(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: -)
معجم شيوخ الطبري القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: معجم شيوخ الطبري الذين روى عنهم في كتبه المسندة المطبوعة
المؤلف: أكرم بن محمد زيادة الفالوجي الأثري
تقديم: الشيخ باسم بن فيصل الجوابرة، الشيخ سليم بن عيد الهلالي، الشيخ علي بن حسن الحلبي، الشيخ محمد بن عبد الرزاق الرعود، الشيخ مشهور بن حسن سلمان
الناشر: الدار الأثرية، الأردن - دار ابن عفان، القاهرة
الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م
عدد الصفحات: 826
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 ربيع الأول 1432
তাবারির শিক্ষকদের অভিধান বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: তাবারির শিক্ষকদের অভিধান, যাঁদের থেকে তিনি তাঁর মুদ্রিত মুসনাদ গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করেছেন
লেখক: আকরাম বিন মুহাম্মদ যিয়াদাহ আল-ফালুজি আল-আসারী
উপস্থাপনা: শায়খ বাসিম বিন ফয়সাল আল-জাওয়াবিরাহ, শায়খ সেলিম বিন ঈদ আল-হিলালী, শায়খ আলী বিন হাসান আল-হালাবী, শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-রউ'দ, শায়খ মাশহুর বিন হাসান সালমান
প্রকাশক: আদ-দার আল-আসারিয়্যাহ, জর্ডান - দার ইবনে আফফান, কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরী - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[معجم شيوخ الطبري]ـ
المؤلف: أكرم بن محمد زيادة الفالوجي الأثري
تقديم: الشيخ باسم بن فيصل الجوابرة، الشيخ سليم بن عيد الهلالي، الشيخ علي بن حسن الحلبي، الشيخ محمد بن عبد الرزاق الرعود، الشيخ مشهور بن حسن سلمان
الناشر: الدار الأثرية، الأردن - دار ابن عفان، القاهرة
الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[তাবারির শিক্ষকগণের অভিধান]
লেখক: আকরাম বিন মুহাম্মদ যিয়াদাহ আল-ফালুজি আল-আসারী
উপস্থাপনায়: শায়খ বাসিম বিন ফয়সাল আল-জওয়াবিরাহ, শায়খ সেলিম বিন ঈদ আল-হিলালী, শায়খ আলী বিন হাসান আল-হালাবী, শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-রাউদ, শায়খ মাশহুর বিন হাসান সালমান
প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ, জর্ডান - দারু ইবনে আফফান, কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: -)
إهداء وشكر وتقدير وعرفانإلى إمام المفسرين وشيخ المحدثين ورأس المؤرخين ومقرئ المقرئين
أبي جعفر محمد بن جرير الطبري
وإلى شيخنا الفاضل وإمامنا العظيم، أسد السنة الهمام، الذاب عن السنة والحديث وحارس علم الجرح والتعديل ومعرفة الرجال بالحق .. لا الحق بالرجال!! .. في زمن قل فيه الرجال.
أبي عبد الرحمن محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله تعالى
وإلى الشيخين الفاضلين اللذين حببا إلي الحق لدراسة أحوال أولئك الرجال بالحق:
أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي رحمه الله تعالى
وأبي عبد الرحمن محمد بن عبد الله الريمي المعروف بـ (الإمام) متع الله بحياته وإلى الأحبة الأفاضل، الذين لم يبخلوا علينا بنصح أو إرشاد أو توجيه أو مراجعة أصحاب الفضيلة أشياخ السنة والحديث في أردننا المحروس - بإذن الله - الذين قدموا لهذا الكتاب.
وإلى زوجتي الفاضلة (أم محمد علي)
وبنتي الحبيبتين (ساجدة، وزاهدة)
وأبنائي الأعزاء (محمد علي، ومحمد قصي، ومحمد عدي)
الذين أوصلوا الليل بالنهار وأحالوا البيت إلى ورشة عمل نشيط دؤوب لعزو كل رواية لراويها في أكثر من (45000 رواية) في كتب الطبري (الأربعة) بحثا وتنضيدا وتدقيقا ..
إلى أولئك جميعا أهدي هذه الثمرة التي جنيتها بتوفيق الله أولا ثم بفضل ميراثهم وتوجيهاتهم ومشاركاتهم، والحمد لله رب العالمين.
أكرم
উৎসর্গ, কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতিমুফাসসিরদের ইমাম, মুহাদ্দিসদের শাইখ, ইতিহাসবিদদের শিরোমণি এবং ক্বারীগণের প্রধানের প্রতি
আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী
এবং আমাদের ফাযিল শাইখ ও মহান ইমাম, সুন্নাহর সিংহদিল বীর, সুন্নাহ ও হাদীসের প্রতিরক্ষা দানকারী এবং জারহ ও তা’দীল এবং সত্যের নিরিখে রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) পরিচয় লাভের বিজ্ঞানের অতন্দ্র প্রহরী.. সত্যকে মানুষের মাধ্যমে নয়, বরং সত্যের মাধ্যমেই মানুষকে চিনতে হবে!!.. এমন এক যুগে যখন (যোগ্য) মানুষের বড়ই অভাব।
আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রতি রহম করুন)
এবং সেই দুই ফাযিল শাইখের প্রতি, যাঁরা সত্যের নিরিখে সেই সকল রাবীদের অবস্থা অধ্যয়নের প্রতি আমার মনে আগ্রহ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন:
আবু আবদুর রহমান মুক্ববিল ইবনে হাদী আল-ওয়াদীয়ী (আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রতি রহম করুন)
এবং আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রীমী, যিনি 'আল-ইমাম' নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘায়ু দান করুন); এবং সেই সকল প্রিয় গুণীজনদের প্রতি, যাঁরা আমাদের নসীহত, পথনির্দেশনা বা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করেননি—আল্লাহ-সুরক্ষিত আমাদের জর্ডানের সুন্নাহ ও হাদীসের সম্মানিত শাইখগণ, যাঁরা এই কিতাবটির ভূমিকা প্রদান করেছেন।
এবং আমার মহীয়সী স্ত্রী (উম্মে মুহাম্মদ আলী)
এবং আমার দুই প্রিয় কন্যা (সাজিদাহ ও জাহিদাহ)
এবং আমার প্রিয় পুত্রগণ (মুhammad আলী, মুহাম্মদ কুসাই এবং মুহাম্মদ উদাই)
যাঁরা দিন-রাত এক করে দিয়েছিলেন এবং ঘরকে একটি কর্মচঞ্চল ও নিরলস কর্মশালায় পরিণত করেছিলেন, যাতে আত-তাবারীর (চারটি) কিতাবের (৪৫,০০০-এরও বেশি বর্ণনার) প্রত্যেকটিকে তার বর্ণনাকারীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা যায়—গবেষণা, বিন্যাস ও নিবিড় নিরীক্ষার মাধ্যমে..
তাঁদের সকলের প্রতি আমি উৎসর্গ করছি এই ফল, যা আমি প্রথমত আল্লাহর তাওফীকে এবং পরবর্তীতে তাঁদের জ্ঞানীয় উত্তরাধিকার, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার বদৌলতে অর্জন করেছি। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আকরাম
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
عليه نتوكل وبه نستعين
المقدمات
وقد تفضل خمسة من أصحاب الفضيلة من أهل العلم بالحديث والسنن والآثار بالتقديم لهذا الكتاب - مشكورين مأجورين. ومقدماتهم مرتبة حسب أسمائهم هجائيا وهم
فضيلة الشيخ باسم بن فيصل الجوابرة
فضيلة الشيخ سليم بن عيد الهلالي
فضيلة الشيخ علي بن حسن الحلبي
فضيلة الشيخ محمد بن عبد الرزاق الرعود
فضيلة الشيخ مشهور بن حسن سلمان
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আমরা তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি
ভূমিকা
হাদিস, সুন্নাহ এবং আছার শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ পাঁচজন সম্মানিত আলিম অনুগ্রহপূর্বক এই কিতাবটির ভূমিকা প্রদান করেছেন—তাঁরা কৃতজ্ঞতা ও প্রতিদানের যোগ্য। তাঁদের ভূমিকাসমূহ তাঁদের নামের বর্ণানুক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে, তাঁরা হলেন:
সম্মানিত শায়খ বাসিম বিন ফয়সাল আল-জাওয়াবেরা
সম্মানিত শায়খ সালীম বিন ঈদ আল-হিলালী
সম্মানিত শায়খ আলী বিন হাসান আল-হালাবী
সম্মানিত শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-রাউদ
সম্মানিত শায়খ মাশহুর বিন হাসান সালমান
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١)
تقديم فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور باسم فيصل الجوابرةأستاذ الحديث وعلومه في الجامعة الأردنية
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فهو المهتد، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أما بعد:
فقد اطلعت على كتاب " معجم شيوخ الطبري " الذين روى عنهم في " التفسير " و" التاريخ " و" تهذيب الآثار " و" صريح السنة " للأخ أكرم زيادة، فوجدت أن هذا الكتاب قد أضاف إلى المكتبة الإسلامية كتابا هاما، لحاجة طلبة العلم له؛ فقد جمع فيه شيوخ الإمام الطبري في معظم (1) كتبه المطبوعة، مرتبة على حروف الهجاء مبينا من أخرج للراوي من أصحاب الكتب الستة وقد بذل الأخ أكرم جهدا عظيما في جمع هذه المادة الكبيرة، ولم يقتصر الباحث على جمع المادة فقط، بل ترجم ترجمة موسعة لكل شيخ وجده، ثم ذكر شيوخه وتلاميذه " وكلام العلماء فيه جرحا وتعديلا. ومن خلال اطلاعي على هذا الكتاب القيم، وجدت جهدا كبيرا يتعلق بتصحيح الأسماء المصحفة، أو المحرفة، أو إثبات الاسم الساقط. ثم أثبت أسماء المصادر والمراجع التي استقى منها ترجمة الراوي بعد الترجمة مباشرة، ثم ذكر في هذا الكتاب أسماء رواة ما يشابه به أو يماثل بعض شيوخ الطبري حتى لا يشكل على الباحث معرفته. ثم عمل الأخ أكرم فهارس علمية مفيدة كثيرة، بلغت أكثر من عشرين فهرسا تسهل على الباحث الرجوع إلى الكتاب بسرعة وسهولة. وأخيرا أدعو الله سبحانه وتعالى للأخ الأستاذ أكرم زيادة التوفيق والسداد، وأن يجعل أعمالنا جميعا خالصة لله سبحانه وتعالى " وأن يرزقنا وإياه وجميع المسلمين الذرية الصالحة
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
16/ 7 / 2001
الدكتور باسم فيصل الجوابرة
--------------------------------------------
শ্রদ্ধেয় শাইখ প্রফেসর ড. বাসিম ফয়সাল আল-জাওয়াবিরাহ-এর ভূমিকাজর্ডান ইউনিভার্সিটির হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রের অধ্যাপক
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলগুলো থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:
আমি ভাই আকরাম যিয়াদাহ সংকলিত "মু’জামু শুয়ুখিত তাবারী" (আত-তাবারীর শিক্ষকদের অভিধান) নামক বইটি দেখেছি, যাতে তিনি ইমাম তাবারীর 'তাফসীর', 'তারীখ', 'তাহযীবুল আসার' এবং 'সারীহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের একত্রিত করেছেন। আমি দেখতে পেয়েছি যে, এই বইটি ইসলামি লাইব্রেরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যার প্রয়োজন ইলম অন্বেষণকারীদের রয়েছে। তিনি এতে ইমাম তাবারীর অধিকাংশ (১) মুদ্রিত কিতাবে উল্লেখিত শিক্ষকদের নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন এবং কুতুবে সিত্তাহর ইমামগণের মধ্যে কে উক্ত রাবী (বর্ণনাকারী) থেকে বর্ণনা করেছেন তা স্পষ্ট করেছেন। ভাই আকরাম এই বিশাল উপাদান সংগ্রহে মহান প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। গবেষক কেবল তথ্য সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি প্রতিটি শিক্ষকের বিস্তারিত জীবনী প্রদান করেছেন। এরপর তাদের শিক্ষক ও ছাত্রদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং তাদের সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের জারাহ ও তা’দীল (সমালোচনা ও প্রশংসা) সংক্রান্ত বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এই মূল্যবান গ্রন্থটি পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি দেখতে পেয়েছি যে, এতে ভুলভাবে লিখিত বা বিকৃত নাম সংশোধন এবং বাদ পড়া নামগুলো সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিশ্রম করা হয়েছে। এরপর তিনি জীবনীর পরপরই যে সকল উৎস ও রেফারেন্স থেকে রাবীর জীবনী গ্রহণ করেছেন সেগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন। অতঃপর এই বইটিতে ইমাম তাবারীর কিছু শিক্ষকের সাথে সদৃশ বা একই রকম নামের রাবীদের নামও উল্লেখ করেছেন, যাতে গবেষকদের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট না থাকে। এরপর ভাই আকরাম অনেকগুলো উপকারী বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্ট (সূচী) তৈরি করেছেন, যার সংখ্যা বিশটিরও বেশি; যা গবেষকদের জন্য দ্রুত ও সহজে বইটির রেফারেন্স খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর কাছে ভাই প্রফেসর আকরাম যিয়াদাহর জন্য তাওফীক ও সঠিক পথের দোয়া করছি এবং প্রার্থনা করছি যে, আল্লাহ যেন আমাদের সকল আমলকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাদের ও তাকেসহ সকল মুসলিমকে নেক সন্তান দান করেন।
আর আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
১৬/ ০৭ / ২০০১
ড. বাসিম ফয়সাল আল-জাওয়াবিরাহ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٢)
تقديم فضيلة الشيخ أبي أسامة سليم بن عيد الهلالي، حفظه الله.
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد: - فإن معرفة السنة من أعظم أركان الدين، ولذاك فالعناية بها واجبة على المسلمين، ولا سبيل إلى ذلك إلا بتعيين الصحيح من السقيم وبمعرفة أحوال نقلتها ومراتبهم.
ولقد وفق الله للسنة حفاظا عارفين، وجهابذة عالمين " وصيارفة ناقدين .. ينفون عنها تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين؛ خصهم الله بهذه الفضيلة ورزقهم المعرفة في كل دهر وزمان.
وكان من زمرتهم المباركة، وركبهم الكريم، وقافلتهم المتصلة، شيخ المفسرين والمحدثين والمؤرخين؛ الإمام العلم الفرد المجتهد أبو جعفر محمد بن جرير الطبري، صاحب التصانيف البديعة في التفسير والحديث والتاريخ والعقيدة.
ولقد وفق الله أخانا في الله: أكرم بن محمد زيادة إلى خدمة مصنفات الإمام الشهير ابن جرير رحمه الله فاستخرج أسامي شيوخه في كتبه المطبوعة المعروفة وترجم لهم ترجمة تقربهم بين يدي طالب العلم، وتكشف عن مراتبهم في الجرح والتعديل؛ اصطحب في رحلته إلى ذلك نفسا علميا، وتأنيا سنيا، فجاء عمله شاملا متكاملا بتوفيق الله وفضله.
