(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: -)
الثاني من أمالي ابن السماك   (ابن السماك)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الثاني من أمالي ابن السماك

المؤلف: عثمان بن أحمد بن عبيد الله بن يزيد، أبو عمرو الدقاق، ابن السَّمَّاك (ت 344هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 100

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে আস-সাম্মাকের আমালীর দ্বিতীয় অংশ   (ইবনে আস-সাম্মাক)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ইবনে আস-সাম্মাকের আমালীর দ্বিতীয় অংশ

লেখক: উসমান বিন আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ, আবু আমর আদ-দাক্কাক, ইবনে আস-সাম্মাক (মৃত্যু ৩৪৪ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলাম ওয়েব (ইসলাম নেটওয়ার্ক) সাইটের অধীনস্থ ‘জাওয়ামিউল কালিম’ নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০০

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١)
الْجُزْءُ الثَّانِي مِنْ أَمَالِي أَبِي عَمْرٍو عُثْمَانَ بْنِ أَحْمَدَ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ السَّمَّاكِ رِوَايَةُ الشَّيْخِ أَبِي عُمَرَ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَهْدِيٍّ.

بسم الله الرحمن الرحيم
ইবনুল সাম্মাক নামে পরিচিত আবু আমর উসমান ইবনে আহমাদের আমালির দ্বিতীয় খণ্ড। এটি শাইখ আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহদীর বর্ণনা।

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَهْدِيٍّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدَّقَّاقُ، الْمَعْرُوفُ بِابْنِ السَّمَّاكِ، إِمْلاءً، لأَرْبَعَ عَشْرَةَ خَلَوْنَ مِنْ شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ مِنْ سَنَةِ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِينَ وَثَلاثِمِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَبْدِ الْغَفَّارِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَهْرِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: ‌‌«إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاةِ خَرَجَتْ ذُنُوبُهُ مِنْ سَمْعِهِ وَبَصَرِهِ وَيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ، فَإِنْ قَعَدَ قَعَدَ مَغْفُورًا لَهُ، وَإِنْ قَامَ وَصَلَّى» .

قِيلَ: النَّافِلَةَ.

قَالَ: النَّافِلَةُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মাহদী, তাঁর সামনে পাঠ করা হলে তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাক্কাক, যিনি ইবনুল সাম্মাক নামে পরিচিত, শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে, ৩৪২ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসের চৌদ্দ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর বিন আব্দুল গাফফার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আ’মাশ, শাহর বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি শাহর বিন হাওশব থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি বলেছেন: ‌‌«যখন বান্দা ওযু করে এবং সুন্দরভাবে ওযু সম্পন্ন করে, অতঃপর সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন তার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, উভয় হাত এবং উভয় পা থেকে তার গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। অতঃপর সে যদি বসে, তবে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে বসে; আর যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে...»।

জিজ্ঞেস করা হলো: নফল (সালাত)?

তিনি বললেন: নফল তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি এর জন্য।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٣)
2 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَلامٍ السَّوَّاقُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنِ الْوَلِيدِ يَعْنِي ابْنَ أَبِي هِشَامٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا يُبْلِغْنِي أَحَدٌ مِنْكُمْ عَنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِي شَيْئًا، فَإِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَخْرُجَ إِلَيْكُمْ وَأَنَا سَلِيمُ الصَّدْرِ» .

قَالَ: فَأَتَاهُ مَالٌ فَقَسَمَهُ فَانْتَهَيْتُ إِلَى رَجُلَيْنِ يَتَحَدَّثَانِ وَأَحَدُهُمَا يَقُولُ لِصَاحِبِهِ: وَاللَّهِ مَا أَرَادَ مُحَمَّدٌ بِقِسْمَتِهِ الَّتِي قَسَمَ وَجْهَ اللَّهِ عز وجل وَالدَّارَ الآخِرَةَ، قَالَ: فَثَبَتُّ حَتَّى سَمِعْتُهَا ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقُلْتُ: إِنَّكَ قُلْتَ: لا يُبْلِغْنِي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِي شَيْئًا وَإِنِّي سَمِعْتُ فُلانًا وَفُلانًا يَقُولانِ: كَذَا وَكَذَا، قَالَ: فَاحْمَرَّ وَجْهُهُ، وَقَالَ: «دَعْنَا مِنْكَ فَقَدْ أُوذِيَ مُوسَى بِأَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَصَبَرَ»
২ - উসমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে সালাম আস-সাওওয়াক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসরাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সুদ্দী থেকে, তিনি ওয়ালিদ অর্থাৎ ইবনে আবি হিশাম থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে যায়িদা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন আমার কাছে আমার কোনো সাহাবী সম্পর্কে (নেতিবাচক) কিছু না পৌঁছায়; কারণ আমি তোমাদের কাছে এমন অবস্থায় বের হতে পছন্দ করি যখন আমি পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী থাকব»। .

