(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: -)
حديث أبي القاسم الحلبي   (أبو القاسم الحلبي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: حديث أبي القاسم الحلبي

المؤلف: إسماعيل بن القاسم بن إسماعيل الإمام أبو القاسم الحلبي الخياط المؤدب (ت بعد 370هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 61

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু আল-কাসিম আল-হালাবি-র হাদিস   (আবু আল-কাসিম আল-হালাবি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু আল-কাসিম আল-হালাবি-র হাদিস

লেখক: ইসমাঈল বিন আল-কাসিম বিন ইসমাঈল আল-ইমাম আবু আল-কাসিম আল-হালাবি আল-খাইয়্যাত আল-মুয়াদ্দিব (মৃত্যু ৩৭০ হিজরির পর)

প্রকাশক: ইসলামি নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অন্তর্ভুক্ত ‘জাওয়ামি আল-কালিম’ নামক ফ্রি সফটওয়্যারে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪

[কিতাবটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১)
الْجُزْءُ فِيهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْحَلَبِيِّ ، عَنْ شُيُوخِهِ.

رِوَايَةُ أَبِي الْمَعْمَرِ الْمُسَدَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي السُّحَيْنِ بْنِ الأُمْلُوكِيِّ الْحِمْصِيِّ ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الْحَدِيدِ السُّلَمِيِّ ، عَنْهُ.

رَضِيَ اللَّهُمَّ عَنْهُمْ أَجْمَعِينَ.

أَخْبَرَنَا بِهِ الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَسَاكِرَ بْنِ سُرُورٍ الْمَقْدِسِيُّ الْخَشَّابُ ، عَنِ ابْنِ أَبِي الْحَدِيدِ.

بسم الله الرحمن الرحيم
এই খণ্ডটি আবু আল-কাসিম ইসমাঈল বিন আল-কাসিম বিন ইসমাঈল আল-হালাবি কর্তৃক তাঁর শিক্ষকদের নিকট থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের সংকলন।

তাঁর থেকে বর্ণিত আবু আল-মা’মার আল-মুসাদ্দাদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আব্বাস বিন হুমাইদ বিন আল-আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ বিন আবি আস-সুহাইন বিন আল-উমলুকি আল-হিমসির বর্ণনা।

তাঁর থেকে বর্ণিত আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি আল-হাদিদ আস-সুলামির বর্ণনা।

হে আল্লাহ, আপনি তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

শায়খ আবু আল-হাসান আলী বিন আসাকির বিন সুরুর আল-মাকদিসি আল-খাশ্শাব ইবনে আবি আল-হাদিদ থেকে আমাদের এটি অবহিত করেছেন।

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২)
1 - قُرِئَ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ عَسَاكِرَ بْنِ سُرُورٍ الْخَشَّابِ الْمَقْدِسِيِّ ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الْقَاضِي السَّدِيدُ الْخَطِيبُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَبِي الْحَدِيدِ، بِقِرَاءَةِ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ صَابِرٍ، عَلَيْهِ فِي يَوْمِ الاثْنَيْنِ لِلَيْلَتَيْنِ بَقِيَتَا مِنْ جُمَادَى الأُولَى مِنْ سَنَةِ ثَمَانِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ فِي مَسْجِدِ سُوقِ الْغَزْلِ الْمُعَلَّقِ بِدِمَشْقَ ، قَالَ: أنبا أَبُو الْمَعْمَرِ الْمُسَدِّدُ بْنُ عَلِيٍّ الأُمْلُوكِيُّ الْحِمْصِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي دَارِهِ فِي يَوْمِ الاثْنَيْنِ ضُحَى نَهَارًا لِثَمَانٍ وَعِشْرِينَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْقَاسِمِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْحَلَبِيُّ، بِحِمْصَ ، يَوْمَ الْجُمُعَةِ لِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ تِسْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، فِي الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ بِهَا ، نا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْغَضَائِرِيُّ ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ ، نا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ ، عَنْ هِلالِ بْنِ خَبَّابٍ ، عَنْ عِكْرِمَةَ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: دَخَلَ عُمَرُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى حَصِيرٍ قَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِهِ ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اتَّخَذْتَ فِرَاشًا أَوْثَرَ مِنْ هَذَا.

فَقَالَ: ‌‌«مَا لِيَ وَلِلدُّنْيَا ، وَمَا لِلدُّنْيَا وَمَالِي ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مَثَلِي وَمَثَلُ الدُّنْيَا إِلا كَرَاكِبٍ سَارَ فِي يَوْمٍ صَائِفٍ ، فَاسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ ، ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا»
১ - শাইখ আবু আল-হাসান আলী বিন আসাকির বিন সুরূর আল-খাশ্শাব আল-মাকদিসীর নিকট পাঠ করা হয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছিল: সুদৃঢ় বিচারক ও খতীব আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আবিল হাদীদ আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন; যা আবু মুহাম্মাদ বিন সাবিরের পাঠের মাধ্যমে ৪৮০ হিজরী সনের জুমাদাল উলা মাস শেষ হতে দুই রাত বাকি থাকতে সোমবার দিন দামেস্কের ঝুলন্ত সূক আল-গজল মসজিদে তাঁর নিকট পঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু আল-মা'মার আল-মুসাদ্দাদ বিন আলী আল-উমলুকী আল-হিমসী; ৪২৫ হিজরী সনের যিলকদ মাসের আঠাশ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনের দ্বিপ্রহরের প্রাক্কালে তাঁর গৃহে তাঁর নিকট পঠিত হয়েছিল। তাঁকে বলা হয়েছিল: আবু আল-কাসিম ইসমাঈল বিন আল-কাসিম বিন ইসমাঈল আল-হালাবী আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন ৩৯০ হিজরী সনের যিলকদ মাসের সাতাশ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার দিন হিমসের জামে মসজিদে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আব্দুল হামীদ আল-গাদাইরী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুয়াবিয়া আল-জুমাহী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত বিন ইয়াযীদ, হিলাল বিন খাব্বাব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: উমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি তখন একটি চাটাইয়ের উপর ছিলেন যা তাঁর পার্শ্বদেশে চিহ্ন ফেলেছিল। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এর চেয়ে নরম কোনো বিছানা গ্রহণ করতেন!

