(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: -)
فوائد منتقاة من حديث أبي شعيب الحراني   (أبو شعيب الحراني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فوائد منتقاة من حديث أبي شعيب الحراني

المؤلف: عبد الله بن الحسن أحمد، أبو شعيب الأموي الحراني (ت 295هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 56

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু শুআইব আল-হাররানির হাদিস থেকে নির্বাচিত ফায়দাহসমূহ   (আবু শুআইব আল-হাররানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু শুআইব আল-হাররানির হাদিস থেকে নির্বাচিত ফায়দাহসমূহ

লেখক: আব্দুল্লাহ বিন হাসান আহমাদ, আবু শুআইব আল-উমাবি আল-হাররানি (মৃত ২৯৫ হি.)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলামিক নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অধীনে থাকা ফ্রি জাওয়ামিউল কালিম প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১)
فَوَائِدُ مُنْتَقَاةٌ مِنَ الْجُزْءِ الأَوَّلِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيِّ.

رِوَايَةُ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْحُرْفِيِّ، عَنْ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيِّ.

رِوَايَةُ الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ الصَّابُونِيِّ، عَنْ أَبِي غَالِبٍ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْبَنَّاءِ، عَنِ الْجَوْهَرِيِّ.

بسم الله الرحمن الرحيم
আবু শুয়াইব আল-হাররানির হাদিসের প্রথম খণ্ড থেকে চয়নকৃত ফায়দাহসমূহ।

আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-জাওহারীর বর্ণনা, আবু সাঈদ আল-হুরফি থেকে, তিনি আবু শুয়াইব আল-হাররানি থেকে।

শায়খ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল খালিক ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আস-সাবুনীর বর্ণনা, আবু গালিব আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনুল বান্না থেকে, তিনি আল-জাওহারী থেকে।

