(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: -)
المدخل لدراسة القرآن الكريم   (محمد أبو شهبة)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: المدخل لدراسة القرآن الكريم

المؤلف: محمد بن محمد بن سويلم أبو شُهبة (ت 1403هـ)

الناشر: مكتبه السنة - القاهرة

الطبعة: الثانية، 1423 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 478

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433

পবিত্র কুরআন অধ্যয়নের ভূমিকা   (মুহাম্মদ আবু শাহবাহ)

বিভাগ: কুরআনুল কারীমের উলুম এবং তাফসীরের উসূল


গ্রন্থ: পবিত্র কুরআন অধ্যয়নের ভূমিকা

লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুয়াইলাম আবু শাহবাহ (মৃত্যু ১৪০৩ হি.)

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সুন্নাহ - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হি. - ২০০৩ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৮

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: -)
ـ[المدخل لدراسة القرآن الكريم]ـ

المؤلف: محمد بن محمد بن سويلم أبو شُهبة (المتوفى: 1403هـ)

الناشر: مكتبه السنة - القاهرة

الطبعة: الثانية، 1423 هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[আল-মাদখাল লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারীম (পবিত্র কুরআন অধ্যয়নের ভূমিকা)]

লেখক: মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সুওয়াইলাম আবু শুহবাহ (মৃত্যু: ১৪০৩ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সুন্নাহ - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[التعريف بالقرآن الكريم]

‌‌مقدمة الطبعة الثالثة

بسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله منزل الكتاب ومجري السحاب وهازم الأحزاب، والصلاة والسلام على شفيعنا يوم المآب.

أما بعد: فإن الله تعالى أنزل خاتم كتبه، على خير أنبيائه ورسله؛ ليكون كلمة الله الأخيرة للعالمين، فانقسم الناس في تلقّيه أحزابا فَمِنْهُمْ ظالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سابِقٌ بِالْخَيْراتِ بِإِذْنِ اللَّهِ [فاطر: 32].

ولئن كان هذا القرءان تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلى ذِكْرِ اللَّهِ [الزمر: 23] فإن هناك من يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِؤُا نُورَ اللَّهِ بِأَفْواهِهِمْ [التوبة: 32] وما يزال هذا دأبهم جيلا بعد جيل أَتَواصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طاغُونَ [الذاريات: 53] فكان الواجب على علماء الأمة خدمة كتابها، وتبيين علومه، والذبّ عنه، خاصة في تلك الأوقات العصيبة التي تنطلق فيها سهام التشكيك من كل صوب، من وسائل الإعلام العالمية المتنوعة المرئية والمسموعة والمقروءة.

ولن تعدم خير الأمم من يقوم بهذا الواجب، فما زالت أيدي علمائها تسطّر من العلوم وتزيل الشبهات بما تبهر به العقول، وتقر أعين المؤمنين، وتنكّس رءوس المنافقين.

وكتاب «المدخل» لفضيلة الشيخ العلامة الدكتور محمد أبو شهبة يعد حسن الختام لما كتب في هذا المجال، فقد جمع فيه بين عمق المعرفة، وسلاسة الأسلوب.

جمع بين علوم القرءان على نهج المتقدمين، وبين تفنيده لشبهات المستشرقين، مع أدب عال في النقد والحوار، وغيرة شديدة على الإسلام وكتابه وعقيدته الصافية.
[আল-কুরআনুল কারীমের পরিচিতি]

তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী এবং শত্রুবাহিনীকে পরাস্তকারী। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিচার দিবসে আমাদের সুপারিশকারীর প্রতি।

অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর সর্বশেষ কিতাব তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলের ওপর অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তা বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর চূড়ান্ত বাণী হতে পারে। ফলে এটি গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি অবিচারকারী, কেউ মধ্যপন্থী এবং কেউ আল্লাহর অনুমতিতে কল্যাণের কাজে অগ্রগামী [ফাতির: ৩২]।

আর যদিও এই কুরআন এমন যে, এতে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, অতঃপর আল্লাহর স্মরণে তাদের চামড়া ও অন্তর নরম হয় [আয-যুমার: ২৩]; তবে এমন কিছু লোকও আছে যারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায় [আত-তাওবাহ: ৩২]। আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটাই তাদের স্বভাব হয়ে আছে; তারা কি একে অপরকে এরই অসিয়ত করে গেছে? বরং তারা এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি [আয-যারিয়াত: ৫৩]। সুতরাং উম্মতের ওলামায়ে কেরামের ওপর কর্তব্য হলো এই কিতাবের খিদমত করা, এর ইলমসমূহ ব্যাখ্যা করা এবং একে রক্ষা করা; বিশেষ করে এই কঠিন সময়ে যখন দৃশ্যমান, শ্রবণযোগ্য ও পঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে সব দিক থেকে সন্দেহের তীর ছোঁড়া হচ্ছে।

আর সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত এমন ব্যক্তিদের থেকে কখনোই শূন্য হবে না যারা এই দায়িত্ব পালন করবেন। তাই তাদের আলেমদের হাতসমূহ এখনো জ্ঞান লিপিবদ্ধ করে চলেছে এবং এমনভাবে সংশয়সমূহ দূর করছে যা বিবেককে অভিভূত করে, মুমিনদের চক্ষু শীতল করে এবং মুনাফিকদের মাথা নত করে দেয়।

আর ফযীলতুশ শাইখ আল্লামা ডক্টর মুহাম্মদ আবু শাহবাহ-এর 'আল-মাদখাল' কিতাবটি এই ক্ষেত্রে যা কিছু লেখা হয়েছে তার মধ্যে এক চমৎকার সমাপনী হিসেবে গণ্য। কেননা তিনি এতে গভীর জ্ঞান এবং সাবলীল শৈলীর সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

তিনি এতে পূর্বসূরিদের মানহাজ অনুযায়ী কুরআনুল কারীমের ইলমসমূহ এবং প্রাচ্যবিদদের সংশয় খণ্ডনের সমন্বয় করেছেন; সেই সাথে রয়েছে সমালোচনা ও সংলাপে উচ্চমানের শিষ্টাচার এবং ইসলাম, এর কিতাব ও এর বিশুদ্ধ আকিদার প্রতি তীব্র আত্মমর্যাদাবোধ।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ৪)
وها هو الكتاب يطبع للمرة الثالثة بعد أن نفدت طبعته الثانية تماما، وذلك لما جمع فيه من العلم الغزير مع النية الطيبة الحسنة، نحسبه كذلك ولا نزكي على الله أحدا.

وكان المؤلف رحمه الله قد ألحق بقلمه زيادات وتنقيحات على الطبعة الأولى للكتاب، فلما طبع الطبعة الثانية أدخلت هذه الزيادات فيها، ولكنها للأسف أحيانا أدخلت في غير موضعها! وفي أحايين قليلة استبدلت بعض الكلمات ظنا من المصحح أنها تصحيف!

لكن بحمد الله قمنا في هذه الطبعة بالمقابلة على الأصل- كما هو منهج المحدثين- فأرجعنا الزيادات إلى أماكنها الصحيحة، واستبقينا الكلمات التي صاغها المؤلف بيده إذا تبين أنها صحيحة لغة، وأن المؤلف قصدها بعينها.

وإذا كانت مكتبتنا تشرف بمثل هذا الكتاب، فلا ريب أن المكتبة الإسلامية تزداد به حسنا وبهاء.

نسأل الله أن يرحم المؤلف رحمة واسعة على ما قدم لخدمة كتابه، ونسأله سبحانه أن يوفقنا لما فيه رضاه، وأن يجزي خيرا كل من ساهم في خدمة الكتاب وتصحيحه، والقيام على نشره، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

مركز السنة للبحث العلمي بالقاهرة
আর এই যে বইটি তৃতীয়বারের মতো মুদ্রিত হচ্ছে, যার দ্বিতীয় সংস্করণ সম্পূর্ণ নিঃশেষ হওয়ার পর। এটি সম্ভব হয়েছে এতে সংগৃহীত প্রচুর জ্ঞান এবং সৎ ও সুন্দর নিয়তের কারণে; আমরা তাকে এরূপই মনে করি এবং আল্লাহর দরবারে কাউকেই পবিত্র বলে ঘোষণা করি না।

লেখক (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) বইটির প্রথম সংস্করণে নিজের কলমে কিছু সংযোজন ও পরিমার্জন করেছিলেন। ফলে দ্বিতীয় সংস্করণ যখন মুদ্রিত হয়, তখন এই সংযোজনগুলো তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল; কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, কখনো কখনো সেগুলো ভুল স্থানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল! আর কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনকারীর ধারণা অনুযায়ী শব্দগুলো ভুল মনে করে পরিবর্তন করা হয়েছিল।

কিন্তু আল্লাহর প্রশংসায় আমরা এই সংস্করণে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি—যেমনটি মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি—ফলে আমরা সংযোজনগুলোকে তাদের সঠিক স্থানে ফিরিয়ে এনেছি। আর লেখক নিজের হাতে যে শব্দগুলো গঠন করেছিলেন তা বহাল রেখেছি, যদি তা ভাষাগতভাবে সঠিক বলে প্রমাণিত হয় এবং লেখক নির্দিষ্টভাবে সেগুলোই উদ্দেশ্য করে থাকেন।

আমাদের লাইব্রেরি যদি এই ধরণের একটি কিতাবের মাধ্যমে ধন্য হয়, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইসলামী লাইব্রেরি এর দ্বারা সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতায় সমৃদ্ধ হবে।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন লেখকের প্রতি তাঁর কিতাবের খেদমতের জন্য প্রশস্ত রহমত দান করেন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সেই কাজের তাওফিক দান করেন যাতে তাঁর সন্তুষ্টি রয়েছে। আর যারা এই কিতাবটির খেদমত, সংশোধন এবং এর প্রকাশনার কাজে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রত্যেককে তিনি উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য।

মারকাজুস সুন্নাহ বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র, কায়রো
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

بسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله الذي علّم القرآن، خلق الإنسان، علّمه البيان، والصلاة والسلام على نبينا محمد القائل: «ما من نبي من الأنبياء إلا وآتاه الله من الآيات ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أوتيته وحيا أوحاه الله إليّ فأرجو أن أكون أكثرهم تابعا يوم القيامة».

وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

وبعد:

فقد نفدت الطبعة الأولى من هذا الكتاب القويم الذي يدور في فلك القرآن الكريم، من منذ بضع سنين.

وقد رغب إليّ الكثيرون ممن قرءوه وانتفعوا به، من طلاب جامعة الأزهر الشريف، وغيرهم من طلاب المعرفة وعشاق الثقافة الإسلامية الأصيلة؛ هذه الثقافة التي تدور حول الأصلين الشريفين: القرآن الكريم، والسنة النبوية المنيفة.

وقد رأيت أن تجيء هذه الطبعة الثانية- كما هي سنة الله في التطور والارتقاء- مشتملة على مزيد من التحقيقات، ومن الموضوعات التي لا يستغني عنها الدعاة الذين نصبوا أنفسهم للدعوة إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة ولا سيما فيما أورده المستشرقون والمبشرون على القرآن من شبهات، فقد عرضت للشبه التي أثيرت على الوحي، ورددتها بالقواعد العلمية الصحيحة لا بالعاطفة والعصبية.

وكذلك زدت بحوثا حول ثبوت النص القرآني بالتواتر المفيد للقطع واليقين، وسلامة هذ النص من التحريف والتبديل، وهي خصيصة للقرآن لم تتوافر لأي كتاب آخر سماوي.

وكذلك زدت فيه بحوثا حول نزول القرآن على سبعة أحرف، ورد شبه
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে ভাবপ্রকাশের ক্ষমতা শিখিয়েছেন। দরুদ ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মাদের প্রতি যিনি বলেছেন: "নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী ছিলেন না যাকে এমন নিদর্শন দেওয়া হয়নি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহী, যা আল্লাহ আমার কাছে পাঠিয়েছেন; তাই আমি আশা করি কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে আমার অনুসারীই সবচেয়ে বেশি হবে।"

এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের প্রতি (সালাম)।

অতঃপর:

কুরআনুল কারীমকে কেন্দ্র করে রচিত এই সুদৃঢ় কিতাবটির প্রথম সংস্করণ কয়েক বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে।

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং জ্ঞানের অন্যান্য অন্বেষী ও খাঁটি ইসলামী সংস্কৃতির অনুরাগী—যারা এটি পড়েছেন এবং এর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন—তাদের অনেকে এটি পুনরায় প্রকাশের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। এই সংস্কৃতি আবর্তিত হয় দুটি মহান মূলনীতিকে কেন্দ্র করে: কুরআনুল কারীম এবং সুউচ্চ সুন্নাতে নববী।

আমি সংকল্প করেছি যে, বিবর্তন ও উন্নতির ক্ষেত্রে আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী এই দ্বিতীয় সংস্করণটি অধিকতর তাহকীক (গবেষণা) এবং এমন সব বিষয়বস্তু সম্বলিত হবে যা সেই দাঈদের জন্য অপরিহার্য যারা হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন; বিশেষ করে প্রাচ্যবিদ ও মিশনারিরা কুরআনের বিরুদ্ধে যেসব সংশয় উত্থাপন করেছে সেগুলোর ক্ষেত্রে। আমি ওহী নিয়ে উত্থাপিত সংশয়গুলো উপস্থাপন করেছি এবং আবেগ বা গোঁড়ামি দিয়ে নয়, বরং সঠিক বৈজ্ঞানিক মূলনীতির মাধ্যমে সেগুলোর খণ্ডন করেছি।

একইভাবে আমি কুরআনের পাঠ (টেক্সট) মুতাওয়াতির বা অকাট্য ও নিশ্চিত পরম্পরার মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়া এবং এই পাঠ বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে মুক্ত থাকা সংক্রান্ত আলোচনা বৃদ্ধি করেছি; এটি কুরআনের এমন এক বৈশিষ্ট্য যা অন্য কোনো আসমানী কিতাবের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেই।

এছাড়াও আমি এতে সাত হারফে (আহরাফে সাবআ) কুরআন নাযিল হওয়া এবং সংশয় নিরসন সংক্রান্ত আলোচনা যোগ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ৬)
بعض المستشرقين في هذا، والكتاب المعاصرين الذين لم يأخذوا من الدراسات القرآنية بحظ وافر.

والله أسأل أن ينفع به كما نفع بأصله، وأن يجعل عملي مقبولا، وأجري موصولا، إنه سميع مجيب، وهو حسبي! ونعم الوكيل.

أبو عمر محمد بن محمد أبو شهبة
এই বিষয়ে কতিপয় প্রাচ্যবিদ এবং সমসাময়িক লেখকগণ, যারা কুরআনিক গবেষণায় পর্যাপ্ত ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে পারেননি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি এর দ্বারা তদ্রূপ উপকৃত করবেন যেরূপ এর মূল কিতাব দ্বারা উপকৃত করেছেন; এবং তিনি যেন আমার এ কর্মকে কবুল করেন ও আমার প্রতিদানকে নিরবচ্ছিন্ন রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।

আবু উমর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আবু শাহবাহ
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة الطبعة الأولى

بسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله الذي أنزل على عبده «محمد» القرآن مشتملا على الحكم والأحكام والمواعظ والآداب، والصلاة والسلام على سيدنا «محمد» الذي خصه الله بجوامع الكلم، وآتاه الحكمة وفصل الخطاب، وعلى آله وصحابته، ومن اهتدى بهديه إلى يوم الحساب.

أما بعد: فإن أحق ما يشتغل به الباحثون، وأفضل ما يتسابق فيه المتسابقون- مدارسة كتاب الله، ومداومة البحث فيه، والغوص عن لآلئه والكشف عن علومه وحقائقه، وإظهار إعجازه وتجلية محاسنه، والدفاع عن ساحته ونفي الشكوك والريب فيه، والقرآن بحر لا يدرك غوره، ولا تنفد درره، ولا تنقضي عجائبه، فما أحق الأعمار أن تفنى فيه، والأزمان أن تشغل به، وكل ساعة يقضيها الباحث في النظر في كتاب الله، والتأمل فيه أو في البحث فيما يتصل به، في سبيل الله، وفي سبيل الإسلام.

ولما أسند إليّ تدريس «علوم القرآن» بقسم «الدراسات العليا» بكلية أصول الدين من كليات الجامعة الأزهرية رأيت أن أضع في هذا مؤلفا وسطا: لا هو بالطويل الممل، ولا بالقصير المخل؛ ليكون مرجعا لطلاب هذا القسم وغيرهم من عشاق القرآن وعلومه. ولما كانت مباحث هذا العلم مدخلا وسبيلا لدراسة «القرآن الكريم» وفهمه وتدبره لم أجد نفسي في حاجة إلى أن أتكلف لهذا المؤلف اسما وسميته: «المدخل لدراسة القرآن الكريم»، ويعتبر هذا «المدخل» أول كتاب ألف في هذا الفن، من أحد رجال الطبقة التي تلي طبقة شيوخنا وأول باكورة شهية، لقسم الدراسات العليا شعبة «التفسير وعلومه، والحديث وعلومه» أقول هذا تحدثا بنعمة الله عليّ ولله الحمد، والمنة. والله أسأل أن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه، وأن يجعل نفعه عاما موصولا.

أبو عمر محمد بن محمد أبو شهبة
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দা ‘মুহাম্মাদ’-এর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, যা হিকমত, বিধি-বিধান, উপদেশ ও শিষ্টাচার সম্বলিত। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ‘মুহাম্মাদ’-এর প্রতি, যাঁকে আল্লাহ সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থপূর্ণ কথা (জাওয়ামিউল কালিম) দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং তাঁকে হিকমত ও অকাট্য ফয়সালা প্রদান করেছেন; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসারী হবে তাদের প্রতি।

অতঃপর: গবেষকদের ব্যতিব্যস্ত থাকার জন্য সবচেয়ে যোগ্য বিষয় এবং প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হলো আল্লাহর কিতাব নিয়ে অধ্যয়ন করা, এতে নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাওয়া, এর মুক্তা আহরণে ডুব দেওয়া এবং এর জ্ঞান ও সত্যসমূহ উন্মোচন করা; আর এর অলৌকিকত্ব প্রকাশ করা, এর সৌন্দর্যসমূহ ফুটিয়ে তোলা, এর মর্যাদা রক্ষা করা এবং এর প্রতি আরোপিত যাবতীয় সংশয় ও সন্দেহ দূর করা। কুরআন এমন এক সমুদ্র যার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না, যার মুক্তাসমূহ ফুরিয়ে যায় না এবং যার বিস্ময়কর নিদর্শনের সমাপ্তি ঘটে না। সুতরাং এর জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়া এবং এর কাজে সময় ব্যয় করা কতই না সমীচীন! আল্লাহর কিতাব পর্যবেক্ষণে, এতে চিন্তা-গবেষণায় অথবা এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো গবেষণায় আল্লাহর পথে ও ইসলামের কল্যাণে একজন গবেষক যে মুহূর্তটি ব্যয় করেন, তা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

যখন আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের ‘উচ্চতর শিক্ষা’ বিভাগে ‘উলূমুল কুরআন’ পাঠদানের দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হলো, তখন আমি এই বিষয়ে একটি মধ্যম মানের গ্রন্থ রচনার সিদ্ধান্ত নিলাম; যা বিরক্তি উৎপাদনকারী দীর্ঘও নয়, আবার অসম্পূর্ণ সংক্ষিপ্তও নয়; যাতে এটি এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং কুরআন ও এর জ্ঞানসমূহের অন্যান্য অনুরাগীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হতে পারে। যেহেতু এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়সমূহ ‘আল-কুরআন আল-কারীম’ অধ্যয়ন, উপলব্ধি ও গবেষণার প্রবেশদ্বার এবং পথস্বরূপ, তাই আমি এই গ্রন্থের নামকরণের ক্ষেত্রে কোনো কৃত্রিমতা অবলম্বনের প্রয়োজন বোধ করিনি এবং এর নাম দিয়েছি: ‘আল-মাদখাল লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারীম’ (আল-কুরআন অধ্যয়নের ভূমিকা)। এই ‘মাদখাল’ বা ভূমিকা গ্রন্থটি আমাদের উস্তাদদের পরবর্তী প্রজন্মের কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই শাস্ত্রের ওপর লিখিত প্রথম গ্রন্থ এবং উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের ‘তাফসীর ও উলূমুল কুরআন এবং হাদীস ও উলূমুল হাদীস’ শাখার প্রথম উপাদেয় ফসল হিসেবে গণ্য। আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার প্রতি যে নেয়ামত বর্ষিত হয়েছে তা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই আমি এ কথা বলছি; আর সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহরই প্রাপ্য। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর উপকারিতাকে ব্যাপক ও নিরবচ্ছিন্ন করে দেন।

আবু উমর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আবু শাহবাহ্
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌التعريف بالقرآن الكريم

القرآن الكريم:

هو كتاب الله- عز وجل المنزل على خاتم أنبيائه محمد صلى الله عليه وسلم بلفظه ومعناه، المنقول بالتواتر المفيد للقطع واليقين المكتوب في المصاحف من أول سورة «الفاتحة» إلى آخر سورة «الناس».

