(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: -)
الثاني من الفوائد المنتقاة لابن السماك   (ابن السماك)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الثاني من الفوائد المنتقاة لابن السماك ويليه من حديث دعلج للحمامي

المؤلف: عثمان بن أحمد بن عبيد الله بن يزيد، أبو عمرو الدقاق، ابن السَّمَّاك (ت 344هـ)

ملاحظة: حديث ابن دعلج يبدأ من رقم (52) .

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 75

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে আস-সাম্মাকের আল-ফাওয়ায়িদ আল-মুনতাকাহ-এর দ্বিতীয় খণ্ড   (ইবনে আস-সাম্মাক)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ইবনে আস-সাম্মাকের আল-ফাওয়ায়িদ আল-মুনতাকাহ-এর দ্বিতীয় খণ্ড এবং এর পরবর্তী অংশ আল-হাম্মামির নিকট থেকে দা'লাজের হাদিস

লেখক: উসমান বিন আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ, আবু আমর আদ-দাক্কাক, ইবনে আস-সাম্মাক (মৃত্যু ৩৪৪ হিজরি)

দ্রষ্টব্য: ইবনে দা'লাজের হাদিস নম্বর (৫২) থেকে শুরু হয়েছে ।

প্রকাশক: ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের বিনামূল্যে বিতরিত 'জাওয়ামিউল কালিম' সফটওয়্যারে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৫

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১)
الثَّانِي مِنَ الْفَوَائِدِ الْمُنْتَقَاةِ رِوَايَةُ أَبِي عَمْرٍو عُثْمَانَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الدَّقَّاقِ، الْمَعْرُوفِ بِابْنِ السَّمَّاكِ.

وَفِيهِ مِنْ حَدِيثِ دَعْلَجٍ، وَحَدِيثٍ عَنِ ابْنِ قَانِعٍ، وَالآدَمِيِّ.

رِوَايَةُ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ الْحَمَامِيِّ الْمُقْرِئِ، عَنْهُمْ.

رِوَايَةُ الْحَاجِبِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْعَلافِ الْمُقْرِئِ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ الْمَشَايِخِ الثَّلاثَةِ: أَبِي الْمَكَارِمِ الْمُبَارَكِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَادِرَائِيِّ، وَأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْصُورٍ الْمَوْصِلِيِّ، وَأَبِي بَكْرٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُّورِ، كِلاهُمَا عَنِ الْعَلافِ.

رَوَاهُ عَنْهُمُ الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْغَنِيِّ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمَقْدِسِيُّ، أَبْقَاهُ اللَّهُ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
আল-ফাওয়াইদুল মুনতাকাহ (নির্বাচিত উপকারিতা) এর দ্বিতীয় অংশ, যা আবু আমর উসমান ইবন আহমদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াজিদ আদ-দাক্কাক এর বর্ণনা, যিনি ইবনুল সাম্মাক নামে পরিচিত।

এতে দা’লাজ-এর হাদিস এবং ইবন কানি’ ও আল-আদামি থেকে বর্ণিত হাদিস রয়েছে।

তাদের থেকে আবু আল-হাসান আলি ইবন আহমদ ইবন উমর ইবন হাফস আল-হামামি আল-মুকরির বর্ণনা।

তার থেকে আল-হাজিব আবু আল-হাসান আলি ইবন মুহাম্মাদ ইবন আলি ইবনুল আল্লাফ আল-মুকরির বর্ণনা।

তিন শায়খের বর্ণনা: আবু আল-মাকারিম আল-মুবারক ইবন মুহাম্মাদ আল-বাদিরায়ি, আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবন মানসুর আল-মাওসিলি এবং আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমদ ইবনুন নাক্কুর; তারা উভয়ই আল-আল্লাফ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন শায়খ ইমাম হাফিজ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনি ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আলি আল-মাকদিসি, আল্লাহ তাকে দীর্ঘজীবী করুন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও কোনো শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ شَيْخُ الإِسْلامِ فَخْرُ الْمُحَدِّثِينَ وَكَبِيرٌ مِنَ الْحُفَّاظِ تَقِيُّ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْغَنِيِّ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ سُرُورٍ الْمَقْدِسِيُّ الصَّالِحِيُّ، جَزَاهُ اللَّهُ خَيْرًا، قَالَ: أنبا الشَّيْخُ الثِّقَةُ أَبُو الْمَكَارِمِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُعَمَّرِ الْبَادِرَائِيُّ، وَالشَّيْخُ الأَمِينُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُّورِ، وَالشَّيْخُ أَبُو الْمَعَالِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْمُهَنْدِسِ، وَالشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ الْمَوْصِلِيُّ، بِبَغْدَادَ، قَالُوا: أَخْبَرَنَا الْحَاجِبُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَلافِ الْمُقْرِئُ، أنبا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْحَمَامِيُّ، قِيلَ لَهُ حَدَّثَكُمْ أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الدَّقَّاقُ، سَنَةَ أَرْبَعٍ وَأَرْبَعِينَ وَثَلاثِمِائَةٍ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعُطَارِدِيُّ الْكُوفِيُّ، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: يَا ابْنَ أُخْتِي،‌‌ كَانَ أَبَوَاكَ، تَعْنِي أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه وَالزُّبَيْرَ مِنَ " {الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِنْ بَعْدِ مَا أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ} [آل عمران: 172] ".

قَالَ: لَمَّا انْصَرَفَ الْمُشْرِكُونَ مِنْ أُحُدٍ، وَأَصَابَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ مَا أَصَابَهُمْ خَافَ أَنْ يَرْجِعُوا، فَقَالَ: مَنْ يَنْتَدِبُ لِهَؤُلاءِ فِي آثَارِهِمْ حَتَّى يَعْلَمُوا أَنَّ بِنَا قُوَّةً؟ قَالَ: وَانْتُدِبَ أَبُو بَكْرٍ وَالزُّبَيْرُ فِي سَبْعِينَ، فَخَرَجُوا فِي آثَارِ الْقَوْمِ، فَسَمِعُوا بِهِمْ، قَالَ: فَانْصَرَفُوا بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ، قَالَ: لَمْ يَلْقَوْا عَدُوًّا
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, আলেম, হাফিজ, শাইখুল ইসলাম, মুহাদ্দিসগণের গৌরব এবং হাফিজগণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনি ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আলী ইবন সুরূর আল-মাকদিসি আস-সালিহি—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য শাইখ আবুল মাকারিম আল-মুবারক ইবন আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-মুয়াম্মার আল-বাদিরায়ী, এবং আমানতদার শাইখ আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আন-নাক্কুর, এবং শাইখ আবুল মাআলি আহমাদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আল-মুহান্দিস, এবং শাইখ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন মানসুর ইবন হিবাতুল্লাহ ইবন আল-মাওসিলি বাগদাদে, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাজিব আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-আল্লাফ আল-মুকরি, সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবন আহমাদ ইবন উমর আল-হামামি, তাঁকে বলা হয়েছিল যে আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ আদ-দাক্কাক ৩৪৪ হিজরি সনে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন আব্দুল জাব্বার আল-উতারিদি আল-কুফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, হিশাম ইবন উরওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: ওহে আমার ভাগ্নে, তোমার দুই পিতাই—অর্থাৎ আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও যুবাইর—তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা "আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছিল তাদের নিকট আঘাত পৌঁছানোর পর" [সূরা আলি ইমরান: ১৭২]।

