(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: -)
مقدمة ابن الصلاح ومحاسن الاصطلاح   (سراج الدين البلقيني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: مقدمة ابن الصلاح ومحاسن الاصطلاح

مؤلف «علوم الحديث»: عثمان بن الصلاح عبدالرحمن بن موسى بن أبي النصر الشافعي (577 هـ - 643 هـ).

مؤلف «محاسن الاصطلاح»: عمر بن رسلان بن نصير بن صالح الكناني، العسقلاني الأصل، ثم البلقيني المصري الشافعيّ، أبو حفص، سراج الدين (ت 805هـ).

المحقق: د عائشة عبد الرحمن (بنت الشاطئ) أستاذ الدراسات العليا، كلية الشريعة بفاس، جامعة القرووين.

الناشر: دار المعارف.

عدد الصفحات: 952

تنبيه: تم تصحيح الأخطاء المطبعية من تصحيف أو تحريف أو سقط أو غيره بالرجوع إلى المستدرك في آخر الكتاب ولم أنبه على ذلك فليحرر

وأما غيرها من الأخطاء فرمزت لها بالرمز (ت. ع) ووضعتها بين معكوفتين هكذا []. والله أعلم بالصواب في كل ذلك.

أدخله إلى الشاملة، وقام بموافقته على المطبوع/ أبو محمد الناصر السلفي، سائلاً كل من قرأ هذا الكتاب أو انتفع به أن يدعو لمؤلفه ثم محققه ثم لي بدعوة صالحة بظهر الغيب، والحمد لله أولاً وآخراً.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ربيع الأول 1432

মুকাদ্দিমাহ ইবনেস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইস্তিলাহ   (সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: মুকাদ্দিমাহ ইবনেস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইস্তিলাহ

«উলূমুল হাদিস»-এর লেখক «علوم الحديث»: উসমান বিন আল-সালাহ আব্দুর রহমান বিন মুসা বিন আবি আল-নাসর আল-শাফিঈ (৫৭৭ হিজরি - ৬৪৩ হিজরি).

«মাহাসিনুল ইস্তিলাহ»-এর লেখক «محاسن الاصطلاح»: উমর বিন রুসলান বিন নুসাইর বিন সালিহ আল-কিনানী, মূলে আসকালানী, অতঃপর আল-বুলকিনী আল-মিসরী আল-শাফিঈ, আবু হাফস, সিরাজুদ্দীন (মৃত্যু ৮০৫ হিজরি).

সম্পাদক: ড. আয়েশা আব্দুর রহমান (বিনতুশ শাতি) উচ্চতর গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক, শরীয়া অনুষদ, ফেস, আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশক: দারুল মাআরিফ।

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫২

সতর্কবার্তা: লিপিবিভ্রাট (تصحيف), বিকৃতি (تحريف), বিলুপ্তি (سقط) বা অন্যান্য মুদ্রণজনিত ভুলগুলো বইয়ের শেষে থাকা পরিশিষ্টের (المستدرك) সাহায্য নিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। আমি আলাদাভাবে সেগুলোর প্রতি নির্দেশ করিনি, যাতে তা পাঠযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন থাকে।

অন্যান্য ত্রুটির ক্ষেত্রে আমি (ত. আ.) সংকেত ব্যবহার করেছি এবং সেগুলোকে এভাবে থার্ড ব্র্যাকেটের [ ] মধ্যে রেখেছি। আল্লাহ তাআলাই এই সব বিষয়ে সত্য সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।

গ্রন্থটি আল-শামেলায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন আবু মুহাম্মাদ আল-নাসির আল-সালাফী। তিনি এই কিতাবের পাঠক বা এর দ্বারা উপকৃত হওয়া প্রত্যেকের কাছে আবেদন করেছেন যেন তারা লেখকের জন্য, এরপর সম্পাদকের জন্য এবং পরিশেষে তার নিজের জন্য অগোচরে নেক দুআ করেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আদিতে ও অন্তে।

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১)
ذخائر العرب 64:

 

مُقَدِّمَة ابْن الصَّلاح ومَحَاسِنُ الاصْطِلاح.

طبعة جديدة مُحَرَّرة.

 

د. عَائِشَةَ عَبْدالرَّحْمَن

(بنت الشَّاطِئ)

أستاذ الدراسات العليا

كلية الشريعة بفاس: جامعة القرويين.

 

دار المعارف.
জাখাইর আল-আরব ৬৪:

 

মুকাদ্দিমাহ ইবনে আস-সালাহ ও মাহাসিনুল ইসতিলাহ।

নতুন পরিমার্জিত সংস্করণ।

 

ড. আয়েশা আবদুর রহমান

(বিনতুশ শাতি)

উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক

ফেজ শরীয়াহ অনুষদ: আল-কারাওইয়্যিন বিশ্ববিদ্যালয়।

 

দারুল মাআরিফ।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২)
الناشر: دار المعارف - 1119 كورنيش النيل - القاهرة ج. م. ع
প্রকাশক: দার আল-মাআরিফ - ১১১৯ কর্নিশ আল-নীল - কায়রো, মিশর আরব প্রজাতন্ত্র।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

" إِنَّا للهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعونَ "

 

الإهداء

 

إلى مَن أعزَّني اللهُ تعالى بهِ أباً تقيَّاً زكِيَّاً ومعلماً مرشداً ورائداً ملهماً وإماماً مهيباً قدوة: فضيلة والدي العارف بالله العالم العامل: " الشيخ محمد علي عبد الرحمن الحسيني "

 

نذرني رضي الله عنه لعلوم الإِسلام، ووجهني من المهد إلى المدرسة الإسلامية، وقاد خُطاي الأولى على الطريق السوِيّ، يحصنني بمناعة تحمي فطرتي من ذرائع المسخ والتشويه.

وإلى أمي " السيدة فريدة عبد السلام منتصر " والجنة تحت أقدامها.

وإلى شيخي الإمام الجليل الأصولي: " الأستاذ أمين الخولي ".

الذي أدين له بتأصيل المنهج وترسيخ جذوري في المدرسة الإسلامية، وما علمني من أصول مناهجها وذخائر تراثها، ما أحقق به وجودي العلمي.

وإلى ابنتي الغالية، فقيدة العلم والشباب " الدكتورة أمين أمين الخولي " تفانت في طلب العلم، بذلاً وإِيماناً ومجاهدة وتجلت لها في دراستها العليا للرياضيات بجامعة فيينا آيات القدرة الإلهية، وكانت المثال الأصيل النبيل لطالبة علم مصرية مسلمة، عربية.

سلام عليكم في جوار الله تعالى.

مع الصديقين والشهداء " وحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا ".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

"নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।"

 

উৎসর্গ

 

যাঁর মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করেছেন—একজন তাকওয়াবান ও পবিত্র পিতা, একজন পথপ্রদর্শক শিক্ষক, একজন অনুপ্রেরণাদায়ী অগ্রপথিক এবং একজন মহিমান্বিত অনুকরণীয় ইমাম: আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা, আরেফ বিল্লাহ, আমলকারী আলিম (العالم العامل): "শাইখ মুহাম্মদ আলী আব্দুর রহমান আল-হুসাইনি"

 

তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—আমাকে ইসলামের জ্ঞানসমূহের জন্য নিবেদিত করেছিলেন এবং দোলনা থেকেই আমাকে ইসলামী জ্ঞানধারার দিকে পরিচালিত করেছিলেন; আর সঠিক পথে আমার প্রথম পদক্ষেপগুলো পরিচালনা করেছিলেন, আমাকে এমন এক সুরক্ষা দিয়ে সুদৃঢ় করেছিলেন যা আমার স্বভাবজাত প্রবৃত্তিকে (فطرة) বিকৃতি ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করে।

এবং আমার মা "সায়্যিদা ফারিদা আব্দুস সালাম মুনতাসির"-এর প্রতি, যাঁর পায়ের নিচে জান্নাত রয়েছে।

এবং আমার উস্তাদ, মহান ইমাম, মূলনীতিবিদ (أصولي): "অধ্যাপক আমিন আল-খুলি"-র প্রতি।

যাঁর কাছে আমি পদ্ধতির বুনিয়াদ নির্মাণ এবং ইসলামী জ্ঞানধারায় আমার শিকড় দৃঢ় করার জন্য ঋণী; তিনি আমাকে এর পদ্ধতির মূলনীতি (أصول) ও ঐতিহ্যের (تراث) এমন সব অমূল্য সম্পদ শিক্ষা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে আমি আমার জ্ঞানতাত্ত্বিক অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি।

এবং আমার প্রিয়তমা কন্যা, জ্ঞান ও যৌবনের অকালপ্রয়াত হারানো রত্ন "ডক্টরাহ আমিন আমিন আল-খুলি"-র প্রতি; যিনি ইলম অন্বেষণে ত্যাগ, বিশ্বাস ও কঠোর সাধনার (مجاهدة) মাধ্যমে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন এবং ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতশাস্ত্রে উচ্চতর গবেষণার সময় যাঁর কাছে মহান আল্লাহর কুদরত ও ক্ষমতার নিদর্শনসমূহ প্রতিভাত হয়েছিল; তিনি ছিলেন একজন মিশরীয়, মুসলিম ও আরব নারী জ্ঞানান্বেষীর এক একনিষ্ঠ ও মহৎ দৃষ্টান্ত।

মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

সত্যনিষ্ঠ (صديقين) ও শহিদদের (شهداء) সাথে, "আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না উত্তম!"
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بياض بالأصل.
মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান (بياض)।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

باسم الله، والحمد لله، والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم رسل الله، وعلى آله وصحبه أجمعين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.

 

" اللهمَّ يَسِّرْ وأَعِن ".

 

‌‌هذه الطبعة:

 

ظهرت الطبعة الأولى مِن (مقدمة ابن الصلاح ومحاسن الاصطلاح) من مركز تحقيق التراث بدار الكتب القومية بالقاهرة، سنة (1394 هـ: 1974 م) بعد أن استغرق طبعها في مطبعة الدار أكثر من خمس سنوات، في ظروف صعبة. فخرجت الطبعة مشوبة بأوهام وأخطاء وتصحيفاتٍ حاولتُ استدراك ما تنبه إليه منها وقتئذ، في ملحق بالطبعة لم يخل من وهم وخطأ وتصحيف، فضلاً عما فاتني من قصور في منهج التحقيق والتوثيق. وبلغ بي الضيق بذلك أن تمنيت على الله عز وجل، أن ييسر لي قبل الرحيل، إعداد طبعة جديدة محررة متقنة. واستجاب الله لدعائي، له الحمد والمنّة، فعكفت على إنجاز هذه الطبعة المحررة، قدر ما وسع الجهد وأسعفت الوسائل.

لم يكن الأمر، كما في الطبعة الأولى، مجرد إخراج متن من (المقدمة والمحاسن) من أصول لهما موثقة. فكل منهما قد قرئ على مصنفه ووثقه بخطه. وقد ظل أولهما بوجه خاص، مشغلة علماء الحديث من عصر ابن الصلاح فما بعده، بحيث يمكن لأهل الاختصاص التنبه إلى ما قد يقع في طبعاته، وقد تعددت، من أخطاء وأوهام.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

আল্লাহর নামে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি আল্লাহর রাসূলগণের শেষ প্রতিনিধি, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর।

 

"হে আল্লাহ, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।"

 

‌‌এই সংস্করণ:

 

১৩৯৪ হিজরি (১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ) সালে কায়রোর দারুল কুতুব আল-কওমিয়ার ঐতিহ্য গবেষণা কেন্দ্র থেকে (মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইস্তিলাহ)-এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ছাপাখানায় এটি মুদ্রণ করতে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল। ফলে সেই সংস্করণটি কিছু সংশয়, ভুল এবং শব্দের বিকৃতি (تصحيف) সম্বলিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল; সেই সময় যে বিষয়গুলো নজরে এসেছিল আমি একটি পরিশিষ্টের মাধ্যমে তা সংশোধনের চেষ্টা করেছিলাম, যদিও সেই পরিশিষ্টটিও সংশয়, ভুল ও শব্দের বিকৃতি (تصحيف) থেকে মুক্ত ছিল না। এ ছাড়া পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) ও প্রামাণ্যিকরণ (توثيق) পদ্ধতিতে আমার যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছিল তা তো ছিলই। এর ফলে আমি এতটাই ব্যথিত হয়েছিলাম যে, মহান আল্লাহর কাছে এই কামনা করেছিলাম যেন তিনি আমাকে পৃথিবী থেকে বিদায়ের পূর্বে একটি পরিমার্জিত ও নিখুঁত নতুন সংস্করণ প্রস্তুত করার তাওফিক দান করেন। আল্লাহ আমার দুআ কবুল করেছেন, তাঁরই সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ। তাই আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এবং লভ্য উপকরণের সাহায্যে এই পরিমার্জিত সংস্করণটি সম্পন্ন করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছি।

প্রথম সংস্করণের মতো বিষয়টি কেবল (মুকাদ্দিমাহ এবং মাহাসিন)-এর মূল পাঠ (متن) তাদের নির্ভরযোগ্য (موثقة) মূল উৎসসমূহ থেকে বের করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কারণ এ দুটির প্রতিটিই তাদের গ্রন্থকারের সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি নিজ হাতে তা সত্যায়ন (وثقه) করেছেন। বিশেষ করে প্রথম গ্রন্থটি ইবনুস সালাহর যুগ থেকে পরবর্তী সময়ের হাদিস বিশারদদের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে; ফলে এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এর বিভিন্ন সংস্করণে—যা সংখ্যায় অনেক—ঘটে যাওয়া ভুল ও সংশয়গুলো সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
بل الأمر فيما ينبغي لتوثيق المتن، من مقابلة كل ما فيه من نقول على أصولها في الكتب التي نقل منها المصنف، صرَّح بأسمائها أو أبهم. واقتضى هذا وجوب البدء أولاً بجمع ما وصل إلينا من الكتب المصرح بها في نقول ابن الصلاح والسراج البلقيني، ومنها نوادر غير متداولة، ما بين مطبوع ومخطوط .. والمطبوع قلما يخلو من تصحيف وخلل ووهم، والمخطوطات لا تسلم من طمس وتآكل وخرم، وغالباً ما تكون كلماتها غير منقوطة، ومتونها خالية من الفواصل وعلامات الترقيم، وقد تكون على هوامشها إضافات دون علامة لمخارجها، تميز ما هو منها لحق لسقطٍ من المتن، وما هو من الحواشي عليه، للمصنف أو لغيره.

 

وكشفت المقابلة للنقول في (المقدمة والمحاسن) على ما تيسر لي من مصادرها، عن مواضع غير قليلة من الإِدراج والسقط والوهم، ما كان يمكن اتقاؤها ومصادر النقل ليست بين أيدينا، فكان أن تورطنا في ضبطها على السياق، اجتهاداً فيما لا مجال فيه لاجتهاد. كما وجهت المقابلةُ إلى ما يكون من اختلاف النقل عن نصه في المصدر المنقول منه. وقد جرينا فيما مضى على اعتماد مصادر النقل في مواضع الاختلاف، دون أن نقدر احتمال أن يكون النقل صحيحاً، وأن الخطأ في المصدر أو المرجع المنقول منه، لوهم من مؤلفه أو ناسخه أو ناشره وطابعه، وبهذا تثقل تكاليف التحقيق بالرجوع إلى مصادر أخرى مما يُحتكَم إليه في مثل هذا الاختلاف.

 

وكان من الإِخلال بقواعد المنهج كذلك، أن قصرتُ في الطبعة الأولى في تخريج الأحاديث بالمقدمة والمحاسن، اقتصاراً على الاطمئنان إليها بوجودها في كتب الحديث والسنن. وما كان ينبغي أن أغفل أن علماء المصطلح يشغلون بالحديث المرفوع أو الموقوف والمرسل والمنقطع والمقطوع والمعضل، والمدرج والشاذ والغريب، والمعلل، والضعيف، والمدلس والمنسوخ، والموضوع .. وذلك كله مما لا شأن لمفهرسي الأحاديث به، وقد يكون الحديث مخرجاً من طرقه الصحاح في كتب الحديث الأمهات، ويتعلق
প্রকৃতপক্ষে, পাঠ্যের (متن) নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য যা প্রয়োজন তা হলো, লেখকের উদ্ধৃত সকল বর্ণনাকে সেই মূল উৎসগ্রন্থের সাথে মিলিয়ে দেখা যেখান থেকে তিনি তা গ্রহণ করেছেন, তিনি গ্রন্থের নাম স্পষ্ট উল্লেখ করে থাকুন বা অস্পষ্ট রেখে থাকুন। এর জন্য প্রথমত ইবনে আল-সালাহ এবং সিরাজ আল-বালকিনির উদ্ধৃতিসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত বইগুলোর মধ্যে যা কিছু আমাদের কাছে পৌঁছেছে তা সংগ্রহ করা আবশ্যক। এগুলোর মধ্যে মুদ্রিত এবং পাণ্ডুলিপি (مخطوط) উভয় ধরণের এমন দুর্লভ কিছু গ্রন্থ রয়েছে যা সচরাচর পাওয়া যায় না। মুদ্রিত কিতাবসমূহ পাঠবিকৃতি (تصحيف), ত্রুটি এবং ভ্রম (وهم) থেকে খুব কমই মুক্ত থাকে। আর পাণ্ডুলিপিগুলো (مخطوطات) অস্পষ্টতা, ক্ষয় এবং পাঠ বিচ্যুতি (خرم) থেকে নিরাপদ নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলোর শব্দগুলো নুকতাহীন (غير منقوطة) থাকে এবং পাঠ্যগুলো (متون) যতিচিহ্ন ও বিরতি চিহ্নহীন হয়ে থাকে। কখনও কখনও এর পার্শ্বটীকায় (هوامش) কোনো উৎস নির্দেশক চিহ্ন ছাড়াই কিছু সংযোজন থাকে, যার ফলে পাঠ্যের (متن) বাদ পড়া অংশ কোনটি আর লেখক বা অন্যদের ব্যাখ্যা বা টীকা (حواشي) কোনটি - তার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

মুকাদ্দিমাহ এবং আল-মাহাসিন-এর উদ্ধৃতিগুলোকে এর সহজলভ্য উৎসগুলোর সাথে তুলনা করার মাধ্যমে বেশ কিছু অনুপ্রবেশ (إدراج), বিচ্যুতি (سقط) এবং ভ্রমের (وهم) স্থান উন্মোচিত হয়েছে। উদ্ধৃতির উৎসগুলো আমাদের সামনে না থাকলে এগুলো থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল না। ফলে আমরা প্রসঙ্গের আলোকে পাঠ সংশোধনের চেষ্টা করতে বাধ্য হয়েছি, যা এমন এক গবেষণার (اجتهاد) ক্ষেত্র ছিল যেখানে ব্যক্তিগত গবেষণার (اجتهاد) কোনো অবকাশ ছিল না। একইভাবে এই তুলনা উৎসগ্রন্থের মূল পাঠ্যের সাথে উদ্ধৃত পাঠ্যের ভিন্নতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। অতীতে মতপার্থক্যপূর্ণ স্থানে আমরা উদ্ধৃতির উৎসের ওপর নির্ভর করতাম এই সম্ভাবনা বিবেচনা না করেই যে, উদ্ধৃতিটি সঠিক হতে পারে এবং ভুলটি সম্ভবত মূল উৎসে বা রেফারেন্স গ্রন্থে রয়েছে, যা এর লেখক, অনুলিপিকারক (ناسخ), প্রকাশক বা মুদ্রণকারীর কোনো ভ্রমের (وهم) কারণে হতে পারে। এর ফলে এই ধরণের মতপার্থক্য নিরসনে অন্যান্য প্রামাণ্য উৎসের শরণাপন্ন হওয়ার মাধ্যমে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

পদ্ধতিগত নিয়মের আরও একটি ত্রুটি ছিল এই যে, আমি প্রথম সংস্করণে মুকাদ্দিমাহ ও আল-মাহাসিন-এর হাদিসসমূহের উৎস নির্ণয় বা তাখরিজ (تخريج) করার ক্ষেত্রে কেবল হাদিস ও সুনান গ্রন্থসমূহে সেগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপরই সীমাবদ্ধ ছিলাম। আমার এ বিষয়টি ভুলে যাওয়া উচিত হয়নি যে, পরিভাষা বিশেষজ্ঞগণ মারফু (مرفوع), মাওকুফ (موقوف), বিচ্ছিন্ন (مرسل), বিচ্ছিন্ন (منقطع), মাকতু (مقطوع), সমস্যাক্রান্ত (معضل), অনুপ্রবেশকৃত (مدرج), বিরল (شاذ), একক (غريب), ত্রুটিযুক্ত (معلل), দুর্বল (ضعيف), প্রতারণামূলক (مدلس), রহিত (منسوخ) এবং জাল (موضوع) হাদিস নিয়ে নিবিড় আলোচনা করেন। হাদিসের সূচিপত্র প্রনয়নকারীদের কাছে এগুলোর কোনো বিশেষ গুরুত্ব নেই। অথচ হতে পারে একটি হাদিস মূল হাদিস গ্রন্থসমূহে এর সহিহ (صحاح) সূত্রগুলোর (طرق) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, এবং তা সংশ্লিষ্ট...
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الأمر عند علماء المصطلح بإسناد معين أو رواية بذاتها، في كتاب منها أو في كتب غيرها من المصنفات الحديثية. وأشق ما تكون المعاناة حين لا يذكرون متن الحديث أو بابه، بل يكتفون بطرف منه أو كلمة، أو إشارة إلى إحدى طرقه، كأن يقولوا: الحديث الذي رواه فلان عن فلان وأنكر المروي عنه أنه روّاه إياه، أو الحديث الذي رواه فلان عن شيخ يشارك فيه عدد من الرواة، قل أو كثر، تشابهت أسماؤهم أو ألقابهم وكناهم وأنسابهم .. ونحو ذلك من الإِشارات التي بعُد العهد بمن كانوا يعرفونها بمجرد الإِشارة إليها، وأما نحن، في عصرنا البائس، فلا غنى لنا في تخريج الأحاديث بكتب المصطلح، عن كتب المستدرك والإِلزامات والمراسيل والعلل والأوهام، ومختلف الحديث وغريبه وناسخه ومنسوخه، والتدليس والوضع .. ومسائل الحفاظ لشيوخهم. وكتب التاريخ والرجال: الجرح والتعديل، والمؤتلف والمختلف، والمتفق والمفترق، والأسماء والكنى، والألقاب والأنساب، ومعاجم الشيوخ وبرامجهم، وكتب التقييد لرواة الكتب والمسانيد، وما تيسر من كتب الأطراف والمبهمات ..

