(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: -)
سلافة العصر في محاسن الشعراء بكل مصر   (ابن معصوم الحسني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: سلافة العصر في محاسن الشعراء بكل مصر

المؤلف: صدر الدين المدني، علي بن أحمد بن محمد معصوم الحسني الحسيني، المعروف بعلي خان بن ميرزا أحمد، الشهير بابن معصوم (ت 1119هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 350

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুলাফাতুল আসর ফি মাহাসিনুশ শুয়ারা বি-কুল্লি মিসর   (ইবনে মাসুম আল-হাসানি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: সুলাফাতুল আসর ফি মাহাসিনুশ শুয়ারা বি-কুল্লি মিসর

লেখক: সদরুদ্দীন আল-মাদানী, আলী ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ মাসুম আল-হাসানি আল-হুসাইনি, যিনি আলী খান ইবনে মির্জা আহমাদ নামে পরিচিত, ইবনে মাসুম নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ১১১৯ হিজরি)

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৩৫০

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١)
سلافة العصر في محاسن الشعراء بكل مصر

تأليف السيد علي صدر الدين المدني المعروف بابن معصوم

‌‌خطبة المؤلف

بسم الله الرحمن الرحيم

يا من أودع جواهر الكلم حقائق الشفاه فنظمت منها الألسن لحمده تقاصير وعقوداً ويا من اطلع زواهر الحكم من كمام الأفواه فجنت منها العقول لشكره أزاهير وروداً نحمدك على ما قلدتنا به من مننك التي فاقت قلائد العقيان وعقود الدرر ونشكرك على ما أهلتنا له من اقتناص شوارد فوائد الأعيان الواضحة الحجول والغزر حمداً تتحلى بحلاه أجياد المهارق ولبات الطروس وشكراً يتجلى بسناه مزيد الآلاء تجلي الغادة العروس ما كحلت أجفان سطور الدفاتر بمراود أقلام اثمد المحابر وجلت ماشطة اليراعه عرائس أبكار الأفكار في منصات البراعه ونصلي على رسولك الذي قلد بنظم عقود ألفاظه للزمان جيداً ونحراً الصادع بقوله الصادق أن من الشعر لحكمة وإن من البيان لسحراً نبينا محمد الهادي المظلل بالغمامه المفحم بلسانه الضادي مدراره نجد ومصاقع تهامه المؤيد بمعجز آيات تتلى على مر الدهور ولا تبلى الممدود سرادق مجده على قمم الأفلاك شرفاً ونبلاً وعلى آله الذين مهدوا بعلياء فصاحتهم نهج البلاغه وصحبه الذين امتثلوا أوامره وصدقوا بلاغه صلى الله وسلم عليه وعليهم صلاة وسلاماً يعبق الكون من نشرهما ريا ما تحلت عروس السماء بسوار الهلال ومنطقة الجوزاء وفرط الثريا وبعد فيقول الفقير علي صدر الدين المدني ابن أحمد نظام الدين الحسيني الحسني أنالهما الله سبحانه من فضله السني إن الأدب روض لا تزال عذبات افنان فنونه تترنح بنسمات القبول وثمرات أوراقه في الأذواق معسولة المجتنى لا يعتري نضارتها على مر الزمان ذبول تبسط أردان الأذهان لاجتناء نواره وزهوره وتملأ أكمام الأفهام من ورود أكمام منظومه ومنثوره وتميس بسنائمه معاطف اللسان لا الأغصان وتسقى بسلسله رياض الجنان لا الجنان ويثأرج بأنفاسه المنطق السحار لا الأسحار كيف لا وهو فرض الإنس المؤدى وحبيب النفس المفدى وصديق الطبع وعشيق السمع وراح العقل ونقل النقل طالما باهت أربابه بسناه القمر في ليالي السمر وضاهت بلآلي نظم درر البحور في نحور الحور وساجلت بسجع نثره المصون سجع الحمائم في فروع الغصون حتى رفعت بهم غريدته عقيرتها إذ سجعت ونبهت ذات طوقه بحسن ألحانها الألحان مذ هجعت

وكم أهدت إلى الأسماع معنىً … كأنّ نسيمه شرقٌ براح

ولفظاً ناهب الحلي الغواني … وأهدى السحر للحدق الملاح

ولله عصابه فوفوا سهام الاصابه فجددوا معاهده في كل عصر واجتلوا من خرائده يتيمة دهر ودمية قصر ونظموا من فرائده قلائد العقيان ونسقوا من فوائده عقود الجمان وادخروا من أعلاقه أنفس ذخيره ووردوا من منهله صافيه ونميره وانتشوا من سلافته في أشرف حانه واقتطفوا من رياض ورده وريحانه فنهجوا لاقتفاء آثارهم سبيلاً وسقوا من رحيق أفكارهم سلسبيلاً شكر الله سعيهم وأحسن يوم الجزاء رعيهم هذا وإني منذ ارتأيت بعين البصيرة في عالم الوجود وأكرمني بمناط التكليف مفيض الكرم والجود لم أزل ثاقب العزيمه كالشهاب الثاقب في اكتساب المناقب ماضي الصريمه كالجرار الباتر في اقتناء المآثر وناهيك بالعلم الشريف منقبة وفخراً وبفرائد فوائده إذا اصطفيت الذخائر ذخراً مولعاً بافتضاض أبكار الأفكار بالآصال والأبكار كلفاً باجتلاء عرائس المأثور من المنظوم والمنثور متجملاً بأهداب الآداب تجمل الأجفان بالأهداب اقتني من نفائس الأدب كل تليد وطارف واجتلي من كرائمه كل خريدة ترفل في حلل المطارف واجتني من رياضه بواكير رياحينه وثماره واعتني بجميع أخبار سماسرته وأحاديث سماره لا سيما ما للمعاصرين ومن تقدم عصرهم قليلاً من أزاهير النظم والنثر التي هب عليها نسيم القبول بليلاً فطالما عنيت بتقييد شواردهم النادرة الفذة عملاً بمقتضى المثل المشهور لكل جديد لذة حتى توفر لدي منها رقائق تحسد رقتها أنفاس النسيم وقلائد تروع حالية العذارى فتلمس جانب العقد النظيم وفقرات يفتقر إليها من الأدباء كل قاص وداني

وقوافٍ لو ساد الجدّ نيطت … موضع الدر من رقاب الغواني

تناهى النهى فيها وابدع نظمها … خواطر ينقاد البديع لها قسرا
সুলাফাতুল আছর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি-কুল্লি মাসর (যুগের সর্বোত্তম সুধা: প্রত্যেক ভূখণ্ডের কবিদের গুণাবলী বর্ণনায়)

সংকলনে: আস-সাইয়্যিদ আলী ছদরুদ্দীন আল-মাদানী, যিনি ইবনে মাসূম নামে সুপরিচিত

‌‌গ্রন্থকারের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে সেই সত্তা, যিনি ওষ্ঠাধারের হাকীকতসমূহে বাক্যের মণি-মাণিক্য গচ্ছিত রেখেছেন, ফলে রসনাসমূহ তাঁর প্রশংসায় সুশোভিত মালা ও হার গেঁথেছে; এবং হে সেই সত্তা, যিনি মুখরূপ মুকুল থেকে প্রজ্ঞার উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা প্রস্ফুটিত করেছেন, ফলে বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা তাঁর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ গোলাপের পুষ্পরাজি চয়ন করেছে। আমরা আপনার প্রশংসা করি আপনার সেই সকল অনুগ্রহের জন্য যা আপনি আমাদের গলার হারে পরিণত করেছেন, যা স্বর্ণের হার ও মুক্তার মালার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এবং আমরা আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি সেই সকল বিরল ও শ্রেষ্ঠ কল্যাণসমূহ অর্জনে আমাদের যোগ্য করার জন্য, যার ঔজ্জ্বল্য ও প্রাচুর্য সুস্পষ্ট। এমন প্রশংসা যা পাণ্ডুলিপির গ্রীবা ও কাগজের বক্ষকে অলঙ্কৃত করে, আর এমন কৃতজ্ঞতা যার জ্যোতিতে নিয়ামতের বৃদ্ধি নববধূর রূপের ন্যায় দেদীপ্যমান হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত দোয়াতের সুরমাদানি থেকে কলমরূপ শলাকা দ্বারা খাতার পঙ্ক্তিগুলোর পলক সুরমায়িত হবে এবং যতক্ষণ কলমরূপ কেশবিন্যাসকারিনী বাগ্মিতার মঞ্চে মৌলিক চিন্তারূপ নববধূদের সুসজ্জিত করবে। আমরা দরুদ পাঠ করি আপনার সেই রাসূলের প্রতি, যিনি তাঁর বাক্যমালার সুশৃঙ্খল বিন্যাস দ্বারা কালের গ্রীবা ও বক্ষকে অলঙ্কৃত করেছেন। যিনি তাঁর সত্য বাণীর মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে: "নিশ্চয়ই কিছু কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে এবং নিশ্চয়ই কিছু বর্ণনায় যাদু রয়েছে।" আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.), যিনি হিদায়াতকারী, যাঁর ওপর মেঘমালা ছায়া দান করত, যাঁর আরবী ভাষা সকল বাদানুবাদকারীকে নিরুত্তর করে দিত, যাঁর বদান্যতা নজদ ও তিহামার প্রশস্ত ভূমি জুড়ে বিস্তৃত। যিনি এমন মুজিজাস্বরূপ আয়াতসমূহ দ্বারা সমর্থিত যা মহাকালের পরিক্রমায় পঠিত হয় কিন্তু পুরনো হয় না। যাঁর মর্যাদার শামিয়ানা আকাশমন্ডলীর শিখর পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্যের সাথে প্রসারিত। আর তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যাঁরা তাঁদের সুউচ্চ বাগ্মিতার মাধ্যমে অলঙ্কারশাস্ত্রের পথ সুগম করেছেন; এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা তাঁর আদেশ পালন করেছেন এবং তাঁর বাণীসমূহ সত্যয়ন করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক এমন রহমত ও শান্তি, যার সুগন্ধে বিশ্বজগত ততক্ষণ পর্যন্ত সুবাসিত হতে থাকবে যতক্ষণ আসমানের বধূ চন্দ্রের কঙ্কণ, কালপুরুষের কোমরবন্ধ এবং কৃত্তিকা নক্ষত্রের হার দ্বারা সুশোভিত থাকবে। অতঃপর, আল্লাহর অনুগ্রহপ্রার্থী আলী ছদরুদ্দীন আল-মাদানী ইবনে আহমাদ নিযামুদ্দীন আল-হুসাইনী আল-হাসানী—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁদের উভয়কে তাঁর সুমহান অনুগ্রহ দান করুন—বলছেন: সাহিত্য হচ্ছে এমন এক উদ্যান যার বিচিত্র শাখার পল্লবসমূহ সবসময় কবুলিয়তের সমীরণে দোদুল্যমান থাকে এবং যার পত্রপল্লবের ফলসমূহ আস্বাদনে অত্যন্ত সুমিষ্ট। মহাকালের পরিক্রমায় এর সজীবতায় কখনও মলিনতা আসে না। মেধার আঁচল প্রসারিত হয় এর ফুল ও কলি চয়নের জন্য, আর বুঝ-জ্ঞানের ঝুলি পূর্ণ হয় এর গদ্য ও পদ্যের পুষ্পরাজি দ্বারা। শরীরের অবয়ব নয়, বরং রসনার প্রান্তসমূহ এর গৌরবে দোদুল্যমান হয়। এর ঝর্ণাধারার মাধ্যমে অন্তরের উদ্যানসমূহ সিক্ত হয়, মাটির বাগান নয়। এর সুবাসে জাদুকরী বাকপটুতা আমোদিত হয়, শেষ রাত নয়। কেনই বা হবে না? অথচ এটিই তো মানুষের অপরিহার্য বিনোদন, প্রাণের প্রিয় সম্পদ, স্বভাবের বন্ধু, কর্ণের প্রেমাস্পদ, বিবেকের সুরা এবং বর্ণনার পাথেয়। রাতের গল্পের আসরে এর জ্যোতির কাছে চাঁদের আলো কতবার ম্লান হয়েছে! সমুদ্রের মুক্তামালার ন্যায় এর কাব্যের সৌন্দর্য হুরদের গ্রীবাদেশের মুক্তার সাথে পাল্লা দিয়েছে। এর সংরক্ষিত গদ্যের কাকলী বৃক্ষশাখার ঘুঘুর কুজনের সাথে প্রতিযোগিতা করেছে। এমনকি এর সুমিষ্ট সুর তার উচ্চকণ্ঠকে তুলে ধরেছে যখন সে গান গেয়েছে এবং এর সুমধুর তানের মূর্ছনায় ঘুমন্ত সুরসমূহ জেগে উঠেছে।

কত অর্থ এটি কর্ণকুহরে উপহার দিয়েছে … যার সুবাস যেন উদিত প্রভাতের নির্মল বায়ু

আর এমন শব্দ যা রূপসীদের অলঙ্কারকে ম্লান করে দেয় … এবং সুন্দর চক্ষুসমূহে যাদু উপহার দেয়

আল্লাহর জন্য নিবেদিত একদল ব্যক্তি, যাঁরা লক্ষ্যভেদে পূর্ণতা অর্জন করেছেন। তাঁরা প্রত্যেক যুগে সাহিত্যের মিনারগুলোকে নতুনত্ব দান করেছেন। তাঁরা মহাকালের শ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং প্রাসাদের সৌন্দর্যের ন্যায় বিরল সাহিত্যকর্ম বের করে এনেছেন। তাঁরা মূল্যবান মণি-মাণিক্য দিয়ে স্বর্ণের হার গেঁথেছেন এবং মুক্তার দানার ন্যায় নিপুণভাবে হিতোপদেশসমূহ সাজিয়েছেন। তাঁরা অতি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে সাহিত্যের নির্যাস সঞ্চয় করেছেন এবং এর স্বচ্ছ ও নির্মল ঝর্ণাধারা হতে পান করেছেন। তাঁরা শ্রেষ্ঠ পানশালায় এর সুধায় মত্ত হয়েছেন এবং এর গোলাপ ও সুগন্ধি ফুলের বাগান থেকে ফুল চয়ন করেছেন। তাঁরা পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণের পথ তৈরি করেছেন এবং তাঁদের চিন্তার সুধা থেকে জান্নাতের ঝর্ণাধারা পান করিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং প্রতিদান দিবসে তাঁদের উত্তম রক্ষণাবেক্ষণ করুন। মূল কথা হলো, আমি যখন থেকে অস্তিত্বের জগতে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে অবলোকন করেছি এবং দান ও মহানুভবতার আঁধার আল্লাহ আমাকে শরীয়তের বিধান পালনের যোগ্য করে সম্মানিত করেছেন, তখন থেকেই আমি উত্তম গুণাবলী অর্জনে খসে পড়া তারার ন্যায় সুতীক্ষ্ণ সংকল্পবদ্ধ ছিলাম এবং কীর্তি অর্জনে ধারালো তরবারির ন্যায় অটল ছিলাম। মহৎ জ্ঞান মর্যাদা ও গৌরবের জন্য আপনার জন্য যথেষ্ট, আর যদি আপনি সম্পদ সঞ্চয় করতে চান তবে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানের নির্যাসই উত্তম সম্পদ। আমি দিনরাত মৌলিক চিন্তাধারা উন্মোচনে মগ্ন থাকতাম এবং পদ্য ও গদ্যের বর্ণিত সুন্দর রূপসমূহ দর্শনে আসক্ত ছিলাম। সাহিত্যের আঁচল দ্বারা আমি নিজেকে সেভাবেই সুশোভিত করতাম যেভাবে চোখের পাপড়ি চোখকে সজ্জিত করে। আমি সাহিত্যের প্রাচীন ও আধুনিক সকল মূল্যবান সম্পদ সংগ্রহ করতাম এবং এর শ্রেষ্ঠ নিদর্শনাদি হতে এমন প্রতিটি বিরল বিষয় প্রত্যক্ষ করতাম যা সুন্দর আবরণে আবৃত। আমি এর উদ্যান থেকে সুগন্ধি ফুল ও ফলের অগ্রভাগ চয়ন করতাম এবং এর প্রচারক ও বর্ণনাকারীদের সকল সংবাদ ও গল্পের প্রতি যত্নশীল থাকতাম। বিশেষ করে সমসাময়িক এবং তাদের সামান্য পূর্ববর্তী কবিদের সেই সকল পদ্য ও গদ্যের পুষ্পরাজি, যেগুলোর ওপর কবুলিয়তের স্নিগ্ধ বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। আমি দীর্ঘকাল ধরে তাঁদের দুর্লভ ও অনন্য সৃষ্টিসমূহ লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম, কারণ সুপরিচিত প্রবাদ আছে—"প্রতিটি নতুন বিষয়েরই এক আলাদা স্বাদ থাকে।" পরিশেষে আমার কাছে এমন কিছু সূক্ষ্ম রচনা জমা হয়েছে যার লালিত্য দেখে বসন্তের বাতাসও ঈর্ষা বোধ করে, এবং এমন কিছু কাব্যমালা যা অলঙ্কার পরিহিতা তরুণীদের চমৎকৃত করে এবং তারা তাদের সুবিন্যস্ত হারের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। আর এমন সব অনুচ্ছেদ যা দূর ও নিকটের সকল সাহিত্যিকের জন্য অপরিহার্য।

এমন সব অন্ত্যমিল, যদি ভাগ্য সহায় হতো তবে সেগুলোকে … রূপসীদের কণ্ঠে মুক্তার হারের স্থলে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো

প্রজ্ঞা এতে পূর্ণতা পেয়েছে এবং এর বিন্যাসে চমৎকারিত্ব এনেছে … এমন সব চিন্তা, যার কাছে অলঙ্কারশাস্ত্র বাধ্য হয়ে আত্মসমর্পণ করে
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢)
إذا لحظت زادت نواظرنا ضيا … وإن أنشدت فاحت مجالسنا عطرا

تنازعها قلبي ملياً وناظري … فأعطيت كلاً من محاسنها شطراً

فنزّهت طرفي في موشى رياضها … والقطت فكري بين ألفاظها درّا

تضاحكنا فيها المعاني فكلما … تأملت فيها لفظة خلتها ثغرا

فمن ثيبٍ لم تفترع غير خلسة … وبكرٍ من الألفاظ قد زوجت بكرا

وإذا كان لكل زمان رجال. ولكل حلبة مضمار ومجال. فغير بدع أن برزت الأواخر بالبديع الفاخر. وازجت فلكها المفاخر. في بحر الفضل الزاخر. شعر

قل لمن لا يرى المعاصر شيّا … ويرى للأوائل التقديما

إن ذاك القديم كان حديثاً … وسيبقى هذا الحديث قديما

على أن تأخر الزمان. لا ينافي التقدم في الإحسان. فقد يتأخر الهاطل عن الرعد. والنائل عن الوعد. ومراتب الاعداد، تترقى بتأخير رقمتها وتزداد. شعر

تأخر عصراً فاستزاد من العليا … كما زاد بالتأخير ما يرقم الهند

وهذا أمر مفرغ من بيان حجته. وتمهيد محجته. وكثيراً ما عن لي أن أجمع ديواناً يشتمل على محاسن أهل العصر. اسلك فيه سبيل يتيمة الدهر ودمية القصر. وغيرهما من الكتب المقصورة على هذا الغرض. المقرطسة سهامها المفوقة لشواكل الغرض. فكان يصدني عن ذلك ما منيت به من حوادث دهر تستفرغ صبر الجليد. وصروف أيام تشيب بوقائعها رأس الوليد. ومقاساتي لمحن البين والاغتراب. وفراق الوطن والأهل والأتراب. إلى غير ذلك من لوائح انكاد وحرق. وخطوب لو شرحها لسان القلم لالتهب بنارها واحترق. شعر

وصفي لحالي محال أن أسطرهُ … وكيف يمكن وضع النار في الورق

لا سيما مع التخلي عن كل صاحب وأنيس. والتحلي بهموم كأن الدهر قصد بالجمع بينها وبين همي التجنيس. والزامي داراً اضيق من سم الخياط. يكاد ينقطع للدخول فيها من القلب النياط. ولا جليس ولا أنيس إلا كتاب أو صحيفه. آنس فيهما إلى فنون البحث وقد عدمت تصحيفه. وذلك من سنة ثلاث وسبعين إلى آخر سنة إحدى وثمانين. وهي السنة التي شرعت في آخرها في تأليف هذا الديوان. والله أعلم بما يعقبه الدهر بعد هذا الأوان. وإلى الآن لم يبد لهذه الأزمة فرج. ولا أذن صباح ليلها المدلهم بالبلج. ولله در الصلاح الصفدي حيث قال في مثل هذه الحال

لزمت بيتي مثل ما قيل لي … ولم أعاند حادث الدهر

وليس لي درع يردّ الردى … استغفر الله سوى صبري

علماً بأن البؤس رهن الرخا … وغاية العسر إلى اليسر

وقد يسلّ السيف من غمده … ويخرج الدرّ من البحر

وتبرز الصهباء من دنها … ويرجع النور إلى البدر

فهذه نبذة من حقيقة أحوالي التي تمضي في هذه البلاد. وصفة أيام التي تنقضي وما لحسراتي فيها انقضاء ولا نفاد. ثم لم أزل أقدم رجلاً وأؤخر أخرى. واسوف في الأسر من يوم إلى يوم والتسويف بمثلي أحرى إلى أن أهدي إلي من مكة المشرفة. لا زالت بأقراط السرور مشنفة. كتاب ريحانة الألبا. وزهرة الحياة الدنيا. تأليف العلامة التحرير. ومالك أزمة التحقيق والتحرير. شهاب الدين أحمد الخفاجي. وهو الشهاب الذي أضاء نور فضله في هذا الزمن الداجي. فرأيته قد قصد الغرض الذي كنت قصدته. ونحا ذلك المنهج الذي كنت أردته وما وردته. من جمع محاسن أهل العصر وأخبارهم وتقييد شوارد منشاآتهم وأشعارهم. فأجاد فيما ألف. وتكفل بالمقصود وما تكلف. فلله كتابه من ريحانة تنفست في ليلها البارد. وعطرت معاطس الأسماع بطيب نشرها الوارد. حتى خاطبها كل كلف بالأدب راح لعرفها منتشقاً.

حيا بك الله عاشقيك فقد … أصبحت ريحانة لمن عشقا

وكنت كتبت على ظهر نسخة منها مضمناً

دعت ريحانة الأدباء لبى … فلبى وهو ممتثل مطيع

فقال وقد أجاب بغير ريث … أمن ريحانة الداعي السميع
যখন সে দৃষ্টিপাত করে, আমাদের চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায় … আর যখন সে আবৃত্তি করে, আমাদের মজলিসগুলো সুগন্ধে মৌ মৌ করে।

দীর্ঘক্ষণ ধরে আমার হৃদয় ও দৃষ্টি তার সৌন্দর্যের মোহে বিবাদে লিপ্ত ছিল … অতঃপর আমি তার সৌন্দর্যের একটি অংশ প্রত্যেককে প্রদান করে শান্ত করলাম।

আমি তার কারুকার্যময় উদ্যানসমূহে আমার দৃষ্টিকে পরিভ্রমণ করালাম … এবং তার শব্দাবলির মাঝ থেকে আমার চিন্তার মাধ্যমে মুক্তা কুড়ালাম।

সেখানে অর্থসমূহ আমাদের সাথে হাস্যরসে মেতে ওঠে; ফলে যখনই আমি … কোনো শব্দের প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করি, সেটিকে একটি হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল বলে মনে হয়।

কোনোটি এমন অভিজ্ঞা শব্দ, যা হঠাৎ দৃষ্টিগোচর হয় মাত্র … আবার কোনোটি কুমারী শব্দ, যার সাথে অন্য কুমারী শব্দের চমৎকার মিলন ঘটানো হয়েছে।

আর যেহেতু প্রত্যেক যুগেরই একদল মহান ব্যক্তি থাকে, এবং প্রতিটি প্রতিযোগিতারই একটি মাঠ ও ক্ষেত্র থাকে, তাই পরবর্তী প্রজন্মের মনীষীদের চমৎকার ও আভিজাত্যপূর্ণ উদ্ভাবনী শক্তিতে আত্মপ্রকাশ করা এবং শ্রেষ্ঠত্বের উত্তাল সমুদ্রে তাদের গৌরবের তরী চালনা করা কোনো অভিনব বিষয় নয়। কবিতা:

তাকে বলো, যে সমসাময়িকদের তুচ্ছ জ্ঞান করে … এবং কেবল পূর্ববর্তীদেরই শ্রেষ্ঠত্ব দেয়—

নিশ্চয়ই সেই প্রাচীনটিও এককালে নতুন ছিল … আর অচিরেই এই নতুনটিও প্রাচীন হয়ে যাবে।

তাছাড়া সময়ের দিক থেকে পেছনে আসার অর্থ এই নয় যে, উৎকর্ষ সাধনেও সে পিছিয়ে থাকবে। কেননা বজ্রধ্বনি শোনা যাওয়ার পরই মুষলধারে বৃষ্টি নামে, আর প্রতিশ্রুতির পরেই তা বাস্তবায়িত হয়। আর সংখ্যার বিন্যাসেও দেখা যায়, শেষের অংকের মাধ্যমেই তার মান বৃদ্ধি ও উন্নতি ঘটে। কবিতা:

তিনি যুগে পিছিয়ে এসেছেন বটে, কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বে আরও সমৃদ্ধ হয়েছেন … ঠিক যেমন ভারতীয় সংখ্যাসমূহ শেষে বসার কারণেই তাদের মান বৃদ্ধি পায়।

এটি এমন এক বিষয় যার প্রমাণ সুষ্পষ্ট এবং পথ সুগম। আমি প্রায়ই মনে করতাম যে, সমকালীন গুণীজনদের শ্রেষ্ঠত্বসমূহ নিয়ে একটি কাব্যসংগ্রহ সংকলন করব। এতে আমি ‘ইয়াতিমাতুদ দাহর’ ও ‘দুমইয়াতুল কাসর’-এর পথ অনুসরণ করব এবং এই জাতীয় অন্যান্য কিতাবগুলোর পদ্ধতি গ্রহণ করব, যেগুলোর লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট। কিন্তু যুগের সেসব বিপদাপদ আমাকে এ কাজ থেকে বারবার বিরত রেখেছিল, যা পরম ধৈর্যশীলদের ধৈর্যও নিঃশেষ করে দেয়। সময়ের সেসব বিড়ম্বনা যা তার ভয়াবহতায় শিশুর চুলকেও সাদা করে দেয়। বিচ্ছেদ ও পরবাসের কষ্ট, স্বদেশ, পরিবার ও বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া—এসবই আমাকে জর্জরিত করেছিল। এ ছাড়াও ছিল দুঃখ ও যন্ত্রণার নানা অনল; কলমের জিভ যদি তা বর্ণনা করতে যেত, তবে সেই আগুনেই তা দগ্ধ ও ভস্মীভূত হয়ে যেত। কবিতা:

আমার অবস্থার বর্ণনা লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব … কাগজের ওপর আগুন রাখা কীভাবে সম্ভব?

বিশেষ করে যখন সকল বন্ধু ও সঙ্গী থেকে আমি বিচ্ছিন্ন এবং এমন সব উদ্বেগে পরিবেষ্টিত, মনে হয় যেন কালচক্র আমার বিষণ্ণতার সাথে মিল রাখতেই এগুলোর সমাবেশ ঘটিয়েছে। আমাকে এমন এক বাসগৃহে আবদ্ধ থাকতে হয়েছে যা সুঁইয়ের ছিদ্রে চেয়েও সংকীর্ণ। সেখানে প্রবেশ করতে গেলে হৃদপিণ্ড ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। সেখানে কিতাব বা পান্ডুলিপি ছাড়া আমার কোনো সঙ্গী বা বন্ধু ছিল না। ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত থেকে নানা জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমেই আমি সেখানে প্রবোধ খুঁজতাম। এটি ১০৭৩ হিজরি থেকে ১০৮১ হিজরি সালের শেষ পর্যন্ত সময়ের কথা। এই সালের শেষ দিকেই আমি এই সংকলনটি রচনায় হাত দেই। এই সময়ের পর ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আল্লাহই ভালো জানেন। এখন পর্যন্ত এই সংকট থেকে মুক্তির কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না এবং এই নিকষ কালো অন্ধকারের পর প্রভাতের কোনো আভাস মেলেনি। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে সালাহ আস-সাফাদীর উক্তিটি কতই না চমৎকার, যখন তিনি বলেছিলেন:

আমাকে যেমনটি বলা হয়েছিল, আমি ঘরেই অবস্থান করলাম … এবং যুগের পরিবর্তনের সাথে কোনো বিবাদে লিপ্ত হলাম না।

মৃত্যুকে প্রতিহত করার মতো কোনো ঢাল আমার নেই … আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি—ধৈর্য ছাড়া আর কিছুই নেই।

আমি জানি যে, দুর্দশার পরেই সুখের নিশ্চয়তা রয়েছে … আর চরম কষ্টের শেষ সীমা হচ্ছে স্বস্তি।

খাপ থেকে তো তরবারি উন্মোচিত হবেই … আর সমুদ্র থেকেই মুক্তা আহরিত হয়।

মদিরা তো তার পাত্র থেকে নির্গত হবেই … আর চাঁদে তার আলো ফিরে আসবেই।

এটি ছিল আমার প্রকৃত অবস্থার একটি সারসংক্ষেপ, যা এই দেশে অতিবাহিত হচ্ছে। আমার দিনগুলো এভাবেই ফুরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমার পরিতাপের যেন কোনো শেষ নেই। আমি সিদ্ধান্তহীনতায় দুলছিলাম—কখনো সামনে এগোতাম আবার কখনো পিছিয়ে আসতাম। এভাবে কারাবন্দি অবস্থায় দিনাতিপাত করছিলাম এবং কালক্ষেপণই আমার জন্য স্বাভাবিক ছিল। শেষ পর্যন্ত মক্কা মুকাররমা থেকে আমার কাছে একটি কিতাব উপহার হিসেবে এল, যা আনন্দের অলংকারে সজ্জিত—কিতাবটির নাম ‘রায়হানাতুল আলিব্বা ওয়া যাহরাতুল হায়াতুদ্দুনিয়া’। এটি প্রখ্যাত বিজ্ঞ আল্লামা, গভীর গবেষণার অধিকারী শিহাবুদ্দিন আহমদ আল-খাফাজীর রচনা। তিনি সেই নক্ষত্র যার ইলমের আলো এই ঘোর অন্ধকার যুগেও দীপ্তি ছড়াচ্ছে। আমি দেখলাম যে, আমি যা সংকল্প করেছিলাম তিনি সেই উদ্দেশ্যেই এটি রচনা করেছেন এবং আমি যে পথে চলতে চেয়েছিলাম কিন্তু চলতে পারিনি, তিনি সেই পথেই অগ্রসর হয়েছেন। অর্থাৎ তিনি সমসাময়িকদের গুণাবলি ও সংবাদ সংগ্রহ করেছেন এবং তাদের গদ্য ও পদ্যের চয়নিকা লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি যা রচনা করেছেন তাতে চমৎকার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন এবং কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই উদ্দিষ্ট বিষয়ে সফল হয়েছেন। আল্লাহর শপথ! তার কিতাবটি যেন এক সুগন্ধি ফুল, যা শীতল রজনীতে প্রস্ফুটিত হয়েছে এবং যার মনমাতানো সৌরভে শ্রোতাদের শ্রবণেন্দ্রিয় সুরভিত হয়েছে। সাহিত্যের অনুরাগী প্রত্যেকেই এর সুগন্ধে আকৃষ্ট হয়ে বলতে বাধ্য হয়েছে:

তোমার প্রেমাস্পদদের আল্লাহ তোমার মাধ্যমে আনন্দিত করুন, কেননা … তুমি প্রেমাতুরদের জন্য সুগন্ধি পুস্পে পরিণত হয়েছ।

আমি তার একটি পান্ডুলিপির পৃষ্ঠদেশে ত تضمীন (অন্যের পদ্য নিজের কাব্যে যুক্ত করা) করে লিখেছিলাম:

সাহিত্যের সুগন্ধি ফুল যখন ডাকল, সে তাতে সাড়া দিল … সে অনুগত ও বাধ্য হয়েই তাতে সাড়া দিয়েছে।

অতঃপর সে অবিলম্বেই উত্তর দিয়ে বলল … সেই শ্রবণকারী কি ‘রায়হানা’ থেকে ডাকছেন?
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٣)
بيد أن اقتطف ريحانة من روض. وامتاح نقطة من حوض؟ فجاء بالثمد. ووقف دون الأمد. وأهمل ذكر جماعة من أكابر الفضلاء. وأماثل النبلاء. ومجيدي الشعراء. ومفيدي البلغاء. هم أجل قدراً من أن لا يعرفوا. وحاشاهم أن يكونوا نكرات فيعرفوا. وعذره فيمن أدرك منهم عصره، ولم يجر ذكره. بعد دياره عن ديارهم. وإن الليالي لم تأته باسمارهم. والرياح لم تهب عليه بأخبارهم، حكمة الله البالغة في العباد. الشاملة للحاضر والباد. ليبين مصداق كم ترك الأول للآخر. ويقف العقل حسيراً دون ساحل لج الفيض الزاخر. وفوق كل ذي علم عليم. فجدد لي حديث هذا الاستدراك ذلك العزم القديم. وقال لي عزيم ذلك الخاطر هات فقد طال مطال العزيم. فوجهت الهمة شطر ذلك القصد. ورميت قنا الفتور المتأطرة بالقصد. وشمرت الذيل. وسمرت الليل. وأتيت بما وقفت عليه. وأوردت ما انتهت قدرتي إليه. من فرائد نظم كأنهم اللؤلؤ والمرجان. وخرائد سجع لم يطمثهن انس قبلي ولا جان. وغرر يضيء بها حندس الليل البهيم. ودرر تكلف بها لبات الغواني وتهيم. لم يخلق بهجتها تقادم العهد والزمان. ولا ازرى بجديدها مرور الجديدين واستيلاء الحدثان. وكنت على أن لا أوارد الخفاجي في ريحانته. ولا أزاحمه في ورود حانته. ثم رأيت ما قاله نادرة باخرز في دميته. إني تأملت الطبقات القديمة فوجدت فيها. على اختلاف مصنفيها. شعر كل من الفضلاء مكرراً وفضل كل من الشعراء مقرراً فقلت لو جفا فاضل فترك منسياً كدارس الأطلال. ومنفياً كنعل أخلقت من النعال. ثم اعتذر عنه بأن بعض المؤلفين أثبته فمحوناه. وإن واحداً من المصنفين وفا له فجفيناه. كان الفضل من جهته مظلوماً. ولا زال عند جميع الفضلاء ملوماً. انتهى. فكررت في كتابي هذا أسماء جماعة سبقني إلى ذكرهم من أهل هذه المائة. وهي الحادية عشره. وأوردت من نتائج أفكارهم ما تستحلي الألباب ذوقه. وتستطيب الأسماع نشره. والتزمت أن لا أورد شيئاً من الشعر الذي رقمه. وإن أعدت اسم الشاعر الذي ترجمه. وكتابي هذا مقصور على محاسن أخبار أهل هذه المائة. ومكسور على أحاسن أشعار هذه الفئة وقد رتبته على خمسة أقسام القسم الأول في محاسن أهل الحرمين الشريفين. والمحلين المنيفين. زادهما الله تعالى شرفاً وإنافة. ولا زالا آمنين بأمان من شرفهما من المخافة. القسم الثاني في محاسن أهل الشام ومصر ونواحيهما. ومن تصدر من الفضلاء في صدور نواديهما القسم الثالث في محاسن أهل اليمن. المقلدين بعقود آدابهم جيد الزمن. القسم الرابع في محاسن أهل العجم والبحرين والعراق. وإيراد ما رق من لطائفهم وراق القسم الخامس في محاسن أهل المغرب. وإثبات شيء من بديع نظمهم المطرب. والعذر في تأخير قسمهم عن سائر الأقسام. رعاية النكتة في المغرب للختام. وإلا فلهم السبق والبداية. ولا غرو إن انتهت إليهم الغاية. وإذا أشرق إن شاء الله تعالى بدره المنير من أفق الثمام. وتفتق زهره النضير من حجب الكمام وسمته بسلافة العصر. في محاسن الشعراء بكل مصر والله اسأل أن يوفقني لاتمامه. ويشفع حسن ابتدائه بحسن ختامه. والملتمس ممن انتشا من هذه السلافة. أن يلحظها بعين الصواب مهما رأى خلافه. فإنها نشأت عن فكر قد صلد زنده. في بلد عربه عجمه وهنده. لم تقم فيه للأدب سوق. ولا عرف به غير الكفر والفسوق. سنى الله لنا العود منه إلى حرمه. والرجوع إلى جوار بيته المحرم بجوده وكرم. إنه على كل شيء قدير. وبالإجابة جدير

القسم الأول

 

محاسن أهل الحرمين والبلدين المحترمين

وفيه فصلان الفصل الأول في

 

محاسن أهل مكة المشرفة

زادها الله شرفاً يزاحم من قصر الفلك الأطلس شرفه.
তবে তিনি একটি বাগান থেকে সুগন্ধি ফুলের একটি গুচ্ছ সংগ্রহ করেছেন এবং একটি জলাশয় থেকে মাত্র এক বিন্দু পানি গ্রহণ করেছেন। ফলে তিনি সামান্য বস্তুই উপস্থিত করেছেন এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই থেমে গেছেন। তিনি একদল মহান বিদ্বান, শ্রেষ্ঠ সজ্জন, পারদর্শী কবি এবং অলঙ্কার শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কথা উল্লেখ করতে অবহেলা করেছেন। তাঁদের মর্যাদা এতই মহান যে তাঁরা পরিচিত না হয়ে থাকতে পারেন না; আর তাঁরা এমন অখ্যাত নন যে তাঁদের নতুন করে পরিচিত করতে হবে। তাঁর সমসাময়িক যাদের তিনি উল্লেখ করেননি, তাদের ব্যাপারে তাঁর ওজর হলো তাঁদের আবাসস্থলের দূরত্ব। রাতগুলো তাঁদের গল্প নিয়ে তাঁর কাছে আসেনি এবং বাতাস তাঁদের সংবাদ তাঁর কাছে বয়ে আনেনি। এটি বান্দাদের মাঝে আল্লাহর সেই সুদূরপ্রসারী হিকমত, যা উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলের জন্য পরিব্যপ্ত। যেন 'পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন'—এই বাণীর সত্যতা স্পষ্ট হয়। এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেও একজন মহাজ্ঞানী আছেন। এই অপূর্ণতা পূরণের আলোচনা আমার সেই পুরনো সংকল্পকে পুনরুজ্জীবিত করল। আমার সেই চিন্তার দৃঢ়তা আমাকে বলল: নিয়ে এসো, সংকল্পের এই প্রতীক্ষা তো দীর্ঘ হয়ে গেল। ফলে আমি সেই উদ্দেশ্যের দিকে মনোনিবেশ করলাম এবং অলসতার তীর ছুঁড়ে ফেললাম। আমি কোমর বাঁধলাম এবং বিনিদ্র রজনী কাটালাম। আমি যা অবগত হয়েছি তা-ই নিয়ে এসেছি এবং আমার সাধ্য অনুযায়ী যা সংগ্রহ করতে পেরেছি তা পেশ করেছি। এমন সব দুর্লভ পদ্য যা মুক্তা ও প্রবালের মতো; এমন সব অনুপম গদ্য যা ইতিপূর্বে কোনো মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি। এমন কিছু উজ্জ্বল জ্যোতি যা ঘোর অন্ধকার রজনীকে আলোকিত করে, আর এমন কিছু মুক্তরাজি যা রূপসীদের গ্রীবাকে মোহিত ও ব্যাকুল করে। কালপরিক্রমা এর সৌন্দর্যকে ম্লান করতে পারেনি, আর দিন-রাত্রির আবর্তন ও মহাকালের বিবর্তন এর নতুনত্বকে ক্ষুণ্ণ করতে পারেনি। আমার ইচ্ছা ছিল না যে আমি আল-খাফাজীর 'রাইহানা'র পথে চলব কিংবা তাঁর আঙ্গিনায় ভিড় জমাব। অতঃপর আমি আল-বাখারযী তাঁর 'দুমইয়াহ' গ্রন্থে যা বলেছেন তা লক্ষ করলাম। তিনি বলেছেন: আমি প্রাচীন জীবনচরিতগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, সংকলকদের ভিন্নতা সত্ত্বেও প্রত্যেক বিদ্বানের কবিতা বারবার বর্ণিত হয়েছে এবং প্রত্যেক কবির শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হয়েছে। আমি মনে মনে বললাম, যদি কোনো গুণী ব্যক্তি অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকেন, তবে তিনি পরিত্যক্ত ধ্বংসাবশেষের মতো বিস্মৃত হবেন অথবা পুরনো জীর্ণ জুতার মতো পরিত্যক্ত হবেন। অতঃপর তিনি এর সপক্ষে ওজর পেশ করে বলেন যে, কোনো লেখক কাউকে অন্তর্ভুক্ত করলে আমরা তাকে মুছে ফেলি, আর কোনো সংকলক কাউকে মূল্যায়ন করলে আমরা তাঁকে অবজ্ঞা করি। এতে সেই গুণী ব্যক্তির প্রতি জুলুম করা হয় এবং সকল বিদ্বানদের কাছে এটি নিন্দনীয় হয়ে থাকে। এখানেই শেষ। তাই আমি আমার এই গ্রন্থে এমন একদল ব্যক্তির নাম পুনরায় উল্লেখ করেছি, যাঁদের কথা এই শতাব্দীর—যা একাদশ শতাব্দী—অন্যান্য লেখকেরা আমার আগে উল্লেখ করেছেন। আমি তাঁদের চিন্তার এমন সব ফসল তুলে ধরেছি যা বুদ্ধিবৃত্তিকে তৃপ্ত করে এবং শ্রুতিমধুর লাগে। তবে আমি অঙ্গীকার করেছি যে, পূর্ববর্তী লেখক যে কবিতাটি লিপিবদ্ধ করেছেন আমি তা উল্লেখ করব না, যদিও কবির নাম পুনরায় উল্লেখ করি। আমার এই গ্রন্থটি এই শতাব্দীর ব্যক্তিদের সুন্দর ঘটনাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এই দলের শ্রেষ্ঠ কাব্যসমূহ নিয়ে রচিত। আমি একে পাঁচটি ভাগে বিন্যস্ত করেছি। প্রথম অংশ: হারামাইন শরীফাইন এবং উচ্চ মর্যাদাশীল দুই পুণ্যভূমির অধিবাসীদের সৌন্দর্যের বর্ণনায়। আল্লাহ তাআলা এই দুই ভূমির মর্যাদা ও উচ্চতা বৃদ্ধি করুন এবং উভয়কে সর্বদা ভীতি থেকে নিরাপদ রাখুন। দ্বিতীয় অংশ: শাম, মিসর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের অধিবাসী এবং সেখানকার মজলিসসমূহের শ্রেষ্ঠ গুণী ব্যক্তিদের বর্ণনায়। তৃতীয় অংশ: ইয়েমেনের অধিবাসীদের বর্ণনায়, যাঁদের সাহিত্যিক শ্রেষ্ঠত্ব সমকালকে অলঙ্কৃত করেছে। চতুর্থ অংশ: অনারব (আজম), বাহরাইন ও ইরাকের অধিবাসীদের বর্ণনায় এবং তাঁদের সূক্ষ্ম ও সাবলীল রচনার উপস্থাপনায়। পঞ্চম অংশ: মাগরিবের (মরক্কো ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল) অধিবাসীদের বর্ণনায় এবং তাঁদের শ্রুতিমধুর ও চমৎকার পদ্যের উপস্থাপনায়। অন্যান্য অংশের তুলনায় তাঁদের শেষে রাখার কারণ হলো 'মাগরিব' (পশ্চিম/সূর্যাস্ত) শব্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সমাপ্তি টানা। নতুবা শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতায় তাঁরাই অগ্রণী এবং তাঁদের কাছেই লক্ষ্য পর্যবসিত হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়। ইনশাআল্লাহ যখন এই গ্রন্থের উজ্জ্বল পূর্ণিমা উদিত হবে এবং এর প্রস্ফুটিত ফুলগুলো কুঁড়ি থেকে প্রস্ফুটিত হবে, তখন আমি এর নাম দিয়েছি 'সুলাফাতুল আসর ফি মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মাসর'। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এটি পূর্ণ করার তাওফিক দান করেন এবং এর সুন্দর শুরুর সাথে সুন্দর সমাপ্তি দান করেন। এই সুধা (সুলাফাহ) আস্বাদনকারীদের কাছে বিনীত অনুরোধ, যদি কোথাও কোনো ভুল দেখেন তবে তা সঠিক দৃষ্টিতে দেখবেন। কারণ এটি এমন এক চিন্তাপ্রসূত যা এমন এক দেশে উৎপন্ন হয়েছে যেখানে আরবিভাষী, অনারব ও ভারতীয়দের মিশ্রণ ঘটেছে। সেখানে সাহিত্যের কোনো কদর ছিল না এবং কুফর ও পাপাচার ছাড়া আর কিছুই পরিচিত ছিল না। আল্লাহ তাঁর কৃপা ও দয়ায় আমাদের পুনরায় তাঁর পবিত্র হারামে এবং তাঁর সম্মানিত গৃহের সান্নিধ্যে ফিরিয়ে নিন। নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান এবং প্রার্থনা কবুলের যোগ্য।

প্রথম অংশ

 

হারামাইন এবং সম্মানিত দুই শহরের অধিবাসীদের সৌন্দর্যের বর্ণনায়

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম পরিচ্ছেদ:

 

সম্মানিত মক্কার অধিবাসীদের সৌন্দর্যের বর্ণনায়

আল্লাহ এর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন যা উচ্চ আসমানের সীমানাকেও ছাড়িয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌الوالد الأمير نظام الدين

أحمد بن الأمير محمد معصوم الحسيني ناشر علم. وعلم. وشاهر سيف وقلم
. وراقي ربى ونجد. من سامى علىً ومجد متبجج من الأبوة. بين الإمامة والنبوة. إمام ابن إمام. وهمام بن همام. وهلم جرا. إلى أن أجاوز المجرة مجرا. لا أقف على حد. حتى أنتهي إلى أشرف جد. وكفى شاهداً على هذا المرام. قول أحد أجداده الكرام. ليس في نسبتنا إلا ذو فضل وحلم. حتى نقف على باب مدينة العلم. وهذا فرع طابق أصله. ومبرز أحرز خصله. طلع في الدهر غره. فملأ العيون قره. وما قارن هلاله إبداره. حتى أحاطت به العلا داره. فألقت إليه الرئاسة قيادها. وأقامت به السيادة منادها، فأصبح مرتبته العليا. وعبده الدهر وأمته الدنيا. إلى علم بهرت حجته. كالبحر زخرت لجته. قذف دراً. فكشف ضراً. وناهيك بمعرق أصل. وذي منطق فصل. وأنا متى نعت حسبه. فإنما أنعت مجدي. ومتى وصفت نسبه. فإنما أصف أبي وحدي. بيد أني أقول وأن رغم كل أبي.

هذا أبي حين يعزى سيد لأبٍ … هيهات ما للورى يا دهر مثل أبي

مولده ومنشأه الحجاز. والقطر الذي هو موطن الشرف على الحقيقة وسواه المجاز. ربي في حجر الحجر وغذى بدر زمزم. فغرد طائر يمنه على فنن سعده وزمزم. ولما ضاع ارج ذكره نشراً. وتهلل محيا الوجود بفضله بشراً. وغاور صيته وانجد. وأذعن لمجده كل همام أمجد. عشقت أوصافه الأسماع. وتطابق على نبله العيان والسماع. فاستهداه مولانا السلطان إلى حضرته الشريفة. واستدعاه إلى سدته الوريفة. فدخل إليه الديار الهندية عام خمس وخمسين وألف فاملكه من عامه ابنته. وأسكنه من انعامه جنته. وهناك امتد في الدنيا باعه. وعمرت باقباله رباعه. وقصده الغادي والرائح. وخدمته القرائح بالمدائح. فهو يتحلى مع محتده الطاهر. ومفخره الباهر الظاهر. بفضل تثنى عليه الخناصر. وتثني عليه العناصر. وأدب تشهد به الأعلام. وتشحذ به أسنة الأقلام. وهذا حين أثبت من كلامه الحر. ورفيق نظمه المزري بالدر. ما تنتشق له ريا. وتباهي به عقد الثريا. فمن ذلك قوله يمدح ختنه السلطان الأعظم. والخاقان المعظم. شهنشاه عبد الله بن محمد قطب شاه. ايد الله دولته. وابد صولته.