أحكمه الله فأتقن إحكامه، وفصّله فأحسن تفصيله، وصدق الله كِتابٌ أُحْكِمَتْ آياتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ [هود: 1]، لا يتطرق إلى ساحته نقض ولا إبطال.

وصدق العلي العظيم حيث يقول: وَإِنَّهُ لَكِتابٌ عَزِيزٌ (41) لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42) [فصلت: 41 - 42].

وهو المعجزة العظمى، والحجّة البالغة الباقية على وجه الدهر لرسول البشرية سيدنا «محمد» صلوات الله وسلامه عليه، تحدى به الناس كافة، والإنس والجن أن يأتوا بمثله، أو ببعضه فباءوا بالعجز والبهر.

وقد وقع التحدي «بالقرآن» على مرات متعددة، كي تقوم عليهم الحجة تلو الحجة، وتنقطع المعذرة.

تحداهم أولا أن يأتوا بمثله فعجزوا وما استطاعوا، قال عز شأنه في سورة «الإسراء» المكية الآية [88] قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً (88).

وقال تعالى: أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَلْ لا يُؤْمِنُونَ (33) فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كانُوا صادِقِينَ (34) سورة الطور المكية الآية [33 - 34].

ثم تحداهم: أن يأتوا بعشر سور مثله، فما قدروا، قال تعالى في سورة «هود» المكية الآية [13 - 14] أَمْ يَقُولُونَ افْتَراهُ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَياتٍ (1) وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (13) فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا

--------------------------------------------

(1) هذا من قبيل التنزل مع الخصم، والمساهلة معه في الحجاج، كي يكون الإفحام أدل-
‌পবিত্র কুরআনের পরিচিতি

পবিত্র কুরআন:

এটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাব—যা তাঁর সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর তাঁর শব্দ ও অর্থসহ অবতীর্ণ হয়েছে, যা সুনিশ্চিত জ্ঞান ও নিশ্চয়তা প্রদানকারী নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনাসূত্রের (তাওয়াতুর) মাধ্যমে বর্ণিত এবং যা মুসহাফসমূহে সূরা ‘ফাতিহা’র শুরু থেকে সূরা ‘নাস’-এর শেষ পর্যন্ত লিখিত রয়েছে।

আল্লাহ একে সুদৃঢ় করেছেন এবং এর সুসংবদ্ধতাকে নিখুঁত করেছেন, আর একে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন ও এর বিবরণকে উত্তম করেছেন। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: ‘এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে’ [হূদ: ১]। কোনো ধরনের খণ্ডন বা বাতিল এর আঙিনায় প্রবেশ করতে পারে না।

সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ সত্য বলেছেন যখন তিনি বলেন: ‘নিশ্চয় এটি এক মহা পরাক্রমশালী কিতাব। (৪১) এর সামনে থেকেও কোনো বাতিল এতে আসতে পারে না, আর এর পেছন থেকেও নয়; এটি প্রজ্ঞাময় ও চির প্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ’ (৪২) [ফুসসিলাত: ৪১-৪২]।

এটি মানবজাতির রাসূল আমাদের নেতা ‘মুহাম্মদ’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা এবং মহাকালের বুকে বিদ্যমান এক চূড়ান্ত দলিল। তিনি এর মাধ্যমে সমস্ত মানুষকে এবং জিন ও ইনসানকে চ্যালেঞ্জ করেছেন যেন তারা এর মতো কিছু অথবা এর কিয়দাংশ নিয়ে আসে, কিন্তু তারা অক্ষমতা ও হতবিহ্বলতায় পর্যবসিত হয়েছে।

কুরআনের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ বারবার করা হয়েছে, যাতে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সমস্ত অজুহাত ছিন্ন হয়ে যায়।

তিনি প্রথমে তাদেরকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দেন, কিন্তু তারা অক্ষম হয় এবং তা করতে সমর্থ হয়নি। মক্কী সূরা ‘ইসরা’-এর ৮৮ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন: ‘বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়’ (৮৮)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: ‘নাকি তারা বলে যে তিনি এটি নিজে রচনা করেছেন? বরং তারা ঈমান আনে না। (৩৩) তারা যদি সত্যবাদী হয়, তবে এর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসুক’ (৩৪) [মক্কী সূরা তূর, আয়াত: ৩৩-৩৪]।

অতঃপর তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ করেন: এর মতো দশটি সূরা নিয়ে আসতে, কিন্তু তারা সক্ষম হয়নি। মক্কী সূরা ‘হূদ’-এর ১৩-১৪ আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন: ‘নাকি তারা বলে যে সে এটি নিজে উদ্ভাবন করেছে? বলুন, তবে তোমরা এর অনুরূপ দশটি উদ্ভাবিত সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (১৩) অতঃপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়...’

--------------------------------------------

(১) এটি প্রতিপক্ষের সাথে তর্কে নামার এবং যুক্তির খাতিরে ছাড় দেওয়ার ন্যায়, যেন তাদের নির্বাক করার বিষয়টি অধিকতর জোরালো হয়—
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ৯)
لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّما أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لا إِلهَ إِلَّا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (14) أي أسلموا، فهو طلب برفق ولين وهو لون من ألوان أدب الخطاب في القرآن.

ثم تحداهم مرة ثالثة: بأن يأتوا بسورة منه، أيّ سورة مهما قصرت، كسورة «الكوثر» فما رفعوا بذلك رأسا، قال تعالى في سورة «يونس» المكية الآية [38 - 39]: أَمْ يَقُولُونَ افْتَراهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (38) بَلْ كَذَّبُوا بِما لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ كَذلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كانَ عاقِبَةُ الظَّالِمِينَ (39).

وهذا الذي ارتضاه جمهور العلماء وارتضيته في ترتيب آيات التحدي هو ما يجب أن يصار إليه، ومن العلماء من يجعل آية «يونس» متقدمة على آية «هود»؛ لتقدم نزول سورة يونس على نزول سورة هود، فيجعل التحدي بسورة قبل التحدي بعشر سور (1)، والجواب أنه على فرض تسليم ذلك فلا يمنع من تأخر نزول آية في سورة متقدمة، على نزول آية في سورة متأخرة، على أن بعض العلماء يرى تقدم سورة «هود» على سورة «يونس»؛ وحينئذ يكون ما ذهبنا إليه هو الحق والصواب، وإذا كان

مستقبحا في الكلام العادي التحدي بشيء فإذا عجز تحداه بعشرة أمثاله فما بالك بأبلغ الكلام، وأحكمه هذا ما لا يمكن أن يكون في الكتاب المعجز المبين ثم كرر التحدي بسورة ما، فقال في سورة «البقرة» المدنية [الآية 23 - 24] وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنا عَلى عَبْدِنا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَداءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (23) فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكافِرِينَ (24).

فألقموا حجرا، ولم ينبسوا في المعارضة بكلمة … !

--------------------------------------------

على الإعجاز، أي إن كان مفترى- كما تزعمون- فأتوا بعشر سور مثله مفتريات، والمراد: المماثلة في الفصاحة والبلاغة وجزالة المعنى وسمو المقاصد والاشتمال على العلوم والمعارف وليس المراد من الآية أن له مثلا.

(1) تفسير البغوي على هامش تفسير ابن كثير (ج 4/ ص 349).
তোমাদের জন্য, তবে জেনে রাখো যে এটি আল্লাহর জ্ঞান দ্বারাই অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তবে তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হবে? (১৪) অর্থাৎ তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো; এটি একটি নম্র ও কোমল আহ্বান এবং এটি কুরআনের সম্বোধন রীতির শিষ্টাচারের একটি ধরন।

অতঃপর তিনি তাদেরকে তৃতীয়বার চ্যালেঞ্জ জানালেন: এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসার জন্য, তা যত ছোটই হোক না কেন, যেমন 'কাউসার' সূরা; কিন্তু তারা সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করল না। আল্লাহ তাআলা মক্কী সূরা 'ইউনুস'-এর ৩৮-৩৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন: তারা কি বলে যে তিনি এটি নিজে রচনা করেছেন? বলো, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (৩৮) বরং তারা এমন বিষয়কে অস্বীকার করেছে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার ব্যাখ্যা এখনও তাদের কাছে আসেনি। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল, সুতরাং লক্ষ্য করো যালিমদের পরিণাম কেমন হয়েছিল। (৩৯)।

চ্যালেঞ্জের আয়াতসমূহের বিন্যাসের ক্ষেত্রে জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) ওলামায়ে কেরাম যা পছন্দ করেছেন এবং আমিও যা পছন্দ করেছি, সেটিই অনুসরণীয়। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ 'ইউনুস' সূরার আয়াতকে 'হুদ' সূরার আয়াতের অগ্রবর্তী মনে করেন; কারণ সূরা ইউনুস নাযিল হওয়ার দিক থেকে সূরা হুদের আগে। ফলে তারা একটি সূরার চ্যালেঞ্জকে দশটি সূরার চ্যালেঞ্জের আগে গণ্য করেন (১), এর উত্তর হলো, যদি এটি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও কোনো অগ্রবর্তী সূরার কোনো আয়াতের অবতরণ কোনো পরবর্তী সূরার আয়াতের অবতরণের চেয়ে পরে হওয়া অসম্ভব নয়। তদুপরি কোনো কোনো আলেম মনে করেন সূরা 'হুদ' সূরা 'ইউনুস'-এর আগেই অবতীর্ণ হয়েছে; এমতাবস্থায় আমরা যে মতটি গ্রহণ করেছি সেটিই হক ও সঠিক। আর যখন

সাধারণ কথাবার্তায় কোনো একটি বিষয় নিয়ে চ্যালেঞ্জ করার পর তাতে অক্ষম হলে তার দশগুণ নিয়ে চ্যালেঞ্জ করাটা নিন্দনীয় দেখায়, তবে শ্রেষ্ঠতম সাবলীল ও সুনিপুণ বাণীর ক্ষেত্রে তা কেমন হবে? এই ধরনের অসামঞ্জস্যতা এই সুস্পষ্ট মুজিযাপূর্ণ কিতাবে থাকা সম্ভব নয়। অতঃপর তিনি পুনরায় একটি সূরার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন এবং মাদানী সূরা 'বাকারাহ'-তে বলেছেন [আয়াত ২৩-২৪]: আর আমি আমার বান্দার ওপর যা নাযিল করেছি তাতে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (২৩) কিন্তু তোমরা যদি তা না করো—আর কখনোই তা করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। (২৪)।

ফলে তারা নিরুত্তর হয়ে গেল এবং বিরোধিতার একটি শব্দও উচ্চারণ করতে পারল না … !

--------------------------------------------

মুজিযা বা অলৌকিকত্বের প্রমাণস্বরূপ; অর্থাৎ এটি যদি স্বরচিত হয়—যেমনটি তোমরা দাবি করো—তবে এর মতো দশটি স্বরচিত সূরা নিয়ে এসো। এখানে উদ্দেশ্য হলো: অলঙ্কারশাস্ত্র, বাগ্মিতা, অর্থের বলিষ্ঠতা, সুউচ্চ লক্ষ্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমাহারের ক্ষেত্রে সমকক্ষতা প্রমাণ করা; আয়াতের অর্থ এটি নয় যে এর কোনো সমতুল্য আছে।

(১) তাফসীরে ইবনে কাসীরের টীকায় তাফসীরে বাগভী (খণ্ড ৪/ পৃষ্ঠা ৩৪৯)।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ১০)
وبذلك ثبت إعجاز «القرآن» على أبلغ وجه وآكده، وإذا ثبت عجز العرب فغيرهم بالعجز أحرى وأولى (1).

 

‌‌1 - القرآن كتاب العربيّة الأكبر

والقرآن هو كتاب العربية الأكبر، ورمز وحدة العرب الكبرى وجامعتهم العظمى، وبه اكتسبت لغة العرب بقاءها، وحيويتها؛ وبه صار العرب أمة واحدة مؤمنة موحدة، متآلفة القلوب متجانسة المزاج، متحدة اللسان، متشابهة البيان، وبه صار المسلمون في صدر الإسلام أمة واحدة، لا يفرق بينها جنس، ولا لون، ولا لغة، فقد انصهرت كل هذه الفوارق في نور الإسلام، ولم يبق إلا الاعتزاز بالإسلام والقرآن، وصار لسان الواحد منهم يقول:

أبي الإسلام لا أب لي سواه … إذا افتخروا بقيس أو تميم

ومنه استمد العرب والمسلمون علومهم ومعارفهم، فما من علم من علومهم إلا وله بالقرآن سبب، وله منه ورد ومدد، ولولا هذا الكتاب العربي المبين لاستعجمت لغة العرب، وأضحت في عداد اللغات الميتة، فهو الذي يجدد شبابها كلما اعتراها الهرم والضعف، ويأخذ بيدها إذا ألمّ بها التخلف والركود، ولولا هذا الكتاب لما كانت هذه الثروة الطائلة من العلوم التي تدور حول القرآن، ولغة القرآن وتجول في رحابه الواسعة.

وما من عربي- أيا كان دينه- إلا وله بهذا الكتاب مفخرة واعتزاز وحب ووفاء؛ لأنه يخاطب فطرته اللغوية ووجدانه البياني، وروحه العربية الصافية الشفافة.

 

‌‌2 - القرآن كتاب الهداية الكبرى

والقرآن هو هداية الخالق لإصلاح الخلق، وشريعة السماء لأهل الأرض. وهو التشريع العام … الخالد الذي تكفل بجميع ما يحتاج إليه

--------------------------------------------

(1) اكتفيت في هذا الموضع بهذا القدر، أما إشباع القول في الإعجاز فلذلك محل آخر إن شاء الله.
এর মাধ্যমে কুরআনের অলৌকিকত্ব অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হলো। আর যদি আরবদেরই অক্ষমতা প্রমাণিত হয়ে থাকে, তবে অন্যদের অক্ষমতা তো আরও বেশি নিশ্চিত ও স্বাভাবিক (১)।

 

‌‌১ - কুরআন আরবি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব

কুরআন হলো আরবি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব, আরবদের মহা ঐক্যের প্রতীক এবং তাদের সর্ববৃহৎ মিলনকেন্দ্র। এর মাধ্যমেই আরবি ভাষা তার স্থায়িত্ব ও প্রাণশক্তি লাভ করেছে। এর দ্বারা আরবরা এক বিশ্বাসী ও একত্ববাদী জাতিতে পরিণত হয়েছে, যাদের অন্তরগুলো ছিল পরস্পর প্রীতিপূর্ণ, মেজাজ ছিল অভিন্ন, ভাষা ছিল এক এবং প্রকাশভঙ্গি ছিল সাদৃশ্যপূর্ণ। এর মাধ্যমেই ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমানরা এক জাতিতে পরিণত হয়েছিল, যাদের মধ্যে বংশ, বর্ণ বা ভাষা কোনো বিভেদ সৃষ্টি করত না। ইসলামের আলোতে এই সমস্ত পার্থক্য বিলীন হয়ে গিয়েছিল এবং ইসলাম ও কুরআনের গৌরব ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তখন তাদের প্রত্যেকের মুখ থেকে এই ধ্বনি উচ্চারিত হতো:

আমার পিতা হলো ইসলাম, তিনি ছাড়া আমার আর কোনো পিতা নেই … যখন তারা কায়েস বা তামীম গোত্র নিয়ে অহংকার করে

আরব ও মুসলমানরা এখান থেকেই তাদের সকল জ্ঞান-বিজ্ঞান ও পরিচিতি আহরণ করেছে। তাদের এমন কোনো শাস্ত্র নেই যার সাথে কুরআনের সম্পর্ক নেই এবং যা কুরআন থেকে রসদ ও সাহায্য গ্রহণ করেনি। যদি এই সুস্পষ্ট আরবি কিতাব না থাকত, তবে আরবি ভাষা অনারবি বা দুর্বোধ্য হয়ে যেত এবং মৃত ভাষাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতো। এই কিতাবই আরবি ভাষাকে নতুন যৌবন দান করে যখনই তা বার্ধক্য ও দুর্বলতার কবলে পড়ে এবং তার হাত ধরে টেনে তোলে যখনই তা অনগ্রসরতা ও স্থবিরতায় আক্রান্ত হয়। যদি এই কিতাব না থাকত, তবে কুরআন ও কুরআনের ভাষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এবং এর বিশাল পরিসরে বিচরণকারী জ্ঞানের এই বিপুল ভাণ্ডার সৃষ্টি হতো না।

যে কোনো আরব ব্যক্তিই হোক না কেন—তার ধর্ম যাই হোক—এই কিতাবের প্রতি তার এক বিশেষ গৌরব, মর্যাদা, ভালোবাসা ও আনুগত্য রয়েছে; কারণ এটি তার ভাষাগত প্রকৃতি, আলঙ্কারিক অনুভূতি এবং তার স্বচ্ছ ও নির্মল আরবীয় আত্মাকে সম্বোধন করে।

 

‌‌২ - কুরআন মহা হিদায়াতের কিতাব

কুরআন হলো সৃষ্টির সংশোধনের জন্য স্রষ্টার পক্ষ থেকে হিদায়াত এবং পৃথিবীবাসীর জন্য আসমানি শরিয়ত। এটি একটি সার্বজনীন … শাশ্বত বিধান যা মানুষের যাবতীয় প্রয়োজনের জিম্মাদারি গ্রহণ করেছে।

--------------------------------------------

(১) এই স্থানে আমি এইটুকুতেই ক্ষান্ত হলাম। তবে মুজিযা বা অলৌকিকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্র অন্য স্থানে, ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ১১)
البشر في أمور دينهم ودنياهم. في العقائد، والأخلاق وفي العبادات وفي المعاملات: المدنية، والجنائية، وفي الاقتصاد، والسياسة، والسلم، والحرب، والمعاهدات، والعلاقات الدولية وهو في كل ذلك حكيم كل الحكمة، لا يعتريه خلل ولا اختلاف، ولا تناقض ولا اضطراب وصدق الله:

أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً (82) [سورة النساء: 82] وأصيل غاية الأصالة، وعدل غاية العدالة، ورحيم غاية الرحمة، وصادق غاية الصدق، وصدق الله وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقاً وَعَدْلًا لا مُبَدِّلَ لِكَلِماتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (115) [سورة الأنعام: 115].

فلا عجب .. أن كانت السعادة الحقة لا تنال إلا بالاهتداء بهديه، والتزام ما جاء به وأن كان الشفاء لأمراض النفوس وأدواء المجتمع؛ فاهتدت به القلوب بعد ضلال، وأبصرت به العيون بعد عمى، واستنارت به العقول بعد جهالة، واستضاءت به الدنيا بعد ظلمات، وصدق الله:

إِنَّ هذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْراً كَبِيراً (9) وَأَنَّ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ أَعْتَدْنا لَهُمْ عَذاباً أَلِيماً (10) [سورة الإسراء: 9 - 10]. وقال: وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ ما هُوَ شِفاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَساراً (82) [سورة الإسراء: 82].

