(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: -)
إعجاز القرآن في (ويعلم ما في الأرحام) (محمود محمد غريب)
القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: إعجاز القرآن في (وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ)
المؤلف: محمود محمد غريب
أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين
عدد الصفحات: 30
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 ربيع الأول 1432
"(এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে)" আয়াতের মধ্যে আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব (মাহমুদ মুহাম্মদ গারীব)
বিভাগ: কুরআন সম্পর্কিত জ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি
গ্রন্থ: "(এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে)" আয়াতের মধ্যে আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব
লেখক: মাহমুদ মুহাম্মদ গারীব
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইব্রাহিম হাসানাঈন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩২ হিজরী
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ[بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ]ـالكتاب: إعجاز القرآن في (وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ)المؤلف: محمود محمد غريب: من علماء الأزهر الشريف والموجه الديني لشباب جامعة القاهرةأعده للشاملة/ أبو إبراهيم حسانين[الكتاب مرقم آليا]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।গ্রন্থ: ‘আর তিনি জানেন যা জরায়ুতে রয়েছে’-এর প্রেক্ষিতে কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز)লেখক: মাহমুদ মুহাম্মদ গরিব: আল-আজহার আল-শরীফের আলেম (عالم) এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের ধর্মীয় নির্দেশকশামিলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইবরাহিম হাসনাইন[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত]
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২)
(وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ)يعلم رحلة النطفة "الأمشاج " وما يلزمها من غذاء حتى تصل إلى الرحم فتتعلق به، وهيرحلة تستعرق حوالي ثمانية أيام. من هنا خلق الله البويضة وجعلها أكبر خلية في جسمالإنسان إذ يبغ قطرها خمسة مليمترات، وليس ذلك عبثا، ولكن لأنها تحتوي علىالغذاء اللازم للنطفة الأمشاج حتى يحين موعد تعلقها بالرحم، والتصاقها به، وتغذيتهامنه، غذاؤها لمدّة أسبوع الزفاف موجود داخلها.فالبويضة وهي جزء من المرأة تبدأ بعطاء الذكر ثم يدفع هو - بعد ذلك كلحياته للمرأة. فهي محمولة عليه في كل مراحل حياتها. والبادئ أكرم.(وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ)مرّة ثانية مع الآية الكريمة. تمّ تخصيب البويضة بصاحب الحظ السعيد وشاءالله أن تكون أنت الفائز من بين الملايين من الحيوانات المنوية.فإذا نشط الأب مرّة ثانية، وقذف بالملايين من الحيوانات المنوية الباحثة عنالبويضة وربما فيها الأقوى منك ولكن لا يقبل الله تعدد الأزواج لما يحدثه من فوضىالنسب. لقد تم تحويلها إلى نطفة مخصبة "أمشاج " من أجل ذلك نراه - سبحانه - يصنعللبويضة الأمشاج جدارًا سميكا لا يمكن لأيّ حيوان منوي آخر اختراق هذا الجدار.يجعلها - سبحانه - تخلع التاج المشعّ الذي كان يغري الحيوان المنوي قبل الإخصاب.كانت تتوج بالتاج المشع قبل الإخصاب. فلمن تلبسه بعد الإخصاب، لمن تتزين وقدتجاوزت مرحلة الإغراء؟ وما دام زوج واحد سيؤدي المهمة فلماذا تعدد الأزواج،(وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ)يراقب عملية التكاثر للخلايا، يراقب سرعة التكاثر للجنين حتى يتم تكوين ملايينالخلايا في أشهر الحمل المحددة.
(এবং জরায়ুতে যা আছে, তিনি তা জানেন)তিনি 'মিশ্র শুক্রবিন্দু' (نطفة أمشاج)-এর পথচলা এবং জরায়ুতে পৌঁছে সেখানে সংযুক্ত হওয়া পর্যন্ত এর প্রয়োজনীয় পুষ্টি সম্পর্কে জানেন; আর এই পথচলা সম্পন্ন হতে প্রায় আট দিন সময় লাগে। এ কারণেই মহান আল্লাহ ডিম্বাণু সৃষ্টি করেছেন এবং একে মানবদেহের বৃহত্তম কোষ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যার ব্যাস প্রায় পাঁচ মিলিমিটার। এটি নিরর্থক নয়; বরং এতে সেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংরক্ষিত থাকে যা মিশ্র শুক্রবিন্দুর (نطفة أمشاج) জরায়ুতে সংলগ্ন হওয়া, আটকে যাওয়া এবং সেখান থেকে পুষ্টি গ্রহণ করার পূর্ব পর্যন্ত প্রয়োজন হয়। বাসরকালীন এক সপ্তাহের খাবার এর ভেতরেই মজুদ থাকে।ডিম্বাণু নারীর একটি অংশ হওয়া সত্ত্বেও পুরুষের দান গ্রহণের মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়; এরপর পুরুষ তার সারাজীবন নারীর জন্য ব্যয় করে। নারী তার জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে পুরুষের ওপর নির্ভরশীল। আর যিনি কোনো কাজের সূচনা করেন, তিনিই অধিক মর্যাদাবান।(এবং জরায়ুতে যা আছে, তিনি তা জানেন)এই মহিমান্বিত আয়াতের প্রেক্ষাপটে আবারও বলা যায়—সেই ভাগ্যবান শুক্রাণু দ্বারা ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আপনিই লক্ষ লক্ষ শুক্রাণুর মধ্য থেকে বিজয়ী হয়েছেন।যদি পিতা দ্বিতীয়বার সক্রিয় হন এবং ডিম্বাণুর সন্ধানে লক্ষ লক্ষ শুক্রাণু নিক্ষেপ করেন, যার মধ্যে হয়তো আপনার চেয়েও শক্তিশালী শুক্রাণু থাকতে পারে; তবুও মহান আল্লাহ একাধিক শুক্রাণুর নিষিক্তকরণ বা বহুগামিতা গ্রহণ করেন না, যাতে বংশপরিচয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। একে নিষিক্ত শুক্রবিন্দু বা 'মিশ্র শুক্রবিন্দু' (نطفة أمشاج)-তে রূপান্তরিত করা হয়েছে। একারণেই আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মিশ্র ডিম্বাণুর জন্য একটি পুরু প্রাচীর তৈরি করে দেন, যা অন্য কোনো শুক্রাণুর পক্ষে ভেদ করা সম্ভব নয়।আল্লাহ তাআলা সেই উজ্জ্বল মুকুটটি খসিয়ে দেন যা নিষিক্ত হওয়ার আগে শুক্রাণুকে প্রলুব্ধ করত।নিষিক্ত হওয়ার আগে এটি একটি উজ্জ্বল মুকুটে ভূষিত থাকে। কিন্তু নিষিক্ত হওয়ার পর এটি কার জন্য সেই মুকুট পরিধান করবে? প্রলুব্ধ করার পর্যায় পেরিয়ে যাওয়ার পর এটি কার জন্যই বা নিজেকে সজ্জিত করবে? যেহেতু একজন মাত্র জীবনসঙ্গীই (শুক্রাণু) এই দায়িত্ব পালন করবে, তাই কেনই বা একাধিকের প্রয়োজন হবে?(এবং জরায়ুতে যা আছে, তিনি তা জানেন)তিনি কোষের বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভ্রূণের কোষ বিভাজনের গতি লক্ষ্য করেন, যতক্ষণ না গর্ভাবস্থার নির্ধারিত মাসগুলোতে লক্ষ লক্ষ কোষ গঠিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ৩)
وهي تتكاثر بنظام 2 - 4 - 16 - 256) 16 في 16) - 65536. وهكذا حتى تتكاثرملايين الخلايا في مدّة الحمل المحدودة.فإذا تمت مدة الحمل أعاد رب العالمين معدل السرعة بما يتفق مع معدل النماءخارج الرحم (لَا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنْسَى) - سبحانه - لو نسي في جنين واحد أن يغير سرعة التكاثر لخرج الجنين بنفس معدل السرعة الذي كان عليه في الرحم فيصبح حجمهوهو في الأربعين يساوي حجم الكرة الأرضية كلها.من هنا كان - سبحانه (لَا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنْسَى) (إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ (49) سورة القمر.(وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ) علم متابعة لفعل ما يجب فعله حتى ينشأ الجنين خلقا آخر.(وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ)سبق أن بينت حفظه - سبحانه - للنطفة منذ خرحت من الخصية ومرت بطريق طويل ملوّث ببقايا أحماض البول فخلق - سبحانه - بعض السائل القلوي ليتعادل مع الأحماضالمتبقية من البول فيصل الحيوان المنوي إلى الإخصاب ويكوّن النطفة الأمشاج في طريق آمن متعادل من القلوي والحمضي. ثم تكلم القرآن عن النطفة الأمشاج، ثم عن تعلقها في مكان محدّد في الرحم " العلقة"، ثم تكلم عن المضغة.وهنا قسم المضغة إلى قسمين:…(مضغة مخلَّقَة - ومضغة غير مخلقَة)فماذا يعني القرآن بالمخلَّقَة وغير المخلَّقَة،فالله - سبحانه - يَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ من مضغة مخلَّقَة تسير في مسيرةالتشكل والتخلق، لتصير عينا تتكون في ظلمات ثلاث لترى في النور، وتصير أُذُناً تتخلق في صمت الرحم لتسمع إذا خرجت من الرحم. وتصير معدة تهضم اللحم ولاتهضم نفسها!!
এবং এগুলো ২ - ৪ - ১৬ - ২৫৬ (১৬ গুণ ১৬) - ৬৫৫৩৬ এর নিয়মে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবে বৃদ্ধি পেতে পেতেগর্ভাবস্থার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ লক্ষ কোষে পরিণত হয়।অতঃপর যখন গর্ভাবস্থার সময়কাল পূর্ণ হয়, তখন রাব্বুল আলামীন বৃদ্ধির হারকে গর্ভাশয়ের বাইরের বিকাশের হারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য পুনরায় কমিয়ে দেন। (আমার প্রতিপালক পথভ্রষ্ট হন না এবং বিস্মৃতও হন না) - তিনি পবিত্র ও মহান - যদি তিনি একটি মাত্র ভ্রূণের ক্ষেত্রেও কোষ বৃদ্ধির এই গতি পরিবর্তন করতে ভুলে যেতেন, তবে ভ্রূণটি গর্ভাশয়ে থাকাকালীন গতির হারেই বৃদ্ধি পেতে থাকত, ফলে চল্লিশ বছর বয়সে তার আকারপুরো পৃথিবীর আকারের সমান হয়ে যেত।এ কারণেই তিনি পবিত্র ও মহান - (আমার প্রতিপালক পথভ্রষ্ট হন না এবং বিস্মৃতও হন না) - (নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেকটি বস্তু সৃষ্টি করেছি একটি নির্দিষ্ট পরিমাপে) [সূরা আল-কামার: ৪৯]।(এবং তিনি জানেন যা জরায়ুসমূহে রয়েছে) অর্থাৎ এটি এমন এক জ্ঞান যা ভ্রূণটি অন্য এক সৃষ্টি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তদারকি করে।(এবং তিনি জানেন যা জরায়ুসমূহে রয়েছে)ইতিপূর্বে আমি বর্ণনা করেছি যে, শুক্রাণু অণ্ডকোষ থেকে বের হওয়ার পর থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কীভাবে সেটিকে রক্ষা করেন। শুক্রাণুটি যখন মূত্রের অবশিষ্ট এসিড দ্বারা দূষিত এক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে, তখন তিনি - পবিত্র ও মহান - কিছু ক্ষারীয় তরল সৃষ্টি করেন যা মূত্রের অবশিষ্ট এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে ভারসাম্য তৈরি করে। ফলে শুক্রাণুটি নিষিক্তকরণের স্তরে পৌঁছায় এবং ক্ষার ও এসিডের একটি নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ পথে 'মিশ্র শুক্রবিন্দু' গঠন করে। অতঃপর কুরআন মিশ্র শুক্রবিন্দু সম্পর্কে আলোচনা করেছে, তারপর জরায়ুর একটি নির্দিষ্ট স্থানে তার আটকে থাকা বা 'রক্তপিণ্ড' সম্পর্কে আলোচনা করেছে এবং এরপর 'মাংসপিণ্ড' সম্পর্কে আলোচনা করেছে।আর এখানে মাংসপিণ্ডকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে:…(গঠনপ্রাপ্ত মাংসপিণ্ড - এবং গঠনহীন মাংসপিণ্ড)গঠনপ্রাপ্ত ও গঠনহীন বলতে কুরআন আসলে কী বুঝিয়েছে?আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জরায়ুর ভেতরের সেই গঠনপ্রাপ্ত মাংসপিণ্ড সম্পর্কে সম্যক অবগত, যা আকৃতি লাভ ও গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়; যেন তা তিনটি অন্ধকারের মধ্যে গঠিত হয়ে একটি চোখ হতে পারে যা আলোতে দেখতে পাবে, এবং যেন তা গর্ভাশয়ের নিস্তব্ধতার মাঝে গঠিত হয়ে একটি কান হতে পারে যা গর্ভ থেকে বের হওয়ার পর শুনতে পাবে। এবং যেন তা একটি পাকস্থলী হতে পারে যা গোশত হজম করবে কিন্তুনিজেকে নিজে হজম করে ফেলবে না!!
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ৪)
وتكون مضغة غير مخلَّقَة مع قدرتها على التخلق والتشكل فإنها لا تتخلق ولاتتشكل. تبقى في الجسم تمثل مخزون الاحتياط فإذا تآكلت خلية جسدية تقوم الخلايا(غير المخلَّقَة) بتعويض الجسد ما تآكل منه.وكذلك لحام الكسور من العظام، ونسيج الجروح، وكان القدامى من العلماءيفسرون المخلَّقَة بالتي تتشكل جنينا.وغير المخلَّقَة السقط - الذي لا يتم خلقه. ولكن هذا التفسير لا يتفق مع الآيةالكريمة التي مطلعها (يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِنُبَيِّنَ لَكُمْ)فالآية خطاب لكلِّ الناس.معلوم أن السقط لا يخاطب.ففهمنا أن المخلَّقَة في كل إنسان، وغير المخلَّقَة - أيضا في كلّ إنسان،والعجيب أن علماء الأجنة في الطبّ الحديث تكلموا عن الخلايا المخلَّقَة والخلايا غير المخلَّقَة. وأطلقواعلى الخلايا غير المخلَّقَة (الميزانيكمية).وللقارئ الكريم بعض ما قاله الدكتور محمد علي البار في كتابه المرجع الهام(خلق الإنسان بين الطب والقرآن صـ 208 - ).يبدوا من سياق الآية: (يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ) الآيةيبدوا أن المخلَّقَة وغير المخلَّقَةهي من صفة المضغة. وقد ذكر ذكر كثير من أهل التفسير وقال بعضهم، أنالمخلَّقَة هى المصورة، وغير المخلَّقَة هي غير مصورة .. الآية، وروي ذلك عنالحسن البصري وعن ابن عباس رضى الله عنهما أنه قال مخلَّقَة أي تامة الخلق وغيرمخلَّقَة غير تامة الخلق، وروي عنه كذلك مصورة وغير مصورة .. قال بعضهم مخلَّقَةأي تامة الخلقة لا عيب فيها ولا نقص وغير مخلَّقَة بها عيب ونقص.وهذا كله لا يمنع في رأينا أن الكرة الجرثومية (البلاستولا) خلايا يخلق اللهمنها الجنين وخلايا كثيرة خارجية لا يخلق منها الجنين وإنما وظيفتها العلوق بجدار
এবং এটি একটি অবয়বহীন (غير مخلَّقَة) মাংসপিণ্ড (مضغة) হিসেবে থাকে, যদিও এটি গঠিত ও রূপ ধারণ করার ক্ষমতা রাখে, তবুও এটি গঠিত বা রূপ পরিগ্রহ করে না। এটি শরীরে একটি সংরক্ষিত ভাণ্ডার হিসেবে থেকে যায়; ফলে যখন কোনো শারীরিক কোষ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন এই অবয়বহীন(غير مخلَّقَة) কোষগুলো শরীরের সেই ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে।তেমনিভাবে হাড়ের ফাটল জোড়া লাগানো এবং ক্ষতস্থানের কোষকলা পুনর্গঠনেও এটি কাজ করে। পূর্ববর্তী ওলামায়ে কেরামগঠিত (مخلَّقَة) বলতে সেটিকে বোঝাতেন যা ভ্রূণে রূপান্তরিত হয়।আর অবয়বহীন (غير مخلَّقَة) বলতে মৃত ভ্রূণকে বোঝাতেন—যার গঠন সম্পন্ন হয়নি। কিন্তু এই ব্যাখ্যাটি সেই পবিত্র আয়াতের সাথেসংগতিপূর্ণ নয় যার শুরু হলো: (হে মানুষ, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দেহে থাকো, তবে জেনে রেখো, আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণগঠিত (مخلَّقَة) ও অসম্পূর্ণ বা অবয়বহীন (غير مخلَّقَة) মাংসপিণ্ড থেকে, যাতে আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট বর্ণনা করি)সুতরাং এই আয়াতটি সকল মানুষের প্রতি সম্বোধন।এটি সবার জানা যে, মৃত ভ্রূণকে সম্বোধন করা হয় না।অতএব আমরা বুঝতে পারি যে, গঠিত (مخلَّقَة) অংশটি প্রতিটি মানুষের মধ্যে বিদ্যমান, এবং অবয়বহীন (غير مخلَّقَة) অংশটিও প্রতিটি মানুষের মধ্যেই রয়েছে।বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভ্রূণতত্ত্ববিদগণ গঠিত (مخلَّقَة) কোষ এবং অবয়বহীন (غير مخلَّقَة) কোষ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তারাঅবয়বহীন (غير مخلَّقَة) কোষগুলোকে 'মেসেনকাইমাল' (الميزانيكمية) কোষ হিসেবে অভিহিত করেছেন।সম্মানিত পাঠকের জন্য ডাক্তার মুহাম্মদ আলী আল-বার তার গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থ(খালকুল ইনসান বাইনাত তিব্বি ওয়াল কুরআন, পৃষ্ঠা ২০৮-) এ যা বলেছেন তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:আয়াতের প্রেক্ষাপট থেকে প্রতীয়মান হয় যে: (হে মানুষ, যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দেহে থাকো, তবে জেনে রেখো, আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর মাংসপিণ্ড থেকে...) আয়াতাংশএখান থেকে বোঝা যায় যে, গঠিত (مخلَّقَة) এবং অবয়বহীন (غير مخلَّقَة)হলো মাংসপিণ্ডের (مضغة) গুণ বা বৈশিষ্ট্য। অনেক মুফাসসির (ব্যাখ্যাকারী) উল্লেখ করেছেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে,গঠিত (مخلَّقَة) হলো যা আকৃতিপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অবয়বহীন (غير مخلَّقَة) হলো যা আকৃতি পায়নি... আয়াতাংশ। এটিহাসান বসরী এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: গঠিত (مخلَّقَة) অর্থ হলো পূর্ণাঙ্গ সৃষ্টি এবংঅবয়বহীন (غير مخلَّقَة) অর্থ হলো অসম্পূর্ণ সৃষ্টি। তাঁর থেকে এটিও বর্ণিত (روي) হয়েছে যে—আকৃতিপ্রাপ্ত এবং আকৃতিহীন... কেউ কেউ বলেছেন, গঠিত (مخلَّقَة)মানে হলো এমন পূর্ণাঙ্গ সৃষ্টি যাতে কোনো ত্রুটি বা খুঁত নেই, আর অবয়বহীন (غير مخلَّقَة) মানে হলো যাতে ত্রুটি বা বিচ্যুতি রয়েছে।আমাদের মতে, এই সব ব্যাখ্যা এর পরিপন্থী নয় যে—ব্লাস্টুলা (البلاستولا) বা ভ্রূণকোষের পিণ্ড এমন সব কোষ যা থেকে আল্লাহভ্রূণ সৃষ্টি করেন, আর অনেকগুলো বাহ্যিক কোষ রয়েছে যা থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি হয় না, বরং সেগুলোর কাজ হলো (জরায়ুর) দেয়ালে আটকে থাকা।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ৫)
