(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: -)
بداية العابد وكفاية الزاهد - ت العجمي   (البعلي، عبد الرحمن بن عبد الله)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: بداية العابد وكفاية الزاهد (في الفقه على مذهب الإمام أحمد بن حنبل)

المؤلف: عبد الرحمن بن عبد الله بن أحمد البعلي الخلوتي الحنبلي (ت 1192هـ) (صاحب كتاب «كشف المخدرات في شرح أخصر المختصرات»)

تحقيق: محمد بن ناصر العجمي

الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 96

أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مقابل]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ربيع الأول 1432

বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুল জাহিদ - তাহকীক: আল-আজমী   (আল-বালী, আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ)

বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ


গ্রন্থ: বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুল জাহিদ (ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ বিষয়ক)

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-বালী আল-খালওয়াতী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ১১৯২ হিজরি) («কাশফুল মুখাদ্দরাত ফী শারহি আখসারিল মুখতাসারাত» গ্রন্থের লেখক)

তাহকীক: মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজমী

প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইব্রাহিম হাসানাইন

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: -)
ـ[بداية العابد وكفاية الزاهد (في الفقه على مذهب الإمام أحمد بن حنبل)]ـ

المؤلف: عبد الرحمن بن عبد الله بن أحمد البعلي الخلوتي الحنبلي (المتوفى: 1192هـ) (صاحب كتاب «كشف المخدرات في شرح أخصر المختصرات»)

تحقيق: محمد بن ناصر العجمي

الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م

عدد الأجزاء:1

أعده للشاملة/ أبو إبراهيم حسانين

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مقابل]
[বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ (ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রে)]

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-বালী আল-খালওয়াতী আল-হাম্বলী (মৃত্যু: ১১৯২ হিজরি) («কাশফুল মুখাদ্দারাত ফি শারহি আখসারিল মুখতাসারাত» গ্রন্থের রচয়িতা)

তাহকীক: মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজমী

প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

শামেলা’র জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইব্রাহিম হাসনাইন

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং তার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে]
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة المصنف

بسم الله الرحمن الرحيم

الحَمْدُ للَّهِ الذي فَقَّه في دينهِ مَنْ شَاءَ مِنَ العِبَادِ، وَوَفَّقَ أَهَلَ طَاعَتِهِ لِلْعِبَادَةِ والسَّدَادِ، والصَّلَاةُ والسلامُ على سيِّدنا مُحمدٍ الهَادِي إِلى طريقِ الرَّشَادِ، وعَلَى آله وأصحابهِ السَّادَةِ القَادَةِ الأَمْجَادِ، وعَلَى تَابِعيهم بإِحسانٍ صَلَاةً دَائِمَةً مُتَّصِلَة إِلى يَومِ المَعَادِ.

أَمَّا بَعْد:

فَقَد اسْتَخَرْتُ اللَّهَ في جَمْعِ مُخْتَصَر مُفيد، مُقْتَصِرًا فِيهِ عَلَى العِباداتِ تَرْغيباً للمُرِيدِ، وتقريباً لِلمُستفيدِ، في فِقْهِ الِإمامِ المُبَجَّلِ، أبي عبد الله أحمد بن مُحمَّد بن حَنْبَل، وَسَمَّيْتُهُ: "بِدَاية العَابِدِ وكِفَاية الزَاهِدِ"، ومِنَ اللَّهِ تعالى أرتجي له القبولَ والنفْع لكُل مَن اشتغلَ به مِنْ سائلٍ ومسؤول، إِنه أكْرَمُ مَأْمُول.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌গ্রন্থকারের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং তাঁর অনুগতদের ইবাদত ও সঠিক পথের তাওফিক দিয়েছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি সঠিক পথের দিশারী এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা মহিমান্বিত নেতা ও পথপ্রদর্শক এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর; এমন রহমত যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত চিরস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন হবে।

অতঃপর:

আমি একটি উপকারী সংক্ষিপ্ত সংকলন রচনার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি, যেখানে ইচ্ছাপোষণকারীর আগ্রহ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীর সহজবোধ্যতার জন্য কেবল ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়সমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি, যা সম্মানিত ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বলের ফিকহ অনুযায়ী রচিত। আমি এর নামকরণ করেছি: "বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুয যাহিদ", আর মহান আল্লাহর নিকট আমি এর কবুলিয়্যাত এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতা—উভয়ের উপকারের আশা রাখি; নিশ্চয়ই তিনি শ্রেষ্ঠতম আশাস্থল।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌كتاب الطهارة

وهي ارتفاع الحَدَث وزَوَالُ الخَبَثِ.

والمياه ثَلَاثَة:

طَهورٌ، وطَاهِرٌ، ونَجِسٌ.

فالطهورُ: هو الباقي على خِلْقتِهِ طَهُورٌ في نفسِهِ مُطهِّر لغيره، يَجُوزُ استعمالُهُ مطلقًا.

والطاهرُ: ما تَغَيَّرَ كثير من لَوْنِهِ أو طَعْمِهِ أَوْ ريحِهِ بِطَاهِرِ، وهو طَاهِر في نفسه غيرُ مطهِّرِ لِغَيْرِهِ، يَجوزُ استعمَالُهُ في غَيْرِ رَفْعِ حَدَثِ وزَوَالِ خَبَثِ.

والنَجسُ: ما تَغَيَّرَ بِنَجَاسَةٍ في غَيْرِ مَحَلِّ تطهير، ويَحْرُمُ استعمالُهُ مطلقًا إِلَاّ لضرورة.

والكَثيرُ قُلَّتَانِ فَأَكْثَرَ، واليَسيرُ ما دونَهُمَا، وهما: مائةُ رطْلٍ وسبعةُ أرطالٍ وسُبُعُ رِطْلٍ بالدمشقي وما وافَقَهُ.

وكلُّ إِنَاءٍ طَاهِرٍ يُبَاحُ اتخاذُهُ واستعمَالُهُ غَيْرَ ذَهبٍ وفضةٍ.
পবিত্রতা অধ্যায়

আর তা হলো অপবিত্রতা দূর করা এবং নাপাকি দূরীভূত করা।

পানি তিন প্রকার:

পবিত্রকারী, পবিত্র এবং অপবিত্র।

পবিত্রকারী হলো: যা তার সৃষ্টিগত স্বভাবের ওপর অবশিষ্ট থাকে; তা নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী, আর এর ব্যবহার নিঃশর্তভাবে বৈধ।

পবিত্র হলো: কোনো পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে যার রঙ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণের অনেকটা পরিবর্তিত হয়ে গেছে; তা নিজে পবিত্র কিন্তু অন্যকে পবিত্রকারী নয়, অপবিত্রতা দূর করা এবং নাপাকি দূরীভূত করা ব্যতীত অন্য কাজে এর ব্যবহার বৈধ।

অপবিত্র হলো: যা নাপাকির মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে গেছে (পবিত্র করার স্থান ব্যতীত), এবং এর ব্যবহার নিঃশর্তভাবে হারাম, তবে একান্ত নিরুপায় অবস্থা ব্যতীত।

অধিক পানি হলো দুই কুল্লা বা তার বেশি, এবং অল্প পানি হলো তার চেয়ে কম। আর তা হলো দামেশকী পরিমাপে একশ সাত রতল এবং এক রতলের সাত ভাগের এক ভাগ বা এর সমপরিমাণ।

স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যতীত প্রতিটি পবিত্র পাত্র সংগ্রহ করা এবং ব্যবহার করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌فَصْلٌ

والاستنجاءُ إِزالَةُ ما خَرَجَ من سبيلٍ بِماءٍ أَوْ حَجَرٍ ونحوِهِ، وهو واجِبٌ مِنْ كُلِّ خَارجٍ إِلَاّ الريحَ والطَّاهِرَ وغَيْرَ المُلَوّثِ.

ولا يَصِحُّ الاستجمَارُ إلَاّ بِطَاهِرٍ مُبَاحٍ يَابِسٍ مُنَقٍّ، فالإِنقاء بِحَجَرٍ ونحوِهِ أن يبقى أَثَرٌ لا يُزيلُهُ إِلَاّ الماءُ، وشُرِطَ لَهُ ثَلاثُ مَسْحَاتٍ فأكثرُ منقيةٍ، وعدمُ تعدي خارجٍ موضعَ العَادَةِ، وبماءٍ عَوْد المحلِّ كما كان، وَظَنُّهُ كافٍ.

وَحَرُمَ بِرَوْثٍ وعَظْمٍ وطَعَامٍ ولَوْ لبهيمةٍ، ولا يَصِحُّ وضوء ولا تيمّم قبله.

وَحَرُمَ لُبْثٌ فَوْقَ قَدْر حاجتِهِ، وتَغَوُّطُهُ بماءٍ وَبوْلُهُ، وَتَغَوُّطُهُ بِمَرْوَةٍ وبطريقٍ مَسْلوكٍ، وظِلٍّ نَافِع، وَتَحْتَ شَجَرَةٍ عليها ثَمَرٌ يُقصَد، واستِقْبَالُ قِبْلَةٍ واستِدْبارُها بفضاءٍ.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

والسِّوَاكُ مسنونٌ مُطْلَقاً
، إِلَاّ لصَائمٍ بعدَ الزوالِ فيُكْرَهُ، ويُباحُ قَبْلَهُ بِعُودٍ رَطْبٍ، ويُستَحَبُّ بيابسٍ، ولم يُصِبِ السُّنةَ مَنْ استاكَ بغيرِ عُودٍ.

ويُتَأَكَّدُ عندَ صَلاةٍ وقراءةٍ ووضوء، وانتباهٍ من نوم، وَدخولِ مَسْجدٍ وتغيُّرِ رائحةِ فَمٍ ونحوِهِ. وَسُنَّ بُدَاءَةٌ بالأَيْمنِ في سِوَاكٍ وطَهورٍ وشأنِهِ كُلِّهِ، وادِّهانٌ،
‌পরিচ্ছেদ

ইস্তিনজা হলো পানি অথবা পাথর বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে রাস্তা দিয়ে নির্গত হওয়া বস্তু দূর করা। এটি প্রতিটি নির্গত জিনিসের ক্ষেত্রেই ওয়াজিব; তবে বায়ু, পবিত্র বস্তু এবং নোংরা নয় এমন নির্গত বস্তুর ক্ষেত্রে নয়।

ইস্তিজমার (পাথর বা ঢিলা ব্যবহার) কেবল পবিত্র, মুবাহ (বৈধ), শুষ্ক ও পরিষ্কারকারী বস্তু দিয়েই সহীহ হবে। পাথর বা অনুরূপ বস্তুর মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার মানদণ্ড হলো এমন অবস্থা হওয়া যাতে কেবল এমন সামান্য চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে যা পানি ব্যতীত দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য শর্ত হলো তিনবার বা তার অধিকবার মোছা যা স্থানটিকে পরিষ্কার করে দেয় এবং নির্গত বস্তু যেন স্বাভাবিক স্থান অতিক্রম না করে। আর পানির মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার ক্ষেত্রে স্থানটি পূর্বাবস্থায় ফিরে আসা জরুরি, আর এক্ষেত্রে প্রবল ধারণাই যথেষ্ট।

গোবর, হাড় এবং খাদ্যদ্রব্য (চাই তা চতুষ্পদ জন্তুর জন্যই হোক না কেন) দিয়ে ইস্তিনজা করা হারাম। ইস্তিনজার পূর্বে অজু বা তায়াম্মুম সহীহ হবে না।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় বসে থাকা হারাম। পানিতে মলমূত্র ত্যাগ করা এবং জনসমাগমস্থল, চলাচলের পথ, উপকারী ছায়া এবং ফলবান গাছের নিচে মলত্যাগ করা হারাম। এছাড়া খোলা ময়দানে কিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ দিয়ে বসা হারাম।

* * *

‌পরিচ্ছেদ

মিসওয়াক করা সাধারণভাবে সুন্নত
, তবে রোজা পালনকারীর জন্য সূর্য ঢলে পড়ার পর তা মাকরূহ। তার পূর্বে কাঁচা ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা বৈধ এবং শুকনো ডাল দিয়ে করা মুস্তাহাব। যে ব্যক্তি ডাল ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে দাঁত মাজল, সে সুন্নাত প্রাপ্ত হলো না।

সালাত, তিলাওয়াত, অজু, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া, মসজিদে প্রবেশ এবং মুখের দুর্গন্ধ পরিবর্তন হওয়ার সময় এটি অধিক তাকিদপূর্ণ সুন্নত। মিসওয়াক, পবিত্রতা অর্জন এবং যাবতীয় কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা এবং তেল ব্যবহার করা সুন্নত।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ২৯)
واكتِحَالٌ، ونَظَرٌ في مِرْآة، وَتَطَيُّبٌ، واستحدادٌ، وَحَفَّتُ شَارِبٍ، وتَقْلِيمُ ظُفُرٍ، وَنَتْفُ إِبْطٍ.

وَيَجِبُ ختانُ ذَكَرٍ وأنثَى عِنْدَ بُلوغٍ، وزمن صِغَرٍ أفضل.

* * *

فَصْلٌٌ

والوضوء استعمالُ ماءٍ طَهورٍ في الأَعْضاءِ (1) الأَرْبَعَةِ على صفةٍ مخصوصَةٍ، والتَّسميةُ واجبةٌ فيه، وفي غُسْلٍ، وتيمُّمٍ، وغَسْلِ يَدَيْ قائِمٍ من نوم الليل ثلاثاً بنيّةٍ وتسميةٍ.

وشُروط الوضوء ثمانيةٌ:

انقطاعُ ما يوجِبُهُ، والنِّيَّةُ، وهي شَرطٌ لكلِّ طهارةٍ شرعية غَيْرَ إزالةِ خبثٍ ونَحْوِهَا، والإِسلامُ، والعقلُ، والتمييزُ، والماءُ الطَّهورُ المُباحُ، وإِزالةُ ما يمنعُ وصولُهُ، والاستنجاءُ.

وفروضُهُ ستة:

غَسْلُ الوجه، ومنه فَمٌ وأَنْفٌ، وغَسْلُ اليَدين مع المِرْفَقَيْنِ، وَمَسْحُ الرأس كُلهِ ومنه الأذُنانِ، وغَسْلُ الرجلينِ معَ الكَعْبَيْنِ، وتَرتيبٌ، وموالاةٌ، ويسقطان مع غُسْلٍ.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

يجوزُ المسحُ على الخُفَّينِ وَنَحوِهِمَا
بسبعة شروط:

لُبْسُهُمَا بَعْدَ كَمَالِ طَهَارةٍ بماءٍ، وسَتْرُهما لمحلِّ فَرْضٍ، وإمكانُ

--------------------------------------------

(1) تكررت هذه الكلمة في الأصل.
সুরমা লাগানো, আয়নায় তাকানো, সুগন্ধি ব্যবহার করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, মোচ ছাঁটা, নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়ানো।

বালেগ হওয়ার সময় পুরুষ ও নারীর খতনা করা ওয়াজিব, এবং শৈশবকালই এর জন্য সর্বোত্তম সময়।

* * *

পরিচ্ছেদ

আর অজু হলো নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে চারটি অঙ্গে পবিত্র পানি ব্যবহার করা। ওজু, গোসল এবং তায়াম্মুমে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা ওয়াজিব। আর রাতের ঘুম থেকে উঠে নিয়ত ও বিসমিল্লাহসহ দুই হাত তিনবার ধৌত করাও ওয়াজিব।

অজুর শর্ত আটটি:

অজু ওয়াজিবকারী অবস্থা বন্ধ হওয়া, নিয়ত করা—যা নাপাকি দূর করা ও অনুরূপ বিষয় ব্যতীত প্রতিটি শরয়ি পবিত্রতার জন্য শর্ত—ইসলাম, আকল (বিবেচনাশক্তি), তাময়িজ (ভালো-মন্দের পার্থক্য করার সক্ষমতা), পবিত্র ও বৈধ পানি, অঙ্গে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু দূর করা এবং ইসতিনজা করা।

অজুর ফরজ ছয়টি:

মুখমণ্ডল ধৌত করা—মুখ ও নাক যার অন্তর্ভুক্ত, কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা, কানসহ সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ করা, টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করা, ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিরতিহীনভাবে সম্পন্ন করা; তবে গোসলের ক্ষেত্রে শেষোক্ত দুইটি বাদ পড়ে যায়।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

মোজা এবং এই জাতীয় জিনিসের ওপর মাসাহ করা জায়েজ
সাতটি শর্তে:

পানি দিয়ে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর তা পরিধান করা, ফরজের স্থান (টাখনু পর্যন্ত) মোজা দ্বারা আবৃত থাকা এবং সম্ভব হওয়া...

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে এই শব্দটি পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৩০)
مشي بِهِمَا عُرْفاً، وثبُوتِهِمَا بنفْسِهِما، وإباحَتِهِمَا، وطهارة عَيْنِهِمَا، وعدم وَصْفِهِمَا البشرةَ. فَيَمْسَحُ مُقيمٌ وعاصٍ بِسَفَرِهِ مِنْ حَدَثٍ بعد لُبْسٍ يوماً وليلة، ومُسَافِرٌ سَفَرَ قَصْرٍ لَم يَعْصِ به ثلاثة بلياليهنَّ، فلو مَسَحَ في سَفرٍ ثُمَّ أَقامَ، أَوفي حَضرٍ ثُمَّ سَافَرَ، أَوشكَّ في ابتداء المَسْحِ لَمْ يَزدْ على مَسْحِ مُقيمٍ.

ويَجوزُ المَسْحُ على جَبِيرَةٍ إِن كانَ وَضَعَهَا على طَهَارةٍ ولم تجاوِز قَدْرَ الحَاجَةِ، وإِن جاوزَتْهُ أَوْ كان وَضَعَهَا عَلى غَيْرِ طَهَارَةٍ وَجَبَ نزعها، فإن خاف ضَرَراً تَيمَّمَ مع مَسْحِ موضوعةٍ على طَهَارة مجاوزةٍ مَحَل الحاجةِ.