তিনি বললেন: ‌‌«দুনিয়ার সাথে আমার কী সম্পর্ক, আর আমার সাথেই বা দুনিয়ার কী সম্পর্ক! যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ, আমার ও দুনিয়ার দৃষ্টান্ত তো সেই আরোহীর মতো যে গ্রীষ্মের দিনে পথ চলল, এরপর দিনের কিছু সময় একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিল, অতঃপর তা ছেড়ে চলে গেল।»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْغَضَائِرِيُّ ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ ، ثنا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ ، نا مُجَالِدٌ ، عَنِ الشَّعْبِيِّ ، عَنْ مَسْرُوقٍ ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ فَدَعَتْ بِطَعَامٍ، وَقَالَتْ: " مَا أَشْبَعُ مِنْ طَعَامٍ فَأَشَاءُ أَنْ أَبْكِيَ إِلا بَكَيْتُ ، قَالَ: قُلْتُ: لِمَ؟ قَالَتْ: «أَذْكُرُ الْحَالَ الَّتِي فَارَقَ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدُّنْيَا ،‌‌ وَمَا شَبِعَ مِنْ خُبْزِ بُرٍّ مَرَّتَيْنِ فِي يَوْمٍ حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ»
২ - ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আব্দুল হামিদ আল-গাদাইরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন মানি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ বিন আব্বাদ আল-মুহাল্লাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুজালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আশ-শাবি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মুমিন জননী আয়িশার নিকট প্রবেশ করলাম। অতঃপর তিনি খাবার আনালেন এবং বললেন: "আমি যখনই পেট ভরে খাবার খাই এবং কাঁদতে চাই, তখনই আমি কেঁদে ফেলি।" তিনি (মাসরুক) বলেন: আমি বললাম: কেন? তিনি বললেন: "আমি সেই অবস্থার কথা স্মরণ করি যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন; তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত কখনো একদিনে দুই বেলা গমের রুটি পেট ভরে আহার করেননি।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ ، نا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ مُسْلِمٍ ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: تَرَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَيْءٍ ، فَبَلَغَ قَوْمًا ، فَقَالُوا: تَرَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَيْءٍ ، فَنَحْنُ نَتَنَزَّهُ عَنْهُ.

فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَغَضِبَ وَخَطَبَ ، فَقَالَ: ‌‌«مَا بَالُ أَقْوَامٍ بَلَغَهُمْ أَنِّي أَتَرَخَّصُ فِي الأَمْرِ فَيَدَعُونَهُ، وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُهُمْ بِاللَّهِ وَأَشَدُّهُمْ لَهُ خَشْيَةً»
৩ - আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে মানী’ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-উমাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ’মাশ থেকে, তিনি মুসলিম থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো একটি বিষয়ে ছাড় দিলেন। এ খবর একদল লোকের নিকট পৌঁছালে তারা বলল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বিষয়ে ছাড় দিয়েছেন, কিন্তু আমরা তা থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখব (বিরত থাকব)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিষয়টি পৌঁছালে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: «সেই সব লোকদের কী হলো, যাদের নিকট এ সংবাদ পৌঁছেছে যে আমি কোনো বিষয়ে ছাড় দিচ্ছি অথচ তারা তা বর্জন করছে? আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি তাদের চেয়ে আল্লাহ সম্পর্কে অধিক অবগত এবং তাঁর প্রতি তাদের চেয়ে অধিক কঠোর ভয় পোষণ করি।»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الرَّبِيعِ الْجُرْجَانِيُّ ، نا الْقَاسِمُ بْنُ الْحَكَمِ ، نا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْوَصَّافِيُّ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَوَقَةَ ، عَنِ الْحَارِثِ ، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنِ اشْتَاقَ إِلَى الْجَنَّةِ سَابَقَ إِلَى الْخَيْرَاتِ ، وَمَنْ أَشْفَقَ مِنَ النَّارِ لَهَى عَنِ الشَّهَوَاتِ ، وَمَنْ تَرَقَّبَ الْمَوْتَ صَبَرَ عَنِ اللَّذَّاتِ ، وَمَنْ زَهِدَ فِي الدُّنْيَا هَانَتْ عَلَيْهِ الْمُصِيبَاتُ»
৪ - আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে আব্দুল হামীদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-হাসান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আর-রাবি আল-জুরুজানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-কাসিম ইবনুল হাকাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ আল-ওয়াসসাফী বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাওকাহ থেকে, তিনি হারিস থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা করে সে নেক কাজের দিকে প্রতিযোগিতা করে, আর যে ব্যক্তি জাহান্নামকে ভয় করে সে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিমুখ থাকে, আর যে ব্যক্তি মৃত্যুর প্রতীক্ষা করে সে স্বাদ-আহ্লাদ বর্জন করে ধৈর্য ধারণ করে, আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হয় তার নিকট বিপদ-আপদ তুচ্ছ হয়ে যায়।»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ، نا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ حَنَشٍ ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: أَصَابَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَصَاصَةٌ فَبَلَغَ ذَلِكَ عَلِيًّا رضي الله عنه ، فَخَرَجَ يَلْتَمِسُ عَمَلا يُصِيبُ مِنْهُ شَيْئًا لِيُقِيتَ بِهِ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَأَتَى بُسْتَانًا لِرَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ ، فَاسْتَقَى لَهُ سَبْعَةَ عَشْرَةَ دَلْوًا ، كُلُّ دَلْوٍ بِتَمْرَةٍ ، فَخَيَّرَهُ الْيَهُودِيُّ عَلَى تَمْرِهِ ، فَأَخَذَ سَبْعَ عَشْرَةَ عَجْوَةً ، كُلُّ دَلْوٍ بِتَمْرَةٍ ، فَجَاءَ بِهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: «مِنْ أَيْنَ لَكَ هَذَا يَا أَبَا الْحَسَنِ؟» قَالَ: بَلَغَنِي مَا بِكَ مِنَ الْخَصَاصَةِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ ، فَخَرَجْتُ أَلْتَمِسُ عَمَلا لأُصِيبَ لَكَ طَعَامًا ، قَالَ: «حَمَلَكَ عَلَى هَذَا حُبُّكَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ؟» قَالَ: نَعَمْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ ، قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ عَبْدٍ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِلا لَلْفَقْرُ أَسْرَعُ إِلْيَهِ مِنْ جَرْيَةِ السَّيْلِ مِنْ رَأْسِ الْجَبَلِ إِلَى وَجْهِهِ ، وَلَلْفَقْرُ أَسْرَعُ إِلَى مِنْ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ مِنْ جَرْيَةِ السَّيْلِ عَلَى وَجْهِهِ ، وَمَنْ أَحَبَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَلْيُعِدَّ لِلْبَلاءِ تِحْفَافًا» .

وَإِنَّمَا يَعْنِي الصَّبْرَ
৫ - আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবন আব্দুল হামিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মু'তামির ইবন সুলাইমান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হানাশ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অভাব-অনটনের সম্মুখীন হলেন। এই খবর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি কোনো কাজ খুঁজতে বের হলেন, যাতে এর বিনিময়ে কিছু উপার্জন করে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আহারের ব্যবস্থা করতে পারেন। অতঃপর তিনি জনৈক ইহুদি ব্যক্তির বাগানে আসলেন এবং তার জন্য সতেরো বালতি পানি তুললেন, প্রতি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুরের শর্তে। ইহুদি ব্যক্তিটি তাকে খেজুর পছন্দ করার সুযোগ দিলে তিনি সতেরোটি আজওয়া খেজুর নিলেন—প্রতি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুর। এরপর তিনি সেগুলো নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। তিনি বললেন: «হে আবুল হাসান! তুমি এগুলো কোথায় পেলে?» তিনি বললেন: হে আল্লাহর নবী! আপনার অভাব-অনটনের সংবাদ আমার কাছে পৌঁছেছিল, তাই আমি কোনো কাজ খুঁজতে বের হয়েছিলাম যাতে আপনার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি। তিনি বললেন: «আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসাই কি তোমাকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে?» তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবী। আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «এমন কোনো বান্দা নেই যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে, অথচ তার নিকট দারিদ্র্য পাহাড়ের চূড়া থেকে সমতলের দিকে ধাবমান প্লাবনের গতির চেয়েও দ্রুততর গতিতে না আসে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে তার নিকট দারিদ্র্য প্লাবনের গতির চেয়েও দ্রুত ধেয়ে আসে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে, সে যেন বিপদ-আপদের জন্য বর্ম প্রস্তুত করে রাখে।»

আর এর দ্বারা তিনি মূলত ধৈর্য ধারণ করাকেই বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ، نا الْمُعْتَمِرُ ، قَالَ: سَمِعْتُ حُمَيْدًا، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ: كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَاقَةٌ يُقَالُ لَهَا: الْعَضْبَاءُ ، فَكَانَتْ لا تُسْبَقُ ، فَجَاءَ أَعْرَابِيٌّ عَلَى قَعُودٍ فَسَبَقَهَا ، فَوُجِدَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ ذَلِكَ ، وَشَقَّ عَلَيْهِمْ ، فَلَمَّا رَأَى مَا فِي وُجُوهِهِمْ ، قَالَ ‌‌«حَقٌّ عَلَى اللَّهِ أَنْ لا يَرْفَعَ مِنَ الدُّنْيَا شَيْئًا إِلا وَضَعَهُ»
৬ - ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবন আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুতামির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হুমায়দকে আনাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি উষ্ট্রী ছিল যাকে ‘আল-আদবা’ বলা হতো, যা দৌড়ে কখনো হারত না। একবার একজন বেদুইন একটি যুবক উটের পিঠে চড়ে আসলেন এবং সেটিকে ছাড়িয়ে গেলেন। এতে মুসলমানরা মনে কষ্ট পেলেন এবং বিষয়টি তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াল। যখন তিনি (নবীজি) তাদের চেহারার অবস্থা দেখলেন, তখন তিনি বললেন: «আল্লাহর ওপর এটি অবধারিত যে, তিনি দুনিয়াতে কোনো কিছুকে উচ্চ মর্যাদা দান করলে অবশ্যই তাকে নিচে নামিয়ে দেন»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ، نا مُعْتَمِرٌ ، قَالَ: سَمِعْتُ حُمَيْدًا، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ: سُئِلَ كَيْفَ كَانَ صَوْمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: " كَانَ‌‌ يَصُومُ الشَّهْرَ حَتَّى نَقُولَ: لا يُرِيدُ أَنْ يُفْطِرَ مِنْهُ شَيْئًا ، أَوْ يُفْطِرُ الشَّهْرَ حَتَّى نَقُولَ: لا يُرِيدُ أَنْ يَصُومَ مِنْهُ شَيْئًا ، وَكُنْتَ مَا تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ قَائِمًا إِلا رَأَيْتَهُ قَائِمًا ، وَمَا تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ نَائِمًا إِلا وَرَأَيْتَهُ نَائِمًا "
৭ - ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবন আব্দুল হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ’লা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মু’তামির বলেছেন: আমি হুমাইদকে আনাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোজা কেমন ছিল সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: "তিনি‌‌ (কোনো) মাসে এমনভাবে রোজা রাখতেন যে আমরা বলতাম: তিনি তা থেকে কোনো অংশই বাদ দিতে (রোজা ভঙ্গ করতে) চান না, অথবা তিনি মাসে এমনভাবে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকতেন যে আমরা বলতাম: তিনি রোজা রাখতে চান না তার কোনো অংশই; আর আপনি যখনই তাঁকে দণ্ডায়মান দেখতে চাইতেন তখনই তাঁকে দণ্ডায়মান দেখতে পেতেন এবং যখনই তাঁকে নিদ্রারত দেখতে চাইতেন তখনই তাঁকে নিদ্রারত দেখতে পেতেন।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ ، أنبا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ‌‌ يُصَلِّي، وَلِجَوْفِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيزِ الْمِرْجَلِ» .

يَعْنِي يَبْكِي
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল হামীদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুবারক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম এমতাবস্থায় তিনি সালাত আদায় করছিলেন, আর তাঁর ভেতর থেকে টগবগ করে ফোটা হাঁড়ির শব্দের ন্যায় শব্দ আসছিল।»

অর্থাৎ তিনি কাঁদছিলেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ ، أنا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، نا سُفْيَانُ ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ ، عَنْ عُبَيْدَةَ السَّلْمَانِيِّ ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اقْرَأْ عَلَيَّ» .

فَقُلْتُ: أَقْرَأُ عَلَيْكَ ، وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ؟ قَالَ: ‌‌«إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي» .

قَالَ: فَافْتَتَحْتُ سُورَةَ النِّسَاءِ ، فَلَمَّا بَلَغْتُ: {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ
بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاءِ شَهِيدًا} [النساء: 41] .

قَالَ: فَرَأَيْتُ عَيْنَيْهِ تَذْرِفَانِ: فَقَالَ لِي: «حَسْبُكَ»

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ ، نا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، أنبا سَالِمٌ الْمَكِّيُّ ، عَنِ الْحَسَنِ ، قَالَ " مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَعْلَمَ مَا هُوَ فَلْيَعْرِضْ نَفْسَهُ عَلَى الْقُرْآنِ
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল হামিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুবারাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, সুলায়মান আল-আ'মাশ থেকে, তিনি উবায়দাহ আস-সালমানী থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: «তুমি আমার নিকট (কুরআন) পাঠ করো»।

আমি বললাম: আমি আপনার নিকট পাঠ করব, অথচ আপনার ওপরই তা অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আমি অন্যের থেকে তা শুনতে পছন্দ করি»।

তিনি বললেন: অতঃপর আমি সূরা আন-নিসা পাঠ শুরু করলাম, যখন আমি এই আয়াতে পৌঁছলাম: {অতঃপর তখন কেমন হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে
একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে তাদের সবার ওপর সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?} [আন-নিসা: ৪১]।

তিনি বললেন: তখন আমি দেখলাম তাঁর দুই চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: «তোমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট»

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল হামিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনুল হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালিম আল-মাক্কী, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি জানতে পছন্দ করে যে সে কী (অর্থাৎ তার প্রকৃত অবস্থা কেমন), সে যেন নিজেকে কুরআনের সামনে পেশ করে।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْغَضَائِرِيُّ ، نا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ صَاحِبُ الطَّعَامِ، نا رَوْحٌ ، عَنْ هِشَامِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ ، أَنَّهُ قَالَ: أَهْدَيْنَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خُبْزَ شَعِيرٍ وَإِهَالَةً سَنِخَةً ، وَلَقَدْ رَهَنَ دِرْعًا لَهُ عِنْدَ يَهُودِيٍّ ، فَأَخَذَ شَعِيرًا لأَهْلِهِ ، وَلَقَدْ سَمِعْتُهُ ذَاتَ يَوْمٍ يَقْولُ: ‌‌«مَا أَمْسَى عِنْدَ آلِ مُحَمَّدٍ صَاعٌ مِنْ بُرٍّ ، وَلا صَاعٌ مِنْ حَبٍّ» .

وَإِنَّ عِنْدَهُ تِسْعَ نِسْوَةٍ غَيْرَهُ
১০ - আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আলী বিন আব্দুল হামীদ আল-গাজাইরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট খাদ্যদ্রব্য ব্যবসায়ী ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট রাওহ বর্ণনা করেছেন, হিশাম বিন আবু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যবের রুটি এবং গন্ধযুক্ত পুরনো চর্বি উপহার দিয়েছিলাম। তিনি তাঁর একটি বর্ম জনৈক ইহুদির নিকট বন্ধক রেখেছিলেন এবং তাঁর পরিবারের জন্য যব গ্রহণ করেছিলেন। আর আমি তাঁকে একদিন বলতে শুনেছি: «মুহাম্মাদের পরিবারের নিকট এক সা' গম কিংবা এক সা' শস্যদানা অবশিষ্ট নেই যার ওপর সন্ধ্যা অতিবাহিত হয়েছে»।

আর তখন তাঁর নিকট নয়জন স্ত্রী বর্তমান ছিলেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ ، نا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ ، عَنْ هِشَامٍ ، نا عِكْرِمَةَ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: ‌‌«تُوُفِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَدِرْعُهُ رَهْنٌ بِثَلاثِينَ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ كَانَ أَخَذَهُ لأَهْلِهِ مِنْ يَهُودِيٍّ»
১১ - ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাওহ বিন আল-কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম থেকে, ইকরিমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‌‌«আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে, তাঁর বর্মটি ত্রিশ সা’ যবের বিনিময়ে যা তিনি তাঁর পরিবারের জন্য গ্রহণ করেছিলেন তা বন্ধক ছিল এক ইহুদির নিকট»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْغَضَائِرِيُّ ، نا بِشْرُ بْنُ الْوَلِيدِ الْكِنْدِيُّ ، أنبا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، وَجَعْفَرُ بْنُ زَيْدٍ، وَمَيْمُونُ بْنُ سِيَاهٍ، وَأَبَانُ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: ‌‌«مَا أَعْرِفُ مِنْكُمُ الْيَوْمَ شَيْئًا مِمَّا أَدْرَكْتُ عَلَيْهِ أَصْحَابِي إِلا هَذِهِ الصَّلاةَ ، وَلَقَدْ صَنَعْتُمْ فِيهَا مَا لا أَعْرِفُهُ»
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন আব্দুল হামিদ আল-গাযাইরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল ওয়ালীদ আল-কিন্দি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালিহ আল-মুররি, সাবিত আল-বুনানি, জাফর ইবন যায়িদ, মায়মুন ইবন সিয়াহ এবং আবান থেকে, তাঁরা আনাস ইবন মালিক (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি আমার সঙ্গীদের যে রীতির ওপর পেয়েছিলাম, আজ তোমাদের মাঝে এই সালাত ব্যতীত তার কিছুই চিনতে পারছি না; আর তোমরা এই সালাতেও এমন কিছু করেছ যা আমি চিনি না।»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ ، نا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، نا إِسْمَاعِيلُ الْمَكِّيُّ ، عَنِ الْحَسَنِ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ مَثَلَ أَصْحَابِي فِي أُمَّتِي كَالْمِلْحِ فِي الطَّعَامِ ، لا يَصْلُحُ الطَّعَامِ إِلا بِالْمِلْحِ» .

قَالَ الْحَسَنُ: فَقَدَ ذَهَبَ مِلْحُنَا، فَكَيْفَ نَصْنَعُ؟
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন আব্দুল হামিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবন আল-হাসান আল-মারওয়াযী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল আল-মাক্কী, হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ আমার উম্মতের মাঝে আমার সাহাবীদের উদাহরণ হলো খাদ্যে লবণের মতো, লবণ ব্যতীত খাদ্য সুস্বাদু হয় না» .

হাসান বলেন: আমাদের লবণ তো চলে গেছে, এখন আমরা কী করব?
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ ، نا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، نا شُعْبَةُ ، عَنْ قَتَادَةَ ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَعِيدٍ مَوْلَى أَنَسٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ»

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، ثنا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى ، نا وَلِيدٌ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي عَائِشَةَ ، يَقُولُ: كَانَ يُقَالُ: لا تَكُنْ ذَا وَجْهَيْنِ وَذَا لِسَانَيْنِ ، تُظْهِرُ لِلنَّاسِ أَنَّكَ تَخْشَى اللَّهَ وَقَلْبُكَ فَاجِرٌ.
১৪ - আমাদের নিকট ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আলী বিন আব্দুল হামিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হুসাইন বিন আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আনাসের মুক্তদাস আবদুল্লাহ বিন সাঈদকে আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।»

আমাদের নিকট ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আলী বিন আব্দুল হামিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুজাহিদ বিন মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়ালীদ বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন ইয়াযিদ বিন জাবির থেকে যে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আবু আইশাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলতেন: এমনটি বলা হতো যে—তুমি দু-মুখো ও দু-জিহ্বা বিশিষ্ট হয়ো না; তুমি মানুষের সামনে প্রকাশ করো যে তুমি আল্লাহকে ভয় করো, অথচ তোমার অন্তর পাপাচারী।
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ ، نا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، نا يَحْيَى بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ رِجَالٌ يَخْتِلُونَ الدُّنْيَا بِالدِّينِ ، يَلْبَسُونَ جُلُودَ الضَّأْنِ مِنَ اللِّينِ ، أَلْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ ، قُلُوبُهُمْ قُلُوبُ الذِّئَابِ ، يَقُولُ اللَّهُ تبارك وتعالى: أَفَبِي يَغْتَرُّونَ أَمْ عَلَيَّ يَجْتَرِئُونَ؟ فَبِي حَلَفْتُ لأَبْعَثَنَّ عَلَى أُولَئِكَ مِنْهُمْ فِتْنَةً تَدَعُ الْحَلِيمَ فِيهِمْ حَيْرَانَ «

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا الْحُسَيْنُ ، نا أَبُو شُجَاعٍ الأَقْرَعُ ، نا عَوْنٌ ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ ، قَالَ» أَشَدُّ النَّاسِ حِسَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّحِيحُ الْفَارِغُ "
১৫ - ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে হাসান আল-মারওয়াজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ শেষ জামানায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা দ্বীনের মাধ্যমে দুনিয়া শিকার করবে। তারা মানুষের নিকট কোমল সাজার জন্য ভেড়ার চামড়া পরিধান করবে। তাদের জিহ্বা মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে, কিন্তু তাদের অন্তর হবে নেকড়েদের অন্তরের মতো। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেন: তারা কি আমার ব্যাপারে ধোঁকায় পড়ে আছে, নাকি আমার বিরুদ্ধে দুঃসাহস দেখাচ্ছে? আমি আমার নিজের শপথ করে বলছি, আমি অবশ্যই তাদের ওপর তাদের মধ্য থেকেই এমন এক ফিতনা (বিপর্যয়) প্রেরণ করব, যা তাদের মধ্যকার ধৈর্যশীল ব্যক্তিকেও দিশেহারা করে দেবে।"

ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু শুজা আল-আকরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআবিয়া ইবনে কুররা থেকে, তিনি বলেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হিসাব হবে সুস্থ ও অবসর থাকা ব্যক্তির।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ، نا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ يَحْيَى ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ ، أَنَّهُمُ انْطَلَقُوا مَعَ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ يُشَيِّعُوهُ ، حَتَّى إِذَا بَلَغَ حِصْنَ الْمَسَاكِينِ ، قُلْنَا لَهُ: أَوْصِنَا.

قَالَ: ‌‌«اتَّقُوا اللَّهَ، وَعَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ؛ فَإِنَّهُ نُورُ الظُّلْمَةِ وَهُدَى النَّهَارِ ، فَخُذُوا بِهِ عَلَى مَا كَانَ مِنْ جَهْدٍ وَفَاقَةٍ ، فَإِنْ عَرَضَ بَلاءٌ فَابْذُلْ مَالَكَ وَأَخِّرْ دِينَكَ ، فَإِنْ تَجَاوَزَ الْبَلاءُ إِلَى دَمِكَ وَدِينِكَ فَابْذُلْ دَمَكَ، وَأَخِّرْ دِينَكَ؛ فَإِنَّ الْمَسْلُوبَ مَنْ سُلِبَ دِينُهُ ، وَإِنَّ الْمَخْرُوبَ مَنْ خُرِبَ دِينُهُ ، وَإِنَّهُ لا فَاقَةَ بَعْدَ الْجَنَّةِ، وَلا غِنًى بَعْدَ النَّارِ، فَإِنَّ النَّارَ لا يُفَكُّ أَسِيرُهَا، وَلا يَسْتَغْنِي فَقِيرُهَا»
১৬ - আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী বিন আব্দুল হামীদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আব্দুল আ'লা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন মাহদী বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাম বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি ইউনুস বিন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা জুন্দুব বিন আব্দুল্লাহর সাথে তাঁকে বিদায় জানাতে বের হলেন, এমনকি যখন তিনি 'হিসনুল মাসাকিন' নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন আমরা তাঁকে বললাম: আমাদের উপদেশ দিন।

তিনি বললেন: «তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং কুরআন আঁকড়ে ধরো; কেননা তা অন্ধকারের আলো এবং দিবালোকের হেদায়াত। সুতরাং কষ্ট ও অভাব যা-ই আসুক না কেন, তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো। যদি কোনো বিপদ আপতিত হয়, তবে তোমার সম্পদ বিসর্জন দাও এবং তোমার দ্বীনকে রক্ষা করো। আর যদি বিপদ তোমার প্রাণ ও দ্বীন পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে তোমার প্রাণ বিসর্জন দাও এবং তোমার দ্বীনকে রক্ষা করো; কেননা প্রকৃতপক্ষে সর্বস্বান্ত সেই ব্যক্তি, যার দ্বীন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত সেই ব্যক্তি, যার দ্বীন ধ্বংস হয়েছে। নিশ্চয়ই জান্নাতের পর কোনো অভাব নেই এবং জাহান্নামের পর কোনো সচ্ছলতা নেই। কেননা জাহান্নামের বন্দি কখনও মুক্তি পায় না এবং সেখানকার দরিদ্র কখনও সচ্ছল হয় না।»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ ، نا حُصَيْنُ بْنُ نُمَيْرٍ ، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ قَيْسٍ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: "‌‌ لا تَزُولُ قَدَمَا الْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنْ عُمْرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلاهُ ، وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَا أَنْفَقَهُ ، وَعَنْ عِلْمِهِ مَاذَا عَمِلَ فِيهِ "
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল হামীদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ বিন মাসআদাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন নুমাইর, তিনি আল-হুসাইন বিন কাইস থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "‌‌কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার দুই পা সরবে না যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়: তার জীবন সম্পর্কে যে তা কিসে অতিবাহিত করেছে এবং তার যৌবন সম্পর্কে যে তা কিসে ক্ষয় করেছে, তার সম্পদ সম্পর্কে যে তা কোথা থেকে উপার্জন করেছে ও কিসে ব্যয় করেছে এবং তার জ্ঞান সম্পর্কে যে সে অনুযায়ী কী আমল করেছে।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نا خَلَّادُ بْنُ أَسْلَمَ ، نا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، عَنِ أَبَانَ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنِ الصَّبَّاحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ ، عَنْ مُرَّةَ الْهَمَذَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«اسْتَحْيُوا مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ» .

قَالُوا: يَا رَسُولِ اللَّهِ إِنَّا نَسْتَحِي
.

قَالَ: «لَيْسَ ذَلِكَ ، وَلَكِنَّ مَنِ اسْتَحْيَا مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ ، فَلْيَحْفَظِ الرَّأْسَ وَمَا حَوَى ، وَيَحْفَظُ الْبَطْنَ وَمَا وَعَى ، وَلْيَذْكُرِ الْمَوْتَ وَالْبِلا ، وَمَنْ أَرَادَ الآخِرَةَ تَرَكَ زِينَةَ الدُّنْيَا ، وَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدِ اسْتَحْيَا مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِ»
১৮ - আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খাল্লাদ ইবনে আসলাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান ইবনে মুআবিয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবান ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আস-সাব্বাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি হাযিম থেকে, তিনি মুররাহ আল-হামদানী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আল্লাহর নিকট যথাযথ লজ্জা পোষণ করো»।

তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তো লজ্জা করি।

তিনি বললেন: «বিষয়টি তেমন নয়, বরং যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট যথাযথ লজ্জা পোষণ করে, সে যেন মাথা ও তা যা ধারণ করে তার হিফাযত করে এবং পেট ও তা যা ধারণ করে তার হিফাযত করে, আর সে যেন মৃত্যু ও দেহের জীর্ণতাকে স্মরণ করে। যে ব্যক্তি পরকাল কামনা করে সে দুনিয়ার চাকচিক্য বর্জন করে। আর যে ব্যক্তি এরূপ করে, সে আল্লাহর নিকট যথাযথ লজ্জা পোষণ করল»।
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২০)
19 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، ثنا خَلادُ بْنُ أَسْلَمَ الطَّالِقَانِيُّ ، نا سَعِيدُ بْنُ خُثَيْمٍ ، عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ مَرْزُوقٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: أَرْكَبَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُ ،وَالْتَفَتَ إِلَيَّ ، فَنَظَرَ ، فَقَالَ: «يَا غُلامُ» .

قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ.

قَالَ: «أَلا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتِ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَنْفَعَكَ؟» قَالَ: قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ.

قَالَ: ‌‌«احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ ، احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ أَمَامَكَ ، إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ ، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ ، جَفَّ الْقَلَمُ بِمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، لَوْ جَهَدَ النَّاسُ أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَكْتُبْهُ اللَّهُ لَكَ لَمْ يَسْتَطِيعُوا ، وَلَوْ جَهَدَ النَّاسُ أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَكْتُبْهُ عَلَيْكَ لَمْ يَسْتَطِيعُوا ، فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَعْمَلَ فِي الرِّضَا وَالْيَقِينِ فَاصْبِرْ فَإِنَّ لِلصَّبْرِ خَيْرًا كَثِيرًا ، وَاعْلَمْ أَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ ، وَاعْلَمْ أَنَّ الْفَرَجَ مَعَ الْكَرْبِ ، وَاعْلَمْ أَنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا»

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيٌّ ، نا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ ، نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ ، نا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ ، نا صَالِحٌ الْمُرِّيُّ ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ ، عَنْ أَبِي الْخُلْدِ ، أَنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى أَوْحَى إِلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ «إِذَا ذَكَرْتَنِي فَاذْكُرْنِي وَأَنْتَ تَنْتَفِضُ أَعْضَاؤُكَ ، وَكُنْ عِنْدَ ذِكْرِي خَاشِعًا مُطْبَقًا ، وَإِذَا دَعَوْتَنِي فَاجْعَلْ لِسَانَكَ مِنْ وَرَاءِ قَلْبِكَ ، وَإِذَا قُمْتَ بَيْنَ يَدَيَّ فَقُمْ مَقَامَ الْعَبْدِ الْحَقِيرِ الذَّلِيلِ ، وَذُمَّ نَفْسَكَ فَهِيَ أَوْلَى بِالذَّمِّ ، وَنَاجِنِي حِينَ تُنَاجِينِي بِقَلْبٍ وَجِلٍ وَلِسَانٍ صَادِقٍ»
১৯ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আব্দুল হামীদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খাল্লাদ ইবনে আসলাম আত-তালিকানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে খুসাইম, তিনি ফুদাইল ইবনে মারযূক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তাঁর পিছনে সওয়ারিতে বসালেন, অতঃপর তিনি আমার দিকে ফিরলেন এবং তাকালেন, তারপর বললেন: "হে বালক!"

আমি বললাম: আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসূল।

তিনি বললেন: "আমি কি তোমাকে এমন কিছু কথা শেখাব না যার দ্বারা সম্ভবত আল্লাহ তোমাকে উপকৃত করবেন?" তিনি বলেন: আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল।

তিনি বললেন: ‌‌"তুমি আল্লাহর বিধানের হিফাযত করো, তিনি তোমাকে হিফাযত করবেন। তুমি আল্লাহর বিধানের হিফাযত করো, তবে তাঁকে তোমার সামনে পাবে। যখন তুমি কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও। আর যখন সাহায্যের প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো।" কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লিখে কলম শুকিয়ে গেছে। যদি সমস্ত মানুষ তোমাকে এমন কোনো বিষয়ে উপকার করার চেষ্টা করে যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রাখেননি, তবে তারা তা করতে সক্ষম হবে না। আর যদি সমস্ত মানুষ তোমার কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করে যা আল্লাহ তোমার বিপক্ষে লিখে রাখেননি, তবে তারা তা করতে সক্ষম হবে না। সুতরাং যদি তুমি সন্তুষ্টি ও সুনিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে আমল করতে সক্ষম হও, তবে ধৈর্য ধারণ করো; কেননা ধৈর্যের মধ্যে অনেক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। জেনে রেখো যে, ধৈর্যের সাথেই বিজয় আসে, কষ্টের সাথেই মুক্তি আসে এবং অবশ্যই কঠিন অবস্থার সাথেই স্বাচ্ছন্দ্য আসে।

আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী, তিনি সালামাহ ইবনে শাবীব থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল থেকে, তিনি হাশিম ইবনে কাসিম থেকে, তিনি সালিহ আল-মুররী থেকে, তিনি আবু ইমরান আল-জাওনী থেকে, তিনি আবুল খুলদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা মূসা ইবনে ইমরানের প্রতি ওহী পাঠালেন: "যখন তুমি আমাকে স্মরণ করবে, তখন এমনভাবে স্মরণ করো যেন তোমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কম্পিত হয়। আমার যিকিরের সময় তুমি বিনয়ী ও স্থির থেকো। যখন তুমি আমার কাছে দোয়া করবে, তখন তোমার জিহ্বাকে অন্তরের অনুগামী করো। আর যখন তুমি আমার দুই হাতের সামনে দাঁড়াবে, তখন তুচ্ছ ও হীন দাসের ন্যায় দাঁড়াবে। নিজের নফসের নিন্দা করো, কেননা তা নিন্দারই যোগ্য। আর যখন তুমি আমার সাথে গোপনে কথা বলবে, তখন ভীত অন্তর ও সত্যবাদী জিহ্বার সাথে কথা বলো।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২১)
20 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيٌّ ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ ، نا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، نا يَحْيَى بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا تَوَادَّ اثْنَانِ فِي الإِسْلامِ فَفُرِّقَ بَيْنَهُمَا إِلا مِنْ ذَنْبٍ يُحْدِثُهُ أَحَدُهُمَا»
২০ - আমাদের নিকট ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-হুসাইন ইবনুল হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে উবায়দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইসলামের ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ দুইজন ব্যক্তির মাঝে যখনই বিচ্ছেদ ঘটে, তখন তা তাদের কোনো একজনের কৃত পাপের কারণেই হয়ে থাকে।»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২২)
21 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيٌّ ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ ، نا مُؤَمَّلٌ ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ عَطِيَّةَ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«كَيْفَ أَنْعَمُ وَصَاحِبُ الْقَرْنِ شَاخِصٌ بِبَصَرِهِ ، مُنْحَنٍ ظَهْرُهُ ، يَنْتَظِرُ مَتَى يُؤْمَرُ» .

قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا نَقُولُ؟ قَالَ: " قُولُوا: حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ "
২১ - আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি কীভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব, অথচ শিংগা ধারণকারী (ফেরেশতা) তার দৃষ্টি স্থির করে রেখেছেন, তার পিঠ অবনত করে রেখেছেন এবং তিনি প্রতীক্ষা করছেন যে কখন তাকে নির্দেশ প্রদান করা হবে?».

তিনি বলেন: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কী বলব? তিনি বললেন: "তোমরা বলো: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيٌّ ، نا الْحُسَيْنُ ، نا مُؤَمَّلٌ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«كَيْفَ أَنْعَمُ وَصَاحِبُ الْقَرْنِ قَدِ الْتَقَمَ الْقَرْنَ ، وَاسْتَمَعَ الأَذَانَ مَتَى يُؤْمَرُ فَيَنْفُخُ» ، فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «قُولُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ»
২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআম্মাল, সুফিয়ান থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি কীভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারি অথচ শিংগার অধিকারী (ফেরেশতা) শিংগাটি মুখে নিয়েছেন এবং আদেশের জন্য কান পেতে আছেন যে, কখন তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে আর তিনি তাতে ফুঁ দেবেন?» এ বিষয়টি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বললেন: «তোমরা বলো: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيٌّ ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ ، نا عِيسَى بْنُ يُونُسَ ، نا الأَعْمَشُ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ ، قَالَ: قَالَ حُذَيْفَةُ: ‌‌«لَوْ أَنَّ رَجُلا ارْتَبَطَ فَرَسًا فَنَتَجَتْ عِنْدَهُ مُهْرًا حِينَ يُرَى أَوَّلُ الآيَاتِ مَا يُرْكَبُ حَتَّى يَرَاهَا»
২৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনুল হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ’মাশ, আব্দুল্লাহ ইবনে মুররা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: ‌‌«যদি কোনো ব্যক্তি একটি ঘোড়া বেঁধে রাখে এবং তার নিকট একটি শাবক জন্ম নেয় এমন সময় যখন প্রথম নিদর্শনসমূহ দেখা দেয়, তবে সেটি আরোহণের উপযোগী হওয়ার পূর্বেই সে সেগুলো দেখে ফেলবে (অর্থাৎ কিয়ামতের আলামতগুলো একের পর এক দ্রুত প্রকাশ পাবে)»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيٌّ ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ ، نا نَضْرُ بْنُ مُسَاوِرٍ ، نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي الْمُهَزَّمِ يَزِيدَ بْنِ سُفْيَانَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: ‌‌«الآيَاتُ كُلُّهَا فِي ثَلاثَةِ أَشْهُرٍ»
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনুল হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাদর ইবনে মুসাবির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তিনি আবুল মুহাজ্জিম ইয়াজিদ ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «নিদর্শনাবলির সবকটিই তিন মাসের মধ্যে (সংঘটিত হবে)»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيٌّ ، نا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ ، نا مُؤَمَّلٌ ، نا سُفْيَانُ ، عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ النُّعْمَانِ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَوْعِظَةٍ ، فَقَالَ: "‌‌ إِنَّكُمْ مَحْشُورُونَ إِلَى اللَّهِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلا: {كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ} [الأنبياء: 104] .

" ثُمَّ قَالَ: " إِنَّ أَوَّلَ الْخَلائِقِ يُكْسَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِبْرَاهِيمُ صلى الله عليه وسلم، وَسَيَجِيء بِرِجَالٍ مِنْ أُمَّتِي يُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ ، فَأَقُولُ: أَيْ رَبِّ أَصْحَابِي.

فَيُقَالُ: إِنَّكَ لا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ.

أَقُولُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ: {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ {117} إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [المائدة: 117-118] .

فَيُقَالُ: إِنَّهُمْ لَمْ يَزَالُوا مُرْتَدِّينَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ مُنْذُ فَارَقْتَهُمْ "
২৫ - ইসমাইল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে হাসান থেকে, তিনি মুয়াম্মাল থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে নুমান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে নসিহত প্রদানের জন্য দাঁড়ালেন এবং বললেন: “নিশ্চয়ই তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট খালি পায়ে, উলঙ্গ ও খতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে: {যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই আমি পুনরায় সৃষ্টি করব। এটি আমার উপর একটি প্রতিশ্রুতি, নিশ্চয়ই আমি তা পালন করব।} [আল-আম্বিয়া: ১০৪] ।

” এরপর তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন সৃষ্টিজগতের মধ্যে সর্বপ্রথম ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে পোশাক পরিধান করানো হবে। আর অচিরেই আমার উম্মতের কিছু লোককে নিয়ে আসা হবে যাদের বাম দিকে (জাহান্নামের দিকে) নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব: হে আমার রব! এরা তো আমার সঙ্গী।

তখন বলা হবে: আপনি জানেন না আপনার পরে তারা ধর্মে কী কী নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছিল।

তখন আমি তা-ই বলব যা নেককার বান্দা (ঈসা আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: {আর আমি তাদের কর্মকাণ্ডের সাক্ষী ছিলাম যতক্ষণ আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন, তখন আপনিই ছিলেন তাদের তত্ত্বাবধায়ক। আর আপনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী। {১১৭} আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা; আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তবে আপনিই তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আল-মায়িদাহ: ১১৭-১১৮] ।

অতঃপর বলা হবে: আপনি তাদের ছেড়ে আসার পর থেকে তারা ক্রমাগত তাদের পশ্চাতে (ধর্ম থেকে) ফিরে যাচ্ছিল।”
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، نا عَلِيٌّ ، نا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ ، نا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ ، نا إِسْرَائِيلُ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ مُورِّقٍ ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِنِّي أَرَى مَا لا تَرَوْنَ، وَأَسْمَعُ مَا لا تَسْمَعُونَ ، أَطَّتِ السَّمَاءُ وَحَقٌّ لَهَا أَنْ تَئِطَّ؛ مَا فِيهَا مَوْضِعُ أَرْبَعِ أَصَابِعَ إِلا وَمَلَكٌ وَاضِعٌ جَبْهَتَهُ سَاجِدًا لِلَّهِ عز وجل، وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا ، وَمَا تَلَذَّذْتُمْ بِالنِّسَاءِ عَلَى الْفُرُشِ، وَلَخَرَجْتُمْ إِلَى الصُّعُدَاتِ تَجْأَرُونَ إِلَى اللَّهِ عز وجل، وَلَوَدِدْتُ أَنِّي شَجَرَةٌ تُعْضَدُ»
26 - আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মানী' বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আহমাদ আয-যুবাইরী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মুহাজির থেকে, তিনি মুররিক থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি যা দেখি তোমরা তা দেখ না, এবং আমি যা শুনি তোমরা তা শোন না; আকাশ মচমচ শব্দ করছে এবং তার জন্য শব্দ করাটাই সংগত; সেখানে চার আঙুল পরিমাণ জায়গাও খালি নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে কপাল ঠেকিয়ে রাখেনি। আল্লাহর কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তবে তোমরা অবশ্যই হাসতে কম এবং কাঁদতে বেশি; এবং তোমরা বিছানায় স্ত্রীদের সান্নিধ্য উপভোগ করতে পারতে না; বরং তোমরা মহান আল্লাহর নিকট আর্তনাদ করতে করতে উঁচু রাস্তাগুলোতে বেরিয়ে পড়তে। হায়! আমি যদি একটি গাছ হতাম যা কেটে ফেলা হয়!»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، نا عَلِيٌّ ، نا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ الْجَوْهَرِيُّ ، نا أَبُو مُعَاوِيَةَ الضَّرِيرُ ، عَنْ مُوسَى الصَّغِيرِ ، عَنْ هِلالِ بْنِ يِسَافٍ ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ أَمَامَكُمْ عَقَبَةً كَئُودًا، لا يَجُوزُهَا إِلا الْمُتَخَفِّفُونَ، وَإِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَتَخَفَّفَ لَهَا»
২৭ - আমাদের নিকট ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-জাওহারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া আদ-দারীর বর্ণনা করেছেন মূসা আস-সাগীর থেকে, তিনি হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয় তোমাদের সামনে এক অত্যন্ত কঠিন চড়াই পথ রয়েছে, বোঝা হালকা করা ব্যক্তিগণ ব্যতীত কেউ তা অতিক্রম করতে পারবে না। আর আমি এর জন্য নিজের বোঝা হালকা করতে পছন্দ করি।»
(খণ্ড: ১) হাদীসু আবিল কাসিম আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، نا عَلِيٌّ ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ الْعَابِدِيُّ ، نا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ زَيْدٍ الْعَمِّيُّ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ مَشَى لأَخِيهِ الْمُسْلِمِ فِي حَاجَةٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ سَبْعِينَ حَسَنَةً، وَمَحَا عَنْهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ سَبْعِينَ سَيِّئَةً، مُنْذُ يَبْتَدِئُ فِي الْحَاجَةِ إِلَى أَنْ تُقْضَى، فَإِنْ قُضِيَتِ الْحَاجَةِ خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ، فَإِنْ مَاتَ قَبْلَ ذَلِكَ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইমরান আল-আবিদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহীম ইবনে যাইদ আল-আম্মী, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে হেঁটে যায়, আল্লাহ তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে তার জন্য সত্তরটি নেকি লিখে দেন এবং প্রতিটি কদমের বিনিময়ে তার সত্তরটি পাপ মুছে দেন, প্রয়োজন শুরু করার সময় থেকে তা পূরণ হওয়া পর্যন্ত। আর যদি প্রয়োজনটি পূরণ হয়ে যায়, তবে সে তার পাপসমূহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হয়ে আসে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন। আর যদি সে এর আগেই মৃত্যুবরণ করে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।»