القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: سلافة العصر في محاسن الشعراء بكل مصر
المؤلف: صدر الدين المدني، علي بن أحمد بن محمد معصوم الحسني الحسيني، المعروف بعلي خان بن ميرزا أحمد، الشهير بابن معصوم (ت 1119هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 350
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: সুলাফাতুল আসর ফি মাহাসিনুশ শুয়ারা বি-কুল্লি মিসর
লেখক: সদরুদ্দীন আল-মাদানী, আলী ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ মাসুম আল-হাসানি আল-হুসাইনি, যিনি আলী খান ইবনে মির্জা আহমাদ নামে পরিচিত, ইবনে মাসুম নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ১১১৯ হিজরি)
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৩৫০
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
সুতরাং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন বিচ্ছেদের দূরত্ব ঘুচিয়ে দেন এবং আমাদের চক্ষুদ্বয়কে মিলনের সুরমা দিয়ে সুশোভিত করেন, যাতে আমরা সেই বিচক্ষণ ও মহানুভব ইমামের দর্শনে নয়ন জুড়াতে পারি, যাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শ্রবণেন্দ্রিয়কে অলংকৃত করে এবং যাঁর বাগ্মিতা আস্বাদনকারীদের তৃপ্ত করে। তিনি এমন এক বক্তা যে, তিনি যখন কথা বলেন তখন অন্য কোনো বক্তার জন্য বলার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তিনি এমন এক অভিজ্ঞ ব্যক্তি যে, তিনি যখন দীর্ঘ আলোচনা করেন তখন অন্য কেউ তার সমতুল্য কোনো সারগর্ভ বিষয় উপস্থাপন করতে পারে না। তিনি এমন সব রচনার অধিকারী যার সুখ্যাতি দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত। তাঁর গ্রন্থাবলি এমন উচ্চপর্যায়ের যে, সর্বসম্মতভাবে সেগুলো সূক্ষ্মতর গবেষণা ও সত্য উদ্ঘাটনের মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর ফতোয়াসমূহ পবিত্র নস (পাঠ) ও দলিলাদির ভিত্তিতে ইজতিহাদের আদি পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণগুলো জটিল বাক্য ও দুর্বোধ্য সমস্যার জট খুলে সেগুলোকে সুস্পষ্ট করে তোলে। তিনি শাইখুল ইসলাম; বরং তিনি মহান শাইখদেরও শাইখ। তিনি প্রতিটি জনপদ, শহর, গ্রাম ও মহল্লার মানুষের অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি মাকামে ইবরাহিমের প্রধান ইমাম। তিনি এমন এক খতিব যাঁর ওয়ায-নসিহতে হৃদয়সমূহ বিদীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয় এবং বিবেকসমূহ তাতে বিমোহিত হয়ে পড়ে। তিনি অলংকারশাস্ত্র ও প্রাঞ্জল ভাষার চাবিকাঠির অধিকারী, গদ্য ও পদ্যের এমন নিপুণ রচয়িতা যাঁর উচ্চতায় কোনো অলংকারবিদ পৌঁছাতে পারে না এবং কোনো কুশলী সাহিত্যিক তাঁর আঙিনায় প্রবেশ করার দুঃসাহস দেখায় না। তিনি প্রখর মেধাসম্পন্ন, সুবক্তা ও অভিজাত ব্যক্তিত্ব। আমাদের মহান ইমাম মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাবারী। আল্লাহ তাঁর পদতলে মিম্বরসমূহের উচ্চতাকে সুশোভিত করুন এবং তাঁর মাধ্যমে সম্মানিত মেহরাবগুলোর মর্যাদা পূর্ণতা দান করুন। আল্লাহ তাঁকে তাঁর আপন ঠিকানায় ফিরিয়ে দিন এবং তাঁকে প্রতিটি শত্রুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।