وإن ظَهَرَ بعضُ مَحَلِّ فَرْضٍ أو حَصَلَ ما يوجِبُ الغُسْل أَوْ انقضت المدة بطل الوضوء.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

نَوَاقِضُ الوضوءِ ثَمانيةٌ:

خَارِجٌ مِنْ سَبِيلٍ مُطْلَقاً، وخُروجُ بَوْلٍ أَوْ غائِطٍ مِنْ باقي البَدَن قَلَّ أَو كَثُرَ أو غيْرِهِما كقيءٍ أَوْ دَمٍ إِن فَحُشَ في نفس كُلِّ أحدٍ بحسبِهِ، وزوالُ عَقْلٍ إِلا يَسيرَ نَوْمٍ مِنْ قائِمٍ أو جَالِسٍ، وغُسْلُ مَيْتٍ أَوْ بعضه، وأَكْلُ لَحْمِ إبلٍ، ولو نيئاً تَعَبداً، فَلَا نقض ببقيةِ أجزائِها، وشُرْبُ لبنها ومَرَق لَحْمِهَا، وَمَسُّ فَرْجِ آدَمي مُتَّصل أَوْ حلْقة دُبُرِهِ ولو ميتاً بيده لَا مَسُّ الخِصْيتينِ، ولا محل الفرج البائن، ولمسُ ذَكَر أَوْ أنثى الآخَرَ لِشَهْوَةٍ بِلَا حائلٍ، وَلَوْ بِزَائِدٍ لزائِدٍ، والرِّدَّةُ، وكُلُّ ما أَوْجَبَ غُسْلاً
সাধারণভাবে তা পরিধান করে হাঁটা সম্ভব হওয়া, সেগুলো নিজে নিজেই পায়ের সাথে লেগে থাকা, সেগুলো বৈধ হওয়া, সেগুলোর মূল উপাদান পবিত্র হওয়া এবং তা থেকে ভেতরের চামড়া দেখা না যাওয়া। সুতরাং মুকিম (নিবাসি) এবং তার সফরে অবাধ্য ব্যক্তি মোজা পরিধান করার পর অপবিত্র হওয়া থেকে একদিন একরাত মাসেহ করবে। আর কসর করার মতো দূরত্বের মুসাফির, যে তার সফরে অবাধ্য নয়, সে তিন দিন ও তিন রাত মাসেহ করবে। যদি কেউ সফরে মাসেহ শুরু করার পর মুকিম হয়ে যায়, অথবা মুকিম অবস্থায় শুরু করার পর মুসাফির হয়, অথবা মাসেহ শুরুর সময় সম্পর্কে সন্দেহে পড়ে, তবে সে মুকিমের মাসেহর মেয়াদের অতিরিক্ত করবে না।

পট্টি বা ব্যান্ডেজের (জাবিরা) ওপর মাসেহ করা বৈধ যদি তা পবিত্র অবস্থায় লাগানো হয়ে থাকে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অংশ জুড়ে না থাকে। আর যদি তা প্রয়োজন অতিক্রম করে অথবা অপবিত্র অবস্থায় লাগানো হয়, তবে তা খুলে ফেলা ওয়াজিব। অতঃপর যদি সে ক্ষতির আশঙ্কা করে, তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থান জুড়ে থাকা এবং পবিত্র অবস্থায় লাগানো পট্টির ওপর মাসেহ করার সাথে সাথে তায়াম্মুম করবে।

যদি ফরয অঙ্গের (পায়ের) কোনো অংশ প্রকাশ হয়ে পড়ে অথবা গোসল ওয়াজিব হয় এমন কিছু ঘটে অথবা মাসেহর সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, তবে ওযু বাতিল হয়ে যাবে।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ আটটি:

সাধারণভাবে দুই পথ (মূত্র ও মলদ্বার) দিয়ে যা কিছু নির্গত হয়; শরীরের অবশিষ্ট অংশ দিয়ে প্রস্রাব বা পায়খানা নির্গত হওয়া—তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি; প্রস্রাব-পায়খানা ব্যতীত অন্য কিছু যেমন বমি বা রক্ত নির্গত হওয়া যদি তা প্রত্যেক ব্যক্তির নিজ বিবেচনায় অত্যধিক মনে হয়; জ্ঞান লোপ পাওয়া, তবে দণ্ডায়মান বা উপবিষ্ট ব্যক্তির সামান্য তন্দ্রা বা ঘুম ব্যতীত; মৃতদেহ বা তার অংশবিশেষ গোসল করানো; উটের গোশত খাওয়া, ইবাদতগত বিধান হিসেবে তা কাঁচা হলেও; তবে উটের শরীরের অবশিষ্ট অংশ ভক্ষণে ওযু ভাঙবে না, এবং উটের দুধ বা গোশতের ঝোল পান করলেও ওযু ভাঙবে না; মানুষের শরীরের সাথে সংযুক্ত লজ্জাস্থান বা মলদ্বারের চক্র হাত দিয়ে স্পর্শ করা, যদিও তা মৃত ব্যক্তির হয়, তবে অণ্ডকোষ স্পর্শ করলে ওযু ভাঙবে না এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া লজ্জাস্থানের স্থানে স্পর্শ করলেও ওযু ভাঙবে না; কোনো পুরুষ বা নারী কর্তৃক অপরকে কামভাবের সাথে কোনো অন্তরায় ব্যতীত স্পর্শ করা, এমনকি অতিরিক্ত অঙ্গ দিয়ে অতিরিক্ত অঙ্গকে স্পর্শ করলেও ওযু ভেঙে যাবে; ইসলাম ত্যাগ করা (মুরতাদ হওয়া); এবং এমন প্রতিটি বিষয় যা গোসলকে ওয়াজিব করে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৩১)
أَوْ وضوءًا غَيْرَ مَوْتٍ؛ فإِنَه يُوجِبُ الغُسْل لا الوضوء، بل يُسَنُّ، ولا نَقْضَ بكَلامٍ مُحَرَّمٍ، ولا بإزالة شَعْرٍ وظُفُرٍ ونحوِهما، ومن شَكَّ في طَهَارةٍ أَوْ حَدَثٍ ولوْ في غيرِ صلاةٍ بنى على يَقِينِهِ.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

مُوجِبَاتُ الغُسْلِ سَبْعَةٌ:

انتقالُ مَنِّي، فلو أَحَسَّ بانتِقَالِهِ فَحَبَسَهُ فلم يَخْرج وَجَبَ الغُسْلُ، فَلَو اغتَسَلَ لَه ثُمَّ خَرَجَ بِلَا لَذَّةٍ لَمْ يُعِدْهُ، وخروجُهُ من مَخْرَجه ولَوْ دَماً، وتُعْتَبرُ لذةٌ في غير نائِمٍ ونحوه، وتغييبُ حَشَفَةٍ أَصْلِيَّةٍ أو قَدْرها في فَرْجٍ أَصْليٍّ ولو دُبُراً لبهيمةٍ أو مَيْتٍ مِمَّنْ يُجَامَعُ مثْلُهُ ولو نَائِماً، وإِسلامُ كَافِرٍ، وَلَوْ مُرْتَدّاً أَوْ لم يُوجَدْ مِنْه فِي كُفْرِهِ ما يُوجبه، وخروج حَيْضٍ، وخروج دَمِ نفَاس، فلا يَجِبُ بولادة عرت عنه، وموت تَعبّداً غَيْرَ شهيد معركة ومقتولٍ ظُلْماً.

ومصلى العيدِ لا الجنائِزِ مَسْجِدٌ، وَيَحْرُمُ تكسُّبٌ بصنْعةٍ فيه.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

وشروطُ الغُسْلِ سَبْعَةٌ:

انقطاعُ ما يُوجِبُهُ، والنيَّةُ، والِإسلامُ، والعَقلُ، والتمييزُ، والماءُ الطهورُ المباحُ، وإِزالةُ ما يَمْنعُ وصولَهُ. وفَرْضُهُ أن يعمّ بالماءِ جميعَ بَدَنِهِ وداخلَ فَمِهِ وأنفِهِ حتَّى ما يظْهرُ منه فرج امرأةٍ عِنْدَ قعودِها لحاجتها، ويكفي الظَّنُّ في الِإسباغِ، ومن نوى غُسْلاً مَسنوناً أَوْ واجباً
অথবা মৃত্যু ব্যতীত এমন কোনো কারণ (যা গোসল ওয়াজিব করে); কেননা তা গোসল ওয়াজিব করে, ওজু নয়, বরং ওজু করা সুন্নত। হারাম কথাবার্তা দ্বারা ওজু ভঙ্গ হয় না, এবং চুল ও নখ বা এই জাতীয় কিছু অপসারণ করলেও নয়। যে ব্যক্তি পবিত্রতা বা অপবিত্রতা (হাদাস) বিষয়ে সন্দেহে পতিত হয়, এমনকি তা সালাতের বাইরেও হয়, সে তার নিশ্চিত অবস্থার ওপর ভিত্তি করবে।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ সাতটি:

বীর্যের স্থানান্তর; যদি সে বীর্যের স্থানান্তর অনুভব করে কিন্তু তা আটকে রাখে এবং নির্গত না হয়, তবে গোসল ওয়াজিব হবে। যদি সে এর জন্য গোসল করে নেয় এবং পরে তৃপ্তি ছাড়াই তা নির্গত হয়, তবে পুনরায় গোসল করতে হবে না। এবং তার নির্গমন পথ দিয়ে বীর্য বের হওয়া, যদিও তা রক্ত আকারে হয়। ঘুমন্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে তৃপ্তি হওয়া শর্ত। আর প্রকৃত লিঙ্গাগ্র অথবা তার সমপরিমাণ অংশ প্রকৃত গুপ্তাঙ্গে প্রবেশ করানো, যদিও তা কোনো চতুষ্পদ জন্তুর মলদ্বার কিংবা যার সাথে সঙ্গম সম্ভব এমন কোনো মৃত ব্যক্তির মলদ্বারে হয় এবং তা নিদ্রাবস্থায় হলেও। কাফিরের ইসলাম গ্রহণ, যদিও সে মুরতাদ হয় কিংবা তার কুফর অবস্থায় গোসল ওয়াজিব হওয়ার মতো কোনো কারণ না ঘটে থাকে। ঋতুস্রাব (হায়েজ) নির্গমন হওয়া এবং নেফাসের রক্ত নির্গমন হওয়া; সুতরাং রক্তহীন সন্তান প্রসবের কারণে গোসল ওয়াজিব হয় না। এবং ইবাদত স্বরূপ মৃত্যু, তবে যুদ্ধক্ষেত্রের শহীদ ও অন্যায়ভাবে নিহত ব্যক্তি ব্যতীত।

ঈদের সালাতের ময়দান মসজিদের অন্তর্ভুক্ত, জানাজার ময়দান নয়। আর তাতে কোনো পেশার মাধ্যমে উপার্জন করা হারাম।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

গোসলের শর্তসমূহ সাতটি:

গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ বন্ধ হওয়া, নিয়ত, ইসলাম, বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া, ভালো-মন্দ পার্থক্য করার জ্ঞান থাকা, পবিত্র ও বৈধ পানি এবং যা চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় তা দূর করা। আর গোসলের ফরজ হলো পানির মাধ্যমে সমস্ত শরীর এবং মুখ ও নাকের ভেতর অংশকে পরিব্যাপ্ত করা, এমনকি প্রয়োজন পূরণের জন্য বসার সময় নারীর গুপ্তাঙ্গের যে অংশ প্রকাশ পায় তাও। পূর্ণরূপে পানি পৌঁছানোর ব্যাপারে প্রবল ধারণাই যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি সুন্নাত অথবা ওয়াজিব গোসলের নিয়ত করবে...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৩২)
أَجْزَأَ عن الآخر.

وكُرِهَ نَوْمُ جُنُبٍ بلا وضوء، ويُكْره بناءُ الحَمَّامِ وبيعُهُ وإِجارَتُهُ والقراءةُ فيه، والسَّلامُ لا الذِّكْرُ، ودخولُهُ بِسترةٍ مع أمنِ الوقُوعِ في مُحَرَّمٍ مباح، وإن خِيفَ كُرِه، وإن عَلِمَ أَوْ دخلتْهُ أنثى بلا عُذْرٍ حَرُمَ.

* * *

‌‌فَصْلٌ

التيمُّمُ
استعمالُ تُرابٍ مخصوص لِوَجْهٍ ويدين بَدَلَ طَهَارةِ ماءٍ لِكُلِّ مَا يفعلُ به عند عَجزٍ عنه شَرْعاً سِوى نَجَاسَةٍ على غيرِ بَدَنٍ، ولُبْثٍ بِمَسْجِدٍ لحاجَةٍ.

وشُروطُهُ ثلاثَةٌ:

دخولُ وقتِ الصَّلاةِ، وتَعَذُرُ الماء لحبسهِ عنه ونحوِهِ أَوْ لِخَوْفِهِ بِطَلَبِهِ أَوْ استعماله ضَرَراً بِبَدَنِهِ أوْ مالِهِ أَوْ غيرِهِمَا، وَمَنْ وَجَدَ ماءً لا يَكْفي طَهَارَتَهُ استعمَلَهُ وجوباً ثُمَّ تَيَمَّمَ، وأن يكون بِتُرابٍ طَهورٍ مُباحٍ غَيْرِ مُحْتَرِقٍ له غُبارٌ يَعْلَقُ باليدِ، فإِن لَمْ يَجِد ذلك صلَّى الفَرضَ فقط على حَسَبِ حالِهِ، ولا يزيد في صلاته على مُجزئ، ولا إِعادة عليه.

وفُرُوضُهُ: مَسْحُ وجهِهِ، وَيَدَيهِ إِلى كُوعَيْهِ، وتَرْتيبٌ، وموالاةٌ لِحَدَثٍ أصْغَر، وهي بقدرِ ما في وضوء، وتعيينُ نِيَّةِ استباحَةِ ما يتيمَّم لَهُ مِنْ حَدَثٍ أَوْ نجاسةٍ، فلا تكفي نية أحدهما عن الآخرِ، وإن نَوَاهُما أَجزأَ.
অন্যটির জন্য যথেষ্ট হবে।

ওযু ছাড়া জুনুবী ব্যক্তির ঘুমানো মাকরূহ; এবং গোসলখানা (হাম্মাম) নির্মাণ করা, তা বিক্রয় করা, ভাড়া দেওয়া এবং তাতে তিলাওয়াত করা মাকরূহ। সেখানে সালাম দেওয়া মাকরূহ, তবে জিকির নয়। হারামে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে পর্দা সহকারে তাতে প্রবেশ করা বৈধ, আর যদি আশঙ্কা থাকে তবে মাকরূহ। আর যদি তা নিশ্চিত হয় অথবা কোনো নারী ওজর ব্যতীত তাতে প্রবেশ করে তবে তা হারাম।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

তায়াম্মুম
হলো শরয়িভাবে পানি ব্যবহারে অক্ষমতার সময় পবিত্রতা অর্জনের পরিবর্তে চেহারা ও দুই হাতের জন্য বিশেষ মাটি ব্যবহার করা; যা দ্বারা শরীরের বাইরের নাপাকি দূর করা এবং প্রয়োজনে মসজিদে অবস্থান ব্যতীত সকল ইবাদত করা যায়।

এর শর্ত তিনটি:

নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়া; পানি ব্যবহারে অক্ষম হওয়া—চাই তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে হোক বা অনুরূপ কোনো কারণে, অথবা পানি তালাশ করতে গিয়ে কিংবা তা ব্যবহার করতে গিয়ে নিজের শরীর, সম্পদ বা অন্য কিছুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকার কারণে। যে ব্যক্তি এমন পানি পাবে যা তার পূর্ণ পবিত্রতার জন্য যথেষ্ট নয়, সে তা ব্যবহার করতে বাধ্য এবং এরপর তায়াম্মুম করবে। তায়াম্মুম হতে হবে এমন পবিত্র ও বৈধ মাটি দ্বারা যা দগ্ধ নয় এবং যাতে ধুলো আছে যা হাতে লেগে থাকে। যদি সে তা না পায়, তবে সে তার অবস্থা অনুযায়ী কেবল ফরজ নামাজ আদায় করবে এবং নামাজে যা ন্যূনতম যথেষ্ট তার অতিরিক্ত করবে না এবং তাকে পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে না।

এর ফরজসমূহ হলো: মুখমণ্ডল মাসেহ করা, কবজি পর্যন্ত উভয় হাত মাসেহ করা, ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ছোট নাপাকির ক্ষেত্রে বিরতিহীনতা রক্ষা করা—যা ওযুর সময়ের পরিমাণের সমান। এছাড়া যে নাপাকি বা অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য তায়াম্মুম করা হচ্ছে তার নিয়ত নির্দিষ্ট করা। সুতরাং একটির নিয়ত অন্যটির জন্য যথেষ্ট হবে না, তবে যদি উভয়ের নিয়ত করে তবে তা যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ويُبطِلُهُ ما يُبْطِلُ الوضوء، وخُروجُ الوقْتِ، ووُجودُ الماءِ إِن تَيَمَّمَ لِفَقْدِهِ، وزَوالُ المُبيحِ لَهُ، وخَلْع ما يمسحُ عليه.

* * *

‌‌فَصْلٌ

يُشْتَرَطُ لِكُلِّ مُتَنَجِّسٍ سَبْعُ غسلاتٍ إن أنْقَتْ
، وإلَاّ فحتى تنقى بماءٍ طَهورٍ مع حَتٍّ وقَرْصٍ لِحَاجةٍ، إن لم يَتَضَرَّر المَحَل، وعَصْرٍ مَعَ إمكانٍ فيما تَشَرَّبَ كل مرةٍ خارجَ الماءِ، وكونُ إِحداها في مُتَنَجِّسٍ بكلبٍ أَوْ خنزير بتراب طَهور. ويضرُّ بقاءُ طَعْمٍ لا لونٍ أَوْ ريحٍ أو هُمَا عجزاً. ويُجزئ في بول غُلام لَمْ يأكل طَعَاماً لشهوةٍ نضحُهُ، وهو غَمْرُهُ بِماءٍ، وفي نَحْوِ صَخْرٍ وأَحواضٍ وأَرْضٍ تنجست بمائِع، ولو من كَلبٍ أو خِنْزِيرٍ مكاثرتهما بماءٍ حتَّى يَذْهَبَ لون النجاسةِ وريحها، ما لم يَعْجِزْ عن إذهابهما أو إِذهابِ أحدهما، وَلَوْ لَمْ يزل الماء فيهما أي في بول الغلامِ وفي الأرضِ ونحوها، فيطْهُرانِ مَعَ بقاءِ الماء عليهما.

