত তিরমিজি", ফিতনার সময় তাঁর এই কাজের অধিকাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল, তবে এর একটি ছোট অংশ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া 'জামে' গ্রন্থের 'কিতাবুল ইলাল'-এর ওপর তাঁর ব্যাখ্যাটি পাওয়া গিয়েছে এবং এই উভয়টিই মুদ্রিত।

৩ - "লাতাইফুল মাআরিফ ফিমা লি মাওয়াসিমিল আম মিনাল ওয়াজাইফ", এটি মুদ্রিত।

৪ - "যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা", এটি তিনি ইবনু আবী ইয়া’লার 'তাবাকাতিল হানাবিলা'-এর পরিশিষ্ট হিসেবে রচনা করেছেন এবং এটি মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ১৪)
5 - "صفة الجنة وصفة النار"، وهو مطبوع.

6 - "الرد على من اتبع غير المذاهب الأربعة"، وهو مطبوع.

7 - "جامع العلوم والحكم في شرح خمسين حديثًا من جوامع الكلم"، وهو مطبوع.

8 - "ذم قسوة القلب"، وهو مطبوع.

9 - "فضل علم السلف على الخلف"، وهو مطبوع.

10 - "تقرير القواعد وتحرير الفوائد"، وهو كتابنا هذا.

وغيرها من المصنفات في الحديث والرقائق والفقه، قال ابن قاضي شهبة: (وغير ذلك من المصنفات الكبار والصغار).

 

-‌‌ وفاته:

توفي ليلة الاثنين رابع رمضان، سنة (795 هـ) بأرض الحميرية بدمشق، ببستان كان استأجره، وصُلي عليه من الغد، ودفن بباب الصغير إلى جانب قبر الشيخ أبي الفرج الشيرازي، وكانت له جنازة عظيمة كما قال أحد تلميذه فيما سطَّره على طرة مخطوط القواعد، رحمه الله رحمة واسعة وأعلى درجته، وأسكنه فسيح جنته.

قال محب الدين ابن نصر الله البغدادي - كما في طرَّة المخطوط المرموز له في طبعتنا بـ (ن) - فيما كتبه بخطه ونقله عنه تلميذه ابن هشام الأنصاري: (ولا أظن - يعني المصنف - بلغ سبعين سنة، ولم أقف على مولده، ولكني قرأت عليه حديث الأولية في سنة ست وثمانين - يعني: وسبعمائة -، وسألته أن يكتب لي خطه بالإجازة،
৫ - "জান্নাতের বিবরণ ও জাহান্নামের বিবরণ", এটি মুদ্রিত।

৬ - "চার মাযহাব ব্যতীত অন্য কিছুর অনুসরণকারীদের খণ্ডন", এটি মুদ্রিত।

৭ - "জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম: জাওয়ামিউল কিলামের পঞ্চাশটি হাদিসের ব্যাখ্যা", এটি মুদ্রিত।

৮ - "হৃদয়ের কঠোরতার নিন্দা", এটি মুদ্রিত।

৯ - "পরবর্তীদের ইলমের ওপর সালাফদের ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব", এটি মুদ্রিত।

১০ - "তাকরীরুল কাওয়ায়িদ ওয়া তাহরীরুল ফাওয়ায়িদ", এটিই আমাদের এই গ্রন্থ।

হাদিস, রিকাক (হৃদয়স্পর্শী আলোচনা) এবং ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর আরও বহু রচনা রয়েছে। ইবনে কাজী শুহবাহ বলেন: (এগুলো ছাড়াও ছোট-বড় আরও অনেক রচনা রয়েছে)।

 

-‌‌ তাঁর মৃত্যু:

তিনি ৭৯৫ হিজরির ৪ঠা রমজান সোমবার রাতে দামেস্কের হিমাইরিয়্যাহ নামক স্থানে তাঁর ভাড়া করা একটি বাগানে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন তাঁর জানাযার নামাজ পড়ানো হয় এবং তাঁকে 'বাব আল-সগির'-এ শায়খ আবু আল-ফারাজ আল-শিরাজীর কবরের পাশে দাফন করা হয়। তাঁর জানাযায় বিশাল জনসমাগম হয়েছিল, যেমনটি তাঁর এক ছাত্র 'আল-কাওয়ায়িদ' পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে লিখেছেন। আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁকে তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে স্থান দিন।

মুহিব্বুদ্দীন ইবনে নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদী বলেন—যেমনটি আমাদের সংস্করণে (ন) প্রতীক সংবলিত পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে রয়েছে—যা তিনি স্বহস্তে লিখেছিলেন এবং তাঁর ছাত্র ইবনে হিশাম আল-আনসারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: (আমার মনে হয় না—অর্থাৎ গ্রন্থকার—সত্তর বছর বয়সে পৌঁছেছিলেন। আমি তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে অবগত হইনি, তবে আমি তাঁর কাছে সাতশ ছিয়াশি (৭৮৬) হিজরিতে 'হাদিসুল আউয়ালিয়্যাহ' পড়েছি এবং তাঁর কাছে ইজাযত স্বরূপ তাঁর দস্তখত চেয়েছিলাম,
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ১৫)
فامتنع رحمه الله تعالى استصغارًا لنفسه عن بلوغ سن الإجازة بالكتابة، وأجازني لفظًا، وكان سنُّه إذ ذاك عن نيف وخمسين سنة فيما أظن).

وما ذكره محب الدَّين البغدادي صحيحٌ، فإن غالب المصادر ذكرت أن مولده سنة (736 هـ)، ووفاته (795 هـ)، وعلى هذا فسنُّه لما مات 59 سنة، رحمه الله تعالى.

ونقل ابن المبرد أنه قرأ في كتابه القواعد، أن ابن رجب رحمه الله قال عند خروج روحه ثلاثين مرة: (يا الله العفو).
ফলে তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বিনয়বশত নিজেকে লিখিতভাবে ইজাজত প্রদানের উপযুক্ত বয়সে উপনীত মনে করেননি বিধায় তা থেকে বিরত ছিলেন, তবে তিনি আমাকে মৌখিকভাবে ইজাজত প্রদান করেছিলেন। আমার ধারণা মতে, সে সময় তাঁর বয়স ছিল পঞ্চাশ বছরের কিছু বেশি।)

মুহিব্বুদ্দিন আল-বাগদাদি যা উল্লেখ করেছেন তা সঠিক, কেননা অধিকাংশ উৎসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর জন্ম ৭৩৬ হিজরি সালে এবং মৃত্যু ৭৯৫ হিজরি সালে। সেই অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৫৯ বছর, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

ইবনুল মুবাররাদ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর 'আল-কাওয়ায়িদ' গ্রন্থে পাঠ করেছেন যে, ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রাণবায়ু বের হওয়ার সময় ত্রিশ বার বলেছিলেন: (হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন)।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌التعريف بالكتاب

-‌‌ توثيق نسبة الكتاب:

لا شك في نسبة هذا الكتاب للحافظ زين الدين ابن رجب رحمه الله تعالى، إذ إن سائر من ترجم له ذكر له كتاب القواعد، وذكره المصنف في بعض كتبه الأخرى كفتح الباري في مواطن متعددة، ونقل عنه محققو المذهب ممن أتى بعد؛ كتلميذه ابن اللحام البعلي، ومحب الدين ابن نصر الله البغدادي، وعلاء الدين المرداوي في كتابه العظيم الإنصاف، وجعله من جملة ما يُعتمد عليه في تصحيح المذهب، ونقل عنه المتأخرون كالحجاوي في الإقناع، ومرعي في الغاية، ومنصور البهوتي، والخلوتي، وعثمان النجدي، وغيرهم.

إلا أن ثمة كلمة نقلها ابن المبرد عن مجهولٍ؛ شكَّكت في كون الحافظ ابن رجب رحمه الله تعالى هو الذي كتب القواعد بنفسه، حيث قال: (وكتاب "القواعد الفقهية"، مجلد كبير، وهو كتاب نافع، من عجائب الدهر، حتى أنه استكثر عليه، حتى زعم بعضهم أنه وجد قواعد مبددة لشيخ الإسلام ابن تيمية فجمعها، وليس الأمر كذلك، بل كان رحمه الله تعالى فوق ذلك)(1).

--------------------------------------------

(1) الجوهر المنضد ص 49.

কিতাব পরিচিতি

-‌‌ কিতাবের নিসবত বা সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্যতা:

হাফেজ জাইন উদ্দিন ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি এই কিতাবটির নিসবত বা সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ যারা তাঁর জীবনী রচনা করেছেন তারা সকলেই তাঁর জন্য 'আল-কাওয়ায়েদ' কিতাবটির কথা উল্লেখ করেছেন। লেখক নিজেও তাঁর অন্যান্য কিছু কিতাবে যেমন 'ফাতহুল বারি'-তে বিভিন্ন স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন। এবং পরবর্তীকালে আসা মাযহাবের গবেষকগণ তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন; যেমন তাঁর ছাত্র ইবনুল লাহহাম আল-বালি, মুহিব্বুদ্দিন ইবনে নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদি এবং আলাউদ্দিন আল-মারদাবি তাঁর মহান গ্রন্থ 'আল-ইনসাফ'-এ, এবং তিনি মাযহাবের বিশুদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে এটিকে নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পরবর্তী যুগের আলেমগণও তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন যেমন আল-হিজজাওয়ি 'আল-ইকনা'-তে, মারঈ 'আল-গায়াহ'-তে, মানসুর আল-বাহুতি, আল-খালওয়াতি, উসমান আন-নাজদি এবং অন্যান্যরা।

তবে ইবনুল মুবাররাদ জনৈক অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি কথা বর্ণনা করেছেন; যা হাফেজ ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) নিজেই 'কাওয়ায়েদ' কিতাবটি লিখেছেন কি না সে বিষয়ে সংশয় তৈরি করেছে, যেখানে তিনি বলেছেন: ("আল-কাওয়ায়েদুল ফিকহিয়্যাহ" কিতাবটি এক বিশাল খণ্ড, এটি একটি উপকারী কিতাব এবং কালের এক বিস্ময়, এমনকি এটি তাঁর জন্য অনেক বড় মনে করা হয়েছে [অর্থাৎ তাঁর একার পক্ষে এটি রচনা করা সম্ভব নয় বলে ভাবা হয়েছে], এমনকি কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার কিছু বিক্ষিপ্ত কাওয়ায়েদ বা মূলনীতি পেয়েছিলেন এবং সেগুলো একত্রিত করেছেন। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়, বরং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এর চেয়েও অনেক উচ্চ পর্যায়ের ছিলেন।)(১).