তাঁর সমীপে এমন সালাম পেশ করছি যার সুঘ্রাণ ধূসর আম্বরকেও হার মানায় এবং যার বর্ণনা প্রবাহিত মৃদুমন্দ সমীরণে পদ্মফুলকেও লজ্জিত করে। এই সালাম তাঁর সুমহান চরিত্র থেকে পবিত্রতা অর্জন করে এবং তাঁর মহৎ গুণাবলি ও স্বভাবের লালিত্যে নিজেকে সম্পৃক্ত করে। তাঁর প্রতি এমন ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা নিবেদন করছি যা হৃদয়ের অন্তস্থলকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং বিবেককে বিচলিত করে তোলে। পরম দয়ালু রহমান যদি তাঁর বান্দার প্রতি অনুগ্রহ না করতেন এবং বন্ধুত্বের বিচ্ছেদ ও বিমুখতার পর তাঁর এই চিঠির মাধ্যমে সাহায্য না করতেন, তবে কী যে হতো! তাঁর এই পত্রটি আসার পর তা সাবলীলতা ও প্রাঞ্জলতার পূর্ববর্তী সকল গ্রন্থকে রহিত করে দিয়েছে এবং পূর্বের সকল সাহিত্যিক চুক্তিতে ফাটল ধরিয়েছে; কারণ এর শব্দশৈলী ও বুনন শিল্পে যে নিপুণতা প্রকাশ পেয়েছে তা বিরল। এ যেন এমন এক কিতাব যার পঙ্ক্তিগুলো সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী আয়াতের মতো সুস্পষ্ট। মুতানাব্বির কাছে যদি এমন কোনো ওহী আসত, তবে তিনি এর মাধ্যমেই নবুওয়াতের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেন এবং তাঁর তুচ্ছ অলীক রচনাগুলোকে বর্জন করতেন। এ যেন এক সমুদ্র যা তাঁর তীরে মুক্তা নিক্ষেপ করে, আর এমন এক কালির লেখা যা বিতর্ককারীকে পরাস্ত করতে রত্নসমূহকে সংরক্ষণ করে। তাঁর এই পত্র আগমনে আমি বিমোহিত হয়ে পড়লাম এবং বলে উঠলাম: 'এ তো মানুষের কথা নয়'। আমার মনে উদয় হলো: 'এ তো কেবল এক জাদুময় প্রভাব'। যদি আমার প্রতি ভুল বোঝার আশঙ্কা না থাকত, তবে আমি এর উত্তরে একটি শব্দও উচ্চারণ করতাম না। বরং আমি মৌনতাকে আবশ্যক করে নিতাম এবং বলতাম যে, তাঁর মতো ব্যক্তিত্বের মোকাবিলা করা নির্বুদ্ধিতা ও ধৃষ্টতা বৈ কিছু নয়। কিন্তু 'যা পূর্ণাঙ্গরূপে অর্জন করা সম্ভব নয়, তা সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত নয়'—এই নিয়মানুযায়ী আমি এই ছোট পত্রটি প্রেরণ করছি যা বিনম্রতার সাথে আপনার অনুগ্রহের প্রত্যাশী হয়েছে। আপনার পত্রের উত্তর দেওয়ার যে দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হয়েছে, আমি তা পালনের কষ্টটুকু স্বীকার করে নিয়েছি। আমি কোথায় আর আপনার সেই লেখনীর মোকাবিলা কোথায়? কীভাবে সম্ভব তাঁর সাথে সমান্তরাল চলা বা প্রতিউত্তর দেওয়া?
আপনার সেই পত্রটি তো রচিত হয়েছে পুষ্পোদ্যান ও বাগিচার মাঝে, আর তা সিক্ত হয়েছে জলাধারের প্রবহমান নহর থেকে। তা সুবাসিত হয়েছে বনের মাঝে প্রস্ফুটিত পুষ্পের সুঘ্রাণে। তার শব্দমালায় শ্রুত হয়েছে সেই কোকিলদের কলকাকলি যারা বুলবুলদেরও বিমোহিত করে। তার স্নিগ্ধ ও নাতিশীতোষ্ণ সমীরণ আত্মাকে সঞ্জীবিত করে। তার পেয়ালাসমূহকে পূর্ণ করে জান্নাতি তাসনীন ঝরনার সুরা, যার রূপালি ঢেউগুলো বাতাসের হাতে এমনভাবে বোনা হয় যা অন্য কেউ বুনতে সক্ষম নয়। এ ছাড়াও রয়েছে সুস্বাদু ও টাটকা ফলমূলের আস্বাদন এবং সুমিষ্ট ও পুষ্টিকর বাক্যালাপ। পক্ষান্তরে, এর উত্তরদাতা ছটফট করছে প্রচণ্ড উত্তাপ ও লু-হাওয়ার মধ্যে, আর সমুদ্রের লবণাক্ত পানির ধারে যা যেন উত্তপ্ত কালো ধোঁয়ার মতো। এমন এক জনপদে যেখানে মৌলিক উপাদানের অর্ধেকই অনুপস্থিত এবং এমন এক অঞ্চলে যেখানে প্রতিকূল হাওয়া বইছে। সেখানে পাখিদের কলকাকলির পরিবর্তে শোনা যায় তৃষ্ণার্তদের হাহাকার, আর স্নিগ্ধ বাতাসের বদলে বইছে মরুভূমির তপ্ত হাওয়া। এসকল কষ্টের চেয়েও যা অধিক কঠিন ও কষ্টদায়ক, যা নিয়ে অভিযোগ করা সবচেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত, তা হলো—এমন কোনো সুহৃদের অভাব যাঁর সান্নিধ্যে কিছুটা শান্তি পাওয়া যায় এবং এমন কোনো সঙ্গীর অনুপস্থিতি যাঁর সাথে কথোপকথনে দুশ্চিন্তা দূরীভূত হয়। তিনি স্বদেশে অবস্থান করেও যেন প্রবাসী হয়ে গেছেন এবং এমন এক বিষণ্ণ অবস্থায় আছেন যেখানে কোনো বন্ধু বা প্রিয়জনের দেখা মেলে না। তিনি তাঁর দিনের দুই প্রান্ত অতিবাহিত করেন ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানে, আর এর মধ্যবর্তী সময়ে একাকী নিস্তব্ধতায় আশ্রয় নেন। তাঁর কাছে এমন এক দল লোকের যাতায়াত যারা সৌজন্যবোধ থেকে রিক্ত, আর এমন কিছু মানুষ তাঁর কাছে আসে যাদের দৃষ্টি কেবল পকেটে হাত দেওয়ার দিকেই নিবদ্ধ। এ ছাড়াও রয়েছে হৃদয়বিদারক সংবাদ শ্রবণ এবং এমন সব ঘটনা যা বিবেককে স্তম্ভিত করে দেয় ও ভুলিয়ে দেয় সবকিছু। কখনো তিনি শুনছেন সমুদ্রের গর্ভে জাহাজডুবির খবর, আবার কখনো দেখছেন অন্য কোনো জাহাজ জোরপূর্বক মোখা বন্দরে ভিড়ানো হয়েছে এবং তার কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে।
তবে এর চেয়েও ভয়াবহ হলো পানির সংকট, যা কলিজাকে দগ্ধ করেছে এবং মানুষকে তৃষ্ণার্ত করে রেখেছে। এর অবস্থা মানুষকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও স্তম্ভিত করে দিয়েছে। পানির এক মশকের দাম পাঁচ, ছয়, সাত এমনকি আট পর্যন্ত পৌঁছেছে। কখনো কখনো এর চাইতেও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে এবং কোনো এক দাসীর নিকট থেকে পাঁচ মুদ্রায় এক মশক পানি ক্রয় করা হয়েছে। সুতরাং মানুষ যে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদের মধ্যে আছে তা আর জিজ্ঞেস করবেন না; তারা চরম সংকটে নিপতিত হয়েছে। পানির উৎসগুলো ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালীদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে এবং পানির মশকগুলো কেবল বিশিষ্টজন ও উচ্চপদস্থদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। যাদের ঘরে পূর্বের সঞ্চিত অর্থ ছিল, এই চড়া দামের কারণে তারা ধনাঢ্য হয়ে উঠেছে; আপনি এতে খুশি হতে পারেন, কারণ এক দলের বিপদ অন্য দলের জন্য উপকারে আসে। আপনি যদি সেই পর্দানশীন অভিজাত নারীদের দেখতেন, যাদের বর্তমান পরিস্থিতি ঘোর অন্ধকার রাতে বাইরে বের হতে বাধ্য করেছে, আর সেই কুমারী মেয়েদের দেখতেন যারা পানির কলস নিয়ে সেখানে যাতায়াত করছে, তবে আপনি এমন কিছু দেখতেন যা আপনাকে আতঙ্কিত করত এবং আপনার বিবেককে স্তম্ভিত করে দিত। কত অভিজাত নারীর সম্মান আজ ধুলোয় মিশছে, কত কুমারী কন্যার মর্যাদা আজ বিপন্ন। সেই সংকটময় মুহূর্তে জনপদের কত সম্মানিত ব্যক্তি অপদস্থ হয়েছে এবং কত মহান মর্যাদাবান ব্যক্তি আজ উপেক্ষিত, যদিও তিনি মর্তবায় অত্যন্ত বড় ছিলেন। এই বিপদ আসমান থেকে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার চেয়েও অধিক কঠিন। সুতরাং শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারীদের জন্য এই বিপদে কুনুত পাঠ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে, যদিও তা...