(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: -)
العوالي الموافقات - إسماعيل الأصبهاني القسم: كتب السنة
الكتاب: العوالي الموافقات للأصبهاني
المؤلف: إسماعيل بن محمد بن الفضل بن علي القرشي الطليحي التيمي الأصبهاني، أبو القاسم، الملقب بقوام السنة (ت 535هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 81
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আওয়ালি আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাইল আল-আসবাহানি বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আল-আওয়ালি আল-মুওয়াফাকাত লিল-আসবাহানি
লেখক: ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল বিন আলী আল-কুরাশি আত-তালহি আত-তাইমি আল-আসবাহানি, আবু আল-কাসিম, কিওয়ামুস সুন্নাহ উপাধিতে ভূষিত (মৃ. ৫৩৫ হিজরি)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অন্তর্ভুক্ত বিনামূল্যে বিতরণকৃত ‘জাওয়ামিউল কালিম’ প্রোগ্রামে প্রকাশিত
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪
[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮১
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١)
جُزْءٌ فِيهِ الْعَوَالِي الْمُوَافِقَاتُ مِنْ جَمْعِ الإِمَامِ الْحَافِظِ أَبِي الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ ، رحمه الله.
رِوَايَةُ أَبِي الْمَكَارِمِ أَسْعَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُخْتَارٍ الْمُقْرِئِ ، إِجَازَةً عَنْهُ.
رِوَايَةُ الشَّيْخِ الإِمَامِ أَبِي الطَّاهِرِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ ظَفَرِ بْنِ أَحْمَدَ النَّابُلُسِيِّ ، عَنِ الْمُقْرِئِ.
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ قَالَ: أنبا الشَّيْخُ الزَّكِيُّ أَبُو الْمَكَارِمِ أَسْعَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُخْتَارِ بْنِ الْفِدَاءِ الْخَيَّاطُ الْمُقْرِئُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ ، بِأَصْبَهَانَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ، قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمُنْعِمِ الْمُتَفَضِّلِ الْوَهَّابِ الْكَرِيمِ الْغَفَّارِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ خَيْرِ الأَنَامِ وَعَلَيْهِ السَّلامُ، هَذَا ذِكْرُ مَا وَقَعَ لِي عَالِيًا مِنْ شُيُوخِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ رحمهم الله، خَرَّجْتُهُ عَلَى حُرُوفِ الْمُعْجَمِ ، وَبَدَأْتُ بِمَنِ اسْمُهُ أَحْمَدَ تَبَرُّكًا بِاسْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، جَعَلَنَا اللَّهُ مِنَ الْمُقْتَدِينَ بِآثَارِهِ إِنَّهُ قَرِيبٌ مُجِيبٌ، وَأَصْحَابُ الْحَدِيثِ يُسَمُّونَ هَذَا النَّوْعَ مِنَ الإِسْنَادِ الْمُوَافِقَاتِ الْعَوَالِيَ، وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِائَةَ حَدِيثٍ، فَتُدْعَى الْمِائَةَ الْمُوَافِقَاتِ الْعَوَالِيَ.
بَابُ الأَلِفِ مَنِ اسْمُهُ أَحْمَدَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَهْبِ بْنِ مُسْلِمٍ الْقُرَشِيُّ أَبُو عُبَيْدِ اللَّهِ ابْنُ أَخِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ، مَاتَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسِتِّينَ يَعْنِي وَمِائَتَيْنِ.
ইমাম হাফেজ আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলিত 'আল-আওয়ালি আল-মুওয়াফাকাত' (উচ্চ ও সম্মত সনদসমূহ) সম্বলিত একটি অংশ।
আবুল মাকারিম আসআদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুখতার আল-মুকরি-এর বর্ণনা, যা তাঁর পক্ষ থেকে ইজাজতপ্রাপ্ত।
শাইখ ইমাম আবু তাহের ইসমাইল ইবনে জাফর ইবনে আহমদ আন-নাবলুসি-এর বর্ণনা, যা তিনি আল-মুকরি থেকে গ্রহণ করেছেন।
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। তিনি বলেন: পুণ্যবান শাইখ আবু আল-মাকারিম আসআদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুখতার ইবনে আল-ফিদা আল-খাইয়াত আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; ইসফাহানে তাঁর সামনে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: হাফেজ আবুল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিয়ামতদাতা, অনুগ্রহকারী, মহাদানশীল, পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। বুখারি ও মুসলিম (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর উস্তাদদের থেকে যে উচ্চ সনদ (আলি) সম্বলিত বর্ণনাগুলো আমি লাভ করেছি, এটি তারই সংকলন। আমি বর্ণানুক্রমিকভাবে এটি সাজিয়েছি এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামের বরকত লাভের উদ্দেশ্যে ‘আহমদ’ নামের ব্যক্তিদের দিয়ে শুরু করেছি। আল্লাহ আমাদের তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে ও প্রার্থনা কবুলকারী। হাদিসবিশারদগণ এই প্রকারের সনদকে 'আল-মুওয়াফাকাত আল-আওয়ালি' নামে অভিহিত করেন। আমি আশা করি এটি একশত হাদিস হবে, তখন একে 'আল-মিয়াহ আল-মুওয়াফাকাত আল-আওয়ালি' বলা হবে।
পরিচ্ছেদ: আলিফ (অক্ষর), যাদের নাম আহমদ: আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুসলিম আল-কুরাশি আবু উবাইদুল্লাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র; তিনি ২৬৪ (দুইশত চৌষট্টি) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْفَقِيهُ، قَالا: أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خُرْشِيذَ قَوْلَهُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، ثنا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالا: ثنا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ أَبِي هِلالٍ ، أَنَّ أَبَا الرِّجَالِ ، حَدَّثَهُ، عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَكَانَتْ فِي حِجْرِ عَائِشَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم
بَعَثَ رَجُلا عَلَى سَرِيَّةٍ، وَكَانَ يَقْرَأُ لأَصْحَابِهِ فِي صَلاتِهِمْ فَيَخْتِمُ بِ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ {1} اللَّهُ} [الإخلاص: 1-2] ، فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «سَلُوهُ لأَيِّ شَيْءٍ يَصْنَعُ ذَلِكَ» .
فَسَأَلُوهُ، فَقَالَ: لأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمَنِ عز وجل، وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا.
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «فَأَخْبِرُوهُ أَنَّ اللَّهَ عز وجل يُحِبُّهُ» .
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبِ بْنِ مُسْلِمٍ الْمِصْرِيِّ.
رَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا ، عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ اللَّهِ.
وَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ نَازِلا، عَنْ مُحَمَّدٍ غَيْرَ مَنْسُوبٍ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ صَالِحٍ الْمِصْرِيِّ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، وَمُحَمَّدٍ قِيلَ: هُوَ ابْنُ يَحْيَى الذُّهْلِيُّ، وَأَبُو الرِّجَالِ اسْمُهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَابْنُ أَبِي هِلالٍ هُوَ سَعِيدٌ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব বিন আবি আব্দুল্লাহ এবং মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আলী আল-ফকিহ, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন খুরশীদ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন ইবরাহিম এবং আহমাদ বিন আব্দুর রহমান, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর বিন আল-হারিস, ইবনে আবি হিলাল থেকে, নিশ্চয়ই আবু আর-রিজাল তাকে হাদীস শুনিয়েছেন তার মা আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান থেকে, আর তিনি আয়েশার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়েছিলেন:
নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি সামরিক অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি তার সাথীদের নিয়ে সালাত আদায়ের সময় কিরাত পাঠ করতেন এবং শেষ করতেন {বলুন: তিনিই আল্লাহ, এক। আল্লাহ...} [আল-ইখলাস: ১-২] দিয়ে। অতঃপর তারা যখন ফিরে এলেন, তখন তারা বিষয়টি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: "তাকে জিজ্ঞেস করো কেন সে এমনটি করে।"
অতঃপর তারা তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: "কারণ এটি দয়াময় (রাহমান) আল্লাহর গুণাবলী বর্ণনা করে, আর আমি এটি দিয়ে কিরাত পড়তে ভালোবাসি।"
তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তাকে সংবাদ দাও যে, মহান আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।"
এটি একটি সহীহ হাদীস যা আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব বিন মুসলিম আল-মিসরীর হাদীস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।
এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন এই আহমাদ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তার চাচা আব্দুল্লাহর সূত্রে।
আর ইমাম বুখারী এটি নাযিল (নিম্নতর) সনদে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ নামক জনৈক ব্যক্তি থেকে যার বংশ পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি, তিনি আহমাদ বিন সালিহ আল-মিসরী থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে। আর বলা হয়েছে যে, এই মুহাম্মাদ হলেন ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলী। আবু আর-রিজালের নাম হলো মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান এবং ইবনে আবি হিলাল হলেন সাঈদ।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٣)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّيَّانُ، قَالا: أنبا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خُرْشِيذَ قَوْلَهُ، ثنا أَبُو بَكْرٍ النَّيْسَابُورِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ابْنُ أَخِي ابْنِ وَهْبٍ، ثنا عَمِّي، ثنا يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَالضَّحَّاكُ الْهَمْدَانِيُّ ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ ، رضي الله عنه، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ يَقْسِمُ قِسْمًا أَتَاهُ الْخُوَيْصِرَةُ، وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ اعْدِلْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَيْلَكَ
وَمَنْ يَعْدِلُ إِذَا لَمْ أَعْدِلْ، قَدْ خِبْتُ وَخَسِرْتُ إِنْ لَمْ أَعْدِلْ» .قَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِيهِ أًضْرِبْ عُنُقَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «دَعْهُ، فَإِنَّ لَهُ أَصْحَابًا يَحْقِرُ أَحَدُكُمْ صَلاتَهُ مَعَ صَلاتِهِ، وَصِيَامَهُ مَعَ صِيَامِهِ، يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ ، يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلامِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، يَنْظُرُ إِلَى نَصْلِهِ فَلا يُوجَدُ فِيهِ شَيْءٌ، ثُمَّ يَنْظُرُ إِلَى رِصَافِهِ فَلا يُوجَدُ فِيهِ شَيْءٌ، ثُمَّ يَنْظُرُ إِلَى نَضِيِّهِ فَلا يُوجَدُ فِيهِ شَيْءٌ وَهُوَ الْقِدْحُ، ثُمَّ يَنْظُرُ إِلَى قُذَذِهِ فَلا يُوجَدُ فِيهِ شَيْءٌ، سَبَقَ الْفَرْثَ وَالدَّمَ، آيَتُهُمْ رَجُلٌ أَسْوَدُ إِحْدَى عَضُدَيْهِ مِثْلُ ثَدْيِ الْمَرْأَةِ، أَوْ مِثْلُ الْبَضْعَةِ تَدَرْدَرُ، يَخْرُجُونَ عَلَى خَيْرِ فِرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ» قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَأَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَشْهَدُ أَنَّ عَلِيًّا قَاتَلَهُمْ وَأَنَا مَعَهُ، فَأَمَرَ بِذَلِكَ الرَّجُلِ فَالْتُمِسَ فَوُجِدَ، فَأُوتِيَ بِهِ حَتَّى نَظَرْتُ إِلَيْهِ عَلَى نَعْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الَّذِي نَعَتَهُ ".
رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الزَّكَاةِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ
أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى الْمِصْرِيِّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ، مَاتَ سَنَةَ ثَلاثٍ وَأَرْبَعِينَ.
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর এবং ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ আত-তায়্যান, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন খুরশীদ তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর আন-নাইসাবুরি: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান, যিনি ইবনে ওয়াহবের ভ্রাতুষ্পুত্র: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আমার চাচা: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইউনুস বিন ইয়াজিদ: ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান এবং আদ-দাহহাক আল-হামদানি: যে আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: একদা আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি কিছু বণ্টন করছিলেন। তখন যুল-খুওয়াইসিরা নামক বনু তামিমে এক ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলো এবং বললো: হে আল্লাহর রাসূল! ইনসাফ করুন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তোমার জন্য আক্ষেপ!
আমি যদি ইনসাফ না করি তবে কে ইনসাফ করবে? আমি তো বিফল ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবো যদি আমি ইনসাফ না করি।»।উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তাকে ছেড়ে দাও, কেননা তার এমন কিছু সঙ্গী রয়েছে যাদের সালাতের তুলনায় তোমাদের কেউ নিজের সালাতকে এবং যাদের সিয়ামের তুলনায় তোমাদের কেউ নিজের সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তীরের ফলায় দৃষ্টি দিলে তাতে কিছুই পাওয়া যায় না, এরপর তার রিশাফে (তীরের বসার স্থান) দৃষ্টি দিলেও কিছু পাওয়া যায় না, এরপর তার তীরের দণ্ডে বা লাঠিতে দৃষ্টি দিলেও কিছু পাওয়া যায় না, এরপর তার তীরের পাখায় দৃষ্টি দিলেও কিছু পাওয়া যায় না; সেটি নাড়িভুঁড়ি ও রক্তকে অতিক্রম করে বেরিয়ে গেছে। তাদের নিদর্শন হলো এমন এক কৃষ্ণকায় ব্যক্তি যার একটি বাহু নারীর স্তনের মতো অথবা মাংসপিণ্ডের মতো যা নড়াচড়া করে। তারা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দলের (বিভেদের) সময় আত্মপ্রকাশ করবে।» আবু সাঈদ বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি। আর আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং আমি তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি সেই লোকটিকে খোঁজার নির্দেশ দিলে তাকে পাওয়া যায়। এরপর তাকে নিয়ে আসা হয়, এমনকি আমি লোকটিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণিত সেই গুণের ওপরই দেখতে পাই যা তিনি বর্ণনা করেছিলেন।
এটি মুসলিম যাকাত অধ্যায়ে আহমাদ বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ বিন ঈসা আল-মিসরি আবু আব্দুল্লাহ, তিনি ২৪৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ الزَّيْنَبِيُّ، ثنا أَبُو طَاهِرٍ الْمُخَلِّصُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْغضيفي، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى الْمِصْرِيُّ، قَالا: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ بُكَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ سَمِعَ مَالِكَ بْنَ أَبِي عَامِرٍ ، يُحَدِّثُ ، عَن عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ:
«لا تَبِيعُوا الدِّينَارَ بِالدِّينَارَيْنِ، وَلا الدِّرْهَمَ بِالدِّرْهَمَيْنِ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَحْدَهُ فِي الْبُيُوعِ، عَنْ أَبِي الطَّاهِرِ، وَأَحْمَدَ بْنِ عِيسَى هَذَا ، وَهُوَ وَابْنُ سَعِيدٍ كُلُّهُمْ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، وَمَالِكٍ هَذَا هُوَ جَدُّ مَالِكِ بْنِ أَنَسِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ الأَصْبَحِيِّ
أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ الأَشْعَثِ بْنِ أَسْلَمَ بْنِ سُوَيْدِ بْنِ الأَسْوَدِ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ سِنَانٍ الْعِجْلِيُّ الْبَصْرِيُّ ، مَاتَ بِالْبَصْرَةِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَخَمْسِينَ.
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আয-যায়নাবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আল-মুখাল্লিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাগাবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-গুদাইফি এবং আহমাদ ইবনে ঈসা আল-মিসরি, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, মাখরামা ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে ইয়াসার থেকে যে, তিনি মালিক ইবনে আবু আমিরকে উসমান ইবনে আফফান থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«তোমরা এক দিনারকে দুই দিনারের বিনিময়ে এবং এক দিরহামকে দুই দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করো না।’ এটি ইমাম মুসলিম এককভাবে ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে আবু তাহির এবং এই আহমাদ ইবনে ঈসা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি এবং ইবনে সাঈদ—তাঁরা সকলেই ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই মালিক হলেন মালিক ইবনে আনাস ইবনে আবু আমির আল-আসবাহীর দাদা।
আহমাদ ইবনুল মিকদাম ইবনে সুলায়মান ইবনুল আশআস ইবনে আসলাম ইবনে সুওয়াইদ ইবনুল আসওয়াদ ইবনে রাবিআ ইবনে সিনান আল-ইজলী আল-বাসরী, তিনি তিপ্পান্ন হিজরী সালে বসরায় মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٥)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَنْدَهْ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، سَنَةَ خَمْسٍ وَسَبْعِينَ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، نا أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، نا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، نا أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: " كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ،
فَجَاءَتْهُ امْرَأَةٌ تَعْرِضُ نَفْسَهَا عَلَيْهِ، فَخَفَّضَ فِيهَا النَّظَرَ وَرَفَعَهُ، فَلَمْ يُرِدْهَا، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زَوِّجْنِيهَا، قَالَ: «عِنْدَكَ مِنْ شَيْءٍ؟» قَالَ: مَا عِنْدِي شَيْءٌ، قَالَ: «وَلا خَاتَمٌ مِنْ حَدِيدٍ؟» قَالَ: وَلا خَاتَمٌ مِنْ حَدِيدٍ، وَلَكِنْ أَشُقُّ بُرْدِي هَذَا، فَأُعْطِيهَا النِّصْفَ وَآخُذُ النِّصْفَ، قَالَ: «لا ، هَلْ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ شَيْءٌ؟» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «اذْهَبْ فَقَدْ زَوَّجْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ» تَفَرَّدَ الْبُخَارِيُّ بِإِخْرَاجِ هَذَا الْحَدِيثِ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ، فَرَوَاهُ عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ أَحْمَدَ بْنِ الْمِقْدَامِ
أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَالِدٍ الأَزْدِيُّ السُّلَمِيُّ ، مَاتَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسِتِّينَ.
