(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: -)
مجلسان من أمالي الجوهري_3   (الجوهري، أبو محمد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أمالي الجوهري

المؤلف: الحسن بن علي بن محمد، أبو محمد الجوهري (ت 454هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 28

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জাওহারীর আমালীর দুটি মজলিস_৩   (আল-জাওহারী, আবু মুহাম্মাদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আমালী আল-জাওহারী

লেখক: আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ, আবু মুহাম্মাদ আল-জাওহারী (মৃত্যু ৪৫৪ হিজরি)

প্রকাশক: পান্ডুলিপিটি ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের জাউয়ামিউল কালিম নামক বিনামূল্যের প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[কিতাবটি একটি পান্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١)
جُزْءٌ فِيهِ السَّابِعُ وَالْحَادِي عَشَرَ مِنْ أَمَالِي أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيِّ ، عَنْ شُيُوخِهِ ، تَخْرِيجُ طَاهِرٍ النَّيْسَابُورِيِّ.

رِوَايَةُ أَبِي غَالِبٍ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْبَنَّاءِ ، عَنِ الْجَوْهَرِيِّ.

رِوَايَةُ أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزَدَ الْبَغْدَادِيِّ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الدَّايِمِ ، وَأَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ رَبِّ يَسِّرْ وَأَعِنْ يَا كَرِيمُ
একটি খণ্ড, যাতে আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারীর তাঁর উস্তাদগণের নিকট থেকে বর্ণিত আমালীর সপ্তম ও একাদশ অংশ রয়েছে; তাহরীজ করেছেন তাহের আন-নিসাবুরী।

আল-জাওহারী থেকে আবু গালিব আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল বান্নার রেওয়ায়াত।

তাঁর থেকে আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মা’মার ইবনে তাবারযাদ আল-বাগদাদীর রেওয়ায়াত।

আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল দায়িম এবং আবু আল-হাসান আলী ইবনে আব্দুল ওয়াহিদের রেওয়ায়াত।

পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার প্রতিপালক, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে মহানুভব।
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أنبا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ طَبَرْزَدَ ، قِرَاءَةً وَنَحْنُ نَسْمَعُ بِجَبَلِ قَاسِيُونَ ظَاهِرَ دِمَشْقَ ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو غَالِبٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْبَنَّاءِ ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي يَوْمِ الْخَمِيسِ الثَّالِثَ عَشَرَ مِنْ شَعْبَانَ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ ، قَالَ: أنبا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيَّاتُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ ، فِي ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ ، قثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ ، قثنا الْحَكَمُ هُوَ ابْنُ مُوسَى ، قثنا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ: حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ الْغَازِ ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ رضي الله عنها ، عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَتْ: «كَانَ‌‌ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ ، حَتَّى يَصِلَهُ بِرَمَضَانَ»
১ - আবু হাফস ওমর ইবন তাবারযাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—দামেস্কের উপকণ্ঠে কাসিয়ুন পাহাড়ে আমাদের উপস্থিতিতে শ্রবণের জন্য পাঠের মাধ্যমে; তাঁকে বলা হয়েছিল: আবু গালিব আহমদ ইবন আলী ইবন আল-বান্না আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ আল-জাওহারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—চারশত চুয়ান্ন হিজরি সনের তেরোই শাবান রোজ বৃহস্পতিবার তাঁর সম্মুখে পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আবু হাফস ওমর ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী আয-যাইয়াত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তিনশত চুয়াত্তর হিজরি সনের যিলহজ্জ মাসে আমি উপস্থিত থেকে শ্রবণের মাধ্যমে তাঁর সম্মুখে পাঠকালে; তিনি বলেন: আহমদ ইবন হাসান ইবন আবদুল জাব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাকাম (যিনি ইবন মুসা) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবন হামযা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাওর ইবন ইয়াযিদ থেকে, তিনি খালিদ ইবন মা’দান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাবিয়া ইবন আল-গায আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন: «তিনি‌‌ পুরো শাবান মাস রোজা রাখতেন, এমনকি তা রমজানের সাথে মিলিয়ে দিতেন।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٣)
2 - أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ الْقَطَّانُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا أَبُو الْعَبَّاسِ هُوَ إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَرْوَانَ الْغَزَّالُ الْكُوفِيُّ ، قثنا أَبِي ، قثنا حُسَيْنُ بْنُ طَوْقٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ ‌‌«مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرًا قَطُّ إِلا شَعْبَانَ ، ثُمَّ رَمَضَانَ»
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আল-কাত্তান—তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, তিনি হলেন ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান আল-গাজ্জাল আল-কুফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে তওক, ইয়াহইয়া ইবনে সালামা ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উম্মু সালামাহ (রা.) বলেছেন: «আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে শাবান ও রমজান ব্যতীত কখনও পূর্ণ এক মাস রোজা রাখতে দেখিনি।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٤)
3 - أنبا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ كَيْسَانَ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ ، فِي شَوَّالٍ مِنْ سَنَةِ ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ ، قثنا يُوسُفُ هُوَ ابْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي ، قثنا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ ، قثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ عِمْرَانَ، وَالْجُرَيْرِيِّ ، عَنْ أَبِي الْعَلاءِ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ لَهُ أَوْ لِرَجُلٍ: "‌‌ هَلْ صُمْتَ مِنْ سَرَرِ شَعْبَانَ شَيْئًا؟ قَالَ: لا.

