(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: -)
مسموعات أبي محمد رزق الله التميمي   (رزق الله التميمي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسموعات أبي محمد رزق الله التميمي

المؤلف: رزق الله بن عبد الوهاب بن عبد العزيز، أبو محمد التَّمِيمي الحنبلي (ت 488هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 19

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী-এর শ্রবণকৃত সংকলন   (রিজকুল্লাহ আত-তামিমী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী-এর শ্রবণকৃত সংকলন

লেখক: রিজকুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল আজিজ، আবু মুহাম্মাদ আত-তামিমী আল-হাম্বলী (মৃত ৪৮৮ হি.)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অন্তর্গত বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য জাওয়ামিউল কালিম প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪

[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১)
فِيهِ أَحَادِيثُ مِنْ مَسْمُوعَاتِ الشَّيْخِ الإِمَامِ الأَجَلِّ أَبِي مُحَمَّدٍ رِزْقِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الوَهَّابِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ التَّمِيمِيِّ الْبَغْدَادِيِّ الْحَنْبَلِيِّ، نَوَّرَ اللَّهُ قَبْرَهُ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللََّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
এতে মহান শায়খ এবং ইমাম আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আবদুল আজিজ আত-তামিমি আল-বাগদাদি আল-হানবালির শ্রবণকৃত হাদিসসমূহ রয়েছে, আল্লাহ তাঁর কবরকে আলোকিত করুন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এবং সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أنبا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْفَارِسِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدِ بْنِ حَفْصٍ الْعَطَّارُ الْخَضِيبُ الدُّورِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ، ثنا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلالٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نُمَيْرٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ اللَّهَ عز وجل قَالَ: ‌‌«مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنَنِي بِالْحَرْبِ، وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ، فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ، وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ، وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا، وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي عَلَيْهَا، فَلِئْنِ سَأَلَنِي عَبْدِي لأُعْطِيَنَّهُ، وَلَئِنِ اسْتَعَاذَنِي لأُعِيذَنَّهُ، وَمَا تَرَدَّدْتُ عَنْ شَيْءٍ أَنَا فَاعِلُهُ تَرَدُّدِي عَنْ نَفْسِ الْمُؤْمِنِ، يَكْرَهُ الْمَوْتَ وَأَكْرَهُ مَسَاءَتَهُ وَلا بُدَّ لَهُ مِنْهُ»
1 - আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাহদী আল-ফারিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ ইবনে হাফস আল-আত্তার আল-খাদীব আদ-দুরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে কারামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে মাখলাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি শারীক ইবনে আবি নুমাইর থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার কোনো অলীর সাথে শত্রুতা করে, সে যেন আমাকে যুদ্ধের ঘোষণা দিল। আমার বান্দা তার ওপর আমার অর্পিত ফরজ কাজগুলোর চেয়ে প্রিয় আর কোনো কিছুর মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে না। আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি। অতঃপর যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলে। যদি আমার বান্দা আমার নিকট কিছু চায়, তবে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি; আর যদি সে আমার নিকট আশ্রয় চায়, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দিই। আমি যা করি তার কোনো কিছুতেই তেমন দ্বিধাবোধ করি না, যেমনটি করি মুমিনের জান কবজ করার ক্ষেত্রে; সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তাকে কষ্ট দেওয়া অপছন্দ করি, অথচ মৃত্যু তার জন্য অবধারিত।»
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ: أنبا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ ، ثنا طَاهِرُ بْنُ خَالِدِ بْنِ نِزَارٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ خِلاسِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়াহিদ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন তাহির ইবনে খালিদ ইবনে নিজার, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি ইবরাহিম ইবনে তাহমান থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি খিলাস ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু রাফি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে (সালাতে দাঁড়াবে), তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে»
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ، ثنا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ بِنْتُ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنهما، قَالَتْ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ، فَقُلْتُ لَهَا: مَا شَأْنُ النَّاسِ يُصَلُّونَ؟ فَأَشَارَتْ إِلَى السَّمَاءِ بِرَأْسِهَا، فَقُلْتُ: آيَةٌ.

فَأَشَارَتْ إِلَى السَّمَاءِ بِرَأْسِهَا أَيْ نَعَمْ، فَأَطَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جِدًّا حَتَّى تَجَلانِي الْغَشْيُ، قَالَتْ وَإِلَى جَنْبِي قِرْبَةٌ فِيهَا مَاءٌ، فَفَتَحْتُهَا فَجَعَلْتُ أَصُبُّ مِنْهَا عَلَى رَأْسِي، فَانْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ، فَخَطَبَ النَّاسَ فَحَمِدَ اللَّهَ عز وجل وَأَثْنَى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ» .