وقال: قَدْ جاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتابٌ مُبِينٌ يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُماتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلى صِراطٍ مُسْتَقِيمٍ (16) [سورة المائدة: 15 - 16].

 

‌‌3 - القرآن حارب التقليد، ودعا إلى النظر، والتأمل في الكون

وهو الكتاب الذي فك العقول من عقالها، وأطلق النفوس من إسارها، وأنحى على التقليد والمقلدين بالذم والتوبيخ، قال عز شأنه: وَإِذا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا ما أَنْزَلَ اللَّهُ قالُوا بَلْ نَتَّبِعُ ما أَلْفَيْنا عَلَيْهِ آباءَنا أَوَلَوْ كانَ آباؤُهُمْ لا يَعْقِلُونَ شَيْئاً وَلا يَهْتَدُونَ (170) [سورة البقرة: 170]، وقال: وَإِذا قِيلَ لَهُمْ تَعالَوْا إِلى ما أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قالُوا حَسْبُنا ما وَجَدْنا عَلَيْهِ آباءَنا أَوَلَوْ كانَ
মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে। আকিদাহ, আখলাক, ইবাদত এবং মুয়ামালাতে (লেনদেনে): দেওয়ানি, ফৌজদারি, অর্থনীতি, রাজনীতি, শান্তি, যুদ্ধ, চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে। আর এই সবকিছুর মধ্যেই তিনি প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ, এতে কোনো ত্রুটি বা বৈসাদৃশ্য নেই, কোনো বৈপরীত্য বা বিশৃঙ্খলা নেই। আর আল্লাহ সত্যই বলেছেন:

“তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ পেত।” (৮২) [সূরা আন-নিসা: ৮২] এবং এটি অত্যন্ত মৌলিক, অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ, অত্যন্ত দয়ালু এবং অত্যন্ত সত্য। আর আল্লাহ সত্যই বলেছেন: “আপনার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে পূর্ণ হয়েছে। তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (১১৫) [সূরা আল-আনআম: ১১৫]।

অতএব এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, প্রকৃত সুখ কেবল এর হেদায়েত অনুসরণ এবং এর আনীত বিধানের ওপর অবিচল থাকার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর এটিই হলো আত্মার রোগ ও সমাজের ব্যাধির নিরাময়। ফলে পথভ্রষ্টতার পর এর মাধ্যমে অন্তরসমূহ হেদায়েত পেয়েছে, অন্ধত্বের পর এর মাধ্যমে চোখসমূহ দেখতে পেয়েছে, মূর্খতার পর এর মাধ্যমে বিবেকসমূহ আলোকিত হয়েছে এবং অন্ধকারের পর এর মাধ্যমে পৃথিবী উজ্জ্বল হয়েছে। আর আল্লাহ সত্যই বলেছেন:

“নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যারা নেক আমল করে যে, তাদের জন্য রয়েছে বিশাল প্রতিদান। (৯) আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য আমরা প্রস্তুত রেখেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (১০) [সূরা আল-ইসরা: ৯ - ১০]। এবং তিনি বলেছেন: “আর আমরা কুরআন থেকে এমন কিছু অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য নিরাময় ও রহমত, কিন্তু তা জালেমদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।” (৮২) [সূরা আল-ইসরা: ৮২]।

এবং তিনি বলেছেন: “তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। যার মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি অনুসরণ করে তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজের অনুমতিতে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথের দিকে হেদায়েত দেন।” (১৬) [সূরা আল-মায়েদাহ: ১৫ - ১৬]।

 

‌‌৩ - কুরআন অন্ধ অনুকরণকে প্রতিহত করেছে এবং সৃষ্টিজগত নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাভাবনার আহ্বান জানিয়েছে

এটি সেই কিতাব যা বিবেককে তার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছে, আত্মাকে তার বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং অন্ধ অনুকরণ ও অন্ধ অনুসারীদের নিন্দা ও তিরস্কারের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লাহ মহান বলেন: “আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করো’, তারা বলে, ‘বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যা করতে দেখেছি আমরা তারই অনুসরণ করব।’ এমনকি যদি তাদের পিতৃপুরুষেরা কিছুই না বুঝত এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত না হতো তবুও?” (১৭০) [সূরা আল-বাকারা: ১৭০], এবং তিনি বলেছেন: “আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘এসো যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে’, তারা বলে, ‘আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে আমরা যা করতে দেখেছি তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ এমনকি যদি...”
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ১২)
آباؤُهُمْ لا يَعْلَمُونَ شَيْئاً وَلا يَهْتَدُونَ (104)! [سورة المائدة: 104].

وهو الكتاب الذي وجه العقول والأنظار إلى النظر في الأنفس، وما فيها من عجائب وأسرار وغرائز واستعدادات، قال عز شأنه: وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلا تُبْصِرُونَ (21) [سورة الذاريات: 21] والنظر في الآفاق والآيات الكونية علويّها وسفليّها، ظاهرها وخفيها وعما تنطوي عليه من حكم، وما أودع الله فيها من خواص وسنن وأفاض في ذلك في غير ما سورة وآية، وإن شئت اليقين في ذلك فاقرأ قول الحق تبارك وتعالى: إِنَّ فِي خَلْقِ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِما يَنْفَعُ النَّاسَ وَما أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّماءِ مِنْ ماءٍ فَأَحْيا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِها وَبَثَّ فِيها مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّياحِ وَالسَّحابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّماءِ وَالْأَرْضِ لَآياتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ (164) [سورة البقرة:

164] إِنَّ فِي خَلْقِ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهارِ لَآياتٍ لِأُولِي الْأَلْبابِ (190) [سورة آل عمران: 190].

وقد روي: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لما نزلت: «ويل لمن قرأها ولم يتفكّر» رواه ابن مردويه وعبد بن حميد، وقال تعالى: أَفَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى السَّماءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْناها وَزَيَّنَّاها وَما لَها مِنْ فُرُوجٍ (6) وَالْأَرْضَ مَدَدْناها وَأَلْقَيْنا فِيها رَواسِيَ وَأَنْبَتْنا فِيها مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ (7) تَبْصِرَةً وَذِكْرى لِكُلِّ عَبْدٍ مُنِيبٍ (8) [سورة ق: 6 - 8] وقال سبحانه: أَفَلا يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ (17) وَإِلَى السَّماءِ كَيْفَ رُفِعَتْ (18) وَإِلَى الْجِبالِ كَيْفَ نُصِبَتْ (19) وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ (20) فَذَكِّرْ إِنَّما أَنْتَ مُذَكِّرٌ (21) لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُصَيْطِرٍ (22) [سورة الغاشية 17 - 22] وقال: وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجاوِراتٌ وَجَنَّاتٌ مِنْ أَعْنابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوانٌ وَغَيْرُ صِنْوانٍ (1) يُسْقى بِماءٍ واحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَها عَلى بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ إِنَّ فِي ذلِكَ لَآياتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ (4) [الرعد: 4] إلى غير ذلك من الآيات التي لا يحصيها العد.

وقد زخر القرآن العظيم بهذا النوع من الآيات، وكثرت كثرة زادت على

--------------------------------------------

(1) جمع صنو أي نخلات أصلها واحد ونخلات ليست كذلك وهذه الآية مشتملة على أحكم دليل للرد على الماديين القائلين بالطبيعة، وأن الكون وجد بلا موجد.
তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না (১০৪)! [সূরা আল-মায়িদাহ: ১০৪]।

আর এটিই সেই কিতাব যা বিবেক ও দৃষ্টিকে মানুষের নিজ সত্তার প্রতি এবং তাতে বিদ্যমান বিস্ময়কর বস্তুসমূহ, রহস্য, প্রবৃত্তি ও যোগ্যতার প্রতি নিবদ্ধ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও (নিদর্শন রয়েছে); তবে কি তোমরা লক্ষ্য করবে না?" (২১) [সূরা আয-যারিয়াত: ২১] এবং দিগন্তসমূহ ও মহাজাগতিক নিদর্শনাবলির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে বলেছে—তার ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত, তার প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়াবলি এবং এতে নিহিত হিকমতসমূহ, আর আল্লাহ এতে যেসব বৈশিষ্ট্য ও নিয়মাবলি আমানত রেখেছেন। তিনি বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আপনি যদি এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে চান, তবে সত্য স্বরূপ বরকতময় মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করুন: "নিশ্চয় আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে, মানুষের কল্যাণে সমুদ্রে বিচরণকারী নৌযানে, আকাশ হতে আল্লাহর বর্ষিত সেই পানিতে যার মাধ্যমে তিনি মৃত্যুবত জমিনকে জীবিত করেন এবং তাতে সকল প্রকার প্রাণীর বিস্তার ঘটান, আর বায়ুর গতি পরিবর্তনে এবং আকাশ ও জমিনের মধ্যবর্তী নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় অবশ্যই নিদর্শনাবলি রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা অনুধাবন করে।" (১৬৪) [সূরা আল-বাক্বারাহ:

১৬৪] "নিশ্চয় আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে অবশ্যই বিবেকবানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।" (১৯০) [সূরা আলে ইমরান: ১৯০]।

আর বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয় তখন বলেছিলেন: "দুর্ভোগ তার জন্য যে এটি পাঠ করল অথচ চিন্তা-গবেষণা করল না।" এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মারদুওয়াইহ এবং আবদ ইবনে হুমাইদ। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তবে কি তারা তাদের ওপরের আসমানের দিকে তাকিয়ে দেখে না, আমি কীভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং তাকে সুশোভিত করেছি আর তাতে কোনো ফাটল নেই? (৬) এবং আমি জমিনকে বিস্তৃত করেছি এবং তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি আর তাতে প্রত্যেক প্রকারের সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি (৭), যা প্রতিটি আল্লাহ-অভিমুখী দাসের জন্য চাক্ষুষ জ্ঞান ও উপদেশ স্বরূপ (৮)।" [সূরা ক্বাফ: ৬ - ৮] মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তবে কি তারা উটের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, কীভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? (১৭) এবং আসমানের দিকে যে, কীভাবে তাকে উচ্চ করা হয়েছে? (১৮) এবং পাহাড়ের দিকে যে, কীভাবে তাকে স্থাপন করা হয়েছে? (১৯) এবং জমিনের দিকে যে, কীভাবে তাকে সমতল করা হয়েছে? (২০) অতএব আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা মাত্র (২১)। আপনি তাদের ওপর কোনো জোরজবরদস্তিকারী নন (২২)।" [সূরা আল-গাশিয়া: ১৭ - ২২] তিনি আরও বলেন: "আর জমিনে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ড এবং আঙুরের বাগান, শস্যক্ষেত ও খেজুর গাছ—যার কোনোটি একই মূল থেকে উদগত আর কোনোটি তা নয় (১)। সেগুলো একই পানিতে সিঞ্চিত হয় এবং আমি ফলের স্বাদে একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলি রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা অনুধাবন করে।" (৪) [আর-রাদ: ৪] এ ছাড়াও অসংখ্য আয়াত রয়েছে যা গণনা করে শেষ করা যাবে না।

মহান কুরআন এ ধরনের আয়াতে পরিপূর্ণ এবং তা এতটাই বেশি যে যা ছাড়িয়ে গেছে...

--------------------------------------------

(১) এটি 'সিনউ' এর বহুবচন, অর্থাৎ এমন কতগুলো খেজুর গাছ যাদের মূল এক এবং এমন কিছু খেজুর গাছ যা তেমন নয়। এই আয়াতটি প্রকৃতিবাদী বস্তুবাদীদের খণ্ডনের জন্য অত্যন্ত সুনিপুণ দলীল সমৃদ্ধ, যারা বলে যে এই মহাবিশ্ব কোনো স্রষ্টা ছাড়াই অস্তিত্ব লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
آيات الأحكام (1)، ولا سيّما في القسم المكي، ولذلك سرّ: ذلك أن هذا النظر، وذاك التأمل غالبا ما ينتهيان بالإنسان العاقل المجرد عن الأهواء والشهوات، إلى الوصول إلى الإيمان بالخالق- جل وعلا- ووحدانيته وتفرده بصفات الكمال والجلال، والجمال والإيمان بالبعث والمعاد، وأن هناك حياة أخرى خيرا من هذه الحياة، والإيمان بالملائكة والرّسل الكرام وإذا ما آمن البشر بهذه العقائد سهل عليهم بعد تلقي الشرائع، والتزامها علما، وعملا، وسلوكا، وخير الإيمان ما كان عن بينة ودليل، وخير العلم والعمل ما كان عن اطمئنان وبحث، واقتناع.

 

‌‌4 - القرآن فتح الباب للعلوم التجريبية

والقرآن حينما دعانا إلى النظر في الآيات الآفاقية والأنفسية لم يقف بنا عند حد الاعتبار والاتعاظ بالظواهر والصور والأشكال فحسب، وإنما أراد- إلى ذلك- استكشاف المستور، واستكناه الأسرار، والتقصي عما فيها من عجائب وسنن وخواص عن طريق الملاحظة حينا والتجارب أحيانا أخرى؛ وبذلك يكون القرآن فتح أبوابا للعلوم التجريبية منذ أربعة عشر قرنا من الزمان.

ولو أن المسلمين استفادوا بما في هذا الكتاب الكريم من توجيهات وإرشادات؛ لكانوا- كما كان الشأن في سلفهم الأولين- أسبق الأمم إلى الكشوف العلمية والاختراع والابتداع، ولصاروا سادة الدنيا، وأضحى بيدهم زمام الأمور، ولكنهم جمدوا ولم يستفيدوا بهدي القرآن وإرشاداته، فكانوا على ما ترى … !

 

‌‌5 - القرآن حارب العنصرية، والعنجهية الجاهلية

والقرآن هو الذي قضى على العنجهية، ودعاوى الجاهلية، وقضى على التفرقة العنصرية والنسبية واللونية، ووضع أساس المساواة بين الناس

--------------------------------------------

(1) أكثر ما قاله العلماء في آيات الأحكام أنها خمسمائة، وغاية ما قالوه في تعداد آيات القرآن ستة آلاف ومائتان وست وثلاثون آية.
বিধানের আয়াতসমূহ (১), বিশেষত মক্কী অংশে; এর পেছনে একটি রহস্য রয়েছে: তা হলো এই যে, এই পর্যবেক্ষণ এবং সেই অনুধাবন অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন বিবেকবান মানুষকে—যে প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনা থেকে মুক্ত—সৃষ্টিকর্তা (যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ)-র প্রতি ঈমান আনয়ন, তাঁর একত্ববাদ এবং পূর্ণতা, মহিমা ও সৌন্দর্যের গুণাবলিতে তাঁর অনন্যতার উপলব্ধিতে পৌঁছে দেয়। আর তা পুনরুত্থান ও পরকালের প্রতি এবং এই জীবনের চেয়ে উত্তম একটি জীবন আছে সেই বিশ্বাসের প্রতি, আর ফেরেশতা ও সম্মানিত রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনয়নের দিকে নিয়ে যায়। যখন মানুষ এই আকিদাহসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করে, তখন তাদের জন্য শরীয়াহর বিধানসমূহ গ্রহণ করা এবং জ্ঞান, কর্ম ও আচরণের মাধ্যমে তা মেনে চলা সহজ হয়ে যায়। সর্বোত্তম ঈমান হলো যা স্পষ্ট প্রমাণ ও দলিলের ওপর ভিত্তি করে হয়, আর সর্বোত্তম জ্ঞান ও কর্ম হলো যা প্রশান্তি, অনুসন্ধান ও দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে হয়।

 

‌‌৪ - কুরআন পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করেছে

আর কুরআন যখন আমাদের দিগন্তের এবং নিজেদের মধ্যকার নিদর্শনসমূহের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, তখন তা কেবল বাহ্যিক দৃশ্য ও অবয়ব থেকে শিক্ষা বা উপদেশ গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এর পাশাপাশি কুরআন চেয়েছে গুপ্ত রহস্যসমূহ উন্মোচন করতে, গূঢ় তত্ত্বসমূহ উদ্ঘাটন করতে এবং কখনো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আবার কখনো পরীক্ষার মাধ্যমে এর ভেতরের বিস্ময়কর বিধান ও বৈশিষ্ট্যাবলি অনুসন্ধান করতে। এভাবে কুরআন চৌদ্দশ বছর আগেই পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের বিভিন্ন দ্বার উন্মোচন করেছে।

আর মুসলমানরা যদি এই সম্মানিত কিতাবের দিকনির্দেশনা ও উপদেশাবলি থেকে উপকৃত হতো, তবে তারা—তাদের পূর্বসূরিদের মতো—বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতায় সকল জাতির অগ্রগামী হতো; তারা হতো পৃথিবীর নেতা এবং তাদের হাতেই থাকত সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু তারা স্থবির হয়ে পড়েছিল এবং কুরআনের হিদায়াত ও নির্দেশনা থেকে উপকৃত হয়নি, যার ফলে তারা আজ এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছে যা আপনি দেখছেন … !

 

‌‌৫ - কুরআন বর্ণবাদ ও জাহেলী অহমিকার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে

আর কুরআনই সেই গ্রন্থ যা দাম্ভিকতা ও জাহেলী দাবিগুলোকে মিটিয়ে দিয়েছে এবং বর্ণ, বংশ ও গাত্রবর্ণের বৈষম্য নির্মূল করেছে, আর মানুষের মধ্যে সাম্যের ভিত্তি স্থাপন করেছে।

--------------------------------------------

(১) বিধানের আয়াতসমূহের ব্যাপারে অধিকাংশ আলেম যা বলেছেন তা হলো এগুলো পাঁচশত, আর কুরআনের আয়াতের মোট সংখ্যা গণনায় তারা সর্বোচ্চ যা বলেছেন তা হলো ছয় হাজার দুইশত ছত্রিশটি আয়াত।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
كافة، فالناس ربهم واحد وكلهم لآدم لا فضل لعربي على عجمي، ولا لعجمي على عربي، ولا لأبيض على أسود ولا لأسود على أبيض، وإنما التفاضل بالتقوى، والتقوى جماع كل هدى وحق وخير.

وصدق الله: يا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْناكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثى وَجَعَلْناكُمْ شُعُوباً وَقَبائِلَ لِتَعارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ (13) [الحجرات: 13]، فالناس مهما تعددت شعوبهم، وتباينت أممهم فيجمعهم رباط واحد، وهو رباط الإنسانية العام، وهذا أسمى ما يطمع فيه من تشريع!

وقال تعالى: يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالًا كَثِيراً وَنِساءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ [سورة النساء: 1].

 

‌‌6 - القرآن كوّن أمة مثالية

وهو الكتاب الذي صلحت به الدنيا، وحول مجرى التاريخ، وأقام أمة كانت مضرب الأمثال في الإيمان والإخاء والعدل والوفاء، والوفاق والوئام، وأظل العالم بلواء الأمن والسلام حقبا من الزمان، وصيّر من رعاة الإبل والشاء علماء حكماء رحماء، وسادة قادة في الحكم، والسياسة والسلم، والحرب، عقمت الدنيا عن أن تجود بمثلهم.

وهو الكتاب الذي لا تفنى ذخائره، ولا يخلق على كثرة الرد، ولا يزداد على التكرار إلا حلاوة وطلاوة، وصدق القائل:

تزداد منه- على ترداده- مِقَة … وكلّ قول- على التّرداد- مملول

وتلك لعمر الحق خصيصة من خصائص «القرآن» ومن كان في شك من هذا فليستفت الذوق والوجدان والقلب والآذان، وليوازن في هذا بين كلام الله وكلام الإنسان، وحينئذ سيتذوق، ومن ذاق عرف، ومن عرف اعترف.

ومهما تعاقبت على هذا الكتاب العزيز الأجيال والسنون لا يزداد إلا جدة وطرافة ولا يزال غضا طريا كما أنزل، وكلما تقدمت العلوم والمعارف الإنسانية تكشف للناس منه العجب العجاب وصدق الحق تبارك وتعالى
সকলেই; কারণ মানুষের প্রতিপালক এক এবং তারা সবাই আদমের সন্তান। কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোনো অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের এবং কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি কেবল তাকওয়া, আর তাকওয়াই হলো সকল হিদায়াত, সত্য ও কল্যাণের সমষ্টি।

আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "হে মানুষ, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।" (১৩) [আল-হুজুরাত: ১৩]। সুতরাং মানুষের জাতিসমূহ যতই বিচিত্র হোক এবং তাদের উম্মতসমূহ যতই ভিন্ন হোক না কেন, একটি বন্ধন তাদের একত্রিত করে, আর তা হলো সাধারণ মানবতার বন্ধন। আর কোনো আইন বা বিধানের কাছে এর চেয়ে উচ্চতর আর কী কাম্য হতে পারে!

মহান আল্লাহ বলেন: "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো।" [সূরা আন-নিসা: ১]।

 

‌‌৬ - কুরআন একটি আদর্শ উম্মাহ গঠন করেছে

এটি সেই কিতাব যার দ্বারা পৃথিবী সংশোধিত হয়েছে, যা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে এবং এমন এক উম্মাহ কায়েম করেছে যারা ঈমান, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, একতা ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে আদর্শ হয়ে ছিল। দীর্ঘকাল ধরে এই কিতাব বিশ্বকে নিরাপত্তা ও শান্তির পতাকাতলে ছায়া দান করেছে। এটি উট ও মেষের রাখালদের এমন আলিম, প্রজ্ঞাবান ও দয়ালু ব্যক্তিতে পরিণত করেছে, যারা শাসনব্যবস্থা, রাজনীতি, শান্তি ও যুদ্ধের ময়দানে এমন নেতা ও সরদারে পরিণত হয়েছিলেন যে, পৃথিবী তাদের মতো আর কাউকে উপহার দিতে অক্ষম হয়েছে।

এটি এমন কিতাব যার ভাণ্ডার কখনও ফুরিয়ে যায় না, বারবার পাঠ করলেও যার নতুনত্ব ম্লান হয় না, বরং পুনরাবৃত্তির সাথে সাথে এর মাধুর্য ও লাবণ্য বৃদ্ধি পায়। সত্যই বলেছেন সেই কবি:

পুনরাবৃত্তির সাথে সাথে এর প্রতি অনুরাগ বৃদ্ধি পায় … যেখানে প্রতিটি কথা- পুনরাবৃত্তির ফলে- একঘেয়েমি তৈরি করে।

সত্যের শপথ, এটি "কুরআনের" অন্যতম বিশেষত্ব। এ বিষয়ে কেউ যদি সন্দেহে থাকে তবে সে যেন তার রুচি, বিবেক, অন্তর ও শ্রবণেন্দ্রিয়কে প্রশ্ন করে এবং আল্লাহর কালাম ও মানুষের কালামের মাঝে তুলনা করে দেখে। তখনই সে এর স্বাদ পাবে। আর যে আস্বাদন করেছে সে চিনেছে, আর যে চিনেছে সে স্বীকার করেছে।

এই মহাগ্রন্থের ওপর দিয়ে প্রজন্ম ও বছর যত অতিবাহিত হবে, এটি কেবল নতুনত্ব ও চমৎকারিত্বেই বৃদ্ধি পাবে এবং অবতীর্ণ হওয়ার সময়কার মতোই চির সতেজ থাকবে। যখনই মানবিক বিজ্ঞান ও জ্ঞানসমূহ অগ্রসর হয়, তখনই মানুষের সামনে এর বিষ্ময়কর সব রহস্য উন্মোচিত হয়। আর মহান বরকতময় সত্য আল্লাহ সত্যই বলেছেন—
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
حيث يقول: سَنُرِيهِمْ آياتِنا فِي الْآفاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ (1) الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ (53) [سورة فصلت: 53] بلى وأنا على ذلك من الشاهدين.

وقصارى القول وحماداه: أنك لن تجد في الكشف عن حقيقة هذا الكتاب وخفاياه وفضائله ومزاياه أوفى مما وصفه به نبينا «محمد بن عبد الله».

روى الترمذي (2) بسنده عن الحارث الأعور قال: مررت في المسجد فإذا الناس يخوضون في الأحاديث فدخلت على «عليّ» فقلت: يا أمير المؤمنين، ألا ترى الناس قد خاضوا في الأحاديث قال: أوقد فعلوها

قلت: نعم. قال: أما إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ألا إنها ستكون فتنة» قلت: وما المخرج منها يا رسول الله قال: «كتاب الله فيه نبأ من قبلكم وخبر ما بعدكم وحكم ما بينكم وهو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله، وهو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، هو الذي لا تزيغ به الأهواء (3) ولا تلتبس به الألسنة (4)، ولا يشبع منه العلماء (5) ولا يخلق عن كثرة الرد، ولا تنقضي عجائبه،

--------------------------------------------

(1) الضمير في أنه عائد على القرآن لأنه معلوم من المقام، وقيل يعود إلى الإسلام، وهما متلازمان، فالقرآن أساس الإسلام، والإسلام كتابه القرآن.

(2) قال الترمذي فيه: حديث غريب، وإسناده مجهول، وفي حديث الحارث مقال ولكن ذكره الحافظ «السيوطي» في الإتقان، وقال أخرجه الترمذي، والدارمي وغيرهما، وسكت عنه، وكذا ذكره الحافظ «ابن كثير» في «فضائل القرآن» له، وتعقب كلام الترمذي بما يدل على اعتماده للحديث، والمتأمل فيه يجد فيه قبسا من نور النبوة، وحكما من ينابيع الوحي، مما يجعل القلب يطمئن إليه.

(3) بفتح التاء: أي لا تميل عن الحق باتباعه الأهواء أو بضمها: أي لا تميله الأهواء المضلة عن نهج الاستقامة إلى الاعوجاج، من الإزاغة: بمعنى: الإمالة والباء لتأكيد التعدية.

(4) ولا تلتبس: أي لا تتعسر عليه ألسنة المؤمنين، ولو كانوا من غير العرب قال تعالى:

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ وقال فَإِنَّما يَسَّرْناهُ بِلِسانِكَ.

(5) أي لا يحيطون بكنهه إحاطة من يشبع من الشيء، بل كلما اطلعوا على شيء منه اشتاقوا
যেখানে তিনি বলছেন: অচিরেই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এটিই (১) সত্য। আপনার রবের ব্যাপারে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী? [সূরা ফুসসিলাত: ৫৩] অবশ্যই, আর আমি এর ওপর সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

সারকথা ও চূড়ান্ত কথা এই যে: এই কিতাবের হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ এবং এর গূঢ় রহস্য, ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যাবলি উন্মোচনের ক্ষেত্রে আপনি আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণনার চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ আর কিছু পাবেন না।

তিরমিযী (২) তার সনদসহ হারিস আল-আওয়ার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মসজিদে যাচ্ছিলাম, তখন দেখলাম মানুষজন (অপ্রয়োজনীয়) কথাবার্তায় মগ্ন। তখন আমি আলীর কাছে গেলাম এবং বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি কি দেখছেন না যে মানুষজন নানা কথায় মেতে উঠেছে? তিনি বললেন: তারা কি সত্যিই তা করছে?

আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: শোন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «জেনে রেখো, অচিরেই ফিতনা দেখা দেবে» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তা থেকে মুক্তির উপায় কী? তিনি বললেন: «আল্লাহর কিতাব। এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ এবং তোমাদের পরবর্তীদের খবর রয়েছে, আর তোমাদের মধ্যকার বিষয়াবলির ফয়সালা রয়েছে। এটি চূড়ান্ত ফয়সালা, কোনো নিরর্থক বিষয় নয়। কোনো স্বৈরাচারী একে ত্যাগ করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, এটি হিকমতপূর্ণ যিকির এবং এটিই সরল পথ। এটি এমন এক কিতাব, যার দ্বারা প্রবৃত্তিগুলো বিচ্যুত হয় না (৩), এর কারণে জবানগুলো বিভ্রান্ত হয় না (৪), আলিমগণ এটি থেকে তৃপ্ত হন না (৫), বারবার পাঠে এটি পুরনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর বিষয়াবলি শেষ হয় না।

--------------------------------------------

(১) এখানে 'আন্নাহু' (এটি) সর্বনামটি কুরআনের দিকে নির্দেশ করছে, কারণ প্রসঙ্গের ভিত্তিতে এটিই সুপরিচিত। কেউ কেউ বলেছেন এটি ইসলামের দিকে নির্দেশ করছে। তবে উভয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত; কুরআন হলো ইসলামের ভিত্তি এবং ইসলাম হলো কুরআনের কিতাব।

(২) ইমাম তিরমিযী এই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি 'গরীব' হাদিস এবং এর সনদ অজ্ঞাত। হারিস নামক বর্ণনাকারীর ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে, তবে হাফেজ সুয়ুতী 'আল-ইতকান' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে তিরমিযী, দারেমী ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন। একইভাবে হাফেজ ইবনে কাসীর তার 'ফাযায়িলুল কুরআন' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তিরমিযীর বক্তব্যের পর এমন মন্তব্য করেছেন যা এই হাদিসের ওপর তার নির্ভরযোগ্যতা প্রকাশ করে। যে ব্যক্তি এটি নিয়ে চিন্তা করবে, সে এতে নবুওয়াতের নূর এবং ওহীর ঝরনাধারা থেকে উৎসারিত হিকমত খুঁজে পাবে, যা অন্তরকে প্রশান্ত করে।

(৩) অর্থাৎ: প্রবৃত্তি অনুসরণের মাধ্যমে এটি সত্য থেকে বিচ্যুত হয় না; অথবা এর অর্থ হলো: বিভ্রান্তিকর প্রবৃত্তিগুলো একে সহজ-সরল পথ থেকে বক্রতার দিকে সরিয়ে নিতে পারে না। 'ইযাগাহ' শব্দের অর্থ হলো সরিয়ে দেওয়া বা বাঁকা করা।

(৪) অর্থাৎ: মুমিনদের জিহবায় এটি উচ্চারণে কঠিন বা অস্পষ্ট হয় না, যদিও তারা আরব না হয়। মহান আল্লাহ বলেন: «অবশ্যই আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য» এবং তিনি আরও বলেন: «আমি তো আপনার ভাষায় এটি সহজ করে দিয়েছি»।

(৫) অর্থাৎ: তারা এর গভীরতা এমনভাবে পরিবেষ্টন করতে পারে না যেভাবে মানুষ কোনো বস্তু থেকে তৃপ্ত হয়ে যায়; বরং তারা যখনই এর কোনো দিক সম্পর্কে অবগত হয়, তখনই আরও জানার জন্য তাদের আগ্রহ বেড়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
هو الذي لم ينته الجن إذ سمعوه حتى قالوا: إِنَّا سَمِعْنا قُرْآناً عَجَباً يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ من قال به صدق، ومن عمل أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم».

إن كتابا هذا بعض شأنه لجدير أن يضعه الإنسان بين عينيه، ويجعله أنيسه في خلوته، ورفيقه في سفره، وصديقه الصدوق في يسره وعسره، ومستشاره الأمين في أمور دينه ودنياه، وحجته البالغة في حياته وأخراه.

 

‌‌7 - عناية الأمة الإسلامية بالقرآن

فلا عجب- والقرآن كما سمعت- أن عنيت الأمة الإسلامية به عناية فائقة، من لدن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذا، فحفظوا لفظه، وفهموا معناه، واستقاموا على العمل به وأفنوا أعمارهم في البحث فيه والكشف عن أسراره، ولم يدعوا ناحية من نواحيه الخصبة إلا وقتلوها بحثا وتمحيصا، وألفوا في ذلك المؤلفات القيمة، فمنهم من ألف في تفسيره ومنهم من ألف في رسمه، وقراءاته، ومنهم من ألف في: محكمه ومتشابهه ومنهم من ألف في مكيّه ومدنيّه ومنهم من ألف في جمعه وتدوينه في الرقاع واللخاف والأكتاف ثم في الصحف، ثم في المصاحف، ومنهم من ألف في استنباط الأحكام منه ومنهم من ألف في ناسخه ومنسوخه، ومنهم من ألف في أسباب نزوله ومنهم من ألف في إعجازه، ومنهم من ألف في مجازه، ومنهم من ألف في أمثاله، ومنهم من ألف في أقسامه، ومنهم من ألف في غريبه، ومنهم من ألف في إعرابه، ومنهم من ألف في قصصه، ومنهم من ألف في تناسب آياته وسوره إلى غير ذلك من العلوم المتكاثرة.

وقد تبارى علماؤنا في هذا المضمار الفسيح، وجروا فيه أشواطا بعيدة

--------------------------------------------

إلى غيره، ومعنى «ولا يخلق عن كثرة الرد» يخلق- بفتح الياء وضم اللام، وبضم الياء وكسر اللام-: من «خلق» الثوب: إذا بلي، أو من «أخلق»، وعن على بابها؛ أي لا يصدر الخلق عن كثرة تكراره، وقال الحافظ «ابن حجر»: (عن): بمعنى (مع) وفي بعض النسخ للترمذي: «على» مكان «عن»، وهو يؤيد ما ذهب إليه «ابن حجر».
তিনিই সেই সত্তা, যা শোনার পর জীনরা ক্ষান্ত হয়নি যতক্ষণ না তারা বলেছিল: "নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সত্য পথের দিকে হেদায়েত দান করে, তাই আমরা তাতে ঈমান এনেছি।" যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে কথা বলবে সে সত্য বলবে, যে এটি অনুযায়ী আমল করবে সে পুরস্কৃত হবে, যে এর মাধ্যমে বিচার করবে সে ইনসাফ করবে এবং যে এর দিকে আহ্বান করবে সে সরল পথের দিশা পাবে।

নিশ্চয়ই এমন একটি কিতাব যার মর্যাদা এই পর্যায়ের, তা এই যোগ্য যে মানুষ তাকে নিজের চোখের মণি করবে, নির্জনে তাকে আপন সঙ্গী বানাবে, সফরে তাকে সহযাত্রী করবে, সুখে-দুঃখে তাকে পরম বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে তাকে বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা মানবে এবং ইহকাল ও পরকালে তাকে চূড়ান্ত দলিল হিসেবে আঁকড়ে ধরবে।

 

‌‌৭ - কুরআনের প্রতি মুসলিম উম্মাহর বিশেষ গুরুত্বারোপ

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই—আর কুরআন তো তেমনই যেমনটি আপনি শুনলেন—যে মুসলিম উম্মাহ এর প্রতি অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছে, যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তারা এর শব্দাবলি মুখস্থ করেছে, এর অর্থ অনুধাবন করেছে এবং এর ওপর আমলের ক্ষেত্রে অটল থেকেছে। তারা এর গবেষণায় এবং এর রহস্য উদ্ঘাটনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে। তারা এর উর্বর দিকগুলোর কোনো অংশই পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা ও যাচাই-বাছাই ছাড়া বাকি রাখেনি। এ বিষয়ে তারা অত্যন্ত মূল্যবান কিতাবাদি রচনা করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ এর তাফসীর বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কেউ এর লিখনশৈলী ও কিরাত (পঠনশৈলী) বিষয়ে, কেউ এর মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুতাশাবিহ (রূপক) আয়াত বিষয়ে, কেউ এর মক্কী ও মাদানী আয়াত সম্পর্কে, কেউ চামড়া, পাথর ও পশুর হাড়ের ওপর এর সংগ্রহ ও সংকলন এবং পরবর্তীতে সহীফা ও মাসহাফ আকারে সংকলন বিষয়ে। তাদের মধ্যে কেউ কুরআন থেকে শরয়ি বিধান আহরণ বিষয়ে, কেউ নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত) আয়াত বিষয়ে, কেউ শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট) বিষয়ে, কেউ এর মুজিযা (অলৌকিকতা) বিষয়ে, কেউ এর মাজায (অলঙ্কারশাস্ত্রীয় রূপক) বিষয়ে, কেউ এর উদাহরণসমূহ নিয়ে, কেউ এর শপথসমূহ নিয়ে, কেউ এর কঠিন শব্দাবলি নিয়ে, কেউ এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ নিয়ে, কেউ এর কাহিনীসমূহ নিয়ে, আবার কেউ এর আয়াত ও সূরাসমূহের পারস্পরিক সামঞ্জস্য নিয়ে কিতাব লিখেছেন। এছাড়াও রয়েছে অগণিত জ্ঞানশাখা।

আমাদের ওলামায়ে কেরাম এই সুবিশাল ময়দানে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করেছেন এবং এই পথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন।

--------------------------------------------

অন্যান্য বিষয়ের দিকে, এবং 'অতিরিক্ত পুনরাবৃত্তির ফলে তা পুরাতন হয় না' এর অর্থ হলো—এটি কাপড় পুরাতন হওয়া থেকে আগত; অর্থাৎ যখন তা জীর্ণ হয়ে যায়। এখানে 'আন' অব্যয়টি তার নিজস্ব অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ বারবার পাঠের কারণে এতে কোনো পুরাতনত্ব বা জীর্ণতা সৃষ্টি হয় না। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এখানে 'আন' অব্যয়টি 'মা' (সাথে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তিরমিযীর কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'আন'-এর স্থলে 'আলা' শব্দ রয়েছে, যা ইবনে হাজারের মতকে সমর্থন করে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
حتى زخرت المكتبة الإسلامية بميراث مجيد من تراث سلفنا الصالح، وعلمائنا الأعلام، وكانت هذه الثروة- ولا تزال- مفخرة نتحدى بها أمم الأرض، ونباهي بها أهل

الملل في كل عصر ومصر.

وأضحت هذه العناية بحق أروع مظهر عرفه التاريخ لحراسة كتاب هو سيد الكتب وأجلها، وأبعدها من التحريف والتغيير، وبذلك هيأ الله الأسباب المتكاثرة لحفظ كتابه، وهل هذا إلا مصداق قوله- سبحانه وتعالى: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ (9) [سورة الحجر: 9].

***
এমনকি ইসলামী লাইব্রেরি আমাদের সালাফে সালেহীন এবং প্রখ্যাত আলিমগণের ঐতিহ্যের এক গৌরবময় উত্তরাধিকারে সমৃদ্ধ হয়েছে। এই সম্পদ ছিল—এবং এখনও রয়েছে—একটি গর্বের বিষয়, যার মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর জাতিসমূহকে চ্যালেঞ্জ জানাই এবং প্রতিটি যুগে ও জনপদে সকল ধর্মাবলম্বীদের কাছে গৌরব প্রকাশ করি।

আর এই যত্ন সত্যিকার অর্থেই ইতিহাসের পরিচিত শ্রেষ্ঠতম এক পন্থায় পরিণত হয়েছে এমন এক কিতাবকে হিফাযত করার জন্য, যা সকল কিতাবের প্রধান ও সুমহান এবং যা বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে বহু দূরে। এভাবে আল্লাহ তাঁর কিতাবকে রক্ষা করার জন্য নানাবিধ কারণ ও উপকরণ প্রস্তুত করেছেন। আর এটি কি তাঁর—সুবহানাহু ওয়া তাআলা—বাণীরই বাস্তব রূপ নয়: "নিশ্চয় আমি যিক্র (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" (সূরা আল-হিজর: ৯)।

***
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المبحث الأول [معنى علوم القرآن وتحليل هذا المركب الاضافى]

‌‌1 - معنى علوم القرآن

يقتضينا منهج البحث التحليلي أن نبين معنى كل من طرفي هذا «المركب الإضافي» ثم نبين بعد ذلك المراد منه بعد التركيب ثم بعد ما صار فنّا مدونا.

طرفا هذا المركب هما لفظ «علوم» ولفظ «القرآن».

أما «العلوم»: فهو جمع «علم»، والعلم في اللغة العربية: مصدر بمعنى الفهم والمعرفة، ويطلق ويراد به: اليقين أيضا (1).

أما في الاصطلاح: فقد اختلفت فيه عبارات العلماء باختلاف الاعتبارات، فعرفه الشرعيون بتعريف، وعلماء الكلام بتعريف آخر، وعرفه الفلاسفة والحكماء بتعريف ثالث (2).

وليس شيء من هذه التعريفات بمراد هنا، وإنما المراد: العلم في اصطلاح أهل التدوين وعرفهم، و «العلم» في عرف التدوين العام عبارة عن: «جملة من المسائل المضبوطة بجهة واحدة» سواء أكانت وحدة الموضوع أم وحدة الغاية، والغالب أن تكون تلك المسائل كلية نظرية، وقد تكون ضرورية، وقد تكون جزئية، مثل: «مسائل علم الحديث رواية» كقولهم: «إنما الأعمال بالنيات … » بعض قوله صلى الله عليه وسلم.

أما «العلم» بمعنى: «الملكة التي بها تستحصل هذه المسائل» أو بمعنى:

«إدراك المسائل» فغير مراد هنا؛ لأن بحثنا في «العلم» بمعنى: الفن المدون، ومعلوم أن الذي يدوّن ويؤلف هي «المسائل والقواعد» لا الملكة

--------------------------------------------

(1) في «القاموس المحيط» [علمه كسمعه علما- بالكسر- عرفه، وعلم هو في نفسه] وفي المصباح المنير «العلم اليقين، يقال: علم يعلم. إذا تيقن. وجاء بمعنى المعرفة أيضا».

(2) عرفه الشرعيون بأنه: «العلم بالله تعالى وما يتعلق به من جليل صفاته وحكيم أفعاله، ومعرفة حلاله وحرامه»، وعرفه المتكلمون بأنه: «صفة تنكشف بها الأشياء لمن قامت به»، وعرفه الحكماء بأنه: «صورة الشيء الحاصلة في العقل».
প্রথম পরিচ্ছেদ [উলূমুল কুরআনের অর্থ এবং এই সম্বন্ধযুক্ত পদটির বিশ্লেষণ]

১ - উলূমুল কুরআনের অর্থ

বিশ্লেষণাত্মক গবেষণা পদ্ধতির দাবি হলো আমরা প্রথমে এই ‘সম্বন্ধযুক্ত পদ’ (মুরক্কাবে ইজাফি)-এর উভয় অংশের অর্থ বর্ণনা করব, এরপর এর সমাসবদ্ধ রূপের অর্থ বর্ণনা করব এবং সবশেষে এটি যখন একটি সংকলিত শাস্ত্র হিসেবে রূপ লাভ করেছে তখন এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা বর্ণনা করব।

এই যৌগিক পদটির দুই অংশ হলো— ‘উলূম’ এবং ‘আল-কুরআন’ শব্দদ্বয়।

‘উলূম’ (العلوم) প্রসঙ্গে কথা হলো: এটি ‘ইলম’ (علم) শব্দের বহুবচন। আরবি ভাষায় ইলম হলো একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ বোধশক্তি ও জ্ঞান। এটি ‘ইয়াকিন’ বা দৃঢ় বিশ্বাসের অর্থেও ব্যবহৃত হয় (১)।

পরিভাষার ক্ষেত্রে, বিভিন্ন প্রেক্ষিত অনুযায়ী ওলামায়ে কেরামের সংজ্ঞাসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। শরীয়তবিদগণ একে একভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, ইলমে কালামের পণ্ডিতগণ ভিন্নভাবে এবং দার্শনিক ও প্রজ্ঞাবানগণ তৃতীয় আরেকটি পদ্ধতিতে এর সংজ্ঞা দিয়েছেন (২)।

এখানে এই সংজ্ঞাগুলোর কোনটিই উদ্দেশ্য নয়; বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো শাস্ত্র সংকলনকারী বা গ্রন্থকারদের পরিভাষা অনুযায়ী ‘ইলম’। সাধারণ সংকলন বা শাস্ত্রীয় পরিভাষায় ‘ইলম’ বলতে বুঝায়: "একই দিক থেকে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত কতগুলো মাসায়েল বা সমস্যার সমষ্টি," চাই সেই দিকটি বিষয়ের ঐক্য হোক বা লক্ষ্যের ঐক্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই মাসায়েলগুলো তাত্ত্বিক ও ব্যাপক হয়ে থাকে, কখনো তা স্বতঃসিদ্ধ হতে পারে আবার কখনো তা আংশিক হতে পারে। যেমন: ‘ইলমে হাদিস রিওয়ায়াত’-এর মাসায়েলসমূহ, যেমন তাদের কথা: "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল..." যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর অংশবিশেষ।

আর ‘ইলম’ যখন "এমন একটি যোগ্যতা যার মাধ্যমে এই মাসায়েলগুলো অর্জিত হয়" অথবা "মাসায়েলগুলো অনুধাবন করা" অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তা এখানে উদ্দেশ্য নয়। কারণ আমাদের আলোচনা হচ্ছে সংকলিত শাস্ত্র হিসেবে ‘ইলম’ নিয়ে। আর এটি জানা কথা যে, যা সংকলন ও রচনা করা হয় তা হলো ‘মাসায়েল ও মূলনীতিসমূহ’, কোনো সুপ্ত যোগ্যতা নয়।

--------------------------------------------

(১) ‘আল-কামুস আল-মুহিত’-এ আছে [সে এটি জেনেছে যেমন সে শুনেছে, ইলমান—জের যোগে—অর্থ সে তা চিনেছে বা জেনেছে, এবং সে নিজে ইলম লাভ করেছে]। আর ‘আল-মিসবাহুল মুনীর’-এ আছে: "ইলম হলো ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাস। বলা হয়: আলামা ইয়া'লামু, যখন সে নিশ্চিত হয়। এটি মারিফাত বা পরিচয়ের অর্থেও এসেছে।"

(২) শরীয়তবিদগণ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: "আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং তাঁর মহান গুণাবলী ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কার্যাবলী সম্পর্কিত জ্ঞান, আর তাঁর হালাল ও হারামকে চেনা।" ইলমে কালামের পণ্ডিতগণ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "এটি এমন একটি গুণ যার মাধ্যমে যার মধ্যে এই গুণটি বিদ্যমান থাকে তার কাছে বিষয়সমূহ উন্মোচিত হয়।" আর হিকমতবিদগণ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন: "মস্তিষ্কে কোনো বস্তুর যে রূপ বা প্রতিচ্ছবি অর্জিত হয় তাই ইলম।"
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
ولا الإدراك.

وأما «القرآن»:

لفظ «قرآن» قد اختلف فيه العلماء من جهة الاشتقاق أو عدمه، ومن جهة كونه مهموزا أو غير مهموز، ومن جهة كونه مصدرا أو وصفا على أقوال نجملها فيما يأتي:

أما القائلون: بأنه «مهموز» فقد اختلفوا على رأيين:

الأول: قال جماعة منهم «اللحياني»، القرآن: مصدر «قرأ» بمعنى:

تلا، كالرجحان والغفران، ثم نقل من هذا المعنى المصدري، وجعل اسما للكلام المنزل على نبينا «محمد» صلى الله عليه وسلم، من باب «تسمية المفعول بالمصدر»، ويشهد لهذا الرأي ورود القرآن مصدرا بمعنى: القراءة في الكتاب الكريم، قال تعالى: إِنَّ عَلَيْنا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ (17) فَإِذا قَرَأْناهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (18) [سورة القيامة: 17 - 18] أي قراءته.

وقول «حسان بن ثابت» يرثي «ذا النورين» عثمان- رضي الله عنه:

ضحّوا بأشمط عنوان السجود به … يقطّع الليل تسبيحا وقرآنا

أي قراءة وعلى هذا يكون على وزن فعلان.

الثاني: قال جماعة منهم الزجاج «إنه وصف على فعلان مشتق من «القرء» بمعنى الجمع، يقال في اللغة: «قرأت الماء في الحوض، أي جمعته، ثم سمي به الكلام المنزل على النبي صلى الله عليه وسلم لجمع السور والآيات فيه أو القصص والأوامر والنواهي، أو لجمعه ثمرات الكتب السابقة.

وهو على هذين الرأيين مهموز، فإذا تركت الهمزة فذلك للتخفيف، ونقل حركتها إلى الساكن قبلها والألف واللام فيه ليست للتعريف، وإنما للمح الأصل وعلى هذا أيضا يكون على وزن فعلان.

والقائلون بأنه غير مهموز اختلفوا في أصل اشتقاقه: 1 - فقال قوم منهم «الأشعري» هو مشتق من «قرنت الشيء بالشيء» إذا ضممت أحدهما إلى الآخر وسمي به «القرآن» لقران السور والآيات
এবং উপলব্ধি নয়।

আর ‘কুরআন’ প্রসঙ্গে:

‘কুরআন’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি থাকা বা না থাকা, এটি হামযাহ-যুক্ত হওয়া বা না হওয়া এবং এটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) নাকি গুণবাচক শব্দ হওয়া—এসব বিষয়ে আলেমগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন, যা আমরা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:

যারা মনে করেন এটি ‘হামযাহ-যুক্ত’, তারা দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: আল-লিহইয়ানি-সহ একদল আলেম বলেছেন, কুরআন হলো ‘ক্বারা-আ’ এর মাসদার, যার অর্থ:

তিলাওয়াত করা বা পাঠ করা; যেমন ‘রুঝান’ ও ‘গুফরান’ শব্দদ্বয় মাসদার। অতঃপর এই মাসদারী অর্থ থেকে সরিয়ে একে আমাদের নবী ‘মুহাম্মদ’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ বাণীর নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি মূলত ‘মাফউল’-কে ‘মাসদার’ নামে অভিহিত করার ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। পবিত্র কিতাবে ‘কুরআন’ শব্দটি কিরাআত (পাঠ করা) অর্থে মাসদার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই মতের সপক্ষে প্রমাণ দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।” [সূরা আল-ক্বিয়ামাহ: ১৭ - ১৮] অর্থাৎ তাঁর পাঠ করা।

আর যুন-নুরাইন উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শোকগাথা বর্ণনা করতে গিয়ে হাসসান ইবনে সাবিতের উক্তি:

তারা এমন এক শুভ্রকেশ বৃদ্ধকে কুরবানি করেছে যার কপালে সিজদার চিহ্ন উজ্জ্বল ছিল… যিনি তাসবিহ ও কুরআন (পাঠের) মাধ্যমে রাত অতিবাহিত করতেন।

অর্থাৎ পাঠ করা; আর এই মত অনুযায়ী শব্দটি ‘ফাউলান’ ওযনে হয়েছে।

দ্বিতীয় মত: আয-যাজ্জাজ-সহ একদল আলেম বলেছেন, এটি ‘ফাউলান’ ওযনে একটি গুণবাচক শব্দ যা ‘আল-ক্বরউ’ থেকে ব্যুৎপন্ন, যার অর্থ হলো একত্রিত করা। আরবী ভাষায় বলা হয়: ‘আমি হাউজে পানি জমা করেছি’, অর্থাৎ আমি তা একত্রিত করেছি। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ বাণীর নাম এটি রাখা হয়েছে, কারণ এতে সূরা ও আয়াতসমূহ অথবা বিভিন্ন কাহিনী এবং আদেশ ও নিষেধসমূহ একত্রিত করা হয়েছে, অথবা এতে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সারনির্যাস সংগৃহীত হয়েছে।

এই উভয় মতানুসারেই শব্দটি হামযাহ-যুক্ত। যদি হামযাহ বর্জন করা হয়, তবে তা উচ্চারণের সহজতার জন্য এবং হামযাহর হরকতকে তার পূর্ববর্তী সাকিন বর্ণের দিকে স্থানান্তরের কারণে করা হয়। আর এতে যুক্ত ‘আলিফ ও লাম’ নির্দিষ্টকরণের জন্য নয়, বরং মূল শব্দের অর্থের দিকে ইঙ্গিত করার জন্য। এই হিসেবেও এটি ‘ফাউলান’ ওযনে হয়েছে।

যারা একে হামযাহ-বিহীন মনে করেন, তারা এর ব্যুৎপত্তির মূল উৎস নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন: ১ - তাদের মধ্য থেকে একদল—যাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ‘আল-আশআরি’—বলেছেন, এটি ‘আমি এক বস্তুকে অপর বস্তুর সাথে যুক্ত করেছি’ বাক্য থেকে ব্যুৎপন্ন; যখন আপনি একটিকে অন্যটির সাথে সংযুক্ত করেন। আর ‘কুরআন’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে সূরা ও আয়াতসমূহ পরস্পর সংযুক্ত থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ২০)
والحروف فيه.

2 - وقال «الفراء»: هو مشتق من «القرائن» لأن الآيات منه يصدق بعضها بعضا، ويشابه بعضها بعضا، وهي قرائن، أي أشباه ونظائر.

وعلى هذين القولين: فنونه أصلية، بخلافه على القولين الأولين، فنونه زائدة ويكون وزنه على هذين فعال.

رأي خامس: مقابل للأقوال السابقة:

وهو أنه اسم علم غير منقول، وضع من أول الأمر علما على الكلام المنزل على «محمد» صلى الله عليه وسلم وهو غير مهموز، وهذا القول مروي عن الإمام «الشافعي»، أخرج البيهقي والخطيب وغيرهما عنه، أنه كان يهمز قراءة، ولا يهمز «القرآن» ويقول: «القرآن» اسم وليس بمهموز ولم يؤخذ من قراءة، ولكنه اسم لكتاب الله مثل التوراة والإنجيل.

وبالتخفيف قرأ «ابن كثير» وحده؛ أما بقية السبعة فقرءوا بالهمزة.

وأرجح الآراء وأخلقها بالقبول «الأول» ويليه الرأي الثاني.

ومما يقوي مذهب القائلين بالهمز، أنهم خرجوا التخفيف تخريجا علميا صحيحا، ولا أدري ماذا يقول القائلون بالرأي الأخير في توجيه قراءة لفظ «القرآن» بالهمز، مع أن عليها معظم القراء السبعة، كما ذكرنا آنفا!

رأي آخر:

يرى بعض الباحثين (1):

أن «قرآن» مأخوذ من «قرأ» بمعنى «تلا» وهذا الفعل أصله في اللغة الآرامية ثم دخل العربية قبل الإسلام بزمن طويل ولو صح هذا، فلا ضير فيه؛ لأن هذه الكلمة وأمثالها- وإن كانت في الأصل أعجمية- فقد صارت بعد التعريب عربية بالاستعمال وبإخضاعها لأصول العرب في نطقهم ولغتهم، واندمجت فيها حتى صارت جزءا منها فنزل القرآن بها، وهي على

--------------------------------------------

(1) الأستاذ عبد الوهاب حمودة «مجلة لواء الإسلام» العدد الأول من السنة الأولى ص 28.
এবং এতে অক্ষরসমূহ রয়েছে।

২ - এবং 'আল-ফাররা' বলেছেন: এটি 'আল-ক্বরয়িন' থেকে উদ্ভূত, কারণ এর আয়াতসমূহ একে অপরকে সত্যায়ন করে এবং একে অপরের সদৃশ, আর সেগুলো হলো 'ক্বরয়িন', অর্থাৎ সাদৃশ্য ও সমজাতীয় বস্তু।

আর এই দুটি মতানুসারে: এর 'নূন' বর্ণটি মূল (অক্ষর), পক্ষান্তরে প্রথম দুটি মতের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, সেখানে এর 'নূন' বর্ণটি অতিরিক্ত এবং এই দুটি মতানুসারে এর ওজন হবে 'ফু'আল'।

পঞ্চম মত: পূর্ববর্তী মতসমূহের বিপরীতে:

তা হলো এটি একটি বিশেষ্য পদ (ইসমে আলাম) যা অন্য কোনো শব্দ থেকে গৃহীত নয়, বরং এটি প্রথম থেকেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ বাণীর নাম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে এবং এটি 'হামজা' যুক্ত নয়। এই মতটি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আল-বায়হাকি, আল-খতিব এবং অন্যান্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি 'ক্বিরাআত' শব্দটিকে হামজা দিয়ে উচ্চারণ করতেন, কিন্তু 'কুরআন' শব্দটিকে হামজা দিয়ে উচ্চারণ করতেন না এবং বলতেন: 'কুরআন' একটি নাম এবং এটি হামজা যুক্ত নয় এবং এটি 'ক্বিরাআত' থেকে নেওয়া হয়নি, বরং এটি আল্লাহর কিতাবের জন্য একটি নাম যেমন তাওরাত ও ইনজিল।

এবং একমাত্র ইবনে কাসির একে সহজভাবে (হামজা ছাড়া) পাঠ করেছেন; তবে অবশিষ্ট সাতজন ক্বারী একে হামজা সহকারে পাঠ করেছেন।

আর মতামতের মধ্যে সবচেয়ে সঠিক ও গ্রহণের যোগ্য হলো 'প্রথমটি', এরপরে দ্বিতীয় মতটির অবস্থান।

হামজা সহযোগে পাঠের প্রবক্তাদের অভিমতকে যা শক্তিশালী করে তা হলো, তারা এর সহজীকৃত রূপের একটি সঠিক বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। আর আমি জানি না যে, শেষ মতের প্রবক্তারা 'কুরআন' শব্দটির হামজা সহযোগে পাঠের সমর্থনে কী ব্যাখ্যা দেবেন, যেখানে সাতজন ক্বারীর অধিকাংশ জনই একে হামজা সহকারে পাঠ করেছেন, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি!

অন্য একটি মত:

কিছু গবেষক মনে করেন (১):

যে 'কুরআন' শব্দটি 'ক্বরাআ' থেকে গৃহীত যার অর্থ 'তেলাওয়াত করা' বা পাঠ করা। এই ক্রিয়াটির মূল উৎস আরামীয় ভাষায়, অতঃপর ইসলামের অনেক আগে এটি আরবি ভাষায় প্রবেশ করেছে। যদি এটি সঠিক হয় তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই; কারণ এই শব্দটি এবং এর সমজাতীয় শব্দগুলো—যদিও মূলে অনারবি ছিল—আরবিকরণের পর ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এবং আরবদের উচ্চারণ ও ভাষারীতির অনুগত হওয়ার মাধ্যমে আরবিতে পরিণত হয়েছে। এটি আরবির সাথে এমনভাবে মিশে গেছে যে তার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে এবং কুরআন এই ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে, আর এটি...

--------------------------------------------

(১) অধ্যাপক আবদুল ওয়াহাব হাম্মুদা, "মাজাল্লাতু লিউয়াইল ইসলাম", প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যা, পৃষ্ঠা ২৮।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ২১)
هذا الحال.

وهذا القول لا يخرج عما ذكره اللحياني فهو مكمل له، لأنه ليس في كلام اللحياني ما ينفي أن يكون أصل الكلمة من اللغة الآرامية.

 

‌‌2 - «تعريف القرآن» عند الأصوليين والفقهاء، وأهل العربية

هو كلام الله المنزل على نبيه «محمد» صلى الله عليه وسلم المعجز بلفظه، المتعبد بتلاوته المنقول بالتواتر، المكتوب في المصاحف، من أول سورة «الفاتحة» إلى آخر سورة «الناس» وقد خرج بقولنا: المنزل على نبيه «محمد» المنزل على غيره من الأنبياء كالتوراة والإنجيل والزبور والصّحف.

وخرج بالمعجز بلفظه المتعبد بتلاوته الأحاديث القدسية على الرأي بأن لفظها من عند الله، فإنها ليست معجزة ولا متعبد بتلاوتها.

وخرج بقولنا (المنقول بالتواتر … الخ) جميع ما سوى القرآن المتواتر من منسوخ التلاوة.

والقراءات غير المتواترة سواء نقلت بطريق الشهرة كقراءة «ابن مسعود» في قوله تعالى في كفارة الأيمان فَصِيامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ [سورة المائدة: 89] بزيادة متتابعات، أو بطريق الآحاد مثل قراءة: متكئين على رفارف خضر وعباقري حسان [الرحمن: 76] بالجمع فإنها ليست قرآنا؛ ولا تأخذ حكمه.

ثم إن العلماء بحثوا في الصّفات الخاصة ب «القرآن» فوجدوا أنها تنحصر في الإنزال على النبي صلى الله عليه وسلم والإعجاز، والنقل وبالتواتر، والكتابة في المصاحف، والتعبد بالتلاوة، فرأى بعض العلماء زيادة التوضيح والتمييز، فعرفه بجميع هذه الصفات كما ذكرنا آنفا.

واقتصر بعضهم على ذكر الإنزال على النبي، والإعجاز، لأن ما عداهما من الصفات ليس من الصفات اللازمة، لتحقق القرآن بدونها في زمن النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا في تعريفه: «هو الكلام المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم، المعجز».
এই অবস্থা।

এই বক্তব্যটি আল-লিহয়ানী যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে বিচ্যুত নয়, বরং এটি তার পরিপূরক। কারণ আল-লিহয়ানীর কথার মধ্যে এমন কিছু নেই যা এই শব্দের উৎস আরামীয় ভাষা হওয়ার সম্ভাবনাকে অস্বীকার করে।

 

‌‌২ - উসুলবিদ, ফকিহ এবং ভাষাবিদদের নিকট 'কুরআনের সংজ্ঞা'

এটি আল্লাহর বাণী, যা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ, যা স্বীয় শব্দের মাধ্যমে অলৌকিক, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য, যা মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত এবং যা মুসহাফসমূহে সূরা ফাতিহা থেকে শুরু করে সূরা নাস পর্যন্ত লিপিবদ্ধ। আমাদের বক্তব্য "নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ"-এর মাধ্যমে অন্যান্য নবীদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ যেমন তাওরাত, ইনজিল, যাবুর এবং সহীফাসমূহ বাদ পড়েছে।

"স্বীয় শব্দের মাধ্যমে অলৌকিক" এবং "যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য" - এই কথাগুলোর মাধ্যমে হাদিসে কুদসি বাদ পড়েছে (সেই মতানুসারে যা বলে এর শব্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে), কারণ হাদিসে কুদসি অলৌকিক নয় এবং এর তিলাওয়াতও ইবাদত হিসেবে গণ্য নয়।

আমাদের বক্তব্য "(মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত … ইত্যাদি)"-এর মাধ্যমে মুতাওয়াতির কুরআন ব্যতীত তিলাওয়াত রহিত হওয়া সকল বিষয় বাদ পড়েছে।

আর অ-মুতাওয়াতির কিরাতসমূহ, চাই তা সুপরিচিত পদ্ধতিতে বর্ণিত হোক - যেমন শপথের কাফফারা সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী 'তিন দিন রোজা রাখা' [সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৯]-এর ক্ষেত্রে ইবনে মাসউদের কিরাতে 'ধারাবাহিকভাবে' শব্দের সংযুক্তি, অথবা একক বর্ণনা পদ্ধতিতে হোক - যেমন 'সবুজ গালিচা ও সুন্দর কারুকার্যময় শয্যায় হেলান দিয়ে' [আর-রাহমান: ৭৬] বহুবচনবাচক কিরাত - এগুলোর কোনোটিই কুরআন নয় এবং কুরআনের বিধানও এগুলো গ্রহণ করবে না।

অতঃপর ওলামায়ে কেরাম কুরআনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং দেখতে পেয়েছেন যে, সেগুলো নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর অবতীর্ণ হওয়া, অলৌকিকত্ব, মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হওয়া, মুসহাফে লিপিবদ্ধ হওয়া এবং তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই কোনো কোনো আলেম অধিকতর স্পষ্টীকরণ এবং পার্থক্যের জন্য এটিকে উপরে বর্ণিত সকল বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

আবার তাদের কেউ কেউ শুধুমাত্র নবীর ওপর অবতীর্ণ হওয়া এবং অলৌকিকত্বের উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। কারণ এই দুটি ব্যতীত অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো অপরিহার্য গুণ নয়, যেহেতু নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে এগুলো ছাড়াও কুরআনের অস্তিত্ব সাব্যস্ত ছিল। তাই তারা এর সংজ্ঞায় বলেছেন: "এটি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ অলৌকিক বাণী।"
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ২২)
واقتصر بعضهم على الإنزال والكتابة في المصاحف، والنقل تواترا، لأن المراد تعريفه لمن لم يدرك زمن النبوة، وإنزال الألفاظ والكتابة في المصاحف والنقل تواترا من أبين اللوازم للقرآن وأوضحها بخلاف الإعجاز فليس من اللوازم البينة؛ إذ لا يعرفه إلا الخواص الواقفون على أسرار اللغة وأساليبها، كما أنه ليس شاملا لكل جزء؛ إذ المعجز هو السّورة أو مقدارها.

واقتصر البعض على النقل في المصاحف تواترا، لأنه كاف في الغرض المقصود، وهو تمييز القرآن عن جميع ما عداه، فقد ثبت أن الصحابة- رضوان الله عليهم- بالغوا في ألا يكتب في المصحف ما ليس منه، مما يتعلق به، حتى النّقط والشّكل، واحتاطوا في ذلك غاية الاحتياط، حتى لا يختلط القرآن بغيره.

واقتصر بعضهم على ذكر الإعجاز فحسب، لأنه وصف ذاتي للقرآن إذ هو الآية العظمى المثبتة لرسالة نبينا «محمد» صلى الله عليه وسلم، ولكون القرآن المنزل عليه من عند الله لا من عند البشر.

ولما كان بحثنا في هذا العلم، إنما يتعلق بنظمه العربي المبين، فقد آثرت ألا أتعرض للقرآن من حيث كونه كلام الله، وصفة من صفاته، لأن هذا البحث محله «علم الكلام» (1).

--------------------------------------------

(1) كما بحث المتكلمون في القرآن من جهة كونه كلام الله وصفة له، بحثوا فيه أيضا من جهة لفظه العربي المنزل على النبي .. وهم في تعريفهم للقرآن من هذه الجهة لم يخرجوا عما ذكره الأصوليون والفقهاء وعلماء العربية في تعريفه وعرفوه من الجهة الأولى بأنه: «الصفة القديمة القائمة بذاته تعالى المتعلقة بالكلمات الحكمية من أول سورة «الفاتحة» إلى آخر «الناس»، وهذه الكلمات الحكمية أزلية مجردة عن المواد مطلقا حسية كانت أو خيالية أو روحانية وهي مترتبة غير متعاقبة وذلك مثل الصور تنطبع في المرآة، مترتبة غير متعاقبة، وقالوا: إنها حكمية، لأنها ليست ألفاظا حقيقية مصورة بصورة الحروف والأصوات.

وقالوا: إنها أزلية، ليثبتوا لها معنى القدم، وقالوا: إنها مجردة عن المواد مطلقا- أي الحروف اللفظية أو الذهنية أو الروحية- لينفوا عنها أنها مخلوقة، وقالوا: إنها
তাদের কেউ কেউ অবতীর্ণ হওয়া, মুসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ করা এবং মুতাওয়াতিরভাবে বর্ণিত হওয়ার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। কারণ উদ্দেশ্য হলো তাকে চিনে নেওয়া যে নবুওয়াতের যুগ পায়নি। আর শব্দের অবতরণ, মুসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ হওয়া এবং মুতাওয়াতিরভাবে বর্ণিত হওয়া কুরআনের সবচেয়ে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য আবশ্যকীয় বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। মুজিজা বা অলৌকিকত্ব বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ এটি কোনো স্পষ্ট আবশ্যকীয় বিষয় নয়; কেননা ভাষা ও তার শৈলী সম্পর্কে অবগত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া কেউ এটি জানতে পারে না। তদুপরি এটি প্রতিটি অংশের জন্য ব্যাপক নয়; কেননা মুজিজা হলো একটি সূরা অথবা সমপরিমাণ অংশ।

আর কেউ কেউ মুসহাফসমূহে মুতাওয়াতির বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, কারণ তা মূল উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যথেষ্ট। আর তা হলো কুরআনকে তা ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে পৃথক করা। এটি প্রমাণিত যে, সাহাবীগণ—রাযিয়াল্লাহু আনহুম—কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কোনো কিছু যেন মুসহাফে না লেখা হয় সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন, এমনকি যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট যেমন নুকতা ও হরকত, সেগুলোর ক্ষেত্রেও। তারা এ ব্যাপারে চরম সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন যাতে কুরআন অন্য কিছুর সাথে মিশ্রিত না হয়ে যায়।

আবার কেউ কেউ শুধুমাত্র মুজিজা বা অলৌকিকত্বের বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, কারণ এটি কুরআনের একটি সত্তাগত বৈশিষ্ট্য। যেহেতু এটি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত প্রমাণকারী শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, এবং তাঁর ওপর অবতীর্ণ এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, কোনো মানুষের পক্ষ থেকে নয়।

আর যেহেতু এই শাস্ত্রে আমাদের আলোচনা কেবল কুরআনের সুস্পষ্ট আরবি বিন্যাস নিয়ে, তাই আমি কুরআনকে আল্লাহর কালাম এবং তাঁর গুণাবলির একটি গুণ হওয়ার দিক থেকে আলোচনা না করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। কারণ এই আলোচনার স্থান হলো 'ইলমুল কালাম' (১)।

--------------------------------------------

(১) মুতাকাল্লিমগণ যেভাবে কুরআনকে আল্লাহর কালাম ও তাঁর একটি সিফাত বা গুণ হওয়ার দিক থেকে আলোচনা করেছেন, ঠিক সেভাবে নবীর ওপর অবতীর্ণ এর আরবি শব্দের দিক থেকেও আলোচনা করেছেন। এ দিক থেকে কুরআনের সংজ্ঞায় তারা উসুলবিদ, ফকীহ এবং আরবি ভাষাবিদদের বর্ণনার বাইরে যাননি। তারা প্রথম দিক থেকে একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: "এটি আল্লাহ তাআলার সত্তার সাথে বিদ্যমান একটি অনাদি গুণ, যা সূরা 'ফাতিহা'র শুরু থেকে 'নাস' এর শেষ পর্যন্ত হিকমতপূর্ণ বাণীসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এই হিকমতপূর্ণ বাণীগুলো চিরন্তন, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, কাল্পনিক বা আধ্যাত্মিক সকল প্রকার বস্তুগত উপাদান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এগুলো সুবিন্যস্ত কিন্তু অনুক্রমিক নয়, যেমন আয়নায় প্রতিফলিত ছবিগুলো সুবিন্যস্ত কিন্তু অনুক্রমিক নয়। তারা বলেছেন: এগুলো হিকমতপূর্ণ, কারণ এগুলো অক্ষর ও শব্দের আকারে চিত্রিত কোনো প্রকৃত শব্দ নয়।

তারা বলেছেন: এগুলো চিরন্তন, যাতে এর জন্য অনাদিত্বের অর্থ সাব্যস্ত হয়। তারা বলেছেন: এগুলো বস্তুগত উপাদান—অর্থাৎ বাচনিক, মানসিক বা আধ্যাত্মিক বর্ণ—থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, যাতে এগুলো সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা যায়। তারা বলেছেন: এগুলো
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌لفظ «القرآن» علم شخصي:

وذهب المحققون من الأصوليين، والفقهاء، وأهل العربية: إلى أن لفظ القرآن «علم شخصي» مدلوله: الكلام المنزل على النبي صلى الله عليه وسلم من أول سورة «الفاتحة» إلى آخر سورة «الناس» وعلميته: باعتبار وضعه للنظم المخصوص، الذي لا يختلف باختلاف المتلفظين، ولا عبرة بتعدد القارئين والمحال.

وعلى هذا فما ذكره الأصوليون، وغيرهم من تعاريف للقرآن، ليس تعريفا حقيقيّا، لأن التعريف الحقيقي لا يكون إلا للأمور الكلية، وإنما أرادوا بتعريفه: تمييزه عما عداه مما لا يسمّى باسمه، كالتوراة والإنجيل، والأحاديث القدسية، وما نسخت تلاوته.

 

‌‌لفظ «القرآن» أمر كلي:

ويرى بعض العلماء: أن لفظ القرآن موضوع للقدر المشترك بين الكل وأجزائه: فمسماه: كلي. كالمشترك المعنوي وعلى هذا يعرف بما عرّفه العلماء.

 

‌‌القرآن مشترك لفظي:

ويرى فريق ثالث: أنه مشترك لفظي بين الكل وبين أجزائه، فهو موضوع لكل منهما بوضع.

والحق: أنه علم شخصي، مشترك لفظي بين الكل وأجزائه فيقال لمن قرأ اللفظ المنزل كله: قرأ قرآنا، ويقال لمن قرأ بعضه: قرأ قرآنا، وهو ما يفهم من كلام الفقهاء، حينما قالوا: «يحرم على الجنب قراءة القرآن» فإنهم يقصدون: قراءة كله أو بعضه على السواء.

--------------------------------------------

غير متعاقبة؛ لأن التعاقب يستلزم الزمان والزمان حادث، وكل هذا من آثار الاشتغال بالفلسفة وتحكيم العقول في الأمور الغيبية. وأما نحن فنقول: «القرآن بألفاظه ومعانيه كلام الله تعالى منه بدأ وإليه يعود، وهو ما عليه السلف الصالح، والعقل أعجز من أن يتحكم في الأمور الغيبية التي لا تعلم إلا عن الله، أو عن طريق رسله».
‌‌‘কুরআন’ শব্দটি একটি ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য:

উসুলবিদ, ফকিহ এবং ভাষাবিদদের মধ্যে গবেষকগণ এই মত পোষণ করেন যে: ‘কুরআন’ শব্দটি একটি ‘ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য’ (আলামে শাখসি)। এর দ্বারা নির্দেশিত বিষয় হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ সেই কালাম, যা সূরা ‘ফাতিহা’র শুরু থেকে সূরা ‘নাস’-এর শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর বিশেষ্যত্ব নির্ধারিত হয়েছে এর সুনির্দিষ্ট বিন্যাসের ভিত্তিতে, যা পাঠকারীর পরিবর্তনের কারণে ভিন্ন হয় না এবং পাঠকারীর সংখ্যা বা স্থানের আধিক্যের কারণেও এতে কোনো পার্থক্য ঘটে না।

এই প্রেক্ষাপটে, উসুলবিদ ও অন্যান্যগণ কুরআনের যে সংজ্ঞাগুলো প্রদান করেছেন, তা মূলত কোনো প্রকৃত (হাকিকি) সংজ্ঞা নয়। কারণ প্রকৃত সংজ্ঞা কেবল সামগ্রিক বা সাধারণ বিষয়ের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। বরং তারা এই সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে কুরআনকে এমন বিষয়গুলো থেকে আলাদা করতে চেয়েছেন যেগুলোকে এই নামে অভিহিত করা যায় না, যেমন: তাওরাত, ইঞ্জিল, হাদিসে কুদসি এবং যার তিলাওয়াত রহিত হয়ে গেছে।

 

‌‌‘কুরআন’ শব্দটি একটি সামগ্রিক বিষয়:

কোনো কোনো আলেম মনে করেন যে: ‘কুরআন’ শব্দটি এর পূর্ণরূপ এবং এর অংশবিশেষের মধ্যে বিদ্যমান সাধারণ গুণের জন্য নির্ধারিত। সুতরাং এর নামবাচকতা হলো ‘কুল্লি’ বা সামগ্রিক; যেমন অর্থগত অংশীদারিত্ব (মুশতারাক মানাভি)। সেই অনুযায়ী, আলেমগণ একে যে সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেছেন তা সঠিক।

 

‌‌কুরআন হলো শাব্দিক অংশীদারিত্ব:

তৃতীয় একদল মনে করেন যে: এটি এর পূর্ণরূপ এবং এর অংশবিশেষের মধ্যে একটি শাব্দিক অংশীদারিত্ব (মুশতারাক লাফজি)। ফলে এর প্রতিটি রূপের জন্যই আলাদা আলাদাভাবে শব্দটি নির্ধারিত হয়েছে।

প্রকৃত কথা হলো: এটি একটি ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য এবং এর পূর্ণরূপ ও অংশবিশেষের মধ্যে শাব্দিক অংশীদারিত্ব বিদ্যমান। তাই যে ব্যক্তি অবতীর্ণ শব্দের সম্পূর্ণ অংশ পাঠ করে তাকে বলা হয়: সে কুরআন পড়েছে। আবার যে ব্যক্তি এর কিছু অংশ পাঠ করে তাকেও বলা হয়: সে কুরআন পড়েছে। ফকিহদের বক্তব্য থেকেও এটাই বোঝা যায়, যখন তারা বলেন: “অপবিত্র (জুনুবি) ব্যক্তির জন্য কুরআন পাঠ করা হারাম।” এখানে তারা পূর্ণ কুরআন বা এর অংশবিশেষ উভয়টিকেই সমানভাবে বুঝিয়েছেন।

--------------------------------------------

পর্যায়ক্রমিক নয়; কারণ পর্যায়ক্রমিক হওয়ার জন্য সময়ের প্রয়োজন আর সময় হলো সৃষ্টি, আর এসবই হলো দর্শন চর্চায় মগ্ন হওয়া এবং গায়বি বা অদৃশ্য বিষয়াবলীতে বিবেককে বিচারক বানানোর কুফল। পক্ষান্তরে আমরা বলি: “কুরআন তার শব্দাবলি এবং অর্থসহ মহান আল্লাহর কালাম; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে।” এটিই সালাফে সালেহিনের আকিদা। আর অদৃশ্য বিষয়াবলীতে ফয়সালা দিতে বিবেক অত্যন্ত অক্ষম, যা কেবল আল্লাহ অথবা তাঁর রাসূলদের মাধ্যমেই জানা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌3 - أسماء القرآن

للقرآن الكريم أسماء كثيرة: أشهرها: «القرآن» ومنها «الفرقان» لأنه فارق بين الحق والباطل، قال تعالى: تَبارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقانَ عَلى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعالَمِينَ نَذِيراً (1) [سورة الفرقان: 1].

ومنها: «الكتاب» وهو مصدر لكتب بمعنى: الجمع والضم، أريد به القرآن لجمعه العلوم والقصص والأخبار على أبلغ وجه، قال تعالى:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلى عَبْدِهِ الْكِتابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجاً (1) قَيِّماً لِيُنْذِرَ بَأْساً شَدِيداً مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْراً حَسَناً (2) [سورة الكهف: 1 - 2].

ومنها: «التنزيل»، مصدر أريد به المنزل، لنزوله من عند الله، قال تعالى: وَإِنَّهُ لَكِتابٌ عَزِيزٌ (41) لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42) [فصلت: 41 - 42]، وغيرها من الآيات كثير.

ومنها: «الذكر» سمي به القرآن، لاشتماله على المواعظ والزواجر، وقيل: لاشتماله على أخبار الأنبياء، والأمم الماضية، وقيل من الذكر، بمعنى: الشرف، قال تعالى: وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ [سورة الزخرف: 44] أي شرف لأنه نزل بلغتكم، وقال تعالى: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ (9) [سورة الحجر: 9].

وهذه الأربعة هي أشهر الأسماء بعد لفظ «القرآن»، وقد صارت أعلاما بالغلبة على القرآن في لسان أهل الشرع وعرفهم.

وقد تسامح «أبو المعالي عزيزي بن عبد الملك» - المعروف ب «شيذلة» (1) في كتابه «البرهان في مشكلات القرآن» - في عد ما ليس باسم اسما، وبلغ بها خمسة وخمسين اسما وقد نقل ذلك عنه «السيوطي» في «الإتقان» ووافقه

--------------------------------------------

(1) عزيزي: قيل بضم العين وقيل بفتحها، وشيذلة: بفتح الشين، والذال المعجمة:

وهو ابن عبد الملك أحد فقهاء الشافعية المتوفى سنة 494 أربع وتسعين وأربعمائة.
৩ - কুরআনের নামসমূহ

পবিত্র কুরআনের অনেক নাম রয়েছে: তার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো 'আল-কুরআন'। এর মধ্যে একটি হলো 'আল-ফুরকান', কারণ এটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী। আল্লাহ তাআলা বলেন: "পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান (পার্থক্যকারী কিতাব) নাযিল করেছেন, যাতে সে সৃষ্টিজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।" (সূরা আল-ফুরকান: ১)।

এর মধ্যে আরেকটি নাম হলো: 'আল-কিতাব' (গ্রন্থ), এটি 'কাতবা' (একত্রিত করা ও সংকলিত করা) শব্দের মাসদার বা মূল। কুরআনকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান, কাহিনী ও সংবাদসমূহকে নিজের মধ্যে একত্রিত করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। একে করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত, যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিতে পারেন যারা সৎকর্ম করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।" (সূরা আল-কাহাফ: ১-২)।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: 'আত-তানযীল' (অবতরণকৃত), এটি একটি মাসদার যা দ্বারা 'মুনযাল' বা অবতীর্ণ বস্তুকে বোঝানো হয়েছে, যেহেতু এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত কিতাব। এতে মিথ্যা আসতে পারে না এর সামনে থেকেও না, আর এর পেছন থেকেও না। এটি প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত (আল্লাহর) পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" (ফুসসিলাত: ৪১-৪২), এবং এ জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

এর মধ্যে একটি নাম হলো: 'আয-যিকর'। কুরআনকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে উপদেশ ও সতর্কবাণী রয়েছে। আবার বলা হয়েছে: কারণ এতে পূর্ববর্তী নবীগণ এবং উম্মতগণের সংবাদ রয়েছে। আরও বলা হয়েছে যে, 'যিকর' মানে হলো মর্যাদা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় এটি আপনার জন্য এবং আপনার কওমের জন্য মর্যাদা।" (সূরা আয-যুখরুফ: ৪৪) অর্থাৎ এটি তোমাদের জন্য সম্মানস্বরূপ যেহেতু এটি তোমাদের ভাষায় নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নিশ্চয় আমিই যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর: ৯)।

এই চারটি হলো 'কুরআন' শব্দের পর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ নাম। শরীয়তবিদদের ভাষায় এবং তাদের পরিভাষায় এগুলো কুরআনের জন্য সুনির্দিষ্ট নাম হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

'আবু আল-মাআলি আজিজি বিন আব্দুল মালিক'—যিনি 'শাইযালা' (১) নামে পরিচিত—তাঁর 'আল-বুরহান ফি মুশকিলাতিল কুরআন' গ্রন্থে যা মূলত নাম নয় তাকেও নাম হিসেবে গণনার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং নামের সংখ্যা পঞ্চান্ন পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। আস-সুয়ূতী তাঁর 'আল-ইতকান' গ্রন্থে তা উদ্ধৃত করেছেন এবং তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আজিজি: কেউ বলেছেন আইন অক্ষরে পেশ দিয়ে, কেউ বলেছেন যবর দিয়ে। আর শাইযালা: শীন এবং যাল উভয়টিতে যবর দিয়ে।

তিনি হলেন ইবনুল আব্দুল মালিক, শাফেয়ী ফকীহগণের অন্যতম, যিনি ৪৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم شرع يوجه ما ذكره من الأسماء (1)، وبلغ بها صاحب «التبيان» نيفا وتسعين اسما.

ومما ينبغي أن يتنبه إليه أن أغلب ما ذكروه أسماء للقرآن هو في الحقيقة أوصاف له، فمثلا: عدوا من الأسماء لفظ «كريم» أخذا من قوله تعالى:

إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ (77) [سورة الواقعة: 77]، ولفظ «مبارك» أخذا من قوله تعالى: وَهذا ذِكْرٌ مُبارَكٌ [الأنبياء: 5] مع أن الظاهر كونهما وصفين للقرآن لا اسمين.

كما أن في بعض ما عدوه اسما للقرآن بعدا وتكلّفا في أن المراد به القرآن وذلك مثل عدهم من الأسماء: «مناديا»، لقوله تعالى: رَبَّنا إِنَّنا سَمِعْنا مُنادِياً يُنادِي لِلْإِيمانِ [آل عمران: 193]، ومثل عدهم من الأسماء:

«زبورا»، لقوله تعالى: وَلَقَدْ كَتَبْنا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُها عِبادِيَ الصَّالِحُونَ (105) [الأنبياء: 105] مع أن الظاهر: والذي عليه جمهور المفسرين، أن المراد بالمنادى الرسول وبالزبور الكتاب المنزل على داود- عليه السلام والذكر التوراة وقيل الزبور: جميع الكتب المنزلة، والذكر: اللوح المحفوظ، ويكون المراد بالزبور الوصفية لا العلميّة، فهو بمعنى المزبور أي المكتوب (2).

 

‌‌4 - علوم القرآن بالمعنى الإضافي

والآن وقد وضح لنا المراد من كل طرفي «المركب الإضافي» يتبين لنا المراد من الإضافة التي بينهما، فهي تشير إلى كل المعارف والعلوم المتصلة بالقرآن، ومن ثمّ جمع لفظ «علوم» ولم يفرد، لأن المراد شمول كل علم يبحث في القرآن من أي ناحية من نواحيه المتعددة، فيشمل ذلك «علم التفسير» و «علم الرسم العثماني» و «علم القراءات» و «علم غريب القرآن» و «علم إعجاز القرآن» و «علم الناسخ والمنسوخ» و «علم المحكم

--------------------------------------------

(1) انظر: الإتقان ج 1 ص (50 - 51).

(2) انظر تفسير ابن كثير والبغوي (ج 5 ص 541).
এরপর তিনি উল্লেখিত নামসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান শুরু করেন (১), এবং 'আত-তিবইয়ান'-এর লেখক সেগুলোকে নব্বইয়ের অধিক নামে পৌঁছিয়েছেন।

আর একটি বিষয় যা লক্ষ্য করা উচিত তা হলো, কুরআনের জন্য তারা যে নামগুলো উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশই মূলত এর গুণাবলী। উদাহরণস্বরূপ: তারা আল্লাহ তাআলার বাণী—

"নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত কুরআন" (৭৭) [সূরা আল-ওয়াকিয়াহ: ৭৭] থেকে গ্রহণ করে 'কারীম' শব্দটিকে নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী— "আর এটি এক বরকতময় উপদেশ" [আল-আম্বিয়া: ৫] থেকে গ্রহণ করে 'মুবারাক' শব্দটিকেও (নামের অন্তর্ভুক্ত করেছেন), যদিও আপাতদৃষ্টিতে স্পষ্ট যে এই দুটি কুরআনের গুণ বা বিশেষণ, নাম নয়।

একইভাবে তারা কুরআনের যে নামগুলো গণনা করেছেন, সেগুলোর কোনো কোনোটিকে কুরআন হিসেবে নির্ধারণ করার মধ্যে দূরবর্তিতা ও কৃত্রিমতা রয়েছে। যেমন তারা নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন: 'মুনাসিয়া' (আহ্বানকারী), যা আল্লাহ তাআলার এই বাণী থেকে নেওয়া হয়েছে: "হে আমাদের রব! নিশ্চয় আমরা এক আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি" [আল ইমরান: ১৯৩], এবং তাদের নাম গণনার আরেকটি উদাহরণ হলো:

'যাবুর', যা আল্লাহ তাআলার এই বাণী থেকে নেওয়া হয়েছে: "আর অবশ্যই আমরা উপদেশের পর যাবুরে লিখে দিয়েছি যে, আমার নেককার বান্দারাই যমীনের উত্তরাধিকারী হবে" (১০৫) [আল-আম্বিয়া: ১০৫]। যদিও স্পষ্ট বিষয় এবং যার ওপর অধিকাংশ মুফাসসির একমত তা হলো, 'আহ্বানকারী' দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন রাসূল এবং 'যাবুর' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর অবতীর্ণ কিতাব, আর 'যিকির' হলো তাওরাত। আবার বলা হয়েছে যে, 'যাবুর' হলো সমস্ত অবতীর্ণ কিতাব এবং 'যিকির' হলো লাওহে মাহফুজ। এক্ষেত্রে যাবুর দ্বারা বিশেষণমূলক অর্থ উদ্দেশ্য হবে, সংজ্ঞাবাচক নাম হিসেবে নয়; অর্থাৎ এটি 'মাযবুর' বা 'লিখিত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (২)।

 

‌‌৪ - সম্বন্ধবাচক অর্থে উলূমুল কুরআন

এখন যখন আমাদের নিকট এই 'সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক' পদের উভয় অংশের অর্থ স্পষ্ট হয়েছে, তখন এই দুটির মধ্যকার সম্বন্ধের উদ্দেশ্যও আমাদের কাছে প্রতিভাত হয়। এটি কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল জ্ঞান ও বিজ্ঞানের দিকে ইঙ্গিত করে। এই কারণেই 'উলূম' (বিজ্ঞানসমূহ) শব্দটি বহুবচনে ব্যবহৃত হয়েছে, একবচনে নয়। কারণ এর উদ্দেশ্য হলো কুরআনের নানাবিধ দিকের যেকোনো দিক নিয়ে আলোচনা করে এমন প্রতিটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'তাফসীর শাস্ত্র', 'উসমানী লিখনপদ্ধতি শাস্ত্র', 'কিরাত শাস্ত্র', 'কুরআনের বিরল শব্দাবলি সংক্রান্ত শাস্ত্র', 'কুরআনের অলৌকিকত্ব সংক্রান্ত শাস্ত্র', 'নাসিখ ও মানসুখ সংক্রান্ত শাস্ত্র' এবং 'মুহকাম সংক্রান্ত শাস্ত্র'।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইতকান, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০-৫১।

(২) দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর ও আল-বাগভী (৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৪১)।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
والمتشابه» و «علم إعراب القرآن» و «علم مجاز القرآن» و «علم أمثال القرآن»، إلى غير ذلك من العلوم الكثيرة التي توسع العلماء في بحثها، وأفردوا لها المؤلفات المتكاثرة.

ويكون موضوعه: هو القرآن الكريم من ناحية تفسيره، أو من حيث رسمه، أو من حيث طريقة أدائه، أو من حيث إعجازه، أو من حيث مجازه وهكذا فتأتي بأو التي تدل على أنها علوم متعددة.

 

‌‌5 - علوم القرآن بالمعنى اللقبي أي الفن المدوّن

ثم اختصرت هذه المباحث والعلوم المتعددة، وجمعت جلّ أصولها ومسائلها في كتاب واحد، وصار هذا العنوان «علوم القرآن» (1) علما ولقبا لهذه المباحث المدونة في موضع واحد، بعد أن كانت مبعثرة في عشرات الكتب، وصار علما واحدا بعد أن كان جملة من العلوم، وبذلك يمكننا أن نعرف هذا الفن بمعناه «العلمي» - بفتح العين واللام- بأنه: «علم ذو مباحث، تتعلق بالقرآن الكريم من حيث نزوله وترتيبه وكتابته وجمعه وقراءاته وتفسيره وإعجازه، وناسخه ومنسوخه، ومحكمه ومتشابهه إلى غير ذلك من المباحث التي تذكر في هذا العلم».

وموضوع هذا العلم القرآن الكريم من هذه النواحي كلها السابقة في تعريفه، بخلاف علوم القرآن بالمعنى الإضافي، فإن موضوع كل علم منها إنما هو «القرآن الكريم» من هذه الناحية فحسب، فعلم «التفسير» مثلا؛ موضوعه: القرآن الكريم من حيث بيان شرحه ومعناه والمراد منه بقدر الطاقة البشرية.

وعلم «القراءات» موضوعه: القرآن الكريم من حيث لفظه وأدائه.

وعلم الرسم موضوعه: القرآن الكريم من حيث طريقة كتابته، وهكذا.

--------------------------------------------

(1) ولعل الإبقاء على الجمعية بعد صيرورته علما واحدا لمحا للأصل، وللإشارة إلى أنه خلاصة علوم كثيرة تجمعت في مصب واحد وهو هذا العلم.
এবং ‘মুতাশাবিহ’ (সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াত), ‘ইলমে ই’রাবুল কুরআন’ (কুরআনের ব্যাকরণ), ‘ইলমে মাজাযুল কুরআন’ (কুরআনের রূপক ব্যবহার) এবং ‘ইলমে আমসালিল কুরআন’ (কুরআনের উপমাসমূহ); এর বাইরেও আরও অসংখ্য জ্ঞানশাখা রয়েছে যেগুলোর গবেষণায় উলামায়ে কেরাম ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন এবং সেগুলোর জন্য পৃথক ও প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এর বিষয়বস্তু হলো: আল-কুরআনুল কারীম—এর তাফসিরের দিক থেকে, অথবা এর লিখনশৈলীর দিক থেকে, অথবা এর তিলাওয়াতের পদ্ধতির দিক থেকে, অথবা এর অলৌকিকত্বের দিক থেকে, অথবা এর রূপক ব্যবহারের দিক থেকে। এভাবে ‘অথবা’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে এগুলো একাধিক স্বতন্ত্র জ্ঞানশাখা।

 

‌‌৫ - পরিভাষাগত অর্থে উলূমুল কুরআন অর্থাৎ সংকলিত শাস্ত্র

পরবর্তীতে এই বহুবিধ গবেষণা ও জ্ঞানশাখাকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং এর অধিকাংশ মূলনীতি ও মাসআলাসমূহকে একটি গ্রন্থে সংকলন করা হয়েছে। অতঃপর ‘উলূমুল কুরআন’ (১) এই শিরোনামটি এই একক স্থানে সংকলিত বিষয়বস্তুর নাম ও পরিচয় (পরিভাষা) হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, অথচ ইতিপূর্বে এগুলো বহু গ্রন্থে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। এভাবে এটি একগুচ্ছ শাস্ত্র থেকে একটি একক শাস্ত্রে পরিণত হয়েছে। ফলে আমরা এই শাস্ত্রটিকে এর ‘আল্লামি’ (পরিভাষাগত) অর্থে—আইন ও লাম বর্ণের ফাতহা বা যবর সহকারে—এভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি: ‘এটি এমন এক শাস্ত্র যা আল-কুরআনুল কারীমের নাযিল হওয়া, বিন্যাস, লিখন পদ্ধতি, সংকলন, কিরাআত, তাফসির, অলৌকিকত্ব, নাসিখ-মানসুখ, মুহকাম ও মুতাশাবিহ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত গবেষণা ও আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করে’।

এই শাস্ত্রের বিষয়বস্তু হলো আল-কুরআনুল কারীম, যা এর সংজ্ঞায় উল্লেখিত পূর্বোক্ত সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি ‘উলূমুল কুরআন’-এর শাব্দিক বা সম্বন্ধবাচক অর্থের বিপরীত; কারণ সম্বন্ধবাচক অর্থে প্রতিটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রের বিষয়বস্তু কেবল একটি নির্দিষ্ট দিক থেকেই আল-কুরআনকে বিবেচনা করে। উদাহরণস্বরূপ, ‘ইলমে তাফসির’-এর বিষয়বস্তু হলো: মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী আল-কুরআনুল কারীমের ব্যাখ্যা, অর্থ ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করা।

এবং ‘ইলমে কিরাআত’-এর বিষয়বস্তু হলো: শব্দ উচ্চারণ ও তিলাওয়াতের পদ্ধতির দিক থেকে আল-কুরআনুল কারীম।

এবং ‘ইলমে রাসম’ (লিখনশৈলী)-এর বিষয়বস্তু হলো: লিখন পদ্ধতির দিক থেকে আল-কুরআনুল কারীম, এবং এভাবেই অন্যান্য শাখাগুলোও।

--------------------------------------------

(১) একটি একক শাস্ত্র হয়ে যাওয়ার পরেও বহুবচন রূপ বজায় রাখার কারণ সম্ভবত এর মূল উৎসের প্রতি খেয়াল রাখা এবং এই ইঙ্গিত দেওয়া যে, এটি অনেকগুলো জ্ঞান শাখার নির্যাস যা একটি মোহনায় এসে মিলিত হয়েছে, আর তা হলো এই শাস্ত্র।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وعلى هذا نقول: موضوع علوم القرآن بمعناه العلمي هو القرآن الكريم من حيث جمعه، وتفسيره، ورسمه، وقراءاته، ومكيه ومدنيه وهكذا فنأتي «بالواو» ولا نأتي «بأو».

 

‌‌وفائدة علوم القرآن:

(أ) إنه يساعد على دراسة «القرآن الكريم» وفهمه حق الفهم واستنباط الأحكام والآداب منه، إذ كيف يتأتى لدارس القرآن ومفسره أن يتوصل إلى إصابة الحق والصواب، وهو لا يعلم كيف نزل! ولا متى نزل! وعلى أي حال كان ترتيب سوره وآياته! وبأي شيء كان إعجازه! وكيف ثبت! وما هو ناسخه ومنسوخه! .. إلى غير ذلك مما يذكر في هذا الفن، وإلا كان عرضة للزلل والخطأ.

فهذا العلم بالنسبة للمفسر مفتاح له، ومثله مثل «علوم الحديث» بالنسبة لمن أراد أن يدرس الحديث دراسة حقة، وقد صرح بذلك الإمام «السيوطي» في مقدمة «الإتقان» حيث قال: «ولقد كنت في زمان الطلب أتعجب من المتقدمين؛ إذ لم يدونوا كتابا في أنواع «علوم القرآن» كما وضعوا ذلك بالنسبة إلى «علم الحديث».

(ب) إن الدارس لهذا العلم يتسلح بسلاح قوي حاد، ضد غارات أعداء الإسلام التي شنوها على «القرآن الكريم» زورا وبهتانا، واختلقوا عليه ما شاء لهم هواهم أن يختلقوا،

ولا شك أن الدفاع عن القرآن- الذي هو أصل الإسلام- من أوجب الواجبات على الأمة الإسلامية، ولا سيما علماؤها وأهل الرأي فيها وإنه لشرف عظيم، وفضل كبير أن يكون المسلم منافحا عن هذا الكتاب الجليل.

(ج) إن الدارس لهذا العلم يكون على حظ كبير من العلم بالقرآن، وبما يشتمل عليه من أنواع العلوم والمعارف، ويحظى بثقافة عالية وواسعة فيما يتعلق بالقرآن الكريم، وإذا كانت العلوم ثقافة للعقول، وصلاحا للقلوب وتهذيبا للأخلاق، وإصلاحا للنفوس والأكوان، وعنوان التقدم والرقي،
এই ভিত্তিতে আমরা বলি: পারিভাষিক অর্থে উলূমুল কুরআনের আলোচ্য বিষয় হলো পবিত্র কুরআন; এর সংকলন, এর তাফসীর, এর লিখনরীতি, এর কিরাতসমূহ, এর মক্কী ও মাদানী হওয়ার দিক থেকে এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। তাই আমরা এখানে «এবং» ব্যবহার করি, «অথবা» ব্যবহার করি না।

 

‌‌উলূমুল কুরআনের উপকারিতা:

(ক) এটি «পবিত্র কুরআন» অধ্যয়ন করা, একে যথাযথভাবে অনুধাবন করা এবং তা থেকে বিধান ও আদবসমূহ আহরণে সাহায্য করে। কেননা কুরআন অধ্যয়নকারী ও মুফাসসিরের পক্ষে কীভাবে সঠিক ও নির্ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব, যদি সে না জানে কীভাবে তা নাযিল হয়েছে! কখন নাযিল হয়েছে! আর কোন অবস্থায় এর সূরা ও আয়াতসমূহের বিন্যাস ছিল! কিসের মাধ্যমে এর অলৌকিকত্ব প্রমাণিত হয়েছে! কীভাবে তা সাব্যস্ত হয়েছে! আর এর নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসূখ (রহিত) কী কী! .. এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা এই শিল্পে আলোচনা করা হয়। অন্যথায় সে পদস্খলন ও ভুলের শিকারে পরিণত হবে।

মুফাসসিরের জন্য এই জ্ঞানটি হলো একটি চাবিকাঠি স্বরূপ। এর দৃষ্টান্ত হলো সেই ব্যক্তির জন্য «উলূমুল হাদীস»-এর মতো, যে হাদীসকে যথাযথভাবে অধ্যয়ন করতে চায়। ইমাম «সুয়ূতী» তাঁর «আল-ইতকান» গ্রন্থের ভূমিকায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: «আমি ছাত্রজীবনে পূর্ববর্তীদের ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হতাম; কারণ তারা «উলূমুল কুরআনের» প্রকারভেদ নিয়ে কোনো গ্রন্থ সংকলন করেননি, যেমনটি তারা «ইলমে হাদীসের» ক্ষেত্রে করেছিলেন।»

(খ) এই বিদ্যার শিক্ষার্থী ইসলামের শত্রুদের সেই সব আক্রমণের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়, যা তারা মিথ্যা ও অপবাদের আশ্রয় নিয়ে «পবিত্র কুরআনের» বিরুদ্ধে পরিচালনা করেছে এবং তাদের খেয়ালখুশি মতো যা ইচ্ছা উদ্ভাবন করেছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কুরআনের প্রতিরক্ষা করা—যা ইসলামের মূল ভিত্তি—মুসলিম উম্মাহর ওপর সর্বাধিক আবশ্যিক কর্তব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ করে উম্মাহর আলেম ও বিজ্ঞজনদের ওপর। এটি একজন মুসলিমের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও মহা ফযীলতের বিষয় যে সে এই মহান কিতাবের প্রতিরক্ষা করছে।

(গ) এই বিদ্যার শিক্ষার্থী কুরআন এবং এতে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রকারের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে এক বিশাল অংশ লাভ করে। সে পবিত্র কুরআন সংশ্লিষ্ট এক উচ্চতর ও ব্যাপক সংস্কৃতি ও পাণ্ডিত্য অর্জন করে। আর জ্ঞান যদি হয় বুদ্ধিবৃত্তির উৎকর্ষ, হৃদয়ের পরিশুদ্ধি, চরিত্রের পরিমার্জন এবং নফস ও বিশ্বজগতের সংস্কার তথা প্রগতি ও উন্নতির সোপান,
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وباعثة للنهضات، ففي القمة- من كل ذلك- «علوم القرآن».

فالقرآن أحسن الحديث، وأصدقه، وعلومه أشرف العلوم وأوجبها على كل مسلم أيّا كان تخصصه وأيّا كانت حرفته.

 

‌‌6 - تاريخ علوم القرآن

‌‌قبل عصر التدوين:

كان «القرآن الكريم» ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم متجمعا على حسب الوقائع والحوادث وحاجات الناس، وقد تكفل الله لنبيه أن يقرئه «القرآن» ويفهمه معناه، قال تعالى: لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ (16) إِنَّ عَلَيْنا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ (17) فَإِذا قَرَأْناهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (18) ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنا بَيانَهُ (19) [القيامة: 16 - 19] أي: جمعه في صدرك، وإثبات قراءته على لسانك، وبيان ما يخفى من معانيه، وكان الرسول صلى الله عليه وسلم يعلم من القرآن وعلومه ما لا يعرفه أحد، وذلك بسبب الوحي والفيوضات الإلهية التي كانت تلقى في قلبه.

ثم بلّغ الرسول ما أنزل عليه لأصحابه فقرأه على مكث (1)؛ ليحفظوا لفظه ويفهموا معناه، ويقفوا على أسراره، وشرحه لهم بأقواله وأفعاله وتقريراته وأخلاقه- أي بسنته الجامعة لكل ذلك- قال تعالى: وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ ما نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ [سورة النحل: 44] وقال:

إِنَّا أَنْزَلْنا إِلَيْكَ الْكِتابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِما أَراكَ اللَّهُ … الآية [سورة النساء: 105].

 

‌‌[علم الصحابة بالقرآن]

وكان الصحابة- رضوان الله عليهم- يحرصون غاية الحرص على حفظ ما ينزل من «القرآن» على حسب ما يتيسر لكل واحد منهم وتفاوتهم في الحفظ قلة وكثرة، كما كانوا يعرفون من معاني «القرآن» وعلومه وأسراره الشيء الكثير، لكونهم عربا خلّصا متمتعين بمزايا هذه العروبة ومن صفاء القلوب، وذكاء العقول، وسيلان الأذهان، وقوة الحافظة ولأنهم شاهدوا الوحي والتنزيل، وعلموا من الظروف والملابسات ما لم يعلمه غيرهم،

--------------------------------------------

(1) تؤدة وتمهل، ومن لوازم ذلك التحقق من اللفظ، وتفهم المعنى.
এবং এটি নবজাগরণের প্রেরণাদায়ী, আর এই সবকিছুর শীর্ষে রয়েছে— ‘উলুমুল কুরআন’ (কুরআনীয় বিজ্ঞানসমূহ)।

কেননা কুরআন হলো সর্বোত্তম ও সত্যতম বাণী, আর এর জ্ঞানসমূহ হলো সবচেয়ে সম্মানিত জ্ঞান এবং তা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য, তার বিশেষায়িত ক্ষেত্র বা পেশা যাই হোক না কেন।

 

‌‌৬ - উলুমুল কুরআনের ইতিহাস

‌‌সংকলন যুগের পূর্বে:

‘আল-কুরআনুল কারীম’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বিভিন্ন ঘটনা, প্রেক্ষাপট এবং মানুষের প্রয়োজন অনুসারে পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হতো। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর জন্য কুরআন পাঠ করানো এবং এর অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: “তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা এর সাথে দ্রুত নাড়াবেন না (১৬) নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই (১৭) সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন (১৮) অতঃপর এর বর্ণনা করার দায়িত্বও আমারই (১৯)” [কিয়ামাহ: ১৬ - ১৯]। অর্থাৎ: আপনার অন্তরে এটি জমা করা, আপনার জিহ্বায় এর পাঠ সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং এর অর্থের মাঝে যা অস্পষ্ট তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের এমন সব জ্ঞান জানতেন যা অন্য কেউ জানত না, আর তা ছিল ওহী এবং ঐশী অনুগ্রহের কারণে যা তাঁর অন্তরে ঢেলে দেওয়া হতো।

অতঃপর রাসূল তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তাঁর সাহাবীদের কাছে পৌঁছে দিলেন এবং ধীরস্থিরভাবে (১) তাদের সামনে তা পাঠ করলেন; যাতে তারা এর শব্দগুলো মুখস্থ করতে পারে, অর্থ বুঝতে পারে এবং এর রহস্যসমূহ অবগত হতে পারে। তিনি তাঁর কথা, কাজ, মৌনসম্মতি ও চরিত্রের মাধ্যমে—অর্থাৎ তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে যা এই সবকিছুর সমষ্টি—তা তাদের কাছে ব্যাখ্যা করতেন। মহান আল্লাহ বলেন: “আমি আপনার প্রতি জিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং যেন তারা চিন্তা-গবেষণা করে” [সূরা আন-নাহল: ৪৪]। তিনি আরও বলেন:

“নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন (জানিয়েছেন) সে অনুযায়ী মানুষের মধ্যে বিচার ফয়সালা করেন...” ... আয়াত [সূরা আন-নিসা: ১০৫]।

 

‌‌[সাহাবায়ে কেরামের কুরআন বিষয়ক জ্ঞান]

সাহাবায়ে কেরাম—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—কুরআনের যা কিছু অবতীর্ণ হতো তা মুখস্থ করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী। তাদের মুখস্থ করার পরিমাণে কম-বেশি তফাত ছিল। একইভাবে তারা কুরআনের অর্থ, জ্ঞান ও রহস্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানতেন। কারণ তারা ছিলেন খাঁটি আরব এবং আরবীয় গুণাবলীতে সমৃদ্ধ, নির্মল হৃদয়ের অধিকারী, প্রখর বুদ্ধিমান, তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী এবং শক্তিশালী স্মৃতিশক্তির অধিকারী। আর যেহেতু তারা ওহী ও কুরআন অবতরণ প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং এমন সব প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতেন যা অন্য কেউ জানত না।

--------------------------------------------

(১) ধীরস্থিরতা ও স্থৈর্য; যার অপরিহার্য দাবি হলো শব্দের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وسمعوا من النبي صلى الله عليه وسلم ما لم يسمعه غيرهم، ورأوا من أحواله ما لم يره غيرهم، وكان ابن مسعود- رضي الله عنه من أعلم الصحابة بعلوم القرآن ولا سيما علم أسباب النزول، وعلم المكي والمدني، وعلم قراءاته، روى البخاري بسنده عنه أنه قال: «والله الذي لا إله غيره ما من آية من كتاب الله إلا وأعلم أين نزلت وفيم نزلت ولو أعلم أحدا أعلم مني بكتاب الله تبلغه المطي لركبت إليه».

فإن خفي عليهم من القرآن شيء لم يدركوه بفطرتهم اللغوية، ومعارفهم المكتسبة، رجعوا فيه إلى «النبي» فيعلمهم إياه، فمن ثمّ تجمع لهم من علم «القرآن» شيء كثير.

روى البخاري (1) أنه لما نزل قوله تعالى: الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ (82) [سورة الأنعام: 82] اهتم الصحابة، وقالوا: أينا لم يظلم نفسه فبين لهم النبي صلى الله عليه وسلم أن المراد بالظلم:

الشرك، أخذا من قول الله تعالى: يا بُنَيَّ لا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ [سورة لقمان: 13].

وروى البخاري: أنه لما نزل قوله تعالى: وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ [سورة البقرة: 187] عمد «عدي ابن حاتم» إلى عقالين، أحدهما: أبيض، والآخر: أسود، ووضعهما تحت وسادة حتى بين له النبي صلى الله عليه وسلم أن المراد بالخيطين بياض النهار وسواد الليل (2) … وغير ذلك كثير.

ولم يكن همّ الصحابة حفظ ألفاظ القرآن فحسب؛ بل جمعوا إلى حفظ اللفظ فهم المعنى، وتدبر المراد، والعمل بمقتضى ما تضمنه من الأحكام والآداب.

قال «أبو عبد الرحمن السلمي» (3): حدثنا الذين كانوا يقرءوننا القرآن،

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري- كتاب التفسير- سورة لقمان، باب «إن الشرك لظلم عظيم».

(2) صحيح البخاري- كتاب التفسير- سورة البقرة باب «وكلوا واشربوا … ».

(3) هو: «عبد الله بن حبيب بن ربيعة» تلميذ أميري المؤمنين «عثمان» و «علي» وأضرابهما
তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে এমন কিছু শুনেছেন যা অন্য কেউ শোনেনি, এবং তাঁর এমন কিছু অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছেন যা অন্য কেউ দেখেনি। ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুরআন বিষয়ক জ্ঞানে সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম বিজ্ঞ ছিলেন, বিশেষ করে শানে নুযূল, মাক্কী ও মাদানী এবং কিরাত বিষয়ক জ্ঞানে। বুখারী তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «সেই আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহর কিতাবের এমন কোনো আয়াত নেই যার সম্পর্কে আমি জানি না যে তা কোথায় নাজিল হয়েছে এবং কী বিষয়ে নাজিল হয়েছে। যদি আমি জানতাম যে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী এমন কেউ আছে যার কাছে উট পৌঁছে দিতে পারে, তবে আমি অবশ্যই সওয়ার হয়ে তার কাছে যেতাম»।

যদি কুরআনের কোনো বিষয় তাদের কাছে অস্পষ্ট থাকতো যা তারা তাদের ভাষাগত সহজাত প্রবৃত্তি ও অর্জিত জ্ঞান দ্বারা অনুধাবন করতে পারতেন না, তবে তারা সে বিষয়ে «নবী»-র শরণাপন্ন হতেন এবং তিনি তাদের তা শিক্ষা দিতেন। ফলে তাদের কাছে «কুরআন» সংক্রান্ত প্রচুর জ্ঞান একত্রিত হয়েছিল।

বুখারী (১) বর্ণনা করেছেন যে, যখন মহান আল্লাহর এই বাণী নাজিল হলো: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত" (৮২) [সূরা আল-আন'আম: ৮২], তখন সাহাবীগণ বিচলিত হয়ে পড়লেন এবং বললেন: আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের প্রতি জুলুম করেনি? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট স্পষ্ট করলেন যে, জুলুম বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে:

শিরক; যা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: "হে বৎস, আল্লাহর সাথে শিরক করো না, নিশ্চয়ই শিরক এক মহা জুলুম" [সূরা লুকমান: ১৩]।

বুখারী আরও বর্ণনা করেছেন যে: যখন মহান আল্লাহর এই বাণী নাজিল হলো: "আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ভোরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে যায়" [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৭], তখন «আদী ইবনে হাতিম» দুটি রশি নিলেন, একটি সাদা এবং অন্যটি কালো, এবং সেগুলো বালিশের নিচে রাখলেন; যতক্ষণ না নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট স্পষ্ট করলেন যে, দুই সুতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দিনের শুভ্রতা এবং রাতের অন্ধকার (২) … এবং এরুপ আরও অনেক কিছু।

সাহাবীগণের উদ্দেশ্য কেবল কুরআনের শব্দাবলি মুখস্থ করা ছিল না; বরং তারা শব্দ মুখস্থ করার সাথে সাথে অর্থ অনুধাবন, মর্ম উপলব্ধি এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিধিবিধান ও আদব অনুযায়ী আমল করার বিষয়টিকেও একত্রিত করেছিলেন।

«আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী» (৩) বলেন: আমাদের তারা বর্ণনা করেছেন যারা আমাদের কুরআন পড়াতেন,

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী- কিতাবুত তাফসীর- সূরা লুকমান, অধ্যায় «নিশ্চয়ই শিরক হলো মহা জুলুম»।

(২) সহীহ বুখারী- কিতাবুত তাফসীর- সূরা আল-বাকারাহ, অধ্যায় «আর তোমরা পানাহার করো … »।

(৩) তিনি হলেন: «আবদুল্লাহ বিন হাবীব বিন রাবীআহ», আমীরুল মুমিনীন «উসমান» ও «আলী» এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের ছাত্র।
(খণ্ড: ১) আল-মাদখালু লি-দিরাসাতিল কুরআনিল কারিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
كعثمان بن عفان، وعبد الله بن مسعود، وغيرهما، أنهم كانوا إذا تعلموا من النبي صلى الله عليه وسلم عشر آيات، لم يتجاوزوها حتى يتعلموا ما فيها من العلم والعمل،

قالوا: «فتعلمنا القرآن والعلم والعمل جميعا»، ولهذا كانوا يبقون مدة في حفظ السورة الواحدة، وهذا هو السر فيما روي أن «ابن عمر» أقام على حفظ «البقرة» ثمان سنين ذكره مالك في «الموطأ»، وما يفسر لنا قول «أنس» رضي الله عنه: «كان الرجل إذا قرأ «البقرة» و «آل عمران» جد في أعيننا» (1) أي: عظم.

وعلى ما كان عليه الصحابة من العروبة الخالصة، والتصرف في فنون القول، وأخذهم بزمام الفصاحة، فقد خفيت عليهم بعض ألفاظ «القرآن» اللغوية، ولم يعرفوا معناها.

أخرج «أبو عبيد» في «الفضائل» عن إبراهيم التيمي: أن أبا بكر- الصديق- سئل عن قوله تعالى: وَفاكِهَةً وَأَبًّا (31) [سورة عبس: 31] فقال:

«أي سماء تظلني وأي أرض تقلني إذا قلت في كتاب الله ما لا أعلم»، وفي سنده انقطاع لأن إبراهيم التيمي لم يلق الصديق (2).

وأخرج عن «أنس» أن «عمر بن الخطاب» رضي الله عنه قرأ على المنبر وَفاكِهَةً وَأَبًّا (31) فقال: «هذه الفاكهة قد عرفناها .. فما الأب» ثم رجع إلى نفسه فقال: «إن هذا لهو الكلف يا عمر؛ وما عليك يا ابن أم عمر أن لا تدري: ما الأبّ».

لأن عدم معرفة معنى كلمة من القرآن لا تضر المسلم ما دام حافظا للقرآن عاملا بكل ما فيه من الأحكام والآداب.

وأخرج أيضا من طريق «مجاهد» عن «ابن عباس» قال: «كنت لا أدري

--------------------------------------------

من علماء الصحابة، كابن مسعود وزيد بن ثابت وأبي بن كعب، وكان من خيار التابعين، ومن علمائهم بالقرآن.

(1) أصول التفسير لابن تيمية ص 6 ط السلفية.

(2) وأخرجه أيضا ابن جرير وفي سنده انقطاع.
যেমন উসমান বিন আফফান, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ এবং অন্যান্যরা। তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দশটি আয়াত শিখতেন, তখন তারা সেগুলো অতিক্রম করে যেতেন না যতক্ষণ না তার মধ্যে বিদ্যমান ইলম (জ্ঞান) এবং আমল (কর্ম) শিখে নিতেন।

তারা বলতেন: «আমরা কুরআন, ইলম এবং আমল সবই একসাথে শিখেছি», এই কারণেই তারা একটি সূরা হিফজ করার জন্য দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতেন। এটিই হলো সেই রহস্য যা বর্ণিত হয়েছে যে, «ইবনে উমর» সূরা «আল-বাকারাহ» হিফজ করতে আট বছর সময় নিয়েছিলেন, যা মালেক «আল-মুআত্তা» গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর এটি আমাদের কাছে «আনাস» রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই উক্তির ব্যাখ্যা দেয়: «যখন কোনো ব্যক্তি «আল-বাকারাহ» এবং «আলে-ইমরান» তিলাওয়াত করত, তখন সে আমাদের চোখে অনেক বড় হয়ে উঠত (মর্যাদাবান হতো)» (১) অর্থাৎ: মহিমান্বিত হতো।

সাহাবীগণ বিশুদ্ধ আরব্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও, কথা বলার বিভিন্ন শৈলীতে পারদর্শী হওয়া সত্ত্বেও এবং বাগ্মিতার শিখরে অবস্থান করা সত্ত্বেও কুরআনের কিছু আভিধানিক শব্দ তাদের নিকট অস্পষ্ট থেকে যেত এবং তারা সেগুলোর অর্থ জানতেন না।

«আবু উবাইদ» তাঁর «আল-ফাযায়িল» গ্রন্থে ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আবু বকর আস-সিদ্দিককে মহান আল্লাহর বাণী: «এবং ফলমূল ও ঘাস» (৩১) [সূরা আবাসা: ৩১] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন:

«কোন আসমান আমাকে ছায়া দেবে আর কোন জমিন আমাকে ধারণ করবে, যদি আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এমন কিছু বলি যা আমি জানি না», তবে এর সনদে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে, কারণ ইব্রাহিম আত-তাইমি সিদ্দিকের সাক্ষাৎ পাননি (২)।

আর «আনাস» থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, «উমর ইবনুল খাত্তাব» রাদিয়াল্লাহু আনহু মিম্বরের উপর «এবং ফলমূল ও ঘাস» (৩১) তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন: «এই ফলমূল তো আমরা চিনলাম... কিন্তু 'ঘাস' কী?» তারপর তিনি নিজের দিকে ফিরে আসলেন এবং বললেন: «হে উমর, এটি তো অনর্থক নিজেকে কষ্টে ফেলা; আর হে উম্মে উমরের পুত্র, তুমি যদি 'ঘাস' কী তা না জানো তাতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই»।

কারণ কুরআনের কোনো শব্দের অর্থ না জানা একজন মুসলিমের কোনো ক্ষতি করে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে কুরআন হিফজ রাখে এবং তাতে থাকা সকল বিধান ও আদব অনুযায়ী আমল করে।

মুজাহিদের সূত্রে «ইবনে আব্বাস» থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: «আমি জানতাম না...

--------------------------------------------

সাহাবী আলেমদের মধ্য থেকে, যেমন ইবনে মাসউদ, যায়েদ বিন সাবিত এবং উবাই বিন কাব। আর তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত এবং কুরআন বিষয়ে তাদের বিজ্ঞ আলেমদের একজন।

(১) ইবনে তাইমিয়ার 'উসুলুত তাফসীর', পৃষ্ঠা ৬, আস-সালাফিয়্যাহ প্রকাশনী।

(২) এটি ইবনে জারীরও বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে।