(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: -)
حديث سفيان بن عيينة رواية الخلعي (الخلعي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: حديث سفيان بن عيينة
المؤلف: علي بن الحسن بن الحسين بن محمد، أبو الحسن الخِلَعي الشافعيّ (ت 492هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 31
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ এর হাদিস, আল-খালাঈ-এর বর্ণনা (আল-খালাঈ)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ এর হাদিস
লেখক: আলী বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ، আবুল হাসান আল-খালাঈ আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৪৯২ হি.)
প্রকাশক: ইসলাম ওয়েব সাইটের অন্তর্ভুক্ত জাওয়ামিউল কালিম ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪
[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১)
الْجُزْءُ الأَوَّلُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُحَمَّدٍ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ.الْمُنْتَخَبَةُ مِنْ فَوَائِدِ الْقَاضِي أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ.رِوَايَةُ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِفَاعَةَ بْنِ غَدِيرٍ السَّعْدِيِّ الْفَرَضِيِّ.رِوَايَةُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ عِمَادِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْحَرَّانِيِّ.رِوَايَةُ أَبِي الْحُسَيْنِ يَحْيَى بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْجُذَامِيِّ عُرِفَ بِابْنِ الصَّوَّافِ.بسم الله الرحمن الرحيم
আবু মুহাম্মদ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর হাদিসের প্রথম অংশ।কাজী আবু আল-হাসান আলী ইবনুল হাসান ইবনুল হুসাইনের ‘ফাওয়াইদ’ থেকে নির্বাচিত অংশ।আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে রিফাআহ ইবনে গাদীর আস-সা‘দী আল-ফারাযীর বর্ণনা।আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাররানীর বর্ণনা।আবু আল-হুসাইন ইয়াহইয়া ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-জুযামী, যিনি ইবনুল সাওয়াফ নামে পরিচিত, তাঁর বর্ণনা।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْمُقْرِئُ الْمُحَدِّثُ الْعَدْلُ شَرَفُ الدِّينِ يَحْيَى بْنُ الشَّيْخِ الْمُحَدِّثِ الْعَدْلِ الْمُقْرِئِ نَجِيبِ الدِّينِ أَبِي الْفَضْلِ أَحْمَدَ بْنِ الشَّيْخِ الْمُقْرِئِ الْعَدْلِ الْمُحَدِّثِ الأَغَرِّ عِزِّ الدِّينِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ عَلِيٍّ الْجُذَامِيُّ الإِسْكَنْدَرِيُّ الْمَالِكِيُّ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الصَّوَّافِ، الْمُتَصَدِّرِ لِلإِقْرَاءِ بِجَامِعِ الْعَطَّارِينَ بِثَغْرِ الإِسْكَنْدَرِيَّةِ بِدَارِ الْحَدِيثِ الْكَامِلَةِ مِنَ الْقَاهِرَةِ الْمُعِزِّيَّةِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ سَابِعَ عَشَرَ شَوَّالٍ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَثَمَانِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عِمَادِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْلَى الْحَرَّانِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ بِالثَّغْرِ الْمَحْرُوسِ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رِفَاعَةَ بْنِ غَدِيرٍ السَّعْدِيُّ الْفَرَضِيُّ ، فِي سَنَةِ سِتٍّ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ ، أنا الْقَاضِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْخِلَعِيُّ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ النَّحَّاسِ ، أنا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ بِشْرِ بْنِ كَرِيمِ بْنِ الأَعْرَابِيِّ ، ثنا أَبُو عُثْمَانَ سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ الْمُخَرِّمِيُّ ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ ، يَقُولُ: قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَأَنَا ابْنُ عَشْرِ سِنِينَ ، وَمَاتَ وَأَنَا ابْنُ عِشْرِينَ سَنَةً ، وَكُنَّ أُمَّهَاتِي يَحْثُثْنَنِي عَلَى خِدْمَتِهِ ، وَدَخَلَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دَارَنَا ، فَحَلَبْنَا لَهُ مِنْ شَاةٍ لَنَا دَاجِنٍ ، فَشِيبَ لَهُ مِنْ مَاءِ بِئْرٍ فِي الدَّارِ ، وَأَبُو بَكْرٍ عَنْ شِمَالِهِ ، وَأَعْرَابِيٌّ عَنْ يَمِينِهِ ، فَشَرِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، وَعُمَرُ نَاحِيَةً ، فَقَالَ عُمَرُ: أَعْطِ أَبَا بَكْرٍ ، فَنَاوَلَ الأَعْرَابِيَّ ، وَقَالَ: «الأَيْمَنُ فَالأَيْمَنُ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ক্বারী, মুহাদ্দিস ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া বিন শায়খ মুহাদ্দিস, ন্যায়পরায়ণ ও ক্বারী নাজীবুদ্দীন আবুল ফজল আহমাদ বিন শায়খ ক্বারী, ন্যায়পরায়ণ, মুহাদ্দিস ও প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ইযযুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আব্দুল বাকী বিন আলী আল-জুযামী আল-ইসকান্দারী আল-মালিকী, যিনি ইবনুস সাওয়াফ নামে পরিচিত; তিনি কায়রো মুইযযিয়্যাহর দারুল হাদীস আল-কামিলাহ-তে থাকাকালীন আলেকজান্দ্রিয়া সীমান্তের আত্তারীন জামে মসজিদে কিরাআত পাঠে নিয়োজিত ছিলেন। এটি ছিল হিজরি ৬৮২ সালের ১৭ই শাওয়াল, শুক্রবার। আমি তাঁকে বললাম: আপনার কাছে কি শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু ইয়ালা আল-হাররানী বর্ণনা করেছেন?