(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: -)
منتقى من حديث أبي بكر الأنباري   (البندار)

القسم: كتب السنة


الكتاب: منتقى من حديث أبي بكر الأنباري

المؤلف: محمد بن جعفر بن محمد بن الهيثم، أبو بكر الأنباري، البُنْدار (ت 360هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 103

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু বকর আল-আনবারীর হাদীস থেকে সংকলন   (আল-বুন্দার)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু বকর আল-আনবারীর হাদীস থেকে সংকলন

লেখক: মুহাম্মদ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাইসাম، আবু বকর আল-আনবারী، আল-বুন্দার (মৃত্যু ৩৬০ হিজরী)

প্রকাশক: ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের জাওয়ামেউল কালিম ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪

[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৩

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১)
الْجُزْءُ فِيهِ مُنْتَقًى مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الْهَيْثَمِ الأَنْبَارِيِّ.

رِوَايَةُ الشَّيْخِ أَبِي الْحُسَيْنِ عَبْدِ الْحَقِّ بْنِ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ يُوسُفَ ، عَنْ أَبِي غَالِبٍ الْبَقَّالِ، عَنِ الْبَرْقَانِيِّ، عَنِ ابْنِ الْهَيْثَمِ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللَّهُمَّ رَبِّ يَسِّرْ وَأَعِنْ
এই খণ্ডে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনুল হাইসাম আল-আনবারীর হাদীস থেকে নির্বাচিত অংশ রয়েছে।

শায়খ আবুল হুসাইন আব্দুল হক ইবনে আব্দুল খালিক ইবনে ইউসুফের বর্ণনা, তিনি আবু গালিব আল-বাক্কাল থেকে, তিনি আল-বারকানী থেকে এবং তিনি ইবনুল হাইসাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, হে আমার রব, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الثِّقَةُ أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، أنبا أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْكَرْخِيُّ ، ثُمَّ الْبَقَّالُ، فِي تِسْعٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: أنبا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ غَالِبٍ الْبَرْقَانِيُّ، أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الْهَيْثَمِ الأَنْبَارِيُّ، قثنا جَعْفَرٌ هُوَ الصَّائِغُ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، قثنا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: جَاءَ عُمَرُ بْنُ ثَابِتٍ الْعُتْوَارِيُّ، وَهُوَ مَوْلَى بَنِي لَيْثٍ، إِلَى ابْنِ عُمَرَ، فَقَالَ: يَا ابْنَ عُمَرَ إِنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ حَدَّثَنِي، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‌‌«زَجَرَ عَنِ الصَّرْفِ» ، قَالَ نَافِعٌ: فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ.

وَهَذَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ فِي الصَّرْفِ.

قَالَ: نَعَمْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، سَمْعَ أُذُنَيَّ هَاتَيْنِ، وَبَصَرَ عَيْنَيَّ هَاتَيْنِ، يَقُولُ: «لا تَبِيعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ إِلا مِثْلا بِمِثْلٍ ، وَلا تُشِفُّوا بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ، وَلا الْفِضَّةَ بِالْفِضَّةِ إِلا مِثْلا بِمِثْلٍ، وَلا تُشِفُّوا بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ، وَلا تَبِيعُوا غَائِبًا بِنَاجِزٍ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য শাইখ আবু আল-হুসাইন আব্দুল হক বিন আব্দুল খালিক বিন আহমাদ বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ আল-কারখি, এরপর আল-বাক্কাল, চারশত নিরানব্বই হিজরি সনে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন গালিব আল-বারকানি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আল-হাইসাম আল-আনবারি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর, তিনি হলেন আস-সাইগ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সাবিক। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইবান, ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির থেকে, তিনি নাফে' থেকে, যিনি ইবনে উমরের মুক্তদাস ছিলেন, তিনি বলেন: বনু লাইসের মুক্তদাস উমর বিন সাবিত আল-উতওয়ারি ইবনে উমরের নিকট আসলেন এবং বললেন: হে ইবনে উমর! আবু সাঈদ আল-খুদরি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুদ্রা বিনিময় (সারফ) করতে নিষেধ করেছেন’। নাফে' বলেন: তখন আমি এবং আব্দুল্লাহ বিন উমর রওয়ানা হলাম।