--------------------------------------------

(১) আল-জাওহারুল মুনাসসাদ, পৃষ্ঠা ৪৯।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذا كلام عارٍ عن الدليل، وبعيدٌ أيما بعد عن الصواب، وقد يكون الباعث عليه الجهل أو الحسد، وبيان بطلان ذلك من وجوه:

1 - أنها دعوى لا يُعرف قائلها، ولم يذكر عليها دليلًا، والدعاوى إن لم يُقَم عليها بينات؛ أصحابها أدعياء.

2 - أن ناقل هذا الكلام وهو ابن المبرد رحمه الله لم يرتض المقولة وردَّ عليها بقوله: (بل كان رحمه الله تعالى فوق ذلك).

3 - أن القارئ لترجمة الحافظ ابن رجب وما كان عليه من الديانة والزهد والتقلل من الدنيا، وكراهيته لذكر الناس، وإمساكه عن الكلام أحيانًا خشية ألا يكون مخلصًا فيه، مع ما ذُكِر عنه من التمكن في فقه الإمام أحمد، خاصة وسائر العلوم عامة؛ ما يستحيل معه أن يسرق قواعد لشيخ الإسلام ابن تيمية ثم يقوم بنسبتها لنفسه على أنها من تأليفه؛ فديانته وعلمه ومكانته بل ومروءته تأبى مثل ذلك.

4 - أن كتاب القواعد قد قرأه عليه تلاميذه أكثر من مرة، ونسخوه وعلقوا عليه وبينوه، ومن هؤلاء محب الدين ابن نصر الله البغدادي شيخ الحنابلة في زمانه، وعلاء الدين ابن اللحام البعلي، وغيرهما، ولا يُعرف عن واحد منهم إنكار أن يكون الكتاب لابن رجب، بل صنيعهم صريح في صحة كون الحافظ هو الذي صنعه بيده.

5 - أن الحافظ ابن رجب أورد كلام شيخ الإسلام في مواطن كثيرة جدًّا من كتابه القواعد، وفي كثير من تلك المواطن يعترض عليه، أو يجيب عن استدلاله، أو يخطئه، أو يستشكل عليه، أو يعضد كلامه
আর এই বক্তব্যটি প্রমাণহীন এবং সঠিকতা থেকে অনেক দূরে। এর পেছনে চালিকাশক্তি হতে পারে অজ্ঞতা অথবা হিংসা। বেশ কিছু দিক থেকে এর অসারতা প্রমাণিত হয়:

১ - এটি এমন এক দাবি যার প্রবক্তা অজ্ঞাত এবং এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। আর কোনো দাবির সপক্ষে যদি প্রমাণ উপস্থাপিত না হয়, তবে দাবিদাররা মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়।

২ - এই বক্তব্যের বর্ণনাকারী ইবনুল মুবাররাদ (রাহিমাহুল্লাহ) নিজেই এই উক্তিটি পছন্দ করেননি এবং এটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন: (বরং তিনি [ইবনে রজব] রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর চেয়েও ঊর্ধ্বে ছিলেন)।

৩ - হাফেয ইবনে রজবের জীবনী পাঠক যখন তার ধার্মিকতা, দুনিয়াবিমুখতা, অল্পে তুষ্টি, মানুষের চর্চা অপছন্দ করা এবং ইখলাস বিনষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেক সময় কথা বলা থেকে বিরত থাকার মতো গুণাবলী সম্পর্কে অবগত হয়; সেই সঙ্গে ইমাম আহমদের ফিকহে বিশেষ দক্ষতা এবং অন্যান্য বিদ্যায় তার অগাধ পাণ্ডিত্যের কথাও জানতে পারে, তখন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর 'কাওয়ায়িদ' (নীতিমালা) চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব বলে মনে হয়। তার দ্বীনদারি, ইলম, মর্যাদা বরং তার ব্যক্তিত্বও এমন কাজ করতে অস্বীকার করে।

৪ - 'আল-কাওয়ায়িদ' গ্রন্থটি তার ছাত্ররা তার কাছে একাধিকবার পাঠ করেছেন, তারা এটি অনুলিপি করেছেন, এর ওপর টীকা লিখেছেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সমকালীন হাম্বলিদের শাইখ মুহিব্বুদ্দিন ইবনে নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদি, আলাউদ্দিন ইবনুল লাহহাম আল-বালি এবং অন্যান্যরা। তাদের কারোর থেকেই এই কিতাবটি ইবনে রজবের রচিত হওয়া নিয়ে কোনো অস্বীকৃতি জানা যায়নি। বরং তাদের কর্মকাণ্ডই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, হাফেয ইবনে রজবই এটি নিজের হাতে সংকলন করেছেন।

৫ - হাফেয ইবনে রজব তার 'আল-কাওয়ায়িদ' গ্রন্থের বহু স্থানে শাইখুল ইসলামের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি তার ওপর আপত্তি করেছেন, অথবা তার দলিলের জবাব দিয়েছেন, অথবা তাকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন, অথবা সংশয় প্রকাশ করেছেন, কিংবা তার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ১৮)
بكلام غيره من الأصحاب أو بالروايات الواردة عن الإمام أحمد، ونَفَسه في تلك المواطن هو ذات النفس الذي كُتب فيه كتاب القواعد من قوة التحرير والعبارة والدقة والتخريج والتوجيه.

وغير ذلك من الأمور القاطعة بأن الكتاب من صنعة الحافظ ابن رجب رحمه الله تعالى، ولعل الباعث على قول ما قاله ذلك المجهول هو الحسد؛ فإن الحافظ ابن رجب ألف الكتاب في أواسط العقد الثالث من عمره، أي قبل بلوغه سن الأربعين، ومثل هذا إذا كتب كتابًا يعدُّه من بعده من عجائب الدهر؛ سببًا لحسد غيره عليه والله المستعان، وإنما كتبنا ذلك دفاعًا عن الحافظ ابن رجب، وحفظًا لحقه علينا.

 

-‌‌ توثيق اسم الكتاب:

جاءت تسمية الكتاب - عند بعض من ترجم للحافظ ابن رجب - باسم: (القواعد الفقهية)؛ كابن مفلح في المقصد الأرشد، وابن المبرد في الجوهر المنضد، وابن العماد في شذرات الذهب، وغيرهم، وقد جاء هذا الاسم في بعض النسخ الخطية المتأخرة.

وسماه ابن بدران في المدخل بـ (القواعد)، وجاء هذا الاسم في بعض النسخ الخطية المتأخرة أيضًا.

وجاءت تسميته في بعض النسخ الخطية بـ (قواعد ابن رجب الفقهية)، وبعضها باسم (قواعد الإمام ابن رجب في الفقه)، وغير ذلك من الأسماء.

وسماه ابن رجب في فتح الباري في مواطن متعددة (5/ 258،
অন্যান্য সহচরদের কথা অথবা ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহ দ্বারা; এবং ঐ স্থানগুলোতে তাঁর লেখনীভঙ্গি ঠিক সেই ভঙ্গিই যা দিয়ে 'আল-কাওয়ায়িদ' গ্রন্থটি রচনা করা হয়েছে—সম্পাদনা ও শব্দচয়নের শক্তি, সূক্ষ্মতা, উদ্ধৃতি প্রদান এবং ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের দিক থেকে।

এসব বিষয় ছাড়া আরও অনেক অকাট্য প্রমাণ রয়েছে যা সাব্যস্ত করে যে, এই বইটি হাফিয ইবনে রজব (আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহম করুন)-এরই রচনা। সম্ভবত সেই অজ্ঞাত ব্যক্তির এমন উক্তির পেছনে মূল কারণ ছিল হিংসা; কেননা হাফিয ইবনে রজব এই গ্রন্থটি তাঁর জীবনের ত্রিশের দশকের মাঝামাঝি সময়ে রচনা করেছিলেন, অর্থাৎ চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই। আর এমন ব্যক্তি যখন কোনো কিতাব লিখেন যা তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম যুগের অন্যতম বিস্ময় হিসেবে গণ্য করে, তখন তা অন্যদের হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমরা মূলত হাফিয ইবনে রজবের পক্ষাবলম্বন করতে এবং আমাদের ওপর তাঁর যে অধিকার রয়েছে তা রক্ষা করতেই এসব কথা লিখেছি।

 

-‌‌ গ্রন্থের নামের প্রামাণিকতা:

হাফিয ইবনে রজবের জীবনী যারা লিখেছেন, তাদের কারো কারো কাছে এই গ্রন্থটির নামকরণ এসেছে: (আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ) হিসেবে; যেমন ইবনে মুফলিহ 'আল-মাকসাদুল আরশাদ'-এ, ইবনে মুবাররাদ 'আল-জাওহারুল মুনাসসাদ'-এ, ইবনে ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব'-এ এবং আরও অনেকে উল্লেখ করেছেন। আর এই নামটি পরবর্তী সময়ের কিছু পাণ্ডুলিপিতেও পাওয়া গিয়েছে।

ইবনে বদরান 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে একে (আল-কাওয়ায়িদ) নামে অভিহিত করেছেন, এবং এই নামটি পরবর্তী কিছু পাণ্ডুলিপিতেও এসেছে।

কিছু পাণ্ডুলিপিতে এর নামকরণ পাওয়া যায় (কাওয়ায়িদু ইবনে রজব আল-ফিকহিয়্যাহ) এবং কোনো কোনোটিতে (কাওয়ায়িদুল ইমাম ইবনে রজব ফিল ফিকহ) ও এ জাতীয় অন্যান্য নামে।

ইবনে রজব তাঁর 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে (৫/২৫৮, উল্লেখ করেছেন) একে এই নামেই ডেকেছেন।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ১৯)
6/ 143، 8/ 10، 9/ 473) باسم: (القواعد في الفقه)، وجاءت تسميته هكذا في نسخة ابن ضويان المرموز لها عندنا بـ (هـ).

