(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: -)
إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني
المؤلف: أبو الطيب نايف بن صلاح بن علي المنصوري
قدم له: د سعد بن عبد الله الحميد
راجعه ولخص أحكامه وقدم له: أبو الحسن مصطفى بن إسماعيل السليماني المأربي
الناشر: دار الكيان - الرياض، مكتبة ابن تيمية - الإمارات
عدد الصفحات: 711
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 ربيع الأول 1432
ইমাম তাবারানীর শাইখদের জীবনীর বিষয়ে দূর ও নিকটবর্তীদের জন্য দিকনির্দেশনা বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: ইমাম তাবারানীর শাইখদের জীবনীর বিষয়ে দূর ও নিকটবর্তীদের জন্য দিকনির্দেশনা
লেখক: আবু আল-তাইয়িব নায়েফ বিন সালাহ বিন আলী আল-মানসুরি
উপস্থাপনা করেছেন: ডক্টর সাদ বিন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ
পর্যালোচনা, বিধানের সারসংক্ষেপ ও উপস্থাপনা করেছেন: আবু আল-হাসান মুস্তফা বিন ইসমাইল আল-সুলাইমানি আল-মারিবি
প্রকাশক: দার আল-কিয়ান - রিয়াদ، মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া - আমিরাত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني]ـ
المؤلف: أبو الطيب نايف بن صلاح بن علي المنصوري
قدم له: د سعد بن عبد الله الحميد
راجعه ولخص أحكامه وقدم له: أبو الحسن مصطفى بن إسماعيل السليماني المأربي
الناشر: دار الكيان - الرياض، مكتبة ابن تيمية - الإمارات
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة التراجم]
তাবারানির শায়খদের জীবনী বিষয়ে দূরবর্তী ও নিকটবর্তীদের জন্য দিকনির্দেশনা
লেখক: আবু আল-তাইয়িব নায়েফ বিন সালাহ বিন আলী আল-মানসুরি
ভূমিকা প্রদান করেছেন: ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ
পর্যালোচনা, বিধিবিধান সংক্ষেপণ এবং ভূমিকা প্রদান করেছেন: আবু আল-হাসান মুস্তফা বিন ইসমাইল আল-সুলাইমানি আল-মারিবি
প্রকাশক: দার আল-কিয়ান - রিয়াদ, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ - সংযুক্ত আরব আমিরাত
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং এটি জীবনী সংকলন সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٥)
تقديمفضيلة الشيخ / سعد بن عبد الله الحميد - حفظه الله -.
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فقد اطلعت على الكتاب الذي صنفه أخونا الفاضل / نايف بن صلاح المنصوري بعنوان: " إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني "، الذي جمع فيه شيوخ أبي القاسم سليمان بن أحمد الطبراني (ت 360 هـ)، ثم قام بالترجمة لمن استطاع منهم. وقد وفق بحمد الله تعالى، فلم يعسر عليه إلا القليل ممن لم يجد لهم ترجمة. وقد زان عمله هذا بعرضه على الشيخ الفاضل أبي الحسن مصطفى بن إسماعيل السليماني المأربي، الذي قام بالحكم على هؤلاء الشيوخ جميعهم، معللا حكمه عليهم، وهو لذلك أهل، وكتابه: " شفاء العليل في الجرح والتعديل " شاهد على ذلك.
ومما لا شك فيه أن طلبة العلم بحاجة ماسة لمثل هذا العمل الذي لا يدرك أهميته إلا من عانى صنعة الأسانيد، ودراسة أحوال الرجال، والحكم على الأحاديث، فإنه يقف حائرا في أحايين كثيرة في العثور على ترجمة لشيوخ الطبراني وأهل تلك الطبقة، ولربما كان الحكم على الحديث متوقفا على معرفة حال ذلك الراوي.
ومما يدلك على هذا أن شيخنا ناصر الدين الألباني - وحسبك به في معرفة أحوال الرجال - كثيرا ما يتوقف عن معرفة أحوال بعض هؤلاء الشيوخ، لأنه لم يقف على من ترجم لهم.
উপস্থাপনাসম্মানিত শাইখ / সা'দ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ - আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন -।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর:
আমি আমাদের সম্মানিত ভাই নায়েফ বিন সালাহ আল-মানসুরি কর্তৃক সংকলিত গ্রন্থটি দেখেছি, যার শিরোনাম: "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানি"। তিনি এতে আবুল কাসিম সুলায়মান বিন আহমাদ আত-তাবারানি (মৃত্যু ৩৬০ হি.)-এর উস্তাদদের একত্রিত করেছেন এবং তাদের মধ্যে যাদের সম্ভব হয়েছে তাদের জীবনী বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর প্রশংসায় তিনি সফল হয়েছেন; অল্প সংখ্যক ব্যক্তি ছাড়া যাদের জীবনী তিনি পাননি, বাকিদের ক্ষেত্রে তিনি কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হননি। তিনি তাঁর এই কাজটিকে সম্মানিত শাইখ আবুল হাসান মুস্তাফা বিন ইসমাঈল আস-সুলায়মানি আল-মারিবি-এর নিকট পেশ করে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন, যিনি এই সকল উস্তাদদের সম্পর্কে রায় প্রদান করেছেন এবং তাঁর রায়ের সপক্ষে কারণ দর্শিয়েছেন। আর তিনি এর জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি, তাঁর গ্রন্থ "শিফাউল আলিল ফিল জারহি ওয়াত তা'দিল" এর সাক্ষ্য বহন করে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য এ ধরনের কাজের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এর গুরুত্ব কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারেন যারা সনদ বিশ্লেষণ, বর্ণনাকারীদের অবস্থা অধ্যয়ন এবং হাদিসের মান নির্ণয়ের কাজে নিয়োজিত থাকেন। কেননা, তাবারানির উস্তাদ এবং সেই স্তরের ব্যক্তিদের জীবনী খুঁজে পেতে অনেক সময় বিভ্রান্ত হতে হয়; অথচ অনেক সময় হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান করা সেই বর্ণনাকারীর অবস্থা জানার ওপর নির্ভরশীল থাকে।
এর একটি প্রমাণ হলো যে, আমাদের শাইখ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী—আর বর্ণনাকারীদের অবস্থা পরিজ্ঞাত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান তো আপনার জানাই আছে—তিনিও এই উস্তাদদের অনেকের অবস্থা জানার ক্ষেত্রে প্রায়ই থেমে যেতেন, কারণ তিনি তাদের জীবনীকারদের সন্ধান পাননি।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٦)
فنسأل الله تعالى أن يجزي أخانا نايف بن صلاح خير الجزاء على هذا الجهد المبارك - إن شاء الله -، ونحن نترقب منه أن يتحفنا بأمثاله من الأعمال التي تذلل الصعاب على طلبة العلم، ويبقى له ذخرها - إن شاء الله -، وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه وسلم.
كتبه / سعد بن عبد الله الحميد
আমরা মহান আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাদের ভাই নায়েফ বিন সালাহকে এই বরকতময় প্রচেষ্টার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন—ইনশাআল্লাহ—। আর আমরা তাঁর পক্ষ থেকে এমন আরও কাজের প্রত্যাশা করি যা ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য কঠিন পথকে সুগম করবে এবং এর সওয়াব তাঁর জন্য সঞ্চিত থাকবে—ইনশাআল্লাহ—। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন / সা'দ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٧)
تقديمفضيلة الشيخ / أبي الحسن السليماني - حفظه الله -
الحمد لله وكفى، وسلام على عباده الذين اصطفى، أما بعد. . .
فقد راجعت الكتاب القيم لأخينا أبي الطيب نايف بن صلاح المنصوري - حفظه الله - والذي أسماه بـ " إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني " وذلك ضمن سلسلة: " تقريب رواة السنة بين يدي الأمة ".
وهذا الكتاب العظيم يُعد ثروة علمية هائلة، ولا يعرف قدره إلا من كان يدرك مادة الكتاب، وطبيعته.
فمادة الكتاب ترجمة لشيوخ الإمام الطبراني رحمه الله وهم في طبقة نازلة إذا ما قورنوا بمن هم أعلى منهم من الرواة، ومعلوم أن الراوي كلما نزلت طبقته، عسر البحث عنه، لقلة من ترجم له، أو لكون ذلك في كتب بعيدة إلى حد ما، ولذا فقد حكم غير المؤلف - حفظه الله - على عدد من الرواة بأنهم لم يوقف لهم على ترجمة، أو لم يعرف، وإن كان المؤلف - جزاه الله خيرا - قد وقف على أكثر هؤلاء، وذلك بتوفيق الله عز وجل له، ثم بما عُرف به من حدة ذكاء، وطول نفس في البحث، وسعة اطلاع، وطول باع في هذا الشأن - ولا أزكيه على الله تعالى - وقد حرص المؤلف - زاده الله توفيقا - على استيعاب جميع شيوخ الطبراني الذين ذكروا من كتبه المطبوعة، بل الذين ذكروا في غير كتبه أيضا، وهذا يحتاج إلى طول نفس، وصبر عظيم في البحث.
ومن المعلوم أن هذا الجهد المبذول في هذا الكتاب يقرب بين يدي طلبة العلم ثروة علمية هائلة، طالما أرقتهم في البحث، وأخذت عليهم وقتا ليس بقليل.
ولقد عرضت على المؤلف - أكرمه الله - أن يضم إلى شيوخ الطبراني شيوخ شيوخه؛ ليسد الثغرة كلها، ولا يبقى إلا من هو مترجم في الكتب العالية
উপস্থাপনাসম্মানিত শাইখ / আবুল হাসান আস-সুলাইমানী - আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন -
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর...
আমি আমাদের ভাই আবু তায়্যিব নায়েফ বিন সালাহ আল-মানসুরী - আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন - এর মূল্যবান গ্রন্থটি পর্যালোচনা করেছি, যার নামকরণ তিনি করেছেন "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তরাজিম শিউখিত তাবারানি" (দূর ও নিকটের সকলের জন্য ইমাম তাবারানির শাইখদের জীবনীর প্রতি নির্দেশনা)। এটি "উম্মাহর সামনে সুন্নাহর রাবীদের পরিচিতি সহজিকরণ" সিরিজের অন্তর্ভুক্ত।
এই মহান গ্রন্থটি একটি বিশাল ইলমী সম্পদ হিসেবে বিবেচিত, আর এর কদর কেবল তিনিই বুঝবেন যিনি এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু এবং এর প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত।
এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু হলো ইমাম তাবারানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শাইখদের জীবনী। তাঁরা উচ্চস্তরের রাবীদের তুলনায় পরবর্তী স্তরের রাবী। আর এটি জানা কথা যে, একজন রাবী যত পরবর্তী স্তরের হন, তাঁর সম্পর্কে অনুসন্ধান করা ততটাই কঠিন হয়ে পড়ে; কারণ তাঁদের জীবনী রচয়িতাদের সংখ্যা কম, অথবা তাঁদের তথ্য এমন সব কিতাবে থাকে যা সচরাচর পাওয়া যায় না। সেজন্য লেখক (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) ব্যতীত অন্য অনেকেই অনেক রাবীর ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, তাঁদের কোনো জীবনী পাওয়া যায়নি অথবা তাঁরা পরিচিত নন। যদিও লেখক - আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন - আল্লাহ তাআলার তাওফিকে এবং তাঁর প্রখর মেধা, গবেষণায় দীর্ঘ ধৈর্য, ব্যাপক অধ্যয়ন এবং এই বিষয়ে তাঁর গভীর পারদর্শিতার মাধ্যমে তাঁদের অধিকাংশের জীবনীই খুঁজে বের করেছেন—আমি আল্লাহর সামনে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি না। লেখক - আল্লাহ তাঁর তাওফিক বৃদ্ধি করে দিন - ইমাম তাবারানির সেই সমস্ত শাইখদের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছেন যাঁদের নাম তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থসমূহে এসেছে, এমনকি যাঁদের নাম তাঁর গ্রন্থসমূহ ছাড়াও অন্যত্র পাওয়া যায়। আর এটি গবেষণার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অধ্যবসায় ও বিশাল ধৈর্যের দাবি রাখে।
এটি সুবিদিত যে, এই গ্রন্থে ব্যয়িত এই শ্রম ইলম অন্বেষণকারীদের হাতের নাগালে এক বিশাল ইলমী সম্পদকে পৌঁছে দিয়েছে, যা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ক্লান্ত হয়েছেন এবং যা তাঁদের অনেক সময় ব্যয় করেছে।
আমি লেখকের নিকট - আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন - প্রস্তাব পেশ করেছি যেন তিনি ইমাম তাবারানির শাইখদের সাথে তাঁদের শাইখদেরও (উস্তাদদের উস্তাদ) যুক্ত করেন; যাতে করে সকল শূন্যস্থান পূর্ণ হয়ে যায় এবং কেবলমাত্র তাঁরাই বাকি থাকেন যাঁদের জীবনী উচ্চস্তরের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٨)
المشهورة المتداولة، ولعله يفعل فيما بعد إن شاء الله تعالى.
هذا، وقد شرح الله صدري لتلخيص الحكم على الراوي الذي ترجم له أخونا أبو الطيب - حفظه الله - وذلك لما عُلم من فائدة تلخيص الحكم على المترجم له، فإن أقوال أئمة الجرح والتعديل كثيرة، وقد يظهر للناظر تعارضها، ومع الإلمام بقواعد الأئمة، ومعرفة أسلوبهم في الكلام على الرواة، يسهل تلخيص هذه الأقوال بقول واحد يدل على منزلة الراوي: هل هو ممن يحتج به أم لا؟
وقد حرصت على تعليل حكمي الذي أرتضيه في الراوي - غالبا - حتى يتسنى لطالب العلم معرفة كيفية تلخيص الأقوال في الراوي، ومعرفة منزلة الراوي حرجا وتعديلا بعبارة سهلة.
وقد استعملت في ذلك عبارات كثيرة، منها ما هو مشهور بالمنزلة، ومنها ما قد يتردد فيه الطالب، مثل: مقبول، وإلى الصدق ما هو، ولا بأس به إن شاء الله، وصدوق إن شاء الله، وصدوق يهم، أو له أوهام، ونحو ذلك، وكل هذا من عبارات الشواهد والمتابعات، ومن قيلت فيه؛ فهو ممن يُستشهد به، ولا يحتج به.
فأسأل الله سبحانه وتعالى أن ينفع بهذا الكتاب من شاء من خلقه، وأن يجعله في ميزان حسنات أخي أبي الطيب، وأن يدفع عنه الشواغل والمشاكل، والعوائق والعلائق التي تحول بين المرء والخير، وأن يزيده بصيرة وفهما وعلما وحلما، إنه على كل شيء قدير وبالإجابة جدير.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
كتبه
أبو الحسن مصطفى بن إسماعيل السليماني
16 - /4/ 1427 هـ
সুপ্রসিদ্ধ ও প্রচলিত; এবং আল্লাহ তাআলা চাইলে সম্ভবত তিনি পরবর্তীতে এটি করবেন।
বিষয় হলো, আমাদের ভাই আবু তায়্যিব—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—যে রাবীর (বর্ণনাকারীর) জীবনী বর্ণনা করেছেন, সেই রাবীর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি সংক্ষেপ করার জন্য আল্লাহ আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দিয়েছেন। এটি করার কারণ হলো, জীবনী যার লেখা হয়েছে তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ করার উপকারিতা সবার জানা। কেননা জারহ ও তাদীল (সমালোচনা ও প্রশংসা) শাস্ত্রের ইমামগণের উক্তি অনেক, এবং একজন পাঠকের কাছে সেগুলোর মধ্যে বাহ্যিক বৈপরীত্য প্রতীয়মান হতে পারে। তবে ইমামগণের মূলনীতিগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে এবং বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে তাঁদের কথা বলার পদ্ধতি জানা থাকলে, এই উক্তিগুলোকে একটি বাক্যে সারসংক্ষেপ করা সহজ হয়, যা রাবীর মর্যাদা নির্দেশ করে: তিনি কি এমন ব্যক্তি যাঁর বর্ণনা দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে, নাকি যাবে না?
