(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: -)
أحاديث أبي الحسن الجوبري   (أبو الحسن الجوبري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أحاديث أبي الحسن الجوبري

المؤلف: أبو الحسن عبد الرحمن بن ياسر الجوبري (ت 425هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 12

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু আল-হাসান আল-জওবারীর হাদিসসমূহ   (আবু আল-হাসান আল-জওবারী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আবু আল-হাসান আল-জওবারীর হাদিসসমূহ

গ্রন্থকার: আবু আল-হাসান আব্দুর রহমান বিন ইয়াসির আল-জওবারী (মৃত্যু ৪২৫ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি, যা ইসলাম ওয়েব সাইটের অন্তর্ভুক্ত জাওয়ামিউল কালিম ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪

[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ই জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ১)
مِنْ أَحَادِيثِ أَبِي الْحَسَنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَاسِرٍ الْجَوْبَرِيِّ رحمه الله رِوَايَةُ أَبِي الْقَاسِمِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي الْعَلاءِ الْمِصِّيصِيِّ الْفَقِيهِ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ أَبِي عَلِيٍّ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَشْلِيهَا الْمِصْرِيِّ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ أَبِي طَاهِرٍ بَرَكَاتِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَاهِرٍ الْقُرَشِيِّ الْخُشُوعِيِّ، عَنْهُ.

بسم الله الرحمن الرحيم
আবু হাসান আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াসির আল-জাওবারি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর হাদিসসমূহ থেকে; তাঁর থেকে আবুল কাসিম আলি বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন আবুল আলা আল-মিসসিসি আল-ফকিহ্-এর বর্ণনা।

তাঁর থেকে আবু আলি আল-হুসাইন বিন আলি বিন আশলিহা আল-মিসরির বর্ণনা।

তাঁর থেকে আবু তাহির বারাকাত বিন ইব্রাহিম বিন তাহির আল-কুরাশি আল-খুশুয়ির বর্ণনা।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الأَمِينُ أَبُو طَاهِرٍ الْخُشُوعِيُّ بَرَكَاتُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَاهِرٍ الْقُرَشِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الْفَضْلِ الْمِصْرِيُّ الْمَكْفُوفُ وَالْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَشْلِيهَا، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، فِي أَوَاخِر ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ ثَمَانٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، وَأَنَا أَسْمَعُ ، قَالَ: أَنَا الْفَقِيهُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي الْعَلاءِ الْمِصِّيصِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ يَاسِرٍ الْجَوْبَرِيُّ، فِي زُقَاقِ الرَّيَّانِ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ زِنْجَوَيْهِ الْبُخَارِيُّ، أَخْبَرَنِي أَبُو الْقَاسِمِ عَتِيقُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَسْدِيُّ، بِأَذَنَةَ، قَالَ: نَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ حَرْبٍ الطَّائِيُّ الْمَوْصِلِيُّ، نَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، مَوْلَى آلِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عليه السلام، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ لَهُ: «يَا عَمِّ أَلا أَصِلُكَ؟ أَلا أَحْبُوكَ؟ أَلا أَنْفَعُكَ؟» .

قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ.

قَالَ: "‌‌ فَصَلِّ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةً، فَإِذَا انْقَضَتِ الْقِرَاءَةُ، فَقُلْ: سُبْحَانَ اللَّهِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً قَبْلَ أَنْ تَرْكَعَ، ثُمَّ ارْكَعْ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ ارْفَعْ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ اسْجُدْ فَقُلْهَا عَشْرًا، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ فَقُلْهَا عَشْرًا، فَذَلِكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ، فَهِيَ ثَلاثُ مِائَةٍ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ، فَلَوْ كَانَتْ ذُنُوبُكَ مِثْلَ رَمْلِ عَالِجٍ، غَفَرَهَا اللَّهُ لَكَ ".

قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُولَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ؟ فَقَالَ: «قُلْهَا فِي كُلِّ جُمُعَةٍ، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ» حَتَّى قَالَ: «قُلْهَا فِي سَنَةٍ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আমিন আবু তাহির আল-খুশুয়ী বারাকাত বিন ইবরাহিম বিন তাহির আল-কুরাশি, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আলী আল-হুসাইন বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন জাফর বিন আল-ফাদল আল-মিসরি আল-মাকফুফ, যিনি ইবনে আশলিহা নামে পরিচিত; তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে ৫২৮ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শেষ দিকে, আর আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ আবুল কাসিম আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবিল আলা আল-মিসসিসি, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়াসির আল-জাওবারি, রাইয়ান গলিতে। আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন জিনজুয়াহ আল-বুখারি বলেছেন: আমাকে আদানা শহরে আবুল কাসিম আতিক বিন আবদুর রহমান আল-আসাদি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন হারব আত-তাঈ আল-মাওসিলি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যায়েদ বিন আল-হুবাব, মুসা বিন উবায়দাহ থেকে, আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি সাঈদ, যিনি আলে হাযমের মুক্তদাস, তিনি আবু রাফে থেকে, তিনি আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: «হে চাচা! আমি কি আপনাকে একটি দান প্রদান করব না? আমি কি আপনাকে একটি উপঢৌকন দেব না? আমি কি আপনার উপকার করব না?»।

তিনি বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল।

তিনি বললেন: "‌‌ আপনি চার রাকাত নামাজ পড়বেন; প্রতি রাকাতে ফাতিহাতুল কিতাব এবং একটি সুরা পাঠ করবেন। কিরাত শেষ হলে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে পনেরো বার বলবেন: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার , অতঃপর রুকু করবেন এবং তাতে দশবার এটি বলবেন, অতঃপর রুকু থেকে মাথা তুলবেন এবং দশবার এটি বলবেন, অতঃপর সিজদাহ করবেন এবং তাতে দশবার এটি বলবেন, অতঃপর সিজদাহ থেকে মাথা তুলবেন এবং দশবার এটি বলবেন। এভাবে প্রতি রাকাতে পঁচাত্তর বার হবে, আর চার রাকাতে মোট তিনশ বার। যদি আপনার গুনাহ আলিজ নামক মরুভূমির বালুরাশির সমানও হয়, তবুও আল্লাহ আপনার সেই গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।"

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! প্রতিদিন এটি আদায় করার সামর্থ্য কার আছে? তিনি বললেন: «এটি প্রতি জুমুআয় আদায় করবেন। যদি তা না পারেন তবে প্রতি মাসে একবার», এমনকি তিনি বললেন: «বছরে একবার হলেও এটি আদায় করবেন»।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ يَاسِرٍ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ الْعَبْدَرِيِّ، أَخْبَرَكُمْ سُلَيْمَانُ بْنُ أَيُّوبَ بْنِ حَذْلَمٍ، نَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رُزَيْقٍ، نَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، نَا ابْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي أَبُو كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّمَا‌‌ الْخَمْرُ مِنْ هَاتَيْنِ الشَّجَرَتَيْنِ: النَّخْلَةِ وَالْعِنَبَةِ "
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান বিন ইয়াসির, তিনি বলেন: আমি আবু বকর ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হারিস আল-আবদারীর নিকট পাঠ করেছি, (তিনি বলেন) সুলাইমান বিন আইয়ুব বিন হাযলাম তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াযীদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রুযাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালীদ বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কাসীর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: " নিশ্চয়ই মদ এই দুটি গাছ থেকেই হয়: খেজুর গাছ এবং আঙুর গাছ। "
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - قَالَ: أَنا سُلَيْمَانُ، نَا يَزِيدُ، نَا الْوَلِيدُ، نَا ابْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ‌‌ الْجِرَارِ وَالدُّبَّاءِ وَالظُّرُوفِ مِنَ الْمُزَفَّتِ»
৩ - তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আমর, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসির, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু), তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন মাটির কলসি, লাউয়ের খোল এবং আলকাতরা লেপিত পাত্রসমূহ ব্যবহার করা থেকে।»
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - قَالَ: أَنَا سُلَيْمَانُ، نَا يَزِيدُ، نَا الْوَلِيدُ، نَا ابْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَخْبَرَهُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: اسْتَفْتَى سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ الأَنْصَارِيُّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي‌‌ نَذْرٍ كَانَ عَلَى أُمِّهِ فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ تَقْضِيَهُ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اقْضِهِ عَنْهَا»
4 - তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ওয়ালিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আমর; আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরী, উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: সাদ বিন উবাদাহ আল-আনসারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফতোয়া চাইলেন এমন এক মানত সম্পর্কে যা তাঁর মায়ের জিম্মায় ছিল এবং তা পূরণ করার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "তুমি তা পূরণ করো তাঁর পক্ষ থেকে"।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - قَالَ: أَنَا سُلَيْمَانُ، نَا يَزِيدُ، نَا الْوَلِيدُ، نَا ابْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامِ بْنِ خُوَيْلِدٍ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْلِيمًا: «يَا حَكِيمُ ، إِنَّ‌‌ هَذَا الْمَالَ حُلْوٌ خَضِرٌ، فَمَنْ أَخَذَهُ بِسَخَاوَةِ نَفْسٍ بُورِكَ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكُ لَهُ فِيهِ، وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلا يَشْبَعُ، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى» .

قَالَ حَكِيمٌ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالَّذِي يُعِيدُ الْخَلْقَ، لا أَرْزَأُ أَحَدًا بَعْدَكَ شَيْئًا حَتَّى أُفَارِقَ الدُّنْيَا.

فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه يَدْعُو حَكِيمًا لِيُعْطِيَهُ الْعَطَاءَ فَيَأْبَى أَنْ يَقْبَلَ مِنْهُ شَيْئًا، فَقَالَ عُمَرُ: إِنِّي أُشْهِدُكُمْ يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى حَكِيمٍ أَنِّي أَعْرِضُ عَلَيْهِ حَقَّهُ الَّذِي قَسَمَ اللَّهُ لَهُ مِنْ هَذَا الْفَيْءِ فَيَأْبَى أَنْ يَأْخُذَهُ، فَلَمْ يَرْزَأْ حَكِيمٌ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

فَزَعَمَ ابْنُ عُمَرَ أَنَّ عُمَرُ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، قَالَ لَهُ: لا تَبِعْ إِذًا فِي سُوقِنَا.

فَقَالَ لَهُ حَكِيمٌ: إِذًا تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ.

فَزَعَمُوا أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو لَهُ يُبَارَكُ لَهُ فِي الصَّفْقَةِ
৫ - তিনি বললেন: সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াযিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনু আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যুহরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাকিম ইবনু হিযাম ইবনু খুওয়াইলিদ বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। এরপর পুনরায় আমি তাঁর কাছে চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «হে হাকিম, নিশ্চয়ই এই সম্পদ মিষ্ট ও সজীব। অতএব যে ব্যক্তি মনের উদারতার সাথে তা গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে; আর যে ব্যক্তি মনের লালসার সাথে তা গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে না, আর সে সেই ব্যক্তির ন্যায় হবে যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না। আর উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।’

হাকিম বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! সেই সত্তার শপথ যিনি সৃষ্টিজগতকে পুনরায় ফিরিয়ে আনবেন, আপনার পর আমি দুনিয়া ত্যাগ করা পর্যন্ত কারো থেকে কোনো কিছুই গ্রহণ করব না।

অতঃপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু হাকিমকে তাঁর পাওনা প্রদানের জন্য ডাকতেন, কিন্তু তিনি তাঁর থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করতেন। অতঃপর ওমর বললেন: হে মুসলিম সম্প্রদায়! আমি হাকিমের ব্যাপারে আপনাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাঁর কাছে তাঁর সেই হক পেশ করছি যা আল্লাহ এই ফায় (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) থেকে তাঁর জন্য বণ্টন করেছেন, কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকার করছেন। ফলে হাকিম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর মানুষের মধ্য হতে কারো কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করেননি।

ইবনু ওমর বর্ণনা করেছেন যে, ওমর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁকে বলেছিলেন: তাহলে তুমি আমাদের বাজারে বেচাকেনা করো না।

তখন হাকিম তাঁকে বললেন: তাহলে তো আপনি আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম করে দিচ্ছেন।

তাঁরা মনে করেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তাঁর ব্যবসায়িক চুক্তিতে বরকতের দোয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - قَالَ: أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ، نَا يَزِيدُ، نَا الْوَلِيدُ، نَا ابْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي هِلالُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ: بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ، فَقَالَ: «إِنَّ‌‌ مِمَّا أَخَافُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي مَا يُفْتَحُ عَلَيْكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا» .

فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ؟ فَقَالَ: فَأُرِينَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْزِلُ عَلَيْهِ، قَالَ: فَلُمْنَا الرَّجُلَ حِينَ كَلَّمَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ لا يُكَلِّمُهُ، قَالَ: فَلَمَّا جُلِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَعَلَ يَمْسَحُ عَنْهُ الرُّحَضَاءَ، ثُمَّ قَالَ: «أَيْنَ هَذَا السَّائِلُ؟» قَالَ: وَكَأَنَّهُ حَمِدَهُ، قَالَ: «إِنَّ الْخَيْرَ لا يَأْتِي بِالشَّرِّ، وَإِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ آكِلَةَ الْخَضِرِ، أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا هِيَ امْتَلأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتِ الشَّمْسَ، فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ، ثُمَّ رَتَعَتْ، وَإِنَّ هَذَا الْمَالَ نِعْمَ صَاحِبُ الْمُسْلِمِ هُوَ، فَمَنْ أَخَذَهُ بِحَقِّهِ فَأَعْطَى مِنْهُ الْمِسْكِينَ وَالْيَتِيمَ وَابْنَ السَّبِيلِ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلا يَشْبَعُ، ثُمَّ كَانَ عَلَيْهِ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
৬ - তিনি বলেন: সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াযিদ আমাদের বলেছেন, আল-ওয়ালিদ আমাদের বলেছেন, ইবন আমর আমাদের বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবন আবি কাসীর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, হিলাল ইবন আবি মাইমুনা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আতা ইবন ইয়াসার আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরীকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মানুষকে খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই‌‌ আমার পরে তোমাদের জন্য যা আমি ভয় করি, তা হলো তোমাদের জন্য উন্মুক্ত হওয়া পার্থিব চাকচিক্য ও এর সৌন্দর্য» .

তখন এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসে? তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কথা বলছিলেন না, তখন সেই ব্যক্তি তাঁর সাথে কথা বলায় আমরা তাকে তিরস্কার করলাম। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যখন ওহীর অবস্থা কেটে গেল, তখন তিনি তাঁর শরীর থেকে ঘাম মুছতে লাগলেন। এরপর তিনি বললেন: «সেই প্রশ্নকারী কোথায়?» বর্ণনাকারী বলেন: মনে হলো তিনি তার প্রশংসা করলেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই কল্যাণ অকল্যাণ নিয়ে আসে না। বসন্তকাল যা উৎপন্ন করে তার মধ্যে এমন কিছু থাকে যা অতিভোজনের কারণে ঘাস ভক্ষণকারীকে মেরে ফেলে। সে ভক্ষণ করে যতক্ষণ না তার দুই কোখ পূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন সে সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়ায়, অতঃপর মল ও মূত্র ত্যাগ করে, এরপর পুনরায় চরে বেড়ায়। আর এই সম্পদ একজন মুসলিমের জন্য কতই না চমৎকার সঙ্গী, যদি সে তা যথাযথভাবে গ্রহণ করে এবং তা থেকে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও মুসাফিরকে দান করে। আর যে ব্যক্তি তা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না। অতঃপর কিয়ামতের দিন এই সম্পদ তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে।»
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، نَا يَزِيدُ، نَا الْوَلِيدُ، نَا ابْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ رِئَابٍ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ قَبِيصَةَ جَالِسًا، فَأَتَاهُ نَفَرٌ مِنْ قَوْمِهِ يَسْأَلُونَهُ فِي نِكَاحِ صَاحِبِهِمْ، فَأَبَى أَنْ يُعْطِيَهُمْ شَيْئًا، فَلَمَّا انْصَرَفُوا عَنْهُ، قُلْتُ لَهُ: أَتَوْكَ يَسْأَلُونَ فِي نِكَاحِ صَاحِبِهِمْ، وَأَنْتَ سَيِّدُ قَوْمِكَ فَلَمْ تُعْطِهِمْ شَيْئًا.

قَالَ: إِنَّهُمْ سَأَلُونِي فِي غَيْرِ حَقٍّ، وَإِنْ صَاحِبُهُمْ عَمَدَ إِلَى ذَكَرِهِ فَعَصَبَهُ بِقِدٍّ حَتَّى يَيْبَسَ كَانَ خَيْرًا لَهُ مِنَ الْمَسْأَلَةِ الَّتِي سَأَلُوا لَهُ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: "‌‌ لا تَحِلُّ الْمَسْأَلَةُ إِلا لِثَلاثَةٍ: رَجُلٍ أَصَابَتْ مَالَهُ حَالِقَةٌ فَيَسْأَلُ حَتَّى يُصِيبَ سَدَادًا مِنْ مَعِيشَةٍ، ثُمَّ يُمْسِكُ عَنِ الْمَسْأَلَةِ، وَرَجُلٍ تَحَمَّلَ بَيْنَ قَوْمٍ حِمَالَةً فَيَسْأَلُ حَتَّى يُؤَدِّيَ حِمَالَتَهُ، ثُمَّ يُمْسِكُ عَنِ الْمَسْأَلَةِ، وَرَجُلٍ يُقْسِمُ ثَلاثةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَى مِنْ قَوْمِهِ بِاللَّهِ لَقَدْ حَلَّتْ لِفُلانٍ الْمَسْأَلَةُ، فَيَسْأَلُ حَتَّى يُصِيبَ قَوَامًا مِنْ مَعِيشَةٍ، ثُمَّ يُمْسِكُ عَنِ الْمَسْأَلَةِ، فَمَا كَانَ سِوَى ذَلِكَ فَإِنَّمَا هُوَ سُحْتٌ لا يَأْكُلُ إِلا سُحْتًا "
৭ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারুন বিন রিআব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি কাবিছাহ-র নিকট বসা ছিলাম, তখন তাঁর গোত্রের একদল লোক তাঁর নিকট এসে তাদের এক সঙ্গীর বিবাহের ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করল। কিন্তু তিনি তাদের কিছু দিতে অস্বীকার করলেন। যখন তারা তাঁর নিকট থেকে চলে গেল, আমি তাঁকে বললাম: তারা আপনার নিকট তাদের সঙ্গীর বিবাহের ব্যাপারে সাহায্য চাইতে এসেছিল, আর আপনি আপনার গোত্রের নেতা হওয়া সত্ত্বেও তাদের কিছুই দিলেন না।

তিনি বললেন: তারা আমার নিকট অন্যায্যভাবে প্রার্থনা করেছে। তাদের ঐ সঙ্গী যদি নিজের লিঙ্গকে কাঁচা চামড়ার ফালি দিয়ে বেঁধে রাখত যতক্ষণ না তা শুকিয়ে যায়, তবে তা তার জন্য ঐ ভিক্ষাবৃত্তির চেয়ে উত্তম হতো যা তারা তার জন্য প্রার্থনা করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "‌‌সাহায্য চাওয়া কেবল তিন ব্যক্তির জন্য বৈধ: এমন ব্যক্তি যার সম্পদ কোনো ধ্বংসাত্মক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে, ফলে সে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রার্থনা করে যতক্ষণ না সে জীবন ধারণের মতো ন্যূনতম সংস্থান লাভ করে, এরপর সে আর প্রার্থনা করে না; এবং এমন ব্যক্তি যে কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ মেটাতে আর্থিক দায়ভার গ্রহণ করেছে, সে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রার্থনা করে যতক্ষণ না সে সেই দায়ভার পরিশোধ করতে পারে, এরপর সে আর প্রার্থনা করে না; এবং এমন ব্যক্তি যার সম্পর্কে তার সম্প্রদায়ের তিনজন বুদ্ধিমান লোক আল্লাহর কসম খেয়ে বলে যে, অমুক ব্যক্তির জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ হয়েছে, সে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রার্থনা করে যতক্ষণ না সে জীবন ধারণের মতো সংস্থান লাভ করে, এরপর সে আর প্রার্থনা করে না। এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা কেবল অবৈধ সম্পদ, সে কেবল অবৈধ সম্পদই ভক্ষণ করে।"
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - قَالَ: أَنَا سُلَيْمَانُ، نَا يَزِيدُ، نَا الْوَلِيدُ، نَا ابْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي الْمُطَّلِبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ الْمَخْزُومِيُّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا تَرُدُّوا السَّائِلَ وَلَوْ بِظِلْفٍ مُحْتَرِقٍ»
৮ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব আল-মাখজুমি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা যাচনাকারীকে ফিরিয়ে দিও না, এমনকি তা একটি পোড়া খুর প্রদানের মাধ্যমে হলেও»
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - قَالَ: أَنَا سُلَيْمَانُ، نَا يَزِيدُ، نَا الْوَلِيدُ، نَا ابْنُ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ نَافِعًا قَالَ:‌‌ أَقْبَلَ سَائِلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَبَيْنَ يَدَيْهِ حُوتٌ، فَأُمِرَ نَافِعٌ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَيْهِ، فَقَالَ نَافِعٌ: بَلْ يُدْفَعُ إِلَيْهِ دِرْهَمٌ فَإِنَّهُ أَنْفَعُ لَهُ مِنْهُ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: " لا، بَلِ ادْفَعْهُ إِلَيْهِ، ثُمَّ تَلا هَذِهِ الآيَةَ: {وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا} [الإنسان: 8] .

وَأَنَا أُحِبُّهُ "
৯ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-ওয়ালীদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে এমন এক ব্যক্তি হাদীস শুনিয়েছেন যিনি নাফে‘-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমরের নিকট একজন সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তি আসল, এমতাবস্থায় তাঁর সামনে একটি মাছ রাখা ছিল। তখন নাফে‘-কে নির্দেশ দেওয়া হলো যেন তিনি সেটি তাকে দিয়ে দেন। তখন নাফে‘ বললেন: বরং তাকে একটি দিরহাম দেওয়া হোক, কারণ এটি তার জন্য ঐ মাছটির চেয়ে বেশি উপকারী হবে। ইবনে উমর বললেন: "না, বরং তুমি তাকে এটিই প্রদান করো।" অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {তারা খাবারের প্রতি ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীদের আহার দান করে} [সূরা আল-ইনসান: ৮]।

আর আমি এটি (মাছটি) পছন্দ করি।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ: نَا أَبِي، نَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ خُرَيْمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَرْوَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الْعُقَيْلِيُّ، نَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ، نَا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ، نَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَثِيرًا مَا كُنَّا نَسْمَعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ» .

فَقُلْنَا لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ آمَنَّا بِكَ، وَصَدَّقْنَا بِمَا حَدَّثْتَنَا بِهِ، فَهَلْ تَخَافُ عَلَيْنَا؟ قَالَ: «نَعَمْ، إِنَّ الْقُلُوبَ بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ اللَّهِ يُقَلِّبُهَا»
১০ - আবুল হাসান আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে খুরাইম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান ইবনে আবদুল মালিক আল-উকিয়লী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে আবু হাওয়ারী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু মুআবিয়াহ আদ-দারীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-আমাশ আবু সুফিয়ান থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা প্রায়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনতাম: «হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অটল রাখুন»।

অতঃপর আমরা তাঁকে বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনি আমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছি, তবুও কি আপনি আমাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, নিশ্চয়ই অন্তরসমূহ আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙ্গুলের মাঝে রয়েছে, তিনি তা পরিবর্তন করেন»।
(খণ্ড: ১) আহাদিসু আবিল হাসান আল-জওবারি (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - قَالَ: نَا أَحْمَدُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا أُسَامَةَ، قَالَ:‌‌ رَأَيْتُ الأَوْزَاعِيَّ ، وَسُفْيَانَ، فَلَوْ خُيِّرْتُ لِلأُمَّةِ لاخْتَرْتُ الأَوْزَاعِيَّ؛ لأَنَّهُ كَانَ أَحْلَمَ الرَّجُلَيْنِ

قَالَ أَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: وَسَمِعْتُ الْوَلِيدَ بْنَ مُسْلِمٍ، وَسُئِلَ عَنْ مَسْأَلَةٍ وَابْنُ شَابُورَ جَالِسٌ، فَقَالَ الْوَلِيدُ لِصَاحِبِ الْمَسْأَلَةِ: سَلْ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ.
১১ - তিনি বলেন: আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু উসামাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আওযায়ী ও সুফিয়ানকে দেখেছি। যদি আমাকে উম্মাহর জন্য পছন্দ করার এখতিয়ার দেওয়া হতো, তবে আমি আওযায়ীকেই পছন্দ করতাম; কারণ তিনি ছিলেন অধিকতর সহনশীল ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে।

আহমদ বলেন, তিনি বলেন: আমি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমকে বলতে শুনেছি; তাকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যখন ইবনে শাবুর উপবিষ্ট ছিলেন। তখন ওয়ালিদ প্রশ্নকারীকে বললেন: আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করুন।