سلاهل سلا قلبي عن البان والرند … وعن اثلاتٍ جانب العلم الفرد

وعن سمرات بالنقا وطويلع … وعن سلمات بالاجارع أو نجد

وعن ضال ذات الضال أو شعب عامر … وعن ظله إذ كنت في زمنٍ رغد

وعن نخلات بالعقيق وسفحه … نهلن بماء الورد أو سلسل الخلد

شمخن فابدين الشماريخ نضداً … واشبهن غيداً قد تمايلن من جهد

واطلعن بسراً كاللجين طلاوة … توهج في لون من العسجد النقد

وعن فىء كرم بالحجاز ترفعت … به الأرض حتى كان كالعلم المفرد

وعن لعلع أو عن زرود وحاجر … وعن قاعة الوعساء أو منتدى هند

وعن زينب أو عن سليمى وعرةٍ … وعن حي ليلي أو بثينة أو دعد

وعن نزهة الأبصارا وبهجة الربى … لطيفة طي الكشح فاحمة الجعد

كثيفة ردف خصرها عن برؤه … كما عز برّ الصد من غير ما ورد

يريك ثناء البدر والشمس وجهها … نعم ونجوم الليل في الجيد والعقد

لها بشر الدر الذي قلدت به … كما قاله نحل الحسين الفتى الكندي

أُنزّه محياها عن الخلد رفعة … وأما المحيا لم أخل وصفه عندي

لها عنق يحكيه جيد لربرب … تفيأ أكناف الأعقة فالرند

إلى مثل ظي الخز بنهيه صدرها … عدا أن ذاك الخز أعلى من الخد

على أنه خد نضير تجمعت … به النار والأمواه بالآس والورد

وإن رمت تشبيهاً لالحاظها التي … تركن سفيهاً صاحب اللب والرشد

فلمحك في أطراف واد بوجرة … يكن لترى من قد وصفت بلا بعد

فتبصر أسراب المها يا أخا النهى … فتعلم ما شبهت حقّاً بلا قصد
পিতা আমির নিজামুদ্দিন

আহমদ ইবনে আমির মুহাম্মদ মাসুম আল-হুসাইনি, ইলমের প্রসারক। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট আলেম এবং তলোয়ার ও কলমের বীর।
তিনি উচ্চভূমি ও নজদের চূড়ায় আরোহণকারী। সুউচ্চ মর্যাদা ও মহত্ত্বের অধিকারী, যা তিনি লাভ করেছেন পিতৃসূত্রে। তিনি ইমামত ও নবুওয়াতের ধারার মধ্যবর্তী। তিনি ইমামের পুত্র ইমাম, বীরের পুত্র বীর। এভাবে পরম্পরা চলতেই থাকে, এমনকি আমি যদি আকাশগঙ্গা বা ছায়াপথ অতিক্রম করি তবুও এর সীমা শেষ হবে না, যতক্ষণ না আমি সর্বাধিক সম্মানিত পূর্বপুরুষ পর্যন্ত পৌঁছাই। এই উদ্দেশ্যের সাক্ষ্য হিসেবে তাঁর অন্যতম সম্মানিত পূর্বপুরুষের এই উক্তিই যথেষ্ট— "আমাদের বংশপরম্পরায় কেবল শ্রেষ্ঠত্ব ও সহনশীলতার অধিকারীরাই রয়েছেন, যতক্ষণ না আমরা ইলমের শহরের দরজায় গিয়ে উপনীত হই।" এটি এমন এক শাখা যা তার মূলের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ; তিনি একজন অগ্রগামী যিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। কালের ললাটে তাঁর উদয় ঘটেছে, যা দৃষ্টি জুড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর পূর্ণিমার চাঁদ ওঠার পূর্বেই আভিজাত্যের ঘর তাঁকে ঘিরে ধরেছিল। নেতৃত্ব তাঁর হাতে নিজের লাগাম সঁপে দিয়েছে এবং শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর মাধ্যমে নিজের ঘোষণা জারি করেছে। তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার কারণে কাল তাঁর দাসে পরিণত হয়েছে এবং দুনিয়া তাঁর দাসীতে। তাঁর ইলমের দলিল এতটাই উজ্জ্বল যে তা সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের ন্যায়। তিনি মুক্তা নিক্ষেপ করেছেন এবং বিপদ দূর করেছেন। অভিজাত মূলের অধিকারী এবং চূড়ান্ত বাণীর প্রবক্তা হিসেবে তিনিই যথেষ্ট। আমি যখনই তাঁর বংশীয় মর্যাদা বর্ণনা করি, আসলে আমি নিজেরই মর্যাদা বর্ণনা করি; আর যখনই তাঁর বংশপরম্পরার প্রশংসা করি, তা আসলে আমার পিতার ও আমার নিজেরই প্রশংসা। তবে আমি বলছি এবং তা প্রত্যেক গর্বিত ব্যক্তির অনিচ্ছা সত্ত্বেও:

ইনিই আমার পিতা, যখন কোনো নেতাকে তাঁর পিতার দিকে সম্পর্কিত করা হয় … হে কাল! সৃষ্টির মাঝে আমার পিতার কোনো সমতুল্য নেই।

তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা হিজাজে, যা মূলত সম্মানের আবাসস্থল, আর অন্য সব স্থান আলঙ্কারিক। তিনি হিজরুল আসওয়াদের কোলে লালিত-পালিত হয়েছেন এবং জমজমের দুগ্ধে পুষ্ট হয়েছেন। তাঁর কল্যাণের পাখি তাঁর সৌভাগ্যের ডালে গান গেয়েছে। যখন তাঁর যশের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ল এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের খুশিতে অস্তিত্বের ললাট উদ্ভাসিত হলো, তাঁর খ্যাতি যখন উচ্চভূমিতে ছড়িয়ে পড়ল এবং প্রত্যেক মহান বীর তাঁর মহত্ত্বের কাছে মাথা নত করল, তখন তাঁর গুণাবলি শ্রবণকারীর প্রিয় হয়ে উঠল এবং প্রত্যক্ষ ও শ্রবণ উভয় মাধ্যমেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হলো। অতঃপর আমাদের মাওলানা সুলতান তাঁকে তাঁর সম্মানিত দরবারে উপহার হিসেবে চাইলেন এবং তাঁকে তাঁর ছায়াতলে আহ্বান করলেন। ফলে ১০৫৫ হিজরি সনে তিনি হিন্দুস্তানে প্রবেশ করেন। সুলতান তাঁকে নিজের কন্যার সাথে বিবাহ দেন এবং তাঁর অনুগ্রহের জান্নাতে স্থান দেন। সেখানে দুনিয়ায় তাঁর প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর আগমনে তাঁর আবাসস্থল আবাদ হয়। সকাল-সন্ধ্যা মানুষ তাঁর কাছে আসতে থাকে এবং প্রতিভাধর ব্যক্তিরা প্রশংসাগীতি গেয়ে তাঁর সেবা করে। তিনি তাঁর পবিত্র বংশপরিচয় এবং তাঁর জাজ্বল্যমান প্রকাশ্য গর্বের পাশাপাশি এমন শ্রেষ্ঠত্বে বিভূষিত, যার প্রশংসা সকলে করে। তাঁর আদব ও শিষ্টাচারের সাক্ষ্য পাহাড়-পর্বত দেয় এবং কলমের নিবকে তা শাণিত করে। এখন আমি তাঁর উৎকৃষ্ট বাণী এবং তাঁর মুক্তাসম ছন্দের কিছু অংশ লিপিবদ্ধ করছি, যা থেকে সুগন্ধ নির্গত হয় এবং যা সপ্তর্ষিমণ্ডলীর হারকেও হার মানায়। এর মধ্যে রয়েছে মহান সুলতান, সম্মানিত সম্রাট, শাহেনশাহ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ কুতুব শাহের—আল্লাহ তাঁর রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করুন এবং তাঁর প্রভাবকে চিরস্থায়ী করুন—প্রশংসায় তাঁর এই কবিতা:

আমার হৃদয় কি সেই লব ও রন্দ গাছ থেকে বিমুখ হতে পেরেছে? … আর সেই সুউচ্চ পাহাড়ের একাকী চিহ্নের পার্শ্ববর্তী বুনো গাছগুলো থেকে?

আর নাকা নামক প্রান্তরের বাবল গাছ, তুলাইলা নামক স্থান … এবং আজারি বা নজদের শান্ত ছায়া থেকে?

আর সেই আমের নামক উপত্যকার ঝোপঝাড় এবং তার ছায়া থেকে … যখন আমি এক সুখময় সময়ে ছিলাম?

আর আকিক উপত্যকার সেই খেজুর গাছ এবং তার পাদদেশ থেকে … যেগুলো গোলাপ জল বা জান্নাতের নহর দ্বারা সিক্ত হয়েছিল?

সেগুলো মাথা উঁচু করে ছিল এবং তাদের ফলের থোকাগুলো সজ্জিত হয়ে ফুটে উঠেছিল … তারা যেন রূপবতী নারী, যারা ক্লান্তিতে হেলেদুলে পড়ছে।

তারা রুপার চাকচিক্যের মতো কাঁচা খেজুর উৎপন্ন করেছে … যা খাঁটি স্বর্ণের রঙে উদ্ভাসিত হয়েছে।

হিজাজের সেই আঙ্গুর লতার ছায়া থেকে যা ভূমির উপরে এত উঁচুতে উঠেছিল … যে তা এক বিশাল চিহ্নের মতো দেখাচ্ছিল।

লালআ, যারুদ বা হাজের নামক স্থান থেকে … কিংবা ওয়াসা নামক সমতল ভূমি বা হিন্দের মিলনস্থল থেকে?

জয়নাব, সুলাইমা বা আররা থেকে … কিংবা লাইলা, বুসাইনা বা দাদের বসতি থেকে?

দৃষ্টির প্রশান্তি ও উচ্চভূমির সৌন্দর্য থেকে … যে সরু কোমর ও ঘন কৃষ্ণ কুঞ্চিত চুলের অধিকারিণী।

তার নিতম্ব ভারি কিন্তু কোমর ক্ষীণ, তার বিচ্ছেদ থেকে আরোগ্য লাভ করা … তেমনই কঠিন যেমন কঠিন ছিল অহেতুক বিমুখতা থেকে পুণ্য অর্জন করা।

তার চেহারা তোমাকে চাঁদ ও সূর্যের উজ্জ্বলতার কথা মনে করিয়ে দেবে … হ্যাঁ, আর তার গলার হার ও অলংকারে যেন রাতের নক্ষত্ররাজি।

তার গায়ের চামড়া যেন সেই মুক্তার মতো যা সে পরিধান করে আছে … যেমনটি হোসাইন আল-কিন্দি বলেছিলেন।

আমি তাঁর মর্যাদার কারণে তাঁর চেহারাকে জান্নাতের সৌন্দর্যের ঊর্ধ্বে স্থান দিই … আর আমার কাছে তাঁর চেহারার বর্ণনার কোনো শেষ নেই।

তার ঘাড় যেন কোনো হরিণ শাবকের সুউচ্চ গ্রীবা … যে লতাগুল্ম ও রন্দ গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেয়।

তার বুক যেন রেশমি কাপড়ের ভাঁজের মতো … তবে এই রেশম তার গালের চেয়েও উচ্চমানের।

তার সেই সজীব গাল যেখানে আগুন ও পানি … এবং সেই সাথে আস ও গোলাপ ফুল একত্রিত হয়েছে।

তুমি যদি তার সেই চোখের পলকের তুলনা করতে চাও যা … প্রজ্ঞাবান ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদেরও নির্বোধ বানিয়ে ছাড়ে,

তবে তুমি ওয়াজরা নামক উপত্যকার প্রান্তে দৃষ্টি দাও … তবেই আমি যার বর্ণনা করেছি তাকে খুব কাছে থেকে দেখতে পাবে।

হে বুদ্ধিমান! তুমি সেখানে বুনো গরুর পাল দেখতে পাবে … এবং বুঝতে পারবে যে আমি কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই সত্যই তাদের তুলনা করেছি।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٥)
وعينان قال الله كونا فكانتا … تنزه عن التشبيه وانج بلا وجد

بروحك أم لا فالسهام صوائب … فؤادك فاحذر أن تصاد على عمد

فكم لسهام العين في القلب رشقة … وكم بفؤاد الصب من رشقها المردي

تركن ذوي الألباب حيرى عقولهم … مهتكة الأستار في الوصل والصد

ففي قربهم بالدلّ يصطدن لبناً … وبعدهم بالهجر وقدٌ على وقد

بكلٍ تداوينا ولم يشف ما بنا … على أن قرب الدار خير من البعد

بلى ليس بعد الدار يا صاح ضائراً … إذا كان عبد الله منتجع الوفد

شهنشاه شاه قطب شاه ملكينا … ووالي ولاة الأمر مشرعة الرفد

مليكاً سمى فرع السماكين راقياً … إلى رتبة علياء ذات ءلىً نهد

مليكاً لدى العلياء تعنو لبأسه … أسود الشرى هيهات ما صولة الأُسد

مليكاّ إذا ضاق الزمان توسعت … خلائقه الحسنى فجاءت على القصد

وإن ناب خطب معضل قام رأيه … مقام جيوش عزّقت في ضفا السرد

ودبر ما الأملاك حافلة به … فيتضح المقصود من غير أن يبدي

وقام مقام الجيش إسفار وجهه … فلا مقطب يوماً ولا هو بالصلد

يفكر في أمر أراد تقضياً … وإلا فأمر همه ليس عن عمد

ويشمل كلّ العالمين نواله … فيوسعهم جوداً ينوف عن العد

إذا شئت أن تخصي فواضل كفه … فذلك شيءٌ ضاق عن حصره جهدي

تظل ملوك الأرض خاضعة له … فجبارهم عند الملاقاة كالوغد

ذليلاً حقيراً ليس يدري أمالكاً … تملك أم قنّاً من الذل والكد

له هيبة قد ألبس الله وجهه … بهاءً ونوراً شاهدين على السعد

فطالعه المسعود والجد عبده … كذا السعد رقٌ قام منزلة العبد

واقباله لما يزل مترفعاً … إلى أن رقى الأفلاك بالعز والجد

يرى القطب والنسرين شسعاً لنعله … كذا الشمس من خدّ امه وذوي الوجد

هو الملك المنصور ذو الفخر والعلا … ورب الندى والأمر والحل والعقد

ورب المعالي والعوالي وبيضها … وخيل لدى البأس المطهمة السرد

ولابس ضافي النسج مسرود حوكها … كنذر كغدر كالثواقب كالصلد

صنائع داود مواريث أحمد … ملابس عبد الله مالكنا المجدي

وقطب ملوك الأرض دام علاؤه … ودمنا زماناً راتعي عيشه الرغد

فأكرم بظل الله في كل أرضه … ونجل ملوك منتمين إلى جد

له عزة موروثة عن جدوده … يقصر عنها كل ذي حسب فرد

نجوم سماءٍ بل بدور مواكبٍ … شموس أراضٍ أُلبست حلل المجد

صغيرهم في المهد للملك خاطب … كبيرهم للنيرات على مهد

تمهد سبل مذ كان منهم … مليكٌ ترقى صهوة الطهم والجرد

وما زال منهم حيث كانوا مسودٌ … له الملك بعد الله حتى إلى السد

وذلك فضل الله يؤتيه من يشا … فشكري لربي مع ثنائي مع حمدي

على أنني قد صرت بعض عبيده … ومن حزبه أو من اسنته الملد

ومن بعض غلمانٍ له أو عشيرةٍ … ومن جنده أو من صوارمه القد

وذلك شيءٌ لم تنله أوائلي … على أنهم حازوا المفاخر من أُدّ

أئمة دين الله ورّاث عمله … وخزّان وحي الله في كل ما يبدي

بفضلهم جاء الكتاب مبيناً … ببغضهم الأضداد تقذف بالهد

وهم عترة المختار من آل هاشم … وأهل العلي من خيرة الصمد الفرد
এবং দুটি চোখ, আল্লাহ বললেন ‘হও’ আর অমনি তা হয়ে গেল … আপনি সাদৃশ্য প্রদান হতে মুক্ত থাকুন এবং আবেগহীনভাবে মুক্তি লাভ করুন।

আপনার প্রাণ দিয়ে হোক বা না হোক, তীরগুলো লক্ষ্যভেদ করে … আপনার অন্তর, তাই সতর্ক থাকুন যেন ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার না হন।

হৃদয়ে চোখের তীরের কত যে আঘাত … আর প্রেমিকের অন্তরে তার নিক্ষিপ্ত তীরের কতই না মরণপণ আঘাত।

তা প্রাজ্ঞজনদের বুদ্ধিকেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয় … মিলন ও বিচ্ছেদের মাঝে যা আবরণসমূহকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে।

তাদের নৈকট্যে লাবণ্যের ছটায় তারা হৃদয় শিকার করে … আর তাদের দূরত্বে বিচ্ছেদের বিরহে প্রজ্বলনের পর প্রজ্বলন ঘটে।

আমরা সব কিছু দিয়ে চিকিৎসা করেছি কিন্তু আমাদের রোগ সারেনি … যদিও গৃহের নৈকট্য দূরত্বের চেয়ে উত্তম।

হ্যাঁ হে বন্ধু, গৃহের দূরত্ব কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয় … যদি আব্দুল্লাহ হন আগত প্রতিনিধিদের গন্তব্যস্থল।

শাহেনশাহ শাহ কুতুব শাহ আমাদের মালিক … এবং শাসনকর্তাদের শাসক, দান ও সহায়তার উৎস।

এমন এক মালিক যিনি উচ্চতর নক্ষত্রপুঞ্জকেও ছাড়িয়ে গেছেন … এক সুউচ্চ মর্যাদায় আরোহণ করেছেন যা অত্যন্ত উন্নত।

এমন এক মালিক যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কাছে তাঁর বিক্রমের কারণে মাথা নত করে … বনের সিংহরা; কোথায় সেই সিংহের আক্রমণ আর কোথায় তাঁর প্রতাপ!

এমন এক মালিক যখন সময় সংকীর্ণ হয়ে আসে তখন তাঁর সুন্দর চরিত্র প্রশস্ত হয় … ফলে তা উদ্দেশ্য পূরণে যথাযথভাবে প্রকাশ পায়।

যদি কোনো কঠিন বিপদ আপতিত হয়, তবে তাঁর বিজ্ঞ অভিমত … সেই বিশাল বাহিনীর স্থলাভিষিক্ত হয় যা বর্মের লৌহবলয়কে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।

তিনি সেই সব বিষয় পরিচালনা করেন যা নিয়ে রাজারা ব্যস্ত থাকেন … ফলে কোনো প্রকাশ ছাড়াই উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তাঁর প্রফুল্ল মুখমণ্ডল সেনাবাহিনীর স্থলাভিষিক্ত হয় … তিনি কোনোদিন বিমর্ষ হন না এবং তিনি কঠোর হৃদয়েরও নন।

তিনি কোনো বিষয়ে চিন্তা করেন যখন তিনি তা সম্পন্ন করতে চান … অন্যথায় তাঁর মনোযোগ উদ্দেশ্যহীন হয় না।

তাঁর দান-দাক্ষিণ্য সারা বিশ্বকে পরিব্যাপ্ত করে … তিনি তাদের প্রতি এমন বদান্যতা প্রসারিত করেন যা গণনার অতীত।

আপনি যদি তাঁর হাতের অনুগ্রহসমূহ গণনা করতে চান … তবে তা এমন এক বিষয় যা পরিবেষ্টন করতে আমার সাধ্যাতীত।

পৃথিবীর রাজন্যবর্গ তাঁর সামনে অবনত থাকে … তাদের প্রতাপশালীরাও সাক্ষাতের সময় হীন ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যায়।

লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ অবস্থায় তারা জানে না যে তারা কোনো রাজ্যের মালিক … নাকি লাঞ্ছনা ও পরিশ্রমের দাস।

তাঁর এমন এক গাম্ভীর্য রয়েছে যা আল্লাহ তাঁর চেহারায় পরিয়ে দিয়েছেন … আভা ও নূর যা তাঁর সৌভাগ্যের সাক্ষী।

তাঁর উদিত নক্ষত্র সৌভাগ্যমণ্ডিত এবং তাঁর ভাগ্য তাঁর অনুগত … অনুরুপভাবে সৌভাগ্যও তাঁর দাসের ন্যায় এক ভৃত্যের স্থানে দণ্ডায়মান।

তাঁর সমৃদ্ধি নিরন্তর ঊর্ধ্বগামী … এমনকি তা সম্মান ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে আকাশমণ্ডলী পর্যন্ত আরোহণ করেছে।

তিনি মেরু নক্ষত্র ও ঈগল নক্ষত্রদ্বয়কে তাঁর জুতোর ফিতার ন্যায় মনে করেন … আর সূর্য তাঁর উজ্জ্বল গাল ও অনুরাগীদের কাছেও সাধারণ অনুভূত হয়।

তিনি সেই সাহায্যপ্রাপ্ত মালিক, যিনি গৌরব ও উচ্চমর্যাদার অধিকারী … দানশীলতা, আদেশ এবং শাসন ও ব্যবস্থাপনার অধিপতি।

তিনি উচ্চমর্যাদা, সুদীর্ঘ বল্লম ও শাণিত তলোয়ারের অধিকারী … এবং যুদ্ধের ময়দানে বর্ম পরিহিত সুঠাম ঘোড়াসমূহের অধিপতি।

তিনি নিপুণভাবে বুনন করা প্রশস্ত বর্ম পরিধানকারী … যা সতর্ককারীর ন্যায়, সুদৃঢ় এবং উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় ভাস্বর ও কঠোর।

দাউদ (আ.)-এর শিল্পকর্ম এবং আহমাদ (সা.)-এর উত্তরাধিকার … আমাদের মহিমান্বিত মালিক আব্দুল্লাহর পোশাকস্বরূপ।

তিনি পৃথিবীর রাজন্যবর্গের কেন্দ্রবিন্দু, তাঁর উচ্চমর্যাদা চিরস্থায়ী হোক … আর আমরা দীর্ঘকাল তাঁর স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের ছায়াতলে বিচরণ করি।

সমগ্র জমিনে আল্লাহর ছায়া কতই না সম্মানজনক … এবং তিনি সেই রাজবংশজাত যিনি তাঁর মহান পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত।

তাঁর রয়েছে পূর্বপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত এমন এক সম্মান … যার সামনে অন্য সকল বংশমর্যাদাকারীই তুচ্ছ।

আকাশের নক্ষত্ররাজি, বরং কাফেলার পূর্ণিমা … যমিনের সূর্যসমূহ যারা গৌরবের পোশাকে আবৃত।

তাদের মধ্যে দোলনায় থাকা শিশুটিও রাজত্বের দাবিদার … আর তাদের বড়রা উচ্চতর জ্যোতিষ্কদের ন্যায় আসনে অধিষ্ঠিত।

পথসমূহ সুগম হয়েছে যখন থেকেই তাদের মধ্য হতে … এমন এক মালিকের আবির্ভাব হয়েছে যিনি তেজস্বী ও দ্রুতগামী ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেছেন।

তারা যেখানেই ছিলেন সেখানেই সর্বদা তাদের মধ্য হতে নেতৃত্ব বজায় ছিল … আল্লাহর পরেই তাদের জন্য রাজত্ব নির্ধারিত, এমনকি প্রাচীর পর্যন্ত।

আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন … সুতরাং আমার রবের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা, গুণকীর্তন ও প্রশংসা নিবেদিত।

এই কারণে যে আমি তাঁর অন্যতম দাসে পরিণত হয়েছি … এবং তাঁর দলভুক্ত অথবা তাঁর তীক্ষ্ণ বর্শাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি।

এবং তাঁর কতিপয় সেবক বা তাঁর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত … এবং তাঁর সেনাবাহিনীর অংশ অথবা তাঁর সুতীক্ষ্ণ তলোয়ারের ন্যায়।

আর এটি এমন এক বিষয় যা আমার পূর্বপুরুষগণ লাভ করতে পারেননি … যদিও তাঁরা সুদূর অতীত থেকেই বহু গৌরবের অধিকারী ছিলেন।

তাঁরা আল্লাহর দ্বীনের ইমামগণ, তাঁর ইলমের উত্তরাধিকারী … এবং আল্লাহর ওহীর ভাণ্ডাররক্ষক যা কিছু তিনি প্রকাশ করেন তার প্রতিটি বিষয়ে।

তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই কিতাব সুস্পষ্টভাবে অবতীর্ণ হয়েছে … তাঁদের প্রতি বিদ্বেষের কারণে বিরোধীরা ধ্বংসের গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হয়।

তাঁরাই হাশেমী বংশের মনোনীত রাসূলের (সা.) বংশধর … এবং সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, অদ্বিতীয় অমুখাপেক্ষী আল্লাহর পক্ষ হতে মনোনীত শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٦)
أولئك محيا للكرام أولى الندى … ولكنهم هلك لمستهزيءٍ وغد

فحقٌ لي الانشاد من بيت شاعر … له ذاع نظمٌ مثل ما ضاع من ند

وإني وإن كنت الأخير زمانه … لآت بفضل قاهر كل ذي حقد

فاشكر ربي إن أنالني المنى … وصير أعدائي مشتتة العد

وتالله لا أخشى لكيدهم أذى … لعليم أن الكيد مع كيدهم يكدي

فيا أيها المنصور بالسعي جدّه … ويا أيها المنصور بالجد والجد

تعطف على عبد لكم صادق الولا … غريبٍ فريدٍ حل في ادؤر الهند

وخلى بلاد الله والكعبة التي … إليها قلوب الناس تهوي من البعد

وزمزم والأركان والحجر والصفا … ومروته والمشعر الطيب الورد

وطيبة مثوى أشرف الرسل أحمدٍ … ومدفن طهر الله فاطمة الرشد

ومرقدها أعني البقيع الذي سما … بسبط رسول الله والساجد الجدّ

وباقر علم الله والصادق الذي … له أمر دين الله في الأخذ والود

وجاور ملكاً للمكارم صاعداً … ولكن عن الضراء والظلم ذا صد

يزجى إليه مفخرٌ أقعسٌ رقى … إلى أفلك الأفلاك سمكاً بلا حد

ويأمل للاعدا مكايد ذلةٍ … وخسراً وبثراً للحسود وللضد

وبالله لم أخفر لكم ذمة ولا … تزحزحت عن ودٍ لكم ثابت العهد

فلا تستمع قول الوشاة فقلما … يحاول واش غير اعراض ذي ود

بقيت لنا كهفاً وركناً وموئلاً … وبحر نوال لم يزل دائم المد

مملك كل الخلق دانٍ وشاحطٍ … وراع ومرعيّ كذا الحر والعبد

بحق الرسول المصطفى من كنانة … محمدٍ الهادي إلى جنة الخلد

وآلٍ له خير البرايا فبدؤهم … أبو الحسن الكرار والخاتم المهدي

عليهم صلاة الله ماهب شمأل … على سمرات الجذع فالبان فالرند

وقوله أيضاً وهي من قصيدة فصيحة الألفاظ كثيرة المعاني متشعبة الفنون يذكر فيها أكثر قرى الطائف ومنتزهاتها وكتبها إلى الشيخ عيسى النجفي أحد أدباء العصر الآتي ذكره

ذلك البان والحمى والمصلى … فقف الركب ساعة نتملى

واسألنه برقةٍ وخضوعٍ … عن فوادي يا صاحبي أين ضلا

وإذا ما تراأت الربرب العين … بجرعاء لعلعٍ فالمعلا

فاحذرن أن تصاد يا صاح أو أن … ترمينك العيون سهماً وفصلا

إن عهدي بها حديثاً لتصطاد … سواداً حسناً وغنجاً ودلاّ

فانج من سهمها سليماً وحاذر … إن في تلكم المحاجر نبلا

غير أني بها سجيس الليالي … واجدٌ والمحب لا يتسلى

ثم لي بين حاجرٍ وزرودٍ … ظبيات أوانسٌ تتجلى

خلت ظبي الكناس منها فلما … إن تراأت علمت هاتيك أحلى

مع أني أكاد أوهم منها … بظباءٍ عواطل لا تحلى

خوف ساع من الوشاة رقيبٍ … قصده أن يبدد اليوم شملا

فبنفسي على معزة نفسي … وبمالي ما جل منه وقلا

خرّد قد نزلن أكناف وجّ … وسكن المثناة حزناً وسهلا

وبها اصطفن بل وربعن أيضاً … قاطناتٍ سفح الأخيلة ظلا

من لقيم إلى المليساء … فالهضبة فالوهط فالأصيحر نزلا

غاديات من أم خير إلى الجا … ل إلى الهرم فالعتيق المحلا

ناهلات من الجفيجف ماءً … شبما سلسلاً نقاخاً محلى

زائرت للحبر أعني ابن عباس … الذي فاق في العلوم ونبلا
তাঁরা সম্মানিত ও দানশীলদের জন্য জীবনস্বরূপ … কিন্তু উপহাসকারী ও নীচদের জন্য তাঁরা ধ্বংসস্বরূপ।

একজন কবির পঙক্তি থেকে আবৃত্তি করা আমার জন্য সংগত … যার কাব্য সুগন্ধির মতো চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আমি যদিও কালের বিচারে সবার শেষে এসেছি … তবুও আমি এমন শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আসব যা প্রতিটি হিংসুককে পরাভূত করবে।

অতএব আমি আমার রবের শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি আমাকে আমার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেছেন … এবং আমার শত্রুদের সংখ্যাকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন।

আল্লাহর কসম, আমি তাদের ষড়যন্ত্রের কোনো অনিষ্টকে ভয় পাই না … কারণ আমি জানি যে তাদের ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় আল্লাহর কৌশলই কার্যকর হয়।

হে সেই ব্যক্তি, যিনি আপন প্রচেষ্টায় সাহায্যপ্রাপ্ত … এবং হে সেই ব্যক্তি, যিনি পরম চেষ্টা ও সৌভাগ্যের মাধ্যমে বিজয়ী।

আপনার একনিষ্ঠ অনুগত এক দাসের প্রতি সদয় হোন … যে আজ প্রবাসী ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় হিন্দুস্তানের জনপদে অবস্থান করছে।

সে আল্লাহর দেশ এবং সেই কাবাকে ছেড়ে এসেছে … যার দিকে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের অন্তরসমূহ ধাবিত হয়।

এবং যমযম, রুকনসমূহ, হাজরে আসওয়াদ, সাফা … মারওয়া এবং সেই পবিত্র মাশআর যা বরকতময় আগমনের স্থান।

এবং তায়্যিবা (মদিনা), যা শ্রেষ্ঠ রাসুল আহমদের আবাসস্থল … এবং আল্লাহর পবিত্র বান্দী মহীয়সী ফাতিমার দাফনস্থল।

আমি সেই জান্নাতুল বাক্বীস্থ শয়ানেকার কথা বলছি যা উচ্চ মর্যাদা পেয়েছে … আল্লাহর রাসুলের নাতি এবং মহান সাজদাকারী (যয়নুল আবিদিন)-এর মাধ্যমে।

এবং আল্লাহর ইলমের উদঘাটনকারী (বাক্বির) ও সাদিক-এর মাধ্যমে … যাঁর হাতে গ্রহণ ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে আল্লাহর দ্বীনের বিষয়াবলী অর্পিত ছিল।

সে এমন এক বাদশাহর সান্নিধ্যে এসেছে যিনি শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণকারী … তবে বিপদ ও জুলুমের পথ রুদ্ধকারী।

তাঁর দিকে এমন অটল গৌরব ধাবিত হয় যা আরোহণ করেছে … আসমানসমূহের সর্বোচ্চ শিখরে, যার উচ্চতার কোনো সীমা নেই।

তিনি শত্রুদের জন্য লাঞ্ছনার জাল বুনেন … এবং হিংসুক ও বিরোধীদের জন্য ক্ষতি ও বিনাশ কামনা করেন।

আল্লাহর কসম, আমি আপনাদের কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিনি … এবং আপনাদের প্রতি আমার অটুট অঙ্গীকারের ভালোবাসা থেকে বিচ্যুত হইনি।

সুতরাং আপনি চোগলখোরদের কথা শুনবেন না, কারণ খুব কমই … চোগলখোররা প্রেমিকের বিমুখতা ছাড়া অন্য কিছু পাওয়ার চেষ্টা করে।

আপনি আমাদের জন্য আশ্রয়স্থল, স্তম্ভ ও ত্রাণকর্তা হয়ে বেঁচে থাকুন … এবং এমন এক দানশীলতার সাগর হয়ে যার জোয়ার কখনো থামে না।

সমস্ত সৃষ্টির অধিপতি, চাই সে নিকটবর্তী হোক বা দূরবর্তী … রাখাল হোক বা পালিত প্রজা, তেমনিভাবে স্বাধীন বা দাস।

কেনানা গোত্রের মনোনীত রাসুলের সম্মানে … মুহাম্মদ, যিনি চিরস্থায়ী জান্নাতের দিকে পথপ্রদর্শক।

এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের উসিলায় যারা সৃষ্টির সেরা, যাঁদের শুরু … আবুল হাসান কাররার (আলী) এবং সমাপ্তি মাহদী দ্বারা।

তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যতক্ষণ উত্তুরে হাওয়া প্রবাহিত হবে … বৃক্ষকাণ্ড, বান ও রান্দ বৃক্ষের পল্লবের ওপর দিয়ে।

তাঁর আরও একটি কবিতা, যা অলঙ্কারপূর্ণ শব্দসম্ভার, বহুবিধ অর্থ এবং বৈচিত্র্যময় শিল্পগুণে সমৃদ্ধ। এতে তিনি তায়েফের অধিকাংশ গ্রাম ও এর ভ্রমণস্থলগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন এবং এটি বর্তমান যুগের অন্যতম সাহিত্যিক শেখ ঈসা আন-নাজাফীকে (যাঁর কথা সামনে আসবে) উদ্দেশ্য করে লিখেছেন:

সেটিই সেই বান বৃক্ষ, সংরক্ষিত চারণভূমি এবং সালাতের স্থান … সুতরাং হে কাফেলা, কিছুক্ষণের জন্য থামো, যাতে আমরা তৃপ্ত হতে পারি।

হে আমার বন্ধু, অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে সেটিকে জিজ্ঞেস করো … আমার হৃদয়টি কোথায় হারিয়ে গেছে?

যখন সেই আয়তলোচনা হরিণীদের দেখা মিলবে … লালআ উপত্যকার বালুকাময় প্রান্তরে অথবা মুআল্লায়;

তখন হে বন্ধু, সাবধান থেকো পাছে তুমি শিকার হয়ে যাও অথবা … তাদের চোখগুলো তোমাকে তীর ও বিচ্ছেদের আঘাতে বিদ্ধ করে।

আমার জানামতে তারা তো অনিন্দ্য রূপ, মোহনীয় চাহনি ও লাস্যময়ী ঢংয়ের মাধ্যমে … শিকার করতে অভ্যস্ত।

সুতরাং তাদের তীর থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে নিরাপদে পালাও এবং সতর্ক থেকো … কারণ সেই চোখের কোটরগুলোতে মরণবাণ লুকিয়ে আছে।

তা সত্ত্বেও আমি অনন্তকাল ধরে তার প্রেমে মগ্ন … আর প্রেমিকের মন কখনো প্রবোধ মানে না।

অতঃপর হাজের ও যারুদের মধ্যবর্তী স্থানে আমার জন্য রয়েছে … সেই মায়াবী হরিণীরা যারা সেখানে বিচরণ করে।

আমি ঝোপঝাড়ে থাকা হরিণীদের কথা ভেবেছিলাম, কিন্তু যখন … তাদের দেখা পেলাম, তখন বুঝলাম এরাই বেশি মনোহারী।

যদিও আমি প্রায়ই তাদের অলঙ্কারহীন হরিণী মনে করে ভুল করি … যাদের কোনো ভূষণের প্রয়োজন নেই।

চোগলখোর ও প্রহরীদের ভয়ে, যাদের লক্ষ্য হলো … আজকের এই মিলনকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া।

আমি আমার জীবন, আমার আত্মসম্মান … এবং আমার ধন-সম্পদ—তা সামান্য হোক বা বেশি—সবই উৎসর্গ করছি।

সেই লাজুক সুন্দরীদের জন্য যারা ওয়াজ্জ উপত্যকায় অবতীর্ণ হয়েছে … এবং মুসান্নাহর পাহাড়ি ও সমতল ভূমিকে আবাস বানিয়েছে।

সেখানে তারা গ্রীষ্মকাল এবং বসন্তকালও অতিবাহিত করেছে … আখিলা উপত্যকার পাদদেশে ছায়ায় বসবাস করে।

লুকায়িম থেকে মালিসা পর্যন্ত … অতঃপর পাহাড়, ওয়াহাত ও আসাইহির এলাকায় তারা অবস্থান নিয়েছে।

ভোরবেলায় উম্মে খাইর থেকে জালের দিকে … অতঃপর হারাম হয়ে প্রাচীন জনপদে তারা গমনাগমন করে।

তারা জুফাইজিফের সুশীতল, স্বচ্ছ ও সুমিষ্ট পানি … আকণ্ঠ পান করে।

তারা সেই মহাজ্ঞানীর যিয়ারতকারী, অর্থাৎ ইবনে আব্বাস … যিনি জ্ঞান ও মর্যাদায় সকলকে ছাড়িয়ে গেছেন।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٧)
سارحات من السلامة يبغين … م قريناً وما نجا ذاك قبلا

ثم بالموقف المعظم قدراً … واقفات يطلبن نسكاً وفضلا

وارادات ماء الشريعة نهلاً … شاربات نهلاّ فعلاّ فعلا

سائرات إلى مزاحم فالصخرة … م سيراً مثل السحابة رسلا

مشرفات على رياض أنيقات … م هنيئاً سقين غيثاً ووبلا

تلك روض الجنان من أرض وجّ … سيماً البحرة القديمة مثلا

جادها الغيم من بني المزن غدقاً … وملثاً صبحاً وليلاً واصلا

فلكم قد حوت محاسن شتى … حاكت الخلد روضةً ومحلا

فلعمري ما العيش يا صاح إلا … ما تقضى بروضها وتملاّ

زمنٌ باسمٌ وعيشٌ رضيٌّ … وحبيب مواصل لن يملا

زمن والشباب غضٌ نضيرٌ … والتهاني به تواصل وصلا

والسرور الوفيّ إذ ذاك عبد … طائع يحفظ الذمام وإلا

والحيباب هنّ أتراب ودي … زينب مع سعاد ثمة ليلى

أتهادى من بينهن بوجدٍ … وغرامٍ لم انتحل عنه ذهلا

مولعاً بالمها وغزلان نعمان … وآرام مكة فالمصلى

مغرم بالجآذر العين من أهل … حجازٍ وما حوى ذاك خلا

ولقد بتّ بعدهن حزيناً … نائي الدار مولعاً أتصلى

حرّ نار البعاد من بعد بعدي … عن ربوع بها الكواعب تجلى

فلذا العين تسكب الدم دمعاً … والفؤاد الحزين لا يتسلى

فاسقنينها صرفاً ولا تذكر المزج … فإني لا أرتضي المزج أصلا

من سلافٍ تنبيك عن عهد كسرى … عتقت في الدنان حولاً فحولا

مثل لون الورود أو شرر الجمر … وإلا كخد ظبيٍ تصلى

أو كذوب الياقوت ياقوت قلبي … عصرت قبل آدمٍ بل وقبلا

من يدي شادن أغنّ أغرّ … مترفٍ قد حوى الظرافة شكلا

فائقٍ في الجمال ولدان عدنٍ … غير أن ليس في المحبين عدلا

ذي محيا كالنجم كالبدر كالش … مس وكالحور بهجةً يا أخلا

قد يخال الكؤوس من خمر عينيه … ملاءً إذ خمر عينيه أولى

قده غصن بانةٍ أن تثنى … وطلاه كالصج إذ يتجلى

إن رنا بالعيون فالقوم جرحى … أو أدار المدام فالقوم قتلى

خلته شادناً فخطأ ظني … ردف رمل قد جاده الوبل هلا

قام يسعى بها فقلت لصحبي … دونكم شربها احتساءً وعلا

تركها الاثم يا نديمي فاعلم … واطرح القيد واركب اليوم جهلا

واجعل العقل للعقار صداقاً … واعلمن تركك المدامة غفلا

فهي الروح للجسوم وللافراح جل … ب تورث الصفو عقلا

مرةٌ حلوةٌ عروسٌ عجوزٌ … خندريسٌ فاطلب لها اليوم وصلا

قد حوت كل نشوة إذ أُديرت … كسحاب الربيع حين استهلا

فعلها كالغمام بالأرض في الا … جساد فاطرب ولا تقولنّ مهلا

فالرشاد المبين في حسو هاتيك … فدع عذل جاهل حين يتلا

فلعري ما نال منها نصيباً … فمرنه يصبو إليها والا

واطلب العفو من إله كريمٍ … فضله واسع ونعماه أولى

فالعظيم العظيم يرجى لكلٍ … من ذنوبٍ ولن ترى ثمّ بخلا

واجتهد في احتسا الطلا في زمانٍ … أمطر الغيم فيه قطراً ووبلا

وكسى الأرض من زهو رياضٍ … حاكت السندس النفيس وبلا
নিরাপদ বিচরণকারীরা অন্বেষণ করছে … একজন সঙ্গী, আর এর আগে কেউই তা থেকে নিষ্কৃতি পায়নি।

অতঃপর সুমহান মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে … তারা দণ্ডায়মান, ইবাদত ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছে।

শরীয়তের বারিধারায় পিপাসা মেটাতে আগত … তারা প্রথম ও দ্বিতীয়বার তৃপ্তিভরে পানকারী।

মুযাহিম ও পাথরের দিকে প্রবহমান … মেঘের মন্থর গতির মতো ধীর পদক্ষেপে।

মনোরম উদ্যানসমূহের ওপর দৃষ্টিপাতকারী … যা তৃপ্তিদায়ক বৃষ্টি ও অঝোর ধারায় সিক্ত হয়েছে।

সেটি ওয়াজ্জ ভূমির জান্নাতসম উদ্যান … যেন প্রাচীন সমুদ্রের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সাদা মেঘমালা তাকে প্রচুর বারিধারায় সিক্ত করেছে … সকাল ও রাতে অবিরাম বর্ষণে।

সেখানে কতই না বিচিত্র সৌন্দর্য পুঞ্জীভূত … উদ্যান ও আবাসে যা চিরস্থায়ী জান্নাতের সদৃশ।

হে বন্ধু, আমার জীবনের কসম! প্রকৃত জীবন তো তাই … যা তার উদ্যানে অতিবাহিত ও পূর্ণ হয়েছে।

হাস্যোজ্জ্বল সময় ও সন্তোষজনক জীবন … আর এমন এক অবিচ্ছিন্ন প্রিয়তম, যার সান্নিধ্যে ক্লান্তি নেই।

এমন এক সময় যখন যৌবন ছিল সজীব ও সতেজ … আর অভিনন্দনের জোয়ার ছিল অবিরাম।

সে সময় অকৃত্রিম আনন্দ ছিল এক অনুগত দাসের মতো … যে সর্বদা অঙ্গীকার রক্ষা করে চলে।

আর প্রিয়তমাগণ ছিল আমার প্রাণের সখী … যয়নব, সুআদ এবং লায়লা।

আমি তাদের মাঝে ব্যাকুলতা ও প্রেমের আবেশে চলতাম … এমন এক প্রেম যা থেকে আমি কখনও উদাসীন হইনি।

আমি বন্য হরিণী ও নু'মানের হরিণশাবকদের প্রতি আসক্ত … এবং মক্কার শুভ্র হরিণ ও মুসাল্লার প্রতি।

আমি হিজাজের বিশাল নয়না হরিণশাবকদের প্রেমে মগ্ন … আর সেই ভূমি যা কিছু ধারণ করে আছে।

তাদের বিরহে আমি বিষণ্ণ রজনী অতিবাহিত করেছি … দূর প্রবাসে বিরহ অনলে দগ্ধ হয়ে।

দূরত্বের দহনজ্বালা আমার সেই বিচ্ছেদ পরবর্তী … সেই আবাস থেকে যেখানে সুন্দরী ললনারা প্রকাশিত হতো।

তাই নয়ন আজ অশ্রুর বদলে রক্ত ঝরায় … আর বিষণ্ণ হৃদয়ে কোনো সান্ত্বনা নেই।

অতএব আমাকে বিশুদ্ধ পানীয় পান করাও, মিশ্রণের কথা বলো না … কারণ আমি মিশ্রণ মোটেও পছন্দ করি না।

এমন এক সুরা যা তোমাকে কিসরার যুগের সংবাদ দেবে … যা মটকায় বছরের পর বছর সংরক্ষিত ছিল।

গোলাপের রঙের মতো অথবা আগুনের ফুলকির মতো … কিংবা রৌদ্রে উত্তপ্ত হরিণশাবকের গণ্ডের মতো।

অথবা আমার হৃদয়ের গলিত ইয়াকুতের মতো … যা আদমের সৃষ্টিরও আগে নিংড়ানো হয়েছিল।

এক সুশ্রী ও লাবণ্যময় কিশোরের হাত থেকে … যে বিলাসিতায় লালিত এবং অবয়বে অত্যন্ত সুনিপুণ।

সৌন্দর্যে সে আদন জান্নাতের কিশোরদেরও ছাড়িয়ে গেছে … যদিও প্রেমিকের ক্ষেত্রে কোনো সুবিচার নেই।

তার চেহারা নক্ষত্র, পূর্ণিমা ও সূর্যের মতো … হে বন্ধু, তার জ্যোতি হুরদের মতো।

তার নয়নের সুরায় পানপাত্রগুলো পূর্ণ বলে ভ্রম হয় … কেননা তার নয়নের সুরাই অধিক শ্রেষ্ঠ।

তার দেহভঙ্গি নমনীয় বৃক্ষশাখার মতো … আর তার লাবণ্য প্রভাতের মতো উদ্ভাসিত।

সে যখন দৃষ্টিপাত করে, তখন সবাই আহত হয় … আর সে যখন সুরা পরিবেশন করে, তখন সবাই আত্মহারা।

আমি তাকে হরিণশাবক ভেবেছিলাম, কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিল … সে তো এক বালুকাময় ঢিবি যাতে বৃষ্টি ঝরেছে।

সে যখন তা নিয়ে এগিয়ে এল, আমি সঙ্গীদের বললাম … তোমরা এটি পান করো এবং বারংবার তৃপ্ত হও।

হে সাথী, জেনে রেখো এটি ত্যাগ করাই পাপ … সকল বাঁধন ছিঁড়ে আজ বেপরোয়া হয়ে যাও।

বুদ্ধিবৃত্তিকে সুরার মহরানা বানিয়ে দাও … জেনে রেখো, সুরা ত্যাগ করা এক প্রকার অবজ্ঞা।

এটি দেহের জন্য রুহ স্বরূপ এবং আনন্দের উৎস … যা বুদ্ধিতে শুভ্রতা ও স্বচ্ছতা বয়ে আনে।

কখনো তিক্ত, কখনো মিষ্টি, বৃদ্ধা কনের মতো চিরন্তন … সেই প্রাচীন সুরাটির সাথে আজ মিলন কামনা করো।

যখন এটি পরিবেশিত হয়, তখন সব মত্ততা ধারণ করে … বসন্তের মেঘের মতো যা অঝোরে ঝরে পড়ে।

দেহের ওপর এর ক্রিয়া ঠিক তেমনই যেমন মাটির ওপর মেঘের … অতএব উদ্বেলিত হও এবং থেমো না।

এর এক চুমুকেই রয়েছে সুস্পষ্ট সঠিক পথ … তাই যখন তা পাঠ করা হয়, অজ্ঞের তিরস্কার উপেক্ষা করো।

আমার জীবনের কসম, যে এর অংশ পায়নি … তাকে বলো এর প্রতি অনুরাগী হতে, নতুবা সে বঞ্চিত।

আর মহান করুণাময় ইলাহ-র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো … যাঁর অনুগ্রহ প্রশস্ত এবং নিয়ামত সর্বোত্তম।

সেই অতি মহান সত্তার কাছেই সব পাপের মার্জনা আশা করা যায় … সেখানে তুমি কোনো কৃপণতা দেখবে না।

এমন এক সময়ে সুরা পানে সচেষ্ট হও … যখন মেঘমালা থেকে অঝোরে বারিধারা ঝরছে।

আর পৃথিবীকে সুশোভিত উদ্যান দিয়ে আবৃত করেছে … যা মহামূল্যবান রেশমি বস্ত্রের তুল্য।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٨)
واستمع صوت مزهر وربابٍ … وكمنج وبربطٍ مستهلا

كل شهر بمثل ذاك وحاذر … من ملال فالاريحي لن يملا

أيها الكامل الأديب الذي حاز … من المجد في السهام المعلى

وحوى كل مفخر وكمال … وتروى العلوم عقلاً ونقلا

وبنظم يصوغه فاق كعباً … وزهيراً وذا القروح وجلا

ولبيداً والأعشيين وعمروا … وحبيباً في الشعر قد فاق كلا

هاك يا صاحب المزايا قريضاً … من محب يراك للود أهلا

ذاكراً الفة القديم ودهراً … وزماناً بالرقمتين تولى

واستمع يا أديب نفثة صب … موجع القلب جسمه عاد ظلا

ليس يسليه عنهم قط شيءٌ … غير أني بالشعر أبرد غلا

فانتقد من جمانه كل شذر … واغتفر ما تراه إن كان زلا

واجبني بما يسكن روعي … من حلالٍ سحرٍ تضمن فضلا

وابق ذا منطق نفيس أثيلٍ … ترتعي الفضل ما سقى الغيث اثلا

 

قوله في الزهد

نصل الهوى عن قلب ذي الوجد … وسلا المتيم عن لقا هند

وعدت عن الآرام منيته … وغدت غوايته إلى رشد

وتبدل التقوى عن الأهوا … لرجا ثواب الله ذي المجد

ونضا الصبا عنه غوايته … فاستقبل الأيام بالزهد

فتراه لا يصبو إلى دعد … كلا ولا منها إلى وعد

لكن ثنى نفساً مولهة … عن كل أمر مهلك مردي

أضنته ذكرى أزمن سلفت … بالجرع أو بالبان من نجد

إذ كان فيها جمع إخوته … حتى مناه الدهر بالبعد

إخوان صدق حائزي كرمٍ … أهل الفواضل منجع الوفد

من كل غطريفٍ تراه إذا … أمّ الوغى كالخادر الورد

حاوي المكارم سيد فطن … طب بهتك الجوشن السرد

وعقيد كل كتيبة طرقت … ليلاً وفارس خيلها الجرد

ومغيرها وقت الضحى أمماً … تنبو عن التعداد والحد

خفاق الوية على الأعدا … حمال كل ملمة تردي

صبح الجبين تراه ذا بهر … تحت التريكة نيراً يهدي

كم من يد بيضاء قلدها … جيد الرجال بنعمةٍ تلد

وعفا عن الذنب الفظيع وكم … أعطى عطا يربو على العد

ذي سطوة يخشى بوادرها … ريب الزمان عليه إذ يعدي

حلو الجنا مرّ مذاقته … يوم الوغى للفارس الصلد

ما زال صفواً ورده عسلاً … للوفد إن جاؤا بلا وعد

أهفو إلى مرباه ان به … نيل المنى ومنابت السعد

وعوارفاً ومعارفاً عرفت … أبد الدهور ومنجح القصد

لهفي على وقتٍ به حسن … أيام بشرٍ ذكرها عندي

في كل حين لي بعقوته … أنسٌ أنيقٌ زاهر الخد

حيث الصبا عقت تمائمه … عني وأصحابي ألوودّي

لم ألف غير ذوي الصفا أحداً … فكأنني في جنة الخلد

 

