(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: -)
مجلسان من أمالي ابن صاعد (ابن صاعد)
القسم: كتب السنة
الكتاب: مجلسان من أمالي ابن صاعد
المؤلف: أبو محمد يحيى بن محمد بن صاعد بن كاتب الهاشمي بالولاء البغدادي (ت 318هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 54
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে সাঈদের আমালি থেকে দুটি মজলিস (ইবনে সাঈদ)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: ইবনে সাঈদের আমালি থেকে দুটি মজলিস
লেখক: আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন কাতিব আল-হাশেমি বিল-ওয়ালা আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৩১৮ হি.)
প্রকাশক: ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অধীনস্থ জাওয়ামিউল কালিম নামক ফ্রি সফটওয়্যারে প্রকাশিত একটি পাণ্ডুলিপি
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪
[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١)
جُزْءٌ فِيهِ مَجْلِسَانِ مِنْ أَمَالِي أَبِي مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ الْحَافِظِ رحمه الله.رِوَايَةُ أَبِي الْقَّاسِمِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقْرِئِ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الصَّيْدَلانِيِّ.رِوَايَةُ أَبِي الْقَّاسِمِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْخَلالِ، عَنْهُ.مِمَّا أَخْبَرَنَا بِهِ الشَّيْخَانِ الْإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ إسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ بْنِ السَّمَرقَنْدِيِّ، وَأَبُو الْبَرَكَاتِ عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ النَّرْسِيِّ الْبَيِّعِ ، عَنْهُ.بسم الله الرحمن الرحيم
একটি খণ্ড, যাতে হাফিজ আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর শ্রুতলিপি (আমালি) থেকে দুটি মজলিস রয়েছে।আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আলী আল-মুকরি, যিনি ইবনুল সাইদালানি নামে পরিচিত, তাঁর বর্ণনা।আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-খাল্লাল-এর বর্ণনা, তাঁর থেকে।এটি সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ: ইমাম আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবনে আহমাদ ইবনে উমর ইবনে আস-সামারকান্দি এবং আবু আল-বারাকাত আবদুল বাকি ইবনে আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী ইবনে আন-নারসি আল-বায়্যি, তাঁর থেকে।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخَانِ الْإِمَامُ أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ بْنِ السَّمَرْقَنْدِيِّ، وَأَبُو الْبَرَكَاتِ عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ النَّرْسِيِّ الْبَيِّعِ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِمَا مُتَفَرِّقَيْنِ، قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ الْخَلالُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَنَحْنُ نَسْمَعُ، قَالَ: أَنْبَا أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقْرِئُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الصَّيْدَلانِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَقَرَّ بِهِ فِي مَسْجِدِهِ بَابِ الشَّامِ بَعْدَ الظُّهْرِ فِي يَوْمِ الاثْنَيْنِ لِسَبْعٍ بَقِينَ مِنْ رَبِيعٍ الأَوَّلِ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ وَثَلاثِمِائَةٍ، قَالَ: ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، إِمْلاءً فِي سِكَّةِ صَاعِدِ بَابِ دَارِهِ يَوْمَ السَّبْتِ لِخَمْسٍ بَقِينَ مِنْ شَوَّالٍ مِنْ سَنَةِ ثَمَانِي عَشْرَةَ وَثَلاثِمِائَةٍ، وَكَتَبْتُهُ بِخَطِّي، قَالَ: ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى النَّيْسَابُورِيُّ فِي سَنَةِ تِسْعٍ وَثَلاثِينَ وَمِائَتَيْنِ فِي الرَّحْبَةِ فِي شَوَّالٍ، إِمْلاءً، وَكَتَبْتُهُ بِخَطِّي، قَالَ: أَنْبَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنْبَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي مُرَّةَ مَوْلَى عُقَيْلٍ، فِيمَا أَعْلَمُ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ» .حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى النَّيْسَابُورِيُّ، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، مِثْلَهُ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শায়খ—ইমাম আবুল কাসিম ইসমাইল বিন আহমাদ বিন উমর বিন আস-সামারকান্দি এবং আবুল বারাকাত আব্দুল বাকি বিন আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন আলি বিন আন-নারসি আল-বাইয়্যি‘, তাঁদের উভয়ের নিকট পৃথক পৃথকভাবে আমার পাঠের মাধ্যমে; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আলি আল-খাল্লাল, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে এবং আমরা শুনছিলাম; তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আলি আল-মুকরি, যিনি ইবনুল সাইদালানি নামে পরিচিত, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন তাঁর বাব আশ-শাম মসজিদে, ৩৯৪ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের সাত দিন অবশিষ্ট থাকতে সোমবার জোহরের নামাজের পর; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়িদ, তাঁর গৃহের ফটকে সায়িদ গলিতে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, ৩১৮ হিজরি সালের শাওয়াল মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে শনিবার এবং আমি তা নিজ হাতে লিখেছি; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান বিন ঈসা আন-নাইসাবুরি ২৩৯ হিজরি সালে শাওয়াল মাসে আর-রাহবাহ নামক স্থানে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে এবং আমি তা নিজ হাতে লিখেছি; তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক; আমাদের জানিয়েছেন উসামা বিন যায়িদ; আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি হিন্দ; আবু মুররাহ হতে—যিনি উকাইলের মুক্তদাস, যতটুকু আমি জানি—তিনি আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি পাশা (নার্দ) খেলল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো»।আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন ঈসা আন-নাইসাবুরি; আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক; আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ ইবনে উমর—নাফি‘ হতে, তিনি সাঈদ বিন আবি হিন্দ হতে, তিনি আবু মুসা আল-আশআরি হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে—অনুরূপ হাদীস।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٣)
2 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنَا وِقَاءُ بْنُ إِيَاسٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ فَخَطَبَ النَّاسَ، فَنَهَى عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ»
২ - ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বিকা ইবনে ইয়াস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে রাবিয়াহ হতে, সামুরা ইবনে জুনদুব হতে বর্ণিত যে, «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন, অতঃপর তিনি লাউয়ের পাত্র এবং পিচ মাখানো পাত্র (ব্যবহার) করতে নিষেধ করলেন।»
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ، فِي مُسْنَدِ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، قَالَ: ثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ وِقَاءِ بْنِ إِيَاسٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، قَالَ: «نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، عَنِ الدُّبَّاءِ، وَالْحَنْتَمِ»
৩ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফইয়ান ইবনে ওয়াকি' ইবনুল জাররাহ আমাদের নিকট সামুরা ইবনে জুনদুবের মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যাকারিয়া ইবনে আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি উইকা ইবনে ইয়াস থেকে, তিনি আলী ইবনে রাবিয়াহ থেকে, তিনি সামুরা ইবনে জুনদুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদুর তৈরি পাত্র এবং সবুজ মাটির পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।»
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٥)
4 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا لُوَيْنٌ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَبِيبٍ، ثَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَاطِبٍ، قَالَ: دَبَبْتُ إِلَى قِدرٍ لأَهْلِي، فَانْكَفَتْ عَلَى يَدِي، فَأَحْرَقَتْهَا، فَتَوَرَّكَتْ بِي أُمِّي، فَأَتَتْ بِي رَجُلا بِالْبَطْحَاءِ، فَجَعَلَ يَتَكَلَّمُ عَلَى يَدِي، وَيَنْفُثُ، فَلَمَّا كَانَ زَمَانُ عُثْمَانَ رضي الله عنه، قُلْتُ لأُمِّي: مَنْ كَانَ ذَاكَ الرَّجُلَ، فَقَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
৪ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লুয়াইন মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান ইবনে হাবীব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শারীক ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে হাতিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার পরিবারের একটি ডেকচির দিকে হামাগুড়ি দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন সেটি আমার হাতের ওপর উল্টে পড়ল এবং তা পুড়িয়ে দিল। এরপর আমার মা আমাকে কোলে করে বাতাহা নামক স্থানে এক ব্যক্তির নিকট নিয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি আমার হাতের ওপর কিছু পড়তে লাগলেন এবং ফুঁ দিতে লাগলেন। যখন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগ এল, তখন আমি আমার মাকে বললাম: ঐ ব্যক্তি কে ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٦)
5 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا لُوَيْنٌ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، نَا أَبُو إِسْمَاعِيلَ الْقَنَّادُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا صَاعَيْ تَمْرٍ بِصَاعٍ، وَلا صَاعَيْ حِنْطَةٍ بِصَاعٍ، وَلا دِرْهَمَيْنِ بِدِرْهَمٍ»
৫ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট লুওয়াইন মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু ইসমাইল আল-কান্নাদ ইবরাহিম ইবনে আব্দুল মালিক বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এক সা খেজুরের বিনিময়ে দুই সা খেজুর নয়, এক সা গমের বিনিময়ে দুই সা গম নয় এবং এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম নয়।»
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٧)
6 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا أَبُو هَمَّامٍ الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ السَّكُونِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ صَالِحٍ، يُحَدِّثُ عَنْ خَالِدِ بْنِ الْفِزْرِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلا إِنَّ الْمُزَّاتِ حَرَامٌ، أَلا إِنَّ الْمُزَّاتِ خَلِيطُ الْبُسْرِ وَالتَّمْرِ»
৬ - ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাম্মাম আল-ওয়ালিদ ইবন শুজা আল-সাকুনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন বিশর আল-আবদি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল-হাসান ইবন সালিহকে খালিদ ইবনুল ফিজর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জেনে রেখো, নিশ্চয়ই ‘মুজ্জাত’ হারাম। জেনে রেখো, ‘মুজ্জাত’ হলো কাঁচা ও শুকনো খেজুরের মিশ্রণ।»
