(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: -)
استيفاء الأقوال في تحريم الإسبال على الرجال القسم: مسائل فقهية
الكتاب: استيفاء الأقوال في تحريم الإسبال على الرجال
المؤلف: محمد بن إسماعيل بن صلاح بن محمد الحسني، الكحلاني ثم الصنعاني، أبو إبراهيم، عز الدين، المعروف كأسلافه بالأمير (ت 1182هـ)
المحقق: عقيل بن محمد بن زيد المقطري
الناشر: مكتبة دار القدس - صنعاء
الطبعة: الأولى، 1412هـ - 1992 م
أعده للشاملة: محمد يحيى
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مقابل على مطبوعتين]
عدد الصفحات: 51
تاريخ النشر بالشاملة: 17 ذو القعدة 1432
পুরুষদের জন্য গোড়ালির নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরার (ইসবাল) হারামের বিষয়ে বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: পুরুষদের জন্য গোড়ালির নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরার (ইসবাল) হারামের বিষয়ে বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন সালাহ বিন মুহাম্মাদ আল-হাসানী, আল-কাহলানী অতপর আস-সানআনী, আবু ইবরাহিম, ইযযুদ্দীন, তার পূর্বসূরিদের মতো আল-আমীর নামে পরিচিত (মৃত্যু ১১৮২ হিজরি)
সম্পাদক: আকীল বিন মুহাম্মাদ বিন যাইদ আল-মাকতারী
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল কুদস - সানআ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি দুটি মুদ্রিত সংস্করণের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[استيفاء الأقوال في تحريم الإسبال على الرجال]ـ
المؤلف: محمد بن إسماعيل بن صلاح بن محمد الحسني، الكحلاني ثم الصنعاني، أبو إبراهيم، عز الدين، المعروف كأسلافه بالأمير (المتوفى: 1182هـ)
المحقق: عقيل بن محمد بن زيد المقطري
الناشر: مكتبة دار القدس - صنعاء
الطبعة: الأولى، 1412هـ - 1992 م
أعده للشاملة/ محمد بن يحيى
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مقابل]
--------------------------------------------
ـ[পুরুষদের জন্য ইসবাল (إسبال) হারাম হওয়া সংক্রান্ত মতামতের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ]ـ
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সালাহ বিন মুহাম্মদ আল-হাসানি, আল-কাহলানি অতঃপর আস-সানআনি, আবু ইবরাহিম, ইজ্জুদ্দিন, তাঁর পূর্বসূরিদের মতো 'আল-আমীর' নামে পরিচিত (মৃত্যু: ১১৮২ হিজরি)
তাহকিক (تحقيق): আকিল বিন মুহাম্মদ বিন যাইদ আল-মাকতরি
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল কুদস - সানা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তা মিলিয়ে দেখা হয়েছে]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৫)
[مقدمة المحقق]بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده أما بعد:
فإن إسبال الثياب وجعلها أسفل من الكعبين قد صار شائعاً في الأزمان المتأخرة، ولا تجد من ينكر عليهم صنيعهم هذا إلا ما شاء الله. وهذه المسألة -أعني إسبال الإزار والقميص وما أشبه ذلك- تعد من الكبائر.
ومن المؤسف جداً أن تجد بعضاً ممن ينتسب إلى العلم يسبل إزاره ويجره في الأرض، وخاصة من الأزهريين، ثم اقتدى بهم عامة المسلمين. وتجدهم يتعللون بعلل واهية هي أوهى من خيوط العنكبوت، تارة يستدلون بما ورد في بعض طرق الحديث ((من جر ثوبه خيلاء)) وتارة يستدلون بأن النبي صلى الله عليه وسلم قد جر ثوبه
… وهكذا. وهذا يدل على جهل منهم بالأصول التي وضعها العلماء للجمع بين الروايات.
وهذه الرسالة التي بين يديك للإمام الصنعاني رحمه الله وهي ((استيفاء الأقوال في تحريم الإسبال على الرجال)) جمع فيها جملة طيبة من الأحاديث الدالة على تحريم إنزال الثياب تحت الكعبين، ورد قيها على الذين يجيزون ذلك لغير الخيلاء، وجمع بين الأدلة جمعاً طيباً، وأيد كلامه بكلام من سبقه من العلماء على أن الإسبال محرم سواء قصد الخيلاء أم لم يقصد.
هذا وقد قمت بتحقيقها وتخريج أحاديثها رجاء أن ينفع بها كل
[সম্পাদকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:
নিশ্চয়ই কাপড় ঝুলিয়ে পরা এবং তা টাখনুর নিচে রাখা বর্তমান সময়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ যাদের তাওফিক দিয়েছেন তারা ব্যতীত এমন কাউকে খুব একটা পাওয়া যায় না, যে তাদের এই কাজের প্রতিবাদ করবে। আর এই বিষয়টি—অর্থাৎ লুঙ্গি, জামা এবং এই জাতীয় পোশাক ঝুলিয়ে পরা—কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কিছু ব্যক্তিকেও দেখা যায় যারা তাদের লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরে এবং তা মাটিতে টেনে নিয়ে যায়, বিশেষ করে আল-আজহারের আলেমদের মধ্যে এটি লক্ষ্য করা যায়; অতঃপর সাধারণ মুসলমানরা তাদের অনুসরণ করে। তারা অত্যন্ত অসার ও মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল কিছু অজুহাত পেশ করে থাকে। কখনও তারা হাদিসের কিছু সূত্র (طرق)-এ বর্ণিত "যে ব্যক্তি অহংকারবশত কাপড় টেনে নেয়" বাক্য দ্বারা দলিল পেশ করে, আবার কখনও তারা দলিল দেয় যে নবী (সা.) তাঁর কাপড় টেনে নিয়েছিলেন
… এবং এভাবে আরও অনেক কিছু। এটি বর্ণনাগুলোর (روايات) মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য উলামায়ে কেরাম কর্তৃক প্রণীত মূলনীতি (الأصول) সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।
আপনার সম্মুখে থাকা ইমাম সানি (রহ.)-এর এই পুস্তিকাটি—যার নাম হলো ‘ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবাল আলা আর-রিজাল’—এতে তিনি টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান নিষিদ্ধ হওয়ার স্বপক্ষে একগুচ্ছ চমৎকার হাদিস সংকলন করেছেন। যারা অহংকার ব্যতীত এটি বৈধ মনে করেন, তিনি তাদের রদ বা খণ্ডন করেছেন এবং দলিলসমূহের মাঝে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সমন্বয় করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যকে তাঁর পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন যে, কাপড় ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ, চাই তা অহংকারের উদ্দেশ্যে হোক বা না হোক।
অতঃপর আমি এর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) এবং হাদিস যাচাইকরণ (تخريج) সম্পন্ন করেছি এই প্রত্যাশায় যে, এর মাধ্যমে প্রত্যেকেই
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৬)
من وصلت إليه، وآثرت أن يكون تخريجي للأحاديث تخريجاً خفيفاً حتى لا أثقل الرسالة ولا أثقل على القارئ، وتكلمت على بعض الأحاديث التي بان لي ضعفها.
أسأل الله عز وجل أن يرزقني الإخلاص في القول والعمل، وأن يجعل عملي خالصاً لوجهه الكريم، وأن يجزي مؤلف هذه الرسالة خير الجزاء إنه أكرم مسئول.
ولا أنسى أن أتوجه بشكري الجزيل للأخ الفاضل الشيخ عبد الرقيب بن إسماعيل الصلوي على ما بذل معي من مجهود في المرحلة الأخيرة من تحقيق هذه الرسالة، وأسأل الله أن يرزقني وإياه العلم النافع.
والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.
أبو عبد الرحمن
عقيل بن محمد بن زيد المقطري
تعز/اليمن
যার নিকট এটি পৌঁছাবে; আমি হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ ও যাচাই (تخريج) সংক্ষেপ করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছি, যাতে এই গবেষণাপত্রটি ভারাক্রান্ত না হয় এবং পাঠকের জন্য তা কষ্টসাধ্য না হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া আমি এমন কিছু হাদিস নিয়ে আলোচনা করেছি যেগুলোর দুর্বলতা (ضعف) আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে কথায় ও কাজে একনিষ্ঠতা দান করেন এবং আমার এই কর্মকে একান্তভাবে তাঁর মহান সত্তার জন্য নিবেদিত করেন। আর এই গবেষণাপত্রের লেখককে যেন তিনি সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি যাঞ্চাকারীদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা।
আমি শ্রদ্ধেয় ভাই শায়খ আব্দুর রাকিব বিন ইসমাইল আল-সালাওয়ীর প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলছি না, এই গবেষণাপত্রটির পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) শেষ পর্যায়ে তিনি আমার সাথে যে শ্রম ব্যয় করেছেন তার জন্য। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে এবং তাঁকে উপকারী জ্ঞান দান করেন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।
আবু আব্দুর রহমান
আকীল বিন মুহাম্মদ বিন যায়েদ আল-মাকতারী
তায়িজ/ইয়েমেন
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وصف المخطوطة1 - اسم الرسالة: (استيفاء الأقوال في تحريم الإسبال على الرجال) هكذا سماها مؤلفها رحمه الله، وورد في فهرست مخطوطات الجامع الكبير وغلاف الرسالة* (استيفاء الاستدلال في بيان تحريم إسبال الثياب على الرجال) والمعتبر هو تسمية المؤلف.
2 - موضوعها: الكلام على تحريم إسبال الثياب على الرجال.
3 - مكان وجود الرسالة: توجد الرسالة في المجموع رقم (1) من مخطوطات مكتبة الجامع الكبير بصنعاء وهي ضمن رسائل الإمام الصنعاني رحمه الله.
4 - أول المخطوطة: الحمد لله الذي أسبل على الأنام ستره
…5 - آخر المخطوطة: ولا يجوز تأخيره عن وقت الحاجة، وأي حاجة أشد من مقام النهي والله أعلم.
6 - نوع خطها: نسخي معتدل
7 - تاريخ النسخ: نحو سنة 1175 هـ، كما في فهرست مخطوطات مكتبة الجامع الكبير بصنعاء.
8 - عدد أوراقها: من الورقة 53 - إلى الورقة 57.
9 - المسطرة:35 سطراً.
10 - المقاس:33*23
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপির বিবরণ১ - পুস্তিকার নাম: (ইস্তিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবাল আলা আর-রিজাল)। লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) একে এই নামেই অভিহিত করেছেন। তবে 'জামেউল কাবীর'-এর পাণ্ডুলিপি তালিকা এবং পুস্তিকার প্রচ্ছদে* (ইস্তিফাউল ইসতিদলাল ফি বায়ানি তাহরিমি ইসবালিত থিয়াব আলা আর-রিজাল) নামটি পাওয়া যায়। তবে লেখকের দেওয়া নামটিই ধর্তব্য।
২ - বিষয়বস্তু: পুরুষদের জন্য কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরার (إسبال) নিষিদ্ধতা (تحريم) সংক্রান্ত আলোচনা।
৩ - পাণ্ডুলিপির অবস্থান: পাণ্ডুলিপিটি সান'আর 'জামেউল কাবীর' গ্রন্থাগারের ১ নম্বর পাণ্ডুলিপি সংকলনে সংরক্ষিত আছে এবং এটি ইমাম সান'আনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর পুস্তিকাসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
৪ - পাণ্ডুলিপির প্রারম্ভ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টির ওপর স্বীয় পর্দা প্রসারিত করেছেন...
৫ - পাণ্ডুলিপির সমাপ্তি: এবং প্রয়োজনের সময় থেকে একে বিলম্বিত করা জায়েজ নয়। আর নিষেধাজ্ঞার (النهي) অবস্থানের চেয়ে অধিক বড় প্রয়োজন আর কী হতে পারে? আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
৬ - লিপিশৈলীর ধরন: পরিমিত নাসখ (نسخي) লিপি।
৭ - অনুলিপির তারিখ: আনুমানিক ১১৭৫ হিজরি, যেমনটি সান'আর 'জামেউল কাবীর' গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি তালিকায় বর্ণিত হয়েছে।
৮ - পত্র সংখ্যা: ৫৩ নম্বর পত্র হতে ৫৭ নম্বর পত্র পর্যন্ত।
৯ - লাইন সংখ্যা: ৩৫ লাইন।
১০ - পরিমাপ: ৩৩*২৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
استيفاء الأقوال في تحريم الإسبال على الرجال*
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذى اسبل على الانام ستره، وعرفهم على لسان رسوله المختار صلى الله عليه وآله وسلم (1) نهيه وامره، والصلاة والسلام على الشفيع فى يوم يكشف عن ساق، وعلى آله الذين ليس بينهم وبين القرآن حتى يرد الحوض افتراق. وبعد:
فقد ورد سؤال عن احاديث السدل والاسبال، اى اسبال الإزار وما ورد فيه من الوعيد بالنار، وكيف امر صلى الله عليه واله وسلم من صلى مسبلا باعادة وضوئه مرتين بالتكرار.
فأجبت بجواب فيه كفاية واختصار، من غير مراجعة لما فى بطون الأسفار، لما قاله فى ذلك الائمة الكبار، ثم رأيت بسط الجواب واستيفاء الأقوال وتسميته: ((استيفاء الأقوال فى تحريم الاسبال على الرجال)) * فأقول:
أخرج مسلم فى ((الصحيح)) والبيهقى فى ((السنن الكبرى)) من
حديث عبد الله بن عمر رضى الله عنهما قال: مررت على رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وفى ازارى استرخاء فقال: ((يا عبد الله، ارفع ازارك)) فرفعته
--------------------------------------------
পুরুষদের কাপড় ঝুলিয়ে পরার (إسبال) নিষিদ্ধতার বিষয়ে বক্তব্যসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা*
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টির ওপর তাঁর পর্দা ঝুলিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর মনোনীত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর জবানে তাদেরকে তাঁর নিষেধ ও আদেশ সম্পর্কে অবহিত করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সুপারিশকারীর ওপর, কিয়ামতের সেই দিন যখন পায়ের গোছা উন্মুক্ত করা হবে, এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যাঁদের সাথে হাউজে কাউসারে উপনীত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কুরআনের কোনো বিচ্ছেদ নেই। অতঃপর:
সাদল (سدل) এবং ইসবাল (إسبال) সংক্রান্ত হাদিসসমূহ সম্পর্কে একটি প্রশ্ন করা হয়েছে; অর্থাৎ পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে রাখা (إسبال الإزار) এবং এ বিষয়ে জাহান্নামের আগুনের যে শাস্তির ঘোষণা (وعيد) এসেছে সে সম্পর্কে। আর কেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কাপড় ঝুলিয়ে (مسبلا) সালাত আদায়কারী ব্যক্তিকে বারবার দুইবার ওযু পুনরায় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আমি কিতাবসমূহের গভীরে বিস্তারিত অনুসন্ধান না করেই বড় বড় ইমামগণ এ বিষয়ে যা বলেছেন তার আলোকে সংক্ষেপে একটি পর্যাপ্ত উত্তর প্রদান করেছিলাম। অতঃপর আমি উত্তরটিকে বিস্তারিত করা এবং বক্তব্যসমূহকে পূর্ণাঙ্গ করা সমীচীন মনে করলাম এবং এর নামকরণ করলাম: "পুরুষদের জন্য কাপড় ঝুলিয়ে পরার (إسبال) নিষিদ্ধতার বিষয়ে বক্তব্যসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা"। আমি বলছি:
ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং বায়হাকী সুনানুল কুবরা গ্রন্থে
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর বর্ণিত হাদিস হতে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় আমার পরিধেয় বস্ত্রে কিছুটা শিথিলতা বা ঝুলে থাকা (استرخاء) ছিল। তখন তিনি বললেন: 'হে আবদুল্লাহ! তোমার কাপড় উপরে উঠাও।' আমি তখন তা উপরে উঠালাম।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فقال: ((زد)) فزدت فما زلت أتحرى بعد، وقال بعض القوم: أين؟ قال: نصف الساقين.
وأخرج البيهقى فيها أيضا عن العلاء بن عبد الرحمن، عن أبيه، قال: سألت ابا سعيد عن الإزار فقال: اخبرك بعلم: سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: ((إزرة المؤمن إلى نصف الساقين، ولا جناح فيما بينه وبين الكعبين، فما أسفل من ذلك ففى النار، لا ينظر الله إلى من جر إزاره بطرا))
وقد دلت الاحاديث على ان ما تحت الكعبين فى النار، وهو يفيد التحريم. ودل على ان من جر إزاره خيلاء لا ينظر الله إليه، وهو دال على التحريم، وعلى ان عقوبة الخيلاء عقوبة خاصة هى عدم نظر الله إليه، وهو مما يبطل القول بأنه لا يحرم الا اذا كان للخيلاء كما يأتى بسطه ورده.