وجاءت تسميته في النسخ المعتمدة الأخرى في تحقيقنا باسم: (تقرير القواعد وتحرير الفوائد)، وغالب هذه النسخ - كما سبق بيانه - من خطوط تلاميذ المصنف؛ كعلاء الدين ابن اللحام، وابن العفيف النابلسي، والشباسي، وهو الاسم المكتوب في طرة النسخة المقروءة على المصنف وعليها خطُّه.

وعلى هذا؛ فيكون الاسم المعتمد هو (تقرير القواعد وتحرير الفوائد)، وما ذكره ابن رجب في كتابه فتح الباري هو اختصار لاسم الكتاب.

وجاءت زيادات على هذا الاسم في بعض النسخ الخطية، ففي النسخة المقروءة على المصنف زيادة: (في الفقه على مذهب الإمام المبجل أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني رضي الله عنه.

وفي نسخة الشباسي - المرموز لها بـ (ن) -: (في الفقه على مذهب الإمام أبي عبد الله أحمد بن حنبل الشيباني رضي الله عنه وعن أمة مذهبه).

وفي نسخة ابن العفيف التلمساني - المرموز لها بـ (د) -: (على مذهب الإمام المبجل والحبر المفضل أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل رضي الله عنه.

ولا يظهر أن هذه الزيادات من اسم الكتاب؛ للاختلاف بين النسخ
৬/ ১৪৩, ৮/ ১০, ৯/ ৪৭৩) নাম: (আল-কাওয়াইদ ফিল ফিকহ), এবং আমাদের নিকট (হা) সংকেতযুক্ত ইবন দুওয়াইয়ানের পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই এর নামকরণ করা হয়েছে।

আমাদের তাহকীকে (সম্পাদনা) ব্যবহৃত অন্যান্য নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিতে এর নাম এসেছে: (তাকরিরুল কাওয়াইদ ওয়া তাহরিরুল ফাওয়াইদ)। এই পাণ্ডুলিপিগুলোর অধিকাংশ—যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে—গ্রন্থকারের ছাত্রদের হাতের লেখা; যেমন আলাউদ্দীন ইবনুল লাহহাম, ইবনুল আফিফ আন-নাবুলুসি এবং আশ-শাবাসি। আর এটিই সেই নাম যা গ্রন্থকারের সামনে পঠিত পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে লিখিত রয়েছে এবং এতে তাঁর নিজ হাতের স্বাক্ষর রয়েছে।

এর ওপর ভিত্তি করে, নির্ভরযোগ্য নাম হলো (তাকরিরুল কাওয়াইদ ওয়া তাহরিরুল ফাওয়াইদ), এবং ইবন রাজাব তাঁর ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা বইটির নামের সংক্ষিপ্ত রূপ মাত্র।

কিছু পাণ্ডুলিপিতে এই নামের সাথে অতিরিক্ত অংশ যুক্ত হয়েছে। গ্রন্থকারের সামনে পঠিত পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত অংশটি হলো: (সম্মানিত ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হানবাল আশ-শাইবানি—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে)।

আশ-শাবাসির পাণ্ডুলিপিতে—যা (নুন) সংকেতযুক্ত—রয়েছে: (ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন হানবাল আশ-শাইবানি—আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং তাঁর মাযহাবের অনুসারীদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে)।

ইবনুল আফিফ আত-তিলিমসানির পাণ্ডুলিপিতে—যা (দাল) সংকেতযুক্ত—রয়েছে: (সম্মানিত ইমাম ও শ্রেষ্ঠ আলিম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হানবাল—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর মাযহাব অনুযায়ী)।

পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে ভিন্নতার কারণে এটি প্রতীয়মান হয় না যে, এই অতিরিক্ত অংশগুলো বইটির মূল নামের অংশ।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ২০)
في ذكرها، ولأن ابن اللحام في نسخته ذكر اسم الكتاب في أوله وآخره، واقتصر على الاسم المذكور آنفاً.

 

•‌‌ مكانة كتاب القواعد، وثناء العلماء عليه:

قال ابن حجر: (و"القواعد الفقهية" أجاد فيه)(1).

وقال برهان الدين ابن مفلح: (و"القواعد الفقهية" تدلُّ على معرفةٍ تامّةٍ بالمذهب)(2)، وتبعه على هذه الكلمة ابن العماد في شذرات الذهب، وابن بدران في مدخله(3).

وقال ابن المبرد: (وكتاب "القواعد الفقهيّة" مجلد كبير، وهو كتاب نافع من عجائب الدَّهر)(4).

وكتب الشيخ سليمان بن حمدان على طرَّة نسخته للقواعد: (هذا الكتاب لو يباع بوزنه ذهبًا لكان البائع مغبونًا)(5).

وقال الشيخ ابن عثيمين: (لقد حوى من الحُسْن وجَمْعِ المعاني ما به عن غيره تفرد، وصل فيه قواعد بنى عليها من فروع الفقه ما تبدَّد)(6).

ونقل عنه المرداوي في الإنصاف كثيرًا، وجعله من الكتب المعتبرة

--------------------------------------------

(1) الدرر الكامنة 3/ 109.

(2) المقصد الأرشد 2/ 82.

(3) شذرات الذهب 8/ 579، المدخل ص 457.

(4) الجوهر المنضد ص 49.

(5) محفوظة في مكتبة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية برقم (2199).

(6) نيل الأرب من قواعد ابن رجب ص 15.

এর উল্লেখ করার ক্ষেত্রে, এবং যেহেতু ইবনে আল-লাহহাম তার পাণ্ডুলিপিতে বইটির নাম এর শুরু ও শেষে উল্লেখ করেছেন এবং পূর্বে উল্লেখিত নামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

 

•‌‌ ‘আল-কাওয়াইদ’ গ্রন্থের মর্যাদা এবং এর ওপর আলেমদের প্রশংসা:

ইবনে হাজার বলেন: (এবং ‘আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ’ গ্রন্থে তিনি চমৎকার দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন)(১)।

বুরহানউদ্দিন ইবনে মুফলিহ বলেন: (এবং ‘আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ’ মাযহাব সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানের প্রমাণ দেয়)(২), এবং ইবনে আল-ইমাদ ‘শাযারাতুয যাহাব’ গ্রন্থে ও ইবনে বাদরান তার ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে তার অনুসরণ করেছেন(৩)।

ইবনে আল-মুবররিদ বলেন: (এবং ‘আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ’ কিতাবটি একটি বিশাল খণ্ড, এবং এটি যুগের বিস্ময়সমূহের মধ্য থেকে একটি উপকারী কিতাব)(৪)।

শায়খ সুলাইমান বিন হামদান ‘আল-কাওয়াইদ’-এর তার পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে লিখেছেন: (এই কিতাবটি যদি এর ওজনের সমপরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়েও বিক্রি করা হয়, তবে বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে)(৫)।

শায়খ ইবনে উসাইমিন বলেন: (এটি এমন সৌন্দর্য ও অর্থের ব্যাপকতাকে ধারণ করেছে যার মাধ্যমে এটি অন্যদের থেকে অনন্য হয়েছে; তিনি এতে এমন সব মূলনীতি সন্নিবেশিত করেছেন যার ওপর ভিত্তি করে ফিকহের বিক্ষিপ্ত শাখা-প্রশাখাগুলো বিন্যস্ত হয়েছে)(৬)।

আল-মারদাভি ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং একে নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৩/ ১০৯।

(২) আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/ ৮২।

(৩) শাযারাতুয যাহাব ৮/ ৫৭৯, আল-মাদখাল পৃষ্ঠা ৪৫৭।

(৪) আল-জাওহারুল মুনাদ্দাদ পৃষ্ঠা ৪৯।

(৫) এটি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে (২১৯৯) নম্বরে সংরক্ষিত আছে।

(৬) নাইলুল আরাব মিন কাওয়াইদ ইবনে রজব পৃষ্ঠা ১৫।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ২১)
في تمييز راجح المذهب، بل ومن الكتب الأولى في تصحيح المذهب، قال في مقدمة الإنصاف: (فالمذهب ما اتفق عليه الشيخان، - أعني المصنف والمجد -، أو وافق أحدهما الآخر في أحد اختياريه، - وهذا ليس على إطلاقه، وإنما هو في الغالب -، فإن اختلفا، فالمذهب مع من وافقه صاحب «القواعد الفقهية»، أو الشيخ تقي الدين، وإلا فالمصنف، لاسيما إن كان في «الكافي»، ثم «المجد» .... فإن لم يكن لهما ولا لأحدهما في ذلك تصحيح؛ فصاحب «القواعد الفقهية»)(1).

ثم إن الحافظ ابن رجب رحمه الله أكثر من ذكر الروايات عن الإمام أحمد بنصوصها وبيان ناقلها، ووجَّهها وجمع بينها، ونقد بعضها، وذكر كلام المتقدمين من الأصحاب؛ كالخلال، وأبي بكر عبد العزيز، والخرقي، وابن شاقلا، والحسن بن حامد، وابن أبي موسى، والقاضي أبي يعلى وأصحابه، والموفق، والمجد، والشيخ تقي الدين، وغيرهم، وذكر استنباطاتهم من الروايات وتخريجاتهم وقوى بعضها ونقد بعضها، فهو كتاب جامع محرر يدل على سعة اطلاع، ومكنة، وتوقد ذهن.

 

-‌‌ طبعات الكتاب:

طُبع الكتاب طبعات عديدة، وهي:

1 - طبعة مكتبة الخانجي في القاهرة، بتحقيق الأستاذ طه عبد الرؤوف سعد، سنة 1352 هـ.

--------------------------------------------

(1) الإنصاف 1/ 25.