قَالَتْ: وَلَغَطَ نِسْوَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَانْكَفَأْتُ إِلَيْهِنَّ لأُسْكِتَهُنَّ ، فَقُلْتُ لِعَائِشَةَ رضي الله عنها: مَا قَالَ؟ قَالَتْ: "‌‌ مَا مِنْ شَيْءٍ لَمْ أَكُنْ رَأَيْتُهُ إِلا قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ، وَأَنَّهُ قَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ مِثْلَ أَوْ قَرِيبَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ، يُؤْتَى أَحَدُكُمْ، فَيُقَالُ لَهُ: مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ؟ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ " قَالَ: الْمُوقِنُ.

شَكَّ هِشَامٌ، يَقُولُ: هُوَ رَسُولُ اللَّهِ هُوَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى فَآمَنَّا وَصَدَّقْنَا وَأَجَبْنَا.

فَيُقَالُ: نَمْ صَالِحًا قَدْ كُنَّا نَعْلَمُ إِنَّكَ إِنْ كُنْتَ لَمُؤْمِنًا بِهِ.

وَأَمَّا الْمُنَافِقُ أَوِ الْمُرْتَابُ " هِشَامٌ يُقَالُ لَهُ: مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ: لا أَدْرِى سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ ".

قَالَ هِشَامٌ: فَبَعْدُ قَالَتْ لِي فَاطِمَةُ: مَا وَعَيْتُهُ.

غَيْرَ أَنَّهَا ذَكَرَتْ مَا يَغْلَطُ عَلَيْهِ
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়াহিদ, সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন কারামাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামাহ, হিশাম থেকে, তিনি বলেন: আমাকে ফাতিমা বিনতুল মুনজির বর্ণনা করেছেন আসমা বিনতে আবি বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র নিকট গেলাম এমতাবস্থায় যে মানুষ সালাত আদায় করছিল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: মানুষের কী হয়েছে যে তারা সালাত পড়ছে? তিনি তাঁর মাথা দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করলেন। আমি বললাম: এটি কি কোনো নিদর্শন?

তখন তিনি তাঁর মাথা নেড়ে ইশারায় সম্মতি জানালেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়াম অত্যন্ত দীর্ঘ করলেন এমনকি মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। আসমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমার পাশে একটি পানির মশক ছিল, আমি সেটি খুললাম এবং তা থেকে আমার মাথায় পানি ঢালতে শুরু করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত শেষ করলেন এমতাবস্থায় যে সূর্য গ্রহণমুক্ত হয়ে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রশংসা ও গুণগান করলেন যা তাঁর শায়ান শায়ান। অতঃপর তিনি বললেন: "আম্মা বাদ (অতঃপর)।"

আসমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আনসারদের কিছু নারী শোরগোল করছিল, তাই আমি তাদের শান্ত করতে তাদের দিকে মনোনিবেশ করলাম। এরপর আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: তিনি (নবীজি) কী বলেছেন? তিনি বললেন: "এমন কোনো কিছু নেই যা আমি ইতিপূর্বে দেখিনি কিন্তু তা আমি আমার এই অবস্থানকালীন সময়ে দেখে নিয়েছি, এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও। আর নিশ্চয়ই আমার নিকট ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদেরকে কবরে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হবে, যা মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার মতো বা তার কাছাকাছি। তোমাদের একজনকে আনা হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কী? তখন মুমিন ব্যক্তি"—অথবা তিনি বলেছেন "নিশ্চিত বিশ্বাসী ব্যক্তি"—

হিশাম সন্দেহ পোষণ করেছেন (কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে)। সে বলবে: তিনি আল্লাহর রাসূল, তিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম); তিনি আমাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন, তাই আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি, তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি এবং তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি।

তখন তাকে বলা হবে: তুমি প্রশান্তিতে ঘুমাও, আমরা জানতাম যে তুমি তাঁর প্রতি বিশ্বাসী ছিলে।

আর মুনাফিক বা সন্দেহ পোষণকারী—হিশাম সন্দেহ পোষণ করেছেন (কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে)—তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কী? সে বলবে: আমি জানি না, আমি লোকদেরকে কিছু বলতে শুনেছিলাম, তাই আমিও তা-ই বলেছি।

হিশাম বলেন: এরপর ফাতিমা আমাকে বললেন: আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করতে পারিনি।

তবে তিনি এমন কিছু উল্লেখ করেছিলেন যা তার (মুনাফিকের) ওপর কঠোরতা আরোপ করবে।
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ: أنبا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثنا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ بَحْنَسٍ، أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنها ، أَخْبَرَتْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«لَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي صَلاةِ الْعِشَاءِ وَصَلاةِ الْفَجْرِ لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا» .
৪ - আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন কারামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, উবাইদুল্লাহ বিন মূসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, শাইবান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম থেকে, তিনি বাহনাস থেকে যে, আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) তাঁকে নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: «যদি তারা জানত এশা ও ফজরের সালাতে কী (মর্যাদা) রয়েছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও সে দুটিতে উপস্থিত হতো»।
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ৬)
2000 - وَقَالَ عُثْمَانُ رضي الله عنه، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ شَهِدَ صَلاةَ الْفَجْرِ فَكَأَنَّمَا قَامَ لَيْلَةً كُلَّهَا، وَمَنْ شَهِدَ صَلاةَ الْعِشَاءِ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ لَيْلَةٍ»
২০০০ - উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ফজরের সালাতে উপস্থিত হলো, সে যেন পুরো রাত কিয়াম করল; আর যে ব্যক্তি এশার সালাতে উপস্থিত হলো, সে যেন কিয়াম করল অর্ধেক রাত।»
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ৭)
5 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ: أنبا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، وَأَبِي سَعِيْدٍ رضي الله عنهما ، قَالا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِذَا اسْتَيْقَظَ الرَّجُلُ مِنَ اللَّيْلِ فَأَيْقَظَ أَهْلَهُ فَصَلَّيَا رَكْعَتَيْنِ جَمِيعًا ، كُتِبَا جَمِيعًا مِنَ الذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ»
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়াহিদ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন মুহাম্মদ বিন মাখলাদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন কারামাহ, আমাদের বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ বিন মুসা, শায়বান থেকে, আমাশ থেকে, আলী বিন আল-আকমার থেকে, আল-আগারর আবু মুসলিম থেকে, আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন কোনো ব্যক্তি রাতে জাগ্রত হয় এবং তার স্ত্রীকে জাগ্রত করে, অতঃপর তারা উভয়ে একত্রে দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তখন তাদের উভয়কে আল্লাহকে স্মরণকারী পুরুষদের অধিক হারে এবং আল্লাহকে স্মরণকারী নারীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।»
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ৮)
6 - أخبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَمَّادٍ ، الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْمُتَيَّمِ الْوَاعِظُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ الْبُهْلُولِ ، إِمْلاءً، ثنا بِشْرُ بْنُ مَطَرٍ ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، رِوَايَةً: ‌‌«أَسْرِعُوا بِالْجَنَازَةِ، فَإِنْ تَكُ صَالِحَةً فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ، وَإِنْ تَكُنْ سِوَى ذَلِكَ فَشَرٌّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাম্মাদ, যিনি ইবনুল মুতাইয়াম আল-ওয়াইয নামে পরিচিত; তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইউসুফ বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক বিন আল-বুহলুল, শ্রুতিলিপি প্রদানের মাধ্যমে। আমাদের বর্ণনা করেছেন বিশর বিন মাতার। আমাদের বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যাব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেছেন: «তোমরা জানাযা দ্রুত নিয়ে চলো। কারণ সেটি যদি সৎ হয়, তবে তোমরা তাকে কল্যাণের দিকেই এগিয়ে দিচ্ছ। আর যদি সেটি এছাড়া অন্য কিছু হয়, তবে তা একটি মন্দ যা তোমরা নামিয়ে দিচ্ছ তোমাদের ঘাড় থেকে।»
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ৯)
7 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا يُوسُفُ، ثنا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ، ثنا أَبُو غَزِّيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَضِيَ عَنْهَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ‌‌ الْعَبْدَ إِذَا مَرِضَ نَفَى اللَّهُ عز وجل عَنْهُ الْخَطَايَا فِي مَرَضِهِ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ»

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ
، ثنا يُوسُفُ، حَدَّثَنِي جَدِّي، قَالَ سَمِعْتُ عَبَاءَةَ بْنَ كُلَيْبٍ، قَالَ: أَتَانِي الْمُؤَمَّلُ الشَّاعِرُ، فَقَالَ: أَرْوِي لَكُمْ ثَلاثَةَ أَبْيَاتٍ.

فَقُلْتُ لَهُ: أَنْتَ تَقُولُ فِي الْغَزَلِ وَالنِّسَاءِ.

قَالَ: اسْمَعْهَا فَإِنْ أَعْجَبَتْكَ فَارْوِهَا.

قُلْتُ: هَاتِ.