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর বিন মানদাহ, তাঁর নিকট পঠন সূত্রে, পঁচাত্তর সালে; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন ইসমাইল; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আল-মিকদাম; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফুদাইল বিন সুলাইমান; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাজিম; সাহল বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম,
এমতাবস্থায় এক নারী তাঁর নিকট এসে নিজেকে (বিবাহের জন্য) পেশ করলেন। তিনি তাঁর দিকে একপলক তাকালেন এবং দৃষ্টি নিচু করলেন, কিন্তু তাঁকে গ্রহণ করার ইচ্ছা করলেন না। তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার সাথে তাঁর বিবাহ দিন। তিনি বললেন: «তোমার কাছে কি (মোহর দেওয়ার মতো) কিছু আছে?» তিনি বললেন: আমার কাছে কিছুই নেই। তিনি বললেন: «একটি লোহার আংটিও কি নেই?» তিনি বললেন: এমনকি একটি লোহার আংটিও নেই, তবে আমি আমার এই চাদরটি ছিঁড়ে তাঁকে অর্ধেক দেব এবং আমি অর্ধেক নেব। তিনি বললেন: «না; তোমার কি কুরআনের কোনো অংশ মুখস্থ আছে?» তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «যাও, তোমার নিকট থাকা কুরআনের বিনিময়ে আমি তাঁর সাথে তোমার বিবাহ দিলাম।» ইমাম বুখারী এককভাবে এই সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটি আবু আল-আশআস আহমাদ বিন আল-মিকদাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ বিন ইউসুফ বিন খালিদ আল-আযদি আস-সুলামি, তিনি চৌষট্টি সালে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٦)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو، أنا أَبِي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ الْقَطَّانُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، ثنا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، ثنا أَبِي ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضي الله عنه، قَالَ:
«لا أَدْرِي أَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَجْلِ أَنَّهَا كَانَتْ حَمُولَةً لِلنَّاسِ فَكَرِهَ أَنْ تَذْهَبَ حَمُولَتَهُمْ ، أَوْ حَرَّمَهُ فِي يَوْمِ خَيْبَرَ» .
يَعْنِي الْحُمُرَ الأَهْلِيَّةَ رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الدِّيبَاجِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ يُوسُفَ
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল হাসান আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি আসিম ইবনে সুলায়মান হতে, তিনি আমির আশ-শা'বী হতে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
"আমি জানি না রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) কি এই কারণে নিষেধ করেছিলেন যে, সেগুলো মানুষের ভারবাহী পশু ছিল এবং তিনি তাদের বাহনগুলো নিঃশেষ হয়ে যাওয়া অপছন্দ করেছিলেন, নাকি তিনি খায়বারের দিনে তা হারাম করেছিলেন।"
অর্থাৎ গৃহপালিত গাধা। এটি মুসলিম 'আদ-দিবাজ' গ্রন্থে আহমদ ইবনে ইউসুফ হতে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٧)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو، أنا وَالِدِي، أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ الْقَطَّانُ النَّيْسَابُورِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، ثنا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَزِينٍ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، رضي الله عنه، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ وَقْتِ الصَّلاةِ، فَقَالَ: «وَقْتُ صَلاةِ الْفَجْرِ مَا لَمْ يَطْلُعْ قَرْنُ الشَّمْسِ الأَوَّلِ، وَوَقْتُ صَلاةِ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ عَنْ بَطْنِ السَّمَاءِ، مَا لَمْ تَحْضُرْ صَلاةُ الْعَصْرِ، وَوَقْتُ صَلاةِ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَيَسْقُطُ قَرْنُهَا الأَوَّلُ، وَوَقْتُ صَلاةِ الْمَغْرِبِ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ مَا لَمْ يَسْقُطِ الشَّفَقُ، وَوَقْتُ صَلاةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ يُوسُفَ، وَأَبُو أَيُّوبَ هَذَا اسْمُهُ يَحْيَى بْنُ مَالِكٍ الأَزْدِيُّ
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর, সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল হাসান আল-কাত্তান আন-নাইসাবুরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রাজিন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে তাহমান, হাজ্জাজ ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বললেন: «ফজর সালাতের ওয়াক্ত হলো যতক্ষণ না সূর্যের প্রথম প্রান্ত উদিত হয়, আর যোহর সালাতের ওয়াক্ত হলো যখন সূর্য আকাশের মধ্যভাগ থেকে হেলে পড়ে, যতক্ষণ না আসর সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হয়; আর আসর সালাতের ওয়াক্ত হলো যতক্ষণ না সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং তার প্রথম প্রান্ত অস্তমিত হয়; আর মাগরিব সালাতের ওয়াক্ত হলো যখন সূর্য ডুবে যায়, যতক্ষণ না গোধূলির লালিমা বিলীন হয়; আর ইশা সালাতের ওয়াক্ত হলো মধ্যরাত পর্যন্ত।’ এটি মুসলিম আহমাদ ইবনে ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন, আর এই আবু আইয়ুবের নাম হলো ইয়াহইয়া ইবনে মালিক আল-আজদি।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٨)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو، أنبا أَبِي، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْجُرْجَانِيُّ، قَالا: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلالٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، رضي الله عنه رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ عَلَى حِرَاءٍ، فَتَحَرَّكَ، فَقَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم:
«اسْكُنْ حِرَاءُ فَمَا عَلَيْكَ إِلا نَبِيٌّ، أَوْ صِدِّيقٌ، أَوْ شَهِيدٌ» .وَكَانَ عِنْدَهُ أَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَطَلْحَةُ، وَالزُّبَيْرُ، وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي الْفَضَائِلِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ يُوسُفَ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ هُوَ الأَنْصَارِيُّ.
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخَلْقَانِيُّ، بِنَيْسَابُورَ، ثنا أَبُو طَاهِرٍ الزِّيَادِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْقَطَّانُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ، مِثْلَهُ
أَحْمَدُ بْنُ النَّضْرِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ.
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর, তিনি বলেন: সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা এবং মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-জুরজানি, তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে বিলাল, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেরা পর্বতের ওপর ছিলেন, তখন সেটি নড়ে উঠল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:
«হে হেরা, স্থির হও! কারণ তোমার ওপর একজন নবী অথবা একজন সিদ্দিক অথবা একজন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই।»আর তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর, উমর, তালহা, যুবাইর, এবং সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস। এটি মুসলিম তাঁর 'ফাযায়িল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইউসুফ থেকে, আর ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ হলেন আল-আনসারি।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আল-কাসিম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-খালকানি নিশাপুরে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আজ-যিয়াদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-কাত্তান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইউসুফ, অনুরূপ হাদীস।
আহমদ ইবনে আন-নাদর ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٩)
8 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ خَلَفٍ، أنبا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْحَافِظُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ النَّضْرِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ، ثنا أَبُو عُبَيْدِ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، ثنا أَبِي، نا شُعْبَةُ، عَن عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ دِينَارٍ، صَاحِبِ الزِّيَادِيِّ، سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، رضي الله عنه، يَقُولُ:
قَالَ أَبُو جَهْلٍ: اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِنَ السَّمَاءِ، أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ، فَنَزَلَتْ: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} [الأنفال: 33] " رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي التَّفْسِيرِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ النَّضْرِ، وَهُوَ أَخُو مُحَمَّدِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ، وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ بَعْدَهُ عَنْ مُحَمَّدٍ كِلاهُمَا عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ.
وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ نَفْسِهِ
أَحْمَدُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ الْمُنَادِي.
وَقِيلَ: مُحَمَّدٌ، وَقِيلَ: مُحَمَّدٌ أَخُوهُ، مَاتَ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ.
