(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: -)
مسند أبي أمية الطرسوسي   (أبو أمية الطرسوسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مسند أبي أمية الطرسوسي

المؤلف: أبو أمية محمد بن إبراهيم بن مسلم الخزاعي البغدادي ثم الطرسوسي (ت 273هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 64

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসনাদে আবু উমাইয়া আত-তারসুসি   (আবু উমাইয়া আত-তারসুসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মুসনাদে আবু উমাইয়া আত-তারসুসি

লেখক: আবু উমাইয়া মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মুসলিম আল-খুজায়ি আল-বাগদাদি অতঃপর আত-তারসুসি (মৃত্যু ২৭৩ হিজরি)

প্রকাশক: পাণ্ডুলিপিটি ইসলামিক নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অন্তর্ভুক্ত জাওয়ামিউল কালিম ফ্রি প্রোগ্রামে প্রকাশিত হয়েছে

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

[গ্রন্থটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١)
جُزْءٌ مِنْ مُسْنَدِ أَبِي أُمَيَّةَ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الطَّرَسُوسِيِّ.

رِوَايَةُ أَبِي عَمْرٍو أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَكِيمٍ الْمَدِينِيِّ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ جُولَةَ الأَبْهَرِيِّ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ الرَّئِيسِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْقَاسِمِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الثَّقَفِيِّ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ الإِمَامِ الْحَافِظِ أَبِي طَاهِرٍ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السِّلَفِيِّ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ مَحْمُودِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الصَّابُونِيِّ، عَنْهُ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ، وَسَلِّمْ تَسْلِيمًا كَثِيرًا.

قُرِئَ عَلَى الشَّيْخِ الْجَلِيلِ عَلَمِ الدِّينِ أَبِي الْحُسَيْنِ عَلِيِّ بْنِ مَحْمُودِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْمَحْمُودِيِّ الصَّابُونِيِّ، وَنَحْنُ نَسْمَعُ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَسِتِّ مِائَةٍ، بِالْجَامِعِ الْمُظَفَّرِيِّ، بِجَبَلِ قَاسِيُونَ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحَافِظُ شَيْخُ الإِسْلامِ مُحْيِي السُّنَّةِ فَخْرُ الأَئِمَّةِ جَمَالُ الْحُفَّاظِ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السِّلَفِيُّ الأَصْبَهَانِيُّ رضي الله عنه، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ، فِي ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسَبْعِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ،، أنبا الرَّئِيسُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَحْمُودٍ الثَّقَفِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ أَصْلِ سَمَاعِهِ بِأَصْبَهَانَ، سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَمَانِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جُولَةَ الأَبْهَرِيُّ سَنَةَ ثَلاثٍ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، ثنا أَبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَكِيمٍ الْمَدِينِيُّ، ثنا أَبُو أُمَيَّةَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُسْلِمٍ الطَّرَسُوسِيُّ،
আবু উমাইয়াহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আত-তারসূসীর মুসনাদ থেকে একটি অংশ।

আবু আমর আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাকিম আল-মাদীনীর বর্ণনা, তাঁর থেকে।

আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে জুলাইয়াহ আল-আবহারীর বর্ণনা, তাঁর থেকে।

রয়ীস আবু আবদুল্লাহ আল-কাসিম ইবনুল ফজল ইবনে আহমাদ আস-সাকাফীর বর্ণনা, তাঁর থেকে।

ইমাম হাফেজ আবু তাহের আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আস-সিলাফীর বর্ণনা, তাঁর থেকে।

আবু আল-হাসান আলী ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমাদ ইবনে আলী আস-সাবুনীর বর্ণনা, তাঁর থেকে।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আল্লাহ মুহাম্মদ এবং তাঁর বংশধরদের প্রতি রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষণ করুন।

