(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: -)
فوائد أبي بكر النصيبي   (أبو بكر بن خلاد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فوائد أبي بكر النصيبي

المؤلف: أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بنُ يُوْسُفَ بنِ خَلاَّدِ بنِ مَنْصُوْرٍ النَّصِيْبِيُّ ثُمَّ البَغْدَادِيُّ العَطَّارُ (ت 359هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 225

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু বকর আন-নাসীবীর ফাওয়ায়িদ   (আবু বকর ইবনে খাল্লাদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আবু বকর আন-নাসীবীর ফাওয়ায়িদ

লেখক: আবু বকর আহমাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে খাল্লাদ ইবনে মানসুর আন-নাসীবী আল-বাগদাদী আল-আত্তার (মৃত্যু ৩৫৯ হিজরী)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলামিক নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অধীনে জাউয়ামিউল কালিম নামক ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪

[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৫

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١)
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ الْمُقْرِئِ أَبِي عَلِيٍّ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُهْرَةَ الْحَدَّادِ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ الشَّيْخِ الصَّالِحِ أَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ الصَّيْدَلانِيِّ، سِبْطِ حُسَيْنِ بْنِ مَنْدَهْ، عَنْهُ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে মিহরান, তাঁর থেকে।

মুকরি আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহরাহ আল-হাদ্দাদের বর্ণনা, তাঁর থেকে।

নেককার শায়খ আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে নাসর আস-সায়দালানি, হুসাইন ইবনে মানদাহর দৌহিত্রের বর্ণনা, তাঁর থেকে।

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أَخْبَرَنَا بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، فِي ذِي الْقِعْدَةِ، سَنَةَ خَمْسٍ وَتِسْعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، بِمَنْزِلِهِ بِأَصْبَهَانَ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُهْرَةَ الْحَدَّادُ ، أنبا أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ مِهْرَانَ الْحَافِظُ ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ خَلادٍ الْعَطَّارُ النَّصِيبِيُّ ، بِبَغْدَادَ ، سَنَةَ سَبْعٍ وَخَمْسِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، فِي صَفَرٍ ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ التَّمِيمِيُّ ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ ، أنبا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، أَنَّ رَجُلا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ:‌‌ لَيْسَ لِي مَالٌ، وَلِي يَتِيمٌ.

قَالَ: «كُلْ مِنْ مَالِ يَتِيمِكَ غَيْرَ مُسْرِفٍ ، وَلا مُبَذِّرٍ ، وَلا مُتَأَثِّلٍ، مِنْ غَيْرِ أَنْ تَقِيَ
مَالَكَ» .

أَوْ قَالَ: «تَفْدِيَ مَالَكَ بِمَالِهِ»
১ - ৫৯৫ হিজরী সনের যুল-কাদা মাসে ইসফাহানে তাঁর বাসভবনে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আমাদের অবহিত করেছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহরা আল-হাদ্দাদ, আমাদের অবহিত করেছেন আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে মিহরান আল-হাফিয, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে খাল্লাদ আল-আত্তার আন-নাসিবি, বাগদাদে, ৩৫৭ হিজরী সনের সফর মাসে, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হারিস ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি উসামা আত-তামিমি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা, আমাদের অবহিত করেছেন হুসাইন আল-মুয়াল্লিম, আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন, অতঃপর তিনি বললেন:‌‌ "আমার কোনো সম্পদ নেই, অথচ আমার নিকট একজন ইয়াতীম রয়েছে।"

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমার ইয়াতীমের সম্পদ থেকে খাও অপব্যয় না করে, অপচয় না করে এবং নিজের সম্পদ সঞ্চয় না করে; এবং তোমার নিজের সম্পদ রক্ষা
করার উদ্দেশ্যে নয়।" .

অথবা তিনি বললেন: "তার সম্পদ দিয়ে নিজের সম্পদকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে নয়।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٣)
2 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ ، أنبا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ‌‌ قَالَ يَوْمَ الْفَتْحِ: «كُفُّوا السِّلاحَ إِلا خُزَاعَةَ عَنْ بَنِي بَكْرٍ» .