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আলী বিন খালাফ, আমাদের জানিয়েছেন হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-হাফিয, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন আন-নাযর বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু উবাইদুল্লাহ বিন মুয়ায, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শু’বাহ, আব্দুল হামীদ বিন দীনার থেকে, যিনি যিয়াদীর সাথী, তিনি আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন:
আবু জাহেল বলেছিল: হে আল্লাহ! যদি এটি আপনার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের উপর আসমান থেকে পাথর বর্ষণ করুন অথবা আমাদের নিকট যন্ত্রণাদায়ক কোনো আযাব নিয়ে আসুন। তখন নাযিল হলো: {আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় তিনি তাদের আযাব দেবেন; আর আল্লাহ তাদের আযাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে} [সূরা আল-আনফাল: ৩৩]। ইমাম বুখারী এটি তাফসীর অধ্যায়ে আহমাদ বিন আন-নাযর থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি মুহাম্মাদ বিন আন-নাযর বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ভাই। আর এই হাদীসটি তার পরে মুহাম্মাদ থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তারা উভয়েই উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর ইমাম মুসলিম এটি স্বয়ং উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আহমাদ বিন আবু দাউদ আল-মুনাদী।
বলা হয়েছে: মুহাম্মাদ, আবার বলা হয়েছে: তার ভাই মুহাম্মাদ; তিনি বাহাত্তর হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ بْنُ خَيْرُونَ، وَأَبُو طَاهِرٍ الْبَاقِلانِيُّ، وَجَمَاعَتُهُ، قَالُوا: أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّمَّاكِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ أَبِي دَاوُدَ الْمُنَادِي، نا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه: أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم،
قَالَ لأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ: " إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أُقْرِئَكَ الْقُرْآنَ، أَوْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ.فَقَالَ: آللَّهُ سَمَّانِي لَكَ، أَوْ قَالَ: قَدْ ذُكِرْتُ عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِينَ، قَالَ: نَعَمْ.
فَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ " أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ فِي كِتَابِهِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ رَوْحٍ، قَالَ الْبُخَارِيُّ: أَحْمَدُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، وَقَالَ أَهْلُ الْعِرَاقِ: مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ
أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَاشِدٍ السُّلَمِيُّ أَبُو عَلِيٍّ، بِنَيْسَابُورَ، مَاتَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَخَمْسِينَ.
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল বিন খাইরুন, আবু তাহির আল-বাকিল্লানি এবং তাঁদের জামায়াত। তাঁরা বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আহমদ বিন ইবরাহিম। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উসমান বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আস-সাম্মাক। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন আবু দাউদ আল-মুনাদি। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন রওহ বিন উবাদাহ। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবু আরুবাহ, কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
উবাই বিন কাবকে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমাকে কুরআন পড়ে শুনাতে।"তখন তিনি বললেন: আল্লাহ কি আপনার কাছে আমার নাম নিয়েছেন? অথবা তিনি বললেন: জগতসমূহের রবের নিকট কি আমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
অতঃপর তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। ইমাম বুখারি এটি তাঁর কিতাবে আহমদ বিন আবু দাউদ থেকে, রওহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। বুখারি বলেন: আহমদ বিন আবু দাউদ; আর ইরাকবাসীরা বলেন: মুহাম্মাদ বিন আবু দাউদ।
আহমদ বিন হাফস বিন আব্দুল্লাহ বিন রাশিদ আস-সুলামি আবু আলী, নিশাপুরে, তিনি আটান্ন সালে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١١)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَنْدَهْ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَقَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْفَرَضِيِّ، وَغَيْرِهِ، قُلْتُ لَهُمَا: قُرِئَ عَلَى أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمَصَاحِفِيِّ، وَأَنْتُمَا تَسْمَعَانِ، فَأَقَرَّ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا، أَخْبَرَكُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ النَّيْسَابُورِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا أَبِي، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ ، فِي قَوْلِ اللَّهِ عز وجل:
{فَلا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ} [البقرة: 232] قَالَ: حَدَّثَنِي مَعْقِلُ بْنُ يَسَارٍ الْمُزَنِيُّ أَنَّهَا نَزَلَتْ فِيهِ، قَالَ: " كُنْتُ زَوَّجْتُ أُخْتًا لِي مِنْ رَجُلٍ، فَطَلَّقَهَا، فَلَمَّا انْقَضَتْ عِدَّتُهَا جَاءَ فَخَطَبَهَا، قُلْتُ لَهُ: زَوَّجْتُكَ، وَفَرَشْتُكَ، وَأَكْرَمْتُكَ، فَطَلَّقْتَهَا، ثُمَّ جِئْتَ تَخْطُبُهَا ، لا وَاللَّهِ لا تَعُودُ إِلَيْهَا أَبَدًا، قَالَ: وَكَانَ رَجُلا لا بَأْسَ بِهِ، وَكَانَتِ الْمَرْأَةُ تُرِيدُ أَنْ تَرْجِعَ إِلَيْهِ، قَالَ: فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الآيَةَ، فَقُلْتُ: الآنَ أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَزَوَّجْتُهَا إِيَّاهُ " أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي عَمْرٍو، وَهُوَ أَحْمَدُ بْنُ حَفْصٍ
مَنِ اسْمُهُ إِبْرَاهِيمُ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْبَغْدَادِيُّ أَبُو إِسْحَاقَ مَاتَ سَنَةَ خَمْسٍ وَسِتِّينَ.
১০ - আবু আমর ইবনে মানদাহ আমাদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, এবং আমি মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আলী আল-ফারাযী ও অন্যদের নিকট পাঠ করেছি; আমি তাদের উভয়কে বলেছি: আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মাসাহিফী-এর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আপনারা তা শুনছিলেন, অতঃপর তারা উভয়েই তা স্বীকার করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আন-নাইসাবুরী আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনে তাহমান ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার এই বাণী সম্পর্কে:
{অতঃপর তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের বিবাহ করতে বাধা দিও না} [আল-বাকারাহ: ২৩২]। তিনি বলেন: মা’কিল ইবনে ইয়াসার আল-মুযানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, এটি তাঁর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল। তিনি বলেন: "আমি আমার এক বোনকে এক ব্যক্তির নিকট বিবাহ দিয়েছিলাম, অতঃপর সে তাকে তালাক দেয়। যখন তার ইদ্দত শেষ হলো, সে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এল। আমি তাকে বললাম: আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ দিয়েছি, তোমাদের শয্যার ব্যবস্থা করে দিয়েছি এবং তোমাকে সম্মানিত করেছি, অথচ তুমি তাকে তালাক দিলে! এরপর আবার প্রস্তাব দিতে এসেছ? না, আল্লাহর কসম, সে তোমার কাছে আর কখনোই ফিরবে না।" বর্ণনাকারী বলেন: আর লোকটি খারাপ ছিল না এবং মহিলাটিও তার কাছে ফিরে যেতে চাচ্ছিল। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। তখন আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল, এখন আমি তা করব।" এরপর আমি তাকে তার নিকট বিবাহ দিলাম। বুখারী এটি আহমাদ ইবনে আবু আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হলেন আহমাদ ইবনে হাফস।
যাদের নাম ইবরাহীম এবং ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ইবনুল হারিস ইবনে ইসমাঈল আল-বাগদাদী আবু ইসহাক, তিনি পয়ষট্টি সালে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو، أنا وَالِدِي، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْجُرْجَانِيُّ، قَالا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ الْقَطَّانُ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَارِثِ الْبَغْدَادِيُّ، نا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، نا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُعْفِيُّ، نا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، خَتَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخِي جُوَيْرِيَةَ، قَالَ: «وَاللَّهِ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَوْتِهِ دِينَارًا وَلا دِرْهَمًا وَلا أَمَةً وَلا شَيْئًا، إِلا بَغْلَتَهُ الْبَيْضَاءَ وَسِلاحَهُ، وَأَرْضًا جَعَلَهَا صَدَقَةً» رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ
১১ - আবু আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আল-জুরজানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-হাসান আল-কাত্তান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনে আল-হারিস আল-বাগদাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবী বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহাইর ইবনে মুআবিয়া আল-জু'ফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত—যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈবাহিক আত্মীয় ও জুওয়াইরিয়াহ-এর ভাই—তিনি বলেন: «আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তেকালের পর কোনো দিনার, দিরহাম, দাসী কিংবা অন্য কিছু রেখে যাননি, কেবলমাত্র তাঁর সাদা খচ্চরটি এবং তাঁর অস্ত্র ও এক খণ্ড জমি ব্যতীত যা তিনি সাদকা হিসেবে নির্ধারিত করে গিয়েছিলেন।’ বুখারী এটি ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو، ثنا أَبِي، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالا: نا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْقَطَّانُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَارِثِ، نا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ الْكِرْمَانِيُّ، ثنا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ "
{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ} [الحج: 11] ، قَالَ: كَانَ الرَّجُلُ يَقْدَمُ الْمَدِينَةَ فَإِنْ وَلَدَتِ امْرَأَتُهُ غُلامًا وَنُتِجَتْ خَيْلُهُ، قَالَ: هَذَا دِينٌ صَالِحٌ، وَإِنْ لَمْ تَلِدِ امْرَأَتُهُ غُلامًا وَلَمْ تُنْتَجْ خَيْلُهُ، قَالَ: هَذَا دِينُ سُوءٍ " رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي التَّفْسِيرِ
إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَخْلَدٍ الْحَنْظَلِيُّ الْمَرْوَزِيُّ أَبُو يَعْقُوبَ، سَكَنَ بِنَيْسَابُورَ وَمَاتَ بِهَا، وَهُوَ ابْنُ رَاهَوَيْهِ.
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা এবং মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আল-কাত্তান, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনুল হারিস, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর আল-কিরমানি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসরাইল, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: "
{আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করে এক কিনারায় দাঁড়িয়ে (অর্থাৎ দ্বিধার সাথে)} [আল-হাজ্জ: ১১], তিনি বলেন: কোনো লোক মদিনায় আসত, এরপর যদি তার স্ত্রী পুত্র সন্তান প্রসব করত এবং তার ঘোড়া বাচ্চা দিত, তবে সে বলত: ‘এটি একটি ভালো ধর্ম’, আর যদি তার স্ত্রী পুত্র সন্তান প্রসব না করত এবং তার ঘোড়া বাচ্চা না দিত, তবে সে বলত: ‘এটি একটি মন্দ ধর্ম’।" ইমাম বুখারি এটি ইব্রাহিম থেকে তাফসির অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মাখলাদ আল-হানজালি আল-মারওয়াজি আবু ইয়াকুব, তিনি নিশাপুরে বসবাস করতেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন, আর তিনি হলেন ইবনে রাহওয়াইহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَنْدَهْ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِيُّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الْخَفَّافُ الْقَنْطَرِيُّ الزَّاهِدُ ، فِي كِتَابِهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السَّرَّاجُ الثَّقَفِيُّ، نا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، نا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضي الله عنها، قَالَتْ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
يَسْتَفْتِحُ الصَّلاةَ بِالتَّكْبِيرِ، وَالْقِرَاءَةَ بِ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] ، وَكَانَ إِذَا رَكَعَ لَمْ يُشْخِصْ رَأْسَهُ، وَلَمْ يُصَوِّبْهُ، وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ اسْتَوَى قَائِمًا، وَكَانَ إِذَا سَجَدَ فَرَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ جَالِسًا، وَكَانَ يَنْهَى عَنْ عَقِبِ الشَّيْطَانِ، وَكَانَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى، وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى، وَكَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَفْتَرِشَ ذِرَاعَيْهِ افْتِرَاشَ الْكَلْبِ، وَكَانَ يَخْتِمُ الصَّلاةَ بِالتَّسْلِيمِ، وَكَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةَ " رَوَاهُ مُسْلِمٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاهَوَيْهِ هَذَا ، عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ
الْبَاءُ بُنْدَارٌ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ دَاوُدَ أَبُو بَكْرٍ الْعَبْدِيُّ الْبَصْرِيُّ، مَاتَ فِي رَجَبٍ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَخَمْسِينَ.
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবনে মানদাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইনি আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-খাফফাফ আল-কান্তারি আল-যাহিদ, তার কিতাবে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম আস-সাররাজ আস-সাকাফি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুসাইন আল-মুয়াল্লিম, বুদাইল ইবনে মাইসারাহ থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তাকবীরের মাধ্যমে সালাত শুরু করতেন এবং ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ পাঠের মাধ্যমে তিলাওয়াত শুরু করতেন। তিনি যখন রুকু করতেন, তখন মাথা উঁচু করে রাখতেন না এবং মাথা নিচুও করতেন না, বরং মাঝামাঝি রাখতেন। যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন, তখন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। আর যখন সিজদা থেকে মাথা তুলতেন, তখন সোজা হয়ে বসে স্থির না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় সিজদা করতেন না। তিনি শয়তানের মতো বসা (দুই পায়ের গোড়ালির ওপর বসা) থেকে নিষেধ করতেন। তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা খাড়া রাখতেন। তিনি কুকুরের মতো দুই হাত বিছিয়ে রাখাকে অপছন্দ করতেন। তিনি সালামের মাধ্যমে সালাত শেষ করতেন এবং প্রতি দুই রাকাআতে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করতেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এই ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে, তিনি ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে।
‘বা’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন বুন্দার—মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ইবনে উসমান ইবনে দাউদ আবু বকর আল-আবদি আল-বাসরি; তিনি দুইশত বায়ান্ন হিজরী সনের রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - قُرِئَ عَلَى الشَّرِيفِ أَبِي نَصْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيِّ، وَأَنَا أَسْمَعُ، أَخْبَرَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ الْكَاهِلِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ، ثنا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، ثنا بُنْدَارٌ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، ثنا سُفْيَانُ، قَالَ: ذَكَرْتُ حَدِيثَ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم،
فِي الْوَاشِمَةِ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، فَقَالَ: قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْ أُمِّ يَعْقُوبَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، فَلا أَجِيءُ بِهِ كَمَا أُرِيدُ.
رَوَاهُ مُسْلِمٌ، عَنْ بُنْدَارٍ
১৪ - আশ-শারিফ আবু নাসর মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী আয-যাইনাবীর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বললেন, মুহাম্মদ ইবন উমর ইবন আলী আল-কাহিলী আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আপনি তা শুনছিলেন; ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বুন্দার মুহাম্মদ ইবন বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মানসুরের বর্ণিত হাদীসটি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন,
উল্কি অঙ্কনকারিণী মহিলা সম্পর্কে আবদুর রহমান ইবন আবিসের নিকট উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: আমি এটি উম্মু ইয়াকুব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে শুনেছি, তবে আমি এটি সেভাবে বর্ণনা করতে পারছি না যেভাবে আমি চাই।এটি ইমাম মুসলিম বুন্দার থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّيْنَبِيُّ، ثنا الْمُخَلِّصُ، ثنا يَحْيَى بْنُ صَاعِدٍ، ثنا بُنْدَارٌ، ثنا غُنْدَرٌ، ثنا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ جُبَيْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، قَالَ: " طَلَّقْتُ امْرَأَتِي تَطْلِيقَةً، فَأَتَى عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم:
«لِيُرَاجِعْهَا، فَإِذَا طَهُرَتْ فَإِنْ شَاءَ فَلْيُطَلِّقْهَا» .
قَالَ: فَقُلْتُ لابْنِ عُمَرَ: فَاحْتَسَبْتُ بِهَا؟ قَالَ: فَمَهْ، أَرَأَيْتَ إِنْ عَجَزْتَ " وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ بُنْدَارٍ، وَيُونُسُ بْنُ جُبَيْرٍ يُكْنَى أَبَا غَلابٍ، بَصْرِيٌّ
১৫ - আশ-শরীফ আবু নাসর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আজ-জাইনাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মুখলিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুন্দার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: গুন্দার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইউনুস ইবনে জুবায়েরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আমি আমার স্ত্রীকে এক তালাক দিয়েছিলাম। অতঃপর উমর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:
«সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়; অতঃপর যখন সে পবিত্র হবে, তখন যদি সে চায় তবে তাকে তালাক দিবে»।
তিনি (ইউনুস) বলেন: আমি ইবনে উমরকে বললাম: "তবে কি তা (তালাক হিসেবে) গণনা করা হয়েছিল?" তিনি বললেন: "তবে আর কী! তোমার কী মনে হয় যদি তুমি অক্ষম হতে (তবে কি তা গণ্য হতো না)?" আর ইমাম মুসলিম এটি বুন্দারের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইউনুস ইবনে জুবায়েরের উপনাম ছিল আবু গাল্লাব, তিনি বসরার অধিবাসী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْوَرَّاقُ، ثنا يَحْيَى بْنُ صَاعِدٍ، ثنا بُنْدَارٌ، ثنا مُحَمَّدٌ يَعْنِي غُنْدَرًا، نا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، رضي الله عنه، قَالَ:
«لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْوَاشِمَاتِ وَالْمُوتَشِمَاتِ وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ» .
فَبَلَغَ ذَلِكَ امْرَأَةً مِنْ بَنِي أَسَدٍ، يُقَالُ لَهَا: أُمُّ يَعْفُورٍ - كَذَا قَالَ -، وَإِنَّمَا هِيَ أُمُّ يَعْقُوبَ، قَالَ: قَرَأَتِ الْقُرْآنَ، فَأَتَتْهُ، فَقَالَتْ: أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ لَعَنْتَ كَيْتَ وَكَيْتَ، فَقَالَ: «أَلا أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى؟» قَالَ: «قَدْ نَهَى عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» رَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ بُنْدَارٍ، عَنْ غُنْدَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، هَكَذَا
الْحَاءُ الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى هُوَ ابْنُ مَاسَرْجِسَ أَبُو عَلِيٍّ النَّيْسَابُورِيُّ ، مَاتَ بِالثَّعْلَبِيَّةِ سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلاثِينَ وَمِائَتَيْنِ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ.