قوله في الحماسة

إلى كم تقاضاني الظبى وهي ظاميه … وتشكو العوالي جوعها وهي طاويه

وتدعو الجياد الصافنات قرومها … ليوم ترى فيه على الدم طافيه

فمن مبلغ عنا نزاراً ويعربا … أولئك قوم أرتجيهم لما بيه

حماة كماة قادة الخيل في الوغى … ضراغم يوم الروع تلقاك ضاريه

بهاليل في الباساء يوم تناضلٍ … إذا ما التقى الجيشان فالعار آبيه

ثيابهم من نسج داود أسبغت … وأوجههم تحكي بدوراً بداجيه
এবং মঝার ও রবাবের শব্দ শ্রবণ করো … এবং কিমাঞ্জ ও বারবাতের ধ্বনি যা মুখরিত।

প্রতি মাসে এমনটাই ঘটে এবং ক্লান্তি থেকে … সতর্ক থাকো, কারণ প্রফুল্ল ব্যক্তি কখনো ক্লান্ত হয় না।

হে পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যিক, যিনি শ্রেষ্ঠত্বের … উচ্চতম অংশসমূহ অর্জন করেছেন।

তিনি প্রতিটি গৌরব ও পূর্ণতা আয়ত্ত করেছেন … এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও বর্ণনামূলক জ্ঞান দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছেন।

তার কাব্য রচনায় তিনি কাবকে ছাড়িয়ে গেছেন … এবং যুহাইর, যুল কুরুহ ও জাল-কেও।

এবং লাবিদ, দুই আ'শা, আমরু … এবং হাবিবকেও; কবিতার ক্ষেত্রে তিনি সকলকেই ছাড়িয়ে গেছেন।

হে গুণের অধিকারী, এই কবিতাটি গ্রহণ করুন … এমন এক প্রেমিকের পক্ষ থেকে যিনি আপনাকে বন্ধুত্বের যোগ্য মনে করেন।

স্মরণ করছেন পুরোনো হৃদ্যতা ও সেই কালকে … এবং রাকমাতাইন অঞ্চলে অতিবাহিত সময়কে।

হে সাহিত্যিক, এক প্রেমিকের দীর্ঘশ্বাস শোনো … যার হৃদয় ব্যথিত এবং দেহ ছায়ায় পরিণত হয়েছে।

তাদের থেকে কোনো কিছুই তাকে সান্ত্বনা দিতে পারে না … কেবল কবিতার মাধ্যমেই আমি অন্তরের দহন প্রশমিত করি।

এর মুক্তাসদৃশ শব্দগুলো থেকে প্রতিটি অংশ সমালোচনা করো … আর যদি কোনো বিচ্যুতি দেখো তবে তা ক্ষমা করো।

এবং এমন এক বৈধ জাদুর মাধ্যমে আমাকে উত্তর দাও যা আমার আতঙ্ককে শান্ত করবে … এবং যা অনুগ্রহ বহন করে।

আপনি অমূল্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত বাচনভঙ্গির অধিকারী হয়ে বেঁচে থাকুন … আর যতক্ষণ বৃষ্টি অরণ্যকে সিঞ্চিত করবে ততক্ষণ আপনি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে থাকুন।

 

যুহদ (বৈরাগ্য) বিষয়ে তাঁর উক্তি

প্রেমিকের হৃদয় থেকে কামনা বিচ্যুত হয়েছে … এবং আসক্ত ব্যক্তি হিন্দের সাথে সাক্ষাৎ ভুলে গিয়েছে।

সুন্দরী রমণীদের থেকে তার আকাঙ্ক্ষা ফিরে এসেছে … এবং তার পথভ্রষ্টতা সঠিক পথে রূপান্তরিত হয়েছে।

মহিমাময় আল্লাহর পুরস্কারের আশায় … প্রবৃত্তির বদলে তাকওয়া অর্জিত হয়েছে।

যৌবনের চপলতা তাকে ছেড়ে চলে গেছে … তাই সে বৈরাগ্যের সাথে দিনগুলোকে বরণ করে নিচ্ছে।

এখন তুমি তাকে দাদের প্রতি আসক্ত হতে দেখবে না … না তার কোনো প্রতিশ্রুতির প্রতি।

বরং সে তার পাগলপ্রায় নফসকে ফিরিয়ে এনেছে … প্রতিটি ধ্বংসাত্মক ও বিপদজনক বিষয় থেকে।

নজদের জারআ বা বান বৃক্ষের নিচে কাটানো … অতীত সময়ের স্মৃতি তাকে কাতর করে তুলেছে।

সেখানে তার ভাইদের সমাবেশ ছিল … যতক্ষণ না মহাকাল তাকে বিচ্ছেদের সম্মুখীন করেছে।

তাঁরা ছিলেন সত্যনিষ্ঠ ভাই, মর্যাদার অধিকারী … ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং অতিথিদের আশ্রয়স্থল।

তাদের প্রত্যেকেই এমন বীর যে, যুদ্ধের ময়দানে … প্রবেশ করলে তাদের কেশরওয়ালা সিংহের মতো দেখায়।

উচ্চমর্যাদার অধিকারী, বিচক্ষণ নেতা … বর্ম ভেদ করায় যিনি পারদর্শী।

রাতে আক্রমণকারী প্রতিটি দলের সেনাপতি … এবং ক্ষিপ্রগতি ঘোড়ার আরোহী।

চাশতের সময়ে অগণিত জনপদের ওপর আক্রমণকারী … যাদের সংখ্যা গণনা ও সীমার বাইরে।

শত্রুদের ওপর পতাকাধারী … এবং প্রতিটি বিধ্বংসী বিপদের ভার বহনকারী।

উজ্জ্বল ললাটের অধিকারী সেই বীরকে তুমি দেখবে … বর্মের নিচে পথপ্রদর্শনকারী দীপ্তিময় নক্ষত্রের মতো।

কতই না শুভ্র হাত (দান) তিনি মানুষের … গলায় অলংকার হিসেবে পরিয়ে দিয়েছেন, যা চিরস্থায়ী নেয়ামত।

তিনি ভয়াবহ অপরাধ ক্ষমা করেছেন এবং কত … অগণিত দান প্রদান করেছেন।

এমন প্রতাপশালী যার রোষকে মহাকালও ভয় পায় … যখন সে আক্রমণাত্মক হয়।

তিনি সুস্বাদু ফলদায়ক কিন্তু যুদ্ধের দিনে … কঠোর যোদ্ধার কাছে তিক্ত স্বাদযুক্ত।

আগত অতিথিদের জন্য তাঁর আতিথেয়তা সর্বদা স্বচ্ছ … এবং মধুর মতো মিষ্টি ছিল, যদিও তারা বিনা আমন্ত্রণে আসত।

আমি তাঁর সেই আবাসস্থলের আকাঙ্ক্ষা করি যেখানে … আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয় এবং সৌভাগ্য জন্মে।

সেখানে দান ও জ্ঞান চিরকাল পরিচিত ছিল … এবং তা লক্ষ্য অর্জনের সহায়ক ছিল।

হায় সেই সময়ের জন্য, যখন আনন্দের … দিনগুলো ছিল যার স্মৃতি আমার কাছে রয়ে গেছে।

তাঁর প্রাঙ্গণে প্রতিটি সময় আমার জন্য ছিল … এক সুন্দর ও প্রফুল্ল সান্নিধ্য।

সেখানে যৌবন আমার থেকে এবং আমার … প্রিয় বন্ধুদের থেকে সমস্ত কবচ ছিন্ন করেছিল।

আমি কেবল পবিত্র হৃদয়ের মানুষ ছাড়া আর কাউকে পাইনি … যেন আমি চিরস্থায়ী জান্নাতে ছিলাম।

 

বীরত্বগাথা বিষয়ে তাঁর উক্তি

তলোয়ারগুলো পিপাসার্ত হয়ে কতকাল আমার কাছে দাবি জানাবে … আর নেজাগুলো ক্ষুধার্ত ও খালি পেটে অভিযোগ করবে?

তেজস্বী ঘোড়াগুলো তাদের বীরদের এমন একদিনের জন্য ডাকছে … যেদিন তারা রক্তের ওপর ভাসমান থাকবে।

কে আমাদের পক্ষ থেকে নিযার এবং ইয়াকুব বংশকে সংবাদ পৌঁছে দেবে? … তাঁরাই সেই জাতি যাদের কাছে আমি আমার বিপদে সাহায্য প্রত্যাশা করি।

তাঁরা রক্ষক, সশস্ত্র বীর এবং যুদ্ধের ময়দানে অশ্বারোহী বাহিনীর নেতা … যুদ্ধের দিনে তাঁরা হিংস্র সিংহের মতো তোমার মুখোমুখি হয়।

কষ্টের দিনে যুদ্ধের ময়দানে তাঁরা মহানুভব … যখন দুই বাহিনী মুখোমুখি হয়, তখন তাঁরা অপমানকে প্রত্যাখ্যান করেন।

তাঁদের পোশাক দাউদের তৈরি বর্ম দ্বারা আবৃত … আর তাঁদের চেহারা অন্ধকার রাতে পূর্ণিমার চাঁদের মতো।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٩)
سموا لدراك المجد والثار والعلى … ورووا قناهم من دما كل طاغيه

وساروا على متن الخيول وسوّروا … بذي شطب عضب وسمراء عاليه

على لهم لم يبرحوا في خفاظه … مدى الدهر والأزمان عنه محاميه

فهم سادة الأقوام شرقاً ومغرباً … وبراً وبحراً والقروم المباهيه

فلا غرو ان كان النبي محمد … إليهم لينمى في جراثيم ساميه

به افتخروا يوم الفخار وقوضوا … بناء العلى عن كل قوم مضاهيه

به كسروا كسرى وفلوا جموعه … لكثرتها لم تدر في العهد ماهيه

ونافوا على الأطواد عزاً ورفعة … وزادوا على الآساد بأساً وداهيه

بلاغاً صريحاً واضحاً كاشفاً له … قناع المحيا فليبين داعيه

وإياهم والريث عن نصر خدنهم … ولا تؤمن الدنيا فليست بصافيه

وقل لهم يسرون فوق جيادهم … خفايا كما تمشي مع السقم عافيه

 

قوله في الغزل

مثير غرام المستهام ووجده … وميض سرى من غدر سلع ونجده

وبات بأعلى الرقمتين التهابه … فظل كئيباً من تذكر عهده

يحنّ إلى نحو اللوى وطويلعٍ … وبانات نجد والحجاز ورنده

وضال بذات الضال مرح غصونه … تفيأه ظبي يميس ببرده

كثير التجني ذو قوام مهفهف … صبيح المحيا لا وفاء لوعده

يغار إذا ما قست بالبدر وجهه … ويغضب إن شبهت ورداً بخده

مليح تسامى بالملاحة مفردٌ … كشمس الضحى كالبدر في برج سعده

ثناياه برق والصباح جبينه … وأما الثريا قد أنيطت بعقده

فمن وصله سكنى الجنان وطيبها … ولكن لظى النيران من نار صده

ترآى لنا بالجيد كالظبي تالعاً … أسارى الهوى من حكمه بعض جنده

روى حسنه أهل الغرام وكلهم … يتيه إذا ما شاهدوا ليل جعده

يعلم علم السحر هاروت لحظه … ويروي عن الرمان كاعب نهده

مضاء اليمانيات دون لحاظه … وفعل الردينيات من دون قده

إذا ما نضا عن وجهه البدر حجبه … صبا كل ذي نسك ملازم زهده

بروحي محيا قاصرٌ عنه كل من … أراد له نعتاً بتوصيف حده

هو الحسن بل حسن الورى منه محتدي … وكلهم يعزى لجوهر فرده

وما تفعل الراح العتيقة بعض ما … نبسمه بالمحتسي صفو ورده

 

قوله في مليح اعتل طرفه

يا جوهراً فرداً علا … من أين جاءك ذا العرض

وعلام طرفك ذا المريض … أعله هذا المرض

عهدي به مما يصيب … فكيف صار هو الغرض

ها قلبي المعمود نصبٌ … م للنوائب يرتكض

فاجعله يا كل المنى … بدلاً لما بك أو عوض

فأسلم مدى الأيام يا … ذا الحسن ما برق ومض

فمذ اعتللت أخا المها … في الطرف ما طرفي غمض

ونحيل جسمي مذ دنف … ت وحق عينك ما نهض

أنت المراد وليس لي … في غير وصلك من غرض

 

قال مشجراً

خلت خال الخد في وجنته … نقطة العنبر في جمر الغضا

دامت الأفراح لي مذ أبصرت … مقلتي صج محيا قد أضا

يتمنى القلب منه لفتةً … وبهذا الحظّ للعين رضا

جاهل رام سلواً عنه إذ … حظر الوصل وأولاني النضا

هامت العين به لما رأت … حسن وجه حين كنا بالأضا

 

قال في النسيب

سلا بطن مرو والغميم وموزعا … متى اصطافها ظبي النقا وتربعا

وهل حل من شرقيها أرض هجلةٍ … وهل جادها مزن فسال وأمرعا
মহিমা, প্রতিশোধ ও উচ্চতা অর্জনের জন্য তাঁরা সমুন্নত হয়েছেন … এবং প্রতিটি স্বৈরাচারীর রক্তে তাঁরা তাঁদের বর্শা সিক্ত করেছেন।

তাঁরা অশ্বপৃষ্ঠে চড়ে অগ্রসর হয়েছেন এবং বেষ্টন করেছেন … ধারালো তরবারি ও উন্নত বাদামী বর্শা দ্বারা।

তাঁরা এক উচ্চ মর্যাদায় আসীন যা রক্ষায় তাঁরা সদা অবিচল … মহাকালের ব্যাপ্তিকাল ও যুগ-যুগান্তর ধরে তাঁরা এর রক্ষক।

তাঁরা পূর্ব ও পশ্চিমের জাতিসমূহের নেতা … স্থলে ও জলে তাঁরাই সেই গর্বিত শ্রেষ্ঠ বীর।

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যদি নবী মুহাম্মদ … তাঁদেরই এক অতি উচ্চ ও সম্ভ্রান্ত বংশধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

গৌরবের দিনে তাঁরা তাঁকে নিয়ে গর্ব করেছেন এবং ধূলিসাৎ করেছেন … তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিটি জাতির উচ্চমর্যাদার প্রাসাদ।

তাঁর মাধ্যমে তাঁরা কিসরাকে পরাজিত করেছেন এবং তার বাহিনীকে ছিন্নভিন্ন করেছেন … যে বাহিনীর আধিক্যের কারণে সেই যুগে তার স্বরূপ জানা সম্ভব ছিল না।

মর্যাদা ও উচ্চতায় তাঁরা পাহাড়কেও ছাড়িয়ে গেছেন … আর শৌর্য ও কৌশলে তাঁরা সিংহকেও অতিক্রম করেছেন।

এক সুস্পষ্ট, প্রাঞ্জল ও উন্মোচনকারী বার্তার মাধ্যমে তাঁর জন্য … চেহারার আবরণ উন্মোচিত হয়েছে, সুতরাং আহ্বানকারী যেন তা ব্যক্ত করেন।

তাঁদের বন্ধুর সাহায্যে বিলম্ব করা থেকে তাঁদের সতর্ক থাকতে হবে … আর দুনিয়াকে বিশ্বাস করো না, কারণ এটি স্বচ্ছ বা নিস্পাপ নয়।

তুমি তাঁদের বলো, তাঁরা তাঁদের শ্রেষ্ঠ অশ্বগুলোর পিঠে চড়ে সংগোপনে বিচরণ করেন … ঠিক যেমন অসুস্থতার মাঝে সুস্থতা নিঃশব্দে বিচরণ করে।

 

প্রেমগাথা (গজল) বিষয়ে তাঁর উক্তি

বিরহকাতর প্রেমিকের অনুরাগ ও হৃদয়ের তীব্র ব্যাকুলতা জাগিয়ে তোলে … সেই বিদ্যুৎচমক যা 'সাল' ও 'নজদ' এর বিশ্বাসঘাতকতা থেকে বিচ্ছুরিত হয়েছে।

উভয় শৈলশিখরের (রাকমাতাইন) শীর্ষে তার দহন সারারাত বিরাজ করেছে … ফলে পুরনো দিনের স্মরণে সে বিষাদগ্রস্ত হয়ে রইল।

সে আকুল হয়ে ওঠে 'লোওয়া' ও 'তুয়াইলি' এর অভিমুখে … এবং নজদ ও হিজাজের বনরাজি ও সুগন্ধি বৃক্ষের তরে।

'জাতুল দ্বাল' এর সেই কুলগাছটি যার ডালপালাগুলো দুলছে … তার ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে এমন এক হরিণসদৃশ প্রিয়তম যে নিজের আবরণে সগর্বে বিচরণ করে।

সে বড় বেশি অভিমানী ও অপবাদদানকারী, তন্বী তার দেহলতা … উজ্জ্বল তার মুখচ্ছবি, অথচ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সে বড়ই উদাসীন।

সে ঈর্ষান্বিত হয় যখন তুমি তার চেহারার সাথে পূর্ণিমার চাঁদের তুলনা করো … আর সে ক্রুদ্ধ হয় যদি তার গালের সাথে গোলাপের তুলনা দাও।

অনুপম লাবণ্যময় এক একক সত্তা যে সৌন্দর্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে … ভোরের সূর্য কিংবা সৌভাগ্য নক্ষত্রমণ্ডলীর পূর্ণিমার চাঁদের মতো।

তার সম্মুখ দন্তরাজি বিদ্যুতের মতো আর কপাল যেন ভোরের প্রভা … আর সপ্তর্ষিমণ্ডল যেন তার কণ্ঠহারে গেঁথে দেওয়া হয়েছে।

তার সান্নিধ্য মানেই জান্নাতের নিবাস ও তার পবিত্র সুবাস … কিন্তু তার বিমুখতার আগুন যেন লেলিহান অগ্নিশিখা।

সুদীর্ঘ গ্রীবাবিশিষ্ট হরিণের মতো গ্রীবা নিয়ে সে আমাদের সামনে আবির্ভূত হয়েছে … প্রেমের বন্দিরা যেন তার শাসনের অধীনে থাকা কোনো এক সৈন্যদল।

প্রেমিকরা তার রূপের বর্ণনা দিয়েছে এবং তাদের সকলেই … দিশেহারা হয়ে পড়ে যখন তারা তার কুঞ্চিত কেশগুচ্ছের অন্ধকার রাত প্রত্যক্ষ করে।

তার নয়নপল্লব হারুতকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দেয় … আর তার উন্নত বক্ষ ডালিমের কথা বর্ণনা করে।

ইয়ামেনী তরবারির তীক্ষ্ণতাও তার চোখের চাহনির চেয়ে নগণ্য … আর দীর্ঘ বর্শার আঘাতও তার সুঠাম দেহের চেয়ে তুচ্ছ।

যখন সে তার চেহারা থেকে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় পর্দা সরিয়ে দেয় … তখন বৈরাগ্যধারী প্রতিটি আবেদও তার অনুরাগী হয়ে পড়ে।

সেই মুখচ্ছবির জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক, যার যথাযথ বর্ণনা দিতে গিয়ে … প্রত্যেক গুণকীর্তনকারীই ব্যর্থ হয়েছে।

সে নিজেই সৌন্দর্য, বরং সৃষ্টিজগতের সমস্ত সৌন্দর্য তার থেকেই উৎসারিত … আর তাদের সকলকেই সেই অনন্য সত্তার দিকেই সম্পৃক্ত করা হয়।

পুরনো মদও সেই প্রভাব ফেলতে পারে না যা তার হাসির দ্বারা … তার পবিত্র অধরের সুধা পানকারীর মাঝে সৃষ্টি হয়।

 

অসুস্থ নয়নবিশিষ্ট এক রূপবান সম্পর্কে তাঁর উক্তি

হে অনন্য রত্ন যিনি উচ্চতায় আসীন … তোমার কাছে এই রোগ-লক্ষণ কোথা থেকে এলো?

আর কেনই বা তোমার এই নয়ন পীড়িত … এই অসুস্থতা কি একেই কাবু করে ফেলেছে?

আমি জানতাম তোমার চোখই মানুষকে ঘায়েল করে … তবে তা আজ নিজেই কেন লক্ষ্যে পরিণত হলো?

দেখো, আমার এই ব্যথিত হৃদয়টি আজ লক্ষ্যবস্তু … যা বিপদের মুখে অবিরাম কম্পমান।

হে আমার সকল কামনার কেন্দ্রবিন্দু, তুমি একে বানিয়ে নাও … তোমার কষ্টের বিনিময় কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত।

তুমি চিরদিন নিরাপদ থাকো হে … সৌন্দর্যের অধিকারী, যতদিন বিদ্যুৎ চমকায়।

হে হরিণশাবকের ভ্রাতা, যবে থেকে তোমার চোখে পীড়া … তবে থেকে আমার চোখেও ঘুম নেই।

আর তোমার অসুস্থতার পর থেকে আমার এই ক্ষীণ শরীর … তোমার চোখের কসম, তা আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি।

তুমিই আমার একমাত্র চাওয়া, আর তোমার সান্নিধ্য ছাড়া … আমার অন্য কোনো লক্ষ্য নেই।

 

বৃক্ষ-বিন্যাসে (মুশাজ্জার) রচিত পঙ্ক্তি

আমি তার গালের তিলটিকে এমনভাবে কল্পনা করেছি … যেন 'গাদা' বৃক্ষের জ্বলন্ত কয়লার ওপর এক বিন্দু আম্বর।

আমার আনন্দ চিরস্থায়ী হয়েছে যবে থেকে আমার চক্ষু … একটি জ্যোতির্ময় মুখচ্ছবি দর্শন করেছে।

হৃদয় তার থেকে একটি পলক প্রত্যাশা করে … আর এই সৌভাগ্যের মাঝেই চোখের সন্তুষ্টি নিহিত।

সেই মূর্খ ব্যক্তিই তার থেকে বিমুখতা কামনা করেছে যখন … সে মিলনকে নিষিদ্ধ করেছে এবং আমাকে ক্লান্তি উপহার দিয়েছে।

যখন 'আদ্বা' নামক স্থানে থাকাকালীন চোখ তার সুন্দর অবয়ব দেখল … তখন সে প্রেমে আত্মহারা হয়ে গেল।

 

প্রেমগাথা (নাসীব) প্রসঙ্গে তাঁর পঙ্ক্তি

মারউ-এর উপত্যকা, গামিম ও মাওজি' কে জিজ্ঞাসা করো … বালুময় প্রান্তরের হরিণটি কবে সেখানে গ্রীষ্ম ও বসন্ত অতিবাহিত করেছে?

সে কি তার পূর্বদিকের সেই সমতল ভূমিতে অবস্থান নিয়েছে … আর মেঘমালা কি সেখানে বারিধারা বর্ষণ করেছে ফলে তা প্রবহমান ও শস্যশ্যামল হয়েছে?
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١٠)
سقى تلك من نوء السماكين بكرةً … سحايب غيث مربعاً ثم مربعاً

تظل الصبا تحدو بها وهي سجمٌ … وتنزلها سهلاً وحزناً وأجرعا

فتلك مغان لا تزال تحلها … خدلجة الساقين مهضومة المعا

ربيبة خدر الصون والترف الذي … يزيد على بذل الليالي تمنعا

تروت من الحسن البهيّ خدودها … وقامتيها كالغصن حين ترعرعا

قطوف الخطا مثل القطاحين ما مشت … تقوم بأرداف يحاذين لعلعا

 

قال مخاطباً سلطان مكة المشرفة

زيد بن محسن وهو متوجه لفتح اليمن سنة ثلاث وخمسين وألف

ما سار زيد مليك الأرض من بلد … إلا وقابله الاقبال بالظفر

إني أودعه بالجسم منفرداً … وإن روحي تتلوه على الأثر

 

وكتب إلى شيخنا العلامة محمد بن علي الشامي رقعة صورتها: يا مولانا عمر الله بالفضل زمانك وأنار في العالم برهانك سمحت للعبد قريحته في ريم هذه صفته بهذين البيتين وهما

تراأى كظبيٍ خائف من حبائل … يشير بطرفٍ ناعسٍ منه فاتر

ومذ ملئت عيناه من سحب جفنه … كنرجس روض جاده وبل ماطر

فإن رأى المولى أن يجيزهما ويجيرهما من البخس. فهو المأمول من خصائل تلك النفس. وإن رآهما من الغث فليدعهما كأمس. ولعل الاجتماع بكم في هذا اليوم قبل الظهر أو بعد العصر. لنحسو من كؤوس المحادثه ما راق بعد العصر. والمملوك كان على جناح ركوب. بيد أنه كتب هذه البطاقه وأرسلها إلى سوق أدبكم العامرة التي ما برح إليها كل خير مجلوب.

فأسبل الستر صفحاً إن بدا خلل … تهتك به ستر أعداءٍ وحساد

 

فكتب مولانا الشيخ المشار إليه هذين البيتين بديهة

ولرب ملتفت بأجياد المها … نحوي وأيدي العيس تنفث سمها

لم يبك من ألم الفراق وإنما … يسقي سيوف لحاظه ليسمها

 

ثم نظم المعنى بعينه فقال

ولقد يشير إليّ عن حدق المها … والرعب يخفق في حشاه الضامر

أسيان يفحص في الحبال كأنه … ظبي تخبط في حبالة جاذر

غشت نواظره الدموع كأنها … ماءٌ ترقرق في متون بواتر

رقت شمائله ورق أديمه … فتكاد تشربه عيون الناظر

وقال صاحب شيخنا أحمد الجوهري معارضاً

وظبي غريرٍ بالدلال محجبٍ … يرى إن ستر العين فرض المحاجر

رماني بطرف أسبل الدمع دونه … لئلا أرى عينيه من دون ساتر

 

ولما وقف أدباء اليمن على بيتي الوالد تجاروا في مضمارهما فقال السيد حسن بن المطهر الجرموزي

وريم فلا أصل المحاسن فرعه … تبدّى كبدر في الدجى للنواظر

سباني بجفن أدعج ماج ماؤه … فطرز شهب الدمع ليل الغدائر

 

قال حسن بن علي باعفيف

وخشف عليه الحسن أوقف نفسه … له ناظر يحميه من كل ناظر

نظرت إليه ناثراً در دمعه … فنظام فكري هام في در ناثر

 

قال الشيخ عبد الله الزنجي

وطرف له فعل السيوف البواتر … يصيب به مستلئماً دون حاسر

رمى ورنا فانهل بالدمع جفنه … كدر حواه سمط نظم الجواهر

 

قلت أنا في ذلك عام ثمان وستين

ولله ظبيٌ كالهلال جبينه … رماني بسهم من جفون فواتر

جرت بماآقيه الدموع كأنها … مياه فرند في شفار بواتر
সেসব অঞ্চলকে সিমাকে দাইনের নক্ষত্রপুঞ্জ ভোরবেলায় সিক্ত করুক … অবিরাম বর্ষণকারী মেঘমালা যেন একের পর এক বর্ষিত হয়।

পূর্বা বাতাস তাকে হাকিয়ে নিয়ে চলে যখন সে মেঘমালা অশ্রুসজল থাকে … আর তাকে সমতল ভূমি, বন্ধুর পথ এবং প্রস্তরময় প্রান্তরে নামিয়ে দেয়।

সেগুলো এমন আবাসস্থল যেখানে সর্বদা অবস্থান করে … সুপুষ্ট জঙ্ঘা ও ক্ষীণ কটিবিশিষ্ট রূপসীরা।

সে পর্দানশীন লালিত-পালিতা এবং এমন বিলাসিতার অধিকারিণী যা … দিনরাত্রির বিবর্তনের সাথে সাথে তার অনাগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

তার গণ্ডদেশ উজ্জ্বল সৌন্দর্যে কানায় কানায় পূর্ণ … আর তার অবয়ব যেন বিকশিত হওয়ার সময়ের নবীন শাখা।

তার পদক্ষেপগুলো বালিচাতক পাখির মতো সংক্ষিপ্ত যখন সে পথ চলে … সে যখন দাঁড়ায় তখন তার নিতম্ব যেন পাহাড়ের উচ্চতাকে স্পর্শ করে।

 

তিনি সম্মানিত মক্কার সুলতানকে সম্বোধন করে বললেন

যিনি হলেন জায়েদ বিন মুহসিন, যখন তিনি এক হাজার তিপ্পান্ন হিজরীতে ইয়েমেন বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন।

পৃথিবীর অধিপতি জায়েদ কোনো জনপদ থেকে যাত্রা করেননি … তবে বিজয় ও সফলতা তার সাথে সাক্ষাৎ করেছে।

আমি তাকে কায়িকভাবে একাকী বিদায় দিচ্ছি … কিন্তু আমার আত্মা তার পদচিহ্ন অনুসরণ করে তাকে সঙ্গ দিচ্ছে।

 

তিনি আমাদের শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শামীকে একটি চিরকুট লিখলেন যার ভাষ্য নিম্নরূপ: হে আমাদের প্রতিপালক, আল্লাহ আপনার সময়কে অনুগ্রহ দ্বারা সমৃদ্ধ করুন এবং বিশ্বে আপনার জ্ঞানদীপ্ত প্রমাণকে আলোকিত করুন। এই দাসের প্রতিভা এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারিণী এক হরিণী (প্রেয়সী) সম্পর্কে এই দুটি চরণে প্রস্ফুটিত হয়েছে, যা হলো:

সে ভীরু হরিণের মতো আবির্ভূত হলো যা ফাঁদকে ভয় পায় … সে তার তন্দ্রালু ও শিথিল চোখের পলক দিয়ে ইঙ্গিত করছে।

আর যখন তার চোখ দুটি অশ্রুমেঘে পূর্ণ হয়ে গেল … তখন মনে হলো যেন উদ্যানের নার্গিস ফুল যাকে মুষলধারে বৃষ্টি সিক্ত করেছে।

যদি জনাব মনে করেন যে এই চরণ দুটিকে কবুল করবেন এবং এদেরকে অবমূল্যায়ন থেকে রক্ষা করবেন, তবে আপনার মহৎ গুণাবলি থেকে এটিই কাম্য। আর যদি এগুলোকে তুচ্ছ মনে হয়, তবে একে গতকালের মতো বর্জন করবেন। সম্ভবত আজ যোহরের আগে বা আসরের পর আপনার সাথে সাক্ষাৎ হবে, যাতে আমরা আলাপের পাত্র থেকে আসরের পরের নির্মল সুধা পান করতে পারি। এই দাস সফরের প্রস্তুতিতে ছিল, তা সত্ত্বেও সে এই পত্রখানি লিখে আপনার সমৃদ্ধ সাহিত্য-বাজারে পাঠিয়েছে, যেখানে সর্বদা সব উত্তম বিষয় সংগৃহীত হয়।

ত্রুটি প্রকাশ পেলে ক্ষমার পর্দা টেনে দিন … যার মাধ্যমে শত্রু ও হিংসুকদের পর্দা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

 

অতঃপর আমাদের উল্লেখিত শায়খ উপস্থিত বুদ্ধিতে এই দুটি চরণ লিখলেন:

অনেক হরিণ-গ্রীবাবিশিষ্ট সুন্দরী আমার দিকে ফিরে তাকাল … যখন দ্রুতগামী উষ্ট্রগুলো তাদের ক্লান্তি বিষের মতো ছড়িয়ে দিচ্ছিল।

সে বিরহ ব্যথায় কাঁদেনি বরং … সে তার চোখের ইশারার তরবারিগুলোকে সিক্ত করছিল তাতে বিষ মাখানোর জন্য।

 

অতঃপর তিনি ঠিক এই ভাবার্থটি কাব্যরূপে প্রকাশ করে বললেন:

সে হরিণীর চোখের ভাষায় আমার দিকে ইঙ্গিত করে … অথচ তার ক্ষীণ বক্ষপিঞ্জরে ভীতি স্পন্দিত হচ্ছে।

সে ব্যথিত হয়ে বন্ধনমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে যেন … এক হরিণ যে ব্যাধের জালে আটকা পড়েছে।

অশ্রু তার দৃষ্টিশক্তিকে আচ্ছন্ন করেছে যেন তা … ধারালো তরবারির পিঠে চিকচিক করা পানি।

তার স্বভাব অত্যন্ত কমনীয় এবং তার চর্ম অত্যন্ত সুকুমার … মনে হয় যেন দর্শকদের চোখ তাকে পান করে ফেলবে।

আমাদের শায়খের সঙ্গী আহমদ আল-জাওহারী এর জবাবে বললেন:

এক চঞ্চলা হরিণী লাবণ্যের আবরণে ঢাকা … সে মনে করে চোখ ঢেকে রাখা চোখের কোটরের জন্য আবশ্যিক।

সে চোখের পলকে আমার দিকে এমন দৃষ্টি ছুড়ল যা অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিল … যাতে আমি আবরণহীন অবস্থায় তার চোখ দুটিকে দেখতে না পাই।

 

যখন ইয়েমেনের সাহিত্যিকগণ আমার পিতার এই দুই চরণের খবর পেলেন, তখন তারা একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলেন। অতঃপর সৈয়দ হাসান বিন আল-মুতাহার আল-জারমুজি বললেন:

এক শ্বেত হরিণী যার শাখা সৌন্দর্যের মূল উৎস নয় … সে যেন ঘোর অন্ধকারে দর্শকদের সামনে পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে আবির্ভূত হলো।

সে তার গাঢ় কালো চোখের পাতা দিয়ে আমাকে মোহিত করল যার অশ্রু উথলে উঠছিল … যা তার কুন্তলদামের অন্ধকার রাতে অশ্রুর নক্ষত্র খচিত করছিল।

 

হাসান বিন আলী বাআফিফ বললেন:

এক হরিণশাবক যার ওপর সৌন্দর্য নিজেকে উৎসর্গ করেছে … তার এমন দৃষ্টি আছে যা তাকে প্রতিটি দর্শকের দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।

আমি তার দিকে তাকালাম যখন সে তার অশ্রুর মুক্তা ছড়াচ্ছিল … তখন আমার চিন্তার সুতো সেই বিক্ষিপ্ত মুক্তার মাঝে হারিয়ে গেল।

 

শায়খ আবদুল্লাহ আজ-জানজি বললেন:

তার চোখের পলক যেন ধারালো তরবারির আঘাত … যা দিয়ে সে বর্মাবৃত ব্যক্তিকে আঘাত করে কোনো অরক্ষিত ব্যক্তি ছাড়াই।

সে তীর নিক্ষেপ করল ও তাকাল, ফলে তার চোখের পাতা থেকে অশ্রু ঝরল … যেন রত্নমালায় গাঁথা মুক্তাসমূহ।

 

আমি (লেখক) এ বিষয়ে এক হাজার আটষট্টি সনে বললাম:

আল্লাহর কসম, এমন এক হরিণ যার ললাট হেলাল বা নবচন্দ্রের ন্যায় … সে তার অলস চোখের পাতা থেকে আমার দিকে তীর ছুড়ল।

তার চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো যেন তা … ধারালো তরবারির ফলার ওপর চিকচিক করা পানির রেখা।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌السيد أحمد بن مسعود

بن سلطان مكة المشرفة الشريف حسن بن بركات الحسني نابغة بني حسن. وباقعة
الفصاحة واللسن. الساحب ذيل البلاغة على سحبان. والسائر بأفعاله وأقواله الركبان. أحد السادة الذين رووا حديث السيادة براً عن بر. والساسة الذين فتقت لهم ريح الجلاد بعنبر. فاقتطفوا نور الشرف من روض الحسب الأنضر. وجنوا ثمر الوقائع يانعاً بالنصر من ورق الحديد الأخضر. كانت له همة تزاحم الأفلاك. وتزاعم بعلو قدرها الأملاك لم يزل يقدر من نيل الملك ما لم يف به عدده وعدده. ولم يمده عليه من القضا والزمان مدده ومدده. فاقتحم لطلبه بحراً وبراً. وقلد للملوك بمدحه جيداً ونحراً. فلم يسعفه أحد ولم يساعد. وإذا عظم المطلوب قل المساعد. وكان قد دخل شهاره من بلاد اليمن في إحدى الجمادين من سنة ثمان وثلاثين وألف وامتدح بها امامها محمد بن القاسم. بقصيدة راح بها ثغر مديحه ضاحكاً باسم. وطلب منه مساعدته على تخليص مكة المشرفة له. وإبلاغه من تحليته بولايتها أمله. وكان ملكها إذ ذاك الشريف أحمد بن عبد المطلب فأشار في بعض أبياتها إليه. وطعن فيها بسنان بيانه عليه. ومطلع القصيدة

سلا عن دمي ذات الخلاخل والعقد … بماذا استحلت أخذ روحي على عمد

فإن أمنت أن لا تقاد بما جنت … فقد قيل أن لا يقتل الحر بالعبد

ومنها يخاطب الامام المذكور طاعناً على سلطان مكة المشرفة

أغث مكةً وانهض فأنت مؤيدٌ … من الله بالفتح المفوض والجدّ

وقدم أخا ودّ وأخر مبغضاً … يساور طعناً في المؤيد والمهدي

ويطعن في كل الأئمة معلناً … ويرضي عن ابن العاص والنجل من هند

فلم يحصل منه على طائل. إلا ما أجازه به من فضل ونائل. فعاد إلى مكة المشرفة سنة تسع وثلاثين وأقام بها سنتين ثم توجه إلى الديار الروميه في أواسط شهر ربيع الثاني في سنة إحدى وأربعين قاصداً ملكها السلطان مراد خان فورد عليه في القسطنطينية العظمى مقر ملكه واجتمع به ومدحه بقصيدة فريدة سأله فيها توليته مكة المشرفه وأنشده إياها في أواخر شوال سنة إحدى وأربعين وألف ومطلع القصيدة قوله

ألا هبي فقد بكر الندامى … ومج المرج من ظلم الندامى

وهينمت القبول فضاع نشر … روى عن شيخ نجد والخزامى

وقد وضعت عذارى المزن طفلاً … بمهد الروض تغذوه النعامى

فكم خفر الفوارس في وطيس … فتى منا وما خفر الذماما

وكم جدنا على قلٍّ بوفر … وأعطينا على جدب هجاما

وكم يوم ضربنا الخيل فيه … على أعقابها خلفاً اماما

فنحن بنو الفواطم من قريش … وقادات الهواشم لا هشاما

برانا الله للدنيا سناءً … وللأخرى إذا قامت سناما

وخص بفضله من أمّ منا … مليكاً كان سابوراً هماما

فتى الهيجا مراد الحق من لم … يخف من فضل خالقه ملاما

مجشّ الحرب إن طارت شعاعاً … نفوس عندها قلّ المحامي

وغيث قطره ورق وتبر … يجود إذا شكى المحل الركاما

فيثنى سيبه جدبا وشيكاً … ويثنى سيفه موتاً زؤاما

وفي شفتيه آجال ورزق … بها أمر الصواعق والسجاما

يقود له الملوك الصيد جيشاً … فيمنحه الخوامع والرجاما

وإن وفدوه أغناهم وأقنى … وأجلسهم على العليا مقاما

مليك الأرض والأملاك طراً … وجاوي ملكها يمناً وشاما

ومجرٍ من دم الأعداء بحراً … ولا قوداً يخاف ولا اثاما

يبيت مراعياً أمر الرعايا … إذا باتت ملوكهم نياما

تسنم غارب الدنيا فألقى … إليه جموحها طوعاً زماما

إذا شملت عنايته لئيماً … فقد شملت مكارمه الكراما

تعاظم قدره عن وصف شعر … كذا مرماه يسمو أن يراما

ويكبر أن يدانيه عنيد … فيرميه ويعظم أن يراما
‌সাইয়্যেদ আহমদ বিন মাসউদ

বিন মক্কা মুশাররাফাহর সুলতান আশ-শরীফ হাসান বিন বারাকাত আল-হাসানী, বনু হাসানের এক অনন্য প্রতিভা। এবং বাগ্মিতা ও জবানশৈলীর এক বিস্ময়। যিনি সাহবানের ওপর অলঙ্কারশাস্ত্রের আঁচল টেনেছেন। যাঁর কর্ম ও বাণীর সুখ্যাতি কাফেলাসমূহের মুখে মুখে ফেরে। সেই সকল মহানুভবদের একজন যাঁরা আভিজাত্যের বর্ণনা সৎকর্ম থেকে সৎকর্মের ধারায় বর্ণনা করেছেন। সেই সকল রাজনীতিবিদ যাঁদের জন্য বীরত্বের সুবাস আম্বরের ন্যায় বিচ্ছুরিত হয়েছে। ফলে তাঁরা অতি উজ্জ্বল বংশীয় উদ্যান থেকে সম্মানের আলো চয়ন করেছেন। এবং সবুজ লৌহপত্রের (অস্ত্রের) মাধ্যমে বিজয় লাভ করে যুদ্ধের পরিপক্ক ফল আহরণ করেছেন। তাঁর সংকল্প ছিল আকাশচুম্বী, যা স্বীয় উচ্চমর্যাদার কারণে ফেরেশতাদের সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত। তিনি সর্বদা রাজপদ লাভের এমন উচ্চাশা পোষণ করতেন যার জন্য তাঁর লোকবল ও সরঞ্জাম যথেষ্ট ছিল না। আর ভাগ্য ও সময়ও তাঁকে সেই সাহায্য ও রসদ যোগায়নি যা তাঁর প্রয়োজন ছিল। তাই তিনি সেই পদ লাভের উদ্দেশ্যে স্থলে ও জলে দুঃসাহসিক অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এবং স্বীয় প্রশংসাগীতি দ্বারা রাজন্যবর্গের কণ্ঠ ও গ্রীবাকে অলঙ্কৃত করেন। কিন্তু কেউ তাঁকে সাহায্য বা সহযোগিতা করেনি। আর কাঙ্ক্ষিত বস্তু যখন মহান হয়, তখন সাহায্যকারীর সংখ্যা কমে যায়। তিনি ১০৩৮ হিজরি সনের জুমাদাল উলা বা জুমাদাস সানি মাসে ইয়ামেন দেশের শাহারে প্রবেশ করেন এবং সেখানকার ইমাম মুহাম্মদ বিন আল-কাসিমের প্রশংসায় একটি কাসিদা পাঠ করেন, যার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসার মুখ হাস্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তিনি তাঁর কাছে মক্কা মুশাররাফাহ উদ্ধার করার জন্য এবং মক্কার শাসনভার লাভের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেন। সেই সময় মক্কার শাসক ছিলেন শরীফ আহমদ বিন আব্দুল মুত্তালিব; ফলে তিনি কাসিদার কিছু চরণে তাঁর দিকে ইঙ্গিত করেন এবং তাঁর বাগ্মিতার নেজা (বল্লম) দ্বারা তাঁকে আক্রমণ করেন। কাসিদাটির শুরু ছিল এমন—

নূপুর ও হার পরিহিতা নারীর কাছে আমার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো … সে কিসের ভিত্তিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রাণ হরণ করাকে বৈধ মনে করল?

সে যদি তার অপরাধের শাস্তি থেকে নিরাপদ বোধ করে … তবে বলা হয়েছে যে, দাসের বদলে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় না।

এরই একটি অংশে তিনি মক্কা মুশাররাফাহর সুলতানের সমালোচনা করে উল্লিখিত ইমামকে সম্বোধন করে বলেন—

মক্কাকে উদ্ধার করুন এবং জেগে উঠুন, কেননা আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকে … অর্পিত বিজয় ও সৌভাগ্য দ্বারা সমর্থিত।

বন্ধুত্ব পোষণকারীকে এগিয়ে দিন এবং বিদ্বেষ পোষণকারীকে পিছিয়ে দিন … যে ব্যক্তি সমর্থিত ও হেদায়েতপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক।

সে প্রকাশ্যে সকল ইমামদের সমালোচনা করে … অথচ সে আস-এর পুত্র এবং হিন্দের সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট।

কিন্তু ইমামের কাছ থেকে তিনি কোনো উল্লেখযোগ্য ফল পাননি, কেবল উপঢৌকন ও দাক্ষিণ্য ছাড়া। অতঃপর তিনি ১০৩৯ হিজরি সনে মক্কা মুশাররাফাহয় ফিরে আসেন এবং সেখানে দুই বছর অবস্থান করেন। এরপর ১০৪১ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি রোমীয় ভূখণ্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সেখানকার সুলতান মুরাদ খানের সাথে সাক্ষাৎ করা। তিনি তাঁর সাম্রাজ্যের রাজধানী মহান কনস্টান্টিনোপলে উপস্থিত হন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে একটি অনন্য কাসিদা পাঠ করেন, যাতে তিনি মক্কা মুশাররাফাহর শাসনভার প্রদানের প্রার্থনা জানান। ১০৪১ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের শেষের দিকে তিনি কাসিদাটি তাঁকে শুনিয়েছিলেন। কাসিদাটির শুরু ছিল এমন—

ওহে, ওঠো! সাকীরা সকালেই চলে এসেছে … আর বাগানগুলো সাকীদের বদান্যতায় ভরপুর হয়ে উঠেছে।

পূর্বদিকের মৃদু বাতাস বয়ে চলেছে এবং সুবাস ছড়িয়ে দিচ্ছে … যা নজদের শাইখ ও খুজামা ফুলের সংবাদ বহন করে আনে।

মেঘের কুমারীরা বাগানের দোলনায় … এক শিশু অর্পণ করেছে, যাকে দক্ষিণ হাওয়া লালন-পালন করছে।

যুদ্ধের প্রচণ্ড উত্তাপে কত অশ্বারোহী বীরই না ভীত হয়েছে … কিন্তু আমাদের এক যুবক সেখানে ছিল যে কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেনি।

স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও আমরা কতই না অঢেল দান করেছি … আর দুর্ভিক্ষের সময়ও আমরা তৃষ্ণার্তদের পানীয় দান করেছি।

এমন কত দিন গিয়েছে যখন আমরা ঘোড়াগুলোকে ছুটিয়েছি … তাদের পশ্চাৎদেশ থেকে সামনের দিকে আক্রমণ চালিয়ে।

আমরা কুরাইশের ফাতেমীদের সন্তান … এবং হাশেমীদের নেতা, হিশামীদের নয়।

আল্লাহ আমাদের দুনিয়ার জন্য জ্যোতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন … আর পরকালে যখন বিচার কায়েম হবে, তখন উচ্চ মর্যাদা হিসেবে।

তিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদের সেই নেতাকে খাস করেছেন … যিনি এমন এক বাদশাহ যিনি মহাবীর শাহপুরের মতো সাহসী।

রণাঙ্গনের বীর সত্যের মুরাদ, যিনি তাঁর … মহান স্রষ্টার অনুগ্রহ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিন্দুকের ভয় করেন না।

যুদ্ধের ময়দানে তিনি অটল থাকেন যখন প্রাণগুলো … বিক্ষিপ্ত হয়ে উড়ে যায় এবং যখন সাহায্যকারী কমে যায়।

তিনি এমন এক বৃষ্টি যার ফোঁটা হলো রৌপ্য ও স্বর্ণ … যা তখন বর্ষিত হয় যখন মানুষ মেঘের অভাব বোধ করে।

তাঁর দান অতি দ্রুত দুর্ভিক্ষকে দূর করে দেয় … আর তাঁর তলোয়ার শত্রুর জন্য নিশ্চিত মৃত্যু নিয়ে আসে।

তাঁর ওষ্ঠদ্বয়ে নির্ধারিত সময় ও রিযিক উভয়ই রয়েছে … সেখানে বজ্রপাতের কঠোরতা এবং বৃষ্টির কোমলতা—উভয় নির্দেশই বিদ্যমান।

শিকারী রাজারা তাঁর জন্য এক বিশাল বাহিনী নিয়ে আসে … আর তিনি তাদের জন্য হিংস্র পশু ও শকুনদের ভোজের ব্যবস্থা করেন।

যখন তারা তাঁর কাছে আসে, তিনি তাদের অভাবমুক্ত ও ধনী করেন … এবং তাদের সুউচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন।

তিনি সমগ্র পৃথিবী ও রাজত্বের অধিপতি … যাঁর রাজত্ব ইয়ামেন থেকে শাম পর্যন্ত বিস্তৃত।

তিনি শত্রুদের রক্ত দিয়ে সমুদ্র বইয়ে দেন … আর তিনি কোনো প্রতিশোধ বা পাপের ভয় করেন না।

তিনি প্রজাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাত অতিবাহিত করেন … যখন অন্য রাজারা নিদ্রায় মগ্ন থাকে।

তিনি দুনিয়ার পিঠে সওয়ার হয়েছেন এবং … দুনিয়ার অবাধ্যতা তাঁর অনুগত হয়ে লাগাম ছেড়ে দিয়েছে।

যখন তাঁর কৃপা কোনো নীচ ব্যক্তিকে স্পর্শ করে … তখন তাঁর বদান্যতা সকল সম্মানিত ব্যক্তিকেও পরিবেষ্টন করে।

তাঁর মাহাত্ম্য কবিতার বর্ণনার ঊর্ধ্বে … তেমনি তাঁর লক্ষ্যও এতো উচ্চে যে তা ছোঁয়া দুঃসাধ্য।

কোনো একগুঁয়ে ব্যক্তি তাঁর সমকক্ষ হতে চাইলে তিনি বিশাল হয়ে ওঠেন … তখন তিনি তাকে পরাস্ত করেন এবং তাঁর মাহাত্ম্য লক্ষ্যভেদ করাকে অসম্ভব করে তোলে।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١٢)
ترفع كمه عن لثم ملكٍ … وتلثمه الضعائف واليتامى

وينطق عنده شاكٍ ضعيفٌ … ولا يسطيع جبار سلاما

له يد ماجد لم تله يوماً … بغانية ولا ضمت مداما

أغر سميدع ضخم المساعي … له رأي يرد به السهاما

ويخدم قبر طه بالمواضي … ودين الله والبيت الحراما

فيا ملك الملوك ولا أبالي … ولا عذراً أسوق ولا احتشاما

إذا ما قست لم أنزلك فيهم … بمنزلة الرجال من الأيامى

إلى جدواك كلفنا المطايا … دواماً لا نفارقها دواما

وجبنا يا ابن عثمان الموامي … إلى أن صرن من هزل هياما

وذقنا الشهد في معنى الترجي … وقلنا الصبر من جوع طعاما

صلينا من شموس القيظ ناراً … تكون بنورك العالي سلاما

وخضنا البحر من ثلج إلى أن … حسبناه على البيدا أكاما

نؤم رحابك الفيح اشتياقاً … ونأمل منك آمالاً جساما

ومن قصد الأمير غداً أميراً … على ما في يديه ولن يضاما

وحاشا بحرك الفياض انا … نرد بغلةٍ عنه حياما

وقد وافاك عبد مستميح … ندا كفيك والشيم الكراما

وقد نزل ابن ذي يزن طريداً … على كسرى فانزله شماما

أتى فرداً فعاد يجر جيشاً … كسا الأكام خيلاً والرغاما

به استبقى جميل الذكر دهراً … وأنت أجل من كسرى مقاما

وسيف في العلا دوني فإني … عصامي وأسموه عظاما

بفاطمة ونجليها وطه … وحيدرة الذي فاق الأناما

عليهم رحمة تهدى سلاماً … يكون لنشرها مسكاً ختاما

ولا بدعٌ إذا وافاك عاف … فعاد يقود ذا لجب لهاما

فخذ بيدي وسنمني محلاً … بقربي منك فيه لن أساما

وهب لي منصبي لتنال أجري … وشكري ما بقيت له لزاما

فيقال إنه أجابه إلى ملتمسه ومراده. وأرعاه من مقصده أخصب مراده. ولكن مدت إليه يد الهلك. قبل نيل الملك. وقيل أجزل صلته فقط. وأغفل ما تمناه وقط. ولم يعد إلى مكة شرفها الله تعالى وتوفى في تلك السنة أو التي تليها والله أعلم وهذا محل نبذة من منثور وروده. ومنظوم عقوده. قرأت في تذكرة العلامة القاضي تاج الدين المالكي الآتي ذكره إن شاء الله تعالى فصلاً يشتمل على شيء من نثر غيره ونظمه وصورته لكاتبه ومنشيه. وراقمه وموشيه. فيما كتب على هياكل الصدور. وفاقت به قلائد النحور. وحكى بتفويفه الروضة الغناء. واستحسن استحسان العقد في عنق الحسناء. شعر

غنيت بحلية حسنهاعن لبس أصناف الحليوبدت بهيكلها البديع

تقول شاهد واجتلتجد المحاسن كلهاقد جمعت في هيكلي

وكنت أدعي في أبياتي هذه السالمة من الحشو والزيف. دعوى ناظم بيتي الطيف. حتى وقف عليها ورآها. وشاءها فشاآها وشيد كل بيت من أبياته قصراً. واسترق ذلك المعنى باستحقاقه قسراً. سيدنا ومولانا المتفرع من دوحة الخلافه. المترعرع في روضة الشرافه. مالك أزمة اليراعة والحسام. ملك أئمة البراعة والكلام. الجامع بين طرفي الكمال الغريزي والمكتسب. والحائز شرفي العلم والنسب.