মাযহাবের অগ্রগণ্য মত নিরূপণে, বরং মাযহাবের বিশুদ্ধিকরণ বিষয়ক প্রাথমিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম এই গ্রন্থে তিনি ‘আল-ইনসাফ’-এর ভূমিকায় বলেছেন: (মাযহাব হলো তা-ই যার ওপর দুই শাইখ—অর্থাৎ মুসান্নিফ ও মাজদ—ঐক্যমত পোষণ করেছেন, অথবা তাদের একজন তাঁর দুই পছন্দের মতের একটিতে অপরজনের সাথে একমত হয়েছেন—এটি ঢালাও কোনো নিয়ম নয়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর—যদি তাঁরা মতভেদ করেন, তবে মাযহাব হিসেবে সেটিই গণ্য হবে যার সাথে ‘আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ’-এর লেখক অথবা শাইখ তাকিউদ্দীন একমত হয়েছেন। অন্যথায় মুসান্নিফের মতটিই প্রাধান্য পাবে, বিশেষ করে যদি তা ‘আল-কাফি’ গ্রন্থে থাকে, এরপর ‘মাজদ’-এর মতটি.... আর যদি তাঁদের উভয়ের অথবা তাঁদের কোনো একজনের এই বিষয়ে কোনো বিশুদ্ধিকরণ না থাকে, তবে ‘আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ’-এর লেখকের মতটিই গ্রহণীয়)(১)।

অতঃপর হাফিজ ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহ সেগুলোর মূল পাঠসহ এবং বর্ণনাকারীর পরিচয়সহ অধিক পরিমাণে উল্লেখ করেছেন। তিনি সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন এবং কোনো কোনোটির সমালোচনা করেছেন। তিনি মাযহাবের পূর্ববর্তী ফকিহগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন; যেমন: খাল্লাল, আবু বকর আবদুল আজিজ, খিরাকি, ইবনে শাকলা, হাসান ইবনে হামিদ, ইবনে আবি মুসা, কাযী আবু ইয়ালা ও তাঁর অনুসারীগণ, মুওয়াফফাক, মাজদ, শাইখ তাকিউদ্দীন প্রমুখ। তিনি রেওয়ায়েতসমূহ থেকে তাঁদের আহরিত মাসয়ালাসমূহ এবং গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তগুলো উল্লেখ করেছেন এবং কোনো কোনোটিকে শক্তিশালী করেছেন আবার কোনো কোনোটির সমালোচনা করেছেন। সুতরাং এটি একটি সুসংকলিত ও সুসম্পাদিত গ্রন্থ যা লেখকের ব্যাপক পড়াশোনা, গভীর পাণ্ডিত্য এবং তীক্ষ্ণ মেধার পরিচয় দেয়।

 

-‌‌ গ্রন্থের মুদ্রণসমূহ:

গ্রন্থটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে, সেগুলো হলো:

১ - কায়রোর মাকতাবাতুল খানজি সংস্করণ, তাহকিক করেছেন উস্তাদ ত্বহা আবদুর রউফ সাদ, ১৩৫২ হিজরি সালে।

--------------------------------------------

(১) আল-ইনসাফ ১/ ২৫।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ২২)
2 - طبعة دار المعرفة في بيروت - لبنان، وعن هذه الطبعة:

- طبعة دار الكتب العلمية في بيروت.

- طبعة المكتبة التجارية لمصطفى الباز في مكة المكرمة.

- طبعة دار الجيل في بيروت.

- طبعة دار أم القرى في القاهرة.

3 - طبعة دار ابن القيم وابن عفان، بتحقيق الشيخ مشهور بن حسن آل سلمان وفقه الله.

4 - طبعة بيت الأفكار الدولية، بتحقيق الشيخ أياد بن عبد اللطيف القيسي وفقه الله.

كما أن الكتاب حقق في خمس رسائل علمية، اثنتان في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، وثلاث في جامعة القصيم، على فترات متطاولة.

 

-‌‌ الأعمال العلمية على الكتاب:

عُني العلماء بعد ابن رجب بكتابه، فقام جماعة منهم بالتحشية عليه وفهرسته واختصاره، وقد ذكر ذلك من عُني بترجمته، وبعضها موجود وبعضها مفقود لا أثر له - يسر الله العثور عليه -، فمن ذلك:

1 - مختصر قواعد ابن رجب، لعبد الرزاق الحنبلي - تلميذ ابن اللحام -، المتوفي سنة (819 هـ)، ذكر ذلك ابن المبرد(1).

2 - مختصر وتهذيب قواعد ابن رجب، ليوسف بن عبد الرحمن

--------------------------------------------

(1) الجوهر المنضد ص 69.

2 - বৈরুত, লেবাননের দারুল মা'রিফা সংস্করণ—এবং এই সংস্করণ থেকে মুদ্রিত হয়েছে:

- বৈরুতের দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ।

- মক্কাতুল মুকাররমায় মুস্তফা আল-বাজ-এর আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাহ সংস্করণ।

- বৈরুতের দারুল জিল সংস্করণ।

- কায়রোর দারু উম্মিল কুরা সংস্করণ।

3 - শাইখ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) এর তাহকীককৃত দারু ইবনিল কাইয়্যিম এবং ইবনু আফফান সংস্করণ।

4 - শাইখ ইয়াদ বিন আব্দুল লতিফ আল-কাইসি (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) এর তাহকীককৃত বাইতুল আফকার আদ-দুওয়ালিয়্যাহ সংস্করণ।

বইটি পাঁচটি গবেষণামূলক থিসিসের মাধ্যমেও তাহকীক করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং তিনটি কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় নিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

-‌‌ গ্রন্থটির ওপর সম্পাদিত ইলমি কাজসমূহ:

ইবনু রাজাবের পরে আলেমগণ তাঁর এই গ্রন্থের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছেন। তাঁদের একটি দল এর ওপর টীকা (হাশিয়া) লিখেছেন, নির্ঘণ্ট (ইনডেক্স) তৈরি করেছেন এবং একে সংক্ষেপ করেছেন। যাঁরা তাঁর জীবনী লিখেছেন, তাঁরা এর উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে কিছু বিদ্যমান রয়েছে এবং কিছু নিখোঁজ যার কোনো হদিস নেই—আল্লাহ যেন তা খুঁজে পাওয়া সহজ করে দেন—তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

1 - ইবনু রাজাবের 'কাওয়ায়িদ'-এর সংক্ষিপ্তসার, লেখক আব্দুর রাজ্জাক আল-হাম্বালী—যিনি ইবনুল লাহহামের ছাত্র—মৃত্যু (৮১৯ হি.), ইবনুল মুবাররাদ এটি উল্লেখ করেছেন(1)।

2 - ইবনু রাজাবের 'কাওয়ায়িদ'-এর সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত রূপ, লেখক ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান

--------------------------------------------

(1) আল-জাওহারুল মুনাদ্দাদ, পৃষ্ঠা ৬৯।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ২৩)
التاذفي الحلبي الحنبلي، المتوفى سنة (900 هـ).

قال في إعلام النبلاء: (ووقف على قواعد ابن رجب في مذهب الحنابلة، فإذا هو كتاب يفتقر إلى التهذيب وحسن الترتيب، فهذبه تهذيبًا ورتبه ترتيبًا عجيبًا، وعرض ما وضعه وهو يومئذ بالقاهرة على الإمامين الجليلين الحنبليين: الشهاب أحمد الشيشني والبدر محمد السعدي، فقرظا له تقريظًا حسنًا)(1).

3 - مختصر قواعد ابن رجب، لعبد الله بن عبد الرحمن أبا بطين، المتوفى سنة (1121 هـ)، ذكره الشيخ بكر أبو زيد(2).

وبحثنا عنه فلم نقف عليه، ووقفنا على مخطوط لترتيب القواعد لنصر الله البغدادي في مكتبة الصالحية في عنيزة برقم (ابن رشيد/3) من ضمن مجموع يضم معه: زاد المستقنع والرسالة التبوكية وغيرهما، وتقع هذه الرسالة من المجموع من لوحة (18) إلى (26)، وهي غير كاملة، مكتوب في طرته: (من كتب الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن أبا بطين، وهي وقف)، فلعل من نسب للشيخ مختصرًا للقواعد وقع على هذه النسخة فظنها مختصرًا للشيخ أبا بطين رحمه الله.

4 - فهرست قواعد الفقه لابن رجب الحنبلي، للشيخ إبراهيم ابن ضويان، المتوفى سنة (1353 هـ)، في أول نسخته لكتاب القواعد المرموز لها في تحقيقنا بـ (هـ).

--------------------------------------------

(1) إعلام النبلاء بتاريخ حلب الشهباء 5/ 327.

(2) المدخل المفصل 2/ 935.

আত-তাযিফি আল-হালাবি আল-হাম্বলি, মৃত্যু (৯০০ হিজরি)।

'ইলামুন নুবালা'-তে বলা হয়েছে: (তিনি হাম্বলি মাজহাবের ইবনে রাজাবের 'কাওয়াইদ'-এর ওপর দৃষ্টিপাত করেন এবং দেখতে পান যে গ্রন্থটির পরিমার্জন ও সুবিন্যস্তকরণের প্রয়োজন। অতঃপর তিনি এটিকে সুচারুভাবে পরিমার্জন করেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে বিন্যস্ত করেন। তিনি কায়রোতে থাকাকালীন তার এই কাজ দুই মহান হাম্বলি ইমাম: শিহাব আহমদ আশ-শিশনি এবং বদর মুহাম্মদ আস-সা'দির সামনে উপস্থাপন করেন। তারা দুজনই এর ভূয়সী প্রশংসা করেন)(১)।

৩ - মুখতাসারু কাওয়াইদ ইবনি রাজাব, যা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বুতাইনের লেখা, মৃত্যু (১১২১ হিজরি), শায়খ বকর আবু যায়িদ এটি উল্লেখ করেছেন(২)।

আমরা এটি অনুসন্ধান করেছি কিন্তু খুঁজে পাইনি। তবে আমরা উনাইজার আস-সালিহিয়্যা লাইব্রেরিতে (ইবনে রশিদ/৩) নম্বরে নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদির 'তারতিবুল কাওয়াইদ'-এর একটি পাণ্ডুলিপি পেয়েছি। এটি একটি সংকলনের অংশ যার মধ্যে 'যাদুল মুস্তাকনি', 'আর-রিসালাতুত তাবুকিয়্যাহ' এবং অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে। এই রিসালাটি সংকলনের ১৮ থেকে ২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় অবস্থিত এবং এটি অসম্পূর্ণ। এর কভারে লেখা আছে: (এটি শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বুতাইনের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি ওয়াকফকৃত)। সম্ভবত যারা শায়খের দিকে কাওয়াইদের একটি সংক্ষিপ্তসার সম্বন্ধ করেছেন, তারা এই কপিটিই দেখেছিলেন এবং মনে করেছিলেন এটি শায়খ আবা বুতাইন (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংক্ষিপ্তসার।

৪ - ফিহরিসতু কাওয়াইদিল ফিকহ লি-ইবনি রাজাব আল-হাম্বলি, যা শায়খ ইবরাহিম ইবনে দুওয়াইয়ানের লেখা, মৃত্যু (১৩৫৩ হিজরি), এটি তার নিকট থাকা 'কাওয়াইদ' কিতাবের কপির শুরুতে রয়েছে, যা আমাদের তাহকিকে (হায়) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত।

--------------------------------------------

(১) ইলামুন নুবালা বি-তারীখি হালাব আশ-শাহবা ৫/ ৩২৭।

(২) আল-মাদখাল আল-মুফাসসাল ২/ ৯৩৫।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ২৪)
وطريقته فيه: أنه يذكر القاعدة اختصارًا ويذكر بجانبها فروعها باختصار أيضًا، وقد وصل فيه إلى القاعدة رقم (95)، وهي: (من أتلف مال غيره يظنه له … ).

5 - ترتيب المقاصد بترتيب الفرائد، للشيخ سليمان بن عبد الرحمن بن حمدان، المتوفى سنة (1379 هـ)، ونسخته محفوظة في مكتبة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية برقم (2245/خ)، وعدد أوراقه (82 ق)، والموجود منه القسم الأول إلى مسائل الكفالة والضمان.

قال في مقدمته مبيِّنًا سبب تأليفه وطريقته فيه، بعد أن أثنى على قواعد ابن رجب: (إلا أن درره الكامنة في أصدافها، ومسائله وفوائده المطلوب اكتشافها؛ يحتاج إلى فكر وإعمال روية، وربما تعذر ذلك على غير الفقيه الأصولي بالكلية، حتى يتبعها قاعدة قاعدة، ومسألة مسألة، ولما لم أر من أصحابنا من رتَّبه، وذلَّل صعابه للطالبين وقرَّبه؛ بوبته ورتبته على ما مشى عليه متأخرو أصحابنا في كتبهم من ترتيب الأبواب والمسائل؛ ليسهل الوقع على تلك الفوائد، والحصول على تلك الفرائد الشوارد، وإن القاعدة الواحدة منها تجمع مسائل مفرعة عليها من أبواب شتى، وضعتها في أول باب يكون فيها شيء من مسائله، ثم أتبعتها بتلك المسألة؛ لأن للأولية وجهًا من الأولوية، ولأن فيه فائدة أخرى وهي المحافظة على وضعها الأصلي، بحيث تكون مسائلها المفرعة عليها فيما بعدها من الأبواب غير مقدم عليها شيء
এতে তাঁর পদ্ধতি হলো: তিনি সংক্ষেপে মূলনীতি উল্লেখ করেন এবং এর পাশে এর শাখা-প্রশাখাগুলোও সংক্ষেপে বর্ণনা করেন। তিনি এতে ৯৫ নম্বর মূলনীতি পর্যন্ত পৌঁছেছেন, যা হলো: (যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদ নিজের মনে করে নষ্ট করল ... )।

৫ - তারতিবুল মাকাসিদ বি-তারতিবিল ফারাঈদ, শেখ সুলাইমান বিন আবদুর রহমান বিন হামদান (মৃত্যু ১৩৭৯ হিজরি) কর্তৃক রচিত। এর পাণ্ডুলিপি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে (২২৪৫/খ) নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮২টি। এর বর্তমান বিদ্যমান অংশটি প্রথম খণ্ড থেকে কাফালাহ ও জামান (জামিন ও নিশ্চয়তা) সংক্রান্ত মাসআলা পর্যন্ত।

তিনি তাঁর ভূমিকার শুরুতে ইবনে রজবের 'কাওয়ায়েদ' (মূলনীতিসমূহ) গ্রন্থের প্রশংসা করার পর এর রচনার কারণ ও পদ্ধতি বর্ণনা করে বলেন: (তবে এর ঝিনুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা মুক্তাসমূহ এবং অন্বেষণযোগ্য মাসআলা ও উপকারিতাগুলো উদ্ঘাটনের জন্য গভীর চিন্তা ও সূক্ষ্ম গবেষণার প্রয়োজন; এমনকি একজন বিশেষজ্ঞ ফকিহ ও উসুলবিদ ছাড়া অন্যের পক্ষে এটি সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করা অসম্ভব হতে পারে, যতক্ষণ না সে প্রতিটি মূলনীতি ও মাসআলাকে পৃথক পৃথকভাবে অনুসরণ করে। আর যেহেতু আমাদের সাথীদের মধ্যে কাউকে দেখিনি যিনি একে বিন্যস্ত করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এর কাঠিন্য সহজ ও নিকটতর করেছেন; তাই আমি একে আমাদের পরবর্তী যুগের আলেমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে অধ্যায় ও মাসআলা বিন্যাসের যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, সেই অনুযায়ী অধ্যায়ভিত্তিক ও বিন্যস্ত করেছি; যাতে এই উপকারিতাগুলো সহজে উপলব্ধি করা যায় এবং সেই অনন্য দুর্লভ বিষয়গুলো অর্জন করা সম্ভব হয়। এর প্রতিটি মূলনীতি বিভিন্ন অধ্যায়ের অনেকগুলো শাখা মাসআলাকে একত্রিত করে; আমি সেটিকে এমন প্রথম অধ্যায়ে স্থাপন করেছি যেখানে এর কিছু মাসআলা রয়েছে, এরপর আমি সেই মাসআলাটিকে অনুসরণ করেছি। কারণ প্রথম হওয়ার মধ্যে এক প্রকার অগ্রাধিকারের দিক রয়েছে, এবং এতে আরেকটি উপকারিতা রয়েছে যা হলো এর মূল অবস্থান বজায় রাখা, যাতে পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে বিদ্যমান এর শাখা মাসআলাগুলোর ওপর অন্য কিছু অগ্রাধিকার না পায়।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ২৫)
منها، مع قطع النظر عن تفرقها وتقديم بعضها على بعض، وإذا استطرد من ذكر مسألة إلى أخرى وكانت من باب آخر؛ فصلتها ووضعتها في بابها، وإذا لم يمكن فصلها إلا بزيادة أو نقص لارتباطها بما قبلها؛ تركتها، وربما أشير في بابها إلى الموضع الذي ذكرت فيه، وإذا أشار إلى بعض المسائل بدون ذكر حكمها اكتفاء بما قدمه في أول القاعدة؛ أضفت ما ذكره في أولها إلى تلك المسألة تتميمًا للفائدة؛ لتوقفها عليه، ولكونه في حكم الملحق بها … ).

6 - حواشي محب الدين أحمد ابن نصر الله البغدادي المتوفى سنة (844 هـ)، وهو من تلاميذ المصنف.

وقيل: إن لمحب الدين البغدادي مختصرًا للقواعد أيضًا، ذكره عنه ابن المبرد(1).

7 - ترتيب فروع قواعد ابن رجب، لمحمد بن عثمان بن حسين الجزيري ثم القاهري الحنبلي، المتوفى سنة (888 هـ)، حيث شرع في ترتيبها كما ذكر ابن حميد(2).

8 - نيل الأرب من قواعد ابن رجب، للشيخ محمد بن صالح العثيمين، المتوفى سنة (1421 هـ)، وهو مطبوع.

9 - فهرست كتاب القواعد، لجلال الدين نصر الله البغدادي - ولعله والد محب الدين صاحب الحواشي -، المتوفى سنة (812 هـ)، وألحقناه في فهارس الكتاب.

--------------------------------------------

(1) الجوهر المنضد ص 7.

(2) السحب الوابلة 1/ 998.

সেই বিষয়গুলো থেকে, সেগুলোর বিক্ষিপ্ত হওয়া এবং একটির ওপর অন্যটির অগ্রগণ্য হওয়ার বিষয়টিকে বিবেচনা না করেই। যখন তিনি একটি প্রসঙ্গের আলোচনা থেকে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেছেন যা ভিন্ন কোনো অধ্যায়ের অন্তর্গত, তখন আমি সেটিকে আলাদা করেছি এবং তার নির্দিষ্ট অধ্যায়ে স্থাপন করেছি। আর যদি আগের বিষয়ের সাথে এমন গভীর সম্পর্ক থাকে যে কম-বেশি করা ছাড়া আলাদা করা সম্ভব না হয়, তবে আমি তা সেই অবস্থায় রেখে দিয়েছি। সম্ভবত তার নিজস্ব অধ্যায়ে সেই স্থানের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যেখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে। আর যদি তিনি কোনো মাসআলার বিধান উল্লেখ না করে শুধু কায়দার শুরুতে যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর নির্ভর করে ইঙ্গিত করেন, তবে আমি উপকারের পূর্ণতার জন্য সেই কায়দার শুরুতে যা বর্ণিত হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট মাসআলায় যোগ করে দিয়েছি; কারণ মাসআলাটি তার ওপর নির্ভরশীল এবং সেটি এর পরিশিষ্টের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত ... )।

৬ - মুহিব্বুদ্দীন আহমদ ইবনে নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদী (মৃত ৮৪৪ হি.)-এর টীকা গ্রন্থ, তিনি গ্রন্থকারের অন্যতম ছাত্র ছিলেন।

বলা হয়ে থাকে যে: মুহিব্বুদ্দীন আল-বাগদাদীর 'কাওয়ায়িদ'-এর একটি সংক্ষেপিত রূপও রয়েছে, যা ইবনুল মুবাররাদ তাঁর থেকে উল্লেখ করেছেন(১)।

৭ - তারতীবু ফুরুয়ি কাওয়ায়িদি ইবনি রজব, রচয়িতা মুহাম্মদ বিন উসমান বিন হুসাইন আল-জাযীরী অতঃপর আল-কাহেরী আল-হাম্বলী (মৃত ৮৮৮ হি.), তিনি এটি বিন্যস্ত করতে শুরু করেছিলেন যেমনটি ইবনু হুমাইদ উল্লেখ করেছেন(২)।

৮ - নাইলুল আরাব মিন কাওয়ায়িদি ইবনি রজব, শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (মৃত ১৪২১ হি.), এটি মুদ্রিত।

৯ - ফিহরিসতু কিতাবিল কাওয়ায়িদ, জালালুদ্দীন নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদী (সম্ভবত তিনি টীকা রচয়িতা মুহিব্বুদ্দীনের পিতা) (মৃত ৮১২ হি.), এটি আমরা গ্রন্থের নির্ঘণ্ট অংশে যুক্ত করেছি।

--------------------------------------------

(১) আল-জাওহারুল মুনাদদাদ, পৃষ্ঠা ৭।

(২) আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ ১/৯৯৮।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ২৬)
10 - فهرس فقهي للقواعد، للشيخ فوزان بن سابق سفير المملكة في مصر آنذاك، المتوفى سنة (1373 هـ)، حيث قام بطبع قواعد ابن رجب، وعمل له فهرساً فقهيًّا.

قال ابن بسام: (وهو الذي قام بعمل فهرس منظم ومصوغ صياغة فقهية مفيدة لقواعد ابن رجب، م طبعه على حسابه)(1).

11 - تحفة أهل الطلب في تجريد قواعد ابن رجب، للشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي، المتوفى سنة (1376 هـ)، وهو مطبوع بتحقيق الدكتور/ خالد بن علي المشيقح.

12 - تقريب قواعد ابن رجب، للأستاذ الدكتور/ خالد بن علي المشيقح وفقه الله.

--------------------------------------------

(1) علماء نجد 5/ 380.

১০ - মূলনীতিসমূহের একটি ফিকহ বিষয়ক নির্ঘণ্ট, যা শেখ ফাওজান ইবনে সাবিক কর্তৃক সংকলিত। তিনি তৎকালীন মিশরে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ছিলেন এবং ১৩৭৩ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইবনে রজবের 'কাওয়াইদ' গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন এবং সেটির একটি ফিকহ ভিত্তিক নির্ঘণ্ট তৈরি করেন।

ইবনে বাসসাম বলেন: (তিনিই ইবনে রজবের 'কাওয়াইদ' গ্রন্থের জন্য একটি সুশৃঙ্খল এবং ফিকহি আঙ্গিকে অত্যন্ত উপযোগী নির্ঘণ্ট তৈরি করেন এবং তা নিজস্ব অর্থায়নে মুদ্রণ করেন)(১)।

১১ - তুহফাতু আহলিত তালাব ফি তাজরিদি কাওয়াইদি ইবনি রজব, শেখ আবদুর রহমান ইবনে নাসির আস-সা’দী-এর লেখা, যিনি ১৩৭৬ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। এটি ডক্টর খালিদ ইবনে আলি আল-মুশাইকিহ-এর গবেষণামূলক সম্পাদনায় মুদ্রিত।

১২ - তাকরিবু কাওয়াইদি ইবনি রজব, প্রফেসর ডক্টর খালিদ ইবনে আলি আল-মুশাইকিহ (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) কর্তৃক রচিত।

--------------------------------------------

(১) উলামায়ে নাজদ ৫/ ৩৮০।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌وصف النسخ الخطية

ذُكر في فهارس المخطوطات لقواعد ابن رجب رحمه الله أكثر من خمسة وعشرين نسخة مخطوطة، منها ما هو كامل، ومنها ما فيه نقص يسير، ومنها ما نقصه كبير، وقد وقفنا بحمد الله تعالى على أهمها، واطلعنا على أكثرها، وبعد مقارنتها رأينا أن أولى ما ينبغي الاعتماد عليه في التحقيق سبع نسخ خطية، وهي:

 

-‌‌ النسخة الأولى: نسخة مقابلة على المصنف:

وهي نسخة من أملاك الشيخ سليمان بن صالح بن حمد بن بسام رحمه الله.

ورمزنا لها بـ (أ).

وهي نسخة مودَعة في مكتبة الشيخ سليمان البسام الخاصة في عنيزة، ولها صورة في مكتبة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية تحت رقم (107/ف)، وعدد أوراقها: (209)، وأسطرها (27) سطرًا، وعدد كلمات السطر تتراوح ما بين (15 إلى 18) كلمة تقريبًا.

ولم نتعرف على ناسخها، ويغلب على الظن أنه أحد تلاميذ المصنف؛ لكونه قام بمقابلتها مع مصنفها على نسخته التي كتبها بخطه، وأثبت الحافظ ابن رجب على هذه النسخة خطه، ولا يكون ذلك عادة
পাণ্ডুলিপিসমূহের বর্ণনা

ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'কাওয়ায়িদ' গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সূচিপত্রগুলোতে পঁচিশটিরও বেশি পাণ্ডুলিপির উল্লেখ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু পূর্ণাঙ্গ, কোনোটি সামান্য অসম্পূর্ণ, আবার কোনোটিতে বড় ধরনের অসম্পূর্ণতা রয়েছে। আল্লাহর প্রশংসায় আমরা এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণগুলো সংগ্রহ করতে পেরেছি এবং অধিকাংশ পর্যালোচনা করেছি। সেগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনার পর আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, সম্পাদনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সাতটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা সবচেয়ে সমীচীন হবে। সেগুলো হলো:

 

-‌‌ প্রথম পাণ্ডুলিপি: লেখকের মূল কপির সাথে যাচাইকৃত সংস্করণ:

এটি শায়খ সুলাইমান ইবন সালেহ ইবন হামাদ ইবন বাসসাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর মালিকানাধীন একটি পাণ্ডুলিপি।

আমরা একে (আলিফ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

এই পাণ্ডুলিপিটি উনাইজাতে শায়খ সুলাইমান আল-বাসসামের ব্যক্তিগত পাঠাগারে সংরক্ষিত আছে। ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারে (১০৭/ফা) নম্বরে এর একটি অনুলিপি রয়েছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০৯, প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা ২৭টি এবং প্রতি লাইনের শব্দ সংখ্যা আনুমানিক ১৫ থেকে ১৮টি।

আমরা এর অনুলিপিকারীকে শনাক্ত করতে পারিনি; তবে প্রবল ধারণা এই যে, তিনি লেখকের ছাত্রদেরই একজন ছিলেন। কারণ তিনি লেখকের স্বহস্তে লিখিত মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে এটি যাচাই ও সংশোধন করেছেন। হাফেজ ইবনে রজব এই পাণ্ডুলিপির ওপর নিজ হস্তাক্ষরে সত্যায়ন করেছেন, যা সাধারণত হয় না...
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ২৮)
إلا مع خاصة تلاميذ المصنف، وقد جاء في آخرها بخط مغاير ما نصه: (كاتب هذه النسخة المباركة من تلاميذ ابن رجب كما وجدته في هامش تلك القواعد).

وهي نسخة كاملة وجيدة، كُتبت بخط جميل، وفيها سقط يسير، ومنقوطة ومشكَّلة في كثير من كلماتها، وعليها تملُّكات وأوقاف وأبيات شعر في صفحة العنوان، وفيها تصحيحات وزيادات وبلاغات، وقواعدها مرقمة بالحروف الأبجدية في جانب القاعدة.

وجاء في آخرها مقابلتان:

الأولى: بخط الحافظ ابن رجب رحمه الله، وهي ما يلي: (بلغ مقابلة بالأصل له، ومتمِّمًا عليه بحسب الإمكان في مجالس، وذلك في شهر ذي القعدة سنة ثمان وسبعين وسبعمائة، وكتبه مؤلفه عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي عفا الله عنه، الحمد لله وحده، وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم).

الثانية: بخط مغاير عن خط الحافظ ابن رجب، وهي ما نصه: (ثم قوبلت هذه النسخة على نسخة قرئت على المصنف، فزيد فيها أشياء كثيرة، فصحت بحسب الطاقة والإمكان، وذلك في مجالس، آخرها في شهر ذي القعدة، سنة اثنتين وثمانين وسبعمائة، والحمد لله وحده، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم).

كما جاء في صفحة العنوان ما نصه: (قوبلت هذه النسخة مع مصنفها على أصلها المكتتب بخطه فسح الله تعالى في مدته، فصحت، وكتب عليها خط المقابلة في آخرها، ولله الحمد والمنة).
ব্যতীত কেবল গ্রন্থকারের বিশিষ্ট ছাত্রদের কাছে। এর শেষে ভিন্ন হস্তাক্ষরে নিম্নোক্ত পাঠটি এসেছে: (এই বরকতময় পাণ্ডুলিপির লেখক ইবনে রজবের ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আমি ঐ কায়েদাহসমূহের পার্শ্বটীকায় পেয়েছি)।

এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও উৎকৃষ্ট পাণ্ডুলিপি, যা সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখিত। এতে সামান্য কিছু অংশ বাদ পড়েছে। এর অনেক শব্দ নুকতাযুক্ত ও হরকতবিশিষ্ট। এর শিরোনামের পৃষ্ঠায় মালিকানা স্বত্ব, ওয়াকফনামা এবং কাব্যিক পঙ্ক্তিমালা রয়েছে। এতে সংশোধন, সংযোজন ও পাঠ সমাপ্তির টীকা বিদ্যমান। এর কায়েদাহ বা মূলনীতিগুলো পার্শ্বে আবজাদ বর্ণমালার ক্রমানুসারে সংখ্যায়িত করা হয়েছে।

এর শেষে দু'টি পাঠ-মিলকরণ নোট এসেছে:

প্রথমটি: হাফেজ ইবনে রজব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর হস্তাক্ষরে, যা নিম্নরূপ: (কয়েক মজলিসে যথাসম্ভব এর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলকরণ এবং এর পরিপূরণ সম্পন্ন হয়েছে। এটি সাতশ আটাত্তর হিজরীর জিলকদ মাসে সম্পন্ন হয়। এটি এর লেখক আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলি লিখেছেন—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য, এবং মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)।

দ্বিতীয়টি: হাফেজ ইবনে রজবের হস্তাক্ষর থেকে ভিন্ন এক হস্তাক্ষরে, যার পাঠ নিম্নরূপ: (অতঃপর এই পাণ্ডুলিপিটি এমন একটি কপির সাথে মিলানো হয়েছে যা গ্রন্থকারের সম্মুখে পাঠ করা হয়েছিল। ফলে এতে অনেক বিষয় সংযোজন করা হয়েছে এবং সাধ্যমতো একে নির্ভুল করা হয়েছে। এটি কয়েক মজলিসে সম্পন্ন হয়েছে, যার সর্বশেষ মজলিস ছিল সাতশ বিরাশি হিজরীর জিলকদ মাসে। সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য, এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)।

শিরোনামের পৃষ্ঠায় আরও যা বর্ণিত হয়েছে তা নিম্নরূপ: (এই পাণ্ডুলিপিটি এর গ্রন্থকারের উপস্থিতিতে তাঁর স্বহস্তে লিখিত মূল কপির সাথে মিলানো হয়েছে—আল্লাহ তাআলা তাঁর হায়াত দীর্ঘায়িত করুন—ফলে এটি নির্ভুল হয়েছে এবং এর শেষে মিলকরণের স্বাক্ষর করা হয়েছে। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ)।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ২৯)
وفي هامش هذه النسخة فوائد وتعليقات، ذكرناها في مواطنها من الكتاب، ويأتي الكلام على وصف هذه الحاشية في مبحث التعريف بالحواشي.

ولكون هذه النسخة مقابلة على ابن رجب رحمه الله، ومقابلتها متأخرة عن سائر النسخ التي وقفنا عليها، جعلناها أصلًا للتحقيق، ولا نعدل عنها إلى غيرها إلا لسبب كما سيأتي في منهج التحقيق.

وجاء في آخر هذه النسخة فهرس لمسائل الكتاب، بعنوان: (مختصر تقرير القواعد لابن رجب)، تأليف: أبي عبد الله محمد المقدسي الحنبلي، ويقع في (25) ورقة، وهو مستقل في مصورة جامعة الإمام برقم (119/ف).

وهذا الفهرس هو الفهرس المعروف لجلال الدين نصر الله البغدادي.

 

-‌‌ النسخة الثانية: نسخة أخرى مقابلة على المصنف:

نسخة مكتبة أسعد أفندي.

ورمزنا لها بـ (ب).

وهي من مخطوطات مكتبة أسعد أفندي المودعة في المكتبة السليمانية في تركيا، ورقمها (505)، وعدد أوراقها (265)، وعدد أسطرها (23)، وتتراوح الكلمات في السطر ما بين (10 إلى 15) كلمة تقريبًا، ولها صورة في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية برقم (7915 ف).
এই পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় কিছু ফায়েদা এবং টীকা রয়েছে, যা আমরা বইটির সংশ্লিষ্ট স্থানে উল্লেখ করেছি। এই পার্শ্বটীকার বিবরণ টীকা পরিচিতি অধ্যায়ে বিস্তারিত আসবে।

যেহেতু এই পাণ্ডুলিপিটি ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পাণ্ডুলিপির সাথে মুকাবিলা (যাচাই) করা হয়েছে এবং আমাদের নিকট থাকা অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলোর তুলনায় এটি পরবর্তী সময়ের, তাই আমরা এটিকে তাহকিকের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। তাহকিক পদ্ধতিতে বর্ণিত কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া আমরা এটি থেকে বিচ্যুত হইনি।

এই পাণ্ডুলিপির শেষে গ্রন্থের মাসআলাগুলোর একটি সূচিপত্র রয়েছে, যার শিরোনাম হলো: (মুখতাসার তাকরিরুল কাওয়ায়িদ লি ইবনি রজব), লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি। এটি ২৫টি পৃষ্ঠা সম্বলিত এবং ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোফিল্মে ১১৯/ফা নম্বরে স্বতন্ত্রভাবে সংরক্ষিত আছে।

আর এই সূচিপত্রটি জালালুদ্দিন নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদির সুপরিচিত সূচিপত্র।

 

-‌‌ দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: গ্রন্থকারের পাণ্ডুলিপির সাথে মুকাবিলা করা অন্য একটি কপি:

আসআদ এফেন্দি লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি।

আমরা একে (বা) সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

এটি তুরস্কের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আসআদ এফেন্দি লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এর নম্বর ৫০৫, এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৬৫ এবং প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা ২৩। প্রতিটি লাইনে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫টি শব্দ রয়েছে। ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর একটি অনুলিপি ৭৯১৫ ফা নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ৩০)
ولا يعرف ناسخها أيضًا، ويظهر أنه أحد تلاميذ الحافظ ابن رجب أيضًا، لكونها مكتوبة في عصره، وعليها مقابلة ابن رجب بخطِّه.

وقد كُتبت بعض صفحات المخطوط بخطوط أخرى، منها - فيما يظهر - ما هو بخط الحافظ ابن رجب؛ للتشابه الكبير بينه وبين خطه المثبت في المقابلة في آخر المخطوط وخطه المكتوب في هوامش المخطوط.

وهي نسخة واضحة بخط نسخ معتاد، وكاملة بحمد الله تعالى إلا بعض السقط في ثنايا المخطوط، وعليها تصحيحات وزيادات وأثر مقابلات.

وجاء في آخرها ما نصه: (بلغ مقابلة لجميع الكتاب بأصلي الذي بخطي بحضوري، وذلك في مجالس آخرها عاشر شوال، سنة ثلاث وسبعين وسبعمائة، وكتبه مؤلفه عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي عفا الله عنه، وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم).

وفي هامش النسخة تعليقات مفيدة، وحواش مهمة، أثبتناها في مواطنها، ويأتي الكلام عليها في مبحث التعريف بالحواشي.

 

-‌‌ النسخة الثالثة: نسخة علي بن محمد البعلي رحمه الله تعالى:

ورمزنا لها بـ (ج).

وهي نسخة محفوظة في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية برقم (5029/خ ف)، مشتراة من محمد العسافي، وعدد أوراقها (306)، وأسطرها (21)، وكلماتها في السطر الواحد تقريبًا (12 إلى 16) كلمة.
এর অনুলিপিকারকেও জানা যায়নি, এবং এটি প্রতীয়মান হয় যে তিনিও হাফেজ ইবনে রাজাবের অন্যতম ছাত্র ছিলেন, কারণ এটি তাঁর যুগে লিখিত এবং এর ওপর ইবনে রাজাবের স্বহস্তে যাচাইকরণের স্বাক্ষর রয়েছে।

পাণ্ডুলিপিটির কিছু পৃষ্ঠা অন্য হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছে, যার মধ্যে—যা প্রতীয়মান হয়—হাফেজ ইবনে রাজাবের হস্তাক্ষরও রয়েছে; কারণ পাণ্ডুলিপির শেষে যাচাইকরণে প্রমাণিত তাঁর হস্তাক্ষর এবং পাণ্ডুলিপির টীকায় লিখিত তাঁর হস্তাক্ষরের সাথে এর ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।

এটি সাধারণ নাসখ লিপিতে লিখিত একটি স্পষ্ট অনুলিপি, এবং আল্লাহর প্রশংসায় এটি পূর্ণাঙ্গ, তবে পাণ্ডুলিপির মাঝে কিছু অংশ বাদ পড়েছে, এবং এর ওপর সংশোধন, সংযোজন ও যাচাইকরণের চিহ্ন রয়েছে।

এর শেষে যা উদ্ধৃত হয়েছে তার ভাষ্য এই: (আমার উপস্থিতিতে আমার স্বহস্তে লিখিত মূল কপির সাথে পুরো গ্রন্থের যাচাইকরণ সমাপ্ত হয়েছে, আর তা কয়েকটি মজলিসে সম্পন্ন হয়েছে যার শেষটি ছিল সাতশত তিয়াত্তর হিজরির শাওয়াল মাসের দশম তারিখ। এটি লিখেছেন এর লেখক আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রাজাব আল-হানবালি, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)।

অনুলিপিটির টীকায় উপকারী মন্তব্য ও গুরুত্বপূর্ণ পাদটীকা রয়েছে, যা আমরা তাদের নিজ নিজ স্থানে সাব্যস্ত করেছি এবং পাদটীকা পরিচিতি পর্বে এ সম্পর্কে আলোচনা আসবে।

 

-‌‌ তৃতীয় অনুলিপি: আলী বিন মুহাম্মাদ আল-বালি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর অনুলিপি:

আমরা একে (জ) দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

এটি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (৫০২৯/খ ফা) নম্বরে সংরক্ষিত একটি অনুলিপি, যা মুহাম্মদ আল-আসসাফি থেকে ক্রয় করা হয়েছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (৩০৬), পঙক্তি সংখ্যা (২১), এবং প্রতি পঙক্তিতে শব্দ সংখ্যা আনুমানিক (১২ থেকে ১৬) টি।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ৩১)
ناسخها: علي بن محمد بن عباس البعلي الحنبلي، وهو المشهور بـ: ابن اللحام البعلي، تلميذ الحافظ ابن رجب رحمهما الله تعالى، وكان ينسخ كتب شيخه، قال ابن المبرد: (وجدت أكثر كتب ابن رجب بخطه كـ "شرح البخارى" و "القواعد")(1).

والنسخة مكتوبة بخطين مختلفين، وهي واضحة كاملة وفيها سقط يسير، وتصحيحات قليلة، وفيها زيادات يسيرة لا توجد في النسختين الأولتين، وعليها حواش وتعليقات قليلة.

وقد كُتب في آخرها: (كَمَّل آخره تعليقًا: العبد علي بن محمد بن عباس البعلي الحنبلي غفر الله له ولوالديه ولمشايخه ولجميع إخوانه المسلمين، في ليلة يسفر صباحها خامس عشر من شهر ربيع الأول من سنة أربع وثمانين وسبعمائة، أحسن الله تقضيها بخير وعافية بمنِّه وكرمه).

والنسخة من تملكات محمد بن عبد الله بن فيروز الحنبلي المتوفى (1216 هـ)، وقد جاء على صفحة العنوان: (تملكه من فضل ربه العلي محمد بن فيروز الحنبلي).

وفي هذه النسخة حواش وتعليقات يسيرة مقارنة بغيرها من النسخ، وقد أثبتناها في مواطنها.

--------------------------------------------

(1) الجوهر المنضد ص 81.

এর অনুলিপিকারক: আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্বাস আল-বালী আল-হাম্বলী, যিনি ইবনুল লাহহাম আল-বালী নামে প্রসিদ্ধ। তিনি হাফেজ ইবনে রজব (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর ছাত্র ছিলেন এবং তিনি তাঁর শায়খের গ্রন্থসমূহ অনুলিপি করতেন। ইবনুল মুবাররিদ বলেছেন: "আমি ইবনে রজবের অধিকাংশ গ্রন্থই তাঁর হস্তাক্ষরে পেয়েছি, যেমন ‘শারহুল বুখারী’ এবং ‘আল-কাওয়াইদ’।"(১).

পাণ্ডুলিপিটি দুটি ভিন্ন হাতের লেখায় লিখিত। এটি সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ, তবে এতে সামান্য কিছু অংশ বাদ পড়েছে এবং অল্প কিছু সংশোধন রয়েছে। এতে সামান্য কিছু অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যা প্রথম দুটি পাণ্ডুলিপিতে নেই এবং এতে সামান্য কিছু পার্শ্বটীকা ও মন্তব্য রয়েছে।

এর শেষে লেখা হয়েছে: (বান্দা আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্বাস আল-বালী আল-হাম্বলী এর টীকা সমাপ্ত করেছেন—আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে, তার শিক্ষকদের এবং সকল মুসলিম ভাইকে ক্ষমা করুন—সাতশত চুরাশি হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের পনেরো তারিখের প্রাতঃকাল হওয়ার আগের রাতে। আল্লাহ তাঁর করুণা ও দয়াগুণে এর সমাপ্তি কল্যাণ ও নিরাপত্তার সাথে সম্পন্ন করুন)।

পাণ্ডুলিপিটি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ফিরোজ আল-হাম্বলী (মৃত্যু ১২১৬ হি.)-এর মালিকানাধীন ছিল। এর শিরোনাম পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে: (তাঁর সুউচ্চ রবের অনুগ্রহে এর মালিকানা লাভ করেছেন মুহাম্মাদ বিন ফিরোজ আল-হাম্বলী)।

অন্যান্য পাণ্ডুলিপির তুলনায় এই পাণ্ডুলিপিতে সামান্য কিছু পার্শ্বটীকা ও মন্তব্য রয়েছে, যা আমরা যথাস্থানে উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

(১) আল-জাওহারুল মুনাদ্দাদ, পৃ. ৮১।

(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ৩২)
-‌‌ النسخة الرابعة: نسخة المكتبة المحمودية:

ورمزنا لها بـ (د).

وهي نسخة مودعة في المكتبة المحمودية بالمدينة النبوية برقم (1405)، ولها صورة في جامعة الإمام برقم (11148/ف)، وعدد أوراقها (263)، وأسطرها (21) سطر، وكلمات السطر الواحد تتراوح ما بين (14 إلى 16) كلمة.

وناسخها: علي بن محمد العفيف الحنبلي النابلسي، من تلاميذ الحافظ ابن رجب، ونسخها سنة 788 هـ، من نسخة قرئت على المصنف.

وهي نسخة خطها جيد وفيها تصحيحات قليلة، وفي بعض أوراقها تعتيم، وفيها سقط يسير.

جاء في آخرها ما نصه: (وكان الفراغ من نسخها على يد الفقير إلى الله تعالى: علي بن محمد العفيف الحنبلي النابلسي عفا الله عنهم، في رابع عشر شهر رمضان المعظم من شهور سنة ثمان وثمانين وسبعمائة بمنزله بالخضراء من نابلس، من نسخة قرئت على مصنفها فسح الله تعالى في مدته، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم، وحسبنا الله ونعم الوكيل).

وفي هذه النسخة حواش يسيرة جدًّا، أثبتناها في مواطنها.
চতুর্থ পাণ্ডুলিপি: আল-মাকতাবাতুল মাহমুদিয়্যাহ পাণ্ডুলিপি:

এবং আমরা এটিকে (দাল) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

এটি মদীনা নববীয়ার আল-মাকতাবাতুল মাহমুদিয়্যাহ-তে (১৪০৫) নম্বরে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি, এবং জামিয়াতুল ইমাম-এ এর একটি অনুলিপি (১১১৪৮/ফা) নম্বরে বিদ্যমান। এর পত্র সংখ্যা (২৬৩) টি, এবং এর প্রতি পৃষ্ঠায় (২১) টি করে লাইন রয়েছে। প্রতিটি লাইনের শব্দ সংখ্যা (১৪ থেকে ১৬) এর মধ্যে।

এর অনুলিপিকারক হলেন: আলী বিন মুহাম্মাদ আল-আফিফ আল-হাম্বালী আন-নাবুলুসি, যিনি হাফেজ ইবনে রাজাবের অন্যতম ছাত্র ছিলেন। তিনি এটি ৭৮৮ হিজরি সনে এমন একটি পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছেন যা মূল লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছিল।

এটি একটি সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখিত পাণ্ডুলিপি এবং এতে সামান্য কিছু সংশোধন রয়েছে। এর কিছু পাতায় অস্পষ্টতা এবং কিছু জায়গায় সামান্য বাদ পড়ে যাওয়া অংশ রয়েছে।

এর শেষে যা বর্ণিত হয়েছে তার মূল ভাষ্য এই: (আল্লাহ তায়ালার মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা: আলী বিন মুহাম্মাদ আল-আফিফ আল-হাম্বালী আন-নাবুলুসি—আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করুন—এর অনুলিপি করার কাজ সমাপ্ত করেন সাতশত আটাশি হিজরি সনের সম্মানিত রমজান মাসের চৌদ্দ তারিখে নাবলুসের আল-খাদরা নামক স্থানে তাঁর নিজ বাসভবনে। এটি এমন একটি পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে যা এর লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছিল, আল্লাহ তায়ালা তাঁর আয়ু দীর্ঘায়িত করুন। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক)।

এই পাণ্ডুলিপিতে খুব সামান্য কিছু টীকা রয়েছে, যা আমরা স্ব-স্ব স্থানে যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) কাওয়ায়িদু ইবনু রাজাব - ত-রাকায়িয (পৃষ্ঠা: ৩৩)
-‌‌ النسخة الخامسة: نسخة الشيخ إبراهيم بن ضويان:

ورمزنا لها بـ (هـ).

وهي نسخة محفوظة في دارة الملك عبد العزيز في الرياض برقم (2562)، من ضمن مجموعة الرشيد برقم (6)، وعليها تملك ناسخها ابن ضويان.

ناسخها: إبراهيم بن محمد بن سالم الضويان، المتوفى سنة (1353 هـ)، صاحب كتاب منار السبيل في شرح الدليل.

وجاء في آخرها: (بقلم الفقير المقر بالذنب والتقصير: إبراهيم بن محمد بن سالم الضويان غفر الله له ولوالديه ومشايخه وإخوانه، فرغ من نسخها سنة 1308، 23 ر.

وقد نقلتها من نسخة قديمة صحيحة كاتبها موسى بن أحمد بن موسى بن عبد الله بن أيوب المرداوي الحنبلي المقدسي، ذكر أنه فرغ من نسخها في رابع شهر رجب الفرد من شهور سنة 897، سبع وستين وثمانمائة، بمدرسة شيخ الإسلام أبي عمر رضي الله عنه، قال: وكتبته من نسخة قرئت على مصنفها رحمه الله تعالى ورضي عنه وأرضاه والحمد لله وحده، قلت: وصححت أخيرًا على نسختين ظاهرهما الصحة، تم).

وفي أول النسخة فهرست قواعد الفقه، فهرسها الشيخ ابن ضويان بنفسه، وقد جاء في (9) أوراق.

وفي هامشها تعليقات وفوائد من خط ابن ضويان، أثبتناها في مواطنها.
পঞ্চম পাণ্ডুলিপি: শাইখ ইবরাহীম ইবনে দ্বোইয়ান-এর অনুলিপি:

আমরা এটিকে (হাঁ) চিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করেছি।

এটি রিয়াদের দারাতে আল-মালিক আবদুল আজিজ-এ (২৫৬২) নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে, যা আর-রাশীদ সংগ্রহের (৬) নম্বরের অন্তর্ভুক্ত। এতে এর লিপিকার ইবনে দ্বোইয়ান-এর মালিকানা স্বত্ব রয়েছে।

এর লিপিকার: ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিম আদ-দ্বোইয়ান, যিনি (১৩৫৩ হিজরি) সালে মৃত্যুবরণ করেছেন, তিনি 'মানারুস সাবীল ফী শারহিদ দালীল' গ্রন্থের লেখক।

এর শেষে উল্লেখ আছে: (গুনাহ ও ত্রুটির কথা স্বীকারকারী অধম বান্দা ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিম আদ-দ্বোইয়ান-এর কলমে; আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে, তার উস্তাদদের এবং তার ভাইদের ক্ষমা করুন। এটি অনুলিপি করার কাজ শেষ হয়েছে ১৩০৮ হিজরি সালের ২৩শে রবিউল আউয়াল।

এবং আমি এটি একটি প্রাচীন ও বিশুদ্ধ অনুলিপি থেকে নকল করেছি, যার লেখক ছিলেন মুসা ইবনে আহমাদ ইবনে মুসা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আইয়ুব আল-মারদাউয়ি আল-হাম্বলি আল-মাকদিসি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এর অনুলিপি করার কাজ শেষ করেছেন ৮৯৭ হিজরি (আটশত সাতানব্বই) সালের পৃথক মাস রজবের চার তারিখে, শাইখুল ইসলাম আবু উমর (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মাদরাসায়। তিনি বলেন: আমি এটি এমন একটি অনুলিপি থেকে লিখেছি যা মূল লেখকের নিকট পাঠ করা হয়েছিল, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন, আর সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আমি (ইবনে দ্বোইয়ান) বলছি: পরিশেষে আমি এটি আরও দুটি অনুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করেছি যে দুটি বাহ্যত বিশুদ্ধ ছিল, সমাপ্ত)।

পাণ্ডুলিপিটির শুরুতে ফিকহী মূলনীতির (কাওয়ায়েদুল ফিকহ) একটি সূচিপত্র রয়েছে, যা শাইখ ইবনে দ্বোইয়ান নিজেই তৈরি করেছেন এবং এটি (৯) পৃষ্ঠাব্যাপী।

এর পার্শ্বটীকায় ইবনে দ্বোইয়ানের হস্তলিপিতে বিভিন্ন মন্তব্য ও শিক্ষণীয় টীকা রয়েছে, যা আমরা যথাস্থানে সংযোজন করেছি।