(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: -)
الثاني من أجزاء ابن الصواف   (ابن الصواف)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الثاني من أجزاء ابن الصواف

المؤلف: محمد بن أحمد بن الحسن بن إسحاق ابن الصواف، أبو علي البغدادي (ت 359هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 50

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনুল সাউওয়াফ-এর জুযসমূহের দ্বিতীয় খণ্ড   (ইবনুল সাউওয়াফ)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


বই: ইবনুল সাউওয়াফ-এর জুযসমূহের দ্বিতীয় খণ্ড

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাসান বিন ইসহাক ইবনুল সাউওয়াফ, আবু আলী আল-বাগদাদী (মৃত ৩৫৯ হিজরী)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের আওতাধীন জাওয়ামিউল কালিম নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[বইটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১)
الْجُزْءُ الثَّانِي مِنْ أَجْزَاءِ ابْنِ الصَّوَّافِ. . . . . فَجَاءَ إِلَى رَبِّهِ تبارك وتعالى ، فَقَالَ: «مَا قَالُوا لَكَ» .

وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا قَالُوا لَهُ ، فَقَالَ: يَا رَبِّ لَمَّا سَلَّمْتُ عَلَيْهِمْ قَالُوا: وَعَلَيْكَ السَّلامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ.

قَالَ اللَّهُ: «يَا آدَمُ هَذِهِ تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ» .

قَالَ: يَا رَبِّ وَمَنْ ذُرِّيَّتِي؟ قَالَ: «اخْتَرْ ، يَعْنِي إِحْدَى يَدَيَّ يَا آدَمُ» .

قَالَ: أَخْتَارُ يَمِينَ رَبِّي.

وَكِلْتَا يَدَا رَبِّي يَمِينٌ ، فَيَبْسُطُ اللَّهُ تَعَالَى كَفَّهُ ، فَإِذَا كُلُّ مَنْ هُوَ كَائِنٌ مِنْ ذُرِّيَّتِهِ فِي كَفِّ الرَّحْمَنِ ، وَإِذَا رِجَالٌ مِنْهُمْ عَلَى أَفْوَاهِهِمُ الْقُدُمُ ، وَإِذَا رَجُلٌ مِنْهُمْ يَعْجَبُ آدَمُ مِنْ نُورِهِ ، فَقَالَ: يَا رَبِّ مَنْ هَذَا؟ فَقَالَ: «هَذَا ابْنُكَ دَاوُدُ» .

قَالَ: يَا رَبِّ كَمْ جَعَلْتَ لَهُ مِنَ الْعُمْرِ؟ قَالَ: «جَعَلْتُ لَهُ سِتِّينَ» .

قَالَ: يَا رَبِّ أَتِمَّ لَهُ مِنَ الْعُمْرِ حَتَّى يَكُونَ لَهُ مِائَةً ، فَفَعَلَ ذَلِكَ وَأَشْهَدُ عَلَى ذَلِكَ ، قَالَ: فَلَمَّا نَفِدَ عُمْرُ آدَمَ بَعَثَ اللَّهُ إِلَيْهِ مَلَكًا ، فَقَالَ آدَمُ: أَوَلَمْ يَبْقَ مِنْ عُمْرِي أَرْبَعُونَ سَنَةً؟ فَقَالَ لَهُ الْمَلَكُ: أَوْلم تُعْطِهَا ابْنَكَ دَاوُدَ.

فَجَحَدَ فَجَحَدَتْ ذُرَّيَّتَهُ ، وَنَسِيَ فَنَسِيَتْ ذُرِّيَّتَهُ
ইবনে সাওয়াফের সংকলনসমূহের মধ্য থেকে দ্বিতীয় অংশ। . . . . অতপর তিনি তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালকের নিকট আসলেন, তখন তিনি বললেন: "তারা তোমাকে কী বলেছে?"

অথচ তারা তাকে কী বলেছে সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত। তিনি বললেন: হে প্রতিপালক, আমি যখন তাদের সালাম দিলাম, তখন তারা বলল: আপনার ওপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।

আল্লাহ বললেন: "হে আদম, এটিই তোমার অভিবাদন এবং তোমার বংশধরদের অভিবাদন।"

তিনি বললেন: হে প্রতিপালক, আমার বংশধর কারা? তিনি বললেন: "বেছে নাও, অর্থাৎ হে আদম, আমার হাত দুটির কোনো একটি বেছে নাও।"

তিনি বললেন: আমি আমার প্রতিপালকের ডান হাত বেছে নিলাম।

আর আমার প্রতিপালকের উভয় হাতই ডান; অতপর আল্লাহ তাআলা তাঁর হাতের তালু প্রসারিত করলেন, তখন তাঁর বংশধরদের মধ্যে যারা অস্তিত্ব লাভ করবে তারা সবাই রহমানের হাতের তালুতে বিদ্যমান ছিল। আর সেখানে এমন কিছু লোক ছিল যাদের মুখে আল্লাহর পা ছিল, এবং তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার নূর দেখে আদম আশ্চর্যান্বিত হলেন। তিনি বললেন: হে প্রতিপালক, এ কে? তিনি বললেন: "এটি তোমার সন্তান দাউদ।"

তিনি বললেন: হে প্রতিপালক, আপনি তার জন্য কতটুকু হায়াত নির্ধারণ করেছেন? তিনি বললেন: "আমি তার জন্য ষাট বছর নির্ধারণ করেছি।"

তিনি বললেন: হে প্রতিপালক, তার আয়ু পূর্ণ করে দিন যেন তা একশ বছর হয়। তিনি তাই করলেন এবং এর ওপর সাক্ষী রাখলেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতপর যখন আদমের আয়ু শেষ হয়ে গেল, তখন আল্লাহ তাঁর নিকট একজন ফেরেশতা পাঠালেন। আদম বললেন: আমার আয়ুর কি আরও চল্লিশ বছর বাকি নেই? ফেরেশতা তাকে বললেন: আপনি কি তা আপনার সন্তান দাউদকে দিয়ে দেননি?

ফলে তিনি অস্বীকার করলেন, তাই তাঁর বংশধররাও অস্বীকার করল; তিনি ভুলে গেলেন, তাই তাঁর বংশধররাও ভুলে গেল।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২)
1 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ ، عَنْ جَعْفَرٍ ، عَنْ سَعِيدٍ ، قَالَ: ‌‌«كَانَ عُمْرُ آدَمَ أَلْفَ سَنَةٍ فَجُعِلَ لِدَاوُدَ أَرْبَعِينَ سَنَةً وَالأَقْلَامُ رَطْبَةٌ تَجْرِي»
১ - আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি বলেন: «আদমের বয়স ছিল এক হাজার বছর, অতঃপর দাউদের জন্য চল্লিশ বছর নির্ধারণ করা হলো এবং কলমসমূহ আর্দ্র অবস্থায় চলমান ছিল»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: "‌‌ خَلَقَ اللَّهُ الْإِنْسَانَ مِنْ ثَلاثَةٍ: مِنْ طِينٍ لازِبٍ ، وَصَلْصَالٍ ، وَحَمَأٍ مَسْنُونٍ ، فَالطِّينُ اللازِبُ اللازِقُ الْجَيِّدُ ، وَالصَّلْصَالُ الْمُرَقَّقُ الَّذِي يُصْنَعُ مِنْهُ الْفَخَّارُ ، وَالْحَمَأُ الْمَسْنُونُ الطِّينُ فِيهِ الْحَمَأَةُ ، قَالَ: وَإِنَّمَا سُمِيَ الْإِنْسَانَ لأَنَّهُ عُهِدَ إِلَيْه فَنَسِيَ "
২ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ মানুষকে তিনটি উপাদান থেকে সৃষ্টি করেছেন: আঠালো এঁটেল মাটি, শুষ্ক ঠনঠনে মাটি এবং দুর্গন্ধযুক্ত কাদা মাটি থেকে। আঠালো এঁটেল মাটি হলো আঠালো উৎকৃষ্ট মাটি, আর শুষ্ক ঠনঠনে মাটি হলো সেই পাতলা মাটি যা থেকে মাটির পাত্র তৈরি করা হয়, এবং দুর্গন্ধযুক্ত কাদা মাটি হলো সেই মাটি যাতে পচা কাদার উপাদান রয়েছে। তিনি বলেন: আর মানুষকে কেবল এজন্যই 'ইনসান' বলা হয়েছে কারণ তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর সে তা ভুলে গিয়েছিল।"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - حَدَّثَنَا أَبِي عُثْمَانُ ، وَسَعِيدُ بْنُ عُمَرَ ، قَالا: حَدَّثَنَا عَبْثَرُ بْنُ الْقَاسِمِ ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ ، قَالَ: «إِنَّ‌‌ اللَّهَ تَعَالَى خَمَّرَ طِينَةَ آدَمَ عليه السلام أَرْبَعِينَ لَيْلَةً أَوْ أَرْبَعِينَ يَوْمًا ، ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدَيْهِ فَفَرَّقَهُمَا» .

