(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: -)
ذكر الجهر بالبسملة مختصرا   (الخطيب البغدادي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: ذكر الجهر بالبسملة مختصرا

المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (ت 463هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 64

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সশব্দে বিস্মিল্লাহ পাঠের সংক্ষিপ্ত আলোচনা   (খতীব বাগদাদী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: সশব্দে বিস্মিল্লাহ পাঠের সংক্ষিপ্ত আলোচনা

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমদ বিন মাহদী আল-খতীব বাগদাদী (ওফাত ৪৬৩ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি যা ইসলামিক নেটওয়ার্ক সাইটের অধীনস্থ জাওয়ামি' আল-কালিম নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪

[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ذِكْرُ الْجَهْرِ بِالْبَسْمَلَةِ مُخْتَصَرًا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ পাঠের সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২)
1 - قَالَ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ، أنبا الْبَرْقَانِيُّ، وَمَا رَأَيْنَا شَيْخًا أَثْبَتَ مِنْهُ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْعَبَّاسِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَمْدَانَ النَّيْسَابُورِيِّ، حَدَّثَكُمْ تَمِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ الْمِصْرِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، سَمِعْتُ حَيْوَةَ بْنَ شُرَيْحٍ، أَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلالٍ، عَنْ نُعَيْمٍ الْمُجْمِرِ، قَالَ:‌‌ صَلَّيْتُ وَرَاءَ أَبِي هُرَيْرَةَ، فَقَالَ: (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) ، قَرَأَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ حَتَّى قَرَأَ: {وَلا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7] فَقَالَ: آمِينَ، وَقَالَ النَّاسُ: آمِينَ، فَلَمَّا رَكَعَ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، فَلَمَّا رَفَعَ قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ سَجَدَ، فَلَمَّا رَفَعَ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، فَلَمَّا سَجَدَ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، فَلَمَّا رَفَعَ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، ثُمَّ اسْتَقَلَّ قَائِمًا مَعَ التَّكْبِيرِ، فَلَمَّا قَامَ مِنَ الثِّنْتَيْنِ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ، فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَشْبَهُكُمْ صَلاةً بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم» .

هَذَا حَدِيثٌ ثَابِتٌ صَحِيحٌ، رَوَاهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، نَحْوَهُ
১ - হাফিজ আবু বকর আল-খতিব বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বারকানি, আর আমরা তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য কোনো শাইখ দেখিনি, তিনি বলেন: আমি আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হামদান আন-নাইসাবুরির কাছে পাঠ করেছি, তিনি বলেন: তামিম বিন মুহাম্মদ তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন সালিহ আল-মিসরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আমি হাইওয়া বিন শুরাইহকে বলতে শুনেছি, খালিদ বিন ইয়াজিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ বিন আবি হিলাল থেকে বর্ণিত, তিনি নুয়াইম আল-মুজমির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রার পিছনে সালাত আদায় করলাম, তিনি বললেন: (বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম), এরপর তিনি উম্মুল কুরআন পাঠ করলেন, এমনকি যখন পাঠ করলেন: {ওয়ালাদ দ্বল্লিন} [আল-ফাতিহা: ৭], তখন তিনি বললেন: আমিন, এবং লোকেরাও বলল: আমিন। অতঃপর যখন তিনি রুকু করলেন, বললেন: আল্লাহু আকবার, যখন রুকু থেকে মাথা উঠালেন, বললেন: সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ, এরপর বললেন: আল্লাহু আকবার, এরপর তিনি সিজদা করলেন। যখন সিজদা থেকে মাথা উঠালেন, বললেন: আল্লাহু আকবার, যখন পুনরায় সিজদা করলেন, বললেন: আল্লাহু আকবার, যখন সিজদা থেকে মাথা উঠালেন, বললেন: আল্লাহু আকবার, এরপর তিনি তাকবিরের সাথে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন। যখন দ্বিতীয় রাকাত শেষে (বৈঠক থেকে) দাঁড়ালেন, তখন বললেন: আল্লাহু আকবার। যখন সালাম ফিরালেন, তখন বললেন: "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে সালাতের দিক থেকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।"

এটি একটি সুসাব্যস্ত সহিহ হাদিস। আব্দুল মালিক বিন শুআইব বিন আল-লাইস বিন সাদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি খালিদ বিন ইয়াজিদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - وَقَالَ الشَّافِعِيُّ فِي مُسْنَدِهِ أنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي صَالِحٌ مَوْلَى التَّوْأَمَةِ ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ‌‌ يَفْتَتِحُ الصَّلاةَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ".

وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
২ - এবং ইমাম শাফিয়ী তাঁর মুসনাদে বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাওআমাহ-র আযাদকৃত দাস সালিহ, নিশ্চয়ই আবু হুরায়রা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম-এর মাধ্যমে সালাত শুরু করতেন।

এবং অনুরূপভাবে সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - وَقَالَ الشَّافِعِيُّ فِي مُسْنَدِهِ: نا مُسْلِمٌ الزَّنْجِيُّ، وَعَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ‌‌ لا يَدَعُ (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) لأُمِّ الْقُرْآنِ وَالسُّورَةِ الَّتِي بَعْدَهَا ".

قُلْتُ: يَجْهَرُ لأَنَّهُ لا يَدَعُهَا سِرًّا أَوْ لا يَدَعُهَا جَهْرًا ، فَالأَصْلُ فِيهِ عَلَى الْجَهْرِ
৩ - ইমাম শাফিঈ তাঁর মুসনাদে বলেন: আমাদের নিকট মুসলিম আয-যানজি এবং আব্দুল মাজিদ বিন আবি রাওয়াদ বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) এবং তার পরবর্তী সূরার জন্য ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ পাঠ করা বর্জন করতেন না।

আমি বলছি: তিনি এটি উচ্চস্বরে পাঠ করতেন; কারণ তিনি এটি নিঃশব্দে বর্জন করতেন না অথবা উচ্চস্বরে বর্জন করতেন না, আর এক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো উচ্চস্বরে পাঠ করা।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - وَقَالَ الطَّبَرَانِيُّ: أنا الدَّبَرِيُّ، نا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: ‌‌«فِي كُلِّ صَلاةٍ قِرَاءَةٌ، فَمَا أَسْمَعَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ أَسْمَعْنَاكُمْ، وَمَا أَخْفَى مِنَّا أَخْفَيْنَاهُ مِنْكُمْ» .

رَوَاهُ مَرْوَانُ بْنُ جَنَاحٍ، وَحَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، نَحْوَهُ
৪ - এবং তাবারানি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আদ-দাবারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আতা যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: “প্রত্যেক সালাতেই কিরাত রয়েছে। সুতরাং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি যা আমাদের শুনিয়েছেন, আমরাও তা তোমাদের শোনাচ্ছি; আর যা তিনি আমাদের নিকট গোপন রেখেছেন, আমরাও তা তোমাদের নিকট গোপন রাখছি।”

মারওয়ান ইবনে জানাহ এবং হাবীব আল-মুয়াল্লিম আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُؤَدِّبُ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْمُثَنَّى الْعَنْبَرِيُّ، بِإِسْتَرَابَاذَ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُبَارَكٍ، بِتُسْتَرَ، مِنْ أَصْلِهِ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، ثنا أَبُو حُذَيْفَةَ مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَجْهَرُ بِقِرَاءَةِ (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) »
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-হাসান বিন আল-মুসান্না আল-আনবারি আসতারাাবাদে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আহমাদ বিন মুবারক তুস্তারে তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন ইসহাক আল-কাজী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুযায়ফা মুসা বিন মাসউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আল-সাওরি, মানসুর থেকে, তিনি আবু হাজিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চস্বরে (বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম) পাঠ করতেন।»
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - حَدَّثَنَا الْبَرْقَانِيُّ، نا أَبُو النَّضْرِ شَافِعُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَوَانَةَ الإِسْفَرَايِينِيُّ، إِمْلاءً، ثنا جَدِّي، ثنا عُثْمَانُ بْنُ خُرَّزَادَ، حَدَّثَنِي مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، مِنْ كِتَابِهِ، ثُمَّ حَكَّهُ بَعْدَ زَمَانٍ مِنْ كِتَابِهِ، ثنا أَبُو أُوَيْسٍ، أنا الْعَلاءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «كَانَ‌‌ إِذَا أَمَّ النَّاسَ جَهَرَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ»
৬ - বারকানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আন-নাদর শাফি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি আওয়াওয়ানা আল-ইসফারাইনী আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আমার দাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে খুররাযাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মানসুর ইবনে আবি মুযাহিম তার কিতাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, অতঃপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি তা তার কিতাব থেকে মুছে ফেলেছিলেন, আবু উওয়াইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আলা ইবনে আবদুর রহমান আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ছিলেন যে, যখন মানুষের ইমামতি করতেন, তখন উচ্চস্বরে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ পাঠ করতেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَرَ الرَّزَّازُ، أنبا عُمَرُ بْنُ شَاهِينَ، ثنا عُمَرُ بْنُ الْحَسَنِ الشَّيْبَانِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، ثنا ابْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، نا الْعَلاءُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ «كَانَ‌‌ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ هُوَ الآجُرِّيُّ، وَرُبَّمَا سَمَّاهُ أَبُو بَكْرٍ الشَّافِعِيُّ مُحَمَّدًا، رَوَى عَنْهُ أَيْضًا ابْنُ السَّمَّاكِ، قَالَهُ الْخَطِيبُ، وَأَبُو أُوَيْسٍ فِيهِ ضَعْفٌ
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল মালিক ইবনে উমর আল-রাজ্জাজ, আমাদের খবর দিয়েছেন উমর ইবনে শাহীন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উমর ইবনে হাসান আল-শায়বানী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে খালিদ ইবনে ইয়াযীদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে আবু উওয়াইস, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আলা তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম’ উচ্চস্বরে পাঠ করতেন।

আহমদ ইবনে খালিদ হলেন আল-আজুররী, সম্ভবত আবু বকর আল-শাফিঈ তাকে মুহাম্মদ নামে অভিহিত করেছেন, ইবনে আল-সাম্মাকও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—এটি আল-খতীব বলেছেন; আর আবু উওয়াইসের বর্ণনায় দুর্বলতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - وَقَالَ أَبُو مَعْشَرٍ الْمَدَنِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، ثُمَّ تَرَكَهُ»
৮ - এবং আবু মা'শার আল-মাদানি মুহাম্মাদ ইবনে কায়স থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সশব্দে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পাঠ করতেন, অতঃপর তিনি তা পরিত্যাগ করেন।»
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - وَقَالَ جَعْفَرُ بْنُ مُكْرَمٍ: ثنا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي نُوحُ بْنُ أَبِي بِلالٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ إِذَا قَرَأْتُمُ {الْحَمْدُ لِلَّهِ} [الفاتحة: 2] فَاقْرَءُوا (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) ، فَإِنَّهَا إِحْدَى آيَاتِهَا ".

قَالَ الْحَنَفِيُّ: ثُمَّ لَقِيتُ نُوحًا فَحَدَّثَنِي، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَلَمْ يَرْفَعْهُ، رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ وَكِيعٌ، وَيَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُكْرَمٍ ، وَرَوَاهُ عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ
৯ - জাফর ইবনে মুকরাম বলেন: আবু বকর আল-হানাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল হামীদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নূহ ইবনে আবী বিলাল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌যখন তোমরা {আল-হামদু লিল্লাহি} [ফাতিহা: ২] পাঠ করবে, তখন (বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম) পাঠ করো, কারণ এটি এর অন্যতম একটি আয়াত।"

আল-হানাফী বলেন: এরপর আমি নূহের সাথে সাক্ষাৎ করি, তখন তিনি আমার নিকট সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন এবং তিনি তা মারফূ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া) করেননি। এটি মুহাম্মাদ ইবনে খালাফ ওয়াকী‘ এবং ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সায়িদ, জাফর ইবনে মুকরাম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আলী ইবনে হারব ও ইসহাকও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - وَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ زَيْدٍ الْجَمَّالُ، وَغَيْرُهُ ثنا عَمْرُو بْنُ شِمْرٍ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ عَلِيٍّ، وَعَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «كَانَ‌‌ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

رَوَاهُ عَبْدُ الصَّمَدِ الطَّسْتِيُّ، وَأَبُو بَكْرٍ الشَّافِعِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ
الصَّائِغُ، عَنْ أُسَيْدٍ.

وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْفُرَاتِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَسَّانٍ الْعَبْدِيِّ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، مِثْلَهُ
১০ - উসাইদ ইবনে যাইদ আল-জাম্মাল এবং অন্যান্যরা বলেছেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে শিমর, জাবির থেকে, তিনি আবু তুফাইল থেকে, তিনি আলী এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) « 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' উচ্চস্বরে পাঠ করতেন।»

এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুস সামাদ আত-তাস্তি এবং আবু বকর আশ-শাফিঈ, জাফর ইবনে মুহাম্মদ
আস-সায়েগ থেকে, তিনি উসাইদ থেকে।

এবং এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ, ইয়াহইয়া ইবনুল হাসান ইবনুল ফুরাত থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনুল হাকাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে হাসসান আল-আবদি থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি আবু তুফাইল থেকে, অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - وَقَالَ يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ: صَلَّى بِنَا الْمَهْدِيُّ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، فَقُلْتُ لَهُ: مَا هَذَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ فَقَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‌‌«صَلَّى فَجَهَرَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

رَوَاهُ عَنْ يَحْيَى ابْنُهُ مُحَمَّدٌ، وَمَنْصُورُ بْنُ بَشِيرٍ، وَهُوَ مَحْفُوظٌ عَنْهُ
১১ - ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ বলেন: আল-মাহদী আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তিনি বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি কী? তিনি বললেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) «সালাত আদায় করেছেন এবং তাতে উচ্চৈঃস্বরে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম পাঠ করেছেন»।

ইয়াহইয়া থেকে তাঁর পুত্র মুহাম্মদ এবং মানসুর ইবনে বাশির এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর সূত্রে সংরক্ষিত।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - وَقَالَ مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَسْتَفْتِحُ الْقِرَاءَةَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ ضِرَارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ اللَّيْثِ الشَّيْبَانِيُّ، وَأَخُو أَبِي دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيِّ مُحَمَّدٌ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ وَالصَّحِيحُ وَقْفُهُ
১২ - মুসলিম বিন ইবরাহিম বলেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন সালামাহ বর্ণনা করেছেন আসিম থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম‌‌ বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম পাঠের মাধ্যমে তিলাওয়াত শুরু করতেন।» .

এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন দিরার, মুহাম্মদ বিন লাইস আশ-শায়বানি এবং আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির ভাই মুহাম্মদ—মুসলিম বিন ইবরাহিম থেকে। এর সনদ হাসান, তবে সঠিক হলো এটি মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য) হিসেবে সাব্যস্ত।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ خُثَيْمٍ، وَعُمَرُ بْنُ حَفْصٍ الْمَكِّيُّ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «كَانَ‌‌ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ»
১৩ - এবং সাঈদ ইবনে খুসাইম ও উমর ইবনে হাফস আল-মাক্কি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম «তিনি উচ্চস্বরে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পাঠ করতেন।»
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - وَيُرْوَى عَنْ شَرِيكِ عَنْ سَالِمٍ، وَغَيْرِهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ.

وَيُرْوَى عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «كَانَ‌‌ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاةَ قَرَأَ (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ سورة الفاتحة آية 1) » .

رَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ الْقَاضِي
، وَأَبُو حَاتِمٍ الْبَزَّازُ، وَالْعَبَّاسُ بْنُ الْفَضْلِ الإِسْفَاطِيُّ، وَغَيْرُهُمْ، عَنْ عَتِيقِ بْنِ يَعْقُوبَ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ وَاهٍ جِدًّا، عَنْ أَبِيهِ، وَعَمِّهِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ.

وَرَوَاهُ الْبَاغَنْدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ اللَّيْثِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَهَذَا الصَّحِيحُ وَقْفُهُ
১৪ - শারিক হতে সালিম ও অন্যদের মাধ্যমে ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

এবং নাফে হতে ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) «ছিলেন‌‌ এমন যে যখন তিনি সালাত শুরু করতেন তখন পাঠ করতেন (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম [সূরা আল-ফাতিহা: আয়াত ১])।

এটি বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল আল-কাদি
, আবু হাতিম আল-বাজ্জায, আল-আব্বাস ইবনুল ফাদল আল-ইসফাতি এবং অন্যান্যরা; তারা আতিক ইবনে ইয়াকুব হতে, তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর হতে—আর এই আবদুর রহমান অত্যন্ত দুর্বল—তিনি তার পিতা ও তার চাচা উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর হতে এবং তিনি নাফে হতে বর্ণনা করেছেন।

আল-বাগিন্দি এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল লাইস আশ-শায়বানি হতে, তিনি মুসলিম ইবনে ইবরাহিম হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ হতে, তিনি আইয়ুব হতে, তিনি নাফে হতে এবং তিনি ইবনে উমর (রাযি.) হতে; আর এটি মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে) হওয়াটাই সঠিক।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - وَقَالَ الْجَهْمُ بْنُ عُثْمَانَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَيْمُونٍ الْقَدَّاحُ، وَلَيْسَا بِشَيْءٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«كَيْفَ تَسْتَفْتِحُ الصَّلاةَ؟» قُلْتُ: أَقُولُ: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] .

فَقَالَ: " قُلْ: (بِسْمِ اللَّهِ
الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) ".

هَذَا حَدِيثٌ ضَعِيفٌ لا يُحْتَجُّ بِهِ
১৫ - এবং জহম ইবনে উসমান ও আবদুল্লাহ ইবনে মাইমুন আল-কাদ্দাহ বর্ণনা করেছেন—আর তারা নির্ভরযোগ্য কেউ নন—জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‌‌"তুমি কীভাবে সালাত শুরু করো?" আমি বললাম: আমি বলি: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক} [আল-ফাতিহা: ২]।

অতঃপর তিনি বললেন: "বলো: (আল্লাহর নামে
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু)"।

এটি একটি দুর্বল হাদিস যা দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - وَقَالَ يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ الْوُحَاظِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «كَانَ‌‌ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ الأَنْمَاطِيُّ كَيْلَحَةُ الْحَافِظُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدُوسٍ
الْحَرَّانِيُّ، عَنِ الْوُحَاظِيِّ.

هَذَا ضَعِيفُ الْحُكْمِ، وَاهٍ بِمَرَّةٍ
১৬ - এবং ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ আল-উহাজি বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-হাকাম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাদ থেকে, তিনি কাসিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) «তিনি উচ্চস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' পাঠ করতেন।»

এটি বর্ণনা করেছেন হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-আনমাতি কায়লাহাহ এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুস
আল-হাররানি, আল-উহাজি থেকে।

এটি হুকুমের দিক থেকে দুর্বল এবং অত্যন্ত অসার।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - وَقَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ: عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَقْطَعُ قِرَاءَتَهُ آيَةً آيَةً، {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ {1} الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ {2} الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1-3] «.

وَرَوَاهُ هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، وَعُمَرُ بْنُ هَارُونَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، وَإِسْنَادُهُ صَحِيحٌ»

وَقَدْ رُوِيَ الْجَهْرُ بِأَسَانِيدَ مُنْكَرَةٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، وَبُرَيْدَةَ، وَسُمَرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، وَغَيْرِهِمْ، ذكرها الخطيب، لا تُسْمِنُ وَلا تُغْنِي مِنْ جُوعٍ، لا يَثْبُتُ بِتِلْكَ الطُّرُقِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْءٌ
১৭ - এবং ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-উমাওয়ী বলেছেন: ইবন জুরাইজ থেকে, তিনি ইবন আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কিরাত প্রতিটি আয়াত আলাদা করে বিরতি দিয়ে পড়তেন, {পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক (২) পরম করুণাময় অসীম দয়ালু (৩)} [আল-ফাতিহা: ১-৩]।"

এবং হাম্মাম ইবন ইয়াহইয়া ও উমর ইবন হারুন এটি ইবন জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহিহ (বিশুদ্ধ)।

আর উচ্চস্বরে পাঠ করার বিষয়টি নুমান ইবন বাশির, বুরাইদাহ, সামুরাহ ইবন জুনদুব এবং অন্যদের থেকে মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) সনদে বর্ণিত হয়েছে, যা আল-খতিব উল্লেখ করেছেন। এগুলো কোনো উপকারে আসে না এবং কোনো প্রয়োজনও মেটায় না; সেই সব সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো কিছুই সাব্যস্ত বা প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - قَالَ الْخَطِيبُ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْحِنَّائِيُّ، ثنا النَّجَّادُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ، ثنا أَبُو سَلَمَةَ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، ثنا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، كَانَ‌‌ يَفْتَتِحُ الْقِرَاءَةَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ".

رَوَاهُ ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ.

وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ
، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، كَانَ يَفْتَتِحُ أُمَّ الْكِتَابِ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.

هَذَا صَحِيحٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ
১৮ - আল-খাতীব বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-হিন্নাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আন-নাজ্জাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম আল-হারবী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু সালামা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, নাফি থেকে, ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম' দিয়ে কিরাত শুরু করতেন।

ইবনে ওয়াহাব এটি আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং উসামা বিন যায়িদ
নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম' দিয়ে উম্মুল কিতাব শুরু করতেন।

এটি ইবনে উমর থেকে বর্ণিত একটি সহীহ বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২০)
19 - أَخْبَرَنَا الْحِنَّائِيُّ، أنا النَّجَّادُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا عَلِيُّ بْنُ حَكِيمٍ، ثنا شَرِيكٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ كَانَ‌‌ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ".

تَابَعَهُ عَلَيْهِ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ
১৯ - আল-হিন্নায়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আন-নাজ্জাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনু হাকিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম ইবনু আবিন নাজুদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি‌‌ উচ্চস্বরে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পাঠ করতেন। "।

সাঈদ ইবনু আবি আরুবাহ এই বর্ণনায় তাঁর অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২১)
20 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، ثنا حَامِدٌ الْهَرَوِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي السَّرِيِّ، ثنا مُعْتَمِرٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَابْنُ عُمَرَ‌‌ يَجْهَرَانِ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ".

صَحِيحٌ
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আবি বকর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হামিদ আল-হারবি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আবি আস-সারী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুতামির, মামার থেকে, তিনি আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর উচ্চস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম' পাঠ করতেন।

সহীহ
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২২)
21 - وَبِهِ، عَنِ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، قَالَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ ابْنِ الزُّبَيْرِ، فَكَانَ‌‌ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَقَالَ: «مَا يَمْنَعُ أُمَرَاءَكُمْ أَنْ يَجْهَرُوا بِهَا إِلا الْكِبْرُ»
২১ - এবং তাঁর মাধ্যমেই মু’তামির হতে, তিনি হুমায়দ আত-তবিল হতে, তিনি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুযানী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল জুবায়েরের পেছনে সালাত আদায় করেছি। তিনি উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম পাঠ করতেন এবং তিনি বলেছিলেন: ‘তোমাদের নেতাদের এটি উচ্চস্বরে পাঠ করতে কোনো কিছুই বাধা দেয় না শুধু অহংকার।’
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - أَخْبَرَنَا الصَّيْرَفِيُّ، أنا الأَصَمُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، أنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، ثنا سَعِيدٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، «أَنَّهُ كَانَ‌‌ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

حَسَنٌ
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সাইরাফী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আসাম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবী তালিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আতা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ, তিনি আসিম বিন বাহদালাহ থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, «তিনি উচ্চৈঃস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করতেন।»

হাসান
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - رَوَى حَنْظَلَةُ السَّدُوسِيُّ صُوَيْلِحٌ ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ ، وَشَهْرٌ مَشْهُورٌ بِاللِّينِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ:‌‌ مَنْ تَرَكَ (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) فِي قِرَاءَتِهِ فَقَدْ تَرَكَ آيَةً "
২৩ - হানজালা আস-সাদূসী সুওয়াইলিহ বর্ণনা করেছেন শাহর ইবনে হাওশাব থেকে—আর শাহর (বর্ণনাকারী হিসেবে) শিথিলতার জন্য প্রসিদ্ধ—তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি তার তিলাওয়াতে (বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম) ছেড়ে দিল, সে একটি আয়াত ছেড়ে দিল।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - أَخْبَرَنَا ابْنُ بِشْرَانَ، وَابْنُ الْفَضْلِ، قَالا: أنا الصَّفَّارُ، ثنا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ، ثنا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كَانَ ابْنُ الزُّبَيْرِ‌‌ يَسْتَفْتِحُ الْقِرَاءَةَ فِي الصَّلاةِ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَيَقُولُ «مَا يَمْنَعُهُمْ مِنْهَا إِلا الْكِبْرُ» .

وَهَذَا ثَابِتٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ
২৪ - ইবনে বিশরান এবং ইবনে আল-ফাদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আস-সাফফার আমাদের জানিয়েছেন, সাদান বিন নাসর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুআজ বিন মুআজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আত-তবিল থেকে, বকর বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আয-যুবায়ের সালাতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ পাঠের মাধ্যমে কিরাত আরম্ভ করতেন এবং বলতেন, “অহংকার ব্যতীত অন্য কোনো কিছু তাদেরকে এটি পাঠ করা হতে বিরত রাখে না।”

আর এটি আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবায়ের থেকে প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - وَقَالَ أَزْهَرُ بْنُ جَمِيلٍ: ثنا الْفَضْلُ بْنُ الْعَلاءِ، ثنا ابْنُ خُثَيْمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ مُعَاوِيَةَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ‌‌ فَصَلَّى بِالنَّاسِ صَلاةً فَجَهَرَ فِيهَا، وَلَمْ يَقْرَأْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، ثُمَّ رَكَعَ فَلَمْ يُكَبِّرْ، ثُمَّ قَامَ فِي الثَّانِيَةِ فَلَمْ يُكَبِّرْ، فَلَمَّا صَلَّى وَسَلَّمَ، نَادَاهُ الْمُهَاجِرُونَ وَالأَنْصَارُ مِنْ كُلِّ نَاحِيَةٍ: يَا مُعَاوِيَةُ أَسَرَقْتَ صَلاتَكَ أَمْ نَسِيتَ؟ أَيْنَ (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) حِينَ افْتَتَحْتَ أُمَّ الْقُرْآنِ؟ وَأَيْنَ اللَّهُ أَكْبَرُ؟ فَعَادَ لَهُمْ فَقَرَأَ (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) ، وَكَبَّرَ حِينَ سَجَدَ وَحِينَ قَامَ ".

رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ فِي مُسْنَدِهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سُلَيْمٍ، وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ.

فَيَحْصُلُ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ الْجَهْرَ بِالتَّسْمِيَةِ مَذْهَبُ الصَّحَابَةِ الَّذِينَ كَانُوا بِالْمَدِينَةِ لَمَّا صَلَّى بِهِمْ مُعَاوِيَةُ، كَذَا قَالَ الْخَطِيبُ، وَمَذْهَبُ جَمَاعَةٍ مِنَ التَّابِعِينَ ذَلِكَ

قَالَ عَاصِمُ بْنُ أَبِي النَّجُودِ: رَأَيْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ ثنا مُعْتَمِرٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْقَاسِمِ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ حَيَّانَ، أَنَّ عِكْرِمَةَ كَانَ لا يُصَلِّي خَلْفَ مَنْ لا يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَكَانَ مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ يَجْهَرُ بِهَا وَيُرْوَى عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، قَالَ: لا يَنْبَغِي الصَّلاةُ خَلْفَ مَنْ لا يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَيُرْوَى الْجَهْرُ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّادِقِ، قَالَ الْخَطِيبُ: وَقَدْ ذَهَبَ إِلَى الْجَهْرِ مِمَّنْ لَمْ يَضُمَّ كِتَابُنَا الرِّوَايَةَ عَنْهُ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، وَعَطَاءٌ، وَعَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، وَمُجَاهِدٌ، وَطَاوُسٌ، وَسَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ كَعْبٍ الْقُرَظِيُّ، وَأَبُو وَائِلٍ شَقِيقُ بْنُ سَلَمَةَ، وَمُحَمَّدُ ابْنُ سِيرِينَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، وَنَافِعٌ، وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَحَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، وَأَبُو الشَّعْثَاءِ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ، وَمَكْحُولٌ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَخَلْقٌ يَطُولُ ذِكْرُهُمْ قَالَ الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: قَرَأْتُ بِخَطِّ أَبِي عَمْرٍو الْمُسْتَمْلِي، سَمِعْتُ أَبَا أَحْمَدَ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْوَهَّابِ، سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ رَاهَوَيْهِ، وَسُئِلَ عَنْ رَجُلٍ تَرَكَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، فَقَالَ: مَنْ تَرَكَ بَاءًا أَوْ سِينًا مِنْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مُتَعَمِّدًا فَصَلاتُهُ فَاسِدَةٌ، لأَنَّ الْحَمْدَ سَبْعُ آيَاتٍ تَرْكُ الْجَهْرِ بِالْبَسْمَلَةِ
২৫ - আযহার ইবনে জামিল বলেন: আমাদের কাছে ফাদল ইবনুল আলা বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে খুসাইম থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে উবায়েদ ইবনে রিফায়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, মুয়াবিয়া মদিনায় আসলেন।‌ অতঃপর তিনি লোকজনকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তাতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়লেন, কিন্তু বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পাঠ করলেন না। এরপর তিনি রুকু করলেন কিন্তু তাকবির দিলেন না। এরপর তিনি দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ালেন কিন্তু তাকবির দিলেন না। যখন তিনি সালাত শেষ করে সালাম ফিরালেন, তখন মুহাজির ও আনসারগণ চারদিক থেকে তাঁকে ডেকে বললেন: হে মুয়াবিয়া! আপনি কি সালাত চুরি করেছেন নাকি ভুলে গেছেন? যখন আপনি উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) শুরু করলেন, তখন (বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম) কোথায় ছিল? আর আল্লাহু আকবার কোথায় ছিল? এরপর তিনি তাঁদের কাছে ফিরে এলেন এবং (বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম) পাঠ করলেন এবং যখন সিজদাহ করলেন ও যখন দাঁড়ালেন তখন তাকবির দিলেন।

ইমাম শাফেঈ তাঁর মুসনাদে এটি ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম ও ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তাঁরা আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে খুসাইম থেকে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং এই হাদিস থেকে এটিই সাব্যস্ত হয় যে, বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পাঠ করা হলো সেই সব সাহাবীদের মতপথ (মাযহাব), যাঁরা মদিনায় ছিলেন যখন মুয়াবিয়া তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন; খতিব এভাবেই বলেছেন। আর এটি তাবেয়ীদের একটি দলেরও মাযহাব।

আসিম ইবনে আবিন নাজুদ বলেন: আমি সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে প্রতিটি রাকাতে উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পাঠ করতে দেখেছি। ইয়াহইয়া ইবনে (সাঈদ) বলেন: আমাদের কাছে মুতামির বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল কাসিম আবু উবাইদাহ থেকে, তিনি উমারা ইবনে হাইয়ান থেকে বর্ণনা করেন যে, ইকরামা এমন ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করতেন না যে উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পাঠ করত না। আর মুতামির ইবনে সুলাইমানও এটি উচ্চস্বরে পাঠ করতেন। আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: এমন ব্যক্তির পিছনে সালাত আদায় করা উচিত নয় যে উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পাঠ করে না। জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক থেকেও উচ্চস্বরে পাঠ করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। খতিব বলেন: যাঁদের বর্ণনা আমাদের কিতাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি তাঁদের মধ্য থেকেও যাঁরা উচ্চস্বরে পাঠের মত পোষণ করেছেন তাঁরা হলেন—সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, আতা, আলি ইবনুল হুসাইন, মুজাহিদ, তাউস, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি, আবু ওয়াইল শাকিক ইবনে সালামা, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির, নাফি, জায়েদ ইবনে আসলাম, উমর ইবনে আবদুল আজিজ, হাবিব ইবনে আবি সাবিত, আবুশ শাসা জাবির ইবনে জায়েদ, মাকহুল, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর, ইবনে আবি জিব, লাইস ইবনে সাদ, আবু আবদুল্লাহ আশ-শাফেঈ, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তি যাদের নাম উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে। হাকিম আবু আবদুল্লাহ বলেন: আমি আবু আমর আল-মুস্তামলির হাতের লেখায় পড়েছি যে, আমি আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ছেড়ে দেয়, তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম থেকে একটি 'বা' অথবা একটি 'সিন' অক্ষরও ছেড়ে দিল, তার সালাত বাতিল (ফাসিদ); কারণ সুরা আল-হামদ হলো সাতটি আয়াত। (এটি) বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পাঠ বর্জন করা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ أنا شُعْبَةُ، وَشَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ: ‌‌«صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَعُثْمَانَ، فَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا مِنْهُمْ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

كَذَا لَفْظُ حَجَّاجٍ الأَعْوَرِ، وَأَبُو النَّضْرِ.

وَرَوَاهُ عَنْ شُعْبَةَ أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، وَغُنْدَرٌ، وَأَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، وَالْحَوْضِيُّ وَلَفْظُهُمْ: «فَلَمْ يَكُونُوا يَسْتَفْتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

وَرَوَاهُ آدَمُ بْنُ إِيَاسٍ عَنْ شُعْبَةَ مِثْلَهُ، وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عُثْمَانَ رضي الله عنه.

وَرَوَاهُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ شُعْبَةَ، وَلَفْظُهُ: «صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ، فَكَانُوا لا يَجْهَرُونَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

وَلَمْ يَذْكُرْ شَيْبَانُ إِلا عَلِيَّ بْنَ الْجَعْدِ.

وَرَوَاهُ الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ، فَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا مِنْهُمْ يَجْهَرُ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ»

وَرَوَاهُ أَبُو قِلابَةَ، وَحُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، وَثَابِتٌ، وَإِسْحَاقُ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ، وَمَنْصُورُ بْنُ زَاذَانَ، وَيُرْوَى عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، وَأَبِي نَعَامَةَ الْحَنَفِيِّ، كُلُّهُمْ، عَنْ أَنَسٍ، وَلَفْظُ سَائِرِهِمْ: «كَانُوا لا يَجْهَرُونَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

وَبَعْضُهُمْ قَالَ: «يُسِرُّونَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» .

وَقَالَ حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ: «يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِالْحَمْدِ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لا يَذْكُرُونَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فِي أَوَّلِ الْقِرَاءَةِ وَلا فِي آخِرِهَا» .

قَالَ الْخَطِيبُ: اخْتُلِفَ فِيهِ عَلَى شُعْبَةَ، ثُمَّ رَوَاهُ بِطُرُقٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ، وَمُسْلِمِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، وَعَمْرِو بْنِ مَرْزُوقٍ، وَالْحَسَنِ بْنِ مُوسَى، وَهُشَيْمٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، " أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَأَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَعُثْمَانَ ، كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] ".

ثُمَّ رَوَاهُ عَنْ أَبِي دَاوُدَ الطَّيَالِسِيِّ، وَابْنِ عُمَرَ الْحَوْضِيِّ، وَغَيْرِهِمَا مِمَّنْ تَقَدَّمَ بِهَذَا اللَّفْظِ أَيْضًا، وَجَعَلَ ذَلِكَ عِلَّةً لأَصْلِ الْحَدِيثِ، ثُمَّ قَالَ: وَقَدِ اخْتَلَفَ فِي لَفْظِ هَذَا الْحَدِيثِ أَصْحَابُ شُعْبَةَ عَلَيْهِ اخْتِلافًا شَدِيدًا، وَإِنَّمَا اعْتَبَرْنَا هَذِهِ الأَلْفَاظَ الْمُخْتَلِفَةَ فَوَجَدْنَا ذِكْرَ التَّسْمِيَةِ غَيْرَ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ
২৬ - আলি ইবনে আল-জাদ বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ ও শায়বান, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর, উমর ও উসমানের পিছনে সালাত আদায় করেছি, আমি তাঁদের কাউকে উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়তে শুনিনি»।

হাজ্জাজ আল-আওয়ার এবং আবু আন-নাদরের বর্ণনাও অনুরুপ।

আর আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, গুন্দার, আবু আমির আল-আকাদি এবং আল-হাওদি এটি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের বর্ণনা হলো: «তাঁরা বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম দিয়ে কিরাত শুরু করতেন না»।

আদম ইবনে ইয়াস এটি শু'বাহ থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এতে উসমানের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কথা উল্লেখ করেননি।

আর আহমাদ তাঁর মুসনাদে ওয়াকি' থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দ হলো: «আমি নবী, আবু বকর, উমর ও উসমানের পিছনে সালাত আদায় করেছি, তাঁরা বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম উচ্চস্বরে পাঠ করতেন না»।

শায়বান কেবল আলি ইবনে আল-জাদ থেকেই বর্ণনা করেছেন।

আর আল-আওযায়ী কাতাদাহ থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি নবী, আবু বকর ও উমরের পিছনে সালাত আদায় করেছি, আমি তাঁদের কাউকে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম উচ্চস্বরে পড়তে শুনিনি»

আর আবু কিলাবাহ, হুমায়দ আত-তাবিল, সাবিত, ইসহাক ইবনে আবু তালহা এবং মানসুর ইবনে যাদান এটি বর্ণনা করেছেন, এছাড়া আল-হাসান আল-বাসরি এবং আবু নাআমা আল-হানাফি থেকেও বর্ণিত আছে, তাঁরা সকলেই আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের বাকিদের শব্দ হলো: «তাঁরা বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম উচ্চস্বরে পাঠ করতেন না»।

আর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: «তাঁরা বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম নিম্নস্বরে পাঠ করতেন»।

আর হুমায়দ আত-তাবিল বলেছেন: «তাঁরা আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন দিয়ে কিরাত শুরু করতেন, কিরাতের শুরুতে বা শেষে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম উল্লেখ করতেন না»।

আল-খাতিব বলেছেন: শু'বাহর ওপর এর বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে, অতঃপর তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন, মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম, আমর ইবনে মারজুক, আল-হাসান ইবনে মুসা এবং হুশাইম থেকে একাধিক সূত্রে শু'বাহ, কাতাদাহ ও আনাস এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর, উমর ও উসমান {আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} [ফাতিহা: ২] দিয়ে কিরাত শুরু করতেন।"

অতঃপর তিনি আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, ইবন উমর আল-হাওদি এবং পূর্বে উল্লেখিত অন্যদের থেকেও এই শব্দেই বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে মূল হাদিসের জন্য ইল্লাত (ত্রুটি) হিসেবে গণ্য করেছেন। এরপর তিনি বলেন: "শু'বাহর সাথীরা এই হাদিসের শব্দের ব্যাপারে তাঁর ওপর ব্যাপক মতভেদ করেছেন। আমরা এই ভিন্ন ভিন্ন শব্দগুলো পর্যালোচনা করেছি এবং দেখেছি যে আনাস থেকে বিসমিল্লাহর উল্লেখ প্রমাণিত নয়।"
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - كَمَا أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، أنا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي سَعْدٍ الْوَرَّاقُ، أنا اللَّيْثُ بْنُ دَاوُدَ الْقُهُسْتَانِيُّ، أنا شُعْبَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ الأَزْدِيُّ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ: " أَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَفْتَتِحُ الصَّلاةَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ؟ قَالَ: إِنَّكَ لَتَسْأَلُنِي عَنْ شَيْءٍ مَا سَأَلَنِي عَنْهُ أَحَدٌ غَيْرُكَ "
২৭ - যেমনিভাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আবি বকর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান ইবনে আহমদ আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি সা'দ আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-লাইস ইবনে দাউদ আল-কুহুস্তানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াজিদ আল-আজদি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ দ্বারা সালাত শুরু করতেন? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তুমি আমাকে এমন একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ, যা তোমার আগে অন্য কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি তুমি ছাড়া।"
(খণ্ড: ১) জিকরুল জাহরি বিল বাসমালাতি মুখতাসারান (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - وَأَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أنا الْقَطِيعِيُّ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا غَسَّانُ بْنُ مُضَرَ، ثنا سَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ، يَعْنِي أَبَا مَسْلَمَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسًا "‌‌ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) ، أَوِ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] ؟ فَقَالَ: إِنَّكَ لَتَسْأَلُنِي عَنْ شَيْءٍ مَا أَحْفَظُهُ، أَوْ مَا سَأَلَنِي أَحَدٌ قَبْلَكَ ".

قُلْتُ: سَأَلَهُ عَنِ افْتِتَاحِ الصَّلاةِ بِالْبَسْمَلَةِ، وَفِي اللَّفْظِ الآخَرِ عَنْ قِرَاءَتِهَا، فَلَمْ يَكُنْ عِنْدَ أَنَسٍ عِلْمٌ مِنْ أَنَّ النَّبِيَّ يَقْرَؤُهَا سِرًّا أَمْ لا

وَقَدْ صَحَّ عَنْ شُعْبَةَ أَنَّهُ قَالَ فِي رِوَايَتِهِ: عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قُلْتُ لِقَتَادَةَ: أَسَمِعْتَهُ مِنْ أَنَسٍ؟ قَالَ: نَحْنُ سَأَلْنَاهُ عَنْهُ.

فَعَلِمَ أَنَّ الَّذِي سَأَلُوا عَنْهُ أَنَسًا فَرَوَاهُ لَهُمْ هُوَ الاسْتِفْتَاحُ بِ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] .

وَأَنَّ الْجَهْرَ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ لَمْ يَحْفَظْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

قُلْتُ: وَقَالَ ابْنُ خُزَيْمَةَ فِي الْمُخْتَصَرِ بَعْدَ حَدِيثِ عَمَّارِ بْنِ رُزَيْقٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَنَسٍ ، وَعَدَمُ الْجَهْرِ
২৮ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আলী, সংবাদ দিয়েছেন আল-কাতী'ঈ, সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, গাসসান ইবনে মুদার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে ইয়াযীদ—অর্থাৎ আবু মাসলামাহ—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, "‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) পাঠ করতেন, নাকি {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন}?" তিনি বললেন: "তুমি আমাকে এমন এক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছ যা আমার স্মরণে নেই, অথবা তোমার আগে আর কেউ আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেনি।"

আমি বলছি: তিনি তাকে বাসমালাহ দিয়ে সালাত শুরু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এবং অন্য শব্দে এর পাঠ সম্পর্কে; কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি নিঃশব্দে পাঠ করতেন কি না সে বিষয়ে আনাস (রা.)-এর নিকট কোনো ইলম ছিল না।

আর শু'বাহ থেকে এটি সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর বর্ণনায় কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি কাতাদাহকে বললাম, আপনি কি এটি আনাস থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: আমরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।

সুতরাং জানা গেল যে, তারা আনাস (রা.)-কে যা জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তিনি তাঁদের কাছে যা বর্ণনা করেছিলেন তা হলো {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} দ্বারা সালাত শুরু করা।

আর বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম উচ্চস্বরে পাঠ করার বিষয়টি তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুখস্থ রাখেননি।

আমি বলছি: এবং ইবনে খুযায়মাহ তাঁর 'আল-মুখতাসার'-এ আম্মার ইবনে রুযায়কের হাদীসের পর আমাশ থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: এবং উচ্চস্বরে পাঠ না করার বিষয়টি।