الرحم … وتغذية الجنين … وعلى هذا فإن تقسيم الكرة الجرثومية إلى خلايا خارجيةغير مخلَّقَة وخلايا داخلية مخلَّقَة أمر لا يناقض القول لأن السياق يدل على أن مخلَّقَةوغير مخلَّقَة هي من صفة المضغة .. لأن الآية تحتمل هذه الأوجه جميعا.وهناك وجه قوي أشار إليه الأستاذ الدكتور عزيز عبد العليم رئيس قسموأستاذ جراحة الأطفال في جامعة طنطا عندما تفضل بزيارتي ومناقشتي في هذه النقطةمن كتاب خلق الإنسان … وهو أن المخاطبين بهذه الآية هم عمومالناس جميعا، وأن مخلَّقَة وغير مخلَّقَة تتحدّث عن خلايا غير متميزةundifferentiated cellsفهي مخلَّقَة .. وعلى ذلك فإن مخلَّقَة وغير مخلَّقَة فهيصفة للمضغة وما بعد المضغة حتى نهاية العمر .. وهو وجه مستساغ ودليله من علمالطب قائم ولا يمنعه مفهوم الآية بل يؤيده.ويقول الدكتور ليزلي أرى في كتابة Developmental Anatomy،( الطبعة السابعة صفحة 26) وفى الجنين تتمايز الخلايا على حسب برامج زمنية مختلفة .. فمنها مايتمايز (يتخلق) بسرعة ويسير في طريقه حثيثاً إلى نهايته المحدّدة المرسومة له (المقدرة) .. ومنها ما يسير ببطء في هذا التمايز .. ومنها ما يتوقف بعد المسير ثم يواصل سير التمايز، وتبقى مجموعة من هذه الخلايا غير متميز إلى آخر العمر .. وتشكل بذلك الاحتياطي الذي يمكن أن يطلب في أي لحظة ..وفى كتاب مع الطب في القرآن للدكاترة عد الحميد دياب وأحمد قرقوز:فطور المضغة يمرّ إذًا بمرحلتين … المرحلة الأولى حيث لم يتشكل أي عضو أو أي جهاز وأسميناها مرحلة المضغة غير المخلَّقَة، والمرحلة الثانية حيث تم فيها تمييز الأجهزة المخلَّقَة وأسميناها مرحلة المضغة المخلَّقَة. وهكذا يتضح جليا إعجاز القرآن الكريم في وصفه لطور المضغة بقوله (ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ)وقد اعتبر المؤلفان أن مرحلة المضغة تبدأ من الأسبوع الثالث وتكون في هذهالمرحلة غير مميزة حتى نهاية الأسبوع الرابع … ويبدأ التمايز في بداية الأسبوعالخامس وهو ما يؤدي إلى ظهور الأعضاء والأجهزة … ولذلك يكون قبل مرحلة
জরায়ু … এবং ভ্রূণের পুষ্টি … এর ভিত্তিতে ভ্রূণ-গোলককে (Germinal vesicle) বাহ্যিক কোষসমূহযা অগঠিত (غير مخلَّقة) এবং অভ্যন্তরীণ কোষসমূহ যা সুগঠিত (مخلَّقة)—এভাবে বিভক্ত করা এমন কোনো বিষয় নয় যা পূর্বোক্ত বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক; কারণ প্রসঙ্গের ধারা নির্দেশ করছে যে, সুগঠিত (مخلَّقة)এবং অগঠিত (غير مخلَّقة) মূলত ভ্রূণপিণ্ডের (المضغة) বৈশিষ্ট্য। কারণ আয়াতের মধ্যে এই সকল ব্যাখ্যা বা দিকের সম্ভাবনা রয়েছে।এখানে একটি শক্তিশালী দিক বা ব্যাখ্যা রয়েছে যার দিকে নির্দেশ করেছেন প্রফেসর ডক্টর আজিজ আব্দুল আলীম—যিনি বিভাগীয় প্রধানএবং তানতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক; তিনি যখন অনুগ্রহপূর্বক আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং খলক আল-ইনসান কিতাবের এই বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করেন… আর তা হলো এই যে, এই আয়াতের সম্বোধন করা হয়েছে সাধারণসকল মানুষের প্রতি। আর সুগঠিত (مخلَّقة) ও অগঠিত (غير مخلَّقة) মূলত অবিভেদ্য কোষ (undifferentiated cells)সম্পর্কে আলোচনা করে; যা সুগঠিত (مخلَّقة)। সে অনুযায়ী সুগঠিত (مخلَّقة) ও অগঠিত (غير مخلَّقة) হলোভ্রূণপিণ্ড (المضغة) এবং ভ্রূণপিণ্ড-পরবর্তী জীবনের শেষ পর্যন্ত সকল পর্যায়ের একটি বৈশিষ্ট্য। এটি একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানেরআলোকে এর প্রমাণ বিদ্যমান, যা আয়াতের মূল ধারণার পরিপন্থী নয় বরং একে সমর্থন করে।ডক্টর লেসলি অ্যারে তার Developmental Anatomy কিতাবে বলেন,(সপ্তম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৬) ভ্রূণের ক্ষেত্রে কোষগুলো বিভিন্ন সময়সূচী অনুযায়ী ভিন্নতা লাভ (التمايز) করে। এদের মধ্যে কিছু কোষদ্রুত ভিন্নতা লাভ করে (সুগঠিত হয়) (يتخلق) এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তার জন্য নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী (المقدرة) লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়। আবার কিছু কোষ এই ভিন্নায়ন বা রূপান্তরের ক্ষেত্রে ধীরগতিতে চলে। আবার কিছু কোষ চলার পর থমকে যায় এবং পরবর্তীতে পুনরায় রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু করে। আর একদল কোষ জীবনের শেষ অবধি অবিভেদ্য থেকে যায়। এভাবে তারা একটি সংরক্ষিত ভাণ্ডার গঠন করে যা যেকোনো মুহূর্তে প্রয়োজন হতে পারে।ডক্টর আব্দুল হামিদ দিয়াব এবং ডক্টর আহমদ কারকুজ রচিত মা'আত তিব্বি ফিল কুরআন নামক কিতাবে বলা হয়েছে:ভ্রূণপিণ্ডের (المضغة) স্তরটি তাহলে দুটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় … প্রথম পর্যায়, যেখানে কোনো অঙ্গ বা কোনো তন্ত্র গঠিত হয়নি এবং একে আমরা অগঠিত ভ্রূণপিণ্ড (المضغة غير المخلَّقة) পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেছি। আর দ্বিতীয় পর্যায়, যেখানে সুগঠিত অঙ্গসমূহ পৃথকভাবে পরিলক্ষিত হয় এবং আমরা একে সুগঠিত ভ্রূণপিণ্ড (المضغة المخلَّقة) পর্যায় হিসেবে নামকরণ করেছি। এভাবেই পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যখন এটি ভ্রূণপিণ্ডের (المضغة) স্তরকে বর্ণনা করে এই বলে যে: (তারপর চর্বিত মাংসপিণ্ড থেকে, যা সুগঠিত এবং অগঠিত—ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ)লেখকদ্বয় বিবেচনা করেছেন যে, ভ্রূণপিণ্ডের (المضغة) পর্যায়টি তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় এবং এইপর্যায়ে তা চতুর্থ সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অস্পষ্ট বা অবিভেদ্য থাকে … এবং পঞ্চম সপ্তাহের শুরুতেভিন্নায়ন (التمايز) শুরু হয়, যার ফলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও বিভিন্ন তন্ত্র দৃশ্যমান হতে থাকে … একারণে এই পর্যায়ের পূর্বে
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ৬)
التمايز Differentaiation هو المضغة غير المخلَّقَة وما بعد التمايز يعتبر المضغة المخلَّقَة.وهو قريب من المفهوم السابق الذي نقلناه عن الدكتور عزيز عبد العليم والذي وسع مفهومه باعتبار التمايز يستمر منذ مرحلة المضعة إلى أن يولد ثم يستمر بعد ذلك أثتاء الحياة على درجات متفاوتة حتى نهاية العمر. وهذا يفسّر قوله تعالى (وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ) فهو يَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ من خلايا مخلَّقَة وغير مخلَّقَة.…* حديث الملك الذي يسأل عن النطفة مخلَّقَة أم غير مخلَّقَة.يبقى حديث الملك الذي يسأل عن النطفة مخلَّقَة أم غير مخلَّقَة.ويجيبه ربُّه.إذا أجابه أنها مخلَّقَة جعلها الملك نطفة (داخلية). ووظيفتها تكوين الجنين. والقسم الثاني من النطفة (غير مخلَّقَة) وهو القسم الخارجي. ووظيفتها قضم خلايا الرحم، والاتصالالمباشر ببركة الدماء الرحميّة لامتصاص الغذاء، وعلى فهم المضغة خارج وداخل فلا تعارض في هذا الفهم بين الحديث والحقائق العلمية. وهو من معجزات السنة.(الحديث أخرجه ابن أبي حاتم وابن رجب في جامع العلوم والحكم، وابن القيم في طريق الهجرتين).…(فِي ظُلُمَاتٍ ثَلَاثٍ)يمتد علمه - تعالى - لما في الأرحام عندما خلق الظلمات الثلاث التي تحيطبالجنين بعضها بجوار بعض. وأسباب الظلمات الثلاث داخل الرحم هي:* الغشاء الأمنيوني: وبه السائل الأمنيوني العجيب الذي سنعرف عنه القليل. وهو الغشاء الملاصق للجنين غير اللاصق به.*الغشاء المشيمى: وهو وسط بين الغشاء الأمنيوني والغشاء الساقط.* الغشاء الساقط: وهو مبطن للرحم. يزيد مع عدم الحمل حتى يصبح ثمانيةمليمترات آخر الدورة الشهرية وقبل الحيض. (خلق الإنسان صـ 418).
ডিফারেন্সিয়েশন (التمايز) হলো অগঠিত (غير مخلَّقة) মাংসপিণ্ড (مضغة), আর ডিফারেন্সিয়েশনের পরবর্তী পর্যায়কে গঠিত (مخلَّقة) মাংসপিণ্ড (مضغة) হিসেবে গণ্য করা হয়।এটি ডক্টর আজিজ আব্দুল আলিম কর্তৃক বর্ণিত পূর্ববর্তী ধারণার কাছাকাছি, যিনি এর ধারণাকে আরও বিস্তৃত করেছেন। তার মতে, মাংসপিণ্ড (مضغة) পর্যায় থেকে শুরু করে জন্ম পর্যন্ত এই ডিফারেন্সিয়েশন (التمايز) প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং পরবর্তীতে জীবনের শেষ অবধি বিভিন্ন স্তরে তা অব্যাহত থাকে। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যা প্রদান করে— "আর তিনি জানেন যা জরায়ুসমূহে রয়েছে।" অর্থাৎ জরায়ুর ভেতরে কী ধরনের গঠিত (مخلَّقة) এবং অগঠিত (غير مخلَّقة) কোষ রয়েছে, তা তিনি অবগত।…* সেই ফেরেশতার হাদিস, যিনি বীর্যবিন্দু (نطفة) গঠিত (مخلَّقة) নাকি অগঠিত (غير مخلَّقة) সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন.এখন সেই ফেরেশতার হাদিসটি অবশিষ্ট থাকে, যিনি বীর্যবিন্দু (نطفة) গঠিত (مخلَّقة) নাকি অগঠিত (غير مخلَّقة) সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।এবং তার প্রতিপালক তাকে উত্তর দেন।যখন তাকে উত্তর দেওয়া হয় যে এটি গঠিত (مخلَّقة), তখন ফেরেশতা একে অভ্যন্তরীণ বীর্যবিন্দু (نطفة) হিসেবে নির্ধারণ করেন। এর কাজ হলো ভ্রূণ গঠন করা। আর বীর্যবিন্দুর (نطفة) দ্বিতীয় অংশটি হলো অগঠিত (غير مخلَّقة), যা বাহ্যিক অংশ। এর কাজ হলো জরায়ুর কোষগুলোকে আঁকড়ে ধরা এবং পুষ্টি শোষণের জন্য জরায়ুর রক্তপ্রবাহের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা। মাংসপিণ্ডের (مضغة) বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ভাগের এই বুঝ অনুযায়ী, হাদিস ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। আর এটি সুন্নাহর (سنة) অন্যতম মুজিজা (معجزة)।(হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে রাজাব জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম গ্রন্থে, এবং ইবনে কাইয়্যিম তরিকুল হিজরাতাইন গ্রন্থে)।…(তিনটি অন্ধকারের মধ্যে)জরায়ুর ভেতরকার বিষয়াদি সম্পর্কে মহান আল্লাহর জ্ঞান তখন থেকেই পরিব্যাপ্ত, যখন তিনি ভ্রূণকে ঘিরে থাকা একে অপরের সংলগ্ন তিনটি অন্ধকার স্তর সৃষ্টি করেন। জরায়ুর ভেতরের এই তিনটি অন্ধকারের কারণসমূহ হলো:* অ্যামনিওটিক পর্দা: এতে রয়েছে বিস্ময়কর অ্যামনিওটিক তরল, যা সম্পর্কে আমরা সামান্যই জানতে পারব। এটি ভ্রূণের সংলগ্ন এমন এক পর্দা যা তার সাথে লেগে থাকে না।* কোরিওনিক পর্দা: এটি অ্যামনিওটিক পর্দা ও ডেসিডুয়া পর্দার মধ্যবর্তী স্তর।* ডেসিডুয়া পর্দা: এটি জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আবরণ। গর্ভাবস্থা না থাকলে মাসিক চক্রের শেষ দিকে এবং ঋতুস্রাবের আগে এটি আট মিলিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। (খালকুল ইনসান, পৃষ্ঠা ৪১৮)।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ৭)
والذي سأتحدث عنه - إن شاء الله - هو السائل الأمنيوني العجيب لأنني أعرف امرأة تسرب من رحمها السائل الأمنيوني قبل الولادة فسبب هذا اصطدام رأس الجنين بحوض المرأة عند عملية الطلق، فأنجبت طفلا لا يربطه بالحياة إلا التنفس - ولا يعي مما حوله أي شيء. أسأل الله أن يعين والده وأمَّه على أعباء هذا المخلوق - إنَّه خير مسؤول ومأمول. ولهم الأجر من الله.…(السائل الأمنيوني ودوره في خدمة الجنين)سبحان - الذي يَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ لأنه خلقها على علم. خلق السائلالأمنيوني وأودع فيه مواداً زلالية وسكريّة وأملاح غير عضويّة يمتصها الجنين بما يساعد على تعذيته ونموه. سبحان من يَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ.وخلق السائل الأمنيوني حماية للجنين من الصدمات التى تصيب الأم إصاباتمفاجئة، ويحمي الجنين من الحركات العنيفة والسقطات التي تتعرّض الأم لها.وخلق السائل الأمنيوني ليسهل حركة الجنين داخل الرحم، كأنه يسبح فينهر، والأمّ قد تعمل في خطوط الطيران مثلا فتنتقل من خط الاستواء إلى المحيط المتجمّد بفارق حراري كبير لا يتحمله الجنين. ولكن الله الذي يَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ خلق السائل الأمنيوني ليكيف الجوَّ للجنين فلا يشعر بفارق حرارة أكثر درجة أو درجتين.وحتى لا يلتصق الغشاء الأمنيوني بالجنين فتتشوه صورة الجنين خلق الله - العالم بما في الأرحام السائل الأمنيوني ليمنع التصاق الغشاء بالجنين.يقول الدكتور محمد علي البار في كتابة القيم "خلق الإنسان بين الطبّوالقرآن "صـ 418: يمكن للطبيب أن يأخد عينه من السائل الأمنيوني فيفحصها فيساعده هذا على التعرف على بعض الأمراض الوراثية. أما المهمة الكبيرة للسائل الأمنيوني فهو ما سبق أن تحدثت عنه في ولادة الأم التي تسرب السائل منها قبل الولادة، والتي سببت تصادم رأس الجنين بحوض المرأة عند الولادة بسبب الطلق المتكرر فنزل
ইনশাআল্লাহ, আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হলো বিস্ময়কর অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (Amniotic Fluid); কারণ আমি এমন একজন নারীকে চিনি যাঁর প্রসবের পূর্বে জরায়ু থেকে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড চুইয়ে পড়ে গিয়েছিল, যার ফলে প্রসব যন্ত্রণার সময় ভ্রূণের মাথার সাথে মহিলার শ্রোণিচক্রের (Pelvis) সংঘর্ষ ঘটে। এর ফলে তিনি এমন এক সন্তান জন্ম দেন যার জীবনের সাথে শ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়া আর কোনো বন্ধন নেই—সে তার চারপাশের কোনো কিছুই অনুধাবন করতে পারে না। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই সৃষ্টির ভার বহনে তার পিতা ও মাতাকে সাহায্য করেন—নিশ্চয়ই তিনি শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী ও আশার স্থল।আর তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান রয়েছে।…(অ্যামনিওটিক ফ্লুইড এবং ভ্রূণের সুরক্ষায় এর ভূমিকা)মহিমান্বিত সেই সত্তা—যিনি জরায়ুর ভেতরে যা আছে তা জানেন, কারণ তিনি জ্ঞানসহকারেই তা সৃষ্টি করেছেন। তিনি অ্যামনিওটিক ফ্লুইড সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে প্রোটিনযুক্ত উপাদান, শর্করা ও অজৈব লবণ নিহিত রেখেছেন যা ভ্রূণ শোষণ করে, যা তার পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি জরায়ুর অভ্যন্তরের বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।তিনি অ্যামনিওটিক ফ্লুইড সৃষ্টি করেছেন ভ্রূণকে মায়ের হঠাৎ পাওয়া বিভিন্ন আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং এটি ভ্রূণকে তীব্র নড়াচড়া ও পড়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দেয় যার সম্মুখীন মা হতে পারেন।তিনি অ্যামনিওটিক ফ্লুইড সৃষ্টি করেছেন জরায়ুর ভেতরে ভ্রূণের নড়াচড়া সহজ করার জন্য, যেন সে কোনো নদীতে সাঁতার কাটছে। মা হয়তো কোনো এয়ারলাইন্সে কাজ করেন এবং বিষুবরেখা থেকে অত্যন্ত শীতল মহাসাগরীয় অঞ্চলে যাতায়াত করেন যেখানে তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য থাকে যা ভ্রূণের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। কিন্তু আল্লাহ, যিনি জরায়ুর অভ্যন্তরের বিষয় সম্পর্কে অবগত, তিনি অ্যামনিওটিক ফ্লুইড সৃষ্টি করেছেন ভ্রূণের আবহাওয়াকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য, ফলে সে এক বা দুই ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার পার্থক্য অনুভব করে না।আর যেন অ্যামনিওটিক পর্দা ভ্রূণের সাথে লেগে না যায় এবং ফলে ভ্রূণের অবয়ব বিকৃত না হয়, সেজন্য আল্লাহ—যিনি জরায়ুর অভ্যন্তর সম্পর্কে পরিজ্ঞাত—অ্যামনিওটিক ফ্লুইড সৃষ্টি করেছেন যাতে ভ্রূণের সাথে পর্দার এই লেগে থাকা রোধ করা যায়।ডক্টর মুহাম্মাদ আলী আল-বার তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "খালাক আল-ইনসান বাইনাত তিব্বি ওয়াল কুরআন" (চিকিৎসা বিজ্ঞান ও কুরআনের আলোকে মানব সৃষ্টি) এর ৪১৮ পৃষ্ঠায় বলেন: "চিকিৎসক অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করতে পারেন, যা তাকে কিছু বংশগত রোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করে।" আর অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের যে মহৎ দায়িত্বের কথা আমি ইতিপূর্বে সেই মায়ের ক্ষেত্রে আলোচনা করেছি যার প্রসবের আগে ফ্লুইড চুইয়ে পড়ে গিয়েছিল এবং যা প্রসবের সময় বারবার সংকোচনের ফলে ভ্রূণের মাথার সাথে মহিলার শ্রোণিচক্রের সংঘর্ষ ঘটিয়েছিল, ফলে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হলো...