—যা তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আপনারা সুরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় তা শুনছিলেন—তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন রিফাআহ বিন গাদীর আস-সাদী আল-ফারাজী ৫৫৬ হিজরি সালে; তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাজী আবুল হাসান আলী বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন আল-খিলাঈ; তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন উমর বিন আন-নাহহাস; তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ বিন বিশর বিন আল-আরাবী; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উসমান সা’দান বিন নাসর আল-মুখাররামী; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ সুফইয়ান বিন উয়ায়নাহ, আয-যুহরী থেকে; তিনি আনাস ইবন মালিককে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আসলেন তখন আমার বয়স ছিল দশ বছর, আর যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন তখন আমার বয়স বিশ বছর। আমার মায়েরা আমাকে তাঁর খিদমত করতে উৎসাহিত করতেন। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘরে প্রবেশ করলেন। আমরা আমাদের একটি গৃহপালিত বকরির দুধ দোহন করলাম এবং ঘরে থাকা কূপের পানি তার সাথে মেশালাম। তখন আবু বকর তাঁর বাম দিকে এবং একজন গ্রাম্য ব্যক্তি তাঁর ডান দিকে বসা ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করলেন। উমর একপাশে ছিলেন, তিনি বললেন: "আবু বকরকে দিন।" কিন্তু তিনি গ্রাম্য ব্যক্তিটিকে দিলেন এবং বললেন: "ডান দিকের ব্যক্তি আগে, এরপর তার ডান দিকের ব্যক্তি।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ৩)
2 - وَبِهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ ، وَمَاؤُهَا شِفَاءٌ لِلْعَيْنِ»
২ - এবং এর মাধ্যমেই সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন উমায়ের থেকে, তিনি আমর বিন হুরাইস থেকে, তিনি সাঈদ বিন যায়েদ বিন আমর বিন নুফায়েল থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «কামআহ (এক প্রকার ছত্রাক) ‘মান’-এর অন্তর্ভুক্ত এবং এর পানি চোখের জন্য আরোগ্যস্বরূপ»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ৪)
3 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاقَةَ ، سَمِعَ أُسَامَةَ بْنَ شَرِيكٍ ، يَقُولُ: شَهِدْتُ الأَعْرَابَ يَسْأَلُونَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: هَلْ عَلَيْنَا مِنْ جُنَاحٍ فِي كَذَا؟ فَقَالَ: «عِبَادَ اللَّهِ، وُضِعَ عَنْكُمُ الْحَرَجُ ، إِلا مَنِ اقْتَرَضَ مِنْ عِرْضِ أَخِيهِ شَيْئًا، فَذَلِكَ الَّذِي حَرِجَ وَهَلَكَ»
৩ - এবং এর মাধ্যমে সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবনে ইলাকা থেকে, তিনি উসামা ইবনে শারীককে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি বেদুইনদের দেখেছি যে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করছিলেন: অমুক অমুক বিষয়ে কি আমাদের ওপর কোনো গুনাহ হবে? তখন তিনি বললেন: «হে আল্লাহর বান্দারা, তোমাদের ওপর থেকে সংকীর্ণতা (বা গুনাহের দায়) তুলে নেওয়া হয়েছে, তবে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্মানের কোনো হানি করে, সেই মূলত গুনাহগার হয়েছে এবং ধ্বংস হয়েছে।»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ৫)
4 - قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَتَدَاوَى؟ قَالَ: «تَدَاوَوْا عِبَادَ اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يُنْزِلْ دَاءً إِلا وَقَدْ أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً إِلا هَذَا الْهَرَمِ»
৪ - তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি চিকিৎসা গ্রহণ করব? তিনি বললেন: «হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কেননা মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ নাযিল করেননি যার নিরাময় তিনি নাযিল করেননি, কেবল এই বার্ধক্য ব্যতীত।»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ৬)
5 - قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا خَيْرُ مَا أُعْطِيَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ؟ قَالَ: «خُلُقٌ حَسَنٌ»
5 - তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, একজন মুসলিম বান্দাকে যা কিছু প্রদান করা হয়েছে তার মধ্যে সর্বোত্তম কোনটি? তিনি বললেন: "উত্তম চরিত্র"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ৭)
6 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ ، عَنْ أَبِي الأَوْبَرِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي حَافِيًا وَنَاعِلا وَقَائِمًا وَقَاعِدًا، وَيَنْفَتِلُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ»
৬ - এবং এই সূত্রেই সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আবুল আওবার থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খালি পায়ে ও জুতো পরিহিত অবস্থায় এবং দণ্ডায়মান ও উপবিষ্ট অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি, এবং তিনি (সালাত শেষে) তাঁর ডানে ও বামে উভয় দিকেই ফিরতেন।»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ৮)
7 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ»
৭ - এবং তাঁর মাধ্যমেই সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমারা ইবনে আবি হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণে কোনো সদাকাহ নেই এবং পাঁচটি উটের কম সংখ্যায় কোনো সদাকাহ নেই»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «مَنْ مَاتَ وَفِي يَدِهِ رِيحُ غَمَرٍ فَأَصَابَهُ شَيْءٍ ، فَلا يَلُومَنَّ إِلا نَفْسِهِ»
৮ - এবং উক্ত সনদে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আয-যুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত করে (মারফু হিসেবে) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে তার হাতে চর্বির গন্ধ ছিল, অতঃপর তাকে কোনো বিপদ বা অনিষ্ট স্পর্শ করে, তবে সে যেন কেবল নিজেকেই তিরস্কার করে»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১০)
9 - وَبِهِ ثنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الأَعْرَابِيُّ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ عَمْرٍو ، عَنْ هِلالِ بْنِ يَسَافٍ ، قَالَ: جُرِحَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: «ادْعُوا لَهُ الطَّبِيبَ» ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَهَلْ يُغْنِي الطَّبِيبُ مِنْ شَيْءٍ؟ قَالَ: «نَعَمْ ، مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ دَاءٍ إِلا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً»