قَالَ: «فَخَرَجَ كُلُّ طِيِّبٍ بِيَمِينِهِ ، وَكُلُّ خَبِيثٍ فِي الأُخْرَى» .

قَالَ: " ثُمَّ خَلَطَهُمَا ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ: {يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ} [يونس: 31] "
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসমান এবং সাঈদ বিন উমর, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবসার বিন আল-কাসিম, সুলাইমান আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদি থেকে, তিনি সালমান আল-ফারিসি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আদমের (আলাইহিস সালাম) মাটিকে চল্লিশ রাত অথবা চল্লিশ দিন পর্যন্ত গেঁজিয়ে রেখেছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত দ্বারা আঘাত করলেন এবং তাদের বিভক্ত করলেন»।

তিনি বলেন: «অতঃপর তাঁর ডান হাতে সকল পবিত্র বস্তু বের হলো এবং অন্য হাতে সকল অপবিত্র বস্তু বের হলো»।

তিনি বলেন: "অতঃপর তিনি উভয়কে মিশ্রিত করলেন, আর এটাই হলো তাঁর বাণী: {তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন} [ইউনুস: ৩১]"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - حَدَّثَنَا الْمِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ عَبَّادٍ ، عَنْ أَبِي رَوْقٍ L ، عَنِ الضَّحَّاكِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، فِي قَوْلِهِ: " ‌‌{مِنْ طِينٍ لازِبٍ} [الصافات: 11] .

قَالَ: اللازِبُ التُّرَابُ ، وَالْحَمَأُ وَاحِدٌ وَالطِّينُ الَّذِي كَانَ لَهُ تُرَابٌ ، ثُمَّ صَارَ حَمَأً مُسَنَّنًا ، ثُمَّ صَارَ طِينًا لازِبًا ، فَخَلَقَ اللَّهُ مِنْهُ آدَمَ عليه السلام فَهُوَ قَوْلُهُ: {مِنْ طِينٍ لازِبٍ} [الصافات: 11] "
৪ - মিনজাব ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে আব্বাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু রওক থেকে, তিনি আদ-দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: " ‌‌{আঠালো মাটি থেকে} [আস-সাফফাত: ১১] .

তিনি বলেন: 'লাজিব' হলো মাটি, আর 'হামা' (কাদা) ও এটি একই। এটি এমন মাটি যা প্রথমে ধূলিসম ছিল, তারপর তা দুর্গন্ধযুক্ত পরিবর্তিত কাদায় পরিণত হলো, তারপর তা আঠালো মাটিতে পরিণত হলো, অতঃপর আল্লাহ তা থেকে আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করলেন। আর এটিই হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আঠালো মাটি থেকে} [আস-সাফফাত: ১১] "
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا الْمِنْجَابُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ ، عَنْ طَلْحَةَ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: ‌‌«إِنَّمَا سُمِّيَ آدَمَ لأَنَّهُ خُلِقَ مِنْ أَدِيمِ الأَرْضِ كُلِّهَا ، مِنْ أَحْمَرِهَا وَأَسْوَدِهَا وَأَبْيَضِهَا وَسَهْلِهَا وَجَبَلِهَا وَسَبْخِهَا وَكُلُّ ذَلِكَ أَنْتَ رَاءٍ فِي وَلَدِهِ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিনজাব, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুশহির, তালহা থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আদমকে আদম নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাকে সমগ্র পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে—তার লাল, কালো ও সাদা মাটি থেকে এবং তার সমতল, পাহাড়ী ও লোনা মাটি থেকে। আর এই সবকিছুরই প্রতিফলন তুমি তার সন্তানদের মধ্যে দেখতে পাবে।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: ‌‌«إِنَّمَا سُمِّيَ الْإِنْسَانَ لأَنَّهُ عُهِدَ إِلَيْهِ فَنَسِيَ ، وَإِنَّمَا سُمِّيَ آدَمَ لأَنَّهُ خُلِقَ مِنْ أَدِيمِ الأَرْضِ» .

حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: ثنا جَرِيرٌ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ مُسْلِمٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، مِثْلَهُ
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমায়র, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদাহ ইবনে সুলাইমান, আমাশ থেকে, তিনি মুসলিম আল-বাতিন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়র থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «মানুষকে কেবল একারণেই 'ইনসান' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে তা ভুলে গিয়েছিল, আর আদমকে কেবল একারণেই 'আদম' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাকে জমিনের উপরিভাগ (আদীম) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে»।

আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর, আমাশ থেকে, তিনি মুসলিম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়র থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، عَنْ يَعْقُوبَ ، عَنْ جَعْفَرٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: ‌‌«بَعَثَ رَبُّ الْعِزَّةِ إِبْلِيسَ، فَأَمَرَهُ أَنْ يَكْبِشَ مِنْ أَدِيمِ الأَرْضِ مِنْ عَذْبِهَا وَمَالِحِهَا، فَفَعَلَ فَخَلَقَ مِنْهُ آدَمَ، فَمِنْ ثَمَّ سُمِّيَ آدَمَ لأَنَّهُ خُلِقَ مِنْ أَدِيمِ الأَرْضِ ، فَمَا خُلِقَ مِنَ الْعَذْبِ لَمْ يَكُنْ إِلا سَعِيدًا وَإِنْ كَانَ مِنْ كَافِرِينَ وَمَا خُلِقَ مِنَ الْمَالِحِ لَمْ يَكُنْ إِلا شَقِيًّا وَإِنْ كَانَ مِنْ بَرٍّ تَقِيٍّ»

حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ طَارِقٍ ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ ثَابِتٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ حَبَّةَ بْنِ جُوَيْنٍ ، عَنْ عَلِيٍّ ، عليه السلام. . . . . . . . . . . . . . حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: ثنا أَبُو أُسَامَةَ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، مِثْلَ حَدِيثِ مُعَاوِيَةَ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: ثنا جَرِيرٌ ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ أَبِي يَحْيَى ، فِي قَوْلِهِ: " {وَبَدَأَ خَلْقَ الإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ} [السجدة: 7] .

قَالَ: فَبَدَأَ الْخَلْقَ مِنْ طِينٍ.

قَالَ: {ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِنْ سُلالَةٍ مِنْ مَاءٍ مَهِينٍ} [السجدة: 8] .

فَالسُّلالَةُ صَفْوُ الْمَاءِ ، وَالْمَاءُ مِنَ الطِّينِ ، وَالْمَهِينُ الضَّعِيفُ ".

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ ، قَالَ: ثنا أَبُو مِسْعَرِ بْنُ كِدَامٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ ، قَالَ: قَالَ لِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ وَتَلا هَذِهِ الآيَةَ: " {وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَى آدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِيَ} [طه: 115] .

قَالَ: تَدْرِي لأَيِّ شَيْءٍ سُمِّيَ الْإِنْسَانَ؟ لأَنَّهُ نَسِيٌّ.

ثُمَّ قَالَ: تَدْرِي لأَيِّ شَيْءٍ سُمِّيَ آدَمَ؟ لأَنَّهُ خُلِقَ مِنْ أَدِيمِ الأَرْضِ.

قَالَ: مِنْ وَجْهِ الأَرْضِ ، قَالَ: أَلا تَرَى فِي وَلَدِهِ الأَبْيَضَ وَالأَسْوَدَ وَالأَحْمَرَ وَالْعَاقِلَ وَالْحَسَنَ الْخُلُقِ وَالسَّيِّئَ الْخُلُقِ ، قَالَ: خُلِقَ مِنْ وَجْهِ آدَمَ فَفِيهَا مَوَاضِعُ أَلْوَانٍ مُخْتَلِفَةٍ ".
৭ - আমাদের কাছে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব থেকে, তিনি জাফর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “মহামহিম রব ইবলিসকে পাঠালেন এবং তাকে নির্দেশ দিলেন যেন সে জমিনের উপরিভাগ থেকে মিষ্টি ও লবণাক্ত মাটি মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়ে আসে। সে তা-ই করল এবং তা থেকে তিনি আদমকে সৃষ্টি করলেন। এ কারণেই তাঁর নাম আদম রাখা হয়েছে, কারণ তাঁকে জমিনের উপরিভাগ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে যা মিষ্টি মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে সে সৌভাগ্যবান ছাড়া আর কিছুই হবে না—যদিও সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়; আর যা লবণাক্ত মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে সে দুর্ভাগ্যবান ছাড়া আর কিছুই হবে না—যদিও সে পুণ্যবান পরহেযগারদের অন্তর্ভুক্ত হয়।”

আবান ইবনে তারিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে সাবিত আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি হাব্বাহ ইবনে জুওয়াইন থেকে, তিনি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে... আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামা আমাদের কাছে সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে মুয়াবিয়ার হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, যা তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন। আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের কাছে আমাশ থেকে, তিনি মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "{এবং তিনি কাদা মাটি থেকে মানুষের সৃষ্টি শুরু করেছেন} [আস-সাজদাহ: ৭] ।