فإذا انتهى عدّ الجدو … د إلى النبي المرسل

من معشر شم الأنو … ف من الطراز الأول

وسما بتالد مجده … وطريفه المستكمل

وحوى البسالة والعفا … ف ورقة المتغزل

فتخاله يوم الوغى … من نفسه في جحفل

ولدى الهوى يصطاده … لحظ الغزال المغزل

لا سيما من سر به … يزهو به في المحفل

وله الجواري المنشئآت … المنشئآت جوى الخلى

جامع أشتات المفاخر. المفتخر بها على الأوائل والأواخر. سيدنا ومولانا السيد أحمد بن مسعود. لا زال طالع شهابه في صعود وسعود. فقال
রাজন্যবর্গের চুম্বন থেকে তিনি তাঁর আস্তিন গুটিয়ে নেন … অথচ দুর্বল ও এতিমগণ তা চুম্বন করে।

তাঁর কাছে একজন দুর্বল অভিযোগকারী কথা বলতে পারে … অথচ কোনো স্বৈরাচারী কথা বলার সাহস পায় না।

তাঁর রয়েছে এক মহানুভব হাত যা কোনোদিন প্রমোদবালায় মত্ত হয়নি … আর না কখনো মদের পাত্র আঁকড়ে ধরেছে।

তিনি এক উজ্জ্বল ললাটবিশিষ্ট মহৎ নেতা, যাঁর প্রচেষ্টা বিশাল … তাঁর এমন প্রজ্ঞা রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি নিক্ষিপ্ত তীরসমূহকে ফিরিয়ে দেন।

তিনি শাণিত তরবারি দিয়ে ত্বহা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রওজা মোবারক … আল্লাহর দ্বীন এবং বায়তুল্লাহ হারামের সেবা করেন।

হে রাজাধিরাজ! আমি কোনো পরোয়া করি না … আর কোনো ওজর পেশ করি না, না কোনো জড়তা বোধ করি।

যদি আমি তুলনা করি, তবে আমি আপনাকে তাদের মাঝে এমন অবস্থানে রাখব না … যা অবিবাহিতদের মাঝে সাধারণ পুরুষদের অবস্থান।

আপনার অনুগ্রহ লাভের আশায় আমরা সওয়ারিগুলোকে চালিত করেছি … নিরন্তর, আমরা এক মুহূর্তের জন্যও তাদের থেকে পৃথক হই না।

হে উসমানের বংশধর! আমরা মরুভূমি পাড়ি দিয়েছি … যতক্ষণ না সওয়ারিগুলো কৃশ হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

আমরা আশার অন্তরালে মধু আস্বাদন করেছি … আর বলেছি, ক্ষুধার্ত অবস্থায় সবরই হচ্ছে খাদ্য।

গ্রীষ্মের প্রখর সূর্যতাপে আমরা যে আগুনের দহন সয়েছি … তা আপনার উচ্চতর নূরের পরশে শান্তিতে পরিণত হয়।

আমরা বরফের সমুদ্র পাড়ি দিয়েছি, এমনকি … মরুভূমির বুকে আমরা সেগুলোকে পাহাড়ের টিলা মনে করেছি।

আমরা ব্যাকুল হয়ে আপনার প্রশস্ত আঙিনার দিকে আসছি … আর আপনার কাছে বিশাল সব আশা পোষণ করি।

যে ব্যক্তি আমীরের কাছে আসে, সে নিজের যা কিছু আছে তার উপর আমীর হয়ে ফিরে যায় … আর সে কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

আপনার প্রবাহমান সমুদ্র থেকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় … আমাদের ফিরে যাওয়া অসম্ভব।

আপনার কাছে এক গোলাম এসেছে যে আপনার দুই হাতের দান … এবং আপনার মহৎ চরিত্রের প্রত্যাশী।

ইবন যি-ইয়াযান যখন বিতাড়িত হয়ে কিসরার কাছে আশ্রয় নিয়েছিল … তখন সে তাকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছিল।

সে একাকী এসেছিল, কিন্তু ফিরে গিয়েছিল এক বিশাল বাহিনী নিয়ে … যা পাহাড়ের টিলা ও ধূলিকণাকে ঘোড়ার খুরে ঢেকে দিয়েছিল।

এর মাধ্যমে সে যুগে যুগে সুখ্যাতি ধরে রেখেছে … অথচ আপনার মর্তবা কিসরার চেয়েও অনেক মহান।

মর্যাদার ক্ষেত্রে তলোয়ার আমার চেয়ে নিচু, কারণ আমি … স্বীয় কর্মগুণে শ্রেষ্ঠ, আর তাকে বলা হয় কেবল বংশমর্যাদা নির্ভর।

ফাতিমা, তাঁর দুই পুত্র এবং ত্বহা … ও হায়দারের অসিলায়, যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।

তাঁদের উপর রহমত বর্ষিত হোক যা সালাম হিসেবে প্রেরিত হয় … যার সুবাস ছড়ানো হবে কস্তুরীর চূড়ান্ত আমেজ হয়ে।

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যদি কোনো অভাবী আপনার কাছে আসে … আর ফিরে যাওয়ার সময় এক বিশাল বাহিনী সাথে নিয়ে যায়।

সুতরাং আপনি আমার হাত ধরুন এবং আমাকে এমন এক অবস্থানে উন্নীত করুন … যেখানে আপনার নৈকট্যের কারণে আমি আর অপমানিত হব না।

আপনি আমাকে আমার পদমর্যাদা দান করুন যাতে আপনি প্রতিদান লাভ করেন … আর আমার কৃতজ্ঞতা আজীবন আপনার জন্য অবধারিত থাকবে।

বলা হয় যে, তিনি তাঁর আবেদন ও উদ্দেশ্য পূরণ করেছিলেন। এবং তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে তাঁকে প্রচুর দান করেছিলেন। কিন্তু রাজত্ব লাভের পূর্বেই ধ্বংসের হাত তাঁর দিকে প্রসারিত হলো। আর বলা হয় যে, তিনি কেবল তাঁর উপঢৌকন বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এবং তিনি যা কামনা করেছিলেন তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। আর তিনি মক্কা (আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন)-এ ফিরে যাননি এবং সেই বছরেই বা তার পরের বছরে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহই ভালো জানেন। এটি তাঁর গদ্য ও কাব্যিক নিদর্শনের একটি অংশ। আমি আল্লামা কাজী তাজউদ্দীন আল-মালিকী—যাঁর কথা ইনশাআল্লাহ পরে আসবে—তাঁর 'তাযকিরা' গ্রন্থে একটি অনুচ্ছেদ পড়েছি যাতে অন্যদের কিছু গদ্য ও পদ্য রয়েছে এবং তার লেখকের বর্ণনা রয়েছে। যা হৃদয়ের মণিকোঠায় খোদাই করা হয়েছে এবং তা কণ্ঠহারের শোভাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর বৈচিত্র্যময় অলংকরণ সবুজ উদ্যানের ন্যায় এবং এটি কোনো সুন্দরী রমণীর কণ্ঠে হারের মতো চমৎকার। কাব্য:

আমি তার সৌন্দর্যের অলংকারে অন্য সব ধরণের অলংকার পরা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়েছি এবং তার অপূর্ব অবয়বে প্রকাশ পেয়েছি।

সে বলছে, প্রত্যক্ষ করো এবং অবলোকন করো; সমস্ত সৌন্দর্যের মহিমা আমার এই অবয়বে একত্রিত হয়েছে।

আমি আমার এই কবিতাগুলোতে অপ্রয়োজনীয় শব্দ ও অসারতামুক্ত হওয়ার দাবি করতাম, এমনকি স্বপ্নচারী কবির দুই চরণের দাবির মতো; যতক্ষণ না তিনি এর ওপর দৃষ্টিপাত করলেন এবং এটি দেখলেন। তিনি যা চেয়েছিলেন তা অর্জন করলেন এবং তাঁর প্রতিটি চরণকে একটি প্রাসাদে রূপান্তর করলেন। তিনি তাঁর যোগ্যতাবলে সেই অর্থকে জয় করে নিলেন। আমাদের নেতা ও অভিভাবক, যিনি খিলাফতের বংশধারা থেকে উদ্ভূত, যিনি শরীফ বংশের উদ্যানে বেড়ে উঠেছেন। যিনি কলম ও তলোয়ারের লাগামের মালিক, যিনি পাণ্ডিত্য ও বাকপটুতার ইমামদের সম্রাট। যিনি সহজাত ও অর্জিত পূর্ণতার দুই প্রান্তকে একত্রিত করেছেন এবং ইলম ও বংশমর্যাদার উভয় সম্মান অর্জন করেছেন।

যখন তাঁর পূর্বপুরুষদের গণনা প্রেরিত নবী পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে … তখন তিনি সেই উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন, যারা প্রথম স্তরের অভিজাত।

তিনি তাঁর চিরন্তন মর্যাদা এবং অর্জিত পূর্ণতা দ্বারা উচ্চাসনে আরোহণ করেছেন … তিনি বীরত্ব, পবিত্রতা এবং প্রেমিক কবির কোমলতা সবই অর্জন করেছেন।

যুদ্ধের দিন আপনি তাকে দেখে মনে করবেন যে … তিনি একাই এক বিশাল বাহিনী।

আর অনুরাগের সময় হরিণীর চপল দৃষ্টি … তাঁকে শিকার করে নেয়।

বিশেষ করে যার মাধ্যমে তিনি আনন্দিত হন … এবং মজলিসে গর্বিত হন।

তাঁর জন্য রয়েছে এমন সব সৃজনশীল কাব্যধারা … যা হৃদয়ের শূন্যতায় আবেগ সৃষ্টি করে।

বিবিধ গৌরবের সংগ্রাহক, যার মাধ্যমে তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের ওপর গর্ব করেন। আমাদের নেতা ও অভিভাবক সাইয়্যেদ আহমদ বিন মাসউদ। তাঁর ভাগ্যের নক্ষত্র যেন সর্বদা উন্নতি ও সৌভাগ্যের সাথে উদিত থাকে। অতঃপর তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١٣)
لله ظبي سر بهيزهو به في المحفلقنص الأسود بقالبٍ

قيد الأوابد هيكليوله الجواري المنشئآتجوى الحشاشة للخلي

من كل بكرٍ لحظهايسطو بحد الفصيلمشتاقها من ثغرها

وأثيثها في مشكلما قال في ظلمائهيا أيها الليل انجل

فاق الغواني حاليات عاطلاً في هيكلوغدا ينضّ به فأزرى

الحلى بالنص الجلى

ثم من بعد أن نضد عقد هذه الأبيات. التي أصبحت إلا عليه أبيات. كتبها وكتب معها. رقعة من الروض أقتطعها. وهي: يا مولانا امتع الله ببقائك. وصير أعداءك من أوليائك. قهراً لا موده. ليذوقوا بالطاعة الفرج بعد الشده

إذا لم تجزهم دار قوم مودة … أجاز القنا والخوف خير من الود

لي فريخه وهي غائبه وضعت لها من ضيافتها هيكلاً وسمحت فيه القريحة الجامدة. والجذوة الخامدة. بهذه الأبيات ومن شانك ستر العوار. والمكافأة عن صغار الصدف بالدرر الكبار. فإن كانت مما يجوز لك أن تنشدها فأجزها وأشرف عليها القاضي تاج الدين لتكسب منه عقدا. وتتارج مسكاً وندا. فإنكما فرقداً سما وزنداً وغى. وبعث بها إلى سيدنا ومولانا. وصديقنا وأولانا. وحلية صدر الشريعة. المتسنم ذروتها الرفيعة. مجمع بحري المنطوق والمفهوم. منبع نهري المنثور والمنظوم. قدوة القضاة والحكام. عمدة أرباب الأحكام في الأحكام. مولانا القاضي أبي العباس شهاب الدين بن عيسى بن مرشد العمري الحنفي. عامله الله بلطفه الخفي. فكتب الجواب من غير ارتباك ولا ارتياب. فلله در تلك البديهه. وعين الله على تلك الفطرة النبيهة. وصورته: يا مولانا حرس الله على البلاغة. بل على المعالي مهجتك. وحفظ على الصياغه بل على الشرف العالي بهجتك. ان وقع مشتاق صاحبة الهيكل. بين أثيثها وثغرها في مشكل. فقد وقع العبد من نظم هذه المشرفه ونثرها مرتعد الفرائص ارتعاد من جنى على السنبتي المشبل. وقبل الأرض بين يدي نظمك ونثرك. ووقف حائراً بين نهيك وأمرك. فإن أجاب المملوك ببنت شفه. عده أرباب البلاغة من المملوك غاية السفسفه. أجار الله مولانا منها بل السفه. وإن لم يجب. فما أدى بعض ما يجب. والفؤاد منه يجل ويجب. يا مولانا فالعبد يقف بين يدي بلاغتك كالذليل ويسألك أن تعفو عن مثل هذا الموقف وتقيل. فإذا قيل في الرسل الكرام. عليهم الصلاة والسلام. وكلهم من رسول الله مغترف. وكل منهم مقر بذلك ومعترف. والولد سرابيه. بشهادة كل ذي أدب نبيه. فما يكون هذا العبد الحقير. بالنسبة إلى جناب مولانا الكبير. نعم اذهب إلى رب البلاغه. ومالك أزمة الصناعة والصياغه. من ألقت إليه الفصاحة مقاليدها. وصغرت لديه جهابذتها وصناديدها. واعترف له لتقدمه الأقران. وذلك لبزوغ نيره في أسعد قران. العلامة على التحقيق. الفهامة الذي يبادر المنصف عند تصور كماله بالتصديق. مولانا أبي المعالي تاج الدين المالكي باسقاط آلة التعريف. الجامع لإحاسن محاسن التوصيف. فإنه أثبت جناناً. وأفصح مني لساناً. واستمع ما يبديه. ثم ارفعه إلى المسامع الشريفة وانهيه. إن شاء الله تعالى ثم إن المملوك ادعى الزعارة. وسولت له نفسه الأماره. بأن يخوض في هذا البحر. ويستخرج من درره ما يتحلى به جيد الدهر. فقال مرتجلاً. وأجاز وجلا

أنا ربة الحسن الجليلمؤملي المتأملصدري ووجهي منيةٌ

للمجتني والمجتليالحظ بديع محاسنيمن تحت أنواع الحلي

تجد المحاسن والحليّ … م جمالها من هيكلي
আল্লাহরই জন্য সেই হরিণশাবক, যার মাধ্যমে তিনি আনন্দিত হন এবং সভার মাঝে তার গুণকীর্তন করেন; সে তার রূপের ফাঁদ দিয়ে সিংহ শিকার করে।

বন্য প্রাণীদের বশকারী হলো আমার এই কাঠামোটি। তার জন্য রয়েছে প্রবহমান ঝরনাধারা, যা রিক্ত হৃদয়ের মানুষের অন্তরের জ্বালা মিটিয়ে দেয়।

প্রত্যেক সেই কুমারীর চাহনি হতে, যার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ তরবারির মতো আঘাত করে; তার ওষ্ঠাধর হতে তার প্রেমিকের জন্য আকাঙ্ক্ষা জাগে।

আর তার ঘন কালো কেশরাজি এক জটিল রহস্যের মতো। যখন সে তার অন্ধকারের মাঝে বলে— হে রাত! তুমি কি শেষ হবে না?

সে অলঙ্কার পরিহিতা সুন্দরীদের ছাড়িয়ে গেছে, অথচ সে এই কাঠামোতে অলঙ্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। পরদিন যখন সে তার আবরণ উন্মোচন করল, তখন সে অলঙ্কারগুলোকে তুচ্ছজ্ঞান করল।

সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে অলঙ্কারসমূহ ফুটে উঠল।

অতঃপর এই কবিতাগুলোর হার সুবিন্যস্ত করার পর, যা তাঁর কাছে পঙ্‌ক্তিমালা ছাড়া আর কিছুই ছিল না, তিনি সেগুলো লিখলেন এবং তার সাথে বাগানের একটি টুকরো সদৃশ পত্র যুক্ত করলেন। তাতে লেখা ছিল: হে আমাদের মওলানা, আল্লাহ আপনার দীর্ঘ জীবন দ্বারা আমাদের ধন্য করুন। আর আপনার শত্রুদের আপনার অনুগত মিত্রে পরিণত করুন; ভালোবাসার কারণে নয় বরং দাপটের মাধ্যমে, যাতে তারা আনুগত্যের মধ্য দিয়ে কষ্টের পর প্রশান্তি আস্বাদন করতে পারে।

যদি কোনো জাতির আবাসস্থল তাদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ না করে … তবে বর্শা তাদের পথ দেখাবে, আর ভীতি বন্ধুত্বের চেয়ে উত্তম।

আমার একটি ছোট শাবক রয়েছে যা বর্তমানে অনুপস্থিত; আমি তার আতিথেয়তার জন্য একটি অবকাঠামো বা কাঠামো তৈরি করেছি। আমার এই স্থবির প্রতিভা এবং নিভে যাওয়া আগুনের ফুলকি হতে এই কবিতাগুলো নিবেদন করেছি। আর আপনার স্বভাবই হলো দোষত্রুটি গোপন করা এবং ক্ষুদ্র ঝিনুকের বিনিময়ে বড় মুক্তো দিয়ে পুরস্কৃত করা। যদি এই কবিতাগুলো আপনার পাঠ করার যোগ্য হয়, তবে একে অনুমতি দিন। আর কাজি তাজ আল-দ্বীনকে এটি দেখার সুযোগ দিন, যাতে এটি তাঁর নিকট হতে একটি চুক্তির মর্যাদা লাভ করে এবং কস্তুরী ও সুগন্ধির মতো সুবাস ছড়ায়। কারণ আপনারা দুজনেই আকাশের দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং যুদ্ধের ময়দানের দুটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। তিনি এই পত্রটি আমাদের সাইয়্যেদ ও মওলানা, আমাদের বন্ধু এবং আমাদের নিকটতম জন, শরিয়তের বক্ষের অলঙ্কার, যার সুউচ্চ শিখরে তিনি আরোহণ করেছেন, তাঁর নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি হলেন প্রকাশ্য ও উহ্য জ্ঞানের দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থল, গদ্য ও পদ্যের দুই নদীর উৎস। বিচারক ও শাসকদের আদর্শ, বিধানের ক্ষেত্রে বিচারপতির প্রধান অবলম্বন। আমাদের মওলানা কাজি আবু আল-আব্বাস শিহাব আল-দ্বীন ইবনে ঈসা ইবনে মুরশিদ আল-উমারি আল-হানাফি, আল্লাহ তাঁর প্রতি তাঁর গুপ্ত দয়া বর্ষণ করুন। অতঃপর তিনি কোনো দ্বিধা বা সংশয় ছাড়াই এর উত্তর লিখলেন। সেই উপস্থিত বুদ্ধির কী চমৎকার কারিশমা! আর আল্লাহর চোখ সেই প্রখর মেধার ওপর থাকুক। তাঁর উত্তরের সারমর্ম হলো: হে আমাদের মওলানা, আল্লাহ অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর, বরং আপনার উচ্চমর্যাদার ওপর আপনার প্রাণকে রক্ষা করুন। আর অলঙ্কার শিল্পের ওপর, বরং আপনার সুমহান সম্মানের ওপর আপনার দীপ্তিকে হেফাজত করুন। সেই কাঠামোর অধিকারিণীর প্রেমিকের অবস্থা যদি তার ঘন কেশরাজি ও ওষ্ঠাধরের মাঝে পড়ে জটিল হয়ে থাকে, তবে এই গোলামের অবস্থা আপনার এই মহিমান্বিত কাব্য ও গদ্যের বিন্যাস দেখে এমন হয়েছে যে, তার পিঠের চামড়া সেই ব্যক্তির মতো কাঁপতে শুরু করেছে যে সিংহীর সামনে অপরাধ করেছে। আমি আপনার কাব্য ও গদ্যের সামনে জমিন চুম্বন করেছি এবং আপনার আদেশ ও নিষেধের মাঝে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। যদি এই গোলাম কোনো উত্তর দেয়, তবে অলঙ্কারশাস্ত্রের পণ্ডিতগণ একে এই গোলামের পক্ষ থেকে চরম মূর্খতা হিসেবে গণ্য করবেন। আল্লাহ আমাদের মওলানাকে তা থেকে বরং নির্বুদ্ধিতা থেকে রক্ষা করুন। আর যদি কোনো উত্তর না দিই, তবে যা ওয়াজিব ছিল তার কিছুটাও আদায় হলো না; অথচ এ কারণে হৃদয় অত্যন্ত সংকুচিত ও কম্পিত। হে আমাদের মওলানা, এই গোলাম আপনার অলঙ্কারশাস্ত্রের সামনে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করছে যেন আপনি এই অবস্থানের জন্য তাকে ক্ষমা করেন এবং মার্জনা করেন। কারণ যদি সম্মানিত রাসুলগণের সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে— তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— যে তাঁরা প্রত্যেকেই আল্লাহর রাসুলের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন এবং প্রত্যেকেই তা স্বীকার করেছেন। আর সন্তান যে তার পিতার রহস্যের অংশ, তা প্রত্যেক বুদ্ধিমান সাহিত্যিকের নিকট স্বীকৃত। তবে এই নগণ্য গোলাম আমাদের মহান মওলানার তুলনায় কী-ই বা হতে পারে? হ্যাঁ, আমি অলঙ্কারশাস্ত্রের অধিপতি এবং শিল্প ও রচনার চাবিকাঠির মালিকের কাছে যাচ্ছি; যার কাছে বাগ্মিতা তার সমস্ত চাবিকাঠি সঁপে দিয়েছে, যার সামনে বড় বড় পণ্ডিত ও নেতৃবৃন্দ তুচ্ছ হয়ে গেছে। সমসাময়িকরা তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছে এবং তা হয়েছে এক শুভ লগ্নে তার নক্ষত্রের উদয়ের কারণে। তিনি হলেন গবেষণার ক্ষেত্রে মহাজ্ঞানী, যার পূর্ণতা উপলব্ধি করলে কোনো ইনসাফকারী ব্যক্তি তাকে সত্যায়ন করতে দেরি করে না। তিনি হলেন আমাদের মওলানা আবু আল-মাআলি তাজ আল-দ্বীন আল-মালিকি—পার্থিব উপাধি ছাড়াই যিনি শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী—যিনি সুন্দরতম গুণাবলির সার্থক সমন্বয়কারী। তিনি হৃদয়ের দিক থেকে সুদৃঢ় এবং আমার চেয়ে বাগ্মিতায় পারদর্শী। আপনি তাঁর বক্তব্য শ্রবণ করুন, অতঃপর তা সম্মানিত শ্রবণগোচরে পেশ করুন এবং তা সমাপ্ত করুন। ইনশাআল্লাহ তায়ালা। অতঃপর এই গোলাম বীরত্বের দাবি করল এবং তার কুমন্ত্রণা দানকারী নফস তাকে প্ররোচিত করল যেন সে এই সমুদ্রে ঝাঁপ দেয় এবং এর মুক্তাসমূহ আহরণ করে যা দিয়ে সময়ের কণ্ঠদেশ সজ্জিত হবে। সুতরাং সে উপস্থিতভাবে কিছু বলল এবং ভীত অবস্থায় অনুমতি দিল:

আমি সুমহান সৌন্দর্যের অধিকারিণী, আমার প্রত্যাশী হলো সেই যে গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে।

আমার বক্ষ ও মুখমণ্ডল হলো ফল আহরণকারী এবং সৌন্দর্য দর্শনকারীর পরম আকাঙ্ক্ষা।

অলঙ্কারের বিচিত্র প্রকারের নিচ থেকে আমার অপূর্ব সৌন্দর্যসমূহ প্রত্যক্ষ করো।

তুমি আমার এই কাঠামো থেকেই সমস্ত সৌন্দর্য ও অলঙ্কার খুঁজে পাবে। … এর সৌন্দর্য আমার কাঠামো থেকেই বিকশিত।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١٤)
انتهى جواب مولانا القاضي. أدام الله به بين الخصوم التراضي. ثم إن مولانا القاضي المشار إليه. أسبغ الله فيض فضله عليه. أشرفني على ما كتب به إليه المقام العظيم. من ذلك الدر النثير والنظيم. فإذا هو قد رفع لعبده فيه ذكراً. وقلد منه جيداً ونجرا. وقرنه بشهاب الفضائل المشرق في سمائها بدرا. السامي رتبة وقدرا. وكان مولانا المقام الشريف. والمرام المنيف. حيث أغار على عبده تلك الاغارة. ولم يترك له من ذلك المعنى إلا اختراعه وابتكاره. وأظهر بالنص الجلي قصوره وعواره. قصد أن يطفيء حره وأواره. بما وقع به من الايماء إلى عبده والاشاره. التي أنشد المملوك نفسه عندها لك البشاره. وإلا فإني يبلغ الضالع شأ والضليع. أو يجاري من يبرز كلام ابن حجر في ذلك القالب البديع. وكم ترك الأول للآخر. وليس من يمتص مصة الوشل من جعفر كمن يعترف من بحر زاخر. ثم طرق الفضلا ذلك المعنى. وقرعوا باب ذلك المغني فمنهم من لج وولج. ومنهم من صعد وعرج. ومنهم من لم يحظ بالولوج، فضلاً عن العروج. فكان ممن بلغ تلك الغايه. وأضحى عرابة تلك الرايه. مولانا الكامل بحره. المتحلي بعقود الفضائل نحره. العالم العلامه. العمدة الفهامه. القاضي يحيى شرف الدين ابن السيد عمر الحسيني الهاشمي المكي الخلوتي القاضي بمكة المشرفه. فنظم أربعة أبيات. فقال

أفدي كعوباً ذات حسن ناهداً … قد صاغها الباري بأجمل هيكل

خطرت بهيكل قدها وبهيكل … في جيدها الباهي السني المتهلل

بين الغواني المبدعات بحسنها … وجمالها مهدي الجمالة للحلي

وتقول عجباً بينهن ورقةً … هل هيكل في الحسن يحكي هيكلي

قال مؤلف الكتاب انتهى ما أردت نقله من تذكرة القاضي المذكورة والهيكل غلاف من الفضة يتخذ للتعاويذ وأنشدني الوالد لنفسه في ذلك

خود جلا الأنوار نور جبينها … والفرع منها كالبهيم الأليل

تزهو بجيد الريم إلا إنه … هادٍ إلى الوجه المنير الأجمل

قالت لصبٍ قد تزايد وجده … من صدها بتعززٍ وتذلل

انا نزهة الأبصار ذاتاً فاجتل … مني محاسن قد حواها هيكلي

وأنشدني لنفسه في المعنى أيضاً

خود جلالي وجههابدراً منيراً معتلىقالت لمدنف هجرها

بتعزز وتذللٍانا نزهة الأبصار ذاتام والبها بي يعتلي

ومحاسن الدنيا جميعاً م … قد حواها هيكلي

رجع: ومن انشاء السيد المذكور ما كتبه مراجعاً به بعض أصحابه وذلك سنة اثنتين وعشرين وألف: ورد الكتاب المحتوي على وجيز المعاني. المغني عن الروضة والأغاني. المشار إليه بالبنان في البيان والمعاني. كيف لا وهو في حديث المطارحة لمالك النظم والنثر. والمنهاج الذي عرفت الأدباء له من الأزهار النثر. فكان تذكرة الأشجان. وتسلية الأحزان. فهمت لما فهمت. وفتنت لما فطنت. وأنشدت

وما كان تأخير الجواب سآمةً … ولكن لتنعيم الجوارع في المرج

فزهرٌ لجان شنف سمع وأذفر … لشم وللرائين ما قمر الكرج

فلله درك من بحر فاض بالفوائد والفرائد. وأغنى بعرائس فكره عن عرائس الخرائد لاكبا كميتك في مضمار. ولا شق له في حلبته غبار. ومن جيد شعره قوله

حنت فأبكت ذات شكل حنون … وغنت الورق بأعلى الغصون

وهينمت مسكية ذيلها … عطره نشر طوى والحجون

وشق برد الليل برقٌ فما … ظننته إلا حسام الجفون

كأنه مذ شق قلب الدجى … جبين ليلي في دياجي القرون

فقمت كالهادر في شجوه … لم أدر ما بي فرح أم جنون

وأرسل الدمع نجيعاً على … خدي فيجري أعيناً من عيون

فلم أخل نوماً ولا مجثماً … وموقداً أو علماً في دمون

الا وبات الناعم الفرش لي … شوكاً ومبسوط الروابي حزون

فالبرق نوحي في الربى رعده … والورق من شعري تجيد اللحون

عهدي بها كانت كناس الظبى … وغابة الأُسد حماة الظعون

حتى غدا من بعدهم ربعها … مستقفراً جارت عليه السنون
আমাদের মাওলানা বিচারকের (কাযী) জবাব শেষ হলো। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে বিবাদীদের মধ্যে সন্তুষ্টি ও মীমাংসা স্থায়ী করুন। অতঃপর উল্লিখিত মাওলানা বিচারক—আল্লাহ তাঁর ওপর তাঁর অনুগ্রহের প্রাচুর্য বর্ষণ করুন—তিনি আমাকে সেই সুনিপুণ গদ্য ও পদ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়েছেন, যা মহান উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি তাঁর নিকট লিখেছেন। সেখানে তিনি তাঁর এই দাসের আলোচনা উচ্চকিত করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে তাকে মণি-মুক্তার মালায় ভূষিত করেছেন। একে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের নক্ষত্রের সাথে যুক্ত করেছেন, যা আকাশের পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল এবং যার মর্যাদা ও অবস্থান অত্যন্ত সুউচ্চ। আমাদের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং মহান লক্ষ্য সম্বলিত মাওলানা যখন তাঁর দাসের ওপর সেই ভাবগত আক্রমণ চালালেন এবং তাঁর জন্য সেই অর্থের উদ্ভাবন ও সৃজন ব্যতিরেকে আর কিছুই অবশিষ্ট রাখলেন না; বরং স্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে তার অসারতা ও ত্রুটি প্রকাশ করে দিলেন, তখন তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে সেই উত্তাপ ও দহন নিভিয়ে দেওয়া, যা তিনি তাঁর দাসের প্রতি ইঙ্গিত ও ইশারার মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে এই দাস আপনার জন্য সুসংবাদের কবিতা আবৃত্তি করেছিল। নতুবা আমি একজন দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তি হয়ে কীভাবে সেই দ্রুতগামী পারদর্শী অশ্বের সমকক্ষ হতে পারি? অথবা কীভাবে তাঁর মোকাবিলা করতে পারি যিনি ইবনে হাজারের কথাকে এমন অপূর্ব ছাঁচে উপস্থাপন করেন? পূর্বসূরিরা উত্তরসূরিদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন! তবে সামান্য প্রস্রবণের জল চোষা ব্যক্তি আর উত্তাল সমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরে জল নেওয়া ব্যক্তি কখনোই সমান নয়। এরপর গুণীজনরা সেই ভাবের অন্বেষণ করলেন এবং সেই ঐশ্বর্যের দ্বারে করাঘাত করলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেখানে প্রবেশে লিপ্ত হলেন, কেউ কেউ উচ্চ শিখরে আরোহণ করলেন, আবার কেউ কেউ সেখানে প্রবেশের সুযোগই পেলেন না, আরোহণের তো প্রশ্নই আসে না। তবে যারা সেই চরম সীমায় পৌঁছাতে পেরেছিলেন এবং সেই পতাকার কাণ্ডারি হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাওলানা, যাঁর জ্ঞানসমুদ্র পূর্ণাঙ্গ, যাঁর বক্ষদেশ গুণাবলীর হার দ্বারা বিভূষিত, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, নির্ভরযোগ্য ও ধীমান ব্যক্তি, বিচারক ইয়াহইয়া শরফউদ্দীন ইবনে সাইয়্যেদ ওমর আল-হুসাইনী আল-হাশিমী আল-মাক্কী আল-খালওয়াতী, যিনি পবিত্র মক্কার বিচারক ছিলেন। তিনি চারটি পঙক্তি রচনা করেছেন। তিনি বললেন:

আমি উৎসর্গ হই সেই লাবণ্যময়ী নবযৌবনা সুন্দরীর চিবুকের তরে … যাকে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন অতি চমৎকার অবয়বে।

তিনি অগ্রসর হলেন তাঁর দেহের গঠন ও রূপের অলঙ্কার নিয়ে … তাঁর উজ্জ্বল, দীপ্তিময় ও হাস্যোজ্জ্বল সুন্দর গ্রীবায়।

রূপবতী সুন্দরীদের মাঝে তিনি তাঁর লাবণ্য বিলিয়ে দিচ্ছেন … এবং তাঁর রূপ হলো অলঙ্কারের জন্য সৌন্দর্যের পথপ্রদর্শক।

তিনি গর্বের সাথে তাদের মাঝে কোমল স্বরে বলছেন … রূপ-সৌন্দর্যে কি কোনো অবয়ব আছে যা আমার অবয়বের মতো?

গ্রন্থের লেখক বলেন, উল্লিখিত বিচারকের সেই সংকলন (তাযকিরাহ) থেকে আমি যা উদ্ধৃত করতে চেয়েছিলাম তা এখানেই শেষ হলো। আর 'হায়কাল' (অবয়ব) হলো রূপার একটি আবরণ যা তাবীজ রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়। আমার পিতা এই বিষয়ে নিজের রচিত কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন:

এমন এক সুন্দরী যাঁর ললাটের জ্যোতি আলোকচ্ছটাকে উজ্জ্বল করে … আর তাঁর কেশরাশি ঘোর কৃষ্ণবর্ণ রজনীর মতো।

তিনি হরিণীর মতো গ্রীবা নিয়ে গর্ব করেন, তবে তা … অতি সুন্দর উজ্জ্বল চেহারার দিকে পথপ্রদর্শক।

তিনি এক প্রেমাসক্ত ব্যক্তিকে বললেন যাঁর বিরহব্যথা বৃদ্ধি পেয়েছে … তাঁর বিমুখতায় ও কখনো কঠোরতা ও কখনো নম্রতায়:

আমিই সত্তাগতভাবে দৃষ্টির আনন্দ নিকেতন, সুতরাং অবলোকন করো … আমার সেই সৌন্দর্য যা আমার অবয়ব ধারণ করে আছে।

তিনি একই ভাবে তাঁর নিজের আরও কিছু পঙক্তি আমাকে শুনিয়েছেন:

এক সুন্দরী যাঁর চেহারার মহিমা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল ও সমুন্নত। তিনি তাঁর বিরহে কাতর ব্যক্তিকে বললেন:

কঠোরতা ও নম্রতার সাথে: আমিই সত্তাগতভাবে দৃষ্টির আনন্দ এবং আমার মাধ্যমেই সৌন্দর্য বিকশিত হয়।

পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্যই … আমার এই অবয়ব ধারণ করে আছে।

পূর্বপ্রসঙ্গে প্রত্যাবর্তন: উল্লিখিত সাইয়্যেদের রচনার মধ্যে রয়েছে যা তিনি তাঁর জনৈক বন্ধুর চিঠির উত্তরে লিখেছিলেন, আর তা ছিল এক হাজার বাইশ হিজরি সালে: এমন এক পত্র এসেছে যা সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ। যা উদ্যান ও সঙ্গীত থেকেও অমুখাপেক্ষী করে দেয়। যা বর্ণনাশৈলী ও ভাবপ্রকাশে সবার কাছে সুপরিচিত। কেনই বা হবে না, অথচ এটি গদ্য ও পদ্যের অধিপতির সাথে আলাপচারিতার বিষয়। এবং এমন এক পথ যা সাহিত্যিকরা কুসুমিত সৌরভের মাধ্যমেই চিনে থাকেন। এটি ছিল দুঃখের স্মারক এবং বেদনার সান্ত্বনা। আমি যখন বুঝতে পারলাম তখন উপলব্ধি করলাম, আর যখন অনুধাবন করলাম তখন বিমোহিত হলাম। এবং আমি আবৃত্তি করলাম:

উত্তর দিতে দেরি হওয়াটা কোনো ক্লান্তিবশত ছিল না … বরং তৃণভূমিতে বিচরণকারী প্রাণীদের সুখস্মৃতির জন্য ছিল।

আহরণকারীর জন্য সুগন্ধি ফুল যা শ্রবণেন্দ্রিয়কে তৃপ্ত করে এবং সুবাসিত করে … ঘ্রাণের জন্য, আর দর্শকদের জন্য তা যেন কারাজের চাঁদের মতো।

ধন্য আপনার সেই জ্ঞানসমুদ্র যা শিক্ষা ও অনন্য মুক্তায় উপচে পড়ছে। যা তাঁর চিন্তারূপী নববধূদের মাধ্যমে সাধারণ রূপবতী রমণীদের থেকেও অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে। আপনার ঘোড়া কোনো ময়দানেই হোঁচট খায়নি, আর প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে কেউ আপনার ধূলিও স্পর্শ করতে পারেনি। তাঁর উৎকৃষ্ট কবিতাগুলোর মধ্যে একটি হলো:

তিনি ব্যাকুল হয়ে কাঁদলেন এবং এক মমতাময়ীকে কাঁদালেন … আর বনের পাখিরা ডালপালার মগডালে গেয়ে উঠল।

তাঁর আঁচলের মৃগনাভির সুবাস মৃদুভাবে বইছিল … যার সুঘ্রাণ তুয়া ও হাজুন প্রান্তরকে সুবাসিত করেছিল।

রাতের বস্ত্রকে যেন এক বিদ্যুৎ চিরে দিল, ফলে আমি … একে নেত্রের তরবারি ব্যতীত অন্য কিছু মনে করিনি।

এটি যখন অন্ধকারের বুক চিরে দিল, তখন যেন মনে হলো … এটি যুগের ঘন অন্ধকারে লায়লার ললাট।

তখন আমি শোকার্ত উটের মতো দাঁড়িয়ে গেলাম … আমি জানি না আমার মধ্যে যা হচ্ছে তা আনন্দ নাকি উন্মাদনা।

অশ্রু রক্তবর্ণ হয়ে আমার গণ্ডদেশে বয়ে পড়ল … এবং দুচোখ থেকে ঝর্ণার মতো ঝরতে লাগল।

আমি কোনো ঘুম বা বিশ্রামের স্থান পেলাম না … এমনকি কোনো অগ্নিকুণ্ড বা দামুনের কোনো চিহ্নও পেলাম না।

এমনকি নরম বিছানাও আমার কাছে … কাঁটা হয়ে রইল এবং বিস্তৃত পাহাড়গুলো দুর্গম মনে হলো।

বিদ্যুৎ যেন আমার জন্য বিলাপ করে তার গর্জনের মাধ্যমে … আর পাখিরা আমার কবিতার সুরে সুর মেলায়।

আমার জানামতে সেখানে হরিণের আশ্রয়স্থল ছিল … আর তা ছিল পর্যটকদের রক্ষাকারী সিংহদের অরণ্য।

অবশেষে তাদের প্রস্থানের পর সেই বসতি এমন জনমানবহীন হয়ে পড়ল … যেন বছরের পর বছর তার ওপর দিয়ে নিষ্ঠুরতা বয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١٥)
كأنه جسمي وإن لم يكن … جسمي فوهماً أو خيالاً يكون

الله لي من مهجة مزقت … ومقلة عبرى ونفس رنون

تحنّ للشعب وأوطانه … مهما سرى برقٌ بليلٍ وجون

وفتية من آل طه لهم … في الحرب أبكار مزايا وعون

من كل طلق لا يرى كالسها … لضيفه ثلة ذات القرون

مبتذل الساحات في قطرهم … للخائف الجاني أعز الحصون

كل طويل الباع رحب الفنا … تصدق للوفاد فيه الظنون

يحمده السارون إن أدلجوا … ويعمر النادي به السامرون

لا ينتهي الجارون منه إلى … شأوٍ ولا يعسفه الجائرون

فيا نسيمات الضبا عرّجي … بهم وبثي غامضات الشجون

وحاذري ان تصحبي لوعتي … واستصحبي بثي عسى يفهمون

وبلغيهم حال من لم يزل … حليف أشجان كثير الشؤون

نآءٍ عن الأهلين صعب الأسى … من بعد ما فارق قلباً شطون

يحفظ للرمل عهود الوفا … وإن طلبت القرب منه يخون

قولي لهم يا عرب وادي النقا … وجيزة الجرعا وذات الحزون

نسيتم صباً غدا دمعه … من بعدكم صباً قريح الشؤون

وهو وماضي العيش ما ساعة … فيها تناسى جدكم والمجون

فشأنه يخبر عن شأنه … وحاله أن يسأل السائلون

وأنت يا شادي بشأم اللوى … ويا حويدي الظعن بين الرعون

عرّض بذكري لا شجتك النوى … لعلهم لي بعد ذا يذكرون

وهات لي عن رامة والنقا … هل طاب للساكن فيها السكون

وهل أثيلات النقا فرعها … يهصره من لينه الهاصرون

وصادح تلحينه صادع … على فنون باعثات الفنون

منازل كنا عهدنا بها … ثقال أرداف خماص البطون

وكان ابن عمه الشريف محسن بن حسين بن حسن يطرب لأبيات الحسين بن مطير ويعجب بها كثيراً وهي

ولي كبد مقروحة من يبيعني … بها كبداً ليست بذات قروح

أبى الناس ريب الناس لا يشترونها … ومن يشتري ذا علة بصحيح

أحنّ من الشوق الذي في جوانحي … حنين غصيص بالشراب قريح

فسأل السيد أحمد المذكور تذييلها فقال مذيلاً وأجاد ما شآء

على سالف لو كان يشرى زمانه … شربت ولكن لا يباع بروحي

تقضى وأبقى لاعجاً يستفزه … تألق برق أو تنسم ريح

وقلباً إلى الأطلال والضال لم يزل … نزوعاً وعن أفيآء غير نزوح

فليت بذات الضال نجب أحبتي … طلاحاً فنضو الشوق غير طليح

يجشمه بالأبرقين منيزل … وبرق سرى وقتاً وصوت صدوح

وموقف بينٍ لو أرى عنه ملحداً … ولجت بنفسي فيه غير شحيح

صرمت به ربعي وواصلت أربعي … وأرضيت تبريحي وعفت نصيحي

وباينت سلواني وكل ملوّح … ولايمت أشجاني وكل مليح

وكلفت نفسي فوق طوقي فلم أطق … لعدّ سجايا محسن بمديح

 

وله أيضاً وهو مما ليس في ديوانه

ألا ليت شعري هل ألاقيك مرة … وصوتك قبل الموت ها أنا سامع

فيا دهرنا للشت هل أنت جامع … ويا دهرنا بالوصل هل أنت راجع

وله في مغن

بروحي من غنى وروضة خده … مخضبة مخضلة من دمي غنا

وأهدى لنا ورداً وغصناً ونرجساً … ولم يهد إلا الخد والقد والجفنا

وقال مخاطباً ابن عمه سلطان مكة المشرفة الشريف ادريس بن حسن وقد رأى منه تقصيراً في حقه

رأيتك لا توفي الرجال حقوقهم … توهم كبراً سآء ما تتوهم

وتزعم اني بالمطامع أرتضي … هواناً ونفسي فوق ما نلت تزعم
যেন তা আমার শরীর, যদিও তা আমার … শরীর না হয়; তবে তা একটি কল্পনা বা মরীচিকা হবে।

আল্লাহ আমার সহায় হোন সেই বিদীর্ণ হৃদয়ের জন্য … অশ্রুসিক্ত চোখের জন্য এবং রোদনকারী আত্মার জন্য।

তা উপত্যকা ও স্বদেশের জন্য ব্যাকুল হয়, … যখনই রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ চমকায়।

আর ত্বহা (সা.)-এর বংশের যুবকদের জন্য যুদ্ধে … রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য ও সহায়তা।

প্রতিটি প্রফুল্ল ব্যক্তি থেকে এমন নয় যে তাকে সুহা নক্ষত্রের মতো দেখা যায়, … বরং তার মেহমানের জন্য সে একটি প্রাচুর্যময় দল।

তাদের এলাকায় উন্মুক্ত প্রাঙ্গণগুলো … অপরাধী ভীত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ।

প্রত্যেকেই উদার হস্ত ও প্রশস্ত আঙিনা সম্পন্ন, … যার প্রতি আগন্তুকদের ধারণা সত্যে পরিণত হয়।

নৈশ যাত্রীরা তার প্রশংসা করে যখন তারা রাতে পথ চলে, … আর নৈশ আড্ডার সাথীরা তাকে দিয়ে মজলিস আবাদ রাখে।

তার কাছে পৌঁছাতে সচেষ্ট ব্যক্তিরা কোনো … সীমায় গিয়ে পৌঁছাতে পারে না, আর অত্যাচারীরা তাকে দমাতে পারে না।

হে যুবার মৃদুমন্দ বাতাস, তাদের কাছে যাও … এবং গোপন দুঃখগুলো প্রকাশ করো।

সাবধান থেকো যেন আমার দহন সাথে না নাও, … বরং আমার অভিযোগ সাথে নাও, হয়তো তারা বুঝতে পারবে।

আর তাদের কাছে সেই ব্যক্তির অবস্থা পৌঁছে দাও যে অবিরাম … দুঃখের সাথী হয়ে আছে এবং যার বহু পেরেশানি।

পরিবার থেকে দূরে, কঠিন শোকে আচ্ছন্ন, … এমন এক হৃদয় থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর যা ছিল চঞ্চল।

সে বালুচরের প্রতি বিশ্বস্ততার অঙ্গীকার রক্ষা করে, … যদিও তার কাছে নৈকট্য চাওয়া হলে সে প্রতারণা করে।

তাদের বলো, হে নাক্বা উপত্যকার আরবগণ, … জারআ-র পার্শ্ববর্তী এবং বন্ধুর ভূমির অধিবাসীগণ।

তোমরা কি সেই প্রেমিককে ভুলে গেছো যার অশ্রু … তোমাদের বিরহে অবিরাম ঝরছে এবং যার নয়ন ক্ষতবিক্ষত?

সে এবং তার অতীত জীবন; কোনো মুহূর্তেই … তোমাদের গাম্ভীর্য বা আমোদ-প্রমোদকে সে ভুলে যায়নি।

তার অবস্থাই তার পরিচয় দেয়, … আর তার হালত এমন যে প্রশ্নকারীরা যেন তা জিজ্ঞাসা করে।

আর হে শাম অঞ্চলের পতাকার গায়ক, … এবং হে পাহাড়ের চূড়ায় উট চালক।

আমার কথা উল্লেখ করো, বিরহ যেন তোমাকে ব্যথিত না করে, … সম্ভবত তারা এর পর আমাকে স্মরণ করবে।

এবং আমাকে রামা ও নাক্বা সম্পর্কে সংবাদ দাও, … সেখানে বসবাসকারীদের জন্য কি স্থিতি সুখকর হয়েছে?

আর নাক্বার সেই ছোট ঝাউগাছগুলোর ডালপালা কি … কোমলতার কারণে নতকারীরা নত করছে?

এবং গায়ক পাখির সুর কি বিদীর্ণ করছে … এমন সব ছন্দে যা নানা ভাবের উদ্রেক করে?

সেইসব আবাসন যেখানে আমরা চিনেছিলাম … স্থুল নিতম্ব ও কৃশ উদরীদের।

আর তার চাচাতো ভাই শরীফ মুহসিন বিন হুসাইন বিন হাসান, হুসাইন বিন মুতাইরের কবিতাগুলোতে আন্দোলিত হতেন এবং সেগুলোকে খুব পছন্দ করতেন; সেগুলো হলো:

আমার আছে এক ক্ষতবিক্ষত কলিজা, কে আমার সাথে তা বিনিময় করবে … এমন এক কলিজার বিনিময়ে যা ক্ষতহীন?

মানুষ মানুষের সন্দেহের কারণে তা কিনতে অস্বীকার করে, … আর কেইবা সুস্থতার বিনিময়ে অসুস্থতা ক্রয় করবে?

আমার পাঁজরের ভেতরকার আকাঙ্ক্ষার কারণে আমি এমনভাবে হাহাকার করি … যেমনটি পানীয়তে কণ্ঠরোধ হওয়া ব্যথিত ব্যক্তি করে।

অতঃপর তিনি উল্লেখিত সৈয়দ আহমদকে এর একটি পরিশিষ্ট যোগ করতে বললেন, তখন তিনি তা লিখে দিলেন এবং অত্যন্ত চমৎকারভাবে সম্পন্ন করলেন:

সেই অতীতের স্মরণে, যদি তার সময় ক্রয় করা যেত তবে … আমি তা পান করতাম, কিন্তু তা তো আমার প্রাণের বিনিময়েও বিক্রি হয় না।

তা অতিবাহিত হয়েছে এবং আমাকে এক দহনের মধ্যে রেখে গেছে যা … বিদ্যুতের ঝিলিক বা বাতাসের ঝাপটায় উদীপ্ত হয়।

আর এক হৃদয় যা ধ্বংসাবশেষ ও ঝাউবনের প্রতি সর্বদা … ব্যাকুল, অথচ তার ছায়া থেকে বিমুখ নয়।

হায়! ঝাউবন এলাকায় যদি আমার প্রিয়জনদের উটগুলো … ক্লান্ত হতো, তবে এই ব্যাকুলতার অবসান হতো না।

আবরাকাইন নামক স্থানে ক্ষুদ্র আবাস তাকে পরিশ্রান্ত করছে, … এবং রাতের বেলায় বয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ ও উচ্চকণ্ঠের শব্দ।

আর বিচ্ছেদের এমন এক মুহূর্ত, যদি আমি এর থেকে কোনো আশ্রয় পেতাম … তবে দ্বিধাহীনভাবে নিজেকে সেখানে সঁপে দিতাম।

আমি এর মাধ্যমে আমার বসতি ছিন্ন করেছি এবং আমার অশ্রুপ্রবাহ জারি রেখেছি, … আমার যন্ত্রণাকে তুষ্ট করেছি এবং আমার হিতাকাঙ্ক্ষীকে ত্যাগ করেছি।

আমি আমার ধৈর্য ও প্রতিটি সুস্পষ্ট নিদর্শন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি … এবং আমার শোক ও প্রতিটি সুন্দরের সাথে মিশে গেছি।

আর আমি আমার সাধ্যের অতীত ভার গ্রহণ করেছি, তাই আমি সক্ষম হইনি … প্রশংসার মাধ্যমে মুহসিনের গুণাবলি গণনা করতে।

 

এটিও তাঁর কবিতা, যা তাঁর কাব্যসংকলনে নেই:

হায়! আমি যদি জানতাম আমি কি তোমার সাথে একবারও দেখা পাব? … মৃত্যুর আগে আমি কি তোমার কণ্ঠ শুনতে পাব?

হে আমাদের সময়! তুমি কি আমাদের বিচ্ছিন্নতাকে একত্র করবে? … হে কাল! তুমি কি মিলনের সাথে ফিরে আসবে?

একজন গায়কের বিষয়ে তাঁর কবিতা:

আমার প্রাণ তাঁর উৎসর্গ হোক যিনি গেয়েছেন, আর যাঁর গালের বাগানটি … আমার রক্তে রঞ্জিত ও সিক্ত হয়ে ঐশ্বর্যমণ্ডিত হয়েছে।

তিনি আমাদের গোলাপ, ডাল ও নার্গিস উপহার দিয়েছেন; … অথচ তিনি গাল, দেহের গড়ন ও চোখের পাতা ছাড়া আর কিছুই দেননি।

তিনি তাঁর চাচাতো ভাই মক্কা মুশাররাফাহর সুলতান শরীফ ইদরীস বিন হাসানের প্রতি সম্বোধন করে বললেন, যখন তিনি তাঁর হকের ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা লক্ষ্য করলেন:

আমি দেখলাম আপনি ব্যক্তিদের হক পূর্ণ করছেন না; … অহংকারবশত এক ভ্রান্ত ধারণায় লিপ্ত আছেন, আপনার এই ধারণা কতই না মন্দ।

আপনি মনে করেন যে আমি লোভের বশবর্তী হয়ে লাঞ্ছনা মেনে নেব, … অথচ আমার আত্মা আপনার ধারণার চেয়েও অনেক ঊর্ধ্বে।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١٦)
وما مغنم يدني لذل رأيته … فيقبل إلا وهو عندي مغرم

واختار بالاعزاز عنه منية … لأني من القوم الذين هم هم

المصراع الأخير صدر بيت لأبي الطمخان وهو

وإني من القوم الذين هم هم … إذا مات منا سيد قام صاحبه

 

وله من صدر قصيدة

كيف العزا والفؤاد يلتهب … والحيّ زمت لبينه النجب

والعين عبرى والجسم ممتقع … والنفس حرّى والعقل مضطرب

وهذه أربع بكاظمة … عفت قديماً فندبها يجب

 

ومنها

وابك زماناً مضى بها أنفاً … عنى فقد أذهلتني النوب

ومنها

وبالنقا غادة إذا خطرت … تغار منها الأغصان والكثب

كأنها في الأثيث إن سفرت … بدر بسجف الظلام محثجب

هذا ما أخرجته من ديوانه

 

‌‌السيد عماد الدين بن بركات

بن جعفر بن بركات بن أبي غي الحسني رحمه الله تعالى: عماد أبنية المجد
والمكارم. ورافع شرف آبائه الخضارم. نسب في السيادة كعمود الصبح. وحسب تنزه بجده الحسن عن القبح. طلع في أفق الجلالة بدراً. وسما في سماء الإيالة قدراً. رايته في حضرة الوالد بالديار الهنديه. وقد تفيأ ظلالها وأفاض مكارمه النديه. وكان قد دخلها في سنة اثنين وستين وألف فرأيت الفضل فيه مصوراً. وجنيت به روض السرور منوراً. ولقد كان يجمعني وإياه مجلس والدي حسب الاقتراح. وبيننا من المصافاة ما بين الراح والماء القراح. وهو كهل شبت بالظرف شمائله. وهبت باللطف جنائبه وشمائله. وربما جمعتنا حلبة أدهم وكميت. أو بيت شعر لم تتحكم عليه لو ولا ليت. فتنتقل من متن جواد إلى شرح بيت. وله شعر يفعل بالألباب فعل السحر أُثبت منه ما هو أحلى من جنا النحل. وأجدى من القطر في البلد المحل. كنت حين دخولي هذه البلاد. كتبت إليه بقصيدة ضمنتها التبرم من الاغتراب والبعاد. أقول فيها

هل يعلم الصحب إني بعد فرقتهم … أبيت أرعى نجوم الليل سهرانا

أقضي الزمان ولا أقضي به وطراً … وأقطع الدهر أشواقاً وأشجانا

ولا قريب إذا أصبحت ذا حزن … إن الغريب حزين حيثما كانا

أرى فؤادي وإن ضاقت مسالكه … بمدح نجل رسول الله جذلانا

عمار أبنية المجد الذي رفعت … آباؤه الغرّ من ناديه أركانا

السيد الماجد الندب الشريف ومن … قد بزّ بالفضل أكفاء وأقرانا

سما به النسب الوضاح فاجتمعت … فيه المحامد أشكالاً وألوانا

يا واسع الخلق إفضالاً ومكرمة … وموسع الخلق إنعاماً وإحسانا

فقت الكرام بما أوليت من كرم … لله درك مفضالاً ومعوانا

ما قلت في المجد قولاً يوم مفتخر … إلا أقمت عليه منك برهانا

لا زلت في الدهر مرضيّ العلا أبداً … ونائلاً من إله الخلق رضوانا

عليك مني سلام الله ما صدحت … ورق الحمام وهزّ الريح أغصانا

 

فراجعني بقوله

يا من تذكر خلاناً وجيرانا … وصار يمسي سمير النجم سهرانا

صادٍ إلى مورد قد كان يألفه … عذب به يشتفي من كان ولهانا

له به مرتع طابت موارده … اليوم بالهند يا لله ما حانا

يا ماجداً حاز سبقاً في القريض وفي … نهج البلاغة حتى فاق أقرانا

أحسنت لا زلت في أمن وفي دعة … جزاك ربك بالاحسان إحسانا

وحق جدك إن العين في غرق … والقلب في حرق وجداً لما آنا

عليك بالصبر يا مولاي معتصماً … إن النفيس غريب حيثما كانا

كذا الليالي عهدناها مبدلة … بالقرب بعداً وبعد الوصل هجرانا

فلا رأيت مدى الأيام حادثة … من الزمان ولا هماً وأحزانا

قد ضاق صدري لما أبدت من كمد … من لاعج البين ليت البين لا كانا

لكن لي آملاً في الله خالقنا … وحسن ظني متى ندعوه أولانا
এমন কোনো লভ্যাংশ নেই যা লাঞ্ছনার নিকটবর্তী করে, যা আমি গ্রহণ করতে পারি; বরং তা আমার নিকট দণ্ডস্বরূপ।

সম্মানের সাথে আমি তার বদলে মৃত্যুকে বেছে নিই, কারণ আমি সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত যারা অনন্য ও অবিচল।

শেষ পঙক্তিটি আবু আত-তামখান এর একটি কবিতার প্রথমাংশ, যা হলো:

এবং আমি সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত যারা অনন্য; আমাদের মধ্য থেকে যখন কোনো সরদার মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার স্থলাভিষিক্ত অপরজন দাঁড়িয়ে যান।

 

একটি কাসিদার প্রথমাংশ থেকে তাঁর আরও কিছু পঙক্তি:

ধৈর্য ধারণ কীভাবে সম্ভব যখন হৃদয় প্রজ্বলিত? আর কাফেলার উটগুলো বিদায়ের জন্য প্রস্তুত।

চক্ষু অশ্রুসজল, দেহ বিবর্ণ, প্রাণ তপ্ত এবং বুদ্ধি বিভ্রান্ত।

আর এগুলো কাজিমাহর চারটি গৃহের অবশিষ্টাংশ; যা বহু আগে মুছে গেছে, তাই সেখানে বিলাপ করা আবশ্যক।

 

অন্যত্র আছে:

এবং সেই সময়ের জন্য ক্রন্দন করো যা শ্রেষ্ঠত্বের সাথে অতিবাহিত হয়েছে, বিপদসমূহ আমাকে বিহ্বল করে দিয়েছে।

অন্যত্র আছে:

আর বালুকাময় প্রান্তরে রয়েছে এমন এক রূপসী যে যখন হেঁটে যায়, বৃক্ষশাখা এবং বালুর টিলাসমূহ ঈর্ষান্বিত হয়।

তার ঘন কেশরাজির মাঝে যখন সে অনাবৃত হয়, তখন তাকে মনে হয় যেন অন্ধকারের পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়া এক পূর্ণিমা চাঁদ।

তার কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) থেকে আমি এটুকুই চয়ন করেছি।

 

‌‌সাইয়্যিদ ইমাদউদ্দীন বিন বারাকাত বিন জাফর বিন বারাকাত বিন আবি গায় আল-হাসানি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা): তিনি মহিমা ও মহানুভবতার ইমারতের স্তম্ভ। তাঁর উদার পূর্বপুরুষদের মর্যাদাকে সমুন্নতকারী। আভিজাত্যের দিক থেকে তাঁর বংশধারা ভোরের আলোর ন্যায় উজ্জ্বল। তাঁর মর্যাদা তাঁর পূর্বপুরুষ হাসানের পবিত্রতায় অপবিত্রতা থেকে মুক্ত। তিনি শ্রেষ্ঠত্বের দিগন্তে পূর্ণিমা চাঁদ হয়ে উদিত হয়েছেন এবং শাসনের আকাশে সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন হয়েছেন। আমি তাঁকে ভারতবর্ষের আমার পিতার দরবারে দেখেছি। তিনি সেখানকার ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তাঁর মহানুভবতা বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ১০৬২ হিজরি সনে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। আমি তাঁর মধ্যে মূর্তমান পাণ্ডিত্য দেখেছি এবং তাঁর সান্নিধ্যে আনন্দের পুষ্পোদ্যান থেকে ফুল চয়ন করেছি। আমার পিতার মজলিসে বিভিন্ন প্রস্তাবে আমরা একত্রিত হতাম। আমাদের মধ্যকার পবিত্রতা ও হৃদ্যতা ছিল শরাব ও নির্মল পানির সংমিশ্রণের ন্যায়। তিনি ছিলেন এক প্রৌঢ় ব্যক্তি যার স্বভাব মার্জিত রুচিবোধে ভাস্বর ছিল। তাঁর আচরণ ও চালচলন ছিল সৌজন্যপূর্ণ। কখনো কখনো আমরা ঘোড়দৌড়ের ময়দানে বা কবিতার চরণে একত্রিত হতাম, যেখানে কোনো 'যদি' বা 'তবে'র অবকাশ ছিল না। আমরা ঘোড়ার পিঠ থেকে কবিতার ব্যাখ্যায় অবতীর্ণ হতাম। তাঁর এমন কিছু কবিতা রয়েছে যা বুদ্ধিতে যাদুর ন্যায় প্রভাব ফেলে। আমি তার মধ্য থেকে এমন কিছু কবিতা লিপিবদ্ধ করছি যা মধুর চেয়েও সুমিষ্ট এবং অনাবৃষ্টির কবলে পড়া জনপদে বৃষ্টির চেয়েও অধিক ফলপ্রসূ। আমি যখন এই ভূখণ্ডে প্রবেশ করি, তখন তাঁর নিকট একটি কবিতা লিখেছিলাম যাতে দেশান্তর ও দূরত্বের বিরক্তি প্রকাশ পেয়েছিল। আমি তাতে বলি:

সঙ্গীরা কি জানে যে তাদের বিচ্ছেদের পর আমি সারা রাত জেগে নক্ষত্র গুনে কাটাই?

আমি সময় অতিবাহিত করছি কিন্তু আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হচ্ছে না, এবং দীর্ঘ সময় কাটছে কেবল আকাঙ্ক্ষা ও দুঃখ-বেদনার মাঝে।

যখন আমি দুঃখভারাক্রান্ত হই তখন কোনো নিকটজন থাকে না, কেননা পরবাসী ব্যক্তি যেখানেই থাকুক সে বিষণ্ণ থাকে।

আমি দেখি আমার হৃদয়—যদিও তার পথ সংকীর্ণ—রাসূলুল্লাহর বংশধরের প্রশংসায় আনন্দিত।

তিনি মহিমার ইমারতসমূহের নির্মাতা, যার উজ্জ্বল পূর্বপুরুষগণ তাঁর সভাগৃহে স্তম্ভসমূহ স্থাপন করেছিলেন।

মহৎ সাইয়্যিদ, চটপটে ও শরীফ ব্যক্তি, যিনি স্বীয় শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে সমকক্ষ ও সঙ্গীদের ছাড়িয়ে গেছেন।

উজ্জ্বল বংশধারা তাঁকে উন্নত করেছে, ফলে তাঁর মধ্যে সকল প্রকার প্রশংসনীয় গুণাবলি একত্রিত হয়েছে।

হে উদার ও মহানুভব চরিত্রের অধিকারী, হে অনুগ্রহ ও দানে শ্রেষ্ঠত্ব দানকারী।

আপনি যা দান করেছেন তার মাধ্যমে আপনি সকল দাতা ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে গেছেন, মহান আল্লাহ আপনাকে নেককার ও সাহায্যকারী হিসেবে বরকত দিন।

গৌরবের দিনে আপনি মহিমা সম্পর্কে এমন কোনো কথা বলেননি যার উপর আপনি নিজের পক্ষ থেকে প্রমাণ পেশ করেননি।

যুগের পরিক্রমায় আপনি সর্বদা উচ্চ মর্যাদায় আসীন থাকুন এবং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করুন।

আপনার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষিত হোক যতক্ষণ কবুতর কুজন করবে এবং বাতাস বৃক্ষশাখা আন্দোলিত করবে।

 

তিনি আমাকে উত্তরে বলেন:

হে সেই ব্যক্তি, যে বন্ধু ও প্রতিবেশীদের স্মরণ করেছ, এবং নক্ষত্রের সাথী হয়ে বিনিদ্র রজনী যাপন করছ।

তুমি তৃষ্ণার্ত সেই ঝরনার পানির প্রতি যার সাথে তুমি পরিচিত ছিলে, যা মধুর এবং যার মাধ্যমে বিরহী ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করে।

সেখানে তার এমন বিচরণক্ষেত্র ছিল যার পানির ঘাটসমূহ ছিল অতি মনোরম, অথচ আজ সে ভারতবর্ষে—হায় আল্লাহ! মরণ বুঝি ঘনিয়ে এলো!

হে মহৎ ব্যক্তি, যিনি কাব্য রচনায় এবং বাগ্মিতার পথে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, এমনকি সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন।

তুমি চমৎকার বলেছ, তুমি সর্বদা নিরাপত্তা ও শান্তিতে থাকো, তোমার রব তোমার এই সৌজন্যের প্রতিদান উত্তম রূপে দান করুন।

তোমার পিতামহের কসম! যা উপস্থিত হয়েছে তার বিরহে চক্ষু এখন অশ্রুসাগরে নিমজ্জিত এবং হৃদয় দহন জ্বালায় পুড়ছে।

হে আমার অভিভাবক! তুমি ধৈর্য ধারণ করো এবং একেই অবলম্বন করো, কেননা মূল্যবান রত্ন যেখানেই থাকুক তা বিরল ও প্রবাসী।

রাত্রিগুলোকে আমরা এমনই দেখেছি যে, তা নৈকট্যের বদলে দূরত্ব আর মিলনের বদলে বিচ্ছেদ নিয়ে আসে।

তুমি সারা জীবন যেন কোনো বিপদ বা কোনো দুশ্চিন্তা ও দুঃখ প্রত্যক্ষ না করো।

বিদায়ের ব্যথায় তুমি যে দুঃখ প্রকাশ করেছ তাতে আমার অন্তর সংকীর্ণ হয়ে গেছে, হায়! যদি বিচ্ছেদ না হতো।

তবে আমাদের স্রষ্টা আল্লাহর কাছে আমার আশা আছে এবং তাঁর প্রতি আমার সুধারণা এই যে, যখনই আমরা তাঁকে ডাকি, তিনি আমাদের দান করেন।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١٧)
ان يجمع الشمل في تلك البقاع وإن … يروي غليل صدٍ ما زال حرّانا

بحق آبائك الغرّ الكرام ومن … غدوا لنا دون كل الناس أعوانا

ما حركت نسمات الريح مورقة … من النبات وهزّت منه أفنانا

 

من شعره قوله مخاطباً الوالد

زرت خلاًّ صبيحةً فحباني … بسؤآل أشفى وأرغم شاني

قال لما نظرت نور محياه … ونلت المنى وكل الأماني

كيف أصبحت كيف أمسيت مما … ينبت الحب في قلوب الغواني

فتحرجت إن أفوه بما قد … كان مني طبعاً مدى الأزمان

يا أخا المجد والمكارم والفضل … ومن لا أرى له اليوم ثاني

أدرك أدرك متيماً في هواكم … وأكففن عنه صولة الحدثان

وأبق وأسلم منعماً في سرور … ما تغنت ورق على غصن بان

 

فراجعه الوالد بقصيدة أولها

ليت شعري متى يكون التداني … لبلاد بها الحسان الغواني

وبها الكرم مثمر والأقاحي … ضحكت عن ثغور زهر لجاني

والبساتين فائحات بعطر … يخجل العنبر الزكي اليماني

وطيور بها تجاوبن صبحاً … وعشياً كنغمة العيدان

وبألحانها تذيب ذوي اللب … وتحيي ميتاً من الهجران

وتمشى بها الظباء الحوالي … مائسات كناعم الأغصان

كل خود تسطو بلحظ حسام … وتثنى كما قنا المران

وجهها الصبح إنما الفرع منها … ليل صب من لوعة الحب فاني

غادة كالنجوم عقد طلاها … ما اللآلي وما حلى العقيان

إن ياقوت خدها أرخص الياقوت … سعراً وعائب المرجان

 

ومنها

كل يوم يقضى بقرب لديها … فهو يوم النيروز والمهرجان

ومنها

تلك من فاقت الظباء افتناناً … فلذا وصفها أتى بافتنان

ما لمضنى أُصيب من أسهم اللحظ … م نجاة من طارق الحدثان

أذكرتني أيام تلك وأغرت … أعيني بالبكاء والهملان

ومنها

نفثات كالسحر يصدعن في قلب … معنىًّ من الملامة عاني

ومنها

كلمات لكنها كالدراري … وسطور حصت بديع المعاني

إذ أتت من أخ شقيق المعالي … فائق الأصل غرة في الزمان

ضافي الود صافي القلب قرم … كعبة المجد في ذرى كيوان

ذاكراً لي بها تزايد شوق … وولوعاً به مدى الأزمان

ففهمت الذي نحاه ولكن … ليت شعري يدري بما قد دهاني

أنا قيس في الحب بل هو دوني … لا جميل حالي ولا كابن هاني

يا أخا العزم قد سلمت ووجدي … طافح زائد بغير تواني

فلحتفي أبصرت من قد رماني … وعنآءٌ تصيد الغزلان

إن تشأ شرح حال صب كئيب … فلقد قاله بديع المعاني

مرضي من مريضة الأجفان … عللاني بذكرها عللاني

هذا البيت للشيخ محيي الدين العربي رضي الله عنه مطلع قصيدة وبعده

غنت الورق في الرياض وناحت … شجو هذا الحمام مما شجاني

بأبي طفلة لعوب تهادى … من بنات الخدور بين الغواني

طلعت في العيان شمساً فلما … أفلت أشرقت بأفق جناني

عاد شعر السيد وله مذيلاً بيت أبي زمعه جد أمية بن أبي الصلت ومادحاً الوالد

أشرب هنيئاً عليك التاج مرتفعاً … برأس غمدان دارامنك محلالا

تسعى إليك بها هيفاء غانية … مياسة القد كحلا الطرف مكسالا

إذا تثنت كغصن البان من ترف … وإن تجلت كبدر زان تمثالا

كأنها وأدام الله بهجتها … تكونت من محيا دهرنا خالا

وكيف لا وهي أمست فيه ساحبة … بخدمة السيد المفضال أذيالا
যেন সেই ভূখণ্ডগুলোতে মিলন ঘটে এবং এটি যেন … এমন এক পিপাসার্তের তৃষ্ণা মেটায় যে সর্বদা দহনজ্বালায় ভুগছে।

আপনার সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ পূর্বপুরুষদের সম্মানে, যারা … অন্য সমস্ত মানুষের ঊর্ধ্বে আমাদের জন্য সাহায্যকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

যতক্ষণ পর্যন্ত বাতাসের স্নিগ্ধ ঝাপটা সবুজ গাছপালাকে নাড়া দেবে … এবং তার শাখা-প্রশাখাগুলোকে দুলিয়ে দেবে।

 

তাঁর কবিতা থেকে, যেখানে তিনি তাঁর পিতাকে সম্বোধন করে বলেছেন:

আমি এক সকালে এক বন্ধুর কাছে গেলাম, তখন তিনি আমাকে আপ্যায়িত করলেন … এমন এক প্রশ্নের মাধ্যমে যা আমাকে আরোগ্য দান করেছে এবং আমার শত্রুকে লাঞ্ছিত করেছে।

তিনি বললেন, যখন আমি তাঁর চেহারার নূর অবলোকন করলাম … এবং আমার সকল আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলো।

‘কেমন কাটলো আপনার সকাল, কেমন কাটলো আপনার সন্ধ্যা’—এই কথাগুলো … সুন্দরী নারীদের হৃদয়ে ভালোবাসা জন্ম দেয়।

তাই আমি সেই কথাটি উচ্চারণ করতে সংকোচ বোধ করছিলাম যা … দীর্ঘকাল ধরে আমার স্বভাবজাত বিষয় ছিল।

হে গৌরব, উদারতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ভাই … আজ যার দ্বিতীয় কোনো তুলনা আমার নজরে নেই।

সাহায্য করুন, সাহায্য করুন আপনাদের প্রেমে পাগল এক দিওয়ানাকে … আর সময়ের নিষ্ঠুর আঘাত থেকে তাকে রক্ষা করুন।

আপনি সুখে ও শান্তিতে চিরজীবী ও নিরাপদ থাকুন … যতক্ষণ পর্যন্ত বানের ডালে কপোত-কপোতী গান গেয়ে বেড়াবে।

 

অতঃপর পিতা তাঁকে একটি কসিদার মাধ্যমে উত্তর দিলেন, যার শুরুতে ছিল:

হায়! যদি আমি জানতাম কবে সেই ভূখণ্ডের সান্নিধ্য লাভ হবে … যেখানে সুন্দরী ও লাবণ্যময়ী নারীরা রয়েছে।

যেখানে আঙুর লতা ফলবতী এবং ডেইজি ফুলগুলো … আহরণকারীর জন্য শুভ্র হাসিতে বিকশিত হয়ে থাকে।

আর বাগানগুলো এমন সুগন্ধে আমোদিত … যা ইয়েমেনি খাঁটি আম্বরকেও লজ্জিত করে।

যেখানে পাখিরা সকাল … ও সন্ধ্যায় একে অপরের সুরে সুর মেলায়, যা তন্তু বাদ্যের ঝংকারের মতো মনে হয়।

তাদের সেই সুর মূর্ছনায় জ্ঞানীদের মন গলে যায় … এবং বিচ্ছেদে মৃতপ্রায় হৃদয়গুলো পুনর্জীবিত হয়ে ওঠে।

আর সেখানে সুন্দরী হরিণীরা বিচরণ করে … যারা কোমল ডালপালার মতো হেলিয়ে দুলিয়ে চলে।

প্রত্যেক তরুণী তার তরবারির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে আঘাত হানে … এবং শক্ত অথচ নমনীয় বর্শার মতো দেহ বাঁকায়।

তার মুখমণ্ডল যেন সকালের সূর্য, আর তার কেশরাশি যেন … বিরহকাতর প্রেমিকের ভালোবাসার যন্ত্রণায় বিলীন হওয়া অন্ধকার রাত।

নক্ষত্রের মতো এক রূপসী যার কণ্ঠের হার অপূর্ব … মুক্তা বা স্বর্ণের অলঙ্কার তার কাছে নগণ্য।

তার গালের রক্তিম আভা তো আসল ইয়াকুত পাথরের দাম কমিয়ে দিয়েছে … এবং তা মারজানকেও তুচ্ছ সাব্যস্ত করেছে।

 

সেই কবিতা থেকেই:

তার সান্নিধ্যে কাটানো প্রতিটি দিনই … যেন নওরোজ ও মেহেরজানের মতো উৎসবের দিন।

আরও অংশ:

সে তো মুগ্ধতায় হরিণকেও ছাড়িয়ে গেছে … তাই তার বর্ণনায় এই চমৎকারিত্ব ফুটে উঠেছে।

চোখের পলকের তিরে বিদ্ধ কোনো প্রেমিকের পক্ষে … কালের আকস্মিক বিপদ থেকে নিস্তার পাওয়ার উপায় নেই।

সেই দিনগুলো আমাকে স্মৃতিকাতর করে তুলেছে এবং আমার চোখকে … অঝোরে অশ্রু বিসর্জন দিতে বাধ্য করেছে।

আরও অংশ:

জাদুর মতো নিশ্বাসগুলো সেই প্রেমিকের হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দেয় … যে নিন্দার ভারে জর্জরিত ও ক্লিষ্ট।

আরও অংশ:

এ যেন এমন শব্দ যা উজ্জ্বল নক্ষত্রসম … আর এমন পঙ্ক্তিমালা যা অপূর্ব অর্থে ভরপুর।

কারণ এটি এসেছে এমন এক ভাইয়ের পক্ষ থেকে যিনি উচ্চ মর্যাদার সহোদর … আভিজাত্যে শ্রেষ্ঠ এবং এই জামানার এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক।

গভীর অনুরাগী ও স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী এই বীর পুরুষ … যেন আকাশের উচ্চতায় আবর্তিত গৌরবের কাবাঘর।

তিনি তার কবিতায় আমার কাছে তাঁর ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষা … এবং চিরস্থায়ী আসক্তির কথা বর্ণনা করেছেন।

তিনি যা বুঝাতে চেয়েছেন তা আমি বুঝেছি, তবে … আফসোস! তিনি কি জানেন আমার ওপর কী অতিবাহিত হচ্ছে?

ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমি যেন ‘কায়াস’ (মজনু), বরং সে তো আমার তুলনায় কিছুই নয় … আমার অবস্থা ‘জামিল’ কিংবা ‘ইবনে হানি’র মতোও নয়।

হে দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী ভাই, আপনি নিরাপদ থাকুন, আর আমার প্রেমাবেগ … কোনো বিরতিহীনভাবে উপচে পড়ছে।

আমার ধ্বংসের জন্য আমি সেই ব্যক্তিকে দেখেছি যে আমাকে লক্ষ্য করে তির ছুড়েছে … আর এমন এক যন্ত্রণা দেখেছি যা হরিণ শিকার করে বেড়ায়।

আপনি যদি কোনো বিষাদগ্রস্ত প্রেমিকের অবস্থার বর্ণনা শুনতে চান … তবে ‘বাদিউল মাআনি’ তা বলে গেছেন:

ডাগর চোখের সেই রূপসীর বিরহেই আমি অসুস্থ … তার আলোচনায় আমাকে সান্ত্বনা দাও, আমায় সান্ত্বনা দাও।

এই পঙ্ক্তিটি শায়খ মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি কসিদার প্রারম্ভিক অংশ, এরপর রয়েছে:

বাগানে কপোতগুলো গান গাইছিল এবং বিলাপ করছিল … এই ঘুঘুর করুণ সুর আমাকে ব্যথিত করে তুলেছে।

আমার পিতা উৎসর্গ হোক সেই চঞ্চলা তরুণীর জন্য … যে পর্দানশিন সুন্দরীদের মাঝে হেলিয়ে দুলিয়ে পথ চলে।

যখন তাকে দেখা গেল, তখন সে সূর্যের মতো উদিত হলো; আর যখন … সে অদৃশ্য হলো, তখন সে আমার হৃদয়ের দিগন্তে আলো ছড়ালো।

সাইয়্যিদের কবিতা পুনরায় ফিরে এলো, যেখানে উমাইয়া বিন আবি সালতের দাদা আবু জামআর একটি পঙ্ক্তি যুক্ত করা হয়েছে এবং পিতার প্রশংসা করা হয়েছে:

আপনি তৃপ্তির সাথে পান করুন, আপনার শিরে মুকুট শোভা পাচ্ছে … এবং গামদান দুর্গের শীর্ষে আপনার আবাসস্থল সুউচ্চ হয়েছে।

এক ছিপছিপে রূপসী নারী আপনার সেবায় ব্যস্ত … যার দেহ সুগঠিত, চোখে সুরমা এবং চলনে এক মায়াবী অলসতা।

যখন সে নাচে বা দোলে তখন তাকে বিলাসী বানের ডালের মতো মনে হয় … আর যখন সে আত্মপ্রকাশ করে তখন পূর্ণিমার চাঁদের মতো কোনো এক মূর্তিকে যেন অলঙ্কৃত করে।

মনে হয় যেন সে—আল্লাহ তাঁর আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী করুন— … আমাদের এই জামানারূপী চেহারার একটি তিল হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে।

আর তা হবেই না কেন, যেখানে সে সেই … মহানুভব সাইয়্যিদের খিদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١٨)
ذاك الذي جل عن تنويه تسمية … شمس علت هل ترى للشمس أمثالا

الباسم الثغر والأبطال عابسة … والباذل المال لم يتبعه انكالا

عارٍ من العار كاس من محامده … لا يعرف الخلف في الأقوال إن قالا

إن قال أفحم ندب القوم مقوله … أوصال أخجل ليث الغاب إن صالا

علا به النسب الوضاح منزلة … عن أن يماثل إعظاماً وإجلالا

خذها ربيبة فكر طالما حجبت … لولا علاك وودّ قط ماحالا

وأصفح بفضلك عن تقصير منشئها … وحسن بشرك لم يبرح لها فالا

ثم الصلاة على أزكى الورى نسباً … وآله الغرّ تفصيلاً وإجمالا

قال المؤلف: لقد رأيت هذا المادح ساحباً أذيال العز والجلال. بحضرة ممدوحه هذا السيد المفضال. وقد أنزله بأعز مكان. وأحله عنده محل ابن ذي يزن من رأس غمدان. حتى وعده بوعد. شام من وميض بارقه السعد. فلم يلبث أن استوفى ملء مكياله. وهتفت به من دواعي آجاله. فوافت المسكين منيته. قبل أن تقضى أمنيته. وهكذا خلق الدهر الغرام. وكم حسرات في نفوس كرام. وكانت وفاته يوم الجمعة لعشر بقين من شوال سنة تسع وستين وألف رحمه الله تعالى وقلت أرثيه

لنا كل يوم رنة وعويل … وخطب يكلّ الرأي وهو صقيل

بكيت لو أن الدمع يرجع ميتاً … وأعولت لو أجدى الحزين عويل

لحى الله دهراً لا تزال صروفه … تكرّ علينا دائماً وتصول

علام وفيما قد أصاب مقاتلي … وما شهدت منه عليّ نصول

وحملني خطباً تضآءلت دونه … وما أنا قدماً للخطوب حمول

بموت كريم ماجد وابن ماجد … له المجد دار والعلآء مقيل

فتى قد عنت يوم الهياج له القنا … وراح الحسام العضب وهو ذليل

بكاه القنا الخطيّ علماً بأنه … كسير وإن المشرفيّ كليل

فمن للعوالي بعد كفيه والندى … ومن في صفوف الناكثين يجول

ومن بعده للسيف والضيف والعلا … ومن بعده للمكرمات كفيل

ربيب علىً شحّ الزمان بمثله … وكل زمان بالكرام بخيل

نعاه لنا الناعي فضاق بي الفضا … وراحت دموعي الجامدات تسيل

وهيهات أن تأتي النسآء بمثله … ويخلف عنه في الأنام بديل

سأبكيك يا عمار ما ناح طائر … وما ندبت بعد الرحيل طلول

مصابي وإن طولته عنك قاصر … ودمعي وإن أكثرت فيك قليل

لك الدهر في قلبي مكان مودّة … ودادك فيه ساكن ونزيل

وإنّ هاطلات السحب شحت بسقيها … سقاك من الجفن القريح همول

عليك سلام الله مني تحية … مدى الدهر ما غال البرية غول

 

‌‌السيد محمد يحيى

بن الأمير نظام الدين أحمد الحسيني

أخي وشقيقي. وابن أبي وصديقي. ومن لا أرى غيره بي أحق. إذا حصحص الحق. لا كما قال مهيار الديلمي

سألتك بالمودة يا ابن ودي … فإنك بي من ابن أبي أحق

ماجد ثبتت في المجد وثائقه. وفاضل نشبت بالفضل علائقه. أحرز من الأدب النصيب الأوفر. وتمسك منه بما أخجل طيب نشره المسك الأذفر. إلى دماثة شيم وأخلاق. ما شان قشيب أبرادها أخلاق. وصدق صداقة وصفاء. وحسن مودة ووفاء. أبرم بهما عقد إخائه. وهب بذكائهما نسيم رخائه. وله شعر تأخذ بمجامع القلوب طرائقه. ويملك مسامع أولى الأشواق شائقه ورائقه. فمن قوله

تذكرت أيام الحجيج فأسبلت … جفوني دمآءً واستجد بي الوجد

وأيامنا بالمشعرين التي مضت … وبالخيف إذ حادي الركاب بنا يحدو

وقوله مخاطباً لي

وما شوق مقصوص الجناحين مقعد … على الضيم لم يقدر على الطيران

بأكثر من شوقي إليك وإنما … رماني بهذا البعد منك زماني

وقوله
তিনি এমন এক সত্তা যাঁর মহিমা কোনো নামকরণের ঊর্ধ্বে … এক উচ্চতর সূর্য, আপনি কি সূর্যের কোনো তুলনা খুঁজে পান?

বীরেরা যখন ভ্রূকুটি করে, তখন তাঁর মুখে হাসি থাকে … আর তিনি এমন অকাতরে সম্পদ দান করেন যার পেছনে কোনো খোঁটা থাকে না।

তিনি কলঙ্কমুক্ত, স্বীয় প্রশংসনীয় গুণাবলিতে ভূষিত … তিনি কোনো কথা দিলে তা ভঙ্গ করতে জানেন না।

যদি তিনি কিছু বলেন, তবে তাঁর বাগ্মিতা জাতির শ্রেষ্ঠ বাগ্মীদের নিরুত্তর করে দেয় … আর যদি তিনি আক্রমণ করেন, তবে বনের সিংহও লজ্জিত হয়।

তাঁর উজ্জ্বল বংশমর্যাদা তাঁকে এমন এক স্তরে উন্নীত করেছে … যা সম্মান ও মর্যাদায় অতুলনীয়।

গ্রহণ করুন এই চিন্তাপ্রসূত রচনা যা দীর্ঘকাল পর্দার আড়ালে ছিল … যদি আপনার মহিমা ও অবিচল ভালোবাসা না থাকত তবে তা কখনও প্রকাশিত হতো না।

এর রচয়িতার ত্রুটিকে আপনার অনুগ্রহে ক্ষমা করুন … আর আপনার হাসোজ্জ্বল বদন সর্বদা এর জন্য শুভ লক্ষণ হয়ে থাকুক।

অতঃপর দরুদ বর্ষিত হোক বংশপরম্পরায় সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের ওপর … এবং তাঁর উজ্জ্বল পরিজনদের ওপর সবিস্তারে ও সংক্ষেপে।

লেখক বলেন: আমি এই প্রশংসাকারীকে মর্যাদা ও মহিমার প্রান্ত টেনে চলতে দেখেছি, তাঁর এই গুণী প্রশংসিত ব্যক্তির সান্নিধ্যে। তিনি তাঁকে অত্যন্ত সম্মানিত স্থানে স্থান দিয়েছিলেন এবং তাঁকে নিজের কাছে এমন মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছিলেন যেমনটি ইবনে যি ইয়াযান গামদানের শিখরে পেয়েছিলেন। এমনকি তিনি তাঁকে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যার উজ্জ্বলতা থেকে তিনি সৌভাগ্যের আভাস পাচ্ছিলেন। কিন্তু দেরি না হতেই তাঁর ভাগ্যের পেয়ালা পূর্ণ হয়ে গেল এবং তাঁর মৃত্যুর আহ্বান তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকল। ফলে এই অসহায় ব্যক্তির মৃত্যু উপস্থিত হলো তার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হওয়ার আগেই। কালচক্রের স্বভাব এমনই এবং কত হাহাকারই না থেকে যায় মহৎ প্রাণদের অন্তরে। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১০ই শাওয়াল শুক্রবার, এক হাজার ঊনসত্তর হিজরি সনে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন। আমি তাঁর স্মরণে শোকগাথা হিসেবে বলেছি:

প্রতিদিন আমাদের আর্তনাদ ও বিলাপ করতে হয় … এবং এমন মসিবত আসে যা তীক্ষ্ণ বুদ্ধিকে ক্লান্ত করে দেয়।

অশ্রু যদি মৃতকে ফিরিয়ে আনতে পারত তবে আমি কাঁদতাম … আর বিলাপ যদি শোকার্তের উপকারে আসত তবে আমি চিৎকার করতাম।

আল্লাহ ধিক্কার দিন এই কালকে যার পরিবর্তনগুলো … আমাদের ওপর সর্বদা বারবার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

কেন এবং কী কারণে সে আমার মরণস্থলে আঘাত করল … অথচ তার কোনো তীরের ফলা আমি প্রত্যক্ষ করিনি?

সে আমাকে এমন বিপদের ভার বইতে বাধ্য করেছে যার সামনে আমি নুয়ে পড়েছি … অথচ আমি অতীতে বিপদে দমে যাওয়ার মতো লোক ছিলাম না।

একজন দানশীল, মহানুভব এবং মহানুভবের পুত্রের মৃত্যুতে … মর্যাদা যার আবাস এবং উচ্চতা যার বিশ্রামস্থল।

এমন এক যুবক যুদ্ধের দিনে যার সামনে বর্শাগুলো নত হতো … আর ধারালো তলোয়ারও যার সামনে লাঞ্ছিত বোধ করত।

খাত্তি বর্শা তাঁর বিরহে কেঁদেছে এটি জেনে যে সেটি এখন ভগ্ন … আর মাশরাফি তলোয়ারও এখন ভোঁতা হয়ে পড়েছে।

তাঁর দুই হাত ও উদারতার পর বর্শাগুলোর দায়িত্ব কে নেবে … আর ভঙ্গকারীদের কাতারে কে দাপিয়ে বেড়াবে?

তাঁর পরে তলোয়ার, মেহমান ও উচ্চমর্যাদার রক্ষক কে হবে … আর তাঁর পরে মহৎ কর্মসমূহের জিম্মাদার কে থাকবে?

তিনি ছিলেন আভিজাত্যের পালিত সন্তান, যার মতো কাউকে দিতে সময় কার্পণ্য করেছে … আর সময় সর্বদাই মহৎদের ব্যাপারে কৃপণ।

মৃত্যু সংবাদ দানকারী যখন সংবাদ দিল তখন প্রশস্ত পৃথিবী আমার কাছে সংকীর্ণ হয়ে গেল … আর আমার জমাটবদ্ধ অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল।

নারীরা তাঁর মতো সন্তান প্রসব করবে তা সুদূরপরাহত … আর মানুষের মধ্যে তাঁর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট থাকবে না।

হে আম্মার! আমি তোমার জন্য কাঁদব যতদিন পাখি গান গাইবে … আর প্রস্থানের পর ধ্বংসাবশেষের ওপর যতদিন শোক জানানো হবে।

আমার বিপদকে যদি আমি দীর্ঘায়িত করি তবুও তা তোমার হকের চেয়ে কম … আর অশ্রু যদি আমি অঝোরে ঝরাই তবুও তা তোমার জন্য অতি সামান্য।

সারাজীবন আমার হৃদয়ে তোমার প্রতি ভালোবাসার একটি স্থান থাকবে … তোমার ভালোবাসা সেখানে স্থায়িভাবে বসবাসকারী।

বর্ষণের মেঘমালা যদি জল সিঞ্চনে কার্পণ্য করে … তবে আমার আহত চোখের অশ্রু তোমাকে সিক্ত করবে।

তোমার ওপর আমার পক্ষ থেকে আল্লাহর সালাম ও অভিবাদন বর্ষিত হোক … চিরকাল যতদিন মহাকাল সৃষ্টিজগতকে গ্রাস করবে।

 

‌‌সায়েদ মুহাম্মদ ইয়াহিয়া

ইবনে আমির নিজামুদ্দিন আহমদ আল-হুসাইনি

আমার ভাই ও সহোদর। আমার পিতার পুত্র ও আমার বন্ধু। সত্য যখন প্রকাশ পায় তখন তাঁর চেয়ে অধিক হকদার আমি আর কাউকে দেখি না। যেমনটি মহইয়ার আদ-দাইলামি বলেছিলেন তেমনটি নয়:

আমি তোমাকে ভালোবাসার দোহাই দিয়ে বলছি হে আমার বন্ধুর পুত্র … তুমি আমার কাছে আমার আপন ভাইয়ের চেয়েও অধিক হকদার।

তিনি এক মহানুভব ব্যক্তি যার মর্যাদার ভিত্তি সুদৃঢ় এবং এক গুণী যার শ্রেষ্ঠত্বের বন্ধন অটুট। তিনি সাহিত্যের সিংহভাগ অর্জন করেছেন এবং এমন সুঘ্রাণ আঁকড়ে ধরেছেন যা কস্তুরীর সুবাসকেও হার মানায়। এর সাথে রয়েছে তাঁর বিনয় ও চরিত্র মাধুর্য, যার নতুন পোশাকের উজ্জ্বলতাকে মলিনতা স্পর্শ করেনি। তাঁর বন্ধুত্ব সত্য ও স্বচ্ছ, আর ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রশংসনীয়। তিনি এই দুটির মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেছেন এবং স্বীয় বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শান্তির বাতাস প্রবাহিত করেছেন। তাঁর এমন কবিতা রয়েছে যার শৈলী মানুষের হৃদয় কেড়ে নেয় এবং তাঁর আকর্ষণীয় ও চমৎকার বাণী অনুরাগীদের শ্রবণেন্দ্রিয়কে বশ করে ফেলে। তাঁর উক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

হজযাত্রীদের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আমার চোখের পাতা থেকে … রক্তের অশ্রু ঝরতে থাকে এবং আমার বিরহ ব্যথা নবায়িত হয়।

দুই মাশআরে কাটানো আমাদের সেই দিনগুলো যা গত হয়েছে … এবং খাইফের সেই দিনগুলো যখন উটের চালক আমাদের কাফেলা নিয়ে গান গেয়ে পথ চলত।

তাঁর উক্তি যা আমাকে সম্বোধন করে বলা:

ডানা কাটা সেই পাখির ব্যাকুলতা যে যন্ত্রণায় বসে আছে … আর উড়তে সক্ষম নয়—

সেটি তোমার প্রতি আমার ব্যাকুলতার চেয়ে বেশি নয়, বরং … সময় আমাকে তোমার থেকে এই দূরত্বে নিক্ষেপ করেছে।

এবং তাঁর উক্তি:
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ١٩)
الا لا سقى الله البعاد وجوره … فإن قليلاً منه عنك خطير

ووالله لو كان التباعد ساعة … وأنت بعيد إنه لكثير

وله

ألا يا زماناً طال فيه تباعدي … أما رحمة تدنو بها وتجود

لألقى الذي فارقت أنسي مذ نأى … فها أنا مسلوب الفؤآد فريد

وكتب إلي مادحاً وعلى فنن البلاغة صادحاً

أفل أيهذا القلب عما تحاوله … فإنك مهما زدت زاد تشاغله

دع الدهر يفعل كيف شاء فقلما … يروم امرؤُ شيئاً وليس يواصله

وما الدهر إلا قلبٌ في أموره … فلا يغترر في الحالتين معامله

ويا طالما طاب الزمان لواجدٍ … فسرّ وقد سآءت لديه أوائله

رعى وسقى الله الحجاز وأهله … بلثٍّ تعمّ الأرض سقياً هواطله

فإنّ به داري ودار عزيزة … عليّ ومهما أشغل القلب شاغله

ولكن بي شوقاً إلى خلتي التي … متى ذكرت للقلب هاجت بلابله

أبيت ولي منها حنين كأنني … طريح طعان قد أصيبت مقاتله

هوى لك ما ألقاه يا عذبة اللما … وإلا فصعب ما أنا اليوم حامله

أكابد فيك الشوق والشوق قاتلي … وأسأل ممن لم يجب من يسائله

تقى الله في قتل امرئ طال سقمه … وإلا فإن الهجر لا شك قاتله

صليه فقال طال الصدود فقلما … يعيش امرؤ والصد ممن يقاتله

حزين لما يلقاه فيك من الجوى … فها هو مضنى مدنف الجسم ناحله

بلى ان يكن لي من علي وعزمه … معين فإني كلما شئت نائله

فذاك أخي حامي الذمار وسيدي … وذخري الذي ألقى به ما أحاوله

وذاك الذي لولاه ما عرف الندى … ولا عرف التفضيل لولا فضائله

أعز همام يمتطي صهوة العلا … فتعلو به بين الأنام منازله

فلا فخر إلا فخره وعلاؤه … ولا جود إلا ما هو اليوم باذله

يعز إذا ذلت أسود لدى الوغا … وتسعد منه في الحروب قبائله

له بين أبناء الملوك مخايل … فيا حبذا ذاك الفتى ومخايله

إذا ما أتاه سائل نال سؤله … ونال جزيلاً فوق ما هو آمله

ويأتي إليه طالب الجود راغباً … فيرجع مسروراً بما نال سائله

فيا ملجئي في النائبات ومن به … إذا رمت أمراً في الزمان أواصله

إليك فقد جاءتك منى قصيدة … أتت تشتكي دهراً تعدي تطاوله

ودم ذا علاءٍ في البرايا وسؤدد … رفيع مكان لا علاء يطاوله

فراجعته بقولي

إليك فقلبي لا تقر بلابله … إذا ما شدت فوق الغصون بلابله

تهيج له ذكري حبيب مفارق … زرود وحزوري والعقيق منازله

سقاهن صوب الدمع منى ووبله … منازل لا صوب الغمام ووابله

يحل بها من لا أصرح باسمه … غزال على بعد المزار أغازله

تقسمه للحسن عبل ودقة … فرن وشاحاه وصمت خلاخله

وما أنا بالناسي ليالي بالحمى … تقضت وورد العيش صفو مناهله

ليالي لا ظبى الصريم مصارم … ولا ضاق ذرعاً بالصدور مواصله

وكم عاذل قلبي وقد لج في الهوى … وما عادل في شرعة الحب عاذله

يلومون جهلاً بالغرام وإنما … له وعليه بره وغوائله

فلله قلب قد تمادى صبابة … على اللوم لا تنفك تغلي مراجله

وبالحلة الفيحاء من أبرق الحمى … رداح حماها من قنا الخط ذابله

تميس كما ماس الرديني مائدا … وتهتز عجباً مثل ما اهتز عامله

مهفهفة الكشحين طاوية الحشا … فما مائد الغصن الرطيب ومائله
সাবধান! আল্লাহ যেন দূরত্ব ও তার জুলুমকে সিক্ত না করেন … কেননা তোমার থেকে সামান্য দূরত্বও অতি ভয়ঙ্কর।

আল্লাহর কসম, যদি এই বিচ্ছেদ এক মুহূর্তের জন্যও হয় … আর তুমি দূরে থাকো, তবে তা অত্যন্ত দীর্ঘ মনে হয়।

তাঁর আরও কবিতা:

হায় সেই কাল! যাতে আমার বিচ্ছেদ দীর্ঘ হয়েছে … এমন কোনো দয়া কি নেই যা দিয়ে তুমি কাছে আসবে এবং বদান্যতা দেখাবে?

যাতে আমি সেই সত্তার দেখা পাই যার থেকে পৃথক হওয়ার পর থেকে আমার প্রশান্তি হারিয়েছে … আজ আমি হৃদয়হারা ও একাকী।

এবং তিনি আমার নিকট প্রশংসাসূচক পত্র লিখলেন এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের শৈলীতে উচ্চকিত হলেন:

হে হৃদয়! তুমি যা পাওয়ার চেষ্টা করছ তা থেকে নিবৃত্ত হও … কারণ তুমি যতই চেষ্টা বাড়াবে, তাঁর ব্যস্ততা ততই বৃদ্ধি পাবে।

কালকে তার ইচ্ছামতো চলতে দাও, কেননা খুব কমই এমন হয় যে … কোনো ব্যক্তি কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে আর তা লাভ করতে পারে না।

কাল তো কেবল তার কার্যাবলীর পরিবর্তনশীলতা মাত্র … সুতরাং তার সাথে লেনদেনকারী যেন কোনো অবস্থাতেই প্রতারিত না হয়।

কত দীর্ঘ সময় ধরে কাল কোনো প্রেমিকের জন্য মনোরম হয়েছে … ফলে সে আনন্দিত হয়েছে অথচ তার শুরুটা ছিল অত্যন্ত মন্দ।

আল্লাহ হিজাজ ও তার অধিবাসীদের রক্ষা করুন এবং সিক্ত করুন … এমন ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে যা ভূমিকে পরিবেষ্টন করবে এবং যার বর্ষণ হবে অবিরাম।

কারণ সেখানেই আমার ঘর এবং সেই প্রিয়তমার ঘর … যে আমার নিকট অতি প্রিয়, আর যাই আমার হৃদয়কে ব্যস্ত রাখুক না কেন।

কিন্তু আমার সেই বান্ধবীর প্রতি প্রবল ব্যাকুলতা রয়েছে … যখনই হৃদয়ে তার কথা স্মরণ হয়, দুঃখের পাখিরা ডানা ঝাপটায়।

আমি রাত কাটাই এমন এক আর্তি নিয়ে যেন আমি … যুদ্ধের আঘাতে ভূপাতিত এক ব্যক্তি যার প্রাণকেন্দ্র বিদ্ধ হয়েছে।

হে মিষ্টভাষিণী! তোমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই আমি তা সইছি যা ভোগ করছি … নতুবা আজ আমি যা বহন করছি তা অত্যন্ত দুঃসাধ্য।

আমি তোমার বিরহে ব্যাকুলতা সহ্য করছি আর এই ব্যাকুলতাই আমাকে মেরে ফেলছে … আর আমি তার কাছে প্রার্থনা করছি যে যাঞ্চাকারীর ডাকে সাড়া দেয় না।

সেই ব্যক্তিকে হত্যা করার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো যার অসুস্থতা দীর্ঘ হয়েছে … নতুবা বিচ্ছেদই নিঃসন্দেহে তাকে সংহার করবে।

তার সাথে মিলিত হও, কেননা বিমুখতা দীর্ঘ হয়েছে, আর খুব কমই … এমন ব্যক্তি বেঁচে থাকে যার সাথে তার প্রিয়জন লড়াই করে বিমুখতা দেখায়।

তোমার বিরহে সে যে দুঃখ-জ্বালা ভোগ করছে তাতে সে ব্যথিত … আজ সে অত্যন্ত দুর্বল, ব্যাধিতে কাতর এবং তার দেহ ক্ষীণ হয়ে গেছে।

হ্যাঁ, যদি 'আলী' এবং তাঁর সংকল্প থেকে আমার জন্য … কোনো সাহায্যকারী থাকে, তবে আমি যা চাই তাই লাভ করব।

তিনিই আমার ভাই, সম্মানের রক্ষক এবং আমার নেতা … এবং আমার সেই পাথেয় যার মাধ্যমে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করি।

তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে ছাড়া দানশীলতা পরিচিতি পেত না … আর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ব্যতীত মর্যাদাকে চেনা যেত না।

তিনি সর্বাধিক সম্মানিত বীর যিনি উচ্চমর্যাদার শিখরে আরোহণ করেন … ফলে মানুষের মাঝে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান আরও বৃদ্ধি পায়।

তাঁর গৌরব ও উচ্চমর্যাদা ব্যতীত কোনো গৌরব নেই … আর তিনি আজ যা দান করছেন তা ব্যতীত কোনো দানশীলতা নেই।

যুদ্ধের ময়দানে যখন সিংহরা অপদস্থ হয় তখন তিনি জয়ী হন … এবং যুদ্ধের সময় তাঁর কারণে তাঁর গোত্রসমূহ সৌভাগ্যবান হয়।

রাজপুত্রদের মাঝে তাঁর মধ্যে মহত্ত্বের লক্ষণসমূহ বিদ্যমান … সেই যুবক ও তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কতই না চমৎকার!

যখনই কোনো যাঞ্চাকারী তাঁর কাছে আসে, সে তার প্রার্থনা পূর্ণ হতে দেখে … এবং সে যা আশা করে তার চেয়েও অনেক বেশি লাভ করে।

দানপ্রার্থী ব্যক্তি তাঁর কাছে আগ্রহ নিয়ে আসে … অতঃপর যাঞ্চাকারী যা লাভ করে তাতে সে আনন্দিত হয়ে ফিরে যায়।

হে বিপদের সময় আমার আশ্রয়স্থল! এবং যাঁর মাধ্যমে … আমি কালের আবর্তে কোনো বিষয় অর্জনের ইচ্ছা করলে সফল হই।

আপনার প্রতি আমার পক্ষ থেকে একটি কবিতা নিবেদন করছি … যা কালের সীমালঙ্ঘন ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ নিয়ে এসেছে।

আপনি সৃষ্টির মাঝে উচ্চমর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে চিরজীবী হোন … এমন এক সুউচ্চ স্থানে যা অন্য কোনো উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে না।

অতঃপর আমি এই বলে তাকে উত্তর দিলাম:

তোমার প্রতি আমার নিবেদন, আমার হৃদয়ের অস্থিরতা শান্ত হয় না … যখন ডালপালার উপর নাইটিঙ্গেল পাখিরা গান গায়।

বিরহী প্রিয়জনের স্মৃতি হৃদয়ে ব্যাকুলতা জাগিয়ে তোলে … যার আবাসস্থল ছিল যারুদ, হাযওয়ারী ও আক্বীক অঞ্চলে।

মেঘের বারিধারা নয়, বরং আমার অশ্রুর ধারা ও প্রবল বর্ষণ … সেই আবাসগুলোকে সিক্ত করেছে।

সেখানে এমন একজন অবস্থান করেন যার নাম আমি স্পষ্ট করছি না … এক হরিণ-নয়না রূপসী যার সাথে সাক্ষাতের স্থান দূরে হওয়া সত্ত্বেও আমি প্রেম বিনিময় করি।

সৌন্দর্য তাকে সুঠাম দেহ ও লাবণ্যের মাঝে বিভক্ত করেছে … ফলে তার ওড়না শব্দ করে আর তার মলদ্বয় নীরব থাকে।

আমি হিমা অঞ্চলে অতিবাহিত সেই রাতগুলো ভুলে যাওয়ার নই … যা অতিক্রান্ত হয়েছে এবং যেখানে জীবনের ঝর্ণাধারা ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ।

সেই রাতগুলো যখন বালুকাচরের হরিণ বিচ্ছেদকারী ছিল না … এবং তার সাথে মিলনে কোনো সংকীর্ণতা বা বাধা ছিল না।

আমার হৃদয়ে কত তিরস্কারকারীই না তিরস্কার করেছে যখন তা প্রেমে মগ্ন ছিল … অথচ প্রেমের শরীয়তে তিরস্কারকারী মোটেও ন্যায়পরায়ণ নয়।

তারা অজ্ঞতাবশত প্রেমের নিন্দা করে, অথচ … প্রেমের রয়েছে নিজস্ব কল্যাণ এবং নিজস্ব বিপদসমূহ।

আল্লাহর কসম সেই হৃদয়ের জন্য যা অনুরাগে মত্ত হয়েছে … তিরস্কার সত্ত্বেও যার উত্তপ্ত ব্যাকুলতার আগুন নেভে না।

আবরাক্বে হিমার প্রশস্ত জনপদে … এক রূপসী রয়েছে যাকে খাত্তি বর্শার ফলকসমূহ রক্ষা করছে।

সে দুলকি চালে দুলতে দুলতে চলে যেমন রুদাইনি বর্শা হেলেদুলে চলে … এবং গর্বভরে আন্দোলিত হয় যেমন বর্শার হাতল আন্দোলিত হয়।

সে কৃশ কটিদেশ ও ক্ষীণ উদর বিশিষ্ট … সতেজ ডালপালার হেলেদুলে চলা তার লাবণ্যের কাছে কিছুই নয়।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢٠)
تعلقتها عصر الشبيبة والصبا … وما علقت بي من زماني حبائله

حذرت عليها آجل البعد والنوى … فعاجلني من فادح البين عاجله

إلى الله يا أسماء نفساً تقطعت … عليك غراماً لا أزال أزاوله

وخطب بعاد كلما قلت هذه … أو آخره كرت على أوائله

لئن جار دهر بالتفرق واعتدى … وغال التداني من دها البين غائله

فإني لأرجو نيل ما قد أملته … كما نال من يحيى الرغائب آمله

كريم وفي إحسانه ونواله … بما ضمنت للسائلين مخايله

من النفر الغر الذين بمجدهم … تأطد ركن المجد واشتد كاهله

جواد يرى بذل النوال فريضة … عليه فما زالت تعم نواقله

لقد أُلبست نفس المعالي بروده … وزرّت على شخص الكمال غلائله

أجل همام أدرك المجد نيله … وأدرك مولى سح بالفضل نائله

وقد أيقنت نفس المكارم إنها … لتحيا بيحيى حين عمت فواضله

أخ لي ما زالت أو أخي إخائه … مؤطدة منه ببر يواصله

له همة نافت على الأوج رفعة … تقاصر عنها حين همت تطاوله

ليهنك مجد يا ابن أحمد لم تزل … فواضله مشهورة وفضائله

أبى الله إلا أن ينيف بك العلا … ويعلي بها الفضل الذي أنت كافله

وما زلت تسعى في المكارم طالباً … مقاماً تناهي دونه من يحاوله

رويدك قد جزت الأنام برتبة … يشير لها من كل كف أنامله

سأشكر ما أهديت لي من الزاهر … يجول عليها من ندى الحسن جائله

ودم سالماً من كل سوء مهنياً … بما نلته دهراً وما أنت نائله

وأثني على ما صغته من قلائد … تحلى بها من جيد مدحي عاطله

ودونكها من بعض شكري وما عسى … يفي بالذي أوليت ما أنا قائله

وكتب إلي أيضاً

لعلى روحي ومالي فداء … وله مني الثنا والدعآء

هو ذخري إن خفت من ريب دهري … وهو كهفي وملجائي والرجاء

وهو الماجد الكريم المرجى … للمعالي وهو الهدى والضياء

كيف أنسى زمان أنس تقضى … هو فيه السرور والسراء

دمت يا سيدي وكهفي علياً … وملاذاً دامت لك العلياء

فأجبته بقولي

هذه الأرض قد سقتها السماء … فأسقياني سقتكما الأنواء

بنت كرم قد هام كل كريم … في هواها وطاب منها الهواء

واجلواها عذراء تحكي عروساً … ألبستها نطاقها الجوزاء

وأنشداني مديح يحيى ليحيا … ميت هجر قد عز منه الشفاء

هو عوني على العلا ورجائي … حبذا العون في العلا والرجاء

وهو أنسى في وحشتي وسروري … في همومي وديمتي الوطفاء

شمل الخلق فضله فأقرت … بنداه الأموات والأحياء

فبيحيى لا يبرح الفضل يحيا … والمعالي به لهن اعتلاء

أحكم الود منه عقد إخائي … هكذا هكذا يكون الإخاء

وكتب إلى أيضاً

أستغفر الله أنت الفائق الأمم … بالعلم والحلم والأفضال والكرم

ألست أنت الذي أضحت فضائله … مشهورة كاشتهار النار في علم

العقد ما رحت ترويه وتنظمه … من فاخر القول ذي الإعجاز والحكم

أنت الذي رحت لي لهفاً وملتجأ … فلا أخاف مدى الأيام من عدم

خفف عليّ فقد حملتني مننا … أقلها وافر في أعين الأمم

لا درّ درّ زمان عنك أبعدني … فقد دنا بي إلى الأحزان والألم

لا تحسبن جوابي عنك آخره … تأخير ودّ ولا تغضب ولا تلم
কৈশোর ও যৌবনকালে আমি তার প্রেমে পড়েছিলাম … আর কালের কোনো ফাঁদ আমাকে তখনো আবদ্ধ করতে পারেনি।

আমি বিচ্ছেদ ও দূরত্বের আশঙ্কায় শঙ্কিত ছিলাম … কিন্তু বিচ্ছেদের নিদারুণ আঘাত অতি দ্রুতই আমাকে পেয়ে বসল।

হে আসমা! আল্লাহর কাছে সেই প্রাণের আর্জি, যা তোমার প্রেমে … খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গেছে এবং যে প্রেম আমি নিরন্তর লালন করছি।

বিচ্ছেদের এমন এক বিপদ যে, যখনই আমি বলি এটাই শেষ … অথবা এর সমাপ্তি আসন্ন, তখনই তা পূর্বের ন্যায় পুনরায় ফিরে আসে।

যদি কাল বিচ্ছেদ ঘটিয়ে যুলুম ও সীমালঙ্ঘন করে থাকে … এবং বিচ্ছেদের দুর্যোগ নৈকট্যের সম্ভাবনাকে বিনাশ করে দেয়—

তবে আমি যা আশা করেছি তা প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা করি … যেমন ইয়াহইয়া’র নিকট হতে কোনো আশাবাদী তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করে থাকে।

তিনি মহানুভব, তাঁর অনুগ্রহ ও দানে … তাঁর বদান্যতার লক্ষণসমূহ যাঞ্চাকারীদের জন্য নিশ্চিত আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়।

তিনি সেই উজ্জ্বল নক্ষত্রসম দলের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের গৌরবের মাধ্যমে … মর্যাদার স্তম্ভ সুদৃঢ় হয়েছে এবং আভিজাত্যের ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি এমন এক দানবীর যিনি দান করাকে নিজের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব মনে করেন … তাই তাঁর উপঢৌকনসমূহ সর্বদা ব্যাপকভাবে বর্ষিত হয়।

মর্যাদার সত্তা তাঁরই চাদরে আবৃত হয়েছে … এবং পূর্ণতার অবয়বে তাঁরই আচ্ছাদন পরিধান করানো হয়েছে।

তিনি এক মহান বীর, যাঁর বদান্যতা গৌরব অর্জন করেছে … এবং যাঁর অনুগ্রহ বর্ষণে এক মহান অভিভাবক তাঁর কাম্য বস্তু লাভ করেছেন।

সদাচরণের আত্মা নিশ্চিত হয়েছে যে, সে ইয়াহইয়া’র মাধ্যমে … পুনরায় জীবিত হবে, যখন তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।

আমার এমন এক ভাই, যাঁর ভ্রাতৃত্বের অঙ্গীকার সর্বদা … তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সৌজন্য ও সদাচরণের মাধ্যমে সুদৃঢ় থাকে।

তাঁর সুউচ্চ সংকল্প গগণচুম্বী উচ্চতাকে স্পর্শ করেছে … অন্য কেউ যখন সে উচ্চতা পেতে চায়, তখন সে নিজেকে অতি তুচ্ছ অনুভব করে।

হে আহমদের পুত্র! তোমার সেই গৌরব তোমার জন্য আনন্দদায়ক হোক, যার … শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা সদা সুপরিচিত।

আল্লাহ তাআলা কেবল তোমার মাধ্যমেই উচ্চতাকে বৃদ্ধি করতে চান … এবং সেই শ্রেষ্ঠত্বকে সমুন্নত করতে চান যার জামিনদার তুমি স্বয়ং।

তুমি নিরন্তর শ্রেষ্ঠত্বের সন্ধানে সচেষ্ট রয়েছ, এমন এক … সুউচ্চ মর্যাদার সন্ধানে যার তলদেশেই অন্য চেষ্টাকারীদের দৌড় থেমে যায়।

ধৈর্য ধরুন, আপনি তো সৃষ্টিজগতকে এমন এক সুউচ্চ স্তরে অতিক্রম করে গেছেন … যার দিকে প্রতিটি হাতের অঙ্গুলি নির্দেশ করে থাকে।

আপনি আমাকে যে উজ্জ্বল উপহার দিয়েছেন আমি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি … যার ওপর সৌন্দর্যের স্নিগ্ধতা বিচরণ করছে।

আপনি সকল অমঙ্গল হতে মুক্ত থেকে শান্তিতে থাকুন … যুগ যুগ ধরে আপনি যা অর্জন করেছেন এবং যা লাভ করবেন তার জন্য অভিনন্দিত হোন।

আপনি যে শব্দমালার অলংকার গেঁথেছেন আমি তার প্রশংসা করি … যা আমার প্রশংসার রিক্ত কণ্ঠে সৌন্দর্য যোগ করেছে।

আমার সামান্য কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন, তবে আমি যা-ই বলি না কেন … আপনার দেওয়া উপকারের যথার্থ প্রতিদান দেওয়া কীভাবে সম্ভব?

তিনি আমাকে আরও লিখলেন:

আলী’র চরণে আমার প্রাণ ও সম্পদ উৎসর্গিত হোক … তাঁর জন্য আমার পক্ষ হতে রয়েছে প্রশংসা ও প্রার্থনা।

তিনিই আমার সম্বল যদি আমি কালের বিপর্যয়ে ভীত হই … এবং তিনিই আমার আশ্রয়স্থল, নিরাপদ দুর্গ ও আশার স্থল।

তিনিই সেই মহানুভব ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব যার নিকট সুউচ্চ … মর্যাদার আশা করা হয়, তিনি হিদায়াত ও জ্যোতিস্বরূপ।

আমি কীভাবে সেই আনন্দময় সময়ের কথা বিস্মৃত হব যা গত হয়েছে … যাতে তিনি আনন্দ ও সুখের উৎস ছিলেন।

হে আমার নেতা ও আশ্রয়স্থল আলী! আপনি চিরজীবী হোন … আপনি পরম আশ্রয় হয়ে থাকুন এবং আপনার জন্য উচ্চমর্যাদা চিরস্থায়ী হোক।

আমি উত্তরে বললাম:

আকাশ এই ভূমিতে বারিধারা বর্ষণ করেছে … সুতরাং তোমরা আমাকে পান করাও, মেঘমালা তোমাদেরও যেন সিক্ত করে।

দ্রাক্ষার দুহিতাকে (শরাবকে) পান করাও, যার প্রেমে প্রতিটি উদার প্রাণ … মুগ্ধ হয়েছে এবং যার সৌরভে বাতাস সুবাসিত হয়েছে।

তাকে এমন এক কুমারীর মতো উদ্ভাসিত করো যেন সে এক নববধু … যাকে জোযা (মিথুন রাশি) নক্ষত্র তার মেখলা পরিয়ে দিয়েছে।

আর আমাকে ইয়াহইয়া’র প্রশংসা শুনিয়ে উজ্জীবিত করো, যাতে … বিচ্ছেদে মৃতপ্রায় ব্যক্তি পুনরায় প্রাণ পায়, যার আরোগ্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে তিনিই আমার সহায় ও আশা … আভিজাত্য ও আশার পথে এমন সহায়ক কতই না চমৎকার!

আমার নিঃসঙ্গতায় তিনি আমার পরম সাথী এবং বিষণ্ণতায় … আমার আনন্দের উৎস, তিনি আমার মেঘমুক্ত শীতল বারিধারা।

তাঁর অনুগ্রহ সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করেছে, ফলে … মৃত ও জীবিত সকলেই তাঁর দানশীলতার স্বীকৃতি দিয়েছে।

ইয়াহইয়া’র মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব সদাসর্বদা প্রাণবন্ত থাকে … এবং উচ্চমর্যাদা তাঁর মাধ্যমেই উন্নতির শিখরে পৌঁছে।

তাঁর আন্তরিক ভালোবাসা আমার ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করেছে … ভ্রাতৃত্ব এমনই, এমনই হওয়া উচিত।

তিনি আমাকে আরও লিখলেন:

আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, আপনি তো জ্ঞানে, ধৈর্যে, … অনুগ্রহে ও দাক্ষিণ্যে সকল জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

আপনি কি সেই ব্যক্তি নন যার গুণাবলী … পাহাড়ের চূড়ায় প্রজ্জ্বলিত আগুনের ন্যায় সুপ্রসিদ্ধ হয়েছে?

সেই ‘আল-ইকদ’ (গ্রন্থ) যা আপনি বর্ণনা করেন ও রচনা করেন … তা অলৌকিক ও হিকমতপূর্ণ শ্রেষ্ঠ বাণীর সমাহার।

আপনিই সেই ব্যক্তি যাঁর কাছে আমি কাতর হৃদয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছি … ফলে আমি আজীবন অভাব-অনটনের ভয় করি না।

আমার প্রতি দয়া করুন, কারণ আপনি আমাকে আপনার যে অনুগ্রহের ভার দিয়েছেন … তার যৎসামান্যও অন্য জাতিদের দৃষ্টিতে বিশাল প্রাচুর্য।

সেই সময়ের কোনো কল্যাণ নেই যা আমাকে আপনার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে … এবং আমাকে শোক ও যন্ত্রণার নিকটবর্তী করেছে।

আমার উত্তরের এই বিলম্বকে ভালোবাসার কোনো কমতি মনে করবেন না … দয়া করে ক্রুদ্ধ হবেন না এবং তিরস্কার করবেন না।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢١)
أنت العليم بما في القلب يا أملى … من الوداد فجد بالعفو لي ودم

فأجبته بقولي

مهلاً سقتك الغوادي هاطل الديم … من ذا يباريك في قول وفي حكم

نظمت قسراً نجوم الأفق زاهرة … ورمت نظمي وأين الأفق من كلمي

ما الدر في نسق والبدر في أفق … والليث في نقم والغيث في كرم

أبهى نظاماً وأسنى منك مطلعاً … أدهى انتقاماً وأجدى منك في نعم

فهل لمن رام أن يحكي علاك علا … في مثل هذي المساعي الغر من قدم

إن رمت فخراً فقل ما شئت من همم … إن رمت مشياً فطأ ما شئت من قمم

 

وكتب إلي أيضاً

وزائرة والبدر يتبعها وهنا … ونور سناها من سنا نوره أسنى

رداح لها في الحسن أعظم آية … تراها إذا ما أقبلت تخجل الغصنا

لها في صميم القلب خافي محبة … وسر وداد أظهر الأسم أو كنى

حليف غرام في هواها مولع … بها دائم الأسقام من هجرها مضنى

يذكرها عهد المحبة والهوى … فتعرض عما قال مصغية ظنا

وإن لاح برق من نواحي ديارها … أحل بقلبي المستهام بها حزنا

فياليت شعري كم يقاسي صدودها … فتى لم يجد صبراً ويوشك أن يفنى

فوالله رب العرش حلفة صادق … لقد ضقت ذرعاً من زماني وما سنا

زمان إذا ما رحت فيه مطالباً … لنيل سرور زادني وهنه وهنا

أسائله تجديد عهد بقربها … وهيهات منه أن يمن وما منا

وما كل من يعطى النول ينيله … ولا كل من أغناه خالقه أغنى

نعم في بلاد الله طرا ممجد … إذا قال قولاً صدق الخبر المعنى

على أخي البر الذي ما قصدته … لدى شدة إلا وصادفته ركنا

فتى قط ما لاقيت منه حزونة … على أنني صاحبته السهل والحزنا

فلا زال محروس الجناب مؤيدا … برب الورى طراً وأسمائه الحسني

فكتبت إليه بهذين البيتين

أيا ماجداً قد أحكم اللفظ والمعني … ومعه من الابداع ما لم يكن معنا

إليك فقد صيرت سحبان مفحما … وأخجلت بالأفضال يا سيدي معنا

ولما ورد الخبر بموت العمة الشريفة من مكة المشرفة كتبت إليه معزياً له فيها لأنها هي التي تولت تربيته إذ ماتت أمه عن مهده

ربنا أفرغ علينا صبراً وتوفنا مسلمين

أهكذا دوحة العلياء تنقصف … وهكذا الشمس في الآفاق تنكسف

وهكذا ظبة الماضي تفل شبا … من بعد ما زانها الامضاء والرهف

وهكذا بهجة العليا ونضرتها … يذري بمشرفها الأظلام والسدف

وهكذا ذروة المجد الأثيل غدت … يضمها بعد حسن الحلية الصدف

لله آية روح فارقت جسداً … وأي جثمان عن ضمه جذف

يا قرة لعيون المجد قد سحنت … بكى لها الأشرفان المجد والشرف

إنا لله وإنا إليه راجعون قول من عمه البلى لفقد عمته. وتردد فيه الحزن من لمته إلى قدمه ومن قدمه إلى لمته. أي والله عم الرزء والمصاب. وحفت بهذه المصيبة الأرزاء والأوصاف

مصاب قضي أن لا تأسى بعدما … مضى منجداً صبري وأوغلت متهما

نعي الناعون واضحة المحيا … ألوف البيت ذي العمد الطوال

من البيض العقائل من معد … بنين قبابهن على الجلال

نعوا ظبة لابيض مشرفي … قديم الطبع عاديّ الصقال

لله أي شمس نعوا. وأي حزن دعوا. وأي دوحة ذوت. وأي نجمة خوت. وأي بهجة ولت. وأي نعمة فاتت. وأي عمة ماتت.

فياليت شعري هل درى الموت من دها … ويا هل أديم الأرض يعلم من أخفى

بكى بعدها من كان لا يعرف البكا … وودت رجال لو تشاطرها الحتفا
হে আমার আশা! হৃদয়ে যা আছে আপনি তা জানেন … অনুরাগের খাতিরে আমাকে ক্ষমা করুন এবং দীর্ঘজীবী হোন।

অতঃপর আমি তাকে আমার এই কথার মাধ্যমে উত্তর দিলাম:

ধৈর্য ধরুন, সকালের মেঘমালা আপনাকে মুষলধারে বৃষ্টিতে সিক্ত করুক … কথা ও প্রজ্ঞায় কে আপনার সমকক্ষ হতে পারে?

আপনি দিগন্তের উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলোকে বলপূর্বক সুবিন্যস্ত করেছেন … এবং আমার কাব্যের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন, কিন্তু আমার বাণীর তুলনায় আকাশের দিগন্ত কোথায়?

সারিবদ্ধ মুক্তা আর দিগন্তের পূর্ণিমা … প্রতিহিংসায় সিংহ আর দাক্ষিণ্যে বৃষ্টি—

বিন্যাসে আপনার চেয়ে সুন্দর আর উদয়স্থলে আপনার চেয়ে উজ্জ্বল কেউ নেই … আপনার চেয়ে ভয়াবহ প্রতিশোধপরায়ণ এবং আপনার চেয়ে অধিক নিয়ামত দানকারী আর কেউ নেই।

যে ব্যক্তি আপনার উচ্চতাকে অনুকরণ করতে চায়, এই প্রকার গৌরবময় প্রচেষ্টায় … তার কি কোনো সুউচ্চ মর্যাদা বা সুপ্রাচীন পদমর্যাদা রয়েছে?

যদি আপনি গর্ব করতে চান, তবে আপনার সংকল্প সম্পর্কে যা খুশি বলুন … যদি আপনি হাঁটতে চান, তবে পর্বতচূড়াগুলোর ওপর দিয়ে যেখানে খুশি পদচারণা করুন।

 

তিনি আমাকে আরও লিখলেন:

একজন আগন্তুক নারী, যার পেছনে চাঁদ ধীরলয়ে অনুগমন করছিল … আর তার জ্যোতির উজ্জ্বলতা চাঁদের আলোর চেয়েও প্রদীপ্ত ছিল।

সৌন্দর্যে সে এক মহান নিদর্শন এবং সুঠাম দেহী … যখন সে সামনে আসে, তখন তার রূপ বৃক্ষশাখাগুলোকেও লজ্জিত করে।

হৃদয়ের গভীরে তার প্রতি লুকানো ভালোবাসা রয়েছে … আর অনুরাগের এমন এক গোপন রহস্য যা প্রকাশ্য বা ইঙ্গিতে ব্যক্ত হয়।

তার প্রেমে বিভোর এক ব্যক্তি প্রেমানুরাগে আবদ্ধ … বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় সে সর্বদা রোগাক্রান্ত ও জীর্ণ।

সে তাকে প্রেম ও অনুরাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় … কিন্তু সে তার কথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় যেন সে কিছুই শোনেনি।

যদি তার গৃহের দিক থেকে বিজলি চমকায় … তবে তা তার প্রেমে পাগল আমার হৃদয়ে দুঃখ বয়ে আনে।

হায়! আমি যদি জানতাম কতকাল সহ্য করতে হবে তার অবজ্ঞা … এক যুবক যে ধৈর্য হারিয়েছে এবং প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

আরশের রব আল্লাহর কসম, এক সত্যনিষ্ঠ শপথ … আমি আমার বর্তমান সময় ও তার গতির প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি।

এমন এক সময়, যখনই আমি আনন্দ লাভের প্রত্যাশা করি … তখনই তা আমার দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

আমি সময়ের কাছে প্রার্থনা করি তার নৈকট্যের দিনগুলো ফিরে পেতে … কিন্তু সময় তো কৃপণ, সে কিছুই দিতে চায় না।

যাকেই প্রার্থনা করার সুযোগ দেওয়া হয় সে তো আর দান পায় না … আর যাকে তার স্রষ্টা অভাবমুক্ত করেছেন, সে-ও তো অন্যকে অভাবমুক্ত করতে পারে না।

হ্যাঁ, আল্লাহর এই বিশাল জমিনে এমন এক মহিমান্বিত ব্যক্তি আছেন … যিনি যখন কোনো কথা বলেন, তখন তার অর্থের সত্যতা প্রমাণিত হয়।

তিনি আমার সেই সৎ ভাই, বিপদের সময় যার কাছে আমি যা-ই প্রত্যাশা করেছি … তাকে সর্বদা এক মজবুত স্তম্ভ হিসেবেই পেয়েছি।

এমন এক যুবক, যার কাছ থেকে আমি কখনো কঠোরতা দেখিনি … যদিও আমি তার সাথে সুসময় ও দুঃসময় উভয় অবস্থায় পথ চলেছি।

সৃষ্টিজগতের রব এবং তাঁর সুন্দর নামসমূহের উসিলায় … তাঁর মর্যাদা যেন সর্বদা সংরক্ষিত ও সমর্থিত থাকে।

অতঃপর আমি তাকে এই দুটি চরণে উত্তর লিখলাম:

হে মহানুভব! যিনি শব্দ ও অর্থকে সুনিপুণ করেছেন … যার সাথে এমন সৃজনশীলতা রয়েছে যা আমাদের সাথে নেই।

আপনার কাছে এসে সাবান নামক বাকপটু ব্যক্তিও নির্বাক হয়ে গেছে … আর হে আমার সরদার! আপনার অনুগ্রহে আপনি মান নামক দানবীরকেও লজ্জিত করেছেন।

যখন পবিত্র মক্কা থেকে মহীয়সী ফুফুর মৃত্যুর সংবাদ এল, তখন আমি তাকে সমবেদনা জানিয়ে লিখলাম; কারণ তিনিই তাকে লালন-পালন করেছিলেন যখন তার মা দোলনাতেই তাকে রেখে মারা যান:

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং মুসলিম হিসেবে আমাদের মৃত্যু দান করুন।

এভাবেই কি উচ্চতার বিশাল বৃক্ষ ভেঙে পড়ে … এবং এভাবেই কি দিগন্তের সূর্য গ্রহণপ্রাপ্ত হয়?

এভাবেই কি ধারালো তলোয়ারের অগ্রভাগ ভেঙে যায় … যখন তার তীক্ষ্ণতা ও মসৃণতা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিল?

এভাবেই কি উচ্চতার শ্রী ও সজীবতা হারিয়ে যায় … অন্ধকার তার উজ্জ্বলতাকে ঢেকে ফেলে?

এভাবেই কি বংশীয় আভিজাত্যের উচ্চ শিখর … সুন্দর অলংকারের পর মাটির কবরে মিশে যায়?

আল্লাহর কুদরতের কী অপূর্ব নিদর্শন এক রুহ যা দেহ ত্যাগ করল … আর কী বিশাল এক দেহ যাকে কবরের মাটি আঁকড়ে ধরল।

হে মর্যাদার নয়নমণি! আপনি বিদায় নিয়েছেন … আপনার জন্য আভিজাত্য ও সম্মান উভয়ই ক্রন্দনরত।

নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং তাঁরই নিকট আমাদের ফিরে যেতে হবে— এটি এমন এক ব্যক্তির উক্তি যার ফুফুকে হারানোর শোকে তার দুঃখ সর্বব্যাপী হয়েছে। তার চুলের অগ্রভাগ থেকে পা পর্যন্ত এবং পা থেকে চুল পর্যন্ত কেবল শোকই বয়ে চলেছে। হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, এই বিপদ ও মুসিবত সবাইকে গ্রাস করেছে এবং এই শোক নানা বর্ণনায় পরিবেষ্টিত হয়েছে।

এই শোক এমন এক ফয়সালা যা হওয়ারই ছিল, যখন আমার ধৈর্য বিদায় নিল … আর আমি শোকের গভীরে নিমজ্জিত হলাম।

সংবাদদাতারা সেই উজ্জ্বল চেহারার বিদায়ের সংবাদ দিয়েছে … যিনি উচ্চ স্তম্ভবিশিষ্ট সুমহান ঘরের বাসিন্দা ছিলেন।

যিনি মা'দ গোত্রের সেই মহীয়সী নারীদের অন্তর্ভুক্ত … যাদের তাঁবুসমূহ মহান মর্যাদার ওপর স্থাপিত।

তারা এমন এক তলোয়ারের বিদায়ের খবর দিয়েছে যা ছিল অতি শুভ্র ও উজ্জ্বল … যার গঠন ছিল সুপ্রাচীন এবং মসৃণতা ছিল নিখুঁত।

আল্লাহর শপথ! তারা কোন সূর্যের অস্ত যাওয়ার খবর দিল? তারা কোন শোককে আহ্বান করল? কোন মহাবৃক্ষ শুকিয়ে গেল? কোন নক্ষত্র কক্ষচ্যুত হলো? কোন সৌন্দর্য বিদায় নিল? কোন নিয়ামত হাতছাড়া হলো? আর কোন মহীয়সী ফুফু ইন্তেকাল করলেন!

হায়! আমি যদি জানতাম মৃত্যু কি বুঝতে পেরেছে সে কাকে আঘাত হেনেছে? … আর হায়! জমিনের বুক কি জানে সে কাকে আড়াল করে রেখেছে?

তার বিদায়ে আজ সে-ও কাঁদছে যে কখনো কাঁদতে জানত না … আর অনেক পুরুষই আজ কামনা করছে যদি তারা তার সাথে মৃত্যুকে ভাগ করে নিতে পারত।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
آه لهذه المصيبة القاضيه. وواه لتلك الحبيبة الماضيه. مضت والله الشمس أخت البدر. والمحجة بنت الصدر. والغرة في جبهة الكرم. والقرة لعين الحرم.

مضت عفة الأثواب لم تبق روضة … غداة ثوت إلا اشتهت إنها قبر

يا مولانا هذه نفثة مصدور. ونبذة من وصف هذه الرزية التي صدعت الصخور. فما ظنك بالمصدور. فياليت شعري كيف حال مولاي بعدها. وقد أفرشته حجرها. وأورثته بموتها أجرها. والله إن المصاب بها لجليل. وإن الحزن عليها لقليل. وأهالها من غريبة في وطنها. وجيدة في قطعنها. ووحيدة في عطنها. صد عنها القريب. وحن عليها الغريب. إلى الله الملجأ من هذه المصيبه. وبرسوله التأسي في فقد هذه الحبيبه. فصبراً يا مولانا على هذه المصيبة صبراً. وجبراً لهذه القلوب المنكسرة جبراً.

ولو كان في الدنيا خلود لواحد … لكان رسول الله فيها المخلدا

ومن ذا الذي يبقي من الموت سالماً … وسهم المنايا قد أصاب محمدا

فالله تعالى يلهمنا وإياكم الصبر الجميل. على هذا الرزء الجليل. إنه ولى ذلك وكتبت إليه أيضاً معزياً عن أم ولد له. العلوم الشريفة محيطة بأن هذا الأمر. لا محيد عن القلق له إلا الصبر. فسيدي بحمد الله أولى من تدرع جلبابه. وأعلى من علم إن مآل الخلق إلى هذا المصير الذي لا يسد أحد بابه. وتسهيل الخطب أوضح من أن يذكر. والله تعالى هو الذي يحمد على المكروه ويشكر. فعوضك الله عنها. أفضل ما يكون منها.

فإنك رأس المال ما دمت باقياً … فعوضت عنها بالمثوبة والأجر

على إنها لم تذهب بحمد الله تعالى إلا وقد كسرت سورة اللهف. بمن أبقته رحمها الله تعالى أكرم خلف.

إذا رضى الإناث الموت قسماً … فمشكور إذا ترك الفحولا

فالله تعالى يحييك لاقتناء ألف مثلها. ويبقيك بقاء يفترع من المكارم حزنها وسهلها. والسلام

 

‌‌الامام عبد القادر محيي الدين

بن يحيى الطبري الحسني الشافعي المكي

إمام تصدر في محراب العلم والامامه. وهمام تسنم صهوة جموح الفضل فملك زمامه. رفع للعلوم أرفع رايه. وجمع بين الرواية والدرايه. فأصبح وهو كاسر الوسادة. بين الأئمة والساده. يشنف المسامع بفرائد كلامه. ويبهج النواظر بما تدبجه أنامل أقلامه. إذا انفقهت بشقاشق قاله لهاته. ثبت حق إفصاح النطق وبطلت ترهاته. إلى نسب في صميم الشرف عريق. وحسب غصن مجده بالمعالي وريق. وبيت علم ليس منه إلا امام وخطيب. وأديب فنن فضله في رياض الأدب رطيب. والطبريون. سادة من غير الفضل بريون. وهذا الامام واسطة عقدهم. ورابطة عقدهم. ومحيي آثارهم. والآخذ من الدهر بثارهم. صنف وألف. وسبق وما تخلف. وأما الأدب فروضه الممطور. وحوضه الراوية منه الطروس والسطور. وكانت له الهمة العليا. التي تضيق عن أدناها الدنيا. وأنفة نفسه كانت ذهابها. وانتزاع لطيفة روحه من أهلبها. ومن خبره إنه أشابت خطبة الفطر أحد ولديه. وكانت أول خطبة حصلت بها النوبة لديه. فتهيأ للقيام بأدائها. وأرهف عضب لسانه لا بدائها. فمنعه بعض أمرآء الأروام. الواردين إلى مكة المشرفة في تلك الأعوام. ورغب في أن يكون الخطيب حنفي المذهب. وأخاف من تعرض لرد أمره وأرهب. فضاق بالامام لذلك نجده ووهده. وجهد في إزالة هذا المانع فلم يجده جهده. ولما لم يحصل إلا على الياس. ولم يلف لضنا دائه من آس. صعد كرسيه وتنفس الصعدا. ففاضت نفسه لوقته كمدا. وألقى على كرسيه جسدا. ومن العجيب إن قدمت جنازته ذلك اليوم للصلاة عليه. والخطيب يخطب على المنبر ناظراً إليه. وذلك عام ثلاثين وألف وهذا محل اثباب شيء من نثره الفائق. ونظمه الشائق الرائق.
আক্ষেপ এই চরম বিপদে! পরিতাপ সেই গত হওয়া প্রিয়তমার জন্য! আল্লাহর কসম, সেই সূর্য বিদায় নিয়েছে যে ছিল পূর্ণিমার চাঁদের বোন, সুউচ্চ মর্যাদাবান ও বক্ষস্থলের কন্যা, মহানুভবতার ললাটে উজ্জ্বল জ্যোতি এবং পবিত্র হারামের চোখের শীতলতা।

পবিত্র বসনা বিদায় নিয়েছেন, যার দাফনের সকালে কোনো বাগান অবশিষ্ট থাকেনি … যা তাঁর কবর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেনি।

হে আমাদের মওলানা, এটি এক ব্যথিত হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস এবং এই সেই বিপর্যয়ের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা যা পাথরকেও বিদীর্ণ করে দেয়। তবে ব্যথিত হৃদয়ের অবস্থা আপনি কী কল্পনা করতে পারেন? হায়, আমার যদি জানা থাকত আমার মওলানার অবস্থা তাঁর বিদায়ের পর কেমন! অথচ তিনি তাঁকে তাঁর স্নেহের কোলে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে মওলানাকে সওয়াবের উত্তরাধিকারী করে গেছেন। আল্লাহর কসম, তাঁর বিয়োগব্যথা অত্যন্ত বিশাল, যদিও তাঁর জন্য শোক করা অপর্যাপ্ত। তিনি ছিলেন নিজ বাসভূমে এক অনন্য নারী, স্বীয় মহত্ত্বে অনন্যা এবং স্বীয় অবস্থানে অদ্বিতীয়া। নিকটজন তাঁর থেকে বিমুখ হয়েছে আর পরজন তাঁর প্রতি ব্যাকুল হয়েছে। এই বিপদে আশ্রয়স্থল একমাত্র আল্লাহ এবং এই প্রিয়তমার বিয়োগে সান্ত্বনার পথ হলো তাঁর রসূলের পদাঙ্ক অনুসরণ করা। সুতরাং হে আমাদের মওলানা, এই বিপদে ধৈর্য ধরুন—সুদৃঢ় ধৈর্য, আর এই ভগ্ন হৃদয়গুলোর জন্য আমি সান্ত্বনা প্রার্থনা করি।

দুনিয়াতে যদি কোনো একজনের জন্য স্থায়িত্ব থাকত … তবে আল্লাহর রসূলই সেখানে চিরস্থায়ী হতেন।

মৃত্যুর হাত থেকে কে সুস্থ অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে … যেখানে মউতের তীর খোদ মুহাম্মদ (সা.)-কে স্পর্শ করেছে?

মহান আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে এই মহাবিপদে সুন্দর ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক। তাঁর কাছে তাঁর এক দাসীর (সন্তানের জননী) মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে আরও লেখা হয়েছে: শরয়ী জ্ঞানসমূহ এই বিষয়টিকে পরিবেষ্টন করে আছে যে, এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ ছাড়া অস্থিরতা দূর করার কোনো পথ নেই। আমার সাইয়্যেদ, আল্লাহর প্রশংসার পর, ধৈর্য ধারণে সবচেয়ে অগ্রগণ্য এবং তিনি জানেন যে সৃষ্টির পরিণতি এই গন্তব্যেই যার দুয়ার কেউ রুদ্ধ করতে পারে না। এই বিপদকে সহজভাবে গ্রহণ করা বর্ণনার চেয়েও স্পষ্ট। আল্লাহ তাআলাই সেই সত্তা যাঁর প্রশংসা ও শুকরিয়া অপ্রীতিকর অবস্থায়ও করা হয়। আল্লাহ আপনাকে তাঁর বিনিময়ে সর্বোত্তম কিছু দান করুন।

আপনি যতক্ষণ জীবিত আছেন আপনিই আসল মূলধন … সুতরাং তাঁর বিনিময়ে আপনাকে প্রতিদান ও সওয়াব দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহর প্রশংসায়, তিনি কেবল আক্ষেপের তীব্রতা ভেঙেই চলে যাননি, বরং আল্লাহর রহমতে তিনি এক সম্মানিত উত্তরসূরি রেখে গেছেন।

নারীরা যদি বণ্টন অনুযায়ী মৃত্যুকে মেনে নেয় … তবে শোকর করা উচিত যদি পুরুষদের অবশিষ্ট রাখা হয়।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাঁর মতো আরও সহস্র গুণ অর্জনের জন্য জীবিত রাখুন এবং আপনাকে এমনভাবে দীর্ঘজীবী করুন যা মর্যাদার উচ্চতা ও সমতলকে স্পর্শ করে। ওয়াসসালাম।

 

‌‌ইমাম আব্দুল কাদির মুহিউদ্দিন

বিন ইয়াহইয়া আত-তবারী আল-হাসানী আল-শাফিঈ আল-মাক্কী

তিনি এমন এক ইমাম যিনি ইলম ও ইমামতের মেহরাবে আসীন হয়েছিলেন। এমন এক বীর পুরুষ যিনি শ্রেষ্ঠত্বের অবাধ্য ঘোড়ার পিঠে চড়ে তার লাগাম নিজের আয়ত্তে নিয়েছিলেন। তিনি ইলমের জন্য সর্বোচ্চ পতাকা উত্তোলন করেছেন এবং রেওয়ায়াত ও দেরায়াতের সমন্বয় করেছেন। তিনি উলামা ও মাশায়েখদের মাঝে এমনভাবে আসীন ছিলেন যে তাঁর অসাধারণ কথা দিয়ে মানুষের কানকে অলঙ্কৃত করতেন এবং তাঁর কলমের নিপুণ ছোঁয়ায় যা রচিত হতো তা দর্শকদের চোখ জুড়িয়ে দিত। যখন তিনি স্বীয় বাকপটুতা দিয়ে ইলমের গভীর রহস্য আলোচনা করতেন, তখন স্পষ্ট উচ্চারণের সত্যতা প্রমাণিত হতো এবং অসারতা বিলুপ্ত হতো। তাঁর বংশমর্যাদা আভিজাত্যের মূলে নিহিত এবং তাঁর গৌরবের শাখাটি সুউচ্চ মর্যাদার দ্বারা পল্লবিত। তাঁর ঘরটি ছিল ইলমের এক নিকেতন যেখানে কেবল ইমাম, খতিব এবং উচ্চাঙ্গের সাহিত্যিকরাই জন্মেছেন। তবারীগণ এমন এক অভিজাত গোষ্ঠী যারা জ্ঞান ও মর্যাদা ছাড়া অন্য কিছুতে পরিচিত নন। আর এই ইমাম ছিলেন তাঁদের কণ্ঠহারের মধ্যমণি, তাঁদের সম্পর্কের সেতুবন্ধন এবং তাঁদের কীর্তিসমূহের পুনরুজ্জীবনকারী। তিনি গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেছেন এবং সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক বৃষ্টিস্নাত বাগান এবং তাঁর কালির পাত্র ও পাণ্ডুলিপির সারিগুলো ছিল জ্ঞানের কানায় কানায় পূর্ণ জলাধার। তাঁর উচ্চাশা ছিল আকাশচুম্বী, যার নিম্নে এই পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। তাঁর আত্মমর্যাদাবোধই ছিল তাঁর বিদায়ের কারণ এবং তাঁর পবিত্র রুহটি এই নশ্বর দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপলক্ষ। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তাঁর এক পুত্রের ঈদুল ফিতরের খুতবা পাঠের বিষয়টি তাঁকে চিন্তিত করে তুলেছিল, যা ছিল সেই পুত্রের প্রথম খুতবা প্রদানের পালা। তিনি তা পালনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং খুতবাটি সুন্দরভাবে প্রদানের জন্য স্বীয় বাগ্মিতাকে শাণিত করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় মক্কায় আগত রোমীয় শাসকদের মধ্য থেকে জনৈক আমীর তাঁকে বাধা দেন। তিনি চেয়েছিলেন খতিব যেন হানাফী মাযহাবের কেউ হন। যারা তাঁর এই আদেশের অবাধ্য হবে তাদের তিনি ভয় দেখান ও আতঙ্কিত করেন। এতে ইমাম আত-তবারী অত্যন্ত মর্মাহত ও সংকীর্ণ বোধ করেন এবং এই বাধা দূর করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন কিন্তু সফল হননি। যখন তিনি কেবল নিরাশা ছাড়া আর কিছুই পেলেন না এবং তাঁর এই যন্ত্রণার কোনো আরোগ্যকারী খুঁজে পেলেন না, তখন তিনি স্বীয় মসনদে আরোহণ করে একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন। সেই মুহূর্তে ক্ষোভে ও দুঃখে তাঁর প্রাণবায়ু বের হয়ে যায় এবং তিনি নিথর দেহ হয়ে আসনে ঢলে পড়েন। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো যে, সেদিন তাঁর জানাজা যখন নামাজের জন্য আনা হলো, তখন খতিব মিম্বরে দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। এটি ছিল হিজরি ১০৩০ সালের ঘটনা। এটি হলো তাঁর চমৎকার গদ্য ও আকর্ষণীয় কাব্যিক রচনার কিছু নমুনা উপস্থাপনের স্থান।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢٣)
فمن إنشائه ما كتبه إلى الشيخ عبد الرحمن المرشدي من الطائف. المحفوف باللطائف. قبلت أرضاً ميطت بها تمائمي. وحننت لها إذ أنت لفراقها حمائمي. أول أرض مس جسمي ترابها. وغذاني بلبان الأدب أترابها. وقوم لحن ألحاني أعرابها. وكفلني قبل ما كلفني الله أعرابها. ونعق بسعادي مذ ولدت غرابها هي الحرم الآمن من كل خيفة ومخافة والمعقل الذي ينتقم الله ممن أزعر حاله وأخافه والعصمة التي كحل طرف النائم بها أثمد الرحمة والمأمن الذي اتسع بالرحمة اتساع الرحم فلا ضيق بنازليه وإن كثروا ولا زحمة لا يضار بحره وقلة مائه ولا يعاب بانقطاع سفائن الأرزاق بمخائه وخليصائه فهو جنة من شانها أن تحف بالمكاره ومن الناس من يقاد إلى الجنة وهو كاره بينا هي كذلك إذ غشيتها من الله الكريم نظره وانكشف عنها ما يخشى ويكره ولكل بكرة أصيل ولكل أصيل بكره فسال الله الذي بيده المن والمنون. وأمره مقدر بين الكاف والنون. أن يقر العيون بإجراء العيون. وهذا عندي من نوع الاستخدام. ويمتع النواظر بوجوه أحبابنا النواضر ويحرسهم في الأهل والأنفس والأخدام. سيما الخدن الصديق. والخل الشفيق. المقدم في حقوق الإخاء على الأخ الشقيق. مظهر القول بالوحدة حيث لا اثينية بيني وبينه. مصداق القول بالحلول إذ كان لساني وعيني وكنت لسانه وعينه. شيخ الاسلام. ناشر علم الفتوى والفتوة على مفارق الأنام. ناثل كنانة الفوائد في قبائل المستفيدين بما يبلغ قصي المطالب لمن سام وحام الامام المقتدى به في الصلاة والصلات المفزوع إليه إذا نزلت المشكلات وحلت المعضلات القائم بالحجة. الدال على المحجة الثابت تفرده على المعقول والمنقول بأصدق ثبت وأصح حجة. العالم النحرير. العامل بالاحتياط والتحرير. خطيب المسلمين المفوه. المدره المؤيد بحول الله والقوة. مولانا الشيخ عبد الرحمن بن عيسى لا زال عباب فضله قاموساً. ولا برح علمه في دياجى المشكلات قابوساً. وأنهيت إلى حضرته التي تفقأت علماً وامتلأت ذكاءً وفهماً وتعبيري عن المضارع بالماضي مجاز مرسل لما تقدم من الاتحاد والحلو والاستطراد نوع بديعي وحديثه مسلسل شوقاً أذهل العبد عن المكاتبه وأشغله عمن لم يكاتبه وعمن كاتبه فإن البعد عن مولانا بالجسد من أعظم موجبات الكد ومقتضيات النكد فالله تعالى يقرب سويعات الاجتماع بخير البقاع وقد كتبت بغاية العجلة عند توجه السفاره وتوجههم مما هو أشق من نقب سماره فليعذر مولانا عما بها من التقصير وليتفضل بابلاغ السلام للصديق الكبير والعلم الشهير العالم العلامة الحجة الفهامة مولانا الصنو الشيخ أحمد لا زال في معارج المعالي يصعد والسلام فكتب إليه الشيخ عبد الرحمن مراجعاً بما صورته إن أرضاً ميطت بها تمائمك لجديرة بالتقبيل ورياضاً تغنت بها حمائمك لحقيقة بالتعظيم والتبجيل كيف وقد أنبتت دوحتك التي تفرعت منها فتأصلت وأثبتت سرحتك التي أثمرت مثلك فوجدت بهذا الوجود وتحصلت وهي دوحة النبوة التي بها فضلت مكة على المدينة على ما اخترته وبينت دلائله وصرحت الرسالة التي طالما ملأ المولى عند الاملاء على الملأ بتفضيلها تصانيفه ورسائله أرضاً صدح بها طائر سعدك وما نعق إلا يسيء ضدك الغراب وكفلك بها أو أنس مهدك مبعديك عن جفا طبائع الأعراب وأجير ألحانك من لحن يفتقر إلى تقويمه بالأعراب. اللهم إلا أن يكون هذا في قوة السالبة وعدم اقتضائها وجود الموضوع مقرر عند أولي الألباب فيا أيها المشوق إلى معاهده ومسقط رأسه. والمعوق عنه لقلة موارده وحرارة أنفاسه المتعطش إلى لقاء خدنه المتطلع إلى الاجتماع بقرمه وقرنه لعمرك إنه إليك لاشوق. وبقول المتقدم أجدر وأليق

يا من له بين الضلوع مراتع … أناشيق أناشيق أناشيق
তার রচনার অন্তর্ভুক্ত হলো সেই পত্রটি যা তিনি তায়েফের শাইখ আবদুর রহমান আল-মুরশিদীকে লিখেছিলেন, যা লতিফ বা সূক্ষ্ম ভাবধারায় পরিপূর্ণ। আমি সেই ভূমিকে চুম্বন করেছি যেখানে আমার শৈশবের রক্ষাকবচসমূহ খোলা হয়েছিল। আমি তার জন্য হাহাকার করেছি যখন আপনি বিরহের কারণে আমার কপোত বা শান্তিদূত হয়েছিলেন। এটিই প্রথম ভূমি যার মাটি আমার দেহকে স্পর্শ করেছিল এবং যার সমবয়সীরা আমাকে আদব ও শিষ্টাচারের দুগ্ধ পান করিয়েছিল। তার মরুবাসীরা আমার ভাষার জড়তা দূর করেছিল এবং আল্লাহ আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার আগেই তারা আমার লালন-পালনের ভার নিয়েছিল। আমি জন্মের পর থেকেই তার বিরহী কাকেরা বিলাপ করেছে। এটি সেই হারাম বা পবিত্র স্থান যা সকল ভয় ও শঙ্কা থেকে নিরাপদ, এবং এমন এক দুর্গ যেখানে আল্লাহ সেই ব্যক্তির থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন যে এর অবস্থাকে বিপর্যস্ত করে বা একে আতঙ্কিত করে। এটি এমন এক আশ্রয়স্থল যার মাধ্যমে ঘুমন্ত ব্যক্তির চোখের পাতায় রহমতের সুরমা লাগানো হয়েছে। এটি এমন এক নিরাপদ স্থান যা জরায়ুর প্রশস্ততার ন্যায় রহমত দ্বারা প্রশস্ত হয়েছে, ফলে সেখানে অবস্থানকারীরা সংখ্যায় অধিক হলেও কোনো সংকীর্ণতা বা ভিড় তৈরি হয় না। এর সমুদ্র এবং পানির স্বল্পতা কোনো ক্ষতি করে না, আর মখা ও খুলয়সা নামক বন্দরে রিযিকের জাহাজগুলো পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হলেও এটি দোষণীয় নয়। এটি এমন এক জান্নাত যাকে অপ্রীতিকর বিষয় দ্বারা ঘিরে রাখা হয়েছে, আর মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যাকে জান্নাতের দিকে টেনে নেওয়া হয় অথচ সে তা অপছন্দ করে। এমতাবস্থায় যখন দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ওপর রহমতের দৃষ্টি নিপতিত হলো এবং যা কিছু ভীতিপ্রদ ও অপছন্দনীয় ছিল তা দূরীভূত হলো। প্রতিটি সকালের জন্য বিকেল রয়েছে এবং প্রতিটি বিকেলের জন্য সকাল রয়েছে। আমি সেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যাঁর হাতে রয়েছে অনুগ্রহ ও নিয়তি, এবং যাঁর আদেশ কাফ ও নূনের মধ্যবর্তী বিষয়ের ন্যায় সুনির্ধারিত, তিনি যেন ঝরনাধারা প্রবাহিত করার মাধ্যমে চক্ষুসমূহকে শীতল করেন। এটি আমার নিকট এক প্রকারের অলঙ্কারিক শব্দের ব্যবহার। আর তিনি যেন আমাদের প্রিয়জনদের উজ্জ্বল চেহারার মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টিকে আনন্দিত করেন এবং তাদের পরিবার, জান ও সেবকদের মধ্যে হিফাযত করেন। বিশেষ করে সেই অন্তরঙ্গ বন্ধু, দয়ালু সুহৃদ, ভ্রাতৃত্বের অধিকারে যে সহোদর ভাইয়ের চেয়েও অগ্রগামী। সে এমন এক ব্যক্তি যে বন্ধুত্বের ঐক্যের কথা প্রকাশ করে যেখানে আমার ও তার মধ্যে কোনো দ্বৈততা নেই। এটি যেন আত্মার মিলনের সত্যতা প্রমাণ করে, যেহেতু সে ছিল আমার জিহ্বা ও চোখ, আর আমি ছিলাম তার জিহ্বা ও চোখ। তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম, সৃষ্টিকুলের মস্তকসমূহে ফতোয়া ও বীরত্বের ইলম প্রচারকারী। তিনি উপকারপ্রার্থীদের গোত্রে উপকারের তূণীর ঢেলে দেন, যা উচ্চাভিলাষী ও সন্ধানকারীদের দূরতম লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। তিনি সেই ইমাম যার অনুসরণ করা হয় নামাজে এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে, সমস্যার উদ্ভব হলে এবং জটিলতা দেখা দিলে যার দিকে ধাবিত হওয়া হয়। তিনি অকাট্য দলিলের ধারক, সত্য পথের প্রদর্শক, এবং যুক্তিসিদ্ধ ও বর্ণনাভিত্তিক জ্ঞানরাজ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিশুদ্ধ প্রমাণের মাধ্যমে নিজের অনন্যতায় অটল। তিনি সুগভীর পণ্ডিত, সতর্কতা ও সূক্ষ্মতার সাথে আমলকারী। মুসলিমদের বাগ্মী খতিব, আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্য দ্বারা সমর্থিত বিজ্ঞ নেতা। আমাদের মাওলানা শাইখ আবদুর রহমান ইবনে ঈসা, যাঁর অনুগ্রহের ঢেউ সর্বদা প্রবহমান থাকুক এবং যাঁর জ্ঞান জটিলতার অন্ধকারে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকুক। আমি তাঁর মহান দরবারে নিবেদন করছি—যা জ্ঞানে পরিপূর্ণ এবং বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞায় সিক্ত। আর বর্তমান কালের পরিবর্তে অতীত কাল ব্যবহার করা ছিল একটি রূপক অলঙ্কার, যা পূর্বোক্ত ঐক্য, মিলন ও প্রসঙ্গের কারণে একটি চমৎকার সাহিত্যিক কৌশল। তাঁর কথাগুলো অত্যন্ত আবেগপূর্ণ যা বান্দাকে পত্রালাপ থেকে বিমোহিত করেছে এবং যারা পত্র লেখেনি বা যারা লিখেছে তাদের সবার কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। কারণ আমাদের মাওলানার থেকে দৈহিক দূরত্ব হলো অবর্ণনীয় কষ্টের অন্যতম কারণ এবং দুঃখ-বেদনার দাবিদার। আল্লাহ তায়ালা যেন সর্বোত্তম স্থানে অতি দ্রুত সাক্ষাতের মুহূর্তগুলো ঘনিয়ে আনেন। আমি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এটি লিখেছি যখন দূত রওয়ানা হচ্ছিলেন, আর তাদের যাত্রা সুঁইয়ের ছিদ্রপথের চেয়েও সংকীর্ণ বা কঠিন ছিল। সুতরাং মাওলানা যেন এর ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করেন এবং মহান বন্ধু ও প্রসিদ্ধ বিদগ্ধ পণ্ডিত, প্রজ্ঞাবান মাওলানা আল-সিনু শাইখ আহমদের প্রতি সালাম পৌঁছে দেওয়ার অনুগ্রহ করেন, যিনি সর্বদা শ্রেষ্ঠত্বের সোপানে আরোহণ করছেন। আসসালামু আলাইকুম। অতঃপর শাইখ আবদুর রহমান তাকে উত্তর লিখে পাঠালেন যার বিষয়বস্তু ছিল নিম্নরূপ: যে ভূমিতে আপনার শৈশবের রক্ষাকবচসমূহ খোলা হয়েছিল তা অবশ্যই চুম্বনের যোগ্য, আর যে উদ্যানে আপনার কপোতরা গান গেয়েছিল তা অবশ্যই সম্মান ও শ্রদ্ধার দাবিদার। কেন হবে না, যখন সেখান থেকেই আপনার সেই বৃক্ষটি অঙ্কুরিত হয়েছে যা ডালপালা বিস্তার করে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে? আপনার সেই ছায়াদার বৃক্ষটি প্রমাণিত হয়েছে যা আপনার মতো ফল দান করেছে এবং এই অস্তিত্বের মাধ্যমে যা অর্জিত হয়েছে। এটি সেই নবুওয়াতের বৃক্ষ যার কারণে মক্কা মদীনার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছে—যেমনটি আমি পছন্দ করেছি এবং যার দলিলসমূহ বর্ণনা করেছি। এটি সেই রিসালাত বা পত্র যা মাওলানার পাঠ করে শোনানোর সময় উপস্থিত সুধীবৃন্দের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে তাঁর কিতাবসমূহ ও পত্রাবলি পূর্ণ করে রেখেছে। এটি এমন এক ভূমি যেখানে আপনার সৌভাগ্যের পাখি গান গেয়েছে এবং যেখানে আপনার শত্রুর অকল্যাণ ছাড়া আর কোনো কাক বিলাপ করেনি। সেখানে আপনার শৈশব অতিবাহিত হয়েছে যা আপনাকে মরুবাসীদের রূঢ় স্বভাব থেকে দূরে রেখেছে এবং আপনার সুরকে ব্যাকরণগত ত্রুটি থেকে রক্ষা করেছে। হে সেই ব্যক্তি, যে তার পরিচিত স্থানসমূহ ও জন্মভূমির প্রতি লালায়িত, এবং সীমিত সম্পদ ও নিশ্বাসের উত্তাপের কারণে যে সেখান থেকে বাধাপ্রাপ্ত। যে তার বন্ধুর সাথে সাক্ষাতের জন্য তৃষ্ণার্ত এবং তার সমকক্ষ ও সঙ্গীর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য উন্মুখ। আপনার জীবনের কসম, আপনার প্রতি আমার তৃষ্ণা আরও অধিক। আর পূর্বসূরিদের কথাই এখানে অধিক উপযুক্ত ও মানানসই:

হে সেই সত্তা, যাঁর বিচরণক্ষেত্র আমার পঞ্জরাস্থির মাঝে... আমি আকুল, আমি আকুল, আমি আকুল।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢٤)
فأسأل الله أن يطوى شقة البين ويكحل بأثمد الاجتماع منا العين لتقر برؤية هذا الامام الجهبذ والهمام الذي تتشنف المسامع بفوائده وتلتذ المفوه الذي إذا قال لم يترك مقالاً لقائل. والمدرة الذي إذا طال لم يأت غيره بطائل. ذي التآليف الذي طبق الآفاق صيتها. والتصانيف التي وقع الاتفاق على إنها للواهيت التحقيق نواسيتها. والفتاوي التي هي على أساليب أول الاجتهاد في النص والاستدلال. والتقارير التي يوضح بها ما في مغلق العبارات من التعقيد والأشكال. شيخ الاسلام. بل شيخ مشايخه الجله. مقتدي الأنام. في كل مصر ومدينة وقرية وحلة. الامام المتصدر في مقام إبراهيم. الخطيب الذي تكاد القلوب من مواعظه تتصدع والعقول بها تهيم. مالك زمام البلاغة والفصاحة الناظم الناثر الذي لا يدرك البليغ شأوه ولا يجتري البديع أن يحل له بساحة. المدره المصقع الملسن السري. مولانا الامام محيي الدين عبد القادر ابن محمد الطبري. جمل الله بأخمصيه هامات المنابر. وكمل به صدور المحاريب الشريفة المآثر. وأعاده إلى معاد. وأعاذه من غائلة كل معاد. ويهدي إليه سلاماً يهزأ عرفه بالعنبر الأشهب. ويسخر وصفه بالعبهر إذا هب. مكتسباً الطيب من مشائله منتسباً في اللطف إلى خلاله الشريفة وخصائله. وينهي إليه شوقاً يكاد أن يأخذ القلب يشغافه. ويبدل العقل بشعافه. فلولا إن الرحمن لطف بعبده. وداركه من بعد بعد صديقه وصده. بوصول كتابه الذي نسخ مذ نسخ كتب الفصاحة والبلاغة. وفسخ عقود عقودها لما تحلى من شذرها بالوجد في الصناعة والصياغة. فياله من كتات تفصلت آيات فرقانه. وخطاب لواو حي إلى المتنبي لتحدى به وألغى سفاسف قرانه. ورد من بحر يلفظ الجواهر إلى ساحله. وحبر يحفظ الجواهر لالزام مساجله. فدهشت عند وروده وقلت ما هذا قول البشر. ونفث في روعي أن هذا إلا سحر يؤثر. فلولا إساءة الظن بي ما نبست في جوابه ببنت شفه. ولقضيت بالحجر على نفسي وقلت إن معارضة مثله سخف وسفه. لكن بحكم ما لا يدرك لا يترك بعثت هذه البطاقة التي تلطفت، وعلى فضلك تطفلت. وتكلفت لما سيمت إجابة رسالتك وبها تكفلت. وإني لها بمعارضتها. وكيف لها بمساجلتها ومقارضتها. وقد أنشئت تلك بين رياض وغياض. وانتشت من أنهار متدفقة في حياض. وانتشقت نوافح أزهار تفوح من رياض تلك الخمايل. وانتسقت في مسامعها صوادح تهيج بلابلها البلابل. ويحيي النفوس نفس نسيمها الرطب السجسج. ويملأ الكؤوس اسفنط تسنيمها الذي يحاك زردها الفضي بيد الريح فلا يحاكي إذ ينسج إلى غير ذلك من تنعم بفاكهة جنية شهيه. ومفاكهة عذبة غذيه. ومجيبها يتقلى ما بين طحر وسموم. وماء بحر كأنه اليحموم. في قطر فقد منه نصف العناصر. وصقع هب فيه من العناصر. قد أبدل عن نغمات الصوادح ببغام الصوادي. وعن نسمات البوارح بسمائم الوادي. وأشد من ذلك كله وأشق. ما هو بالتشكي منه أجدر وأحق. وهو فقد أنيس بمجاورته يتسلى. وعدم جليس بمحاورته تذهب الهموم وتتجلى. قد أصبح غريباً وإن كان في الوطن مقيم. وكئيباً حيث لم يلق صديقاً وحميم. فها هو يشغل طرفي نهاره بالافتاء والتدريس. ويأوي ما بينهما إلى غير أنيس. ينتابه جماعة هم من اللطف مفاليس. ويرتاده أناس لا يلاحظون سوى وضع اليد في الكيس. إلى غير ذلك من سماع أخبار مقسيه. وحوادث مذهلة العقول ومنسيه. فتارة يسمع خبر سفينة أغرقها اليم. وآونة يرى أن أخرى أدخلت المخا قهراً وانفض أمرها وتم. وأفظع من ذلك أمر الماء الذي أحرق الأكباد وأعطش. وأوقع أمره في الحيرة وأدهش. بلغ ثمن الوعل منه خمسة وستة وسبعة وثمانيه. وبهذه الغاية بيع في بعض الأحيان وبخمسة قربة الجاريه. فلا تسل عما الناس فيه من الشدة والكربه. وقد لحقهم من ذلك عرق القربه. وقد وزعت منافذ الماء ما بين أهل الشوك والجاهات. وقررت الوعول لذوي العنايات والوجاهات. واغتنى من في بيته حاصل من تحصيل الثمن الزائد. وسر بذلك فإن مصائب قوم عند قوم فوائد. فلو ترى الحرائر المخدرات. وقد أبرزهن الحال في جنح الليل الحالك. والعذارى المحررات يتهادين بالدوارق هنالك. لرأيت ما يهول. ويرمي العقول بالذهول. فكم من حرة هتكت. وعذراء ثقبت درتها وسلكت. وعزيز قوم في تلك المواقف ذل. وجليل قدر لا يلتفت إليه وإن عظم قدراً وجل. فهذه نازلة أشد من احتباس قطر الغمام. فيتعين على الشافعية القنوت لها ولو

সুতরাং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন বিচ্ছেদের দূরত্ব ঘুচিয়ে দেন এবং আমাদের চক্ষুদ্বয়কে মিলনের সুরমা দিয়ে সুশোভিত করেন, যাতে আমরা সেই বিচক্ষণ ও মহানুভব ইমামের দর্শনে নয়ন জুড়াতে পারি, যাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শ্রবণেন্দ্রিয়কে অলংকৃত করে এবং যাঁর বাগ্মিতা আস্বাদনকারীদের তৃপ্ত করে। তিনি এমন এক বক্তা যে, তিনি যখন কথা বলেন তখন অন্য কোনো বক্তার জন্য বলার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তিনি এমন এক অভিজ্ঞ ব্যক্তি যে, তিনি যখন দীর্ঘ আলোচনা করেন তখন অন্য কেউ তার সমতুল্য কোনো সারগর্ভ বিষয় উপস্থাপন করতে পারে না। তিনি এমন সব রচনার অধিকারী যার সুখ্যাতি দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত। তাঁর গ্রন্থাবলি এমন উচ্চপর্যায়ের যে, সর্বসম্মতভাবে সেগুলো সূক্ষ্মতর গবেষণা ও সত্য উদ্ঘাটনের মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর ফতোয়াসমূহ পবিত্র নস (পাঠ) ও দলিলাদির ভিত্তিতে ইজতিহাদের আদি পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণগুলো জটিল বাক্য ও দুর্বোধ্য সমস্যার জট খুলে সেগুলোকে সুস্পষ্ট করে তোলে। তিনি শাইখুল ইসলাম; বরং তিনি মহান শাইখদেরও শাইখ। তিনি প্রতিটি জনপদ, শহর, গ্রাম ও মহল্লার মানুষের অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি মাকামে ইবরাহিমের প্রধান ইমাম। তিনি এমন এক খতিব যাঁর ওয়ায-নসিহতে হৃদয়সমূহ বিদীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয় এবং বিবেকসমূহ তাতে বিমোহিত হয়ে পড়ে। তিনি অলংকারশাস্ত্র ও প্রাঞ্জল ভাষার চাবিকাঠির অধিকারী, গদ্য ও পদ্যের এমন নিপুণ রচয়িতা যাঁর উচ্চতায় কোনো অলংকারবিদ পৌঁছাতে পারে না এবং কোনো কুশলী সাহিত্যিক তাঁর আঙিনায় প্রবেশ করার দুঃসাহস দেখায় না। তিনি প্রখর মেধাসম্পন্ন, সুবক্তা ও অভিজাত ব্যক্তিত্ব। আমাদের মহান ইমাম মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাবারী। আল্লাহ তাঁর পদতলে মিম্বরসমূহের উচ্চতাকে সুশোভিত করুন এবং তাঁর মাধ্যমে সম্মানিত মেহরাবগুলোর মর্যাদা পূর্ণতা দান করুন। আল্লাহ তাঁকে তাঁর আপন ঠিকানায় ফিরিয়ে দিন এবং তাঁকে প্রতিটি শত্রুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।

তাঁর সমীপে এমন সালাম পেশ করছি যার সুঘ্রাণ ধূসর আম্বরকেও হার মানায় এবং যার বর্ণনা প্রবাহিত মৃদুমন্দ সমীরণে পদ্মফুলকেও লজ্জিত করে। এই সালাম তাঁর সুমহান চরিত্র থেকে পবিত্রতা অর্জন করে এবং তাঁর মহৎ গুণাবলি ও স্বভাবের লালিত্যে নিজেকে সম্পৃক্ত করে। তাঁর প্রতি এমন ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা নিবেদন করছি যা হৃদয়ের অন্তস্থলকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং বিবেককে বিচলিত করে তোলে। পরম দয়ালু রহমান যদি তাঁর বান্দার প্রতি অনুগ্রহ না করতেন এবং বন্ধুত্বের বিচ্ছেদ ও বিমুখতার পর তাঁর এই চিঠির মাধ্যমে সাহায্য না করতেন, তবে কী যে হতো! তাঁর এই পত্রটি আসার পর তা সাবলীলতা ও প্রাঞ্জলতার পূর্ববর্তী সকল গ্রন্থকে রহিত করে দিয়েছে এবং পূর্বের সকল সাহিত্যিক চুক্তিতে ফাটল ধরিয়েছে; কারণ এর শব্দশৈলী ও বুনন শিল্পে যে নিপুণতা প্রকাশ পেয়েছে তা বিরল। এ যেন এমন এক কিতাব যার পঙ্ক্তিগুলো সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী আয়াতের মতো সুস্পষ্ট। মুতানাব্বির কাছে যদি এমন কোনো ওহী আসত, তবে তিনি এর মাধ্যমেই নবুওয়াতের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেন এবং তাঁর তুচ্ছ অলীক রচনাগুলোকে বর্জন করতেন। এ যেন এক সমুদ্র যা তাঁর তীরে মুক্তা নিক্ষেপ করে, আর এমন এক কালির লেখা যা বিতর্ককারীকে পরাস্ত করতে রত্নসমূহকে সংরক্ষণ করে। তাঁর এই পত্র আগমনে আমি বিমোহিত হয়ে পড়লাম এবং বলে উঠলাম: 'এ তো মানুষের কথা নয়'। আমার মনে উদয় হলো: 'এ তো কেবল এক জাদুময় প্রভাব'। যদি আমার প্রতি ভুল বোঝার আশঙ্কা না থাকত, তবে আমি এর উত্তরে একটি শব্দও উচ্চারণ করতাম না। বরং আমি মৌনতাকে আবশ্যক করে নিতাম এবং বলতাম যে, তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের মোকাবিলা করা নির্বুদ্ধিতা ও ধৃষ্টতা বৈ কিছু নয়। কিন্তু 'যা পূর্ণাঙ্গরূপে অর্জন করা সম্ভব নয়, তা সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত নয়'—এই নিয়মানুযায়ী আমি এই ছোট পত্রটি প্রেরণ করছি যা বিনম্রতার সাথে আপনার অনুগ্রহের প্রত্যাশী হয়েছে। আপনার পত্রের উত্তর দেওয়ার যে দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হয়েছে, আমি তা পালনের কষ্টটুকু স্বীকার করে নিয়েছি। আমি কোথায় আর আপনার সেই লেখনীর মোকাবিলা কোথায়? কীভাবে সম্ভব তাঁর সাথে সমান্তরাল চলা বা প্রতিউত্তর দেওয়া?

আপনার সেই পত্রটি তো রচিত হয়েছে পুষ্পোদ্যান ও বাগিচার মাঝে, আর তা সিক্ত হয়েছে জলাধারের প্রবহমান নহর থেকে। তা সুবাসিত হয়েছে বনের মাঝে প্রস্ফুটিত পুষ্পের সুঘ্রাণে। তার শব্দমালায় শ্রুত হয়েছে সেই কোকিলদের কলকাকলি যারা বুলবুলদেরও বিমোহিত করে। তার স্নিগ্ধ ও নাতিশীতোষ্ণ সমীরণ আত্মাকে সঞ্জীবিত করে। তার পেয়ালাসমূহকে পূর্ণ করে জান্নাতি তাসনীন ঝরনার সুরা, যার রূপালি ঢেউগুলো বাতাসের হাতে এমনভাবে বোনা হয় যা অন্য কেউ বুনতে সক্ষম নয়। এ ছাড়াও রয়েছে সুস্বাদু ও টাটকা ফলমূলের আস্বাদন এবং সুমিষ্ট ও পুষ্টিকর বাক্যালাপ। পক্ষান্তরে, এর উত্তরদাতা ছটফট করছে প্রচণ্ড উত্তাপ ও লু-হাওয়ার মধ্যে, আর সমুদ্রের লবণাক্ত পানির ধারে যা যেন উত্তপ্ত কালো ধোঁয়ার মতো। এমন এক জনপদে যেখানে মৌলিক উপাদানের অর্ধেকই অনুপস্থিত এবং এমন এক অঞ্চলে যেখানে প্রতিকূল হাওয়া বইছে। সেখানে পাখিদের কলকাকলির পরিবর্তে শোনা যায় তৃষ্ণার্তদের হাহাকার, আর স্নিগ্ধ বাতাসের বদলে বইছে মরুভূমির তপ্ত হাওয়া। এসকল কষ্টের চেয়েও যা অধিক কঠিন ও কষ্টদায়ক, যা নিয়ে অভিযোগ করা সবচেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত, তা হলো—এমন কোনো সুহৃদের অভাব যাঁর সান্নিধ্যে কিছুটা শান্তি পাওয়া যায় এবং এমন কোনো সঙ্গীর অনুপস্থিতি যাঁর সাথে কথোপকথনে দুশ্চিন্তা দূরীভূত হয়। তিনি স্বদেশে অবস্থান করেও যেন প্রবাসী হয়ে গেছেন এবং এমন এক বিষণ্ণ অবস্থায় আছেন যেখানে কোনো বন্ধু বা প্রিয়জনের দেখা মেলে না। তিনি তাঁর দিনের দুই প্রান্ত অতিবাহিত করেন ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানে, আর এর মধ্যবর্তী সময়ে একাকী নিস্তব্ধতায় আশ্রয় নেন। তাঁর কাছে এমন এক দল লোকের যাতায়াত যারা সৌজন্যবোধ থেকে রিক্ত, আর এমন কিছু মানুষ তাঁর কাছে আসে যাদের দৃষ্টি কেবল পকেটে হাত দেওয়ার দিকেই নিবদ্ধ। এ ছাড়াও রয়েছে হৃদয়বিদারক সংবাদ শ্রবণ এবং এমন সব ঘটনা যা বিবেককে স্তম্ভিত করে দেয় ও ভুলিয়ে দেয় সবকিছু। কখনো তিনি শুনছেন সমুদ্রের গর্ভে জাহাজডুবির খবর, আবার কখনো দেখছেন অন্য কোনো জাহাজ জোরপূর্বক মোখা বন্দরে ভিড়ানো হয়েছে এবং তার কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে।

তবে এর চেয়েও ভয়াবহ হলো পানির সংকট, যা কলিজাকে দগ্ধ করেছে এবং মানুষকে তৃষ্ণার্ত করে রেখেছে। এর অবস্থা মানুষকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও স্তম্ভিত করে দিয়েছে। পানির এক মশকের দাম পাঁচ, ছয়, সাত এমনকি আট পর্যন্ত পৌঁছেছে। কখনো কখনো এর চাইতেও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে এবং কোনো এক দাসীর নিকট থেকে পাঁচ মুদ্রায় এক মশক পানি ক্রয় করা হয়েছে। সুতরাং মানুষ যে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদের মধ্যে আছে তা আর জিজ্ঞেস করবেন না; তারা চরম সংকটে নিপতিত হয়েছে। পানির উৎসগুলো ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালীদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে এবং পানির মশকগুলো কেবল বিশিষ্টজন ও উচ্চপদস্থদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। যাদের ঘরে পূর্বের সঞ্চিত অর্থ ছিল, এই চড়া দামের কারণে তারা ধনাঢ্য হয়ে উঠেছে; আপনি এতে খুশি হতে পারেন, কারণ এক দলের বিপদ অন্য দলের জন্য উপকারে আসে। আপনি যদি সেই পর্দানশীন অভিজাত নারীদের দেখতেন, যাদের বর্তমান পরিস্থিতি ঘোর অন্ধকার রাতে বাইরে বের হতে বাধ্য করেছে, আর সেই কুমারী মেয়েদের দেখতেন যারা পানির কলস নিয়ে সেখানে যাতায়াত করছে, তবে আপনি এমন কিছু দেখতেন যা আপনাকে আতঙ্কিত করত এবং আপনার বিবেককে স্তম্ভিত করে দিত। কত অভিজাত নারীর সম্মান আজ ধুলোয় মিশছে, কত কুমারী কন্যার মর্যাদা আজ বিপন্ন। সেই সংকটময় মুহূর্তে জনপদের কত সম্মানিত ব্যক্তি অপদস্থ হয়েছে এবং কত মহান মর্যাদাবান ব্যক্তি আজ উপেক্ষিত, যদিও তিনি মর্তবায় অত্যন্ত বড় ছিলেন। এই বিপদ আসমান থেকে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার চেয়েও অধিক কঠিন। সুতরাং শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারীদের জন্য এই বিপদে কুনুত পাঠ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে, যদিও তা...

(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢٥)
فرادي أن لم يتهيأ ذلك لهم مع امام. هذا والأمر أفظع وأهول. والخطب أعظم من أين يعبر عنه مقول. فإياكم والمبادرة بالقفول إلى هذه البلاد. وعليكم بالاقامة حيث أنتم بينما تجري ألطاف الله تعالى في البلاد. فالعارف لا يصل إلا إلى عرفه. والمبادر ينسب إلى غفلة وعدم معرفه. ولكون الدين النصيحة أبديت ذلك مع إنه خلاف هواي. إذ الغرض الأهم اجتماعي بأهل خالصتي وأوداي. فها أنا قد بذلت النصح وإن كان على خلاف الهوى. فلا تذروني أنشد بذلت لهم نصحي بمنعرج اللوى. ومما قضى الله على شمس الأمل بالأفول. ما وقع من غرق مركب الفول. وفيه من حب الجراية ألف ومائتا أردب. ومن حب سليم ومراد ألف وثمانماية هذا نوع الحب. وفيه من الفول الفان. غير الحمل المحزوم من سائر ما يتقوت به الانسان. فقد وصل ركبته وليس معهم سوى ما عليهم من الثياب. ووردوا على جمال خالية عما سوى الأقتاب. هذا بعد أن هلك منهم من هلك. وأدرك الغرق من انتهى أجله أطال الله أجلك. فالله تعالى يلطف بالناس. ويزيل عنهم البؤس والباس. وتفضلوا بتبليغ سلامنا للنجلين السعيدين. والشبلين السديدين. أقر الله بهما العين. وكفاهم شرها وأجرى لهم عذبها. وأكثر لديهم تبرها. وعلى من شئتم من المخاديم. شرائف التحية والتسليم. فرادي أن لم يتهيأ ذلك لهم مع امام. هذا والأمر أفظع وأهول. والخطب أعظم من أين يعبر عنه مقول. فإياكم والمبادرة بالقفول إلى هذه البلاد. وعليكم بالاقامة حيث أنتم بينما تجري ألطاف الله تعالى في البلاد. فالعارف لا يصل إلا إلى عرفه. والمبادر ينسب إلى غفلة وعدم معرفه. ولكون الدين النصيحة أبديت ذلك مع إنه خلاف هواي. إذ الغرض الأهم اجتماعي بأهل خالصتي وأوداي. فها أنا قد بذلت النصح وإن كان على خلاف الهوى. فلا تذروني أنشد بذلت لهم نصحي بمنعرج اللوى. ومما قضى الله على شمس الأمل بالأفول. ما وقع من غرق مركب الفول. وفيه من حب الجراية ألف ومائتا أردب. ومن حب سليم ومراد ألف وثمانماية هذا نوع الحب. وفيه من الفول الفان. غير الحمل المحزوم من سائر ما يتقوت به الانسان. فقد وصل ركبته وليس معهم سوى ما عليهم من الثياب. ووردوا على جمال خالية عما سوى الأقتاب. هذا بعد أن هلك منهم من هلك. وأدرك الغرق من انتهى أجله أطال الله أجلك. فالله تعالى يلطف بالناس. ويزيل عنهم البؤس والباس. وتفضلوا بتبليغ سلامنا للنجلين السعيدين. والشبلين السديدين. أقر الله بهما العين. وكفاهم شرها وأجرى لهم عذبها. وأكثر لديهم تبرها. وعلى من شئتم من المخاديم. شرائف التحية والتسليم.

ومن شعره قوله يمدح الشريف محسن بن الحسين بن الحسن سلطان الحرمين.

لا والنواعم من خدود العين … ما احتجت في حمل الهوى لمعين

وبمالهن على من خلع العذا … ر إذ أسفرن بطرة وجبين

ولعبن بالألباب عند تمايس … بمعاطف تزرى الغصون بلين

أنا ذلك الصب الذي قد ما صبا … بصبا الصبى وإلى الغرام حنيني

غيث السحائب مدمعي وهوى لظى … نفسي ورعد الصاعقات أنيني

يبريني النجدي من ألم النوى … وتذيبني وجداً ظبا يبريني

لا يعذر المشتاق الأجاهل … هيهات ذلك فهو بئس قرين

ما مر لي في العشق إلا ما حلا … لفؤاد كل موله وحزين

شرع الهوى فرضي وحسن تهتكي … نفلي ومدحي محسناً من ديني

ابن الحسين أبو الحسين أخو التقى … من ليس عرضى في العلا بالدون

عالي الجناب إذا انتجى وإذا انتخى … سهل الحجاب بغاب ليث عرين

ذو هيبة حلت قلوب عداته … لو إنهم حلوا أقاصي الصين

من عزمه ساخ الحديد وسال إذ … سلت فحاكي السيح من سيحون

يروي الأسنة والشوارب من دم … الأعداء لا يرضى لها بمعين

ويرى المنى نزع النفوس بما بها … من كل غل في الصدور دفين

الله ما أعلى مرامي ظنه … طبق القضا في شأن كل ظنين
একে একে, যদি ইমামের সাথে তা তাদের জন্য অনুকূল না হয়। এটি এবং বিষয়টি অত্যন্ত জঘন্য ও আতঙ্কজনক। আর এই ঘটনা ভাষায় বর্ণনা করার চেয়েও ভয়াবহ। সুতরাং তোমরা এই দেশগুলোতে ফিরে আসার ব্যাপারে তড়িঘড়ি করা থেকে বিরত থেকো। আর তোমরা যেখানে আছো সেখানেই অবস্থান করো, যতক্ষণ না এই দেশগুলোতে মহান আল্লাহর করুণা বর্ষিত হয়। কেননা মারেফাত অর্জনকারী ব্যক্তি তার মারেফাত ছাড়া অন্য কোথাও পৌঁছায় না। আর যে তড়িঘড়ি করে তাকে গাফেল এবং অজ্ঞ বলে অভিহিত করা হয়। যেহেতু ধর্ম হলো কল্যাণকামিতা, তাই আমি এটি প্রকাশ করলাম যদিও এটি আমার প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ করে। কেননা প্রধান উদ্দেশ্য হলো আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রিয়জনদের সাথে একত্রিত হওয়া। আমি তো আমার নসিহত পেশ করলাম, যদিও তা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধ ছিল। সুতরাং তোমরা আমাকে পরিত্যাগ করো না, আমি বাঁকানো উপত্যকায় তাদের প্রতি আমার নসিহত পেশ করছি। আর আশা-আকাঙ্ক্ষার সূর্যের অস্তমিত হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে শিমের জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা। তাতে এক হাজার দুইশ আরদাব বরাদ্দের শস্য ছিল। আর সালিম ও মুরাদের শস্য ছিল এক হাজার আটশ আরদাব; এটি শস্যের এক প্রকার। আর তাতে ছিল সাধারণ শিম। এছাড়া মানুষের জীবনধারণের জন্য সংরক্ষিত অন্যান্য বোঝা তো ছিলই। কাফেলা যখন পৌঁছাল তখন তাদের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তারা এমন উটের পিঠে চড়ে এল যা জিন বা পালান ছাড়া শূন্য ছিল। এটি তাদের মধ্য থেকে যারা ধ্বংস হওয়ার তারা ধ্বংস হওয়ার পর ঘটল। আর যার আয়ু শেষ হয়েছে সে নিমজ্জিত হলো, আল্লাহ আপনার আয়ু দীর্ঘ করুন। মহান আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়া করুন এবং তাদের থেকে দুর্দশা ও কষ্ট দূর করুন। আমাদের দুই সৌভাগ্যবান পুত্র এবং দুই সুপথগামী সিংহ শাবকের কাছে আমাদের সালাম পৌঁছে দেবেন। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে আপনাদের চোখ শীতল করুন, তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন, তাদের জন্য সুমিষ্ট প্রবাহ জারি রাখুন এবং তাদের নিকট স্বর্ণের প্রাচুর্য বাড়িয়ে দিন। আর আপনাদের পছন্দমতো সেবকদের প্রতিও রইল শ্রেষ্ঠ অভিবাদন ও সালাম। একে একে, যদি ইমামের সাথে তা তাদের জন্য অনুকূল না হয়। এটি এবং বিষয়টি অত্যন্ত জঘন্য ও আতঙ্কজনক। আর এই ঘটনা ভাষায় বর্ণনা করার চেয়েও ভয়াবহ। সুতরাং তোমরা এই দেশগুলোতে ফিরে আসার ব্যাপারে তড়িঘড়ি করা থেকে বিরত থেকো। আর তোমরা যেখানে আছো সেখানেই অবস্থান করো, যতক্ষণ না এই দেশগুলোতে মহান আল্লাহর করুণা বর্ষিত হয়। কেননা মারেফাত অর্জনকারী ব্যক্তি তার মারেফাত ছাড়া অন্য কোথাও পৌঁছায় না। আর যে তড়িঘড়ি করে তাকে গাফেল এবং অজ্ঞ বলে অভিহিত করা হয়। যেহেতু ধর্ম হলো কল্যাণকামিতা, তাই আমি এটি প্রকাশ করলাম যদিও এটি আমার প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ করে। কেননা প্রধান উদ্দেশ্য হলো আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রিয়জনদের সাথে একত্রিত হওয়া। আমি তো আমার নসিহত পেশ করলাম, যদিও তা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধ ছিল। সুতরাং তোমরা আমাকে পরিত্যাগ করো না, আমি বাঁকানো উপত্যকায় তাদের প্রতি আমার নসিহত পেশ করছি। আর আশা-আকাঙ্ক্ষার সূর্যের অস্তমিত হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে শিমের জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা। তাতে এক হাজার দুইশ আরদাব বরাদ্দের শস্য ছিল। আর সালিম ও মুরাদের শস্য ছিল এক হাজার আটশ আরদাব; এটি শস্যের এক প্রকার। আর তাতে ছিল সাধারণ শিম। এছাড়া মানুষের জীবনধারণের জন্য সংরক্ষিত অন্যান্য বোঝা তো ছিলই। কাফেলা যখন পৌঁছাল তখন তাদের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তারা এমন উটের পিঠে চড়ে এল যা জিন বা পালান ছাড়া শূন্য ছিল। এটি তাদের মধ্য থেকে যারা ধ্বংস হওয়ার তারা ধ্বংস হওয়ার পর ঘটল। আর যার আয়ু শেষ হয়েছে সে নিমজ্জিত হলো, আল্লাহ আপনার আয়ু দীর্ঘ করুন। মহান আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়া করুন এবং তাদের থেকে দুর্দশা ও কষ্ট দূর করুন। আমাদের দুই সৌভাগ্যবান পুত্র এবং দুই সুপথগামী সিংহ শাবকের কাছে আমাদের সালাম পৌঁছে দেবেন। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে আপনাদের চোখ শীতল করুন, তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন, তাদের জন্য সুমিষ্ট প্রবাহ জারি রাখুন এবং তাদের নিকট স্বর্ণের প্রাচুর্য বাড়িয়ে দিন। আর আপনাদের পছন্দমতো সেবকদের প্রতিও রইল শ্রেষ্ঠ অভিবাদন ও সালাম।

তাঁর কবিতা থেকে, তিনি দুই পবিত্র হারামের সুলতান শরীফ মুহসিন বিন আল-হুসাইন বিন আল-হাসানের প্রশংসা করে বলছেন:

না, ডাগর চোখের অধিকারিণীদের কোমল গালগুলোর শপথ … ভালোবাসা বহনের জন্য আমার কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন হয়নি।

যখন তারা ললাট ও কপাল উন্মোচন করে … তখন তারা সেই ব্যক্তির বিবেক নিয়ে খেলা করে যে লজ্জার আবরণ ছিঁড়ে ফেলেছে।

তারা তাদের শরীরের দোলাচলের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিকে নিয়ে খেলা করে … এমন নমনীয়তায় যা বৃক্ষশাখার লাবণ্যকেও হার মানায়।

আমি সেই প্রেমিক যে তার যৌবনের শুরুতে যৌবনোচিত চপলতায় লিপ্ত হয়নি … কিন্তু প্রেমের প্রতি আমার চিরন্তন ব্যাকুলতা রয়েছে।

মেঘের বর্ষণ হলো আমার অশ্রুধারা এবং প্রাণের দহন হলো আমার প্রেম … আর বজ্রের গর্জন হলো আমার দীর্ঘশ্বাস।

নাজদ অঞ্চলের বিরহ বেদনা আমাকে জীর্ণ করে ফেলে … আর ইয়াবরিনের তলোয়ার সদৃশ নয়নবাণ আমাকে অনুরাগে বিগলিত করে।

অজ্ঞ ছাড়া কেউ বিরহীকে ক্ষমা করে না … হায়! সে তো কতই না মন্দ সঙ্গী।

প্রেমে আমার যা কিছু অতিক্রান্ত হয়েছে তা কেবল মধুরই ছিল … প্রত্যেক পাগলপারা ও বিষণ্ণ হৃদয়ের জন্য।

প্রেমের বিধানই আমার জন্য ফরজ এবং লোকসমাজে আমার উন্মাদনা … আমার জন্য নফল; আর মহসিনের প্রশংসা করা আমার ধর্মের অংশ।

হুসাইনের পুত্র, আবুল হুসাইন, তাকওয়ার ভাই … মর্যাদার শিখরে যাঁর সম্মান মোটেও তুচ্ছ নয়।

যখন তিনি নির্জনে পরামর্শ করেন তখন তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ, আর যখন তিনি বীরত্ব দেখান … তখন তিনি বনের সিংহের মতো দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠেন।

এমন এক গাম্ভীর্যের অধিকারী তিনি যা তাঁর শত্রুদের হৃদয়ে আসন গেড়েছে … এমনকি তারা যদি চীনের দূরপ্রান্তেও অবস্থান করে।

তাঁর সংকল্পের তেজে লোহাও বিগলিত হয়ে প্রবাহিত হয় … যখন তা উন্মুক্ত করা হয়, তখন তা সাইহুন নদীর প্রবাহকে হার মানায়।

তিনি বর্শার ফলক ও ওষ্ঠাধরকে শত্রুর রক্তে তৃপ্ত করেন … এ কাজে তিনি কারো সাহায্যের মুখাপেক্ষী হওয়া পছন্দ করেন না।

তিনি প্রাণের উৎসর্গকেই আকাঙ্ক্ষা মনে করেন … যার মাধ্যমে হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত সকল বিদ্বেষ দূর হয়ে যায়।

আল্লাহর শপথ! তাঁর ধারণা ও দূরদর্শিতা কতই না উন্নত … যা প্রত্যেক সংশয়যুক্ত বিষয়ে ভাগ্যের লিখনকেই সত্যে পরিণত করে।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وأمسه في الأمر قبل وقوعه … وخطوره في عالم التكوين

يرضيك إن هز القنا بشماله … وإذا انتضي سيف الفنا بيمين

فيريك لمع البرق في ظلم الحشا … سيل العقيق ومرهق الزرجون

مثلت به عللاً رؤس رماحه … فبدت معربدة بقطع وتين

وصحت فأنهلها الظهور فحطمت … أضلاع كل مجدل وطعين

وبها حمي أم القرى فدع القرى … متسفلاً في الارتقا بمتين

من ذا يقاومه إذا اشتد الوغى … الأفى يرجو لقاء منون

هذا التقى الطاهر الذيل الذي … يسمو بعرض في الأنام مصون

مولى الجميل وباذل الفضل الجزيل … وكاشف الخطب الجليل الحين

حكت السحائب كفه فبكت على … ما فاتها من سحه بهتون

قسماً به لم يحكه في جوده … إلا الذي أضمرت طي يمين

فهم هم بيت النبوة والحجا … والبر أرباب التقى والدين

أضمنهم لم تلق إلا محسناً … من محسن من محسن لضمين

وأعقد يمينك إنه من عقدهم … عين القلادة فصلت بثمين

من رام عزا فلينخ برحا به … أملاً فيذهب عنه ذل الهون

ما سام مرعى خصبه متضائل … إلا تبدل غثه بسمين

يا ابن النبي إليكها نونية … بالكاف قدرها القضا والنون

خذ فالها الحسن الجميل وقولها … كن كيف شئت بغاية التمكين

وافتك كالطاوس تزهو عزة … مذ دبجت بغلائل التلدين

فالطرس منها أخضر والسطر في … هـ أسود يستل بيض جفون

أثنت عليك ببعض حقك فاغتفر … تقصيرها في المدح لا التحسين

لا زلت في أوج السعادة راقياً … بدوام عز في الفخار مكين

وقوله مادحاً الشريف حسن بن أبي نمي بن بركات سلطان الحجاز

خليفة الله في أم القرى شرفاً … ما زال وارثه فيها أباً فأبا

امام قبلتنا الغراء أفضل من … حمى حماها لوجه الله محتسبا

من أيد الله جيشاً كان قائده … بالرعب منذ سنين ليس فيه غبا

أجل من خفقت من فوق هامته … علامة النصر واهتزت به طربا

وخير من قد تلت آيات مفخره … على المنابر جهرا السن الخطبا

سليل آل قد استن الآله على … كل الورى حبهم بالنص واكتتبا

هم المحجة في يوم يرون به … تحت اللواء بقرب المصطفى رتبا

فيا سعادة من أدلى بحبهم … يوم القيامة للرحمن واقتربا

وفاز بالأجر إذ وافى النبي بما … أوصى به رغبة في آله النجبا

يهنيكم يا بني الزهراء إن لكم … فخراً إذا ما رفعتم في الورى نسبا

فمن يدانيكم فضلاً وجدكم … قد كان جبريل من خدامه عجبا

وأي بيت يرى أهل الكساء له … أهلاً وينزل فيهم ربنا كتبا

وأي بيت حظوا يوماً بفاطمة … أُماً لهم وعليٌّ ذي الآباء أبا

وأي رهط لهم حق الامامة من … بعد النبي بنص واضح ونبا

وأي ناس لهم جد بمقتله … فد أظهر الله في وجه السما غضبا

وأي جمع يرى في نسلهم حسن … كجده حسن حالاً ومنقلبا

متوج بوقار الملك شيمته … جبر الخواطر للعافي ومن طلبا

ما قال لا قط إلا في تشهده … لولا التشهد كانت لاؤه وجبا

نور النبوة في انجاء طلعته … علامة جعلت في وجهه لقبا
ঘটনা ঘটার পূর্বেই তিনি সে বিষয়ে অবগত এবং সৃষ্টিজগতে তার গুরুত্ব বিদ্যমান।

তিনি যখন বাম হাতে বর্শা কম্পিত করেন তখন আপনি সন্তুষ্ট হন, আর যখন ডান হাতে ধ্বংসের তরবারি কোষমুক্ত করেন।

তিনি আপনাকে অন্তরের অন্ধকারে বিদ্যুতের চমক দেখান, যা আকীক পাথরের স্রোত এবং উজ্জ্বল তলোয়ারের ধার।

তাঁর বর্শার ফলকগুলো যেন ব্যাধি হয়ে দেখা দিল, যা মহাধমনী ছিন্ন করে উন্মত্তের মতো প্রতীয়মান হলো।

তিনি গর্জন করলেন এবং পিঠগুলোকে রক্তপান করালেন, ফলে প্রতিটি ভূপাতিত ও আহত ব্যক্তির পাঁজরের হাড় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল।

এর মাধ্যমেই তিনি উম্মুল কুরাকে রক্ষা করেছেন, সুতরাং অন্যান্য জনপদ ত্যাগ করুন; তিনি সুদৃঢ়ভাবে উন্নতির শিখরে আরোহণকারী।

যখন যুদ্ধ তীব্র হয় তখন কে তাকে প্রতিরোধ করবে? কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে নিজের মৃত্যু কামনা করে।

ইনি সেই পবিত্র চরিত্রবান মুত্তাকী, যিনি সৃষ্টির মাঝে এক সংরক্ষিত সম্মানে সমুন্নত।

সৌন্দর্যের অধিপতি, সুমহান অনুগ্রহ দানকারী এবং ভয়াবহ বিপদ ও সংকটের বিমোচনকারী।

মেঘমালা তাঁর হাতের তালুর অনুকরণ করতে চাইল, অতঃপর যা অর্জন করতে পারল না তার শোকে অঝোর ধারায় অশ্রু বিসর্জন করল।

তাঁর নামে শপথ করে বলছি, তাঁর দানশীলতার সাথে কেউ তুলনীয় নয়, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যার ডান হাতের মুঠোয় তিনি দান লুকিয়ে রেখেছেন।

কারণ তাঁরাই হলেন নবুওয়তের ঘর, প্রজ্ঞা, পুণ্য এবং তাকওয়া ও দ্বীনের অধিকারী।

তাঁদের অন্তর্ভুক্ত কাউকে আপনি ইহসানকারী ব্যতীত পাবেন না; একেকজন ইহসানকারী থেকে অপর ইহসানকারী জামিনদার হিসেবে বিদ্যমান।

আপনি আপনার ডান হাতকে শক্তিশালী করুন, নিশ্চয়ই তিনি তাঁদেরই হারের মধ্যমণি, যা মূল্যবান রত্ন দ্বারা শোভিত।

যে ব্যক্তি সম্মান কামনা করে, সে যেন আশা নিয়ে তাঁর আঙিনায় আশ্রয় নেয়, তবেই তার থেকে লাঞ্ছনার অপমান দূর হয়ে যাবে।

কোনো দুর্বল ব্যক্তি যখনই তাঁর উর্বর চারণভূমির খোঁজ পেয়েছে, তখনই তার কৃশতা স্থূলতায় পরিবর্তিত হয়েছে।

হে নবী-সন্তান! আপনার খিদমতে এই নূনিয়া কবিতা পেশ করছি, যার কদর আল্লাহ তাঁর 'কাফ' ও 'নূন' দ্বারা নির্ধারণ করেছেন।

এর সুন্দর কল্যাণ ও কথাগুলো গ্রহণ করুন; আপনি পূর্ণ সামর্থ্যের সাথে যেভাবে ইচ্ছা অবস্থান করুন।

এটি আপনার কাছে ময়ূরের ন্যায় সগৌরবে উপস্থিত হয়েছে, যখন থেকে এটি প্রাচীন কারুকার্যে সুশোভিত হয়েছে।

এর কাগজটি সবুজ এবং এর পঙক্তিগুলো কালো, যা নেত্রপল্লবের শুভ্রতা কেড়ে নেয়।

এটি আপনার কিছু হকের প্রশংসা করেছে, সুতরাং প্রশংসার ক্ষেত্রে এর অপূর্ণতাকে ক্ষমা করবেন, তবে অলঙ্করণে নয়।

আপনি সর্বদা সৌভাগ্যের শিখরে আরোহণ করতে থাকুন, গৌরবের সুদৃঢ় মর্যাদায় স্থায়ী সম্মানের সাথে।

হেজাজের সুলতান শরীফ হাসান বিন আবু নুমাই বিন বারাকাতের প্রশংসায় তাঁর উক্তি:

সম্মানের দিক থেকে উম্মুল কুরায় আল্লাহর খলীফা, যার উত্তরাধিকার পিতা থেকে পিতাক্রমে সেখানে অব্যাহত রয়েছে।

আমাদের উজ্জ্বল কিবলার ইমাম, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে সওয়াবের আশায় এর পবিত্র সীমানা রক্ষাকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

আল্লাহ এমন এক বাহিনীকে সাহায্য করেছেন যার সেনাপতি তিনি; বছরের পর বছর ধরে ভীতি তাঁর অন্তরে কোনো স্থান পায়নি।

তিনি সেই মহান ব্যক্তি যার মস্তকের উপরে বিজয়ের নিশান দুলছিল এবং আনন্দে আন্দোলিত হচ্ছিল।

এবং তিনি সেই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যার গৌরবের আয়াতসমূহ মিম্বরগুলোতে উচ্চস্বরে খতীবদের মুখে পঠিত হয়।

এমন এক বংশের উত্তরসূরি যাদের ভালোবাসা আল্লাহ তাঁর অকাট্য দলীল দ্বারা সমস্ত সৃষ্টির উপর বিধিবদ্ধ ও লিপিবদ্ধ করেছেন।

তাঁরাই সেই পথপ্রদর্শক, যেদিন মানুষ দেখবে যে মুস্তফার পতাকাতলে তাঁদের নৈকট্যের স্তর কত উন্নত।

সেই ব্যক্তির জন্য কতই না সৌভাগ্য, যে কিয়ামতের দিন দয়াময় আল্লাহর নিকট তাঁদের ভালোবাসা পেশ করবে এবং নৈকট্য লাভ করবে।

সে পুরস্কার লাভ করবে যখন সে নবীর কাছে উপস্থিত হবে সেই অসিয়ত পালন করে যা তিনি তাঁর মহৎ বংশধরদের প্রতি অনুরাগের ব্যাপারে করেছিলেন।

হে যাহরার সন্তানগণ! আপনাদের জন্য অভিনন্দন, যখন আপনারা সৃষ্টির মাঝে আপনাদের বংশমর্যাদা তুলে ধরেন তখন আপনাদের জন্য রয়েছে বিশেষ গৌরব।

মর্যাদায় আপনাদের সমকক্ষ কে হতে পারে? অথচ স্বয়ং জিবরীল আপনার পিতামহের সেবকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা বিস্ময়কর।

কোন ঘরটি আহলে কিসার উপযুক্ত বলে গণ্য হতে পারে, যাদের সম্পর্কে আমাদের প্রতিপালক কিতাব অবতীর্ণ করেছেন?

আর কোন ঘরটি ফাতিমার মতো মাতাকে লাভ করেছে এবং আলীর মতো পিতাকে পেয়েছে?

আর কোন দলের ইমামতের হক রয়েছে নবীর পরে স্পষ্ট দলীল ও খবরের ভিত্তিতে?

আর কোন মানুষ আছেন যাঁর শাহাদাতের কারণে আল্লাহ আকাশের চেহারায় ক্রোধ প্রকাশ করেছিলেন?

আর কোন জামাত তাঁদের বংশধরদের মাঝে হাসানের মতো কাউকে দেখতে পায়, যাঁর অবস্থা ও প্রত্যাবর্তন তাঁর পিতামহ হাসানের ন্যায়?

রাজকীয় গাম্ভীর্যে মুকুটধারী, যাঁর স্বভাব হলো ক্ষমাপ্রার্থী ও যাঞ্চাকারীদের মন তুষ্ট করা।

তিনি তাশাহহুদ ব্যতীত কখনোই 'না' বলেননি; যদি তাশাহহুদ না থাকত, তবে তাঁর 'না' শব্দটি ওয়াজিব হয়ে যেত।

তাঁর চেহারার চারদিকে নবুওয়তের নূর বিচ্ছুরিত হচ্ছে, যা তাঁর মুখমণ্ডলে একটি উপাধি বা নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢٧)
تراه هشاً إذا ما جئت ساحته … وذاك شأن رسول الله لا سلبا

وإن ترد نظرة تحظى بها أدباً … فانظر إلى وجهه واستحضر الأدبا

إذا بدا في بنيه دام مجدهم … تراه بدراً وهم من حوله شهبا

فيا ابن طه أدام الله نعمته … عليك إذ كنت أولى من وفى وحبا

فقت الأنام فما أبصرت من بشر … ساواك يا خير من أجدي ومن وهبا

يا سائلي عن سليل المصطفى حسن … خذ مدحه مجملاً منى ومنتخبا

بالغ بما شئت فيه بالمديح وقل … الله أكبر قلبي نال ما طلبا

وقوله مشجراً في أحمد

استودع الله ظبياً في مدينتكم … سلامه كان لي في الحال توديعا

حلو المراشف إلا أن مبسمه … قد رصعته لآلئ الثغر ترصيعا

مهفهف القد إلا أن عاشقه … على الوداد له ما زال مطبوعا

دنوت منه فحاباني بمنطقه … فأنتج الفكر تأصيلاً وتفريعا

وقوله

مذ غبت عن ساكني تلك المضارب ما … أبصرت شيئاً يروق العقل والبصرا

يا رب عجل بلقياهم فلي أمل … بصدقه لم أزل للوصل منتظرا

 

قوله في بعض المدائح

فتى يروي المكارم عن يديه … زكى عن زكي عن زكيّ

سيول عن حياء عن بحور … عن الأفضال عن كف مليّ

وهذا من قول ابن رشيق في الأمير تميم

أصح وأقوى ما رويناه في الندى … عن الخبر الماثور منذ قديم

أحاديث ترويها السيول عن الحيا … عن البحر عن كف الأمير تميم

ولكن أين الثريا من الثرى وحين وقف على قول البدر الدماميني في أهل مكة

يا ساكني مكة لا زلتم … أنساً لنا أنى لم أنسكم

ما فيكم عيب سوى قولكم … عند اللقا أوحشنا أنسكم

أجابه بقوله

ما عيبنا هذا ولكنه … من سوء فهو جاء من حدسكم

لم نعن بالايحاش عند اللقا … بل ما مضى فابكوا على نفسكم

ولما خدم الامام المذكور الشريف حسناً سلطان الحرمين الشريفين بشرح الدر يديه الذي سماه الآيات المقصوره. على الأبيات المقصوره. وقال في ديباجته مادحاً له

سليل النبي المصطفى خير صفوة … مهذبة قد أنتجتها العناصر

هو الحسن المعدود في الناس أولاً … لذا عقدت حقاً عليه الخناصر

فلا زال منصور اللواء مؤيداً … وأنت له يا مالك الملك ناصر

اتفق إن حكم له تاريخ تأليفه في بيتين كتبهما على ظهره وهما

أرخني مؤلفي … ببيت شعر ما ذهب

أحمد جود ماجد … أجازني ألف ذهب

فأنعم له بما طلب. وأجازه ألف ذهب. ومن غريب ما يحكي من بديهته إنه أم ذات يوم بالمسجد الحرام. فلما خرج من المقام. اعترضه رجل من زهاة الغرباء. وقال له يا مولانا أئمة مكة لا يجيدون مخرج الذال المعجمة فقال له نحن فقال نعم قال تكذب تكذب تكذب ثلاث مرات وبالغ في إبانة الذال وقال له إسمع الآن هل نجيد مخرجها أم لا فانقطع الرجل خجلاً والله أعلم

 

‌‌الإمام زين العابدين

بن عبد القادر الطبري الحسني المكي

هو شبل ذلك الأسد. ونجله الأكبر الأسد. سلك سبيل سلفه الصالح. وتهلل بوجوده وجه البدر الكالح. وورد منهل الفضل نميرا. وتصدر في مجالس أربابه أميراً. وشحذ مرهف طبعه الباتر. فوشي بنتائجه الطروس والدفاتر. وأذكى نار قريحته وأوقد وأتى من خالص الكلام بما لا يعترض ولا ينقد. ولم تزل ناطقة ببراعته السن الكلام. شاهدة بسبق يراعته الجلة الأعلام. إلى أن استأثر به الواحد العلام. فأنقضت أيامه كأنها أحلام. وكانت وفاته لثلاث بقين من شهر رمضان المعظم سنة ثمان وسبعين وألف وقد أثبت له ما تستحليه الأذواق. وتباهي بحسنه القلائد والأطواق. فمنه ما كتبه إلى القاضي تاج الدين المالكي ملغزافي محمود.

يا مفرد العصر في جمع العلوم ومن … غدا مثنى المثنى صفوة الرؤسا
আপনি যখন তাঁর প্রাঙ্গণে আসেন, তখন তাঁকে প্রফুল্ল ও সদালাপী দেখতে পান … আর এটিই হলো আল্লাহর রাসূলের বৈশিষ্ট্য, যা কখনও বিলুপ্ত হওয়ার নয়।

আর আপনি যদি আদবের সাথে তাঁর এক পলক দর্শন পেতে চান … তবে তাঁর চেহারার দিকে তাকান এবং পূর্ণ আদব বজায় রাখুন।

যখন তিনি তাঁর সন্তানদের মাঝে উপস্থিত হন—তাদের মর্যাদা চিরস্থায়ী হোক— … তখন আপনি তাঁকে পূর্ণিমার চাঁদের মতো দেখেন আর তারা তাঁর চারপাশের নক্ষত্ররাজির মতো।

হে ত্বহা-র বংশধর, আল্লাহ আপনার নেয়ামতকে চিরস্থায়ী করুন … আপনার ওপর, যেহেতু আপনিই আনুগত্য ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা যোগ্য।

আপনি সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন, ফলে আমি এমন কোনো মানুষ দেখিনি … যে আপনার সমকক্ষ হতে পারে, হে দান ও অনুগ্রহকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম।

হে মুস্তফা (সা.)-এর বংশধর হাসান সম্পর্কে আমার কাছে জিজ্ঞাসাকারী … আমার কাছ থেকে তাঁর সংক্ষিপ্ত ও নির্বাচিত প্রশংসা গ্রহণ করো।

তাঁর প্রশংসায় আপনি যতটা ইচ্ছা অতিরঞ্জন করুন এবং বলুন … আল্লাহু আকবার! আমার অন্তর যা চেয়েছিল তা লাভ করেছে।

আহমদ (সা.)-এর শানে তাঁর বৃক্ষ-শোভিত কবিতা:

আমি আপনাদের শহরে এক হরিণশাবককে (প্রিয়জনকে) আল্লাহর আমানতে রেখে যাচ্ছি … যার সালামই তৎক্ষণাৎ আমার কাছে বিদায় সম্ভাষণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মিষ্টি অধর বিশিষ্ট সে, তবে তাঁর হাসিমাখা মুখমণ্ডল … দাঁতগুলোর মুক্তারাজি দিয়ে সুশোভিত ছিল।

সুঠাম দেহের অধিকারী সে, তবে তাঁর প্রেমিক … তাঁর ভালোবাসার ওপর সর্বদা অটল ও স্বভাবজাতভাবে অনুগত।

আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম, তিনি আমাকে তাঁর বাক্যালাপ দিয়ে ধন্য করলেন … ফলে আমার চিন্তাশক্তি এর মূল ও শাখা-প্রশাখাকে প্রস্ফুটিত করল।

তাঁর অন্য একটি উক্তি:

যখন থেকে আমি সেই আবাসস্থলের বাসিন্দাদের কাছ থেকে দূরে সরে এসেছি … তখন থেকে এমন কিছু দেখিনি যা বুদ্ধি ও দৃষ্টিকে প্রশান্ত করে।

হে প্রতিপালক, তাদের সাথে সাক্ষাতকে ত্বরান্বিত করুন, কারণ আমার একটি আশা আছে … যার সত্যতার কারণে আমি মিলনের অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি।

 

কিছু প্রশংসামূলক কবিতায় তাঁর উক্তি:

এক যুবক, যিনি তাঁর দুই হাত থেকে মহত্ত্বের বর্ণনা দেন … যা পবিত্র থেকে পবিত্র এবং তাঁর পূর্ববর্তী পবিত্র ব্যক্তি থেকে প্রাপ্ত।

সেই দানশীলতার স্রোতধারা লজ্জাশীলতা থেকে প্রবাহিত, যা সমুদ্রসম উদারতা থেকে এসেছে … এবং তা এক সামর্থ্যবান হাতের দানশীলতা থেকে উৎসারিত।

এটি আমীর তামীম সম্পর্কে ইবনে রশিকের উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে:

দানশীলতা সম্পর্কে প্রাচীনকাল থেকে বর্ণিত সংবাদগুলোর মধ্যে … আমরা যা বর্ণনা করেছি তার মধ্যে এটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী।

সেই বাণীসমূহ যা লজ্জাশীলতা থেকে প্রবাহমান ধারাগুলো বর্ণনা করে … যা সমুদ্র থেকে এবং আমীর তামীমের হাত থেকে উৎসারিত।

কিন্তু মাটির সাথে সুরাইয়া নক্ষত্রের তুলনা কোথায়? আর যখন তিনি মক্কাবাসীদের সম্পর্কে বদর আদ-দামামীনীর এই উক্তির সম্মুখীন হলেন:

হে মক্কাবাসী, আপনারা সর্বদা … আমাদের জন্য আনন্দের উৎস হয়ে থাকুন, কারণ আমি আপনাদের ভুলিনি।

আপনাদের মধ্যে কোনো ত্রুটি নেই, কেবল আপনাদের এই কথাটি ছাড়া … যে সাক্ষাতের সময় বলেন: আপনাদের সঙ্গ আমাদের একাকীত্ব দূর করেছে।

তিনি এর জবাবে বললেন:

এটি আমাদের কোনো দোষ নয়, বরং এটি … আপনাদের ভুল ধারণার কুফল থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

সাক্ষাতের সময় আমরা একাকীত্ব বা উদাসীনতা বোঝাইনি … বরং যা গত হয়েছে তার জন্য আপনারা নিজেরা ক্রন্দন করুন।

যখন উক্ত ইমাম মক্কাতুল মুকাররমা ও মদিনাতুল মুনাওয়ারার সুলতান শরীফ হাসানকে তাঁর ‘আদ-দুররুল ইয়াদাইয়াহ’ নামক ভাষ্যগ্রন্থটি উপহার দিলেন, যার নাম তিনি রেখেছিলেন ‘আল-আয়াতুল মাকসুরা আলাল আবইয়াতিল মাকসুরা’। তিনি এর ভূমিকায় তাঁর প্রশংসা করে বলেন:

নবী মুস্তফা (সা.)-এর বংশধর, সর্বোত্তম মনোনীত ব্যক্তি … এক পরিমার্জিত সত্তা যাকে মৌলিক উপাদানসমূহ তৈরি করেছে।

তিনিই সেই হাসান, যাঁকে মানুষের মধ্যে সর্বাগ্রে গণ্য করা হয় … এ কারণেই তাঁর প্রতি প্রকৃত আনুগত্যের চুক্তি সুদৃঢ় হয়েছে।

তাঁর বিজয়ী পতাকা সর্বদা আল্লাহর সাহায্যে সিক্ত হোক … আর হে রাজাধিরাজ আল্লাহ, আপনিই তাঁর সাহায্যকারী।

ঘটনাক্রমে গ্রন্থটির রচনাকালের তারিখ তিনি দুই লাইনের কবিতায় এর পৃষ্ঠদেশে লিখেছিলেন, যা হলো:

আমার গ্রন্থকার আমার রচনার ইতিহাস লিখে রেখেছেন … এমন এক কাব্যিক ছন্দে যা কখনো মুছে যাবে না।

আহমদ হলেন মহান দানশীল ও মর্যাদাবান … তিনি আমাকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা পুরস্কার দিয়েছেন।

অতঃপর তিনি যা চেয়েছিলেন তা তাঁকে প্রদান করা হলো এবং তাঁকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা পুরস্কার দেওয়া হলো। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধির এক আশ্চর্যজনক ঘটনা বর্ণনা করা হয় যে, একদিন তিনি মসজিদুল হারামে ইমামতি করছিলেন। যখন তিনি মাকামে ইবরাহীম থেকে বের হলেন, তখন জনৈক অহংকারী আগন্তুক তাঁকে বাধা দিয়ে বলল, হে আমাদের মাওলানা! মক্কার ইমামগণ তো ‘যাল’ (ذ) অক্ষরের মাখরাজ (উচ্চারণস্থল) সঠিকভাবে আদায় করতে পারেন না। তখন তিনি তাকে বললেন, আমরাও কি পারি না? সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি মিথ্যা বলছ—তিনবার বললেন এবং ‘যাল’ অক্ষরের উচ্চারণ অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করলেন। অতঃপর তাকে বললেন, এখন শোনো, আমরা কি এর মাখরাজ সঠিকভাবে আদায় করতে পারছি কি না? তখন লোকটি লজ্জিত হয়ে নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌ইমাম যয়নুল আবেদীন

ইবনে আব্দুল কাদির আল-তাবারী আল-হাসানী আল-মাক্কী

তিনি সেই সিংহের শাবক এবং তাঁর জ্যেষ্ঠ সিংহ-তনয়। তিনি তাঁর নেককার পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর উপস্থিতিতে ম্লান চাঁদের চেহারাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। তিনি শ্রেষ্ঠত্বের নির্মল প্রস্রবণে অবগাহন করেছেন এবং গুণীজনদের মজলিসে নেতার আসনে সমাসীন হয়েছেন। তিনি তাঁর তীক্ষ্ণ মেধার ধারালো তলোয়ারকে শাণিত করেছেন, ফলে তাঁর মেধার কারুকার্যে পাণ্ডুলিপি ও দফতরসমূহ সুশোভিত হয়েছে। তিনি তাঁর প্রজ্ঞার আগুনকে প্রজ্বলিত ও উদ্ভাসিত করেছেন এবং এমন বিশুদ্ধ বাণী পেশ করেছেন যা কোনো সমালোচনার অবকাশ রাখে না। তাঁর বাগ্মিতা সর্বদা সত্য প্রকাশে সচল ছিল এবং বড় বড় মনীষীরা তাঁর লেখনীর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিতেন। শেষ পর্যন্ত মহাজ্ঞানী এক আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে তুলে নিলেন এবং তাঁর দিনগুলো স্বপ্নের মতো শেষ হয়ে গেল। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১০৭৮ হিজরি সনের মহিমান্বিত রমজান মাসের তিন দিন বাকি থাকতে। তাঁর এমন কিছু রচনা সাব্যস্ত হয়েছে যা রুচিশীলদের নিকট অত্যন্ত প্রিয় এবং যার সৌন্দর্যে গলার হার ও অলঙ্কারসমূহ গর্ববোধ করে। তার মধ্যে একটি হলো যা তিনি কাজী তাজউদ্দীন আল-মালিকীর কাছে ‘মাহমুদ’ নাম নিয়ে একটি ধাঁধার ছলে লিখেছিলেন:

হে যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি সমস্ত জ্ঞানকে একত্রিত করেছেন এবং … যিনি প্রধানদের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে দ্বিগুণ মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢٨)
عين الأماثل مفقود المماثل مق … صود الأفاضل في تبيين ما التبسا

وكيف لا وهو تاج الدين ناصره … بالقول والفعل محيي منه ما درسا

ما البدر ما البحر ما الدر الثمين سوى … مرآه أو نفعه إن جاد أو درسا

استغر الله من هذا الكلام فقد … أخطأت إذ جئت بالتشبيه منعكساً

فهل يشبه بالبدر المصور من … كساه نوراً وأضحى منه مقتبسا

كذلك البحر لولا بسط راحته … ما امتد والدر لولا نظمه بخسا

لا زال خدن المعالي في الأنام على … مر الليالي ومن عين العدا حرسا

ما قوله في معمى حار فيه أولو … الأبصار إذ كان فيه الأمر ملتبسا

وقد رأى ربعك المأهول ذا شرف … فأمّ أبوابه لا الأربع الدرسا

محيل ما حل من أشكاله فعسى … بعد التحلل يبدو منه ما احتبسا

هذا ومن عجب أن المشار له … هو اسم خل ودود تحفة الجلسا

ذي طلعة تخجل الأقمار طالعة … وتترك الكوكب الوضاح منطمساً

رأيته ورأيت الشمس فاشتبها … عليّ حتى توهمت الصباح مسا

وذاك بالمحو والاثبات حيث كسى … منها وألبسها من حسنه وكسا

كم زارني والدجى يربد من حنق … منا فأشعل في ظلمائه قبسا

وكم جلينا عروساً من محاسنه … تلك الليالي فكانت كلها عرساً

وكم لبسنا حرمدان الشطارة في … رد المخالف حتى عاد منتكساً

ومن محاسنه حسن التلاوة بال … صوت الرخيم الذي قد زاده أنساً

سألته سورة من فيه أسمعها … وصورة تطرد الوسواس والهوسا

فعند ما رام أسماعي قراءته … وجاد لي بالذي قد كنت ملتمسا

بدا بآخر ما في الروم ثم رعى … ودي فلما تلى حم مت أسى

فيا أخا الود من يحيي القتيل ومن … يشفي الغليل ومن ينشي الذي درسا

فهل ترى ما يداويه ويبعثه … حيا وينفخ فيه الروح والنفسا

سوى تدارك الطاف بشم هوى … أرواحه فعساها أن تهب عسى

فآجابه القاضي تاج الدين بقوله

أزهر روض أرى في الظرف قد غرما … حتى كأن الصبا أهدت لنا نفساً

أم الجواهر في الأسلاك تنضد أم … أماط ريم الخبا عن ثغره اللعسا

أم ذاك نظم امام لو يعاصره … قس البلاغة أو سحبانها خرسا

ألفاظه ومعانيها كؤوس طلا … رشفتها فأرتني الأمر ملتبساً

قد صاغها من زمام النظم في يده … والنثر تاجا لتاجي قط ما لبسا

بحر العلوم فلو أقوت مدارسها … أحيا به الله منها كل ما اندرسا

وفارس البحث في ميدانه فإذا … جاري مناظره في حلبة فرسا

وألمعي يرى بالفكر قبل غد … ماذا يكون غدا أن ظن أو حدسا

راوي حديث العلا والمجد عن سلف … حلوا الصدور فكانوا ارؤس الرؤسا

تفردوا بمقام من يرمه يعد … عنه حسيراً بحول الله منتكسا

مضوا وآل له إرثاً فحاك على … منوال نسجهم فيه وما وكسا

يهدي إلى السمع في محرابه طربا … وللقلوب خشوعاً عمها وكسا

حتى تقول أزين العابدين به … أم ذاك داود في محرابه درسا

فيا هماما رقى في الفضل منزلة … ما ظنها فكر راقٍ لا ولا هجسا

طار حتنى بمعمى ما برحت به … أردد الفكر محتاراً صباح مسا
শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের নয়ন, অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব, গুণীজনদের লক্ষ্যস্থল, যা অস্পষ্ট তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে …

কেন নয়? তিনি তো দ্বীনের মুকুট (তাজুদ্দীন), তার সাহায্যকারী … কথা ও কাজে, দ্বীনের যা কিছু বিলুপ্ত হয়েছিল তাকে তিনি পুনর্জীবিতকারী।

পূর্ণিমা চাঁদ কী, সমুদ্র কী, আর মূল্যবান মুক্তাই বা কী? … তা তো কেবল তাঁরই দর্শনের প্রতিচ্ছবি অথবা তাঁর উপকারের প্রতিফলন যখন তিনি দান করেন বা পাঠদান করেন।

এই কথার জন্য আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, কেননা … আমি উপমা দিতে গিয়ে উল্টো ভুল করে ফেলেছি।

চাঁদ কি তাঁর সাথে তুলনীয় হতে পারে যাকে আল্লাহ … আলো পরিয়েছেন এবং যে তাঁর থেকে আলো গ্রহণ করে উদ্ভাসিত হয়েছে?

তেমনিভাবে সমুদ্রও; যদি আল্লাহর হাতের প্রশস্ততা না থাকত … তবে তা বিস্তৃত হতো না; আর মুক্তাও যদি সুবিন্যস্ত না হতো তবে তা মূল্যহীন হয়ে পড়ত।

উচ্চমর্যাদার এই বন্ধু মানুষের মাঝে সদা অবস্থান করুন … মহাকালের আবর্তনে, আর শত্রুর কুদৃষ্টি থেকে সুরক্ষিত থাকুন।

একটি ধাঁধা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য কী, যাতে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা … দিশেহারা হয়ে পড়েছে, কারণ বিষয়টি ছিল অস্পষ্ট।

তিনি আপনার জনাকীর্ণ আঙিনাকে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন দেখেছেন, … তাই আপনার দরজায় এসেছেন, সেই পরিত্যক্ত চতুষ্পার্শ্বের কাছে নয়।

তার অমীমাংসিত জটিলতাসমূহ সমাধানকারী, সম্ভবত … সমাধানের পর যা রুদ্ধ ছিল তা প্রকাশিত হবে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, যার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে … তিনি একজন পরম বন্ধু, মজলিসের সেরা উপহার।

এমন এক উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী যা উদিত চাঁদকে লজ্জিত করে … এবং উজ্জ্বল নক্ষত্রকে ম্লান করে দেয়।

আমি তাকে দেখেছি এবং সূর্যকে দেখেছি, ফলে আমার নিকট উভয়েই সদৃশ মনে হয়েছে … এমনকি সকালকে আমার সন্ধ্যা বলে ভ্রম হয়েছে।

আর তা মোচন ও প্রমাণের মাধ্যমে, যেখানে তিনি … তা থেকে পরিধান করিয়েছেন এবং তার সৌন্দর্য দ্বারা ভূষিত করেছেন।

কত রাত তিনি আমার কাছে এসেছেন যখন অন্ধকার আমাদের প্রতি রাগে বিবর্ণ ছিল, … তখন তিনি আঁধারে প্রদীপ জ্বালিয়েছেন।

আমরা সেই রাতগুলোতে তাঁর রূপের কত সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করেছি, … ফলে সেই সব রাতই বাসর রাতে পরিণত হয়েছিল।

কতবার আমরা সাহসিকতার পোশাক পরেছি … বিরোধীদের প্রতিহত করতে, যতক্ষণ না তারা পরাজিত হয়ে ফিরে গিয়েছে।

তাঁর গুণাবলির মধ্যে একটি হলো মধুর কণ্ঠে উত্তম তিলাওয়াত, … যা হৃদয়ে প্রশান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমি তাঁর মুখ থেকে একটি সূরা শোনার এবং একটি রূপ দেখার আরজি জানালাম … যা কুমন্ত্রণা ও বিভ্রান্তি দূর করে দেয়।

অতঃপর যখন তিনি আমাকে শোনানোর ইচ্ছা করলেন … এবং যা আমি চেয়েছিলাম তা দানে উদারতা দেখালেন—

তিনি সূরা রূমের শেষ থেকে শুরু করলেন, অতঃপর আমার ভালোবাসার প্রতি খেয়াল রাখলেন, … কিন্তু যখন তিনি 'হা-মীম' তিলাওয়াত করলেন, আমি শোকে মরে গেলাম।

হে প্রাণের বন্ধু! কে মৃতকে জীবিত করবে? আর কে … তৃষ্ণা মেটাবে? আর কে সেই বিলুপ্তকে পুনরুজ্জীবিত করবে?

আপনি কি এমন কিছু দেখছেন যা তাকে আরোগ্য দেবে এবং পুনর্জীবিত করবে, … তার মাঝে প্রাণ ও নিশ্বাস ফুঁকে দেবে?

আল্লাহর করুণার পরশ ছাড়া আর কী হতে পারে, তাঁর সুগন্ধিময় বাতাসের ঘ্রাণে, … সম্ভবত তা প্রবাহিত হবে।

অতঃপর বিচারক তাজুদ্দীন উত্তরে বললেন

আমি কি প্রস্ফুটিত বাগান দেখছি যা তার কারুকার্যে ঋণী, … মনে হচ্ছে পুবালী বাতাস আমাদের সুঘ্রাণ উপহার দিয়েছে।

নাকি সুতোয় গাঁথা রত্নরাজি? নাকি … পর্দানশীন সুন্দরী তার ওষ্ঠাধর থেকে আবরণ সরিয়েছে?

নাকি এটি এমন এক ইমামের কাব্য, যাঁর যুগে … অলঙ্কারশাস্ত্রের পন্ডিত কুস কিংবা সাহবান থাকলে তাঁরাও নির্বাক হয়ে যেতেন।

তাঁর শব্দ ও অর্থসমূহ যেন সুরাপূর্ণ পেয়ালা, … যা আমি পান করেছি এবং তা আমাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছে।

তিনি তাঁর হাতের কাব্যের লাগাম দিয়ে এবং গদ্য দিয়ে … আমার 'তাজ' (মুকুট)-এর জন্য এমন এক মুকুট তৈরি করেছেন যা আগে কেউ পরিধান করেনি।

জ্ঞানের সমুদ্র; যদি মাদরাসাসমূহ বিরান হয়ে যেত, … তবে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে বিলুপ্ত সবকিছুকে পুনর্জীবিত করতেন।

গবেষণার ময়দানের অশ্বারোহী; যখন … কোনো প্রতিযোগী তাঁর সাথে তর্কে লিপ্ত হয়, তিনি তাকে পরাজিত করেন।

এমন এক প্রখর মেধাবী, যিনি তাঁর চিন্তাশক্তি দিয়ে আগামীর আগেই দেখতে পান … আগামীকাল কী হতে যাচ্ছে, যদি তিনি কোনো ধারণা বা অনুমান করেন।

মর্যাদা ও গৌরবের হাদিস বর্ণনাকারী সেই পূর্বসূরিদের থেকে, … যাঁরা শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন ছিলেন এবং প্রধানদের প্রধান ছিলেন।

তাঁরা এমন এক মকামে অনন্য ছিলেন, যে ব্যক্তি তা পাওয়ার ইচ্ছা করে … সে আল্লাহর শক্তিতে ব্যর্থ ও পরাজিত হয়ে ফিরে আসে।

তাঁরা গত হয়েছেন এবং তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে তা পেয়েছেন, অতঃপর তিনি … তাঁদেরই বুনন শৈলীতে তা বুনেছেন এবং তাতে কোনো কমতি করেননি।

তিনি তাঁর মিহরাব থেকে শ্রবণে আনন্দ পৌঁছে দেন … এবং হৃদয়ে এক সর্বব্যাপী বিনয় ও আবিলতা দান করেন।

এমনকি তুমি বলবে— ইনি কি যয়নুল আবেদিন? … নাকি ইনি সেই দাউদ যিনি তাঁর মিহরাবে পাঠ করছেন?

হে বীর! আপনি শ্রেষ্ঠত্বের এমন এক স্তরে আরোহণ করেছেন … যা কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তির ভাবনায় আসেনি, এমনকি কল্পনাতেও আসেনি।

আপনি আমাকে এমন এক ধাঁধা দিয়ে ধাঁধায় ফেলেছেন যাতে আমি … দিনরাত কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে চিন্তা করছি।
(খণ্ড: ১) সুলাফাতুল আসর ফী মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মিসর (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وجهت فكرك في أوصافه قيدت … وجيهة زاد توجيهها قدسا

ما سمته الفهم الأعزّ مدركه … لولا سنا منك أبدى منه ما التسا

فلاح لي من خلال الرمزحين بدا … بآخر الروم معني عز ملتمسا

إن اصطبارك محمود ودل على … محموده مرة أخري كما التمسا

حيث المقدم من حم صيره … عين المؤخر فأنظر مدعاه عسى

وبالمقدم والتالي أشار إلي … نتيجة هي ودّ بعد ذاك رسا

فأعجب له من معمي وهو ذو بصر … قد حله كحل يجلوه فانطمسا

وزال إذ ذاك كل الكحل منه ولم … تكن له قدم للسعي فاحتبسا

وبعد ذا فله وعد وليس يرى … انجازه وهو محمود بكل لسان

وقد أشار لسان الاكتفاء إلى … إني أرد لسان القول منحبسا

ستراً على متى باريت سحبك من … عجزي ومن ذا يباري الغيث منجسا

فأغفر جناية بخسي درّ نظمك إذ … من قابل الدر بالأصداف قد بخسا

بقيت ما حملت ريح الصبا نفساً … من نشر زهر بروض الطرس قد غرسا

فراجعه الامام المذكور بقوله

قلدت من درك المنظوم لابخسا … جيد الفضائل عقداً قظ ما لبسا

وصغت منثوره تاجاً علا وغلا … قدراً وسعراً ولا والله ما وكسا

لأنه تاج تاج الدين من فخرت … به الرياسة وازدادت به قدسا

قس الفصاحة سحبان البلاغة بل … أعلى فلو جارياه فيه ما تعسا

من راض صعب المعاني بالحجا فغدا … سهلاً وكنا نراه جامحاً شرسا

وزمّ أنف ألقوا في حين مارسها … فطاوعت إذ رأته ماهراً مرسا

رب الشهامة والقدر الرفيع فلا … يرى على الضيم والاذلال منكبسا

فخذ حديث المعالي عنه متصلا … ثم أروه عالي الاسناد للجلسا

عن نفسه عن أبيه طاب مضجعه … عن جده الندب عن أسلافه الرؤسا

فياله مفرداً في الجمع مرتفعاً … عن أن يثني به من كان مشتكسا

وألمعياً فلا تخطي فراسته … في كل أمر ويأتي طبق ما حدسا

أجل ومصداق هذا ما أجاب به … عن مشكل في معمى جن والتبسا

في ضمن بستان نظم فائق صنع … يسمو على الدر والياقوت حين يسار

سرحت طرفي وقلبي في خمائله … ليقطفا لي مما فيه قد غرسا

فألفيا زهرة الدنيا التي اقتطفت … يدا زهير واخرى حسبما التمسا

فأنعش الروح مني بعد ما خمدت … إذا نشقا فيّ من أرواحه نفسا

عود لبدء وقد كان المشار له … في لجة اللبس والأشكال منغمسا

فحل ما فيه مولانا بحكمته … فرقّ طبعاً وأضحي ليّناً سلسا

وفاز بالأجر حقّاً حين عامله … بالصبر حتى برى من بعد ما يئسا

فها هو الآن محمود وحيث غدا … دواؤه منه لم يمسسه قط أسا

لكنه وافق الداعي وخالفه … ولم يجبه إلى ما ظن أو هجسا

فأبرز العنصر المائي منهمراً … وخلف العنصر الريحيّ متخبسا

فالحمد لله رب العالمين على … سلامة الناس منه عند ما انبجسا

هذا وقد لاح من تلويح سيدنا … وجه لهذا المعمى زاده أنسا

إذ صارت العين عين الكحل منه وقد … ألقي عصاه وأبدى عدّ منطمسا

فجاء يشكي ويبكي حيث فارقه … عكازه فتراه حائراً عبسا

فأعجب لهذا المعمي في تنقله … في كل طور وشكل بكرة ومسا

وكل شكل بدا فيه له لقب … أعرضت عن ذكره كيلا بذاك يسا
আপনি আপনার চিন্তাকে তাঁর গুণাবলীতে নিবিষ্ট করেছেন যা একে আবদ্ধ করেছে … এমন এক অভিমুখ যা এর পবিত্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যাকে আপনি পরম সম্মানীয় বোধশক্তি বলে অভিহিত করেছেন তা অনুধাবনযোগ্য ছিল না … যদি না আপনার পক্ষ থেকে বিচ্ছুরিত আলো একে উদ্ভাসিত করত।

প্রতীকের মধ্য দিয়ে যখন তা প্রকাশিত হলো, তখন আমার কাছে স্পষ্ট হলো … সূরা রূমের শেষে এমন এক অর্থ যা অনুসন্ধান করা অত্যন্ত কঠিন।

নিশ্চয়ই আপনার ধৈর্য প্রশংসিত এবং তা প্রমাণ করে … পুনরায় তার প্রশংসিত হওয়ার ওপর, যেমনটি অন্বেষণ করা হয়েছিল।

যেখানে 'হা-মীম'-এর প্রথমাংশকে তিনি পরিণত করেছেন … শেষাংশের হুবহু রূপে, অতএব এর দাবিটি দেখুন সম্ভবত...

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অংশের মাধ্যমে তিনি ইশারা করেছেন … এমন এক ফলাফলের দিকে যা ভালোবাসা এবং যা এরপর সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই ধাঁধাঁর প্রতি আশ্চর্যান্বিত হোন যে দৃষ্টিমান হওয়া সত্ত্বেও … সুরমা দ্বারা এর সমাধান করা হয়েছে যা একে উজ্জ্বল করে, ফলে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

তখন তা থেকে সমস্ত সুরমা দূর হয়ে গেল এবং … প্রচেষ্টার জন্য তার কোনো পা ছিল না, ফলে সে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল।

এরপর তার জন্য একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং তার বাস্তবায়ন … দেখা যায় না, অথচ সে প্রতিটি রসনায় প্রশংসিত।

পর্যাপ্ততার ভাষা এই সংকেত দিয়েছে যে … আমি বাণীর জিহ্বাকে রুদ্ধ রাখতে চাই।

গোপনীয়তা রক্ষার্থে, যখন আমি আমার অক্ষমতা নিয়ে আপনার দানশীলতার মেঘমালার সাথে প্রতিযোগিতা করি … আর অপবিত্র অবস্থায় কে বা বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিতে পারে?

আপনার কাব্য-মুক্তার অবমূল্যায়ন করার অপরাধ ক্ষমা করবেন, কারণ … যে ঝিনুকের বিনিময়ে মুক্তা গ্রহণ করে সে মূলত লোকসানই করে।

আপনি ততদিন বেঁচে থাকুন যতদিন পুবালি বাতাস … কাগজের উদ্যানে রোপণ করা ফুলের সুবাস বহন করবে।

অতঃপর উল্লেখিত ইমাম তাঁকে তাঁর বাণীর মাধ্যমে প্রত্যুত্তর প্রদান করলেন:

আপনার সুসংবদ্ধ কাব্যের মুক্তা দিয়ে—যাতে কোনো ঘাটতি নেই—আমি … শ্রেষ্ঠত্বের গ্রীবাকে এমন এক হারে ভূষিত করেছি যা আগে কখনো পরিধান করা হয়নি।

আর আমি আপনার গদ্যকে এমন এক মুকুটে রূপ দিয়েছি যা সুউচ্চ এবং মূল্যবান … এর মর্যাদা ও মূল্যে, আল্লাহর কসম, এতে কোনো ঘাটতি নেই।

কারণ এটি তাজউদ্দীন (দীনের মুকুট)-এর মুকুট, যাঁকে নিয়ে … নেতৃত্ব গর্ব করে এবং যার মাধ্যমে এর পবিত্রতা বৃদ্ধি পায়।

আপনি বাগ্মিতায় কিস-এর মতো এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে সাহবান-এর মতো, বরং … তাঁর চেয়েও উচ্চে; যদি তারা দুজন আপনার সাথে পাল্লা দিত তবে তারা ব্যর্থ হতো না।

যিনি আপন বুদ্ধিবলে কঠিন অর্থগুলোকে বশ করেছেন, ফলে তা … সহজ হয়ে গেছে, অথচ আমরা একে অবাধ্য ও উগ্র মনে করতাম।

তিনি শব্দের লাগাম টেনে ধরেছেন যখন তিনি তা চর্চা করেছেন … ফলে সেগুলো বশ্যতা স্বীকার করেছে যখন তারা তাকে একজন দক্ষ অভিজ্ঞ হিসেবে দেখেছে।

তিনি বীরত্ব এবং উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ফলে তাঁকে … জুলুম ও লাঞ্ছনার সামনে নত হতে দেখা যায় না।

অতএব তাঁর কাছ থেকে উচ্চমর্যাদার কথাগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রহণ করুন … অতঃপর মজলিসের সাথীদের কাছে তা উচ্চতর সনদে বর্ণনা করুন।

তাঁর নিজের পক্ষ থেকে, তাঁর পিতার পক্ষ থেকে—যাঁর সমাধি পবিত্র হোক— … তাঁর মহান পিতামহ এবং তাঁর পূর্ববর্তী নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে।

জনসমাবেশে তিনি এমন এক অনন্য ব্যক্তি যিনি বহু ঊর্ধ্বে … কোনো সংকীর্ণমনা ব্যক্তি তাঁর দ্বিতীয় হতে পারার চেয়ে।

তিনি এমন এক মেধাবী যার অন্তর্দৃষ্টি কখনো ভুল করে না … প্রতিটি বিষয়ে, আর ফলাফল তা-ই আসে যা তিনি অনুমান করেন।

হ্যাঁ, আর এর সত্যতার প্রমাণ হলো তাঁর সেই উত্তর … যা তিনি এক জটিল ও অস্পষ্ট ধাঁধাঁ সম্পর্কে প্রদান করেছিলেন।

চমৎকারভাবে রচিত এক কাব্য-উদ্যানের মাঝে … যা মুক্তা ও ইয়াকুত পাথরের চেয়েও শ্রেষ্ঠতর যখন তা চালিত হয়।

আমি আমার দৃষ্টি ও হৃদয়কে এর কুঞ্জবনে ছেড়ে দিয়েছি … যাতে সেখানে যা রোপণ করা হয়েছে তা থেকে আমার জন্য ফল আহরণ করা যায়।

তারা সেখানে দুনিয়ার সেই ফুল খুঁজে পেল যা … জুহাইরের হাত ছিঁড়েছিল এবং অন্যটি চাহিদা অনুযায়ী।

এটি আমার আত্মাকে উজ্জীবিত করল নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার পর … যখন আমার মাঝে এর সুবাসের একটি নিশ্বাস প্রবেশ করল।

প্রারম্ভের দিকে ফিরে আসা যাক, যখন সেই ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি … অস্পষ্টতা ও জটিলতার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত ছিল।

আমাদের মওলা আপন প্রজ্ঞা দিয়ে তার জট খুলেছেন … ফলে তা স্বভাবে কোমল এবং অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সহজ হয়ে গেছে।

তিনি যথার্থই পুরস্কার লাভ করেছেন যখন তিনি ধৈর্য ধরে … এর মোকাবিলা করেছেন, এমনকি নিরাশ হওয়ার পর তা সফল হয়েছে।

এখন তা প্রশংসিত (মাহমুদ), আর যেহেতু … তার প্রতিকার তার মাধ্যমেই হয়েছে, তাই কোনো দুঃখ তাকে স্পর্শ করেনি।

কিন্তু তিনি আহ্বানকারীর সাথে একমত হয়েছেন আবার ভিন্নমতও পোষণ করেছেন … এবং তার ধারণা বা মনের উদয় হওয়া চিন্তার অনুরূপ উত্তর দেননি।

তিনি প্রবহমান জলীয় উপাদানকে প্রকাশ করেছেন … আর বায়বীয় উপাদানকে রুদ্ধ করে পেছনে রেখে দিয়েছেন।

অতএব সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য … যে তা প্রস্ফুটিত হওয়ার সময় মানুষ তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ ছিল।

এর সাথে সাথে আমাদের সাইয়্যেদ-এর ইশারা থেকে স্পষ্ট হয়েছে … এই ধাঁধাঁর এমন এক দিক যা এর মাধুর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

যেহেতু 'আইন' বর্ণটি সুরমার উপাদানে পরিণত হয়েছে … এবং তিনি আপন লাঠি নিক্ষেপ করেছেন আর বিলুপ্তপ্রায় গণনাকে প্রকাশ করেছেন।

ফলে সে অভিযোগ করতে ও কাঁদতে কাঁদতে এলো যেহেতু তার … লাঠিটি তাকে ছেড়ে গেছে, তাই আপনি তাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও বিষণ্ণ দেখতে পাচ্ছেন।

অতএব এই রহস্যময় সত্তার বিবর্তনে আশ্চর্যান্বিত হোন … যা সকাল ও সন্ধ্যায় প্রতিটি অবস্থায় ও রূপভেদে পরিবর্তিত হয়।

আর প্রতিটি রূপ যাতে সে আবির্ভূত হয়েছে তার এক একটি উপাধি রয়েছে … আমি তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম যাতে তাতে কোনো অনিষ্ট না ঘটে।