 

وقد استغرق إعداد هذه الطبعة عشر سنين دأبًا، لئن شُغِلْتُ فيها، كذلك، بتكاليف الإِشراف على طلابي في الدراسات العليا، لقد كان لي من صحبتهم في رسائلهم ما زادني تحريرًا لمنهج التوثيق، وعلمًا بقوانين التحقيق، وزودني بمصادر ومراجع لم تكن مما وقفت عليه من قبل.

وكنت كلما عكفت على إنجاز هذه الطبعة ظهر مخطوط من حيث لا أحتسب، أو نُشر من كتب التراث ما أحتاج إليه. فعُدتُ على بدء أعيد النظر فيما سبق لي إنجازه .. وتكرر ذلك مرارًا حتى بدا لي كأنْ لا نهاية لما رجوت إكماله. وخشيت أن ينتهي الأجل المقدور لي، وأنا هامة اليوم أو غدٍ، قبل إخراج هذه الطبعة الجديدة، فاستخرت الله تعالى وقدمتها للطبع، ويظل المجال مفتوحًا لما بها من فوات يستدركه من ييسرهم الله تعالى لخدمة الحديث الشريف وعلومه.
পরিভাষা বিশারদদের (علماء المصطلح) নিকট বিষয়টি হলো একটি নির্দিষ্ট সনদ (إسناد) বা নির্দিষ্ট কোনো বর্ণনা (رواية) কেন্দ্রিক, যা হাদিসের কোনো কিতাবে বা অন্যান্য হাদিস সংকলনে বিদ্যমান। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো যখন তারা হাদিসের মূল পাঠ (متن) বা এর অধ্যায় (باب) উল্লেখ করেন না; বরং তারা হাদিসের কেবল একাংশ (طرف) বা একটি শব্দ, অথবা এর কোনো একটি সূত্রের (طريق) প্রতি ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হন। যেমন তারা বলেন: সেই হাদিসটি যা অমুক অমুকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন অথচ যার নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি তা বর্ণনা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন; অথবা সেই হাদিস যা অমুক এমন একজন শাইখের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন যার সাথে আরও বহু সংখ্যক বর্ণনাকারী (راوي) সম্পৃক্ত, যাদের সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে এবং যাদের নাম, উপাধি (لقب), ডাকনাম (كنية) ও বংশপরিচয় (نسب) একই রকম। এ জাতীয় সংকেত বা ইঙ্গিতসমূহ বোঝার সেই সোনালী যুগ অতিবাহিত হয়েছে যখন কেবল ইশারার মাধ্যমেই বিজ্ঞজনরা তা চিনে ফেলতেন। কিন্তু আমাদের এই দুর্দশাপূর্ণ যুগে পরিভাষার কিতাবসমূহের মাধ্যমে হাদিস তাখরিজ (تخريج) করার ক্ষেত্রে মুস্তাদরাক, ইলজামত, মুরসাল (مرسل) হাদিসের কিতাবসমূহ, ইলাল (علة) বা ত্রুটি বিষয়ক কিতাব, বর্ণনাকারীদের ভুল-ভ্রান্তি (وهم), মুখতালিফুল হাদিস, গরিব (غريب) শব্দাবলি, নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ), তাদাল্লিস (تدليس) ও জালকরণ (وضع) এবং হাফেজদের নিকট তাদের শাইখদের জিজ্ঞাসিত মাসআলাসমূহের কিতাবের মুখাপেক্ষী না হয়ে আমাদের কোনো উপায় নেই। এছাড়াও ইতিহাস ও রিজাল শাস্ত্রের কিতাব যেমন: জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل), মুতালিফ ও মুখতালিফ, মুত্তাফিক ও মুফতারিক, আসমা ও কুনা, আলকাব ও আনসাব, মাআজিমুশ শুয়ুখ ও তাদের নির্ঘণ্ট, কিতাব ও মুসনাদসমূহের বর্ণনাকারীদের (راوي) পরিচয় বিষয়ক গ্রন্থাবলি এবং আতরাফ ও মুবহামাত (مبهم) বিষয়ক যা কিছু সহজলভ্য তার সাহায্য নেওয়া অপরিহার্য।

 

এই সংস্করণটি প্রস্তুত করতে টানা দশ বছর নিরলস পরিশ্রম করতে হয়েছে, যদিও এই সময়ে আমি উচ্চতর গবেষণারত শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধানেও নিয়োজিত ছিলাম। তাদের গবেষণাপত্র নিয়ে কাজ করার সুবাদে নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (توثيق) মানদণ্ড নির্ধারণে আমার দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাহকিক (تحقيق) বা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার নিয়মাবলি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেছি। এটি আমাকে এমন সব মূল উৎস ও তথ্যসূত্রের সন্ধান দিয়েছে যা আগে আমার জানাশোনা ছিল না।

যখনই আমি এই সংস্করণটির কাজ শেষ করতে মনোনিবেশ করতাম, তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো পাণ্ডুলিপি প্রকাশিত হতো অথবা ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানভাণ্ডারের এমন কোনো কিতাব মুদ্রিত হতো যার প্রয়োজন আমার ছিল। ফলে আমি পুনরায় গোড়া থেকে ইতিপূর্বে সম্পন্নকৃত কাজগুলো খতিয়ে দেখতাম। বারবার এমনটি হতে থাকায় আমার কাছে মনে হতে লাগল যে, যা আমি পূর্ণ করতে চেয়েছি তার যেন কোনো শেষ নেই। আমি আশঙ্কা করছিলাম যে আমার জন্য নির্ধারিত আয়ু ফুরিয়ে যাবে আর আমি আজ বা কালের মেহমান, অথচ এই নতুন সংস্করণটি তখনো হয়তো আলোর মুখ দেখবে না। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করে এটি মুদ্রণের জন্য পেশ করলাম। এতে যদি কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি থেকে থাকে, তবে মহান আল্লাহ যাদেরকে হাদিস ও এর উলুমের (علم) খিদমতের জন্য তাওফিক দান করবেন, তারা তা সংশোধন করার সুযোগ পাবেন।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
أدين بالفضل فيما تزودت به لهذه الطبعة من مصورات لعشراتٍ من المخطوطات لم يكن لي غنى عنها، إلى السادة الزملاء الكرام القائمين على خزائن المخطوطات بمصر والمغرب.

 

وأسعفتني الأريحية الأصلية لصاحب السمو الملكي " الأمير سعود الفيصل " والسيد الجليل " حبيب محمود أحمد، من أعيان المدينة المنورة " بمصورات لمخطوطات نادرة من خزائن استانبول ونجد والمدينة والمنورة، عزَّ عليَّ الظفر بها.

 

وأذكر بصادق التقدير والعرفان، ما أفدتُ من صحبتي، عشرين عامًا لأبنائي طلاب الدراسات الإِسلامية العليا بجامعة القرويين العريقة، تعلمت معهم في كل درس لنا أو لقاء، ما يُثري وجودنا العلمي، ويرهف اعتزازنا بالانتماء إلى المدرسة الإِسلامية، بما نهلتُ وإياهم من ينابيع سخية نقية لسلفنا العلماء النبلاء الصفوة، ورثة الأنبياء.

 

للهِ تعالى الحمدُ والمِنَّة

" وَسَلامٌ عَلَى عِبَادِهِ الّذِينَ اصْطَفَى "

صدق الله العظيم.

 

مصر الجديدة

صيف عام 1409 هـ - 1989 م.
এই সংস্করণের পাথেয় হিসেবে আমি যে অসংখ্য পাণ্ডুলিপির অনুলিপি সংগ্রহ করেছি এবং যা আমার জন্য অপরিহার্য ছিল, সেগুলোর জন্য আমি মিশর ও মরক্কোর পাণ্ডুলিপি ভাণ্ডারের দায়িত্বে নিয়োজিত সম্মানিত সহকর্মীদের নিকট কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ।

 

মহামান্য রাজকুমার "আমীর সৌদ আল-ফয়সাল" এবং মদিনা মুনাওয়ারার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মহোদয় "হাবিব মাহমুদ আহমদ" তাঁদের সহজাত মহানুভবতায় আমাকে ইস্তাম্বুল, নজদ ও মদিনা মুনাওয়ারার পাণ্ডুলিপি ভাণ্ডার থেকে এমন কিছু বিরল পাণ্ডুলিপির অনুলিপি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, যা লাভ করা আমার জন্য অত্যন্ত দুরূহ ছিল।

 

আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি সুপ্রাচীন আল-কারাউইয়িন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা বিভাগে অধ্যয়নরত আমার স্নেহাস্পদ ছাত্রদের সাথে কাটানো দীর্ঘ বিশটি বছরের কথা। তাদের সাথে প্রতিটি পাঠদান ও সাক্ষাতে আমি এমন সব জ্ঞান অর্জন করেছি যা আমাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক সত্তাকে সমৃদ্ধ করে এবং ইসলামি ঘরানার সাথে আমাদের সংশ্লিষ্টতার গৌরবকে আরও শাণিত করে। মূলত আমি ও তারা নবীদের উত্তরাধিকারী আমাদের বরেণ্য ও শ্রেষ্ঠ পূর্বসূরি (سلف) আলেমদের স্বচ্ছ ও অবারিত জ্ঞানের ঝরনাধারা থেকে অবগাহন করেছি।

 

মহান আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।

"এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি।"

মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন।

 

মাসর আল-জাদিদ

১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের গ্রীষ্মকাল।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مدخل

1 - أبو عمرو ابن الصلاح، وكتابه

2 - السراج البلقيني وكتابه.
উপক্রমণিকা

১ - আবু আমর ইবনুস সালাহ এবং তাঁর গ্রন্থ

২ - সিরাজ আল-বুলকিনী এবং তাঁর গ্রন্থ
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
بياض بالأصل.
মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান (بياض بالأصل)।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
مدخل:

 

" يحمل هذا العلم من كل خلف عُدولُه، يَنفُون عنه تحريف الغالِين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين "

[حديث شريف]

أخرجه الحافظ أبو بكر الخطيب البغدادي من عدة طرق، في الباب التاسع من كتابه (شرف أصحاب الحديث).

 

قدمت في الطبعة الأولى عرضًا سريعًا لمن تتابعوا على خدمة الحديث الشريف وعلومه ورجاله، من القرن الثاني إلى أبي عمرو ابن الصلاح وطبقته، ناظرة فيهم إلى توالي الطبقات واختلاف الأمصار من مشرق ومغرب. ومن وقتئذ وأنا أستدرك عليهم بين يوم وآخر من فاتني ذكرهم. فما عُدت اليوم أتجاسر على هذه المحاولة، وإني لأعتبر بالحافظ أبي عبد الله الذهبي: ترجم في المجلد الأول وبعض الثاني من (تذكرة الحفاظ) لأكثر من خمسمائة من أعيان الحفاظ إلى منتصف القرن الثالث للهجرة، ثم قال: عقب الطبقة الأخيرة منهم: " فهؤلاء المُسَمَّون في هذه الطبقة هم ثقات الحفاظ. ولعل قد أهملنا طائفة من نظرائهم، فإن المجلس الواحد في هذا الوقت كان يجتمع فيه أزيد من عشرة آلاف محبرة، يكتبون الحديث ويعتنون بهذا الشأن وبينهم نحو من مائتي إمام - في هذه الطبقة - قد برزوا وتأهلوا للفتيا " التذكرة 2/ 529.

 

على مر المراحل، كانت قواعد المصطلح يتوارد عليها العلماء تأصيلاً وضبطًا وتحريرًا، فبلغت من الكثرة بحيث احتيج إلى مصنفات فيها جامعة، أجمل ذكرها الحافظُ ابن حجر (773 - 852 هـ) في خطبة كتابه (شرح نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر) قال بعد الحمد والصلاة على النبي: " أما بعد فإن التصانيف في اصطلاح أهل الحديث قد كثرت للأئمة في القديم والحديث. فمن أول من صنف في ذلك القاضي أبو محمد الرامهرمزي (- 360 هـ) في كتابه المحدث الفاصل، لكنه لم يستوعب، والحاكم أبو عبد الله
ভূমিকা:

 

"প্রতিটি উত্তরসূরি প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য (عدول) ব্যক্তিবর্গ এই ইলমকে বহন করবেন। তারা এটি থেকে চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন।"

[হাদিস শরিফ]

হাফেজ আবু বকর আল-খতিব আল-বাগদাদি তার শারফ আসহাব আল-হাদিস গ্রন্থের নবম অধ্যায়ে বিভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

প্রথম সংস্করণে আমি সেই সব ব্যক্তিদের একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা পেশ করেছি যারা দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে আবু আমর ইবনে আল-সালাহ ও তার সমসাময়িক স্তর (طبقة) পর্যন্ত হাদিস শরিফ, এর বিজ্ঞান এবং এর বর্ণনাকারীদের (رجال) সেবায় ধারাবাহিকভাবে নিয়োজিত ছিলেন; এক্ষেত্রে তাদের স্তরের (طبقات) ক্রম এবং পূর্ব ও পশ্চিমের বিভিন্ন জনপদের ভিন্নতাকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তখন থেকেই আমি মাঝেমধ্যে এমন ব্যক্তিদের নাম সংযোজন করছি যাদের কথা আগে উল্লেখ করতে পারিনি। আজ আমি আর এই প্রচেষ্টায় সাহসী হতে পারছি না; বরং আমি হাফেজ আবু আবদুল্লাহ আদ-দাহাবিকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করছি: তিনি তাজকিরাত আল-হুফফাজ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড এবং দ্বিতীয় খণ্ডের কিছু অংশে হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক শীর্ষস্থানীয় হাফেজের জীবনী বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি তাদের শেষ স্তর (طبقة) সম্পর্কে বলেছেন: "এই স্তরে (طبقة) যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা নির্ভরযোগ্য (ثقات) হাফেজ। হতে পারে আমি তাদের সমপর্যায়ের একদল লোককে বাদ দিয়েছি, কেননা এই সময়ে একটি মজলিসেই দশ হাজারের বেশি দোয়াত একত্রিত হতো, যারা হাদিস লিখতেন এবং এই বিষয়ের প্রতি যত্নবান ছিলেন। আর এই স্তরে (طبقة) তাদের মধ্যে প্রায় দুইশত ইমাম (إمام) ছিলেন যারা প্রথিতযশা হয়ে উঠেছিলেন এবং ফতোয়া (فتيا) প্রদানের যোগ্য হয়েছিলেন।" তাজকিরা ২/ ৫২৯।

 

বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রমকালে উলামাগণ পরিভাষার (اصطلاح) মূলনীতিসমূহকে ভিত্তিপ্রদান, সুসংহতকরণ এবং সম্পাদনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এভাবে এর সংখ্যা এত বৃদ্ধি পায় যে, এসব বিষয় নিয়ে সংকলিত গ্রন্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। হাফেজ ইবনে হাজার (৭৭৩ - ৮৫২ হিজরি) তার শারহু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার গ্রন্থের ভূমিকায় এ বিষয়ে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা এবং নবীর প্রতি দরুদ পাঠের পর বলেন: "পর সমাচার, প্রাচীন ও আধুনিক ইমামগণের পক্ষ থেকে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (اصطلاح) বিষয়ক গ্রন্থ রচনার সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে যারা সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি) তার আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল গ্রন্থে, তবে তিনি সব বিষয় বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। এবং হাকেম আবু আবদুল্লাহ..."
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
النيسابوري (- 405 هـ) لكنه لم يهذب ولم يرتب. وتلاه أبو نعيم الأصبهاني (- 430 هـ) فعمل على كتابه مستخرجًا وأبقى أشياء للمتعقب. ثم جاء بعدهم الخطيب أبو بكر البغدادي (- 463 هـ) فصنف في قوانين الرواية كتابًا سماه الكفاية، وفي آدابها كتابًا سماه الجامع لآداب الشيخ والسامع .. وقلَّ فنٌّ من فنون الحديث إلا وقد صنف فيه كتابًا مفردًا، فكان كما قال الحافظ أبو بكر ابن نقطة (1): " كل من أنصف عَلِمَ أن المحدثين بعد الخطيب عيال على كتبه " ثم جاء بعض من تأخر عن الخطيب فأخذ من هذا العلم بنصيب، فجمع القاضي عياض (- 544 هـ) كتابًا لطيفًا سماه الإِلماع، وأبو حفص المَيَانجي (- 580 هـ) جزءًا سماه ما لا يَسَعُ المحدث جهلُه. وأمثال ذلك من التصانيف التي اشتهرت وبُسِطت ليُتوفَّرَ عليها. واختُصِرت ليتيسر فهمُها. إلى أن جاء الحافظ الفقيه تقي الدين أبو عمرو عثمان بن الصلاح الشهرزوري نزيل دمشق، فجمع لَمَّا ولِيَ تدريس الحديث بالمدرسة الأشرفية كتابه المشهور، فهذب فنونه وأملاه شيئاً بعد شيء، فلهذا لم يحصل ترتيبه على الوضع المتناسب. واعتنى بتصانيف الخطيب المفرَّقة، فجمع شتات مقاصدها، وضم إليها من غيرها نُخَبَ فوائدها، فاجتمع في كتابه ما تفرق في غيره، فلهذا اجتمع الناس عليه وساروا بسَيْره فلا يُحصَى كم ناظم له ومختصر، ومستدرك عليه ومقتصر. ومعارض له ومنتصر .. " (2).

من هذه الفقرة المجملة، يتبين مسار علوم المصطلح في مصنفاتها الجامعة، يتعاقب على خدمتها العلماء على توالي الأعصار، وتباعد الأمصار، من رامهرمز في خوزستان، ونيسابور وأصبهان وشهرزور وبغداد ودمشق، إلى مصر والمغرب. ومعهم في كل عصر عدول أئمة من الحفاظ والنظار، يحملون هذا العلم الشريف خلفًا عن سلف " ينفون عنه تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين ".

--------------------------------------------

(1) أبو بكر ابن نقطة: (كتاب التقييد في معرفة رواة السنن والمسانيد) ترجمة الخطيب البغدادي أحمد بن علي بن ثابت: لـ56 مصورة من ميكروفلم معهد المخطوطات بالقاهرة 186/ 1 تاريخ، لمخطوط المتحف البريطاني 836.

(2) خطبة شرح النخبة، وتواريخ الوفيات لمن ذكرهم الحافظ في هذه الفقرة، إضافة منا لضبط السياق الزمني.
নিসাবুরি (- ৪০৫ হিজরী), তবে তিনি এটি সুবিন্যস্ত বা পরিমার্জিত করেননি। তাঁর পরে আবু নুআইম আল-আসবাহানি (- ৪৩০ হিজরী) তাঁর কিতাবটির ওপর একটি মুস্তাখরাজ (مستخرج) রচনা করেন এবং পরবর্তী গবেষকদের জন্য কিছু কাজ বাকি রাখেন। অতঃপর তাঁদের পরে আল-খতিব আবু বকর আল-বাগদাদি (- ৪৬৩ হিজরী) আগমন করেন এবং তিনি বর্ণনার নীতিমালা (قوانين الرواية) বিষয়ে 'আল-কিফায়া' নামক একটি কিতাব এবং হাদিস বর্ণনার শিষ্টাচার (آداب) বিষয়ে 'আল-জামি লি আদাব আল-শেখ ওয়াস সামি' নামক একটি কিতাব রচনা করেন। হাদিস শাস্ত্রের এমন খুব কম শাখাই আছে যে বিষয়ে তিনি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেননি। হাফেজ (حافظ) আবু বকর ইবন নুকতাহ (১) যেমনটি বলেছেন: "প্রত্যেক ইনসাফপছন্দ ব্যক্তিই জানেন যে, খতিব আল-বাগদাদির পরবর্তী হাদিস বিশারদগণ তাঁর কিতাবসমূহের ওপর নির্ভরশীল।" এরপর খতিবের পরবর্তী কিছু আলেম এই শাস্ত্রে অবদান রাখেন; কাজি আইয়াজ (- ৫৪৪ হিজরী) 'আল-ইলমা' নামক একটি চমৎকার কিতাব এবং আবু হাফস আল-মায়ানজি (- ৫৮০ হিজরী) 'মা লা ইয়াসাউল মুহাদ্দিসা জাহলুহু' নামক একটি পুস্তিকা রচনা করেন। এ জাতীয় আরও অনেক প্রসিদ্ধ ও বিস্তারিত কিতাব রচিত হয়েছে যা গভীর অধ্যয়নের জন্য উপযোগী, আবার কিছু সংক্ষেপ করা হয়েছে যাতে সহজে বোঝা যায়। পরিশেষে দামেস্কের অধিবাসী হাফেজ (حافظ) ফকিহ (فقيه) তকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবন আল-সালাহ আল-শাহরাযুরি আগমন করেন। আশরাফিয়া মাদরাসায় হাদিস পাঠদানের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাবটি সংকলন করেন। তিনি এর বিষয়বস্তুগুলো পরিমার্জিত করেন এবং ধারাবাহিকভাবে তা শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করান, যে কারণে এর বিন্যাস হয়তো তাত্ত্বিক ক্রম অনুযায়ী হয়নি। তিনি খতিব আল-বাগদাদির বিক্ষিপ্ত কিতাবগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন এবং সেগুলোর উদ্দেশ্যগুলো একত্রিত করেন। পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও মূল্যবান সারসংক্ষেপ যুক্ত করেন। ফলে তাঁর কিতাবে এমন সব বিষয় একত্রিত হয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। একারণে মানুষ তাঁর কিতাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং তাঁর পদ্ধতি অনুসরণ করে। তাঁর কিতাবের কতজন যে কাব্যে রূপান্তরকারী (ناظم), সংক্ষেপকারী (مختصر), পরিপূরক সংযোজনকারী (مستدرك) এবং সারসংক্ষেপকারী (مقتصر), কিংবা এর সমালোচক বা সমর্থক রয়েছেন তা গণনা করা দুঃসাধ্য।" (২)।

এই সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ থেকে হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনার ধারা স্পষ্ট হয়। বিভিন্ন যুগে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে আলেমগণ ধারাবাহিকভাবে এর খেদমত করে গেছেন; খুজিস্তানের রামহারমুয থেকে শুরু করে নিসাবুর, আসবাহান, শাহরাযুর, বাগদাদ ও দামেস্ক হয়ে মিসর ও মরক্কো পর্যন্ত। তাঁদের সাথে প্রত্যেক যুগে হাফেজ (حفاظ) ও গবেষক (نظار) শ্রেণির ন্যায়নিষ্ঠ (عدول) ইমামগণ (أئمة) ছিলেন, যাঁরা এই মহান জ্ঞানকে উত্তরসূরি হিসেবে বহন করেছেন এবং "চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে একে রক্ষা করেছেন।"

--------------------------------------------

(১) আবু বকর ইবন নুকতাহ: (কিতাবুত তাকিদ ফি মারিফাতি রুয়াত আল-সুনান ওয়াল মাসানিদ) খতিব আল-বাগদাদি আহমদ ইবন আলি ইবন সাবিতের জীবনী: কায়রো পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটের মাইক্রোফিল্ম নং ৫৬ থেকে, যা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পাণ্ডুলিপি নং ৮৩৬-এর অংশ।

(২) শরহু নুখবাতিল ফিকারের ভূমিকা; এবং হাফেজ ইবন হাজার এই অনুচ্ছেদে যাঁদের উল্লেখ করেছেন তাঁদের মৃত্যুর তারিখগুলো কালানুক্রমিক সঠিকতা বজায় রাখার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে যোগ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الأول:

 

1 - ابن الصلاح

تقي الدين أبو عمرو الشهرزوري (577 هـ - 643 هـ)

عثمان بن الصلاح عبد الرحمن بن موسى بن أبي النصر الشافعي

 

‌‌موجز سيرته، رحلاته وشيوخه *

من القرن السابع، وفي نصفه الأول عاش التقي ابن الصلاح أخصب مراحل عمره، بدأت كتبُ التراجم والتاريخ تترجم له وتنوه به، لا نعلم خلافًا بين مترجميه في علمه وإمامته وورعه ومهابته، ولا فيما دونوه من سيرته.

--------------------------------------------

* مستخلص من:

- وفيات الأعيان لابن خلكان: 3/ 243 ط بيروت 1970.

- وفيات الشريف عز الدين: ل 29 مصورة الخزانة العامة بالرباط، من مصورة بغداد لمخطوط كوبريلي رقم 1101.

- ذيل الروضتين لأبي شامة المقدسي. 175 ط القاهرة 1366 هـ.

- تاريخ الإِسلام للذهبي، مخطوط دار الكتب القاهرة.

- تذكرة الحفاظ للذهبي 4/ 1430 ط حيدراباد الدكن 1374 هـ والعبر ودول الإِسلام له: وفيات سنة 643 هـ. وسير أعلام النبلاء، له:

- طبقات الشافعية الكبرى للتاج السبكي: 5/ 137 ط أولى الحسينية بالقاهرة 1348.

ذيل التقييد للتقي الفاسي: 216 مخطوط دار الكتب 198 مصطلح.

وتراجم شيوخه، أكثرهم، من:

- التقييد لأبي بكر ابن نقطة، مصورة لميكروفلم معهد المخطوطات بالقاهرة.

- التكملة لوفيات النقلة، للزكي المنذري ط 2 بيروت 1401 هـ - 1981 م.

- تاريخ الإِسلام، وتذكرة الحفاظ والعبر، ودول الإِسلام وسير أعلام النبلاء للذهبي.

- طبقات الشافعية الكبرى للتاج السبكي.
প্রথম পরিচ্ছেদ:

 

১ - ইবনুল সালাহ

তাকীউদ্দীন আবু আমর আশ-শাহরাজুরি (৫৭৭ হিজরি - ৬৪৩ হিজরি)

উসমান বিন আস-সালাহ আব্দুর রহমান বিন মুসা বিন আবি আল-নাসর আশ-শাফিঈ

 

‌‌তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী, সফরসমূহ এবং উস্তাদগণ *

সপ্তম হিজরি শতাব্দীর প্রথমার্ধে তাকীউদ্দীন ইবনুল সালাহ তাঁর জীবনের সবচেয়ে উর্বর সময় অতিবাহিত করেন। জীবনী ও ইতিহাসের গ্রন্থাবলি তাঁর জীবনী আলোচনা এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরতে শুরু করে। তাঁর জ্ঞান, ইমামত (إمامة), পরহেজগারি (ورع) এবং গাম্ভীর্য নিয়ে যেমন কোনো মতভেদ জীবনীকারদের মধ্যে আমাদের জানা নেই, তেমনি তারা তাঁর জীবনীর যে বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন সে বিষয়েও কোনো দ্বিমত নেই।

--------------------------------------------

* থেকে সংকলিত:

- ইবনে খাল্লিকান রচিত ওফায়াতুল আইয়ান: ৩/ ২৪৩, বৈরুত সংস্করণ ১৯৭০।

- শরীফ ইজ্জুদ্দীন রচিত ওফায়াত: ল ২৯, রাবাতের আল-খিজানাতুল আম্মাহ-এর মাইক্রোফিল্ম থেকে, যা কোপরুলু পাণ্ডুলিপি সংখ্যা ১১০১ এর বাগদাদ মাইক্রোফিল্ম থেকে প্রাপ্ত।

- আবু শামা আল-মাকদিসী রচিত যাইলুল রওদাতাইন: ১৭৫, কায়রো সংস্করণ ১৩৬৬ হিজরি।

- যাহাবী রচিত তারিখুল ইসলাম, দারুল কুতুব কায়রোর পাণ্ডুলিপি।

- যাহাবী রচিত তাজকিরাতুল হুফফাজ ৪/ ১৪৩০, হায়দ্রাবাদ ডেকান সংস্করণ ১৩৭৪ হিজরি; এবং তাঁর রচিত আল-ইবার ও দুওয়ালুল ইসলাম; এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা।

- তাজ আল-সুবকী রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা: ৫/ ১৩৭, আল-হুসাইনিয়া কায়রো প্রথম সংস্করণ ১৩৪৮।

তাকী আল-ফাসী রচিত যাইলুত তাকয়ীদ: ২১৬, দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপি ১৯৮ পরিভাষা (مصطلح)।

এবং তাঁর অধিকাংশ উস্তাদগণের জীবনী সংগৃহীত হয়েছে:

- আবু বকর ইবনে নুকতাহ রচিত আল-তাকয়ীদ, কায়রোর ইনস্টিটিউট অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস-এর মাইক্রোফিল্ম।

- জাকি আল-মুনজিরি রচিত আল-তাকমিলা লি-ওফায়াতিল নাকলাহ, ২য় সংস্করণ বৈরুত ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ।

- যাহাবী রচিত তারিখুল ইসলাম, তাজকিরাতুল হুফফাজ, আল-ইবার, দুওয়ালুল ইসলাম এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা।

- তাজ আল-সুবকী রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولد سنة سبع وسبعين وخمسمائة في بلدة شَرَخان قرب شهرزور من أعمال إربل. وغلب عليه لقب أبيه الصلاح عبد الرحمن. وينسب إلى جده الثالث أبي النصر فيقال: النصري، وإلى بلده: الشهرزوري الشرخاني.

حفظ القرآن في بلدته وجوَّده. وتفقه على والده الصلاح عبد الرحمن " وكان من مشايخ بلده المشار إليهم في الفقه والصلاح " ومن أكابر الشيوخ الشافعية الذين يتصل بهم سند شيخ الإِسلام أبي زكريا النووي، في فقه الشافعية " قراءة وتصحيحًا وسماعًا وشرحًا وتعليقًا. على طريقة العراقيين عن شيوخه الثلاثة: أبي إبراهيم المقدسي وأبي محمد ابن نوح وأبي حفص الربعي الإِربلي - يأتون في تلاميذ ابن الصلاح - عن تقي الدين أبي عمرو بن الصلاح. وتفقه هو على والده، وتفقه والده على أبي سعد بن أبي عصرون الموصلي، وتفقه أبو سعد على القاضي أبي علي الفارقي، وتفقه الفارقي على الشيخ أبي إسحاق الرازي، بسنده الفقهي المعروف عن الإمام الشافعي، تفقه على الإِمام مالك وتفقه مالك على ربيعة الرأي عن أنس، وعلى نافع عن ابن عمر: كلاهما عن النبي صلى الله عليه وسلم " (1).

 

وكذلك تفقه ابن الصلاح على والده في فقه الشافعية على طريقة الخراسانيين. وتفقه والده على أبي القاسم ابن البزري الجزري، عن أبي الحسن الكيا الهراسي، عن أبي المعالي الجويني إمام الحرمين، عن أبي بكر المروزي الصغير، إمام طريقة خراسان بسنده (2).

 

في الموصل:

ظهرت نجابة تقي الدين عثمان. فنقله والده إلى الموصل، فسمع الحديث من:

" ابن السمين " أبي جعفر عبيد الله بن أحمد الوراق، نزيل الموصل (523 - 588 هـ)

--------------------------------------------

(1 - 2) النووي: تهذيب الأسماء واللغات 1/ 18، 19 ط بيروت. وتصحفت فيها كنية أبي سعد ابن أبي عصرون، بأبي سعيد. وانظر تراجم الشيوخ المذكورين في سند النووي الفقهي، في كتابه تهذيب الأسماء. وترجمة الصلاح عبد الرحمن في وفيات ابن خلكان 3/ 243، وطبقات الشافعية للتاج السبكي 5/ 65 ونبلاء الذهبي: ج 22 ويأتي فيما يلي من العرض، نزوحه مع ولده إلى الشام ووفاته بحلب في المدرسة الأسدية، سنة 816 هـ.
৫৭৭ হিজরি সনে ইরবিলের অন্তর্গত শাহরজোরের নিকটবর্তী শারখান নামক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ওপর তাঁর পিতা আস-সালাহ আব্দুর রহমানের উপাধি প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। তিনি তাঁর তৃতীয় পিতামহ আবু নাসরের দিকে নিসবত করে 'আন-নাসরি' এবং নিজ শহরের নিসবতে 'আশ-শাহরজুরি আশ-শারখানি' হিসেবে অভিহিত হন।

তিনি নিজ শহরে কুরআন হিফজ করেন এবং তাজবিদসহ তা তিলাওয়াত করেন। তিনি তাঁর পিতা আস-সালাহ আব্দুর রহমানের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন, "যিনি ফিকহ ও নেক আমলের ক্ষেত্রে তাঁর শহরের অন্যতম প্রসিদ্ধ মাশায়েখদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন" এবং শাফেয়ি মাজহাবের সেই বড় শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের মাধ্যমে শাইখুল ইসলাম আবু যাকারিয়া আন-নববীর শাফেয়ি ফিকহের সনদ (سند) পঠন (قراءة), বিশুদ্ধকরণ (تصحيح), শ্রবণ (سماع), ব্যাখ্যা (شرح) ও তালীক্ব (تعليق) এর মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। এটি ইরাকি ধারায় তাঁর তিন শায়খ: আবু ইবরাহিম আল-মাকদিসি, আবু মুহাম্মদ ইবনু নুহ এবং আবু হাফস আর-রিবয়ি আল-ইরবিলির মাধ্যমে—যাঁরা ইবনুস সালাহর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত—তাক্বিউদ্দিন আবু আমর ইবনুস সালাহ থেকে বর্ণিত। তিনি নিজে তাঁর পিতার কাছে ফিকহ শিখেন এবং তাঁর পিতা আবু সা'দ ইবনু আবি আসরুন আল-মাউসিলির কাছে ফিকহ শিখেন। আবু সা'দ কাজী আবু আলী আল-ফারিকির নিকট এবং আল-ফারিকি শায়খ আবু ইসহাক আর-রাজির নিকট ইমাম শাফেয়ি থেকে তাঁর সুপরিচিত ফিকহি সনদ (سند) এর মাধ্যমে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি ইমাম মালিকের নিকট ফিকহ শিখেন এবং ইমাম মালিক রবীআতুর রা’য়ি-এর নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন, যিনি আনাস (রা.) থেকে এবং নাফি’ ইবনু উমর (রা.) থেকে জ্ঞান অর্জন করেন; তাঁরা উভয়েই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন (১)।

 

একইভাবে ইবনুস সালাহ খোরাসানি ধারায় শাফেয়ি ফিকহে তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। তাঁর পিতা আবু কাসিম ইবনুল বাযরি আল-জাযারি থেকে, তিনি আবুল হাসান আল-কিয়া আল-হাররাসি থেকে, তিনি ইমামুল হারামাইন আবু মাআলি আল-জুয়াইনি থেকে এবং তিনি খোরাসানি ধারার ইমাম ছোট আবু বকর আল-মারওয়াযি থেকে তাঁর সনদ (سند) (২) এর মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করেন।

 

মুসেলে:

তাক্বিউদ্দিন উসমানের মেধা ও প্রতিভা প্রকাশ পায়। ফলে তাঁর পিতা তাঁকে মুসেলে নিয়ে যান এবং তিনি সেখানে নিম্নোক্ত ব্যক্তির নিকট হাদিস শ্রবণ (سماع) করেন:

"ইবনুস সামিন" আবু জাফর উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ আল-ওয়াররাক, মুসেলের বাসিন্দা (৫২৩ - ৫৮৮ হিজরি)

--------------------------------------------

(১ - ২) নববী: তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত ১/ ১৮, ১৯ বৈরুত সংস্করণ। সেখানে আবু সা'দ ইবনু আবি আসরুনের উপনামে আবু সাঈদের সাথে বর্ণ বিপর্যয় (تصحيف) ঘটেছে। নববীর ফিকহি সনদ (سند)-এ উল্লিখিত শায়খদের জীবনী দেখুন তাঁর তাহযীবুল আসমা গ্রন্থে। আস-সালাহ আব্দুর রহমানের জীবনী দেখুন ইবনু খাল্লিকানের ওয়াফায়াতুল আ’য়ান ৩/ ২৪৩, তাজউদ্দীন আস-সুবকির তাবাক্বাতুশ শাফিইয়্যাহ ৫/ ৬৫ এবং আয-যাহাবীর নুবালা: ২২তম খণ্ড। পরবর্তী আলোচনায় আসবে যে, তিনি তাঁর ছেলের সাথে সিরিয়ায় হিজরত করেন এবং ৮১৬ হিজরিতে আলেপ্পোর আল-মাদরাসাতুল আসাদিয়্যাহ-তে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقرأ عليه كتاب (المهذب لأبي إسحاق الشيرازي) في فقه الشافعية " وكرره وهو غض الصبا لم يطر شاربه ".

 

ومن شيوخ ابن الصلاح بالموصل:

" نصر الله بن سلامة " بن سالم، أبو المعالي الهيتي المقرئ المحدث (- 598 هـ) سمع ببغداد من أبي الفضل محمد بن ناصر المقدسي، وأبي الكرم الشهرزوري، وأبي الفتح الكروخي، وحدث ببغداد والموصل.

" عبد المحسن الطوسي، أبو القاسم " بن عبد الله بن أحمد بن عبد القاهر خطيب الموصل (623 هـ) من بيت العدالة والخطابة والرواية. سمع بالموصل من أبيه أبي نصر عبد الله، ومن عمه أبي محمد عبد الرحمن، وببغداد من أبي الكرم الشهرزوري. وحدث ببغداد والموصل (1).

 

ثم لزم ابن الصلاح شيخه العلامة:

" العماد بن يونس " أبا حامد محمد بن يونس بن محمد بن منعة الإِربلي الموصلي الشافعي، إمام وقته في المذهب والأصول والخلاف، ومدرس النظامية، ومصنف (المحيط) في فروع الشافعية، جمع فيه بين (المهذب لأبي إِسحاق الشيرازي، والوسيط لأبي حامد الغزالي) ونجب عليه أئمة (535 - 608 هـ).

أقام ابن الصلاح بالموصل زمنًا يشتغل معيدًا لشيخه العماد أبي حامد، بالمدرسة النظامية (2). واتصل وقتئذ بأخي شيخه:

" الكمال بن يونس " موسى بن محمد بن يونس بن محمد بن منعة، أبي الفتح الموصلي الشافعي، الفقيه العلامة في العقليات والإِلهيات (511 - 639 هـ) بالغ ابن الصلاح في الثناء على فضائله وتعظيم شأنه. وفي ترجمته أن ابن الصلاح " سأله أن يقرأ عليه شيئًا من المنطق سِرًّا فأجابه إلى ذلك، وتردد إليه مدة يقرأ عليه فلم يُفتَح عليه بشيء. فقال له

--------------------------------------------

(1) ابن خلكان والذهبي والسبكي، في ترجمة ابن الصلاح، وترجمة شيخه عبد المحسن ابن الطوسي من (تكملة المنذري: 3/ 2023) كتب له بالإِجازة من الموصل غير مرة إحداها في سنة 610.

(2) ابن خلكان والذهبي والسبكي، في شيوخ ابن الصلاح. وترجمة العماد أبي حامد ابن يونس من تكملة المنذري 2/ 1198، وتاريخ الإِسلام والعبر للذهبي: وفيات سنة 608، وطبقات التاج السبكي 5/ 45.
তিনি তাঁর নিকট শাফিঈ ফিকহের কিতাব (আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর আল-মুহাজ্জাব) পাঠ করেন "এবং তিনি এটি বারবার আবৃত্তি করেছিলেন যখন তিনি অল্পবয়স্ক ছিলেন এবং তাঁর গোঁফও গজায়নি।"

 

মসুল নগরীতে ইবনুন সালাহ-এর শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন:

"নাসরুল্লাহ বিন সালামাহ" বিন সালিম, আবুল মাআলী আল-হিতি আল-মুকরি, হাদিস বিশারদ (محدث) (মৃত্যু ৫৯৮ হিজরি)। তিনি বাগদাদে আবুল ফাদল মুহাম্মদ বিন নাসের আল-মাকদিসি, আবুল করম আশ-শাহরাজুরি এবং আবুল ফাতহ আল-কারুখির নিকট শুনেছেন এবং বাগদাদ ও মসুলে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

"আবদুল মুহসিন আত-তুসি, আবুল কাসিম" বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আব্দুল কাহির, মসুলের খতিব (৬২৩ হিজরি), যিনি ন্যায়পরায়ণতা, বাগ্মিতা এবং বর্ণনার (رواية) ঐতিহ্যের অধিকারী এক পরিবারের সদস্য ছিলেন। তিনি মসুলে তাঁর পিতা আবু নাসর আব্দুল্লাহ এবং তাঁর চাচা আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমানের নিকট থেকে এবং বাগদাদে আবুল করম আশ-শাহরাজুরির নিকট থেকে শুনেছেন। তিনি বাগদাদ ও মসুলে হাদিস বর্ণনা করেছেন (১)।

 

অতঃপর ইবনুন সালাহ তাঁর শিক্ষক আল্লামার সান্নিধ্য গ্রহণ করেন:

"আল-ইমাদ ইবন ইউনুস" আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন ইউনুস বিন মুহাম্মদ বিন মানআহ আল-ইরবিলি আল-মওসিলি আশ-শাফিঈ, যিনি মাযহাব, উসুল (أصول) এবং তুলনামূলক আইনশাস্ত্রে তাঁর সময়ের ইমাম ছিলেন। তিনি নিযামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক এবং শাফিঈ ফিকহের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-মুহিত'-এর রচয়িতা ছিলেন, যাতে তিনি (আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর আল-মুহাজ্জাব এবং আবু হামিদ আল-গাজালির আল-ওয়াসিত) একত্রিত করেছিলেন। তাঁর কাছে বহু ইমাম শিক্ষালাভ করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন (৫৩৫ - ৬০৮ হিজরি)।

ইবনুন সালাহ মসুলে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন এবং নিযামিয়া মাদ্রাসায় তাঁর শিক্ষক আল-ইমাদ আবু হামিদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন (২)। সেই সময় তিনি তাঁর শিক্ষকের ভাইয়ের সংস্পর্শে আসেন:

"আল-কামাল ইবনু ইউনুস" মুসা বিন মুহাম্মদ বিন ইউনুস বিন মুহাম্মদ বিন মানআহ, আবুল ফাতহ আল-মওসিলি আশ-শাফিঈ, যিনি যুক্তিবিদ্যা ও ধর্মতত্ত্বে বিজ্ঞ ফকিহ ও আল্লামা ছিলেন (৫১১ - ৬৩৯ হিজরি)। ইবনুন সালাহ তাঁর গুণাবলী ও মর্যাদার অকুন্ঠ প্রশংসা করেছেন। তাঁর জীবনীতে উল্লেখ আছে যে, ইবনুন সালাহ "তাঁর নিকট গোপনে যুক্তিবিদ্যার কিছু অংশ পড়ার আবেদন করেছিলেন এবং তিনি তাতে সম্মতি দিয়েছিলেন। ইবনুন সালাহ দীর্ঘকাল তাঁর নিকট যাতায়াত করে পাঠ গ্রহণ করলেও তাঁর কাছে বিষয়টি উন্মোচিত হয়নি। তখন তিনি তাকে বললেন..."

--------------------------------------------

(১) ইবনু খাল্লিকান, আয-যাহাবি এবং আস-সুবকি, ইবনুন সালাহ-এর জীবনীতে এবং (তাকমিলাতুল মুনযিরি: ৩/২০২৩) থেকে তাঁর শিক্ষক আব্দুল মুহসিন ইবনু আত-তুসির জীবনীতে। তিনি মসুল থেকে তাকে একাধিকবার অনুমতি (إجازة) লিখে দিয়েছিলেন, যার একটি ছিল ৬১০ হিজরিতে।

(২) ইবনু খাল্লিকান, আয-যাহাবি এবং আস-সুবকি, ইবনুন সালাহ-এর শিক্ষকদের বর্ণনায়। এবং তাকমিলাতুল মুনযিরি ২/১১৯৮ থেকে আল-ইমাদ আবু হামিদ ইবনু ইউনুসের জীবনী, আয-যাহাবির তারিখুল ইসলাম এবং আল-ইবার: ৬০৮ হিজরির মৃত্যুতে এবং তাজ আস-সুবকির তাবাকাত ৫/৪৫।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الكمال: يا فقيه، المصلحة عندي أن تترك الاشتغال بهذا الفن. فسأله: ولم يا مولاي؟ فقال: لأن الناس يعتقدون فيك الخير، وهم ينسبون كل من يشتغل بهذا الفن إلى فساد الاعتقاد، فكأنك تفسد عقيدتهم فيك ولا يحصل لك من هذا الفن شيء .. فقبل إشارته وترك قراءته " (1).

 

ثم آثر ابن الصلاح الرحلة في طلب العلم والسماع. فاتجه شرقًا وطوف بالحواضر العلمية في خراسان ونيسابور ومرو وقزوين .. وأدرك جلة من علمائها ومسنديها الكبار، قبل أن يجتاحها التتار من سنة 616 هـ.

 

رحلته كانت قبل وفاة شيخه (العماد أبي حامد ابن يونس، سنة 608 هـ، وفيها توفي بنيسابور منصور بن عبد المنعم الفراوي وهو من شيوخ ابن الصلاح. لقيه بنيسابور وسمع منه وحدث عنه.

 

والراجح أنه لقي بإربل، أو بنيسابور:

" أبا الخطاب ابن دحية الكلبي، عمر بن حسن بن علي البستي، نزيل القاهرة ".

وسمع منه (الموطأ) رواية يحيى بن يحيى الأندلسي. ففي ترجمة الحافظ ابن دحية، بتذكرة الحفاظ وذيل التقييد: " أنه حدث بالموطأ، رواية يحيى بن يحيى سنة ستمائة، سمعه منه تقي الدين ابن الصلاح ". وفي ترجمة ابن دحية بنفح الطيب: سنة نيف وستمائة. وذكر أنه في رحلته الواسعو إلى العراق وأصبهان وخراسان: " صنف التنوير في مولد السراج المنير، عند قدومه إلى إربل في سنة 604 هـ، وهو متوجه إلى خراسان، وبعدها سمع نيسابور من منصور بن عبد المنعم الفراوي والمؤيد الطوسي - وهما من كبار شيوخ ابن الصلاح النيسابوريين - .. وعاد أبو الخطاب ابن دحية إلى مصر، وولي مشيخة المدرسة الكاملية بالقاهرة، وفيها وفاته سنة (633 هـ) (2).

--------------------------------------------

(1) ترجمة الكمال بن يونس في: وفيات ابن خلكان 4/ 253، والمختصر لأبي الفداء المؤيد إسماعيل (3/ 170 ط الحسينية بالقاهرة 1325 هـ) والطبقات للتاج السبكي 5/ 160 ومعها ترجمته في تكملة المنذري 3/ 1198، وتاريح الإِسلام ودول الإِسلام والعبر للذهبي: وفيات سنة 639 هـ.

(2) تذكرة الحفاظ: 4/ 1421، وذيل التقييد للفاسي (239 / أ) ونفح الطيب للمقري: 1/ 371 ط أولى، الأزهرية بالقاهرة 1302 هـ.
আল-কামাল বললেন: হে ফকিহ, আমার নিকট আপনার জন্য এই শাস্ত্রের চর্চা পরিত্যাগ করাই কল্যাণকর। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কেন হে আমার মনিব? তিনি উত্তর দিলেন: কারণ মানুষ আপনার সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করে, অথচ যারা এই শাস্ত্রের চর্চা করে তারা তাদের সবাইকে আকিদাগত ভ্রষ্টতার (فساد الاعتقاد) দিকে নিসবত করে। মনে হচ্ছে যেন আপনি আপনার ব্যাপারে তাদের বিশ্বাস নষ্ট করছেন, অথচ এই শাস্ত্র থেকে আপনার কোনো বিশেষ অর্জনও হচ্ছে না... অতঃপর তিনি তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করলেন এবং এর অধ্যয়ন ত্যাগ করলেন (১)।

 

এরপর ইবনে আস-সালাহ ইলম অন্বেষণ এবং শ্রবণ (سماع) করার উদ্দেশ্যে সফর করাকে প্রাধান্য দিলেন। তিনি পূর্ব দিকে যাত্রা করলেন এবং খোরাসান, নিশাপুর, মার্ভ ও কাজভিনের ইলমি কেন্দ্রগুলোতে পরিভ্রমণ করলেন... এবং ৬১৬ হিজরিতে তাতারীদের আক্রমণের আগে সেখানকার অনেক বিশিষ্ট আলিম ও বড় বড় মুসনিদদের (مسند) সান্নিধ্য লাভ করেন।

 

তাঁর এই সফর ছিল তাঁর শায়খ (ইমাদ আবু হামিদ ইবনে ইউনুস, মৃত্যু: ৬০৮ হিজরি) এর ইন্তেকালের পূর্বে। ওই বছরই নিশাপুরে মানসুর বিন আব্দুল মুনইম আল-ফারাবি ইন্তেকাল করেন, যিনি ইবনে আস-সালাহর অন্যতম শায়খ ছিলেন। তিনি নিশাপুরে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করেন এবং তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা (حدث) করেন।

 

নির্ভরযোগ্য মত হলো তিনি ইরবিলে অথবা নিশাপুরে সাক্ষাৎ করেছিলেন:

"আবু আল-খাত্তাব ইবনে দিহয়া আল-কালবি, উমর বিন হাসান বিন আলী আল-বুসতি, যিনি কায়রোতে বসবাস করতেন"।

এবং তাঁর নিকট থেকে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-আন্দালুসির বর্ণনায় মুওয়াত্তা শ্রবণ (سماع) করেন। হাফিজ (حافظ) ইবনে দিহয়ার জীবনীতে (ترجمة), তাজকিরাত আল-হুফফাজ এবং জাইল আত-তাকয়িদ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি ৬০০ হিজরিতে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়ার বর্ণনায় মুওয়াত্তা বর্ণনা (حدث) করেছেন, যা তাঁর নিকট থেকে তাকিউদ্দিন ইবনে আস-সালাহ শ্রবণ (سماع) করেছেন"। নাফহ আত-তীব গ্রন্থে ইবনে দিহয়ার জীবনীতে (ترجمة) উল্লেখ আছে: ছয়শ কয়েক হিজরি। এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরাক, আসফাহান ও খোরাসানে তাঁর দীর্ঘ সফরে: "তিনি ৬০৪ হিজরিতে খোরাসান অভিমুখে যাওয়ার পথে ইরবিলে আগমনকালে 'আত-তানভীর ফী মাওলিদ আস-সিরাজ আল-মুনীর' রচনা করেন। এরপর তিনি নিশাপুরে মানসুর বিন আব্দুল মুনইম আল-ফারাবি এবং আল-মুআইয়িদ আত-তুসি—যারা ইবনে আস-সালাহর নিশাপুরি শায়খদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন—তাদের নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করেন... অতঃপর আবু আল-খাত্তাব ইবনে দিহয়া মিসরে ফিরে আসেন এবং কায়রোর আল-মাদরাসা আল-কামিলিয়ার প্রধান শায়খের (مشيخة) দায়িত্ব পালন করেন, সেখানে ৬৩৩ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয় (২)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে খাল্লিকানের ওফায়াতুল আইয়ান ৪/ ২৫৩-এ আল-কামাল বিন ইউনুসের জীবনী (ترجمة), এবং আবু আল-ফিদা আল-মুআইয়িদ ইসমাইলের আল-মুখতাসার (৩/ ১৭০, কায়রোর আল-হুসাইনিয়া প্রকাশনা ১৩২৫ হিজরি) এবং তাজউদ্দীন আস-সুবকির আত-তাবাকাত ৫/ ১৬০-এ এবং এর সাথে আল-মুনজিরির আত-তাকমিলা ৩/ ১১৯৮-এ তাঁর জীবনী (ترجمة), এবং আয-যাহাবির তারিখুল ইসলাম, দুওয়ালুল ইসলাম ও আল-ইবার: ৬৩৯ হিজরির মৃত্যু আলোচনা।

(২) তাজকিরাত আল-হুফফাজ: ৪/ ১৪২১, আল-ফাসির জাইল আত-তাকয়িদ (২৩৯/ ক) এবং আল-মাক্কারির নাফহ আত-তীব: ১/ ৩৭১ প্রথম প্রকাশনা, কায়রোর আল-আযহারিয়া ১৩০২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
في نيسابور:

 

سمع ابن الصلاح من

" المؤيد الطوسي " أبي الحسن محمد بن علي النيسابوري الشافعي ". الحافظ المسند الرحلة (524 - ظنا - 617 هـ) سمع منه ابن الصلاح صحيح البخاري بسماعه من أبي عبد الله الفراوي (440 - 530 هـ) وهو آخر من حدث عنه، بسماع الفراوي من سعيد بن أبي سعيد العيار النيسابوري (457 هـ) بسماعه من أبي عبد الله الشبوي المروزي، بسماعه في سنة 316 هـ من الفربري (231 - 320 هـ) بسماعه من الإِمام البخاري.

وحدث به المؤيد الطوسي أيضًا، عن وجيه بن طاهر الشجامي (455 - 541 هـ) وأبي الفتوح الشاذياخي (535 هـ) بسماعهما من أبي سهل الحفصي (466 هـ) عن أبي الهيثم الكشمهيني (389 هـ) عن الفربري.

وبصحيح مسلم عن أبي الحسين عبد الغافر الفارسي (353 - 466 هـ) عن أبي أحمد الجلودي النيسابوري (389 هـ) عن إبراهيم بن محمد بن سفيان النيسابوري (300 هـ) عن الإِمام مسلم (1). وهو سند الحافظ ابن حجر لرواية ابن شبويه عن البخاري من طريق أبي عمرو ابن الصلاح (أسانيد ابن حجر لروايات البخاري، في مقدمة فتح الباري).

 

" منصور بن عبد المنعم بن عبد الله بن محمد بن الفضل الفَراوي، ذو الكُنى الثلاث: أبو الفتح وأبو بكر وأبو القاسم، بن أبي المعالي بن أبي البركات بن أبي عبد الله الفراوي ". الفقيه المفتي الحافظ المسند (522 - 608 هـ).

 

سمع منه أبو عمرو ابن الصلاح صحيح البخاري، عن جد أبيه " أبي عبد الله الفراوي، بسنده. وصحيح مسلم، عن جد أبيه عن عبد الغافر الفارسي، أبي الحسين. والأربعين لأبي البركات عبد الله الفراوي (547 هـ) بسماعه منه. والسنن الكبرى لأبي بكر البيهقي قراءة عليه، بسماع منصور الفراوي من أبي المعالي الفارسي

--------------------------------------------

(1) تقييد ابن نقطة: ل 155، وتكملة المنذري وقال: " ولنا منه إجازة كتب بها إلينا من خراسان غير مرة إحداهن في جمادى الآخرة سنة 607 هـ " (3/ 1198) وتذكرة الحفاظ 4/ 1421.
নিশাপুরে:

 

ইবনুস সালাহ "আল-মুয়ায়্যাদ আত-তুসি" আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আলী আন-নিশাপুরি আশ-শাফিয়ি-এর নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করেছেন। তিনি ছিলেন হাফিজ (الحافظ), সনদ বর্ণনাকারী (المسند) এবং বিশ্বভ্রমণকারী (الرحلة) (৫২৪ - ধারণা করা হয় - ৬১৭ হি.)। ইবনুস সালাহ তাঁর নিকট থেকে সহিহ বুখারি শ্রবণ (سماع) করেছেন; যা তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-ফারাবি (৪৪০ - ৫৩০ হি.) থেকে তাঁর শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ফারাবি) ছিলেন তাঁর থেকে বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি। আর আল-ফারাবি এটি সাইদ বিন আবি সাইদ আল-আইয়ার আন-নিশাপুরি (৪৫৭ হি.) থেকে শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে, তিনি আবু আবদুল্লাহ আশ-শাবাউয়ি আল-মারওয়াজি থেকে শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে, তিনি ৩১৬ হিজরিতে আল-ফারাবরি (২৩১ - ৩২০ হি.) থেকে শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে এবং তিনি ইমাম বুখারি থেকে শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

আল-মুয়ায়্যাদ আত-তুসি এটি ওয়াজیه বিন তাহির আশ-শাহহামি (৪৫৫ - ৫৪১ হি.) এবং আবুল ফুতুহ আশ-শাজিয়াখি (৫৩৫ হি.) থেকেও বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই আবু সাহল আল-হাফসি (৪৬৬ হি.) থেকে শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে, তিনি আবুল হাইসাম আল-কুশমিহানি (৩৮৯ হি.) থেকে এবং তিনি আল-ফারাবরি থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং সহিহ মুসলিম শ্রবণ (سماع) করেছেন আবুল হোসেন আব্দুল গাফির আল-ফারিসি (৩৫৩ - ৪ hobby হি.) থেকে, তিনি আবু আহমদ আল-জালুদি আন-নিশাপুরি (৩৮৯ হি.) থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান আন-নিশাপুরি (৩০০ হি.) থেকে এবং তিনি ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন (১)। এটিই আবু আমর ইবনুস সালাহ-এর সূত্র (طريق) হয়ে আল-বুখারি থেকে ইবনু শাবাউয়ি-এর বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে হাফিজ ইবনু হাজার-এর সনদ (سند) (ফাতহুল বারির ভূমিকায় আল-বুখারির বর্ণনাগুলোর জন্য ইবনু হাজারের সনদসমূহ)।

 

"মনসুর বিন আব্দুল মুনিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-ফারাবি, যিনি তিনটি উপনামে পরিচিত: আবুল ফাতহ, আবু বকর এবং আবুল কাসিম; তিনি বিন আবুল মায়ালি বিন আবুল বারাকাত বিন আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাবি"। তিনি ছিলেন ফকিহ (الفقيه), মুফতি (المفتي), হাফিজ (الحافظ) এবং সনদ বর্ণনাকারী (المسند) (৫২২ - ৬০৮ হি.)।

 

আবু আমর ইবনুস সালাহ তাঁর নিকট থেকে সহিহ বুখারি শ্রবণ (سماع) করেছেন, যা তিনি তাঁর প্রপিতামহ আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাবি থেকে তাঁর সনদ (سند) সহ বর্ণনা করেছেন। এছাড়া তিনি সহিহ মুসলিম শ্রবণ (سماع) করেছেন তাঁর প্রপিতামহ থেকে, যিনি আবুল হোসেন আব্দুল গাফির আল-ফারিসি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু আল-বারাকাত আব্দুল্লাহ আল-ফারাবি-এর (৫৪৭ হি.) 'আল-আরবাউন' গ্রন্থটিও তাঁর নিকট থেকে শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন। আর আবু বকর আল-বায়হাকির 'আস-সুনান আল-কুবরা' গ্রন্থটি তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং মনসুর আল-ফারাবির আবু আল-মায়ালি আল-ফারিসি থেকে শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাকিয়্যুদ ইবনু নুকতাহ: পৃ. ১৫৫, এবং আল-মুনজিরি-এর তাকমিলাহ; সেখানে তিনি বলেছেন: "আমাদের নিকট তাঁর পক্ষ থেকে অনুমতি (إجازة) রয়েছে, যা তিনি খোরাসান থেকে আমাদের কাছে একাধিকবার লিখে পাঠিয়েছিলেন; যার একটি ছিল ৬০৭ হিজরির জমাদিউল আখিরা মাসে" (৩/১১৯৮) এবং তাজকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪২১।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
(448 - 539 هـ) قراءة عليه. عن أبي بكر البيهقي (384 - 458 هـ) - وهو السند في مطبوعة السنن الكبرى المقروءة على ابن الصلاح - وبه حدث أبو عمرو ابن الصلاح بكتاب المدخل إلى السنن الكبرى للبيهقي، والأربعين حديثًا المخرجة من المجلد الأول منها، انتقاء أبي المعالي الفارسي.

وشيخه منصور من بيت العلم والرواية، عدَّ الزكي المنذري سبعة محدثين منهم نسقًا (1).

 

" زينب الشعرية النيسابورية، أم المؤيد بنت أبي القاسم عبد الرحمن بن الحسين الشعري (2) المسندة المعمرة. تفردت بكثير من مسموعاتها، وانقطع بموتها إسناد عال (524 - 615 هـ).

 

حدثت بصحيح البخاري، عن وجيه الشحامي وأبي الفتوح الشاذياخي، عن أبي سهل الحفصي، عن الكشمهيني. وسمعته كذلك عن أبي المعالي الفارسي، عن سعيد العيار، عن ابن شبويه، عن الفربري. وممن أجاز لها أبو الحسن عبد الغافر بن إسماعيل بن عبد الغافر الفارسي، وأبو القاسم الزمخشري (2).

 

" ابن الصفار: الشهاب أبي بكر النيسابوري، القاسم بن أبي سعد عبد الله بن أبي حفص عمر بن أحمد بن منصور الشافعي " الفقيه النبيل الحافظ المسند، شيخ خراسان،

--------------------------------------------

(1) التقييد في معرفة رواة السنن والمسانيد، لأبي بكر ابن نقطة: ل 155 مصورة معهد المخطوطات 186/ 1 تاريخ، لمخطوط المتحف البريطاني 836. ومنصور من شيوخ ابن نقطة. وتكملة المنذري جـ 2 ت 1202، وكتب له بالإِجازة. والفراوي، ضبطه السمعاني في الأنساب، وابن الأثير في اللباب، عنه، بضم الفاء، نسبة إلى فُراو، بليدة مما يلي خوارزم.

وفي مستفاد الرحلة للتجيبي، عن شيخه أبي الفتح الشيباني الدمشقي، قال: " أخبرنا الإِمام تقي الدين أبو عمرو ابن الصلاح قراءة علية ونحن نسمع في جمادى الأولى سنة 638 هـ، قال: الفرواي نسبة إلى بليدة من ثغر خراسان مما يلي خوارزم، تسمى بالعجمية فُراووه. وذكر أبو سعد السمعاني فيما قرأته بخطه من كتاب الأنساب، الفُراوي، يضبطه بخطه مولعًا بذلك. وسألت حفيد الفراوي الشيخ أبا القاسم عن ذلك فقال: هو الفَراوي، بالفتح. قلت: ولا معدل عن هذا فإنه المعروف المتعالم، والسمعاني لم يذكر مستند الخلاف. انتهى كلام أبي عمرو رحمه الله " المستفاد 92.

(2) تقييد ابن نقطة (ل 169) وفيه أنها كتبت له بالإِجازة من نيسابور غير مرة إحداهن في شهر رجب سنة 608 هـ. والتكملة للمنذري (2/ 1648) وفيها أنها تدعى أيضًا " حرة " وله إجازة كتبت عنها من نيسابور سنة 608 هـ. وابن خلكان (ت 237) وله إجازة منها كتبت في بعض شهور سنة 610 هـ، وذيل التقييد للفاسي وأرخ مولدها سنة 525 هـ.
(৪৪৮ - ৫৩৯ হিজরি) তাঁর নিকট পাঠ (قراءة) করা হয়েছে। আবু বকর আল-বায়হাকি (৩৮৪ - ৪৫৮ হিজরি) থেকে বর্ণিত - এবং এটিই ইবন আল-সালাহ-এর নিকট পঠিত সুনান আল-কুবরা-এর মুদ্রিত সংস্করণের সনদ (سند) - এবং এর মাধ্যমেই আবু আমর ইবন আল-সালাহ বায়হাকি রচিত আল-মাদখাল ইলা আল-সুনান আল-কুবরা এবং এর প্রথম খণ্ড থেকে আবু আল-মাআলি আল-ফারিসি-র চয়নকৃত চল্লিশ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর উস্তাদ মনসুর জ্ঞান ও বর্ণনার (رواية) এক পরিবার থেকে আগত, জাকি আল-মুনজিরি তাঁদের মধ্য থেকে ধারাবাহিকভাবে সাতজন হাদিস বিশারদকে (محدث) গণনা করেছেন (১)।

 

"জয়নব আল-শারিয়্যাহ আল-নিসাবুরিয়্যাহ, উম্মুল মুয়াইয়িদ বিনতে আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান ইবনুল হুসাইন আল-শারি (২), দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত মুসনিদাহ (مسندة)। তিনি তাঁর শ্রুত অনেক বর্ণনার ক্ষেত্রে একক ছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর ফলে একটি উচ্চতর সনদ (إسناد عال) বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় (৫২৪ - ৬১৫ হিজরি)।

 

তিনি ওয়াজিহ আল-শাহহামি এবং আবু আল-ফুতুহ আল-শাদিয়াসি-র সূত্রে, তিনি আবু সাহল আল-হাফসি-র সূত্রে, তিনি আল-কুশমিহিনি-র সূত্রে সহিহ বুখারি বর্ণনা করেছেন। এবং আমি তা একইভাবে আবু আল-মাআলি আল-ফারিসি-র সূত্রে, তিনি সাঈদ আল-আইয়ার-এর সূত্রে, তিনি ইবন শাবুইয়াহ-র সূত্রে, তিনি আল-ফিরারি-র সূত্রে শ্রবণ করেছি। আর যাঁদের কাছ থেকে তিনি অনুমতি (إجازة) প্রাপ্ত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু আল-হাসান আবদুল গাফির ইবন ইসমাইল ইবন আবদুল গাফির আল-ফারিসি এবং আবু আল-কাসিম আল-জামাখশারি (২)।

 

"ইবন আল-সাফফার: আল-শিহাব আবু বকর আল-নিসাবুরি, আল-কাসিম ইবন আবু সাদ আবদুল্লাহ ইবন আবু হাফস উমর ইবন আহমদ ইবন মনসুর আল-শাফিঈ" মহৎ ফকিহ, হাফিজ (حافظ), মুসনিদ (مسند), খুরাসানের শায়খ।

--------------------------------------------

(১) আবু বকর ইবন নুকতাহ রচিত ‘আত-তাকয়িদ ফি মা'রিফাতি রুওয়াত আল-সুনান ওয়াল মাসানিদ’: ল ১৫৫, মা’হাদ আল-মাখতুতাত-এর মাইক্রোফিল্ম ১৮৬/১ ইতিহাস, ব্রিটিশ মিউজিয়াম পাণ্ডুলিপি ৮৩৬। আর মনসুর ইবন নুকতাহ-এর উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত। এবং আল-মুনজিরি-র ‘আত-তাকমিলাহ’ ২য় খণ্ড, অনুচ্ছেদ ১২০২, যেখানে তিনি তাকে অনুমতি (إجازة) দিয়েছেন। এবং আল-ফারাওয়ি (শব্দটি) সামআনি ‘আল-আনসাব’ গ্রন্থে এবং ইবনুল আসির ‘আল-লুবাব’ গ্রন্থে তাঁর সূত্রে ‘ফা’ বর্ণে পেশ দিয়ে লিখেছেন, যা খাওয়ারিজমের পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র শহর ফুরাও-এর দিকে সম্পৃক্ত।

এবং আল-তুজিবি-র ‘মুস্তাফাদ আল-রিহলাহ’ গ্রন্থে তাঁর উস্তাদ আবু আল-ফাতহ আল-শাইবানি আল-দামিশকি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: “ইমাম তাকিউদ্দীন আবু আমর ইবন আল-সালাহ আমাদের নিকট ৬৩৮ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে পাঠ (قراءة) করে শুনিয়েছেন এমতাবস্থায় যে আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আল-ফারাওয়ি হলো খাওয়ারিজম সংলগ্ন খুরাসানের সীমান্ত অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র শহরের দিকে সম্পৃক্ত একটি নাম, যাকে অনারব ভাষায় ফারাওউহ বলা হয়। এবং আবু সাদ আল-সামআনি তাঁর স্বহস্তে লিখিত ‘আল-আনসাব’ কিতাবে ‘আল-ফুরাওয়ি’ (ফ’ এ পেশ দিয়ে) লিখেছেন এবং তিনি এ ব্যাপারে বেশ যত্নশীল ছিলেন। আমি আল-ফারাওয়ি-র পৌত্র শায়খ আবু আল-কাসিমকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: এটি ‘আল-ফারাওয়ি’ (ফা’ এ যবর দিয়ে)। আমি বললাম: এটি থেকে বিমুখ হওয়ার উপায় নেই, কারণ এটিই সুপরিচিত ও স্বীকৃত। আর সামআনি এই মতভেদের স্বপক্ষে কোনো দলিল উল্লেখ করেননি। আবু আমর (রহ.)-এর বক্তব্য এখানে সমাপ্ত।” আল-মুস্তাফাদ ৯২।

(২) ইবন নুকতাহ-এর তাকয়িদ (ল ১৬৯), যেখানে উল্লেখ আছে যে জয়নব তাঁর জন্য নিশাপুর থেকে একাধিকবার অনুমতি (إجازة) লিখে পাঠিয়েছিলেন, যার মধ্যে একটি ছিল ৬০৮ হিজরির রজব মাসে। এবং আল-মুনজিরি-র তাকমিলাহ (২/১৬৪৮), সেখানে উল্লেখ আছে যে তাঁকে ‘হুররাহ’ নামেও ডাকা হতো এবং তাঁর নিকট থেকে ৬০৮ হিজরিতে নিশাপুরে লিখিত একটি অনুমতি (إجازة) রয়েছে। এবং ইবন খাল্লিকান (মৃত্যু ২৩৭), তাঁর কাছেও তাঁর পক্ষ থেকে ৬১০ হিজরির কোনো এক মাসে লিখিত অনুমতি (إجازة) ছিল। আর আল-ফাসি-র জাইল আত-তাকয়িদ গ্রন্থে তাঁর জন্ম ৫২৫ হিজরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الإِمام ابن الإِمام ابن الإِمام، روى عن جده أبي حفص، وأبي البركات عبد الله الفرواي ووجيه الشحامي، وأبي الأسعد القشيري. وروى عنه الأئمة: ابن الصلاح وأبو بكر ابن نقطة والزكي البرزالي والضياء المقدسي وأبو إسحاق الصريفيني. مولده سنة 533 هـ، واستشهد عندما دخل التتار نيسابور سنة (618 هـ).

 

وسمع ابن الصلاح بمرو، من:

" أبي المظفر السمعاني " الفخر عبد الكريم بن أبي سعد عبد الكريم بن محمد ابن أبي المظفر منصور بن محمد السمعاني. مسند خراسان (537 - 617 هـ) أسمعه أبوه مبكرًا من شيوخ خراسان، منهم أبو الوقت السجزي، سمع منه صحيح البخاري، ومسندي الهيثم بن كليب وأبي محمد الدارمي. وأبو البركات الفراوي: سمع منه صحيح أبي عوانة الإِسفرائيني. وأبو طاهر السنجي: سمع منه مسندي الشافعي وابن وهب (2).

 

ومن شيوخ العراقيين ابن الصلاح بقزوين:

الإِمام الرافعي " أبو القاسم عبد الكريم بن محمد بن عبد الكريم القزويني (- 623 هـ) شيخ الشافعية الصدر الرئيس، صاحب (الشرح الكبير) إليه انتهت معرفة المذهب ودقائقه. نقل النووي والذهبي والتاج السبكي في ترجمته قول ابن الصلاح: " أظن أنني لم أر في بلاد العجم مثله. " (3) وعقب السبكي: " قلت: لا شك في ذلك ".

--------------------------------------------

(1) طبقات التاج السبكي 5/ 3 وشيوخه ومسموعاته في تقييد ابن نقطة (ل 148) وهو من أصحابه.

وترجم له المنذري في (التكملة 3/ 1860) وله منه إجازة كتب بها إليه من نيسابور غير مرة إحداها في سنة 608، وتاريخ الإسلام والعبر للذهبي، وفيات سنة 618.

(2) تقييد ابن نقطة (ل 1230) وفيه: " انقطعت عنا أخباره من سنة 617 هـ " وأرخه الذهبي في وفياتها وقال: عُدم في دخول التتار بمرو في آخر العام (العبر، وتاريخ الإِسلام).

(3) تهذيب الأسماء واللغات للنووي (الكنى ت 405) وطبقات الشافعية الكبرى 5/ 119، وتاريخ الإِسلام، ودول الإِسلام، والعبر للذهبي: وفيات 623 هـ، وأعلام النبلاء، له (ج 22).
ইমাম, ইমামের পুত্র, ইমামের পৌত্র; তিনি তাঁর দাদা আবু হাফস, আবুল বারাকাত আবদুল্লাহ আল-ফারাওয়ি, ওয়াজিহ আশ-শাহহামি এবং আবুল আস’আদ আল-কুশাইরি থেকে বর্ণনা করেছেন (روى)। তাঁর থেকে ইমামগণ বর্ণনা করেছেন (روى): ইবনুস সালাহ, আবু বকর ইবনু নুকতাহ, আয-যাকি আল-বারজালি, আদ-দিয়া আল-মাকদিসি এবং আবু ইসহাক আস-সারিফিনি। তাঁর জন্ম ৫৩৩ হিজরিতে এবং তিনি তাতারীরা নিশাপুর দখল করার সময় (৬১৮ হিজরিতে) শাহাদাত বরণ করেছেন (استشهد)।

 

এবং ইবনুস সালাহ মার্ভ অঞ্চলে যাঁদের থেকে শ্রবণ করেছেন (سمع):

"আবু মুজাফফর আস-সামআনি" আল-ফাখর আবদুল কারিম বিন আবি সাদ আবদুল কারিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবি মুজাফফর মানসুর বিন মুহাম্মাদ আস-সামআনি। খুরাসানের মুসনাদ (مسند) (৫৩৭ - ৬১৭ হি.)। তাঁর পিতা তাঁকে শৈশবেই খুরাসানের শায়খদের নিকট পাঠদান করিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আবু ওয়াক্ত আস-সিজজি অন্যতম, যাঁর কাছে তিনি সহিহ বুখারি এবং হাইসাম বিন কুলাইব ও আবু মুহাম্মাদ আদ-দারিমির মুসনাদদ্বয় শ্রবণ করেছেন (سمع)। এবং আবুল বারাকাত আল-ফারাওয়ি: যাঁর থেকে তিনি আবু আওয়ানা আল-ইসফারাইনির সহিহ শ্রবণ করেছেন (سمع)। এবং আবু তাহির আস-সিনজি: যাঁর থেকে তিনি শাফি’ঈ এবং ইবনু ওয়াহাবের মুসনাদদ্বয় শ্রবণ করেছেন (سمع) (২)।

 

এবং কাজউইন-এ ইবনুস সালাহ-এর ইরাকি শায়খদের মধ্যে ছিলেন:

ইমাম আর-রাফেয়ি "আবু আল-কাসিম আবদুল কারিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল কারিম আল-কাজউইনি (- ৬২৩ হি.) শাফি’ঈ মাজহাবের প্রধান শায়খ ও শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, (আশ-শারহুল কাবীর)-এর রচয়িতা; তাঁর কাছেই মাজহাবের জ্ঞান ও এর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ পূর্ণতা লাভ করেছে। আন-নববী, আজ-জাহাবি এবং তাজ আস-সুবকি তাঁর জীবনীতে ইবনুস সালাহ-এর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: "আমি মনে করি যে আমি পারস্যের দেশগুলোতে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি।" (৩) অতঃপর আস-সুবকি মন্তব্য করেন: "আমি বলি: এতে কোনো সন্দেহ নেই"।

--------------------------------------------

(১) তাজ আস-সুবকির তাবাকাত ৫/৩ এবং ইবনু নুকতাহ-এর তাকয়িদ-এ (পৃ. ১৪৮) তাঁর শায়খ ও শ্রবণকৃত বিষয়সমূহ (مسموعات) বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি তাঁর সাথীদের একজন ছিলেন।

আল-মুনজিরি (আত-তাকমিলা ৩/১৮৬০)-তে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে তাঁর একটি অনুমতিপত্র (إجازة) রয়েছে যা তিনি নিশাপুর থেকে তাঁকে কয়েকবার লিখেছিলেন, যার একটি ছিল ৬০৮ হিজরিতে। আজ-জাহাবির তারিখুল ইসলাম ও আল-ইবার-এ ৬১৮ হিজরির মৃত্যু তালিকায় তাঁর উল্লেখ রয়েছে।

(২) ইবনু নুকতাহ-এর তাকয়িদ (পৃ. ১২৩০), সেখানে বর্ণিত হয়েছে: "৬১৭ হিজরি থেকে আমাদের কাছে তাঁর সংবাদ আসা বন্ধ হয়ে গেছে" এবং আজ-জাহাবি তাঁর মৃত্যু তারিখ সেই বছরেই উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: বছরের শেষ দিকে তাতারীরা মার্ভ প্রবেশের সময় তিনি নিখোঁজ হন (আল-ইবার ও তারিখুল ইসলাম)।

(৩) আন-নববীর তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত (কুনিয়া ৪০৫), তাবাকাতুশ শাফিয়িয়াহ আল-কুবরা ৫/১১৯, আজ-জাহাবির তারিখুল ইসলাম, দুওয়ালুল ইসলাম ও আল-ইবার: ৬২৩ হিজরির মৃত্যু তালিকা এবং তাঁর রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা (খণ্ড ২২)।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وسمع بهمدان من:

" أبي الفضل ابن المعزم، عبد الرحمن بن عبد الوهاب بن صالح الهمداني إمام جامعها. وكان فيها قال ابن نقطة: " محدثًا مكثرا صحيح السماع، سمعت منه ثلاثيات البخاري " ولم يؤرخ وفاته، وأرخه الزكي المنذري والذهبي في وفيات سنة (609 هـ) (1).

 

ثم رحل أبو عمرو ابن الصلاح إلى بغداد، حاضرة الخلافة قبل أن يجتاحها التتار. فسمع من شيوخها الحفاظ ومسنديها المعمرين. وممن رى عنهم في كتابه علوم الحديث:

" الضياء ابن سكينة، أبو أحمد عبد الوهاب بن أبي منصور علي بن عبد الله البغدادي " شيخها الحافظ (519 - 607 هـ) سمع من أبيه وطبقته من أعلام المسندين. ورافق الإِمام أبا سعد السمعاني أكثر من أربعين سنة. وحدث بمكة وبغداد والشام ومصر بمسموعاته، ومنها: الغيلانيات وأحاديث المزني، من أبي القاسم هبة الله ابن الحصين. وجامع الترمذي، من أبي الفتح الكروخي، وصحيح مسلم بإجازته من أبي عبد الله الفراوي (2).

 

" ابن طبرزد، أبو حفص عمر بن محمد بن معمر الدارقزي البغدادي " المعمر المسند المؤدِّب (516 - 607 هـ) أسمعه أخوه البقاء محمد وسمع بنفسه من أكابر الشيوخ. وتفرد بالرواية عن عدد منهم. وحدث ببغداد وإربل والموصل وحلب ودمشق. قرأ عليه ابن الصلاح ببغداد (جزء الأنصاري) روايته عن أبي بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري البغدادي (535 هـ) بسنده إلى محمد بن عبد الله بن المثنى الأنصاري البصري صاحب الجزء (215 هـ) وحدث بسنن أبي داود، سماعه لبعضها من أبي البدر الكرخي ولبعضها من مفلح الدومي، بروايتهما عن أبي بكر الخطيب. وبجامع الترمذي، من أبي الفتح الكروخي (تقييد ابن نقطة) وبالغيلانيات. قرأها عليه الزكي المنذري بدمشق في ذي

--------------------------------------------

(1) تقييد ابن نقطة (ل 118) وتكملة المنذري (2/ 1236) وله منه إجازة، كتب بها إليه من همدان في سنة 608 هـ، وتذكرة الحفاظ والعبر، وتاريخ الإِسلام: وفيات سنة 609 هـ، وخرج له أبو عبد الله ابن الدبيثي مشيخته في جزءين وبعض ثالث، شيوخه فيها ثلاثة وثمانون. واستُدرِك عليه. قاله المنذري.

(2) تقييد ابن نقطة (ل 129) وتكملة المنذري (2/ 1146) - وفيها: ولنا منه إجازة كتب بها إلينا من بغداد غير مرة. وخرج له صاحبنا أبو عبد الله النجار مشيخة في جزأين. وتاريخ الإِسلام والعبر ودول الإِسلام للذهبي، وفيات سنة 607 هـ والنبلاء: ج 22.
তিনি হামাদানে শ্রবণ করেছেন:

"আবুল ফজল ইবনুল মুয়াজ্জাম, আবদুর রহমান বিন আবদুল ওয়াহহাব বিন সালিহ আল-হামাদানি, যিনি সেখানকার জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। ইবনে নুকতাহ তার সম্পর্কে বলেছেন: 'তিনি ছিলেন একজন বহু হাদিস বর্ণনাকারী (محدثًا مكثرا) এবং বিশুদ্ধ শ্রবণকারী (صحيح السماع), আমি তার নিকট থেকে বুখারীর সুলাসিয়্যাত শুনেছি।' তিনি তার মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করেননি, তবে আজ-জাকি আল-মুনজিরি এবং আজ-জাহাবি তা ৬০৯ হিজরির মৃত্যু তালিকায় উল্লেখ করেছেন (১)।

 

অতঃপর আবু আমর ইবনুস সালাহ বাগদাদে সফর করেন, যা তাতারীদের আক্রমণের পূর্বে খেলাফতের রাজধানী ছিল। সেখানে তিনি সেখানকার হাফেজ (الحفاظ) আলেম এবং দীর্ঘজীবী মুসনিদ (مسنديها) শাইখদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। যাদের নিকট থেকে তিনি তার ‘উলুমুল হাদিস’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:

"আদ-দিয়া ইবনে সুকাইনাহ, আবু আহমদ আবদুল ওয়াহহাব বিন আবি মানসুর আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদি," সেখানকার শাইখ ও হাফেজ (الحافظ) (৫১৯ - ৬০৭ হি.)। তিনি তার পিতা এবং তার সমসাময়িক প্রখ্যাত মুসনিদগণের (المسندين) নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ইমাম আবু সা’দ আস-সামআনির সাথে চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেন। তিনি মক্কা, বাগদাদ, শাম এবং মিশরে তার শ্রুত হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনুল হুসাইনের নিকট থেকে শোনা 'আল-গাইলায়্যিনাত' এবং আল-মুজানীর হাদিসসমূহ; আবুল ফাতহ আল-কারুখীর নিকট থেকে জামি আত-তিরমিজি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাভীর অনুমতিসহ (إجازته) সহিহ মুসলিম (২)।

 

"ইবনে তাবারজাদ, আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মুয়াম্মার আদ-দারকাজি আল-বাগদাদি," দীর্ঘজীবী মুসনিদ (المسند) ও শিক্ষক (المؤدِّب) (৫১৬ - ৬০৭ হি.)। তার ভাই আল-বাকা মুহাম্মদ তাকে হাদিস শ্রবণ করান এবং তিনি নিজেও বড় বড় শাইখদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে অনেকের নিকট থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে একক বর্ণনাকারী (تفرد بالرواية) ছিলেন। তিনি বাগদাদ, ইরবিল, মসুল, আলেপ্পো এবং দামেস্কে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনুস সালাহ বাগদাদে তার নিকট ‘জুজ আল-আনসারি’ পাঠ করেন, যা আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-আনসারি আল-বাগদাদির (৫৩৫ হি.) মাধ্যমে তার বর্ণনা (روايته), যা তার সনদসহ (بسنده) জুজ-এর লেখক মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুসান্না আল-আনসারি আল-বাসরি (২১৫ হি.) পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি সুনান আবি দাউদ বর্ণনা করেছেন, যার কিছু অংশ আবু বদর আল-কারখি এবং কিছু অংশ মুফলিহ আদ-দুমির নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, যা আবু বকর আল-খতিবের মাধ্যমে তাদের বর্ণনা। এছাড়াও তিনি আবুল ফাতহ আল-কারুখীর নিকট থেকে জামি আত-তিরমিজি (ইবনে নুকতাহর তাকয়ীদ অনুসারে) এবং আল-গাইলায়্যিনাত বর্ণনা করেছেন। আজ-জাকি আল-মুনজিরি দামেস্কে জিলহজ মাসে তার নিকট এটি পাঠ করেন।

--------------------------------------------

(১) তাকয়ীদ ইবনে নুকতাহ (পৃ. ১১৮) এবং তাকমিলাহ আল-মুনজিরি (২/১২৩৬), তার নিকট থেকে তার একটি অনুমতি (إجازة) রয়েছে, যা তিনি ৬০৮ হিজরিতে হামাদান থেকে তাকে লিখেছিলেন; এছাড়া তাযকিরাতুল হাফফায ও আল-ইবার, এবং তারিখুল ইসলাম: ৬০৯ হিজরির মৃত্যু তালিকা। আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল দুবাইসি তার জন্য দুই খণ্ডে এবং তৃতীয় খণ্ডের কিছু অংশে একটি ‘মাশয়াখা’ (মশাইখদের তালিকা) সংকলন করেছেন, যেখানে তার শাইখদের সংখ্যা তিরাশি জন। মুনজিরি বলেছেন, এর ওপর আরও সংযোজন করা হয়েছে।

(২) তাকয়ীদ ইবনে নুকতাহ (পৃ. ১২৯) এবং তাকমিলাহ আল-মুনজিরি (২/১১৪৬) - যেখানে বলা হয়েছে: আমাদের নিকট তার একটি অনুমতি (إجازة) রয়েছে যা তিনি বাগদাদ থেকে একাধিকবার আমাদের লিখেছিলেন। আমাদের সাথী আবু আব্দুল্লাহ আন-নাজ্জার তার জন্য দুই খণ্ডে একটি ‘মাশয়াখা’ সংকলন করেছেন। এছাড়া আজ-জাহাবির তারিখুল ইসলাম, আল-ইবার ও দুওয়ালুল ইসলাম, ৬০৭ হিজরির মৃত্যু তালিকা এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২২তম খণ্ড।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الحجة سنة 603 هـ)، وسمع منه كثيرًا من الكتب الكبار والأجزاء والفوائد (1).

 

بعدها كانت الرحلة إلى الشام، مستهلَّ مرحلة جديدة من حياته، ذكرها كل مؤرخيه في ترجمته، وإن لم يعينوا تاريخها، فيما قرأت، وهل كانت رحلة في طلب العلم والسماع، أو كانت نزوح هجرة؟

هنا أحتاج إلى استطراد يسير، نطل به على عصر ابن الصلاح:

قبل مولده بنحو من عشر سنين، في مستهل سنة 567 هـ، كان " الملك العادل نورالدين محمود بن زنكي " قد قطع الخطبة للفاطميين بالشام، وأمر " صلاح الدين بن نجم الدين أيوب " نائبه على مصر، أن يقطعها بها. وأعيدت الخطبة للعباسيين بمصر والشام.

في سنة 569 هـ توفي العادل نورالدين، وآلت الدولة إلى صلاح الدين الأيوبي فواصل جهاد الصليبيين، وفي شهر ربيع الثاني من سنة 583 هـ كانت وقعة حطين الظافرة، وأعقبها تحرير بيت المقدس من قبضتهم، يوم الجمعة السابع والعشرين من شهر رجب، بعد مولد ابن الصلاح بنحو من خمس سنوات. وتوالت المعارك الباسلة في الجبهة الصليبية بمصر والشام إلى أن توفي الملك المظفر صلاح الدين، في صفر سنة 589 هـ، وتقاسم بنوه ملك مصر ودمشق وحلب، واستقل أخوه أبو بكر الأيوبي بالكرج والجزيرة وديار بكر وميافارقين، واستقل أخوهما سيف الإِسلام ضغتكين باليمين من زبيد إلى حضرموت. ونشبت فيهم فتن شرسة، وعاد الصليبيون يعربدون على ساحة الشام ويهددون ثغور مصر، حتى آلت الدولة الصلاحية إلى الملك العادل سيف الدين أبي بكر بن أيوب، أخي صلاح الدين، فحمل لواء الجهاد إلى وفاته سنة (615 هـ).

 

بعد سنة واحدة - أي سنة 616 هـ - تحركت جيوش التتار مما وراء النهر، فاجتاحوا خوارزم وبخارى، فقتلوا وخربوا وما أبقوا. وأخذوا خراسان إلى حدود العراق، ثم عطفوا على قزوين وأذربيجان فاستباحوهما، وكرُّوا على إربل ودخلوا مرو آخر سنة 617 فوطئوهما وطأة ساحقة.

--------------------------------------------

(1) تقييد ابن نقطة (ل 137) وتكملة المنذري (2/ 1158) والعبر، ودول الإِسلام للذهبي، وفيات 607 هـ.
জিলহজ ৬০৩ হিজরি), এবং তিনি তাঁর নিকট থেকে অসংখ্য বৃহৎ গ্রন্থ, বিভিন্ন খণ্ড (أجزاء) ও বিশেষ সংগ্রহসমূহ (فوائد) শ্রবণ (سماع) করেছেন (১)।

 

এরপর সিরিয়া (শাম) সফর ছিল তাঁর জীবনের এক নতুন পর্যায়ের সূচনা, যা তাঁর জীবনীকারদের প্রত্যেকেই তাঁর জীবনচরিতে (ترجمة) উল্লেখ করেছেন। যদিও আমি যা পড়েছি তাতে তাঁরা এর নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করেননি। এই সফর কি ইলম অন্বেষণ ও শ্রবণ (سماع)-এর উদ্দেশ্যে ছিল, নাকি তা ছিল এক দেশান্তরি হিজরত?

এখানে আমার সামান্য অবান্তর আলোচনার (استطراد) প্রয়োজন রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা ইবনুল সালাহ-এর যুগের ওপর আলোকপাত করতে পারি:

তাঁর জন্মের প্রায় দশ বছর আগে, ৫৬৭ হিজরির শুরুতে, "আল-মালিকুল আদিল নূরুদ্দিন মাহমুদ বিন যাঙ্গি" সিরিয়ায় ফাতেমিদের নামে খুতবা পাঠ বন্ধ করে দেন এবং মিসরে তাঁর প্রতিনিধি "সালাহউদ্দিন বিন নাজমুদ্দিন আইয়ুব"-কে সেখানেও তা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। ফলে মিসর ও সিরিয়ায় পুনরায় আব্বাসীয়দের নামে খুতবা পাঠ শুরু হয়।

৫৬৯ হিজরিতে আদিল নূরুদ্দিন ইন্তেকাল করেন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সালাহউদ্দিন আইয়ুবির হাতে চলে আসে। তিনি ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদ অব্যাহত রাখেন। ৫৮৩ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে ঐতিহাসিক হিত্তিনের বিজয় অর্জিত হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় ইবনুল সালাহ-এর জন্মের প্রায় পাঁচ বছর পর, ২৭ শে রজব রোজ শুক্রবার তাদের কবল থেকে বাইতুল মাকদিস মুক্ত হয়। মিসর ও সিরিয়ার ক্রুসেড রণাঙ্গনে একের পর এক বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ চলতে থাকে, যতক্ষণ না ৫৮৯ হিজরির সফর মাসে আল-মালিকুল মুজাফফর সালাহউদ্দিন ইন্তেকাল করেন। এরপর তাঁর পুত্ররা মিসর, দামেস্ক ও আলেপ্পোর রাজত্ব ভাগ করে নেন। তাঁর ভাই আবু বকর আইয়ুবি কারজ, আল-জাজিরা, দিয়ার বকর ও মিয়াফারকিন অঞ্চলে স্বাধীনভাবে শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। আর তাঁদের অন্য ভাই সাইফুল ইসলাম তুগতকিন ইয়েমেনের জাবিদ থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত স্বাধীন শাসন কায়েম করেন। তাঁদের মধ্যে চরম গৃহবিবাদ ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রুসেডাররা পুনরায় সিরিয়ার প্রান্তরে তাণ্ডব শুরু করে ও মিসরের সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে হুমকি সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত আইয়ুবি সালতানাত সালাহউদ্দিনের ভাই আল-মালিকুল আদিল সাইফুদ্দিন আবু বকর বিন আইয়ুবের হাতে আসে। তিনি ৬১৫ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত জিহাদের ঝাণ্ডা বহন করেন।

 

এর ঠিক এক বছর পর—অর্থাৎ ৬১৬ হিজরিতে—মাওয়ারউন্নাহার অঞ্চল থেকে তাতার বাহিনী অগ্রসর হয়। তারা খাওয়ারিজম ও বুখারা আক্রমণ করে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। তারা খোরাসান থেকে ইরাকের সীমান্ত পর্যন্ত দখল করে নেয়, তারপর কাজভিন ও আজারবাইজানের দিকে অগ্রসর হয়ে সেখানে লুটতরাজ চালায়। এরপর তারা ইরবিলে আক্রমণ করে এবং ৬১৭ হিজরির শেষভাগে মার্ভে প্রবেশ করে এই অঞ্চলগুলোকে চরমভাবে পদদলিত ও বিধ্বস্ত করে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে নুকতার তাকয়িদ (পত্র ১৩৭), মুনজিরির তাকমিলাহ (২/ ১১৫৮), আয-যাহাবির আল-ইবার এবং দুওয়ালুল ইসলাম, মৃত্যু ৬০৭ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
" واستهلت سنة 618 هـ والدنيا تغلي بالتتار " بلفظ مؤرخ الإِسلام الحافظ الذهبي في (العبر).

 

وقتئذ كان ابن الصلاح وأبوه في ديار الشام، ويتعين أن الرحلة إليها كانت قبل سنة 612 هـ إذ توفي فيها " الحافظ عبد القادر الرهاوي " أول شيوخه الشاميين وفاة. فلئن كان ابن الصلاح رحل مع أبيه في طلب السماع ولقاء الشيوخ، لقد سُدَّت عليها كل سبل العودة إلى إربل، والتتار يطئون بلاد الشام مما وراء النهر إلى حدود العراق، لم يبقوا على شيء في إربل وسائر الحواضر الإِسلامية التي كانت عامرة بشيوخ ابن الصلاح.

 

ومن أكابر شيوخه الشاميين الذين لقيهم وسمع منهم بدمشق:

" أبو القاسم ابن الحرستاني " جمال الدين عبد الصمد بن محمد بن أبي الفضل الأنصاري الدمشقي الشافعي. قاضي القضاة.

 

سمع من شيوخ الوقت، وله إجازات عالية من الشيوخ الشاميين والعراقيين والأصبهانيين، وانتهى إليه علو الإِسناد وتفرد (1).

(520 - 614 هـ)

 

" الفخر ابن عساكر " أبو منصور عبد الرحمن بن محمد بن الحسن بن هبة الله الدمشقي، شيخ الشافعية بالشام ومن بيت العلم والرواية بها (2).

(550 طنا - 620 هـ)

 

" الشيخ الموفق " أبو محمد عبد الله بن أحمد بن قدامة المقدسي الصالحي (541 - 620 هـ) شيخ الحنابلة الإِمام الصدر القدوة، نقل الحافظ الذهبي في ترجمته قول الحافظ الضياء أبي عبد الله المقدسي: " سمعت أبا عمرو ابن الصلاح يقول: " ما رأيت مثل الشيخ الموفق " (3).

--------------------------------------------

(1) تقييد ابن نقطة (ل 131) تكملة المنذري (2/ 1568) لقيه بدمشق وسمع منه. تاريخ الإِسلام والعبر ودول الإِسلام: وفيات سنة 614 هـ، وطبقات الشافعية الكبرى للتاج السبكي: 5/ 74.

(2) تكملة المنذري (3/ 1935) وله منه إجازة كتب بها إليه من دمشق غير مرة. تاريخ الإِسلام والعبر ودول الإِسلام للذهبي: وفيات سنة 620 هـ، طبقات الشافعية الكبرى للتاج السبكي 5/ 66.

(3) العبر (5/ 80) وسير أعلام النبلاء ج 22، والضياء المقدسي ثم الدمشقي الصالحي الحنبلي، محمد بن عبد الواحد، من أقران ابن الصلاح ويشاركه في كثير من شيوخه (569 - 643 هـ).
"৬১৮ হিজরি সাল শুরু হলো আর বিশ্ব তাতারদের (আক্রমণে) উত্তাল" - এটি ইসলামের ইতিহাসবিদ হাফেজ আজ-জাহাবির আল-ইবার গ্রন্থের শব্দ।

 

সেই সময় ইবনুস সালাহ এবং তাঁর পিতা শাম দেশে অবস্থান করছিলেন। এটি নিশ্চিত যে সেখানে তাঁদের সফর ৬১২ হিজরি সালের পূর্বেই হয়েছিল, কারণ ওই বছরই তাঁর শামি উস্তাদদের মধ্যে প্রথম মৃত্যুবরণকারী 'হাফেজ আব্দুল কাদির আর-রুহাউয়ি' ইন্তেকাল করেন। ইবনুস সালাহ যদি তাঁর পিতার সাথে হাদিস শ্রবণ (سماع) এবং উস্তাদদের সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে সফরে গিয়ে থাকেন, তবে ইরবিলে ফিরে যাওয়ার সকল পথ তাঁদের জন্য রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাতাররা মা-ওয়ারাউন নহর থেকে শুরু করে ইরাকের সীমান্ত পর্যন্ত এবং শাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে পদদলিত করে অগ্রসর হচ্ছিল। তারা ইরবিলসহ অন্যান্য সমস্ত ইসলামী জনপদগুলোতে কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি, যা একসময় ইবনুস সালাহ-এর উস্তাদদের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল।

 

দামেস্কে তিনি যাদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং যাদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে অন্যতম বড় শামি উস্তাদগণ হলেন:

"আবু আল-কাসিম ইবনুল হুরস্তানি" জামালুদ্দিন আব্দুল সামাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি আল-ফাদল আল-আনসারি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিঈ। প্রধান বিচারপতি (কাদি আল-কুদাত)।

 

তিনি সমসাময়িক উস্তাদদের থেকে শ্রবণ করেছেন। শামি, ইরাকি এবং আসবাহানি উস্তাদদের থেকে তাঁর উচ্চমানের অনুমতি (إجازات) ছিল। উচ্চমানের সনদ (علو الإسناد) এবং একক বৈশিষ্ট্য (تفرد) তাঁর মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে (১)।

(৫২০ - ৬১৪ হিজরি)

 

"আল-ফখর ইবনে আসাকির" আবু মানসুর আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আদ-দিমাশকি। তিনি শামের শাফিঈ মাজহাবের প্রধান শায়খ ছিলেন এবং সেখানকার একটি ইলমি ও বর্ণনা (رواية) সমৃদ্ধ পরিবারের সদস্য ছিলেন (২)।

(৫৫০ - ৬২০ হিজরি)

 

"আশ-শায়খ আল-মুয়াফফাক" আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি আস-সালিহি (৫৪১ - ৬২০ হিজরি)। তিনি হাম্বলিদের প্রধান শায়খ, বরেণ্য ইমাম এবং আদর্শ ব্যক্তিত্ব। হাফেজ আজ-জাহাবি তাঁর জীবনীতে হাফেজ জিয়া আবু আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসির একটি উক্তি উল্লেখ করেছেন: "আমি আবু আমর ইবনুস সালাহ-কে বলতে শুনেছি: 'আমি আশ-শায়খ আল-মুয়াফফাক-এর মতো কাউকে দেখিনি'" (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে নুকতার তাকয়িদ (পত্র ১৩১), মুনজিরির তাকমিলা (২/১৫৬৮); দামেস্কে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর নিকট শ্রবণ করেছেন। তারিখুল ইসলাম, আল-ইবার এবং দুয়ালুল ইসলাম: ৬১৪ হিজরির মৃত্যু আলোচনা; এবং তাজ আল-সুবকির তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা: ৫/৭৪।

(২) মুনজিরির তাকমিলা (৩/১৯৩৫); তাঁর পক্ষ থেকে অনুমতি (إجازة) রয়েছে যা তিনি দামেস্ক থেকে একাধিকবার তাঁর নিকট লিখে পাঠিয়েছেন। জাহাবির তারিখুল ইসলাম, আল-ইবার এবং দুয়ালুল ইসলাম: ৬২০ হিজরির মৃত্যু আলোচনা; তাজ আল-সুবকির তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা ৫/৬৬।

(৩) আল-ইবার (৫/৮০) এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২তম খণ্ড; এবং জিয়া আল-মাকদিসি অতঃপর আদ-দিমাশকি আস-সালিহি আল-হাম্বলি, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ; তিনি ইবনুস সালাহ-এর সমসাময়িক এবং অনেক উস্তাদ লাভে তাঁর অংশীদার (৫৬৯ - ৬৪৩ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وسمع بحران من حافظها ومفتيها:

" أبي محمد عبد القادر بن عبد الله بن عبد الرحمن الرُهَاوي الحنبلي " المسند الرحال. طوف بالبلاد، وسمع من أكابر شيوخ الوقت. ومن مسموعاته جامع الترمذي، سمعه بهراة من نصر بن سيار، أبي الفتح الهروي، عن أبي عامر الأزدي (536 - 612 هـ) (4).

 

وسمع بحلب من:

" ابن الأستاذ، أبي محمد عبد الرحمن بن الأستاذ عبد الله بن علوان الأسدي الحلبي " من شيوخها الصاحين. سمع بحلب من نزيلها أبي محمد عبد الله بن محمد الصنهاجي الأشيري (- 561 هـ) وطبقته. وسمع ببغداد وأجاز له جماعة من شيوخ خراسان وأصبهان ودمشق ومصر والإِسكندرية وحدث (2). وفاته بحلب سنة 623 هـ.

وابن الصلاح، في (سنن السماع بالمقدمة) يروي عن أبي محمد عبد الرحمن بن عبد الله الأسدي، عن أبي محمد ابن الأشيري، عن القاضي عياض (3).

 

في الشام كانت الحياة العاملة الخصبة للتقي أبي عمرو ابن الصلاح:

" أقام في بيت المقدس مدرسًا بالمدرسة الصلاحية، إلى أن هدم سلطان الشام الملك المعظم - شرف الدين عيسى بن الملك العادل سيف الدين أبي بكر الأيوبي صاحب دمشق - سُور البلد عجزًا عن حمايته وخوفًا من الفرنجة أن تسيطر عليه. واتجه إلى

--------------------------------------------

(1) تكلمة المنذري (2/ 1399) إجازة من حران، كتابة، غير مرة، إحداها في ذي الحجة سنة 605 هـ، تذكرة الحفاظ ودول الإِسلام والعبر للذهبي: وفيات سنة 612 هـ، وذيل طبقات الحنابلة لابن رجب 2/ 82، وذيل التقييد للتقي الفارسي (ل 121، 158).

(2) تكملة المنذري (3/ 2105) وله منه إجازة كتب بها إليه من حلب غير مرة، إحداها في صفر سنة 610، وتاريخ الإِسلام والعبر للذهبي: وفيات سنة 623 هـ، ويشاركه في اسم الشهرة والكنية، ولده: ابن الأستاذ أبو محمد زين الدين عبد الله بن عبد الرحمن بن عبد الله بن علوان الأسدي الشافعي، قاضي القضاة ومن سَرَوات الرؤساء (578 - 635 هـ).

وابنه الكمال أحمد بن الزين عبد الله بن أبي محمد عبد الرحمن الحلبي الشافعي، قاضيها، ابن الأستاذ (- 662 هـ).

(3) مقدمة ابن الصلاح، النوع الرابع والعشرون.
হাররানে তিনি সেখানকার হাফেজ (حافظ) ও মুফতি (مفتي) 'আবু মুহাম্মদ আবদুল কাদির বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-রুহাভি আল-হাম্বলি'-এর নিকট থেকে শ্রবণ করেন, যিনি ছিলেন একজন সফরকারী মুসনিদ (مسند)। তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং সমসাময়িক বড় বড় শাইখদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর শ্রবণকৃত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জামে তিরমিজি; তিনি এটি হেরাতে নসর বিন সাইয়্যার আবু আল-ফাতহ আল-হারাভির নিকট থেকে, তিনি আবু আমির আল-আজদির নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন (৫৩৬ - ৬১২ হি.) (৪)।

 

তিনি আলেপ্পোতে (হালাব) শ্রবণ করেন:

'ইবনুল উস্তাদ আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আল-উস্তাদ আবদুল্লাহ বিন আলওয়ান আল-আসাদি আল-হালাবি'-এর নিকট থেকে, যিনি ছিলেন সেখানকার নিষ্ঠাবান (صالح) শাইখদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আলেপ্পোতে সেখানকার অধিবাসী আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-সানহাজি আল-আশিরি (মৃত্যু ৫৬১ হি.) ও তাঁর সমসাময়িকদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বাগদাদেও শ্রবণ করেছেন এবং খোরাসান, আস্পাহান, দামেস্ক, মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়ার একদল শাইখ তাঁকে ইজাজত (إجازة) প্রদান করেছেন এবং তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدث) (২)। তাঁর মৃত্যু হয় ৬২৩ হিজরিতে আলেপ্পোতে।

এবং ইবনুস সালাহ তাঁর 'সুনান আল-সামা বিল মুকাদ্দিমা'-তে আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-আসাদি থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ ইবনুল আশিরি থেকে, আর তিনি কাজি ইয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন (يروي) (৩)।

 

সিরিয়ায় (শাম) তাকি আবু আমর ইবনুস সালাহ-এর কর্মময় ও উর্বর জীবন অতিবাহিত হয়:

"তিনি বাইতুল মাকদিসে আল-মাদরাসা আল-সালাহিয়া-তে শিক্ষক হিসেবে অবস্থান করেন, যতক্ষণ না সিরিয়ার সুলতান আল-মালিক আল-মুয়াজ্জম—শরফ উদ্দিন ঈসা বিন আল-মালিক আল-আদিল সাইফ উদ্দিন আবু বকর আল-আইয়ুবি, দামেস্কের অধিপতি—শহর রক্ষা করতে না পেরে এবং ক্রুসেডারদের (ফিরিঙ্গি) দখলের ভয়ে শহরের প্রাচীর ধ্বংস করে দেন। এরপর তিনি ফিরে যান...