قَالَ: فَإِذَا أَفْطَرْتَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ
".

وَقَالَ الْجَرِيرِيُّ: يَوْمًا
৩ - আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন কায়সান আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, যখন তাঁর সামনে (হাদিসটি) পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম, তিনশত তিয়াত্তর হিজরি সালের শাওয়াল মাসে। তিনি বলেন, ইউসুফ—যিনি ইবনে ইয়াকুব আল-কাদি—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহিদ বিন গিয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ-শিখখীর থেকে, তিনি ইমরান থেকে; এবং আল-জুরায়রী আবুল আলা থেকে, তিনি মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে অথবা এক ব্যক্তিকে বললেন: "‌‌ তুমি কি শাবানের শেষাংশ থেকে কোনো রোজা রেখেছ? তিনি বললেন: না।

তিনি বললেন: তবে যখন তুমি (রমজান শেষে) রোজা ত্যাগ করবে, তখন দুই দিন রোজা পালন করো।
".

এবং আল-জুরায়রী বলেছেন: এক দিন।
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٥)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الطَّيِّبُ بْنُ نُمَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ مَوْلَى الْمُعْتَضِدِ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ ، فِي شَهْرِ رَمَضَانَ مِنْ سَنَةِ خَمْسٍ وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ ، فَأَقَرَّ بِهِ وَهُوَ يَسْمَعُ، قثنا مُحَمَّدُ هُوَ ابْنُ هَارُونَ الْحَضْرَمِيُّ أَبُو حَامِدٍ، قثنا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، قثنا الْحَسَنُ بْنُ حَبِيبِ بْنِ نَدْبَةَ، قثنا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنِ الْعَلاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«إِذَا كَانَ النِّصْفُ مِنْ شَعْبَانَ فَأَفْطِرُوا حَتَّى رَمَضَانَ»
৪ - আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম আত-ত্বায়্যিব বিন নুমাইর বিন আব্দুল্লাহ, যিনি আল-মুতাদিদের মুক্তদাস ছিলেন; তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি উপস্থিত থেকে শ্রবণ করছিলাম। এটি ছিল তিনশত পঁচাত্তর হিজরীর রমজান মাসে। তিনি শ্রবণরত অবস্থায় তা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ—যিনি ইবনে হারুন আল-হাদরামি আবু হামিদ—তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন হাকিম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন হাবিব বিন নাদবাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাওহ বিন আল-কাসেম, আল-আলা হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যখন শাবান মাসের অর্ধেক হয়ে যায়, তখন তোমরা রমজান আসা পর্যন্ত রোজা রাখা বন্ধ রাখো।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٦)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ كَثِيرٍ الْمُقْرِئُ الْكَتَّانِيُّ بِقِرَاءَةِ الْبَيْضَاوِيِّ عَلَيْهِ فِي مَسْجِدِهِ بِدَرْبِ الزَّعْفَرَانِيِّ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ وَهُوَ يَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ، قثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْعَلاءِ الْجُوزَجَانِيُّ، قثنا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، قثنا أَبُو عُمَيْسٍ، عَنِ الْعَلاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِذَا انْتَصَفَ شَعْبَانُ فَكُفُّوا عَنِ الصَّوْمِ»
৫ - আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন ইবরাহীম বিন কাসীর আল-মুকরি আল-কাত্তানি, দারবে যা'ফরানিতে তাঁর মসজিদে তাঁর সামনে আল-বায়দাউয়ির পাঠের মাধ্যমে, এমতাবস্থায় যে আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম এবং তিনি তা শুনছিলেন, অতঃপর তিনি এর স্বীকৃতি প্রদান করেন; তিনি বলেন: আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন আলী বিন আল-আলা আল-জুযাজানি, তিনি বলেন: আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন যিয়াদ বিন আইয়ুব, তিনি বলেন: আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন রাবী'আহ, তিনি বলেন: আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আবু উমাইস, তিনি আলা বিন আব্দুর রহমান বিন ইয়াকুব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন শাবান মাস অর্ধেক অতিবাহিত হয়, তখন তোমরা রোজা রাখা থেকে বিরত থাকো।"
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٧)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الزَّيَّاتِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فَأَقَرَّ بِهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا أَحْمَدُ هُوَ ابْنُ الْحُسَيْنِ بْنُ إِسْحَاقَ الصُّوفِيُّ، قثنا سُلَيْمَانُ بْنُ عُمَرَ بْنِ خَالِدٍ الرَّقِّيُّ، قثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَحْوَصِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيُّ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ اللَّهَ تَعَالَى يَطْلُعُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى عِبَادِهِ فَيَغْفِرُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَيُمْلِي لِلْكَافِرِينَ وَيَدَعُ أَهْلَ الْحِقْدِ بِحِقْدِهِمْ حَتَّى