(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
لا جديد في أحكام الصلاة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: لا جديد في أحكام الصلاة
المؤلف: بكر بن عبد الله أبو زيد بن محمد بن عبد الله بن بكر بن عثمان بن يحيى بن غيهب بن محمد (ت 1429هـ)
الناشر: دار العاصمة - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثالثة، 1418 هـ - 1998 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 76
تاريخ النشر بالشاملة: 6 ربيع الأول 1432
সালাতের হুকুম-আহকামে নতুন কিছু নেই বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সালাতের হুকুম-আহকামে নতুন কিছু নেই
লেখক: বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যাইদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বকর বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া বিন গায়হাব বিন মুহাম্মদ (ওফাত ১৪২৯ হি.)
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪১৮ হি. - ১৯৯৮ খ্রি.
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[لا جديد في أحكام الصلاة بزيَادَةِ عَدَمِ مَشْرُوعِيَّةِ ضَمِّ العَقِبَيْنِ في السُّجُود]ـ
المؤلف: بكر بن عبد الله أبو زيد بن محمد بن عبد الله بن بكر بن عثمان بن يحيى بن غيهب بن محمد (المتوفى: 1429هـ)
الناشر: دار العاصمة - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثالثة، 1418 هـ - 1998 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
ـ[সালাতের বিধানাবলীতে নতুন কিছু নেই: সিজদাহ করার সময় উভয় গোড়ালিকে একত্রিত না করার শরয়ি বৈধতা না থাকা (عدম مشروعية) সংক্রান্ত সংযোজনসহ]ـ
লেখক: বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবু যাইদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বকর ইবনে উসমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে গাইহাব ইবনে মুহাম্মদ (ওফাত: ১৪২৯ হি.)
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - সৌদি আরব
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৮ হি. - ১৯৯৮ খ্রি.
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدّمَةُ الطّبَعةِ الثَالِثَةالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى صحبه ومن اهتدى بهداه.
… أما بعد: فهذه هي الطبعة الثالثة لكتاب: «لا جديد في أحكام الصلاة» مع إضافات، وتصحيحات في مسائله السبع، وزيادة مسألة ثامنة وهي: «عدم مشروعية ضَمِّ العَقبين حال السجود». رأيت إعادة طبعها؛ لذلك، وَلِنفَادِ الطَّبْعَتين السابقتين، وحتى يتنّبه المعتنون بنصر السنة ومتابعة الدليل، أن لا يكون لهم «شَارَاتٌ وعَلَامَاتٌ تَعَبُّدِيَّة» يَبْدُو التَّمَيُّزُ بِهَا، وَلَا دَلِيْلَ عَلَيْها. والحمد لله، إذْ ظهر أثر هذه الرسالة، فَتَخَلَّصَ مناشدو الحق من هذه الشارات، التي لا دليل عليها، واختفت فتنة التشنيع على من لم يفعلها من مساجدنا، وانتشر في الناس
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত হেদায়েত অনুযায়ী পরিচালিত হন তাঁদের ওপর।
… অতঃপর: এটি হলো «সালাতের বিধি-বিধানে নতুন কিছু নেই» নামক গ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণ; এতে এর পূর্বোক্ত সাতটি মাসআলায় কিছু সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে এবং অষ্টম একটি মাসআলা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা হলো: «সিজদারত অবস্থায় দুই গোড়ালি মিলিয়ে রাখা শরীয়তসম্মত না হওয়া»। আমি এটি পুনর্মুদ্রণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি মূলত মাসআলাগুলোর পরিমার্জন এবং পূর্ববর্তী দুটি সংস্করণ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে। এছাড়া সুন্নাহর বিজয় ও দলীল (دليل) অনুসরণে যারা যত্নশীল, তারা যেন এ বিষয়ে সচেতন হন যে, তাদের জন্য এমন কোনো «ইবাদতগত চিহ্ন বা নিদর্শন» থাকা সমীচীন নয় যার মাধ্যমে কোনো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় অথচ সেগুলোর স্বপক্ষে কোনো দলীল (دليل) নেই। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি যে, এই পুস্তিকাটির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে; ফলে সত্য অন্বেষণকারীরা দলীলবিহীন (دليل) এই সকল চিহ্ন থেকে মুক্তি পেয়েছেন এবং আমাদের মসজিদগুলো থেকে সেই সকল নিন্দা ও ভর্ৎসনামূলক ফিতনা দূরীভূত হয়েছে যা ওই ব্যক্তির প্রতি করা হতো যে এগুলো আমল করত না, আর মানুষের মাঝে সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
التثبت عند الاتباع من صحة الدليل، والأخذ بغرز العلماء المتثبتين الموثوقين، والتوقِّي من شارات التفريق بين المؤمنين، والحمد لله رب العالمين.
المؤلف
بكر بن عبد الله أبو زيد
في مصيف عام 1418 بالطائف
অনুসরণের (الاتباع) ক্ষেত্রে দলিলের বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই-বাছাই (التثبت) করা, যাচাই-বাছাইকারী (المتثبتين) ও নির্ভরযোগ্য (الموثوقين) আলেমদের পথ আঁকড়ে ধরা এবং মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী চিহ্নসমূহ থেকে বেঁচে থাকা (কর্তব্য); আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লেখক
বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ
১৪১৮ হিজরীর গ্রীষ্মকালীন অবকাশে, তায়েফে।
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقَدّمَةالحمد لله رَبِّ العالمين، وأَشهد أَن لا إله إلا الله الحق المبين، وأَشهد أَن محمداً عبده ورسوله ونبيه الأَمين صلى الله وسَلَّم عليه وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهداه إِلى يوم الدِّين.
أَما بعد: فمن نعم الله علينا وعلى عموم المسلمين انتشار السنة، والعمل بها، مع احترام أَئمة العلم الهداة في القديم والحديث، والتخلص من التعصب الذميم. لكن قد يَجْنَحُ المستدل فَيُغْرِقُ في الاستدلال، وقد يَشْتَطُّ فَيَبْتَعِدُ عن مدارك الأَحكام، وقد يحصل الغلط، والوهم، والاشتباه في الفهم. وَقَدْ غَلِطَ الكبار في فهم بعض السنن. وَلَا لَوْمَ وَلَا عِتَاب. ولهذا حرر المحققون: أَن «تراجم المحدِّثين» (1) على السنن ليست حجة عليها، بل الحجة في الحديث والسنة.
إِذ المُتَرْجِمُ قد يُصيب وقد يُخطئ، وإن كان خطؤهم
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা (المقدمة)সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি চিরন্তন সত্য ও সুস্পষ্ট। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা, রাসুল এবং তাঁর বিশ্বস্ত নবী। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর প্রদর্শিত পথে চলবেন, তাদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: আমাদের ওপর এবং সকল মুসলিমের ওপর আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো সুন্নাহর প্রচার-প্রসার এবং এর ওপর আমল করা। সেই সঙ্গে প্রাচীন ও আধুনিককালের হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নিন্দনীয় গোঁড়ামি (تعصب) থেকে মুক্তি লাভ করা। তবে কখনো দলিল প্রদানকারী অতিমাত্রায় দলিল পেশ করার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন, আবার কখনো বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে আহকামের ভিত্তি থেকে দূরে সরে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে ভুল (غلط), ভ্রান্তি (وهم) এবং উপলব্ধিগত অস্পষ্টতা (اشتباه) তৈরি হতে পারে। এমনকি অনেক বড় আলেমগণও কোনো কোনো সুন্নাহর মর্ম উপলব্ধিতে ভুল করেছেন। এতে কোনো নিন্দা বা তিরস্কার নেই। এ কারণেই গবেষকগণ (محققون) সুনিশ্চিত করেছেন যে: সুন্নাহর ওপর ‘মুহাদ্দিসগণের শিরোনাম’ (تراجم المحدثين) (১) স্বয়ং কোনো দলিল (حجة) নয়; বরং প্রকৃত দলিল হলো হাদিস ও সুন্নাহ।
কেননা শিরোনাম প্রদানকারী (مترجم) সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন আবার ভুলও করতে পারেন, যদিও তাদের ভুল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
قليلاً جداً، وهذا كالشأْن في فقهيات المذاهب، فالدَّليل حجة عليها، لا العكس. وإِذا كانت هذه أَخطاء تكون لدى أَهل العلوم كافة: مفسرين. محدِّثين. فقهاء. مؤرخين. لسانين. أُدباء. والتنبيه عليها محمدة في الإِسلام، ومنقبة لأَهل العلم والإيمان، فَلَا ضَيْرَ وَلَا مَلَام إِذا رأَينا شيئاً من هذا لدى بعض أَهل عصرنا فحصل التنبيه عليه، ولا يأْنف من قبول الحق إِلا «عَائِلٌ مستكبر».
فأَقول: كُنَّا نَرَى من ينتصر لقول شاذ، فَيُظْهِرهُ وَيَسْتَدِل لَهُ، ويدعو إِليه، أَو يأْخذ برخصة فيها غثاثة فيُشهرها ويبذل جهوداً في سبيل تعميمها وإِبلاغها. وقد كفانا العلماء مؤونة الرد بالتقعيد الناهي عن حمل «شاذ العلم وغثاثة الرخص» (1). لكن في المعاصرة بدت مفاهيم بين الواجب والمستحب، في العبادات الظاهرة المتكررة، والشعائر المعظمة، لا عهد
للعلماء بها منذ صدر الإِسلام حتى عصرنا، وإِن تنزلنا ففي بعضها قول مهجور على مدى القرون، وكفى
--------------------------------------------
খুবই সামান্য, আর এটি মাযহাবগুলোর ফিকহি মাসআলাসমূহের মতোই; কেননা দলিল হচ্ছে সেগুলোর বিপরীতে প্রমাণ, এর উল্টোটা নয়। আর যেহেতু এই ভুলগুলো সকল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মাঝেই হতে পারে: যেমন মুফাসসিরগণ, মুহাদ্দিসগণ, ফকিহগণ, ঐতিহাসিকগণ, ভাষাবিদগণ এবং সাহিত্যিকগণ; তাই সেগুলোর প্রতি সতর্ক করা ইসলামে একটি প্রশংসনীয় কাজ এবং ইলম ও ঈমানদারদের জন্য একটি বিশেষ গুণ। সুতরাং আমাদের সমসাময়িক কারো মধ্যে এ ধরণের কিছু দেখা গেলে এবং সে বিষয়ে সতর্ক করা হলে তাতে কোনো ক্ষতি বা নিন্দা নেই। আর 'অহংকারী দরিদ্র' ছাড়া অন্য কেউ সত্য গ্রহণ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।
আমি বলছি: আমরা এমন ব্যক্তিদের দেখতাম যারা কোনো বিচ্ছিন্ন (شاذ) মতের পক্ষালম্বন করত, অতঃপর তা প্রকাশ করত, তার পক্ষে দলিল পেশ করত এবং সেদিকে আহ্বান করত; অথবা এমন কোনো তুচ্ছ শিথিলতা (رخصة) গ্রহণ করত যা সে প্রচার করত এবং তা ছড়িয়ে দেওয়া ও পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা ব্যয় করত। ওলামায়ে কেরাম 'বিচ্ছিন্ন জ্ঞান ও তুচ্ছ শিথিলতা' গ্রহণ করতে নিষেধকারী মূলনীতি (تقعيد) প্রণয়নের মাধ্যমে আমাদের জন্য এগুলোর জবাব দেওয়ার কষ্ট লাঘব করে দিয়েছেন (১)। কিন্তু সমসাময়িক কালে বারবার সম্পাদিত প্রকাশ্য ইবাদতসমূহ এবং মহান নিদর্শনাদির ক্ষেত্রে ওয়াজিব (واجب) ও মুস্তাহাব (مستحب)-এর মাঝে এমন কিছু ধারণার উদ্ভব হয়েছে, যার ব্যাপারে ইসলামের শুরু থেকে আমাদের যুগ পর্যন্ত ওলামায়ে কেরাম অবগত
ছিলেন না। আর যদি আমরা কিছুটা ছাড় দিয়েও বলি, তবে সেগুলোর কয়েকটিতে এমন বক্তব্য রয়েছে যা কয়েক শতাব্দী ধরে পরিত্যক্ত (مهجور), এবং এটাই যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
خطأً بقولٍ: خُرُوْجُهُ عن أَقوال أَهل العلم (1).