তিনি বলেন: যখন মুশরিকরা উহুদ প্রান্তর থেকে ফিরে গেল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ যে বিপদের সম্মুখীন হওয়ার তা হলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আশঙ্কা করলেন যে তারা আবারও ফিরে আসতে পারে। তখন তিনি বললেন: "কারা এই লোকগুলোর পশ্চাদ্ধাবনে প্রস্তুত আছো যাতে তারা জানতে পারে যে আমাদের মাঝে শক্তি অবশিষ্ট আছে?" তিনি বলেন: তখন আবু বকর ও যুবাইর সত্তর জন সাহাবীর সাথে এই অভিযানের জন্য প্রস্তুত হলেন। তাঁরা সেই কওমের (মুশরিকদের) পশ্চাদ্ধাবনে বের হলেন এবং তারা তাঁদের আগমনের কথা শুনতে পেল। তিনি বলেন: অতঃপর তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত ও অনুগ্রহ নিয়ে ফিরে এলেন। তিনি বলেন: তাঁদেরকে কোনো শত্রুর মোকাবিলা করতে হয়নি।
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ أَبِي الْحُوَيْرِثِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: " ‌‌{أَرِنَا اللَّهَ جَهْرَةً} [النساء: 153] ، يَقُولُ: عَيَانًا "
২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আব্দুল জাব্বার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুআবিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন তাহমান, তিনি আবুল হুওয়াইরিস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে: " {আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহকে দেখান} [আন-নিসা: ১৫৩], তিনি বলেন: সচক্ষে "
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، ثنا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ يَثِيعَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه، قَالَ: "‌‌ بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حِينَ نَزَلَتْ بَرَاءَةٌ: أَنْ لا يَطُوفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ "
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদিল জাব্বার, তিনি বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে বুকাইর আশ-শাইবানি থেকে, তিনি যাকারিয়্যা ইবনে আবি যাইদাহ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি যাইদ ইবনে ইয়াসি' থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে, তিনি বলেন: "‌‌ নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) আমাকে পাঠিয়েছেন যখন সূরা বারাআত অবতীর্ণ হলো: যেন কোনো উলঙ্গ ব্যক্তি কাবাঘর তাওয়াফ না করে। "
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدَ، عَنِ ابْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ:‌‌ مَرَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم فِي ثَمَانِي عَشْرَةَ مِنْ رَمَضَانَ عَلَى رَجُلٍ يَحْتَجِمُ، فَقَالَ: «أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ»
৪ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবন আবু হিন্দ থেকে, তিনি ইবন যাইদ থেকে, তিনি আবুল আশআস আস-সানআনী থেকে, তিনি শাদ্দাদ ইবন আওস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের আঠারো তারিখে এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যে শিঙা লাগাচ্ছিল, তখন তিনি বললেন: "শিঙা দানকারীর রোজা ভেঙে গেছে এবং যার শিঙা লাগানো হচ্ছে তারও।"
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عَبدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «لَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ‌‌ يَقِفُ عَلَى بَعِيرٍ لَهُ بِعَرَفَاتٍ مِنْ بَيْنِ قَوْمِهِ، حَتَّى يَدْفَعَ مَعَهُمْ تَوْفِيقًا مِنَ اللَّهِ عز وجل لَهُ»
৫ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনু বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান ইবনু আবু সুলাইমান থেকে, তিনি নাফি ইবনু জুবাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যখন তিনি আরাফাতের ময়দানে তাঁর কওমের লোকদের মাঝে তাঁর একটি উটের ওপর অবস্থান করছিলেন, যতক্ষণ না তিনি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীক লাভে তাঁদের সাথে প্রস্থান করেন তাঁর জন্য।»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى عِيسَى بْن عَبْدِ اللَّهِ رُغَاثٌ، ثنا يَزِيدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ جَنْزَةَ الْمَدَائِنِيُّ، ثنا الرَّبِيعُ بْنُ بَدْرٍ، عَنْ أَيُّوبَ السِّخْتِيَانِيِّ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: ‌‌«تَقْرَءُونَ خَلْفَ الإِمَامِ؟» فَقُلْنَا: إِنَّ فِينَا مَنْ يَقْرَأُ.

قَالَ: «فَبِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ»
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসা ঈসা ইবনে আবদুল্লাহ রুগাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে উমর ইবনে জানজাহ আল-মাদায়িনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবী ইবনে বদর, আইয়ুব আস-সিখতিয়ানি থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: «তোমরা কি ইমামের পিছনে কিরাত পাঠ করো?» আমরা বললাম: আমাদের মধ্যে এমন লোক আছে যে কিরাত পাঠ করে।

তিনি বললেন: «তবে কেবল সূরা ফাতেহা পাঠ করো।’
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رغاث، ثنا يَزِيدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ جَنْزَةَ الْمَدَائِنِيُّ، ثنا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ وَفَاتِهِ بِثَلاثٍ، فَقَالَ: ‌‌«لا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلا وَهُوَ حَسَنُ الظَّنِّ بِاللَّهِ»
৭ - আমাদের নিকট ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ রুগাথ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে উমর ইবনে জানজাহ আল-মাদায়িনী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উমর ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি ইকরামা ইবনে আম্মার থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের তিন দিন পূর্বে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি বললেন: «তোমাদের কেউ যেন আল্লাহ সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করা ব্যতীত মৃত্যুবরণ না করে»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ غَالِبٍ الْبَصْرِيُّ ، غُلامُ خَلِيلٍ، ثنا بَكَّارُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السِّيرِينِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنِي الْعَبَادِلَةُ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالُوا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْقَاصُّ يَنْتَظِرُ اللَّعْنَةَ، وَالْمُسْتَمِعُ يَنْتَظِرُ الرَّحْمَةَ، وَالتَّاجِرُ يَنْتَظِرُ الرِّزْقَ، وَالْمُحْتَكِرُ يَنْتَظِرُ اللَّعْنَةَ ، وَالنَّائِحَةُ وَمَنْ حَوْلَهَا مِنِ امْرَأَةٍ مُجْتَمِعَةٍ عَلَيْهِنَّ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ»
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন গালিব আল-বাসরি, গুলাম খলিল; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাক্কার বিন মুহাম্মদ বিন আস-সিরিনি, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুজাহিদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে; তিনি বলেন, আমার নিকট আব্বাদিলা (চার আব্দুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন: আব্দুল্লাহ বিন উমর, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস, আব্দুল্লাহ বিন আমর এবং আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবাইর; তাঁরা বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «গল্পকার লানতের প্রতীক্ষা করে, আর শ্রবণকারী রহমতের প্রতীক্ষা করে; ব্যবসায়ী রিজিকের প্রতীক্ষা করে, আর পণ্য মজুদকারী লানতের প্রতীক্ষা করে, এবং বিলাপকারিণী নারী ও তার আশেপাশে সমবেত হওয়া নারীদের ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং সকল মানুষের লানত বর্ষিত হোক।’
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي دَاوُدَ الْمُنَادِي، ثنا أَبُو بَدْرٍ شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ مِهْرَانَ الأَعْمَشُ، عَنْ شِمْرِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ سَعْدِ بْنِ الأَخْرَمِ، عَنْ أَبِيهِ.

قَالَ عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا تَتَّخِذُوا الضَّيْعَةَ فَتَرْغَبُوا فِي الدُّنْيَا» .

قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: وَبَرَاذَانُ مَا بَرَاذَانُ، وَبِالْمَدِينَةِ مَا بِالْمَدِينَةِ
৯ - আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু দাউদ আল-মুনাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বদর শুজা ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে মিহরান আল-আ'মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শিমর ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে সাদ ইবনুল আখরাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসউদ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা ভূ-সম্পত্তি বা জমি-জায়গা আঁকড়ে ধরো না, অন্যথায় তোমরা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে»।

আবদুল্লাহ বলেন: আর বারাজান, বারাজানে যা আছে তা; এবং মদিনা, মদিনায় যা আছে তা।
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي دَاوُدَ الْمُنَادِي، ثنا أَبُو بَدْرٍ شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثنا سُلَيْمَانَ بْنُ مِهْرَانَ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَلْجَنَّةُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ، وَالنَّارُ مِثْلُ ذَلِكَ»
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি দাউদ আল-মুনাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বদর শুজা ইবনুল ওয়ালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে মিহরান শাকিক ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই জান্নাত তোমাদের কারো জুতার ফিতার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী, আর জাহান্নামও তদ্রূপ»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو قِلابَةَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا عُبَّيْسُ بْنُ مَرْحُومٍ الْعَطَّارُ، ثنا عَبْدُ الْمُهَيْمِنُ بْنُ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا صَلاةَ لِمَنْ لا وُضُوءَ لَهُ، وَلا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ، وَلا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ إِلا مَنْ يُؤْمِنُ بِي، وَلا يُؤْمِنُ بِي مَنْ لا يُحِبُّ الأَنْصَارَ»
১১ - আমাদের নিকট আবু কিলাবাহ আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, উবাইস ইবনে মারহুম আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মুহাইমিন ইবনে আব্বাস ইবনে সাহল ইবনে সাদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যার ওযু নেই তার সালাত নেই, এবং যে ব্যক্তি ওযুর শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করেনি তার ওযু নেই। আর আল্লাহর প্রতি কেউ ঈমান রাখে না সে ব্যতীত যে ঈমান রাখে আমার প্রতি, এবং যে ব্যক্তি আনসারদের ভালোবাসে না সে আমার প্রতি ঈমান রাখে না।»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ خَلْفٍ الْمَرْوَزِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ بِشْرٍ، ثنا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ مَاتَ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ حَاجًّا، لَمْ يَعْرِضْهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَمْ يُحَاسِبْهُ»
১২ - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন খালাফ আল-মারওয়াজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মা'শার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে মৃত্যুবরণ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে (হিসাব গ্রহণের জন্য) পেশ করবেন না এবং তার কোনো হিসাব গ্রহণ করবেন না।»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْمَرْوَزِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ بِشْرٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُوَيْسٍ الْمَدِينِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَتَزَوَّجَ امْرَأَةً فَلْيَسْأَلْ عَنْ شَعَرِهَا كَمَا يَسْأَلُ عَنْ وَجْهِهَا، فَإِنَّ الشَّعَرَ أَحَدُ الْجَمَالَيْنِ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আল-মারওয়াযী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে বিশর, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে উওয়াইস আল-মাদিনী, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহ করার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন তার চুল সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করে যেমন সে তার চেহারা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। কেননা চুল হলো দুই সৌন্দর্যের একটি ।”
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ الصُّغْدِيُّ، ثنا خَالِدُ بْنُ عَمْرٍو السِّلَفِيُّ، ثنا يَمَانُ بْنُ عَدِيٍّ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، أَوْ قَالَ: أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ.

أَبُو عَلِيٍّ شَكَّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمَذَانِيِّ، عَنْ أَبِي حَيَّةَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عليه السلام، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ مَا مِنْ أُمَّتِي مِنْ أَحَدٍ تُولَدُ لَهُ جَارِيَةٌ فَلَمْ يَسْخَطْ مَا خَلَقَ اللَّهُ إِلا هَبَطَ مَلَكٌ مِنَ السَّمَاءِ، لَهُ جَنَاحَانٍ أَخْضَرَانِ مُوَشَّحٌ بِالدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ، فِي سُلَّمٍ مِنْ دُرٍّ يَدُفُّ مِنْ دَرَجَةٍ إِلَى دَرَجَةٍ حَتَّى يَأْتِيَهَا بِالْبَرَكَةِ فَيَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهَا، وَجَنَاحَهُ عَلَى جَسَدِهَا، ثُمَّ يَقُولُ: بِسْمِ اللَّهِ ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ، نِعْمَ الْخَالِقُ اللَّهُ، ضَعِيفَةٌ خَرَجَتْ مِنْ ضَعِيفٍ، الْمُنْفِقُ عَلَيْهَا مُعَانٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ "
১৪ - আইয়ুব ইবনে সুলায়মান আস-সুগদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে আমর আস-সিলাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়ামান ইবনে আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ সুফইয়ান আস-সাওরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অথবা তিনি বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ, সুফইয়ান আস-সাওরী থেকে।

আবু আলী (বর্ণনাকারী) সন্দেহ পোষণ করেছেন, আবু ইসহাক আল-হামাদানি থেকে, তিনি আবু হাইয়্যাহ ইবনে কায়স থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "‌‌আমার উম্মতের এমন কেউ নেই যার কোনো কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় এবং সে আল্লাহর সৃষ্টির ওপর অসন্তুষ্ট হয় না, তবে আসমান থেকে এমন একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হন যার দুটি সবুজ ডানা রয়েছে যা মুক্তা ও ইয়াকুত পাথর দ্বারা সুশোভিত। তিনি মুক্তার তৈরি সিঁড়ি বেয়ে এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে ধীরপদে নেমে আসেন যতক্ষণ না তিনি তার (কন্যাটির) নিকট বরকত নিয়ে উপস্থিত হন। অতঃপর তিনি তার হাত তার মাথার ওপর রাখেন এবং তার ডানা তার দেহের ওপর রাখেন। তারপর বলেন: আল্লাহর নামে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আমার রব এবং তোমার রব হলেন আল্লাহ, আল্লাহ কতই না উত্তম স্রষ্টা; এক দুর্বল সত্তা থেকে এক দুর্বল সত্তা নির্গত হয়েছে। যে ব্যক্তি তার পেছনে ব্যয় করবে সে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।"
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، أنبا الْجَرَّاحُ بْنُ الضَّحَّاكِ الْكِنْدِيُّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ» .

قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: فَذَاكَ الَّذِي أَقْعَدَنِي هَذَا الْمَقْعَدَ.

قَالَ أَبُو عَبْدِ
الرَّحْمَنِ: فَضْلُ الْقُرْآنِ عَلَى سَائِرِ الْكَلامِ كَفَضْلِ الرَّبِّ عَلَى خَلْقِهِ، وَذَلِكَ أَنَّهُ مِنْهُ.

قَالَ أَبُو بَكْرٍ يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ: مَنْ زَعَمَ أَنَّ الْقُرْآنَ مَخْلُوقٌ فَهُوَ كَافِرٌ، وَمَنْ زَعَمَ أَنَّ الإِيمَانَ مَخْلُوقٌ فَهُوَ مُبْتَدِعٌ، وَالْقُرْآنُ بِكُلِّ جِهَةٍ غَيْرُ مَخْلُوقٍ
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন সুলায়মান আর-রাযী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-জাররাহ বিন আদ-দাহহাক আল-কিন্দি, তিনি আলকামা বিন মারসাদ হতে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী হতে, তিনি উসমান বিন আফফান হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা অন্যকে শিক্ষা দেয়»।

আবু আব্দুর রহমান বলেন: আর এই কথাটিই আমাকে এই আসনে বসিয়েছে।

আবু আব্দুর রহমান বলেন: সকল বাণীর উপর কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন তাঁর সৃষ্টির উপর রবের শ্রেষ্ঠত্ব। আর এর কারণ হলো, এটি তাঁর পক্ষ থেকে (আগত)।

আবু বকর ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব বলেন: যে ব্যক্তি দাবি করে যে কুরআন সৃষ্ট, সে কাফির। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে ঈমান সৃষ্ট, সে বিদআতী। আর কুরআন সর্বদিক থেকেই অসৃষ্ট।
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْقُرَشِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، ثنا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: "‌‌ كَانَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ لا يَأْتِيهِ أَحَدٌ يَسْتَسْلِفُهُ شَيْئًا إِلا أَسْلَفَهُ إِيَّاهُ بِكَفِيلٍ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ، فَقَالَ: أَسْلِفْنِي سِتَّمِائَةِ دِينَارٍ.