তিনি বলেন: অতঃপর তাঁর কাছে কিছু সম্পদ এল এবং তিনি তা বণ্টন করলেন। আমি দুই ব্যক্তির নিকট পৌঁছালাম যারা কথা বলছিল। তাদের একজন তার সাথীকে বলছিল: আল্লাহর কসম! মুহাম্মদ তাঁর এই বণ্টনের মাধ্যমে আল্লাহর চেহারা এবং পরকাল কামনা করেননি। তিনি বলেন: আমি সেখানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে তা শুনলাম, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলাম এবং তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। আমি বললাম: আপনি বলেছিলেন: "তোমাদের কেউ যেন আমার কোনো সাহাবী সম্পর্কে কোনো কিছু আমাকে না পৌঁছায়", অথচ আমি অমুক ও অমুককে এমন এমন কথা বলতে শুনেছি। তিনি বলেন: তখন তাঁর চেহারা মোবারক রক্তিম হয়ে গেল এবং তিনি বললেন: «আমাদেরকে তোমার এই সংবাদ দেওয়া থেকে বিরত রাখো; মূসাকে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তবুও তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٤)
3 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ: ‌‌«أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الأَبْطَحِ وَهُوَ فِي قُبَّةٍ حَمْرَاءَ، فَخَرَجَ إِلَيْنَا بِلالٌ بِفَضْلِ وَضُوءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمِنْ نَائِلٍ مِنْهُ وَنَاضِحٍ، ثُمَّ أَذَّنَ بِلالٌ رحمه الله فَجَعَلْتُ أَتْبَعُ فَاهُ هَاهُنَا وَهَاهُنَا، ثُمَّ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى بَرِيقِ سَاقَيْهِ فَرَكَزَ عَنَزَةً يُصَلِّي إِلَيْهَا، فَكَانَ يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ الْحِمَارُ وَالْمَرْأَةُ»
৩ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিহ ইবনে মুহাম্মদ আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাদ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আওন ইবনে আবি জুহাইফা থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবু জুহাইফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি আবতাহ নামক স্থানে একটি লাল রঙের তাঁবুতে ছিলেন। অতঃপর বিলাল আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর অবশিষ্ট পানি নিয়ে বের হলেন; তখন কেউ তা গ্রহণ করছিল এবং কেউ তা (নিজের গায়ে) ছিটিয়ে দিচ্ছিল। এরপর বিলাল (রাহিমাহুল্লাহ) আযান দিলেন, তখন আমি তাঁর মুখের নড়াচড়া এদিক-সেদিক অনুসরণ করছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লাল রঙের পোশাক পরিহিত অবস্থায় বের হলেন, আমি যেন এখনও তাঁর দুই পায়ের নলার শুভ্র উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি। তারপর তিনি একটি লাঠি পুঁতলেন এবং সেটির দিকে ফিরে সালাত আদায় করলেন। তখন তাঁর সামনে দিয়ে গাধা ও নারী চলাচল করছিল।”
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٥)
4 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى الأَسَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَلادُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ: ‌‌«صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالأَبْطَحِ بَيْنَ يَدَيْهِ عَنَزَةٌ أَوْ شَبِيهَةٌ بِالْعَنَزَةِ وَالطَّرِيقُ مِنْ وَرَائِهَا وَالْمَارَّةُ»
৪ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বিশর ইবনে মুসা আল-আসাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মিসআর থেকে বর্ণিত, তিনি আওন ইবনে আবি জুহাইফা থেকে এবং তিনি আবু জুহাইফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবতাহ নামক স্থানে সালাত আদায় করেছেন, তাঁর সম্মুখে একটি ছোট বর্শা অথবা ছোট বর্শা সদৃশ কিছু ছিল এবং রাস্তাটি ছিল সেটির পেছনে এবং পথচারীরা (সেটির ওপার দিয়ে যাতায়াত করছিল)।”
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٦)
5 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الْقَاضِي، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: ‌‌«رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي قُبَّةِ أَدَمٍ حَمْرَاءَ فَخَرَجَ بِلالٌ بِوَضُوءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، فَابْتَدَرَهُ النَّاسُ يَتَمَسَّحُونَ بِهِ فَمَنْ لَمْ يُدْرِكْ شَيْئًا مِنْ وَضُوئِهِ أَخَذَ مِنْ صَاحِبِهِ فَتَمَسَّحَ بِهِ، ثُمَّ خَرَجَ بِلالٌ رحمه الله بِعَنَزَةٍ فَرَكَزَهَا، ثُمَّ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ وَالنَّاسُ وَالدَّوَابُّ يَمُرُّونَ خَلْفَ الْعَنَزَةِ»
