(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: -)
الجامع لمسائل أصول الفقه وتطبيقاتها على المذهب الراجح   (عبد الكريم النملة)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الجامع لمسائل أصول الفقه وتطبيقاتها على المذهب الراجح

المؤلف: عبد الكريم بن علي بن محمد النملة [ت 1435 هـ]

(الأستاذ في قسم أصول الفقه بكلية الشريعة بالرياض - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية)

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 430

أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 صفر 1432

উসুলুল ফিকহের মাসআলাসমূহ এবং রাজেহ মাযহাব অনুযায়ী সেগুলোর প্রয়োগের সংকলন   (আব্দুল কারীম আন-নামলাহ)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


বই: উসুলুল ফিকহের মাসআলাসমূহ এবং রাজেহ মাযহাব অনুযায়ী সেগুলোর প্রয়োগের সংকলন

লেখক: আব্দুল কারীম বিন আলী বিন মুহাম্মদ আন-নামলাহ [মৃত্যু ১৪৩৫ হিজরি]

(রিয়াদের শারীয়াহ অনুষদের উসুলুল ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক - ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩০

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: আবু ইবরাহিম হাসানাইন

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ সফর ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الجامع لمسائل أصول الفقه وتطبيقاتها على المذهب الراجح]ـ

المؤلف: عبد الكريم بن علي بن محمد النملة

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م

عدد الأجزاء: 1

أعده للشاملة/ أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[রাজেহ মাযহাব অনুযায়ী উসুলুল ফিকহের মাসয়ালা ও এর প্রয়োগের সংকলন]

লেখক: আব্দুল কারীম বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আন-নামলাহ

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরী - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইব্রাহিম হাসানাইন

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد:

فإنه بعد أن صنفت كتاب: " إتحاف ذوي البصائر بشرح روضة الناظر في أصول الفقه " وطبع في ثمانية مجلدات، وصنفت كتاب: " المهذب في أصول الفقه المقارن " وطبع في خمسة مجلدات، وشرحتهما لطلاب الجامعة، وطلاب الدراسات العليا في كلية الشريعة، والمعهد العالي للقضاء، وكلية التربية للبنات، وكنت قد أكثرت في هذين الكتابين من المسائل الخلافية؛ حيث أني أذكر مذاهب العلماء في كل مسألة، وأدلة كل مذهب، والترجيح ومناقشة المذهب المرجوح.

بعد ذلك طلب مني كثير من طلاب العلم أن أصنّف كتاباً يجمع مسائل أصول الفقه بدون التطويل بذكر المذاهب حتى يكون مفيداً للطالب المبتدي وتذكيراً للطالب المنتهي، وقالوا في تعليل هذا الطلب: إن المختصرات الموجودة في هذا الفن لم تذكر إلا اليسير النادر من مسائل أصول الفقه، وإذا ذكرها أحدهم فإما أن يذكر أدلة على ما قال أو لا.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবি ও রাসূলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নবি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর উপর।

অতঃপর:

আমি যখন উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের ওপর 'ইতহাফু যাউয়িল বাসাইর বিশারহি রওদাতিন নাজির' নামক গ্রন্থটি রচনা করলাম যা আট খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, এবং 'আল-মুহাযযাব ফিল উসূলে ফিকহিল মুকারান' নামক গ্রন্থটি রচনা করলাম যা পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে এবং আমি যখন এই গ্রন্থদ্বয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শরীআহ অনুষদের উচ্চতর গবেষণারত শিক্ষার্থী, উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট এবং মহিলা শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নিকট পাঠদান করেছি; তখন আমি এই গ্রন্থ দুটিতে মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহের আধিক্য ঘটিয়েছিলাম। কেননা সেখানে আমি প্রতিটি মাসআলায় আলেমদের মাযহাবসমূহ (মতামত), প্রত্যেক মাযহাবের দলিলসমূহ এবং প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতের বর্ণনা ও অপ্রধান মতের পর্যালোচনার উল্লেখ করেছি।

এরপর অনেক তালিবে ইলম (জ্ঞান অন্বেষী) আমার নিকট অনুরোধ করেন যেন আমি এমন একটি কিতাব রচনা করি যা মাযহাবসমূহের দীর্ঘ আলোচনা বর্জন করে উসূলে ফিকহ-এর মাসআলাগুলোকে একত্রিত করবে; যাতে তা শিক্ষানবিশ শিক্ষার্থীর জন্য উপকারী হয় এবং উচ্চতর স্তরের শিক্ষার্থীর জন্য স্মারক হিসেবে কাজ করে। এই অনুরোধের কারণ হিসেবে তারা বলেন যে, এই শাস্ত্রে বিদ্যমান সংক্ষিপ্তসারগুলোতে উসূলে ফিকহ-এর মাসআলাসমূহের মধ্যে অতি সামান্য ও নগণ্য অংশই উল্লেখ করা হয়েছে; আর যদি কেউ তা উল্লেখ করেনও, তবে তিনি হয় তার বক্তব্যের সপক্ষে দলিল উল্লেখ করেন, অথবা করেন না।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ৬)
فإن كان من الذاكرين للأدلة، فإنه يصعب علينا فهمها.

وإن كان من غير الذاكرين للأدلة: فإنه يصعب فهم المسألة بدون أدلة.

فأجبت لهم طلبهم؛ لأن الشارع قد أمرنا ببيان الشريعة للناس، وكشف الشبه والالتباس، والأمر المطلق يقتضي الوجوب، فوجب علي أن أجيبهم، فقمت بتأليف هذا الكتاب؛ إجابة لطلب هؤلاء الطلاب؛ رجاء الأجر والمثوبة، ولتكثير طرق الخير ونشره، لأنه كلما كثر التأليف كلما كثرت طرق تعلمه، لأن بعض الطلاب قد يفهم المراد من كتاب دون كتاب آخر مع أنهما في نفس الفن.

وجعلته - أي هذا الكتاب - في ستة فصول.

الفصل الأول: في المقدمات.

الفصل الثاني: في الحكم الشرعي.

الفصل الثالث: في أدلة الأحكام الشرعية.

الفصل الرابع: في الاجتهاد.

الفصل الخامس: في التقليد.

الفصل السادس: في التعارض والترجيح.

فتكلمت في الفصل الأول - الذي هو في المقدِّمات - عن تعريف أصول الفقه، والفرق بينه وبين الفقه، والفرق بين القواعد الأصولية والقواعد الفقهية، وموضوع أصول الفقه، وحكم تعلمه، وفوائده، وأيهما الذي يقدم في التعلم: أصول الفقه أو الفقه؟ ومصادر أصول الفقه، ونشأته، وطرق التأليف فيه، وأهم الكتب المؤلفة على كل طريقه.
আর যদি তিনি দলীলসমূহ উল্লেখ করেন, তবে সেগুলো বোঝা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

আর যদি তিনি দলীলসমূহ উল্লেখ না করেন, তবে দলীল ব্যতিরেকে মাসয়ালা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।

অতঃপর আমি তাদের আবেদনে সাড়া দিলাম; কেননা শরীয়ত প্রণেতা আমাদের মানুষের কাছে শরীয়ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার এবং সংশয় ও অস্পষ্টতা উন্মোচন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর সাধারণ নির্দেশ আবশ্যকতা (ওয়াজিব) দাবি করে, ফলে তাদের ডাকে সাড়া দেওয়া আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ল। তাই আমি এই ছাত্রদের আবেদনের প্রেক্ষিতে, সওয়াব ও প্রতিদানের প্রত্যাশায় এবং কল্যাণের পথসমূহ বৃদ্ধি ও তা প্রসারের লক্ষ্যে এই কিতাবটি রচনা করেছি। কেননা রচনার সংখ্যা যত বৃদ্ধি পায়, তা শেখার পথসমূহও তত প্রশস্ত হয়; কারণ অনেক সময় কোনো ছাত্র একটি কিতাব থেকে যা বুঝতে পারে তা অন্যটি থেকে পারে না, যদিও উভয়টি একই বিষয়ের ওপর রচিত।

আর আমি একে —অর্থাৎ এই কিতাবটিকে— ছয়টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি।

প্রথম অধ্যায়: ভূমিকা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: শরয়ি হুকুম প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: শরয়ি আহকামের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: ইজতিহাদ প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: তাকলীদ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: বৈপরীত্য ও অগ্রাধিকার (তারজীহ) প্রসঙ্গে।

অতঃপর আমি প্রথম অধ্যায়ে —যা ভূমিকা সংক্রান্ত— উসূলে ফিকহের সংজ্ঞা, উসূলে ফিকহ ও ফিকহের মধ্যকার পার্থক্য, উসূলি নীতি ও ফিকহি নীতির মধ্যকার পার্থক্য, উসূলে ফিকহের আলোচ্য বিষয়, এটি শেখার বিধান, এর উপকারিতা এবং শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনটি আগে প্রাধান্য পাবে: উসূলে ফিকহ না কি ফিকহ? এ ছাড়া উসূলে ফিকহের উৎসসমূহ, এর উদ্ভব, এতে গ্রন্থ রচনার পদ্ধতিসমূহ এবং প্রতিটি পদ্ধতিতে রচিত গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وتكلمت في الفصل الثاني - الذي هو في الحكم الشرعي - عن تعريف الحكم الشرعي، وتقسيمه إلى حكم تكليفي وحكم وضعي، وعرَّفت كل نوع من أنواع الحكم التكليفي وهي: الواجب والمندوب، والمباح والمكروه، والحرام، وذكرت كل ما يتعلق بكل نوع من المسائل بالتفصيل، وبينت التكليف وشروطه وما يتعلق به.

وعرَّفت كل نوع من أنواع الحكم الوضعي، وهي: السبب، والشرط، والمانع، والعزيمة، والرخصة، وذكرت كل ما يتعلق بكل نوع من المسائل بالتفصيل.

ثم فرَّقت بين الحكم التكليفي والحكم الوضعي من وجوه.

وتكلمت في الفصل الثالث - الذي هو في أدلة الأحكام الشرعية - عن الأدلة المتَّفَق عليها، والأدلة المختلف فيها.

فذكرت الدليل الأول وهو الكتاب، وما يتعلق به من مسائل.

وذكرت الدليل الثاني وهو السنة وما يتعلق به من مسائل.

ثم ذكرت ما يشترك فيه الكتاب والسنة وهو: النسخ والألفاظ ودلالتها على الأحكام.

فبدأت بذكر النسخ وما يتعلق به من مسائل.

وفضلت في ذكر الألفاظ ودلالتها على الأحكام فتكلَّمت عن اللغات والاشتقاق، والاشتراك، والترادف، والتأكيد، والتابع، والحقيقة، والمجاز، والنص، والظاهر، والتأويل، والمجمل، والمبين، والبيان، وحروف المعاني، والأمر والنهي، والعموم والخصوص، والمطلق والمقيد، والمنطوق والمفهوم، وذكرت كل ما يتعلق بكل نوع مما سبق من المسائل بالتفصيل.
এবং আমি দ্বিতীয় অধ্যায়ে—যা শরয়ী বিধান সম্পর্কে—শরয়ী বিধানের সংজ্ঞা এবং একে হুকুম তাকলিফী (কর্তব্যমূলক বিধান) ও হুকুম ওয়াদয়ী (নির্ধারক বিধান) হিসেবে বিভক্ত করা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আমি হুকুম তাকলিফীর প্রতিটি প্রকারের সংজ্ঞা দিয়েছি, আর সেগুলো হলো: ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ, মাকরূহ এবং হারাম। আমি প্রতিটি প্রকারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মাসআলা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি এবং তাকলিফ (দায়িত্বারোপ), এর শর্তাবলি ও এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছি।

আর আমি হুকুম ওয়াদয়ীর প্রতিটি প্রকারের সংজ্ঞা দিয়েছি, যেগুলো হলো: কারণ (সাবাব), শর্ত (শারত), প্রতিবন্ধক (মানি'), আযীমাহ ও রুখসাহ, এবং প্রতিটি প্রকারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মাসআলা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।

অতঃপর আমি বিভিন্ন দিক থেকে হুকুম তাকলিফী ও হুকুম ওয়াদয়ীর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করেছি।

এবং আমি তৃতীয় অধ্যায়ে—যা শরয়ী বিধানের দলীলাদি সম্পর্কে—ঐকমত্যপূর্ণ দলীলসমূহ এবং মতভেদপূর্ণ দলীলসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

এতে আমি প্রথম দলীল অর্থাৎ কিতাব (কুরআন) এবং এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ উল্লেখ করেছি।

আর আমি দ্বিতীয় দলীল অর্থাৎ সুন্নাহ এবং এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ উল্লেখ করেছি।

অতঃপর আমি কিতাব ও সুন্নাহর যৌথ বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি, আর তা হলো: নাসখ (রহিতকরণ) এবং শব্দাবলি ও বিধানের ওপর সেগুলোর নির্দেশকতা।

আমি নাসখ এবং এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছি।

এবং আমি শব্দাবলি ও বিধানের ওপর সেগুলোর নির্দেশকতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এতে আমি ভাষা, ইশতিকাক (শব্দমূল), ইশতিরাক (একই শব্দের বহু অর্থ), সমার্থকতা, তাকিদ (দৃঢ়করণ), অনুগামী শব্দ, হাকীকত (প্রকৃত অর্থ), মাজায (রূপক অর্থ), নস (সুস্পষ্ট পাঠ), জাহির (প্রকাশ্য অর্থ), তাবীল (ব্যাখ্যা), মুজমাল (সংক্ষিপ্ত), মুবাইয়িন (ব্যাখ্যাকারী), বায়ান (স্পষ্টকরণ), অর্থবোধক অব্যয়সমূহ, আদেশ ও নিষেধ, সাধারণ ও বিশেষ, অনির্ধারিত ও নির্ধারিত, মানতুক (উচ্চারিত অর্থ) ও মাফহূম (ব্যঞ্জিত অর্থ) সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আর উল্লিখিত প্রতিটি প্রকারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মাসআলা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ْثم ذكرت الدليل الثالث - وهو الإجماع - وما يتعلق به من مسائل.

ثم ذكرت الدليل الرابع - وهو القياس - وما يتعلق به من مسائل.

ثم تكلمت عن الأدلة المختلف فيها وهي: الاستصحاب،

وشرع مَن قبلنا، وقول الصحابي والاستحسان، والمصلحة المرسلة، وسد الذرائع، والعُرف، والاستقراء.

ثم تكلَّمت في الفصل الرابع - عن الاجتهاد - وذكرت ما يتعلق به من مسائل بالتفصيل.

وكذلك فعلت في الفصل الخامس - الذي هو في التقليد -، وفي الفصل السادس الذي هو في التعارض والترجيح.

هذا ما وضعته في هذا الكتاب، وقد سلكت فيه المنهج التالي:

أولاً: جمعت كل مسائل أصول الفقه في هذا الكتاب.

ثانياً: أذكر المسألة والمذهب الراجح فيها فقط، وأستدل لذلك بدليل أو دليلين أو أكثر.

ثالثاً: أذكر مثالاً أو مثالين يتبين فيهما تطبيق هذا المذهب من الفروع الفقهية.

رابعاً: أشير في الهامش إلى أن من أراد التوسع في معرفة المذاهب الأخرى فليراجع كتبي الأخرى، سواء كانت عامة لجميع مسائل أصول الفقه مثل كتاب: " إتحاف ذوي البصائر بشرح روضة الناظر "، وكتاب: " المهذب في أصول الفقه المقارن ".
অতঃপর আমি তৃতীয় দলিল—যা হলো ইজমা (ঐক্যমত)—এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ উল্লেখ করেছি।

অতঃপর আমি চতুর্থ দলিল—যা হলো কিয়াস (সাদৃশ্য)—এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ উল্লেখ করেছি।

অতঃপর আমি সেই সব দলিল সম্পর্কে আলোচনা করেছি যেগুলোর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, সেগুলো হলো: ইস্তিসহাব,

আমাদের পূর্ববর্তীগণের শরিয়ত, সাহাবীর বক্তব্য, ইস্তিহসান, মাসলাহাত মুরসালাহ, সাদ্দুয যারায়ি‘, উরফ এবং ইস্তিকরা (পর্যবেক্ষণ)।

এরপর আমি চতুর্থ পরিচ্ছেদে—ইজতিহাদ সম্পর্কে—আলোচনা করেছি এবং এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।

অনুরূপভাবে আমি পঞ্চম পরিচ্ছেদে—যা তাকলিদ বিষয়ক—এবং ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে—যা দলিলাদির পারস্পরিক বিরোধিতা ও অগ্রাধিকার (তায়ারুদ ও তারজিহ) বিষয়ক—তা সম্পন্ন করেছি।

এই কিতাবে আমি যা সন্নিবেশিত করেছি তা হলো এই, এবং আমি এতে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

প্রথমত: আমি উসুলুল ফিকহের সমস্ত মাসআলা এই কিতাবে একত্রিত করেছি।

দ্বিতীয়ত: আমি শুধু মাসআলা এবং সেই বিষয়ে রাজীহ বা অগ্রগণ্য মতটি উল্লেখ করেছি এবং এর সপক্ষে এক, দুই বা ততোধিক দলিল পেশ করেছি।

তৃতীয়ত: আমি এক বা একাধিক উদাহরণ উল্লেখ করেছি যার মাধ্যমে ফিকহি শাখা-প্রশাখায় এই মতের প্রয়োগ স্পষ্ট হয়।

চতুর্থত: আমি পাদটীকায় উল্লেখ করেছি যে, যারা অন্যান্য মাযহাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহী, তারা যেন আমার অন্যান্য কিতাবসমূহ দেখেন; চাই তা উসুলুল ফিকহের সমস্ত মাসআলা সম্বলিত সাধারণ গ্রন্থ হোক যেমন: "ইতহাফু যাওয়িল বাসাইর বি-শারহি রওদাতিন নাযির" এবং "আল-মুহাযযাব ফিল উসুলিল ফিকহিল মুকারান" কিতাবদ্বয়।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أو كانت خاصة في بعض موضوعات ومسائل أصول الفقه مثل: " كتاب الواجب الموسع عند الأصوليين "، و " الخلاف اللفظي عند الأصوليين "، و " أقل الجمع عند الأصوليين وأثر الاختلاف فيه "، و " مخالفة الصحابي للحديث النبوي الشريف "، و " الإلمام في مسألة تكليف الكفار بفروع الإسلام "، و " الرخص الشرعية وإثباتها بالقياس "، و " إثبات العقوبات بالقياس ".

خامساً: كتبت هذا الكتاب بأسلوب عصري مفهوم.

هذا ما فعلته في هذا الكتاب وقد سمَّيته بـ " الجامع لمسائل أصول الفقه وتطبيقها على المذهب الراجح "، أرجو أن يكون كما سمَّيته.

وأخيراً: لا أدعي أني أصبت في كل ما كتبت، لأن الكمال لله وحده، ويكفيني أني لم أقصد بهذا المصنف إلا نفع طلاب العلم، وإعانتهم على فهم مسائل أصول الفقه، وأسأل الله العلي القدير أن ينفع به مؤلفه، وقارئه، ومن أعان على نشره، وأن يجعله مقرِّباً إلى الله مبلغاً إلى رضوانه، إنه سميع مجيب.

وصلَّى الله وسلَّم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه وسلَّم.

كتبه

أ. د. عبد الكريم بن علي بن محمد النملة

الأستاد في قسم أصول الفقه بكلية الشريعة بالرياض

جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
অথবা তা উসূলে ফিকহের বিশেষ কিছু বিষয় ও মাসআলা সংক্রান্ত ছিল, যেমন: "উসূলবিদদের নিকট ওয়াজিব মুওয়াসসা‘ (প্রশস্ত ওয়াজিব) সংক্রান্ত গ্রন্থ", "উসূলবিদদের নিকট শাব্দিক মতভেদ", "উসূলবিদদের নিকট বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা এবং এতে মতভেদের প্রভাব", "সাহাবীর পবিত্র নববী হাদীসের বিরোধিতা", "কাফেরদের ইসলামের গৌণ বিধান (ফুরু) পালনে বাধ্য হওয়া সংক্রান্ত মাসআলায় সম্যক জ্ঞান", "শরয়ী রুখসত এবং কিয়াসের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত করা" এবং "কিয়াসের মাধ্যমে দণ্ডবিধি সাব্যস্ত করা"।

পঞ্চম: আমি এই বইটি একটি আধুনিক ও সহজবোধ্য শৈলীতে লিখেছি।

এই বইটিতে আমি যা করেছি তা হলো এটি, এবং আমি এর নামকরণ করেছি "আল-জামি‘ লি মাসাইল উসূলে ফিকহ ওয়া তাতবিকুহা আলাল মাযহাবির রাজেহ" (উসূলে ফিকহের মাসআলাসমূহের সংকলন এবং অগ্রগণ্য মতানুসারে সেগুলোর প্রয়োগ); আমি আশা করি এটি তার নাম অনুযায়ী সার্থক হবে।

পরিশেষে: আমি দাবি করি না যে আমি যা লিখেছি তার সব কিছুতেই সঠিক হয়েছি, কারণ পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমি এই রচনার মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারীদের উপকার করা এবং উসূলে ফিকহের মাসআলাসমূহ বুঝতে তাদের সহায়তা করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য পোষণ করিনি। আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এর লেখককে, পাঠককে এবং যারা এটি প্রকাশে সহায়তা করেছেন তাদের সকলকে উপকৃত করেন, আর যেন এটিকে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী এবং তাঁর সন্তুষ্টিতে পৌঁছানোর মাধ্যম বানিয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন

প্রফেসর ড. আব্দুল কারীম বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আন-নামলাহ

রিয়াদের শরীয়াহ অনুষদের উসূলে ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক

ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفصل الأول

في المقدِّمات

وفيه مسائل:

‌‌المسألة الأولى:

تعريف أصول الفقه:

الأصول: جمع أصل، والأصل لغة، ما يُبنى عليه غيره؛ لأن الأصل هو أسفل الشيء وأساسه، ولا شك أن أسفل الشيء وأساسه هو الذي يعتمد عليه في البناء.

والأصل اصطلاحاً هو: الدليل، لمناسبته وموافقته لمعناه لغة، وهو: ما يُبنى عليه غيره؛ حيث إن الدليل يبنى عليه الحكم، فأصول الفقه هي: أدلة الفقه.

والفقه: لغة هو: الفهم مطلقاً، لوروده ووقوعه في القرآن، كقوله تعالى: (قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ)، وقوله: (فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا) (78).
‌প্রথম পরিচ্ছেদ

ভূমিকা প্রসঙ্গে

এতে কয়েকটি বিষয় রয়েছে:

‌‌প্রথম বিষয়:

উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা:

উসুল হলো আসল-এর বহুবচন। শাব্দিক অর্থে আসল হলো তা, যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয়; কারণ আসল হলো কোনো বস্তুর নিম্নভাগ এবং তার ভিত্তি। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো বস্তুর নিম্নভাগ ও ভিত্তিই হলো এমন বিষয় যার ওপর নির্মাণকাজ নির্ভর করে।

পরিভাষায় আসল বলতে দলীল বা প্রমাণকে বোঝায়; কারণ এর শাব্দিক অর্থের সাথে এর গভীর সামঞ্জস্য ও মিল রয়েছে। আর তা হলো: যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয়; যেহেতু দলীলের ওপর ভিত্তি করেই বিধান বা হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়, সেহেতু উসুলুল ফিকহ হলো: ফিকহ-এর দলীলসমূহ।

শাব্দিক অর্থে ফিকহ হলো: সাধারণভাবে কোনো কিছু বোঝা। কারণ পবিত্র কুরআনে এটি এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (তারা বলল, হে শুআইব! আপনি যা বলেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না), এবং তাঁর বাণী: (তবে এই সম্প্রদায়ের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতেই পারছে না) (৭৮)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ১২)
والفقه اصطلاحاً هو: العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من الأدلة التفصيلية.

وأصول الفقه هو: معرفة أدلة الفقه إجمالاً، وكيفية الاستفادة منها، وحال المستفيد.

* * *

‌‌المسألة الثانية:

الفرق بين أصول الفقه والفقه
هو: أن أصول الفقه يكون في البحث عن أدلة الفقه الإجمالية بالتفصيل، فهو عبارة عن المناهج والأسس التي يجب أن يسلكها ويتَّبعها الفقيه.

أما الفقه: فهو يبحث في العلم بالأحكام الشرعية العملية المأخوذة من أدلتها التفصيلية، فهو عبارة عن استخراج الأحكام من الأدلة التفصيلية مع التقيد بتلك المناهج. فأصول الفقه بالنسبة للفقه كعلم المنطق بالنسبة لسائر العلوم الفلسفية، حيث إنه ميزان يضبط العقل، ويمنعه من الخطأ في التفكير.

* * *

‌‌المسألة الثالثة:

أهم الفروق بين القواعد الأصولية، والقواعد الفقهية
، هي كما يلي:

الأول: إن القواعد الأصولية كلية تضم جميع جزئياتها، بخلاف القواعد الفقهية؛ حيث إنها أغلبية.

الثاني: أن القواعد الأصولية أدلة للأحكام الشرعية، بخلاف القواعد الفقهية، حيث إنها مجموعة من الأحكام المتشابهة ترجع إلى علة واحدة تجمعها، والغرض منها هو تسهيل المسائل الفقهية فقط.
পরিভাষায় ফিকহ হলো: বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত ব্যবহারিক শরয়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান।

আর উসূলে ফিকহ হলো: ফিকহের দলিলসমূহ সম্পর্কে সামগ্রিকভাবে জানা, সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া।

* * *

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

উসূলে ফিকহ এবং ফিকহের মধ্যে পার্থক্য
হলো: উসূলে ফিকহ হলো ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করা। এটি মূলত সেই সকল পদ্ধতি ও মূলনীতির সমষ্টি যা একজন ফকীহকে অবশ্যই অবলম্বন ও অনুসরণ করতে হয়।

পক্ষান্তরে ফিকহ: এটি বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে গৃহীত ব্যবহারিক শরয়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করে। অর্থাৎ এটি হলো ওই সকল পদ্ধতি ও নীতিমালা অনুসরণপূর্বক বিস্তারিত দলিল থেকে বিধান আহরণ করা। সুতরাং ফিকহের ক্ষেত্রে উসূলে ফিকহের অবস্থান ঠিক সেরকম, যেমন অন্যান্য দর্শন শাস্ত্রের জন্য যুক্তিবিদ্যার অবস্থান; যা বুদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করার মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে এবং চিন্তার ক্ষেত্রে ভুল করা থেকে বিরত রাখে।

* * *

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

উসূলী মূলনীতি এবং ফিকহী মূলনীতির মধ্যে প্রধান পার্থক্যসমূহ
হলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: উসূলী মূলনীতিসমূহ হলো সার্বজনীন, যা এর অধীনে থাকা সকল শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে। পক্ষান্তরে ফিকহী মূলনীতিসমূহ এর বিপরীত; কারণ সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (তথা এতে ব্যতিক্রম থাকে)।

দ্বিতীয়ত: উসূলী মূলনীতিসমূহ হলো শরয়ী বিধানের দলিল। পক্ষান্তরে ফিকহী মূলনীতিসমূহ এর বিপরীত; কারণ এগুলো হলো সদৃশ বিধানাবলির একটি সমষ্টি যা একটি সাধারণ কারণের (ইল্লত) দিকে ফিরে যায় যা সেগুলোকে একত্র করে। আর এর উদ্দেশ্য হলো কেবল ফিকহী মাসআলাগুলোকে সহজসাধ্য করা।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الثالث: إن القواعد الأصولية قد وجدت قبل الفروع، بخلاف القواعد الفقهية فإنها قد وجدت بعد وجود الفروع.

