(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: -)
جزء فيه سبعة مجالس من أمالي ابن بشران (ابن بشران، أبو القاسم)
القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء فيه سبعة مجالس من أمالي ابن بشران
المؤلف: أبو القاسم عبد الملك بن محمد بن عبد الله بن بشْران بن محمد بن بشْران بن مهران البغدادي (ت 430هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 78
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে বিশরানের আমালীর সাতটি মজলিস সম্বলিত একটি জুয (ইবনে বিশরান, আবুল কাসিম)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: ইবনে বিশরানের আমালীর সাতটি মজলিস সম্বলিত একটি জুয
লেখক: আবুল কাসিম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিশরান ইবনে মেহরান আল-বাগদাদী (মৃ. ৪৩০ হিজরী)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলামিক নেটওয়ার্ক সাইটের অধীনস্থ ফ্রি জাওয়ামিউল কালিম প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪
[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١)
فيه سبعة مجالس من أمالي أبي القاسم بن بشران رحمه الله.الخمسة التي في أوله رواية أبي بكر أحمد بن المظفر بن الحسين بن سوسن التمار، عن ابن بشران.والمجلسين في آخر الجزء رواية أبي سعد محمد بن عبد الملك بن عبد القاهر بن أسد الأسدي، عن ابن بشران.رواية الشيخ أَبِي الحسين عبد الحق بن عبد الخالق بن يوسف، عنه.بسم الله الرحمن الرحيم رب يسر
এতে আবু আল-কাসিম ইবনে বিশরান (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর শ্রুতলিপি (আমালি) থেকে সাতটি মজলিস রয়েছে।এর শুরুর দিকের পাঁচটি মজলিস ইবনে বিশরানের সূত্রে আবু বকর আহমদ বিন আল-মুজাফফর বিন আল-হুসাইন বিন সাওসান আত-তাম্মারের বর্ণনা।এবং খণ্ডের শেষদিকের মজলিস দুটি ইবনে বিশরানের সূত্রে আবু সাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন আব্দুল কাহির বিন আসাদ আল-আসাদির বর্ণনা।তাঁর নিকট থেকে শায়খ আবু আল-হুসাইন আব্দুল হক বিন আব্দুল খালিক বিন ইউসুফের বর্ণনা।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার প্রতিপালক, সহজ করে দিন।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الثِّقَةُ أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ يُوسُفَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي يَوْمِ الثُّلاثَاءِ سَابِعَ عِشْرِينَ جُمَادَى الآخِرَةِ، مِنْ سَنَةِ ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، أَنْبَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ بْنِ الْحُسَيْنِ التَّمَّارُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ سَوْسَنٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي دَارِنَا فِي الْقَرْيَةِ دَارَ الْخِلافَةِ سَنَةَ خَمْسِ مِائَةٍ ، مَجْلِسٌ أُمْلِيَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ بَعْدَ الصَّلاةِ الرَّابِعَ وَالْعِشْرِينَ مِنْ جُمَادَى الأُولَى مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ ، ثنا الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، إِمْلاءً، قَالَ: أَنْبَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ منجَابٍ، عَلَيْهِ رَحْمَةُ اللَّهِ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْعَوَّامِ، قثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رحمه الله، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، يَقُولُ: «مَنْ لا يَرْحَمِ النَّاسَ لا يَرْحَمْهُ اللَّهُ عز وجل» .قَالَ لَنَا ابْنُ بِشْرَانَ: قَالَ الشَّيْخُ أَبُو الْفَتْحِ رحمه الله: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ ، أَخْرَجُوهُ فِي الصَّحِيحِ
১ - নির্ভরযোগ্য শাইখ আবুল হুসাইন আব্দুল হক বিন আব্দুল খালিক বিন আহমাদ বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি শুনছিলাম। দিনটি ছিল মঙ্গলবার, পাঁচশত তিয়াত্তর হিজরি সালের জুমাদাল আখিরা মাসের সাতাশ তারিখ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন আল-মুজাফ্ফার বিন আল-হুসাইন আত-তাম্মার, যিনি ইবনে সাওসান নামে পরিচিত, পাঁচশত হিজরি সালে দারুল খিলাফাহ-এর আল-কারইয়া পল্লীতে আমাদের নিজ গৃহে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। এটি একটি মজলিস ছিল যা চারশত চব্বিশ হিজরি সালের চব্বিশে জুমাদাল উলা রোজ শুক্রবার সালাতের পর শ্রুতলিপি হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল। আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন শাইখ আবুল কাসিম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ বিন ইসহাক বিন মিনজাব (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-আওয়াম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন হারুন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন আবি খালিদ, তিনি কায়স বিন আবি হাযিম থেকে এবং তিনি জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না»।ইবনে বিশরান আমাদের বলেছেন: শাইখ আবুল ফাতহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: এটি ইসমাঈল বিন আবি খালিদ-এর বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস, তাঁরা (মুহাদ্দিসগণ) এটি সহীহ গ্রন্থসমূহে সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٣)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ رحمه الله ، قثنا عُبَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْبَزَّازُ، قثنا أَبُو الْجَمَاهِرِ، قثنا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، قَالَ: «إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مُحْتَضَرَةٌ فَإِذَا دَخَلَهَا أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ»أخبرنا أبو علي أحمد بن الفضل بن العباس بن خزيمة رحمه الله، قثنا محمد بن عثمان بن أبي شيبة، قثنا يحيى بن الحسن بن الفرات، قثنا إسماعيل بن أبان الأزدي، عن سلام بن أبي عمرة، عن أبان بن تغلب، عن جعفر بن محمد ، عن أبيه ، عن علي بن حسين ، قال: مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ ، مِنْ غَيْرِ تَعَجُّبٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ ثَلاثَةَ أَلْفِ حَسَنَةٍ ، وَمَحَا عَنْهُ ثَلاثَةَ أَلْفِ سَيِّئَةٍ ، وَرَفَعَ لَهُ ثَلاثَةَ أَلْفِ دَرَجَةٍ ، وَخَلَقَ اللَّهُ عز وجل مِنْ قَوْلِهِ ذَلِكَ طَيْرًا أَخْضَرَ فِي الْجَنَّةِ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
২ - আবু সাহল আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, উবাইদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-বাযযার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু জামাহির আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, সাঈদ ইবনে বাশির আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি নাযর ইবনে আনাস থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই এই শৌচাগারগুলোতে (জিন ও শয়তানদের) উপস্থিতি থাকে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সেখানে প্রবেশ করবে, সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র নর শয়তান ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”আবু আলী আহমাদ ইবনে ফাদল ইবনে আব্বাস ইবনে খুযাইমা (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে হাসান ইবনে ফুরাত আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ইসমাইল ইবনে আবান আল-আযদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সালাম ইবনে আবি আমরাহ থেকে, তিনি আবান ইবনে তাগলিব থেকে, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কোনো বিস্ময় ব্যতিরেকে ‘সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামদিহি’ (মহিয়ান আল্লাহ অতি পবিত্র এবং তাঁরই সকল প্রশংসা) বলবে, আল্লাহ তার জন্য তিন হাজার পুণ্য লিখে দেবেন, তার থেকে তিন হাজার পাপ মোচন করবেন এবং তার মর্যাদা তিন হাজার স্তর বৃদ্ধি করবেন। আর আল্লাহ তাআলা তার এই বাক্যটি থেকে জান্নাতে একটি সবুজ পাখি সৃষ্টি করবেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত ‘সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামদিহি’ বলতে থাকবে।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجٌ، رحمه الله، قثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شِيرَوَيْهِ، قثنا. . . . . .، أنبا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ ، يَقُولُ: حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رحمه الله، قَالَ: لَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ مِنْ تِلْكَ الْعَطَايَا الَّتِي أَعْطَى النَّاسَ، وَلَمْ يُعْطِ لِلأَنْصَارِ، وَتَكَلَّمَتِ الأَنْصَارُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ قَائِلُهُمْ: لَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ قَوْمَهُ، فَقَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا الْحَيَّ مِنَ الأَنْصَارِ قَدْ وَجَدُوا عَلَيْكَ لِمَا كَانَ فِي سَفَرِكَ هَذَا، وَبِمَا صَنَعْتَ فِي قَوْمِكَ مِنْ هَذِهِ الصَّنَائِعِ.قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «فَأَيْنَ أَنْتَ مِنْ ذَاكَ يَا سَعْدُ؟» قَالَ: مَا أَنَا إِلا امْرُؤٌ مِنْ قَوْمِي.قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «اجْمَعْ قَوْمَكَ لِي فِي هَذِهِ الْحَظِيرَةِ» .قَالَ: فَجَمَعَ الأَنْصَارَ فِيهَا ، وَقَامَ عَلَى بَابِهَا ، فَجَاءَتْ رِجَالٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ فَأَدْخَلَهُمْ فِيهَا ، وَجَاءَتْ رِجَالٌ فَرَدَّهُمْ، ثُمَّ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشِيًّا، حَتَّى جَلَسَ مَعَهُمْ ثُمَّ قَالَ: «يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ مَا مَقَالَةٌ بَلَغَتْنِي عَنْكُمْ، أَلَمْ آتِكُمْ ضُلالا فَهَدَاكُمُ اللَّهُ بِي؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، اللَّهُ عز وجل أَمَنُّ وَأَفْضَلُ.قَالَ: «أَلَمْ آتِكُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ اللَّهُ بَيْنَكُمْ بِي؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، اللَّهُ عز وجل أَمَنُّ وَأَفْضَلُ.ثُمَّ قَالَ: «أَلَمْ آتِكُمْ عَالَةً فَأَغْنَاكُمُ اللَّهُ بِي؟» قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، اللَّهُ عز وجل أَمَنُّ وَأَفْضَلُ.ثُمَّ قَالَ: «أَلا تُجِيبُونِي؟» قَالُوا: فِيمَ نُجِيبُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، لَكَ الْفَضْلُ عَلَيْنَا، قَالَ: " أَمَا لَوْ شِئْتُمْ لَقُلْتُمْ فَلَصَدَقْتُمْ: جِئْتَنَا طَرِيدًا فَآوَيْنَاكَ، وَجِئْتَنَا مَخْذُولا فَنَصَرْنَاكَ، وَعَائِلا فَآسَيْنَاكَ، يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَوَجَدْتُمْ فِي أَنْفُسِكُمْ لُعَاعَةً مِنَ الدُّنْيَا تَأَلَّفَتْ بِهَا أَقْوَامًا، وَوَكَلْتُكُمْ إِلَى إِسْلامِكُمْ ، أَلا تَرْضَوْنَ أَنْ يَذْهَبَ النَّاسُ بِالشَّاةِ وَالْبَعِيرِ وَتَرْجِعُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ إِلَى رِحَالِكُمْ ، وَلَوْ أَنَّ النَّاسَ سَلَكُوا شِعْبًا وَسَلَكَتِ الأَنْصَارُ شِعْبًا لَسَلَكْتُ شِعْبَ الأَنْصَارِ ، وَلَوْلا الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنَ الأَنْصَارِ، الأَنْصَارُ عَيْبَتِي وَكَرِشِي وَهُمْ شِعَارٌ وَالنَّاسُ دِثَارٌ ".فَقَالُوا: رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِرَسُولِهِ قِسْمًا
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ দালজ (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন শিরওয়াইহ, তিনি বলেন: . . . . . . আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াহাব বিন জারীর, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন ইসহাককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার নিকট আসিম বিন উমর বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি মাহমুদ বিন লাবীদ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকজনকে ঐ সকল দান-অনুদান প্রদান শেষ করলেন যা তিনি দিচ্ছিলেন, অথচ আনসারদের কিছুই দেননি, তখন আনসাররা এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করল। তাদের মধ্য থেকে একজন বলে উঠল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপন কওমের সাথে মিলিত হয়েছেন। তখন সাদ বিন উবাদাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আনসারদের এই গোত্রটি আপনার প্রতি মনে মনে কিছুটা কষ্ট অনুভব করছে, কারণ আপনার এই সফরে আপনি আপনার কওমের লোকদেরকে যে ধরনের দান-অনুদান দিয়েছেন তার জন্য।রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে সাদ! এ ব্যাপারে তোমার অবস্থান কী?" তিনি বললেন: আমি তো আমার কওমের একজন লোক ছাড়া আর কেউ নই।বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমার কওমকে আমার জন্য এই বেষ্টনীতে একত্র করো।"বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি সেখানে আনসারদের একত্রিত করলেন এবং তার দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। মুহাজিরদের কিছু লোক আসলে তিনি তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিলেন, আর অন্য কিছু লোক আসলে তিনি তাদের ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্ধ্যার সময় সেখানে আসলেন এবং তাদের সাথে বসলেন। এরপর তিনি বললেন: "হে আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের পক্ষ থেকে এ কেমন কথা আমার নিকট পৌঁছাল? আমি কি তোমাদের নিকট পথভ্রষ্ট অবস্থায় আসিনি, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের হিদায়াত দান করেননি?" তারা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা অধিক অনুগ্রহকারী ও শ্রেষ্ঠ।তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদের নিকট শত্রু অবস্থায় আসিনি, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের মাঝে হৃদ্যতা সৃষ্টি করে দেননি?" তারা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা অধিক অনুগ্রহকারী ও শ্রেষ্ঠ।অতঃপর তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদের নিকট অভাবগ্রস্ত অবস্থায় আসিনি, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের অভাবমুক্ত করেননি?" তারা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা অধিক অনুগ্রহকারী ও শ্রেষ্ঠ।অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা কি আমাকে উত্তর দেবে না?" তারা বললেন: আমরা আপনাকে কী উত্তর দেব হে আল্লাহর রাসূল? সকল অনুগ্রহ তো আপনারই আমাদের ওপর। তিনি বললেন: "শোন, তোমরা যদি চাইতে তবে অবশ্যই বলতে পারতে এবং তোমরা সত্যই বলতে: আপনি আমাদের নিকট বিতাড়িত অবস্থায় এসেছিলেন, আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি; আপনি আমাদের নিকট সহায়হীন অবস্থায় এসেছিলেন, আমরা আপনাকে সাহায্য করেছি; আপনি আমাদের নিকট রিক্তহস্তে এসেছিলেন, আমরা আপনাকে আমাদের সম্পদে অংশীদার করেছি। হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি দুনিয়ার তুচ্ছ আসবাবের জন্য মনে মনে কষ্ট পেয়েছ, যার মাধ্যমে আমি কিছু মানুষের মন জয় করতে চেয়েছি এবং তোমাদের সঁপে দিয়েছি তোমাদের ইসলামের ওপর? তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, লোকেরা ভেড়া ও উট নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সঙ্গে নিয়ে তোমাদের আবাসে ফিরবে? যদি সমস্ত মানুষ এক উপত্যকায় চলে আর আনসাররা অন্য উপত্যকায় চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকাতেই চলব। আর যদি হিজরত না থাকত, তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। আনসারগণ আমার অতি আপনজন এবং আমার বিশ্বাসভাজন; তারা অন্তরের পোশাকের ন্যায় অতি ঘনিষ্ঠ আর অন্য মানুষ বহির্বাস বা ওপরের পোশাকের মতো।"তখন তারা বললেন: আমরা আমাদের রব হিসেবে আল্লাহকে এবং আমাদের প্রাপ্য অংশ হিসেবে তাঁর রাসূলকে পেয়ে সন্তুষ্ট।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٥)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، قثنا عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، قثنا بَكَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ السِّيرِينِيُّ، قثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رحمه الله قَالَ: " ثَلاثٌ أَوْصَانِي بِهِنَّ خَلِيلِي أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، لا أَدَعُهُنَّ أَبَدًا: صَوْمُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَالْغُسْلُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَأَنْ لا أَنَامَ إِلا عَلَى وِترٍ "
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ হামযা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দুরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাক্কার ইবনে মুহাম্মাদ আস-সিরিনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আউন, মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তিনটি বিষয় আমার প্রিয় বন্ধু আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে অসিয়ত করেছেন, যা আমি কখনোই বর্জন করব না: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, জুমার দিনে গোসল করা এবং বিতর না পড়ে যেন না ঘুমাই।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٦)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقِ الْفَاكِهِيُّ، رحمه الله، بِمَكَّةَ، قثنا أَبُو يَحْيَى بْن أَبِي مَسَرَّةَ، قثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي صَالحٍ ، وَعَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ النَّرْسيُّ، قثنا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خَيْثَمٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنها، عَنْ أَبِيهَا ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، قَالَ: «يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ أَرْدِفْ أُخْتَكَ فَأَعْمِرْهَا مِنَ التَّنْعِيمِ ، فَإِذَا هَبَطْتَ بِهَا مِنَ الأَكَمَةِ فَمُرْهَا فَلْتُحْرِمْ ، فَإِنَّهَا عُمْرَةٌ مُتَقَبَّلَةٌ»