মর্যাদাবান শায়খ আবু উসামা সালিম বিন ঈদ আল-হিলালী-এর ভূমিকা, আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করা দ্বীনের অন্যতম মহান রুকন বা ভিত্তি। আর এ কারণেই সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল হওয়া মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব। সহিহকে দুর্বল থেকে পৃথক করা এবং সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও মর্তবা সম্পর্কে জানা ছাড়া এর কোনো বিকল্প পথ নেই।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সুন্নাহর জন্য এমন হাফেজদের তাওফিক দিয়েছেন যারা বিজ্ঞ, এমন পণ্ডিতদের যারা জ্ঞানী এবং এমন পারদর্শীদের যারা সমালোচক... তারা সুন্নাহ থেকে অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং জ্ঞানহীনদের অপব্যাখ্যা দূর করেন। আল্লাহ তাদেরকে এই ফযিলতের জন্য খাস করেছেন এবং প্রতিটি যুগ ও সময়ে তাদেরকে এই জ্ঞান দান করেছেন।
তাদের সেই বরকতময় দল, সম্মানিত কাফেলা এবং অবিচ্ছিন্ন সারির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকদের শায়খ; অদ্বিতীয় ইমাম ও মুজতাহিদ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারীর আত-তাবারী, যিনি তাফসির, হাদিস, ইতিহাস ও আকীদার ক্ষেত্রে চমৎকার সব গ্রন্থাবলির রচয়িতা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের দ্বীনি ভাই আকরাম বিন মুহাম্মদ যিয়াদাহকে বিখ্যাত ইমাম ইবনে জারীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর গ্রন্থাবলির খিদমত করার তাওফিক দান করেছেন। তিনি ইমামের প্রসিদ্ধ ও মুদ্রিত কিতাবসমূহ থেকে তাঁর শিক্ষকদের নামসমূহ বের করেছেন এবং তাদের এমন জীবনী তুলে ধরেছেন যা ইলম অন্বেষণকারীর জন্য তাদের পরিচিতি সহজ করে দেয় এবং 'জারহ ও তাদীল' (সমালোচনা ও গুণাগুণ)-এর ক্ষেত্রে তাদের মান উন্মোচন করে। এই কাজে তিনি ইলমী মেজাজ ও সুন্নাহসম্মত ধীরস্থিরতা অবলম্বন করেছেন, ফলে আল্লাহর তাওফিক ও অনুগ্রহে তাঁর এই কাজ অত্যন্ত ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٣)
وأخي الفاضل - أكرم - مثال كريم في التؤدة، وعدم الاستعجال، والانتفاع بإخوانه، والإفادة ممن هو دونه، ومثله، وفوقه.
وعمله الذي بين يديك ينبئك بما قدمت، ولا أزكيه على الله، والله حسيبه أرجو الله لي وله ولجميع إخواننا طلبة العلم الثبات على الحق، والازدياد من العلم، وحسن الخاتمة على منهج السلف الصالح من الصحابة الأطهار والتابعين الأبرار، ومن سار على نهجهم من علمائنا الفحول الأخيار؛ إنه بكل جميل كفيل وهو حسبي ونعم الوكيل.
وكتبه
أبو أسامة سليم بن عيد الهلالي السلفي
ضحى ثلاثاء العافية لتسع ليال خلت من جمادى الآخرة سنة 1422 هـ في عمان البلقاء عاصمة جند الأردن
এবং আমার সম্মানিত ভাই - আকরাম - ধীরস্থিরতা, ক্ষিপ্রতা বর্জন, স্বীয় ভ্রাতৃবৃন্দের নিকট হতে উপকৃত হওয়া এবং তাঁর অনুজ, সমকক্ষ ও অগ্রজদের নিকট হতে ইলম ও ফায়দা অর্জনের এক অনন্য আদর্শ।
আর আপনার সম্মুখে বিদ্যমান তাঁর এই কর্মই আপনাকে বলে দিচ্ছে তিনি কী উপস্থাপন করেছেন; আমি আল্লাহর সম্মুখে কাউকে পবিত্র বলে ঘোষণা করি না, আল্লাহই তাঁর হিসাব গ্রহণকারী। আমি আমার জন্য, তাঁর জন্য এবং ইলম অন্বেষণকারী আমাদের সকল ভাইদের জন্য হকের ওপর অটল থাকা, ইলম বৃদ্ধি এবং পবিত্র সাহাবী ও পুণ্যবান তাবেয়ীগণের অন্তর্ভুক্ত সালাফে সালেহীনের মানহাজ এবং আমাদের সেই সকল বিজ্ঞ ও বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম যারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, তাঁদের মানহাজের ওপর উত্তম পরিসমাপ্তির প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি সকল কল্যাণের জিম্মাদার এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক।
এটি লিখেছেন
আবু উসামা সালীম বিন ঈদ আল-হিলালী আস-সালাফী
১৪২২ হিজরী সনের জুমাদাল আখিরাহ মাসের নয় রাত অতিবাহিত হওয়ার পর এক মঙ্গলবারের পূর্বাহ্নে, আম্মান আল-বালকা, যা জন্দ-ই-জর্ডানের রাজধানী।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٤)
تقديم فضيلة الشيخ أبي الحارث علي بن حسن بن علي بن عبد الحميد الحلبيبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أما بعد:
فقد وفقني الله تبارك وتعالى لمتابعة هذا العمل العلمي في شتى مراحله - بدءا وانتهاء -؛ بحيث كنت واقفا على سائر تطوراته؛ من مجرد سرد لشيوخ الإمام الطبري في " تفسيره "؛ إلى ذكر مروياتهم، ومواضعها، ومن محض الاقتصار على " التفسير "؛ إلى شمول ذلك سائر مصنفات هذا الإمام النحرير ..
ولم يسعني - بعد - إلا الاستجابة السريعة لما طلبه مني - متكرما - أخي الفاضل الشيخ أكرم زيادة - أكرمه الله بالحسنى وزيادة - من تقديم لعمله هذا؛ وذلك عملا بأدب القرآن الحكيم: {سنشد عضدك بأخيك} ..
فالله أسأل لي وله التوفيق والسداد، وأن ينفع بما جمعه سائر العباد، إنه - سبحانه - ولي ذلك والقادر عليه.
وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
وكتب أبو الحارث علي بن حسن بن علي بن عبد الحميد الحلبي الأثري
الأردن - الزرقاء
24 / جمادى الآخرة / 1422 هـ
বিশিষ্ট শায়খ আবু আল-হারিস আলি বিন হাসান বিন আলি বিন আব্দুল হামিদ আল-হালাবি-র উপস্থাপনাপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দতা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা আমাকে এই ইলমি কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করার তাওফিক দিয়েছেন; যার ফলে আমি এর সকল অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত ছিলাম। এটি ইমাম তাবারির "তাফসীর"-এ উল্লিখিত তাঁর শায়খদের কেবল একটি তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে তাঁদের বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহ ও সেগুলোর উৎস উল্লেখ করা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; এবং কেবল "তাফসীর"-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা থেকে এই বিজ্ঞ ইমামের অন্যান্য সকল রচনাবলিকে এর অন্তর্ভুক্ত করা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে...
অতঃপর আমার শ্রদ্ধেয় ভাই শায়খ আকরাম যিয়াদাহ—আল্লাহ তাঁকে কল্যাণ ও অতিরিক্ত সওয়াব দান করুন—সদয়ভাবে তাঁর এই কাজের একটি ভূমিকা লিখে দেওয়ার জন্য যে অনুরোধ করেছেন, তাতে দ্রুত সাড়া দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না; আর এটি করা হয়েছে মহাগ্রন্থ কুরআনের শিষ্টাচার অনুসরণে: {আমি তোমার ভাইয়ের মাধ্যমে তোমার বাহুকে শক্তিশালী করব}...
আমি আল্লাহর কাছে আমার এবং তাঁর জন্য তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি, এবং তিনি যা সংগ্রহ করেছেন তা দ্বারা যেন সকল বান্দারা উপকৃত হয়। নিশ্চয়ই তিনি—পবিত্র মহান—এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বময় ক্ষমতাবান।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।
লিখেছেন: আবু আল-হারিস আলি বিন হাসান বিন আলি বিন আব্দুল হামিদ আল-হালাবি আল-আসারি
জর্ডান - যারকা
২৪ জুমাদাল আখিরাহ, ১৪২২ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٥)
تقديم فضيلة الدكتور محمد بن عبد الرزاق الرعود - نائب عميد كلية الدعوة وأصول الدين، والأستاذ المساعد للسنة وعلوم الحديث فيها.
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، محمد بن عبد الله وعلى آله وصحبه وسلم. وبعد: -
فإن الناظر في موروث هذه الأمة من مصادر شرعية موسوعية، وغير موسوعية ليدرك جليا مدى الجهد والعناء المبذول في جمعها، وتأليفها، وسبكها، ذلك السبك العلمي المبدع الذي قل نظيره فيما نرى اليوم.
لا سيما تلك المصنفات، المتعلقة بالحديث الشريف وعلومه " ورجاله وتراجمهم، فهي أكثر من أن تحصى، أو يأتي عليها العد. فلقد انبرى لإيجادها جهابذة وأفذاذ، تضلعوا من علم النبوة، وأبحروا فيه، ووصلوا إلى غاية الإبداع والفهم والإحاطة والإدراك لما صنفوا وألفوا.
ومن هؤلاء الأساطين الإمام الجليل، أبو جعفر، محمد بن جرير الطبري المفسر، المحدث، المؤرخ، الفقيه، الذي حوى جليل العلوم، وتفنن في تصنيفها وتتلمذ على مئات العلماء والشيوخ المشهود لهم بالفضل والعلم والسداد.
هؤلاء الشيوخ بهذا العدد والوفرة، نجد اليوم من أفرد لهم مصنفا مستقلا ولقد لقي الطبري ومصنفاته عناية فائقة من الدارسين، وطلبة العلم لا سيما الدراسات (الأكاديمية)، وجاءت دراسة الأخ والصديق، فضيلة الشيخ أكرم بن
মুহতারাম ডক্টর মুহাম্মদ বিন আবদুর রাজ্জাক আর-রাউদ-এর উপস্থাপনা - দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদের উপ-ডিন এবং সুন্নাহ ও হাদিস বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর: -
এই উম্মতের জ্ঞানতাত্ত্বিক উত্তরাধিকারের অন্তর্ভুক্ত বিশ্বকোষীয় এবং অ-বিশ্বকোষীয় শরয়ী উৎসসমূহের প্রতি যে ব্যক্তি দৃষ্টিপাত করেন, তিনি এগুলোর সংগ্রহ, রচনা ও বিন্যাসে ব্যয়িত পরিশ্রম ও কষ্টের মাত্রা স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারেন; সেই সৃজনশীল বৈজ্ঞানিক বিন্যাস বর্তমান সময়ে বিরল।
বিশেষ করে হাদিসে নববী ও হাদিস বিজ্ঞান এবং বর্ণনাকারী ও তাদের জীবনী সংক্রান্ত সেইসব গ্রন্থসমূহ, যা গণনা করে শেষ করা যাবে না। এমন সব অনন্য সাধারণ ও বিশেষজ্ঞ মনীষীগণ এগুলোর রচনায় আত্মনিয়োগ করেছেন, যারা নবুয়তের জ্ঞানে সমৃদ্ধ ছিলেন, তাতে অবগাহন করেছিলেন এবং তাদের রচিত ও সংকলিত বিষয়ের সৃজনশীলতা, উপলব্ধি, ব্যাপকতা ও প্রজ্ঞার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিলেন।
আর এই সকল দিকপালদের অন্যতম হলেন মহান ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির আত-তবারি; যিনি একাধারে মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক ও ফকিহ ছিলেন। তিনি মহৎ জ্ঞানসমূহ আয়ত্ত করেছিলেন এবং সেগুলোর বিন্যাসে পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি এমন শত শত আলেম ও শাইখের কাছে শিক্ষা লাভ করেছিলেন, যারা মর্যাদা, জ্ঞান ও সঠিক পথের অনুসারী হিসেবে স্বীকৃত।
বিপুল সংখ্যক এই শাইখদের নিয়ে বর্তমানে আমরা এমন কাউকে পাই যারা তাদের জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইমাম তবারি এবং তাঁর রচনাবলি গবেষক ও জ্ঞানপিপাসুদের নিকট, বিশেষ করে একাডেমিক গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব লাভ করেছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় ভাই ও বন্ধু মুহতারাম শেখ আকরাম বিন-এর এই গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٦)
محمد علي زيادة الفالوجي الأثري، مميزة في منهجها، محيطة في موضوعها، غاية في أهميتها، خاصة وأن دراسة شيوخ الطبري الذين روى عنهم بهذا الحد، والتمام والكمال، لم يسبق له - فيما أعلم -، فهو رائد هذا البحث، وصاحب المبادرة فيه، إذ جمع شتاتا نفيسا، من بطون أمهات مصادر التراجم، والرجال، وكل ما يتعلق بشيوخ الطبري، ورتبه ترتيبا مسبوكا، مشفوعا بالرموز الدالة على مواضع روايات الرجال، وتراجمهم، في مصادرها الأصلية، فهو بهذا يسهم في إثراء المكتبة الإسلامية، ويضيف معرفة جديدة، ينهل منها طلبة العلم، ويفيد منها كل متخصص في الحديث وعلومه والرجال وتراجمهم.
هذا ولقد رتب الأخ والصديق " أبو محمد علي " كتابه وفق منهج رشيد سديد، اختط عناصره، وجمع بين مادته وأبوابه بصورة متناسقة متكاملة، مما كفل للكتاب وحدته الموضوعية، فشف ذلك عن حسن التبويب والتفصيل والترتيب والتنسيق، فهو موسوعة رجال بحق، لا يستغني عنها مشتغل بالحديث الشريف وعلومه، والتفسير الأثري ورجال إسناده.
هذا ولا يخفى على كل ذي عينين الجهد الكبير الذي بذله الأخ المؤلف " أبو محمد علي " - حفظه الله -، حتى خرج هذا الكتاب محفوفا بالرعاية " والعناية والضبط والإتقان، وهذا ليس بغريب على أمثال " أبي محمد علي " فهو كما عرفته دريسا صبورا، وجلدا مثابرا لا يمل " ولا يكل، شغوفا بالعكوف على كتب أهل العلم من أهل السنة والحديث، وسبر أغوارها " ناهيك عن حلقات الدرس والعلم التي كان ولا يزال يعقدها وباستمرار لطلبة العلم، نفع الله به وبعلمه وجزاه الله على ذلك خير الجزاء.
মুহাম্মদ আলী যিয়াদাহ আল-ফালুজি আল-আসারীর এই কাজটির পদ্ধতি অনন্য, বিষয়বস্তু ব্যাপক এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে ইমাম তাবারীর শায়খদের (যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন) এই মাত্রায় পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁতভাবে অধ্যয়ন করার নজির আমি যতটুকু জানি আর নেই। ফলে তিনি এই গবেষণার পথপ্রদর্শক এবং এই উদ্যোগের মূল উদ্যোক্তা। তিনি জীবনীগ্রন্থ এবং রিজাল শাস্ত্রের মূল উৎসসমূহ থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মূল্যবান তথ্যগুলোকে একত্রিত করেছেন এবং ইমাম তাবারীর শায়খদের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু চয়ন করেছেন। তিনি একে সুনিপুণভাবে বিন্যস্ত করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের মূল উৎসসমূহে তাদের জীবনীর বর্ণনা ও অবস্থানের নির্দেশক সংকেত যুক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ইসলামি লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করতে অবদান রাখছেন এবং নতুন জ্ঞান সংযোজন করছেন, যা থেকে ইলম অন্বেষণকারীরা উপকৃত হবেন এবং হাদিস, হাদিস শাস্ত্র, রিজাল ও জীবনী বিশেষজ্ঞগণ সুফল লাভ করবেন।
ভ্রাতা ও সুহৃদ 'আবু মুহাম্মদ আলী' তার এই গ্রন্থটিকে একটি সঠিক ও বলিষ্ঠ পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন, যার উপাদানসমূহ তিনি নিজেই নির্ধারণ করেছেন এবং এর বিষয়বস্তু ও অধ্যায়গুলোকে একটি সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ রূপে একত্রিত করেছেন। এটি গ্রন্থটির বিষয়ভিত্তিক ঐক্য নিশ্চিত করেছে এবং এর সুন্দর পরিচ্ছেদ বিন্যাস, বিস্তারিত আলোচনা, সুশৃঙ্খলতা ও বিন্যাসকে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রকৃতপক্ষে এটি রিজাল শাস্ত্রের একটি বিশ্বকোষ, যা হাদিসে নববী ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ এবং আসারী তাফসির ও এর সনদের বর্ণনাকারীদের বিষয়ে গবেষণারতদের জন্য অপরিহার্য।
যেকোনো সচেতন ব্যক্তির নিকট লেখক ভ্রাতা 'আবু মুহাম্মদ আলী' —আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন— এর কঠোর পরিশ্রম অস্পষ্ট নয়, যার ফলে এই গ্রন্থটি অত্যন্ত যত্ন, সতর্কতা এবং নিখুঁতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আবু মুহাম্মদ আলীর মতো ব্যক্তিত্বের জন্য এটি বিস্ময়কর কিছু নয়; কেননা আমি তাকে একজন ধৈর্যশীল শিক্ষার্থী এবং অক্লান্ত পরিশ্রমী হিসেবে চিনি, যিনি কখনো ক্লান্ত বা অবসাদগ্রস্ত হন না। তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের আলেমদের কিতাবসমূহে নিমগ্ন থাকতে এবং সেগুলোর রহস্য উন্মোচন করতে অত্যন্ত আগ্রহী। এছাড়া ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য তিনি নিয়মিত যে দরস ও ইলমি মজলিসগুলো পরিচালনা করে আসছেন, তা তো বলাই বাহুল্য। আল্লাহ তার মাধ্যমে এবং তার ইলমের মাধ্যমে উপকার করুন এবং তাকে এর সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٧)
ولا يسعني إلا أن أتوجه إلى الباري عز وجل أن يكلأ مصنف هذا الكتاب بعين رعايته، ليتابع مسيرة عطائه، وليخرج ما بجعبته " مما أشار إليه في مقدمته " من مشروع كامل ومتكامل، في خدمة كتب الإمام الطبري - رحمه الله تعالى - وخاصة ما يتعلق بها من تراجم رجال أسانيد الطبري في كتبه، ليتمم بهذه الحلقة من تراجم الرجال، سلسلة من معاجم الشيوخ وتراجم رواة الحديث والآثار والتفسير بالأثر.
وهذا العمل الذي بين أيدينا الآن والذي ينم عن عظيم طاقه، وكبير مكنون يتمتع بهما فبارك الله به وبعلمه، ونفع به الناس آمين
الدكتور محمد بن عبد الرزاق الرعود
نائب عميد كلية الدعوة وأصول الدين والأستاذ المساعد في علوم السنة والحديث
جامعة البلقاء التطبيقية - عمان - الأردن
আমি মহান স্রষ্টা আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার নিকট প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না যে, তিনি এই গ্রন্থের রচয়িতাকে তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধানে রক্ষা করুন, যাতে তিনি তাঁর জ্ঞানগত অবদানের ধারা অব্যাহত রাখতে পারেন এবং তাঁর নিকট গচ্ছিত সেই পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রকল্পটি বের করে আনতে পারেন—যেটির প্রতি তিনি তাঁর ভূমিকায় ইঙ্গিত করেছেন—যা ইমাম তাবারী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর কিতাবসমূহের খিদমতের সাথে সংশ্লিষ্ট, বিশেষ করে তাঁর কিতাবসমূহের সনদের রাবীদের জীবনী সংক্রান্ত অংশটুকু। যেন রাবীদের জীবনীর এই পর্বটির মাধ্যমে তিনি তাঁর শাইখদের অভিধান এবং হাদীস, আসার ও তাফসীরে মা’সুরের বর্ণনাকারীদের জীবনীর ধারাটি সম্পন্ন করতে পারেন।
আমাদের সামনে বিদ্যমান এই কাজটির প্রতিটি পরতে পরতে তাঁর সুমহান সামর্থ্য এবং বিশাল অন্তনির্হিত যোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যা তিনি ধারণ করেন। সুতরাং আল্লাহ তাঁর মধ্যে ও তাঁর ইলমের মধ্যে বরকত দান করুন এবং তাঁর মাধ্যমে মানুষের উপকার করুন। আমীন।
ডক্টর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-রাউদ
দাওয়া ও উসুলুদ দীন অনুষদের উপ-ডীন এবং সুন্নাহ ও হাদীস শাস্ত্রের সহকারী অধ্যাপক
আল-বালকা অ্যাপ্লাইড ইউনিভার্সিটি - আম্মান - জর্ডান
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٨)
تقديم فضيلة الشيخ مشهور بن حسن آل سلمان، حفظه الله.
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أما بعد:
فقد قال الأوائل: " كم ترك الأول للآخر " ومن بين ما تركوه الدراسات المستوعبة التحليلية، المفصلة، المعللة، الإحصائية للرواة، فقد دون علماؤنا الأجلة كثيرا في التراجم، وتفننوا في عرضها، وسياقها، وكادت أن تتمايز بينها بأشياء ويلمح الموفق الفطن سمات في بعضها دون بعض.
وجهودهم في هذا الباب متنوعة، ونافعة، وماتعة، ولكنها .. شاقة، فقد ألفت في بعض الأحايين، مع تحمل مشاق الرحلة، والتنقل، والتعرض للمخاوف والمهالك، مع بذل الأوقات والطاقات، ولا تنس ما تركوه من أهل وولد ولذات وعادات راتبات، ولذا جاء في الحديث الصحيح «السفر قطعة من العذاب» (1).
نعم عصر اليوم فيه راحة وانبساط، وتروح للنفس والميل إلى الدعة، ولذا كانت الآفة عند الجلة - إلا من رحم ربي - في (الهمة).
--------------------------------------------
মর্যাদাপূর্ণ শাইখ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান, আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন, এর উপস্থাপনা।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দসমূহ হতে এবং আমাদের কর্মসমূহের অপকারিতা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:
পূর্বসূরিরা বলেছেন: "পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!" তারা যা কিছু রেখে গেছেন তার মধ্যে রয়েছে বর্ণনাকারীদের (রাবিদের) ব্যাপারে সমন্বিত, বিশ্লেষণধর্মী, বিস্তারিত, কারণ-সংবলিত এবং পরিসংখ্যানমূলক গবেষণা। আমাদের মহান আলিমগণ জীবনীগ্রন্থের (তারাজিম) ক্ষেত্রে প্রচুর কাজ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং সেগুলো উপস্থাপনা ও বিন্যাসে পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করেছেন। এই গ্রন্থগুলো একে অপরের থেকে এমন সব বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে যে, কোনো সফল ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেগুলোর কোনো কোনোটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য অন্যের তুলনায় সহজেই অনুধাবন করতে পারেন।
এই ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টাগুলো যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি উপকারী ও আনন্দদায়ক; কিন্তু তা ছিল... অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এগুলো কোনো কোনো সময় সফরের কষ্ট ও এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তরের ধকল সহ্য করে এবং ভয়ভীতি ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে সংকলিত হয়েছে। এর পেছনে ব্যয় হয়েছে বিপুল সময় ও শ্রম। আর তারা তাদের পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, আনন্দ-উপভোগ ও প্রাত্যহিক অভ্যাসসমূহ বিসর্জন দিয়েছিলেন তা ভুলে গেলে চলবে না। এজন্যই সহীহ হাদিসে এসেছে: "সফর হলো যন্ত্রণার একটি অংশ" (১)।
হ্যাঁ, বর্তমান যুগে রয়েছে আরাম-আয়েশ ও সুযোগ-সুবিধা, মনের প্রশান্তি ও আয়েশের প্রতি ঝোঁক; একারণেই মহান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে—আমার রব যাদের রহমত করেছেন তারা ব্যতীত—বিপত্তি দেখা দিয়েছে (হিম্মত) বা উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٩)
ولكن من رحمة الله وفضله، ومنه وكرمه، أن هذه الآفة قد خلت منها جماعة من حذاق طلبة العلم، فانشغلوا في هذا الزمان الذي كثر فيه القيل والقال والبحث عن تتبع العثرات والزلات، وقل فيه الترقي في الخيرات، لتحصيل الثمرات بـ (العوالي) و (الغوالي)، فعمروا أوقاتهم، وكرسوها في المشاريع العلمية النافعة.
وكان قائدهم في ذلك خدمة العلم، وباعثهم تذليل الصعب، وتقريب البعيد وجمع الشريد وسلاحهم الصبر والأناة وهمهم سد النقص، والبعد عن المكرر المملول.
ومن هؤلاء؛ ممن امتن الله عليهم في هذا الزمان بحظ كبير، ونصيب غزير مما سبقت الإشارة إليه: الأخ الفاضل الشيخ أكرم زيادة، حفظه الله ورعاه.
فقد خدم " تفسيرا " من تفاسير كتاب الله عز وجل، بالدراسة والتحليل، مما امتاز فيه عن سائرها، حيث اعتبر بمنزلة (الأم) لها، ألا وهو تفسير الإمام شيخ المفسرين (ابن جرير الطبري) رحمه الله تعالى.
فقام بدراسة شيوخ الطبري، وعمل على ترجمتهم، مع كثرتهم، وندرة تراجم بعضهم ثم انتقل إلى سائر كتب الإمام (ابن جرير) - المطبوعة، ونظر إلى (وفاقهم)، و (فراقهم) في هذه المؤلفات، فكان هذا الكتاب الذي أتشرف اليوم بكتابة هذه السطور تقديما له - من نصيب (الوفاق)، و (الاجتماع) فشرط صاحبه فيه؛ ترجمة من وقع له ذكر في جميع كتب الإمام الطبري المطبوعة وسيتبع ذلك جملة من كتب تخص شيوخ الطبري، بينها المؤلف في ديباجة هذا الكتاب النافع، وتأنق في توزيعهم، وتقسيمهم، على وجه رائع.
তবে আল্লাহর রহমত, অনুগ্রহ ও বদান্যতায় একদল দক্ষ ইলম অন্বেষণকারী এই ব্যাধি থেকে মুক্ত ছিলেন। যে যুগে অনর্থক কথা, দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কল্যাণের পথে অগ্রসর হওয়া ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও মূল্যবান ফল অর্জনের প্রচেষ্টা কমে গেছে, তারা সেই সময়ে তাদের মূল্যবান সময়কে আবাদ করেছেন এবং উপকারী ইলমি প্রকল্পে উৎসর্গ করেছেন।
এক্ষেত্রে তাদের পরিচালক ছিল ইলমের খিদমত, আর তাদের অনুপ্রেরণা ছিল কঠিনকে সহজ করা, দূরবর্তীকে নিকটে আনা এবং বিক্ষিপ্তকে একত্রিত করা। তাদের হাতিয়ার ছিল ধৈর্য ও স্থিরতা, আর তাদের লক্ষ্য ছিল অপূর্ণতা দূর করা এবং বিরক্তিকর পুনরাবৃত্তি থেকে দূরে থাকা।
বর্তমান যুগে আল্লাহ যাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ ও পূর্বোল্লিখিত বিষয়ে প্রচুর সৌভাগ্য দান করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শ্রদ্ধেয় ভাই শায়খ আকরাম জিয়াদাহ (আল্লাহ তাকে হিফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণ করুন)।
তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের এমন একটি তাফসীরের খিদমত করেছেন গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে, যা অন্যান্য তাফসীর থেকে স্বতন্ত্র এবং যেটিকে সেগুলোর ‘মূল উৎস’ হিসেবে গণ্য করা হয়; আর তা হলো মুফাসসিরকুলের শিরোমণি ইমাম ইবনে জারীর তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাফসীর।
তিনি ইমাম তাবারীর উস্তাদদের নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং তাদের জীবনী সংকলন করেছেন; যদিও তাদের সংখ্যা প্রচুর এবং অনেকের জীবনী পাওয়া দুষ্কর। এরপর তিনি ইমাম ইবনে জারীরের অন্যান্য মুদ্রিত কিতাবসমূহের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ‘সাদৃশ্য’ ও ‘বৈসাদৃশ্য’ পর্যবেক্ষণ করেন। আজ আমি যে বইটির ভূমিকা লেখার গৌরব অর্জন করছি, তা মূলত সেই ‘সাদৃশ্য’ ও ‘সমন্বয়ের’ ফসল। এর লেখক এতে এই শর্তারোপ করেছেন যে, ইমাম তাবারীর সমস্ত মুদ্রিত কিতাবে যাদের নাম এসেছে, তাদের জীবনী উল্লেখ করবেন। এরপর ইমাম তাবারীর উস্তাদদের নিয়ে আরও কয়েকটি কিতাব প্রকাশিত হবে, যা লেখক এই উপকারী কিতাবের ভূমিকায় বর্ণনা করেছেন এবং তিনি চমৎকারভাবে তাদের বিন্যাস ও শ্রেণীবিন্যাস করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
والجيد في هذا الكتاب - وكله جيد - فكرته، وجمعه، وعرضه، وتبويبه أنه جمع بين (الجدة)، و (الأصالة)، و (الوجازة)، و (البساطة) وهو مع ذلك كله: كثير (الفائدة)، غزير (المادة).
و (الجدة) فيه: أنه في جمع رجال كتب أصلية، لم يسبق أن قام عالم بذلك في حدود ما أعلم
وأن فيه زيادات على الكتب المستخدمة عند طلبة علم الحديث في البحث من جهة.
وفيه استدراك كثير وقوي على تسمية شيوخ وتلاميذ المترجمين في الكتب المشهورة من جهة أخرى، ويمكن للباحث من خلال استقراء جميع روايات هذا العلم الذي لم يحظ بدراسة مستقلة استقرائية لرواة أسانيده، أن يلقي ضوء على رواة (1) لم تصلنا كلمة جهابذة الجرح والتعديل. وأنصح أخي أكرم - أكرمه الله، ونفع به - أن يعتني بهؤلاء في فهرس خاص بعد النظر في كتب الرجال في أحكام الطبري على الرواة ومقارنة أحكام الطبري بأحكام غيره، وبيان مدى تشدده وتساهله في ذلك.
و (الأصالة) فيه: أن باب التراجع مطروق بالجملة، وطريقة مادة الكتاب على الجادة فقد بدأ مصنفه بذكر اسم الرجل على النحو الذي ورد عند الطبري مع ذكر رقم وروده أول مرة في " التفسير " أو: في " التاريخ "، أو: " تهذيب الآثار "، مكتفيا برقم الخبر، ثم ذكر عدد مروياته وعدد شيوخه، ثم ذكر
--------------------------------------------
এই বইটির চমৎকার দিক—এবং এর প্রতিটি অংশই চমৎকার—হলো এর পরিকল্পনা, সংকলন, উপস্থাপনা এবং বিষয়বিন্যাস; যা নতুনত্ব, মৌলিকত্ব, সংক্ষিপ্ততা এবং সাবলীলতার এক অপূর্ব সমন্বয়। এর পাশাপাশি এটি অত্যন্ত উপকারী এবং প্রচুর তথ্যসমৃদ্ধ।
এর 'নতুনত্ব' হলো এই যে, এটি মূল গ্রন্থসমূহের বর্ণনাকারীদের জীবনী সংকলন করেছে, যা আমার জানামতে ইতিপূর্বে কোনো আলেম এভাবে করেননি।
এবং একদিকে হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় ব্যবহৃত গ্রন্থগুলোর তুলনায় এতে অনেক অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত ব্যক্তিদের উস্তাদ এবং ছাত্রদের নামকরণের ক্ষেত্রে এতে অনেক শক্তিশালী ও গঠনমূলক সংশোধনী রয়েছে। এই শাস্ত্রের সকল বর্ণনা পর্যালোচনার মাধ্যমে—যার সনদসমূহের বর্ণনাকারীদের নিয়ে ইতিপূর্বে কোনো স্বতন্ত্র ও বিস্তারিত পর্যালোচনামূলক গবেষণা হয়নি—একজন গবেষক এমন সব বর্ণনাকারীদের (১) ওপর আলোকপাত করতে পারেন, যাদের সম্পর্কে জারহ ও তা’দীল শাস্ত্রের ইমামদের কোনো বক্তব্য আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি। আমি আমার ভাই আকরামকে—আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন এবং তার মাধ্যমে দ্বীনের উপকার করুন—পরামর্শ দিচ্ছি যে, বর্ণনাকারীদের বিষয়ে ইমাম তাবারীর সিদ্ধান্তসমূহ রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে যাচাই করার পর এবং তাবারীর সিদ্ধান্তগুলোকে অন্যান্য ইমামদের সিদ্ধান্তের সাথে তুলনা করে এবং এক্ষেত্রে তাঁর কঠোরতা ও শিথিলতার মাত্রা স্পষ্ট করে একটি বিশেষ সূচিতে এদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতে।
এর 'মৌলিকত্ব' হলো এই যে, এতে জীবনী রচনার পদ্ধতিটি সামগ্রিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং গ্রন্থের বিষয়বস্তু উপস্থাপনার পদ্ধতিটি সঠিক মানদণ্ড অনুযায়ী হয়েছে। এর সংকলক কোনো ব্যক্তির নাম ইমাম তাবারীর গ্রন্থে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছেন, সাথে 'তাফসীর', 'তারিখ' অথবা 'তাহযীবুল আসার'-এ তার প্রথমবার উল্লেখের নম্বর যুক্ত করেছেন এবং কেবল সংবাদের নম্বরের ওপর নির্ভর করেছেন। এরপর তিনি তাঁর বর্ণিত বর্ণনার সংখ্যা ও তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা উল্লেখ করেছেন, এরপর উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١١)
اسمه الرباعي مع ترجمة موجزة له فيها بيان درجته في التوثيق والتجريح، مع العناية بطبقته، والجيد المفيد الجديد في هذا الباب: محاولة مصنفه - شكر الله له - مجاراة من قبله ممن نصص على بعض الشيوخ في هذه المواد، واستخلاص حكم على من لم ينصص عليه بالاستنباط، ولا غرو في ذلك، فإن الملكة مع كثرة الممارسة والتفرغ للعمل الواحد تشتد وتتقوى، وتنقدح في النفس أشياء مفيدة مع مرور الزمن وكثرة الدراسة والمباحثة، فإن من اعتنى بشيء تطلبه، وتعب فيه، وحصله بإذن الله، والله الموفق والهادي.
وأما (الوجازة) فليس للحشو واللغو، وتطويل العبارات أدنى نصيب من هذا الكتاب وقد أحسن مصنفه لما أسقط أسماء شيوخ وتلاميذ المترجمين الذين ذكرهم (المزي) في " تهذيب الكمال "، عدا أسماء من له رواية من الشيوخ عند الطبري وأنه أثبت ما وقع نظره عليه في بطون الكتب مما لم يثبت فيه. وهذا ما عنيته بـ (البساطة) (1) وقد بسط أشياء أخر مفيدة في كتابه أيضا مثل: التنبيه على التصحيف، والتحريف في الطبعات، وبيان المتفق والمفترق من الرواة، وتمييز المترجم عن آخر أو آخرين شبيهين به، وعدد الروايات المكررة في " التاريخ " في الصفحة الواحدة بوضع علامة (*)، والتنبيه على ما وقع من سقط في أسانيد الطبري، وتعقب على بعض الأئمة والعلماء حول الرواة، ومن الجيد النافع فيه أنه ذكر فيه رقم كل أثر روى الطبري فيه عن شيوخه، وعن شيوخهم من كتبه، وذكر عبارات الأئمة معزوة لقائليها، التي لم تذكر عند (المزي) في " تهذيب الكمال "
--------------------------------------------
তাঁর চার স্তরের নামসহ একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করা হয়েছে, যাতে তাঁর নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতার (তাওসিক ও তাজরিহ) স্তরের বর্ণনা রয়েছে এবং তাঁর প্রজন্মের (তাবাকাহ) প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই বিষয়ে নতুন এবং উপকারী দিকটি হলো: এর সংকলকের প্রচেষ্টা—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—তিনি তাঁর পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন যারা এই বিষয়বস্তুগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু শাইখ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছিলেন। আর যাদের সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই, তাদের বিষয়ে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (ইস্তিনবাত) মাধ্যমে একটি হুকুম বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ নিরন্তর চর্চা এবং একটি নির্দিষ্ট কাজের প্রতি একনিষ্ঠতা মানুষের দক্ষতাকে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করে। দীর্ঘ সময় এবং প্রচুর অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার ফলে অন্তরে অনেক উপকারী বিষয় উদিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়, সে তা অনুসন্ধান করে, সে জন্য পরিশ্রম করে এবং আল্লাহর অনুমতিতে তা অর্জন করে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সঠিক পথপ্রদর্শক।
আর 'সংক্ষিপ্ততা' (আল-ওয়াজাজাহ) প্রসঙ্গে বলা যায়, নিরর্থক কথাবার্তা, অসারতা কিংবা বাক্য দীর্ঘায়িত করার মতো বিষয়ের এই কিতাবে সামান্যতম স্থানও নেই। এর সংকলক অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন যখন তিনি আল-মিযযি তাঁর 'তাহযিবুল কামাল' গ্রন্থে যে সব রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) শাইখ ও ছাত্রদের নাম উল্লেখ করেছিলেন, তা বর্জন করেছেন। কেবল সেই সব শাইখদের নাম তিনি রেখেছেন যাদের বর্ণনা তাবারির নিকট বিদ্যমান। এছাড়া তিনি বিভিন্ন কিতাবের গভীর থেকে এমন সব তথ্য সাব্যস্ত করেছেন যা আগে প্রমাণিত হয়নি। আর এটিই আমি 'বিস্তারিত বর্ণনা' (আল-বাসাতাহ) দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছি (১)। তিনি তাঁর এই কিতাবে আরও অনেক উপকারী বিষয় বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, যেমন: মুদ্রণজনিত ভুল (তাসহিফ) ও বিকৃতি (তাহরিফ) সম্পর্কে সতর্কতা প্রদান, রাবিদের মধ্যে নামের মিল থাকলেও ব্যক্তি ভিন্ন হওয়া (মুত্তাফাক ও মুফতারাক) স্পষ্ট করা এবং আলোচিত বর্ণনাকারীকে তার অনুরূপ অন্য এক বা একাধিক ব্যক্তি থেকে পৃথক করা। এছাড়া 'তারিখ' (ইতিহাস) গ্রন্থে একই পৃষ্ঠায় পুনরাবৃত্ত বর্ণনার সংখ্যা (*) চিহ্নের মাধ্যমে নির্দেশ করেছেন। তাবারির সনদসমূহে কোনো অংশ বাদ পড়ে থাকলে সে সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং রাবিদের বিষয়ে কিছু ইমাম ও আলেমের মন্তব্যের পর্যালোচনা করেছেন। এর একটি উত্তম ও উপকারী দিক হলো, তিনি এতে তাবারির তাঁর শাইখদের থেকে এবং তাঁর শাইখরা তাঁদের কিতাবসমূহ থেকে বর্ণিত প্রতিটি আসারের নম্বর উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি ইমামদের বক্তব্যসমূহ তাদের মূল বক্তার নামসহ উল্লেখ করেছেন, যা আল-মিযযি-এর 'তাহযিবুল কামাল'-এ উল্লেখ করা হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ولا أبي بكر الخطيب البغدادي في " تاريخ بغداد ".
وأخيرا .. فنصيحتي لطلبة العلم أن يستفيدوا من هذا الكتاب وما سيليه من عين معدن مادته؛ بإنعام النظر، وإدمانه، في منهج صاحبه، والرجوع إليه في المشكلات من طبقة الرواة الذين تتراوح وفياتهم بين سنة (خمسين ومائتين)، و (عشر وثلاث مائة)، (فابن جرير) رحالة، لم يترك بلدا، ولا شيخا، إلا أخذ عنه واستفاد منه، وله في ذلك جهود جبارة، تنظر على تفصيل، يحتاجه طلبة العلم اليوم لشحذ هممهم في ترجمته في " معجم الأدباء، لياقوت وغيره، وكتابنا هذا لبنة؛ إن أحسن صاحبها - وما أخاله إلا محسنا إن شاء الله - البناء عليها، فإن الخدمة تعم وتشمل أصول الكتاب، ومنها " تفسير الطبري " على وجه الخصوص ليظهر بالمنزلة اللائقة به، من خلو من تحريف، وسلامة من تصحيف وبيان درجة أحاديثه وآثاره، وتمييز الصحيح من الضعيف، ولعل أخانا المؤلف - حفظه الله - يقوم بذلك على وجه يزيل به دينا عن عاتق المخرجين، الجادين، الشادين، العاملين على وجه فيه أناة وإحسان ومعرفة لحق علماء هذا الشأن.
وأما نصيحتي لمؤلفه .. أن يبقى مستمرًا مستقرًا، على المنهج الذي هو عليه من البعد عن تنتيف الكتب، أو الانشغال تأليفا، أو تحقيقا برسائل تخدم مسألة (طبولية) تحوز إعجاب بعض الحدثاء، أو تملأ فراغ بعض الجهلاء، مدة من الزمن ثم تصبح - كما يقولون - في خبر (كان) فلا هم للعلم خدموا، ولا للأعداء كسروا، ولا لطلبة العلم كثروا، أو من مستواهم رفعوا وحسنوا.
فعناية المؤلف - أحسن الله صنيعه، وتقبل منه جميعه - لمصدر ينهل منه طلبة العلم على اختلاف الأمصار والأعصار، من الأعمال المبرورة المشكورة وكم هي
এবং আবু বকর আল-খতিব আল-বাগদাদির "তারিখ বাগদাদ"-এও নেই।
সবশেষে, ইলম অন্বেষণকারীদের প্রতি আমার নসিহত হলো যে, তারা যেন এই কিতাব এবং এর পরবর্তী মূল উপাদানসমূহ থেকে উপকৃত হয়; এর লেখকের অনুসৃত পদ্ধতির প্রতি গভীর ও নিবিষ্ট মনোযোগ প্রদানের মাধ্যমে এবং সেই স্তরের বর্ণনাকারীদের জটিল বিষয়াবলির ক্ষেত্রে এই কিতাবের শরণাপন্ন হওয়ার মাধ্যমে, যাদের মৃত্যু ২৫০ হিজরি থেকে ৩১০ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে। কারণ (ইবনে জারির) ছিলেন একজন পর্যটক; তিনি এমন কোনো দেশ কিংবা এমন কোনো শায়খ বাকি রাখেননি যার নিকট থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন ও উপকৃত হননি। এই ক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে বিশাল প্রচেষ্টা, যা বর্তমান সময়ের ইলম অন্বেষণকারীদের হিম্মত বৃদ্ধির জন্য বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ইয়াকুত ও অন্যদের রচিত "মুজামুল উদাবা"-তে তাঁর জীবনী থেকে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। আমাদের এই কিতাবটি একটি ভিত্তিপ্রস্তর স্বরূপ; এর লেখক যদি—আমি তাঁকে ইনশাআল্লাহ নিষ্ঠাবান বলেই মনে করি—এর ওপর সুন্দরভাবে ইমারত নির্মাণ করেন, তবে এই খিদমত কিতাবটির মূল উৎসসমূহকে বেষ্টন করবে, বিশেষ করে "তাফসিরুত তবারি"-কে। ফলে এটি বিকৃতি ও ভুল পাঠ থেকে মুক্ত হয়ে এবং এর হাদিস ও আসারগুলোর মান বর্ণনা ও সহিহ-জইফের পার্থক্যের মাধ্যমে তার উপযুক্ত মর্যাদায় সমুজ্জ্বল হবে। সম্ভবত আমাদের লেখক ভাই—আল্লাহ তাঁকে হিফজ করুন—এমনভাবে এই দায়িত্ব আঞ্জাম দেবেন যা সেই সকল ঐকান্তিক ও একনিষ্ঠ গবেষকদের কাঁধ থেকে একটি ঋণ লাঘব করবে, যারা ধীরস্থিরতা, নিষ্ঠা এবং এই শাস্ত্রের আলিমদের হকের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।
আর লেখকের প্রতি আমার নসিহত হলো—তিনি যেন তাঁর বর্তমান মানহাজের (পদ্ধতি) ওপর অবিচল ও স্থির থাকেন। কিতাব থেকে বিক্ষিপ্ত তথ্য চয়ন করা, অথবা এমন কোনো রচনা বা গবেষণায় লিপ্ত হওয়া থেকে দূরে থাকেন যা কেবল সাময়িক কোনো চটকদার মাসআলার প্রচার ঘটায়, যা কিছু অর্বাচীনের প্রশংসা কুড়ায় অথবা কিছু মূর্খদের সাময়িক কৌতূহল মেটায়। কিছুকাল পরেই সেগুলো—যেমনটি বলা হয়—ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যায়। এর মাধ্যমে না তারা ইলমের কোনো খিদমত করতে পারে, না শত্রুদের দর্পচূর্ণ করতে পারে, আর না ইলম অন্বেষণকারীদের সংখ্যা কিংবা তাদের মান উন্নত করতে পারে।
অতএব, লেখকের এই একাগ্রতা—আল্লাহ তাঁর কাজকে উত্তম করুন এবং তাঁর সকল আমল কবুল করুন—এমন একটি উৎসের প্রতি যেখান থেকে সকল দেশ ও কালের ইলম অন্বেষণকারীরা জ্ঞান আহরণ করবে, তা একটি পুণ্যময় ও প্রশংসনীয় কাজ। আর এটি কতই না...
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
حاجة دور النشر اليوم إلى من يسبق أصحابها في العمل بمشاريع تسد النقص وتزيل العجز، فيكون أمامها يرشد المسيرة، بخلاف أولئك الذين يركضون وراء الناشرين فيعملون على تلبية رغباتهم على قاعدة (ما يطلبه القراء)، والفرق كبير بين من سار إلى الأمام ومن التفت إلى الوراء، وبين من ابتكر وسبق وأبدع ومن جارى وشوش ورقع، والله، سبحانه - الهادي إلى سواء السبيل، والواقي من كل سوء ودخيل. وهو حسبنا ونعم الوكيل.
وكتب أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان.
الأردن المحروس - عمان
আজকের প্রকাশনীগুলোর এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজন যারা তাদের স্বত্বাধিকারীদের তুলনায় এমন সব প্রকল্প নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী হবেন যা অভাব পূরণ করবে এবং অক্ষমতা দূর করবে; ফলে তারা সামনে থেকে এই পথযাত্রাকে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করবেন। এটি তাদের বিপরীত যারা প্রকাশকদের পেছনে ছোটেন এবং 'পাঠকরা যা চায়'—এই মূলনীতির ভিত্তিতে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সচেষ্ট থাকেন। যারা সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন আর যারা পেছনের দিকে ফিরে তাকাচ্ছেন, তাদের মধ্যে পার্থক্য অনেক। একইভাবে পার্থক্য রয়েছে তাদের মধ্যে যারা উদ্ভাবন করেছেন, অগ্রগামী হয়েছেন এবং সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, আর তাদের মধ্যে যারা কেবল অন্ধ অনুকরণ করেছেন, বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন এবং জোড়াতালি দিয়েছেন। আল্লাহ—যিনি অত্যন্ত পবিত্র—তিনিই সঠিক পথের দিশারি এবং সকল অনিষ্ট ও অনুপ্রবেশ থেকে রক্ষাকারী। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
লিখেছেন আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান।
সংরক্ষিত জর্ডান - আম্মান
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
رموز كتب " تهذيب الكمال " و " تهذيب التهذيب " و " تقريب التهذيب "
ع = الستة
خ = البخاري في الصحيح
خغ = البخاري في غير الصحيح
بخ = البخاري في الأدب المفرد
خت = البخاري تعليقا واستشهادا ومقرونا وفي التاريخ
ر = البخاري في جزء القراءة
عخ = البخاري في خلق أفعال العباد
ي = البخاري في رفع اليدين
م = مسلم في الصحيح
مق = مسلم في المقدمة
مت = مسلم تعليقا واستشهادا ومقرونا
س = النسائي في المجتبى
ن = النسائي في الكبرى
ص = النسائي في مسند وخصائص علي
سي = النسائي في عمل اليوم والليلة
كن = النسائي في مسند مالك
د = أبو داود في السنن
فد = أبو داود في كتاب التفرد
قد = أبو داود في القدر
مد = أبو داود في المراسيل
دل = أبو داود في المسائل
كد = أبو داود في مسند مالك
غد = أبو داود في غير السنن إن تعددت
"তহযীবুল কামাল", "তহযীবুত তহযীব" এবং "তাকরীবুত তহযীব" গ্রন্থসমূহের সংকেতসমূহআইন = ছয় কিতাব (কুতুবুস সিত্তাহ)
খা = সহীহ বুখারীতে বুখারী
খা-গাইন = সহীহ ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে বুখারী
বা-খা = আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে বুখারী
খা-তা = তালীক, ইস্তিশহাদ ও মাকরুন হিসেবে এবং তারিখে বুখারী
রা = জুযউল কিরাআত গ্রন্থে বুখারী
আইন-খা = খালকু আফআলিল ইবাদ গ্রন্থে বুখারী
ইয়া = রাফউল ইয়াদাইন গ্রন্থে বুখারী
মীম = সহীহ মুসলিমে মুসলিম
মীম-ক্বাফ = মুকাদ্দিমায় মুসলিম
মীম-তা = তালীক, ইস্তিশহাদ ও মাকরুন হিসেবে মুসলিম
সীন = আল-মুজতাবা গ্রন্থে নাসাঈ
নূন = আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে নাসাঈ
সাদ = মুসনাদ এবং খাসাইসু আলী গ্রন্থে নাসাঈ
সীন-ইয়া = আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ গ্রন্থে নাসাঈ
কাফ-নূন = মুসনাদে মালিক গ্রন্থে নাসাঈ
দাল = সুনানে আবু দাউদ
ফা-দাল = কিতাবুত তাফাররুদ গ্রন্থে আবু দাউদ
ক্বাফ-দাল = আল-কাদার গ্রন্থে আবু দাউদ
মীম-দাল = আল-মারাসীল গ্রন্থে আবু দাউদ
দাল-লাম = আল-মাসাইল গ্রন্থে আবু দাউদ
কাফ-দাল = মুসনাদে মালিক গ্রন্থে আবু দাউদ
গাইন-দাল = সুনান ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে আবু দাউদ যদি তা একাধিক হয়
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
صد = أبو داود في فضائل الأنصار
خد = أبو داود في الناسخ
ت = الترمذي في السنن
تم = الترمذي في الشمائل
ق = ابن ماجة في السنن
فق = ابن ماجة في التفسير
رموز " تعجيل المنفعة " عدا رمز أحمدك = مالك كما في: " التعجيل "
فع = الشافعي في المسند
فه = أبو حنيفة في المسند
حم = أحمد في المسند
عب = زيادات عبد الله بن الإمام أحمد على مسند أبيه
الرموز التي خصصتها لكتب الطبري
تس = ابن جرير في التفسير
تخ = ابن جرير في التاريخ
تهـ = ابن جرير في تهذيب الآثار
تق = ابن جرير في الجزء الذي كان مفقودا من تهذيب الآثار
صر = ابن جرير في صريح السنة
مجموع روايات الطبري في جميع كتبه عن شيخه: (طب).
عدد الروايات التي رواها شيخ الطبري المترجم في كتب الطبري عن شيوخه
(ر) عدد الشيوخ الذين روى عنهم شيخ الطبري المترجم في كتب الطبري.
(ش) الشرطة المائلة إلى اليسار (/): عن.
সদ = আবু দাউদ ‘ফাদাইলুল আনসার’ গ্রন্থে
খদ = আবু দাউদ ‘আন-নাসিখ’ গ্রন্থে
ত = আত-তিরমিযী ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে
তম = আত-তিরমিযী ‘আশ-শামায়েল’ গ্রন্থে
ক্ব = ইবনে মাজাহ ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে
ফক্ব = ইবনে মাজাহ ‘আত-তাফসীর’ গ্রন্থে
“তাজীলুল মানফাআ”-এর সংকেতসমূহ (আহমাদের সংকেত ব্যতীত)কা = মালিক, যেমনটি রয়েছে: “আত-তাজীল” গ্রন্থে
ফা = আশ-শাফিঈ ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে
ফাহ = আবু হানিফা ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে
হাম = আহমাদ ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থে
আব = ইমাম আহমাদের মুসনাদে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর অতিরিক্ত সংযোজনসমূহ
আত-তাবারির কিতাবসমূহের জন্য নির্ধারিত সংকেতসমূহ
তাস = ইবনে জারীর ‘আত-তাফসীর’ গ্রন্থে
তাখ = ইবনে জারীর ‘আত-তারীখ’ গ্রন্থে
তাহ = ইবনে জারীর ‘তাহযীবুল আসার’ গ্রন্থে
তাক্ব = ইবনে জারীর ‘তাহযীবুল আসার’-এর সেই অংশে যা পূর্বে নিখোঁজ ছিল
সর = ইবনে জারীর ‘সরীহুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে
তাবারির সকল কিতাবে তাঁর উস্তাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহের সমষ্টি: (ত্বব)।
তাবারির কিতাবসমূহে জীবনীকৃত শাইখ তাঁর উস্তাদদের থেকে যে সংখ্যক বর্ণনা করেছেন
(র) তাবারির কিতাবসমূহে জীবনীকৃত শাইখ যে সংখ্যক উস্তাদদের থেকে বর্ণনা করেছেন।
(শ) বাম দিকে হেলানো রেখা (/): এর অর্থ ‘হতে/থেকে’।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
مقدمة منهج البحث والتأليفبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل، فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أما بعد:-
فإن أحسن الكلام كلام الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة، ضلالة وكل ضلالة في النار.
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون}.
(آل عمران: 102)
{يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيرا ونساء واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا}. (النساء: 1)
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولا سديدا يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزا عظيما}. (الأحزاب: 72 و73)
أما بعد:- فإن من تمام نعمة الله على عباده المؤمنين، أن حبب إليهم الإيمان وزينه في قلوبهم، وكره إليهم الكفر، والفسوق، والعصيان، ليكونوا بذلك من الراشدين، وإن من متممات هذه النعمة لخواصه، أن يحبب إليهم العلم، الذي يحسنون به العمل، والذي هو ركن ركين في الإيمان، والذي أجمع أهل السنة والجماعة، على أنه قول وعمل واعتقاد، يزيد بالطاعات، وينقص بالمعاصي والخطيئات وإن أشرف العلوم علوم الأنبياء عليهم السلام.
গবেষণা ও গ্রন্থ রচনার পদ্ধতির ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথ প্রদর্শনকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:-
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর বাণী এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
(আলে ইমরান: ১০২)
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে দাবি করে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} (আন-নিসা: ১)
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহা সাফল্য লাভ করবে।} (আল-আহযাব: ৭২ ও ৭৩)
অতঃপর:- নিশ্চয়ই মুমিন বান্দাদের ওপর আল্লাহর পূর্ণ অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত হলো, তিনি ঈমানকে তাদের কাছে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন; আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তাদের কাছে অপছন্দনীয় করেছেন, যাতে তারা সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর তাঁর বিশেষ বান্দাদের জন্য এই নিআমতের পূর্ণতা হলো তাদের কাছে ইলম বা জ্ঞানকে প্রিয় করে দেওয়া, যার মাধ্যমে তারা আমলকে সুন্দর ও সঠিক করতে পারে। আর যা (ইলম) ঈমানের একটি সুদৃঢ় ভিত্তি। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ঈমান হলো কথা, কাজ ও বিশ্বাসের সমষ্টি; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানি ও পাপাচারের মাধ্যমে হ্রাস পায়। আর নিশ্চয়ই সব ইলমের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ হলো নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) ইলম।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وإن أشرفهم على الإطلاق سيد الأنام، محمد عليه أفضل الصلاة، وأزكى السلام، وإن أشرف علم ورثه أمته هذا الذكر، الذي تكفل الله بحفظه، وأنزله وحيا من عنده، وجعله روحا من أمره، يهدي به الله من اتبع رضوانه سبل السلام ويخرجهم به من الظلمات إلى النور بإذنه، ويهديهم إلى صراط مستقيم؛ ألا وهو الذكر الحكيم، والقرآن العظيم، المتعبد بتلاوته. ثم البيان المبين لأحكامه كما قال منزله وحافظه سبحانه: {وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتفكرون}.
[النحل: 44]
ولما كان الذكر هو كلام الله بألفاظه، ومعانيه، محفوظا بحفظه سبحانه وتعالى. فحفظت ألفاظه في الصدور، وبين ثنايا السطور، حيث جعل الله تعالى الذكر هو القرآن، والسنة هي البيان، واصطفى من عباده؛ الأخيار من المهاجرين والأنصار، والذين اتبعوهم بإحسان في سائر العصور والأمصار، رجالا يحملوه إلى الناس كافة، في كافة الأقطار، والأمصار، لأن الصحابة شاهدوا تنزيله وسمعوا تأويله، فصاروا بذلك شهودا شاهدين، وبتبليغه للخلق مكلفين وبتأويله لكل جاهل عالمين، فامتثلوا أمر نبيهم الأمين: «فليبلغ الشاهد منكم الغائب»، وحققوا قول ربهم العظيم: {الذين يبلغون رسالات الله ويخشونه ولا يخشون أحدا إلا الله وكفى بالله حسيبا}.
(الأحزاب: 39)
ولقد كان من تمام البيان، أن تصدى النبي صلى الله عليه وسلم لتفسيره وتبيينه، بالمبادرة منه بتبليغ الوحي تارة، أو بإجابة السائلين عن تأويله وبيانه تارة أخرى، وكل ذلك بوحي من الله، تبارك وتعالى إما بالرسول الأمين جبريل عليه السلام تارة
আর নিসন্দেহে তাদের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক সম্মানিত হলেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব, মুহাম্মাদ, তাঁর ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ ও পবিত্রতম সালাম। এবং তাঁর উম্মত উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞানসমূহের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত হলো এই জিকির (কুরআন), যা সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ স্বয়ং গ্রহণ করেছেন, একে তাঁর নিকট থেকে ওহী হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন এবং একে তাঁর নির্দেশের এক রূহ (প্রাণ) বানিয়েছেন; এর মাধ্যমে আল্লাহ ঐ ব্যক্তিদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টি অনুসরণ করে এবং তাঁরই অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন ও তাদেরকে সরল পথের দিশা দেন। জেনে রাখুন, তা হলো প্রজ্ঞাপূর্ণ জিকির ও সুমহান কুরআন, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য। এরপর হলো এর বিধি-বিধানের সুস্পষ্ট বর্ণনা, যেমনটি এর অবতীর্ণকারী ও সংরক্ষণকারী মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।"
[আন-নাহল: ৪৪]
যেহেতু জিকির (কুরআন) হলো আল্লাহর কালাম—এর শব্দ ও অর্থ উভয়সহ, যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সংরক্ষণে সংরক্ষিত। ফলে এর শব্দসমূহ বক্ষসমূহে এবং লিপির ভাঁজে ভাঁজে সংরক্ষিত হয়েছে, যেখানে আল্লাহ তাআলা কুরআনকে 'জিকির' এবং সুন্নাহকে তার 'ব্যাখ্যা' সাব্যস্ত করেছেন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য হতে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণকে এবং যারা সকল যুগে ও জনপদে ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, এমন একদল মানুষকে মনোনীত করেছেন যারা একে সকল ভূখণ্ডে ও জনপদে সমস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন। কারণ সাহাবীগণ এর নাজিল হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা শ্রবণ করেছেন। এর ফলে তাঁরা সাক্ষ্যদানকারী সাক্ষী হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন এবং সৃষ্টির কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছেন এবং প্রত্যেক অজ্ঞ ব্যক্তির কাছে এর সঠিক অর্থ বর্ণনার ক্ষেত্রে বিদগ্ধ আলেম হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। অতঃপর তাঁরা তাঁদের আমানতদার নবীর আদেশ পালন করেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছো তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়।" এবং তাঁরা তাঁদের মহান রবের বাণীকে বাস্তবায়ন করেছেন: "যাঁরা আল্লাহর পয়গাম পৌঁছে দেন এবং তাঁকে ভয় করেন, আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকেও ভয় করেন না। আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।"
(আল-আহজাব: ৩৯)
আর বর্ণনার পূর্ণতা এই ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তাফসীর ও ব্যাখ্যার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন; কখনো নিজে থেকে ওহী পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে, আবার কখনো এর ব্যাখ্যা ও বর্ণনা সম্পর্কে প্রশ্নকারীদের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে। আর এই সব কিছুই ছিল আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে, কখনো আমানতদার রাসূল জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
أو بالإلهام والإقرار، والتأييد على الاجتهاد تارة أخرى، أو بالتوجيه والتسديد، تارة ثالثة.
ولقد واظب أصحابه رضي الله عنهم على تعلم تأويله، كما واظبوا على سماع تنزيله ولما صار أمر الدعوة، والتبليغ، والإرشاد، والتعليم، إلى الأصحاب صلى الله عليه وسلم كانوا يعلمون التأويل، كما يعلمون التنزيل، كما أشار إلى ذلك (أبو عبد الرحمن السلمي)، التابعي الجليل.
وكان على رأس هؤلاء جميعا؛ الراشدون الأربعة، وعبد الله بن مسعود، والحبر البحر الترجمان؛ عبد الله بن عباس، وعبد الله بن عمر، وأم المؤمنين عائشة، وأبي بن كعب والفتى الذكي المأمون، زيد بن ثابت، ثم سائر الصحابة رضي الله تعالى عنهم أجمعين.
ثم تتابع التابعون؛ يأخذون التأويل، كما يأخذون التنزيل، كتابة حينا ومشافهة أحيانا أخرى، فلما نجم النفاق، المؤسس على الابتداع، ومجانبة الاتباع بما أحدثه أهل الكلام والمنطق الرعاع، من عباد الصليب، وعزير، والنار، والنور والشعاع، الذين أذهلهم نصر الإسلام، ومرغ أنوفهم بالرغام، في خبير، والقادسية، واليرموك، وأظهر مبغضو الصحابة الكرام رضي الله عنهم حقدهم عليهم بدعوى خيانتهم الدعوة، وكتمانها تارة، أو الجهل بها، والعجز عن فهمها تارة أخرى، أو بحجة الانتصار لعلم، وعلماء الباطن من (أئمة آل البيت المعصومين) - زعموا - تارة ثالثة، أو الانتصار (لقميص عثمان)، و (النصب)، و (استئصال الخوارج) تارة رابعة.
فكان لا بد - والحالة هذه - من معرفة المسيء من المحسن، والمخلط
কখনো ইলহাম ও স্বীকৃতির মাধ্যমে, অন্য সময় ইজতিহাদের ক্ষেত্রে সমর্থনের মাধ্যমে, অথবা তৃতীয় কোনো সময়ে সঠিক পথপ্রদর্শন ও লক্ষ্যভেদী নির্দেশনার মাধ্যমে।
তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই কিতাবের ব্যাখা শেখার ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে নিয়োজিত থাকতেন, যেমনটি তাঁরা এর অবতীর্ণ বাণী শোনার ক্ষেত্রে নিষ্ঠাবান ছিলেন। যখন দাওয়াত, প্রচার, সঠিক পথপ্রদর্শন ও শিক্ষার দায়িত্ব মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের ওপর অর্পিত হলো, তখন তাঁরা কিতাবের ব্যাখ্যাও শেখাতেন যেভাবে তাঁরা এর শব্দাবলি শেখাতেন; যেমনটি মহান তাবিঈ আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী ইঙ্গিত করেছেন।
তাঁদের সকলের অগ্রভাগে ছিলেন চার খলিফায়ে রাশিদুন, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ এবং জ্ঞানের সুগভীর সাগর ও মহা-ব্যাখ্যাকার আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস, আব্দুল্লাহ বিন উমর, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা, উবাই বিন কা'ব এবং সেই অত্যন্ত মেধাবী ও নির্ভরযোগ্য যুবক যায়েদ বিন সাবিত, অতঃপর সকল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম আজমাঈন)।
অতঃপর তাবিঈগণ ধারাবাহিকভাবে আসলেন; তাঁরা এর ব্যাখ্যা গ্রহণ করতেন যেভাবে তাঁরা এর শব্দাবলি গ্রহণ করতেন—কখনো লেখার মাধ্যমে আবার কখনো সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে। অতঃপর যখন বিদআতের ওপর ভিত্তি করে এবং সুন্নাহর অনুসরণের পথ পরিহার করে মুনাফিকির উদ্ভব ঘটল—সেই নিম্নশ্রেণির ইলমুল কালাম ও যুক্তিশাস্ত্রের অনুসারীদের নব-উদ্ভাবিত মতবাদের কারণে, যারা ছিল ক্রুশ-পূজারী, উযাইরের উপাসক, অগ্নি-পূজারী এবং আলো ও রশ্মি-পূজারীদের বংশধর। ইসলামের বিজয় যাদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছিল এবং খয়বর, কাদিসিয়া ও ইয়ারমুকে যাদের দর্প ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল। আর সম্মানীয় সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বিদ্বেষীরা তাঁদের প্রতি নিজেদের সুপ্ত ঘৃণা প্রকাশ করল—কখনো তাঁদের ওপর দাওয়াতের আমানতে খেয়ানত ও তা গোপন করার অপবাদ দিয়ে, কখনো তাঁদের অজ্ঞতা ও বিষয়টি বুঝতে অক্ষম হওয়ার অজুহাতে, আবার কখনো তথাকথিত 'নিষ্পাপ আহলে বাইত ইমামদের' বাতেনী ইলম ও আলেমদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের দোহাই দিয়ে, অথবা চতুর্থত 'উসমানের জামা', 'নাসব' এবং 'খারেজীদের সমূলে বিনাশ' করার অযুহাতে।
এমতাবস্থায়—পরিস্থিতি যখন এমন—তখন পাপাচারী ও পুণ্যবান এবং সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণকারীর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الخرف من الضابط المتقن. . . والفاسق المبتدع، من العدل المتبع. . . فقام سوق الجرح والتعديل، وحمل لواءه كل عالم، عامل نحرير، يذب عن الصحابة وتابعيهم، ومنهجهم ودعوتهم، بالسيف والسنان، والبنان واللسان، والحجة والبيان، وأصبح أهل العلم يمتازون بأسانيدهم، ويرحلون الأيام والشهور والسنين والعقود، من أجل تحصيل العالي منها، وتدوينها، ونشرها، وأصبح لزاما معرفة الخبيث من الطيب من الرواة، والعدل الضابط، من الجاهل الهابط، وصار الأئمة يعرفون بمعرفتهم برجال الأسانيد. . كنى وأسماء وألقابا. . ولادة وحياة ووفاة. . نسبا وحسبا وولاء. . إقامة وسكنا ورباطا. . رحلة ونزولا واستيطانا. . لقاء وسماعا وبلاغا. . مناولة وإجازة ووجادة. . مشافهة وحفظا واستملاء. . كتابة وعرضا وإنباء.
وورثونا والأجيال من قبلنا ومن بعدنا، عصارات جهدهم، وخلاصة بحثهم، وصافي معرفتهم في أسماء الرجال وكناهم. . وأنسابهم وبلادهم. . وولاداتهم ووفياتهم. . وطبقاتهم ومراتبهم. . وشيوخهم وتلاميذهم. . وما لهم وما عليهم من تعديل أو تجريح. . كل ذلك بميزان أدق من ميزان الذهب و (الماس). . لا يبتغون من وراء ذلك ذم الناس والأجناس، وإنما إرضاء رب الجنة والناس وقمعا لنزغات الوسواس الخناس.
وقد قام كثير من المحققين من علماء الملة والدين، بترجمة هؤلاء الأعلام الكرام، الذين حملوا لواء السنة، والحديث والأثر، لإظهار فضائلهم وضبط أحوالهم، للوثوق برواياتهم ونقلهم، وترجمة أعلام اللئام، الذين كادوا لدين الإسلام بالبدع والشكوك والأوهام ليحذر الناس من شرهم ويردوا عليهم سوء مكرهم.
মতিরভ্রমসম্পন্ন বর্ণনাকারীকে সুনিপুণ বর্ণনাকারী থেকে... এবং বিদআতি পাপাচারীকে অনুসরণযোগ্য নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে পৃথক করা হলো... অতঃপর 'জারহ ও তা'দীল' (সমালোচনা ও গুণাবলি বিশ্লেষণ) এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেল, এবং এর পতাকা বহন করলেন প্রত্যেক আমলকারী বিশেষজ্ঞ আলেম। তারা তলোয়ার ও বল্লম, আঙুল ও জিহ্বা এবং দলিল ও বর্ণনার মাধ্যমে সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং তাদের মানহাজ ও দাওয়াতকে রক্ষা করেন। আলেম সমাজ তাদের সনদ বা বর্ণনাসূত্রের মাধ্যমে বৈশিষ্টমণ্ডিত হলেন; তারা উচ্চতর সনদ হাসিল, সংকলন ও প্রচারের উদ্দেশ্যে দিন, মাস, বছর এবং যুগ যুগ ধরে সফর করতে লাগলেন। বর্ণনাকারীদের মধ্যে মন্দ থেকে ভালোকে এবং নির্ভরযোগ্য ও সুসংরক্ষিত স্মৃতিসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিচুস্তরের মূর্খ থেকে পৃথক করা আবশ্যক হয়ে পড়ল। ইমামগণ সনদের বর্ণনাকারীদের পরিচয়—যেমন তাদের উপনাম, নাম ও উপাধি... জন্ম, জীবন ও মৃত্যু... বংশপরিচয়, মর্যাদা ও আনুগত্যের সম্পর্ক... অবস্থান, বাসস্থান ও সীমান্ত পাহারা... সফর, অবতরণ ও বসতি স্থাপন... সাক্ষাৎ, শ্রবণ ও পৌঁছানো... মুনাওয়ালাহ (হস্তান্তর), ইজাজত ও উইজাদাহ (পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি)... মৌখিক আলোচনা, মুখস্থকরণ ও শ্রুতিলিপি গ্রহণ... লিখন, পেশ করা ও সংবাদ প্রদান—বিষয়ে তাদের জ্ঞানের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করলেন।
তারা আমাদের জন্য এবং আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তাদের কঠোর পরিশ্রমের নির্যাস, গবেষণার সারসংক্ষেপ এবং বর্ণনাকারীদের নাম ও উপনাম... তাদের বংশ ও দেশ... তাদের জন্ম ও মৃত্যু... তাদের স্তর ও মর্যাদা... তাদের উস্তাদ ও ছাত্রবৃন্দ এবং তাদের অনুকূলে বা বিপক্ষে প্রশংসামূলক বা সমালোচনামূলক মন্তব্য সংক্রান্ত তাদের বিশুদ্ধ জ্ঞান উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন। এ সমস্ত কিছুই সম্পন্ন হয়েছে সোনা ও (হীরার) তুলাদণ্ড অপেক্ষা অধিক সূক্ষ্ম মানদণ্ডে। এর পেছনে তাদের উদ্দেশ্য মানুষ বা কোনো জাতিকে নিন্দা করা ছিল না, বরং জান্নাত ও মানুষের রবের সন্তুষ্টি অর্জন এবং আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার প্ররোচনা দমন করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
মিল্লাত ও দ্বীনের অনেক গবেষক আলেম সেই সকল সম্মানিত মহান ব্যক্তিদের জীবনী সংকলন করেছেন যারা সুন্নাহ, হাদীস ও আছারের পতাকা বহন করেছেন, যাতে তাদের মর্যাদা প্রকাশ পায় এবং তাদের অবস্থা সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়, যেন তাদের বর্ণনা ও হস্তান্তরের ওপর আস্থা রাখা যায়। পাশাপাশি তারা সেই সকল হীন ব্যক্তিদের জীবনীও সংকলন করেছেন যারা বিদআত, সন্দেহ ও অলীক কল্পনার মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, যাতে মানুষ তাদের অনিষ্ট থেকে সতর্ক থাকতে পারে এবং তাদের মন্দ চক্রান্ত প্রতিহত করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وتنوعت كتب الجرح الخالص: فصنفت كتب تترجم للضعفاء والمتروكين والمجروحين والمخلطين.
وكتب التعديل الخالص: فصنفت كتب تترجم للثقات، والعدول، والحفاظ الضابطين.
وكتب اشتملت على الأمرين معا: " كالجرح والتعديل، و" التعديل والتجريح ". وكتب اهتمت بالأسامي والكنى، وأخرى بالولادات والوفيات، وأخرى بالرتب والطبقات، وغيرها بالسير والحكايات، وغيرها بالرحلة والمساكن والنزول والإقامات، وغيرها بالشيوخ والتلاميذ، والعلل، والإجازات، وطرق الروايات، والمشيخات.
وقد تولى أهل العلم الترجمة لشيوخهم، أو من رووا عنهم مثل كتاب، " بحر الدم " و " الأسامي والكنى "، وغيرها للإمام أحمد، و " التاريخ الكبير، و" التاريخ الصغير " للإمام البخاري، و" الكنى والأسماء " و" المنفردات والوحدان، و" التمييز " للإمام مسلم بن الحجاج، وكتابا " الثقات " و " المجروحين " لابن حبان.
أو لرواة كتب الحديث، كل كتاب بعينه كتراجم " رجال صحيح البخاري " لأبي نصر الكلابذي، و" رجال مسلم " لأبي بكر الأصبهاني، و " من روى عنهم البخاري في الصحيح " لأبي أحمد بن عدي الجرجاني، و" تسمية من أخرجهم البخاري ومسلم " لأبي عبد الله الحاكم النيسابوري، و" الإكمال في ذكر من له رواية في مسند الإمام أحمد من الرجال " لأبي المحاسن الحسيني، و" تعجيل المنفعة بزوائد رجال الأئمة الأربعة " للحافظ ابن حجر، و " إسعاف المبطأ
বিশুদ্ধ জারহ (সমালোচনা) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ বৈচিত্র্যময়: এমন সব গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে যাতে দুর্বল, পরিত্যক্ত, সমালোচিত এবং সংমিশ্রণকারীদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে।
এবং বিশুদ্ধ তাদিল (প্রশংসা) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ: যাতে নির্ভরযোগ্য, ন্যায়পরায়ণ এবং প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন হাফেজদের জীবনী সংকলিত হয়েছে।
এমন কিছু গ্রন্থ রয়েছে যা উভয় বিষয়কে একত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছে: যেমন ‘আল-জারহ ওয়াত তাদিল’ এবং ‘আত-তাদিল ওয়াত তাজরিহ’। এছাড়া কিছু গ্রন্থ নাম ও উপনামের বিষয়ে, কিছু জন্ম ও মৃত্যুর বিষয়ে, কিছু স্তর ও তবকাতের বিষয়ে, কিছু জীবনচরিত ও কাহিনীর বিষয়ে, কিছু সফর, বাসস্থান, অবতরণ ও অবস্থানের বিষয়ে, এবং কিছু উস্তাদ-ছাত্র, ইলল (সূক্ষ্ম ত্রুটি), ইজাজত (অনুমতি), বর্ণনার ধারা ও মাশায়িখদের তালিকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে।
উলামায়ে কেরাম তাদের উস্তাদদের অথবা যাদের থেকে তারা বর্ণনা করেছেন তাদের জীবনী রচনার দায়িত্ব পালন করেছেন। যেমন ইমাম আহমদের ‘বাহরুদ দাম’ ও ‘আল-আসামী ওয়াল কুনা’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ; ইমাম বুখারীর ‘আত-তারিখুল কবির’ ও ‘আত-তারিখুস সাগির’; ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের ‘আল-কুনা ওয়াল আসমা’, ‘আল-মুনফারিদাত ওয়াল উহদান’ ও ‘আত-তাময়িজ’; এবং ইবনে হিব্বানের ‘আস-সিকাত’ ও ‘আল-মাজরুহিন’ গ্রন্থদ্বয়।
অথবা হাদীসের নির্দিষ্ট কিতাবসমূহের বর্ণনাকারীদের জীবনী নিয়ে কাজ করেছেন, যেমন আবু নাসর আল-কালাবাদির ‘রিজালু সহীহিল বুখারী’, আবু বকর আল-আসবাহানীর ‘রিজালু মুসলিম’, আবু আহমদ ইবনে আদি আল-জুরজানির ‘মান রাওয়া আনহুমুল বুখারী ফিস সহীহ’, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নাইসাবুরীর ‘তাসমিয়াতু মান আখরাজাহুমুল বুখারী ওয়া মুসলিম’, আবু মাহাসিন আল-হুসাইনীর ‘আল-ইকমালু ফী জিকরি মান লাহু রিওয়ায়াতুন ফী মুসনাদিল ইমাম আহমদ মিনার রিজাল’, হাফেজ ইবনে হাজারের ‘তা’জীলুল মানফায়া বি-যাওয়ায়েদি রিজালিল আইম্মাতিল আরবাআ’ এবং ‘ইসআফুল মুবাত্তি’...
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
برجال الموطأ " لأبي الفضل السيوطي وغيرها.
أو في الطبقات، والمراتب، والوفيات، والكنى، والتراجم العامة مثل: " الطبقات الكبرى " لمحمد بن سعد بن منيع - كاتب الواقدي - و" ذكر أسماء التابعين ومن بعدهم، للدارقطني، و" تهذيب الكمال في أسماء الرجال، لأبي الحجاج المزي، و" طبقات المحدثين " للذهبي، و" المقتنى في سرد الكنى " له و" الإصابة في معرفة الصحابة " للحافظ ابن حجر العسقلاني، و" طبقات الحفاظ " للسيوطي و" مولد العلماء ووفياتهم " لأبي زبر الربعي، و" المقصد الأرشد في ذكر أصحاب أحمد " لابن مفلح الحنبلي، ومن آخرها كتاب " رجال تفسير الطبري " للحلاق.
الباعث على هذا العمل:
وكان من نعم الله الكثيرة علي - والتي لا ولن أحصيها أبدا - أن حبب الله تعالى إلي النظر في تراجم، وسير العظماء من الرجال، منذ نعومة أظفاري، ولما يسر الله لي الإقامة في بلاد اليمن السعيد، بإيمانه وحكمته، وفقهه، وعلم أهله ورأيت اهتمام شيخنا (أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي) - متع الله بعلمه وعمره - رأيت اهتمامه بتبصير تلاميذه بسير وتراجم أهل الحديث، الذي يحمل لواءه في تلك البلاد المباركة، وكذلك رأيت اهتمام إخواننا، ممن يسيرون على نهج الشيخ - حفظه الله - ممن يتولون تدريس كتب الحديث في مراكزهم، ومدارسهم، المنتشرة في ربوع اليمن الميمون، وبنفس طريقة الشيخ في دراسة الأسانيد والوقوف على لطائفها، وتراجم رجالها - عزمت على أن يكون لي في ذلك مساهمة، ولو متواضعة، في تعريف إخواني من طلاب العلم، ممن يظنون بي الخير، ويلتفون
আবু ফজল আস-সুয়ূতী রচিত ‘রিজালুল মুওয়াত্তা’ এবং অন্যান্য।
অথবা তাবাকাত (স্তরবিন্যাস), মারাতীব (মর্যাদাক্রম), ওফিয়াত (মৃত্যু সাল), কুনা (উপনাম) এবং সাধারণ জীবনীগ্রন্থসমূহ, যেমন: ওয়াকিদীর লেখক মুহাম্মাদ বিন সা'দ বিন মানী রচিত ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’, আদ-দারা কুতনী রচিত ‘যিকর আসমায়িত তাবিয়ীন ওয়া মান বা'দাহুম’, আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযী রচিত ‘তাহযীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল’, আয-যাহাবী রচিত ‘তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন’ এবং তাঁর রচিত ‘আল-মুকতানা ফী সারদিল কুনা’, হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী রচিত ‘আল-ইসাবাহ ফী মা'রিফাতিস সাহাবাহ’, আস-সুয়ূতী রচিত ‘তাবাকাতুল হুফফাজ’, আবু যিবর আর-রিবঈ রচিত ‘মাওলিদুল উলামা ওয়া ওফিয়াতুহুম’, ইবনে মুফলিহ আল-হাম্বালী রচিত ‘আল-মাকসাদুল আরশাদ ফী যিকর আসহাবি আহমাদ’ এবং এদের মধ্যে সর্বশেষ হলো আল-হাল্লাক রচিত ‘রিজালু তাফসীরিত তাবারী’ গ্রন্থটি।
এই কাজের উদ্দেশ্য:
আমার প্রতি আল্লাহর অজস্র নিআমতসমূহের মধ্যে একটি নিআমত—যা আমি কখনও গণনা করে শেষ করতে পারব না—তা হলো, আল্লাহ তাআলা শৈশব থেকেই আমার হৃদয়ে মহান ব্যক্তিদের জীবনী ও জীবনচরিত পর্যালোচনার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আর যখন আল্লাহ আমার জন্য সৌভাগ্যবান ইয়েমেনে বসবাসের ব্যবস্থা সহজ করে দিলেন—যা তার ঈমান, হিকমত (প্রজ্ঞা), ফিকহ এবং সেখানকার অধিবাসীদের জ্ঞানের জন্য প্রসিদ্ধ—তখন আমি আমাদের শায়খ (আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদী আল-ওয়াদিয়ী)—আল্লাহ তাঁর জ্ঞান ও হায়াত দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন—তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ লক্ষ্য করলাম। আমি দেখলাম তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে হাদীস বিশারদদের (আহলুল হাদীস) জীবনী ও জীবনচরিত সম্পর্কে অবগত করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান, যাঁদের পতাকাবাহী তিনি স্বয়ং সেই বরকতময় ভূখণ্ডে। অনুরূপভাবে আমি আমাদের সেই ভাইদেরও গুরুত্ব দিতে দেখেছি, যাঁরা শায়খের—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—মানহাজ বা আদর্শের ওপর চলছেন এবং ইয়েমেনের বরকতময় জনপদের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তাঁদের কেন্দ্র ও মাদরাসাগুলোতে হাদীসের কিতাবসমূহ পাঠদানে নিয়োজিত আছেন। সনদের বিশ্লেষণ, এর সূক্ষ্ম বিষয়াদি উদ্ঘাটন এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী পর্যালোচনার ক্ষেত্রে শায়খের সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করে—আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, এক্ষেত্রে আমারও একটি অবদান থাকুক, যদিও তা সামান্য হয়; যাতে ইলমে দ্বীনের সেই তালিবে ইলম ভাইদের সাথে পরিচিতি ঘটে, যাঁরা আমার সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করেন এবং সমবেত হন।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
حولي متوهمين العلم مني. .!! تعريفهم بدراسة الأسانيد على المنهج الذي رأيت وأجزت فيه من شيخي الفاضلين (أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي اليماني) و (أبي عبد الرحمن محمد بن عبد الله الريمي اليماني) المعروف بـ (الإمام).
فكان أن اخترت كتاب الإمام الطبري المسمى " جامع البيان في تأويل القرآن " لدراسة التفسير والتأويل السلفي الأثري الصحيح من جهة، ولدراسة أسانيده الكثيرة من جهة أخرى، وقد قاربت أسانيد " التفسير " في عددها، مجموع عدد الآثار التي في الكتب الستة المشهورة مجتمعة؛ حيث زاد عدد الآثار والأخبار التي في " التفسير " عن (33713)، في حين بلغ مجموع عدد الآثار والأخبار التي في الكتب الستة (33982)، وبالتالي فإن دراسة مثل هذا الكم من الآثار والأخبار يؤدي إلى معرفة حقيقة الآثار الواردة في التفسير والتأويل والبيان؛ صحة وضعفا، من جهة ثالثة، ولاشتماله على كثير من العلوم الشرعية من جهة رابعة.
ومما قوى عزيمتي، وزاد شغفي بهذا الكتاب العظيم، ودفعني لدراسة رجاله ما وقفت عليه من كلام طيب لأخ كريم سبقني في دراسته، ألا وهو الشيخ علوي السقاف - حفظه الله، حيث قال في مقدمة فهرسه الذي سماه:، فهارس رجال تفسير إمام المفسرين ابن جرير الطبري الذين ترجم لهم أحمد ومحمود شاكر، (ص 7): حيث قال: ومن بركة هذا العمل أنني عندما كنت أقوم بإعداده مررت على كثير من الأسانيد المتكررة في التفسير، والتي كان يطلق عليها الشيخ محمود شاكر أنها كثيرة الدوران، لذلك قمت وقتها برصدها، حتى يتسنى لي كتابتها ثم دراستها دراسة حديثية مع ذكر أقوال أئمة الجرح والتعديل في رجالها، كما قمت
আমার চারপাশে যারা আমার থেকে ইলম লাভের ধারণা পোষণ করেন!! তাদেরকে সেই পদ্ধতিতে সনদ অধ্যয়নের সাথে পরিচিত করানো যা আমি দেখেছি এবং যে বিষয়ে আমি আমার দুই সম্মানিত শায়খ—আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিয়ি আল-ইয়ামানি এবং আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-রাইমি আল-ইয়ামানি, যিনি (আল-ইমাম) নামে পরিচিত—তাদের থেকে ইজাজত লাভ করেছি।
ফলে এক দিক থেকে সঠিক সালাফি আসারি তাফসির ও তাবিল অধ্যয়নের জন্য এবং অন্য দিক থেকে এর অগণিত সনদসমূহ পর্যালোচনার জন্য আমি ইমাম তাবারির 'জামেউল বায়ান ফি তাবিলিল কুরআন' নামক কিতাবটি নির্বাচন করেছি। এই 'তাফসির' গ্রন্থের সনদসমূহের সংখ্যা প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবের মোট আছার বা বর্ণনার সংখ্যার কাছাকাছি। যেখানে 'তাফসির' গ্রন্থে বর্ণিত আছার ও সংবাদের সংখ্যা (৩৩৭১৩) এর বেশি, সেখানে ছয়টি কিতাবের মোট আছার ও সংবাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (৩৩৯৮২)। ফলে, এই বিশাল পরিমাণের আছার ও সংবাদ পর্যালোচনা করা তৃতীয়ত তাফসির, তাবিল ও বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণিত আছারসমূহের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার প্রকৃত অবস্থা জানার পথ সুগম করে; এবং চতুর্থত এটি অনেক শরয়ি ইলমকে অন্তর্ভুক্ত করার কারণেও (এটি নির্বাচন করেছি)।
যা আমার সংকল্পকে শক্তিশালী করেছে, এই মহান কিতাবের প্রতি আমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এর রাবি বা বর্ণনাকারীদের নিয়ে গবেষণায় আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে, তা হলো একজন সম্মানিত ভাইয়ের কিছু উত্তম কথা যিনি এই কিতাব নিয়ে গবেষণায় আমার অগ্রজ; তিনি হলেন শায়খ আলবি আস-সাক্কাফ—আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন। তিনি তার সূচিপত্রের ভূমিকায়—যার নাম তিনি দিয়েছেন: 'মুফাসসিরদের ইমাম ইবনে জারির তাবারির তাফসিরের বর্ণনাকারীদের সূচিপত্র যাদের জীবনী আহমাদ ও মাহমুদ শাকির লিখেছেন' (পৃষ্ঠা ৭)—বলেছেন: এই কাজের বরকতসমূহের একটি হলো, আমি যখন এটি প্রস্তুত করছিলাম তখন তাফসিরের অনেক পুনরাবৃত্ত সনদের সম্মুখীন হয়েছিলাম, যেগুলোকে শায়খ মাহমুদ শাকির 'অধিক আবর্তিত' বলে অভিহিত করতেন। তাই আমি সে সময় সেগুলো পর্যবেক্ষণ করি, যাতে আমার পক্ষে সেগুলো লিপিবদ্ধ করা এবং পরবর্তীতে বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে জারাহ ও তাদিলের ইমামগণের বক্তব্য উল্লেখপূর্বক হাদিসতত্ত্বের আলোকে তা পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়, যেমনটি আমি করেছি...
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
برصد الأسانيد التي حكم عليها الشيخ أحمد شاكر، ورتبتها ترتيبا أبجديا حسب شيوخ الطبري ثم هممت أن أضع معجما لشيوخ الطبري مع ترجمتهم ترجمة وافية إلا أنني أعرضت عن هذا الآن، لأنه لا يحسن الاكتفاء بشيوخ الطبري الذين أخرج لهم في التفسير وإغفال شيوخه في كتابه العظيم، " تاريخ الرسل والملوك "، وكتابه الآخر " تهذيب الآثار " الذي طبع منه حتى الآن خمسة أجزاء، لذلك أعرضت عنه الآن لعل الله يقيض له من هو أفضل مني، انتهى كلامه بحروفه.
وأنا لا أزعم أنني أفضل منه، بل ولا أساويه، ولا أدانيه، ولا أقاربه، فقد شد قوله - حفظه الله - من عزيمتي على العمل، والترجمة لا لشيوخ الطبري فحسب بل ولجميع رواته الذين أخرج لهم، وفي سائر كتبه المطبوعة، وها هي أولى هذه الثمار بين يديك، والتي أرجو الله تعالى أن يشرك أخانا علوي السقاف في أجر ما بذلناه من جهد، وأن لا يحرمه أجر نيته، " ونية المرء خير من عمله ".
وقد وضعت له دراسة مفصلة، بينت فيها منهج الطبري التفصيلي في هذا " التفسير " وقد نشرتها - مشكورة - مجلة " الأصالة " السلفية في عددها (الرابع والعشرين) في شهر (شوال) سنة (عشرين وأربعمائة وألف) هـ.
فأعددت عدتي، وقدمت بين يدي عملي استخارتي، وجمعت من كل أصناف كتب الرجال والجرح والتعديل؛ أفرادا مشهورة، وبحثت عن كتاب يحوي من أسماء الرجال الرواة آلافا، ونظرت في " تهذيب الكمال في أسماء الرجال " الذي ترجم لرجال الكتب الستة الأمهات في السنة، فوجدت الحافظ المزي - رحمه الله تعالى - قد أوعب واستوعب، ولم يصنف رحمه الله فيما وصلنا - على سعة علمه واطلاعه، وغزارة حفظه وإتقانه، إلا الكتاب الموسوعة المذكور والكتاب
শায়খ আহমাদ শাকির যে সকল সনদের ওপর হুকুম লাগিয়েছেন আমি সেগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তাবারির শিক্ষকদের নামানুসারে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি। এরপর আমি তাবারির শিক্ষকদের একটি অভিধান প্রণয়নের ইচ্ছা করেছিলাম যেখানে তাঁদের পর্যাপ্ত জীবনী থাকবে, তবে এখন আমি তা থেকে নিবৃত্ত হয়েছি। কারণ, তাবারির তাফসিরে বর্ণিত শিক্ষকদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং তাঁর মহান গ্রন্থ 'তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক' ও তাঁর অপর গ্রন্থ 'তহজিবুল আসার'—যার এ পর্যন্ত পাঁচটি খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে—সেগুলোর শিক্ষকদের উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। এই কারণে আমি এখন এটি বর্জন করেছি, সম্ভবত আল্লাহ আমার চেয়ে উত্তম কাউকে এর জন্য নিয়োজিত করবেন। তাঁর বক্তব্য হুবহু শেষ হলো।
আমি দাবি করি না যে আমি তাঁর চেয়ে উত্তম, বরং আমি তাঁর সমানও নই, তাঁর নিকটবর্তী বা কাছাকাছিও নই। তাঁর (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) বক্তব্য এই কাজের প্রতি আমার সংকল্পকে সুদৃঢ় করেছে। জীবনী কেবল তাবারির শিক্ষকদের জন্যই নয়, বরং তাঁর সকল বর্ণনাকারীর জন্য যাদের বর্ণনা তিনি তাঁর সকল মুদ্রিত গ্রন্থে সংকলন করেছেন। এই তো সেই ফলসমূহের প্রথমটি আপনার সামনে, যার মাধ্যমে আমি মহান আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি আমাদের ভাই আলউয়ি আস-সাক্কাফকে আমাদের এই শ্রমের সওয়াবে শরিক করবেন এবং তাঁকে তাঁর নিয়তের সওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেন না; কেননা "মানুষের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম।"
আমি এর জন্য একটি বিস্তারিত গবেষণা প্রস্তুত করেছি, যাতে আমি এই 'তাফসির'-এ তাবারির বিস্তারিত মানহাজ (পদ্ধতি) বর্ণনা করেছি। সালাফি সাময়িকী 'আল-আসালাহ' তাদের চব্বিশতম সংখ্যায় শাওয়াল মাসে চৌদ্দশ বিশ হিজরি সনে কৃতজ্ঞতার সাথে এটি প্রকাশ করেছে।
অতঃপর আমি আমার প্রস্তুতি সম্পন্ন করলাম, আমার কাজের পূর্বে ইস্তিখারা করলাম এবং রিজাল (বর্ণনাকারী) ও জারহ-ওয়াত তাদিল (সমালোচনা ও গুণাবলি) বিষয়ক সকল প্রকার কিতাব সংগ্রহ করলাম; যার মধ্যে অনেক সুপরিচিত স্বতন্ত্র গ্রন্থও ছিল। আমি এমন একটি কিতাব খুঁজছিলাম যাতে হাজার হাজার বর্ণনাকারীর নাম অন্তর্ভুক্ত আছে। আমি 'তহজিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল' গ্রন্থটি দেখলাম, যা সুন্নাহর ছয়টি মূল গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের জীবনী তুলে ধরেছে। আমি দেখলাম হাফিজ আল-মিজ্জি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর ইলমের গভীরতা, পাণ্ডিত্য, মুখস্থ শক্তির প্রাচুর্য এবং নিখুঁত কর্মতৎপরতা থাকা সত্ত্বেও, আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী—তিনি এই বিশ্বকোষীয় কিতাবটি এবং অন্য একটি কিতাব ব্যতীত আর কিছু রচনা করেননি—
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
العظيم الآخر " تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف " والذي لا يستغني عنهما عالم بحديث النبي صلى الله عليه وسلم فضلا عن طلاب العلم المبتدئين والمتقدمين على حد سواء.
وكان الأول في الجرح والتعديل، وهو الوسيلة، والثاني في أطراف الأحاديث، وهو المقصد من جهة الأول، والوسيلة من جهة أصله وهي الكتب الستة.
وقنت للنفس وللإخوة - الذين خوفوني من الانقطاع دون تحقيق المرام -:
إن كان الحافظ المزي، على سعة علمه واطلاعه لم يصنف إلا كتابين في حياته فحسبي أنا كتاب واحد!! والله المستعان، وبه الثقة، وعليه التكلان، وما كان لله يبقى ويصان، وما كان لغير الله، فللزوال والخسران، ونعوذ بالله من الخذلان.
ولأن كتب التفسير - وخاصة ما كان مبناها على السنة والأثر - وخاصة تفسر الطبري، جامع البيان في تأويل القرآن، لم تلق من الدارسين والمحققين، من اهتمام ودراسة، ما تستحقه، كما لقيته غيرها، من كتب الحديث والسنة، التي أشرت إلى بعضها آنفا حيث لم أجد من ترجم لرواة أسانيده - أعني " تفسير الطبري " - رغم كثرتهم وشهرتهم؛ ورغم كثرة الكتب، والنسخ، والأجزاء الحديثية، التي تضمنها الكتاب .. - نحو اثنين وثلاثين كتابًا وجزءًا حديثيًّا ورغم أن حاجة الباحثين وطلاب العلم للرجوع إلى كتب الإمام الطبري لا تقل عن حاجتهم إلى الرجوع إلى غيرها من كتب السنة والأثر؛ فالإمام الطبري ليس دون أولئك توحيدا وسنة، وليس دونهم تحصيلا وعلما، وليس دونهم تصنيفا وهمة؛ بل يكاد يكون في طليعتهم، وقلما تمض ساعة من نهار لا يرجع الباحث فيها إلى كتبه ينهل منها ويستزيد، وخاصة كتابي " التفسير " و" التاريخ، الذي كان الناس
অন্য মহান গ্রন্থ "তুহফাতুল আশরাফ বি-মা'রিফাতিল আতরাফ", যা ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের কোনো আলেম অভাবমুক্ত হতে পারেন না, একইভাবে ইলমের শিক্ষার্থী—চাই সে নবীন হোক কিংবা প্রবীণ—সবার জন্যই তা সমানভাবে অপরিহার্য।
প্রথমটি ছিল জারহ ও তা'দিল (সনদ পর্যালোচনা) বিষয়ে, যা একটি মাধ্যম; আর দ্বিতীয়টি ছিল হাদিসের আতরাফ (সূত্র-বিন্যাস) বিষয়ে, যা প্রথমটির প্রেক্ষিতে ছিল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য, আর তার মূল উৎস তথা কুতুবে সিত্তার সাপেক্ষে মাধ্যম।
আর আমি নিজের মনে এবং সেই সব ভাইদের প্রতি সান্ত্বনা দিয়েছিলাম—যারা লক্ষ্য অর্জনের পূর্বেই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়েছিলেন—:
হাফিজ আল-মিজ্জি তাঁর অগাধ ইলম ও পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও যদি তাঁর জীবনে কেবল দুটি কিতাবই রচনা করে থাকেন, তবে আমার জন্য একটি কিতাবই যথেষ্ট!! আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই, তাঁর ওপরই আস্থা, এবং তাঁর ওপরই ভরসা। যা কিছু আল্লাহর জন্য হয় তা অবশিষ্ট ও সংরক্ষিত থাকে, আর যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর জন্য হয় তা বিলীন ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা লাঞ্ছনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
কারণ তাফসিরের গ্রন্থসমূহ—বিশেষ করে যেগুলোর ভিত্তি সুন্নাহ ও আসারের ওপর—এবং বিশেষভাবে ইমাম তাবারির তাফসির 'জামিআল বায়ান ফি তাওয়িলিল কুরআন', গবেষক ও বিশ্লেষকদের কাছ থেকে সেই পরিমাণ মনোযোগ ও গুরুত্ব পায়নি যার সেটি হকদার ছিল, যেমনটি হাদিস ও সুন্নাহর অন্যান্য গ্রন্থগুলো পেয়েছে যার কয়েকটির কথা আমি ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি। আমি এর সনদের বর্ণনাকারীদের—অর্থাৎ "তাফসিরুত তাবারির" রাবিদের—জীবনচরিত রচয়িতা কাউকে খুঁজে পাইনি, যদিও তাঁরা সংখ্যায় অনেক এবং সুপরিচিত; এবং যদিও এই কিতাবটি অসংখ্য কিতাব, পাণ্ডুলিপি ও হাদিসের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সংকলন (জুয) ধারণ করে আছে—প্রায় বত্রিশটি কিতাব ও হাদিসের জুয। আর যদিও ইমাম তাবারির কিতাবগুলোর দিকে গবেষক ও ইলম অন্বেষণকারীদের প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সুন্নাহ ও আসারের অন্যান্য কিতাবগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; কারণ ইমাম তাবারি তাওহিদ ও সুন্নাহর অনুসরণে তাঁদের চেয়ে পিছিয়ে নেই, শিক্ষা ও অর্জনে তাঁদের চেয়ে কম নন, এবং গ্রন্থনা ও কর্মস্পৃহার দিক থেকেও তাঁদের নিচে নন; বরং তিনি তাঁদের অগ্রজ সারিতে রয়েছেন। দিনের এমন কোনো সময় খুব কমই অতিবাহিত হয় যখন একজন গবেষক তাঁর কিতাবগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করেন না, সেখান থেকে জ্ঞান আহরণ করেন না এবং জ্ঞান বৃদ্ধি করেন না, বিশেষ করে তাঁর দুটি গ্রন্থ "তাফসির" এবং "তারিখ", যা মানুষ...
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
ولا زالوا - عيالا عليهما في بابهما.
اللهم ما كان من الشيخين أحمد ومحمود شاكر - رحمهما الله تعالى - الذين ترجما لكثير من أولئك الرجال والشيوخ، في معرض تحقيقهما لمخطوطات الكتابين إلا أنها كانت تراجم مختصرة، مع إغفالهما للكثير من الرواة، أو الخلط بين بعضهم البعض، أو التوقف في بعضهم الآخر، أو لعدم إكمال تحقيق الكتاب، وبالتالي عدم إكمال تحقيق الأسانيد، وبيان التراجم، والتي تزيد بعددها قليلا عن نصف ما في الكتاب، وذلك أثناء تحقيقهما لمخطوطة الكتاب، وذلك في حاشية التحقيق المذكور حيث إن تحقيق (الشيخين شاكر) - رحمهما الله - وصل إلى نهاية الآية (السابعة والعشرين)، من (سورة إبراهيم) حيث بلغ عد الآثار في نسختهما المحققة (20786) من أصل، (38397) هو عدد الآثار التي في طبعة دار الكتب العلمية.
ثم قام الشيخ محمد صبحي بن حسن حلاق - حفظه الله - بجمع هذه التراجم في كتاب من مجلدة واحدة، أسماه " رجال تفسير الطبري، جرحا وتعديلا من تحقيق
… ".
وقد سبقه الشيخ علوي السقاف - حفظه الله - فسرد أسماء الذين ترجم لهم (الشيخين شاكر)، رحمهما الله - في فهارس تسهل على الباحث معرفة أسماء المترجم لهم، فجزاهما الله خيرا، وأجزل لهما ولوالديهما أحسن الثواب.
ولما عزمت على الترجمة لرواة أسانيد هذا الكتاب العمدة في بابه واستخرت ربي سبحانه وتعالى في ذلك وسألته سبحانه أن ييسر لي ذلك، ويهيئ لي أسبابه وبحثت في بطون الكتب، لعلي أجد من سبقني إلى ذلك، فيوفر علي العناء
এবং তাঁরা এই ক্ষেত্রে তাঁদের দুজনের ওপর নির্ভরশীল হয়েই আছেন।
তবে দুই শায়খ আহমদ ও মাহমুদ শাকির -আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি দয়া করুন- যারা গ্রন্থদ্বয়ের পাণ্ডুলিপি তাহকিক করার সময় অনেক রাবী ও শায়খদের জীবনী উল্লেখ করেছেন; তবে তা ছিল সংক্ষিপ্ত জীবনী। এর পাশাপাশি তাঁরা অনেক বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়েছেন, অথবা কয়েকজনকে একে অপরের সাথে মিলিয়ে ফেলেছেন, অথবা কারও ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি, অথবা গ্রন্থের তাহকিক অসমাপ্ত থাকার কারণে সনদসমূহের তাহকিক এবং বর্ণনাকারীদের পরিচয় বর্ণনাও অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। যার সংখ্যা গ্রন্থের মোট বর্ণনাকারীর অর্ধেকের চেয়ে সামান্য বেশি। এটি ছিল তাঁদের গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি তাহকিক করার সময় উক্ত তাহকিকের পাদটীকায়। যেহেতু শায়খদ্বয় শাকিরের -আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন- তাহকিক সূরা ইবরাহিমের সাতাশ নম্বর আয়াতের শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তাঁদের তাহকিককৃত কপিতে আছার বা বর্ণনার সংখ্যা ছিল ২০৭৮৬টি, যেখানে দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণের মোট আছার সংখ্যা ৩৮৩৯৭টি।
এরপর শায়খ মুহাম্মদ সুবহি বিন হাসান হাল্লাক -আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন- এই জীবনীগুলোকে এক খণ্ডের একটি গ্রন্থে সংকলন করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন "রিজালু তাফসিরিত তাবারী, জারহু ওয়া তাদীল মিন তাহকিক
…"।
আর তাঁর পূর্বে শায়খ আলাউয়ি আস-সাক্কাফ -আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন- ঐসব ব্যক্তিদের নামের তালিকা তৈরি করেছিলেন যাদের জীবনী দুই শায়খ শাকির -আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন- উল্লেখ করেছেন। তিনি এটি নির্ঘণ্ট আকারে সাজিয়েছেন যা গবেষকদের জন্য জীবনীকৃত ব্যক্তিদের নাম জানা সহজ করে দেয়। আল্লাহ তাঁদের উভয়কে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের ও তাঁদের পিতামাতাকে সর্বোত্তম সওয়াব দান করুন।
অতঃপর যখন আমি এই শাস্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত এই গ্রন্থের সনদের বর্ণনাকারীদের জীবনী রচনার সংকল্প করলাম এবং এ বিষয়ে আমার রব সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে ইস্তিখারা করলাম ও তাঁর নিকট প্রার্থনা করলাম যাতে তিনি আমার জন্য এটি সহজ করে দেন এবং এর উপকরণসমূহ তৈরি করে দেন; তখন আমি বিভিন্ন কিতাব অনুসন্ধান করলাম এই আশায় যে, হয়তো আমার পূর্বে কেউ এই কাজটি করে গেছেন, যা আমার কষ্ট লাঘব করবে।
(খণ্ড: ১)
মু'জামু শুয়ুখিত তাবারী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
لأنصرف إلى غيره من كتب العلم النافعة، واستشرت وسألت إخواني من طلاب العلم وأهله، الخبراء في السنة وكتبها ومنهم: الأخوة الأفاضل (أبو الحارث، علي بن حسن بن علي بن عبد الحميد الحلبي)، و (أبو عبيدة، مشهور بن حسن آل سلمان)، والذي زودني بصورة لأقدم مخطوطة لتفسير الطبري، والتي ستجد وصفها بعد سطور، وببعض كتب الطبري، وغيره، مما انتفعت بها كثيرا، فجزاه الله - ووالديه- خير الجزاء، و (أبو الحسن، مصطفى بن إسماعيل السليماني المصري نزيل مأرب)، و (أبو أسامة، سليم بن عيد الهلالي)، والأستاذ الدكتور (أبو فيصل، باسم بن فيصل الجوابرة) أستاذ الحديث وعلومه في كلية الشريعة في الجامعة الأردنية، والأخ الدكتور (أبو الحارث، محمد بن عبد الرزاق الرعود)، أستاذ الحديث وعلومه في كلية الدعوة وأصول الدين في جامعة البلقاء التطبيقية) والذي أرشدني إلى " كتاب الدعاء " - وزودني به - لأبي القاسم الطبراني، والذي حوى تراجم الكثيرين، من شيوخ ورجال الطبري، وقد كان له كثير فائدة لاشتراك الطبري، والطبراني في كثير من شيوخهما ورجالهما، وخاصة الشاميين منهم، والأخ الأستاذ (أبو حمزة، عبد اللطيف أبو ربيع الكوملي).
سألتهم جميعا: إن كانوا يعلمون عن كتاب مطبوع، أو مخطوط، يترجم لرواة أسانيد " الطبري " غير ما ذكرت آنفا، فلم أجد عند أحد منهم جوابا بالإيجاب لذلك، وقد أشاروا علي بإشارات ماتعة نافعة، وعرفت عليهم بعض ما ترجمت بعد ذلك، وبينت لهم منهجي في ذلك، فكان لتوجيههم ونصائحهم أثرا طيبا أشكرهم عليه جزيل الشكر؛ فجزاهم الله على كل ذلك خير الجزاء، وما تراه بين يديك فهو بعضا من توجيهاتهم.
যেন আমি অন্যান্য উপকারী ইলমি কিতাবের দিকে মনোনিবেশ করতে পারি। আমি ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থী এবং ইলমের অধিকারী ও সুন্নাহ এবং সংশ্লিষ্ট কিতাবাদি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ভাইদের সাথে পরামর্শ করেছি এবং তাদের জিজ্ঞাসা করেছি। তাদের মধ্যে রয়েছেন: সম্মানিত ভাইগণ (আবু আল-হারিস, আলি বিন হাসান বিন আলি বিন আব্দুল হামিদ আল-হালাবি), এবং (আবু উবাইদাহ, মাশহুর বিন হাসান আল সালমান), যিনি আমাকে তাবারির তাফসিরের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপির একটি ছবি সরবরাহ করেছেন—যার বিবরণ কয়েক লাইন পরেই পাবেন—এবং তাবারির আরও কিছু কিতাব ও অন্যান্য কিতাবাদি দিয়ে সাহায্য করেছেন যা থেকে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আরও আছেন (আবু আল-হাসান, মুস্তফা বিন ইসমাইল আল-সুলাইমানি আল-মিসরি, যিনি মারিবে বসবাসরত), (আবু উসামাহ, সালিম বিন ঈদ আল-হিলালি), এবং প্রফেসর ডক্টর (আবু ফয়সাল, বাসিম বিন ফয়সাল আল-জাওয়াবিরাহ), যিনি জর্ডান ইউনিভার্সিটির শরীয়াহ অনুষদের হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের অধ্যাপক। এবং ভাই ডক্টর (আবু আল-হারিস, মুহাম্মদ বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-রাউদ), যিনি বালকা অ্যাপ্লাইড ইউনিভার্সিটির দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদের হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের অধ্যাপক, যিনি আমাকে আবু আল-কাসিম আল-তাবারানির "কিতাবুদ দুআ" এর সন্ধান দিয়েছেন এবং সেটি আমাকে সরবরাহ করেছেন। এই কিতাবটি ইমাম তাবারির অনেক শায়খ ও বর্ণনাকারীদের জীবনী ধারণ করেছে এবং এটি অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হয়েছে, কারণ ইমাম তাবারী ও ইমাম তাবারানি তাদের অনেক শায়খ ও বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে অভিন্ন, বিশেষ করে সিরীয় (শামি) বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে। এবং ভাই উস্তাদ (আবু হামজা, আব্দুল লতিফ আবু রবি আল-কাওমালি)।
আমি তাদের সকলকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম: আমি ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত 'তাবারির' সনদসমূহের বর্ণনাকারীদের জীবনী সম্পর্কে কোনো মুদ্রিত বা পাণ্ডুলিপি আকারে বইয়ের কথা তাদের জানা আছে কি না। তাদের কারো কাছেই আমি এর ইতিবাচক কোনো উত্তর পাইনি। তবে তারা আমাকে অত্যন্ত চমৎকার ও উপকারী কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আমি যে জীবনীগুলো সংকলন করেছি তার কিছু অংশ আমি তাদের দেখিয়েছি এবং সে বিষয়ে আমার কর্মপদ্ধতি তাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছি। তাদের দিকনির্দেশনা ও নসিহতসমূহের এক সুন্দর প্রভাব ছিল, যার জন্য আমি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহ তাদের এসবের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আপনার সামনে যা রয়েছে, তা মূলত তাদেরই কিছু দিকনির্দেশনার ফসল।