وكان فيما بدا: أَعمال، وحركات، وهيئات، وصفات في ركن الإِسلام العملي الأَعظم بعد الشهادتين: «الصلاة» ، أَبْرَزَتِ المصلي في بعضها: في حال من «التكلف» والله تعالى يقول عن نبيه محمد صلى الله عليه وسلم: {وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ} ، ويقول: النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «بعثت بالحنيفية السمحة».
وفي حال من «التحفز» ، والصلاة: خشوع وانكسار من العبد بين يدي ربه ومعبوده سبحانه وتعالى.
وفي بعضها استدراك على أُمة محمد صلى الله عليه وسلم في هجر هذه السنة وَفَوَات العمل بها منذ صدر الإِسلام حتى ظهر القول بها في عصرنا.
وفي هذا تأْثيم لأُمَّة محمد صلى الله عليه وسلم. وكثيراً ما تكون هذه الفهوم المغلوطة، من التَّوَغُّلِ في
فهم السنن تارة، وعدم الالتفات إِلى المعاني والأُصول اللسانية، والحديثية والفقهية تارة أُخرى، وهذا من خطر التجريد في دليل التقرير، والغفلة عن سُنَّةِ الوسطية والاعتدال في الصلاة، والإِعراض عن كتب الفقه والخلافيات للوقوف على علل الأَحكام ومداركها، وخلافهم فيها.
--------------------------------------------
একটি উক্তি ভুল হওয়ার অর্থ হলো: আলেমগণের (أهل العلم) মতামতের পরিপন্থী হওয়া (১)।
দৃশ্যত এতে এমন কিছু আমল, নড়াচড়া, পদ্ধতি এবং বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়েছে যা শাহাদাতাইনের পর ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যবহারিক রুকন: 'সালাত' সংক্রান্ত; যার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুসল্লিকে 'কৃত্রিমতা' বা 'লৌকিকতার' (تكلف) অবস্থায় দেখা গেছে। অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বলেছেন: {আর আমি কৃত্রিমতা অবলম্বনকারীদের (المتکلفين) অন্তর্ভুক্ত নই}, এবং নবী (সা.) বলেছেন: "আমি সহজ-সরল ও একনিষ্ঠ আদর্শ নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।"
এবং কখনো 'অতি-তৎপরতার' (تحفز) অবস্থায় দেখা যায়, অথচ সালাত হলো তাঁর প্রতিপালক ও উপাস্য মহান আল্লাহর সম্মুখে বান্দার একাগ্রতা ও বিনীত আত্মসমর্পণ।
আর এর কোনো কোনো ক্ষেত্রে উম্মতে মুহাম্মদী (সা.)-এর ওপর এই আপত্তি তোলা হয়েছে যে, ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময়ে এই মতটির আবির্ভাব হওয়া পর্যন্ত তারা এই সুন্নাহ বর্জন করেছে এবং এর ওপর আমল করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আর এর মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদীকে (সা.) অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়। প্রায়শই এই ভ্রান্ত উপলব্ধিগুলোর সৃষ্টি হয় কখনো সুন্নাহর (سنن) বুঝের গভীরে অতিমাত্রায় প্রবেশের কারণে, আবার কখনো ভাষাগত অর্থ এবং মূলনীতি (أصول), হাদিস শাস্ত্রীয় (حديثية) ও ফিকহ শাস্ত্রীয় (فقهية) মূলনীতির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার ফলে। এটি দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে একক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বনের ঝুঁকি, সালাতে মধ্যপন্থা ও পরিমিতিবোধের সুন্নাহ সম্পর্কে উদাসীনতা এবং বিধানের কার্যকারণসমূহ (علل الأحكام) ও উৎস এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতপার্থক্য সম্পর্কে অবগতির জন্য ফিকহ ও মতভেদ সংক্রান্ত (خلافيات) গ্রন্থসমূহ থেকে বিমুখ থাকারই ফলাফল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وما الحامل على هذه التنبيهات إِلَاّ المحبة للسنة وأَهلها، ودفع ما ليس منها عنهم وعنها، وحتى لا يتشفى بهم كل مبتدع، ولا يبلغ مأْربه منهم كل متقول، وهي تنبيهات لا تنقص من أَقدارهم، ولا تحط من فضلهم في إِحياء السنن، والعمل بها. فإِلى بيان بعضها:
এই সতর্কবার্তাগুলোর (تنبيهات) পেছনে সুন্নাহ এবং এর অনুসারীদের প্রতি ভালোবাসা, এবং সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের থেকে এমন বিষয়কে দূরে রাখা যা এর অংশ নয়—ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। যেন কোনো বিদআতপ্রবর্তনকারী (مبتدع) তাদের অপদস্থ করার সুযোগ না পায় এবং কোনো মিথ্যা আরোপকারী (متقول) তাদের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারে। এই সতর্কবার্তাগুলো (تنبيهات) তাদের মর্যাদাকে লাঘব করে না এবং সুন্নাহর পুনরুজ্জীবন ও তদানুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে তাদের শ্রেষ্ঠত্বকেও খাটো করে না। নিম্নে তার কয়েকটির বর্ণনা (بيان) দেওয়া হলো:
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
1 - منها إحداث هيئة في المصافة للصلاة:في «تسوية الصف» ثلاث سنن:
1 - استقامة الصف، وإِقامته، وتعديله، بحيث لا يتقدَّم صدر أَحد ولا شيء منه على من هو بجنبه، فلا يكون فيه عِوَج.
ومن ألفاظ التسوية للصف:
«استووا» ، «اعتدلوا» ، «أَقيموا الصف». . .
وتُضبط استقامة الصف بالأَمر بالمحاذاة بين الأَعناق والمناكب، والركب، والأَكعب.
وظاهرٌ من هديه صلى الله عليه وسلم تناوب هذه الأَلفاظ.
2 - سَدُّ الخَلَلِ، بحيث لا يكون فيه فُرَج.
ولهذا من الأَلفاظ: «سُدُّوا الخلل» ، «لا تذروا فرجات للشيطان». . .
وضبط هذه السنة بالتراص: «تراصُّوا». . .
3 - وصل الصف الأَول فالأَول وإِتمامه.
وله من الأَلفاظ: «أَتموا الصف الأَول فالأَول» ، «من وصل صفاً وصله الله ومن قطع صفاً قطعه الله». . .
وبين ذلك سُنَنٌ - وهي من السنن المهجورة -: مثل الدعاء
১ - এর মধ্যে একটি হলো নামাজের কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবন করা:‘কাতার সোজা করার’ (تسوية الصف) ক্ষেত্রে তিনটি সুন্নত রয়েছে:
১ - কাতারের সরলতা বজায় রাখা, কাতার কায়েম করা এবং তা সুবিন্যস্ত করা, যাতে কারো বুক বা শরীরের কোনো অংশ তার পাশের জনের তুলনায় অগ্রবর্তী না থাকে, ফলে তাতে কোনো বক্রতা সৃষ্টি না হয়।
কাতার সোজা করার জন্য ব্যবহৃত শব্দাবলির মধ্যে রয়েছে:
‘সোজা হয়ে দাঁড়াও’, ‘সামঞ্জস্য বজায় রাখো’, ‘কাতার কায়েম করো’...
ঘাড়, কাঁধ, হাঁটু এবং গোড়ালির মাঝে সমতা বজায় রাখার নির্দেশের মাধ্যমে কাতারের সরলতা সুনিশ্চিত করা হয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ থেকে এটি স্পষ্ট যে, তিনি এই শব্দগুলো পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করতেন।
২ - ফাঁক পূরণ করা, যাতে সেখানে কোনো ছিদ্র না থাকে।
এ কারণেই ব্যবহৃত শব্দগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘ফাঁক পূরণ করো’, ‘শয়তানের জন্য কোনো ছিদ্র রেখো না’...
এই সুন্নতের প্রয়োগ হয় মিলেমিশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে: ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াও’...
৩ - ধারাবাহিকভাবে প্রথম কাতার থেকে পরবর্তী কাতারগুলো সংযুক্ত করা এবং তা পূর্ণ করা।
এর জন্য ব্যবহৃত শব্দাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘প্রথমে প্রথম কাতার পূর্ণ করো’, ‘যে ব্যক্তি কাতার সংযুক্ত করবে আল্লাহ তাকে সংযুক্ত করবেন, আর যে কাতার বিচ্ছিন্ন করবে আল্লাহ তাকে বিচ্ছিন্ন করবেন’...
এর মাঝে আরও কিছু সুন্নত রয়েছে—যা পরিত্যক্ত সুন্নত (السنن المهجورة) হিসেবে গণ্য—যেমন দোয়া করা।
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
والاستغفار للصف المتقدِّم ثلاثاً، ثم من يليه مرتين.
وإِتيان الإِمام إِلى ناحية الصف لتسويته، وإِرسال الرجال لتسوية الصفوف إِلى غير ذلك من الهدي النبوي في سبيل تحقيق هذه السنن الثلاث للصف. استقامته، وَسَدِّ خَلَلِه، وإِتمام الأَول فالأَول.
وكل هذا يدل على ما لتسوية الصفوف من شأْن عظيم في إِقامة الصلاة، وحُسْنِها، وتمامها، وكمالها، وفي ذلك من الفضل والأَجر، وائتلاف القلوب واجتماعها، ما شهدت به النصوص. وقد تميزت هذه الأُمة المرحومة، وخُصَّت بأَن صفوفها للصلاة كصفوف الملائكة، فالحمد لله رب العالمين.
ومن الهيآت المضافة مُجَدَّداً إِلى المصَافَّة بِلَا مُسْتَنَد: ما نراه من بعض المصلين: من ملاحقته مَنْ عَلَى يمينه إِن كان في يمين الصف، ومن على يساره إِن كان في ميسرة الصف، وَلَيِّ العقبين لِيُلْصِقَ كعبيه بكعبي جاره.