وأخرج البيهقى فى السنن ايضا من
حديث أبى هريرة رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: ((ما كان اسفل من الكعبين من الإزار ففى النار)) وفى لفظ: ((ما تحت الكعبين من الإزار ففى النار)) رواه البخارى فى الصحيح.
وأخرج أيضا من حديث يزيد بن ابى سمية قال سمعت ابن عمرو يقول
এরপর তিনি বললেন: ((আরও বাড়াও)), ফলে আমি আরও বাড়ালাম এবং এরপর থেকে আমি সর্বদা সতর্কতা অবলম্বন করতাম। উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে কেউ জিজ্ঞেস করলেন: (তা) কোন পর্যন্ত? তিনি বললেন: দুই নলার অর্ধেক পর্যন্ত।
বায়হাকি সেখানে আলা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি আবু সাইদকে লুঙ্গি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: আমি তোমাকে ইলম বা জ্ঞানের ভিত্তিতে সংবাদ দিচ্ছি: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((মুমিনের লুঙ্গি দুই নলার অর্ধেক পর্যন্ত, আর নলার অর্ধেক থেকে দুই টাখনুর মধ্যবর্তী অংশে কোনো গুনাহ নেই; তবে যা এর নিচে যাবে তা জাহান্নামে যাবে। আল্লাহ সেই ব্যক্তির দিকে তাকাবেন না, যে দম্ভভরে তার লুঙ্গি টেনে নিয়ে চলে।))
হাদিসসমূহ এ বিষয়ে প্রমাণ পেশ করে যে, টাখনুর নিচে যা থাকবে তা জাহান্নামে যাবে, যা এই কাজের নিষিদ্ধতা প্রমাণ করে। এটি আরও প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি লোক দেখানো অহংকারবশত তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরবে, আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না; এটিও নিষিদ্ধতার প্রমাণ বহন করে। এবং এটিও নির্দেশ করে যে, অহংকারের শাস্তি হলো একটি বিশেষ শাস্তি, আর তা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রতি দৃষ্টিপাত না করা। এটি ঐ বক্তব্যকে বাতিল করে দেয় যাতে বলা হয়েছে যে, অহংকার ছাড়া এটি হারাম হবে না, যার বিস্তারিত বর্ণনা ও খণ্ডন সামনে আসবে।
বায়হাকি তার সুনান গ্রন্থেও
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((লুঙ্গির যে অংশ দুই টাখনুর নিচে থাকবে তা জাহান্নামে যাবে।)) অন্য শব্দে এসেছে: ((লুঙ্গির যা দুই টাখনুর নিচে থাকবে তা জাহান্নামে যাবে।)) ইমাম বুখারি এটি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবু সুমাইয়্যাহ-এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমি ইবনে আমরকে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ما قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الإزار فهو فى القميص.
قلت: سيأتى رفعه بزيادة.
وأخرج أبو داود والبيهقى أيضا من حديث أبى هريرة رضى الله عنه قال: بينما رجل يصلى مسبلا إزاره، فقال له النبى صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((اذهب فتوضأ)) ثم جاء، فقال له: ((اذهب فتوضأ)) فقال له رجل: يا رسول الله، أمرته أن يتوضأ ثم سكت عنه، فقال: ((أنه كان يصلى وهو مسبل إزاره، وان الله لا يقبل صلاة رجل مسبل إزاره)) قال النووى: انه على شرط مسلم.
قلت: وقال الحافظ المنذرى فى ((سنن ابى داوود)): فى اسناده أبو جعفر رجل من أهل المدينة لا يعرف اسمه. انتهى.
[قلت: قال ابن رسلان فى ((شرح السنن)): اسم ابى جعفر هذا كثير بن جهمان السلمى أو راشد بن كيسان. انتهى.] *
وفى التقريب ما لفظه: كثير بن جهمان السلمى ابو جعفر مقبول، وفيه: راشد بن كيسان العبسى بالموحدة أبو فرازة الكوفى: ثقة من الخامسة. انتهى.
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লুঙ্গি সম্পর্কে যা বলেছেন, তা কামিসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আমি বলছি: শীঘ্রই এর মারফু (مرفوع) বর্ণনাটি অতিরিক্ত অংশসহ আসবে।
আবু দাউদ ও বায়হাকীও আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন: একদা এক ব্যক্তি তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে সালাত আদায় করছিল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: ((যাও ওজু করো))। অতঃপর সে ফিরে আসলে তিনি তাকে আবার বললেন: ((যাও ওজু করো))। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তাকে ওজু করার নির্দেশ দিলেন তারপর এ বিষয়ে নিশ্চুপ থাকলেন? তিনি বললেন: ((সে তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে সালাত আদায় করছিল, আর আল্লাহ লুঙ্গি ঝুলিয়ে রাখা ব্যক্তির সালাত কবুল করেন না))। নববী বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী (على شرط مسلم)।
আমি বলছি: হাফেজ মুনজিরি 'সুনানে আবু দাউদ'-এ বলেছেন: এর সনদ (إسناد)-এ আবু জাফর নামক মদিনার একজন ব্যক্তি রয়েছেন যার নাম জানা নেই। (সমাপ্ত)।
[আমি বলছি: ইবনে রুসলান 'শারহুস সুনান'-এ বলেছেন: এই আবু জাফরের নাম কাসীর ইবনে জাহমান আস-সুলামী অথবা রাশিদ ইবনে কায়সান। (সমাপ্ত)।] *
এবং 'তাকরীব' গ্রন্থে এর শব্দসমূহ নিম্নরূপ: কাসীর ইবনে জাহমান আস-সুলামী আবু জাফর হলেন গ্রহণযোগ্য (مقبول), এবং তাতে রয়েছে: রাশিদ ইবনে কায়সান আল-আবসি আল-কুফি: পঞ্চম স্তরের নির্ভরযোগ্য (ثقة)। (সমাপ্ত)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وبه يعرف عدم صحة كلام الحافظ المنذرى فى أن أبا جعفر مجهول، بل قد تردد بين ثقتين، ولكن الذى أخرج له مسلم هو راشد بن كيسان، ولم يخرج مسلم لكثير بن جهمان، انما أخرج له أصحاب السنن الأربع.
فقول النووى: (ان الحديث على شرط مسلم) دال على أنه راشد بن كيسان، لكن كنيته أبو فزارة لا أبو جعفر، فالمتعين أنه كثير بن جهمان، ولا وجه لقول ابن رسلان أو راشد بن كيسان. اذ ذلك كنيته أبو فرازة والمروى عنه فى السنن أبو جعفر.
وأخرج أبو داود وغيره عن ابن مسعود قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((من أسبل إزاره فى صلاته خيلاء فليس من الله فى حل ولا حرام)). قال النووى: معناه قد برئ من الله وفارق دينه.
وأخرج أبو داود والبيهقى أيضا عن ابى هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: نهى عن السدل فى الصلاة.
এর মাধ্যমেই হাফিজ আল-মুনযিরির বক্তব্যের অসারতা প্রতিভাত হয় যেখানে তিনি বলেছেন যে, আবু জাফর হলেন অজ্ঞাত (مجهول)। বরং বিষয়টি দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। তবে ইমাম মুসলিম যাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন রাশিদ ইবনে কায়সান। ইমাম মুসলিম কাসির ইবনে জাহমান থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি, বরং তাঁর থেকে কেবল সুনান আল-আরবা'আর সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আন-নাবাবির এই উক্তি: (হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী)—এটি নির্দেশ করে যে বর্ণনাকারী হলেন রাশিদ ইবনে কায়সান। কিন্তু তাঁর উপনাম আবু ফাজারা, আবু জাফর নয়। অতএব এটি সুনিশ্চিত যে তিনি কাসির ইবনে জাহমান। আর ইবনে রুসলান বা রাশিদ ইবনে কায়সানের দাবির কোনো যৌক্তিকতা নেই; কারণ তাঁর উপনাম আবু ফাজারা, আর সুনান গ্রন্থসমূহে যাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি হলেন আবু জাফর।
আবু দাউদ এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি অহংকারবশত নামাযে নিজের পরিধেয় বস্ত্র টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য কোনো বৈধ (حلال) বা অবৈধ (حرام) নিরাপত্তা নেই।" ইমাম আন-নাবাবি বলেন: এর অর্থ হলো, সে আল্লাহ থেকে দায়মুক্ত হয়েছে এবং তাঁর দ্বীন ত্যাগ করেছে।
আবু দাউদ এবং আল-বাইহাকি আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নামাযে কাপড় ঝুলিয়ে রাখতে (سدل) নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأخرج البيهقى أيضا عن أبى عطية الوادعى: أن النبى صلى الله عليه وعلى اله وسلم مر برجل قد سدل ثوبه، فأخذ النبى صلى الله عليه وعلى آله وسلم ثوبه فعطفه فى الصلاة عليه.
وهو ان كان منقطعا، فقد أخرجه البيهقى من
حديث أبى جحيفة موصولا، قال: مر النبى صلى الله عليه وعلى آله وسلم برجل قد سدل ثوبه فى الصلاة [فقطعه] *.
وهو وان كان فيه حفص بن ابى داود وقد ضعف فانه يعضده ما سلف.
وأخرج البخارى وغيره من حديث ابن عمر رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((بينما رجل ممن كان قبلكم يجر إزاره من الخيلاء خسف به، فهو يتجلجل فى الارض إلى يوم القيامة))؛ الجلجلة - بالجيمين واللامين -: صوت مع حركة، والمراد أنه يسوخ فى الأرض أى يغوص فيها. وفى لفظ الترمذى من حديث ابن عمرو بن العاص (يتلجلج) وهو من التلجلج: التردد، فكأنه قال: يتردد فة تخوم الأرض.
--------------------------------------------
ইমাম বায়হাকি আবু আতিয়্যা আল-ওয়াদিয়ি থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি তার কাপড় ঝুলিয়ে (সাদল করে) রেখেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তার কাপড়টি ধরলেন এবং সালাত অবস্থায় তা গুটিয়ে দিলেন।
এটি যদিও বিচ্ছিন্ন (منقطع), তবে বায়হাকি এটি
আবু জুহাইফার হাদিস হতে সংযুক্ত (موصول) অবস্থায় বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সালাত অবস্থায় এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি তার কাপড় ঝুলিয়ে রেখেছিলেন, অতঃপর তিনি তা গুটিয়ে দিলেন [অন্য বর্ণনায়: কেটে দিলেন]*।
যদিও এই বর্ণনায় হাফস বিন আবি দাউদ রয়েছেন এবং তাকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করা হয়েছে, তবুও পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলো একে শক্তিশালী বা সমর্থন করে।
ইমাম বুখারি ও অন্যরা ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদিস হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের এক ব্যক্তি অহংকারবশত তার লুঙ্গি মাটির ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, এমতাবস্থায় তাকে মাটির নিচে ধসিয়ে দেওয়া হয়। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত সে মাটির নিচে ধসতে থাকবে।" এখানে 'জিলজিলাহ' (الجلجلة) — জিম ও লাম বর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণে — এর অর্থ হলো নড়াচড়ার সাথে সৃষ্ট শব্দ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে জমিনে দেবে যাচ্ছে অর্থাৎ ডুবে যাচ্ছে। তিরমিজি-র শব্দে ইবনে আমর ইবনুল আস-এর হাদিসে 'ইয়াতলাজলাজু' (يتلجلج) শব্দ এসেছে, যা 'তালজলাজ' (التلجلج) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো কম্পন বা অস্থিরতা। যেন বলা হয়েছে: সে জমিনের গভীর স্তরে ক্রমাগত ধসছে বা কম্পিত হচ্ছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ولمسلم أن أبا هريرة رضى الله عنه رأى رجلا يجر إزاره فجعل يضرب برجله الأرض وهو يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((ان الله لا ينظر إلى من جر إزاره بطرا)).
وأخرج الشيخان وأبو داود والترمذى من
حديث ابن عمر رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((من جر ثوبه خيلاء لم ينظر الله إليه يوم القيامة))، فقال أبو بكر: يا رسول الله ان ازارى يسترخى الا ان أتعاهده فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((إنك لست ممن يفعله خيلاء)).
وأخرج مسلم عن ابن عمر رضى الله عنه أنه رأى رجلا يجر إزاره فقال له: ممن أنت؟ [فانتسب] * له، فاذا رجل من بنى ليث يعرفه ابن عمر، فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم بأذنى هاتين يقول: ((من جر إزاره (3) -لا يريد بذلك الا المخيلة - فإن الله لا ينظر إليه يوم القيامة)).
وفى رواية لأبى داود والنسائى عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((الاسبال فى الإزار والقميص والعمامة، من جر شيئا فيها خيلاء لم ينظر الله إليه يوم القيامة)).
وقد قدمنا بأقل من هذا
--------------------------------------------
এবং মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এক ব্যক্তিকে তার লুঙ্গি (মাটিতে) টেনে নিয়ে যেতে দেখলেন। তখন তিনি তার পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে লাগলেন এবং বলছিলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই ব্যক্তির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, যে দম্ভবশত (بطرًا) তার লুঙ্গি টেনে নিয়ে চলে।"
এবং শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম), আবু দাউদ ও তিরমিযী ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত (خيلاء) তার কাপড় টেনে নিয়ে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।" তখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার লুঙ্গির একপাশ ঝুলে নিচে নেমে যায়, যদি না আমি নিয়মিত সেটির তদারকি করি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও যারা তা অহঙ্কারবশত (خيلاء) করে থাকে।"
এবং মুসলিম ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে তার লুঙ্গি টেনে নিয়ে যেতে দেখলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কার বংশের? সে তার বংশ পরিচয় দিল। দেখা গেল সে বনু লাইস গোত্রের এক ব্যক্তি যাকে ইবনে উমর চিনতেন। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমার এই দুই কানে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তার লুঙ্গি টেনে নিয়ে চলে - এবং এর মাধ্যমে সে অহঙ্কার (المخيلة) ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে না - তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।"
এবং আবু দাউদ ও নাসায়ীর একটি বর্ণনায় (رواية) ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইসবাল (الإسبال) বা টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা লুঙ্গি, কামিস এবং পাগড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যে ব্যক্তি এগুলোর কোনোটি অহঙ্কারবশত (خيلاء) টেনে নিয়ে চলবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।"
এবং আমরা ইতিপূর্বে এর চেয়ে কম বর্ণনায় এটি উপস্থাপন করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
موقوفا على ابن عمر، والذى رفعه عبد العزيز بن أبى رواد: مختلف فيه، قال فيه ابن حجر: إنه عابد صدوق ربما وهم ورمى بالارجاء.
قلت: بعد الحكم بكونه صدوقا لا يضره ما رمى به.
قال السيد محمد بن ابراهيم رحمه الله: الظاهر أن نافعا وقفه على ابن عمر ولا يضر، لأن الصحابى قد كان يفتى بالحديث غير مرفوع، خصوصا وقد رفعه الأكثرون، انتهى.
وأخرج أبو داود والترمذى والنسائى من حديث ابن عمر رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((من جر ثوبه خيلاء لم ينظر الله إليه يوم القيامة))، فقالت أم سلمة رضى الله عنها: كيف تصنع النساء بذيولهن؟ قال: ((يرخين شبرا)) فقالت ام سلمة رضى الله عنها: اذا تنكشف أقدامهن. قال: ((فيرخين ذراعا لا يزدن عليه)).
وفى رواية لأبى داود قال: رخص رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم لأمهات المؤمنين فى الذيل شبراً، [فاستزدنه] * فزادهن شبراً، فكن يرسلن [إلينا] ** (فنذرع لهن ذراعا) (2).
واخرج مالك
… والنسائى عن أم سلمة رضى الله عنها قالت: حين ذكر الإزار-؛ فالمرأة يا رسول الله؟ قال: ((ترخيه شبرا)) قلت: إذا تنكشف عنها، قال: ((ذراعا لا [تزيد] **** عليه)).