৫ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আল-কাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম ইবনে ইব্রাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আবি যায়িদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আউন ইবনে আবি জুহাইফাহ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চামড়ার তৈরি একটি লাল তাঁবুতে দেখেছি। অতঃপর বিলাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর পানি নিয়ে বের হলেন, তখন মানুষ সেটির জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করল এবং তা নিজ শরীরে মাখতে লাগল। আর যে ব্যক্তি তাঁর ওযুর পানির কিছুই পেল না, সে তার সাথীর (শরীরের আর্দ্রতা) থেকে নিয়ে তা নিজ শরীরে মাখল। এরপর বিলাল (রাহিমাহুল্লাহ) একটি ছোট বর্শা নিয়ে বের হয়ে তা মাটিতে গেড়ে দিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি লাল পোশাক পরিহিত অবস্থায় বের হলেন এবং তাদেরকে নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, আর মানুষ ও চতুষ্পদ প্রাণীরা বর্শাটির পেছন দিয়ে পার হচ্ছিল»।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٧)
6 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، قَالَ: نا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَبَّاسِ الْهَمَذَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرٍ فَنَامَ حَتَّى أَصْبَحَ، ثُمَّ أَمَرَ بِلالا فَأَقَامَ ثُمَّ صَلَّى، قَالَ: ‌‌«مَنْ نَامَ عَنْ صَلاةٍ أَوْ نَسِيَهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا اسْتَيْقَظَ، وَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَ»
6 - উসমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আহমদ আয-যুবাইরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল জব্বার বিন আল-আব্বাস আল-হামাযানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওন বিন আবু জুহাইফাহ তার পিতার সূত্রে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন এবং তিনি সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলেন। অতঃপর তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি ইকামত দিলেন এবং এরপর তিনি সালাত আদায় করলেন। তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে অথবা তা ভুলে যায়, সে যেন জাগ্রত হওয়ার পর তা আদায় করে নেয় এবং যখনই তার স্মরণ হয় তখনই যেন তা আদায় করে নেয়»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٨)
7 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: نا الْحَسَنُ بْنُ الْعَبَّاسِ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: "‌‌ قَدِمَ عَلَيْنَا مُصَدِّقُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فَأَخَذَ الصَّدَقَةَ مِنْ أَمْوَالِ أَغْنِيَائِنَا فَوَضَعَهَا فِي فُقَرَائِنَا، قَالَ: وَكُنْتُ غُلامًا شَابًّا لا مَالَ لِي فَأَعْطَانِي قَلُوصًا "
৭ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনুল আব্বাস আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাহল ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আশ‘আস থেকে, তিনি আউন ইবনে আবি জুহাইফা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "‌‌ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সদকা সংগ্রাহক আমাদের নিকট আসলেন এবং আমাদের ধনীদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করলেন, অতঃপর তা আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বন্টন করলেন। তিনি বলেন: আর আমি তখন একজন যুবক ছিলাম, আমার কোনো সম্পদ ছিল না, ফলে তিনি আমাকে একটি তরুণ মাদী উট প্রদান করলেন।"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٩)
8 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: نا أَبُو عَوْفٍ الْبُزُورِيُّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَوْ سَمِعْتُ جَابِرًا، قَالَ:‌‌ رَأَى نَاسٌ نَارًا فِي الْمَقْبَرَةِ، فَأَتَوْهَا فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الْقَبْرِ وَإِذَا هُوَ يَقُولُ: «نَاوِلانِي أَخَاكُمَا» .