وهذه هيئة زائدة على الوارد، فيها إِيغال في تطبيق السُّنَّةِ. وهي هيئة منقوضة بأَمرين: الأَول: أَن المصافة هي مما يلي الإِمام، فمن كان على
সম্মুখ সারির জন্য তিনবার এবং পরবর্তী সারির জন্য দুইবার ইস্তিগফার করা।
আর কাতার সোজা করার জন্য ইমামের কাতারের প্রান্ত অভিমুখে আসা এবং কাতারসমূহ সোজা করার জন্য লোক পাঠানো—এই সবই কাতারের এই তিনটি সুন্নাত বাস্তবায়নের পথে নববী নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। (সুন্নাত তিনটি হলো:) কাতার সোজা রাখা (استقامة), এর ফাঁকা জায়গা পূরণ করা (سد خلل) এবং ক্রমান্বয়ে প্রথম থেকে পরবর্তী কাতারগুলো পূর্ণ করা।
এই সব কিছুই সালাত কায়েম করা, এর সৌন্দর্য এবং এর পূর্ণতা ও কামিলিয়াতের ক্ষেত্রে কাতার সোজা করার সুমহান মর্যাদার প্রমাণ দেয়। আর এতে যে ফযিলত, প্রতিদান এবং হৃদয়ের ঐক্য ও হৃদ্যতা নিহিত রয়েছে, তা বিভিন্ন দলীল (نصوص) দ্বারা প্রমাণিত। এই রহমতপ্রাপ্ত উম্মতকে এই বিশেষত্ব দান করা হয়েছে যে, তাদের সালাতের কাতারসমূহ ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায়। সুতরাং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
কোনো ভিত্তি (مستند) ছাড়াই বর্তমানে কাতারবদ্ধ হওয়ার (مصافة) ক্ষেত্রে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি হলো—যা আমরা কিছু মুসল্লির মধ্যে দেখি: সে যদি কাতারের ডান দিকে থাকে তবে তার ডানের ব্যক্তিকে এবং কাতারের বাম দিকে থাকলে তার বামের ব্যক্তিকে অনুসরণ করা এবং পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির টাখনুর সাথে নিজের টাখনু মেলাতে গোড়ালিদ্বয়কে বাঁকানো।
এটি বর্ণিত (وارد) বিষয়ের অতিরিক্ত একটি রূপ, যাতে সুন্নাত (سنة) পালনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করা হয়েছে। এটি দুটি কারণে খণ্ডিত: প্রথমত, কাতারবদ্ধ হওয়া (مصافة) হলো ইমামের নিকটবর্তী স্থান থেকে শুরু করা; সুতরাং যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يمين الصف، فَلْيُصافَّ على يساره مما يلي الإِمام، وهكذا يتراصون ذات اليسار واحداً بعد واحد على سمت واحد في: تقويم الصف، وسد الفُرج، والتراص والمحاذاة بالعنق، والمنكب، والكعب، وإِتمام الصف الأَول فالأَول.
أَما أَن يلاحق بقدمه اليمنى - وهو في يمين الصف - من عَلَى يمينه، وَيَلْفِت قَدَمَهُ حتى يتم الإِلزاق؛ فهذا غلط بَيِّن، وتكلف ظاهر، وفهم مستحدث فيه غُلُوٌّ في تطبيق السنة، وتضييق ومضايقة، واشتغال بما لم يُشرع، وتوسيع للفُرج بين المتصافين، يظهر هذا إِذا هَوَى المأْموم للسجود، وتشاغل بعد القيام لملأ الفراغ، ولي العقب للإِلزاق، وَتَفْويتٌ لِتوجيه رؤوس القدمين إِلى القبلة (1).
وفيه ملاحقة المصلي للمصلي بمكانه الذي سبق إِليه، واقتطاع لمحل قدم غيره بغير حق. وكل هذا تَسَنَّنٌ بما لم يُشرع.
الثاني: أَن النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أَمر بالمحاذاة بين المناكب والأَكعب، قد أَمر أَيضاً بالمحاذاة بين «الأَعناق» كما في حديث أَنس رضي الله عنه عند النسائي (814).
--------------------------------------------
কাতারের ডান দিক, সুতরাং তিনি ইমামের সন্নিকটে তার বাম দিক থেকে সারিবদ্ধ হবেন। এভাবে তারা বাম দিকে একের পর এক একই সরলরেখায় সারিবদ্ধ হবেন: কাতার সোজা করা (تقويم الصف), ফাঁকা স্থান পূরণ করা (سد الفرج), কাঁধে কাঁধ মেলানো (التراص) এবং ঘাড়, কাঁধ ও গোড়ালি সমান্তরাল রাখা (المحاذاة), এবং প্রথম কাতারগুলো ক্রমানুসারে পূর্ণ করার ক্ষেত্রে।
কিন্তু কাতারের ডান দিকে থাকা অবস্থায় নিজের ডান পাশের ব্যক্তির সাথে পা মেলানোর জন্য পা বাঁকিয়ে স্পর্শ করা—একটি স্পষ্ট ভুল (غلط بين), প্রকাশ্য কৃত্রিমতা এবং সুন্নাহর প্রয়োগে এক নব উদ্ভাবিত বুঝ যাতে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি (غلو) রয়েছে। এটি সংকীর্ণতা ও কষ্টের কারণ, শরিয়ত বহির্ভূত কাজে লিপ্ত হওয়া এবং মুসল্লিদের মাঝে ফাঁকা স্থান আরও প্রশস্ত করার নামান্তর। এটি তখন প্রকাশ পায় যখন মুক্তাদি সিজদাহর জন্য ঝুঁকে পড়ে এবং দাঁড়ানোর পর শূন্যস্থান পূরণের প্রচেষ্টায় ও স্পর্শ বজায় রাখতে গোড়ালি বাঁকানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে; ফলে পায়ের আঙুলগুলো কিবলার দিকে রাখার বিষয়টি ছুটে যায় (১)।
এতে একজন নামাজি অপর নামাজির আগে থেকে দখলকৃত স্থানে অনধিকার প্রবেশ করে এবং অন্যায়ভাবে অন্যের পায়ের জায়গা কেড়ে নেয়। এই সবই সুন্নাহ পালনের এমন পদ্ধতি যা শরিয়তসম্মত নয়।
দ্বিতীয়ত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কাঁধ ও গোড়ালির মাঝে সমান্তরাল অবস্থানের (المحاذاة) নির্দেশ দিয়েছেন, তখন তিনি ‘ঘাড়ের’ সমান্তরাল অবস্থানেরও নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি নাসায়ি-তে (৮১৪) বর্ণিত আনাস (রা.)-এর হাদিসে এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وكل هذا يعني: المصافة، والموازاة، والمسامتة، وسد الخلل، ولا يعني العمل على «الإِلزاق» فإِن إِلزاق العنق بالعنق مستحيل، وإِلزاق الكتف بالكتف في كل قيام، تكلف ظاهر. وإِلزاق الركبة بالركبة مستحيل، وإِلزاق الكعب بالكعب، فيه من التعذر، والتكلف، والمعاناة، والتحفز، والاشتغال به في كل ركعة، ما هو بيِّن ظاهر. فتنبين أَن المحاذاة في الأَربعة: العنق. الكتف. الركبة. الكعب: من بابة واحدة، يُراد بها الحث على إِقامة الصف والموازاة، والمسامتة، والتراص على سمت واحد، بلا عوج، ولا فُرج، وبهذا يحصل مقصود الشارع.
قال الحافظ ابن حجر - رحمه الله تعالى - (1): (والمراد بتسوية الصفوف: اعتدال القائمين فيها على سمت واحد، أَو يراد بها سد الخلل الذي في الصف. . .).
وهذا هو فقه نصوص تسوية الصفوف، كما في حديث النعمان بن بشير رضي الله عنه قال: «كان النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يسوينا في الصفوف كما يُقوم القِدْح حتى إِذا ظن أَن قد أَخذنا ذلك عنه وفقهنا أَقبل ذات يوم بوجهه إِذا رجل مُنْتَبِذٌ بصدره فقال:
--------------------------------------------
এ সবকিছুর অর্থ হলো: কাতারবদ্ধ হওয়া, সমান্তরাল হওয়া, সোজাসুজি অবস্থান করা এবং ফাঁকা জায়গা পূরণ করা। এর অর্থ ‘গাত্রলগ্ন হওয়া’ (الإلزاق) নয়। কেননা ঘাড়ের সাথে ঘাড় মেলানো অসম্ভব, আর প্রতিটি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে রাখা একটি স্পষ্ট কষ্টসাধ্য ব্যাপার। হাঁটুর সাথে হাঁটু মেলানো অসম্ভব এবং টাখনুর সাথে টাখনু মেলানো এতটাই দুঃসাধ্য, কৃত্রিমতা, কষ্টকর ও প্রচেষ্টাসাপেক্ষ বিষয় যে, প্রতিটি রাকাআতে এর পেছনে মগ্ন থাকা একটি সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য ব্যাপার। সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, এই চারটি বিষয়ের ক্ষেত্রে সমান্তরাল হওয়া—ঘাড়, কাঁধ, হাঁটু এবং টাখনু—সবগুলো একই পর্যায়ের; যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো কাতার সোজা করার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং কোনো বক্রতা বা ফাঁক না রেখে একই সমান্তরালে ও নিবিড়ভাবে কাতারবদ্ধ হওয়া। আর এর মাধ্যমেই শরিয়ত প্রণেতার মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।
হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (১): (আর কাতার সোজা করার উদ্দেশ্য হলো: কাতারে দণ্ডায়মান ব্যক্তিদের একই রেখায় ভারসাম্যপূর্ণভাবে দাঁড়ানো, অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কাতারের মধ্যকার ফাঁকা জায়গা পূরণ করা...)।
আর কাতার সোজা করা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর মূল সমঝ (فقه) এটিই, যেমনটি নুমান ইবনে বশির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: ‘নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাতারগুলোকে এমনভাবে সোজা করতেন যেন তিনি তীরের কাঠ সোজা করছেন। এভাবে চলতে চলতে যখন তিনি দেখলেন যে আমরা বিষয়টি তাঁর নিকট থেকে অনুধাবন করেছি এবং বুঝতে পেরেছি, তখন একদিন তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়ালেন এবং দেখতে পেলেন জনৈক ব্যক্তি তার বুক (কাতারের সামনে) বের করে দাঁড়িয়ে আছে। তখন তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لتسون صفوفكم أَو ليخالفن الله بين وجهكم» رواه الجماعة إِلَاّ البخاري، واللفظ لأَبي داود (رقم / 649). فهذا فَهْم الصحابي رضي الله عنه في التسوية: الاستقامة، وسد الخلل، لا الإِلزاق وإِلصاق المناكب والكعاب.
ولهذا لما قال البخاري - رحمه الله تعالى - في «صحيحه»: «باب إِلزاق المنكب بالمنكب، والقدم بالقدم في الصف. وقال النعمان بن بشير، رأَيت الرجل منا يلزق
كعبه بكعب صاحبه».