فَقَتَلُوهُمْ إِلَى صَلاةِ الْعَصْرِ ، ثُمَّ قَالَ: «كُفُّوا
السِّلاحَ» .

فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ، لَقِيَ رَجُلٌ مِنْ خُزَاعَةَ رَجُلا مِنْ بَنِي بَكْرٍ بِالْمُزْدَلِفَةِ ، فَقَتَلَهُ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَامَ خَطِيبًا ، فَقَالَ: «إِنَّ أَعْدَى النَّاسِ عَلَى اللَّهِ مَنْ عَدَى فِي الْحَرَمِ، أَوْ قَتَلَ غَيْرَ قَاتِلِهِ، أَوْ قَتَلَ بِذُحُولِ الْجَاهِلِيَّةِ»
২ - হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন আল-মুয়াল্লিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে—তিনি মক্কা বিজয়ের দিন বলেছিলেন: "বনু বকরের বিরুদ্ধে খুযাআ গোত্র ব্যতীত তোমরা সবাই অস্ত্র সংবরণ করো।"

ফলে তারা আসরের সালাত পর্যন্ত তাদের হত্যা করল, অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা সংবরণ করো
অস্ত্র।"

পরদিন যখন ভোর হলো, খুযাআ গোত্রের এক ব্যক্তি মুযদালিফায় বনু বকর গোত্রের এক ব্যক্তির দেখা পেল এবং তাকে হত্যা করল। এই সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় শত্রু সেই ব্যক্তি, যে হারামের পবিত্র সীমায় অপরাধ করে, অথবা যে তার হত্যাকারী ব্যতীত অন্য কাউকে হত্যা করে, অথবা যে জাহিলী যুগের প্রতিশোধ বা শত্রুতার বশবর্তী হয়ে হত্যা করে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٤)
3 - فَقَامَ رَجُلٌ ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ،‌‌ إِنَّ فُلانًا ابْنِي ، فَقَالَ: «ذَهَبَ أَمْرُ الْجَاهِلِيَّةِ، لا دَعْوَى فِي الإِسْلامِ، الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ، وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ»
৩ - অতঃপর একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয় অমুক আমার পুত্র। তখন তিনি বললেন: «জাহিলিয়াতের রীতিনীতি বিলুপ্ত হয়েছে। ইসলামে (ব্যভিচারের মাধ্যমে সন্তান দাবির) কোনো সুযোগ নেই। সন্তান হলো শয্যার অধিকারীর (অর্থাৎ বৈধ স্বামীর), আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٥)
4 - وَقَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى الْكَعْبَةِ: ‌‌«فِي الْمَوَاضِحِ خَمْسٌ خَمْسٌ مِنَ الإِبِلِ، وَفِي الأَصَابِعِ عَشْرٌ عَشْرٌ مِنَ الإِبِلِ»
4 - এবং তিনি বললেন: অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে পিঠ ঠেস দিয়ে থাকা অবস্থায় বললেন: «হাড় উন্মুক্তকারী প্রতিটি যখমের (মাওয়াদিহ) বিনিময়ে পাঁচটি করে উট এবং প্রতিটি আঙুলের বিনিময়ে দশটি করে উট প্রদান করতে হবে»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٦)
5 - «وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ‌‌ صَلاةٍ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تُشْرِقَ الشَّمْسُ ، وَعَنْ صَلاةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ»
৫ - «এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন সুবহের পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে এবং আসরের পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٧)
6 - «وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ أَنْ تُنْكَحَ الْمَرْأَةُ عَلَى عَمَّتِهَا ، أَوْ عَلَى خَالَتِهَا»
৬ - «এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো নারীকে তার ফুফু কিংবা তার খালার সাথে একত্রে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٨)
7 - وَقَالَ: ‌‌«لا يَجُوزُ لامْرَأَةٍ عَطِيَّةٌ إِلا بِإِذْنِ زَوْجِهَا ، وَأَوْفُوا بِحِلْفِ الْجَاهِلِيَّةِ ، فَإِنَّ الإِسْلامَ لَمْ يَزِدْهُ إِلا شِدَّةً ، وَلا تُحْدِثُوا حِلْفًا فِي الإِسْلامِ»
৭ - এবং তিনি বলেছেন: «স্বামীর অনুমতি ব্যতীত কোনো নারীর জন্য দান করা বৈধ নয় এবং তোমরা জাহেলি যুগের চুক্তিগুলো পূর্ণ করো, কেননা ইসলাম তাকে কেবল অধিক শক্তিশালীই করেছে, আর তোমরা ইসলামে নতুন কোনো চুক্তি করো না»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٩)
8 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ ، ثنا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَرِيرٍ الْبَجْلِيِّ ، قالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِذَا جَاءَكُمُ الْمُصَدِّقُ ، فَلا يَصْدُرُ عَنْكُمْ إِلا وَهُوَ رَاضٍ»
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ বিন আবি হিন্দ, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি জারীর আল-বাজালী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন তোমাদের নিকট যাকাত সংগ্রাহক আসবে, তখন সে যেন তোমাদের নিকট থেকে সন্তুষ্ট হওয়া ব্যতীত ফিরে না যায়।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ فَاطِمَةَ جَاءَتْ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ تَطْلُبُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالا: إِنَّا سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: ‌‌«لا نُوَرَّثُ»
৯ - আল-হারিস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আমর আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, ফাতিমা আবু বকর ও উমরের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে তাঁর মিরাস দাবি করতে আসলেন। তখন তাঁরা উভয়ে বললেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী রাখা হয় না»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١١)
10 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ ، ثنا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ وَاقِدٍ ، ثنا مَسْعَدَةُ بْنُ صَدَقَةَ أَبُو الْحُسَيْنِ ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ تَحِلُّ فِيهِ الْعُزُوبَةُ ، فَلا يَسْلَمُ لِذِي دِينٍ دِينُهُ إِلا مَنْ فَرَّ بِدِينِهِ مِنْ شَاهِقٍ إِلَى شَاهِقٍ، أَوْ مِنْ جُحْرٍ إِلَى جُحْرٍ، كَالطَّيْرِ بِفِرَاخِهِ، وَكَالثَّعْلَبِ بِأَشْبَالِهِ» ، ثُمَّ قَالَ: «مَا أَتْقَاهُ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ رَاعٍ أَقَامَ الصَّلاةَ، وَيُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَيَعْتَزِلُ النَّاسَ ، وَلَمِائَةُ شَاةٍ عَفْرَاءَ أَرْعَاهَا بِسَلْعٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مُلْكِ بَنِي النَّضِيرِ، وَذَلِكَ إِذَا كَانَ كَذَا وَكَذَا»
১০ - আল-হারিস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহীম বিন ওয়াকিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মাসআদাহ বিন সাদাকাহ আবুল হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আস-সাওরী তাঁর পিতা থেকে, তিনি রাবী বিন খুসাইম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন অবিবাহিত থাকা বৈধ হবে, তখন কোনো দ্বীনদার ব্যক্তির দ্বীন নিরাপদ থাকবে না কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া যে তার দ্বীন নিয়ে এক পাহাড়ের চূড়া থেকে অন্য পাহাড়ের চূড়ায় অথবা এক গর্ত থেকে অন্য গর্তে পালিয়ে বেড়াবে, যেমন পাখি তার ছানা নিয়ে এবং শেয়াল তার বাচ্চাদের নিয়ে পলায়ন করে।» অতঃপর তিনি বললেন: «সেই সময়ে সবচাইতে মুত্তাকী হবে সেই মেষপালক যে সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং মানুষের সংশ্রব ত্যাগ করে। 'সাল' নামক স্থানে চরে বেড়ানো একশটি ধূসর বর্ণের মেষ লালন-পালন করা আমার নিকট বনু নাজিরের রাজত্বের চেয়েও অধিক প্রিয়; আর তা হবে তখন যখন পরিস্থিতি এমন এমন হবে।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ تَمْتَامٌ ، ثنا أَبُو غَسَّانَ ، نا مَسْعُودُ بْنُ سَعْدٍ الْجُعْفِيُّ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ ، قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَلَى مُعَاوِيَةَ ، فَأَجْلَسَ ابْنَ عَبَّاسٍ مَعَهُ ، ثُمَّ قَالَ: يَا ابْنَ عَبَّاسٍ، أَرَأَيْتَ رَكْعَتَيْنِ يُصَلِّيهِمَا النَّاسُ بَعْدَ الْعَصْرِ، أَتَرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاهُمَا؟ قَالَ: ذَلِكَ مَا يُفْتِي النَّاسَ ابْنُ الزُّبَيْرِ ، فَقَالَ: مَا لَكَ يَا ابْنَ الزُّبَيْرِ‌‌ تُفْتِي النَّاسَ بِرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ؟ قَالَ: إِنَّ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاهُمَا»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন গালিব বিন হারব তামতাম, তিনি বলেন: আবু গাসসান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাসউদ বিন সাদ আল-জু'ফী ইয়াজিদ বিন আবি জিয়াদ থেকে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ বিন আল-হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের সাথে মুয়াবিয়ার নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তিনি ইবনে আব্বাসকে নিজের সাথে বসালেন, অতঃপর বললেন: হে ইবনে আব্বাস, মানুষ আসরের পর যে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে সে বিষয়ে আপনার অভিমত কী? আপনি কি মনে করেন যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা আদায় করেছেন? তিনি বললেন: এটি সেই বিষয় যে সম্পর্কে ইবনে আল-জুবাইর মানুষকে ফতোয়া দিয়ে থাকেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে ইবনে আল-জুবাইর, আপনার কী হয়েছে যে আপনি মানুষকে আসরের পর দুই রাকাতের ফতোয়া দিচ্ছেন? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আয়েশা (রা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা আদায় করেছেন»।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ ثنا عَمْرُو بْنُ حَمَّادِ بْنِ طَلْحَةَ ، ثنا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ ، عَنْ مَنْصُورٍ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبِيدَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ‌‌ آخِرَ مَنْ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ فَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ رَجُلٌ يَحْبُو ، فَيُقَالُ لَهُ: ادْخُلِ الْجَنَّةَ، فَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهَا مَلأَى ، فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ، إِنَّهَا مَلأَى ، فَيُقَالُ لَهُ: ادْخُلِ الْجَنَّةَ ، فَيَقُولُ: إِنَّهَا مَلأَى ، فَيُقَالُ لَهُ: ادْخُلِ الْجَنَّةَ وَلَكَ عَشْرُ أَمْثَالِهَا، وَمِثْلُ الدُّنْيَا عَشْرُ مَرَّاتٍ ، قَالَ: فَيَقُولُ: أَنْتَ الْمَلِكُ تَضْحَكُ مِنِّي ، قَالَ: فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ "
১২ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন গালিব, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর বিন হাম্মাদ বিন তালহা, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আসবাত বিন নাসর, মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আবিদা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: " নিশ্চয়ই জাহান্নাম থেকে সর্বশেষে নির্গত হয়ে জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তি হবে এমন এক লোক যে হামাগুড়ি দিয়ে চলবে। অতঃপর তাকে বলা হবে: জান্নাতে প্রবেশ করো। তখন তার কাছে মনে হবে যে জান্নাত পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। তখন সে বলবে: হে আমার রব! তা তো পরিপূর্ণ। পুনরায় তাকে বলা হবে: জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবে: তা তো পরিপূর্ণ। তখন তাকে বলা হবে: জান্নাতে প্রবেশ করো এবং তোমার জন্য রয়েছে জান্নাতের অনুরূপ দশ গুণ এবং দুনিয়ার দশ গুণের সমপরিমাণ। বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে ব্যক্তি বলবে: আপনি তো বাদশাহ, আপনি কি আমার সাথে হাসাহাসি করছেন? বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেসে দিলেন, এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا خَالِدُ بْنُ الْقَاسِمِ ، ثنا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ فَرْقَد وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«اجْعَلُوا مِنْ صَلاتِكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ وَلا تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا أَوْ تَجْعَلُوهَا قُبُورًا» .

الشَّكُّ مِنْ خَالِدِ بْنِ الْقَاسِمِ
১৩ - আমাদের নিকট হারিস ইবন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ ইবনুল কাসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট লাইস ইবন সাদ বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবন ফারকাদ এবং সাঈদ ইবন আবদুর রহমান আল-জুমাহি থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবন উমর থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের সালাতের কিছু অংশ তোমাদের ঘরে আদায় করো এবং সেগুলোকে কবরে পরিণত করো না অথবা সেগুলোকে কবর বানিও না»।

সন্দেহটি খালিদ ইবনুল কাসিমের পক্ষ থেকে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الضَّبِّيُّ ، ثنا عُثْمَانَ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ عَبْدِ الْمَجِيدِ ، ثنا أَبِي ، ثنا عَنْبَسَةُ بْنُ أَبِي زَائِطَةَ الْغَنَوِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ ، أَنَّ جُنْدُبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ خَلا بِالنَّفَرِ مِنْ أَصْحَابِهِ ، فَقَالَ: إِنَّ هَؤُلاءِ قَدْ وَلَغُوا فِي دِمَائِهِمْ، فَلا يَحُولَنَّ بَيْنَ أَحَدِكُمْ وَبَيْنَ الْجَنَّةِ مِلْءُ كَفٍّ مِنْ دَمِ مُسْلِمٍ أَرَاقَهُ ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: إِنَّ‌‌ رَجُلا مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ أَخَذَتْهُ قُرْحَةٌ فِي يَدِهِ، فَأَخَذَ حَدِيدَةً، فَحَزَّ بِهَا فِي يَدِهِ حَتَّى قَطَعَهَا، فَمَا رَقَأَ دَمُهَا حَتَّى مَاتَ ، فَقَالَ رَبُّكُمْ عز وجل: «بَادَرَنِي ابْنُ آدَمَ بِنَفْسِهِ فَقَتَلَهَا، فَقَدْ حَرَّمْتُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ»
১৪ - ইয়াকুব বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম আদ-দাব্বি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল মাজীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমবাসা বিন আবি জাইতা আল-গানাওয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান থেকে বর্ণিত যে, জুন্দুব বিন আব্দুল্লাহ তাঁর সঙ্গীদের একটি দলের সাথে নিভৃতে ছিলেন, তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তারা রক্তপাতে লিপ্ত হয়েছে; সুতরাং তোমাদের কারোর এবং জান্নাতের মাঝে যেন এক অঞ্জলি পরিমাণ মুসলিমের রক্ত অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায় যা সে ঝরিয়েছে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল যার হাতে একটি ক্ষত হয়েছিল, অতঃপর সে একটি লোহার বস্তু নিয়ে তা দিয়ে নিজ হাত চিরে ফেলল এমনকি তা কেটে ফেলল, এরপর তার রক্ত আর থামল না যতক্ষণ না সে মারা গেল। তখন তোমাদের মহান প্রতিপালক বললেন: «আদম সন্তান নিজের প্রাণের ব্যাপারে আমার সাথে ত্বরান্বিত করেছে এবং নিজেকে হত্যা করেছে, তাই আমি তার ওপর জান্নাত হারাম করে দিলাম।’»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ ، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الزُّهَيْرِيُّ ، ثنا حَمْزَةُ بْنُ زِيَادٍ الطُّوسِيُّ ، نا شُعْبَةُ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ‌‌ كَانَتْ تُرْكَزُ لَهُ الْحَرْبَةُ، وَيُصَلِّي إِلَيْهَا»
১৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ আল-জুহাইরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হামজা বিন জিয়াদ আত-তুসি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি ওবায়দুল্লাহ বিন ওমর থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য বর্শা গেঁথে দেওয়া হতো এবং তিনি সেটির দিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ ، نا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّرْمِذِيُّ ، نا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنْ أَبِي الْبُخْتُرِيِّ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«أُحْشَرُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ هَكَذَا» .

قَالَ: وَأُرَاهُ ذَكَرَ فِيهِ: «وَنَحْنُ مُشْرِفُونَ عَلَى
النَّاسِ» .

قَالَ أَبُو بَكْرٍ: لَمْ يَكُنْ أَبُو الْبُخْتُرِيِّ يَكْذِبُ فِي هَذَا الْحَدِيَثِ
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সায়িদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আত-তিরমিযী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আইয়াশ, তিনি আবুল বুখতারী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “কিয়ামতের দিন আমাকে, আবু বকর এবং উমরকে এভাবে পুনরুত্থিত করা হবে।”

তিনি বলেন: এবং আমার মনে হয় তিনি এতে উল্লেখ করেছেন: “আর আমরা উচ্চমর্যাদায় থাকব
মানুষদের উপর।”

আবু বকর বলেন: আবুল বুখতারী এই হাদীসের বর্ণনায় মিথ্যা বলেননি।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْوَلِيدِ الْكَرَابِيسِيُّ ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبَانَ الْقُرَشِيُّ ، ثنا الدَّرَاوَرْدِيُّ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم‌‌ أَهْدَى جَمَلا»
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-কারাবিসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুর রহমান বিন আবান আল-কুরাশি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদ-দারওয়ারদি, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন উমর হতে, তিনি নাফে হতে, তিনি ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেন যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি উট হাদিয়া (কুরবানির পশু হিসেবে) পাঠিয়েছিলেন।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ ، أنبا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم‌‌ قَطَعَ فِي مِجَنٍّ، أَوْ جُحْفَةٍ بِثَمَنِ ثَلاثَةِ دَرَاهِمَ» .

حَدَّثَنَا الْحَارِثُ ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ ، نا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ ، عَنْ أَيُّوبَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، مِثْلَهُ
১৮ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঢাল অথবা চামড়ার তৈরি ঢালের চুরির অপরাধে হাত কেটেছিলেন যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম»।

আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আরুবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ النُّعْمَانِ الشَّيْبَانِيُّ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ ، عَنْ لَيْثٍ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِ الْخَيْفِ، بِمِنًى ، فَقَالَ: "‌‌ نَضَّرَ اللَّهُ عَبْدًا سَمِعَ مَقَالَتِي فَعَمِلَ بِهَا، حَتَّى يُحَدِّثَ بِهَا أَخَاهُ ، ثَلاثٌ لا يُغَلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ: إِخْلاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ ، وَمُنَاصَحَةُ وُلاةِ الأَمْرِ ، وَلُزُومُ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ، فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مَنْ وَرَائَهُمْ "
১৯ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন গালিব বিন হারব, তিনি সুলাইমান বিন আন-নুমান আশ-শায়বানী থেকে, তিনি আল-হাসান বিন আবি জাফর থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিনার মাসজিদুল খায়েফে খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেন: "‌‌আল্লাহ সেই বান্দাকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে এবং তদনুযায়ী আমল করেছে, এমনকি তা তার ভাইয়ের নিকট বর্ণনা করেছে। তিনটি বিষয় এমন যাতে কোনো মুসলিম ব্যক্তির অন্তর সংকীর্ণতা বা বিদ্বেষ পোষণ করে না: আল্লাহর জন্য আমল একনিষ্ঠ করা, শাসকবর্গের প্রতি শুভাকাঙ্ক্ষা পোষণ করা এবং মুসলিমদের জামাতকে আঁকড়ে ধরা; কেননা তাদের দুআ তাদের পেছনের সকলকে পরিবেষ্টন করে রাখে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بُكَيْرٍ الْحَضْرَمِيُّ ، ثنا أَيُّوبُ بْنُ جَابِرٍ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ‌‌ يُوتِرُ بِ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وقُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
২০ - মুহাম্মদ ইবনে গালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে বুকাইর আল-হাদরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব ইবনে জাবির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, নাফি থেকে, ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সা.) ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা’, ‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন’ এবং ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ দ্বারা বিতরের সালাত আদায় করতেন।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ ، نا يَعْلَى بْنُ مَنْصُورٍ ، نا شَرِيكٌ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، وَمِخْوَلٌ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي نا عَارِمُ بْنُ الْفَضْلِ ، ثنا سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَيُّوبَ السِّخْتِيَانِيَّ يُحَدِّثُ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّ‌‌ الْعَبْدَ إِذَا أَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ وَنَصَحَ لِسَيِّدِهِ يُؤْتَى أَجْرَهُ مَرَّتَيْنِ»
২১ - মুহাম্মাদ ইবনে গালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়ালা ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শারীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ও মিখওয়ালের সূত্রে, তাঁরা সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইসমাঈল ইবনে ইসহাক আল-কাজী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আরিম ইবনুল ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে যায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানীকে বর্ণনা করতে শুনেছি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই বান্দা (বা দাস) যখন তার প্রতিপালকের ইবাদত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে এবং তার মনিবের প্রতি নিষ্ঠা বজায় রাখে, তাকে তার পুরস্কার দুইবার প্রদান করা হয়।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَزَّازُ ، نا عِيسَى بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِمْصِيُّ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ الأَبْرَشُ ، أنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ»
২২ - আমাদের নিকট আহমাদ বিন আলী আল-খাজ্জায হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ঈসা বিন আল-মুনযির আল-হিমসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন হারব আল-আবরাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ বিন উমর সংবাদ দিয়েছেন নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «সফরে রোজা রাখা পুণ্যের কাজ নয়»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ ، نا أَبُو غَسَّانَ ، نا مَسْعُودُ بْنُ سَعْدٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: رَأَى رَسُولُ اللَّهِ نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ ، فَأَخَذَ حَصَاةً ، فَقَامَ ، فَحَتَّهَا ، ثُمَّ قَالَ: ‌‌«إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي، فَلا يَتَنَخَّمْ فِي قِبْلَتِهِ؛ فَإِنَّ الْعَبْدَ إِذَا قَامَ يُصَلِّي فَإِنَّمَا يُنَاجِي رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ»
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন গালিব বিন হারব, আমাদের জানিয়েছেন আবু গাসসান, আমাদের জানিয়েছেন মাসউদ বিন সাদ, মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, নাফে থেকে, ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল মসজিদের কিবলার দিকে শ্লেষ্মা দেখতে পেলেন, তখন তিনি একটি কঙ্কর নিলেন এবং দাঁড়িয়ে তা ঘষে পরিষ্কার করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে যেন তার কিবলার দিকে শ্লেষ্মা না ফেলে; কেননা বান্দা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে মূলত তার রবের সাথেই নিভৃতে আলাপ করে, যিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا الْخَلِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا ، ثنا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ ، فَأَقْبَلَ رَجُلٌ ، فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«بِئْسَ أَخُو الْعَشِيرَةِ ، وَبِئْسَ الرَّجُلُ» .

فَلَمَّا دَنَا مِنْهُ، أَدْنَى مَجْلِسَهُ ، فَلَمَّا قَامَ ذَهَبَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، حِينَ أَبْصَرْتَهُ قُلْتَ: «بِئْسَ أَخُو الْعَشِيرَةِ ، وَبِئْسَ الرَّجُلُ» ، ثُمَّ أَدْنَيْتَ مَجْلِسَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهُ مُنَافِقٌ أُدَارِيهِ عَنْ نِفَاقِهِ، فَأَخْشَى أَنْ يُفْسِدَ عَلَى غَيْرِهُ»
২৪ - আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-খালিল ইবনে যাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনে বাহদালাহ থেকে, তিনি যির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে আসসাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি সামনে আসলো। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন, তখন তিনি বললেন: «গোত্রের কতই না নিকৃষ্ট ভাই সে, এবং সে কতই না মন্দ লোক»।

অতঃপর যখন সে তাঁর নিকটবর্তী হলো, তখন তিনি তাকে মজলিসে তাঁর কাছে স্থান দিলেন। যখন সে উঠে চলে গেল, তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, যখন আপনি তাকে দেখেছিলেন তখন বলেছিলেন: «গোত্রের কতই না নিকৃষ্ট ভাই সে, এবং সে কতই না মন্দ লোক», অথচ এরপর আপনি তাকে আপনার মজলিসের কাছে বসালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সে একজন মুনাফিক, আমি তার মুনাফিকির অনিষ্ট থেকে বাঁচতে তাকে সৌজন্যের সাথে সামলে নিয়েছি, কারণ আমি আশঙ্কা করছিলাম যে সে অন্যদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে»।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ ، ثنا الْخَلِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا ، ثنا هِشَامُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ ، قَالَ: " إِنَّ الْمَلائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ /الْعِلْمِ مِنَ الرِّضَا قَالَ: قُلْتُ: هَلْ سَمِعْتَ فِي هَذَا الأَمْرِ شَيْئًا؟ قَالَ: نَعَمْ ، كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ ، فَجَاءَ أَعْرَابِيٌّ ، فَنَادَاهُ يَا مُحَمَّدُ ، فَأَجَابَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَاؤُمْ» .

قَالَ: أَرَأَيْتَ رَجُلا يُحِبُّ قَوْمًا وَلَمَّا يَلْحَقْ بِهِمْ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ» .

فَمَا بَرِحَ حَتَّى حَدَّثَنَا: " إِنَّ‌‌ بِالْمَغْرِبِ بَابًا مَفْتُوحًا لِلتَّوْبَةِ لا يُغْلَقُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ نَحْوِهِ ، فَذَلِكَ يَوْمَ {لا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا} [الأنعام: 158] "
২৫ - আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-খলিল ইবনে যাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে আবি আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনে আবি জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম ইবনে বাহদালা থেকে, তিনি যির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে আসসাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়।" তিনি (যির) বলেন: আমি বললাম: আপনি কি এই বিষয়ে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন এক বেদুইন আসলো এবং ডাক দিল, হে মুহাম্মদ! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তর দিলেন: "আমি উপস্থিত আছি।"

সে বলল: আপনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে কিন্তু তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "মানুষ তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।"

অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করতে থাকলেন যতক্ষণ না বললেন: "নিশ্চয়ই পশ্চিম দিকে তওবার একটি দরজা উন্মুক্ত রয়েছে, যা ততক্ষণ বন্ধ হবে না যতক্ষণ না সূর্য সেদিক থেকে উদিত হয়। আর সেই দিনটি হলো যখন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না যদি সে ইতিপূর্বে ঈমান না এনে থাকে অথবা তার ঈমান দ্বারা কোনো কল্যাণ অর্জন না করে থাকে।" [আল-আন'আম: ১৫৮]
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - قُلْتُ: أَلا تُحَدِّثُنِي عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ؟ فَإِنَّهُ قَدْ شَكَّ فِي نَفْسِي.

قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَمْسَحُ عَلَى الْمُوقَيْنِ وَالْخِمَارِ
২৬ - আমি বললাম: আপনি কি আমাকে চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করা সম্পর্কে কিছু বলবেন না? কারণ এটি সম্পর্কে আমার মনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চামড়ার মোজা এবং পাগড়ির ওপর মাসাহ করতে দেখেছি।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ ، ثنا الْخَلِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا ، ثنا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ أَبِي جَعْفَرٍ ، قَالا: ثنا أَبُو الزُّبَيْرِ الْمَكِّيُّ، ثنا جَابِرٌ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا عَائِشَةُ،‌‌ هَلْ عِنْدَكِ مِنْ أَدَمٍ؟» .

قَالَتْ: نَعَمْ، خَلٌّ
.

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نِعْمَ الإِدَامُ الْخَلُّ»
২৭ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হারিস, তিনি বর্ণনা করেছেন খলীল ইবন যাকারিয়া থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ী এবং হাসান ইবন আবু জা’ফর থেকে, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু যুবায়ের আল-মাক্কী, তিনি বর্ণনা করেছেন জাবির থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে আয়েশা,‌‌ তোমার নিকট কি কোনো তরকারি আছে?» ।

তিনি বললেন: হ্যাঁ, সিরকা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সিরকা কতই না চমৎকার তরকারি!»
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবি বকর আন-নাসীবী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 - حَدَّثَنَا الْحَارِثُ ، ثنا الْخَلِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا ، ثنا عَمْرُو بْنُ عُبَيْدٍ ، عَنِ الْحَسَنِ ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ أَنْ تُؤْتَى النِّسَاءُ فِي أَعْجَازِهِنَّ» .

فَقَالَ الْحَسَنُ: وَهَلْ يَفْعَلُ ذَلِكَ إِلا أَحْمَقٌ أَوْ جَاهِلٌ
২৮ - আল-হারিস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-খলিল ইবনে যাকারিয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে উবায়দ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান থেকে, তিনি সামুরা ইবনে জুনদুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের পশ্চাৎপথে মৈথুন করতে নিষেধ করেছেন»।

অতঃপর হাসান বলেন: নির্বোধ বা মূর্খ ব্যতীত কি কেউ এমন কাজ করে?