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٨)
7 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا الْحسَنُ بْنُ حَمَّادٍ الْحَضْرَمِيُّ سَجَّادَةَ، نَا عَمْرُو بْنُ هَاشِمٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: كَانَتِ امْرَأَةٌ تَأْتِي قَوْمًا فَتَسْتَعِيرُ مِنْهُمُ الْحُلِيَّ، ثُمَّ تَمْسِكُهُ، قَالَ: فَرُفِعَ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «لِتَتُبْ هَذِهِ الْمَرْأَةُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ، وَتَرُدَّ عَلَى النَّاسِ مَتَاعَهُمْ، قُمْ يَا فُلانُ، فَاقْطَعْ يَدَهَا»
৭ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে হাম্মাদ আল-হাদরামি সাজ্জাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে হাশিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একজন নারী এক সম্প্রদায়ের নিকট আসত এবং তাদের নিকট থেকে অলঙ্কার ধার নিত, অতঃপর তা আত্মসাৎ করত (ফেরত দিত না)। তিনি বলেন: বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করা হলো। তখন তিনি বললেন: "এই নারী যেন আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নিকট তওবা করে এবং মানুষের মালামাল তাদের নিকট ফেরত দিয়ে দেয়। হে অমুক, ওঠো এবং তার হাত কেটে দাও।"
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٩)
8 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْعَمِيُّ الْبَصْرِيُّ، بِبَغْدَادَ سَنَةَ اثْنَتيْنِ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ، نَا يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنِي بَشِيرُ بْنُ عُقْبَةَ، أَنْبَأَ أَبُو الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيُّ، قَالَ: أَتَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، فَقُلْتُ: حَدِّثْنِي بِشَيْءٍ شَهِدْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: تُوُفِّيَ وَالِدِي، وَتَرَكَ عَلَيَّ وَعَلَيْهِ عِشْرِينَ وَسَقًا مِنْ تَمْرٍ، وَلَنَا تَمْرٌ يَسِيرُ الْعَجْوَةِ، لا تَفِي بِمَا عَلَيْنَا مِنَ الدَّيْنِ، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَبَعَثَ إِلَى غَرِيمِي، فَأَبَى أَنْ يَأْخُذَ الْعَجْوَةَ كُلَّهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «انْطَلِقْ فَأَعْطِهِ» .فَانْطَلَقْتُ إِلَى عَرْشٍ لَنَا مِنَ النَّخْلِ، قَالَ: وَمَعِي صَاحِبَتِي، وَلَيْسَتْ بِهَذِهِ، وَمَعَهُ امْرَأَةٌ لَهُ، قَالَ: فَعَالَجْنَا نَخْلَنَا، وَصَرَمْنَا، وَلَنَا عَنْزٌ، فَطَعِمَهَا مِنَ الْحَشَفَةِ، فَقَدْ سَمِنَتْ، إِذْ أَقْبَلَ رَجُلانِ، فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعُمَرُ، فَقُلْتُ: مَرْحَبًا يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَرْحَبًا يَا عُمَرُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «انْطَلِقْ بِنَا يَا جَابِرُ، حَتَّى نَطُوفَ فِي مَحِلِّكَ» .فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَأَمَرْتُ بِالْعَنْزِ، فَذُبِحَتْ، فَطُفْنَا، ثُمَّ جِيءَ بِمَائِدَةٍ لَنَا عَلَيْهَا رُطَبٌ وَلَحْمٌ، فَقُدِّمَتْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعُمَرَ، فَأَكَلا، فَلَمَّا أَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَنْهَضَ، قَالَتْ صَاحِبَتِي: دَعَوَاتٌ مِنْكَ، قَالَ: نَعَمْ، فَبَارَكَ اللَّهُ لَكُمْ، فَأَرْسَلْتُ إِلَى غُرَمَائِي، فَجَاءُوا بِأَحْمِرَةٍ، وَجَوَالِيقَ، وَقَدْ حَدَّثْتُ نَفْسِي أَنْ أَشْتَرِيَ حَتَّى أُوَفِّيَهُمْ مَا كَانَ عَلَى أَبِي مِنَ الدَّيْنِ، قَالَ: فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَقَدْ أَوْفَيْتَهُمْ عِشْرِينَ وَسَقًا، وَفَضَلَ مَعَنَا فَضْلٌ كَثِيرٌ، قَالَ: فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَبَشَّرْتُهُ، فَقَالَ: " اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ، اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ.قَالَ: أخْبِرْ عُمَرَ، فَجَعَلا يَحْمِدَانِ اللَّهَ عز وجل "
৮ - আমাদের কাছে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে উকবাহ বিন মুকরাম আল-আমী আল-বাসরী বাগদাদে দুইশ বিয়াল্লিশ হিজরিতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-হাদরামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বশীর বিন উকবাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবুল মুতাওয়াক্কিল আন-নাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি জাবির বিন আব্দুল্লাহর কাছে আসলাম এবং বললাম: আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা প্রত্যক্ষ করেছেন এমন কিছু আমার কাছে বর্ণনা করুন। তখন তিনি বললেন: "আমার পিতা ইন্তেকাল করলেন এবং তিনি আমার ওপর ও নিজের ওপর বিশ ওয়াসাক খেজুর ঋণের বোঝা রেখে গেলেন। আমাদের কাছে সামান্য পরিমাণ আজওয়া খেজুর ছিল, যা আমাদের ওপর থাকা ঋণ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলাম। তিনি আমার পাওনাদারের কাছে লোক পাঠালেন, কিন্তু সে সমস্ত আজওয়া খেজুর গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: 'যাও এবং তাকে তা দিয়ে দাও'।"অতঃপর আমি আমাদের খেজুর গাছের তৈরি একটি মাচায় গেলাম। তিনি (জাবির) বললেন: আমার সাথে আমার স্ত্রীও ছিল—তবে বর্তমান স্ত্রী নয়, সে সময় অন্য এক স্ত্রী ছিল। তিনি বললেন: আমরা আমাদের খেজুর গাছের পরিচর্যা করলাম এবং ফল সংগ্রহ করলাম। আমাদের একটি বকরি ছিল, যাকে খারাপ মানের খেজুর খাওয়ানো হতো এবং সেটি বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়েছিল। হঠাৎ দুজন লোক এগিয়ে এলেন—তারা ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উমর। আমি বললাম: স্বাগতম হে আল্লাহর রাসূল, এবং স্বাগতম হে উমর। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে জাবির, আমাদের সাথে চলো যাতে আমরা তোমার এলাকায় ঘুরে দেখতে পারি।"আমি বললাম: জি অবশ্যই। অতঃপর আমি বকরিটির ব্যাপারে আদেশ দিলাম এবং সেটি যবেহ করা হলো। আমরা ঘুরে দেখলাম। তারপর আমাদের সামনে একটি দস্তরখান আনা হলো যাতে তাজা খেজুর ও গোশত ছিল। তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উমরের সামনে পেশ করা হলো এবং তাঁরা খেলেন। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে যেতে চাইলেন, তখন আমার স্ত্রী বলল: আপনার পক্ষ থেকে কিছু দুআ কামনা করছি। তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ তোমাদের ওপর বরকত দান করুন। এরপর আমি আমার পাওনাদারদের কাছে সংবাদ পাঠালাম। তারা গাধা ও বস্তা নিয়ে হাজির হলো। আমি মনে মনে ভাবছিলাম যে, আমি আরও কিছু কিনে আনব যাতে আমার পিতার ওপর থাকা ঋণ পুরোপুরি শোধ করতে পারি। তিনি (জাবির) বললেন: সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তাদেরকে পূর্ণ বিশ ওয়াসাক পরিশোধ করলাম এবং আমাদের কাছে আরও অনেক উদ্বৃত্ত রয়ে গেল। তিনি বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলাম এবং তাঁকে সুসংবাদ দিলাম। তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। হে আল্লাহ, আপনারই জন্য সকল প্রশংসা।"তিনি বললেন: "উমরকে সংবাদ দাও।" তখন তাঁরা উভয়েই মহান আল্লাহর প্রশংসা করতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو عُبَيْدِ اللَّهِ الْمَخْزُومِيُّ، بِمَكَّةَ سَنَةَ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ، قَالَ: نَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ عَجْلانَ، وَعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ يَزِيدَ أَحَدُهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ، قَالَ: لَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ حُنَيْنٍ، وَكَانَ سَيَتَوَجَّهُ، سَأَلَهُ النَّاسُ، وَرَهَقُوهُ، فَخَاضَتْ بِهِ نَاقَتُهُ، فَأَخَذَتْ سَمُرَةُ بِرِدَائِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «رُدُّوا عَلَيَّ كِسَائِي، أَتَخَافُونَ عَلَيَّ الْبُخْلَ؟ فَوَاللَّهِ لَوْ أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ مِثْلَ سَمَرِ تِهَامَةَ نَعَمًا لَقَسَّمْتُهُ بَيْنَكُمْ، وَلا تَجِدُونِي بَخِيلا، وَلا كَذَّابًا» .قَالَ: فَلَمَّا كَانَ عِنْدَ قَسْمِ الْخُمْسِ، قَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ يَسْتَحِلُّهُ مَخِيطًا، أَوْ خَيَّاطًا، فَقَالَ: " رُدُّوا الْخَيَّاطَ وَالْمَخِيطَ؛ فَإِنَّ الْغُلُولَ عَارٌ، وَشَنَارٌ وَنَارٌ عَلَى أَهْلِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ رَفَعَ وَبْرَةً مِنْ ذُرْوَةِ سِنَامٍ، فَقَالَ: مَا لِي مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْكُمْ، وَلا مِثْلُ هَذِهِ إِلا الْخُمْسَ، وَالْخُمُسُ مَرْدُودٌ عَلَيْكُمْ "
9 - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবন আবদুর রহমান আবু উবাইদুল্লাহ আল-মাখযুমি মক্কায় দুইশত পঁয়তাল্লিশ হিজরি সনে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন, ইবন আজলান ও আমর ইবন দিনার থেকে, তিনি আমর ইবন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা ইয়াযীদ থেকে বর্ণনা করেছেন—তাদের একজন অপরজনের বর্ণনার ওপর তথ্য বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন—তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইন থেকে ফিরে আসছিলেন এবং সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছিলেন, তখন মানুষ তাঁর কাছে যাচনা করতে লাগল এবং তাঁকে ভিড় করে চেপে ধরল। এমনকি তাঁর উটনী তাঁকে নিয়ে একটি কাঁটাযুক্ত ঝোপের ভেতর ঢুকে পড়ল এবং একটি বাবলা গাছ তাঁর চাদরটি আটকে নিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমার চাদরটি আমাকে ফিরিয়ে দাও। তোমরা কি আমার ব্যাপারে কৃপণতার ভয় পাচ্ছ? আল্লাহর কসম—যদি আল্লাহ তোমাদেরকে তিহামার বাবলা বৃক্ষের সমান গবাদি পশু গনীমত হিসেবে দান করতেন, তবে আমি তা তোমাদের মধ্যে বন্টন করে দিতাম। আর তোমরা আমাকে কৃপণ পাবে না এবং পাবে না মিথ্যাবাদী হিসেবে»।তিনি বলেন: অতঃপর যখন খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) বন্টনের সময় হলো, তখন এক ব্যক্তি একটি সুঁই বা একটি সুতা (নিজের জন্য) হালাল করার আবেদন নিয়ে তাঁর নিকট দাঁড়াল। তখন তিনি বললেন: "সুতা এবং সুঁইও ফিরিয়ে দাও; কেননা গনীমতের মালের খিয়ানত কিয়ামতের দিন খিয়ানতকারীর জন্য লজ্জা, কলঙ্ক এবং আগুন হবে।" অতঃপর তিনি উটের কুঁজের উপরিভাগ থেকে একটি পশম তুললেন এবং বললেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তোমাদেরকে যা গনীমত হিসেবে দান করেছেন, তা থেকে আমার জন্য এই পশমের সমপরিমাণও নেই, কেবল এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত; আর সেই এক-পঞ্চমাংশও তোমাদের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।"
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١١)
10 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو عُبَيْدِ اللَّهِ الْمَخْزُومِيُّ، نَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ السِّخْتِيَانِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الْمَلائِكَةُ تَلْعَنُ أَحَدَكُمْ إِذَا أَشَارَ إِلَى أَخِيهِ بِحَدِيدَةٍ، وَإِنْ كَانَ أَخَاهُ لأَبٍيه وَأُمِّهِ»
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আবু উবাইদুল্লাহ আল-মাখযুমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, আইয়ুব আস-সিখতিয়ানি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ফেরেশতারা তোমাদের কাউকে অভিশাপ দেন যখন সে তার ভাইয়ের দিকে কোনো লোহার বস্তু দিয়ে ইঙ্গিত করে, যদিও সে তার আপন সহোদর ভাই হয়।»
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، ثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزِيدٍ الْعُذْرِيِّ، بِبَيْرُوتَ، أَنْبَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، نَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ قَزَعَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: " لا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلا إِلَى ثَلاثَةِ مَسَاجِدَ: الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، وَالْمَسْجِدِ الأَقْصَى، وَمَسْجِدِي هَذَا، وَلا تُسَافِرُ امْرَأَةٌ مَسِيرَةَ يَوْمَيْنِ إِلا مَعَ زَوْجِهَا، أَوْ ذِي مَحْرَمٍ مِنْ أَهْلِهَا "
১১ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে মজিদ আল-উযরি বৈরুতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে শুআইব ইবনে শাবুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াজিদ ইবনে আবি মারয়াম কাযাআ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে, তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না: মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আকসা এবং আমার এই মসজিদ। আর কোনো নারী তার স্বামী অথবা তার পরিবারের কোনো মাহরাম ব্যক্তি ব্যতীত দুই দিনের সফরের পথ ভ্রমণ করবে না।"
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ رِفَاعَةَ أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى الأَسْلَمِيُّ، عَنْ سَعْدٍ الإِسْكَافِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي لأَبْغَضُ الْمَرْأَةَ تَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهَا، تَجُرُّ ذَيْلَهَا، تَشْكُو زَوْجَهَا»
১২ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে রিফায়া আবু হিশাম আর-রিফায়ি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ালা আল-আসলামি বর্ণনা করেছেন, সা'দ আল-ইস্কাফ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলায়মান থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-জাদালি থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি সেই নারীকে ঘৃণা করি, যে তার ঘর থেকে নিজের কাপড়ের আঁচল টেনে টেনে বের হয় এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।»
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا الْقَاضِي مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ أَبُو هِشَامٍ، نَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، نَا الْجَرَّاحُ بْنُ الضَّحَّاكِ الْكِنْدِيُّ، عَنْ كُرَيْبٍ الْكِنْدِيِّ، قَالَ: انْطَلَقَ بِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ إِلَى شَيْخٍ مِنْ قُرَيْشٍ يُقَالُ لَهُ: ابْنُ أَبِي حَثْمَةَ وَهُوَ يُصَلِّي إِلَى أُسْطُوَانَةٍ، فَلَمَّا رَأَى عَلِيَّ بْنَ الْحُسَيْنِ انْصَرَفَ، فَقَالَ لَهُ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ حَدِّثْنَا حَدِيثَ أُمِّكَ، فَقَالَ: حَدَّثَتْنِي أُمِّي، أَنَّهَا كَانَتْ تَرْقِي بِرُقْيَةٍ لَهَا فِي الْجَاهِلَيَّةِ، فَلَمَّا جَاءَ الْإِسْلَامُ، قَالَتْ: لا أَرْقِي بِهَا حَتَّى أسْتَأْمِرَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَتْهُ، فَاسْتَأْمَرَتْهُ، فَقَالَ: «ارْقِي بِهَا مَا لَمْ تَكُنْ شِرْكًا»
১৩ - ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিচারক মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ আবু হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে সুলাইমান আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-জাররাহ ইবনে আদ-দাহহাক আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুরাইব আল-কিন্দি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী ইবনে আল-হুসাইন আমাকে কুরাইশ বংশীয় জনৈক শায়খের নিকট নিয়ে গেলেন যাকে ইবনে আবি হাসমাহ বলা হতো; তিনি তখন একটি স্তম্ভের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন। যখন তিনি আলী ইবনে আল-হুসাইনকে দেখলেন, তখন তিনি সালাত শেষ করে ফিরে তাকালেন। আলী ইবনে আল-হুসাইন তাঁকে বললেন, আপনার মাতার হাদীসটি আমাদের নিকট বর্ণনা করুন। তখন তিনি বললেন: আমার মা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাহিলিয়াত যুগে তাঁর একটি নিজস্ব মন্ত্রের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করতেন। যখন ইসলাম আসলো, তখন তিনি বললেন: আমি এর মাধ্যমে ততক্ষণ পর্যন্ত ঝাড়ফুঁক করব না যতক্ষণ না আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে অনুমতি গ্রহণ করি। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন: "যতক্ষণ তা শিরক না হয়, ততক্ষণ তুমি তা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতে পারো।"
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا أَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ، ثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ: ثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَشْرَفَ عَلَى الْمَدِينَةِ، فَقَالَ: «وَيْلُ أُمِّهَا مِنْ قَرْيَةٍ يَخْرُجُ عَنْهَا أَهْلُهَا أَحْسَنَ مَا كَانَتْ، فَيَأْتِيهَا الدَّجَّالُ، فَلا يَأْتِي بَابًا مِنْهَا إِلا وَجَدَ عَلَيْهِ مَلَكًا مُصْلِتًا سَيْفَهُ، فَيَرْجِعُ وَلا يَدْخُلُهَا»
১৪ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু হিশাম আর-রিফায়ি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর বিন আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আ’মাশ বর্ণনা করেছেন আবু বিশর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন শাকিক থেকে, তিনি ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার দিকে অবলোকন করলেন এবং বললেন: “এর মায়ের জন্য দুর্ভোগ এমন এক জনপদ! এর অধিবাসীরা একে অত্যন্ত চমৎকার অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও ছেড়ে চলে যাবে, অতঃপর দাজ্জাল এতে আসবে, কিন্তু সে এর প্রতিটি প্রবেশপথেই উন্মুক্ত তরবারি হাতে একজন ফেরেশতাকে দেখতে পাবে; ফলে সে ফিরে যাবে এবং এতে প্রবেশ করবে না।”
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا الْحُسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، فِي مَنْزِلِهِ بِالْعَسْكَرِ، نَا هُشَيْمُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، قَالَ: كَتَبَ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: إِنَّهُ بَلَغَنِي مَوْجِدَتُكَ وَحُزْنُكَ عَلَى مَنْ قُتِلَ مِنْ بَنِي عَمِّكَ يَوْمَ الْحَرَّةِ، وَإِنِّي أُبَشِّرُكَ بِبُشْرَى مِنَ اللَّهِ عز وجل، أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلأَنْصَارِ، وَلِذَرَارِيهِمْ، وَلِذَرَارِيِّ ذَرَارِيهِمْ»
১৫ - ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে আরাফাহ আল-আসকারে তাঁর বাসভবনে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম ইবনে বাশির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন থেকে, তিনি আন-নাদর ইবনে আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যাইদ ইবনে আরকাম আনাস ইবনে মালিকের নিকট লিখলেন যে, হাররার যুদ্ধে আপনার বংশের যারা নিহত হয়েছে তাদের প্রতি আপনার শোক ও দুঃখের সংবাদ আমার নিকট পৌঁছেছে। আমি আপনাকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সুসংবাদ দিচ্ছি; আমি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে বলতে শুনেছি: «হে আল্লাহ! আপনি আনসারদের ক্ষমা করুন, তাদের সন্তানদের ক্ষমা করুন এবং তাদের সন্তানদের সন্তানদেরও ক্ষমা করুন»
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا بَحْرُ بْنُ نَصْرِ بْنِ سَابِقٍ الْخَوْلانِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنِ ابْنِ مُسَافِعٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْسِمُ شَيْئًا أَقْبَلَ رَجُلٌ فَأَكَبَّ عَلَيْهِ، فَطَعَنَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعُرْجُونٍ كَانَ مَعَهُ، فَجَرَحَ الرَّجُلُ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " تَعَالَ فَاسْتَقِدْ، قَالَ: بَلْ عَفَوْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ "
১৬ - ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বাহর ইবন নাসর ইবন সাবিক আল-খাওলানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনুল হারিস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, বুকাইর ইবনুল আশাজ্জ থেকে, ইবন মুসাফে থেকে, আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো কিছু বণ্টন করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি এসে তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়ল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথে থাকা একটি খেজুরের ডাল দিয়ে তাকে মৃদু আঘাত করলেন, ফলে লোকটি সামান্য আঘাত পেল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: "কাছে এসো এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করো।" সে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! বরং আমি ক্ষমা করে দিলাম।"
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ مُصْعَبٍ وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تُرْفَعُ زِينَةُ الدُّنْيَا سَنَةَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ»
১৭ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল হাকাম আল-মিসরী বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি ফুদাইক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল মালিক ইবনে যাইদ থেকে, তিনি মুসআব ইবনে মুসআব—যিনি ইবনে আবদুর রহমান—থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «একশত পঁচিশ সনে দুনিয়ার সৌন্দর্য তুলে নেওয়া হবে»
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْجَوَّازُ الْمَكِّيُّ، نَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الزُّهْرِيُّ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ حَارِثِ بْنِ أَفْلَحَ، قَالَ: قَالَ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ: إِنَّ عُثْمَانَ بْنَ أَبِي سُلَيْمَانَ لَمِنْ زِينَةِ الدُّنْيَا.قَالَ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ: هَذَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمِ بْنِ نَوْفَلِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ
১৮ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন মানসুর আল-জাওয়াজ আল-মাক্কি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াকুব বিন মুহাম্মাদ বিন ঈসা আজ-জুহরি বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, হারিস বিন আফলাহ থেকে, তিনি বলেন: আতা বিন আবি রাবাহ বলেছেন: নিশ্চয়ই উসমান বিন আবি সুলাইমান দুনিয়ার সৌন্দর্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত।ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বলেন: ইনি হলেন উসমান বিন আবি সুলাইমান বিন জুবায়ের বিন মুতঈম বিন নাওফাল বিন আবদে মানাফ।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، نَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الزُّهْرِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ وَهُوَ ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، قَالَ: عَبْدُ الْمَلِكِ بْنِ زَيْدٍ مِنْ وَلَدِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ مُصْعَبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تُرْفَعُ زِينَةُ الدُّنْيَا سَنَةَ أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ، يَعْنِي بِالزِّينَةِ الدَّجَّالَ»