وَإِذَا هُوَ الرَّجُلُ الَّذِي يَرْفَعُ صَوْتَهُ بِالذِّكْرِ
৮ - আমাদের নিকট উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আওফ আল-বুজুরি আব্দুর রহমান ইবনে মারজুক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন, অথবা আমি জাবিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:‌‌ কিছু লোক কবরস্থানে আগুন দেখতে পেল, অতঃপর তারা সেখানে পৌঁছাল। হঠাৎ তারা দেখতে পেল যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের ভেতর অবস্থান করছেন এবং তিনি বলছেন: «তোমরা দুজনে তোমাদের এই ভাইকে আমার নিকট তুলে দাও» ।

আর তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি জিকিরের সময় উচ্চস্বরে আওয়াজ করতেন।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ أَبِي صَغِيرَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ رحمه الله، حِينَ حَضَرَ، قَالَ: ارْفَعُوا عَنِّي سِجْفَ هَذِهِ الْقُبَّةِ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، وَهُوَ يَقُولُ: ‌‌«مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْبُدُ اللَّهَ لا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
৯ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবু তালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে বাকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাতিম ইবনে আবু সাগিরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রহিমাহুল্লাহ)-কে তাঁর অন্তিম সময়ে বলতে শুনেছি, তিনি বললেন: তোমরা আমার থেকে এই গম্বুজের পর্দাটি সরিয়ে দাও, কেননা আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করা অবস্থায় এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١١)
10 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ الصُّغْدِيُّ، قَالَ: ثنا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَكَمِ أَبُو عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، وَأَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَعْنِي مُعَاذًا، أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ مَرِيضٌ: اكْشِفُوا عَنِّي الْقُبَّةَ حَتَّى أُحَدِّثَكُمْ حَدِيثًا لَوْلا مَا أَنَا عَلَيْهِ لَمْ أُحَدِّثْكُمْ، فَأَنْشَأَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، يَقُولُ: ‌‌«مَنْ قَالَ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ مُخْلِصًا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
১০ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয়ুব ইবনে সুলাইমান আস-সুগদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আমর উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আল-হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়া আমাদের নিকট আমর ইবনে দিনার ও আবু যুবাইর থেকে, তারা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান অর্থাৎ মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি অসুস্থ থাকাবস্থায় বললেন: আমার উপর থেকে তাঁবুটি সরিয়ে দাও যাতে আমি তোমাদের নিকট এমন একটি হাদিস বর্ণনা করতে পারি যা আমার বর্তমান অবস্থা না হলে আমি তোমাদের নিকট বর্ণনা করতাম না। অতঃপর আবু আব্দুর রহমান শুরু করলেন এবং বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَرْزُوقٍ الْبُزُورِيُّ، قَالَ: نا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ يَعْنِي الدَّسْتُوَائِيَّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: ‌‌«كَانَ مُعَاذٌ رحمه الله يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَرْجِعُ فَيُصَلِّي بِقَوْمِهِ»
১১ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে মারজুক আল-বুজুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসীর ইবনে হিশাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হিশাম অর্থাৎ আদ-দাস্তুওয়ায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণিত, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «মুয়াজ (রাহিমাহুল্লাহ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করতেন, এরপর তিনি ফিরে আসতেন এবং সালাত আদায় করতেন তাঁর কওমের সাথে»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: نا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَزَّازُ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاهِبِ، بِبَغْدَادَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ الطَّائِفِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه: ‌‌«مَنْ كَانَ لَهُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عِدَةٌ فَلْيَأْتِنِي» ، فَقُلْتُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَدَنِي أَنْ يُعْطِيَنِي هَكَذَا وَهَكَذَا، فَقَالَ: «ابْسُطْ يَدَكَ فَأَعْطَانِي أَلْفًا وَخَمْسَمِائَةٍ»
১২ - উসমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আলী আল-খাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিব বাগদাদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন মুসলিম আত-তায়েফী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর বিন দীনার থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যার কোনো প্রতিশ্রুতি পাওনা রয়েছে, সে যেন আমার নিকট আসে», অতঃপর আমি বললাম: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি আমাকে এভাবে এবং এভাবে প্রদান করবেন। তখন তিনি বললেন: «তোমার হাত প্রসারিত করো», অতঃপর তিনি আমাকে এক হাজার পাঁচশত প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْخَلِيلِ الْبُرْجُلانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ بَيَانٍ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ مِرْدَاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: ‌‌«يُقْبَضُ الصَّالِحُونَ الأَوَّلُ فَالأَوَّلُ وَيَبْقَى حُثَالَةٌ كَحُثَالَةِ التَّمْرِ لا يُبَالِي اللَّهُ عَنْهُمْ»
১৩ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনুল খলীল আল-বুরজুলানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনু মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বায়ান থেকে, তিনি কায়স থেকে, তিনি মিরদাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নেককার ব্যক্তিবর্গ একে একে বিদায় হয়ে যাবেন এবং রয়ে যাবে খেজুরের উচ্ছিষ্টের মতো নিকৃষ্ট কিছু লোক, আল্লাহ যাদের কোনো পরোয়া করবেন না»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ الْقَاضِي مُحَمَّدُ بْنُ الْهَيْثَمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو ثَوَابَةَ فَضَالَةُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْرُوحٍ الصَّدِفِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: ‌‌«مَنْ رَاحَ إِلَى الْجُمُعَةِ اغْتَسَلَ كَمَا يَغْتَسِلُ مِنَ الْجَنَابَةِ»
১৪ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আহওয়াস আল-কাজী মুহাম্মাদ বিন আল-হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাওয়াবাহ ফাযালা বিন আল-মুফাযযাল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব থেকে, খালিদ বিন ইয়াজিদ থেকে, আব্দুল্লাহ বিন মাসরুহ আস-সাদাফী থেকে, আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান থেকে, আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‌‌«যে ব্যক্তি জুমুআর সালাতে যাবে, সে যেন জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসলের ন্যায় গোসল করে নেয়।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ وَمَنِ اغْتَسَلَ فَالْغُسْلُ أَفْضَلُ»
১৫ - ওসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহদি ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি আল-হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি জুমার দিন ওজু করল, তবে তা উত্তম; আর যে ব্যক্তি গোসল করল, তবে গোসল করাই শ্রেষ্ঠতর»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدَكَ الْقَزَّازُ، قَالَ: ثنا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ:‌‌ مَا نَلْبَسُ إِذَا أَحْرَمْنَا؟ قَالَ: «الْبَسِ الإِزَارَ وَالرِّدَاءَ وَالنَّعْلَيْنِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ إِزَارٌ فَسَرَاوِيلُ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ نَعْلانِ فَخُفَّانِ» .

وَقَالَ نَافِعٌ: يَقْطَعُ الْخُفَّيْنِ أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ وَلا يَلْبَسُ الْبُرْنُسَ وَلا ثَوْبًا مَسَّهُ الْوَرْسُ وَالزَّعْفَرَانُ
১৬ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন আবদাক আল-কাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসীর ইবন হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবন বুরকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাফি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন উমর থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন:‌‌ আমরা ইহরাম অবস্থায় কী পরিধান করব? তিনি বললেন: «তোমরা লুঙ্গি, চাদর এবং জুতা পরিধান করবে। যদি লুঙ্গি না থাকে তবে পায়জামা পরিধান করবে, আর যদি জুতা না থাকে তবে মোজা পরিধান করবে।» .

এবং নাফি' বলেন: মোজা দুটিকে টাখনুর নিচ থেকে কেটে নিতে হবে; আর সে যেন বুরনুস (টুপিকাযুক্ত পোশাক) পরিধান না করে এবং এমন কোনো কাপড়ও না যাতে ওয়ারস বা জাফরান লেগেছে।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ الرَّبِيعِ الْخَزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ زَائِدَةَ أَبُو هِشَامٍ، عَنْ رَقَبَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ أَبِي يَحْيَى، قَالَ: "‌‌ إِنِّي لأَسِيرُ عَلَى فَرَسٍ لِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا أَنَا بِطَرَفَةَ بْنِ الْعَبَدِ، قَالَ: فَقَالَ: يَا أَبَا يَحْيَى احْمِلْنِي خَلْفَكَ، قَالَ: قُلْتُ: وَأَيْنَ تُرِيدُ؟ ، قَالَ: أُرِيدُ قَلائِدَ الْخَيْلِ أَتَحَدَّثُ إِلَيْهِمْ، قَالَ: وَقَلائِدُ الْخَيْلِ حَوَارِيٌّ مِنْ بَنِي تَيْمِ اللَّهِ بِهِنِّ يُسَمَّيْنَ قَلائِدَ الْخَيْلِ، قَالَ: فَحَمَلْتُهُ حَتَّى إِذَا حَادَ بِنَا بِهِنَّ نَزَلَ، قَالَ: هَذَا الْمَكَانُ الَّذِي أُرِيدُ، فَنَزَلَ فَإِذَا غُلامٌ أَدَمُ أَزْرَقُ أَوْقَصُ أَزْوَرُ الصَّدْرِ أَبْدَعُ، قَالَ: قُلْتُ وَيْلَكَ يَا طَرَفَةُ مَا أَشَدَّ تَسَاوُدَ خَلْقِكَ، يَعْنِي اخْتِلافَ خَلْقِكَ، قَالَ: فَكَيْفَ لَوْ أَرَيْتُكَ مِنْ خَلْقِي مَا هُوَ أَعْجَبُ مِنْ هَذَا؟ قَالَ: قُلْتُ: وَأَيُّ شَيْءٍ هُوَ؟ قَالَ: فَيُخْرِجُ لِسَانَهُ فَإِذَا هُوَ أَسْوَدُ كَأَنَّهُ لِسَانُ ظَبْيٍ، قَالَ: فَقُلْتُ: مَا رَأَيْتُ الْيَوْمَ قَطُّ شَيْئًا أَعْجَبَ، قَالَ: فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى رَقَبَتِهِ، فَقَالَ: وَيْلٌ لِذَا مِمَّا يَجْنِي عَلَيْهِ ذَا، قَالَ: فَكَانَ وَاللَّهِ الَّذِي جَنَا عَلَيْهِ فَقُتِلَ "
১৭ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনে হুমাইদ ইবনুর রবি' আল-খাজ্জায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিনজাব ইবনুল হারিস আত-তামিমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে যায়েদাহ আবু হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাকাবাহ থেকে, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "‌‌ আমি জাহিলিয়্যাতের যুগে আমার একটি ঘোড়ায় চড়ে পথ চলছিলাম, এমতাবস্থায় হঠাৎ তারাফাহ ইবনুল আবদ-এর সাথে আমার দেখা হলো। তিনি বলেন: তখন সে বলল: হে আবু ইয়াহইয়া, আমাকে তোমার পেছনে বসিয়ে নাও। তিনি বলেন: আমি বললাম: তুমি কোথায় যেতে চাও? সে বলল: আমি 'কালায়িদ আল-খাইল'-এর কাছে যেতে চাই, তাদের সাথে কথা বলব। তিনি বলেন: আর 'কালায়িদ আল-খাইল' ছিল বনু তায়মুল্লাহ গোত্রের কিছু সুন্দরী নারী, যাদেরকে 'কালায়িদ আল-খাইল' বলা হতো। তিনি বলেন: অতঃপর আমি তাকে তুলে নিলাম, যতক্ষণ না সে আমাদের নিয়ে তাদের কাছাকাছি পৌঁছাল, তখন সে নেমে গেল। সে বলল: এটিই সেই স্থান যেখানে আমি আসতে চেয়েছিলাম। এরপর সে নিচে নামল; দেখা গেল সে একজন শ্যামবর্ণ, নীলচক্ষু বিশিষ্ট, খাটো ঘাড়ের, বাঁকা বুক ও অদ্ভুত শারীরিক গঠনের এক যুবক। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে তারাফাহ, তোমার দুর্ভোগ হোক! তোমার অবয়ব কতটা সামঞ্জস্যহীন—অর্থাৎ তোমার শারীরিক গঠনে কতই না বৈচিত্র্য। সে বলল: আমি যদি তোমাকে আমার শরীরের এমন কিছু দেখাই যা এর চেয়েও বিস্ময়কর, তবে কেমন হবে? তিনি বলেন: আমি বললাম: সেটি কী? তিনি বলেন: তখন সে তার জিহ্বা বের করল, দেখা গেল তা হরিণের জিহ্বার মতো কালো। তিনি বলেন: আমি বললাম: আজকের মতো বিস্ময়কর কিছু আমি কখনো দেখিনি। তিনি বলেন: অতঃপর সে তার হাত দিয়ে নিজের ঘাড়ের দিকে ইশারা করল এবং বলল: এর (ঘাড়ের) জন্য দুর্ভোগ যা এটি (জিহ্বা) তার ওপর বয়ে আনবে। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, সেটিই তার ওপর বিপদ ডেকে এনেছিল এবং তাকে হত্যা করা হয়েছিল।"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَزَّازُ، قَالَ: ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الصُّدَائِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْغَاضِرِيُّ، عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ أَمَّ قَوْمًا وَفِيهِمْ مَنْ هُوَ أَقْرَأُ لِكِتَابِ اللَّهِ عز وجل مِنْهُ وَأَعْلَمُ، لَمْ يَزَلْ فِي سَفَالٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
১৮ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আলী আল-খাজ্জায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন বিন আলী আস-সুদায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফস বিন সুলাইমান আল-গাদিরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাইসাম বিন আব্বাদ থেকে, তিনি মুহারিব বিন দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‌‌«যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের ইমামতি করল অথচ তাদের মাঝে এমন কেউ আছে যে তার চেয়ে পরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহর কিতাব অধিক পাঠ করতে সক্ষম এবং অধিক জ্ঞানী, সে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত হীনতার মধ্যেই থাকবে।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ التَّغْلِبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَجَاءُ بْنُ السِّنْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ شُعَيْبٍ السَّمَّانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ:‌‌ لَمَّا أُهْبِطَ آدَمُ عليه السلام وَإِبْلِيسُ نَاحَ إِبْلِيسُ حِينَ بَكَى آدَمُ، ثُمَّ حَدَا حِينَ ضَحِكَ
১৯ - আমাদের নিকট উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে ইউসুফ আত-তাগলিবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট রাজা ইবনে আস-সিন্দি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে শুআইব আস-সাম্মান বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আদম (আলাইহিস সালাম) ও ইবলিসকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হলো, আদম যখন কাঁদলেন তখন ইবলিস বিলাপ করল, অতঃপর আদম যখন হাসলেন তখন সে (ইবলিস) আনন্দ-ধ্বনি করল।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هِشَامٍ الْمُسْتَمْلِي، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عِمْرَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ فِي قَوْلِهِ تبارك وتعالى: ‌‌{يَأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ} .

قَالَ: كَانَ عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ عليه السلام يَأْكُلُ مِنْ غَزْلِ أُمِّهِ
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হিশাম আল-মুস্তামলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া আল-হিমমানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফস বিন ইমরান, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু মায়সারাহ থেকে বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে আহার করো}।

তিনি বলেন: ঈসা ইবনে মারিয়াম (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর মাতার সুতা কাটার উপার্জন থেকে আহার করতেন।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، إِمْلاءً، يَوْمَ الْجُمُعَةِ لِثَمَانٍ بَقِينَ مِنْ شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِينَ وَثَلاثِمِائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجِيءُ فَيَقُولُ: ‌‌«هَلْ عِنْدَكُمْ غِذَاءٌ؟» .

فَنَقُولُ: لا فَيَقُولُ: «أَنَا صَائِمٌ» .

فَأَتَانَا يَوْمًا وَقَدْ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ، فَقَالَ: «عِنْدَكُمْ
شَيْءٌ؟» .

قُلْنَا: نَعَمْ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ، قَالَ: «أَمَا إِنِّي أَصْبَحْتُ أُرِيدُ الصَّوْمَ فَأَكَلَ»
২১ - উসমান বিন আহমদ আমাদের কাছে শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, ৩৪২ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের আট দিন অবশিষ্ট থাকতে জুমার দিনে; তিনি বলেন: আবু বকর ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু বকর আল-হানাফি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তালহা বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসতেন এবং বলতেন: ‌‌«তোমাদের কাছে কি কোনো খাবার আছে?» ।

তখন আমরা বলতাম: না। তখন তিনি বলতেন: «আমি রোজা আছি» ।

অতঃপর একদিন তিনি আমাদের কাছে আসলেন যখন আমাদের নিকট ‘হাইস’ (এক প্রকার খাদ্য) উপহার পাঠানো হয়েছিল, তখন তিনি বললেন: «তোমাদের কাছে
কিছু আছে কি?» ।

আমরা বললাম: হ্যাঁ, আমাদের ‘হাইস’ উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: «আমি তো রোজা রাখার ইচ্ছা নিয়ে সকাল করেছিলাম», অতঃপর তিনি তা আহার করলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْعَوَّامِ الرِّيَاحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ‌‌ يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ عليهما السلام، يَقُولُ: «أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لامَّةٍ» .

وَيَقُولُ: «كَانَ إِبْرَاهِيمُ عليه السلام يُعَوِّذُ بِهِمَا إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ عليهما السلام»
২২ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবুল আওয়াম আর-রিয়াহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মানসুর থেকে, তিনি মিনহাল বিন আমর থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন হাসান ও হুসাইন (আলাইহিমাস সালাম)-এর জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং বলতেন: ‘আমি তোমাদের উভয়কে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের আশ্রয়ে সমর্পণ করছি প্রত্যেক শয়তান ও বিষধর প্রাণী থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর কুদৃষ্টি থেকে।’।

এবং তিনি বলতেন: ‘ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) এই বাক্যগুলোর মাধ্যমে ইসমাইল ও ইসহাক (আলাইহিমাস সালাম)-এর জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।’
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: نا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «إِنَّ‌‌ إِبْلِيسَ قَدْ أَيِسَ أَنْ يَعْبُدَهُ الْمُصَلُّونَ وَلَكِنَّهُ فِي التَّحْرِيشِ بَيْنَهُمْ»
২৩ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আলী হাম্বল ইবনে ইসহাক ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুআইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-জুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয় ইবলিস এই বিষয়ে নিরাশ হয়েছে যে মুসল্লিরা তার ইবাদত করবে, কিন্তু সে তাদের মধ্যে বিভেদ ও উসকানি সৃষ্টির লিপ্ত রয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ حَنْبَلٍ، قَالَ: نا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَمْسِكُوا عَلَيْكُمْ أَمْوَالَكُمْ لا تُعْطُوهَا أَحَدًا، فَمَنْ أَعْمَرَ أَحَدًا شَيْئًا فَهُوَ لَهُ»
২৪ - আমাদের নিকট উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাম্বল ইবনে ইসহাক ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের সম্পদ তোমাদের নিজেদের কাছেই রাখো, তা কাউকে (চিরতরে) দিয়ে দিও না। কারণ যে ব্যক্তি কাউকে কোনো কিছু ‘উমরা’ (জীবনসত্ত্ব) হিসেবে দান করে, তবে তা তার (গ্রহীতার) জন্যই হয়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ الضَّبِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ: نا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«مَنْ صَلَّى الْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ، وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ نِصْفِ لَيْلَةٍ»
২৫ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন গালিব ইবন হারব আদ-দব্বি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুআইম আল-ফদল ইবন দুকাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবন হাকিম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবন আবি আমরা থেকে, তিনি উসমান ইবন আফফান (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করল, তা যেন সারা রাত কিয়াম করার সমতুল্য; আর যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার সালাত আদায় করল, তা যেন অর্ধেক রাত কিয়াম করার সমতুল্য।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَلامٍ السَّوَّاقُ، قَالَ: نا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ: نا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، قَالَ: حَجَّ مُعَاوِيَةُ فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَابْنُ صَفْوَانَ حِينَ رَأَوْهُ، فَقَالَ مُعَاوِيَةُ: اجْلِسَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَمْثُلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتَهُ» أَوْ «مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ»
২৬ - উসমান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে সালাম আস-সাওয়াক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাবিযাহ ইবনে উকবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাবিব ইবনুল শহীদ থেকে, তিনি আবু মিজলায থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া (রা.) হজ সম্পাদন করলেন। তখন তাঁকে দেখে আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর এবং ইবনে সাফওয়ান দাঁড়িয়ে গেলেন। মুয়াবিয়া (রা.) বললেন: তোমরা উভয়ে বসো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি এতে আনন্দিত বোধ করে যে মানুষ তার সামনে মূর্তির ন্যায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে তার ঘর (অথবা বলেছেন) তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو قِلابَةَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ، قَالَ: نا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: كُنْتُ رَدِيفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «يَا مُعَاذُ مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ؟» قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّ‌‌ حَقَّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ لا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا» .

قَالَ: «فَمَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ عز وجل إِذَا
فَعَلُوا ذَلِكَ يَا مُعَاذُ؟» .

قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّ حَقَّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ عز وجل إِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ أَنْ يُدْخِلَهُمُ الْجَنَّةَ»
২৭ - উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কিলাবাহ আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ আর-রাকাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুযাইফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের নিকট আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর বিন মাইমুন থেকে, আর তিনি মুআয বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সওয়ারীর পিছনে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন: «হে মুআয, বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী?» তিনি বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই‌‌ বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো তারা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।» .

তিনি বললেন: «তবে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক কী, যখন
তারা তা করবে, হে মুআয?» .

তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক হলো, যখন তারা তা করবে, তখন তিনি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আমালিল ইবনুস সাম্মাক (পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ مُحَمَّدُ بْنُ الْهَيْثَمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ، قَالَ: نا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، وَحَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ، قَالَ: نا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، وَحَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، وَحَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، قَالَ: ثنا أَبُو حُذَيْفَةَ، قَالَ: نا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: ‌‌«خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرْنَاهُ فَلَمْ نَعُدَّهُ طَلاقًا»
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আহওয়াস মুহাম্মাদ ইবনুল হাইসাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুযায়ফা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমাশ থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি মাসরূক থেকে, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আহওয়াস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুযায়ফা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আসেম থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি মাসরূক থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আহওয়াস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুযায়ফা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমাশ থেকে, তিনি আবু আদ-দুহা থেকে, তিনি মাসরূক থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন। এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আহওয়াস, তিনি বলেন: আবু হুযায়ফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, ইসমাইল থেকে, তিনি আমির থেকে, তিনি মাসরূক থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‌‌«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পছন্দ করার অধিকার দিয়েছিলেন, অতঃপর আমরা তাঁকে বেছে নিয়েছিলাম এবং আমরা সেটিকে তালাক হিসেবে গণ্য করিনি»