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ الصَّابُونِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو غَالِبٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَنَّاءُ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيُّ، ثنا أَبُو سَعِيدٍ الْحَسَنُ بْنُ جَعْفَرٍ الْحُرْفِيُّ، ثنا أَبُو شُعَيْبٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَرَّانِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَابْلُتِّيُّ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَرْكَعُ بَيْنَ النِّدَاءِ وَالصَّلاةِ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ»
১ - আবু মুহাম্মাদ ইবনুল সাবুনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব আহমাদ বিন আল-হাসান আল-বান্না, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন আলী আল-জাওহারী, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-হাসান বিন জাফর আল-হুরফী, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ আল-হাররানী, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ আল-বাবলুত্তি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আমর আল-আওযায়ী, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরী, উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: " قُلْتُ لأَبِي سَعِيدٍ: أَرَأَيْتَ قَوْلَ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الصَّرْفِ، قَالَ: قَدْ زَجَرْتُهُ وَسَوْفَ أَزْجُرُهُ قَالَ: ثُمَّ أَتَاهُ، فَقَالَ: أَرَأَيْتَ قَوْلَكَ؟ أَشَيْءٌ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَوْ شَيْءٌ وَجَدْتَهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ؟ قَالَ: كَلا أَمَّا رَسُولُ اللَّهِ فَأَنْتُمْ أَعْلَمُ بِهِ، وَأَمَّا كِتَابُ اللَّهِ فَلا أَعْلَمُهُ، وَلَكِنْ حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّمَا‌‌ الرِّبَا فِي النَّسِيئَةِ»
২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ি, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে আবি রাবাহ, আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আবু সাঈদকে বললাম: মুদ্রা বিনিময়ের (সারফ) ক্ষেত্রে ইবনে আব্বাসের বক্তব্য সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: আমি তাকে এ বিষয়ে কঠোরভাবে নিষেধ করেছি এবং ভবিষ্যতে আবারও নিষেধ করব। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর ইবনে আব্বাস তাঁর নিকট আসলেন, তখন তিনি (আবু সাঈদ) জিজ্ঞেস করলেন: আপনার এই বক্তব্য সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? এটি কি এমন কিছু যা আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শুনেছেন, নাকি এমন কিছু যা আপনি আল্লাহর কিতাবে পেয়েছেন? তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: না, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে তো আপনারাই অধিক অবগত, আর আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রেও আমি তা জানি না; তবে উসামা ইবনে যায়েদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই সুদ কেবল বাকিতেই হয়»"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: ‌‌«إِيَّاكُمْ وَالتَّبَدُّعَ وَالتَّنَطُّعَ ، وَعَلَيْكُمْ بِالْعَتِيقِ»
৩ - আবু শুআইব আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে মাসউদ বলেছেন: «তোমরা বিদআত ও (দীনের ব্যাপারে) অনাবশ্যক বাড়াবাড়ি থেকে বেঁচে থাকো এবং তোমরা প্রাচীন (আদি) পথকে আঁকড়ে ধরো»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا كَثِيرٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا يُسَاوِمْ رَجُلٌ عَلَى سَوْمِ أَخِيهِ حَتَّى يَشْتَرِيَ أَوْ يَتْرُكَ، وَلا يَخْطُبْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ حَتَّى يَنْكِحَ أَوْ يَتْرُكَ ، وَلا تَسْأَلِ الْمَرْأَةُ طَلاقَ أُخْتِهَا لِتَسْتَفْرِغَ صَفْحَتَهَا؛ فَإِنَّ الْمُسْلِمَةَ أُخْتُ الْمُسْلِمَةِ»
৪ - আবু শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু কাসীরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের দরাদামের ওপর দরাদাম না করে যতক্ষণ না সে ক্রয় করে অথবা ছেড়ে দেয়, এবং কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয় যতক্ষণ না সে বিবাহ করে অথবা ছেড়ে দেয়, এবং কোনো নারী যেন তার বোনের তালাক প্রার্থনা না করে যাতে সে তার পাত্র খালি করতে পারে; কেননা একজন মুসলিম নারী অপর মুসলিম নারীর বোন।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ رِئَابٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: ‌‌«انْشُدْ عَالِمًا أَوْ مُتَعَلِّمًا ، وَلا تَغْدُ مَا بَيْنَ ذَلِكَ، فَإِنَّ مَا بَيْنَ ذَلِكَ جَاهِلٌ، وَإِنَّ الْمَلائِكَةَ تَبْسِطُ أَجْنِحَتَهَا لِرَجُلٍ غَدَا يَطْلُبُ الْعِلْمَ مِنَ الرِّضَا بِمَا يَصْنَعُ»
৫ - আবু শুয়াইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন ইবনে রিয়াব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «তুমি আলেম হও অথবা ছাত্র হও, এবং এর মধ্যবর্তী কিছু হয়ে সকাল অতিবাহিত করো না; কারণ এর মধ্যবর্তী ব্যক্তি হলো মূর্খ। আর নিশ্চয়ই ফেরেশতারা তাদের ডানা বিছিয়ে দেয় ঐ ব্যক্তির জন্য যে জ্ঞান অন্বেষণে সকালে বের হয়, তার কর্মের প্রতি সন্তুষ্টি স্বরূপ।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: ‌‌«مَنْ أَطْفَأَ مِنْ أَخِيهِ سَيِّئَةً فَكَأَنَّمَا أَحْيَا مَوْءُودَةً»
৬ - আবু শুআইব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আওযাঈ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল ওয়াহিদ বিন কায়স আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোনো মন্দ কাজ গোপন করল, সে যেন জীবন্ত প্রোথিত কোনো কন্যাকে জীবন দান করল।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ ، ثنا يَحْيَى ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ، قَالَ: ‌‌«تُبْعَثُ هَذِهِ الأُمَّةُ بِيضَ الْوُجُوهِ، بِيضَ الأَقْدَامِ، بِيضَ الأَذْرُعِ»
৭ - আমাদের নিকট আবু শুয়াইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আওযায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন: «এই উম্মতকে পুনরুত্থিত করা হবে সাদা মুখমণ্ডল, সাদা পা এবং সাদা বাহু বিশিষ্ট অবস্থায়»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - قَالَ أَبُو شُعَيْبٍ: وَجَدْتُ فِي كِتَابِي ، عَنْ يَحْيَى ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسٍ ، وَأَبِي سَعِيدٍ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «إِنَّهُ‌‌ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي اخْتِلافٌ وَفُرْقَةٌ قَوِيَّةٌ، يُحْسِنُونَ الْقِيلَ وَيُسِيئُونَ الْفِعْلَ، يَقْرَؤُونَ الْقُرْآنَ لا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، لا يَرْجِعُونَ حَتَّى يَرْتَدَّ عَلَى فَوْقِهِ، وَهُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ»

ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أُسَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْفِلَسْطِينِيُّ، عَنِ الْعَلاءِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ: إِنَّكُمْ فِي زَمَانٍ أَقَلُّكُمُ الَّذِي ذَهَبَ عُشْرُ دِينُهُ، وَسَيَأْتِي زَمَانٌ أَقَلُّكُمُ الَّذِي يَبْقَى عُشْرُ دِينِهِ
৮ - আবু শুআইব বলেন: আমি আমার কিতাবে ইয়াহইয়া থেকে পেয়েছি, তিনি আল-আওযায়ী থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ও আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ আমার উম্মতের মধ্যে মতভেদ ও প্রবল বিভক্তি সৃষ্টি হবে; তারা সুন্দর কথা বলবে কিন্তু মন্দ কাজ করবে, তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, তারা দীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমনভাবে তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায়, তারা ফিরে আসবে না যতক্ষণ না তীর তার ধনুকের ছিলার ওপর ফিরে আসে; তারা সৃষ্টি ও সৃজিত জগতের মধ্যে নিকৃষ্টতম»

আবু শুআইব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-আওযায়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: উসাইদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-ফিলিস্তিনি আমার কাছে আল-আলা ইবনে যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমরা এমন এক যুগে আছো যেখানে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি বিরল যে তার দীনের দশমাংশ বর্জন করেছে, আর অচিরেই এমন এক যুগ আসবে যখন তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি বিরল হবে যার নিকট তার দীনের দশমাংশ অবশিষ্ট থাকবে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«سَيَظْهَرُ شِرَارُ أُمَّتِي عَلَى خِيَارِهِمْ ، حَتَّى يَسْتَخْفِيَ فِيهِمُ الْمُؤْمِنُ كَمَا يَسْتَخْفِي فِيكُمُ الْمُنَافِقُ الْيَوْمَ»
৯ - আমাদের নিকট আবু শুয়াইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-আওযাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আতিয়্যাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অচিরেই আমার উম্মতের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা তাদের শ্রেষ্ঠদের উপর বিজয়ী হবে, এমনকি মুমিন ব্যক্তি তাদের মাঝে এমনভাবে আত্মগোপন করবে যেভাবে তোমাদের মাঝে মুনাফিক আজ আত্মগোপন করে থাকে।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الْفَقْرِ وَالْمَذَلَّةِ وَالْقِلَّةِ وَأَنْ تَظْلِمَ أَوْ تُظْلَمَ»
10 - আবু শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর বিন ইয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা দারিদ্র্য, লাঞ্ছনা ও স্বল্পতা থেকে এবং তোমরা কারো প্রতি জুলুম করা অথবা তোমাদের ওপর জুলুম করা হওয়া থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: ‌‌«يَا مَعْشَرَ الْقُرَّاءِ ، ارْفَعُوا رُءُوسَكُمْ ، وَلا تَكُونُوا عِيَالا عَلَى النَّاسِ»
১১ - আমাদের নিকট আবু শুআইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: «হে ক্বারী সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদের মাথা উঁচু করো এবং মানুষের ওপর বোঝা হয়ে থেকো না»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، قَالَتْ: قَالَتْ عَائِشَةُ: ‌‌«لَوْ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْخُرُوجَ إِلَى الْمَسَاجِدِ كَمَا مُنِعَتْهُ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ»