--------------------------------------------
ইবনে ওমরের ওপর মাওকুফ (موقوفا) হিসেবে বর্ণিত, আর যা মারফু (رفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন আবি রাওয়াদ: তিনি মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) রাবী। তার সম্পর্কে ইবনে হাজার বলেন: তিনি একজন ইবাদতগুজার (عابد) ও সত্যবাদী (صدوق) ছিলেন, তবে কখনও কখনও ভ্রমে পতিত হতেন (وهم) এবং তার বিরুদ্ধে ইরজার অভিযোগ আনা হয়েছে (رمى بالارجاء)।
আমি বলি: তাকে সত্যবাদী (صدوق) হিসেবে সাব্যস্ত করার পর, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা তার জন্য ক্ষতিকর নয়।
সাইয়্যিদ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম (রহ.) বলেন: দৃশ্যত নাফে’ একে ইবনে ওমরের ওপর মাওকুফ (وقفه) করেছেন এবং এটি ক্ষতিকর নয়; কারণ সাহাবীগণ কখনও কখনও কোনো হাদিস মারফু (مرفوع) বর্ণনা না করে তা দিয়ে ফতোয়া প্রদান করতেন, বিশেষ করে যখন অধিকাংশ রাবী একে মারফু (رفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।
আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসাঈ ইবনে ওমর (রাযি.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার কাপড় টেনে নিয়ে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।" তখন উম্মে সালামা (রাযি.) বললেন: "মহিলারা তাদের কাপড়ের ঝুল নিয়ে কী করবে?" তিনি বললেন: "তারা এক বিঘত ঝুলিয়ে রাখবে।" উম্মে সালামা (রাযি.) বললেন: "তাহলে তো তাদের পদদ্বয় উন্মুক্ত হয়ে যাবে।" তিনি বললেন: "তবে তারা এক হাত ঝুলিয়ে রাখবে, এর বেশি নয়।"
আবু দাউদের এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) উম্মুল মুমিনিনদের কাপড়ের ঝুলের ক্ষেত্রে এক বিঘত পরিমাণ অনুমতি প্রদান করলেন। তারা আরও বাড়ানোর আবেদন করলে তিনি তাদের জন্য আরও এক বিঘত বাড়িয়ে দিলেন। ফলে তারা আমাদের কাছে লোক পাঠাতেন এবং আমরা তাদের জন্য এক হাত মেপে দিতাম।
মালেক এবং নাসাঈ উম্মে সালামা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যখন ইজার (নিবরণ) সম্পর্কে আলোচনা হলো—তখন (আমি বললাম) হে আল্লাহর রাসূল! মহিলারা কী করবে? তিনি বললেন: "তারা এক বিঘত ঝুলিয়ে রাখবে।" আমি বললাম: "তাতে তো শরীর উন্মুক্ত হয়ে যাবে।" তিনি বললেন: "এক হাত পরিমাণ, এর বেশি করবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وأخرج البخارى والنسائى عن أبى هريرة رضى الله عنه قال: ان رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ما أسفل من الكعبين من الإزار ففى النار)). قال ابن الأثير: معناه أن ما دون الكعبين من قدم صاحب الإزار المسبل ففى النار عقوبة له على فعله، وذكر معنى آخر غير ظاهر.
وأخرج أحمد ومسلم وأهل السنن الأربع من حديث أبى ذر رضى الله عنه مرفوعا: ((ثلاثة لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا ينظر إليهم ولا يزكيهم ولهم عذاب اليم: المسبل إزاره، والمنان الذى لا يعطى الا منة، والمنفق سلعته بالحلف والكذب)).
وأخرج الطبرانى عن ابن عمر رضى الله عنه مرفوعا: ((ثلاثة لا ينظر الله إليهم يوم القيامة: المنان [عطاءه] *، والمسبل إزاره خيلاء، ومدمن الخمر)).
إذا عرفت هذا فهاهنا لفظان: الاسبال والسدل، قال فى ((النهاية)): السبل إزاره: هو الذى يطول ثوبه ويرسله إلى الأرض اذا مشى، وهانما يفعل ذلك كبرا واختيالا؛ قال: والسدل هو ان يلتحف بثوبه ويدخل يديه من داخل فيركع ويسجد وهو كذلك، وكانت اليهود تفعله فنهوا عن ذلك وهذا مطرد فى القميص وغيره من الثياب.
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি ও নাসাঈ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ইজারের (লুঙ্গি বা চাদর) যে অংশ গোড়ালির নিচে থাকবে, তা জাহান্নামে যাবে।" ইবনুল আসির বলেছেন: এর অর্থ হলো কাপড় ঝুলিয়ে রাখা (إسبال) ব্যক্তির পায়ের যে অংশ গোড়ালিদ্বয়ের নিচে থাকে, তা তার কৃতকর্মের শাস্তি স্বরূপ জাহান্নামে যাবে। তিনি অন্য একটি অর্থও উল্লেখ করেছেন যা ততটা স্পষ্ট নয়।
ইমাম আহমাদ, মুসলিম ও চার সুনান গ্রন্থকার আবু যর (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "তিন শ্রেণির মানুষের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হলো: যে কাপড় ঝুলিয়ে (إسبال) পরিধান করে, যে দান করার পর খোটা দেয় এবং যে মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করে।"
ইমাম তাবারানি ইবনে উমর (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "কিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন শ্রেণির মানুষের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না: যে দান করার পর খোটা দেয়, অহঙ্কারবশত যে কাপড় ঝুলিয়ে (إسبাল) পরিধান করে এবং মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তি।"
আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এখানে দুটি শব্দ রয়েছে: ইসবাল (إسبال) ও সাদল (سدل)। 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কাপড় ঝুলিয়ে রাখা (إسبال) হলো সেই ব্যক্তি যে তার কাপড় লম্বা করে এবং চলার সময় তা মাটির সাথে টেনে টেনে চলে। সে কেবল অহঙ্কার ও বড়াই প্রকাশার্থেই এমনটা করে থাকে। তিনি আরও বলেন: সাদল (سدل) হলো কাপড়ে নিজেকে এমনভাবে জড়িয়ে নেওয়া এবং দুই হাত ভেতরে প্রবেশ করিয়ে রাখা যে অবস্থাতেই রুকু ও সিজদা করা হয়। ইহুদিরা এটি করত, তাই তাদের তা করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর এটি জামা এবং অন্যান্য পোশাকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقيل هو أن يضع وسط الإزار على رأسه ويرسل طرفيه عن يمينه وشماله من غير أن يجعلهما على كتفيه، وفيه حديث على رضى الله عنه أنه رأى قوما وهم يصلون وقد سدلوا ثيابهم فقال: كأنهم اليهود، انتهى.
وبهذا يعرف أن تفسير ابن رسلان فى شرحه للسنن السدل والاسبال بأنه إرسال طرفي الرداء وما فى معناه من الطيلسان ونحوه حتى يصيب الارض بذيلها غير صحيح، لأنه بنى على أنهما مترادفان، وكلام ((النهاية)) يقضى بتغايرهما، وهو الذى دل عليه صنع* البيهقى فى ((السنن الكبرى))، فانه عقد لكل واحد بابا مستقلا.
ويدل له ما فى سنن الترمذى فإنه قال: باب (2) ما جاء فى كراهية السدل فى الصلاة، قال: وفى الباب عن أبى جحيفة، قال: أبو عيسى: حديث أبى هريرة لا نعرفه من حديث عطاء الا من حديث عسل بن سفيان، انتهى.
قلت: عِسْل بالمهملتين الأولى مكسورة والثانية ساكنة وقيل مفتوحة، هو: أبو قرة البصري ضعيف قاله فى ((التقريب)). ثم قال الترمذى: قال بعضهم انما كره السدل اذا لم يكن عليه الا ثوب واحد فأما اذا كان عليه قميص فلا بأس وهو قول أحمد وكره ابن المبارك السدل فى الصلاة، انتهى.
ثم ذكر الترمذى بابا آخر فى جر الإزار وذكر فيه حديث ابن عمر، وهكذا أبو داود وجعل لكلٍ بابا. قال البيهقى: والسدل: إرسال الرجل ثوبه من غير أن يضم جانبيه بين يديه، فان ضمه فليس سدلا.
قال: وروى عن ابن عمر فى إحدى الروايتين أنه كرهه، وكرهه مجاهد وإبراهيم النخعي.
--------------------------------------------
বলা হয়ে থাকে যে, এটি হলো চাদরের মধ্যভাগ মাথায় রাখা এবং এর দুই প্রান্ত কাঁধের ওপর না রেখে ডানে ও বামে ঝুলিয়ে দেওয়া। এ প্রসঙ্গে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে যে, তিনি একদল লোককে সালাত আদায় করতে দেখলেন যারা তাদের কাপড় ঝুলিয়ে (سدل) দিয়েছিল। তখন তিনি বললেন, "তাদের তো ইহুদিদের মতো মনে হচ্ছে।" (সমাপ্ত)
এর দ্বারা জানা যায় যে, ইবনে রুসলান তার সুনান-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ‘সাদল’ (سدل) এবং ‘ইসবাল’ (إسبال)-এর যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন—অর্থাৎ চাদরের দুই প্রান্ত বা এই জাতীয় তৈলাসান ইত্যাদির প্রান্তভাগ ঝুলিয়ে দেওয়া যাতে তা মাটিকে স্পর্শ করে—তা সঠিক নয়। কারণ তিনি এই দুটিকে সমার্থবোধক (مترادفان) হওয়ার ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করেছেন। অথচ ‘আন-নিহায়া’ কিতাবের বক্তব্য উভয়টির মধ্যে ভিন্নতা দাবি করে। আর এটিই আল-বাইহাকি-র আস-সুনান আল-কুবরা গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতি দ্বারা সমর্থিত, কারণ তিনি প্রত্যেকটির জন্য স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ (باب) নির্ধারণ করেছেন।
সুনান আত-তিরমিযি-র বক্তব্যও এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়, যেখানে বলা হয়েছে: (২) সালাতে কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া (سدل) অপছন্দনীয় হওয়া বিষয়ক পরিচ্ছেদ (باب)। তিনি বলেন: এই পরিচ্ছেদে আবু জুহাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা বলেন: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-র হাদিসটি আতা-র বর্ণনা থেকে কেবল ইছল বিন সুফিয়ানের সূত্রেই আমরা চিনি। (সমাপ্ত)
আমি বলছি: ‘ইছল’ (عسل) শব্দটি দুটি ‘মুহমালাহ’ (নুকতাহীন) অক্ষর যোগে গঠিত, প্রথমটি কাসরা (জের) যুক্ত এবং দ্বিতীয়টি সাকিন (জযম) যুক্ত, কারও মতে এটি ফাতহা (যবর) যুক্ত। তিনি হলেন আবু কুররাহ আল-বাসরি, তিনি দুর্বল (ضعيف); যা তাকরিব গ্রন্থে বলা হয়েছে। অতঃপর তিরমিযি বলেন: কেউ কেউ বলেছেন, কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া (سدل) কেবল তখনই মাকরূহ যখন তার শরীরে কেবল একটি কাপড় থাকে। তবে যদি গায়ে কামিস (জামা) থাকে তবে কোনো সমস্যা নেই। এটি ইমাম আহমদের মত। ইবনুল মুবারক সালাতে কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া (سدل) অপছন্দ করতেন। (সমাপ্ত)
এরপর তিরমিযি লুঙ্গি টেনে চলা (جر الإزار) বিষয়ে অন্য একটি পরিচ্ছেদ (باب) উল্লেখ করেছেন এবং তাতে ইবনে উমরের হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাউদও অনুরূপ করেছেন এবং প্রত্যেকটির জন্য আলাদা পরিচ্ছেদ (باب) নির্ধারণ করেছেন। আল-বাইহাকি বলেন: ‘সাদল’ (سدل) হলো কোনো ব্যক্তির নিজের কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া, তার দুই প্রান্ত সামনের দিকে না গুটিয়েই; যদি সে তা গুটিয়ে নেয় তবে তা ‘সাদল’ (سدل) নয়।
তিনি বলেন: ইবনে উমর থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটিতে আছে যে তিনি এটি অপছন্দ করতেন। এছাড়া মুজাহিদ এবং ইব্রাহিম আন-নাখায়িও এটি অপছন্দ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ويذكر عن جابر بن عبد الله ثم عن الحسن وابن سيرين أنهم لم يروا به* بأسا، وكأنهم انما رخصوا فيه لمن فعله لغير مخيلة، وأما من يفعله بطرا فهو منهي عنه، انتهى.
والخيلاء والمخيلة فسرها ابن الأثير بالعجب والكبر.
* * * * *
ولنعد إلى
تحرير المقال فى الاسبال فنقول: هاهنا أربع صور:
اسبال مع مخيلة، وبغيرها،
فى الصلاة، وفى غيرها.
الأول: الاسبال فى الصلاة، قال النووى: انه فى الصلاة وفى غيرها سواء، فان كان للخيلاء فهو حرام. وان كان لغير الخيلاء فهو مكروه، انتهى.
ثم قال: فأما السدل فى غير الصلاة فهو [خفيف] ** لقوله صلى الله عليه وآله وسلم لأبى بكر رضى الله عنه-وقد قال له: إن ازارى يسترخى أى يسقط من أحد شقي -: ((إنك لست منهم)) انتهى.
قلت: وكلامه مبنى على تسليم مقدمتين: الأولى: حمل المطلق على المقيد.
والثانية: القول بمفهوم الصفة.
وفى المقدمتين نزاع طويل بين أئمة الأصول يأتى الإشارة إليه.
ولم يذكر النووى هل الصلاة صحيحة أو لا إذا أسبله فيها خيلاء، وكأنه يقول بصحتها وغايته أنه صلى وهو فاعل محرما، فيكون كالصلاة فى الدار المغصوبة وهى عنده صحيحة وان كان آثما.
وقال أبو محمد بن حزم [مسألة]
… : ولا تجزئ صلاة من جر ثوبه خيلاء من
--------------------------------------------
জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং অতঃপর হাসান ও ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত যে, তারা এতে কোনো দোষ (بأسا) মনে করতেন না। সম্ভবত তারা কেবলমাত্র তাদের জন্যই এর অনুমতি দিয়েছেন যারা তা লোকদেখানো অহংকার (مخيلة) ছাড়া করে থাকে। আর যে ব্যক্তি তা ঔদ্ধত্য (بطرا) বশত করবে, তা নিষিদ্ধ (منهي عنه)। সমাপ্ত।
ইবনুল আসির ‘আল-খুয়ালা’ ও ‘আল-মাখিলাহ’-এর ব্যাখ্যা করেছেন আত্মমুগ্ধতা (عجب) ও অহংকার (كبر) দ্বারা।
* * * * *
এবার আমরা
তাহরিরুল মাকাল ফিল ইসবাল প্রসঙ্গের দিকে ফিরে যাই এবং বলি: এখানে চারটি অবস্থা রয়েছে:
অহংকারসহ কাপড় ঝুলিয়ে পরা, অহংকার ছাড়া কাপড় ঝুলিয়ে পরা,
নামাজের মধ্যে এবং নামাজের বাইরে।
প্রথমটি: নামাজের মধ্যে কাপড় ঝুলিয়ে পরা (ইসবাল)। ইমাম নববী বলেছেন: নামাজের মধ্যে এবং নামাজের বাইরে তা সমান। যদি তা লোকদেখানো অহংকারের জন্য হয় তবে তা হারাম (حرام)। আর যদি লোকদেখানো অহংকার ছাড়া হয় তবে তা মাকরুহ (مكروه)। সমাপ্ত।
অতঃপর তিনি বলেন: আর নামাজের বাইরে কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া লঘু (خفيف) বিষয়; কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন—যখন তিনি তাকে বলেছিলেন: আমার পরিধেয় বস্ত্রের এক পাশ ঢিলে হয়ে নিচে পড়ে যায়—: “নিশ্চয়ই তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও।” সমাপ্ত।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তাঁর এই বক্তব্য দুটি ভূমিকা বা মূলনীতির স্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত: প্রথমটি হলো: নিঃশর্ত (المطلق) বিধানকে শর্তযুক্ত (المقيد) বিধানের ওপর প্রয়োগ করা।
দ্বিতীয়টি হলো: বিশেষণের মর্মার্থ (مفهوم الصفة) গ্রহণ করা।
আর এই দুটি মূলনীতির বিষয়ে উসুল শাস্ত্রের ইমামগণের মধ্যে দীর্ঘ মতভেদ রয়েছে, যার প্রতি সামনে ইঙ্গিত করা হবে।
ইমাম নববী উল্লেখ করেননি যে, যদি কেউ নামাজের মধ্যে লোকদেখানো অহংকার বশত কাপড় ঝুলিয়ে পরে তবে নামাজ সহিহ (صحيحة) হবে কি না। মনে হচ্ছে তিনি এর বৈধতার (صحيحة) পক্ষেই মত পোষণ করেন এবং বড়জোর এটুকুই বলা যায় যে, সে নামাজ পড়েছে এমতাবস্থায় যে সে একটি হারাম কাজ সম্পাদন করছিল। ফলে এটি জবরদখলকৃত ঘরে নামাজ পড়ার মতো হবে, যা তাঁর নিকট সহিহ (صحيحة) যদিও ব্যক্তিটি গুনাহগার (آثما) হবে।
আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেন [মাসআলা]
… : যে ব্যক্তি লোকদেখানো অহংকার বশত নিজের কাপড় টেনে চলে তার নামাজ জায়েজ হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الرجال، وأما المرأة فلها أن تسبل ذيل ما تلبسه ذراعا فان زادت على ذاك عالمة بالنهى بطلت صلاتها، وحق كل ثوب يلبسه الرجل أن يكون إلى الكعبين لا أسفل البتة، فان أسبله فزعا أو نسيانا، فلا شيء عليه.