--------------------------------------------

(১) তাকমিলা আল-মুনজিরি (২/ ১৩৯৯), হাররান থেকে প্রাপ্ত ইজাজত (إجازة), লিখিতভাবে, একাধিকবার, যার একটি ছিল ৬০৫ হিজরির জিলহজ মাসে; আল-জাহাবির তাযকিরাতুল হুফফাজ, দুওয়ালুল ইসলাম ও আল-ইবার: ৬১২ হিজরির মৃত্যু সংক্রান্ত আলোচনা; ইবনে রজব-এর জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ২/ ৮২; এবং তাকি আল-ফারসির জাইলুত তাকিদ (পত্র ১২১, ১৫৮)।

(২) তাকমিলা আল-মুনজিরি (৩/ ২১০৫), তাঁর পক্ষ থেকে হাররান থেকে তাঁর কাছে লিখিত ইজাজত (إجازة) রয়েছে একাধিকবার, যার একটি ৬১০ হিজরির সফর মাসে; আল-জাহাবির তারিখুল ইসলাম ও আল-ইবার: ৬২৩ হিজরির মৃত্যু সংক্রান্ত আলোচনা। প্রসিদ্ধ নাম ও কুনিয়াতে (উপনাম) তাঁর সাথে মিল রয়েছে তাঁর পুত্রের: ইবনুল উস্তাদ আবু মুহাম্মদ জয়নুদ্দিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আলওয়ান আল-আসাদি আল-শাফেয়ি, যিনি প্রধান বিচারপতি এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন (৫৭৮ - ৬৩৫ হি.)।

এবং তাঁর পুত্র আল-কামাল আহমদ বিন আল-জয়ন আবদুল্লাহ বিন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান আল-হালাবি আল-শাফেয়ি, সেখানকার বিচারপতি, ইবনুল উস্তাদ (মৃত্যু ৬৬২ হি.)।

(৩) মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ, চব্বিশতম প্রকার।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
دمياط فكان مع أخيه الكامل في كشف الصليبيين عنها " وقد أرخ ابن الأثير وأبو الفدا المؤيد إسماعيل والذهبي كائنة هدم سور المقدس في أول سنة 616 هـ، " وانجفل الناس وتشتَّتُوا (1).

 

ونزح أبو عمرو إلى دمشق.

وأما والده " الصلاح عبد الرحمن " فسكن حلب مدرسًا في المدرسة الأسدية، إلى وفاته بها في سنة 618 هـ (2).

 

وفي حاضرة الشام، أخذ التقي أبو عمرو ابن الصلاح مكانه المرموق " يعيد زمان السالفين ورعًا وعلمًا " ولي التدريس في " المدرسة الرواحية " مفوضًا في أمرها من قبل منشئها الزكي ابن رواحة (3).

 

وعهد إليه الملك الأشرف، موسى بن الملك العادل سيف الدين أبي بكر الأيوبي " في النظر في " مدرسة سِتِّ الشام " وفوض إليه أمرها، واكن أول من ولي التدريس به (4). ثم لما عمر الملك الأشرف " المدرسة الأشرفية " بدمشق، ولي أبا عمرو ابن الصلاح أمرها، وفوض إليه مهام التدريس بها (5).

 

فكان فيما قال تلميذه وصاحبه شمس الدين ابن خلكان: " يقوم بوظائف الجهات الثلاث من غير إخلال بشيء منها إلا بعذر ضروري لا بد منه، مع اشتغاله بالفتوى تأتيه

--------------------------------------------

(1) الكامل، والمختصر في أخبار البشر، وتاريخ الإِسلام.

والعبر: سنة 616 هـ وتوفي الملك المعظم شرف الدين عيسى سنة 624 هـ وفي سنة 626 هـ، تفاوض أخواه الملك الكامل والملك الأشرف مع الفرنج على تسليم بيت المقدس إليهم، " واستعظم المسلمون ذلك وأكبروه، ووجدوا له من الوهن والألم ما لم يمكن وصفه " (ابن الأثير في الكامل 12/ 187).

(2) وفيات الأعيان (3/ 243 ت 108) وطبقات الشافعية الكبرى (5/ 65). وأعلام النبلاء ج 22.

(3) أنشأها الزكي ابن رواحة الدمشقي، فضل الله بن محمد الأنصاري، بدمشق في سنة 620 هـ (مختصر تنبيه الطالب وإرشاد الدارس في أخبار المدارس لأبي المفاخر النعيمي) ص 12 مخطوط دار الكتب.

(4) هي المدرسة الشامية البرانية، أنشأتها ست الشام ربيعة خاتون بنت نجم الدين أيوب بن شادي، بدمشق، قبل وفاتها في سنة 616 هـ (مختصر النعيمي: 12، والعبر للذهبي 5/ 61).

(5) المدرسة الأشرفية، عمرها الأشرف بن موسى بن الملك العادل سيف الدين أبي بكر، بدمشق في سنة 628 وفتحت ليلة النصف من شعبان لسنة 630 هـ قبل وفاة الملك الأشرف في سنة 635 هـ (مختصر النعيمي: ص 3) مع تاريخ الإِسلام ودول الإِسلام والعبر للذهبي.
দমইয়াত: সেখানে তিনি তাঁর ভাই আল-কামিলের সাথে ক্রুসেডারদের প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। "ইবনুল আসির, আবুল ফিদা আল-মুয়ায়্যাদ ইসমাইল এবং আয-যাহাবি ৬১৬ হিজরির শুরুতে জেরুজালেমের প্রাচীর ধ্বংসের ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করেছেন," এবং মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পলায়ন করে ও ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় (১)।

 

অতঃপর আবু আমর দামেশকে হিজরত করেন।

আর তাঁর পিতা "আস-সালাহ আবদুর রহমান" আলেপ্পোতে (হালাব) আল-মাদরাসাতুল আসাদিয়া-তে শিক্ষক হিসেবে বসবাস করেন, ৬১৮ হিজরিতে সেখানে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত (২)।

 

সিরিয়ার (শাম) রাজধানীতে আত-তাকি আবু আমর ইবনুস সালাহ তাঁর সেই মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করেন যা "তাকওয়া ও ইলমের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের যুগের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল"। তিনি "আল-মাদরাসাতুর রাওয়াহিয়্যাহ"-তে অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা আয-জাকি ইবনু রাওয়াহাহ (৩) কর্তৃক এর যাবতীয় বিষয় পরিচালনার পূর্ণ এখতিয়ার লাভ করেন।

 

মালিক আল-আশরাফ মুসা বিন মালিক আল-আদিল সাইফ উদ্দিন আবু বকর আল-আইয়ুবি তাঁকে "মাদরাসাতু সিত্তিশ শামের" তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব প্রদান করেন এবং এর সকল বিষয় তাঁর ওপর ন্যস্ত করেন; তিনিই ছিলেন সেখানে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনকারী প্রথম ব্যক্তি (৪)। অতঃপর যখন মালিক আল-আশরাফ দামেশকে "আল-মাদরাসাতুল আশরাফিয়্যাহ" নির্মাণ করেন, তখন তিনি আবু আমর ইবনুস সালাহকে এর দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং সেখানকার শিক্ষকতার কার্যাবলী তাঁর ওপর ন্যস্ত করেন (৫)।

 

তাঁর ছাত্র ও সঙ্গী শামসুদ্দিন ইবনুল খালিকান যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "তিনি কোনো প্রকার ত্রুটি ছাড়াই এই তিন দিকের দায়িত্ব পালন করতেন, যদি না কোনো অপরিহার্য ওজর বা কারণ থাকত। এর সাথে সাথেই তাঁর কাছে আসা ফতোয়া প্রদানের কাজেও তিনি ব্যস্ত থাকতেন..."

--------------------------------------------

(১) আল-কামিল, আল-মুখতাসার ফি আখবারিল বাশার এবং তারিখুল ইসলাম।

আল-ইবার: ৬১৬ হিজরি। মালিক আল-মুয়াযযাম শরাফ উদ্দিন ঈসা ৬২৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ৬২৬ হিজরিতে তাঁর দুই ভাই মালিক আল-কামিল এবং মালিক আল-আশরাফ জেরুজালেম শহরকে ফ্রাঙ্কদের (ক্রুসেডার) হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেন। "মুসলমানরা একে অত্যন্ত গুরুতর ও জঘন্য মনে করেছিল এবং তারা এর ফলে এমন এক বেদনা ও দুর্বলতা অনুভব করেছিল যা বর্ণনা করা সম্ভব নয়" (ইবনুল আসির, আল-কামিল ১২/১৮৭)।

(২) ওয়াফায়াতুল আইয়ান (৩/২৪৩, ১০৮) এবং তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৫/৬৫)। এবং আলামুন নুবালা, খণ্ড ২২।

(৩) এটি ৬২০ হিজরিতে দামেশকে আয-জাকি ইবনু রাওয়াহাহ আদ-দিমাশকি, ফজলুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি নির্মাণ করেন (আবু আল-মাফাখির আন-নুয়াইমি রচিত 'মুখতাসার তানবিহুত তালিব ওয়া ইরশাদুদ দারিস ফি আখবারিল মাদারিস', পৃষ্ঠা ১২, দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি)।

(৪) এটি মাদরাসাতুশ শামিয়্যাহ আল-বাররানিইয়্যাহ, যা নাজমুদ্দিন আইয়ুব বিন শাদির কন্যা সিত্তুশ শাম রাবিয়া খাতুন দামেশকে তাঁর মৃত্যুর আগে ৬১৬ হিজরিতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন (মুখতাসার আন-নুয়াইমি: ১২, এবং আয-যাহাবির আল-ইবার ৫/৬১)।

(৫) আল-মাদরাসাতুল আশরাফিয়্যাহ, এটি মালিক আল-আদিল সাইফ উদ্দিন আবু বকরের পুত্র আল-আশরাফ বিন মুসা ৬২৮ হিজরিতে দামেশকে নির্মাণ করেন এবং এটি ৬৩৫ হিজরিতে মালিক আল-আশরাফের মৃত্যুর আগে ৬৩০ হিজরির শাবান মাসের মাঝামাঝি রাতে খোলা হয় (মুখতাসার আন-নুয়াইমি: পৃষ্ঠা ৩; সাথে তারিখুল ইসলাম, দুওয়াইলুল ইসলাম এবং আয-যাহাবির আল-ইবার)।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
من الأقطار، والتأليف والتدريس " ورحل إليه طلاب العلم من الآفاق " شهد له مؤرخوه من أصحابه وتلاميذه، على أنه " كان وافر الجلالة والعقل حسن السمت نبيلاً متبحرًا في العلم مضرب المثل في الطلب مجتهدًا في العبادة والطاعة، مشهودًا له بالورع والتقوى والصلاح والسداد، مجمعًا على إمامته وجلالته ".

 

إلى أن توفي - نضر الله وجهه - سحَرَ الأربعاء الخامس والعشرين من شهر ربيع الآخر سنة ثلاث وأربعين وستمائة " فازدحم عليه الناس وصُلِّي علي مرتين، ثم شيعوه إلى مثواه في مقابر الصوفية، وقبره ظاهر يزار ويتبرك به، وقيل: والدعاء عنده مستجاب " فيما حكى الحافظ أبو عبد الله الذهبي - المتوفى سنة 748 هـ - في أعلام نبلائه، والتاج السبكي المتوفى سنة 771 هـ، بعد وفاة التقي ابن الصلاح بنحو من مائةٍ وثمانٍ وعشرين سنة.
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁর পাণ্ডিত্য, গ্রন্থ রচনা ও শিক্ষাদান— "এবং দিগন্ত বিস্তৃত অঞ্চল থেকে ইলম অন্বেষণকারীগণ তাঁর নিকট আগমন করতেন।" তাঁর সমসাময়িক ঐতিহাসিক ও ছাত্রগণ তাঁর সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি "ছিলেন অত্যন্ত মহিমান্বিত ও প্রজ্ঞাবান, উত্তম স্বভাব ও আভিজাত্যের অধিকারী এবং জ্ঞানে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী; জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ইবাদত ও আনুগত্যে কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন এবং তাঁর পরহেজগারিতা, তাকওয়া, সাধুতা ও সঠিকতার বিষয়ে সকলে সাক্ষ্য দিতেন। তাঁর ইমামত ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে সকলে ঐকমত্য (مجمعًا) পোষণ করতেন।"

 

অবশেষে ৬৪৩ হিজরির পঁচিশে রবিউস সানি, বুধবার শেষ রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাঁর চেহারা উজ্জ্বল করুন— "তখন মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিল এবং তাঁর জানাজার নামাজ দুবার পড়া হয়েছিল। অতঃপর তাঁকে সুফিয়া কবরস্থানে তাঁর শেষ শয্যায় দাফন করা হয়। তাঁর কবরটি সুপরিচিত, যা জিয়ারত করা হয় এবং এর মাধ্যমে বরকত লাভ করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর কবরের নিকট দোয়া কবুল হয়।" যেমনটি বর্ণনা করেছেন হাফেজ (الحافظ) আবু আব্দুল্লাহ আদ-যাহাবি—যিনি ৭৪৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন—তাঁর সিয়ারু আলামিন নুবালা গ্রন্থে এবং তাজ আস-সুবকি, যিনি ৭৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; যা তাকি ইবনে আস-সালাহ-এর ইন্তেকালের প্রায় একশ আটাশ বছর পরের ঘটনা।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌مصنفات أبي عمرو ابن الصلاح

 

في الحديث وعلومه:

* كتابه (المقدمة في علوم الحديث) يأتي.

 

* (شرح صحيح مسلم).

مذكور له في شروح الصحيح. وأفاد بروكلمان بوجود نسخة منه في مكتبة أياصوفيا بعنوان: صيانة صحيح مسلم من الخلل والغلط وحمايته من الإِسقاط والسقط (1/ 182) ومثله في التراث العربي لسزجين، وتصحفت فيه ترجمته كنية أبي عمرو، بأبي عمر (1/ 212).

ويُكْثِر منه النووي في شرحه لصحيح مسلم، كما ينقل عنه في تهذيب الأسماء واللغات.

وفي (مستفاد الرحلة والاغتراب لأبي القاسم التجيبي السبتي - 730) نص ما أملاه ابن الصلاح من فوت سماع ٍ لابراهيم بن سفيان، من صحيح مسلم - فهو يرويه عنه بالإجازة - سمعه التجيبي بدمشق في سنة 697 هـ من شيخه الكمال أبي العباس الدمشقي، أحمد بن أبي الفتح بن محمود الشيباني (- 702 هـ) بسماعه من ابن الصلاح بدمشق في سنة 638 هـ.

 

نُشر حديثا بعنوان (صيانة صحيح مسلم من الخلل والغلط وحمايته من الإِسقاط والسقط).

 

* (الأحاديث الكلية التي عليها مدار الدين).

ذكره حاجي خليفة مع (الأربعين النووية) في كشف الظنون.

 

* (الأمالي).

في مسموعات الحافظ ابن حجر (852 هـ) من شيخه ابن أبي المجد الدمشقي، على بن محمد (707 - 800) بإجازته من الناصر ابن المهتار الدمشقي (715 هـ) بسماعه من ابن الصلاح (المجمع المؤسس لابن حجر: 414 مخطوط دار الكتب بالقاهرة).

* (حديث الرحمة المسلسل بالأولية) وطرقه.

وهو المجلس الأول من أماليه، حدث به عناصر ابن المهتار (ذيل التقييد للفاسي).
আবু আমর ইবনে আস-সালাহ-এর রচনাবলি

 

হাদিস ও এর শাস্ত্রসমূহ (علوم الحديث) প্রসঙ্গে:

* তাঁর গ্রন্থ (আল-মুকাদ্দিমাহ ফি উলূমিল হাদিস) সামনে আসছে।

 

* (শারহু সহিহ মুসলিম)।

সহিহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে তাঁর এই গ্রন্থটির কথা উল্লিখিত হয়েছে। ব্রোকলম্যান আয়া সোফিয়া লাইব্রেরিতে 'সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম মিনাল খালাল ওয়াল গালাত ওয়া হিমায়াতুহু মিনাল ইসকাত ওয়াস সাকাত' শিরোনামে এর একটি পাণ্ডুলিপির অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন (১/১৮২)। অনুরূপ তথ্য সেজগিনের 'আত-তুরাসুল আরাবি' গ্রন্থেও রয়েছে, তবে সেখানে তাঁর জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত আলোচনায় আবু আমর-এর কুনিয়াত বা উপনাম (كنية) ভুলবশত 'আবু উমর' হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে (১/২১২)।

ইমাম নববী তাঁর শারহু সহিহ মুসলিম-এ এই গ্রন্থ থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেন, যেমনটি তিনি তাঁর 'তাজহিবুল আসমা ওয়াল লুগাত' গ্রন্থেও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু কাসেম আত-তুজিবি আস-সাবতি (৭৩০ হি.)-এর 'মুস্তাফাদুল রিহলাহ ওয়াল ইগতিরাব' গ্রন্থে ইবনে আস-সালাহ কর্তৃক ইব্রাহিম বিন সুফিয়ানের সহিহ মুসলিম-এর শ্রবণ (سماع) থেকে বাদ পড়া অংশ (فوت) সম্পর্কে প্রদত্ত শ্রুতলিপি (إملاء)-এর মূল পাঠ বিদ্যমান—ইবনে আস-সালাহ এটি তাঁর নিকট থেকে অনুমতি (إجازة)-এর ভিত্তিতে বর্ণনা (يروي) করেন—আত-তুজিবি ৬৯৭ হিজরিতে দামেস্কে তাঁর শায়খ আল-কামাল আবু আব্বাস আদ-দিমাশকি, আহমদ বিন আবু ফাতহ বিন মাহমুদ আশ-শায়বানি (মৃত্যু ৭০২ হি.)-এর নিকট এটি শ্রবণ করেছেন, যিনি ৬৩৮ হিজরিতে দামেস্কে সরাসরি ইবনে আস-সালাহ-এর নিকট তা শ্রবণ (سماع) করেছিলেন।

 

এটি সম্প্রতি 'সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম মিনাল খালাল ওয়াল গালাত ওয়া হিমায়াতুহু মিনাল ইসকাত ওয়াস সাকাত' শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।

 

* (আল-আহাদিসুল কুল্লিয়্যাহ আল্লাতি আলাইহা মাদারুদ দিন)।

হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে 'আরবাউনান নববী'-এর সাথে এর উল্লেখ করেছেন।

 

* (আল-আমালি)।

এটি হাফেজ ইবনে হাজার (৮৫২ হি.)-এর শ্রবণকৃত (مسموعات) গ্রন্থরাজির অন্তর্ভুক্ত, যা তিনি তাঁর শায়খ ইবনে আবিল মাজদ আদ-দিমাশকি, আলি বিন মুহাম্মদ (৭০৭-৮০০ হি.)-এর নিকট শ্রবণ করেছেন; তিনি নাসের ইবনে আল-মুহতার আদ-দিমাশকি (৭১৫ হি.)-এর নিকট থেকে প্রাপ্ত অনুমতি (إجازة)-এর ভিত্তিতে এটি বর্ণনা করেছেন, যিনি সরাসরি ইবনে আস-সালাহ-এর নিকট শ্রবণ (سماع) করেছিলেন (ইবনে হাজার কৃত আল-মুজামুল মুয়াসসিস: ৪১৪, কায়রো দারুল কুতুব-এর পাণ্ডুলিপি)।

* (হাদিসুর রহমাহ যা প্রথমত্বের ভিত্তিতে অনুক্রমিক (مسلسل)) এবং এর বর্ণনাপথসমূহ (طرق)।

এটি তাঁর শ্রুতিলিপি (أمالي)-র প্রথম অধিবেশন (مجلس); ইবনে আল-মুহতার এটি বর্ণনা (حدث) করেছেন (আল-ফাসি কৃত যাইনুত তাকিইদ)।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
والكمال أبو العباس بن أبي الفتح الشيباني الدمشقي (برنامج التجيبي: 171) وسَلْسَلَه معه، ونقل منه الشمس السخاوي في الحديث المسلسل بفتح المغيث (3/ 56).

 

* (حواش وتعليقات، على مطالع الأنوار لأبي إسحاق ابن قرقول): على كتاب شيخه القاضي عياض (مشارق الأنوار على صحاح الآثار).

نقلها من خط أبي عمرو ابن الصلاح " الشمسُ الموصلي محمد بن محمود بن عبد الكريم الدمشقي الشافعي، خطيب الجامع الأموي - 774 هـ) على هامش نظمه للمطالع في مخطوطاتها بخزانة الجامع الأعظم بمكناس (رقم 165) وخزانة القرويين بفاس (رقم 220) وخزانة دار الكتب بالقاهرة.

 

* في الفقه والفتاوى:

* (نكت على المهذب لأبي إسحاق الشيرازي).

في فروع الشافعية. ذكره له ابن قاضي شهبة في الطبقات. ورجع إليه الإِمام محي الدين النووي، في مواضع من (تهذيب الأسماء واللغات).

 

* (مشكل الوسيط، لأبي حامد الغزالي).

في فروع الشافعية، ذكره ابن خلكان في مصنفات ابن الصلاح، قال: وله إشكالات على الوسيط. وجاء في (الوسيط) بكشف الظنون: " علق أبو عمرو ابن الصلاح على الربع الأول منه تعليقة في جزأين ".

وينقل منه النووي كثيرًا في (تهذيب الأسماء واللغات) ضبطا أو شرحًا، أو بيانًا لوهم وتصحيحًا لخطأ. منها في الأسماء مثلاً: ابن القفال الشاشي (1/ 325 ت 704) وفي اللغات، مواد: الملقاح، في لقح، والمجيدية، والنظارة في نظر ....

 

* (صلة الناسك في صفة المناسك).

هكذا سماه الحافظ أبو عبد الله ابن رُشَيْد السبتي في رحلته (ملء العيبة) وابن قاضي شهبة في الطبقات. وقال ابن خلكان: وصنف في مناسك الحج وجمع فيه أشياء حسنة يحتاج إليها الناس، وهو مبسوط. وكشف الظنون: " المناسك للشيخ تقي الدين أبي عمرو ابن الصلاح .. وهو تأليف مبسوط ".

قلت: الكتاب كان دليل الحافظ ابن رشيد في الرحلة الحجازية، قال: " فأصبحنا يوم
এবং আল-কামাল আবু আল-আব্বাস বিন আবি আল-ফাতহ আল-শাইবানি আদ-দিমাশকি (বারনামাজ আত-তুজিবি: ১৭১) এবং তিনি এটি তার সাথে সূত্রপরম্পরাগত (المسلسل) উপায়ে বর্ণনা করেছেন। শামসুদ্দিন আস-সাখাভি 'ফাতহুল মুগিস' গ্রন্থের সূত্রপরম্পরাগত (المسلسل) হাদিস সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে (৩/৫৬) এটি থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

 

* (আবু ইসহাক ইবনুল কারকুল রচিত 'মাতালিউল আনওয়ার' গ্রন্থের ওপর পার্শ্বটীকা ও ব্যাখ্যাসমূহ): যা তার উস্তাদ কাজি আইয়াজের কিতাব 'মাশারিকুল আনওয়ার আলা সিহাহিল আসার'-এর ওপর লিখিত।

শামসুল মাওসিলি মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন আব্দুল কারিম আদ-দিমাশকি আশ-শাফিঈ (উমাইয়া জামে মসজিদের খতিব - ৭৭৪ হিজরি) আবু আমর ইবনুস সালাহ-এর নিজ হাতের লেখা থেকে এগুলো মিকনাসের জামে আজম লাইব্রেরি (নম্বর ১৬৫), ফাসের কারাওয়িন লাইব্রেরি (নম্বর ২২০) এবং কায়রোর দারুল কুতুব লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত 'মাতালি' কাব্যের পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় নকল করেছেন।

 

* ফিকহ এবং ফতোয়া শাস্ত্রে:

* (আবু ইসহাক আশ-শিরাজির 'আল-মুহাজ্জাব' গ্রন্থের ওপর টীকা)।

শাফিঈ মাজহাবের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিষয়াবলি নিয়ে রচিত। ইবনু কাজি শুহবা 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে এটি তার রচনা বলে উল্লেখ করেছেন। ইমাম মুহিউদ্দিন আন-নববী 'তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত' গ্রন্থের বেশ কিছু স্থানে এর সাহায্য নিয়েছেন।

 

* (আবু হামিদ আল-গাজালির 'আল-ওয়াসিত' গ্রন্থের জটিল বিষয়াবলি)।

শাফিঈ মাজহাবের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিষয়াবলি। ইবনু খাল্লিকান ইবনুস সালাহ-এর গ্রন্থ তালিকার বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: 'ওয়াসিত' গ্রন্থের ওপর তার কিছু জটিল ও গবেষণামূলক বিষয় রয়েছে। 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে 'আল-ওয়াসিত' প্রসঙ্গে এসেছে: "আবু আমর ইবনুস সালাহ এর প্রথম চতুর্থাংশের ওপর দুই খণ্ডে একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন।"

ইমাম নববী 'তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত' গ্রন্থে শব্দবিন্যাস যাচাই, ব্যাখ্যা প্রদান অথবা কোনো বিভ্রান্তি নিরসন ও ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ ব্যক্তিনামের ক্ষেত্রে: ইবনুল কাফফাল আশ-শাশী (১/৩২৫, জীবনী নং ৭০৪); এবং ভাষাতাত্ত্বিক পরিভাষার ক্ষেত্রে: আল-মিলকাহ (লাকাহ পরিচ্ছেদে), আল-মাজিদিয়্যাহ এবং আন-নাজ্জারাহ (নাজার পরিচ্ছেদে) ....

 

* (সিলাতুন নাসিক ফি সিফাতিল মানাসিক)।

হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে রুশাইদ আস-সাবতি তার সফরনামা 'মিলউল আইবাহ' গ্রন্থে এবং ইবনু কাজি শুহবা 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে একে এই নামেই অভিহিত করেছেন। ইবনু খাল্লিকান বলেছেন: তিনি হজের আহকাম বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন এবং এতে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চমৎকার সব বিষয় সুসংহত করেছেন, যা বেশ বিস্তারিত। 'কাশফুয যুনুন'-এ বলা হয়েছে: "শায়খ তাকিউদ্দিন আবু আমর ইবনুস সালাহ-এর হজের নিয়মাবলি সংক্রান্ত গ্রন্থ (আল-মানাসিক)... এবং এটি একটি বিস্তারিত রচনা।"

আমি বলছি: এই কিতাবটি হিজাজ সফরের সময় হাফেজ ইবনে রুশাইদের পথপ্রদর্শক ছিল। তিনি বলেছেন: "অতঃপর আমরা একদা ভোরে"
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الثلاثاء التاسع من ذي الحجة - سنة 684 هـ - بعرفات، واستصحب معي (كتاب صلة الناسك في صفة المناسك للإِمام المحدث الأوحد الفقيه الشافعي أبي عمرو بن الصلاح) رحمه الله، فكنت أستعرف به المواضع التي يصفها الصفة وانطباقها على الموصوف ".

 

ثم لم يكد وصف ابن رشيد للمناسك والمشاعر يخلو من رجوع إلى هذا الدليل والنقل منه. وبعد بيان الواجب السادس من شعائر الطواف وكيفية ابتداء الطواف إلى انتهائه، - على ما قال الإِمام أبو عمرو - والدعاء عند الملتزم ما بين الباب والحجر. قال: " انتهى ما أردنا إيراده من كلام الإِمام أبي عمرو. وإن أطلنا في تتبع أمكنته وجمع متفرقه. فطلبًا للإِفادة بما يعز وجوده ويعجز عن مثل هذا البيان لسانه. والله المرشد " (1).

 

الفتاوى:

قال ابن خلكان: " وجمع بعض أصحابه فتاويه في مجلد " وذكرها التاج السبكي في طبقاته الكبرى، ونقل جملة مختارة منها. وكذلك نقل منها الزين العراقي في (التقييد والإِيضاح) والشمس السخاوي في (فتح المغيث) كما ذكرها ابن الصلاح، التقي الفاسي في (ذيل التقييد: 216 أ) وحاجي خليفة في الكشف، والبغدادي في هدية العارفين.

 

وهي مطبوعة في الجزء الثاني من (مجموعة الرسائل المنيرية) بالقاهرة سنة 1344 هـ مرتبة على أبواب في التفسير والحديث والأصول والعقائد. وللكمال ابن علوان أحمد بن أبي محمد زين الدين عبد الله بن أبي محمد عبد الرحمن بن الأستاذ عبد الله بن علوان الأسدي الحلبي الشافعي قاضيها - 662 هـ) حواش على فتاوى ابن الصلاح، ذكرها التاج السبكي وقال: " هي عندي بخطه، على نسخة ابن الصلاح، فيها فوائد. وكلامه يدل على فضل كثير واستحضار للمذهب " (2).

--------------------------------------------

(1) ابن رُشَيْد: ملء العيبة، المجلد الخامس (ص 87 - 115) من مخطوط دار الكتب بالقاهرة رقم 37851، منسوخ من مصور الدار رقم 2376، لأصل ابن رشيد في الأسكوريال، بخطه.

(2) طبقات الشافعية (5/ 8) ترجمة الكمال أحمد - وهو حفيد ابن الأستاذ أبي محمد عبد الرحمن بن عبد الله بن علوان الأسدي، من شيوخ ابن الصلاح - ونقله ابن العماد في الشذرات 5/ 168.
মঙ্গলবার, ৯ই জিলহজ, ৬৮৪ হিজরি - আরাফাতের ময়দানে। আমি আমার সাথে (ইমাম, অনন্য মুহাদ্দিস (المحدث), ফকিহ, শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী আবু আমর ইবন আস-সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত ‘সিলাতুন নাসিক ফি সিফাতিল মানাসিক’ বইটি) রেখেছিলাম। আমি এর মাধ্যমে সেই স্থানগুলোকে চিনে নিচ্ছিলাম যেগুলোর বিবরণ তিনি প্রদান করেছেন এবং বাস্তব অবস্থার সাথে সেই বর্ণনার মিল মিলিয়ে দেখছিলাম।

 

অতঃপর হজের আহকাম ও স্থানসমূহের বর্ণনায় ইবনে রুশাইদের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকাটির দিকে ফিরে তাকানো এবং তা থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করা প্রায় বাদ পড়েনি। তওয়াফের নিদর্শনসমূহের মধ্যে ষষ্ঠ ওয়াজিব বিষয় এবং তওয়াফ শুরু থেকে শেষ করার পদ্ধতি বর্ণনার পর—যেমনটি ইমাম আবু আমর বলেছেন—এবং কাবা শরিফের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থান মুলতাযামে দোয়ার বিষয়ে তিনি বলেন: "ইমাম আবু আমরের বক্তব্য থেকে যা আমরা উপস্থাপন করতে চেয়েছিলাম তা এখানেই সমাপ্ত হলো। যদিও আমরা তাঁর বর্ণনার স্থানগুলো অনুসরণ করতে এবং এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করতে দীর্ঘসূত্রতা করেছি, তবে তা কেবল এমন উপকার লাভের আশায় যা সচরাচর পাওয়া যায় না এবং যা বর্ণনা করতে ভাষা অক্ষম হয়ে পড়ে। আর আল্লাহই সঠিক পথপ্রদর্শক।" (১)।

 

ফতোয়া সমগ্র:

ইবনে খাল্লিকান বলেন: "তাঁর জনৈক শিষ্য তাঁর ফতোয়াগুলো একটি খণ্ডে সংকলন করেছেন।" তাজ আল-সুবকী তাঁর ‘তাবাকাতুল কুবরা’-তে এর উল্লেখ করেছেন এবং সেখান থেকে নির্বাচিত কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছেন। অনুরূপভাবে যয়নুদ্দীন আল-ইরাকি তাঁর ‘আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইদাহ’ গ্রন্থে এবং শামস আস-সাখাবী ‘ফাতহুল মুগীস’ গ্রন্থে এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যেমনটি ইবনে আস-সালাহ সম্পর্কে তাকি আল-ফাসি ‘যাইলুত তাকয়ীদ’ (২১৬ ক), হাজি খলিফা ‘কাশফুজ যুনুন’ এবং আল-বাগদাদি ‘হাদিয়াতুল আরিফীন’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

এটি ১৩৪৪ হিজরিতে কায়রো থেকে প্রকাশিত ‘মাজমুয়াতুর রাসায়িল আল-মুনিরিয়্যাহ’-এর দ্বিতীয় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, যা তাফসির, হাদিস, উসুল (الأصول) এবং আকিদার অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে। আর কামাল ইবন আলওয়ান আহমদ ইবন আবি মুহাম্মাদ যাইনুদ্দীন আবদুল্লাহ ইবন আবি মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবন আল-উস্তাদ আবদুল্লাহ ইবন আলওয়ান আল-আসাদি আল-হালাবি আল-শাফেয়ী—যিনি সেখানকার বিচারক ছিলেন (মৃত্যু ৬৬২ হি.)—তাঁর ইবনে আস-সালাহ-এর ফতোয়াগুলোর ওপর টীকা রয়েছে। তাজ আল-সুবকী এর উল্লেখ করে বলেন: "এটি তাঁর স্বহস্তে লেখা অবস্থায় আমার কাছে রয়েছে, যা ইবনে আস-সালাহ-এর কপির ওপর লিখিত; এতে অনেক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা রয়েছে। তাঁর কথা থেকে প্রচুর পাণ্ডিত্য এবং মাজহাবের মাসআলাসমূহ নখদর্পণে থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।" (২)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে রুশাইদ: মিলউল আইবাহ, ৫ম খণ্ড (পৃ. ৮৭-১১৫); কায়রোর দারুল কুতুব-এর পাণ্ডুলিপি নং ৩৭৮৫১ থেকে সংগৃহীত, যা দারুল কুতুবের মাইক্রোফিল্ম নং ২৩৭৬ থেকে নকল করা হয়েছে; মূল কপিটি এসকোরিয়াল লাইব্রেরিতে ইবনে রুশাইদের নিজস্ব হস্তাক্ষরে রক্ষিত।

(২) তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ (৫/৮), কামাল আহমদের জীবনী—তিনি ইবনে আস-সালাহ-এর উস্তাদদের মধ্যে অন্যতম আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবন আবদুল্লাহ ইবন আলওয়ান আল-আসাদির নাতি—এবং ইবনুল ইমাদ ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৫/১৬৮) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ ওয়া মাহাসিনুল ইসতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
* (كتاب أدب المفتي والمستفتي).

ذكره له حاجي خليفة في حرف الهمزة من كشف الظنون. مطبوع.

 

في الرجال:

* (طبقات الفقهاء الشافعية)

ذكره شيخ الإِسلام النووي في مصادره من كتب الطبقات لتهذيب الأسماء واللغات، قال: " ومن كتب طبقات الفقهاء، كطبقات أبي عاصم العَبَّادي - الهروي من أئمة الشافعية الخراسانيين: 458 هـ - وطبقات الشيخ أبي إسحاق، هو الشيرازي، وطبقات أبي عمرو ابن الصلاح، وهي مقطعات، وقد شرعت في تهذيبها وترتيبها. وهو كتاب نفيس لم يُصنَّف مثلُه ولا قريب منه ولا يغني عنه في معرفة الفقهاء غيرُه، ويقبح بالمنتسب إلى مذهب الشافعي جهله " تهذيب الأسماء واللغات: 1/ 1 / 6.

وقال التاج عبد الوهاب السبكي في خطبة طبقاته الكبرى، وذكر من سبقوه إلى التأليف فيها: " ثم جاء الشيخ ابن الصلاح، رب الفوائد والفرائد ومجمع الغرائب والنوادر، فألف كتابه، وقد كان رحمه الله فيما يُفهم من كلامه، عزم على أن يجمع جمعًا ما بعده مطلب لِمُتَعَنِّتٍ ولا أَمَلٌ لِمُتَمَنٍّ، ولكن المنية حالت دون مقصوده فقضى نحبه والكتاب مسودة. فأخذه الشيخ الإِمام الزاهد أبو زكريا النووي واختصره وزاد عليه أسماء قليلة جدًّا. ومات أيضًا وكتابه مسودة فبيّضه شيخنا حافظ الزمان أبو الحجاج يوسف بن الزكي عبد الرحمن المزي رحمه الله .. ".

نقله حاجي خليفة في الكشف (2/ 1101) مع خلاف يسير.

 

وللتقي السبكي، علي بن عبد الكافي الأنصاري الخزرجي المصري الشافعي، قاضي القضاة الفقيه الأصولي (683 - 756 هـ) كتاب " منتخب طبقات الفقهاء لابن الصلاح " ذكره له ابنه التاج عبد الوهاب في معجم شيوخه (مخطوط دار الكتب بالقاهرة).

 

* (المنتخب من المُذَهَّب في ذكر شيوخ المذهَبِ للمُطَوَّعي) - في فهارس الخزانة الظاهرية بدمشق. توجد مسودة منه برقم (157 عام) - وذكره التاج السبكي في مطلب ما صُنف في طبقات الشافعية، ونص عبارته " فأول مَن بلغني صنف في ذلك، الإمام
* (কিতাব আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি)।

হাজী খলিফা কাশফুয যুনুন-এর হামযা (أ) বর্ণে এটি উল্লেখ করেছেন। এটি মুদ্রিত।

 

রিজালশাস্ত্রে (জীবনী অভিধান):

* (তাবাকাতুল ফুকাহা আশ-শাফিয়্যাহ)

শাইখুল ইসলাম আন-নাবাউই তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত-এর জন্য তার ‘তাবাকাত’ বিষয়ক উৎসগ্রন্থসমূহের মধ্যে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "ফুকাহাদের তাবাকাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে যেমন আবু আসিম আল-আব্বাদি (হিরাতের শাফিয়ি খোরাসানি ইমামগণের অন্যতম, মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি) রচিত তাবাকাত, শাইখ আবু ইসহাক (যিনি হলেন আশ-শিরাজি) রচিত তাবাকাত এবং আবু আমর ইবনুস সালাহ রচিত তাবাকাত—এটি মূলত বিচ্ছিন্ন অংশ বা সংকলন (مقطعات), আমি এর পরিমার্জন ও বিন্যাস শুরু করেছি। এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থ, যার সমতুল্য বা এর কাছাকাছি মানের কোনো কিতাব সংকলিত হয়নি। ফুকাহাদের পরিচয় লাভের ক্ষেত্রে অন্য কোনো গ্রন্থ এর বিকল্প হতে পারে না। আর শাফিয়ি মাযহাবের অনুসারী হয়েও এই কিতাবটি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা লজ্জাজনক।" তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত: ১/ ১ / ৬।

তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব আস-সুবকি তার তাবাকাতুল কুবরা-এর ভূমিকার শুরুতে এ বিষয়ে পূর্ববর্তী লেখকদের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "অতঃপর আসলেন শাইখ ইবনুস সালাহ, যিনি বহুবিধ বিরল ও অভিনব ফায়দার অধিকারী এবং দুর্লভ ও বিস্ময়কর তথ্যের সমাহারকারী। তিনি তার কিতাবটি রচনা করেন। তার বক্তব্য থেকে যেমনটি বোঝা যায়—আল্লাহ তার ওপর রহম করুন—তিনি এমন একটি সংকলন করার সংকল্প করেছিলেন যার পর কোনো কঠোর অনুসন্ধানকারীর আর কোনো লক্ষ্য থাকবে না এবং কোনো আকাঙ্ক্ষাকারীর আর কোনো আশা অবশিষ্ট থাকবে না। কিন্তু মৃত্যু তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে বাধা হয়ে দাঁড়াল, ফলে তিনি ইন্তেকাল করলেন এবং কিতাবটি পাণ্ডুলিপি অবস্থাতেই থেকে গেল। এরপর ইমাম যুহদ অবলম্বনকারী আবু জাকারিয়া আন-নাবাউই এটি গ্রহণ করেন, সংক্ষেপ করেন এবং খুব সামান্য কিছু নাম এতে বৃদ্ধি করেন। তিনিও ইন্তেকাল করলেন এবং কিতাবটি পাণ্ডুলিপি অবস্থাতেই ছিল। অতঃপর আমাদের উস্তাদ জামানার হাফেজ (حافظ) আবু হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনুল যাকি আব্দুর রহমান আল-মিযযি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এটি চূড়ান্ত কপি হিসেবে প্রস্তুত করেন..."।

হাজী খলিফা সামান্য পার্থক্যের সাথে কাশফুয যুনুন-এ (২/ ১১০১) এটি উদ্ধৃত করেছেন।

 

তাকিউদ্দীন আস-সুবকি (আলী ইবনে আব্দুল কাফি আল-আনসারি আল-খাযরাজি আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি, প্রধান বিচারপতি, ফকিহ এবং উসুলবিদ (أصولي), ৬৮৩ - ৭৫৬ হিজরি) ‘মুনতাখাব তাবাকাতুল ফুকাহা লি ইবনুস সালাহ’ নামক একটি কিতাব লিখেছেন। তার পুত্র তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব তার মুজামু শুইউখ-এ (কায়রোর দারুল কুতুব-এর পাণ্ডুলিপি) এটি উল্লেখ করেছেন।

 

* (আল-মুনতাখাব মিনাল মুযহ্যাব ফি জিকরি শুইউখিল মাযহাব লিল মুতাউয়ি) - দামেস্কের আল-খিজানাতুজ জহিরিয়্যাহ-র ক্যাটালগে এটি রয়েছে। এর একটি পাণ্ডুলিপি (১৫৭ আম) নম্বরে সংরক্ষিত আছে। তাজউদ্দীন আস-সুবকি শাফিয়ি তাবাকাতের ওপর রচিত গ্রন্থাবলির আলোচনায় এটি উল্লেখ করেছেন এবং তার মূল ভাষ্য হলো: "আমার কাছে পৌঁছানো তথ্যমতে এ বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি কিতাব সংকলন করেছেন, তিনি হলেন ইমাম..."