قَالَ: إِذَا سَفِهَ عَلَيْكَ أَحَدٌ فَارْوِهَا وَلَا تُكَلِّمْهُ:

إِذَا نَطَقَ اللَّئِيمُ فَلا تُجِبْهُ … فَخَيْرٌ مِنْ إِجَابَتِكَ السُّكُوتُ

لَئِيمُ الْقَوْمِ يَشْتُمُنِي فَيَحْظَى … وَلَوْ دَمُهُ سَفَكْتُ لَمَا حَظِيتُ

فَلَسْتُ مُشَاتِمًا أَبَدًا لَئِيمًا … خَزِيتُ لِمَنْ يُشَاتِمُهُ خَزِيتُ.
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইউসুফ, আমাদের বর্ণনা করেছেন যুবায়ের ইবনে বাক্কার, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু গাযিয়্যাহ, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি যিব, যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ বান্দা যখন অসুস্থ হয়, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তার অসুস্থতার মাধ্যমে তার গুনাহসমূহকে সেভাবে দূর করে দেন যেভাবে হাপর লোহার মরিচা দূর করে।»

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ
, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইউসুফ, আমাকে আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবায়া ইবনে কুলাইবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল-মুআম্মাল নামক কবি আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি আপনাদের নিকট তিনটি পঙ্ক্তি বর্ণনা করব।

আমি তাকে বললাম: আপনি তো প্রেম-গীতি এবং নারী সম্পর্কিত বিষয়ে কবিতা বলেন।

তিনি বললেন: এগুলো শুনুন, যদি আপনার পছন্দ হয় তবে বর্ণনা করবেন।

আমি বললাম: পেশ করুন।

তিনি বললেন: যখন কেউ আপনার সাথে মূর্খতা প্রদর্শন করে তখন এগুলো বর্ণনা করবেন এবং তার সাথে কথা বলবেন না:

যখন কোনো নীচ লোক কথা বলে, তখন তাকে উত্তর দিও না … কারণ তোমার উত্তরের চেয়ে নীরবতাই উত্তম।

গোত্রের নীচ ব্যক্তি আমাকে গালি দেয় এবং এতে সে সুযোগ পেয়ে যায় … কিন্তু আমি যদি তার রক্তও প্রবাহিত করতাম তবুও আমি সফল হতাম না।

আমি কখনোই কোনো নীচ ব্যক্তিকে পাল্টা গালি দেব না … যে তাকে গালি দেয় আমি তার জন্য লজ্জিত হই, আমি লজ্জিত।
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১০)
8 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، قثنا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ ، إِمْلاءً، ثنا أَبُو الأَشْعَثِ أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، ثنا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سُفْيَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما ، أَنَّهُ قَالَ: نَزَلَتْ: " {فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ} [هود: 105] .

فَقَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: يَا نَبِيَّ اللَّهِ،‌‌ عَلَى مَا نَعْمَلُ عَلَى أَمْرٍ قَدْ فَرَغَ مِنْهُ ، أَمْ عَلَى أَمْرٍ لَمْ يَفْرُغْ مِنْهُ؟ فَقَالَ: بَلْ عَلَى أَمْرٍ قَدْ فَرَغَ مِنْهُ وَجَرَتْ بِهِ الأَقْلامُ، لَكِنْ كُلُّ امْرِئٍ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ، {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى {5} وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى {6} فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى {7} وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى {8} وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى {9} فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى} [الليل: 5-10] "
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আল-মাহামিলি, শ্রুতলিপি হিসেবে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আশআদ আহমাদ ইবনুল মিকদাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুতামির, তিনি বলেন: আমি আবু সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগা এবং কেউ হবে ভাগ্যবান" [হুদ: ১০৫] আয়াতটি অবতীর্ণ হলো।

তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর নবী, আমরা কীসের ওপর ভিত্তি করে আমল করছি? এমন বিষয়ের ওপর কি যা আগেই ফয়সালা হয়ে গেছে, নাকি এমন বিষয়ের ওপর যা এখনও ফয়সালা হয়নি? তিনি বললেন: বরং এমন বিষয়ের ওপর যা আগেই ফয়সালা হয়ে গেছে এবং যা লিখে কলমসমূহ সচল হয়েছে। তবে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সেই পথ সহজ করে দেওয়া হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে; "সুতরাং যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, আর উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব। আর যে কার্পণ্য করে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করে, আমি তার জন্য কঠিন পথকে সুগম করে দেব।" [আল-লাইল: ৫-১০]
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১১)
9 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا الْحُسَيْنُ، ثنا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ رُسْتُمَ، قَالَ: أنبا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ أَذَّنَ خَمْسَ صَلَوَاتٍ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ، وَمَنْ أَمَّ أَصْحَابَهُ خَمْسَ صَلَوَاتٍ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
৯ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবনে রুস্তুম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আযান দেয়, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় তার সাথীদের নিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ইমামতি করে, তারও পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।»
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১২)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ دَوْسَتَ الْعَلافُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ25 وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي عَليٍّ الْحُسَيْنِ بْنِ صَفْوَانِ الْبَرْذَعِيِّ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قثنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الدُّنَيا، ثنا دَاوُدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ زُهَيْرٍ الضَّبِّيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زُحَرَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ ، عَنِ الْقَاسِمِ ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ رضي الله عنه: قُلْتُ: " يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ مَا النَّجَاةُ؟ قَالَ: أَمْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ، وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ "
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে দাওস্ত আল-আল্লাফ, তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে ২৫ এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম, তিনি বলেন: আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আল-বারযা'য়ীর সামনে পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম, তিনি বলেছেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিদ দুনিয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দাউদ ইবনে আমর ইবনে জুহাইর আদ-দাব্বি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে বর্ণিত, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে যাহার থেকে, তিনি আলী ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উকবাহ ইবনে আমির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! মুক্তির উপায় কী? তিনি বললেন: তোমার জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখো, তোমার ঘর যেন তোমার জন্য প্রশস্ত হয়, এবং তোমার গুনাহের জন্য ক্রন্দন করো।"
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১৩)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ الْفَضْلِ الْقَطَّانُ ، وَأَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ الْبَزَّازُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا، قَالا: أنبا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ ، قثنا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، قثنا قُرَّانُ بْنُ تَمَّامٍ الأَسَدِيُّ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ مَنْ قَالَ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، بَعْدَ مَا يُصَلِّي الْغَدَاةَ عَشْرَ مَرَّاتٍ كَتَبَ اللَّهُ عز وجل لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ، وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ، وَكُنَّ لَهُ بِعِدْلِ عِتْقِ رَقَبَتَيْنِ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ، وَكُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ الشَّيْطَانِ حَتَّى يُمْسِيَ، فَإِنْ قَالَهَا حِينَ يُمْسِي كَانَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ، وَكُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ الشَّيْطَانِ حَتَّى يُصْبِحَ "
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফাযল আল-কাত্তান এবং আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু মাখলাদ আল-বাযযার, তাঁদের নিকট পাঠের মাধ্যমে; তাঁরা বলেন: আমাদের খবর দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-হাসান ইবনু আরাফাহ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কুররান ইবনু তাম্মাম আল-আসাদী, সুহাইল ইবনু আবী সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতার থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ যে ব্যক্তি বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই জন্য, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান, সালাত আদায়ের পর ফজরের দশবার, মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেবেন, তার থেকে দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন, তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তা তার জন্য ইসমাইলের বংশধর হতে দুইজন দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে এবং সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত শয়তান থেকে তার জন্য সুরক্ষা কবচ হবে। আর যদি সে তা সন্ধ্যায় বলে, তবে তার জন্য অনুরূপ সওয়াব হবে এবং তা সকাল হওয়া পর্যন্ত শয়তান থেকে তার জন্য সুরক্ষা কবচ হবে।"
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১৪)
12 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، وَابْنُ مَخْلَدٍ، قَالا: أنبا إِسْمَاعِيلُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، عَنْ ثَابِتٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ صُهْيَبٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ نُودُوا: أَنْ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ إِنَّ لَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل مَوْعِدًا لَمْ تَرَوْهُ.

قَالَ:
فَيَقُولُونَ: مَا هُوَ؟ أَلَمْ يُبَيِّضْ وُجُوهَنَا وَيُزَحْزِحْنَا عَنِ النَّارِ وَيُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ؟ قَالَ: فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ تبارك وتعالى فَيَنْظُرُونَ إِلَيْهِ ".

قَالَ: «فَوَاللَّهِ مَا أَعْطَاهُمُ اللَّهُ عز وجل شَيْئًا هُوَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِنْهُ» .

ثُمَّ قَرَأَ: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} [يونس: 26] "
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল ফজল এবং ইবনে মাখলাদ, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আরাফাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, সাবিত থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে বলা হবে: হে জান্নাতবাসীরা! মহান আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য এমন একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে যা তোমরা এখনো দেখনি।

তিনি বলেন:
অতঃপর তারা বলবে: সেটি কী? তিনি কি আমাদের চেহারাগুলো উজ্জ্বল করে দেননি, আমাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি এবং আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি? তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা পর্দা উন্মোচন করবেন, ফলে তারা তাঁর দিকে তাকাবেন।"

তিনি বলেন: «আল্লাহর কসম! মহান আল্লাহ তাদের এমন কোনো বস্তু দান করেননি যা তাদের নিকট তাঁর দিকে তাকানোর চেয়ে অধিক প্রিয় ছিল»।

অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {যারা কল্যাণকর কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও অতিরিক্ত} [ইউনুস: ২৬]"
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১৫)
13 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، وَابْنُ مَخْلَدٍ ، قَالا: أنبا إِسْمَاعِيلُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، ثنا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: لَتُنَبَّأَنَّ، أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ تَأْمَلُ الْبَقَاءَ وَتَخَافُ الْفَقْرَ، وَلا تُمْهِلَ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ قُلْتَ: لِفُلانٍ كَذَا وَلِفُلانٍ كَذَا، أَلا وَقَدْ كَانَ لِفُلانٍ "
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল ফজল এবং ইবনু মাখলাদ, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন ইসমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আরাফাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর বিন আব্দুল হামিদ, উমারা বিন আল-কাক্কা থেকে, তিনি আবু জুরআহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "‌‌কোন সদকা সর্বোত্তম? তিনি বললেন: তোমাকে অবশ্যই জানানো হবে; তা হলো তোমার সদকা করা এমতাবস্থায় যখন তুমি সুস্থ ও কৃপণ, তুমি দীর্ঘ জীবনের আশা করো এবং দারিদ্র্যের ভয় করো, আর তুমি বিলম্ব করো না যতক্ষণ না প্রাণ কণ্ঠাগত হয়, তখন তুমি বলো: অমুকের জন্য এতটুকু এবং অমুকের জন্য এতটুকু, অথচ সাবধান! তখন তো তা অমুকের হয়েই গেছে।"
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১৬)
14 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، وَابْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ: أنبا إِسْمَاعِيلُ، قثنا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، ثنا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَال:‌‌ لَمَّا نَزَلَتْ " {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ} [البقرة: 245] .

قَالَ أَبُو الدَّحْدَاحِ
الْأَنْصَارِيُّ رضي الله عنه: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنَّ اللَّهَ عز وجل لَيُرِيدُ مِنَّا الْقَرْضَ؟ قَالَ: نَعَمْ يَا أَبَا الدَّحْدَاحِ.

قَالَ: أَرِنِي يَدَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ.

قَالَ: فَتَنَاوَلَ يَدَهُ، قَالَ: فَإِنِّي قَدْ أَقْرَضْتُ رَبِّي عز وجل حَائِطِي ".

قَالَ: وَحَائِطُهُ لَهُ فِيهِ سِتُّ مِائَةِ نَخْلَةٍ، قَالَ: وَأُمُّ الدَّحْدَاحِ فِيهِ وَعِيَالُهَا، قَالَ: فَجَاءَ أَبُو الدَّحْدَاحِ رضي الله عنه فَنَادَاهَا: يَا أُمَّ الدَّحْدَاحِ.

فَقَالَتْ: لَبَّيْكَ، فَقَالَ: اخْرُجِي فَقَدْ أَقْرَضْتُهُ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ
১৪ - ইবনুল ফজল এবং ইবনু মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: ইসমাঈল আমাদের খবর দিয়েছেন, হাসান ইবনু আরাফাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, খালাফ ইবনু খলিফাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হুমাইদ আল-আরাজ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:‌‌ যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো— "কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? তাহলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন" [আল-বাকারা: ২৪৫]।

আবু দাহদাহ
আল-আনসারী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কি আমাদের কাছে ঋণ চাচ্ছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আবু দাহদাহ।

তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনার হাতটি আমাকে দিন।

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর হাত ধরলেন। তিনি বললেন: আমি আমার মহান ও পরাক্রমশালী রবকে আমার বাগানটি ঋণ হিসেবে প্রদান করলাম।

বর্ণনাকারী বলেন: তাঁর সেই বাগানে ছয়শটি খেজুর গাছ ছিল। তিনি বলেন: আর উম্মুদ দাহদাহ ও তাঁর সন্তানরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর আবু দাহদাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) সেখানে এসে তাঁকে ডাকলেন: হে উম্মুদ দাহদাহ!

তিনি উত্তর দিলেন: আমি উপস্থিত। তিনি বললেন: তুমি এখান থেকে বেরিয়ে এসো, কেননা আমি এটি আমার মহান ও পরাক্রমশালী রবকে ঋণ হিসেবে দান করে দিয়েছি।
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১৭)
15 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، وَابْنُ مَخْلَدٍ ، قَالا: أنبا إِسْمَاعِيلُ، قثنا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ خَيْثَمَةَ ، عَنْ نُعْمَانِ بْنِ قُرَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«خُيِّرْتُ بَيْنَ الشَّفَاعَةِ وَبَيْنَ أَنْ يَدْخُلَ شَطْرُ أُمَّتِي الْجَنَّةَ ، فَاخْتَرْتُ الشَّفَاعَةَ لأَنَّهَا أَعَمُّ وَأَكْفَى ، أَتَرَوْنَهَا لِلْمُؤْمِنِينَ الْمُتَّقِينَ؟ لا، وَلَكِنَّهَا لِلْمُذْنِبِينَ الْمُتَلَوِّثِينَ الْخَطَّائِينَ»
১৫ - ইবনুল ফাদল এবং ইবনু মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: ইসমাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান বিন আরাফাহ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সালাম বিন হারব আমাকে জিয়াদ বিন খাইসামাহ থেকে, তিনি নুমান বিন কুরাদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমাকে সুপারিশ এবং আমার উম্মতের অর্ধেক জান্নাতে প্রবেশের মধ্য থেকে একটি বেছে নেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল। আমি সুপারিশকেই বেছে নিয়েছি, কারণ তা অধিক ব্যাপক ও অধিক পর্যাপ্ত। তোমরা কি মনে কর তা মুত্তাকী মুমিনদের জন্য? না, বরং তা পাপী, পঙ্কিলতায় লিপ্ত এবং অপরাধীদের জন্য।»
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১৮)
16 - أَخْبَرَنَا ابْنُ الْفَضْلِ، وَابْنُ مَخْلَدٍ، قَالا: أنبا إِسْمَاعِيلُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنِي سَلْمُ بْنُ سَالِمٍ الْبَلْخِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ زَيْدٍ الْعَمِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، قَالَ: أَدْرَكْتُ أَرْبَعِينَ شَيْخًا مِنَ التَّابِعِينَ كُلُّهُمْ يُحَدِّثُونَا عَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«مَنْ أَحَبَّ جَمِيعَ أَصْحَابِي وَتَوَلاهُمْ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمْ جَعَلَهُ اللَّهُ عز وجل يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَهُمْ فِي الْجَنَّةِ»
১৬ - ইবনুল ফাদল এবং ইবনু মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: ইসমাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান বিন আরাফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালম বিন সালিম আল-বালখী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহীম বিন যাইদ আল-আম্মী থেকে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি চল্লিশজন তাবিঈ শায়খকে পেয়েছি, তাঁরা সকলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার সকল সাহাবীকে ভালোবাসবে, তাঁদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে এবং তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে তাঁদের সাথে জান্নাতে রাখবেন।”
(খণ্ড: ১) মাসমুআতু আবি মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ আত-তামিমী (পৃষ্ঠা: ১৯)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو الْفَرَجِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْمَسْلَمَةِ، قثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ كَامِلِ بْنِ خَلَفٍ الْقَاضِي، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوْحٍ الْمَدَائِنِيُّ، ثنا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ ، قثنا وَرْقَاءُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«إِذَا نَظَرَ أَحَدُكُمْ إِلَى مَنْ فُضِّلَ عَلَيْهِ فِي الْمَالِ وَالْخَلْقِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْهُ مِمَّنْ فُضِّلَ هُوَ عَلَيْهِ»

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمَسْلَمَةِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قثنا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصورٍ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثنا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ عَجْلانَ، قَالَ: قِيلَ لِلُقْمَانَ: أَيُّ - الدُّنْيَا - النَّاسِ أَغْنَى؟ قَالَ: مَنْ رَضِيَ بِمَا أُعْطِيَ.

قِيلَ: فَأَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ؟ قَالَ: الْغَنِيُّ.

قِيلَ: غَنِيُّ الْمَالِ؟ قَالَ: لا ، وَلَكِنِ الَّذِي إذا طلب عنده خيرة توجد.

قيل فأي الناس شر؟ قَالَ: الَّذِي لا يُبَالِي أَنْ يَرَاهُ النَّاسُ مُسِيئًا.

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمَسْلَمَةِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا أَبُو قَطَنٍ، ثنا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ نَاسٌ يَتَعَبَّدُونَ، فَكَانَ إِذْ كَانَ فِطْرُهُمْ قَامَ عَلَيْهِمْ قَائِمٌ فَقَالَ لا تَأْكُلُوا كَثِيرًا فَإِنَّكُمْ إِذَا أَكَلْتُمْ كَثِيرًا نِمْتُمْ كَثِيرًا، وَإِنْ نِمْتُمْ كَثِيرًا صَلَّيْتُمْ قَلِيلا.

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمَسْلَمَةِ، قَالَ: أنبا أَبُو سَعِيْدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ السِّيرَافِيُّ، أنبا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الأَزْهَرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ بْنَ الأَعْرَابِيِّ ، يُحَدِّثُ بِإِسْنَادٍ لَمْ أَحْفَظْهُ بِهَذَا الاسْتِغْفَارِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ لِكُلِّ ذَنْبٍ تُبْتُ إِلَيْكَ مِنْهُ ثُمَّ عَاوَدْتُهُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِكُلِّ شَيْءٍ جَعَلْتَهُ لَكَ خَالِصًا عَلَى نَفْسِي ثُمَّ لَمْ أَفِ بِهِ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِكُلِّ عَمَلٍ عَمِلْتُهُ أَرَدْتُ بِهِ وَجْهَكَ فَخَالَطَهُ مَا لَيْسَ لَكَ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا دَعَانِي إِلَيْهِ الْهَوَى مِنْ قَبُولِ الرُّخَصِ فِيمَا أَتَيْتُهُ وَاشْتَبَهَ عَلَيَّ مِمَّا هُوَ عِنْدَكَ حَرَامٌ ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِلنِّعَمِ الَّتِي أَنْعَمْتَ بِهَا عَلَيَّ فَقَوِيتُ بِهَا عَلَى مَعَاصِيكَ ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِلذُّنُوبِ الَّتِي لا يَعْلَمُهَا غَيْرُكَ ولا يَسَعُهَا إِلا حِلْمُكَ وَعَفْوُكَ، يَا مَنْ عَرَّفَنَا نَفْسَهُ لا
১৭ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-ফারাজ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন আল-হাসান বিন আল-মাসলামাহ্, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ বিন কামিল বিন খালাফ আল-কাদি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন রাওহ আল-মাদায়িনি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শাবাবাহ বিন সাওয়ার, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়ারকা, আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যখন এমন ব্যক্তির দিকে তাকায় যাকে ধন-সম্পদ ও শারীরিক গঠনের দিক থেকে তার উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে সে যেন তার চেয়ে নিম্নস্তরের ব্যক্তির দিকে তাকায় যার উপরে তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে»

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মাসলামাহ্, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু উমর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মানসুর, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মা'মার, ইবনে আজলান থেকে, তিনি বলেন: লুকমানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধনী কে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি তাকে যা দান করা হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট।

জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কে? তিনি বললেন: ধনী ব্যক্তি।

জিজ্ঞাসা করা হলো: ধন-সম্পদে ধনী? তিনি বললেন: না, বরং সেই ব্যক্তি যার নিকট কল্যাণ অনুসন্ধান করা হলে তা পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি মানুষের সামনে মন্দ কাজ করতে পরোয়া করে না।

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মাসলামাহ্, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু কাতান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-মাসউদি, আউন বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলের মধ্যে কিছু লোক ছিল যারা ইবাদত করত। যখন তাদের ইফতারের সময় হতো, তখন একজন ঘোষক তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলতেন: তোমরা অধিক আহার করো না, কেননা তোমরা যদি অধিক আহার করো তবে অধিক নিদ্রা যাবে, আর যদি অধিক নিদ্রা যাও তবে অল্প সালাত আদায় করবে।

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মাসলামাহ্, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আল-হাসান বিন আবদুল্লাহ আস-সিরাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন আবিল আযহার, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ বিন আল-আ'রাবিকে একটি সনদে এই ইস্তিগফারটি বর্ণনা করতে শুনেছি যা আমি মুখস্থ রাখতে পারিনি: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সেই প্রতিটি গুনাহর জন্য ক্ষমা চাচ্ছি যা থেকে আমি আপনার কাছে তওবা করেছিলাম কিন্তু পুনরায় তা করেছি। আমি আপনার কাছে সেই প্রতিটি বিষয়ের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি যা আমি নিজের ওপর আপনার জন্য একনিষ্ঠভাবে পালন করার অঙ্গীকার করেছিলাম কিন্তু তা পূরণ করিনি। আমি আপনার কাছে সেই প্রতিটি আমলের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি যা আমি আপনার চেহারা (সন্তুষ্টি) কামনা করে করেছিলাম কিন্তু তাতে এমন কিছু মিশে গেছে যা আপনার জন্য নয়। আমি আপনার কাছে সেই সব কাজের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি যার প্রতি প্রবৃত্তি আমাকে প্রলুব্ধ করেছে—এমন কিছুতে সহজতা গ্রহণ করা যা আমি করেছি অথচ তা আপনার কাছে হারামের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আমার নিকট অস্পষ্ট ছিল। আমি আপনার কাছে সেই সব নেয়ামতের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি যা আপনি আমাকে দান করেছেন কিন্তু আমি তা আপনার অবাধ্যতামূলক কাজে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছি। আমি আপনার কাছে সেই সব গুনাহর জন্য ক্ষমা চাচ্ছি যা আপনি ছাড়া আর কেউ জানে না এবং যা আপনার ধৈর্য ও ক্ষমা ব্যতীত অন্য কিছু ধারণ করতে পারে না। হে সেই সত্তা যিনি আমাদের কাছে নিজের পরিচয় প্রদান করেছেন...