ثم ساق حديث مسلم عن ابن عمر أنه صلى الله عليه وسلم قال: ((لا ينظر الله يوم القيامة إلى من جر ثوبه خيلاء)) قال: فهذا عموم للسراويل والقميص وسائر ما يلبس، ثم ذكر حديث ابن مسعود: ((المسبل فى الصلاة ليس من الله فى حل ولا حرام)). وعن ابن عباس رضى الله عنه: ((لا ينظر الله إلى مسبل)) وعن مجاهد: كان يقال من مس إزاره كعبه لم يقبل الله له صلاة.
قال: فهذا مجاهد يحكى ذلك يحكى ذلك عمن قبله وليسوا إلا الصحابة لأنه ليس من صغار التابعين بل من أوساطهم. وعن ذر بن عبد الله المرهبى (1) -وهو من كبار التابعين- قال: كان يقال: من جر ثوبه لم يقبل الله له صلاة.
قال: ولا نعلم لمن ذكرنا مخالفا من أصحابه، ثم قال: قال على: يعنى ابن حزم نفسه المؤلف- فمن فعل فى صلاته ما حرم عليه فعله فلم يصل كما أمره الله فلا صلاة له، ثم ساق بعض ما قدمناه من احاديث الوعيد على من جر ثوبه وأسبله.
قلت: وقوله: (فان أسبله فزعا أو نسيانا فلا شئ عليه)، هو إشارة إلى ما أخرجه البخارى والنسائى من حديث أبى بكرة رضى الله عنه: أنها لما كسفت الشمس خرج رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فزعا يجر إزاره.
--------------------------------------------
পুরুষদের ক্ষেত্রে; তবে নারীর জন্য তার পরিধেয় বস্ত্রের প্রান্তভাগ এক হাত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখার অবকাশ রয়েছে। যদি সে নিষেধাজ্ঞার কথা অবগত থাকা সত্ত্বেও এর অতিরিক্ত ঝুলিয়ে দেয়, তবে তার সালাত বাতিল (بطلت) হয়ে যাবে। পুরুষের প্রতিটি পোশাকের ক্ষেত্রে হক হলো তা টাখনু পর্যন্ত হওয়া, মোটেও এর নিচে নয়। তবে যদি সে আতঙ্কিত হয়ে কিংবা বিস্মৃতিবশত কাপড় ঝুলিয়ে ফেলে, তবে তার ওপর কোনো গুনাহ নেই।
এরপর তিনি মুসলিম-এ বর্ণিত ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আল্লাহ সেই ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না, যে অহংকারবশত নিজের কাপড় টেনে চলে।" তিনি বলেন: এটি পায়জামা, কামিজ এবং পরিধেয় অন্যান্য সকল পোশাকের ক্ষেত্রে সাধারণ (عموم) বিধান। এরপর তিনি ইবনে মাসউদের হাদিস উল্লেখ করেছেন: "সালাতে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা (المسبل) ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নিকট কোনো হালাল বা হারামের বিধান অবশিষ্ট নেই।" ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: "আল্লাহ কাপড় ঝুলিয়ে রাখা ব্যক্তির দিকে তাকাবেন না।" মুজাহিদ থেকে বর্ণিত: বলা হতো, যার লুঙ্গি তার টাখনু অতিক্রম করে, আল্লাহ তার সালাত কবুল করবেন না।
তিনি বলেন: এখানে মুজাহিদ তার পূর্ববর্তীদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারা সাহাবী ব্যতীত অন্য কেউ নন; কেননা তিনি ছোট স্তরের তাবেয়ি (صغار التابعين) নন, বরং তিনি মধ্যম স্তরের তাবেয়িদের (أوساطهم) অন্তর্ভুক্ত। ذر بن عبد الله المرهبى (১) থেকে বর্ণিত—যিনি বড় স্তরের তাবেয়িদের (كبار التابعين) অন্তর্ভুক্ত—তিনি বলেন: বলা হতো: যে ব্যক্তি তার কাপড় টেনে চলে, আল্লাহ তার সালাত কবুল করবেন না।
তিনি বলেন: আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি, তাদের মধ্যকার সঙ্গীদের মধ্যে এর কোনো বিরোধকারী আছে বলে আমাদের জানা নেই। এরপর তিনি বলেন: আলী—অর্থাৎ লেখক ইবনে হাজম স্বয়ং—বলেছেন: যে ব্যক্তি তার সালাতে এমন কাজ করল যা তার ওপর হারাম করা হয়েছে, তবে সে সেভাবে সালাত আদায় করল না যেভাবে আল্লাহ তাকে আদেশ দিয়েছেন, ফলে তার সালাত হবে না। এরপর তিনি কাপড় টেনে চলা ও ঝুলিয়ে রাখার ব্যাপারে শাস্তির হুঁশিয়ারি সংবলিত হাদিসসমূহ (أحاديث الوعيد) থেকে পূর্বে বর্ণিত কিছু অংশ উপস্থাপন করেন।
আমি বলছি: তার বক্তব্য: "যদি সে আতঙ্কিত হয়ে বা বিস্মৃতিবশত কাপড় ঝুলিয়ে ফেলে, তবে তার ওপর কোনো গুনাহ নেই"—এটি সহীহ বুখারী ও নাসাঈ-তে বর্ণিত আবু বকরা (রা.)-এর হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত স্বরূপ: যখন সূর্যগ্রহণ দেখা দিয়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় নিজ চাদর টেনে টেনে (ঘর থেকে) বের হয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وأخرج مسلم وأبو داود والترمذى من حديث عمران بن حصين رضى الله عنه فى قصة سجود السهو وأنه صلى الله عليه وعلى آله وسلم خرج غضباناً يجر إزاره، فدل على أنه عند الفزع ومثله الغضب والنسيان لا يأثم بجر إزاره، وذلك لأنه لا بد من قصد [الفعل] *، والفزع والغضبان والناسي لا قصد لهم أصلا بل لا يخطر ببالهم الاسبال، فلا يقال ان فعله صلى الله عليه وعلى آله وسلم ذلك دليل على أن النهى عن الإسبال للتنزيه وأن فعله لبيان الجواز، لأنه لم يكن منه صلى الله عليه وآله وسلم فعلاً مقصوداً، ولأنه تقدم فى أحاديث الوعيد بالنار الذي لا يكون إلا على فعل محرم.
قال أبو محمد بن حزم: وأما المرأة فلها أن تسبل ذيل ما تلبس ذراعاً، واستدل بما قدمناه من أحاديث الترخيص لها.
قلت: الا أنه لا يتم الاستثناء الذى قاله الا اذا صلت مع الرجال للعلة: وهى انكشاف القدم يراه من يحرم عليه رؤيتها، وأما اذا صلت خاليه فى منزلها أو مع النساء مثلها فالواجب تغطية القدم بلا زيادة وذلك يتم دون إسبال كما يدل له قوله صلى الله عليه وآله وسلم لما سئل عن المرأة تصلى بدرع وخمار من [غير] ** إزار قال ((لا بأس اذا كان الدرع سابغا يغطى ظهور قدميها))، انتهى.
--------------------------------------------
মুসলিম, আবু দাউদ এবং তিরমিজি ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সিজদায়ে সাহুর ঘটনায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগান্বিত অবস্থায় নিজের চাদর টেনে টেনে বের হলেন। এটি প্রমাণ করে যে, ভীতি এবং অনুরূপভাবে রাগ বা বিস্মৃতির সময় চাদর টেনে নিলে গুনাহ হবে না। কারণ যেকোনো কার্যের ক্ষেত্রে সংকল্প বা উদ্দেশ্য [ক্রিয়া] (الفعل)* থাকা আবশ্যক। অথচ ভীত, রাগান্বিত বা বিস্মৃত ব্যক্তির কোনো উদ্দেশ্য থাকে না, এমনকি কাপড় ঝুলিয়ে পরার (إسبال) বিষয়টি তাদের মনেই আসে না। সুতরাং এমনটি বলা যাবে না যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই কাজটি কাপড় ঝুলিয়ে পরা (إسبال) নিষেধ হওয়ার বিষয়টি কেবল অপছন্দনীয় (تنزيه) হওয়ার দলিল এবং তাঁর এই কাজ বৈধতা (جواز) প্রমাণের জন্য; কারণ এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে কোনো উদ্দেশ্যমূলক কাজ ছিল না। তাছাড়া ইতিপূর্বে জাহান্নামের আগুনের ধমকি সম্বলিত হাদিসগুলো অতিক্রান্ত হয়েছে, যা কেবল হারাম (محرم) কাজের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।
আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেন: নারীর জন্য তার পরিহিত কাপড়ের নিচের অংশ এক হাত পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার (إسبال) অনুমতি রয়েছে। তিনি এর স্বপক্ষে নারীর জন্য ছাড় (ترخيص) সংক্রান্ত আমরা ইতিপূর্বে যে হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি, তা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
আমি বলি: তবে তিনি যে ব্যতিক্রমের কথা বলেছেন, তা কেবল তখনই পূর্ণতা পায় যখন নারী পুরুষদের সাথে সালাত আদায় করে। এর কারণ (علة) হলো: পায়ের পাতা উন্মোচিত হওয়া, যা দেখা যাদের জন্য নিষিদ্ধ তারা তা দেখে ফেলতে পারে। কিন্তু নারী যখন তার ঘরে একাকী অথবা তার মতো নারীদের সাথে সালাত আদায় করে, তখন অতিরিক্ত ঝুলিয়ে রাখা ব্যতিরেকেই পায়ের পাতা ঢেকে রাখা ওয়াজিব। আর কাপড় ঝুলিয়ে রাখা (إسبال) ছাড়াও এটি সম্ভব। যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যখন তাঁকে কোনো নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে সে কি ইজার (إزار) ছাড়া কামিজ ও ওড়না পরে সালাত আদায় করতে পারবে? তিনি বললেন: "যদি কামিজটি দীর্ঘ (سابغ) হয় যা তার পায়ের উপরিভাগ ঢেকে দেয়, তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই।" সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فإن [قلت] *: فإن كان الثوب طويلا ولفه بحزام ونحوه وصلى فيه، أيذهب التحريم؟
قلت: نعم، لأنه يصدق عليه أنه لم يصل مسبلا، ويدل له ما تقدم من حديث ابن عمر رضى الله عنه وقوله صلى الله عليه وآله وسلم: ((ارفع إزارك)) فرفعته، فقال: ((زد)) فزدته. فإنه دليل أنه لفه عليه، وحديث عطفه صلى الله عليه وآله وسلم الثوب الذى الذى صلى عليه صاحبه مسبلا.
إن قلت: قد ذكر الشافعية كراهة شد المصلى وسطه.
قلت: إن تم لهم دليل ذلك فهذا الشد يدفع الإسبال المحرم فلا يبقى كراهة، بل هو واجب، على أن دليل ذلك هو حديث: ((ولا يكفت** ثوبا))، والمراد: لا يكفت ما أبيح له عدم كفته لا ما وجب عليه كفته.
فإن قلت: إذا صلى من يرى تحريم الإسبال مطلقا خلف مسبل جاهلا للتحريم أو شافعي المذهب يرى أنه لا تحريم
… إلا للخيلاء، وأن معها لا تبطل به الصلاة، هل تصح صلاة القائل بتحريمه مطلقا خلفه؟
قلت: أما فى الصورة الأولى: فالجاهل غير آثم فتصح الصلاة، ويجب تعريفه بأنه منهي عنه.
وأما فى الصورة الثانية: فالمسائل الخلافية الإمام فيها حاكم فتصح الصلاة، والدليل حديث: ((تصلون فما [صح] **** فلكم ولهم وما فسد فعليهم [دونكم] *****))، وفى معناه أحاديث الصلاة خلف الأمراء الذين يؤخرون الصلاة عن وقتها والأمر بالصلاة معهم.
--------------------------------------------
যদি আপনি [বলেন] *: যদি পোশাকটি লম্বা হয় এবং কেউ তা বেল্ট বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে পেঁচিয়ে তাতে সালাত আদায় করে, তবে কি নিষিদ্ধতা (التحريم) চলে যাবে?
আমি বলব: হ্যাঁ, কারণ তার ক্ষেত্রে এটি সত্য হবে যে সে কাপড় ঝুলিয়ে (مسبلا) সালাত আদায় করেনি। এর সপক্ষে ইবনে ওমর (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর পূর্বোক্ত হাদিস এবং রাসূলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী প্রমাণ বহন করে: ((তোমার লুঙ্গি ওপরে তোলো))। ফলে আমি তা ওপরে তুললাম। তিনি বললেন: ((আরও বাড়াও))। আমি আরও বাড়ালাম। এটিই প্রমাণ যে তিনি তা নিজের ওপর গুটিয়ে নিয়েছিলেন। এছাড়াও রাসূলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক সেই পোশাকটি ভাঁজ করে দেওয়ার হাদিসটিও এর প্রমাণ, যেটি পরিধান করে তার সাথী কাপড় ঝুলিয়ে (مسبلا) সালাত আদায় করেছিলেন।
যদি আপনি বলেন: শাফেয়ীগণ সালাত আদায়কারীর কোমরে (কাপড়) বাঁধার বিষয়টিকে অপছন্দনীয় (كراهة) বলে উল্লেখ করেছেন।
আমি বলব: যদি তাদের নিকট এর স্বপক্ষে কোনো দলিল পূর্ণাঙ্গ হয়ও, তবুও এই বেঁধে রাখাটি হারাম (محرم) হিসেবে বিবেচিত কাপড় ঝুলিয়ে রাখাকে প্রতিহত করে, তাই এখানে আর কোনো অপছন্দনীয়তা (كراهة) অবশিষ্ট থাকে না, বরং তা আবশ্যক (واجب) হয়ে যায়। তদুপরি এর সপক্ষে দলিল হলো হাদিস: ((এবং কাপড় গুটিয়ে রাখবে না)), আর এর মর্মার্থ হলো: যার গুটিয়ে না রাখা তার জন্য বৈধ করা হয়েছে তা সে গুটিয়ে রাখবে না, তবে যা গুটিয়ে রাখা তার ওপর আবশ্যক (واجب) তা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
যদি আপনি বলেন: যে ব্যক্তি কাপড় ঝুলিয়ে রাখাকে ঢালাওভাবে হারাম (تحريم) মনে করে, সে যদি এমন কোনো ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করে যে কাপড় ঝুলিয়ে রেখেছে অথচ এই নিষিদ্ধতা সম্পর্কে অজ্ঞ, অথবা সে শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী যে মনে করে যে অহংকারবশত না হলে তা হারাম (تحريم) নয়... এবং অহংকার থাকলেও এর ফলে সালাত বাতিল (تبطل) হয় না, তবে কি কাপড় ঝুলিয়ে রাখাকে ঢালাওভাবে হারাম মনে করা ব্যক্তির সালাত তার পেছনে শুদ্ধ (تصح) হবে?
