(খণ্ড: ১)
আল-মজলিসু ১২১ মিন আমালি আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: -)
المجلس 121 من أمالي أبي الفتح المقدسي القسم: كتب السنة
الكتاب: أمالي أبي الفتح المقدسي - المجلس الحادي والعشرون بعد المائة
المؤلف: نصر بن إبراهيم بن نصر بن إبراهيم ابن داود النابلسي المقدسي، أبو الفتح الشافعي (ت 490هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 5
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু আল-ফাতহ আল-মাকদিসির আমালীর ১২১তম মজলিস বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আবু আল-ফাতহ আল-মাকদিসির আমালী - একশত একুশতম মজলিস
গ্রন্থকার: নাসর বিন ইব্রাহিম বিন নাসর বিন ইব্রাহিম ইবনে দাউদ আন-নাবলুসি আল-মাকদিসি, আবু আল-ফাতহ আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৪৯০ হিজরি)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি যা ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অধীনে জাওয়ামেউল কালিম ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪
[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ١٢١)
আল-মজলিসু ১২১ মিন আমালি আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ١)
الْمَجْلِسُ الْحَادِي وَالْعِشْرُونَ بَعْدَ الْمِائَةِ مِنْ أَمَالِي أَبِي الْفَتْحِ نَصْرِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْمَقْدِسِيِّ، رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى.
رِوَايَةُ الْفَقِيهِ أَبِي الْفَتْحِ نَصْرِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَوِيِّ الْمِصِّيصِيِّ، عَنْهُ.
رِوَايَةُ الْوَزِيرِ أَبِي الْمَعَالِي أَسْعَدَ بْنِ حَمْزَةَ بْنِ أَسَدٍ التَّمِيمِيِّ، عَنْهُ.
رِوَايَةُ الرَّئِيسِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ حَمْزَةَ التَّمِيمِيِّ، عَنْهُ.
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّمَ
আবু আল-ফাতহ নাসর ইবনে ইব্রাহিম আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর আমালির একশত একুশতম মজলিস।
তাঁর থেকে ফকিহ আবু আল-ফাতহ নাসরুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল কাবি আল-মিসসিসির বর্ণনা।
তাঁর থেকে উজির আবুল মাআলি আসআদ ইবনে হামজা ইবনে আসাদ আত-তামিমির বর্ণনা।
তাঁর থেকে রইস আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে হামজা আত-তামিমির বর্ণনা।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং আল্লাহ মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ١٢١)
আল-মজলিসু ১২১ মিন আমালি আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أَخْبَرَنَا وَالِدِيَ الشَّيْخُ الأَمِينُ الْعَدْلُ الرَّضِيُّ عَلاءُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ حَمْزَةَ التَّمِيمِيُّ ، رحمه الله ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ ، فِي ثَامِنِ رَجَبٍ سَنَةَ اثْنَيْنِ وَثَلاثِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ بِمَنْزِلِهِ بِمَدِينَةِ دِمَشْقَ ، قَالَ: أنا عَمِّيَ الرَّئِيسُ الأَجَلُّ الْوَزِيرُ مُؤَيِّدُ الدِّينِ أَبُو الْمَعَالِي أَسْعَدُ بْنُ حَمْزَةَ التَّمِيمِيُّ ، رحمه الله ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ ، فِي خَامِسِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ خَمْسٍ وَتِسْعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ ، قَالَ: أنا الإِمَامُ أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَوِيِّ الْمِصِّيصِيُّ ، رحمه الله ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ ، فِي رَجَبٍ سَنَةَ اثْنَيْنِ وَثَلاثِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ بِالزَّاوِيَةِ الْغَرْبِيَّةِ مِنْ جَامِعِ دِمَشْقَ ، قَالَ: أنا الإِمَامُ الزَّاهِدُ أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَصْرٍ الْمَقْدِسِيُّ ، رحمه الله ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ ، فِي الْعَشْرِ الأُوَلِ مِنْ صَفَرَ سَنَةَ سِتٍّ وَسَبْعِينَ وَأَرَبَعِ مِائَةٍ ، قَالَ: أنا أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ بُرْهَانٍ الْبَغْدَادِيُّ ، رحمه الله ، قَالَ: ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ نُصَيْرِ بْنِ عَرَفَةَ ، الْمَعْرُوفُ بِابْنِ لُؤْلُؤٍ الْبَزَّارِ ، ثنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ شَرِيكِ بْنِ الْفَضْلِ الْكُوفِيُّ ، إِمْلاءً يَوْمَ السَّبْتِ فِي رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ إِحْدَى وَثَلاثِ مِائَةٍ، ثنا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا نَتَسَاءَلُ أَمْوَالَنَا ، قَالَ: فَقَالَ: «يَسْأَلُ الرَّجُلُ فِي الْحَاجَةِ ، أَوْ لِيُصْلِحْ بَيْنَ قَوْمِهِ ، فَإِذَا بَلَغَ أَوْ كَرَبَ فَلْيَسْتَعْفِفْ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, বিশ্বস্ত, ন্যায়পরায়ণ ও সন্তুষ্টভাজন শাইখ আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে হামজাহ আত-তামীমী, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম, দামেশক শহরের তাঁর নিজ বাসভবনে ৬৩২ হিজরী সনের ৮ই রজব তারিখে। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার সুমহান প্রধান চাচা, উজির মুআইয়্যিদুদ্দীন আবুল মাআলি আসআদ ইবনে হামজাহ আত-তামীমী, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমরা শ্রবণ করছিলাম, ৫৯৫ হিজরী সনের ৫ই রবিউল আউয়াল তারিখে। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কাবি আল-মিসসিসী, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, ৫৩২ হিজরী সনের রজব মাসে দামেশক জামে মসজিদের পশ্চিম কোণে তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যাহিদ ইমাম আবুল ফাতহ নাসর ইবনে ইব্রাহীম ইবনে নাসর আল-মাকদিসী, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, ৪৭৬ হিজরী সনের সফর মাসের প্রথম দশকে তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফারাজ আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আল-হুসাইন ইবনে উমর ইবনে বুরহান আল-বাগদাদী, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে নুসায়ের ইবনে আরাফাহ, যিনি ইবনে লুলু আল-বাযযার নামে পরিচিত। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইব্রাহীম ইবনে শারীক ইবনে আল-ফাদল আল-কুফী, ৩০১ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসের এক শনিবার শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শিহাব ইবনে আব্বাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ, বাহয ইবনে হাকীম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা একে অপরের নিকট সম্পদ যাঞ্চা করি। তিনি বলেন: তখন তিনি বললেন: «মানুষ কেবল প্রয়োজনে অথবা তার সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ মিমাংসা করার জন্য যাঞ্চা করতে পারে। অতঃপর যখন সে (তার প্রয়োজনে) পৌঁছে যায় অথবা তার নিকটবর্তী হয়, তখন যেন সে যাঞ্চা করা থেকে বিরত থাকে (পবিত্রতা অবলম্বন করে)»
(খণ্ড: ١٢١)
আল-মজলিসু ১২১ মিন আমালি আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٣)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَرَجِ بْنُ بُرْهَانٍ، ثنا ابْنُ لُؤْلُؤٍ، ثنا أَبُو يَزِيدَ الْقُرَشِيُّ خَالِدُ بْنُ النَّضْرِ بْنِ عَمْرٍو، بِالْبَصْرَةِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْحَرَشِيُّ، ثنا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "
يَسْجُدُ فِي: إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ.وَاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ.
وَالنَّجْمِ "
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ বিন বুরহান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনু লু'লু', আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বসরার আবু ইয়াযিদ আল-কুরাশী খালিদ বিন আন-নাদর বিন আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মূসা আল-হারাশী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন উমাইয়্যাহ, আতা বিন ইয়াসার হতে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "
সেজদা করতেন: 'ইযাস সামাউন্ শাক্বাত' (যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে)-এ।এবং 'ইক্বরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক্ব' (পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন)-এ।.