তিনি বলেন: সুতরাং তিনি কাদা মাটি থেকে সৃষ্টি শুরু করেছেন।

তিনি বলেন: {অতঃপর তিনি তাঁর বংশধারা এক নির্যাস থেকে—তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন} [আস-সাজদাহ: ৮] ।

সুতরাং নির্যাস (সুলালাহ) হলো স্বচ্ছ পানি, আর পানি হলো মাটি থেকে, এবং তুচ্ছ (মহীন) হলো দুর্বল।"

মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মিসআর ইবনে কিদাম আমাদের কাছে তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের আমাকে বলেছেন এবং তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেছেন: "{আর ইতিপূর্বে আমি আদমের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল} [ত্বহা: ১১৫] ।

তিনি বললেন: আপনি কি জানেন কেন মানুষকে ‘ইনসান’ নামকরণ করা হয়েছে? কারণ সে বিস্মরণশীল।

অতঃপর তিনি বললেন: আপনি কি জানেন কেন তাকে ‘আদম’ নামকরণ করা হয়েছে? কারণ তাকে জমিনের উপরিভাগ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি বললেন: জমিনের উপরিভাগ থেকে। তিনি বললেন: আপনি কি তার সন্তানদের মধ্যে সাদা, কালো, লাল এবং বুদ্ধিমান, সচ্চরিত্র ও অসচ্চরিত্র ব্যক্তি দেখেন না? তিনি বললেন: তাকে আদমের উপরিভাগ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন বর্ণের স্থান ছিল।"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى ، عَنْ إِسْرَائِيلَ ، عَنْ السُّدِّيِّ ، عَنْ مَنْ حَدَّثَهُ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: ‌‌«إِنَّمَا سُمِّيَ آدَمَ لأَنَّهُ خُلِقَ مِنْ أَدِيمِ الأَرْضِ»
৮ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ বিন মূসা বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল থেকে, তিনি আস-সুদ্দী থেকে, তিনি তাঁর নিকট যিনি বর্ণনা করেছেন তার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই আদমকে ‘আদম’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাকে জমিনের উপরিভাগ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ ، عَنِ الأَعْرَجِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ ، خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ فِيهِ ، وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ وَفِيهِ يُعَادُ فِيهَا»
৯ - আমাদের নিকট ওয়াহাব ইবন বাকিয়্যাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবন ইসহাক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন; এই দিনে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে সেখানে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُسْكِنَ الْجَنَّةَ وَفِيهِ أُهْبِطَ»
১০ - আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইদরিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমুআর দিনই হলো সর্বোত্তম দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনে তাঁকে জান্নাতে বসবাস করতে দেওয়া হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে নামানো হয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ ، قَالَ: ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلامٍ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: ‌‌«خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ ، فِيهَا خُلِقَ آدَمُ وَفِيهَا أُدْخِلَ الْجَنَّةَ وَفِيهَا أُخْرِجَ مِنْهَا وَفِيهَا تَقُومُ السَّاعَةُ»
১১ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে বিশর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুয়াবিয়া ইবনে সালাম বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু হুরাইরাহকে বলতে শুনেছেন: «যেসব দিনে সূর্য উদিত হয় তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। এই দিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে সেখান থেকে বের করা হয়েছে এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ ، عَنْ مَنْصُورٍ ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ ، عَنْ عَلْقَمَةَ ، عَنْ الْقَرْثَعِ الضَّبِّيِّ ، قَالَ: وَكَانَ الْقَرْثَعُ مِنَ الْقُرَّاءِ الأَوَّلِينَ ، عَنْ سَلْمَانَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَا سَلْمَانُ‌‌ تَدْرِي مَا يَوْمُ الْجُمُعَةِ؟ قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ.

يَا سَلْمَانُ فِيهِ جُمِعَ أَبُوكَ ، أَوْ أَبُوكُمْ "
১২ - আমাদের পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মনসুর থেকে, তিনি আবু মা'শার থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আল-কারসা আদ-দাব্বী থেকে বর্ণনা করেছেন—বর্ণনাকারী বলেন: আল-কারসা ছিলেন প্রাথমিক যুগের ক্বারীগণের অন্তর্ভুক্ত—তিনি সালমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে সালমান! তুমি কি জান জুমার দিন কী? তিনি (সালমান) বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত।.

হে সালমান! এই দিনেই তোমার পিতাকে একত্রিত করা হয়েছে, অথবা (বলেছেন) তোমাদের পিতাকে।"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: ثنا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ ، أَنَّ أَبَا الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيَّ ، حَدَّثَهُ ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ»
১৩ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজীদ ইবনে জাবির থেকে, যে আবুল আশআস আস-সানআনী তাকে হাদীস শুনিয়েছেন আউস ইবনে আউস থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এই দিনেই আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এই দিনেই শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে এবং এই দিনেই মহাপ্রলয় ঘটবে।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: ثنا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ ، وَمُعَاوِيَةَ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ زَائِدَةَ ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي مُعَاوِيَةَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: ‌‌«مَا أُسْكِنَ آدَمُ الْجَنَّةَ إِلا مَا بَيْنَ صَلاةِ الْعَصْرِ إِلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ»
১৪ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে আলী ও মুআবিয়াহ ইবনে আমর বর্ণনা করেছেন যায়েদাহ থেকে, তিনি আম্মার ইবনে আবি মুআবিয়াহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “আদমকে আসরের সালাত থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়টুকু ছাড়া জান্নাতে রাখা হয়নি।”
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ هِشَامٍ L ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: ‌‌«مَا مَكَثَ آدَمُ فِي الْجَنَّةِ إِلا مَا بَيْنَ الظُّهْرِ إِلَى الْعَصْرِ»
১৫ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুআবিয়া বিন হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মুআবিয়া বিন ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ বিন হিশাম থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মুআবিয়া বিন ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «আদম জান্নাতে যোহর থেকে আসরের মধ্যবর্তী সময়টুকু ব্যতীত অবস্থান করেননি»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ خَلِيفَةَ ، قَالَ: ثنا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ: ثنا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ خَالِدٍ ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلامٍ ، قَالَ: ‌‌«خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ عليه السلام لِسَبْعِ سَاعَاتٍ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ» ، بِمَحْلُوفِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلامٍ فَمَا جَاءَتْ إِحْدَى عَشْرَةَ سَاعَةً حَتَّى أُخْرِجَ مِنْهَا "
১৬ - আমাদের নিকট আল-কাসিম ইবনে খলিফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমর ইবনে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসা ইবনে উবায়দাহ বর্ণনা করেছেন আইয়ুব ইবনে খালিদ থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে আবি হাসমাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-কে জুমার দিনের সপ্তম ঘণ্টায় সৃষ্টি করেছেন», আবদুল্লাহ ইবনে সালামের শপথ অনুযায়ী, এগারো ঘণ্টা আসার পূর্বেই তাঁকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - حَدَّثَنَا الْمِنْجَاب بْنُ الْحَارِثِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ ذَكْوَانَ ، عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: "‌‌ إِنَّ أَبَاكُمْ آدَمَ عليه السلام كَانَ رَجُلا طُوَالا مِثْلَ النَّخْلَةِ السَّحُوقِ ، كَثِيْرَ الشَّعْرِ يُوَارِي الْعَوْرَةَ ، وَإِنَّهُ لَمَا أَصَابَ الْفَاحِشَةَ خَرَجَ هَارِبًا فِي الْجَنَّةِ فَلَقِيَتْهُ شَجَرَةٌ فَأَخَذَتْ بِنَاصِيَتِهِ ، وَنَادَاهُ عز وجل: «أَفِرَارٌ مِنِّي يَا آدَمُ» .

قَالَ: لا وَاللَّهِ يَا رَبِّ وَلَكِنْ حَيَاءً مِمَّا جِئْتُ بِهِ.