ولا تَطْهُرُ أَرْضٌ بشمسٍ وريحٍ وجَفَافٍ، ولا نجاسَة بنارٍ فَرَمادها نجِسٌ. وتَطْهُرُ خَمْرَةٌ انقلَبَتْ خَلاًّ بنفسها أَو بنقل لا لقصدِ التخليل، ودَنُّها مثلها، وإِن خفيت نجاسة غَسَلَ حئى يتيقنَ غسلها.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

المُسْكِرُ المائِعُ
وما لا يُؤَكَلُ من الطيرِ والبهائِم مِمَّا فَوْقَ الهِرَّ خِلْقَةً نجسٌ، وكلُّ ميتةٍ نجسةٌ غَيْرَ ميتةِ الآدمي والسَّمك والجراد.
ওযু যা কিছু ভঙ্গ করে তা তায়াম্মুমকেও ভঙ্গ করে। এছাড়া ওয়াক্ত শেষ হওয়া, পানির অভাবে তায়াম্মুম করে থাকলে পানি পাওয়া যাওয়া, যা তায়াম্মুমকে বৈধ করেছিল তার অবসান ঘটা এবং যা মাসাহ করা হয় তা খুলে ফেলাও একে বাতিল করে দেয়।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

প্রতিটি নাপাক বস্তু পবিত্র করার শর্ত হলো—যদি তাতে পবিত্রতা অর্জিত হয়—সাতবার ধৌত করা
, অন্যথায়, পবিত্র পানি দিয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত ধৌত করতে হবে যতক্ষণ না তা পবিত্র হয়; সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী ঘর্ষণ ও ডলতে হবে, যদি তাতে স্থানটির কোনো ক্ষতি না হয়। এবং যে বস্তু পানি শুষে নেয়, সম্ভব হলে প্রতিবার পানির বাইরে এনে তা নিংড়াতে হবে। আর কুকুর বা শূকর দ্বারা নাপাক হওয়া বস্তুর ক্ষেত্রে (সাতবারের) যেকোনো একবার পবিত্র মাটি ব্যবহার করতে হবে। নাপাকির স্বাদ অবশিষ্ট থাকা ক্ষতিকর, তবে অক্ষমতার কারণে রঙ বা গন্ধ কিংবা উভয়টি থেকে গেলে তা ক্ষতিকর নয়। এমন শিশু ছেলের মূত্রের ক্ষেত্রে ছিটিয়ে দেওয়া যথেষ্ট যে এখনো রুচি ভরে খাবার খাওয়া শুরু করেনি; আর ছিটিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো পানি দিয়ে তা ভিজিয়ে দেওয়া। পাথর, চৌবাচ্চা এবং তরল নাপাকি দ্বারা অপবিত্র হওয়া জমিনের ক্ষেত্রে—এমনকি তা কুকুর বা শূকরের হলেও—অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত করা যথেষ্ট, যতক্ষণ না নাপাকির রঙ ও গন্ধ চলে যায়; যদি না সে দুটি বা যেকোনো একটি দূর করতে অক্ষম হয়। যদিও সে দুটির মধ্যে অর্থাৎ শিশু ছেলের মূত্রের স্থানে এবং জমিন ও অনুরূপ জায়গায় পানি থেকে যায়; তবুও পানি অবশিষ্ট থাকাবস্থায়ই সেগুলো পবিত্র হয়ে যাবে।

সূর্য, বাতাস বা শুকিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে জমিন পবিত্র হয় না এবং আগুনের মাধ্যমেও নাপাকি পবিত্র হয় না, তাই নাপাক বস্তুর ছাইও নাপাক। মদ যদি নিজে নিজে সিরকায় রূপান্তরিত হয় কিংবা সিরকা তৈরির উদ্দেশ্য ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের ফলে তা সিরকা হয়ে যায়, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে এবং এর পাত্রটিও তদ্রূপ। আর যদি নাপাকির স্থান অস্পষ্ট থাকে, তবে ততক্ষণ পর্যন্ত ধৌত করতে হবে যতক্ষণ না তা ধৌত করার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

তরল মাদকদ্রব্য
এবং যে সকল পাখি ও চতুষ্পদ জন্তুর গোশত খাওয়া হয় না, যা শারীরিক গঠনে বিড়ালের চেয়ে বড়, তা নাপাক। আর সকল মৃত প্রাণীই নাপাক, তবে মানুষ, মাছ এবং পঙ্গপালের মৃতদেহ ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ويُعْفَى عن يسير طين شارعٍ عُرْفاً، إِن عُلِمَتْ نجاستُهُ وإلَّا فهو طَاهِرٌ.

ولا يُكْرَهُ سؤرُ حيوان طاهر، وهو فضلةُ طعامه وشرابه غير دجاجةٍ مخلاة وفأرٍ، ولو أَكَلَ هِرٌّ ونحوه أَوْ طِفْلٌ نجاسة ثُمَّ شَرِبَ ولو قبلَ أن يغيبَ من ماءٍ يَسِير فَطَهورٌ.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

وأَقلُّ سِن حَيْضٍ تَمامُ تسع سِنين
، وأَكْثَرُهُ خمسون سنة.

والحَامِلُ لا تحيض. وَأَقلُّهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ، وأَكثرهُ خَمسَةَ عَشَرَ يَوْماً، وغالِبهُ سِتٌّ أَوْ سَبْعٌ. وأَقلُّ الطهْرِ بَيْنَ الحَيْضَتينِ ثلاثة عشر يوماً، وغالبه بقية الشَّهْرِ، ولا حَدَّ لأكْثَرِهِ. ويَحرمُ عليها فِعْلُ صلاةٍ، ولا تَقْضِيها، وفِعْلُ صَوْمٍ وتقضيه، وَوطْؤها في فَرْجٍ، ويجبُ فيه دينارٌ أو نِصْفُهُ كَفَّارةً، وتباح المباشرةُ فيما دونه.

والنفاسُ لا حَدَّ لأقلِّهِ، وأكثرُهُ أربعون يَوْماً، ويثبُتُ حكمُهُ بوضْعِ ما يتبينُ فيه خلْقُ الِإنسانِ، والنَّقَاءُ زمنُهُ طُهْرٌ، ويُكرَهُ الوطْءُ فيه وهو كَحَيْضٍ في أحكامِهِ غيرَ عِدَّةٍ وبلوغ.

* * *
সাধারণ প্রথা অনুযায়ী রাস্তার সামান্য কাদা ক্ষমাযোগ্য যদি তার অপবিত্রতা নিশ্চিতভাবে জানা থাকে, অন্যথায় তা পবিত্র।

কোনো পবিত্র প্রাণীর উচ্ছিষ্ট মাকরূহ নয়; আর উচ্ছিষ্ট হলো তার পানাহার থেকে অবশিষ্ট অংশ। তবে মুক্তভাবে বিচরণকারী মুরগি এবং ইঁদুরের উচ্ছিষ্ট ব্যতীত। যদি বিড়াল বা তদ্রূপ কোনো প্রাণী অথবা কোনো শিশু অপবিত্র কিছু খায়, তারপর অল্প পানি থেকে পান করে—এমনকি দৃষ্টির আড়াল হওয়ার আগেই—তবে সেই পানি পবিত্রই থাকবে।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

ঋতুস্রাবের (হায়েজ) সর্বনিম্ন বয়স পূর্ণ নয় বছর
, আর এর সর্বোচ্চ সীমা পঞ্চাশ বছর।

গর্ভবতী নারীর ঋতুস্রাব হয় না। ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন মেয়াদ একদিন ও এক রাত, আর সর্বোচ্চ মেয়াদ পনেরো দিন এবং সাধারণত তা ছয় বা সাত দিন হয়ে থাকে। দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদ তেরো দিন, সাধারণত তা মাসের অবশিষ্ট সময় এবং এর সর্বোচ্চ সীমার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ঋতুবতী নারীর জন্য সালাত আদায় করা হারাম এবং এর কাজা করতে হয় না; রোজা রাখা হারাম তবে এর কাজা আদায় করতে হয়। আর তার যোনিপথে সহবাস করা হারাম, এর ফলে কাফফারা হিসেবে এক দিনার বা অর্ধেক দিনার প্রদান করা ওয়াজিব। তবে যোনিপথ ছাড়া অন্যান্য উপায়ে শারীরিক উপভোগ বৈধ।

প্রসবোত্তর রক্তস্রাবের (নিফাস) সর্বনিম্ন মেয়াদের কোনো সীমা নেই এবং এর সর্বোচ্চ মেয়াদ চল্লিশ দিন। মানবাকৃতি প্রকাশ পেয়েছে এমন ভ্রূণ বা সন্তান প্রসবের মাধ্যমে এর বিধান কার্যকর হয়। নিফাসের মেয়াদে রক্ত বন্ধ থাকা পবিত্রতা হিসেবে গণ্য। সেই সময়ে সহবাস করা মাকরূহ। নিফাস তার বিধানের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের মতোই, তবে ইদ্দত পালন এবং বয়ঃসন্ধি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নয়।

* * *
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌كتاب الصّلاة

تَجِبُ الخَمْسُ على كُلِّ مُسْلِمٍ مُكَلَّفٍ إِلَاّ حَائِضاً ونُفَسَاء، ومَنْ تَرَكَها جحوداً فقَد ارتَدَّ، وجَرَتْ عَلَيْهِ أَحكامُ المُرْتَدينَ.

* * *

‌‌فَصْلٌ

الأَذانُ والِإقامةُ فرضا كِفَايةٍ على الرِّجَالِ الأَحْرَارِ
.

ويُسَنَّانِ لمنفردٍ وسفرا، ولا يصحّان إِلَاّ مرتَّبَيْنِ مُتوالِيَيْنِ عُرْفاً، بنيةٍ من ذكر مسلم عَاقِلٍ مُمَيِّزٍ ناطِقٍ عَدْلٍ ولو ظَاهِراً، بَعْدَ دخولِ وقتٍ لغيرِ فَجْرٍ.

ويَصِحُّ له بعد نصف الليل، وهو خَمْسَ عَشْرَةَ كَلِمَةً، بلا تَرجيعٍ، وهي إِحدى عشرة بلا تثنيةٍ، ويُبَاحُ ترجيعُهُ وتَثْنِيَتُها.

وَحَرُمَ خُروجٌ مِنْ مَسْجِدٍ بعده بلا عُذْرٍ أَوْ نية رجوع.

وسُنَّ أذانٌ في يمينِ أُذني مَوْلُودٍ حيث يولدُ، وإِقامةٌ في اليُسْرَى.

* * *

‌‌فَصْلٌ

وشروطُ صحَّةِ الصَّلاة سِتَّةٌ:
সালাত অধ্যায়

প্রত্যেক মুকাল্লাফ (শরয়ী বিধান পালনে সক্ষম) মুসলিমের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ওয়াজিব, তবে ঋতুমতী ও নিফাসগ্রস্ত নারী ব্যতীত। যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করে ত্যাগ করবে সে মুরতাদ হয়ে যাবে এবং তার ওপর মুরতাদদের বিধানাবলী কার্যকর হবে।

* * *

পরিচ্ছেদ

আযান ও ইকামত স্বাধীন পুরুষদের ওপর ফরযে কিফায়া।

একাকী সালাত আদায়কারী ও মুসাফিরের জন্য এই দুটি সুন্নাত। আযান ও ইকামত সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো—উভয়টি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন হওয়া এবং একজন মুসলিম, বুদ্ধিমান, সমঝদার, বাকশক্তি সম্পন্ন ও বাহ্যিকভাবে ন্যায়নিষ্ঠ পুরুষের নিয়তের সাথে সম্পন্ন হওয়া। ফজর ব্যতীত অন্যান্য সালাতের ক্ষেত্রে সময় প্রবেশ করার পর আযান দিতে হবে।

ফজরের ক্ষেত্রে মধ্যরাতের পর আযান দেওয়া সহীহ। আযান পনেরটি বাক্য, যাতে কোনো ‘তারজী’ (শাহাদাতাইন নিচু স্বরে বলার পর পুনরায় উচ্চস্বরে বলা) নেই। আর ইকামত এগারটি বাক্য, যাতে বাক্যগুলো দ্বিত্ব করা হয়নি। তবে আযানে তারজী করা এবং ইকামতের বাক্যগুলো দ্বিত্ব করা বৈধ।

আযানের পর কোনো ওযর ছাড়া অথবা ফিরে আসার নিয়ত ব্যতীত মসজিদ থেকে বের হওয়া হারাম।

নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত দেওয়া সুন্নাত।

* * *

পরিচ্ছেদ

সালাত সহীহ হওয়ার শর্ত ছয়টি:
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৩৬)
طَهارة الحَدَثِ، ودُخولُ الوقت، وسَتْرُ العورَةِ، واجتنابُ النجاسةِ، واستقبال القِبلةِ، والنِّيَّةُ، ومَحَلُّهَا القلبُ، وحَقيقتُها: العزمُ على الشيءِ، ولا تسقط بحالٍ.

وشرطُها الِإسلامُ، والعَقْلُ، والتمييزُ، وزَمَنُها أول العبادة أَوْ قبيلها بيسيرٍ.

وأركان الصَّلَاةِ أَربَعَةَ عشر:

قيامٌ في فَرْضٍ، وتكبيرةُ الإِحرام، وقِراءةُ الفَاتِحَةِ، وركوعٌ، وَرَفْعٌ مِنْهُ، واعتدال، وسجودٌ، ورَفْعٌ مِنْهُ، وجُلُوسٌ بين السَّجْدَتَيْنِ، وطمأنينة في فِعْلٍ، وهي السُّكونُ وإِن قَلَّ، وتَشَهُّدٌ أَخِير، وجُلوس له، وللتَّسْلِيمَتَيْنِ والرُّكْنُ منه: "اللَّهُمَ صَلِّ على مُحمدٍ" بعدما يُجْزئ من التَّشَهُّد الأول، والمجزئ منه: "التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، سلام عَلَيْكَ أَيُّها النَبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، سلام علينا وعلى عبادِ الله الصالِحين، أَشْهَدُ أَنْ لا إِله إِلا اللهُ، وأَنْ مُحمداً رَسُولُ اللَّهِ "، والتَّسْلِيمَتانِ، والترتيبُ.

وواجباتها ثمانية:

تكبيرٌ لغيرِ الِإحرام، وتسميعٌ لِإمام ومنفرد، وتحميدٌ، وتسبيحة أُولى في ركوعٍ وسجودٍ، و "رَبِّ اغفر لي " بَيْنَ السجْدَتينِ للكلِّ، وتَشَهُّدٌ أول، وجَلوسٌ لَهُ.

وسُنَنُها: أقوالٌ وأَفْعَالٌ لا تبطلُ بِتَرْكِ شَيْءٍ مِنْها مُطْلَقاً.

فَسُنَنُ الأقوال إِحدى عَشْرَةَ:

وهي: استفتاحٌ، وتَعَوُّذٌ، وَبَسْمَلَةٌ، وقول: " آمين "، وقراءةُ
হাদাস (অশুচিতা) থেকে পবিত্রতা অর্জন, ওয়াক্ত শুরু হওয়া, সতর ঢাকা, নাপাকি বর্জন করা, কিবলামুখী হওয়া এবং নিয়ত করা; নিয়তের স্থান হলো অন্তর এবং এর হাকিকত বা বাস্তবতা হলো কোনো কিছুর প্রতি সংকল্প করা, আর এটি কোনো অবস্থাতেই রহিত হয় না।

আর নিয়তের শর্তসমূহ হলো ইসলাম, আকল (বিবেক-বুদ্ধি) ও তামিয (ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা), এবং এর সময় হলো ইবাদতের শুরুতে অথবা তার সামান্য আগে।

সালাতের রুকনসমূহ চৌদ্দটি:

ফরয সালাতে দাঁড়িয়ে থাকা, তাকবীরে তাহরিমা, সূরা ফাতিহা পাঠ করা, রুকু করা, রুকু থেকে মাথা উঠানো, সোজা হয়ে দাঁড়ানো (ইতিদাল), সাজদাহ করা, সাজদাহ থেকে মাথা উঠানো, দুই সাজদাহর মাঝে বসা, প্রতিটি রুকন আদায়ের সময় স্থিরতা অবলম্বন করা—আর তা হলো স্থির হওয়া যদিও তা সামান্য সময়ের জন্য হয়, শেষ তাশাহহুদ, তার জন্য বসা, দুই সালামের জন্য বসা; আর এর অন্তর্ভুক্ত রুকন হলো: প্রথম তাশাহহুদের ন্যূনতম পাঠের পর "হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন" বলা। আর তাশাহহুদের ন্যূনতম অংশ হলো: "সমস্ত অভিবাদন আল্লাহর জন্য, হে নবী! আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল", এরপর দুই সালাম এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

সালাতের ওয়াজিবসমূহ আটটি:

তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত অন্য সকল তাকবীর বলা, ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য "আল্লাহ তাঁর প্রশংসা শ্রবণ করেন যে তাঁর প্রশংসা করে" বলা, "হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই সকল প্রশংসা" বলা, রুকু ও সাজদাহয় প্রথমবার তাসবীহ পাঠ করা, দুই সাজদাহর মাঝে সকলের জন্য "হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন" বলা, প্রথম তাশাহহুদ এবং তার জন্য বসা।

সালাতের সুন্নাতসমূহ: এমন কিছু কথা ও কাজ যা ছেড়ে দিলে কোনোভাবেই সালাত বাতিল হয় না।

বাচনিক সুন্নাতসমূহ এগারোটি:

সেগুলো হলো: প্রারম্ভিক দুআ (ইস্তিফতাহ), আউযুবিল্লাহ পাঠ করা, বিসমিল্লাহ পাঠ করা, "আমীন" বলা এবং কিরাত পাঠ করা।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৩৭)
سورةٍ في فجرٍ وجُمْعَةٍ وعيدٍ، وتَطَوُّع، وأولتي مغربٍ ورباعية، وجَهْرُ إِمامٍ بقراءةٍ، وقول غير مأمومٍ بعدَ التَّحميدِ: "مِلْءَ السَّماءِ، ومِلْءَ الأَرْضِ، ومِلْءَ ما شِئْتَ من شيء بعدُ" وما زادَ على مرة في تَسْبِيحٍ، وسؤال المغفرة، ودعاءٌ في تَشَهُّدٍ أخيرٍ، وقنوتٌ في وِتْرٍ.

وسُنَن الأفعال مع الهيئات خَمْسٌ وأَربعون.

ويُكْرَه للمصلي التفاتٌ، وتغميضُ عينيه، ومَسُّ الحصى، ونحو ذلك.