* * *

‌‌المسألة الرابعة:

موضوع أصول الفقه:
هو الأدلة الإجمالية الموصلة إلى الأحكام الشرعية العملية وأقسامها، واختلاف مراتبها وكيفية أخذ الأحكام الشرعية على وجه كلي، فيبحث الأصولي عن العوارض اللاحقة لهذه الأدلة من كونها عامة، أو خاصة، أو مطلقة، أو مقيدة، أو مجملة، أو مبينة، أو منطوقاً، أو مفهوماً وهكذا.

وليس موضوع أصول الفقه الأحكام الشرعية؛ لأن الأحكام الشرعية ثمرة الأدلة، وثمرة الشيء تابعة له.

* * *

‌‌المسألة الخامسة:

تعلم أصول الفقه فرض عين بالنسبة لمن يريد بتعلم هذه الشريعة الوصول إلى درجة الاجتهاد
، وذلك ليقدر بواسطة تعلم هذا العلم على استنباط الأحكام الشرعية من أدلتها، وهو فرض كفاية لطالب العلم بصورة عامة.

* * *

‌‌المسألة السادسة:

فوائد علم أصول الفقه
هي:

الأولى: تعلم طرق استنباط الأحكام للحوادث المتجددة. الثانية: أن من تعلمه فإنه يكون قادراً على الدفاع عن وجهة نظر إمامه؛ حيث إنه بتعلمه لأصول الفقه قد اطلع على مأخذ إمامه وقواعده التي اعتمد عليها ذلك الإمام.

الثالثة: أن العارف بالحكم وأدلة هذا الحكم أعظم أجراً من الذي يعلم الحكم بدون أدلته.
তৃতীয়ত: উসূলী মূলনীতিসমূহ শাখা-মাসায়েলের (ফুরু) পূর্বেই বিদ্যমান ছিল, ফিকহী মূলনীতিসমূহের বিপরীতে; কারণ সেগুলো শাখা-মাসায়েলের অস্তিত্ব লাভের পর বিদ্যমান হয়েছে।

* * *

‌‌চতুর্থ মাসআলা:

উসূলে ফিকহের আলোচ্য বিষয়:
তা হলো সেই সামগ্রিক দলীলসমূহ যা আমলী শরয়ী আহকাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং সেগুলোর প্রকারভেদ, স্তরের ভিন্নতা এবং সামগ্রিকভাবে শরয়ী আহকাম গ্রহণের পদ্ধতি। সুতরাং উসূলবিদ এই দলীলসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট অবস্থাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন, যেমন সেগুলো আম (সাধারণ), খাস (বিশেষ), মুতলাক (নিঃশর্ত), মুকাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত), মুজমাল (সংক্ষিপ্ত), মুবাইয়্যান (সুস্পষ্ট), মানতুক (উচ্চারিত শব্দ হতে প্রাপ্ত অর্থ), মাফহুম (বিবেচিত অর্থ) ইত্যাদি হওয়া।

আর শরয়ী আহকাম উসূলে ফিকহের আলোচ্য বিষয় নয়; কারণ শরয়ী আহকাম হলো দলীলের ফল (পরিণতি), আর কোনো কিছুর ফল তার মূলের অনুগামী হয়ে থাকে।

* * *

‌‌পঞ্চম মাসআলা:

যারা এই শরীয়ত শিক্ষার মাধ্যমে ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছাতে চান, তাদের জন্য উসূলে ফিকহ শিক্ষা করা ফরযে আইন
, আর তা এজন্য যে, এই শাস্ত্র শিক্ষার মাধ্যমে যেন তিনি দলীলাদি থেকে শরয়ী আহকাম উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন। আর সাধারণ জ্ঞানান্বেষীদের জন্য এটি ফরযে কিফায়া।

* * *

‌‌ষষ্ঠ মাসআলা:

উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের উপকারিতাসমূহ
হলো:

প্রথমত: নতুন উদ্ভূত ঘটনাবলীর ক্ষেত্রে বিধান উদ্ভাবনের পদ্ধতি শিক্ষা করা। দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি এটি শিক্ষা করবে, সে তার ইমামের দৃষ্টিভঙ্গির স্বপক্ষে যুক্তি দিতে সক্ষম হবে; যেহেতু উসূলে ফিকহ শিক্ষার মাধ্যমে সে তার ইমামের দলীলের উৎস এবং ইমাম যে মূলনীতিগুলোর ওপর নির্ভর করেছেন সেগুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছে।

তৃতীয়ত: যিনি বিধান এবং সেই বিধানের দলীল সম্পর্কে অবগত, তিনি সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক সওয়াবের অধিকারী যিনি দলীল ব্যতিরেকে বিধান জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الرابعة: أن العارف بالقواعد الأصولية يستطيع أن يدعو إلى الله وإلى دينه بأسلوب مقنع.

الخامسة: أن العارف بتلك القواعد يستطيع أن يبين لأعداء الإسلام أن الإسلام صالح لكل زمان ومكان.

السادسة: أنه لا يمكن لأي شخص أن يقوم بتفسير القرآن أو شرح الأحاديث إلا إذا كان عالماً بأصول الفقه؛ حيث لا يمكنه معرفة دلالة النص هل هي قطعية أو ظنية، أو أي نوع من أنواع الدلالات إلا بعد معرفته بأصول الفقه.

* * *

‌‌المسألة السابعة:

يقدَّم تعلم أصول الفقه على تعلم الفقه:
وذلك ليكون المتعلم على ثقة مما يدخل فيه، ويكون قادراً على فهم مرامي جزئيات الفقه، فالفروع لا تدرك إلا بأصولها، والنتائج لا تعرف حقائقها إلا بعد تحصيل العلم بمقدماتها، وعلى هذا ينبغي أن تحفظ الأدلة، وتحكم الأصول، ثم حينئذِ تبنى عليها الفروع.

* * *

‌‌المسألة الثامنة:

المصادر التي استمد منها علم أصول الفقه مادته ثلاثة:

الأول: أصول الدين - وهو علم الكلام - وسبب استمداده من هذا العلم هو: توقف الأدلة الشرعية على معرفة البارئ عز وجل، وصدق الرسول صلى الله عليه وسلم المبلغ عنه فيما قال لتعلم حجيتها وإفادتها للأحكام الشرعية.

واستمد منه مسائل مثل: مسألة الحاكم، والتحسين والتقبيح العقليين، والتكليف بما لا يطاق، وتكليف المعدوم ونحوها.
চতুর্থ: উসূলের মূলনীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি যুক্তিগ্রাহ্য পদ্ধতিতে আল্লাহর দিকে এবং তাঁর দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিতে সক্ষম হন।

পঞ্চম: এই মূলনীতিগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ইসলামের শত্রুদের সামনে এটি স্পষ্ট করতে পারেন যে, ইসলাম সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী।

ষষ্ঠ: উসূলুল ফিকহ সম্পর্কে বিজ্ঞ হওয়া ব্যতীত কোনো ব্যক্তির পক্ষেই কুরআনের তাফসীর বা হাদীসের ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়; কারণ উসূলুল ফিকহ না জানা পর্যন্ত তার পক্ষে নস বা পাঠ্যের দালালাত (নির্দেশনা) কি নিশ্চিত নাকি ধারণাপ্রসূত, অথবা দালালাতের অন্য কোনো প্রকার—তা অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

* * *

‌‌সপ্তম মাসআলা:

ফিকহ শিক্ষার পূর্বে উসূলুল ফিকহ শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া:
আর তা এজন্য যাতে শিক্ষার্থী যা শিখতে যাচ্ছে সে বিষয়ে দৃঢ়প্রত্যয়ী হতে পারে এবং ফিকহের খুটিনাটি বিষয়গুলোর উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হয়। কারণ মূলনীতি (উসূল) ব্যতীত শাখা-প্রশাখা (ফুরু) অনুধাবন করা যায় না এবং ভূমিকা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ছাড়া ফলাফলের প্রকৃত স্বরূপ জানা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে দলিলসমূহ সংরক্ষণ করা এবং উসূল বা মূলনীতিসমূহ সুসংহত করা উচিত, অতঃপর সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফুরু বা শাখা-প্রশাখাসমূহ বিন্যস্ত হবে।

* * *

‌‌অষ্টম মাসআলা:

উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের উপাদান যেসব উৎস থেকে সংগৃহীত হয়েছে তা তিনটি:

প্রথম: উসূলুদ্দীন —যা ইলমুল কালাম নামে পরিচিত— এবং এই শাস্ত্র থেকে উপাদান গ্রহণের কারণ হলো: শারয়ী দলিলসমূহের প্রামাণিকতা এবং শারয়ী বিধান প্রদানে সেগুলোর কার্যকারিতা জানার বিষয়টি মহান স্রষ্টা (বারী) আযযা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারকারী হিসেবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

আর এই শাস্ত্র থেকে যেসব মাসআলা গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো: হাকেম (বিধান দাতা) সংক্রান্ত মাসআলা, বুদ্ধিভিত্তিক ভালো-মন্দ বিচার, সাধ্যাতীত বিষয়ের বাধ্যবাধকতা, অস্তিত্বহীনকে কোনো দায়িত্বারোপ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الثاني: علم اللغة العربية، وسبب استمداده من هذا العلم هو: أن كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم قد نزلا بلغة العرب، فمحتاج إلى معرفة قدر كبير من اللغة العربية ليستطيع معرفة دلالة الأدلة وفهمها وإدراك معانيها.

واستمد منه كثيراً من المسائل ومنها: الأوامر والنواهي، والعموم والخصوص، والمطلق والمقيد، ومعاني الحروف، والحقيقة والمجاز والاستثناء، والمنطوق والمفهوم، ونحو ذلك.

الثالث: الأحكام الشرعية، وسبب استمداده من هذا العلم هو: أن المقصود من هذا العلم إثبات الأحكام الشرعية، فلا بد للأصولي من معرفة قدراً من الفقه والأحكام الشرعية ليتمكن به إيضاح المسائل الأصولية، وتصويرها.

* * *

‌‌المسألة التاسعة:

نشأة علم أصول الفقه وطرق التأليف فيه:

كان الصحابة رضي الله عنهم في زمن النبي صلى الله عليه وسلم يرجعون إليه في بيان أحكام الحوادث التي تنزل بهم، فلما توفي صلى الله عليه وسلم كان الصحابة يأخذون حكم حوادثهم ونوازلهم من الكتاب والسنة، فإذا لم يجدوا حكمها فيهما، اجتهدوا وأخذوا الحكم عن طريق الاجتهاد بأنواعه، ونهج التابعون ذلك، وزادوا أخذهم بفتاوى الصحابة واجتهاداتهم.