আমি বলব: প্রথম সুরতের ক্ষেত্রে, অজ্ঞ ব্যক্তিটি গুনাহগার নন, তাই সালাত শুদ্ধ (تصح) হবে। তবে তাকে এটি যে নিষিদ্ধ সে সম্পর্কে অবগত করা আবশ্যক (واجب)।
আর দ্বিতীয় সুরতের ক্ষেত্রে, মতভেদপূর্ণ মাসআলায় ইমামই হলেন ফয়সালাকারী, তাই সালাত শুদ্ধ (تصح) হবে। এর দলিল হলো হাদিস: ((তোমরা সালাত আদায় করবে, যদি তা সঠিক (صح) হয় তবে তা তোমাদের ও তাদের উভয়ের জন্য, আর যদি তা ত্রুটিপূর্ণ (فسد) হয় তবে তার দায়ভার তাদের ওপরই বর্তাবে, তোমাদের ওপর নয়))। একই অর্থে ঐ সকল শাসকদের পেছনে সালাত আদায়ের হাদিসসমূহও প্রযোজ্য যারা সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করে এবং তাদের সাথে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
واعلم انه لم يصرح ببطلان صلاة المسبل خيلاء إلا ابن حزم ودليله نفى القبول فى الأحاديث عن صلاة المسبل، وقد طرد ابن حزم قاعدة نفى القبول فى جعله دليلا على عدم الصحة، فجزم بعدم صحة العبد الآبق فقال:
مسئلة: أيما عبد أبق عن مولاه فإنها لا تقبل له صلاة حتى يرجع إلا أن يكون أبق لضرر يحرم، ولا يجد من ينصره [عليه] * فليس آبقا حينئذ (1)، إذا نوى البعد عنه فقط. ثم استدل بحديث جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه قال: ((إذا أبق العبد لا تقبل له** الصلاة)) [قال: وبهذا يقول أبو هريرة، ثم ساق بإسناد إليه أنه قال (إذا أبق العبد لا تقبل له صلاة)]
… قال: وهذا صاحب لا يعرف له فى الصحابة مخالف، انتهى.
قلت: قد ذكر ابن دقيق العيد في ((شرح العمدة)) في حديث ((لا يقبل الله صلاة أحدكم إذا أحدث حتى يتوضأ))، أنه قد استدل جماعة من
--------------------------------------------
জেনে রাখুন যে, অহংকারবশত কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারীর (مسبل) নামায বাতিল (بطلان) হওয়ার বিষয়টি ইবনে হাজম ব্যতীত অন্য কেউ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তাঁর দলিল হলো হাদিসসমূহে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারীর নামাযের কবুলিয়ত (قبول) অস্বীকার করা হয়েছে। ইবনে হাজম 'কবুলিয়ত অস্বীকার' করার নীতিটিকে (قاعدة) নামায সঠিক না হওয়ার (عدم الصحة) দলিল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করেছেন। ফলে তিনি পলায়নকারী দাসের নামায সঠিক না হওয়ার (عدم الصحة) বিষয়ে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন:
মাসআলা: যে কোনো দাস তার মনিবের নিকট থেকে পলায়ন করবে, ফিরে না আসা পর্যন্ত তার নামায কবুল (تقبل) করা হবে না; তবে সে যদি এমন কোনো ক্ষতির কারণে পলায়ন করে যা হারাম এবং সে ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করার মতো কাউকে না পায়, তবে সে পলায়নকারী (آبق) হিসেবে গণ্য হবে না (১), যদি সে কেবল মনিব থেকে দূরে থাকার নিয়ত করে। অতঃপর তিনি জারির বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালি (রা.)-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "যখন কোনো দাস পলায়ন করে, তখন তার নামায কবুল (تقبل) হয় না।" [তিনি বলেন: আবু হুরায়রা (রা.)-ও একই মত ব্যক্ত করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট পর্যন্ত একটি সনদ (إسناد) উল্লেখ করে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যখন কোনো দাস পলায়ন করে, তার নামায কবুল করা হয় না।"]
… তিনি বলেন: এটি এমন একজন সাহাবীর (صاحب) বক্তব্য, যাঁর কোনো বিরোধিতাকারী সাহাবীদের (الصحابة) মধ্যে জানা নেই। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আমি বলছি: ইবনে দাকীক আল-ঈদ শারহুল উমদাহ গ্রন্থে "তোমাদের কেউ যখন অপবিত্র হয়, তখন অজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার নামায কবুল করেন না" শীর্ষক হাদিসের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, একদল আলেম এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
المتقدمين بانتفاء القبول على انتفاء الصحة، كما فعلوه في قوله صلى الله عليه واّله وسلم: ((لا يقبل الله صلاة حائض إلا بخمار)) قال: ولا يتم ذلك إلا بأن يكون انتفاء القبول دليلاً على انتفاء الصحة.
قلتُ: وهذا هو الذي ذهب إليه أبو محمد بن حزم ثم قال ابن دقيق العيد، وقد حرَّر المتأخرون في هذا بحثاً لأن انتفاء القبول قد ورد في مواضع مع ثبوت الصحة، كالعبد إذا أبق لا يقبل الله له صلاة. وكما ورد فيمن أتى عرَّافاً وكشارب الخمر، ثم [قال] *: إنه إذا قيل قد دل الدليل على القبول من لوازم الصحة فإذا انتفى انتفت فيصح الاستدلال بنفي القبول على نفي الصحة، وتحتاج تلك الأحاديث التي نفى فيها القبول مع بقاء الصحة إلى تأويل [أو] ** تخريج جواب، انتهى.
قلت: معلوم أن حديث أبي هريرة وهو ((لا يقبل الله صلاة أحدكم إذا أحدث حتى يتوضأ)) لم يسق إلا لبيان أن لا صحة لصلاة بلا وضوء، و [القول]
… بأنه قد علم عدم صحة الصلاة إلا [بوضوء له أدلة أخرى لا يدفع الاستدلال] **** بالحديث على نفي الصحة بنفي القبول، فإن الأدلة على الحكم الواحد قد تكون متعددة من الكتاب والسنة والإجماع وقد تكون متكررة من نوع من هذه الأنواع.
--------------------------------------------
পূর্বসূরিগণ (المتقدمين) কবুলযোগ্যতা (القبول) না থাকাকে বৈধতা (الصحة) না থাকার ওপর প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর ক্ষেত্রে করেছেন: "আল্লাহ তাআলা ওড়না ছাড়া কোনো ঋতুবতী নারীর সালাত কবুল করেন না।" তিনি বলেন: এটি ততক্ষণ পূর্ণাঙ্গ হবে না যতক্ষণ না কবুলযোগ্যতা (القبول) না থাকাকে বৈধতা (الصحة) না থাকার দলিল হিসেবে গণ্য করা হয়।
আমি বলছি: এটিই আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম-এর অভিমত। অতঃপর ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেছেন, পরবর্তী যুগের গবেষকগণ এ বিষয়ে একটি আলোচনা সুবিন্যস্ত করেছেন; কারণ কবুলযোগ্যতা (القبول) না থাকার বিষয়টি এমন কিছু ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে যেখানে বৈধতা (الصحة) সাব্যস্ত থাকে। যেমন: পলাতক দাসের ক্ষেত্রে, যার সালাত আল্লাহ কবুল করেন না। তদ্রূপ গণকের কাছে আগমনকারী এবং মদ্যপায়ীর ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তিনি [বলেন]*: যদি বলা হয় যে, দলিল দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে কবুলযোগ্যতা (القبول) বৈধতার (الصحة) অবিচ্ছেদ্য অংশ, সুতরাং একটি না থাকলে অন্যটিও থাকবে না—তবে কবুলযোগ্যতা (القبول) নাকচ হওয়ার মাধ্যমে বৈধতা (الصحة) নাকচ হওয়ার ওপর দলিল পেশ করা সঠিক হবে। আর যেসব হাদিসে বৈধতা (الصحة) অবশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও কবুলযোগ্যতা (القبول) নাকচ করা হয়েছে, সেগুলোর জন্য ব্যাখ্যা (تأويل) অথবা উত্তরের ভিত্তি (تخريج) প্রয়োজন, সমাপ্ত।
আমি বলছি: এটি সুবিদিত যে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস—"তোমাদের কেউ অপবিত্র হলে ওজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না"—তা কেবল এটি স্পষ্ট করার জন্যই আনা হয়েছে যে ওজু ব্যতীত সালাতের কোনো বৈধতা (الصحة) নেই। আর [একথা]
… যে ওজু ব্যতীত সালাত বৈধ (الصحة) না হওয়ার বিষয়টি অন্যান্য দলিলের মাধ্যমে জানা গেছে, তা কবুলযোগ্যতা (القبول) না থাকার দ্বারা বৈধতা (الصحة) না হওয়ার ওপর উক্ত হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। কারণ একটি একক বিধানের (الحكم) দলিল কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে একাধিক হতে পারে এবং তা এই প্রকারগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি প্রকারের অধীনে বারবারও আসতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
ثم إنّا لا نسلم صحة صلاة الآبق ومن ذكر معه، وأين الدليل على صحتها؟ وقولهم الدليل عليه الإجماع بعدم لزوم الآبق ونحوه إعادة الصلاة بنوع وقوع الإجماع، وهذا ابن حزم وأبو هريرة يخالفان، على أن الإجماع نفسه ممنوع تحقيقه كما قرره الأئمة المحققون في الأصول وغيرها.
فالملازمة بين نفي الصحة ونفي القبول هي الأصل، والدليل على من ادعى خلافهما وأي شيء أدل على ذلك من أمره صلى الله عليه وسلم للمسبل بإعادة وضوءه ثم قوله [تعللاً] * لذلك: (إن الله لا يقبل صلاة مسبل إزاره) فالأمر بالإعادة دليل على ملازمة عدم القبول لعدم الصحة، ومن ادعى عدم تلازمهما طولب بالدليل على دعواه، على أن الحديث دل على عدم صحة وضوء من صلى مسبلاً ولا عذر عن ذلك.
هذا وقد ذكر ابن العربي المالكي فرقاً بين ما نفى [عنه] ** القبول مع بقاء الصحة، وما نفى عنه مع عدمها، وهى [فروق]
… مذهبية قد سقناها في حاشيتنا على ((شرح العمدة))، وذكرها صاحب ((طرح التثريب)) وهى مبنية على تسليم القول بالصحة مع عدم القبول وهو محل النزاع.
وأخرج الترمذى من حديث أبى أمامة مرفوعا: ((ثلاثة لا تجاوز صلاتهم آذانهم العبد الآبق حتى يرجع، وامرأة [بات زوجها عليها ساخط] ****، وإمام أم قوما وهم له كارهون)) قال الترمذى: حسن غريب من هذا الوجه. وهو يشعر بأنه لا صحة لهذه الصلاة لأنها لا ترفع بل هى باقية فى ذمته.
وأخرج ابن خزيمة وابن حبان والبيهقي من حديث جابر رضي الله عنه مرفوعا: ((ثلاثة لا يقبل الله لهم صلاة ولا ترفع إلى السماء حسنة؛ العبد الآبق حتى يرجع إلى مواليه ......... )) الحديث.
--------------------------------------------
অতঃপর আমরা পলায়নকারী দাসের (الآبق) এবং তার সাথে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে তাদের সালাতের বৈধতা (صحة) স্বীকার করি না। আর এর বৈধতার (صحة) দলিলই বা কোথায়? তাদের বক্তব্য হলো, এর দলিল হলো পলায়নকারী দাস ও তদ্রূপ ব্যক্তিদের পুনরায় সালাত আদায়ের আবশ্যকতা না থাকার ওপর ঐক্যমত্য (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হওয়া; অথচ ইবনে হাজম এবং আবু হুরায়রা (রা.) এর বিরোধিতা করেছেন। তদুপরি, স্বয়ং ঐক্যমত্য (الإجماع) সাব্যস্ত হওয়াটাই প্রশ্নবিদ্ধ, যেমনটি উসুল (الأصول) শাস্ত্র ও অন্যান্য শাস্ত্রের গবেষক ইমামগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
মূলত বৈধতা (صحة) না থাকা এবং কবুলিয়ত (القبول) না থাকার মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাই হলো মূলনীতি, আর যারা এর বিপরীত দাবি করেন দলিল প্রদানের দায়ভার তাদেরই। টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারীকে (المسبل) আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক পুনরায় অজু (وضوء) করার নির্দেশ এবং এর কারণ হিসেবে [তাবেয়ীনদের] তাঁর এই বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারীর (مسبل إزاره) সালাত কবুল করেন না (لا يقبل)"-এর চেয়ে বড় দলিল আর কী হতে পারে? সুতরাং পুনরায় আদায়ের নির্দেশ প্রদান করাই কবুলিয়ত না হওয়ার (عدম القبول) সাথে বৈধতা না থাকার (عدم الصحة) অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দলিল। আর যে ব্যক্তি এই দুটির মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই বলে দাবি করবে, তাকে তার দাবির পক্ষে দলিল দিতে হবে। উপরন্তু, হাদিসটি টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করে সালাত আদায়কারীর অজুর (وضوء) বৈধতা (صحة) না থাকার ওপরও প্রমাণ পেশ করে এবং এ ব্যাপারে কোনো ওজর গ্রহণযোগ্য নয়।
ইবনে العربي আল-মালিকি বৈধতা (الصحة) বহাল থাকা অবস্থায় কবুলিয়ত (القبول) না হওয়া এবং বৈধতা না থাকার সাথে কবুলিয়ত না হওয়ার মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করেছেন। তবে এগুলো হচ্ছে [মাযহাবগত পার্থক্য] … যা আমরা শারহুল উমদাহ-এর ওপর আমাদের টিকায় (حاشية) উল্লেখ করেছি এবং তারহুত তাসরীব-এর লেখকও তা উল্লেখ করেছেন। এগুলো কবুলিয়ত (القبুল) না হওয়া সত্ত্বেও সালাত বৈধ (صحة) হওয়ার বক্তব্যকে মেনে নেওয়ার ওপর ভিত্তি করে রচিত, যা মূলত বিতর্কের বিষয়।
ইমাম তিরমিজি আবু উমামা (রা.) থেকে মারফু (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তিন ব্যক্তি এমন যাদের সালাত তাদের কান অতিক্রম করে না: পলায়নকারী দাস (العبد الآبق) যতক্ষণ না সে ফিরে আসে, সেই নারী [যার স্বামী তার ওপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে], এবং সেই ইমাম যে কোনো কওমের ইমামতি করে অথচ তারা তাকে অপছন্দ করে।" ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি এই সূত্রে হাসান (حسن) গারিব (غريب)। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই সালাতের কোনো বৈধতা (صحة) নেই, কারণ এটি উপরে উঠানো হয় না বরং তা তার জিম্মায় বাকি থেকে যায়।
ইবনে খুজাইমা, ইবনে হিব্বান এবং বায়হাকি জাবির (রা.) থেকে মারফু (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তিন ব্যক্তির সালাত আল্লাহ কবুল করেন না (لا يقبل) এবং তাদের কোনো নেকি আসমানে উঠানো হয় না: পলায়নকারী দাস (العبد الآبق) যতক্ষণ না সে তার মনিবদের কাছে ফিরে আসে........." হাদিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فهذا الكلام فى الطرفين الأولين: الإسبال فى الصلاة لخيلاء، ولغيرها.
وقد عرفت أنه عند النووى لا يضر بالصلاة * إذا كان للخيلاء بل يكون فاعل محرم فيها، وأنه يكره فيها إذا كان لغير خيلاء، وأنه يبطلها عند ابن حزم إذا كان للخيلاء.
* * *
وأما فى غير الصلاة: فقال الإمام المهدي عليه السلام (1) فى البحر: ويكره تطويل الثياب حتى يغطى الكعبين.
قال عليه المحقق المقبلي ما لفظه: هذه المسألة (2) فى السنة نار على علم فى منع ما تحت الكعبين وأنه فى النار وأن الحد وسط الساقين فإن أبيت فإلى الكعبين، والعجب من الفقهاء فى تهوين أمرها وكان الواجب أن يهولوا ما هولت السنة ويهونوا ما هونته، وهم إنما يلتفتون إلى هذه المسألة أدنى التفات، فيما طولوا من المصنفات وقل من يزيدها على لفظ الكراهة الذى غلب استعمالهم لها فى التنزيه، دون الحظر وإن زعم الزاعمون أن إطلاقها أصل فى الحظر، فإن المعروف من استقرار كلامهم ما ذكرنا.
وتقييد كثير من الرايات بالخيلاء بيان للحامل على ذلك فى الأغلب، وكذلك قوله صلى الله عليه وآله وسلم لأبى بكر رضى الله عنه-وقد قال
--------------------------------------------
এটি প্রথম দুই দিক সম্পর্কিত আলোচনা: অহংকারবশত এবং অহংকার ব্যতীত সালাতে কাপড় ঝুলিয়ে (إسبال) পরা।
আপনি ইতোমধ্যে জেনেছেন যে, ইমাম নববীর মতে এটি যদি অহংকারবশত হয় তবে তা সালাতের কোনো ক্ষতি করে না, বরং এর কর্তা সালাতের ভেতর একটি নিষিদ্ধ (محرم) কাজ সম্পাদনকারী হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা অহংকার ব্যতীত হয় তবে সালাতে তা অপছন্দনীয় (يكره) হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ইবনে হাজমের মতে, এটি যদি অহংকারবশত হয় তবে তা সালাতকে বাতিল (يبطل) করে দেয়।
* * *
আর সালাতের বাইরে কাপড় পরার ক্ষেত্রে: ইমাম মাহদী (আলাইহিস সালাম) (১) আল-বাহর গ্রন্থে বলেছেন: টাখনু ঢেকে যায় এমনভাবে কাপড় লম্বা করা অপছন্দনীয় (يكره)।
এর ওপর মুহাক্কিক মুকবেলী যা বলেছেন তার ভাষ্য নিম্নরূপ: টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সুন্নাহর এই মাসয়ালাটি (২) দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। টাখনুর নিচের অংশ জাহান্নামের আগুনের অন্তর্ভুক্ত এবং এর সীমা হলো পায়ের নলার মাঝামাঝি পর্যন্ত, আর যদি কেউ তা মানতে অস্বীকার করে তবে সর্বোচ্চ টাখনু পর্যন্ত। বিস্ময়ের বিষয় হলো ফকিহগণ এ বিষয়টি হালকাভাবে নিয়েছেন, অথচ উচিত ছিল সুন্নাহ যে বিষয়টিকে কঠোরভাবে বর্ণনা করেছে সেটিকে কঠোরভাবে দেখা এবং সুন্নাহ যা সহজ করেছে তাকে সহজভাবে দেখা। তাঁরা তাঁদের দীর্ঘ রচনাবলির মধ্যে এই মাসয়ালাটির প্রতি অতি সামান্যই ভ্রুক্ষেপ করেছেন। খুব অল্প সংখ্যক আলেমই বিষয়টিকে অপছন্দনীয়তা (كراهة) শব্দের চেয়ে বেশি কঠোর কোনো শব্দে বর্ণনা করেছেন, যা সাধারণত তাঁদের পরিভাষায় কেবল হালকা অপছন্দনীয় বা তানজিহ (تنزيه) অর্থেই বেশি ব্যবহৃত হয়, হারাম বা নিষিদ্ধ (حظر) অর্থে নয়। যদিও দাবিদাররা দাবি করেন যে এই শব্দের সাধারণ ব্যবহার হারাম (حظر) হওয়ার মূল ভিত্তি প্রকাশ করে, তবে তাঁদের বক্তব্যের প্রচলিত ধারা অনুযায়ী আমরা যা উল্লেখ করেছি তাই প্রসিদ্ধ।
অনেক বর্ণনা (الرايات) যা অহংকারের শর্তের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই কাজের মূল চালিকাশক্তির বর্ণনা মাত্র। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে উদ্দেশ্য করে বলা বাণী—যখন তিনি বলেছিলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
حين سمع النهى: إني لم أتعاهد إزاري يسترخى-: ((لست ممن يفعل ذلك خيلاء)) أى لست ممن يتعمد ذلك، وهذا ما نختاره من العمل بالمطلق وحمل المقيد على زيادة فى موجب الحكم فيكون التحريم عاما، انتهى.
قلت: ونعم ما قال، أى عاماً فى حال الخيلاء وغيرها، وهو يشير إلى ما [نختاره] * من أنه لا يحمل المطلق على المقيد، كما يقول بحمله عليه الجمهور، وهو مذهب الشافعي، وإليه يشير كلام النووى. وخالفهم الحنفية ووافقهم صاحب المنار.
وقال فى ((نجاح الطالب)): المقيد إنما هو أحد الأفراد التي يصدق عليها المطلق، والنص على فرد من أفراد العام ليس بتخصيص مع [إتفاق] ** الحكمين فكذا هنا، انتهى.
وقد بحث مع أئمة الأصول القائلين بالحمل بما يظهر به قوة ما جنح إليه [مع]
… أنه قد أشار هنا بقوله بيان الحامل على ذلك فى الأغلب إلى أن قيد الخيلاء مخرج الأغلب لم يعتبر له مفهوم عند جمهور الأصول، كما قاله الجمهور فى قوله تعالى: {وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ} الآية، لأن قيد فى حجوركم فلا يعمل بمفهومه فلا تحل الريبة فى غير الحجر فكذلك الإسبال هنا لا يحل مع عدم الخيلاء، وفى كلام ابن الأثير ما يشعر بذلك حيث قال: وإنما يفعل ذلك للخيلاء ويؤيده أن فى بعض الأحاديث: ((وإياك والإسبال فإنه من المخيلة)) فجعل نفس الإسبال بعضاً من المخيلة. ثم وجدت بعد ثلاث سنين (من) (3) تأليف هذه الرسالة فى ((فتح الباري)) شرح صحيح البخارى، ما لفظه: قال ابن العربي: لا يجوز للرجل مجاوزة ثوبه كعبه ويقول لا أجره خيلاء لأن النهى قد تناوله لفظا ولا يجوز لمن تناوله اللفظ حكما أن يقول لا أمتثله لأن
--------------------------------------------
যখন তিনি নিষেধাজ্ঞাটি শুনলেন: "আমি আমার পরিধেয় বস্ত্রের (ইজার) প্রতি সর্বদা খেয়াল রাখতে পারি না, তা ঝুলে পড়ে"-: "তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও যারা অহংকার (خيلاء) বশত এমনটা করে।" অর্থাৎ আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করে। আর নিঃশর্ত (المطلق) নসের ওপর আমল করা এবং শর্তযুক্ত (المقيد) নসকে বিধানের কারণের অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করার যে নীতি আমরা গ্রহণ করেছি, এটি তারই অন্তর্ভুক্ত; ফলে নিষেধাজ্ঞাটি সাধারণ (عام) হিসেবে গণ্য হবে। সমাপ্ত।
আমি বলি: তিনি কতই না চমৎকার বলেছেন! অর্থাৎ অহংকার (خيلاء) প্রকাশ পায় এমন অবস্থায় এবং অন্যান্য অবস্থায়ও এটি সাধারণ (عام)। তিনি সেই বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত করছেন যা আমরা গ্রহণ করেছি যে, নিঃশর্ত (المطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (المقيد) বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হবে না (অর্থাৎ শর্তযুক্ত নস দ্বারা নিঃশর্ত নসকে সীমাবদ্ধ করা হবে না), যেমনটি সংখ্যাগুরু (الجمهور) আলিমগণ একে এর ওপর প্রয়োগ করার কথা বলেন। এটি শাফেয়ী মাযহাবের মত এবং ইমাম নববীর কথা সেদিকেই ইঙ্গিত করে। হানাফীগণ তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং আল-মানার গ্রন্থের লেখক তাদের সাথে একমত হয়েছেন।
তিনি নাজাহুত তালিব গ্রন্থে বলেছেন: শর্তযুক্ত (المقيد) বিষয়টি মূলত নিঃশর্ত (المطلق) বিষয়েরই অন্তর্ভুক্ত অন্যতম একটি একক। আর সাধারণ (عام) বিধানের কোনো একটি এককের ওপর নস (সুস্পষ্ট প্রমাণ) বিদ্যমান থাকা বিশেষীকরণ (তخصيص) হিসেবে গণ্য হয় না যখন উভয় বিধান এক হয়। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। সমাপ্ত।
উসুল (أصول) শাস্ত্রের সেই সকল ইমামদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে যারা নিঃশর্তের ওপর শর্তযুক্তের প্রয়োগের (হামল) প্রবক্তা, যার মাধ্যমে তিনি যে মতের দিকে ঝুঁকেছেন তার শক্তি প্রকাশ পায়... তিনি এখানে তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর প্রেষণা বর্ণনার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যে, অহংকারের শর্তটি অধিকাংশের অবস্থার বর্ণনা (মাখরাজুল আগলাব) হিসেবে এসেছে, যার বিপরীত অর্থবোধক (مفهوم) বিষয়টি উসুল (أصول) শাস্ত্রের সংখ্যাগুরু (الجمهور) পণ্ডিতদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। যেমনটি সংখ্যাগুরু (الجمهور) আলিমগণ মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে বলেছেন: "এবং তোমাদের সেই পালিত কন্যারা যারা তোমাদের কোলে (তত্ত্বাবধানে) রয়েছে", কারণ "তোমাদের কোলে" শর্তটি হওয়ার কারণে এর বিপরীত অর্থবোধক (مفهوم) বিষয়ের ওপর আমল করা হয় না; ফলে কোলের বাইরে থাকলেও সেই পালিত কন্যা হালাল হয় না। অনুরূপভাবে এখানে কাপড় ঝুলিয়ে পরা (ইসবাল) অহংকার না থাকলেও বৈধ হবে না। ইবনুল আসিরের বক্তব্যেও এর আভাস পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বলেছেন: "এটি কেবল অহংকারের জন্যই করা হয়।" এর সমর্থনে কিছু হাদিসও রয়েছে: "তুমি কাপড় ঝুলিয়ে পরা (ইসবাল) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত।" এখানে খোদ কাপড় ঝুলিয়ে পরাকেই অহংকারের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অতঃপর এই রিসালাটি রচনার তিন বছর পর আমি ফাতহুল বারী শারহ সহিহ বুখারী গ্রন্থে নিম্নোক্ত বক্তব্যটি পাই: ইবনুল আরাবী বলেছেন: কোনো ব্যক্তির জন্য তার কাপড় টাখনুর নিচে নিয়ে যাওয়া এবং এ কথা বলা বৈধ নয় যে, "আমি অহংকার (خيلاء) বশত এটি ঝোলাচ্ছি না।" কারণ নিষেধাজ্ঞার শব্দসমূহ তাকে আক্ষরিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর যার ওপর শব্দের বিধান আক্ষরিকভাবে আপতিত হয়, তার জন্য এ কথা বলা বৈধ নয় যে, "আমি এটি পালন করব না" কারণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
تلك العلة ليست فِىَّ فإنها دعوى غير مسلمة بل إطالته ذيله دال على تكبره، انتهى ملخصا.
ثم قال ابن حجر: وحاصله أن الإسبال يستلزم جر الثوب، وجر الثوب يستلزم الخيلاء، ولو لم يقصد اللابس الخيلاء ويؤيده ما أخرجه أحمد بن منيع من وجه آخر عن ابن عمر فى فِي أَثْنَاءِ حَدِيثٍ [رَفَعَهُ] *: ((وإياك وجر الإزار فإن جر الإزار من المخيلة)).
وأخرج النسائي وابن ماجه وصححه ابن حبان من حديث المغيرة: رأيت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم آخذا برداء سفيان بن سهل وهو يقول: ((سفيان لا تسبل، إن الله لا يحب المسبلين)).
وأما
حديث أبى بكر رضى الله عنه، فالذي يظهر لي انه من باب نفى القيد والمقيد معا، وأن مراده صلى الله عليه وآله وسلم فى جوابه عليه: إنك لا تسبل ولا تفعله مخيلة وذلك أنه قال: إن إزاري يسترخى وهذا ليس بإسبال فإنه لا بد أن يكون من فعل المسبل نفسه، وهنا نسب الاسترخاء إلى الإزار من غير إرادته، فالجواب منه صلى الله عليه وآله وسلم من باب
--------------------------------------------
সেই ত্রুটি আমার মাঝে নেই, কেননা এটি একটি অগ্রহণযোগ্য দাবি; বরং তার কাপড়ের ঝুল লম্বা করা তার অহংকারের প্রমাণ দেয়। সংক্ষেপিত সমাপ্ত।
অতঃপর ইবনে হাজার বলেন: এর সারকথা হলো, টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা (إسبال) কাপড় টেনে হেঁচড়ানোর কারণ হয়, আর কাপড় টেনে হেঁচড়ানো অহংকারের (الخيلاء) কারণ হয়, যদিও পরিধানকারী অহংকারের নিয়ত না-ও করে। আর এটি সমর্থন করে আহমদ ইবনে মানি' কর্তৃক ইবনে উমর থেকে বর্ণিত অন্য একটি সূত্রের বর্ণনা, যা একটি হাদিসের মাঝে [মারফু (رَفَعَهُ) হিসেবে] এসেছে: "তুমি কাপড় টেনে চলা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা কাপড় টেনে চলা হলো অহংকারের (المخيلة) অন্তর্ভুক্ত।"
ইমাম নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সহিহ (صححه) বলেছেন মুগিরাহ-এর বর্ণিত হাদিস থেকে: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে সুফিয়ান ইবনে সাহলের চাদর ধরে থাকতে দেখেছি, আর তিনি বলছিলেন: "হে সুফিয়ান, টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরো না (لا تسبل), নিশ্চয়ই আল্লাহ টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারীদের (المسبلين) পছন্দ করেন না।"
আর
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটির ব্যাপারে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এটি শর্ত ও শর্তযুক্ত বিষয় উভয়টিকেই নাকচ করার পর্যায়ভুক্ত। আর তার জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য ছিল: তুমি কাপড় ঝুলিয়ে পরছ না এবং অহংকারবশত তা করছ না। আর তা এ কারণে যে, তিনি বলেছিলেন: "আমার লুঙ্গি ঢিলে হয়ে নিচের দিকে নেমে যায়"; আর এটি টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা (إسبال) নয়, কারণ তা অবশ্যই পরিধানকারীর নিজস্ব কর্ম হতে হয়। এখানে ঢিলে হয়ে যাওয়াকে লুঙ্গির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যা তার ইচ্ছা ছাড়াই ঘটেছিল। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে প্রদত্ত উত্তরটি ছিল নিম্নরূপ—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
نفى القيد والمقيد، ونظير ما قاله صاحب ((الكشاف)) رحمه الله فى قوله تعال: ((إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ)) إنه نفى للتوبة من القبول، أى لا توبة لهم ولا قبول وأنشد البيت المعروف: [[(وَلَا تَرَى الضَّبَّ بِهَا يَنْجَحِر) (1)]] *.
[ويؤيده] ** أنه لا بد من القصد فى الإسبال أنه لا يحرم جره حال الفزع والغضب والنسيان كما قدمنا، ولعل هذا الذى أراده صاحب ((المنار)) وأشار إليه بقوله فى حديث أبى بكر-أى ليس ممن يتعمد ذلك- وحينئذ فحديث أبي بكر ليس من محل النزاع فى حد ولا صدر، إنما توهم أبو بكر فسأل فأجيب بأنه ليس من ذلك.
ثم وجدت فى ((التمهيد)) لابن عبد البر بعد أيام من كتب هذه الرسالة ما لفظه: (أنه صلى الله عليه وآله وسلم قال لأبى بكر: إنك لست ممن يرضى ذلك ولا يتعمده ولا يظن بك ذلك). انتهى.
وهو بحمد الله صريح فى ما قلناه ويدل له أنه صلى الله عليه وآله وسلم أذن لأمهات المؤمنين فى إسبال ذيولهن ذراعا، ولم يقل لأم سلمة رضى الله عنها -وقد سألته- أنه ليس من المخيلة لأنهن قاصدات لذلك فهو مخيلة أو مظنة لها، لكن عارض مفسدة الإسبال مفسدة أعظم منها وهى: انكشاف أقدام النساء وهى عورة، فأذن لهن وإن حصلت المخيلة دفعا لأعظم المفسدتين بأخفهما. وحينئذ يتوجه الوعيد على الإسبال لغير النساء ولكن تخص الإباحة بذيولهن لا بقميصهن وثياب البذلة التي تلبسها فى منزلها خالية عن الأجانب.
--------------------------------------------
এটি শর্ত (قيد) এবং শর্তযুক্ত বিষয় (مقيد) উভয়েরই অস্বীকৃতি। 'আল-কাশশাফ' গ্রন্থের লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় যা বলেছেন এটি তারই অনুরূপ: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনার পর কুফরি করেছে, এরপর তাদের কুফরি বৃদ্ধি পেয়েছে, তাদের তওবা কখনোই কবুল করা হবে না।" এটি মূলত কবুল হওয়ার ক্ষেত্র থেকে তওবাকেই অস্বীকার করা হয়েছে; অর্থাৎ তাদের কোনো তওবাও নেই এবং কোনো কবুল হওয়াও নেই। তিনি সেই প্রসিদ্ধ কবিতাটি পাঠ করেছেন: "সেখানে কোনো সরীসৃপকে গর্তে প্রবেশ করতে দেখবে না।"
[এটি এই বিষয়টিকে সমর্থন করে যে] কাপড় ঝুলিয়ে পরার (إسبال) ক্ষেত্রে অবশ্যই সংকল্প বা উদ্দেশ্য থাকা প্রয়োজন। যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে, আতঙ্ক, রাগ বা বিস্মৃতির অবস্থায় কাপড় হেঁচড়ে নিয়ে চলা হারাম (محرم) নয়। সম্ভবত 'আল-মানার' গ্রন্থের লেখক এটিই বুঝাতে চেয়েছেন এবং আবু বকরের হাদিস প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন—অর্থাৎ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নন। এমতাবস্থায়, আবু বকরের হাদিসটি মূল বা শাখা কোনো দিক থেকেই বিবাদের বিষয় নয়; বরং আবু বকর (রা.) বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে ছিলেন এবং জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এরপর তাঁকে উত্তর দেওয়া হয়েছিল যে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত নন।
অতঃপর এই রিসালাটি লেখার কয়েক দিন পর ইবনে আব্দুল বার-এর 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে আমি এই শব্দগুলো পেয়েছি: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকরকে বলেছিলেন: নিশ্চয়ই আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত নন যারা এটি পছন্দ করে কিংবা এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করে, আর আপনার ব্যাপারে এমনটি ধারণাও করা হয় না।" সমাপ্ত।
আল্লাহর প্রশংসায় এটি আমরা যা বলেছি সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট (صريح) প্রমাণ। এর দলিল হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মুমিনদের জননীদের কাপড়ের প্রান্তভাগ এক হাত পরিমাণ ঝুলিয়ে পরার অনুমতি দিয়েছেন। অথচ উম্মে সালামাহ (রা.) যখন তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি তাঁকে বলেননি যে এটি অহংকার (مخيلة) নয়। কারণ তারা এটি ইচ্ছা করেই করেন, তাই এটি অহংকার বা অহংকারের প্রবল ধারণা (مظنة) সৃষ্টির কারণ। কিন্তু কাপড় ঝুলিয়ে পরার অনিষ্টের (مفسدة) বিপরীতে তার চেয়ে বড় অনিষ্টের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, আর তা হলো নারীদের পায়ের পাতা উন্মুক্ত হওয়া যা সতর (عورة)। ফলে বড় অনিষ্টকে ছোট অনিষ্টের মাধ্যমে দূর করার নিমিত্তে অহংকারের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি তাদের অনুমতি দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায়, কাপড় ঝুলিয়ে পরার ব্যাপারে যে শাস্তির ধমক রয়েছে তা পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য, তবে বৈধতা (إباحة) কেবল তাদের কাপড়ের প্রান্তভাগের সাথে নির্দিষ্ট; তাদের কামিজ বা ঘরে পরার সাধারণ পোশাকের ক্ষেত্রে নয়, যা তারা পরপুরুষের অনুপস্থিতিতে পরিধান করে থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
واعلم أن هذا الذى أشار إليه ((المنار)) فى خروج المفهوم على الأغلب تنزل منه على القول بالمفهوم، وإلا فهو ينفيه كما يأتى.
ثم قال فى حاشية ((المنار)): (ومما وقع من اللطف أنه كان لي عباءة، وما يكون من هذا النوع فى زماننا غالبه الطول، فكنت فى اليمن لأنه يغلب على المتفقهة لُبس ذلك، [أنشغل] * بطولها، فقلت مرة: إني لست ممن يفعل ذلك خيلاء مشيرا إلى حديث أبى بكر رضى الله عنه، فقالت لي امرأة: أوما يكفيك أنه يراك الله متخلقا بأخلاقهم، فكأنما كشفت عن قلبي غشاوة واستغربت ذلك منها ورأيت أنها ملقنة). انتهى.
هذا، وقد سبقت لنا الإشارة أنه لا يتم حمل المطلق على المقيد [كما قاله النووي والبيهقي إلا مع
القول بمفهوم الصفة والقول بحمل المطلق على المقيد] **، وفيهما نزاع كما أشرنا إليه، فأما الحمل فقدمنا الكلام عليه، وأما القول بمفهوم الصفة فلنذكر كلام النفاة والمثبتين، ومن له ذوق سليم يعرف الصحيح من السقيم.
فقوله صلى الله عليه وآله وسلم: ((خيلاء)) فى حديث: ((لا ينظر الله إلى من جر ثوبه خيلاء))، مفهومه من مفهوم الصفة لاتفاقهم بأنه ليس المراد بها [التجويز بل كل ما تقيد بها من حال وعلة ونحوها]
… .
فذهب إلى القول بمفهوم الصفة الشافعي وجماعة من الأئمة، وذهب إلى نفيه الحنفية وأئمة من الشافعية: كالقاضي (1) والغزالي، ونفاه المعتزلة والمهدي فى ((البحر)).
واستدل المثبتون بدليلين كما فى مختصر ابن الحاجب وغيره من كتب الأصول:
الأول: أنه نقل عن أبى عبيدة-وهو من أئمة اللغة- أنه قال فى قوله صلى الله عليه وآله وسلم: ((لي الواجد يحل عقوبته وعرضه)): أنه يدل
--------------------------------------------
জেনে রাখুন যে, 'আল-মানার'-এ 'মফহুম' (المفهوم)-এর অধিকাংশ অবস্থার প্রেক্ষিতে হওয়া সম্পর্কে যে ইশারা করা হয়েছে, তা মফহুম-এর প্রবক্তাদের মতানুসারেই বলা হয়েছে; অন্যথায় তিনি নিজেই এটি অস্বীকার করেন, যা সামনে আসবে।
অতঃপর তিনি 'আল-মানার'-এর টীকায় (হাশিয়া) বলেন: (একটি চমৎকার ঘটনা এই যে, আমার একটি আবা (এক ধরণের ঢিলেঢালা পোশাক) ছিল। আমাদের সময়ে এই জাতীয় পোশাক সাধারণত দীর্ঘই হয়ে থাকে। আমি তখন ইয়ামেনে ছিলাম, কারণ সেখানে ফিকহবিদদের (মুতাফাক্কিহা) মাঝে এটি পরিধানের প্রচলন বেশি ছিল। আমি এর দীর্ঘতা নিয়ে বিব্রত [বা ব্যস্ত] ছিলাম। একবার আমি বললাম: আমি তো এটি অহংকারবশত (خيلاء) করি না—এই বলে আমি আবু বকর (রা.)-এর হাদিসের দিকে ইশারা করলাম। তখন জনৈক নারী আমাকে বললেন: আপনার জন্য কি এটিই যথেষ্ট নয় যে, আল্লাহ আপনাকে তাদের (অহংকারীদের) বেশভূষা ধারণকারী হিসেবে দেখছেন? এতে যেন আমার অন্তর থেকে পর্দা সরে গেল এবং আমি তার এই কথায় বিস্মিত হলাম এবং অনুভব করলাম যে, তাকে হয়তো আল্লাহই এটি শিখিয়ে দিয়েছেন)। সমাপ্ত।
উল্লেখ্য যে, আমরা পূর্বেই ইশারা করেছি যে, অনির্দিষ্টকে (المطلق) নির্দিষ্টের (المقيد) ওপর প্রয়োগ করা [যেমনটি নববী ও বায়হাকী বলেছেন] পূর্ণতা পায় না কেবল গুণবাচক ধারণার (مفهوم الصفة) প্রবক্তাদের মত এবং অনির্দিষ্টকে নির্দিষ্টের ওপর প্রয়োগের মত ছাড়া। এই উভয় বিষয়েই মতভেদ রয়েছে যেমনটি আমরা ইশারা করেছি। প্রয়োগের (হামল) বিষয়ে আমরা আগেই আলোচনা করেছি। আর গুণবাচক ধারণার (مفهوم الصفة) ক্ষেত্রে আমরা এর সপক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থানকারীদের বক্তব্য উল্লেখ করব; আর যার সুস্থ রুচিবোধ রয়েছে, সে সঠিক (الصحيح) ও ত্রুটিযুক্তের (السقيم) পার্থক্য বুঝতে পারবে।
সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "অহংকারবশত (خيلاء)", যা এই হাদিসে এসেছে: "আল্লাহ ঐ ব্যক্তির দিকে তাকাবেন না যে অহংকারবশত (خيلاء) নিজের কাপড় টেনে নিয়ে চলে"—এটির অর্থ 'গুণবাচক ধারণা' (مفهوم الصفة)-এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ তারা এ বিষয়ে একমত যে, এখানে উদ্দেশ্য [বৈধতা প্রদান নয় বরং অবস্থা (হাল) ও কারণ (ইল্লাত) ইত্যাদি যা দ্বারা বিষয়টি নির্দিষ্ট হয়েছে]
… ।
ইমাম শাফেয়ী এবং একদল ইমাম 'গুণবাচক ধারণা' (مفهوم الصفة)-এর সপক্ষে মত দিয়েছেন। আর হানাফীগণ এবং শাফেয়ীগণের একদল ইমাম যেমন: কাজী (১) ও ইমাম গাজালী এটি অস্বীকার করেছেন। মুতাজিলাগণ এবং আল-বাহর গ্রন্থে ইমাম মাহদীও এটি অস্বীকার করেছেন।
যারা এটি সাব্যস্ত করেছেন তারা দুইটি দলীল পেশ করেছেন, যেমনটি মুখতাসার ইবনে হাজিব এবং উসুলের অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে:
প্রথমত: ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম ইমাম আবু উবায়দাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "সামর্থ্যবান ব্যক্তির (ঋণ পরিশোধে) গড়িমসি করা তার শাস্তি ও সম্মানহানিকে বৈধ করে দেয়"—এর ব্যাপারে বলেছেন যে, এটি প্রমাণ করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
أن لي غير الواجد لا يحل عرضه وعقوبته، قال: وفى قوله صلى الله عليه وآله سلم: ((مطل الغنى ظلم)) مثل هذا: وأنه قيل له فى قوله صلى الله عليه وآله وسلم: ((لأن يمتلئ بطن أحدكم قيحا خير له من أن يمتلئ شعرا))، المراد بالشعر هنا الهجاء مطلقا أو هجاء النبى صلى الله عليه وآله وسلم، فقال: لو كان كذلك لم يكن لذكر الامتلاء معنى لأن قليله وكثيره سواء فجعل الامتلاء من الشعر فى قوة الشعر الكثير، ففهم منه أن القليل ليس كذلك، واحتج به فقد ألزم من تقدير الصفة المفهوم فكيف مع التصريح بها؟
قالوا: ولأنه قال بمفهوم الصفة الشافعي، وهو وأبو عبيد من أئمة اللغة فظهر إفادتها لغة. انتهى.
وأجيب عنه: بأن اللغة إنما ثبتت بالنقل لا بالفهم، والنقل يختص بالموضوعات للشخص أو للنوع وليس ذلك أحدهما إلا إذا قامت قرينة على
বিত্তহীন ব্যক্তির বিলম্ব করা (লাই - لي) তার সম্মানহানি ও শাস্তিকে বৈধ করে না; তিনি বলেন: নবী ﷺ-এর বাণী: "ধনী ব্যক্তির টালবাহানা করা (মাতল - مطل) জুলুম"—এতেও অনুরূপ অর্থ রয়েছে। আর তাঁকে নবী ﷺ-এর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "তোমাদের কারো পেট পুঁজে পূর্ণ হওয়া তার কবিতা দিয়ে পূর্ণ হওয়ার চেয়ে উত্তম।" এখানে কবিতা বলতে কি সাধারণভাবে নিন্দা-কবিতা নাকি কেবল নবী ﷺ-এর শানে নিন্দা-কবিতা উদ্দেশ্য? তিনি বললেন: যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে 'পূর্ণ হওয়া' উল্লেখ করার কোনো সার্থকতা থাকত না, কারণ (নবীর নিন্দার ক্ষেত্রে) সামান্য ও অধিক উভয়ই সমান। সুতরাং তিনি কবিতার দ্বারা পূর্ণ হওয়াকে প্রচুর কবিতার সমার্থবোধক করেছেন। ফলে এখান থেকে বোঝা যায় যে, সামান্য কবিতা তেমন (নিষিদ্ধ) নয়। তিনি এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। যখন তিনি একটি উহ্য গুণের (সিফাহ - صفة) ক্ষেত্রে মর্মার্থ (মাফহুম - مفهوم) গ্রহণ করাকে আবশ্যক করেছেন, তবে গুণের স্পষ্ট উল্লেখ থাকলে তা গ্রহণ করা আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত হবে।
তারা বলেন: আর যেহেতু ইমাম শাফেয়ী গুণের মর্মার্থ (মাফহুমুস সিফাহ - مفهوم الصفة) মেনে নিয়েছেন, আর তিনি এবং আবু উবায়েদ ভাষাবিজ্ঞানের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত, তাই ভাষাগতভাবে এর কার্যকারিতা স্পষ্ট হয়ে গেল। সমাপ্ত।
এর উত্তরে বলা হয়েছে: ভাষা কেবল বর্ণনার (নাকল - نقل) মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়, অনুধাবনের (ফাহম - فهم) মাধ্যমে নয়। আর বর্ণনা কেবল ব্যক্তি বা শ্রেণির জন্য নির্ধারিত বিষয়গুলোর সাথে নির্দিষ্ট, আর এটি তার কোনোটিই নয়, যতক্ষণ না এর স্বপক্ষে কোনো লক্ষণ বা প্রেক্ষাপট (কারিনাহ - قرينة) বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
أنه من التعريض بغير المذكور، فمدلول [العربية] * منطوق لما عرف من أن التعريض من الكناية وهى موضوعة بالنوع ولا نزاع فى ذلك والحاصل أنهما لم يوردا ذلك عن اللغة، وإنما أخبرا عن فهمهما ورأيهما وهو كآرائهم الشرعية والعقلية، يوضحه أنه إذا اختلف عربيان سيلقيان فى معنى جعلنا كلامهما لغتين. وإذا اختلف إمامان لم نجعل كلامهما لغتين بل يجب الترجيح بين قوليهما، ولو كان قول الأئمة مقبولا مطلقا لساوى قول السليقيين.
وأجيب أيضا بجواب آخر: وهو أنهما إنما حكما بذلك لموافقته الأصل لا بالمفهوم، والنقل من المخصصات-كما علم أما فى مطل الواجد فظاهر إذ لا عذر له بخلاف المعدم إذ التكليف إنما هو بالموجود.
وأما الشعر فلأنه قد علم فى الجاهلية والٍإسلام أن الانشغال به مفخرة الناقص ومنقصة الكامل، وأنه يشغل عن الكمالات، ويستلزم الكذب والتخيلات التي لا أصل لها، وملأ الجوف منه لا يخلو عن ذلك، نعم ربما خلا القليل منه بلا كراهية فيه، فكيف وقد تمثل به النبى صلى الله عليه وآله وسلم؟.
فهذه قرينة تعيد المفهوم منطوقا لما عرفت من أن ما قامت القرينة على اعتباره من مفهوم المخالفة فهو منطوق، وتأتي أدلة من قال بإثبات مفهوم الصفة أنه لو لم يدل على المخالفة لم يكن لتخصيص محل الذكر بالمنطوق به فائدة. وتخصيص آحاد البلغاء بغير فائدة ممتنع فالشارع أجدر
وأجيب: بأن فائدته تشخيص مناط الحكم، فهو لتحصيل أصل المعنى كاللقب فإنك إذا قلت: أكرم زيدا التميمي فقد أمرت أن يوقع الإكرام على زيد المقيد بكونه تميميا، ففائدة ذكر الصفة تعيين من أمرت بإكرامه وأردته فكيف يقال لم يكن لتخصيص محل النطق بالذكر فائدة؟
--------------------------------------------
এটি পরোক্ষ ইঙ্গিতের (تعريض) অন্তর্ভুক্ত যা উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্যকে বুঝায়; সুতরাং [আরবি] এর অর্থ হবে ব্যক্ত অর্থ (منطوق), কারণ এটি সুপরিচিত যে পরোক্ষ ইঙ্গিত (تعريض) হলো পরোক্ষ ইঙ্গিতবাহী শব্দের (كناية) অন্তর্ভুক্ত, আর এটি প্রকারগতভাবে নির্ধারিত এবং এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই। সারকথা হলো, তাঁরা এটি সরাসরি ভাষা থেকে উদ্ধৃত করেননি, বরং তাঁরা তাদের উপলব্ধি ও অভিমত ব্যক্ত করেছেন, যা তাঁদের শরয়ি ও বুদ্ধিবৃত্তিক মতামতের মতোই। বিষয়টি স্পষ্ট হয় এভাবে যে, যদি দুইজন বিশুদ্ধভাষী আরব (السليقيين) কোনো অর্থের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন, তবে আমরা তাঁদের উভয়ের বক্তব্যকেই ভাষার দুটি রূপ হিসেবে গণ্য করি। কিন্তু যদি দুইজন ইমাম দ্বিমত পোষণ করেন, তবে আমরা তাঁদের কথাকে ভাষার রূপ হিসেবে গ্রহণ করি না, বরং তাঁদের বক্তব্যের মধ্যে প্রাধান্য (الترجيح) দেওয়া আবশ্যক হয়। যদি ইমামদের কথা নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য হতো, তবে তা বিশুদ্ধভাষী আরবদের (السليقيين) কথার সমপর্যায়ের হতো।
এর অন্য একটি উত্তরও দেওয়া হয়েছে: তা হলো, তাঁরা এই ফয়সালা দিয়েছেন মূলনীতির (الأصل) সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য, উহ্য অর্থ (المفهوم) হিসেবে নয়; আর বর্ণনা হলো সীমাবদ্ধকারী (المخصصات) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত—যেমনটি জানা আছে। সচ্ছল ব্যক্তির পাওনা পরিশোধে বিলম্ব করার বিষয়টি স্পষ্ট, কারণ তাঁর কোনো ওজর নেই; কিন্তু নিঃস্ব ব্যক্তির বিষয়টি ভিন্ন, কেননা দায়বদ্ধতা কেবল সামর্থ্য থাকলেই কার্যকর হয়।
আর কবিতার বিষয়টি হলো, জাহেলিয়াত ও ইসলামি উভয় যুগে এটি জানা ছিল যে, কবিতায় মগ্ন থাকা অপূর্ণ ব্যক্তির জন্য অহংকার এবং পূর্ণ ব্যক্তির জন্য মর্যাদাহানিকর। এটি মানুষকে পূর্ণতা অর্জন থেকে বিচ্যুত করে এবং মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কল্পনার দিকে ধাবিত করে। কবিতার মাধ্যমে উদর পূর্ণ করা এসব দোষ থেকে মুক্ত নয়। তবে হ্যাঁ, এর সামান্য অংশ হয়তো অপছন্দনীয়তা (كراهية) থেকে মুক্ত হতে পারে; আর তা হবেই না কেন, যেখানে স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কবিতার উদ্ধৃতি দিয়েছেন?
সুতরাং এটি এমন একটি প্রমাণক (قرينة), যা উহ্য অর্থকে (المفهوم) ব্যক্ত অর্থে (منطوق) রূপান্তর করে। কারণ আপনি জানেন যে, যার গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রমাণক (قرينة) বিদ্যমান থাকে, সেই বিপরীত অর্থবোধক উহ্য অর্থ (مفهوم المخالفة) মূলত ব্যক্ত অর্থ (منطوق)। আর যারা বিশেষণাত্মক উহ্য অর্থ (مفهوم الصفة) সাব্যস্ত করার পক্ষে, তাঁদের দলিল হলো—যদি এটি বিপরীত অর্থ প্রদান না করতো, তবে ব্যক্ত অর্থের (منطوق) মাধ্যমে আলোচনার ক্ষেত্রকে সুনির্দিষ্ট করার কোনো ফায়দা থাকত না। যেখানে সাধারণ অলঙ্কারবিদদের কোনো বিষয়কে নিরর্থকভাবে নির্দিষ্ট করা অসম্ভব, সেখানে শরিয়ত প্রণেতার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য।
এর উত্তরে বলা হয়েছে: এর উপযোগিতা হলো হুকুমের ভিত্তি (مناط الحكم) চিহ্নিত করা। সুতরাং এটি মূল অর্থ হাসিল করার জন্য, যেমনটি উপাধির (اللقب) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি বলেন: "তামিম গোত্রীয় জায়েদকে সম্মান করো", তবে আপনি সেই জায়েদকে সম্মান করার আদেশ দিলেন যে তামিম গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং বিশেষণ (الصفة) উল্লেখ করার সার্থকতা হলো আপনি যাকে সম্মান করার আদেশ দিয়েছেন এবং যাকে বুঝিয়েছেন তাকে নির্দিষ্ট করা। এমতাবস্থায় কীভাবে বলা যায় যে, উচ্চারিত শব্দকে আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার কোনো ফায়দা নেই?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
وكيف تطلب فائدة زائدة على فائدة الوضع؟.
فعرفت من هذا التحرير مساواته لمفهوم اللقب، وأنه يختل الكلام عند إسقاط الصفة [لأن الكلام الذي اعتبر فيه زيد التميمي من شرط إفادة المراد وجود هذه الصفة] * وكذلك المنسوب إليه في قولك: جاءني زيد الطويل، ليس مسمى زيد فقط بل الموصوف بالصفة فهي داخلة في مفهوم المسند إليه لتحصيل معناه، ولا تدل العبارة أن زيدا (1) القصير لم يجيء -الذي هو معنى اعتبارا بمفهوم الصفة- بل حكمه مسكوت عنه، بحث لو قلت: جاءني زيد القصير، بعد قولك: جاءني زيد الطويل، لم يكن كلاما متناقضا ظاهرا.
هذا قصارى ما عند الفريقين استدلالا وردا، فتأمل فإنه لا يخفى عليك الأقوى دليلا والأحسن قيلا.
وإذا عرفت ما قررناه وأحطت علماً بما سقناه، عرفت قوة التحريم مطلقا للإسبال في كل حال.
وأما ما نقل عن ابن حجر الهيتمي (2): أن الإسبال صار الآن شعار العلماء، وكأنه يريد علماء الحرمين لا غيرهم، قال: (فلا يحرم عليهم بل يباح لهم)، فهو كلام يكاد يضحك منه الحبر والورق، وكأنه يريد إذا صار شعارا لهم لم يبق فيه للخيلاء مجال. ولكنه يقال: وهل يجعل ما نهى عنه رسوله صلى الله عليه وآله وسلم حلالا إذا صار شعارا معتادا لطائفة لا سيما أشرف الطوائف، وهم هداة الناس وقدوتهم وأعيانهم فيصير حلالا وينتفي عنه النهي؟
وهل قدوة العلماء والعباد وإمام المبدأ والمعاد، سوى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم الذي أرسله معلماً للعباد كل ما يقربهم إلى ربهم ويبعدهم عن معصيته حتى قال بعض الصحابة: لقد علمنا نبينا كل شيء حتى الخراءة - أي آداب التخلي-
--------------------------------------------
আর আপনি শব্দ প্রয়োগের (الوضع) সাধারণ উপযোগিতার অতিরিক্ত কোনো ফায়দা কীভাবে দাবি করতে পারেন?
সুতরাং এই বিশ্লেষণ থেকে আপনি বুঝতে পারলেন যে এটি উপাধির সংজ্ঞার (مفهوم اللقب) সমতুল্য এবং বিশেষণটি (الصفة) বাদ দিলে বক্তব্যটি অসম্পূর্ণ হয়ে যায়। [কারণ সেই বক্তব্যে যেখানে 'যায়েদ আল-তামিমি'কে গণ্য করা হয়েছে, সেখানে উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশের শর্ত হলো এই বিশেষণের উপস্থিতি।] * একইভাবে আপনার এই উক্তিতে: 'দীর্ঘদেহী যায়েদ আমার কাছে এসেছে', এখানে যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে (المسند إليه) সে কেবল 'যায়েদ' নামধারী ব্যক্তি নয়, বরং সেই বিশেষণে বিশেষিত ব্যক্তি; সুতরাং অর্থ পূর্ণতা প্রদানের জন্য এই বিশেষণটি 'যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে' (المسند إليه) তার সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। আর এই বাক্যটি এটি নির্দেশ করে না যে 'খর্বকায় যায়েদ' আসেনি—যা বিশেষণের সংজ্ঞার (مفهوم الصفة) বিবেচনায় একটি অর্থ—বরং তার বিধান সম্পর্কে নীরবতা (مسكوت عنه) পালন করা হয়েছে। বিষয়টি এমন যে, আপনি যদি বলেন 'দীর্ঘদেহী যায়েদ আমার কাছে এসেছে' বলার পর বলেন 'খর্বকায় যায়েদ আমার কাছে এসেছে', তবে সেটি আপাতদৃষ্টিতে কোনো স্ববিরোধী কথা হবে না।
দলিল উপস্থাপন ও খণ্ডনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের দৌড় এতটুকু পর্যন্তই। অতএব আপনি চিন্তা করুন, তাহলে কোনটি দলিলের দিক থেকে শক্তিশালী এবং বক্তব্যের দিক থেকে উত্তম তা আপনার কাছে অস্পষ্ট থাকবে না।
আর আমরা যা সাব্যস্ত করেছি তা যদি আপনি বুঝতে পারেন এবং আমরা যা উপস্থাপন করেছি সে সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করেন, তবে আপনি সর্বাবস্থায় পরিধেয় বস্ত্র টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পড়ার (الإسبال) হারামের বিধানটি নিরঙ্কুশভাবে কতটা শক্তিশালী তা উপলব্ধি করতে পারবেন।
আর ইবনে হাজার আল-হাইতামি (২) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে: টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়া (الإسبال) বর্তমানে আলেমদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে—সম্ভবত তিনি কেবল হারামাইন শরিফাইনের আলেমদের বুঝিয়েছেন—তিনি বলেছেন: (তাই এটি তাদের জন্য হারাম নয়, বরং তাদের জন্য বৈধ (مباح)), এটি এমন এক কথা যা শুনে কালি ও কাগজও উপহাস করবে। সম্ভবত তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এটি যখন তাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে, তখন এতে আর অহংকারের (الخيلاء) কোনো অবকাশ অবশিষ্ট নেই। কিন্তু এর উত্তরে বলা হবে: আল্লাহ্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যা থেকে নিষেধ করেছেন, কোনো এক গোষ্ঠীর অভ্যাসগত প্রতীকে পরিণত হওয়ার কারণে কি তা হালাল হয়ে যাবে? বিশেষ করে সেই গোষ্ঠীটি যদি হয় সর্বশ্রেষ্ঠ গোষ্ঠী, যারা মানুষের পথপ্রদর্শক, আদর্শ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব; তবে কি সেটি হালাল হয়ে যাবে এবং তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে?
আলেম ও ইবাদতকারীদের আদর্শ এবং আদি-অন্তের ইমাম কি আল্লাহ্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য কেউ হতে পারেন? যাঁকে তিনি বান্দাদের শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছেন যাতে তারা তাদের রবের নৈকট্য লাভ করতে পারে এবং তাঁর নাফরমানি থেকে দূরে থাকতে পারে। এমনকি জনৈক সাহাবী বলেছিলেন: আমাদের নবী আমাদের সবকিছু শিখিয়েছেন, এমনকি মলত্যাগের শিষ্টাচারও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসতিফাউল আকওয়াল ফি তাহরিমিল ইসবালি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
فالشعار للعلماء هو شعاره صلى الله عليه وآله وسلم وشعار أصحابه، فهم القدوة لا ما جعله من ارتكب ما نهى عنه شعارا، فإن أول من خالف النهي واتخذه له لباسا قبل أن يسبقه إليه أحد مبتدع قطعا آتيا بما نهى عنه لا تتم فيه هذه المقدرة القبيحة لأنه لم يكن شعاراً إلا من بعده، فمن تبعه تبعه على: الابتداع وارتكاب المنهي عنه، ثم اعتذر لنفسه بأنه مار له شعارا.
وسبحان الله تعالى ما أقبح بالعالم ان يروج فعله لما نهي عنه نهي تحريم أو كراهة شعارا مأذونا فيه، وكان خيرا منه الاعتراف بأنه خطيئة أقل الأحوال مكروهة ومحل ريبة، فإن هذه الأحاديث التي سمعتها من أول الرسالة تثير ريبة إذا لم يحصل التحريم، وقد شر حديث: ((دع ما يريبك إلى ما لا يريبك))، وإذا لم تثر هذه الأحاديث ريبة توجب الترك للمنهي عنه وعدم حِلّهِ حلاً خالصاً فليس عند من سمعها أهلية (2) لفهم التكاليف الشرعية، كيف وقد قال صلى الله عليه وآله وسلم في الحديث الذي أخبرت فيه امرأة بإرضاعها امرأة رجل فأمره صلى الله عليه وآله وسلم بفراقها وقال له: ((كيف وقد قيل))
وهذا كله منا تنزُّل وإلا مما قدمناه من الأدلة وبيان دلالتها ما ينادي على التحريم أعظم نداء، والاعتذار بكون النهي للخيلاء عرفت بطلانه وهل أوضح من قول الشارع: ((ما زاد على الكعبين ففى النار)) دلالة على إطلاق التحريم وشدة الوعيد، وهو كقوله صلى الله عليه وآله وسلم: ((ويل
--------------------------------------------
আলেমদের আদর্শিক বেশভূষা বা প্রতীক (شعار) হলো মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের প্রতীক (شعار)। তাঁরাই হলেন অনুসরণের যোগ্য আদর্শ; এমন ব্যক্তি নয় যে নিষিদ্ধ বিষয়কে নিজের প্রতীক (شعار) বানিয়ে নিয়েছে। কারণ যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে একে নিজের পোশাক হিসেবে গ্রহণ করেছে—যার পূর্বে আর কেউ এমনটি করেনি—সে নিশ্চিতভাবেই একজন বিদআতি (مبتدع), যে নিষিদ্ধ বিষয় নিয়ে এসেছে। এই কুৎসিত কর্মটি তার ক্ষেত্রে পূর্ণতা পায় না কারণ এটি তার পর থেকেই প্রতীক (شعار) হিসেবে গণ্য হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করল, সে বিদআত (الابتداع) এবং নিষিদ্ধ কর্ম সংঘটনের ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করল। এরপর সে নিজের সপক্ষে অজুহাত দিল যে এটি তার প্রতীকে (شعار) পরিণত হয়েছে।
সুবহানাল্লাহ! একজন আলেমের জন্য এটি কতই না জঘন্য বিষয় যে, তিনি নিষিদ্ধ—চাই তা হারাম বা নিষিদ্ধ (تحريم) হোক বা মাকরূহ বা অপছন্দনীয় (كراهة)—এমন কোনো বিষয়কে অনুমোদিত প্রতীক (شعار) হিসেবে প্রচার করবেন। বরং তাঁর জন্য এটিই শ্রেয় ছিল যে, তিনি স্বীকার করে নিতেন যে এটি একটি ত্রুটি, যার সর্বনিম্ন স্তর হলো মাকরূহ (مكروه) এবং যা সন্দেহের উদ্রেককারী। কেননা এই পুস্তিকার শুরু থেকে আপনি যে হাদিসগুলো শুনেছেন, সেগুলো যদি হারাম (تحريم) সাব্যস্ত নাও হয়, তবুও সংশয় তো অবশ্যই সৃষ্টি করে। আর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “যা তোমাকে সন্দেহে নিপতিত করে তা ত্যাগ করে যা তোমাকে সন্দেহে নিপতিত করে না তার দিকে ধাবিত হও।” আর এই হাদিসগুলো যদি নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন করা এবং একে নিরঙ্কুশভাবে বৈধ মনে না করার মতো সংশয় তৈরি করতে না পারে, তবে যে ব্যক্তি তা শ্রবণ করেছে তার মধ্যে শরয়ি বিধিবিধান অনুধাবনের কোনো যোগ্যতা (أهلية) নেই। কীভাবে এমনটি হতে পারে যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সেই হাদিসে নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে জনৈকা নারী জনৈক ব্যক্তির স্ত্রীকে দুধ পান করানোর সংবাদ দিয়েছিলেন? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বিচ্ছেদের আদেশ দিয়ে বলেছিলেন: “কীভাবে (তুমি তার সাথে থাকবে) অথচ এমন কথা বলা হয়েছে?”
এসবই আমাদের পক্ষ থেকে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি মাত্র; নতুবা আমরা ইতিপূর্বে যেসব দলিল ও সেগুলোর ব্যাখা উপস্থাপন করেছি, তা হারাম বা নিষিদ্ধকরণের (التحريم) সপক্ষে জোরালো ঘোষণা দিচ্ছে। আর অহংকারের (الخيلاء) কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে যে অজুহাত দেওয়া হয়, তার অসারতা আপনি জেনেছেন। রাসুলের এই বাণীর চেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ আর কী হতে পারে: “টাখনুর নিচে (কাপড়ের) যা থাকবে তা জাহান্নামে যাবে”? এটি হারাম বা নিষিদ্ধতার (التحريم) সাধারণ প্রয়োগ এবং কঠোর হুশিয়ারির সুস্পষ্ট দলিল। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) এর সেই বাণীর মতোই: “ধ্বংস...”
--------------------------------------------