৯ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের নিকট আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাব্বাহ আয-যা’ফরানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আমর থেকে, তিনি হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি আহত হলেন। তখন তিনি বললেন: «তোমরা তার জন্য চিকিৎসক ডাকো», তারা আরজ করল: হে আল্লাহর রাসূল, চিকিৎসক কি কোনো উপকারে আসবে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার জন্য তিনি নিরাময় অবতীর্ণ করেননি।»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১১)
10 - وَبِهِ ثنا أَبُو سَعِيدٍ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ عَمْرٍو ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ ، قَالَ: قَالَ جَرِيرٌ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «لا يَرْحَمُ اللَّهُ مَنْ لا يَرْحَمُ النَّاسَ»
১০ - এবং এর মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি আমর থেকে, তিনি নাফি ইবন জুবায়র থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জারীর বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আল্লাহ ওই ব্যক্তির প্রতি দয়া করেন না, যে মানুষের প্রতি দয়া করে না»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১২)
11 - وَبِهِ ثنا أَبُو سَعِيدٍ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ عَمْرٍو ، عَنْ أَبِي قَابُوسَ ، عَنِ ابْنٍ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحِيمُ ، ارْحَمُوا أَهْلَ الأَرْضِ ، يَرْحَمْكُمْ أَهْلُ السَّمَاءِ»أَنْشَدَنَا الْخِلَعِيُّ ، أَنْشَدَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُمَرَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْمُقْرِئُ ، أَنْشَدَنَا أَبُو الطَّيِّبِ الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَاشِمِيُّ ، أَنْشَدَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَهْرَانِيُّ ، أَنْشَدَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ ، لِمَحْمُودٍ الْوَرَّاقِ: «إِذَا كَانَ شُكْرِي نِعْمَةَ اللَّهِ نِعْمَةً … عَلَيَّ لَهُ فِي مِثْلِهَا يَجِبُ الشُّكْرُفَكْيَفَ بُلُوغُ الشَّكْرِ إِلا بِفَضْلِهِ … وَإِنْ طَالَتِ الأَيَّامُ وَاتَّصَلَ الْعُمْرُإِذَا مَسَّ بِالسَّرَّاءِ عَمَّ سُرُورُهَا … وَإِنْ مَسَّ بِالضَّرَّاءِ أَعْقَبَهُ الأَجْرُوَمَا مِنْهُمَا إِلا لَهُ فِيهِ نِعْمَةٌ … يَضِيقُ بِهَا الأَوْهَامُ وَالْبَرُّ وَالْبَحْرُ» .
১১ - এবং তার মাধ্যমেই আমাদের নিকট আবু সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাসান ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আমর থেকে, তিনি আবু কাবুস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের এক পুত্র থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি বলেছেন: «দয়াশীলদের ওপর পরম দয়াময় দয়া করেন। তোমরা জমিনবাসীদের প্রতি দয়া করো, তবে আসমানবাসী তোমাদের প্রতি দয়া করবেন»আমাদের নিকট আল-খিলায়ী কবিতা আবৃত্তি করেছেন, আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে ইসমাইল আল-মুকরি কবিতা আবৃত্তি করেছেন, আমাদের নিকট আবু আল-তায়্যিব আল-আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল-হাশিমী কবিতা আবৃত্তি করেছেন, আমাদের নিকট আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মাহরানী কবিতা আবৃত্তি করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ মাহমুদ আল-ওয়াররাকের এই কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন: «যদি আল্লাহর নিআমতের জন্য আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন নিজেই একটি নিআমত হয় … তবে তাঁর প্রতি অনুরূপ নিআমতের জন্যও পুনরায় কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা ওয়াজিব হয়ে পড়েতবে তাঁর অনুগ্রহ ব্যতীত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কীভাবে সম্ভব … যদিও দিনগুলো দীর্ঘ হয় এবং জীবন প্রলম্বিত হয়যদি তিনি সুখ স্পর্শ করান তবে তার আনন্দ সর্বব্যাপী হয় … আর যদি দুঃখ স্পর্শ করান তবে তা প্রতিদান বয়ে আনেআর এই দুটির প্রত্যেকটিতেই তাঁর পক্ষ থেকে এমন নিআমত রয়েছে … যা কল্পনা, স্থলভাগ এবং জলভাগকেও সংকীর্ণ করে দেয়»।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - وَبِهِ ثنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الأَعْرَابِيِّ ، ثنا سَعْدَانُ ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النُّجُودِ ، عَنْ زَرِّ بْنِ حُبَيْشٍ ، قَالَ: أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ الْمُرَادِيَّ ، فَقَالَ: مَا جَاءَ بِكَ؟ قُلْتُ: الْعِلْمُ ، قَالَ: فَإِنَّ الْمَلائِكَةَ تَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضًا بِمَا يَطْلُبُ ، قَالَ: قُلْتُ: حَكَّ فِي صَدْرِيَ الْمَسْحُ عَلَى الْخُفِّ بَعْدَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ ، وَكُنْتَ امْرَأً مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَأَتَيْتُكَ أَسْأَلُكَ: هَلْ سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا؟ فَقَالَ: نَعَمْ ، «كَانَ يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا سَفَرًا أَوْ مُسَافِرِينَ أَنْ لا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِهِنَّ إِلا مِنْ جَنَابَةٍ ، لَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ»