يَدَعُوهُ»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আয-যায়্যাত, তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন এমতাবস্থায় যে আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ—আর তিনি হলেন ইবনুল হুসাইন বিন ইসহাক আস-সূফী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন উমর বিন খালিদ আর-রাক্কী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন ইউনুস, আল-আহওয়াস বিন হাকীম থেকে, তিনি হাবীব বিন সুহাইব থেকে, তিনি আবু সা'লাবাহ আল-খুশানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ আল্লাহ তাআলা শাবানের মধ্যরাত্রিতে তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, অতঃপর মুমিনদের ক্ষমা করেন, কাফেরদের অবকাশ দান করেন এবং বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তিদের তাদের বিদ্বেষসহ ছেড়ে দেন যতক্ষণ না তারা তা বর্জন করে।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٨)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخِرَقِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ فِي شَوَّالٍ مِنْ سَنَةِ ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قثنا مُحَمَّدُ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغِنْدِيُّ، قثنا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، قثنا أَبُو خُلَيْدٍ عُتْبَةُ بْنُ حَمَّادٍ الدِّمَشْقِيُّ الْحَكَمِيُّ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ مَكْحُولٍ، وَابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ السَّكْسَكِيِّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«يَطْلُعُ اللَّهُ تَعَالَى إِلَى خَلْقِهِ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ»
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আব্দুল আজিজ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-খিরাকি, তাঁর নিকট পাঠকালে এবং আমি সেখানে উপস্থিত থেকে শুনছিলাম, তিনশত তেহাত্তর হিজরির শাওয়াল মাসে; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ—যিনি হলেন ইবনে মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-বাগিন্দি; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন খালিদ আদ-দিমাশকি; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু খুলাইদ উতবা বিন হাম্মাদ আদ-দিমাশকি আল-হাকামি, আওযাঈ থেকে, তিনি মাকহুল ও ইবনে সাওবান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি মালিক বিন ইউখামির আস-সাকসাকি থেকে, তিনি মুয়াজ বিন জাবাল থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন, কেবল মুশরিক অথবা বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٩)
8 - قُرِئَ عَلَى أَبِي جَعْفَرٍ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْجَهْمِ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ أَبِي طَالِبٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ ثَمَانِي وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قثنا أَحْمَدُ هُوَ ابْنُ خَالِدِ بْنِ عَمْرٍو السِّلَفِيُّ، قثنا أَبِي قَالَ: حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ بْنُ يَزِيدَ الأَلْهَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي الأَبْيَضُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَيٍّ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ اللَّهَ تَعَالَى يَطْلُعُ عَلَى خَلْقِهِ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لَهُمْ إِلا مُشْرِكًا أَوْ مُشَاحِنًا»
৮ - আবূ জাফর আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-জাহম, যিনি ইবনে আবী তালিব নামে পরিচিত, তাঁর নিকট ৩৭৮ হিজরি সনের মুহররম মাসে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি সেখানে উপস্থিত থেকে তা শুনছিলাম। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, তিনি হলেন ইবনে খালিদ বিন আমর আস-সিলাফি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ইকরিমাহ বিন ইয়াযিদ আল-আলহানি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার নিকট আল-আবইয়ায বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি উবাদাহ বিন নুসাই থেকে, তিনি আওফ বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং তাদের ক্ষমা করে দেন, কেবল মুশরিক বা বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَرِيرِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سِكَّةِ غَزْوَانَ فِي شَوَّالٍ مِنْ سَنَةِ ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا مُحَمَّدُ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَاغِنْدِيُّ، قثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاتِمٍ، قثنا عَلِيُّ بْنُ ثَابِتٍ الْجَزَرِيُّ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ طَرِيفٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ‌‌ اللَّهَ تَعَالَى لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ يَعْتِقُ مِنَ النَّارِ عَدَدَ شَعْرٍ يَعْنِي غَنَمَ كَلْبٍ وَيُنْزِلُ أَرْزَاقَ السَّنَةِ وَيَكْتُبُ الْحَاجَّ وَلا يَتْرُكُ أَحَدًا إِلا غَفَرَ لَهُ إِلا قَاطِعَ رَحِمٍ أَوْ مُشْرِكًا أَوْ مُشَاحِنًا»

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ مَرْوَانَ الْكُوفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِبَغْدَادَ، وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قَالَ: قَالَ الْعَبَّاسُ بْنُ يُوسُفَ، أَنْشَدَنِي أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْحَكَمِ:

تَرَى النَّاسَ يُحْيُونَ الضَّغَائِنَ بَيْنَهُمْ … وَعِنْدَ ذَوِي التَّقْوَى تَمُوتُ الضَّغَائِنُ

إِذَا مَا هَفَا يَوْمًا أَخُوكَ فَلا تَكُنْ … لَهُ مُضْمِرَ الشَّحْنَاءِ فِيمَنْ يُشَاحِنُ.

آخِرُ الْمَجْلِسِ السَّابِعِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَّمَ.

الْمَجْلِسُ الْحَادِي عَشَرَ مِنْ أَمَالِي أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيِّ، عَنْ شُيُوخِهِ، تَخْرِيجُ طَاهِرٍ النَّيْسَابُورِيِّ.

رِوَايَةُ أَبِي غَالِبٍ أَحْمَدَ بْنِ الْبَنَّاءِ عَنِ الْجَوْهَرِيِّ.

رِوَايَةُ أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزَدَ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الدَّايِمِ وَأَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ وَأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْمَقْدِسِيُّونَ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন জাফর বিন মুহাম্মাদ আল-জারিরি, ৩৭৩ হিজরী সালের শাওয়াল মাসে সিক্কাতু গাজওয়ানে তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করা অবস্থায়, তখন আমি উপস্থিত থেকে শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ—তিনি হলেন ইবন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আল-বাগিন্দি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন হাতিম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বনু হাশেমের আযাদকৃত গোলাম আলি বিন সাবিত আল-জাজারি। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর বিন আব্দুল্লাহ, তিনি মুতাররিফ বিন তারিফ থেকে, তিনি আমির আশ-শা’বি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়‌‌ মহান আল্লাহ শাবান মাসের মধ্যরাত্রিতে কালব গোত্রের ভেড়ার পশম সমপরিমাণ মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং বছরের রিযিক অবতীর্ণ করেন ও হাজীদের তালিকা লিপিবদ্ধ করেন। আর তিনি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী, মুশরিক অথবা বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত কাউকেই ক্ষমা না করে ছেড়ে দেন না।»

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন যাইদ বিন আলি বিন জাফর বিন মারওয়ান আল-কুফি, বাগদাদে তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায়, এবং আমি উপস্থিত থেকে শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আব্বাস বিন ইউসুফ বলেছেন, আহমাদ বিন মুসা বিন আল-হাকাম আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন:

তুমি দেখবে মানুষ তাদের নিজেদের মাঝে বিদ্বেষকে বাঁচিয়ে রাখে … অথচ তাকওয়াবানদের নিকট বিদ্বেষ লোপ পায় (মারা যায়)।

যদি তোমার ভাই কখনো ভুল করে, তবে তার প্রতি … অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করো না তাদের মতো যারা পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করে।

সপ্তম মজলিসের সমাপ্তি। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর।

আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন আলি আল-জাওহারির 'আমালি'র একাদশ মজলিস, তাঁর উস্তাদগণের থেকে বর্ণিত, তাহির আন-নাইসাবুরি কর্তৃক সংকলিত।

আল-জাওহারি থেকে আবু গালিব আহমাদ বিন আল-বান্নার বর্ণনা।

তাঁর থেকে আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মাদ বিন মা’মার বিন তাবারজাদের বর্ণনা।

আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুদ দায়িম, আবু আল-হাসান আলি বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ এবং আবু মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-মাকদিসিগণের বর্ণনা।

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١١)
10 - أنبا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ طَبَرْزَدَ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو غَالِبٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْبَنَّاءِ، وَذَلِكَ فِي جُمَادَى الأُولَى مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، قثنا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيُّ، قَالَ: أنبا أَبُو الْقَاسِمِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الْخِرَقِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا جَعْفَرٌ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ، قثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلابَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُبَشِّرُ أَصْحَابَهُ: «قَدْ‌‌ جَاءَكُمْ شَهْرُ رَمَضَانَ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ النَّارِ وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ وَفِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ خَيْرًا كَثِيرًا»
১০ - আবু হাফস উমর বিন তাবারযাদ আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন—তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শ্রবণ করছিলাম—তাঁকে বলা হলো: আবু গালিব আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-বান্না আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর তা ছিল ৫২৪ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে; শাইখ আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী আল-জাওহারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম ইবরাহিম বিন আহমাদ আল-খিরাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি উপস্থিত থেকে শ্রবণ করছিলাম—জাফর (যিনি ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবী) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুতায়বা বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সুসংবাদ দিতেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট রমজান মাস এসেছে, এটি একটি বরকতময় মাস, আল্লাহ তোমাদের ওপর এর রোজা ফরজ করেছেন; এতে জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হয় এবং এতে রুদ্ধ করা হয় দরজাগুলো জাহান্নামের, আর এতে শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। এতে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ হতে বঞ্চিত হলো, সে মূলত বিপুল কল্যাণ হতে বঞ্চিত হলো।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - قُرِئَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ جَعْفَرٍ، وَأَنَا أَسْمَعُ وَهُوَ يَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ، قِيلَ لَهُ: حَدَّثَكُمْ جَعْفَرٌ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُسْتَفَاضِ، قثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبُخَارِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الْفَضْلِ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ عَمِّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«هَذَا رَمَضَانُ قَدْ جَاءَ تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجِنَانِ وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ النَّارِ وَتُغَلُّ فِيهِ الشَّيَاطِينُ بَعُدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ ثُمَّ لَمْ يُغْفَرْ لَهُ، إِذَا لَمْ يُغْفَرْ لَهُ فِيهِ فَمَتَى؟ !»
১১ - ইব্রাহিম ইবনে আহমদ ইবনে জাফরের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, আর তিনিও শুনছিলেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। তাকে বলা হলো: জাফর—তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনুল মুস্তাফাদ—কি আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আল-ফজল আল-রাকাশি থেকে, তিনি তাঁর চাচা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এই রমজান মাস এসে উপস্থিত হয়েছে; এতে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়। সেই ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে দূরে নিক্ষিপ্ত হোক যে রমজান মাস পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না। যদি এই মাসেই তাকে ক্ষমা করা না হয়, তবে আর কখন তাকে ক্ষমা করা হবে?»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ لُؤْلُؤٍ الْوَرَّاقُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُوَيْدٍ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الأَحْمَسِيُّ، قثنا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، قثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ قَبْلَ ذَلِكَ مِنْ عَمَلٍ»
১২ - আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন লুলু আল-ওয়াররাক—তাঁর সম্মুখে পাঠকালে আমি উপস্থিত থেকে শ্রবণ করছিলাম—তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সুওয়াইদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-আহমাসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর বিন আওন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন সাঈদ আল-আনসারী, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের প্রত্যাশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْخِرَقِيُّ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قثنا جَعْفَرٌ هُوَ الْفِرْيَابِيُّ، قثنا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ، قَالَ: أنبا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-খিরাকি ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর—যিনি আল-ফিরইয়াবি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى بْنِ إِسْحَاقَ الْهَاشِمِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ فِي شَوَّالٍ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، قثنا حَامِدٌ هُوَ ابْنُ شُعَيْبٍ الْبَلْخِيُّ، قثنا بِشْرُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالَ: أنبا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَى جِبْرِيلَ وَكَانَ جِبْرِيلُ عليه السلام يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ يَعْرِضُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَنْسَلَّ الشَّهْرُ فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ»
১৪ - আবু আব্বাস আবদুল্লাহ ইবনে মুসা ইবনে ইসহাক আল-হাশেমি আমাদের নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন এমতাবস্থায় যে আমি উপস্থিত থেকে শ্রবণ করছিলাম ৩৭৪ হিজরী সনের শাওয়াল মাসে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামিদ—তিনি হলেন ইবনে শুআইব আল-বালখি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল ওয়ালিদ; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে সা’দ, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কল্যাণের কাজে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল ছিলেন এবং রমজান মাসে যখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও অধিক দানশীল হতেন। জিবরীল (আলাইহিস সালাম) প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, মাসটি শেষ হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে কুরআন শোনাতেন। যখনই জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কল্যাণের কাজে মুক্ত ও প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও অধিক দানশীল হতেন।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - حَدِيثًا قَرَأْنَاهُ عَلَى أَبِي الْحُسَيْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُظَفَّرِ، قُلْنَا: حَدَّثَكُمْ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ، قثنا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ، قثنا نَائِلُ بْنُ نَجِيحٍ، قثنا أَبُو الْعَطُوفِ الْجَزَرِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْولُ: ‌‌«هَذَا شَهْرُ رَمَضَانَ فَمَنْ صَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
১৫ - একটি হাদিস যা আমরা আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফফরের নিকট পাঠ করেছি; আমরা বললাম: আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে সিনান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নায়েল ইবনে নাজিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আতুফ আল-জাজারি, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «এটি রমজান মাস; সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় এই মাসে রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ بْنِ مُوسَى الْبَزَّازُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادِ بْنِ حَبِيبٍ، قثنا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى الْقُضَاعِيُّ كَاتِبُ الْعُمَرِيِّ، قثنا الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ قَالَ: وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: ‌‌«مَنْ لَمْ يُبَيِّتِ الصِّيَامَ قَبْلَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فَلا صِيَامَ لَهُ»
১৬ - মুহাম্মাদ ইবনুল মুজাফ্ফার ইবনে মুসা আল-বাযযায তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর আমি তখন উপস্থিত থেকে তা শুনছিলাম। তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনে হাবীব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল-উমরীর লেখক যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুযায়ী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল-মুফাদ্দাল ইবনে ফাযালা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী হাফসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ফজরের আগে সিয়ামের (রোযার) নিয়ত করবে না, তার কোনো সিয়াম নেই»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - أَخْبَرَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ الْحَافِظُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ الضَّحَّاكِ، قثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قثنا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَفْصَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: ‌‌«لا صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ»
১৭ - হাফিজ মুহাম্মাদ ইবনুল মুজাফ্ফার আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, তাঁর সামনে এটি পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি উপস্থিত থেকে তা শ্রবণ করছিলাম; তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আদ-দাহহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে মাসউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি হামজা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি হাফসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বেই সিয়ামের সংকল্প করেনি, তার কোনো সিয়াম নেই»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - وَقَرَأْنَاهُ عَلَى أَبِي الْحُسَيْنِ بْنِ الْمُظَفَّرِ الْحَافِظِ وَهُوَ يَسْمَعُ وَأَقَرَّ بِهِ قُلْنَا: حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ، قثنا غِيَاثُ بْنُ جَعْفَرٍ، قثنا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، قثنا إِسْحَاقُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«لا صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ مِنَ اللَّيْلِ»
১৮ - আমরা এটি হাফেজ আবুল হুসাইন বিন আল-মুজাফফরের সামনে পাঠ করেছি এমতাবস্থায় যে তিনি তা শুনছিলেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। আমরা বললাম: মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, গিয়াস বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'ন বিন ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন হাযিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর থেকে, সালেম থেকে, ইবনে উমর থেকে, হাফসাহ থেকে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি রাত থেকে সিয়ামের সংকল্প করবে না, তার কোনো সিয়াম নেই»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - أنبا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الْخِرَقِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، ثنا جَعْفَرٌ هُوَ الْفِرْيَابِيُّ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي السَّرِيِّ وَعَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ قَالا: قثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ثنا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ عُمَرَ إِذْ جَاءَهُ رَاكِبٌ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ فَطَفِقَ عُمَرُ يَسْتَخْبِرُهُ عَنْ حَالِهِمْ فَقَالَ: "‌‌ هَلْ يُعَجِّلُ أَهْلُ الشَّامِ الإِفْطَارَ؟ قَالَ: نَعَمْ.