৫ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-ফাকিহি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মক্কায় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াহইয়া বিন আবি মাসাররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন আমর বিন আবি সালেহ এবং আবদুল আ'লা বিন হাম্মাদ আন-নারসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ বিন আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন উসমান বিন খাইসাম থেকে, তিনি ইউসুফ বিন মাহাক থেকে, তিনি হাফসা বিনতে আবদুর রহমান বিন আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: «হে আবদুর রহমান, তোমার বোনকে তোমার পেছনে সওয়ারিতে বসাও এবং তাকে তানঈম থেকে উমরাহ করাও; অতঃপর যখন তাকে নিয়ে টিলা থেকে নিচে নামবে, তখন তাকে নির্দেশ দাও যেন সে ইহরাম বাঁধে, কারণ এটি একটি কবুলযোগ্য উমরাহ।»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٧)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الصَّوَّافُ، قثنا أَبُو عَبْدَ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قثنا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَيُّوبُ أَبُو زَيْدٍ الْحِمْصِيُّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عُبَادَةَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ فَقَالَ: يَا أَبَهْ أَوْصِنِي وَاجْتَهِدْ، فَقَالَ: أَجْلِسْنِي، إِنَّكَ لَنْ تَجِدَ طَعْمَ الإِيمَانِ، وَلَنْ تَبْلُغَ حَقِيقَةَ الإِيمَانِ حَتَّى تُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ.فَقُلْتُ: وَكَيْفَ لِي بِأَنْ أَعْلَمَ الْقَدَرَ خَيْرَهُ وَشَرَّهُ؟ فَقَالَ: تَعَلَمْ أَنَّ مَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ، وَأَنَّ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ.سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، يَقُولُ: " أَوَّلُ شَيْءٍ خَلَقَ اللَّهُ عز وجل الْقَلَمَ، فَقَالَ: أَجْرِ، فَجَرَى تِلْكَ السَّاعَةَ مَا هُوَ كَائِنٌ ".فَإِنْ مِتَّ وَأَنْتَ عَلَى غَيْرِ هَذَا دَخَلْتَ النَّارَ
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আল-হাসান আস-সাওয়াফ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবন আহমদ, তিনি বলেন: আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন আবী শায়বাহ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যায়দ ইবনুল হুবাব, তিনি বলেন: আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মুআবিয়া ইবন সালিহ, তিনি বলেন: আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব আবু যায়দ আল-হিমসী, উবাদাহ ইবনুল ওয়ালীদ ইবন উবাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি উবাদাহর অন্তিম অসুস্থতার সময় তাঁর নিকট প্রবেশ করেন। এরপর তিনি বলেন: হে আব্বাজান! আমাকে অসিয়ত করুন এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট হোন। তিনি বললেন: আমাকে বসিয়ে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে না এবং ঈমানের হাকীকতে পৌঁছাতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি তাকদীরের ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।আমি বললাম: আমি কীভাবে তাকদীরের ভালো ও মন্দ সম্পর্কে অবগত হব? তিনি বললেন: তুমি জেনে রেখো যে, যা তোমাকে ছেড়ে গেছে তা তোমাকে স্পর্শ করার ছিল না, আর যা তোমাকে স্পর্শ করেছে তা তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার ছিল না।আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। এরপর তিনি বললেন: লেখো। ফলে সেই মুহূর্তে যা কিছু হওয়ার ছিল তা সবই লিপিবদ্ধ হয়ে গেল।"।যদি তুমি এর ওপর বিশ্বাস না রেখে মৃত্যুবরণ করো, তবে তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٨)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ الآجُرِّيُّ ، بِمَكَّةَ، قثنا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الْحُلْوَانِيُّ، ثنا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ سَعْدُوَيْهِ، قثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنْ سَعِيدٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ رحمه الله ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: " إِذَا وُضِعَتِ الْجِنَازَةُ وَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ، فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةً قَالَتْ: قَدِّمُونِي، وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ قَالَتْ: يَا وَيْلَهَا أَيْنَ تَذْهَبُونَ بِهَا، يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلا الإِنْسَانُ، وَلَوْ سَمِعَهَا الإِنْسَانُ لَصُعِقَ "
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুর্রী, মক্কায়; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে সুলাইমান সা'দুওয়াইহ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে সা'দ, সাঈদ (অর্থাৎ ইবনে আবি সাঈদ) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক) বলেছেন: "যখন জানাযা রাখা হয় এবং পুরুষরা তা তাদের কাঁধে বহন করে, তখন যদি তা নেককার হয় তবে সে বলে: আমাকে এগিয়ে নিয়ে চলো। আর যদি তা নেককার না হয়, তবে সে বলে: হায় দুর্ভোগ! তোমরা একে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ? মানুষ ছাড়া প্রতিটি সৃষ্টিই তার আওয়াজ শুনতে পায়; আর মানুষ যদি তা শুনত তবে অবশ্যই বেহুঁশ হয়ে যেত।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٩)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ، قثنا الْوَاقِدِيُّ، قثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الَّذِي يُجَامِعُ فِيهِ إِذَا لَمْ يُرَ فِيهِ أَثَرٌ»
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-শাফিঈ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুল ফারাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়াকিদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি সুয়াইদ ইবনে কায়স থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইয়াজ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী উম্মে হাবিবা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন পোশাকে সালাত আদায় করতেন যাতে তিনি সহবাস করেছেন, যখন তাতে কোনো (নাপাকির) চিহ্ন দেখা যেত না।»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو الحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ، قثنا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ الْكُوفِيُّ، قثنا الْعَبَّاسُ بْنُ الفَضْلِ الْأَنْصَارِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ.وَعَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رحمه الله، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «قَدْ أَتَى آدَمُ عليه السلام هَذَا الْبَيْتَ أَلْفَ آتِيَةٍ مِنَ الْهِنْدِ عَلَى رِجْلِهِ لَمْ يَرْكَبْ فِيهِنَّ» .قَالَ مُحَمَّدٌ: مِنْ ذَلِكَ ثَلاثُ مِائَةِ حَجَّةٍ، وَسَبْعُ مِائَةِ عُمْرَةٍ، فَأَوَّلُ حَجَّةٍ حَجَّهَا آدَمُ عليه السلام وَهُوَ وَاقِفٌ بِعَرَفَاتٍ أَتَاهُ جِبْرِيلُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، فَقَالَ: السَّلامُ عَلَيْكَ يَا آدَمُ، بَرَّ اللَّهُ نُسُكَكَ، أَمَا إِنَّا قَدْ طُفْنَا بِهَذَا الْبَيْتِ قَبْلَ أَنْ تُخْلَقَ بِخَمْسَةِ آلافِ سَنَةٍ
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ বিন ইসহাক, তিনি বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন বিশর আল-কুফি, তিনি বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস বিন ফাদল আল-আনসারি, কাসিম বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।এবং আবু হাজিম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আদম (আলাইহিস সালাম) হিন্দুস্তান থেকে এক হাজার বার পায়ে হেঁটে এই ঘরে এসেছেন, তিনি সেগুলোর কোনোটিতেই আরোহণ করেননি”।মুহাম্মদ বলেন: তার মধ্যে তিনশত হজ এবং সাতশত উমরাহ ছিল। আদম (আলাইহিস সালাম) প্রথম যে হজটি পালন করেন, তিনি আরাফাতে অবস্থানকালে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আদম, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহ আপনার ইবাদত কবুল করুন। জেনে রাখুন, আমরা আপনার সৃষ্টির পাঁচ হাজার বছর পূর্বেই এই ঘরের তাওয়াফ করেছি।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١١)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ الحَسَنِ الْمُعَدَّلُ رحمه الله، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قثنا أَبُو مَنْصُورٍ، قثنا عُمَرُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها ، قَالَتْ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ يُصَلِّي وَأَنَا مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ»
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল খালিক বিন আল-হাসান আল-মুআদ্দাল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মনসুর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন কাইস, আতা থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন আল-জুবাইর থেকে, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করতেন এমতাবস্থায় যে আমি তাঁর এবং কিবলার মাঝখানে আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম।»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الحُسَيْنِ عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعٍ، قثنا حُسَيْنُ بْنُ بَشَّارٍ الْخياطُ، قثنا أَبُو بِلالٍ الأَشْعَرِيُّ، قثنا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَأَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رحمه الله، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا، وَلَوْ صَرَخَ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَنْقَطِعَ، وَسَجَدَ حَتَّى يَنْقَطِعَ ظَهْرُهُ ، فَابْكُوا فَإِنْ لَمْ يَجِئْكُمُ الْبُكَاءُ فَتَبَاكَوْا»
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আব্দুল বাকী ইবনে কানি‘, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে বাশশার আল-খাইয়াত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বিলাল আল-আশআরি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস ইবনে গিয়াস, হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবু মুলাইকা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি বলেছেন: «আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তবে তোমরা অবশ্যই অল্প হাসতে এবং অধিক কাঁদতে। আর তোমাদের কেউ যদি চিৎকার করতে করতে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যেত এবং সাজদাহ করতে করতে তার পিঠ ভেঙে যেত; অতএব তোমরা কাঁদো, আর যদি তোমাদের কান্না না আসে তবে কান্নার চেষ্টা করো»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - أَنبَا أَبُو بَكْرٍ أحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدانَ رحمه الله، قثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَامِرِ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ الْمِنْقَرِيُّ، قثنا عُثْمَانُ بْنُ الْهَيْثَمِ الْمُؤَذِّنُ، قثنا عَوْفٌ الأَعْرَابِيُّ، عَنِ الحَسَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ لَيْلَةَ أُضْحِيَانِ وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ، وَكُنْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَإِلَى الْقَمَرِ، فَكَانَ فِي عَيْنَيَّ أَزْيَنُ مِنَ الْقَمَرِ»أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاس أحْمَد بْن إِبْرَاهِيم بْن عليّ الكندي، بمكة، قثنا أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْن جَعْفَر السامري، المعروف بالخرائطي، قثنا عمارة بْن وثيمة، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ كَانَ يَطْلُبُ الْمَطَالِبَ قَالَ: بَيْنَا أَنَا ذَاتَ يَوْمٍ فِي مَغَايِرِ عَادِيَةٍ فَغَلَبَتْنِي عَيْنِي فَنِمْتُ، ثُمَّ انْتَبَهْتُ، فَإِذَا تِجَاهِي لَوْحٌ فِيهِ مَكْتُوبٌ:لَمَّا رَأَيْتُكَ جَالِسًا مُسْتَقْبَلِي … أَيْقَنْتُ أَنَّكَ لِلْهُمُومِ قَرِينُدَعْهَا تُجَلِّي عَنْكَ فِي أَثْوَابِهَا … إِنْ كَانَ عِنْدَكَ فِي الْقَضَاءِ يَقِينُوجدت فِي كتاب أبي بَكْر مُحَمَّد بْن عَبْد الله رحمة اللَّه عليه، قَالَ: حَدَّثَنِي أحْمَد بْن مُحَمَّد بْن مُوسَى الهمذاني، قثنا إِبْرَاهِيم بْن مُحَمَّد الأهوازي ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّد بْن أحْمَد بْن الحَسَن، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الحُسَيْن بْن أَبِي مَسْعُود الشعراني، عَنْ أَبِي الحُسَيْن، كاتب الْعَبَّاس، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: حَضَرْنَا مَجْلِسَ الرِّضَا فَشَكَا رَجُلٌ أَخَاهُ فَأَنْشَأَ الرِّضَا يَقُولُ:اعْذُرْ أَخَاكَ عَلَى ذُنُوبِهِ … وَاسْتُرْ وَغِطِّ عَلَى عُيُوبِهِوَاصْبِرْ عَلَى بَهْتِ السَّفِيهِ … وَلِلزَّمَانِ عَلَى خُطُوبِهِوَدَعِ الْجَوَابَ تَفَضُّلا … وَكِلِ الظَّلُومَ إِلَى حَسِيبِهِآخر المجلس.مجلس يَوْم الجمعة بعد الصَّلاة فِي جامع المَهْديّ، الثاني من جمادى الآخرة سنة أربع وعشرين وأربع مائة.
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান (রহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আমির ইবনে কায়স ইবনে আসিম আল-মিনকারি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে হাইসাম আল-মুয়াযযিন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আওফ আল-আরাবি, হাসান (বসরি) থেকে বর্ণিত, তিনি জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আমি এক মেঘমুক্ত জ্যোৎস্নালোকিত রাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি, তখন তাঁর পরিধানে ছিল এক জোড়া লাল বস্ত্র। আমি একবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলাম আর একবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম; অতঃপর তিনি আমার চোখে চাঁদের চেয়েও বেশি সুন্দর ছিলেন।”আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-কিন্দি, মক্কায়; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর আস-সামারি, যিনি আল-খারায়েতি নামে পরিচিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উমারা ইবনে ওয়াসিমা, তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি এমন এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন যিনি জ্ঞান অন্বেষণ করতেন, তিনি বলেন: একদিন আমি আদ জাতির এক গুহায় ছিলাম, তখন আমার চোখে ঘুম চলে এল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর যখন আমি জাগ্রত হলাম, দেখলাম আমার সামনে একটি ফলক রাখা আছে যাতে লেখা রয়েছে:যখন আমি তোমাকে আমার সামনে বসা অবস্থায় দেখলাম … আমি নিশ্চিত হলাম যে তুমি দুশ্চিন্তার সঙ্গী হয়ে আছ।সেগুলোকে তোমার থেকে তার আপন অবস্থায় চলে যেতে দাও … যদি তাকদীরের ফয়সালার প্রতি তোমার দৃঢ় বিশ্বাস থাকে।আমি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর কিতাবে পেয়েছি, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হামদানি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-আহওয়াজি, তিনি বলেন, আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান, তিনি বলেন, আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন ইবনে আবি মাসউদ আশ-শারানি, তিনি আবুল হুসাইন আল-আব্বাসের লিপিকারের সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আর-রিদার মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। তখন আর-রিদা এই কবিতাটি আবৃত্তি করলেন:তোমার ভাইয়ের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দাও … এবং তার দোষত্রুটিসমূহ গোপন রাখো ও ঢেকে রাখো।নির্বোধের অপবাদের ওপর ধৈর্য ধারণ করো … এবং সময়ের কঠিন বিপর্যয়েও ধৈর্য ধরো।মহানুভবতা প্রদর্শন করে উত্তর দেওয়া বর্জন করো … আর জালেমকে তার হিসাবগ্রহণকারীর নিকট সোপর্দ করো।মজলিসের সমাপ্তি।জুমার দিনের মজলিস, নামাজের পর আল-মাহদি জামে মসজিদে, ৪২৪ হিজরি সনের ২রা জমাদিউল আখিরাত।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - ثنا الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الزَّاهِدُ، إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ وَكِتَابِهِ، قثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْفَاكِهِيُّ، بِمَكَّةَ، قثنا أَبُو يَحْيَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي مَيْسَرَةَ، قثنا أَبِي، قثنا هِشَامٌ ، عَنِ ابْنِ جُرَيْحٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: زَعَمَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ رحمه الله، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، قَالَ: " سَيَأْتِي عَلَى الْمُسْلِمِينَ زَمَانٌ يُبْعَثُ مِنْهُمُ الْبَعْثُ، فَيَقُولُونَ: انْظُرُوا هَلْ فِيكُمْ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ مِنْ أَحَدٍ؟ فَيُؤْخَذُ الرَّجُلُ الْوَاحِدُ فَيُفْتَحُ لَهُمْ بِهِ، ثُمَّ يُبْعَثُ مِنْهُمُ الْبَعْثُ، فَيُقَالُ: انْظُرُوا هَلْ فِيكُمْ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ مِنْ أَحَدٍ؟ فَيُؤْخَذُ فَيُفْتَحُ لَهُمْ بِهِ، ثُمَّ يُبْعَثُ الْبَعْثُ الثَّالِثُ، فَيُقَالُ: هَلْ فِيكُمْ مَنْ رَأَى مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ مِنْ أَحَدٍ؟ فَيُؤْخَذُ فَيَفْتَحُ اللَّهُ عز وجل لَهُمْ بِهِ، ثُمَّ يُبْعَثُ الرَّابِعُ، فَيُقَالُ: هَلْ فِيكُمْ أَيُّ مَنْ رَأَى مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فَيُؤْخَذُ فَيُفْتَحُ لَهُمْ بِهِ ".قَالَ أَبُو الْفَتْحِ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ الزُّبَيْرِ، أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ আবু আল-কাসিম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান আল-জাহিদ, তাঁর মৌখিক পাঠ ও কিতাব থেকে শ্রুতলিপি হিসেবে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-ফাকিহি মক্কায়; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে জাকারিয়া ইবনে আবি মায়সারা; তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে; তিনি বলেন: আবু আল-জুবায়ের আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অনতিবিলম্বে মুসলিমদের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন তাদের মধ্য থেকে একটি বাহিনী পাঠানো হবে। তখন তারা বলবে: দেখ, তোমাদের মধ্যে কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের কেউ আছেন? তখন একজনকে পাওয়া যাবে এবং তাঁর উসিলায় তাদের বিজয় দান করা হবে। এরপর তাদের মধ্য থেকে আরেকটি বাহিনী পাঠানো হবে, তখন বলা হবে: দেখ, তোমাদের মধ্যে কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের কেউ আছেন? তখন একজনকে পাওয়া যাবে এবং তাঁর মাধ্যমে তাদের বিজয় দান করা হবে। এরপর তৃতীয় একটি বাহিনী পাঠানো হবে, তখন বলা হবে: তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছেন যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীকে দেখেছেন? তখন একজনকে পাওয়া যাবে এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর মাধ্যমে তাদের বিজয় দান করবেন। এরপর চতুর্থ একটি দল পাঠানো হবে, তখন বলা হবে: তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছেন যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীকে দেখেছেন? তখন একজনকে পাওয়া যাবে এবং তাঁর মাধ্যমে তাদের বিজয় দান করা হবে।"আবু আল-ফাতহ বলেন: এটি জুবায়েরের বর্ণিত একটি সহীহ হাদিস, যা ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجٌ رحمه الله، قثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الأَزْهَرِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْوَلِيدِ، أَنَا سَأَلْتُهُ، قثنا مَفضل بْنُ صَالحٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاقَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ، قَالَ: قِيلَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: مَا خَيْرُ مَا أُعْطِيَ لِلإِنْسَانِ؟ قَالَ: «الْخُلُقُ الْحَسَنُ»
১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ দালাজ (রহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আযহার, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন উমর বিন আল-ওয়ালীদ, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুফাদদাল বিন সালিহ, যিয়াদ বিন ইলাকাহ থেকে, তিনি উসামাহ বিন শারীক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: মানুষকে যা কিছু দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সর্বোত্তম কোনটি? তিনি বললেন: «উত্তম চরিত্র»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ رحمه الله، قثنا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، قثنا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، قثنا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، قثنا مَيْمُونٌ، عَنْ شَدَّادٍ مَوْلَى عَيَّاشِ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: دَخَلَ عَلَيْنَا أَبُو هُرَيْرَةَ رحمه الله، وَكَانَتْ مَوْلاةُ شَدَّادٍ مُهَلْهَلٍ ابِنَةُ يَزِيدَ امْرَأَةً جَمِيلَةً، وَكَانَتْ تَحْتَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه فَقَالَتْ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَرَأَيْتَ إِذَا اغْتَسَلْتُ مِنَ الْجَنَابَةِ أَصُبُّ عَلَى رَأْسِي مِنَ الْمَاءِ وَهُوَ مَعْقُوصٌ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ يُنَكِّسُ رَأْسَهُ لا يَرْفَعُ طَرْفَهُ، فَقَالَ: «الَّذِي بِكِ شَرٌّ مِمَّا تَسْأَلِينِي عَنْهُ» ، قَالَتْ: وَمَا هُوَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟ قَالَ: «رِقَّةُ خِمَارِكِ، مَا أَسْتَطِيعُ أَرْفَعُ بَصَرِي إِلَيْكِ»
১৫ - আবু আহমাদ হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসীর ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে বুরকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাদ্দাদ —যিনি আইয়াশ ইবনে আমিরের মুক্তদাস ছিলেন— তাঁর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট প্রবেশ করলেন। শাদ্দাদের মুক্তদাসী মুহালহিল বিনতে ইয়াযিদ ছিলেন একজন সুন্দরী নারী এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিবাহবন্ধনে ছিলেন। তিনি বললেন: হে আবু হুরাইরাহ! আপনার অভিমত কী যে, আমি যখন জানাবাত থেকে গোসল করি তখন কি আমার মাথায় পানি ঢালব যখন তা বিনুনি করা থাকে? তখন আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নিজের মাথা নিচু করে রাখলেন এবং দৃষ্টি তুললেন না। অতঃপর তিনি বললেন: «তোমার মাঝে যা রয়েছে তা তুমি আমাকে যা জিজ্ঞাসা করছ তার চেয়েও মন্দ», তিনি বললেন: হে আবু হুরাইরাহ, তা কী? তিনি বললেন: «তোমার ওড়নার পাতলা হওয়া; আমি সক্ষম হচ্ছি না তুলতে আমার দৃষ্টি তোমার দিকে»।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الصَّوَّافُ، قثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ رحمه الله، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله، قثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قثنا أَبُو حَيَّانَ، قثنا أَبُو زُرْعَةَ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِلَحْمٍ فَرَفَعَ إِلَيْهِ الذِّرَاعَ، وَكَانَتْ تُعْجِبُهُ، فَنَهَسَ مِنْهَا نَهْسَةً، ثُمَّ قَالَ: " أَنَا سَيِّدُ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَهَلْ تَدْرُونَ لِمَ ذَاكَ؟ يَجْمَعُ اللَّهُ عز وجل الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ يُسْمِعُهُمُ الدَّاعِي وَيَنْفُذُهُمُ الْبَصَرُ فَيَبْلُغُ النَّاسُ مِنَ الْغَمِّ وَالْهَمِّ وَالْكَرْبِ مَا لا يُطِيقُونَ وَلا يَحْتَمِلُونَ، فَيَقُولُ بَعْضُ النَّاسِ لِبَعْضٍ: أَلا تَرَوْنَ إِلَى مَا أَنْتُمْ فِيهِ؟ أَلا تَرَوْنَ مَا قَدْ بَلَغَكُمْ؟ أَلا تَنْظُرُونَ مَنْ يَشْفَعُ لَكُمْ إِلَى رَبِّكُمْ عز وجل؟ فَيَقُولُ بَعْضُ النَّاسِ لِبَعْضٍ: أَبُوكُمْ آدَمُ عليه السلام، فَيَأْتُونَ آدَمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، فَيَقُولُونَ: يَا آدَمُ أَنْتَ أَبُو الْبَشَرِ خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ، وَنَفَخَ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ، وَأَمَرَ الْمَلائِكَةَ فَسَجَدُوا لَكَ، فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ عز وجل أَلا تَرَى مَا نَحْنُ فِيهِ؟ أَلا تَرَى إِلَى مَا قَدْ بَلَغَنَا؟ فَيَقُولُ آدَمُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: إِنَّ رَبِّي عز وجل قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ، وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ، وَإِنَّهُ نَهَانِي عَنِ الشَّجَرَةِ فَعَصَيْتُهُ ، نَفْسِي نَفْسِي ، نَفْسِي نَفْسِي، اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي، اذْهَبُوا إِلَى نُوحٍ عليه السلام، فَيَأْتُونَ نُوحًا، فَيَقُولُونَ: يَا نُوحُ أَنْتَ أَوَّلُ الرُّسُلِ إِلَى أَهْلِ الأَرْضِ، وَسَمَّاكَ اللَّهُ عَبْدًا شَكُورًا، فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ عز وجل، أَلا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيهِ؟ أَلا تَرَى إِلَى مَا قَدْ بَلَغَنَا؟ فَيَقُولُ نُوحٌ عليه السلام: إِنَّ رَبِّي عز وجل قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ، وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ، وَإِنَّهُ كَانَتْ لِي دَعْوَةٌ عَلَى قَوْمِي ، نَفْسِي نَفْسِي ، نَفْسِي نَفْسِي، اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي، اذْهَبُوا إِلَى إِبْرَاهِيمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فَيَقُولُونَ: يَا إِبْرَاهِيمُ أَنْتَ نَبِيُّ اللَّهِ عز وجل وَخَلِيلُهُ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ ، اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ، أَلا تَرَى مَا نَحْنُ فِيهِ؟ أَلا تَرَى مَا قَدْ بَلَغَنَا؟ فَيَقُولُ لَهُمْ إِبْرَاهِيمُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: إِنَّ رَبِّي عز وجل قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ، وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ، فَذَكَرَ كَذِبَاتٍ، نَفْسِي نَفْسِي ، نَفْسِي نَفْسِي، اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي، اذْهَبُوا إِلَى مُوسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، فَيَأْتُونَ مُوسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، فَيَقُولُونَ: يَا مُوسَى أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ اصْطَفَاكَ اللَّهُ عز وجل بِرِسَالَتِهِ، وَبِتَكْلِيمِهِ عَلَى النَّاسِ ، اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ عز وجل ، أَلا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيهِ؟ أَلا تَرَى مَا قَدْ بَلَغَنَا؟ فَيَقُولُ لَهُمْ مُوسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: إِنَّ رَبِّي قَدْ غَضِبَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ، وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ، وَإِنِّي قَتَلْتُ نَفْسًا لَمْ أُؤْمَرْ بِقَتْلِهَا، نَفْسِي نَفْسِي ، نَفْسِي نَفْسِي، اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي، اذْهَبُوا إِلَى عِيسَى عليه السلام، فَيَقُولُونَ: يَا عِيسَى أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ، وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ، وَكَلَّمْتَ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ، فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ عز وجل، فَيَقُولُ لَهُمْ عِيسَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: إِنَّ رَبِّي عز وجل قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ، وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ، وَلَمْ يَذْكُرْ لَهُ ذَنْبًا، اذْهَبُوا إِلَى غَيْرِي، اذْهَبُوا إِلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، فَيَأْتُونَ، فَيَقُولُونَ: يَا مُحَمَّدُ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَخَاتَمُ الأَنْبِيَاءِ، غَفَرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ ، فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ عز وجل، أَلا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيهِ؟ أَلا تَرَى مَا قَدْ بَلَغَنَا؟ فَأَقُومُ فَآتِي تَحْتَ الْعَرْشِ، فَأَقَعُ سَاجِدًا لِرَبِّي عز وجل، ثُمَّ يَفْتَحُ اللَّهُ عز وجل عَلَيَّ، وَيُلْهِمُنِي مِنْ مَحَامِدِهِ وَحُسْنِ الثَّنَاءِ عَلَيْهِ شَيْئًا لَمْ يَفْتَحْهُ عَلَى أَحَدٍ قَبْلِي، فَيُقَالُ: يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ، سَلْ تُعْطَهْ، وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ، فَأَقُولُ: أُمَّتِي أُمَّتِي يَا رَبِّ، أُمَّتِي أُمَّتِي يَا رَبِّ، فَيُقَالُ: يَا مُحَمَّدُ أَدْخِلْ مِنْ أُمَّتِكَ مَنْ لا حِسَابَ عَلَيْهِ مِنَ الْبَابِ الأَيْمَنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ ، وَهُمْ شُرَكَاءُ النَّاسِ فِيمَا سِوَاهُ مِنَ الأَبْوَابِ، ثُمَّ قَالَ: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لِمَا بَيْنَ مِصْرَاعَيْنِ مِنْ مَصَارِيعِ الْجَنَّةِ لَكُمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَهَجَرَ أَوْ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَبُصْرَى "آخر المجلس.مجلس يَوْم الجمعة بعد الصَّلاة، فِي جامع المَهْديّ الثالث والعشرين من شوال سنة أربع وعشرين وأربع مائة.
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আস-সাওয়াফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাইয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুরআ ইবনে আমর ইবনে জারীর, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গোশত আনা হলো এবং তাঁর নিকট সামনের পায়ের দিকের অংশ পেশ করা হলো, যা তাঁর নিকট পছন্দনীয় ছিল। তিনি সেখান থেকে এক লোকমা খেলেন, তারপর বললেন: " আমি কিয়ামতের দিন সকল মানুষের সরদার হব। তোমরা কি জানো তা কেন? আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আদি ও অন্তের সকল মানুষকে এক সমতলে একত্রিত করবেন, যেখানে একজন আহ্বানকারীর ডাক সকলের নিকট পৌঁছাবে এবং সকলের দৃষ্টির সীমানায় সবাই থাকবে। তখন মানুষ এমন দুঃখ, দুশ্চিন্তা ও সংকটের সম্মুখীন হবে যা সহ্য করার বা বহন করার ক্ষমতা তাদের থাকবে না। তখন মানুষ একে অপরকে বলবে: তোমরা কি দেখছ না তোমরা কিসের মধ্যে আছ? তোমাদের ওপর কী বিপদ আপতিত হয়েছে তা কি তোমরা দেখছ না? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজবে না যে তোমাদের রবের নিকট তোমাদের জন্য সুপারিশ করবে? তখন মানুষ একে অপরকে বলবে: তোমাদের পিতা আদম (আলাইহিস সালাম) আছেন। তারা আদমের নিকট আসবে এবং বলবে: হে আদম! আপনি মানবজাতির পিতা, আল্লাহ আপনাকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ফলে তারা আপনাকে সিজদা করেছে। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা কি আপনি দেখছেন না? তখন আদম (আলাইহিস সালাম) বলবেন: নিশ্চয়ই আমার রব আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে, এর আগে কখনও এমন রাগান্বিত হননি এবং এর পরেও কখনও এমন রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে সেই বৃক্ষটি থেকে নিষেধ করেছিলেন কিন্তু আমি তাঁর অবাধ্যতা করেছি। আমার নাফস! আমার নাফস! আমার নাফস! আমার নাফস! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে যাও। এরপর তারা নূহের নিকট আসবে এবং বলবে: হে নূহ! আপনি পৃথিবীবাসীর প্রতি প্রেরিত প্রথম রাসূল এবং আল্লাহ আপনাকে কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে নামকরণ করেছেন। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা কি আপনি দেখছেন না? নূহ (আলাইহিস সালাম) বলবেন: নিশ্চয়ই আমার রব আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে, এর আগে কখনও এমন রাগান্বিত হননি এবং এর পরেও কখনও এমন রাগান্বিত হবেন না। আর নিশ্চয়ই আমার কওমের বিরুদ্ধে আমার একটি দুআ করার বিষয় ছিল। আমার নাফস! আমার নাফস! আমার নাফস! আমার নাফস! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট যাও। তারা বলবে: হে ইবরাহীম! আপনি আল্লাহর নবী এবং পৃথিবীবাসীর মধ্যে তাঁর খলীল (বন্ধু)। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা কি আপনি দেখছেন না? ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তাদের বলবেন: নিশ্চয়ই আমার রব আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে, এর আগে কখনও এমন রাগান্বিত হননি এবং এর পরেও কখনও এমন রাগান্বিত হবেন না। এরপর তিনি তাঁর কিছু মিথ্যার কথা উল্লেখ করবেন এবং বলবেন: আমার নাফস! আমার नाফস! আমার নাফস! আমার নাফস! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট যাও। তারা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট আসবে এবং বলবে: হে মূসা! আপনি আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আপনাকে তাঁর রিসালাত এবং তাঁর সাথে কথা বলার মাধ্যমে মানুষের ওপর মনোনীত করেছেন। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা কি আপনি দেখছেন না? মূসা (আলাইহিস সালাম) তাদের বলবেন: নিশ্চয়ই আমার রব আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে, এর আগে কখনও এমন রাগান্বিত হননি এবং এর পরেও কখনও এমন রাগান্বিত হবেন না। আর আমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলাম যাকে হত্যা করার নির্দেশ আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার নাফস! আমার নাফস! আমার নাফস! আমার নাফস! তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট যাও। তারা বলবে: হে ঈসা! আপনি আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর কালেমা যা তিনি মারিয়ামের নিকট অর্পণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ। আপনি দোলনায় থাকা অবস্থায় মানুষের সাথে কথা বলেছেন। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাদের বলবেন: নিশ্চয়ই আমার রব আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন যে, এর আগে কখনও এমন রাগান্বিত হননি এবং এর পরেও কখনও এমন রাগান্বিত হবেন না। তিনি তাঁর কোনো পাপের কথা উল্লেখ করবেন না এবং বলবেন: তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যাও। তখন তারা আসবে এবং বলবে: হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরের সকল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা কি আপনি দেখছেন না? তখন আমি দাঁড়াব এবং আরশের নিচে আসব। এরপর আমি আমার রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হব। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমার সামনে তাঁর প্রশংসার এমন দ্বার উন্মোচন করবেন এবং তাঁর এমন উত্তম গুণকীর্তন করার ইলহাম দান করবেন যা আমার আগে আর কাউকে দান করেননি। এরপর বলা হবে: হে মুহাম্মাদ! আপনার মাথা তুলুন। আপনি চান, আপনাকে দেওয়া হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে। তখন আমি বলব: হে আমার রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত। তখন বলা হবে: হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোনো হিসাব নেই তাদের জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্য থেকে ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। আর তারা জান্নাতের অন্যান্য দরজায় সাধারণ মানুষের সাথে অংশীদার হবে। তারপর তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, জান্নাতের একটি দরজার দুই চৌকাঠের মধ্যবর্তী দূরত্ব মক্কা ও হাজর অথবা মক্কা ও বুসরার মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান।"মজলিসের সমাপ্তি।৪২৪ হিজরি সালের ২৩শে শাওয়াল, জুমআর নামাজের পর আল-মাহদি জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত মজলিস।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - حَدَّثَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، إِمْلاءً، قَالَ: أَنَبا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الطَّيْبِيُّ، قثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زِيَادٍ،، قثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْمِقْدَادِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ «يُسَلِّمُ تَسْلِيمًا يُسْمِعُ النَّبْهَانَ، وَلا يُوقِظُ النَّائِمَ» .قَالَ الشَّيْخُ أَبُو الْفَتْحِ: هَذَا حَدِيثٌ عَالٍ مِنْ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ ، وَهُوَ حَدِيثٌ إِسْنَادُهُ كُلُّهُمْ ثِقَاتٌ
১৭ - আমাদের নিকট শায়খ আবুল কাসিম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ বিন ইসহাক আত-তাইবি, আমাদের নিকট হাসান বিন আলী বিন যিয়াদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুলায়মান বিন আল-মুগীরা বর্ণনা করেছেন সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি মিকদাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) «এমনভাবে সালাম প্রদান করতেন যা জাগ্রত ব্যক্তি শুনতে পেত, কিন্তু ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে দিত না»।শায়খ আবুল ফাতহ বলেন: এটি সুলায়মান বিন আল-মুগীরার বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের (আলি) হাদীস, এবং এটি এমন একটি হাদীস যার বর্ণনাকারী সকলেই নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ، قثنا الْحَسَنُ بْنُ مُكْرَمِ بْنِ حَسَّانٍ، قثنا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، قثنا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ الرَّبَذِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " كَانَتْ مُتْعَةُ النِّسَاءِ فِي أَوَّلِ الإِسْلامِ، كَانَ الرَّجُلُ يَقْدَمُ الْبَلَدَ وَلَيْسَ مَعَهُ مَنْ يُبْصِرُ مَتَاعَهُ، وَيُصْلِحُ ضَيْعَتَهُ، فَيَتَزَوَّجُ الْمَرْأَةَ إِلَى قَدْرِ مَا يُفْرِغُ مِنْ حَاجَتِهِ فَتَحْفَظُ مَتَاعَهُ وَتُصْلِحُ ضَيْعَتَهُ ، وَكَانَ يَقْرَأُ: «فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى» .فَنَسَخَهَا: {مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ} [النساء: 24] .وَكَانَ الإِحْصَانُ بِيَدِ الرَّجُلِ ، يُمْسِكُ إِذَا شَاءَ ، وَيُرْسِلُ إِذَا شَاءَ ، وَيَتَوَارَثَانِ، فَقَالَ: {إِلا أَنْ يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ} [البقرة: 237] .قَالَ: فَجَعَلَ اللَّهُ عز وجل ذَلِكَ لِلرِّجَالِ، وَلَمْ يَجْعَلْ لِلنِّسَاءِ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا "
১৮ - আবু সাহল আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবনে মুকরাম ইবনে হাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে সুলায়মান আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে উবাইদাহ আর-রাবাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযী থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: " ইসলামের শুরুর দিকে মুতআহ (সাময়িক বিবাহ) প্রচলিত ছিল। কোনো ব্যক্তি যখন কোনো জনপদে আসত এবং তার সাথে এমন কেউ থাকত না যে তার আসবাবপত্র দেখাশোনা করবে এবং দেখাশোনা করবে তার বিষয়াদি, তখন সে কোনো নারীকে বিবাহ করত যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার প্রয়োজন পূরণ না করে। ফলে সেই নারী তার আসবাবপত্র পাহারা দিত এবং তার কাজগুলো গুছিয়ে দিত। আর তিনি তিলাওয়াত করতেন: «অতঃপর তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা ভোগ করেছ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য»।অতঃপর একে রহিত করেছে এই আয়াত: {পবিত্রতা রক্ষাকারী হিসেবে, ব্যভিচারী হিসেবে নয়} [সূরা আন-নিসা: ২৪]।আর বিবাহের ইখতিয়ার পুরুষের হাতে ছিল, সে চাইলে (স্ত্রীকে) রেখে দিত এবং চাইলে ছেড়ে দিত, আর তারা একে অপরের উত্তরাধিকারী হতো। অতঃপর আল্লাহ বললেন: {যদি না তারা ক্ষমা করে অথবা তিনি ক্ষমা করেন যার হাতে বিবাহের বন্ধন রয়েছে} [সূরা আল-বাকারাহ: ২৩৭]।তিনি বলেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এটিকে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত করেছেন এবং নারীদের জন্য এর কোনো অংশ রাখেননি।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - أَخْبَرنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، قثنا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، قثنا أَبُو زَكَرِيَّا، قَالَ: أَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رحمه الله، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ يُصَلِّي يَوْمَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ»
১৯ - আবু আহমাদ হামযা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দুরী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু যাকারিয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফুলায়হ ইবনে সুলায়মান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি জুমার দিন দুই রাকাত সালাত আদায় করতে।»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، قثنا إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ، قثنا عَفَّانُ، قثنا شُعْبَةُ، قَالَ: سَأَلْتُ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشَ ، فَحَدَّثَنِي عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ الأَحْنَفِ، عَنْ صِلَةِ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، " أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، وَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ، وَفِي سُجُودِهِ: سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى، وَكَانَ إِذَا أَتَى عَلَى آيَةِ رَحْمَةٍ وَقَفَ فَسَأَلَ، وَإِذَا أَتَى عَلَى آيَةِ عَذَابٍ وَقَفَ فَتَعَوَّذَ "
20 - আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম আশ-শাফিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক বিন আল-হাসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আফফান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, শু'বাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সুলাইমান আল-আমাশকে জিজ্ঞাসা করেছি, অতঃপর তিনি আমার নিকট সাদ বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি আল-মুসতাওরিদ বিন আল-আহনাফ থেকে, তিনি সিলাহ বিন যুফার থেকে এবং তিনি হুযায়ফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেছেন এবং তিনি তাঁর রুকুতে বলতেন: আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি, এবং তাঁর সিজদাহতে বলতেন: আমার রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি যিনি সর্বোচ্চ। আর যখন তিনি রহমতের কোনো আয়াত অতিক্রম করতেন তখন থামতেন ও প্রার্থনা করতেন, আর যখন আযাবের কোনো আয়াত অতিক্রম করতেন তখন থামতেন ও আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ، قثنا سِنَانٌ الْعَوَقِيُّ، قثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ مَيْسَرَةِ الْفَجْرِ، قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى كُتِبْتَ نَبِيًّا؟ قَالَ: «كُتِبْتُ وَآدَمُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ»
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ দালজ বিন আহমাদ বিন দালজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সিনান আল-আওয়াকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন তাহমান, তিনি বুদাইল বিন মাইসারা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন শাকিক থেকে, এবং তিনি মাইসারা আল-ফাজর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কখন নবী হিসেবে লিখিত হয়েছিলেন? তিনি বললেন: «আমি তখনই নবী হিসেবে লিখিত ছিলাম যখন আদম (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আত্মা ও শরীরের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الآجُرِّيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، قثنا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، قَالَ: «يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا وَسَبْعُ مِائَةٍ بِغَيْرِ حِسَابٍ» .يَعْنِي سَبْعَ مِائَةِ أَلْفٍ
২২ - আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আজুররী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মা‘মার থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সা‘দ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «আমার উম্মত থেকে সত্তর হাজার সাতশত জন বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে»।অর্থাৎ সাত লক্ষ
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ الْحَسَنِ الْمُعَدَّلُ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ وَزِيرِ بْنِ لاحِقٍ الْبَصْرِيُّ، قثنا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ: " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ قَرَأَ النَّجْمَ فَسَجَدَ فِيهَا ، فَسَجَدَ النَّاسُ كُلُّهُمْ إِلا شَيْخًا كَبِيرًا ، فَإِنَّهُ أَخَذَ كَفًّا مِنْ حَصَى فَقَالَ: هَذَا يُجْزِئُ لِي فَوَضَعَهُ عَلَى وَجْهِهِ ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَرَأَيْتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ قُتِلَ كَافِرًا "
২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল খালিক বিন আল-হাসান আল-মুআদ্দাল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন উযাইর বিন লাহিক আল-বাসরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি হাকাম থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূরা আন-নাজম পাঠ করলেন এবং তাতে সিজদাহ করলেন। তখন এক বৃদ্ধ লোক ব্যতীত উপস্থিত সকল মানুষ সিজদাহ করল। সেই বৃদ্ধ এক মুঠো কঙ্কর গ্রহণ করে বলল: এটিই যথেষ্ট হবে আমার জন্য। অতঃপর সে তা নিজের কপালে রাখল। আবদুল্লাহ বলেন: পরবর্তীতে আমি তাকে কাফির অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি।"
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ الْخَضِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَسْيُوطِيُّ رحمه الله ، بِمَكَّةَ، قثنا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَلِيٍّ النَّسَائِيُّ ، قَالَ: أَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رحمه الله ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، قَالَ: «مَثَلُ صَاحِبِ الْقُرْآنِ كَمَثَلِ صَاحِبِ الإِبِلِ الْمُعَقَّلَةِ ، إِذَا عَاهَدَ عَلَيْهَا أَمْسَكَهَا ، وَإِنْ أُطْلِقَتْ ذَهَبَتْ»
২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনুল খিদর ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসয়ুতি (রহিমাহুল্লাহ), মক্কায়; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী আন-নাসায়ী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ, মালিক থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর (রহিমাহুল্লাহ) থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কুরআনের সাথীর উদাহরণ হলো রশি দিয়ে বাঁধা উটের মালিকের ন্যায়; যদি সে তার নিয়মিত তদারকি করে তবে সেটিকে আটকে রাখতে পারে, আর যদি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় তবে সে চলে যায়।»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الصَّوَّافِ رحمه الله، قثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، قثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ، قثنا أَبُو بَكْرٍ يَعنِي ابْنَ عَيَّاشٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ فَائِدٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ ثُمَّ نَسِيَهُ لَقِيَ اللَّهَ عز وجل وَهُوَ أَجْذَمُ»
২৫ - আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আবু আলী মুহাম্মদ ইবনুল আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনুস সাউওয়াফ রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু হাম্বল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আইয়ুব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর অর্থাৎ ইবনু আইয়াশ, তিনি ইয়াজিদ ইবনু আবি জিয়াদ থেকে, তিনি ঈসা ইবনু ফায়িদ থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল অতঃপর তা ভুলে গেল, সে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার সাথে কুষ্ঠরোগাক্রান্ত অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الدَّيْبُلِيُّ ، بِمَكَّةَ ، رحمه الله، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ الصَّائِغُ، قثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قثنا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، مَوْلَى ابْنِ عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي صَالحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رحمه الله، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، قَالَ: «الْحُجَّاجُ وَالْعُمَّارُ وَفْدُ اللَّهِ عز وجل ، إِنْ دَعَوْهُ أَجَابَهُمْ وَإِنِ اسْتَغْفَرُوهُ غَفَرَ لَهُمْ»
২৬ - মক্কায় আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাইবলি (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে যায়েদ আস-সায়েগ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনুল মুনযির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে আমির ইবনে লুয়াই-এর মুক্তদাস সালিহ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াকুব ইবনে আব্বাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবাইর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «হজ্জ ও উমরা পালনকারীরা হলেন মহান প্রতাপশালী আল্লাহর প্রতিনিধিদল; যদি তারা তাঁর নিকট দোয়া করে, তিনি তাদের ডাকে সাড়া দেন এবং যদি তারা তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাদের ক্ষমা করে দেন»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، قثنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، قثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، قثنا سَعِيدُ بْنُ أَيُّوبَ ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رحمه الله، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، أَنَّهُ قَالَ: «خَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ مِنْهَا عَنْ ظَهْرِ غِنًى ، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى ، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ» .فَقِيلَ: مَنْ أَعُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «امْرَأَتُكَ مِمَّنْ تَعُولُ» .تَقُولُ: أَطْعِمْنِي وَإِلا فَارِقْنِي ، خَادِمُكَ يَقُولُ: أَطْعِمْنِي وَاسْتَعْمِلْنِي، وَوَلَدُكَ يَقُولُ: إِلَى مَنْ تَتْرُكُنِي "
২৭ - আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বিশর বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুর রহমান আল-মুশরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আজলান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) থেকে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «সর্বোত্তম দান হচ্ছে যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়; আর উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম; এবং তুমি তাকে দিয়ে শুরু করো যার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তোমার ওপর»।জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কার ভরণ-পোষণ করব? তিনি বললেন: «তোমার স্ত্রী তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তোমার ওপর»।সে (স্ত্রী) বলে: «আমাকে আহার করাও অন্যথায় আমাকে পৃথক করে দাও», তোমার সেবক বলে: «আমাকে আহার করাও এবং আমাকে কাজে নিয়োজিত রাখো», এবং তোমার সন্তান বলে: «আপনি আমাকে কার কাছে রেখে যাচ্ছেন?»
(খণ্ড: ১)
জুজউন ফিহি সাবআতু মাজালিসা মিন আমালিবনি বিশরান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 - أَخْبَرَنَا عَمُّ وَالِدِنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ بِشْرَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ رحمه الله، قثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَيُّوبَ، قثنا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجِرْمِيُّ، قثنا أَبُو عُبَيْدَةَ الحَدَّادُ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ ثَابِتٍ الْبُنَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «لِلأَنْبِيَاءِ عليهم السلام مَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ فَيَجْلِسُونَ عَلَيْهَا ، وَيَبْقَى مِنْبَرِي لا أَجْلِسُ عَلَيْهِ» .أَوْ قَالَ: " لا أَقْعُدُ عَلَيْهِ قَائِمٌ بَيْنَ يَدَيْ رَبِّي عز وجل ، مُنْتَصِبًا لأُمَّتِي مَخَافَةَ أَنْ يَبْعَثَ بِي إِلَى الْجَنَّةِ وَتَبْقَى أُمَّتِي بَعْدِي، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أُمَّتِي أُمَّتِي.قَالَ: فَيَقُولُ: يَا مُحَمَّدُ وَمَا تُرِيدُ أَنْ أَصْنَعَ بِأُمَّتِكَ.فَأَقُولُ: يَا رَبِّ عَجِّلْ حِسَابَهُمْ، فَيُدْعَوْنَ، فَيُحَاسَبُونَ، فَمِنْهُمْ مَنْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ بِرَحْمَةِ اللَّهِ عز وجل، وَمِنْهُمْ مَنْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ بِشَفَاعَتِي، فَمَا أَزَالُ أَشْفَعُ حَتَّى أُعْطَى صِكَاكًا بِرِجَالٍ قَدْ بُعِثَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ ، وَحَتَّى أَنَّ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ يَقُولُ: يَا مُحَمَّدُ مَا تَرَكْتَ لِغَضَبِ رَبِّكَ عز وجل فِي أُمَّتِكَ مِنْ نَقْمَةٍ "
২৮ - আমাদের পিতার চাচা আবু হাফস ওমর ইবন বিশরান ইবন মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ ইবন মুহাম্মদ আল-জারমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু উবাইদাহ আল-হাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবন সাবিত আল-বুনানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন নাওফাল থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নবীদের জন্য সোনার মিম্বর থাকবে এবং তাঁরা সেগুলোর ওপর বসবেন, কিন্তু আমার মিম্বরটি অবশিষ্ট থাকবে, আমি তার ওপর বসব না»। অথবা তিনি বলেছেন: "আমি তার ওপর বসব না, বরং আমার রবের (আয্যা ও জাল্লা) দুই হাতের সামনে দণ্ডায়মান থাকব আমার উম্মতের জন্য অবিচলভাবে, এই ভয়ে যে আমাকে জান্নাতে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে আর আমার উম্মত আমার পেছনে রয়ে যাবে। তখন আমি বলব: হে আমার রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেন: হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার উম্মতের সাথে আমাকে কী করতে বলেন? তখন আমি বলব: হে আমার রব! তাদের হিসাব দ্রুত সম্পন্ন করুন। এরপর তাদের ডাকা হবে এবং তাদের হিসাব নেওয়া হবে। তখন তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর (আয্যা ও জাল্লা) রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর কেউ আমার সুপারিশে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি সুপারিশ করতেই থাকব এমনকি আমাকে এমন কিছু লোকের মুক্তিপত্র দেওয়া হবে যাদেরকে ইতিমধ্যে জাহান্নামে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি জাহান্নামের প্রহরী মালিক বলবে: হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার উম্মতের মধ্যে আপনার রবের (আয্যা ও জাল্লা) ক্রোধের কোনো প্রতিশোধই অবশিষ্ট রাখলেন না।"