(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
أبو هريرة راوية الإسلام القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: أبو هريرة راوية الإسلام
المؤلف: د محمد عجاج خطيب
الناشر: مكتبة وهبة
الطبعة: الثالثة، 1402 هـ - 1982
عدد الصفحات: 271
أعده للشاملة: توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 ربيع الأول 1432
আবু হুরায়রা: ইসলামের বর্ণনাকারী বিভাগ: জীবনী ও মর্যাদা স্তর
গ্রন্থ: আবু হুরায়রা: ইসলামের বর্ণনাকারী
লেখক: ড. মুহাম্মদ আজ্জাজ খাতিব
প্রকাশক: মাকতাবাতু ওয়াহবাহ্
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪০২ হিজরী - ১৯৮২
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী، আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١)
ـ
[أبو هريرة راوية الإسلام]ـ
المؤلف: الدكتور محمد عجاج خطيب
الناشر: مكتبة وهبة
الطبعة: الثالثة، 1402 هـ - 1982
عدد الأجزاء: 1
أعده للشاملة ودقَّقه/ توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ـ
[আবু হুরায়রা: ইসলামের বর্ণনাকারী]ـ
গ্রন্থকার: ডক্টর মুহাম্মদ আজ্জাজ খাতিব
প্রকাশনী: মাকতাবাতু ওয়াহবাহ
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ডের সংখ্যা: ১
শামেলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত ও নিরীক্ষণ করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٣)
الطبعة الثالثة:
شعبان 1403 هـ - يونية سنة 1982 م
তৃতীয় সংস্করণ:
শাবান ১৪০৩ হিজরি - জুন ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثالثة: الحمد لله حمداً كثيراً يوافي نعمه، ويكافئ مزيده، حمداً كما ينبغي لجلال وجهه وعظيم سلطانه، الذي بنعمته تتم الصالحات، وتعمُّ الخيرات، سبحانك ربي لا أحصي ثناء عليك أنت كما أثنيت على نفسك، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، وأنَّ محمداً عبده ورسوله، خير من اصطفى من خلقه، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن اتبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد .. فهذه هي الطبعة الثالثة لكتاب «أبو هريرة .. راوية الإسلام» أقدِّمُها إلى أعزَّائي قراء العربية من العلماء والباحثين والطلاب والعاملين في رحاب العلم عامة، وميدان السُنَّة خاصة. وكنت قد أقدمت على الكتابة في الصحابي الجليل أبي هريرة رضي الله عنه إثر الحملة المغرضة التي أثارها حوله وحول مروياته بعض أهل الأهواء، وبعض المغرضين من أعداء الإسلام، الذين قلبوا الحق باطلاً والصدق كذباً، ولم أخض لجج هذا الخصم إلَاّ إنصافاً لهذا الصحابي، ودفاعاً عن السُنَّة، وانتصاراً للحق، وما أنْ ظهرت تلك الطبعة في القاهرة - حماها الله وسائر بلاد الإسلام - سنة 1383 هـ - 1963 م حتى تداول القُرَّاء الكتاب، وعمَّ انتشاره بين أهل العلم وطلابه، في مصر وخارجها من بلاد العرب والمسلمين، ونفدت تلك الطبعة بعد فترة قصيرة، ثم أعاد بعض الأفاضل طبعه ثانية في لبنان سدّاً لحاجة القراء، ولم أتمكَّن آنذاك من زيادة ما عندي على الطبعة الأولى، لكثرة واجباتي، ونفدت الطبعة الثانية، وكثر طلب الكتاب، فكان لزاماً على أنْ أسدَّ حاجة القراء بإعادة طبعه، بعد أنْ أضفت عليه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন অগণিত প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য এবং তাঁর অনুগ্রহের বৃদ্ধির উপযোগী; এমন প্রশংসা যা তাঁর সত্তার মহিমা এবং তাঁর মহান কর্তৃত্বের জন্য শোভনীয়। যাঁর অনুগ্রহে নেক কাজসমূহ সম্পন্ন হয় এবং কল্যাণসমূহ ছড়িয়ে পড়ে। পবিত্রতা আপনারই হে আমার রব! আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না, আপনি ঠিক তেমনি যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে সর্বোত্তম হিসেবে মনোনীত করেছেন। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
অতপর... এটি হলো ‘আবু হুরায়রা: ইসলামি বর্ণনার ধারক’ গ্রন্থটির তৃতীয় সংস্করণ। আমি এটি আরবি ভাষার প্রিয় পাঠক—ওলামায়ে কেরাম, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জ্ঞানপিপাসু ও বিশেষ করে সুন্নাহ শাস্ত্রের কর্মীদের উদ্দেশ্যে পেশ করছি। আমি মহান সাহাবী আবু হুরায়রা (রা.) সম্পর্কে লেখার উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার প্রেক্ষাপটে, যা তাঁর এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো সম্পর্কে কিছু প্রবৃত্তিপূজারী এবং ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে ছড়ানো হয়েছিল। তারা সত্যকে মিথ্যায় এবং সততাকে প্রতারণায় রূপান্তর করেছিল। আমি এই বিতর্কের সমুদ্রে অবতীর্ণ হয়েছি কেবল এই সাহাবীর প্রতি ইনসাফ প্রদর্শনের জন্য, সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় এবং সত্যের বিজয়ের লক্ষ্যে। ১৩৮৩ হিজরি মোতাবেক ১৯৬৩ সালে কায়রোতে—আল্লাহ একে এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশসমূহকে রক্ষা করুন—যখন এই সংস্করণটি প্রকাশিত হয়, তখন পাঠকরা বইটি সংগ্রহ করেন এবং মিশর ও এর বাইরে আরব ও মুসলিম বিশ্বের আলেম সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সংস্করণটি শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পাঠকদের চাহিদা মেটাতে লেবাননের কিছু মহৎ ব্যক্তি এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেন। তখন আমার অনেক ব্যস্ততার কারণে প্রথম সংস্করণের ওপর নতুন কিছু সংযোজন করা সম্ভব হয়নি। এরপর দ্বিতীয় সংস্করণটিও শেষ হয়ে যায় এবং বইটির চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায়। ফলে পাঠকদের প্রয়োজন মেটাতে নতুন কিছু সংযোজনসহ এটি পুনরায় মুদ্রণ করা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٤)
في بعض أبحاثه ما رأيته هاماً ومتمماً للفائدة. سائلاً الله عز وجل أنْ يجعل عملي هذا خالصاً لوجهه، وأنْ يُحقِّقَ الغاية المرجوة من هذا الكتاب، وينفع به، إنه خير مسؤول، وبالإجابة جدير، وهو ولي التوفيق والسداد.
مدينة العين
13 ربيع الأول سنة 1402 هـ - 9 يناير 1982 م
محمد عجاج الخطيب الحسني الدمشقي
***
তাঁর কিছু গবেষণায় যা আমি গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারের পূর্ণতাদানকারী হিসেবে দেখেছি। মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমার এই আমলকে কেবল তাঁর চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং এই কিতাবের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করেন ও এর দ্বারা উপকার দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম যাচিত সত্তা এবং প্রার্থনা কবুলের যোগ্য, আর তিনিই তাওফিক ও সঠিক পথের দিশারি।
আল-আইন শহর
১৩ রবিউল আউয়াল ১৪০২ হিজরি - ৯ জানুয়ারি ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
মুহাম্মদ আজজাজ আল-খতিব আল-হাসানি আদ-দিমাশকি
***
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الأولى: الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم النبيين وعلى آله وأصحابه، الذين اتبعوه، فوفقوا أعظم التوفيق في حفظ الرسالة، وأداء الأمانة، ونشر الدعوة، التي خلصت العرب من قيود الوثنية، ومدَّتهم بقوة الإيمان، وحمَّلتهم مسؤولية هداية العالم، فما أنْ فتح العرب الأوائل عيونهم على نور الإسلام، وفهموا القرآن، وأبصروا طريق الحق بعد الضلال، وسعدوا بالمعرفة بعد الجهل - حتى انطلقوا يحملون لواء الحرية، ومشعل النور والعرفان، يضيئون للإنسانية سبيلا، ويوجِّهُون نحو المجد والعزة ركبها، وينقلون العالم إلى السعادة والخير، فكانوا بحق خير أمَّة أخرجت للناس، يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر، ويؤمنون بالله.
وبعد .. فإنه لم يرق لأعداء الإسلام أنْ يروا هذا الدين، قد صلب عوده، واستوى ساقه، وأثمرت أزهاره، وأينعت ثماره، مما حال بينهم وبين استغلال المسلمين، واستنزاف خيرات بلادهم، وقضى على مصالحهم الاستغلالية، ولم تعد تجدهم وسائل القوة لتحقيق مآربهم والوصول إلى غايتهم، فرأوا أنْ تدسُّوا السم في عقائد المسلمين، ليسلخوهم عنه، فعملوا على تغيير وجه الإسلام وتشويهه بمختلف طرق الدعاية الجذابة، وافتنُّوا في وسائل التبشير المغرية، فشكَّكوا بعض ضعاف القلوب - ممن يحسبون على الإسلام - في تعاليمه وأحكامه، وكان من الصعب عليهم أنْ يعبثوا بالقرآن الكريم الأصل التشريعي الأول، عليهم فحاولوا أنْ يطرقوا باب السُنَّة، فاتهموا كبار نقلتها، وأئمة حُفاظها، لإضعاف جانب عظيم من الحديث النبوي، قاصدين من وراء هذا تشكيك المسلمين
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর, যিনি নবীদের সিলমোহর (সর্বশেষ নবী), এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সেই সমস্ত সাহাবীদের উপর, যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন। ফলে তাঁরা রিসালাত সংরক্ষণ, আমানত আদায় এবং দাওয়াত প্রসারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতম সফলতা লাভ করেছেন। যে দাওয়াত আরবদের মূর্তিপূজার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছে, তাদের ঈমানের শক্তি দিয়ে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্ববাসীকে হেদায়েত করার দায়িত্ব তাদের কাঁধে অর্পণ করেছে। অতঃপর যখনই প্রাথমিক যুগের আরবরা ইসলামের আলোর দিকে চোখ মেলে তাকালো, কুরআন বুঝলো এবং গোমরাহীর পর সত্যের পথ প্রত্যক্ষ করলো এবং মূর্খতার পর জ্ঞানের মাধ্যমে সৌভাগ্যবান হলো—তখনি তারা স্বাধীনতার ঝাণ্ডা এবং আলো ও প্রজ্ঞার মশাল নিয়ে বেরিয়ে পড়লো; তারা মানবতার জন্য পথকে আলোকিত করছিল, মর্যাদাবান ও শক্তিশালী কাফেলার গতিপথকে গৌরবের দিকে পরিচালিত করছিল এবং পৃথিবীকে সুখ ও কল্যাণের দিকে স্থানান্তরিত করছিল। সুতরাং তারা ছিল প্রকৃত অর্থেই মানুষের জন্য আবির্ভূত শ্রেষ্ঠ জাতি, তারা সৎকাজের আদেশ দিত, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করত এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখত।
অতঃপর... ইসলামের শত্রুরা এই দ্বীনকে সুসংহত হতে, এর ভিত্তি মজবুত হতে, এর পুষ্প বিকশিত হতে এবং ফল পরিপক্ক হতে দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। যা তাদের মুসলিমদের শোষণ করা, তাদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করা এবং তাদের শোষণের স্বার্থ হাসিল করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল ও লক্ষ্য অর্জনে শক্তির কোনো উপায় আর অবশিষ্ট পাচ্ছিল না। ফলে তারা মুসলিমদের আকিদায় বিষ প্রবেশ করানোর সিদ্ধান্ত নিল যাতে তাদের এই দ্বীন থেকে বিচ্যুত করা যায়। তারা ইসলামের রূপ পরিবর্তন ও তা বিকৃত করার জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রচারণার মাধ্যমে কাজ করল এবং প্রলুব্ধকর ধর্ম প্রচারের নানা পদ্ধতিতে উদ্ভাবন আনল। ফলে তারা দুর্বল হৃদয়ের কিছু লোককে—যারা নিজেদের মুসলিম বলে গণ্য করে—এর শিক্ষা ও আহকাম সম্পর্কে সন্দিহান করে তুলল। তাদের পক্ষে প্রথম আইনি উৎস পবিত্র কুরআনের বিকৃতি ঘটানো ছিল অসম্ভব কাজ, তাই তারা সুন্নাহর দরজায় করাঘাত করার চেষ্টা করল। তারা হাদীসের এক বিশাল অংশকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে হাদীসের বড় বড় বর্ণনাকারী এবং হাফেজ ইমামদের অভিযুক্ত করতে শুরু করল, যাতে এর মাধ্যমে তারা মুসলিমদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٦)
في السُنَّة الطاهرة، ليطرحوها - وهي المفسِّرة المُبيِّنة للقرآن الكريم - فتبعد الشقة بين المسلمين وفهم قرآنهم، ويبدو القرآن غريباً عنهم مع مر الزمن، وبهذا يتم لأعداء الإسلام ما يريدون.
وقد شاعت هذه الأفكار في أبحاث بعض المستشرقين، وحملها عنهم بعض من ينسب إلى أهل العلم، وروجها أشياعهم من أهل الأهواء.
ولكنا نعلم وجميع المنصفين يعلمون أنَّ السُنَّة انتقلت إلينا جيلاً بعد جيل، على أسلم طرق التثبت العلمي، فقد بذل العلماء قصارى جهودهم في سبيل الحفاظ على السُنَّة، فرحلوا في طلب الحديث، وتحمَّلوا مشاق السفر، وتركوا الأهل والأوطان، وحفظوا الأحاديث بأسانيدها، وذكروا طرق كل حديث، وبيَّنوا نقلته عن الرسول صلى الله عليه وسلم، ومازوا الضعيف من الصحيح، ونقدوا الرُواة، نقداً علمياً دقيقاً، ولم يقبلوا الحديث إلَاّ عن الثقات.
وقد أجمعت الأمَّة على عدالة الصحابة، الذين سمعوا من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتخرَّجُوا في حلقاته، وبذلوا النفس والنفيس في سبيل الدعوة إلى الله، وإرساء قواعد الإسلام وحفظ الشريعة الحنيفة.
وكان الصحابي الجليل أبو هريرة أحد كبار الصحابة الذين رَوَوْا عن الرسول الأمين - عَلَيْهِ أَفْضَلُ الصَلَاةِ وَأَتَمِّ التَسْلِيمِ - الكثير الطيب، وروى عنه كثير من التابعين، فكان أكثر صحابي روي عنه الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لذلك وجه إليه أعداء الإسلام، وبعض أهل الأهواء سهام طعونهم فأعلنوها عليه حرباً شعواء لا هوادة فيها، وتحاملوا عليه، واتهموه في بعض ما روى عنه، واستهزأوا ببعض مروياته، حتى أنَّ بعضهم جعله في مصاف الوضَّاعين والكذَّابين، وفي زُمرة أهل الجحيم.
وقد هالني أنْ أجد راوية الإسلام تلوكه الألسن المغرضة، وتتناوله أقلام الباطل، فرأيت من واجبي كمسلم أولاً، وكمشتغل في السُنَّة وعلومها
পবিত্র সুন্নাহর ক্ষেত্রে, যাতে তারা তা বর্জন করে—অথচ তা হচ্ছে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যাকারী ও বিশদ বর্ণনা দানকারী—ফলে মুসলিমদের মাঝে এবং তাদের কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে দূরত্ব বেড়ে যায় এবং সময়ের আবর্তনে কুরআন তাদের কাছে অপরিচিত মনে হতে থাকে। এভাবেই ইসলামের শত্রুরা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হাসিল করে।
আর এই চিন্তা-ভাবনাগুলো কিছু প্রাচ্যবিদের গবেষণায় ছড়িয়ে পড়েছিল এবং আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পরিচয়দানকারী একদল লোক তাদের থেকে তা গ্রহণ করেছিল এবং প্রবৃত্তির অনুসারী তাদের অনুগামীরা তা প্রচার করেছিল।
কিন্তু আমরা জানি এবং সকল ইনসাফপরায়ণ ব্যক্তিরাই জানেন যে, সুন্নাহ আমাদের নিকট পৌঁছেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে, অত্যন্ত নিরাপদ বৈজ্ঞানিক যাচাইকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে। কেননা আলেমগণ সুন্নাহ সংরক্ষণের পথে তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন; তাঁরা হাদীস অন্বেষণে দেশভ্রমণ করেছেন, সফরের কষ্ট সহ্য করেছেন, পরিবার ও স্বদেশ ত্যাগ করেছেন, সনদসহ হাদীসসমূহ মুখস্থ করেছেন, প্রতিটি হাদীসের সূত্রসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে তা বর্ণনাকারীদের পরিচয় তুলে ধরেছেন। তাঁরা যয়ীফ (দুর্বল) থেকে সহীহ (বিশুদ্ধ) হাদীস পৃথক করেছেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পন্থায় রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) সমালোচনা করেছেন। তাঁরা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য কারও থেকে হাদীস গ্রহণ করেননি।
উম্মত সাহাবায়ে কেরামের সততা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে, যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে হাদীস শুনেছেন, তাঁর মজলিসসমূহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং আল্লাহর দিকে দাওয়াতের পথে, ইসলামের মূলভিত্তি প্রতিষ্ঠায় ও সত্যনিষ্ঠ শরীয়ত সংরক্ষণের নিমিত্তে নিজেদের প্রাণ ও মহামূল্যবান সম্পদ উৎসর্গ করেছেন।
মহান সাহাবী আবু হুরায়রা ছিলেন সেই সকল প্রবীণ সাহাবীদের একজন, যাঁরা বিশ্বস্ত রাসূল—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরূদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক—থেকে অনেক অনেক উত্তম হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বহু সংখ্যক তাবিঈ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন সেই সাহাবী, যাঁর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এই কারণেই ইসলামের শত্রুরা এবং প্রবৃত্তির অনুসারী একদল লোক তাঁর দিকে তাদের সমালোচনার তীর নিক্ষেপ করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আপোষহীন ও প্রচণ্ড যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছে এবং তাঁর বর্ণিত কিছু হাদীসের বিষয়ে তাঁকে অভিযুক্ত করেছে, এমনকি তাঁর বর্ণিত কিছু বিষয় নিয়ে উপহাসও করেছে; এমনকি তাদের কেউ কেউ তাঁকে হাদীস জালকারী ও মিথ্যাবাদীদের কাতারে এবং জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ইসলামের এই মহান বর্ণনাকারীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জিহ্বাগুলোর চর্বণ হতে দেখে এবং বাতিলের কলম দ্বারা তাঁকে আক্রমণ করতে দেখে আমি স্তম্ভিত হয়েছি। তাই একজন মুসলিম হিসেবে প্রথমত এবং সুন্নাহ ও এর শাস্ত্রসমূহের একজন গবেষক হিসেবে আমি নিজের কর্তব্য বলে মনে করেছি—
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٧)
ثانيا، أنْ أكشف عن الحقيقة مهما تكن نتائجها، غير منحاز ولا متحامل، قاصداً في هذا وجه الله العلي القدير، لأنصف راوية الإسلام أبا هريرة، وأضع الحق في نصابه، فأقدمت على هذا البحث، تحف به الصعاب من كل جانب، وتناولت أمهات المراجع: المخطوط منها والمطبوع، فإذا بصورة أبي هريرة تبدو واضحة صافية، لا شِيَةَ فيها، تشرق بماض مجيد، وبروح سامية وبنفس طيبة لتكوِّن شخصيته العلمية القوية، فيتجلَّى بطلان تلك الطعون التي وجهت إليه من خلال نظرات خاصة، أو أهواء متبعة، أو غايات هدامة، وتتضح مخالفتها للواقع التاريخي، وللحقيقة العلمية، لهذا رأيت أنْ أستكمل دراسة أبي هريرة بتفنيد تلك الشُبهات التي أثيرت حوله على ضوء دراستي إياه، ولما كان الطعن في أبي هريرة ذريعة للطعن في غيره من الصحابة الكرام - رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ - لتوهين السُنَّة ورفض العمل بها رأيت من الواجب أنْ أمَهِّدَ للبحث بما يقتضيه فكان الموضوع في تمهيد وبابين:
التمهيد:
تناولت فيه العرب ورسالة الإسلام، ثم تكلمت عن السُنَّة والمقصود بها لغة وشرعاً، ثم بيَّنتُ مكانة السُنَّة من القرآن الكريم، وتماسك الأمَّة بها والمحافظة عليها، والعمل بها، ثم بيَّنت منزلة الصحابة وعدالتهم.
وبعد ذلك تكلمت عن حفظ السُنَّة وصيانتها وانتشارها، وأهم ما صُنِّفَ فيها. لأنَّ في هذا ما يرحض عن السُنَّة الطاهرة أدران أعدائها.
الباب الأول: وفيه فصلان:
الفصل الأول: تناولت فيه حياة أبي هريرة في مختلف مظاهرها، الخاصة والعامة.
الفصل الثاني: حياة أبي هريرة العلمية، بيَّنْتُ فيه نشاط أبي هريرة العلمي، وطرق تحمُّلِهِ الحديث ونشره السُنَّة، ومنزلته العلمية، ورأي العلماء فيه.
দ্বিতীয়ত, ফলাফল যা-ই হোক না কেন সত্য উন্মোচন করা, কোনো প্রকার পক্ষপাত বা বিদ্বেষ ব্যতিরেকে, মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায়; যাতে ইসলামের মহান বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি ন্যায়বিচার করা যায় এবং সত্যকে তার যথাযথ স্থানে আসীন করা যায়। আমি এই গবেষণায় অগ্রসর হয়েছি চারপাশ থেকে ঘিরে থাকা বহু প্রতিকূলতা সত্ত্বেও; আমি মূল আকর গ্রন্থসমূহ—যা পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত উভয় আকারেই বিদ্যমান—অধ্যয়ন করেছি। এতে আবু হুরায়রাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ভাবমূর্তি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নির্মল রূপে প্রতিভাত হয়েছে, যাতে কোনো খুঁত নেই। এটি এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত, এক সুউচ্চ রূহ এবং এক পবিত্র সত্তার আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত, যা তাঁর সুদৃঢ় ইলমি ব্যক্তিত্ব গঠন করে। এর মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি, প্রবৃত্তির অনুসরণ বা ধ্বংসাত্মক লক্ষ্য নিয়ে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর অসারতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক সত্যের সাথে সেগুলোর বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়েছে। এ কারণেই আমি তাঁর সম্পর্কে আমার এই গবেষণার আলোকে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সংশয়সমূহ খণ্ডন করার মাধ্যমে আবু হুরায়রাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সংক্রান্ত এই আলোচনা পূর্ণাঙ্গ করা সমীচীন মনে করেছি। যেহেতু আবু হুরায়রাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমালোচনা করা ছিল সুন্নাহকে দুর্বল করার এবং তা অনুসারে আমল করা বর্জন করার হীন উদ্দেশ্যে অন্যান্য সম্মানিত সাহাবীগণের—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক—সমালোচনা করার একটি অজুহাত মাত্র, তাই আমি গবেষণার প্রয়োজনীয় ভূমিকা প্রদান করা আবশ্যক মনে করেছি। ফলে বিষয়বস্তুটি একটি ভূমিকা ও দুটি খণ্ডে বিন্যস্ত হয়েছে:
ভূমিকা:
এতে আমি আরব জাতি এবং ইসলামের বার্তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর সুন্নাহ এবং আভিধানিক ও শরয়ি পরিভাষায় এর অর্থ নিয়ে আলোচনা করেছি। অতঃপর পবিত্র কুরআনের আলোকে সুন্নাহর মর্যাদা, সুন্নাহর মাধ্যমে উম্মাহর সুসংহতি ও তা সংরক্ষণ এবং সে অনুযায়ী আমল করার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। এরপর সাহাবীগণের মর্যাদা ও তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) ব্যাখ্যা করেছি।
এরপর আমি সুন্নাহর হিফাযত, সুরক্ষা ও প্রচার এবং এই বিষয়ে রচিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি। কারণ এর মধ্যেই পবিত্র সুন্নাহ থেকে শত্রুদের লেপন করা অপবিত্রতা দূর করার উপায় নিহিত রয়েছে।
প্রথম খণ্ড: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি আবু হুরায়রাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবু হুরায়রাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইলমি জীবন; এতে আমি তাঁর ইলমি তৎপরতা, হাদিস গ্রহণ ও সুন্নাহ প্রচারের পদ্ধতি, তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের অভিমত বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٨)
الباب الثاني: عرضت فيه ما أثاره بعض أهل الأهواء، وبعض الكاتبين والمستشرقين من طُعُونٍ حوله، وناقشتها وبيَّنت وجه الحق فيها.
وإني لأرجو الله أنْ أكون قد وفِّقْتُ بهذه الطريقة، لعرض الموضوع بشكل يحقق الغاية منه. وأخيراً لا بد لي من أنْ أتوجه بشكري العميق إلى أستاذي الجليل فضيلة الشيخ علي حسب الله، أستاذ الشريعة الإسلامية والدراسات العليا في كلية دار العلوم بجامعة القاهرة، فقد تفضَّلَ عليَّ بقراءته هذا البحث، قراءة دقيقة فأفدت من ملاحظاته، مِمَّا شجَّعني على التفكير في طبعه ونشره، دفاعاً عن السُنَّة الطاهرة، وعن رُواتها الأمناء؛ فجزاه الله خير الجزاء.
وختاماً .. أرجو كل من يطلع على هذ الكتاب، فيجد فيه ما يحتاج إلى تعديل أو تبديل، أنْ يفيدني بما عنده ..
والله الموفق إلى الصواب
محمد عجاج الخطيب
القاهرة: 10 رمضان سنة 1381 هـ - 15 فبراير سنة 1962 م.
***
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি প্রবৃত্তি পূজারী, কতিপয় লেখক ও প্রাচ্যবিদগণ কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সংশয় ও অভিযোগ উপস্থাপন করেছি এবং সেগুলোর পর্যালোচনা করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছি।
আমি আল্লাহর নিকট প্রত্যাশা করি যে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিষয়বস্তুটি এমনভাবে উপস্থাপনে আমি তাওফিক লাভ করেছি যা এর উদ্দেশ্য পূরণ করবে। পরিশেষে, আমি আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের ইসলামি শরিয়াহ ও উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ফজিলতুশ শাইখ আলী হাসাবাল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এই গবেষণাপত্রটি পাঠ করার সদয় অনুমতি দিয়েছেন এবং আমি তাঁর পর্যবেক্ষণসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছি। এটিই আমাকে পবিত্র সুন্নাহ ও এর আমানতদার বর্ণনাকারীদের প্রতিরক্ষায় এই গ্রন্থটি মুদ্রণ ও প্রকাশের বিষয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করেছে। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
উপসংহারে... যারা এই বইটি পড়বেন, তারা যদি এতে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, তবে তা আমাকে জানিয়ে উপকৃত করার জন্য অনুরোধ করছি।
আর আল্লাহই সঠিক পথে পরিচালনার তাওফিকদাতা।
মুহাম্মাদ আজজাজ আল-খতিব
কায়রো: ১০ রমজান, ১৩৮১ হিজরি - ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ।
***
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٩)
تمهيد: - العرب ورسالة الإسلام.
- حول السُنَّة.
- السُنَّة ومكانتها من القرآن الكريم.
- عدالة الصحابة.
- حفظ السُنَّة وانتشارها.
উপক্রমণিকা: - আরব জাতি এবং ইসলামের দাওয়াত।
- সুন্নাহ প্রসঙ্গে।
- সুন্নাহ এবং পবিত্র কুরআনে এর মর্যাদা।
- সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা।
- সুন্নাহর সংরক্ষণ ও এর প্রচার-প্রসার।
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١١)
العرب ورسالة الإسلام: منذ أربعة عشر قرناً، بينما كان يعيش العالم كله في ظلام فكري، وتأخر علمي، وظلم اجتماعي، أشرقت في أرض الجزيرة العربية شمس الهداية، وعلت في الأفق تطارد ذاك الظلام، تنير للعالم سبيله، وترسم له طريق التقدم والرقي والنجاح.
تلك الشمس شمس النبوة التي حملها محمداً صلى الله عليه وسلم، إذ بعثه الله عز وجل. {بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا} (1) {وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} (2).
وشرفه بالرسالة السامية الخالدة، إلى الناس كافة ..
{قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} (3).
وقال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} (4)، {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا} (5). [سبأ: 28]
وأمره أنْ يبلِّغ أحكام الإسلام وتعاليمه فقال:
{يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ} (6).
ومن فضل الله على الأمَّة العربية أنْ بعث فيهم: {رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} (7).
--------------------------------------------
আরব জাতি ও ইসলামের বাণী: চৌদ্দশ বছর আগে, যখন সমগ্র বিশ্ব বৌদ্ধিক অন্ধকার, বৈজ্ঞানিক অনগ্রসরতা এবং সামাজিক অবিচারে নিমজ্জিত ছিল, তখন আরব উপদ্বীপে হেদায়েতের সূর্য উদিত হয়েছিল এবং দিগন্তে উদ্ভাসিত হয়ে সেই অন্ধকারকে দূরীভূত করেছিল, যা বিশ্ববাসীকে তার পথ দেখিয়েছিল এবং তার জন্য উন্নতি, অগ্রগতি ও সাফল্যের পথ অঙ্কিত করেছিল।
সেই সূর্য হলো নবুওয়তের সূর্য যা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বহন করেছিলেন, যখন আল্লাহ আযযা ওয়াজাল তাঁকে প্রেরণ করেছিলেন। {সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে} (১) {এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে} (২)।
এবং তাঁকে সকল মানুষের প্রতি এক মহান ও শাশ্বত রিসালাতের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন...
{বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যাঁর জন্য আসমান ও যমীনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর উম্মী নবী রাসূলের ওপর ঈমান আনো, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীর ওপর ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যেন তোমরা সঠিক পথ পাও} (৩)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি} (৪), {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি} (৫)। [সাবা: ২৮]
এবং তাঁকে ইসলামের বিধি-বিধান ও শিক্ষা প্রচার করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন:
{হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রচার করুন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না} (৬)।
আরব জাতির প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই প্রেরণ করেছেন: {একজন রাসূল, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল} (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٢)
فأمره أن يدعو أهله وعشيرته، فقال:
{وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ، وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} (1).
وقال عزَّ من قائل:
{وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنْذِرَ يَوْمَ الْجَمْعِ لَا رَيْبَ فِيهِ فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ} (2).
أمره أن يدعو قومه إلى سبيل الرشاد، ليحملوا عبء تبليغ الرسالة إلى الأمم الأخرى، فيكون لهم شرف المُبَلِّغ الهادي، ويخلد اسمهم أبد الدهر، كما أراد الله للرسول الكريم عليه الصلاة والسلام، وللأمَّة العربية التي تلقَّت الرسالة، وانطلقت تحرر العالم من الظلم والطغيان، وتوجه مركب الإنسانية إلى شاطئ السلام، وتخرجه من الظلمات إلى النور، سالكة سبيل الهداية والحق، حاملة لواء التحرير
… بعد أنْ تنكب الناس الصراط المستقيم، وتخبَّطُوا في غياهب الجهالة والضلال.
إلَاّ أنَّ هداية العرب لم تكن سهلة، بل تحمل الرسول الكريم عليه الصلاة والسلام في سبيلها المشاق الكثيرة، وأوذي في جسمه وماله، وأهله وأصحابه ووطنه، وكان يدعو ليلاً ونهاراً وسراً وإعلاناً، ويسأل الله السداد والرشاد، متطلِّعاً إلى هداية قومه ليحملوا الرسالة ويؤدُّوا الأمانة.
لقد أوحى الله إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، وقومه على دين آبائهم، وثنية وأصنام، يسودهم النظام القبلي، وتربط بينهم صلة القرابة والدم، لا يحكمهم نظام عام، بل يخضعون للعادات والأعراف، يدفعهم الشرف والمفاخرة بالأنساب إلى المنافسة في المكارم والمروءات، يعيشون في حلقة الأسرة والقبيلة، في إطار الجزيرة العربية.
وكان لحياته تلك أثر بعيد في صفاء نفوسهم، ومحافظتهم على أمجادهم وعاداتهم، وتفانيهم في سبيل مثلهم الأعلى، حتى كانوا يسرفون في ذلك كله، فهم كرام يبذلون ما يستطيعون للضيف، فيبلغون في ذلك حد الإسراف.
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি তাকে তার পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন:
{এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন, আর মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করে তাদের প্রতি আপনার ডানাকে অবনমিত করুন।} (১)।
এবং মহান পরাক্রমশালী সত্তা বলেছেন:
{আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আরবি ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি জনপদসমূহের জননী (মক্কা) ও তার চারপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে পারেন এবং একত্রিত হওয়ার দিন সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; একদল জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং একদল জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে।} (২)।
তিনি তাকে তাঁর কওমকে সঠিক পথের দিকে ডাকার নির্দেশ দিলেন, যাতে তারা অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকট রিসালাত পৌঁছানোর গুরুভার বহন করতে পারে। এর ফলে তাদের জন্য পথপ্রদর্শক প্রচারকের সম্মান অর্জিত হবে এবং চিরকাল তাদের নাম অক্ষয় হয়ে থাকবে, যেমনটি আল্লাহ চেয়েছিলেন সম্মানিত রাসূল (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) এবং সেই আরব জাতির জন্য যারা এই রিসালাত গ্রহণ করেছিল। তারা বিশ্বকে জুলুম ও স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত করতে অগ্রসর হয়েছিল এবং মানব সভ্যতার তরীকে শান্তির সৈকতে পরিচালনা করেছিল। তারা হিদায়াত ও সত্যের পথ অবলম্বন করে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছিল, মুক্তির ঝাণ্ডা বহন করে
… যখন মানুষ সঠিক পথ ত্যাগ করেছিল এবং মূর্খতা ও গোমরাহির অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।
তবে আরবদের হিদায়াত করা সহজ ছিল না; বরং সম্মানিত রাসূল (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) এর পথে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। তাঁর শরীর, সম্পদ, পরিবার, সাহাবী এবং স্বদেশের ক্ষেত্রে তাঁকে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। তিনি রাত-দিন, গোপনে ও প্রকাশ্যে দাওয়াত দিতেন এবং আল্লাহর কাছে সঠিক পথ ও দৃঢ়তা প্রার্থনা করতেন, যাতে তাঁর কওম হিদায়াত প্রাপ্ত হয় এবং তারা রিসালাত বহন করে আমানত আদায় করতে পারে।
আল্লাহ তাআলা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহি অবতীর্ণ করলেন এমন এক সময়ে যখন তাঁর কওম তাদের পিতৃপুরুষদের ধর্ম, মূর্তিপূজা ও পৌত্তলিকতায় লিপ্ত ছিল। তাদের ওপর গোত্রীয় শাসন বিরাজমান ছিল এবং বংশীয় ও রক্তের সম্পর্ক তাদের মাঝে সেতুবন্ধন ছিল। তাদের কোনো সাধারণ আইন ছিল না, বরং তারা প্রথা ও রীতিনীতির অনুগত ছিল। বংশীয় গৌরব ও আভিজাত্য তাদের মহানুভবতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজে প্রতিযোগিতায় উদ্বুদ্ধ করত। তারা আরব উপদ্বীপের গণ্ডির মধ্যে পরিবার ও গোত্রীয় বৃত্তে জীবনযাপন করত।
সেই জীবনধারার তাদের অন্তরের নির্মলতা, তাদের ঐতিহ্য ও রীতিনীতি রক্ষা এবং তাদের উচ্চ আদর্শের প্রতি উৎসর্গের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল। এমনকি তারা এই সব ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করত। তারা এতটাই দয়ালু ও দাতা ছিল যে অতিথিদের জন্য তারা সাধ্যমতো সবকিছু উৎসর্গ করত এবং এই ক্ষেত্রে তারা অপচয়ের সীমায় পৌঁছে যেত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ويأبون العار ولو أدى بأعزِّ ما لديهم إلى الردى، ولهذا وَأَدُوا بناتهم خشية الفقر والزلل. ويحبون الأمجاد والبطولات فتغنَّوا بها ولكنهم ضلوا الطريق، وحرموا العقيدة الموصلة إلى ذلك، ترى العفة والكرامة من أخلاقهم، والكرم والشجاعة من سجاياهم، والحمية والثأر تسير في عروقهم، رضعوا هذا مع لبنهم، وفطروا ونشأوا عليه، فهم لا ينامون على ضيم، ولا يرضون ذلاًَّ أو هواناً، وويل لمن غضب عليه العرب، إذ كانوا يثورون لأتفه الأسباب، يكفي أنْ يستفز القبيلة فرد أهينت كرامته، فتنطلق جميعها كباراً وصغاراً تدفع عنه ما أصابه، لأنَّ كرامة الفرد من كرامة القبيلة، وإلى هذا يمكننا أنْ نردَّ أكثر الغزوات والغارات التي كانت بين القبائل قبل الإسلام.
وقد حفظت ذاكرتهم القوية أشعارهم وأنسابهم التي كانت بمثابة سجل تاريخي لهم، وكان كل ذلك من المؤهِّلات التي أعدَّتهم لحمل الرسالة الإسلامية فيما بعد.
وإذا كان العرب قد عبدوا الأوثان آنذاك، فإنهم لم يعبدوها على أنها هي الخالقة المدبرة لأمور الكون وشؤونه، بل رأوا فيها التقرب إلى الله:
{مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَاّ لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} (1)
ولم تكن عقائدهم معقَّدة مركبة، كما كانت عليه عقائد سكان البلاد المجاورة من الفرس والهند والروم، بل كانوا أصفياء النفوس، ويمكننا أنْ نقول: إنَّ عندهم فراغاً عقدياً - إذا صح هذا التعبير - تستره تلك العبادات والمعتقدات الأولية، التي لم تقف على قدميها أمام عقيدة الإسلام المتماسكة الكاملة، ولهذا كان العرب يمتازون عن غيرهم من الأمم بتلك الصفات التي أهلتهم فيما بعد لأنْ يكونوا رجال الإسلام، وحملة لوائه إلى العالم.
ومع هذا لم يكن من السهل أنْ يستجيب العرب جميعاً إلى دعوة الرسول الكريم بادئ ذي بدء، إذ كان من الصعب أنْ يتركوا دين
--------------------------------------------
তারা কলঙ্ককে ঘৃণা করত, যদিও তা তাদের সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেত; এই কারণেই তারা দারিদ্র্য ও পদস্খলনের ভয়ে তাদের কন্যাদের জীবন্ত সমাহিত করত। তারা মহিমা ও বীরত্ব পছন্দ করত এবং সেগুলোর গুণকীর্তন করত, কিন্তু তারা সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেছিল এবং সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর মতো আকিদা থেকে বঞ্চিত ছিল। পবিত্রতা ও আত্মমর্যাদা ছিল তাদের স্বভাবজাত চরিত্র, আর উদারতা ও সাহসিকতা ছিল তাদের মজ্জাগত বৈশিষ্ট্য। আত্মরক্ষা ও প্রতিশোধস্পৃহা তাদের ধমনীতে প্রবাহিত হত; তারা শৈশব থেকেই এর পাঠ নিয়েছিল এবং এর ওপরই তারা বেড়ে উঠেছিল। তারা কোনো অন্যায় সহ্য করত না এবং লাঞ্ছনা বা অবমাননায় সন্তুষ্ট হতো না। আর দুর্ভোগ তাদের জন্য যাদের ওপর আরবরা ক্রুদ্ধ হতো, কারণ তারা অতি তুচ্ছ কারণেই উত্তেজিত হয়ে উঠত। গোত্রের কোনো একজন ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়াই পুরো গোত্রকে উত্তেজিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল; তখন ছোট-বড় সকলে মিলে তার ওপর আপতিত বিপদ দূর করতে অগ্রসর হতো। কারণ ব্যক্তির মর্যাদা ছিল গোত্রেরই মর্যাদা। আর ইসলামপূর্ব যুগে গোত্রগুলোর মধ্যে সংঘটিত অধিকাংশ যুদ্ধ ও লুণ্ঠন অভিযানের মূল কারণ হিসেবে আমরা একেই গণ্য করতে পারি।
তাদের প্রখর স্মৃতিশক্তি তাদের কবিতা ও বংশলতিকাসমূহকে সংরক্ষণ করেছিল, যা ছিল তাদের জন্য এক ঐতিহাসিক দলিলের মতো। আর এই সব গুণাবলিই ছিল সেই যোগ্যতা, যা পরবর্তীকালে তাদের ইসলামের বাণী বহন করার জন্য প্রস্তুত করেছিল।
আর আরবরা তৎকালীন সময়ে মূর্তিপূজা করলেও তারা এই বিশ্বাসে তাদের পূজা করত না যে, এগুলো মহাবিশ্বের সব বিষয়ের স্রষ্টা বা পরিচালক; বরং তারা এগুলোর মাঝে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় খুঁজত: "আমরা তাদের ইবাদত করি না, কেবল এজন্য যে তারা আমাদের আল্লাহর অতি নৈকট্যে পৌঁছে দেবে।" (১)
তাদের বিশ্বাস বা আকিদা প্রতিবেশী দেশ পারস্য, ভারত ও রোমের বাসিন্দাদের আকিদার মতো জটিল ও মারপ্যাঁচপূর্ণ ছিল না, বরং তারা ছিল স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী। আমরা বলতে পারি যে, তাদের মধ্যে একটি 'আকিদাগত শূন্যতা' ছিল—যদি এই অভিব্যক্তিটি সঠিক হয়—যা সেই প্রাথমিক স্তরের ইবাদত ও বিশ্বাসগুলো দিয়ে ঢাকা ছিল, যা ইসলামের সুসংহত ও পূর্ণাঙ্গ আকিদার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি। এই কারণেই আরবরা অন্যান্য জাতির তুলনায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল, যা পরবর্তীকালে তাদের ইসলামের একনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং বিশ্ববাসীর কাছে ইসলামের ঝাণ্ডাবাহী হওয়ার উপযোগী করে তুলেছিল।
এতদসত্ত্বেও সূচনালগ্নে সব আরবের পক্ষে মহান রাসূলের দাওয়াতে সাড়া দেওয়া সহজ ছিল না, কারণ তাদের পক্ষে নিজ ধর্ম ত্যাগ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٤)
آبائهم وأجدادهم، فإذا ما دعاهم إلى الله قال له أقرب الناس إليه: تبّاً لك!! إلهذا دعوتنا؟ وأوذي صلى الله عليه وسلم في سبيل دعوته كثيراً، وقاسى الصعاب، ولم يؤمن به إلَاّ نفر قليل: زوجه، وبعض ذويه، وقليل من أهله. وكان لا يفتر عن دعوتهم، ويسخرون منه فيزداد نشاطاً وحيوية وراء أمله، ويصوِّرُهم الله في قوله:
{وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} (1)، {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُوا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} (2).
إلَاّ أنَّ الباطل لا يقوى أمام الحق، فسرعان ما يتقوَّض، ويظهر ضعفه، كما يتلاشى الظلام حين يكون وراءه النور الساطع.
ومضى الرسول الكريم عليه الصلاة والسلام في دعوته، وصبر الصبر الجميل مُضْطَهَداً حيناً، مستهزَءاً به أحياناً، ومع هذا كان يتمنَّى لقومه الهداية والرشاد، فيطيب اللهُ خاطره، ويُخفِّفُ عنه، مُبيِّناً أنَّ هدايتهم بيده عز وجل، فيقول:
{إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} (3).
ويصوِّرُ الله تعالى ضيقه صلى الله عليه وسلم في سبيل هداية قومه، فيقول:
{فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ عَلَى آثَارِهِمْ إِنْ لَمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا} (4).
ويؤكِّدُ له أنه على حق، ولا بد من أنْ ينتصر، فيشحذ عزيمته بقوله عز وجل:
{فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ إِنَّكَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (5).
--------------------------------------------
তাদের পিতৃপুরুষ ও পিতামহদের। অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন, তখন তাঁর নিকটতম ব্যক্তিরা তাঁকে বলল: "তোমার বিনাশ হোক! একাজের জন্যই কি তুমি আমাদেরকে ডেকেছ?" সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাওয়াতের পথে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন এবং বহু প্রতিকূলতার মোকাবিলা করেছেন। তাঁর প্রতি কেবল অল্প কিছু লোকই ঈমান এনেছিল: তাঁর স্ত্রী, তাঁর নিকটাত্মীয়দের কেউ কেউ এবং তাঁর পরিবারের অল্প সংখ্যক সদস্য। তিনি তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া থেকে বিরত হতেন না; আর তারা তাঁকে উপহাস করত, ফলে তাঁর আশার পেছনে তাঁর উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি পেত। আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে তাদের চিত্রায়ন করেছেন এভাবে:
"আর যখন তাদেরকে বলা হয়, 'আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করো', তারা বলে, 'না, বরং আমরা তা-ই অনুসরণ করব যাতে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি।' যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই বুঝত না এবং সঠিক পথেও ছিল না তবুও কি?" (১), "আর যখন তাদেরকে বলা হয়, 'আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে আসো', তারা বলে, 'আমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট যাতে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি।' যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং তারা সৎপথে পরিচালিত ছিল না তবুও কি?" (২)।
তবে বাতিলের শক্তি সত্যের সামনে টেকে না, দ্রুতই তা ভেঙে পড়ে এবং তার দুর্বলতা প্রকাশ পায়; যেমন উজ্জ্বল আলোর উপস্থিতিতে অন্ধকার বিলীন হয়ে যায়।
সম্মানিত রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাঁর দাওয়াত অব্যাহত রাখেন এবং উত্তম ধৈর্য ধারণ করেন—কখনও নির্যাতিত হয়ে, কখনও উপহাসের শিকার হয়ে। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর কওমের জন্য হেদায়েত ও সুপথ কামনা করতেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর মন তুষ্ট করতেন এবং তাঁর ভার লাঘব করতেন এই বর্ণনা দিয়ে যে, তাদের হেদায়েত তাঁরই (আল্লাহর) হাতে; তিনি বলেন:
"নিশ্চয়ই তুমি যাকে ভালোবাস তাকে হেদায়েত করতে পারবে না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।" (৩)।
আল্লাহ তাআলা তাঁর কওমের হেদায়েতের পথে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাকুলতাকে চিত্রিত করে বলেন:
"তবে কি তুমি তাদের পেছনে আক্ষেপে নিজের জীবন ধ্বংস করে দেবে যদি তারা এই বাণীর (কুরআনের) ওপর ঈমান না আনে?" (৪)।
আর তিনি তাঁকে সুনিশ্চিত করেছেন যে তিনি সত্যের ওপর আছেন এবং অবশ্যই বিজয়ী হবেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর সংকল্পকে সুদৃঢ় করতে বলেন:
"অতএব তোমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়েছে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো, নিশ্চয়ই তুমি সরল পথে আছো।" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وهكذا بدأ الإسلام يستولي على القلوب في مكة رُويداً رُويداً، ثم انتشر بين بعض سكان يثرب (المدينة المنورة)، وازدياد إيذاء المشركين للمسلمين واضطروهم إلى هجر وطنهم فراراً بدينهم.
وفتحت المدينة المنورة صدرها رحباً للمسلمين، وبدأت الدولة الإسلامية تنتظم أمورها برياسة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وانتشر خبر الإسلام في أطراف الجزيرة، ولم تمنع أضاليل المشركين العرب من الدخول في دين الله، دين العدالة والمساواة، عقيدة سهلة سامية، إيمان بالله، وطاعة لرسول الله، وعبادات تدخل السعادة والطمأنينة إلى النفوس، نظام يضبط الجماعة ويؤمِّنُ حقوق الأفراد
…كل هذا جعل القبائل العربية تتهافت إلى المدينة من كل حدب وصوب، يعلنون إسلامهم، وعمَّ الإسلام الجزيرة العربية بعد الفتح الأكبر، ودخل الناس في دين الله أفواجاً، وانقلبت مكة والمدينة بل الجزيرة العربية إلى موطن إسلامي متماسك تنبع منه أشعة الهداية لتنير العالم.
وقد تم ذلك للرسول الكريم خلال اثنتين وعشرين سنة وبضعة أشهر.
وهكذا خرج العرب باعتناقهم هذا الدين الحنيف من نطاق القبيلة الضيق المغلق إلى صعيد الإنسانية الواسع، ومن إطار الصحراء إلى العالم الشاسع، وانقلبت رابطة الدم والقرابة إلى الأخوَّة في الدين، وانتهى نظام القبيلة وحل مكانه نظام الدولة الإسلامية في مختلف مرافق الحياة، وانتقلت حميَّتُهُم للقبيلة إلى نصرة الحق، والأخذ بيد المظلوم وإنصافه، وأصبح اعتزازهم بالإسلام وبما يقدِّمُونه من تضحيات وخدمات في سبيل ذلك بدلاً من اعتزازهم بالأنساب، واتجه حبهم للأمجاد والبطولات صعداً إلى تحقيق ما يرضي الله ورسوله، وتحوَّلت شجاعتهم وجرأتهم المحصورة في النطاق القبلي إلى شجاعة وجرأة في سبيل نشر الدين الجديد، وتحوَّلَ كرمُهُم الذي بلغ حد السرف إلى إعانة الفقراء وإغاثة الملهوفين، وتزويد الجيوش للدفاع عن معتقداتهم وعن إخوانهم في الدين، وتحرير
এভাবে ইসলাম মক্কায় ধীরে ধীরে মানুষের হৃদয়ের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে, অতঃপর তা ইয়াসরিবের (মদিনা মুনাওয়ারাহ) কিছু অধিবাসীর মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। মুসলিমদের ওপর মুশরিকদের নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা তাদের দ্বীন রক্ষার উদ্দেশ্যে স্বদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
মদিনা মুনাওয়ারাহ মুসলিমদের জন্য তার বুক প্রশস্ত করে দেয় এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্বে ইসলামী রাষ্ট্র তার কার্যাদি সুসংগঠিত করতে শুরু করে। আরব উপদ্বীপের প্রান্তসমূহ পর্যন্ত ইসলামের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। মুশরিকদের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিগুলো আরবদের আল্লাহর দ্বীনে—যা ন্যায়বিচার ও সমতার দ্বীন, এক সহজ ও সুমহান আকীদা, আল্লাহর প্রতি ঈমান, আল্লাহর রাসূলের আনুগত্য এবং এমন ইবাদতসমূহ যা আত্মার মাঝে সুখ ও প্রশান্তি সঞ্চার করে—প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। এটি এমন এক ব্যবস্থা যা সমাজকে সুশৃঙ্খল করে এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করে
…এই সবকিছুই আরব গোত্রগুলোকে চারদিক থেকে মদিনার পানে ছুটে আসতে উদ্বুদ্ধ করে, তারা তাদের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয় এবং মহা বিজয়ের পর সমগ্র আরব উপদ্বীপে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করে এবং মক্কা, মদিনা এমনকি সমগ্র আরব উপদ্বীপ একটি সুসংহত ইসলামী ভূখণ্ডে পরিণত হয়, যেখান থেকে বিশ্বকে আলোকিত করার জন্য হিদায়াতের আলো বিচ্ছুরিত হতে থাকে।
আর সম্মানিত রাসূলের জন্য এটি বাইশ বছর ও কয়েক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল।
এভাবেই আরবরা এই হানিফ দ্বীন গ্রহণের মাধ্যমে গোত্রের সংকীর্ণ ও রুদ্ধ পরিসর থেকে মানবতার বিশাল প্রাঙ্গণে এবং মরুভূমির গণ্ডি থেকে বিস্তৃত বিশ্বে বেরিয়ে আসে। রক্ত ও আত্মীয়তার বন্ধন ধর্মীয় ভ্রাতৃত্বে রূপান্তরিত হয়। গোত্রীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার স্থলাভিষিক্ত হয় ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা। গোত্রের প্রতি তাদের অন্ধ আবেগ সত্যের সাহায্য এবং মজলুমের হাত ধরে তাকে ইনসাফ পাইয়ে দেওয়ার দিকে মোড় নেয়। বংশমর্যাদার পরিবর্তে ইসলাম এবং এর পথে তাদের ত্যাগ ও সেবার প্রতি তাদের গর্ববোধ জাগ্রত হয়। মর্যাদা ও বীরত্বের প্রতি তাদের ভালোবাসা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে উচ্চমার্গে ধাবিত হয়। গোত্রীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ তাদের সাহস ও বীরত্ব নতুন দ্বীন প্রচারের পথে সাহস ও বীরত্বে রূপান্তরিত হয়। তাদের দানশীলতা—যা অপচয় ও আতিশয্যের পর্যায়ে পৌঁছেছিল—তা দরিদ্রদের সাহায্য, আর্তমানবতার সেবা এবং তাদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় ভাইদের রক্ষায় সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করার কাজে এবং স্বাধীন করার পথে ধাবিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الأمم من نير العبودية إلى الحرية وعبادة إله واحد
… فكان الإسلام شرفاً عظيماً لهم، كما قال تعالى: {وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ وَسَوْفَ تُسْأَلُونَ} (1).
والذكر هو الشرف العظيم، وكان العرب بحق كما قال الله تعالى:
{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} (2).
يتبيَّنُ لنا مما ذكرت أنَّ هؤلاء العرب الأشدَّاء، الذين فرضت عليهم الطبيعة الصحراوية حياة خاصة، قد انطوت نفوسهم على خصال طيِّبة، وصفات كريمة، وميول سامية، وراءها دوافع قوية، وحيوية فائقة، ولكنه كان ينقصهم العقيدة الصالحة، التي تُوجِّهُهُم في هذه الحياة، وتؤثر في جميع تصرُّفاتهم، كما كان ينقصهم النظام الحسن، فما أنْ وجدوهما في الإسلام دين الحنيفية السمحة، والفطرة الصافية، حتى كانوا خير حافظ لها، بعد أنْ آمنوا بها، وتجاوبوا معها، وأصبحوا أول داعٍ إليها، ومن ثم فتحوا قلوبهم للرسول الكريم عليه الصلاة والسلام، وأصغوا إليه، والتفُّوا حوله ينهلون من المعين الذي لا ينضب، ويتلقَّون تعاليم الإسلام من رائده، ليقوموا بدورهم في هداية الناس جميعاً، وهكذا تضافر العامل الفطري الذي تميَّز به العرب مع العامل المكتسب الجديد (الروحي)، فظهر الرعيل الأول الذي حمل مشعل النور والحق إلى العالم، وساهم في تحرير الإنسان من عبودية الظلم والجهل والفقر، وأخذ بيده إلى سبيل السداد والرشاد، ظهر ذلك الرعيل العظيم الذي نقل القرآن الكريم والسُنَّة الطاهرة بكل أمانة وإخلاص.
بعد هذا نتكلم عن السُنَّة وتعريفها ومكانتها من القرآن الكريم، وعن الصحابة وعدالتهم بما يُمَهِّدُ لنا السبيل إلى البحث.
…--------------------------------------------
জাতিসমূহকে দাসত্বের জোয়াল থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাধীনতা এবং এক ইলাহের ইবাদতের দিকে... তাই ইসলাম ছিল তাদের জন্য এক মহান সম্মান, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর এটি অবশ্যই আপনার জন্য এবং আপনার কওমের জন্য এক উচ্চ মর্যাদা এবং অচিরেই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।} (১)।
আর যিকর হলো মহান মর্যাদা, এবং আরবরা প্রকৃতপক্ষে তেমনই ছিল যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
{তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজে বাধা প্রদান করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো।} (২)।
আমি যা উল্লেখ করেছি তা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এই কঠোরপ্রাণ আরবরা, যাদের ওপর মরুভূমির প্রকৃতি এক বিশেষ জীবনধারা চাপিয়ে দিয়েছিল, তাদের অন্তরে উত্তম গুণাবলি, মহান বৈশিষ্ট্য এবং উচ্চতর ঝোঁক বিদ্যমান ছিল; যার পেছনে ছিল শক্তিশালী অনুপ্রেরণা এবং অসাধারণ প্রাণশক্তি। তবে তাদের মধ্যে সঠিক আকিদাহ বা বিশ্বাসের অভাব ছিল, যা তাদের এই জীবনে পরিচালিত করবে এবং তাদের সকল আচার-আচরণে প্রভাব বিস্তার করবে। তেমনিভাবে তাদের মধ্যে উত্তম ব্যবস্থারও অভাব ছিল। অতঃপর তারা যখন ইসলামের মাঝে—যা একটি সহজ-সরল একনিষ্ঠ দীন এবং স্বচ্ছ ফিতরাত—সেই বিশ্বাস ও ব্যবস্থা খুঁজে পেল, তখন তারা এর প্রতি ঈমান আনার পর এবং এর সাথে একাত্ম হওয়ার পর এর সর্বোত্তম সংরক্ষক হয়ে উঠল। তারা এর প্রথম আহ্বানকারীতে পরিণত হলো এবং এরপর তারা সম্মানিত রাসুল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের জন্য তাদের হৃদয় উন্মুক্ত করে দিল, তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনল এবং তাঁকে ঘিরে সমবেত হলো। তারা সেই অক্ষয় প্রস্রবণ থেকে জ্ঞান আহরণ করতে লাগল এবং ইসলামের শিক্ষা গ্রহণ করছিল এর নেতার কাছ থেকে, যাতে তারা সকল মানুষের হিদায়াতের পথে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে পারে। এভাবেই আরবদের সহজাত বৈশিষ্ট্য এবং নতুন অর্জিত (আধ্যাত্মিক) উপাদান একত্রিত হলো। ফলে সেই প্রথম প্রজন্মের উদ্ভব হলো যারা পৃথিবীতে আলো ও সত্যের মশাল বহন করে নিয়ে গিয়েছিল এবং মানুষকে জুলুম, অজ্ঞতা ও দারিদ্র্যের দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে অবদান রেখেছিল এবং তাদের হাত ধরে সঠিক ও সরল পথের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। আত্মপ্রকাশ করেছিল সেই মহান প্রজন্মের, যারা পূর্ণ আমানতদারি ও ইখলাসের সাথে পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহকে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
এর পর আমরা সুন্নাহ, এর সংজ্ঞা, পবিত্র কুরআনের তুলনায় এর অবস্থান এবং সাহাবায়ে কিরাম ও তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে আলোচনা করব, যা আমাদের গবেষণার পথকে সুগম করবে।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٧)
حول السُنَّة: السُنَّة في اللغة هي السيرة حسنة كانت أو قبيحة، وكل من ابتدأ أمراً به قوم بعده هو الذي سَنَّهُ
…قال خالد بن عتبة الهذلي:
فََلَا تَجْزَعَنْ مِنْ سيرةٍ أَنتَ سِرْتَهَا
… فَأَوَّلُ رَاضٍ سُنَّةً مَنْ يَسِيرُهَا (1).
وفي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَنَّ فِي الإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً، فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُِ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ، وَمَنْ سَنَّ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ» (2).
وإذا أطلقت السُنَّة في الشرع فإنما يراد بها ما أمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونهى عنه، وندب إليه قولاً وفعلاً، ولهذا يُقال في أدلة الشرع الكتاب والسُنَّة، أي القرآن والحديث، ويطلق علماء الحديث لفظ السُنَّة على كل ما يتَّصل بالرسول صلى الله عليه وسلم من سيرة، وخُلُقٍ، وشمائل، وأخبار، وأقوال، وأفعال، سواء أثبت ذلك حكماً شرعياً أم لا.
وأما علماء أصول الفقه فإنهم يطلقون لفظ السُنَّة على أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم، وأفعاله، وتقريراته التي تثبت حُكماً شرعياً.
وأما علماء الفقه فقد بحثوا عن الرسول صلى الله عليه وسلم، الذي تدلُّ أفعاله على حكم شرعي، وهم يبحثون عن حكم الشرع في أفعال العباد وُجُوباً، أو حرمة، أو إباحة، أو غير ذلك. فالسُنَّة عندهم كل ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يكن من باب الفرض ولا الواجب.
--------------------------------------------
সুন্নাহ সম্পর্কে: অভিধানে সুন্নাহ হলো জীবনপদ্ধতি বা পথ, তা ভালো হোক বা মন্দ। আর যে ব্যক্তি কোনো কাজ শুরু করে এবং পরবর্তীকালে কোনো সম্প্রদায় তা অনুসরণ করে, তবে সে-ই এর প্রবর্তক
...খালিদ ইবনে উতবা আল-হুযালী বলেন:
তুমি যে পথে চলেছ সে সম্পর্কে মোটেও উদ্বিগ্ন হয়ো না
... কেননা কোনো পদ্ধতির প্রতি প্রথম সন্তুষ্ট ব্যক্তি সেই যে তাতে চলে (১)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: “যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতির প্রবর্তন করবে, তার জন্য তার প্রতিদান রয়েছে এবং যারা তার পরে সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও তার জন্য রয়েছে, এতে তাদের সওয়াব থেকে সামান্যও কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতির প্রবর্তন করবে, তবে তার ওপর সেই মন্দ কাজের পাপের বোঝা বর্তাবে এবং যারা তার পরে সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের পাপের বোঝাও তার ওপর বর্তাবে, এতে তাদের পাপের বোঝা থেকে সামান্যও কমানো হবে না” (২)।
আর শরীয়তের পরিভাষায় যখন সাধারণভাবে সুন্নাহ শব্দটি প্রয়োগ করা হয়, তখন এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঐসব কথা ও কাজকে উদ্দেশ্য করা হয় যার তিনি আদেশ দিয়েছেন, যা থেকে নিষেধ করেছেন এবং যার প্রতি তিনি মৌখিক বা ব্যবহারিক উৎসাহ প্রদান করেছেন। এই কারণেই শরীয়তের দলীলসমূহের ক্ষেত্রে ‘কিতাব ও সুন্নাহ’ বলা হয়, অর্থাৎ কুরআন ও হাদীস। হাদীস বিশারদগণ সুন্নাহ শব্দটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সম্পর্কিত সীরাত (জীবনী), চরিত্র, বৈশিষ্ট্য, সংবাদ, কথা ও কাজের ওপর প্রয়োগ করেন, চাই তা কোনো শরীয়তের বিধান সাব্যস্ত করুক বা না করুক।
আর উসূলে ফিকহ-বিদগণ সুন্নাহ শব্দটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঐসব কথা, কাজ ও মৌনসম্মতির ওপর প্রয়োগ করেন যা কোনো শরীয়তের বিধান সাব্যস্ত করে।
অন্যদিকে ফিকহ-বিদগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন যার কার্যাবলী কোনো শরীয়তের বিধানের ওপর প্রমাণ পেশ করে। তাঁরা বান্দার কাজের ওপর শরীয়তের বিধানের আবশ্যকতা (ওয়াজিব), নিষিদ্ধতা (হারাম), বৈধতা (মুবাহ) বা অন্য কিছু নিয়ে গবেষণা করেন। তাই তাঁদের নিকট সুন্নাহ হলো তা-ই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে কিন্তু তা ফরজ বা ওয়াজিব পর্যায়ের নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٨)
فأوسع الإطلاقات إطلاق المُحَدِّثِينَ، الذين يقصدون بالسُنَّة كل أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صِفَةٍ خَلْقِيَّةٍ، أو سيرة سواء أكان ذلك قبل البعثة كتَحَنُّثِهِ في غار حراء، أو بعدها، وسواء أثبت ذلك حُكماً شرعياً أم لا.
والسُنَّة بهذا المعنى مرادفة للحديث النبوي.
أما القول فهو أحاديثه التي قالها في مختلف المناسبات، كقوله: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لاِمْرِئٍ مَا نَوَى
… »، وقوله: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ»، وقوله: «لَا ضَرَر وَلَا ضِرَارَ»، وقوله في البحر: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ».
وأما الفعل فهو أفعاله التي نقلها إلينا الصحابة، مثل وضوئه، وأدائه الصلوات الخمس بهيئاتها وأركانها، وأدائه صلى الله عليه وسلم مناسك الحج، وما إلى ذلك.
وأما التقرير فكل ما أقرَّهُ الرسول صلى الله عليه وسلم، مما صدر عن بعض أصحابه من أقوال وأفعال، بسكوت منه وعدم إنكار، أو بموافقته وإظهار استحسانه وتأييده، فيعتبر ما صدر عنهم بهذا الإقرار والموافقه عليه صادراً عن الرسول صلى الله عليه وسلم، ومن ذلك ما أخرجه أبو داود والنسائي عن أبي سعيد الخُدري رضي الله عنه أَنَّهُ خَرَجَ رَجُلَانِ فِي سَفَرٍ، فَحَضَرَتِ الصَّلَاةُ وَلَيْسَ مَعَهُمَا مَاءٌ، فَتَيَمَّمَا صَعِيدًا طَيِّبًا فَصَلَّيَا، ثُمَّ وَجَدَا الْمَاءَ فِي الْوَقْتِ، فَأَعَادَ أَحَدُهُمَا الصَّلَاةَ وَالْوُضُوءَ وَلَمْ يُعِدِ الْآخَرُ، ثُمَّ أَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَا ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ لِلَّذِي لَمْ يُعِدْ: «أَصَبْتَ السُّنَّةَ». وَقَالَ للآخَرِ: «لَكَ الأَجْرُ مَرَّتَيْنِ».
وقد تطلق السُنَّة في مقابلة البدعة، فيقال: «فُلَانٌ عَلَى سُنَّةٍ» إذا عمل على وفق ما عمل عليه الرسول صلى الله عليه وسلم، سواء أكان ذلك مِمَّا نَصَّ عليه الكتاب أم لم يكن. ويقال: «فلان على بِدْعَةٍ» إذا عمل على خلاف ذلك.
والبدعة لغة هي الأمر المُسْتَحْدَثُ، ثم أطلقت في الشرع على كل ما أحدثه
সবচেয়ে ব্যাপক প্রয়োগ হলো মুহাদ্দিসগণের প্রয়োগ, যারা সুন্নাহ বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রতিটি আছার (চিহ্ন) তথা কথা, কাজ, মৌনসম্মতি, শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা জীবনীকে বুঝিয়ে থাকেন; চাই তা নবুয়ত প্রাপ্তির আগের হোক যেমন হেরা গুহায় তাঁর ইবাদত (তাহান্নুছ), কিংবা পরের হোক, এবং তা কোনো শরয়ী বিধান সাব্যস্ত করুক বা না করুক।
আর এই অর্থে সুন্নাহ হলো হাদিসে নববীর সমার্থক।
আর কথা (কাওল) হলো তাঁর সেই সব হাদিস যা তিনি বিভিন্ন উপলক্ষ্যে বলেছেন, যেমন তাঁর বাণী: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে
… », এবং তাঁর বাণী: «ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো তার অনর্থক বিষয় ত্যাগ করা», এবং তাঁর বাণী: «ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না», এবং সমুদ্র সম্পর্কে তাঁর বাণী: «তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল»।
আর কর্ম (ফেল) হলো তাঁর সেই সব কাজ যা সাহাবীগণ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, যেমন তাঁর ওজু, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত তার ধরণ ও রুকনসমূহ সহ আদায় করা, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক হজের কার্যাদি সম্পাদন করা ইত্যাদি।
আর মৌনসম্মতি (তাকরির) হলো সেই সব বিষয় যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদন করেছেন, যা তাঁর কিছু সাহাবী থেকে কথা বা কাজ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল, তাঁর নীরবতা ও আপত্তি না করার মাধ্যমে অথবা তাঁর সম্মতি এবং তা পছন্দ করার ও সমর্থন করার মাধ্যমে। সুতরাং এই মৌনসম্মতি ও সম্মতির মাধ্যমে তাঁদের থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রকাশ পাওয়ার মতোই গণ্য হবে। এর একটি উদাহরণ হলো যা আবু দাউদ ও নাসাঈ আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দুই ব্যক্তি সফরে বের হলেন, এরপর সালাতের সময় হলো কিন্তু তাঁদের সাথে পানি ছিল না। ফলে তাঁরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করলেন। পরে তাঁরা ওয়াক্ত থাকতেই পানি পেলেন। তখন তাঁদের একজন সালাত ও ওজু পুনরায় আদায় করলেন এবং অন্যজন তা করলেন না। তারপর তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বিষয়টি তাঁর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি সেই ব্যক্তিকে বললেন যিনি পুনরায় সালাত আদায় করেননি: «তুমি সুন্নাহ মোতাবেক কাজ করেছ»। আর অন্যজনকে বললেন: «তোমার জন্য দ্বিগুণ নেকি রয়েছে»।
কখনো কখনো সুন্নাহ বিদআতের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, তখন বলা হয়: «অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর আছেন» যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কৃত আমল অনুযায়ী আমল করেন, চাই তা কিতাবে (কুরআনে) স্পষ্টভাবে বর্ণিত থাক বা না থাক। আর বলা হয়: «অমুক ব্যক্তি বিদআতের ওপর আছেন» যখন তিনি এর বিপরীতে আমল করেন।
আর আভিধানিক অর্থে বিদআত হলো নতুন উদ্ভাবিত বিষয়, এরপর শরিয়তে এটি এমন সব বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যা নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الناس من قول وعمل في الدين وشعائره مِمَّا لم يؤثر عنه صلى الله عليه وسلم وعن أصحابه، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ» (1).
وتطلق السُنَّة أحياناً عند المُحَدِّثِينَ وعلماء أصول الفقه على ما عمل به الصحابة، وجد ذلك في الكتاب أو السُنَّة أو لم يوجد. ويحتجُّ لذلك بقوله عليه الصلاة والسلام: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ بَعْدِي تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ» (2).
ومن أبرز ما ثبت في السُنَّة بهذا المعنى «سُنَّة الصحابة» حد الخمر، فقد كان تعزير الشارب في عهده صلى الله عليه وسلم غير محدود، تارة يضربونه نحو أربعين جلدة، وتارة يبلغون ثمانين، وكذا في عهد أبي بكر، فلما كان آخر إمْرَةِ عمر رضي الله عنه، ورأى الناس في سعة العيش، وكاد الشرب يشيع بينهم - استشار الصحابة في حدٍّ زاجرٍ، فقال عليٌّ: نرى أنْ تجلده ثمانين، لأنه إذا شرب سكر، وإذا سكر هَذَى، وإذا هَذَى افترى، وعلى المُفترِي جلد ثمانين جلدة، وقال عبد الرحمن بن عوف: أرى أن تجعلها كأخفِّ الحدود يعني ثمانين، وأجمع الصحابة على هذا، فتحديد الثمانين هو السُنَّة التي عمل عليها الصحابة باجتهاد منهم، حسبما اقتضاه النظر المصلحي.
ومن هذا تضمين الصناع، وجمع المصاحف في عهد أبي بكر برأي الفاروق، وحمل الناس على القراءة بحرف واحد من الحروف السبعة، وتدوين الدواوين .. وما أشبه ذلك مما اقتضاه النظر المصلحي الذي أقرَّهُ الصحابة رضي الله عنهم وأجمعوا عليه (3).
--------------------------------------------
দ্বীন এবং এর বিধানাবলির ক্ষেত্রে মানুষের কথা ও কাজ যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" (১)।
কখনও কখনও মুহাদ্দিস এবং উসূলে ফিকহের আলিমগণের নিকট 'সুন্নত' শব্দটি সাহাবীগণের কর্মপদ্ধতির ওপর প্রয়োগ করা হয়, চাই তা কিতাব (কুরআন) বা সুন্নাহতে বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক। এর সপক্ষে রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করা হয়: "তোমরা আমার সুন্নত এবং আমার পরবর্তী হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নতকে আঁকড়ে ধরো; তোমরা তা মজবুতভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো।" (২)।
'সাহাবীগণের সুন্নত' অর্থে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত অন্যতম প্রসিদ্ধ বিষয় হলো মদের হদ (দণ্ডবিধি)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মদ্যপায়ীর শাস্তি সুনির্দিষ্ট ছিল না; কখনও তাকে প্রায় চল্লিশটি বেত্রাঘাত করা হতো, আবার কখনও আশি পর্যন্ত পৌঁছাত। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগেও এমনটি ছিল। অতঃপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের শেষ দিকে যখন তিনি দেখলেন যে, মানুষের জীবনযাত্রা সচ্ছল হয়ে উঠেছে এবং তাদের মাঝে মদ্যপান ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, তখন তিনি একটি কঠোর দণ্ড নির্ধারণের বিষয়ে সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমরা মনে করি আপনি তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করবেন; কারণ সে যখন পান করে তখন মাতাল হয়, আর যখন মাতাল হয় তখন প্রলাপ বকে, আর যখন প্রলাপ বকে তখন মিথ্যা অপবাদ দেয়; আর মিথ্যা অপবাদদাতার দণ্ড হলো আশিটি বেত্রাঘাত।" আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমি মনে করি আপনি একে সবচেয়ে হালকা হদ অর্থাৎ আশি নির্ধারণ করুন।" সাহাবীগণ এই বিষয়ে একমত হলেন। সুতরাং আশি (বেত্রাঘাত) নির্ধারণ করা হলো এমন এক সুন্নত যা সাহাবীগণ জনকল্যাণের নিরিখে তাঁদের ইজতিহাদের মাধ্যমে কার্যকর করেছিলেন।
কারিগরদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, ফারুকের পরামর্শে আবু বকরের যুগে কুরআন সংকলন করা, সাতটি উপভাষার পরিবর্তে মানুষকে একটি কেরাআতে সীমাবদ্ধ করা, রাষ্ট্রীয় দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা... ইত্যাদি এই জাতীয় বিষয় যা জনকল্যাণের দাবি ছিল এবং সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এগুলোর ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন ও স্বীকৃতি দিয়েছিলেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وأعني بالسُنَّة ما أراده المُحَدِّثُونَ، وهي ما يرادف الحديث عند جمهورهم وإن كان بعضهم يفرِّقُ بين السُنَّة والحديث، فيرى الحديث ما ينقل عن الرسول صلى الله عليه وسلم، والسُنَّة ما كان عليه العمل المأثور في الصدر الأول.
والحديث القُدْسي هو كل حديث يضيف فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم قولاً إلى الله عز وجل، كحديث أبي ذر الغفاري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه عز وجل أنه قال: «يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا فَلَا تَظَالَمُوا
… » (1). وحديث عبد الله بن عباس رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه تبارك وتعالى قال: «إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ ثُمَّ بَيَّنَ ذَلِكَ، فَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً، وَإِنْ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ عِنْدَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ، وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً، وَإِنْ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ لَهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً» (2).
والأحاديث القدسية أكثر من مائة حديث، وقد جمعها بعضهم في جزء كبير (3). ونسبة الحديث إلى القدس (وهو الطهارة والتنزيه)، وإلى الإله أو الرب، لأنه صادر عن الله تبارك وتعالى، المتكلم به أولاً،
--------------------------------------------
সুন্নাহ বলতে আমি তা-ই বোঝাচ্ছি যা মুহাদ্দিসগণ উদ্দেশ্য করেছেন। তাঁদের অধিকাংশের নিকট এটি হাদিসের সমার্থক, যদিও তাঁদের কেউ কেউ সুন্নাহ ও হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করেন। তাঁরা মনে করেন হাদিস হলো তা-ই যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর সুন্নাহ হলো প্রথম যুগে (সদরুল আউয়াল) যে আমল অনুসৃত ছিল।
হাদিসে কুদসি হলো সেই প্রত্যেক হাদিস যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো বক্তব্যকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে সম্পর্কিত করেন। যেমন আবু যার আল-গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস, যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রব আযযা ওয়া জাল্লা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «হে আমার বান্দাগণ! আমি জুলুমকে নিজের ওপর হারাম করেছি এবং তোমাদের মাঝেও তা হারাম করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না
... » (১)। এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এবং তিনি তাঁর রব তাবারাকা ওয়া তাআলা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ পুণ্য ও পাপসমূহ লিখে দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তা স্পষ্ট করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো পুণ্যের কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা করতে পারল না, আল্লাহ তাঁর কাছে তার জন্য একটি পূর্ণ পুণ্য লিখে দেন। আর যদি সে সংকল্প করার পর তা আমল করে, তবে আল্লাহ তাঁর কাছে তার জন্য দশগুণ থেকে সাতশত গুণ এমনকি আরও অনেক গুণ বৃদ্ধি করে লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি কোনো পাপের সংকল্প করল কিন্তু তা করল না, আল্লাহ তাঁর কাছে তার জন্য একটি পূর্ণ পুণ্য লিখে দেন। আর যদি সে সংকল্প করার পর তা করে ফেলে, তবে আল্লাহ তার জন্য একটি মাত্র পাপ লিখে দেন» (২)।
হাদিসে কুদসির সংখ্যা একশটিরও অধিক, এবং তাঁদের কেউ কেউ এগুলোকে একটি বৃহৎ খণ্ডে সংকলন করেছেন (৩)। হাদিসকে কুদস (যা পবিত্রতা ও ত্রুটিমুক্ততার অর্থ বহন করে), ইলাহ বা রবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার কারণ হলো এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা থেকে নির্গত হয়েছে এবং তিনিই এর মূল বক্তা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وأما كونه حديثاً، فلأنَّ الرسول هو المُخْبِرُ به عن الله عز وجل، والحاكي له بلفظه صلى الله عليه وسلم ولغته.
بعد هذا أرى من الواجب أنْ أُبيِّنَ مكانة السُنَّة من القرآن الكريم، لتظهر لنا أهميتها بالنسبة للشريعة الإسلامية ومصادرها التشريعية.
***
আর এটি হাদিস হওয়ার কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি সংবাদ প্রদানকারী এবং তিনি তাঁর নিজ শব্দ ও ভাষায় এটি বর্ণনা করেছেন।
এরপর আমি পবিত্র কুরআনের তুলনায় সুন্নাহর মর্যাদা বর্ণনা করা আবশ্যক মনে করছি, যাতে ইসলামি শরিয়ত ও এর আইনি উৎসসমূহের ক্ষেত্রে সুন্নাহর গুরুত্ব আমাদের নিকট সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
***
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
السُنَّة ومكانتها من القرآن الكريم: لم يكن للأحكام في عهد الرسول الكريم عليه الصلاة والسلام مصدر سوى الكتاب والسُنَّة. ففي كتاب الله تعالى الأصول العامة للأحكام الشرعية، دون التعرض إلى تفصيلها جميعها، والتفريع عليها، إلَاّ ما كان منها متفقاً مع الأصول العامة ثابتاً بثبوتها، لا يتغيَّر بمرور الزمن، ولا يتطور باختلاف الناس في بيئاتهم وأعرافهم، كل هذا حتى يٌحقِّق القرآن الكريم النهضة الإنساية الشاملة، والرقيَّ الاجتماعي والفكري، وينشر العدالة والسعادة، في كل زمن، ويبقى صالحاً لكل أمَّة مهما كانت بيئتها وأعرافها، فتجد فيه ما يكفل حاجتها التشريعية في سبيل النهوض والتقدم، وإلى جانب هذه الأصول في القرآن الكريم نجد العقائد والعبادات وقصص الأمم الغابرة، والآداب العامة والأخلاق ..
وقد جاءت السُنَّة في الجملة موافقة للقرآن الكريم، تُفَسِّرُ مُبْهَمَهُ، وتُفَصِّلُ مُجْمَلَهُ، وتُقَيِّدُ عامَّهُ، وتشرح أحكامه وأهدافه، كما جاءت بأحكام لم ينص عليها القرآن الكريم، تتمشى مع قواعده، وتحقِّق أهدافه وغاياته، فكانت السُنَّة تطبيقاً عملياً لم جاء به القرآن العظيم، تطبيقاً يتَّخذ مظاهر مختلفة، فحيناً يكون عملاً صادراً عن الرسول صلى الله عليه وسلم، وحيناً آخر يكون قولاً يقوله في مناسبة، وحيناً ثالثاً يكون تصرُّفاً أو قولاً من أصحابه صلى الله عليه وسلم، فيرى العمل أو يسمع القول ثم يُقِرُّ هذا وذاك، فلا يعترض عليه ولا ينكره، بل يسكت عنه أو يستحسنه فيكون منه تقريراً.
وهكذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يُبيِّنُ ما جاء في القرآن الكريم، والصحابة يقبلون ذلك منه، لأنهم مأمورون باتِّباعه وطاعته، ولم يخطر ببال امرئ منهم أنْ يترك قول رسول الله صلى الله عليه وسلم أو فعله، وقد عرفوا ذلك من كتاب الله تعالى، ففيه: {إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ
সুন্নাহ এবং আল-কুরআনে এর মর্যাদা: সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কিতাব (কুরআন) এবং সুন্নাহ ব্যতীত বিধানের (আহকামের) অন্য কোনো উৎস ছিল না। মহান আল্লাহর কিতাবে শরয়ী বিধানের সাধারণ মূলনীতিসমূহ বিদ্যমান ছিল, সেগুলোর সবগুলোর বিস্তারিত বিবরণ ও শাখা-প্রশাখা আলোচনা করা ছাড়াই, কেবল সেই অংশগুলো ব্যতীত যা সাধারণ মূলনীতির সাথে সংগতিপূর্ণ এবং সেগুলোর মতোই শাশ্বত ছিল, যা সময়ের বিবর্তনে পরিবর্তিত হয় না এবং পরিবেশ ও প্রথাভেদে মানুষের পার্থক্যের কারণে বিবর্তিত হয় না। এই সবকিছুই করা হয়েছে যাতে আল-কুরআন ব্যাপক মানবীয় জাগরণ এবং সামাজিক ও বৌদ্ধিক উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে এবং প্রতিটি যুগে ন্যায়বিচার ও সুখ ছড়িয়ে দিতে পারে। এটি প্রতিটি জাতির জন্যই উপযোগী থাকে, তাদের পরিবেশ ও প্রথা যাই হোক না কেন। ফলে এতে এমন সব উপাদান খুঁজে পাওয়া যায় যা উন্নতি ও অগ্রগতির পথে তাদের আইনগত প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। আল-কুরআনের এই মূলনীতিগুলোর পাশাপাশি আমরা আকিদা, ইবাদাত, পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কাহিনী, সাধারণ আদব ও চরিত্রও দেখতে পাই।
সুন্নাহ সামগ্রিকভাবে আল-কুরআনের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়ে এসেছে; এটি কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করে, এর সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলো বিস্তারিত বর্ণনা করে, এর সাধারণ নির্দেশগুলোকে নির্দিষ্ট করে এবং এর বিধান ও লক্ষ্যসমূহ ব্যাখ্যা করে। সুন্নাহ এমন কিছু বিধানও নিয়ে এসেছে যা আল-কুরআনে সরাসরি উল্লিখিত হয়নি, তবে তা কুরআনের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ পূরণ করে। সুতরাং সুন্নাহ ছিল আল-কুরআনে বর্ণিত বিষয়গুলোর এক বাস্তব প্রয়োগ, যা বিভিন্নরূপে প্রকাশিত হতো; কখনও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম হিসেবে, কখনও কোনো প্রেক্ষাপটে তাঁর বাণী হিসেবে, আবার কখনও তাঁর সাহাবীদের কোনো আচরণ বা কথা হিসেবে যা তিনি দেখতেন বা শুনতেন এবং সেটিকে সমর্থন করতেন। তিনি সেটির বিরোধিতা বা অস্বীকার করতেন না, বরং নীরব থাকতেন বা তা পছন্দ করতেন, যা তাঁর পক্ষ থেকে মৌন সম্মতি হিসেবে গণ্য হতো।
এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-কুরআনে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা ব্যাখ্যা করতেন এবং সাহাবীগণ তা গ্রহণ করতেন, কেননা তাঁরা তাঁর অনুসরণ ও আনুগত্য করার নির্দেশপ্রাপ্ত ছিলেন। তাঁদের কারো মনে কখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কথা বা কাজ বর্জন করার চিন্তা আসেনি। তাঁরা মহান আল্লাহর কিতাব থেকেই তা জেনেছিলেন, যাতে আছে: {নিশ্চয় যারা আপনার কাছে বায়’আত গ্রহণ করে, তারা মূলত আল্লাহর কাছেই বায়’আত গ্রহণ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে। সুতরাং যে কেউ তা ভঙ্গ করবে...}
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
فَإِنَّمَا يَنْكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا} (1) {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا} (2)، {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (3) {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (4) {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (5).
وقوله عز وجل: {بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (6). فأوكل الله عز وجل بيان أحكام القرآن الكريم إلى رسوله صلى الله عليه وسلم. وغير ذلك من الآيات الكريمة.
وقال صلى الله عليه وسلم: «أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ» (7)، وقال: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ المَهْدِيِّينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ» (8)، وقد أجمعت الأمَّة على العمل بسُنَّة الرسول الكريم.
فتقبَّل المسلمون السُنَّة من الرسول صلى الله عليه وسلم كما تقبَّلوا القرآن الكريم، استجابة لله عز وجل وللرسول الأمين، لأنها المصدر الثاني للتشريع بعد القرآن الكريم بشهادة الله عز وجل ورسوله، وإذا اعتبرنا السُنَّة المصدر الثاني، إنما نعتبرها من حيث إنها مفسرة لكتاب الله، مُفَصِّلَةٌ مُجْمَلَهُ، مُبَيِّنةٌ أحكامه ومقاصده، مُفَرَّعة على أصوله وقواعده، لهذا كان الكتاب هو المصدر الأول والسُنَّة هي المصدر الثاني، ومع هذا فإنَّ ما استقلَّت به السُنَّة من أحكام لم ينص عليها القرآن الكريم، وليست بياناً له، ولا تطبيقاً مؤكداً لما جاء في كتاب الله - لا تقل في المنزلة عن
--------------------------------------------
{সুতরাং যে ব্যক্তি অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, সে নিজের ক্ষতির জন্যই তা করে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তবে অচিরেই তিনি তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন} (১) {আর তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো ও রাসূলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক থাকো} (২), {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} (৩) {আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (৪) {সুতরাং না, তোমার রবের কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পরিপূর্ণভাবে মেনে নেয়} (৫)।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও কিতাবসমূহসহ; আর আমি তোমার প্রতি এই যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দাও যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} (৬)। অতএব আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা পবিত্র কুরআনের বিধিবিধানের ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ন্যস্ত করেছেন। এছাড়া আরও অনেক সম্মানিত আয়াত রয়েছে।
এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে" (৭), এবং তিনি আরও বলেছেন: "তোমাদের ওপর আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা আবশ্যক, তোমরা তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং তা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো" (৮), আর উম্মত রাসূলুল কারীমের সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে।
মুসলিমগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে সুন্নাহকে সেভাবেই গ্রহণ করেছেন যেভাবে তারা পবিত্র কুরআনকে গ্রহণ করেছিলেন; এটি ছিল আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এবং বিশ্বস্ত রাসূলের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার অংশ হিসেবে। কেননা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূলের সাক্ষ্য অনুযায়ী পবিত্র কুরআনের পর এটিই হলো শরীয়াহর দ্বিতীয় উৎস। আর যখন আমরা সুন্নাহকে দ্বিতীয় উৎস হিসেবে গণ্য করি, তখন তা এ কারণে করি যে, এটি আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা প্রদানকারী, এর সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিশদ বর্ণনা দানকারী, এর বিধিবিধান ও উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্টকারী এবং এর মূলনীতি ও নিয়মাবলির ওপর শাখা-প্রশাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। একারণেই কিতাব হলো প্রথম উৎস এবং সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় উৎস। তা সত্ত্বেও, সুন্নাহ স্বতন্ত্রভাবে যে সকল বিধিবিধান প্রদান করেছে যা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি, এবং যা কুরআনের ব্যাখ্যাও নয়, আবার আল্লাহর কিতাবে যা এসেছে তার নিছক প্রয়োগও নয়—মর্যাদার দিক থেকে তা কোনোভাবেই নিচের স্তরের নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الأحكام التي نص عليها الله عز وجل في القرآن الكريم، ذلك لأنَّ ما يسُنُّهُ الرسول عليه الصلاة والسلام لا يكون إلَاّ حقاً، والله عز وجل لا يقر الرسول صلى الله عليه وسلم على اجتهاد خطأ، بل ينزل الوحي ويُصَحِّحُ له اجتهاده، فكل حكم ثبت من طريق السُنَّة وجب اتِّباعه، لأنه حكم الله لعباده على لسان رسوله. وقد ثبتت عدة أحكام بالسُنَّة من غير أنْ ينُصَّ عليها الكتاب الكريم، كتحريم أكل الحُمُر الأهلية، وكل ذي ناب من السباع، وتحريم نكاح المرأة على عمَّتها أو خالتها (1). ولم يفكر مسلم في ترك بعضها لأنها لم تذكر في الكتاب، بل استجاب لذلك جميع المسلمين مُطبِّقين أمر الله عز وجل في اتِّباع سُنَّة محمد صلى الله عليه وسلم، الذي نزل فيه قول الله عز وجل: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} (2).
قال ابن قيم الجوزية: «وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} (3).
فأمر الله بطاعته وطاعة رسوله، وأعاد الفعل إعلاماً بأنَّ طاعة الرسول تجب استقلالاً من غير عرض ما أمر به على الكتاب، بل إذا أمر وجبت طاعته مطلقاً، سواء أكان ما أمر به في الكتاب أو لم يكن فيه، فإنه أوتي الكتاب ومثله معه، ولم يأمر بطاعة أولي الأمر استقلالاً، بل حذف الفعل وجعل طاعتهم في ضمن طاعة الرسول، إيذاناً بأنهم إنما يطاعون تبعاً لطاعة الرسول. فمن أمر منهم بطاعة الرسول وجبت طاعته، ومن أمر بخلاف ما جاء به الرول فلا سمع له ولا طاعة» (4).
--------------------------------------------
যে বিধানগুলো মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সুন্নাত হিসেবে নির্ধারণ করেন তা সত্য ভিন্ন অন্য কিছু নয়। আর আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো ভুল ইজতিহাদের ওপর বহাল রাখেন না, বরং ওহী নাযিল করে তাঁর ইজতিহাদ সংশোধন করে দেন। সুতরাং সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত প্রতিটি বিধান অনুসরণ করা ওয়াজিব, কারণ তা তাঁর রাসূলের জবানিতে তাঁর বান্দাদের জন্য আল্লাহরই বিধান। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও সুন্নাহর মাধ্যমে বেশ কিছু বিধান সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন—গৃহপালিত গাধা ভক্ষণ হারাম হওয়া, হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট শিকারি প্রাণী ভক্ষণ হারাম হওয়া এবং কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সাথে একত্রে বিবাহ করা হারাম হওয়া (১)। কোনো মুসলিম এগুলোর কোনোটি বর্জন করার কথা চিন্তা করেননি এই কারণে যে তা কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি, বরং সকল মুসলিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণে আল্লাহর নির্দেশ পালন করে এর প্রতি সাড়া দিয়েছেন, যাঁর সম্পর্কে আল্লাহর বাণী নাযিল হয়েছে: {তিনি মনগড়া কথা বলেন না, এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি নাযিল করা হয়} (২)।
ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ বলেন: «আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদের। এরপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে অতি উত্তম} (৩)।
এখানে আল্লাহ তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর (আনুগত্য করো) ক্রিয়াটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন এটি বোঝানোর জন্য যে, রাসূলের নির্দেশিত বিষয় কুরআনের সাথে মিলিয়ে দেখা ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব। বরং তিনি যখনই কোনো নির্দেশ দেবেন, নিঃশর্তভাবে তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব, চাই সেই নির্দেশ কুরআনে থাকুক বা না থাকুক। কেননা তাঁকে কুরআন এবং এর সাথে অনুরূপ (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে। আর তিনি উলুল আমরের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে আনুগত্যের নির্দেশ দেননি, বরং ক্রিয়াটি উহ্য রেখে তাদের আনুগত্যকে রাসূলের আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের আনুগত্য কেবল রাসূলের আনুগত্যের অনুগামী হিসেবেই করতে হবে। সুতরাং তাদের মধ্যে কেউ যদি রাসূলের আনুগত্যের নির্দেশ দেয়, তবে তার আনুগত্য করা ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার বিপরীত নির্দেশ দেয়, তবে তার কোনো কথা শোনা হবে না এবং আনুগত্যও করা হবে না» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فالقرآن والسُنَّة مصدران تشريعيان متلازمان. لا يمكن لمسلم أنْ يفهم الشريعة إلَاّ إذا رجع إليهما معاً، ولا غنى لمجتهد أو عالم عن أحدهما، ولا يجرؤ أنْ يدعى هذا أحد.
فقد فرض الله تعالى الصلاة على المؤمنين، من غير أنْ يُبَيِّنَ أوقاتها وأركانها وعدد ركعاتها. فبَيَّنَ الرسول الكريم هذا بصلاته، وتعليمه المسلمين كيفية الصلاة، وقال: «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي» (1)، وفرض الله عز وجل الحج من غير أنْ يُبَيِّنَ مناسكه، وقد بَيَّنَ الرسول الأمين كيفيته، وقال: «خُذُوا عَنِّى مَنَاسِكَكُمْ» (2). وقد فرض الله تعالى الزكاة من غير أنْ يبين ما تجب فيه من أموال وعروض وزروع، كما لم يبين النصاب الذي تجب فيه الزكاة من كل، وأوكل بيانه للرسول الكريم الذي أوضحه وفَصَّلَهُ بسُنَّته، وغير ذلك من الأحكام التي بَيَّنَتْهَا السُنَّةُ.
لهذا كله رأينا الصحابة يلتفُّون حول الرسول صلى الله عليه وسلم يشاهدون بعيونهم، ويسمعون بآذانهم وتَعِي قلوبهم، ويتمسَّكون بسُنَّتِهِ صلى الله عليه وسلم، ولا يفرِّقُون بين ما جاء في القرآن وما جاء في السُنَّة، وقد امتثل الصحابة لأوامر الله عز وجل ورسوله، ونفَّذُوها مخلصين، وحَمَوْا الشريعة بالمال والدماء، في حياته صلى الله عليه وسلم وبعد وفاته.
وحافظوا على الكتاب الكريم والسُنَّةِ الشريفة وأَبَوْا أنْ يكونوا ذك الرجل الذي ينطبق عليه قوله عليه الصلاة والسلام: «يُوشِكُ الرَجُلُ مُتَّكِئًا عَلى أرِيكَتِهِ، يُحَدِّثُ بَحَدِيث مِنْ حَدِيثي فَيَقُولُ: بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللهِ عز وجل، فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَال اسْتَحْلَلْنَاهُ، ومَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ، أَلَا وإنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللهِ مِثْلُ مَا حَرَّم اللهُ» (3) بل وقفوا من
--------------------------------------------
কুরআন ও সুন্নাহ হলো দুটি অবিচ্ছেদ্য আইনি উৎস। কোনো মুসলিমের পক্ষে শরীয়ত বোঝা সম্ভব নয় যতক্ষণ না সে এই দুইটির দিকে একসাথে ফিরে আসে। কোনো মুজতাহিদ বা আলেমের পক্ষে এর যেকোনো একটি থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয় এবং কেউ এরূপ দাবি করার সাহসও করে না।
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ওপর সালাত ফরজ করেছেন, তবে তিনি এর সময়সমূহ, রুকনসমূহ এবং রাকাআত সংখ্যা বর্ণনা করেননি। অতঃপর সম্মানিত রাসূল তাঁর সালাতের মাধ্যমে এবং মুসলিমদের সালাত আদায়ের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: «তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ» (১)। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা হজ ফরজ করেছেন কিন্তু এর নিয়মাবলি (মানাসিক) বর্ণনা করেননি। আমানতদার রাসূল এর পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: «তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি গ্রহণ করো» (২)। আল্লাহ তাআলা জাকাত ফরজ করেছেন কিন্তু কোন কোন সম্পদ, পণ্য ও ফসলে তা ওয়াজিব হবে তা বর্ণনা করেননি। তেমনিভাবে তিনি নিসাবও বর্ণনা করেননি যা থেকে জাকাত প্রদান করতে হয়; বরং এর বর্ণনার দায়িত্ব তিনি সম্মানিত রাসূলের ওপর অর্পণ করেছেন যিনি তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে তা স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও শরীয়তের অন্যান্য বিধানসমূহ সুন্নাহর মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে।
এই সব কারণেই আমরা দেখেছি যে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারপাশ ঘিরে থাকতেন, তারা নিজেদের চোখে দেখতেন, কান দিয়ে শুনতেন এবং তাদের অন্তর তা ধারণ করত। তারা তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরতেন এবং কুরআনে যা এসেছে আর সুন্নাহয় যা এসেছে তার মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না। সাহাবীগণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ও তাঁর রাসূলের নির্দেশসমূহ মেনে চলতেন এবং তা একনিষ্ঠভাবে বাস্তবায়ন করতেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইন্তেকালের পর সম্পদ ও রক্ত দিয়ে শরীয়তকে রক্ষা করেছেন।
তারা মহাগ্রন্থ কুরআন ও সুন্নাহর হেফাজত করেছেন এবং সেই লোকটির মতো হতে অস্বীকার করেছেন যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর এই বাণীটি প্রযোজ্য হয়: «শীঘ্রই এমন এক ব্যক্তির দেখা মিলবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার কাছে আমার হাদীসসমূহের মধ্য থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট, তাতে যা আমরা হালাল পাব তাই হালাল বলে গণ্য করব এবং যা তাতে হারাম পাব তাকেই হারাম বলে গণ্য করব। জেনে রেখো, আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ» (৩)। বরং তারা এর বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
السُنَّة موقفاً عظيماً، وردُّوا على كل من فهم ذاك الفهم. روى أبو نضرة عن عمران بن حُصين: «أنَّ رجلاً أتاه فسأله عن شيء، فحدَّثه، فقال الرجل: حدِّثُوا عن كتاب الله عز وجل، ولا تحدِّثُوا عن غيره، فقال: إِنَّكَ امْرُؤٌ أَحْمَقُ!! أَتَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا، لَا يُجْهَرُ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ»، وعَدَّ الصلوات، وعَدَّ الزكاة ونحوها، ثُمَّ قَالَ: «أَتَجِدُ هَذَا مُفَسَّرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ؟ كِتَابُ اللَّهِ أَحْكَمَ ذَلِكَ، وَالسُّنَّةَ تُفَسِّرُ ذَلِكَ» (1).
ونهج التابعون وأتباعهم والمسلمون من بعدهم سبيل الصحابة في المحافظة على السُنَّة والعمل بها وإجلالها، قال رجل للتابعي الجليل مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ: لَا تُحَدِّثُونَا إِلَاّ بِالْقُرْآنِ، فَقَالَ مُطَرِّفٌ: «وَاللَّهِ مَا نُرِيدُ بِالْقُرْآنِ بَدَلاً، وَلَكِنْ نُرِيدُ مَنْ هُوَ أَعْلَمُ بِالْقُرْآنِ مِنَّا» (2).
وأخبار اقتداء الصحابة بالرسول صلى الله عليه وسلم والمحافظة على سُنَّته تفوق الحصر، وسأورد بعضها على سبيل الذكرى.
أتت فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم أبا بكر تطلب سهم رسول الله عليه الصلاة والسلام فقال لها: «إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ اللَّهَ عز وجل، إِذَا أَطْعَمَ نَبِيًّا طُعْمَةً، ثُمَّ قَبَضَهُ جَعَلَهُ لِلَّذِي يَقُومُ بَعْدَهُ "، فَرَأَيْتُ أَنْ أَرُدُّهُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ». فَقَالَتْ: فَأَنْتَ وَمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْلَمُ (3).
وقال في رواية: «لَسْتُ تَارِكًا شَيْئًا، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْمَلُ بِهِ إِلَاّ عَمِلْتُ بِهِ، فَإِنِّي أَخْشَى إِنْ تَرَكْتُ شَيْئًا مِنْ أَمْرِهِ أَنْ أَزِيغَ» (4).
وفي وقعة اليرموك كتب القادة إلى عمر بن الخطاب: «إِنَّهُ قَدْ جَاشَ إِلَيْنَا الْمَوْتُ» يستمدونه فكان فيما أجابهم: «إِنِّي أَدُلُّكُمْ عَلَى مَنْ هُوَ أَعَزُّ
--------------------------------------------
সুন্নাহর পক্ষে এক মহান অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং যারা এই ধরণের বুঝ পোষণ করত তাদের সকলের প্রতিবাদ করেছেন। আবু নাদরা ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন: "এক ব্যক্তি তার কাছে এসে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে হাদীস শোনালেন। লোকটি বলল: আপনারা আল্লাহর কিতাব থেকে বর্ণনা করুন, অন্য কিছু থেকে নয়। তখন তিনি বললেন: 'তুমি এক নির্বোধ ব্যক্তি! তুমি কি আল্লাহর কিতাবে জোহরের নামাজ চার রাকাত পাও যেখানে কিরাত উচ্চস্বরে পড়া হয় না?' এরপর তিনি একে একে সব নামাজ ও জাকাত ইত্যাদির কথা উল্লেখ করলেন। তারপর বললেন: 'তুমি কি আল্লাহর কিতাবে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাও? আল্লাহর কিতাব এগুলোকে অবধারিত করেছে আর সুন্নাহ সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করে'।" (১)
তাবেয়ীগণ, তাঁদের অনুসারীগণ এবং পরবর্তী মুসলিমগণ সুন্নাহর সুরক্ষা, তার ওপর আমল এবং একে সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করেছেন। জনৈক ব্যক্তি প্রখ্যাত তাবেয়ী মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শিখখীরকে বললেন: "আমাদের কাছে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করবেন না।" তখন মুতাররিফ বললেন: "আল্লাহর কসম, আমরা কুরআনের কোনো বিকল্প চাই না, বরং আমরা এমন কাউকে চাই যিনি আমাদের চেয়ে কুরআন সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন।" (২)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে এবং তাঁর সুন্নাহর সংরক্ষণে সাহাবায়ে কেরামের ঘটনাবলি অগণিত। স্মারক হিসেবে আমি এখানে তার কিছু উল্লেখ করছি।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রাপ্য অংশ দাবি করলেন। তিনি তাকে বললেন: "আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ عز وجل (মহা পরাক্রমশালী ও মহান) যখন কোনো নবীকে কোনো খাদ্য বা সম্পদ প্রদান করেন, অতঃপর তাঁর জান কবজ করেন, তখন তিনি তা তাঁর পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য নির্ধারণ করে দেন'। সুতরাং আমি মনস্থ করেছি যে এটি আমি মুসলিমদের কাছে ফিরিয়ে দেব।" তখন ফাতিমা বললেন: "আপনি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে যা শুনেছেন তা-ই অধিক সঠিক।" (৩)
অপর এক বর্ণনায় তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আমল করতেন, তার কোনো একটিও আমি বর্জন করব না; বরং আমি তা আমল করব। কেননা আমি আশঙ্কা করি যে, যদি আমি তাঁর কোনো আদেশ বর্জন করি তবে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যাব।" (৪)
ইয়ারমুকের যুদ্ধে সেনাপতিগণ উমর ইবনে খাত্তাবের কাছে লিখে পাঠালেন: "আমাদের সামনে মৃত্যু উথলে উঠেছে।" তারা তাঁর কাছে সাহায্য চাইলেন। উত্তরে তিনি যা লিখেছিলেন তাতে ছিল: "আমি তোমাদের এমন একজনের পথ দেখাচ্ছি যিনি অধিক পরাক্রমশালী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
نَصْرًا، وَأَحْضَرُ جُنْدًا، اللهُ عز وجل، فَاسْتَنْصَرُوهُ ، فَإِنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم قَدْ نُصِرَ يَوْمِ بَدْرٍ فِي أَقَلَّ مِنْ عِدَّتِكُمْ، فَإِذَا أَتَاكُمْ كِتَابِي هَذَا فَقَاتَلُوهُمْ وَلا تُرَاجِعُونِي» (1).
ويرى عمر رضي الله عنه الناس قد أقبلوا على طيِّبات الدنيا مما أحلَّ لهم الله تعالى، فيُذَكِّرهم برسول الله صلى الله عليه وسلم فيقول: «لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَظَلُّ الْيَوْمَ يَلْتَوِي، مَا يَجِدُ دَقَلا يَمْلأُ بِهِ بَطْنَهُ» (2).
وقال سعيد بن المسيب: رَأَيْتُ عُثْمَانَ قَاعِدًا فِي الْمَقَاعِدِ «فَدَعَا بِطَعَامٍ مِمَّا مَسَّتْهُ النَّارُ، فَأَكَلَهُ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلاةِ فَصَلَّى»، ثُمَّ قَالَ عُثْمَانُ: «قَعَدْتُ مَقْعَدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَكَلْتُ طَعَامَ رَسُولِ اللَّهِ وَصَلَّيْتُ صَلاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» (3).
وروى الإمام أحمد أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، شَرِبَ قَائِمًا، فَنَظَرَ إِلَيْهِ النَّاسُ كَأَنَّهُمْ أَنْكَرُوهُ، فَقَالَ: «مَا تَنْظُرُونَ؟ إِنْ أَشْرَبْ قَائِمًا، فَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَشْرَبُ قَائِمًا، وَإِنْ أَشْرَبْ قَاعِدًا، فَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَشْرَبُ قَاعِدًا» (4).
وقد اشتهر عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنهما بمحافظته الشديدة على سُنن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكان الرسول أسوته في كل شيء، في صلاته وحَجِّهِ وصيامه، وفي جميع أحواله (5)، وكثيراً ما كان يقول: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} (6).
--------------------------------------------
সাহায্যকারী হিসেবে এবং সৈন্যবাহিনী হিসেবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাই যথেষ্ট। সুতরাং তোমরা তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। কেননা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বদরের দিন তোমাদের বর্তমান সংখ্যার চেয়েও কম সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও সাহায্য করা হয়েছিল। অতএব যখন তোমাদের কাছে আমার এই পত্র পৌঁছাবে, তখন তাদের সাথে যুদ্ধ করো এবং পুনরায় উত্তর পাঠানোর জন্য অপেক্ষা করো না (১)।
আর উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) লোকেদের দুনিয়ার সেই সব পবিত্র ও উত্তম নিআমতের দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখতেন যা আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য হালাল করেছেন। তখন তিনি তাদের আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতেন: «আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি সারাদিন ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটফট করতেন, তিনি পেট ভরার মতো সামান্য নিম্নমানের খেজুরও পেতেন না» (২)।
সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: আমি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে মাকায়িদ নামক স্থানে বসা অবস্থায় দেখেছি, «অতঃপর তিনি আগুনের স্পর্শে তৈরি (রান্না করা) খাবার চাইলেন এবং তা আহার করলেন। এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন»। অতঃপর উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: «আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বসার স্থানে বসেছি, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাবারের মতো খাবার খেয়েছি এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাতের মতো সালাত আদায় করেছি» (৩)।
ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন যে, আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে পানি পান করলেন। এতে লোকেরা তাঁর দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিল যেন তারা বিষয়টি অপছন্দ করছে। তখন তিনি বললেন: «তোমরা কী দেখছ? আমি যদি দাঁড়িয়ে পান করি, তবে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দাঁড়িয়ে পান করতে দেখেছি। আর যদি বসে পান করি, তবে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বসে পান করতে দেখেছি» (৪)।
আর আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতসমূহ অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে পালনের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। সালাত, হজ, সিয়াম এবং তাঁর জীবনের যাবতীয় অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন তাঁর আদর্শ (৫)। তিনি প্রায়ই বলতেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ} (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
قيل لعبد الله بن عمر: لا نَجِدُ صَلاةَ السَّفَرِ فِي الْقُرْآنِ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: «
… إِنَّ اللَّهَ عز وجل بَعَثَ إِلَيْنَا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم، وَلا نَعْلَمُ شَيْئًا، فَإِنَّمَا نَفْعَلُ كَمَا رَأَيْنَا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُ» (1) وفي رواية قال: «وَكُنَّا ضُلَاّلاً فَهَدَانَا اللَّهُ بِهِ، فَبِهِ نَقْتَدِي» (2).
والأخبار عن الصحابة والتابعين وأهل العلم من بعدهم كثيرة جداً. نختتمها بهذا الخبر، فقد روى ابن ماجه أنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ الأَنْصَارِيَّ، النَّقِيبَ، صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: غَزَا مَعَ مُعَاوِيَةَ أَرْضَ الرُّومِ، فَنَظَرَ إِلَى النَّاسِ وَهُمْ يَتَبَايَعُونَ كِسَرَ الذَّهَبِ بِالدَّنَانِيرِ، وَكِسَرَ الْفِضَّةِ بِالدَّرَاهِمِ، فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّكُمْ تَأْكُلُونَ الرِّبَا، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لا تَبْتَاعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ، إِلَّا مِثْلاً بِمِثْلٍ، لَا زِيَادَةَ بَيْنَهُمَا وَلا نَظِرَةً»، فَقَالَ: لَهُ مُعَاوِيَةُ: «يَا أَبَا الْوَلِيدِ، لا أَرَى الرِّبَا فِي هَذَا، إِلا مَا كَانَ مِنْ نَظِرَةٍ»، فَقَالَ عُبَادَةُ: «أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَتُحَدِّثُنِي عَنْ رَأْيِكَ لَئِنْ أَخْرَجَنِي اللَّهُ لا أُسَاكِنُكَ بِأَرْضٍ لَكَ عَلَيَّ فِيهَا إِمْرَةٌ»، فَلَمَّا قَفَلَ لَحِقَ بِالْمَدِينَةِ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: «مَا أَقْدَمَكَ يَا أَبَا الْوَلِيدِ؟ فَقَصَّ عَلَيْهِ الْقِصَّةَ، وَمَا قَالَ مِنْ مُسَاكَنَتِهِ، فَقَالَ: «ارْجِعْ يَا أَبَا الْوَلِيدِ إِلَى أَرْضِكَ، فَقَبَحَ اللَّهُ أَرْضًا لَسْتَ فِيهَا وَأَمْثَالُكَ»، وَكَتَبَ إِلَى مُعَاوِيَةَ: لا إِمْرَةَ لَكَ عَلَيْهِ، وَاحْمِلِ النَّاسَ عَلَى مَا قَالَ، فَإِنَّهُ هُوَ الأَمْرُ» (3).
وأولئك صحابة رسول الله الذين لم يرضوا ترك سُنَّةً كان عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يقبلوا مع السُنَّة رأي أحد مهما كان شأنه، ومهما عَلَتْ مكانته، أولئك الذين حفظوا الحديث النبوي، ووجَّهُوا
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে বলা হলো: "আমরা কুরআনে সফরের নামাজের উল্লেখ পাই না।" তখন ইবনে উমর বললেন: «
... মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আমাদের কাছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন, আর আমরা তখন কিছুই জানতাম না। সুতরাং আমরা ঠিক সেভাবেই করি যেভাবে আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে করতে দেখেছি» (১) এবং অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন: «আমরা পথভ্রষ্ট ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে আমাদের হিদায়াত দিয়েছেন, তাই আমরা তাঁরই অনুসরণ করি» (২)।
সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী আহলে ইলমদের থেকে বর্ণিত এমন সংবাদের সংখ্যা অনেক। আমরা এই বর্ণনাটি দিয়ে শেষ করছি; ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী এবং নকীব উবাদাহ বিন সামিত আল-আনসারী মুয়াবিয়ার সাথে রোম ভূখণ্ডে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। তিনি দেখলেন যে, লোকেরা স্বর্ণের টুকরো দিনারের বিনিময়ে এবং রূপার টুকরো দিরহামের বিনিময়ে কেনাবেচা করছে। তখন তিনি বললেন: «হে লোকসকল! তোমরা তো সুদ খাচ্ছ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ কেনাবেচা করো না, তবে সমান সমান হওয়া ভিন্ন কথা; তাতে কোনো কমবেশি থাকবে না এবং কোনো বিলম্বও থাকবে না'»। তখন মুয়াবিয়া তাঁকে বললেন: «হে আবু আল-ওয়ালিদ, আমি এতে বিলম্বের অবকাশ ছাড়া অন্য কোনো সুদ দেখি না»। উবাদাহ বললেন: «আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শোনাচ্ছি আর তুমি আমাকে তোমার মতের কথা বলছ! আল্লাহ যদি আমাকে এখান থেকে বের করেন, তবে আমি এমন কোনো ভূখণ্ডে তোমার সাথে বসবাস করব না যেখানে আমার ওপর তোমার কর্তৃত্ব থাকবে»। যখন তিনি যুদ্ধ থেকে ফিরলেন, তখন মদিনায় চলে গেলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে জিজ্ঞেস করলেন: «হে আবু আল-ওয়ালিদ, কোন জিনিস তোমাকে নিয়ে এল?» তখন তিনি তাঁর কাছে ঘটনাটি এবং তাঁর সাথে বসবাস না করার সেই উক্তির কথা বর্ণনা করলেন। উমর (রা.) বললেন: «হে আবু আল-ওয়ালিদ, তুমি তোমার নিজ ভূখণ্ডে ফিরে যাও। আল্লাহ সেই ভূমিকে শ্রীহীন করুন যেখানে তুমি এবং তোমার মতো মানুষেরা নেই»। এরপর তিনি মুয়াবিয়াকে লিখে পাঠালেন: «তার ওপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না। এবং মানুষকে সে যা বলেছে তার ওপরই পরিচালিত করো, কারণ সেটাই হচ্ছে সঠিক নির্দেশ» (৩)।
তাঁরাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সব সাহাবী যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসৃত কোনো সুন্নাত বর্জন করা মেনে নিতেন না এবং সুন্নাতের মোকাবেলায় কারো মত গ্রহণ করতেন না, তার মর্যাদা বা অবস্থান যাই হোক না কেন। তাঁরাই ছিলেন সেই সব ব্যক্তি যারা নববী হাদিস সংরক্ষণ করেছেন এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الأُمَّة إلى السبيل القويم، وحملوا الأمراء على تطبيق أحكام الشريعة، وأبَوْا أنْ يُماروا في دين الله، صادعين بالحق، لا يخافون فيه لومة لائم. وقد كان لهم الفضل الكبير، والشرف العظيم في حمل أحكام الشريعة وحفظها وتبليغها إلى من بعدهم.
***
উম্মাহকে সঠিক পথের দিকে [পরিচালিত করেছেন], এবং তাঁরা শাসকবর্গকে শরীয়তের বিধানাবলি বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাঁরা আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো প্রকার অসার বিতর্ক করতে অস্বীকার করেছেন; তাঁরা সত্যকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে কোনো নিন্দুকের নিন্দার ভয় করেননি। শরীয়তের বিধানাবলি বহন, সংরক্ষণ এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের বিশাল অবদান ও সুমহান মর্যাদা রয়েছে।
***
(খণ্ড: ১)
আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
عدالة الصحابة: ولمنزلة الصحابة الكريمة، وأمانتهم وإخلاصهم، وحرصهم على الدين وأحكامه، ودفاعهم عنه، أجمع أهل السُنَّة على عدالتهم وتوثيقهم جميعاً إلَاّ من ظهر منه ما يُجَرِّحُ عدالته مِمَّنْ لم يستقيموا بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم لا يتجاوزون أصابع اليد الواحدة (1)، فلا يجوز لأحد أنْ يتعدَّاهُم خشية أنْ يخالف الكتاب والسُنَّة اللذين نصَّا على عدالتهم جميعاً.
قال ابن حزم: «نقول بفضل المهاجرين الأولين بعد عمر بن الخطاب
… ثم بعد هؤلاء أهل العقبة - الأنصار الذين بايعوه بيعة العقبة - ثم أهل بَدْرٍ ثم أهل المشاهد مشهداً مشهداً، وأهل كل مشهد أفضل من المشهد الذي بعده حتى يبلغ الأمر إلى الحُديبية، فكل من تقدَّم ذكره من المهاجرين والأنصار رضي الله عنهم إلى تمام بيعة الرضوان فإنا نقطع على غيب قلوبهم أنم كلهم مؤمنون صالحون، ماتوا كلهم على الإيمان والهُدَى والبر، كلهم من أهل الجنة، لا يلج أحد منهم النار» (2).
وقال شارح " مسلَّم الثبوت: «إنَّ عدالة الصحابة مقطوعة لا سيما أصحاب البدر، وبيعة الرضوان كيف لا وقد أثنى الله تعالى عليهم في مواضع عديدة من كتابه، وبَيَّنَ رسول الله صلى الله عليه وسلم فضائلهم غير مَرَّةٍ» (3).
وقد ورد في الصحابة ما يوجب لهم العدالة، ويجعلهم في ذروة الثقة والائتمان، فقد زكَّاهُمْ الله تعالى ورسوله، وتقبَّلت الأُُمَّةُ ذلك بالإجماع من هذا قوله عز وجل:
--------------------------------------------
সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা: সাহাবীদের সুউচ্চ মর্যাদা, তাঁদের আমানতদারি ও ইখলাস, দ্বীন ও এর বিধানাবলির প্রতি তাঁদের গভীর আগ্রহ এবং এর প্রতিরক্ষায় তাঁদের অবদানের কারণে আহলে সুন্নাত তাঁদের সকলের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে তাঁদের মধ্য থেকে এমন স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তি ব্যতীত যাঁদের থেকে এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা তাঁদের ন্যায়পরায়ণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে—যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর অটল থাকতে পারেননি। তাঁদের সংখ্যা এক হাতের আঙুলের চেয়ে বেশি নয় (১)। সুতরাং কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করার ভয়ে কারও পক্ষে তাঁদের এই সীমা অতিক্রম করা বৈধ নয়, যে কুরআন ও সুন্নাহ তাঁদের সকলের ন্যায়পরায়ণতাকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে।
ইবনে হাজম বলেন: «আমরা উমর ইবনুল খাত্তাবের পরে প্রথম হিজরতকারী (মুহাজিরুন আল-আউয়ালীন)-দের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলি
… অতঃপর আকাবাবাসী আনসারদের কথা—যাঁরা আকাবায় তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন—অতঃপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের কথা, এরপর প্রতিটি যুদ্ধের অংশগ্রহণকারীদের কথা। পূর্ববর্তী প্রতিটি যুদ্ধের অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের পরবর্তী যুদ্ধের অংশগ্রহণকারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যতক্ষণ না বিষয়টি হুদায়বিয়া পর্যন্ত পৌঁছায়। সুতরাং বায়আতে রিদওয়ান সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে যাঁদের কথা উল্লেখ করা হলো, আমরা তাঁদের অন্তরের অদৃশ্য বিষয়ের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে, তাঁরা সকলেই মুমিন ও সৎকর্মশীল ছিলেন। তাঁরা সকলেই ঈমান, হিদায়াত ও পুণ্যের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁরা সকলেই জান্নাতী, তাঁদের কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবেন না» (২)।
"মুসাল্লাম আল-সুবুত"-এর ব্যাখ্যাকারী বলেন: «নিশ্চয়ই সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত, বিশেষ করে বদর এবং বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে। এটি কেনই বা হবে না, অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের বহু স্থানে তাঁদের প্রশংসা করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিকবার তাঁদের ফযিলত বর্ণনা করেছেন» (৩)।
সাহাবীদের ব্যাপারে এমন সব বর্ণনা এসেছে যা তাঁদের ন্যায়পরায়ণতাকে আবশ্যক করে দেয় এবং তাঁদেরকে নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বস্ততার সর্বোচ্চ শিখরে আসীন করে। কেননা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল তাঁদের বিশুদ্ধতা ঘোষণা করেছেন এবং উম্মত ঐকমত্যের সাথে তা গ্রহণ করেছে। মহান আল্লাহর এই বাণী এর অন্তর্ভুক্ত:
--------------------------------------------