(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: -)
فوائد أبي علي المدائني (أبو علي المدائني)
القسم: كتب السنة
الكتاب: فوائد أبي علي أحمد بن علي بن شعيب المدائني
المؤلف: أبو علي أحمد بن علي بن شعيب المدائني (ت بعد 310هـ)
الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية
الطبعة: الأولى، 2004
[الكتاب مخطوط]
عدد الصفحات: 59
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু আলী আল-মাদাইনীর ফাওয়াইদ (আবু আলী আল-মাদাইনী)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আবু আলী আহমাদ বিন আলী বিন শুআইব আল-মাদাইনীর ফাওয়াইদ
লেখক: আবু আলী আহমাদ বিন আলী বিন শুআইব আল-মাদাইনী (মৃত্যু ৩১০ হিজরীর পরে)
প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলামি নেটওয়ার্ক (IslamWeb) সাইটের অন্তর্ভুক্ত জাওয়ামিউল কালিম নামক বিনামূল্যে বিতরিত প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে
সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪
[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১)
فَوَائِدُ أَبِي عَلِيٍّ الْمَدَائِنِيِّحَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شُعَيْبٍ الْمَدَائِنِيُّ ، بِمِصْرَ ، فِي شَوَّالٍ سَنَةَ عَشَرَ وَثَلاثِ مِائَةٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ نَافِعٍ، ثنا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ مَهْدِيٍّ ، وَهُوَ يَقُولُ: لا أُقَدِّمُ عَلَى مَالِكٍ فِي صِحَّةِ الْحَدِيثِ أَحَدًا.حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَبَّوَيْهِ، ثَنَا الثِّقَةُ ، عَنِ ابْنِ مَهْدِيٍّ، قَالَ: مَا رَأَيْتُ رَجُلا أَعْلَمَ بِالْحَدِيثِ مِنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، وَلا أَحْسَنَ عَقْلا مِنْ ثَابِتٍ ، وَلا أَصْدَقَ مِنْ شُعْبَةَ، وَلا أَصْلَحَ لِهَذِهِ الأُمَّةِ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ.أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ، سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي مَرْيَمَ ، يَقُولُ: كُنَّا مَعَ اللَّيْثِ فِي الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ بِمِصْرَ ، فَذُكِرَ مَالِكٌ ، فَقَالَ اللَّيْثُ: إِنِّي لأَدْعُو اللَّهَ تَعَالَى لَهُ فِي صَلاتِي بِأَنْ يُبْقِيَهُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ.وَذَكَرَ مِنْ حَاجَةِ النَّاسِ إِلَيْهِ فِي الْفَتْوَى.حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ، سَمِعْتُ هَارُونَ بْنَ سَعِيدٍ الأَيْلِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ ، يَقُولُ: مَا كِتَابٌ بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ عز وجل أَنْفَعَ مِنْ مُوَطَّأِ مَالِكٍ.
আবু আলী আল-মাদায়েনীর ফাওয়ায়িদ (উপকারিতা)আবু আলী আহমদ বিন আলী বিন শুয়াইব আল-মাদায়েনী মিসরে ৩১০ হিজরী সনের শাওয়াল মাসে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মদ বিন আমর বিন নাফে' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; নুয়াইম বিন হাম্মাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: হাদীসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে আমি মালিকের ওপর কাউকে প্রাধান্য দিই না।আহমদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মদ বিন আমর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন শাবওয়াইহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ইবনে মাহদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান সাওরী অপেক্ষা হাদীস সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী কোনো ব্যক্তি দেখিনি, সাবিতের চেয়ে উত্তম মেধার অধিকারী কাউকে দেখিনি, শু'বার চেয়ে অধিক সত্যবাদী কাউকে দেখিনি এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের চেয়ে এই উম্মতের জন্য অধিক কল্যাণকামী কাউকে দেখিনি।আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; ইয়াহইয়া বিন উসমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; আমি ইবনে আবু মারিয়ামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা মিসরের জামে মসজিদে লাইসের সাথে ছিলাম, তখন মালিকের আলোচনা উঠল, লাইস বললেন: আমি মহান আল্লাহর নিকট আমার সালাতে তাঁর জন্য দুআ করি যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে দীর্ঘজীবী করেন।এবং তিনি ফাতওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি মানুষের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেন।আহমদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; ইয়াহইয়া বিন উসমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; আমি হারুন বিন সাঈদ আল-আইলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাবের পর মালিকের মুওয়াত্তার চেয়ে অধিক উপকারী আর কোনো কিতাব নেই।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২)