* * *

‌‌فَصْلٌ

يُسَنُّ سُجودُ السَّهْوِ للمصلي
إِذا أتى بقولٍ مشروعٍ في غيرِ محلِّهِ سَهواً، ويُبَاحُ إِذا تَرَكَ مسنوناً، ويَجِبُ إِذا زاد ركوعاً أَوْ سجوداً أَوْ قياماً أَوْ قعوداً.

وتبطلُ الصَّلاة بِتَعَمُّدِ تَرْكِ سُجود السَّهْوِ الواجب الذي مَحَلَّهُ قَبْلَ السَّلام، وإِن نَهَضَ المُصلِّي عَنْ تَرْكِ تَشَهُّدٍ أَوْ ناسياً لَزِمَهُ الرجوع لِيَتَشَهَّد، وكُرِه إِن استَتَمَّ قائِماً، وحَرُم إِن شَرَعَ في القراءةِ، وبَطُلَتْ بالرجوعِ بَعْدَ الشّروعِ في القراءةِ صلاةُ غيرِ ناسٍ وجَاهِلٍ.

وإِن أحْدَثَ أَوْ قهقهَ أوْ تنحْنَحَ بلا حَاجةٍ فَبَانَ حَرْفانِ بَطَلَتْ، لا إِن نامَ فَتَكلَّمَ أَوْ انتَحَبَ خشيةً أَوْ غلبه سُعَالٌ وعطاسٌ أَوْ تثاؤبٌ ونحوه.

ويبني على اليَقينِ وهو الأقَلُّ من شَكَّ في رُكْنٍ أَوْ عدد ركعات، ولا أثرَ للشَكِّ بَعْدَ فَراغِها.
ফজর, জুমুআ, ঈদ, নফল এবং মাগরিব ও চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সুরা মিলানো; ইমামের উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াত করা; মুক্তাদি ব্যতীত অন্য নামাজিদের তাহমিদ (রাব্বানা লাকাল হামদ) এর পর ‘আকাশ পূর্ণ করে, পৃথিবী পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা ইচ্ছা করেন তা পূর্ণ করে’ বলা; তসবিহ পাঠে একবারের অতিরিক্ত বলা; ক্ষমা প্রার্থনা করা; শেষ তাশাহহুদে দোয়া করা এবং বিতর নামাজে কুনুত পড়া।

আর শারীরিক অবস্থা বা ভঙ্গি সংশ্লিষ্ট কার্যাবলির সুন্নতসমূহ পঁয়তাল্লিশটি।

নামাজির জন্য ঘাড় বা মুখ ফিরানো, চোখ বন্ধ করা, পাথর কুচি নাড়াচাড়া করা এবং এই জাতীয় কাজগুলো করা মাকরূহ।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

নামাজির জন্য সিজদায়ে সাহু করা সুন্নত
যখন সে ভুলবশত কোনো শরিয়তসম্মত কথা বা জিকির তার সঠিক স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে আদায় করে। আর যদি কোনো সুন্নাত কাজ বর্জন করে তবে তা (সিজদায়ে সাহু) বৈধ। আর যদি রুকু, সিজদা, কিয়াম কিংবা বৈঠক বৃদ্ধি করে তবে তা ওয়াজিব।

সালামের পূর্বে আদায় করা ওয়াজিব এমন সিজদায়ে সাহু ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করলে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। যদি নামাজি তাশাহহুদ বর্জন করে দাঁড়িয়ে পড়ে কিংবা ভুলে যায় তবে তাশাহহুদ আদায়ের জন্য ফিরে আসা তার জন্য আবশ্যক। যদি সে পুরোপুরি দাঁড়িয়ে যায় তবে ফিরে আসা মাকরূহ। আর যদি কিরাত শুরু করে দেয় তবে ফিরে আসা হারাম। কিরাত শুরু করার পর ফিরে আসলে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে, তবে ভুলকারী ও অজ্ঞ ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।

আর যদি ওজু ভেঙে যায় কিংবা অট্টহাসি দেয় অথবা প্রয়োজন ব্যতীত গলা পরিষ্কার করে এবং তাতে দুটি অক্ষর স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তবে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। তবে ঘুমন্ত অবস্থায় কথা বললে, আল্লাহর ভয়ে রোদন করলে কিংবা কাশি, হাঁচি, হাই তোলা বা এই জাতীয় কিছুর প্রাধান্য ঘটলে নামাজ বাতিল হবে না।

যে ব্যক্তি কোনো রুকন বা রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহে পতিত হয়, সে নিশ্চিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করবে—আর তা হলো সর্বনিম্ন সংখ্যা। আর নামাজ শেষ করার পর সন্দেহের কোনো প্রভাব নেই।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌فَصْلٌ

أَفضلُ تَطَوُّعِ البدنِ بَعْدَ الجِهادِ والعِلْمِ صَلاةُ التطوُّع
، وآكدُهَا كُسوفٌ، فاستسقاءٌ، فتراويحٌ، فوِترٌ، وأقلُّهُ ركعةٌ، وأَكثرُهُ إِحدى عشرة، وأَدْنى الكمال ثَلَاثٌ بِسَلَامَيْنِ، ويَجوزُ بواحدٍ سرداً.

ووقتُهُ مَا بَيْنِ العشاءِ والفَجرِ، ويقْنُتُ فيه بَعْدَ الركُوع نَدْباً فيقول جَهْراً: "اللَهُمَّ إِنا نَسْتَعِينُكُ ونسْتهديكَ ونَسْتَغْفِرُكَ، ونتَوبُ إِليْكَ، ونؤمِنُ بِكَ، ونتَوَكلُ عَليْكَ، ونثني عَلَيْكَ الخَيْرَ كُلَّه، ونَشكُرُكَ ولا نكفُرُكَ، اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، ولكَ نصلي ونَسْجُدُ، وإِليْك نَسْعَى ونَحْفِد، نَرجو رحمتكَ ونخشى عَذَابكَ، إِن عَذَابكَ الجِدَّ بالكفّار مُلْحِقٌ ".

"اللَهُمَّ اهْدِنا فِيمَنْ هَدَيْتَ، وعَافِنَا فيْمَنْ عَافَيْتَ، وتَوَلَّنا فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لنا فِيما أَعْطَيْتَ، وقِنا شَرَّ ما قَضَيْتَ، إِنَّكَ تَقْضِي ولا يقضَى عَلَيْكَ، إنَّهُ لا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، ولا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ، اللهُمَ إِنَا نَعُوُذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِعَفْوِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَبِكَ مِنْكَ لا نُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كما أَثْنَيْتَ على نفْسِكَ ".

ثُمَّ يُصَلِّي على النبي صلى الله عليه وسلم، ويُؤَمِّنُ مَأْمُومٌ، ويُفْرِدُ مُنْفَردٌ الضَّمِيرَ، ثُمَّ يَمْسَحُ وَجْهَهُ بِيَدَيْهِ هنا وخَارِجَ الصلَاةِ.

والرَّواتب المُؤكَّدةُ عَشْرٌ:

رَكعتانِ قَبْلَ الظهْرِ، وَرَكعتانِ بَعْدَها، وَرَكعتانِ بَعْدَ المغْرِبِ،
‌‌অনুচ্ছেদ

জিহাদ ও ইলম অর্জনের পর শরীরের সর্বোত্তম নফল ইবাদত হলো নফল সালাত
, আর এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো সূর্যগ্রহণের সালাত (কুসূফ), অতঃপর বৃষ্টির প্রার্থনার সালাত (ইসতিসকা), অতঃপর তারাবিহ, অতঃপর বিতর। বিতরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো এক রাকাত এবং সর্বোচ্চ এগারো রাকাত। আর পরিপূর্ণতার সর্বনিম্ন স্তর হলো দুই সালামে তিন রাকাত, তবে এক সালামে বিরতিহীনভাবে পড়াও জায়েয।

এর সময় হলো এশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়। এতে রুকুর পরে মুস্তাহাব হিসেবে কুনুত পড়বে এবং উচ্চৈঃস্বরে বলবে: "হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে সাহায্য চাই, আপনার কাছে হেদায়াত চাই, আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, আপনার নিকট তওবা করি, আপনার ওপর ঈমান আনি, আপনার ওপর ভরসা করি এবং আপনার যাবতীয় কল্যাণের প্রশংসা করি। আমরা আপনার শুকরিয়া আদায় করি এবং আপনার সাথে কুফরি করি না। হে আল্লাহ, আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি, আপনার জন্যই সালাত আদায় করি ও সিজদা করি, আপনার দিকেই আমরা ধাবিত হই ও আপনার সেবায় তৎপর থাকি। আমরা আপনার রহমতের আশা করি এবং আপনার আজাবকে ভয় করি। নিশ্চয়ই আপনার সুনিশ্চিত আজাব কাফেরদেরকে পাকড়াওকারী।"

"হে আল্লাহ, আপনি যাদেরকে হেদায়াত দিয়েছেন আমাদেরকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে হেদায়াত দান করুন। আপনি যাদেরকে নিরাপত্তা দান করেছেন আমাদেরকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিরাপত্তা দিন। আপনি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন আমাদেরকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে অভিভাবকত্ব দান করুন। আপনি আমাদের যা দান করেছেন তাতে বরকত দিন। আপনি যে অনিষ্টের ফয়সালা করেছেন তা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ফয়সালা করেন, আপনার বিরুদ্ধে কেউ ফয়সালা করতে পারে না। নিশ্চয়ই সে অপমানিত হয় না যার সাথে আপনি বন্ধুত্ব করেন, আর সে সম্মানিত হয় না যার সাথে আপনি শত্রুতা করেন। হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ। হে আল্লাহ, আমরা আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই, আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই এবং আপনার কাছে আপনারই আশ্রয় চাই। আমরা আপনার প্রশংসার সীমা সংখ্যা দিয়ে নিরূপণ করতে পারব না; আপনি ঠিক তেমনই, যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন।"

অতঃপর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ করবে এবং মুক্তাদি আমিন বলবে। আর একাকী সালাত আদায়কারী (দোয়ার) সর্বনামগুলো একবচনে বলবে। অতঃপর এখানে (সালাতের ভেতরে) এবং সালাতের বাইরেও সে নিজের দুই হাত দিয়ে মুখ মাসাহ করবে।

আর সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (সুন্নতে রাতেবা) হলো দশ রাকাত:

জোহরের আগে দুই রাকাত, জোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত,
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَرَكْعتانِ بَعْدَ العِشَاءِ، وَرَكْعَتانِ قَبْلَ الفَجْرِ، وآكدُها الفجر، ثُمَّ المَغْرِبُ ثُمَّ سواء.

والتراويحُ عشرونَ رَكْعةً برمضان جَماعةً، يُسَلِّمُ مِنْهُ كلّ ثنتين بنيَّة أَوَّل كُلِّ ركعتين، ووقتها بين سنة عشاءٍ وَوِتْر في مسجدٍ، وأَوَّلُ اللَّيل أَفضل، ويُوتِرُ بَعْدها في جَماعةٍ.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

وصَلاةُ الليلِ أَفْضَلُ، والنِّصْفُ الأَخيرُ أَفضلُ مِنَ الأوَّل
، ويُسَنُّ قيامُ اللَّيل، وافتتاحه بركعتين خفيفتين، ونِيته عِنْدَ النَوم، وكثرةُ الركوعِ والسجُود أَفضلُ مِنْ طُولِ القيام.

وتُسَنُّ صَلاةُ الضُّحى غِبًّا، وأَقَلُّهَا رَكعَتان، وأَكثرُها ثَمانٍ، وَوَقْتُها من خُروجِ وَقْتِ النَّهي إِلى قُبَيْلِ الزّوالِ.

وتُسَنُّ تَحِيَّةُ المَسْجِد، وسُنَّةُ الوضوءِ، وإِحياءُ ما بين العشائينِ، وهو منْ قيامِ اللَّيل.

وتُسَنُّ صَلاةُ الاستِخارةِ وَلَوْ في خَيْرٍ، ويُبادرُ به بَعْدَهُ.

وتُسَنُّ صَلاةُ الحاجة إِلى الله تعالى أَوْ إِلى آدمي (1).

وتُسَنُّ صَلاةُ التَّوْبَةِ.

--------------------------------------------

(1) الحديث الوارد في صلاة الحاجة لا يصح؛ فقد أخرجه ابن ماجه (1384) وغيره من حديث عبد الله بن أبي أوفى، وقد أورده ابن الجوزِي في "الموضوعات" (2/ 141).
এবং এশার পর দুই রাকাত, এবং ফজরের পূর্বে দুই রাকাত; আর এগুলোর মধ্যে ফজরের সুন্নাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এরপর মাগরিব, এরপর বাকিগুলো সমান।

আর রমজানে জামাতের সাথে বিশ রাকাত তারাবিহ; প্রতি দুই রাকাতের শুরুতে নিয়ত করে প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফেরাবে। এর সময় হলো মসজিদে এশার সুন্নাত এবং বিতরের মধ্যবর্তী সময়, আর রাতের প্রথম অংশ (আদায় করা) উত্তম, এবং এরপর জামাতের সাথে বিতর পড়বে।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

রাতের সালাত অধিক উত্তম, এবং (রাতের) শেষ অর্ধাংশ প্রথম অর্ধাংশের চেয়ে উত্তম
, আর কিয়ামুল লাইল সুন্নাত; তা দুটি সংক্ষিপ্ত রাকাতের মাধ্যমে শুরু করা, ঘুমানোর সময় তার নিয়ত করা এবং দীর্ঘ কিয়ামের চেয়ে রুকু ও সিজদার আধিক্য অধিক উত্তম।

আর চাশতের সালাত বিরতি দিয়ে (মাঝে মাঝে) আদায় করা সুন্নাত। এর সর্বনিম্ন পরিমাণ দুই রাকাত এবং সর্বোচ্চ আট রাকাত। এর সময় হলো (সালাত) নিষিদ্ধ সময়ের সমাপ্তি থেকে নিয়ে সূর্য ঢলে পড়ার (যাওয়ালের) পূর্ব পর্যন্ত।

আর তাহিয়্যাতুল মাসজিদ, ওযুর সুন্নাত এবং দুই এশার (মাগরিব ও এশা) মধ্যবর্তী সময়কে ইবাদতের মাধ্যমে জীবিত রাখা সুন্নাত; আর এটি কিয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।

আর ইস্তিখারার সালাত সুন্নাত যদিও তা কোনো কল্যাণকর কাজের ক্ষেত্রে হয়, এবং সালাতের পর সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আর মহান আল্লাহ অথবা কোনো মানুষের নিকট প্রয়োজনের (হাজত) সালাত সুন্নাত (১)।

আর তাওবার সালাত সুন্নাত।

--------------------------------------------

(১) হাজতের সালাত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসটি সহিহ নয়; ইবনে মাজাহ (১৩৮৪) এবং অন্যান্যরা এটি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা-র হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল জাওযী এটি "আল-মাউযুআত" (২/১৪১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৪০)
ويُسَنُّ سُجُودُ تِلاوَةٍ مَعَ قصر فصل لقارئٍ ومُسْتَمِع.

ويُسَنُّ سُجُودُ شُكْرٍ عِنْدَ تَجَدُّدِ نِعْمَةٍ أَو اندفاع نِقْمَةٍ.

وأَوقاتُ النَّهْي خَمْسَةٌ:

مِنْ طُلوع فَجْرٍ ثانٍ إِلى طُلوع الشَّمْسِ، ومِنْ صَلاة العَصْر إِلى الغروب، وَعِنْدَ طُلُوعِها إلى ارتفاعِها قَدْرَ رُمْح، وعِنْدَ قِيامِهَا حَتَّى تَزُول، وعِنْدَ غروبها حَتَى يَتِمَّ، فَيَحْرُمُ فيها ابتداءُ نَفْلٍ مُطْلَقاً، لا قضاءُ فرضٍ، وفِعْلُ رَكْعَتَي طوافٍ، وسنَّةُ فَجْرٍ أَدَاءً، وجَنَازَة بَعْدَ فَجْر وعَصْرٍ.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

صَلَاةُ الجماعَة واجِبَةٌ للخَمْسِ المُؤَدَّاةِ على الرِّجَالِ الأحرار
القَادِرينَ ولَوْ سَفَراً، وَلَيْسَتْ شرْطاً، فتَصِحُّ مِنْ مُنْفَرِدٍ ولا يَنْقُصُ أَجْرُهُ مع عُذْرٍ.

وتَنْعَقِدُ باثنين في غَيْرِ جُمُعَةٍ وعيدٍ، ولو بأُنثى أَوْ عَبْدٍ لا بصبيٍّ في فَرْضٍ.

وحَرُم أَنْ يؤُمَّ بِمَسْجِد لَهُ إِمامٌ رَاتِبٌ، فلا تَصِحُّ إِلَاّ مَعَ إِذْنِهِ وعَدَمِ كراهتِهِ، أَوْ تأَخره وضيق الوقت.

وَمَنْ كَبَّرَ قَبْلَ تسليمَةِ الِإمام الأُولى أَدْركَ الجَمَاعَةِ، ومن أَدركَ الركوعَ أَدْرك الركْعَةَ.