এবং 'আন-নাজম' (নক্ষত্র) সূরায়।"
(খণ্ড: ١٢١)
আল-মজলিসু ১২১ মিন আমালি আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، ثنا ابْنُ لُؤْلُؤٍ، ثنا عُمَرُ بْنُ أَيُّوبَ السَّقَطِيُّ أَبُو حَفْصٍ، ثنا بِشْرُ بْنُ الْوَلِيدِ الْقَاضِي، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْيَمَامِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، أَنَّهُ قَالَ: " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ: الضُّحَى ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ نَادَى مُنَادٍ: أَيْنَ الَّذِينَ كَانُوا يُدِيمُونَ عَلَى صَلاةِ الضُّحَى؟ هَذَا بَابُكُمْ ، فَادْخُلُوهُ بِرَحْمَةِ اللَّهِ عز وجل "
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়াহহাব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনুল লু'লু', তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর ইবনে আইয়ুব আস-সাকাতি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বিচারক বিশর ইবনুল ওয়ালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-ইয়ামামি, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আওফ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি দরজা আছে যাকে 'আদ-দুহা' (চাশত) বলা হয়। সুতরাং যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, তখন এক আহ্বানকারী আহ্বান করবেন: তারা কোথায় যারা নিয়মিত চাশতের সালাত আদায় করত? এই তোমাদের দরজা, সুতরাং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর রহমতে তোমরা এতে প্রবেশ করো।"
(খণ্ড: ١٢١)
আল-মজলিসু ১২১ মিন আমালি আবিল ফাতহ আল-মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٥)
4 - أَخْبَرَنِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْخَضْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ السُّلَمِيُّ ، فِي كِتَابِهِ رحمه الله، ثنا أَبُو نَصْرٍ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الْمُرِّيُّ، ثنا أَبُو سُلَيْمَانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرِّبْعِيُّ، ثنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ بَحْرِ بْنِ شَاذَانَ ، بِمَكَّةَ ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الصَّائِغُ، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَالْعَلاءُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ ، قَالا: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَيْمُونٍ الْمَكِّيُّ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَبِيهِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ رَجُلانِ مِنْ قُرَيْشٍ ، فَقَالَ: أَلا أُخْبِرُكُمَا عَنْ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
فَقَالا: بَلَى.
فَقَالَ: سَمِعْتُ أَبِي الْحُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ ، رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ ، يَقُولُ: "
لَمَّا كَانَ قَبْلَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِثَلاثَةِ أَيَّامٍ ، هَبَطَ عَلَيْهِ جِبْرِيلُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ: يَا أَحْمَدُ إِنَّ اللَّهَ عز وجل أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ تَفْضِيلا لَكَ وَخَاصَّةً لَكَ ، يَسْأَلُكَ عَمَّا هُوَ أَعْلَمُ بِهِ مِنْكَ ، يَقُولُ لَكَ: كَيْفَ تَجِدُكَ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: أَجِدُنِي يَا جِبْرِيلُ مَغْمُومًا ، وَأَجِدُنِي يَا جِبْرِيلُ مَكْرُوبًا.
فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الثَّالِثُ ، هَبَطَ جِبْرِيلُ وَمَلَكُ الْمَوْتِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا ، وَهَبَطَ مَعَهُمَا مَلَكٌ مِنَ السَّمَاءِ يُقَالُ لَهُ: إِسْمَاعِيلُ ، عَلَى سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ ، فَسَبَقَهُمْ جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللَّهَ عز وجل أَرْسَلَنِي إَلِيْكَ إِكْرَامًا وَتَفْضِيلًا لَكَ وَخَاصَّةً لَكَ ، يَسْأَلُكَ عَمَّا هُوَ أَعْلَمُ بِهِ مِنْكَ ، يَقُولُ: كَيْفَ تَجِدُكَ؟ فَقَالَ: أَجِدُنِي يَا جِبْرِيلُ مَكْرُوبًا ، وَأَجِدُنِي يَا جِبْرِيلُ مَغْمُومًا ".