قال الحافظ ابن حجر (1): (والمراد بذلك المبالغة في تعديل الصف وَسَدِّ خَلَلِه) انتهى. والدليل على سلامة ما فهمه الحافظ من ترجمة البخاري - رحمه الله تعالى - أَن قول النعمان بن بشير رضي الله عنه المُعَلَّق لدى البخاري - رحمه الله تعالى - وَوَصَلَهُ أَبو داود في «سننه» برقم (648) ، وابن خزيمة في: «صحيحه» برقم (160) ، والدارقطني في: «سننه» (1/ 282) ، في ثلاثتها قال النعمان بن بشير -: «فرأيت الرجل يُلزق منكبه بمنكب صاحبه، وركبته بركبة
--------------------------------------------
"তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতারগুলো সোজা করবে, নতুবা আল্লাহ তোমাদের চেহারাসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য সৃষ্টি করবেন।" এটি বুখারি ব্যতীত জামাআত (جماعة) বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস আবু দাউদের (নম্বর/৬৪৯)। সুতরাং কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে এটিই সাহাবি (রা.)-এর অনুধাবন: সোজা করা (استقامة) এবং ফাঁকা জায়গা বন্ধ করা (سد الخلل), গায়ের সাথে লেপ্টে থাকা (إلزاق) কিংবা কাঁধে কাঁধ ও গোড়ালিতে গোড়ালি মিলিয়ে দেওয়া নয়।
আর এই কারণেই ইমাম বুখারি (রহ.) যখন তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘অধ্যায়: কাতারের মাঝে কাঁধে কাঁধ এবং পায়ে পা মেলানো।’ এবং নুমান ইবনে বশির (রা.) বলেন: ‘আমি আমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তিকে দেখেছি যে তার গোড়ালি তার সঙ্গীর গোড়ালির সাথে মিলিয়ে দিচ্ছে।’
হাফিজ ইবনে হাজার (১) বলেন: ‘এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে এবং এর মধ্যকার ফাঁকা জায়গা বন্ধ করার (سد خلله) বিষয়ে গুরুত্বারোপ (مبالغة) করা।’ সমাপ্ত। হাফিজ (ইবনে হাজার) ইমাম বুখারির (রহ.) অনুচ্ছেদ শিরোনাম (ترجمة) থেকে যা বুঝেছেন তা সঠিক হওয়ার দলীল হলো, ইমাম বুখারির (রহ.) নিকট নুমান ইবনে বশিরের (রা.) বর্ণিত যে ঝুলন্ত (معلق) বর্ণনাটি রয়েছে, যা আবু দাউদ তাঁর ‘সুনান’-এ (৬৪৮ নম্বর), ইবনে খুজাইমা তাঁর ‘সহিহ’-তে (১৬০ নম্বর) এবং দারাকুতনি তাঁর ‘সুনান’-এ (১/২৮২) সংযুক্ত (وصله) করেছেন; এই তিনটি গ্রন্থেই নুমান ইবনে বশির (রা.) বলেন: ‘আমি দেখেছি কোনো ব্যক্তি তার কাঁধ তার সঙ্গীর কাঁধের সাথে এবং তার হাঁটু তার হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিচ্ছে...’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
صاحبه، وكعبه بكعبه» انتهى لفظ أَبي داود. فإِلزاق الركبة بالركبة متعذر، فظهر أَن المراد: الحث على سد الخلل واستقامة الصف وتعديله، لا حقيقة الإِلزاق والإِلصاق.
ولهذا قال الخطابي - رحمه الله تعالى - في معنى ما يُروى عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال
رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خياركم أَلينكم مناكب في الصلاة» رواه أَبو داود وقال: جعفر ابن يحيى من أَهل مكة.
قال الخطابي ما نصه (1): (ومعناه لزوم السكينة في الصلاة، والطمأْنينة فيها، لا يلتفت ولا يحاك منكبه منكب صاحبه. ثم ذكر وجهاً آخر في معناه) انتهى.
وقال المناوي - رحمه الله تعالى - في معناه (2): «ولا يُحاشر منكبُهُ منكبَ صَاحِبه، ولا يمتنع لضيق المكان على مريد الدخول في الصف لِسَدِّ الخلل) انتهى.
وانظر إِلى أَلفاظ الرواة في بيان صفة التورك في الصلاة ففي حديث أَبي حميد الساعدي رضي الله عنه قال: «وَقَعَدَ عَلَى مقْعَدَتِهِ».
--------------------------------------------
সাথীর সাথে এবং তার গোড়ালি তার গোড়ালির সাথে।" আবু দাউদ-এর শব্দাবলি এখানেই শেষ হলো। তবে হাঁটুর সাথে হাঁটু মিলানো অসম্ভব, তাই স্পষ্ট যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ফাঁকা জায়গা পূরণ করা এবং কাতার সোজা ও সুবিন্যস্ত করার প্রতি উৎসাহিত করা, প্রকৃত অর্থে গায়ে গায়ে লেগে থাকা বা সেঁটে থাকা নয়।
এই কারণেই খাত্তাবি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার অর্থ প্রসঙ্গে বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা সালাতে কাঁধের দিক থেকে অধিক নমনীয়।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: জাফর ইবনে ইয়াহইয়া মক্কাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
খাত্তাবি যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো (১): (এর অর্থ হলো সালাতে গাম্ভীর্য ও স্থিরতা (طمأنينة) বজায় রাখা, এদিক-ওদিক না তাকানো এবং নিজের কাঁধ দিয়ে পার্শ্ববর্তী সাথীর কাঁধ ঘর্ষণ না করা। এরপর তিনি এর অর্থের ব্যাপারে অন্য একটি দিকও উল্লেখ করেছেন।) - সমাপ্ত।
এবং মুনাউয়ী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এর অর্থ প্রসঙ্গে বলেন (২): "সে তার কাঁধ দিয়ে তার সঙ্গীর কাঁধকে চাপ দেবে না, আবার কাতারের ফাঁকা পূরণের জন্য কেউ প্রবেশ করতে চাইলে জায়গার সংকীর্ণতার কারণে তাকে বাধাও দেবে না।" - সমাপ্ত।
সালাতে তাওয়াররুক (تورك) করার পদ্ধতি বর্ণনায় বর্ণনাকারীদের (رواة) শব্দাবলির দিকে লক্ষ করুন; যেমন আবু হুমাইদ আস-সা'য়িদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেছেন: "তিনি তার নিতম্বের ওপর বসলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذا من باب إِطلاق الكل وإِرادة البعض؛ فإِنَّه يتعذَّر على المتورك تمكن شقيه من القعود على الأَرض. ولهذا جاءت أَلفاظ هذا الحديث الأُخرى بما يفيد ذلك
منها:
«قعد على شِقِّه الأَيسر».
«أَفضى بوركه اليسرى إِلى الأَرض».
«جلس على شقه الأَيسر متوركاً».
ولهذا فإِنَّه لا يمكن لعاقل أَن يأْتي مستنبطاً من لفظ: «فقعد على مقعدته» حال التورك: مشروعية تمكين شِقيه من الأَرض؛ لتعذره طبعاً وعقلاً، كالشأْن في أَلفاظ المحاذاة على ما تقدم سواء.
وانظر إِلى أحاديث فضل الصلاة أَوَّلَ وقتها، فإِنَّه كما قال ابن دقيق العيد - رحمه الله تعالى - في «الإِحكام»: (2/ 38): (ولم يُنقل عن أَحد منهم أَنَّه كان يُشَدِّدُ في هذا، حتى يوقع أَول تكبيرة في أَول جزء من الوقت) انتهى. والله تعالى أَعلم بأَحكامه.
এটি হলো 'সমগ্র শব্দ প্রয়োগ করে আংশিক অর্থ গ্রহণ' (إطلاق الكل وإرادة البعض) করার অন্তর্ভুক্ত; কেননা একজন তাওয়াররুককারী (المتورك) ব্যক্তির পক্ষে উপবেশনের সময় তার নিতম্বের উভয় পার্শ্ব মাটির ওপর রাখা অসম্ভব (يتعذر)। এই কারণেই এই হাদিসের অন্যান্য শব্দাবলিতে এমন বিষয় এসেছে যা এটিই প্রতিপন্ন করে।
তন্মধ্যে রয়েছে:
«তিনি তাঁর বাম পার্শ্বের ওপর উপবেশন করলেন।»
«তিনি তাঁর বাম নিতম্বকে মাটির সাথে মেলালেন।»
«তিনি তাওয়াররুক (متوركاً) অবস্থায় তাঁর বাম পার্শ্বের ওপর উপবেশন করলেন।»
আর এই কারণেই কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে "তিনি তাঁর নিতম্বের ওপর বসলেন" - এই শব্দ থেকে তাওয়াররুক (التورك) অবস্থায় নিতম্বের উভয় পার্শ্ব মাটিতে স্থাপন করার বৈধতা (مشروعية) ইস্তিম্বাত (مستنبطاً) করা সম্ভব নয়; কারণ প্রকৃতিগত ও যুক্তিগতভাবে এটি অসম্ভব (يتعذر), যেমনটি ইতিপূর্বে আলোচিত সমান্তরালতা (المحاذاة) সংক্রান্ত শব্দাবলির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ওয়াক্তের শুরুতে নামাজ পড়ার ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন। যেমনটি ইবনে দাকীক আল-ঈদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর আল-ইহকাম গ্রন্থে (২/৩৮) বলেছেন: (তাঁদের মধ্য থেকে এমন কারো থেকে বর্ণিত হয়নি (لم ينقل) যে, তিনি এই বিষয়ে এতটা কড়াকড়ি করতেন যে, ওয়াক্তের একেবারে প্রথম অংশেই প্রথম তাকবির প্রদান করতে হবে)। সমাপ্ত। আর মহান আল্লাহ তাঁর বিধানাবলি সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - ومنها: وضع اليدين على النحر تحت الذقن:ثبت هدي النَّبي صلى الله عليه وسلم بوضع اليد اليمنى على اليسرى حال القيام في الصلاة من حديث سهل بن سعد الساعدي رضي الله عنه في «صحيح البخاري»: (740) ، و «الموطأ»: (20/ 74 تمهيد) وغيرهما. ومن حديث وائل رضي الله عنه في «صحيح مسلم»: (1/ 301) وغيره، ومن حديث غيرهم عند غيرهم من أَصحاب السنن الأَربع وغيرها. كما هي مخرجة في: «فتح الغفور» للسندي ت 1163هـ - رحمه الله تعالى -.
وقال ابن عبد البر - رحمه الله تعالى - في «التمهيد»: (20/ 74): (لم تختلف الآثار عن النَّبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب، ولا أَعلم من أَحد من الصحابة في ذلك خلافاً إِلَاّ شيء رُويَ عن ابن الزبير أَنه كان يُرسل يديه إِذا صلى، وقد رُويَ عنه خلافه مِمَّا قَدَّمْنَا ذِكْرَهُ عَنْه، وذلك قوله صلى الله عليه وسلم: وضع اليمين على الشمال من السنة، وعلى هذا جمهور التابعين، وأَكثر فقهاء المسلمين من أَهل الرأي والأَثر. . .) انتهى.
২ - তন্মধ্যে একটি হলো: চিবুকের নিচে কণ্ঠনালির ওপর হাত রাখা:সালাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখার বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ সুসাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে। এটি সাহল বিন সাদ আস-সাঈদী (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে প্রমাণিত যা সহিহ বুখারি (৭৪০) এবং আল-মুয়াত্তা (২০/৭৪ তামহিদ) ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া ওয়াইল (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে যা সহিহ মুসলিম (১/৩০১) ও অন্যান্য কিতাবে এসেছে এবং অন্যান্য সাহাবিদের সূত্রে চার সুনান গ্রন্থ ও অন্যান্য কিতাবে সংকলিত হয়েছে। যেমনটি সিন্দি (মৃত্যু ১১৬৩ হি.) -রাহিমাহুল্লাহ- তাঁর "ফাতহুল গাফুর" গ্রন্থে তা তাখরিজ (مخرجة) করেছেন।
ইবনে আব্দুল বার -রাহিমাহুল্লাহ- "আল-তামহিদ" (২০/৭৪) গ্রন্থে বলেছেন: (এই অধ্যায়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহের (الآثار) মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই। সাহাবিদের মধ্য থেকে এ বিষয়ে কারও কোনো মতপার্থক্য আছে বলে আমার জানা নেই; তবে ইবনে যুবায়ের (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সালাতে হাত ছেড়ে দিতেন, তবে তাঁর থেকে এর বিপরীত বর্ণনাও রয়েছে যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আর তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা সুন্নাহর (السنة) অন্তর্ভুক্ত। আর এর ওপরই রয়েছেন জুমহুর (جمهور) তাবেয়ী (التابعين) এবং আহলে রায় ও আহলে আসর (الأثر) মুসলিম ফকিহগণের অধিকাংশ...) সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال الترمذي - (2/ 82 تحفة) ونحوه البغوي في «شرح السنة» (3/ 32): (والعمل على هذا عند أَهل العلم من الصحابة والتابعين ومن بعدهم. . .) انتهى. فالخلاف في «الإِرسال» لم يرد به حديث صحيح ويأْتي. وإِنَّما الخلاف في محل الوضع من الجسد، ويمكن تصنيف الأَقوال والأَلفاظ الواردة، وَذِكْرها هًنَا على سبيل التدلي من: القول بوضعهما عند النحر، إِلى القول بوضعهما تحت السرة، فالتخيير، مع الإِشارة إِلى عمدة ما يتمسك به لكل قول ولفظ منها، ومنزلته صحةً وضعفاً، ومن قال به، حتى تأْنس النفس بمعرفة منزلة هذه الهيئة: «وضعهما على النحر تحت الذقن». فإِلى بيانها:
1 - عند النحر: رُويَ عن ابن عباس رضي الله عنهما في تفسير قول الله تعالى: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ}. رواه البيهقي: (2/ 31) وعنه لدى عامة المفسِّرين عند هذه الآية، منها: «الدرر المنثور»: (8/ 650 - 651).