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ৮)
الطفل في الحالة التي وصفتها لا يسمع ولا يبصر ولا يتكلم. جزى الله والديه خيراً على صبرهما وعنايتهما لهذا المخلوق. وسبحان من خلق السائل الأمنيوني ليطهر طريق الولادة فيقتل الميكروبات الموجودة في المهبل قبيل الولادة مباشرة حتى يضمن للجنين طريقا ممهّدًا ومعقمًا - سبحان - من خلق هذا على علم لأنه يَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ.وعلمه هو السبب في إيجاد هذه المعلومات (اقرأ خلق الإنسان بين الطب والقرآن).سيدي يا رسول الله صلى الله عليه وسلم من أنبأك هذا،من أنبأك أن الجنين خلق في ظلمات ثلاث؟(يَخْلُقُكُمْ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ خَلْقًا مِنْ بَعْدِ خَلْقٍ فِي ظُلُمَاتٍ ثَلَاثٍ).…ّ (القرآن كتاب واحد للعوام والعلماء)كيف استطاع كتاب واحد أن يسدَّ حاجة أمَّةً كاملة. فهِمَه رجل البادية وحارفي فهمه العلماء في عصرنا. ويبقى إعجازه العلمي لا تنتهي عجائبه.الآية الكريمة التي معنا نموذج لهذا الموضوع(يَخْلُقُكُمْ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ خَلْقًا مِنْ بَعْدِ خَلْقٍ فِي ظُلُمَاتٍ ثَلَاثٍ)لم يصعب على رجل البادية أن يفهم الظلمات الثلاث:* ظلمة البطن - وظلمة الرحم - وظلمة المشيمة.ظلمات ثلاث فعلا. وفي عصر التسابق العلمى يكتشف العلماء الأغشية الثلاثة.1 - الغشاء الأمنيوني.2 - الغشاء الكوريون " الغشاء المشيمي ".3 - الغشَاء الساقط.فكتاب واحد ملأ قلوب المؤمنين، وأعجز العلماء.
আপনি যে অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন, সে অবস্থায় শিশুটি শোনে না, দেখে না এবং কথা বলে না। আল্লাহ তাঁর পিতা-মাতাকে এই সৃষ্টির প্রতি তাঁদের ধৈর্য ও যত্নের জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন। পবিত্র সেই সত্তা, যিনি অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (Amniotic Fluid) সৃষ্টি করেছেন যাতে প্রসবের পথ পরিষ্কার হয়; এটি প্রসবের ঠিক পূর্বমুহূর্তে জরায়ুপথে বিদ্যমান জীবাণুগুলোকে ধ্বংস করে দেয়, যাতে ভ্রূণের জন্য একটি প্রশস্ত ও জীবাণুমুক্ত পথ নিশ্চিত করা যায়। সেই সত্তা পবিত্র, যিনি পূর্ণ জ্ঞানের সাথে এটি সৃষ্টি করেছেন, কারণ তিনি জানেন জরায়ুর ভেতরে কী আছে।আর তাঁর জ্ঞানই এই তথ্যাদি প্রাপ্তির মূল উৎস (পড়ুন: 'চিকিৎসা বিজ্ঞান ও কুরআনের আলোকে মানব সৃষ্টি')।হে আমার নেতা, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আপনাকে কে এই সংবাদ দিল?কে আপনাকে জানাল যে, ভ্রূণ তিনটি অন্ধকারের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে?(তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের পেটে সৃষ্টি করেন—এক সৃষ্টির পর অন্য সৃষ্টিতে, তিনটি অন্ধকারের স্তরে)।…(কুরআন সাধারণ মানুষ এবং আলেম—উভয় শ্রেণির জন্য একটিই কিতাব)একটি কিতাব কীভাবে একটি গোটা জাতির প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হলো? মরুভূমির সাধারণ মানুষও এটি বুঝতে পেরেছে, আবার আমাদের যুগের বিজ্ঞানীরাও এর মর্মার্থ অনুধাবন করতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছেন। আর এর বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের বিস্ময় কখনো শেষ হবার নয়।আমাদের সামনে থাকা এই সম্মানীয় আয়াতটি এই বিষয়ের একটি আদর্শ উদাহরণ:(তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের পেটে সৃষ্টি করেন—এক সৃষ্টির পর অন্য সৃষ্টিতে, তিনটি অন্ধকারের স্তরে)মরুভূমির সাধারণ মানুষের জন্য এই তিনটি অন্ধকার বোঝা কঠিন ছিল না:* পেটের অন্ধকার, জরায়ুর অন্ধকার এবং গর্ভফুলের (Placenta) অন্ধকার।সত্যিই তিনটি অন্ধকার। বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতার যুগে বিজ্ঞানীরা তিনটি ঝিল্লি বা পর্দা আবিষ্কার করেছেন:১ - অ্যামনিওটিক ঝিল্লি।২ - কোরিওনিক ঝিল্লি "গর্ভফুলের ঝিল্লি"।৩ - পতনশীল ঝিল্লি (ডেসিডুয়া)।সুতরাং একটি কিতাব মুমিনদের অন্তরগুলোকে কানায় কানায় পূর্ণ করে দিয়েছে এবং বিজ্ঞানীদের করে দিয়েছে চির-অক্ষম।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ৯)
يَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ ومما يعلمه - سبحانه - عن ما في الأرحام مسألة الذكروالأنثى. وكما قلت: كتاب واحد للعوام والخواص، من هنا قصر العوام فهمهم للآية الكريمة على فهم واحد. " الذكر والأنثى " وقد أصابوا. ولم يخطئوا، ولكنَّ استقراءهم ناقص. لا يعاب صاحبه. فذلك مبلغنا من العلم. فالله يَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ ذكراً أم أنثى.يتم خلقه أو لا يتم. وهو السقط. متى يدفع به الرحم. ومتى تنتهي حياته. شقي أم سعيد. متى ينتقل من الدنيا إلى الآخرة، وماذا سيترك في الدنيا من آثار يكتبها الله. (وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ) - سورة يس.أين سيذهب كلّ ساعة حتى يقدر له الأوكسجين والغذاء والماء (وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا) سورة فصلت ".مشيناها خطًا كتبت علينا … ومن كتبت عليه خطًا مشاها.وأرزاق لنا متفرقات … من لم تأته منَّا أتاهاومن كانت منيته بأرض … فليس يموت في أرض سواها. وقد جاء هذا في نفس الآية الكريمة: (إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ) 34 سورة لقمان".فعلم ما في الأرحام حتى في تصوّر أصحاب الاستقراء الناقص علم لا يحيطبه البشر. فإذا استطاع علم البشر أن يعرف شيئا من ألف شيء فهو علم مسبوق بعدم وجهل. والله يكشف لخلقه بعض علمه تفضلا منه. وكل كشف علمي كان قبل أن يعرفه العلماء في علم غيب الله - وحده. (وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ) (آية الكرسي سورة البقرة) فمجموع الكشوفات العلمية يساوي مجموع ما سمح الله لعباده أن يعرفوه مما كان غيبا. ومجموع ما نجهله من الكون ملايين ما نعلم. فسبحان من أحاطبكل شيء علماً. فهو يتصدَّق على عباده بما يعلمون.
গর্ভাশয়ে যা আছে তিনি তা জানেন। আর মহান আল্লাহ গর্ভাশয়ে যা আছে সে সম্পর্কে যা জানেন তার মধ্যে একটি বিষয় হলো সন্তানটি ছেলে না কি মেয়ে।যেমনটি আমি বলেছি: এটি সাধারণ এবং বিশিষ্ট সবার জন্যই একক কিতাব। এ কারণেই সাধারণ মানুষ এই সম্মানিত আয়াতের প্রতি তাদের বোধগম্যতাকে কেবল একটি বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে—তা হলো 'ছেলে ও মেয়ে'। আর তারা সঠিক বুঝেছে, ভুল করেনি; কিন্তু তাদের এই পর্যবেক্ষণ ছিল অসম্পূর্ণ। এর জন্য কাউকে দোষারোপ করা যায় না, কারণ আমাদের জ্ঞানের পরিধি এটুকুই। সুতরাং আল্লাহ জানেন গর্ভাশয়ে যা আছে তা ছেলে না কি মেয়ে।তার সৃষ্টি কি পূর্ণতা পাবে না কি অপূর্ণ থেকে যাবে? অর্থাৎ গর্ভপাত। কখন জরায়ু তাকে বের করে দেবে? কখন তার জীবনাবসান ঘটবে? সে কি হতভাগা হবে না কি সৌভাগ্যবান? কখন সে দুনিয়া থেকে আখিরাতে পাড়ি জমাবে? আর দুনিয়াতে সে কী কী চিহ্ন বা প্রভাব রেখে যাবে যা আল্লাহ লিখে রাখেন—"এবং আমি লিখে রাখি তারা যা অগ্রিম পাঠিয়েছে এবং তাদের রেখে যাওয়া চিহ্নসমূহ" (সূরা ইয়াসিন)।প্রতিটি মুহূর্তে সে কোথায় যাবে, এমনকি তার জন্য অক্সিজেন, খাদ্য ও পানির সংকুলান হওয়া পর্যন্ত—"এবং তিনি তাতে তার খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন" (সূরা ফুসসিলাত)।আমরা সেই পদক্ষেপগুলোই ফেলেছি যা আমাদের জন্য লিখে দেয়া হয়েছিল … আর যার জন্য যে পদক্ষেপ নির্ধারিত হয়েছে তাকে তো তা ফেলতেই হয়।আমাদের জন্য বিবিধ রিজিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে … আমাদের মধ্য থেকে যে তার কাছে পৌঁছাতে পারেনি, রিজিকই তার কাছে পৌঁছে যায়।যার মৃত্যু যে ভূমিতে নির্ধারিত … সে ভূমি ছাড়া অন্য কোথাও তার মৃত্যু হবে না। এই কথাটি সেই একই আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে। আর কোনো সত্তাই জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কোনো সত্তাই জানে না কোন ভূমিতে তার মৃত্যু হবে" (সূরা লুকমান, আয়াত ৩৪)।সুতরাং জরায়ুতে কী আছে সে সংক্রান্ত জ্ঞান—এমনকি যাদের পর্যবেক্ষণ অসম্পূর্ণ তাদের ধারণা অনুযায়ীও—এমন এক জ্ঞান যা মানুষ আয়ত্ত করতে পারে না।যদি মানবীয় জ্ঞান হাজারো বিষয়ের মধ্য থেকে একটি বিষয় জানতেও সক্ষম হয়, তবে সেই জ্ঞানটিও ছিল এক সময় প্রাক-অস্তিত্বহীন এবং অজ্ঞতায় আচ্ছন্ন। আর আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহস্বরূপ তাঁর সৃষ্টির নিকট নিজের জ্ঞানের কিঞ্চিৎ উন্মোচন করেন। প্রতিটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বিজ্ঞানীরা তা জানার আগেই একমাত্র আল্লাহর গায়বি জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। "আর তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই পরিবেষ্টন করতে পারে না, কেবল তিনি যতটুকু চান তা ছাড়া" (আয়াতুল কুরসি, সূরা আল-বাকারা)। সুতরাং সমস্ত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সমষ্টি হলো সেটুকুই যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অদৃশ্যের বিষয় থেকে জানার অনুমতি দিয়েছেন। আর মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমরা যা জানি না তার পরিমাণ হলো যা জানি তার চেয়ে কয়েক লক্ষ গুণ বেশি। সুতরাং সেই সত্তা কতই না পবিত্র, যাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। তিনি তাঁর বান্দাদের যা শেখান তা মূলত তাদের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে এক প্রকার দান।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১০)
قال الوالد الأستاذ الجامعي العجور لابنته الدكتورة الشابة: إن الذي نجهله فيتخصّصنا أضعاف أضعاف ما نعلم.قالت الدكتورة الشابة:لقد أعطيت رسالتى العلمية أجمل أيام شَبابي. سنوات من البحث. فكيفتقول هذا؟قال الأب الأستاذ: إن الطبعة الثانِية من رسالتك مزيدة ومنقحة وذلك لأن معارف علمية جديدة قد عرفتيها (وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ) "255 سورة البقرة "قلت في محاضرة وأنا طالب بمعهد الزقازيق الديني الثانوي: إن علمك + علمأساتذتك + علم كلِّ الدنيا = (وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا) مقسماً على عدد المتعلمين فما حجم علمك؟سبحان من أحاط بكل شيء علماً. وهو سبحانه يَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ.(أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ) 14 الملك***
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আল-আজুর তার তরুণী ডাক্তার কন্যাকে বললেন: আমাদের বিশেষায়িত ক্ষেত্রে আমরা যা জানি না, তা আমরা যা জানি তার তুলনায় বহুগুণ বেশি।তরুণী ডাক্তার কন্যা বললেন:আমি আমার গবেষণাপত্র বা থিসিস রচনায় আমার যৌবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলো ব্যয় করেছি। বছরের পর বছর গবেষণা করেছি। তবে আপনি কেন এমনটি বলছেন?শিক্ষক পিতা বললেন: তোমার গবেষণাপত্রের দ্বিতীয় সংস্করণটি হবে পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত, কারণ তুমি নতুন কিছু বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করেছ। (আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্যতম অংশও আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া) "সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৫"যাকাজিকের মাধ্যমিক ধর্মীয় ইনস্টিটিউটের ছাত্র থাকাকালীন এক বক্তৃতায় আমি বলেছিলাম: তোমার জ্ঞান + তোমার শিক্ষকদের জ্ঞান + সারা বিশ্বের সকল জ্ঞান = (আর তোমাদেরকে অতি সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে), একে যদি সকল শিক্ষার্থীর সংখ্যার অনুপাতে ভাগ করা হয়, তবে তোমার জ্ঞানের পরিধি আর কতটুকু হবে?মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা জরায়ুতে যা আছে সে সম্পর্কেও সম্যক অবগত।(যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত) ১৪ আল-মুলক***
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১১)
(خلقك اللَّهُ لتعيش)من أجلك حرم الإسلام وأد البنات وقتل الأولاد.قال القلقشندي: إنَّ العرب كانت تئد البنات خشية العار. وممن فعل ذلك قيس بن عاصم المنقري وكان من وجوه قومه، ومن ذوي المال. وسبب قتله لبناته أن النعمان بن المنذر غزا بني تميم بجيش فقام الجيش فسبوا "أسروا " ذراريهم. فأنابه القوم وسألوه أن يحرر أسراهم فخيَّرَ النعمان النساء الأسيرات فمنهن من اختارت أبوها فردَّها لأبيها. ومن اختارت زوجها ردَّها لزوجها. فاخترن آباءهن وأزواجهن. إلا امرأة قيس بن عاصم فاختارت الذي أسرها - عمرو بن الجموح - فأقسم قيس بن عاصم أنه لا يولد له ابنة إلا قتلها. فكان يقتلهن.وكان الرجل من العرب يقتل ولده مخافة أن يطعم معه إلى أن نهى القرآن.عن وأد البنات وقتل الأولاد. (وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا) " الآية 31 سورة الإسراء"."القصة صبح الأعشى جـ 1 صـ 404 "والنهي عن قتل الأولاد يشمل البنات ولكن القرآن ذكر النهي عن قتل البنات (وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ (8) بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ (9) "لأن قتلهن كان الأكثر.واشتهر قبل الإسلام صعصعة - جدُّ الفرزدق بأنَّه كان يشتري أيَّ بنت يرادوأدها ويفديها حتى فدى ثلاثمائة موؤدة.وكان الفرزدق يفخر بجدِّه!وجدِّي الذي منع الوئدات … وأحيا الوئيد فلم توأدا.وذكر السيد المرتضى أنه صعصعة بن ناجية ابن عقال - جدُّ الفرزدق (من كتاب النسل للأستاذ عمر رضا كحالة صـ 162).
(আল্লাহ আপনাকে সৃষ্টি করেছেন বেঁচে থাকার জন্য)আপনার জন্যই ইসলাম কন্যা শিশু জ্যান্ত কবর দেওয়া এবং সন্তান হত্যা নিষিদ্ধ (حرام) করেছে।আল-কালকাশান্দি বলেছেন: আরবরা লজ্জার আশঙ্কায় কন্যা শিশুদের জ্যান্ত কবর দিত। যারা এই কাজ করত তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কায়েস ইবনে আসিম আল-মিনকারি; তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট এবং বিত্তশালী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর কন্যাদের হত্যার কারণ ছিল এই যে, নুমান ইবনে মুনযির একটি বাহিনী নিয়ে বনু তামিমে আক্রমণ করেন এবং সেই বাহিনী তাদের সন্তানদের বন্দী (أسروا) করে। পরবর্তীতে গোত্রের লোকেরা তাঁর নিকট এসে তাদের বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানায়। নুমান বন্দী নারীদের স্বাধীনতা দিলেন যে, তাদের মধ্যে যারা তাদের পিতাকে বেছে নেবে, তিনি তাদের পিতার কাছে ফেরত দেবেন। তখন তাদের মধ্যে যারা পিতাকে পছন্দ করেছিল, তিনি তাদের পিতার কাছে পাঠিয়ে দেন। আর যারা স্বামীকে পছন্দ করেছিল, তিনি তাদের স্বামীর কাছে ফেরত দেন। তারা প্রায় সকলেই তাদের পিতা ও স্বামীদের বেছে নিলেও কায়েস ইবনে আসিমের কন্যা (বা স্ত্রী অর্থে) তাকেই বেছে নিল যে তাকে বন্দী করেছিল—অর্থাৎ আমর ইবনুল জামুহকে। এতে কায়েস ইবনে আসিম শপথ করেন যে, তাঁর কোনো কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তিনি তাকে হত্যা করবেন। এরপর থেকে তিনি তাদের হত্যা করতে থাকেন।আরবদের কোনো কোনো ব্যক্তি তার সাথে আহার করবে—এই ভয়ে সন্তানকে হত্যা করত, যতক্ষণ না কুরআন তা নিষিদ্ধ করল।কন্যাদের জ্যান্ত কবর দেওয়া এবং সন্তান হত্যা প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন: (দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমিই তাদের রিযিক দান করি এবং তোমাদেরও। নিশ্চয় তাদের হত্যা করা এক মহাপাপ।) "সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৩১"।"এই ঘটনাটি সুবহুল আশা, ১ম খণ্ড, ৪০৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত।"সন্তান হত্যা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কন্যাদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, তবে কুরআন বিশেষভাবে কন্যা শিশুদের জ্যান্ত কবর দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে: (যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?)কারণ তাদের (কন্যাদের) হত্যার হার ছিল সর্বাধিক।ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে ফারাযদাকের দাদা সা'সাআ এই জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন যে, তিনি জ্যান্ত কবর দেওয়ার জন্য নির্ধারিত যেকোনো কন্যা শিশুকে কিনে নিতেন এবং মুক্তিপণ দিয়ে তাদের জীবন রক্ষা করতেন; এভাবে তিনি তিনশত জ্যান্ত প্রোথিত কন্যাকে উদ্ধার করেছিলেন।ফারাযদাক তাঁর দাদাকে নিয়ে গর্ব করতেন!আমার সেই দাদা যিনি কন্যাদের জ্যান্ত কবর দেওয়া বন্ধ করেছিলেন... এবং জ্যান্ত প্রোথিতদের জীবনদান করেছিলেন যাতে তাদের কবরস্থ করা না হয়।সাইয়্যেদ মুরতাদা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হলেন সা'সাআ ইবনে নাজিয়াহ ইবনে ইকাল—ফারাযদাকের দাদা (উস্তাদ ওমর রেজা কাহহালার 'আন-নাসল' গ্রন্থ থেকে, পৃ. ১৬২)।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১২)
(أرض بما قسم الله لك تكن أسعد الناس)الإيمان بالواهب يستلزم الرضا بالهبة. وقد ساق القرآن الحديث عن عدمالرضى بالأنثى عند ولادتها في وسط حديثه عن سلوك الكفار، وعند كنود الإنسان، فإذا مسَّه الضر لجأ إلى الله يجأر إليه. فإذا كشف الضر عنه عاد إلى الشرك (وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ (58) يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ (59 النحل)خُلُقٌ جاهلي لم يزل آثاره في النفس البشرية لضعف في الإيمان كما يؤكد هذاوضع الآيتين في وسط حديث القرآن عن سلوك الكفار. ويتعدى هذا السلوك إلى تحميل المرأة ما لا دخل لها فيه عندما ينسب لها فيه من إنجاب البنات. وقد يطلقها لأنه يريد الولد. ثم جاء العلم وقال كلمته الفاصلة في الموضوع. قال إن الجنين يتكوّن من النطفة الأمشاج التى تتكون من نطفة الرجل وبويضة المرأة.وقال: إنّ بويضة المرأة في كلِّ نساء الدنيا تحتوي على كروموسومات عددها33 منها كروموسوم واحد لتحدب الجنس " ذكراً أو أنثى " وهو (اكس) ( X).أما نطفة الرجل فتحتوي على نفس العدد (23) ولكن فيها كروموسومينللتحديد الجنس ( Y) و ( X)فإن التحم ( Y) مع البويضة وهى دائما ( X) يكون الجنين ذكرًا. وإن التحم( X) من نطفة الرجل مع ( X) من بويضة المرأة كان الجنين أنثى. وهذه حقائق علمية يعرفها كل دارس. فالذي يحدد الجنين هو نطفة الرجل التي تحتوي على (اكس) و (واي) ونؤمن بأن غلبة ( Y) مع البويضة ( X) أو غلبت ( X) مع ( X) ليس مصادفة ولكن التقدير والهبة من الله. كما أن اختيار حيوان منوي واحد (الذي أصبح أنت) من بين ملايين الحيوانات المنوية التي كانت - تتسابق معه ليس مصادفة ولكن الله أراد وجودك أنت. ولو شاء لما كنت.إن ملايين الحيوانات المنوية - ليلتها - ضاع
(আল্লাহ তোমার জন্য যা বণ্টন করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুখী হবে)দাতার প্রতি ঈমান বা বিশ্বাস তাঁর দানের প্রতি সন্তুষ্টিকেও অপরিহার্য করে তোলে। কুরআন মাজিদ কাফিরদের আচরণ এবং মানুষের অকৃতজ্ঞতার বর্ণনার মাঝে কন্যা সন্তানের জন্মের সময় অভাবসন্তুষ্টির বিষয়টি উল্লেখ করেছে; যখন মানুষকে কোনো বিপদ স্পর্শ করে, তখন সে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করে ফিরে যায়। এরপর যখন তিনি বিপদ দূর করে দেন, তখন সে পুনরায় শিরকে লিপ্ত হয় (আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় থেকে আত্মগোপন করে; সে কি লাঞ্ছনা সহ্য করে তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না মন্দ! [সুরা আন-নাহল: ৫৮-৫৯])এটি একটি জাহেলি স্বভাব, যার প্রভাব ঈমানের দুর্বলতার কারণে মানুষের মনে এখনও রয়ে গেছে; যেমন এটি নিশ্চিত করেকুরআনে কাফিরদের আচরণের বর্ণনার মাঝে এই আয়াত দুটির অবস্থান। এই আচরণ তখন সীমালঙ্ঘন করে যখন নারীকে এমন বিষয়ের জন্য দায়ী করা হয় যাতে তার কোনো হাত নেই, যেমন তার ওপর কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া। এমনকি পুত্র সন্তানের আশায় সে হয়তো তাকে তালাকও দিয়ে দেয়। অতঃপর আধুনিক বিজ্ঞান এই বিষয়ে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। বিজ্ঞান বলছে যে, ভ্রূণ মিশ্রিত শুক্রাণু থেকে গঠিত হয়, যা পুরুষের বীর্য এবং নারীর ডিম্বাণুর সমন্বয়ে তৈরি।এবং বলেছে: সারা বিশ্বের সকল নারীর ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমের সংখ্যা থাকে৩৩টি, যার মধ্যে একটি ক্রোমোজোম লিঙ্গ নির্ধারণ করে "পুরুষ বা নারী" এবং সেটি হলো (এক্স) (X)।পক্ষান্তরে পুরুষের শুক্রাণুতে সমসংখ্যক (২৩টি) ক্রোমোজোম থাকে, তবে এতে লিঙ্গ নির্ধারণের জন্যদুটি ক্রোমোজোম (Y) এবং (X) থাকে।যদি (Y) ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়—যা সর্বদা (X) থাকে—তবে ভ্রূণটি পুরুষ হয়। আর যদি পুরুষের শুক্রাণু থেকে(X) নারীর ডিম্বাণুর (X)-এর সাথে মিলিত হয়, তবে ভ্রূণটি নারী হয়। এগুলো বৈজ্ঞানিক সত্য যা প্রত্যেক শিক্ষার্থীই অবগত। সুতরাং ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করে পুরুষের শুক্রাণু যাতে (এক্স) এবং (ওয়াই) থাকে। আমরা বিশ্বাস করি যে, ডিম্বাণুর (X)-এর সাথে (Y)-এর প্রাবল্য অথবা (X)-এর সাথে (X)-এর প্রাবল্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এবং একটি দান। ঠিক যেমন লক্ষ লক্ষ শুক্রাণুর মধ্য থেকে একটি মাত্র শুক্রাণুর (যা পরবর্তীতে আপনি হয়েছেন) নির্বাচন—যা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল—তা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং আল্লাহ আপনার অস্তিত্ব চেয়েছিলেন। তিনি না চাইলে আপনার অস্তিত্ব থাকত না।সে রাতে লক্ষ লক্ষ শুক্রাণু বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مستقبلهم. إن نطفة الرجل هي التي تحدد جنس المولود. والمرأة دائما ( X) فتحكم في نطفتك إن استطعت. فإن عجزت فاقبل هبة من وهبك. واشكر الواهب لتعيش سعيداً.إنك لا تختار ابنك. وربَّما لا تستطيع أن تختار زوجته، مع أن هذا من حقك. ولكنك شرعا تختار زوج ابنتك، والعجيب أن المرأة العربية قالت قديماً.مال أبي حمزة لا يأتينا … يظل بالبيت الذي يلينايغضب أنَّا لن نلد البنينا … وليس ذلك في أيديناوإنما نعط الذي أعطينا…(الإسلام يريد سلامة الجنين)أثر شرب الخمر والمخدرات على الجنينإذا كان الجنين هو الغاية من الزواج عند أصحاب النفوس الكبيرة فإنَّ الحفاظعليه أمر لابد منه. وأهم شيء يلازم الجنين من مرحلته الأولى إلى أن يصبح خلقا آخر، وإلى أن يصبح شيخاً كبيراً هو شبكة الأعصاب في جسمه. فمعلوم لدى الدارسين لخلايا جسم الإنسان تتبدل كل عدة سنوات -كل ستة أعوام - يحدث تبديل كامل لخلايا الجسم من موت الخلايا وتوالد غيرها حتى تظل جديدا، إلا خلايا المخ والأعصاب. فالتي يولد بها الطفل يموت بها فلا تتغير.بأيِّ عامل من العوامل فسوف يلازمه هذا التلف أو التخلف طول حياته. وقد أكد علماء الخلايا أن تعاطي الأم للكحول أعني إدمان الأم على شرب الكحول وإدمان التدخين وهي حامل يؤدِّي إلى ولادة طفل صغير الرأس، ضعيف البنية، وأحياناً معتوه، وذلك نتيجة مفعول هذه المواد السامة في تخفيض مجرى الدم في المشيمة وسد الشرايين المسؤولة عن نقل المواد الغذائيّة والأوكسجين للجنين فتقلّ مناعته، ويصبح سهل التعرض للأمراض.(د / غسان الزهيري).
তাদের ভবিষ্যৎ। পুরুষের শুক্রাণুই (نطفة) নবজাতকের লিঙ্গ নির্ধারণ করে। আর নারী সর্বদা ( X), তাই সম্ভব হলে আপনার শুক্রাণু (نطفة) নিয়ন্ত্রণ করুন। আর যদি অপারগ হন, তবে যিনি আপনাকে দান করেছেন তাঁর দান গ্রহণ করুন। এবং দানকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন যাতে আপনি সুখে জীবনযাপন করতে পারেন।নিশ্চয় আপনি আপনার সন্তানকে নির্বাচন করেন না। সম্ভবত আপনি তার স্ত্রীকেও নির্বাচন করতে পারবেন না, যদিও এটি আপনার অধিকার। কিন্তু শরিয়তগতভাবে আপনি আপনার কন্যার স্বামী নির্বাচন করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রাচীনকালে এক আরব নারী বলেছিলেন:আবু হামজার কী হলো যে সে আমাদের কাছে আসে না … সে আমাদের পাশের বাড়িতেই অবস্থান করেসে রাগান্বিত যে আমরা পুত্র সন্তান জন্ম দিই না … অথচ এটি আমাদের হাতে নেইআমাদের যা দেওয়া হয়েছে আমরা কেবল তা-ই প্রদান করি…(ইসলাম ভ্রূণের (الجنين) নিরাপত্তা চায়)ভ্রূণের (الجنين) ওপর মদ ও মাদকদ্রব্য পানের প্রভাবমহানুভব ব্যক্তিদের নিকট যদি ভ্রূণই (الجنين) বিবাহের মূল লক্ষ্য হয়, তবে তার সুরক্ষা প্রদান করা একটি অপরিহার্য বিষয়। ভ্রূণের (الجنين) প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে তার একটি পূর্ণাঙ্গ সৃষ্টিতে পরিণত হওয়া এবং বৃদ্ধ হওয়া পর্যন্ত তার শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো স্নায়ুতন্ত্র। মানবদেহের কোষ নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, শরীরের কোষগুলো প্রতি কয়েক বছর অন্তর—অর্থাৎ প্রতি ছয় বছর পর পর—পূর্ণ পরিবর্তিত হয়। কোষের মৃত্যু এবং নতুন কোষের জন্মের মাধ্যমে শরীর সতেজ থাকে, কেবল মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকোষ ব্যতীত। শিশু যে স্নায়ুকোষ নিয়ে জন্মায়, সেটি নিয়েই সে মৃত্যুবরণ করে, এগুলোর কোনো পরিবর্তন হয় না।যেকোনো কারণেই হোক না কেন, এই ক্ষতি বা পশ্চাৎপদতা তার সারা জীবন সঙ্গী হয়ে থাকবে। কোষ বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, মায়ের অ্যালকোহল গ্রহণ—অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় মায়ের মদ্যপান এবং ধূমপানে আসক্তি—ছোট মাথা বিশিষ্ট, দুর্বল গঠন এবং কখনো কখনো বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর জন্মের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি ঘটে এই বিষাক্ত পদার্থগুলোর প্রতিক্রিয়ায় অমরায় (المشيمة) রক্তপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ার ফলে এবং ভ্রূণের (الجنين) নিকট পুষ্টি উপাদান ও অক্সিজেন পরিবহনের জন্য দায়ী ধমনীগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। ফলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সে সহজেই রোগে আক্রান্ত হয়।(ড. গাসসান আল-জুহাইরি)।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد نشرث دولة الكويت دراسة قيمة عن أثر الكحول الذي تشربه المرأة على الجنين في كتاب بعنوان " التنبؤ الوراثي " وذكرت إحصائيات وافية تؤكد موضوع البحث والكتاب من سلسلة عالم المعرفة.…(الحيوان المنوي ورحتله سالماً)في 1967 القاهرة شارع بور سيعد فندق الأنوار - اتصل بي الزميلإبراهيم عيسى الطالب بجامعة الأزهر يومها والبشارة تغلب عليه يقول: وجدتها. وجدتها. إنَّها المسألة العلمية التى شغلت كثيراً من طلاب العلم يومها.لماذا أوجد الله - سبحانه - في السائل المنوي بعض السائل القلوي الذي يقول علماء الطب يومها - لا فائدة منه، لم يقبل إبراهيم عيسى طالب الأزهر هذا الكلام لأنه يؤمن أنَّ كلَّ شيء خلقه الله لحكمة، وعدم علمنا بسبب الشيء ليس علماً بالعدم. وهكذا يعتقد كل مسلم. عرف الطالب إبراهيم عيسى الحكمة من المادة القلوية في النطفة. وشعر أنّ هذا انتصارلعقيدته. إن السائل القلوي يسبب معادلة مع بقايا أحماض البول في المنطقة التي يمرُّ بها السائل المنوي فتصل النطفة إلى قرار مكين. ولولا هذا المقدار القلوي لقتلت الأحماضُ المتخلفةُ عن البول الحيوانَ المنويَّ.واكتشف العلم أن الوسط الحامضي هو الأكثر ملاءمة لنطفة الأنثى. وأنالوسط القلوي هو الأكثر ملاءمة لنطفة الرجل - كما يقول الدكتور حارث زيدان.***
কুয়েত রাষ্ট্র ‘আত-তানাব্বু আল-উরাছি’ শিরোনামের একটি গ্রন্থে গর্ভস্থ ভ্রূণের ওপর নারীর মদ্যপানের প্রভাব সম্পর্কে একটি মূল্যবান গবেষণা প্রকাশ করেছে এবং গবেষণার বিষয়বস্তুকে নিশ্চিত করে এমন পর্যাপ্ত পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছে। বইটি ‘আলম আল-মা’রিফাহ’ সিরিজের অন্তর্ভুক্ত।…(শুক্রাণু এবং এর নিরাপদ যাত্রা)১৯৬৭ সালে কায়রোর পোর্ট সাঈদ স্ট্রিটের আল-আনোয়ার হোটেলে—আমার সহকর্মীতৎকালীন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইবরাহিম ঈসা আনন্দের আতিশয্যে বলছিলেন: আমি এটি পেয়েছি, আমি এটি পেয়েছি। এটি সেই বৈজ্ঞানিক সমস্যা যা তৎকালীন সময়ের অনেক জ্ঞানান্বেষীকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিল।কেন আল্লাহ—সুবহানাহু—বীর্যের মধ্যে কিছু ক্ষারীয় তরল সৃষ্টি করেছেন, যে সম্পর্কে তৎকালীন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলতেন—এর কোনো উপকারিতা নেই? আল-আজহারের ছাত্র ইবরাহিম ঈসা এই কথা মেনে নেননি, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা প্রজ্ঞার সাথেই করেছেন; আর কোনো কিছুর কারণ আমাদের জানা না থাকা মানেই সেটি অস্তিত্বহীন হওয়া নয়। প্রত্যেক মুসলিম এভাবেই বিশ্বাস করে। ছাত্র ইবরাহিম ঈসা বীর্যের ক্ষারীয় উপাদানের হিকমত বা প্রজ্ঞা জানতে পেরেছিলেন এবং তিনি অনুভব করেছিলেন যে এটি তাঁর আকিদাহর জন্য একটি বিজয়।এই ক্ষারীয় তরলটি বীর্য প্রবাহিত হওয়ার পথে অবশিষ্ট প্রস্রাবের অম্লের সাথে রাসায়নিক ভারসাম্য রক্ষা করে, ফলে শুক্রাণু নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছাতে পারে। যদি এই ক্ষারীয় উপাদান না থাকত, তবে প্রস্রাবের অবশিষ্টাংশ শুক্রাণুকে ধ্বংস করে ফেলত।বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, অম্লীয় পরিবেশ স্ত্রী-বীজের জন্য সবচেয়ে বেশি অনুকূল এবং ক্ষারীয় পরিবেশ পুরুষ-বীজের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত—যেমনটি ডক্টর হারিথ যাইদান বলেছেন।***
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(من أجلك وضع الجسد سلاحه)الجسم دولة متكاملة. له جيشه الذي يدافع عنه فإما أن ينتصر وإمّا أن ينتحر.والصديد الذي ينشأ في الجروح أحياناً هو جثث شهداء الواجب من كرات الدم البيضاء في معركة الدفاع عن الجسم.ويعجب علماء الطب لماذا لا يقتل الجسم الحيوان المنوي كما يقتل كل جسدغريب يدخل فيه؟أليس الحيوان المنوي جسماً غريباً؟ولكنها عناية الله التي تصحب الحيوان المنوي في رحلته الطويلة فلا يقتلهجسم المرأة.وإذا العناية لاحظت عيونها … نم فالمخاوف كلهن أمان.إن الله يرعاك وأنت جنين لا يستطيع أحد أن يوصل لك منفعة أو يدفع عنك ضراً.فهل تعلم ما عليك من واجب نحو دين الله إذا ما أصبحت خلقا آخر؟هذا إن كنت وفيًّا. وأرجو أن تكون كذلك مع الله.…هذا عطاء الله فما واجب الأم؟وعلى الأم أن تحافط على مجرى النطفة بالنظافة المعتدلة اليوميّة دون مبالغةأو تقصير. وأهم هذه المحافظة أن يبقى مجرى الولادة نظيفاً حتى يسهل للحيوان المنوي الوصول سريعاً وآمناً إلى الرحم.…يوصي الأطباء:يجب أن تحافظ على هذا المكان من إدخال أية مواد صلبة أو سائلة أو غريبةفى مجرى الولادة ومشاورة الطبيب المختص دائماً.**
(আপনার তরেই দেহ তার অস্ত্র সংবরণ করেছে)শরীর একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র। এর রয়েছে নিজস্ব বাহিনী যা একে রক্ষা করে; তারা হয় বিজয়ী হয়, অন্যথায় আত্মাহুতি দেয়।ক্ষতস্থানে মাঝে মাঝে যে পুঁজ সৃষ্টি হয়, তা মূলত শরীর রক্ষার যুদ্ধে শ্বেত রক্তকণিকারূপী কর্তব্যরত শহীদদের দেহাবশেষ।চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিস্ময় প্রকাশ করেন যে, শরীর কেন শুক্রাণুকে ধ্বংস করে না, যেখানে সে তার অভ্যন্তরে প্রবেশকারী প্রতিটি বহিরাগত বস্তুকে ধ্বংস করে থাকে?শুক্রাণু কি কোনো বহিরাগত বস্তু নয়?কিন্তু এটি আল্লাহরই বিশেষ অনুগ্রহ যা শুক্রাণুকে তার দীর্ঘ সফরে সঙ্গ দেয়, ফলে নারীর শরীর একে ধ্বংস করে না।আর যখন আল্লাহর বিশেষ কৃপা-দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় … তখন তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও, কারণ সকল ভয় তখন নিরাপত্তায় পর্যবসিত হয়।নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তখন রক্ষা করেন যখন তুমি মাতৃগর্ভে ভ্রূণ হিসেবে ছিলে, যখন তোমার কোনো উপকার করতে বা তোমার থেকে কোনো অপকার দূর করতে কেউ সক্ষম ছিল না।তুমি কি জানো আল্লাহর দ্বীনের প্রতি তোমার কী কর্তব্য রয়েছে, যখন তোমাকে একটি পূর্ণাঙ্গ মানবরূপে সৃষ্টি করা হয়েছে?এটি কেবল তখনই সার্থক হবে যদি তুমি বিশ্বস্ত হও। আর আমি আশা করি তুমি আল্লাহর প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত থাকবে।…এটি আল্লাহর দান, এমতাবস্থায় মায়ের কর্তব্য কী?মায়ের উচিত অতিশয্য বা অবহেলা না করে পরিমিত দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে বীর্য গমনের পথটিকে সুরক্ষিত রাখা।এই রক্ষণাবেক্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রসব পথকে পরিচ্ছন্ন রাখা, যাতে শুক্রাণু দ্রুত ও নিরাপদভাবে জরায়ুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।…চিকিৎসকরা পরামর্শ প্রদান করেন:প্রসব পথে যেকোনো কঠিন, তরল বা বহিরাগত বস্তু প্রবেশ করানো থেকে এই স্থানটিকে হেফাযত করতে হবে এবং সর্বদা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।**
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وبعدفسبحان من جعل الجسم يسمح للحيوان المنوي بالبقاء فلا يقتله. وسبحان من أودع السائل القلوي (بقدر) حتى يحافظ على رحلة الحيوان المنوي ليصل آمنا للقرار المكين. (للرحم).…(يا ربِّ ولدًا)عندما وهبت امرأة عمران ما في بطنها لخدمة بيت الله كانت تأمل أن يكونولداً. لأن خدمة البيت تحتاج للولد. واعتذرت لله في قولها (فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنْثَى) 36 آل عمران".ومعلوم أن الخالق يعلم ما وضعت، ولكنه التحسر على ما فاتها من تحقيقأملها في الولد. أما قوله تعالى: (وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ) (37 آل عمران) فمن كلام الله ومعناها التعظيم، فهو - سبحانه - أعلم بأي أنثى وضعت، فهي أنثى - عند الله - ليست كأحد من نساء العالمين. لقد اصطفاها الله وطهَّرها واصطفاها على نساء العالمين.. فهي طهر بين اصطفاءين. وما عرفنا هذا المقام لأي امرأة.هذه مريم عندنا. لا يكاد بيتٌ من بيوت المسلمين يخلو من هذا الاسم الحبيبتيمناً بها.فهل في بيت أحد من أتباع السيد المسيح اسم فاطمة. أو عائشة؟؟!!!واسم السيد المسيح عندنا كذلك. لقد نفعنا الله ببركة كل النبيين.يقول العلامة الطاهر ابن عاشور " إنَّ اللَّهَ أَعْلَمُ مِنْهَا بِنَفَاسَةِ مَا وَضَعَتْ، وَأَنَّهَا خَيْرٌ مِنْ مُطْلَقِ الذَّكَرِ الَّذِي سَأَلَتْهُ، فَالْكَلَامُ إِعْلَامٌ لِأَهْلِ الْقُرْآنِ بِتَغْلِيطِهَا، وَتَعْلِيمٌ بِأَنَّ مَنْ فَوَّضَ أَمْرَهُ إِلَى اللَّهِ لَا يَنْبَغِي أَنْ يَتَعَقَّبَ تَدْبِيرَهُ "فالولد هبة الله.والأنثى هبة الله.
অতঃপরমহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি শরীরকে শুক্রাণুর টিকে থাকার অনুকূল করেছেন যাতে তা একে বিনাশ না করে। এবং মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি (পরিমিতভাবে) ক্ষারীয় তরল গচ্ছিত রেখেছেন যাতে তা শুক্রাণুর যাত্রাপথ সুরক্ষিত রাখে এবং তা নিরাপদ আশ্রয়ে (জরায়ু) পৌঁছাতে পারে। (জরায়ু)।…(হে প্রতিপালক, একটি পুত্রসন্তান)যখন ইমরানের স্ত্রী তাঁর গর্ভস্থ সন্তানকে আল্লাহর ঘরের সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন, তখন তিনি আশা করেছিলেন যে সন্তানটি পুত্র হবে। কারণ উপাসনালয়ের সেবার জন্য পুত্রের প্রয়োজন ছিল। এবং তিনি আল্লাহর নিকট ওজর পেশ করে বলেছিলেন, "(অতঃপর যখন সে তাকে প্রসব করল, তখন সে বলল: হে আমার প্রতিপালক! আমি তো তাকে কন্যা হিসেবে প্রসব করেছি) [আলে ইমরান: ৩৬]"।আর এটি সুপরিজ্ঞাত যে, স্রষ্টা সম্যক অবগত তিনি কী প্রসব করেছেন, তবে এটি ছিল পুত্রসন্তান লাভের আশা পূর্ণ না হওয়ায় তাঁর আক্ষেপের বহিঃপ্রকাশ। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: "(আর আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত তিনি কী প্রসব করেছেন) (আলে ইমরান: ৩৭)" এটি আল্লাহর কালাম এবং এর অর্থ হলো সম্মান প্রদর্শন; তিনি—সুবহানাহু—অধিক অবগত যে তিনি কোন কন্যা প্রসব করেছেন। আল্লাহর নিকট সেই কন্যা বিশ্বজগতের সাধারণ নারীদের মতো নন। আল্লাহ তাকে মনোনীত করেছেন, পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বজগতের নারীদের ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।। তিনি দুই মনোনয়নের মধ্যবর্তী এক পবিত্রতা। আমরা অন্য কোনো নারীর ক্ষেত্রে এই উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে জানি না।আমাদের নিকট তিনি মারইয়াম। বরকতের আশায় মুসলিমদের এমন কোনো ঘর পাওয়া দুষ্কর যেখানে এই প্রিয় নামটি নেই।তবে মসীহ (আ.)-এর অনুসারীদের কারো ঘরে কি ফাতিমা বা আয়েশা নাম আছে??!!!আর মসীহ (আ.)-এর নাম আমাদের নিকটও তেমনি বরকতময়। আল্লাহ আমাদের সকল নবীর বরকত দ্বারা উপকৃত করেছেন।সুবিজ্ঞ (العلامة) তাহের ইবনে আশুর বলেন, "নিশ্চয়ই তিনি যা প্রসব করেছেন তার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর চেয়েও অধিক অবগত, এবং তিনি (সেই কন্যা) তাঁর প্রার্থিত সাধারণ পুত্রসন্তানের চেয়েও উত্তম। এই বাণীর উদ্দেশ্য হলো কুরআনওয়ালাদেরকে তাঁর ধারণার ভ্রান্তি সম্পর্কে জানানো এবং শিক্ষা দেওয়া যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর স্বীয় বিষয়াদি অর্পণ করে, আল্লাহর তকদিরের ওপর প্রশ্ন তোলা তাঁর শোভা পায় না।"সুতরাং পুত্রসন্তান আল্লাহর দান।আর কন্যাসন্তানও আল্লাহর দান।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والله سبحانه في مقام الهبة قدم الأنثى على الذكر (يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ) (49 الشورى). وهى الآية الوحيدة من عشرين آية جمعت الذكر والأنثى والتي قدم فيها القرآن الأنثى.فاقبل هبة الله. وتذكر أن أبناء فاطمة هم الذين حملوا شرف آل البيت إلى يوم الناس هذا. وهم الذين نصلي عليهم في كل صلاة.(مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ) (40 الأحزاب).يخطر لي أن بالآية الكريمة معجزتان يدركهما من يتذوّق لغة القرآن الكريم.* الأولى: أن الآية نزلت في السنة الخامسة من الهجرة، وقد عاش النبيصلى الله عليه وسلم بعدها خمس سنوات وهو زوج لتسع نساء. كان يمكن أن يملأن بيت النبي صلى الله عليه وسلم أطفالا يصبحوا بعد ذلك رجالاً وهذا يتعارض مع ظاهر الآية.فمن منعهن من الحمل، حتى سيدنا إبراهيم ابن النبي صلى الله عليه وسلم مات في حياته قبل أن يبلغ مبلغ الشباب.- والمعجزة الثانية: مر على نزول الآية أكثر من أربعة عشر قرناً ولم تثبتالنبوة لأحد بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم.وهذا ما أخبرت به الآية (وخَاتَمَ النَّبِيِّينَ)فسبحان من جعل القرآن معجزة للنبي صلى الله عليه وسلم.***
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হিবাহ বা দানের (هبة) ক্ষেত্রে নারীর উল্লেখকে পুরুষের আগে এনেছেন: "তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন" (সূরা আশ-শূরা: ৪৯)। বিশটি আয়াতের মধ্যে এটিই একমাত্র আয়াত যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়কে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেখানে পবিত্র কুরআন নারীকে আগে উপস্থাপন করেছে।অতএব, আল্লাহর দানকে গ্রহণ করুন। স্মরণ রাখবেন যে, ফাতিমার (রা.) সন্তানরাই বর্তমান সময় পর্যন্ত আহলে বাইতের মর্যাদা বহন করে আসছেন। তাঁরাই সেই ব্যক্তি যাঁদের ওপর আমরা প্রতিটি সালাতে দরুদ পাঠ করি।"মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী (خَاتَمَ النَّبِيِّينَ)" (সূরা আল-আহযাব: ৪০)।আমার নিকট মনে হয় যে, এই মহিমান্বিত আয়াতে দুটি মুজিজা (معجزة) নিহিত রয়েছে, যা পবিত্র কুরআনের ভাষার শৈল্পিকতা আস্বাদনকারীরা উপলব্ধি করতে পারবেন।* প্রথমটি হলো: আয়াতটি হিজরি পঞ্চম বর্ষে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং এর পরেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ বছর জীবিত ছিলেন। তখন তিনি নয়জন স্ত্রীর স্বামী ছিলেন। এমন হওয়া সম্ভব ছিল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘর শিশুদের দ্বারা পূর্ণ হয়ে উঠত যারা পরবর্তীতে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষে পরিণত হতো, কিন্তু এটি আয়াতের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থের পরিপন্থী হতো।সুতরাং কে তাঁদের গর্ভধারণ থেকে বিরত রেখেছিলেন? এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পুত্র আমাদের নেতা ইব্রাহিমও তাঁর জীবদ্দশায় যৌবনে পদার্পণের পূর্বেই ইন্তেকাল করেন।- এবং দ্বিতীয় মুজিজা (معجزة) হলো: আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পর চৌদ্দশ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরে আর কারো নবুওয়াত (نبوة) প্রমাণিত হয়নি।আর এটিই সেই সংবাদ যা এই আয়াতটি (শেষ নবী - خَاتَمَ النَّبِيِّينَ) প্রদান করেছে।অতএব সেই সত্তা অতি পবিত্র যিনি কুরআনকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য একটি মুজিজা (معجزة) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।***
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(النطفة الأمشاج: ما بال المسلمين قرأوها في الصلاة ولم يعلنوا سبق القرآن بها؟!!)يبدوا أن الأمة الإسلامية عاشت قروناً طوالا مشغولة بصراع الطوائفومحاولة رد كل جماعة على ما تدعيه الجماعات الأخرى فشغلها هذا الجدال عن السباق العلمي الذي كان يدور حولها.وهذه مرحلة من الضعف لا جدال في هذا ولا شك.وللقارئ الكريم بعض أبيات من الشعر للمرحوم أحمد شوقي تغني عنمحاضرة، يقول رحمه اللهذهب الكرام الجامعون لأمرهم … وبقيت في خلف بغير خلاقأيظل بعضهم لبعض خازلا … ويقال شعب في الحضارة راق؟وإذا أراد الله إشقاء القرى … جعل الهداة بها دعاة شقاقوهذا السلوك ابتليت به الأمة فغابت عن سبق قرآنها، والعالم من حولها يتسابق.…* قصة النطفة الأمشاجوالآن مع النطفة الأمشاج التى سبق القرآن بها قرونا طوالاً. إلى عام 1875وأوربا حائرة في أيهما أصل للإنسان الرجل أم المرأة.مدرسة (الأم العذراء) تزعم أن الجنين يتكون من المرأة، ولا دخل لنطفةالرجل إلا إثارة المرأة.والمدرسة الثانية تزعم أن الجنين يتكون من نطفة الرجل فقط، ودور الأم هوالغذاء فقط. ويتزعم هذه المدرسة العالم (سوامردام) واستمرّ الحال على هذا الجدل "(كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ) (32 الروم)وفى عام 1875 اكتشف العالم (هيرتويج) لأول مرة أن الفرخ يتكون منبيضة الدجاجة ونطفة الديك. ثم توالت الاكتشافات.
(মিশ্র শুক্রবিন্দু (النطفة الأمشاج): মুসলমানদের কী হলো যে তারা সালাতে এটি তিলাওয়াত করলেন অথচ কুরআনের মাধ্যমে এর বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করলেন না?!!)প্রতীয়মান হয় যে, মুসলিম উম্মাহ দীর্ঘ শতাব্দীকাল যাবত উপদলীয় সংঘাতে মগ্ন ছিলএবং প্রতিটি দল অন্য দলের দাবির খণ্ডন প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল; ফলে এই বিতর্ক তাদের চারপাশের বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র থেকে বিমুখ করে রেখেছিল।আর এটি ছিল দুর্বলতার (الضعف) এক পর্যায়, যে বিষয়ে কোনো বিতর্ক বা সন্দেহ নেই।সম্মানিত পাঠকের জন্য মরহুম আহমদ শাওকির কবিতার কিছু পংক্তি পেশ করছি যা দীর্ঘ আলোচনার বিকল্প হিসেবে কাজ করবে, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:সেই সব মহৎ ব্যক্তিরা গত হয়েছেন যারা নিজেদের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন … আর আমি রয়ে গেছি এমন এক উত্তরসূরিদের মধ্যে যাদের কোনো চারিত্রিক মাহাত্ম্য নেইতারা কি একে অপরকে অপদস্থ করতেই থাকবে … অথচ বলা হবে যে এটি একটি উন্নত সভ্য জাতি?আর আল্লাহ যখন কোনো জনপদকে দুর্ভাগ্যগ্রস্ত করতে চান … তখন সেখানকার পথপ্রদর্শকগণকেই বিবাদের আহ্বায়ক বানিয়ে দেনএই আচরণে উম্মাহ আক্রান্ত হয়েছিল, ফলে তারা তাদের কুরআনের অগ্রবর্তিতা সম্পর্কে গাফেল হয়ে পড়েছিল, অথচ বিশ্ব তাদের চারপাশে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।…* মিশ্র শুক্রবিন্দুর (النطفة الأمشاج) কাহিনীএবার সেই মিশ্র শুক্রবিন্দু (النطفة الأمشاج) প্রসঙ্গে আসা যাক, যার মাধ্যমে কুরআন দীর্ঘ শতাব্দী পূর্বে বৈজ্ঞানিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। ১৮৭৫ সাল পর্যন্তইউরোপ এই বিভ্রান্তিতে ছিল যে, মানুষের মূল উৎস কোনটি—পুরুষ নাকি নারী?'কুমারী মাতা' (Mother Virgin) মতবাদ দাবি করত যে, ভ্রূণ কেবল নারী থেকেই তৈরি হয় এবং পুরুষের শুক্রাণুরভূমিকা কেবল নারীকে উত্তেজিত করা ছাড়া আর কিছুই নয়।দ্বিতীয় মতবাদটি দাবি করত যে, ভ্রূণ কেবল পুরুষের শুক্রাণু থেকেই গঠিত হয় এবং মায়ের ভূমিকা কেবলপুষ্টি যোগানো। এই মতবাদের নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞানী 'সোয়ামারডাম' এবং এই বিতর্ক দীর্ঘকাল চলতে থাকে—"(প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে সন্তুষ্ট।)" (সূরা আর-রূম: ৩২)অবশেষে ১৮৭৫ সালে বিজ্ঞানী 'হার্টউইগ' প্রথমবারের মতো আবিষ্কার করেন যে, ছানা মূলতমুরগির ডিম ও মোরগের শুক্রাণুর সমন্বয়ে গঠিত হয়। এরপর একের পর এক নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কৃত হতে থাকে।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
1875 يكتشف العالم أن الإنسان يتكون من الذكر والأنثى. وقبل هذا بأكثر من ألف عام والقرآن يقول إن الإنسان خلق من نطفة أمشاج. والمسلمون منشغلون عن هذا السبق بخلاف أكثره كما يقول شيخنا محمد متولي الشعراوي: علم لا ينفع وجهل لا يضر.وما زالت بعض الأمة تشغل الناس بهذا الخلاف!!…*الأمشاج في لسان العربالمشج هو ما اختلط من حمرة وبياض، وقيل كل شيئين مختلطين والجمعأمشاج. ومشجت بينهما خلطت بينهما. والمشيج اختلاط ماء الرجل والمرأة. وفيالتنزيل: (إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ)هذا هو القرآن.سابق دائما لأنه يبدأ عندما ينتهي التخصص العلمي.والعلم الحديث يكشف بعض إعجاره العلمي. وعلى المسلمين أن يجدّوا فيبيانها للناس. وسبق أن تكلمت عن الرأي العلمي لموضوع النطفة الأمشاج، وأيهماتتدخَّل نطفته في تحديد الجنين في الفصل الأول من هذه الرسالة.وخلاصة القول الرجل هو السبب - بعد اختيار الله في موضوع الذكر والأنثى.فإذأ أراد الرجل أن يختار ما يريد فالنطفة مازالت فيه قبل أن ينقلها للزوجة - ولنيستطيع. وإذا كنت عاجزاً فسلِّم الأمر لمن اختارك وأنت حيوان منوي. ورزقك السبقفكنت الفائز الأول الذي لقَّح البويضة. (وارض بما قسم الله لك تكن أغنى الناس).عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يَأْخُذُ عَنِّي هَؤُلَاءِ الكَلِمَاتِ فَيَعْمَلُ بِهِنَّ أَوْ يُعَلِّمُ مَنْ يَعْمَلُ بِهِنَّ»؟ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقُلْتُ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَأَخَذَ بِيَدِي فَعَدَّ خَمْسًا وَقَالَ: «اتَّقِ المَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ، وَارْضَ بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَكَ تَكُنْ أَغْنَى النَّاسِ، وَأَحْسِنْ إِلَى جَارِكَ تَكُنْ مُؤْمِنًا، وَأَحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ تَكُنْ مُسْلِمًا، وَلَا تُكْثِرِ الضَّحِكَ، فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ القَلْبَ» (رواه أحمد والترمذي).
১৮৭৫ সালে বিশ্ব আবিষ্কার করে যে মানুষ নর ও নারী দ্বারা গঠিত। এর এক হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে কুরআন বলেছে যে মানুষ 'মিশ্রিত বীর্য' থেকে সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিমরা এই অগ্রগতির ব্যাপারে উদাসীন থেকে এমন সব মতবিরোধে লিপ্ত যার অধিকাংশই—যেমনটি আমাদের শায়খ মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লি আশ-শারাউই বলেছেন: "এমন জ্ঞান যা কোনো উপকারে আসে না এবং এমন অজ্ঞতা যা কোনো ক্ষতি করে না।"উম্মাহর একটি অংশ এখনও মানুষকে এই মতবিরোধ নিয়ে ব্যস্ত রাখছে!!…*লিসানুল আরবে 'আমাশাজ''মাশাজ' হলো লাল ও সাদার মিশ্রণ। বলা হয়ে থাকে যে, যে কোনো দুটি মিশ্রিত বস্তুকে 'মাশাজ' বলা হয় এবং এর বহুবচন হলো'আমাশাজ'। 'মাশাজতু বাইনাহুমা' অর্থ হলো আমি এই দুটির মধ্যে মিশ্রণ ঘটিয়েছি। আর 'মাশিজ' হলো পুরুষ ও নারীর বীর্যের সংমিশ্রণ। পবিত্রকুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্রিত বীর্য থেকে।"এটাই হলো কুরআন।এটি সর্বদা অগ্রগামী, কারণ যেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিসমাপ্তি ঘটে, সেখান থেকেই এর সূচনা হয়।আধুনিক বিজ্ঞান এর বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের কিছু অংশ উন্মোচন করছে। মুসলিমদের উচিত মানুষের কাছে এগুলোস্পষ্ট করার জন্য সচেষ্ট হওয়া। আমি ইতিপূর্বেই এই রিসালার প্রথম অধ্যায়ে মিশ্রিত বীর্য সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক মতামত এবংভ্রূণ নির্ধারণে কার বীর্য ভূমিকা রাখে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি।সারকথা হলো—নর ও নারী নির্ধারণের ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্বাচনের পর পুরুষই হলো মূল কারণ।যদি পুরুষ তার যা ইচ্ছা তা নির্বাচন করতে চাইত, তবে সেই বীর্য স্ত্রীর নিকট স্থানান্তরের পূর্বেই তার আয়ত্তে থাকত—অথচ সে তা করতেসক্ষম হবে না। যদি তুমি অপারগ হও, তবে সেই সত্তার কাছেই বিষয়টি সোপর্দ করো যিনি তোমাকে নির্বাচন করেছেন যখন তুমি ছিলে এক নগণ্য শুক্রাণু। তিনি তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেনবলেই তুমি প্রথম বিজয়ী হিসেবে ডিম্বাণুটিকে নিষিক্ত করতে পেরেছ। (আর আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তবেই তুমি হবে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধনী)।আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "কে আমার কাছ থেকে এই বাক্যগুলো গ্রহণ করবে এবং সেই অনুযায়ী আমল করবে অথবা যে আমল করবে তাকে শিক্ষা দেবে?" আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি।" অতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং পাঁচটি বিষয় গণনা করলেন। তিনি বললেন: "হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকো, তাহলে তুমি হবে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী। আল্লাহ তোমার জন্য যা বণ্টন করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তাহলে তুমি হবে সবচেয়ে ধনী। প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করো, তবেই তুমি মুমিন হতে পারবে। নিজের জন্য যা পছন্দ করো অন্যের জন্য তাই পছন্দ করো, তবেই তুমি মুসলিম হতে পারবে। আর অধিক হাসাহাসি করো না, কারণ অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মৃত করে দেয়।" (আহমাদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২০)
إنَّ حبَّ الدنيا يجعل المريض به كمن يشرب ماء البحر، لا يزيده الشرب إلا ظمأ حتى يموت. وقد سماه القرآن في سورةالواقعة شرب الهيم (فَشَارِبُونَ شُرْبَ الْهِيمِ) والهيم مرض يصيب الجمليجعله يشرب حتى يموت.* القارئ الكريم. السعادة في الرضا. والذكر والأنثى هبة من الله. وآخركلمات العلم أن نطفة الرجل هى التي تحدّد نوع الجنين - كما قلت لك - ومعجزة القرآنالعلمية أنه قال هذا قبل 1400 عام. (أَلَمْ يَكُ نُطْفَةً مِنْ مَنِيٍّ يُمْنَى (37) ثُمَّ كَانَ عَلَقَةً فَخَلَقَ فَسَوَّى (38) فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى (39) أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى (40).تذكر أيها القارئ الكريم (فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى). مرة ثانية. فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى. أودُّ أن أكتبكلمة (فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَيْنِ) ألف مرة وكلمة (منه) بالذات أي من الرجل لأقول للذينيكتبون على الإنترنت ما يحاولون به تشكيك المسلم في نزول القرآن إن كلمة (فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى) تفرض أحد احتمالين:1 - إما أن يكون محمد هو المكتشف الأول لقانون ( Y) أو ( X) فقل (منه).2 - وإما أن يكون الذي خلقها هو الذي أخبر محمداً. ولا ثالث للاحتمالات.أشهد أن هذا القرآن من عند الله.
বস্তুত দুনিয়ার প্রতি মোহ এতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এমন এক ব্যক্তির ন্যায় করে দেয় যে সমুদ্রের পানি পান করে; পান করা তার তৃষ্ণাকে কেবল বৃদ্ধিই করে যতক্ষণ না সে মৃত্যুবরণ করে। আর কুরআন একে সূরাআল-ওয়াকিয়াতে 'হিম' এর পান করা (অতঃপর তোমরা পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের ন্যায়) বলে অভিহিত করেছে। আর 'হিম' হলো উটের একটি রোগযা তাকে মৃত্যু পর্যন্ত পান করতে বাধ্য করে।* হে সম্মানিত পাঠক! সুখ নিহিত রয়েছে সন্তুষ্টির মাঝে। আর পুত্র ও কন্যা উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে দান। বিজ্ঞানের সর্বশেষকথা হলো পুরুষের বীর্যবিন্দুই ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করে—যেমনটি আমি আপনাকে বলেছি—এবং কুরআনের বৈজ্ঞানিকঅলৌকিকত্ব হলো এটি ১৪০০ বছর আগেই এ কথা বলেছে। (সে কি স্খলিত বীর্যবিন্দু ছিল না? (৩৭) অতঃপর সে ছিল রক্তপিণ্ড, তারপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন (৩৮) অতঃপর তিনি তা থেকে জোড়ায় জোড়ায় নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন (৩৯) সেই সত্তা কি মৃতদের জীবিত করতে সক্ষম নন? (৪০)।হে সম্মানিত পাঠক, স্মরণ করুন (অতঃপর তিনি তা থেকে জোড়ায় জোড়ায় নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন)। আবারও বলছি—অতঃপর তিনি তা থেকে জোড়ায় জোড়ায় নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন। আমার ইচ্ছা হয় যে আমি লিখিবাক্যটি (অতঃপর তিনি তা থেকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন) হাজার বার এবং বিশেষ করে 'তা থেকে' অর্থাৎ পুরুষ থেকে—এই শব্দটি; যাতে আমি তাদের বলতে পারি যারাইন্টারনেটে এমন সব বিষয় লিখে থাকে যার মাধ্যমে তারা মুসলমানদের মনে কুরআন অবতীর্ণ হওয়া নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। নিশ্চয়ই 'অতঃপর তিনি তা থেকে জোড়ায় জোড়ায় নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন'—এই বাণীটি দুটি সম্ভাবনার একটিকে অবধারিত করে:1 - হয় মুহাম্মদ নিজেই 'X' বা 'Y' ক্রোমোজোম সূত্রের প্রথম আবিষ্কারক ছিলেন, তাই তিনি 'তা থেকে' (অর্থাৎ পুরুষ থেকে) বলেছেন।2 - অথবা যিনি তা সৃষ্টি করেছেন তিনিই মুহাম্মদকে এ সংবাদ দিয়েছেন। এছাড়া তৃতীয় কোনো সম্ভাবনা নেই।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২১)
الحقوق التي أعطاها الإسلام للجنين (دراسة مقارنة)
ইসলাম প্রদত্ত ভ্রূণের অধিকারসমূহ (একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা)
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحقوق التي أعطاها الإسلام للجنينأولا: ثبوت النسبالنسب يرفع الإنسان ويشرف قدره. وما رأيت إنسانا وسرَّك لقاؤه إلا وسألتابن من؟وهو شرف متبادل فقد يرفع الواحد شرف قبيلة كاملة - كما علت برسول الله صلى الله عليه وسلمكل الدنيا. اهتم الفقه الإسلامي بالنسب، وجعله حقا للمولود (وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ)فالأب مولود له (ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ)(إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ) ومع اتفاق الأئمة في ضرورة ثبوت النسبفقد احتلفوا في الأب إذا لم يثت لقاؤه بالأم مدة الحمل.يرى الأحناف ثبوت النسب للجنين ولو كان الأب في أقصى المشرق والأم فيأقصى المغرب وعجزت الأم عن إثبات حضوره إليها. يثبت النسب. ولا يثبت الميراث.وسوف أناقش هذا الموضوع في حديثي عن الحمل من نطفة زوجها بعد موته.أعني أنها احتفظت بالنطفة قبل موته بطريقة علمية وانتفعت بها بعد موته.والعلم يؤيد هذا ويفعله أحيانا.…ثانيا: للجنين النصيب الأعلى من الميراث.وهو جنين يحتمل أن يكون ولداً فيرث ميراث الولد ويعصب النساء ويحتملأن يكون أنثى؟هل سيتم تكوينه أم سينزل سقطاً؟بل من حق أحدهم أن يسال: هل هناك حمل أم مجرد وهْم؟يحكم الإسلام دائما لصالح الجنين فنعتبرها حاملاً. ونعتبره ولداً.وإذا كان الظن أنه واحد أو توأم نعتبره توأما.
ইসলাম ভ্রূণকে যেসব অধিকার প্রদান করেছে।প্রথমত: বংশপরিচয় সাব্যস্ত হওয়াবংশপরিচয় মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং তার সম্মানকে মহিমান্বিত করে। এমন কোনো মানুষ নেই যার সাথে সাক্ষাৎ করে আপনি আনন্দিত হয়েছেন অথচ তার বংশপরিচয় বা ‘সে কার সন্তান’ তা জিজ্ঞাসা করেননি।এটি একটি পারস্পরিক মর্যাদা; কেননা একজন ব্যক্তি কোনো পূর্ণ গোত্রের সম্মানকে উচ্চশিখরে নিয়ে যেতে পারে—যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবী উচ্চমর্যাদা লাভ করেছে। ইসলামী ফিকহ বংশপরিচয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং একে নবজাতকের একটি অধিকার হিসেবে সাব্যস্ত করেছে (আর যার সন্তান জন্ম হয়েছে তার ওপর কর্তব্য হলো মায়েদের অন্ন-বস্ত্রের ব্যবস্থা করা)।সুতরাং পিতা হলেন তিনিই যার সন্তান জন্ম হয় (তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, আল্লাহর নিকট এটিই অধিক ন্যায়সঙ্গত)।(তাদের মা তো কেবল তারাই যারা তাদেরকে জন্ম দিয়েছে)। বংশপরিচয় সাব্যস্ত হওয়ার আবশ্যকতা বিষয়ে ইমামগণের ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও...গর্ভকালীন সময়ে যদি মায়ের সাথে পিতার সাক্ষাতের বিষয়টি প্রমাণিত না হয়, তবে সেই পিতার ক্ষেত্রে তাঁরা মতভেদ করেছেন।হানাফীগণের মতে, ভ্রূণের বংশপরিচয় সাব্যস্ত হবে—এমনকি যদি পিতা সুদূর প্রাচ্যে এবং মাতা সুদূর প্রতীচ্যে অবস্থান করেন এবং মাতা তার (পিতার) সেখানে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করতে অক্ষম হন তবুও। এক্ষেত্রে বংশপরিচয় সাব্যস্ত হবে, তবে উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হবে না।স্বামীর মৃত্যুর পর তার বীর্য থেকে গর্ভধারণের বিষয়ে আলোচনার সময় আমি এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।এর অর্থ হলো, স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুর পূর্বে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বীর্য সংরক্ষণ করে রেখেছিল এবং তার মৃত্যুর পর সেটি ব্যবহার করেছে।বিজ্ঞান একে সমর্থন করে এবং কখনও কখনও এটি প্রয়োগ করা হয়।...দ্বিতীয়ত: ভ্রূণের জন্য উত্তরাধিকারের সর্বোচ্চ অংশ বরাদ্দ রাখা。গর্ভস্থ ভ্রূণটি পুত্র সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেক্ষেত্রে সে পুত্রের ন্যায় উত্তরাধিকার লাভ করবে এবং অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে অন্যদের অংশকেও প্রভাবিত করবে; আবার এটি কন্যা সন্তান হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।তার কি পূর্ণ গঠন সম্পন্ন হবে নাকি সে অকালজাত বা মৃত হিসেবে ভূমিষ্ঠ হবে?এমনকি কারো মনে এই প্রশ্ন জাগাও স্বাভাবিক যে, গর্ভে কি প্রকৃতপক্ষে সন্তান আছে নাকি এটি স্রেফ একটি ধারণা বা ভ্রম?ইসলাম সর্বদা ভ্রূণের অনুকূলে ফয়সালা দেয়, তাই আমরা তাকে গর্ভবতী হিসেবে গণ্য করি এবং ভ্রূণটিকে পুত্র সন্তান হিসেবে বিবেচনা করি।আর যদি একটি সন্তান নাকি যমজ—এ নিয়ে সংশয় থাকে, তবে আমরা তাকে যমজ হিসেবেই গণ্য করি।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يأخذ النصيب الأعلى دائما من باب الاحتياط. وإن غداً لناظره قريب. وقدشرح الدكتور مفتاح أقزيط أن في بعض المسائل يكون الجنين غير وارث ولكن الدكتورأكد الاحتمال الثاني الذي يجعله وارثا من باب الاحتياط.من ذلك يموت الميت ويترك ابن أخ شقيق وزوجة أخ شقيق حامل. لوفرضنا الحمل ولداً يعتبر ابن أخ شَقيق. وفى هذه الحالة يرث.ولو فرضنا الجنين أنثى كانت بنت أخ شقيق فهي لا ترت لأنها من ذويالأرحام. وبعض المذاهب لا تورّث ذوي الأرحام.وذكر الدكتور مفتاح محمد أقزيط مجموعة مسائل من هذا الطراز في كتابه(الحماية القانونية للجنين ص: 118). وكما احتاط الإسلام للجنين ووضحه في نصابالوارث دائما حتى تتمّ الولادة فقد أجمع العلماء - في حدود ما أعلم - على ثبوت الوصية له كالميراث.فيجوز للجنين أن يرث عرش دولة كاملة. كذلك تجوز له الوصية. والوصيهَكالميراث، بل هى في القرآن مقدمة على الميراث في آيات سورة النساء.إن الوصية مقدمة على الميراث فاختلاف الدِّين يمنع من الميراث ولا يمنع منالوصية. وتقبل الوصية للجنين من أول أيام الحمل. ودليل ذلك أن يولد الجنين لأقل من ستة أشهر وأن يولد حيا.وتقاس الهبة على الوصية. ويقبلها الوصي على الجنين فإن ولد حيًّا فهي للمولود.وإن ولد حيًّا ثم مات فهي لورثته كميراثه تمامًا. وإن ولد ميِّتًا فهي لمن وهبها.(الوسيط في شرح القانون المدني. ج 5 ص: 4).ومعلوم في موضوع الوصية للجنين أنها مقبولة كما قلت إلا أن تكون باطلةلسبب آخر كأن يكون الجنين وارثا لمن أوصى له. لأن الله قد أعطى كل ذي حق حقهفلا وصية لوارث. وذلك عند من يمنع الجمع يين الميراث والوصية وهم الجمهور.
সতর্কতামূলক (احتياط) ব্যবস্থা হিসেবে সে সর্বদা সর্বোচ্চ অংশটি গ্রহণ করে। আর অনাগত সময় অপেক্ষমাণ ব্যক্তির জন্য অতি নিকটে। এবংডক্টর মিফতাহ আকজিত ব্যাখ্যা করেছেন যে, কিছু মাসআলায় ভ্রূণ উত্তরাধিকারী হয় না, কিন্তু ডক্টরদ্বিতীয় সম্ভাবনাটিকে নিশ্চিত করেছেন যা সতর্কতামূলক (احتياط) ব্যবস্থা হিসেবে তাকে উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত করে।এর একটি উদাহরণ হলো, কোনো ব্যক্তি মারা গেলেন এবং তিনি এক আপন ভাতিজা ও আপন ভাইয়ের এক গর্ভবতী স্ত্রী রেখে গেলেন। যদিআমরা গর্ভস্থ সন্তানকে পুত্র ধরে নিই, তবে সে আপন ভাতিজা হিসেবে গণ্য হবে। আর এই অবস্থায় সে উত্তরাধিকার লাভ করবে।আর যদি আমরা ভ্রূণটিকে কন্যা ধরে নিই, তবে সে হবে আপন ভাতিজি, ফলে সে উত্তরাধিকার লাভ করবে না; কারণ সে জাবিল আরহাম (ذوي الأرحام)-দের অন্তর্ভুক্ত। এবংকিছু মাজহাব জাবিল আরহাম (ذوي الأرحাম)-দের উত্তরাধিকার প্রদান করে না।ডক্টর মিফতাহ মুহাম্মদ আকজিত তার (আল-হিমায়াতুল কানুনিয়্যাহ লিল-জানিন, পৃষ্ঠা: ১১৮) গ্রন্থে এই ধরনের একগুচ্ছ মাসআলা উল্লেখ করেছেন। ইসলাম যেভাবে ভ্রূণের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবং জন্ম সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সর্বদা উত্তরাধিকারীর অংশে তা স্পষ্ট করেছে, তেমনিভাবে আলেমগণ—আমার জানামতে—উত্তরাধিকারের মতো তার অনুকূলে ওসিয়ত (وصية) সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছেছেন।সুতরাং ভ্রূণের পক্ষে একটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের সিংহাসন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বৈধ। একইভাবে তার জন্য ওসিয়ত (وصية)-ও বৈধ। আর ওসিয়ত (وصية)উত্তরাধিকারের মতোই, বরং সূরা নিসার আয়াতসমূহে একে উত্তরাধিকারের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।নিশ্চয়ই ওসিয়ত (وصية) উত্তরাধিকারের পূর্বে পালনীয়, কেননা ধর্মের ভিন্নতা মিরাসে বাধা দিলেও ওসিয়ত (وصية) লাভে বাধা দেয় না। আর গর্ভধারণের প্রথম দিন থেকেই ভ্রূণের অনুকূলে ওসিয়ত (وصية) গ্রহণ করা যায়। এর প্রমাণ হলো ভ্রূণটি ছয় মাসের কম সময়ের মধ্যে জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হওয়া।হেবা (هبة)-কে ওসিয়তের (وصية) ওপর কিয়াস (قياس) করা হয়। ভ্রূণের অভিভাবক তা গ্রহণ করবেন, অতঃপর যদি সে জীবিত ভূমিষ্ঠ হয় তবে তা নবজাতকের হবে।আর যদি সে জীবিত ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মারা যায়, তবে তা হুবহু তার মিরাসের মতোই তার ওয়ারিশদের প্রাপ্য হবে। আর যদি সে মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়, তবে তা দাতার হবে।(আল-ওয়াসিত ফি শারহিল কানুনিল মাদানি, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা: ৪)।ভ্রূণের ওসিয়তের (وصية) বিষয়ে এটি সুবিদিত যে, আমি যা বলেছি সে অনুযায়ী তা গ্রহণযোগ্য, যদি না অন্য কোনো কারণে তা বাতিল (باطل)হয়ে যায়; যেমন ভ্রূণটি ওসিয়তকারীর উত্তরাধিকারী হওয়া। কারণ আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক অধিকারীকে তার অধিকার প্রদান করেছেন,তাই উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো ওসিয়ত (وصية) নেই। আর এটি তাদের অভিমত যারা মিরাস ও ওসিয়ত একত্রে প্রদান করাকে নিষিদ্ধ করেন এবং তারা হলেন জমহুর (جمهور) ওলামায়ে কেরাম।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هل على الجنين نفقات تخصم من ماله؟قد يكون الجنين وارثا لأموال كثيرة وله أم فقيرة أو أخ فقير. فهل تلزمه نفقةأهله الفقراء سدًّا لحاجتهم،الحنابلة يقولون نعم. وغيرهم من الأئمة الأربعة يقولون لا.(الفقه الإسلامي وأدلته للدكتور وهبه الزحيلي جـ 4 ص: 119).…الحمل من نطفة الزوج بعد موتهليس من باب الخيال العلمي ولا من باب شعل وقت الفقهاء بعد أن بينوا أحكامالله في كل شيء. ولكنها مسألة حدثت ورفعت للقصاء، وتناولتها الصحف في مصربألسنةٍ حدادٍ وكانت الشيوعية أيامها على الأبواب، واستغلت الصحف قول أحد المحامينلعل عفريتا حمل الزوح من أوربا إلى مصر فحملت زوجته منه حملا شرعيا ثم أعادهمن غير توقيع ضابط المطار على جواز سفره.كان الأمر كما يقول المثل المصري "حزينة واشتهت مصيبة لتشبع فيها لطماعلى الخدود، وشقًّا للثياب". هذا ما أرادته الجريدة التي نشرت الخبر - يومها.وقريب من مسألة العفريت - مع اختلاف في القصد ما قاله ابن الكمال - من علماء الأحناف قال.بجواز أن يكون الزوج من أهل الكرامات من الأولياء. والعرش قد انتقللسيدنا سليمان. والكرامة شقيقة المعجزة. ولكن هذا الصنف من الأولياء لا يتصورمنهم أن يطوي الله لهم الأرض فينام مع زوجته وبعد أن تحمل ينكر حملها منه، ويرفع الأمر للقضاء. كان هذا في حوالي 1963.وعادت القضية للبحث مرة ثالية بحادثة جديدة. وقد تغير الحال في مصر -والحمد لله وناقشتها جريدة (عقيدتي) بأدب كبير، وعلماء كرام.
ভ্রূণের (الجنين) সম্পদের ওপর কি এমন কোনো ভরণপোষণ (النفقة) প্রযোজ্য যা তার সম্পদ থেকে কর্তন করা হবে? এমন হতে পারে যে, কোনো ভ্রূণ (الجنين) বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকারী (الوارث), অথচ তার মা দরিদ্র অথবা তার ভাই দরিদ্র। এমতাবস্থায় তাদের অভাব মোচনের জন্য কি তার ওপর তার দরিদ্র পরিজনদের ভরণপোষণ (النفقة) প্রদান করা আবশ্যক (الواجب) হবে? হাম্বলি (الحنابلة) আলেমগণ বলেন—হ্যাঁ। তবে চার ইমামের মধ্যে বাকি অন্যান্যগণ বলেন—না। (ডক্টর ওয়াহবাহ আল-জুহাইলি রচিত আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা: ১১৯)। ... স্বামীর মৃত্যুর পর তার বীর্য (النطفة) থেকে গর্ভধারণ (الحمل) এটি কোনো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নয় এবং ফকিহগণ (الفقهاء) প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর বিধান (الأحكام) বর্ণনা করার পর এটি তাদের অবসর সময় কাটানোর কোনো বিষয়ও নয়। বরং এটি এমন একটি মাসয়ালা (المسألة) যা বাস্তবে ঘটেছে এবং বিচার ব্যবস্থার (القضاء) শরণাপন্ন হতে হয়েছে। সেই সময়ে মিশরের সংবাদপত্রগুলো অত্যন্ত কটু ভাষায় (بألسنة حداد) বিষয়টি নিয়ে মেতে উঠেছিল। সে সময় সাম্যবাদ (الشيوعية) একদম দ্বারপ্রান্তে ছিল। সংবাদপত্রগুলো একজন আইনজীবীর বক্তব্যকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছিল, যিনি বলেছিলেন: সম্ভবত কোনো জ্বিন (عفريت) স্বামীকে ইউরোপ থেকে মিশরে নিয়ে এসেছিল, ফলে তার স্ত্রী তার মাধ্যমে বৈধ (الشرعي) পন্থায় গর্ভবতী হয়েছে এবং এরপর সে তাকে আবার ফিরিয়ে দিয়ে গেছে— পাসপোর্টে (جواز السفر) বিমানবন্দরের কর্মকর্তার কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই। বিষয়টি ছিল ঠিক মিশরীয় প্রবাদের মতো— "শোকাতুরা নারী বুক চাপড়ে বিলাপ করার জন্য একটি মুসিবতের আশায় ছিল।" খবরটি প্রকাশকারী তৎকালীন পত্রিকাটি ঠিক এমনটিই চেয়েছিল। উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও এই 'জ্বিন' (عفريت) সংক্রান্ত মাসয়ালার কাছাকাছি একটি কথা হানাফি (الأحناف) আলেমদের মধ্য থেকে ইবনুল কামাল বলেছেন। তিনি একে বৈধ (الجواز) বলে মত দিয়েছেন যে, স্বামী যদি আউলিয়াদের (الأولياء) অন্তর্ভুক্ত কোনো কারামত (الكرامات) প্রাপ্ত ব্যক্তি হন। সিংহাসন তো হযরত সুলাইমান (আ)-এর জন্য স্থানান্তরিত হয়েছিল। আর কারামত (الكرامة) হলো মুজিজার (المعجزة) অনুরূপ। তবে এ স্তরের আউলিয়াদের (الأولياء) ক্ষেত্রে এমনটি কল্পনা করা যায় না যে, আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য ভূমি সংকুচিত (طي الأرض) করে দেবেন এবং তিনি তার স্ত্রীর সাথে রাত্রিযাপন করবেন, আর স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর তিনি তা অস্বীকার করবেন এবং বিষয়টি বিচার ব্যবস্থার (القضاء) শরণাপন্ন হতে হবে। এটি ১৯৬৩ সালের ঘটনা। একটি নতুন ঘটনার মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য সামনে আসে। আলহামদুলিল্লাহ, ততদিনে মিশরের পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে— এবং 'আকিদাতি' পত্রিকা অত্যন্ত শিষ্টাচারের সাথে বিজ্ঞ আলেমদের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
امرأة ترفع الأمر للقضاء تطالب بإثبات نسب ولدها الذي حملت به من نطفةحصلت عليها من زوجها قبل موته، وتم تلقيحها بهذه النطفة بعد موت الزوج. فالنطفةأخذتها من زوجها أثناء قيام الزوجية. كان الزوج حيا بدليل حياة النطفة واستعملتها بعدموته. وكان رأي المؤيدّين لطلبها الذين يثبتون نسب الطفل.أولاً: أن التلقيح الصناعي المقبول شرعا لابد أن يتم بين نطفة رجل وبويضة امرأةبينهما عقد زواج قائم.ثانيا: التيقن من عدم اختلاط النطفة في المعمل بنطفة أخرى - على قدر الطاقة.ثالثا: عدم كشف عورة المرأة إلا للضرورة بهذه الشروط يثبت النسب والميراث لكلمن الطفل والأب والأم. (الحماية القانونية للجنين د/ مفتاح أقزيط ص: 84).قلت في رسالتي "الجنس ضرورة وضرر".الصورة العلمية لهذا الحمل أن المرأة استطاعت أن تحصل على نطفة زوجهاقبل موته. واحتفظت بالنطفة بوسيلة علمية ضمنت حياة الحيوانات المنوية التياستخدمتها بعد موت الزوج.لو صحَّ هذا الفهم فاستخدام النطفة بعد نهاية الأجل وموت الزوج يثبت بهنسب المولود عند الأحناف. لحرص الإمام الأعظم على صحة نسب المولود ولو تمالحمل لامرأة في أقصى المشرق على رجل في أقصى المغرب، ولم تستطع المرأة أنتثبت حضور الزوج إليها، وحصول الحمل منه. وعلل ابن الكمال وجهة نظر الإمامبما يمكن أن يحدث من كرامات الأولياء.والأقرب كما قلت أن الإمام حريص على ثبوت نسب الولد لحاجته إلى النسب، (ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ) وقول الرسول صلى الله عليه وسلم: الولد للفراش " ولا يثبت بهذا الحمل ميراث لأن الميراث فيه حقوق للناس فلا يثبتلجنين إلا إذا ثبت حدوث الحمل في الحياة الزوجية. بأن تضعه الأم في مدّة الحمل
একজন নারী আদালতের কাছে তার সন্তানের বংশপরিচয় (نسب) প্রমাণের দাবি উত্থাপন করেন, যার গর্ভধারণ হয়েছে তার স্বামীর শুক্রাণু (نطفة) থেকে।তিনি এই শুক্রাণু (نطفة) স্বামীর মৃত্যুর পূর্বে সংগ্রহ করেছিলেন এবং স্বামীর মৃত্যুর পর এই শুক্রাণু (نطفة) দ্বারা গর্ভধারণ সম্পন্ন হয়। শুক্রাণুটি (نطفة)তিনি দাম্পত্য সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালীন অবস্থায় তার স্বামীর কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন। শুক্রাণু (نطفة) জীবিত থাকার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে স্বামী তখন জীবিত ছিলেন এবং মৃত্যুর পর সেটি ব্যবহার করা হয়েছে। যারা এই নারীর দাবির স্বপক্ষে মত প্রদান করেন এবং শিশুর বংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্ত করেন, তাদের যুক্তিগুলো হলো:প্রথমত: শরয়ি (شرعًا) ভাবে গ্রহণযোগ্য কৃত্রিম গর্ভধারণের জন্য অবশ্যই পুরুষের শুক্রাণু (نطفة) ও নারীর ডিম্বাণুর মধ্যে মিলন হতে হবে,যাদের মধ্যে বৈধ বিবাহ বন্ধন বিদ্যমান রয়েছে।দ্বিতীয়ত: সাধ্যানুযায়ী এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যে, গবেষণাগারে উক্ত শুক্রাণু (نطفة) যেন অন্য কোনো শুক্রাণুর সাথে মিশ্রিত না হয়।তৃতীয়ত: একান্ত প্রয়োজন (ضرورة) ব্যতীত নারীর সতর (عورة) উন্মোচন না করা। এই শর্তগুলো সাপেক্ষে শিশু, পিতা ও মাতা প্রত্যেকের জন্য বংশপরিচয় (نسب) ও উত্তরাধিকার (ميراث) সাব্যস্ত হবে। (আল-হিমায়াহ আল-কানুনিয়াহ লিল-জানিন, ড. মিফতাহ আকজীত, পৃষ্ঠা: ৮৪)।আমি আমার গবেষণাপত্র "আল-জিনসু দারুরাতুন ওয়া দারারুন"-এ বলেছি:এই গর্ভধারণের বৈজ্ঞানিক চিত্রটি হলো, নারী তার স্বামীর মৃত্যুর আগেই তার শুক্রাণু (نطفة) সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।তিনি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেই শুক্রাণু সংরক্ষণ করেছিলেন যা শুক্রাণুর (نطفة) জীবনীশক্তি নিশ্চিত করেছিল এবং স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তা ব্যবহার করেন।যদি এই ব্যাখ্যা সঠিক হয়, তবে হানাফি মাযহাবের ফকিহদের মতে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর এবং স্বামীর মৃত্যুর পর শুক্রাণু (نطفة) ব্যবহারের মাধ্যমে নবজাতকের বংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্ত হবে। কেননা ইমাম আজম নবজাতকের বংশপরিচয় (نسب) সঠিক রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, এমনকি যদি সুদূর প্রাচ্যের কোনো নারীর গর্ভধারণ সুদূর প্রতীচ্যের কোনো পুরুষের মাধ্যমে ঘটে এবং নারী যদি স্বামীর তার কাছে আসার বিষয়টিপ্রমাণ করতে সক্ষম না-ও হয়, তবুও তিনি বংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্ত করার পক্ষে ছিলেন। ইবনে কামাল ইমামের এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণ হিসেবে আউলিয়ায়ে কেরামের কারামত (كرامات) এর মাধ্যমে যা ঘটা সম্ভব, তার কথা উল্লেখ করেছেন।আর অধিকতর যুক্তিযুক্ত কথা হলো, যা আমি বলেছি, ইমাম নবজাতকের বংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্ত করার ব্যাপারে খুবই সচেষ্ট ছিলেন কারণ সন্তানের বংশপরিচয়ের (نسب) বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।আল্লাহ তাআলা বলেন: (তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, এটি আল্লাহর নিকট অধিক ন্যায়সঙ্গত)। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী:"সন্তান শয্যা অধিকারীর" (الولد للفراش)। তবে এই গর্ভধারণের মাধ্যমে উত্তরাধিকার (ميراث) সাব্যস্ত হবে না, কারণ উত্তরাধিকারের (ميراث) ক্ষেত্রে অন্যান্য মানুষের অধিকার জড়িত থাকে। তাই ভ্রূণের জন্য উত্তরাধিকার (ميراث) ততক্ষণ সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না বৈবাহিক জীবন বিদ্যমান থাকাকালীন গর্ভধারণ হওয়া প্রমাণিত হয়। আর তার প্রমাণ হলো মা যেন স্বাভাবিক গর্ভধারণের মেয়াদের মধ্যেই সন্তান প্রসব করে।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الشرعي. وناقشث في رسالة "لجنس ضرورة وضرر " ما توهمه بعض العلماءوناقشت ادعاءه أن الحمل قد يستمر عدة سنوات، وقلت هذه دعوى تحتاح إلى دليليثبتها. أو مشاهدة تؤكدها.وبعد: إنَّ دعوى الحمل من نطفة زوج ميت تثبت النسب للمولود حفاظا عليه، ولا تثبت الميراث إغلاقا لهذا الباب من المزاعم والادعاءات وحفظا لحقوق الورثة.وقد راجعت القوانين الشرعية فيما تيسر لي لبعض البلاد العربية.القانون العراقيالنسب يثبت إذا كان اللقاء ممكنا. (المادة 51 من القانون العراقي للأحوالالقانون المصري(مادة 15) تشترط إمكان التلاقي، فإذا لم يثبت التلاقي فثبوت النسب متوقف على إقرار الزوج في حياته وموافقة الورثة في موته.الطب الشرعي في مصر يحدد أطول الحمل قرّر الطب الشرعي في مصر أن أطول مدّة للحمل هي سنة شمسية 365 يوما وبه أخذ القانون السوري.فلا تسمع دعوى ثبوت نسب بعد عام وفاة الزوج.
শরিয়াহ সম্মত। এবং আমি আমার "লি-জিনস দরুরা ওয়া দরার" (প্রয়োজনীয়তা ও ক্ষতির প্রকৃতি) শীর্ষক গবেষণাপত্রে কিছু আলিমের ভুল ধারণার বিষয়ে আলোচনা করেছিএবং আমি তাদের এই দাবির বিষয়ে আলোচনা করেছি যে গর্ভধারণ কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। আমি বলেছি যে, এই দাবির সপক্ষে প্রমাণের (دليل) প্রয়োজনযা একে সাব্যস্ত করবে অথবা এমন কোনো পর্যবেক্ষণ যা একে নিশ্চিত করবে।অতঃপর: মৃত স্বামীর শুক্রাণু থেকে গর্ভধারণের দাবি নবজাতকের সুরক্ষার্থে তার বংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্ত করেতবে এ ধরনের অমূলক দাবি ও অযুহাতের পথ রুদ্ধ করতে এবং উত্তরাধিকারীদের অধিকার রক্ষার্থে তা উত্তরাধিকার (ميراث) সাব্যস্ত করে না।আমি কিছু আরব দেশের শরিয়াহ আইনসমূহ যতটুকু আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে পর্যালোচনা করেছি।ইরাকি আইনবংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্ত হবে যদি উভয়ের সাক্ষাৎ সম্ভব হয়। (ইরাকি ব্যক্তিগত আইন বা 'আহওয়াল'-এর ৫১ নম্বর ধারা থেকে)মিশরীয় আইন(১৫ নম্বর ধারা) এতে সাক্ষাতের সম্ভাবনাকে শর্ত করা হয়েছে। যদি সাক্ষাৎ সাব্যস্ত না হয়, তবে বংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্ত হওয়া স্বামীর জীবদ্দশায় তার স্বীকৃতির (إقرار) ওপর এবং মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল।মিশরের ফরেনসিক মেডিসিন গর্ভধারণের সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। মিশরের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে যে, গর্ভধারণের সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো এক সৌর বছর বা ৩৬৫ দিন এবং সিরীয় আইনও এটিই গ্রহণ করেছে।সুতরাং স্বামীর মৃত্যুর এক বছর পর বংশপরিচয় (نسب) সাব্যস্তকরণের কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(الحامل من الزنا)إن كانت متزوجة وحملت من الزنا فأجلها أن تضع حملها من الزنا لعمومالآية الكريمة (وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ " (4 الطلاق).فالزانية تتربص بنفسها حتى تضع حملها لعموم الآية الكريمة وهو استبراءللرحم حتى لا يسقي ماء زوجها زرع غيره. فلا يجوز لزوجها أن يقربها وهي حامل من الزنا. وغير المتزوجة إذا حملت من الزنا فإن أراد من زنا بها أن يعقد عليها فله أن يعقد عليها وأن يدخل بها بدون عدة ولا استبراء رحم. خلافا للأحناف والظاهرية.ويرى بقية الأئمة ضرورة استبراء رحم الزانية حتى تضع حملها وذلك حتىلا يسقي ماؤه زرع غيره. ولكن هنا الذي زنا بها هو الذي سيتزوجها فلن يحدث سقيا ولا زرعا. ولا ينطبق عليهما قوله صلى الله عليه وسلم: من كان يؤمن بالله واليوم لآخر فلا يسقي ماؤه زرع غيره.وهما مطالبان بالتوبة. ويخطئ من يتصور أن الزواج بها يعتبر توبة.لابد من توبتهما. فقد رأينا في أيامنا من يتزوج بالمرأة الحامل من الزناليتاجر بعرضها. وقد ذكرت في رسالتي الجنس ضرورة وضرر "قصة امرأةطاردتني روحُها سنة كاملة بصيحة لماذا تأخرت؟؟لقد لجأت إليَّ لأخلصها من رجل تزوجها وهي حامل من زنا. تزوجهاوعدتُهَا أن أطلب من أحد المحسنين أن يدفع له مبلغا من المال فداء لأسيرتهليطلقها. فمثله لا يتصدق بصيرة.
(ব্যভিচারে গর্ভবতী নারী)যদি কোনো বিবাহিতা নারী ব্যভিচারের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়, তবে তার নির্ধারিত মেয়াদ হলো সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত; পবিত্র আয়াতের ব্যাপকতা (عموم) অনুযায়ী: "আর গর্ভবতী নারীদের মেয়াদ হলো তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত" (সূরা আত-তালাক: ৪)।সুতরাং ব্যভিচারিণী নারী সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে আয়াতের ব্যাপকতা (عموم)-এর কারণে, যা মূলত জরায়ু পবিত্রকরণ (استبراء)-এর নামান্তর; যাতে স্বামীর বীর্য দ্বারা অন্যের ফসল সিক্ত না হয়। অতএব, ব্যভিচারে গর্ভবতী থাকা অবস্থায় স্বামীর জন্য তার সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়া বৈধ নয়। আর অবিবাহিত নারী যদি ব্যভিচারের কারণে গর্ভবতী হয়, তবে যে ব্যক্তি তার সাথে ব্যভিচার করেছে সে যদি তাকে বিবাহ করতে চায়, তবে সে বিবাহ করতে পারবে এবং কোনো নির্ধারিত ইদ্দত (عدة) বা জরায়ু পবিত্রকরণ (استبراء) ছাড়াই তার সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে পারবে। এটি হানাফী এবং জাহেরী মাযহাবের পরিপন্থী মত।অন্যান্য ইমামগণ ব্যভিচারিণী নারীর জন্য জরায়ু পবিত্রকরণ (استبراء) আবশ্যক মনে করেন যতক্ষণ না সে সন্তান প্রসব করে, যাতে করে তার বীর্য অন্যের জমিতে সেচ না দেয়। তবে এখানে যেহেতু ব্যভিচারকারী ব্যক্তিই তাকে বিবাহ করছে, সেহেতু সেখানে অন্যের জমিতে সেচ দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। আর তাদের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি প্রযোজ্য হবে না: "যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অন্যের ফসলে নিজের পানি দ্বারা সেচ না দেয়।"তাদের উভয়ের জন্যই তওবা করা আবশ্যক। আর যে মনে করে যে, বিবাহ করাই তওবা হিসেবে গণ্য হবে, সে ভুলের মধ্যে রয়েছে।তাদের উভয়ের পক্ষ থেকেই তওবা করা জরুরি। আমরা বর্তমান সময়ে এমন ব্যক্তিদের দেখেছি যারা ব্যভিচারে গর্ভবতী নারীকে বিবাহ করে কেবল তার সম্ভ্রম নিয়ে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে। আমি আমার "যৌনতা: প্রয়োজনীয়তা ও ক্ষতি" নামক প্রবন্ধে এক মহিলার কাহিনী উল্লেখ করেছি, যার আত্মা দীর্ঘ এক বছর ধরে "আপনি কেন দেরি করলেন?" এই আর্তনাদ নিয়ে আমাকে তাড়া করছিল।সে আমার কাছে এসেছিল যেন আমি তাকে এমন এক ব্যক্তি থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করি যে তাকে ব্যভিচারে গর্ভবতী অবস্থায় বিবাহ করেছিল। সে তাকে বিবাহ করেছিল [শোষণের জন্য]; আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম যে আমি কোনো এক মহৎ ব্যক্তির কাছে তাকে প্রদান করার জন্য কিছু অর্থের আবেদন করব, যাতে সে তার এই বন্দিনীকে তালাক দিয়ে মুক্ত করে দেয়। কেননা তার মতো ব্যক্তিদের অন্তর্দৃষ্টির সাথে দান করার মতো মানসিকতা থাকে না।
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وتأخرت بترتيب القدر يوما في القاهرة. ورجعت للزقازيق فعلمت بانتحارها.إن القانون الفرنسي يحمي هؤلاء عندما يجعل الزنا خيانة زوجية. فإذا زنت وتنازل زوجها عن تجريمها فقد تنازل عن حقه. وبقية الموضوع في رسالة الجنس ضرورة وضرر بعنوان " لماذا تأخرت إن زواجه بها - إن صدقت نيته فهو إصلاح لخطيئته، وستر عليها وحماية لولده منها.ولكن هذا لا يغني عن الإنابة لله والندم على ما فعل. والعزم على مبايعة اللهألا يعود. إن الزاني إن رآه ولده فلن يتمم فعله، وإن رأته زوجته أو خادمه فلن يتمم فعله، فلا يجعل ربَّه أهْونَ الناظرين إليه.وليعلم دائما أنه شريك لها فيما حدث. فلا يعيِّرها بماضيها. ولا يفضحأسرارها إن فضيحة المرأة تنقلها من منحرفة إلى محترفة.وتدلُّ الباحث عن ساقطة على صيده، لا يستطيع أحدهما مهما بلغ فجوره أن يسيرفى الشوارع ينادي: أبحث عن زانية ولكنه ينتظر أحد السفهاء يريد أن يستنكر المنكر فيفضح جارته، فيدل الباحث عن صيده. فإذا تم الزنى فمن الزانى؟؟من هنا أمر الله بجلد من يرمي المحصنات ولم يأت بأربعة شهداء أن يجلدثمانين جلده ولا تقبل له شهادة أبداً. وهذه العقوبة قتل لشخصيته الاعتبارية.***
তকদিরের বিধানে আমি একদিন কায়রোতে বিলম্ব করেছিলাম। এরপর যখন জাকাজিক-এ ফিরে এলাম, তখন তার আত্মহত্যার খবর জানতে পারলাম।ফরাসি আইন এই ধরনের ব্যক্তিদের সুরক্ষা প্রদান করে যখন তারা ব্যভিচারকে দাম্পত্য বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য করে। ফলে যদি কোনো নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হয় এবং তার স্বামী তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করার দাবি থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে সে মূলত নিজের অধিকারই ত্যাগ করল। এই বিষয়ের অবশিষ্টাংশ 'যৌনতা: প্রয়োজনীয়তা ও ক্ষতিকর প্রভাব' শীর্ষক পত্রের "কেন দেরি হলো" শিরোনামে রয়েছে। ওই নারীর সাথে তার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া—যদি তার নিয়ত সৎ হয়—তবে তা তার পাপের সংশোধন, নারীর জন্য আবরণ এবং তার গর্ভজাত সন্তানের জন্য সুরক্ষা স্বরূপ।কিন্তু এটি আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তন এবং কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা ও আল্লাহর নিকট এই মর্মে অঙ্গীকার করার সংকল্প থেকে অব্যাহতি দেয় না যেসে আর কখনও এর পুনরাবৃত্তি করবে না। একজন ব্যভিচারী যদি দেখে যে তার সন্তান তাকে লক্ষ্য করছে, তবে সে তার কাজ সম্পন্ন করতে পারে না; এমনকি যদি তার স্ত্রী বা ভৃত্যও তাকে দেখে ফেলে, তবে সে তার কাজ পূর্ণ করতে পারে না। সুতরাং, সে যেন তার প্রতিপালককে দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে নগণ্য মনে না করে।তার সর্বদা জানা উচিত যে, যা ঘটেছে তাতে সে ওই নারীর সমান অংশীদার। তাই সে যেন তাকে তার অতীত নিয়ে তিরস্কার না করে এবং তার গোপনীয়তা ফাঁসনা করে। কেননা, নারীর মানহানি তাকে বিপথগামী অবস্থা থেকে পেশাদার অপরাধীতে রূপান্তরিত করে।এটি পতিতা অন্বেষণকারীকে তার শিকারের সন্ধান দেয়। তাদের কেউই, সে যতই পাপাচারী হোক না কেন, রাস্তায়এই বলে চিৎকার করে ঘুরতে পারে না যে: "আমি একজন ব্যভিচারিণীকে খুঁজছি।" বরং সে এমন কোনো নির্বোধের অপেক্ষায় থাকে, যে মন্দ কাজের (المنكر) প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার প্রতিবেশিনীর গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়, আর এর মাধ্যমে সে অন্বেষণকারীকে তার শিকারের সন্ধান দিয়ে দেয়। যখন ব্যভিচার সম্পন্ন হয়, তখন প্রকৃত ব্যভিচারী কে??এ কারণেই আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি সতী-সাধ্বী নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারে না, তাকে কোড়া মারতে হবেআশিটি এবং কখনও তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। এই শাস্তি মূলত তার সামাজিক ও আইনি ব্যক্তিসত্তার বিনাশ।***
(খণ্ড: ১)
ই'জাযুল কুরআন ফী (ওয়া ইয়া'লামু মা ফিল আরহাম)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(موت الأم وحياة الجنين)من عناية الشريعة الإسلامية بالجنين قال الأحناف إذا ماتت الحامل وولدها حيٌّ يتحرك في بطنها يجوز شق بطنها من الأيسر ويخرج ولدها حيا.ووافقهم الشافعية.وعلل ابن قدامة هذا بأن الشق اتلاف لجزء من الميت لإبقاء حي وابن حزم قال كلاما فقهيا راقياقال: لو ماتت امرأة حامل والد يتحرك في بطنها يمكن أن يشق بطن الأم إذا كان الحمل قد بلغ ستة أشهر يشق طولاً ويخرج الولد لقوله تعالى (وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا) 32 المائدة.ثم يقول ابن حزم: ومن تركه عمداً حتى يموت فإنه قاتل نفس - وعلق الدكتور محمد سلام مدكور في كتابه (الجنين والأحكام المتعلقة به في الفقه الإسلامي) صـ 259.يقول: إن قول ابن حزم أقرب إلى الفقه لأن شق البطن ارتكاب لأخف الضررين. ثم قال: وما أفقه ابن حزم في قوله: ومن تركه عمداً حتى مات فهو قاتل نفس.ثم يعتب الدكتور مدكور على ما ورد عن الحنابلة من قولهم: ينتظروا على الجنين حتى يموت ثم تقبر الأم.* والطب الحديث يستخدم الآن عملية الشق فيما يسمى بالعملية القيصرية.أقول: وإذا طلب الطبيب أجراً وامتنع حتى يدفعوا له فمات الجنين فالطبيب قاتل .. قاتل .. قاتل.…* القصاص من الحاملاهتمت الشريعة الإسلامية برفع الضرر عن الحامل مراعاة لحق الجنين ولو كان في الأيام الأولى التى تسبق عملية نفخ الروح، سواء كانت العقوبة قصاصاً أو دون ذلك، فخافت أن تؤثر العقوبة على الحامل فتسقط جنينها من الخوف.واتفق في هذا المالكية (الشرح الكبير وحاشية الدسوقي جـ 4 صـ260) والشافعية: أباحوا حبسها، أما القصاص فيؤخر حتى تضع الحمل ويتستغنى عنها في الرضاعة ولو ببقرة. فإن امتنع عن الرضاع من غير الأم تؤخر العقوبة إلى مدة الفطام حولين أو لو احتاج بعد الحولين زيد لصالح الجنين
(মায়ের মৃত্যু এবং ভ্রূণের জীবন)ইসলামি শরিয়তের ভ্রূণের প্রতি বিশেষ যত্নশীলতার অংশ হিসেবে হানাফিগণ বলেছেন, যদি কোনো গর্ভবতী নারী মারা যান এবং তার গর্ভস্থ সন্তান জীবিত অবস্থায় নড়াচড়া করে, তবে তার পেটের বাম দিক চিরে জীবিত সন্তানকে বের করে আনা বৈধ।শাফেয়ীগণও তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন।ইবনে কুদামা এর কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, পেট চেরা হলো এক জীবিত ব্যক্তিকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে মৃত ব্যক্তির একটি অংশ নষ্ট করা। আর ইবনে হাজম একটি উচ্চাঙ্গের ফিকহি আলোচনা পেশ করেছেন।তিনি বলেন: যদি কোনো গর্ভবতী নারী মারা যান এবং তার পেটে সন্তান নড়াচড়া করতে থাকে, তবে মায়ের পেট চেরা সম্ভব যদি গর্ভধারণের মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হয়ে থাকে; লম্বালম্বিভাবে পেট চিরে সন্তানকে বের করা হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর যে ব্যক্তি কোনো প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমস্ত মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।" (সূরা আল-মায়িদা: ৩২)।অতঃপর ইবনে হাজম বলেন: আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ছেড়ে দিল যাতে সে মারা যায়, তবে সে একজন খুনি—ড. মুহাম্মদ সালাম মাদকর তার 'আল-জানিন ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহি ফিল ফিকহিল ইসলামি' গ্রন্থের ২৫৯ পৃষ্ঠায় মন্তব্য করেছেন।তিনি বলেন: ইবনে হাজমের বক্তব্যটি ফিকহ বা গবেষণার অধিক নিকটবর্তী, কারণ পেট চেরা হলো দুটি ক্ষতির মধ্যে অপেক্ষাকৃত লঘু (أخف الضررين) ক্ষতিটি গ্রহণ করা। অতঃপর তিনি বলেন: ইবনে হাজম তার এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে কতই না বিজ্ঞ ফকিহ: "আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ছেড়ে দিল যতক্ষণ না সে মারা গেল, তবে সে একজন খুনি।"এরপর ড. মাদকর হাম্বলিদের থেকে বর্ণিত সেই বক্তব্যের ওপর অনুযোগ করেন যেখানে তারা বলেছেন: ভ্রূণটি মারা যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে, অতঃপর মাকে সমাহিত করা হবে।* আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে বর্তমানে পেট চেরার এই পদ্ধতিটি 'সিজারিয়ান সেকশন' হিসেবে ব্যবহৃত হয়।আমি বলব: যদি চিকিৎসক পারিশ্রমিক দাবি করেন এবং তাকে টাকা না দেওয়া পর্যন্ত কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান, আর এর ফলে ভ্রূণটি মারা যায়, তবে সেই চিকিৎসক একজন খুনি... খুনি... খুনি।…* গর্ভবতী নারীর ওপর কিসাস (قصاص)ইসলামি শরিয়ত ভ্রূণের অধিকার রক্ষার খাতিরে গর্ভবতী নারীর ওপর থেকে ক্ষতি দূর করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে, এমনকি তা যদি রূহ ফুঁকে দেওয়ার (نفخ الروح) পূর্ববর্তী প্রাথমিক দিনগুলোতেও হয়। শাস্তিটি কিসাস (قصاص) হোক বা তার কম হোক; শরিয়ত আশঙ্কা করেছে যে শাস্তিটি গর্ভবতী নারীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভয়ের কারণে তার গর্ভপাত ঘটে যেতে পারে।এ বিষয়ে মালিকি (আশ-শারহুল কাবির ও হাশিয়াতুদ দিসুকি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৬০) এবং শাফেয়ীগণ একমত হয়েছেন: তারা তাকে কারারুদ্ধ করা বৈধ বলেছেন, তবে কিসাস (قصاص) বা দণ্ড কার্যকর করা বিলম্বিত করতে হবে যতক্ষণ না তিনি সন্তান প্রসব করেন এবং দুগ্ধপানের ক্ষেত্রে অন্য কোনো বিকল্পের মাধ্যমে (যেমন গাভীর দুধ) শিশুটি মায়ের অমুখাপেক্ষী হয়। যদি মা ছাড়া অন্য কারো থেকে দুধ পান করতে শিশুটি অস্বীকৃতি জানায়, তবে শাস্তি কার্যকর করা দুধ ছাড়ানোর সময়কাল অর্থাৎ পূর্ণ দুই বছর (حولين) পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে হবে। আর যদি দুই বছর পার হওয়ার পরও শিশুর কল্যাণে প্রয়োজন হয়, তবে সেই সময় আরও বৃদ্ধি করা হবে।