وَفِي رِوَايَةٍ أَخْبَرَنِي ، أَنَّهُ عليه السلام فَسَّرَ غَمَّهُ ، فَقَالَ: «مَنْ لِقُرَّاءِ الْقُرْآنِ بَعْدِي؟ مَنْ لِصُوَّامِ رَمَضَانَ بَعْدِي؟ مَنْ لأُمَّتِيَ الْمُصْطَفَيْنَ بَعْدِي؟» فَأَخْبَرَهُ عَنِ اللَّهِ عز وجل بِمَا يُرْضِيهِ عَنْهُمْ ، فَطَابَ نَفْسًا بِالْمَوْتِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: فَوَاللَّهِ لَقَدْ سَمِعْتُ مِنْ دَاخِلِ الْقَبْرِ صَوْتًا ، وَهُوَ يَقُولُ: لَمْ يَنْصَرِفْ حَتَّى غُفِرَ لَهُ
حَدَّثَنِي سُلْطَانُ بْنُ فَائِدٍ الْفَهْمِيُّ، وَكَانَ قَدْ سَافَرَ الْبِلادَ ، فَقُلْتُ: مَا أَعْجَبَ مَا رَأَيْتَ فِي بَلَدِ الرُّومِ؟ قَالَ: أُسِرْتُ وَكُنْتُ فِي حَبْسِ مَعَ جَمَاعَةٍ كَبِيرَةٍ ، وَكَانَ قَوْمٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فِي الْحُصُونِ قَدْ شَكَوْا إِلَيْنَا حَالَهُمْ ، وَإِنَّهُمْ يُرِيدُونَ الْخُرُوجَ إِلَى دَارِ الإِسْلامِ ، قَالَ: وَأَصَابَ قَحْطٌ شَدِيدٌ ، وَخَرَجَتِ الرُّومُ فَاسْتَسْقَوْا أَيَّامًا فَلَمْ يُسْقَوْا.
فَأَرْسَلَ مَلِكُ الرُّومِ إِلَيْنَا ، وَقَالَ لَنَا: ادْعُوا وَاسْتَسْقُوا فَإِنْ جَاءَنَا الْمَطَرُ أَعْتَقْنَاكُمْ.
فَقُلْنَا: مَا نُرِيدُ نَحْنُ الْخُرُوجَ ، وَلَكِنْ إِنْ دَعَوْنَا وَجَاءَ الْمَطَرُ ، فَتَعْتِقُ إِخْوَانَنَا الَّذِينَ فِي الْحُصُونِ.
فَأَجَابَنَا إِلَى ذَلِكَ ، وَأَحْضَرَ مِنْهُمْ ثَلاثِ مِائَةٍ وَخَمْسِينَ رَجُلًا مِنَ الشُّيُوخِ ، وَغَيْرِهِمْ مِمَّنْ يُرِيدُ الْخُرُوجَ إِلَى دَارِ الإِسْلامِ ، ثُمَّ إِنَّا نَصَبْنَا فِي الْحَبْسِ مِنْبَرَيْنِ ، وَدَعَوْنَا اللَّهَ تَعَالَى مِنْ غُدْوَةٍ إِلَى الظُّهْرِ ، ثُمَّ صَلَّيْنَا الظُّهْرَ ، وَعُدْنَا إِلَى الدُّعَاءِ ، فَلَمَّا كَانَ وَقْتُ الْعَصْرِ وَلَيْسَ فِي السَّمَاءِ سَحَابٌ وَلا شَيْءٌ إِلا الْحَرَّ الشَّدِيدَ ، هَبَّتْ رِيحٌ وَتَغَيَّمَتْ ، وَأَمْطَرَتِ الْمَطَرَ الشَّدِيدَ الزَّائِدَ إِلَى الْغَدِ ، وَزَادَ الْمَطَرُ حَتَّى اسْتَغَاثُوا بِنَا فِي إِمْسَاكِهِ ، وَأَعْتَقَ أُولِئَكَ الرِّجَالَ وَنِسَاءَهُمْ ، وَوَهَبَ لَهُمْ وَأَخْرَجَهُمْ إِلَى بِلادِ الإِسْلامِ ،قَالَ: وَكَانَ غُلامٌ يُعْرَفُ بِيُحَنَّا الْخَاصِّ ، خَاصًّا لِخِدْمَةِ الْمَلِكِ وَالْمَلِكَةِ ، وَكَانَ قَدْ قَالَ لِلْمَلِكَةِ فِي حَالِ الإِرْسَالِ إِلَيْنَا فِي الاسْتِسْقَاءِ: إِنْ أُجِيبُوا الْمُسْلِمُونَ وَجَاءَ الْمَطَرُ بِطَلَبِهِمْ ، فَأَنَا أُسْلِمُ وَأَؤْمِنُ بِمُحَمَّدٍ ، فَلَمَّا جَاءَ الْمَطَرُ أَسْلَمَ ، ثُمَّ أَخَذَ أَهْلَهُ وَأَوْلادًا لَهُ خَمْسَةً وَأَخَاهُ وَخَرَجَ ، وَقَدْ أَرَادُوا قَتْلَهُ ، فَوَصَلَ إِلَى مَوْضِعِ الْحَرَسِ وَعَلَى رَأْسِهِ الصَّلِيبُ وَفِي رَقَبَتِهِ صَلِيبٌ ، فَقَالَ مُتَوَلِّي ذَلِكَ: إِلَى أَيْنَ تَمْضِي؟ فَقَالَ: أَنَا رَسُولٌ إِلَى بَلَدِ الْعَجَمِ ، فَتَرَكَهُ وَمَضَى ، ثُمَّ وَصَلَ كِتَابُ الْمَلِكِ وَالْمَلِكَةِ بِالْقَبْضِ عَلَيْهِ ، فَقَالَ: قَدْ مَضَى ، وَخَرَجَ الرَّجُلُ بِأَهْلِهِ وَمَالِهِ إِلَى خُرَاسَانَ.
وَأَخْبَرَنِي أَبُو الْحَسَنِ السُّلَمِيُّ ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ الإِمَامُ، ثنا أبو مُحَمَّدٍ الْوَرْدُ ، ثنا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، ثنا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ ، يَقُولُ: كُنْتُ حَاجًّا فِي بَعْضِ السِّنِينَ ، فَأَتَيْتُ مَسْجِدَ رَسُولِ اللِّه صلى الله عليه وسلم ، فَإِذَا بِأَعْرَابِيٍّ يَرْكُضُ عَلَى بَعِيرِهِ حَتَّى أَتَى مَسْجِدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَعَقَلَ بَعِيرَهُ ، ثُمَّ دَخَلَ يَؤُمُّ الْقَبْرَ ، فَلَمَّا نَظَرَ إِلَى قَبْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: السَّلامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي ، لَقَدْ بَعَثَكَ اللَّهُ عز وجل بَشِيرًا وَنَذِيرًا ، وَأَنْزَلَ عَلَيْكَ كِتَابًا مُسْتَقِيمًا ، أَعْلَمَكَ فِيهِ عِلْمَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ ، فَقَالَ: {وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا} [النساء: 64] .
وَإِنِّي لأَعْلَمُ أَنَّ رَبَّكَ عز وجل مُنْجِزٌ لَكَ مَا وَعَدَكَ ، وَهَا أَنَا قَدْ أَتَيْتُكَ مُقِرٌّ بِالذُّنُوبِ مُسْتَشْفِعٌ بِكَ عَلَى رَبِّكَ عز وجل ، ثُمَّ مَضَى ، وَأَنْشَأَ يَقُولُ:
يَا خَيْرَ مَنْ دُفِنَتْ فِي الْقَاعِ أَعْظُمُهُ
… فَطَابَ مِنْ طِيبِهِنَّ الْقَاعُ وَالأَكَمُ
نَفْسِيَ الْفِدَاءُ لَقَبْرٌ أَنْتَ سَاكِنُهُ
… فِيهِ الْعَفَافُ وَفِيهِ الْجُودُ وَالْكَرَمُ.
وَحَدَّثَنِي أُيْضًا أَنَّ الْمَلِكَ قَتَلَ مُسْلِمًا وَصَلَبَهُ فَأَقَامَ شُهُورًا ، فَمَرَّ بِهِ بِطْرِيقٌ مِنْ عُظَمَائِهِمْ ، فَقَالَ لَهُ كَالْمُسْتَهْزِئِ: يَا مُسْلِمُ كَمْ حَصَلَتْ لَكَ دَرَجَةٌ فِي الْجَنَّةِ؟ فَتَحَرَّكَتْ يَدُهُ وَأَشَارَ بِخَمْسِ أَصَابِعِهِ يُرِيدُ خَمْسًا ، فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ الْبِطْرِيقُ الْمَصْلُوبَ قَدْ رَفَعَ يَدَهُ أَسْلَمَ وَنَزَلَ فَقَبَّلَ يَدَهُ ، وَأَخَذَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ ، وَخَرَجَ إِلَى بَلَدِ الإِسْلامِ.
أَنْشَدَنِي أَبُو الْخَيْرِ سَلامَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُظَفَّرٍ الْخَوَّاصُ ، لِبَعْضِهِمْ رحمه الله:
أَلَمْ تَر َأَنَّ الْمَرْءَ طُولَ حَيَاتِهِ
… مَعْنِيٌّ بِأَمْرٍ لا يَزَالُ يُعَالِجُهُ
كَدُودِ الْقَزِّ يَنْسِجُ دَائِبًا
… وَيَهْلَكُ عَمْدًا وَسْطَ مَا هُوَ نَاسِجُهُ.
أَخْبَرَنِي أَبُو مُسْلِمٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ الأَصْبَهَانِيُّ ، فِي كِتَابِهِ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ النَّحَّاسُ ، أنبا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الأَعْرَابِيِّ ، أَنْشَدَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْعَلائِيُّ ، أَنْشَدَنِي إِسْحَاقُ بْنُ خَلَفٍ الشَّاعِرُ:
إِنِّي رَضِيتُ عَلِيًّا قُدْوَةً عَلَمًا
… كَمَا رَضِيتُ عَتِيقًا صَاحِبَ
৪ - আবু আল-হাসান আলী বিন আল-খাদর বিন সুলাইমান বিন সাঈদ আস-সুলামী তাঁর কিতাবে আমাকে জানিয়েছেন (রহিমাহুল্লাহ)—আবূ নাসর আবদুল ওয়াহহাব বিন আবদুল্লাহ বিন উমর আল-মুররী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—আবূ সুলাইমান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আর-রিবঈ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—আবদুল মালিক বিন বাহর বিন শাযান মক্কায় আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—আবূ জাফর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সায়িগ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—ইয়াকুব বিন হুমাইদ এবং আল-আলা বিন আবদুল জাব্বার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন মাইমুন আল-মক্কী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—জাফর বিন মুহাম্মদ তাঁর পিতা মুহাম্মদ বিন আলী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা আলী বিন আল-হুসাইনের নিকট কুরাইশের দুজন ব্যক্তি প্রবেশ করল। তিনি বললেন: আমি কি আপনাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত সম্পর্কে সংবাদ দেব না?
তাঁরা বললেন: অবশ্যই।
তিনি বললেন: আমি আমার পিতা হুসাইন বিন আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: "
যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের তিন দিন বাকি ছিল, তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট অবতরণ করলেন এবং বললেন: হে আহমাদ! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান এবং বিশেষভাবে সম্মানিত করার জন্য আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি আপনাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছেন যা তিনি আপনার চেয়েও ভালো জানেন। তিনি আপনাকে বলছেন: আপনি নিজেকে কেমন বোধ করছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে জিবরাঈল! আমি নিজেকে বিষণ্ণ বোধ করছি এবং হে জিবরাঈল! আমি নিজেকে ব্যথিত বোধ করছি।
যখন তৃতীয় দিন হলো, জিবরাঈল এবং মালাকুল মাউত (আলাইহিমাস সালাম) অবতরণ করলেন। তাঁদের সাথে আকাশ থেকে একজন ফেরেশতা অবতরণ করলেন যাঁকে ইসমাঈল বলা হয়, তিনি সত্তর হাজার ফেরেশতার দায়িত্বে ছিলেন। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁদের আগে এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আপনাকে সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব দান এবং বিশেষভাবে সম্মানিত করার জন্য আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। তিনি আপনাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছেন যা তিনি আপনার চেয়েও ভালো জানেন। তিনি বলছেন: আপনি নিজেকে কেমন বোধ করছেন? তিনি বললেন: হে জিবরাঈল! আমি নিজেকে ব্যথিত বোধ করছি এবং হে জিবরাঈল! আমি নিজেকে বিষণ্ণ বোধ করছি।"