ثم بعد ذلك كثر الاجتهاد، وكثرت طرقه، ثم أصبح لكل إمام قواعد قد اعتمدها في الفتوى والاجتهاد، وهؤلاء الأئمة لم يدونوا تلك القواعد التي اعتمدوها في اجتهاداتهم سوى الإمام الشافعي، فقد دوَّنها في كتابه: " الرسالة "، فنبه الشافعي أنظار
দ্বিতীয়: আরবি ভাষা বিজ্ঞান। এই বিজ্ঞান থেকে এটি আহরণ করার কারণ হলো: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাই দলীলসমূহের তাৎপর্য জানা, সেগুলো বোঝা এবং সেগুলোর অর্থ অনুধাবন করতে পারার জন্য আরবি ভাষার বৃহৎ একটি অংশ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

আর এই বিজ্ঞান থেকে অনেক মাসআলা আহরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: আদেশ ও নিষেধ, সাধারণ ও বিশেষ, শর্তহীন ও শর্তযুক্ত, অব্যয়সমূহের অর্থ, প্রকৃত ও রূপক অর্থ, ব্যতিক্রম, বাচনিক ও ব্যঞ্জনার্থ এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।

তৃতীয়: শরয়ী বিধানাবলি। এই বিজ্ঞান থেকে এটি আহরণের কারণ হলো: এই বিজ্ঞানের উদ্দেশ্যই হলো শরয়ী বিধানাবলি সাব্যস্ত করা। সুতরাং উসূলবিদের জন্য ফিকহ ও শরয়ী বিধানাবলি সম্পর্কে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্ঞান থাকা আবশ্যক, যাতে এর মাধ্যমে তিনি উসূলের মাসআলাগুলো স্পষ্ট করতে এবং সেগুলোর চিত্রায়ন করতে সক্ষম হন।

* * *

‌‌নবম মাসআলা:

উসূলুল ফিকহ বিজ্ঞানের উদ্ভব এবং এতে গ্রন্থ রচনার পদ্ধতিসমূহ:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁদের ওপর আপতিত বিভিন্ন ঘটনার বিধান বর্ণনার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হতেন। অতঃপর যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন, তখন সাহাবীগণ তাঁদের নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতি ও ঘটনাবলির বিধান কিতাব ও সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করতেন। যদি তাঁরা সেই দুই উৎসে কোনো বিধান না পেতেন, তবে তাঁরা ইজতিহাদ করতেন এবং বিভিন্ন প্রকার ইজতিহাদের মাধ্যমে বিধান গ্রহণ করতেন। তাবিঈগণও সেই পথ অনুসরণ করেছেন এবং এর সাথে সাহাবীগণের ফতোয়া ও ইজতিহাদসমূহ গ্রহণ করাকে যুক্ত করেছেন।

অতঃপর ইজতিহাদের প্রসার ঘটে এবং এর পদ্ধতিসমূহ বহুবিধ হয়। এরপর প্রত্যেক ইমামের জন্য কিছু মূলনীতি তৈরি হয় যার ওপর তাঁরা ফতোয়া ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে নির্ভর করতেন। এই ইমামগণ তাঁদের ইজতিহাদে নির্ভর করা সেই নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেননি, কেবল ইমাম শাফিঈ ব্যতীত। তিনি তা তাঁর "আর-রিসালাহ" গ্রন্থে সংকলন করেছেন। এর মাধ্যমে শাফিঈ (গবেষকদের) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
العلماء والباحثين إلى متابعة البحث في هذا العلم، حتى أصبح علم أصول الفقه علماً مستقلاً رُتبت أبوابه، وحُررت مسائله، وجُمعت مباحثه، وأُلفت فيه المؤلفات على اختلاف فى الطرق التي اتبعوها في التأليف.

وإليك ذكر طرق التأليف في هذا العلم ومميزات كل واحدة. الطريقة الأولى: طريقة الحنفية، وتتميز بأنها تقرر القواعد الأصولية على مقتضى ما نقل من الفروع والفتاوى الصادرة عن أئمة الحنفية المتقدمين كأبي حنيفة، ومحمد بن الحسن، وأبي يوسف وابن أبي ليلى، وزُفر.

وسميت هذه الطريقة بطريقة الفقهاء، لأنها أمس بالفقه وأليق بالفروع، ومن أهم كتب هذه الطريقة: الفصول في الأصول للجصاص، وتقويم الأدلة للدبوسي، وأصول البزدوي، وأصول السرخسي، ومسائل الخلاف للصيمري، وميزان الأصول للسمرقندي.

الطريقة الثانية: طريقة الجمهور - وهم المالكية، والشافعية، والحنابلة، والمعتزلة -، وتتميز بالميل الشديد إلى الاستدلال العقلي، والبسط في الجدل والمناظرات وتجريد المسائل الأصولية عن الفروع الفقهية، ومن أهم كتب هذه الطريقة:

1 - كتب مالكية: التقريب والإرشاد للباقلاني، وأحكام الفصول للباجي، ومنتهى السول لابن الحاجب، وشرح تنقيح الفصول، والنفائس للقرافي.

2 - كتب شافعية: الرسالة للشافعي، واللمع، وشرح اللمع، والتبصرة لأبي إسحاق الشيرازي، والبرهان والتلخيص،
আলেম ও গবেষকগণ এই শাস্ত্রের গবেষণাকে অব্যাহত রাখেন, এমনকি ইলমে উসূলুল ফিকহ একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয় যার অধ্যায়সমূহ বিন্যস্ত করা হয়েছে, এর মাসআলাসমূহ সম্পাদিত হয়েছে, এর আলোচ্য বিষয়সমূহ সংকলিত হয়েছে এবং এতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে যা তারা রচনার ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন।

এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার পদ্ধতিসমূহ এবং প্রতিটির বৈশিষ্ট্য নিম্নে উল্লেখ করা হলো। প্রথম পদ্ধতি: হানাফী পদ্ধতি। এর বৈশিষ্ট্য হলো, এটি উসূলী মূলনীতিসমূহকে পূর্ববর্তী হানাফী ইমামগণের—যেমন আবু হানিফা, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, আবু ইউসুফ, ইবন আবি লায়লা এবং জুফার—থেকে বর্ণিত শাখা মাসআলা (ফুরু) ও ফতোয়ার প্রেক্ষাপটে নির্ধারণ করে।

এই পদ্ধতিটি 'ফুকাহাদের পদ্ধতি' নামে পরিচিত, কারণ এটি ফিকহের অধিক নিকটবর্তী এবং শাখা মাসআলার সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: জাসসাস-এর 'আল-ফুসুল ফিল উসুল', দাব্বুসী-র 'তাকউয়ীমুল আদিল্লাহ', 'উসুলুল বাজদাবী', 'উসুলুস সারাখসী', সয়মারী-র 'মাসাইলুল খিলাফ' এবং সামারকান্দী-র 'মিযানুল উসুল'।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের পদ্ধতি—তারা হলেন মালিকী, শাফেয়ী, হাম্বলী এবং মুতাজিলা। এর বৈশিষ্ট্য হলো যৌক্তিক প্রমাণের প্রতি প্রবল ঝোঁক, বিতর্ক ও পর্যালোচনার বিস্তারিত বিবরণ এবং উসূলী মাসআলাসমূহকে ফিকহী শাখা মাসআলা থেকে পৃথক রাখা। এই পদ্ধতির প্রধান গ্রন্থগুলো হলো:

১ - মালিকী মাযহাবের গ্রন্থসমূহ: বাকিল্লানী-র 'আত-তাকরীব ওয়াল ইরশাদ', বাজী-র 'আহকামুল ফুসুল', ইবনুল হাজিব-এর 'মুনতাহাস সূল', 'শারহু তানকীহিল ফুসুল' এবং কারাফী-র 'আন-নাফাইস'।

২ - শাফেয়ী মাযহাবের গ্রন্থসমূহ: শাফেয়ী-র 'আর-রিসালাহ', আবু ইসহাক শিরাযী-র 'আল-লুমআ', 'শারহুল লুমআ' ও 'আত-তাবসিরাহ', 'আল-বুরহান' এবং 'আত-তালখীস',
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والورقات لإمام الحرمين وقواطع الأدلة لابن السمعاني، والمستصفى، والمنخول للغزالي، والوصول إلى الأصول لابن برهان، والإحكام للآمدي، والمحصول لفخر الدين الرازي، ومنهاج الوصول للبيضاوي، والبحر المحيط للزركشي.

3 - كتب حنبلية: العدة لأبي يعلى، والتمهيد لأبي الخطاب، والواضح لابن عقيل، وروضة الناظر لابن قدامة وقد قمت بتحقيقه في ثلاث مجلدات، ثم شرحته في ثمانية مجلدات.

4 - كتب ظاهرية: الإحكام لابن حزم، والنبذ له.

5 - كتب على مذهب المعتزلة: العمد للقاضي عبد الجبار، وشرح العمد والمعتمد لأبي الحسين البصري.

الطريقة الثالثة: الجمع بين طريقة الحنفية وطريقة الجمهور؛ حيث إن من سار على هذه الطريقة حقَّق القواعد الأصولية، وأثبتها بالأدلة النقلية والعقلية، وطبق ذلك على الفروع، ومن أهم كتب هذه الطريقة: بديع النظام لابن الساعاتي، وتنقيح أصول الفقه، وشرحه التوضيح لصدر الشريعة، وجمع الجوامع لتاج الدين ابن السبكي، والتحرير لكمال الدين ابن الهمام، ومسلم الثبوت لمحب الدين بن عبد الشكور، والمهذب في أصول الفقه المقارن، وهذا قد قمت بتأليفه وطبع في خمسة مجلدات، وهذا الكتاب وهو الجامع يعتبر من هذه الطريقة.

الطريقة الرابعة: تخريج الفروع على الأصول، وهي طريقة: ربط الفروع بالأصول، ومن أهم كتب هذه الطريقة: تخريج الفروع على الأصول للزنجاني، والتمهيد للأسنوي، ومفتاح الوصول للتلمساني، والقواعد والفوائد الأصولية لابن اللحَّام.
এবং ইমামুল হারামাইন-এর 'আল-ওয়ারাকাত', ইবনুস সামআনী-র 'কাওয়াতিউল আদিলাহ', ইমাম গাযালী-র 'আল-মুসতাসফা' ও 'আল-মানখুল', ইবনু বুরহান-এর 'আল-উসূল ইলাল উসূল', আল-আমিদী-র 'আল-ইহকাম', ফখরুদ্দীন আর-রাযী-র 'আল-মাহসূল', আল-বায়দাভী-র 'মিনহাজুল উসূল' এবং আয-যারকাশী-র 'আল-বাহরুল মুহীত'।

৩ - হাম্বলী মাযহাবের গ্রন্থসমূহ: আবু ইয়ালা-র 'আল-উদ্দাহ', আবুল খাত্তাব-এর 'আত-তামহীদ', ইবনু আকীল-এর 'আল-ওয়াদিহ' এবং ইবনু কুদামা-র 'রওদাতুন নাযির', যা আমি তিন খণ্ডে তাহকীক করেছি এবং অতঃপর আট খণ্ডে এর ব্যাখ্যা লিখেছি।

৪ - যাহিরী মাযহাবের গ্রন্থসমূহ: ইবনু হাযম-এর 'আল-ইহকাম' এবং তাঁর 'আন-নুবাহ'।

৫ - মুতাযিলা মাযহাবের ওপর রচিত গ্রন্থসমূহ: কাযী আব্দুল জাব্বার-এর 'আল-উমাদ' এবং আবুল হুসাইন আল-বাসরী-র 'শারহুল উমাদ' ও 'আল-মু'তামাদ'।

তৃতীয় পদ্ধতি: হানাফী পদ্ধতি ও জুমহূর (অধিকাংশ আলিম)-এর পদ্ধতির সমন্বয়; যারা এই পদ্ধতিতে চলেছেন তারা উসূলের নীতিসমূহকে তাহকীক করেছেন এবং সেগুলোকে উদ্ধৃতিমূলক ও যুক্তিনির্ভর দলীলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন এবং তা ফروع (উপশাখা)-এর ওপর প্রয়োগ করেছেন। এই পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: ইবনুস সাআতী-র 'বাদিউন নিযাম', 'তানকীহুল উসূল' এবং সদরুশ শরীআহ কর্তৃক এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তাওযীহ', তাজউদ্দীন ইবনুস সুবকী-র 'জামউল জাওয়ামি', কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম-এর 'আত-তাহরীর', মুহিব্বুদ্দীন বিন আব্দুশ শাকুর-এর 'মুসাল্লামুস সাবূত' এবং তুলনামূলক উসূলে ফিকহ-এর ওপর রচিত 'আল-মুহাযযাব', যা আমি নিজে রচনা করেছি এবং তা পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। আর এই কিতাবটি অর্থাৎ 'আল-জামি' এই পদ্ধতিরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য।

চতুর্থ পদ্ধতি: উসূলের ওপর ভিত্তি করে ফروع-এর নির্যাস বের করা; এটি মূলত উসূলের সাথে ফروع-এর যোগসূত্র স্থাপনের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতির প্রধান গ্রন্থসমূহ হলো: আয-যানজানী-র 'তাখরীজুল ফুরু আলাল উসূল', আল-আসনাবী-র 'আত-তামহীদ', আত-তিলিমসানী-র 'মিফতাহুল উসূল' এবং ইবনুল লাহহাম-এর 'আল-কাওয়াইদ ওয়াল ফাওয়াইদ আল-উসূলিয়্যাহ'।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الطريقة الخامسة: وهي طريقة عرض أصول الفقه من خلال المقاصد والمفهوم العام الكلي للتكليف، ومن أهم كتب هذه الطريقة الموافقات للشاطبي.
পঞ্চম পদ্ধতি: এটি হলো মাকাসিদ এবং শরয়ী বিধানের সামগ্রিক ও সাধারণ ধারণার আলোকে উসূলে ফিকহ উপস্থাপনের পদ্ধতি; এবং এই পদ্ধতির অন্যতম প্রধান কিতাব হলো শাতীবির আল-মুওয়াফাকাত।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الثاني

في الحكم الشرعي وأقسامه

الحكم الشرعي:

هو خطاب الله المتعلِّق بفعل المكلَّف اقتضاء، أو تخييراً، أو وضعاً.

فالحكم عند الأصوليين هو نفس خطاب الشارع.

أما الحكم عند الفقهاء فهو: ما ثبت بالخطاب الشرعي، أي: أثره المترتب عليه، لا نفس النص الشرعي.

فمثلاً قوله تعالى: (وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ) هو الحكم عند الأصوليين.

ووجوب الصلاة هو: الحكم عند الفقهاء.

والحكم الشرعي ينقسم إلى قسمين هما:

القسم الأول: الحكم التكليفي هو: خطاب الله تعالى المتعلق بفعل المكلف بالاقتضاء أو التخيير.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

শরয়ী হুকুম এবং এর প্রকারভেদ প্রসঙ্গে

শরয়ী হুকুম:

এটি হলো মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে সক্ষম ব্যক্তি)-এর কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর বাণী, যা কোনো দাবি, স্বাধীনতা প্রদান অথবা কোনো বিধান নির্ধারণের সাথে সম্পৃক্ত।

সুতরাং উসুলবিদদের মতে হুকুম হলো স্বয়ং শরীয়তদাতার বাণী।

পক্ষান্তরে ফকিহদের মতে হুকুম হলো: যা শরয়ী বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, অর্থাৎ এর ওপর ভিত্তি করে অবধারিত ফলাফল, স্বয়ং শরয়ী মূল পাঠ নয়।

উদাহরণস্বরূপ আল্লাহ তাআলার বাণী: (তোমরা সালাত কায়েম করো) এটি উসুলবিদদের নিকট হুকুম।

আর সালাত ওয়াজিব হওয়া হলো: ফকিহদের নিকট হুকুম।

শরয়ী হুকুম দুই ভাগে বিভক্ত, যথা:

প্রথম প্রকার: হুকুম তাকলিফী (কর্তব্যমূলক বিধান) হলো: মুকাল্লাফের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহর বাণী, যা কোনো দাবি বা স্বাধীনতা প্রদানের সাথে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ২০)
القسم الثاني: الحكم الوضعي، وهو: خطاب الله تعالى

المتعلق بجعل الشيء سبباً لشيء آخر، أو شرطاً له، أو مانعاً منه، أو رخصة، أو عزيمة.

وكل قسم يتنوَّع إلى أنواع، إليك بيانها:
দ্বিতীয় বিভাগ: হুকমে ওয়াদয়ী, আর তা হলো: মহান আল্লাহর সেই সম্বোধন

যা কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের কারণ, অথবা তার জন্য শর্ত, অথবা তার জন্য প্রতিবন্ধক, অথবা রুখসাত, অথবা আজীমত হিসেবে নির্ধারণ করার সাথে সংশ্লিষ্ট।

আর প্রতিটি বিভাগ বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত, নিচে সেগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো:
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌القسم الأول

الحكم التكليفي وأنواعه

الحكم التكليفي هو: خطاب الله تعالى المتعلق بفعل المكلف اقتضاءاً أو تخييراً.

وهو أنواع:

- النوع الأول: الواجب.

- النوع الثاني: المندوب.

- النوع الثالث: المباح.

- النوع الرابع: المكروه.

- النوع الخامس: الحرام.

وإليك بيان كل نوع وما يتعلق به من المسائل:
প্রথম অংশ

হুকুম তাকলিফী ও এর প্রকারভেদ

হুকুম তাকলিফী হলো: মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির) কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহর সেই সম্বোধন, যা কোনো কাজ করা বা না করার দাবি জানায় অথবা (করা বা না করার) ইখতিয়ার প্রদান করে।

এটি কয়েক প্রকার:

- প্রথম প্রকার: ওয়াজিব।

- দ্বিতীয় প্রকার: মানদুব (পছন্দনীয়)।

- তৃতীয় প্রকার: মুবাহ (বৈধ)।

- চতুর্থ প্রকার: মাকরুহ (অপছন্দনীয়)।

- পঞ্চম প্রকার: হারাম।

নিম্নে প্রতিটি প্রকারের বর্ণনা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ তুলে ধরা হলো:
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌النوع الأول

الواجب

وفيه مسائل:

المسألة الأولى:

تعريف الواجب:

الواجب لغة: الساقط، يقال: وجب الحائط: إذا سقط، وهو مرتبط بالحكم الشرعي؛ حيث إنا نتخيل الحكم الواجب جزماً سقط ووقع على المكلف من الله تعالى.

والواجب اصطلاحاً هو: ما ذُم تاركه شرعاً مطلقاً.

* * *

المسألة الثانية:

صيغ الواجب هي:

1 - فعل الأمر كقوله تعالى: (وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ).

2 - الفعل المضارع المجزوم بلام الأمر كقوله تعالى: (وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ).

3 - اسم فعل الأمر كقوله تعالى؛ (عَليكم أَنفُسَكم).
প্রথম প্রকার

ওয়াজিব

এর মধ্যে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা:

ওয়াজিবের সংজ্ঞা:

আভিধানিকভাবে ওয়াজিব হলো: পতিত হওয়া। বলা হয়: দেয়ালটি ওয়াজিব হয়েছে; অর্থাৎ যখন তা পতিত হয়। এটি শরয়ি বিধানের সাথে সম্পর্কযুক্ত; যেহেতু আমরা কল্পনা করি যে, সুনিশ্চিত ওয়াজিব বিধানটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বা পতিত হয়েছে এবং মুকাল্লাফের (বিধানের দায়বদ্ধ ব্যক্তি) ওপর অর্পিত হয়েছে।

আর পারিভাষিক অর্থে ওয়াজিব হলো: শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে যার পরিত্যাগকারীকে নিরঙ্কুশভাবে নিন্দা করা হয়।

* * *

দ্বিতীয় মাসআলা:

ওয়াজিবের শব্দরূপগুলো হলো:

১ - নির্দেশসূচক ক্রিয়া (ফেলে আমর), যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো)।

২ - নির্দেশসূচক 'লাম' যুক্ত জজমবিশিষ্ট বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং তারা যেন প্রাচীন গৃহের তাওয়াফ করে)।

৩ - নির্দেশসূচক ক্রিয়াবিশেষ্য (ইসমু ফেলে আমর), যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদের দায়িত্ব অর্পিত)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
4 - المصدر النائب عن فعل الأمر، كقوله تعالى: (فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ).

5 - التصريح من الشارع بلفظ الأمر كقوله تعالى: (إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا).

6 - التصريح بلفظ الإيجاب أو الفرض، أو الكتب كقوله تعالى: (فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ)، وقوله: (كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ).

7 - كل أسلوب يفيد الوجوب في لغة العرب كقوله تعالى: (وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ).

8 - ترتيب الذم والعقاب على الترك كقوله تعالى: (فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ. . .).

* * *

المسألة الثالثة:

" الواجب " و " الفرض " غير مترادفين، ويوجد فرق بينهما.

ووجه الفرق: أن " الفرض " اسم لما ثبت حكمه عن دليل مقطوع به، كالآية والحديث المتواتر اللَّذَين قد قطع بدلالتهما على الحكم، والإجماع الصريح الذي نقل إلينا نقلاً متواتراً.

أما " الواجب " فهو: اسم لما ثبت حكمه بدليل ظني كخبر الواحد، والإجماع السكوتي، والقياس، وجميع دلالات الألفاظ الظنية.

ودل على التفريق: أنه يوجد فرق بينهما من حيث اللغة، فالفرض لغة: الحز في الشيء والتأثير فيه، والوجوب لغة: السقوط.

ولا شك أن ما يؤثر آكد من السقوط، فقد يسقط الشيء ولا يؤثر، وعليه: فإنه يجب اختصاص الفرض بقوة في الحكم
4 - আমর (আদেশবাচক ক্রিয়া) এর স্থলাভিষিক্ত মাসদার (ক্রিয়ামূল), যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (সুতরাং যখন তোমরা কাফিরদের মোকাবিলা করবে, তখন তাদের ঘাড় লক্ষ্য করে আঘাত করো)।

5 - শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে সরাসরি 'আমর' (আদেশ) শব্দ ব্যবহার করা, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আমানতসমূহ তার প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন)।

6 - ওয়াজিব হওয়া, ফরজ হওয়া বা লিখে দেওয়ার (বিধান দেওয়ার) শব্দ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ), এবং তাঁর বাণী: (তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে)।

7 - আরবি ভাষায় এমন প্রতিটি পদ্ধতি যা আবশ্যকতা (ওয়াজিব হওয়া) বুঝায়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং মানুষের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার ওপর বায়তুল্লাহর হজ করা আবশ্যক)।

8 - কোনো কাজ বর্জন করার ওপর নিন্দা ও শাস্তি নির্ধারণ করা, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসতে পারে...)।

* * *

তৃতীয় মাসআলা:

"ওয়াজিব" এবং "ফরজ" সমার্থক নয়, বরং এই দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

পার্থক্যের ধরণ হলো: "ফরজ" এমন বিধানকে বলা হয় যা অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত, যেমন কুরআনের আয়াত এবং মুতাওয়াতির হাদিস যা কোনো বিধানের ওপর অকাট্যভাবে প্রমাণ বহন করে, এবং এমন সুস্পষ্ট ইজমা যা আমাদের কাছে মুতাওয়াতির পদ্ধতিতে পৌঁছেছে।

পক্ষান্তরে "ওয়াজিব" হলো: এমন বিধান যা ধারণাপ্রসূত বা সম্ভাব্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত, যেমন খবর-ই-ওয়াহিদ (একক বর্ণনা), ইজমা-ই-সুকুতি (মৌন সম্মতিমূলক ইজমা), কিয়াস এবং শব্দের সকল সম্ভাব্য বা রূপক অর্থবোধক প্রয়োগসমূহ।

এই পার্থক্যের সপক্ষে প্রমাণ হলো: আভিধানিক দিক থেকেও এ দুটির মাঝে পার্থক্য বিদ্যমান। আভিধানিক অর্থে 'ফরজ' মানে হলো কোনো বস্তুর মধ্যে চিহ্ন কাটা বা প্রভাব ফেলা; আর 'ওয়াজিব' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পড়ে যাওয়া বা পতিত হওয়া।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যা প্রভাব ফেলে তা কেবল পড়ে যাওয়ার চেয়ে অধিক শক্তিশালী। কেননা কোনো বস্তু পড়ে যেতে পারে কিন্তু কোনো প্রভাব না-ও ফেলতে পারে। এর ওপর ভিত্তি করে: বিধানগত শক্তির দিক থেকে 'ফরজ'কে বিশেষ মর্যাদায় বিশিষ্ট করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
كما اختص بقوة في اللغة، حملاً للمقتضيات الشرعية على مقتضياتها اللغوية، لأن الأصل عدم التغيير.

ولأن وجود التفاوت بينهما في الآثار والأحكام يجعلنا نخص كل نوع باسم، حيث إن حكم الفرض أنه يكفر جاحده بخلاف الواجب فلا يكفر جاحده، ويفسق تاركه إذا استخف به، أما إذا تأول: فلا، وأن الحج يشتمل على فروض وواجبات، وأن الفرض لا يتم النسك إلا به، والواجب يجبر بدم، وأن الصلاة مشتملة - أيضاً - على فروض وواجبات، والفروض هي الأركان فإذا ترك ركناً كالركوع أو السجود فإن صلاته باطلة ولا يسقط في عمد ولا سهو، ولا تبرأ الذمة إلا بالإعادة، أما إذا ترك واجباً من واجباتها فإنه يجبر بسجود السهو، وصلاته صحيحة، ولكنها ناقصة.

ولأن هناك فرقاً بينهما عن طريق العقل؛ حيث إن كل عاقل يجد في عقله أن صلاة الظهر آكد من الصلاة المنذورة، والزكاة آكد من النذر في الصدقة وإن كانتا لازمتين، وعلى هذا: فإنه ينبغي أن يفرق ما هو آكد عما هو دونه باسم يعرف به، فيجعل اسم الفرض لما هو آكد، والوجوب لما هو دونه فرقاً بين الاثنين.

* * *

المسألة الرابعة:

الواجب باعتبار ذاته - أي: بحسب الفعل المكلَّف به - ينقسم إلى قسمين:
তদ্রূপ তিনি ভাষার ক্ষেত্রে শক্তিশালী বিশেষত্বের অধিকারী ছিলেন, শরয়ী অনিবার্যতাসমূহকে তাদের ভাষাগত অনিবার্যতাসমূহের ওপর প্রয়োগ করার মাধ্যমে, কারণ মূলনীতি হলো কোনো পরিবর্তন না হওয়া।

এবং যেহেতু এ দুটির (ফরজ ও ওয়াজিব) প্রভাব ও বিধানের মধ্যে পার্থক্যের অস্তিত্ব আমাদের প্রতিটি প্রকারকে পৃথক নামে বিশেষিত করতে বাধ্য করে। কারণ ফরজের বিধান হলো, এর অস্বীকারকারী কাফির হয়ে যায়, কিন্তু ওয়াজিবের বিষয়টি এর বিপরীত—এর অস্বীকারকারী কাফির হয় না। আর ওয়াজিব পরিত্যাগকারীকে ফাসিক গণ্য করা হয় যদি সে একে তুচ্ছ জ্ঞান করে, তবে যদি সে কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করে, তবে নয়। আর হজ্জ ফরজ ও ওয়াজিব কার্যাবলি নিয়ে গঠিত; হজ্জের ফরজ এমন যে তা ছাড়া হজ্জ পূর্ণ হয় না, আর ওয়াজিব দমের (পশু কোরবানি) মাধ্যমে পূরণ করা যায়। অনুরূপভাবে সালাতও ফরজ ও ওয়াজিব কার্যাবলি নিয়ে গঠিত; আর ফরজগুলো হলো রুকনসমূহ, সুতরাং কেউ যদি রুকু বা সিজদার মতো কোনো রুকন ছেড়ে দেয় তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা ভুলবশত—কোনোভাবেই রহিত হবে না এবং পুনরায় আদায় করা ছাড়া দায়মুক্তি ঘটবে না। পক্ষান্তরে যদি সালাতের ওয়াজিবসমূহের কোনোটি ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তা সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে পূরণ করা যায় এবং তার সালাত সহীহ হবে, তবে তা অপূর্ণাঙ্গ।

এবং যেহেতু যুক্তির নিরিখেও এ দুটির মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান; কেননা প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার যুক্তিতে অনুধাবন করতে পারেন যে, জোহরের সালাত মানত করা সালাতের চেয়ে অধিক গুরুত্ববহ এবং যাকাত সদকার মানতের চেয়ে অধিক গুরুত্ববহ, যদিও উভয়টিই আবশ্যক। এর ভিত্তিতে: যা অধিক গুরুত্ববহ তাকে তার চেয়ে নিম্নস্তরের বিষয় থেকে এমন একটি নামের মাধ্যমে পৃথক করা উচিত যার দ্বারা তা পরিচিত হবে। সুতরাং যা অধিক গুরুত্ববহ তাকে ‘ফরজ’ এবং যা তার নিম্নস্তরের তাকে ‘ওয়াজিব’ নাম দেওয়া হবে যাতে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করা যায়।

* * *

চতুর্থ মাসআলা:

ওয়াজিব তার সত্তার বিচারে—অর্থাৎ: যে কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী—দুই ভাগে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
القسم الأول: الواجب المعيَّن، وهو: ما طلبه الشارع طلباً جازماً بعينه دون تخيير بينه وبين غيره كالصلوات الخمس، والصيام.

القسم الثاني: الواجب المخيَّر، وهو: ما طلبه الشارع طلباً جازماً لا بعينه، بل خير الشارع في فعله بين أفراده المعينة المحصورة، مثل: تخيير المكلف بين خصال كفارة اليمين، وتخيير الإمام في حكم الأسرى بين المن والفدى وغير ذلك.

والخطاب في الواجب المعين قد تعلق بواحد معين.

والخطاب في الواجب المخير قد تعلق بواحد مبهم من الأمور المخير بينها.

فالمكلف مخير في تحقيق الخطاب في أي فرد من الأفراد المعينة المخير بينها، وقلنا ذلك؛ لوقوعه شرعاً؛ حيث وقع التخيير بين واجبات في الشرع كما سبق في الأمثلة.

ولأن العقل لا يمنع من ذلك، فلو قال السيد لعبده أمرتك أن تشتري لحماً أو سمناً، لكان هذا قولاً معقولاً، فيكون الواجب على العبد أحد الأمرين، لا كلاهما، ولا واحد بعينه.

* * *

المسألة الخامسة:

شروط الواجب المخير:

الأول: أن تكون الأشياء المخير بينها معلومة للمخاطَب
প্রথম প্রকার: ওয়াজিব মুআইয়্যান (নির্দিষ্ট ওয়াজিব), আর এটি হলো: যা শরীয়ত প্রণেতা নির্দিষ্টভাবে সুদৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, যার এবং অন্য কোনো বিষয়ের মাঝে পছন্দ করার সুযোগ প্রদান করেননি; যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এবং সিয়াম।

দ্বিতীয় প্রকার: ওয়াজিব মুখাইয়্যার (পছন্দাধীন ওয়াজিব), আর এটি হলো: যা শরীয়ত প্রণেতা সুদৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন তবে নির্দিষ্টভাবে নয়, বরং এর নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ বিষয়গুলোর মধ্য থেকে যেকোনোটি পালনের ব্যাপারে শরীয়ত প্রণেতা পছন্দ করার সুযোগ দিয়েছেন; যেমন: শপথের কাফফারা আদায়ের ক্ষেত্রে মুকাল্লাফকে (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) বিভিন্ন বিষয়ের মাঝে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া এবং যুদ্ধবন্দীদের বিধানের ক্ষেত্রে ইমামকে অনুগ্রহ করে মুক্তি দেওয়া অথবা মুক্তিপণ গ্রহণ করা ইত্যাদির মাঝে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া।

ওয়াজিব মুআইয়্যানের ক্ষেত্রে শরীয়তের সম্বোধন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে।

আর ওয়াজিব মুখাইয়্যারের ক্ষেত্রে সম্বোধন সেই পছন্দাধীন বিষয়গুলোর মধ্য থেকে একটি অনির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে।

সুতরাং মুকাল্লাফ সেই নির্দিষ্ট পছন্দাধীন বিষয়গুলোর মধ্য থেকে যেকোনো একটির মাধ্যমে নির্দেশটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পছন্দ করার অধিকার রাখেন। আমরা এটি বলেছি কারণ শরীয়াতে এর বাস্তব প্রয়োগ রয়েছে; যেহেতু শরীয়াতে বিভিন্ন ওয়াজিবের মাঝে পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেমনটি ইতিপূর্বে উদাহরণগুলোতে অতিক্রান্ত হয়েছে।

এবং যেহেতু বিবেক বা বুদ্ধি এটি হতে বাধা প্রদান করে না; সুতরাং যদি কোনো মনিব তার দাসকে বলে: "আমি তোমাকে গোশত অথবা ঘি কেনার আদেশ দিলাম", তবে এটি একটি যুক্তিসঙ্গত কথা হবে। এমতাবস্থায় দাসের ওপর ওয়াজিব হবে দুটির মধ্যে যেকোনো একটি, উভয়টি নয় এবং নির্দিষ্টভাবে কোনো একটিও নয়।

* * *

পঞ্চম মাসআলা:

ওয়াজিব মুখাইয়্যারের শর্তাবলি:

প্রথম: যেসব বিষয়ের মাঝে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সম্বোধিত ব্যক্তির নিকট জ্ঞাত হতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومحصورة ومعينة؛ حتى يحيط المكلف بها ويوازن بينها.

الشرط الثاني: أن تتساوى تلك الأشياء المخيَّر بينها في الرتبة؛ فيخير بين واجب وواجب، ولا يجوز التخيير بين واجب ومندوب.

ْالشرط الثالث: أن لا يخيَّر بين شيئين متساويين تمام التساوي بحيث لا يتميز أحدهما عن الآخر، كما لو خير بين أن يصلي أربع ركعات وبين أن يصلي أربع ركعات، بل لا بد أن تكون الأشياء المخير بينها، تتميز بعضها عن بعض.

الشرط الرابع: أن يتعلق التخيير بما يستطيع فعله، فلا يصح التخيير بين شيء يستطيعه، وآخر لا يستطيعه.

* * *

المسألة السادسة:

الواجب باعتبار وقته الذي يقع فيه ينقسم إلى قسمين:

القسم الأول: الواجب غير المؤقت وهو الواجب المطلق، وهو الفعل الذي طلب الشارع إيقاعه من المكلف طلباً جازماً ولم يحدد وقتاً لأدائه وإيقاعه فيه مثل: كفارة اليمين، والوفاء بالنذر، والحج عند بعض العلماء، وقضاء العبادات التي فاتت من غير تقصير عند بعض العلماء، فإن جميع ذلك تجب في جميع العمر، وليست نهايته معلومة للمكلف.

تنبيه: يتضيق الوقت في الواجب المطلق إذا غلب على ظن
এবং সীমাবদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট হতে হবে; যাতে মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) সেগুলোকে আয়ত্ত করতে পারে এবং তাদের মধ্যে তুলনা করতে পারে।

দ্বিতীয় শর্ত: যেসব বিষয়ের মধ্যে নির্বাচনের সুযোগ (ইখতিয়ার) দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে মর্যাদায় সমান হতে হবে; সুতরাং ওয়াজিব এবং ওয়াজিবের মধ্যে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হবে, তবে ওয়াজিব এবং মানদুব (মুস্তাহাব)-এর মধ্যে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া জায়েজ নয়।

তৃতীয় শর্ত: এমন দুটি বিষয়ের মধ্যে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া যাবে না যা সম্পূর্ণরূপে সমান, যার ফলে একটি থেকে অন্যটিকে পৃথক করা যায় না। যেমন যদি তাকে চার রাকাত নামাজ পড়া এবং চার রাকাত নামাজ পড়ার মধ্যে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হয়; বরং যেসব বিষয়ের মধ্যে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হবে, সেগুলোর একটি অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র হওয়া আবশ্যক।

চতুর্থ শর্ত: নির্বাচনের বিষয়টি এমন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া যা সম্পাদন করতে সে সক্ষম। অতএব, সে যা করতে সক্ষম এবং যা করতে সক্ষম নয়—এমন দুটির মধ্যে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া সঠিক নয়।

* * *

ষষ্ঠ মাসআলা:

ওয়াজিব তার সময়ের বিবেচনায় যা তাতে সংঘটিত হয়, দুই ভাগে বিভক্ত হয়:

প্রথম প্রকার: ওয়াজিব গাইরে মুয়াক্কাত (সময় নির্দিষ্ট নয় এমন ওয়াজিব), আর তা হলো ওয়াজিব মুতলাক। এটি এমন কাজ যা শারী (বিধানদাতা) মুকাল্লাফের নিকট থেকে আবশ্যিকভাবে সম্পাদনের দাবি করেছেন কিন্তু তা আদায় ও সম্পাদনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেননি। যেমন: কসমের কাফফারা, মানত পূর্ণ করা এবং কোনো কোনো আলেমের মতে হজ। আবার কোনো কোনো আলেমের মতে অবহেলা ছাড়া ছুটে যাওয়া ইবাদতসমূহের কাজা আদায় করা। কেননা এই সব বিষয় সারা জীবনে ওয়াজিব থাকে এবং এর শেষ সময় মুকাল্লাফের নিকট জানা নেই।

সতর্কতা: ওয়াজিব মুতলাকের সময় সংকীর্ণ হয়ে যায় যখন প্রবল ধারণা হয় যে...
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
المكلف عدم البقاء إلى آخر الوقت، فيجب - حينئذ - أن يفعل

ذلك الواجب قبل ذلك الوقت الذي غلب على ظنه عدم البقاء

إليه، وقلنا ذلك لأنه لا يمكن أن يؤخَّر الفعل مطلقاً، لأنه يلزم

منه: أن لا يكون واجباً، فلا بد من تأخير الفعل إلى زمن معين

لا يجوز التأخير عنه، ولا يمكن ذلك إلا إذا عين هذا الزمن

بعلامة أو أمارة، ولا يوجد معيِّن لذلك سوى أن يغلب على ظنه

عدم البقاء إلى آخر الوقت، وعلى ذلك فإن المكلف يعصي في

هذا بمجرد التأخير عن وقت يظن عدم بقاءه بعده.

تنبيه ثان: إذا لم يغلب على ظنه الموت في وقت محدَّد، ثم أخر فعله بدون عذر فمات فإنه يعصِ، لأن المكلف كان يمكنه المبادرة وفِعل الواجب أثناء حياته فلم يفعل، فالتمكن موجود، والوجوب محقَّق مع التمكن فيعصي.

القسم الثاني: الواجب المؤقت، وهو: الفعل الذي طلب الشارع إيقاعه من المكلف طلباً جازماً، وحدَّد له وقتاً معيناً لأدائه وإيقاعه به، وهو شيئان:

الشيء الأول: الواجب المضيَّق، وهو: الفعل الذي طلب الشارع إيقاعه من المكلف طلباً جازماً وحدَّد وقت أدائه بحيث يسعه ولا يسع غيره من جنسه، مثل: صيام يوم من رمضان، ومعروف أن اليوم يبدأ من طلوع الفجر الصادق إلى غروب الشمس، وهذا الوقت الذي بينهما له لوحده، ولا يتسع لفعل شيء آخر معه، ويمثل له الشافعية بوقت صلاة المغرب على القول الجديد.
বিধানবদ্ধ ব্যক্তি (মুকাল্লাফ) শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত বেঁচে না থাকার সম্ভাবনা; এমতাবস্থায় তার জন্য তখন আবশ্যক হলো সেই কাজ করা

যা ওয়াজিব এমন সময়ের আগেই যার প্রতি তার প্রবল ধারণা জন্মেছে যে সে ততক্ষণ পর্যন্ত বেঁচে থাকবে

না। আমরা এটি বলেছি কারণ কাজকে নিঃশর্তভাবে বিলম্বিত করা সম্ভব নয়, কেননা এর ফলে

অনিবার্যভাবে এ বিষয়টি সাব্যস্ত হয় যে, সেটি আর ওয়াজিব থাকবে না। সুতরাং কাজটিকে এমন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত

বিলম্বিত করা আবশ্যক যার পর আর দেরি করা জায়েজ নয়। আর কোনো চিহ্ন বা নিদর্শনের মাধ্যমে এই সময়টি নির্দিষ্ট করা

ব্যতীত এটি সম্ভব নয়। আর সেই সময়টি নির্দিষ্ট করার জন্য এটি ছাড়া অন্য কোনো মানদণ্ড নেই যে, তার মনে প্রবল ধারণা জন্মাবে

যে সে শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকবে না। এর ভিত্তিতে, বিধানবদ্ধ ব্যক্তি তখন গুনাহগার হবে যখন সে

বিলম্ব করবে এমন সময় থেকে যার পর সে আর বেঁচে থাকবে না বলে ধারণা করে।

দ্বিতীয় সতর্কবার্তা: যদি সে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে মৃত্যুর ব্যাপারে প্রবল ধারণা পোষণ না করে, অতঃপর কোনো ওজর ছাড়াই কাজটিকে বিলম্বিত করে এবং মারা যায়, তবে সে গুনাহগার হবে। কারণ বিধানবদ্ধ ব্যক্তির পক্ষে তার জীবদ্দশায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং ওয়াজিবটি সম্পাদন করা সম্ভব ছিল কিন্তু সে তা করেনি। সুতরাং সামর্থ্য বিদ্যমান ছিল এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত ছিল, তাই সে গুনাহগার হবে।

দ্বিতীয় প্রকার: সময়াবদ্ধ ওয়াজিব (আল-ওয়াজিবুল মুয়াক্কাত)। এটি হলো সেই কাজ যা শরিয়ত প্রণেতা বিধানবদ্ধ ব্যক্তির নিকট থেকে সুদৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন এবং সেটি সম্পাদন ও আদায়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এটি দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: সংকীর্ণ ওয়াজিব (আল-ওয়াজিবুল মুদাইয়্যাক)। এটি হলো সেই কাজ যা শরিয়ত প্রণেতা বিধানবদ্ধ ব্যক্তির নিকট থেকে সুদৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন এবং এর আদায়ের সময়টি এমনভাবে নির্ধারণ করেছেন যা কেবল সেই কাজের জন্যই সংকুলান হয় এবং এর সমজাতীয় অন্য কোনো কাজের অবকাশ রাখে না। যেমন: রমজানের একদিনের রোজা। এটি জানা কথা যে, দিনটি শুরু হয় সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, এবং এই মধ্যবর্তী সময়টি কেবল সেই রোজার জন্যই নির্দিষ্ট, এর সাথে অন্য কোনো আমল করার অবকাশ নেই। শাফিঈ মাযহাবের আলেমগণ তাদের নতুন মত অনুযায়ী মাগরিবের নামাজের ওয়াক্তকে এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الشيء الثاني: الواجب الموسع وهو: الفعل الذي طلب الشارع من المكلف إيقاعه طلباً جازماً وحدَّد وقت أدائه بحيث يسعه ويسع غيره من جنسه، مثل: صلاة الظهر؛ حيث إن الشارع قد ألزم المكلف بفعلها في وقت محدد يزيد عن وقت أدائها بحيث يمكن فعلها فيه عدة مرات، فيجوز - على هذا - للمكلف أن يصلي الظهر في أول الوقت، أو في وسطه، أو في آخره.

* * *

المسألة السابعة:

الواجب الموسع ثابت عندنا؛ لعموم قوله تعالى: (أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ)، حيث إن هذا الأمر عام يتناول جميع أجزاء الوقت المذكور من غير إشعار بالتخصيص ببعض أجزائه.

ولأن جبريل عليه السلام قد صلَّى بالنبي صلى الله عليه وسلم في أول الوقت وآخره، وقال له - بعد ذلك -: " يا محمد هذا وقت الأنبياء من قبلك، والوقت فيما بين هذين ". وهذا يفيد تخيير المكلف في أداء الصلاة في أي جزء من أجزاء الوقت المحدد لها، أي: أن الإيجاب يتناول جميع أجزاء الوقت، وليس تعيين بعض أجزاء الوقت للوجوب أولى من تعيين البعض الآخر.

وللقياس على الواجب المخير، فكما أنه جاز التخيير بين أفراد الواجب في الواجب المخير - كخصال كفارة اليمين -
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: ওয়াজিব মুওয়াসসা (প্রশস্ত ওয়াজিব), আর তা হলো: এমন কাজ যা শরিয়ত প্রণেতা মুকাল্লাফের (বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) নিকট থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সম্পাদনের দাবি করেছেন এবং এর আদায়ের সময়সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করেছেন যা উক্ত কাজ এবং তার সমজাতীয় অন্যান্য কাজকেও সংকুলান করে। যেমন: জোহরের সালাত; কেননা শরিয়ত প্রণেতা মুকাল্লাফকে তা একটি নির্দিষ্ট সময়ে আদায়ের ব্যাপারে দায়বদ্ধ করেছেন যা উক্ত সালাত আদায়ের সময়ের চেয়ে অধিক প্রশস্ত, ফলে তাতে কয়েকবার উক্ত সালাত আদায় করা সম্ভব। সুতরাং এর ভিত্তিতে মুকাল্লাফের জন্য জোহরের সালাত ওয়াক্তের শুরুতে, মধ্যভাগে অথবা শেষভাগে আদায় করা বৈধ।

* * *

সপ্তম মাসয়ালা:

আমাদের নিকট ওয়াজিব মুওয়াসসা সুসাব্যস্ত; মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতার কারণে: "সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করো", কেননা এই নির্দেশটি সাধারণ যা উল্লিখিত সময়ের সকল অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, এর কোনো অংশকে সুনির্দিষ্ট করার কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই।

তদুপরি জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নিয়ে ওয়াক্তের শুরুতে এবং শেষে সালাত আদায় করেছেন এবং এরপর তাকে বলেছেন: "হে মুহাম্মদ! এটি আপনার পূর্ববর্তী নবীদের নির্ধারিত সময়, আর সময় হলো এই দুই সীমার মধ্যবর্তী অংশ।" এটি নির্ধারিত সময়ের যেকোনো অংশে সালাত আদায়ের ব্যাপারে মুকাল্লাফকে পছন্দ করার সুযোগ প্রদানের ফায়দা দেয়। অর্থাৎ: ওয়াজিব হওয়া সময়ের সকল অংশকেই শামিল করে, এবং ওয়াজিব হওয়ার জন্য সময়ের কোনো নির্দিষ্ট অংশকে সুনির্দিষ্ট করা অন্য অংশকে সুনির্দিষ্ট করার চেয়ে অধিক উত্তম নয়।

আর ওয়াজিব মুখাইয়ারের (পছন্দমূলক ওয়াজিব) ওপর কিয়াস করার কারণে; কারণ যেমনটি ওয়াজিব মুখাইয়ারের ক্ষেত্রে ওয়াজিবের বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ রয়েছে—যেমন শপথ ভঙ্গের কাফফারার বিষয়সমূহ—
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فكذلك يجوز التخيير بين أجزاء الوقت في الواجب الموسع كالصلاة ولا فرق، بجامع: حصول المصلحة، وسقوط الفرض.

* * *

المسألة الثامنة:

لا يجوز ترك الفعل في أول الوقت في الواجب الموسع - إلا بشرط العزم على فعله في وسط أو آخر الوقت، فإذا جاء آخر الوقت وهو لم يفعل الواجب فحينئذٍ تعيَّن فعله، لأن القائل، بجواز تأخير الفعل بدون بدل، وهو العزم يقال له: " لما لم يفعل المكلف الواجب في أول الوقت ما هي نيته؟ " فإما أن يقول: لا نية له، أو يقول: له نية.

فإن قال: لا نية له فهذا لا يصح؛ لأنه لا بد لكل عبادة من نية.

وإن قال: له نية، فنقول له: إما أن تكون نيته ترك فعله أو أن تكون نيته فعله فيما بعد.

فإن كان الأول - وهو كون نيته ترك فعله - فلا يصح، لأنه عزم على الترك، وهو معصية، وترك المعصية واجب.

فلم يبق إلا الثاني - وهو كون نيته عمله فيما بعد - وهو الصحيح، فيكون قد عزم على فعله، وهو المطلوب.

وللقياس على الواجب المخيَّر، فكما أنه لا يجوز للمكلَّف
অনুরূপভাবে, ওয়াজিব মুওয়াসসা (প্রশস্ত ওয়াজিব), যেমন সালাত, এর ক্ষেত্রে সময়ের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ঐচ্ছিকতা বা নির্বাচনের সুযোগ রাখা বৈধ এবং এতে কোনো পার্থক্য নেই। এর সমষ্টিগত কারণ হলো: মাসলাহাত বা কল্যাণ অর্জিত হওয়া এবং ফরজ দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া।

* * *

অষ্টম মাসআলা:

ওয়াজিব মুওয়াসসার ক্ষেত্রে সময়ের শুরুতে আমল বর্জন করা জায়েজ নয়—কেবলমাত্র সময়ের মধ্যভাগে অথবা শেষ ভাগে তা সম্পাদন করার দৃঢ় সংকল্প করার শর্তে। অতঃপর যখন সময়ের শেষ প্রান্ত উপস্থিত হয় অথচ সে ওয়াজিবটি সম্পাদন করেনি, তখন তা সম্পাদন করা অবধারিত বা নির্ধারিত হয়ে যায়। কারণ, যারা কোনো বিকল্প—অর্থাৎ সংকল্প—ব্যতিরেকে আমল বিলম্বিত করা জায়েজ হওয়ার প্রবক্তা, তাদের বলা হবে: "মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) যখন সময়ের শুরুতে ওয়াজিবটি সম্পাদন করল না, তখন তার নিয়ত কী ছিল?" এমতাবস্থায় সে হয় বলবে: তার কোনো নিয়ত ছিল না, অথবা বলবে: তার নিয়ত ছিল।

যদি সে বলে: তার কোনো নিয়ত ছিল না, তবে তা সঠিক হবে না; কারণ প্রতিটি ইবাদতের জন্যই নিয়ত থাকা অপরিহার্য।

আর যদি সে বলে: তার নিয়ত ছিল, তবে আমরা তাকে বলব: হয় তার নিয়ত ছিল আমলটি বর্জন করা, না হয় তার নিয়ত ছিল পরবর্তীতে তা সম্পাদন করা।

যদি প্রথমটি হয়—অর্থাৎ আমলটি বর্জন করার নিয়ত করা—তবে তা সঠিক নয়। কারণ এটি আমল বর্জন করার সংকল্প, যা একটি পাপাচার; আর পাপাচার বর্জন করা ওয়াজিব।

কাজেই দ্বিতীয়টি ছাড়া আর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট থাকে না—আর তা হলো পরবর্তীতে আমলটি করার নিয়ত করা—এবং এটিই সঠিক। ফলে সে আমলটি করার সংকল্প করল, আর এটিই কাম্য।

এবং ওয়াজিব মুখাইয়ার (ঐচ্ছিক ওয়াজিব)-এর ওপর কিয়াস বা তুলনা করার কারণে; কারণ মুকাল্লাফের জন্য যেমন জায়েজ নয়...
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ترك أي خصلة من خصال الواجب المخير إلا بشرط النية على فعل غيرها، فكذلك لا يجوز ترك الفعل في الجزء الأول من الوقت - من الواجب الموسع - إلا بشرط النية - وهي العزم - على فعله في الجزء الأوسط، أو الأخير من الوقت.

* * *

المسألة التاسعة:

يتضيَّق الوقت في الواجب الموسع بطريقين:

الطريق الأول: بالانتهاء إلى آخر الوقت بحيث لا ينفصل زمانه عنه.

الطريق الثاني: بغلبة الظن بعدم البقاء إلى آخر الوقت، فإنه مهما غلب ذلك على ظنه فإنه يجب عليه الفعل، كما لو كانت المرأة تعرف أن الحيض يأتيها في ساعة معينة من الوقت، فيتضيق الوقت عليها، فيجب عليها الفعل قبل ذلك الوقت.

وبناء على ذلك: فإن المكلف يعصي إذا أخره عن ذلك الوقت الذي غلب على ظنه أنه لا يبقى إليه.

* * *

المسألة العاشرة:

إذا أخَّر المكلَّف الفعل في الواجب الموسع عن أول الوقت مع غلبة ظن السلامة إلى آخر الوقت، فمات فجأة أثناء الوقت الموسع، فإنه لم يمت عاصياً؛ لأن الواجب الموسع يجوز تركه
'ওয়াজিব-ই-মুখাইয়্যার'-এর (পছন্দাধীন আবশ্যিক বিষয়) কোনো একটি দিক যেমন অন্যটি করার নিয়ত ছাড়া বর্জন করা বৈধ নয়, তেমনি 'ওয়াজিব-ই-মুওয়াসসা'-এর (প্রশস্ত সময়কাল বিশিষ্ট আবশ্যিক বিষয়) ক্ষেত্রেও সময়ের প্রথম অংশে কাজটি বর্জন করা বৈধ নয়—তবে শর্ত হলো সময়ের মধ্যবর্তী বা শেষ অংশে তা পালন করার নিয়ত—যা মূলত দৃঢ় সংকল্প—থাকতে হবে।

* * *

নবম মাসআলা:

ওয়াজিব-ই-মুওয়াসসা-এর সময় দুটি উপায়ে সংকীর্ণ হয়ে যায়:

প্রথম উপায়: সময়ের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া, যাতে করে কাজটি সম্পাদনের সময় আর অবশিষ্ট সময় পৃথক না থাকে (অর্থাৎ কাজের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই অবশিষ্ট থাকা)।

দ্বিতীয় উপায়: সময়ের শেষ পর্যন্ত বেঁচে না থাকার প্রবল ধারণা তৈরি হওয়া। কেননা যখনই কারো মনে এই ধারণা প্রবল হবে, তখনই আমলটি সম্পাদন করা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। যেমন কোনো নারী যদি জানেন যে সময়ের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে তার ঋতুস্রাব শুরু হবে, তবে তার জন্য সময় সংকীর্ণ হয়ে যাবে এবং উক্ত সময়ের আগেই আমলটি সম্পন্ন করা তার ওপর ওয়াজিব হবে।

এর ওপর ভিত্তি করে: কোনো মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) যদি আমলটিকে এমন সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করে যে সময় পর্যন্ত সে বেঁচে থাকবে না বলে তার প্রবল ধারণা ছিল, তবে সে পাপিষ্ঠ হবে।

* * *

দশম মাসআলা:

যদি কোনো মুকাল্লাফ ওয়াজিব-ই-মুওয়াসসা-এর আমলটি সময়ের শেষ পর্যন্ত নিরাপদ থাকার প্রবল ধারণা নিয়ে প্রথম অংশ থেকে বিলম্বিত করে এবং এরপর সেই প্রশস্ত সময়ের মধ্যেই হঠাৎ মৃত্যুবরণ করে, তবে সে পাপিষ্ঠ হয়ে মারা যায়নি; কারণ ওয়াজিব-ই-মুওয়াসসা শুরুতে বর্জন করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
في أول الوقت ليعمله في آخر وقته المحدد، وقد جاز الترك مع عدم علمه بالعاقبة، فقد فعل ما له فعله فكيف يعصي؟

* * *

المسألة الحادية عشرة:

إذا فعل المكلف الفعل في الوقت الذي غلب على ظنه أنه

لا يعيش إليه، فالفعل يكون أداء لا قضاء، لأن الفعل قد وقع في وقته المحدد له شرعاً، وهذه حقيقة الأداء.

ولأنه بانَ خطأ ظنه، ولا عبرة بالظن الذي بانَ خطؤه.

* * *

المسألة الثانية عشرة:

الواجب بالنظر إلى تقديره وتحديده بحد معين ينقسم إلى قسمين:

القسم الأول: الواجب المحدَّد، وهو: الفعل الذي طلبه الشارع طلباً جازماً وقدره بمقدار معين وفضله وميَّزه عن غيره، مثل الصلوات الخمس، فقد حددت كل صلاة بركعات محددة، ومثل زكاة الأموال، وصيام رمضان، والنذر لمن حدده، وغسل اليدين والرجلين ونحو ذلك.

فالمكلف - في هذا القسم - لا يفعل شيئاً زائداً على الفعل المحدد والمعين، وإذا توقف وجوده على شيء يكون ما توقف عليه واجباً؛ لأنه لا تبرأ الذمة إلا بأدائه بمقداره الذي قدَّره
নির্ধারিত সময়ের শেষাংশে কাজটি সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে সময়ের শুরুতে তা ছেড়ে দেওয়ার অবকাশ তার ছিল। পরিণাম সম্পর্কে অবহিত না থাকা সত্ত্বেও তার জন্য তা পরিত্যাগ করা বৈধ ছিল। সে তো তা-ই করেছে যা করার অনুমতি তার ছিল, তবে সে কীভাবে অবাধ্য হতে পারে?

* * *

একাদশ মাসআলা:

মুকাল্লাফ যদি এমন সময়ে কোনো আমল সম্পাদন করে, যে সময় পর্যন্ত সে বেঁচে থাকবে না বলে তার প্রবল ধারণা হয়েছিল, তবে সেই আমলটি 'আদা' (নির্ধারিত সময়ে পালন) হিসেবে গণ্য হবে, 'কাজা' হিসেবে নয়। কারণ আমলটি শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের ভেতরেই সংঘটিত হয়েছে, আর এটিই হলো আদা-এর প্রকৃত রূপ।

তাছাড়া তার ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে; আর যে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়, তার কোনো গুরুত্ব নেই।

* * *

দ্বাদশ মাসআলা:

পরিমাণ নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট সীমারেখা দ্বারা সীমাবদ্ধ করার বিচারে ওয়াজিব দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: নির্ধারিত ওয়াজিব। এটি এমন কাজ যা বিধানদাতা অকাট্যভাবে তলব করেছেন এবং একটি নির্দিষ্ট মাপে এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন এবং একে অন্যটি থেকে আলাদা ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। যেমন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, যেখানে প্রতিটি নামাজকে নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত দ্বারা নির্ধারণ করা হয়েছে। তদ্রূপ সম্পদের জাকাত, রমজানের রোজা, নির্দিষ্ট মানত এবং হাত ও পা ধৌত করা ইত্যাদি।

সুতরাং মুকাল্লাফ এই প্রকারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট কাজের অতিরিক্ত কিছু করবে না। আর যদি সেই ওয়াজিবের অস্তিত্ব অন্য কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, তবে সেই বিষয়টিও ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হবে; কেননা শরিয়ত নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী তা আদায় না করা পর্যন্ত দায়মুক্তি ঘটে না।
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الشارع، وهو من باب ما لا يتم الواجب إلا به، فيكون واجباً.

القسم الثاني: الواجب غير المحدَّد، وهو: الذي لم يُحدده الشارع، ولم يقدره بقدر معين، مثل: الطمأنينة في الركوع والطمأنينة في السجود، ومدة القيام، ومدة القعود، وذلك في الصلاة، حيث وجبت الطمأنينة في الركوع والسجود - مثلاً - ولكن لم يقدر الشارع مدة هذه الطمأنينة.

فالمكلف - هنا - يستطيع أن يزيد على أقل الواجب بحيث تكون هذه الزيادة لا تنفصل عن حقيقة الواجب، مثل: الزيادة، في الطمأنينة في الركوع والسجود، والزيادة في مدة القيام وفي مدة القعود.

وهذه الزيادة مندوبة، لأن الواجب لا يجوز تركه إلا بشرط البدل، وهو: العزم على الفعل في آخر الفعل في الواجب الموسع، أو فعل غيره من الخصال المخير بينها في الواجب المخيَّر، وهذه الزيادة في الطمأنينة - مثلاً - على أقل الواجب يجوز تركها بلا شرط ولا بدل، وهذا هو حدُّ الندب، فتكون الزيادة مندوبة.

* * *

المسألة الثالثة عشرة: ْ

الواجب باعتبار فاعله والمخاطبين به ينقسم إلى قسمين:

القسم الأول: الواجب العيني، وهو: ما يتحتَم أداؤه على
বিধানদাতা, আর এটি সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা ব্যতীত ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, সুতরাং তা ওয়াজিব হবে।

দ্বিতীয় প্রকার: অনির্ধারিত ওয়াজিব। এটি হলো তা যা বিধানদাতা নির্দিষ্ট করে দেননি এবং কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণে সীমাবদ্ধ করেননি। যেমন: রুকুতে স্থিরতা এবং সিজদাহতে স্থিরতা, কিয়ামের সময়সীমা এবং বসার সময়সীমা। এটি নামাজের ক্ষেত্রে, যেখানে রুকু ও সিজদাহতে স্থির থাকা ওয়াজিব—উদাহরণস্বরূপ—কিন্তু বিধানদাতা এই স্থিরতার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করে দেননি।

সুতরাং এখানে মুকাল্লাফ (শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) ওয়াজিবের ন্যূনতম পরিমাণের ওপর বৃদ্ধি করতে পারেন, যেন এই অতিরিক্ত অংশটি ওয়াজিবের মূল হাকিকত বা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। যেমন: রুকু ও সিজদাহর স্থিরতায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা এবং কিয়াম ও বসার সময়সীমা বৃদ্ধি করা।

আর এই অতিরিক্ত অংশটি মানদুব (পছন্দনীয়), কারণ ওয়াজিব পরিত্যাগ করা বৈধ নয় যদি না তার বিনিময়ে কোনো বিকল্পের শর্ত থাকে। আর তা হলো: ওয়াজিব মুওয়াসসা-এর (সময়-প্রশস্ত ওয়াজিব) ক্ষেত্রে শেষ সময়ে কাজটি করার দৃঢ় সংকল্প করা, অথবা ওয়াজিব মুখাইয়ার-এর (পছন্দমূলক ওয়াজিব) ক্ষেত্রে অন্যান্য বিকল্পগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি সম্পাদন করা। পক্ষান্তরে, ওয়াজিবের ন্যূনতম পরিমাণের অতিরিক্ত এই স্থিরতা—উদাহরণস্বরূপ—কোনো শর্ত বা বিনিময় ছাড়াই পরিত্যাগ করা বৈধ। আর এটিই হলো নাদব-এর সংজ্ঞা, তাই এই অতিরিক্ত অংশটি মানদুব হিসেবে গণ্য হবে।

* * *

ত্রয়োদশ মাসআলা: ْ

সম্পাদনকারী এবং সম্বোধিত ব্যক্তিবর্গের বিবেচনায় ওয়াজিব দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: ওয়াজিব আইনি (ব্যক্তিগত আবশ্যকতা), যা হলো: যা আদায় করা অপরিহার্য...
(খণ্ড: ১) আল-জামি লি মাসাইলি উসুলিল ফিকহি ওয়া তাতবিকিহা আলাল মাজহাবির রাজিহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
مكلف بعينه، أو هو: ما طلب حصوله من عين كل واحد من المكلفين كالصلاة والصيام.

وسُمِّي بذلك؛ لأن الفعل الذي تعلق به الإيجاب منسوب

إلى العين والذات، باعتبار أن ذات الفاعل مقصودة، فيلزم الإتيان به من كل واحد بعينه، بحيث لا تبرأ ذمته إلا بفعله.

القسم الثاني: الواجب الكفائي، وهو: ما يتحتَّم أداؤه على جماعة من المكلَّفين، لا من كل فرد منهم، بحيث إذا قام به بعض المكلفين فقد أدِّي الواجب، وسقط الإثم والحرج عن الباقين، مثل: الجهاد في سبيل الله إن لم يكن النفير عاماً، والصلاة على الميت، وتغسيله، وتكفينه، ورد السلام، وإنقاذ الغرقى، وسُمِّي بذلك؛ لأنه منسوب إلى الكفاية والسقوط من حيث إن فعله من أي فاعل أسقط طلبه عن الآخرين، وإذا لم يؤدِّه أحد فإن الإثم يلحق جميع المكلفين.

والقصد من الفعل الكفائي هو: وقوع الفعل نفسه لما يترتب عليه من جلب مصلحة، أو دفع مفسدة بقطع النظر عمَّن يقع منه.

* * *

المسألة الرابعة عشرة:

فرض العين أفضل من فرض الكفاية.

لأن فرض العين مفروض حقاً للنفس، فهو أهم عندها من فرض الكفاية وأكثر مشقة، بخلاف فرض الكفاية فإنه مفروض حقاً للكافة، ولأمر إذ عمَّ خفَّ، وإذ خُصَّ ثقل، قال بعض العلماء: إن من عليه فرض عين فاشتغل بفرض كفاية وزعم أن مقصوده الحق فهو كذاب، ومثاله: من ترك الصلاة، واشتغل في
নির্দিষ্টভাবে প্রত্যেক মুকাল্লাফের ওপর অর্পিত, অথবা এটি হলো: যা প্রত্যেক মুকাল্লাফ ব্যক্তির নিকট থেকে আদায় করার দাবি করা হয়েছে, যেমন সালাত ও সিয়াম।

একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ যে কাজের সাথে ওয়াজিব বা বাধ্যবাধকতা যুক্ত হয়েছে তা সত্তা ও ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধযুক্ত

এই বিবেচনায় যে এখানে কর্তার সত্তাই উদ্দেশ্য। ফলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্টভাবে তা সম্পাদন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, এমনভাবে যে তার নিজের কর্ম সম্পাদন ব্যতীত সে দায়মুক্ত হয় না।

দ্বিতীয় প্রকার: ওয়াজিব কিফায়ি (সামষ্টিক আবশ্যকতা), আর তা হলো: যা মুকাল্লাফদের একটি দলের ওপর আদায় করা আবশ্যক করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের ওপর নয়। এমনভাবে যে, যদি মুকাল্লাফদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তা সম্পাদন করে, তবে ওয়াজিব আদায় হয়ে যায় এবং অবশিষ্টদের থেকে গুনাহ ও দায়মুক্তি ঘটে। যেমন: আল্লাহর পথে জিহাদ করা যদি সাধারণ ঘোষণা না থাকে, মৃত ব্যক্তির জানাজার সালাত, তাকে গোসল দেওয়া, কাফন পরানো, সালামের উত্তর দেওয়া এবং ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা। একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এটি পর্যাপ্ততা ও দায়মুক্তির সাথে সম্পর্কিত এই দিক থেকে যে, যেকোনো কর্তার মাধ্যমে তা সম্পাদিত হলে অন্যদের ওপর থেকে সেই দাবি রহিত হয়ে যায়। আর যদি কেউ তা আদায় না করে, তবে সমস্ত মুকাল্লাফ গুনাহগার হবে।

কিফায়ি কর্মের উদ্দেশ্য হলো: স্বয়ং সেই কাজটি সংঘটিত হওয়া, কারণ এর ওপর কোনো কল্যাণ অর্জন অথবা অকল্যাণ প্রতিহত করা নির্ভরশীল, তা কার মাধ্যমে সম্পাদিত হলো তা এখানে বিবেচ্য নয়।

* * *

চতুর্দশ মাসআলা:

ফরজে আইন ফরজে কিফায়ার চেয়ে উত্তম।

কারণ ফরজে আইন মূলত ব্যক্তির নিজের ওপর আবশ্যক করা হয়েছে, তাই তার নিকট এটি ফরজে কিফায়ার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিক পরিশ্রমসাধ্য। পক্ষান্তরে ফরজে কিফায়া সকলের ওপর সামষ্টিকভাবে অর্পিত। আর কোনো বিষয় যখন ব্যাপক হয় তখন তা সহজ হয়, আর যখন নির্দিষ্ট করা হয় তখন তা কঠিন হয়। কোনো কোনো আলিম বলেছেন: যার ওপর ফরজে আইন অবধারিত, সে যদি ফরজে কিফায়াতে আত্মনিয়োগ করে এবং দাবি করে যে তার উদ্দেশ্য সত্যের আনুকূল্য, তবে সে মিথ্যাবাদী। এর উদাহরণ হলো: যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করল এবং ব্যস্ত থাকল...