আমি রাবীর ব্যাপারে আমার পছন্দকৃত সিদ্ধান্তের কারণ বর্ণনা করতে সচেষ্ট হয়েছি—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—যাতে তালিবে ইলমের (জ্ঞান অন্বেষী) পক্ষে রাবীর ব্যাপারে বিভিন্ন উক্তির সারসংক্ষেপ করার পদ্ধতি জানা সম্ভব হয় এবং সহজ ভাষায় জারহ ও তাদীল অনুযায়ী রাবীর মর্যাদা সম্পর্কে সে অবগত হতে পারে।
এতে আমি অনেক পরিভাষা ব্যবহার করেছি, যার মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট মর্যাদার ক্ষেত্রে সুপ্রসিদ্ধ, আবার কিছু পরিভাষার ক্ষেত্রে ছাত্র দ্বিধায় পড়ে যেতে পারে, যেমন: মাকবুল (গ্রহণযোগ্য), ইলাস সিদকি মা হুয়া (সত্যবাদিতার কাছাকাছি), লা বা’সা বিহি ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাইলে কোনো সমস্যা নেই), সদুক ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাইলে সত্যবাদী), সদুক ইয়াহিম (সত্যবাদী কিন্তু ভ্রম হয়), অথবা লাহু আওহাম (তাঁর ভ্রম আছে)—এই জাতীয় শব্দ। আর এসবই হচ্ছে শাওয়াহিদ ও মুতাবাআত (সহায়ক বর্ণনা) পর্যায়ের পরিভাষা; যাঁর সম্পর্কে এসব বলা হয়, তিনি এমন ব্যক্তি যাঁর বর্ণনাকে সমর্থনমূলক হিসেবে গ্রহণ করা হয়, কিন্তু তা এককভাবে দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয়।
আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা এই কিতাব দ্বারা উপকৃত করেন এবং এটিকে আমার ভাই আবু তায়্যিবের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। আর তাঁর থেকে যেন সেই সব ব্যস্ততা, সমস্যা, বাধা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেন যা মানুষ ও কল্যাণের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়; এবং তাঁকে যেন অন্তর্দৃষ্টি, সঠিক বুঝ, জ্ঞান ও ধৈর্য বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং দোয়া কবুলের যোগ্য।
আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর অনেক অনেক দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন
আবুল হাসান মুস্তফা বিন ইসমাইল আস-সুলাইমানি
১৬ - /৪/ ১৪২৭ হিজরী
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٩)
المقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإن السنة النبوية هي حصن القرآن الحصين، ودرعه المتين، وحارسه الأمين، وشارحه المبين، تفصل مجمله، وتفسر مشكله، وتوضح مبهمة، وتقيد مطلقه، وتبسط موجزه، وتدفع عنه عبث العابثين، ولهو اللاهين، قال الله تعالى في كتابه المبين: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9]، فبين سبحانه وتعالى أنه قد تكفل لنا بحفظ هذا الدين، ومنه سنة نبيه الأمين، فلم يذهب منها شيء، وإن لم يستوعبها ويحيط بها كل فرد على حدة، قال الإمام الشافعي - يرحمه الله -: " فإذا جمع علم أهل العلم بها أتى على السنن، وإذا فرق علم كل واحد منهم ذهب عليه الشيء منها، ثم كان ما ذهب عليه منها موجودا عند غيره ".
وإن من أسباب حفظ السنة النبوية المحمدية، على صاحبها أفضل الصلاة وأتم التسليم ما اختصت به هذه الأمة الإسلامية عن غيرها من الأمم السالفة الماضية، من استعمالها للإسناد في رواية الحديث النبوي، والتاريخ الإسلامي، فقد قال ابن المبارك - يرحمه الله - قوله: الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء.
উপস্থাপনাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তি আনয়নকারী আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সবার ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই নববী সুন্নাহ হলো আল-কুরআনের দুর্ভেদ্য দুর্গ, এর সুদৃঢ় বর্ম, এর বিশ্বস্ত প্রহরী এবং এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকারী; যা কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়াবলিকে বিস্তারিত করে, এর জটিল বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করে, অস্পষ্টতাকে স্পষ্ট করে, এর শর্তহীন বিষয়কে শর্তযুক্ত করে, এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকে সম্প্রসারিত করে এবং কুরআন থেকে অসার ব্যক্তিদের অনর্থক কাজ ও উদাসীনদের খেল-তামাশাকে প্রতিহত করে। মহান আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমিই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর রক্ষক।" [আল-হিজর: ৯]। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি আমাদের জন্য এই দ্বীনকে সংরক্ষণের জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন, যার অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর আমানতদার নবীর সুন্নাহ। তাই এর কোনো কিছুই হারিয়ে যায়নি, যদিও ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকের পক্ষে তা পূর্ণরূপে আয়ত্ত করা বা পরিবেষ্টন করা সম্ভব নয়। ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেছেন: "যখন আলেমগণের অর্জিত জ্ঞানসমূহকে একত্রিত করা হয়, তখন তা সমস্ত সুন্নাহকে পরিবেষ্টন করে। আর যখন তাদের প্রত্যেকের জ্ঞান পৃথক থাকে, তখন তাদের কারো কারো কাছ থেকে সুন্নাহর কিছু অংশ অগোচরে থেকে যায়; তবে যা একজনের অগোচরে থাকে, তা অবশ্যই অন্যের নিকট বিদ্যমান থাকে।"
আর মুহাম্মাদী নববী সুন্নাহ সংরক্ষণের অন্যতম কারণ হলো সেই বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে এই উম্মতে মুহাম্মাদী পূর্ববর্তী অন্যান্য উম্মত থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেছে; আর তা হলো নববী হাদিস ও ইসলামী ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে 'ইসনাদ' বা বর্ণনাপরম্পরার ব্যবহার। ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেছেন: "ইসনাদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, যদি ইসনাদ না থাকত তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলত।"
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وخرج ابن عبد البر في " مقدمة التمهيد ": من طريق محمد بن خيرون ثنا محمد بن الحسين البغدادي، قال: سمعت أحمد بن حنبل يقول: سمعت يحيى بن سعيد يقول: الإسناد من الدين. قال يحيى: وسمعت شعبة يقول: إنما تعلم صحة الحديث بصحة الإسناد.
وخرج أيضا بإسناده إلى الأوزاعي أنه قال: ما ذهاب العلم إلا ذهاب الإسناد.
وقال حاتم بن المظفر - رحمه الله تعالى -: إن الله أكرم هذه الأمة وشرفها وفضلها بالإسناد، وليس لأحد من الأمم كلها قديمهم وحديثهم إسناد وإنما هي صحف في أيديهم، وقد خلطوا بكتبهم أخبارهم، وليس عندهم تمييز بين ما نزل من التوراة والإنجيل مما جاء به أنبياؤهم؛ وبين ما ألحقوه بكتبهم من أخبارهم التي أخذوا عن غير الثقات.
وقال الحاكم أبو عبد الله - رحمه الله تعالى -: فلولا الإسناد وطلب هذه الطائفة له، وكثرة مواظبتهم على حفظه؛ لدرس منار الإسلام ولتمكن أهل الإلحاد والبدع فيه بوضع الأحاديث، وقلب الأسانيد، فإن الأخبار إذا تعرت عن وجود الأسانيد فيها كانت بترا.
وإذا تقرر هذا فليعلم أن الله سبحانه وتعالى قد قيض لحفظ هذا الدين فرسانا، وهم أصحاب الأسانيد، فقد روى ابن حبان في " مقدمة المجروحين ": عن يزيد بن زريع - يرحمه الله - قوله: " لكل دين فرسان، وفرسان هذا الدين أصحاب الأسانيد " اهـ. فرحمهم الله، لقد صنفوا في كل فن من فنونه، وفتشوا عن كل راوٍ
ইবন আবদিল বার 'মুকাদ্দিমাতুত তামহীদ' গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবন খায়রুন-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-বাগদাদী থেকে, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদকে বলতে শুনেছি: সনদ হলো দ্বীনের অংশ। ইয়াহইয়া বলেন: এবং আমি শু'বাহকে বলতে শুনেছি: হাদীসের বিশুদ্ধতা কেবল সনদের বিশুদ্ধতার মাধ্যমেই জানা যায়।
তিনি আরও তাঁর সনদসহ আল-আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ইলম বিলুপ্ত হওয়া মানেই হলো সনদ বিলুপ্ত হওয়া।
হাতেম ইবনুল মুজাফ্ফর (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতকে সনদের মাধ্যমে সম্মানিত, মর্যাদাবান ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। প্রাচীন ও আধুনিক অন্য কোনো জাতির কাছেই সনদ নেই; বরং তাদের কাছে কেবল কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে। তারা তাদের কিতাবগুলোর সাথে নিজেদের বিবরণগুলো সংমিশ্রিত করে ফেলেছে। তাওরাত ও ইঞ্জিলের যা নাযিল হয়েছিল এবং যা তাদের নবীরা নিয়ে এসেছিলেন, আর যা তারা অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকে গ্রহণ করে নিজেদের পক্ষ থেকে কিতাবে সংযুক্ত করেছে—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করার কোনো মানদণ্ড তাদের কাছে নেই।
হাকিম আবু আব্দুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: যদি সনদ এবং এই জামাআতের সনদ অন্বেষণ ও তা হিফাযত করার প্রতি তাদের গভীর একাগ্রতা না থাকত, তবে ইসলামের নিদর্শনসমূহ মিটে যেত এবং মুলহিদ (ধর্মহীন) ও বিদআতিরা হাদীস জাল করে এবং সনদগুলো ওলটপালট করে সুযোগ গ্রহণ করত। কেননা বর্ণনাগুলো যখন সনদবিহীন হয়, তখন তা অসম্পূর্ণ ও ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে।
যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই দ্বীনকে হিফাযত করার জন্য কিছু বীর অশ্বারোহী নির্ধারণ করেছেন, আর তারা হলেন সনদের অধিকারীগণ (মুহাদ্দিসগণ)। ইবন হিব্বান 'মুকাদ্দিমাতুল মাজরুহীন' গ্রন্থে ইয়াযীদ ইবন যুরাই' (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন: "প্রত্যেক দ্বীনেরই বীর অশ্বারোহী থাকে, আর এই দ্বীনের অশ্বারোহী হলেন সনদের অধিকারীগণ।" আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন, তারা ইলমে হাদীসের প্রতিটি শাখায় গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং প্রতিটি বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সূক্ষ্ম অনুসন্ধান চালিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ١١)
من رواته، واعتنوا بهم عناية فائقة حتى عد معرفة ذلك عندهم نصف العلم، فقد خرج الرامهرمزي في المحدث الفاصل فروى عن إمام المحدثين في زمانه علي ابن المديني - يرحمه الله - قوله: " معرفة الرجال نصف العلم ". هذا مع قرب الأسانيد وقلة الوسائط بينهم وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم، فما الظن بمن هو دونهم أن يقول؟ قال شيخنا درة اليمن مقبل بن هادي الوادعي - يرحمه الله -: " وأما نحن فنستطيع أن نقول علم الرجال تسعة من عشرة لبعدنا عن ممارسة هذا الفن، ولنزول بعض الأسانيد كأسانيد الخطيب، والبيهقي، والحاكم، والدارقطني، ومن كان في طبقتهم، فرب راوٍ يبقى الباحث يبحث عنه أياما، ورب راوٍ ينتهي بالباحث ألا يراه ".
قلت: ولا يخفى على العارف بهذا الفن ما يلاقيه المعتنون بالأسانيد من العنت والتعب، في سبيل العثور على تراجم مشايخ أمثال هؤلاء الحفاظ، من أهل القرن الرابع وما بعده، فتراجمهم مبثوثة في تضاعيف كتب الرجال، بخلاف مشايخ الكتب الستة، فإنهم قد حظوا بعناية خاصة بالتعريف بهم، حيث يسهل الوقوف على معرفة أحوالهم عبر كتاب " تهذيب الكمال " و " مختصره ".
فلما تقدم وغيره أحببت أن يكون لي قسط من الأجر في إبراز وتقريب تراجم لرجال بعض هذه الأسانيد النازلة، فقمت بجمع تراجم بعض شيوخ أئمة الحديث ونقاده والرحالين في طلبه، والبحث عنه، ومن هؤلاء الإمام الحافظ الرحالة أبو القاسم سليمان بن أحمد الطبراني - يرحمه الله -؛ فقد قمت بجمع شيوخه من جميع كتبه المطبوعة التي وقفت عليها، والتي بلغت خمسة عشر كتابا، وكذا كتب راويته لأبي نعيم الأصبهاني، و " جامع المسانيد " للحافظ عماد الدين ابن كثير،
তাঁর বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে, এবং তাঁরা তাঁদের প্রতি অত্যন্ত নিবিড় যত্ন নিয়েছেন, এমনকি তাঁদের কাছে এই বিষয়টি জানা জ্ঞানের অর্ধাংশ হিসেবে গণ্য হতো। ইমাম রামাহুরমুজি 'আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল' গ্রন্থে তাঁর যুগের মুহাদ্দিসদের ইমাম আলী ইবনুল মাদিনী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "বর্ণনাকারীদের পরিচিতি লাভ করা হচ্ছে অর্ধেক জ্ঞান।" এটি তাঁদের সনদসমূহের নৈকট্য এবং তাঁদের ও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে মাধ্যম কম হওয়া সত্ত্বেও; তাহলে যাঁরা তাঁদের পরবর্তী স্তরের, তাঁদের ব্যাপারে কী ধারণা করা যায়? আমাদের শাইখ, ইয়ামেনের রত্ন মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "আর আমাদের ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি যে, বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞান (ইলমুর রিজাল) হলো দশ ভাগের নয় ভাগ; কেননা আমরা এই শাস্ত্রের চর্চা থেকে দূরে এবং কিছু সনদ 'নাযিল' বা দীর্ঘ সূত্রবিশিষ্ট হওয়ার কারণে, যেমন খতিব, বাইহাকি, হাকেম, দারা কুতনি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের সনদসমূহ। ফলে অনেক সময় একজন বর্ণনাকারীকে নিয়ে গবেষক দিনের পর দিন অনুসন্ধান করতে থাকেন, আবার কখনো এমন হয় যে গবেষক তাঁকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েই শেষ করেন।"
আমি বলছি: এই শাস্ত্র সম্পর্কে যারা অভিজ্ঞ, তাঁদের কাছে এটা গোপন নয় যে, চতুর্থ হিজরি শতাব্দী এবং পরবর্তী সময়ের হাফেজগণের শাইখদের জীবনী খুঁজে পেতে সনদ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের কতটা ক্লান্তি ও কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। কেননা তাঁদের জীবনীসমূহ বর্ণনাকারী বিষয়ক কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে; কুতুবে সিত্তাহর শাইখদের বিষয়টি এমন নয়, কারণ তাঁদের পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার ফলে 'তাহযিবুল কামাল' এবং এর 'সংক্ষিপ্তসার' কিতাবগুলোর মাধ্যমে তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া সহজ হয়ে গেছে।
উপরোক্ত ও অন্যান্য কারণে আমি এই 'নাযিল' সনদসমূহের কিছু বর্ণনাকারীর জীবনী উম্মোচন ও সহজলভ্য করার মাধ্যমে সওয়াবের কিছু অংশ অর্জন করতে চেয়েছি। তাই আমি হাদিসের ইমামগণ, সমালোচকগণ এবং হাদিস অনুসন্ধানে পর্যটনকারীগণের কিছু শাইখের জীবনী সংকলন করতে ব্রতী হয়েছি। তাঁদেরই একজন হলেন ইমাম, হাফেজ, পর্যটক আবু কাসেম সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন); আমি তাঁর মুদ্রিত সমস্ত কিতাব থেকে তাঁর শাইখদের তথ্য সংগ্রহ করেছি যা আমি হাতে পেয়েছি, যার সংখ্যা পনেরটি কিতাব পর্যন্ত পৌঁছেছে। একইভাবে আবু নুআইম আল-আসফাহানির কিতাবসমূহ এবং হাফেজ ইমাদউদ্দিন ইবনে কাসীরের 'জামিওল মাসানিদ' থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছি।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وذلك فيما لم يوجد من " معجم الطبراني الكبير "، وغيرها مما سيقف عليه الناظر في ثنايا هذا الكتاب - إن شاء الله تعالى -.
وإني لأعلم أن هناك من هو أكثر أهلية مني لهذا العمل الجلل، وأني لست بأهل لمجاراة الأئمة المصنفين في تاريخ الرواة وأخبارهم، وإنما أردت التشبه بهم والمشي على منوالهم:
فتشبهوا إن لم تكونوا مثلهم
… إن التشبه بالكرام فلاح
ولما آمل من ثواب ونجاة في اليوم المشهود لمن خدم هذا الدين، تجرأت عل الشأن الكئود، فأسأل الله أن يتقبله مني في اليوم الموعود.
رب تقبل عملي
… ولا تخيب أملي
أصلح أموري كلها
… قبل حلول أجلي
قال ابن فهد المالكي: " إن الاشتغال بنشر أخبار الأخيار من أهل العلم والآثار من علامات سعادة الدنيا وسعادة الآخرة إذ هم شهود الله في أرضه، ولهم المراتب الفاخرة "، وإني لأتمثل في هذا المقام بقول من قال ممن سبقني من أهل العلم:
وما كنت أهلا للذي قد كتبته
… وإني لفي خوف من الله نادم
ولكنني أرجو من الله عفوه
… وإني لأهل العلم لا شك خادم
وقد سميته " إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني "، وهو أحد بحوث " سلسلة تقريب رواة السنة، بين يدي الأمة " المحتوية على ستة أبحاث في المشيخات وهي: شيوخ الدارقطني، والحاكم، وأبي الشيخ، وأبي نعيم، والبيهقي، رحمهم الله جميعا، ويسر لي تبييضها، إنه على كل شيء قدير.
আর এটি সেসব ক্ষেত্রে যা "মু'জামুত তাবারানি আল-কাবীর" এবং অন্যান্য গ্রন্থে পাওয়া যায় না, যা পাঠক এই কিতাবের ভাজে ভাজে দেখতে পাবেন - যদি মহান আল্লাহ তাআলা চান।
আমি জানি যে এই মহান কাজের জন্য আমার চেয়ে অধিক যোগ্য ব্যক্তিরা রয়েছেন, এবং বর্ণনাকারীদের ইতিহাস ও তাঁদের সংবাদ বর্ণনায় ইমাম ও গ্রন্থকারদের সমকক্ষ হওয়ার যোগ্যতা আমার নেই; বরং আমি কেবল তাঁদের সদৃশ হতে চেয়েছি এবং তাঁদের অনুসৃত পথে চলতে চেয়েছি:
সুতরাং তোমরা তাঁদের সদৃশ হও যদি তাঁদের মতো হতে না পারো
… নিশ্চয়ই মহৎ ব্যক্তিদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করাই সফলতা।
আর কিয়ামতের দিনে এই দ্বীনের সেবকদের জন্য যে সওয়াব ও নাজাতের আশা আমি করি, সেই আশাতেই আমি এই কঠিন কাজে সাহসী হয়েছি। অতএব আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি প্রতিশ্রুত দিবসে এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করে নেন।
হে রব, আমার আমল কবুল করুন
… আর আমার আশা ভঙ্গ করবেন না।
আমার মৃত্যুর সময় আসার আগে
… আমার সকল বিষয় সংশোধন করে দিন।
ইবনে ফাহাদ আল-মালিকী বলেছেন: "আহলে ইলম ও আহলে আসারদের মধ্যে যাঁরা উত্তম ব্যক্তি, তাঁদের সংবাদ প্রচারের কাজে মগ্ন থাকা দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্যের অন্যতম লক্ষণ। কেননা তাঁরা পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী এবং তাঁদের জন্য রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা।" আর আমি এই স্থানে আমার পূর্ববর্তী আলেমদের মধ্য থেকে একজনের উক্তি উদ্ধৃত করছি:
আমি যা লিখেছি তার জন্য আমি যোগ্য ছিলাম না
… আর আমি আল্লাহর ভয়ে অনুতপ্ত।
কিন্তু আমি আল্লাহর কাছে তাঁর ক্ষমা প্রত্যাশা করি
… আর আমি নিঃসন্দেহে আলেমদের একজন খাদেম।
আর আমি এর নামকরণ করেছি "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তরাজিমু শুয়ুখিত তাবারানি", এটি "সিলসিলাতু তাকরিবু রুওয়াতুস সুন্নাহ, বাইনা ইয়াদাইল উম্মাহ" নামক সিরিজের একটি অংশ, যা মাশায়েখদের জীবনী বিষয়ক ছয়টি গবেষণার সমন্বয়ে গঠিত। সেগুলো হলো: আদ-দারাকুতনী, আল-হাকিম, আবুশ শায়খ, আবু নুয়াইম এবং আল-বাইহাকীর উস্তাদগণ, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন। আর তিনি আমার জন্য এই পাণ্ডুলিপিগুলো চূড়ান্ত করার কাজ সহজ করে দিন; নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
أما طريقتي في هذا البحث فقد رتبته على حروف المعجم ليسهل الوصول إلى الاستفادة منه، والغرض من هذا البحث كما تقدم، وكما يشير إلى ذلك عنوانه هو العثور على تراجم لهؤلاء الشيوخ إلا أني قد حرصت أيضا على أن يكون هذا البحث قد جمع بين دفتيه جميع شيوخه الذين روى عنهم سواء ذكروا في كتب التراجم أم لا، وهذا القسم بالنسبة إلى الأول قليل جدا، وقد نحوت في القسم الأول على النحو التالي:
1 - أذكر اسم الشيخ على حسب وقوعه في الإسناد الذي ذكر فيه مصحفا كان أو منسوبا إلى جد أعلى مع بيان ذلك.
2 - ثم أشير إلى الموضع الذي ترجمت له فيه، ويكون ذلك في الموضع الذي ذكرت فيه نسبه كاملا حسب وقوع ذلك لي.
3 - ثم أذكر بعد ذلك كنيته، فإن كان له أكثر من كنية ذكرتها أيضا.
4 - ثم أذكر نسبته؛ فإذا كانت إلى قبيلة أو حرفة أو خلقة قدمتها على النسبة إلى بلد، فإن كانت إلى بلدتين قدمت أعمها، وكذا إن كانت إلى قبيلتين، قال الإمام النووي رحمه الله: " عادة الأئمة الحذاق المصنفين في الأسماء والأنساب، أن ينسبوا الرجل النسب العام ثم الخاص؛ ليحصل في الثاني فائدة لم تكن في الأول ".
5 - ثم لقبه.
6 - ثم أذكر بعض شيوخه، وقد أذكرهم كلهم إذا رأيت لذلك حاجة، مبتدئا بأول شيخ ذكر له في " المعجم الصغير " إن كان ممن ذكر فيه.
7 - ثم أذكر بعض تلامذته، وقد أذكرهم كلهم حسب ما تقدم، مبتدئا في ذلك بذكر الحافظ الطبراني - يرحمه الله -.
8 - أنبه على أن هذا الشيخ روى عنه الإسماعيلي في معجمه وسكت عنه، فقد
এই গবেষণায় আমার পদ্ধতি হলো, আমি এটিকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি যাতে এর থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। এই গবেষণার উদ্দেশ্য, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এর শিরোনাম যেমনটি নির্দেশ করে, তা হলো এই সকল শাইখদের জীবনী খুঁজে বের করা। তবে আমি এই বিষয়েও সচেষ্ট হয়েছি যাতে এই গবেষণাটি এর দুই মলাটের মাঝে এমন সকল শাইখদের একত্রিত করে যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন, চাই তাঁরা জীবনীর কিতাবসমূহে উল্লিখিত হোন বা না হোন। প্রথম প্রকারের তুলনায় এই অংশটি খুবই নগণ্য। প্রথম অংশে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি:
১ - সনদে শাইখের নাম যেভাবে এসেছে সেভাবেই আমি তা উল্লেখ করেছি; তা বিকৃত অবস্থায় থাক কিংবা কোনো ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হোক, আমি বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছি।
২ - এরপর আমি সেই স্থানের দিকে ইঙ্গিত করেছি যেখানে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছি; আর তা হবে সেই স্থানে যেখানে আমি আমার কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী তাঁর পূর্ণ বংশপরিচয় উল্লেখ করেছি।
৩ - এরপর আমি তাঁর কুনিয়া (উপনাম) উল্লেখ করেছি; যদি তাঁর একাধিক কুনিয়া থাকে তবে তাও উল্লেখ করেছি।
৪ - এরপর আমি তাঁর নিসবত (সম্বন্ধ) উল্লেখ করেছি; যদি তা কোনো গোত্র, পেশা বা শারীরিক বৈশিষ্ট্যের দিকে হয় তবে আমি তাকে শহরের নিসবতের আগে স্থান দিয়েছি। যদি দুই শহরের দিকে হয়, তবে আমি অধিক সাধারণ বা ব্যাপকটিকে আগে রেখেছি। অনুরূপভাবে যদি দুই গোত্রের ক্ষেত্রে হয়। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নাম ও বংশপরিচয় বিষয়ক অভিজ্ঞ গ্রন্থকার ইমামদের রীতি হলো, তাঁরা ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রথমে সাধারণ নিসবত উল্লেখ করেন, এরপর বিশেষ নিসবত; যাতে দ্বিতীয়টিতে এমন তথ্যগত ফায়দা অর্জিত হয় যা প্রথমটিতে ছিল না।"
৫ - এরপর তাঁর লকব (উপাধি)।
৬ - এরপর আমি তাঁর কয়েকজন শাইখের কথা উল্লেখ করেছি, আবার প্রয়োজন মনে করলে তাঁদের সকলের কথাও উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে আমি "আল-মু'জামুস সাগির" গ্রন্থে তাঁর জন্য উল্লিখিত প্রথম শাইখকে দিয়ে শুরু করেছি, যদি তিনি তাতে উল্লিখিতদের অন্তর্ভুক্ত হন।
৭ - এরপর আমি তাঁর কয়েকজন ছাত্রের নাম উল্লেখ করেছি, পূর্বোক্ত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনে তাঁদের সকলের নামও উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে হাফেজ তাবারানী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছি।
৮ - আমি এ বিষয়ে সতর্ক করেছি যে, এই শাইখ থেকে ইসমাঈলী তাঁর মু'জামে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, ফলে...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
قال في مقدمة " معجمه ": ". . . وأبين حال من ذممت طريقه في الحديث، لظهور كذبه فيه، أو اتهامه به، أو خروجه عن جملة أهل الحديث للجهل به والذهاب عنه، فمن كان عندي ظاهر الأمر منهم لم أخرجه فيما صنعت من حديثي " اهـ.
قال الشيخ الحويني - حفظه الله -: ". . . شيخ الإسماعيلي ترجمه الخطيب في " تاريخ بغداد " ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، ولكنه مقبول عند الإسماعيلي، يدل عليه أنه قال في مقدمة " معجم شيوخه ". . . " ثم ساق كلامه السابق.
9 - وكذا أنبه على أن ابن عدي روى عنه، ولم يذكره في " كامله "، فقد قال في " مقدمته ": " وأذكر في كتابي هذا كل من ذكر بضرب من الضعف، ومن اختلف فيهم فجرحه البعض وعدله البعض الآخر، ومرجح قول أحدهما مبلغ علمي من غير محاباة. . .، ولا يبقى من الرواة الذين لم أذكرهم إلا من هو ثقة أو صدوق، وإن كان ينسب إلى هوى وهو فيه متأول ".
قال ابن دقيق العيد في أثناء رده على ابن حزم تضعيفه أسد بن موسى: " لم نر فيما بين أيدينا من كتب الضعفاء والمتروكين له ذكرا، وأبو أحمد ابن عدي شرط أن يذكر في كتابه كل من تكلم فيه متكلم، وذكر فيه جماعة من الأكابر والحفاظ لذلك، ولم يذكر أسدا، وهذا يقتضي أنه ثقة أو صدوق " اهـ.
وقد نقل كلامه هذا الزيلعي في كتابه " نصيب الراية "، وأقره.
10 - وكذا أيضا أنبه على أن ابن حبان روى عنه في صحيحه فقد قال الحافظ في
তিনি তার "মু'জাম"-এর ভূমিকায় বলেছেন: ". . . এবং হাদীসের ক্ষেত্রে আমি যাদের পথকে নিন্দা করেছি তাদের অবস্থা বর্ণনা করব, তার মধ্যে তাদের মিথ্যা প্রকাশ পাওয়ার কারণে, অথবা তার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার কারণে, অথবা হাদীস বিশেষজ্ঞদের দল থেকে তাদের বেরিয়ে যাওয়ার কারণে হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং তা থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে। সুতরাং তাদের মধ্যে যাদের অবস্থা আমার নিকট স্পষ্ট ছিল, আমি আমার সংকলিত হাদীসে তাদের বর্জন করিনি।" ইতি।
শায়খ আল-হুওয়াইনী -আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন- বলেছেন: ". . . আল-ইসমাঈলী-এর উস্তাদ সম্পর্কে আল-খাতীব 'তারীখে বাগদাদ'-এ জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তাতে কোনো জরাহ (সমালোচনা) বা তা'দীল (প্রশংসা) উল্লেখ করেননি, তবে তিনি আল-ইসমাঈলী-এর নিকট গ্রহণযোগ্য। এর প্রমাণ হলো তিনি তার 'মু'জামু শুয়ূখিহি'-এর ভূমিকায় বলেছেন. . . " এরপর তিনি তার পূর্বোক্ত বক্তব্য উল্লেখ করেন।
৯ - একইভাবে আমি এই বিষয়ে সতর্ক করছি যে, ইবনে আদী তার থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তার 'আল-কামিল' গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করেননি। কারণ তিনি তার 'ভূমিকা'য় বলেছেন: "আমি আমার এই কিতাবে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে উল্লেখ করব যার সম্পর্কে সামান্যতম দুর্বলতার কথা বলা হয়েছে, এবং যাদের সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে যে, কেউ কেউ তাকে জরাহ (সমালোচনা) করেছেন এবং অন্য কেউ তাকে তা'দীল (প্রশংসা) করেছেন। আমি কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই আমার ইলম অনুযায়ী তাদের যে কারো বক্তব্যকে প্রাধান্য দেব. . . , আর আমি যাদের উল্লেখ করিনি এমন রাবীদের মধ্যে কেবল তারাই অবশিষ্ট থাকে যারা সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বা সাদূক (সত্যবাদী), যদিও তাদের কোনো প্রবৃত্তির (বিদআত) দিকে সম্বন্ধ করা হয় এবং তারা তাতে ব্যাখ্যাকারী হয়।"
ইবনুল দাকীকুল ঈদ আসাদ ইবনে মূসাকে ইবনে হাযমের যঈফ (দুর্বল) বলার প্রতিবাদকালে বলেছেন: "আমাদের সামনে বিদ্যমান দুর্বল ও পরিত্যক্ত রাবীদের কিতাবসমূহে আমরা তার কোনো উল্লেখ দেখতে পাইনি। আবু আহমাদ ইবনে আদী শর্তারোপ করেছিলেন যে, তিনি তার কিতাবে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে উল্লেখ করবেন যার সম্পর্কে কোনো সমালোচক কথা বলেছেন। সেই কারণে তিনি সেখানে একদল বড় বড় আলেম ও হাফেযে হাদীসকে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি আসাদকে উল্লেখ করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বা সাদূক (সত্যবাদী)।" ইতি।
আয-যাইলায়ী তার 'নাসবুর রায়াহ' গ্রন্থে তার এই বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন এবং সমর্থন করেছেন।
১০ - একইভাবে আমি এই বিষয়েও সতর্ক করছি যে, ইবনে হিব্বান তার 'সহীহ' গ্রন্থে তার থেকে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি হাফেয বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
" اللسان " في ترجمة أحمد بن علي بن الحسين المدائني: " حدث عنه ابن حبان في صحيحه ومقتضاه أنه ثقة ".
11 - وقد كنت أردت أن أورد جميع الشيوخ والتلاميذ لهذا الشيخ المترجم له؛ ثم أعرضت عن ذلك لأمرين:
أحدهما: أن الفائدة في نظري من ذلك قليلة.
وثانيهما: أن حصرهم متعذر.
ولذا قال الحافظ في مقدمة " تهذيبه ": " إن أجل فائدة في ذلك هو في شيء واحد، وهو إذا اشتهر أن الرجل لم يرو عنه إلا واحد، فإذا ظفر المفيد له براوٍ آخر أفاد رفع جهالة عين ذلك الرجل برواية راويين عنه، فتتبُّع مثل ذلك والتنقيب عليه مهم، أما إذا جئنا إلى مثل الثوري، وأبي زرعة الرازي. . . وغير هؤلاء، ممن زاد عدد شيوخهم على الألف فأردنا استيعاب ذلك تعذر علينا غاية التعذر ".
12 - وقد كنت حرصت على أن أذكر جميع الكتب التي خرج له فيها الطبراني؛ إلا أني رأيت أن الفائدة من ذلك قليلة أيضا، بل قد تكون ضئيلة، فعدلت عن ذلك مقتصرا على المعاجم الثلاثة، وتركت ما عدا ذلك إلا لحاجة.
13 - ثم أذكر كل ما قيل فيه مما له تعلق في الحكم عليه، توثيقا، وتجريحا؛ قال الحافظ في مقدمة " تهذيبه ": " وفائدة إيراد كل ما قيل في الرجل من جرح وتوثيق يظهر عند المعارضة "، إلا إذا كان هذا الشيخ من المشهورين بالحفظ والإمامة، فإني قد لا أستوعب ذلك.
14 - وإذا قلت: وثقه فلان، أو جهله فلان، فأعني به توثيقا وتجهيلا ضمنيا، وذلك كأن يقول: إسناده رجاله كلهم ثقات، ونحو ذلك.
"আল-লিসান" গ্রন্থে আহমদ বিন আলি বিন আল-হুসাইন আল-মাদাইনীর জীবনীবৃত্তান্তে বলা হয়েছে: "ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং এর দাবি হলো তিনি নির্ভরযোগ্য।"
১১ - আমি এই জীবনীবৃত্তান্তের অধিকারী শায়খের সকল শিক্ষক এবং ছাত্রদের উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম; কিন্তু দুটি কারণে আমি তা থেকে বিরত হয়েছি:
তার একটি হলো: আমার দৃষ্টিতে এর উপকারিতা সামান্য।
আর দ্বিতীয়টি হলো: তাঁদের সংখ্যা সীমিত করা বা পূর্ণ গণনা করা অসম্ভব।
এই কারণেই হাফেজ তাঁর "তাহজিব" গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো একটি বিষয়ে, তা হলো যখন এটি প্রসিদ্ধ হয়ে যায় যে কোনো ব্যক্তি থেকে মাত্র একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, তখন যদি গবেষক তাঁর জন্য অন্য কোনো বর্ণনাকারীর সন্ধান পান, তবে তা দুই বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিচিতিহীনতা দূর করতে সাহায্য করে। সুতরাং এ ধরনের বিষয়ের অনুসন্ধান ও গবেষণা করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন আমরা সাওরি, আবু যুরআ আর-রাজি... এবং তাঁদের মতো অন্যদের বিষয়ে আসি যাদের শিক্ষকের সংখ্যা হাজারের বেশি, আর আমরা যদি তা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে চাই, তবে তা আমাদের জন্য চূড়ান্তভাবে অসম্ভব হয়ে পড়ে।"
১২ - আমি তাবারানি যে সমস্ত গ্রন্থে তাঁর হাদিস উদ্ধৃত করেছেন তার সবকটি উল্লেখ করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলাম; কিন্তু আমি দেখলাম যে এর উপকারিতাও সামান্য, বরং অতি নগণ্য। তাই আমি তা পরিহার করে কেবল তিনটি 'মুজাম'-এর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং প্রয়োজন ছাড়া বাকিগুলো ছেড়ে দিয়েছি।
১৩ - অতঃপর তাঁর সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যতা এবং ত্রুটি বর্ণনার ক্ষেত্রে যা কিছু বলা হয়েছে এবং যা তাঁর ওপর হুকুম প্রদানের সাথে সংশ্লিষ্ট, আমি তার সবটুকু উল্লেখ করেছি। হাফেজ তাঁর "তাহজিব" গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জারহ এবং তাওসিক সংক্রান্ত যা কিছু বলা হয়েছে তা উল্লেখ করার উপকারিতা বিরোধপূর্ণ বর্ণনার সময় স্পষ্ট হয়।" তবে যদি এই শায়খ হেফজ ও ইমামতের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন, সেক্ষেত্রে আমি হয়তো সবটুকু উল্লেখ করিনি।
১৪ - আর যখন আমি বলি: অমুক তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, অথবা অমুক তাঁকে অজ্ঞাত বলেছেন, তখন আমি এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নির্ভরযোগ্যতা প্রদান বা অজ্ঞাত সাব্যস্ত করাকে বোঝাই। যেমন তাঁর এটি বলা: "এর সনদের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য" এবং এই জাতীয় কথা।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - وأختم ذلك بأحكام العالمين الجليلين؛ الحافظ نور الدين الهيثمي من كتابه " مجمع الزوائد، ومنبع الفوائد "، ومحدث العصر سماحة الشيخ محمد ناصر الدين الألباني من كتبه المطبوعة وقد انتفعت في ذلك بالكتاب الذي جمعه أحمد إسماعيل شكوكاني، وصالح عثمان اللحمام " معجم أسامي الرواة الذين ترجم لهم العلامة: محمد ناصر الدين الألباني " مع عدم تقليدي لهما في شيء مما ينقلانه وإنما استعنت به في العاجل وكشفت الأصول التي عزيا النقل إليها في الآجل، وزدت عليهما أشياء كثيرة لم تقع لهما.
16 - ثم ختمت الترجمة بذكر ما يتعلق بسنة سماعة، وولادته، إن وجد ذلك.
17 - ثم وفاته، فإن وجد اختلاف في ذلك ذكرته.
18 - ثم أشير إلى مصادر ترجمته وقد لا يستقصى في ذكرها كما إذا كان هذا الشيخ من المشهورين بالحفظ والإتقان مثلا. وكذا لا أراعي في ترتيبها سنة الوفاة كما يفعله الكثير من المحققين، وقد حرصت على أن أرجع إلى المصادر الأصلية ما أمكنني ذلك؛ لما فيه من الفائدة العظيمة.
قال الشيخ محمد عمرو عبد اللطيف في سياق كلامه على تصحيف وقع في بعض الكتب المتأخرة: " ووجه العبرة من ذلك ألا يعتمد الباحث أو طالب العلم على كتب الأئمة المتأخرين الجامعة. . . بل عليه أن يرجع إلى الأصول من كتب الأئمة المتقنين. . . ليتحقق من سلامة النص من جهة، وليحيط علما بكل ما قيل في الراوي من مدح أو قدح، وبما استنكروه عليه من جهة أخرى ".
19 - وأما ما يتعلق بضبط المتشابه من الأسماء، والأنساب والألقاب، فقد كنت قيدته بالحروف، ثم إني عدلت عن ذلك إلى تقييده بالخط، لئلا يطول الكتاب.
১৫ - আর আমি এই অংশটি দুই মহান আলেমের সিদ্ধান্ত ও মন্তব্যের মাধ্যমে সমাপ্ত করব; তাঁরা হলেন হাফেজ নূরুদ্দিন আল-হাইসামি তাঁর 'মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ' গ্রন্থ থেকে এবং বর্তমান যুগের মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ থেকে। এক্ষেত্রে আমি আহমাদ ইসমাইল শুকুকানি এবং সালিহ উসমান আল-লাহমাম কর্তৃক সংকলিত 'মুজামু আসামির রুওয়াতিল্লাযিনা তারজামা লাহুমুল আল্লামা: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি' নামক গ্রন্থ থেকে উপকৃত হয়েছি। তবে তাঁরা যা উদ্ধৃত করেছেন তার কোনোটিতেই আমি তাঁদের অন্ধ অনুসরণ করিনি, বরং তৎক্ষণাৎ দ্রুত কাজের স্বার্থে আমি এর সাহায্য নিয়েছি এবং পরবর্তীতে যে মূল উৎসগুলোর দিকে তাঁরা উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন সেগুলো যাচাই করেছি এবং সেখানে এমন অনেক কিছু যুক্ত করেছি যা তাঁদের নিকট ছিল না।
১৬ - অতঃপর আমি বর্ণনাকারীর জীবনীটি তাঁর শ্রবণের (সামা') বছর এবং তাঁর জন্ম সংক্রান্ত আলোচনা দ্বারা সমাপ্ত করেছি, যদি তা পাওয়া যায়।
১৭ - তারপর তাঁর মৃত্যু, আর যদি এ বিষয়ে কোনো মতভেদ থাকে তবে আমি তা উল্লেখ করেছি।
১৮ - এরপর আমি তাঁর জীবনীর উৎসসমূহের দিকে ইঙ্গিত করেছি। কখনো কখনো সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনায় পূর্ণতা আনয়ন করা হয়নি, যেমন যদি সেই শাইখ মুখস্থবিদ্যা ও নিখুঁত বর্ণনায় (ইতকান) প্রসিদ্ধ হয়ে থাকেন। একইভাবে আমি জীবনী বিন্যাসের ক্ষেত্রে মৃত্যু সাল অনুসরণ করিনি যেমনটা অনেক গবেষক করে থাকেন। আমি যথাসম্ভব মূল উৎসগুলোর দিকে ফিরে যেতে সচেষ্ট হয়েছি; কারণ এতে মহান উপকার নিহিত রয়েছে।
শাইখ মুহাম্মদ আমর আব্দুল লতিফ পরবর্তীকালের কিছু কিতাবে ঘটে যাওয়া শব্দবিভ্রাট (তাসহিফ) প্রসঙ্গে তাঁর আলোচনার ধারায় বলেন: "এ থেকে শিক্ষণীয় বিষয় হলো, গবেষক বা ইলম অন্বেষণকারী যেন পরবর্তী ইমামদের সংকলিত গ্রন্থাবলির ওপর নির্ভর না করেন... বরং তাঁর উচিত নির্ভরযোগ্য ইমামদের মূল কিতাবসমূহের দিকে ফিরে যাওয়া... যাতে একদিকে পাঠের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়া যায়, আর অন্যদিকে বর্ণনাকারী সম্পর্কে বর্ণিত প্রশংসা বা সমালোচনা এবং তাঁর যেসব বর্ণনাকে তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন সে সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করা যায়।"
১৯ - আর সদৃশ নামসমূহ, বংশ পরিচয় এবং উপাধিগুলো সঠিকভাবে নির্ধারণের বিষয়ে আমি প্রথমে তা অক্ষরের মাধ্যমে লিখেছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে গ্রন্থটি দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আমি তা লেখনীর সংকেত (হরকত) দ্বারা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وأما ما يتعلق بالقسم الثاني من هؤلاء الشيوخ وهم من لم أجد لهم رواية إلا من طريق الطبراني فقط، ولم أقف لهم على ترجمة في كتب التراجم، فإني قد نحوت في هؤلاء على النحو التالي:
1 - أذكر الشيخ حسب ما ذكر في الأسانيد؛ كما تقدم في القسم الأول.
2 - ثم أذكر جميع شيوخه الذين ذكروا في كتب الطبراني أو غيرها إن أمكن ذلك.
3 - ثم أنظر فيهم أو في بعضهم في الكتب التي ترجمت لهم إن كان له فيها ذكر فأثبته؛ لما في ذلك من أمن وجود تصحيف أو تحريف فيه.
4 - ثم أذكر أن الطبراني روى عنه فإن وصفه بشيء من الحفظ أو الزهد أو الفقه أو القضاء أو نحو ذلك أو ذكر أنه حدثه سنة كذا أو في الموضع الفلاني ذكرت ذلك لما فيه من فائدة لا تخفى، قال شيخنا أبو الحسن السليماني - حفظه الله -: ومما يرفع جهالة العين معرفة الراوي بأي شيء غير الرواية فقد يروي عنه واحد، ولكن يقول: مات في حروب الروم مثلا ونحوه. أو كصنيع الإمام الطبراني رحمه الله حيث يقول: حدثني فلان في المكان الفلاني وفي سنة كذا، ويسمي البلد التي حدثه فيها وهذا يقوي رفع جهالة العين؛ لأنه من المؤكد أنه لقي هذا الشيخ، وكأن يقول الراوي مثلا: حدثنا فلان، وكان قاضيا، أو كان غزاء، أو كان قارئا، مع أنه ما روى عنه غيره، فأي معلومات مع رواية هذا الرجل ترفع أيضا جهالة عينه، ويبقى مجهول الحال.
ومما يستدل به على رفع جهالة العين كثرة رواية الراوي الواحد عن شيخه كما صرح بذلك شيخنا الألباني - حفظه الله -.
আর এই শায়খদের দ্বিতীয় ভাগের ক্ষেত্রে, যাদের সম্পর্কে আমি তাবারানীর সূত্র ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনা খুঁজে পাইনি এবং জীবনীগ্রন্থসমূহেও তাদের কোনো জীবনী আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি, তাদের ব্যাপারে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
১ - সনদসমূহে শায়খের নাম যেভাবে উল্লিখিত হয়েছে, সেভাবেই আমি তাকে উল্লেখ করব; যেমনটি প্রথম ভাগে গত হয়েছে।
২ - এরপর সম্ভব হলে তাবারানীর কিতাবসমূহে বা অন্যান্য কিতাবে উল্লিখিত তাঁর সকল শায়খের (শিক্ষক) নাম উল্লেখ করব।
৩ - এরপর আমি তাদের অথবা তাদের কয়েকজনের ব্যাপারে সেই জীবনীগ্রন্থগুলোতে অনুসন্ধান করব যদি সেখানে তার কোনো উল্লেখ থাকে তবে আমি তা সাব্যস্ত করব; কারণ এতে নামের বানানে ভুল বা বিকৃতি ঘটার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
৪ - এরপর আমি উল্লেখ করব যে তাবারানী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। যদি তিনি তাঁকে হেফজ (স্মৃতিশক্তি), যুহদ (বিরাগ), ফিকহ বা বিচারকার্য পরিচালনা অথবা এই জাতীয় কোনো গুণে বিশেষিত করেন, কিংবা উল্লেখ করেন যে তিনি অমুক সনে বা অমুক স্থানে তাঁর নিকট হাদীস শুনেছেন, তবে আমি তা উল্লেখ করব; কারণ এতে এমন উপকারিতা রয়েছে যা অস্পষ্ট নয়। আমাদের শায়খ আবুল হাসান আস-সুলাইমানী (আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন) বলেছেন: "বর্ণনাকারীর ব্যক্তিগত পরিচয়হীনতা (জাহালাতুল আইন) দূর করার একটি মাধ্যম হলো বর্ণনা ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে বর্ণনাকারী সম্পর্কে অবগত হওয়া। হতে পারে তাঁর থেকে মাত্র একজন বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি বলেছেন: তিনি উদাহরণস্বরূপ রোম যুদ্ধে মারা গেছেন অথবা এই জাতীয় কিছু।" অথবা ইমাম তাবারানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কর্মপদ্ধতির মতো, যেখানে তিনি বলেন: 'অমুক ব্যক্তি অমুক স্থানে এবং অমুক সনে আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন' এবং তিনি সেই শহরের নাম উল্লেখ করেন যেখানে তিনি হাদীস শুনেছেন। এটি ব্যক্তিগত পরিচয়হীনতা দূর করতে শক্তি প্রদান করে; কারণ এটি নিশ্চিত করে যে তিনি অবশ্যই এই শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। আবার বর্ণনাকারী যদি বলেন: 'অমুক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন বিচারক ছিলেন, অথবা একজন যোদ্ধা ছিলেন, অথবা একজন ক্বারী ছিলেন', যদিও তিনি ছাড়া আর কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি। সুতরাং এই ব্যক্তির বর্ণনার সাথে যুক্ত যেকোনো তথ্য তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়হীনতাকেও দূর করে দেয়, যদিও তাঁর নির্ভরযোগ্যতার অবস্থা (হাল) অজ্ঞাতই থেকে যায়।
আর ব্যক্তিগত পরিচয়হীনতা (জাহালাতুল আইন) দূর করার স্বপক্ষে একটি দলীল হলো একজন বর্ণনাকারী কর্তৃক তাঁর শায়খ থেকে অধিক পরিমাণে বর্ণনা করা, যেমনটি আমাদের শায়খ আলবানী (আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
5 - ثم أشير بعد ذلك إلى المواضع التي خرج له فيها في جميع كتب الطبراني بالجزء والصفحة، إلا إذا كان هذا الشيخ ممن أكثر عنه الطبراني، فإني - والحالة هذه - لا أهتم كثيرا بذلك، ولكن أنص أنه مكثر عنه مع ذكر أسماء الكتب التي خرج له فيها دون ذكر الموضع بالجزء والصحيفة، وفائدة التنصيص على كون هذا الراوي أكثر من الرواية عن شيخه غير خافية فقد قال العلامة نور الدين الهيثمي رحمه الله في أثناء تخريجه لبعض أحاديث الطبراني: رواه الطبراني في " الأوسط " عن شيخ له اسمه أحمد ولم أعرفه، والظاهر أنه ثقة؛ لأنه أكثر عنه.
6 - ثم إني أذكر بعد ذلك عدد الأحاديث التي رواها عنه الطبراني في كتبه بالشرط المتقدم أيضا.
7 - ثم أبين أنه قد توبع عليها ما استطعت، وقد أشير إلى أن لها عللا أخرى.
8 - وإن ظفرت بتصحيح أو توثيق للإسناد الذي ذكر فيه عن أحد من الحفاظ أثبته لما في ذلك كله من فائدة تعين الباحث على الوصول إلى نتيجة صحيحة في الحكم عليه.
9 - وكذا إن ظفرت عل قول لأحد المشهورين بالعلم في عدم العثور عليه، فإني أذكره أيضا.
10 - وقد كنت عزمت على أن أذكر بين يدي البحث قواعد وفوائد تعين الباحث على الوصول إلى الحكم على الراوي الذي لم توجد له ترجمة أو وجدت إلا أنها عارية عن التوثيق والتجريح، فرأيت أن أترك ذلك إلى مقام آخر خشية الإطالة، واكتفيت ها بالتنبيه على بعض هذه القواعد والضوابط كما في الفقرة (8، 9، 10) وغيرها، وإن كنت أرى أن هذه القواعد تحتاج إلى بعض القيود إلا أن المقام ليس مقام ذلك، والله الموفق.
11 - واقتصرت على ترجمة للطبراني تكلمت فيها على ولادته، ونسبه، وأسرته،
৫ - এরপর আমি তাবারানীর সকল কিতাবে সংশ্লিষ্ট রাবীর বর্ণিত স্থানসমূহের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ উল্লেখ করি। তবে যদি সেই শাইখ এমন কেউ হন যার থেকে তাবারানী প্রচুর বর্ণনা করেছেন, সেক্ষেত্রে আমি—এই অবস্থায়—খণ্ড ও পৃষ্ঠার বিবরণ দিতে তেমন গুরুত্ব দিই না। বরং আমি কেবল এটি উল্লেখ করি যে, তিনি তার থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন এবং যে সকল কিতাবে তার বর্ণনা এসেছে সেগুলোর নাম উল্লেখ করি, খণ্ড ও পৃষ্ঠার নম্বর উল্লেখ করা ব্যতীত। জনৈক রাবী তার শাইখ থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন—এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার উপকারিতা গোপন নয়। আল্লামা নূরুদ্দীন আল-হাইসামি (রাহিমাহুল্লাহ) তাবারানীর কিছু হাদিস তাখরিজ করার সময় বলেছেন: "তাবারানী এটি 'আল-আওসাত'-এ তার এমন একজন শাইখ থেকে বর্ণনা করেছেন যার নাম আহমাদ এবং আমি তাকে চিনি না; তবে আপাতদৃষ্টিতে তিনি বিশ্বস্ত; কারণ তিনি (তাবারানী) তার থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন।"
৬ - এরপর আমি তাবারানী তার কিতাবসমূহে তার থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যাও উল্লিখিত শর্তানুসারে উল্লেখ করি।
৭ - এরপর আমি সাধ্যমতো এটি স্পষ্ট করি যে, সেই বর্ণনার কোনো সমর্থনমূলক বর্ণনা (মুতাবায়াত) আছে কি না, এবং কখনও কখনও আমি ইঙ্গিত করি যে এতে অন্যান্য ত্রুটি (ইল্লাত) রয়েছে।
৮ - আর হাফেজগণের মধ্য থেকে কারো পক্ষ থেকে যদি আমি উল্লিখিত সনদের কোনো বিশুদ্ধতা ঘোষণা (তাসহিহ) বা নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (তাউসিক) খুঁজে পাই, তবে আমি তা সাব্যস্ত করি। কারণ এতে এমন উপকারিতা রয়েছে যা একজন গবেষককে উক্ত বর্ণনার হুকুম বা রাবীর ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
৯ - একইভাবে ইলম বা জ্ঞানের জগতে প্রসিদ্ধ কোনো মনীষীর এমন কোনো উক্তি যদি পাই যে তিনি সংশ্লিষ্ট রাবীর কোনো পরিচয় খুঁজে পাননি, তবে আমি তাও উল্লেখ করি।
১০ - আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, আলোচনার প্রারম্ভে এমন কিছু নীতিমালা ও উপকারিতা উল্লেখ করব যা একজন গবেষককে এমন রাবীর ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করবে যার কোনো জীবনী পাওয়া যায়নি অথবা পাওয়া গেলেও তাতে নির্ভরযোগ্যতা (তাউসিক) বা ত্রুটি বর্ণনার (জারহ) কোনো উল্লেখ নেই। কিন্তু দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমি তা অন্য কোনো স্থানের জন্য রেখে দেওয়া সমীচীন মনে করেছি এবং এখানে ৮, ৯ ও ১০ নম্বর অনুচ্ছেদসহ অন্যান্য স্থানে বর্ণিত কিছু নীতিমালা ও নিয়মের প্রতি সতর্ক করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছি। যদিও আমি মনে করি যে এই নীতিমালাগুলোর জন্য কিছু সীমাবদ্ধতার প্রয়োজন রয়েছে, তবে এটি তার উপযুক্ত স্থান নয়। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
১১ - আর আমি তাবারানীর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি যেখানে তার জন্ম, বংশ এবং পরিবার নিয়ে আলোচনা করেছি,
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ورحلته، وبعض الفوائد المتعلقة بشيوخه، ثم ذكرت بعض الأعلام من تلامذته، ثم تكلمت على منزلته العلمية عند أهل العلم مع مناقشة ما أخذ عليه، ثم ذكرت مؤلفاته مقتصرا على ما طبع منها مما علمته، ثم ختمت ذلك بذكر وفاته.
- ولم أدخر جهدا في هذا البحث إلا بذلته في تحريره، وتنقيحه، وتقريره، ولا أدعي الكمال والتمام، والعصمة من الزلل والخطأ والنسيان، فقد قيل: " أبى الله أن يصح إلا كتابه ".
وروي عن الإمام الشافعي - يرحمه الله - قوله: " لقد ألفت هذه الكتب ولم آل جهدا فيها، ولا بد أن يوجد فيها الخطأ، لأن الله تعالى يقول: {ولو كان من عند غير الله لوجدوا فيه اختلافا كثيرا} [النساء: 82]، فما وجدتم في كتبي هذه ما يخالف الكتاب والسنة فقد رجعت عنها "، ولله در من قال:
كم من كتاب قد تصفحته
… وقلت في نفسي أصلحته
حتى إذا طالعته ثانيا
… وجدت تصحيفا فصححته
فمن وقف فيه على تقصير أو خلل، أو عثر فيه على تغيير أو زلل، فليعذر أخاه في ذلك متطولا، أو ليصلح منه ما يحتاج إلى إصلاح متفضلا، فالتقصير من الأوصاف البشرية، وليست الإحاطة بالعلم إلا لبارئ البرية، فهو الذي وسع كل شيء علما، وأحصى مخلوقاته عينا واسما.
سطره لنفسه
… قائله وجامعه
فليعف عن زلاته
… ناقله وسامعه
هذا ما أردت بيانه في هذه المقدمة، والله أسأل أن يبارك لي في عملي كله، ظاهره وباطنه، وأن يتقبله مني، وأن يجعله وقاية لي من سخطه وعقابه في الدنيا
এবং তাঁর সফরসমূহ এবং তাঁর শিক্ষকগণ সম্পর্কিত কিছু ফায়দা, অতঃপর আমি তাঁর ছাত্রদের মধ্য হতে প্রখ্যাত ব্যক্তিদের উল্লেখ করেছি। এরপর আলেমদের নিকট তাঁর ইলমি মাকাম বা অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছি এবং তাঁর উপর যেসব আপত্তি করা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করেছি। তারপর আমি তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি উল্লেখ করেছি, যা কেবল আমার জানামতে মুদ্রিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছি। পরিশেষে তাঁর মৃত্যুর বর্ণনার মাধ্যমে তা সমাপ্ত করেছি।
আমি এই গবেষণায় কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি; বরং এর লিখন, সংশোধন এবং সুবিন্যস্তকরণে সর্বাত্মক শ্রম ব্যয় করেছি। আমি পূর্ণাঙ্গতা, সমাপ্তি কিংবা বিচ্যুতি, ভুল ও বিস্মৃতি থেকে মুক্ত হওয়ার দাবি করি না। কেননা বলা হয়েছে: "আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে নির্ভুল রাখতে অস্বীকার করেছেন।"
ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: "আমি এই গ্রন্থগুলো রচনা করেছি এবং এতে প্রচেষ্টার কোনো ত্রুটি করিনি, তবুও এতে অবশ্যই ভুল পাওয়া যাবে; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক অনৈক্য বা অমিল দেখতে পেত} [আন-নিসা: ৮২]। অতএব তোমরা আমার এই গ্রন্থগুলোতে যা কিছু কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী পাবে, তা থেকে আমি প্রত্যাবর্তন করছি।" আর কী চমৎকারই না বলেছেন সেই ব্যক্তি যিনি বলেছেন:
কত কিতাবই না আমি পৃষ্ঠা উল্টে দেখেছি
… আর মনে মনে বলেছি আমি তা সংশোধন করেছি
অতঃপর যখন আমি তা দ্বিতীয়বার অধ্যয়ন করেছি
… তখন তাতে বর্ণবিভ্রাট পেয়েছি এবং তা সংশোধন করেছি
সুতরাং এতে কেউ যদি কোনো ত্রুটি বা অসংগতি লক্ষ্য করেন, কিংবা কোনো পরিবর্তন বা স্খলন খুঁজে পান, তবে তিনি যেন অনুগ্রহপূর্বক তাঁর ভাইকে ক্ষমা করেন, অথবা দয়াপরবশ হয়ে যা সংশোধনের প্রয়োজন তা সংশোধন করে দেন। কেননা ত্রুটি করা মানবীয় বৈশিষ্ট্য, আর জ্ঞানের পূর্ণ পরিব্যাপ্তি কেবল সৃষ্টির স্রষ্টার জন্যই। তিনিই সেই সত্তা যাঁর জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং যিনি তাঁর সৃষ্টিজগতকে সংখ্যায় ও নামে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে গণনা করে রেখেছেন।
এটি নিজের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন
… এর প্রণেতা ও সংকলক
অতএব এর উদ্ধৃতি প্রদানকারী ও শ্রবণকারী যেন
… তাঁর ভুলগুলো ক্ষমা করে দেন
এই ভূমিকায় আমি এ বিষয়গুলোই স্পষ্ট করতে চেয়েছি। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার সকল কাজে বরকত দান করেন—প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সর্বাবস্থায়, এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করেন। আর দুনিয়াতে তাঁর অসন্তুষ্টি ও শাস্তি থেকে একে যেন আমার জন্য সুরক্ষা স্বরূপ করে দেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
والآخرة، إنه بر رحيم، جواد كريم، كما أسأله سبحانه أن يرحم أبوي كما ربياني صغيرا، وأن يأخذ بأيديهما إلى كل خير، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وأن يبارك لي في زوجتي وأهلي وذريتي، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا، مزيدا إلى يوم الدين.
كتبه:
أبو الطيب نايف بن صلاح بن علي المنصوري
في دار الحديث الخيرية بمأرب
حرسها الله من كل سوء ومكروه
এবং পরকাল; নিশ্চয়ই তিনি কল্যাণকামী, পরম দয়ালু, পরম দাতা ও মহানুভব। সেইসাথে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার পিতামাতার প্রতি দয়া করেন যেমনভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন এবং তিনি যেন তাঁদের হাত ধরে সকল কল্যাণের দিকে নিয়ে যান; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আর তিনি যেন আমার স্ত্রী, পরিবার ও বংশধরদের মাঝে আমার জন্য বরকত দান করেন। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীবৃন্দের ওপর বিচার দিবস পর্যন্ত উত্তরোত্তর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত প্রচুর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন:
আবু আত-তাইয়্যিব নায়েফ বিন সালাহ বিন আলী আল-মানসুরি
মারিবের দারুল হাদিস আল-খাইরিয়্যাহ-তে
আল্লাহ একে যাবতীয় অনিষ্ট ও অপছন্দনীয় বিষয় থেকে রক্ষা করুন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ترجمة الحافظ أبي القاسم الطبراني
(أ) ولادته:ولد في صفر سنة ستين ومائتين، واختلف في مكان ولادته، فذهب القاضي ابن أبي يعلى في " طبقات الحنابلة " (2/ 50)، والذهبي في كتابيه " النبلاء " و " التذكرة " (3/ 913)، إلى أنها بعكا.
وذهب ياقوت الحموي في: " معجم البلدان " (4/ 18)، وابن خلكان، وابن الأثير في " لبابه " (2/ 273)، وغيرهم، إلى أنها بطبرية.
قال ابن مردويه كما في " مناقب الطبراني " لابن منده (ص 333).
سمعت الطبراني يقول: ولدت سنة ستين ومائتين.
(ب) نسبه:هو أبو القاسم سليمان بن أحمد بن أيوب بن مطير اللخمي الطبراني الحافظ.
(ج) أسرته:ذكر الذهبي في " النبلاء " (16/ 119)، و " تذكرة الحفاظ " (3/ 913)، أن أباه
হাফেজ আবুল কাসিম আত-তাবারানির জীবনী(ক) তাঁর জন্ম:তিনি দুইশত ষাট হিজরীর সফর মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কাজী ইবনুল ফাররা আবু ইয়ালা "তাবাকাতুল হানাবিলা" (২/৫০) গ্রন্থে এবং আয-যাহাবি তাঁর দুই গ্রন্থ "আন-নুবালা" ও "আত-তাযকিরা" (৩/৯১৩)-তে অভিমত দিয়েছেন যে, তা ছিল আক্কায়।
অন্যদিকে ইয়াকুত আল-হামাভি "মুজামুল বুলদান" (৪/১৮) গ্রন্থে, এবং ইবনে খাল্লিকান, ও ইবনুল আসির তাঁর "লুবাব" (২/২৭৩) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা অভিমত দিয়েছেন যে, তা ছিল তাবারিয়ায়।
ইবনে মানদাহ রচিত "মানাকিবুত তাবারানি" (পৃষ্ঠা ৩৩৩)-তে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে, ইবনে মারদুওয়াইয়াহ বলেন।
আমি আত-তাবারানিকে বলতে শুনেছি: আমি দুইশত ষাট সালে জন্মগ্রহণ করেছি।
(খ) তাঁর বংশপরিচয়:তিনি হলেন আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ুব বিন মুতির আল-লাখমি আত-তাবারানি আল-হাফিজ।
(গ) তাঁর পরিবার:আয-যাহাবি "আন-নুবালা" (১৬/১১৯) এবং "তাযকিরাতুল হুফফাজ" (৩/৯১৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পিতা
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
كان من المحدثين أصحاب دحيم، وأن أمه عكاوية، وأن أباه حرص عليه.
أما ما يتعلق بأبنائه: فقد قال الحافظ أبو بكر بن مردويه؛ كما في " مناقب الطبراني " لابن منده (ص 334).
له ابن يسمى محمدا ويكنى أبا ذر، وله بنت تسمى فاطمة أمها أسماء بنت أحمد بن محمد بن شدرة الخطيب، وذكر أنها كانت تصوم يوما وتفطر يوما، وكانت لا تنام من الليل إلا قليلا، رحمها الله.
وأما محمد ابنه، فيروي عن أبي علي الوراق، وأبي عمرو بن حكيم، وعبد الله بن جعفر، بانتخاب والده - رحمة الله عليه -، مات في رجب سنة تسع وتسعين وثلاثمائة، وقبره بجانب قبر والده - رحمهما لله -. اهـ.
(د) رحلته:كان الإمام الطبراني صاحب همة عالية، ورحلة طويلة واسعة، فقد كان أول سماعه للحديث سنة ثلاث وسبعين بطبرية، وعمره ثلاث عشرة سنة، ورحل أولا إلى القدس سنة أربع وسبعين، ثم رحل إلى قيسارية سنة خمس وسبعين، ثم رحل إلى حمص، وجبلة، ومدائن الشام، وحج، ودخل اليمن، وورد إلى مصر ثم رحل إلى العراق وأصبهان وفارس، إلى غير ذلك من البلدان. " العبر " (2/ 106)، " النبلاء " (16/ 119).
قال الذهبي في " النبلاء " (16/ 121):
وإنما وصل العراق بعد فراغه من مصر، والشام، والحجاز، واليمن، وإلا فلو قصد العراق أولا لأدرك إسنادا عظيما. اهـ.
وكان أول قدومه أصبهان سنة تسعين ومائتين.
قال الحافظ أبو بكر بن مردويه:
سمعت أبا القاسم الطبراني يقول: أول ما قدمت أصبهان قدمة الأولى سنة تسعين ومائتين، وقدمت الثانية سنة عشر أو إحدى عشر وثلاثمائة.
তিনি দুহাইমের অনুসারী মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন আক্কা শহরের অধিবাসী এবং তাঁর পিতা তাঁর বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন।
আর তাঁর সন্তানদের প্রসঙ্গে হাফেজ আবু বকর ইবনে মারদুওয়াই বলেছেন; যেমনটি ইবনে মান্দাহর 'মানাকিবে তাবারানি' (পৃষ্ঠা ৩৩৪)-তে বর্ণিত হয়েছে।
তাঁর মুহাম্মদ নামে এক পুত্র ছিল যার কুনিয়াত ছিল আবু যার, এবং ফাতিমা নামে এক কন্যা ছিল। ফাতিমার মা ছিলেন আসমা বিনতে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাদরাহ আল-খতিব। বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একদিন রোজা রাখতেন এবং একদিন ইফতার করতেন, আর তিনি রাতের খুব সামান্য অংশই ঘুমাতেন; আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
আর তাঁর পুত্র মুহাম্মদ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি তাঁর পিতার নির্বাচনে—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—আবু আলি আল-ওয়াররাক, আবু আমর ইবনে হাকিম এবং আবদুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩৯৯ হিজরির রজব মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর কবর তাঁর পিতার কবরের পাশেই অবস্থিত—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন। সমাপ্ত।
(দ) তাঁর সফরসমূহ:ইমাম তাবারানি উচ্চ হিম্মত এবং দীর্ঘ ও বিস্তৃত সফরের অধিকারী ছিলেন। তিনি সর্বপ্রথম ২৭৩ হিজরিতে তাবারিয়াতে হাদিস শ্রবণ শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল তেরো বছর। তিনি প্রথমে ২৭৪ হিজরিতে জেরুজালেম সফর করেন, এরপর ২৭৫ হিজরিতে কায়সারিয়া সফর করেন। তারপর তিনি হিমস, জাবালাহ এবং শামের বিভিন্ন শহর সফর করেন। তিনি হজ পালন করেন, ইয়ামেনে প্রবেশ করেন এবং মিশরে আগমন করেন। এরপর তিনি ইরাক, আসফাহান ও পারস্যসহ অন্যান্য জনপদ সফর করেন। "আল-ইবার" (২/১০৬), "আন-নুবালা" (১৬/১১৯)।
আজ-জাহাবি 'আন-নুবালা' (১৬/১২১) গ্রন্থে বলেন:
তিনি মিশর, শাম, হিজাজ এবং ইয়ামেন সফর শেষ করার পরই কেবল ইরাকে পৌঁছেছিলেন। অন্যথায়, তিনি যদি শুরুতেই ইরাকের সংকল্প করতেন তবে তিনি সুউচ্চ সনদ লাভ করতে পারতেন। সমাপ্ত।
আসফাহানে তাঁর প্রথম আগমন ছিল ২৯০ হিজরি সালে।
হাফেজ আবু বকর ইবনে মারদুওয়াই বলেন:
আমি আবুল কাসিম তাবারানিকে বলতে শুনেছি: আমি প্রথমবার যখন আসফাহানে এসেছিলাম তা ছিল ২৯০ হিজরি সাল, আর দ্বিতীয়বার এসেছিলাম ৩১০ বা ৩১১ হিজরি সালে।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
واستمر بها محدثا ستين سنة، كما قال أبو نعيم في " أخباره " (1/ 335).
وقال ياقوت الحموي في " معجم البلدان " (4/ 21): قدم أصبهان في سنة تسعين ومائتين، فأقام بها سبعين سنة، حتى مات بها. وقال أبو نعيم الأصبهاني في أخباره (1/ 335): قدم أصبهان في سنة تسعين ومائتين، فخرج منها، ثم قدمها ثانيا فأقام بها محدثا ستين سنة. اهـ
وظل الحافظ أبو القاسم الطبراني رحمه الله يجول البلاد من أدناها إلى أقصاها باحثا عن حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم سنوات طويلة، قيل: ستة عشر عاما، وقيل: ثلاثا وثلاثين عاما، وكيف لا يكون ذا رحلة طويلة، وهو القائل حين سئل عن سبب كثرة حديثه، فقال: كنت أنام على البواري ثلاثين سنة. " تاريخ دمشق " (22/ 162).
وهو القائل:
طلب الحديث مذلة وصغار
… والصبر عنه تندم وشنار
فاصبر على طلب الحديث
… فإنه من بعد ذُلٍّ عزة ووقار
(هـ) شيوخه.
أما شيوخه فهم موضوع هذا البحث، ولكن يمكنني أن أذكر هاهنا بعض الفوائد المتعلقة بهم، والله الموفق.
فأقول مستعينا بالله:
الفائدة الأولى: فيما يتعلق بذكر ما قيل في عددهم:
قال السمعاني في " الأنساب " (4/ 34): جُمع شيوخه الذين سمع منهم وكانوا ألف شيخ.
وقال ابن الأثير في " اللباب " (2/ 273): عدد شيوخه ألف شيخ، وكذا ابن خلكان.
তিনি সেখানে ষাট বছর মুহাদ্দিস হিসেবে অবস্থান করেন, যেমনটি আবু নুআইম তাঁর "আখবার" (১/৩৩৫) গ্রন্থে বলেছেন।
ইয়াকুত আল-হামাভী "মু'জামুল বুলদান" (৪/২১) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি দুইশত নব্বই হিজরীতে আসফাহানে আসেন এবং সেখানে সত্তর বছর অবস্থান করেন, এমনকি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। আবু নুআইম আল-আসফাহানি তাঁর আখবার (১/৩৩৫) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি দুইশত নব্বই হিজরীতে আসফাহানে আসেন, তারপর সেখান থেকে বের হয়ে যান, অতঃপর দ্বিতীয়বার সেখানে আসেন এবং ষাট বছর মুহাদ্দিস হিসেবে অবস্থান করেন। (সমাপ্ত)
হাফেজ আবু কাসিম আত-তাবারানি (রাহিমাহুল্লাহ) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের অন্বেষণে দীর্ঘ বছর ধরে দেশ-বিদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পরিভ্রমণ করেছেন। বলা হয়ে থাকে, তিনি ষোলো বছর এবং অন্য মতে তেত্রিশ বছর ভ্রমণ করেছেন। তাঁর সফর কেনইবা দীর্ঘ হবে না, যখন তাঁকে তাঁর অধিক সংখ্যক হাদিস সংগ্রহের কারণ জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "আমি ত্রিশ বছর চাটাইয়ের ওপর ঘুমিয়েছি।" "তারিখু দিমাশক" (২২/১৬২)।
এবং তিনিই বলেছেন:
হাদিস অন্বেষণ হলো লাঞ্ছনা ও তুচ্ছতা
… আর তা থেকে বিরত থাকা হলো অনুশোচনা ও অবমাননা
অতএব হাদিস অন্বেষণে ধৈর্য ধরুন
… কেননা এই লাঞ্ছনার পরেই রয়েছে মর্যাদা ও গাম্ভীর্য
(ঙ) তাঁর শায়খগণ.
তাঁর শায়খদের পরিচয়ই এই গবেষণার মূল বিষয়বস্তু, তবে আমি এখানে তাঁদের সম্পর্কে কিছু প্রাসঙ্গিক ফায়দা উল্লেখ করতে পারি, আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
অতএব আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি:
প্রথম ফায়দা: তাঁদের সংখ্যার বর্ণনায় যা বলা হয়েছে সে প্রসঙ্গে:
আস-সামআনি "আল-আনসাব" (৪/৩৪) গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর সেই সব শায়খদের তালিকা করা হয়েছে যাঁদের থেকে তিনি শ্রবণ করেছেন এবং তাঁদের সংখ্যা ছিল এক হাজার শায়খ।
ইবনুল আসির "আল-লুবাব" (২/২৭৩) গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর শায়খদের সংখ্যা এক হাজার শায়খ, ইবনে খাল্লিকানও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وقال الذهبي في " تذكرته " (3/ 912)، و " النبلاء " (16/ 120): حدث الطبراني عن ألف شيخ أو يزيدون، وكذا قال الداودي في " طبقات المفسرين ".
وجاء في هامش " الأنساب " (8/ 199)، تحقيق العلامة عبد الرحمن بن يحيى المعلمي - رحمه الله تعالى - أنه روى في " معجمه الصغير " عن (1165) شيخا.
وذكرت مجلة اللغة العربية بدمشق (م 55 ج3 / ص534) بحثا للأستاذ مطاع الطرابيشي بعنوان فوائد " معجم شيوخ الطبراني "، ذكر فيه الأستاذ أن عدد شيوخه (1045).
وذكر في (ص 522) أن عدد شيوخه الذين ذكرهم في " المعجم الصغير " (1150) شيخا، نقلا عن مقدمة كتاب " الأوائل " للطبراني، تحقيق كل من مروان العطية، وشيخ الراشد.
وقال الشيخ حماد الأنصاري رحمه الله في " بلغة القاصي والداني " (ص 5): وقد جردت أسماءهم في " المعجم الصغير " وغيره من مؤلفاته فبلغت عدتهم ثلاثة وخمسون ومائتين وألف (1253) شيخا، وأعتقد أن ليس للطبراني من المشايخ أكثر من هذا العدد. اهـ.
قال مقيده عفا الله عنه: وقد جردت أسماءهم في " المعجم الصغير " وغيره من مؤلفاته البالغة خمسة عشر مؤلفا وغيرها فبلغوا (1325) إلا أنني بعد أن ترجمت لهم تبين لي أن عددهم بلغ (. . . .).
الفائدة الثانية: فيما يتعلق بالمترجمين لهم:
لقد اهتم جماعة من العلماء والباحثين بذكر شيوخه رحمه الله، وبذكر تراجمهم، إما في كتاب مستقل، أو ضمن دراسة كتاب من كتبه، وذلك لأن بعض الباحثين الذين يتوجهون لدراسة وتحقيق مثل هذه الكتب يقومون بترجمة لشيوخ صاحب الكتاب المذكورين فيه، وبما أنهم قد قاموا بعمل حسن، وبذلوا جهدا عظيما يشكرون عليه، فلا أحب أن يخلو كتابي هذا من الإشارة إلى ما قاموا به،
আয-যাহাবী তার "তাজকিরাহ" (৩/৯১২) এবং "আন-নুবালা" (১৬/১২০) গ্রন্থে বলেছেন: আত-তাবারানি এক হাজার বা তার অধিক শাইখ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ কথা আদ-দাউদী "তাবাকাতুল মুফাসসিরিন" গ্রন্থে বলেছেন।
আল্লামা আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাহকীককৃত "আল-আনসাব" (৮/১৯৯) গ্রন্থের টীকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তার "আল-মু'জাম আস-সাগীর" গ্রন্থে (১১৬৫) জন শাইখ থেকে বর্ণনা করেছেন।
দামেস্কের আরবি ভাষা সাময়িকীর (খণ্ড ৫৫, অংশ ৩ / পৃষ্ঠা ৫৩৪) উস্তাদ মুতা' আত-তারাবিশি-র "ফাওয়ায়িদু মু'জামু শুয়ূখিত তাবারানি" শীর্ষক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উস্তাদ সেখানে তার শাইখদের সংখ্যা (১০৪৫) জন বলে উল্লেখ করেছেন।
(৫২২ পৃষ্ঠায়) উল্লেখ করা হয়েছে যে, মারওয়ান আল-আতিয়্যাহ এবং শাইখ আর-রাশিদ সম্পাদিত আত-তাবারানির "আল-আওয়াইল" গ্রন্থের ভূমিকার বরাতে তার "আল-মু'জাম আস-সাগীর" গ্রন্থে উল্লেখিত শাইখদের সংখ্যা (১১৫০) জন।
শাইখ হাম্মাদ আল-আনসারি (রাহিমাহুল্লাহ) তার "বুলগাতুল কাসি ওয়াদ দানি" (পৃষ্ঠা ৫) গ্রন্থে বলেছেন: আমি "আল-মু'জাম আস-সাগীর" এবং তার অন্যান্য গ্রন্থ থেকে তাদের নামগুলো পৃথক করে সংকলন করেছি, ফলে তাদের সংখ্যা এক হাজার দুইশত তিপান্ন (১২৫৩) জনে দাঁড়িয়েছে। আমার বিশ্বাস, আত-তাবারানির এর চেয়ে অধিক সংখ্যক শাইখ নেই। (সমাপ্ত)
এই সংকলনের লেখক (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) বলেন: আমি "আল-মু'জাম আস-সাগীর" এবং তার অন্যান্য পনেরটি ও ভিন্ন ভিন্ন গ্রন্থ থেকে তাদের নামগুলো সংগ্রহ করেছি, যার ফলে তাদের সংখ্যা (১৩২৫) জন পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে তাদের জীবনীগুলো সংকলন করার পর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে তাদের সংখ্যা (....) এ উপনীত হয়েছে।
দ্বিতীয় ফায়দা: শাইখদের জীবনীকারদের প্রসঙ্গে:
একদল আলিম ও গবেষক তার (রাহিমাহুল্লাহ) শাইখদের নাম এবং তাদের জীবনী উল্লেখ করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন—তা স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থে হোক কিংবা তার কোনো গ্রন্থের অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই হোক। কারণ যেসব গবেষক এই ধরণের গ্রন্থগুলোর অধ্যয়ন ও সম্পাদনার কাজে মনোনিবেশ করেন, তারা উক্ত গ্রন্থের লেখকের শাইখদের জীবনী আলোচনা করে থাকেন। যেহেতু তারা একটি মহৎ কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং মহান প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন যার জন্য তারা প্রশংসার দাবিদার, তাই আমি পছন্দ করি না যে আমার এই গ্রন্থটি তাদের কৃতকাজের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা থেকে বঞ্চিত থাকুক।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
والإشادة بذلك، فأقول مستعينا بالله عز وجل:
1 - الحافظ الطبراني (260 - 360 هـ):
إن أول من جمعهم في كتاب مستقل هو الطبراني نفسه، في كتابه " المعجم الصغير "، فقد قال في مقدمته (1/ 21).
هذا أول كتاب في فوائد مشائخي الذين كتبت عنهم بالأمصار، خرجت عن كل واحد منهم حديثا واحدا، وجعلت أسماءهم على حروف المعجم. اهـ
وقال ابن عساكر في " تاريخ دمشق " (22/ 64)، في ترجمة الطبراني: صنف " المعجم الصغير " في أسماء شيوخه، وكذا قال ياقوت الحموي، البلدان " (4/ 21).
وقال الذهبي في " تذكرة الحفاظ " (3/ 912)، و " النبلاء " (16/ 122): وصنف المعجم الصغير، وهو عن كل شيخ له حديث واحد اهـ.
قال مقيده - عفا الله عنه -: قول الطبراني: خرجت عن كل واحد منهم حديثا واحدا.
هذا في الغالب، وإلا فإنه قد خرج الحديثين، والثلاثة، بل والأربعة، لكنه نادر كما سيأتي إيضاح ذلك عنه في الكلام على مؤلفاته، وقد تشعر هذه العبارة منه أو بعض العبارات المتقدمة عن أهل العلم أنه قد استوعب جميع شيوخه في هذا المعجم، وليس الأمر كذلك فإنه قد فاته شيوخ من شيوخه لم يخرج عنهم فيه، وخرج لهم في كتبه الأخر.
وطريقة العلماء الأوائل في التصنيف في مثل هذه المعاجم وغيرها من المشيخات، إنما تقوم على منهج العناية برواية حديث، أو جزء، أو كتاب، بإسناده إلى مصدره الأول من غير تركيز على صياغة ترجمة الشيوخ، اللهم إلا ذكر أسمائهم، وأسماء آباءهم، وأجدادهم، وأنسابهم، وكناهم مع التطرق إلى مهنهم، أو مذهبهم، وانتمائهم العقدي، في أثناء سياق نسبهم، مع ذكر موطنهم، أو
এবং এর প্রশংসা করছি, অতঃপর আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি:
১ - আল-হাফিজ আত-তাবারানি (২৬০ - ৩৬০ হিজরি):
নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম যিনি তাঁদেরকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলিত করেছেন, তিনি স্বয়ং তাবারানি, তাঁর ‘আল-মুজামুস সাগির’ গ্রন্থে। তিনি এর ভূমিকার (১/২১) পৃষ্ঠায় বলেছেন।
এটি আমার সেই সব শায়খদের ফাওয়াইদ (উপকারী বিষয়) সংবলিত প্রথম কিতাব, যাঁদের কাছ থেকে আমি বিভিন্ন শহরে হাদিস লিখেছি। আমি তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি করে হাদিস চয়ন করেছি এবং তাঁদের নামসমূহ বর্ণমালা অনুযায়ী সাজিয়েছি। সমাপ্ত।
ইবনে আসাকির ‘তারিখে দামেশক’ (২২/৬৪) গ্রন্থে তাবারানির জীবনীতে বলেছেন: তিনি তাঁর শায়খদের নামের ওপর ‘আল-মুজামুস সাগির’ রচনা করেছেন। ইয়াকুত আল-হামাভিও ‘মুজামুল বুলদান’ (৪/২১) গ্রন্থে অনুরূপ বলেছেন।
আয-যাহাবি ‘তাযকিরাতুল হুফফাজ’ (৩/৯১২) এবং ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (১৬/১২২) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি আল-মুজামুস সাগির রচনা করেছেন এবং এটি তাঁর প্রত্যেক শায়খের কাছ থেকে একটি করে হাদিস সংবলিত। সমাপ্ত।
গ্রন্থকারের টীকা প্রদানকারী—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—বলেন: তাবারানির উক্তি: ‘আমি তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি করে হাদিস চয়ন করেছি।’
এটি মূলত অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; নতুবা তিনি দুই, তিন এমনকি চারটি হাদিসও চয়ন করেছেন। তবে এটি বিরল, যেমনটি তাঁর গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনার সময় এর ব্যাখ্যা আসবে। তাঁর এই বক্তব্য অথবা আলেমদের পূর্বোক্ত কিছু বক্তব্য থেকে ধারণা হতে পারে যে, তিনি তাঁর সকল শায়খকে এই মুজামে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; অথচ বিষয়টি তেমন নয়। কেননা তাঁর শায়খদের মধ্যে এমন অনেকেই বাদ পড়েছেন যাঁদের বর্ণনা তিনি এতে আনেননি, তবে তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে তাঁদের বর্ণনা এনেছেন।
এই ধরণের মুজাম এবং অন্যান্য মাশয়াখাত (শায়খদের তালিকা) রচনার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আলেমদের পদ্ধতি হলো— হাদিস, জুয বা কিতাবকে তার মূল উৎস পর্যন্ত সনদসহ বর্ণনার প্রতি যত্নশীল হওয়া। তাঁরা শায়খদের জীবনী বিস্তারিত রচনার ওপর গুরুত্ব দিতেন না। তবে তাঁদের নাম, তাঁদের পিতা ও পিতামহের নাম, বংশ পরিচয় এবং উপনাম উল্লেখ করতেন। এর পাশাপাশি বংশ তালিকার আলোচনায় তাঁদের পেশা, মাযহাব বা আকিদাগত সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো আসত এবং তাঁদের আবাসস্থল বা...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
مكان الرواية عنهم، وتواريخ اللقاء أو السماع عن الشيوخ في بعض الأحيان، مع عدم الحرص على بيان سيرة المترجم، أو شيئا من نشأته الشخصية، أو المدرسية التي تعلم أو درس فيها، أو شيوخه، وتلاميذه، أو ذكر أسماء المصنفات التي رواها وألفها، أو سنة ومكان وفاته، هذا هو المنهج السائد للمعاجم أو المشيخات المتقدمة في التأليف.
ولا يعني هذا ضرورة أنهم لا يتطرقون إلى بعض العناصر المتعلقة بترجمة الشيخ، فإن بعضهم قد تطرق في بعض الأحيان إلى بيان حال بعض الشيوخ جرحا وتعديلا بإيجاز، وإلى بيان هذه الروايات، هل هي من الغرائب، أو المشهورة، أو الصحيحة، أو الحسان، أو الضعيفة وغير ذلك مما له علاقة بقبول الرواية وبيان درجتها.
وبما أن معنى معاجم الشيوخ؛ أن المصنف قد رتب أسماء شيوخه على حروف المعجم أي: أب ت ث. . . إلخ، إلا أن هذا الترتيب لا يعني - ضرورة - أن يكون ترتيبا دقيقا، لاسم الشيخ واسم أبيه وجده وبقية سياق نسبه، فإن الترتيب للاسم الأول والثاني والثالث لم يستخدم إلا في عصور لاحقة، وإنما كان يكتفي بالترتيب في أن المصنف قد بحرف الألف ثم الباء. . . وهلم جرا. اهـ من كتاب الدكتور موفق بن عبد الله بن عبد القادر - حفظه الله - " علم الأثبات ومعاجم الشيوخ والمشيخات " من (ص79 - 81) مع شيء من الاختصار والتصرف في بعض فقراته.
2 - الحافظ السخاوي:
وممن نقل عنه أنه اعتنى بشيوخ الطبراني وأفرد ذلك في مصنف مستقل الحافظ محمد بن عبد الرحمن السخاوي (831 - 902 هـ).
তাদের কাছ থেকে বর্ণনার স্থান, এবং শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ বা শ্রবণের তারিখসমূহ কখনো কখনো উল্লেখ করা হলেও, যার জীবনী বর্ণিত হচ্ছে তার জীবনবৃত্তান্ত, অথবা তার ব্যক্তিগত বেড়ে ওঠা, কিংবা যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বা পাঠদান করেছেন, অথবা তার শায়খ ও ছাত্রবৃন্দ, কিংবা তার বর্ণিত ও রচিত গ্রন্থসমূহের নাম, অথবা তার মৃত্যুর সাল ও স্থানের বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এটিই হলো মু'জাম বা মাশইয়াখাহ রচনার ক্ষেত্রে প্রাচীন সংকলকদের অনুসৃত পদ্ধতি।
এর অর্থ এই নয় যে তারা শায়খের জীবনীর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়েই আলোচনা করেন না। বরং তাদের কেউ কেউ কখনো কখনো কোনো শায়খের অবস্থা সম্পর্কে সংক্ষেপে জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও গুণাগুণ) বর্ণনা করেছেন এবং এই বর্ণনাগুলো কি বিরল, প্রসিদ্ধ, সহীহ, হাসান, নাকি যঈফ এবং বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হওয়া ও এর মান নির্ণয় সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
যেহেতু শায়খদের মু'জামের অর্থ হলো সংকলক তার শায়খদের নাম অভিধানের বর্ণানুসারে অর্থাৎ: আলিফ, বা, তা, সা... ইত্যাদি ক্রমে সাজিয়েছেন, তবে এই বিন্যাসের মানে এই নয় যে শায়খের নাম, তার পিতার নাম, তার দাদার নাম এবং তার বংশপরম্পরার বাকি অংশের ক্ষেত্রে এটি একটি সূক্ষ্ম বিন্যাস হবে। কেননা প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় নামের বিন্যাসটি কেবল পরবর্তী যুগসমূহে ব্যবহৃত হয়েছে। সংকলক কেবল বর্ণমালার আলিফ বর্ণ দিয়ে শুরু করে তারপর বা... এভাবে ক্রমান্বয়ে যাওয়াকেই যথেষ্ট মনে করতেন। ড. মুয়াফ্ফাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির -আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন- এর বই "ইলমুল আসবাত ওয়া মু'জামুশ শুয়ুখ ওয়াল মাশইয়াখাত" থেকে (পৃষ্ঠা ৭৯ - ৮১) কিছু সংক্ষিপ্তকরণ এবং কিছু অনুচ্ছেদে পরিমার্জনসহ সমাপ্ত।
২ - হাফিজ সাখাভী:
যাদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে তারা ইমাম তাবারানীর শায়খদের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সে বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফিজ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান সাখাভী (৮৩১ - ৯০২ হিজরি)।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فقد ذكر في كتابه " الضوء اللامع " (8/ 17) في صدد سرد مؤلفاته، أن منها: " ترتيب شيوخ الطبراني "، وكذا ذكره الكتاني في " فهرس الفهارس " (2/ 998)، وقد ذكر الشيخ حماد الأنصاري في " بلغة القاصي والداني " (5)، أنه في عداد المفقود (23).
3 - الشيخ المحدث حماد الأنصاري:
وممن أعتني بتراجم شيوخ الطبراني - أيضا - شيخ شيوخنا الشيخ المحدث أبو عبد اللطيف حماد بن محمد الأنصاري رحمه الله ت (21/ 6 / 1418 هـ) في كتابه: " بلغة القاصي والداني في تراجم شيوخ الطبراني " وقد طبع كتابه هذا في مكتبة الغرباء الأثرية في المدينة النبوية سنة (1415 هـ - 1995 م)، وهو يقع في (394 صفحة).
وقد ذكر الشيخ رحمه الله سبب تأليفه في مقدمته ص (5) فقال:
" إني قد فتشت عن تأليف خاص بتراجم شيوخ الطبراني كما ترجم لشيوخ غيره من نظرائه من الحفاظ في معاجم مفردة بهم، فلم أعثر رغما من تفتيشي على معجم يحويهم، مع أن حاجة المحدث إلى تراجمهم ماسة، فمن ثم استعنت الله على جمع تراجمهم في كراريس خاصة بشيوخه الذين سمع منهم مشافهة بلا واسطة ". اهـ.
وقد بين - أيضا - أنه ألفه على مرحلتين، كما نقل ذلك عنه ولده عبد الأول في " المجموع " (2/ 731)، فقال: وسمعته يقول: " إن كتاب تراجم شيوخ الطبراني كتبته على مرحلتين: المرحلة الأولى طويلة، ثم أشار علي بعض أصحابي أن أختصر التراجم فاختصرتها، واختصرت مقدمة الكتاب، والله الموفق " اهـ.
وقد استغرق بحثه هذا مدة طويلة فقد جاء في " المجموع " في ترجمته (2/ 736) أنه قال:
وقد استغرق كتابي " البلغة " في شيوخ الطبراني، أكثر من ثلاثين سنة، وذلك لعدم توفر المراجع. اهـ.
তিনি তাঁর গ্রন্থ "আদ-দাও আল-লামি" (৮/ ১৭)-তে তাঁর রচনাবলির তালিকা বর্ণনাকালে উল্লেখ করেছেন যে, তার মধ্যে একটি হলো: "তারতিব শুয়ুখ আত-তাবারানি"। অনুরূপভাবে কাত্তানি "ফিহরিস আল-ফাহরিস" (২/ ৯৯৮)-এ এটি উল্লেখ করেছেন। আর শেখ হাম্মাদ আল-আনসারি "বুলগাত আল-কাসি ওয়াদ-দানি" (৫)-তে উল্লেখ করেছেন যে, এটি হারানো বইগুলোর অন্তর্ভুক্ত (২৩)।
৩ - শেখ মুহাদ্দিস হাম্মাদ আল-আনসারি:
যারা ইমাম তাবারানির শিক্ষকদের জীবনী নিয়ে যত্নসহকারে কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে আমাদের শায়খদের শায়খ, মুহাদ্দিস আবু আব্দুল লতিফ হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত্যু: ২১/ ৬ / ১৪১৮ হিজরি] অন্যতম। তিনি তাঁর "বুলগাত আল-কাসি ওয়াদ-দানি ফি তারাজিম শুয়ুখ আত-তাবারানি" নামক গ্রন্থে এটি করেছেন। তাঁর এই বইটি মদিনা নুবাবিয়্যার মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিয়্যাহ থেকে ১৪১৫ হিজরি (১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে) মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি ৩৯৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত।
শেখ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ভূমিকার ৫ নং পৃষ্ঠায় এটি রচনার কারণ উল্লেখ করে বলেছেন:
"আমি তাবারানির শিক্ষকদের জীবনী নিয়ে বিশেষ কোনো রচনার অনুসন্ধান করেছি, যেমনটি তাঁর সমসাময়িক অন্যান্য হাফেজদের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র সংকলনে (মুজাম) করা হয়েছে। কিন্তু আমার অনুসন্ধান সত্ত্বেও আমি তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্তকারী কোনো সংকলন খুঁজে পাইনি, অথচ মুহাদ্দিসগণের কাছে তাদের জীবনীর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র। সেই কারণেই আমি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে তাঁর সেই সকল শিক্ষকদের জীবনী বিশেষ কিছু পাণ্ডুলিপিতে সংকলন করার কাজ শুরু করি, যাদের থেকে তিনি কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি শ্রবণ করেছেন।" সমাপ্ত।
তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এটি দুই পর্যায়ে রচনা করেছেন, যেমনটি তাঁর পুত্র আব্দুল আউয়াল "আল-মাজমু" (২/ ৭৩১) গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "তাবারানির শিক্ষকদের জীবনীর বইটি আমি দুই পর্যায়ে লিখেছি: প্রথম পর্যায়টি ছিল দীর্ঘ, এরপর আমার কিছু বন্ধু আমাকে জীবনীগুলো সংক্ষেপ করার পরামর্শ দেন, তাই আমি সেগুলো সংক্ষেপ করি এবং বইয়ের ভূমিকাও সংক্ষেপ করি। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।" সমাপ্ত।
তাঁর এই গবেষণা দীর্ঘ সময় ব্যাপ্ত ছিল। "আল-মাজমু" গ্রন্থে তাঁর জীবনী অংশে (২/ ৭৩৬) এসেছে যে তিনি বলেছেন:
তাবারানির শিক্ষকদের বিষয়ে আমার "আল-বুলগাহ" বইটি লিখতে ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে, আর এর কারণ ছিল প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্রের অপ্রতুলতা। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقال - أيضا - كما في نفس المصدر:
" بدأت بجمع شيوخ الطبراني في الرياض، وما منعني أن أستمر في الجمع إلا أن المراجع قليلة في ذلك الوقت ". اهـ.
وقد كان هذا المصنف من أحب مصنفات الشيخ حماد إلى نفسه، كما قال ذلك الشيخ جاسم الفهيد الدوسري، كما في " المجموع " (1/ 37)، في ترجمته للشيخ حيث قال:
إن كتاب " بلغة القاصي والداني في تراجم شيوخ الطبراني " يعد من أحب مؤلفاته إلى نفسه، فقد صرف في تأليفه وقتا طويلا، وجهدا جليلا، ليتمكن من التعريف بأحوال مشايخ الطبراني، فعد إلى تجريد أسمائهم من كتاب " المعجم الصغير "، وقد بلغت عدتهم (1253) شيخا، ثم اجتهد في البحث عن تراجمهم في كتب الرجال، وتواريخ الرواة، وجمع ما وقف عليه من ذلك في هذا الكتاب، وقام بترتيب أسماء المشايخ على حروف المعجم تيسيرا للباحثين. اهـ.
وقد شرح الشيخ منهجه في الكتاب فقال في مقدمته (5 - 6): هذا وقد ذكرت في هذا المصنف الوجيز من طعن فيه، ومن وثق مع بيان سبب الضعف، عازيا كل قول إلى قائله. . .، وما لم أجد فيه تعديلا ولا تجريحا، بأن سكت عنه من ترجم له من الحفاظ، ألحقته بالمجاهيل، كما أن من لم أجد له ترجمة في " الميزان " للذهبي أو " لسانه " لابن حجر ألحقته بالثقات لما ذكره الحافظ نور الدين علي بن أبي بكر الهيثمي في مقدمة كتابه " مجمع الزوائد ". اهـ.
وذكر الشيخ إسماعيل الأنصاري في أثناء ترجمته للشيخ حماد الأنصاري كما في " المجموع " (1/ 182)، كتاب الشيخ حماد، فقال: وألف فيما يتعلق بالحديث كتبا كثيرة، وهي: الفتح الكبير في تراجم شيوخ الطبراني من المعجم الصغير. اهـ.
وقد ذيل الشيخ حماد على كتابه " البلغة " هذا ذيلا، فقد جاء في " المجموع " في ترجمته (2/ 734)، ما نصه:
এবং তিনি আরও বলেছেন—যেমনটি একই উৎসে রয়েছে—:
"আমি রিয়াদে তাবারানীর উস্তাদদের তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেছিলাম, কিন্তু সেই সময়ে রেফারেন্স গ্রন্থের স্বল্পতা ছাড়া অন্য কিছুই আমাকে এই সংগ্রহ কাজ চালিয়ে যেতে বাধা দেয়নি।" সমাপ্ত।
আর এই গ্রন্থটি শাইখ হাম্মাদের নিজের কাছে তাঁর অন্যতম প্রিয় রচনা ছিল, যেমনটি শাইখ জাসিম আল-ফাহাদ আদ-দাওসারী 'আল-মাজমু' (১/৩৭) গ্রন্থে শাইখের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:
নিশ্চয়ই "বুলগাতুল কাসি ওয়াদ দানি ফি তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানী" গ্রন্থটি তাঁর নিজের কাছে তাঁর প্রিয়তম রচনাগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। এটি রচনায় তিনি দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন এবং মহান প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে তাবারানীর উস্তাদদের অবস্থা সম্পর্কে পরিচয় তুলে ধরতে পারেন। তিনি "আল-মু'জাম আস-সাগীর" গ্রন্থ থেকে তাঁদের নামগুলো পৃথক করেছেন, যাঁদের সংখ্যা ১২৫৩ জন উস্তাদ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরপর তিনি রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ এবং বর্ণনাকারীদের ইতিহাসের বইগুলোতে তাঁদের জীবনী অনুসন্ধানে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং সে বিষয়ে যা কিছু পেয়েছেন তা এই গ্রন্থে সংকলন করেছেন। গবেষকদের সুবিধার্থে তিনি উস্তাদদের নামগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন। সমাপ্ত।
শাইখ এই গ্রন্থে তাঁর পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে এর ভূমিকায় (৫-৬) বলেছেন: এই সংক্ষিপ্ত রচনায় আমি তাঁদের কথা উল্লেখ করেছি যাঁদের সমালোচনা করা হয়েছে এবং যাঁদের নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে, সাথে দুর্বলতার কারণও স্পষ্ট করেছি এবং প্রতিটি উক্তি তার মূল বক্তার দিকে সম্পৃক্ত করেছি... আর যাঁদের ব্যাপারে আমি কোনো প্রশংসা (তাদীল) বা সমালোচনা (জারাহ) খুঁজে পাইনি, অর্থাৎ হাফেজগণের মধ্যে যাঁরা তাঁদের জীবনী লিখেছেন তাঁরা তাঁদের ব্যাপারে নীরব থেকেছেন, তাঁদের আমি 'মাজহুল' (অজ্ঞাত) স্তরে অন্তর্ভুক্ত করেছি। তেমনিভাবে যাঁদের জীবনী আমি যাহাবীর "আল-মিজান" বা ইবনে হাজারের "লিসান" গ্রন্থে খুঁজে পাইনি, তাঁদের আমি 'সিকাহ' (নির্ভরযোগ্য) রাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছি; যেমনটি হাফেজ নূরুদ্দীন আলী বিন আবি বকর আল-হাইসামি তাঁর "মাজমাউয যাওয়াইদ" গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত।
শাইখ ইসমাইল আল-আনসারী 'আল-মাজমু' (১/১৮২) গ্রন্থে শাইখ হাম্মাদ আল-আনসারীর জীবনী বর্ণনা করার সময় শাইখ হাম্মাদের গ্রন্থের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি হাদিস শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট অনেক কিতাব রচনা করেছেন, সেগুলো হলো: "আল-ফাতহুল কাবীর ফি তারাজিমি শুয়ুখিত তাবারানী মিনাল মু'জাম আস-সাগীর"। সমাপ্ত।
শাইখ হাম্মাদ তাঁর এই "আল-বুলগাহ" গ্রন্থের একটি পরিশিষ্ট যোগ করেছেন। 'আল-মাজমু' গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে (২/৭৩৪) এর পাঠ নিম্নরূপ এসেছে:
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
قال أحد طلبة العلم للوالد: كتابكم شيوخ الطبراني الجزء الثاني متى ستطبعونه؟ وهذا الجزء على ماذا يشتمل؟، فقال الوالد له: سيطبع - إن شاء الله - وسنعمل عليه حتى يخرج، والجزء الثاني هذا ذيل على الجزء الأول.
قال معلقا على كلام والده رحمه الله:
قلت: وقد جمعت مادة الجزء الثاني " الذيل " وانتهيت من أغلب تراجمه التي بلغت فوق السبعمائة ترجمة بنيف، سهل الله الفراغ منه. اهـ.
قال مقيده عفا الله عنه: هذا ما وقفت عليه من كلام المؤلف رحمه الله وغيره من أهل العلم فيما يتعلق بهذا الكتاب، وهو كتاب وهو كتاب كما لا يخفى من أجود ما كتب في بابه، إلا أنه قد وقع له فيه بعض الأوهام، وذلك في إدخاله بعض الرواة في هذا الكتاب + بحيث إن النظر قد نظر أنهم + من شيوخ الطبراني، وليسوا كذلك، ولم ينبه الشيخ على شيء من ذلك، وقد كنت ذكرت هؤلاء الرواة واحدا واحدا، مع بيان ذلك، لأمرين:
الأول: ما سبق بيانه، وهو لئلا يتوهم متوهم أنهم من شيوخه وليسوا كذلك.
وثانيا: لئلا يظن أني قد تركت شيوخا من شيوخه، بدليل أن الشيخ حماد قد ذكرهم في كتابه، ومن شرطي في هذا الكتاب الاستيعاب لشيوخه ما استطعت، فيستدرك بما لا يصح أن يستدرك به، ثم إني رأيت أن أكتفي بهذا التنبيه على ذلك، والله الموفق.
(4) أحمد بن عبد الرحمن الفلاتي الأثري:
فقد ترجم لشيوخ الطبراني في " المعجم الصغير " في بحث له بعنوان " التعريف الصغير بشيوخ الطبراني في المعجم الصغير " وقد ذكر في هذا الكتاب على حسب الترقيم التسلسلي عنده (1137 شيخا) وترجم لمن وقف له على ترجمة، ترجمة مختصرة، وحكم على كل شيخ منهم، والذين لم يقف لهم على ترجمة قد أفرد
একজন ইলম অন্বেষণকারী আব্বাজানকে বললেন: আপনাদের কিতাব 'শুয়ুখুত তাবারানি'র দ্বিতীয় খণ্ডটি কবে ছাপাবেন? আর এই খণ্ডটিতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে? তখন আব্বাজান তাকে বললেন: ইনশাআল্লাহ এটি মুদ্রিত হবে, আমরা এটি প্রকাশের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এই দ্বিতীয় খণ্ডটি মূলত প্রথম খণ্ডের একটি পরিশিষ্ট (যাইল)।
তিনি তাঁর পিতার (রহিমাহুল্লাহ) কথার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন:
আমি বলছি: আমি দ্বিতীয় খণ্ড অর্থাৎ "পরিশিষ্ট"-এর উপাদানগুলো সংগ্রহ করেছি এবং এর অধিকাংশ জীবনী (তারাজুম) সমাপ্ত করেছি, যা সাতশোর কিছু বেশি। আল্লাহ যেন এটি সমাপ্ত করা সহজ করে দেন। সমাপ্ত।
সংকলক (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) বলেন: লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এবং অন্যান্য আলেমদের থেকে এই কিতাব সংক্রান্ত যা কিছু আমি জানতে পেরেছি তা এই। এটি এমন একটি কিতাব, যা এই বিষয়ে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে সর্বজনবিদিত। তবে এতে কিছু ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়েছে, আর তা হলো এই কিতাবে এমন কিছু বর্ণনাকারীকে (রাবী) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের সম্পর্কে বাহ্যিকভাবে মনে হয়েছে যে তারা তাবারানির উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তেমন নন। শায়খ এ ব্যাপারে কোনো সতর্কবাণী প্রদান করেননি। আমি এই বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছি এবং তা স্পষ্ট করেছি দুটি কারণে:
প্রথমত: যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, অর্থাৎ যাতে কেউ ভুলবশত তাদের তাঁর উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত মনে না করে, যেখানে তারা আসলে তেমন নন।
দ্বিতীয়ত: যাতে কেউ এমন ধারণা না করে যে আমি তাঁর উস্তাদদের মধ্য থেকে কাউকে বাদ দিয়েছি—এই দলীল দিয়ে যে শায়খ হাম্মাদ তাঁর কিতাবে তাদের উল্লেখ করেছেন। আর আমার এই কিতাবের শর্ত হলো সাধ্যমতো তাঁর সকল উস্তাদকে অন্তর্ভুক্ত করা। ফলে এমন কিছু দিয়ে আপত্তি করা হতে পারে যা আপত্তি করার মতো সঠিক নয়। অতঃপর আমি মনে করেছি যে, এই সতর্কবাণীটুকুই যথেষ্ট। আল্লাহই তাওফীকদাতা।
(৪) আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আল-ফালাতি আল-আসারি:
তিনি "আল-মু'জামুস সাগির"-এ তাবারানির উস্তাদদের জীবনী আলোচনা করেছেন। তাঁর গবেষণার শিরোনাম হলো "আত-তা'রীফুস সাগির বি-শুয়ুখিত তাবারানি ফিল মু'জামিস সাগির"। তিনি এই কিতাবে তাঁর নিজস্ব ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী (১১৩৭ জন উস্তাদের) উল্লেখ করেছেন। যাদের জীবনী সম্পর্কে তিনি অবগত হতে পেরেছেন, তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছেন এবং তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে হুকুম বর্ণনা করেছেন। আর যাদের জীবনী তিনি খুঁজে পাননি, তাদের তিনি পৃথক করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
أسماءهم في آخر البحث، ورتبهم على حروف المعجم، ثم قال في آخرهم: مجموع من لم أجدهم (272).
قلت: ولعل من الأسباب التي جعلته لم يجد لهم ترجمة، كثرة التصحيف والتحريف في " المعجم الصغير " وعدم توفر المراجع الكافية لديه.
وأما الذين ترجموا لشيوخ الطبراني ضمن دراسة وتحقيق متعلق ببعض كتبه فهم جماعة.
من هؤلاء:
(أ) الدكتور محمد بن سعيد بن محمد بن حسن البخاري - حفظه الله -:
فقد قام بدراسة كتاب " الدعاء " للطبراني، فجعل المجلد الأول منها خاصا لدراسة رجال الطبراني في " كتاب الدعاء " وميز الشيوخ عن غيرهم بأن وضع قبل الترجمة حرف " ش " إشارة إلى أن هذا المترجم له شيخ الطبراني، فقال في (1/ 128): وبلغ عدد شيوخه في " كتاب الدعاء " (296) شيخا، ترجمت لكل شيخ بترجمة موجزة مستقصيا في ذلك أغلب المراجع، ولم أقف على ترجمة (120) شيخا، وأغلبهم ليس له إلا رواية أو بضع روايات.
وقال (1/ 133): وشيوخه الذين لم أقف على ترجمتهم ولهم ذكر في " المعجم الصغير " للطبراني أثبت رقم الصفحة والجزء الذي ورد فيه أمام اسمه أيضا، وقد وضعت حرف " ش " قبل أسماء شيوخ الطبراني ليسهل الوصول إليهم، وقد بذلت قصارى جهدي للتعرف على هؤلاء الرجال، فكنت أشك في اسم الرجل، بل أشك في اسم أبيه ونسبته أحيانا، وأضعه في جميع الاحتمالات، ثم أقوم بالبحث عنه. اهـ.
قال مقيده - عفا الله عنه -: وبالمناسبة لا يفوتني هنا أن أنبه أنه قد وقع في النسخة المطبوعة من " كتاب الدعاء " من الدراسة قسم التراجم، رمز (ش) الدال على أن هذا الراوي المشار إليه بهذا الرمز شيخٌ للطبراني في موضعين على وجه
গবেষণার শেষে তাঁদের নামসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণানুক্রম অনুযায়ী তাঁদের বিন্যস্ত করেছেন, অতঃপর তাঁদের শেষে বলেছেন: যাদের জীবনী আমি পাইনি তাঁদের মোট সংখ্যা (২৭২) জন।
আমি বলছি: সম্ভবত তাঁদের জীবনী খুঁজে না পাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'-এ অনুলিপিকারদের ভুলের (তাসহিফ ও তাহরিফ) আধিক্য এবং তাঁর নিকট পর্যাপ্ত তথ্যসূত্রের অভাব।
আর যারা তাবারানির কিছু কিতাব সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও তাহক্বীকের অংশ হিসেবে তাঁর উস্তাদদের জীবনী বর্ণনা করেছেন, তাঁরা একটি দল।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
(ক) ডক্টর মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আল-বুখারি -আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন- :
তিনি তাবারানির 'কিতাবুদ দুআ' নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এর প্রথম খণ্ডটি 'কিতাবুদ দুআ'-তে তাবারানির বর্ণনাকারীদের (রিজাল) পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি উস্তাদদের অন্যদের থেকে পৃথক করার জন্য জীবনীর আগে 'শ' অক্ষরটি বসিয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই জীবনীটি তাবারানির একজন উস্তাদের। তিনি (১/১২৮) পৃষ্ঠায় বলেছেন: 'কিতাবুদ দুআ'-তে তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা (২৯৬) জনে পৌঁছেছে; আমি প্রায় অধিকাংশ তথ্যসূত্র অনুসন্ধান করে প্রত্যেক উস্তাদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করেছি, তবে (১২০) জন উস্তাদের জীবনী সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি। তাঁদের অধিকাংশের কেবল একটি বা সামান্য কয়েকটি বর্ণনা রয়েছে।
তিনি (১/১৩৩) পৃষ্ঠায় আরও বলেছেন: তাঁর যে সকল উস্তাদের জীবনী আমি জানতে পারিনি কিন্তু তাবারানির 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'-এ তাঁদের উল্লেখ আছে, আমি তাঁদের নামের সামনে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরও যুক্ত করে দিয়েছি। তাবারানির উস্তাদদের সহজে চেনার জন্য আমি তাঁদের নামের আগে 'শ' অক্ষরটি ব্যবহার করেছি। এই ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। এমনকি কখনো আমি ব্যক্তির নাম নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছি, বরং কখনো তাঁর পিতার নাম ও বংশপরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয়েছে এবং আমি তা সকল সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় রেখে অনুসন্ধান করেছি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন: প্রসঙ্গত এখানে আমি সতর্ক করতে চাই যে, 'কিতাবুদ দুআ'-এর মুদ্রিত সংস্করণের গবেষণা অংশের জীবনী বিভাগে 'শ' সংকেতটি—যা দ্বারা নির্দেশ করা হয় যে এই বর্ণনাকারী তাবারানির একজন উস্তাদ—দুইটি স্থানে ভুলভাবে এসেছে...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الخطأ كما في نفس المصدر المشار إليه أحدهما: جعفر بن محمد النيسابوري (1/ 227)، ثانيهما: عبد الرحمن بن جعفر الدمياطي (1/ 434)، وهذان الموضعان ما أظن أن الخطأ فيهما إلا من جهة الطباعة، والله علم.
(ب) الشيخ بدر الدين بن عبد الله البدر - حفظه الله -:
فإنه قد قام بتحقيق " جزء ما انتقي أبو بكر أحمد بن موسى بن مردويه على أبي القاسم سليمان بن أحمد بن أيوب الطبراني من حديثه لأهل البصرة "، ترجم فيه لشيوخ الطبراني وأفرد لهم فهرسا خاصا بهم في آخر الكتاب.
فقد قال في مقدمة الكتاب ص 22:
وصنعت فهرسا لأحاديثه، وآخر لمشايخ الطبراني في هذا الكتاب، ذاكرا بعدُ لكل اسم مصدرا ترجمه، أو ورد فيه ضبط اسمه، ومن لم أهتد إليه لم أذكر بعده شيئا، راجيا من الله عز وجل أن أوفق للعثور على مصدر ترجمته. اهـ.
قلت: وقد ذكر الشيخ بدر - حفظه الله - في هذا الفهرس المشار إليه (101) شيخا إلى أنه قد حصل له وهم في جعل: " محمد بن صدقة الفدكي " في شيوخ الطبراني، وإنما هو شيخ شيخه، كما في نفس المصدر الذي أشار إليه، وهو رقم حديث (85) من الكتاب.
وقد ذكر أسماء المصادر التي ترجمت أو ضبطت أسماءهم، عقب كل شيخ، ما عدا ثمانية عشر شيخا، فإنه لم يهتد لذلك حسب ما ذكر في المقدمة.
إلا أني - بحمد الله وتوفيقه - قد وقفت على بعض المصادر التي ترجمت لهم، أورد فيها ضبط أسماءهم ما عدا أحمد بن مطير الرملي القاضي، فإني لم أقف على مصدر ترجم له فيه إلا أني قد ذكرت في ترجمتي له ما يدل كونه معروفا.
(ج) الشيخ عبد القدوس بن محمد نذير - حفظه الله -:
فقد ذكر في مقدمة تحقيقه لكتاب " مجمع البحرين في زوائد المعجمين " (1/ 28) أنه يترجم لرجال السند ترجمة موجزة، وذكر أنه بذل قصارى جهده في تراجم
উল্লেখিত একই উৎসে যেভাবে ভুল হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো: জাফর বিন মুহাম্মদ আল-নিশাপুরি (১/ ২২৭), দ্বিতীয়টি হলো: আব্দুর রহমান বিন জাফর আল-দামিয়াতি (১/ ৪৩৪)। আমার ধারণা, এই দুটি স্থানে ভুল কেবল মুদ্রণজনিত কারণেই হয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খ) শায়খ বদরুদ্দিন বিন আব্দুল্লাহ আল-বদর - আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন -:
তিনি 'জুজউ মা ইনতাকা আবু বকর আহমদ বিন মুসা বিন মারদুওয়াইহ আলা আবিল কাসিম সুলায়মান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানি মিন হাদিসিহি লি-আহলিল বাসরা' গ্রন্থটি তাহকিক (সম্পাদনা) করেছেন। এতে তিনি তাবারানির উস্তাদদের জীবনী আলোচনা করেছেন এবং বইয়ের শেষে তাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র নির্ঘণ্ট তৈরি করেছেন।
তিনি বইটির ভূমিকা ২২ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
আমি এর হাদিসগুলোর একটি নির্ঘণ্ট এবং এই গ্রন্থে তাবারানির উস্তাদদের একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি। এরপর আমি প্রতিটি নামের পাশে এমন একটি উৎসের উল্লেখ করেছি যেখানে তার জীবনী বর্ণিত হয়েছে অথবা তার নামের শুদ্ধ উচ্চারণ এসেছে। আর যার (জীবনীর) হদিস আমি পাইনি, তার নামের পরে আমি কিছুই উল্লেখ করিনি। আমি মহান আল্লাহর কাছে আশা করছি যেন আমি তাদের জীবনীর উৎস খুঁজে পেতে সফল হই। (সমাপ্ত)
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: শায়খ বদর - আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন - উল্লেখিত নির্ঘণ্টে ১০১ জন উস্তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। তবে 'মুহাম্মদ বিন সাদাকা আল-ফাদাকি'-কে তাবারানির উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তার ভ্রম হয়েছে; মূলত তিনি তার উস্তাদের উস্তাদ। যেমনটি খোদ সেই উৎসটিতেই রয়েছে যেটির দিকে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, যা বইটির ৮৫ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
তিনি প্রত্যেক উস্তাদের নামের পর সেসব উৎসের নাম উল্লেখ করেছেন যেখানে তাদের জীবনী রয়েছে অথবা নামের উচ্চারণ ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তবে ১৮ জন উস্তাদ ব্যতীত, যাদের ব্যাপারে তিনি কোনো হদিস পাননি বলে ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু আমি - আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর তাওফিকে - এমন কিছু উৎসের সন্ধান পেয়েছি যেখানে তাদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে এবং আমি সেগুলোতে তাদের নামের শুদ্ধ উচ্চারণ তুলে ধরেছি; তবে আহমদ বিন মুতাইর আর-রামলি আল-কাদি ব্যতীত। আমি তার জীবনীর ব্যাপারে কোনো উৎসের সন্ধান পাইনি, তবে আমি তার জীবনী আলোচনায় এমন কিছু উল্লেখ করেছি যা তার পরিচিত হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
(গ) শায়খ আব্দুল কুদ্দুস বিন মুহাম্মদ নাজির - আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন -:
তিনি তার সম্পাদিত 'মাজমাউল বাহরাইন ফি জাওয়ায়িদিল মুজামাইন' (১/ ২৮) গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সনদের বর্ণনাকারীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জীবনীগুলোর ক্ষেত্রে তাঁর সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তারাজিমু শুয়ুখিত তাবারানী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
رواة الإسناد، وخاصة تراجم شيوخ الطبراني، ثم قال: ومع ذلك لم أتمكن على معرفة تراجم عديدة، ولعل سبب ذلك عدم دقتي في البحث، أو عدم توفر بعض المراجع لدي. . . إلخ. فجزاه الله خيرا فقد بذل جهدا مشكورا في ذلك.
الفائدة الثالثة: في التستريين من شيوخه:
قال الحافظ الذهبي في " المشتبه ": التستري نسبة إلى تستر سمع بها الطبراني من نحو ثلاثين شيخا، قال ابن ناصر الدين في " توضيح المشتبه " (1/ 511) معلقا على قول الذهبي: " قلت: وقع لي منهم أربعة وعشرون رجلا، وهم:
1 - أحمد بن حمدان أبو سعيد، نزيل عبادان عن إبراهيم بن يوسف الصيرفي الكوفي.
2 - وأحمد بن حمويه، أبو سيار البزاز عن عبدان بن محمد العسكري.
3 - وأحمد بن الخطاب عن عبيد الله بن سعد الزهري.
4 - وأحمد بن زهير عن محمد بن عمار الرازي.
5 - وأحمد بن عبد الله البزاز عن عبد القدوس بن محمد الحبحابي.
6 - وأحمد بن عبد السلام الجواليقي عن عبد الوهاب بن إبراهيم البصري.
7 - وأحمد بن فاذك، أبو جعفر عن أبي غسان يوسف بن موسى السكري.
8 - وأحمد بن محمد الخباز النحوي عن سهل بن بحر الجنديسابوري.
9 - وإبراهيم بن محمد الدستوائي عن يعقوب بن إسحاق القلوسي.
10 - وإسحاق بن داود الصواف عن يحيى بن غيلان.
11 - وحباب بن محمد بن الحباب نزيل البصرة، عن عثمان بن حفص التومني.
12 - والحسين بن إدريس الجريري عن العباس بن الوليد النرسي.
13 - والحسين بن إسحاق عن حامد بن يحيى البلخي.
সনদের বর্ণনাকারীগণ, বিশেষ করে তাবারানির শিক্ষকদের জীবনী। এরপর তিনি বলেন: "তা সত্ত্বেও আমি অনেক জীবনী জানতে সক্ষম হইনি, আর সম্ভবত এর কারণ হলো গবেষণায় আমার নিবিড়তার অভাব অথবা আমার নিকট কিছু রেফারেন্সের অপ্রাপ্যতা... ইত্যাদি।" আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন, কেননা তিনি এক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন।
তৃতীয় ফায়দা: তাঁর শিক্ষকদের মধ্য থেকে তুস্তারিগণের পরিচয়:
হাফেজ যাহাবি 'আল-মুশতাবিহ' গ্রন্থে বলেছেন: 'তুস্তারি' হলো তুস্তারের নিসবত বা সম্পৃক্ততা; তাবারানি সেখানে প্রায় ত্রিশজন শিক্ষক থেকে হাদীস শুনেছেন। ইবনে নাসিরুদ্দিন 'তাওদিহুল মুশতাবিহ' (১/৫১১) গ্রন্থে যাহাবির উক্তির ওপর মন্তব্য করে বলেন: "আমি বলছি: তাদের মধ্য থেকে চব্বিশজন ব্যক্তির নাম আমি পেয়েছি, তাঁরা হলেন:
১ - আহমদ ইবনে হামদান আবু সাঈদ, আবাদানের অধিবাসী; ইব্রাহিম ইবনে ইউসুফ আস-সাইরাফি আল-কুফি থেকে বর্ণনা করেছেন।
২ - আহমদ ইবনে হামুওয়াইহ, আবু সাইয়ার আল-বাযযায; আবদান ইবনে মুহাম্মদ আল-আসকারি থেকে বর্ণনা করেছেন।
৩ - আহমদ ইবনে খাত্তাব; উবাইদুল্লাহ ইবনে সাদ আজ-জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
৪ - আহমদ ইবনে যুহাইর; মুহাম্মদ ইবনে আম্মার আর-রাজি থেকে বর্ণনা করেছেন।
৫ - আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাযযায; আব্দুল কুদ্দুস ইবনে মুহাম্মদ আল-হাবহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন।
৬ - আহমদ ইবনে আব্দুস সালাম আল-জাওয়ালিকি; আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে ইব্রাহিম আল-বাসরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
৭ - আহমদ ইবনে ফাযাক, আবু জাফর; আবু গাসসান ইউসুফ ইবনে মুসা আস-সুককারি থেকে বর্ণনা করেছেন।
৮ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খাব্বায আন-নাহবি; সাহল ইবনে বাহর আল-জুনদিসাবুরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
৯ - ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুস্তুওয়াই; ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-কালুসি থেকে বর্ণনা করেছেন।
১০ - ইসহাক ইবনে দাউদ আস-সাউওয়াফ; ইয়াহইয়া ইবনে গাইলান থেকে বর্ণনা করেছেন।
১১ - হুবাব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুবাব, বসরার অধিবাসী; উসমান ইবনে হাফস আত-তাওমানি থেকে বর্ণনা করেছেন।
১২ - হুসাইন ইবনে ইদরিস আল-জারিরি; আব্বাস ইবনে ওয়ালিদ আন-নারসি থেকে বর্ণনা করেছেন।
১৩ - হুসাইন ইবনে ইসহাক; হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-বালখি থেকে বর্ণনা করেছেন।