১৯ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন মানসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-যুহরি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন মুসলিম—যিনি ইবনে আবি ফুদাইক নামে পরিচিত—থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক বিন যাইদ—যিনি যাইদ ইবনুল খাত্তাবের বংশধর—মুসআব বিন মুসআব বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «একশত চব্বিশ সনে দুনিয়ার সৌন্দর্য তুলে নেওয়া হবে; সৌন্দর্য বলতে দাজ্জালকে বোঝানো হয়েছে»
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، نَا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ، ثَنَا هِلالُ بْنُ مَيْمُونٍ الْفِلَسْطِينِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَرَجَ مُجَاهِدًا فَمَاتَ كَتَبَ اللَّهُ عز وجل لَهُ أَجْرَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَمَاتَ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَجْرَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَمَاتَ كَتَبَ اللَّهُ عز وجل لَهُ أَجْرَ الْمُعْتَمِرِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
২০ - ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুআবিয়া আদ-দারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিলাল ইবনে মাইমুন আল-ফিলিস্তিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে ইয়াজিদ আল-লাইসী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি মুজাহিদ হিসেবে বের হলো এবং মৃত্যুবরণ করল, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য তার প্রতিদান লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি হজ পালনকারী হিসেবে বের হলো এবং মৃত্যুবরণ করল, আল্লাহ তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত তার প্রতিদান লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি ওমরাহ পালনকারী হিসেবে বের হলো এবং মৃত্যুবরণ করল, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য ওমরাহ পালনকারীর প্রতিদান লিখে দেন।”
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْفَلاسُ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ رَزِينٍ، يُحَدِّثُ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فِي الرَّجُلِ يَتَزَوَّجُ الْمَرْأَةَ، فَيُطَلِّقُهَا، فَتَتَزَوَّجُ زَوْجًا غَيْرَهُ، فَيُطَلِّقُهَا، وَلَمْ يَمَسَّهَا، قَالَ: «لا تَحِلُّ لِزَوْجِهَا الأَوَّلِ حَتَّى تَذُوقَ عُسَيْلَتَهُ، يَعْنِي الآخَرَ»
২১ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমর ইবন আলী আল-ফাল্লাস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন জাফর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন আলকামা ইবন মারসাদ থেকে, তিনি বলেন: আমি সালেম ইবন রাজীনকে সালেম ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, এ বিষয়ে যে কোনো ব্যক্তি একজন নারীকে বিবাহ করল, অতঃপর তাকে তালাক দিল, এরপর সে অন্য একজনকে বিবাহ করল এবং সেও তাকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিল; তিনি (নবী) বললেন: "সে প্রথম স্বামীর জন্য বৈধ হবে না যতক্ষণ না সে তার অর্থাৎ দ্বিতীয় স্বামীর মধুস আস্বাদন করবে।"
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، ثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، نَا صَالِحُ بْنُ أَبِي الأَخْضَرِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، وَحَفْصَةَ، أَصْبَحَتَا صَائِمَتَيْنِ، فَأُهْدِيَ لَهُمَا طَعَامٌ، وَالطَّعَامُ إِذْ ذَاكَ مَحْرُوصٌ عَلَيْهِ، فَأَفْطَرْنَا، قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «صُومَا يَوْمًا مَكَانَهُ» .قَالَ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ: كَذَا قَالَ لَنَا فِي أَوَّلِ الْحَدِيثِ: عَنْ.وَلَمْ يَقُلْ: إِنْ.وَقَدْ صَارَ فِي آخِرِهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا سَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، عَنْ ذَلِكَ
২২ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম বিন সাঈদ আল-জাওহারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, রাওহ বিন উবাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সালিহ বিন আবিল আখদার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা ও হাফসা থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা উভয়ে রোজা অবস্থায় ভোর করেছিলেন। তখন তাঁদের নিকট কিছু খাবার উপহার হিসেবে পাঠানো হলো, আর সেই সময়ে খাবারের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিল, তাই আমরা রোজা ভেঙে ফেললাম। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: "তোমরা এর পরিবর্তে অন্য একদিন রোজা পালন করো।" ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বলেন: হাদিসের শুরুতে তিনি আমাদের নিকট এভাবেই বলেছেন: 'হতে' (আন)।তিনি 'যে' (ইন্না) বলেননি।আর এর শেষাংশে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، نَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَجِدُ فِي صَدْرِي الشَّيْءَ، لأَنْ أَكُونَ حُمَمًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَكَلَّمَ بِهِ.قَالَ: «اللَّهُ أَكْبَرُ، الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدَّ أَمْرَهُ إِلَى الْوَسْوَسَةِ»
23 - ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবন ইউসুফ আল-আযরাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আমার অন্তরে এমন কিছু অনুভব করি যে, তা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয়.তিনি বললেন: «আল্লাহু আকবার, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তার (শয়তানের) চক্রান্তকে কেবল কুমন্ত্রণায় ফিরিয়ে দিয়েছেন»।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْحَسَّانِيُّ، بِالْعَسْكَرِ سَنَةَ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الحَسَن الْمُزَنِيُّ، نَا الْمُغِيرَةُ بْنُ الأَشْعَثِ أَمِيرٌ كَانَ عَلَيْنَا هَاهُنَا، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: طَافَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَوَافَ الصَّدْرِ لَيْلا، أَوْ بِلَيْلٍ "، قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَينِ: وَكَانَ الْمُغِيرَةُ إِذَا حَدَّثَ شَكَّ.قَالَ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ: يَعْنِي بِقَوْلِهِ لَيْلا، أَوْ بِلَيْلٍ، وَهُوَ وَاحِدٌ
২৪ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-হাসসানি আসকার নামক স্থানে দুইশত ঊনপঞ্চাশ হিজরি সনে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আল-মুযানী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-মুগীরা ইবনুল আশআস বর্ণনা করেছেন—যিনি এখানে আমাদের আমীর ছিলেন—আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের বেলা অথবা রাতের কোনো এক অংশে তাওয়াফে সদর সম্পাদন করেছেন। মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বলেন: এবং মুগীরা যখন হাদীস বর্ণনা করতেন তখন (শব্দ নিয়ে) সন্দেহ পোষণ করতেন।ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ বলেন: তার উক্তি ‘রাতের বেলা’ অথবা ‘রাতের কোনো এক অংশে’ দ্বারা একই অর্থ উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ أَبُو هِشَامٍ، نَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، نَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَأَصْحَابُهُ يَنْحَرُونَ الْبَدَنَةَ مَعْقُولَةَ الْيَدِ الْيُسْرَى، قَائِمَةً عَلَى مَا بَقِيَ مِنْ قَوَائِمِهَا»
২৫ - ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আবু হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু খালিদ আল-আহমার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যুবাইর থেকে বর্ণিত, জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ উট নহর করতেন এমতাবস্থায় যে, সেটির বাম পা বাঁধা থাকতো এবং সেটি তার অবশিষ্ট পাগুলোর ওপর দণ্ডায়মান থাকতো।»
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، نَا أَبِي، ثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنْ يُبَالَ فِي الْمَاءِ الْمُقِيمِ» .قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ وَهُوَ الرَّاكِدُ
২৬ - ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-উমায়বী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন জুরাইজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুয যুবাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থির পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন » ।আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বলেন, আর তা হলো বদ্ধ পানি।
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، نَا بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: أُتِيَ بِأَبِي قُحَافَةَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ، وَرَأْسُهُ، وَلِحْيَتُهُ كَالثَّغَامَةِ بَيَاضًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «غَيِّرُوا هَذَا بِشَيْءٍ، وَاجْتَنِبُوا السَّوَادَ»مَجْلِسٌ آخَرُ
২৭ - ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাহর ইবন নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন জুরায়জ আমাকে সংবাদ প্রদান করেছেন, আবু যুবায়ের থেকে বর্ণিত, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের দিন আবু কুহাফাহকে নিয়ে আসা হলো, এমতাবস্থায় তার মাথা ও দাড়ি ছাগামাহ উদ্ভিদের ন্যায় ধবধবে সাদা ছিল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা এটি কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করো এবং কালো রঙ বর্জন করো।"অন্য একটি মজলিস
(খণ্ড: ১)
মাজলিসানি মিন আমালিল ইবনু সায়িদ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، ثَنَا لُوَيْنٌ، نَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، وَحُصَيْنٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَقَامَ سَبْعَةَ عَشَرَ، وَقَدْ قِيلَ: تِسْعَةَ عَشَرَ «يَقْصُرُ الصَّلاةَ» .قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَنَحْنُ إِذَا سَافَرْنَا، فَأَقَمْنَا سَبَعَةَ عَشَرَ، وَقَدْ قِيلَ: تِسْعَةَ عَشَرَ قَصَرْنَا، وَإِذَا زِدْنَا أَتْمَمْنَا
২৮ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়িদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট লুওয়াইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আওয়ানাহ বর্ণনা করেছেন আসিম ও হুসাইন থেকে, তাঁরা ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফর করলাম, অতঃপর তিনি সতেরো দিন অবস্থান করলেন—আর বলা হয়েছে উনিশ দিন—(এ সময়) তিনি সালাত কসর করতেন।ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: সুতরাং আমরা যখন সফর করি এবং সতেরো দিন অবস্থান করি—আর বলা হয়েছে উনিশ দিন—তখন আমরা কসর করি, আর যখন আমরা এর চেয়ে বেশি (অবস্থান) করি, তখন পূর্ণ সালাত আদায় করি।