(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: -)
المصباح في عيون الصحاح   (عبد الغني المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المصباح في عيون الصحاح

المؤلف: عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي الجماعيلي الدمشقي الحنبلي، أبو محمد، تقي الدين (ت 600هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 66

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মিসবাহ ফি উয়ুনিল সিহাহ   (আব্দুল গনি আল-মাকদিসী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-মিসবাহ ফি উয়ুনিল সিহাহ

লেখক: আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর আল-মাকদিসী আল-জামাঈলী আদ-দামেশকী আল-হাম্বলী, আবু মুহাম্মদ, তকীউদ্দীন (মৃত্যু ৬০০ হিজরী)

প্রকাশক: ইসলাম ওয়েব সাইটের অধীনস্থ জাউয়ামিউল কালিম নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত একটি পাণ্ডুলিপি

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١)
الْجُزْءُ مِنْ كِتَابِ الْمِصْبَاحِ فِي عُيُونِ الصِّحَاحِ وَهُوَ الْحَادِي عَشَرَ مِنْ أَقْوَالِ مُسْلِمِ بْنِ الْحَجَّاجِ تَأْلِيفُ عَبْدِ الْغَنِيِّ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمَقْدِسِيِّ، غَفَرَ اللَّهُ لَهُ وَلِوَالِدَيْهِ وَنَفَعَهُ بِهِ وَالْمُسْلِمِينَ أَجْمَعِينَ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ اللَّهُمَّ سَهِّلْ
'কিতাবুল মিসবাহ ফী উয়ুনিল সিহাহ' গ্রন্থের একটি অংশ, যা মুসলিম ইবনে হাজ্জাজের বাণীসমূহের একাদশতম খণ্ড। এটি আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী আল-মাকদিসীর রচনা; আল্লাহ তাকে ও তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন এবং এর মাধ্যমে তাকে ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও কোনো শক্তি নেই। হে আল্লাহ, সহজ করে দিন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ الْبَغْدَادِيُّ ، بِهَا ، أنبا أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَيْرُونَ ، وَأنبا أَبُو الْقَاسِمِ يَحْيَى بْنُ ثَابِتِ بْنِ بُنْدَارٍ ، أنبا أَبِي ، قَالا: أنبا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ غَالِبٍ الْبَرْقَانِيُّ ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْحَسَنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْمُودِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الْمَحْمُودِيِّ ، بِمَرْوَ ، حَدَّثَكُمْ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مَسْعُودٍ الْمَعْرُوفُ بِالسَّاذْجَرْدِيِّ ، فِي مَدِينَةِ الدَّاخِلَةِ بِمَرْوَ سَنَةَ خَمْسٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَتَيْنِ ، ثنا عَبْدَانُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ جَبَلَةَ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ الْعَتَكِيُّ ، أنبا أَبُو حَمْزَةَ ، عَنْ قَيْسِ بْنِ وَهْبٍ الْهَمْدَانِيِّ ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّي اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "‌‌ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فَيَتَوَجَّهُ قِبَلَهُ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَتَلْقَاهُ مَسَالِحُ الدَّجَّالِ ، فَيَقُولُونَ: أَيْنَ تُرِيدُ؟ فَيَقُولُ: إِلَى هَذَا الَّذِي خَرَجَ.

فَيَقُولُونَ لَهُ: أَمَا تُؤْمِنُ بِرَبِّنَا.

فَيَقُولُ: لا، بِرَبِّي.

خَفَاءً، فَيَقُولُ: اقْتُلُوهُ.

فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: أَلَيْسَ قَدْ نَهَاكُمْ رَبُّكُمْ أَنْ تَقْتُلُوا أَحَدًا دُونَهُ.

فَيَنْطَلِقُونَ بِهِ إِلَى الدَّجَّالِ فَإِذَا رَآهُ الرَّجُلُ ، قَالَ: يَأَيُّهَا النَّاسُ هَذَا الدَّجَّالُ الَّذِي ذَكَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّي اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَيَقُولُ الدَّجَّالُ: خُذُوهُ فَأَشْجُوهُ.

فَيُوَسِّعُ ظَهْرَهُ وَبَطْنَهُ ضَرْبًا ، وَيَقُولُ: أَمَا تُؤْمِنُ بِي؟ فَيَقُولُ: أَنْتَ الْمَسِيحُ الْكَذَّابُ.

فَيُؤْمَرُ بِهِ فَيُنْشَرُ بِالْمَنَاشِيرِ مِنْ مَفْرِقِهِ حَتَّى يُفَرَّقَ بَيْنَ رِجْلَيْهِ ، وَيَمْشِي الدَّجَّالُ بَيْنَ الْقِطْعَتَيْنِ ، ثُمَّ يَقُولُ: قُمْ.

فَيَسْتَوِي قَائِمًا ، فَيَقُولُ لَهُ: أَتُؤْمِنُ بِي؟ فَيَقُولُ: مَا ازْدَدْتُ فِيكَ إِلا بَصِيرَةً.

ثُمَّ يَقُولُ: يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لا يَفْعَلُ بِأَحَدٍ مِنَ النَّاسِ مَا فَعَلَ بِي.

فَيَأْخُذُهُ الدَّجَّالُ لِيَذْبَحَهُ ، فَيُجْعَلُ مَا بَيْنَ رَقَبَتِهِ إِلَى تُرْقُوَتِهِ نُحَاسًا ، فَلا يَسْتَطِيعُ إِلَيْهِ سَبِيلا ، فَيَأْخُذُ بِيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فَيَقْذِفُ بِهِ فِيهِ ، فَيَحْسَبُ النَّاسُ أَنَّمَا يَقْذِفُهُ إِلَى النَّارِ ، وَإِنَّمَا أُلْقِيَ فِي الْجَنَّةِ " ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّي اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُوَ أَعْظَمُ النَّاسِ شَهَادَةً عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِينَ» .

رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَهْزَادَ ، عَنْ عَبْدَانَ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে আহমদ ইবনে সালমান আল-বাগদাদি সেখানে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফজল আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে খাইরুন এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম ইয়াহইয়া ইবনে সাবিত ইবনে বুন্দার, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে গালিব আল-বারকানি, তিনি বলেন: আমি মার্ভে আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-মাহমুদির নিকট পাঠ করেছি, (তিনি বলেছেন) আপনাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মাসউদ আস-সাজজারদি বর্ণনা করেছেন, মার্ভের দাখিলা শহরে দুইশত পঁচানব্বই হিজরি সালে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদান আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে জাবালা ইবনে আবি রাওয়াদ আল-আতাকি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামজা, কায়েস ইবনে ওয়াহাব আল-হামদানি থেকে, তিনি আবু আল-ওয়াদ্দাক থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দাজ্জাল বের হবে, তখন মুমিনদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তার দিকে অগ্রসর হবে। দাজ্জালের সশস্ত্র প্রহরীরা তার মুখোমুখি হবে। তারা বলবে: তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করছ? সে বলবে: আমি এই ব্যক্তির কাছে যেতে চাই যে বের হয়েছে।"

তারা তাকে বলবে: তুমি কি আমাদের প্রভুর প্রতি ঈমান রাখো না?

সে বলবে: না, আমার প্রভুর ব্যাপারে কোনো কিছু অস্পষ্ট নয়। তারা বলবে: তাকে হত্যা করো।

তখন তাদের একে অপরকে বলবে: তোমাদের প্রভু কি তোমাদের নিষেধ করেননি যে, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে হত্যা করবে না?

অতঃপর তারা তাকে দাজ্জালের কাছে নিয়ে যাবে। যখন মুমিন ব্যক্তি তাকে দেখবে, তখন সে বলবে: হে লোকসকল! এ-ই সেই দাজ্জাল যার কথা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উল্লেখ করেছেন। তখন দাজ্জাল বলবে: একে ধরো এবং এর মাথা ফাটিয়ে দাও।

তার পিঠে এবং পেটে ক্রমাগত প্রহার করা হবে। দাজ্জাল বলবে: তুমি কি আমার প্রতি ঈমান আনবে না? সে বলবে: তুমিই সেই মিথ্যাবাদী মসীহ।

তখন তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে তার মাথার সিঁথি থেকে করাত দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করা হবে এমনকি তার দুই পায়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত তাকে আলাদা করে ফেলা হবে। দাজ্জাল সেই দুই খণ্ডের মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাবে, এরপর বলবে: ওঠো!

সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। দাজ্জাল তাকে বলবে: তুমি কি আমার প্রতি ঈমান আনবে? সে বলবে: তোমার ব্যাপারে আমার অন্তর্দৃষ্টি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র।

এরপর সে বলবে: হে লোকসকল! আমার পর সে মানুষের মধ্য থেকে আর কারো সাথে এরূপ করতে পারবে না।

অতঃপর দাজ্জাল তাকে জবাই করার জন্য ধরবে, তখন তার ঘাড় থেকে কন্ঠাস্থি পর্যন্ত তামা বানিয়ে দেওয়া হবে। ফলে সে তাকে হত্যা করার কোনো পথ পাবে না। তখন দাজ্জাল তার দুই হাত ও দুই পা ধরে তাকে ছুড়ে মারবে। মানুষ মনে করবে তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে, অথচ তাকে জান্নাতেই নিক্ষেপ করা হয়েছে।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «রাব্বুল আলামীনের নিকট সে ব্যক্তি শাহাদাতের মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হবে»।

এটি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাহজাদ থেকে, তিনি আবদান থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٣)
2 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ ، وَأنبا يَحْيَى بْنُ ثَابِتٍ ، أنبا أَبِي ، قَالا: أنبا الْبَرْقَانِيُّ ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ حَمْدَانَ ، لَفْظًا ، ثنا تَمِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا هُدْبَةُ ، ثنا حَمَّادٌ ، عَنْ ثَابِتٍ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ:‌‌ شَاوَرَ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ يَوْمَ بَدْرٍ ، فَتَكَلَّمَ أَبُو بَكْرٍ فَضَافَ عَنْهُ ، وَتَكَّلَمَ عُمَرُ فَضَافَ عَنْهُ ، فَقَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَوْ أَمَرْتَنَا أَنْ نَخُوضَ الْبَحْرَ لَخُضْنَاهُ ، أَوْ نَضْرِبَ أَكْبَادَهَا إِلَى بَرْكِ الْغِمَادِ لَفَعَلْنَا ، فَنَدَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَصْحَابَهُ فَانْطَلَقَ ، فَإِذَا هُمْ بِرَوَايَا الْعَرَبِ ، فِيهَا عَبْدٌ أَسْوَدُ لِبَنِي الْحَجَّاجِ فَأَخَذَهُ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَجَعَلُوا يَسْأَلُونَهُ أَيْنَ أَبُو سُفْيَانَ وَأَيْنَ تَرَكْتَهُ؟ وَيَقُولُ: مَا لِي بِأَبِي سُفْيَانَ عِلْمٌ وَلَكِنْ هَذِهِ قُرْيشٌ كُلُّهَا.