অন্য এক বর্ণনায় আমাকে জানানো হয়েছে যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর বিষণ্ণতার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন: «আমার পরে কুরআন পাঠকারীদের কী হবে? আমার পরে রমজানের রোজা পালনকারীদের কী হবে? আমার পরে আমার মনোনীত উম্মতের কী হবে?» তখন মহান আল্লাহ তাঁদের সম্পর্কে এমন সংবাদ দিলেন যা তাঁকে সন্তুষ্ট করল, ফলে ওফাতের ব্যাপারে তাঁর মন শান্ত হলো (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম! আমি কবরের ভেতর থেকে একটি কণ্ঠস্বর শুনেছি যা বলছিল: তিনি প্রস্থান করার আগেই তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।
সুলতান বিন ফায়িদ আল-ফাহমী আমাকে বর্ণনা করেছেন—তিনি বিভিন্ন দেশ সফর করেছিলেন—আমি বললাম: রোম দেশে আপনি আশ্চর্যজনক কী দেখেছেন? তিনি বললেন: আমি বন্দী হয়েছিলাম এবং এক বিশাল দলের সাথে কারাগারে ছিলাম। দুর্গে অবস্থানরত একদল মুসলিম আমাদের কাছে তাঁদের অবস্থার অভিযোগ করলেন যে, তাঁরা ইসলামের ভূখণ্ডে চলে যেতে চান। তিনি বললেন: সেখানে প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। রোমক অধিবাসীরা বের হয়ে কয়েকদিন পর্যন্ত বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করল কিন্তু বৃষ্টি হলো না।
তখন রোমের রাজা আমাদের কাছে সংবাদ পাঠালেন এবং বললেন: তোমরা দোয়া করো এবং বৃষ্টি প্রার্থনা করো; যদি বৃষ্টি আসে তবে আমরা তোমাদের মুক্ত করে দেব।
আমরা বললাম: আমরা বের হতে চাই না, তবে যদি আমরা দোয়া করি এবং বৃষ্টি আসে, তবে আপনি দুর্গে থাকা আমাদের ভাইদের মুক্ত করে দেবেন।
তিনি এতে সম্মত হলেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে ৩৫০ জন বৃদ্ধ ও অন্যান্যদের নিয়ে আসলেন যারা ইসলামের ভূখণ্ডে ফিরে যেতে চাইতেন। অতঃপর আমরা কারাগারে দুটি মিম্বর স্থাপন করলাম এবং সকাল থেকে যোহর পর্যন্ত মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম। তারপর আমরা যোহরের সালাত আদায় করে পুনরায় দোয়ায় মগ্ন হলাম। আসরের সময় যখন আকাশে মেঘের নামচিহ্ন ছিল না বরং প্রচণ্ড তাপ ছিল, তখন হঠাৎ বাতাস বইতে শুরু করল, মেঘাচ্ছন্ন হলো এবং পরের দিন পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির পরিমাণ এত বেড়ে গেল যে, তারা তা থামানোর জন্য আমাদের কাছে আরজি জানাল। রাজা সেই পুরুষ ও তাঁদের নারীদের মুক্ত করে দিলেন এবং তাঁদের দান-সামগ্রী দিয়ে ইসলামের ভূখণ্ডে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: ইউহান্না আল-খাস নামে এক কিশোর ছিল যে রাজা ও রানীর বিশেষ খিদমতে নিযুক্ত ছিল। বৃষ্টির প্রার্থনার জন্য আমাদের কাছে লোক পাঠানোর সময় সে রানীকে বলেছিল: যদি মুসলিমদের আহ্বানে সাড়া দেওয়া হয় এবং তাঁদের প্রার্থনায় বৃষ্টি আসে, তবে আমি ইসলাম গ্রহণ করব এবং মুহাম্মদের প্রতি ঈমান আনব। যখন বৃষ্টি হলো সে ইসলাম গ্রহণ করল। অতঃপর সে তার পরিবার, পাঁচ সন্তান এবং ভাইকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। তারা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। সে যখন প্রহরীদের স্থানে পৌঁছাল তখন তার মাথায় ক্রুশ ছিল এবং গলায় ক্রুশ ছিল। প্রহরীদের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বলল: তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে বলল: আমি আজম (অনারব) দেশে প্রেরিত একজন দূত। ফলে সে তাকে ছেড়ে দিল এবং সে চলে গেল। পরে তাকে গ্রেফতারের জন্য রাজা ও রানীর নির্দেশ আসলো, তখন সে (প্রহরী) বলল: সে তো চলে গেছে। এভাবে লোকটি তার পরিবার ও ধনসম্পদ নিয়ে খুরাসানে পৌঁছে গেল।
আবু আল-হাসান আস-সুলামী আমাকে জানিয়েছেন—আবূ আল-কাসিম আবদুর রহমান আল-ইমাম আমাদের জানিয়েছেন—আবূ মুহাম্মদ আল-ওয়ার্দ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—ইয়াকুব বিন বুকাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—ইবনে আবী মারইয়াম বলেন: আমি কোনো এক বছর হজ্জ করতে গিয়েছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে আসলাম। হঠাৎ দেখলাম এক গ্রাম্য লোক তার উটের পিঠে চড়ে দ্রুতবেগে আসছে, এমনকি সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে পৌঁছাল। সে তার উট বাঁধল এবং কবরের দিকে অগ্রসর হলো। যখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের দিকে তাকাল, তখন বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন। মহান আল্লাহ আপনাকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং আপনার ওপর এক সঠিক কিতাব নাজিল করেছেন, যাতে তিনি আপনাকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞান দান করেছেন। আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত} [নিসা: ৬৪]।
আমি জানি যে আপনার প্রতিপালক আপনার সাথে করা ওয়াদা পূরণকারী। আর আমি আপনার কাছে এসেছি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিয়ে এবং আপনার প্রতিপালকের দরবারে আপনাকে সুপারিশকারী বানিয়ে। অতঃপর সে চলে গেল এবং এই কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল:
হে সেই শ্রেষ্ঠ সত্তা যাঁর শরীর এই ভূমিতে সমাহিত হয়েছে
… আর যাঁর শরীরের সুঘ্রাণে ভূমি ও পাহাড় সুবাসিত হয়েছে।
আমার প্রাণ সেই কবরের জন্য উৎসর্গিত হোক যাতে আপনি অবস্থান করছেন
… যাতে রয়েছে পবিত্রতা এবং যাতে রয়েছে দানশীলতা ও মহানুভবতা।
তিনি আমাকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, রাজা এক মুসলিমকে হত্যা করে কয়েক মাস যাবত শূলে চড়িয়ে রেখেছিল। তাদের বড় পাদ্রীদের একজন সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্রূপ করে বলল: হে মুসলিম! জান্নাতে তোমার কতটুকু মর্যাদা অর্জিত হলো? তখন সেই মৃত ব্যক্তির হাত নড়ে উঠল এবং সে পাঁচটি আঙুল দিয়ে ইশারা করে পাঁচ বোঝাল। যখন সেই পাদ্রী শূলে চড়ানো ব্যক্তিকে তার হাত তুলতে দেখল, তখন সে ইসলাম গ্রহণ করল এবং নিচে নেমে তার হাত চুম্বন করল। অতঃপর সে তার পরিবার ও ধনসম্পদ নিয়ে ইসলামের ভূখণ্ডে চলে গেল।
আবূ আল-খাইর সালামাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুজাফফর আল-খাওয়াস জনৈক ব্যক্তির এই কবিতা আমার কাছে পাঠ করেছেন (রহিমাহুল্লাহ):
আপনি কি দেখছেন না যে মানুষ তার সারাটি জীবন
… এমন কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকে যার প্রতিকারে সে অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যায়?
ঠিক রেশম পোকার মতো যা অবিরাম বুনন করে চলে
… এবং পরিশেষে সে যা বুনেছে তার মধ্যেই স্বেচ্ছায় ধ্বংস হয়ে যায়।
আবূ মুসলিম মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন তালহা আল-আসফাহানী তাঁর কিতাবে আমাকে জানিয়েছেন—আবূ মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন উমর বিন মুহাম্মদ আন-নাহহাস আমাদের জানিয়েছেন—আবূ সাঈদ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আরাবী আমাদের জানিয়েছেন—আবূ আবদুল্লাহ আল-আলাঈ আমার নিকট এই কবিতা পাঠ করেছেন—কবি ইসহাক বিন খালাফ আমার নিকট পাঠ করেছেন:
আমি আলীকে অনুসরণযোগ্য আদর্শ ও চিহ্ন হিসেবে গ্রহণ করতে সন্তুষ্ট হয়েছি
… ঠিক যেমন আমি সিদ্দীক (আতীক)-কে সাথী হিসেবে গ্রহণ করতে সন্তুষ্ট হয়েছি।