৬২৭ হিজরির শাওয়াল মাসে কাসিউন পাহাড়ের আল-জামে আল-মুজাফফারীতে মহান শায়খ আলামুদ্দীন আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমাদ ইবনে আলী আল-মাহমুদী আস-সাবুনীর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা তা শুনছিলাম। তাঁকে বলা হয়েছিল: শায়খ ইমাম হাফেজ শায়খুল ইসলাম মুহয়িস সুন্নাহ ফখরুল আইম্মাহ জামালুল হুফফাজ আবু তাহের আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আস-সিলাফী আল-আসফাহানী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন?—যা ৫৭৪ হিজরির জিলকদ মাসে তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং আপনি তা শুনছিলেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন: রয়ীস আবু আবদুল্লাহ আল-কাসিম ইবনুল ফজল ইবনে আহমাদ ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফী, আসফাহানে ৪৮৮ হিজরিতে তাঁর মূল শ্রুত অনুলিপি থেকে তাঁর সামনে পাঠের মাধ্যমে। তিনি সংবাদ দিয়েছেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জুলাইয়াহ আল-আবহারী ৪০৩ হিজরিতে। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আমর আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাকিম আল-মাদীনী। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়াহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুসলিম আত-তারসূসী।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢)
1 - ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«لا تُنْكَحُ الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ» .

قِيلَ: وَمَا إِذْنُهَا؟ قَالَ: «الصُّمُوتُ»
১ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-আওযায়ী বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমার নিকট আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «অকুমারী নারীর নিকট থেকে নির্দেশ গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাকে বিবাহ দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়ের নিকট থেকে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাকে বিবাহ দেওয়া যাবে না»।

জিজ্ঞাসা করা হলো: তার অনুমতি কীরূপ? তিনি বললেন: «তার নীরব থাকা»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٣)
2 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا صَدَقَةُ أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: ‌‌«لا تُنْكَحُ الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلا الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ» .

قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا إِذْنُهَا؟ قَالَ: «أَنْ تَسْكُتَ»
২ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাদাকাহ আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন আওযায়ী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “কোনো বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা (সায়্যিবা) নারীকে তার পরামর্শ গ্রহণ করা ছাড়া বিবাহ দেয়া যাবে না এবং কোনো কুমারী নারীকেও তার অনুমতি গ্রহণ করা ছাড়া বিবাহ দেয়া যাবে না।”

তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, তাঁর অনুমতি কীরূপ হবে? তিনি বললেন: “তাঁর চুপ থাকা (মৌনতা)।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٤)
3 - حَدَّثَنَا يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ: رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يُكَبِّرُ هَذَا التَّكْبِيرَ الَّذِي تَرَى، قُلْتُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ،‌‌ مَا هَذَا التَّكْبِيرُ؟ قَالَ: «إِنَّهَا لَصَلاةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»
৩ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আওযাঈ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরাইরাহকে এই তাকবীর দিতে দেখেছি যা তোমরা দেখছ, আমি বললাম: হে আবু হুরাইরাহ! এই তাকবীর কী? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٥)
4 - حَدَّثَنِي يَحْيَى، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ إِذَا نَادَى الْمُنَادِي، أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ وَلَهُ ضُرَاطٌ، فَإِذَا قُضِيَ أَقْبَلَ، فَإِذَا ثُوِّبَ بِهَا أَدْبَرَ، فَإِذَا قُضِيَ أَقْبَلَ، حَتَّى يَخْطُرَ بَيْنَ الرَّجُلِ وَنَفْسِهِ، فَيَقُولُ: اذْكُرْ كَذَا وَكَذَا، مَا لَمْ يَكْنُ يَذْكُرْ، حَتَّى لا يَدْرِي أَثَلاثًا صَلَّى أَمْ أَرْبَعًا، فَإِذَا لَمْ يَدْرِ أَحَدُكُمْ أَثَلاثًا صَلَّى أَمْ أَرْبَعًا، فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ "
৪ - ইয়াহইয়া আমাকে বর্ণনা করেছেন, আওযাঈ আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসীর আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু সালামাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌যখন আহ্বানকারী আহ্বান করে, তখন শয়তান সশব্দে বায়ু নির্গত করতে করতে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে। যখন আহ্বান শেষ হয় তখন সে ফিরে আসে। যখন ইকামাত দেওয়া হয় তখন সে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে। যখন ইকামাত শেষ হয় তখন সে ফিরে আসে, যাতে সে মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করতে পারে। সে বলে: এটা স্মরণ করো, ওটা স্মরণ করো—যা সে ইতিপূর্বে স্মরণ করছিল না। এমনকি এক পর্যায়ে সেই ব্যক্তি আর বুঝতে পারে না যে সে তিন রাকাত সালাত আদায় করেছে নাকি চার রাকাত। সুতরাং যখন তোমাদের কেউ তিন না চার রাকাত সালাত আদায় করেছে তা বুঝতে না পারে, তখন সে যেন বসা অবস্থায় দুটি সিজদা প্রদান করে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٦)
5 - وَبِهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ قَنَتَ فِي صَلاةِ الْغَدَاةِ فِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ بَعْدَ مَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، شَهْرًا، يَقُولُ فِي قُنُوتِهِ: «اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ، اللَّهُمَّ أَنْجِ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ، اللَّهُمَّ أَنْجِ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ، اللَّهُمَّ أَنْجِ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ، اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا سِنِينَ كَسِنِينَ يُوسُفَ»
৫ - এবং এই সনদে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)‌‌ ভোরের সালাতের শেষ রাকাতে ‘আল্লাহ তাঁর প্রশংসাকারীর কথা শ্রবণ করেছেন’ বলার পর এক মাস যাবত কুনুত পাঠ করেছেন; তিনি তাঁর কুনুতে বলতেন: «হে আল্লাহ, আপনি ওয়ালিদ বিন ওয়ালিদকে মুক্তি দিন; হে আল্লাহ, আপনি সালামাহ বিন হিশামকে মুক্তি দিন; হে আল্লাহ, আপনি আইয়াশ বিন আবি রাবিআহকে মুক্তি দিন; হে আল্লাহ, মুমিনদের মধ্যে যারা দুর্বল ও নিপীড়িত তাদের মুক্তি দিন। হে আল্লাহ, আপনি মুদার গোত্রের ওপর আপনার পাকড়াও কঠোর করুন; হে আল্লাহ, এই সময়কে আপনি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর বছরগুলোর মতো (দুর্ভিক্ষের) বছর বানিয়ে দিন»।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٧)
6 - وَبِهِ، قَالَ: رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ‌‌ يَسْجُدُ فِي: إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، أَلَمْ أَرَكَ تَسْجُدُ فِي: إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ؟ قَالَ: «إِنِّي لَوْ لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ فِيهَا لَمْ أَسْجُدْ»
৬ - এবং সেই একই সূত্রে তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে দেখলাম ‘ইযাস সামাউন্‌শাক্কাত’ (যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে) পাঠকালে সিজদা করতে। তখন আমি বললাম: হে আবু হুরায়রা, আমি কি আপনাকে ‘ইযাস সামাউন্‌শাক্কাত’-এ সিজদা করতে দেখিনি? তিনি বললেন: «আমি যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এতে সিজদা করতে না দেখতাম, তবে আমি সিজদা করতাম না।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٨)
7 - حَدَّثَنَا سَعيِدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ الْيَمَامِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ بَنَى لِلَّهِ مَسْجِدًا مِنْ مَالٍ حَلالٍ، بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ مِنْ دُرٍّ وَيَاقُوتٍ»
৭ - সাঈদ ইবনে সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-ইয়ামামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সালামা থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি হালাল সম্পদ থেকে আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ জান্নাতে তার জন্য মুক্তা ও ইয়াকুত পাথর দ্বারা একটি ঘর নির্মাণ করবেন»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٩)
8 - وَبِهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ هَذِهِ النَّوَائِحَ يُجْعَلْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَفَّيْنِ فِي جَهَنَّمَ؛ صَفًّا عَنْ يَمِينِهِنَّ، وَصَفًّا عَنْ شِمَالِهِنَّ، يَنْبَحْنَ عَلَى أَهْلِ جَهَنَّمَ كَمَا تَنْبَحُ الْكِلابُ»
৮ - এবং এই সনদেই, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই বিলাপকারিণীদের কিয়ামতের দিন জাহান্নামে দুই সারিতে রাখা হবে; এক সারি তাদের ডান দিকে এবং এক সারি তাদের বাম দিকে, তারা জাহান্নামীদের ওপর ঘেউ ঘেউ করবে যেভাবে কুকুরেরা ঘেউ ঘেউ করে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١٠)
9 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ حَبِيبٍ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، ثنا يَحْيَى، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ قَنَتَ فِي صَلاةِ الْعَتَمَةِ شَهْرًا، مِنْ بَعْدِ مَا يَقُولُ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، يَقُولُ فِي قُنُوتِهِ: «اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ، اللَّهُمَّ أَنْجِ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ، اللَّهُمَّ أَنْجِ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، اللَّهُمَّ أَشِدَّ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ، اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ»
৯ - হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল হামিদ ইবনে হাবিব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আওজায়ি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু সালামা আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশার নামাজে এক মাস পর্যন্ত কুনুত পাঠ করেছেন। তিনি ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলার পর তাঁর কুনুতে বলতেন: “হে আল্লাহ! আপনি উদ্ধার করুন ওয়ালিদ ইবনে ওয়ালিদকে। হে আল্লাহ! আপনি উদ্ধার করুন সালামা ইবনে হিশাম ইবনে আবি রাবিআ এবং আইয়াশ ইবনে আবি রাবিআকে। হে আল্লাহ! আপনি মুমিনদের মধ্যে যারা দুর্বল ও নির্যাতিত তাদের উদ্ধার করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুদার গোত্রের ওপর আপনার পাকড়াও কঠোর করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের ওপর ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর বছরগুলোর মতো (দুর্ভিক্ষের) বছর চাপিয়ে দিন।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١١)
10 - حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، ثنا هِشَامٌ، ثنا يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«لا تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ عَلَى عَمَّتِهَا وَلا عَلَى خَالَتِهَا»
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, তিনি আবু সালামাহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোনো নারীকে তার ফুফু কিংবা তার খালার সাথে (একত্রে বিবাহ বন্ধনে) রাখা যাবে না»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: ‌‌«نَحَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَمَّنِ اعْتَمَرَ مِنْ نِسَائِهِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بَقَرَةً بَيْنَهُنَّ»
১১ - আমাদের নিকট হিশাম ইবনে আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আওযায়ী বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‌‌«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে যারা উমরাহ করেছিলেন তাদের পক্ষ থেকে একটি গাভী নহর করেছেন তাদের সবার মাঝে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ حَبِيبِ بْنِ أَبِي الْعِشْرِينَ كَاتِبِ الأَوْزَاعِيِّ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ مِنْ أَسْوَأِ النَّاسِ سَرِقَةً، الَّذِي يَسْرِقُ صَلاتَهُ» .

قَالُوا: فَكَيْفَ يَسْرِقُ صَلاتَهُ؟ قَالَ: «لا يُتِمُّ رُكُوعَهَا وَلا سُجُودَهَا»
১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে আম্মার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ীর লেখক আব্দুল হামিদ ইবনে হাবিব ইবনে আবিল ইশরিন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওযায়ী, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ চুরির দিক থেকে মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম সেই ব্যক্তি, যে নিজের সালাত চুরি করে।»।

তারা বললেন: সে কীভাবে নিজের সালাত চুরি করে? তিনি বললেন: «সে তার রুকু এবং সিজদা পূর্ণ করে না।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ أَبُو سَعِيدٍ، ثنا الْوَلِيدُ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: "‌‌ أُقِيمَتِ الصَّلاةُ وَصَفَّ النَّاسُ صُفُوفَهُمْ لِلصَّلاةِ، وَخَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَقْبَلَ يَمْشِي حَتَّى أَتَى مَقَامَهُ، ثُمَّ ذَكَرَ أَنَّهُ لَمْ يَغْتَسِلْ، فَقَالَ لِلنَّاسِ بِيَدِهِ هَكَذَا: «مَكَانَكُمْ» .

وَدَخَلَ بَيْتَهُ، فَاغْتَسَلَ، ثُمَّ خَرَجَ عَلَيْهِمْ، وَرَأَيْتُهُ يُنَظِّفُ، ثُمَّ صَلَّى بِهِمْ "
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে ইবরাহিম আদ-দিমাশকি আবু সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওজায়ী, যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "‌‌সালাতের ইকামত প্রদান করা হলো এবং লোকদল সালাতের জন্য তাদের কাতারসমূহ বিন্যস্ত করল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং হেঁটে অগ্রসর হলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর নির্ধারিত স্থানে আসলেন। অতঃপর তাঁর স্মরণে আসলো যে তিনি গোসল করেননি। তখন তিনি নিজের হাত দিয়ে লোকজনকে এভাবে ইশারা করে বললেন: «তোমরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো»।

অতঃপর তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং গোসল করলেন। এরপর তিনি তাদের নিকট বের হয়ে আসলেন; আমি তাঁকে দেখলাম যে (তাঁর মাথা থেকে পানি) ঝরছে। অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١٥)
14 - وَبِهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهَا‌‌ سَتَكُونُ بَعْدِي خُلَفَاءُ يَعْمَلُونَ بِمَا يَعْلَمُونَ، وَيَعْمَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ، وَسَيَكُونُ بَعْدَهُمْ خُلَفَاءُ يَعْمَلُونَ مَا لا يَعْلَمُونَ، وَيَفْعَلُونَ مَا لا يُؤْمَرُونَ، فَمَنْ أَنْكَرَ بَرِئَ، وَمَنْ أَمْسَكَ سَلِمَ، وَلَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ»
১৪ - এবং এই সনদে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার পরে এমন খলিফাগণ হবেন যারা যা জানেন সেই অনুযায়ী আমল করবেন এবং যা তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় তা পালন করবেন; এরপর তাদের পরে এমন খলিফাগণ হবেন যারা যা জানেন না সেই অনুযায়ী আমল করবেন এবং যা তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়নি তা করবেন। সুতরাং যে ব্যক্তি প্রতিবাদ করল সে দায়মুক্ত হলো এবং যে বিরত থাকল সে নিরাপদ হলো; কিন্তু যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলো এবং অনুসরণ করল (সে-ই ক্ষতিগ্রস্ত হলো)»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١٦)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، ثنا الْوَلِيدُ، ثنا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لا تَقَدَّمُوا صِيَامَ رَمَضَانَ بِصِيَامِ يَوْمٍ وَلا يَوْمَيْنِ، إِلا رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صِيَامًا فَلْيَصُمْهُ»
১৫ - আমাদের নিকট আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা রমজানের রোজা শুরু হওয়ার একদিন বা দুইদিন আগে থেকে রোজা রেখো না; তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে (নির্দিষ্ট দিনে) রোজা রাখতে অভ্যস্ত, সে যেন তা পালন করে।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١٧)
16 - حَدَّثَنَا بَحْرُ بْنُ سُوَيْدٍ الْبَصْرِيُّ، ثنا عُبَيْسُ بْنُ مَيْمُونٍ، ثنا يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ: إِذَا زُلْزِلَتِ، كَانَتْ لَهُ عَدْلَ نِصْفِ الْقُرْآنِ، وَمَنْ قَرَأَ: قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ رُبْعِ الْقُرْآنِ، وَمَنْ قَرَأَ: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ ثُلُثِ الْقُرْآنِ "
১৬ - আমাদের নিকট বাহর ইবন সুওয়াইদ আল-বাসরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইস ইবন মাইমুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "‌‌ যে ব্যক্তি রাতে 'ইযা যুলযিলাত' (সূরা আয-যালযালাহ) পাঠ করবে, তা তার জন্য কুরআনের অর্ধেকের সমতুল্য হবে; এবং যে ব্যক্তি 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন' (সূরা আল-কাফিরূন) পাঠ করবে, তা তার জন্য কুরআনের এক-চতুর্থাংশের সমতুল্য হবে; আর যে ব্যক্তি 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা আল-ইখলাস) পাঠ করবে, তা তার জন্য কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য হবে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١٨)
17 - حَدَّثَنَا سَعيِدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا أَيُّوبُ بْنُ عُتْبَةَ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ ثَلاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ، وَإِنْ صَلَّى وَصَامَ وَحَجَّ الْبَيْتَ، وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذِبَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ "
১৭ - সাঈদ ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব ইবনে উতবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "‌তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে সে একজন মুনাফিক, যদিও সে সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে ও বায়তুল্লাহর হাজ্জ সম্পাদন করে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, এবং যখন তাকে আমানতদার করা হয় তখন সে খেয়ানত করে, আর যখন সে ওয়াদা করে তখন তা ভঙ্গ করে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ١٩)
18 - حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْوَاسِطِيُّ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ مَسَحَ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ وَالْخُفَّيْنِ وَالْخِمَارِ» ، يَعْنِي الْعِمَامَةَ
১৮ - মুআল্লা ইবনে আবদুর রহমান আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল হামীদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, «নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজা, চামড়ার মোজা এবং খিমারের ওপর মাসাহ করেছেন», অর্থাৎ পাগড়ির ওপর
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢٠)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، ثنا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
১৯ - আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আওযাঈ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর থেকে, তিনি আবূ সালামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাতের সালাতে দাঁড়াবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে সালাতে দাঁড়াবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ شَيْبَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّمِيمِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ‌‌ رَجُلا أَنْكَحَ ابْنَةً لَهُ عَلَى عَهْدِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم ثَيِّبًا كَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ، وَكَانَتْ وَلَدَتْ مِنْهُ، فَأَتَتِ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَتْ لَهُ، فَقَالَ لَهَا: «أَكُنْتِ نَهَيْتِيهِ أَنْ يُزَوِّجَكِ؟» قَالَتْ: نَعَمْ، فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمْرَهَا بِيَدِهَا، فَرَدَّتْهُ
২০ - আব্দুর রহমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শায়বান ইবনু আব্দুর রহমান আত-তামীমী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর থেকে, তিনি আবূ সালামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে তার এক পূর্ব-বিবাহিতা কন্যাকে বিবাহ দেন, যে ইতিপূর্বে অন্য এক ব্যক্তির অধীনে (বিবাহে) ছিল এবং তার থেকে সন্তান লাভ করেছিল। অতঃপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তা উল্লেখ করল। তিনি তাকে বললেন: “তুমি কি তাকে তোমার বিবাহ দিতে নিষেধ করেছিলে?” সে বলল: “হ্যাঁ।” অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার বিষয়টি তার নিজের ইখতিয়ারে ন্যস্ত করলেন, ফলে সে তা প্রত্যাখ্যান করল।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢٢)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«ذَبَحَ عَمَّنِ اعْتَمَرَ مِنْ نِسَائِهِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بَقَرَةً بَيْنَهُنَّ»
২১ - আমাদের নিকট আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন আওযায়ী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): «বিদায় হজ্জে তাঁর যে সকল স্ত্রী উমরা পালন করেছিলেন, তাঁদের সকলের পক্ষ থেকে একটি গাভী যবাই করেছিলেন»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢٣)
22 - وَبِهِ، عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم: ‌‌{يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} [المطففين: 6] ، يَقُولُ: «نِصْفَ يَوْمٍ خَمْسِينَ أَلْفِ سَنَةٍ يَهُونُ ذَلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِ، كَتَدَلِّي الشَّمْسِ لِلْغُرُوبِ إِلَى أَنْ تَغْرُبَ»
২২ - এবং এই সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত: {যেদিন মানুষ বিশ্বজাহানের রবের সামনে দণ্ডায়মান হবে} [আল-মুতাফফিফিন: ৬], তিনি বলেন: "অর্ধেক দিন যা পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান, তা সহজ হবে মুমিনের জন্য, ঠিক যেমন সূর্য অস্ত যাওয়ার জন্য হেলে পড়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মতো।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢٤)
23 - حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ الأَنْصَارِيُّ، أَنْبَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ قُدَيْدٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ بَيْتَهُ، فَلا يَجْلِسْ حَتَّى يَرْكَعَ رَكْعَتَيْنِ، فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل جَاعِلٌ لَهُ مِنْ رَكْعَتَيْهِ فِي بَيْتِهِ خَيْرًا»
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দ ইবন আব্দুল হামিদ ইবন জাফর আল-আনসারী, সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবন ইয়াযিদ ইবন কুদাইদ, আওযাঈ থেকে, ইয়াহইয়া থেকে, আবু সালামাহ থেকে, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন তার ঘরে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় করার আগে না বসে; কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার ঘরে এই দুই রাকাত সালাতের মাধ্যমে তার জন্য কল্যাণ দান করেন।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢٥)
24 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى الأَشْيَبُ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالا: ثنا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّحْوِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ خُزَاعَةَ قَتَلُوا رَجُلا مِنْ بَنِي لَيْثٍ عَامَ فَتْحِ مَكَّةَ، بِقَتِيلٍ مِنْهُمْ قَتَلُوهُ، فَأُخْبِرَ بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَرَكِبَ رَاحِلَتَهُ، فَخَطَبَ، فَقَالَ: " إِنَّ‌‌ اللَّهَ عز وجل حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ وَسَلَّطَ عَلَيْهَا رَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ، أَلا وَإِنَّهَا لَمْ تَحِلَّ لأَحَدٍ كَانَ قَبْلِي، وَلا تَحِلُّ لأَحَدٍ بَعْدِي، أَلا وَإِنَّهَا أُحِلَّتْ لِي سَاعَةً مِنَ النَّهَارِ، أَلا وَإِنَّهَا سَاعَتِي هَذِهِ حَرَامٌ، لا يُخْتَلَى شَوْكُهَا، وَلا يُعْضَدُ شَجَرُهَا، وَلا يَلْتَقِطُ سَاقِطَتَهَا إِلا مُنْشِدٌ، وَمَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ: إِمَّا أَنْ يَعْقِلَ، وَإِمَّا أَنْ يُقَادَ أَهْلُ الْقَتِيلِ، قَالَ: فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ يُقَالُ لَهُ: أَبُو شَاةٍ، فَقَالَ: اكْتُبْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «اكْتُبُوا لأَبِي شَاةٍ» .

فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ: إِلا الإِذْخِرَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؛ فَإِنَّا نَجْعَلُهُ فِي بُيُوتِنَا وَقُبُورِنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِلا الإِذْخِرَ، إِلا الإِذْخِرَ» ، مَرَّتَيْنِ
২৪ - হাসান ইবনে মুসা আল-আশইয়াব এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেন: শায়বান ইবনে আবদুর রহমান আন-নাহবী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি বলেন: আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা তাকে সংবাদ দিয়েছেন: মক্কা বিজয়ের বছর খুজাআ গোত্র বনু লাইস গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল তাদের একজনকে হত্যার প্রতিশোধ স্বরূপ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সংবাদ জানানো হলে তিনি তাঁর সওয়ারিতে আরোহণ করলেন এবং খুতবা দিলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ মক্কা থেকে হাতিকে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন এবং এর উপর তাঁর রাসূল ও মুমিনদের কর্তৃত্ব দান করেছেন। জেনে রেখো, এটি আমার পূর্বে আর কারও জন্য হালাল ছিল না, এবং আমার পরেও কারও জন্য হালাল হবে না। জেনে রেখো, দিনের কিছু সময়ের জন্য এটি আমার জন্য হালাল করা হয়েছিল। সাবধান, আমার এই সময়ের পর থেকে এটি হারাম; এর কাঁটা উপড়ানো যাবে না, এর গাছ কাটা যাবে না, এবং এর পড়ে থাকা বস্তু কেউ কুড়িয়ে নিতে পারবে না কেবল ঘোষণা দানকারী ব্যতীত। আর যার কোনো আত্মীয়কে হত্যা করা হয়েছে, তার জন্য দুটি সিদ্ধান্তের মধ্যে যেটি উত্তম তা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে: হয় সে রক্তপণ গ্রহণ করবে, অথবা নিহত ব্যক্তির পরিবার প্রাণের বদলা গ্রহণ করবে।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন ইয়েমেনের এক ব্যক্তি আসল যাকে আবু শাহ বলা হতো; সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য এটি লিখে দিন। তিনি বললেন: "তোমরা আবু শাহর জন্য লিখে দাও।"