فَلَمَّا قَالَ لَهُمْ ذَلِكَ ضَرَبُوهُ ، فَيَقُولُ: دَعُونِي فَإِذَا تَرَكُوهُ ، قَالَ: مَا لِي بِأَبِي سُفْيَانَ عِلْمٌ ، هَذِهِ قُرَيْشٌ أَبُو جَهْلِ بْنُ هُشَامٍ، وَعُتْبَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، وَشَيْبَةُ بْنُ رَبِيعَةَ قَدْ أَقْبَلُوا ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فَانْصَرَفَ ، قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّكُمْ لَتَضْرِبُونَهُ إِذَا صَدَقَكُمْ ، وَتَدَعُونَهُ إِذَا كَذَّبَكُمْ هَذِهِ قُرَيْشٌ أَقْبَلَتْ يَعْنِي أَبَا سُفْيَانَ» .

قَالَ: وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الأَرْضِ قَالَ: «هَذَا مَصْرَعُ فُلانٍ غَدًا وَهَذَا مَصْرَعُ فُلانٍ غَدًا» .

قَالَ أَنَسٌ: فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أَمَاطَ وَاحِدٌ عَنْ مَصْرَعِهِ.

رَوَاهُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ ، عَنْ عَفَّانَ ، عَنْ حَمَّادٍ
২ - মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল বাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনুল হাসান আমাদের জানিয়েছেন এবং ইয়াহইয়া ইবন সাবিত আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আল-বারকানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস ইবন হামদান আমাদের কাছে এটি মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন, তামীম ইবন মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হুদবা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাম্মাদ সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন লোকদের সাথে পরামর্শ করলেন। তখন আবু বকর কথা বললেন, কিন্তু তিনি তাঁর থেকে বিমুখ হলেন; এরপর ওমর কথা বললেন, কিন্তু তিনি তাঁর থেকেও বিমুখ হলেন। তখন সাদ ইবন উবাদাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমাদের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার নির্দেশ দেন তবে আমরা অবশ্যই তাতে ঝাঁপ দেব, অথবা যদি আমাদের বাহনগুলোকে বারকুল গিমাদ পর্যন্ত ছুটিয়ে নিয়ে যেতে বলেন তবে আমরা অবশ্যই তা করব। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের আহ্বান করলেন এবং তাঁরা রওনা হলেন। হঠাৎ তাঁরা আরবের পানি বহনকারী উটের দলের দেখা পেলেন, যেখানে বনু হাজ্জাজের এক কৃষ্ণাঙ্গ গোলাম ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীরা তাকে পাকড়াও করলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন: আবু সুফিয়ান কোথায় এবং তুমি তাকে কোথায় রেখে এসেছ? সে বলছিল: আবু সুফিয়ান সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে এই তো কুরাইশরা সবাই (এসে পড়েছে)।

সে যখন তাদের এই সংবাদ দিল, তখন তারা তাকে মারধর করতে লাগল। তখন সে বলল: আমাকে ছেড়ে দাও। তারা যখন তাকে ছেড়ে দিল, তখন সে (আবার) বলল: আবু সুফিয়ান সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে এই তো কুরাইশরা; আবু জাহল ইবন হিশাম, উতবা ইবন রাবিয়া ও শাইবা ইবন রাবিয়া এগিয়ে আসছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করছিলেন। তিনি সালাত শেষ করে বললেন: «সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যখন সে তোমাদের সত্য বলছে তখন তোমরা তাকে মারছ, আর যখন সে তোমাদের কাছে মিথ্যা বলছে তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দিচ্ছ! এই তো কুরাইশরা এগিয়ে এসেছে, অর্থাৎ আবু সুফিয়ানের (পরিবর্তে)»।

বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাঁর হাত দিয়ে জমিনের দিকে ইশারা করে বললেন: «এটি আগামীকাল অমুকের ধরাশায়ী হওয়ার স্থান এবং এটি আগামীকাল অমুকের ধরাশায়ী হওয়ার স্থান»।

আনাস বলেন: সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাদের একজনও তাঁর নির্দেশিত স্থান থেকে একটুও বিচ্যুত হয়নি।

এটি আবু বকর ইবন আবী শাইবা থেকে, তিনি আফফান থেকে এবং তিনি হাম্মাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٤)
3 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ ، وَأنبا يَحْيَى بْنُ ثَابِتٍ ، أنبا أَبِي ، قَالا: أنبا الْبَرْقَانِيُّ ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ مَاسِي ، أَخْبَرَكُمْ يُوسُفُ الْقَاضِي ، ثنا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ ، أنا شُعْبَةُ ، عَنْ مَنْصُورٍ ، عَنْ هِلالِ بْنِ يَسَافٍ ، عَنْ أَبِي يَحْيَى الأَعْرَجِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«صَلاةُ الْقَاعِدِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ صَلاةِ الْقَائِمِ» .

رَوَاهُ عَنْ أَبِي مُوسَى ، وَبُنْدَارٍ ، وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ ، عَنْ غُنْدَرٍ ، عَنْ شُعْبَةَ
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী, আমাদের জানিয়েছেন আহমদ ইবনুল হাসান এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাবিত আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আল-বারকানি, তিনি বলেন: আমি আবু মুহাম্মদ ইবনে মাসির নিকট পাঠ করেছি, ইউসুফ আল-কাদি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মারযুক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, মানসুর থেকে, তিনি হিলাল ইবনে ইয়াসাফ থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «বসে আদায়কারীর সালাত দাঁড়িয়ে আদায়কারীর সালাতের অর্ধেকের সমতুল্য».

এটি আবু মুসা, বুন্দার এবং আবু বকর থেকে বর্ণিত, তাঁরা গুন্দার থেকে, তিনি শু’বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
4 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ ، وَأنبا يَحْيَى ، أنبا أَبِي ، قَالا: أنبا الْبَرْقَانِيُّ ، ثنا الإِسْمَاعِيلِيُّ ، لَفْظًا وَقِرَاءَةً أَيْضًا عَلَيْهِ ، أَخْبَرَكَ الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ ، ثنا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ الْقَيْسِيُّ ، ثنا أَبَانُ ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ وَهُوَ يُخَاصِمُ فِي أَرْضٍ ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: اجْتَنِبِ الأَرْضَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«مَنْ ظَلَمَ قَيْدَ شِبْرٍ مِنَ الأَرْضِ طَوَّقَهُ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .

رَوَاهُ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْصُورٍ ، عن حِبَّانَ ، عَنْ أَبَانَ
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী, তিনি আহমদ ইবনুল হাসান থেকে এবং ইয়াহইয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-বারকানি, তিনি আল-ইসমাঈলি থেকে মৌখিকভাবে এবং তার নিকট পাঠের মাধ্যমেও, আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে সুফিয়ান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুদবা ইবনে খালিদ আল-কাইসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম তাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান তাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আয়েশার নিকট প্রবেশ করেন এমতাবস্থায় যে তিনি একটি জমি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত ছিলেন। তখন আয়েশা বললেন: তুমি জমি (অন্যায়ভাবে দখল) থেকে দূরে থাকো, কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমি অন্যায়ভাবে গ্রাস করবে, কিয়ামতের দিন সাতটি জমিন থেকে তাকে বেষ্টনী পরিয়ে দেওয়া হবে».

এটি ইসহাক ইবনে মানসুর থেকে, হিব্বান থেকে, আবান-এর সূত্রে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
5 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي ، أنبا أَحْمَدُ بْنِ الْحَسَنِ ، وَأنبا يَحْيَى ، أنبا أَبِي ، قَالا: أنبا الْبَرْقَانِيُّ ، قَالَ: قَرَأْتُهُ بِحَمْدِ اللَّهِ عَلَى أَبِي الْفَضْلِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ بِشْرٍ الإِسْفَرَايِينِيِّ ، بِهَا ، وَهُوَ أَخُو بِشْرٍ ، حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ ، ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ ، ثنا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ، أَنَّ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: إِنِّي أَصَبْتُ فَاحِشَةً فَرَدَّهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِرَارًا.

قَالَ: فَسَأَلَ قَوْمَهُ: أَبِهِ بَأْسٌ.

قَالَ: فَقُلْنَا مَا بِهِ بَأْسٌ ، إِلا أَنَّهُ أَتَى أَمْرًا يَرَى أَنَّهُ لا يُخْرِجُهُ إِلا أَنْ يُقَامَ عَلَيْهِ.

قَالَ: فَأَمَرَنَا ، فَانْطَلَقْنَا بِهِ إِلَى بَقِيعِ الْغَرْقَدِ ، قَالَ: فَلَمْ نَحْفُرْ لَهُ وَلَمْ نُوثِقْهُ ، قَالَ: فَرَمَيْنَاهُ بِخَذْفٍ وَعِظَامٍ وَجَنْدَلٍ ، فَاشْتَدَّ ، فَسَعَى ، وَاشْتَدَدْنَا خَلْفَهُ ، فَأَتَى الْحَرَّةَ فَانْتَصَبَ لَنَا فَرَمَيْنَاهُ بِجَلامِيدِهَا حَتَّى سَكَتَ ، فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْعِشَاءِ خَطِيبًا ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ، ثُمَّ قَالَ: " أَمَّا بَعْدُ:‌‌ فَمَا بَالُ أَقْوَامٍ إِذَا غَزَوْنَا تَخَلَّفَ أَحَدُهُمْ فِي عِيَالِنَا بِنَبِيبٍ كَنَبِيبِ التَّيْسِ ، أَمَا إِنَّ عَلَيَّ أَنْ أُوتِيَ بِأَحَدٍ فَعَلَ ذَاكَ إِلا نَكَّلْتُ بِهِ ".

قَالَ: وَلَمْ يَسُبَّهُ وَلَمْ يَسْتَغْفِرْ لَهُ.

رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ ، عَنْ بَهْزِ بْنِ أَسَدٍ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ
৫ - মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন হাসান ও ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেন: আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা বলেন: আল-বারকানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ এটি আবু আল-ফাদল মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন বিশর আল-ইসফারাইনী-এর নিকট সেখানে পাঠ করেছি, আর তিনি বিশর-এর ভাই ছিলেন। মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আবদাহ আদ-দাব্বী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ বিন যুরাই' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ বিন আবী হিন্দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নাদরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মা'ইয বিন মালিক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়েছি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে কয়েকবার ফিরিয়ে দিলেন।

তিনি বলেন: এরপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) তার কওমকে জিজ্ঞেস করলেন: তার কি কোনো সমস্যা আছে?

তিনি বলেন: আমরা বললাম: তার কোনো সমস্যা নেই, তবে সে এমন এক কাজ করেছে যে সম্পর্কে সে মনে করে যে, তার ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করা ছাড়া সে তা থেকে নিষ্কৃতি পাবে না।

(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
6 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ ، وَأنبا يَحْيَى ، أنبا أَبِي ، قَالا: أنبا الْبَرْقَانِيُّ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ الأَبَنْدُونِيَّ ، يَقُولُ: قُرِئَ عَلَى ابْنِ أَبِي يَعْلَى ، حَدَّثَكُمْ إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ، ثنا حَمَّادٌ ، ثنا ثَابِتٌ ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ ، أَنَّ رَجُلاً أَتَى أَبَا هُرَيْرَةَ فِي حُلَّةٍ يَتَبَخْتَرُ ، فَقَالَ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ إِنَّكَ لَكَثِيرُ الْحَدِيثِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَهَلْ سَمِعْتَهُ يَقُولُ فِي حُلَّتِي هَذِهِ شَيْئًا؟ فَقَالَ: لَوْلا مَا اتَّخَذَ اللَّهُ عَلَى أَهْلِ الْكِتَابِ لَيُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلا يَكْتُمُونَهُ مَا حَدَّثَكُمْ بِشَيْءٍ ، لَقَدْ سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «إِنَّ‌‌ رَجُلا مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بَيْنَمَا هُوَ يَمْشِي فِي حُلَّةٍ إِذْ خَسَفَ اللَّهُ بِهِ الأَرْضَ فَهُوَ يَتَجَلْجَلُ فِيهَا حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ» .

رَوَاهُ عَنْ أَبِي بَكْرٍ ، عَنْ عَفَّانَ ، عَنْ حَمَّادٍ وَهُوَ ابْنُ سَلَمَةَ
6 - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আহমদ ইবনে হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আল-বারকানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল কাসিম আল-আবানদুনীকে বলতে শুনেছি যে, ইবনে আবী ইয়া'লার নিকট পাঠ করা হয়েছে যে, ইবরাহীম ইবনুল হাজ্জাজ আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু রাফি থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকে দম্ভভরে হাঁটতে হাঁটতে আবু হুরায়রার নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আবু হুরায়রা, আপনি তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক হাদিস বর্ণনা করেন, আপনি কি আমার এই পোশাক সম্পর্কে তাঁকে কিছু বলতে শুনেছেন? তখন তিনি বললেন: আল্লাহ আহলে কিতাবদের নিকট থেকে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন—যে তারা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না—তা যদি না হতো, তবে আমি তোমাদের নিকট কিছুই বর্ণনা করতাম না। আমি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তি যখন এক জোড়া পোশাকে দম্ভভরে পথ চলছিল, তখন আল্লাহ তাকে ভূমিতে ধসিয়ে দিলেন, ফলে সে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত তার মধ্যে ধসে যেতেই থাকবে»।

এটি আবু বকর থেকে, তিনি আফফান থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হলেন ইবনে সালামাহ।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو رَشِيدٍ حَبِيبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُقْرِئُ ، أنبا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّيْرَفِيُّ ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ ، أنبا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ الصَّنْعَانِيُّ ، ثنا زَيْدُ بْنُ الْمُبَارَكِ ، أنبا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُقَيْلِ بْنِ مَعْقِلٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ أُمِّ شَرِيكٍ ، أَنَّهَاَ سَمِعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: ‌‌«لَيَفِرَّنَّ النَّاسُ مِنَ الدَّجَّالِ فِي الْجِبَالِ» .

قَالَتْ أُمُّ شَرِيكٍ: فَأَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: «هُمْ
قَلِيلٌ» .

رَوَاهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ جُرَيْجٍ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ جَابِرٍ
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু রাশিদ হাবিব বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সায়রাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমাদ আত-তাবারানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি বিন আল-মুবারক আস-সানআনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ বিন আল-মুবারক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন আব্দুল কারিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন উকাইল বিন মাকিল, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি উম্মু শারিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-কে বলতে শুনেছেন: ‌‌«মানুষ অবশ্যই দাজ্জালের ভয়ে পাহাড়ে পলায়ন করবে।»

উম্মু শারিক বললেন: তবে সেই দিন আরবরা কোথায় থাকবে? তিনি বললেন: «তারা
অল্প হবে।»

এটি ইবনে জুরাইজের হাদিস থেকে আবু যুবাইর ও জাবিরের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ الْيَزْدِيُّ الْقَاضِي ، إِمْلاءً ، أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عِصَامٍ ، أنبا أَبُو عَامِرٍ الْعَقْدِيُّ ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«طَعَامُ الْوَاحِدِ يَكْفِي الاثْنَيْنِ ، وَطَعَامُ الاثْنَيْنِ يَكْفِي الأَرْبَعَةَ ، وَطَعَامُ الأَرْبَعَةِ يَكْفِي الثَّمَانِيَةَ» .

رَوَاهُ عَنْ أَبِي مُوسَي ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ ، عَنْ سُفْيَانَ هُوَ الثَّوْرِيُّ ، وَاسْمُ أَبِي الزُّبَيْرِ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ تَدْرُسَ الْمَكِّيُّ مَوْلَى حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ ، وَاسْمُ أَبِي عَامِرٍ الْعَقْدِيِّ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আস-সিলাফি, আমাদের জানিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আস-সাকাফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন জাফর আল-ইয়াজদি আল-কাদি, শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আহমদ বিন ফারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইসাম, আমাদের জানিয়েছেন আবু আমির আল-আকাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «একজনের খাবার দুজনের জন্য যথেষ্ট, দুজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট»।

তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু মুসা থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন মাহদি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে—আর তিনি হলেন আস-সাওরি। আবু যুবাইরের নাম হলো মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন তাদরুস আল-মাক্কি, যিনি হাকিম বিন হিজামের মুক্তদাস এবং আবু আমির আল-আকাদির নাম হলো আবদুল মালিক বিন আমর।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ ، أنا عَبْدُ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ جَعْفَرٍ الْجُرْجَانِيُّ ، إِمْلاءً ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ يُوسُفَ الأَصَمُّ ، ثنا أَبُو الْبَخْتَرِيِّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَاكِرٍ ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ الْقَاسِمِ الْهَمْدَانِيُّ ، ثنا فُضَيْلُ بْنُ غَزْوَانَ ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ تَفِئُ الأَرْضُ أَمْثَالَ الأَسَاطِينِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ ، فَيَقُومُ السَّارِقُ فَيَقُولُ: لِهَذَا قُطِعْتُ ، وَيَقُولُ الْقَاطِعُ رَحِمَهُ: لِهَذَا قَطَعْتُ رَحِمِي ، قَالَ: وَيَقُولُ الْقَاتِلُ: لِهَذَا قَتَلْتُ ، قَالَ: فَلا يَلْتَفِتُونَ إِلَيْهِ ".

رَوَاهُ عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ ، وَوَاصِلِ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى ، وَمُحَمَّدِ بْنِ يَزِيدَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، وَالْوَلِيدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْوَلِيدِ الْهَمْدَانِيِّ يُعَدُّ فِي الْبَصْرِيِّينَ
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আস-সিলাফি, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আস-সাকাফি, আমাদের নিকট শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন আবু মুহাম্মদ ইবরাহিম ইবনে জাফর আল-জুরজানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ আল-আসাম্ম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল বাখতারি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাকির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে আল-কাসিম আল-হামদানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুযাইল ইবনে গাযওয়ান, আবু হাজিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "‌‌পৃথিবী স্বর্ণ ও রৌপ্যের খুঁটির ন্যায় বস্তু উগরে দিবে। তখন চোর দাঁড়িয়ে বলবে: এর জন্যই আমার হাত কাটা হয়েছিল। আর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী বলবে: এর জন্যই আমি আমার আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন: আর হত্যাকারী বলবে: এর জন্যই আমি হত্যা করেছিলাম। তিনি বলেন: অতঃপর তারা এর দিকে আর ভ্রূক্ষেপ করবে না।"

এটি আবু কুরাইব, ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ’লা এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ; মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ওয়ালিদ ইবনে আল-কাসিম ইবনে আল-ওয়ালিদ আল-হামদানিকে বসরার অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو رَشِيدٍ حَبِيبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُقْرِئُ ، وَأَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَنْصُورٍ الأْصَبَهَانِيَّانِ ، بِهَا ، أنبا أَبُو مَنْصُورٍ مَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ الصَّيْرَفِيُّ ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ ، عَنِ الثَّوْرِيِّ ، عَنْ سَعِيدٍ الْجَرِيرِيِّ ، ثنا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ،‌‌ حَالَ الشَّيْطَانُ بَيْنِي وَبَيْنَ صَلاتِي وَقِرَاءَتِي، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ذَاكَ شَيْطَانٌ يُقَالُ لَهُ خَنْزَبٌ فَإِذَا أَحْسَسْتَهُ فَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ ، وَاتْفُلْ عَنْ يَسَارِكَ» .

رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّازِقِ
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু রাশিদ হাবিব ইবন ইবরাহিম ইবন আবদুল্লাহ আল-মুকরি এবং আবু গালিব মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন মানসুর আল-আসবাহানিদ্বয়, সেখানে; আমাদের অবহিত করেছেন আবু মানসুর মাহমুদ ইবন ইসমাইল ইবন মুহাম্মদ আস-সাইরাফি, আমাদের অবহিত করেছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন, আমাদের অবহিত করেছেন আবুল কাসিম সুলাইমান ইবন আহমাদ ইবন আইয়ুব আত-তাবারানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবন ইবরাহিম আদ-দাবারি, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি আস-সাওরি থেকে, তিনি সাঈদ আল-জারিরি থেকে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আশ-শিখখির, তিনি উসমান ইবন আবিল আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল,‌‌ শয়তান আমার এবং আমার সালাত ও তিলাওয়াতের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «সেটি একটি শয়তান যাকে বলা হয় খিনজাব; সুতরাং যখন তুমি তাকে অনুভব করবে, তখন আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো এবং তোমার বাম দিকে থুথু ফেলো»।

এটি মুহাম্মদ ইবন রাফি থেকে, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ ، أنبا عَبْدُ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلَفٍ الْبَغْدَادِيُّ ، بِنَيْسَابُورَ ، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«الْخَمْرُ مِنْ هَاتَيْنِ الشَّجَرَتَيْنِ؛ مِنَ النَّخْلَةِ وَالْكَرْمَةِ» .

رَوَاهُ عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ ، وَأَبُو كَثِيرٍ اسْمُهُ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْغَبْرِيُّ السُّحَيْمِيُّ
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আস-সিলাফি, তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ আস-সাকাফি, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ আল-বাগদাদী, নাইসাপুরে, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহীম আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উবাইদুল্লাহ বিন মূসা, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-আওযায়ী, ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «মদ এই দুটি গাছ থেকে তৈরি হয়; খেজুর গাছ এবং আঙ্গুর গাছ».

এটি বর্ণিত হয়েছে ইবনে নুমাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আল-আওযায়ী থেকে। আর আবু কাসীরের নাম হলো ইয়াযীদ বিন আব্দুর রহমান আল-গুবরী আস-সুহাইমী।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ ، أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ ، أنبا عَبْدُ اللَّهِ هُوَ ابْنُ جَعْفَرِ بْنِ دَرَسْتَوَيْهِ ، ثنا أَبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بْنُ سُفْيَانَ الْفَسَوِيُّ ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى ، عَنْ شَيْبَانَ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ ، عَنِ الأَحْوَصِ ، قَالَ: أَتَيْتُ أَبَا مُوسَى وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ وَأَبَا مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيَّ وَهُمْ يَنْظُرُونَ إِلَى مُصْحَفٍ ، فَتَحَدَّثْنَا سَاعَةً ثُمَّ خَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ وَذَهَبَ ، فَقَالَ أَبُو مَسْعُودٍ: «وَاللَّهِ‌‌ مَا أَعْلَمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَرَكَ أَحَدًا أَعْلَمَ بِكِتَابِ اللَّهِ مِنْ هَذَا الْقَائِمِ» .

رَوَاهُ عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ آدَمَ ، عَنْ عَطِيَّةَ ، عَنِ الأَعْمَشِ
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আস-সিলাফি, আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আস-সাকাফি, আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-ফজল আল-কাত্তান, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ — তিনি হলেন ইবন জাফর ইবন দারাসতাওয়াইহি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান আল-ফাসায়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবন মুসা, শায়বান থেকে, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি মালিক ইবন আল-হারিস থেকে, তিনি আল-আহওয়াস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু মুসা, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ এবং আবু মাসউদ আল-আনসারির নিকট আসলাম, এমতাবস্থায় যে তাঁরা একটি মাসহাফের (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) দিকে তাকাচ্ছিলেন। আমরা কিছুক্ষণ আলাপ করলাম, তারপর আব্দুল্লাহ বের হয়ে চলে গেলেন। তখন আবু মাসউদ বললেন: “আল্লাহর কসম, নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এই দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে রেখে গেছেন বলে আমার জানা নেই।”

এটি বর্ণিত হয়েছে আবু কুরাইব থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন আদম থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আল-আ’মাশ থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ ، أنبا أَبُو زَكَرِيَّا الْمُزَكِّي ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأُمَوُيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّاغَانِيُّ ، ثنا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ: قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ ، أَنَّهُ سَمِعَ الْقِرَاطَ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ أَبِي هُرَيْرَةَ ابْنَ عَمٍّ لَهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ أَرَادَ بِهَا سُوءًا أَذَابَهُ اللَّهُ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ» .

رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ ، عَنْ حَجَّاجٍ ، وَالْقِرَاطُ هُوَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَاسْمُهُ دِينَارٌ مَدِينِيٌّ
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আস-সিলাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আস-সাকাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাকারিয়া আল-মুজাক্কি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আল-উমাওয়ি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আস-সাগানি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাজ্জাজ ইবন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: ইবন জুরাইজ বলেছেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবন ইয়াহইয়া ইবন উমারা, যে তিনি আল-কিরাত থেকে শুনেছেন—যিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর (আমরের) একজন চাচাতো ভাই ছিলেন—তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি এর (মদিনার) কোনো ক্ষতি করতে চাইবে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে গলিয়ে দেবেন যেমনভাবে লবণ পানিতে গলে যায়»।

এটি বর্ণিত হয়েছে মুহাম্মদ ইবন হাতিম থেকে, হাজ্জাজ-এর সূত্রে। আর আল-কিরাত হলেন আবু আবদুল্লাহ, তাঁর নাম দীনার, তিনি মদিনার অধিবাসী।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ ، أنبا أَبُو طَاهِرٍ رَوْحُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الرَّازَانِيُّ ، بِأَصْبَهَانَ ، أنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ الْبَاطِرْقَانِيُّ ، أنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ ، عَنْ مَعْمَرٍ ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلَ فَاسْتُعْجِمَ الْقُرْآنُ عَلَى لِسَانِهِ فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُولُ فَلْيَنْصَرِفْ فَلْيَضْطَجِعْ» .

رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আস-সিলাফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির রাওহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আর-রাজানি, ইসফাহানে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বাতিরকানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম আদ-দাবারি, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যখন রাতে (সালাতে) দাঁড়ায় এবং তার জিহবায় কুরআন পড়া কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে সে কী বলছে তা বুঝতে পারে না, তখন সে যেন ফিরে যায় (সালাত ছেড়ে দেয়) এবং শুয়ে পড়ে»।

এটি মুহাম্মাদ বিন রাফি’র সূত্রে আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ ، أنبا أَبُو يَاسِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْخَيَّاطُ ، بِبَغْدَادَ ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ الْحَسَنِ الْمُعَدِّلُ ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَيْمُونٍ ، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«طَعَامُ الْوَاحِدِ يَكْفِي الاثْنَيْنِ ، وَطَعَامُ الاثْنَيْنِ يَكْفِي الأَرْبَعَةَ ، وَطَعَامُ الأَرْبَعَةِ يَكْفِي الثَّمَانِيَةَ إِذَا سَمَّوْا» .

رَوَاهُ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاهَوَيْه ، وَيَحْيَى بْنِ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ ، عَنْ رَوْحِ بْنِ عُبَادَةَ ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ
15 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আস-সিলাফি, আমাদের জানিয়েছেন আবু ইয়াসির মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাইয়াত, বাগদাদে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান, আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল খালিক ইবনে আল-হাসান আল-মু'আদ্দিল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আল-হাসান ইবনে মাইমুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান, আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «একজনের খাবার দুজনের জন্য যথেষ্ট, দুজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট, যখন তারা আল্লাহর নাম নেয়»।

এটি বর্ণিত হয়েছে ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে হাবীব ইবনে আরাবি থেকে, তারা রাউহ ইবনে উবাদাহ থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو زُرْعَةَ طَاهِرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَاهِرٍ الْمَقْدِسِيُّ ، بِبَغْدَادَ ، أنبا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْهَيْثَمِ الْمُقَدَّمِيُّ الْقَزْوِينِيُّ ، بِالرَّيِّ ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الزُّبَيْرِيُّ ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مَهْرَوَيْهِ الْقَزْوِينِيُّ ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ ، ثنا أَبُو عُبَيْدٍ الْقَاسِمُ بْنُ سَلامٍ ، حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سَلامٍ عَنْ أَخِيهِ زَيْدِ بْنِ سَلامٍ ، أَنَّهُ سَمِعَ جَدَّهُ أَبَا سَلامٍ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: "‌‌ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ؛ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِصَاحِبِهِ ، اقْرَءُوا الزَّهْرَاوَيْنِ: سُورَةَ الْبَقَرَةِ ، وَسُورَةَ آلِ عِمْرَانَ؛ فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ تُحَاجَّانِ عَنْ صَاحِبِهِمَا ".

قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: يَعْنِي بِقِرَاءَتِهِمَا.

قَالَ أَبُو الْحَسَنِ: تَكَلَّمَ أَبُو عُبَيْدٍ بِهَذَا وَالسَّيْفُ يَوْمَئِذٍ يَقْطِرُ.

رَوَاهُ عَنْ حَسَنٍ الْحُلْوَانِيِّ ، عَنْ أَبِي تَوْبَةَ الرَّبِيعِ بْنِ نَافِعٍ ، وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ حَسَّانٍ ، كِلاهُمَا عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سَلامٍ
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যুরআ তাহির বিন মুহাম্মাদ বিন তাহির আল-মাকদিসি, বাগদাদে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন আল-হাইসাম আল-মুকাদ্দামি আল-কাযউইনি, রাই নগরে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আয-যুবাইর বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান আয-যুবাইরি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আলি বিন মাহরাওয়াইহ আল-কাযউইনি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আলি বিন আব্দুল আযীয আল-বাগাওয়ি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম; আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন ইসমাঈল, মুহাম্মাদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি মুআবিয়া বিন সাল্লাম থেকে, তিনি তার ভাই যাইদ বিন সাল্লাম থেকে, তিনি তার দাদা আবু সাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি আবু উমামা আল-বাহিলিকে বলতে শুনেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "‌‌তোমরা কুরআন পাঠ করো; কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে। তোমরা দুটি উজ্জ্বল সূরা পাঠ করো: সূরা আল-বাকারা এবং সূরা আল-ইমরান; কেননা কিয়ামতের দিন এ দুটি এমনভাবে আসবে যেন তারা দুটি মেঘখণ্ড অথবা দুটি ছায়াদানকারী বস্তু অথবা ডানা বিস্তারকারী পাখির দুটি ঝাঁক, যারা তাদের পাঠকারীর পক্ষ হয়ে বিতর্ক (সুপারিশ) করবে।"

আবু উবাইদ বলেছেন: অর্থাৎ এ দুটির পাঠ করা দ্বারা [উদ্দেশ্য]।

আবু আল-হাসান বলেছেন: আবু উবাইদ এই কথাটি তখন বলেছিলেন যখন (ফিতনার কারণে) তলোয়ার থেকে রক্ত ঝরছিল।

এটি হাসান আল-হুলওয়ানি থেকে, তিনি আবু তাওবাহ আর-রাবী বিন নাফি থেকে; এবং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন হাসসান থেকে—তারা উভয়েই মুআবিয়া বিন সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو زُرْعَةَ طَاهِرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَقْدِسِيُّ ، أنا أَبُو مَنْصُورٍ الْمُقَدَّمِيُّ ، أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيُّ ، أنا عَلِيُّ بْنُ مَهْرَوَيْه الْقَزْوِينِيُّ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، أنبا أَبُو عُبَيْدٍ ، أنبا عَبْدُ الرَّحْمَنِ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنِ الْمُخَوَّلِ بْنِ رَاشِدٍ ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَقْرَأُ فِي صَلاةِ الصُّبْحِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ الم {1} تَنْزِيلُ السَّجْدَةَ وَهَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ.

رَوَاهُ عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنِ الثَّوْرِيِّ
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যুরআ তাহির বিন মুহাম্মাদ আল-মাকদিসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর আল-মুকাদ্দামি, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আয-যুবাইরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন মাহরাওয়াইহি আল-কাযউইনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল আযীয, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আবু উবাইদ, তিনি বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন আব্দুর রহমান, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মুখাওয়াল বিন রাশিদ থেকে, তিনি মুসলিম আল-বাতিন থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিন ফজরের সালাতে আলিফ-লাম-মীম তানযীলুস সাজদাহ এবং হাল আতা আলাল ইনসান পাঠ করতেন।

এটি ইবনে নুমাইর তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْبَغْدَادِيُّ ، بِهَا ، أنبا أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ ، أنبا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ زَكَرِيَّا بْنِ حَيَوَيْهِ الْخَزَّازُ ، أنبا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مَعْرُوفِ بْنِ بِشْرٍ الْخَشَّابُ ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ فَهْمٍ ، ثنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ ، أنبا عَارِمُ بْنُ الْفَضْلِ ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، ثنا ثَابِتٌ ، عَنْ كِنَانَةَ بْنِ نُعَيْمٍ الْعَدَوِيِّ ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ يَعْنِي أَنَّ جُلَيْبِيْبًا كَانَ امْرَأً مِنَ الأَنْصَارِ ، وَكَانَ يَدْخُلُ عَلَى النِّسَاءِ وَيَتَحَدَّثُ إِلَيْهِنَّ ، فَقَالَ أَبُو بَرْزَةَ: فَقُلْتُ لامْرَأَتِي: اتَّقُوا لا يَدْخُلَنَّ عَلَيْكُنَّ جُلَيْبِيبٌ ، قَالَ: وَكَانَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ لأَحَدِهِمْ أَيِّمٌ لَمْ يُزَوِّجْهَا حَتَّى يَعْلَمَ أَلِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا حَاجَةٌ أَمْ لا ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ لِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ: «يَا فُلانُ‌‌ زَوِّجْنِي ابْنَتَكَ» .

قَالَ: نِعِمَّ وَنُعْمَةُ عَيْنٍ.

قَالَ: «إِنِّي لَسْتُ لِنَفْسِي أُرِيدُهَا» .

قَالَ: فَلِمَنْ؟ قَالَ: «لِجُلَيْبِيبٍ» .

قَالَ:
يَا رَسُولَ اللَّهِ، حَتَّى أَسْتَأْمِرَ أُمَّهَا.

فَأَتَاهَا ، فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ ابْنَتَكِ.

قَالَتْ: نِعِمَّ وَنُعْمَةُ عَيْنٍ زَوِّجْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

قَالَ: إنَّهُ لَيْسَ لِنَفْسِهِ يُرِيدُهَا.

قَالَتْ: فَلِمَنْ؟ قَالَ: لِجُلَيْبِيبٍ ، قَالَتْ: حَلْقِي أَجُلَيْبِيبٌ ابْنُهُ؟ لا ، لَعَمْرُ اللَّهِ لا أُزَوِّجُ جُلَيْبِيبًا.

فَلَمَّا قَامَ أَبُوهَا لِيَأْتِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَتِ الْفَتَاةُ مِنْ خِدْرِهَا لأَبَوَيْهَا: مَنْ خَطَبَنِي إِلَيْكُمَا؟ قَالا: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

قَالَتْ: أَتَرُدُّونَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمْرَهُ؟ ادْفَعُونِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ لَنْ يُضَيِّعَنِي.

فَذَهَبَ أَبُوهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: شَأْنُكَ بِهَا فَزَوِّجْهَا جُلَيْبِيبًا.

فَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ لِثَابِتٍ: أَتَدْرِي مَا دَعَا لَهَا بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: وَمَا دَعَا لَهَا بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.

قَالَ: «اللَّهُمَّ صُبَّ عَلَيْهِمَا الْخَيْرَ صَبًّا صَبًّا ، وَلا تَجْعَلْ عَيْشَهُمَا كَدًّا كَدًّا» .

قَالَ ثَابِتٌ: فَزَوَّجَهَا إِيَّاهُ فَبَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوٍ لَهُ فَأَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْهِ ، قَالَ: «هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ؟» قَالُوا: نَفْقِدُ فُلانًا ، وَنَفْقِدُ فُلانًا ، وَنَفْقِدُ فُلانًا ، ثُمَّ قَالَ: «هَلْ تَفْقِدُونَ أَحَدًا؟» قَالُوا نَفْقِدُ فُلانًا ، وَنَفْقِدُ فُلانًا.

ثُمَّ قَالَ: «هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ؟» قَالُوا: نَفْقِدُ فُلانًا وَفُلانًا.

ثُمَّ قَالَ: «هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ» .

قَالُوا: لا.

قَالَ: " لَكِنِّي أَفْقِدُ جُلَيْبِيبًا ، فَاطْلُبُوهُ فِي الْقَتْلَى ، فَنَظَرُوا فَوَجَدُوهُ إِلَى جَنْبِ سَبْعَةٍ قَدْ قَتَلَهُمْ ، ثُمَّ قَتَلُوهُ.

وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ ، أَقَتَلَ سَبْعَةً ثُمَّ قَتَلُوهُ؟ هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ؟ أَقَتَلَ سَبْعَةً ثُمَّ قَتَلُوهُ؟ هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ» .

فَوَضَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى سَاعِدِهِ ثُمَّ حَفَرُوا لَهُ مَا لَهُ سَرِيرٌ إِلا سَاعِدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى وَضَعَهُ فِي قَبْرِهِ.

قَالَ ثَابِتٌ: فَمَا فِي الأَنْصَارِ أَيِّمٌ أَنْفَقُ مِنْهَا.

قَالَ ابْنُ سَعْدٍ: فَقَدْ سَمِعْتُ مَنْ يَذْكُرُ أَنَّ جُلَيْبِيبًا كَانَ رَجُلا مِنْ بَنِي ثَعْلَبَةَ حَلِيفًا مِنَ الأَنْصَارِ وَالْمَرْأَةُ الَّتِي زَوَّجَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِيَّاهُ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ.

رَوَاهُ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عُمَرَ بْنِ سُلَيْطٍ ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আবদুর রহীম বিন আবদুল খালিক বিন আহমাদ বিন আবদুল কাদির বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-বাগদাদী, সেখানে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আবদুল কাদির বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল কাদির। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাওহারী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর মুহাম্মাদ বিন আব্বাস বিন যাকারিয়া বিন হাইয়ওয়াই আল-খায্যায। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ বিন মারুফ বিন বিশর আল-খাশ্শাব। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন ফাহম। তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন সাদ। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আরিম বিন আল-ফাযল। তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ। তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাবিত, কিনানাহ বিন নুআইম আল-আদাবী থেকে, তিনি আবু বারযাহ আল-আসলামী থেকে বর্ণনা করেন যে, জুলায়বিব ছিলেন আনসারদের একজন লোক। তিনি নারীদের কাছে যেতেন এবং তাদের সাথে কথাবার্তা বলতেন। আবু বারযাহ বলেন: তখন আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, তোমরা সতর্ক থেকো, জুলায়বিব যেন তোমাদের কাছে প্রবেশ না করে। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের নিয়ম ছিল যে, তাঁদের কারো যদি কোনো অবিবাহিতা কন্যা থাকত, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো প্রয়োজন আছে কি না তা না জানা পর্যন্ত তারা তাকে বিয়ে দিতেন না। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের এক ব্যক্তিকে বললেন: «হে অমুক, ‌ তোমার কন্যাকে আমার কাছে বিয়ে দাও।»

সে বলল: কতই না উত্তম এবং তা হবে পরম সৌভাগ্যের বিষয়।

তিনি বললেন: «আমি নিজের জন্য তাকে চাচ্ছি না।»

সে বলল: তবে কার জন্য? তিনি বললেন: «জুলায়বিবের জন্য।»

সে বলল:
হে আল্লাহর রাসূল, আমি তার মায়ের সাথে পরামর্শ করে নিই।

অতঃপর সে তার কাছে এল এবং বলল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কন্যার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।

সে বলল: কতই না উত্তম এবং তা হবে পরম সৌভাগ্যের বিষয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিয়ে দাও।

সে (পিতা) বলল: তিনি নিজের জন্য তাকে চাচ্ছেন না।

সে বলল: তবে কার জন্য? সে বলল: জুলায়বিবের জন্য। সে (মা) বলল: হায় দুর্ভাগ্য! জুলায়বিবের কাছে? না, আল্লাহর কসম, আমি জুলায়বিবের কাছে বিয়ে দেব না।

যখন তার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন, তখন সেই যুবতী তার পর্দার আড়াল থেকে তার পিতামাতাকে বলল: কে আমার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন? তারা বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

সে বলল: আপনারা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ প্রত্যাখ্যান করবেন? আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সমর্পণ করুন, কারণ তিনি কখনোই আমাকে নষ্ট হতে দেবেন না।

অতঃপর তার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন: আপনি যা ভাল মনে করেন তাই করুন, তাকে জুলায়বিবের সাথে বিয়ে দিন।

ইসহাক বিন আবদুল্লাহ বিন আবি তালহা সাবিতকে বললেন: আপনি কি জানেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য কী দুআ করেছিলেন? তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য কী দুআ করেছিলেন?

তিনি (নবীজী) বলেছিলেন: «হে আল্লাহ, তাদের ওপর অফুরন্ত কল্যাণ বর্ষণ করুন এবং তাদের জীবনকে কষ্টকর করবেন না।»

সাবিত বলেন: অতঃপর তিনি তাকে তার সাথে বিয়ে দিলেন। এরপর এক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থাকাকালীন আল্লাহ তাঁকে বিজয় দান করলেন। তিনি বললেন: «তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ?» তারা বলল: আমরা অমুককে হারিয়েছি, অমুককে হারিয়েছি এবং অমুককে হারিয়েছি। অতঃপর তিনি বললেন: «তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ?» তারা বলল: আমরা অমুককে এবং অমুককে হারিয়েছি।

এরপর তিনি বললেন: «তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ?» তারা বলল: আমরা অমুক এবং অমুককে হারিয়েছি।

অতঃপর তিনি বললেন: «তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ?»

তারা বলল: না।

তিনি বললেন: "কিন্তু আমি জুলায়বিবকে হারিয়েছি। তাকে শহীদদের মাঝে তালাশ করো।" তারা তালাশ করে দেখল সে সাতজন ব্যক্তির পাশে পড়ে আছে যাদেরকে সে হত্যা করেছিল, অতঃপর তারা তাকে হত্যা করেছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সে আমার এবং আমি তার। সে সাতজনকে হত্যা করেছে তারপর তারা তাকে হত্যা করেছে? সে আমার এবং আমি তার? সে সাতজনকে হত্যা করেছে তারপর তারা তাকে হত্যা করেছে? সে আমার এবং আমি তার।»

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাঁর নিজের বাহুর ওপর উঠিয়ে নিলেন। তারা তাঁর জন্য কবর খনন করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই বাহুই ছিল তার খাট (শয্যা), যতক্ষণ না তিনি তাকে কবরে রাখলেন।

সাবিত বলেন: আনসারদের মাঝে সেই নারীর চেয়ে সচ্ছল ও দানশীল কোনো বিধবা ছিল না।

ইবনে সাদ বলেন: আমি কাউকে বলতে শুনেছি যে, জুলায়বিব ছিলেন বনু সা’লাবা গোত্রের একজন লোক এবং আনসারদের মিত্র, আর যে নারীর সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি ছিলেন বনু হারিস বিন খাযরাজ গোত্রের।

এটি ইসহাক বিন উমর বিন সুলাইত থেকে এবং তিনি হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - أَخْبَرَنَا سَعْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَعيِدٍ ، وَأَبُو الْمَعَالِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْغَنِيِّ بْنِ حَنِيفَةَ ، قَالا: أنبا الإِمَامُ أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقْرِئُ ، أنبا أَبُو طَاهِرٍ عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْمُؤَدِّبُ ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الصَّوَّافِ ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى ، ثنا الْحُمَيْدِيُّ ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الْعَمِّيُّ ، ثنا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا أَبَا ذَرٍّ،‌‌ إِذَا طَبَخْتَ فَأَكْثِرِ الْمَرَقَةَ ، وَتَعَاهَدْ جِيرَانَكَ أَوْ أَقْسِمْ فِي جِيرَانِكَ» .

رَوَاهُ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، وَعَنْ أَبِي كَامِلٍ فُضَيْلِ بْنِ الْحُسَيْنِ ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ الْعَمِّيِّ ، وَأَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ الْبَصْرِيُّ
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাদুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন সাঈদ এবং আবুল মাআলি আহমাদ ইবন আব্দুল গানি ইবন হানিফা। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু মানসুর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আলি আল-মুকরি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আব্দুল গাফফার ইবন মুহাম্মাদ ইবন জাফর আল-মুয়াদ্দিব। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনাস সাওয়াফ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি বিশর ইবন মুসা। আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হুমাইদি। আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল আজিজ ইবন আব্দুস সামাদ আল-আম্মি। আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু ইমরান আল-জাওনি, আব্দুল্লাহ ইবন সামিত থেকে, আবু যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: «হে আবু যার,‌‌ যখন তুমি রান্না করবে তখন ঝোল বাড়িয়ে দাও এবং তোমার প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নিও অথবা তাদের মাঝে তা বণ্টন করো» .

এটি ইসহাক ইবন ইব্রাহিম এবং আবু কামিল ফুযাইল ইবনুল হুসাইন থেকে, আব্দুল আজিজ ইবন আব্দুস সামাদ আল-আম্মি এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আর আবু ইমরান আল-জাওনির নাম হলো আব্দুল মালিক ইবন হাবিব আল-বাসরি।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ الْبَغْدَادِيُّ ، بِهَا ، أنبا الإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ التَّمِيمِيُّ ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنُ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ ، أنبا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ ،ثنا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ السُّلَمِيُّ ، ثنا شَبَابَةُ ، ثنا شُعْبَةُ ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ، قَالَ: «أَوْصَانِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِثَلاثٍ أَنْ‌‌ أَسْمَعَ وَأُطِيعَ وَلَوْ لِعَبْدٍ مُجْدَعِ الأَطْرُفِ ، وَإِذَا صَنَعْتُ مَرَقَةً أَنْ أُكْثِرَ مَاءَهَا ثُمَّ أَنْظُرَ إِلَى أَهْلِ بَيْتٍ قَرِيبٍ مِنْ جِيرَانِي فَأُصِيبُهُمْ مِنْهُ بِمَعْرُوفٍ»
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে আহমদ ইবনে সালমান আল-বাগদাদি, সেখানে (বাগদাদে); আমাদের অবহিত করেছেন ইমাম আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল আজিজ আত-তামিমি; আমাদের অবহিত করেছেন আবু আল-হুসাইন আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান; আমাদের অবহিত করেছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনুল বাখতারি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ—তিনি হলেন ইবনে ইসমাইল আস-সুলামি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাবাবাহ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বাহ; আবু ইমরান আল-জাওনি থেকে; তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আস-সামিত থেকে; তিনি আবু যার (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত (উপদেশ) করেছেন— যেন আমি শুনি ও আনুগত্য করি, এমনকি যদি হাত-পা কাটা কোনো ক্রীতদাসও হয়; আর যখন আমি ঝোল রান্না করি, তখন যেন তার পানি বাড়িয়ে দেই; অতঃপর আমার প্রতিবেশীদের মধ্য থেকে নিকটবর্তী কোনো পরিবারের প্রতি লক্ষ করি এবং তাদের তা হতে উত্তমভাবে কিছু অংশ প্রদান করি।»
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنُ بْنُ بِشْرَانَ ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ ، ثنا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ السُّلَمِيُّ ، ثنا يُونُسُ ، ثنا حَمَّادٌ ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ،‌‌ الرَّجُلُ يَعْمَلُ عَمَلَ الصَّالِحِ يَحْمَدُهُ النَّاسُ وَيُثْنُونَ عَلَيْهِ.

قَالَ: «ذَلِكَ عَاجِلُ بُشْرَى
الْمُؤْمِنِ» .

رَوَاهُ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى ، وَأَبِي الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيِّ ، وَأَبِي كَامِلٍ فُضَيْلِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْجَحْدَرِيِّ ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ ، هَذَا
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন আবদিল বাকী, আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আত-তামীমী, আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-হুসাইন ইবন বিশরান, আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন আল-বাখতারী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ—যিনি ইবন ইসমাঈল আস-সুলামী—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ, আবু ইমরান আল-জাওনী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আস-সামিত থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, কোনো ব্যক্তি নেক আমল করে আর মানুষ তার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে।

তিনি বললেন: «এটি মুমিনের জন্য
আগাম সুসংবাদ»।

এটি ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আবু আর-রাবী‘ আজ-জাহরানী এবং আবু কামিল ফুদাইল ইবন আল-হুসাইন আল-জাহদারী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তারা এটি হাম্মাদ ইবন যায়িদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ ، ، ثنا أَبُو مُطِيعٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمِصْرِيُّ ، بِأَصْبَهَانَ ، أنبا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ هَارُونَ الْكَوْكَبِيُّ ، أنبا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ ، ثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادِ بْنِ طَلْحَةَ الْقَتَّادُ ، ثنا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ ، عَنْ سِمَاكٍ ، عَنْ جَابِر بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ: "‌‌ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الأُولَى ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى أَهْلِهِ وَخَرَجْتُ مَعْهُ ، وَاسْتَقْبَلَهُ وِلْدَانُ الْمَدِينَةِ فَجَعَلَ يَمْسَحُ خَدَّيْ أَحَدِهِمْ وَاحِدًا وَاحِدًا ، قَالَ: وَأَمَّا أَنَا فَمَسَحَ خَدِّي فَوَجَدْتُ لِيَدِهِ بَرْدًا وَرِيحًا كَأَنَّمَا أَخْرَجَهَا مِنْ جَوْنَةِ عَطَّارٍ ".

رَوَاهُ عَنْ عَمْرِو بْنِ حَمَّادِ بْنِ طَلْحَةَ ، كَذَلِكَ وَقَدِ انْفَرَدَ بِالرِّوَايَةِ عَنْهُ
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আস-সিলাফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুতি’ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল আজিজ আল-মিসরি, ইসফাহানে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন হারুন আল-কাওকাবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাউয়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন হাম্মাদ বিন তালহা আল-কাত্তাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসবাত বিন নাসর, সিমাক থেকে, তিনি জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে প্রথম সালাত আদায় করলাম, এরপর তিনি তাঁর পরিবারের নিকট বের হলেন এবং আমিও তাঁর সাথে বের হলাম। মদিনার শিশুরা তাঁর সামনে এল এবং তিনি তাদের প্রত্যেকের গালে একে একে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। তিনি বলেন: আর আমার গালে যখন হাত বুলালেন, তখন আমি তাঁর হাতে এমন শীতলতা ও সুঘ্রাণ অনুভব করলাম যেন মনে হলো তিনি তা আতর বিক্রেতার পাত্র থেকে বের করেছেন।”

তিনি এটি আমর বিন হাম্মাদ বিন তালহা থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি বর্ণনায় তিনি একক।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّفَلِيُّ ، أنبا أَبُو مُطِيعٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، ثنا أَبُو سَعِيدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُهَيْلٍ الْغَزْنَوِيُّ ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ حَيَّانَ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى ، ثنا هَنَّادٌ ، ثنا عَبْدَةُ ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا إِلا كَانَ مَا أَكَلَ مِنْهُ صَدَقَةً ، وَمَا يَشْرَبُ مِنْهُ صَدَقَةً ، وَمَا أَكَلَ مِنْهُ الطَّيْرُ صَدَقَةً ، وَمَا أَكَلَ السِّبَاعُ صَدَقَةً ، وَلا يَزْرَعُ أَحَدٌ إِلا كَانَ لَهُ صَدَقَةً» .

رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ وَهُوَ ابْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ الْعَرْزَمِيُّ ، وَقَدِ انْفَرَدَ بِهِ
২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আস-সিলাফি, আমাদের খবর দিয়েছেন আবু মুতি মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল আজিজ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু সাঈদ আল-হাসান বিন আলী বিন সুহাইল আল-গজনভি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন হাইয়ান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হান্নাদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদাহ, আব্দুল মালিক থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো মুসলিম যখন কোনো চারাগাছ রোপণ করে, তখন তা থেকে যা কিছু খাওয়া হয় তা তার জন্য সদকা, যা কিছু পান করা হয় তাও সদকা, এবং পাখিরা যা খায় তাও সদকা, আর হিংস্র প্রাণীরা যা খায় তাও সদকা, এবং কেউ কোনো ফসল রোপণ করে না তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়»।

এটি বর্ণিত হয়েছে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমায়ের থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল মালিক থেকে—যিনি হলেন ইবন আবি সুলায়মান আল-আরযামি—এবং তিনি এই বর্ণনায় একক।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ ، ، ثنا أَبُو مُطِيعٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمِصْرِيُّ ، بِأَصْبَهَانَ ، ثنا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَمْرِو بْنِ مَهْدِيٍّ النَّقَّاشُ الْحَافِظُ ، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَاكِرٍ الصَّائِغُ ، ثنا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: " إِنَّ‌‌ رَجُلا زَارَ أَخًا لَهُ فِي قَرْيَةٍ أُخْرَى ، فَأَرْصَدَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى مُدْرَجَتِهِ مَلَكًا ، فَلَمَّا أَتَى الْمَلَكَ، قَالَ: أَيْنَ تُرِيدُ؟ قَالَ: أَزُورُ أَخًا لِي فِي هَذِهِ الْقَرْيَةِ.

قَالَ: هَلْ لَهُ عَلَيْكَ مِنْ نِعْمَةٍ تَرُبُّهَا؟ قَالَ: لا ، إِلا أَنِّي أَحْبَبْتُهُ فِي اللَّهِ.

قَالَ: فَإِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكَ إِنَّ اللَّهَ أَحَبَّكَ كَمَا أَحْبَبْتَهُ ".

قَالَ أَبُو سَعيِدٍ: صَحِيحٌ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، رَوَاهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ، عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى ، وَرَوَاهُ عَفَّانُ مِثْلَهُ ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ الْعَيْشِيُّ ، وَحَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ ، عَنْ حَمَّادٍ ، وَانْفَرَدَ مُسْلِمٌ بِرِوَايَةِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ دُونَ الْبُخَارِيِّ
২৪ - আবু তাহির আস-সিলাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুতী' মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন আব্দুল আযীয আল-মিসরী ইসফাহানে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাফিয আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন আমর ইবন মাহদী আন-নাক্কাশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইবরাহীম আশ-শাফিঈ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, জা'ফর ইবন মুহাম্মদ ইবন শাকির আস-সাঈগ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আ'লা ইবন হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবন সালামাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আবু রাফি' থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এক ব্যক্তি অন্য এক গ্রামে তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তার পথে এক ফেরেশতাকে অপেক্ষমাণ রাখলেন। যখন সে ফেরেশতার নিকট আসলো, ফেরেশতা জিজ্ঞেস করল: তুমি কোথায় যেতে চাও? সে বলল: আমি এই গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করতে চাই।

ফেরেশতা জিজ্ঞেস করল: তার কাছে কি তোমার কোনো নেয়ামত (বা স্বার্থ) আছে যা তুমি দেখাশোনা করছ? সে বলল: না, কেবল আমি তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসি।

ফেরেশতা বলল: নিশ্চয়ই আমি তোমার নিকট আল্লাহর প্রেরিত দূত (এই সংবাদ দিতে এসেছি) যে, আল্লাহ তোমাকে ভালোবেসেছেন যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবেসেছ।"

আবু সাঈদ বলেন: এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস। মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ এটি আব্দুল আ'লা থেকে বর্ণনা করেছেন। আফ্ফান, উবাইদুল্লাহ আল-আইশী এবং হাজ্জাজ ইবনুল মিনহালও হাম্মাদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। বুখারী ব্যতীত কেবল মুসলিমই হাম্মাদ ইবন সালামাহর বর্ণনাটি এককভাবে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ السِّلَفِيُّ ، ثنا أَبُو مُطِيعٍ الْمِصْرِيُّ ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَي بْنِ مَرْدَوَيْهِ الْحَافِظُ ، إِمْلاءً ، سَنَةَ عَشْرٍ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ، ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ عُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ مَضَّاءٍ الْجَوْهَرِيُّ ، ثنا بَكْرُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زَبَّانَ ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ مُجَاهِدٍ ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ ، قَالَ: أَتَيْتُ حُذَيْفَةَ بْنَ أَسَدٍ الْغِفَارِيَّ رضي الله عنه ، فَقُلْتُ: لَقَدْ سَمِعْتُ الْيَوْمَ عَجَبًا.

قَالَ: وَمَا هُوَ؟ قُلْتُ: سَمِعْنَا ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ ، يَقُولُ: الشَّقِيُّ مَنْ شَقِيَ فِي بَطْنِ أُمِّهِ ، وَالسَّعِيدُ مَنْ وُعِظَ بِغَيْرِهِ.

فَأَنْكَرْتُ ذَلِكَ، فَقَالَ لِي: وَمَا تُنْكِرُ مِنْ ذَلِكَ ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: " إِنَّ‌‌ خَلْقَ أَحَدِكُمْ يُجْمَعُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ خَمْسَةً وَأَرْبَعِينَ يَوْمًا ، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ إِلَيْهِ مَلَكًا، فَيَقُولُ: اكْتُبْ أَجَلَهُ وَرِزْقَهُ وَعَمَلَهُ وَشَقِيًّا أَوْ سَعِيدًا ، ثُمَّ يُخْتَمُ ذَلِكَ الْكِتَابُ فَلا يُزَادُ فِيهِ شَيْءٌ وَلا يُنْقَصُ مِنْهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ".

رَوَاهُ مِنْ طُرُقٍ إِلَى أَبِي الطُّفَيْلِ
২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আস-সিলাফি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু মুতি আল-মিসরি, আমাদের বর্ণনা করেছেন হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন মুসা বিন মারদুওয়াইহ, শ্রুতিলিখন হিসেবে চারশত দশ হিজরিতে, আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস উবাইদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মাদ্দা আল-জাওহারি, আমাদের বর্ণনা করেছেন বাকর বিন ইয়াহইয়া বিন যাব্বান, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন মুজাহিদ, আবু তুফাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি হুজাইফা বিন আসাদ আল-গিফারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলাম এবং বললাম: আজ আমি একটি বিস্ময়কর কথা শুনেছি।

তিনি বললেন: সেটা কী? আমি বললাম: আমরা ইবনে উম্মে আবদকে বলতে শুনেছি যে: "দুর্ভাগা সেই যে তার মায়ের পেটে থাকতেই দুর্ভাগা হয়েছে, আর সৌভাগ্যবান সেই যে অপরের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছে।"

আমি তা অস্বীকার করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: এতে অস্বীকার করার কী আছে? নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি তার মায়ের পেটে পঁয়তাল্লিশ দিন পর্যন্ত জমা করা হয়, এরপর ঠিক ততদিনের জন্য রক্তপিণ্ড হয়, এরপর ঠিক ততদিনের জন্য মাংসপিণ্ড হয়, এরপর আল্লাহ তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠান এবং বলেন: তার আয়ু, রিজিক, আমল এবং সে দুর্ভাগা না কি সৌভাগ্যবান—তা লিখে দাও। এরপর সেই লিখিত কিতাবটি মোহর করে দেওয়া হয়, কিয়ামত পর্যন্ত তাতে আর কোনো কিছু বৃদ্ধি করা হয় না এবং কোনো কিছু কমানোও হয় না।"

এটি আবু তুফাইল থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - أَخْبَرَنَا أَبُو رَشِيدٍ حَبِيبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُقْرِئُ ، وَأَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَاصِرِ بْنِ مَنْصُورٍ الأَصْبَهَانِيَّانِ ، بِهَا ، قَالا: أنبا أَبُو مَنْصُورٍ مَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّيْرَفِيُّ ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ ، ثنا بَكْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَزَّازُ الْبَصْرِيُّ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَعْقُوبَ الْكَرْمَانِيُّ ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ ، ثنا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ ، حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ ، أَنَّ أَبَا الطُّفَيْلِ ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ: الشَّقِيُّ مَنْ شَقِيَ فِي بَطْنِ أُمِّهِ ، وَالسَّعِيدُ مَنْ وُعِظَ بِغَيْرِهِ ، فَخَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهِ أَتَعَجَّبُ مِمَّا سَمِعْتُ ، حَتَّى دَخَلْتُ عَلَى أَبِي سُرَيْحَةَ حُذَيْفَةَ بْنِ أُسَيْدٍ ، فَتَعَجَّبْتُ ، فَقَالَ: مِمَّ تَعَجَّبْتَ؟ فَقُلْتُ: سَمِعْتُ أَخَاكَ ابْنَ مَسْعُودٍ يَزْعُمُ: أَنَّ الشَّقِيَّ مَنْ شَقِيَ فِي بَطْنِ أُمِّهِ ، وَالسَّعِيدُ مَنْ وُعِظَ بِغَيْرِهِ ، فَقَالَ: مِنْ أَيِّ ذَلِكَ عَجِبْتَ ، قُلْتُ: أَشَقِيَ أَحَدٌ بِغَيْرِ عَمَلٍ؟ فَأَهْدَى بِيَدِهِ إِلَى أُذُنَيْهِ ، وَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأُذُنَيَّ هَاتَيْنِ ، وَهُوَ يَقُولُ: "‌‌ تَقَعُ النُّطْفَةُ فِي الرَّحِمِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ، ثُمَّ يَتَصَوَّرُ عَلَيْهَا الْمَلَكُ حَسِبْتُهُ قَالَ: الَّذِي يَخْلُقُهَا فَيَقُولُ: يَا رَبِّ أَذَكَرٌ أَمْ أُنْثَى؟ فَيَجْعَلُهَا ذَكَرًا أَوْ أُنْثَى ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ أَسَوِيٌّ أَمْ غَيْرُ سَوِيٍّ؟ فَيَجْعَلُهُ اللَّهُ سَوِيًّا أَوْ غَيْرَ سَوِيٍّ ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ، مَا أَجَلُهُ مَا خُلُقُهُ ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ أَشَقِيٌّ أَمْ سَعيِدٌ؟ فَيَجْعَلُهُ اللَّهُ تَعَالَى شَقِيًّا أَوْ سَعِيدًا ".

رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي خَلَفٍ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي بُكَيْرٍ
২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু রাশিদ হাবিব বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুকরি এবং আবু গালিব মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন নাসির বিন মনসুর আল-আসবাহানি, সেখানে, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মাহমুদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাইরাফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন বকর বিন মুহাম্মদ আল-কাযযায আল-বাসরি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকুব আল-কারমানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইর, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জুহাইর বিন মুয়াবিয়া, আব্দুল্লাহ বিন আতা থেকে বর্ণিত, ইকরিমা বিন খালিদ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, আবু আল-তুফাইল তাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদকে বলতে শুনেছেন: হতভাগ্য সেই ব্যক্তি, যে তার মায়ের গর্ভেই হতভাগ্য হয়েছে; আর সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যে অন্যের থেকে উপদেশ গ্রহণ করে। এরপর আমি তাঁর নিকট থেকে বের হলাম যা শুনেছি তাতে বিস্ময় প্রকাশ করতে করতে, এমনকি আমি আবু সুরাইহা হুযাইফা বিন আসিদের কাছে উপস্থিত হলাম এবং বিস্ময় প্রকাশ করলাম। তিনি বললেন: তুমি কীসে বিস্ময় প্রকাশ করছ? আমি বললাম: আমি আপনার ভাই ইবনে মাসউদকে দাবি করতে শুনেছি যে: হতভাগ্য সেই ব্যক্তি, যে তার মায়ের গর্ভেই হতভাগ্য হয়েছে; আর সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যে অন্যের থেকে উপদেশ গ্রহণ করে। তিনি বললেন: এর কোন বিষয়টি তোমাকে বিস্মিত করেছে? আমি বললাম: কেউ কি আমল ছাড়াই হতভাগ্য হয়? তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর দুই কানের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমার এই দুই কানে বলতে শুনেছি, যখন তিনি বলছিলেন: "বীর্য জরায়ুতে চল্লিশ রাত অবস্থান করে, তারপর ফেরেশতা সেটির উপর আকৃতি প্রদান করেন - আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন: যিনি একে সৃষ্টি করেন - অতঃপর তিনি বলেন: হে রব, এটি কি পুরুষ নাকি নারী? তখন তিনি তাকে পুরুষ অথবা নারী বানান। ফেরেশতা বলেন: হে রব, এটি কি পূর্ণাঙ্গ নাকি অপূর্ণাঙ্গ? তখন আল্লাহ তাকে পূর্ণাঙ্গ অথবা অপূর্ণাঙ্গ বানান। ফেরেশতা বলেন: হে রব, তার আয়ু কত? তার চরিত্র কেমন? তারপর বলেন: হে রব, সে কি হতভাগ্য নাকি সৌভাগ্যবান? অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে হতভাগ্য অথবা সৌভাগ্যবান হিসেবে নির্ধারণ করেন।"

এটি মুহাম্মদ বিন আবি খালাফ, ইয়াহইয়া বিন আবি বুকাইর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الطَّاهِرِ السِّلَفِيُّ ، بِالإِسْكَنْدَرِيَّةِ ، أنبا أَبُو صَادِقٍ مُرْشِدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْقَاسِمِ الْمَدِينِيُّ ، بِمِصْرَ ، وَأَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الرَّازِيُّ ، بِالإِسْكَنْدَرِيَّةِ ، وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَلَفِ اللَّهِ بْنِ عَطِيَّةَ الْمُؤَذِّنُ ، بِالإِسْكَنْدَرِيَّةِ ، أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الرَّازِيُّ ، قَالا: أنبا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدٍ النَّيْسَابُورِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الطَّفَّالِ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحُسَيْنُ بْنُ رَشِيقٍ الْعَسْكَرِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ الذُّهْلِيُّ ، ثنا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو الضَّبِّيُّ ، ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، ثنا عُمَرُ بْنُ حَكِيمٍ ، أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَسْجِدِ بَنِي مُعَاوِيَةَ ، فَدَخَلَ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ يُنَاجِي رَبَّهُ تبارك وتعالى ثُمَّ انْصَرَفَ ، فَقَالَ: ‌‌«سَأَلْتُ رَبِّي عز وجل ثَلاثًا فَأَعْطَانِيَ اثْنَيْنِ وَمَنَعَنِي وَاحِدَةً ، سَأَلْتُ رَبِّي أَنْ لا يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالْغَرَقِ وَلا يُهْلِكَهُمْ بِالسِّنَةِ فَفَعَلَ ، وَسَأَلْتُهُ أَنْ لا يَجْعَلَ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ فَمَنَعْنِيهَا» .

رَوَاهُ عَنِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ مُعَاوِيَةَ
২৭ - আলেকজান্দ্রিয়ায় আবু তাহের আল-সিলাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মিশরে আবু সাদিক মুরশিদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল কাসিম আল-মাদিনি এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আর-রাজি আমাদের রিপোর্ট করেছেন। আলেকজান্দ্রিয়ায় আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে খালাফুল্লাহ ইবনে আতিয়্যাহ আল-মুয়াজ্জিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আর-রাজি আমাদের রিপোর্ট করেছেন। তারা উভয়ে বলেন: আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আন-নাইসাবুরি, যিনি ইবনে আত-তাফফাল নামে পরিচিত, তাঁর নিকট পাঠকালে আমরা শ্রবণ করছিলাম, আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে রাশিক আল-আসকারি আমাদের রিপোর্ট করেছেন, তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শুনছিলাম, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে জাফর আদ-জুহলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে আমর আদ-দাব্বি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে হাকিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমির ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বনু মুয়াবিয়া মসজিদে ছিলাম। তিনি সেখানে প্রবেশ করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন, তারপর দাঁড়িয়ে তাঁর বরকতময় ও সুমহান রবের নিকট প্রার্থনা করতে লাগলেন। এরপর তিনি ফিরে এসে বললেন: ‌‌«আমি আমার মহান ও পরাক্রমশালী রবের নিকট তিনটি বিষয় চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে দুটি দান করেছেন এবং একটি প্রদান করেননি। আমি আমার রবের নিকট প্রার্থনা করেছি যেন তিনি আমার উম্মতকে প্লাবনের মাধ্যমে ধ্বংস না করেন এবং দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে তাদের ধ্বংস না করেন, তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। আর আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করেছি যেন তিনি তাদের মাঝে পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহ সৃষ্টি না করেন, কিন্তু তিনি আমাকে তা প্রদান করেননি।»

তিনি এটি ইবনে আবি উমর থেকে, তিনি মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহ ফি উয়ুনুস সিহাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 - أَخْبَرَنَا أَبُو رَشِيدٍ حَبِيبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُقْرِئُ ، وَأَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَاصِرِ بْنِ مَنْصُورٍ الأَصْبَهَانِيَّانِ ، بِهَا ، أنبا أَبُو مَنْصُورٍ مَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّيْرَفِيُّ ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ ، أنبا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ الطَّبَرَانِيُّ ، أنبا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ السَّدُوسِيُّ ، ثنا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ ، أنبا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ هِلالٍ ، قَالَ: قَالَ أَبُو رِفَاعَةَ الْعَدَوِيُّ: " اسْتَمَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ،‌‌ رَجُلٌ غَرِيبٌ جَاءَ يَسْأَلُ عَنْ دِينِهِ لا يَدْرِي مَا دِينُهُ.

قَالَ: فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَرَكَ
خُطْبَتَهُ ثُمَّ أَتَى بِكُرْسِيٍّ خَلَتْ قَوَائِمُهُ حَدِيدًا ، فَقَعَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يُعَلِّمُنِي مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ ، ثُمَّ أَتَى خُطْبَتَهُ فَأَتَمَّهَا ".

رَوَاهُ عَنْ شَيْبَانَ بْنِ فَرُّوخٍ ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ
২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু রাশিদ হাবিব ইবন ইবরাহিম ইবন আবদুল্লাহ আল-মুকরি এবং আবু গালিব মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন নাসির ইবন মানসুর আল-আসফাহানিদ্বয় সেখানে; তারা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মাহমুদ ইবন ইসমাইল ইবন মুহাম্মদ আস-সায়রাফি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলায়মান ইবন আহমদ ইবন আইয়ুব আত-তাবারানি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবন হাফস আস-সাদুসি; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আসিম ইবন আলি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলায়মান ইবনুল মুগিরা, হাবিব ইবন হিলাল থেকে, তিনি বলেন: আবু রিফায়া আল-আদাভি বলেছেন: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম যখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! জনৈক আগন্তুক ব্যক্তি তার দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছে, সে জানে না তার দ্বীন কী।

তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং ছেড়ে দিলেন
তাঁর খুতবা, এরপর একটি চেয়ার আনা হলো যার পায়াগুলো ছিল লোহার, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে বসলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিতে লাগলেন, এরপর তিনি তাঁর খুতবায় ফিরে গেলেন এবং তা পূর্ণ করলেন।"

এটি শাইবান ইবন ফাররুখ হতে, তিনি সুলায়মান ইবনুল মুগিরা হতে বর্ণনা করেছেন।