১২ - এবং তাঁর মাধ্যমে আমাদের নিকট আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সা'দান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফইয়ান বর্ণনা করেছেন, আসিম ইবনে আবি নাজুদ থেকে, তিনি জিরর ইবনে হুবাইশ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান ইবনে আসসাল আল-মুরাদীর নিকট আসলাম। তিনি বললেন: "তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে?" আমি বললাম: "ইলম অন্বেষণ।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়, সে যা অন্বেষণ করছে তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে।" তিনি বলেন: আমি বললাম: "মলমূত্র ত্যাগের পর মোজার ওপর মাসেহ করার বিষয়টি আমার মনে খটকা তৈরি করেছে। আর আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি ছিলেন, তাই আমি আপনার নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি: আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে কিছু শুনেছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তিনি আমাদের নির্দেশ দিতেন যখন আমরা সফরে থাকতাম বা মুসাফির হতাম, তখন যেন আমরা তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত আমাদের মোজাসমূহ না খুলি—জানাবাত (বড় নাপাকি) ব্যতীত; তবে মলমূত্র ত্যাগ, প্রস্রাব এবং ঘুমের কারণে (খোলার প্রয়োজন নেই)।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - قُلْتُ: هَلْ سَمِعْتَهُ يَذْكُرُ الْهَوَى؟ قَالَ: نَعَمْ ، بَيْنَا نَحْنُ فِي مَسِيرٍ إِذْ نَادَاهُ أَعْرَابِيٌّ بِصَوْتٍ لَهُ جَهْوَرِيٍّ: يَا مُحَمَّدُ ، فَأَجَابَهُ عَلَى نَحْوِ ذَلِكَ: «هَاؤُمُ» ، قُلْنَا: وَيْحَكَ أَوْ وَيْلَكَ اغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ؛ فَإِنَّكَ قَدْ نُهِيتَ عَنْ ذَلِكَ ، فَقَالَ: وَاللَّهِ لا أَغْضُضُ صَوْتِي ، فَقَالَ: أَرَأَيْتَ رَجُلا أَحَبَّ قَوْمًا وَلَمْ يَلْحَقْ بِهِمْ؟ قَالَ: «الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ»
১৩ - আমি বললাম: আপনি কি তাঁকে ভালোবাসা সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমরা এক সফরে থাকাকালীন জনৈক বেদুইন তাঁকে উচ্চস্বরে ডাকল: হে মুহাম্মদ! তিনিও অনুরূপ স্বরে তাকে উত্তর দিলেন: «আমি এখানে উপস্থিত»; আমরা বললাম: তোমার ধ্বংস হোক! তোমার কন্ঠস্বর নিচু করো; কারণ তোমাকে তা করতে নিষেধ করা হয়েছে। সে বলল: আল্লাহর কসম! আমি আমার কন্ঠস্বর নিচু করব না। অতঃপর সে বলল: আপনি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে কিন্তু তাদের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি? তিনি বললেন: «মানুষ তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - قَالَ: ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يُحَدِّثُنَا حَتَّى قَالَ: «إِنَّ مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ بَابًا مَسِيرَةُ عَرْضِهِ أَرْبَعُونَ سَنَةً ، فَتَحَهُ اللَّهُ لِلتَّوْبَةِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ ، فَلا يَغْلِقُهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْهُ»
১৪ - তিনি বললেন: এরপর তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই পশ্চিম দিকে একটি দরজা রয়েছে যার প্রস্থের দূরত্ব চল্লিশ বছরের পথ, যা আসমান ও যমীন সৃষ্টির দিন আল্লাহ তাওবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, সুতরাং তিনি তা বন্ধ করবেন না যতক্ষণ না সূর্য সেই দিক থেকে উদিত হয়।”
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ ، قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، قَدْ عَلِمْنَا، أَوْ عُلِّمْنَا، كَيْفَ نُسَلِّمُ عَلَيْكَ ، فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ؟ قَالَ: " قُولُوا: اللَّهَمَّ صَلَّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " ، قَالَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى: وَنَحْنُ نَقُولُ: وَعَلَيْنَا مَعَهُمْ
১৫ - এবং তাঁর মাধ্যমেই সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি জিয়াদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি কাব ইবনে উজরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আমরা জেনেছি—অথবা আমাদের শেখানো হয়েছে—কীভাবে আপনার ওপর সালাম পেশ করতে হয়, কিন্তু আপনার ওপর আমরা দরুদ পাঠাব কীভাবে? তিনি বললেন: "তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিম এবং ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিম এবং ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।" ইবনে আবি লায়লা বলেন: আর আমরা বলি—"এবং তাদের সাথে আমাদের ওপরও"।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - وَبِهِ ثنا أَبُو سَعِيدٍ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ أَبُو عَلِيٍّ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ عَمْرٍو ، عَنِ الْحَسَنِ الْعُرَنِيِّ ، قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ تُرِيدُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَوَجَدَتْ بِلالا ، فَقَالَتْ: إِمَّا تَسْتَأْذِنْ لِي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِمَّا أَنْ تُبَلِّغَهُ عَنِّي أَنِّي امْرَأَةٌ لِي زَوْجٌ وَلْيَسَ لَهُ مَالٌ، وَأَنِّي أُنْفِقُ عَلَيْهِ ، قَالَتْ أُخْرَى: وَحَاجَتِي مِثْلُ حَاجَتِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ، ثُمَّ خَرَجَ مِنْ عِنْدَهُ ، فَقَالَ: «لَكُمَا أَجْرَانِ ، مِثْلانِ كِفْلانِ»
১৬ - এবং উক্ত সনদে আবু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সাব্বাহ আয-যাফরানি আবু আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট আমর থেকে, তিনি হাসান আল-উরানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খোঁজে এলেন, অতঃপর তিনি বিলালকে পেলেন এবং বললেন: হয় আপনি আমার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করুন, অথবা আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সংবাদ দিন যে আমি এমন একজন নারী যার স্বামী আছে কিন্তু তার কোনো সম্পদ নেই, এবং আমিই তার ভরণপোষণের ব্যয়ভার বহন করি। অপর একজন নারী বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমার হাজত বা প্রয়োজনও তার প্রয়োজনের মতোই। অতঃপর তিনি (বিলাল) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলেন, তারপর তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে এসে বললেন: «তোমাদের উভয়ের জন্য দু’টি করে প্রতিদান রয়েছে, যা দুই গুণের সমতুল্য এবং দ্বিগুণ হিস্যাস্বরূপ।»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - وَبِهِ ثنا أَبُو سَعِيدٍ ، ثنا الْحَسَنُ ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ عَمْرٍو ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ: كَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: كَرْكَرَةُ ، فَمَاتَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُوَ فِي النَّارِ» ، فَذَهَبُوا يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ ، فَوَجَدُوا عَلَيْهِ عَبَاءَةً قَدْ غَلَّهَاوبِهِ أنبا الْخِلَعِيُّ ، أنبا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ ، ثنا أَبُو الْحُسَيْنِ ثَوَابَةُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عِيسَى الْمَعْقِلِيُّ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ الْغَسَّانِيُّ ، بِطَبَرِيَّةَ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْهَيْثَمِ ، عَنِ الأَصْمَعِيِّ ، قَالَ: " رَأَيْتُ جَارِيَةً بِالْبَصْرَةِ كَأَنَّهَا الشَّمْسُ وَهِيَ تَتَكَلَّمُ بِكَلامٍ مَا سَمِعْتُ كَلامًا أَشْيَقَ إِلَى قَلْبِي مِنْهُ ، ثُمَّ رَفَعَتْ صَوْتَهَا، فَقَالَتْ:أَنُوحُ عَلَى دَهْرٍ مَضَى بِغَضَارَةٍ … إِذَا الْعَيْشُ رَطْبٌ وَالزَّمَانُ مُؤَاتِيأَبْكِي زَمَانًا صَالِحًا قَدْ فَقَدْتُهُ … فَقَطَّعَ قَلْبِي ذِكْرُهُ حَسَرَاتِفَيَا زَمَنًا وَلَّى عَلَى رَغْمِ أَهْلِهِ … أَلا عُدْ كَمَا قَدْ كُنْتَ مِنْ سَنَوَاتِتَمَطَّى عَلَيْنَا الدَّهْرُ فِي مَتْنِ قَوْسِهِ … فَفَوَّقَنَا مِنْهُ بِسَهْمِ شَتَاتِ ".
১৭ - তাঁর সূত্রেই আবু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর থেকে, তিনি সালিম বিন আবি আল-জাদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসবাবপত্রের দায়িত্বে কারকারাহ নামক এক ব্যক্তি ছিল। সে মারা গেলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে জাহান্নামে।" অতঃপর লোকেরা তাকে দেখতে গেল এবং একটি চাদর পেল যা সে আত্মসাৎ করেছিল।তাঁর সূত্রেই আল-খিলায়ী আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাজ্জ আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আল-হুসাইন সাওয়াবাহ বিন আহমদ বিন ঈসা আল-মাকিলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন ইসহাক আল-গাসসানী তাবারিয়্যাহ-তে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন আল-হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আসমাঈ থেকে, তিনি বলেন: "আমি বসরায় এক কিশোরীকে দেখলাম যে ছিল যেন একটি সূর্য। সে এমন কথা বলছিল যার চেয়ে অধিক চিত্তাকর্ষক কথা আমি আমার অন্তরের জন্য আর কখনো শুনিনি। অতঃপর সে তার কণ্ঠস্বর উঁচু করে বলল:আমি বিলাপ করি এমন এক যুগের তরে যা প্রাচুর্যে অতিবাহিত হয়েছে … যখন জীবন ছিল সরস এবং সময় ছিল অনুকূল।আমি কাঁদি এক উত্তম সময়ের তরে যা আমি হারিয়েছি … যার স্মৃতি অনুশোচনায় আমার অন্তরকে বিদীর্ণ করে দেয়।হে সময়, যা তার অধিবাসীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিদায় নিয়েছে … হায়, তুমি যদি সেই আগের বছরগুলোর মতো ফিরে আসতে!কাল তার ধনুকের পিঠে চড়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে … এবং আমাদের দিকে বিচ্ছেদের বাণ নিক্ষেপ করেছে।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - وَبِهِ ثنا أَبُو سَعِيدٍ ، ثنا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ ، سَمِعَ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، وَهُوَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: وَقَعَ بَيْنَ الأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ كَلامٌ ، فَتَنَاوَلَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا ، فَأَتَي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، فَأَتَاهُمْ فَاحْتَبَسَ ، فَأَذَّنَ بِلالٌ ، وَاحْتَبَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، فَلَمَّا احْتَبَسَ أَقَامَ الصَّلاةَ ، فَتَقَّدَمَ أَبُو بَكْرٍ يَؤُمُّ النَّاسَ ، وَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَجِيئِهِ ذَلِكَ ، فَتَخَلَّلَ النَّاسَ حَتَّى انْتَهَى إِلَى الصَّفِّ الَّذِي يَلِي أَبَا بَكْرٍ ، فَصَفَّقَ النَّاسُ ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ ، لا يَلْتَفِتُ فِي الصَّلاةِ ، فَلَمَّا سَمِعَ التَّصْفِيقُ الْتَفَتَ ، فَإِذَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ، فَأَشَارَ ، فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ ، رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ وَنَكَصَ الْقَهْقَرِيَّ ، وَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَصَلَّى بِهِمْ ، فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاةَ ، قَالَ: «مَا مَنَعَكَ أَنْ تَثْبُتَ؟» قَالَ: مَا كَانَ اللَّهُ لِيَرَى ابْنَ أَبِي قِحَافَةَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا لَكُمْ حِينَ نَابَكُمْ شَيْءٌ مِنْ صَلاتِكُمْ صَفَّقْتُمْ ، إِنَّمَا هَذَا لِلنِّسَاءِ ، فَمَنْ نَابَهُ شَيْءٌ مِنْ صَلاتِهِ فَلْيَقُلْ: سُبْحَانَ اللَّهِ "
১৮ - এবং এর মাধ্যমেই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দান ইবন নাসর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ সুফিয়ান ইবন উয়ায়না, আবু হাযিম থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম সাহাবী সাহল ইবন সা’দ আস-সা’ঈদীকে বলতে শুনেছেন: আওস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যে কোনো একটি বিষয়ে বাদানুবাদ হলো, এমনকি তারা একে অপরের ওপর চড়াও হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাদের নিকট আসলেন এবং সেখানে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এমতাবস্থায় বিলাল (রা.) আযান দিলেন, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনও ব্যস্ত ছিলেন। যখন তিনি আসতে দেরি করলেন, তখন বিলাল (রা.) নামাযের একামত দিলেন এবং আবু বকর (রা.) মানুষকে ইমামতি করার জন্য সামনে এগিয়ে গেলেন। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন এবং মানুষের কাতার চিরে সামনে অগ্রসর হলেন, এমনকি তিনি আবু বকরের নিকটবর্তী কাতারে এসে পৌঁছালেন। তখন লোকেরা হাততালি দিতে লাগল। আবু বকর (রা.) নামাযে সাধারণত অন্য কোনো দিকে তাকাতেন না; কিন্তু যখন তিনি প্রচুর হাততালির শব্দ শুনতে পেলেন, তখন তিনি লক্ষ্য করলেন এবং দেখলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত। তিনি (নবী) তাকে ইশারা করলেন (স্বস্থানে থাকতে)। তখন আবু বকর (রা.) আকাশের দিকে তাঁর মাথা উত্তোলন করলেন এবং উল্টো পায়ে পেছনে সরে আসলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁদের নিয়ে নামায পড়ালেন। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষ করলেন, তিনি বললেন: "তোমাকে নিজ স্থানে স্থির থাকতে কিসে বাধা দিল?" তিনি বললেন: "আল্লাহর নিকট এটা সমীচীন নয় যে, আবু কুহাফার পুত্র আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দাঁড়িয়ে ইমামতি করবে।" অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমাদের কী হলো যে, যখন তোমাদের নামাযে কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয় তখন তোমরা হাততালি দাও? নিশ্চয়ই এটি কেবল মহিলাদের জন্য; সুতরাং যার নামাযে কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হবে সে যেন বলে: সুবহানাল্লাহ।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২০)
19 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «التَّسْبِيحُ فِي الصَّلاةِ لِلرِّجَالِ ، وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ»
১৯ - এবং তাঁর মাধ্যমেই সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «সালাতে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ বলা) পুরুষদের জন্য এবং হাততালি দেওয়া মহিলাদের জন্য»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২১)
20 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عُرْوَةَ ، عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: «كُنَّ نِسَاءً مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ يُصَلِّينَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ ثُمَّ يَرْجِعْنَ إِلَى أَهْلِيهِنَّ وَمَا يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ»
২০ - এবং উক্ত সনদে সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «মুমিন নারীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে নিজেদের চাদরে আবৃত হয়ে ফজরের সালাত আদায় করতেন, অতঃপর তারা ফিরে যেতেন তাদের পরিবারবর্গের নিকট এবং কাউ তাদেরকে চিনতে পারত না।»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২২)
21 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ سَالِمٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ، وَبَعْدَمَا يَرْفَعُ مِنَ الرُّكُوعِ ، وَلا يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ»
২১ - এবং এর মাধ্যমে আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যখন তিনি সালাত শুরু করতেন তখন তিনি তাঁর দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন; আর যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করতেন এবং রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর (হাত উঠাতেন), কিন্তু তিনি দুই সিজদার মাঝে হাত উঠাতেন না।»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَجْلانَ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزَّرْقِيِّ ، يَذْكُرُ أَبَا قَتَادَةَ ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ»
২২ - এবং উক্ত সনদে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন আবি সুলাইমান এবং মুহাম্মদ বিন আজলান হতে, তিনি আমির বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-যুবাইর হতে, তিনি আমর বিন সুলাইম আল-যারকি হতে, তিনি আবু কাতাদাহ (রা.)-এর সূত্রে উল্লেখ করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন (দুই রাকাত) সালাত আদায় করে।»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ كَانَ عَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ مَلائِكَةٌ ، يَكْتُبُونَ النَّاسَ؛ الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ ، فَالْمُهَجِّرُ إِلَى الصَّلاةِ كَالْمُهْدِي بَدَنَةً ، ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ كَالْمُهْدِي بَقَرَةً ، ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ كَالْمُهْدِي الْكَبْشَ حَتَّى ذَكَرَ الدَّجَاجَةَ وَالْبَيْضَةَ فَإِذَا جَلَسَ الإِمَامُ طَوُوا الصُّحُفَ ، وَجَلَسُوا لِلْخُطْبَةِ»وَبِهِ أنا الْخِلَعِيُّ ، أنا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَاجِّ ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ حَيْوَيَةَ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ ، حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ الصَّلْتِ ، قَالَ: زَعَمَ الْعُتْبِيُّ ، عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ الأَخْفَشِ ، قَالَ: " كَانَتِ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ مَعَهَا ابْنَانِ لَهَا ، كَأَنَّهُمَا مُهْرَانِ عَرَبِيَّانِ ، قَالَ: فَمَا تَقَلَّبَ عَلَيْهَا شَهْرٌ حَتَّى دَفَنَتْهُمَا بِفِنَائِهَا ، قَالَ: فَكُنْتُ أَغْدُو وَهِيَ قَاعِدَةٌ بَيْنَ الْقَبْرَيْنِ قَدْ وَضَعَتْ عَلَى كُلِّ قَبْرٍ يَدًا وَهِيَ تَقُولُ:لِلَّهِ جَارَايَ اللَّذَانِ أَرَاهُمَا … قَرِيبَيْنِ مِنِّي وَالْمَزَارُ بَعِيدُمُقِيمَانِ بِالْبَيْدَاءِ لا يَبْرَحَانِهَا … وَلا يَسْأَلانِ الرَّكْبَ أَيْنَ يُرِيدُهُمَا تَرَكَا عْينَيَّ لا مَاءَ فِيهِمَا … وَشَكَا سَوَادَ الْقَلْبِ فَهُوَ عَمِيدُفَكُنْتُ أَبْكِي مَعَهَا حَتَّى يَظُنَّ مَنْ رَآنِي أَنِّي أَبُوهُمَا ".
২৩ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: «যখন জুমার দিন আসে, তখন মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন, তাঁরা আগত ব্যক্তিদের নাম ক্রমানুসারে লিখতে থাকেন; যে আগে আসে তার নাম আগে, এরপর সালাতের জন্য আগে আগমনকারী সেই ব্যক্তির মতো যে একটি উট কোরবানি করেছে, এরপর যে আসে সে ঐ ব্যক্তির মতো যে একটি গরু কোরবানি করেছে, এরপর যে আসে সে ঐ ব্যক্তির মতো যে একটি দুম্বা কোরবানি করেছে—এভাবে তিনি মুরগি এবং ডিমের কথাও উল্লেখ করেন। অতঃপর যখন ইমাম (মিম্বরে) বসেন, তখন তাঁরা খাতাগুলো গুটিয়ে নেন এবং খুতবা শোনার জন্য বসে পড়েন»এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-খিলায়ী, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে হাইওয়ায়াহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনুল সালত। তিনি বলেন: আল-উতবী আবু আল-খাত্তাব আল-আখফাশ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "বনী আমির ইবনে সা'সাআ গোত্রের এক মহিলা ছিল যার সাথে তার দুই পুত্র ছিল, তারা যেন ছিল দুটি আরব্য ঘোড়ার শাবক। তিনি (আখফাশ) বলেন: এক মাস অতিবাহিত হওয়ার আগেই তিনি তাদের উভয়কে নিজ গৃহপ্রাঙ্গণে দাফন করলেন। তিনি বলেন: আমি সকালবেলা বের হতাম আর দেখতাম তিনি সেই কবর দুটির মাঝখানে বসে আছেন। তিনি প্রতিটি কবরের উপর একটি করে হাত রেখেছিলেন এবং বলছিলেন:আল্লাহরই জন্য উৎসর্গিত আমার এই দুই প্রতিবেশী যাদের আমি দেখছি … আমার খুব নিকটে, অথচ তাদের সাক্ষাতের স্থানটি কতই না দূরে!তারা এই বিজন প্রান্তরে অবস্থান করছে এবং এখান থেকে নড়ছে না … আর কোনো আরোহী কাফেলাকেও তারা জিজ্ঞাসা করছে না যে তারা কোথায় যেতে চায়।তারা আমার দুই চোখকে এমন অবস্থায় ছেড়ে গেছে যে তাতে কোনো পানি (অশ্রু) অবশিষ্ট নেই … আর অন্তরের অন্তঃস্থল ব্যথার অভিযোগ করছে কারণ তা অত্যন্ত কাতর।আমি তার সাথে এমনভাবে কাঁদতাম যে, যে কেউ আমাকে দেখত সে মনে করত আমিই বোধহয় তাদের পিতা।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - وَبِهِ ثنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الأَعْرَابِيِّ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ وَابْنِ عَجْلانَ ، وَغَيْرِهِمَا ، وَابْنِ عَجْلانَ ، وَغَيْرِهِمَا، عَنِ الأَعْرَجِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا يُكْلَمُ أَحَدٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِهِ، إِلا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجُرْحُهُ يَثْغُبُ دَمًا ، اللَّوْنُ لَوْنُ الدَّمِ ، وَالرِّيحُ رِيحُ الْمِسْكِ»
২৪ - আর তাঁর মাধ্যমেই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ বিন আল-আরাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ আজ-জাফরানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান, আবুয যিনাদ ও ইবনে আজলান এবং অন্যান্যদের থেকে, এবং ইবনে আজলান ও অন্যান্যদের থেকে, আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর পথে কেউ আহত হলে—আর আল্লাহই ভালো জানেন কে তাঁর পথে আহত হয়—সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আসবে যে তার জখম থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে, রক্তের রঙে, যার রং হবে রক্তের রঙের মতো এবং ঘ্রাণ হবে কস্তুরীর ঘ্রাণের মতো।»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - وَبِهِ ثنا أَبُو سَعِيدٍ ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ عَمْرِو، عْن ِ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ ، قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقولُ فِي الصَّيْفِ عَامَ أَوَّلَ ، وَالْعَهْدُ قَرِيبٌ ، يَقُولُ: «سَلُوا اللَّهَ الْيَقِينَ وَالْعَافِيَةَ»
২৫ - এবং এর মাধ্যমে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি আমরের সূত্র থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন জাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গত বছর গ্রীষ্মকালে বলতে শুনেছি—সে সময়টি ছিল নিকটবর্তী—তিনি বলছিলেন: «তোমরা আল্লাহর নিকট ইয়াকিন (সুদৃঢ় বিশ্বাস) এবং আফিয়াত (নিরাপত্তা) প্রার্থনা করো»
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ ، عَنِ الأَعْرَجِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: قَالَ اللَّهُ عز وجل: «إِذَا هَمَّ عَبْدِي بِحَسَنَةٍ فَاكْتُبُوهَا لَهُ ، فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا عَشْرَةَ أَمْثَالِهَا ، وَإِنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلا تَكْتُبُوهَا ، فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا مِثْلَهَا ، وَإِنْ تَرَكَهَا فَاكْتُبُوهَا حَسَنَةً»وَبِهِ أنا الْخِلَعِيُّ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَغْدَادِيُّ غُنْدَرٌ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَيْبَانَ الرَّمْلِيُّ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ أَصْرَمَ الْمَعْقِلِيُّ ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ الْعَلَوِيُّ ، حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ السَّمَّاكِ ، قَالَ: قُلْتُ لِعُمَرَ بْنِ ذَرٍّ: أَيُّهُمَا أَعْجَبُ إِلَيْكَ لِلْخَائِفِينَ: طُولُ الْكَمَدِ ، أَوْ إِسْبَالُ الدَّمْعَةِ؟ قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ: " إِذَا رَقَّ شَفَا فَسَلَّى ، وَإِذَا كَمَدَ غُصَّ فَشَجَّى ، فَالْكَمَدُ أَعْجَبُ إِلَيَّ ، قَالَ: فِي مِثْلِهِ يَقُولُ الشَّاعِرُ:إِذَا رَقَّ قَلْبُ الْمَرْءِ دَرَّتْ جُفُونُهُ … دُمُوعًا لَهُ فِيهَا سُلُوٌّ مِنَ الْكَمَدِوَإِنْ غُصَّ بِالأَشْجَانِ مِنْ طُولِ حُزْنِهِ … عَلاهُ اصْفِرَارُ اللَّوْنِ فِي الْوَجْهِ وَالْجَسَدِوَأَحْمَدُ حَالِ الْخَائِفِينَ مَقَامَهُمْ … عَلَى كَبِدٍ يُضْنِي النُّفُوسَ مَعَ الْكَبَدِ ".
২৬ - এবং এর মাধ্যমে সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: «যখন আমার বান্দা কোনো সৎ কাজের ইচ্ছা করে, তখন তোমরা তা তার জন্য লিখে রাখো। অতঃপর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে তার জন্য তা দশ গুণ সওয়াব হিসেবে লিখে রাখো। আর যদি সে কোনো মন্দ কাজের ইচ্ছা করে, তবে তা লিখো না। অতঃপর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে তার জন্য ঠিক ততটুকুই গুনাহ লিখো। আর যদি সে তা বর্জন করে, তবে তার জন্য তা একটি নেকি হিসেবে লিখে রাখো।»এবং এর মাধ্যমে আল-খিলাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে সুলাইমান আল-বাগদাদী গুন্দার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে শায়বান আল-রামলি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে আসরাম আল-মাকিলি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-আলাভি আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনুর রাবী আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুস সাম্মাক আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনে যারকে বললাম: আল্লাহভীরুদের জন্য আপনার নিকট কোনটি অধিক পছন্দনীয়: দীর্ঘস্থায়ী অন্তর্দহন (গভীর শোক), নাকি অশ্রু বিসর্জন? তিনি বলেন: তখন উমর ইবনে যার বললেন: "যখন হৃদয় কোমল হয় তখন তা প্রশান্তি ও সান্ত্বনা লাভ করে, আর যখন অন্তর্দহনে দগ্ধ হয় তখন তা রুদ্ধ ও ব্যথিত হয়। তাই অন্তর্দহনই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।" তিনি বলেন: এরই প্রেক্ষিতে কবি বলেন:যখন মানুষের অন্তর কোমল হয় তখন তার চোখের পাতা থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয় … যাতে তার জন্য থাকে অন্তর্দহন থেকে মুক্তি ও সান্ত্বনাআর যখন দীর্ঘস্থায়ী দুঃখের বেদনায় কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে … তখন তার চেহারা ও শরীরে ফ্যাকাশে বর্ণ ছেয়ে যায়আর আল্লাহভীরুদের সেই অবস্থাই অতি প্রশংসনীয় যা তাদের অবস্থানকে উন্নীত করে … কলিজার যন্ত্রণার সাথে সাথে যা আত্মাকেও জীর্ণ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - وَبِهِ ثنا أَبُو سَعِيدِ بْنُ الأَعْرَابِيِّ ، ثنا أَبُو عُثْمَانَ سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، سَمِعَ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ ، يَقُولُ: اطَّلَعَ رَجُلٌ مِنْ جُحْرٍ فِي حُجْرَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، وَمَعَهُ مِدْرِيٌّ يَحُكُّ بِهَا رَأْسَهُ ، فَقَالَ: «لَوْ أَنِّي لأَعْلَمُ أَنْ تَنْظُرَ ، لَطَعَنْتُ بِهِ فِي عَيْنَيْكَ ، إِنَّمَا جُعِلَ الاسْتِئْذَانُ مِنْ أَجْلِ النَّظَرِ»
২৭ - এবং একই সূত্রে আমাদের নিকট আবু সাঈদ বিন আল-আরাবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু উসমান সা’দান বিন নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বিন উয়ায়নাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাহল বিন সা’দ আস-সা’ঈদীকে বলতে শুনেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কক্ষের একটি ছিদ্র দিয়ে উঁকি মারল, তখন তাঁর নিকট একটি চিরুনি ছিল যা দিয়ে তিনি তাঁর মাথা চুলকাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "আমি যদি জানতাম যে তুমি তাকাচ্ছ, তবে আমি এটি দিয়ে তোমার চোখ দুটিতে আঘাত করতাম। মূলত অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে দৃষ্টির কারণেই।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু সুফিয়ান বিন উয়ায়না রিওয়ায়াতুল খালাঈ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - وَبِهِ ثنا سُفْيَانُ ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ ، عَنِ الأَعْرَجِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ أَنَّ امْرَأً اطَّلَعَ عَلَيْكَ بِغَيْرِ إِذْنٍ ، فَحَذَفْتُهُ فَفَقَأْتُ عَيْنَهُ مَا كَانَ عَلَيْكَ مِنْ جُنَاحٍ»
২৮ - এবং সেই একই সূত্রে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছেছে: «যদি কোনো ব্যক্তি অনুমতি ব্যতীত তোমার প্রতি উঁকি দেয় এবং তুমি তাকে কিছু ছুড়ে মারার ফলে তার চোখ উপড়ে যায়, তবে তোমার কোনো গুনাহ হবে না।’