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শরীফ আবু নাসর, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন সায়েদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন বুন্দার, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ (অর্থাৎ গুন্দার), তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু’বা, মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অভিশাপ দিয়েছেন উল্কি বা ট্যাটু অঙ্কনকারিনী ও যারা উল্কি করায় তাদের, এবং সৌন্দর্যের জন্য যারা দাঁতের মধ্যবর্তী স্থান ফাঁকা করে তাদের, যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনয়নকারী»।
অতঃপর এই খবরটি বনী আসাদ গোত্রের জনৈক মহিলার নিকট পৌঁছাল, যাকে উম্মু ইয়াফুর বলা হয় - বর্ণনাকারী এভাবেই বলেছেন - মূলত তিনি হলেন উম্মু ইয়াকুব। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি কুরআন পড়েছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: আমাকে কি জানানো হয়নি যে আপনি এমন এমন কাজ করা নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন? তিনি বললেন: «আমি কেন তাকে অভিশাপ দেব না যাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অভিশাপ দিয়েছেন, অথচ তা আল্লাহর কিতাবেও রয়েছে?» তিনি বললেন: «নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা থেকে নিষেধ করেছেন»। ইমাম মুসলিম এটি বুন্দার থেকে, তিনি গুন্দার থেকে, তিনি শু’বা থেকে, তিনি মানসুর থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
হা- হাসান বিন ঈসা, তিনি হলেন ইবনে মাসারজিস আবু আলী আন-নাইসাবুরী, তিনি দুইশত উনচল্লিশ হিজরীতে আস-সা’লাবিয়্যাহ নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুবারকের আযাদকৃত গোলাম ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أنبا الْقَنْطَرِيُّ فِي كِتَابِهِ، نا أَبُو الْعَبَّاسِ السَّرَّاجُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى، ثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنِي الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، رضي الله عنه رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِذَا اجْتَمَعَ ثَلاثَةٌ فَلْيَؤُمَّهُمْ أَحَدُهُمْ، وَأَحَقُّهُمْ بِالإِمَامَةِ أَقْرَؤُهُمْ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ، عَنِ الْحَسَنِ ، هَذَا الْحَسَنُ بْنُ مَنْصُورٍ أَبُو عَلِيٍّ سَمِعَ الْحَجَّاجَ بْنَ مُحَمَّدٍ ، رَوَى عَنْهُ الْبُخَارِيُّ فِي صِفَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১৭ - আবু আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, আল-কানতারি তাঁর কিতাবে আমাদের অবহিত করেছেন, আবুল আব্বাস আস-সাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-জুরাইরি আমাকে আবু নাজরাহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যখন তিন ব্যক্তি একত্রিত হবে তখন তাদের মধ্য থেকে একজন যেন তাদের ইমামতি করে। আর তাদের মধ্যে ইমামতির সবচেয়ে বেশি যোগ্য সেই ব্যক্তি, যে কুরআন পাঠে অধিক পারদর্শী (বা যে অধিক কুরআন জানে)।» এটি মুসলিম আল-হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন। এই হাসান হলেন হাসান ইবনে মানসুর আবু আলী, যিনি হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মাদ থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে ইমাম বুখারি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو، أنبا الْقَنْطَرِيُّ ، فِي كِتَابِهِ، ثنا السَّرَّاجُ، نا الْحَسَنُ بْنُ مَنْصُورٍ، ثنا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ، قَالَ:
«خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْهَاجِرَةِ إِلَى الْبَطْحَاءِ فَتَوَضَّأَ وَصَلَّى الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ، وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ» .
الْحَدِيثَ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ ، هَذَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ ، تُوُفِّيَ سَنَةَ سِتِّينَ وَمِائَتَيْنِ
১৮ - আবু আমর আমাদের অবহিত করেছেন, আল-কান্তারি তাঁর গ্রন্থে আমাদের জানিয়েছেন, আস-সাররাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ শু’বাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-হাকাম থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু জুহাইফাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:
«আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভরদুপুরে বাতহার দিকে বের হলেন, অতঃপর তিনি অজু করলেন এবং জোহরের সালাত দুই রাকাত ও আসরের সালাত দুই রাকাত আদায় করলেন।»।
হাদীসটি ইমাম বুখারী আল-হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন; এই হাসান হলেন হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল সাব্বাহ আয-যা’ফরানী, যিনি ২৬০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ التَّفْلِيسِيُّ ، بِنَيْسَابُورَ، قَالَ: ثنا حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الأَعْرَابِيِّ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ بْنِ الزَّعْفَرَانِيِّ، ثنا عُبَيْدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رَفِيعٍ، قَالَ: رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ، وَيُخْبِرُ أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَخْبَرَتْهُ أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَدْخُلْ بَيْتَهَا إِلا صَلاهُمَا رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ
১৯ - নিশাপুরে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আত-তাফলিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হামযা ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাবাহ ইবনুয যা'ফরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদাহ ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে রাফি' আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে দেখেছি আসরের পর দুই রাকাত সালাত আদায় করতে, এবং তিনি সংবাদ দিচ্ছিলেন যে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেই এই দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। ইমাম বুখারি এটি হাসান ইবনে মুহাম্মদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ التَّفْلِيسِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، نا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، نا أَبِي، نا ثُمَامَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه ، قَالَ: " إِنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه كَانَ
إِذَا قَحَطُوا اسْتَسْقَى بِالْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنَّا كُنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِنَبِيِّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَسْقِينَا، وَإِنَّا نَتَوَسَّلُ إِلَيْكَ بِعَمِّ نَبِيِّنَا فَاسْقِنَا.
فَيُسْقَوْنَ " رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ
২০ - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আত-তাফলিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সাব্বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুমামা ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন
অনাবৃষ্টির কবলে পড়তেন তখন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেন: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমরা আপনার নিকট আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করতাম এবং আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করতেন; আর এখন আমরা আমাদের নবীর চাচার মাধ্যমে আপনার নিকট ওসিলা পেশ করছি, অতএব আমাদের বৃষ্টি দান করুন।
অতঃপর তাদের বৃষ্টি দান করা হতো।" এটি ইমাম বুখারি হাসান ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرِ بْنُ يُونُسَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْبَغْدَادِيُّ ، إِجَازَةً، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ ابْنُ أَخِي أَبِي زُرْعَةَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ الرَّازِيُّ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ، نا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ ، يُخْبِرُ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ ، ،أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ: " سَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ فِيمَ تَرَوْنَ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ:
{أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُونَ لَهُ جَنَّةٌ مِنْ نَخِيلٍ وَأَعْنَابٍ} [البقرة: 266] .
فَقَالُوا: اللَّهُ أَعْلَمُ، فَغَضِبَ عُمَرُ، وَقَالَ: قُولُوا: أَنَعْلَمُ أَوْ لا نَعْلَمُ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فِي نَفْسِي مِنْهَا شَيْءٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، فَقَالَ: قُلْ يَا ابْنَ أَخِي وَلا تَحْقِرْ نَفْسَكَ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلا لِلْعَمَلِ، قَالَ عُمَرُ: وَلأَيِّ الْعَمَلِ؟ قَالَ: لِلْعَمَلِ، فَقَالَ عُمَرُ: لِرَجُلٍ غَنِيٍّ يَعْمَلُ الْحَسَنَاتِ، ثُمَّ بَعَثَ اللَّهُ لَهُ شَيْطَانًا فَعَمِلَ الْمَعَاصِيَ ، حَتَّى أَغْرَقَ أَعْمَالَهَا كُلَّهَا "
২১ - আবু নাসর বিন ইউনুস আমাদের কাছে পাঠ করেছেন, তিনি বলেন, আবু আলী আল-হাসান বিন সুলায়মান আল-বাগদাদী আমাদের ইজাজাহ বা অনুমতি সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-কাসিম ইবনে আখি আবু যুরআহ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আল-রাযী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাব্বাহ আল-জাফরানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু বকর বিন আবি মুলাইকাহকে উবাইদ বিন উমাইর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: "উমর ইবনুল খাত্তাব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন: তোমাদের অভিমত কী, এই আয়াতটি কোন বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে:
{তোমাদের মধ্যে কি কেউ এমন পছন্দ করবে যে তার জন্য খেজুর ও আঙুরের বাগান থাকবে} [সূরা আল-বাকারা: ২৬৬]।
তারা বললেন: আল্লাহই ভালো জানেন। এতে উমর রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: তোমরা বলো যে আমরা জানি অথবা আমরা জানি না। তখন ইবনে আব্বাস বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আমার মনে এ সম্পর্কে কিছু ধারণা আছে। তিনি বললেন: হে ভাতিজা, তুমি বলো এবং নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করো না। ইবনে আব্বাস বললেন: আল্লাহ এটি আমলের একটি উপমা হিসেবে পেশ করেছেন। উমর বললেন: কোন আমলের? তিনি বললেন: আমলের। তখন উমর বললেন: এটি এমন এক ধনী ব্যক্তির উপমা যে নেক আমল করে, এরপর আল্লাহ তার ওপর শয়তানকে লেলিয়ে দেন এবং সে পাপে লিপ্ত হয়, শেষ পর্যন্ত সে তার আমলসমূহকে পুরোপুরি বিনষ্ট করে দেয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - وَبِهِ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ ، ،أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ ، يَقُولُ: " {أَلا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ} [هود: 5] قَالَ: سَأَلْتُهُ عَنْهَا، فَقَالَ: أُنَاسٌ كَانُوا يَسْتَحْيُونَ أَنْ يَتَخَلَّوْا فَيُفْضُوا إِلَى السَّمَاءِ، وَأَنْ يُجَامِعُوا نِسَائَهُمْ فَيُفْضُوا إِلَى السَّمَاءِ، فَنَزَلَ ذَلِكَ فِيهِمْ "
২২ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের নিকট হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছেন: "{সাবধান! নিশ্চয়ই তারা তাদের বক্ষদেশ সংকুচিত করে} [হূদ: ৫]। তিনি (রাবী) বলেন: আমি তাঁকে (ইবনে আব্বাসকে) এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তারা ছিল এমন কিছু লোক যারা নির্জনে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে লজ্জা বোধ করত যাতে তারা আকাশের সামনে উন্মুক্ত না হয়ে পড়ে, এবং তাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করতেও লজ্জা বোধ করত যাতে তারা আকাশের সামনে উন্মুক্ত না হয়ে পড়ে; তখন তাদের ব্যাপারেই এটি অবতীর্ণ হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - وَبِهِ ثنا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ أَخْبَرَهُمْ " أَنَّهُ
قَدِمَ رَكْبٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَمِّرِ الْقَعْقَاعَ بْنَ مَعْبَدٍ، وَقَالَ عُمَرُ: بَلْ أَمِّرِ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: مَا أَرَدْتَ إِلا، أَوْ إِلَى خِلافِي.
فَقَالَ عُمَرُ: خِلافِكَ؟ فَتَمَارَيَا حَتَّى ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا، فَنَزَلَ فِي ذَلِكَ: {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} [الحجرات: 1] حَتَّى انْقَضَتِ الآيَةُ {وَلَوْ أَنَّهُمْ صَبَرُوا حَتَّى تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ} [الحجرات: 5] "
২৩ - এবং এর মাধ্যমে হাজ্জাজ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, ইবনে আবু মুলাইকাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর তাদের অবহিত করেছেন যে, "নিশ্চয়ই
বনু তামীম গোত্রের একটি আরোহী দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করল। তখন আবু বকর বললেন: আপনি আল-কাকা ইবনে মাবাদকে আমীর নিযুক্ত করুন। আর উমর বললেন: বরং আপনি আল-আকরা ইবনে হাবিসকে আমীর নিযুক্ত করুন। তখন আবু বকর বললেন: আপনি কেবল আমার বিরোধিতা করতে চেয়েছেন।
উমর বললেন: আপনার বিরোধিতা? এরপর তারা বিতর্কে লিপ্ত হলেন এমনকি তাঁদের উভয়ের কণ্ঠস্বর উচ্চ হয়ে গেল। তখন এ বিষয়ে অবতীর্ণ হলো: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর হাত এবং তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রগামী হয়ো না} [আল-হুজুরাত: ১] আয়াতটি শেষ হওয়া পর্যন্ত: {যদি তারা ধৈর্য ধারণ করত যতক্ষণ না আপনি তাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসতেন, তবে তা তাদের জন্য অবশ্যই উত্তম হতো} [আল-হুজুরাত: ৫]।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - وَبِهِ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: زَعَمَ عَطَاءٌ، أَنَّهُ سَمِعَ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ ، تَزْعُمُ: " أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ
يَمْكُثُ عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ وَيَشْرَبُ عِنْدَهَا عَسَلا، فَتَوَاصَيْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ، أَنْ أَيَّتُنَا دَخَلَ عَلَيْهِ فَلْتَقُلْ: إِنِّي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ مَغَافِيرَ ، أَكَلْتَ مَغَافِيرَ، فَدَخَلَ عَلَى إِحْدَيْهِمَا فَقَالَتْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «لا بَلْ شَرِبْتُ عَسَلا عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ، وَلَنْ أَعُودَ لَهُ» .
فَنَزَلَتْ: {يَأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ} [التحريم: 1] إِلَى {إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ} [التحريم: 4] ، لِعَائِشَةَ وَحَفْصَةَ.
{وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ} [التحريم: 3] صلى الله عليه وسلم {إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ} [التحريم: 3] لِقَوْلِهِ: بَلْ شَرِبْتُ عَسَلا " الأَحَادِيثُ الأَرْبَعَةُ صَحِيحَةٌ، أَخْرَجَهَا الْبُخَارِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيِّ
زهير بْن حرب بْن شداد النسائي ، مات ببغداد سنة أربع وثلاثين.
২৪ - এবং এই সনদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন: আতা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উবাইদ বিন উমাইরকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশাকে বলতে শুনেছি:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জয়নব বিনতে জাহাশের নিকট অবস্থান করতেন এবং তাঁর নিকট মধু পান করতেন। অতঃপর আমি ও হাফসা পরস্পর পরামর্শ করলাম যে, আমাদের মধ্যে যার নিকটই তিনি প্রবেশ করবেন, সে যেন বলে: আমি আপনার নিকট থেকে মাগাফিরের (এক প্রকার দুর্গন্ধযুক্ত আঠা) গন্ধ পাচ্ছি, আপনি কি মাগাফির খেয়েছেন? অতঃপর তিনি তাদের একজনের নিকট প্রবেশ করলে তিনি তাই বললেন। তখন তিনি বললেন: "না, বরং আমি জয়নব বিনতে জাহাশের নিকট মধু পান করেছি এবং আমি আর কখনো তা করব না।"
তখন অবতীর্ণ হলো: {হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি লাভের কামনায় তা কেন নিজের জন্য নিষিদ্ধ করছেন?} [আত-তাহরীম: ১] থেকে {যদি তোমরা উভয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করো} [আত-তাহরীম: ৪] পর্যন্ত, যা আয়েশা ও হাফসার উদ্দেশ্যে।
{এবং যখন নবী} (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) {তাঁর জনৈক স্ত্রীর কাছে একটি কথা গোপনে বলেছিলেন} [আত-তাহরীম: ৩], তাঁর এই কথার কারণে: "বরং আমি মধু পান করেছি"। এই চারটি হাদিসই সহীহ, যা ইমাম বুখারী হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ আয-যাফরানী থেকে বর্ণনা করেছেন।
যুহাইর ইবনে হারব ইবনে শাদ্দাদ আন-নাসায়ী, তিনি চৌত্রিশ হিজরি সনে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 - أخبرنا الشريف أبو نصر مُحَمَّد بْن مُحَمَّد بْن علي الهاشمي، أنا مُحَمَّد بْن عمر بْن علي بْن خلف، ثنا عبد اللَّه بْن مُحَمَّد بْن عبد العزيز، نا أَحْمَد بْن حنبل، وجدي، وزهير بْن حرب، وسريج بْن يونس، وابن المقري، قالوا: أنا سفيان بْن عيينة، عن الزهري، عن سالم، عَنِ ابْنِ عمر، قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم:
«الْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ» .
رواه مسلم، عن زهير بْن حرب
২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শরীফ আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-হাশেমী, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ওমর ইবনে আলী ইবনে খালাফ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে হাম্বল, আমার দাদা, যুহাইর ইবনে হারব, সুরাইজ ইবনে ইউনুস এবং ইবনুল মুকরী; তাঁরা বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি তার ভাইকে লজ্জাশীলতার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছিলেন (বা ভর্ৎসনা করছিলেন), তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
«লজ্জা ঈমানের অঙ্গ»।
এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন যুহাইর ইবনে হারব থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - أخبرنا الشريف، أنا أبو طاهر، نا البغوي، نا أبو خيثمة زهير بْن حرب، نا سفيان بْن عيينة، نا عبد الرحمن بْن القاسم، عن أبيه، عن عائشة ، رضي الله عنها، قَالَتْ: " قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ صَفِيَّةَ قَدْ حَاضَتْ، قَالَ: أَحَابِسَتُنَا هِيَ؟ قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا قَدْ أَفَاضَتْ، قَالَ: فَلا إِذًا "
২৬ - আশ-শারিফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহির আমাদের জানিয়েছেন, আল-বাগাওয়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু খাইসামা যুহাইর ইবনে হারব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই সাফিয়্যাহ ঋতুবতী হয়েছেন। তিনি বললেন: তবে কি সে আমাদের আটকে রাখবে? তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো তাওয়াফে ইফাদা সম্পন্ন করেছেন। তিনি বললেন: তাহলে আর নয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - أخبرنا الشريف، أبو نصر الزينبي، نا أبو طاهر المخلص، نا عبد اللَّه بْن مُحَمَّد البغوي، نا أبو خيثمة زهير بْن حرب، نا الوليد بْن مسلم، عن صفوان بْن عمرو، عن عبد الرحمن بْن جبير بْن نفير، عن أبيه، عن عوف بْن مالك الأشجعي، قَالَ: " خَرَجْتُ مَعَ مَنْ خَرَجَ مَعَ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ، وَالْمُسْلِمِينَ فِي غَزْوَةِ مُؤْتَةَ، فَرَافَقَنِي مَدَدِيٌّ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ لَيْسَ مَعَهُ غَيْرُ سَيْفِهِ، فَنَحَرَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ جَزُورًا، فَسَأَلَهُ الْمَدَدِيُّ طَائِفَةً مِنْ جِلْدِهِ، فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ ، فَاتَّخَذَهُ كَهَيْئَةِ الدَّرْقِ، وَمَضَيْنَا، فَلَقِينَا جُمُوعَ الرُّومِ، قَالَ: وَفِيهِمْ رَجُلٌ عَلَى فَرَسٍ لَهُ أَشْقَرَ عَلَيْهِ سَرْجٌ مُذَهَّبٌ وَسِلاحٌ مُذَهَّبٌ، فَجَعَلَ الرُّومِيُّ يُغْرِي بِالْمُسْلِمِينَ، وَقَعَدَ لَهُ الْمَدَدِيُّ خَلْفَ صَخْرَةٍ، فَضَرَبَ الرُّومِيَّ، فَخَرَّ مِنْ فَرَسِهِ، وَعَلاهُ فَقَتَلَهُ، فَحَازَ فَرَسَهُ وَسِلاحَهُ، فَلَمَّا فَتَحَ اللَّهُ لِلْمُسْلِمِينَ، بَعَثَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَأَخَذَ مِنَ السَّلَبِ، قَالَ عَوْفٌ: فَأَتَيْتُهُ، فَقُلْتُ: يَا خَالِدُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
قَضَى بِالسَّلَبِ لِلْقَاتِلِ، قَالَ: بَلَى، وَلَكِنِّي اسْتَكْثَرْتُهُ.
قَالَ عَوْفٌ: فَقُلْتُ: لَتَرُدَّنَّهُ إِلَيْهِ أَوْ لأُعَرِّفَنَّكَهَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: فَأَبَى أَنْ يَرُدَّ عَلَيْهِ، قَالَ عَوْفٌ: فَاجْتَمَعْنَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَصَصْتُ عَلَيْهِ قِصَّةَ الْمَدَدِيِّ، وَمَا فَعَلَ خَالِدٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا خَالِدُ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ؟» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَكْثَرْتُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَمَاذَا؟» فَأَخْبَرْتُهُ، فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ: «يَا خَالِدُ لا تَرُدَّ عَلَيْهِ، هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُونَ لِي أُمَرَائِي لَكُمْ صَفْوَةُ أَمْرِكُمْ»
২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরিফ আবু নাসর আজ-জাইনাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আল-মুখলিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-বাগাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা জুহাইর ইবন হারব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ ইবন মুসলিম, সাফওয়ান ইবন আমর থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন জুবাইর ইবন নুফাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আউফ ইবন মালিক আল-আশজায়ি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি মুতার যুদ্ধে যায়িদ ইবন হারিসা ও মুসলিমদের সাথে বের হয়েছিলাম। জনৈক ইয়েমেনি সাহায্যকারী যোদ্ধা আমার সফরসঙ্গী হলেন, যার নিকট তার তলোয়ার ছাড়া আর কিছুই ছিল না। মুসলিমদের এক ব্যক্তি একটি উট জবেহ করলেন, তখন সেই ইয়েমেনি যোদ্ধা তার কাছে চামড়ার এক টুকরো চাইলেন। তিনি তাকে তা দিলেন, যা দিয়ে সে ঢালের মতো একটি বস্তু তৈরি করে নিল। আমরা অগ্রসর হলাম এবং রোমান বাহিনীর বিশাল সমাবেশের মুখোমুখি হলাম। তিনি বলেন: তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি লাল বর্ণের ঘোড়ায় সওয়ার ছিল, যার জিন ও অস্ত্রশস্ত্র ছিল স্বর্ণখচিত। সেই রোমান ব্যক্তিটি মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করতে প্ররোচিত করছিল। ইয়েমেনি যোদ্ধাটি একটি পাথরের আড়ালে ওত পেতে রইলেন এবং রোমান লোকটিকে আঘাত করলেন। ফলে সে ঘোড়া থেকে পড়ে গেল এবং তিনি তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করলেন। এরপর তিনি তার ঘোড়া ও অস্ত্রশস্ত্র হস্তগত করলেন। যখন আল্লাহ মুসলিমদের বিজয় দান করলেন, খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ লোক পাঠিয়ে সেই নিহত শত্রুর মালামাল কেড়ে নিলেন। আউফ বলেন: আমি তাঁর নিকট এসে বললাম: হে খালিদ! আপনি কি জানেন না যে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হত্যাকারীর জন্যই নিহত শত্রুর লুণ্ঠিত মালামালের ফয়সালা করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, কিন্তু আমি তা অনেক বেশি মনে করেছি।আউফ বলেন: আমি বললাম: আপনি অবশ্যই তা তাকে ফেরত দেবেন, অন্যথায় আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আপনার এই আচরণের কথা জানাব। তিনি তা ফেরত দিতে অস্বীকার করলেন। আউফ বলেন: অতঃপর আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একত্রিত হলাম এবং আমি তাঁর কাছে সেই ইয়েমেনি যোদ্ধার ঘটনা ও খালিদ যা করেছেন তার বিবরণ দিলাম। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে খালিদ! যা করেছ তা করতে কিসে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করল? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি তা অনেক বেশি মনে করেছি। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আর কী? আমি তাঁকে বিস্তারিত জানালাম। এতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: হে খালিদ! তাকে তা ফেরত দিও না। তোমরা কি আমার জন্য আমার আমিরদের (নেতাদের) অব্যাহতি দেবে না? তোমাদের জন্য তো তাদের নির্দেশের কল্যাণকর অংশটুকুই রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-আওয়ালী আল-মুওয়াফাকাত - ইসমাঈল আল-আসবাহানী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 - قال: ونا عبد اللَّه، نا سريج بْن يونس، وأبو خيثمة زهير بْن حرب، قالا: نا أبو معاوية، نا هشام بْن عروة، عن عبد الرحمن بْن القاسم، عن أبيه، عن عائشة رضي الله عنها، قَالَتْ: كَانَتْ فِي بَرِيرَةَ ثَلاثُ قَضِيَّاتٍ ، أَرَادَ أَهْلُهَا أَنْ يَبِيعُوهَا وَيَشْتَرِطُوا وَلاءَهَا ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
فَقَالَ:
«اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا ، فَإِنَّ الْوَلاءَ لِمَنْ أَعْتَقَ» .قَالَتْ: وَعَتَقَتْ ، فَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا ، وَكَانَ النَّاسُ يَتَصَدَّقُونَ عَلَيْهَا وَتُهْدِي لَنَا ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: «هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَكُمْ هَدِيَّةٌ، فَكُلُوهُ» .
اللفظ لأبي خثيمة
২৮ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুরায়জ ইবনে ইউনুস এবং আবু খাইসামাহ জুহাইর ইবনে হারব, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আল-কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বারীরার ক্ষেত্রে তিনটি ফয়সালা ছিল। তার মালিকরা তাকে বিক্রি করতে চেয়েছিল এবং শর্তারোপ করতে চেয়েছিল যে 'ওয়ালা' (উত্তরাধিকারের অধিকার) তাদেরই থাকবে। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তা উল্লেখ করলাম।
অতঃপর তিনি বললেন:
"তুমি তাকে ক্রয় করো এবং তাকে মুক্ত করে দাও, কেননা 'ওয়ালা' তো তারই প্রাপ্য যে মুক্ত করে।"তিনি (আয়িশা) বলেন: সে মুক্ত হলো, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইখতিয়ার (স্বামী গ্রহণের ব্যাপারে নির্বাচনের অধিকার) দিলেন তখন সে নিজেকেই বেছে নিল। আর মানুষ তাকে সদকা প্রদান করত এবং সে আমাদের জন্য হাদিয়া পাঠাত। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তা উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "সেটি তার জন্য সদকা এবং তোমাদের জন্য হাদিয়া, সুতরাং তোমরা তা খাও।"
শব্দগুলো আবু খাইসামাহ-এর।