وسُنَّ دخولُهُ مع إِمامه كَيْفَ أَدْرَكهُ، وما أَدرك معه آخرها، وما
তিলাওয়াতের সিজদা করা পাঠক ও শ্রোতার জন্য সুন্নাত, যদি উভয়ের মাঝে দীর্ঘ ব্যবধান না ঘটে।

কোনো নতুন নেয়ামত প্রাপ্তি অথবা কোনো বিপদ দূর হওয়ার সময় শুকরিয়ার সিজদা করা সুন্নাত।

নিষিদ্ধ সময় পাঁচটি:

দ্বিতীয় ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত, আসরের সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, সূর্য উদিত হওয়ার সময় থেকে তা এক বর্শা পরিমাণ উঁচু হওয়া পর্যন্ত, সূর্য ঠিক মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় তা ঢলে পড়া পর্যন্ত এবং সূর্যাস্তের সময় থেকে তা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত। এই সময়গুলোতে সাধারণভাবে নফল সালাত শুরু করা হারাম; তবে ফরয সালাতের কাযা আদায় করা, তওয়াফের দুই রাকাত সালাত আদায় করা, ফজরের সুন্নাত আদায় করা এবং ফজর ও আসরের পর জানাযার সালাত আদায় করা হারাম নয়।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

জামাআতে সালাত আদায় করা আযাদ ও সক্ষম পুরুষদের ওপর পাঁচ ওয়াক্তের আদায়ী সালাতের জন্য ওয়াজিব
যদিও তারা সফরে থাকে। তবে জামাআত সালাত সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত নয়; সুতরাং একাকী সালাত আদায় করলেও তা সহীহ হবে এবং ওজর থাকলে তার সওয়াব হ্রাস পাবে না।

জুমুআ ও ঈদ ব্যতীত অন্য সালাতে দুই ব্যক্তির মাধ্যমে জামাআত সম্পন্ন হয়, যদিও তাদের একজন নারী বা ক্রীতদাস হয়; তবে ফরয সালাতের ক্ষেত্রে নাবালকের মাধ্যমে জামাআত হবে না।

নির্ধারিত ইমাম আছে এমন মসজিদে অন্য কারো ইমামতি করা হারাম; সুতরাং তার অনুমতি ও সন্তুষ্টি থাকা ব্যতীত, অথবা তার উপস্থিত হতে বিলম্ব হওয়া এবং সময় সংকীর্ণ হওয়া ছাড়া অন্যের ইমামতিতে সালাত সহীহ হবে না।

যে ব্যক্তি ইমামের প্রথম সালাম ফেরানোর আগে তাকবীরে তাহরীমা বলবে, সে জামাআত পেল। আর যে ব্যক্তি রুকু পেল, সে ওই রাকাতটি পেল।

ইমামকে যে অবস্থায় পাওয়া যায় সে অবস্থাতেই তার সাথে সালাতে প্রবেশ করা সুন্নাত। ইমামের সাথে মুসল্লি যা পেল তা-ই তার সালাতের শেষ অংশ এবং যা...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৪১)
يقضيه أَولها، ويَتَحَمَّلُ عن مأَمومٍ قراءةً، وسجود سهوٍ وتلاوةً، وسترةً ودعاءَ قنوت، وتَشَهُّدٌ أَول إذا سُبِق بِرَكْعَةٍ. والأَوْلى أَن يشرعَ في أَفعالها بعد إِمامٍ، فإِن وافقه فيها وفي سلامٍ كُرِهَ، وإِنْ سبقَهُ حَرُمَ، وإِنْ كَبَّرَ لِإحرام معه أَوْ قَبْلَ إتمامِهِ لم تنعقد، وإِنْ سَلَّمَ قبله عَمْداً بلا عُذْرٍ أَو سَهْواً ولم يُعِدْهُ بعده بَطَلَتْ.

وسُنَّ لِإمام التَّخْفِيفُ مَعَ الِإتمام، وتطويلُ قراءةِ الأُولى عن الثَّانية، وانتظارُ داخل إِنْ لم يشق على مَأمومٍ.

* * *

‌‌فَصْلٌ

الأَولى بالِإمَامةِ
الأَجْوَدُ قراءةً الأَفْقَهُ، ويُقَدَّمُ قارئ لا يعْلَمُ فقه صلاته على فقيه أُمِّيٍّ، ثُمَّ الأَسَنُّ، ثُمَّ الأَشْرفُ، ثُمَّ الأَتقى والأَورع، ثُم يُقْرعُ، وصَاحِبُ البيت وإِمامُ المسجد ولو عَبْداً أَحَقُّ إِلَاّ مِنْ ذي سلطانٍ فيها، وَحُرٌّ أَولى من عَبْدٍ ومُبَعَّضٍ، ومُبَعَّضٌ أَولى مِنْ عَبْدٍ، وحَاضِرٌ، وبَصير، وحَضَرِيٌّ، ومتوضِّئ، ومستعير، ومستأْجِرٌ، أَولى من ضدِّهم.

ولا تَصِحُّ إِمامة فَاسِقٍ مُطْلَقاً إِلا في جمعةٍ وعيدٍ تَعَذُّراً خَلْفَ غيره.

وتَصِح خلفَ أَعمى أَصحّ، وأَقْلَفَ، وأَقْطَع يَدين، أَوْ رجلينِ أَوْ أَنْفٍ، وكثيرِ لَحنٍ لَمْ يخل المعنى، لا خلفَ أَخرسَ وكافِرٍ، ولا إِمامةُ عاجِزٍ عن شَرْطٍ أَوْ رُكْنٍ إِلا بمثلِهِ إِلَاّ الِإمامَ الراتب بمسجدٍ
তিনি (মাসবূক) তার নামাজের প্রথমাংশ পূর্ণ করবেন। আর ইমাম মুক্তাদির পক্ষ থেকে কিরাত, সাহু সিজদা, তিলাওয়াত সিজদা, সুতরাহ, কুনূতের দুআ এবং প্রথম তাশাহহুদ বহন করেন (অর্থাৎ মুক্তাদির এগুলো করার প্রয়োজন হয় না) যদি মুক্তাদি এক রাকাত পরে নামাজে শরীক হয়। নামাজের কাজগুলো ইমামের পরে শুরু করা উত্তম। যদি কেউ এগুলোতে এবং সালামে ইমামের সাথে এক হয়ে যায় তবে তা মাকরূহ, আর যদি ইমামের আগে করে ফেলে তবে তা হারাম। যদি সে ইমামের সাথেই ইহরামের তাকবীর বলে অথবা ইমামের তাকবীর শেষ হওয়ার আগে বলে, তবে তার নামাজ সংগঠিত হবে না। আর যদি ইমামের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ওজর ছাড়া সালাম ফেরায়, অথবা ভুলবশত সালাম ফেরায় এবং ইমামের পর তা পুনরায় না করে, তবে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে।

ইমামের জন্য সুন্নাত হলো পূর্ণাঙ্গতার সাথে নামাজ সংক্ষেপ করা, দ্বিতীয় রাকাতের চেয়ে প্রথম রাকাতের কিরাত দীর্ঘ করা এবং (রুকুতে) প্রবেশকারীর জন্য অপেক্ষা করা যদি তা মুক্তাদির জন্য কষ্টকর না হয়।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

ইমামতির জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হলেন
যিনি কিরাতে অধিক পারদর্শী ও অধিক ফিকহবিদ। এমন একজন ক্বারী যিনি তার নামাজের ফিকহ বা মাসআলা জানেন না, তাকে একজন নিরক্ষর ফকীহর ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে। অতঃপর যিনি বয়সে বড়, তারপর যিনি বংশীয়ভাবে অধিক মর্যাদাবান, এরপর যিনি অধিক মুত্তাকী ও পরহেজগার। এরপর লটারি করা হবে। গৃহকর্তা এবং মসজিদের নিয়মিত ইমাম—যদিও তিনি দাস হন—অন্যদের তুলনায় অধিক হকদার, তবে শাসক উপস্থিত থাকলে তাঁর বিষয়টি ভিন্ন। দাসের চেয়ে স্বাধীন ব্যক্তি এবং আংশিক মুক্ত দাস ইমামতির জন্য অধিক যোগ্য; আবার আংশিক মুক্ত দাসের মর্যাদা পূর্ণ দাসের চেয়ে বেশি। অনুরূপভাবে মুসাফিরের বিপরীতে মুকীম, অন্ধের বিপরীতে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন, গ্রাম্য ব্যক্তির বিপরীতে শহুরে ব্যক্তি, তায়াম্মুমকারীর বিপরীতে ওযুকারী এবং কোনো গৃহের ঋণ গ্রহণকারী বা ভাড়াটিয়া ব্যক্তি তাদের বিপরীত অবস্থা সম্পন্ন ব্যক্তিদের চেয়ে অধিক যোগ্য।

ফাসেক ব্যক্তির ইমামতি সাধারণভাবে সহীহ নয়; তবে জুমুআ ও ঈদের নামাজে যদি অন্য কারও পেছনে নামাজ পড়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে তার পেছনে পড়া যাবে।

সুস্থ অন্ধ ব্যক্তি, খাতনা না করা ব্যক্তি, দুই হাত বা দুই পা অথবা নাক কাটা ব্যক্তি এবং কিরাতে অধিক ভুলকারী—যার ভুল অর্থের পরিবর্তন ঘটায় না—এমন ব্যক্তির পেছনে নামাজ পড়া সহীহ। তবে বোবা এবং কাফিরের পেছনে নামাজ সহীহ নয়। একইভাবে নামাজের কোনো শর্ত বা রুকন পালনে অক্ষম ব্যক্তির ইমামতি তার সমপর্যায়ের ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো জন্য সহীহ নয়; তবে মসজিদের নিয়মিত ইমামের বিষয়টি স্বতন্ত্র।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৪২)
المرجوُّ زوالُ علتِهِ فيصلي جالساً، ويجلسون خلفه، وتَصِحُّ قياماً، ولا إِمامةُ امرأَةٍ وخنثى لرجال أَوْ خناثى، ولا مُمَيَّزٍ لِبَالِغٍ في فَرْضٍ، ولا إِمامةُ مُحْدِثٍ أَوْ نَجِسٍ يعلم ذلك؛ فإِن جهل هو ومأْمومٍ حَتَّى انقضتْ صحت لمأَموم، ولا إِمامة أُمِّيٍّ، وهو من لا يُحْسِنُ الفاتحةَ أَوْ يُدْغِمُ فيها ما لا يُدْغَمُ، أَوْ يَلْحَنُ لحناً يُحِيلُ المعنى عَجْزاً عن إِصلاحِهِ إلَاّ بمثلِهِ.

وسُنَّ وقوفُ جَماعةٍ مُتَقَدِّماً عليهم، فإِن تَقَدَّمَهُ مَأْمومٌ ولو بإِحرام لَمْ تَصِحَّ صلاتُهُ، والاعتبار بمؤخر قدم، ويقف الواحد أَوْ الخُنْثَى عن يمينه وجوباً، والمرأَة خلفه ندْباً، ويجوز عن يمينه، ومَنْ صَلَّى عن يسارِه مع خلو يمينه، أَوْ ركعة مُنْفرداً لم تَصِحَّ صلاته، وإِذا جَمَعَهُما مَسْجِدٌ صَحَّت القدوةُ مُطْلَقاً بشرطِ العِلْم بانتقالاتِ الِإمام، وإِنْ لَمْ يجمعهُما شرط رُؤيَة الِإمام أَوْ مَنْ وراءَهُ ولَوْ في بَعْضِها.

وكُرِهَ عُلُوُّ إِمامٍ على مأَمومٍ ذِراعاً فأَكْثَرَ لا عَكْسُهُ.

وكُرِهَ حضور مَسْجِدٍ وجَمَاعَةٍ لمن أَكَلَ بَصَلاً أَوْ فِجْلاً ونحوه حَتَّى يذهب ريحه.

* * *

‌‌فَصْلٌ

يُعْذَرُ بِتَرْكِ جُمُعَةٍ وجَمَاعَةٍ مَرِيضٌ
، وخائِفٌ حدوثَ مَرَضٍ ليسا بالمسجِدِ، ومَنْ يدافِعُ أَحَدَ الأَخبثينِ، ومَنْ بِحَضْرَة طَعَامٍ يُحتَاجُ إِليْهِ، وله الشبعُ، أَوْ له ضائعُ يرجوه، أَوْ يخاف ضياعَ ماله أَو ضرراً فيه
যার রোগমুক্তির আশা করা যায়, তিনি (ইমাম) বসে সালাত আদায় করবেন এবং তাঁরা (মুক্তাদিরা) তাঁর পেছনে বসে সালাত আদায় করবেন, তবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেও তা সহীহ হবে। পুরুষ অথবা হিজড়াদের জন্য নারী কিংবা হিজড়ার ইমামতি বৈধ নয়। ফরজ সালাতে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য মুমায়্যিয (বিবেচনাবোধ সম্পন্ন শিশু) বালকের ইমামতি বৈধ নয়। অপবিত্র কিংবা নাপাক ব্যক্তি জেনে-বুঝে ইমামতি করলে তা বৈধ নয়; তবে ইমাম ও মুক্তাদি যদি বিষয়টি না জানেন এবং সালাত শেষ হয়ে যায়, তবে মুক্তাদির সালাত সহীহ হবে। উম্মীর ইমামতি বৈধ নয়; উম্মীর পরিচয় হলো সেই ব্যক্তি যে সূরা ফাতিহা উত্তমরূপে পাঠ করতে পারে না, কিংবা তাতে এমন বর্ণকে ইদগাম (সন্ধি) করে যা করার নিয়ম নেই, অথবা এমন অশুদ্ধ পাঠ করে যা অর্থ পরিবর্তন করে দেয় এবং তা সংশোধন করতে সে অক্ষম—তবে তার মতো অন্য ব্যক্তির জন্য তার ইমামতি বৈধ হবে।

জামাতের ক্ষেত্রে ইমাম মুক্তাদিদের সামনে দাঁড়ানো সুন্নাত। যদি কোনো মুক্তাদি ইমামের অগ্রবর্তী হয়ে যায়, এমনকি ইহরাম বাঁধার সময়ও হয়, তবে তার সালাত সহীহ হবে না। এক্ষেত্রে পায়ের গোড়ালিই অগ্রবর্তী হওয়ার মাপকাঠি। একজন পুরুষ কিংবা হিজড়া ওয়াজিব হিসেবে ইমামের ডান পাশে দাঁড়াবে। নারী মুস্তাহাব হিসেবে ইমামের পেছনে দাঁড়াবে, তবে ডানে দাঁড়ানোও জায়েজ। যদি কেউ ডানে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও বাম পাশে সালাত আদায় করে, কিংবা একা এক রাকাত সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত সহীহ হবে না। যদি ইমাম ও মুক্তাদি একই মসজিদে অবস্থান করেন, তবে ইমামের রুকন পরিবর্তনের কথা জানতে পারার শর্তে অনুসরণ করা সাধারণভাবে সহীহ হবে। আর যদি তারা একই স্থানে না থাকেন, তবে ইমামকে বা তাঁর পেছনের কাউকে দেখার শর্ত থাকবে, এমনকি তা সালাতের কিয়দাংশ সময় হলেও।

মুক্তাদির চেয়ে এক হাত বা তার বেশি উঁচুতে ইমামের দাঁড়ানো মাকরূহ, তবে এর বিপরীতটা (মুক্তাদি উপরে হওয়া) মাকরূহ নয়।

পেঁয়াজ, মুলা বা এই জাতীয় কিছু ভক্ষণকারীর জন্য তার গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে এবং জামাতে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য জুমুআ ও জামাত ত্যাগ করা ওজর হিসেবে গণ্য হবে
, তেমনি এমন ব্যক্তির জন্য যে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা করছে—যদি তারা মসজিদে না থাকে। এ ছাড়া যে ব্যক্তি মল-মূত্র ত্যাগের বেগ অনুভব করছে, যার সামনে প্রয়োজনীয় খাবার উপস্থিত এবং তা পেট ভরে খাওয়ার সুযোগ রয়েছে, অথবা যার কোনো সম্পদ হারিয়ে গেছে যা সে ফিরে পাওয়ার আশা করে, কিংবা যে তার ধন-সম্পদ নষ্ট হওয়া বা তাতে ক্ষতির আশঙ্কা করে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৪৩)
أَوْ في معيشة يحتاجها، أَوْ موتَ قريبِهِ أَوْ رفيقِهِ، أَوْ ضرراً مِنْ سلطان أَو مطر ونحوه، أَوْ مُلَازَمَةَ غَرِيْمٍ له ولا شَيْءَ معه، أَو فَوْتَ رُفْقَةٍ ونحو ذلك.

* * *

فَصْلٌ

يَلْزمُ المريضَ أَن يُصَلِّي قَائِماً، ولو كراكع مُعْتَمِداً أَوْ مستنداً بآجُرَّةٍ يقدر عليها، فإِن لَمْ يستطع فقاعِداً مُتَرَبِّعًا ندباً، وكَيْفَ قَعَدَ جَازَ، فإِن لَمْ يستطع فعلى جنبه، والأَيْمَنُ أَفْضَلُ، ويُومئ بركوع وسجودٍ عاجزٍ عنهما ما أَمكنَهُ، ويجعل السجودَ أَخفضَ، فإِن عجز أَوْمَأَ بطرفِهِ مستَحْضراً الفعلَ بقلبِهِ، وكذا القولُ إِن عَجَزَ عنه بِلِسَانِهِ.

ولا تَسْقُطُ ما دام العقلُ ثابِتاً، فإِن قَدَرَ على قيامٍ أَوْ قعودٍ في أَثنائها انتقل إِليه وأَتمَّها.

ولا تَصِحُّ مكتوبةٌ في سفينة قَاعِداً لقادرٍ على قيام، تَصِحُّ على راحلةٍ واقفةٍ أَوْ سائِرةٍ لِتَأَذٍّ بوحلٍ ومطر ونحوه، أَوْ لخوفِ انقطاع عن رُفْقَةٍ، أَوْ خوف على نفسه من نحو عدوٍ، أَوْ عَجْزِه عن ركوبٍ إِن نَزَلَ، وعليه الاستقبالُ وما يّقْدِرُ عليه، ويعتبر المقرُّ للأَعضاءِ السجودَ، فلو وَضَعَ جبهته على قُطْنٍ منفوشٍ أَوْ صلى في أرجوحته ولا ضرورة لَمْ تصحَّ.