১২ - আবু শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আয়েশা বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি দেখতেন নারীরা যা নতুনভাবে প্রবর্তন করেছে, তবে তিনি অবশ্যই তাদের মসজিদে বের হওয়া নিষেধ করতেন যেমনটি নিষেধ করা হয়েছিল বনী ইসরাঈলের নারীদের»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا أَبُو يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ قَتَادَةُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " إِنَّ‌‌ دُعَاءَ الرَّجُلِ لأَخِيهِ بِظَاهِرِ الْغَيْبِ لا يُرَدُّ، وَتَقُولُ الْمَلائِكَةُ: لَكَ مِثْلُهُ "
১৩ - আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া, আমাদের বর্ণনা করেছেন আওযাঈ, তিনি বলেন: কাতাদাহ আমার নিকট লিখে পাঠিয়েছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: " নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির তার ভাইয়ের জন্য অগোচরে করা দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না, এবং ফেরেশতারা বলে: তোমার জন্যও অনুরূপ হোক। "
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: بَصُرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِامْرَأَةٍ مُتَزَيِّنَةٍ، قَدْ لَبِسَتْ زِينَتَهَا، وَهِيَ تَتَبَخْتَرُ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ‌‌ انْهُوا نِسَاءَكُمْ عَنِ الزِّينَةِ وَالتَّبَخْتُرِ فِي الْمَسَاجِدِ، إِنَّمَا لُعِنَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ حَيْثُ لَبِسَتْ نِسَاؤُهُمُ الزِّينَةَ وَتَبَخْتَرْنَ فِي الْمَسَاجِدِ»
১৪ - আবু শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আওযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক সুসজ্জিত নারীকে দেখলেন, যে তার সাজসজ্জা গ্রহণ করেছিল এবং সে মসজিদে গর্বভরে হাঁটছিল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল বললেন: «হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের নারীদের মসজিদে সাজসজ্জা ও গর্বভরে চলাফেরা করা থেকে বারণ করো; কেননা বনী ইসরাঈল তখনই অভিশপ্ত হয়েছিল যখন তাদের নারীরা সাজসজ্জা গ্রহণ করেছিল এবং মসজিদে গর্বভরে চলেছিল।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، قَالَ: «إِنَّ‌‌ الشَّيْطَانَ ذِئْبُ الإِنْسَانِ كَذِئْبِ الْغَنَمِ ، يَأْخُذُ النَّاحِيَةَ وَالْقَاصِيَةَ وَالشَّاذَّةَ ، فَعَلَيْكُمْ بِالْعَامَّةِ وَالْجَمَاعَةِ وَالْمَسَاجِدِ ، وَإِيَّاكُمْ وَالشِّعَابَ»
১৫ - আবু শুয়াইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মুআয ইবনে জাবাল (রাযি.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ শয়তান মানুষের জন্য তেমন নেকড়ে যেমন নেকড়ে ভেড়ার জন্য; সে প্রান্তবর্তী, দূরবর্তী এবং দলছুট ভেড়াকে পাকড়াও করে। সুতরাং তোমরা সাধারণ জনতা ও জামাত এবং মসজিদের সাথে থাকা আবশ্যক করো, আর তোমরা বিচ্ছিন্ন গিরিপথসমূহ থেকে বেঁচে থাকো।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: كُنْتُ أَبِيتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم،‌‌ فَآتِيهِ بِوَضُوئِهِ وَحَاجَتِهِ، فَكَانَ يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيَقُولُ: «سُبْحَانَ رَبِّي وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ رَبِّيَ وَبِحَمْدِهِ، الْهَوَى سُبْحَانَ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، سُبْحَانَ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، سُبْحَانَ رَبِّ الْعَالَمِينَ الْهَوِيَّ» .

قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هَلْ لَكَ حَاجَةٌ» ؟ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُحِبُّ مُرَافَقَتَكَ فِي الْجَنَّةِ، قَالَ: «فَأَعِنِّي عَلَى نَفْسِكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ»
১৬ - আবু শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আওযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর আমার নিকট আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি রবীআ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রাত যাপন করতাম, অতঃপর আমি তাঁর ওযুর পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আসতাম। তিনি রাতে (সালাতে) দাঁড়াতেন এবং বলতেন: «আমার রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁরই প্রশংসা করছি, আমার রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁরই প্রশংসা করছি», দীর্ঘ সময় ধরে «জগতসমূহের রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি, জগতসমূহের রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি, জগতসমূহের রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত»।

তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমার কি কোনো প্রয়োজন আছে?» তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি জান্নাতে আপনার সাহচর্য পেতে চাই। তিনি বললেন: «তবে অধিক সিজদার মাধ্যমে তোমার নিজের স্বার্থে আমাকে সাহায্য করো»।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي بَعْضُ إِخْوَانِي، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ إِذَا زَالَتِ الأَفْيَاءُ وَرَاحَتِ الأَرْوَاحُ فَاطْلُبُوا إِلَى اللَّهِ عز وجل حَوَائِجَكُمْ؛ فَإِنَّهَا سَاعَةُ الأَوَّابِينَ {فَإِنَّهُ كَانَ لِلأَوَّابِينَ غَفُورًا} [الإسراء: 25] "
১৭ - আমাদের নিকট আবু শুয়াইব বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-আওযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার জনৈক ভাই আবু মিজলায থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ যখন ছায়া ঢলে পড়ে এবং বায়ু প্রবাহিত হয়, তখন তোমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট তোমাদের প্রয়োজনসমূহ প্রার্থনা করো; কেননা এটি হলো আউয়াবীনদের (আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের) সময়। {নিশ্চয়ই তিনি প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য পরম ক্ষমাশীল} [আল-ইসরা: ২৫]"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْمُطَّلِبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، كَانَتْ‌‌ تُصَلِّي الضُّحَى ثَمَانَ رَكْعَاتٍ، تُخْفِي ذَلِكَ وَتُغْلِقُ عَلَيْهَا بَابَهَا ، وَلا تُدْخِلْ عَلَيْهَا أَحَدًا
১৮ - আমাদের নিকট আবু শুয়াইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হানতাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিনী আয়েশা (রা.) আট রাকাত চাশতের সালাত আদায় করতেন, তিনি তা গোপন রাখতেন এবং নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে নিতেন, আর নিজের নিকট প্রবেশ করতে দিতেন না কাউকেও।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২০)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: ثنا حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ: قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: ‌‌«لَوْ أُنْسِيتُ آيَةً ثُمَّ لَمْ أَجِدْ أَحَدًا يُذَكِّرْنِيهَا إِلا رَجُلٌ بِبِرْكِ الْغِمَادِ رَحَلْتُ إِلَيْهِ»
১৯ - আবু শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “যদি আমি কোনো আয়াত ভুলে যাই, অতঃপর বিরক আল-গিমাদ নামক স্থানে অবস্থানরত জনৈক ব্যক্তি ব্যতীত এমন কাউকে না পাই যে আমাকে তা স্মরণ করিয়ে দেবে, তবে আমি অবশ্যই তার নিকট সফর করে যেতাম।”
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২১)
20 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: أُنْبِئْتُ عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: سَأَلْتُ عُبَيْدَةَ ، عَنْ آيَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ، فَقَالَ:‌‌ اتَّقِ اللَّهَ يَا ابْنَ سِيرِينَ، وَعَلَيْكَ بِالسَّدَادِ؛ فَإِنَّهُ قَدْ ذُهِبَ بِالَّذِينَ كَانُوا يَعْلَمُونَ فِيمَا أُنْزِلَ الْقُرْآنُ
২০ - আবু শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আওযায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে, তিনি বলেন: আমি উবাইদাহকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন:‌‌ হে ইবনে সিরীন, আল্লাহকে ভয় করুন এবং সঠিক পথে অবিচল থাকুন; কারণ তারা চলে গেছেন যারা জানতেন যে কী প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে কুরআন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২২)
21 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ وَجَنَازَةُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ بَيْنَ أَيْدِينَا، يَقُولُ: «اهْتَزَّ لَهَا عَرْشُ الرَّحْمَنِ عز وجل»
২১ - আমাদের নিকট আবু শুআইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আওযাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি— এমতাবস্থায় যখন সাদ ইবনে মুআযের জানাজা আমাদের সামনে ছিল, তিনি বলছিলেন: «এর কারণে মহান ও পরাক্রমশালী রাহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«سَوُّوا بَيْنَ أَوْلادِكُمْ فِي الْعَطِيَّةِ؛ فَإِنِّي لَوْ كُنْتُ مُؤْثِرًا أَحَدًا عَلَى أَحَدٍ لآثَرْتُ النِّسَاءَ عَلَى الرِّجَالِ»

حَدَّثَنَا
أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ فِي هَذِهِ الآيَةِ {إِذًا لأَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ} [الإسراء: 75] .

قَالَ: ضِعْفُهَا يُعَذَّبُ بِهِ النَّاسُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ
২২ - আমাদের নিকট আবু শুআইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট আওযাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা তোমাদের সন্তানদের মাঝে উপহার প্রদানের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখো; কেননা আমি যদি কাউকে কারো ওপর প্রাধান্য দিতাম, তবে অবশ্যই নারীদের পুরুষদের ওপর প্রাধান্য দিতাম।»

আমাদের নিকট
আবু শুআইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট আওযাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি এই আয়াতের বিষয়ে {তাহলে আমি অবশ্যই আপনাকে ইহজীবনে দ্বিগুণ এবং পরজীবনে দ্বিগুণ (শাস্তি) আস্বাদন করাতাম} [আল-ইসরা: ৭৫] বলেছেন:

তিনি বলেন: এর দ্বিগুণ হলো তা, যার মাধ্যমে মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তি প্রদান করা হয়।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ:‌‌ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ وَعَلَيْهِ ثَوْبٌ نَجْرَانِيٌّ غَلِيظٌ الصَّنِيعَةِ ، فَأَتَاهُ أَعْرَابِيٌّ مِنْ خَلْفِهِ، فَأَخَذَ بِجَانِبِ رِدَائِهِ فَاجْتَبَذَهُ حَتَّى أَثَّرَتِ الضَّيْقَةُ فِي صَفْحِ عُنُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَعْطِنَا مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي عِنْدَكَ، فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْنِي «فَتَبَسَّمَ وَأَمَرَ لَهُ»
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা, আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:‌‌ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর পরিধানে মোটা বুননের একটি নাজরানি চাদর ছিল। তখন এক বেদুইন তাঁর পেছন দিক থেকে এসে তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরে সজোরে টান দিল, যার ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘাড়ের পার্শ্বদেশে দাগ বসে গেল। এরপর সে বলল: হে মুহাম্মদ! তোমার কাছে আল্লাহর যে সম্পদ আছে তা থেকে আমাদের কিছু দান করো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে তাকালেন অর্থাৎ তিনি মুচকি হাসলেন এবং তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فَقَالَ:‌‌ إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ، قَالَ اللَّهُ عز وجل لِصَاحِبِ الْيَمِينِ: «أَجْرِ لِعَبْدِي صَالِحَ مَا كَانَ عَلَيْهِ» .

وَقَالَ لِصَاحِبِ الشِّمَالِ: «أَقْبِضْ عَنْ عَبْدِي مَا كَانَ فِي وَثَاقِي»
২৪ - আমাদের নিকট আবু শুআইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন মুমিন বান্দা অসুস্থ হয়, তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল ডান দিকের সাথীকে বলেন: "আমার বান্দার জন্য ঐ সকল নেক আমল জারি রাখো যা সে (সুস্থ অবস্থায়) করত"।

এবং তিনি বাম দিকের সাথীকে বলেন: "আমার বান্দা থেকে (কলম) গুটিয়ে নাও যতক্ষণ সে আমার বন্ধনে থাকে"।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا كَثِيرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: "‌‌ لَمَّا أَتَى قَالَ: اكْتُبْ، وَلا أَكْتُبُ "

ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، ثنا حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ:
إِنَّمَا مَثَلُ الشَّيَاطِينِ فِي كَثْرَتِهِمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ دَخَلَ زَرْعًا فِيهِ جَرَادٌ كَثِيرٌ، فَكُلَّمَا وَضَعَ رِجْلَهُ تَطَايَرَ الْجَرَادُ يَمِينًا وَشِمَالا، وَلَوْلا أَنَّ اللَّهَ عز وجل غَضَّ الْبَصَرَ مَا رَأَى شَيْئًا إِلا وَعَلَيْهِ شَيْطَانٌ

حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدَةُ، قَالَ: إِذَا قَامَ الرَّجُلُ مِنَ اللَّيْلِ يُرِيدُ الْبَوْلَ، فَقَالَ: بِسْمِ اللَّهِ، غَضُّوا أَبْصَارَهُمْ فَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَيْهِ
২৫ - আবু শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওজায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু কাসীরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: "‌‌যখন তিনি আসলেন, তিনি বললেন: লিখুন, কিন্তু আমি লিখি না। "

আবু শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওজায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
শয়তানদের আধিক্যের দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির মতো যে এমন এক ফসলের জমিতে প্রবেশ করেছে যেখানে প্রচুর পঙ্গপাল রয়েছে। যখনই সে তার পা রাখে, তখনই পঙ্গপালগুলো ডানে ও বামে উড়তে থাকে। যদি মহান আল্লাহ দৃষ্টিকে সংকুচিত বা আড়াল করে না দিতেন, তবে মানুষ যা কিছু দেখত তার প্রত্যেকটির উপরেই শয়তান দেখতে পেত।

আবু শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আওজায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি রাতে প্রস্রাব করার উদ্দেশ্যে উঠে এবং বলে: ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে), তখন তারা (শয়তানরা) তাদের দৃষ্টি অবনত করে নেয়, ফলে তারা তার দিকে তাকাতে পারে না।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ يَسَارٍ، قَالَ: لَقِيَ أَبُو هُرَيْرَةَ امْرَأَةً وَهِيَ تَعْصِفُ رِيحَهَا ، قَالَ: يَا أَمَةَ الْجَبَّارِ الْمَسْجِدَ تُرِيدِينَ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَ: وَلَهُ تَطَيَّبْتِ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَ: فَارْجِعِي إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ‌‌«مَا مِنِ امْرَأَةٍ تَخْرُجُ إِلَى الْمَسْجِدِ تَعْصِفُ رِيحَهَا فَيَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهَا صَلاةً حَتَّى تَرْجِعَ فَتَغْتَسِلَ»
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওযাঈ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মূসা বিন ইয়াসার, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা জনৈক মহিলার সাথে সাক্ষাৎ করলেন যার দেহ থেকে তীব্র সুগন্ধি বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। তিনি বললেন: হে জব্বারের দাসী! তুমি কি মসজিদের ইচ্ছা পোষণ করছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি কি এরই জন্য সুগন্ধি মেখেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে ফিরে যাও, কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে কোনো নারী সুগন্ধি ছড়িয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, আল্লাহ তার কোনো সালাত কবুল করেন না যতক্ষণ না সে ফিরে আসে এবং গোসল করে নেয়।»
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: "‌‌ ثَلاثٌ هُنَّ حَقٌّ عَلَى الْمُسْلِمِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ: الاغْتِسَالُ ، وَالسِّوَاكُ ، وَأَنْ يَمَسَّ طِيبًا إِنْ وَجَدَهُ "
২৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান, আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "‌‌তিনটি বিষয় জুমার দিনে মুসলিমের উপর কর্তব্য: গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা যদি সে তা পায়।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদু মুনতাকাতুন মিন হাদিসি আবি শুআইব আল-হাররানি (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - ثنا أَبُو شُعَيْبٍ، ثنا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، ثنا أَبُو عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو أَسْمَاءَ الرَّحْبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي ثَوْبَانُ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْصَرِفَ مِنْ صَلاتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ، وَمِنْكَ السَّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ»
২৮ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু শুআইব, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আওযাঈ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আম্মার, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আসমা আর-রাহবী, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সালাত শেষ করার ইচ্ছা করতেন তখন তিনি তিনবার ইস্তিগফার করতেন, অতঃপর বলতেন: “হে আল্লাহ! আপনিই সালাম (শান্তিদাতা) এবং আপনার থেকেই শান্তি আসে, আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।”