(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث المائة الشريحية   (ابن أبي شريح)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الأحاديث المائة الشريحية

المؤلف: عبد الرحمن بن أحمد بن محمد، أبو محمد ابن أبي شريح الأنصاري الهروي (ت 392هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 127

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শুরাইহী একশত হাদিস   (ইবনে আবি শুরাইহ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: শুরাইহী একশত হাদিস

লেখক: আব্দুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ, আবু মুহাম্মাদ ইবনে আবি শুরাইহ আল-আনসারী আল-হারাভী (মৃত্যু ৩৯২ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপি যা ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অন্তর্গত বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য ‘জাওয়ামিউল কালিম’ প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[গ্রন্থটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৭

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
جُزْءٌ فِيهِ الأَحَادِيثُ الْمِائَةُ الْمَجْمُوعَةُ مِنْ مَسْمُوعَاتِ الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي شُرَيْحٍ الأَنْصَارِيِّ رحمه الله.

رِوَايَةُ أَبِي عَاصِمٍ الْفُضَيْلِ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْفُضَيْلِ الْفُضَيْلِيِّ ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ أَبِي الْوَقْتِ عَبْدِ الأَوَّلِ بْنِ عِيسَى بْنِ شُعَيْبٍ السِّجْزِيِّ ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ أَبِي الْمُنَجَّا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ بْنِ زَيْدٍ اللَّتِّيِّ الْبَغْدَادِيِّ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ رَبِّ تَمِّمْ بِمَا أَنْعَمْتَ
একটি অংশ, যাতে শেখ আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আবি শুরাইহ আল-আনসারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর শ্রুত বিষয়াবলি থেকে সংকলিত একশত হাদীস রয়েছে।

তাঁর থেকে আবু আসিম আল-ফুদাইল বিন ইয়াহইয়া বিন আল-ফুদাইল আল-ফুদাইলী-এর বর্ণনা।

তাঁর থেকে আবু আল-ওয়াক্ত আবদুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুয়াইব আস-সিজজী-এর বর্ণনা।

আবু আল-মুনাজ্জা আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আলী বিন উমর বিন যায়েদ আল-লাত্তী আল-বাগদাদী-এর বর্ণনা।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার প্রতিপালক, আপনি যে নেয়ামত দান করেছেন তার মাধ্যমে পূর্ণতা দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ أَبُو الْمُنَجَّا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ بْنِ زَيْدٍ اللَّتِّيُّ الْبَغْدَادِيُّ ، قَدِمَ عَلَيْنَا حَلَبَ فِي ذِي الْقَعْدَةِ مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَثَلاثِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنا أَسْمَعُ ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى بْنِ شُعَيْبٍ السِّجْزِيُّ الْهَرَوِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْه ، وَأَنْتَ تَسْمَعُ فِي شَعْبَانَ مِنْ سَنَةِ ثَلاثٍ وَخَمْسِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ ، فَأَقَرَّ بِهِ، أنبا أَبُو عَاصِمٍ الْفُضَيْلُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْفُضَيْلِ ، أنبا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي شُرَيْحٍ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْوَرَّاقُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ الْعَبْدِيُّ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ بُكَيْرٍ أَبُو حُبَابٍ ، عَنْ سَلامٍ الْجَرَّارِ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيِّ ، عَنِ الْحَارِثِ ، عَنْ عَلِيٍّ ، رضي الله عنه ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «مَا دُعَاءٌ إِلا بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ حِجَابٌ حَتَّى يُصَلَّى عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ ، فَإِذَا صُلِّيَ عَلَى النَّبِيِّ انْخَرَقَ الْحِجَابُ ، وَاسْتُجِيبَ الدُّعَاءُ ، وَإِذَا لَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُسْتَجَبِ الدُّعَاءُ»
১ - আমাদের অবহিত করেছেন শায়খ ইমাম আবু আল-মুনাজ্জা আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে উমর ইবনে যাইদ আল-লাত্তি আল-বাগদাদী; তিনি ৬৩৪ হিজরী সনের যিলকদ মাসে আমাদের নিকট হালবে (আলেপ্পো) এসেছিলেন। তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমি তা শুনেছি। তাঁকে বলা হলো: শায়খ আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুআইব আস-সিজযী আল-হারাবী কি আপনাদের অবহিত করেছেন—যখন ৫৫৩ হিজরী সনের শাবান মাসে তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এবং আপনি তা শুনছিলেন? তিনি তা স্বীকার করলেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আসিম আল-ফুদাইল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আল-ফুদাইল। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে আবি শুরাইহ। আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আল-আব্বাস আল-ওয়াররাক। আমাদের বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে আরাফাহ আল-আবদী। আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালীদ ইবনে বুকাইর আবু হুবাব, সালাম আল-জাররার থেকে, তিনি আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি আল-হারিস থেকে, তিনি আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «যেকোনো দুআ এবং আসমানের মাঝে পর্দা ঝুলে থাকে যতক্ষণ না মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর সালাত পাঠ করা হয়। যখন নবীর ওপর সালাত পাঠ করা হয়, তখন সেই পর্দা ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুআ কবুল করা হয়। আর যখন নবীর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ওপর সালাত পাঠ করা হয় না, তখন দুআ কবুল করা হয় না।»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌بَابٌ فِيمَنْ جَعَلَ الْقُرْآنَ أَمَامَهُ وَمَنْ جَعَلَهُ خَلْفَهُ
যে ব্যক্তি কুরআনকে নিজের সামনে রাখে এবং যে একে নিজের পেছনে রাখে তাদের পরিচয় সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو سَهْلٍ الزِّيَادِيُّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ، ثنا أَبُو الرَّبِيعِ الْحُسَيْنُ بْنُ الْهَيْثَمِ الرَّازِيُّ، ثنا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، ثنا الرَّبِيعُ بْنُ بَدْرٍ، ثنا الأَعْمَشُ ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْقُرْآنُ شَافِعٌ مُشَفَّعٌ وَمَاحِلٌ مُصَدِّقٌ ، فَمَنْ جَعَلَهُ أَمَامَهُ قَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ ، وَمَنْ جَعَلَهُ خَلْفَهُ سَاقَهُ إِلَى النَّارِ»
২ - আমাদের নিকট আবু সাহল আজ-জিয়াদি আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন জিয়াদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল রাবি আল-হুসাইন বিন আল-হাইসাম আল-রাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম বিন আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-রাবি বিন বদর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আমাশ বর্ণনা করেছেন, শাকিক বিন সালামাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কুরআন হলো এমন এক সুপারিশকারী যার সুপারিশ কবুল করা হয় এবং এমন এক বিবাদী যার কথা সত্য বলে গণ্য করা হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি একে নিজের সামনে রাখবে, তা তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে; আর যে ব্যক্তি একে নিজের পেছনে রাখবে, তা তাকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে।»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بَابُ الأَمْرِ بِاسْتِذْكَارِ الْقُرْآنِ
কুরআন স্মরণ রাখার নির্দেশ সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الشَّافِعِيُّ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَزَالٍ السِّمْسَارُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ قَزَعَةَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَوَاءٍ ، عَنْ سَعيِدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا يَقُلْ أَحَدُكُمْ نَسِيتُ آيَةَ كَذَا وَكَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ»
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন কাযাল আস-সিমসার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন কাযাআহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সাওয়া, তিনি সাঈদ বিন আবি আরুবাহ থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন এ কথা না বলে যে, আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি, বরং তাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ ، حَدَّثَنِي أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّطَوِيُّ ، وَجَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَزَالٍ ، قَالا: ثنا الْحَسَنُ بْنُ قَزَعَةَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَوَاءٍ، ثنا سَعيِدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اسْتَذْكِرُوا الْقُرْآنَ، فَهُوَ أَشَدُّ تَقَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنَ النَّعَمِ مِنْ عِقَالِهَا»
৪ - আমাদের নিকট আবু বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবু আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাতাউয়ী এবং জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাযাল বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট হাসান ইবনে কাযাআ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে সাওয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আবি আরুবা বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা কুরআনের নিয়মিত চর্চা করো; কেননা মানুষের অন্তর থেকে এটি গবাদি পশু তার বাঁধন থেকে ছুটে যাওয়ার চেয়েও অধিক দ্রুত হারিয়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌بَابٌ فِي تَصْغِيرِ الدُّنْيَا وَالزُّهْدِ فِيهَا
দুনিয়াকে তুচ্ছ জ্ঞান করা এবং তাতে অনাসক্তি বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
5 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْوَرَّاقُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَالِكٍ الشَّطَوِيُّ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ الْمُسْتَوْرِدَ ، أَخَا بَنِي فَهْدٍ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «مَا الدُّنْيَا فِي الآخِرَةِ إِلا مِثْلُ مَا يَضَعُ أَحَدُكُمْ إِصْبَعَهُ فِي الْيَمِّ فَلْيَنْظُرْ بِمَ يَرْجِعُ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আল-আব্বাস আল-ওয়াররাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন মালিক আশ-শাতওয়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন আউন, তিনি ইসমাইল বিন আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়েস বিন আবি হাজিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বনী ফাহদ গোত্রের ভাই আল-মুস্তাওরিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আখিরাতের তুলনায় দুনিয়া তো কেবল এমন যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রের মধ্যে তার আঙুল রাখল, এরপর সে যেন লক্ষ্য করে দেখে যে সে কী নিয়ে ফিরে আসে»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌بَابٌ فِي مَنَازِلِ النَّاسِ وَدَرَجَاتِهِمْ
মানুষের স্তর ও মর্যাদাসমূহ বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
6 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْعَبَّاسِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُلاعِبٍ أَبُو الْفَضْلِ، ثنا أَبُو غَسَّانَ، ثنا مَسْلَمَةُ بْنُ جَعْفَرٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ الرُّكَيْنَ الْفَزَارِيَّ ، حَدَّثَنِي عَمِّي ، عَنْ خُرَيْمِ بْنِ فَاتِكٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، قَالَ: " النَّاسُ أَرْبَعَةٌ ، وَالأَعْمَالُ سِتَّةٌ وَالأَعْمَالُ: مُوجِبَتَانِ ، وَمِثْلٌ بِمِثْلٍ ، وَعَشَرَةُ أَضْعَافٍ ، وَسَبْعُ مِائَةِ ضِعْفٍ ، فَمُوجِبَتَانِ مَنْ مَاتَ مُؤْمِنًا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ ، وَمَنْ مَاتَ كَافِرًا وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ ، وَمِثْلٌ بِمِثْلٍ الْعَبْدُ يَهِمُّ بِحَسَنَةٍ تُكْتَبُ لَهُ حَسَنَةٌ ، وَالْعَبْدُ يَعْمَلُ بِالسَّيِّئَةِ فَيُجْزَى بِهَا ، وَالْعَبْدُ يَعْمَلُ بِحَسَنَةٍ فَيُضَاعَفُ لَهُ عَشَرَةُ أَمْثَالِهَا ، وَالْعَبْدُ يُنْفِقُ النَّفَقَةَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتُضَاعَفُ بِسَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ ، وَالنَّاسُ أَرْبَعَةٌ: فَمُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا مَقْتُورٌ عَلَيْهِ فِي الآخِرَةِ ، وَمَقْتُورٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا مُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الآخِرَةِ ، وَمُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ، وَشَقِيٌّ فِي الدُّنْيَا شَقِيٌّ فِي الآخِرَةِ "
৬ - ইসমাইল বিন আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন মুলা’ইব আবুল ফজল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু গাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাসলামা বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আর-রুকাইন আল-ফাজারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার নিকট আমার চাচা খুরাইম বিন ফাতিকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “মানুষ চার প্রকার এবং আমল ছয় প্রকার। আমলগুলো হলো: দুটি আবশ্যককারী, একটির সমান একটি, দশ গুণ এবং সাতশত গুণ। দুটি আবশ্যককারী হলো—যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে, আর যে ব্যক্তি কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যাবে। একটির সমান একটি হলো—কোনো বান্দা নেক কাজের ইচ্ছা করলে তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়, আর কোনো বান্দা মন্দ কাজ করলে তাকে সেই পরিমাণই প্রতিদান (শাস্তি) দেওয়া হয়। আর কোনো বান্দা যখন কোনো নেক কাজ করে, তখন তার জন্য দশ গুণ সওয়াব লেখা হয়। আর কোনো বান্দা যখন আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তখন তা সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আর মানুষ চার প্রকার: যাকে দুনিয়াতে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে কিন্তু আখেরাতে সে সংকীর্ণতাগ্রস্ত, যাকে দুনিয়াতে সংকীর্ণতা দেওয়া হয়েছে কিন্তু আখেরাতে সে প্রশস্ততা লাভকারী, যাকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই প্রশস্ততা দান করা হয়েছে এবং যে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই হতভাগ্য।”
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌بَابٌ فِي عَمَلٍ يُدْخِلُ الْجَنَّةَ وَيُنْجِي مِنَ النَّارِ
জান্নাতে প্রবেশকারী এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তিদানকারী আমল সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، أنبا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، ثنا مُبَارَكُ بْنُ سَعيِدٍ ، عَنْ سَعيِدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ كُرَيْزٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غُنْمٍ ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ، قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ ، وَكُنَّا إِنْ تَقَدَّمَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ ثُمَّ إِنَّ رَاحِلَتِي لَحِقَتْ رَاحِلَتَهُ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّ رَاحِلَتِي عَرَفَتْ رَاحِلَتَهُ حَتَّى مَسَّتْ رُكْبَتِي رُكْبَتَهُ ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْ شَيْءٍ وَيَمْنَعُنِي مَكَانُ هَذِهِ الآيَةِ ، يَقُولُ اللَّهُ عز وجل: {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} [المائدة: 101] .

قَالَ: «مَا هُو يَا مُعَاذُ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْعَمَلُ الَّذِي يُدْخِلُ الْجَنَّةَ وَيُنْجِي مِنَ النَّارِ؟ قَالَ: «لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْ عَظِيمٍ وَاللَّهِ إِنَّهُ لَيَسِيرٌ ، شَهَادَةُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ، وَإِقَامُ الصَّلاةِ ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ ، وَحَجُّ الْبَيْتِ ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ» .

ثُمَّ قَالَ: «أَلا أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِ وَعَمُودِهِ وَذُرْوَتِهِ ، أَمَّا رَأْسُ الأَمْرِ فَالإِسْلامُ ، وَأَمَّا عَمُودُهُ فَالصَّلاةُ ، وَأَمَّا ذُرْوَتُهُ فَالْجِهَادُ» .

ثُمَّ قَالَ: «الصِّيَامُ جُنَّةٌ ، وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطَايَا» .

ثُمَّ قَالَ: «أُخْبِرُكَ بِمَا هُوَ أَمْلَكُ بِالنَّاسِ مِنْ ذَلِكَ» .

وَقَرَأَ {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} [السجدة: 16] .

ثُمَّ قَالَ: «أَلا أُنْبِئُكَ بِمَا هُوَ أَمْلَكُ بِالنَّاسِ مِنْ ذَلِكَ» .

قَالَ: فَأَخْرَجَ لِسَانَهُ فَوَضَعَهُ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكُلُّ مَا نَتَكَلَّمُ بِهِ يكْتَبُ عَلَيْنَا؟ قَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ ، وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ فِي النَّارِ إِلا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ ، إِنَّكَ لا تَزَالَ سَالِمًا مَا سَكَتَّ ، فَإِنْ تَكَلَّمْتَ كُتِبَ عَلَيْكَ أَوْ لَكَ»
৭ - আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-হাসান বিন আরাফাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুবারক বিন সায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সায়িদ বিন মাসরুক থেকে, তিনি আইয়ুব বিন কুরাইয থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন গুনম থেকে, তিনি মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। যখনই তাঁর বাহন অগ্রসর হতো, তখনই আমার বাহন তাঁর বাহনের সাথে মিশে যেত, এমনকি আমার মনে হতো আমার বাহনটি তাঁর বাহনটিকে চিনে ফেলেছে; শেষ পর্যন্ত আমার হাঁটু তাঁর হাঁটুর সাথে স্পর্শ করল। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে চাই, কিন্তু এই আয়াতের কারণে আমি বিরত থাকছি, যেখানে মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে} [আল-মায়িদাহ: ১০১]।

তিনি বললেন: «হে মুয়াজ, সেটা কী?» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এমন কোন আমল আছে যা জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে? তিনি বললেন: «তুমি একটি মহান বিষয়ে প্রশ্ন করেছ। আল্লাহর কসম! এটি অত্যন্ত সহজ, আর তা হলো: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা।»

এরপর তিনি বললেন: «আমি কি তোমাকে দ্বীনের মূল বিষয়, তার স্তম্ভ এবং তার সর্বোচ্চ চূড়া সম্পর্কে বলব না? দ্বীনের মূল হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো সালাত এবং তার সর্বোচ্চ চূড়া হলো জিহাদ।»

এরপর তিনি বললেন: «রোজা হলো ঢাল, আর সাদাকা গুনাহসমূহকে নিভিয়ে দেয়।»

এরপর তিনি বললেন: «আমি কি তোমাকে এমন বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেব না, যা মানুষের জন্য এই সবকিছুর চেয়েও অধিক নিয়ন্ত্রণকারী?»

অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা হতে পৃথক থাকে, তারা তাদের রবকে ডাকেন ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা হতে তারা ব্যয় করে} [আস-সাজদাহ: ১৬]।

এরপর তিনি বললেন: «আমি কি তোমাকে এমন বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেব না, যা মানুষের জন্য এই সবকিছুর চেয়েও অধিক নিয়ন্ত্রণকারী?»

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর জিব বের করলেন এবং তা তাঁর দুই আঙুলের মাঝে রাখলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা কিছু বলি তা কি আমাদের বিপক্ষে লেখা হয়? তিনি বললেন: «হে মুয়াজ! তোমার মা তোমাকে হারাক। মানুষের জিবের উপার্জিত মন্দ কথা ছাড়া আর কি কোনো কিছু মানুষকে তাদের নাসিকার ভরে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবে? নিশ্চয়ই তুমি যতক্ষণ নীরব থাকবে ততক্ষণ নিরাপদ থাকবে। আর যখনই তুমি কথা বলবে, তখন তা তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে লেখা হবে।»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌بَابٌ فِي تَطْهِيرِ الْقَلْبِ مِنَ الْغِشِّ
অন্তরকে প্রতারণা হতে পবিত্রকরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
8 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، أنبا عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ الطَّائِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ خِدَاشٍ أَبُو هَاشِمٍ ، ثنا الْمُعَافَى بْنُ عِمْرَانَ ، عَنْ إِسْرَائِيلَ ، عَنْ جَابِرٍ لَعَلَّهُ الْجُعْفِيُّ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنْ جَابِرٍ هُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ: خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: «يَطْلُعُ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ» .

ثُمَّ يَوْمٌ آخَرُ يَقُولُ مِثْلَ ذَلِكَ إِذْ دَخَلَ غُلامٌ مِنْ بَنِي سَلَمَةَ ، فَاتَّبَعْتُ الْغُلامَ ، فَقُلْتُ: أَخْبِرْنِي مَا عَمِلْتَ ، فَقَالَ: مَا فِي عَمَلِي شَيْءٌ أَرْجُوهُ ، إِلا أَنِّي لا أَبِيتُ لَيْلَةً وَفِي قَلْبِي غِشٌّ عَلَى مُسْلِمٍ.

قَالَ: فَبَشَّرْتُهُ
৮ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে হারব আত-তাঈ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে খিদাশ আবু হাশিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-মুয়াফা ইবনে ইমরান, ইসরাঈলের সূত্রে, জাবিরের সূত্রে—সম্ভবত তিনি আল-জু'ফী—আতার সূত্রে, জাবিরের সূত্রে (যিনি ইবনে আব্দুল্লাহ), তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে এলেন এবং বললেন: "তোমাদের সামনে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত এক ব্যক্তি উপস্থিত হবে।"

অতঃপর অন্য একদিনও তিনি অনুরূপ বললেন, তখন বনু সালামা গোত্রের এক যুবক প্রবেশ করল। আমি যুবকটির অনুসরণ করলাম এবং তাকে বললাম: "তুমি কী আমল করেছ তা আমাকে জানাও।" সে বলল: "আমার আমলের মধ্যে বিশেষ কিছু নেই যার ওপর আমি আশা রাখতে পারি, তবে আমি এমন কোনো রাত অতিবাহিত করি না যেখানে আমার অন্তরে কোনো মুসলমানের প্রতি কোনো প্রকার প্রতারণা বা বিদ্বেষ থাকে।"

তিনি বলেন: অতঃপর আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌بَابٌ فِي الإِيمَانِ بِالْقَدَرِ
তাকদীরের প্রতি ঈমান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
9 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ فُلَيْحٍ الْمُقْرِئُ ، بِمَكَّةَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَيْمُونٍ الْقَدَّاحُ ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا يُؤْمِنُ مُؤْمِنٌ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ كُلِّهِ ، حَتَّى يَعْلَمَ أَنَّ مَا أَصَابَهُ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَهُ ، وَمَا أَخْطَأَهُ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَهُ»
9 - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, মক্কায় আবদুল ওয়াহহাব ইবনু ফুলায়হ আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু মায়মুন আল-কাদ্দাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জা'ফর ইবনু মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোন মুমিন ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে সম্পূর্ণ তাকদীরের ওপর ঈমান আনে, এমনকি সে যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে জানে যে, যা তার কাছে পৌঁছেছে তা তাকে ছেড়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তাকে ছেড়ে গেছে তা তার কাছে পৌঁছানোর ছিল না।»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌بَابٌ فِي فَضْلِ السُّجُودِ
সিজদাহর ফজিলত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
10 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ سَعيِدٍ الطَّبَرِيُّ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُرْجَانِيُّ ، ثنا وَكِيعٌ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: أَوْ عَنْ أَبِي سَعيِدٍ ، شَكَّ الأَعْمَشُ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِذَا قَرَأَ ابْنُ آدَمَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ اعْتَزَلَ الشَّيْطَانُ يَبْكِي ، وَيَقُولُ: يَا وَيْلَهُ أُمِرَ ابْنُ آدَمَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ فَلَهُ الْجَنَّةُ ، وَأُمِرْتُ بِالسُّجُودِ فَعَصَيْتُ فَلِي النَّارُ "
১০ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে সাঈদ আত-তাবারী, তিনি বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আলী আল-জোরজানী থেকে, তিনি ওয়াকী থেকে, তিনি আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে — অথবা আবু সাঈদ (রা.) থেকে, বর্ণনাকারী আল-আ'মাশ এ বিষয়ে সন্দেহ করেছেন — তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আদম সন্তান সাজদাহর আয়াত পাঠ করে এবং সাজদাহ আদায় করে, তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে দূরে সরে যায় এবং বলে: হায় দুর্ভোগ! আদম সন্তানকে সাজদাহর আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং সে সাজদাহ করেছে, তাই তার জন্য জান্নাত। আর আমাকে সাজদাহর আদেশ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু আমি অবাধ্য হয়েছি, তাই আমার জন্য রয়েছে জাহান্নাম।"
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌بَابٌ فِي صِلَةِ الرَّحِمِ وَعُقُوبَةِ الْقَاطِعِ
আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা এবং তা ছিন্নকারীর শাস্তি সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
11 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعيِدٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، عَنْ مَعْمَرٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ ، أَنَّ رَدَّادًا أَخْبَرَهُ ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ ، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: «أَنَا الرَّحْمَنُ ، خَلَقْتُ الرَّحِمَ ، وَشَقَقْتُ لَهَا مِنِ اسْمِي ، فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ ، وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ»
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, মা'মার থেকে, তিনি জুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে যে, রাদদাদ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আবদুর রহমান ইবনে আউফকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: «আমিই রহমান, আমি রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা (রাহিম) সৃষ্টি করেছি এবং একে আমার নাম থেকে নির্গত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি একে যুক্ত রাখবে, আমি তাকে (আমার রহমতের সাথে) যুক্ত রাখব, আর যে একে ছিন্ন করবে, আমি তাকে (আমার রহমত থেকে) বিচ্ছিন্ন করে দেব।»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌بَابٌ فِي فَضْلِ أُمَّتِنَا عَلَى غَيْرِهَا
অন্যান্যদের উপর আমাদের উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
12 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعيِدٍ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، أنبا مَعْمَرٌ ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَحْنُ الآخِرُونَ الأَوَّلُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، نَحْنُ أَوَّلُ النَّاسِ دُخُولا الْجَنَّةَ بَيْدَ أَنَّهُمْ أُوتُوا الْكِتَابَ قَبْلَنَا ، وَأُوتِينَاهُ مِنْ بَعْدِهِمْ ، وَهَدَانَا اللَّهُ تَعَالَى لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ ، وَهَذَا الَّذِي اخْتَلَفَ فِيهِ النَّاسُ ، فِيهِ تَبِعَ غَدًا الْيَهُودَ وَبَعْدَ غَدٍ النَّصَارَى» .

يَعْنِي وَلَنَا الْجُمُعَةُ قَبْلَهُمْ ، وَكَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {إِنَّمَا جُعِلَ السَّبْتُ عَلَى الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ} [النحل: 124]
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমরা কিয়ামতের দিন সবশেষে এসেও অগ্রগামী। আমরাই প্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী মানুষ, যদিও তাদের আমাদের পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল এবং আমাদের তা দেওয়া হয়েছে তাদের পরে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই সত্যের দিশা দিয়েছেন যা নিয়ে তারা মতভেদ করেছিল। আর এই দিনটি, যা নিয়ে মানুষ মতভেদ করেছে, এতে ইয়াহুদীরা আগামীকাল এবং নাসারারা আগামীকালের পরের দিন আমাদের অনুগামী হবে»।

অর্থাৎ আমাদের জন্য জুমুআ তাদের পূর্বে। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই শনিবার তাদের জন্যই নির্ধারিত করা হয়েছিল যারা এতে মতভেদ করেছিল} [আন-নাহল: ১২৪]
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌بَابٌ فِي حُسْنِ الْمِلْكَةِ لِلرَّقِيقِ
দাসদের প্রতি সদ্ব্যবহারের পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
13 - حَدَّثَنَا يَحْيَى ، ثنا بَكَّارُ بْنُ قُتَيْبَةَ الْبَكْرَاوِيُّ، ثنا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «أَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ ، وَأَلْبِسُوهُمْ مِمَّا تَلْبِسُونَ ، وَمَا فَسَدَ عَلَيْكُمْ فَبِيعُوهُ وَلا تُعَذِّبُوا خَلْقَ اللَّهِ» .

يَعْنِي الْمَمْلُوكِينَ
১৩ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বাক্কার ইবন কুতাইবা আল-বাকরাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আমির আল-আকাদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা যা খাও তা থেকে তাদের আহার করাও, এবং তোমরা যা পরিধান করো তা থেকে তাদের পরিধান করাও। আর যা তোমাদের নিকট ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যায় তা বিক্রয় করে দাও, কিন্তু আল্লাহর সৃষ্টিকে কষ্ট দিও না।"

অর্থাৎ দাস-দাসীদের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌بَابٌ فِي أَشْرَفِ الأَخْلاقِ وَأَفْضَلِ الأَعْمَالِ وَأَرْفَعِ الدَّرَجَاتِ
সর্বোত্তম চরিত্র, শ্রেষ্ঠতম কর্ম এবং সর্বোচ্চ মর্যাদাসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ نَيْرُوزٍ ، ثنا الْقَاسِمُ بْنُ مَرْوَان ، ثنا الْخَلِيلُ يَعْنِي ابْنَ مُرَّةَ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «مَنْ أَرَادَ أَنْ يَشْرُفَ لَهُ بُنْيَانُهُ وَتُرْفَعَ لَهُ الدَّرَجَاتُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلْيَصِلْ مَنْ قَطَعَهُ ، وَلْيُعْطِ مَنْ حَرَمَهُ ، وَلْيَعْفُ عَنْ مَنْ ظَلَمَهُ ، وَلْيَحْلُمْ عَلَى مَنْ جَهِلَ عَلَيْهِ»
১৪ - আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে নাইরুজ বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম ইবনে মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-খলীল অর্থাৎ ইবনে মুররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি চায় যে তার জন্য সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করা হোক এবং কিয়ামতের দিন তার মর্যাদা উন্নত করা হোক, সে যেন ওই ব্যক্তির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে যে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, তাকে দান করে যে তাকে বঞ্চিত করেছে, তাকে ক্ষমা করে যে তার ওপর জুলুম করেছে এবং তার প্রতি সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করে যে তার সাথে মূর্খতাসূলভ আচরণ করেছে।»
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌بَابٌ فِي وِزْرِ النَّوْحِ عَلَى الْمَيِّتِ
মৃতের ওপর বিলাপ করার গুনাহ প্রসঙ্গে একটি অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মিআতুশ শুরয়হিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
15 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مَيْمُونٍ الْخَيَّاطُ، ثنا دَاوُدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمِخْرَاقِيُّ ، ثنا الدَّرَاوَرْدِيُّ ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسَافِعٍ ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عُتْبَةَ ، عَنْ عُرْوَةَ ، عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: لَمَّا جَاءَ نَعْيُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ اجْتَمَعَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ أُنَاسٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ ، وَجَعَلَ نِسْوَةٌ يَبْكِينَ ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ أَبُو بَكْرٍ ، فَقَالَ: إِنِّي أَعْتَذِرُ إِلَيْكُمْ مِمَّا يَفْعَلْنَ هَؤُلاءِ ، وَإِنَّ هَؤُلاءِ حَدِيثُو عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ ، وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «إِنَّ الْمَيِّتَ يُنْضَحُ عَلَيْهِ الْحَمِيمُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ»
১৫ - ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে মাইমুন আল-খাইয়াত আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে ইসমাঈল আল-মিখরাকী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আদ-দারাওয়ারদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসাফে থেকে, তিনি আইয়ুব ইবনে উতবাহ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: যখন আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকরের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছাল, তখন মুহাজির ও আনসারদের একদল লোক আবু বকরের নিকট সমবেত হলেন। এমতাবস্থায় মহিলারা কাঁদতে শুরু করলেন। তখন আবু বকর তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন: এরা যা করছে তার জন্য আমি আপনাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। মূলত এরা জাহেলিয়াতের যুগের নিকটবর্তী। আর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তির ওপর তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে উত্তপ্ত পানি ছিটিয়ে দেওয়া হয়।”