قَالَ: لَنْ يَزَالُوا بِخَيْرٍ مَا فَعَلُوا ذَلِكَ وَلَمْ يَنْتَظِرُوا النُّجُومَ انْتِظَارَ أَهْلِ الْعِرَاقِ "
১৯ - ইবরাহীম ইবনে আহমাদ আল-খিরাকি আমাদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি উপস্থিত থেকে তা শ্রবণ করছিলাম; জাফর —যিনি আল-ফিরইয়াবি— আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবুস সাররি ও আব্বাস আল-আনবারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা’মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওমরের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় সিরিয়ার অধিবাসীদের মধ্য হতে একজন আরোহী তাঁর নিকট এল। তখন ওমর তাকে তাদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন। তিনি বললেন: "সিরিয়ার অধিবাসীরা কি দ্রুত ইফতার করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ।"

তিনি বললেন: "তারা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তারা এরূপ করবে এবং ইরাকবাসীদের ন্যায় তারকার অপেক্ষা করবে না।"
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَطَشِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قثنا عَلِيُّ بْنُ حَمَّادِ بْنِ هِشَامٍ، قثنا كُرْدُوسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: أنبا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ فَإِنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى يُؤَخِّرُونَ»
২০ - আবু আলী আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আতাশি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আলী বিন হাম্মাদ বিন হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুরদুস বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মালিক বিন আবি সুলাইমান আতা থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যায়িদ বিন খালিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তারা দ্রুত ইফতার করবে, কারণ ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তা বিলম্ব করে থাকে।»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ زَيْدٍ الْكُوفِيُّ الأَبْزَارِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِبَغْدَادَ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ فِي ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ سِتٍّ وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ قَدِمَ عَلَيْنَا، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبَانَ، قثنا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قثنا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ الْخَيَّاطُ، قثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ سَيْفٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي رُهْمٍ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، قَالَ:‌‌ دَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى السُّحُورِ فِي رَمَضَانَ فَقَالَ: «هَلُمَّ إِلَى الْغَدَاءِ الْمُبَارَكِ»
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন যাইদ আল-কুফি আল-আবজারি, বাগদাদে তাঁর সম্মুখে পাঠকালে আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম; এটি ছিল তিনশ ছিয়াত্তর হিজরি সনের জিলহজ মাস, তিনি আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আবান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ বিন মুসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন খালিদ আল-খায়্যাত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া বিন সালেহ, তিনি ইউনুস বিন সাইফ থেকে, তিনি হারিস বিন জিয়াদ থেকে, তিনি আবু রুহম থেকে, তিনি ইরবাদ বিন সারিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে সাহরি খাওয়ার জন্য আমাকে আহ্বান করলেন এবং বললেন: "এসো সকালের আহারের বরকতময় আহারের দিকে।"
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - قَرَأْنَاهُ عَلَى أَبِي عَلِيٍّ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ يَحْيَى الْعَطَشِيِّ وَهُوَ يَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ قُلْنَا: حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ النَّسَائِيُّ، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ التَّمِيمِيُّ، قثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ سَيْفٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي رُهْمٍ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ السُّلَمِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم،‌‌ يَدْعُو فِي شَهْرِ رَمَضَانَ، وَهُوَ يَقُولُ: «هَلُمُّوا إِلَى الْغَدَاءِ الْمُبَارَكِ»
২২ - আমরা এটি আবু আলী মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন ইয়াহইয়া আল-আতাশির নিকট পাঠ করেছি এবং তিনি তা শ্রবণ করছিলেন, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। আমরা বললাম: মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আন-নাসায়ী আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল মাজীদ আত-তামিমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া ইবন সালিহ থেকে, তিনি ইউনুস ইবন সাইফ থেকে, তিনি আল-হারিস ইবন যিয়াদ থেকে, তিনি আবু রুহম থেকে, তিনি ইরবাদ ইবন সারিয়া আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনেছি, তিনি রমজান মাসে ডাকছিলেন এবং বলছিলেন: "তোমরা বরকতময় খাবারের (সাহরির) দিকে এসো।"
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ الْحَافِظُ بقِرَاءَةِ ابْنِ الْبَقَّالِ قِرَاءَةًعَلَيْهِ 25 وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُوَهُوَ يَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ: حَدَّثَكُمْ أَبُو عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَوْدُودٍ بِحَرَّانَ، قثنا أَبُو الْحَسَنِ الرَّهَاوِيُّ، قثنا أَبُو قَتَادَةَ، ثنا الثَّوْرِيُّ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ رِبْعِيٍّ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: ‌‌«مِنْ أَخْلاقِ الأَنْبِيَاءِ تَأْخِيرُ السُّحُورِ وَتَعْجِيلُ الإِفْطَارِ وَوَضْعُ الْيَمِينِ عَلَى الشِّمَالِ»
২৩ - হাফিজ মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফ্ফার ইবনুল বাক্কালের পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যা তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে ২৫ এবং আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম এমতাবস্থায় যে তিনিও শুনছিলেন, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আবু আরুবাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মাওদুদ হাররানে তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল হাসান আর-রাহাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু কাতাদাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাওরি বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি নুআইম বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি রিবঈ থেকে, তিনি হুজায়ফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবীগণের আদর্শের অন্তর্ভুক্ত হলো সাহরি বিলম্বিত করা, দ্রুত ইফতার করা এবং (নামাজে) বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - أَخْبَرَنَاهُ أَبُو عُمَرَ بْنُ حَيْوَةَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا أَبُو عُبَيْدٍ الصُّوفِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، قثنا أَبِي، قثنا بِشْرُ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ السُّكَّرِيُّ، قثنا عَبْدُ الْحَكَمِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مِنْ أَخْلاقِ النُّبُوَّةِ تَعْجِيلُ الإِفْطَارِ وَتَأْخِيرُ السُّحُورِ وَوَضْعُ الْيَمِينِ الأَيْدِي عَلَى الأَيْدِي فِي الصَّلاةِ»
২৪ - আবু উমর বিন হাইওয়াহ আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন তাঁর সম্মুখে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি উপস্থিত থেকে তা শুনছিলাম, আবু উবাইদ আস-সুফী মুহাম্মদ বিন আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর—যিনি ইবনে মুহাম্মদ আস-সুকারী—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নবুওয়াতের চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত হলো দ্রুত ইফতার করা, সাহরি বিলম্বে করা এবং সালাতে হাতের ওপর ডান হাত রাখা»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ هَارُونَ الْمُقْرِئُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الضَّبِّيُّ، قثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَبِيبٍ، قثنا يَحْيَى الْحَارِثِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«نِعْمَ غَدَاءُ الْمُؤْمِنِ السُّحُورِ إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِينَ»
২৫ - ওমর ইবনে আহমদ ইবনে হারুন আল-মুকরি আমাদের নিকট তাঁর ওপর পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি উপস্থিত থেকে তা শুনছিলাম; আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আদ-দাব্বী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আবদুল্লাহ ইবনে শাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; ইয়াহইয়া আল-হারিছী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম আমার নিকট তাঁর পিতা হতে, তিনি ইবনে ওমর হতে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «মুমিনের কতই না চমৎকার সকালের আহার হলো সেহরি; নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ সেহরি গ্রহণকারীদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ الصُّوفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْكِنْدِيُّ، قثنا حُسَيْنُ بْنُ بَيَانٍ الشَّلاثَائِيُّ، قثنا سَيْفُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قثنا غَالِبُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«تَسَحَّرُوا وَلَوْ بِحَبَّةٍ»
২৬ - আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ-শিখখির আস-সুফি আমাদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি সেখানে উপস্থিত থেকে তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কিন্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন বিন বায়ান আশ-শালাসাই আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাইফ বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: গালিব বিন উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা সাহরি করো, যদিও তা একটি শস্যদানা দ্বারা হয়»
(খণ্ড: ٣) মজলিসানি মিন আমালিল জাওহারী_৩ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَيْسَانَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا يُوسُفُ هُوَ ابْنُ يَعْقُوبَ الْقَاضِي، قثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، قثنا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ ثَابِتٍ الْبَاهِلِيُّ، قثنا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«تَسَحَّرُوا وَلَوْ بِجَرْعَةِ مَاءٍ»

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ السُّوسِيُّ بِلَفْظِهِ وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ، قثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، قثنا أَبِي قَالَ:
২৭ - আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কায়সান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তার কাছে পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম, তিনি বলেন, ইউসুফ—তিনি হলেন ইবনে ইয়াকুব আল-কাদি—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে সাবিত আল-বাহিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাবিত আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা সাহরি করো, যদিও তা এক ঢোক পানি দিয়ে হয়»

মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস আস-সুসি আমাদের নিকট তার নিজ শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: