(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: -)
فوائد أبي الفرج الثقفي   (أبو الفرج الثقفي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فوائد أبي الفرج الثقفي

المؤلف: أَبُو الفَرَجِ مَسْعُوْدُ بنُ الحَسَنِ الثَّقَفِيُّ الأَصْبَهَانِيُّ (ت 562هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

تنبيه: كان هذا المخطوط في برنامج جوامع الكلم معزوا للبختري، وأفادنا الشيخ نبيل جرار بقوله: وليس هذا الكتاب للبختري يقيناً، فهو مأخوذ من الأصل الخطي الذي في الظاهرية مجموع 47 (65 - 104) مبتور الأول، وسماه الألباني في المنتخب (ص 189): الفوائد، لأبي الفرج الثقفي مسعود بن الحسن الأصبهاني - 562 هـ، وبين أنه قد حصل خلط في أوراقه بالتقديم والتأخير وتداخل معه أوراق من كتاب آخر

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 150

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

আবু আল-ফারাজ আস-সাকাফির ফাওয়াইদ   (আবু আল-ফারাজ আস-সাকাফি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু আল-ফারাজ আস-সাকাফির ফাওয়াইদ

লেখক: আবু আল-ফারাজ মাসউদ বিন হাসান আস-সাকাফি আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৫৬২ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলাম ওয়েব সাইটের অন্তর্ভুক্ত জোয়ামিউল কালিম নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সতর্কীকরণ: জোয়ামিউল কালিম প্রোগ্রামে এই পাণ্ডুলিপিটি আল-বাখতারির প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, এবং শায়খ নাবিল জাররার আমাদের জানিয়েছেন এই বলে যে: এই কিতাবটি নিশ্চিতভাবে আল-বাখতারির নয়, বরং এটি জাহিরিয়া লাইব্রেরির ৪৭ নং পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের মূল কপি (৬৫ - ১০৪) থেকে নেয়া হয়েছে যার শুরুর অংশটি বিচ্ছিন্ন, আলবানী একে আল-মুনতাখাব গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৮৯): আবু আল-ফারাজ আস-সাকাফি মাসউদ বিন হাসান আল-আসফাহানি - ৫৬২ হিজরি এর 'আল-ফাওয়াইদ' নামে নামকরণ করেছেন, এবং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর পাতাগুলো আগে-পিছে হয়ে ওলট-পালট হয়ে গেছে এবং অন্য একটি কিতাবের পাতা এর সাথে মিশে গেছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫০

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ تَوَكَّلْتُ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لا يَمُوتُ قَالَ فِي خُطْبَةِ كِتَابِهِ: الْعُلُومُ ثَلاثَةٌ ، عَقْلِيٌّ مَحْضٌ لا يَحُثُّ الشَّرْعُ عَلَيْهِ، وَلا يَنْدُبُ إِلَيْهِ، كَالْحِسَابِ وَالْهَنْدَسَةِ وَالنُّجُومِ، وَأَمْثَالِهَا مِنَ الْعُلُومِ، فَهِيَ بَيْنَ مُتُونٍ كَاذِبَةٍ لا ثِقَةَ بِهَا، وَإِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ.

وَبَيْنَ عُلُومٍ صَادِقَةٍ لا مَنْفَعَةَ لَهَا، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عِلْمٍ لا يَنْفَعُ، وَفِي هَذَا الْكَلامِ مِنَ الْخَلَلِ وَالْخَطَلِ مَا لا يَخْفَى عَلَى الْمُبْتَدِئِينَ الشَّادِّينَ ، فَضْلا عَنِ الْعُلَمَاءِ الْمُحْرِزِينَ لأَنَّهُ. . . . . . قَسَّمَ عِلْمَ الْحِسَابِ وَالْهَنْدَسَةِ وَالنُّجُومِ إِلَى ظَنٍّ كَاذِبٍ.

وَعِلْمٍ صَادِقٍ غَيْرِ نَافِعٍ، وَذَلِكَ قَوْلٌ مُبَايِنٌ لِلْمَعْقُولِ، مُخَالِفٌ لِلْمَنْقُولِ، فَإِنَّ الْحِسَابَ لَيْسَ لِلظُّنُونِ فِيهِ مَجَالٌ. . . . . . ، لأَنَّهُ إِمَّا ضَرْبٌ أَوْ نِسْبَةٌ أَوْ قِسْمَةٌ وَكُلُّ ذَلِكَ قَطْعِيٌّ يَقِينِيٌّ لا يُبَارِي إِلَيْهِ شَكٌّ وَلا يَعْتَرِيهِ رَيْبٌ، فَكَيْفَ يَتَوَهَّمُ مُتَوَهِّمٌ أَنَّ فِيهِ ظِنوِنًا كَاذِبَةً؟ أَمْ كَيْفَ يَعْتَقِدُ مُعْتَقِدٌ أَنَّ الشَّرْعَ لا يَحُثُّ عَلَيْهِ وَلا يَنْدُبُ إِلَيْهِ؟ وَمَدَارُ عِلْمِ الْفَرَائِضِ، وَقِسْمَةِ الْمَوَارِيثِ وَالتَّرِكَاتِ عَلَيْهِ؟ وَقَدْ قَالَ عليه السلام: «تَعَلَّمُوا الْفَرَائِضَ وَعَلِّمُوهَا النَّاسَ، فَإِنِّي امْرُؤٌ مَقْبُوضٌ، وَإِنَّ الْعِلْمَ سَيُقْبَضُ حَتَّى يَخْتَلِفَ الرَّجُلانِ فِي الْفَرِيضَةِ فَلا يَجِدَانِ مَنْ يُخْبِرُهُمَا بِهَا».

وَقَالَ عليه السلام: «الْفَرَائِضُ نِصْفُ الْعِلْمِ».

إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الأَخْبَارِ وَالآثَارِ ، ثُمَّ بِهِ مَقَادِيرُ الْوَاجِبَاتِ مِنَ الْخِرَاجَاتِ وَالزَّكَوَاتِ، وَيُفْصَلُ بِهِ قَضَايَا. . . . . . وَأَدَّيْتُ إِلَيْهِ صَدَقَةَ ثَلاثِ سِنِينَ، وَلَمْ أَلْقَهُ وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَبُو عَمْرٍو، وَإِبْرَاهِيمُ اسْمُ أَبِي عَدِيٍّ، بَصْرِيٌّ كَبِيرٌ شَيْخُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، وَعُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ، وَأَبِي بَكْرٍ، وَعُثْمَانَ ابْنَيْ أَبِي شَيْبَةَ، مُحْتَجٌّ بِهِ فِي الصَّحِيحِ، وَقَعَ لِي عَالِيًا مِنْ حَدِيثِ الْقَاضِي أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْمَحَامِلِيِّ، رحمه الله، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْبَاهِلِيِّ، عَنْهُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমি সেই চিরঞ্জীবের ওপর ভরসা করছি যাঁর মৃত্যু নেই। তিনি তাঁর কিতাবের মুখবন্ধে বলেছেন: জ্ঞান তিন প্রকার; (প্রথমত) বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান যার প্রতি শরীয়ত উৎসাহ প্রদান করে না এবং যা অর্জনের আহ্বানও জানায় না, যেমন হিসাববিজ্ঞান (গণিত), জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং এ জাতীয় অন্যান্য জ্ঞান। এগুলি এমন সব মিথ্যা মূলপাঠের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর আস্থা রাখা যায় না, আর নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা বা অনুমান পাপ।

এবং (দ্বিতীয়ত) এমন সত্য জ্ঞান যা উপকারী নয়; আর আমরা আল্লাহর নিকট এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাই যা কোনো উপকারে আসে না। এই বক্তব্যের মধ্যে এমন ত্রুটি ও অসারতা রয়েছে যা কেবল শুরু করা শিক্ষার্থীদের কাছেই নয়, বরং বিশেষজ্ঞ আলেমদের নিকটও অত্যন্ত স্পষ্ট; কেননা তিনি... হিসাববিজ্ঞান, জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানকে মিথ্যা ধারণার অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এবং তিনি একে অনুপকারী সত্য জ্ঞান হিসেবে গণ্য করেছেন, যা বিচারবুদ্ধির বিরোধী এবং শরয়ী দলীলের পরিপন্থী। কেননা হিসাববিজ্ঞানে অনুমানের কোনো স্থান নেই... কারণ তা হয় গুণ, অথবা অনুপাত কিংবা ভাগ; আর এসবই অকাট্য ও নিশ্চিত জ্ঞান যার মধ্যে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই এবং সংশয় একে স্পর্শ করতে পারে না। তবে কোনো ভ্রান্ত ব্যক্তি কীভাবে কল্পনা করতে পারে যে এর মধ্যে মিথ্যা অনুমান রয়েছে? অথবা কোনো বিশ্বাসী কীভাবে মনে করতে পারে যে শরীয়ত এতে উৎসাহ দেয় না বা এর আহ্বান জানায় না? অথচ ফারায়েয শাস্ত্র এবং উত্তরাধিকার ও পরিত্যক্ত সম্পদ বণ্টনের মূল ভিত্তিই তো এর ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা ফারায়েয শিক্ষা করো এবং তা মানুষকে শেখাও, কারণ আমি একজন মরণশীল মানুষ এবং অচিরেই জ্ঞান তুলে নেওয়া হবে, এমনকি অবস্থা এমন হবে যে, দুই ব্যক্তি উত্তরাধিকার নিয়ে মতবিরোধ করবে কিন্তু তারা এমন কাউকে পাবে না যে তাদের এ বিষয়ে সমাধান দিতে পারে।»

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: «ফারায়েয হলো জ্ঞানের অর্ধেক।»

এছাড়াও আরও অনেক বর্ণনা ও আসার রয়েছে। অধিকন্তু এর মাধ্যমেই খাজনা ও জাকাতের ওয়াজিব পরিমাণ নির্ধারিত হয় এবং এর মাধ্যমেই মীমাংসা করা হয় বিভিন্ন বিষয়ের... এবং আমি তাঁকে তিন বছরের সদকা প্রদান করেছি, তবে আমি তাঁর সাক্ষাৎ পাইনি। ইবনে আবি আদী হলেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আবু আমর; আর ইব্রাহিম হলো আবু আদীর নাম। তিনি একজন বিখ্যাত বসরী আলেম, যিনি আহমদ ইবনে হাম্বল, উমর ইবনে আলী এবং আবু বকর ও উসমান ইবনে আবি শায়বা ভ্রাতৃদ্বয়ের উস্তাদ। সহীহ গ্রন্থসমূহে তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি আমার নিকট কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-মাহামিলি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস আল-বাহিলী থেকে উচ্চ সনদ হিসেবে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢)
1 - حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّصَّاصُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَعْفَرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ الْقَطَّانُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه، عَلَى الْمِنْبَرِ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَامٍ، فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ فِينَا عَامَ أَوَّلَ فَقَالَ: ‌‌«إِنَّهُ لَمْ يُعْطَ النَّاسُ شَيْئًا أَفْضَلَ مِنَ الْعَافِيَةِ، فَاسْأَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ، وَعَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ وَالْبِرِّ، فَإِنَّهُمَا يَهْدِيَانِ إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ وَالْفُجُورَ، فَإِنَّهُمَا يَهْدِيَانِ إِلَى النَّارِ»
1 - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কাযী আবুল ফযল আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাসসাস, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, চুয়াত্তর সালের মহররম মাসে; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে জাফর; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-হাসান আল-কাত্তান; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামী; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবী; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর ইনতিকালের এক বছর পর আবু বকর আস-সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রথম বছর আমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই মানুষকে আফিয়াতের (নিরাপত্তা ও সুস্থতা) চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু দান করা হয়নি। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নিকট আফিয়াত প্রার্থনা করো। আর তোমরা সত্যবাদিতা ও পুণ্যকে আঁকড়ে ধরো, কারণ এ দুটি জান্নাতের দিকে পথ দেখায়। আর তোমরা মিথ্যা ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এ দুটি জাহান্নামের দিকে পথ দেখায়।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٣)
2 - قَالَ: وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ طُلَيْقِ بْنِ قَيْسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو: ‌‌«رَبِّ أَعِنِّي وَلا تُعِنْ عَلَيَّ، وَانْصُرْنِي وَلا تَنْصُرْ عَلَيَّ، وَامْكُرْ لِي وَلا تَمْكُرْ عَلَيَّ، وَيَسِّرْ لِيَ الْهُدَى، وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيَّ، رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَّارًا، لَكَ ذَكَّارًا، لَكَ رَهَّابًا، لَكَ مِطْوَاعًا، إِلَيْكَ مُخْبِتًا، لَكَ أَوَّاهًا مُنِيبًا، رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي، وَاغْسِلْ حَوْبَتِي، وَأَجِبْ دَعْوَتِي، وَثَبِّتْ حُجَّتِي، وَاهْدِ قَلْبِي، وَسَدِّدْ لِسَانِي، وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ قَلْبِي»
2 - তিনি বলেন: সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি তুলায়ক ইবনে কায়স থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বলে দুআ করতেন: ‌‌«হে আমার রব! আমাকে সাহায্য করুন এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করবেন না, আমাকে বিজয় দান করুন এবং আমার ওপর কাউকে বিজয়ী করবেন না, আমার পক্ষে কৌশল করুন এবং আমার বিরুদ্ধে কৌশল করবেন না, আমার জন্য পথপ্রদর্শন সহজ করে দিন এবং আমাকে সাহায্য করুন সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে আমার ওপর সীমা লঙ্ঘন করে। হে আমার রব! আমাকে আপনার প্রতি অধিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী, আপনার অধিক যিকিরকারী, আপনাকে অধিক ভয়কারী, আপনার প্রতি অধিক অনুগত, আপনার কাছে অতি বিনয়ী, এবং আপনার কাছে ক্রন্দনকারী ও প্রত্যাবর্তনকারী বানান। হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করুন, আমার পাপ ধুয়ে দিন, আমার দুআ কবুল করুন, আমার প্রমাণ সুদৃঢ় করুন, আমার অন্তরকে হেদায়েত দিন, আমার জিহ্বাকে সত্যনিষ্ঠ করুন এবং আমার অন্তরের কালিমা দূর করে দিন।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٤)
3 - وَنا سُفْيَانُ، ثنا سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، عَنْ عِمْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَتْ قُرَيْشٌ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يَجْعَلْ لَنَا الصَّفَا ذَهَبًا، فَإِنْ أَصْبَحَ لَنَا ذَهَبًا اتَّبَعْنَاكَ.

 

فَأَتَه جِبْرِيلُ، فَقَالَ: إِنَّ رَبَّكَ يَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلامُ، وَيَقُولُ: ‌‌«إِنْ شِئْتَ أَصْبَحَ لَهُمُ الصَّفَا ذَهَبًا، فَمَنْ كَفَرَ بَعْدُ مِنْهُمْ عَذَّبْتُهُ عَذَابًا لا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ، وَإِنْ شِئْتَ فَتَحْتُ بَابَ التَّوْبَةِ وَالرَّحْمَةِ».

قَالَ: يَا رَبِّ بَابَ التَّوْبَةِ وَالرَّحْمَةِ
৩ - সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সালামাহ ইবনু কুহাইল থেকে, তিনি ইমরান থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুরাইশরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিল, আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাদের জন্য সাফা পাহাড়কে স্বর্ণে পরিণত করে দেন। যদি তা আমাদের জন্য স্বর্ণে রূপান্তরিত হয়, তবে আমরা আপনার অনুসরণ করব।

 

অতঃপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আগমন করলেন এবং বললেন: আপনার রব আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং বলছেন: “যদি আপনি চান তবে তাদের জন্য সাফা পাহাড় স্বর্ণে পরিণত হয়ে যাবে। তবে এরপর তাদের মধ্য থেকে কেউ কুফরি করলে আমি তাকে এমন আজাব দেব যা বিশ্বজগতের আর কাউকেও দেইনি। আর যদি আপনি চান তবে আমি তাওবা ও রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেব।” তিনি বললেন: হে আমার রব! তাওবা ও রহমতের দরজাই (উন্মুক্ত রাখুন)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٥)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْغَزَّالُ، رحمه الله، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، فِي الْمُحَرَّمِ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ، ثنا أَبُو عَبْدٍ الْجُرْجَانِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ الْقَطَّانُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، قَالَ: ذَكَرَ سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلا وَمَعَهُ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ، وَقَرِينُهُ مِنَ الْمَلائِكَةِ».

قَالُوا: وَإِيَّاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمَ فَلا يَأْمُرُنِي إِلا بِخَيْرٍ»
৪ - আমাদের নিকট আবুল কাসিম আহমাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-গাজ্জাল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) চুয়াত্তর হিজরি সালের মুহাররম মাসে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট আবু আবদ আল-জুরজানি বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট আহমাদ বিন ইউসুফ আস-সুলামি বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরিয়াবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান উল্লেখ করেছেন মানসুর থেকে, তিনি সালিম বিন আবিল জাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে তার একজন জিন সঙ্গী এবং একজন ফেরেশতা সঙ্গী (নিযুক্ত) নেই»।

তাঁরা বললেন: আপনার সাথেও কি হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, তবে আল্লাহ তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন, ফলে সে আত্মসমর্পণ করেছে, তাই সে আমাকে কল্যাণ ছাড়া অন্য কোনো নির্দেশ দেয় না»।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٦)
5 - قَالَ: وَذَكَرَ سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُبَيْدَةَ السَّلْمَانِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«اقْرَأْ».

قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ الْقُرْآنُ.

قَالَ: «نَعَمْ».

قَالَ: فَقَرَأْتُ سُورَةَ
النِّسَاءِ حَتَّى إِذَا انْتَهَيْتُ إِلَى هَذِهِ الآيَةِ: {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاءِ شَهِيدًا} [النساء: 41].

قَالَ: «حَسْبُكَ الآنَ».

فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ، فَإِذَا عَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ
৫ - তিনি বলেন: সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি উবাইদাহ আস-সালমানি থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: “তুমি পাঠ করো।”

তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার নিকট পাঠ করব, অথচ আপনার ওপরই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে?

তিনি বললেন: “হ্যাঁ।”

তিনি বলেন: অতঃপর আমি সূরা
আন-নিসা পাঠ করলাম, এমনকি যখন আমি এই আয়াতে পৌঁছলাম: {অতএব কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব?} [আন-নিসা: ৪১]।

তিনি বললেন: “এখন তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট।”

অতঃপর আমি তাঁর দিকে তাকালাম, তখন দেখলাম তাঁর দুই চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٧)
6 - قَالَ: وَذَكَرَ سُفْيَانُ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ حَنْظَلَةَ الْكَاتِبِ الأُسَيْدِيِّ، رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، فَذَكَّرَنَا الْجَنَّةَ وَالنَّارَ كَأَنَّا رَأَيُ عَيْنٍ، فَقُمْتُ إِلَى أَهْلِي فَضَحِكْتُ، وَلَعِبْتُ، فَلَقِيتُ أَبَا بَكْرٍ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ، فَقُلْتُ: نَافَقَ حَنْظَلَةُ.

قَالَ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالَ: قُلْتُ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُذَكِّرُنَا بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ كَأَنَّا رَأْيُ عَيْنٍ، فَقُمْتُ إِلَى أَهْلِي فَضَحِكْتُ وَلَعِبْتُ.

فَقَالَ: إِنَّا لَنَفْعَلُ ذَلِكَ.

 

فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كُنَّا عِنْدَكَ تُذَكِّرُنَا بِالْجَنَّةِ وَالنَّارِ كَأَنَّا رَأْيُ عَيْنٍ، فَقُمْتُ إِلَى أَهْلِي فَضَحِكْتُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«سَاعَةً وَسَاعَةً، لَوْ كُنْتُمْ تَكُونُونَ كَمَا تَكُونُونَ عِنْدِي لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلائِكَةُ فِي بُيُوتِكُمْ أَوْ عَلَى فُرُشِكُمْ».

الأَحَادِيثُ السِّتَّةُ بَعْضُهَا مَشَاهِيرُ وَبَعْضُهَا صِحَاحٌ ، أَمَّا حَدِيثُ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَحَدِيثُهُ عَنْ عَبْدِ بْنِ الْحَارِثِ، فَمَشْهُورَانِ سَنَدًا وَمَتْنًا.

وَحَدِيثُ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحَارِثِ أَبِي الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ الْكُوفِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، مَشْهُورٌ أَيْضًا، وَحَدِيثُ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ الأَشْجَعِيِّ الْكُوفِيِّ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي الْجَعْدِ رَافِعٍ الأَشْجَعِيِّ الْغَطْفَانِيِّ الْقَارِئِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، صَحِيحٌ مِنْ مَفَارِيدِ مُسْلِمٍ، أَخْرَجَهُ فِي كِتَابِهِ، عَنْ إِسْحَاقَ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَمُحَمَّدِ بْنِ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْهُ.

وَمَنْصُورٌ هُوَ ابْنُ الْمُعْتَمِرِ بْنِ رَبِيعَةَ أَبُو عَتَّابٍ السُّلَمِيُّ الْكُوفِيُّ، وَحَديِثُ عُبَيْدَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ السَّلْمَانِيِّ، وَسَلْمَانُ بِسُكُونِ اللامِ بَطْنٌ مِنْ مُرَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، صَحِيحٌ بِاتِّفَاقِ مُخَرِّجِي الصَّحِيحَيْنِ ، أَمَّا الْبُخَارِيُّ، فَرَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيِّ، عَنْ سُفْيَانَ.

وَمُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدِ بْنِ الْعَلاءِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، كِلاهُمَا، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مِهْرَانَ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ أَبِي عِمْرَانَ النَّخَعِيِّ، عَنْهُ.

وَحَدِيثُ أَبِي عُثْمَانَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَلٍّ الْبَصْرِيِّ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ الرَّبِيعِ، بِفَتْحِ الرَّاءِ، وَيُقَالُ: الرُّبَيْعُ، وَلَيْسَ بِثَبْتٍ الأُسَيْدِيُّ التَّمِيمِيُّ، وَكَانَ مِنْ كُتَّابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولِهِ إِلَى أَهْلِ الطَّائِفِ، وَكَانَ يَسْكُنُ الْكُوفَةَ، ثُمَّ خَرَجَ مِنَ الْكُوفَةِ إِلَى قرة قِيسِيَا، وَسَكَنَهَا، وَقَالَ: لا أُقِيمُ بِبَلْدَةٍ يُشْتَمُ فِيهَا عُثْمَانُ رضي الله عنه، صَحِيحٌ خَرَّجَهُ مُسْلِمٌ مُنْفَرِدًا بِهِ عَنْ أَبِي خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ إِيَاسٍ أَبِي مَسْعُودٍ الْجُرَيْرِيِّ الْبَصْرِيِّ، عَنْهُ، وَحَنْظَلَةَ رضي الله عنه، مِنْ وَلَدِ أُسَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ تَمِيمٍ، قَالَ اللُّغَوِيُّونَ: النِّسْبَةُ إِلَى أُسَيْدٍ أُسَيْدِيٌّ بِالتَّسْكِينِ، اسْتِثْقَالا لِكَثْرَةِ الْكَسْرَاتِ، وَضُبِطَ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْدَهْ الْحَافِظِ، رحمه الله الأَسِيدِيُّ بِفَتْحِ الأَلْفِ وَكَسْرِ السِّينِ
৬ - তিনি বলেন: সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আল-জুরায়রী থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে, তিনি হানজালাহ আল-কাতিব আল-উসাইদী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম, তিনি আমাদের জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন যেন তা আমরা চোখের সামনে দেখছিলাম। অতঃপর আমি আমার পরিবারের নিকট ফিরে গেলাম এবং হাসাহাসি ও খেলাধুলায় মগ্ন হলাম। এরপর আমি আবু বকর (রা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বিষয়টি তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। আমি বললাম: ‘হানজালাহ মুনাফিক হয়ে গেছে।’

তিনি বললেন: ‘তা কেন?’ তিনি বলেন, আমি বললাম: ‘আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থাকাকালে তিনি আমাদের জান্নাত ও জাহান্নামের কথা এমনভাবে স্মরণ করিয়ে দেন যেন আমরা তা চোখের সামনে দেখতে পাই। অতঃপর যখন আমি আমার পরিবারের নিকট ফিরে যাই, তখন আমি হাসাহাসি ও খেলাধুলায় মেতে উঠি।’

তখন তিনি (আবু বকর) বললেন: ‘আমরাও তো এমনটি করি।’

 

অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এবং বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যখন আপনার নিকট থাকি তখন আপনি আমাদের জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন যেন আমরা তা চাক্ষুষ দেখছি। কিন্তু যখন আমি আমার পরিবারের নিকট ফিরে যাই, তখন আমি হাসাহাসি করি।’ তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ‌‌‘হে হানজালাহ! সময়ের একটি অংশ ইবাদতের জন্য আর একটি অংশ পার্থিব কাজের জন্য। তোমরা যদি সর্বদা সেই অবস্থায় থাকতে যে অবস্থায় আমার কাছে থাকো, তবে ফেরেশতারা তোমাদের ঘরে অথবা তোমাদের বিছানায় তোমাদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করত।’

এই ছয়টি হাদিসের কিছু প্রসিদ্ধ (মাশহুর) এবং কিছু সহিহ। আম্র ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণিত আবু উবাইদাহ আমির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাদিস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস থেকে তাঁর হাদিস—এই উভয়টিই সনদ ও মতনের দিক থেকে প্রসিদ্ধ।

সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে বর্ণিত ইমরান ইবনে হারিস আবু আল-হাকাম আস-সুলামি আল-কুফি’র মাধ্যমে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটিও প্রসিদ্ধ। সালিম ইবনে আবি আল-জাদ আল-আশজায়ি আল-কুফি থেকে তাঁর পিতা আবু আল-জাদ রাফি আল-আশজায়ি আল-গাতাফানি আল-কারি’র মাধ্যমে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি সহিহ এবং এটি ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি তাঁর কিতাবে ইসহাক থেকে, তিনি জারির থেকে, তিনি মানসুর থেকে এবং মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মদ ইবনে বাশার উভয়েই আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর মানসুর হলেন ইবনুল মুতামির ইবনে রাবিয়াহ আবু আত্তাব আস-সুলামি আল-কুফি। উবাইদাহ ইবনে আম্র ইবনে আবি মুসলিম আস-সালমানি—আর সালমানি শব্দটি ‘লাম’ অক্ষরে সুকুন যোগে মুরাদ গোত্রের একটি শাখা—এর মাধ্যমে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এর সংকলকদ্বয়ের ঐক্যমতে সহিহ। ইমাম বুখারি এটি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরয়াবি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর ইমাম মুসলিম এটি আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ ও মুহাম্মদ ইবনুল আলা থেকে, তাঁরা হাফস ইবনে গিয়াস থেকে, তাঁরা উভয়েই সুলাইমান ইবনে মিহরান আল-আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ আবু ইমরান আন-নাখায়ি থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু উসমান আব্দুর রহমান ইবনে মাল আল-বাসরি থেকে বর্ণিত হানজালাহ ইবনুর রবি—‘রা’ অক্ষরে জবর দিয়ে, তবে আর-রুবাইয়ুও বলা হয় কিন্তু তা শক্তিশালী (প্রমাণিত) নয়—আল-উসাইদি আত-তামিমি’র হাদিসটি সহিহ। হানজালাহ (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর লেখকগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তায়েফবাসীর নিকট প্রেরিত তাঁর দূত ছিলেন। তিনি কুফায় বসবাস করতেন, অতঃপর তিনি কুফা থেকে বের হয়ে কুরা-কিসিয়ার দিকে চলে যান এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেন। তিনি বলেছিলেন: ‘আমি এমন কোনো শহরে অবস্থান করব না যেখানে উসমান (রা.)-কে গালি দেওয়া হয়।’ এটি সহিহ হাদিস, ইমাম মুসলিম এটি এককভাবে আবু খাইসামাহ থেকে, তিনি আবু নুআইম থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াস আবু মাসউদ আল-জুরায়রি আল-বাসরি থেকে, তিনি আবু উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন। হানজালাহ (রা.) ছিলেন উসাইদ ইবনে আম্র ইবনে তামীমের বংশধর। ভাষাবিদগণ বলেন: ‘উসাইদ’ এর দিকে নিসবত করার ক্ষেত্রে সাকিন করে ‘উসাইদি’ বলা হয়, যাতে কাসরার আধিক্য হেতু উচ্চারণ ভারী না হয়। হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ (রহ.) থেকে এটি ‘আল-আসিদি’ অর্থাৎ আলিফে জবর এবং সিনে যের দিয়েও বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٨)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ سَهْلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ الْقَارِئُ، وَكَانَ شَيْخًا صَالِحًا صَاحِبَ لَيْلٍ وَتَهَجُّدٍ، رحمه الله، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبُرْدِيُّ التَّاجِرُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ النَّيْسَابُورِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ أَبُو جَعْفَرٍ الْكُوفِيُّ، ثنا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«أُرِيتُ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أُهَاجِرُ مِنْ مَكَّةَ إِلَى أَرْضٍ بِهَا نَخْلٌ، فَذَهَبَ وَهَلِي إِلَى أَنَّهَا الْيَمَامَةُ، أَوْ هَجَرُ، فَإِذَا هِيَ الْمَدِينَةُ يَثْرِبُ، وَرَأَيْتُ فِي رُؤْيَايَ هَذِهِ أَنِّي قَدْ هَزَزْتُ سَيْفًا فَانْقَطَعَ صَدْرُهُ، فَإِذَا هُوَ مَا أُصِيبَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ أُحُدٍ، ثُمَّ هَزَزْتُهُ أُخْرَى فَعَادَ أَحْسَنَ مَا كَانَ فَإِذَا هُوَ مَا جَاءَ اللَّهُ بِهِ مِنَ الْفَتْحِ وَاجْتِمَاعِ الْمُؤْمِنِينَ، وَرَأَيْتُ أَيْضًا بَقَرًا وَاللَّهِ تُنْحَرُ فَإِذَا هُمُ النَّفَرُ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ أُحُدٍ، وَإِذَا الْخَيْرُ مَا جَاءَ اللَّهُ بِهِ مِنَ الْخَيْرِ، وَثَوَابِ الصِّدْقِ الَّذِي أَتَانَا اللَّهُ بَعْدَ يَوْمِ بَدْرٍ».

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ حَمَّادِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ عَامِرٍ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي مُوسَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ سُلَيْمِ بْنِ حَضَّارِ بْنِ حَرْبِ بْنِ عَامِرِ بْنِ عِتْرِ بْنِ وَائِلِ بْنِ نَاجِيَةَ الأَشْعَرِ الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه، قَارِئِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي أَثْنَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ: «لَقَدْ أُوتِيَ مِزْمَارًا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ».

وَقَالَ أَبُو عُثْمَانَ النَّهْدِيُّ: أَدْرَكْتُ الْجَاهِلِيَّةَ، فَمَا سَمِعْتُ صَوْتَ صَنْجٍ، وَلا بَرْبَطٍ، وَلا مِزْمَارٍ، أَحْسَنَ مِنْ صَوْتِ أَبِي مُوسَى بِالْقُرْآنِ، وَإِنَّهُ كَانَ يُصَلِّي بِنَا صَلاةَ الصُّبْحِ فَنَوَدُّ لَوْ قَرَأَ بِالْبَقَرَةِ مِنْ حُسْنِ صَوْتِهِ، وَكَانَ رضي الله عنه قَدِمَ مَكَّةَ، فَأَسْلَمَ ثُمَّ هَاجَرَ إِلَى أَرْضِ الْحَبَشَةِ، ثُمَّ قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ فَتْحِ خَيْبَرَ بِثَلاثٍ، فَقَسَّمَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَلم يُقَسِّمْ لأَحَدٍ لَمْ يَشْهَدِ الْفَتْحَ، وَلِيَ الْبَصْرَةَ لأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ أَبِي حَفْصٍ، وَأَبِي عَمْرٍو، عُمَرَ، وَعُثْمَانَ رضي الله عنهما، وَلَهُ بِهَا فُتُوحٌ، وَلَهُ بِهَا إِلَى جَانِبِ الْمَسْجِدِ، وَتُوُفِّيَ بِالْكُوفَةِ فِيمَا قَالَهُ أَصْحَابُ التَّوَارِيخِ، فَرَوَيَاهُ جَمِيعًا رَحِمَهُمَا اللَّهُ، عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَلاءِ الْهَمَذَانِيِّ الْكُوفِيِّ، عَنْهُ.

وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «ذَهَبَ وَهَلِي».

أَيْ وَهْمِي، يُقَالُ: وَهَلَ الرَّجُلُ يَهِلُ إِذَا وَهِمَ الشَّيْءَ.

وَقَوْلُهُ: «رَأَيْت فِيهَا أَيْضًا بَقَرًا وَاللَّهِ تُنْحَرُ».

كَذَلِكَ كَانَ فِي مُتَّصِلِ سَمَاعِي، بِخَطِّ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُلَيْمَانَ الْحَافِظِ، وَالْمَحْفُوظُ الصَّحِيحُ الْمُخَرَّجُ فِي الْكِتَابَيْنِ «بَقَرًا وَاللَّهُ خَيْرٌ»
৭ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান সাহল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আলী আল-কারী, তিনি একজন নেককার শায়খ এবং রাত জেগে ইবাদত ও তাহাজ্জুদ পালনকারী ছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি শুনছিলাম, এটি ছিল ৪৭৩ হিজরী সনের জিলহজ মাসে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আল-বুরদী আত-তাজির, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আন-নায়সাবুরী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আব্দুল হামিদ আবু জাফর আল-কুফী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উসামা, বুরায়দ থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মক্কা থেকে এমন এক ভূমিতে হিজরত করছি যেখানে খেজুর গাছ রয়েছে। আমার ধারণা হলো যে, সেটি সম্ভবত ইয়ামামা বা হাজার হবে, কিন্তু দেখা গেল সেটি মদিনা অর্থাৎ ইয়াসরিব। আমি এই স্বপ্নে আরও দেখলাম যে, আমি একটি তলোয়ার নাড়ালাম, ফলে এর অগ্রভাগ ভেঙে গেল। এটি ছিল উহুদ যুদ্ধে মুমিনদের যে বিপর্যয় ঘটেছিল তার প্রতিফলন। এরপর আমি সেটি পুনরায় নাড়া দিলাম, তখন তা পূর্বের তুলনায় আরও সুন্দর অবস্থায় ফিরে এলো; আর এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয় ও মুমিনদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতিফলন। আমি সেখানে কিছু গরুও দেখলাম—আল্লাহর শপথ—যেগুলো জবেহ করা হচ্ছিল; তারা ছিল উহুদ যুদ্ধে শহীদ হওয়া মুমিনদের একটি দল। আর সেখানে কল্যাণ ছিল যা আল্লাহ দান করেছেন এবং সত্যবাদিতার সেই পুরস্কার যা আল্লাহ বদর যুদ্ধের পর আমাদের দিয়েছিলেন।»

এটি একটি সহীহ হাদীস যা আবু উসামা হাম্মাদ ইবনে উসামার সূত্রে মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)। তিনি বুরায়দ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বুরদাহ থেকে, তিনি তাঁর দাদা আবু বুরদাহ আমির থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবু মুসা আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স ইবনে সুলাইম ইবনে হাদ্দার ইবনে হারব ইবনে আমির ইবনে ইতর ইবনে ওয়ািল ইবনে নাজিয়াহ আল-আশআর আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কারী (কুরআন তিলাওয়াতকারী), যাঁর প্রশংসা করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই তোমাকে দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরদের সুরসমূহের মধ্য থেকে একটি সুর প্রদান করা হয়েছে।»

আবু উসমান আন-নাহদী বলেন: আমি জাহিলিয়াত যুগ পেয়েছি, কিন্তু আবু মুসার কুরআন তিলাওয়াতের সুরের চেয়ে সুন্দর কোনো মন্দিরা, বীণা বা বাঁশির শব্দ আমি কখনো শুনিনি। তিনি আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতেন, তাঁর কণ্ঠের সৌন্দর্যের কারণে আমাদের আকাঙ্ক্ষা হতো যে তিনি যদি সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করতেন! তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মক্কায় এসে ইসলাম গ্রহণ করেন, এরপর আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। খায়বার বিজয়ের তিন দিন পর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ফিরে আসেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারের গনিমতের অংশ তাঁদেরও দিয়েছিলেন, যদিও যারা যুদ্ধে উপস্থিত ছিল না এমন আর কাউকে তিনি তা দেননি। তিনি আমিরুল মুমিনীন আবু হাফস (উমর) এবং আবু আমর (উসমান) (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর শাসনামলে বসরার গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে অনেক বিজয় অর্জন করেন। মসজিদের পাশে তাঁর আবাস ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে তিনি কুফায় মৃত্যুবরণ করেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিম (আল্লাহ তাঁদের রহম করুন) উভয়েই আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আল-হামদানি আল-কুফীর সূত্রে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: «যাহাবা ওয়াহলি» (আমার ধারণা হলো)।

অর্থাৎ আমার ধারণা; বলা হয়: মানুষ «ওয়াহালা» হয় যখন সে কোনো বিষয়ে ভুল ধারণা বা সংশয় পোষণ করে।

এবং তাঁর কথা: «আমি সেখানে কিছু গরুও দেখলাম—আল্লাহর শপথ—যেগুলো জবেহ করা হচ্ছিল»

আমার শোনা অবিচ্ছিন্ন সূত্রে এভাবেই ছিল, হাফেজ ইবরাহীম ইবনে সুলাইমানের হস্তলিপিতেও তাই। তবে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ সংরক্ষিত ও বর্ণিত পাঠ হলো «কিছু গরু, আর আল্লাহর শপথ তা উত্তম»।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٩)
8 - قَالَ: وَثنا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِنِّي لأَعْرِفُ أَصْوَاتَ رَفَقَةِ الأَشْعَرِيِّينَ بِالْقُرْآنِ حِينَ يَدْخُلُونَ بِاللَّيْلِ، وَأَعْرِفُ مَنَازِلَهُمْ مِنْ أَصْوَاتِهِمْ بِالْقُرْآنِ بِاللَّيْلِ، وَإِنْ كُنْتُ لَمْ أَرَ مَنَازِلَهُمْ حِينَ نَزَلُوا بِالنَّهَارِ، وَمِنْهُمْ حَكَمَ حَكِيمٌ إِذَا لَقِيَ الْخَيْلَ».

أَوْ قَالَ: " الْغَدُ، وَقَالَ لَهُمْ: إِنَّ أَصْحَابِي يَأْمُرُونَكُمْ أَنْ تَنْظُرُوهُمْ ".

وَهَذَا أَيْضًا صَحِيحٌ اتَّفَقَ عَلَيْهِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْجُعْفِيُّ، وَأَبُو الْحُسَيْنِ الْقُشَيْرِيُّ، فَأَتَيَا بِهِ فِي كِتَابَيْهِمَا الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ
৮ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু উসামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বুরাইদ ইবনে আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‌‌«নিশ্চয়ই আমি আশআরী গোত্রের কাফেলার লোকদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়ায চিনে ফেলি যখন তারা রাতে প্রবেশ করে, আর আমি কুরআন তিলাওয়াতের আওয়ায থেকে তাদের অবস্থানস্থলসমূহ চিনে নেই রাতে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে, যদিও আমি তাদের অবস্থানস্থলসমূহ দেখিনি যখন তারা দিনে অবতরণ করেছিল। আর তাদের মধ্যে এমন একজন বিজ্ঞ প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি যখন শত্রুবাহিনীর ঘোড়সওয়ারদের মুখোমুখি হন (তখন দৃঢ় থাকেন)»।

অথবা তিনি বলেছেন: "আগামীকাল, এবং তিনি তাদের বললেন: নিশ্চয়ই আমার সাথীরা তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছে যেন তোমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করো।"

আর এটিও সহীহ, যে বিষয়ে আবু আব্দুল্লাহ আল-জু’ফী এবং আবু আল-হুসাইন আল-কুশায়রী একমত হয়েছেন। তাঁরা তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে এটি আবু কুরাইব থেকে, তিনি আবু উসামা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو الْحُسَيْنِ الْعَابِدُ، رحمه الله، ثنا أَبُو الْفَرَجِ عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ، ثنا أَبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَافِظُ الْمَدِينِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ عَطِيَّةَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، ثنا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلَ جِبْرِيلَ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ: ‌‌{وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ إِلا مَنْ شَاءَ اللَّهُ} [الزمر: 68].

قَالَ: «مَنْ
أُولَئِكَ الَّذِينَ لَمْ يَشَأِ اللَّهُ أَنْ يَصْعَقَهُمْ؟» قَالَ: هُمُ الشُّهَدَاءُ ثَنِيَّةُ اللَّهِ عز وجل مُتَقَلِّدِينَ أَسْيَافَهُمْ حَوْلَ الْعَرْشِ ، تَتَلَقَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ بِنَجَائِبَ مِنْ يَاقُوتٍ أَزِمَّتُهَا الدُّرُّ الأَبْيَضُ، عَلَيْهَا رَحَائِلُ الذَّهَبِ، أَغْشِيَتُهَا مِنْ السُّنْدُسُ وَالإِسْتَبْرَقُ، مَدُّ خُطَاهَا مَدُّ أَبْصَارِ الرِّحَالِ، يَسِيرُونَ فِي الْجَنَّةِ بِخُيُولٍ يَقُولُونَ عِنْدَ طُولِ النُّزْهَةِ: انْطَلِقُوا بِنَا إِلَى رَبِّنَا عز وجل لِنَنْظُرَ إِلَيْهِ كَيْفَ يَقْضِي بَيْنَ خَلْقِهِ؟ يَضْحَكُ إِلَيْهِمْ، وَإِنَّهُ إِذَا ضَحِكَ إِلَى عَبْدٍ فِي مَوْطِنٍ فَلا حِسَابَ عَلَيْهِ ".

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنُ الْمَتْنِ غَرِيبُ الإِسْنَادِ ، لا أَعْرِفُهُ هَكَذَا إِلا مِنْ حَدِيثِ أَبِي يَحْمَدَ بَقِيَّةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ صَائِدٍ حَافِظِ أَهْلِ حِمْصَ، حَدِيثِهِ فِي كِتَابِ مُسْلِمٍ رحمه الله، وَقَوْلُهُ: «ثَنِيَّةُ اللَّهِ».

بِفَتْحِ الثَّاءِ، وَكَسْرِ النُّونِ، وَتَشْدِيدِ الْيَاءِ، أَيِّ الَّذِينَ اسْتَثْنَاهُمُ اللَّهُ عز وجل، رَوَاهُ الْإِمَامُ أَبُو أَحْمَدَ الْعَسَّالُ الْحَافِظُ، فِي كِتَابِهِ عَنْ عَبْدَانَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُصَفَّى، عَنْ بَقِيَّةَ، هَكَذَا
9 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল বিন আব্দুল্লাহ আবুল হুসাইন আল-আবিদ, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফারাজ উসমান বিন আহমাদ বিন ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-হাফিজ আল-মাদিনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ বিন কাসিম বিন আতিয়্যাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুসাফফা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন মুহাম্মদ, তিনি যায়দ বিন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈলকে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: {আর যখন সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন আসমানসমূহে যারা আছে এবং পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত।} [যুমার: ৬৮]।

তিনি বললেন: «কারা
সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ বেহুঁশ না করার ইচ্ছা করেছেন?» তিনি (জিবরাঈল) বললেন: তারা হলেন শহীদগণ, যারা মহান আল্লাহর বিশেষ ব্যতিক্রমের অন্তর্ভুক্ত; তারা আরশের চারপাশে নিজেদের তরবারি পরিহিত অবস্থায় থাকবে। ফেরেশতারা ইয়াকুতের তৈরি এমন সব সওয়ারি নিয়ে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে যেগুলোর লাগাম হবে শ্বেত মুক্তার, সেগুলোর ওপর থাকবে স্বর্ণের জিন এবং সেগুলোর আবরণ হবে পাতলা ও পুরু রেশমের। সেগুলোর একেকটি পদক্ষেপ হবে সওয়ারির দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত। তারা জান্নাতে ঘোড়ায় চড়ে ভ্রমণ করবে এবং দীর্ঘ ভ্রমণের পর তারা বলবে: আমাদের মহান রবের দিকে আমাদের নিয়ে চলো যাতে আমরা তাঁর দিকে তাকাতে পারি যে তিনি কীভাবে তাঁর সৃষ্টির মাঝে বিচার করেন। তিনি (আল্লাহ) তাদের দিকে তাকিয়ে হাসবেন; আর নিশ্চয়ই তিনি যখন কোনো স্থানে কোনো বান্দার প্রতি হাসেন, তখন তার আর কোনো হিসাব থাকে না।"

এই হাদিসটির মতন (মূল পাঠ) হাসান এবং ইসনাদ (বর্ণনা সূত্র) গরিব। আমি এটি কেবল হিমস অঞ্চলের অধিবাসীদের হাফেজ আবু আহমাদ বাকিয়্যাহ বিন ওয়ালিদ বিন সায়িদের হাদিস হিসেবেই চিনি; তাঁর হাদিস ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর কিতাবে রয়েছে। আর তাঁর কথা: «থানিয়্যাতুল্লাহ» (আল্লাহর ব্যতিক্রম)।

'সা' বর্ণে জবর, 'নুন' বর্ণে জের এবং 'ইয়া' বর্ণে তাশদীদ সহকারে; অর্থাৎ তারা ঐ সকল ব্যক্তি যাদের মহান আল্লাহ ব্যতিক্রমভুক্ত করেছেন। এটি ইমাম আবু আহমাদ আল-আসসাল আল-হাফিজ তাঁর কিতাবে আবদান বিন আহমাদ বিন মুসাফফা থেকে, তিনি বাকিয়্যাহ থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١١)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ سَسَوَيْهِ التَّاجِرُ، رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ، فِي صَفَرَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، وَأَنَا أَسْمَعُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْقَاضِي، ثنا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْقِلٍ الْمَيْدَانِيُّ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الذُّهْلِيُّ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنبا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَوْفِ بْنِ الْحَارِثِ، وَهُوَ ابْنُ أَخِي عَائِشَةَ لأُمِّهَا، أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنها ، حُدِّثَتْ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ رضي الله عنه، قَالَ فِي بَيْعٍ وَعَطَاءٍ أَعْطَتْهُ: "‌‌ وَاللَّهِ لَتَنْتَهِيَنَّ عَائِشَةُ أَوْ لأَحْجُرَنَّ عَلَيْهَا.

فَقَالَتْ عَائِشَةُ: هُوَ لِلَّهِ عَلَيَّ نَذْرٌ أَنْ لا أُكَلِّمَ ابْنَ الزُّبَيْرِ
كَلِمَةً أَبَدًا ".

قَالَ: فَاسْتَشْفَعَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ عَلَيْهَا حِينَ طَالَتْ هِجْرَتُهَا إِيَّاهُ ، فَقَالَتْ: «وَاللَّهِ لا أُشَفِّعُ فِيهِ أَحَدًا أَبَدًا وَلا أَتَحَنَّثُ فِي نَذْرِي الَّذِي نَذَرْتُ».

فَلَمَّا طَالَ ذَلكَ عَلَى ابْنِ الزُّبَيْرِ كَلَّمَ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ، وَهُمَا مِنْ بَنِي زُهْرَةَ، فَقَالَ لَهُمَا: «أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ إِلا أَدْخَلْتُمَانِي عَلَى عَائِشَةَ فَإِنَّهُ لا يَحِلُّ لَهَا أَنْ تَنْذِرَ قَطِيعَتِي».

قَالَ: فَأَقْبَلَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ بِابْنِ الزُّبَيْرِ قَدِ اشْتَمَلا عَلَيْهِ بِأَرْدِيَتِهِمَا حَتَّى اسْتَأْذَنَا عَلَى عَائِشَةَ، فَقَالا: السَّلامُ عَلَى النَّبِيِّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، أَنَدْخُلُ؟ فَقَالَتْ عَائِشَةُ: «ادْخُلُوا».

فَقَالا: أَكُلُّنَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَتْ: «نَعَمْ، ادْخُلُوا كُلُّكُمْ».

وَلا تَعْلَمُ عَائِشَةُ أَنَّ مَعَهُمَا ابْنَ الزُّبَيْرِ.

فَلَمَّا دَخَلُوا اقْتَحَمَ ابْنُ الزُّبَيْرِ الْحِجَابَ، فَدَخَلَ إِلَى عَائِشَةَ، فَاعْتَنَقَهَا وَطَفِقَ يُنَاشِدُهَا وَيَبْكِي، وَطَفِقَ الْمِسْوَرُ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ، يُنَاشِدَانِ عَائِشَةَ أَلا كَلَّمْتِيهِ وَقَبِلْتِ مِنْهُ، وَيَقُولانِ لَهَا: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَمَّا عَلِمْتِ مِنَ الْهِجْرَةِ، وَإِنَّهُ لا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاثِ لَيَالٍ، فَلَمَّا أَكْثَرَا عَلَى عَائِشَةَ مِنَ التَّذْكِرَةِ وَالتَّحَرُّجِ، طَفِقَتْ تُذَكِّرُهُمْ وَتَبْكِي، وَتَقُولُ: «إِنِّي قَدْ نَذَرْتُ وَالنَّذْرُ شَدِيدٌ».

فَلَمْ يَزَالا بِهَا حَتَّى كَلَّمَتِ ابْنَ الزُّبَيْرِ، ثُمَّ أَعْتَقَتْ فِي نَذْرِهَا ذَلِكَ أَرْبَعِينَ رَقَبَةً، ثُمَّ كَانَتْ تَذْكُرُ نَذْرَهَا ذَلِكَ بَعْدَمَا أَعْتَقَتْ أَرْبَعِينَ رَقَبَةً فَتَبْكِي حَتَّى تَبِلَّ دُمُوعُهَا خِمَارَهَا.

وَهَذَا أَيْضًا صَحِيحٌ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي كِتَابِهِ ، مُنْفَرِدًا بِهِ عَنْ أَبِي الْيَمَانِ الْحَكَمِ بْنِ نَافِعٍ الْحِمْصِيِّ الْبَهْرَانِيِّ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ امْرَأَةٍ مِنْ بَهْرَاءَ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ دِينَارٍ أَبِي بِشْرِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ الأُمَوِيِّ الْحِمْصِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيِّ هَذَا
১০ - আমাদের নিকট আবু নাসর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে সাসাওয়াইহ আল-তাজির (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন, চারশত চুয়াত্তর হিজরীর সফর মাসে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে হাসান ইবনে আহমাদ আল-কাদী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মাকিল আল-মায়দানী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-যুহলী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট মা'মার সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি আউফ ইবনুল হারিস (যিনি আয়েশার বৈমাত্রেয় ভ্রাতুষ্পুত্র) থেকে বর্ণনা করেন যে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে জানানো হলো যে, আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর একটি বিক্রয় ও দানের বিষয়ে বলেছেন: "‌‌আল্লাহর কসম, আয়েশা যেন অবশ্যই তা থেকে বিরত থাকেন, নতুবা আমি অবশ্যই তাঁর ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করব।

অতঃপর আয়েশা বললেন: আল্লাহর ওয়াস্তে আমার ওপর এই মানত রইল যে, আমি ইবনুল জুবাইরের সাথে আর কখনো একটি কথাও বলব না।
"।

বর্ণনাকারী বলেন: যখন তাঁদের মধ্যকার কথাবার্তা বন্ধ থাকার বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলো, তখন আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর তাঁর নিকট সুপারিশ চাইলেন। আয়েশা বললেন: «আল্লাহর কসম, আমি তাঁর ব্যাপারে কারো সুপারিশ গ্রহণ করব না এবং আমি আমার কৃত মানত ভঙ্গ করব না।»

যখন বিষয়টি ইবনুল জুবাইরের নিকট দীর্ঘ মনে হলো, তখন তিনি আল-মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ এবং আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ ইবনে আব্দ ইয়াগুস (যাঁরা বনু যুহরা গোত্রের ছিলেন) তাঁদের সাথে কথা বললেন। তিনি তাঁদেরকে বললেন: «আমি আপনাদের আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি যে, আপনারা আমাকে অবশ্যই আয়েশার নিকট নিয়ে যাবেন; কেননা তাঁর জন্য আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মানত করা বৈধ নয়।»

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ এবং আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ ইবনে আব্দ ইয়াগুস ইবনুল জুবাইরকে সাথে নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং তাঁকে নিজেদের চাদর দিয়ে ঢেকে নিলেন। এরপর তাঁরা আয়েশার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাঁরা বললেন: আস-সালামু আলান-নাবী ওয়া রাহমাতুল্লাহি, আমরা কি প্রবেশ করতে পারি? আয়েশা বললেন: «আপনারা প্রবেশ করুন।»

তাঁরা বললেন: হে উম্মুল মুমিনীন, আমরা কি সবাই? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আপনারা সবাই প্রবেশ করুন।»

অথচ আয়েশা জানতেন না যে তাঁদের সাথে ইবনুল জুবাইরও রয়েছেন।

যখন তাঁরা প্রবেশ করলেন, ইবনুল জুবাইর পর্দার আড়ালে ঢুকে পড়লেন এবং আয়েশাকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি অনুনয়-বিনয় করতে লাগলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। অন্যদিকে মিসওয়ার এবং আব্দুর রহমান ইবনুল আসওয়াদও আয়েশাকে অনুনয় করতে লাগলেন যেন তিনি তাঁর সাথে কথা বলেন এবং তাঁর ওজর কবুল করেন। তাঁরা তাঁকে বলছিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে যা নিষেধ করেছেন তা আপনি জানেন, আর কোনো মুসলিমের জন্য তাঁর ভাইয়ের সাথে তিন রাতের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। যখন তাঁরা আয়েশাকে বারবার স্মরণ করাতে লাগলেন এবং বিষয়টি থেকে ফিরে আসার জন্য পিড়াপীড়ি করতে লাগলেন, তখন তিনি তাঁদেরকে তাঁর অবস্থার কথা বলতে লাগলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন: «আমি মানত করে ফেলেছি, আর মানত পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন বিষয়।»

তাঁরা ক্রমাগত তাঁর সাথে পিড়াপীড়ি করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি ইবনুল জুবাইরের সাথে কথা বললেন। অতঃপর তিনি তাঁর সেই মানতের কারণে চল্লিশটি দাস মুক্ত করলেন। পরবর্তীতে তিনি যখনই তাঁর সেই মানতের কথা স্মরণ করতেন, যদিও তিনি চল্লিশটি দাস মুক্ত করেছিলেন, তবুও তিনি কাঁদতেন এমনকি তাঁর চোখের পানিতে তাঁর ওড়না ভিজে যেত।

আর এটিও সহীহ, ইমাম বুখারী তাঁর কিতাবে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি আল-হিমসী আল-বাহরানী (যিনি বাহরা গোত্রের জনৈক মহিলার আযাদকৃত গোলাম ছিলেন) থেকে, তিনি শুআইব ইবনে দীনার আবু বিশর ইবনে আবু হামযা আল-উমাবী আল-হিমসী থেকে, তিনি এই আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম আল-যুহরী থেকে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْوَكِيلُ، هَذَا، ثنا أَبُو بَكْرٍ الْحِيرِيُّ، ثنا أَبُو عَلِيٍّ الْمَيْدَانِيُّ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ رضي الله عنهما، أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ حِمَارًا عَلَيْهِ إِكَافٌ تَحْتَهُ قَطِيفَةٌ فَدَكِيَّةٌ، وَأَرْدَفَ وَرَاءَهُ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ، وَهُوَ يَعُودُ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ فِي بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ، وَذَلِكَ قَبْلَ وَقْعَةِ بَدْرٍ، حَتَّى مَرَّ بِمَجْلِسٍ فِيهِ أَخْلاطُ الْمُسْلِمِينَ، وَالْمُشْرِكِينَ عَبَدَةِ الأَوْثَانِ، وَالْيَهُودِ، وَفِيهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ، وَفِي الْمَجْلِسِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ، فَلَمَّا غَشِيَتِ الْمَجْلِسَ عَجَاجَةُ الدَّابَةِ خَمَّرَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ أَنْفَهُ بِرِدَائِهِ، ثُمَّ قَالَ: لا تُغَبِّرُوا عَلَيْنَا.

فَسَلَّمَ عَلَيْهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ وَقَفَ، وَنَزَلَ فَدَعَاهُمْ إِلَى اللَّهِ عز وجل، وَقَرَأَ عَلَيْهِمُ الْقُرْآنَ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ: أَيُّهَا الْمَرْءُ لا أَحْسَنُ مِنْ هَذَا إِنْ كَانَ كَمَا تَقُولُ حَقًّا، فَلا تُؤْذِنَا فِي مَجَالِسِنَا وَارْجِعْ إِلَى رَحْلِكَ، فَمَنْ جَاءَكَ مِنَّا فَاقْصُصْ عَلَيْهِ.

فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ: أَغْشِنَا فِي مَجَالِسِنَا فَإِنَّا نُحِبُّ ذَلِكَ.

 

فَاسْتَبَّ الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ حَتَّى هَمُّوا أَنْ يَتَوَاثَبُوا فَلَمْ يَزَلِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّضُهُمْ، ثُمَّ رَكِبَ رَاحِلَتَهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، فَقَالَ: ‌‌«أَيْ سَعْدُ أَلَمْ تَسْمَعْ إِلَى مَا قَالَ أَبُو حُبَابٍ؟».

يُرِيدُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَيٍّ.

قَالَ: كَذَا وَكَذَا.

قَالَ: اعْفُ عَنْهُ
يَا رَسُولَ اللَّهِ فَوَاللَّهِ لَقَدْ أَعْطَاكَ اللَّهُ تَعَالَى الَّذِي أَعْطَاكَ، وَلَقَدْ أَصْبَحَ أَهْلُ هَذِهِ الْبُحَيْرَةِ أَنْ يُتَوِّجُوهُ فَيُعَصِّبُوهُ بِالْعِصَابَةِ، فَلَمَّا رَدَّ اللَّهُ تَعَالَى ذَلِكَ بِالْحَقِّ الَّذِي أَعْطَاكَ شَرِقَ بِذَلِكَ فَذَلِكَ فَعَلَ بِهِ مَا رَأَيْتَ، فَعَفَا عَنْهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.

وَهَذَا أَيْضًا حَدِيثٌ صَحِيحٌ بِاتِّفَاقِ النَّاقِدَيْنِ شَيْخَيْ أَهْلِ الصَّنْعَةِ: أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، وَأَبِي الْحُسَيْنِ مُسْلِمِ بْنِ الْحَجَّاجِ، مُخَرَّجٌ فِي كِتَابَيْهِمَا الْمَعْرُوفَيْنِ فِي دِيَارِ الْمُسْلِمِينَ مَشْرِقًا وَمَغْرِبًا، فَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي مَوَاضِعَ مِنْ كِتَابِهِ عِنْ جَمَاعَةٍ مِنْهُمْ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ يُونُسَ، وَأَبِي الْيَمَانِ، عَنْ شُعَيْبٍ، وَيَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ عَقِيلٍ، وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ أَخِيهِ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلالٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَتِيقٍ، وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ مُوسَى، عَنْ هِشَامِ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ مَعْمَرٍ.

وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاهَوَيْهِ، وَمُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ، وَعَبْدِ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ.

وَقَوْلُهُ: لَقَدْ أَصْبَحَ أَهْلُ الْبُحَيْرَةِ.

كَذَا فِي نُسْخَةِ سَمَاعِي، وَفِي الْكِتَابَيْنِ: لَقَدِ اصْطَلَحَ أَهْلُ هَذِهِ الْبُحَيْرَةِ.

وَالْبُحَيْرَةُ تَصْغِيرُ الْبَحْرَةِ، وَالْبَحْرَةُ الْبَلْدَةُ، أَرَادَ بِذَلِكَ: مَدِينَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَقَوْلُهُ: يُعَصِّبُوهُ، أَيْ: يَشُدُّوا عِصَابَةَ الرِّيَاسَةِ عَلَى رَأْسِهِ وَيَجْعَلُوهُ رَئِيسًا.

وَقَوْلُهُ: شَرِقَ بِذَلِكَ، يُقَالُ: شَرِقَ بِالْمَاءِ أَيْ: غَصَّ بِهِ شَرِقًا.

وَالْعَجَاجَةُ: الْغُبَارُ.

وَالْقَطِيفَةُ: الْكِسَاءُ.

وَقَوْلُهُ: لا أَحْسَنُ مِنْ هَذَا، أَيْ: لَيْسَ أَحْسَنُ مِنْ هَذَا.

وَمَعْنَاهُ أَيْ: أَنَّ مَا تَقُولُ حَسَنٌ جِدًّا.

تَقُولُ ذَلِكَ: أَنَشْهَدُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي الصَّحِيحِ ، وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নাসর মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-হিরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলি আল-মাইদানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আন-নাইসাবুরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার, জুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, উসামা ইবনে যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি গাধার পিঠে আরোহণ করলেন যার উপর একটি জিন ছিল এবং তার নিচে ছিল একটি ফাদাকি মখমলের চাদর। তিনি উসামা ইবনে যায়েদকে নিজের পেছনে বসিয়ে নিলেন। তিনি বনু হারিস ইবনুল খাজরাজ গোত্রে সাদ ইবনে উবাদাহকে দেখতে যাচ্ছিলেন। এটি ছিল বদরের যুদ্ধের আগের ঘটনা। পথে তিনি একটি মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যেখানে মুসলিম, মূর্তিপূজারী মুশরিক এবং ইহুদিদের মিশ্র সমাবেশ ছিল। সেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইও ছিল এবং সেই মজলিসে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাও ছিলেন। যখন সওয়ারির ধুলো মজলিসে পৌঁছাল, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই তার চাদর দিয়ে নাক ঢেকে নিল এবং বলল: আমাদের উপর ধুলো উড়াবেন না।

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সালাম দিলেন এবং সেখানে থামলেন। তিনি সওয়ারি থেকে নামলেন এবং তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করলেন ও তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই বলল: হে ব্যক্তি! আপনি যা বলছেন তা যদি সত্য হয়, তবে এর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। তবে আমাদের মজলিসে এসে আমাদের কষ্ট দেবেন না। আপনি আপনার বাসস্থানে ফিরে যান, আমাদের মধ্যে যে আপনার কাছে যাবে তাকে শোনাবেন।

তখন আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা বললেন: আপনি আমাদের মজলিসগুলোতে আসবেন, কারণ আমরা তা পছন্দ করি।

 

এরপর মুসলিম ও মুশরিকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলো, এমনকি তারা একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার উপক্রম হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের শান্ত করতে থাকলেন। তারপর তিনি তার সওয়ারিতে আরোহণ করে সাদ ইবনে উবাদাহর কাছে পৌঁছালেন এবং বললেন: “হে সাদ! আবু হুবাব যা বলেছে তা কি তুমি শোননি?”

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে বুঝাচ্ছিলেন।

সাদ বললেন: সে এমন এমন কথা বলেছে।

তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাকে ক্ষমা করে দিন।
আল্লাহর কসম, আল্লাহ তাআলা আপনাকে যা দান করার তা দান করেছেন। এই জনপদের অধিবাসীরা তাকে মুকুট পরানোর এবং রাজমুকুট দিয়ে তার মাথা বাঁধার বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আপনাকে যে সত্য দান করেছেন তার মাধ্যমে যখন বিষয়টি প্রত্যাখ্যাত হলো, তখন সে তাতে ঈর্ষান্বিত ও ক্ষুব্ধ হলো। সেই কারণেই সে আপনার সাথে এমন আচরণ করেছে যা আপনি দেখলেন। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

এটিও একটি সহিহ হাদিস যা শাস্ত্রের দুই বিজ্ঞ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ-এর ঐকমত্যে স্বীকৃত। এটি তাদের কিতাবদ্বয়ে সংকলিত হয়েছে যা মুসলিম জাহানের পূর্ব ও পশ্চিমে সুপরিচিত। ইমাম বুখারি তার কিতাবের বিভিন্ন স্থানে একদল রাবির মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইউনুস এবং আবু ইয়ামান থেকে, তারা শুআইব থেকে, ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি আকিল থেকে এবং ইসমাইল ইবনে আবি উয়াইস তার ভাই আব্দুল হামিদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আবি আতিক থেকে এবং ইবরাহিম ইবনে মুসা হিশাম ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি মা'মার থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহি, মুহাম্মাদ ইবনে রাফে' এবং আব্দ ইবনে হুমাইদ থেকে, তারা আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তারা সবাই জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং তার উক্তি: "এই জনপদের অধিবাসীরা একমত হয়েছিল।"

আমার শ্রুত পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে দুই কিতাবে (বুখারি ও মুসলিম) রয়েছে: "এই জনপদের অধিবাসীরা ঐকমত্য পোষণ করেছিল।"

'বুহাইরাহ' শব্দটি 'বাহরাহ' এর ক্ষুদ্রার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর 'বাহরাহ' মানে হলো জনপদ বা শহর। এর দ্বারা তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শহর (মদিনা) বুঝিয়েছেন।

এবং তার উক্তি: 'তারা তাকে মুকুট পরাবে', অর্থাৎ: তারা তার মাথায় নেতৃত্বের পাগড়ি বা মুকুট বেঁধে দেবে এবং তাকে নেতা বানাবে।

এবং তার উক্তি: 'সে তাতে ঈর্ষান্বিত ও ক্ষুব্ধ হলো', বলা হয়: 'শারিগা বিল মা-ই' অর্থাৎ: পানিতে কণ্ঠনালী আটকে যাওয়া বা দম বন্ধ হয়ে আসা।

'আজাজাহ' মানে হলো ধুলো।

'কাতিফাহ' মানে হলো চাদর বা বস্ত্র।

এবং তার উক্তি: 'এর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই', অর্থাৎ: এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।

এর অর্থ হলো: আপনি যা বলছেন তা অত্যন্ত সুন্দর।

আপনি যা বলছেন: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি। আর এটি সহিহ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আর এটি ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের ইসলাম গ্রহণের আগের ঘটনা।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ سَسَوَيْهِ، مِنْ بَابَ كُوشَكَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ النَّيْسَابُورِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَعْقِلِيُّ الْمَيْدَانِيُّ، مِنْ مَيْدَانِ زِيَادِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الذُّهْلِيُّ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنِ الْمُسَيِّبِ بْنِ مَخْرَمَةَ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الْقَارِي، أَنَّهُمَا سَمِعَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، يَقُولُ: مَرَرْتُ بِهِشَامِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ وَهُوَ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَاسْتَمَعْتُ قِرَاءَتَهُ، فَإِذَا هُوَ يَقْرَأُ عَلَى حُرُوفٍ كَثِيرَةٍ لَمْ يُقْرِئْنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكِدْتُ أَنْ أُسَاوِرَهُ فِي الصَّلاةِ، يَعْنِي أُخَاصِمُهُ، فَنَظَرْتُ حَتَّى سَلَّمَ فَلَمَّا سَلَّمَ لَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ، فَقُلْتُ: مَنْ أَقْرَأَكَ هَذِهِ السُّورَةَ الَّتِي أَسْمَعُكَ تَقْرَؤُهَا؟ قَالَ: أَقْرَأَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

قَالَ: قُلْتُ له: كَذَبْتَ، فَوَاللَّهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَهُوَ أَقْرَأَنِي هَذِهِ السُّورَةَ الَّتِي تَقْرَؤُهَا.

قَالَ: فَانْطَلَقْتُ أَقُودُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ هَذَا يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى حُرُوفٍ لَمْ تُقْرِئْنِيهَا، وَأَنْتَ أَقْرَأْتَنِي سُورَةَ الْفُرْقَانِ.

 

فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَرْسِلْهُ، اقْرَأْ يَا هِشَامُ».

فَقَرَأَ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةَ الَّتِي سَمِعْتُ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «هَكَذَا
أُنْزِلَتْ».

ثُمَّ قَالَ: «اقْرَأْ يَا عُمَرُ».

فَقَرَأْتُ الْقِرَاءَةَ الَّتِي أَقَرَّأنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قَالَ: «هَكَذَا أُنْزِلَتْ».

ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوا مِنْهُ مَا تَيَسَّرَ».

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، وَالْحَاكِمُ عَلَى صِحَّتِهِ مُحَمَّدٌ، وَمُسْلِمٌ، جَمِيعًا، وَأَخْرَجَاهُ فِي كِتَابَيْهِمَا، فَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُفَيْرٍ، وَيَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ كِلاهُمَا، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَقِيلٍ، وَمُسْلِمٍ رَوَاهُ عَنْ حَرْمَلَةَ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ. . . . . يُونُسَ، وَإِسْحَاقَ بْنِ رَاهَوَيْهِ، وَعَبْدِ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، ثَلاثَتُهُمْ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَارِيُّ الْمَدَنِيُّ، بِتَشْدِيدِ الْيَاءِ مِنْ بَنِي قَارَّةَ، عَامِلِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه عَلَى بَيْتِ مَالِ الْمُسْلِمِينَ، صَحَابِيٍّ حَكَمَ بِصُحْبَتِهِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الْوَاقِدِيِّ، وَالأَشْهَرُ بَيْنَ الْحُفَّاظِ أَنَّهُ تَابِعِيٌّ ، سَمِعَ عُمَرَ، وَأَبَا أَيُّوبَ، وَأَبَا طَلْحَةَ، وَأَبَا هُرَيْرَةَ، رضي الله عنهم، وَالْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، صَحَابِيٌّ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، ابْنُ أُخْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ الزُّهْرِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ، وُلِدَ بِمَكَّةَ بَعْدَ الْهِجْرَةِ بِسَنَتَيْنِ، وَقَدِمَ بِهِ الْمَدِينَةَ عَامَ الْفَتْحِ سَنَةَ ثَمَانٍ، وَهُوَ ابْنُ سِتِّ سِنِينَ، وَتُوُفِّيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ابْنُ ثَمَانِ سِنِينَ رضي الله عنه، وَمَاتَ رضي الله عنه بِمَكَّةَ حِينَ أَصَابَهُ حَجَرُ الْمَنْجَنِيقِ، وَكَانَ يُصَلِّي فِي الْحِجْرِ وَصَلَّى عَلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَدَفَنَهُ بِالْحَجُونِ
১২ - আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন সাসাওয়াইহি 'বাব কুশাক' থেকে বর্ণনা করেছেন তার উপস্থিতিতে পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আহমদ আন-নিশাপুরী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মা'কিলি আল-মাইদানি যিয়াদ বিন আবদুর রহমান এর ময়দান থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট মা'মার বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আল-মুসাইয়িব বিন মাখরামা এবং আবদুর রহমান বিন আব্দুল কারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা দুজনেই উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: আমি হিশাম বিন হাকিম বিন হিজাম-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় সূরা আল-ফুরকান পাঠ করছিলেন। আমি তার তিলাওয়াত মনযোগ দিয়ে শুনলাম। দেখলাম তিনি এমন অনেক উচ্চারণে পাঠ করছেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে পড়াননি। আমি সালাতের মধ্যেই তাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছিলাম, অর্থাৎ তার সাথে ঝগড়া করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরলাম যতক্ষণ না তিনি সালাম ফেরালেন। যখন তিনি সালাম ফেরালেন, আমি তার চাদর দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরলাম এবং বললাম: তোমাকে এই সূরাটি কে শিখিয়েছে যা আমি তোমাকে পাঠ করতে শুনলাম? তিনি বললেন: আমাকে এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিখিয়েছেন।

তিনি (উমর) বলেন: আমি তাকে বললাম: আপনি মিথ্যা বলেছেন, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এই সূরাটি শিখিয়েছেন যা আপনি পাঠ করছেন।

তিনি বলেন: এরপর আমি তাকে টেনে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গেলাম।

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এ ব্যক্তি সূরা আল-ফুরকান এমন সব উচ্চারণে পাঠ করছে যা আপনি আমাকে পড়াননি, অথচ আপনি আমাকে সূরা আল-ফুরকান শিখিয়েছেন।

 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‌‌«তাকে ছেড়ে দাও। হে হিশাম, পাঠ করো»।

তিনি তাঁর সামনে সেই তিলাওয়াত পাঠ করলেন যা আমি শুনেছিলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «এভাবেই
অবতীর্ণ হয়েছে»।

অতঃপর তিনি বললেন: «হে উমর, পাঠ করো»।

আমি সেই তিলাওয়াত পাঠ করলাম যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে শিখিয়েছিলেন। তখন তিনি বললেন: «এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে»।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «নিশ্চয়ই এই কুরআন সাতটি পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে, সুতরাং এর মধ্য থেকে যা সহজ হয় তা পাঠ করো»।

এটি একটি সহীহ হাদীস। এর সহীহ হওয়ার ব্যাপারে মুহাম্মদ (বুখারী) এবং মুসলিম উভয়েই একমত হয়েছেন এবং তারা তাদের কিতাবদ্বয়ে এটি প্রকাশ করেছেন। ইমাম বুখারী এটি সাঈদ বিন উফাইর এবং ইয়াহইয়া বিন বুকাইর উভয় থেকে, তারা লাইস বিন সা'দ থেকে, তিনি উকাইল থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি হারমালা থেকে, তিনি ইবনুল ওয়াহাব থেকে... ইউনুস এবং ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ এবং আব্দ বিন হুমাইদ থেকে, তারা আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার থেকে বর্ণনা করেছেন—এই তিনজনই যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আবদুর রহমান বিন আব্দ আবু মুহাম্মদ আল-কারী আল-মাদানি—‘কারী’ শব্দটি ইয়া-তে তাশদীদসহ বনী কারাহ গোত্রের দিকে সম্পৃক্ত—তিনি উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে মুসলিমদের বায়তুল মালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদী তাকে সাহাবী হিসেবে গণ্য করেছেন, তবে হাফেজগণের মধ্যে প্রসিদ্ধ মত হলো তিনি একজন তাবিঈ। তিনি উমর, আবু আইয়ুব, আবু তালহা এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে শুনেছেন। আর আল-মিসওয়ার বিন মাখরামা বিন নাওফাল হলেন একজন সাহাবী যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন। তিনি আবদুর রহমান বিন আউফ যুহরি বিন মুহাম্মদের ভাগ্নে। তিনি হিজরতের দুই বছর পর মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। মক্কা বিজয়ের বছর অষ্টম হিজরীতে তাকে মদীনায় আনা হয়, তখন তার বয়স ছিল ছয় বছর। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করেন তখন তার বয়স ছিল আট বছর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন যখন তিনি মিনজানিকের পাথরের আঘাতে আহত হন। তিনি তখন হিজর-এর মধ্যে সালাত আদায় করছিলেন। আবদুল্লাহ বিন আল-জুবাইর তার জানাজা পড়িয়েছিলেন এবং তাকে হাজুন-এ দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - حَدَّثَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الأَبْهَرِيُّ الْمُعَلِّمُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَعْفَرٍ الْبُرْدِيُّ، ثنا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ، ثنا أَبُو الْبَخْتَرِيِّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَاكِرٍ، ثنا أَبُو أُسَامَةَ حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ، ثنا الأَعْمَشُ، ثنا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ أَبِي مُوسَى رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ أَحَدٍ أَصْبَرُ عَلَى أَذًى يَسْمَعُهُ مِنَ اللَّهِ عز وجل، إِنَّهُمْ يَجْعَلُونَ لَهُ نِدًّا وَيَجْعَلُونَ لَهُ وَلَدًا وَهُوَ كَذَلِكَ يَرْزُقُهُمْ، وَيُطْعِمُهُمْ، وَيُعَافِيهِمْ».

صَحِيحٌ مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ، أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ مُسَدَّدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، وَمُسْلِمٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ أَبِي قُدَامَةَ السَّرْخَسِيِّ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، جَمِيعًا عَنِ الأَعْمَشِ، اجْتَمَعَ فِي هَذَا الإِسْنَادِ ثَلاثَةٌ مِنَ التَّابِعِينَ، فَإِنَّ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ حَبِيبٍ السُّلَمِيَّ، تَابِعِيٌّ كُوفِيٌّ سَمِعَ جَمَاعَةً مِنَ الصَّحَابَةِ مِنْهُمْ: عُثْمَانُ، وَعَلِيٌّ، وَابْنُ مَسْعُودٍ، وَأَبُو مُوسَى، رضي الله عنهم.

وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ هُوَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ هِشَامٍ الأَسَدِيُّ، كُوفِيٌّ تَابِعِيٌّ رَوَى عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ الصَّحَابَةِ مِنْهُمُ: ابْنُ عَبَّاسٍ، وَابْنُ عُمَرَ، وَابْنُ الزُّبَيْرِ، وَأَنَسٌ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ، وَأَبُو مَسْعُودٍ الْبَدْرِيُّ، رضي الله عنهم.

وَالأَعْمَشُ هُوَ أَبُو مُحَمَّدٍ سُلَيْمَانُ بْنُ مِهْرَانَ الدَّنَبَاوَنْدِيُّ الأَصْلِ الْكُوفِيُّ الْمَسْكَنِ، مَوْلَى بَنِي كَاهِلٍ، أَدْرَكَ أَيَّامَ جَمَاعَةٍ مِنَ الصَّحَابَةِ، تُوُفِّيَ ابْنُ عُمَرَ، وَابْنُ الزُّبَيْرِ، وَالأَعْمَشُ ثَلاثَ عَشْرَةَ سَنَةً، وَتُوُفِّيَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ السُّلَمِيُّ، مِنْ بَنِي سُلَمَةَ، وَالأَعْمَشُ قُرْبَ عِشْرِينَ سَنَةً، وَتُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى، وَالأَعْمَشُ ابْنُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً، وَتُوُفِّيَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ وَالأَعْمَشُ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ سَنَةً، وَأَبُو حَمْزَةَ أَنَسٌ الْأَنْصَارِيُّ الْخَزْرَجِيُّ، وَأَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى، وَعَلْقَمَةُ بْنُ خَالِدٍ الشَّجَرِيُّ، فِيمَا قَالَ بَعْضُ الْحُفَّاظِ، وَقَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ: رَأَى أَنَسًا يُمْلِي وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ، فَرَوَى عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى مُرْسَلا، مَوْلِدُهُ عَامَ قَتْلِ سَيِّدِ شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنهما، وَالْحَدِيثُ وَقَعَ لِي عَالِيًا كَأَنِّي سَمِعْتُهُ مِنْ أَصْحَابِ أَصْحَابِهِمَا رَحِمَهُمَا اللَّهُ، أَعْنِي البخاري وَمُسْلِمًا، رَحِمَهُمَا الله
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আল-আবহারী আল-মুয়াল্লিম, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম, চুয়াত্তর হিজরি সনে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে জাফর আল-বুরদী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-বাখতারী আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শাকির; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামা হাম্মাদ ইবনে উসামা; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ'মাশ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে জুবায়ের; তিনি বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে; তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস আবু মুসা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কষ্টদায়ক কথা শোনার পর আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-এর চেয়ে অধিক ধৈর্যশীল আর কেউ নেই; তারা তাঁর জন্য সমকক্ষ স্থির করে এবং তাঁর জন্য সন্তান সাব্যস্ত করে, অথচ তিনি তাদেরকে এই অবস্থাতেও রিযিক দান করেন, আহার করান এবং সুস্থতা প্রদান করেন।»

এটি সহীহ এবং এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে। এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী, মুসাদ্দাদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে; এবং ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আবু কুদামা আস-সারখাসি থেকে, তিনি আবু উসামা থেকে; তাঁরা সকলেই আ'মাশ থেকে। এই সনদে তিনজন তাবেয়ী একত্রিত হয়েছেন। কেননা আবু আবদুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে হাবীব আস-সুলামী একজন কুফী তাবেয়ী, যিনি সাহাবীদের একটি দলের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: উসমান, আলী, ইবনে মাসউদ এবং আবু মুসা রাযিয়াল্লাহু আনহুম।

আর সাঈদ ইবনে জুবায়ের হলেন আবু আব্দুল্লাহ সাঈদ ইবনে জুবায়ের ইবনে হিশাম আল-আসাদী, একজন কুফী তাবেয়ী। তিনি একদল সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, ইবনুল জুবায়ের, আনাস, আবু হুরায়রা এবং আবু মাসউদ আল-বাদরী রাযিয়াল্লাহু আনহুম।

আর আ'মাশ হলেন আবু মুহাম্মাদ সুলাইমান ইবনে মিহরান আদ-দানবাওয়ান্দী, কুফায় তাঁর বসবাস ছিল, বনু কাহিলের মুক্তদাস। তিনি একদল সাহাবীর যুগ পেয়েছেন। ইবনে উমর ও ইবনুল জুবায়ের যখন ইন্তেকাল করেন, তখন আ'মাশের বয়স ছিল তেরো বছর। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সুলামী (বনু সালামাহ গোত্রের) যখন ইন্তেকাল করেন, আ'মাশের বয়স তখন প্রায় বিশ বছর। আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা যখন ইন্তেকাল করেন, আ'মাশের বয়স তখন সাতাশ বছর। আর আনাস ইবনে মালিক যখন ইন্তেকাল করেন, আ'মাশের বয়স তখন তেত্রিশ বছর। আবু হামজা আনাস আল-আনসারী আল-খাযরাজী এবং আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা এবং আলকামা ইবনে খালিদ আশ-শাজারী - যেমনটি কোনো কোনো হাফিয বলেছেন। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: তিনি আনাসকে হাদীস লিখাতে দেখেছেন কিন্তু তাঁর থেকে শ্রবণ করেননি। তিনি ইবনে আবি আওফা থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর জন্ম জান্নাতের যুবকদের নেতা আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর শাহাদাতের বছর। আর হাদীসটি আমার নিকট উচ্চ সনদে পৌঁছেছে যেন আমি তাঁদের দুজনের (অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিম, আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) শাইখদের শাইখদের থেকে এটি শুনেছি।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ جُولَةَ، هَذَا، ثنا الْجُرْجَانِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ هِشَامِ بْنِ مَلاسٍ الدِّمَشْقِيُّ، ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، ثنا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، ثنا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: أُصِيبَ حَارِثَةُ يَوْمَ بَدْرٍ، فَجَاءَتْ أُمُّهُ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ عَلِمْتَ مَنْزِلَةَ حَارِثَةَ مِنِّي فَإِنْ يَكُ فِي الْجَنَّةِ صَبَرْتُ، وَإِنْ يَكُ غَيْرَ ذَلِكَ تَرَى مَا أَصْنَعُ؟ فَقَالَ: ‌‌«جَنَّةً وَاحِدَةً، إِنَّهَا جِنَانٌ كَثِيرَةٌ، وَإِنَّهُ فِي الْفِرْدَوْسِ الأَعْلَى».

وَهَذَا أَيْضًا صَحِيحٌ مَشْهُورٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي
عُبَيْدَةَ حُمَيْدِ بْنِ أَبِي حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، وَأَبُو حُمَيْدٍ مُخْتَلَفٌ فِي اسْمِهِ الْبَصْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، أَخْرَجَهُ البخاري، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَبِي جَعْفَرٍ الْمُسْنَدِيِّ الْبُخَارِيِّ، عَنْ أَبِي عَمْرِو مُعَاوِيَةَ بْنِ عَمْرٍو الْكُوفِيِّ الأَصْلِ الْبَغْدَادِيِّ المقر، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ الْفَزَارِيِّ الْمِصِّيصِيِّ، عَنْهُ.

يُعَدُّ فِي إِفْرَادِ البخاري دُونَ مُسْلِمٍ، رَحِمَهُمَا الله، وَهَذَا أَيْضًا فِي غَايَةِ الْعُلُوِّ كَأَنِّي حَدَّثْتُ عَنِ الْبُخَارِيِّ نَفْسِهِ.

وَحَارِثَةُ الْمَقْتُولُ يَوْمَ بَدْرٍ، هُوَ حَارِثَةُ بْنُ سُرَاقَةَ بْنِ الْحَارِثِ النَّجَّارِيُّ الْأَنْصَارِيُّ، ابْنُ عَمَّةِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنهم، رَمَاهُ حِبَّانُ بْنُ الْعَرِقَةِ بِسَهْمٍ فَأَصَابَ حَنْجَرَتَهُ فَقَتَلَهُ، وَهُوَ يَشْرَبُ مِنَ الْحَوْضِ وَكَانَ نَظَّارًا، وَأُمُّهُ الرُّبَيِّعُ بِنْتُ النَّضْرِ الأَنْصَارِيَّةُ، أُخْتُ أَنَسِ بْنِ النَّضْرِ، عَمَّةُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، الَّتِي كَسَرَتْ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ فَطَلَبُوا الْعَفْوَ فَأَبَوْا، وَالأَرْشَ فَأَبَوْا ، فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ: أَجِزْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُكْسَرُ ثَنِيَّةُ الرُّبَيِّعِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ».

فَعَفَا الْقَوْمُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ مِنْهُمْ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ».

وَأَنَسُ بْنُ النَّضْرِ أَخُو الرُّبيِّعِ، عَمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه الَّذِي قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ شَهِيدًا، الَّذِي تَغَيَّبَ عَنْ قِتَالِ بَدْرٍ، فَقَالَ: تَغَيَّبْتُ عَنْ أَوَّلِ مَشْهَدٍ شَهِدَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَئِنْ أَشْهَدَنِي اللَّهُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ لَيَرَيَنَّ اللَّهُ مَا أُجِدُّ، فَلَقِيَ يَوْمَ أُحُدٍ فَهَزَمَ النَّاسَ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعْتَذِرُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ الْمُسْلِمُونَ، وَأَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا جَاءَ بِهِ الْمُشْرِكُونَ، فَتَقَدَّمَ بِسَيْفِه فَلَقِيَ سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ، فَقَالَ: أَيْنَ يَا سَعْدُ إِنِّي أَجِدُ رِيحَ الْجَنَّةِ دُونَ أُحُدٍ.

فَمَضَى، فَقُتِلَ، فَمَا عُرِفَ حَتَّى عَرَفَتْهُ أُخْتُهُ الرُّبَيِّعُ بِبَنَانِهِ، وَبِهِ بِضْعٌ وَثَمَانُونَ مِنْ طَعْنَةٍ وَضَرْبَةٍ وَرَمْيَةٍ بِسَهْمٍ، وَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ} [الأحزاب: 23] الآيَةَ
১৪ - আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে জুলাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট জুরজানি মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম ইবনে মালাস আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মারওয়ান ইবনে মুআবিয়া আল-ফাজারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হুমাইদ আত-তবিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বদরের যুদ্ধে হারিসা শহীদ হন। তখন তার মা এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার নিকট হারিসার মর্যাদা সম্পর্কে আপনি জানেন; সে যদি জান্নাতে থাকে তবে আমি ধৈর্য ধরব, আর যদি অন্য কিছু হয় তবে আপনি দেখবেন আমি কী করি। তখন তিনি বললেন: «এটি কি একটি মাত্র জান্নাত? বরং তা অনেক জান্নাত। আর সে তো উচ্চতম ফেরদাউসে আছে।»

এটিও আবু উবাইদাহ হুমাইদ ইবনে আবি হুমাইদ আত-তবিলের হাদিস থেকে একটি সহিহ ও প্রসিদ্ধ বর্ণনা। আবু হুমাইদ আল-বাসরির নাম সম্পর্কে মতভেদ আছে। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি বর্ণিত। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আবু জাফর আল-মুসনাদি আল-বুখারি থেকে, তিনি আবু আমর মুআবিয়া ইবনে আমর কুফি আল-বাগদাদি আল-মুপরি থেকে, তিনি আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হারিস আল-ফাজারি আল-মিসিসি থেকে, তিনি তার থেকে।

এটি মুসলিম ব্যতীত বুখারির একক বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন। এটিও সনদের উচ্চতার দিক থেকে চরম পর্যায়ে, যেন আমি স্বয়ং বুখারি থেকেই বর্ণনা করছি।

বদরের যুদ্ধে নিহত হারিসা হলেন হারিসা ইবনে সুরাকা ইবনে হারিস আন-নাজ্জারি আল-আনসারি। তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ফুফাতো ভাই। হিব্বান ইবনে আরিকাহ তাকে একটি তীর নিক্ষেপ করেন যা তার কণ্ঠনালীতে বিদ্ধ হয় এবং তাকে হত্যা করে। তখন তিনি জলাধার থেকে পানি পান করছিলেন এবং তিনি পর্যবেক্ষণকারী ছিলেন। তার মা হলেন রুবাইয়ি বিনতে নাদর আল-আনসারিয়া, যিনি আনাস ইবনে নাদরের বোন এবং আনাস ইবনে মালিকের ফুফু। তিনিই সেই নারী যিনি এক মেয়ের সামনের দাঁত ভেঙে ফেলেছিলেন। তখন তারা ক্ষমা চাইলেন কিন্তু তারা (মেয়ের পক্ষ) অস্বীকার করল, তারা মুক্তিপণ চাইল কিন্তু তারা তাও অস্বীকার করল। তখন আনাস ইবনে নাদর বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি অনুমতি দিন, রুবাইয়ির কি সামনের দাঁত ভাঙা হবে? তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «আল্লাহর কিতাবের বিধান হলো কিসাস (প্রতিশোধ)»।

অতপর সেই লোকজন মাফ করে দিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর নামে কসম করলে আল্লাহ তা অবশ্যই পূর্ণ করেন; আনাস ইবনে নাদর তাদেরই একজন।»

আর আনাস ইবনে নাদর হলেন রুবাইয়ির ভাই এবং আনাস ইবনে মালিকের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) চাচা, যিনি উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। তিনি বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই তিনি বলেছিলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপস্থিত ছিলেন এমন প্রথম যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আমি অনুপস্থিত ছিলাম। যদি আল্লাহ আমাকে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে কোনো যুদ্ধে উপস্থিত করেন, তবে আমি যা করি তা আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন। এরপর তিনি উহুদের যুদ্ধের সম্মুখীন হন। যখন মানুষ পিছু হটে গেল, তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ! এই মুসলিমরা যা করেছে তা থেকে আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং এই মুশরিকরা যা নিয়ে এসেছে তা থেকে আমি আপনার নিকট দায়মুক্তি ঘোষণা করছি। অতপর তিনি নিজের তলোয়ার নিয়ে এগিয়ে গেলেন এবং সাদ ইবনে মুআজের দেখা পেলেন। তিনি বললেন: হে সাদ, কোথায় যাচ্ছ? আমি উহুদের পাদদেশ থেকেই জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি।

এরপর তিনি এগিয়ে গেলেন এবং শহীদ হলেন। তাকে চেনা যাচ্ছিল না, অবশেষে তার বোন রুবাইয়ি তার আঙ্গুলের ডগা দেখে তাকে চিনতে পারেন। তার দেহে তরবারি, বর্শা এবং তীরের আশিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন ছিল। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে} [সূরা আল-আহযাব: ২৩] শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ يُونُسَ بْنِ حَبِيبِ بْنِ عَبْدِ الْقَاهِرِ أَبِي بَكْرِ بْنِ جُولَةَ الأَبْهَرِيُّ، وَكَانَ يَسْكُنُ مَحَلَّتَنَا جُوبَارَةَ، رحمه الله، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَعْفَرٍ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْبُرْدِيُّ الْجُرْجَانِيُّ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ حَاجِبُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سُفْيَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادٍ الْقَارِئُ، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«تَسَمَّوْا بِاسْمِي، وَلا تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي، فَإِنَّمَا جُعِلْتُ قَاسِمًا أَقْسِمُ بَيْنَكُمْ».

رَوَاهُ البخاري، وَمُسْلِمٌ، عَنْ جَمَاعَةٍ يَطُولُ تِعْدَادُهُمْ، مِنْ طَرِيقِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ رَافِعٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
১৫ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন ইউনুস বিন হাবিব বিন আব্দুল কাহের আবু বকর বিন জুলাহ আল-আভহারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি আমাদের জুব্বারাহ মহল্লায় বসবাস করতেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন জাফর আল-বুরদী আল-জুরজানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু মুহাম্মদ হাজিব বিন আহমদ বিন সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন হাম্মাদ আল-কারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির মুহাম্মদ বিন খাযিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি সালিম বিন আবিল জাদ থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনাম গ্রহণ করো না; কেননা আমাকে কেবল বণ্টনকারী বানানো হয়েছে, আমি তোমাদের মাঝে বণ্টন করি»।

এটি বুখারী ও মুসলিম অনেক বর্ণনাকারীর একটি দল থেকে বর্ণনা করেছেন যাদের সংখ্যা অনেক দীর্ঘ; তারা আ'মাশ থেকে, তিনি সালিম বিন আবিল জাদ রাফি আল-আশজায়ি থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الْمُقْرِئُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمٍ، رحمه الله، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، فِي رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، ثنا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ بْنِ حَرْبِ بْنِ مِهْرَانَ الْبَزَّازُ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخُرَاسَانِيُّ، بِبَغْدَادَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْجَهْمِ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، ثنا أَبُو جَنَابٍ الْكَلْبِيُّ، ثنا جَامِعُ بْنُ شَدَّادٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ، يُقَالُ لَهُ طَارِقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، قَالَ: إِنِّي لَقَائِمٌ بِسُوقِ ذِي الْمَجَازِ إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ عَلَيْهِ جُبَةٌّ لَهُ وَهُوَ يَقُولُ: "‌‌ يَأَيُّهَا النَّاسُ قُولُوا: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ تُفْلِحُوا ".

وَرَجُلٌ يَتْبَعُهُ يَرْمِيهِ بِالْحِجَارَةِ، وَيَقُولُ: يَأَيُّهَا النَّاسُ
إِنَّهُ كَذَّابٌ فَلا تُصَدِّقُوهُ.

فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ فَقَالُوا: غُلامُ بَنِي هَاشِمٍ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم.

قُلْتُ: مَنْ هَذَا الَّذِي يَفْعَلُ بِهِ؟ قَالُوا: هَذَا عَمُّهُ عَبْدُ الْعُزَّى.

فَلَمَّا أَسْلَمَ النَّاسُ وَهَاجَرُوا، خَرَجْنَا مِنَ الرَّبَذَةِ نُرِيدُ الْمَدِينَةَ نَمْتَارُ مِنْ تَمْرِهَا.

قَالَ: فَلَمَّا دَنَوْنَا مِنْ حِيطَانِهَا وَنَخْلِهَا.

فَقُلْنَا: لَوْ نَزَلْنَا فَلَبِسْنَا ثِيَابًا غَيْرَ ثِيَابِنَا هَذِهِ.

إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ فِي طِمْرَيْنِ لَهُ، فَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: مِنْ أَيْنَ أَقْبَلَ الْقَوْمُ؟ قُلْنَا: مِنَ الرَّبَذَةِ.

قَالَ: فَأَيْنَ تُرِيدُونَ؟ قُلْنَا: نُرِيدُ هَذِهِ الْمَدِينَةَ.

قَالَ: مَا حَاجَتُكُمْ فِيهَا؟ قُلْنَا: نَمْتَارُ مِنْ تَمْرِهَا.

قَالَ وَمَعَنَا ظَعِينَةٌ لَنَا، وَجَمَلٌ أَحْمَرُ مَخْطُومٌ بِحَبْلٍ ، قَالَ: تَبِيعُونِي جَمَلَكُمْ هَذَا؟ قُلْنَا: نَعَمْ، بِكَذَا وَكَذَا صَاعًا مِنْ تَمْرٍ.

قَالَ: فَمَا اسْتَوْصَعَنَا مِمَّا قُلْنَا شَيْئًا، فَأَخَذَ بِخِطَامِ الْجَمَلِ وَانْطَلَقَ، فَلَمَّا تَوَارَى عَنَّا بِحِيطَانِ الْمَدِينَةِ وَنَخْلِهَا، قُلْنَا: مَا صَنَعْنَا وَاللَّهِ مَا بِعْنَا جَمَلَنَا مِمَّنْ نَعْرِفُ، وَلا أَخَذْنَا لَهُ ثَمَنًا.

قَالَ: تَقُولُ الْمَرْأَةُ الَّتِي مَعَنَا: وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَجُلا كَأَنَّ فِي وَجْهِهِ شَقَّةَ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ أَنَا ضَامِنَةٌ مِنْهُ لِثَمَنِ جَمَلِكُمْ.

قَالَ: إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ، فَقَالَ: أَنَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكُمْ ، هَذَا ثَمَرُكُمْ فَكُلُوا وَاشْبَعُوا، وَاكْتَالُوا وَاسْتَوْفُوا.

فَأَكَلْنَا حَتَّى شَبِعْنَا، وَاكْتَلْنَا فَاسْتَوْفَيْنَا، ثُمَّ دَخَلْنَا الْمَدِينَةَ، فَإِذَا هُوَ قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ النَّاسَ، فَأَدْرَكْنَا مِنْ خُطْبَتِهِ وَهُوَ يَقُولُ: «تَصَدَّقُوا إِنَّ الصَّدَقَةَ خَيْرٌ لَكُمْ، الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى، أُمَّكَ، وَأَبَاكَ، وَأُخْتَكَ، وَأَخَاكَ، ثُمَّ أَدْنَاكَ أَدْنَاكَ».

إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ فِي نَفَرٍ مِنْ بَنِي يَرْبُوعٍ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لَنَا فِي هَؤُلاءِ دَمًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ.

قَالَ: «إِنَّ أُمًّا لا تَجْنِي عَلَى وَلَدٍ».

ثَلاثَ مَرَّاتٍ.

هَذَا حَدِيثٌ مَحْفُوظٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي صَخْرَةَ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ الأَسَدِيِّ الْكُوفِيِّ، عَنْ طَارِقِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُحَارِبِيِّ الْكُوفِيِّ رضي الله عنه، يُرْوَى عَنْهُ مِنْ عِدَّةِ طُرُقٍ، وَهَذِهِ الطَّرِيقُ مِنْ أَغْرَبِهَا.

وَأَبُو جَنَابٍ اسْمُهُ يَحْيَى بْنُ حَيٍّ أَبِي حَيَّةَ، كُوفِيٌّ مِنْ حُفَّاظِ أَهْلِ الْكُوفَةِ، وَمَحَلُّهُ الصِّدْقُ، إِلا أَنَّهُ يُدَلِّسُ أَحْيَانًا، يَرْوِي عَنْهُ الثَّوْرِيُّ، وَوَكِيعٌ، وَغَيْرُهُمْ مِنَ الأَئِمَّةِ
১৬ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শাইখুল মুকরি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইম, রহিমাহুল্লাহ—তাঁর কাছে এটি পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম—৪৭৪ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাযান ইবনে হারব ইবনে মিহরান আল-বায্যায। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বাগদাদে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-خুরাসানি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল জাহম। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে আউন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জানাব আল-কালবি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জামি’ ইবনে শাদ্দাদ আল-মুহারিবি। তিনি বলেন, কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, যাকে তারিক ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলা হয়। তিনি বলেন: আমি যুল-মাজাযের বাজারে দাঁড়িয়ে ছিলাম, এমন সময় জুব্বা পরিহিত এক ব্যক্তি এগিয়ে এলেন এবং বলছিলেন: "‌‌ হে লোকসকল! তোমরা বলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তবেই তোমরা সফল হবে।"

আর এক ব্যক্তি তাঁর পিছু পিছু আসছিল এবং তাঁকে পাথর ছুড়ে মারছিল ও বলছিল: হে লোকসকল!
সে একজন মিথ্যাবাদী, তোমরা তাকে বিশ্বাস করো না।

আমি বললাম: ইনি কে? তারা বলল: বনু হাশিমের এক যুবক, যে দাবি করে যে সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

আমি বললাম: এই ব্যক্তিটি কে যে তাঁর সাথে এমন আচরণ করছে? তারা বলল: এটি তাঁর চাচা আব্দুল উযযা।

অতঃপর যখন মানুষ ইসলাম গ্রহণ করল এবং হিজরত করল, তখন আমরা রাবাযাহ থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে বের হলাম যাতে সেখান থেকে কিছু খেজুর সংগ্রহ করতে পারি।

তিনি বলেন: যখন আমরা মদিনার বাগান ও খেজুর গাছের কাছাকাছি পৌঁছালাম।

তখন আমরা বললাম: আমরা যদি এখানে অবতরণ করতাম এবং আমাদের এই কাপড়গুলো ছাড়া অন্য কোনো কাপড় পরিধান করতাম।

এমন সময় দুই টুকরো জীর্ণ কাপড় পরিহিত এক ব্যক্তি এগিয়ে এলেন এবং সালাম দিলেন। অতঃপর বললেন: আপনারা কোথা থেকে এসেছেন? আমরা বললাম: রাবাযাহ থেকে।

তিনি বললেন: আপনারা কোথায় যেতে চান? আমরা বললাম: আমরা এই মদিনায় যেতে চাই।

তিনি বললেন: সেখানে আপনাদের প্রয়োজন কী? আমরা বললাম: আমরা এর খেজুর থেকে রসদ সংগ্রহ করতে চাই।

তিনি বলেন: আমাদের সাথে আমাদের এক নারী আরোহী এবং একটি লাল উট ছিল যার নাকে রশি লাগানো ছিল। তিনি বললেন: আপনারা কি আমার কাছে আপনাদের এই উটটি বিক্রি করবেন? আমরা বললাম: হ্যাঁ, এত এত সা’ খেজুরের বিনিময়ে।

তিনি বলেন: আমরা যা বললাম তিনি তাতে কোনো দরদাম বা আপত্তি করলেন না। তিনি উটের লাগাম ধরলেন এবং চলে গেলেন। যখন তিনি মদিনার বাগান ও খেজুর গাছের আড়ালে আমাদের দৃষ্টির অগোচরে চলে গেলেন, তখন আমরা বললাম: আমরা একি করলাম! আল্লাহর শপথ, আমরা তো আমাদের উটটি এমন একজনের কাছে বিক্রি করলাম যাকে আমরা চিনি না এবং আমরা তার থেকে কোনো মূল্যও গ্রহণ করিনি।

তিনি বলেন: আমাদের সাথে থাকা নারীটি বলল: আল্লাহর শপথ, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি যাঁর চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের টুকরোর মতো উজ্জ্বল ছিল। আপনাদের উটের মূল্যের ব্যাপারে আমি জামিন হলাম।

তিনি বলেন: এমন সময় এক ব্যক্তি এগিয়ে এলেন এবং বললেন: আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দূত হিসেবে এসেছি। এই যে আপনাদের খেজুর, আপনারা খান ও তৃপ্ত হন এবং মেপে আপনাদের পাওনা পূর্ণ করে নিন।

অতঃপর আমরা খেলাম এবং তৃপ্ত হলাম, আর মেপে আমাদের পাওনা পূর্ণ করে নিলাম। তারপর আমরা মদিনায় প্রবেশ করলাম, তখন দেখতে পেলাম তিনি মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিচ্ছেন। আমরা তাঁর খুতবার কিছু অংশ পেলাম যেখানে তিনি বলছিলেন: «তোমরা সদকা করো, কারণ সদকা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। তোমার মা, তোমার বাবা, তোমার বোন, তোমার ভাই, অতঃপর তোমার নিকটবর্তী, তারপর তার নিকটবর্তী ব্যক্তিদের দান করো»।

এমন সময় বনু ইয়ারবু’ গোত্রের একদল লোকের সাথে এক ব্যক্তি এগিয়ে এল। তখন আনসারদের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! জাহেলিয়াত যুগে এই লোকদের কাছে আমাদের রক্তের পাওনা (প্রতিশোধ) রয়েছে।

তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই কোনো মা তার সন্তানের অপরাধের দায় বহন করবে না»।

কথাটি তিনি তিনবার বললেন।

এটি আবু সাখরাহ জামি’ ইবনে শাদ্দাদ আল-আসাদি আল-কুফি থেকে তারিক ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুহারিবি আল-কুফি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত একটি সংরক্ষিত হাদিস। তাঁর থেকে এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এই সূত্রটি তার মধ্যে অন্যতম চমৎকার।

আর আবু জানাবের নাম হলো ইয়াহইয়া ইবনে হাইয়ি আবি হাইয়্যাহ। তিনি কুফার অধিবাসী এবং কুফার হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সত্যবাদী হিসেবে পরিচিত, তবে তিনি কখনো কখনো তাদলিস করতেন। তাঁর থেকে সাওরি, ওয়াকি এবং অন্যান্য ইমামগণ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي عَلِيٍّ، رحمه الله، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْهَيْثَمِ الْبَلَدِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ هَرِمٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: خَرَجَ مِنْ عِنْدِي جِبْرِيلُ آنِفًا، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ وَالَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ إِنَّ لِلَّهِ عَبْدًا عَبَدَ اللَّهَ خَمْسَ مِائَةِ سَنَةٍ عَلَى رَأْسِ جَبَلٍ عَرْضُهُ ثَلاثُونَ ذِرَاعًا وَطُولُهُ ثَلاثُونَ ذِرَاعًا فِي ثَلاثِينَ ذِرَاعًا، وَالْبَحْرُ مُحِيطٌ بِهِ أَرْبَعَةَ آلافِ فَرْسَخٍ فِي كُلِّ نَاحِيَةٍ، فَأَخْرَجَ اللَّهُ لَهُ عَيْنًا عَذْبَةً بِعَرْضِ الأُصْبُعِ تَبِضُّ بِمَاءٍ عَذْبٍ فَيَسْتَنْقِعُ فِي أَسْفَلِ الْجَبَلِ، وَشَجَرَةِ رُمَّانٍ تُخْرِجُ لَهُ كُلَّ يَوْمٍ رُمَّانَةً، فَإِذَا أَمْسَى نَزَلَ فَأَصَابَ مِنَ الْوَضُوءِ، ثُمَّ أَخَذَ تِلْكَ الرُّمَّانَةَ فَأَكَلَهَا فَتُغَذِّيهِ يَوْمَهُ، ثُمَّ قَامَ إِلَى صَلاتِهِ فَسَأَلَ رَبَّهُ عز وجل عِنْدَ وَقْتِ الأَجَلِ أَنْ يَقْبِضَهُ سَاجِدًا، وَأَنْ لا يَجْعَلَ لِلأَرْضِ وَلا لِشَيْءٍ عَلَيْهِ سَبِيلٌ ثُمَّ يَبْعَثُهُ اللَّهُ وَهُوَ سَاجِدٌ.

 

فَفَعَلَ، فَنَحْنُ نَمُرُّ عَلَيْهِ إِذَا هَبَطْنَا، وَإِذَا عَرَجْنَا، فَنَجِدُهُ فِي الْعِلْمِ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُوقَفُ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ عز وجل، فَيَقُولُ الرَّبُّ عز وجل: ‌‌«أَدْخِلُوا عَبْدِي الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي».

فَيَقُولُ: بَلْ بِعَمَلِي.

فَيَقُولُ: «أَدْخِلُوا عَبْدِي الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي».

فَيَقُولُ: بَلْ
بِعَمَلِي.

فَيَقُولُ الرَّبُّ عز وجل: «أَدْخِلُوا عَبْدِي الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي».

فَيَقُولُ: بَلْ بِعَمَلِي.

فَيَقُولُ اللَّهُ لِلْمَلائِكَةِ: «قَايِسُوا عَبْدِي بِنِعْمَتِي عَلَيْهِ وَعَمَلِهِ».

فَتُوجَدُ نِعْمَةُ الْبَصَرِ قَدْ أَحَاطَتْ بِعِبَادَةِ خَمْسِ مِائَةِ سَنَةٍ، وَبَقِيَتْ نِعَمُ الْجَسَدِ فَضْلا عَلَيْهِ.

فَيَقُولُ: «أَدْخِلُوا عَبْدِي النَّارَ».

قَالَ: فَيُنَادِي: رَبِّ بِرَحْمَتِكَ أَدْخِلْنِي الْجَنَّةَ.

فَيَقُولُ: «رُدُّوهُ».

فَيُرَدُّ بَيْنَ يَدَيْهِ.

فَيَقُولُ: «عَبْدِي مَنْ خَلَقَكَ وَلَمْ تَكُ شَيْئًا؟» فَيَقُولُ: أَنْتَ يَا رَبِّ.

فَيَقُولُ: «أَكَانَ ذَلِكَ مِنْ قِبَلِكَ أَمْ بِرَحْمَتِي؟» فَيَقُولُ: بَلْ بِرَحْمَتِكَ.

فَيَقُولُ: «مَنْ قَوَّاكَ لِعِبَادَةِ خَمْسِ مِائَةِ سَنَةٍ؟» فَيَقُولُ: أَنْتَ يَا رَبِّ.

فَيَقُولُ: «مَنْ أَثْبَتَ لَكَ جَبَلا وَسْطَ اللُجَّةِ، وَأَخْرَجَ الْمَاءَ الْعَذْبَ مِنَ الْمَاءِ الْمَالِحِ، وَأَخْرَجَ لَكَ كُلَّ لَيْلَةٍ رُمَّانَةً، وَإِنَّمَا يَخْرُجُ مَرَّةً فِي السَّنَةِ، وَسَأَلْتَنِي أَنْ أَقْبِضَكَ سَاجِدًا فَفَعَلْتُ ذَلِكَ بِكَ؟».

فَيَقُولُ: أَنْتَ يَا رَبِّ.

قَالَ: «ذَلِكَ بِرَحْمَتِي، وَبِرَحْمَتِي أُدْخِلُكَ الْجَنَّةَ، أَدْخِلُوا عَبْدِي الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي، فَنِعْمَ الْعَبْدُ كُنْتَ يَا عَبْدِي».

فَتُدْخِلُهُ الْجَنَّةَ، وَقَالَ جِبْرِيلُ: إِنَّمَا الأَشْيَاءُ بِرَحْمَةِ الله يَا مُحَمَّدُ.

وَهَذَا أَيْضًا حَدِيثٌ مَحْفُوظٌ مِنْ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ هَرِمٍ الْقُرَشِيِّ الْمَدَنِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهُدَيْرِ التَّيْمِيِّ الْقُرَشِيِّ الْمَدَنِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ السُّلَمِيِّ الْأَنْصَارِيِّ الْمَدَنِيِّ رضي الله عنه، وَعَنْ وَالِدِهِ.

لا يَعْرِفُ لَهُ مَخْرَجًا إِلا هَكَذَا، وَأَبُو صَالِحٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، هُوَ الْجُهَنِيُّ مَوْلاهُمُ الْمِصْرِيُّ، يُقَالُ لَهُ: كَاتِبُ اللَّيْثِ، مِنْ حُفَّاظِ الْمِصْرِيِّينَ رَوَى عَنْهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، وَأَبُو عُبَيْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ سَلامٍ، وَأَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، وَغَيْرُهُمْ مِنَ الأَئِمَّةِ، وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ أَبُو الْحَارِثِ الْفَهْمِيُّ الْمِصْرِيُّ، يَرْوِي هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ هَرِمٍ الْمَدَنِيِّ، هَذَا، وَالْحُفَّاظُ يَرْوِي هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَالِحٍ، كَاتِبِ اللَّيْثِ، هَذَا، مِنْهُمْ: أَبُو سَعِيدٍ عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، إِمَامُ أَهْلِ السُّنَّةِ بِنَيْسَابُورَ، فِي الأَصْلِ صَوَابُهُ بِهَرَاةَ بِخَطِّ الْحَافِظِ
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিচারক (কাযী) আবু বকর বিন আবি আলী (রহিমাহুল্লাহ), তিনি হুসাইন বিন আহমদ বিন ইবরাহিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইবরাহিম বিন আল-হাইসাম আল-বালাদি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন সালিহ থেকে, তিনি সুলাইমান বিন হারাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "এইমাত্র জিবরীল আমার নিকট থেকে বিদায় নিলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! সেই সত্তার কসম যিনি আমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর এক বান্দা ছিল যে একটি পাহাড়ের চূড়ায় পাঁচশত বছর আল্লাহর ইবাদত করেছে। পাহাড়টি চওড়ায় ত্রিশ হাত এবং লম্বায় ত্রিশ হাত ছিল। এর চারদিকে চার হাজার ফারসাখ পর্যন্ত সমুদ্র বেষ্টিত ছিল। আল্লাহ তার জন্য সেখানে আঙুলের প্রস্থের সমান একটি সুমিষ্ট পানির ঝরনা বের করে দিয়েছিলেন যেখান থেকে সুমিষ্ট পানি চুইয়ে পড়ত এবং পাহাড়ের পাদদেশে জমা হতো। আর ছিল একটি ডালিম গাছ যা প্রতিদিন তাকে একটি করে ডালিম দান করত। যখন সন্ধ্যা হতো, সে নিচে নেমে আসত এবং অজু করত, তারপর সেই ডালিমটি নিয়ে খেয়ে ফেলত, যা তাকে সারাদিন পুষ্টি জোগাত। এরপর সে নামাযে দাঁড়িয়ে যেত। সে তার মহান রবের নিকট মৃত্যুকালে প্রার্থনা করল যেন তাকে সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু দেওয়া হয় এবং পৃথিবী বা অন্য কিছুর জন্য তার ওপর কোনো প্রভাব রাখা না হয়। অতঃপর আল্লাহ তাকে সিজদারত অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন।

 

জিবরীল বলেন: "আমরা যখনই অবতরণ করি বা ওপরে উঠি, তাকে সেভাবেই দেখতে পাই। ইলম অনুযায়ী কিয়ামতের দিন তাকে পুনরুত্থিত করা হবে এবং আল্লাহর দুই হাতের সামনে দাঁড় করানো হবে। তখন মহান রব বলবেন: ‌‌«আমার বান্দাকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও»।

সে বলবে: বরং আমার আমলের (কাজের) বিনিময়ে।

আল্লাহ বলবেন: «আমার বান্দাকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও»।

সে বলবে: বরং
আমার আমলের বিনিময়ে।

মহান রব বলবেন: «আমার বান্দাকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও»।

সে বলবে: বরং আমার আমলের বিনিময়ে।

তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের বলবেন: «আমার নেয়ামত এবং তার আমলের তুলনা করো»।

তখন দেখা যাবে কেবল চোখের নেয়ামতটুকুই তার পাঁচশত বছরের ইবাদতকে ছাড়িয়ে গেছে, আর শরীরের বাকি নেয়ামতগুলো অতিরিক্ত রয়ে গেছে।

আল্লাহ বলবেন: «আমার বান্দাকে জাহান্নামে নিয়ে যাও»।

বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে আর্তনাদ করে বলবে: হে আমার রব! আপনার রহমতেই আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।

আল্লাহ বলবেন: «তাকে ফিরিয়ে আনো»।

অতঃপর তাকে আল্লাহর দুই হাতের সামনে ফিরিয়ে আনা হবে।

আল্লাহ বলবেন: «হে আমার বান্দা! তোমাকে কে সৃষ্টি করেছে যখন তুমি কিছুই ছিলে না?» সে বলবে: আপনি, হে আমার রব।

আল্লাহ বলবেন: «সেটা কি তোমার পক্ষ থেকে ছিল নাকি আমার রহমতে?» সে বলবে: বরং আপনার রহমতে।

তিনি বলবেন: «পাঁচশত বছর ইবাদত করার শক্তি তোমাকে কে দিয়েছে?» সে বলবে: আপনি, হে আমার রব।

তিনি বলবেন: «বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে তোমার জন্য পাহাড়কে কে স্থির রেখেছিল, লবণাক্ত পানির মধ্য থেকে সুমিষ্ট পানি কে বের করে দিয়েছিল, প্রতি রাতে তোমার জন্য ডালিম কে উৎপন্ন করত অথচ তা বছরে একবারই উৎপন্ন হয়? আর তুমি আমার কাছে সিজদারত অবস্থায় মৃত্যু চেয়েছিলে, আমি কি তোমার সাথে তা করিনি?»।

সে বলবে: আপনিই করেছেন, হে আমার রব।

আল্লাহ বলবেন: «এসবই আমার রহমতে, আর আমার রহমতেই আমি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আমার বান্দাকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও। তুমি কতই না উত্তম বান্দা ছিলে হে আমার বান্দা»।

এরপর তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। জিবরীল বললেন: হে মুহাম্মদ! সকল বিষয় আল্লাহর রহমতের ওপরই নির্ভরশীল।

এটিও সুলাইমান বিন হারাম আল-কুরাশি আল-মাদানি বর্ণিত একটি সংরক্ষিত (মাহফুজ) হাদিস, যা আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হুদাইর আত-তাইমি আল-কুরাশি আল-মাদানি থেকে, তিনি আবু আবদুল্লাহ জাবির বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম আস-সুলামি আল-আনসারি আল-মাদানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত।

এই সূত্র ব্যতিরেকে এর আর কোনো উৎস জানা যায় না। আবু সালিহ আবদুল্লাহ বিন সালিহ হলেন আল-জুহানি, তাদের আযাদকৃত দাস এবং মিশরীয়; তাকে 'লাইসের লেখক' বলা হয়। তিনি মিশরীয় হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁর থেকে লাইস বিন সাদ, আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালাম, আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মাইন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি এবং অন্যান্য ইমামগণ বর্ণনা করেছেন। আর লাইস বিন সাদ আবু আল-হারিস আল-ফাহমি আল-মিসরি এই হাদিসটি সুলাইমান বিন হারাম আল-মাদানি থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং হাফেজগণ এই হাদিসটি লাইসের লেখক আবু সালিহ আবদুল্লাহ বিন সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: নাইশাপুরের আহলুস সুন্নাহর ইমাম আবু সাইদ উসমান বিন সাইদ আদ-দারিমি। মূল পাণ্ডুলিপিতে হাফেজের হস্তলিপিতে এটি হিরাত-এ (সঠিকভাবে) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - حَدَّثَنَا الْحَاكِمُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْمُقْرِئِ الظَّافِرِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، ثنا أَبُو عَلِيِّ بْنُ مِهْرَانَ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا يَحْيَى بْنُ جَعْفَرٍ الزِّبْرِقَانُ، أنبا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، أنبا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنه، قَالَ: "‌‌ كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ عَابِدٌ وَكَانَ مُعْتَزِلا فِي كَهْفٍ.

قَالَ: فَكَأَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ قَدْ أُعْجِبُوا بِعِبَادَتِهِ
، فَبَيْنَا هُمْ عِنْدَ نَبِيٍّ لَهُمْ إِذْ ذَكَرُوهُ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ عليه الصلاة والسلام: إِنَّهُ لَكَمَا تَقُولُونَ لَوْ أَنَّهُ تَارِكٌ لِشَيْءٍ مِنَ السُّنَّةِ.

قَالَ: فَنُقِلَ ذَلِكَ إِلَى الْعَابِدِ.

فَقَالَ: عَلَى مَا آذَيْتُ نَفْسِي، وَأَتْعَبْتُهُا أَصُومُ النَّهَارَ، وَأَقُومُ اللَّيْلَ، وَأَنَا تَارِكٌ لِشَيْءٍ مِنَ السُّنَّةِ.

قَالَ: فَهَبَطَ مِنْ مَكَانِهِ.

قَالَ: وَأَتَى النَّبِيَّ عليه الصلاة والسلام وَالنَّاسُ مَعَهُ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ لا يَعْرِفُهُ بِوَجْهِهِ وَيَعْرِفُهُ بِاسْمِهِ.

فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّه إِنَّهُ بَلَغَنِي لأَنِّي ذُكِرْتُ عِنْدَكَ بِخَيْرٍ، فَقُلْتَ: إِنَّهُ لَكَمَا تَقُولُونَ لَوْلا أَنَّهُ تَارِكٌ لِشَيْءٍ مِنَ السُّنَّةِ، فَإِنْ كُنْتُ تَارِكًا فَعَلَى مَا آذَيْتُ نَفْسِي، أَصُومُ النَّهَارَ، وَأَقُومُ اللَّيْلَ.

فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: أَنْتَ فُلانٌ؟ قَالَ: نَعَمْ.

قَالَ: مَا هُوَ شَيْءٌ أَحْدَثْتَهُ فِي الإِسْلامِ إِلا أَنَّكَ لا تتَزَوَّجُ.

قَالَ لَهُ الْعَابِدُ: وَمَا هُوَ إِلا هَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ.

قَالَ: فَكَأَنَّ الْعَابِدَ اسْتَخَفَّ بِذَلِكَ.

قَالَ: فَلَمَّا رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاكَ، قَالَ: أَرَأَيْتَ لَوْ فَعَلَ النَّاسُ مِثْلَ مَا فَعَلْتَ مِنْ أَيْنَ يَكُونُ النَّسْلُ؟ مَنْ كَانَ يَنْفِي الْعَدُوَّ عَنْ ذَرَارِيِّ الْمُسْلِمِينَ؟ مَنْ كَانَ يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَيَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ؟ وَمَنْ كَانَ يَجْمَعُ فِي الْمُسْلِمِينَ؟ قَالَ: فَعَرَفَ الْعَابِدُ مَا قَالَ.

قَالَ: فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ هُوَ مَا قُلْتَ، فَإِنِّي إِنْ أَكُنْ أُحْرَمُهُ، وَلَكِنِّي أُخْبِرُكَ عَنِّي أَنَا رَجُلٌ فَقِيرٌ، وَأَنَا كَلٌّ عَلَى النَّاسِ، وَهُمْ يُطْعِمُونِي، وَيُلْبِسُونِي، لَيْسَ لِي مَالٌ، وَأَنَا أَكْرَهُ أَنْ أَتَزَوَّجَ امْرَأَةً مُسْلِمَةً فَأَعُقَّهَا، وَلَيْسَ عِنْدِي مَا أُنْفِقُ عَلَيْهَا، وَأَمَّا الأَغْنِيَاءُ فَلا يُزَوِّجُونِي.

قَالَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: مَا بِكَ إِلا ذَاكَ؟ قَالَ: نَعَمْ.

قَالَ النَّبِيُّ: فَأَنَا أُزَوِّجُكَ ابْنَتِي.

قَالَ: وَتَفْعَلُ؟ قَالَ: نَعَمْ.

قَالَ: قَدْ قَبِلْتُ.

قَالَ: فَزَوَّجَهُ ابْنَتَهُ قَالَ: فَدَخَلَ بِهَا فَوَلَدَتْ لَهُ غُلامًا.

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَوَاللَّهِ مَا وُلِدَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ مَوْلُودٌ كَانُوا أَشَدَّ بِهِ فَرَحًا مِنْهُمْ بِذَاكَ الْغُلامِ.

قَالُوا: ابْنُ عَابِدِنَا، وَابْنُ نَبِيِّنَا، إِنَّا لَنَرْجُو أَنْ يَبْلُغَ بِهِ مَا بَلَغَ بِرَجُلٍ مِنَّا.

قَالَ: فَلَمَّا بَلَغَ الْغُلامُ انْقَطَعَ إِلَى عِبَادَةِ الأَوْثَانِ.

قَالَ: فَتَبِعَهُ فِئَامٌ مِنْهُمْ كَثِيرٌ، فَلَمَّا رَأَى كَثْرَتَهُمْ، قَالَ لَهُمْ: إِنِّي أَرَاكُمْ كَثِيرًا وَأَرَى هَؤُلاءِ الْقَوْمِ غَالِبِينَ لَكُمْ فَمِمَّ ذَاكَ؟ قَالُوا: نُخْبِرُكَ، لَهُمْ رَأْسٌ وَلَيْسَ لَنَا رَأْسٌ.

قَالَ: وَمَنْ رَأْسُهُمْ؟ قَالُوا جَدُّكَ.

قَالَ: فَأَنَا رَأْسُكُمْ.

قَالُوا: تَفْعَلُ؟ قَالَ: نَعَمْ.

قَالَ: فَخَرَجَ، وَخَرَجَ مَعَهُ خَلْقٌ كَثِيرٌ.

قَالَ: فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ جَدُّهُ وَأَبُوهُ: أَنِ اتَّقِ اللَّهَ، خَرَجْتَ عَلَيْنَا تَعْبُدُ الأَوْثَانَ، وَتَرَكْتَ الإِسْلامَ، وَأَخَذْتَ فِي دِينٍ غَيْرِهِ.

فَأَبَى.

فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَخَرَجَ مَعَهُ أَبُوهُ فَدَعُوهُ، فَأَبَى ، فَاقْتَتَلُوا حَتَّى حَجَزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ، ثُمَّ اقْتَتَلُوا الْيَوْمَ الثَّانِيَ حَتَّى حَجَزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ، فَقُتِلَ النَّبِيُّ، وَقُتِلَ أَبَاهُ، وَانْهَزَمَ الْمُسْلِمُونَ فِي صبط الأَرْضِ، وَاسْتَوْسَقَ لَهُ النَّاسُ.

قَالَ: فَجَعَلَتْ نَفْسُهُ لا تَدَعُهُ حَتَّى يَتْبَعَ الْمُسْلِمِينَ وَيَقْتُلَهُمْ فِي الْجِبَالِ.

قَالَ: فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِكَ اجْتَمَعَ الْمُسْلِمُونَ، فَقَالُوا قَدْ خَلَّيْنَا لَهُ الْمُلْكَ وَهُوَ يَتْبَعُنَا وَيَقْتُلُنَا، وَانْهَزَمْنَا عَنْ نَبِيِّنَا، وَعَابِدِنَا حَتَّى قُتِلا، وَلَيْسَ يَدَعُنَا أَوْ يَقْتُلُنَا، فَتَعَالَوْا نَتُبْ إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا فَنُقْتَلُ وَنَحْنُ تَائِبُونَ، فَتَابُوا إِلَى اللَّهِ، وَوَلَّوْا رَجُلا مِنْهُمْ فَخَرَجُوا إِلَيْهِ فَاقْتَتَلُوا لأَوَّلِ يَوْمٍ حَتَّى حَجَزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ، ثُمَّ عَادُوا فَاقْتَتَلُوا حَتَّى حَجَزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ وَكَثُرَ الْقَتْلُ بَيْنَهُمْ، وَعَدُّوا الْيَوْمَ الثَّالِثَ فَاقْتَتَلُوا فَلَمَّا عَلِمَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِمُ الصِّدْقَ، وَأَنَّهُمْ قَدْ تَابُوا تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ، وَأَقْبَلَتِ الرِّيحُ لَهُمْ، فَقَالَ صَاحِبُهُمْ: إِنِّي لأَرْجُو أَنْ يَكُونَ اللَّهُ قَدْ تَابَ عَلَيْنَا وَقَبِلَ مِنَّا ، إِنِّي أَرَى الرِّيحَ قَدْ أَقْبَلَتْ مَعَنَا، وَأَنَّ نُصْرَتَنَا بَدَتْ، فَإِنِ اسْتَطْعَتْم أَنْ تَأْخُذُوهُ سِلْمًا وَلا تَقْتُلُوهُ.

قَالَ: وَأَنْزَلَ اللَّهُ النَّصْرَ عَلَيْهِمْ مِنْ آخِرِ النَّهَارِ وَهَزَمُوهُمْ، وَأَخَذُوهُ أَسِيرًا، وَمَكَّنَ اللَّهُ الْمُسْلِمِينَ فِي الأَرْضِ، وَظَهَرَ الإِسْلامُ.

قَالَ: فَجَمَعَ رَأْسُ الْمُسْلِمِينَ خِيَارَ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ: مَا تَرَوْنَ فِي هَذَا؟ بَدَّلَ دِينَهُ، وَدَخَلَ مَعَ عَبَدَةِ الأَوْثَانِ فِي ديِنِهِمْ ، وَقَتَلَ نَبِيَّنَا جَدَّهُ، وَقَتَلَ أَبَاهُ، فَقَائِلٌ يَقُولُ: أَحْرِقْهُ بِالنَّارِ.

قَالَ: وَيَمُوتُ فَيَذْهَبُ، وَقَائِلٌ يَقُولُ: قَطِّعْهُ.

قَالَ: فَقَالَ: إِنَّهُ يَمُوتُ فَيَذْهَبُ.

قَالُوا: أَنْتَ أَعْلَمُ اصْنَعْ بِهِ مَا شِئْتَ.

قَالَ: فَإِنِّي أَرَى أَنْ أَصْلِبَهُ حَيًّا، ثُمَّ أَدَعَهُ حَتَّى يَمُوتَ.

قَالَ: فَفَعَلَ ذَلِكَ بِهِ، صَلَبَهُ حَيًّا، وَجَعَلَ عَلَيْهِ الْحَرَسَ، وَلَمْ يَقْتُلْهُ، وَجَعَلُوا لا يُطْعِمُونَهُ، وَلا يَسْقُونَهُ، فَمَكَثَ أَوَّلَ يَوْمٍ، وَالثَّانِيَ، وَالثَّالِثَ، فَلَمَّا كَانَ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ أَصَابَ الْجَهْدُ الرَّجُلَ فَعَمَدَ إِلَى أَوْثَانِهِ الَّتِي كَانَ يَعْبُدُهَا مِنْ دُونِ اللَّهِ ، فَجَعَلَ يَدْعُو صَنَمًا صَنَمًا مِنْهَا ، فَإِذَا رَآهُ لا يُجِيبُهُ تَرَكَهُ وَدَعَا الآخَرَ حَتَّى دَعَاهَا كُلَّهَا، فَلَمَّا لَمْ تُجِبْهُ، قَالَ وَجُهِدَ: اللَّهُمَّ إِنِّي قَدْ جَهَدْتُ، وَقَدْ دَعَوْتُ الآلِهَةَ الَّتِي كُنْتُ أَدْعُو مِنْ دُونِكَ فَلَمْ تُجِبْنِي، وَلَوْ كَانَ عِنْدَهَا خَيْرٌ لأَجَابَتْنِي، وَأَنَا تَائِبٌ إِلَيْكِ إِلَهَ جَدِّي وَأَبِي فَخَلِّصْنِي مِمَّا أَنَا فِيهِ، فَإِنِّي قَدْ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ.

قَالَ: فَتَحَلَّلَتْ عَنْهُ عُقْدَةٌ فَإِذَا هُوَ بِالأَرْضِ، فَأُخِذَ، فَأُتِيَ بِهِ صَاحِبَهُمْ، فَقَالَ: مَا تَرَوْنَ فِيهِ؟ قَالُوا: وَمَا تَرَى فِيهِ؟ اللَّهُ يُخَلِّي عَنْهُ، وَتَسْأَلُنَا مَا نَرَى فِيهِ؟ قَالَ: صَدَقْتُمْ، فَخَلُّوا عَنْهُ.

قَالَ: فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَوَاللَّهِ مَا كَانَ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ بَعْدُ رَجُلٌ خَيْرٌ مِنْهُ ".

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنُ الإِسْنَادِ وَالْمَتْنِ، غَرِيبٌ لا أَعْلَمُ أَنِّي سَمِعْتُهُ إِلا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ الَّذِي أَخْرَجْنَاهُ، وَاللَّهُ تَعَالَى هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
১৮ - আমাদের নিকট হাকিম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনুল মুকরি আজ-জাফারি বর্ণনা করেছেন, তাঁর নিকট পঠিত অবস্থায় এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আলী বিন মিহরান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন জাফর আজ-জিবরিকান বর্ণনা করেছেন, তিনি আসিম বিন আলী থেকে অবহিত করেছেন, তিনি দাউদ বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ বিন উমাইর থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "বনী ইসরাঈলের মধ্যে একজন ইবাদতকারী লোক ছিল এবং সে একটি গুহায় নির্জনে বসবাস করত।

তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলরা তার ইবাদতে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
এমতাবস্থায় তারা তাদের একজন নবীর কাছে উপস্থিত ছিল, তখন তারা সেই লোকটির কথা উল্লেখ করল এবং তার প্রশংসা করল। তখন নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাকে বললেন: তোমরা যা বলছ সে সেরকমই হতো, যদি সে সুন্নাহর কোনো একটি বিষয় বর্জন না করত।

তিনি বলেন: সেই সংবাদ ইবাদতকারী লোকটির কাছে পৌঁছে দেওয়া হলো।

সে বলল: আমি কিসের ওপর নিজের নফসকে কষ্ট দিচ্ছি এবং তাকে পরিশ্রান্ত করছি? আমি দিনে রোজা রাখি এবং রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদত করি, অথচ আমি সুন্নাহর কোনো বিষয় বর্জনকারী!

তিনি বলেন: অতঃপর সে তার স্থান থেকে নিচে নেমে এল।

তিনি বলেন: সে নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর কাছে এল এমতাবস্থায় যে তাঁর সাথে লোকজন ছিল। সে তাঁকে সালাম দিল। নবী (সা.) তাকে চেহারায় চিনলেন না কিন্তু তার নামে চিনলেন এবং সালামের উত্তর দিলেন।

সে বলল: হে আল্লাহর নবী! আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনার কাছে আমার সম্পর্কে উত্তম আলোচনা করা হয়েছে, তখন আপনি বলেছেন: 'সে তোমাদের কথার মতোই হতো যদি সে সুন্নাহর কোনো বিষয় বর্জনকারী না হতো।' যদি আমি তা বর্জনকারী হই, তবে কিসের ওপর আমি নিজেকে কষ্ট দিচ্ছি? অথচ আমি দিনে রোজা রাখি এবং রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদত করি।

তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: তুমি কি অমুক? সে বলল: হ্যাঁ।

তিনি বললেন: তুমি ইসলামে নতুন কোনো কিছু উদ্ভাবন করোনি (অর্থাৎ তোমার কোনো দোষ নেই), কেবল এটি ছাড়া যে তুমি বিবাহ করছ না।

ইবাদতকারী তাঁকে বলল: এটা ছাড়া আর কিছু নয়? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

তিনি বলেন: মনে হলো ইবাদতকারী বিষয়টিকে তুচ্ছ মনে করল।

তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তা দেখলেন, তখন বললেন: ভেবে দেখ তো, মানুষ যদি তোমার মতো করত তবে বংশধারা কোথা থেকে আসত? মুসলমানদের সন্তানদের থেকে শত্রুদের কে প্রতিহত করত? কে সৎকাজের আদেশ দিত এবং অসৎকাজে নিষেধ করত? আর মুসলমানদের জামাতবদ্ধ কে করত? তিনি বলেন: তখন ইবাদতকারী তাঁর কথা বুঝতে পারল।

তিনি বলেন: সে বলল: হে আল্লাহর নবী! আপনি যা বলেছেন তা-ই সঠিক। আমি তা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করছি ঠিকই, তবে আমি আমার সম্পর্কে আপনাকে বলছি যে, আমি একজন দরিদ্র লোক এবং আমি মানুষের ওপর বোঝা হয়ে আছি; তারা আমাকে খাবার দেয় এবং পোশাক দেয়। আমার কোনো সম্পদ নেই। আর আমি কোনো মুসলিম নারীকে বিবাহ করে তার হক নষ্ট করা অপছন্দ করি, কারণ তার ভরণপোষণের ক্ষমতা আমার নেই। আর ধনীরা আমার কাছে মেয়ে বিয়ে দেবে না।

তিনি বলেন: তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমার কি এ ছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই? সে বলল: না।

নবী বললেন: তবে আমি আমার কন্যাকে তোমার সাথে বিবাহ দিচ্ছি।

সে বলল: আপনি কি তা করবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

সে বলল: আমি কবুল করলাম।

তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর কন্যাকে তার সাথে বিবাহ দিলেন। তিনি বলেন: সে তার সাথে বাসর করল এবং তাদের একটি পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হলো।

ইবনে আব্বাস বলেন: আল্লাহর কসম, বনী ইসরাঈলে এমন কোনো শিশু জন্ম নেয়নি যার আগমনে তারা ঐ শিশুর আগমনের চেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছিল।

তারা বলল: আমাদের ইবাদতকারীর পুত্র এবং আমাদের নবীর দৌহিত্র; আমরা আশা করি সে আমাদের মধ্যকার কোনো এক মহান ব্যক্তির স্তরে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন: ছেলেটি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলো, সে মূর্তিপূজায় নিমগ্ন হলো।

তিনি বলেন: তার অনুসরণ করল তাদের মধ্যকার এক বিশাল দল। যখন সে তাদের আধিক্য দেখল, সে তাদের বলল: আমি তোমাদের অনেক বেশি সংখ্যায় দেখছি, আর আমি দেখছি ঐ সম্প্রদায়টি (মুসলিমরা) তোমাদের ওপর বিজয়ী হচ্ছে, তা কেন? তারা বলল: আমরা আপনাকে বলছি, তাদের একজন নেতা আছে কিন্তু আমাদের কোনো নেতা নেই।

সে বলল: তাদের নেতা কে? তারা বলল: আপনার নানা।

সে বলল: তবে আমিই তোমাদের নেতা।

তারা বলল: আপনি কি তা করবেন? সে বলল: হ্যাঁ।

তিনি বলেন: অতঃপর সে বের হলো এবং তার সাথে এক বিশাল বাহিনী বের হলো।

তিনি বলেন: তখন তার নানা এবং তার পিতা তার কাছে বার্তা পাঠালেন: তুমি আল্লাহকে ভয় করো, তুমি আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বের হয়েছ, মূর্তিপূজা করছ, ইসলাম ত্যাগ করেছ এবং অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছ।

কিন্তু সে তা অস্বীকার করল।

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং তাঁর সাথে তার পিতাও বের হলেন। তারা তাকে আহ্বান জানালেন, কিন্তু সে অস্বীকার করল। তারা যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না রাত তাদের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াল। এরপর দ্বিতীয় দিন যুদ্ধ হলো যতক্ষণ না রাত বাধা হয়ে দাঁড়াল। যুদ্ধে নবী নিহত হলেন এবং তার পিতাও নিহত হলেন। মুসলমানরা জমিনের আনাচে-কানাচে পরাজিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ল এবং মানুষেরা তার বশ্যতা স্বীকার করল।

তিনি বলেন: তার প্রবৃত্তি তাকে ছাড়ল না যতক্ষণ না সে মুসলমানদের পিছু ধাওয়া করতে লাগল এবং পাহাড়ের মধ্যে তাদের হত্যা করতে লাগল।

তিনি বলেন: তারা যখন তা দেখল, মুসলমানরা একত্রিত হলো এবং বলল: আমরা তার জন্য রাজত্ব ছেড়ে দিয়েছি, তবুও সে আমাদের পিছু ছাড়ছে না এবং আমাদের হত্যা করছে। আমরা আমাদের নবী এবং আমাদের ইবাদতকারীর বিয়োগে পরাজিত হয়েছি যতক্ষণ না তারা নিহত হয়েছেন। সে আমাদের ছাড়ছে না এবং আমাদের হত্যা করছে। এসো আমরা আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ তওবা করি, যেন আমরা তওবাকারী অবস্থায় নিহত হই। অতঃপর তারা আল্লাহর কাছে তওবা করল এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকে নেতা নিযুক্ত করল। তারা তার বিরুদ্ধে বের হলো এবং প্রথম দিন যুদ্ধ করল যতক্ষণ না রাত বাধা হয়ে দাঁড়াল। পুনরায় তারা যুদ্ধ করল যতক্ষণ না রাত বাধা হয়ে দাঁড়াল এবং তাদের মাঝে প্রচুর প্রাণহানি ঘটল। তারা তৃতীয় দিন গণনা করল এবং যুদ্ধ করল। আল্লাহ তাআলা যখন তাদের মধ্যে সত্যবাদিতা দেখলেন এবং তারা যে তওবা করেছে তা জানলেন, তখন আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করলেন। তাদের অনুকূলে বাতাস প্রবাহিত হলো। তখন তাদের নেতা বললেন: আমি আশা করি আল্লাহ আমাদের তওবা কবুল করেছেন এবং আমাদের আমল গ্রহণ করেছেন। আমি দেখছি বাতাস আমাদের অনুকূলে বইছে এবং আমাদের বিজয় শুরু হয়েছে। তোমরা যদি তাকে সন্ধির মাধ্যমে ধরতে পার তবে তাকে হত্যা করো না।

তিনি বলেন: দিনের শেষভাগে আল্লাহ তাদের ওপর সাহায্য অবতীর্ণ করলেন এবং তারা তাদের পরাজিত করল। তারা তাকে বন্দি করল এবং আল্লাহ জমিনে মুসলমানদের ক্ষমতা দান করলেন এবং ইসলাম বিজয়ী হলো।

তিনি বলেন: তখন মুসলমানদের নেতা শ্রেষ্ঠ মুসলমানদের সমবেত করে বললেন: তোমরা এই লোকটির ব্যাপারে কী মনে করো? সে তার ধর্ম পরিবর্তন করেছে, মূর্তিপূজারীদের ধর্মে প্রবেশ করেছে এবং আমাদের নবী অর্থাৎ তার নানাকে ও তার পিতাকে হত্যা করেছে। কেউ বলল: তাকে আগুনে পুড়িয়ে দিন।

তিনি বললেন: তবে সে মরে শেষ হয়ে যাবে। কেউ বলল: তাকে টুকরো টুকরো করুন।

তিনি বললেন: এতেও সে মরে শেষ হয়ে যাবে।

তারা বলল: আপনিই ভালো জানেন, আপনি তার সাথে যা ইচ্ছা করুন।

তিনি বললেন: আমি মনে করি তাকে জীবিত অবস্থায় শূলে চড়াব, এরপর তাকে ছেড়ে দেব যতক্ষণ না সে মারা যায়।

তিনি বলেন: তিনি তার সাথে তাই করলেন; তাকে জীবিত অবস্থায় শূলে চড়ালেন এবং তার ওপর পাহারাদার নিযুক্ত করলেন। তিনি তাকে হত্যা করলেন না। তারা তাকে খাবার ও পানীয় দিচ্ছিল না। সে প্রথম দিন, দ্বিতীয় দিন এবং তৃতীয় দিন সেভাবেই থাকল। যখন মধ্যরাত হলো এবং লোকটির কষ্ট চরম সীমায় পৌঁছাল, তখন সে সেই মূর্তিদের দিকে মনোযোগ দিল যাদের সে আল্লাহর পরিবর্তে পূজা করত। সে একে একে প্রতিটি মূর্তিকে ডাকতে শুরু করল। যখন সে দেখল কোনোটিই তাকে সাড়া দিচ্ছে না, সে তাকে ছেড়ে অন্যটিকে ডাকল। এভাবে সে সবগুলোকে ডাকল। যখন সেগুলো তাকে সাড়া দিল না এবং সে চরম দুর্দশায় পড়ল, তখন বলল: হে আল্লাহ! আমি চরম কষ্টের মধ্যে আছি। আমি সেই ইলাহদের ডেকেছি যাদের আমি আপনার পরিবর্তে ডাকতাম, কিন্তু তারা আমাকে সাড়া দেয়নি। যদি তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ থাকত তবে তারা অবশ্যই আমাকে সাড়া দিত। আমি আপনার কাছে তওবা করছি, হে আমার নানা ও পিতার ইলাহ! আমাকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিন। আমি আপনার কাছে তওবা করেছি এবং আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন: তখন তার একটি বাঁধন খুলে গেল এবং সে মাটিতে পড়ে গেল। তাকে ধরে তাদের নেতার কাছে নিয়ে আসা হলো। নেতা বললেন: তোমরা তার ব্যাপারে কী মনে করো? তারা বলল: আপনি তার ব্যাপারে কী মনে করেন? আল্লাহ স্বয়ং যাকে মুক্ত করেছেন, তার ব্যাপারে আপনি আমাদের কাছে কী জানতে চান? তিনি বললেন: তোমরা সত্য বলেছ। অতএব তাকে ছেড়ে দাও।

তিনি বলেন: অতঃপর ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: আল্লাহর কসম, এরপর বনী ইসরাঈলে তার চেয়ে উত্তম কোনো ব্যক্তি আর ছিল না।"

এই হাদিসটির সনদ ও মতন হাসান (উত্তম)। এটি একটি বিরল হাদিস, যা আমরা যে সূত্রে বর্ণনা করেছি তা ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে আমি শুনেছি বলে জানি না। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - حَدَّثَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ حَفْصِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ يَحْيَى بْنِ ذَكْوَانَ، رحمه الله، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى الْحَافِظُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، ثنا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَقْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: قِيلَ لابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: إِنَّ نَوْفًا يَزْعُمُ أَنَّ مُوسَى الَّذِي ذَهَبَ يَلْتَمِسُ الْعِلْمَ، فَلَيْسَ هُوَ مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَقَالَ: أَسَمِعْتَهُ يَا سَعِيدُ؟ قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ.

قَالَ: كَذَبَ نَوْفٌ، حَدَّثَنَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ، رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: بَيْنَمَا أَتَى مُوسَى فِي قَوْمِهِ يُذَكِّرُهُمْ بِأَيَّامِ اللَّهِ، وَأَيَّامُ اللَّهِ نَعْمَاؤُهُ وَبَلاؤُهُ، إِذْ قَالَ: مَا أَعْلَمُ فِي الأَرْضِ رَجُلا خَيْرًا أَوْ أَعْلَمَ مِنِّي.

 

قَالَ: فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ: ‌‌«إِنِّي أَعْلَمُ بِالْخَيْرِ مِنْهُ أَوْ عِنْدَ مَنْ هُوَ ، إِنَّ فِي الأَرْضِ رَجُلا هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ».

قَالَ: يَا رَبِّ دُلَّنِي عَلَيْهِ
، قَالَ: فَقِيلَ لَهُ: تَزَوَّدْ حُوتًا مَالِحًا فَإِنَّهُ حَيْثُ تَفْقِدُ الْحُوتَ.

قَالَ: فَانْطَلَقَ هُوَ وَفَتَاهُ حَتَّى انْتَهَيَا إِلَى صَخْرَةٍ، فَعُمِّيَ عَلَيْهِ، فَانْطَلَقَ وَتَرَكَ فَتَاهُ، فَاضْطَرَبَ الْحُوتُ فِي الْمَاءِ فَجَعَلَ لا يَلْتَئِمُ لَيْلَتَهُ صَارَ مِثْلَ الْكَوَّةِ، قَالَ: فَقَالَ فَتَاهُ: أَلا أَلْحَقُ بِنَبِيِّ الله أَلا فَأُخْبِرُهُ.

قَالَ: فَنَسِيَ.

فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا.

قَالَ: وَلَمْ يُصِبْهُمْ نَصَبٌ حَتَّى تَجَاوَزَا.

قَالَ: فَتَذَكَّرَ، فَقَالَ: أَرَأَيْتُ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلا الشَّيْطَانُ إِلَى قَوْلِهِ: {عَجَبًا} [الكهف: 63].

قَالَ: ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِي فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا، فَأَرَاهُ مَكَانَ الْحُوتِ.

قَالَ: هَا هُنَا وُصِفَ لِي، فَذَهَبَ يَلْتَمِسُ، فَإِذَا هُوَ بِالْخَضِرِ مُسَجًّى ثَوْبًا مُسْتَلْقِيًا عَلَى الْقَفَا، أَوْ قَالَ: عَلَى حُلاوَةِ الْقَفَا.

فَقَالَ: السَّلامُ عَلَيْكُمْ، وَكَشَفَ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ، فَقَالَ: وَعَلَيْكُمُ السَّلامُ مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا مُوسَى.

قَالَ: وَمَنْ مُوسَى؟ قَالَ: مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ.

قَالَ: فَجِئْ فِيمَا جَاءَ بِكَ؟ قَالَ: جِئْتُ لِتُعَلِّمَنِي مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا.

قَالَ: إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا فَشَيْئًا أُمِرْتُ أَنْ أَفْعَلَهُ إِذَا رَأَيْتَهُ لَمْ تَصْبِرْ.

قَالَ: سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا ، قَالَ: فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا، فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا، وَانْتَحَى عَنْهَا.

فَقَالَ لَهُ مُوسَى: أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا.

قَالَ: أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا، قَالَ: لا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ، وَلا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا، فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا لَقِيَا غِلْمَانًا يَلْعَبُونَ.

قَالَ: فَانْطَلَقَ إِلَى أَحَدِهِمْ بَادِي الرَّأْيِ فَقَتَلَهُ.

قَالَ: فَذُعِرَ عِنْدَهَا مُوسَى ذَعْرَةً مُنْكَرَةً، فَقَالَ: أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ هَذَا الْمَكَانِ: رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى مُوسَى لَوْلا أَنَّهُ عَجَّلَ لَرَأَى الْعَجَبَ، وَلَكِنَّهُ أَخَذَتْهُ مِنْ صَاحِبِهِ ذِمَامَةٌ.

قَالَ: إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا.

وَلَوْ صَبَرَ لَرَأَى مِنْهُ الْعَجَبَ.

قَالَ: وَكَانَ إِذَا ذَكَرَ أَحَدًا مِنَ الأَنْبِيَاءِ بَدَأَ بِنَفْسِهِ رَحْمَةُ اللَّهُ عَلَيْنَا وَعَلَى كَذَا رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْنَا.

قَالَ: فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ لِئَامٍ فَطَافَا فِي الْمَجَالِسِ يَسْتَطْعِمَانِ، فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا، فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ.

قَالَ: لَوْ شِئْتَ لاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا.

قَالَ: هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا: أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ.

إِلَى آخِرِ الآيَةِ.

فَإِذَا جَاءَ الَّذِي سَخَّرَهَا وَجَدَهَا مُنْخَرِقَةً فَتَجَاوَزَهَا فَأَصْلَحُوهَا بِخَشَبَةٍ، وَأَمَّا الْغُلامُ فَطُبِعَ يَوْمَ طُبِعَ كَافِرًا وَكَانَ أَبَوَاهُ قَدْ عَطَفَا عَلَيْهِ فَلَوْ أَنَّهُ أَدْرَكَ أَرْهَقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا فَأَرَدْنَا أَنْ يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا، وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ.

إِلَى آخِرِ الآيَةِ.

صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، هَذَا.

وَأَبُو إِسْحَاقَ هُوَ عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هَانِئٍ الْهَمْدَانِيُّ، مِنْ كِبَارِ تَابِعِي أَهْلِ الْكُوفَةِ.

وَأَصْلُ الْحَدِيثِ صَحِيحٌ بِاتِّفَاقٍ
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে হুসাইন ইবনে হাফস ইবনে ফজল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাকওয়ান—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর সামনে পঠিত অবস্থায় এবং আমি তা শুনছিলাম, ৪৭৪ হিজরীর মহররম মাসে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ আহমদ ইবনে মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহীম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদিল আলা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুতামির ইবনে সুলাইমান, তাঁর পিতা থেকে, তিনি রক্বাবাহ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলা হলো যে, নওফ ধারণা করে যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) যিনি ইলম অন্বেষণে গিয়েছিলেন, তিনি বনী ইসরাঈলের মূসা নন। তখন তিনি বললেন: হে সাঈদ! তুমি কি তা তাঁর থেকে শুনেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ।

তিনি বললেন: নওফ মিথ্যা বলেছে। আমাদের নিকট উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর কওমের মাঝে থাকাকালীন তাদেরকে ‘আল্লাহর দিবসসমূহ’ (আইয়্যামুল্লাহ) স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন—আর আল্লাহর দিবসসমূহ হলো তাঁর নেয়ামত ও পরীক্ষা—তখন তিনি বললেন: আমি পৃথিবীতে আমার চেয়ে উত্তম বা অধিক জ্ঞানী কোনো ব্যক্তির কথা জানি না।

 

তিনি বলেন: তখন আল্লাহ তাঁর নিকট ওহি পাঠালেন: ‌‌«নিশ্চয়ই আমি তাঁর (মূসার) চেয়েও উত্তম ব্যক্তি সম্পর্কে জানি অথবা কার নিকট তা (জ্ঞান) আছে তাও জানি। জমিনে এমন এক ব্যক্তি আছে যে তোমার চেয়েও অধিক জ্ঞানী।»

তিনি বললেন: হে রব! আমাকে তাঁর কাছে পৌঁছানোর পথ দেখিয়ে দিন।
তাঁকে বলা হলো: পাথেয় হিসেবে একটি লবণাক্ত মাছ নাও, যেখানে তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তাঁকে পাবে।

তিনি বলেন: এরপর তিনি ও তাঁর যুবক সঙ্গী রওনা হলেন এবং একটি পাথরের কাছে পৌঁছলেন। পথটি তাঁর নিকট অস্পষ্ট হয়ে গেল, ফলে তিনি চলতে থাকলেন এবং তাঁর সঙ্গীকে রেখে গেলেন। মাছটি পানিতে লাফিয়ে পড়ল এবং সারা রাত সেখানে পানির মিলন রুদ্ধ হয়ে ছিদ্রের মতো হয়ে থাকল। তাঁর সঙ্গী বলল: আমি কি আল্লাহর নবীর সাথে মিলিত হয়ে তাঁকে এটি জানাব না?

তিনি বলেন: কিন্তু তিনি ভুলে গেলেন।

যখন তারা স্থানটি অতিক্রম করে গেলেন, তিনি তাঁর সঙ্গীকে বললেন: আমাদের খাবার নিয়ে এসো, এই সফরে আমরা বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।

বর্ণনাকারী বলেন: তারা নির্দিষ্ট স্থানটি অতিক্রম করার পূর্ব পর্যন্ত কোনো ক্লান্তি অনুভব করেননি।

তিনি বলেন: তখন তাঁর মনে পড়ল এবং বললেন: আপনি কি দেখেছেন? আমরা যখন পাথরের কাছে আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই আমাকে তা ভুলিয়ে দিয়েছিল... আয়াতের এই অংশ পর্যন্ত: {বিস্ময়করভাবে} [সূরা কাহফ: ৬৩]।

তিনি বললেন: এটিই তো আমরা খুঁজছিলাম। তখন তারা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে পেছনের দিকে ফিরে চললেন। সঙ্গী তাঁকে মাছের স্থানটি দেখালেন।

তিনি বললেন: এই স্থানের বর্ণনাই আমাকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেখানে খুঁজতে লাগলেন এবং হঠাৎ খিজিরকে এক কাপড়ে আবৃত হয়ে পিঠের ওপর অথবা বলেছিলেন ঘাড়ের ওপর ভর দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন।

তিনি বললেন: আস-সালামু আলাইকুম। তিনি মুখ থেকে কাপড় সরালেন এবং বললেন: ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনি কে? তিনি বললেন: আমি মূসা।

তিনি বললেন: কোন মূসা? তিনি বললেন: বনী ইসরাঈলের মূসা।

তিনি বললেন: আপনি কী উদ্দেশ্যে এসেছেন? তিনি বললেন: আমি এসেছি যাতে আপনি আমাকে তা শিক্ষা দেবেন যা আপনাকে সঠিক পথের জ্ঞান হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বললেন: আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য ধরতে পারবেন না। আর আপনি সে বিষয়ে কীভাবে ধৈর্য ধরবেন যা আপনার জ্ঞানের আয়ত্তে নেই? আমাকে এমন কিছু কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা দেখলে আপনি ধৈর্য ধরতে পারবেন না।

তিনি বললেন: ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশের অবাধ্য হব না। তিনি বললেন: আপনি যদি আমার অনুসরণ করেন, তবে আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না যতক্ষণ না আমি নিজে সে বিষয়ে আপনাকে কিছু বলি। এরপর তারা চলতে লাগলেন, যখন তারা নৌকায় আরোহণ করলেন, তখন তিনি নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন এবং নৌকা থেকে দূরে সরে গেলেন।

মূসা তাঁকে বললেন: আপনি কি আরোহীদের ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য এটি ছিদ্র করলেন? আপনি তো এক গুরুতর কাজ করলেন।

তিনি বললেন: আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না? তিনি বললেন: আমার ভুলের জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না এবং আমার কাজ কঠিন করবেন না। এরপর তারা চলতে লাগলেন, যতক্ষণ না তারা কতিপয় কিশোরের দেখা পেলেন যারা খেলা করছিল।

তিনি বলেন: তিনি তাদের একজনের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাকে হত্যা করলেন।

তিনি বলেন: তখন মূসা প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন এবং বললেন: আপনি কি কোনো প্রাণের বিনিময় ছাড়াই এক নিষ্পাপ ব্যক্তিকে হত্যা করলেন? আপনি তো এক অতি গর্হিত কাজ করলেন।

এই পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমাদের ওপর এবং মূসার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক; তিনি যদি তাড়াহুড়ো না করতেন তবে আরও বিস্ময়কর অনেক কিছু দেখতে পেতেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গীর প্রতি সংকোচ বা লজ্জাবোধ তাঁকে পেয়ে বসেছিল।

তিনি (মূসা) বললেন: এরপর যদি আমি আপনাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি, তবে আপনি আর আমাকে সাথে রাখবেন না; আপনি আমার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ওজরে বা সীমায় পৌঁছে গেছেন।

তিনি যদি ধৈর্য ধরতেন তবে আরও বিস্ময়কর কিছু দেখতে পেতেন।

বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো নবীর কথা উল্লেখ করতেন তখন নিজের কথা দিয়ে শুরু করতেন (যেমন): আমাদের ওপর আল্লাহর রহমত হোক এবং অমুকের ওপর আল্লাহর রহমত হোক... আমাদের ওপর আল্লাহর রহমত হোক।

তিনি বলেন: তারা চলতে থাকলেন, যখন তারা এক কৃপণ জনপদের অধিবাসীদের কাছে এলেন এবং মজলিসগুলোতে ঘুরে ঘুরে খাবার চাইলেন, তখন তারা মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল। সেখানে তারা এক দেয়াল পেলেন যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তিনি সেটি সোজা করে দিলেন।

তিনি (মূসা) বললেন: আপনি ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন।

তিনি বললেন: এখানেই আমার ও আপনার মাঝে বিচ্ছেদ। আমি আপনাকে সে বিষয়গুলোর তাৎপর্য জানিয়ে দিচ্ছি যেগুলোতে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি: নৌকাটির ব্যাপার ছিল এই যে, তা ছিল কয়েকজন দরিদ্র মানুষের যারা সমুদ্রে কাজ করত।

আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

যখন সেই ব্যক্তি এল যে নৌকাটি বাজেয়াপ্ত করতে চেয়েছিল, সে এটিকে ছিদ্রযুক্ত দেখল এবং তা ছেড়ে চলে গেল। পরে তারা এক টুকরো কাঠ দিয়ে সেটি মেরামত করে নিল। আর কিশোরটির বিষয় হলো, সে যখন সৃষ্টি হয়েছিল তখনই কাফের হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। তার পিতামাতা তাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। সে যদি বড় হতো তবে তাদের অবাধ্যতা ও কুফরি দিয়ে অতিষ্ঠ করে তুলত। তাই আমরা চাইলাম যে, তাদের প্রতিপালক তার পরিবর্তে তাদেরকে এমন এক সন্তান দান করবেন যে হবে অধিকতর পবিত্র এবং দয়া ও মমতায় নিকটতর। আর দেয়ালটি ছিল শহরের দুই এতিম বালকের।

আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

হাদিসটি সহীহ, ইমাম মুসলিম এটি মুহাম্মদ ইবনে আবদিল আলা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর আবু ইসহাক হলেন আমর ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে হানি আল-হামদানি, তিনি কুফাবাসী বিশিষ্ট তাবেয়ীদের একজন।

হাদিসটির মূল অংশ সর্বসম্মতিক্রমে সহীহ।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ بْنِ أَبِي عَلِيٍّ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى الْحَافِظُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، ثنا أَبُو بَدْرٍ شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثنا زِيَادُ بْنُ خَيْثَمَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: أَبْطَأَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ، فَلَمَّا خَرَجَ قُلْنَا: لَقَدِ احْتُبِسْتَ.

قَالَ: " ذَاكَ أَنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام أَتَانِي كَهَيْئَةِ الْمَرْآةِ بَيْضَاءِ فِيهَا نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ، فَقَالَ: إِنَّ هَذِهِ الْجُمُعَةَ فِيهَا خَيْرٌ لَكَ وَلأُمَّتِكَ، وَقَدْ أَرَادَهَا الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَأَخْطَئُوهَا.

قُلْتُ: يَا جِبْرِيلُ مَا هَذِهِ النُّكْتَةُ السَّوْدَاءُ؟ قَالَ: هَذِهِ السَّاعَةُ الَّتِي فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ لا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ الله فِيهَا خَيْرًا إِلا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، أَوْ ادَّخَرَ لَهُ مِثْلَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، أَوْ صَرَفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهُ، وَإِنَّهُ خَيْرُ الأَيَّامِ عِنْدَ الله، وَإِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يُسَمُّونَهُ يَوْمَ الْمَزِيدِ.

 

قُلْتُ: يَا جِبْرِيلُ مَا يَوْمُ الْمَزِيدِ؟ قَالَ: إِنَّ فِي الْجَنَّةِ وَادِيًا أَفْيَحَ تُرْبَتُهُ مِسْكٌ أَبْيَضُ، يَنْزِلُ اللَّهُ كُلَّ لَيْلَةِ يَوْمِ جُمُعَةٍ فَيَضَعُ كُرْسِيَّهُ فِيهِ، ثُمَّ يُجَاءُ بِمَنَابِرَ مِنْ نُورٍ فَتُوضَعُ خَلْفَهُ فَتَحُفُّ بِهِ الْمَلائِكَةُ، ثُمَّ يُجَاءُ بِكَرَاسِيَّ مِنْ ذَهَبٍ فَتُوضَعُ، ثُمَّ يَجِيءُ النَّبِيُّونَ وَالصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ وَالْمُؤْمِنُونَ، ثُمَّ يَنْزِلُ أَهْلُ الْغُرَفِ فَيَجْلِسُونَ، فَيَقُولُ: ‌‌«أَيْ عِبَادِي سَلُوا».

فَتَقُولُ نَسْأَلُكَ رِضْوَانَكَ.

قَالَ: فَيَقُولُ: «قَدْ رَضِيتُ عَنْكُمْ».

فَيَسْأَلُونَ فَيُعْطِيهِمْ مَا سَأَلُوا
وَأَضْعَافَهَا، فَيُعْطِيهِمْ مَا لا عَيْنٌ رَأَتْ، وَلا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ.

ثُمَّ يَقُولُ: «أَلَمْ أُنْجِزْكُمْ عِدَتِي، وَأُتِمَّ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي، وَهَذَا مَحَلُّ كَرَامَتِي».

ثُمَّ يَنْصَرِفُونَ إِلَى غُرَفِهِمْ، وَيَعُودُونَ كُلَّ جُمُعَةٍ.

قُلْتُ: يَا جِبْرِيلُ وَمَا غُرَفُهُمْ؟ قَالَ: مِنْ لُؤْلُؤَةٍ بَيْضَاءَ، وَيَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ، أَوُ زَبَرْجَدَةٍ خَضْرَاءَ مُتَعَدِّدَةٌ فِيهَا أَبْوَابُهَا، فِيهَا أَزْوَاجُهَا مُطَهَّرَةٌ، فِيهَا أَنْهَارُهَا.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَيْرُ مُخَرَّجٍ، أَخْرَجَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مَنْدَهْ الْحَافِظُ، رحمه الله، فِي كِتَابِ التَّوْحِيدِ عَنْ خَيْثَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي طَالِبٍ، هَذَا، وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزِّبْرِقَانِ، هَكَذَا
২০ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান ইবনে আবু আল-কাসিম ইবনে আবু বকর ইবনে আবু আলী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাফিজ আবু বকর আহমাদ ইবনে মুসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবু তালিব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বদর শুজা ইবনুল ওয়ালিদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবনে খাইসামা, তিনি উসমান ইবনে আবু মুসলিম থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট আসতে বিলম্ব করলেন। যখন তিনি বের হলেন, আমরা বললাম: আপনাকে আটকে দেওয়া হয়েছিল (তাই আসতে দেরি হয়েছে)।

তিনি বললেন: "তা এই কারণে যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) একটি সাদা আয়নার আকৃতিতে আমার নিকট এসেছিলেন যার মধ্যে একটি কালো তিলক ছিল। তিনি বললেন: এটি হলো জুমুআ, এতে আপনার এবং আপনার উম্মতের জন্য কল্যাণ রয়েছে। ইহুদি ও খ্রিস্টানরা এটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছিল কিন্তু তারা তা লাভে ভুল করেছে।

আমি বললাম: হে জিবরাঈল, এই কালো তিলকটি কী? তিনি বললেন: এটি জুমুআর দিনের সেই বিশেষ মুহূর্ত, কোনো মুসলিম বান্দা যখন সেই মুহূর্তটির সাথে সংগতিপূর্ণ হয় এবং আল্লাহর নিকট কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করেন, অথবা কিয়ামতের দিন তার জন্য অনুরূপ কিছু জমা রাখেন, অথবা তার থেকে অনুরূপ কোনো অনিষ্ট দূর করে দেন। আর এটি আল্লাহর নিকট দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম, এবং জান্নাতবাসীরা একে 'ইয়াওমুল মাজীদ' (অতিরিক্ত পাওয়ার দিন) বলে নামকরণ করেছেন।"

 

আমি বললাম: হে জিবরাঈল, ইয়াওমুল মাজীদ কী? তিনি বললেন: জান্নাতে একটি প্রশস্ত উপত্যকা রয়েছে যার মাটি সাদা কস্তুরী। প্রতি জুমুআর রাতে আল্লাহ অবতরণ করেন এবং সেখানে তাঁর কুরসি স্থাপন করেন। অতঃপর নূরের তৈরি মিম্বরসমূহ নিয়ে আসা হয় এবং সেগুলো তাঁর পেছনে স্থাপন করা হয়, আর ফেরেশতারা সেগুলোকে ঘিরে রাখেন। এরপর স্বর্ণের তৈরি আসনসমূহ নিয়ে আসা হয় এবং স্থাপন করা হয়। অতঃপর নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ (সিদ্দীক), শহীদগণ এবং মুমিনগণ আসেন। এরপর উঁচু কক্ষসমূহের অধিবাসীরা (আহলুল গুরফ) নিচে নেমে আসেন এবং সেখানে বসেন। তখন তিনি (আল্লাহ) বলেন: ‌‌«হে আমার বান্দারা, তোমরা প্রার্থনা করো (চাও)»।

তারা বলে: আমরা আপনার নিকট আপনার সন্তুষ্টি চাই।

তিনি বলেন: «আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছি (আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি)»।

অতঃপর তারা প্রার্থনা করে এবং তারা যা চায় তিনি তাদের তা দান করেন
এবং এর বহু গুণ বাড়িয়ে দেন। তিনি তাদের এমন সব কিছু দান করেন যা কোনো চোখ কখনও দেখেনি, কোনো কান কখনও শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরেও কখনও তার কল্পনা উদিত হয়নি।

অতঃপর তিনি বলেন: «আমি কি তোমাদের নিকট করা আমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিনি? এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করিনি? আর এটিই হলো আমার মর্যাদার আবাস»।

এরপর তারা তাদের কক্ষসমূহে ফিরে যান এবং প্রতি জুমুআয় তারা পুনরায় ফিরে আসেন।

আমি বললাম: হে জিবরাঈল, তাদের সেই কক্ষসমূহ (গুরফ) কী দিয়ে তৈরি? তিনি বললেন: সেগুলো সাদা মুক্তা, লাল ইয়াকুত অথবা সবুজ পান্না দ্বারা তৈরি এবং সেগুলোর অনেকগুলো দরজা রয়েছে। সেখানে তাদের পবিত্রা সহধর্মিনীগণ রয়েছেন এবং সেখানে তাদের নদীসমূহ (প্রবাহিত) রয়েছে।

এটি একটি সহীহ হাদীস যা (প্রধান কিতাবসমূহে) পৃথকভাবে সংকলিত হয়নি। হাফিজ আবু আবদুল্লাহ ইবনে মানদাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এটি তাঁর 'কিতাবুত তাওহীদ' গ্রন্থে খাইসামা ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবু তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই ইয়াহইয়া হলেন ইবনে জাফর ইবনুল জিবরিকান, এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْهَمْدَانِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَرْدَوَيْهِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ الأَحْمَسِيُّ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ الرَّبِيعِ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ الْحَافِظُ: وَثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَشْكِيبَ، قَالا: ثنا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعْدٍ الْبَقَّالِ، عَنْ عِكْرَمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، أَنَّ الْيَهُودَ أَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ.

 

فَقَالَ: ‌‌«خَلَقَ اللَّهُ الأَرْضَ يَوْمَ الأَحَدِ وَالاثْنَيْنِ، وَخَلَقَ الْجِبَالَ يَوْمَ الثُّلاثَاءِ وَمَا فِيهِنَّ مِنْ مَنَافِعَ، وَخَلَقَ يَوْمَ الأَرْبِعَاءِ الشَّجَرَ، وَالْمَاءَ، وَالْمَدَائِنَ، وَالْعُمْرَانَ، وَالْخَرَابَ، وَهَذِهِ الأَرْبَعَةُ».

قَالَ: " {أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْدَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ {9} وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ {10}} [فصلت: 9 - 10] " لِمَنْ سَأَلَ ، قَالَ: «وَخَلَقَ يَوْمَ الْخَمِيسِ السَّمَاءَ، وَخَلَقَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ النُّجُومَ، وَالشَّمْسَ، وَالْقَمَرَ، وَالْمَلائِكَةَ، إِلَى ثَلاثِ سَاعَاتٍ بَقِيَتْ مِنْهُ، فَخَلَقَ فِي أَوَّلِ سَاعَةٍ مِنْ هَذِهِ الثَّلاثِ سَاعَاتٍ الآجَالَ مَنْ حَيٌّ وَمَنْ يَمُوتُ، وَمَنْ مَاتَ، وَفِي الثَّانِيَةِ أَلْقَى الآفَةَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مِمَّا يَنْتَفِعُ بِهِ النَّاسُ، وَفِي الثَّالِثَةِ آدَمَ، وَأَسْكَنَهُ الْجَنَّةَ، وَأَمَرَ إِبْلِيسَ بِالسُّجُودِ، أَخْرَجَهُ مِنْهَا فِي آخِرِ سَاعَاتِهِ.

ثُمَّ».

قَالَتْ الْيَهُودُ: ثُمَّ مَاذَا يَا مُحَمَّدُ؟ قَالَ: «ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ».

قَالُوا: أَصَبْتُ لَوْ أَتْمَمْتَ، قَالَوا: اسْتَرَاحَ.

فَغَضِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غَضَبًا شَدِيدًا فَنَزَلَتْ: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ {38} فَاصْبِرْ عَلَى مَا يَقُولُونَ} [ق: 38 - 39] ".

هَذَا حَدِيثٌ عَزِيزٌ حَسَنُ الْمَتْنِ وَالإِسْنَادِ رُوَاتُهُ مَشْهُورُونَ.

أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، يُقَالُ: اسْمُهُ وَكُنْيَتُهُ وَاحِدٌ، وَقَالَ عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ: اسْمُهُ سَالِمٌ كُوفِيٌّ مُحْتَجٌّ بِهِ فِي الصَّحِيحِ، وَأَبُو سَعْدٍ الْبَقَّالُ، اسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ الْمَرْزُبَانِ، يَجْمَعُ حَدِيثَهُ، كُوفِيٌّ تَابِعِيٌّ، يَرْوِي عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رضي الله عنهما، مَشْهُورٌ يَرْوِي عَنْهُ الأَئِمَّةُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ يَسَارٍ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَغَيْرُهُمْ مِنَ الأَئِمَّةِ
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-হামদানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন মারদাওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আমর বিন সাঈদ আল-আহমাসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন হুমাইদ বিন আর-রাবী। আবু বকর আল-হাফিয বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আশকিব। তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হান্নাদ বিন আস-সারী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আইয়াশ, তিনি আবু সাদ আল-বাক্কাল থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, ইয়াহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসল এবং তাঁকে আসমান ও জমিন সৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল।

 

তিনি বললেন: “আল্লাহ জমিন সৃষ্টি করেছেন রবিবার ও সোমবার। মঙ্গলবার পাহাড়সমূহ এবং তাতে যা কিছু উপকারিতা রয়েছে তা সৃষ্টি করেছেন। বুধবার সৃষ্টি করেছেন গাছপালা, পানি, শহর-নগর, আবাদি এলাকা ও জনশূন্য এলাকা; এই চারটি।”

তিনি পাঠ করলেন: “{বলুন, তোমরা কি তাঁর সাথে কুফরি করছ যিনি জমিন সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাচ্ছ? তিনি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক। তিনি জমিনের উপর অটল পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দান করেছেন এবং চার দিনে তাতে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন সুষমভাবে যাঞ্চাকারীদের জন্য।} [ফুসসিলাত: ৯ - ১০]” যারা প্রশ্ন করে তাদের জন্য। তিনি বললেন: “আর বৃহস্পতিবার আসমান সৃষ্টি করেছেন। শুক্রবার সৃষ্টি করেছেন নক্ষত্ররাজি, সূর্য, চাঁদ ও ফেরেশতাদের দিনের অবশিষ্ট শেষ তিন ঘণ্টা পর্যন্ত। এই তিন ঘণ্টার প্রথম ঘণ্টায় তিনি মানুষের হায়াত বা আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করেছেন—কে জীবিত থাকবে আর কে মারা যাবে এবং কে মারা গেছে। দ্বিতীয় ঘণ্টায় মানুষের জন্য উপকারী প্রতিটি বিষয়ের উপর বিপদ-আপদ আপতিত করেছেন। আর তৃতীয় ঘণ্টায় আদমকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন, ইবলিসকে সেজদার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ওই শেষ মুহূর্তেই তাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন।

তারপর।”

ইয়াহুদীরা বলল: তারপর কী, হে মুহাম্মাদ? তিনি বললেন: “তারপর তিনি আরশের উপর উঠলেন।”

তারা বলল: আপনি সঠিক বলেছেন, যদি আপনি তা পূর্ণ করতেন। তারা বলল: তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন।

এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। তখন নাযিল হলো: {অবশ্যই আমি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি। অতএব তারা যা বলে সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন।} [ক্বাফ: ৩৮ - ৩৯]।”

এটি একটি বিরল (আযীয) হাদীস, যার পাঠ ও সনদ সুন্দর (হাসান), এর বর্ণনাকারীরা প্রসিদ্ধ।

আবু বকর বিন আইয়াশ সম্পর্কে বলা হয়: তাঁর নাম ও উপনাম একই। আমর বিন আলী বলেন: তাঁর নাম সালিম, তিনি কুফাবাসী এবং তাঁর বর্ণিত হাদীস সহীহ গ্রন্থে দলীল হিসেবে গৃহীত। আর আবু সাদ আল-বাক্কাল, তাঁর নাম সাঈদ বিন আল-মারযুবান, তাঁর হাদীস সংগ্রহ করা হয়, তিনি কুফাবাসী তাবিঈ। তিনি আনাস বিন মালিক ও আব্দুল্লাহ বিন আবু আওফা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি প্রসিদ্ধ, তাঁর থেকে ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার, সুফিয়ান আস-সাওরী, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ এবং অন্যান্য ইমামগণ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ مَنْدَهْ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، وَالِدِي، أنبا أَبِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ أَبُو كُرَيْبٍ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا حَجَّاجُ بْنُ تَمِيمٍ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه، قَالَ: ‌‌«مَنْ تَسَمَّى بِغَيْرِ الْإِسْلامِ فَلَيْسَ مِنَّا، سَمَّانَا اللَّهُ الْمُسْلِمِينَ، اللَّهُ رَبُّنَا وَالإِسْلامُ دِينُنَا، وَالْقُرْآنُ إِمَامُنَا، مُحَمَّدٌ نَبِيُّنَا، وَالْكَعْبَةُ قِبْلَتُنَا، فَمَنْ كَانَ عَلَى غَيْرِ هَذَا فَلَيْسَ مِنَّا»
২২ - আমাদের নিকট আবু উমর ইবনে মানদাহ বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনুল আলা আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে তামীম মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য নামে নিজেকে অভিহিত করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আল্লাহ আমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’। আল্লাহ আমাদের রব, ইসলাম আমাদের দ্বীন এবং কুরআন আমাদের ইমাম, মুহাম্মদ আমাদের নবী এবং কাবা আমাদের কিবলা। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বাইরে অন্য কিছুর ওপর থাকবে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - حَدَّثَنَا جَدِّي الشَّيْخُ الرَّئِيسُ الْمُعْتَمِدُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْقَاسِمُ بْنُ الرَّئِيسِ الزَّكِيِّ أَبِي الْقَاسِمِ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَحْمُودٍ الثَّقَفِيُّ، عَفَا اللَّهُ عَنْهُ، وَعَنَّا وَعَنِ الْمُسْلِمِينَ، بِقِرَاءَةِ أَبِي نُعَيْمٍ الْحَافِظِ، رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ فِي صَفَرَ سَنَةَ اثْنَيْنِ وَثَمَانِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، ثنا أَبُو الْفَتْحِ هِلالُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ سَعْدَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَاهَوَيْهِ بْنِ هَبَّارٍ الْمَرْزُبَانُ الْكَسْكَرِيُّ، رحمه الله، سَنَةَ ثَلاثَ عَشْرَةَ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَيَّاشٍ، ثنا أَبُو الأَشْعَثِ أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ الْعِجْلِيُّ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيٍد، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: "‌‌ مَا مَسَسْتُ بِيَدِي دِيبَاجًا وَلا حَرِيرًا وَلا شَيْئًا أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، وَلَقَدْ خَدَمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشْرَ سِنِينَ، فَوَاللَّهِ مَا قَالَ لِي أُفٍّ قَطُّ، وَلا قَالَ لِشَيْءٍ فَعَلْتُهُ: لِمَ فَعَلْتَ كَذَا، وَلا لِشَيْءٍ لَمْ أَفْعَلْهُ: أَلا فَعَلْتَ كَذَا ".

صَحِيحٌ حَكَمَ بِصِحَّتِهِ مُسْلِمٌ رحمه الله، وَأَوْرَدَهُ فِي كِتَابِهِ مُخْتَصَرًا عَنْ أَبِي الرَّبِيعِ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ الْبَصْرِيِّ الزَّهْرَانِيِّ، وَسَعِيدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْخُرَاسَانِيِّ أَبِي عُثْمَانَ الْمَكِّيِّ، جَمِيعًا عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، هَذَا وَقَعَ عَالِيًا بِحَمْدِ الله مِنْ حَدِيثِ الإِمَامِ أَحْمَدَ، وَأَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ أَيْضًا عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدِ بْنِ دِرْهَمٍ الْبَصْرِيِّ رحمه الله، كَأَنَّ جَدِّي حَدَّثَنِي بِهِ عَنْ أَصْحَابِ مُسْلِمٍ
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা, শাইখ, প্রধান, নির্ভরযোগ্য আবু আবদুল্লাহ আল-কাসিম ইবনে শাইখ আজ-জাকি আবুল কাসিম আল-ফাদল ইবনে আহমাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফি—আল্লাহ তাঁকে, আমাদেরকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন—হাফেজ আবু নুআইমের পাঠের মাধ্যমে, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, আর আমি তা শ্রবণ করছিলাম ৪৮২ হিজরি সনের সফর মাসে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফাতহ হিলাল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে সা’দান ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মাহাওয়াইহি ইবনে হাব্বার আল-মারজুবান আল-কাসকারি (রহ.), ৪১৩ হিজরি সনে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়াস। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আশআস আহমাদ ইবনে আল-মিকদাম আল-ইজলি, ২৪৯ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, তিনি সাবেত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "‌‌আমি আমার হাত দিয়ে এমন কোনো চিকন রেশম বা মোটা রেশম অথবা অন্য কিছু স্পর্শ করিনি যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতের তালুর চেয়ে বেশি কোমল ছিল। আর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দশ বছর খিদমত করেছি। আল্লাহর কসম, তিনি কখনো আমাকে 'উহ' পর্যন্ত বলেননি। আর আমি কোনো কাজ করলে তিনি কখনো বলেননি: 'কেন তুমি এমন করলে?', এবং কোনো কাজ আমি না করলে তিনি বলেননি: 'কেন তুমি তা করলে না?'।"

এটি সহিহ হাদিস, ইমাম মুসলিম (রহ.) এটিকে সহিহ বলে রায় দিয়েছেন। তিনি তাঁর কিতাবে এটি সংক্ষিপ্তভাবে আবু রাবি সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-বাসরি আজ-জাহারানি এবং সাঈদ ইবনে মানসুর আল-খুরাসানি আবু উসমান আল-মাক্কি—উভয় থেকে হাম্মাদ ইবনে যায়েদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর প্রশংসায় এটি ইমাম আহমাদের হাদিসের একটি উচ্চ পর্যায়ের (আলি) সনদ হিসেবে গণ্য হয়েছে। ইমাম বুখারিও এটি সুলাইমান ইবনে দাউদ ইবনে হারব থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে যায়েদ ইবনে দিরহাম আল-বাসরি (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন। যেন আমার দাদা ইমাম মুসলিমের সঙ্গীদের সূত্রে এটি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - وَحَدَّثَنَا جَدِّي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الرَّئِيسُ، رحمه الله، ثنا أَبُو الْفَتْحِ هِلالُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَيَّاشٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ رضي الله عنه، وَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ إِذَا سَافَرَ: ‌‌«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ، وَمِنْ الْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْنِ، وَدَعْوَةِ الْمَظْلُومِ، وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الأَهْلِ وَالْمَالِ».

قِيلَ لِعَاصِمٍ: مَا الْحَوْرُ بَعْدَ الْكَوْنِ؟ قَالَ: كَانَ يُقَالُ: حَارَ بَعْدَ مَا كَانَ.

وَهَذَا أَيْضًا صَحِيحٌ بِحُكْمِ مُسْلِمٍ، مِنْ حَدِيثِ عَاصِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَحْوَلِ الْقَاضِي الْبَصْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ الْمَدَنِيِّ الْبَصْرِيِّ رضي الله عنه، أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ وَحْدَهُ، عَنْ أَبِي خَيْثَمَةَ زُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ عُلَيَّةَ، عَنْ عَاصِمٍ، هَذَا.

وَقَوْلُهُ: وَمِنَ الْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْنِ، بِالنُّونِ مَحْفُوظٍ مِنْ رِوَايَةِ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، هَذَا، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ وَهَكَذَا أَوْرَدَهُ
২৪ - এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা আবু আব্দুল্লাহ আর-রাইস (রহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফাতহ হিলাল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আয়্যাশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনুল মিকদাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, তিনি আসিম ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফরে বের হতেন তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট সফরের কষ্ট-ক্লেশ, ফিরে আসার সময়ের বিষণ্ণতা, কল্যাণের পর অকল্যাণে বিচ্যুতি, মজলুমের বদদোয়া এবং পরিবার ও সম্পদের অশুভ দৃশ্য থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।»

আসিমকে জিজ্ঞেস করা হলো: 'ভালো অবস্থার পর মন্দ অবস্থায় প্রত্যাবর্তন' (আল-হাওর বাদাল কাওন) বলতে কী বোঝায়? তিনি বললেন: বলা হতো যে, কোনো কিছু ভালো অবস্থায় থাকার পর তা থেকে বিচ্যুত হওয়া বা কমে যাওয়া।

ইমাম মুসলিমের মানদণ্ড অনুযায়ী এটিও সহীহ, যা বসরার বিচারপতি আসিম ইবনে সুলাইমান আবু আব্দুর রহমান আল-আহওয়াল থেকে এবং তিনি মদীনা ও বসরার অধিবাসী আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি এককভাবে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা যুহাইর ইবনে হারব থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম—যিনি ইবনে উলাইয়্যাহ নামে পরিচিত—তার থেকে, তিনি এই আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর উক্তি: "আল-হাওর বাদাল কাওন" (ن - নুন অক্ষরসহ) শব্দটি আসিম আল-আহওয়ালের এই বর্ণনা থেকে সংরক্ষিত হয়েছে, যা তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এভাবেই তিনি এটি উপস্থাপন করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌25 - وَحَدَّثَنَا الرَّئِيسُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْحُسَيْنِ الْفَقِيهُ، إِمْلاءً، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ، ثنا مَرْزُوقٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: . . . . . . .
২৫ - এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন প্রধান আবু আব্দুল্লাহ আল-কাসিম ইবনুল ফাদল, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে সুলায়মান ইবনুল হুসাইন আল-ফকিহ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মারযূক, তিনি আবুয যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: . . . . . . .
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - . . . . . . . الصُّوفِيُّ الشَّيْخُ الصَّالِحُ، رحمه الله، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّاجِرُ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنُ يَعْقُوبَ الشَّيْبَانِيُّ، رحمه الله، ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، أنبا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، أنبا الْفَضْلُ بْنُ عِيسَى، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، ثنا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " لَمَّا كَلَّمَ اللَّهُ عز وجل مُوسَى يَوْمَ الطُّورِ كَلَّمَهُ بِغَيْرِ الْكَلامِ الَّذِي كَلَّمَهُ بِهِ يَوْمَ نَادَاهُ.

 

قَالَ لَهُ مُوسَى: يَا رَبِّ هَذَا كَلامُكَ الَّذِي كَلَّمْتَنِي بِهِ يَوْمَ نَادَيْتَنِي؟ قَالَ: «يَا مُوسَى لا، إِنَّمَا‌‌ كَلَّمْتُكَ بِقُوَّةِ عَشَرَةِ آلافِ لِسَانٍ، وَلِيَ قُوَّةُ الأَلْسِنَةِ كُلِّهَا، وَأَنَا أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ».

فَلَمَّا رَجَعَ مُوسَى إِلَى بَنِي
إِسْرَائِيلَ.

قَالُوا: يَا مُوسَى صِفْ لَنَا كَلامَ الرَّحْمَنِ عز وجل.

قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَمَنْ يُطِيقُ؟ قَالَ: فَشَبَّهَهُ لَنَا.

قَالَ: أَلَمْ تَرَوْا إِلَى أَصْوَاتِ الصَّوَاعِقِ حِينَ يُقْبِلُ فِي أَحْلَى حَلاوَةٍ سَمِعْتُمُوهُ ، فَإِنَّهُ قَرِيبٌ مِنْهُ وَلَيْسَ بِهِ.

قَالَ عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ: فَحَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ فِي مَجْلِسِ عُثْمَانَ الْبَتِّيِّ، وَعِنْدَهُ خَتَنُ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيٍّ الزُّهْرِيِّ، فَقَالَ خَتَنُ سُلَيْمَانَ: حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ كَعْبٍ، قَالَ: لَمَّا كَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى عليه السلام يَوْمَ الطُّورِ كَلَّمَهُ بِغَيْرِ الْكَلامِ الَّذِي كَلَّمَهُ بِهِ يَوْمَ نَادَاهُ.

فَقَالَ لَهُ مُوسَى: يَا رَبِّ هَذَا الَّذِي كَلَّمْتَنِي بِهِ يَوْمَ نَادَيْتَنِي.

فَقَالَ: «يَا مُوسَى أَنَا كَلَّمْتُكَ بِمَا تُطِيقُ بِهِ، بَلْ أَخَفِّهَا لَكَ، وَلَوْ كَلَّمْتُكَ بِأَشَدَّ مِنْ هَذَا لَمِتَّ»
২৬ - . . . . . . . সৎ শায়খ আস-সুফি, আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তাজির। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আশ-শাইবানি, আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আসিম। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাদল বিন ঈসা। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন মুনকাদির। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা.), তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যখন মহান আল্লাহ তুর পাহাড়ে মুসার সাথে কথা বললেন, তখন তিনি তাঁর সাথে এমনভাবে কথা বললেন যা সেই কথার মতো ছিল না যেভাবে তিনি তাঁকে ডাকার দিনে কথা বলেছিলেন।

 

মুসা তাঁকে বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এটিই কি আপনার সেই কথা যার মাধ্যমে আপনি আমাকে ডাকার দিনে আমার সাথে কথা বলেছিলেন? তিনি বললেন: «হে মুসা, না; বরং‌‌ আমি তোমার সাথে দশ হাজার জিহ্বার শক্তিতে কথা বলেছি, আর আমার নিকট সমস্ত জিহ্বার শক্তি রয়েছে, এবং আমি এর চেয়েও অধিক শক্তিশালী।

অতঃপর যখন মুসা বনী
ইসরাঈলের নিকট ফিরে গেলেন।

তারা বলল: হে মুসা, আমাদের কাছে পরম দয়াময় মহান আল্লাহর কথার বর্ণনা দিন।

তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! কার সেই সক্ষমতা আছে? তারা বলল: তবে আমাদের কাছে এর কোনো সাদৃশ্য বর্ণনা করুন।

তিনি বললেন: তোমরা কি বজ্রধ্বনির শব্দ শোননি যখন তা সবচেয়ে মিষ্টতা নিয়ে এগিয়ে আসে যা তোমরা শুনেছ? নিশ্চয়ই এটি তার কাছাকাছি কিন্তু হুবহু তা নয়।

আলী বিন আসিম বলেন: অতঃপর উসমান আল-বাত্তির মজলিসে এই হাদীসটি বর্ণনা করা হলো। তখন তাঁর নিকট সুলাইমান বিন আলী আজ-জুহরির জামাতা উপস্থিত ছিলেন। সুলাইমানের জামাতা বললেন: আমার কাছে জুহরি বর্ণনা করেছেন জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যখন আল্লাহ তুর পাহাড়ে মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে কথা বললেন, তখন তিনি তাঁর সাথে এমনভাবে কথা বললেন যা সেই কথার মতো ছিল না যেভাবে তিনি তাঁকে ডাকার দিনে কথা বলেছিলেন।

অতঃপর মুসা তাঁকে বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এটিই কি সেই কথা যা দিয়ে আপনি আমাকে ডাকার দিনে আমার সাথে কথা বলেছিলেন?

তিনি বললেন: «হে মুসা, আমি তোমার সাথে ততটুকুই কথা বলেছি যা সহ্য করার ক্ষমতা তোমার আছে, বরং তা তোমার জন্য ছিল সবচেয়ে হালকা। আমি যদি এর চেয়েও প্রবলভাবে তোমার সাথে কথা বলতাম, তবে তুমি মারা যেতে।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو الْقَاسِمِ الصُّوفِيُّ الْمَدِينِيُّ، وَكَانَ مِنْ خِيَارِ عُبَّادِهَا، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْبُرْدِيُّ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ الأَصَمُّ، ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ الْبَيْرُوتِيُّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، ثنا ابْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي الأَسْلَمِيُّ، يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرٍ، عَنْ بَرِيرَةَ، رضي الله عنها، " أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَ أُمِّ سَلَمَةَ رضي الله عنها فَأَتَاهَا سَائِلٌ، وَلَيْسَ عِنْدَهَا إِلا رَغِيفٌ وَاحِدٌ.

 

فَقَالَتْ:‌‌ يَا بَرِيرَةُ أَعْطِيهِ السَّائِلَ.

فَتَثَاقَلْتُ، ثُمَّ تَكَلَّمَ السَّائِلُ.

فَقَالَتْ: يَا بَرِيرَةُ قُومِي فَأَعْطِيهِ.

فَتَثَاقَلْتُ، ثُمَّ
قَالَتْ لَهَا: قُومِي فَأَعْطِيهِ.

فَلَمَّا رَأَيْتُهَا قَدْ عَزَمَتْ قُمْتُ فَأَعْطَيْتُهُ، وَلَيْسَ عِنْدَنَا طَعَامٌ غَيْرُهُ، فَلَمَّا أَمْسَيْنَا، وَأَفْطَرْنَا دَعَتْ بِمَاءٍ فَشَرِبَتْ، ثُمَّ وَضَعَتْ رَأْسَهَا فَغَفَتْ.

فَإِذَا إِنْسَانٌ يَسْتَأْذِنُ عَلَى الْبَابِ، فَقَالَتْ: يَا بَرِيرَةُ انْظُرِي مَنْ هَذَا؟ قَالَتْ: فَإِذَا إِنْسَانٌ يَحْمِلُ جَفْنَةٌ فِيهَا شَاةٌ مَصْلِيَّةٌ، وَفَوْقَهَا خُبْزٌ قَدْ مَلأَ الْجَفْنَةَ.

قَالَتْ بَرِيرَةُ: فَمِنَ السُّرُورِ مَا دَرَيْتُ كَيْفَ رَفَعْتُ؟ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: كَيْفَ رَأَيْتِ هَذَا خَيْرٌ أَمْ رَغِيفُكِ؟ قَالَتْ: قُلْتُ: بَلْ هَذَا.

فَقَالَتِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ.

هَذَا مَعَ مَا ادَّخَرَ اللَّهُ لَنَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ.

قَالَتْ: وَلَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِي عَلَيْهِمُ الْهِلالُ، ثُمَّ الْهِلالُ، ثُمَّ الْهِلالُ، مَا يُوقِدُونَ فِيهِ نَارَ السِّرَاجِ وَلا غَيْرِهِ "
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফাদল ইবনে মুহাম্মদ আবুল কাসিম আস-সুফি আল-মাদিনি, তিনি সেখানকার সর্বোত্তম ইবাদতগুজারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-বুরদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আল-আসাম্ম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনে ওয়ালিদ ইবনে মাজইয়াদ আল-বাইরুতি, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে জাবির, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আসলামি, অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে আমির, তিনি বারীরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট ছিলেন, এমতাবস্থায় একজন ভিক্ষুক তাঁর নিকট এলো। তখন তাঁর নিকট একটি রুটি ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

 

তিনি বললেন:‌‌ হে বারীরাহ, এটি ভিক্ষুককে দিয়ে দাও।

আমি অলসতা করলাম, অতঃপর ভিক্ষুকটি আবারও কথা বলল।

তিনি বললেন: হে বারীরাহ, ওঠো এবং তাকে দিয়ে দাও।

আমি আবারও অলসতা করলাম, তারপর
তিনি তাকে বললেন: ওঠো এবং তাকে দিয়ে দাও।

যখন আমি দেখলাম তিনি দৃঢ় সংকল্প করেছেন, তখন আমি উঠে তাকে তা দিয়ে দিলাম। অথচ তখন আমাদের নিকট সেটি ছাড়া আর কোনো খাবার ছিল না। যখন সন্ধ্যা হলো এবং আমরা ইফতার করলাম, তিনি পানি চাইলেন এবং পান করলেন। এরপর তিনি মাথা রাখলেন ও তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন।

হঠাৎ দরজায় একজন ব্যক্তি অনুমতি চাইল। তিনি বললেন: হে বারীরাহ, দেখো তো কে? তিনি বললেন: দেখলাম এক ব্যক্তি একটি বড় পাত্র বহন করে আনছে, যাতে একটি ভাজা বকরি এবং তার ওপর রুটি রয়েছে, যা পাত্রটি পূর্ণ করে রেখেছে।

বারীরাহ বললেন: আনন্দের আতিশয্যে আমি বুঝতে পারছিলাম না আমি তা কীভাবে তুললাম? উম্মে সালামা বললেন: কেমন দেখলে? এটি উত্তম নাকি তোমার সেই রুটিটি? বারীরাহ বললেন: আমি বললাম: বরং এটিই।

তিনি বললেন: আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর)।

ইনশাআল্লাহ, এটি সেই নেকির সাথে অতিরিক্ত যা আল্লাহ আমাদের জন্য সঞ্চিত রেখেছেন।

তিনি বলেন: আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের ওপর দিয়ে এক চাঁদ, তারপর আরেক চাঁদ, তারপর আরেক চাঁদ অতিক্রান্ত হতো; অথচ তাঁরা বাতি বা অন্য কিছুর জন্য আগুন জ্বালাতেন না।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবিল ফারাজ আস-সাকাফী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 - حَدَّثَنَا الْإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، قَدِمَ عَلَيْنَا، ثنا أَبُو الْحُسَيْنِ الْحَمَامِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرٍ الآجُرِّيُّ، ثنا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ يُوسُفَ الشِّكْلِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ السُّلَمِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، مُؤَذِّنُ مَسْجِدِ بَنِي حِزَامٍ، جَاوَرَنِي شَابٌّ.

قُلْتُ: إِذَا أَذَّنْتُ لِلصَّلاةِ، وَأَقَمْتُ كَأَنَّهُ فِي نَقْرَةِ قَفَايَ، فَإِذَا صَلَّيْتُ صَلَّى، ثُمَّ صَلَّيْتُ، لَبِسَ نَعْلَيْهِ، ثُمَّ دَخَلَ مَنْزِلَهُ فَكُنْتُ أَتَمَنَّى أَنْ يُكَلِّمَنِي، أَوْ يَسْأَلَنِي حَاجَةً.

فَقَالَ لِي ذَاتَ يَوْمٍ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ عِنْدَكَ مُصْحَفٌ تُعِيرُنِي أَقْرَأُ فِيهِ.

فَأَخْرَجْتُ إِلَيْهِ مُصْحَفًا، فَدَفَعْتُهُ إِلَيْهِ، فَضَمَّهُ إِلَى صَدْرِهِ، ثُمَّ قَالَ: لَيَكُونَنَّ لِيَ الْيَوْمَ وَلَكَ شَأْنٌ.

وَفَقَدْتُهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ فَلَمْ أَرَهُ يَخْرُجُ، فَأَقَمْتُ لِلْمَغْرِبِ فَلَمْ يَخْرُجْ، وَأَقَمْتُ لِلْعِشَاءِ الآخِرَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ، فَسَاءَ ظَنِّي، فَلَمَّا صَلَّيْتُ الْعِشَاءَ الآخِرَةَ حَيْثُ الدَّارُ الَّتِي هُوَ فِيهَا، فَإِذَا فِيهَا دَلْوٌ وَمَطْهَرَةٌ، وَإِذَا عَلَى بَابِهِ سِتْرٌ فَدَفَعْتُ الْبَابَ فَإِذَا بِهِ مَيِّتًا وَالْمُصْحَفُ عَلَى حِجْرِهِ، فَأَخَذْتُ الْمُصْحَفَ مِنْ حِجْرِهِ، وَاسْتَعَنْتُ بِقَوْمٍ عَلَى حَمْلِهِ حَتَّى وَضَعْنَاهُ عَلَى سَرِيرِهِ، وَبَقِيتُ لَيْلَتِي أُفَكِّرُ مَنْ أُكَلِّمُ حَتَّى يُكَفِّنَهُ، فَأَذَّنْتُ لِلْفَجْرِ بِوَقْتٍ، وَدَخَلْتُ الْمَسْجِدَ لأَرْكَعَ فَإِذْ أُبْصِرُ فِي الْقِبْلَةِ فَدَنَوْتُ مِنْهُ فَإِذَا كَفَنٌ مَلْفُوفٌ فِي الْقِبْلَةِ، فَأَخَذْتُهُ وَحَمِدْتُ اللَّهَ عز وجل، وَأَدْخَلْتُهُ الْبَيْتَ وَخَرَجْتُ، فَأَقَمْتُ الصَّلاةَ فَلَمَّا سَلَّمْتَ فَإِذَا عَنْ يَمِينِي ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، وَمَالِكُ بْنُ دِينَارٍ، وَحَبِيبٌ الْفَارِسِيُّ، وَصَالِحٌ الْمُرِّيُّ، فَقُلْتُ: يَا إِخْوَانِي مَا غَدَا بِكُمْ؟ قَالُوا مَاتَ فِي جِوَارِكَ اللَّيْلَةَ أَحَدٌ؟ قُلْتُ: مَاتَ شَابٌّ كَانَ يُصَلِّي مَعَنَا الصَّلَوَاتِ.

فَقَالُوا لِي: أَرِنَاهُ.

فَلَمَّا دَخَلُوا عَلَيْهِ كَشَفَ مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ، ثُمَّ قَبَّلَ مَوْضِعَ سُجُودِهِ، ثُمَّ قَالَ: أَنْتَ يَا لَيْتَنِي أَنْتَ يَا أَبَا الْحَجَّاجِ إِذَا عُرِفْتَ فِي مَوْضِعٍ تَحَوَّلْتَ مِنْهُ إِلَى مَوْضِعٍ غَيْرِهِ حَتَّى لا تُعْرَفَ، خُذُوا فِي غُسْلِهِ، فَإِذَا مَعَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ كَفَنٌ فَقَالَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ أَنَا أُكَفِّنُهُ فَلَمَّا طَالَ ذَلِكَ مِنْهُمْ، قُلْتُ لَهُمْ: إِنِّي فَكَّرْتُ فِي أَمْرِهِ هَذِهِ اللَّيْلَةَ، فَقُلْتُ مَنْ أُكَلِّمُ حَتَّى يُكَفِّنَهُ، فَأَتَيْتُ الْمَسْجِدَ فَأَذَّنْتُ، ثُمَّ دَخَلْتُ لأَرْكَعَ فَإِذَا كَفَنٌ مَلْفُوفٌ لا أَدْرِي مَنْ وَضَعَ.

فَقَالُوا: يُكَفَّنُ فِي هَذَا الْكَفَنِ.

فَكَفَّنَّاهُ، وَأَخْرَجْنَاهُ، فَمَا كِدْنَا نَرْفَعُ جَنَازَتَهُ مِنْ كَثْرَةِ مَنْ حَضَرَ مِنَ الْجَمْعِ
২৮ - ইমাম আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের নিকট আগমন করেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন আল-হামামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আল-আজুররি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ফাদল আল-আব্বাস বিন ইউসুফ আল-শিকলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সুলামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন সালিহ আত-তামিমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনু হিজাম মসজিদের মুয়াজ্জিন আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন, এক যুবক আমার প্রতিবেশী ছিল।

আমি বললাম: আমি যখন সালাতের আজান দিতাম এবং একামত দিতাম, সে যেন আমার ঘাড়ের একেবারে কাছে থাকত। অতঃপর আমি যখন সালাত আদায় করতাম সেও আদায় করত। তারপর যখন আমি সালাত শেষ করতাম, সে তার জুতো পরিধান করে নিজ ঘরে প্রবেশ করত। আমি আকাঙ্ক্ষা করতাম যে সে আমার সাথে কথা বলবে অথবা আমার কাছে কোনো প্রয়োজনে সাহায্য চাইবে।

একদিন সে আমাকে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনার কাছে কি কোনো মুসহাফ আছে যা আমাকে ধার দেবেন যেন আমি তাতে তিলাওয়াত করতে পারি?

অতঃপর আমি তার জন্য একটি মুসহাফ বের করে তাকে দিলাম। সে তা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল, তারপর বলল: আজ আমার এবং আপনার একটি বিশেষ ব্যাপার ঘটবে।

সেদিন আমি তাকে আর দেখতে পেলাম না, সে বের হলো না। আমি মাগরিবের একামত দিলাম কিন্তু সে বের হলো না। আমি এশার একামত দিলাম তবুও সে বের হলো না। এতে আমার মনে আশঙ্কার সৃষ্টি হলো। যখন আমি এশার সালাত শেষ করলাম যেখানে তার ঘর ছিল সেখানে গিয়ে দেখলাম একটি বালতি ও ওজু করার পাত্র রয়েছে এবং তার দরজায় একটি পর্দা ঝোলানো। আমি দরজাটি ধাক্কা দিলাম এবং তাকে মৃত অবস্থায় পেলাম, আর মুসহাফটি ছিল তার কোলের ওপর। আমি তার কোল থেকে মুসহাফটি সরিয়ে নিলাম এবং কিছু লোকের সাহায্য নিয়ে তাকে তার খাটিয়ায় রাখলাম। সারা রাত আমি দুশ্চিন্তায় কাটালাম যে তাকে কাফন পরানোর জন্য কাকে বলব। ফজর ওয়াক্ত হওয়ার আগেই আমি আজান দিলাম এবং নফল সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করলাম। হঠাৎ আমি কেবলার দিকে তাকালাম এবং কাছে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম কেবলার দিকে একটি কাফন জড়ানো অবস্থায় রাখা আছে। আমি সেটি গ্রহণ করলাম এবং মহান আল্লাহর প্রশংসা করলাম। আমি সেটি ঘরে নিয়ে গেলাম এবং বাইরে এলাম। অতঃপর আমি একামত দিয়ে সালাত আদায় করলাম। যখন আমি সালাম ফিরালাম, তখন আমার ডানে সাবিত আল-বুনানি, মালিক বিন দিনার, হাবিব আল-ফারিসি এবং সালিহ আল-মুররিকে দেখলাম। আমি বললাম: হে আমার ভাইয়েরা, আজ ভোরে আপনারা কী মনে করে এখানে এসেছেন? তারা বললেন: আজ রাতে কি আপনার প্রতিবেশী কেউ মারা গেছে? আমি বললাম: এক যুবক মারা গেছে যে আমাদের সাথে নিয়মিত সালাত আদায় করত।

তারা আমাকে বললেন: আমাদের তাকে দেখান।

তারা যখন তার কাছে প্রবেশ করলেন, মালিক বিন দিনার তার মুখ থেকে কাপড়টি সরালেন, এরপর তার সিজদার জায়গায় চুম্বন করলেন এবং বললেন: তুমি! হায়, আমি যদি তোমার মতো হতে পারতাম! হে আবু আল-হাজ্জাজ, যখন তুমি এক জায়গায় পরিচিত হয়ে যেতে তখন তুমি সেখান থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে যেন তোমাকে চেনা না যায়। তোমরা তার গোসলের কাজ শুরু করো। তাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে কাফন ছিল এবং প্রত্যেকেই বলছিলেন যে আমি তাকে কাফন পরাব। যখন তাদের মধ্যে এই নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলতে লাগল, আমি তাদের বললাম: আমি আজ রাতে তার বিষয়ে অনেক ভেবেছি এবং দুশ্চিন্তা করেছি যে কাকে বলব তাকে কাফন পরাতে। অতঃপর আমি মসজিদে এসে আজান দিলাম এবং যখন নফল সালাত পড়তে প্রবেশ করলাম, তখন দেখলাম একটি কাফন জড়ানো আছে, আমি জানি না এটি কে রেখেছে।

তারা বললেন: তাকে এই কাফনেই কাফন দেওয়া হবে।

অতঃপর আমরা তাকে কাফন পরালাম এবং বাইরে নিয়ে এলাম। সমবেত মানুষের আধিক্যের কারণে আমরা তার জানাজা প্রায় বহন করতেই পারছিলাম না।