এবং এটি ছিল মুদ্রা বিনিময়ের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত।

তিনি (আবু সাঈদ) বললেন: হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—আমার এই দুই কান তা শুনেছে এবং আমার এই দুই চোখ তা দেখেছে—তিনি বলছিলেন: “তোমরা সোনার বিনিময়ে সোনা বিক্রি করো না সমান সমান ব্যতীত, আর এর একটিকে অন্যটির ওপর আধিক্য দিও না। এবং রূপার বিনিময়ে রূপা বিক্রি করো না সমান সমান ব্যতীত, আর এর একটিকে অন্যটির ওপর আধিক্য দিও না। আর অনুপস্থিত (বাকিতে) বস্তুকে উপস্থিত (নগদ) বস্তুর বিনিময়ে বিক্রি করো না।”
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، قثنا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: مَرَّ بِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، فَقُلْتُ: أَيْنَ أَصْبَحْتَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ غَادِيًا؟ قَالَ: إِلَى أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ فَقَالَ: يَا أَبَا سَعِيدٍ، إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَكْلِ لُحُومِ الأَضَاحِي وَفِي الأَنْبِذَةِ أَوِ الأَشْرِبَةِ، وَفِي زِيَارَةِ الْقُبُورِ، حَدِّثْنَا، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهُ.

فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: "‌‌ إِنِّي نَهَيْتُكُمْ عَنْ أَشْيَاءَ: عَنِ الأَنْبِذَةِ أَوِ الأَشْرِبَةِ فَاشْرَبُوا، وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ، وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا، وَلا تَقُولُوا هُجْرًا "
২ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুরাইজ ইবনে নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ফুলাইহ ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে সাবিত হতে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান, কাকভোরে আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন: আবু সাঈদ খুদরীর নিকট। অতঃপর আমি তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। তখন তিনি বললেন: হে আবু সাঈদ, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি কুরবানীর গোশত ভক্ষণ, নাবীয বা পানীয়সমূহ এবং কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেন; আমাদের নিকট তা বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা হতে নিষেধ করতে শুনেছি।