ولا يصح لحال روح بن المسيب الكلبي البصري، كما
ইমাম তিরমিজি (তুহফাতুল আহওয়াযি: ২/৮২) এবং অনুরূপভাবে বাগউয়ি ‘শারহুস সুন্নাহ’ (৩/৩২) গ্রন্থে বলেছেন: (সাহাবি, তাবিয়ি এবং তাদের পরবর্তী আলেমগণের নিকট এর ওপরই আমল বিদ্যমান রয়েছে...) সমাপ্ত। সুতরাং হাত ছেড়ে দেওয়া (الإرسال) সম্পর্কে কোনো সহিহ (صحيح) হাদিস বর্ণিত হয়নি, যা সামনে আলোচিত হবে। মূলত মতভেদ হলো শরীরের কোন স্থানে হাত রাখা হবে তা নিয়ে। এ সম্পর্কে বর্ণিত মত ও শব্দাবলিকে উচ্চ পর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করা এবং এখানে উল্লেখ করা সম্ভব: যেমন সিনার উপরিভাগে হাত রাখা থেকে শুরু করে নাভির নিচে হাত রাখা এবং ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ রাখা পর্যন্ত। সেই সঙ্গে প্রতিটি মত ও শব্দের স্বপক্ষে পেশকৃত প্রধান দলিলসমূহ, সেগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতার (ضعف) মান এবং কারা এই মত পোষণ করেছেন তার ইঙ্গিত প্রদান করা হবে; যাতে ‘থুতনির নিচে সিনার উপরিভাগে হাত রাখা’-র এই পদ্ধতির মান সম্পর্কে মন আশ্বস্ত হতে পারে। নিম্নে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
১ - সিনার উপরিভাগে: আল্লাহ তাআলার বাণী: "আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং নহর করুন" এর ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। এটি বায়হাকি (২/৩১) বর্ণনা করেছেন এবং অধিকাংশ মুফাসসিরের নিকট এই আয়াতের অধীনে তাঁর থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে ‘আদ-দুররুল মানসুর’ (৮/৬৫০-৬৫১) অন্যতম।
তবে রাওহ ইবনুল মুসাইয়িব আল-কালবি আল-বাসরির ব্যক্তিগত অবস্থার কারণে এটি সহিহ (صحيح) নয়, যেমনটি-
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
في «المجروحين»: (1/ 299). والمعتمد في تفسير هذه الآية بقول الله تعالى: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}. صوّبه ابن جرير، وتبعه ابن كثير، وقال: (إِنَّه في غاية الحسن).
2 - على الصدر: للشافعي - رحمه الله تعالى - في إِحدى الروايات عنه، ولم يقل بهذا غيره من الفقهاء الأَربعة، فهو مزية لمذهبه؛ لموافقته نَصَّ السنة.
نعم: ذكر رواية عن الإِمام أَحمد - رحمه الله تعالى - نادرة، كذا قال السندي - رحمه الله تعالى - في «فتح الغفور»: (ص66).
لكن في «بدائع الفوائد»: (3/ 92) قال ابن القيم - رحمه الله تعالى -: (قال في رواية المزني: أَسفل السرة بقليل، ويكره أَن يجعلهما على الصدر، وذلك لما رُوِيَ عن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أَنه: «نهى عن التكفير» وهو وضع اليد على
الصدر) انتهى. وهذا الحديث لم أَجده.
ولما ذكر ابن عبد البر - رحمه الله تعالى - في «التمهيد»:
'আল-মাজরুহিন' গ্রন্থে: (১/ ২৯৯)। মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য}—এই আয়াতের তাফসিরে এটিই নির্ভরযোগ্য মত। ইবনে জারীর একে সঠিক বলেছেন এবং ইবনে কাসীর তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং বলেছেন: (এটি অত্যন্ত উত্তম (حسن) পর্যায়ের)।
২ - বুকের উপর (হাত রাখা): ইমাম শাফেয়ী - রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা - থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এটি তাঁর একটি মত, এবং চার ফকিহগণের মধ্যে তিনি ছাড়া আর কেউ এটি বলেননি। সুতরাং এটি তাঁর মাযহাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য; কারণ এটি সুন্নাহর অকাট্য পাঠের (نص) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হ্যাঁ, ইমাম আহমাদ - রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা - থেকে একটি বিরল (نادرة) বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করা হয়েছে; সিন্ধি - রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা - 'ফাতহুল গফুর' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৬৬) এভাবেই বলেছেন।
কিন্তু 'বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ' গ্রন্থে: (৩/ ৯২) ইবনুল কাইয়্যিম - রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা - বলেছেন: (মুজানি বর্ণিত বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: নাভির সামান্য নিচে, এবং বুকের উপর উভয় হাত রাখা অপছন্দনীয়; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি 'তাকফীর' করতে নিষেধ করেছেন, আর তা হলো বুকের উপর হাত রাখা)। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। এই হাদিসটি আমি খুঁজে পাইনি।
এবং যখন ইবনে আব্দুল বার - রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা - 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
(20/ 79) الرواية عن مجاهد - رحمه الله تعالى - بالكراهية قال: (ولا وجه لكراهية من كره ذلك؛ لأَن الأَشياء أَصلها الإِباحة، ولم ينه الله عنه ولا رسوله، فلا معنى لمن كرهه. هذا لو لم يرو إباحته عن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم فكيف وقد ثبت عنه ما ذكرنا؟) انتهى.
الأَولى أَن يُقال في دفع الكراهية: الأَصل في العبادات التوقيف على النص، وَقَدْ ثَبَتَ.
وبها عمل إِسحاق بن راهويه، فقال المروزي في «المسائل»: (ص / 222) (1): (كان إِسحاق يوتر بنا. . . ويرفع يديه في القنوت، ويقنت قبل الركوع، ويضع يديه على ثدييه، أَو تحت الثديين).
وظاهر اخيار الشيخين ابن القيم (2) ، والشوكاني (3) - رحمهما الله تعالى - إِذ قال: (ولا شيء في الباب أَصح من حديث وائل المذكور، وهو المناسب لما أسلفنا من تفسير علي وابن عباس لقوله تعالى:
--------------------------------------------
(২০/ ৭৯) মুজাহিদ -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- থেকে অপছন্দনীয়তা (كراهية) সংক্রান্ত বর্ণনা (رواية) এসেছে, তিনি বলেন: (যিনি এটি অপছন্দ করেছেন তার অপছন্দ করার কোনো ভিত্তি নেই; কারণ বস্তুর মূল বিধান হলো বৈধতা (إباحة), আর আল্লাহ বা তাঁর রাসূল তা থেকে নিষেধ করেননি, সুতরাং যে ব্যক্তি তা অপছন্দ করে তার কথার কোনো অর্থ নেই। এটি তখন হতো যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর বৈধতা বর্ণিত না হতো, তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যখন তাঁর থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে তখন পরিস্থিতি কী হবে?) সমাপ্ত।
অপছন্দনীয়তা (كراهية) নিরসনে এটি বলাই উত্তম: ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো দলিলের ওপর নির্ভরশীল হওয়া (توقيف) যা দলিলের (نص) ওপর ভিত্তি করে হয়, আর এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে।
ইসহাক ইবনে রাহওয়াই এর ওপর আমল করেছেন। আল-মারওয়াজি 'আল-মাসায়িল' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা / ২২২) (১) বলেন: (ইসহাক আমাদের সাথে বিতর পড়তেন... এবং কুনুতে হাত তুলতেন, রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন এবং তাঁর হাত দুটি বুকের ওপর অথবা বুকের নিচে রাখতেন)।
দুই শায়খ ইবনুল কাইয়িম (২) এবং আশ-শাওকানি (৩) -রাহিমাহুমুল্লাহু তাআলা- এর পছন্দও এটিই প্রকাশ পায়, যখন তিনি বলেন: (এই অধ্যায়ে উল্লিখিত ওয়াইল-এর হাদিস অপেক্ষা বিশুদ্ধতম (أصح) আর কিছু নেই, আর এটি আল্লাহ তাআলার বাণীর ব্যাপারে আলী ও ইবনে আব্বাস থেকে আমাদের ইতিপূর্বে আলোচিত তাফসিরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
{فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَر} بأَن النحر: وضع اليمنى على الشمال في محل النحر والصدر) انتهى. ومعلوم ضعف السند عنهما رضي الله عنهما بذلك ولم أَر لشيخ الإِسلام ابن تيمية في «محل الوضع» شيئاً، فالله أَعلم.
• الأَدلة:
• في حديث قبيصة بن هُلْب عن أَبيه رضي الله عنه: «رأَيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينصرف عن يمينه وعن يساره ورأَيته يضع يده على صدره».
رواه أَحمد: (5/ 226) ، والترمذي: (2/ 32) ، وابن ماجه: (1/ 226) ، وابن أَبي شيبة: (1/ 390) ، والدارقطني: (1/ 258) ،
والبيهقي (2/ 29، 295) ، والبغوي في «شرح السنة»: (3/ 31).
وحسّنه الترمذي، وأَقره النووي في «المجموع»: (3/ 312) وحسّنه لشواهده؛ لأَن في سنده: قبيصة، وهو إِن وثقه بعضهم لكن لم يرو عنه إِلَاّ: سماك بن حرب. وفي «التقريب» قال: مقبول.
• وفي حديث وائل بن حُجر رضي الله عنه: «أَنه رأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يضع يمينه على شماله ثم وضعهما
{অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি (নহর) করুন} - এখানে 'নহর' অর্থ হলো: নহরের স্থান অর্থাৎ বুকের ওপর ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখা) - সমাপ্ত। আর তাঁদের উভয় (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত এই বর্ণনার সূত্রের দুর্বলতা (ضعف السند) সুবিদিত। 'হাত বাঁধার স্থান' বিষয়ে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কোনো বক্তব্য আমি খুঁজে পাইনি। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
• দলীলসমূহ:
• কাবিদাহ ইবনে হুলব তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর ডান ও বাম দিকে ফিরতে দেখেছি এবং তাঁকে তাঁর বুকের ওপর হাত রাখতে দেখেছি।"
এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ: (৫/ ২২৬), তিরমিজি: (২/ ৩২), ইবনে মাজাহ: (১/ ২২৬), ইবনে আবি শাইবাহ: (১/ ৩৯০) এবং দারা কুতনি: (১/ ২৫৮),
এবং বায়হাকি: (২/ ২৯, ২৯৫) ও বাগাউয়ি শারহুস সুন্নাহ-তে: (৩/ ৩১)।
তিরমিজি একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং ইমাম নববী আল-মাজমু'-এ (৩/ ৩১২) একে সমর্থন করেছেন এবং এর অন্যান্য সমর্থক বর্ণনার কারণে একে হাসান (حسن) বলেছেন; কারণ এর সূত্রে (سند) রয়েছেন কাবিদাহ। যদিও কেউ কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, তবে সিমাক ইবনে হারব ছাড়া আর কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি। 'তাকরিব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول)।
• ওয়াইল ইবনে হুজর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখতে দেখেছেন, তারপর তিনি সেগুলোকে..."
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
على صدره».
رواه ابن خزيمة في «صحيحه»: (1/ 243 رقم 479) ، والبيهقي: (2/ 30 - 31) من طريقين، أَحدهما مسلسل بعدد من الضعفاء وفيه انقطاع. والثاني: مؤمل بن إِسماعيل عن الثوري عن عصام بن كليب عن أَبيه عن وائل. ومؤمل: صدوق سيء الحفظ. وأَصل الحديث في «صحيح مسلم» وغيره بدون لفظ «الصدر».
وقد ذكر هذا الحديث الحافظ ابن حجر في كتبه: «الفتح» (2/ 262) وسكت عليه، ومقتضى شرطه في
«المقدمة / هدي الساري»: (ص / 4) أَن ما سكت عليه في «الفتح» فهو صحيح أَو حسن. وسكت عليه في «بلوغ المرام»: (ص / 53) ، وفي «التلخيص»: (1/ 224) وقد نبه السيوطي في «الحاوي»: (2/ 212) إِلى شرط ابن حجر في ذلك.
وساقه محتجاً به ابن القيم في «إِعلام الموقعين»: (2/ 400) في آخرين.
وظاهر أَن حُسْنَهُ بشواهده.
على أَن ابن سيد الناس في «شرح الترمذي» قال: (وصححه ابن خزيمة) ، كما في: «تحفة الأَحوذي»: (2/ 89) ،
তার বুকের উপর।"
ইবনে খুজাইমা এটি তার ‘সহীহ’ (১/২৪৩, নম্বর ৪৭৯) গ্রন্থে এবং বায়হাকি (২/৩০-৩১) দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে একটি সূত্র ধারাবাহিক বেশ কয়েকজন দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত এবং তাতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো: মুয়াম্মিল ইবন ইসমাইল, সাওরি থেকে, তিনি ইসাম ইবন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি ওয়াইল (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর মুয়াম্মিল হলেন সত্যবাদী (صدوق), তবে তার মুখস্থ শক্তি দুর্বল (سيء الحفظ)। হাদিসের মূল পাঠ ‘সহীহ মুসলিম’ ও অন্যান্য গ্রন্থে ‘বুকের উপর’ শব্দটুকু ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে।
হাফেজ ইবনে হাজার তার গ্রন্থসমূহ—যেমন: ‘ফাতহুল বারি’ (২/২৬২)-তে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এ ব্যাপারে নিরবতা অবলম্বন (سكت عليه) করেছেন। আর ‘মুকাদ্দিমা / হাদিউস সারি’ (পৃ. ৪)-তে তার অনুসৃত শর্তের দাবি অনুযায়ী, ‘ফাতহুল বারি’তে তিনি যে হাদিসের ব্যাপারে নিরবতা অবলম্বন (سكت عليه) করেছেন, তা সহিহ (صحيح) অথবা হাসান (حسن)। তিনি ‘বুলুগুল মারাম’ (পৃ. ৫৩) এবং ‘আত-তালখিস’ (১/২২৪)-এও এর ব্যাপারে নিরবতা অবলম্বন (سكت عليه) করেছেন। ইমাম সুয়ূতি ‘আল-হাবি’ (২/২১২) গ্রন্থে এই বিষয়ে ইবনে হাজারের শর্তের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
ইবনুল কাইয়্যিম ‘ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন’ (২/৪০০) গ্রন্থে অন্যান্যদের সাথে এটিকে দলিল হিসেবে পেশ (محتجاً به) করেছেন।
আর এটি প্রতীয়মান হয় যে, এর হাসান (حسن) মর্যাদা তার শাহেদ বা সাক্ষী বর্ণনাসমূহের (شواهده) কারণে।
তদুপরি ইবনে সাইয়্যিদুন নাস ‘শারহুত তিরমিযি’তে বলেছেন: "ইবনে খুজাইমা একে সহিহ সাব্যস্ত (صححه) করেছেন", যেমনটি ‘তুহফাতুল আহওয়াযি’ (২/৮৯) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
و «عون المعبود»: (2/ 370) ، وكذا قال الشوكاني في «نيل الأَوطار»: (2/ 189).
ولكن لم نر تصحيح ابن خزيمة له في «صحيحه» المطبوع. وإِن أُريد أَنه: صحيح حكماً لشواهده فنعم.
ولهذا قال الشوكاني - رحمه الله تعالى - في «النَّيل» (2/ 189): (ولا شيء في الباب أَصح من حديث وائل المذكور. . .) انتهى.
• وفي مرسل طاووس قال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يضع اليمنى على يده اليسرى ثم يَشُدُّ بهما على صدره وهو في الصلاة).
رواه أَبو داود: (1/ 121 رقم 759) ، وفي «المراسيل» له: (رقم 34) ، وعند البيهقي في «معرفة السنن».
• وعن على رضي الله عنه: ({فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ}: وضع يده اليمنى على وسط ساعده على صدره).
رواه البخاري في «التاريخ الكبير»: (6/ 437) ، وابن جرير في «التفسير»: (11/ 325) ، والدارقطني: (1/ 285) ، وابن أَبي شيبة.
এবং 'আউনুল মাবুদ': (২/৩৭০), অনুরূপভাবে শাওকানি 'নাইলুল আওতার'-এ বলেছেন: (২/১৮৯)।
কিন্তু ইবনে খুজাইমার মুদ্রিত 'সহিহ'-তে আমরা তাঁর পক্ষ থেকে এটিকে সহিহ হিসেবে সাব্যস্ত করার (تصحيح) বিষয়টি দেখিনি। তবে যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে, এর সমর্থক বর্ণনাগুলোর (شواهد) কারণে এটি বিধানগতভাবে (حكماً) সহিহ (صحيح), তবে তা সঠিক।
এ কারণেই শাওকানি -রাহিমাহুল্লাহ তাআলা- 'নাইল'-এ (২/১৮৯) বলেছেন: (আর এই পরিচ্ছেদে উল্লিখিত ওয়ায়েলের হাদিসটির চেয়ে অধিক সহিহ (أصح) আর কিছুই নেই...) সমাপ্ত।
• এবং তাউসের মুরসাল (مرسل) বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাতকে বাম হাতের ওপর রাখতেন, অতঃপর সালাতরত অবস্থায় উভয় হাত দিয়ে বুকের ওপর তা শক্তভাবে বাঁধতেন)।
এটি আবু দাউদ (১/১২১, নং ৭৫৯), এবং তাঁর 'আল-মারাসিল'-এ (নং ৩৪), এবং বাইহাকির 'মা'রিফাতুস সুনান'-এ বর্ণিত হয়েছে।
• আর আলী (রা.) থেকে বর্ণিত: ({সুতরাং আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন}: তিনি তাঁর ডান হাত বাম বাহুর মাঝখানে রেখে বুকের ওপর রাখতেন)।
এটি বুখারি 'আত-তারিখুল কাবির' (৬/৪৩৭), ইবনে জারির 'তাফসির' (১১/৩২৫), দারাকুতনি (১/২৮৫) এবং ইবনে আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وعزاه في «الدرر المنثور»: (8/ 650) لآخرين منهم: البيهقي: (2/ 30).
ولمّا ساق ابن كثير في «تفسيره» (8/ 528) هذا الأَثر قال: (لا يصح، وعن الشعبي مثله) انتهى.
3 - على الصدر للمرأَة، وتحت السرة للرجل: ولا يختلف مذهب الحنفية بأَن محلهما تحت السرة،
ويعللونه بأَنه أَستر للمرأَة. وفي حق الرجل: أَدعى لتعظيم الله سبحانه. 4 - عند الصدر: أَشار إِليها الحافظ ابن حجر - رحمه الله تعالى - في «الفتح»: (2/ 262) في حديث وائل فقال: (وللبزار: عند صدره) انتهى.
5 - تحت الصدر فوق السرة: رواية في مذهب: مالك، والشافعي، وأَحمد - رحمهم الله تعالى - حكاها عنهم الشوكاني في «نيل الأَوطار»: (2/ 189). ورجحها الإِمام النووي في مذهب الشافعي، وقال في «المجموع»: (3/ 313): (وبهذا قال سعيد بن جبير، وداود)
এবং তিনি একে "দুররুল মানসুর" (৮/৬৫০)-এ বায়হাকি (২/৩০) সহ আরও অনেকের প্রতি সম্বন্ধ করেছেন।
ইবনে কাসির যখন তাঁর "তাফসির" (৮/৫২৮)-এ এই বর্ণনা (أثر) উল্লেখ করেন, তখন তিনি বলেন: (এটি বিশুদ্ধ নয় (لا يصح), এবং শাবি থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে) সমাপ্ত।
৩ - নারীর জন্য বুকের ওপর এবং পুরুষের জন্য নাভির নিচে: হানাফি মাযহাবে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, উভয়ের (হাতের) অবস্থান নাভির নিচে,
এবং তাঁরা এর কারণ দর্শান যে, এটি নারীর জন্য অধিকতর আবরণকারী। আর পুরুষের ক্ষেত্রে: এটি মহান আল্লাহর প্রতি অধিক সম্মান প্রদর্শনের পরিচায়ক। ৪ - বুকের নিকটবর্তী স্থানে: হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) "আল-ফাতহ" (২/২৬২)-এ ওয়াইল-এর হাদিসে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং বলেছেন: (বাযযারের বর্ণনায় রয়েছে: তাঁর বুকের নিকটে) সমাপ্ত।
৫ - বুকের নিচে এবং নাভির ওপরে: এটি মালিকি, শাফেয়ি এবং হাম্বলি (রাহিমাহুমুল্লাহ) মাযহাবের একটি বর্ণনা (رواية), যা শাওকানি "নাইলুল আওতার" (২/১৮৯)-এ তাঁদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী শাফেয়ি মাযহাবে এটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং "আল-মাজমু" (৩/৩১৩)-তে বলেছেন: (সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং দাউদও এই মত ব্যক্ত করেছেন)
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
انتهى.
6 - فوق السُّرَّة: في رواية عن الإِمام أَحمد - رحمه الله تعالى -. قال ابن القيم - رحمه الله تعالى - في «بدائع الفوائد» (3/ 91): (واختلف في موضع الوضع: فعنه: فوق السرة.
وعنه: تحتها، وعنه: أَبو طالب، سأَلت أَحمد: أَين يضع يده إِذا كان يُصلي؟ قال: على السُّرة، أَو أَسفل، وكل ذلك واسع عنده، وإِن وضع فوق السرة، أَو عليها، أَو تحتها) انتهى.
ونحوه في: «المغني»: (1/ 514 - 515).
وقال ابن عبد البر - رحمه الله تعالى - في «التمهيد» (20/ 75): (وقال أَحمد بن حنبل: فوق السرة، وهو قول سعيد بن جبير، وقال أَحمد بن حنبل: وإِن كان تحت السرة فلا بأْس به) انتهى.
والأَثر عن سعيد رواه البيهقي (2/ 31) بسندٍ ضعيف. وقد جاءت به الرواية عن علي رضي الله عنه في رواية ابن جرير الضبي عن أَبيه، قال: (رأَيت علياً رضي الله عنه يمسك شماله بيمينه على الرُّسْغِ فوق السُّرَّة».
সমাপ্ত।
৬ - নাভির উপরে: ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية) এমনটি এসেছে। ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ‘বাদায়িউল ফাওয়াইদ’ (৩/৯১) গ্রন্থে বলেন: (হাত রাখার স্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে: তাঁর থেকে একটি বর্ণনায় এসেছে: নাভির উপরে।
এবং তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য বর্ণনায় রয়েছে: নাভির নিচে। আবু তালিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আহমাদকে জিজ্ঞেস করলাম: সালাত আদায় করার সময় তিনি হাত কোথায় রাখবেন? তিনি বললেন: নাভির ওপর অথবা নিচে; তাঁর নিকট এই সবকটিই প্রশস্ত। আর যদি তিনি নাভির উপরে, অথবা নাভির ওপর, কিংবা নাভির নিচে হাত রাখেন [তাতেও কোনো অসুবিধা নেই]) সমাপ্ত।
অনুরূপ বর্ণনা ‘আল-মুগনী’ (১/৫১৪-৫১৫) গ্রন্থেও রয়েছে।
ইবনু আবদিল বার (রহিমাহুল্লাহ) ‘আত-তামহীদ’ (২০/৭৫) গ্রন্থে বলেন: (আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেছেন: নাভির উপরে; আর এটি সাঈদ ইবনু জুবাইরেরও অভিমত। আহমাদ ইবনু হাম্বল আরও বলেছেন: যদি নাভির নিচেও রাখা হয়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই) সমাপ্ত।
সাঈদ থেকে বর্ণিত এই আসারটি (أثر) বায়হাকী (২/৩১) একটি দুর্বল (ضعيف) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন। আর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ইবনু জারীর আদ-দাব্বীর তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত বর্ণনায় (رواية) এসেছে, তিনি বলেন: (আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছি, তিনি নাভির উপরে কবজির ওপর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরে আছেন)।
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رواه البيهقي: (2/ 130) وحسّنه وعلقه البخاري مختصراً، مجزوماً به (1/ 301).
ولما ذكر ابن قدامة - رحمه الله تعالى - الرواية عن أَحمد - رحمه الله تعالى - بوضعهما فوق السرة، قال في
الاستدلال له: «لما روى وائل بن حُجْر قال: رأَيت النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يُصلي فوضع يديه على صدره. . .». فظاهر أَن مراده من هذه الرواية القول بوضعهما على الصدر، والله أَعلم.
7 - تحت السُّرَّة: مذهب الحنفية في حق الرجال بلا خوف في المذهب. كما في «فتح القدير» لابن الهمام: (1/ 249 - 250) ، و «فتح الغفور» للسندي: (ص / 61 - 64). وهو رواية عن الشافعي «تحفة الأَحوذي»: (2/ 83) ، وأَحمد كما تقدم نقله من «البدائع» لابن القيم، وهي المذهب كما في: «الإِنصاف»: (2/ 46). وقال ابن عبد البر في «التمهيد» (20/ 75): (وقال الثوري: وأَبو حنيفة، وإِسحاق: أَسفل السرة، ورُوي ذلك عن: علي، وأَبي هريرة، والنخعي، ولا يثبت ذلك عنهم، وهو قول أَبي مجلز) انتهى. وقول أَبي مجلز، رواه ابن أَبي شيبة: (1/ 390 - 391) ،
বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন: (২/ ১৩০) এবং একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং ইমাম বুখারি এটি সংক্ষিপ্তাকারে ও সুনিশ্চিতভাবে (مجزوماً به) তা'লিক (تعليق) হিসেবে উল্লেখ করেছেন (১/ ৩০১)।
আর ইবনে কুদামা -রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা- যখন ইমাম আহমদ -রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা- থেকে নাভির উপরে উভয় হাত রাখার বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করতে গিয়ে বলেছেন:
«যেহেতু ওয়ায়েল ইবনে হুজর বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাজ পড়তে দেখেছি, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর উভয় হাত বুকের ওপর রেখেছিলেন...»। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, এই বর্ণনা (رواية) থেকে তাঁর উদ্দেশ্য হলো বুকের ওপর হাত রাখার স্বপক্ষে মত প্রদান করা, আল্লাহই ভালো জানেন।
৭ - নাভির নিচে: এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে হানাফি মাযহাবের স্বীকৃত অভিমত। যেমনটি ইবনুল হুমামের 'ফাতহুল কাদির': (১/ ২৪৯-২৫০) এবং সিন্ধির 'ফাতহুল গফুর': (পৃষ্ঠা/ ৬১-৬৪)-এ রয়েছে। এটি ইমাম শাফেয়ি থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية), যা 'তুহফাতুল আহওয়াযি': (২/ ৮৩)-তে রয়েছে এবং ইমাম আহমদ থেকেও বর্ণিত যেমনটি পূর্বে ইবনুল কাইয়্যিমের 'বাদায়িউল ফাওয়াইদ' থেকে উদ্ধৃত হয়েছে; আর এটিই মাযহাবের সিদ্ধান্ত যেমনটি 'আল-ইনসাফ': (২/ ৪৬)-এ বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আবদুল বার 'আত-তামহিদ' (২০/ ৭৫) গ্রন্থে বলেছেন: (সুফিয়ান সাওরি, আবু হানিফা এবং ইসহাক বলেছেন: নাভির নিচে। এটি আলী, আবু হুরায়রা ও নাখয়ি থেকেও বর্ণনা (رُوي) করা হয়েছে, তবে তাঁদের থেকে এটি প্রমাণিত (يثبت) নয়; বরং এটি আবু মিজলাযের উক্তি) সমাপ্ত। আবু মিজলাযের উক্তিটি ইবনে আবি শায়বা বর্ণনা করেছেন: (১/ ৩৯০-৩৯১),
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والبيهقي: (2/ 31) (1).
وأَثر النخعي رواه ابن أَبي شيبة: (1/ 390) ، ومحمد بن الحسن في «الآثار»: (ص / 25).
• الأَدلة:
• عن علي رضي الله عنه قال: «إِن من السنة في الصلاة وضع الأَكف على الأَكف تحت السرة».
رواه أَحمد: (1/ 110) ، وأَبو داود: (1/ 480) ، وابن أَبي شيبة: (1/ 391) ، والدارقطني: (1/ 286) ، وابن عبد البر في «التمهيد»: (20/ 77) ، والبيهقي في «معرفة السنن والآثار» ، وساقه المجد في «المنتقى»: (2/ 188 مع النيل).
وجميع أَسانيده عندهم تدور على: عبد الرحمن بن إِسحاق الواسطي، اتفقوا على تضعيفه، كما في «نصب الراية»: (1/ 314) نقلاً عن النووي - رحمه الله تعالى - وفيه قال البيهقي: (لا يثبت إِسناده، تفرد به عبد الرحمن بن إِسحاق الواسطي، وهو متروك).
وقال العلامة العيني الحنفي - رحمه الله تعالى - في «عمدة القاري» (5/ 279):
--------------------------------------------
এবং বায়হাকি: (২/ ৩১) (১)।
এবং নাখয়ি-র উক্তি (أثر) ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন: (১/ ৩৯০), এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ‘আল-আসার’-এ: (পৃষ্ঠা / ২৫)।
• প্রমাণসমূহ:
• আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই নামাজের সুন্নত হলো নাভির নিচে হাতের তালুর ওপর হাতের তালু রাখা»।
এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ: (১/ ১১০), আবু দাউদ: (১/ ৪৮০), ইবনে আবি শায়বাহ: (১/ ৩৯১), দারাকুতনি: (১/ ২৮৬), ইবনে আবদিল বার ‘আত-তামহিদ’-এ: (২০/ ৭৭), বায়হাকি ‘মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার’-এ, এবং মাজদ এটি ‘আল-মুন্তাকা’-তে উদ্ধৃত করেছেন: (২/ ১৮৮, নীলুল আওতার সহ)।
আর তাদের নিকট এর সকল সনদ (إسناد) আব্দুর রহমান বিন ইসহাক আল-ওয়াসিতির ওপর আবর্তিত। তারা তাকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যেমনটি ইমাম আন-নাবাউয়ি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) থেকে উদ্ধৃত করে ‘নাসবুর রায়া’-তে (১/ ৩১৪) বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বায়হাকি বলেছেন: (এর সনদ (إسناد) প্রমাণিত নয়, এটি এককভাবে (تفرد) আব্দুর রহমান বিন ইসহাক আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি পরিত্যক্ত (متروك))।
এবং আল্লামা আইনি আল-হানাফি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) ‘উমদাতুল কারি’ (৫/ ২৭৯)-তে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(هذا قول علي بن أَبي طالب وإِسناده إِلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غير صحيح).
• عن أَبي هريرة رضي الله عنه: «وضع الكف على الكف في الصلاة تحت السرة من السنة».
رواه أَبو داود: (1/ 481) ، وابن حزم معلقاً: (4/ 157). وفيه: عبد الرحمن بن إِسحاق الواسطي الكوفي المذكور، وهو ضعيف باتفاقهم.
• عن أَنس رضي الله عنه: «من أَخلاق النبوة وضع اليمين على الشمال تحت السرة». ذكره ابن حزم معلقاً في «المحلى»: (4/ 157) ولم يوجد له إِسناد، كما في «تحفة الأَحوذي»: (2/ 88) ، وانظر: «فتح الغفور»: (ص 57 - 66).
• تنبيه: عزا الشيخ قاسم بن قُطْلُوبغا، المتوفى سنة 879هـ - رحمه الله تعالى - في «تخريج أَحاديث الاختيار شرح المختار»: إِلى «مصنف ابن أَبي شيبة»: حديث وائل بن حجر رضي الله عنه بلفظ: «رأَيت النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم وضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة».
(এটি আলী বিন আবু তালিবের বক্তব্য এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এর সূত্রপরম্পরা (إسناد) সহিহ নয় (غير صحيح))।
• আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: «সালাতে নাভির নিচে হাতের তালুর ওপর হাতের তালু রাখা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত»।
এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ: (১/ ৪৮১) এবং ইবনে হাজম এটি মুয়াল্লাক (معلقاً) হিসেবে উল্লেখ করেছেন: (৪/ ১৫৭)। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে উল্লিখিত আবদুর রহমান বিন ইসহাক আল-ওয়াসিতি আল-কুফি রয়েছেন, আর তিনি তাঁদের সর্বসম্মতিক্রমে দুর্বল (ضعيف)।
• আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: «নাভির নিচে বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা নবুওয়াতের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত»। ইবনে হাজম এটি 'আল-মুহাল্লা' গ্রন্থে মুয়াল্লাক (معلقاً) হিসেবে উল্লেখ করেছেন: (৪/ ১৫৭) এবং এর কোনো সূত্রপরম্পরা (إسناد) পাওয়া যায়নি, যেমনটি 'তুহফাতুল আহওয়াযি' (২/ ৮৮) গ্রন্থে রয়েছে; আরও দেখুন: 'ফাতহুল গফুর': (পৃষ্ঠা ৫৭ - ৬৬)।
• সতর্কীকরণ: ৮৭৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শায়খ কাসেম বিন কুতলুবুগা - রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা - 'তাখরিজ আহাদিস আল-ইখতিয়ার শারহুল মুখতার' গ্রন্থে 'মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ'-এর উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়ায়েল বিন হুজর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সালাতে নাভির নিচে বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখতে দেখেছি»।
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد حقق السندي في «فتح الغفور»: (ص 35 - 48) خلو المصنَّف من هذه الزيادة: «تحت السرة» ، وأَن علماء
الحنفية قبل الشيخ قاسم، لم يذكروا هذه اللفظة لمذهبهم؛ بل إِن عصريه ابن أَمير الحاج المتوفى سنة 879هـ يقول في «شرح مُنْيَة المصلي»: (إِن الثابت من السنة وضع اليمين على الشمال، ولم يثبت حديث يوجب تعيين المحل الذي يكون فيه الوضع من البدن إِلا حديث وائل المذكور) انتهى.
وكذا قال ابن نجيم المتوفى سنة 970هـ في «البحر الرائق»: (1/ 303) ومرادهما لفظ: «صدره» فإِنها لم يذكرا هذه الزيادة «تحت السرة» في حديث وائل.
8 - الإِرسال: وهو المشهور في مذهب المالكية، على خلاف نص الإِمام مالك - رحمه الله تعالى - على مشروعية القبض.
وهو مروي عن ابن الزبير، والحسن البصري، والنخعي، كما في «التمهيد»: (20/ 76) ثم قال: (وليس هذا بخلاف؛ لأَن الخلاف كراهية ذلك، وقد يرسل العالم يديه ليرى الناس أَن ليس بحكم واجب. . . ثم
আস-সিন্দি 'ফাতহুল গফুর' গ্রন্থে (পৃ. ৩৫ - ৪৮) এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, 'মুসান্নাফ' গ্রন্থটি এই অতিরিক্ত (الزيادة) অংশ অর্থাৎ "নাভির নিচে" (تحت السرة) থেকে মুক্ত। আর উলামাগণ
হানাফি মাযহাবের শাইখ কাসিমের পূর্ববর্তীগণ তাদের মাযহাবের সপক্ষে এই শব্দটির উল্লেখ করেননি; বরং তাঁর সমসাময়িক ইবনে আমির আল-হাজ (মৃত্যু ৮৭৯ হিজরি) 'শারহু মুনইয়াতিল মুসাল্লি' গ্রন্থে বলেন: (সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত বিষয়টি হলো ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখা, আর শরীরের সুনির্দিষ্ট কোনো স্থানে তা রাখার বিষয়ে কোনো হাদিস সাব্যস্ত (ثبت) হয়নি—উল্লিখিত ওয়াইলের হাদিস ব্যতীত।) সমাপ্ত।
একইভাবে ইবনে নুজাইম (মৃত্যু ৯৭০ হিজরি) 'আল-বাহরুর রায়িক' গ্রন্থে (১/৩০৩) বলেছেন। তাঁদের উভয়ের উদ্দেশ্য হলো "তাঁর বক্ষ" (صدره) শব্দটি; কেননা তাঁরা ওয়াইলের হাদিসে "নাভির নিচে" (تحت السرة) নামক এই অতিরিক্ত (الزيادة) অংশটি উল্লেখ করেননি।
৮ - হাত ছেড়ে রাখা (الإرسال): আর এটি মালিকি মাযহাবের প্রসিদ্ধ (المشهور) মত, যা হাত বাঁধার (القبض) বৈধতার ব্যাপারে ইমাম মালিক (রহ.)-এর সুস্পষ্ট বক্তব্যের পরিপন্থী।
এটি ইবনে আয-যুবায়ের, হাসান আল-বাসরি এবং নাখয়ী থেকে বর্ণিত (مروي), যেমনটি 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে (২০/৭৬) রয়েছে। এরপর তিনি বলেন: (এটি কোনো বিরোধ নয়; কারণ বিরোধটি হলো এটি অপছন্দনীয় (كراهية) হওয়ার বিষয়ে। কোনো আলেম হয়তো হাত ছেড়ে দিয়ে থাকেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে এটি কোনো ওয়াজিব (واجب) বিধান নয়... এরপর...
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال: والحجة في السنة لمن اتبعها، ومن خالفها فهو محجوج
بها ولاسيما سنة لم يثبت واحد من الصحابة خلافها) انتهى.
وأَلَّف علماء المالكية كثيراً في إِثبات شرعية الإِرسال، وأُخرى في نقضه، ومن نظر في المثبتة للإِرسال؛ علم منها عدم الحجة، وأَن السنة القبض.
ولهذا قال السندي - رحمه الله تعالى - في «فتح الغفور» (ص / 60): (والحق أَنه لم يرد حديث صحيح في إِرسال اليدين في الصلاة) انتهى.
9 - التخيير بين الوضع والإِرسال: رواية لدى المالكية، وقيل: القبض رخصة في النفل خاصة، وَنُقل التخيير عن الأَوزاعي، وعطاء. وانظر: «التمهيد»: (2/ 75) ، و «نيل الأَوطار»: (2/ 186).
10 - التخيير فوق السرة أَو عليها أَو تحتها: مضى النقل في ذلك عن الإِمام أَحمد - رحمه الله تعالى - في القول السادس، ونص عليه في: «المغني»: (1/ 515) ، و «الإِنصاف»: (2/ 46).
قال ابن المنذر - رحمه الله تعالى - كما في «نيل الأَوطار»
তিনি বলেন: "সুন্নাহর অনুসরণকারীর জন্য এটি একটি দলিল (حجة), আর যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে, তার বিরুদ্ধে এটি দলিল হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে এমন সুন্নাহ যার বিপরীতে কোনো একজন সাহাবীর অবস্থানও প্রমাণিত (ثابت) হয়নি।" সমাপ্ত।
মালিকি মাজহাবের উলামায়ে কেরাম হাত ছেড়ে নামাজ পড়ার (إرسال) বৈধতা প্রমাণের সপক্ষে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ এর খণ্ডনেও লিখেছেন। তবে যারা হাত ছেড়ে দেওয়ার (إرسال) সপক্ষে লিখিত দলিলগুলো লক্ষ্য করবেন, তারা জানতে পারবেন যে এতে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল (حجة) নেই এবং হাত বাঁধা (قبض)-ই হলো সুন্নাহ।
এই কারণেই সিন্ধি -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- তাঁর 'ফাতহুল গাফুর' (পৃষ্ঠা: ৬০) গ্রন্থে বলেছেন: "সত্য কথা এই যে, নামাজে হাত ছেড়ে দেওয়ার (إرسال) ব্যাপারে কোনো সহিহ (صحيح) হাদিস বর্ণিত হয়নি।" সমাপ্ত।
৯ - হাত রাখা এবং ছেড়ে দেওয়ার (إرسال) মধ্যে ঐচ্ছিকতা: এটি মালিকি মাজহাবের একটি বর্ণনা (رواية)। আরও বলা হয়েছে যে, হাত বাঁধা (قبض) কেবল নফল নামাজের জন্য একটি অবকাশ (رخصة)। ইমাম আওযায়ি এবং আতা থেকেও এই ঐচ্ছিকতার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: 'আত-তামহিদ': (২/৭৫) এবং 'নাইলুল আওতার': (২/১৮৬)।
১০ - নাভির উপরে, নাভির ওপর অথবা নাভির নিচে হাত রাখার মধ্যে ঐচ্ছিকতা: ইমাম আহমাদ -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- থেকে ষষ্ঠ মত হিসেবে এ সংক্রান্ত বর্ণনা আগে অতিবাহিত হয়েছে। এ বিষয়টি 'আল-মুগনি': (১/৫১৫) এবং 'আল-ইনসাফ': (২/৪৬) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
ইবনুল মুনযির -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- যেমনটি 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থে বলেছেন-
(খণ্ড: ১)
লা জাদিদা ফি আহকামিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
(2/ 189): (لم يثبت عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في ذلك شيء فهو مخير) انتهى. ونحوه لابن القيم - رحمه الله تعالى - كما في «حاشية الروض» لابن قاسم: (2/ 21) ونسبه لمالك - رحمه الله تعالى -.
وقال الترمذي - رحمه الله تعالى - في «سننه» (2/ 82 تحفة) بعد سياق حديث وائل في الموضع: (والعمل على هذا عند أَهل العلم من أَصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والتابعين ومن بعدهم، يرون أَن يضع الرجل يمينه على شماله في الصلاة، ورأَى بعضهم: أَن يضعها فوق السرة، ورأَى بعضهم: أَن يضعها تحت السرة، وكل ذلك واسع عندهم) انتهى. تلك عشر كاملة، ويمكن إِرجاع الأَول والثالث في حق المرأَة، والسادس إِلى الثاني، وإِرجاع الرابع والخامس إِلى السادس، وإِرجاع التاسع إِلى الثامن، فتكون الأَقوال ثلاثة:
1 - على الصدر، ومنه: عند صدره. تحت صدره. فوق السرة.
2 - تحت السرة.
3 - التخيير وهو على أَنواع.
• النتيجة: من هذا العرض يتبيَّن أَنه لا يثبت حديث مرفوع في محل
(২/ ১৮৯): (এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো কিছু সাব্যস্ত (ثبت) হয়নি, তাই তিনি ইখতিয়ারপ্রাপ্ত) সমাপ্ত। ইবনুল কাইয়্যিম - রহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি - থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি ইবনে কাসিমের ‘হাশিয়াতুর রওদ’ (২/ ২১)-এ রয়েছে এবং তিনি একে ইমাম মালেক - রহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি - এর প্রতি সম্বন্ধ করেছেন।
ইমাম তিরমিজি - রহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি - তাঁর ‘সুনান’ (২/ ৮২ তুহফা)-এ সংশ্লিষ্ট স্থানে ওয়াইল (রা.)-এর হাদিস বর্ণনার পর বলেছেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, তাবেয়ীন এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমদের নিকট আমল এর ওপরই। তাঁরা মনে করেন যে, নামাজে ব্যক্তি তার ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখবে। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন: নাভির ওপরে রাখবে, আবার কেউ কেউ মনে করেন: নাভির নিচে রাখবে। তাঁদের নিকট এই সবগুলোরই প্রশস্ততা রয়েছে) সমাপ্ত। এই হলো পূর্ণ দশটি বিষয়। নারী সংক্রান্ত ক্ষেত্রে প্রথম ও তৃতীয়টিকে এবং ষষ্ঠটিকে দ্বিতীয়টির দিকে, চতুর্থ ও পঞ্চমটিকে ষষ্ঠটির দিকে এবং নবমটিকে অষ্টমটির দিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ফলে বক্তব্য তিনটি দাঁড়ায়:
১ - বুকের ওপর; এর অন্তর্ভুক্ত হলো: বুকের কাছে, বুকের নিচে এবং নাভির ওপরে।
২ - নাভির নিচে।
৩ - ইখতিয়ার বা পছন্দ করার অবকাশ থাকা, যা কয়েক প্রকার।
• ফলাফল: এই উপস্থাপনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, [হাত বাঁধার] স্থানের ব্যাপারে কোনো মারফু (مرفوع) হাদিস সাব্যস্ত (ثبت) হয়নি।