1 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي عَمِّي، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «إِذَا حَضَرَتِ الصَّلاةُ وَحَضَرَ الْعَشَاءُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ ، وَلا تَعْجَلُوا عَنْ عَشَائِكُمْ» .فَكَانَ الأَمْرَ عَلَى ذَلِكَ ، فَلَمَّا كَانَ عُمَرُ رضي الله عنه خَشِيَ أَنْ يَطُولَ الْمُكْثُ عَلَى الْعِشَاءِ ، فَقَدَّمَ عَلَى الْعَشَاءِ ثُمَّ بَعْدَ ذَلِكَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
১ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমার নিকট যুহরী থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন সালাতের সময় উপস্থিত হয় এবং রাতের খাবারও প্রস্তুত থাকে, তখন তোমরা রাতের খাবার দিয়েই শুরু করো। আর তোমাদের রাতের খাবারের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করো না»।বিষয়টি এভাবেই চলে আসছিল। অতঃপর যখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সময় হলো, তিনি রাতের খাবারে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার আশঙ্কা করলেন, তাই তিনি রাতের খাবারের পূর্বে সালাত আদায়ের ব্যবস্থা করলেন। এরপর উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও অনুরূপ করলেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ৩)
2 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، أنا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، ثنا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ ، وَابْنُ يَزِيدَ ، وَغَيْرُهُمَا ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ أَخْبَرَهُمْ ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْتَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ بَعْضُ النِّسْوَةِ اللاتِي فِي بَيْتِ مَيْمُونَةَ: أَخْبِرِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَا يُرِيدُ أَنْ يَأْكُلَ مِنْهُ، فَقَالُوا: هُوَ ضَبٌّ.فَرَفَعَ يَدَهُ.فَقُلْتُ: أَحَرَامٌ هُوَ؟ فَقَالَ: لا ، وَلَكِنَّهُ لَمْ يَكُنْ بِأَرْضِ قَوْمِي ، فَأَجِدُنِي أَعَافُهُ ".قَالَ: فَاجْتَزَزْتُهُ ، فَأَكَلْتُهُ ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْظُرُ.قَالَ يُونُسُ: فِي الْحَدِيثَيْنِ: فَلَمْ يَنْهَانِي
২ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ইবন আব্দুল আ’লা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবন ওয়াহাব, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মালিক ইবন আনাস, ইবন ইয়াযিদ এবং আরও অনেকে, যে ইবন শিহাব তাঁদের অবহিত করেছেন আবু উমামাহ ইবন সাহল ইবন হুনাইফ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী মাইমুনাহর (রাযি.) ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন মাইমুনাহর ঘরে অবস্থানরত কিছু নারী বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা খেতে চাচ্ছেন সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করো। তখন তাঁরা বললেন: এটি মরুভূমির গুইসাপ (যাব)।অতঃপর তিনি তাঁর হাত সরিয়ে নিলেন।আমি বললাম: এটি কি হারাম? তিনি বললেন: না, তবে এটি আমার কওমের ভূখণ্ডে ছিল না, তাই আমি এটি খেতে অরুচি বোধ করছি।তিনি (খালিদ) বলেন: অতঃপর আমি তা টেনে নিলাম এবং তা আহার করলাম, এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন।ইউনুস বলেন: উভয় হাদীসেই রয়েছে যে, তিনি আমাকে তা খেতে নিষেধ করেননি।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ৪)
3 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ، ثنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه، قَالَ وَهُوَ يَخْطُبُ النَّاسَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ: " لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اجْتَمَعَ الْمُهَاجِرُونَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ ، وَاجْتَمَعَتِ الأَنْصَارُ فِي سَقِيفَةِ بَنِي سَاعِدَةَ ، فَقُلْتُ لأَبِي بَكْرٍ: يَا أَبَا بَكْرٍ انْطَلِقْ إِلَى إِخْوَانِنَا هَؤُلاءِ مِنَ الأَنْصَارِ ، فَانْطَلَقْنَا حَتَّى جِئْنَاهُمْ ، فَلَمَّا جَلَسْنَا بِهِمْ خَطَبْتُهُمْ ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَمَّا بَعْدُ ، فَأَمَّا مَا ذَكَرْتُمْ فِيكُمْ مِنْ خَيْرٍ فَأَنْتُمْ أَهْلُهُ ، وَلَمْ تَعْرِفِ الْعَرَبُ هَذَا الأَمْرَ إِلا بِهَذَا الْحَيِّ مِنْ قُرَيْشٍ هُمْ أَوْسَطُ الْعَرَبِ نَسَبًا وَدَارًا ، وَبِهِ رَضِيتُ لَكُمْ أَحَدَ هَذَيْنِ ، فَبَايِعُوا أَيَّهُمَا شِئْتُمْ، وَأَخَذَ بِيَدِي وَيَدِ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ ، فَلَمْ أَكْرَهْ مِمَّا قَالَ غَيْرَهَا ، فَقُلْتُ: لأَنْ أَقْدَمُ فَتُضْرَبُ عُنُقِي لا يُقَرِّبُنِي ذَلِكَ إِلَى إِثْمٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَأَمَّرَ عَلَى قَوْمٍ فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ ، إِلا أَنْ تُغَيَّرَ نَفْسِي عِنْدَ الْمَوْتِ ، وَكَثُرَ اللَّغَطُ وَارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ حَتَّى فَرِقْتُ مِنَ الاخْتِلافِ ، فَقُلْتُ: ابْسُطْ يَدَكَ أَبَا بَكْرٍ.فَبَسَطَ يَدَهُ ، فَبَايَعْنَاهُ ، ثُمَّ بَايَعَهُ الْمُهَاجِرُونَ ، ثُمَّ بَايَعَهُ الأَنْصَارُ ، وَلَيْسَ فِيهِمْ مَنْ تَنْقَطِعُ إِلَيْهِ الأَعْنَاقُ مِثْلُ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه "
৩ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবরাহীম বিন মারযূক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বিশর বিন উমর আল-যাহরানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মালিক বিন আনাস বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জুমার দিনে লোকজনের সামনে খুতবা প্রদানকালে বলেছিলেন: "যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন, তখন মুহাজিরগণ আবু বকরের নিকট একত্রিত হলেন এবং আনসারগণ বনু সায়েদাহর সাকীফায় একত্রিত হলেন। তখন আমি আবু বকরকে বললাম: হে আবু বকর! আমাদের এই আনসার ভাইদের কাছে চলুন। অতঃপর আমরা রওয়ানা হলাম এবং তাদের কাছে পৌঁছালাম। যখন আমরা তাদের সাথে বসলাম, আমি তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলাম। অতঃপর আবু বকর বললেন: আম্মা বাদ, তোমরা তোমাদের নিজেদের সম্পর্কে যে কল্যাণের কথা উল্লেখ করেছ, তোমরা অবশ্যই তার যোগ্য। আর আরবরা কুরাইশদের এই গোত্রটি ব্যতীত অন্য কাউকে এই শাসন কর্তৃত্বের জন্য স্বীকৃতি দেবে না; কারণ তারা বংশমর্যাদা ও বাসস্থানের দিক থেকে আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আর আমি তোমাদের জন্য এই দুইজনের একজনকে পছন্দ করেছি, তোমরা তাদের মধ্য থেকে যার ইচ্ছা বায়আত গ্রহণ করো। এরপর তিনি আমার হাত এবং আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর হাত ধরলেন। তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে এই কথাটি ছাড়া আর কিছু আমার কাছে অপছন্দনীয় ছিল না। আমি মনে মনে বললাম: আমাকে সামনে এগিয়ে দিয়ে আমার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া—যা আমাকে কোনো পাপের নিকটবর্তী করবে না—তা আমার কাছে এমন এক কওমের উপর নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে অধিক প্রিয় যেখানে আবু বকর বিদ্যমান আছেন, যদি না মৃত্যুর সময় আমার অন্তরে কোনো পরিবর্তন ঘটে। তখন প্রচুর হট্টগোল শুরু হলো এবং উচ্চবাচ্য বৃদ্ধি পেল, এমনকি আমি বিভেদের আশঙ্কা করলাম। তখন আমি বললাম: হে আবু বকর, আপনার হাত প্রসারিত করুন।অতঃপর তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন এবং আমরা তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করলাম। এরপর মুহাজিরগণ তাঁর নিকট বায়আত নিলেন এবং পরে আনসারগণ তাঁর নিকট বায়আত নিলেন। আর তাদের মধ্যে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতো এমন কেউ ছিলেন না যার প্রতি মানুষের দৃষ্টি এতোটা নিবদ্ধ ছিল।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ৫)
4 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ، ثنا ابْنُ وَهْبٍ ، أَنَّ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ حَدَّثَهُ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «لا يَمْنَعْ أَحَدُكُمْ جَارَهُ أَنْ يَغْرِزَ خَشَبَةً فِي جِدَارِهِ» .قَالَ: ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ: مَا لِيَ أَرَاكُمْ عَنْهَا مُعْرِضِينَ ، وَاللَّهِ لأَرْمِيَنَّ بِهَا بَيْنَ أَكْتَافِكُمْ
৪ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মালিক ইবনে আনাস তাকে হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে কাঠ গাড়তে বাধা না দেয়»।তিনি বলেন: অতঃপর আবু হুরায়রা বলতেন: কী ব্যাপার, আমি তোমাদের এ থেকে বিমুখ দেখছি কেন? আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই এটি তোমাদের কাঁধের ওপর নিক্ষেপ করব।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شُعَيْبٍ الْمَدَائِنِيُّ بِمِصْرَ سَنَةَ عَشْرٍ وَثَلاثِ مِائَةٍ، ثَنَا مَالِكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَيْفٍ التُّجِيبِيُّ ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ قَعْنَبٍ، ثنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُدْعَى إِلَيْهَا الأَغْنِيَاءُ وَيُتْرَكُ الْفُقَرَاءُ ، وَمَنْ لَمْ يَأْتِهَا فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আলী বিন শুআইব আল-মাদায়িনী মিশরে তিনশত দশ সনে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন সাইফ আত-তুজীবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন কানাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক বিন আনাস, ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, আল-আরাজ থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিকৃষ্টতম খাবার হলো ওলীমার খাবার যাতে ধনীদের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং দরিদ্রদের বর্জন করা হয়; আর যে ব্যক্তি তাতে উপস্থিত হলো না সে আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ৭)
6 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثنا بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ الْخَوْلانِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَيُونُسُ بْنُ يَزِيدَ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ أَخْبَرَهُ ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «الْوَزَغُ الْفُوَيْسِقُ»
৬ - আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বাহর ইবনে নাসর আল-খাওলানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মালিক ইবনে আনাস এবং ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, উরওয়াহ ইবনে যুবাইর তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «টিকটিকি হলো একটি ছোট পাপাচারী প্রাণী»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ৮)
7 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ، ثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ ، ثَنَا رَوْحٌ ، عَن صَالِحِ بْنِ أَبِي الأَخْضَرِ ، وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، أَنَّ عُرْوَةَ أَخْبَرَهُ ، أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَخْبَرَتْهُ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ لَيْلَةً مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ ، فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ ، فَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلاتِهِ ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ بِذَلِكَ ، فَاجْتَمَعَ أَكْثَرُ مِنْهُمْ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي اللَّيْلَةِ الثَّانِيَةِ وَصَلَّوْا بِصَلاتِهِ ، وَأَصْبَحَ النَّاسُ لِيَتَحَدَّثُوا بِذَلِكَ، فَكَثُرَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ فِي اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّوْا بِصَلاتِهِ ، فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الرَّابِعَةُ عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ حَتَّى خَرَجَ لِصَلاةِ الْفَجْرِ ، فَلَمَّا قَضَى صَلاةَ الْفَجْرِ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَتَشَهَّدَ ، فَقَالَ: «أَمَّا بَعْدُ ، فَإِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَيَّ شَأْنُكُمُ اللَّيْلَةَ ، وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ فَتَعْجَزُوا عَنْهَا» .وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُرَغِّبُهُمْ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ ، وَيَقُولُ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا فَقَدَ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাওহ, সালেহ ইবনে আবিল আখদার এবং মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, উরওয়াহ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা মধ্যরাতে বের হলেন এবং মসজিদে সালাত আদায় করলেন। কিছু লোক তাঁর সালাতের অনুকরণে সালাত আদায় করল। সকালে লোকজন এ নিয়ে আলোচনা করল। ফলে দ্বিতীয় রাতে তাদের চেয়েও বেশি লোক সমবেত হলো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন এবং তারা তাঁর সালাতের সাথে সালাত আদায় করল। সকালে তারা এ নিয়ে আলোচনা করল। ফলে তৃতীয় রাতে মসজিদের লোকসংখ্যা আরও বেড়ে গেল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন এবং তারা তাঁর সালাতের সাথে সালাত আদায় করল। যখন চতুর্থ রাত এল, তখন মসজিদে স্থান সংকুলান হলো না। তিনি তাদের নিকট (সালাতের জন্য) বের হলেন না যতক্ষণ না ফজরের সালাতের সময় হলো। যখন তিনি ফজরের সালাত শেষ করলেন, তখন মানুষের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন: "অতঃপর, তোমাদের অবস্থা আজ রাতে আমার কাছে গোপন ছিল না। কিন্তু আমি আশঙ্কা করেছি যে, এটি তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হতে পারে এবং তোমরা তা পালনে অক্ষম হয়ে পড়তে পারো।"তবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের কিয়ামের (রাতের সালাত) জন্য উৎসাহিত করতেন কোনো বাধ্যতামূলক আদেশ দেওয়া ছাড়াই এবং বলতেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় রমজানে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ، ثنا أَبُو صَالِحٍ، أنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَغَّبَ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَ بِعَزِيمَةٍ ، قَالَ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
৮ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবন সিনান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে মালিক ইবন আনাস সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযানের কিয়ামের (রাতের ইবাদত) প্রতি উৎসাহিত করতেন, তবে তিনি তা আবশ্যকীয় করার নির্দেশ দিতেন না। তিনি বলতেন: «যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমযানের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ، ثنا سَعِيدُ بْنُ هَبِيرَةَ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، ثنا النُّعْمَانُ بْنُ رَاشِدٍ، وَمَالِكٌ، أَوْ مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: «مَا لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَلا ضَرَبَ شَيْئًا بِيَدِهِ قَطُّ ، وَلا يَنْتَقِمُ لِنَفْسِهِ شَيْئًا يُؤْتَى إِلَيْهِ إِلا أَنْ تُنْتَهَكَ مَحَارِمُ اللَّهِ عز وجل فَيَكُونُ لِلَّهِ يَنْتَقِمُ ، وَمَا سُئِلَ شَيْئًا قَطُّ فَيَمْنَعُهُ إِلا أَنْ يُسْأَلَ إِثْمًا؛ فَإِنَّهُ كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ ، وَمَا خُيِّرَ بَيْنَ أَمْرَيْنِ قَطُّ إِلا اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا ، وَكَانَ إِذَا كَانَ حَدِيثَ عَهْدٍ بِجِبْرِيلَ عليه السلام يُدَارِسُهُ كَانَ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ»
৯ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমদ বিন আব্দুল মুমিন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাঈদ বিন হুবাইরা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন যায়দ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট নুমান বিন রাশিদ এবং মালিক অথবা মা'মার বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি বলেন, আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো অভিশাপ দেননি, এবং নিজের হাতে কখনো কোনো কিছুকে আঘাত করেননি, আর নিজের জন্য কারো থেকে কোনো প্রতিশোধ নেননি যা তাঁর প্রতি করা হতো, তবে মহান আল্লাহর পবিত্র বিষয়সমূহ লঙ্ঘিত হলে তিনি আল্লাহর জন্য প্রতিশোধ নিতেন। তাঁর কাছে কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো তা দিতে অস্বীকার করেননি, যদি না তা কোনো পাপের কাজ হতো; কেননা তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে পাপ থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী। যখনই তাঁকে দুটি বিষয়ের মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হতো, তিনি সর্বদা সহজতরটিই গ্রহণ করতেন। আর যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসতেন এবং তিনি তাঁর সাথে (কুরআন) পাঠ করতেন, তখন তিনি কল্যাণ ও দানশীলতায় প্রবহমান বায়ুর চেয়েও অধিক অগ্রগামী থাকতেন।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، ثنا ابْنُ وَهْبٍ ، أَنَّ مَالِكًا أَخْبَرَهُ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها ، أَنَّهَا قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اعْتَكَفَ يُدْنِي إِلَيَّ رَأْسَهُ فَأُرَجِّلُهُ ، وَكَانَ لا يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلا لِحَاجَةِ الإِنْسَانِ»
১০ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে আবদিল আলা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম মালিক তাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে, তিনি আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইতিকাফ করতেন তখন তিনি আমার দিকে তাঁর মাথা বাড়িয়ে দিতেন এবং আমি তা আঁচড়ে দিতাম। আর তিনি মানবিক প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو بَكْرٍ الْحَاطِبِيُّ، ثنا الْحُنَيْنِيُّ، قَالَ: ذَكَرَهُ مَالِكٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: دَخَلَ رَجُلٌ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَعُمَرُ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ يَخْطُبُ ، فَقَالَ: أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ؟ قَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ، مَا عَلِمْتُ أَنَّ الْيَوْمَ الْجُمُعَةُ وَأَتَيْتُ السُّوقَ مَا زِدْتُ عَلَى الْوُضُوءِ ، فَقَالَ: الْوُضُوءُ أَيْضًا ، ثُمَّ قَالَ: «الْيَوْمَ الْجُمُعَةُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ আবু বকর আল-হাতিবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুনাইনি, তিনি বলেন: এটি মালিক বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জুমার দিন এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে উমর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি (উমর) বললেন: এটি কোন সময়? সে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, আমি জানতাম না যে আজ জুমার দিন। আমি বাজারে গিয়েছিলাম এবং অজু করার অতিরিক্ত আর কিছু করতে পারিনি। তিনি বললেন: কেবল অজুও (করলে)! অতঃপর তিনি বললেন: «আজ জুমার দিন এবং নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গোসল করার নির্দেশ দিতেন»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا أَبُو عُبَيْدِ اللَّهِ، ثنا عَمِّي، حَدَّثَنِي يُونُسُ ، وَمَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسُئِلَ: أَيُصَلِّي الرَّجُلُ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَكُلُّكُمْ لَهُ ثَوْبَانِ»
১২ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার চাচা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ও মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোনো ব্যক্তি কি এক কাপড়ে সালাত আদায় করতে পারে? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমাদের প্রত্যেকেরই কি দুটি কাপড় আছে?
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا سَعْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، ثنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْمَاجِشُونِ، ثنا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ ، وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالشُّفْعَةِ فِيمَا لَمْ يُقْسَمْ ، فَإِذَا وَقَعَتِ الْحُدُودُ فَلا شُفْعَةَ فِيهِ»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন আল-মাজিশুন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সা’ঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব ও আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান থেকে এবং তারা আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবিভক্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়াধিকারের ফয়সালা দিয়েছেন। অতঃপর যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায়, তখন আর তাতে কোনো অগ্রক্রয়াধিকার থাকে না।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ ، وَمُحَمَّدٍ ابْنَيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، مِثْلَ حَدِيثِ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «رَمَضَانُ مَنْ صَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
১৪ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট রাবী ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে মালিক অবহিত করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামাহ ও মুহাম্মাদ (আব্দুর রহমানের দুই পুত্র) থেকে, তারা আবু হুরায়রা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ইউনুস ইবনে ইয়াজীদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ سُلَيْمانِ الفزاريُّ، وَيَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ ، قَالا: ثنا أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ عُقْبَةَ ، أَنَّهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «لَيْسَ بِكَذَّابٍ الَّذِي يَمْشِي بِصُلْحٍ بَيْنَ النَّاسِ فَيُنَمِّي خَبَرًا أَوْ يَقُولُهُ»
১৫ - আহমদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান বিন সুলায়মান আল-ফাযারী এবং ইয়াহইয়া বিন উসমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আবু সালিহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, লায়স আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব থেকে, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি হুমায়দ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি উম্মে কুলসুম বিনতে উকবাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «ঐ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে ভালো কথা পৌঁছে দেয় অথবা ভালো কথা বলে»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ سُلَيْمانِ الفزاريُّ، وَهَاشِمُ بْنُ يُونُسَ الْقَصَّارُ، وَيَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ، قَالُوا: ثنا أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيِّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ»
১৬ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে সুলাইমান আল-ফাজারি, হাশিম ইবনে ইউনুস আল-কাসসার এবং ইয়াহইয়া ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট আবু সালিহ বর্ণনা করেছেন, লাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুমাহি থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াযীদ আল-লাইসি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন তোমরা আযান শুনতে পাও, তখন মুআযযিন যা বলে তোমরাও তদ্রূপ বলো»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ ، أنا مَالِكٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لابِسٌ مِرْطَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ ، فَأَذِنَ لَهُ ، فَقَضَى حَاجَتَهُ ، فَاسْتَأْذَنَ عَلَيْهِ عُمَرُ رضي الله عنه وَهُوَ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ ، فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ، ثُمَّ خَرَجَ فَاسْتَأْذَنَ عَلَيْهِ عُثْمَانُ رضي الله عنه فَاسْتَوَى جَالِسًا ، وَقَالَ لِعَائِشَةَ رضي الله عنها: «اجْمَعِي عَلَيْكِ ثِيَابَكِ» .فَلَمَّا خَرَجَ ، قَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ رضي الله عنها: مَا لَكَ لَمْ تَفْزَعْ لأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ كَمَا فَزِعْتَ لِعُثْمَانَ ، قَالَ: «إِنَّ عُثْمَانَ رَجُلٌ شَدِيدُ الْحَيَاءِ فَلَوْ أَذِنْتُ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ خَشِيتُ أَنْ لا يَبْلُغَ فِيَّ حَاجَتَهُ»
১৭ - আমাদের নিকট আহমদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহীম ইবন মারযূক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবন উমার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ ইবনুল আস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মুল মুমিনীনের একটি চাদর পরিহিত ছিলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তিনি তাঁর প্রয়োজন পূরণ করলেন। অতঃপর উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন যখন তিনি ওই অবস্থাতেই ছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁর প্রয়োজন পূরণ করলেন। এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন এবং উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, তখন তিনি উঠে বসলেন এবং আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বললেন: «তোমার কাপড় নিজের উপর গুছিয়ে নাও»।অতঃপর তিনি যখন বের হয়ে গেলেন, আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে বললেন: আপনার কী হলো যে, আপনি আবু বকর ও উমরের জন্য তেমন সজাগ হলেন না যেমনটা উসমানের জন্য হলেন? তিনি বললেন: «নিশ্চয় উসমান অত্যন্ত লজ্জাশীল ব্যক্তি, তাই আমি যদি তাঁকে ওই অবস্থায় অনুমতি দিতাম তবে আমি আশঙ্কা করছিলাম যে তিনি আমার কাছে তাঁর প্রয়োজনের কথা পুরোপুরি ব্যক্ত করতে পারবেন না»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَلامٍ، ثنا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يَنَامُ وَهُوَ جُنُبٌ ، فَقَالَ: «نَعَمْ يَتَوَضَّأُ» .فِي حَدِيثِ نَافِعٍ ، وَفِي حَدِيثِ ابْنِ دِينَارٍ: «يَتَوَضَّأُ وَيَغْسِلُ ذَكَرَهُ»
১৮ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন সাল্লাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফে ও আব্দুল্লাহ বিন দীনার থেকে এবং তারা ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এমন ব্যক্তি সম্পর্কে যে জুনুবী অবস্থায় ঘুমায়। তখন তিনি বললেন: "হ্যাঁ, সে ওযু করবে"।নাফে-এর বর্ণিত হাদীসে এবং ইবনে দীনারের বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: "সে ওযু করবে এবং তার লজ্জাস্থান ধৌত করবে।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২০)
19 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا يُونُسُ، أنا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ سَمْعَانَ، قَالَ أَبُو مُوسَى: وَأَحْسَبُهُ قَالَ: وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ أَخْبَرَهُ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، أَنَّهُ قَالَ: «يَقُومُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ.حَتَّى إِنَّ أَحَدَهُمْ لَيَغِيبُ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ»
১৯ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে সামআন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুসা বলেন—এবং আমার ধারণা তিনি বলেছেন—এবং মালিক ইবনে আনাস, ইবনে উমরের মুক্ত দাস নাফে থেকে, তিনি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “কিয়ামতের দিন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান হবে।এমনকি তাদের কেউ কেউ নিজের ঘামে কানের অর্ধেক পর্যন্ত ডুবে যাবে।”
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২১)
20 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا يُونُسُ، أنا ابْنُ وَهْبٍ ، أَنَّ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ حَدَّثَهُ ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه حُمِلَ عَلَى فَرَسٍ عَتِيقٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، فَوَجَدَهُ يُبَاعُ ، فَأَرَادَ أَنْ يَبْتَاعَهُ ، فَسَأَلَ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ: «لا تَبْتَعْهُ وَلا تَعُدْ فِي صَدَقَتِكَ»
২০ - আহমদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইউনুস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবন ওয়াহব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মালিক বিন আনাস তাঁর নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, নাফি' থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর পথে একটি উন্নত জাতের ঘোড়া সওয়ারীর জন্য দান করেছিলেন। এরপর তিনি সেটি বিক্রি হতে দেখলেন এবং সেটি ক্রয় করতে চাইলেন। এ বিষয়ে তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: "তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার সদকা ফেরত নিও না।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২২)
21 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شُعَيْبٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ نَصْرٍ، ثنا أَبُو مَرْوَانَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمَاجِشُونِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْوَلاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ»
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন আলী ইবন শুআইব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন নাসর, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মারওয়ান আব্দুল মালিক ইবন আব্দুল আযীয আল-মাজিশুন, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফি' থেকে এবং তিনি ইবন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন 'ওয়ালা' (মুক্ত দাসের উত্তরাধিকার স্বত্ব) বিক্রয় করতে এবং তা দান করতে।»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ، ثَنَا أَبُو السَّكَنِ مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، ثنا مَالِكٌ ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ رضي الله عنه: " مُتْعَتَانِ كَانَتَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهُمَا وَأَعَابَ عَلَيْهِمَا: مُتْعَةُ النِّسَاءِ ، وَمُتْعَةُ الْحَجِّ "
২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনু সিনান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুস সাকান মাক্কী ইবনু ইবরাহীম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক, তিনি নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনু উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে দুটি মুত’আ প্রচলিত ছিল, তিনি সে দুটি থেকে নিষেধ করেছেন এবং সে দুটির ওপর নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন: নারীদের মুত’আ এবং হজ্জের মুত’আ।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا يُونُسُ، أنا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: " أَيُّمَا امْرِئٍ قَالَ لأَخِيهِ: كَافِرٌ ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا "
২৩ - আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনু ওয়াহাব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মালিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু দীনার থেকে, তিনি ইবনু উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যেকোনো ব্যক্তি যদি তার ভাইকে বলে: ‘কাফির’, তবে তাদের দুজনের যেকোনো একজনের ওপর তা অবশ্যই আপতিত হবে।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شُعَيْبٍ بِمِصْرَ سَنَةَ عَشْرٍ وَثَلاثِ مِائَةٍ ، ثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، ثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَتَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ أَنْ يُبَايِعَهُ ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ: " بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ، أَمَّا بَعْدُ ، لِعَبْدِ اللَّهِ عَبْدِ الْمَلِكِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، سَلامٌ عَلَيْكِ ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللَّهَ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ ، وَأُقِرُّ لَكَ بِالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ عَلَى سُنَّةِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا اسْتَطَعْتُ
২৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আলী ইবনে শুআইব মিসরে ৩১০ হিজরী সনে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল ওয়াহাব, মালিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমরের নিকট আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান তার প্রতি আনুগত্যের শপথ (বায়আত) প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে লিখেছিলেন। তখন তিনি (ইবনে উমর) তাকে লিখে পাঠালেন: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। অতঃপর, আল্লাহর বান্দা আমিরুল মুমিনীন আবদুল মালিকের প্রতি আল্লাহর বান্দা আবদুল্লাহ ইবনে উমরের পক্ষ থেকে, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, এবং আমি আপনার জন্য আল্লাহর সুন্নাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী শ্রবণ ও আনুগত্যের স্বীকৃতি দিচ্ছি আমার সাধ্যানুযায়ী।"
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثنا عَمِّي، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسٍ ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: «وَمَاذَا أَعْدَدْتَ لَهَا؟» قَالَ: لا شَيْءَ ، وَاللَّهِ إِنِّي لَقَلِيلُ الصَّلاةِ قَلِيلُ الصِّيَامِ إِلا أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ، قَالَ: «إِنَّكَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ»
২৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদুর রহমান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার চাচা, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক, তিনি ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: «তুমি এর জন্য কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ?» তিনি বললেন: বিশেষ কিছুই না, আল্লাহর কসম! আমি অল্পই সালাত আদায় করি এবং অল্পই সিয়াম পালন করি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো»।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ، ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، ثنا مَالِكٌ ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، عَنْ أُمِّ حَرَامٍ ابْنَةِ مِلْحَانَ ، قَالَتِ: اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نَوْمِهِ وَهُوَ يَضْحَكُ ، فَقُلْتُ: مَا يُضْحِكُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَيَّ غُزَاةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَرْكَبُونَ هَذَا الْبَحْرَ ، مُلُوكًا عَلَى الأَسِرَّةِ أَوْ مِثْلَ الْمُلُوكِ عَلَى الأَسِرَّةِ» .فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ، اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ عز وجل أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ ، فَدَعَا لَهَا ، ثُمَّ وَضَعَ رَأْسَهُ ، فَنَامَ ، فَاسْتَيْقَظَ وَهُوَ يَضْحَكُ ، فَقُلْتُ: مَا يُضْحِكُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: «نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عُرِضُوا عَلَيَّ غُزَاةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَرْكَبُونَ هَذَا الْبَحْرَ مُلُوكًا عَلَى الأَسِرَّةِ أَوْ مِثْلَ الْمُلُوكِ عَلَى الأَسِرَّةِ» .فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ.قَالَ: «أَنْتَ مِنَ الأَوَّلِينَ» .فَرَكِبَتْ أُمُّ حَرَامٍ الْبَحْرَ مَعَ زَوْجِهَا عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فِي زَمَانِ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ فَصُرِعَتْ عَنْ دَابَّتِهَا ، حَتَّى خَرَجَتْ مِنَ الْبَحْرِ فَمَاتَتْ
২৬ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে সিনান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি আনাস ইবনে মালিকের নিকট থেকে শুনেছেন, তিনি উম্মে হারাম বিনতে মিলহান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসিমুখে তাঁর ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কী কারণে হাসছেন? তিনি বললেন: «আমার উম্মতের একদল মানুষকে আল্লাহর পথে যুদ্ধরত অবস্থায় আমার নিকট পেশ করা হয়েছে, যারা এই সমুদ্রে আরোহণ করছে; তারা সিংহাসনের ওপর উপবিষ্ট রাজাদের ন্যায় অথবা সিংহাসনের ওপর রাজাদের মতো হবে।»আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন তিনি তাঁর জন্য দোয়া করলেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা রাখলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। পুনরায় তিনি হাসিমুখে জাগ্রত হলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কেন হাসছেন? তিনি বললেন: «আমার উম্মতের একদল মানুষকে আল্লাহর পথে যুদ্ধরত অবস্থায় আমার নিকট পেশ করা হয়েছে, যারা এই সমুদ্রে আরোহণ করছে; তারা সিংহাসনের ওপর উপবিষ্ট রাজাদের ন্যায় অথবা সিংহাসনের ওপর রাজাদের মতো হবে।»আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর নিকট দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।তিনি বললেন: «তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত।»অতঃপর উম্মে হারাম মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের যুগে তাঁর স্বামী উবাদাহ ইবনে সামিতের সাথে সমুদ্রে আরোহণ করলেন। এরপর যখন তিনি সমুদ্র থেকে বের হলেন, তখন তিনি তাঁর সওয়ারি থেকে পড়ে গেলেন এবং মৃত্যুবরণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَلامٍ، ثنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ وَهُوَ ابْنُ كَيْسَانَ ، سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَهُوَ يَقُولُ: «مَنْ صَلَّى صَلاةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَلَمْ يُصَلِّ إِلا وَرَاءَ الإِمَامِ»
২৭ - আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বাহর ইবনে নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সালাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু নুআইম (যিনি ইবনে কায়সান) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো সালাত আদায় করল যাতে ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করল না, তবে তার সালাত হয়নি; কেবল ইমামের পেছনে থাকা অবস্থায় ব্যতীত»
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবি আলি আল-মাদায়িনি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، ثنا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ، ثنا أَبِي ، ثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ مُوسَى، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، يَأْثُرُهُ ، أَنَّهُ قَالَ: «الْفِطْرَةُ قَصُّ الشَّارِبِ ، وَتَقْلِيمُ الأَظَافِرِ ، وَنَتْفُ الإِبِطِ ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ وَالْخِتَانُ»
২৮ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন লাহিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা বিন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবু সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি এটি বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: «ফিতরাত বা স্বভাবজাত বিষয়সমূহ হলো গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ানো, নাভির নিচের লোম মুণ্ডন করা এবং খতনা করা»