* * *

فَصْلٌ

يُسَنُّ قَصْرُ الصَّلاةِ الرُّباعية لِمَن نوى سفراً مباحاً، ولو لنزهة
অথবা তার প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা হলে, অথবা তার কোনো নিকটাত্মীয় বা সঙ্গীর মৃত্যুতে, অথবা শাসকের পক্ষ থেকে কোনো ক্ষতি বা বৃষ্টি ও তদ্রূপ কিছুর আশঙ্কায়, অথবা কোনো পাওনাদারের পিছু লেগে থাকা অথচ তার কাছে পরিশোধের মতো কিছু না থাকা, অথবা সফরসঙ্গী বা কাফেলা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং এই জাতীয় কারণে (জামাতে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকা বৈধ)।

* * *

পরিচ্ছেদ

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া আবশ্যক, যদিও তা কোনো কিছুর ওপর ভর দিয়ে বা সম্ভব হলে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে রুকূকারীর ন্যায় নুয়ে পড়ে হয়। যদি সে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে সক্ষম না হয়, তবে বসে নামাজ পড়বে—মুস্তাহাব হলো পালথি গেঁথে বসা, তবে যেভাবে বসবে তা-ই জায়েজ। যদি সে বসে নামাজ পড়তে সক্ষম না হয়, তবে কাত হয়ে শোবে, আর ডান কাতে শোয়া উত্তম। রুকূ ও সিজদাহ করতে অক্ষম হলে যতটুকু সম্ভব ইশারা করবে এবং সিজদাহর ইশারাকে রুকূর চেয়ে অধিক নিচু করবে। যদি সে (অঙ্গ দিয়ে ইশারা করতেও) অক্ষম হয়, তবে চোখ দিয়ে ইশারা করবে এবং অন্তরে নামাজের কার্যাবলি কল্পনা করবে। অনুরূপভাবে যদি সে জিহ্বা দিয়ে পড়তে (তাসবিহ-কিরাত) অক্ষম হয়, তবে তাও অন্তরে পাঠ করবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত জ্ঞান স্থির থাকবে ততক্ষণ নামাজ মাফ হবে না। যদি নামাজের মাঝখানে দাঁড়াতে বা বসতে সক্ষম হয়, তবে সে অবস্থায় স্থানান্তরিত হবে এবং নামাজ পূর্ণ করবে।

দাঁড়াতে সক্ষম ব্যক্তির জন্য নৌযানে বসে ফরজ নামাজ পড়া সহিহ হবে না। দাঁড়িয়ে থাকা বা চলন্ত সওয়ারির ওপর নামাজ পড়া সহিহ হবে যদি কাদা, বৃষ্টি বা তদ্রূপ কোনো কারণে কষ্ট হয়, অথবা কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় থাকে, অথবা শত্রুর পক্ষ থেকে নিজের প্রাণের ভয় থাকে, অথবা সওয়ারি থেকে নামলে পুনরায় আরোহণ করতে অক্ষম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমতাবস্থায় কিবলার দিকে মুখ করা এবং যা যা করতে সে সক্ষম তা পালন করা আবশ্যক। সিজদার অঙ্গসমূহের জন্য স্থির আধার বা ভিত্তি থাকা আবশ্যক; অতএব যদি সে ধুনিত তুলার ওপর কপাল রাখে কিংবা কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়াই দোলনায় নামাজ পড়ে, তবে তা সহিহ হবে না।

* * *

পরিচ্ছেদ

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ কসর করা সুন্নাত এমন ব্যক্তির জন্য যে বৈধ সফরের নিয়ত করেছে, যদিও তা কেবল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে হয়।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৪৪)
أَوْ فُرْجَة لمحل مُعَيَّنٍ يبلُغُ ستة عشر فَرْسخاً بَرّاً وبَحْراً، وهي يَوْمانِ قَاصدانِ إِذا فارقَ بيوت قريتِهِ العَامرةِ أَو خيام قومِهِ.

ولا يُكْرَهُ إِتمامٌ، والقَصْرُ أَفضل، ولا يُعيدُ مَنْ قَصَرَ ثُمَّ رَجَعَ قبل استكمالِ المسافة. ومَنْ نَوى إِقامةً مُطْلقةً بمَوْضعٍ، أَوْ أَكثر مِنْ أَربعة أَيامٍ، أَوْ ائْتَمَّ بمقيم، أَتَمَّ، وإِنْ حُبِسَ ظُلْماً أَوْ بِمَطَرٍ أَوْ أَقام لحاجةٍ بلا نيَّة إِقامةٍ فَوْق أَربعةِ أَيام، ولا يدري متى تنقضي، قَصَرَ أَبَداً.

* * *

‌‌فَصْلٌ

يُبَاحُ جَمْعٌ بين ظُهْرٍ وعَصْرٍ وعشائين بوقتِ إِحداهُما
، وتَرْكُهُ أَفْضَلُ غير جمعي عرفة ومزدلفة فَيُسَنُّ.

ويُجْمَعُ في ثمان حالاتٍ:

بِسَفَرِ قصْرٍ، ومريض يَلْحقُهُ بتركِهِ مشقّةٌ، ومرضع لمشقّةِ كثْرة نَجَاسَةٍ، ومُسْتَحَاضَة ونحوها، وعاجز عن طهارةٍ أَو تيَمُّمٍ لِكُلِّ صَلاةٍ أَوْ عن مَعرفةِ وقتٍ كأَعمى ونحوه، أَوْ لعُذْرٍ أَوْ شُغْلٍ يُبيحُ تَرْكَ جُمُعَةٍ وجَماعةٍ.

ويَخْتَصُّ بجواز جَمْعِ العِشائَيْنِ، -ولو صلَّى ببيتِهِ- ثلجٌ وبَرَدٌ وجَليدٌ، وَوَحلٌ وريحٌ شَدِيدةٌ بَارِدَةٌ، ومَطَرٌ يبُلُّ الثيابَ، وتُوجَدُ مَعَهُ مَشَقةٌ.

والأَفْضَلُ فِعْلُ الأَرْفَق مِنْ تَقْديم جَمْعٍ أَو تأَخيرِهِ؛ فإِنِ استويا فتأَخيرٌ أَفْضَلُ.
বা কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে (দূরত্ব), যা স্থলপথ বা জলপথে ষোল ফারসাখ পর্যন্ত পৌঁছায়; আর তা হলো তার জনবসতিপূর্ণ গ্রামের ঘরবাড়ি অথবা তার কওমের তাঁবুসমূহ অতিক্রম করার পর থেকে দুই দিনের সাধারণ পথযাত্রা।

সালাত পূর্ণ করা মাকরুহ নয়, তবে কসর করা উত্তম। আর যে ব্যক্তি কসর করার পর সফর পূর্ণ করার আগেই ফিরে আসল, তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে না। যে ব্যক্তি কোনো স্থানে নিঃশর্তভাবে অবস্থানের নিয়ত করল, অথবা চার দিনের বেশি অবস্থানের নিয়ত করল, অথবা কোনো মুকিম ইমামের ইক্তিদা করল, সে পূর্ণ সালাত আদায় করবে। আর যদি কেউ অন্যায়ভাবে বন্দি হয়, অথবা বৃষ্টির কারণে আটকে যায়, কিংবা কোনো প্রয়োজনে চার দিনের বেশি অবস্থানের নিয়ত ছাড়াই অবস্থান করে এবং সে জানে না যে কাজ কখন শেষ হবে, তবে সে সর্বদা কসর করবে।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা—এই দুই ওয়াক্তের সালাতকে তাদের যেকোনো একটির ওয়াক্তে একত্রে আদায় করা বৈধ
, তবে আরাফাহ ও মুজদালিফার দুই জমা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে জমা বর্জন করাই উত্তম; আরাফাহ ও মুজদালিফায় জমা করা সুন্নাত।

আটটি অবস্থায় সালাত জমা করা যায়:

কসরের সফরে; এমন অসুস্থ ব্যক্তি যার জন্য জমা না করলে কষ্ট হয়; স্তন্যদাত্রী নারী যার জন্য অধিক অপবিত্রতার কারণে কষ্ট হয়; ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী ও অনুরূপ ব্যক্তি; যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের জন্য পবিত্রতা অর্জন বা তায়াম্মুম করতে অক্ষম, অথবা ওয়াক্ত চেনার ব্যাপারে অক্ষম যেমন অন্ধ ও অনুরূপ ব্যক্তি; কিংবা এমন কোনো ওজর বা ব্যস্ততার কারণে যা জুমুআ ও জামাআত বর্জন করা বৈধ করে।

মাগরিব ও ইশা জমা করার বৈধতা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট—এমনকি যদি সে বাড়িতেও সালাত আদায় করে—তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি, বরফ, কাদা, তীব্র ঠান্ডা বাতাস এবং এমন বৃষ্টি যা কাপড় ভিজিয়ে দেয় এবং যার সাথে কষ্ট বিদ্যমান থাকে।

জমায়ে তাকদিম (আগে জমা করা) বা জমায়ে তাখির (দেরিতে জমা করা)—এই দুইয়ের মধ্যে যা বেশি সহজতর তা করাই উত্তম; যদি উভয়টি সমান হয়, তবে জমায়ে তাখির করাই উত্তম।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৪৫)
ويُشْتَرَطُ له تَرتيبٌ مُطْلَقاً، وَلِجَمْعٍ بِوَقْتِ أُولى نِيَةٌ عند إِحرامِهَا، وأَن لا يُفَرِّق بينهما إِلا بقدرِ إِقامةٍ ووضوء خفيف، فيبطلُ براتبة بينهما، ووجودُ العذر عند افتتاحِهما، وسلام الأُولى، واستمراره في غير جَمْع مَطَرٍ ونحوه إِلى فَراغِ الثانية، فَلَوْ أَحْرَمَ بالأُولى لِمَطَرٍ ثُمَّ انقَطَعَ فلم يعُد، فإِن حصل وحل لَمْ يبطل وإِلَاّ بطل، وإِن انقطع سفر بأُولى بطل الجمعُ والقصرُ فيتمها، وتَصِحُّ فَرْضاً، وبثانية بَطلا، ويتمها نَفْلاً.

ويشترط لِجمْعٍ بوقت ثانيةٍ نِيَّتُهُ بوقت أُولى مَا لَمْ يَضِق عن فِعْلِها، وبقاءُ عذرٍ إِلى دخولِ وقت الثانية لا غير.

ولا يشترطُ لصحةٍ اتحادُ إِمامٍ ومأْمُومٍ، فَلَوْ صلاهما خَلْفَ إِمامين، أَوْ خَلْفَ مَنْ لَمْ يَجْمَعْ، أَوْ إِحداهما مُنفَرِداً والأُخرى جَماعةً أَو بمأَمومِ الأولى وبآخر الثانية، أَو بمن لَمْ يَجْمَع، صَحَّ.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

تَصِحَّ صلاةُ الخَوفِ بِقتَالٍ مُبَاحٍ
، ولو حضراً مع خَوْف هَجْمِ العدوِّ على ستة أَوجهٍ، وإِذا اشتدَّ الخوفُ صلوا رجالاً ورُكباناً للقبلةِ وغيرها، ولا يَلْزمُ افتتاحها إِليها، ولو أَمكنَ يؤمنون طاقَتَهُمْ، ولِمُصَلٍّ كَرٌّ وَفَرٌّ لِمَصْلَحَةٍ، ولا تَبْطُلُ بِطُولهِ.

وسُنَّ لَهُ فيها حَمْلُ ما يَدْفَعُ به عن نفسه ولا يُثْقِلُهُ كسيفٍ وسكينٍ، وجَازَ لحاجة حمل نَجَسٍ، ولا يعيدُ.
আর এর জন্য শর্ত হলো নিঃশর্তভাবে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। প্রথম ওয়াক্তে দুই সালাত একত্রে পড়ার ক্ষেত্রে শর্ত হলো প্রথমটি শুরু করার সময় একত্রে পড়ার নিয়ত করা এবং উভয়ের মাঝে ইকামত ও সংক্ষিপ্ত অজুর সময় ছাড়া অন্য কোনো দীর্ঘ বিরতি না দেওয়া। সুতরাং উভয়ের মাঝে কোনো সুন্নতে রাতেবা পড়লে তা বাতিল হয়ে যাবে। এছাড়া উভয় সালাত শুরু করার সময় এবং প্রথমটির সালাম ফিরানোর সময় ওজর বিদ্যমান থাকা শর্ত। আর বৃষ্টি বা অনুরূপ কারণে জম করা ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত ওজর অব্যাহত থাকা শর্ত। সুতরাং যদি বৃষ্টির কারণে প্রথম সালাত শুরু করার পর বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায় এবং আর না ফেরে, তবে যদি কাদা ও পিচ্ছিলতা বিদ্যমান থাকে তবে তা বাতিল হবে না, অন্যথায় বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি প্রথম সালাতের সময় সফর শেষ হয়ে যায়, তবে একত্রে পড়া (জম) ও কসর উভয়ই বাতিল হয়ে যাবে; এমতাবস্থায় সালাত পূর্ণ করতে হবে এবং তা ফরজ হিসেবে সহিহ হবে। আর যদি দ্বিতীয় সালাতের সময় সফর শেষ হয়, তবে উভয়টি বাতিল হবে এবং তা নফল হিসেবে পূর্ণ করবে।

দ্বিতীয় ওয়াক্তে একত্রে পড়ার ক্ষেত্রে শর্ত হলো প্রথমটির ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই তা (পরবর্তীতে পড়ার) নিয়ত করা এবং দ্বিতীয় ওয়াক্ত প্রবেশ করা পর্যন্ত ওজর অব্যাহত থাকা; এর অতিরিক্ত কিছু শর্ত নয়।

আর (জম) সহিহ হওয়ার জন্য ইমাম ও মুক্তাদি অভিন্ন হওয়া শর্ত নয়। সুতরাং যদি দুই সালাত দুইজন ভিন্ন ইমামের পেছনে পড়ে, অথবা এমন ব্যক্তির পেছনে পড়ে যে একত্রে পড়ছে না, অথবা একটি একা এবং অন্যটি জামাতের সাথে পড়ে, অথবা প্রথমটি এক মুক্তাদির সাথে এবং দ্বিতীয়টি অন্য মুক্তাদির সাথে পড়ে, অথবা এমন ব্যক্তির সাথে পড়ে যে একত্রে পড়ছে না, তবে তা সহিহ হবে।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

বৈধ যুদ্ধের কারণে ভয়ের সালাত আদায় করা সহিহ
, এমনকি শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কার কারণে আবাসস্থলে থাকা অবস্থায়ও তা ছয়টি পদ্ধতিতে আদায় করা যায়। আর যখন ভয় তীব্রতর হবে, তখন তারা হেঁটে কিংবা আরোহী অবস্থায় কিবলার দিকে মুখ করে অথবা অন্য কোনো দিকে মুখ করে সালাত পড়বে। এক্ষেত্রে সালাত শুরু করার সময় কিবলামুখী হওয়া আবশ্যক নয়। আর সম্ভব হলে তারা সামর্থ্য অনুযায়ী ইশারার মাধ্যমে সালাত আদায় করবে। সালাতরত ব্যক্তির জন্য রণকৌশলগত প্রয়োজনে আক্রমণ ও পশ্চাদপসরণ করা বৈধ এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা করলেও সালাত বাতিল হবে না।

সালাতের মধ্যে আত্মরক্ষার জন্য ভারী নয় এমন অস্ত্র যেমন তলোয়ার ও ছুরি বহন করা সুন্নাত। আর প্রয়োজনে নাপাক বস্তু বহন করা জায়েজ এবং এতে সালাত পুনরায় পড়তে হবে না।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌فَصْل

تَجِبُ الجُمُعَةُ على كُلِّ مُسْلِم مُكَلَّف
ذَكرٍ حُرٍّ مُستوطِن ببناءٍ ولو مِنْ قَصَبٍ، وعلى مُسَافِرٍ لا يُباح له، وعلى مقيم خارج البلد إِذا كان بينَه وبين موضعها مِنَ المنارة نَصّاً فرسخ فأَقَلُّ.

ولا تَجِبُ على مَنْ يباح له القصر ولا عَبْدٍ ولا مُبَعَّضٍ ولا امرأَةٍ ولا خنثى، ومَنْ حَضَرَهَا أَجزأَته، ولَمْ تنعقد بِهِ، فلا يُحْسَبُ هو ولا مَنْ ليس مِنْ أَهلِ البلدِ مِن الأربعين، ولا تصِحُّ إِمامتهُم فيها.

وشُرِطَ لصحتها أَربعة شُروطٍ - ليس منها إِذن الِإمامِ -:

أَحدها: الوقْتُ، وهو مِنْ أَولِ وقتِ العيد إِلى آخِرِ وَقْتِ الظُّهْرِ، وتلْزَمُ بزوالٍ وبَعْدَه أَفضل.

الثاني: استيطان أَربعينَ ولو بالِإمامِ.

الثالِثُ: حضورهم، ولو كان فيهم خُرْسٌ أَوْ صُمٌ لا كلهم، فإِنْ نقصوا قبل إِتمامها استأَنفوا ظُهْراً.

الرابعُ: تقدم خُطبتين بَدَلَ ركعتينِ مِنْ شرطهما خمسةُ أَشياءٍ:

الوقتُ، والنَيَّةُ، ووقوعهما حَضَراً، وحُضُورُ الأربعين، وأَن يكونَ مِمن تَصِحُّ إِمامتُهُ فيها.

وأَرْكَانُهُما سِتَّةٌ:

حمدُ اللَّهِ، والصَّلاةُ على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقراءةُ آية مِنْ كتاب
পরিচ্ছেদ

জুমুআ প্রত্যেক মুকাল্লাফ মুসলিমের ওপর ওয়াজিব
পুরুষ, স্বাধীন এবং স্থায়ী দালানকোঠায় বসবাসকারীর ওপর—যদিও তা নলখাগড়ার তৈরি হয়; এবং এমন মুসাফিরের ওপর যার জন্য কসর বৈধ নয়, এবং জনপদের বাইরে বসবাসকারীর ওপর; যদি তার এবং জুমুআর স্থানের মিনারার মধ্যবর্তী দূরত্ব সুস্পষ্টভাবে এক ফরসাখ বা তার কম হয়।

আর যার জন্য কসর করা বৈধ তার ওপর এবং দাস, আংশিক স্বাধীন দাস, নারী ও হিজড়ার ওপর জুমুআ ওয়াজিব নয়। এদের মধ্যে যে জুমুআয় উপস্থিত হবে, তা তার পক্ষ থেকে (যোহরের বদলে) যথেষ্ট হবে, তবে তার মাধ্যমে জুমুআ সংঘটিত হবে না। সুতরাং তাকে কিংবা যে এই জনপদের স্থায়ী অধিবাসী নয়, তাকে চল্লিশ জনের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হবে না এবং জুমুআয় এদের ইমামতিও সহীহ হবে না।

জুমুআ সহীহ হওয়ার জন্য চারটি শর্ত রয়েছে—শাসকের অনুমতি এর অন্তর্ভুক্ত নয়—:

প্রথমটি: সময়। আর তা হলো ঈদের সময়ের শুরু থেকে যোহরের সময়ের শেষ পর্যন্ত। সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সাথে তা অত্যাবশ্যক হয়ে যায় এবং এরপর আদায় করা উত্তম।

দ্বিতীয়টি: ইমামসহ চল্লিশ জন স্থায়ী বাসিন্দার উপস্থিতি।

তৃতীয়টি: তাদের উপস্থিত থাকা, যদিও তাদের মধ্যে কিছু বোবা বা বধির থাকে—তবে সবাই নয়। যদি জুমুআ পূর্ণ হওয়ার আগে তাদের সংখ্যা কমে যায়, তবে তারা নতুন করে যোহর আদায় করবে।

চতুর্থটি: দুই রাকাতের পরিবর্তে আগে দুটি খুতবা প্রদান করা। খুতবা দুটির জন্য পাঁচটি বিষয় শর্ত:

সময়, নিয়ত, মুকিম অবস্থায় খুতবা দুটি প্রদান করা, চল্লিশ জনের উপস্থিতি এবং খতিব এমন ব্যক্তি হওয়া যার ইমামতি জুমুআয় সহীহ।

আর খুতবা দুটির রোকন হলো ছয়টি:

আল্লাহর প্রশংসা করা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা এবং আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত পাঠ করা।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৪৭)
الله، والوصيةُ بِتَقْوى الله، وموالاتُهُما مَعَ الصَّلاة، والجهر بحيث يسمعُ العددُ المُعْتَبر حيثُ لا مانع.

ويُبْطِلُهَا كلامٌ مُحَرَّمٌ، ولو يسيراً، وهي بغيرِ العربيةِ كقراءة، فلا تَصِحُّ إِلا مع العجزِ غَيْرَ القراءةِ.

وتُسَنُّ على مِنْبَرٍ أَوْ مَوْضِعٍ عَالٍ، وأَن يخْطُبَ قائماً مُعْتَمِداً على سَيْفٍ أَو عصا، وقَصْرهما، والثانية أَقْصَرُ، ورفعُ الصَّوْتِ بهما (1) حَسَبَ الطَاقةِ، والدُّعَاءُ للمسلمين، ويُباحُ لِمُعَيّنٍ كالسُّلْطَانِ، ولا بأَسَ أَن يخطُبَ مِنْ صَحِيفَةٍ.

وَيَحْرُمُ الكلامُ والِإمام يخْطُبُ، وهو منه بحيث يَسْمَعُهُ، ويباح إِذا سَكَتَ بَيْنَهُمَا أَوْ شَرَعَ في دُعَاءٍ.

* * *

فَصْلٌ

والجُمُعَة ركعتانِ، وحَرُمَ إِقامتُها وعيدٍ في أَكثر من مَوْضِعٍ مِنَ البلدِ إِلا لحاجَةٍ كَضِيقٍ وبُعْدٍ وخوف فتنة ونحوه، فإِن عدمت الحاجة فالصحيحة ما باشره الِإمامُ أَوْ أَذِنَ فيها، فإِن استوتا في إِذن أَوْ عدمه فالسابقةُ بالِإحرامِ هي الصَّحِيحَةُ، وإِن جهِلَ كيف وقعتا صلوا ظُهْراً.

وسُنَّ قِراءةُ سورة الكَهْفِ في يَوْمها، وكَثْرَةُ دُعَاءٍ، وصَلَاةٍ على النبي صلى الله عليه وسلم، ومَنْ دَخَلَ والِإمامُ يخطُبُ لَمْ يجلس حَتَّى يَرْكعَ ركعتين خفيفتينِ.

--------------------------------------------

(1) تكررت هذه الكلمة في الأصل.
আল্লাহর প্রশংসা, আল্লাহর তাকওয়ার উপদেশ, এবং সালাতের (দরুদ) সাথে এই দুইটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা; আর উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করা যাতে কোনো বাধা না থাকলে গ্রহণযোগ্য সংখ্যক লোক শুনতে পায়।

হারাম কথা খুতবাকে বাতিল করে দেয়, যদিও তা সামান্য হয়। কিরাআতের ন্যায় খুতবাও আরবি ব্যতীত অন্য ভাষায় দেওয়া (নিষিদ্ধ); তাই অক্ষমতা ছাড়া এটি সঠিক হবে না, তবে কিরাআত ব্যতীত অন্য অংশগুলোর ক্ষেত্রে অক্ষম হলে অন্য ভাষা বৈধ।

মিম্বর অথবা কোনো উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত, এবং তলোয়ার বা লাঠির ওপর ভর দিয়ে খুতবা দেওয়া, খুতবা দুইটিকে সংক্ষিপ্ত করা—তবে দ্বিতীয়টি হবে আরও সংক্ষিপ্ত—সামর্থ্য অনুযায়ী উভয় খুতবায় শব্দ উচ্চ করা, মুসলিমদের জন্য দোয়া করা; আর সুলতানের মতো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য দোয়া করা জায়েজ। লিখিত কোনো কাগজ দেখে খুতবা দেওয়াতে কোনো দোষ নেই।

ইমাম যখন খুতবা দেন তখন কথা বলা হারাম, যদি শ্রোতা এমন দূরত্বে থাকে যেখান থেকে খুতবা শোনা যায়। তবে দুই খুতবার মাঝখানের বিরতিতে কিংবা ইমাম যখন দোয়া শুরু করেন তখন কথা বলা জায়েজ।

* * *

পরিচ্ছেদ

জুমুআর সালাত দুই রাকাত। প্রয়োজন ছাড়া—যেমন স্থানাভাব, দূরত্ব, ফিতনার ভয় বা অনুরূপ কারণ—একই শহরের একাধিক স্থানে জুমুআ ও ঈদের সালাত কায়েম করা হারাম। যদি প্রয়োজন না থাকে, তবে যে জামাতে ইমাম স্বয়ং উপস্থিত থাকেন অথবা যেটির অনুমতি তিনি দেন, সেটিই সহিহ হবে। আর যদি অনুমতির ক্ষেত্রে বা অনুমতির অভাবের ক্ষেত্রে উভয়টি সমান হয়, তবে যেটিতে আগে ইহরাম (তাকবিরে তাহরিমা) বাধা হয়েছে সেটিই সহিহ। আর যদি জানা না যায় যে কোনটি আগে হয়েছে, তবে তারা জোহরের সালাত আদায় করবে।

জুমুআর দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করা, অধিক পরিমাণে দোয়া করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা সুন্নত। আর ইমাম খুতবা দেওয়া অবস্থায় কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত সালাত আদায় না করে সে বসবে না।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এই শব্দটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌فَصلٌ

وصَلَاةُ العِيدَيْنِ فَرْضُ كِفَايةِ
، وَوَقْتُها كَصَلاة الضُّحَى.

وشروطُها: كالجُمُعَةِ ما عدا الخطبتين، فإِنْ لَمْ يُعْلَمْ بالعيد إِلَاّ بعد الزوالِ صلوا من الغَدِ قضاءً.

وتُسَنَّ بصحراء قريبة عُرْفاً.

وسُنَّ تكبيرُ مَأْمُومِ بعد صلاة الصُّبح على أَحسن هيئة ماشيًا، وتأَخرُ إِمامٍ إِلى وقتِ الصَّلاةِ، والتوسعَةُ على الأهلِ، والصدَقَةُ، ورجوعهُ في غير طريقِ غُدُوِّهِ.

ويصليها ركعتين قَبْلَ الخُطبةِ، ويُكبر في الأُولى بَعْد الاستفتاح وقَبْلَ التعوذ ستاً، وفي الثانية قبل القراءة خمسًا، يرفعُ يديه مع كُلِّ تكبيرة ويقول: "اللهُ أَكْبَرُ كبيراً، والحمدُ للَّهِ كثيرًا، وسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرةً وأَصيلاً، وصلَّى اللَّهُ على مُحمَّدِ النبي وآلِهِ وسَلَّمَ تسليماً كثيراً"، وإِن أَحَبَّ قَالَ غَيْرَ ذلك.

ولا يأَتي بذكرٍ بَعْدَ التكبيرة الآخرة فيهما، ثُمَّ يقرأُ الفاتحةَ ثُمَّ (سَبِّح) في الركعة الأُولى ثُمَّ (الغاشية) في الثانية، فإِذا سَلَّم خَطَبَ خطبتين، وأَحكامهما كخطبتي الجمعة حَتَّى في تحريم الكَلام حَالَ الخطبة.

وسُنَّ أَن يستفتِحَ الأُولى بتسع تكبيرات نَسَقاً، والثانيةَ بسبع

قائماً، يحثهم في الفِطْرِ على الصَّدَقَةِ ويبينُ لهم ما يُخْرجُونَ، ويُرَغِّبُهُم
পরিচ্ছেদ

দুই ঈদের সালাত ফরজে কিফায়া
, এবং এর সময় চাশতের (দুহা) সালাতের সময়ের ন্যায়।

এর শর্তাবলি: দুই খুতবা ব্যতীত জুমার সালাতের ন্যায়। যদি সূর্য ঢলে যাওয়ার (জাওয়াল) পর ব্যতীত ঈদের কথা জানা না যায়, তবে তারা পরের দিন কাজা হিসেবে তা আদায় করবে।

প্রথাগতভাবে নিকটবর্তী কোনো উন্মুক্ত প্রান্তরে এটি আদায় করা সুন্নাহ।

মুক্তাদির জন্য সুন্নাহ হলো সুবহে সাদিকের সালাতের পর সর্বোত্তম বেশভূষায় পদব্রজে যাওয়ার সময় তাকবির পাঠ করা, ইমামের জন্য সালাতের সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা, পরিবার-পরিজনের জন্য সচ্ছলতা ও প্রশস্ততা আনয়ন করা, দান-সদকা করা এবং যে পথে এসেছে তা ব্যতিরেকে অন্য পথে প্রত্যাবর্তন করা।

খুতবার পূর্বে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে। প্রথম রাকাতে সানা (ইস্তিফতাহ) পাঠের পর এবং আউযুবিল্লাহ (তাআউয) পাঠের পূর্বে ছয়টি তাকবির দিবে এবং দ্বিতীয় রাকাতে কিরাআতের পূর্বে পাঁচটি তাকবির দিবে। প্রত্যেক তাকবিরের সাথে হাত উত্তোলন করবে এবং বলবে: "আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহর অনেক প্রশংসা, সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, এবং নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর অনেক অনেক রহমত ও সালাম বর্ষিত হোক"; আর সে চাইলে অন্য কিছুও বলতে পারে।

উভয় রাকাতেই শেষ তাকবিরের পর কোনো জিকির করবে না। অতঃপর সূরা ফাতিহা পাঠ করবে, তারপর প্রথম রাকাতে (সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা) এবং দ্বিতীয় রাকাতে (আল-গাশিয়া) পাঠ করবে। যখন সালাম ফেরাবে, তখন দুটি খুতবা দিবে; খুতবা চলাকালীন কথা বলা হারাম হওয়াসহ এ দুটির বিধান জুমার দুই খুতবার বিধানের ন্যায়।

সুন্নাহ হলো প্রথম খুতবাটি ধারাবাহিকভাবে নয়টি তাকবিরের মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়টি সাতটি তাকবিরের মাধ্যমে শুরু করা

দাঁড়ানো অবস্থায়; তিনি ঈদুল ফিতরে তাদের দান-সদকা প্রদানে উদ্বুদ্ধ করবেন, তারা যা প্রদান করবে তা তাদের নিকট বর্ণনা করবেন এবং তাদের উৎসাহিত করবেন।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৪৯)
في الأَضحى في الأُضحيةِ، ويُبَينُ لهم حُكْمَها. والتكبيراتُ الزوائِدُ والذِّكر بينهما والخطبتان سنةٌ.

وكُرِهَ تنفُّلٌ وقضاءُ فائتة قَبْلَ الصلاة بِمَوْضِعها وَبَعدها قُبيْلَ مفارقته.

وسُنَّ لِمَنْ فاتتْهُ قضاؤها في يومها على صفتها.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

وسُنَّ التكبيرُ المطْلَقُ
، وإِظهارهُ، وجهرُ غيرِ أُنثى به في ليلتي العيدين، وفي الخروجِ إِليهما إِلى فراغ الخُطبةِ فيهما، وفِطْرٌ آكَدُ، وفي كُلِّ عشر ذي الحجة، والتكبيرُ المُقيدُ عَقِبَ كُلِّ فريضة في جَمَاعَةٍ من صلاة فجر يوم عرفة إِلى عَصْر آخر أَيَّام التَّشْرِيقِ إِلَاّ لمُحْرِمِ فَمِنْ صلاة ظهر يوم النَّحْرِ، ويُكبِّرُ الِإمامُ مُسْتَقْبِلَ النَاسِ.

ولا يُسَنُّ عَقِبَ صَلَاةِ عيد في صفته شفْعًا: اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لا إِلهَ إِلَاّ اللَّهُ واللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، ولِلَّهِ الحمد.

ولَا بأْسَ بقوله لغيره: تَقَبَّلَ اللَّهُ منَّا ومنك، ولا بالتعريف عشية ليلة عرفة بالأمصار.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

صَلَاةُ الكُسُوفِ سُنَّةٌ مِنْ غَيْرِ خُطْبةٍ
، ووقتها من ابتدائهِ إِلى التَجَلِّي، ولا تقضى إِن فاتت، وهي ركعتان كل ركعةٍ بقيامينِ وركوعين.
ঈদুল আযহায় কুরবানী সম্পর্কে আলোচনা করবেন এবং তাদের নিকট এর বিধান বর্ণনা করবেন। অতিরিক্ত তাকবীরসমূহ, সেগুলোর মধ্যবর্তী যিকির এবং দুই খুতবা সুন্নাহ।

ঈদের নামাজের আগে সেই স্থানে নফল নামাজ পড়া এবং কাজা নামাজ আদায় করা মাকরূহ; তেমনি নামাজের পরে সেখান থেকে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নফল বা কাজা পড়া মাকরূহ।

যার ঈদের নামাজ ছুটে গেছে, তার জন্য সেই দিনেই তা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজা করা সুন্নাহ।

* * *

পরিচ্ছেদ

তাকবীরে মুতলাক (মুক্ত তাকবীর) সুন্নাহ
, তা প্রকাশ করা এবং নারী ব্যতীত অন্যদের জন্য দুই ঈদের রাতে, ঈদের ময়দানে যাওয়ার সময় থেকে খুতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত উচ্চস্বরে তাকবীর বলা সুন্নাহ। ঈদুল ফিতরে এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের প্রতিটি দিনেই এটি সুন্নাহ। আর তাকবীরে মুকাইয়াদ (আবদ্ধ তাকবীর) প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর জামায়াতের সাথে আদায় করা সুন্নাহ; যা আরাফাতের দিনের ফজর নামাজ থেকে শুরু করে আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিনের আসর নামাজ পর্যন্ত। তবে ইহরামকারীর জন্য তা নহরের দিনের জোহর নামাজ থেকে শুরু হবে। ইমাম মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকবীর বলবেন।

ঈদের নামাজের পর এটি সুন্নাহ নয়। তাকবীরের পদ্ধতি হলো শব্দগুলো জোড়ায় জোড়ায় বলা: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

একে অপরকে এটি বলাতে কোনো অসুবিধা নেই যে: আল্লাহ আমাদের ও আপনার পক্ষ থেকে কবুল করুন। আর আরাফাতের দিনের সন্ধ্যায় বিভিন্ন জনপদে দোয়ার উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়াতেও কোনো দোষ নেই।

* * *

পরিচ্ছেদ

সূর্যগ্রহণের নামাজ খুতবা ছাড়াই সুন্নাহ
, এর সময় হচ্ছে গ্রহণ শুরু হওয়া থেকে তা দূরীভূত হওয়া পর্যন্ত। যদি সময় পার হয়ে যায় তবে তা কাজা করা হবে না। এটি দুই রাকাত নামাজ, যার প্রতি রাকাতে দুইবার কিয়াম ও দুইবার রুকু রয়েছে।
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৫০)
وسُنَّ تطويلُ سُورة وتَسبِيحٌ، وكونُ أُولى كُلٍّ أَطول، وتَصِحُّ كالنَّافِلَةِ، ولا يُصلَّى لآيةٍ غيرهِ كظلمَةٍ نهاراً، وضياءٍ ليلاً، ورِيحٍ شديدةٍ، وصواعق إِلَاّ لِزَلْزَلَةٍ دائِمةٍ.

* * *

‌‌فَصْلٌ

تُسَن صلاةُ الاستسقاءِ
إِذا أَجدبتِ الأرضِ، وقحَطَ المَطَرُ.

وصفَتُها وأَحكامُهَا كصلاةِ عيدٍ، وهي قَبْلَهَا جماعةً أَفْضَلُ، وإِذا أَرادَ الِإمامُ الخروجَ وَعَظَ النَاسِ وأَمرهم بالتوبةِ والخروجِ من المظالِم، وتَرْكِ التشاحُنِ، والصَّدَقةِ والصومِ، ولا يلزمانِ بأَمرِهِ، ويعدُهُم يَوْماً يخرجون فيه، ويَخْرجُ مُتَواضعاً مُتَخَشِّعاً مُتَذَلِّلاً مُتَضَرِّعاً متنظفاً لا مُتطيبًا، ومَعَهُ أَهْلُ الدِّين والصلَاحِ والشيوخُ.

وسُنَّ خروجُ صَبيٍّ مُميِّزٍ، ويُبَاحُ خُروجُ أَطفالٍ، وبَهائمَ، فيصلي ثُمَّ يخْطُبُ خُطْبةً واحدةً يفتتحها بالتكبير كخطبة عيدٍ، ويُكْثِرُ فيها الاستغفارَ وقراءةَ الآيات التي فيها الأَمْرُ به.

وسُنَّ وقوفٌ في أَوَّلِ المطر وتوضؤٌ واغتسالُ مِنْهُ وإِخراجُ رحلِهِ وثيابه ليصيبها، وإِنْ كَثُرَ حَتَى خِيفَ منه سُنَّ قوْلُ: "اللهُمَ حَواليْنا ولا عَلينا، اللَّهُمَّ على الظِّرابِ والآكامِ وبطونِ الأَوْدِيةِ ومنابتِ الشَجَرِ" (رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ) [البقرة: 286] الآية.

وسُنَّ قَوْلُ: "مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ ورحمتِهِ ".

* * *
সুরা দীর্ঘ করা এবং তাসবিহ (পাঠ করা) এবং প্রত্যেক (রাকাতের) প্রথমটি দীর্ঘ করা সুন্নত। আর এটি নফলের মতো আদায় করাও সহিহ হবে। আর অন্য কোনো নিদর্শনের জন্য সালাত আদায় করা হবে না যেমন দিনের বেলায় অন্ধকার, রাতের বেলায় আলো, প্রচণ্ড বাতাস কিংবা বজ্রপাত, তবে স্থায়ী ভূমিকম্পের জন্য (আদায় করা যাবে)।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

ইস্তিসকার সালাত সুন্নাত
যখন ভূমি অনাবৃষ্টির শিকার হয় এবং বৃষ্টির অভাব দেখা দেয়।

এর পদ্ধতি ও হুকুমসমূহ ঈদের সালাতের মতোই। আর তা (খুতবার) আগে জামাতের সাথে আদায় করা উত্তম। ইমাম যখন (সালাতের উদ্দেশ্যে) বের হওয়ার ইচ্ছা করবেন, তখন তিনি মানুষকে উপদেশ দেবেন এবং তাদের তাওবা করা, জুলুম-অবিচার থেকে ফিরে আসা, পারস্পরিক শত্রুতা পরিহার করা, দান-সদকা করা ও রোজা রাখার নির্দেশ দেবেন। তবে তাঁর নির্দেশের কারণে এই দুটি (সদকা ও রোজা) আবশ্যক হয়ে যাবে না। তিনি তাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করে দেবেন যেদিন তারা বের হবে। আর তিনি অত্যন্ত বিনম্রভাবে, ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়, হীনতা প্রকাশ করে, কাকুতি-মিনতি সহকারে পরিচ্ছন্ন হয়ে বের হবেন, তবে সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না। তাঁর সাথে দ্বীনদার, নেককার ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিগণ থাকবেন।

বুদ্ধিমান নাবালক বালকদের বের হওয়া সুন্নাত। আর দুগ্ধপোষ্য শিশু ও চতুষ্পদ জন্তুদের বের করা বৈধ। এরপর তিনি সালাত আদায় করবেন, অতঃপর একটি খুতবা প্রদান করবেন যা ঈদের খুতবার মতো তাকবিরের মাধ্যমে শুরু করবেন। আর তাতে অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করবেন এবং যেসব আয়াতে ইস্তিগফারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা পাঠ করবেন।

বৃষ্টির শুরুতে (বৃষ্টির নিচে) দাঁড়ানো এবং তা দিয়ে ওজু ও গোসল করা সুন্নত। এমনকি নিজের আসবাবপত্র ও কাপড় বের করে দেওয়াও সুন্নাত যাতে সেগুলোতে বৃষ্টি লাগে। আর যদি বৃষ্টি এত বেশি হয় যে তাতে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন এই দোয়া বলা সুন্নত: "হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ! উঁচু ভূমি, টিলা, উপত্যকার তলদেশ এবং বৃক্ষলতা জন্মানোর স্থানে বর্ষণ করুন।" (হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই) [আল-বাকারা: ২৮৬] - এই আয়াতটি।

আর এ কথা বলা সুন্নত: "আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায় বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি।"

* * *
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌كتاب الجنائز

يُسَنُّ الاستعدادُ للموت، والإِكثارُ من ذكْرِهِ.

وتُسَنُّ عيادةُ مريضٍ مُسْلِمٍ غِبًّا مِنْ أَوَّلِ المَرَضِ بكرة وعشية، وفي رمضان ليلاً، وتذكيرُهُ التوبة والوصية، ويدعو له عائِدٌ بالعافيةِ والصَّلاحِ، ولا يطِيلُ الجلوسَ عِنْدَه، وينبغي أَنْ يَحسِنَ ظَنَّهُ بالله، ولا يَجِبُ التداوي، ولو ظَنَّ نفعه، وتركُهُ أفضل، ويَحْرُمُ بِمُحَرّمٍ، ويُبَاحُ كتب قرآنٍ وذِكْرٍ بإناءٍ لحامل لعُسْرِ الولادَةِ، ومريضٍ ويُسقيانِهِ، وإِذا نَزَلَ به سُنَّ لأَوْفَقِ أَهْلِهِ به تعاهُدُ بَلِّ حَلْقِهِ بماءٍ أَوْ شَرَابٍ، وتنديةُ شَفَتَيْهِ، وتلقِينُهُ: "لا إلهَ إلَاّ الله " مرةً ولَمْ يزد على ثلاثٍ إِلَاّ أن يتكلم فيعيدُهُ بِرِفْقٍ، وقِراءةُ الفاتحة.

ويُسَنُّ عنده توجيهُهُ إِلى القِبْلَةِ على جنبِهِ الأَيْمَنِ مَعَ سَعَةِ المكان وإِلَاّ فعلى ظَهْرِهِ وأَخْمَصَاهُ إِلى القِبْلَةِ، ويَعْتَمدُ على اللَّهِ فِيمَنْ يُحِبُّ، ويوصي للأَرْجَحِ في نظَرِه؛ فإِذا مات سُنَّ تغميضُ عينيهِ، ويُباحُ مِن مَحْرَمٍ ذكر أَوْ أُنثى، ويُكْرَهُ من حائِضٍ وجُنُبٍ، وأن يقرباه، وقول: "بسم الله وعلى وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وَشَدُّ لَحْيَيهِ بعصابةٍ، وتليينُ
জানাজা (দাফন-কাফন) সংক্রান্ত অধ্যায়

মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং অধিক হারে মৃত্যুকে স্মরণ করা সুন্নাত।

অসুস্থ মুসলিম ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া সুন্নাত; তা অসুস্থতার শুরু থেকেই হোক, একদিন পর পর সকাল এবং সন্ধ্যায়, আর রমজান মাসে রাতে। তাকে তাওবা এবং অসিয়ত (মৃত্যুপূর্ব নির্দেশনা) করার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং সাক্ষাৎকারী ব্যক্তির উচিত তার আরোগ্য ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা। তার নিকট দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবে না এবং রোগীর উচিত আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা। চিকিৎসা গ্রহণ করা ওয়াজিব নয়, যদিও তাতে উপকারের প্রবল সম্ভাবনা থাকে, বরং তা বর্জন করাই উত্তম। হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা করা হারাম। প্রসববেদনায় কষ্ট পাওয়া গর্ভবতী নারী এবং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কোনো পাত্রে কুরআন ও জিকির লিখে তা ধুয়ে পান করানো বৈধ। যখন কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন তার পরিবারের মধ্যে যে ব্যক্তির সাথে তার অধিক সখ্যতা রয়েছে, তার জন্য সুন্নাত হলো পানি বা অন্য কোনো পানীয় দ্বারা মুমূর্ষু ব্যক্তির কণ্ঠনালী সিক্ত করা এবং তার ঠোঁট দুটি ভেজানো। তাকে একবার "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) তালকিন দেওয়া (শিখিয়ে দেওয়া) এবং তা তিনবারের বেশি না করা; তবে যদি সে কথা বলে ফেলে, তবে পুনরায় নম্রভাবে তালকিন দেওয়া এবং সূরা ফাতিহা পাঠ করা সুন্নাত।

মুমূর্ষু ব্যক্তির পাশে পর্যাপ্ত স্থান থাকলে তাকে ডান কাতে কিবলামুখী করে রাখা সুন্নাত, অন্যথায় তাকে পিঠের ওপর শুইয়ে তার উভয় পায়ের তলা কিবলার দিকে করে রাখা হবে। সে তার প্রিয়জনদের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে এবং তার দৃষ্টিতে যে অধিক উপযুক্ত তাকে অসিয়ত করবে। যখন সে মারা যাবে, তখন তার চক্ষুদ্বয় বন্ধ করে দেওয়া সুন্নাত। এটি কোনো মাহরাম পুরুষ বা নারীর জন্য করা বৈধ। ঋতুবতী নারী এবং অপবিত্র ব্যক্তির জন্য এটি করা এবং মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী হওয়া মাকরুহ। (চক্ষু বন্ধ করার সময়) বলবে: "আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালকৃত তরীকার ওপর"। তার চিবুক দুটি কোনো পট্টি দিয়ে বেঁধে দেওয়া এবং তার জোড়াগুলো নরম করা সুন্নাত...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৫২)
مَفَاصِلِهِ، وَخَلْعُ ثِيَابِهِ، وسترُهُ بِثَوْبٍ، وإِسراعُ تجهيزِهِ إِنْ مات غير فُجْأَةٍ، وتَفْرِقَةُ وصيَّتِهِ، ويَجِبُ في قَضَاءِ دينِهِ.

* * *

‌‌فَصْلٌٌ

وغَسْلُهُ فَرْضُ كِفاية
سوى شهيدِ معركةٍ، ومقتول ظُلْماً، ولَوْ كانا أنثيين أَوْ غَيْرَ مُكَلّفين.

وشُرِطَ في ماءٍ طَهوريةٌ وإِباحةٌ، وفي غَاسِلٍ إسلامٌ، وعَقْلٌ، وتَمييزٌ، والأفْضَلُ ثِقَةٌ عارفٌ بأحكامِ الغُسْلِ، وإِذا أَخَذَ في غَسْلِهِ سَتَرَ عورتَهُ عَنْ العيونِ تحت سِتْرٍ.

وكُرِهَ حضورُ غَيْرِ مُعينٍ في غَسْلِهِ، ثُمَّ نَوَى وسَمَّى وجُوباً كَغَسْلِ الحيّ.

وسُنَّ أن يرفع رَأْسَ غَيْرِ حاملٍ إِلى قُرْبِ جلوسِهِ، ويُعْصَرُ بَطْنُهُ بِرِفْقٍ، ويكون ثَمَّ بخور، ويُكْثِرُ صَبَّ الماء حينئذٍ ثُمَّ يَلُفُّ على يدِهِ خِرْقَةً مبلولة فيُنَجِيهِ بها.

وَحَرُمَ مسُّ عورةِ مَنْ له سَبْعُ سنين، ثم يُدْخِلُ إِبهامَهُ وسبابته وعليهما خِرْقَةٌ مَبْلُولَةٌ بمَاءٍ بَيْنَ شَفتيهِ فيَمْسَحُ أَسْنَانَهُ، وفي مَنْخِرَيْهِ فَيُنَظِّفُهُما، ثُمَّ يوضئه استحباباً، ولا يُدْخِلُ ماءً في فَمِهِ وأَنْفِهِ، ويَغْسِلُ رَأْسَهُ بِرَغْوَةِ السِّدْرِ وَبَدَنَهُ بِثُفْلِهِ، ويَغْسِلُ شقهُ الأَيمنَ ثُمَّ الأَيْسَرَ، ثمَّ يُفيضُ الماءَ على جميع بَدَنِهِ.

وكُرِهَ اقتصارٌ على غَسْلِهِ مرةً إِن لم يَخْرُج شيء؛ فإِن خَرَجَ
তার জোড়াসমূহ (নরম করা), তার পোশাক খুলে ফেলা, তাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া, যদি মৃত্যু আকস্মিক না হয় তবে তার দাফন-কাফনের দ্রুত ব্যবস্থা করা এবং তার অসিয়ত বণ্টন করা (সুন্নাত); আর তার ঋণ পরিশোধ করা ওয়াজিব।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

মৃতকে গোসল করানো ফরযে কেফায়া
যুদ্ধের শহীদ এবং অন্যায়ভাবে নিহত ব্যক্তি ব্যতীত, যদিও তারা নারী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়।

পানির ক্ষেত্রে শর্ত হলো তা পবিত্র এবং বৈধ হওয়া। আর গোসলদানকারীর ক্ষেত্রে শর্ত হলো ইসলাম, জ্ঞান এবং সমঝদার হওয়া। আর সর্বোত্তম হলো এমন এক বিশ্বস্ত ব্যক্তি যে গোসলের বিধান সম্পর্কে অবগত। যখন সে গোসল শুরু করবে, তখন একটি পর্দার আড়ালে তার লজ্জাস্থানকে দৃষ্টির অন্তরালে রাখবে।

গোসলের সময় সাহায্যকারী ব্যতীত অন্যের উপস্থিতি মাকরূহ। অতঃপর সে নিয়ত করবে এবং জীবিত ব্যক্তির গোসলের ন্যায় আবশ্যিকভাবে বিসমিল্লাহ বলবে।

গর্ভবতী নয় এমন মৃত ব্যক্তির মাথা প্রায় উপবিষ্ট অবস্থার কাছাকাছি উত্তোলন করা সুন্নাত এবং তার পেট মৃদুভাবে মালিশ করবে। সেখানে সুগন্ধি ধূপ থাকবে এবং সে সময় অধিক পরিমাণে পানি ঢালবে। অতঃপর নিজ হাতে একটি সিক্ত নেকড়া জড়িয়ে তা দিয়ে তাকে পবিত্র করবে।

সাত বছর বয়স্ক ব্যক্তির লজ্জাস্থান স্পর্শ করা হারাম। অতঃপর সে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীতে একটি সিক্ত নেকড়া জড়িয়ে তার দুই ঠোঁটের মাঝখানে প্রবেশ করিয়ে দাঁতসমূহ মুছে দেবে এবং তার নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করিয়ে তা পরিষ্কার করবে। এরপর মুস্তাহাব হিসেবে তাকে ওজু করাবে, কিন্তু তার মুখ ও নাকে পানি প্রবেশ করাবে না। তার মাথা বরই পাতার ফেনা দিয়ে এবং শরীর এর তলানি দিয়ে ধৌত করবে। সে তার ডান পাশ এবং এরপর বাম পাশ ধৌত করবে, অতঃপর তার পুরো শরীরে পানি প্রবাহিত করবে।

যদি কোনো কিছু নির্গত না হয় তবে একবার গোসলের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা মাকরূহ; আর যদি নির্গত হয়...
(খণ্ড: ১) বিদায়াতুল আবিদ ওয়া কিফায়াতুজ জাহিদ - তা আল-আজমি (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَجَبَ إِعادتُهُ إِلى سَبْعٍ؛ فإِن خَرَج بعدها حُشيَ بِقُطْنٍ؛ فإِن لَمْ يَسْتَمْسِكْ فَبِطينٍ حُرٍّ (1)، ثُمَّ يَغْسِلُ المَحل ويُوَضَّأُ وجُوباً. وسَقْط الأَرْبَعَةِ أشهُرٍ كمولودٍ حيّاً.

* * *

‌‌فَصْلٌ

وتكفينُهُ فَرْضُ كفايةٍ
، ويَجِبُ لحقِّ الله تعالى ولِحَقّهِ ثَوْبٌ واحدٌ لا يَصِفُ البشرةَ يسترُ جميعه.

وسُنّ تكْفينُ رَجُلٍ في ثَلَاث لَفَائِفَ بيضٍ من قُطْنٍ، وكُرِهَ في أَكْثَر، تُبْسَطُ على بعضها بعد تبخيرِهَا بنحوِ عُودٍ، وتُجعلُ الظاهرةُ أحسنَها والحنوطُ فيما بينها، ثُمَّ يُوضَعُ عليها مستلقياً ثُمَّ يُرَدُّ طرف اللفافة العليا من الجانب الأيسر على شقه الأيمنِ، ثُمَّ الأيمنِ على الأَيْسَرِ، ثُمَّ الثانية على الثالثةِ كذلك، ويجعَلُ أكثرُ الفاضلِ عند رأسِهِ، ثُمَّ يَعْقِدُها وتُحَلُّ في القبر.

وسُنَّ لامرأةٍ وخُنْثى خمسةُ أثوابٍ: إِزارٌ وخِمارٌ وقميصٌ ولُفافتانِ، ولصغيرةٍ قَمِيصٌ ولفافتانِ، ولصبيٍّ ثوب واحدٌ، ويباح في ثلاثةٍ ما لم يرثهُ مُكَلَّفٌ.

* * *

‌‌فَصْلٌ

والصَّلَاةُ عليه فرضُ كفايةٍ
، وتسقطُ بِمُكَلَّفٍ، ولو أُنثى أَوْ عبداً، وتُسَنُّ جماعة.

--------------------------------------------

(1) الطين الحُرِّ: أي الخالص. "المطلع" للبعلي ص 116.
এটি সাতবার পর্যন্ত পুনরাবৃত্তি করা ওয়াজিব; যদি এরপরও কিছু নির্গত হয় তবে তুলা দিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে; যদি তাতেও না থামে তবে বিশুদ্ধ মাটি দিয়ে (বন্ধ করা হবে), অতঃপর সেই স্থানটি ধৌত করতে হবে এবং আবশ্যিকভাবে অজু করাতে হবে। চার মাসের গর্ভপাত হওয়া সন্তান জীবিত ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর ন্যায় (পরিগণিত হবে)।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

তাকে কাফন দেওয়া ফরজে কিফায়া
, এবং আল্লাহ তাআলার হকের খাতিরে ও মৃত ব্যক্তির হকের খাতিরে এমন একটি কাপড় ওয়াজিব যা শরীরের চামড়া প্রকাশ করে না এবং তার পুরো শরীরকে ঢেকে রাখে।

পুরুষকে সুতির তিনটি সাদা চাদরে কাফন দেওয়া সুন্নত, আর এর অধিক কাপড়ে কাফন দেওয়া মাকরূহ। চাদরগুলো আগরবাতির ন্যায় সুগন্ধি দ্বারা ধূপায়িত করার পর একটির ওপর আরেকটি বিছিয়ে দেওয়া হবে। সবচেয়ে ওপরের কাপড়টিকে সবচেয়ে উত্তম হতে হবে এবং কাপড়গুলোর মাঝে সুগন্ধি মাখানো হবে। এরপর তাকে সেখানে চিত করে শোয়ানো হবে, অতঃপর ওপরের চাদরের বাম প্রান্তটি তার ডান পাশের ওপর জড়িয়ে দেওয়া হবে, তারপর ডান প্রান্তটি বাম পাশের ওপর দেওয়া হবে। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাদরের ক্ষেত্রেও একইভাবে করা হবে। কাপড়ের অতিরিক্ত অংশের অধিকাংশ মাথার দিকে রাখা হবে, অতঃপর তা বেঁধে দেওয়া হবে এবং কবরে তা খুলে দেওয়া হবে।

নারী ও হিজড়াদের জন্য পাঁচটি কাপড় সুন্নত: লুঙ্গি, ওড়না, কামিজ ও দুটি চাদর। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের জন্য একটি কামিজ ও দুটি চাদর এবং নাবালক ছেলের জন্য একটি কাপড় (সুন্নত); তবে তিন কাপড়ে কাফন দেওয়া বৈধ যতক্ষণ না কোনো মুকাল্লাফ ব্যক্তি তার উত্তরাধিকারী হয়।

* * *

‌‌পরিচ্ছেদ

তার জানাজার নামাজ পড়া ফরজে কিফায়া
, যা একজন মুকাল্লাফ ব্যক্তির আদায়ের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে যায়, যদিও সে নারী কিংবা দাস হয়; আর জামাতের সাথে পড়া সুন্নত।

--------------------------------------------

(১) বিশুদ্ধ মাটি: অর্থাৎ খাঁটি। আল-বালীর 'আল-মুতলি' পৃষ্ঠা ১১৬।