فَقَالَ: ائْتِنِي بِكَفِيلٍ.

قَالَ: اللَّهُ عز وجل كَفِيلِي.

قَالَ: قَدْ رَضِيتُ.

فَأَعْطَاهُ سِتَّمِائَةِ دِينَارٍ، وَضَرَبَ لَهُ أَجَلا، وَخَرَجَ الرَّجُلُ إِلَى الْبَحْرِ، فَلَمَّا جَاءَ الأَجَلُ جَعَلَ الرَّجُلُ يَخْتَلِفُ إِلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ، يَسْأَلُ عَنِ الرَّجُلِ، فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَلْقَى إِلَيْهِ الْبَحْرُ خَشَبَةً، فَأَخَذَهَا، فَانْطَلَقَ بِهَا إِلَى مَنْزِلِهِ، فَكَسَرَهَا، فَإِذَا فِيهَا الدَّنَانِيرُ، وَمَعَهَا كِتَابٌ، أَنِّي قَدْ دَفَعْتُ الدَّنَانِيرَ إِلَى الْكَفِيلِ.

قَالَ: ثُمَّ لَمْ يَلْبَثْ أَنْ قَدِمَ الرَّجُلُ، فَقَالَ: أَنْطَلِقُ حَتَّى أَدْفَعَهَا إِلَيْكَ.

فَلَمَّا جَاءَ بِالدَّنَانِيرِ لِيَدْفَعَهَا إِلَيْهِ، قَالَ: أَمَا إِنَّ الْكَفِيلَ قَدْ أَدَّاهَا إِلَيَّ ".

قَالَ: أَبُو هُرَيْرَةَ كُنَّا نَتَعَجَّبُ أَيُّ الرَّجُلَيْنِ أَقْوَى يَقِينًا وَآمَنُ
১৬ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু খালিদ আব্দুল আজিজ ইবনে মুয়াবিয়া আল-কুরাশি, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি আবু আওয়ানা থেকে, তিনি উমর ইবনে আবি সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "‌‌বনী ইসরাঈলের এক লোক ছিল, তার কাছে কেউ কোনো কিছু ঋণ চাইতে আসলে সে জামিনদার ছাড়া তাকে ঋণ দিত না। তখন এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল: আমাকে ছয়শ দিনার ঋণ দিন।

তিনি বললেন: আমার কাছে একজন জামিনদার নিয়ে এসো।

সে বলল: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল-ই আমার জামিনদার।

তিনি বললেন: আমি এতেই সন্তুষ্ট হলাম।

অতঃপর তিনি তাকে ছয়শ দিনার দিলেন এবং তার জন্য একটি মেয়াদ নির্ধারণ করে দিলেন। লোকটি সমুদ্রের দিকে (সফরে) বেরিয়ে পড়ল। যখন মেয়াদের সময় উপস্থিত হলো, তখন (ঋণদাতা) লোকটি সমুদ্র উপকূলে যাতায়াত করতে লাগল এবং লোকটির বিষয়ে খোঁজ নিতে লাগল। সে যখন এই অবস্থায় ছিল, হঠাৎ সমুদ্র তার দিকে একটি কাঠের টুকরো নিক্ষেপ করল। সে সেটি গ্রহণ করল এবং তা নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরল। অতঃপর সে সেটি ভাঙল এবং তার ভেতরে দিনারগুলো পেল, আর তার সাথে একটি চিরকুট ছিল (যাতে লেখা ছিল) যে, আমি জামিনদারের নিকট দিনারগুলো সোপর্দ করেছি।

বর্ণনাকারী বলেন: এরপর অল্প সময় পরেই সেই লোকটি (ঋণগ্রহীতা) ফিরে এল এবং বলল: আমি আপনার কাছে দিনারগুলো পৌঁছে দিতে এসেছি।

যখন সে দিনারগুলো তাকে দেওয়ার জন্য নিয়ে এল, তখন তিনি (ঋণদাতা) বললেন: শোনো, জামিনদার ইতোমধ্যেই তা আমার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।"

আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমরা বিস্ময় প্রকাশ করতাম যে, এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কার ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) অধিক শক্তিশালী এবং কে অধিক আমানতদার ছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُنَيْنٍ الْخُتُلِّيُّ، ثنا خَالِدُ بْنُ مِرْدَاسٍ، ثنا مُعَلَّى بْنُ هِلالٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ قَادَ مَكْفُوفًا أَرْبَعِينَ ذِرَاعًا كَانَ كَعِدْلِ عَتَاقِ رَقَبَةٍ»

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْكُوفِيُّ، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ أَبِي الْحُوَيْرِثِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى " أَرِنَا. . . . . . . . . . . كُلّ حُزْنٍ يَبْلَى إِلا حُزْنُ التَّائِبِ عَلَى ذُنُوبِهِ.
১৭ - ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন সুনাইন আল-খুতুল্লি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, খালিদ বিন মিরদাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুআল্লা বিন হিলাল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান আত-তাইমি থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো অন্ধ ব্যক্তিকে চল্লিশ হাত পথ পথপ্রদর্শন করে নিয়ে যায়, তা একটি দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে»

আহমাদ বিন আব্দুল জাব্বার আল-কুফি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন তাহমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবুল হুওয়াইরিস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহর বাণী "আমাদের দেখান . . . . . . . . . . ." প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন: প্রত্যেক দুঃখই জরাজীর্ণ হয়ে যায়, কেবল তওবাকারীর স্বীয় গুনাহের জন্য দুঃখবোধ ছাড়া।
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ، ثنا عِمْرَانُ بْنُ خَالِدِ بْنِ طَلِيقٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«النَّظَرُ إِلَى عَلِيٍّ عِبَادَةٌ»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-বাসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমরান বিন খালিদ বিন তালীক, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আলীর দিকে তাকানো ইবাদত»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২০)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو شُبَيْلٍ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَاقِدٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقُ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ شَبِيبٍ الْعَبْدِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، سُئِلَ عَنِ‌‌ الْقَوْمِ يُقْرَأُ عِنْدَهُمُ الْقُرْآنُ فَيُصْعَقُونَ؟ قَالَ: «ذَاكَ فِعْلُ الْخَوَارِجِ»
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শুবায়িল উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াকিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াররাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনুল হুবাব, শাবীব আল-আবদী হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি আনাস হতে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ঐ সম্প্রদায় সম্পর্কে যাদের নিকট কুরআন পাঠ করা হলে তারা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে? তিনি বললেন: «তা খাওয়ারিজদের কাজ»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২১)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَحْيَى بْنِ بَكَّارٍ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ النَّخَعِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْغُدَانِيُّ، ثنا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ:‌‌ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ الصَّفَا وَهُوَ مُقْبِلٌ عَلَى شَخْصٍ فِي صُورَةِ الْفِيلِ، وَهُوَ يَلْعَنُهُ.

فَقُلْتُ:
وَمَنْ هَذَا الَّذِي تَلْعَنُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «هَذَا الشَّيْطَانُ الرَّجِيمُ» .

فَقُلْتُ: وَاللَّهِ يَا عَدُوَّ اللَّهِ لأَقْتُلَنَّكَ وَلأُرِيحَنَّ الأُمَّةَ مِنْكَ.

قَالَ: مَا هَذَا جَزَائِي مِنْكَ؟ قُلْتُ: وَمَا جَزَاؤُكَ مِنِّي يَا عَدُوَّ اللَّهِ؟ قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَبْغَضَكَ أَحَدٌ قَطُّ إِلا شَرِكْتُ فِي رَحِمِ أُمِّهِ
২০ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন বক্কার, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন মুহাম্মদ আন-নাখায়ী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-গুদানী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মানসুর বিন আবুল আসওয়াদ, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী বিন আবি তালিব বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাফা পাহাড়ের নিকট দেখলাম, এমতাবস্থায় যে তিনি হাতির আকৃতি বিশিষ্ট এক ব্যক্তির দিকে মুখ করে তাকে অভিশাপ দিচ্ছিলেন।

আমি বললাম:
হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তিটি কে যাকে আপনি অভিশাপ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "এ হলো বিতাড়িত শয়তান।"

আমি বললাম: আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর শত্রু! আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব এবং উম্মতকে তোমার হাত থেকে মুক্তি দেব।

সে বলল: আপনার নিকট আমার কি এটাই প্রতিদান? আমি বললাম: হে আল্লাহর শত্রু! আমার নিকট তোমার কিসের প্রতিদান? সে বলল: আল্লাহর কসম, যে কেউ আপনাকে ঘৃণা করেছে, আমি অবশ্যই তার মায়ের জরায়ুতে (তার পিতার সাথে) শরিক হয়েছি।
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২২)
21 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الْمَدَائِنِيُّ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ خَلادِ بْنِ السَّائِبِ بْنِ خَلادٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَمَرَنِي أَنْ آمُرَ أَصْحَابِي أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالإِهْلالِ»
২১ - মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-মাদায়িনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর থেকে, তিনি খাল্লাদ ইবনে সাইব ইবনে খাল্লাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জিবরীল আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে নির্দেশ দিলেন যেন আমি আমার সাহাবীদের নির্দেশ প্রদান করি তারা যেন তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ করে।»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ حَيَّانَ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: جَاءَتِ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: إِنَّ‌‌ رِفَاعَةَ طَلَّقَنِي وَبِتَّ طَلاقِي، فَتَزَوَّجْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزُّبَيْرِ، فَإِنَّمَا مَعَهُ مِثْلُ هُدْبَةِ الثَّوْبِ.

فَقَالَ:
«أَتُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ؟ لا حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ، وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ» .

وَأَبُو بَكْرٍ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَخَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ بِالْبَابِ يَنْتَظِرُ أَنْ يُؤْذَنَ لَهُ، فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرٍ أَلا تَسْمَعُ هَذِهِ مَا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
২২ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে হাইয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রিফা'আহ-এর স্ত্রী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই রিফা'আহ আমাকে তালাক দিয়েছেন এবং আমার তালাককে চূড়ান্ত করে দিয়েছেন। এরপর আমি আবদুর রহমান ইবনে যুবায়েরকে বিয়ে করেছি, কিন্তু তার কাছে কাপড়ের ঝালরের মতো (শিথিল বস্তু) ছাড়া আর কিছুই নেই।

অতঃপর তিনি (নবীজী) বললেন:
“তুমি কি পুনরায় রিফা'আহর নিকট ফিরে যেতে চাও? না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং সে তোমার মধুর স্বাদ আস্বাদন করবে।”

সে সময় আবু বকর (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন এবং খালিদ ইবনে সাঈদ দরজায় প্রবেশের অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন। তখন খালিদ বললেন: হে আবু বকর! আপনি কি শুনছেন না এই নারী আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে কত স্পষ্টভাবে এসব কথা বলছেন!
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعَ السَّائِبَ، قَالَ: قَالَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، رحمه الله: ‌‌«هَذَا شَهْرُ زَكْوَاتِكُمْ، فَمَنْ كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ فَلْيَقْضِهِ، وَزَكُّوا بَقِيَّةَ أَمْوَالِكُمْ»
২৩ - আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আস-সাইবকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবন আফফান (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: «এটি তোমাদের জাকাত প্রদানের মাস। সুতরাং যার ওপর ঋণ রয়েছে সে যেন তা পরিশোধ করে দেয় এবং তোমরা তোমাদের অবশিষ্ট সম্পদের জাকাত আদায় করো»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ حَيَّانَ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي يَعْفُورَ الْعَبْدِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَمِيرًا كَانَ بِمَكَّةَ مُنْصَرَفَ الْحُجَّاجِ عَنْهَا سَنَةَ ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ، يَقُولُ: كَانَ عُمَرُ رَجُلا قَوِيًّا، وَكَانَ يُزَاحِمُ النَّاسَ عَلَى الرُّكْنِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا حَفْصٍ،‌‌ إِنَّكَ رَجُلٌ قَوِيٌّ، وَإِنَّكَ تُزَاحِمُ عَلَى الرُّكْنِ فَتُؤْذِي الضَّعِيفَ، فَإِذَا رَأَيْتَ خَلْوَةً فَاسْتَلِمْهُ، وَإِلا فَكَبِّرْ وَامْضِ»
২৪ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে হাইয়ান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াফুর আল-আবদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি তিয়াত্তর হিজরিতে হাজীদের মক্কা ত্যাগের সময় মক্কার জনৈক আমিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: উমর একজন শক্তিশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি রুকনের নিকট মানুষের সাথে ভিড় করতেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «হে আবু হাফস, নিশ্চয়ই তুমি একজন শক্তিশালী লোক, আর তুমি রুকনের নিকট ভিড় করো ফলে দুর্বলদের কষ্ট দাও। সুতরাং যখন তুমি ফাঁকা দেখবে তখন তা চুম্বন বা স্পর্শ করো, অন্যথায় তাকবির পাঠ করো এবং সামনে এগিয়ে যাও»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَزِيدَ الرِّيَاحِيُّ، ثنا أَبِي، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ أَبُو إِسْمَاعِيلَ الْمُؤَدِّبُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَعْرُوفٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: "‌‌ مَنْ كَانَتْ لَهُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى حَاجَةٌ، فَلْيَصُمِ الأَرْبَعَاءَ وَالْخَمِيسَ وَالْجُمُعَةَ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ تَطَهَّرَ وَرَاحَ إِلَى الْجُمُعَةِ فَتَصَدَّقَ، قُلْتُ أَوْ كَثُرَتْ، فَإِذَا صَلَّى الْجُمُعَةَ، قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِاسْمِكَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ لا إِلَهَ إِلا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ، وَأَسْأَلُكَ بِاسْمِكَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ، الَّذِي لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ، الَّذِي مَلأَتْ عَظَمَتُهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ، وَأَسَأْلُكَ بِاسْمِكَ، بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ، الَّذِي عَنَتْ لَهُ الْوُجُوهُ، وَخَشَعَتْ لَهُ الأَصْوَاتُ، وَذَلَّتْ لَهُ الْقُلُوبُ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، وَأَنْ تُعْطِيَنِي حَاجَتِي، وَهِيَ كَذَا وَكَذَا، فَإِنَّهُ يُسْتَجَابُ لَهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، وَكَانَ يُقَالُ: لا تُعَلِّمُوا هَذَا الدُّعَاءَ سُفَهَاءَكُمْ، لا يَدْعُونَ بِهِ عَلَى مَأْثَمٍ، أَوْ قَطْعِ رَحِمٍ "
২৫ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াজিদ আর-রিয়াহি, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সুলাইমান আবু ইসমাইল আল-মুয়াদ্দিব, সাঈদ ইবনে মারুফ থেকে, তিনি আমর ইবনে কায়স থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "‌‌ যার মহান আল্লাহর নিকট কোনো প্রয়োজন রয়েছে, সে যেন বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রোজা রাখে। অতঃপর যখন জুমার দিন আসবে, সে যেন পবিত্রতা অর্জন করে এবং জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে গমন করে ও দান-সদকা করে, তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি। অতঃপর যখন সে জুমার নামাজ আদায় করবে, তখন সে যেন বলে: হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আপনার নামের অসিলায় প্রার্থনা করছি; আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু; তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। আর আমি আপনার নিকট আপনার নামের অসিলায় প্রার্থনা করছি; আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু; যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক; তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না; যাঁর মহানুভবতা আসমান ও জমিনকে পরিপূর্ণ করে রেখেছে। আর আমি আপনার নিকট আপনার নামের অসিলায় প্রার্থনা করছি; আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু; যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; যাঁর নিকট সকল চেহারা অবনত হয়েছে, যাঁর সামনে সকল শব্দ নিস্তব্ধ হয়েছে এবং আল্লাহর ভয়ে অন্তরসমূহ বিনীত হয়েছে—যাতে আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং আপনি আমার অমুক অমুক প্রয়োজন পূরণ করেন। তবে আল্লাহ চাইলে তার প্রার্থনা কবুল করা হবে। আর বলা হতো: তোমরা তোমাদের নির্বোধদের এই দোয়া শিক্ষা দিও না, পাছে তারা এর মাধ্যমে কোনো পাপ কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া করে বসে।"
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَزِيدَ الرِّيَاحِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ حَاتِمٍ الطَّوِيلُ أَبُو جَعْفَرٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: لَمَّا اسْتَقَرَّتِ الدَّارُ بِالْحَجَّاجِ بْنِ يُوسُفَ وَوُضِعَ، خَرَجَ حَتَّى قَدِمْنَا وَاسِطَ وَهُوَ فِي رَحْبَةِ وَاسِطَ، وَالنَّاسُ سِمَاطَانِ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَلَيْسَ أَحَدٌ يَطْمَعُ فِي قِصَّةٍ يَذْكُرُهَا، أَوْ مَظْلَمَةٍ يَرْفَعُهَا، فَقَالَ الْحَاجِبُ حَيْثُ يَسْمَعُ الصَّوْتَ: هَذَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ.

قَالَ: مُرْهُ فَلْيَضَعْ عَنْهُ حَالَ سَفَرِهِ، قَالَ: وَأَصَرَّ لَنَا نُزُلَنَا كُلَّ يَوْمٍ أَرْبَعَةَ دَرَاهِمَ، فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الثَّالِثُ، قَالَ ذَلِكَ الْحَاجِبُ: هَذَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ.

قَالَ: مُرْهُ فَلْيَأْتِ ، فَلَمْ يُسَلِّمْ عَلَيْهِ بِالإِمْرَةِ ، فَدَعَا الْحَجَّاجُ بِمِائَةِ جَذَعٍ عَلَيْهَا مِائَةُ وَصِيفٍ عَلَيْهِمْ ذَرَعَاتُ الْحَرِيرِ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهَا، ثُمَّ دَعَا بِالرُّبْعِ، ثُمَّ دَعَا بِالْقَرَجِ عَلَيْهَا مِائَةُ وَصِيفٍ عَلَيْهِمْ ذَرَعَاتُ الْحَرِيرِ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهَا، فَقَالَ: ارْفَعْ رَأْسَكَ أَيُّهَا الشَّيْخُ، انْظُرْ إِلَيَّ مَا أَعْطَانَا اللَّهُ مِنَ الْكَرَامَةِ وَالْفَضْلِ، هَلْ كَانَ لِمُحَمَّدٍ مِثْلُ هَذَا؟ فَقَالَ: لَقَدْ عَتَيْتَ وَبَغَيْتَ وَنَسِيتَ خَيْلا إِلَى خَيْلٍ غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَرَوَاحُهَا شَهْرٌ، الْخَيْلُ ثَلاثَةُ أَفْرَاسٍ: فَرَسٌ يَتَّخِذُهُ صَاحِبُهُ يُرِيدُ أَنْ يُجَاهِدَ عَلَيْهِ فَفِي قِيَامِهِ عَلَيْهِ وَعَلْفِهِ إِيَّاهُ وَأَدَبِهِ إِيَّاهُ أَحْسَبُهُ قَالَ: وَكَسْحِ مِذْوَدِهِ أَجْرٌ فِي مِيزَانِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَهْلُهَا مُعَانُونَ عَلَيْهَا.

وَفَرَسٌ لِلشَّيْطَانِ فَقِيَامُ أَهْلِهِ عَلَيْهِ، وَذِكْرُ غَيْرِ ذَلِكَ وِزْرٌ فِي مِيزَانِهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَغَضِبَ الْحَجَّاجُ غَضَبًا شَدِيدًا، وَقَالَ: لَوْلا خِدْمَتُكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكِتَابُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ لَكَانَ لِي وَلَكَ حَالٌ.

فَقَالَ: تَهَابُ خِدْمَتِي لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكِتَابَ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ لَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، لَمَّا أَنْكَرَ صَوْتِي وَغَلُظَتْ أَرْنَبَتِي، دَعَانَي فَمَسَحَ بِيَدِهِ عَلَى رَأْسِي ثَلاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ عَلَّمَنِي كَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ: لا أَخَافُ مِنْ سُلْطَانٍ سَطْوِهِ، وَلا مِنْ جَبَّارٍ عُتُوِّهِ، وَلا مِنْ شَيْطَانٍ عُتُوِّهِ.

فَدَعَا الْحَجَّاجُ مُحَمَّدَ بْنَ يُوسُفَ، وَمُحَمَّدَ بْنَ الْحَجَّاجِ فَدَسَّ إِلَيْهِمَا مِائَتَيْ أَلْفِ دِرْهَمٍ، وَقَالَ: أَلْطِفَا الشَّيْخَ لَعَلَّكُمَا أَنْ تَظْفَرَانِ بِالْكَلِمَاتِ مِنْهُ وَلَكُمَا قَبْلِي مَزِيدٌ، فَخَرَجْنَا مِنْ وَاسِطَ لَمْ يَظْفَرِ الْحَجَّاجُ وَلا مُحَمَّدٌ بِالْكَلِمَاتِ مِنْهُ، فَلَمَّا قَدِمْنَا الْبَصْرَةَ مَرِضَ مَرْضَتَه الَّتِي مَاتَ فِيهَا، دَعَا بَابَانَ، فَقَالَ: يَا أُحَيْمِرَ عَبْدِ الْقَيْسِ قَدْ خَدَمْتَنَا فَأَحْسَنْتَ خِدْمَتَنَا فَدُونَكَ هَؤُلاءِ الْكَلِمَاتِ فَتَعَلَّمْهُنَّ، وَلا تَضَعْ أَوْ تَضَعَهَا إِلا مَوْضِعَهَا، تَكَلَّمَ بِهَا كُلَّمَا أَصْبَحْتَ، فَأَرَى شَيْئًا سَمَّاهُ فِي أَهْلِي، وَمَا لِي مَعَ لِقَاءِ الْمُؤْمِنِينَ بِالْمَوَدَّةِ أَقُولُ: ‌‌«اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، بِسْمِ اللَّهِ عَلَى دِينِي وَنَفْسِي، بِسْمِ اللَّهِ عَلَى وَلَدِي وَأَهْلِي، بِسْمِ اللَّهِ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ أَعْطَانِي رَبِّي، بِسْمِ اللَّهِ خَيْرِ الأَسْمَاءِ، بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ دَاءٌ، بِسْمِ اللَّهِ أَصْبَحْتُ، وَعَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْتُ، اللَّهُ رَبِّي لا أُشْرِكُ بِهِ أَحَدًا، قُلْ هُوَ اللَّه أَحَدٌ اللَّهُ.

إِلَى آخِرِهَا عَنْ يَمِينِي مِثْلَ ذَلِكَ، وَعَنْ شِمَالِي مِثْلَ ذَلِكَ، وَمِنْ فَوْقِي مِثْلَ ذَلِكَ، وَمِنْ تَحْتِي مِثْلَ ذَلِكَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ»
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াজিদ আল-রিয়াহি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে হাতিম আত-তবীল আবু জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে আবি আসমা, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হলো এবং সে জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করল, তখন সে বের হলো এবং শেষ পর্যন্ত আমরা ওয়াসিতে পৌঁছলাম। সে ওয়াসিতের এক বিশাল প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল, আর মানুষ তার সামনে দু'টি সারিতে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের কারো সাহস ছিল না কোনো আবেদন করার বা কোনো অন্যায়ের অভিযোগ উত্থাপন করার। তখন দ্বাররক্ষী, কণ্ঠস্বর শোনা যায় এমন স্থান থেকে বলল: এই যে আনাস ইবনে মালিক।

সে (হাজ্জাজ) বলল: তাকে আদেশ করো যাতে সে তার সফরের ক্লান্তি দূর করে নেয়। বর্ণনাকারী বলেন: সে আমাদের জন্য প্রতিদিন চার দিরহাম করে আপ্যায়নের ব্যবস্থা নির্ধারণ করে দিল। যখন তৃতীয় দিন হলো, সেই দ্বাররক্ষী পুনরায় বলল: এই যে আনাস ইবনে মালিক।

সে বলল: তাকে আসতে বলো। তখন তিনি তাকে আমীর হিসেবে সম্বোধন করে সালাম দিলেন না। এরপর হাজ্জাজ একশটি তরুণ উট আনিয়ে নিল, যার ওপর একশজন তরুণ ভৃত্য ছিল এবং তারা বিভিন্ন রঙের রেশমি পোশাক পরিহিত ছিল। এরপর সে বর্গাকার পালকি এবং ঘোড়া আনিয়ে নিল, যার ওপরও একশজন তরুণ ভৃত্য ছিল এবং তারা বিভিন্ন রঙের রেশমি পোশাক পরিহিত ছিল। অতঃপর সে বলল: হে বৃদ্ধ! আপনার মাথা তুলুন এবং আমার দিকে তাকিয়ে দেখুন আল্লাহ আমাদের কী পরিমাণ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কি এমন কিছু ছিল? তিনি বললেন: অবশ্যই তুমি অবাধ্য হয়েছ এবং সীমালঙ্ঘন করেছ। তুমি সেই ঘোড়াগুলোর কথা ভুলে গিয়েছ যাদের আগমন-প্রস্থান এক মাসের পথ ছিল? ঘোড়া তিন প্রকার: এক প্রকার ঘোড়া যা তার মালিক জিহাদ করার উদ্দেশ্যে পালন করে, যার সেবা করা, খাদ্য দেওয়া, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আমার ধারণা তিনি বলেছেন—তার আস্তাবল পরিষ্কার করা কিয়ামতের দিন তার মিজানে সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে এবং এর মালিককে এ কাজে সাহায্য করা হয়।

আর এক প্রকার ঘোড়া শয়তানের জন্য, যার পেছনে সময় ব্যয় করা এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় কিয়ামতের দিন তাদের মিজানে পাপের বোঝা হবে। তখন হাজ্জাজ অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে বলল: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আপনার খিদমত এবং আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের পত্র যদি না থাকত, তবে আপনার ও আমার মাঝে এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতো।

তিনি বললেন: তুমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আমার খিদমত এবং আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের পত্রের কারণে আমাকে ভয় দেখাচ্ছ? অথচ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আমার কণ্ঠস্বর চিনতে পেরেছিলেন এবং আমার বার্ধক্য লক্ষ্য করেছিলেন, তখন তিনি আমাকে ডেকেছিলেন এবং আল্লাহর হাত দিয়ে আমার মাথায় তিনবার হাত বুলিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি আমাকে কিছু কালিমা শিখিয়ে দিয়েছিলেন যা আমি পাঠ করি; ফলে আমি কোনো প্রতাপশালী শাসকের আক্রমণকে ভয় পাই না, কোনো অবাধ্য স্বৈরাচারকেও নয় এবং কোনো অবাধ্য শয়তানকেও নয়।

তখন হাজ্জাজ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ও মুহাম্মদ ইবনে হাজ্জাজকে ডাকল এবং তাদের হাতে দুই লক্ষ দিরহাম দিয়ে বলল: তোমরা এই বৃদ্ধের প্রতি সদয় হও, সম্ভবত তোমরা তার থেকে এই কালিমাগুলো হাসিল করতে পারবে, আর তোমাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুরস্কার থাকবে। এরপর আমরা ওয়াসিত থেকে বের হয়ে গেলাম কিন্তু হাজ্জাজ বা মুহাম্মদ কেউই তার কাছ থেকে সেই কালিমাগুলো শিখতে পারল না। যখন আমরা বসরায় আসলাম এবং তিনি সেই অসুস্থতায় পড়লেন যাতে তাঁর মৃত্যু হলো, তখন তিনি বাবানকে ডাকলেন এবং বললেন: হে আবদিল কাইস গোত্রের লাল বর্ণের লোক! তুমি আমাদের খিদমত করেছ এবং অত্যন্ত ভালোভাবে করেছ। অতএব তুমি এই কালিমাগুলো গ্রহণ করো এবং এগুলো শিখে নাও। এগুলোকে এর উপযুক্ত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোথাও রেখো না। প্রতিদিন ভোরে তুমি এগুলো পাঠ করবে। আমি আমার পরিবার এবং ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে যা কিছু ভালোবাসি তা এর মাধ্যমে নিরাপদ দেখতে পাই। মুমিনদের সাথে মহব্বতের সাথে সাক্ষাতের জন্য আমি বলি: «আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আমার দ্বীন ও আমার প্রাণের ওপর আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমার সন্তান ও আমার পরিবারের ওপর আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমার রব আমাকে যা কিছু দান করেছেন তার সবকিছুর ওপর আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ নামের অধিকারী। আল্লাহর নামে শুরু করছি যাঁর নামের বরকতে কোনো রোগ ক্ষতি করতে পারে না। আল্লাহর নামে আমি সকাল করলাম এবং আল্লাহর ওপরই আমি তাওয়াক্কুল করলাম। আল্লাহ আমার রব, আমি তাঁর সাথে কাউকে শরিক করি না। বলো, তিনি আল্লাহ এক...

শেষ পর্যন্ত (সুরা ইখলাস)। আমার ডান দিক থেকেও অনুরূপ, আমার বাম দিক থেকেও অনুরূপ, আমার ওপর থেকেও অনুরূপ এবং আমার নিচ থেকেও অনুরূপ। আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর।»
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ عُمَرَ الْعُطَارِدِيُّ، ثنا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ الأَزْهَرِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ: لَمَّا كَانَ شَأْنُ بَنِي قُرَيْظَةَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِمْ عَلِيًّا عليه السلام فِيمَنْ كَانَ عِنْدَهُ مِنَ النَّاسِ، فَلَمَّا انْتَهَى إِلَيْهِمْ وَقَعُوا فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَجَاءَ جِبْرِيلُ عليه السلام عَلَى فَرَسٍ أَبْلَقَ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهَا: فَلَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ الْغُبَارَ عَنْ وَجْهِ جِبْرِيلَ عليه السلام، فَقُلْتُ:‌‌ هَذَا دِحْيَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ.

فَقَالَ: «هَذَا جِبْرِيلُ عليه السلام» .

قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يَمْنَعُكَ مِنْ بَنِي
قُرَيْظَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَكَيْفَ لِي بِحِصْنِهِمْ؟» فَقَالَ جِبْرِيلُ: فَإِنِّي أُدْخِلُ فَرَسِي هَذَا عَلَيْهِمْ، فَرَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَسًا مَعْرُورِيَّةً، فَلَمَّا رَآهُ عَلِيٌّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لا عَلَيْكَ، أَلا تَأْتِيهِمْ فَإِنَّهُمْ يَشْتُمُونَكَ.

فَقَالَ: «كَلا إِنَّهَا سَتَكُونُ تَحِيَّةً» .

فَأَتَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «يَا إِخْوَةَ الْقِرَدَةِ وَالْخَنَازِيرِ» .

فَقَالُوا: يَا أَبَا الْقَاسِمِ مَا كُنْتَ فَاحِشًا.

فَقَالُوا: لا نَنْزِلُ عَلَى حُكْمِ مُحَمَّدٍ، وَلَكِنَّا نَنْزِلُ عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ.

فَنَزَلَ فَحَكَمَ فِيهِمْ أَنْ تُقْتَلَ مُقَاتِلَتُهُمْ، وَتُسْبَى ذَرَارِيُّهُمْ.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بِذَلِكَ طَرَقَنِي الْمَلِكُ سَحَرًا» .

فَنَزَلَ فِيهِمْ: " {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [الأنفال: 27] ".

نَزَلَتْ فِي أَبِي لُبَابَةَ، أَشَارَ إِلَى بَنِي قُرَيْظَةَ حِينَ قَالُوا نَنْزِلُ عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ: لا تَفْعَلُوا؛ فَإِنَّهُ الذَّبْحُ.

وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى حَلْقِهِ
২৭ - আবু উমর আহমাদ ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে উমর আল-উতারিদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইউনুস ইবনে বুকাইর আশ-শাইবানি আনবাসাহ ইবনে আল-আযহার থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন বনু কুরাইজার ঘটনা ঘটল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিকট উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে আলী আলাইহিস সালামকে তাদের কাছে পাঠালেন। তিনি যখন তাদের নিকট পৌঁছালেন, তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কটু কথা বলতে লাগল। এমতাবস্থায় জিবরীল আলাইহিস সালাম একটি চিত্রবিচিত্র (সাদা-কালো) ঘোড়ায় চড়ে আসলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিবরীল আলাইহিস সালামের মুখমণ্ডল থেকে ধুলোবালি মুছতে দেখছিলাম। তখন আমি বললাম:‌‌ হে রাসূলুল্লাহ! এ তো দিহইয়া।

তিনি বললেন: «ইনি জিবরীল আলাইহিস সালাম»।

তিনি (জিবরীল) বললেন: হে রাসূলুল্লাহ! বনু কুরাইজার কাছে যেতে আপনাকে কিসে বাধা দিচ্ছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «তাদের দুর্গের ব্যাপারে আমি কী করতে পারি?» জিবরীল বললেন: আমি আমার এই ঘোড়াকে তাদের ওপর নিয়ে প্রবেশ করব। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিনহীন একটি ঘোড়ায় আরোহণ করলেন। আলী যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: হে রাসূলুল্লাহ! আপনার যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তারা তো আপনাকে গালিগালাজ করছে।

তিনি বললেন: «কক্ষনো নয়, অচিরেই তা অভিবাদনে পরিণত হবে»।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট আসলেন এবং বললেন: «হে বানর ও শুকরের ভাইয়েরা!»

তারা বলল: হে আবুল কাসিম! আপনি তো কখনো কটুভাষী ছিলেন না।

তারা বলল: আমরা মুহাম্মাদের সিদ্ধান্তে আত্মসমর্পণ করব না, বরং আমরা সাদ ইবনে মুআজের সিদ্ধান্তে আত্মসমর্পণ করব।

অতঃপর তিনি (সাদ) আসলেন এবং তাদের বিষয়ে এই ফয়সালা দিলেন যে, তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করা হবে এবং তাদের সন্তানদের বন্দী করা হবে।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «ভোরবেলায় ফেরেশতা আমার নিকট এই ফয়সালা নিয়েই এসেছিলেন»।

তাদের বিষয়ে অবতীর্ণ হলো: " {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের সাথে খিয়ানত করো না এবং জেনে-বুঝে তোমাদের আমানতের খিয়ানত করো না} [সূরা আনফাল: ২৭]"।

এটি আবু লুবাবার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; তিনি বনু কুরাইজার দিকে ইশারা করেছিলেন যখন তারা বলেছিল যে তারা সাদ ইবনে মুআজের ফয়সালায় আত্মসমর্পণ করবে: তোমরা তা করো না, কারণ তা হবে জবাই (মৃত্যুদণ্ড)।

এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে নিজের গলার দিকে ইশারা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সানী মিনাল ফাওয়ায়েদিল মুনতাক্বাহ লি ইবনিস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، ثنا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَنَسٍ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: "‌‌ لَمَّا طَرَدَتْ هَاجَرَ أُمَّ إِسْمَاعِيلَ سَارَّةُ، وَضَعَهَا إِبْرَاهِيمُ بِمَكَّةَ، عَطَشَتْ هَاجَرُ أُمُّ إِسْمَاعِيلَ، فَنَزَلَ جِبْرِيلُ عَلَيْهَا عليه السلام، فَقَالَ لَهَا: «مَنْ أَنْتِ؟» قَالَتْ: هَذَا وَلَدُ إِبْرَاهِيمَ.

قَالَ: أَعَطْشَانَةٌ أَنْتِ؟ " قَالَتْ: نَعَمْ.

فَبَحَثَ الأَرْضَ بِجَنَاحِهِ، فَخَرَجَ الْمَاءُ فَأَكَبَّتْ عَلَيْهَا هَاجَرُ تَشْرَبُهُ، فَلَوْلا ذَاكَ لَكَانَتْ أَنْهَارًا جَارِيَةً
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদুল জাব্বার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে বুকাইর, তিনি সাঈদ ইবনে মাইসারা থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন সারা ইসমাঈলের মাতা হাজেরাকে বের করে দিলেন, তখন ইব্রাহীম তাঁকে মক্কায় রেখে আসলেন। এমতাবস্থায় ইসমাঈলের মা হাজেরা তৃষ্ণার্ত হলেন এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট অবতীর্ণ হলেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: 'আপনি কে?' তিনি বললেন: 'ইনি ইব্রাহীমের সন্তান।'

তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'আপনি কি তৃষ্ণার্ত?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ।'

অতঃপর তিনি (জিবরাঈল) তাঁর ডানা দিয়ে ভূমি খনন করলেন, ফলে পানি নির্গত হলো। তখন হাজেরা সেটির ওপর ঝুঁকে পড়লেন তা পান করার জন্য। যদি এমনটি না হতো, তবে তা প্রবহমান ঝরনাধারা হয়ে যেত।"