(খণ্ড: ১) মাজমুউ তাখরিজি শামসিদ্দীন আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: -)
مجموع تخريج شمس الدين المقدسي   (المقدسي، أحمد بن عبد الواحد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مجموع تخريج شمس الدين المقدسي

المؤلف: الشَّمْسُ، أَبُو العَبَّاسِ أَحْمَدُ بنُ عَبْدِ الوَاحِدِ بنِ أَحْمَدَ المَقْدِسِيُّ، الحَنْبَلِيُّ، المُلَقَّبُ بِالبُخَارِيِّ (ت 623هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 9

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শামস আদ-দ্বীন আল-মাকদিসির তাখরিজ সংকলন   (আল-মাকদিসি, আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: শামস আদ-দ্বীন আল-মাকদিসির তাখরিজ সংকলন

লেখক: আশ-শামস, আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মাকদিসি, আল-হানবালি, যাকে আল-বুখারি উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে (মৃত্যু ৬২৩ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি; যা ইসলামি নেটওয়ার্ক সাইট (ইসলাম ওয়েব)-এর অধীনস্থ বিনামূল্যের ‘জাওয়ামিউল কালিম’ প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাজমুউ তাখরিজি শামসিদ্দীন আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ১)
جُزْءٌ مِنَ الْمَجْمُوعِ.

تَخْرِيجُ الْإِمَامِ الْعَلامَةِ شَمْسِ الدِّينِ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيِّ الْمَعْرُوفِ بِالْبُخَارِيِّ قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ رَبِّ يَسِّرْ
সংগ্রহের একটি অংশ।

ইমাম আল্লামা শামসুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি, যিনি আল-বুখারি নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন), তাঁর কৃত তাখরিজ (হাদিস চয়ন ও বিন্যাস)।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার পালনকর্তা, সহজ করে দিন।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ তাখরিজি শামসিদ্দীন আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَنْبَأَنَا الْإِمَامُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السِّلَفِيُّ، أنبا أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَاقِلانِيُّ، وَجَمَاعَةٌ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، أنبا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيُّ، بِمَكَّةَ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثنا أَبُو غَسَّانَ، ثنا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ الْخَيَّاطُ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ‌‌ بَيْعِ الْمُغَنِّيَاتِ وَعَنِ التِّجَارَةِ فِيهِنَّ وَعَنْ تَعْلِيمِهِنَّ الْغِنَاءَ، وَقَالَ: «ثَمَنُهُنَّ حَرَامٌ» .

وَقَالَ هَذَا مِنْ رِوَايَةِ
السِّلَفِيِّ: فِي نَحْوِ هَذَا أَوْ نَحْوِهِ أَوْ شِبْهِهِ نَزَلَتْ عَلَيَّ {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} [لقمان: 6] ".

وَقَالَ: " مَا مِنْ رَجُلٍ يَرْفَعُ عَقِيرَةَ صَوْتِهِ بِالْغِنَاءِ إِلا بَعَثَ اللَّهُ شَيْطَانَيْنِ يَرْتَدِفَانِهِ هَذَا مِنْ ذَا الْجَانِبِ وَهَذَا ذَا الْجَانِبِ، فَلا يَزَالانِ يَضْرِبَانِ بِأَرْجُلِهِمَا فِي صَدْرِهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَسْكُتُ
১ - ইমাম আবু তাহির আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আস-সিলাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ ইবন আল-হাসান ইবন আহমদ আল-বাকিলানি এবং একটি দল, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল মালিক ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বিশরান, মক্কায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আব্দুর রহমান আল-জুমাহি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবন আব্দুল আজিজ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু গাসসান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মানসুর ইবন আবিল আসওয়াদ আল-খাইয়্যাত, আবু মুহাল্লাব থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন যাহর থেকে, তিনি আলী ইবন ইয়াযিদ থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গায়িকা দাসী বিক্রয় করতে, তাদের নিয়ে ব্যবসা করতে এবং তাদের গান শেখাতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "তাদের মূল্য হারাম।"

এবং আস-সিলাফির বর্ণনায় এটি এভাবে এসেছে: "এই বা এর মতো বা এর সদৃশ বিষয়েই আমার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে: 'আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে যে অবান্তর কথাবার্তা ক্রয় করে যাতে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে' (সূরা লুকমান: ৬)।"

এবং তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি যখন গানের জন্য উচ্চস্বরে আওয়াজ তোলে, তখন আল্লাহ তার নিকট দুইজন শয়তান পাঠান যারা তার দুই পাশে চড়ে বসে; একজন এপাশে এবং অন্যজন ওপাশে। তারা অবিরত তাদের পা দিয়ে তার বুকে আঘাত করতে থাকে যতক্ষণ না সে নিজে চুপ হয়।"
(খণ্ড: ১) মাজমুউ তাখরিজি শামসিদ্দীন আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْعَبَّاسِ الْعَلَوِيُّ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ، نا أَبُو الْقَاسِمِ تَمَّامُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيُّ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي أَبُو الْخَطَّابِ زِيَادُ بْنُ يَحْيَى، ثنا سَهْلُ بْنُ أَسْلَمَ الْعَدَوِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أُصِبْتُ بِثَلاثَةِ مَصَائِبَ فِي الْإِسْلامِ لَمْ أُصَبْ بِمِثْلِهِنَّ: مَوْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكُنْتُ صُوَيْحِبَهُ، وَقَتْلِ عُثْمَانَ، وَالْمِزْوَدِ، قَالُوا: وَمَا الْمِزْوَدُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَقَالَ: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ،‌‌ هَلْ مَعَكَ شَيْءٌ؟» قُلْتُ: نَعَمْ، تَمْرٌ فِي مِزْوَدٍ مَعِيَ، قَالَ: «جِئَ بِهِ» ، قَالَ: فَأَخْرَجْتُ مِنْهُ تَمَرَاتٍ بُسْرًا، فَأَتَيْتُهُ بِهِ فَمَسَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَدَعَى فِيهِ، وَقَالَ: «ادْعُ عَشْرَةً» .

فَدَعَوْتُ عَشْرَةً، فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا، ثُمَّ قَالَ: «ادْعُ لِي عَشْرَةً» .

فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا، ثُمَّ كَذَلِكَ حَتَّى أَكَلَ الْجَيْشُ كُلُّهُمْ، وَبَقِيَ هُوَ تَمْرُ الْمِزْوَدِ، فَقَالَ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ خُذْهُ فَأَعِدْهُ فِي الْمِزْوَدِ، فَإِذَا أَرَدْتَ مِنْهُ شَيْئًا فَأَدْخِلْ يَدَكَ فِيهِ وَلا تَكُبَّهُ "، فَأَكَلْتُ مِنْهُ حَيَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَكَلْتُ مِنْهُ حَيَاةَ أَبِي بَكْرٍ كُلَّهَا، وَأَكَلْتُ مِنْهُ حَيَاةَ عُمَرَ كُلَّهَا، وَأَكَلْتُ مِنْهُ حَيَاةَ عُثْمَانَ، فَلَمَّا قُتِلَ عُثْمَانُ انْتُهِبَ مَا فِي بَيْتِي وَانْتُهِبَ الْمِزْوَدُ، أَلا أُخْبِرُكُمْ: أَكَلْتُ مِنْهُ أَكْثَرَ مِنْ مِائَتَيْ وَسْقٍ
২ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মাআলি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আস-সুলামী, শ্রবণের মাধ্যমে না হলেও ইজাজতের মাধ্যমে; তিনি আবু আল-কাসিম বিন ইব্রাহিম বিন আল-আব্বাস আল-আলাওয়ী থেকে; তিনি আবু মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-হাফিজ থেকে; আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম তাম্মাম বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আর-রাজি; আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম আলী বিন ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম; আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন সাঈদ; আমাকে বর্ণনা করেছেন আবু আল-খাত্তাব জিয়াদ বিন ইয়াহইয়া; আমাদের বর্ণনা করেছেন সাহল বিন আসলাম আল-আদাওয়ী; তিনি ইয়াজিদ বিন আবি মানসুর থেকে; তিনি তার পিতা থেকে; তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: ইসলামে আমি তিনটি বিপদে আক্রান্ত হয়েছি যার মতো বিপদে আর কখনো পড়িনি: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু, আর আমি তাঁর সাথী ছিলাম; উসমানের হত্যাকাণ্ড; এবং মিজওয়াদ (খাদ্যের থলি)। তারা বলল: হে আবু হুরায়রা, মিজওয়াদ কী? তিনি বললেন: আমরা এক সফরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। তিনি বললেন: "হে আবু হুরায়রা, তোমার কাছে কি কিছু আছে?" আমি বললাম: হ্যাঁ, আমার সাথে একটি থলিতে খেজুর আছে। তিনি বললেন: "তা নিয়ে এসো।" তিনি বললেন: অতঃপর আমি সেখান থেকে কিছু কাঁচা খেজুর বের করলাম এবং তা নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা স্পর্শ করলেন এবং তাতে দোয়া করলেন। এরপর বললেন: "দশজনকে ডাকো।"

অতঃপর আমি দশজনকে ডাকলাম, তারা তৃপ্তিভরে আহার করল। এরপর তিনি বললেন: "আমার জন্য আরও দশজনকে ডাকো।"

অতঃপর তারা তৃপ্তিভরে আহার করল। এভাবে পুরো বাহিনী আহার করা পর্যন্ত চলল এবং থলির খেজুরগুলো তেমনই রয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন: "হে আবু হুরায়রা, এটি নাও এবং পুনরায় থলিতে রেখে দাও। যখন তুমি এখান থেকে কিছু নিতে চাইবে, তখন তোমার হাত এর ভেতরে প্রবেশ করাবে এবং তা উপুড় করে ঢেলে দেবে না।" সুতরাং আমি তা থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় খেয়েছি, আবু বকরের সম্পূর্ণ জীবনকাল খেয়েছি, উমরের সম্পূর্ণ জীবনকাল খেয়েছি এবং উসমানের জীবনকালেও খেয়েছি। এরপর যখন উসমান নিহত হলেন, তখন আমার ঘরে যা ছিল তা লুণ্ঠিত হলো এবং সেই থলিটিও লুণ্ঠিত হলো। আমি কি তোমাদের জানাব না? আমি তা থেকে দুইশ ওয়াসকেরও বেশি খেয়েছি।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ তাখরিজি শামসিদ্দীন আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - وَبِهِ أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، إِجَازَةً، إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا ، أنبا عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أنبا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ تَمَّامُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَذْلَمِ بْنِ لَبْطَةَ، ثنا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ، وَأَبُو سُلَيْمَانَ بْنُ أَيُّوبَ، قَالا: ثنا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ حَبِيبِ بْنِ أَبِي الْعِشْرِينَ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، ثنا حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ لَقِيَ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: اسْأَلِ اللَّهَ، اسْأَلِ اللَّهَ أَنْ يَجْمَعَ اللَّهُ بَيْنِي وَبَيْنَكَ فِي سُوقِ الْجَنَّةِ، قَالَ سَعِيدٌ: وَفِيهَا سُوقٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، أَخْبَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ أَنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ إِذَا دَخَلُوهَا فَنَزَلُوا فِيهَا بِفَضْلِ أَعْمَالِهِمْ، وَيُؤْذَنُ لَهُمْ فِي مِقْدَارِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا، فَيَرَوْنَ اللَّهَ عز وجل فِيهِ ، وَيَبْرُزُ لَهُمْ عَنْ عَرْشِهِ وَيَتَبَدَّى لَهُمْ فِي رَوْضَةٍ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ، فَيُوضَعُ لَهُمْ مَنَابِرُ مِنْ نُورٍ، وَمَنَابِرُ مِنْ لُؤْلُؤٍ، وَمَنَابِرُ مِنْ يَاقُوتٍ، وَمَنَابِرُ مِنْ زَبَرْجَدٍ، وَمَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ، وَمَنَابِرُ مِنْ فِضَّةٍ، وَيَجْلِسُ أَدْنَاهُمْ وَمَا فِيهِمْ دَنِيٌّ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ وَالْكَافُورِ، مَا يَرَوْنَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَرَاسِيِّ بِأَفْضَلَ مِنْهُمْ مَجْلِسًا، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَهَلْ نَرَى رَبَّنَا؟ قَالَ: نَعَمْ، هَلْ تُمَارُونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ؟ قُلْنَا: لا.

قَالَ: كَذَلِكَ لا تُمَارُونَ فِي رُؤْيَةِ رَبِّكُمْ، وَلا يَبْقَى فِي ذَلِكَ الْمَجْلِسِ أَحَدٌ إِلا حَاضَرَهُ اللَّهُ مُحَاضَرَةً قَالَ هِشَامٌ: هُوَ الدُّنُوُّ حَتَّى إِنَّهُ لَيَقُولُ لِلرَّجُلِ مِنْهُمْ: «يَا فُلانُ، تَذْكُرُ يَوْمَ عَمِلْتَ كَذَا وَكَذَا» .

يُذَكِّرُهُ بَعْضَ غَدَرَاتِهِ فِي الدُّنْيَا، فَيَقُولُ: أَلَمْ تَغْفِرْ لِي؟ فَيَقُولُ: «بَلَى، بِسِعَةِ مَغْفِرَتِي بَلَغْتَ مَنْزِلَتَكَ هَذِهِ» .

فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى ذَلِكَ إِذْ غَشِيَتْهُمْ سَحَابَةٌ مِنْ فَوْقِهِمْ فَأَمْطَرَتْ عَلَيْهِمْ طِيبًا لَمْ يَجِدُوا مِثْلَ رِيحِهِ قَطُّ، قَالَ: ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ تبارك وتعالى: «قُومُوا إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لَكُمْ مِنَ الْكَرَامَةِ فَخُذُوا مَا اشْتَهَيْتُمْ» .

قَالَ: فَيَأْتُونَ سُوقًا قَدْ حَفَّتْ بِهِ الْمَلائِكَةُ، فِيهِ مَا لَمْ تَنْظُرِ الْعُيُونُ إِلَى مِثْلِهِ، وَلَمْ تَسْمَعِ الآذَانُ، وَلَمْ يَخْطُرْ عَلَى الْقُلُوبِ، قَالَ: فَيَجْعَلُ لَنَا مَا اشْتَهَيْنَا، وَلَيْسَ يُبَاعُ فِيهِ وَلا يُشْتَرَى، وَفِي ذَلِكَ السُّوقِ يَلْقَى أَهْلُ الْجَنَّةِ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، قَالَ: فَيُقْبِلُ الرَّجُلُ ذُو الْمَنْزِلَةِ الْمُرْتَفِعَةِ فَيَلْقَاهُ مَنْ هُوَ دُونَهُ ، وَمَا فِيهِمْ دَنِيٌّ، فَيُرَوِّعُهُ مَا يَرَى عَلَيْهِ مِنَ اللِّبَاسِ، فَمَا يَبْقَى آخِرَ حَدِيثِهِ حَتَّى يُمَثَّلَ عَلَيْهِ أَحْسَنُ مِنْهُ ، وَذَلِكَ أَنَّهُ لا يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يَحْزَنَ فِيهَا، قَالَ: ثُمَّ نَنْصَرِفُ إِلَى مَنَازِلِنَا فَيَلْقَانَا أَزْوَاجُنَا، فَيَقُلْنَ: مَرْحَبًا وَأَهْلا، لَقَدْ جِئْتَ، وَإِنَّ بِكَ مِنَ الْجَمَالِ وَالطِّيبِ أَفْضَلَ مِمَّا فَارَقْتَنَا عَلَيْهِ، فَيَقُولُ: إِنَّا جَالَسْنَا رَبَّنَا الْجَبَّارَ تبارك وتعالى وَبِحَقِّنَا أَنْ نَنْقَلِبَ بِمِثْلِ مَا انْقَلَبْنَا

وَأَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ عَسَاكِرَ بْنِ الْمُرَحِّبِ الْبَطَائِحِيُّ الْمُقْرِئُ، ثنا عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ، أنبا ابْنُ الْمُذْهِبِ، أنبا ابْنُ الْقَطِيعِيِّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، ثنا أَبُو سَعِيدٍ يَعْنِي الْمُؤَدِّبَ، ثنا مَنْ سَمِعَ عَطَاءً الْخُرَاسَانِيَّ، قَالَ: لَقِيتُ وَهْبَ بْنُ مُنَبِّهٍ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ، فَقُلْتُ حَدِّثْنِي حَدِيثًا أَحْفَظْهُ عَنْكَ فِي مَقَامِي هَذَا وَأَوْجِزْ، قَالَ: نَعَمْ، أَوْحَى اللَّهُ تَبَارَكَ إِلَى دَاوُدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «يَا دَاوُدُ بْنَ إِيشَا، وَعِزَّتِي وَجَلالِي وَعَظَمَتِي لا يَعْتَصِمُ بِي عَبْدٌ مِنْ عِبَادِي دُونَ خَلْقِي أَعْرِفُ ذَلِكَ مِنْ نِيَّتِهِ فَتَكِيدُهُ السَّمَوَاتُ السَّبْعُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَالأَرْضُونَ السَّبْعُ وَمَنْ فِيهِنَّ إِلا جَعَلْتُ لَهُ مِنْ بَيْنِهِمْ مَخْرَجًا، أَمَا وَعِزَّتِي وَعَظَمَتِي لا يَعْتَصِمُ عَبْدٌ مِنْ عِبَادِي بِمَخْلُوقٍ دُونِي أَعْرِفُ ذَلِكَ مِنْ نِيَّتِهِ إِلا قَطَعْتُ أَسْبَابَ السَّمَاءِ مِنْ يَدِهِ وَأَسَخْتُ الأَرْضَ مِنْ تَحْتِ قَدَمَيْهِ ثُمَّ لا أُبَالِي بِأَيِّ وَادٍ هَلَكَ» .

وَبِهِ ثنا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مَعْقِلِ بْنِ مُنَبِّهٍ، ثنا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مَعْقِلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ وَهْبَ بْنَ مُنَبِّهٍ، قَالَ: لَمَّا رَأَى مُوسَى صلى الله عليه وسلم النَّارَ انْطَلَقَ يَسِيرُ حَتَّى وَقَفَ مِنْهَا قَرِيبًا، فَإِذَا هُوَ بِنَارٍ عَظِيمَةٍ تَفُورُ مِنْ فَرْعِ شَجَرَةٍ خَضْرَاءَ شَدِيدَةِ الْخُضْرَةِ، لا تَزْدَادُ النَّارُ فِيمَا يُرَى إِلا عِظَمًا، وَلا تَزْدَادُ الشَّجَرَةُ عَلَى الْحَرِيقِ إِلا خُضْرَةً وَحُسْنًا، فَوَقَفَ يَنْظُرُ لا يَدْرِي عَلَى مَا يَضَعُ أَمْرَهَا إِلا أَنَّهُ قَدْ ظَنَّ أَنَّهَا شَجَرَةٌ تَحْتَرِقُ، وَأَوْقَدَ إِلَيْهَا مَوْقِدٍ فَنَالَهَا، فَاحْتَرَقَتْ وَإِنَّهُ يَمْنَعُ النَّارَ شِدَّةُ خُضْرَتِهَا وَكَثْرَةُ أَفْنَانِهَا وَكَثَافَةُ وَرَقِهَا وَعِظَمُ جِذْعِهَا، فَوَضَعَ أَمْرَهَا عَلَى هَذَا، فَوَقَفَ وَهُوَ يَطْمَعُ أَنْ يَسْقُطَ مِنْهَا شَيْءٌ فَيَقْتَبِسُهُ، فَلَمَّا طَالَ ذَلِكَ عَلَيْهِ أَهْوَى إِلَيْهَا بِضِغْثٍ فِي يَدِهِ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يَقْتَبِسَ مِنْ لَهَبِهَا، فَلَمَّا فَعَلَ ذَلِكَ مُوسَى مَالَتْ نَحْوَهُ كَأَنَّهَا تُرِيدُهُ، فَاسْتَأْخَرَ عَنْهَا وَهَابَ ثُمَّ عَادَ فَطَافَ بِهَا فَلَمْ تَزَلْ تُطْمِعُهُ وَيَطْمَعُ فِيهَا، وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ بِأَوْشَكَ مِنْ خُمُودِهَا، فَاشْتَدَّ عِنْدَ ذَلِكَ عَجَبُهُ، وَفَكَّرَ مُوسَى فِي أَمْرِهَا، وَقَالَ: هِيَ نَارٌ مُمْتَنِعَةٌ لا يُقْبَسُ مِنْهَا وَلَكِنَّهَا لَمْ تَتْضَرِّمْ فِي جَوْفِ شَجَرَةٍ وَلا تَحْرِقُهَا، ثُمَّ خُمُودُهَا عَلَى قَدْرِ عِظَمِهَا فِي أَوْشَكَ مِنْ طَرْفَةِ عَيْنٍ، فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ مُوسَى، قَالَ: إِنَّ لِهَذِهِ النَّارِ لَشَأْنًا ثُمَّ وَضَعَ أَمْرَهَا عَلَى أَنَّهَا مَأْمُورَةٌ أَوْ مَصْنُوعَةٌ، وَلا يَدْرِي مَنْ أَمَرَهَا وَلا مَنْ صَنَعَهَا، وَلَا لِمَ صُنِعَتْ؟ فَوَقَفَ مُتَحَيِّرًا لا يَدْرِي أَيَرْجِعُ أَمْ يُقِيمُ، فَبَيْنَا هُوَ عَلَى ذَلِكَ إِذْ رَمَى طَرْفَهُ نَحْوَ السَّمَاءِ يَنْظُرُ فَرْعَهَا فَإِذَا هُوَ أَشَدُّ مَا كَانَ خُضْرَةً، وَإِذَا الْخُضْرَةُ تُنَوِّرُ وَتُسْفِرُ وَتَبْيَاضُّ حَتَّى صَارَتْ نُورًا سَاطِعًا عَمُودًا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ عَلَيْهِ مِثْلَ شُعَاعِ الشَّمْسِ، تَكِلُّ دُونَهُ الأَبْصَارُ كُلَّمَا نَظَرَ إِلَيْهِ يَكَادُ يَخْطَفُ بَصَرَهُ فَعِنْدَ ذَلِكَ اشْتَدَّ خَوْفُهُ وَحُزْنُهُ، فَرَدَّ يَدَهُ عَلَى عَيْنَيْهِ، وَلَصَقَ بِالأَرْضِ، وَسَمِعَ الْحِسَّ وَالْوَجَسَ إِلا أَنَّهُ سَمِعَ حِينَئِذٍ شَيْئًا لَمْ يَسْمَعِ السَّامِعُونَ بِمِثْلِهِ عِظَمًا ، فَلَمَّا بَلَغَ مُوسَى الْكَرْبُ وَاشْتَدَّ عَلَيْهِ الْهَوْلُ وَكَادَ أَنْ يَتَخَالَطَ فِي عَقْلِهِ مِنْ شِدَّةِ الْخَوْفِ لِمَا يَسْمَعُ وَيَرَى، نُودِيَ مِنَ الشَّجَرَةِ، فَقِيلَ: يَا مُوسَى، فَأَجَابَ سَرِيعًا، وَمَا يَدْرِي مَنْ دَعَاهُ، وَمَا كَانَ سُرْعَةُ إِجَابَتِهِ إِلا اسْتِئْنَاسًا بِالأَنَسِ، فَقَالَ: لَبَّيْكَ ، مِرَارًا ، إِنِّي أَسْمَعُ صَوْتَكَ، وَأُوجِسُ وَجَسَكَ، وَلا أَرَى مَكَانَكَ، فَقَالَ: أَنَا فَوْقَكَ وَمَعَكَ وَأَمَامَكَ وَأَقْرَبُ إِلَيْكَ مِنْكَ ، فَلَمَّا وَعَى هَذَا مُوسَى عَلِمَ أَنَّهُ لا يَنْبَغِي ذَلِكَ إِلا لِرَبِّهِ جَلَّ وَعَزَّ، فَأَيْقَنَ، فَقَالَ: أَنْتَ كَذَلِكَ يَا إِلَهِي، وَكَلامَكَ أَسْمَعُ أَمْ رَسُولَكَ، قَالَ عز وجل: بَلْ أَنَا الَّذِي أُكَلِّمُكَ، فَادْنُ مِنِّي، فَجَمَعَ مُوسَى يَدَيْهِ فِي الْعَصَى ثُمَّ تَحَامَلَ حَتَّى اسْتَقَلَّ قَائِمًا، فَرَعَدَتْ فَرَائِصُهُ حَتَّى اخْتَلَفَتْ وَاضْطَرَبَتْ رِجْلاهُ، وَانْقَطَعَ لِسَانُهُ، وَانْكَسَرَ قَلْبُهُ، وَلَمْ يَبْقَ مِنْهُ عَظْمٌ يَحْمِلُ آخَرَ، فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الْمَيِّتِ إِلا أَنَّ رُوحَ الْحَيَاةِ تَجْرِي فِيهِ، ثُمَّ زَحَفَ عَلَى ذَلِكَ وَهُوَ مَرْعُوبٌ حَتَّى صَارَ قَرِيبًا مِنَ الشَّجَرَةِ الَّذِي نُودِيَ مِنْهَا، قَالَ لَهُ الرَّبُّ تبارك وتعالى: وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَا مُوسَى؟ قَالَ: هِيَ عَصَايَ، قَالَ: وَمَا تَصْنَعُ بِهَا؟ وَلا أَحَدَ أَعْلَمَ بِذَلِكَ مِنْهُ، قَالَ مُوسَى عليه السلام: أَتَوَكَّأُ عَلَيْهَا وَأَهُشُّ بِهَا عَلَى غَنَمِي وَلِيَ فِيهَا مَآرِبُ أُخْرَى، وَكَانَ لِمُوسَى فِي الْعَصَى مَآرِبُ، كَانَتْ لَهَا شُعْبَتَانِ وَمِحْجَنٌ تَحْتَ الشُّعْبَتَيْنِ، قَالَ لَهُ الرَّبُّ تبارك وتعالى: أَلْقِهَا يَا مُوسَى، فَظَنَّ مُوسَى أَنَّهُ يَقُولُ: ارْفُضْهَا؛ فَأَلْقَاهَا عَلَى وَجْهِ الرَّفْضِ، ثُمَّ جَاءَتْ مِنْهُ نَظْرَةٌ فَإِذَا بِأَعْظَمِ ثُعْبَانٍ نَظَرَ إِلَيْه النَّاظِرُونَ فَدَبَّ يَلْتَمِسُ كَأَنَّهُ يَبْتَغِي شَيْئًا يُرِيدُ أَخْذَهُ يَمُرُّ بِالصَّخْرَةِ مِثْلَ الْخَلِقَةِ مِنَ الإِبِلِ فَيَقْتَلِعُهَا وَيَطْعَنُ بِالنَّابِ مِنْ أَنْيَابِهِ فِي أَصْلِ الشَّجَرَةِ الْعَظِيمَةِ فَيَجْتَثُّهَا، عَيْنَاهُ تُوقِدُ نَارًا، وَقَدْ عَادَ الْمِحْجَنُ عُرْفًا فِيهِ شَعْرٌ مِثْلُ النَّيَازِكِ، وَعَادَ الشُّعْبَتَانِ فَمَا مِثْلَ الْقُلَيْبِ الْوَاسِعِ، وَفِيهِ أَضْرَاسٌ وَأَنْيَابٌ لَهَا صَرِيفٌ، فَلَمَّا عَايَنَ ذَلِكَ مُوسَى وَلَّى مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ، فَذَهَبَ حَتَّى أَمْعَنَ وَرَأَى أَنَّهُ أَعْجَزَ الْحَيَّةَ، ثُمَّ ذَكَرَ رَبَّهُ، فَوَقَفَ اسْتِحْيَاءً مِنْهُ ثُمَّ نُودِيَ: يَا مُوسَى، إِلَيَّ ارْجِعْ حَيْثُ كُنْتَ.

فَرَجَعَ وَهُوَ شَدِيدُ الْخَوْفِ، فَقَالَ: خُذْهَا بِيَمِينِكَ وَلا تَخَفْ سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا الأُولَى.

وَعَلَى مُوسَى حِينَئِذٍ مَدْرَعَةٌ مِنْ صُوفٍ قَدْ خَلَّلَهَا بِخِلالٍ مِنْ عِيدَانٍ فَلَمَّا أَمَرَهُ بِأَخْذِهَا، ثَنَى طَرْفَ الْمَدْرَعَةَ عَلَى يَدِهِ، فَقَالَ لَهُ: مَا لَكَ أَوَرَأَيْتَ يَا مُوسَى لَوْ أَذِنَ اللَّهُ لِمَا تُحَاذِرُ كَانَتِ الْمَدْرَعَةُ تُغْنِي عَنْكَ شَيْئًا؟ قَالَ: لا، وَلَكِنِّي ضَعِيفٌ، وَمَنْ ضَعْفٍ خُلِقْتُ، فَكَشَفَ عَنْ يَدِهِ ثُمَّ وَضَعَهَا فِي الْحَيَّةِ حَتَّى سَمِعَ حِسَّ الأَضْرَاسِ وَالأَنْيَابِ، ثُمَّ قَبَضَ فَإِذَا هِيَ عَصَاهُ الَّتِي عَهِدَهَا، وَإِذَا يَدُهُ فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي كَانَ يَضَعُهَا إِذَا تَوَكَّأَ بَيْنَ الشُّعْبَتَيْنِ، فَقَالَ لَهُ اللَّهُ عز وجل: ادْنُ فَلَمْ يَزَلْ يُدْنِيهِ حَتَّى أَسْنَدَ ظَهْرَهُ بِجِذْعِ الشَّجَرَةِ، فَاسْتَقَرَّ وَذَهَبَتْ عَنْهُ الرَّعْدَةُ، وَجَمَعَ يَدَيْهِ فِي الْعَصَى وَخَضَعَ بِرَأْسِهِ وَعُنُقِهِ، ثُمَّ قَالَ لَهُ: إِنِّي قَدْ أَقَمْتُكَ الْيَوْمَ مَقَامًا لا يَنْبَغِي لِنَبِيٍّ بَعْدَكَ أَنْ يَقُومَ مَقَامَكَ ، أَدْنَيْتُكَ وَقَرَّبْتُكَ حَتَّى سَمِعْتَ كَلامِي ، وَكُنْتَ بِأَقْرَبِ الأَمْكِنَةِ مِنِّي، فَانْطَلِقْ بِرِسَالَتِي فَإِنَّكَ بِعَيْنِي وَسَمْعِي وَإِنَّ مَعَكَ يَدِي وَنَصْرِي، وَإِنِّي قَدْ أَلْبَسْتُكَ جَنَّةً مِنْ سُلْطَانِي، تَسْتَكْمِلُ بِهَا الْيَوْمَ فِي أَمْرِي فَأَنْتَ جُنْدِيٌّ عَظِيمٌ مِنْ جُنُودِي بَعَثْتُكَ إِلَى خَلْقٍ ضَعِيفٍ مِنْ خَلْقِي، بَطَرَ نِعْمَتِي وَأَمِنَ مَكْرِي، وَأَغْوَتْهُ الدُّنْيَا عَنِّي حَتَّى جَحَدَ حَقِّي، وَأَنْكَرَ رُبُوبِيَّتِي، وَعَبَدَ دُونِي، وَزَعَمَ أَنَّهُ لا يَعْرِفُنِي، وَإِنِّي أُقْسِمُ بِعِزَّتِي لَوْلا الْعُذْرُ وَالْحُجَّةُ اللَّذَانِ وَضَعْتُ بَيْنِي وَبَيْنَ خَلْقِي لَبَطَشْتُ بِهِ بَطْشَةَ جَبَّارٍ تَغْضَبُ لِغَضَبِهِ السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ وَالْجِبَالُ وَالْبِحَارُ، فَإِنْ أَمَرْتُ السَّمَاءَ حَصَبَتْهُ، وَإِنْ أَمَرْتُ الأَرْضَ ابْتَلَعَتْهُ، وَإِنْ أَمَرْتُ الْجِبَالَ دَمَّرَتْهُ، وَإِنْ أَمَرْتُ الْبِحَارَ غَرَّقَتْهُ، وَلَكِنَّهُ هَانَ عَلَيَّ وَسَقَطَ مِنْ عَيْنِي، وَوَسِعَهُ حِلْمِي، وَاسْتَغْنَيْتُ بِمَا عِنْدِي، وَحَقَّ لِي، إِنِّي أَنَا الْغَنِيُّ لا غَنِيَّ غَيْرِي، فَبَلِّغْهُ رِسَالَتِي، وَادْعُهُ إِلَى عِبَادَتِي وَتَوْحِيدِي وَإِخْلاصِ اسْمِي، وَذَكِّرْهُ بِآيَاتِي وَحَذِّرْهُ نِقْمَتِي وَبَأْسِي، وَأَخْبِرْهُ أَنَّهُ لا يَقُومُ شَيْءٌ لِغَضَبِي، وَقُلْ لَهُ فِي بَيْنِ ذَلِكَ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى، وَأَخْبِرْهُ أَنِّي إِلَى الْعَفْوِ وَالْمَغْفِرَةِ أَسْرَعُ مِنِّي إِلَى الْغَضَبِ وَالْعُقُوبَةِ، وَلا يَرُوعَنَّكَ مَا أَلْبَسْتُهُ مِنْ لِبَاسِ الدُّنْيَا، فَإِنَّ نَاصِيَتَهُ بِيَدَيَّ لَيْسَ يَطْرِفُ وَلا يَنْطِقُ وَلا يَتَنَفَّسُ إِلا بِإِذْنِي، قُلْ لَهُ: أَجِبْ رَبَّكَ، فَإِنَّهُ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ فَإِنَّهُ قَدْ أَمْهَلَكَ أَرْبَعَ مِائَةِ سَنَةٍ، وَفِي كُلِّهَا أَنْتَ مُبَادِرٌ لِمُحَارَبَتِهِ، تَشَبَّهْ وَتَمَثَّلْ بِهِ، وَهُوَ يُمْطِرُ عَلَيْكَ السَّمَاءَ، وَيُنْبِتُ لَكَ الأَرْضَ، لَمْ تَسْقَمْ وَلَمْ تَهْرِمْ وَلَمْ تَفْتَقِرْ وَلَمْ تُغْلَبْ، وَلَوْ شَاءَ أَنْ يُعَجِّلَ ذَلِكَ لَكَ أَوْ يَسْلُبَكَهُ فَعَلَ، وَلَكِنَّهُ ذُو أَنَاةٍ وَحِلْمٍ عَظِيمٍ، وَجَاهِدْ بِنَفْسِكَ وَأَخِيكَ وَأَنْتُمَا مُحْتَسِبَانِ بِجِهَادِهِ، فَإِنِّي لَوْ شِئْتُ أَنْ آتِيهِ بِجُنُودٍ لا قِبَلَ لَهُ بِها لَفَعَلْتُ، وَلَكِنْ لِيَعْلَمَ هَذَا الْعَبْدُ الضَّعِيفُ الَّذِي قَدْ أَعْجَبَتْهُ نَفْسُهُ وَجُمُوعُهُ أَنَّ الْفِئَةَ الْقَلِيلَةَ وَلا قَلِيلَ مِنِّي تَغْلِبُ الْفِئَةَ الْكَثِيرَةَ بِإِذْنِي، وَلا يُعْجِبَنَّكُمَا زِينَتُهُ وَزِينَةُ الْمُتْرَفِينَ، وَإِنِّي لَوْ شِئْتُ أَنْ أُزَيِّنَكُمَا مِنَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ يَعْلَمُ فِرْعَوْنُ حِينَ يَنْظُرُ إِلَيْهَا أَنَّ مَقْدِرَتَهُ تَعْجَزُ عَنْ مِثْلِ مَا أُوتِيتُمَا فَعَلْتُ، وَلَكِنِّي أَرْغَبُ بِكُمَا عَنْ ذَلِكَ وَأَزْوِيهِ عَنْكُمَا، وَكَذَلِكَ أَفْعَلُ بِأَوْلِيَائِي، وَقَدِيمًا خِرْتُ لَهُمْ فِي ذَلِكَ، فَإِنِّي لأَذُودُهُمْ عَنْ نَعِيمِهَا وَرَخَائِهَا كَمَا يَذُودُ الرَّاعِي الشَّفِيقُ إِبِلَهُ عَنْ مَرَاتِعِ الْهَلَكَةِ، وَإِنِّي لأُجَنِّبُهُمْ سَلْوَتَهَا وَعَيْشَهَا كَمَا يُجَنِّبُ الرَّاعِي الشَّفِيقُ إِبِلَهُ عَنْ مَبَارِكِ الْغُرَّةِ، وَمَا ذَلِكَ لِهَوَانِهِمْ عَلَيَّ وَلَكِنْ لِيَسْتَكْمِلُوا نَصِيبَهُمْ مِنْ كَرَامَتِي سَالِمًا مَوْفُورًا لَمْ تُكَلِّمْهُ الدُّنْيَا وَلَمْ يُطْغِهِ الْهَوَى، وَاعْلَمْ أَنَّهُ لَمْ يَتَزَيَّنْ لِيَ الْعِبَادُ بِزِينَةٍ هِيَ أَبْلَغُ مِنَ الزُّهْدِ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّهَا زِينَةُ الْمُتَّقِينَ، عَلَيْهِمْ مِنْهَا لِبَاسٌ يُعْرَفُونَ بِهِ مِنَ السَّكِينَةِ وَالْخُشُوعِ، سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ آثَارِ السُّجُودِ، أُولَئِكَ أَوْلِيَاءُ حَقًّا، فَإِذَا لَقِيتَهُمْ فَاخْفِضْ لَهُمْ جَنَاحَكَ، وَذَلِّلْ لَهُمْ قَلْبَكَ وَلِسَانَكَ، وَاعْلَمْ أَنَّهُ مَنْ أَهَانَ لِي وَلِيًّا وَأَخَافَهُ فَقَدْ بَارَزَنِي بِالْمُحَارَبَةِ وَآذَانِي، وَعَرَّضَ نَفْسَهُ وَدَعَانِي إِلَيْهَا، وَأَنَا أَسْرَعُ شَيْءٍ إِلَى نُصْرَةِ أَوْلِيَائِي، أَفَيَظُنُّ الَّذِي يُحَارِبُنِي بِأَنْ يَقُومَ لِي، أَوْ يَظُنُّ الَّذِي يُغَازِينِي أَنْ يُعْجِزَنِي، أَوْ يَظُنُّ الَّذِي يُبَارِزُنِي أَنْ يَسْبِقَنِي أَوْ يَفُوتَنِي، وَكَيْفَ وَأَنَا الثَّائِرُ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، لا أَكِلُ نُصْرَتَهُمْ إِلَى غَيْرِي، قَالَ: فَأَقْبَلَ مُوسَى إِلَى فِرْعَوْنَ فِي مَدِينَةٍ قَدْ جَعَلَ حَوْلَهَا الأُسْدَ فِي غَيْضَةٍ قَدْ غَرَسَهَا، فَالأُسْدُ فِيهَا مَعَ سَاسَتِهَا، إِذَا أَشْلَتْهَا عَلَى أَحَدٍ أُكِلَ، وَلِلْمَدِينَةِ أَرْبَعَةُ أَبْوَابٍ فِي الْغَيْضَةِ، فَأَقْبَلَ مُوسَى عليه السلام مِنَ الطَّرِيقِ الأَعْظَمِ الَّذِي يَرَاهُ فِرْعَوْنُ، فَلَمَّا رَأَتْهُ الأُسْدُ صَاحَتْ صِيَاحَ الثَّعَالِبِ، فَأَنْكَرَ ذَلِكَ السَّاسَةُ، وَفَرَّقُوا مِنْ فِرْعَوْنَ، وَأَقْبَلَ مُوسَى حَتَّى انْتَهَى إِلَى الْبَابِ الَّذِي فِيهِ فِرْعَوْنُ فَقَرَعَهُ بِعَصَاهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ صُوفٌ وَسَرَاوِيلُ، فَلَمَّا رَآهُ الْبَوَّابُ عَجِبَ مِنْ جُرْأَتِهِ فَتَرَكَهُ وَلَمْ يَأْذَنْ لَهُ، وَقَالَ: هَلْ تَدْرِي بَابَ مَنْ أَنْتَ تَضْرِبُ؟ إِنَّمَا تَضْرِبُ بَابَ سَيِّدِكَ.

قَالَ: أَنَا وَأَنْتَ وَفِرْعَوْنُ عَبِيدٌ لِرَبِّي تبارك وتعالى فَأَنَا نَاصِرُهُ، فَأَخْبَرَ الْبَوَّابَ الَّذِي يَلِيهِ وَالْبَوَّابِينَ حَتَّى بَلَغَ ذَلِكَ أَدْنَاهُمْ، وَدُونَهُ سَبْعِينَ حَاجِبًا، كُلُّ حَاجِبٍ مِنْهُمْ تَحْتَ يَدَيْهِ مِنَ الْجُنُودِ مَا شَاءَ اللَّهُ كَأَعْظَمِ أَمِيرٍ الْيَوْمَ إِمَارَةً حَتَّى خَلُصَ الْخَبَرُ إِلَى فِرْعَوْنَ، فَقَالَ: أَدْخِلُوهُ عَلَيَّ.

فَأُدْخِلَ فَلَمَّا أَتَاهُ، قَالَ لَهُ فِرْعَوْنُ: أَعْرِفُكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا؟ فَرَدَّ عَلَيْهِ مُوسَى الَّذِي ذَكَرَهُ اللَّهُ عز وجل، قَالَ فِرْعَوْنُ: خُذُوهُ فَبَادَأَهُمْ مُوسَى فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ، فَحَمَلَتْ عَلَى النَّاسِ فَانْهَزَمُوا فَمَاتَ مِنْهُمْ خَمْسَةٌ وَعِشْرُونَ أَلْفًا، قَتَلَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا، وَقَامَ فِرْعَوْنُ مُنْهَزِمًا حَتَّى دَخَلَ، فَقَالَ لِمُوسَى: اجْعَلْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ أَجَلًا نَنْظُرُ فِيهِ.

فَقَالَ لَهُ مُوسَى: لَمْ أُؤْمَرْ بِذَلِكَ وَإِنَّمَا أُمِرْتُ بِمُنَاجَزَتِكَ، وَإِنْ أَنْتَ لَمْ تَخْرُجْ إِلَيَّ دَخَلْتُ إِلَيْكَ.

فَأَوْحَى اللَّهُ عز وجل إِلَى مُوسَى أَنِ اجْعَلْ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ أَجَلًا وَقُلْ لَهُ: أَنْ يَجْعَلَ هُوَ الأَجَلَ، ثُمَّ قَالَ فِرْعَوْنُ: اجْعَلْهُ إِلَى أَرْبَعِينَ يَوْمًا ، فَفَعَلَ، وَكَانَ فِرْعَوْنُ لا يَأْتِي الْخَلاءَ إِلا فِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا مَرَّةً، فَاخْتَلَفَ ذَلِكَ الْيَوْمُ أَرْبَعِينَ مَرَّةً، قَالَ: وَخَرَجَ مُوسَى عليه السلام مِنَ الْمَدِينَةِ، فَلَمَّا مَرَّ بِالأُسْدِ مَصَعَتْ بِأَذْنَابِهَا وَسَارَتْ مَعَ مُوسَى تُشَيِّعُهُ، وَلا تُهَيِّجُهُ وَلا أَحَدًا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ.
৩ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সুলামী, অনুমতি (ইজাজাহ) সূত্রে, যদি সরাসরি শ্রবণ না-ও হয়ে থাকে; তিনি সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন ইব্রাহিম থেকে; তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবদুল আজিজ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ থেকে; তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম তাম্মাম বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আর-রাজি থেকে; আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন সুলাইমান বিন হাযলাম বিন লাবতাহ; আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুস সামাদ এবং আবু সুলাইমান বিন আইয়ুব; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন আম্মার; আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল হামিদ বিন হাবিব বিন আবিল ইশরিন; আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আওযাঈ; আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন হাসসান বিন আতিয়্যাহ; সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তখন আবু হুরায়রা বললেন: আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাকে ও আপনাকে জান্নাতের বাজারে একত্রিত করেন। সাঈদ জিজ্ঞেস করলেন: সেখানে কি বাজারও আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে জানিয়েছেন যে, জান্নাতবাসীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং নিজ নিজ আমলের শ্রেষ্ঠত্ব অনুযায়ী সেখানে আসন গ্রহণ করবে, তখন দুনিয়ার দিন হিসেবে জুমার দিনের সমপরিমাণ সময়ের জন্য তাদের (আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের) অনুমতি প্রদান করা হবে। সেখানে তারা মহান মহিমান্বিত আল্লাহকে দেখতে পাবে এবং তিনি তাঁর আরশ থেকে তাদের সামনে প্রকাশিত হবেন। জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগানে তিনি তাদের সামনে প্রকাশমান হবেন। তখন তাদের জন্য নূরের মিম্বর, মুক্তার মিম্বর, ইয়াকুতের মিম্বর, যবরজদের মিম্বর, স্বর্ণের মিম্বর এবং রূপার মিম্বর রাখা হবে। তাদের মধ্যে মর্যাদায় যারা নিচে থাকবে—যদিও তাদের মধ্যে কেউ নিচু নয়—তারা কস্তুরী ও কর্পূরের টিলার ওপর বসবে। মিম্বর বা চেয়ারে উপবিষ্টদের তুলনায় তারা নিজেদের আসনকে মোটেও তুচ্ছ মনে করবে না। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, পূর্ণিমার রাতে সূর্য ও চন্দ্র দেখার ব্যাপারে কি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে? আমরা বললাম: না।

তিনি বললেন: তদ্রূপ তোমাদের রবকে দেখার ব্যাপারেও তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকবে না। সেই মজলিসে এমন কেউ থাকবে না যার সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলবেন না। হিশাম বলেন: এটি হলো এক প্রকার নৈকট্য। এমনকি তিনি তাদের মধ্য থেকে কোনো এক ব্যক্তিকে বলবেন: "হে অমুক! তোমার কি মনে আছে সেই দিনের কথা, যেদিন তুমি অমুক অমুক কাজ করেছিলে?"

তিনি তাকে দুনিয়ার কিছু অবাধ্যতার কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। তখন সেই ব্যক্তি বলবে: হে রব! আপনি কি আমাকে ক্ষমা করে দেননি? তিনি বলবেন: "অবশ্যই, আমার ক্ষমার প্রশস্ততার কারণেই তুমি আজকের এই সুউচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছ।"

তারা যখন এই অবস্থায় থাকবে, হঠাৎ তাদের উপর থেকে একটি মেঘ তাদের ঢেকে ফেলবে এবং তাদের ওপর এমন সুগন্ধি বর্ষণ করবে যার মতো সুবাস তারা আগে কখনো পায়নি। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: অতঃপর মহান বরকতময় আল্লাহ বলবেন: "আমি তোমাদের জন্য যে সম্মান ও মর্যাদা প্রস্তুত করে রেখেছি, সেদিকে ওঠো এবং তোমাদের যা ইচ্ছা গ্রহণ করো।"

তিনি বললেন: এরপর তারা এমন এক বাজারে আসবে যা ফেরেশতারা ঘিরে রাখবে। সেখানে এমন সব বস্তু থাকবে যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে কখনো তা কল্পনাও আসেনি। তিনি বললেন: আমাদের যা ইচ্ছা হবে তা-ই আমাদের জন্য রাখা হবে। সেখানে কেনা-বেচা বলতে কিছু থাকবে না। সেই বাজারেই জান্নাতবাসীরা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তিনি বললেন: তখন উচ্চ মর্যাদাবান কোনো ব্যক্তি এগিয়ে আসবে এবং তার চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদাবান ব্যক্তির সাথে দেখা করবে—যদিও তাদের মধ্যে কেউ তুচ্ছ নয়—সে তার গায়ের পোশাক দেখে মুগ্ধ ও অভিভূত হবে। তাদের কথা শেষ হওয়ার আগেই দেখা যাবে তার গায়ের পোশাকের চেয়েও সুন্দর পোশাক তার জন্য সৃষ্টি হয়ে গেছে। কারণ সেখানে কারো দুঃখিত হওয়া সমীচীন নয়। তিনি বললেন: এরপর আমরা আমাদের আবাসে ফিরে যাব এবং আমাদের স্ত্রীরা আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারা বলবে: স্বাগতম ও অভিনন্দন! আপনি যখন আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন, তার চেয়েও অনেক বেশি সৌন্দর্য ও সুগন্ধি নিয়ে ফিরে এসেছেন। তখন সে ব্যক্তি বলবে: আজ আমরা আমাদের রব জাব্বার (মহা প্রতাপশালী) বরকতময় ও মহান আল্লাহর মজলিসে বসেছিলাম; তাই আমাদের এমন রূপ পরিবর্তন নিয়েই ফিরে আসা উচিত ছিল।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আসাকির বিন আল-মুরাহহিব আল-বাতাইহি আল-মুকরি; আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল কাদির; সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুযহিব; সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল কাতিয়ি; আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ; আমার পিতা (ইমাম আহমদ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন; আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন হাশিম বিন আল-কাসিম; আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ অর্থাৎ আল-মুআদ্দিব; তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি আতা আল-খুরাসানিকে বলতে শুনেছেন: আমি ওহাব বিন মুনাব্বিহ-এর সাথে দেখা করলাম যখন তিনি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন। আমি বললাম: আপনার কাছে আমি এই স্থানে অবস্থানকালে একটি হাদিস শুনতে চাই যা আমি আপনার পক্ষ থেকে মুখস্থ রাখব এবং তা সংক্ষেপ করুন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা নবী দাউদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী পাঠালেন: "হে ঈশার পুত্র দাউদ! আমার সম্মান, মর্যাদা ও মহত্ত্বের কসম! আমার বান্দাদের মধ্যে কোনো বান্দা যখন আমার সৃষ্টিজগতকে ছেড়ে কেবল আমাকেই অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে ধরে এবং আমি তার নিয়ত সম্পর্কে অবগত হই, তখন সাত আসমান ও সাত জমিন এবং এর মধ্যে যারা আছে তারা যদি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, তবুও আমি তাদের মধ্য থেকে তার জন্য বের হওয়ার পথ করে দেব। পক্ষান্তরে, আমার সম্মান ও মহত্ত্বের কসম! আমার বান্দাদের মধ্যে কোনো বান্দা যখন আমাকে ছেড়ে কোনো সৃষ্টিকে অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে ধরে এবং আমি তার নিয়ত সম্পর্কে অবগত হই, তখন আমি আসমানের সকল মাধ্যম তার হাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেই এবং তার দুই পায়ের নিচ থেকে জমিনকে ধসিয়ে দেই; এরপর সে কোন উপত্যকায় ধ্বংস হলো সে ব্যাপারে আমি পরোয়া করি না।"

এবং এর মাধ্যমেই আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আবদুল কারিম বিন মাকিল বিন মুনাব্বিহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ বিন মাকিল, তিনি বলেন: আমি ওহাব বিন মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছি: মূসা (আঃ) যখন আগুন দেখলেন, তখন তিনি চলতে থাকলেন এবং তার কাছাকাছি গিয়ে থামলেন। তিনি দেখলেন এক বিশাল আগুন যা একটি গাঢ় সবুজ গাছের ডাল থেকে টগবগ করে জ্বলছে। আগুন যত জ্বলছে তার বিশালতা তত বাড়ছে, অথচ সেই আগুনের দহনে গাছটির সবুজ আভা ও সৌন্দর্য ছাড়া আর কিছুই বাড়ছে না। তিনি দাঁড়িয়ে দেখছিলেন এবং এর রহস্য বুঝতে পারছিলেন না; শুধু এটাই ভাবছিলেন যে এটি হয়তো কোনো জ্বলন্ত গাছ। তিনি সেখান থেকে আগুন নেওয়ার জন্য কিছু একটা জ্বালাতে চাইলেন এবং কাছে গেলেন, কিন্তু গাছটির অত্যধিক সবুজ সতেজতা, ডালপালার প্রাচুর্য, পাতার ঘনত্ব এবং কাণ্ডের বিশালতা আগুনকে (গাছটি পুড়িয়ে ফেলতে) বাধা দিচ্ছিল। তিনি এই ভেবে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং আশা করছিলেন যে সেখান থেকে আগুনের কোনো অংশ খসে পড়বে আর তিনি তা গ্রহণ করবেন। যখন দীর্ঘক্ষণ হয়ে গেল, তিনি হাতে থাকা খড়কুটা দিয়ে আগুনের শিখা নিতে উদ্যত হলেন। মূসা (আঃ) যখন এটি করলেন, আগুন তাঁর দিকে ঝুঁকে এল যেন তা তাঁকে স্পর্শ করতে চায়। তিনি ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলেন, আবার ফিরে এলেন এবং আগুনের চারদিকে ঘুরতে লাগলেন। আগুন তাঁকে প্রলুব্ধ করছিল আর তিনিও তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। আগুনের নিভে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এতে তাঁর বিস্ময় বেড়ে গেল এবং মূসা (আঃ) এর রহস্য নিয়ে চিন্তা করতে লাগলেন। তিনি বললেন: এটি এক অপ্রতিরোধ্য আগুন যা থেকে শিখা নেওয়া যাচ্ছে না, অথচ এটি একটি গাছের মাঝখানে জ্বলছে কিন্তু তাকে পুড়িয়ে ফেলছে না। আবার এর বিশালতা থাকা সত্ত্বেও চোখের পলকে তা নিভে যাওয়ার মতো নয়। মূসা (আঃ) যখন এটি দেখলেন, তখন বললেন: এই আগুনের নিশ্চয়ই কোনো বিশেষ রহস্য আছে। অতঃপর তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন যে, এটি আদিষ্ট বা নিয়ন্ত্রিত; কিন্তু কে একে আদেশ করেছে বা কে একে সৃষ্টি করেছে এবং কেনই বা সৃষ্টি করা হয়েছে তা তিনি জানতেন না। তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন, বুঝতে পারছিলেন না ফিরে যাবেন না কি অপেক্ষা করবেন। তিনি যখন এই অবস্থায় ছিলেন, তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে এর উপরিভাগ দেখতে চাইলেন। দেখলেন তা প্রচণ্ড সবুজ। সেই সবুজাভ অংশ উজ্জ্বল ও শ্বেতবর্ণ ধারণ করতে করতে এক উজ্জ্বল নূরে পরিণত হলো, যা আসমান ও জমিনের মাঝে সূর্যের কিরণের মতো এক নূরের স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। এর দিকে তাকালে চোখ ধাঁধিয়ে যায়, যতবার তিনি সেদিকে তাকাচ্ছিলেন তাঁর দৃষ্টিশক্তি যেন ছিনিয়ে নেওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। তখন তাঁর ভয় ও ব্যাকুলতা তীব্র হয়ে উঠল। তিনি তাঁর দুই চোখ হাত দিয়ে ঢেকে নিলেন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। তিনি এক অদ্ভুত অনুভূতি ও আওয়াজ শুনতে পেলেন, শ্রোতারা এর আগে কখনো এমন মহান কিছু শোনেনি। মূসা (আঃ) যখন চরম উৎকণ্ঠায় নিপতিত হলেন এবং তাঁর ওপর ভয়াবহতা তীব্র হলো, এমনকি যা তিনি দেখছেন ও শুনছেন তাতে তাঁর জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলো, তখন সেই গাছ থেকে তাঁকে আহ্বান করা হলো। বলা হলো: হে মূসা! তিনি দ্রুত উত্তর দিলেন, যদিও তিনি জানতেন না কে তাঁকে ডাকছে। তাঁর এই দ্রুত উত্তর দেওয়ার কারণ ছিল কেবল আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়ার ব্যাকুলতা। তিনি বারবার বললেন: লাব্বাইক (আমি উপস্থিত)! আমি আপনার কণ্ঠস্বর শুনছি, আপনার উপস্থিতি অনুভব করছি, কিন্তু আপনার স্থান দেখতে পাচ্ছি না। তিনি (আল্লাহ) বললেন: আমি তোমার উপরে, তোমার সাথে, তোমার সামনে এবং তোমার নিজের চেয়েও তোমার নিকটবর্তী। মূসা (আঃ) যখন এটি উপলব্ধি করলেন, তখন তিনি জানলেন যে এটি তাঁর রব জল্লা ওয়া আয্যা (মহান ও পরাক্রমশালী) ছাড়া আর কারো জন্য শোভা পায় না। তিনি নিশ্চিত হয়ে বললেন: হে আমার ইলাহ! আপনিই কি তবে কথা বলছেন, নাকি আপনার কোনো দূত? মহান আল্লাহ বললেন: বরং আমিই তোমার সাথে কথা বলছি, সুতরাং আমার নিকটবর্তী হও। মূসা (আঃ) লাঠির ওপর দুই হাত রেখে ভর দিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন। তাঁর বুক কাঁপছিল, দুই পা টলমল করছিল, জিহ্বা জড়তাগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল এবং হৃদয় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তাঁর দেহের হাড়গুলো যেন ভার বহন করতে পারছিল না। তিনি প্রায় মৃতের মতো হয়ে গিয়েছিলেন, কেবল তাঁর মধ্যে প্রাণের স্পন্দন অবশিষ্ট ছিল। তিনি অত্যন্ত ভীত অবস্থায় হামাগুড়ি দিয়ে সেই গাছের কাছে পৌঁছালেন যেখান থেকে ডাক এসেছিল। রব তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁকে বললেন: হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কী? তিনি বললেন: ওটা আমার লাঠি। তিনি বললেন: ওটা দিয়ে তুমি কী করো? যদিও তিনি এ সম্পর্কে তাঁর চেয়েও বেশি জানতেন। মূসা (আঃ) বললেন: আমি এতে ভর দেই, এটি দিয়ে আমার বকরির পালের জন্য গাছের পাতা ঝেড়ে ফেলি এবং এতে আমার আরও অন্যান্য প্রয়োজন মেটে। লাঠির ব্যাপারে মূসার আরও কিছু প্রয়োজন ছিল; যেমন লাঠিটির দুটি শাখা ছিল এবং শাখার নিচে একটি বাঁকানো হাতল ছিল। রব তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁকে বললেন: হে মূসা, ওটা ফেলে দাও। মূসা (আঃ) মনে করলেন আল্লাহ হয়তো ওটা বর্জন করতে বলছেন; তাই তিনি বর্জনের উদ্দেশ্যে তা ছুড়ে ফেললেন। এরপর তাকিয়ে দেখলেন তা মানুষের দেখা সবচেয়ে বড় এক অজগর হয়ে গেছে। সেটি কোনো কিছু ধরার জন্য এমনভাবে কিলবিল করছিল যে পাথরখণ্ডকেও উটের কদমের মতো উপড়ে ফেলছিল। সেই বিশাল অজগরটি তার একটি বিষদাঁত দিয়ে বড় গাছের গোড়ায় আঘাত করে তা উপড়ে ফেলল। তার চোখ দুটি থেকে আগুন জ্বলছিল। লাঠির হাতলটি এখন কেশরযুক্ত ঘাড় হয়ে গেছে যা নিক্ষিপ্ত তীরের মতো দেখাচ্ছিল। লাঠির দুই শাখা এখন কুয়োর মতো বিশাল হাঁ-তে পরিণত হয়েছে যাতে দাঁত ও বিষদাঁতগুলো কটকট শব্দ করছিল। মূসা (আঃ) যখন এটি প্রত্যক্ষ করলেন, তখন পেছন ফিরে পালালেন এবং দ্বিতীয়বার ফিরে তাকাননি। তিনি বেশ দূরে চলে গেলেন এবং ভাবলেন যে তিনি সাপটির নাগালের বাইরে চলে এসেছেন। এরপর তাঁর রবের কথা মনে পড়ল এবং লজ্জায় তিনি থেমে গেলেন। তখন আওয়াজ এল: হে মূসা! যেখানে ছিলে সেখানেই ফিরে এসো।

তিনি প্রচণ্ড ভয় নিয়ে ফিরে এলেন। আল্লাহ বললেন: ওটা তোমার ডান হাত দিয়ে ধরো এবং ভয় পেয়ো না, আমি ওটাকে এর আগের রূপে ফিরিয়ে দেব।

তখন মূসা (আঃ)-এর পরনে ছিল পশমি জুব্বা যা তিনি কাঠের ছোট ছোট কাঠি দিয়ে আটকে রেখেছিলেন। যখন তাঁকে তা ধরার আদেশ দেওয়া হলো, তিনি তাঁর জুব্বার আস্তিন হাত দিয়ে পেঁচিয়ে নিলেন। তখন আল্লাহ তাঁকে বললেন: তোমার কী হয়েছে? হে মূসা! তুমি কি মনে করো যদি আল্লাহ একে তোমার অনিষ্টের অনুমতি দেন, তবে এই জুব্বা কি তোমাকে রক্ষা করতে পারবে? তিনি বললেন: না, কিন্তু আমি দুর্বল এবং আমি দুর্বলতা থেকেই সৃজিত। অতঃপর তিনি হাত বের করে সাপের ওপর রাখলেন, এমনকি তিনি দাঁত ও বিষদাঁতের ঘর্ষণ অনুভব করলেন। এরপর তিনি মুঠো পাকালেন এবং দেখলেন তা তাঁর সেই পূর্বপরিচিত লাঠি হয়ে গেছে। তাঁর হাত ঠিক সেই স্থানেই ছিল যেখানে তিনি ভর দেওয়ার সময় দুই শাখার মাঝখানে হাত রাখতেন। তখন মহান আল্লাহ তাঁকে বললেন: নিকটবর্তী হও। আল্লাহ তাকে আরও কাছে নিতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি গাছের কাণ্ডের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে স্থির হলেন। তখন তাঁর কাঁপুনি চলে গেল। তিনি লাঠিতে দুই হাত রাখলেন এবং মাথা ও ঘাড় নিচু করে বিনত হলেন। এরপর আল্লাহ তাঁকে বললেন: আজ আমি তোমাকে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছি যা তোমার পর আর কোনো নবীর জন্য সমীচীন হবে না। আমি তোমাকে নিকটবর্তী করেছি এবং ঘনিষ্ঠ করেছি এমনকি তুমি আমার কথা শুনলে এবং তুমি আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী স্থানে ছিলে। সুতরাং আমার রিসালাত নিয়ে বেরিয়ে পড়ো। তুমি আমার চোখের সামনে এবং আমার শ্রবণাধীন রয়েছ। নিশ্চয়ই তোমার সাথে রয়েছে আমার হাত এবং আমার সাহায্য। আমি তোমাকে আমার রাজত্বের একটি বর্ম পরিয়ে দিয়েছি যার মাধ্যমে তুমি আজ আমার কাজ পূর্ণ করবে। তুমি আমার সৈন্যদের মধ্যে এক মহান সৈন্য। আমি তোমাকে আমার সৃষ্টিজগতের এক দুর্বল সৃষ্টির কাছে পাঠিয়েছি, যে আমার নিয়ামত পেয়ে উদ্ধত হয়েছে, আমার কৌশল সম্পর্কে নির্ভয় হয়েছে এবং দুনিয়া তাকে আমার থেকে বিমুখ করে পথভ্রষ্ট করেছে। এমনকি সে আমার হক অস্বীকার করেছে, আমার রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) অস্বীকার করেছে এবং আমাকে বাদ দিয়ে অন্যের ইবাদত করেছে এবং দাবি করেছে যে সে আমাকে চেনে না। আমি আমার সম্মানের কসম খেয়ে বলছি, যদি আমার ও সৃষ্টির মাঝে দলিল ও ওজর পেশ করার নিয়ম না থাকত, তবে আমি তাকে এমন প্রবল বিক্রমে পাকড়াও করতাম যে তার ওপর আমার রাগের কারণে আসমান, জমিন, পাহাড় ও সমুদ্রও ক্রোধান্বিত হতো। আমি যদি আসমানকে আদেশ করতাম তবে সে তাকে পাথর ছুড়ে ধ্বংস করত, জমিনকে আদেশ করলে সে তাকে গিলে ফেলত, পাহাড়কে আদেশ করলে সে তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করত এবং সমুদ্রকে আদেশ করলে সে তাকে ডুবিয়ে মারত। কিন্তু সে আমার কাছে তুচ্ছ এবং আমার নজরে সে পতিত। আমার ধৈর্য তাকে অবকাশ দিয়েছে এবং আমার কাছে যা আছে তা দিয়েই আমি অমুখাপেক্ষী। আর আমার জন্যই তা শোভা পায়, কারণ আমিই প্রকৃত অভাবমুক্ত, আমি ছাড়া আর কেউ অভাবমুক্ত নেই। সুতরাং তার কাছে আমার বাণী পৌঁছে দাও এবং তাকে আমার ইবাদত, তাওহীদ এবং আমার নামের একনিষ্ঠতার দিকে আহ্বান করো। তাকে আমার নিদর্শনসমূহ স্মরণ করিয়ে দাও এবং আমার প্রতিশোধ ও শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করো। তাকে জানিয়ে দাও যে আমার ক্রোধের সামনে কোনো কিছুই টিকে থাকতে পারে না। আর এসবের মাঝে তাকে নরম কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে। তাকে জানিয়ে দাও যে, আমি ক্রোধ ও শাস্তির চেয়ে ক্ষমা ও দয়ার দিকেই বেশি দ্রুত। আমি তাকে দুনিয়ার যে রাজকীয় পোশাক পরিয়েছি তা যেন তোমাকে ভীত না করে। কারণ তার কপালের চুল (নাছিয়াহ) আমার হাতে। আমার অনুমতি ছাড়া সে পলক ফেলতে পারে না, কথা বলতে পারে না এবং শ্বাসও নিতে পারে না। তাকে বলো: তোমার রবের ডাকে সাড়া দাও, কারণ তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাকে চারশ বছর অবকাশ দিয়েছেন এবং এই পুরো সময় তুমি তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলে। নিজেকে তাঁর মতো হওয়ার স্পর্ধা দেখিও না, অথচ তিনি তোমার ওপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তোমার জন্য জমিন থেকে ফসল ফলান। তুমি অসুস্থ হওনি, বার্ধক্যে জরাগ্রস্ত হওনি, অভাবী হওনি এবং পরাজিতও হওনি। তিনি যদি চাইতেন তবে খুব দ্রুতই এগুলো কেড়ে নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি পরম সহনশীল ও মহান ধৈর্যশীল। তুমি নিজে এবং তোমার ভাই আত্মনিয়োগ করো এবং ধৈর্য ও সওয়াবের আশায় তাঁর (আল্লাহর) কাজে সংগ্রাম করো। আমি যদি চাইতাম তবে তার কাছে এমন বাহিনী পাঠাতাম যা মোকাবিলা করার সাধ্য তার ছিল না, কিন্তু আমি চাই এই দুর্বল বান্দা—যে নিজেকে ও নিজের দলকে দেখে আত্মমুগ্ধ হয়েছে—সে যেন জানতে পারে যে, আমার অনুমতিক্রমে অল্প সংখ্যক দল—আর আমার ক্ষেত্রে কোনো কিছুই অল্প নয়—বিশাল দলের ওপর বিজয়ী হয়। তার এবং ভোগবিলাসী ব্যক্তিদের জাঁকজমক তোমাদের যেন মুগ্ধ না করে। আমি যদি চাইতাম তবে তোমাদের দুনিয়ার এমন সাজসজ্জা দিতে পারতাম যা দেখে ফেরাউন বুঝতে পারত যে সে যা পেয়েছে তোমাদের দেওয়া নিআমতের কাছে তা তুচ্ছ, কিন্তু আমি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করিনি এবং তা তোমাদের থেকে সরিয়ে রেখেছি। আমি আমার বন্ধুদের সাথে এমনই করি। পূর্বকাল থেকেই আমি তাদের জন্য এটিই পছন্দ করেছি। আমি তাদের দুনিয়ার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য থেকে এমনভাবে আগলে রাখি যেভাবে একজন মমতাময়ী রাখাল তার উটকে ধ্বংসাত্মক চারণভূমি থেকে আগলে রাখে। আমি তাদের দুনিয়ার মোহ ও আরাম-আয়েশ থেকে সরিয়ে রাখি যেভাবে একজন দরদী রাখাল তার উটকে বিপদের স্থান থেকে দূরে রাখে। এটি তাদের প্রতি আমার অবজ্ঞার কারণে নয়, বরং তাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে পূর্ণ ও নিখুঁত সম্মান বরাদ্দ রাখার জন্য, যাতে দুনিয়া তাদের কলুষিত করতে না পারে এবং প্রবৃত্তি তাদের পথভ্রষ্ট করতে না পারে। জেনে রেখো, দুনিয়াবিমুখতার (যুহদ) চেয়ে উত্তম কোনো গুণ দিয়ে বান্দারা আমার কাছে সুশোভিত হতে পারে না। কারণ এটিই মুত্তাকীদের ভূষণ। তাদের ওপর এর এক বিশেষ পোশাক থাকে যার মাধ্যমে তাদের প্রশান্তি ও বিনয় চেনা যায়। তাদের কপালে সিজদার চিহ্ন থাকে। তারাই প্রকৃত অর্থে আমার বন্ধু (ওলী)। তুমি যখন তাদের সাথে দেখা করবে, তখন তাদের প্রতি বিনয়ী হয়ো এবং তাদের জন্য তোমার হৃদয় ও জিহ্বাকে নরম কোরো। জেনে রেখো, যে ব্যক্তি আমার কোনো বন্ধুকে অপমান করে বা ভয় দেখায়, সে যেন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো এবং আমাকে কষ্ট দিল। সে নিজেকে আমার ক্রোধের সম্মুখীন করল এবং আমাকে আহ্বান করল। আর আমি আমার বন্ধুদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দ্রুত। যে আমার সাথে যুদ্ধ করে সে কি মনে করে যে সে আমার সামনে টিকে থাকবে? অথবা যে আমার বিরুদ্ধে লড়াই করে সে কি মনে করে যে আমাকে অক্ষম করে দেবে? অথবা যে আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সে কি মনে করে যে আমাকে ছাড়িয়ে যাবে বা পালিয়ে বাঁচবে? তা কীভাবে সম্ভব যখন আমিই দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের (বন্ধুদের) পক্ষ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী। আমি তাদের সাহায্য করার দায়িত্ব অন্য কারো ওপর ছেড়ে দেই না। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর মূসা (আঃ) ফেরাউনের শহরের দিকে এগিয়ে গেলেন। ফেরাউন সেই শহরের চারদিকে এক কৃত্রিম বন তৈরি করে তাতে সিংহ রেখে দিয়েছিল। সিংহগুলো প্রশিক্ষকদের অধীনে থাকত এবং কারো ওপর লেলিয়ে দিলে তাকে ছিঁড়ে ফেলত। বনের ভেতর দিয়ে শহরে ঢোকার চারটি দরজা ছিল। মূসা (আঃ) সেই প্রধান পথ দিয়ে আসলেন যা ফেরাউন দেখতে পায়। সিংহগুলো যখন তাঁকে দেখল, তারা শেয়ালের মতো আওয়াজ করতে লাগল। প্রশিক্ষকরা এই অদ্ভুত আচরণ দেখে অবাক হলো এবং ফেরাউনের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। মূসা (আঃ) এগিয়ে গিয়ে ফেরাউনের দরজায় পৌঁছালেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন। তাঁর পরনে ছিল পশমি জুব্বা ও পায়জামা। দারোয়ান তাঁর এই দুঃসাহস দেখে অবাক হয়ে তাঁকে কোনো অনুমতি না দিয়েই বাধা দিল। সে বলল: তুমি কি জানো তুমি কার দরজায় আঘাত করছ? তুমি তোমার প্রভুর (ফেরাউন) দরজায় আঘাত করছ।

তিনি বললেন: আমি, তুমি এবং ফেরাউন—সবাই আমার রব তাবারাকা ওয়া তায়ালার বান্দা; আমি তাঁরই সাহায্যকারী। এভাবে তিনি পর্যায়ক্রমে দারোয়ানদের সংবাদ দিতে লাগলেন এবং খবরটি ভেতরে পৌঁছাল। ফেরাউনের সত্তরজন পর্দানশীন প্রহরী ছিল। তাদের প্রত্যেকের অধীনে এত সৈন্য ছিল যা আজকের দিনের কোনো বড় আমিরের অধীনে থাকে। অবশেষে ফেরাউনের কাছে খবর পৌঁছাল। সে বলল: তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।

তাঁকে ভেতরে নিয়ে আসা হলো। তিনি যখন সামনে আসলেন, ফেরাউন বলল: আমি কি তোমাকে চিনি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। ফেরাউন বলল: আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি? তখন মূসা (আঃ) তাকে সেই উত্তর দিলেন যা মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। ফেরাউন বলল: ওকে ধরো! তখন মূসা (আঃ) তাদের সাথে মোকাবিলা শুরু করলেন এবং নিজের লাঠি নিক্ষেপ করলেন। সাথে সাথে সেটি এক বিশাল অজগরে পরিণত হলো। সেটি মানুষের ওপর চড়াও হলে তারা দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে পালাতে লাগল এবং হুড়োহুড়িতে তাদের পঁচিশ হাজার মানুষ মারা গেল। তারা একে অপরকে পদদলিত করে মারল। ফেরাউনও পরাজিত হয়ে পালিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। সে মূসা (আঃ)-কে বলল: আমাদের ও তোমার মাঝে একটি সময় নির্ধারণ করো যখন আমরা বিষয়টি দেখব।

মূসা (আঃ) তাকে বললেন: আমাকে সেই নির্দেশ দেওয়া হয়নি, বরং আমাকে তোমার সাথে চূড়ান্ত ফয়সালার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তুমি যদি আমার কাছে বেরিয়ে না আসো, তবে আমিই তোমার কাছে ঢুকে পড়ব।

অতঃপর মহান আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর নিকট ওহী পাঠালেন যে, তুমি তার ও তোমার মাঝে একটি সময় নির্ধারণ করো এবং তাকেই বলো সময় নির্ধারণ করতে। এরপর ফেরাউন বলল: চল্লিশ দিন পর সময় নির্ধারণ করা হোক। তিনি তা-ই করলেন। ফেরাউন আগে চল্লিশ দিনে একবার মলত্যাগের প্রয়োজন বোধ করত, কিন্তু সেই দিন তার সেই অবস্থা চল্লিশবার হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর মূসা (আঃ) শহর থেকে বেরিয়ে গেলেন। তিনি যখন সিংহদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তারা লেজ নাড়তে নাড়তে মূসার সাথে সাথে তাঁকে এগিয়ে দিতে চলল; তারা তাঁকে বা বনী ইসরায়েলের কাউকেই কোনো আক্রমণ করল না।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ তাখরিজি শামসিদ্দীন আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أَنْبَأَنَا أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السِّلَفِيُّ، أنبا الْحَافِظُ أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَرْدَانِيُّ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الْبَرْمَكِيُّ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ الْجَرَادِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ، ثنا بُهْلُولُ بْنُ إِسْحَاقَ، ثنا مُهَاجِرٌ الْعَامِرِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، قَالَ: «أَلا إِنَّ‌‌ الدُّنْيَا قَدِ ارْتَحَلَتْ مُدْبِرَةً، وَالآخِرَةُ مُقْبِلَةً، وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهَا بَنُونَ فَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الآخِرَةِ، وَلا تَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الدُّنْيَا، الْيَوْمَ عَمَلٌ وَلا حِسَابٌ، وَغَدًا حِسَابٌ وَلا عَمَلٌ»

وَأَنْبَأَنَا السِّلَفِيُّ، أنبا أَبُو مَسْعُودٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ السُّوذَرْجَانِيُّ، وَأَبُو الْقَاسِمِ الْفَضْلُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ بُنْدَارٍ السُّكَّرِيُّ، قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ: أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْدَانَ الْحَبَّالُ، وَقَالَ أَبُو الْقَاسِمِ، أنْبَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الذَّكْوَانِيُّ، قَالا: ثنا أَبُو مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَكُونٍ الْفَابَجَانِيُّ، ثنا جَدِّي أَبُو مُوسَى عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ الْعَسْقَلانِيُّ، ثنا أَبُو عَمْرٍو الصَّنْعَانِيُّ، ثنا هِشَامٌ، قَالَ: " بَلَغَنِي أَنَّ مُنَادِيًا يُنَادِي مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ: أَيْنَ الْعَابِدُونَ؟ فَيَقُومُ نَاسٌ فَيُصَلُّونَ، ثُمَّ يُنَادِي فِي أَوْسَطِ اللَّيْلِ أَيْنَ الْقَانِتُونَ؟ فَيَقُومُ نَاسٌ فَيُصَلُّونَ، ثُمَّ يُنَادِي بِالسَّحَرِ: أَيْنَ الْمُسْتَغْفِرُونَ؟ فَيَقُومُ نَاسٌ فَيُصَلُّونَ، فَإِذَا أَصْبَحَ، قَالَ: أَيْنَ الْغَافِلُونَ؟ ".
৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সিলাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাফিজ আবু আলি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-বারদানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে উমর আল-বারমাকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আল-জারাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বুহলুল ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাজির আল-আমিরি, আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «জেনে রেখো,‌‌ দুনিয়া পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে বিদায় নিচ্ছে আর আখিরাত সামনে এগিয়ে আসছে। এ দুটির প্রত্যেকেরই সন্তানাদি (অনুসারী) রয়েছে। সুতরাং তোমরা আখিরাতের সন্তান হও এবং দুনিয়ার সন্তান হয়ো না। আজ আমল করার সুযোগ আছে কিন্তু হিসাব নেই, আর আগামীকাল হিসাব হবে কিন্তু আমল করার সুযোগ থাকবে না।»

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সিলাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মাসউদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আস-সুজারজানি এবং আবুল কাসিম আল-ফজল ইবনে আলি ইবনে বুন্দার আস-সুক্কারি। আবু মাসউদ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামদান আল-হাব্বাল। আর আবুল কাসিম বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আজ-জাকওয়ানি। তারা উভয়ই বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাকুন আল-ফাবজানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা আবু মুসা ঈসা ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদম ইবনে আবি ইয়াস আল-আসকালানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর আস-সানআনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, তিনি বলেছেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাতের প্রথম ভাগে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন: ইবাদতকারীরা কোথায়? তখন কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে। এরপর রাতের মধ্যভাগে তিনি ঘোষণা করেন: অনুগতরা কোথায়? তখন কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে। এরপর সাহরির সময় তিনি ঘোষণা করেন: ক্ষমা প্রার্থনাকারীরা কোথায়? তখন কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে। অতঃপর যখন ভোর হয়, তখন তিনি বলেন: গাফেল বা উদাসীনরা কোথায়?"।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ তাখরিজি শামসিদ্দীন আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - وَأَنْبَأَنَا أَبُو الْفَتْحِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَاتِيلَ، أنبا الْإِمَامُ أَبُو الْخَطَّابِ مَحْفُوظُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَلْوَذَانِيُّ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْجَازِرَيُّ، أنبا أَبُو الْفَرَجِ الْمُعَافَى بْنُ زَكَرِيَّا الْجَرِيرِيُّ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْخُطَبِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ بْنِ مُوسَى، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ الْمُسَيِّبِ بْنِ شَرِيكٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَقَالَ:

يَا عُمَرَ الْخَيْرِ،‌‌ جُزِيتَ الْجَنَّةَ ،

إِنَّ بَنَاتِي عُرَاةً فَاكْسُهُنَّهْ

أَقْسِمْ بِاللَّهِ لَتَفْعَلَنَّهْ ،

فَقَالَ عُمَرُ: «وَإِنْ لَمْ أَفْعَلْ يَكُونُ مَاذَا
؟» قَالَ:

إِذًا أَبَا حَفْصٍ لأَذَهْبَنَّهُ.

قَالَ: «فَإِذَا ذَهَبْتَ يَكُونُ مَاذَا؟» قَالَ:

يَكُونُ عَنْ حَالِي لَتَسْأَلَنَّهُ ،

يَوْمَ تَكُونُ الأُعْطِيَاتُ ثَمَّهْ ،

وَالْوَاقِفُ الْمَسْئُولُ بَيْنَهُنَّهْ ،

إِمَّا إِلَى نَارٍ وَإِمَّا إِلَى جَنَّةْ.

فَبَكَى عُمَرُ رضي الله عنه حَتَّى أَخْضَلَ لِحْيَتَهُ، ثُمَّ قَالَ: «يَا غُلامُ، أَعْطِهِ قَمِيصِي هَذَا لِذَلِكَ الْيَوْمِ لا لِشِعْرِهِ، أَمَا وَاللَّهِ مَا أَمْلِكُ غَيْرَهُ»

وَأَنْبَأَنَا السِّلَفِيُّ، أنبا ابْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَتِيقِيُّ، سَمِعْتُ عَبْدَ الْعَزِيزَ غُلامَ الزَّجَّاجِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا الْفَرَجِ الْهَنْدُبَائِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ رضي الله عنه: رَأَيْتُ أَبِي رضي الله عنه فِي النَّوْمِ، فَقُلْتُ: أَتَاكَ مُنْكَرٌ وَنَكِيرٌ، قَالَ: نَعَمْ، فَقُلْتُ: فَمَا فَعَلْتَ مَعَهُمَا؟ فَقَالَ قَالا لِي: مَنْ رَبُّكَ؟ فَقُلْتُ: أَمَا تَسْتَحِيَانِ مِنِّي تَقُولانِ لِي هَذَا، فَقَالا: يَا أَحْمَدُ اعْذُرْنَا فَإِنَّا بِهَذَا أُمِرْنَا، وَتَرَكَانِي وَمَضَيَا.

وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: كُنْتُ أَزُورُ قَبْرَ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ رضي الله عنه فَتَرَكْتُهُ مُدَّةً، فَرَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ قَائِلا يَقُولُ: لِمَ تَرَكْتَ زِيَارَةَ قَبْرِ إِمَامِ السُّنَّةِ؟ وَأَنْبَأَنَا أَبُو طَالِبٍ الْمُبَارَكُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خُضَيْرٍ، أنبا أَبُو غَالِبٍ شُجَاعُ بْنُ فَارِسٍ الذُّهْلِيُّ، أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى بْنِ جَعْفَرٍ الْحَنْبَلِيُّ الْمُقْرِئُ، وَأَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ بْنِ الْعُشَارِيِّ، قَالا: ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ دُوسْتَ الْعَلافُ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي عَلِيٍّ الْحُسَيْنِ بْنِ صَفْوَانٍ الْبَرْذَعِيِّ، وَأَنَا أَسْمَعُ، حَدَّثَكُمْ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا، ثنا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ الْحُسَيْنِ، ثنا حَكِيمُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا مُطَرِّفُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْهُذَلِيُّ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ، قَالَ: أَظُنُّهُ عَبْدَ النُّورِ السَّلِيطِيَّ، قَالَ: تَعَبَّدَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ فَكَانَ يُحْيِي اللَّيْلَ صَلاةً، فَقَالَتْ أُمُّهُ: يَا بُنَيَّ، لَوْ نِمْتَ مِنَ اللَّيْلِ شَيْئًا، فَقَالَ: مَا شِئْتِ يَا أُمَّهْ، إِنْ شِئْتِ نِمْتُ الْيَوْمَ وَلَمْ أَنَمْ غَدًا فِي الآخِرَةِ، وَإِنْ شِئْتِ لَمْ أَنَمِ الْيَوْمَ لَعَلِّي أُدْرِكُ الرَّاحَةَ غَدًا مَعَ الْمُسْتَرِيحِينَ مِنْ عُسْرِ الْحِسَابِ، قَالَتْ: يَا بُنَيَّ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ لَكَ إِلا الرَّاحَةَ فَرَاحَةُ الآخِرَةِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ رَاحَةِ الدُّنْيَا، فَدُونَكَ يَا بُنَيَّ فَحَالِفِ السَّهَرَ أَيَّامَ الْحَيَاةِ لَعَلَّكَ تَنْجُو مِنْ عُسْرِ ذَلِكَ الْيَوْمِ، وَمَا أَرَاكَ نَاجِيًا.

فَصَرَخَ الْفَتَى صَرْخَةً فَسَقَطَ بَيْنَ يَدَيْهِ مَيِّتًا، فَاجْتَمَعَتْ عِنْدَهَا رِجَالاتُ بَنِي تَمِيمٍ يُعَزُّونَهَا، وَهِيَ تَقُولُ: وَابُنَيَّاهُ ، قَتِيلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَابُنَيَّاهُ قَتِيلَ الآخِرَة، وَكَانُوا يَرَوْنَ أَنَّهَا أَفْضَلُ مِنَ ابْنِهَا.

وَبِهِ ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، ثنا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبِّرِ، ثنا أَعْيَنُ الْخَيَّاطُ أَبُو حَفْصٍ، قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ، يَقُولُ: رَأَيْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ مُسْلِمَ بْنَ يَسَارٍ فِي مَنَامِي بَعْدَ مَوْتِهِ بِسَنَةٍ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيَّ السَّلامَ، فَقُلْتُ: مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَرُدَّ عَلَيَّ السَّلامَ؟ قَالَ: أَنَا مَيِّتٌ فَكَيْفَ أَرُدُّ السَّلامَ؟ قَالَ: قُلْتُ: فَمَاذَا لَقِيتَ يَوْمَ الْمَوْتِ؟ قَالَ: فَدَمَعَتْ عَيْنَا مَالِكٍ عِنْدَ ذَلِكَ، وَقَالَ: لَقِيتُ وَاللَّهِ أَهْوَالا وَزَلازِلَ عِظَامًا شِدَادًا.

قَالَ: قُلْتُ: فَمَا كَانَ بَعْدُ؟ قَالَ: وَمَا تَرَاهُ يَكُونُ مِنَ الْكَرِيمِ؟ قَبِلَ مِنَّا الْحَسَنَاتِ وَعَفَى لَنَا عَنِ السَّيِّئَاتِ، وَضَمِنَ لَنَا التَّبِعَاتِ.

قَالَ: ثُمَّ شَهِقَ مَالِكٌ شَهْقَةً خَرَّ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ قَالَ: فَلَبِثَ بَعْدَ ذَلِكَ أَيَّامًا مَرِيضًا مِنْ غَشْيَتِهِ، ثُمَّ مَاتَ فِي مَرَضِهِ، فَيَرَوْنَ أَنَّ قَلْبَهُ انْصَدَعَ ، فَمَاتَ رحمه الله.

وَبِهِ ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا مُحَمَّدٌ، وَحَدَّثَنِي رَوْحُ بْنُ سَلَمَةَ الْوَرَّاقُ، حَدَّثَنِي مُسْلِمٌ الْعَبَّادَانِيُّ، قَالَ: قَدِمَ عَلَيْنَا مَرَّةً صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، وَعَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زَيْدٍ، وَعُتْبَةُ الْغُلامُ، وَسَلَمَةُ الأَسْوَارِيُّ، فَنَزَلُوا عَلَى السَّاحِلِ، قَالَ: فَهَيَّأْتُ لَهُمْ ذَاتَ لَيْلَةٍ طَعَامًا فَدَعَوْتُهُمْ إِلَيْه فَجَاءُوا، فَلَمَّا وَضَعْتُ الطَّعَامَ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ، إِذَا قَائِلٌ يَقُولُ فِي بَعْضِ أُولَئِكَ الْمُطَّوِّعَةِ، وَهُوَ عَلَى السَّاحِلِ مَارًّا رَافِعًا صَوْتَهُ، يَقُولُ: وَتُلْهِيكَ عَنْ دَارِ الْخُلُودِ مَطَاعِمُ وَلَذَّةُ نَفْسٍ غِبُّهَا غَيْرُ نَافِعٍ فَقَالَ: فَصَاحَ عُتْبَةُ صَيْحَةً، وَسَقَطَ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ وَبَكَى الْقَوْمُ فَرَفَعْنَا الطَّعَامَ، وَمَا ذَاقُوا مِنْهُ وَاللَّهِ لُقْمَةً.

وَأَنْبَأَنَا الْحَافِظُ السِّلَفِيُّ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْعَتِيقِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُطَّلِبِ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الْفَضْلَ بْنَ أَحْمَدَ الزُّبَيْدِيُّ الْمُقْرِئُ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ ، يَقُولُ وَقَدْ أَقْبَلَ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ بِأَيْدِيهِمُ الْمَحَابِرُ فَأَوْمَأَ إِلَيْهَا، وَقَالَ: هَذِهِ سُرُوجُ الْإِسْلَامِ.

يَعْنِي الْمَحَابِرَ.

وَبِهِ قَالَ: ثنا الْعَتِيقِيُّ، قَالَ: قَالَ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا عِيسَى عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ زَاذَانَ الرَّزَّازَ، قَالَ: كُنْتُ فِي جَامِعِ الْمَدِينَةِ، وَقَدْ صَلَّيْنَا الْعَصْرَ، وَأَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ حَاضِرٌ فَسَمِعْتُهُ، يَقُولُ: اللَّهُمَّ مَنْ كَانَ عَلَى هَوًى أَوْ عَلَى رَأْيٍ وَهُوَ يَظُنُّ أَنَّهُ عَلَى حَقٍّ، وَلَيْسَ هُوَ عَلَى الْحَقِّ فَرُدَّهُ إِلَى الْحَقِّ حَتَّى لا يَضِلَّ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ أَحَدٌ، اللَّهُمَّ لا تَشْغَلْ قُلُوبَنَا بِمَا تَكَفَّلْتَ لَنَا بِهِ، وَلا تَجْعَلْنَا فِي رِزْقِنَا خَوْلا لِغَيْرِكَ، وَلا تَمْنَعْنَا خَيْرَ مَا عِنْدَكَ بِشَرِّ مَا عِنْدَنَا، وَلا تُرِنَا حَيْثُ نَهَيْتَنَا، وَلا تَفْقِدْنَا مِنْ حَيْثُ أَمَرْتَنَا، أَعِزَّنَا وَلا تُذِلَّنَا، أَعِزَّنَا بِالطَّاعَةِ وَلا تُذِلَّنَا بِالْمَعَاصِي.
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন শাতিল, তিনি ইমাম আবু আল-খাত্তাব মাহফূজ বিন আহমাদ আল-কালওয়াযানী থেকে, তিনি আবু আলী মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-জাযারি থেকে, তিনি আবুল ফরাজ আল-মুআফা বিন যাকারিয়া আল-জারিরি থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আলী বিন ইসমাইল আল-খুতাবি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইউনুস বিন মুসা থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন উতবাহ থেকে, তিনি আমার পিতা থেকে, তিনি মুসাইয়্যিব বিন শারিক থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব বিন উবাইদুল্লাহ বিন আবি বাকরাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু বাকরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক বেদুইন উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট এসে বলল:

হে কল্যাণের আধার উমর, জান্নাত হোক আপনার প্রতিদান,

নিশ্চয়ই আমার কন্যারা বিবস্ত্র, তাই তাদের পরিধান করান,

আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি অবশ্যই তা করবেন।

উমর বললেন: "আর যদি আমি না করি, তবে কী হবে?"
সে বলল:

তবে, হে আবু হাফস, আমি অবশ্যই চলে যাব।

তিনি বললেন: "তুমি চলে গেলে কী হবে?" সে বলল:

তবে আমার অবস্থা সম্পর্কে আপনি অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবেন,

সেই দিন যখন সেখানে পুরস্কারসমূহ প্রদান করা হবে,

এবং উপস্থিত ব্যক্তিকে তাদের মাঝে জবাবদিহি করতে হবে,

হয় জাহান্নামের দিকে, নতুবা জান্নাতের দিকে।

তখন উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কাঁদতে লাগলেন এমনকি তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। এরপর তিনি বললেন: "হে বালক, সেই দিনের (মুক্তির) জন্য তাকে আমার এই জামাটি দিয়ে দাও, তার কবিতার জন্য নয়। আল্লাহর কসম, এটি ছাড়া আমার আর কোনো জামা নেই।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সিলাফি, তিনি ইবনু আব্দুল জাব্বার থেকে, তিনি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আতিকি থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ গুলাম আয-যাজ্জাজ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবুল ফরাজ আল-হানদুবানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে বলতে শুনেছি: আমি আমার পিতাকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) স্বপ্নে দেখলাম, আমি বললাম: আপনার কাছে কি মুনকার ও নাকির এসেছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: আপনি তাদের সাথে কী করলেন? তিনি বললেন: তারা আমাকে বলল: তোমার রব কে? আমি বললাম: তোমরা কি আমাকে এ কথা বলতে লজ্জা পাচ্ছ না? তারা বলল: হে আহমাদ, আমাদের ক্ষমা করবেন, কারণ আমাদের এভাবেই আদেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা আমাকে ছেড়ে চলে গেল।

আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আমি আহমাদ বিন হাম্বলের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কবর যিয়ারত করতাম, এরপর কিছুদিন যিয়ারত ছেড়ে দিলাম। তখন স্বপ্নে একজনকে বলতে শুনলাম: কেন আপনি সুন্নাহর ইমামের কবর যিয়ারত করা ছেড়ে দিলেন? আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আল-মুবারক বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন খুদাইর, তিনি আবু গালিব শুজা বিন ফারিস আয-যুহলি থেকে, তিনি আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন জাফর আল-হাম্বলি আল-মুকরি এবং আবু তালিব মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আল-ফাতহ বিন আল-উশারি থেকে, তাঁরা দুজনে বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন দুস্তা আল-আল্লাফ, তিনি বলেন: আবু আলী আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আল-বারযাঈর নিকট আমার উপস্থিতিতে পড়া হয়েছে যে, আপনাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবিদ দুনইয়া, তিনি মুহাম্মাদ অর্থাৎ ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি হাকিম বিন জাফর থেকে, তিনি মুতাররিফ বিন আবু বকর আল-হুজালি থেকে, তিনি বসরা নিবাসী এক ব্যক্তি থেকে, তিনি বলেন: আমার ধারণা তিনি আব্দুল নূর আস-সালিাতি, তিনি বলেন: বনু তামীমের এক ব্যক্তি ইবাদতে মগ্ন হলেন এবং সারা রাত সালাতে কাটিয়ে দিতেন। তখন তাঁর মা বললেন: হে বৎস, রাতের কিছু অংশ যদি তুমি ঘুমাতে! তিনি বললেন: হে মা, আপনি যা চান। আপনি চাইলে আমি আজ ঘুমাব এবং কাল আখিরাতে ঘুমাব না। আর আপনি চাইলে আমি আজ জাগরিত থাকব যাতে কাল হাশরের কঠিন হিসাব থেকে নাজাতপ্রাপ্ত আরামকারীদের সাথে আমি শান্তি পেতে পারি। মা বললেন: হে বৎস, আল্লাহর কসম, আমি তোমার জন্য কেবল আরামই চেয়েছি। আর আখিরাতের আরাম আমার কাছে দুনিয়ার আরামের চেয়ে বেশি প্রিয়। সুতরাং হে বৎস, তুমি তোমার জীবনের দিনগুলোতে বিনিদ্র রজনী যাপনে সচেষ্ট হও, সম্ভবত তুমি সেই দিনের কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে, যদিও আমি তোমাকে মুক্তি পেতে দেখছি না।

তখন যুবকটি এক চিৎকার দিয়ে তাঁর সামনেই মৃত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ল। বনু তামীমের পুরুষেরা তাঁর মায়ের কাছে শোক প্রকাশ করতে সমবেত হলো। আর তিনি বলছিলেন: হায় আমার সন্তান! কিয়ামতের দিনের নিহত! হায় আমার সন্তান! আখিরাতের জন্য নিহত! লোকেরা মনে করত যে সেই নারী তাঁর পুত্রের চেয়েও উত্তম ছিলেন।

তাঁর মাধ্যমেই আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ, তিনি মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি দাউদ বিন আল-মুহাব্বির থেকে, তিনি আইয়ুন আল-খাইয়াত আবু হাফস থেকে, তিনি বলেন: আমি মালিক বিন দীনারকে বলতে শুনেছি: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুসলিম বিন ইয়াসারকে তাঁর মৃত্যুর এক বছর পর স্বপ্নে দেখলাম। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি সালামের উত্তর দিলেন না। আমি বললাম: কিসে আপনাকে আমার সালামের উত্তর দিতে বাধা দিল? তিনি বললেন: আমি তো মৃত, আমি কীভাবে সালামের উত্তর দেব? তিনি বলেন: আমি বললাম: আপনি মৃত্যুর পর কিসের সম্মুখীন হয়েছেন? তখন মালিকের দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হলো এবং তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি অতি ভয়াবহ আতঙ্ক ও প্রচণ্ড প্রকম্পনের সম্মুখীন হয়েছি।

তিনি বলেন: আমি বললাম: এরপর কী হলো? তিনি বললেন: এরপর মহান দয়ালু রবের নিকট থেকে কী হতে পারে বলে তুমি মনে করো? তিনি আমাদের নেক আমলগুলো কবুল করেছেন, আমাদের পাপগুলো ক্ষমা করেছেন এবং আমাদের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব নিজ জিম্মায় নিয়েছেন।

বর্ণনাকারী বলেন: এরপর মালিক এক চিৎকার দিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। সেই বেহুঁশ হওয়ার কারণে তিনি বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। এরপর তিনি সেই অসুস্থতাতেই মারা গেলেন। লোকেরা ধারণা করে যে তাঁর হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মারা গেছেন।

তাঁর মাধ্যমেই আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ, তিনি মুহাম্মাদ থেকে, তিনি রূহ বিন সালামাহ আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি মুসলিম আল-আব্বাদানি থেকে, তিনি বলেন: একদা আমাদের নিকট সালিহ আল-মুররি, আব্দুল ওয়াহিদ বিন যাইদ, উতবাহ আল-গুলাম এবং সালামাহ আল-আওয়ারি আসলেন। তাঁরা সমুদ্রের তীরে অবস্থান নিলেন। তিনি বলেন: আমি এক রাতে তাঁদের জন্য খাবার তৈরি করলাম এবং তাঁদের দাওয়াত দিলাম। তাঁরা আসলেন। যখন আমি তাঁদের সামনে খাবার রাখলাম, তখন এক ঘোষক সমুদ্রের তীরের পাশ দিয়ে উচ্চৈঃস্বরে বলতে বলতে যাচ্ছিলেন: চিরস্থায়ী আবাস থেকে তোমাকে বিমুখ করে রেখেছে এই সব খাবার এবং নফসের সেই স্বাদ যার শেষ পরিণতি কল্যাণকর নয়। তিনি বলেন: তখন উতবাহ এক আর্তনাদ করে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন এবং উপস্থিত সবাই কাঁদতে লাগলেন। ফলে আমরা খাবার সরিয়ে নিলাম এবং আল্লাহর কসম, তাঁরা তার থেকে এক লোকমাও গ্রহণ করেননি।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ সিলাফি, তিনি আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার থেকে, তিনি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মানসুর আল-আতিকি থেকে, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুত্তালিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ফাদল বিন আহমাদ আয-যুবাইদি আল-মুকরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, যখন হাদীসের ছাত্ররা তাদের হাতে দোয়াত নিয়ে আসছিল, তখন তিনি সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বললেন: এগুলো ইসলামের প্রদীপ।

অর্থাৎ দোয়াতগুলো।

তাঁর মাধ্যমেই তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-আতিকি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ বিন ইব্রাহিম বিন শাযানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু ঈসা আব্দুর রহমান বিন যাযান আর-রাযযাযকে বলতে শুনেছি: আমি মদীনার জামে মসজিদে ছিলাম এবং আমরা আসরের সালাত আদায় করেছিলাম। আহমাদ বিন হাম্বল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি কোনো প্রবৃত্তি বা মতবাদের অনুসারী এবং সে ধারণা করছে যে সে সত্যের ওপর আছে অথচ সে সত্যের ওপর নেই, তাকে সত্যের দিকে ফিরিয়ে আনুন যাতে এই উম্মতের কেউ পথভ্রষ্ট না হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য যা বরাদ্দ করেছেন তা নিয়ে আমাদের অন্তরকে ব্যতিব্যস্ত করে দেবেন না। আমাদের রিযিকের ক্ষেত্রে আপনার পরিবর্তে অন্য কারো মুখাপেক্ষী করবেন না। আমাদের মন্দের কারণে আপনার নিকট থাকা কল্যাণ থেকে আমাদের বঞ্চিত করবেন না। আপনি যেখানে আমাদের নিষেধ করেছেন সেখানে আমাদের দেখবেন না, আর যেখানে আমাদের আদেশ দিয়েছেন সেখানে আমাদের অনুপস্থিত পাবেন না। আমাদের সম্মানিত করুন এবং অপমানিত করবেন না। আনুগত্যের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করুন এবং অবাধ্যতার মাধ্যমে আমাদের অপমানিত করবেন না।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ তাখরিজি শামসিদ্দীন আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أنبا الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْبَغْدَادِيُّ، بِمِصْرَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ دُرَيْدٍ، ثنا الْعُكْلِيُّ، عَنِ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الْهَيْثَمِ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: لَقِيَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه رَكْبًا فِي سَفَرٍ لَيْلا فِيهِمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ، فَأَمَرَ عُمَرُ رَجُلا يُنَادِيهِمْ: مِنْ أَيْنَ الْقَوْمُ؟ فَأَجَابَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: أَقْبَلْنَا مِنَ الْفَجِّ الْعَمِيقِ.

فَقَالَ: أَيْنَ تُرِيدُونَ؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: الْبَيْتُ الْعَتِيقُ.

فَقَالَ عُمَرُ: إِنَّ فِيهِمْ لَعَالِمًا، فَأَمَرَ رَجُلا يُنَادِيهِمْ:‌‌ أَيُّ الْقُرْآنِ أَعْظَمُ؟ فَأَجَابَهُ عَبْدُ اللَّهِ: {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} [البقرة: 255] .

حَتَّى خَتَمَ
الآيَةَ، قَالَ: نَادِهِمْ: أَيُّ الْقُرْآنِ أَحْكَمُ؟ فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ} [النحل: 90] .

فَقَالَ: نَادِهِمْ: أَيُّ الْقُرْآنِ أَجْمَعُ؟ فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ {7} وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ} [الزلزلة: 7-8] .

فَقَالَ عُمَرُ: نَادِهِمْ، أَيُّ الْقُرْآنِ أَحْزَنُ؟ فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: {وَلا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ} [النساء: 123] الآيَةَ، فقَالَ عُمَرُ: نَادِهِمْ: أَيُّ الْقُرْآنِ أَرْجَى؟ فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: {قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ} [الزمر: 53] .

الآيَةَ، قَالَ عُمَرُ: نَادِهِمْ، أَفِيكُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ نَعَمْ

أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ الْبَابِيُّ، أنبا عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْعَلَوِيُّ، أنبا أَبُو الْحَسَنِ الْمُعَدَّلُ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ الْغَسَّانِيُّ، أنبا أَبُو بَكْرٍ الدَّيْنَوَرِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا عَبْدُ الْمُنْعِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا عليهما السلام، لَمَّا قُتِلَ رَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ رُوحَهُ ثُمَّ أُوقِفَ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَقَالَ لَهُ: يَا يَحْيَى هَذَا عَمَلُكَ الَّذِي عَمِلْتَهُ وَقَدْ أَعْطَيْتُكَ ثَوَابَ عَمَلِكَ لِكُلِّ وَاحِدَةٍ عَشْرًا، الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا.

قَالَ: فَرَأَى يَحْيَى إِلَى ثَوَابِ عَمَلِهِ، فَإِذَا قَدْ أُعْطِيَ مِنَ الثَّوَابِ مَا لا عَيْنٌ رَأَتْ، وَلا أُذُنٌ سَمِعَتْ ، وَلا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ.

قَالَ: فَقَالَ اللَّهُ عز وجل: يَا يَحْيَى هَذَا عَمَلُكَ، وَهَذَا ثَوَابُهُ ، فَأَيْنَ نَعْمَائِي عَلَيْكَ قَالَ اللَّهُ عز وجل لِمَلائِكَتِهِ: أَخْرِجُوا نَعْمَائِي عَلَيْهِ، فَأَخْرَجُوا نِعْمَةً وَاحِدَةً مِنْ نِعَمِهِ، فَإِذَا قَدِ اسْتَوْعَبَتْ جَمِيعَ أَعْمَالِهِ وَالثَّوَابَ، فَقَالَ يَحْيَى: مَا هَذِهِ النِّعْمَةُ الْجَلِيلَةُ الْعَظِيمَةُ الَّتِي قَدِ اسْتَوْعَبَتْ عَمَلِي وَعَشَرَةَ أَضْعَافِ ثَوَابِهِ؟ فَقَالَ اللَّهُ عز وجل: يَا يَحْيَى هَذِهِ النِّعْمَةُ الْجَلِيلَةُ، قَالَ: فَخَرَّ يَحْيَى لِوَجْهِهِ، فَقَالَ: إِلَهِي جَازِنِي بِرَحْمَتِكَ وَفَضْلِكَ لا بِعَمَلِي.

وَبِهِ قَالَ: أنبا الدَّيْنَوَرِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْجَهْمِ، ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ، ثنا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: كُنَّا نَعُدُّ الأَوَّابَ الْحَفِيظَ الَّذِي إِذَا قَامَ مِنْ مَجْلِسِهِ، قَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا أَصَبْتُ فِي مَجْلِسِي هَذَا آخِرَهُ وَاللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ وَحْدَهُ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلِّمْ تَسْلِيمًا.

وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ ، إِذْنًا، أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ، إِذْنًا عَنْ كِتَابِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ صَالِحٍ، وَأُخْبِرْتُ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ فُورَجَةَ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ السِّيرَوَانِيَّ، يَقُولُ: قَالَ لِيَ الْمَوَازِينِيُّ سَمِعْتُ ابْنَ الْحَبَّارِ، يَقُولُ: كُنْتُ يَوْمَ النَّحْرِ عِنْدَ الْجَمْرَةِ، وَإِذَا بِفَقِيرٍ وَاقِفٍ وَبِيَدِهِ كُوزٌ وَرَكْوَةٌ، وَهُوَ يَقُولُ: يَا سَيِّدِي تَقَرَّبَ أُنَاسٌ إِلَيْكَ مُتَقَرِّبُونَ بِذَبَائِحِهِمْ وَقُرْبَانِهِمْ، وَلَسْتُ أَمْلِكُ إِلا نَفْسِي.

فَشَهِقَ شَهْقَةً وَمَاتَ.

وَذَكَرَ أَبُو سَعِيدٍ النَّقَّاشُ، عَنْ أَبِي أَحْمَدَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجُرْجَانِيُّ، أَنَّهُ حَكَى عَنْ ذِي النُّونِ الْمِصْرِيِّ، قَالَ: وُصِفَ لِي شَابٌّ مِنَ الْمُرِيدِينَ ، فَقَصَدْتُهُ وَلَقِيتُهُ وَهُوَ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ فَلَمَّا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ، قَالَ: وَعَلَيْكَ السَّلامُ يَا ذَا النُّونِ.

فَقُلْتُ: وَمِمَّنْ عَرَفْتَ أَنِّي ذُو النُّونِ؟ قَالَ: عَرَفْتُكَ بِفُنُونِ تَوَاتُرِ الْمَعْرِفَةِ ، فَاتَّصَلَتِ الْمَعْرِفَةُ بِالأَنْوَارِ فَعَرَفْتُكَ بِمَعْرِفَةِ الْجَبَّارِ.

قَالَ: فَسَأَلْتُهُ عَنْ مَسَائِلَ فَوَجَدْتُهُ حَكِيمًا.

قَالَ: ثُمَّ مَضَيْتُ وَسَبَقَنِي، فَلَمَّا كَانَ بِمَنًى لَقِيتُهُ، وَهُوَ سَاكِتٌ وَالنَّاسُ يَتَقَرَّبُونَ إِلَى اللَّهِ عز وجل بِقُرْبَانِهِمْ وَهُوَ مُطْرِقٌ، قَالَ ذُو النُّونِ: وَأَنَا أَرْقُبُهُ وَهُوَ لا يَشْعُرُ، قَالَ: ثُمَّ إِنَّهُ رَفَعَ إِلَى السَّمَاءِ، فَقَالَ: إِنَّ هَؤُلَاءِ تَقَرَّبُوا إِلَيْكَ بِقُرْبَانِهِمْ، وَأَنَا لا أَجِدُ قُرْبَانًا غَيْرَ نَفْسِي، وَإِنِّي أَتَقَرَّبُ إِلَيْكَ بِذَبْحِ نَفْسِي فَتَقَبَّلْ مِنِّي، ثُمَّ أَشَارَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ إِلَى حَلْقِهِ فَخَطَّ فِيهِ خَطًّا كَمَا يَفْعَلُ بِالسِّكِّينِ فَخَرَّ سَاقِطًا، فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا قَدْ فَارَقَ رُوحَهُ.

وَأَخْبَرَ مُحَمَّدٌ، أنبا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي الْحَسَنِ الصُّوفِيُّ، أنبا مَسْعُودُ بْنُ نَاصِرٍ السِّجْزِيُّ الْحَافِظُ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَحْمَدَ الْقَرِمِيسِينِيُّ، أنبا أَبُو بَكْرٍ الْمُشَدُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْعَطَشِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا تُرَابٍ، وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى أَبَا ثَابِتٍ الْخَطَّابَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ مُوسَى، يَقُولُ: رَأَيْتُ فَتْحًا الْمَوْصِلِيَّ فِي يَوْمِ عِيدِ أَضْحَى، وَقَدْ شَمَّ رِيحَ الْقُتَارِ، فَدَخَلَ إِلَى زُقَاقٍ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: تَقَرَّبَ الْمُتَقَرِّبُونَ إِلَيْكَ بِقُرْبَانِهِمْ، وَأَنَا أَتَقَرَّبُ إِلَيْكَ بِطُولِ الْحُزْنِ ، كَمْ تَتْرُكُنِي أَتَرَدَّدُ فِي أَزِقَّةِ الدُّنْيَا مَحْزُونًا، قَالَ: ثُمَّ غُشِيَ عَلَيْهِ وَحُمِلَ فَدَفَنَّاهُ بَعْدَ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ.

وَذَكَرَ أَبُو سَعِيدٍ النَّقَّاشُ ، أَيْضًا، عَنْ أَبِي مَنْصُورٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَمْشَادٍ الْفَقِيهِ النَّيْسَابُورِيِّ، أَنَّ عَجُوزًا بِالْبَصْرَةِ كَانَتْ لَهَا دَجَاجَةٌ لَمْ تَمْلِكْ غَيْرَهَا وَأَدْرَكَهَا يَوْمُ النَّحْرِ فَذَبَحَتْهَا، وَقَالَتْ: إِلَهِي لَوْلا أَنَّكَ نَهَيْتَنِي عَنْ قَتْلِ نَفْسِي لَذَبَحْتُ نَفْسِي لَكَ مَكَانَ هَذِهِ الدَّجَاجَةِ، فَرَأَى الْحَسَنُ فِي الْيَوْمِ أَنَّ اللَّه قَدْ قَبِلَ قَرَابِينَ أَهْلِ الْبَصْرَةِ لأَجْلِ قُرْبَانِ تِلْكَ الْعَجُوزِ.

وَأَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السِّلَفِيُّ، أنبا الْحَافِظُ أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ الْبَرْدَانِيُّ، أنبا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ، أنبا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْقَزَّازُ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخُلْدِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، حَدَّثَنِي هَارُونُ، حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَوَّارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ شُعَيْبَ بْنَ حَرْبٍ، يَقُولُ: بَيْنَمَا أَنَا أَطُوفُ بِالْبَيْتِ إِذْ لَكَزَنِي رَجُلٌ بِمِرْفَقِهِ، فَالْتَفَتُّ فَإِذَا أَنَا بِالْفُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ، فَقَالَ لِي: يَا أَبَا صَالِحٍ، قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا أَبَا عَلِيٍّ، قَالَ: إِنْ كُنْتَ تَظُنُّ أَنَّهُ شُهِدَ هَذَا الْمَوْسِمَ شَرٌّ مِنِّي وَمِنْكَ فَبِئْسَ مَا ظَنَنْتَ.

أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السِّلَفِيُّ، أنبا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَرْدَانِيُّ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ النَّقُّورِ، أنبا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدَانَ الصَّيْرَفِيُّ ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْأَزْدِيُّ، ثنا خَلَفُ بْنُ تَمِيمٍ، ثنا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، قَالَ: صَامَ مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ أَرْبَعِينَ سَنَةً ، قَامَ لَيْلَهَا وَصَامَ نَهَارَهَا، وَكَانَ يَبْكِي اللَّيْلَ كُلَّهُ، فَتَقُولُ لَهُ أُمُّهُ: يَا بُنَيَّ قَتَلْتَ قَتِيلا؟ فَيَقُولُ أَنَا أَعْلَمُ بِمَا صَنَعْتُ بِنَفْسِي، قَالَ: فَإِذَا أَصْبَحَ كَحَّلَ عَيْنَيْهِ، وَدَهَنَ رَأْسَهُ، وَبَرَقَ شَفَتَيْهِ وَخَرَجَ إِلَى النَّاسِ فَأَخَذَهُ يُوسُفُ بْنُ عُمَرَ عَامِلُ الْكُوفَةِ يُرِيدُهُ عَلَى الْقَضَاءِ فَامْتَنَعَ وَأَبَى، فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ وَقَدْ جِئَ بِقَيْدٍ لِيُقَيِّدَهُ، قَالَ: فَجَاءَهُ خَصْمَانِ فَقَعَدَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَلَمْ يَسْأَلْهُمَا وَلَمْ يُكَلِّمْهُمَا، قَالَ: وَقِيلَ لِيُوسُفَ بْنِ عُمَرَ: إِنَّكَ لَوْ نَثَرْتَ لَحْمَهُ لَمْ يَلِ لَكَ عَمَلا فَخَلِّ عَنْهُ.

وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، إِجَازَةً، أَنْبَأَنَا أَبُو مُسْلِمٍ عُمَرُ بْنُ اللَّيْثِ الْحَافِظُ، أنبا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ، كِتَابًا مِنْ أَصْبَهَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُقْرِئِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الرَّازِيُّ، قَالَ: رَأَيْتُ أَبَا زُرْعَةَ فِي الْمَنَامِ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا أَبَا زُرْعَةَ، مَا فَعَلَ اللَّهُ بِكَ؟ قَالَ: قَالَ لِي رَبِّي عز وجل: يَا أَبَا زُرْعَةَ إِنِّي لأُوتَى بِالطِّفْلِ فَآمُرُ بِهِ إِلَى الْجَنَّةِ، فَكَيْفَ بِمَنْ حَفِظَ السُّنَنَ عَلَى عِبَادِي، تَبَوَّأْ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ شِئْتَ، وَرَأَيْتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّهُ يُصَلِّي بِالْمَلائِكَةِ فِي السَّمَاءِ السَّابِعَةِ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا زُرْعَةَ بِمَاذَا نِلْتَ ، أَنْتَ تُصَلِّي قَالَ: بِرَفْعِ الْيَدَيْنِ.

وَأَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْبَرْدَانِيُّ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ غَالِبِ بْنِ عَلِيٍّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْمُبَارَكِ الْمُقْرِئُ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمُسْتَمْلِي، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ عَرَفَةَ، يَقُولُ: رَأَيْت يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ بِوَاسِطَ وَهُوَ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ عَيْنَيْنِ ثُمَّ رَأَيْتُهُ بِعَيْنٍ وَاحِدَةٍ، وَقَدْ ذَهَبَتْ عَيْنَاهُ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا خَالِدٍ، مَا فَعَلَتِ الْعَيْنَانِ الْجَمِيلَتَانِ؟ قَالَ: ذَهَبَ بِهِمَا بُكَاءُ الأَسْحَارِ.

وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ الْبَغْدَادِيُّ، كِتَابَةً، أنبا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخَطِيبُ الأَنْبَارِيُّ، أنبا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانٍ الْبَرْذَعِيُّ، أنبا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الدُّنْيَا، ثنا أَبُو خَيْثَمَةَ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ سَعِيدٍ الْوَاسِطِيِّ، أَخْبَرَنِي حَمَّادُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ أَبَاهُ ، أَخْبَرَهُ قَالَ: خَرَجْنَا فِي غَزْوَةٍ إِلَى كَابُلَ وَفِي الْجَيْشِ صِلَةُ بْنُ أَشْيَمَ، فَنَزَلَ النَّاسُ عِنْدَ الْعَتَمَةِ فَصَلَّوْا، ثُمَّ اضْطَجَعَ، فَقُلْتُ: لأَرْمُقَنَّ عَمَلَهُ، فَأَلْتَمِسُ غَفْلَةَ النَّاسِ حَتَّى إِذَا قُلْتُ وَثَبَ، فدخل غيضة قريبا منا، ودخلت على إثره، فتوضأ، ثم قام يصلي، وجاء أسد حتى دنى،: هَدَأَتِ الْعُيُونُ قَالَ: وَصَعِدْتُ فِي شَجَرَةٍ، قَالَ: فَتُرَاهُ الْتَفَتَ أَوْ عَدَّهُ جَرْوًا حَتَّى سَجَدَ، فَقُلْتُ: الآنَ يَفْتَرِسُهُ وَلا شَيْءَ، فَجَلَسَ ثُمَّ سَلَّمَ، ثُمّ قَالَ: أَيُّهَا السَّبُعُ اطْلُبِ الرِّزْقَ فِي مَكَانٍ آخَرَ، فَوَلَّى، وَإِنَّ لَهُ لَزَئِيرًا، أَقُولُ: تَصْدَعُ الْجِبَالُ مِنْهُ، قَالَ: فَمَا زَالَ كَذَلِكَ يُصَلِّي حَتَّى كَانَ عِنْدَ الصُّبْحِ جَلَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ بِمَحَامِدَ لَمْ أَسْمَعْ بِمِثْلِهَا إِلَى مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنْ تُجِيرَنِي مِنَ النَّارِ وَمِثْلِي يَجْتَرِئُ أَنْ يَسْأَلَكَ الْجَنَّةَ، قَالَ: ثُمَّ رَجَعَ فَأَصْبَحَ كَأَنَّهُ بَاتَ عَلَى الْحَشَايَا وَأَصْبَحْتُ وَبِي مِنَ الْفَتْرَةِ شَيْءٌ اللَّهُ بِهِ عَالِمٌ.
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আলী আল-বাগদাদী থেকে মিসরে, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন দুরাইদ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আল-উক্লী থেকে, তিনি ইবনে আবী খালিদ থেকে, তিনি হাইসাম থেকে, তিনি মুজালিদ থেকে, তিনি আশ-শা’বী থেকে। তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এক সফরে রাতের বেলা একদল আরোহীর দেখা পেলেন যাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) ছিলেন। উমর (রা.) এক ব্যক্তিকে আদেশ দিলেন তাদের ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করতে: এই কাফেলা কোথা থেকে এসেছে? আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ উত্তর দিলেন: আমরা সুদূর গিরিপথ থেকে এসেছি।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কোথায় যাওয়ার সংকল্প করেছ? আব্দুল্লাহ বললেন: প্রাচীন ঘর (বাইতুল আতিক বা কাবা)-এ।

উমর (রা.) বললেন: নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে একজন বড় আলেম রয়েছেন। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন তাদের ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করতে: কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বশ্রেষ্ঠ? আব্দুল্লাহ উত্তর দিলেন: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক} [সূরা আল-বাকারা: ২৫৫]।

যতক্ষণ না তিনি আয়াতটি শেষ করলেন।
তিনি বললেন: তাদের ডাক দাও, কুরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে বেশি সুপ্রতিষ্ঠিত ও ফয়সালামূলক? ইবনে মাসউদ বললেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ও ইহসানের (সদাচরণের) নির্দেশ দেন} [সূরা আন-নাহল: ৯০]।

তিনি বললেন: তাদের ডাক দাও, কুরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে বেশি ব্যাপক? ইবনে মাসউদ বললেন: {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ নেক আমল করলে তা দেখবে {৭} আর কেউ অণু পরিমাণ মন্দ আমল করলে তাও দেখবে} [সূরা আয-যিলযাল: ৭-৮]।

উমর (রা.) বললেন: তাদের ডাক দাও, কুরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে বেশি দুঃখ-শোকের? ইবনে মাসউদ বললেন: {তোমাদের আকাঙ্ক্ষাও নয় এবং আহলে কিতাবদের আকাঙ্ক্ষাও নয়; যে মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে} [সূরা আন-নিসা: ১২৩] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। উমর (রা.) বললেন: তাদের ডাক দাও, কুরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে বেশি আশাব্যঞ্জক? ইবনে মাসউদ বললেন: {বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না} [সূরা আয-যুমার: ৫৩]।

আয়াতের শেষ পর্যন্ত। উমর (রা.) বললেন: তাদের ডাক দাও, তোমাদের মধ্যে কি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ আছেন? তিনি বললেন: হে আল্লাহ, হ্যাঁ।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আবী মুহাম্মাদ আল-বাবী, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন ইব্রাহিম আল-আলাবী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আল-মুআদ্দাল থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-গাসসানী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আদ-দ্বীনওয়ারী থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আব্দুল মুনইম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে যে, ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া (আ.)-কে যখন হত্যা করা হলো, আল্লাহ তাঁর রূহকে ফিরিয়ে দিলেন, অতঃপর তাঁকে আল্লাহর দুই হাতের সামনে দাঁড় করানো হলো। আল্লাহ তাঁকে বললেন: হে ইয়াহইয়া, এই হলো তোমার আমল যা তুমি করেছ এবং আমি তোমাকে তোমার আমলের সওয়াব হিসেবে প্রত্যেকটির বদলে দশগুণ দান করেছি; প্রতিটি নেক কাজের দশগুণ প্রতিদান।

তিনি বলেন: ইয়াহইয়া তাঁর আমলের সওয়াবের দিকে তাকালেন এবং দেখলেন যে তাঁকে এমন সওয়াব দেওয়া হয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে কখনো কল্পনাও আসেনি।

তিনি বলেন: মহান আল্লাহ বললেন: হে ইয়াহইয়া, এই তোমার আমল এবং এই তার সওয়াব, তাহলে তোমার প্রতি আমার নেয়ামতসমূহ কোথায়? মহান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বললেন: তার ওপর আমার নেয়ামতসমূহ বের করো। অতঃপর তারা তাঁর নেয়ামতসমূহের মধ্য থেকে মাত্র একটি নেয়ামত বের করল, দেখা গেল তা তাঁর সকল আমল এবং সওয়াবকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। ইয়াহইয়া বললেন: এই মহা সম্মানিত ও মহান নেয়ামতটি কী যা আমার আমল এবং তার দশগুণ সওয়াবকেও ছাড়িয়ে গেল? মহান আল্লাহ বললেন: হে ইয়াহইয়া, এটিই হলো মহা সম্মানিত নেয়ামত। তিনি বলেন: তখন ইয়াহইয়া তাঁর চেহারার ওপর সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং বললেন: হে আমার ইলাহ! আমাকে আপনার রহমত ও অনুগ্রহ দ্বারা প্রতিদান দিন, আমার আমল দ্বারা নয়।

আর এরই মাধ্যমে তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আদ-দ্বীনওয়ারী, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-জাহম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ বিন হারুন থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন মুসলিম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আমর বিন দীনার থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি বলেন: আমরা সেই ব্যক্তিকে 'আওয়াব হাফীজ' গণ্য করতাম, যে মজলিস থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় বলত: হে আল্লাহ! আমার এই মজলিসের শেষে আমি যা কিছু করেছি তা ক্ষমা করে দিন। আর একমাত্র আল্লাহই বিশ্বজগতের পালনকর্তা, এবং আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর বংশধরদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর অনুমতিক্রমে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আল-হাসান থেকে, তিনি আবু বকর মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন সালিহ এর কিতাব থেকে প্রাপ্ত অনুমতিক্রমে, এবং আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে আবুল হাসান আলী বিন ফূরাজাহ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন সালিহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবুল হাসান আস-সীরাওয়ানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে আল-মাওয়াযীনী বলেছেন যে তিনি ইবনুল হাব্বারকে বলতে শুনেছেন: আমি কুরবানির দিন জামরাহর নিকট ছিলাম, সেখানে একজন ফকীর দাঁড়িয়ে ছিলেন যার হাতে একটি মাটির পাত্র ও চামড়ার থলে ছিল। তিনি বলছিলেন: হে আমার মনিব! মানুষজন তাদের পশু জবেহ ও কুরবানির মাধ্যমে আপনার নৈকট্য লাভ করছে, কিন্তু আমার কাছে নিজের প্রাণ ছাড়া আর কিছুর মালিকানা নেই।

অতঃপর তিনি এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন এবং মৃত্যুবরণ করলেন।

আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ উল্লেখ করেছেন আবু আহমাদ উবাইদুল্লাহ বিন আবী আব্দুল্লাহ আল-জুরজানী থেকে, তিনি যুন-নূন আল-মিসরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমার কাছে একজন মুরীদ যুবকের প্রশংসা করা হলো। আমি তাঁর উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম এবং মক্কার পথে তাঁর দেখা পেলাম। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি বললেন: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে যুন-নূন।

আমি বললাম: আপনি কীভাবে জানলেন যে আমি যুন-নূন? তিনি বললেন: আমি আপনাকে চিনেছি পরিচিতির বিভিন্ন বিচ্ছুরণের মাধ্যমে, ফলে সেই পরিচিতি নূর বা আলোর সাথে যুক্ত হয়েছে এবং আমি আপনাকে চিনেছি মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর পরিচয়ের মাধ্যমে।

তিনি বলেন: আমি তাকে কিছু মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং তাকে প্রজ্ঞাবান পেলাম।

তিনি বলেন: এরপর আমি চলে গেলাম এবং তিনি আমার আগে বেড়ে গেলেন। মিনায় পৌঁছে আমি আবার তাঁর দেখা পেলাম, তিনি নীরব ছিলেন এবং মানুষ মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানি দিয়ে তাঁর নৈকট্য চাচ্ছিল, আর তিনি মাথা নিচু করে ছিলেন। যুন-নূন বলেন: আমি তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছিলাম কিন্তু তিনি তা টের পাননি। তিনি বলেন: এরপর তিনি আসমানের দিকে মাথা তুললেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই এরা আপনার কাছে পশু কুরবানির মাধ্যমে নৈকট্য চাচ্ছে, কিন্তু আমি আমার নিজের প্রাণ ছাড়া অন্য কোনো কুরবানি পাচ্ছি না। আমি আমার প্রাণ জবেহ করার মাধ্যমেই আপনার নৈকট্য প্রার্থনা করছি, সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। এরপর তিনি তাঁর শাহাদাত আঙুল দিয়ে নিজের গলার দিকে ইশারা করে একটি রেখা টানলেন যেমনটি ছুরি দিয়ে করা হয়, অমনি তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনি ইন্তেকাল করেছেন।

মুহাম্মাদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন আবুল হাসান আস-সূফী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ মাসউদ বিন নাসের আস-সিজযী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল আজিজ বিন আহমাদ আল-কারমীসীনী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-মুশাদ্দ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আল-আতাশী থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু তুরাবকে বলতে শুনেছি—আর অন্য রেওয়ায়াতে আবু সাবিত আল-খাত্তাব থেকে—তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম বিন মুসাকে বলতে শুনেছি: আমি ঈদুল আযহার দিন ফাতহ আল-মাওসিলিকে দেখলাম, তিনি ভাজা গোশতের ঘ্রাণ পাচ্ছিলেন, এরপর তিনি একটি গলিতে প্রবেশ করলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: যারা আপনার নৈকট্য চায় তারা তাদের কুরবানির মাধ্যমে আপনার নৈকট্য লাভ করেছে, আর আমি দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ-বেদনার মাধ্যমে আপনার নৈকট্য প্রার্থনা করছি। আর কতকাল আপনি আমাকে দুনিয়ার গলিতে গলিতে এভাবে দুঃখী অবস্থায় ঘুরতে দেবেন? তিনি বলেন: এরপর তিনি মুর্ছা গেলেন এবং তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। তিন দিন পর আমরা তাঁকে দাফন করলাম।

আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ আরও উল্লেখ করেছেন আবু মনসুর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামশাদ আল-ফকীহ আন-নাইসাবুরী থেকে যে, বসরার এক বৃদ্ধার একটি মুরগি ছিল যা ছাড়া তাঁর আর কিছুই ছিল না। কুরবানির দিন আসার পর তিনি সেটি জবেহ করলেন এবং বললেন: হে আমার ইলাহ! আপনি যদি আমাকে নিজের প্রাণ হত্যা করতে নিষেধ না করতেন, তবে এই মুরগির পরিবর্তে আমি আপনার জন্য নিজেকেই জবেহ করতাম। হাসান বসরী সে দিন স্বপ্নে দেখলেন যে, সেই বৃদ্ধার কুরবানির বরকতে আল্লাহ বসরার সকল অধিবাসীর কুরবানি কবুল করে নিয়েছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আস-সিলাফী, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু আলী আহমাদ বিন আল-বারদানী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আল-ফাতহ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-কাযযায থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মাদ আল-خুলদী থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মাসরূক থেকে, আমাকে বর্ণনা করেছেন হারুন, আমাকে বর্ণনা করেছেন হারুন বিন সাউওয়ার, তিনি বলেন: আমি শুআইব বিন হারবকে বলতে শুনেছি: আমি যখন কাবা ঘরের তাওয়াফ করছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কনুই দিয়ে আমাকে ধাক্কা দিলেন। আমি ফিরে তাকিয়ে দেখি তিনি ফুদাইল বিন ইয়াদ। তিনি আমাকে বললেন: হে আবু সালিহ! আমি বললাম: লাব্বাইক, হে আবু আলী! তিনি বললেন: যদি আপনি মনে করেন যে এই হজের মৌসুমে আমার এবং আপনার চেয়ে অধম আর কেউ উপস্থিত হয়েছে, তবে আপনি বড়ই মন্দ ধারণা করেছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আস-সিলাফী, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বারদানী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন বিন আন-নাক্কুর থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন আবদান আস-সাইরাফী থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলী থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল কারীম আল-আযদি থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন খালাফ বিন তামীম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন যায়িদাহ বিন কুদামাহ থেকে, তিনি বলেন: মানসুর বিন আল-মুতামির চল্লিশ বছর রোজা রেখেছেন, তিনি সারা রাত ইবাদতে কাটাতেন এবং সারা দিন রোজা রাখতেন। তিনি সারা রাত কাঁদতেন, তাঁর মা তাঁকে বলতেন: হে বৎস! তুমি কি কাউকে হত্যা করেছ? তিনি বলতেন: আমি নিজের সাথে যা করছি তা আমি ভালো করেই জানি। তিনি বলেন: সকাল হলে তিনি চোখে সুরমা লাগাতেন, মাথায় তেল দিতেন, তাঁর ঠোঁট দুটি উজ্জ্বল করতেন এবং মানুষের সামনে বের হতেন। কুফার গভর্নর ইউসুফ বিন উমর তাঁকে বিচারকের পদ গ্রহণ করার জন্য পাকড়াও করলেন কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন এবং বিরত থাকলেন। আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম যখন তাঁকে শিকল পরানোর জন্য শিকল আনা হয়েছিল। তিনি বলেন: তখন তাঁর কাছে দুইজন বিবাদী এল এবং তাঁর সামনে বসল, কিন্তু তিনি তাদের কোনো প্রশ্ন করলেন না এবং তাদের সাথে কথাও বললেন না। তিনি বলেন: ইউসুফ বিন উমরকে বলা হলো: আপনি যদি তাঁর গোশতও ছিঁড়ে ফেলেন, তবুও তিনি আপনার জন্য কোনো কাজ করবেন না, সুতরাং তাঁকে ছেড়ে দিন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ অনুমতিক্রমে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসলিম উমর বিন আল-লাইস আল-হাফিজ, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুর রহীম থেকে আসফাহান থেকে লিখিতভাবে, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুকরী থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আর-রাযী থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু যুরআহ-কে স্বপ্নে দেখলাম এবং তাঁকে বললাম: হে আবু যুরআহ! আল্লাহ আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন: আমার রব মহান আল্লাহ আমাকে বলেছেন: হে আবু যুরআহ! আমি শিশুদের নিয়ে আসি এবং তাদের জান্নাতে যাওয়ার আদেশ দিই, তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে আমার বান্দাদের কাছে সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণ করেছে? জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে তোমার আবাস গ্রহণ করো। এরপর আমি তাঁকে আবার স্বপ্নে দেখলাম, যেন তিনি সপ্তম আসমানে ফেরেশতাদের সাথে নামাজ পড়ছেন। আমি বললাম: হে আবু যুরআহ! আপনি এই মর্যাদা কিসের বিনিময়ে পেলেন? তিনি বললেন: রাফউল ইয়াদাইন বা নামাজে হাত তোলার মাধ্যমে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-বারদানী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন গালিব বিন আলী যিনি ইবনুল মুবারক আল-মুকরী নামে পরিচিত থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবী মুসলিম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন ইব্রাহিম আল-মুস্তামলী থেকে, তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাসান বিন আরাফাহকে বলতে শুনেছি: আমি ইয়াযীদ বিন হারুনকে ওয়াসিতে দেখেছি এবং তিনি সুন্দর চোখের অধিকারী মানুষদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। এরপর আমি তাঁকে এক চোখ বিশিষ্ট অবস্থায় দেখলাম এবং তাঁর দুই চোখই চলে গিয়েছিল। আমি বললাম: হে আবু খালিদ! সেই সুন্দর চোখ দুটির কী হলো? তিনি বললেন: শেষ রাতের ক্রন্দন সেই দুটিকে নিয়ে গেছে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকি বিন আহমাদ বিন সুলাইমান আল-বাগদাদী লিখিতভাবে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-খাতীব আল-আনবারী থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আল-বারযাঈ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবী আদ-দুনইয়া থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মুসলিম বিন সাঈদ আল-ওয়াসিতী থেকে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ বিন জাফর বিন যায়েদ যে তাঁর পিতা তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমরা কাবুলের এক যুদ্ধে বের হলাম এবং সেই বাহিনীতে সিলাহ বিন আশইয়াম ছিলেন। এশার সময় মানুষ অবতরণ করল এবং নামাজ পড়ল, এরপর শুয়ে পড়ল। আমি মনে মনে বললাম: আমি অবশ্যই তাঁর আমল পর্যবেক্ষণ করব। আমি মানুষের অসতর্ক হওয়ার অপেক্ষা করলাম, যখন আমি ভাবলাম সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে তিনি লাফিয়ে উঠলেন। তিনি আমাদের কাছের একটি ঝোপঝাড়পূর্ণ বনে প্রবেশ করলেন এবং আমিও তাঁর পিছু পিছু গেলাম। তিনি ওজু করলেন এবং নামাজে দাঁড়ালেন। তখন একটি সিংহ এল এবং তাঁর কাছে ঘনিষ্ট হলো। তিনি বলেন: তখন সব চোখ নিথর ছিল। তিনি বলেন: আমি একটি গাছে উঠে পড়লাম। তিনি বলেন: আপনি কি মনে করেন তিনি ফিরে তাকিয়েছেন বা তাকে কুকুরের ছানা ছাড়া অন্য কিছু গণ্য করেছেন? এমনকি তিনি সেজদা করলেন। আমি মনে মনে বললাম: এখন এই সিংহ তাকে ছিঁড়ে খাবে এবং কিছুই করার থাকবে না। তিনি বসলেন এবং সালাম ফেরালেন, এরপর বললেন: হে হিংস্র পশু! অন্য কোথাও তোমার রিজিক তালাশ করো। সিংহটি ফিরে চলে গেল এবং সে এমন গর্জন করছিল যে আমি মনে মনে বলছিলাম এর গর্জনে পাহাড় ফেটে যাবে। তিনি বলেন: তিনি এভাবেই নামাজ পড়তে থাকলেন যতক্ষণ না সুবহে সাদিক হলো। তিনি বসলেন এবং আল্লাহর এমন প্রশংসা করলেন যার মতো আমি কখনো শুনিনি আল্লাহর ইচ্ছায়। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নাম থেকে পানাহ চাই, আর আমার মতো ব্যক্তি কি আপনার কাছে জান্নাত চাওয়ার সাহস করতে পারে? তিনি বলেন: এরপর তিনি ফিরে এলেন এবং এমনভাবে সকাল করলেন যেন তিনি নরম বিছানায় রাত কাটিয়েছেন। আর আমি এমন ক্লান্তি নিয়ে সকাল করলাম যা একমাত্র আল্লাহই জানেন।
(খণ্ড: ১) মাজমুউ তাখরিজি শামসিদ্দীন আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - وَأَنْبَأَنَا أَبُو مُوسَى مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي عِيسَى الْمَدِينِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَنْ أَجَازَ لَهُ أَبُو صَالِحٍ الْمُؤَذِّنُ، أنبا الأُسْتَاذُ أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْحَسَنِ، ثنا أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ، أنبا أَبِي، ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ حَمْزَةَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ بِشْرِ بْنِ السَّرِيِّ، عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ حَمَّادٍ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ صَلَّى لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ عَشْرَ رَكَعَاتٍ يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَثَلاثِينَ مَرَّةً قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ.

وَآيَةُ الْكُرْسِيِّ مَرَّةً، أَعْطَاهُ اللَّهُ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي كُلِّ يَوْمٍ مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا أَلْفَ نُورٍ، وَأَلْفَ رَحْمَةٍ، وَأَلْفَ بَرَكَةٍ، وَأَلْقَى اللَّهُ تَعَالى مَحَبَّتَهُ فِي قُلُوبِ النَّاسِ، وَلا يَخْرُجُ مِنَ الدُّنْيَا إِلا عَلَى التَّوْبَةِ النَّصُوحِ، وَلا تَخْرُجُ رُوحُهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى يَأْتِيَهُ رِضْوَانُ خَازِنُ الْجَنَّةِ يُشْرِبُهُ مِنْ مَاءِ الْجَنَّةِ فَيَشْرَبُهُ وَيَقُومُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الأَبْدَالِ، وَيُخْرِجُ اللَّهُ تَعَالَى الْغِلَّ وَالْغِشَّ وَالْحَسَدَ مِنْ قَلْبِهِ»
৭ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মূসা মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আবু ঈসা আল-মাদীনী, তিনি বলেন: আমাকে এমন একজন সংবাদ দিয়েছেন যাকে আবু সালিহ আল-মুয়াযযিন ইজাযাহ প্রদান করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উস্তাদ আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আল-হাসান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আত-তামীমী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস ইবনে হামযাহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ, বিশর ইবনে আস-সারী থেকে, তিনি আল-হাইসাম ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি ইয়াযীদ আর-রাক্কাশি থেকে, তিনি আনাস (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জুমার রাতে দশ রাকাত সালাত আদায় করবে এবং প্রত্যেক রাকাতে ফাতিহাতুল কিতাব ও তিরিশ বার ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করবে।

এবং আয়াতুল কুরসী একবার পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামতের দিন দুনিয়ার দিনসমূহের প্রতিটি দিনের বিনিময়ে এক হাজার নূর, এক হাজার রহমত এবং এক হাজার বারাকাত দান করবেন। আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরে তার প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দেবেন। সে তওবায়ে নাসুহ (নিষ্ঠাপূর্ণ তওবা) ছাড়া দুনিয়া ত্যাগ করবে না। জান্নাতের রক্ষক রিদওয়ান তার নিকট এসে জান্নাতের পানি পান করানোর পূর্ব পর্যন্ত তার দেহ থেকে রূহ নির্গত হবে না; অতঃপর সে তা পান করবে এবং কিয়ামতের দিন আবদালগণের সাথে দণ্ডায়মান হবে। আর আল্লাহ তাআলা তার অন্তর থেকে বিদ্বেষ, প্রতারণা ও হিংসা দূর করে দেবেন।»
(খণ্ড: ১) মাজমুউ তাখরিজি শামসিদ্দীন আল-মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - وَبِهِ أَنْبَأَنَا أَبُو الْمَحَاسِنِ عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْقَوْمَسَانِيُّ، أنبا أَبُو شُجَاعٍ شِيرَوَيْهِ بْنُ شَهْرَذَارَ بْنِ شِيرَوَيْهِ، أنبا أَبُو الْقَاسِمِ يُوسُفُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، أنبا أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ نَصْرِ بْنِ أَبِي اللَّيْثِ، أنبا الْفَضْلُ بْنُ الْفَضْلِ الْكِنْدِيُّ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَرِيرٍ ذَكَرَ فِي تَصْنِيفٍ صَنَّفَهُ أَنَّهُ لَمَّا أَرَادَ الْخُرُوجَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ خَرَجَ هُوَ وَجَمَاعَةٌ حَتَّى صَارُوا اثْنَيْ عَشَرَ نَفَرًا فَخَرَجُوا فِي طَلَبِ الْعِلْمِ فَنَزَلُوا بَلَدًا مِنَ الْبُلْدَانِ، وَاشْتَغَلُوا بِكُتُبِ الْحَدِيثِ وَالْعِلْمِ حَتَّى نَفِدَتْ نَفَقَاتُهُمْ، فَلَمَّا أَرَادُوا الرَّحِيلَ جَاءَهُمْ يَهُودِيٌّ وَأَعْطَى إِلَى كُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ ثَلاثَةَ دَرَاهِمَ وَثُلُثًا، فَرَجَعُوا وَاشْتَغَلُوا بِالْعِلْمِ حَتَّى كَانَ مِنْهُمْ وَمِنْهُ أَرْبَعِينَ مَرَّةً جَاءَهُمُ الْيَهُودِيُّ وَأَعْطَى إِلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا فِضَّةً، فَتَعَجَّبُوا مِنْ فِعْلِهِ، وَقَالُوا: يَا هَذَا أَلَيْسَ أَنْتَ؟ قَالَ: يَهُودِيٌّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ، قَالُوا: فَلِمَ أَكْرَمْتَنَا أَرْبَعِينَ مَرَّةً بِهَذِهِ الْكَرَامَةِ؟ قَالَ: لأَنِّي قَرَأْتُ فِي تَوْرَاةِ مُوسَى صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: أَفْضَلُ نَفَقَةٍ أَنْفَقْتُمْ فِي سَبِيلِي أَنْ تُنْفِقُوا عَلَى طُلابِ الْعِلْمِ وَالْمُتَعَلِّمِينَ الْعِلْمَ، وَطَلَبْتُ فِي جَمِيعِ الْيَهُودِ فَمَا وَجَدْتُ فِيهِمْ مَنْ يَطْلُبُ الْعِلْمَ فَأَنْفَقْتُ عَلَيْكُمْ، حَيْثُ رَأَيْتُكُمْ تَطْلُبُونَ الْعِلْمَ، قَالَ: فَوَدَّعْنَاهُ وَقَصَدْنَا، قَالَ: فَرَأَيْنَاهُ فِي الطَّوَافِ، فَقُلْنَا: فُلانٌ، قَالَ: فُلانٌ، قُلْنَا: مَا شَأْنُكَ؟ قَالَ: لَمَّا فَارَقْتُمُونِي فَأَمْسَيْتُ فَرَأَيْتُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَامِ وَلَمَّا أَصْبَحْتُ وَقَالَ لِي: إِنَّ اللَّهَ تَعَالى قَدْ أَكْرَمَكَ بِالإِسْلامِ بِإِنْفَاقِكَ عَلَى أَهْلِ الْعِلْمِ، فَأَسْلَمْتُ عَلَى يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ فِي دَارِنَا مِنَ الأَوْلادِ وَالْخَتَنِ وَالْخَدَمِ نَحْوَ سَبْعَةَ عَشَرَ نَفْسًا فَرَأَى كُلُّ وَاحِدٍ مِثْلَ رُؤْيَايَ فَأَصْبَحُوا كُلُّهُمْ مُسْلِمِينَ بِحَمْدِ اللَّهِ وَمَنِّهِ
৮ - এবং এর মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাহাসিন আবদুর রাজ্জাক বিন ইসমাঈল আল-কাওমাসানি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু শুজা শিরওয়াইহ বিন শাহরদার বিন শিরওয়াইহ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ আবদুর রহমান বিন উমর বিন নাসর বিন আবুল লাইস থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন ফজল বিন ফজল আল-কিন্দি থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, মুহাম্মদ বিন জারির তাঁর রচিত একটি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যখন ইলম অন্বেষণে বের হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি এবং একদল লোক বের হলেন, এমনকি তাঁরা সংখ্যায় বারোজন হলেন। তাঁরা ইলম অন্বেষণে বের হয়ে একটি জনপদে অবস্থান করলেন। তাঁরা হাদিসের কিতাব ও ইলম চর্চায় আত্মনিয়োগ করলেন, এমনকি তাঁদের পাথেয় ফুরিয়ে গেল। যখন তাঁরা প্রস্থানের ইচ্ছা করলেন, তখন তাঁদের কাছে এক ইহুদি আসলেন এবং তাঁদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে তিন দিরহাম ও এক-তৃতীয়াংশ দিরহাম প্রদান করলেন। অতঃপর তাঁরা ফিরে গিয়ে ইলম চর্চায় নিমগ্ন হলেন। এভাবে তাঁদের ও ঐ ব্যক্তির মধ্যে চল্লিশবার এমন ঘটনা ঘটল; ইহুদি ব্যক্তি তাঁদের কাছে আসতেন এবং তাঁদের প্রত্যেককে চল্লিশ দিরহাম রৌপ্যমুদ্রা দিতেন। তাঁরা তাঁর এই আচরণে বিস্মিত হলেন এবং বললেন: হে ব্যক্তি! আপনি কি ইহুদি নন এবং আমরা কি মুসলিম নই? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তাঁরা বললেন: তবে কেন আপনি আমাদের চল্লিশবার এই মহানুভবতার মাধ্যমে সম্মানিত করলেন? তিনি বললেন: কারণ আমি মুসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাওরাতে পড়েছি যে, মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা আমার পথে যে ব্যয় করো, তার মধ্যে সর্বোত্তম ব্যয় হলো ইলম অন্বেষণকারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যয় করা।" আমি সমস্ত ইহুদিদের মধ্যে খোঁজ করেছি কিন্তু তাঁদের মধ্যে এমন কাউকে পাইনি যে ইলম অন্বেষণ করে। তাই আমি আপনাদের ওপর ব্যয় করেছি, যেহেতু আমি আপনাদের ইলম অন্বেষণ করতে দেখেছি। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর আমরা তাঁকে বিদায় জানিয়ে আমাদের গন্তব্যের দিকে যাত্রা করলাম। বর্ণনাকারী বলেন: পরবর্তীতে আমরা তাঁকে তওয়াফ করার অবস্থায় দেখতে পেলাম। আমরা বললাম: আপনি কি অমুক ব্যক্তি? তিনি বললেন: আমি অমুক। আমরা বললাম: আপনার অবস্থা কী? তিনি বললেন: আপনারা যখন আমাকে ছেড়ে চলে গেলেন, তখন সেই রাতে আমি স্বপ্নে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখলাম। যখন সকাল হলো—আর তিনি (স্বপ্নে) আমাকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ ইলম অন্বেষণকারীদের ওপর আপনার ব্যয়ের কারণে আপনাকে ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।" অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করলাম। আমাদের বাড়িতে সন্তান-সন্ততি, জামাতা ও খাদেম মিলিয়ে প্রায় সতেরোজন সদস্য ছিল, তাঁদের প্রত্যেকেই আমার স্বপ্নের মতো স্বপ্ন দেখেছিল। ফলে আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে তাঁরা সকলেই সকালে মুসলিম হয়ে গেল।