(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
مشتبهات القرآن   (الكسائي)

القسم: التجويد والقراءات


الكتاب: مشتبهات القرآن

المؤلف: علي بن حمزة بن عبد الله الأسدي بالولاء، الكوفي، أبو الحسن الكسائي (ت 189هـ)

الناشر: دار المنار للنشر والتوزيع

حققه وقدم له وعلق عليه: د. محمد محمد داود

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 161

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433

মুশতাবিহাতুল কুরআন   (আল-কিসায়ী)

বিভাগ: তাজবিদ ও কিরাত


গ্রন্থ: মুশতাবিহাতুল কুরআন

লেখক: আলী বিন হামজা বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদী বিল-ওয়ালা, আল-কুফী, আবুল হাসান আল-কিসায়ী (মৃত্যু ১৮৯ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল মানার লিন-নাশরি ওয়াত-তাওজি

সম্পাদনা, উপস্থাপনা ও টীকা প্রদান করেছেন: ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ দাউদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬১

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রণকপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مشتبهات القرآن]ـ

المؤلف: علي بن حمزة بن عبد الله الأسدي بالولاء، الكوفي، أبو الحسن الكسائي (المتوفى: 189هـ)

الناشر: دار المنار

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহ]

লেখক: আলী ইবনে হামজাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদি (মাওলা হিসেবে), আল-কুফি, আবু হাসান আল-কিসায়ি (মৃত্যু: ১৮৯ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল মানার

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة

‌‌مقدّمة المحقّق

بسم الله الرّحمن الرّحيم بسم الله الرحمن الرحيم، والحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام على نبي الله ورسوله سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:

فلم تشهد الدنيا كتابا نال اهتمام أهله مثل القرآن الكريم، فقد توجّهت جهود القدماء- أثابهم الله خيرا- لخدمة هذا الكتاب الكريم في مجالات شتّى ونواح متعددة. ومن بين هذه المجالات التي نالت اهتمام القدماء العناية بالمتشابه لفظا، ومعنى.

والكتاب الذي بين أيدينا يمثّل بداية مبكّرة لنشأة التأليف في المتشابه اللفظي في القرن الثاني الهجري.

لقد اهتمّ القدماء بالتأليف في هذا المجال بدافع العون على حفظ كتاب الله، وتثبيت الحفظ، والبعد عن الوقوع في اللبس والخطأ فيما اشتبه من ألفاظه.

ويتميز هذا الكتاب عن غيره من الكتب المناظرة له في نفس الموضوع ببساطة الأسلوب، وسهولة البحث فيه، حيث إنه مقسّم إلى أبواب، وكل باب له موضوع محدّد، وكما أن الكتاب يجمع متشابه القرآن من الألفاظ، فقد فاق الكتاب غيره، بجمع المتشابه من التراكيب، مما يعين حفّاظ القرآن على معرفة المتشابه من الألفاظ، والتراكيب، كما يحصر عدد الأحرف
উপস্থাপনা

সম্পাদকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর নবী ও রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:

পৃথিবী এমন কোনো কিতাব দেখেনি যা তার অনুসারীদের নিকট থেকে পবিত্র কুরআনের মতো গুরুত্ব লাভ করেছে। প্রাচীন মনীষীদের প্রচেষ্টা—আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও বিচিত্র দিক থেকে এই মহিমান্বিত কিতাবের সেবায় নিবেদিত হয়েছে। প্রাচীনদের মনোযোগ আকর্ষণকারী এই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শাব্দিক ও অর্থগত মুতাশাবিহ (সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতসমূহ) সংক্রান্ত পরিচর্যা।

আমাদের হস্তগত এই গ্রন্থটি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে শাব্দিক মুতাশাবিহ (সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দাবলি) বিষয়ে গ্রন্থ রচনার সূচনালগ্নের একটি প্রাথমিক নিদর্শন।

প্রাচীনগণ আল্লাহর কিতাব হিফজ বা মুখস্থ করতে সাহায্য করা, হিফজকে সুদৃঢ় করা এবং কুরআনের সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দাবলির ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও ভুলের শিকার হওয়া থেকে দূরে থাকার অনুপ্রেরণা থেকেই এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেছেন।

একই বিষয়ের অন্যান্য সমপর্যায়ের গ্রন্থাবলি থেকে এই কিতাবটি তার সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি এবং সহজে অনুসন্ধানযোগ্য হওয়ার কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এটি বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত এবং প্রতিটি অধ্যায়ের একটি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু রয়েছে। এই গ্রন্থটি যেমন কুরআনের সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দাবলিকে একত্র করেছে, তেমনি এটি সাদৃশ্যপূর্ণ বাক্যগঠনসমূহ (তরাকীব) সংকলন করার ক্ষেত্রে অন্যান্য কিতাবকে ছাড়িয়ে গেছে; যা কুরআন হাফেজদের সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দ ও বাক্যগঠন সম্পর্কে জ্ঞান লাভে সহায়তা করে এবং হরফের সংখ্যাও নিরূপণ করে দেয়...
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
(المواضع)، ثم يعرضها بعد ذلك، موضّحا اسم السورة ورقم الآية؛ ليرجع القارئ إليها في سهولة ويسر.

وكم يسرّني أن أقدّم هذا الكتاب لطلبة معهد معلّمي القرآن الكريم بالمركز الإسلامي بمسجد العمرانية؛ ليكون عونا لهم على ضبط حفظ المتشابه من الآيات من ناحية، ومن ناحية أخرى؛ لننال جميعا شرف التلمذة على إمام عظيم من أئمة القرآن الكريم في القرن الثاني الهجري قريب العهد بالعصر الذهبي للإسلام، عصر الرسالة، الذي نزل فيه القرآن على قلب سيّدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وأضرع إلى الله تعالى أن يتقبّل مني هذا الجهد المتواضع؛ محبّة للقرآن وأهله؛ عسى أن ننال شفاعتهم ومنزلتهم يوم يرتّلون … ويرقون المنازل في جنات النعيم.

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

والحمد لله ربّ العالمين.

 

خادم القرآن الكريم

د. محمد محمد داود

معهد معلمي القرآن الكريم بمسجد العمرانية- جيزة ت: 5685122
(স্থানসমূহ), এরপর তিনি সেগুলো উপস্থাপন করেছেন, সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে; যাতে পাঠক অত্যন্ত সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে সেগুলোর দিকে ফিরে যেতে পারেন।

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমি এই বইটি উমরানিয়া মসজিদ সংলগ্ন ইসলামি সেন্টারের 'কুরআনুল কারীম শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট'-এর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পেশ করছি; যাতে একদিকে এটি তাদের জন্য আয়াতের মুতাশাবিহ (সদৃশ) বিষয়গুলো আয়ত্তে আনার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়, আর অন্যদিকে, আমরা যেন হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর কুরআনুল কারীমের একজন মহান ইমামের শিষ্যত্ব লাভের গৌরব অর্জন করতে পারি, যিনি ইসলামের স্বর্ণযুগ তথা রিসালাতের যুগের নিকটবর্তী সময়ের ছিলেন, যে যুগে আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর হৃদয়ে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি কুরআন ও কুরআনের ধারকদের প্রতি ভালোবাসার স্মারক হিসেবে আমার এই বিনম্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন; সম্ভবত এর মাধ্যমে আমরা কিয়ামতের দিন তাদের শাফায়াত ও মর্যাদা লাভ করতে পারব, যেদিন তারা তিলাওয়াত করবেন … এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতের সুউচ্চ স্তরসমূহে আরোহণ করবেন।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

কুরআনুল কারীমের খাদেম

ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ দাউদ

উমরানিয়া মসজিদস্থ কুরআনুল কারীম শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট- গিজা, টেলিফোন: ৫৬৮৫১২২
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الكسائي (1)

اسمه: علي بن حمزة بن عبد الله الأسديّ الكوفيّ.

كنيته: أبو الحسن.

لقبه: الكسائيّ. وأصح الأقوال وأشهرها في سبب تسميته بالكسائيّ القول الذي روي عنه حين سئل عن سبب هذه التسمية؛ فقال: لأني أحرمت في كساء (2).

--------------------------------------------

(1) التاريخ الصغير 2/ 247، والتاريخ الكبير 6/ 286، والجرح والتعديل 6/ 182، ومراتب النحويين 120 - 122، وطبقات النحويين 127 - 130، والفهرست لابن النديم 29، وتاريخ بغداد 11/ 403 - 415، والأنساب 482، ونزهة الألباء 58 - 64، واللباب 3/ 40، وإرشاد الأريب 13/ 167 - 203، ومعجم البلدان 2/ 28، ووفيات الأعيان 3/ 295 - 297، وسير أعلام النبلاء 9/ 131 - 134، ومرآة الجنان 1/ 421 - 422، والبداية والنهاية 11/ 201 - 202، وغاية النهاية 1/ 535 - 540، وتهذيب التهذيب 7/ 313 - 314، والنجوم الزاهرة 2/ 130، وبغية الوعاة 2/ 162 - 164، والمزهر 2/ 407، وطبقات المفسرين للداودي 1/ 399، وشذرات الذهب 1/ 321.

(2) طبقات الزبيدي 139، وتاريخ بغداد 11/ 404، ونزهة الألباء 69، وغاية النهاية 1/ 539، وبغية الوعاة 2/ 162، وشذرات الذهب 1/ 321.
আল-কিসাঈ (১)

তাঁর নাম: আলী ইবনে হামজাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদি আল-কুফি।

তাঁর কুনিয়াত (উপনাম): আবুল হাসান।

তাঁর লকব (উপাধি): আল-কিসাঈ। তাঁর আল-কিসাঈ নামকরণের কারণ সম্পর্কে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ বক্তব্য হলো সেটি, যা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যখন তাঁকে এই নামকরণের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; তখন তিনি বলেছিলেন: কারণ আমি একটি চাদর (কিসা) পরিহিত অবস্থায় ইহরাম বেঁধেছিলাম (২)।

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখুস সাগির ২/ ২৪৭, আত-তারিখুল কবির ৬/ ২৮৬, আল-জারহু ওয়াত তা'দিল ৬/ ১৮২, মারাতুবুন নাহবিইয়িন ১২০ - ১২২, তাবাকাতুন নাহবিইয়িন ১২৭ - ১৩০, ইবনুন নাদিম রচিত আল-ফিহরিস্ত ২৯, তারিখে বাগদাদ ১১/ ৪০৩ - ৪১৫, আল-আনসাব ৪৮২, নুযহাতুল আলিব্বা ৫৮ - ৬৪, আল-লুবাব ৩/ ৪০, ইরশাদুল আরিব ১৩/ ১৬৭ - ২০৩, মু'জামুল বুলদান ২/ ২৮, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/ ২৯৫ - ২৯৭, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৯/ ১৩১ - ১৩৪, মিরআতুল জিনান ১/ ৪২১ - ৪২২, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/ ২০১ - ২০২, গায়াতুন নিহায়া ১/ ৫৩৫ - ৫৪০, তাহযিবুত তাহযিব ৭/ ৩১৩ - ৩১৪, আন-নুজুমুয যাহিরা ২/ ১৩০, বুগয়াতুল উয়াত ২/ ১৬২ - ১৬৪, আল-মুযহির ২/ ৪০৭, দাউদি রচিত তাবাকাতুল মুফাসসিরিন ১/ ৩৯৯, শাযারাতুয যাহাব ১/ ৩২১।

(২) তাবাকাতুয যুবাইদি ১৩৯, তারিখে বাগদাদ ১১/ ৪০৪, নুযহাতুল আলিব্বা ৬৯, গায়াতুন নিহায়া ১/ ৫৩৯, বুগয়াতুল উয়াত ২/ ১৬২, শাযারাতুয যাহাব ১/ ৩২১।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌حياته العلمية:

كانت البداية بالكوفة؛ حيث حفظ القرآن الكريم مشافهة بالتلقي عن قرّاء الكوفة في عصره وأشهرهم حمزة بن حبيب الزيات (1).

ويظهر أن حفظه للقرآن لم يصاحبه علم وفقه؛ حيث تشير المصادر التي وردت بها ترجمة الكسائيّ إلى أنّه تعلم النحو على كبر، وسببه أنه جاء إلى قوم وقد ناله التعب فقال: قد عييت. فقالوا له: تجالسنا وأنت تلحن! قال:

وكيف لحنت؟ قالوا: إن كنت أردت من انقطاع الحيلة، فقل: عييت، وإن أردت من التعب، فقل: أعييت.

فأنف من هذه الكلمة، وقام من فوره وسأل عمّن يعلّم النحو، فأرشدوه إلى معاذ الهراء، فلزمه حتى أنفذ ما عنده، ثم خرج إلى البصرة، فلقي الخليل وجلس في حلقته (2).

 

‌‌الدأب والمثابرة والتّفاني في طلب اللّغة من مصادرها

: لما جلس الكسائيّ في حلقة الخليل، قال له رجل من الأعراب: تركت أسدا وتميما، وعندها الفصاحة، وجئت إلى البصرة؟ فقال للخليل: من أين أخذت علمك هذا؟ فقال: من بوادي الحجاز، ونجد، وتهامة .. فخرج الكسائيّ إلى البادية، وأخذ يسأل عن لغتهم، ويكتب عنهم ما يروونه.

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 11/ 408، وغاية النهاية 1/ 538.

(2) تاريخ بغداد 11/ 404، مفتاح السعادة 1/ 130.
তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন:

সূচনা হয়েছিল কুফায়; সেখানে তিনি তাঁর সমসাময়িক কুফার কারীগণের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন, যাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন হামযাহ বিন হাবিব আল-যাইয়াত (১)।

প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর কুরআন হিফয করার সাথে গভীর জ্ঞান ও ফিকহ ছিল না; কারণ কিসায়ীর জীবনী সম্বলিত উৎসগুলো ইঙ্গিত করে যে, তিনি অধিক বয়সে নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেছিলেন। এর কারণ ছিল এই যে, তিনি একদল লোকের নিকট আসলেন যখন তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত ছিলেন, তখন তিনি বললেন: ‘আইয়ীতু’ (আমি অপারগ হয়েছি)। তারা তাঁকে বলল: আপনি আমাদের সাথে বসেন অথচ আপনি ব্যাকরণে ভুল করেন! তিনি বললেন:

আমি কীভাবে ভুল করেছি? তারা বলল: আপনি যদি কৌশলহীনতা বা উপায়হীনতা বুঝাতে চান, তবে বলুন: ‘আইয়ীতু’, আর যদি ক্লান্তি বুঝাতে চান, তবে বলুন: ‘আ'ইয়াইতু’।

এই কথাটি তাঁর আত্মসম্মানে লাগল, তিনি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালেন এবং কে নাহু শিক্ষা দেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তারা তাঁকে মুয়াজ আল-হাররার পথ নির্দেশ করল। তিনি তাঁর সান্নিধ্যে লেগে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর নিকট যা (জ্ঞান) ছিল তা সমাপ্ত করলেন। এরপর তিনি বসরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন, সেখানে আল-খালিলের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো এবং তিনি তাঁর পাঠচক্রে উপবেশন করলেন (২)।

 

ভাষার উৎসসমূহ থেকে তা অন্বেষণে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ও একনিষ্ঠতা

: যখন কিসায়ী আল-খালিলের পাঠচক্রে বসলেন, তখন এক বেদুইন ব্যক্তি তাঁকে বলল: আপনি আসাদ ও তামীম (গোত্র)-কে ছেড়ে আসলেন যেখানে সাবলীলতা ও বিশুদ্ধতা রয়েছে, আর আপনি বসরায় আসলেন? তখন তিনি আল-খালিলকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি আপনার এই জ্ঞান কোথা থেকে অর্জন করেছেন? তিনি বললেন: হিজায, নজদ এবং তিহামার মরুপ্রান্তর থেকে... অতঃপর কিসায়ী মরুভূমির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন এবং তাদের ভাষা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন এবং তারা যা বর্ণনা করত তা লিখে নিতেন।

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ ১১/৪০৮, এবং গায়াতুন নিহায়া ১/৫৩৮।

(২) তারিখ বাগদাদ ১১/৪০৪, মিফতাহুস সা’আদাহ ১/১৩০।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
وبعد ما دون الكسائيّ عن العرب وحفظ عنهم، عاد إلى مجلس الخليل بالبصرة فوجده قد مات، وجلس في موضعه يونس بن حبيب، فجرت بينهما مسائل ومناظرات، ظهر فيها علم الكسائيّ، فأقر له يونس فيها وصدّره موضعه (1).

وكان هذا سببا في رقيّ جديد للكسائيّ حيث انتقل إلى بغداد، واتصل بالخلفاء العباسيين، وأصبح من طائفة المؤدّبين لأبناء الخلفاء. وكان إلى جانب عمله هذا، يقرئ الناس القرآن الكريم، ويعلمهم النحو واللغة في بغداد.

 

‌‌الكسائيّ وإقراء القرآن الكريم

: عرف الكسائيّ مؤدّبا ومعلّما، لكن صيته ذاع وملأ الآفاق؛ بسبب إقراء القرآن الكريم، فهو أحد القرّاء السبعة المشهورين، وقد قرأ عليه خلق كثير، ببغداد، وبالرقة، وغيرهما، وتفيد المصادر أن الكسائيّ حين انتقل إلى بغداد، أقرأ بها زمانا بقراءة حمزة، ثم اختار لنفسه قراءة، حتى انتهت إليه رئاسة الإقراء بالكوفة، وحسبنا هنا قول الخطيب البغدادي: «كان الكسائيّ واحد الناس في القرآن، يكثرون عليه حتى لا يضبط الأخذ عليهم، فيجمعهم ويجلس على كرسي، ويتلو القرآن من أوله إلى آخره، وهم يستمعون، حتى

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 11/ 404، نزهة الألباء 68، إنباه الرواة 2/ 257.
কিসায়ি আরবদের থেকে যা কিছু সংকলন এবং মুখস্থ করেছিলেন, তা করার পর তিনি বসরার খলিলের মজলিসে ফিরে এলেন। তবে তিনি তাকে মৃত অবস্থায় পেলেন এবং তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ইউনুস বিন হাবিবকে বসা অবস্থায় পেলেন। এরপর তাদের উভয়ের মধ্যে বিভিন্ন মাসআলা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হলো, যাতে কিসায়ির জ্ঞান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠল। ফলে ইউনুস তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিলেন এবং তাকে নিজ স্থানে আসীন করলেন (১)।

এটি কিসায়ির জন্য এক নতুন উন্নতির কারণ হয়ে দাঁড়াল, যার ফলে তিনি বাগদাদে স্থানান্তরিত হলেন এবং আব্বাসীয় খলিফাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করলেন। তিনি খলিফাদের সন্তানদের শিক্ষকদের দলভুক্ত হলেন। এই কাজের পাশাপাশি তিনি বাগদাদে মানুষকে পবিত্র কুরআন পাঠ করাতেন এবং তাদের নাহু (ব্যাকরণ) ও ভাষা শিক্ষা দিতেন।

 

‌‌কিসায়ি এবং পবিত্র কুরআন পাঠদান

: কিসায়ি একজন শিক্ষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তবে পবিত্র কুরআন পাঠদানের কারণে তার খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং দিগন্তব্যাপী বিস্তৃত হয়েছিল। তিনি সাতজন প্রসিদ্ধ কারীর মধ্যে একজন। বাগদাদ, রাক্কা এবং অন্যান্য স্থানে বহু মানুষ তার কাছে কুরআন পাঠ করেছে। উৎসসমূহ থেকে জানা যায় যে, কিসায়ি যখন বাগদাদে স্থানান্তরিত হন, তখন তিনি সেখানে দীর্ঘকাল হামজার কিরাত অনুযায়ী পাঠদান করেন। এরপর তিনি নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র কিরাত বেছে নেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত কুফায় কুরআন পাঠদানের নেতৃত্ব তার হাতে অর্পিত হয়। আমাদের জন্য এখানে খতিব বাগদাদীর উক্তিটিই যথেষ্ট: «কুরআনের ক্ষেত্রে কিসায়ি ছিলেন সমকালীনদের মধ্যে অনন্য। তার কাছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এত বেশি হতো যে, তিনি সবার থেকে পাঠ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না। ফলে তিনি সবাইকে একত্রিত করতেন এবং একটি চেয়ারে বসতেন; তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং তারা তা শ্রবণ করত, যতক্ষণ না...»

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ ১১/ ৪০৪, নুযহাতুল আলিব্বা ৬৮, ইনবাহুর রুওয়াত ২/ ২৫৭।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
كان بعضهم ينقط المصاحف على قراءته، وآخرون يتبعون مقاطعه ومباديه، فيرسمونها في ألواحهم وكتبهم (1).

 

‌‌شيوخ الكسائيّ

: تربى الكسائيّ في حجر أكابر العلم في النحو واللغة، وعلوم القرآن وقراءاته في زمنه، فأفاد منهم، وكان لذلك عظيم الأثر في تكوين شخصيته العلمية، ونكتفي هنا بذكر أهم وأشهر من أخذ عنهم، فقد سمع الكسائيّ من:

(جعفر الصادق (2)، والأعمش (3)، وزائدة (4)، وسليمان بن أرقم (5)) (6)،

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 11/ 409، وإنباه الرواة 2/ 264.

(2) جعفر الصادق بن محمد الباقر علي زين العابدين بن الحسين سبط النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ت 148 هـ، انظر وفيات الأعيان (1/ 327).

(3) الأعمش: سليمان بن مهران الأسدي ولاء (مولى بني أسد) أبو محمد الأعمش، ت 148 هـ، تاريخ بغداد (9/ 3).

(4) زائدة بن قدامة أبو الصلت الثقفي، ت 161 هـ، انظر غاية النهاية (1/ 288).

(5) سليمان بن أرقم أبو معاذ البصري، انظر تاريخ بغداد (9/ 13).

(6) معرفة القراء الكبار على الطبقات والأمصار ص 121.
তাদের কেউ কেউ তাঁর কিরাআত অনুযায়ী মুসহাফগুলোতে নুকতা প্রদান করতেন, আবার অন্যরা তাঁর বিরতি ও প্রারম্ভের স্থানগুলো অনুসরণ করতেন এবং তা তাঁদের তক্তি ও বইপত্রে লিপিবদ্ধ করতেন (১)।

 

‌‌আল-কিসায়ীর শিক্ষকগণ

: আল-কিসায়ী তাঁর সময়ের নাহু, লুগাত, কুরআনের ইলম এবং কিরাআতের শ্রেষ্ঠ আলেমদের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়েছেন এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হয়েছেন। তাঁর ইলমি ব্যক্তিত্ব গঠনে এর এক বিশাল প্রভাব ছিল। আমরা এখানে শুধুমাত্র তাঁদের মধ্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের উল্লেখ করছি যাঁদের কাছ থেকে তিনি ইলম গ্রহণ করেছেন। আল-কিসায়ী যাঁদের কাছ থেকে শুনেছেন তারা হলেন:

(জাফর আস-সাদিক (২), আল-আ’মাশ (৩), যায়িদাহ (৪), এবং সুলাইমান বিন আরকাম (৫)) (৬),

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ ১১/ ৪০৯, এবং ইনবাহুর রুওয়াত ২/ ২৬৪।

(২) জাফর আস-সাদিক বিন মুহাম্মদ আল-বাকির বিন আলি যাইনুল আবিদীন বিন আল-হুসাইন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাতি, মৃত্যু ১৪৮ হিজরি, দেখুন ওফায়াতুল আ’ইয়ান (১/ ৩২৭)।

(৩) আল-আ’মাশ: সুলাইমান বিন মিহরান আল-আসাদি (বনু আসাদের আযাদকৃত দাস), আবু মুহাম্মদ আল-আ’মাশ, মৃত্যু ১৪৮ হিজরি, তারিখ বাগদাদ (৯/ ৩)।

(৪) যায়িদাহ বিন কুদামাহ আবুস সালত আস-সাকাফি, মৃত্যু ১৬১ হিজরি, দেখুন গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ২৮৮)।

(৫) সুলাইমান বিন আরকাম আবু মুয়াজ আল-বাসরি, দেখুন তারিখ বাগদাদ (৯/ ১৩)।

(৬) মারিফাতুল কুররা আল-কিবার আলাত তাবাকাত ওয়াল আমসার, পৃষ্ঠা ১২১।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
والأخفش (1)، والخليل بن أحمد (2).

وقرأ الكسائيّ القرآن وجوّده على حمزة الزيات (3)، وعيسى بن عمر الهمداني (4).

 

‌‌تلامذة الكسائيّ

: تأتي أهمية تلامذة العالم من حيث إنهم امتداد لعلمه وفكره في الأجيال المقبلة، وكم من العلماء لاح ذكرهم وضاء بسبب النشاط الملحوظ والجهد المثمر الذي بذله تلامذتهم في نشر علوم شيخهم.

--------------------------------------------

(1) الأخفش: سعيد بن مسعدة أبو الحسن الأخفش، ت 215 هـ، انظر: طبقات الزبيدي. (74)، وقد ورد ذكر ذلك في أخبار النحويين البصريين، وإنباه الرواة (2/ 273).

(2) الخليل بن أحمد الفراهيدي أبو عبد الرحمن الأزدي البصري، ت 175 هـ. انظر: إنباه الرواة (1/ 341)، وقد ورد ذكر ذلك في غاية النهاية (1/ 275)، ومفتاح السعادة (1/ 130).

(3) حمزة بن حبيب بن عمارة بن إسماعيل أبو عمارة الزيات الكوفي، ت 156 هـ، انظر:

وفيات الأعيان (2/ 216)، وقد ورد ذكر ذلك في غاية النهاية (1/ 261) وبغية الوعاة (2/ 162)، وطبقات المفسرين (399)، ومفتاح السعادة (1/ 130).

(4) عيسى بن عمر الأسدي أبو عمرو الهمداني الكوفي الضرير ت 156 هـ، انظر:

تهذيب الكمال (257)، وقد ورد ذلك في غاية النهاية (1/ 612).
এবং আল-আখফাশ (১) এবং আল-খলীল বিন আহমদ (২)।

কিসায়ী কুরআন পাঠ করেছেন এবং হামযাহ আয-যাইয়াত (৩) ও ঈসা বিন উমর আল-হামাদানী (৪)-এর নিকট তাজবিদ সহকারে তা নিপুণভাবে আয়ত্ত করেছেন।

 

‌‌কিসায়ীর ছাত্রবৃন্দ

: একজন আলেমের ছাত্রদের গুরুত্ব এই দিক থেকে যে, তারা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁর ইলম ও চিন্তাধারার সম্প্রসারক। এমন অনেক আলেম রয়েছেন যাঁদের পরিচিতি ও খ্যাতি উজ্জ্বল হয়েছে কেবল তাঁদের ছাত্রদের উল্লেখযোগ্য তৎপরতা এবং ফলপ্রসূ প্রচেষ্টার কারণে, যা তাঁরা তাঁদের শায়খের ইলম প্রসারে ব্যয় করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আল-আখফাশ: সাঈদ বিন মাসআদাহ আবু আল-হাসান আল-আখফাশ, মৃত্যু ২১৫ হি., দ্রষ্টব্য: তাবাকাত আল-যুবায়দী (৭৪)। এর উল্লেখ আখবারুন নাহবিয়্যীন আল-বাসরিয়্যীন এবং ইনবাহ আল-রুয়াত (২/ ২৭৩)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(২) আল-খলীল বিন আহমদ আল-ফারাহিদী আবু আব্দুর রহমান আল-আযদি আল-বাসরি, মৃত্যু ১৭৫ হি.। দ্রষ্টব্য: ইনবাহ আল-রুয়াত (১/ ৩৪১)। এর উল্লেখ গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ২৭৫) এবং মিফতাহুস সাআদাহ (১/ ১৩০)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৩) হামযাহ বিন হাবীব বিন উমারাহ বিন ইসমাইল আবু উমারাহ আয-যাইয়াত আল-কুফি, মৃত্যু ১৫৬ হি., দ্রষ্টব্য:

ওয়াফাইয়াতুল আইয়ান (২/ ২১৬)। এর উল্লেখ গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ২৬১), বুগয়াতুল উয়াত (২/ ১৬২), তাবাকাতুল মুফাসসিরীন (৩৯৯) এবং মিফতাহুস সাআদাহ (১/ ১৩০)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৪) ঈসা বিন উমর আল-আসাদী আবু আমর আল-হামাদানী আল-কুফি আল-দরীর (দৃষ্টিহীন), মৃত্যু ১৫৬ হি., দ্রষ্টব্য:

তাহযীবুল কামাল (২৫৭)। এর উল্লেখ গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ৬১২)-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
- في حين نجد أن هناك من العلماء الأفذاذ- كالليث بن سعد (1) - من اندثر علمه بسبب تقصير تلامذته في تدوين مذهبه ونشره.

- ونحن نغبط الكسائيّ على هذه الكثرة الوافرة من التلامذة، لدرجة أنهم كانوا يكثرون عليه حتى لا يضبط الأخذ عليهم، فيجمعهم ويجلس على كرسي يتلو القرآن من أوله إلى آخره وهم يستمعون.

ولعله من المناسب أن يأتي ذكر راوييه في الصدارة؛ وذلك لأن قراءة الكسائيّ انتشرت عن طريقهما؛ وهما:

(1) الليث: أبو الحارث، الليث بن خالد البغداديّ، ت (240) هـ (2).

(2) الدوري: وهو أبو عمر حفص بن عمر بن عبد العزيز البغدادي النحوي الضرير ت (246) هـ (3).

وفيما يلي ذكر لأهم تلامذته- بعد هذين الراويين- حسبما أشارت إليه المصادر:

أحمد بن حسن، مقرئ الشام (4).

--------------------------------------------

(1) الليث بن سعد بن عبد الرحمن أبو الحارث الفقيه المصري، ت (175 هـ)، انظر: غاية النهاية (2/ 34).

(2) انظر: غاية النهاية (2/ 34).

(3) انظر: غاية النهاية (1/ 255، 1/ 266، 1/ 536).

(4) الفهرست: (45).
- যেখানে আমরা দেখতে পাই যে এমন কিছু অসামান্য আলেম রয়েছেন—যেমন লাইস বিন সাদ (১)—যাঁদের জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে গেছে তাঁদের ছাত্রদের পক্ষ থেকে তাঁর মাযহাব লিপিবদ্ধ ও প্রচারের ক্ষেত্রে ত্রুটির কারণে।

- আর আমরা কিসায়ীর প্রতি ঈর্ষা পোষণ করি তাঁর এই বিপুল সংখ্যক ছাত্রের উপস্থিতির কারণে, যা এমন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিল যে তারা তাঁর কাছে এতো সংখ্যায় সমবেত হতো যে তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে পড়া গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না। ফলে তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করতেন এবং একটি চেয়ারে বসে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কুরআন তিলাওয়াত করতেন আর তারা তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করত।

সম্ভবত তাঁর দুই রাবীর (বর্ণনাকারী) কথা সর্বাগ্রে উল্লেখ করা সমীচীন হবে; কারণ কিসায়ীর কিরাত এই দুইজনের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়েছে; তাঁরা হলেন:

(১) আল-লাইস: আবু আল-হারিস, লাইস বিন খালিদ আল-বাগদাদী, মৃত্যু (২৪০) হিজরী (২)।

(২) আদ-দুরী: তিনি হলেন আবু উমর হাফস বিন উমর বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগদাদী, দৃষ্টিহীন ব্যাকরণবিদ, মৃত্যু (২৪৬) হিজরী (৩)।

নিম্নে এই দুই রাবীর পরবর্তী তাঁর প্রধান ছাত্রদের নাম উল্লেখ করা হলো—যেভাবে উৎসসমূহে নির্দেশ করা হয়েছে:

আহমদ বিন হাসান, শামের মুকরি (কুরআন শিক্ষক) (৪)।

--------------------------------------------

(১) লাইস বিন সাদ বিন আব্দুর রহমান আবু আল-হারিস, মিশরীয় ফকিহ, মৃত্যু (১৭৫ হিজরী), দেখুন: গায়াতুন নিহায়া (২/ ৩৪)।

(২) দেখুন: গায়াতুন নিহায়া (২/ ৩৪)।

(৩) দেখুন: গায়াতুন নিহায়া (১/ ২৫৫, ১/ ২৬৬, ১/ ৫৩৬)।

(৪) আল-ফিহরিসত: (৪৫)।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
إسحاق البغويّ (1).

إسحاق بن إسرائيل (2).

خلف بن هشام بن ثعلب بن هشام، أبو محمد الأسدي البزار البغدادي (3).

صالح بن عاصم الناقط الكوفي (4).

علي بن حازم أبو الحسن اللحياني (5).

علي بن المبارك أبو الحسن الأحمر المروزي (6).

الفضل بن إبراهيم بن عبد الله أبو العباس النحوي الكوفي (7).

القاسم بن سلام أبو عبيد الخراساني الهروي البغدادي (8).

--------------------------------------------

(1) طبقات الزبيدي (148).

(2) غاية النهاية (1/ 536)، طبقات المفسرين للداودي (402).

(3) غاية النهاية (1/ 272).

(4) غاية النهاية (1/ 333).

(5) الفهرست (71).

(6) إنباه الرواة (317).

(7) غاية النهاية (1/ 536).

(8) غاية النهاية (1/ 536).
ইসহাক আল-বাগাভী (১)।

ইসহাক বিন ইসরাঈল (২)।

খালাফ বিন হিশাম বিন সালাব বিন হিশাম, আবু মুহাম্মদ আল-আসাদি আল-বাযযার আল-বাগদাদি (৩)।

সালিহ বিন আসিম আন-নাকিত আল-কুফি (৪)।

আলী বিন হাযিম আবুল হাসান আল-লিহয়ানি (৫)।

আলী বিন আল-মুবারক আবুল হাসান আল-আহমার আল-মারওয়াযি (৬)।

আল-ফাদল বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আবুল আব্বাস আন-নাহবি আল-কুফি (৭)।

আল-কাসিম বিন সাল্লাম আবু উবায়েদ আল-খুরাসানি আল-হারাওয়ি আল-বাগদাদি (৮)।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাত আয-যাবیدی (১৪৮)।

(২) গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ৫৩৬), আদ-দাউদির তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (৪০২)।

(৩) গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ২৭২)।

(৪) গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ৩৩৩)।

(৫) আল-ফিহরিস্ত (৭১)।

(৬) ইনবাহুর রুওয়াত (৩১৭)।

(৭) গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ৫৩৬)।

(৮) গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ৫৩৬)।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وغيرهم كثير، لكن ما ينبغي الإشارة إليه هنا، هو ما انفرد به ابن الجزري في غاية النهاية، حين ذكر عددا آخر من تلاميذ الكسائيّ، أخذوا عليه القراءة فاق الأربعين تلميذا.

 

‌‌لمحات من جوانب حياته

: لعل الصورة الواضحة للكسائيّ رسمت أبعادها الرئيسية ببيان حياته العلمية، وصلته بمن جاء قبله من أهل العلم، وصلته بمن جاء بعده، من تلاميذ نهلوا من علمه، ولعل اكتمال الصورة الواضحة عن الكسائيّ، يتطلب التعرف على شيء من حياته الخاصة، وأهم سمات وملامح أسلوبه في تناول أحداث الحياة.

وتفيد المصادر على تنوعها بأن الكسائيّ كان صاحب دعابة وطرفة، لكن في إطار مأمون، لا ينال من وقاره ولا من هيبته، وقد قيل لأبي عمر الدوري: كيف صحبتم الكسائيّ على الدعابة التي فيه؟ قال: لصدق لسانه (1).

وكان الكسائيّ ورعا في فتواه، ومما يشهد لتثبّته في (الفتوى)، وشدة حذره أن يجانب الصواب: ما حكاه الفراء عنه، قال: لقيت الكسائيّ يوما، فرأيته كالباكي، فقلت له: ما

يبكيك؟ فقال: هذا الملك- يحيى بن خالد-

--------------------------------------------

(1) معرفة القراء الكبار على الطبقات والأعصار «للذهبي» (120).
এবং তাঁদের বাইরে আরও অনেকে রয়েছেন। তবে এখানে যা উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো ইবনে আল-জাজারি তাঁর 'গয়াতুন নিহায়াহ' গ্রন্থে যা এককভাবে বর্ণনা করেছেন; যেখানে তিনি কিসায়ীর আরও একদল ছাত্রের কথা উল্লেখ করেছেন যারা তাঁর নিকট কিরাত গ্রহণ করেছেন এবং যাদের সংখ্যা চল্লিশের অধিক।

 

‌‌তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিকের কিছু ঝলক

: কিসায়ীর যে উজ্জ্বল চিত্রটি ফুটে উঠেছে, তার প্রধান মাত্রাগুলো মূলত তাঁর ইলমি জীবন, তাঁর পূর্ববর্তী আলিমদের সাথে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁর পরবর্তী সেইসব ছাত্রদের সাথে তাঁর সম্পর্কের বর্ণনার মাধ্যমেই অঙ্কিত হয়েছে যারা তাঁর জ্ঞান থেকে সিক্ত হয়েছেন। কিসায়ী সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিষ্কার চিত্র পাওয়ার জন্য তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং জীবনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ মোকাবিলায় তাঁর কর্মপদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও দিকগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে জানা যায় যে, কিসায়ী কৌতুক ও রসিকতাপ্রিয় ছিলেন, তবে তা ছিল একটি মার্জিত সীমার মধ্যে, যা তাঁর গাম্ভীর্য বা মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করত না। আবু উমর আদ-দুরীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: কিসায়ীর মধ্যে রসিকতা থাকা সত্ত্বেও আপনারা কীভাবে তাঁর সাহচর্যে থাকতেন? তিনি বললেন: তাঁর জিহ্বার সত্যবাদিতার কারণে (১)।

কিসায়ী ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরহেযগার ছিলেন। ফতোয়ার বিষয়ে তাঁর স্থিরচিত্ততা এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ব্যাপারে তাঁর চরম সতর্কতার প্রমাণ পাওয়া যায় আল-ফাররা বর্ণিত একটি ঘটনায়। তিনি বলেন: আমি একদিন কিসায়ীর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন: এই বাদশাহ— ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ—

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবীর 'মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার আলাত তাবাকাত ওয়াল আসার' (১২০)।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
يوجّه إليّ، فيحضرني فيسألني عن الشيء، فإن أبطأت في الجواب لحقني من عيب، وإن بادرت لم آمن الزلل. قال: فقلت له- ممتحنا-: يا أبا الحسن؛ من يعترض عليك؟!، قل ما شئت فأنت الكسائيّ، فأخذ لسانه بيده، فقال:

قطعه الله- إذا- إن قلت ما لا أعلم (1).

ولم ينل من ورع الكسائيّ قربه من السلطان؛ قال أبو عمر الدوري: لم يغير الكسائيّ شيئا من حاله مع السلطان، إلا لباسه. قال: فرآه بعض علماء الكوفيين وعليه جربانات عظام، فقالوا له: يا أبا الحسن؛ ما هذا الزي؟ قال:

أدب من أدب السلطان، لا يثلم دنيا، ولا يدخل في بدعة، ولا يخرج عن سنة (2).

كما كان الكسائيّ متواضعا، لا يأنف أن يقضي حوائجه بنفسه، فقد روي أنه كان مع الأمين والمأمون يؤدّبهما، فأقبل الرشيد عليه وهو لا يراه، فقام الكسائيّ، ليلبس نعله، لحاجة يريدها، فابتدرها الأمين والمأمون، فوضعاها بين يديه، فقبل رءوسهما وأيديهما، ثم أقسم عليهما ألا يعاودا، فلما جلس الرشيد مجلسه، قال: أي الناس أكرم خادما؟ قالوا: أمير المؤمنين، أعزه الله! قال: لا، بل الكسائيّ، يخدمه الأمين والمأمون … وحدّثهم الحديث (3).

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد (11/ 411).

(2) المرجع السابق نفس الصفحة.

(3) إرشاد الأريب (5/ 195).
তাকে (খলিফাকে) আমার কাছে পাঠানো হয়, ফলে আমি উপস্থিত হই এবং তিনি আমাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। আমি যদি উত্তর দিতে দেরি করি তবে আমি দোষী সাব্যস্ত হই, আর যদি দ্রুত উত্তর দিই তবে ভুল হওয়ার হাত থেকে নিরাপদ থাকতে পারি না। বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাকে পরীক্ষা করার জন্য বললাম— হে আবুল হাসান! কে আপনার বিরোধিতা করবে?! আপনি যা ইচ্ছা তা-ই বলুন, কেননা আপনিই তো আল-কিসায়ি। তখন তিনি নিজের হাত দিয়ে স্বীয় জিহ্বা ধরলেন এবং বললেন:

আল্লাহ একে (জিহ্বাকে) কেটে ফেলুন—যদি আমি এমন কিছু বলি যা আমি জানি না (১)।

সুলতানের (শাসকের) নৈকট্য আল-কিসায়ির তাকওয়ার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। আবু উমর আদ-দুরি বলেন: আল-কিসায়ি সুলতানের সাথে থাকাকালীন নিজের পোশাক ছাড়া অন্য কোনো অবস্থার পরিবর্তন করেননি। বর্ণনাকারী বলেন: কুফার জনৈক আলেম তাকে দেখলেন যে তার পায়ে বড় বড় মোজা পরিহিত রয়েছে। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আবুল হাসান! এটি কেমন পোশাক? তিনি বললেন:

এটি সুলতানের আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি আদব, যা পার্থিব কোনো ক্ষতি করে না, বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হয় না এবং সুন্নাহর গণ্ডি থেকেও বের হয় না (২)।

একইভাবে আল-কিসায়ি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন, নিজের প্রয়োজন নিজে মেটাতে তিনি কুণ্ঠাবোধ করতেন না। বর্ণিত আছে যে, তিনি আল-আমিন ও আল-মামুনকে আদব শিক্ষা দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় হারুনুর রশিদ তাদের দিকে আসলেন কিন্তু আল-কিসায়ি তাকে দেখতে পাননি। আল-কিসায়ি কোনো প্রয়োজনে নিজের জুতো পরার জন্য উঠলেন, তখন আল-আমিন ও আল-মামুন জুতোর দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলেন এবং তা তার সামনে এনে রাখলেন। তিনি তাদের উভয়ের মাথা ও হাত চুম্বন করলেন এবং শপথ করালেন যেন তারা আর এমনটি না করে। অতঃপর যখন রশিদ তার মজলিসে বসলেন, তখন জিজ্ঞেস করলেন: মানুষের মধ্যে কার খাদেম সবচেয়ে বেশি সম্মানিত? তারা বললেন: আমিরুল মুমিনিন, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন! তিনি বললেন: না, বরং আল-কিসায়ি, কারণ আল-আমিন ও আল-মামুন তার খেদমত করে … অতঃপর তিনি তাদের কাছে ঘটনাটি বর্ণনা করলেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ (১১/ ৪১১)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, একই পৃষ্ঠা।

(৩) ইরশাদুল আরিব (৫/ ১৯৫)।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولعل هذا الورع وذاك التواضع وتلك السماحة والسهولة في تناول الأمور عند الكسائيّ، فضلا عن المكانة العلمية للرجل، كل ذلك قد مهّد للكسائي أن ينال حظّا من المبشرات من خلال الرؤيا الصالحة.

فقد أورد الخطيب البغدادي عن الكسائيّ قوله: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام، فقال لي: أنت الكسائيّ؟ فقلت: نعم، يا رسول الله.

قال: «اقرأ».

قلت: وما أقرأ يا رسول الله؟

قال: «اقرأ وَالصَّافَّاتِ صَفًّا».

قال: فقرأت وَالصَّافَّاتِ صَفًّا فَالزَّاجِراتِ زَجْراً فَالتَّالِياتِ ذِكْراً إِنَّ إِلهَكُمْ لَواحِدٌ فضرب النبي- صلى الله عليه وسلم بيده كتفي، وقال: «لأباهين بك الملائكة غدا» (1).

ومما رئى له، ما حكاه تلميذه أبو مسحل الأعرابي قال: رأيت الكسائيّ في النوم، كأن وجهه البدر، فقلت: ما فعل الله بك؟

قال: غفر لي بالقرآن! فقلت: ما فعل بحمزة الزيات؟

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد (11/ 410).
সম্ভবত কিসায়ীর এই তাকওয়া, সেই বিনয় এবং বিষয়গুলো সামলানোর ক্ষেত্রে সেই উদারতা ও সহজসাধ্যতা, পাশাপাশি এই ব্যক্তির ইলমী মর্যাদা—এই সবকিছুই কিসায়ীর জন্য নেক স্বপ্নের মাধ্যমে সুসংবাদ লাভের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।

খতীব বাগদাদী কিসায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। তিনি আমাকে বললেন: “তুমি কি কিসায়ী?” আমি বললাম: “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল।”

তিনি বললেন: “পড়ো।”

আমি বললাম: “হে আল্লাহর রাসূল, আমি কী পড়ব?”

তিনি বললেন: “পড়ো: ‘শপথ সেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ফেরেশতাগণের’।”

তিনি বলেন: এরপর আমি পড়লাম—‘শপথ সেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ফেরেশতাগণের, অতঃপর শপথ সেই ফেরেশতাগণের যারা ধমক দিয়ে পরিচালনা করে, অতঃপর শপথ সেই ফেরেশতাগণের যারা যিকর পাঠ করে—নিশ্চয় তোমাদের ইলাহ এক।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে আমার কাঁধে স্পর্শ করলেন এবং বললেন: “আগামীকাল আমি তোমাকে নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করব।” (১)

তাঁর সম্পর্কে যা দেখা হয়েছে তার মধ্যে তাঁর ছাত্র আবু মিসহাল আল-আরাবীর বর্ণনাও রয়েছে। তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে কিসায়ীকে দেখেছি, যেন তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো। আমি বললাম: “আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?”

তিনি বললেন: “কুরআনের উসিলায় তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন!” আমি বললাম: “হামজাহ আয-যাইয়্যাতের সাথে কী আচরণ করা হয়েছে?”

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ (১১/ ৪১০)।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال: ذاك في عليين، ما نراه إلا كما يرى الكوكب الدري (1).

 

‌‌ثناء أهل العلم عليه

: ذكرت المصادر المختلفة شهادة من يعتد بقولهم- من أهل العلم- للكسائيّ مما يدل على مكانته العلمية العالية، من ذلك ما ورد عن الفراء، قال: قال لي رجل: ما اختلافك إلى الكسائيّ، وأنت مثله في النحو؟! فأعجبتني نفسي، فأتيته فناظرته مناظرة الأكفاء، فكأنّي كنت طائرا يغرف بمنقاره من البحر (2).

وقال الشافعي- رحمه الله: «من أراد أن يتبحر في النحو، فهو عيال على الكسائيّ (3).

ومن مدح ابن الأعرابي للكسائيّ وثنائه عليه، قوله: «كان أعلم الناس، وكان ضابطا قارئا، عالما بالعربية صدوقا … » (4).

--------------------------------------------

(1) إنباه الرواة (2/ 269).

(2) بغية الوعاة (2/ 163).

(3) المنتظم في تاريخ الملوك والأمم، (169).

(4) بغية الوعاة (2/ 163)، وطبقات المفسرين (400).
তিনি বললেন: তা ইল্লিয়্যিনে (উচ্চমর্যাদাশীল স্থানে), আমরা সেটিকে কেবল সেভাবেই দেখতে পাই যেভাবে উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখা যায় (১)।

 

‌‌তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা

: বিভিন্ন উৎস থেকে এমন ব্যক্তিদের সাক্ষ্য বর্ণিত হয়েছে যাদের কথা নির্ভরযোগ্য—আহলে ইলমদের মধ্য হতে—কিসায়ীর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে, যা তাঁর উচ্চতর ইলমি মর্যাদার প্রমাণ দেয়। এর মধ্যে একটি বর্ণনা ফাররা থেকে এসেছে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আমাকে বলল: আপনি কেন কিসায়ীর কাছে যাতায়াত করেন, অথচ আপনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে তাঁরই সমতুল্য?! তখন আমার মনে আত্মতৃপ্তি বা অহংকার সৃষ্টি হলো। এরপর আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং সমকক্ষদের মতো তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলাম। তখন আমার অবস্থা এমন হলো যেন আমি একটি পাখি যে তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি তুলে নিচ্ছে (২)।

ইমাম শাফেয়ী—রাহিমাহুল্লাহ—বলেছেন: "যে ব্যক্তি নাহু শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করতে চায়, সে কিসায়ীর মুখাপেক্ষী (৩)।

কিসায়ীর প্রতি ইবনুল আরাবীর প্রশংসা ও গুণকীর্তনের মধ্যে একটি হলো তাঁর এই উক্তি: "তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম ছিলেন, এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত ক্বারী, আরবি ভাষার পণ্ডিত এবং পরম সত্যবাদী … " (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইনবাহুর রুওয়াত (২/ ২৬৯)।

(২) বুগইয়াতুল উয়াত (২/ ১৬৩)।

(৩) আল-মুনতাজাম ফি তারিখিল মুলুক ওয়াল উমাম (১৬৯)।

(৪) বুগইয়াতুল উয়াত (২/ ১৬৩), এবং তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (৪০০)।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
كما أثنى عليه إسحاق الموصلي في النحو بقوله: «ما رأيت أعلم بالنحو- قط- منه، ولا أحسن تفسيرا، ولا أحذق بالمسائل» (1).

ويزكيه ابن مجاهد في القراءة بقوله:

«كان الكسائيّ إمام الناس في القراءة في عصره، وكان يأخذ الناس عنه.

ألفاظه بقراءته عليهم» (2).

ويزكيه الخطيب البغدادي في دينه وخلقه، بقوله:

«كان عظيم القدر في دينه وفضله» (3).

 

‌‌وفاته

: تكاد تجمع المصادر على سنة (189) هـ، تاريخا لوفاة الكسائيّ (4)، وفضلا عن قدر الصحة التي يستمدها هذا التاريخ، من كثرة وروده بالمصادر التي ترجمت للكسائيّ؛ فإن هنالك شاهدا آخر، يزيد هذا التاريخ صحة وصدقا، ذلك أن كثيرا من المصادر ذكرت أن الكسائيّ توفي في صحبة الرشيد بالريّ، عند ما كان يزورها الرشيد.

--------------------------------------------

(1) إرشاد الأريب (5/ 193).

(2) السبعة لابن مجاهد (78).

(3) تاريخ بغداد (11/ 414).

(4) سير أعلام النبلاء (9/ 132)، شذرات الذهب (1/ 321)، طبقات النحويين (127).
তেমনিভাবে ইসহাক আল-মাওসিলি নাহু শাস্ত্রে তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: «আমি নাহু শাস্ত্রে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী—কখনো—দেখিনি, আর না অধিক উত্তম ব্যাখ্যাদানকারী এবং না মাসআলা-মাসায়েলে অধিক দক্ষ» (১)।

এবং কিরাআত বিষয়ে ইবনে মুজাহিদ তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন:

«কিসায়ি ছিলেন তাঁর যুগে কিরাআত শাস্ত্রে মানুষের ইমাম, এবং মানুষ তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত।

তাঁর পাঠের মাধ্যমে তারা তাঁর থেকে শব্দগুলো গ্রহণ করত» (২)।

খতিব আল-বাগদাদি তাঁর দ্বীনদারি ও চরিত্রের ব্যাপারে তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন:

«তিনি তাঁর দ্বীনদারি ও মর্যাদার ক্ষেত্রে সুউচ্চ সম্মানের অধিকারী ছিলেন» (৩)।

 

‌‌মৃত্যু

: কিসায়ির মৃত্যুর তারিখ হিসেবে সূত্রগুলো ১৮৯ হিজরির ওপর প্রায় একমত হয়েছে (৪), এই তারিখটি কিসায়ির জীবনী বর্ণনাকারী উৎসগুলোতে অধিক পরিমাণে আসার কারণে যে প্রামাণিকতা লাভ করেছে তা ছাড়াও এখানে আরও একটি প্রমাণ রয়েছে যা এই তারিখটির সত্যতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়; আর তা হলো, অনেক সূত্র উল্লেখ করেছে যে কিসায়ি ‘রয়’ নামক স্থানে রশিদের সফরসঙ্গী থাকাকালে মৃত্যুবরণ করেন যখন রশিদ সেখানে সফরে ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ইরশাদুল আরিব (৫/ ১৯৩)।

(২) আস-সাবআ লি ইবনে মুজাহিদ (৭৮)।

(৩) তারিখু বাগদাদ (১১/ ৪১৪)।

(৪) সিয়ারু আলামিন নুবালা (৯/ ১৩২), শাযারাতুয যাহাব (১/ ৩২১), তাবাকাতুন নাহুয়্যিন (১২৭)।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
ومن الثابت تاريخيّا: أن الرشيد زار الريّ في سنة (189) هـ، من ذلك قول الأزهري:

«ولما نهض هارون الرشيد إلى خراسان، أنهضه (1) معه، فكان يزامله في سفره، ولما انتهى إلى الري مات (2) بها» (3).

 

‌‌مؤلفاته

: أودع الكسائيّ كنوز علمه ومعارفه وخبراته- في النحو واللغة والقراءات- في مؤلفات متنوعة، جاوزت هذه المؤلفات الأربعين كتابا، وما أن يسعد الباحث بالوقوف على هذا الكنز لهذه الشخصية الفذّة حتى يدركه الأسى؛ بسبب عوادي الزمن، التي أتت على معظم هذه المؤلفات، فلم يبق منها إلا القليل.

وفيما يلي قائمة بأهم مؤلفات الكسائيّ، حسب ما وردت بالمصادر التي بين أيدينا:

(1) الآثار في القراءات (4).

--------------------------------------------

(1) يقصد الكسائيّ.

(2) يقصد الكسائيّ.

(3) تهذيب اللغة (1/ 16).

(4) تاريخ القراءات (11/ 403)، إنباه الرواة (2/ 257).
ঐতিহাসিকভাবে এটি সাব্যস্ত যে, রশীদ ১৮৯ হিজরিতে রায় সফর করেছিলেন; এ প্রসঙ্গে আল-আযহারী বলেন:

«হারুনুর রশীদ যখন খুরাসানের অভিমুখে যাত্রা করলেন, তখন তিনি তাকেও (১) সাথে নিয়ে গেলেন। তিনি সফরে তাঁর সহযাত্রী ছিলেন। তিনি যখন রায়-এ পৌঁছালেন, তখন সেখানেই মৃত্যুবরণ (২) করলেন» (৩)।

 

‌‌তাঁর রচনাবলী

: কিসায়ী তাঁর ইলম, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার—নাহু, লুগাত এবং কিরাআত বিষয়ে—বিভিন্ন গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছেন। এই গ্রন্থগুলোর সংখ্যা চল্লিশের অধিক। এই অনন্য ব্যক্তিত্বের সেই অমূল্য জ্ঞানভাণ্ডারের সন্ধান পেয়ে একজন গবেষক আনন্দিত হওয়ার আগেই বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন; কারণ সময়ের আবর্তনে তাঁর অধিকাংশ রচনাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং তার মধ্যে সামান্য কিছু অংশই মাত্র টিকে আছে।

আমাদের হাতে থাকা উৎসসমূহে উল্লিখিত কিসায়ীর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলীর তালিকা নিম্নরূপ:

(১) আল-আসার ফিল কিরাআত (৪)।

--------------------------------------------

(১) উদ্দেশ্য হলো কিসায়ী।

(২) উদ্দেশ্য হলো কিসায়ী।

(৩) তাহযীবুল লুগাহ (১/ ১৬)।

(৪) তারিখুল কিরাআত (১১/ ৪০৩), ইনবাহুর রুওয়াত (২/ ২৫৭)।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
(2) العدد، واختلافهم فيه (1).

(3) الحدود في النحو (2).

(4) الحروف (3).

(5) القراءات (4).

(6) ما تلحن فيه العوام (5).

(7) ما تشابه من ألفاظ القرآن، وتناظر من كلمات الفرقان، وهو هذا الكتاب الذي ننشره لأول مرة، وسيأتي الحديث عنه فيما بعد.

(8) مختصر في النحو (6).

(9) المصادر (7).

--------------------------------------------

(1) غاية النهاية (539).

(2) إنباه الرواة (2/ 71).

(3) غاية النهاية (1/ 539)، بغية الوعاة (2/ 164).

(4) المرجع السابق.

(5) نال هذا الكتاب اهتماما ملحوظا من الأستاذ الدكتور/ رمضان عبد التواب، وأخرجه كاملا ومحقّقا لأول مرة، ونشرته مكتبة الخانجي، القاهرة. ط 1 - 1982 م.

(6) غاية النهاية (1/ 539)، بغية الوعاة (2/ 164).

(7) المرجع السابق.
(২) সংখ্যা এবং এ বিষয়ে তাঁদের মতভেদ (১)।

(৩) নাহুশাস্ত্রের পরিভাষাসমূহ (২)।

(৪) হরফসমূহ (৩)।

(৫) কিরাআতসমূহ (৪)।

(৬) সাধারণ মানুষ যা উচ্চারণে ভুল করে (৫)।

(৭) আল-কুরআনের সদৃশ শব্দাবলি এবং আল-ফুরকানের সমজাতীয় পদাবলি; এটিই সেই কিতাব যা আমরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ করছি এবং অচিরেই এ সম্পর্কে আলোচনা আসবে।

(৮) নাহুশাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার (৬)।

(৯) মাসদারসমূহ (৭)।

--------------------------------------------

(১) গায়াতুন নিহায়া (৫৩৯)।

(২) ইনবাহুর রুওয়াত (২/ ৭১)।

(৩) গায়াতুন নিহায়া (১/ ৫৩৯), বুগইয়াতুল উয়াত (২/ ১৬৪)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।

(৫) এই গ্রন্থটি প্রফেসর ডক্টর রমাদান আব্দুল তাওয়াব-এর বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছে এবং তিনি এটি প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ও সম্পাদিত আকারে বের করেছেন। এটি কায়রোর মাকতাবাতুল খানজি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। ১ম সংস্করণ - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ।

(৬) গায়াতুন নিহায়া (১/ ৫৩৯), বুগইয়াতুল উয়াত (২/ ১৬৪)।

(৭) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
(10) معاني القرآن (1).

(11) مقطوع القرآن وموصوله (2).

(12) النوادر (3).

(13) النوادر الأوسط (4).

(14) النوادر الأصغر (5).

(15) الهاءات المكنى بها في القرآن (6).

(16) الهجاء (7).

--------------------------------------------

(1) غاية النهاية (1/ 539)، بغية الوعاة (2/ 164).

(2) غاية النهاية (1/ 539).

(3) غاية النهاية (1/ 539)، بغية الوعاة (2/ 164).

(4) المرجع السابق.

(5) المرجع السابق.

(6) غاية النهاية (1/ 539).

(7) غاية النهاية (1/ 539)، بغية الوعاة (2/ 164).
(১০) কোরআনের অর্থসমূহ (১)।

(১১) কোরআনের বিচ্ছিন্ন ও সংযুক্ত শব্দাবলি (২)।

(১২) আন-নাওয়াদির (৩)।

(১৩) আন-নাওয়াদির আল-আওসাত (৪)।

(১৪) আন-নাওয়াদির আল-আসগার (৫)।

(১৫) কোরআনে রূপকভাবে ব্যবহৃত ‘হা’ বর্ণসমূহ (৬)।

(১৬) আল-হিজা (৭)।

--------------------------------------------

(১) গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ৫৩৯), বুগইয়াতুল ওয়াত (২/ ১৬৪)।

(২) গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ৫৩৯)।

(৩) গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ৫৩৯), বুগইয়াতুল ওয়াত (২/ ১৬৪)।

(৪) পূর্বোক্ত সূত্র।

(৫) পূর্বোক্ত সূত্র।

(৬) গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ৫৩৯)।

(৭) গায়াতুন নিহায়াহ (১/ ৫৩৯), বুগইয়াতুল ওয়াত (২/ ১৬৪)।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌مشتبهات القرآن

ذكر بروكلمان (2/ 199): أنه يوجد ثلاث مخطوطات لهذا الكتاب، هي:

الأولى: في باريس (أول 665) رقم 4، بعنوان: «المشتبه في القرآن».

الثانية: في الكتبخانه العمومية باستانبول (436) بعنوان: «مشتبهات القرآن»، ومنها نسخة مصورة بمعهد المخطوطات العربية بالقاهرة، تحت رقم 240/ تفسير، وعدد لوحاتها (80) ثمانون، وتشتمل اللوحة على صفحتين، كل صفحة (11) إحدى عشر سطرا، وهي أدق وأكمل النسخ التي وقعت بين أيدينا، كتبت بخط نسخ جيد، وعليها اعتمد التحقيق، وبدأها المصنف مباشرة بقوله:

باب الواحد من سورة البقرة، وآخرها: وَلَمَّا فَصَلَتِ الْعِيرُ تمّ كتاب المتشابه، وتوجد بها العلامة التي تفيد أنها مقروءة ومراجعة.

ثم ألحق به أبوابا، أغلب الظنّ أنها من إضافة الناسخ؛ وذلك لأن هذه الأبواب الملحقة تختلف تماما من نسخة إلى أخرى.

الثالثة: في مكتبة قولة، بدار الكتب المصرية (1/ 28) رقم (15) قراءات، بعنوان: «ما تشابه من ألفاظ القرآن، وتناظر من كلمات الفرقان».

وهي رقم (2) في المجموعة.
কুরআনের সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়াবলি

ব্রোকেলম্যান উল্লেখ করেছেন (২/ ১৯৯): এই বইটির তিনটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথমটি: প্যারিসে (আউওয়াল ৬৬৫) ৪ নম্বর, শিরোনাম: «আল-মুশতাবিহ ফিল কুরআন» (কুরআনের সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়)।

দ্বিতীয়টি: ইস্তাম্বুলের পাবলিক লাইব্রেরিতে (৪৩৬) শিরোনাম: «মুশতাবিহাতুল কুরআন», যার একটি অনুলিপি কায়রোর আরবি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত আছে (নম্বর ২৪০/ তাফসীর)। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা (৮০) আশিটি, এবং প্রতিটি প্লেটে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে, প্রতি পৃষ্ঠায় (১১) এগারোটি করে লাইন আছে। আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ। এটি চমৎকার নাসখ লিপিতে লেখা এবং এর ওপর ভিত্তি করেই সম্পাদনার কাজ করা হয়েছে। গ্রন্থকার সরাসরি তার এই উক্তির মাধ্যমে এটি শুরু করেছেন:

সূরা বাকারার প্রথম অধ্যায়, এবং এর শেষ অংশ হলো: «আর যখন কাফেলা রওয়ানা হলো», এর মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের বইটি সমাপ্ত হলো। এতে এমন চিহ্ন রয়েছে যা নির্দেশ করে যে এটি পাঠ এবং পর্যালোচনা করা হয়েছে।

অতঃপর তিনি এর সাথে কিছু অধ্যায় যুক্ত করেছেন, প্রবল ধারণা অনুযায়ী এগুলো লিপিকারের পক্ষ থেকে সংযোজন; কারণ এই সংযোজিত অধ্যায়গুলো এক পাণ্ডুলিপি থেকে অন্য পাণ্ডুলিপিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তৃতীয়টি: মিশরীয় দারুল কুতুবের কাওয়ালা লাইব্রেরিতে (১/ ২৮) ১৫ নম্বর কিরাআত, শিরোনাম: «মা তাশাবাহা মিন আলফাজিল কুরআন ওয়া তানাজারা মিন কালিমাতিল ফুরকান» (কুরআনের যে শব্দগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ এবং ফুরকানের যে কথাগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ)।

এটি এই সংকলনের ২ নম্বর পাণ্ডুলিপি।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
وكتبت نسخة دار الكتب المصرية بخط عربي جيّد، تسهل قراءته، وعدد لوحاتها (29) تسع وعشرون لوحة، وتشتمل اللوحة الواحدة على صفحتين، كل صفحة ثلاثة عشر سطرا.

وبدأها المصنف بقوله: «رب يسّر يا كريم … قال الشيخ أبو الحسن عليّ ابن حمزة الكسائيّ المقرئ الأسديّ- رحمة الله عليه-: الحمد لله ذي المنن والأفضال، ورب النعمة والإحسان».

ثم رتب كتابه بعد المقدمة إلى أبواب، واختتم المخطوطة بقوله: «تمت بحمد الله وعونه، والحمد لله وحده، وصلواته على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه وسلم، وحسبنا الله ونعم الوكيل. غفر الله له، ولوالديه، ولمن نظر فيه».

وهذه النسخة يظهر أنّها كانت مسودة للنسخة الأصلية؛ حيث لوحظ بها نقص واضطراب كبير في إحصاء الآيات تحت كثير من العناوين، في حين استكمل هذا النقص في نسخة استانبول، وهذا ما دعاني إلى استبعاد نسخة دار الكتب من المقابلة، ولم ألجأ إليها إلا حين تدعوني الضرورة إلى ذلك.

ومما يبعث على الطمأنينة في قلب الباحث؛ بشأن صحة نسبة الكتاب إلى الكسائيّ، الأدلة التالية:

1 - التعيين نصّا في مقدمة نسخة دار الكتب على اسم المؤلف، واسم الكتاب.
মিসরীয় দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপিটি সুন্দর আরবি লিপিতে লিখিত, যা পাঠ করা সহজ। এর পত্র সংখ্যা (২৯) উনত্রিশটি, এবং প্রতিটি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে। প্রতিটি পৃষ্ঠায় তেরোটি করে লাইন আছে।

গ্রন্থকার এটি এই বলে শুরু করেছেন: «হে প্রভু! সহজ করে দিন হে দয়ালু … শায়খ আবুল হাসান আলী ইবনে হামজাহ আল-কিসায়ী আল-মুকরি আল-আসাদী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এবং সকল নিআমত ও ইহসানের পালনকর্তা।»

অতঃপর তিনি ভূমিকার পর তার কিতাবকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন এবং পাণ্ডুলিপিটি এই বলে সমাপ্ত করেছেন: «আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর সাহায্যে এটি সম্পন্ন হলো। আর সমস্ত প্রশংসা এককভাবে আল্লাহরই জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং যারা এতে দৃষ্টিপাত করবে তাদের সকলকে ক্ষমা করুন।»

প্রতীয়মান হয় যে, এই পাণ্ডুলিপিটি মূল কপির একটি খসড়া ছিল; কারণ এতে অনেক শিরোনামের অধীনে আয়াত গণনায় ঘাটতি এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপিতে এই অভাব পূরণ করা হয়েছে। একারণেই আমি পাঠ-পর্যালোচনার (মুকাবালা) ক্ষেত্রে দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপিটিকে বাদ দিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছি এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া আমি এটির শরণাপন্ন হইনি।

কিতাবটি কিসায়ীর নামে হওয়ার সঠিকতার ব্যাপারে একজন গবেষকের হৃদয়ে যা প্রশান্তি দান করে, তা হলো নিম্নোক্ত প্রমাণাদি:

১ - দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপির ভূমিকায় লেখকের নাম এবং কিতাবের নামের সুস্পষ্ট উল্লেখ।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
2 - ما أورده السيوطي في الإتقان، عند ذكر النوع الثالث والستين في الآيات المشتبهات، حيث قال: أفرده بالتصنيف خلق، أولهم- فيما أحسب- الكسائيّ.

3 - ما أورده صاحب كشف الظنون، بقوله:

«علم متشابه القرآن: أول من صنف فيه الكسائيّ.
২ - আস-সুয়ূতী আল-ইতকান গ্রন্থে তেষট্টিতম প্রকার তথা সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতসমূহ (আল-আয়াত আল-মুশতাবিহাত) আলোচনা করতে গিয়ে যা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: এটি নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে অনেক ব্যক্তি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যাদের মধ্যে প্রথম—আমার জানামতে—হলেন আল-কিসায়ী।

৩ - কাশফুয যুনুন এর লেখক যা উল্লেখ করেছেন, তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে:

«কুরআনের মুতাশাবিহ (সাদৃশ্যপূর্ণ) বিষয়ক জ্ঞান: এতে সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি হলেন আল-কিসায়ী।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌عنوان الكتاب ومنهج التأليف

‌‌أولا: العنوان

: بتأمل عنوان الكتاب نجد أنّ نسخ المخلوط كلها اتفقت على «المتشابه»، وإن ورد ذلك بألفاظ مختلفة؛ فنسخة باريس بعنوان: «المشتبه في القرآن»، ونسخة استانبول بعنوان: «مشتبهات القرآن»، ونسخة دار الكتب بعنوان: «ما تشابه من ألفاظ القرآن وتناظر من كلمات الفرقان».

وبتأمّل عنوان نسخة دار الكتب يتّضح أنها اتفقت مع غيرها في ذكر كلمة «المتشابه»، ثم أضافت «تناظر». وبالمقابلة بين الجزء الأول من العنوان «ما تشابه من ألفاظ القرآن» والجزء الثاني «ما تناظر من كلمات الفرقان» نلاحظ الآتي:

أنّ «تشابه» مرادفة ل «تناظر»، و «ألفاظ» ترادف «كلمات»، و «القرآن» يرادف «الفرقان».

فالمسألة- كما هو واضح- لا تخرج عن إرادة السجع، وهو من سنن العربية، ويطلق عليه المزدوج من التعبيرات، وسبب عناية العرب بظاهرة السجع يظهره الجاحظ لمّا سأله أحد الأعراب: لم تؤثر السّجع؟ فأجاب الجاحظ:

«لأن الحفظ إليه أسرع، والآذان لسماعه أنشط، وهو أحقّ بالتقييد وقلّة التفلّت» (1).

--------------------------------------------

(1) الجاحظ «البيان والتبيين» (1/ 287)، تحقيق/ عبد السلام هارون (الخانجي)، 1960 م.
গ্রন্থের শিরোনাম ও রচনা পদ্ধতি

প্রথমত: শিরোনাম

: গ্রন্থের শিরোনামটি পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখতে পাই যে, পাণ্ডুলিপির সকল কপি ‘মুতাশাবিহ’ শব্দের বিষয়ে একমত হয়েছে, যদিও তা ভিন্ন ভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে; যেমন প্যারিস পাণ্ডুলিপির শিরোনাম: ‘আল-মুশতাবিহ ফিল কুরআন’, ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপির শিরোনাম: ‘মুতাশাবিহাতুল কুরআন’, এবং দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপির শিরোনাম: ‘মা তাশাবাহা মিন আলফাজিল কুরআন ওয়া তানাজারা মিন কালিমাতিল ফুরকান’।

দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপির শিরোনামটি পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, এটি ‘মুতাশাবিহ’ শব্দটির উল্লেখ করার ক্ষেত্রে অন্যদের সাথে একমত হয়েছে এবং এর সাথে ‘তানাজুর’ শব্দটি যোগ করেছে। শিরোনামের প্রথম অংশ ‘মা তাশাবাহা মিন আলফাজিল কুরআন’ এবং দ্বিতীয় অংশ ‘মা তানাজারা মিন কালিমাতিল ফুরকান’-এর মধ্যে তুলনা করলে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়টি লক্ষ্য করি:

এখানে ‘তাশাবোহ’ শব্দটি ‘তানাজুর’-এর সমার্থক, ‘আলফাজ’ শব্দটি ‘কালিমাত’-এর সমার্থক এবং ‘কুরআন’ শব্দটি ‘ফুরকান’-এর সমার্থক।

সুতরাং বিষয়টি—যেমনটি স্পষ্ট—অন্ত্যমিল (সাজ‘) রক্ষার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত নয়, যা আরবি ভাষার অন্যতম রীতি। একে অভিব্যক্তির দ্বৈত ধারাও বলা হয়। আরবদের অন্ত্যমিলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণ আল-জাহিজ স্পষ্ট করেছেন, যখন এক বেদুঈন তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল: আপনি কেন অন্ত্যমিলকে প্রাধান্য দেন? আল-জাহিজ উত্তরে বলেছিলেন:

“কারণ এটি দ্রুত মুখস্থ হয়, কান এটি শোনার জন্য অধিক আগ্রহী থাকে এবং এটি স্মৃতিবদ্ধ রাখা ও ভুলে না যাওয়ার জন্য অধিক উপযুক্ত” (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-জাহিজ ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন’ (১/ ২৮৭), তাহকিক: আবদুস সালাম হারুন (আল-খানজি), ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
والعنوان المختار هو عنوان النسخة المعتمدة في التحقيق (نسخة استانبول) وعنوانها: «مشتبهات القرآن» فهو مختصر ومعبّر.

 

‌‌ثانيا: منهج المؤلف في عرض المادة

: بدأ المؤلف كتابه بمقدمة؛ أشار فيها إلى الدوافع التي حملته على التأليف، وهي: المعونة على حفظ القرآن الكريم وتثبيته. وذكر الشيخ أنه استقصى مواضع المتشابه في القرآن كي يكون كتابه كافيا في هذا الباب، ويغني عن غيره.

ثم بدأ المؤلف في ذكر أبواب الكتاب، فيذكر عنوان الباب ثم يتناول مواضع المتشابه في القرآن بترتيب السور في المصحف، ولم يخرج المصنف عن هذا الترتيب إلا قليلا، وقد أشرت إلى ذلك في موضعه من التحقيق. وهذا الحصر الدقيق لمواضع المتشابه يشهد بتمكّن الإمام الكسائيّ في حفظ القرآن الكريم والإحاطة بمواضع المتشابه فيه.
निर्वाচিত শিরোনামটি হলো সম্পাদনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির (ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপি) শিরোনাম, যার নাম: «মুশতাবিহাতুল কুরআন»; এটি সংক্ষিপ্ত এবং ভাবব্যঞ্জক।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: বিষয়বস্তু উপস্থাপনে লেখকের পদ্ধতি

: লেখক একটি ভূমিকা দিয়ে তাঁর গ্রন্থটি শুরু করেছেন; সেখানে তিনি সেই কারণগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা তাঁকে গ্রন্থটি সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, আর তা হলো: পবিত্র কুরআন হিফজ করতে এবং তা সুদৃঢ় রাখতে সহায়তা করা। শায়খ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কুরআনের মুতাশাবিহ (সদৃশ) স্থানগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন যেন এই বিষয়ে তাঁর গ্রন্থটি পর্যাপ্ত হয় এবং অন্য কোনো গ্রন্থের প্রয়োজন না পড়ে।

এরপর লেখক গ্রন্থের অধ্যায়সমূহ উল্লেখ করতে শুরু করেছেন। তিনি প্রথমে অধ্যায়ের শিরোনাম উল্লেখ করেন এবং এরপর মুসহাফের সূরার ক্রমানুসারে কুরআনের মুতাশাবিহ স্থানগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। লেখক এই ক্রমবিন্যাস থেকে খুব সামান্যই বিচ্যুত হয়েছেন এবং আমি সম্পাদনার সময় যথাস্থানে তা উল্লেখ করেছি। মুতাশাবিহ স্থানসমূহের এই সূক্ষ্ম ও নিখুঁত বর্ণনা পবিত্র কুরআন হিফজের ক্ষেত্রে এবং এর মুতাশাবিহ স্থানগুলো আয়ত্ত করার ব্যাপারে ইমাম কিসায়ীর গভীর পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দেয়।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌منهج التحقيق

كان عملي في المخطوط الذي بين أيدينا على الوجه التالي:

1 - التقديم للكتاب، بالتعريف بالمصنّف والمخطوطة وصحة نسبتها، وبيان منهج المؤلف في الكتاب، وبيان منهج المحقّق.

2 - ضبط النص وتحريره.

3 - الإشارة إلى ما سقط سهوا عن المؤلف من مواضع المتشابهات.

4 - التنبيه على ما وضع في غير بابه.

5 - توضيح بعض المصطلحات التي استخدمها الكتاب، مثل: «فرد»، «حرف»، «الرفع»، «الفتح»، «الكسر» … إلخ.

6 - تحديد بداية صفحات المخطوط.

7 - التعليق على الإشارات التي تبدو غامضة، بما يوضح معناها.

8 - وضع أرقام الآيات التي وردت بجانبها، وعدم وضعها في الهامش، وذلك لسببين؛ هما:

الأول: عدم تشتيت القارئ بين الهامش والمتن.

الثاني: الإشارة إلى أرقام الآيات بالهامش سيعمل على تضخيم الكتاب دونما فائدة.

9 - وضع أسماء السور كما وردت بالمصحف بين معقوفتين بجانب اسم السورة الذي اختاره المصنف.
সম্পাদনা পদ্ধতি

আমাদের হাতে থাকা এই পাণ্ডুলিপিটির ক্ষেত্রে আমার কাজ ছিল নিম্নরূপ:

১ - গ্রন্থটির ভূমিকা প্রদান করা, যেখানে গ্রন্থকার ও পাণ্ডুলিপির পরিচয় এবং এর সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা আলোচনা করা হয়েছে, সেইসাথে গ্রন্থটিতে লেখকের পদ্ধতি এবং সম্পাদকের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।

২ - মূল পাঠ্য (টেক্সট) বিন্যাস ও পরিমার্জন করা।

৩ - সমজাতীয় (মুতাশাবিহাত) বিষয়াদির যেসব স্থান লেখকের অসাবধানতাবশত বাদ পড়েছিল, সেগুলো চিহ্নিত করা।

৪ - যা কিছু তার নির্ধারিত অধ্যায়ের বাইরে রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কে সতর্কতা প্রদান করা।

৫ - গ্রন্থে ব্যবহৃত কিছু পরিভাষা স্পষ্ট করা, যেমন: ‘ফারদ’, ‘হারফ’, ‘রাফ’, ‘ফাতহ’, ‘কাসর’ ... ইত্যাদি।

৬ - পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠাগুলোর শুরু চিহ্নিত করা।

৭ - অস্পষ্ট মনে হওয়া ইঙ্গিতগুলোর ওপর এমনভাবে টীকা প্রদান করা যাতে সেগুলোর অর্থ স্পষ্ট হয়।

৮ - উল্লিখিত আয়াতসমূহের নম্বর তার পাশেই বসানো এবং তা পাদটীকায় না রাখা, যার দুটি কারণ রয়েছে; সেগুলো হলো:

প্রথম: মূল পাঠ্য ও পাদটীকার মধ্যে পাঠকের মনোযোগ যাতে বিচ্ছিন্ন না হয়।

দ্বিতীয়: পাদটীকায় আয়াতের নম্বর উল্লেখ করলে কোনো বিশেষ উপকার ছাড়াই গ্রন্থের কলেবর বৃদ্ধি পাবে।

৯ - গ্রন্থকার সূরার যে নাম পছন্দ করেছেন, তার পাশে মুসহাফে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেই অনুযায়ী সূরার নামসমূহ তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে স্থাপন করা।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
10 - تصويب الآيات، دون الإشارة إلى ذلك، فيما يخصّ الأخطاء الإملائية، وكان قصدي من وراء ذلك تقديم الصورة الصحيحة للقارئ من ناحية، ومن ناحية أخرى رعاية خصوصية وقدسية النص القرآني. أضف إلى هذا أن المؤلّف- وهو من أئمة القرآن وعلومه- لا يتصوّر أن هذا يحدث منه أبدا، وإنما تعود مثل هذه الأخطاء إلى الناسخ.

11 - عمل فهرس بموضوعات الكتاب.
১০ - বানানগত ভুলের ক্ষেত্রে আয়াতসমূহ সংশোধন করা হয়েছে এবং এর প্রতি কোনো ইঙ্গিত করা হয়নি। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য ছিল একদিকে যেমন পাঠকের সামনে সঠিক রূপটি উপস্থাপন করা, তেমনি অন্যদিকে কুরআনি পাঠের স্বকীয়তা ও পবিত্রতা রক্ষা করা। এর সাথে আরও যুক্ত করা যায় যে, লেখক—যিনি কুরআন ও তৎসংশ্লিষ্ট ইলমের অন্যতম ইমাম—তার পক্ষ থেকে এমন ভুল হওয়া একেবারেই অকল্পনীয়; বরং এ জাতীয় ভুলগুলো মূলত লিপিকারের অসতর্কতার কারণে ঘটেছে।

১১ - গ্রন্থের বিষয়ভিত্তিক সূচিপত্র প্রস্তুত করা।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
نماذج من المخطوطة، تضم:

(1) نسخة دار الكتب المصرية:

أ- صورة الصفحة الأولى.

ب- صورة الصفحة الأخيرة.

(2) نسخة استانبول:

أ- صورة صفحة العنوان.

ب- صورة الصفحة الأولى.

ج- صورة الصفحة الأخيرة.
পাণ্ডুলিপির কিছু নমুনা, যার অন্তর্ভুক্ত:

(১) মিসরীয় দারুল কুতুবের অনুলিপি:

ক- প্রথম পৃষ্ঠার ছবি।

খ- শেষ পৃষ্ঠার ছবি।

(২) ইস্তাম্বুল অনুলিপি:

ক- শিরোনাম পৃষ্ঠার ছবি।

খ- প্রথম পৃষ্ঠার ছবি।

গ- শেষ পৃষ্ঠার ছবি।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌تحقيق كتاب «مشتبهات القرآن» للكسائي
আল-কিসায়ী রচিত ‘মুশতাবিহাতুল কুরআন’ গ্রন্থের তাহকীক
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪০)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌رب يسّر يا كريم

قال الشّيخ أبو الحسن على بن حمزة الكسائي المقرئ الأستاذ- رحمة الله عليه-: [الحمد لله ذى المنن والأفضال، وربّ النعمة والإحسان، والمؤيّد بالحجّة والبرهان، وصلّى الله على محمّد خاتم الأنبياء، وسيد الأصفياء، وسلّم وشرّف وكرّم.

فإنّى- إن شاء الله- أذكر في هذا الكتاب ما تشابه من ألفاظ القرآن، وتناظر من كلمات الفرقان؛ ليكون كتابنا هذا عونا للقارئ على قراءته، وتقوية على حفظه.

وأستقصى ذلك وأتبعه، حتى لا يكون الناظر في كتابنا هذا يحتاج إلى افتقاد ما تشابه عليه في غيره، ويكون كتابنا مشتملا على ما له قصدنا، ومستوعبا لما ذكرنا، وبالله التوفيق، وعليه توكلنا، وهو حسبنا ونعم الوكيل] (1).

--------------------------------------------

(1) زيادة من نسخة دار الكتب.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌হে প্রভু! সহজ করে দিন, হে মহানুভব

উস্তাদ ক্বারি শায়খ আবুল হাসান আলী বিন হামজা আল-কিসায়ী—তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—বলেন: [সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী, নিয়ামত ও ইহসানের পালনকর্তা এবং যিনি দলিল ও প্রমাণ দ্বারা সুদৃঢ়কারী। এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবীকুল শিরোমণি ও মনোনীতদের সরদার মুহাম্মাদের উপর, এবং তিনি তাঁকে শান্তি, মর্যাদা ও সম্মান দান করুন।

নিশ্চয়ই আমি—ইনশাআল্লাহ—এই কিতাবে কুরআনের সমজাতীয় শব্দাবলি এবং ফুরক্বানের অনুরূপ বাক্যসমূহ আলোচনা করব; যাতে আমাদের এই কিতাবটি পাঠকের জন্য তার তিলাওয়াতে সহায়ক হয় এবং হিফয মজবুত করতে শক্তি যোগায়।

আমি এই বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান ও অনুসরণ করব, যাতে এই কিতাবের পাঠকের জন্য অন্য কোথাও সমজাতীয় বিষয় খোঁজার প্রয়োজন না হয় এবং আমাদের কিতাবটি আমাদের উদ্দিষ্ট বিষয়গুলোকে শামিল করে ও যা আমরা উল্লেখ করেছি তা পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করে। আর আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক আসে, তাঁর ওপরই আমরা ভরসা করি, তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।] (১)।

--------------------------------------------

(১) দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত অংশ।
(খণ্ড: ১) মুশতাবিহাতুল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌باب:

‌‌الواحد من سورة البقرة

[فيها]: يا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ (21) وسائر القرآن: اتَّقُوا رَبَّكُمُ (1).

وفيها: فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ (23) وسائر القرآن: مِثْلِهِ بغير من (2).

وفيها: وَادْعُوا شُهَداءَكُمْ (23) وسائر القرآن: مَنِ اسْتَطَعْتُمْ (3) وفيها: وَآمِنُوا بِما أَنْزَلْتُ (41)، مرفوعة التاء.

وسائر القرآن منصوبة (4).

وفيها: النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ (61)، وسائر القرآن: بِغَيْرِ حَقٍّ (5).

--------------------------------------------

(1) وردت ثلاث مرات، هي النساء/ 1، الحج/ 1، لقمان/ 33.

(2) وردت مرة واحدة أيضا، وهي يونس/ 38.

(3) وردت مرتين: يونس/ 38، هود/ 13.

(4) وردت مرتين: آل عمران/ 53، القصص/ 24. والمراد بالنصب حركة الفتحة.

(5) وردت النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ حَقٍّ مرة واحدة، آل عمران/ 21.

ووردت الْأَنْبِياءَ بِغَيْرِ حَقٍّ ثلاث مرات، آل عمران/ 112، 181، النساء/ 155.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ:

‌‌সূরা আল-বাকারার অনন্য বিষয়সমূহ

[এতে রয়েছে]: হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো (২১); আর কুরআনের অবশিষ্ট স্থানে রয়েছে: তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো (১)।

আর এতে রয়েছে: তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো (২৩); আর কুরআনের অন্যান্য স্থানে ‘মিন’ বর্ণ ছাড়াই ‘এর অনুরূপ’ শব্দটি এসেছে (২)।

আর এতে রয়েছে: এবং তোমরা তোমাদের সাক্ষীদের আহ্বান করো (২৩); আর কুরআনের অন্যান্য স্থানে রয়েছে: যাদের তোমরা সক্ষম হও (৩)। আর এতে রয়েছে: আমি যা নাযিল করেছি তাতে তোমরা ঈমান আনো (৪১), এখানে ‘তা’ বর্ণটি পেশযুক্ত।

আর কুরআনের অন্যান্য স্থানে এটি যবরযুক্ত (৪)।

আর এতে রয়েছে: নবীগণকে অন্যায়ভাবে (৬১), আর কুরআনের অন্যান্য স্থানে রয়েছে: কোনো ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া (৫)।

--------------------------------------------

(১) এটি তিনবার এসেছে, যথা: আন-নিসা/ ১, আল-হাজ্জ/ ১, লোকমান/ ৩৩।

(২) এটিও একবার এসেছে, যা হলো ইউনুস/ ৩৮।

(৩) এটি দুইবার এসেছে: ইউনুস/ ৩৮, হুদ/ ১৩।

(৪) এটি দুইবার এসেছে: আল-ইমরান/ ৫৩, আল-কাসাস/ ২৪। আর ‘নসব’ দ্বারা ফাতহা বা যবরের হরকত উদ্দেশ্য।

(৫) ‘নবীগণকে ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া’ বাক্যটি (নির্দিষ্ট শব্দরূপে) একবার এসেছে: আল-ইমরান/ ২১।

এবং ‘নবীগণকে ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া’ বাক্যটি (ভিন্ন শব্দরূপে) তিনবার এসেছে: আল-ইমরান/ ১১২, ১৮১, আন-নিসা/ ১৫৫।