ثُمَّ أُهْبِطَا الأَرْضَ فَلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ بَعَثَ اللَّهُ إِلَيْه بِكَفَنِهِ وَبِحُنُوطِهِ مِنَ الْجَنَّةِ ، فَلَمَّا رَأَتْ حَوَّاءُ الْمَلائِكَةَ ذَهَبَتْ لِتَدْخُلَ دُونَهُمْ ، فَقَالَ: خَلِّي بَيْنِي وَبَيْنَ رُسِل رَبِّي ، فَمَا أَصَابَنِي مَا أَصَابَنِي إِلا فِيكِ ، وَلا لَقِيتُ الَّذِي لَقِيتُ إِلا فِيكِ ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ غَسَّلُوهُ بِالْمَاءِ وَالسِّدْرِ وِتْرًا وَكَفَّنُوهُ فِي وِتْرٍ مِنَ الثِّيَابِ ، ثُمَّ لَحَدُوا لَهُ ، فَدَفَنُوهُ ، ثُمَّ قَالُوا: هَكَذَا سُنَّةُ وَلَدِهِ مِنْ بَعْدِهِ
১৭ - মিনজাব ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনু মুশহির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু যাকওয়ান থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে, তিনি উবাই ইবনু কাব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "‌‌নিশ্চয়ই তোমাদের পিতা আদম আলাইহিস সালাম দীর্ঘকায় খেজুর গাছের ন্যায় দীর্ঘদেহী এক ব্যক্তি ছিলেন, তিনি ছিলেন প্রচুর কেশধারী যা তাঁর লজ্জাস্থানকে আড়াল করে রাখত। আর যখন তিনি সেই নিষিদ্ধ কাজের (ভুলের) শিকার হলেন, তখন তিনি জান্নাতের ভেতর পলায়নপর অবস্থায় দৌড়াতে লাগলেন। এমতাবস্থায় একটি গাছ তাঁর সামনে এসে তাঁর কপালের চুল আঁকড়ে ধরল। তখন মহান আল্লাহ তাঁকে ডেকে বললেন: «হে আদম! তুমি কি আমার নিকট থেকে পলায়ন করছ?»।

তিনি বললেন: না, হে আমার রব! আল্লাহর শপথ; বরং আমি যা করেছি তার লজ্জাবশত (পলায়ন করছি)।

অতঃপর তাঁদের উভয়কে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হলো। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন আল্লাহ জান্নাত থেকে তাঁর জন্য কাফন ও সুগন্ধি পাঠালেন। যখন হাওয়া ফেরেশতাদের দেখলেন, তখন তিনি তাঁদের সামনে আড়াল হয়ে দাঁড়াতে চাইলেন। তখন আদম (আলাইহিস সালাম) বললেন: আমার এবং আমার রবের প্রেরিত দূতদের মাঝ থেকে সরে দাঁড়াও; আমার ওপর যা কিছু আপতিত হয়েছে তা কেবল তোমার কারণেই হয়েছে এবং আমি যার সম্মুখীন হয়েছি তা কেবল তোমার কারণেই হয়েছে। অতঃপর যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, তখন তাঁরা (ফেরেশতারা) তাঁকে পানি ও কুলপাতা (সিদর) দিয়ে বেজোড় সংখ্যক বার গোসল করালেন এবং বেজোড় সংখ্যক কাপড়ে কাফন দিলেন। এরপর তাঁরা তাঁর জন্য লাহাদ (বগলি কবর) খনন করলেন এবং তাঁকে দাফন করলেন। এরপর তাঁরা বললেন: তাঁর পরবর্তী সন্তানদের জন্য এভাবেই নিয়ম নির্ধারিত হলো।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ طَارِقٍ ، قَالَ: ثنا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ ، عَنْ سَعِيدٍ L ، عَنْ قَتَادَةَ L ، عَنِ الْحُسَيْنِ L ، عَنْ عَتِيٍّ السَّعْدِيِّ ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ ، قَالَ: "‌‌ كَانَ آدَمُ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ رَجُلا طَوِيلا كَثِيْرَ شَعْرِ الصَّدْرِ كَأَنَّهُ نَخْلَةٌ جَوْفَاءُ ، فَلَمَّا أَصَابَ الْخَطِيئَةَ سَقَطَ عَنْهُ رِيَاشُهُ ، فَذَهَبَ هَارِبًا فِي الْجَنَّةِ فَتَعَلَّقَتْ شَجَرَةٌ بِرَأْسِهِ ، فَقَالَ: هَلْ أَنْتِ مُخْلِيَتِي؟ فَقَالَتْ: مَا أَنَا بِمُخْلِيَتِكَ.

فَنَادَاهُ رَبُّهُ: يَا آدَمُ أَتَفِرُّ مِنِّي؟ قَالَ: يَا رَبِّ استَحْيَيْتُكَ "
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন তারিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনুল আওয়াম, সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হুসাইন থেকে, তিনি আতিয় আস-সাদি থেকে, তিনি উবাই ইবন কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "‌‌ আদম (আলাইহিস সালাম) ছিলেন দীর্ঘদেহী একজন পুরুষ এবং বক্ষদেশে প্রচুর চুলবিশিষ্ট, যেন তিনি একটি দীর্ঘ অসার খেজুর গাছ। যখন তিনি পদস্খলনের শিকার হলেন, তখন তাঁর শরীর থেকে তাঁর পোশাক খসে পড়ল। অতঃপর তিনি জান্নাতের মধ্যে পলায়ন করতে থাকলেন, এমতাবস্থায় একটি গাছ তাঁর মাথায় আটকে গেল। তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে ছেড়ে দেবে? গাছটি বলল: আমি তোমাকে ছেড়ে দেওয়ার নই।

অতঃপর তাঁর প্রতিপালক তাঁকে ডেকে বললেন: হে আদম, তুমি কি আমার থেকে পলায়ন করছ? তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক, আমি আপনার নিকট লজ্জাবোধ করছি।"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২০)
19 - حَدَّثَنَا عَمِّي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ: ثنا ابْنُ عُلَيَّةَ ، عَنْ يُونُسَ ، عَنِ الْحَسَنِ ، عَنْ يَحْيَى ، عَنْ أُبَيٍّ ، قَالَ: "‌‌ لَمَّا ثَقُلَ آدَمُ أَمَرَ بَنِيهِ أَنْ يَجِيئُوهُ مِنْ ثِمَارِ الْجَنَّةِ فَجَاءُوا ، فَلَقِيَتْهُمُ الْمَلائِكَةُ ، فَقَالَتْ: ارْجِعُوا فَقَدْ أُمِرَ بِقَبْضِ أَبِيكُمْ.

فَرَجَعُوا مَعَهُمْ فَقَبَضُوا رُوحَهُ وَجَاءُوا مَعَهُمْ بِكَفَنِهِ وَحُنُوطِهِ ، وَقَالُوا لِبَنِيهِ: احْضَرُوا.

فَغَسَّلُوهُ وَكَفَّنُوهُ وَحَنَّطُوهُ ، وَقَالُوا لِبَنِيهِ: احْضَرُوا.

وَصَلُّوا عَلَيْهِ ، ثُمَّ قَالُوا: يَا بَنِي آدَمَ هَذِهِ سُنَّتُكُمْ بَيْنَكُمْ "
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার চাচা আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন উলাইয়্যাহ, ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি উবাই (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: " যখন আদম (আ.) মৃত্যুশয্যায় শায়িত হলেন, তিনি তাঁর সন্তানদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা তাঁর জন্য জান্নাতের ফলমূল নিয়ে আসে। তারা যখন বের হলো, তখন ফেরেশতাদের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হলো। তাঁরা বললেন: তোমরা ফিরে যাও, কেননা তোমাদের পিতার রূহ কবজ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

অতঃপর তারা তাঁদের সাথে ফিরে এল এবং তাঁরা তাঁর রূহ কবজ করলেন। তাঁরা তাঁর কাফন ও সুগন্ধি নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁর সন্তানদের বললেন: তোমরা উপস্থিত হও।

অতঃপর তাঁরা তাঁকে গোসল করালেন, কাফন পরালেন এবং সুগন্ধি মাখালেন। এরপর তাঁরা তাঁর সন্তানদের বললেন: তোমরা উপস্থিত হও।

অতঃপর তাঁরা তাঁর জানাজার সালাত আদায় করলেন এবং বললেন: হে আদম সন্তান! তোমাদের মাঝে এটিই তোমাদের পদ্ধতি।"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২১)
20 - حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ الصَّبَّاحِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدٍ الْحَدَّادُ L ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ سَعْدٍ L ، عَنِ الْحَسَنِ L ، عَنْ عُثْمَانَ L ، عَنْ أُبَيٍّ ، قَالَ: "‌‌ الْمَلائِكَةُ صَلَّتْ عَلَى آدَمَ عليه السلام وَكَبَّرَتْ عَلَيْهِ أَرْبَعًا ، وَقَالُوا: هَذِهِ سُنَّتُكُمْ يَا بَنِي آدَمَ "

حَدَّثَنَا
أَبِي ، قَالَ: ثنا عَفَّانُ ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، قَالَ: ثنا ثَابِتٌ ، وَحُمَيْدٌ ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ يَحْيَى السَّعْدِيِّ ، قَالَ: قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَجَلَسْتُ إِلى رَجُلٍ أَبْيَضَ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ يُحَدِّثُ ، فسمعته ، يَقُولُ: " إِنَّ آدَمَ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ لَمَّا قُبِضَ قَالَ لِبَنِيهِ: أَيْ بَنِيَّ إِنِّي أَشْتَهِي مِنْ ثِمَارِ الْجَنَّةِ فَاقْطَعُوا.

فَذَهَبُوا فَلَقِيَتْهُمُ الْمَلائِكَةُ ، فَقَالُوا: يَا بَنِي آدَمَ أَيْنَ تُرِيدُونَ؟ فَأَخْبَرُوهُمْ ، فَقَالُوا: ارْجِعُوا فَإِنَّهُ قَدْ قَضَى أَبِيكُمْ.

فَرَجَعُوا مَعَهُمْ بِكَفَنِهِ وَحُنُوطِهِ وَالْمَسَاحِي وَالْفُئوسِ وَالْمَكَائِلِ ، فَلَمَّا دَخَلُوا عَلَيْهِمْ عَرَفَتْهُمْ حَوَّاءُ ، فَأَرَادَتْ بِهِ ، فَقَالَ: إِلَيْكِ عَنِّي فَإِنِّي إِنَّمَا أَتَيْتُ مِنْ قِبَلِكِ خَلِّي بَيْنِي وَبَيْنَ مَلائِكَةِ رَبِّي ، فَقَبَضُوهُ ، ثُمَّ غَسَّلُوهُ ، وَحَنَّطُوهُ ، وَكَفَّنُوهُ ، وَحَفَرُوا لَهُ ، وَأَلْحَدُوا لَهُ ، وَصَلَّوْا عَلَيْهِ ، وَوَضَعُوهُ فِي لَحْدِهِ ، فَلَمَّا سَوَّوْا عَلَيْهِ ، قَالُوا: يَا بَنِي آدَمَ هَذِهِ سُنَّتُكُمْ "
২০ - ফদল ইবনে সাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ আল-হাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান ইবনে সাদ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি উসমান থেকে, তিনি উবাই থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "‌‌ফেরেশতারা আদমের (আলাইহিস সালাম) জানাজার সালাত আদায় করেছেন এবং তাঁর জানাজায় চারবার তাকবির পাঠ করেছেন। এবং তাঁরা বলেছিলেন: হে আদম সন্তানগণ, এটাই তোমাদের সুন্নাত (পদ্ধতি)।"

আমার
পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাবিত ও হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া আস-সাদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মদিনায় আসলাম এবং সাদা চুল ও দাড়ি বিশিষ্ট একজন ব্যক্তির নিকট বসলাম যিনি হাদিস বর্ণনা করছিলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: "নিশ্চয়ই আদমের (আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর সালাত ও রহমত বর্ষিত হোক) যখন মৃত্যু ঘনিয়ে আসল, তিনি তাঁর সন্তানদের বললেন: হে আমার সন্তানরা, আমি জান্নাতের ফল খেতে ইচ্ছা করছি, তাই তোমরা তা সংগ্রহ করতে যাও।

তারা বের হলো এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তাঁরা বললেন: হে আদম সন্তানগণ, তোমরা কোথায় যেতে চাও? তারা তাঁদেরকে বিষয়টি জানালো। ফেরেশতারা বললেন: ফিরে যাও, কারণ তোমাদের পিতার সময় পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।

অতঃপর তারা তাঁদের সাথে তাঁর কাফন, সুগন্ধি, বেলচা, কুঠার এবং ঝুড়ি নিয়ে ফিরে আসল। যখন ফেরেশতারা তাঁদের কাছে প্রবেশ করলেন, হাওয়া তাঁদের চিনতে পারলেন এবং তাঁর (আদমের) সান্নিধ্যে আসতে চাইলেন। তখন তিনি (আদম) বললেন: আমার থেকে দূরে থাকো, কেননা তোমার দিক থেকেই আমার ওপর পরীক্ষা এসেছিল। আমার এবং আমার রবের ফেরেশতাদের মাঝে পথ ছেড়ে দাও। এরপর ফেরেশতারা তাঁর জান কবজ করলেন, তাঁকে গোসল করালেন, সুগন্ধি মাখালেন, কাফন পরালেন, তাঁর জন্য কবর খনন করলেন, তাঁর জন্য লাহদ তৈরি করলেন, তাঁর জানাজার সালাত আদায় করলেন এবং তাঁকে তাঁর লাহদে শায়িত করলেন। এরপর যখন তাঁরা মাটি সমান করে দিলেন, তখন তাঁরা বললেন: হে আদম সন্তানগণ, এটাই তোমাদের সুন্নাত।"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২২)
21 - حَدَّثَنَا الْمِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ هُرْمُزٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ:‌‌ كَانَ لآدَمَ عليه السلام بَنُونَ؛ وَدٌّ ، وَسُوَاعٌ ، وَيَغُوثُ ، وَيَعُوقُ ، وَنَسْرٌ ، فَكَانَ أَكْبَرُهُمْ يَغُوثُ ، فَقَالَ لَهُ: يَا بُنَيَّ انْطَلِقْ فَإِنْ لَقِيتَ أَحَدًا مِنَ الْمَلائِكَةِ فَمُرْهُ يَجِئْنِي بِطَعَامٍ مِنَ الْجَنَّةِ وَشَرَابٍ مِنْ شَرَابِهَا ، قَالَ: فَانْطَلَقَ فَلَقِيَ جِبْرِيلَ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ بِالْكَعْبَةِ فَسَأَلَهُ ذَلِكَ ، قَالَ: ارْجِعْ فَإِنَّ أَبَاكَ يَمُوتُ.

فَرَجِعَا فَوَجَدَاهُ يَجُودُ بِنَفْسِهِ ، قَالَ: فَوَلِيَهُ جِبْرِيلُ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِ ، فَجَاءَهُ بِكَفَنٍ وَحُنُوطٍ وَسِدْرٍ ، ثُمَّ قَالَ: يَا بَنِي آدَمَ أَتَرَوْنَ مَا أَصْنَعُ بِأَبِيكُمْ فَاصْنَعُوهُ بِمَوْتَاكُمْ.

فَغَسَّلُوهُ ، وَكَفَّنُوهُ ، وَحَنَّطُوهُ ، ثُمَّ حَمَلُوهُ إِلَى الْكَعْبَةِ ، فَأَتَى جِبْرِيلُ عليه السلام يُصَلِّي عَلَيْهِ فَعَرَفَ فَصَلَّى جِبْرِيلُ يَوْمَئِذٍ عَلَى الْمَلائِكَةِ وَكَبَّرَ عَلَيْهِ أَرْبَعًا ، وَوَضَعُوهُ مِمَّا يَلِي الْقِبْلَةَ عِنْدَ الْقُبُورِ وَدَفَنُوهُ فِي مَسْجِدِ الْحَيْفِ "
২১ - মিনজাব ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে মালিক ইবনে মিগওয়াল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে হুরমুজ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আদমের (আলাইহিস সালাম) পুত্র সন্তান ছিল; ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক এবং নাসর। তাদের মধ্যে ইয়াগুস ছিল জ্যেষ্ঠতম। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: হে বৎস! তুমি যাও, যদি ফেরেশতাদের মধ্য হতে কারো দেখা পাও, তবে তাকে বলো যেন সে আমার জন্য জান্নাত থেকে কিছু খাবার এবং জান্নাতের পানীয় নিয়ে আসে। রাবী বলেন: অতঃপর সে রওনা হলো এবং কাবার নিকট জিবরাঈলের (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহি) সাক্ষাৎ পেল। সে তাঁর নিকট তা প্রার্থনা করল। তিনি বললেন: তুমি ফিরে যাও, কারণ তোমার পিতা মৃত্যুবরণ করছেন।

অতঃপর তারা উভয়ে ফিরে এলেন এবং তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় পেলেন। রাবী বলেন: জিবরাঈল (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর সকল দাফন-কাফনের কার্যাবলীর দায়িত্ব নিলেন। তিনি তাঁর জন্য কাফন, সুগন্ধি এবং বরই পাতা নিয়ে এলেন। অতঃপর বললেন: হে আদম সন্তানগণ! আমি তোমাদের পিতার সাথে যা করছি তা কি তোমরা দেখছ? তোমাদের মৃতদের ক্ষেত্রেও তোমরা এরূপই করবে।

অতঃপর তারা তাঁকে গোসল দিলেন, কাফন পরালেন এবং সুগন্ধি মাখালেন। এরপর তাঁরা তাঁকে কাবার নিকট নিয়ে এলেন। অতঃপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর জানাযার নামায পড়াতে আসলেন এবং তিনি (পদ্ধতি) অবগত ছিলেন। জিবরাঈল সেদিন ফেরেশতাদের নিয়ে তাঁর জানাযার নামায পড়ালেন এবং তাঁর ওপর চার তকবীর দিলেন। তাঁরা তাঁকে কবরের স্থানে কিবলার দিক ঘেঁষে রাখলেন এবং মাসজিদুল খাইফে তাঁকে দাফন করলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - حَدَّثَنَا الْمِنْجَابُ ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَيْمُونٍ الزَّعْفَرَانِيُّ ، عَنْ عَوْفٍ الأَعْرَابِيِّ ، عَنْ قَسَامَةَ بْنِ زُهَيْرٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا مُوسَى الْأَشْعَرِيَّ ، يَقُولُ: «إِنَّ‌‌ اللَّهَ لَمَّا أَخْرَجَ آدَمَ مِنَ الْجَنَّةِ زَوَّدَهُ مِنْ ثِمَارِ الْجَنَّةِ وَعَلَّمَهُ صَنْعَةَ كُلِّ شَيْءٍ ، فَثِمَارُكُمْ مِنْ ثِمَارِ الْجَنَّةِ غَيْرَ أَنَّ هَذِهِ تَغَيَّرُ وَتِلْكَ لا تَتَغَيَّرُ»
২২ - আমাদের নিকট মিনজাব বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে মাইমুন আল-জাফরানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আওফ আল-আ'রাবি থেকে, তিনি কসামাহ ইবনে যুহাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু মুসা আল-আশআরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «নিশ্চয় আল্লাহ যখন আদমকে জান্নাত থেকে বের করলেন, তখন তাঁকে জান্নাতের ফলসমূহ হতে পাথেয় প্রদান করলেন এবং তাঁকে প্রতিটি বস্তুর নির্মাণকৌশল শিক্ষা দিলেন। সুতরাং তোমাদের ফলমূল জান্নাতেরই ফলমূল হতে প্রাপ্ত, তবে পার্থক্য এই যে এগুলো পরিবর্তিত (নষ্ট) হয় এবং সেগুলো পরিবর্তিত হয় না।»
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ حَدَّثَنَا: مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ ، قَالَ: ثنا سُفْيَانُ ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: "‌‌ كَانَ لِبَاسُ آدَمَ عليه السلام وَحَوَّاءَ كَالظُّفُرِ ، فَلَمَّا أَكَلا الشَّجَرَةَ لَمْ يَبْقَ مِنْهُ شَيْءٌ إِلا مِثْلَ الظُّفُرِ {وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ} [الأعراف: 22] .

قَالَ: وَرَقُ التِّينِ "
২৩ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুআবিয়া ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফইয়ান বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আল-মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "‌‌ আদম আলাইহিস সালাম ও হাওয়ার পোশাক ছিল নখের ন্যায়; অতঃপর যখন তারা গাছের ফল ভক্ষণ করলেন, তখন নখের মতো অংশ ছাড়া সেই পোশাকের আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না {এবং তারা উভয়ে জান্নাতের বৃক্ষপত্র দ্বারা নিজেদের আবৃত করতে লাগল} [আল-আরাফ: ২২]।

তিনি বলেন: "তা ছিল ডুমুর গাছের পাতা।"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - حَدَّثَنَا الْمِنْجَابُ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْعَنْقَزِيُّ ، قَالَ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ عُمَارَةَ ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ:‌‌ أَهْبَطَ اللَّهُ آدَمَ مِنَ الْجَنَّةِ وَهُوَ يَأْكُلُ مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شَاءَ إِلَى غَيْرِ طَعَامٍ، فَعَلَّمَهُ الْعَمَلَ كَيْفَ يَعْمَلُهُ ، ثُمَّ عَلَّمَهُ صَنْعَةَ الْحَدِيدِ فَجَعَلَ يَعْمَلُ الْحَدِيدَ الَّذِي يَعْمَلُ بِهِ الزَّرْعَ فَحَرَثَ بِهِ وَزَرَعَ وَسَقَى حَتَّى بَلَغَ فَحَصَدَهُ ، ثُمَّ دَاسَهُ ، ثُمَّ ذَرَاهُ ، ثُمَّ طَحَنَهُ ، ثُمَّ عَجَنَهُ ، ثُمَّ خَبَزَهُ فَلَمْ يَنَلْهُ حَتَّى بَلَغَ مِنْهُ مَا شَاءَ اللَّهُ ، قَالَ: فَبَكَى عَلَى نَفْسِهِ حِينَ أُهْبِطَ مِنَ الْجَنَّةِ بُكَاءً لَمْ يَبْكِهِ شَيْءٌ عَلَى شَيْءٍ ، وَلَمْ يَبْكِهِ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، مَكَثَ أَرْبَعِينَ سَنَةً لا يَرْفَعُ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «فَلَوْ أَنَّ بُكَاءَ جَمِيعِ بَنِي آدَمَ جُمِعَ مَعَ بُكَاءِ دَاوُدَ عَلَى خَطِيئَتِهِ، مَا عَدَلَ بُكَاءُ جَمِيعِ بَنِي آدَمَ بُكَاءَ دَاوُدَ عَلَى خَطِيئَتِهِ.

وَلَوْ أَنَّ جَمِيعَ بُكَاءِ بَنِي آدَمَ جُمِعَ مَعَ بُكَاءِ دَاوُدَ عَلَى خَطِيئَتِهِ، مَا عَدَلَ مَعَ بُكَاءِ دَاوُدَ عَلَى خَطِيئَتِهِ بُكَاءَ يَعْقُوبَ عَلَى ابْنِهِ يُوسُفَ.

وَلَوْ أَنَّ جَمِيعَ بُكَاءِ بَنِي آدَمَ مَعَ بُكَاءِ دَاوُدَ عَلَى خَطِيئَتِهِ مَعَ بُكَاءِ يَعْقُوبَ عَلَى ابْنِهِ يُوسُفَ، جُمِعَ مَعَ بُكَاءِ قَابِيلَ عَلَى هَابِيلَ حِينَ قَتَلَهُ ، وَلَوْ أَنَّ جَمِيعَ بُكَاءِ بَنِي آدَمَ مَعَ بُكَاءِ دَاوُدَ عَلَى خَطِيئَتِهِ مَعَ بُكَاءِ يَعْقُوبَ عَلَى ابْنِهِ يُوسُفَ مَعَ بُكَاءِ قَابِيلَ عَلَى هَابِيلَ حِينَ قَتَلَهُ، مَا عَدَلَ جَمِيعُ بُكَاءِ بَنِي آدَمَ، مَعَ بُكَاءِ دَاوُدَ عَلَى خَطِيئَتِهِ، مَعَ بُكَاءِ يَعْقُوبَ عَلَى ابْنِهِ يُوسُفَ، مَعَ بُكَاءِ قَابِيلَ عَلَى هَابِيلَ، جُمِعَ مَعَ بُكَاءِ آدَمَ عَلَى نَفْسِهِ حِينَ أُهْبِطَ مِنَ الْجَنَّةِ»

حَدَّثَنَا الْمِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْعَنْقَزِيُّ ، قَالَ: ثنا أَسْبَاطٌ ، عَنْ عَمَّارٍ الذُّهْنِيِّ ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ ، قَالَ: بَكَى آدَمُ عَلَى الْجَنَّةِ حِينَ أُهْبِطَ مِائَةَ عَامٍ ، وَمَكَثَ سِتَّةً وَثَلاثِينَ سَنَةً لا يُكَلِّمُ حَوَّاءَ لأَنَّهَا دَعَتْهُ أَنْ يَأْكُلَ مِنَ الشَّجَرَةِ ، فَبَعَثَ اللَّهُ إِلَيْهِ مَلَكًا بَعْدَ الْمِائَةِ عَامٍ ، فَقَالَ: حَيَّاكَ اللَّهُ وَبَيَّاكَ.

قَالَ أَسْبَاطٌ قَالَ عَمَّارٌ: فَسَأَلْتُ سَالِمًا عَنْ قَوْلِهِ وَبَيَّاكَ.

قَالَ: أَضْحَكَكَ.
২৪ - মিনজাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-আনকাযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন উমারাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিনহাল বিন আমর থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর ও আবদুল্লাহ বিন হারিস বিন নাওফাল থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ আদমকে জান্নাত থেকে নিচে নামিয়ে দিলেন, অথচ তিনি সেখানে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই যা ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে আহার করতেন। অতঃপর আল্লাহ তাকে কাজ শেখালেন যে কীভাবে তা করতে হয়। এরপর তাকে লোহার কাজ শেখালেন। ফলে তিনি লোহা দিয়ে চাষাবাদের সরঞ্জাম তৈরি করতে শুরু করলেন। তা দিয়ে তিনি ভূমি কর্ষণ করলেন, বীজ বপন করলেন এবং পানি দিলেন যতক্ষণ না তা বড় হলো। এরপর তিনি তা কাটলেন, মাড়াই করলেন, ঝাড়লেন, পিষলেন, খামির করলেন এবং রুটি তৈরি করলেন। তিনি তা আহার করতে পারেননি যতক্ষণ না আল্লাহ যা চেয়েছিলেন তা পূর্ণ হলো। তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন: জান্নাত থেকে নিচে নামার সময় তিনি নিজের জন্য এমনভাবে কাঁদলেন যে কান্নার মতো কোনো প্রাণী কোনো কিছুর জন্য কখনো কাঁদেনি এবং কোনো ব্যক্তি অন্য কারো জন্য কাঁদেনি। তিনি চল্লিশ বছর এমনভাবে অতিবাহিত করলেন যে আকাশের দিকে নিজের মাথা তুলতেন না। ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন: “যদি সমস্ত আদম সন্তানের কান্না দাউদ (আ.)-এর স্বীয় ভুলের ওপর কান্নার সাথে একত্রিত করা হয়, তবে সমস্ত আদম সন্তানের কান্না দাউদ (আ.)-এর ভুলের ওপর কান্নার সমান হবে না।

আর যদি সমস্ত আদম সন্তানের কান্না দাউদ (আ.)-এর স্বীয় ভুলের ওপর কান্নার সাথে একত্রিত করা হয়, তবে দাউদ (আ.)-এর সেই কান্নার সাথেও ইয়াকুব (আ.)-এর স্বীয় পুত্র ইউসুফ (আ.)-এর জন্য কান্নার সমতুল্য হবে না।

আর যদি সমস্ত আদম সন্তানের কান্না, দাউদ (আ.)-এর স্বীয় ভুলের ওপর কান্না এবং ইয়াকুব (আ.)-এর স্বীয় পুত্র ইউসুফ (আ.)-এর জন্য কান্না একত্রিত করা হয় কাবিল যখন হাবিলকে হত্যা করেছিল সেই সময়ের কান্নার সাথে; আর যদি সমস্ত আদম সন্তানের কান্না, দাউদ (আ.)-এর কান্না, ইয়াকুব (আ.)-এর কান্না এবং কাবিলের কান্নার সাথে একত্রিত করা হয়, তবে এই সমস্ত কান্না একত্রিত হয়েও আদমের জান্নাত থেকে নিচে নামার সময় নিজের জন্য যে কান্না কেঁদেছিলেন তার সমান হবে না।”

মিনজাব বিন হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-আনকাযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আসবাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আম্মার আয-যুহনী থেকে, তিনি সালিম বিন আবিল জাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আদম (আ.) যখন জান্নাত থেকে নিচে অবতরণ করেন, তখন তিনি জান্নাতের বিরহে একশত বছর কাঁদেন। তিনি ছত্রিশ বছর হাওয়া (আ.)-এর সাথে কথা বলেননি, কারণ তিনি (হাওয়া) তাকে গাছ থেকে ফল খেতে প্ররোচিত করেছিলেন। অতঃপর একশত বছর পর আল্লাহ তাঁর নিকট একজন ফেরেশতা পাঠান। ফেরেশতা এসে বললেন: আল্লাহ আপনাকে জীবিত রাখুন এবং আপনাকে আনন্দিত (হাস্যোজ্জ্বল) রাখুন।

আসবাত বলেন, আম্মার বলেছেন: আমি সালিমকে তাঁর কথা ‘বায়্যাক’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।

তিনি বললেন: এর অর্থ হলো—তিনি (আল্লাহ) আপনাকে হাসিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - حَدَّثَنَا الْمِنْجَابُ ، أَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ ، عَنِ الأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَمْ يَحْزَنْ حُزْنَ آدَمَ أَحَدٌ ، بَكَى أَرْبَعِينَ عَامًا وَسَجَدَ أَرْبَعِينَ عَامًا حَتَّى قَبِلَ اللَّهُ تَوْبَتَهُ»

حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: ثنا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ ، قَالَ: ثنا عَوْفٌ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الرَّقَاشِيِّ ، قَالَ: " بَلَغَنِي، أَنَّ آدَمَ عليه السلام لَمَّا أَصَابَ الذَّنْبَ وَأَخْرَجَهُ اللَّهُ مِنَ الْجَنَّةِ ، قَالَ لَهُ رَبُّهُ: كَمَا نَظَرْتُ مَعْصِيَتَكَ وَعَصَيْتَنِي فَاهْبِطْ إِلَى الأَرْضِ فَالأَرْضُ مَلْعُونَةٌ وَلَنْ أُطْعِمَكَ إِلا بِرَشْحِ جَبِينِكَ ".
২৫ - আমাদের নিকট আল-মিনজাব বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর ইবনে উমারা, আহওয়াস ইবনে হাকিম থেকে, তিনি আবুয যাহিরিয়্যাহ থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আদমের ন্যায় আর কেউ শোকাতুর হয়নি, তিনি চল্লিশ বছর রোদন করেছেন এবং চল্লিশ বছর সিজদাবনত ছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ কবুল করলেন তাঁর তাওবা।»

আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাওজাহ ইবনে খালিফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আউফ বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আর-রাকাশি থেকে, তিনি বলেন: "আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আদম আলাইহিস সালাম যখন পাপে লিপ্ত হলেন এবং আল্লাহ তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন, তখন তাঁর রব তাঁকে বললেন: যেহেতু আমি তোমার পাপ দেখেছি এবং তুমি আমার অবাধ্যতা করেছ, তাই তুমি জমিনে নেমে যাও; কেননা জমিন অভিশপ্ত, আর আমি তোমাকে তোমার কপালের ঘাম ব্যতীত আহার করাব না।"
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ ، قَالَ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَطِيَّةَ " ‌‌{فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ} [البقرة: 37] .

قَالَ: رَبِّي خَلَقْتَنِي بِيَدِكَ وَنَفَخْتَ فِيَّ مِنْ رُوحِكَ ، وَعَطَسْتُ فَقُلْتَ لِي: رَحِمَكَ اللَّهُ ، فَسَبَقَتْ رَحْمَتُكَ إِيَّايَ غَضَبَكَ ، رَبِّ إِنْ تُبْتُ وَأَصْلَحْتُ أَتَرُدُّنِي إِلَى الْجَنَّةِ؟ قَالَ: نَعَمْ "
২৬ - মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন ইদ্রিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতার সূত্রে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: "{অতঃপর আদম তার রবের নিকট থেকে কিছু কালিমা (বাণী) প্রাপ্ত হলেন}" [আল-বাকারাহ: ৩৭]।

তিনি (আদম) বললেন: "হে আমার রব, আপনি আমাকে আপনার হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি আমার মধ্যে আপনার রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। আমি যখন হাঁচি দিলাম, তখন আপনি আমাকে বললেন: 'আল্লাহ তোমাকে দয়া করুন'। সুতরাং আমার প্রতি আপনার রহমত আপনার ক্রোধের উপর অগ্রবর্তী হয়েছে। হে আমার রব, আমি যদি তাওবা করি এবং সংশোধন করি, তবে আপনি কি আমাকে জান্নাতে ফিরিয়ে দেবেন?" তিনি (আল্লাহ) বললেন: "হ্যাঁ"।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ ، عَنْ أَشْعَثَ ، عَنْ حَفْصٍ ، عَنْ سَعِيدٍ ، قَالَ: "‌‌ لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ نَفَخَ الرُّوحَ فِي رَأْسِهِ قَبْلَ جَسَدِهِ فَعَطَسَ ، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ لِرَبٍّ خَلَقَنِي.

فَقَالَ لَهُ
اللَّهُ تَعَالَى: يَرْحَمُكَ اللَّهُ "

حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْمُكْتِبِ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ ، قَالَ: الْكَلِمَاتُ الَّتِي تَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ: اللَّهُمّ لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحْمَدِكَ عَمِلْتُ سُوءًا وَظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي وَأَنْتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ ، اللَّهُمَّ لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ عَمِلْتُ سُوءًا وَظَلَمْتُ نَفْسِي فَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ.

حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: ثنا وَكِيعٌ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رَفِيعٍ ، عَنْ مَنْ سَمِعَ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ ، يَقُولُ: " قَالَ آدَمُ: يَا رَبِّ أَرَأَيْتَ مَا ابْتَلَيْتَنِي ابْتَدَعْتُهُ مِنْ قِبَلِ نَفْسِي أَوْ شَيْءٌ قَدَّرْتُهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ تَخْلُقَنِي ، قَالَ: لا ، بَلْ شَيْءٌ قَدَّرْتُهُ عَلَيْكَ قَبْلَ أَنْ أَخْلُقَكَ.

قَالَ: فَذَلِكَ قَوْلُهُ {فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ} [البقرة: 37] ".

حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ عَرَبِيٍّ ، عَنْ مُجَاهِدٍ: {فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ} [البقرة: 37] .

قَالَ: هُوَ قَوْلُهُ: {رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [الأعراف: 23] .

حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، قَالَ: ثنا شَرِيكٌ ، عَنْ خَصِيفٍ ، عَنْ عِكْرِمَةَ ، وَسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ: {فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ} [البقرة: 37] .

قَالا: {رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [الأعراف: 23] .

حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ خَلِيفَةَ ، قَالَ: ثنا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ: ثنا أَبُو بَكْر الْهُذَلِيِّ، عَنْ أَبِي السَّكَنِيَّةِ الشَّامِيِّ، قَالَ: خُلِقَ آدَمُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، وَأُسْكِنَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ الْجَنَّةَ ، وَأُهْبِطَ مِنْهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فِي جُمُعَةٍ وَاحِدَةٍ وَمَاتَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ.

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ طَارِقٍ ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ ثَابِتٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، قَالَ: طَلَبَ إِبْلِيسُ إِلَى الْحَيَّةِ أَنْ يَدْخُلَ فِي جَوْفِهَا فَأَطْلَبَتْهُ ، فَجَعَلَ يُكَلِّمُ آدَمَ مِنْ بَيْنَ فُقْمَيْهَا.

حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ خَلِيفَةَ ، قَالَ: ثنا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ: ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ مُجَاهِدٍ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، قَالَ: لَمَّا عَصَى آدَمُ صُرِفَتْ عَنْهُ اللَّعْنَةُ ، وَقَالَ: مَلْعُونَةٌ الأَرْضُ الَّتِي خَلَقْتُكَ مِنْهَا لَعْنَةً تُحَوِّلُ ثِمَارَ شَجَرِهَا شَوْكًا.

وَكَانَ الطَّلْحُ فِيهِ ثَمَرٌ مِثْلُ الْمَوْزِ ، فَأَقْبَلَ عَلَى حَوَّاءَ ، فَقَالَ: مَلْعُونَةٌ أَنْتِ تَرَيْنَ الْمَوْتَ عِنْدَ كُلِّ نِفَاسٍ وَلا يَمْنَعُكِ ذَلِكَ مِنْ أَنْ تَعُودِينَ.

ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى الْحَيَّةِ ، فَقَالَ: مَلْعُونَةٌ أَنْتِ لَعْنَةٌ تُرْجِعُ قَوَائِمَكِ فِي بَطْنِكِ لَيْسَ لَكِ طَعَامٌ إِلا التُّرَابَ مَنْ لَقِيَكِ شَدَخَ رَأْسَكِ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى إِبْلِيسَ ، فَقَالَ: اخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ وَإِنَّ عَلَيْكَ اللَّعْنَةَ إِلَى يَوْمِ الدِّينِ ، ثُمَّ قَالَ: اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ ، عَدُّوٌ الشَّيْطُانُ عَدُوُّ الْإِنْسَانِ وَالإِنْسَانُ عَدُوُّ الشَّيْطَانِ ، وَالْحَيَّةُ عَدُوُّ الإِنْسَانِ وَالإِنْسَانُ عَدُوُّ الْحَيَّةِ ، ثُمَّ قَالَ: اهْبِطُوا إَلِى الأَرْضِ فَكِدُّوا لِلْمَوْتِ ، وَابْنُوا لِلْخَرَابِ.
২৭ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আশআস থেকে, তিনি হাফস থেকে, তিনি সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "‌‌ যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর দেহের পূর্বে তাঁর মাথায় রুহ ফুঁকে দিলেন। ফলে তিনি হাঁচি দিলেন এবং বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সেই রবের জন্য যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বললেন: আল্লাহ তোমার ওপর দয়া করুন।"

আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজীদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আওয়াম ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আব্দুল কারীম আল-মুকতিব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজীদ ইবনে মুআবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সেই বাণীসমূহ যা আদম তাঁর রবের পক্ষ থেকে লাভ করেছিলেন তা হলো: হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র এবং আপনারই প্রশংসা। আমি মন্দ কাজ করেছি এবং নিজের প্রতি জুলুম করেছি, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল। হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র এবং আপনারই প্রশংসা। আমি মন্দ কাজ করেছি এবং নিজের প্রতি জুলুম করেছি, সুতরাং আমার তওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আব্দুল আযীয ইবনে রফী থেকে, তিনি উবাইদ ইবনে উমায়েরকে বলতে শুনেছেন এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উবাইদ ইবনে উমায়ের বলেন: "আদম বললেন: হে রব! আপনি আমাকে যে পরীক্ষায় ফেলেছেন, তা কি আমি নিজ থেকে উদ্ভাবন করেছি নাকি এটি এমন কিছু যা আমাকে সৃষ্টি করার আগেই আপনি আমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন? তিনি (আল্লাহ) বললেন: না, বরং এটি এমন কিছু যা আমি তোমাকে সৃষ্টি করার আগেই তোমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলাম।

তিনি বলেন: আর এটিই আল্লাহর এই বাণীর মর্ম {অতঃপর আদম তাঁর রবের পক্ষ থেকে কিছু বাণী লাভ করলেন, ফলে আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করলেন} [সূরা বাকারা: ৩৭]।"

আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি নজর ইবনে আরাবী থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন: {অতঃপর আদম তাঁর রবের পক্ষ থেকে কিছু বাণী লাভ করলেন} [সূরা বাকারা: ৩৭]।

তিনি বলেন: তা হলো আল্লাহর এই বাণী: {হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আর আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব} [সূরা আরাফ: ২৩]।

আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি খাসীফ থেকে, তিনি ইকরিমাহ ও সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন: {অতঃপর আদম তাঁর রবের পক্ষ থেকে কিছু বাণী লাভ করলেন} [সূরা বাকারা: ৩৭]।

তাঁরা উভয়ে বলেন: {হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আর আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব} [সূরা আরাফ: ২৩]।

আল-কাসিম ইবনে খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আল-হুজালী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সাকানিয়্যাহ আশ-শামী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আদমকে শুক্রবার সৃষ্টি করা হয়েছে, শুক্রবারই জান্নাতে বসবাস করতে দেওয়া হয়েছে, এবং শুক্রবারই সেখান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে—সবই এক শুক্রবারের মধ্যে, আর তিনি শুক্রবারেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

আহমদ ইবনে তারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবলিস সাপের নিকট আবেদন করল যেন সে তার পেটের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, সাপ তাকে সেই সুযোগ দিল। এরপর সে সাপের দুই চোয়ালের মধ্য থেকে আদমের সাথে কথা বলতে লাগল।

আল-কাসিম ইবনে খলিফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে মুজাহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আদম অবাধ্যতা করলেন, তখন তাঁর থেকে অভিশাপ সরিয়ে নেওয়া হলো এবং বলা হলো: সেই ভূমি অভিশপ্ত যেখান থেকে আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি, এমন অভিশাপ যা তার গাছের ফলগুলোকে কাঁটায় রূপান্তরিত করবে।

আর সেখানে তালহ গাছ ছিল যার ফল কলার মতো ছিল। এরপর তিনি হাওয়ার দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বললেন: তুমি অভিশপ্ত, তুমি প্রত্যেক প্রসবের সময় মৃত্যুর মুখোমুখি হবে, কিন্তু তা তোমাকে পুনরায় গর্ভধারণ থেকে বিরত রাখবে না।

এরপর তিনি সাপের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বললেন: তুমি অভিশপ্ত, এমন অভিশাপ যা তোমার পাগুলোকে তোমার পেটের ভেতর ঢুকিয়ে দেবে, মাটি ছাড়া তোমার কোনো খাদ্য থাকবে না, যে কেউ তোমার দেখা পাবে সে তোমার মাথা চূর্ণ করে দেবে। এরপর তিনি ইবলিসের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বললেন: এখান থেকে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত এবং বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার ওপর অভিশাপ। এরপর তিনি বললেন: তোমরা একে অপরের শত্রু হিসেবে নিচে নেমে যাও; শয়তান মানুষের শত্রু এবং মানুষ শয়তানের শত্রু, আর সাপ মানুষের শত্রু এবং মানুষ সাপের শত্রু। এরপর তিনি বললেন: তোমরা জমিনে নেমে যাও, মৃত্যুর জন্য পরিশ্রম করো এবং ধ্বংসের জন্য নির্মাণ করো।
(খণ্ড: ১) আস-সানি মিন আজজায়ি ইবনুস সাওয়াফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ الْمِنْهَالِ السَّكُونِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ يَحْيَى ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ مَيْسَرَةَ ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: قُلْتُ: " يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ أَيُّ الأَنْبِيَاءِ كَانَ أَوَّلا؟ قَالَ: آدَمُ.

قُلْتُ: وَنَبِيٌّ كَانَ؟ قَالَ: نَعَمْ ، مُكَلِّمٌ ، وَنُوحٌ بَيْنَهُمَا عَشَرَةَ آبَاءٍ ، ثُمَّ إِبْرَاهِيمُ وَبَيْنَهُمَا عَشَرَةَ آبَاءٍ "
২৮ - ইয়ালা ইবনুল মিনহাল আস-সাকুনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইসহাক ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে মায়সারা থেকে, তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! নবীদের মধ্যে প্রথম কে ছিলেন? তিনি বললেন: আদম।

আমি বললাম: তিনি কি নবী ছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর সাথে বাক্যালাপকারী নবী। আদম ও নূহের মাঝে দশজন পিতা (প্রজন্ম) অতিক্রান্ত হয়েছিল, অতঃপর ইব্রাহিম, আর তাঁদের দুজনের মাঝে দশজন পিতা (প্রজন্ম) অতিক্রান্ত হয়েছিল।"