অতঃপর আবু সাঈদ বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "‌‌নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু বিষয় হতে নিষেধ করেছিলাম: নাবীয বা পানীয়সমূহ হতে, সুতরাং এখন তোমরা তা পান করো; আর প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম। আর আমি তোমাদেরকে নিষেধ করেছিলাম কবর যিয়ারত করতে, সুতরাং এখন তোমরা তা যিয়ারত করো; তবে সেখানে অসংলগ্ন বা মন্দ কোনো কথা বলো না।"
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، قثنا أَبِي، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سُمَيْعٍ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ، وَمَنْ رَاءَى رَاءَى اللَّهُ بِهِ»
৩ - আমাদের নিকট জা’ফার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে সুমাই থেকে, তিনি মুসলিম আল-বাতীন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মানুষকে শোনানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ তা শুনিয়ে দেন (অর্থাৎ তার লোক শোনানোর বিষয়টি প্রকাশ করে দেন); আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ তা দেখিয়ে দেন (অর্থাৎ তার লোক দেখানোর বিষয়টি প্রকাশ করে দেন)»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ وَاقِدٍ، قثنا بَكَّارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ رَاءَى رَاءَى اللَّهُ بِهِ، وَمَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ»
৪ - জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে ওয়াকিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাকার ইবনে আব্দুল আজীজ ইবনে আবি বাকরাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু বাকরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তাকে লোকজনের সামনে প্রকাশ করে দেবেন; আর যে ব্যক্তি লোক শোনানোর উদ্দেশ্যে আমল করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তাকে লোকজনের সামনে শুনিয়ে দেবেন»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى، قثنا زَائِدَةُ، قثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رَفِيعٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالا: سَمِعْنَا عَائِشَةَ، تَقُولُ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ ‌‌«يَمُرُّ عَلَى الْقِدْرِ فَيَأْخُذُ مِنْهَا الْعِرْقَ فَيَأْكُلُ مِنْهُ ، ثُمَّ يَنْطَلِقُ إِلَى الصَّلاةِ مَا يُمَضْمِضُ وَلا يَتَوَضَّأُ»
৫ - জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন ইয়ালা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যায়িদাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ বিন রফী' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইকরিমাহ এবং আব্দুল্লাহ বিন আবু মুলাইকাহ থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমরা আয়েশা (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) «হাঁড়ির পাশ দিয়ে অতিক্রম করতেন এবং সেখান থেকে হাড়যুক্ত গোশত নিয়ে তা খেতেন, অতঃপর সালাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতেন, তিনি কুলি করতেন না এবং ওযুও করতেন না।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - ثنا جَعْفَرٌ، ثنا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، وَعَفَّانُ، قَالا: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، زَادَ عَفَّانُ: وَأَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيَّ بَيْتِي فِي إِزَارٍ وَرِدَاءٍ‌‌ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ، ثُمَّ بَسَطَ يَدَهُ، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَأَيُّمَا عَبْدٍ مِنْ عِبَادِكَ شَتَمْتُ أَوْ آذَيْتُ فَلا تُعَاقِبْنِي فِيهِ»
৬ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুরায়জ ইবনুন নুমান এবং আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: এবং আবু আওয়ানাহ, সিমাক থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি লুঙ্গি ও চাদর পরিহিত অবস্থায় আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি কিবলার দিকে মুখ করলেন, এরপর তাঁর হাত প্রসারিত করলেন, তারপর বললেন: «হে আল্লাহ! আমি কেবল একজন মানুষ, সুতরাং আপনার বান্দাদের মধ্যে যাকে আমি গালি দিয়েছি অথবা কষ্ট দিয়েছি, সে বিষয়ে আমাকে শাস্তি দিবেন না।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادِ بْنِ طَلْحَةَ، قثنا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ:‌‌ مَنْ أَجْنَبَ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمْ يَغْتَسِلْ حَتَّى يُصْبِحَ فَلا صَوْمَ لَهُ، فَبَلَغَ ذَلِكَ عَائِشَةَ، فَقَالَتْ: «لَمْ يَقُلْ شَيْئًا، قَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ مِنْ عِنْدِي وَإِنَّ رَأْسَهُ لَيَقْطُرُ، ثُمَّ يُصَلِّي الْفَجْرَ، ثُمَّ يُتِمُّ صَوْمَهُ» ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: هِيَ أَفْقَهُ مِنِّي
৭ - জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে হাম্মাদ ইবনে তালহা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসবাত ইবনে নাসর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সিমাক থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি রাতের বেলা অপবিত্র হয় এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত গোসল না করে, তবে তার কোনো রোজা নেই।" এ খবর আয়েশার নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: "তিনি কিছুই বলেননি (অর্থাৎ এটি সঠিক নয়), অবশ্যই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট থেকে এমতাবস্থায় বের হতেন যে তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছিল, অতঃপর তিনি ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং এরপর তাঁর রোজা পূর্ণ করতেন।" আবু হুরায়রা বললেন: "তিনি আমার চেয়েও অধিক ফকীহ।"
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادٍ، قثنا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ:‌‌ مَاتَ رَجُلٌ وَتَرَكَ سِتَّ رِجَالٍ فَأَعْتَقَهُمْ عِنْدَ مَوْتِهِ، فَجَاءَ وَرَثَتُهُ فَذَكَرُوا ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «لَوْ عَلِمْنَا مَا صَلَّيْنَا عَلَيْهِ» ، وَقَالَ: «ادْعُهُمْ لِي» ، فَدَعَاهُمْ فَأَقْرَعَ بَيْنَهُمْ، فَأَعْتَقَ اثْنَيْنِ وَرَدَّ أَرْبَعَةً فِي الرِّقِّ
৮ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসবাত ইবনে নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সিমাক থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে এবং তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার সময় ছয়জন দাস রেখে যান এবং তাদের মুক্ত করে দেন। অতঃপর তার উত্তরাধিকারীরা এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "আমরা যদি এটি জানতাম তবে তাঁর জানাযার সালাত আদায় করতাম না।" এরপর তিনি বললেন: "তাদেরকে আমার কাছে ডাকো।" অতঃপর তিনি তাদের ডাকলেন এবং তাদের মধ্যে লটারি করলেন। ফলে তিনি দুইজনকে মুক্ত করে দিলেন এবং চারজনকে পুনরায় দাসত্বের অধীনে ফিরিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَاكِرٍ، قثنا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قثنا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي سَعِيدٍ، رَوَيَاهُ، قَالَ: "‌‌ إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ نَادَى مُنَادٍ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ تَعِيشُونَ فَلا تَمُوتُونَ أَبَدًا، وَتَصِحُّونَ فَلا تَمْرَضُونَ أَبَدًا، وَتَنْعَمُونَ فَلا تَبْأَسُونَ أَبَدًا، وَتَشِبُّونَ فَلا تَهْرَمُونَ أَبَدًا "
৯ - জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন শাকির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মালিক বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইসরাঈল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আগার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: " যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন একজন ঘোষণাকারী আহ্বান করে বলবেন: হে জান্নাতবাসীগণ! তোমরা জীবিত থাকবে, সুতরাং কখনও মৃত্যুবরণ করবে না; এবং তোমরা সুস্থ থাকবে, সুতরাং কখনও অসুস্থ হবে না চিরকাল; এবং তোমরা নেয়ামত ও সুখের মধ্যে থাকবে, সুতরাং কখনও দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হবে না চিরকাল; এবং তোমরা যুবক থাকবে, সুতরাং কখনও বৃদ্ধ হবে না চিরকাল।"
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا أَبُو غَسَّانَ، قثنا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ جَدَّتِهِ، وَعَنِ الْعِيزَارِ، عَنْهَا، قَالَتْ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُلْتَحِفًا بِثَوْبِهِ تَحْتَ إِبِطِهِ، وَإِنَّ عَضَلَتَهُ لَتَرْتَجُّ، وَهُوَ يَقُولُ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ،‌‌ اتَّقُوا اللَّهَ عز وجل ، وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَإِنَّ أُمِّرَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ حَبَشِيٌّ مُجَدَّعٌ، فَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا مَا أَقَامَ فِيكُمْ كِتَابَ اللَّهِ عز وجل»
১০ - জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু গাসসান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসরাঈল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর দাদী থেকে এবং আল-ইজার থেকে, তিনি তাঁর (দাদীর) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর চাদর বগলের নিচ দিয়ে জড়িয়ে নিজেকে আবৃত করা অবস্থায় দেখেছি, এমতাবস্থায় তাঁর শরীরের পেশিগুলো কাঁপছিল এবং তিনি বলছিলেন: «হে লোকসকল! তোমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহকে ভয় করো এবং শোনো ও আনুগত্য করো; যদিও তোমাদের ওপর কোনো অঙ্গহানি হওয়া (নাক-কান কাটা) হাবশী ক্রীতদাসকেও নেতা নিযুক্ত করা হয়, তবুও তোমরা শোনো ও আনুগত্য করো, যতক্ষণ সে তোমাদের মাঝে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাবকে প্রতিষ্ঠিত রাখে।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا ابْنُ سُلَيْمَانَ، قثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أُمِّ حُصَيْنٍ، وَالْعَيْزَارُ بْنُ حُرَيْثٍ، عَنْ أُمِّ الْحُصَيْنِ، قَالَتْ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ عَلَى بَعِيرٍ وَاقِفًا مَائِلا بِرِدَائِهِ هَكَذَا وَأَشَارَ أَبُو بَكْرٍ أَلْقَاهُ عَلَى عَضُدِهِ الأَيْسَرِ مِنْ تَحْتِ عَضُدِهِ، وَأَخْرَجَ عَضُدَهُ الأَيْمَنَ، قَالَتْ: وَسَمِعْتُهُ قَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ،‌‌ اسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَإِنْ أُمِّرَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ حَبَشِيٌّ مُجَدَّعٌ، مَا أَقَامَ فِيكُمْ كِتَابَ اللَّهِ»
১১ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনু সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনু আইয়াশ আমাদের নিকট আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনু উম্মুল হুসাইন এবং আল-আইজার ইবনু হুরাইস আমাদের নিকট উম্মুল হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আরাফাতের সন্ধ্যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি উটের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখেছি, তিনি তার চাদর এভাবে এলিয়ে দিয়েছিলেন—আবু বকর ইশারা করে দেখালেন যে, তিনি তার বাম বাহুর ওপর সেটি রেখেছিলেন বগলের নিচ দিয়ে এবং তার ডান বাহু বের করে রেখেছিলেন। তিনি (উম্মুল হুসাইন) বলেন: এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি: «হে লোকসকল! তোমরা শোনো এবং আনুগত্য করো, যদিও তোমাদের ওপর কোনো নাক-কান কাটা হাবশি ক্রীতদাসকেও আমির নিযুক্ত করা হয়, যতক্ষণ সে তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব কায়েম রাখবে।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ، قثنا الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنِ الْحَسَنِ، وَعَطَاءٍ، وَسَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا يَسْرِقُ السَّارِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ ، وَلا يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ ، فَإِنْ فَعَلَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ بَرِئَ الإِيمَانُ مِنْ قَلْبِهِ، فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ»
১২ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাকাম ইবনে আব্দুল মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান, আতা এবং সাঈদ থেকে, তারা আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন থাকে না, এবং ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না। যদি সে এর কোনো কিছু করে, তবে তার অন্তর থেকে ঈমান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতঃপর যদি সে তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، قثنا هَمَّامٌ، قثنا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، وَعَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«لا تَبْزُقْ بَيْنَ يَدَيْكَ وَأَنْتَ فِي الصَّلاةِ وَلا عَنْ يَمِينِكَ، وَابْزُقْ عَنْ شِمَالِكَ أَوْ تَحْتَ قَدَمِكَ الْيُسْرَى»
১৩ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান ও আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তুমি সালাতরত অবস্থায় তোমার সামনে থুতু ফেলবে না এবং তোমার ডান দিকেও নয়; বরং তোমার বাম দিকে অথবা তোমার বাম পায়ের নিচে ফেলবে।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، قثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، وَعَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ إِذَا أُتِيَ بِمَرِيضٍ، قَالَ: «أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لا شِفَاءَ إِلا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لا يُغَادِرُ سَقَمًا»
১৪ - জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে সাবিক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনে তাহমান হাদীস বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি মাসরুক থেকে; এবং আবুদ্দুহা থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে আনা হতো, তখন তিনি বলতেন: «হে মানুষের রব! কষ্ট দূর করে দিন, আপনি আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদানকারী। আপনার আরোগ্য ব্যতীত কোনো আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا قَبِيصَةُ، قثنا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ: "‌‌ عَلِيٌّ أَقْضَانَا، وَأُبَيٌّ أَقْرَؤُنَا، وَإِنَّا لَنَدَعُ بَعْضَ مَا يَقُولُ أُبَيٌّ، وَأُبَيٌّ يَقُولُ: سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَنْ أَدَعَهُ لِشَيْءٍ، وَاللَّهُ عز وجل يَقُولُ: {مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا} [البقرة: 106] "
১৫ - জা'ফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ক্বাবীসাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাবীব ইবনে আবী সাবিত থেকে, সাঈদ ইবনে জুবায়র থেকে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "‌‌ আলী আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক, আর উবাই আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্বারী। আমরা উবাই যা বলেন তার কিছু অংশ অবশ্যই বর্জন করি, অথচ উবাই বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি শুনেছি, তাই আমি কোনো কিছুর বিনিময়ে তা ত্যাগ করব না। আর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {আমি কোনো আয়াত রহিত করলে কিংবা তা ভুলিয়ে দিলে, আমি তার চেয়ে উত্তম অথবা তার সমতুল্য কোনো আয়াত নিয়ে আসি} [আল-বাক্বারা: ১০৬] "
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا قَبِيصَةُ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ: ‌‌«إِذَا زَادَتِ الإِبِلُ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةً ، وَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ»
১৬ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন কাবিজাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে উকবা ও উবায়দুল্লাহ থেকে, তাঁরা নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: «যখন উটের সংখ্যা একশ বিশের অধিক হবে, তখন প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি হিক্কাহ এবং প্রতি চল্লিশটিতে একটি বিনতু লাবুন।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ الْبَصْرِيُّ، قثنا أُنَيْسُ بْنُ سَوَّارٍ الْجَرْمِيُّ أَخُو قَتَادَةَ بْنِ سَوَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، أَنّ النَّبِيَّ عليه السلام قَالَ: ‌‌«إِذَا أَرَادَ اللَّهُ عز وجل خَلْقَ عَبْدٍ، جَامَعَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ، طَارَ مَاؤُهُ فِي كُلِّ عِرْقٍ وَعُضْوٍ مِنْهَا، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ السَّابِعِ جَمَعَهُ اللَّهُ عز وجل ثُمَّ أَحْضَرَهُ كُلُّ عِرْقٍ لَهُ دُونَ آدَمَ أَيَّ صُورَةٍ مَا شَاءَ رَكَّبَهُ»
17 - আমাদের নিকট জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু বকর বিন আবি আল-আসওয়াদ আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কাতাদাহ বিন সাউয়ারের ভাই উনাইস বিন সাউয়ার আল-জারমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট মালিক বিন আল-হুওয়াইরিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যখন আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী কোনো বান্দা সৃষ্টির ইচ্ছা করেন, পুরুষ যখন স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, তখন তার বীর্য তার প্রতিটি শিরা ও অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর যখন সপ্তম দিন আসে, আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী তা একত্র করেন, তারপর আদমের পর থেকে তার প্রতিটি শিরাকে সেখানে উপস্থিত করেন এবং যে আকৃতিতে তিনি ইচ্ছা করেন তাকে গঠন করেন।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا فُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، قثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ بُدَيْلٍ، قَالَ حَمَّادٌ: حِفْظِي عَنِ ابْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَفْتَتِحُ بِالتَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ بِ: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] "
১৮ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ফুযাইল ইবন আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবন যায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বুদাইল থেকে বর্ণিত, হাম্মাদ বলেন: ইবন শাকীক থেকে আমার হিফয অনুযায়ী বর্ণিত, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবিরের মাধ্যমে (সালাত) এবং ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ {সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য} [ফাতিহা: ২] পাঠের মাধ্যমে কিরাত শুরু করতেন।"
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২০)
19 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا فُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، قثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ بُدَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، أَرَاهُ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَتَعَوَّذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الأَعْوَرِ»
১৯ - আমাদের নিকট জা'ফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ফুদাইল ইবনে আবদুল ওয়াহহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বুদাইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক থেকে, আমি মনে করি তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের আযাব এবং একচোখা (দাজ্জাল)-এর ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২১)
20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْعَوَّامِ، قثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، قثنا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَابْنِ عَبَّاسٍ ، بِهِ يَرْفَعَانِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، أَنَّهُ قَالَ: ‌‌«لا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً يَرْجِعُ فِيهَا ، إِلا الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِيَ وَلَدَهُ، وَمَثَلُ الَّذِي يُعْطِي عَطِيَّةً يَرْجِعُ فِيهَا كَمَثَلِ الْكَلْبِ يَأْكُلُ حَتَّى إِذَا شَبِعَ قَاءَ ثُمَّ عَادَ فِيهِ»
২০ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আবিল আওয়াম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন আল-মুআল্লিম বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা উভয়ই একে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো দান করার পর তা পুনরায় ফেরত নেওয়া বৈধ নয়, তবে পিতা তাঁর সন্তানকে যা দান করেন তা ব্যতীত। আর যে ব্যক্তি কোনো দান করার পর তা পুনরায় ফেরত নেয় তার দৃষ্টান্ত সেই কুকুরের মতো, যে পেটভরে আহার করার পর বমি করে এবং পুনরায় সেই বমি ভক্ষণ করে।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২২)
21 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، قثنا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَن أَبِي جَعْفَرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:‌‌ إِذَا بَقِيَ ثُلُثُ اللَّيْلِ يَنْزِلُ اللَّهُ عز وجل إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: «مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَرْزِقُنِي فَأَرْزُقَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَكْشِفُ الضُّرَّ فَأَكْشِفَهُ عَنْهُ» ، حَتَّى يَنْفَجِرَ الْفَجْرُ
২১ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহহাব বিন আতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ী বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে বর্ণিত, আবু জাফর থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:‌‌ যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন: «কে আছে যে আমাকে ডাকবে, ফলে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, ফলে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব? কে আছে যে আমার কাছে রিযিক চাইবে, ফলে আমি তাকে রিযিক দান করব? কে আছে যে বিপদ দূর করার প্রার্থনা করবে, ফলে আমি তার থেকে তা দূর করে দেব?» ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত (তিনি এটি বলতে থাকেন)।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الْعَوَّامِ، قثنا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ السَّيْلَحِينِيُّ، قثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَبِي بَكْرٍ: ‌‌«مَتَى تُوتِرُ؟» ، قَالَ: فِي أَوَّلِ اللَّيْلِ.

وَقَالَ لِعُمَرَ: «مَتَى تُوتِرُ؟» ، قَالَ: أُوتِرُ مِنْ آخِرِ
اللَّيْلِ.

فَقَالَ النَّبِيُّ عليه السلام لأَبِي بَكْرٍ: «أَخَذَ بِالْحَزْمِ» ، وَقَالَ لِعُمَرَ: «أَخَذَ بِالْقُوَّةِ»
২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল আবি আল-আওয়াম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক আস-সাইলাহিনি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে রাবাহ থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকরকে জিজ্ঞেস করলেন: «তুমি কখন বিতর আদায় করো?» তিনি বললেন: রাতের প্রথম ভাগে।

এবং তিনি ওমরকে জিজ্ঞেস করলেন: «তুমি কখন বিতর আদায় করো?» তিনি বললেন: আমি রাতের শেষ
ভাগে বিতর আদায় করি।

অতঃপর নবী (আলাইহিস সালাম) আবু বকরকে বললেন: «তিনি সতর্কতার পথ অবলম্বন করেছেন», এবং ওমরকে বললেন: «তিনি দৃঢ়তার পথ অবলম্বন করেছেন»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الْعَوَّامِ، قثنا مَنْصُورُ بْنُ صُقَيْرٍ، قثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ ‌‌«تُعَوِّذُ رَسُولَ اللَّهِ، وَتَمْسَحُ وَجْهَهُ بِيَدِهِ»
২৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবিল আউওয়াম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মানসুর ইবনে সুকাইর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর, ইসহাক ইবনে রাশিদ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আয়েশা (রা.) «রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য আশ্রয় প্রার্থনা (তায়াউউয) করতেন এবং তাঁর হাত দিয়েই তাঁর চেহারা মুছে দিতেন»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ بْنِ شَاكِرٍ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، قثنا فُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: ‌‌«لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ إِلا بِرَحْمَةِ اللَّهِ» ، قُلْنَا: وَلا أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «وَلا أَنَا، إِلا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللَّهُ عز وجل» ، وَقَالَ بِيَدِهِ عَلَى رَأْسِهِ
২৪ - জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন শাকির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন সাবিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুযাইল বিন মারযূক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: «আল্লাহর রহমত ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না», আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনিও কি নন? তিনি বললেন: «আমিও নই, যতক্ষণ না আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে রহমতে আবৃত করেন», এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর মাথার উপর ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، قثنا فُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ عَلَى مَظَاهِرَ مِنَ الْفِتَنِ وَانْقِطَاعٍ مِنَ الزَّمَانِ إِمَامٌ أَوْ أَمِيرٌ تَكُونُ عَطِيَّتُهُ لِلنَّاسِ أَنْ يَأْتِيَهُ الرَّجُلُ فَيُحْثِي لَهُ فِي حِجْرِهِ ، فَيُهِمُّهُ مَنْ يَقْبَلُ مِنْهُ عَنْهُ صَدَقَةَ ذَلِكَ الْمَالِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَهْلِهِ مِمَّا يُصِيبُ النَّاسَ مِنْهُ مِنَ الْفَرَحِ»
২৫ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সাবিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফুযাইল ইবনে মারযূক আমাদের নিকট আতিয়্যাহর সূত্রে আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «শেষ যুগে ফিতনাসমূহের প্রাদুর্ভাব এবং সময়ের সংকীর্ণতার কালে এমন একজন ইমাম বা আমীর হবেন, যার পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি দান হবে এমন যে, কোনো ব্যক্তি তার নিকট আসবে আর তিনি তার আঁচলে অঞ্জলি ভরে (সম্পদ) ঢেলে দেবেন; ফলে সেই ব্যক্তি তার ও তার পরিবারের নিকট থাকা সেই মালের সদকা গ্রহণ করার মতো কাউকে খুঁজে পেতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়বে, কারণ মানুষের মাঝে তখন সেই সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে ব্যাপক আনন্দ বিরাজ করবে।»
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، قثنا فُضَيْلٌ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِنَّ أَهْلَ الدَّرَجَاتِ الْعُلا مِنَ الْجَنَّةِ لَيُنْظَرُ إِلَيْهِمْ مِنْ أَسْفَلَ مِنْهُمْ كَمَا يَنْظُرُ أَهْلُ الأَرْضِ إِلَى الْكَوْكَبِ فِي أُفُقِ السَّمَاءِ، وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ مِنْهُمْ وَأَنْعَمَا»
২৬ - জা’ফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু সাবিক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফুযাইল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই জান্নাতের সুউচ্চ মর্তবার অধিকারীদের দিকে তাদের নিচে অবস্থানকারীরা সেভাবেই তাকাবে, যেমনভাবে পৃথিবীর মানুষ আকাশের দিগন্তে নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে থাকে। আর আবু বকর ও উমর তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা কতই না শ্রেষ্ঠ।”
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، قثنا فُضَيْلٌ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: خَلَفَ رَسُولُ اللَّهِ عَلِيًّا فِي أَهْلِهِ حِينَ غَزَا غَزْوَةَ تَبُوكَ، فَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ: مَا مَنَعَهُ أَنْ يُخْرِجَهُ إِلا أَنْ كَرِهَ صُحْبَتَهُ.

فَبَلَغَ ذَلِكَ عَلِيًّا، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، زَعَمَ النَّاسُ أَنَّكَ لَمْ تَخْلُفْنِي إِلا أَنَّكَ كَرِهْتَ صُحْبَتِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَمَا تَرْضَى أَنْ تَنْزِلَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى»
২৭ - জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সাবিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতিয়্যাহ হতে বর্ণিত, আবু সাঈদ বলেন: আল্লাহর রাসূল যখন তাবুক যুদ্ধের অভিযানে বের হলেন, তখন আলীকে তাঁর পরিবারের দেখাশোনার জন্য পিছনে রেখে গেলেন। তখন কিছু লোক বলল: তাকে সাথে না নেওয়ার কারণ কেবল এটাই যে তিনি তার সান্নিধ্য অপছন্দ করেছেন।

এ কথা আলীর নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, লোকেরা ধারণা করছে যে আপনি আমাকে কেবল এজন্যই পেছনে রেখে গেছেন যে আপনি আমার সান্নিধ্য অপছন্দ করেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার নিকট তোমার মর্যাদা ঠিক তেমনই যেমন মুসার নিকট হারুনের মর্যাদা ছিল?”
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন হাদিসি আবি বকরিন আল-আনবারি (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، ثنا فُضَيْلٌ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: جَاءَ أَبُو سَعِيدٍ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَقَالَ لَهُ: تُبْ.

فَقَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ عز وجل وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ عليه السلام،‌‌ نَهَى عَنِ الذَّهَبِ بِالذَّهَبِ، وَالْفِضَّةِ بِالْفِضَّةِ، وَقَالَ: «إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ الرَّمَاءَ» .

فَقُلْتُ: وَمَا الرَّمَاءُ؟ قَالَ: الْفَضْلُ وَالزِّيَادَةُ "
২৮ - জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সাবিক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ফুদাইল আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ ইবনে আব্বাসের নিকট আসলেন এবং তাঁকে বললেন: আপনি তাওবা করুন।

অতঃপর তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওবা করছি। তখন তিনি (আবু সাঈদ) বললেন: আপনি কি জানেন না যে, রাসূলুল্লাহ (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক), সোনার বিনিময়ে সোনা এবং রূপার বিনিময়ে রূপা (অসম পরিমাণে) লেনদেন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে 'রামা' এর আশঙ্কা করছি"।

আমি জিজ্ঞেস করলাম: 'রামা' কী? তিনি বললেন: আধিক্য ও বৃদ্ধি।