অতঃপর কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! ইজখির ঘাস ব্যতীত; কেননা আমরা এটি আমাদের ঘরবাড়ি ও কবরে ব্যবহার করি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "ইজখির ব্যতীত, ইজখির ব্যতীত", তিনি কথাটি দুবার বললেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢٦)
25 - حَدَّثَنَا الأَشْيَبُ، ثنا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، كَانَ يَقُولُ: ‌‌«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ»
২৫ - আশইয়াব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শায়বান আমাদের নিকট ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: «হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢٧)
26 - حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثنا أَيُّوبُ بْنُ عُتْبَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ‌‌ قَرَأَ: إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ، فَسَجَدَ فِيهَا، قَالَ: قُلْتُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، أَتَسْجُدُ فِيهَا؟ قَالَ: «لَوْ لَمْ أَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ فِيهَا لَمْ أَسْجُدْ فِيهَا»
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনুল ওয়ালিদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব ইবনে উতবা, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, আবু সালামাহ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, তিনি পাঠ করলেন: যখন আসমান ফেটে যাবে (সূরা ইনশিক্বাক্ব), অতঃপর তিনি তাতে সাজদাহ করলেন। তিনি (আবু সালামাহ) বলেন: আমি বললাম: হে আবু হুরায়রা! আপনি কি এতে সাজদাহ করেন? তিনি বললেন: «যদি আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এতে সাজদাহ করতে না দেখতাম, তবে আমি এতে সাজদাহ করতাম না।»
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
27 - وَبِهِ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‌‌ إِذَا صَلَّى عَلَى الْجِنَازَةِ، قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ فَأَحْيِهِ عَلَى الإِسْلامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ فَتَوَفَّهِ عَلَى الإِيمَانِ»
২৭ - এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাযার সালাত আদায় করতেন, তখন বলতেন: «হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জীবিত ও মৃতদের, আমাদের উপস্থিত ও অনুপস্থিতদের এবং আমাদের ছোট ও বড়দের, আমাদের পুরুষ ও নারীদের ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাকে জীবিত রাখেন, তাকে ইসলামের ওপর জীবিত রাখুন; আর যাকে মৃত্যু দান করেন, তাকে ঈমানের ওপর মৃত্যু দান করুন»।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবি উমাইয়্যা আত-তারসুসি (পৃষ্ঠা: ٢٩)
28 - وَبِهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«اسْتَغْفَرَ لِلصَّفِّ الأَوَّلِ ثَلاثًا، وَلِلَّذِي يَلِيهِ مَرَّتَيْنِ، وَالَّذِي يَلِيهِ مَرَّةً»
২৮ - এবং একই সূত্রে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: «তিনি প্রথম সারির জন্য তিনবার, তার পরবর্তী সারির জন্য দুইবার এবং তার পরবর্তী সারির জন্য একবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন»