(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: -)
حديث أبي اليمان   (الحكم بن نافع البهرانى)

القسم: كتب السنة


الكتاب: حديث أبي اليمان

المؤلف: الحكم بن نافع البهرانى، أبو اليمان الحمصى (ت 222هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 70

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদিসে আবি আল-ইয়ামান   (আল-হাকাম বিন নাফে আল-বাহরানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: হাদিসে আবি আল-ইয়ামান

লেখক: আল-হাকাম বিন নাফে আল-বাহরানি، আবু আল-ইয়ামান আল-হিমসি (মৃত্যু ২২২ হিজরি)

প্রকাশক: ইসলাম ওয়েব সাইটের অধীনস্থ ফ্রি জাওয়ামিউল কালিম প্রোগ্রামে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪

[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১)
جُزْءٌ فِيهِ أَحَادِيثُ أَبِي الْيَمَانِ الْحَكَمِ بْنِ نَافِعٍ رِوَايَةُ الشَّيْخِ الإِمَامِ الْحَاكِمِ أَبِي مَنْصُورٍ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الشِّيرَازِيِّ ، حَرَسَهُ اللَّهُ ، عَنِ الشَّيْخِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ اللَّيْثِ الشَّاهِدِ ، رحمه الله.

بسم الله الرحمن الرحيم
একটি খণ্ড, এতে রয়েছে আবুল ইয়ামান আল-হাকাম বিন নাফিকের বর্ণিত হাদিসসমূহ; এটি শাইখ ইমাম আল-হাকিম আবু মনসুর আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-শিরাজি—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—কর্তৃক বর্ণিত, শাইখ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-লাইস আশ-শাহিদ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—এর নিকট থেকে।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَاكِمُ أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ يَحْيَى الشِّيرَازِيُّ ، حَرَسَهُ اللَّهُ ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ ، فِي صَفَرَ سَنَةَ تِسْعَ عَشْرَةَ وَخَمْسِ مِائَةٍ ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ اللَّيْثِ الشَّاهِدُ الصَّفَّارُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، قَالَ: أنا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خُمَيْرَوَيْهِ الْكَرَابِيسِيُّ، نا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى الْخُزَاعِيُّ الْجَكَّانِيُّ، ثنا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَتْ: كَانَ عُتْبَةُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ عَهِدَ إِلَى أَخِيهِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنْ يَقْبِضَ إِلَيْهِ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ.

وَقَالَ عُتْبَةُ: إِنَّهُ ابْنِي.

فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْفَتْحِ أَخَذَ سَعْدٌ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ فَأَقْبَلَ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَأَقْبَلَ مَعَهُ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ ، فَقَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ هَذَا ابْنُ أَخِي عَهِدَ إِلَيَّ أَنَّهُ ابْنُهُ، وَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا أَخِي ابْنُ زَمْعَةَ ، وَوُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ.

فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى ابْنِ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ فَإِذَا هُوَ أَشْبَهُ النَّاسِ بِعُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، فَقَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ بْنَ زَمْعَةَ؛ مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ وُلِدَ عَلَى فِرَاشِ أَبِيهِ» .

وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «احْتَجِبِي مِنْهُ يَا سَوْدَةُ بِنْتَ زَمْعَةَ» .

مِمَّا رَأَى مِنْ شَبَهِهِ بِعُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ.

وَسَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১ - শায়খ ইমাম হাকিম আবু মনসুর আবদুর রহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আশ-শিরাজি—আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন—৫১৯ হিজরি সালের সফর মাসে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: ৪৪৬ হিজরি সালের রমজান মাসে শায়খ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে লাইস আশ-শাহিদ আস-সাফফার—তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে—আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খুমাইরাওয়াইহ আল-কারাবিসি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-খুজায়ি আল-জাক্কানি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি। আমাকে অবহিত করেছেন শুআইব ইবনে আবি হামজা, তিনি জুহরি থেকে, তিনি বর্ণনা করেন উরওয়া ইবনে যুবাইর থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: উতবা ইবনে আবি ওয়াক্কাস তাঁর ভাই সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে অসিয়ত করেছিলেন যেন তিনি জামআর দাসীর পুত্রকে নিজের কাছে গ্রহণ করেন।

উতবা বলেছিলেন: সে আমার পুত্র।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিজয়ের সময় মক্কায় আসলেন, তখন সাদ জামআর দাসীর পুত্রকে নিলেন এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে আসলেন। তাঁর সাথে আবদ ইবনে জামআও আসলেন। তখন সাদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল!‌‌ এটি আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, আমার ভাই আমাকে অসিয়ত করেছিলেন যে সে তাঁরই পুত্র। আর আবদ ইবনে জামআ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাই, জামআর পুত্র এবং সে তাঁর বিছানায় জন্মগ্রহণ করেছে।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামআর দাসীর পুত্রের দিকে তাকালেন এবং দেখলেন যে সে মানুষের মধ্যে উতবা ইবনে আবি ওয়াক্কাসের সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে আবদ ইবনে জামআ! সে তোমারই প্রাপ্য; কারণ সে তার পিতার বিছানায় জন্মগ্রহণ করেছে»।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে সাওদা বিনতে জামআ! তুমি তার থেকে পর্দা করো»।

উতবা ইবনে আবি ওয়াক্কাসের সাথে তার সাদৃশ্য দেখার কারণেই তিনি এই আদেশ দিয়েছিলেন।

আর সাওদা বিনতে জামআ ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ» .

وَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَصِيحُ بِذَلِك
২ - আমাদের নিকট আবু আল-ইয়ামান বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি বলেন: উরওয়াহ ইবনুল যুবায়র আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী আয়িশা (রা.) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌«সন্তান বিছানার (মালিকের) জন্য এবং ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর» .

আর আবু হুরায়রা (রা.) উচ্চস্বরে এটি ঘোষণা করতেন।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ هِشَامَ بْنَ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، وَجَدَ عِيَاضَ بْنَ غُنْمٍ وَهُوَ عَلَى حِمْصَ شَمَّسَ أُنَاسًا مَنْ نَبَطٍ فِي أَدَاءِ الْجِزْيَةِ، فَقَالَ لَهُ هِشَامٌ: مَا هَذَا يَا عِيَاضُ؟ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «إِنَّ‌‌ اللَّهَ تَعَالَى يُعَذِّبُ الَّذِينَ يُعَذِّبُونَ النَّاسَ فِي الدُّنْيَا»
৩ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাকে যুহরী থেকে সংবাদ দিয়েছেন, উরওয়াহ ইবনে যুবাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হিশাম ইবনে হাকিম ইবনে হিযাম ইয়াদ ইবনে গুনমকে হিমস অঞ্চলের গভর্নর থাকাকালীন এমতাবস্থায় পেলেন যে, তিনি জিজিয়া আদায়ের জন্য কতিপয় নাবাতী লোককে রোদে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। তখন হিশাম তাকে বললেন: হে ইয়াদ, এটি কী? নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সেই সব লোককে শাস্তি দেবেন যারা দুনিয়াতে মানুষকে শাস্তি দেয়।»
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، وَأُمُّهَا أُمُّ سَلَمَةَ ، زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ، أَخْبَرَتْهَا، أَنَّهَا قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ أَنْكِحْ أُخْتِي ابْنَةَ أَبِي سُفْيَانَ.

قَالَتْ: فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَوَتُحِبِّينَ ذَلِكَ؟» قَالَتْ:
فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَعَمْ وَلَسْتُ لَكَ بِمُخْلِيَةٍ ، وَأَحَبُّ مَنْ يُشْرِكُنِي فِي خَيْرٍ أُخْتِي، قَالَتْ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ ذَلِكَ لا يَحِلُّ لِي» .

قَالَتْ: فَقُلْتُ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَنَتَحَدَّثُ أَنَّكَ تُرِيدُ أَنْ تَنْكِحَ دُرَّةَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ.

فَقَالَ: «ابْنَةُ أُمِّ سَلَمَةَ» .

قَالَتْ: فَقُلْتُ: نَعَمْ.

فَقَالَ: «وَاللَّهِ لَوْ أَنَّهَا لَمْ تَكُنْ رَبِيبَتِي فِي حِجْرِي مَا حَلَّتْ لِي ، إِنَّهَا لابْنَةُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ ، أَرْضَعَتْنِي وَأَبَا سَلَمَةَ ثُوَيْبَةُ ، فَلا تَعْرِضْنَ عَلَيَّ بَنَاتِكُنَّ وَلا أَخَوَاتِكُنَّ» .

قَالَ عُرْوَةُ: وَثُوَيْبَةُ مَوْلاةُ أَبِي لَهَبٍ، كَانَ أَبُو لَهَبٍ أَعْتَقَهَا فَأَرْضَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا مَاتَ أَبُو لَهَبٍ أُرِيَهُ بَعْضُ أَهْلِهِ فِي النَّوْمِ بِشَرِّ خَيْبَةٍ، فَقَالَتْ لَهُ: مَاذَا لَقِيتَ؟ فَقَالَ أَبُو لَهَبٍ: لَمْ أَلْقَ بَعْدَكُمْ رَخَاءً، غَيْرَ أَنِّي قَدْ سُقِيتُ فِي هَذِهِ مِنِّي بِعَتَاقَتِي ثُوَيْبَةَ، وَأَشَارَ إِلَى النُّقَيْرَةِ الَّتِي بَيْنَ الإِبْهَامِ وَالَّتِي تَلِيهَا مِنَ الأَصَابِعِ
৪ - আমাদের নিকট আবুল ইয়ামান হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে শুআইব সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি বলেন, আমাকে উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে, যয়নব বিনতে আবি সালামাহ এবং তাঁর মাতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী উম্মু সালামাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উম্মু হাবিবা বিনতে আবি সুফিয়ান তাকে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার বোন অর্থাৎ আবু সুফিয়ানের কন্যাকে বিবাহ করুন।

তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "তুমি কি তা পছন্দ করো?" তিনি বলেন:
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! হ্যাঁ, আমি তো আপনার জন্য একক হতে চাই না, আর আমার বোন কল্যাণের কাজে আমার সাথে অংশীদার হোক—এটাই আমি সবচাইতে বেশি পছন্দ করি। তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই তা আমার জন্য বৈধ নয়।"

তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো আলোচনা করছিলাম যে, আপনি আবু সালামাহর কন্যা দুররাহকে বিবাহ করতে চাচ্ছেন।

তিনি বললেন: "উম্মু সালামাহর কন্যার কথা বলছো?"

তিনি বলেন: আমি বললাম: হ্যাঁ।

তিনি বললেন: "আল্লাহর শপথ! সে যদি আমার কোলে লালিত-পালিত আমার পালিতা কন্যা নাও হতো, তবুও সে আমার জন্য বৈধ হতো না; কারণ সে আমার দুধ-ভাইয়ের কন্যা। থুওয়াইবাহ আমাকে এবং আবু সালামাহকে দুধ পান করিয়েছেন। অতএব তোমরা আমার কাছে তোমাদের কন্যাদের বা তোমাদের বোনদের (বিবাহের জন্য) পেশ করো না।"

উরওয়াহ বলেন: থুওয়াইবাহ ছিলেন আবু লাহাবের মুক্তদাসী। আবু লাহাব তাঁকে মুক্ত করে দিয়েছিল এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুধ পান করিয়েছিলেন। অতঃপর যখন আবু লাহাব মারা গেল, তখন তার পরিবারের কেউ তাকে স্বপ্নে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দেখতে পেল। সে তাকে জিজ্ঞেস করল: তোমার কী অবস্থা হয়েছে? আবু লাহাব বলল: তোমাদের ছেড়ে আসার পর আমি কোনো স্বস্তি পাইনি; তবে থুওয়াইবাহকে মুক্ত করার কারণে আমাকে এই (আঙ্গুলের গোড়া) থেকে সামান্য পান করতে দেওয়া হয়। আর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তার পাশের আঙ্গুলের মধ্যবর্তী গর্তের মতো স্থানের দিকে ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ يَقُومُ عَلَى بَابِ حُجْرَتِي وَالْحَبَشَةُ يَلْعَبُونَ بِالْحِرَابِ فِي الْمَسْجِدِ ، وَإِنَّهُ لَيَسْتُرُنِي بِرِدَائِهِ، لِكَيْ أَنْظُرُ إِلَى لَعِبِهِمْ، ثُمَّ يَقُومُ مِنْ أَجْلِي حَتَّى أَكُونَ أَنَا الَّذِي أَمَلُّ فَأَنْصَرِفُ، فَأَقْدِرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ الْحَدِيثَةِ السِّنِّ الْحَرِيصَةِ عَلَى اللَّهْوِ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, যুহরী থেকে বর্ণিত, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর যে, আয়েশা (রা.) বলেছেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি আমার কক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং হাবশীরা মসজিদে বর্শা নিয়ে খেলা করছিল; আর তিনি আমাকে তাঁর চাদর দিয়ে আড়াল করে রাখছিলেন যাতে আমি তাদের খেলা দেখতে পারি। অতঃপর তিনি আমার খাতিরে দাঁড়িয়ে থাকতেন যতক্ষণ না আমি নিজেই ক্লান্ত হয়ে প্রস্থান করতাম। অতএব তোমরা অল্পবয়স্কা এবং আমোদ-প্রমোদে আগ্রহী বালিকাদের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করো।»
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: " كَانَ أَبُو بَكْرٍ نَحَلَنِي جِدَادَ عِشْرِينَ وَسْقًا مِنْ مَالِهِ، فَلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ جَلَسَ فَاحْتَبَى ثُمَّ تَشَهَّدَ، ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ أَيْ بُنَيَّةُ‌‌ فَإِنَّ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَيَّ غِنًى بَعْدِي لأَنْتِ، وَإِنَّ أَعَزَّ النَّاسِ عَلَيَّ فَقْرًا بَعْدِي لأَنْتِ، وَإِنِّي كُنْتُ نَحَلْتُكِ جِدَادَ عِشْرِينَ وَسْقًا مِنْ مَالِي فَوَدِدْتُ وَاللَّهِ أَنَّكِ كُنْتُ حُزْتِيهِ وَاجْتَذَذْتِيهِ، وَلَكِنْ إِنَّمَا هُوَ الْيَوْمَ مَالُ الْوَارِثِ وَإِنَّمَا هُوَ أَخَوَاكِ وَأُخْتَاكِ.

قَالَتْ: فَقُلْتُ: أَيْ أَبَتَاهُ هَذِهِ أَسْمَاءُ، فَمَنِ الأُخْرَى؟ فَقَالَ: ذُو بَطْنٍ ابْنَةُ خَارِجَةَ ، أُرِيَهَا جَارِيَةً ،.

قَالَتْ: فَقُلْتُ: لَوْ أَعْطَيْتَنِي مَا بَيْنَ كَذَا إِلَى كَذَا لَرَدَدْتُهُ إِلَيْكَ.

قَالَتْ: وَقُلْتُ: حِينَ نَزَلَ بِهِ مَنْ لا يَزَالُ دَمْعُهُ مُقَنَّعًا فَإِنَّهُ يَوْمٌ مَدْفُوقٌ.

قَالَتْ: فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَهُوَ يَجُودُ بِنَفْسِهِ: أَيْ بُنَيَّةُ لَيْسَ كَذَلِكَ، وَلَكِنْ قُولِي: {وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ} [ق: 19] "

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: كَانَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ ، يَقُولُ: يُرَدُّ مِنْ جَنَفِ الْحَيِّ النَّاحِلِ فِي حَيَاتِهِ مَا يُرَدُّ مِنْ جَنَفِ الْمَيِّتِ فِي وَصِيَّتِهِ عِنْدَ وَفَاتِهِ
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, যুহরী থেকে, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর যে, আয়েশা (রা.) বলেছেন: "আবু বকর (রা.) আমাকে তাঁর সম্পদ থেকে বিশ ওয়াসক পরিমাণ (খেজুরের) ফলন দান করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তিনি বসলেন এবং হাঁটু গেড়ে কাপড় দিয়ে পিঠের সাথে বেঁধে হেলান দিয়ে বসলেন। এরপর তিনি কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন এবং বললেন: অতঃপর, হে প্রিয় বৎস! আমার পরে তোমার সচ্ছল থাকা আমার নিকট অন্য সবার চেয়ে অধিক প্রিয়, আর আমার পরে তোমার অভাবগ্রস্ত হওয়া আমার নিকট অন্য সবার চেয়ে অধিক কষ্টদায়ক। আমি তোমাকে আমার সম্পদ থেকে বিশ ওয়াসক পরিমাণ (খেজুরের) ফলন দান করেছিলাম। আল্লাহর কসম! আমি চেয়েছিলাম যে তুমি তা নিজের অধিকারে নিতে এবং তা ভোগ করতে। কিন্তু আজ তা উত্তরাধিকারীদের সম্পদে পরিণত হয়েছে। আর তোমার উত্তরাধিকারী হলো তোমার দুই ভাই এবং দুই বোন।

তিনি (আয়েশা) বলেন, আমি বললাম: হে আব্বাজান! আসমা তো (আমার এক বোন), তবে অন্যজন কে? তিনি বললেন: বিনতে খারিজার গর্ভে যে সন্তান আছে, আমার মনে হচ্ছে সে একটি কন্যা সন্তান হবে।

তিনি বলেন, আমি বললাম: আপনি যদি আমাকে অমুক থেকে অমুক পরিমাণও দিতেন, তবুও আমি তা আপনার কাছে ফিরিয়ে দিতাম।

তিনি বলেন, যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো তখন আমি (কবিতার চরণে) বললাম: যার চোখের পানি সর্বদা আবৃত থাকে, আজকের দিনটি হলো তা ঝরিয়ে দেওয়ার দিন।

তিনি বলেন, আবু বকর (রা.) তখন মুমূর্ষু অবস্থায় প্রাণত্যাগ করছিলেন। তিনি বললেন: হে প্রিয় বৎস! এমনটি বলো না, বরং বলো: "মৃত্যু যন্ত্রণা সত্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছে, এটিই সেই বিষয় যা থেকে তুমি পলায়ন করতে।" [সূরা ক্বাফ: ১৯]

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, যুহরী থেকে, তিনি বলেন, উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর বলতেন: জীবিত অবস্থায় দানকারীর অন্যায্য পক্ষপাতমূলক দান সেভাবেই রদ করা হবে, যেভাবে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময়ের অন্যায্য অসিয়ত রদ করা হয়।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ، عَنْ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: ‌‌{حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا} [يوسف: 110] أَكُذِبُوا أَمْ كُذِّبُوا؟ قَالَتْ: بَلْ كُذِّبُوا.

قَالَ: فَقُلْتُ: لَقَدِ اسْتَيْقَنُوا أَنَّ قَوْمَهُمْ قَدْ كَذَّبُوهُمْ وَمَا هُوَ بِالظَّنِّ.

فَقَالَتْ: «أَجَلْ ، لَعَمْرِي لَقَدِ اسْتَيْقَنُوا بِذَلِكَ» .

قَالَ: فَقُلْتُ: فَلَعَلَّهَا ، وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا.

فَقَالَتْ: «مَعَاذَ اللَّهِ لَمْ تَكُنِ الرُّسُلُ لِتَظُنَّ ذَلِكَ بِرَبِّهَا» .

قَالَ: فَقُلْتُ: فَمَا هَذِهِ الآيَةُ؟ قَالَتْ: هُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ الَّذِينَ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَصَدَّقُوهُمْ طَالَ عَلَيْهِمُ الْبَلاءَ وَاسْتُؤْخِرَ عَنْهُمُ النَّصْرُ، حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ مِنْ قَوْمِهِمْ وَظَنُّوا أَنَّ أَتْبَاعَهُمُ الَّذِينَ آمَنُوا بِهِمْ قَدْ كَذَّبُوهُمْ جَاءَهُمْ نَصْرُ اللَّهِ عِنْدَ ذَلِكَ ".

رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ أَبِي الْيَمَانِ.

وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ أَبِي الْيَمَانِ
৭ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব যুহরী থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আয়েশাহ (রা.)-কে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: ‘অবশেষে যখন রাসূলগণ নিরাশ হলেন এবং তারা মনে করলেন যে, তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে’ [ইউসুফ: ১১০] — এখানে শব্দটি কি ‘তাদের সাথে মিথ্যা বলা হয়েছে’ পড়া হবে নাকি ‘তাদের মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে’? আয়েশাহ (রা.) বললেন: বরং তারা ‘মিথ্যাবাদী হিসেবে প্রত্যাখ্যাত’ হয়েছিলেন।

তিনি (উরওয়াহ) বললেন: আমি বললাম, তারা তো সুনিশ্চিতভাবেই জানতেন যে তাদের সম্প্রদায় তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, সুতরাং এখানে ‘ধারণা করা’র বিষয়টি কী?

আয়েশাহ (রা.) বললেন: ‘হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম! তারা এ বিষয়ে নিশ্চিতই ছিলেন।’

তিনি (উরওয়াহ) বললেন: আমি বললাম, তবে কি আয়াতের অর্থ এমন হতে পারে যে— ‘এবং তারা ধারণা করলেন যে তাদের (আল্লাহর পক্ষ থেকে) মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে’?

আয়েশাহ (রা.) বললেন: ‘আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই! রাসূলগণ তাঁদের প্রতিপালক সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করতে পারেন না।’

তিনি (উরওয়াহ) বললেন: আমি বললাম, তবে এই আয়াতের প্রকৃত ব্যাখ্যা কী? তিনি বললেন: ‘তারা হলেন রাসূলগণের সেই সব অনুসারী যারা তাঁদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিলেন এবং তাঁদের সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের ওপর পরীক্ষার কাল দীর্ঘায়িত হলো এবং সাহায্য আসতে বিলম্ব হলো। অবশেষে যখন রাসূলগণ তাঁদের সম্প্রদায়ের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হলেন এবং ধারণা করলেন যে তাঁদের অনুসারীরাও হয়তো তাঁদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, সেই সংকটময় মুহূর্তে তাঁদের নিকট আল্লাহর সাহায্য চলে এল।’

ইমাম বুখারী এটি আবুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম মুসলিম এটি আবু বকর ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আবুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ 26 ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: كَانَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، يُحَدِّثُ أَنَّهُ، سَأَلَ عَائِشَةَ ، عَنْ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: ‌‌{وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} [النساء: 3] .

قَالَتْ عَائِشَةُ ، رضي الله عنها وَعَنْ أَبِيهَا: هِيَ الْيَتِيمَةُ تَكُونُ فِي حِجْرِ وَلِيِّهَا فَيَرْغَبُ فِي جَمَالِهَا وَمَالِهَا وَيُرِيدُ أَنْ يَتَزَوَّجَهَا بِأَدْنَى مِنْ سُنَّةِ نِسَائِهَا، فَنُهُوا عَنْ نِكَاحِهِنَّ إِلا أَنْ يُقْسِطُوا لَهُنَّ فِي إِكْمَالِ الصَّدَاقِ، وَأُمِرُوا بِنِكَاحِ مَنْ سِوَاهُنَّ مِنَ النِّسَاءِ.

قَالَتْ عَائِشَةُ: ثُمَّ اسْتَفْتَى النَّاسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ} [النساء: 127] الآيَةَ ، قَالَتْ عَائِشَةُ: «فَبَيَّنَ اللَّهُ لَهُمْ فِي هَذِهِ الآيَةِ أَنَّ الْيَتِيمَةَ إِذَا كَانَتْ ذَاتَ جَمَالٍ وَمَالٍ رَغِبُوا فِي نِكَاحِهَا، وَلَمْ يُلْحِقُوهَا بِسُنَّةِ نِسَائِهَا فِي إِكْمَالِ الصَّدَاقِ، وَإِذَا كَانَتْ مَرْغُوبًا عَنْهَا مِنْ قِلَّةِ الْجَمَالِ وَالْمَالِ تَرَكُوهَا وَالْتَمَسُوا غَيْرَهَا مِنَ النِّسَاءِ» .

قَالَتْ عَائِشَةُ: «فَكَمَا تَرَكُوهَا حِينَ يَرْغَبُونَ عَنْهَا فَلَيْسَ لَهُمْ أَنْ يَنْكِحُوهَا إِذَا رَغِبُوا فِيهَا إِلا أَنْ يُقْسِطُوا لَهَا وَيُعْطُوهَا حَقَّهَا الأَوْفَى مِنَ الصَّدَاقِ»
৮ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর বর্ণনা করতেন যে, তিনি আয়েশাকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: {আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ইয়াতিম মেয়েদের প্রতি তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্যে তোমাদের পছন্দমতো দুই, তিন বা চারটি বিয়ে করো; কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে (বিয়ে করো)} [নিসা: ৩]।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা ও তাঁর পিতার প্রতিও) বললেন: এটি হলো সেই ইয়াতিম মেয়ে সম্পর্কে যে তার অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে, আর অভিভাবক তার সৌন্দর্য ও সম্পদের প্রতি আগ্রহী হয়ে তাকে তার সমগোত্রীয় নারীদের প্রাপ্য মোহরের চেয়ে কম মোহর দিয়ে বিয়ে করতে চায়। ফলে তাদেরকে সেই ইয়াতিম মেয়েদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে যতক্ষণ না তারা পূর্ণ মোহর প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতি সুবিচার করে। আর তাদের পরিবর্তে অন্য নারীদের বিয়ে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আয়েশা বললেন: অতঃপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফতোয়া চাইল। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ফতোয়া চায়। বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন...} [নিসা: ১২৭] আয়াতটি। আয়েশা বললেন: আল্লাহ এই আয়াতে তাদের জন্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইয়াতিম মেয়েটি যখন সৌন্দর্য ও সম্পদের অধিকারিণী হয় তখন তারা তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী হয়, অথচ তাকে তার সমগোত্রীয় নারীদের ন্যায় পূর্ণ মোহর প্রদান করে না। আবার সৌন্দর্য ও সম্পদের স্বল্পতার কারণে যখন সে অনাগ্রহের পাত্রী হয়, তখন তারা তাকে ছেড়ে দেয় এবং অন্য নারীদের সন্ধান করে।

আয়েশা বললেন: সুতরাং অনাগ্রহের সময় যেমন তারা তাকে বর্জন করত, তেমনি আগ্রহের সময়ও তাকে বিয়ে করার অধিকার তাদের নেই যতক্ষণ না তারা তার প্রতি সুবিচার করে এবং তাকে মোহরের পূর্ণ ও যথাযথ প্রাপ্য অধিকার প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: اسْتَأْذَنَ عَلَيَّ أَفْلَحُ أَخُو أَبِي قُعَيْسٍ بَعْدَمَا أُنْزِلَ الْحِجَابُ، فَقُلْتُ لَهُ: لا آذَنُ لَكَ، حَتَّى أَسْتَأْذِنَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَإِنَّ أَخَا أَبِي الْقُعَيْسِ لَيْسَ هُوَ أَرْضَعَنِي وَلَكِنْ أَرْضَعَتْنِي امْرَأَةُ أَبِي الْقُعَيْسِ، قَالَتْ: فَدَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ‌‌ أَفْلَحَ أَخَا أَبِي الْقُعَيْسِ اسْتَأْذَنَ عَلَيَّ فَأَبَيْتُ أَنْ آذَنَ لَهُ حَتَّى أَسْتَأْذِنَكَ فِي ذَلِكَ.

فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا يَمْنَعُكِ أَنْ تَأْذَنِي لِعَمِّكِ؟» فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ لَيْسَ هُوَ أَرْضَعَنِي، وَلَكِنْ أَرْضَعَتْنِي امْرَأَتُهُ.

فَقَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ائْذَنِي لَهُ فَإِنَّهُ عَمُّكِ، تَرِبَتْ يَمِينُكِ» .

قَالَ عُرْوَةُ: فَبِذَلِكَ كَانَتْ تَقُولُ: حَرِّمُوا مِنَ الرَّضَاعَةِ مَا تُحَرِّمُونَ مِنَ النَّسَبِ
৯ - আমাদের নিকট আবুল ইয়ামান বর্ণনা করেছেন, তিনি শুআইব থেকে, তিনি যুহরী থেকে, উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর আবু কুআইসের ভাই আফলাহ আমার নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে বললাম: আমি আপনাকে অনুমতি দেব না যতক্ষণ না আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এ বিষয়ে অনুমতি গ্রহণ করি। কারণ আবু কুআইসের ভাই আমাকে দুধ পান করাননি, বরং আবু কুআইসের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট আসলেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই‌‌ আবু কুআইসের ভাই আফলাহ আমার নিকট আসার অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি এ বিষয়ে আপনার অনুমতি না নেওয়া পর্যন্ত তাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছি।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: "তোমার চাচাকে অনুমতি দিতে তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ঐ ব্যক্তি তো আমাকে দুধ পান করাননি, বরং তার স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন।

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তাকে অনুমতি দাও, কেননা সে তোমার চাচা, তোমার ডান হাত ধূলিময় হোক।"

উরওয়াহ বলেন: এই কারণে তিনি বলতেন: বংশীয় সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয়, দুগ্ধপানের কারণেও তা হারাম করো।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ ، وَهُوَ أَحَدُ بَنِي عَبْسٍ ، قَاتَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ وَأَبُوهُ الْيَمَانُ يَوْمَ أُحُدٍ،‌‌ فَأَخْطَأَ الْمُسْلِمُونَ يَوْمَئِذٍ بِأَبِيهِ يَحْسَبُونَهُ مِنَ الْعَدُوِّ فَتَرَاشَقُوهُ بِأَسْيَافِهِمْ، فَطَفِقَ حُذَيْفَةُ يَقُولُ: أَبِي أَبِي.

فَلَمْ يَنْهَهُمْ قَوْلُهُ حَتَّى قَتَلُوهُ، فَقَالَ حُذَيْفَةُ عِنْدَ ذَلِكَ: " {يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ} [يوسف: 92] ".

فَبَلَغَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، فَزَادَ حُذَيْفَةُ عِنْدَهُ خَيْرًا
১০ - আবু ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, যুহরি থেকে বর্ণিত, উরওয়াহ ইবনে যুবাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, বনী আবস গোত্রের হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং তার পিতা ইয়ামান ওহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন। সেদিন মুসলিমগণ ভুলবশত তাঁর পিতার ওপর চড়াও হলেন, তাঁরা তাঁকে শত্রু মনে করে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন। তখন হুজাইফা বলতে লাগলেন: "আমার পিতা! আমার পিতা!"

কিন্তু তাঁরা তাঁকে হত্যা না করা পর্যন্ত তাঁর কথা তাঁদের নিবৃত্ত করতে পারল না। এমতাবস্থায় হুজাইফা বললেন: "আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন, আর তিনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু" [ইউসুফ: ৯২]।

এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছলে হুজাইফার মর্যাদা তাঁর নিকট আরও বৃদ্ধি পেল।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أَبَا حُذَيْفَةَ بْنَ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ، وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، تَبَنَّى سَالِمًا وَزَوَجَّهُ بِنْتَ أَخِيهِ هِنْدَ بِنْتَ الْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ وَهُوَ مَوْلًى لامْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ، كَمَا تَبَنَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم زَيْدًا، وَكَانَ‌‌ مَنْ تَبَنَّى رَجُلا فِي الْجَاهِلِيَّةِ دَعَاهُ النَّاسُ إِلَيْهِ وَوَرِثَ مِنْ مِيرَاثِهِ، حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِي ذَلِكَ: {ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ} [الأحزاب: 5] .

فُرُدُّوا إِلَى آبَائِهِمْ، فَمَنْ لَمْ يُعْلَمْ لَهُ أَبٌ كَانَ مَوْلًى وَأَخًا فِي الدِّينِ، فَجَاءَتْ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو الْقُرَشِيُّ ثُمَّ الْعَامِرِيُّ ، وَهِيَ امْرَأَةُ أَبِي حُذَيْفَةَ ، إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا نَرَى سَالِمًا وَلَدًا وَكَانَ يَأْوِي مَعِيَ وَمَعَ أَبِي حُذَيْفَةَ فِي بَيْتٍ وَاحِدٍ وَيَرَانِي فَضْلا، وَقَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى مَا قَدْ عَلِمْتَ، فَكَيْفَ تَرَى يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَرْضِعِيهِ» .

فَأَرْضَعَتْهُ خَمْسَ رَضَعَاتٍ، فَكَانَ بِمَنْزِلَةِ وَلَدِهَا مِنَ الرَّضَاعَةِ.

فَبِذَلِكَ كَانَتْ عَائِشَةُ تَأْمُرُ بَنَاتِ إِخْوَتِهَا وَبَنَاتِ أَخَوَاتِهَا أَنْ يُرْضِعْنَ مَنْ أَحَبَّتْ عَائِشَةُ أَنْ يَرَاهَا وَيَدْخُلَ عَلَيْهَا وَإِنْ كَانَ كَبِيرًا خَمْسَ رَضَعَاتٍ ثُمَّ يَدْخُلُ عَلَيْهَا.

وَأَبَتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَسَائِرُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُدْخِلْنَ عَلَيْهِنَّ بِتِلْكَ الرَّضَاعَةِ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ حَتَّى يَرْضَعَ فِي الْمَهْدِ، وَقُلْنَ لِعَائِشَةَ رضي الله عنهن أَجْمَعِينَ: وَاللَّهِ مَا نَدْرِي لَعَلَّهَا رُخْصَةٌ لِسَالِمٍ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ دُونِ النَّاسِ
১১ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন শুআইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর থেকে, তিনি আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু হুযাইফাহ ইবনু উতবাহ ইবনু রাবীআহ ইবনু আবদ শামস (যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন) সালিমকে পালক পুত্র গ্রহণ করেছিলেন এবং তার সাথে নিজের ভ্রাতুষ্পুত্রী হিন্দা বিনতে ওয়ালীদ ইবনে উতবাহকে বিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ সে (সালিম) ছিল জনৈক আনসারী মহিলার আযাদকৃত গোলাম। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়িদকে পালক পুত্র গ্রহণ করেছিলেন। আর জাহিলী যুগে কেউ কাউকে পালক পুত্র গ্রহণ করলে লোকেরা তাকে তার (পালক পিতার) দিকে সম্বন্ধ করে ডাকত এবং সে তার মিরাস বা উত্তরাধিকার থেকে অংশ পেত। অবশেষে মহান আল্লাহ এ বিষয়ে অবতীর্ণ করেন: {তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, আল্লাহর নিকট এটিই অধিক ন্যায়সংগত। আর যদি তোমরা তাদের পিতৃপরিচয় না জানো, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই ও বন্ধু।} [আল-আহযাব: ৫] ।

অতঃপর তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। আর যার কোনো পিতার পরিচয় জানা যেত না, সে ছিল মাওলা (বন্ধু) ও দ্বীনী ভাই। এরপর সাহলা বিনতে সুহাইল ইবনু আমর আল-কুরাশী আল-عامরী (যিনি আবু হুযাইফার স্ত্রী ছিলেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সালিমকে সন্তান মনে করতাম। সে আমার ও আবু হুযাইফার সাথে একই ঘরে বসবাস করত এবং সে আমাকে ঘরের সাধারণ পোশাকেই দেখত। অথচ মহান আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা আপনি জানেন। এখন এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী, হে আল্লাহর রাসূল? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "তুমি তাকে দুধ পান করাও।"

অতঃপর তিনি তাকে পাঁচবার দুধ পান করালেন, ফলে সে তাঁর দুগ্ধপোষ্য সন্তানের মর্যাদায় স্থলাভিষিক্ত হলো।

এ কারণেই আয়িশাহ (রা.) তাঁর ভাইদের মেয়েদের এবং বোনদের মেয়েদের নির্দেশ দিতেন যেন তারা এমন ব্যক্তিকে পাঁচবার দুধ পান করায় যাকে আয়িশাহ (রা.) তাঁর সম্মুখে আসা এবং তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি দিতে চাইতেন, যদিও সে বয়স্ক পুরুষ হতো। এরপর সে তাঁর নিকট প্রবেশ করত।

কিন্তু উম্মু সালামাহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য পত্নীগণ এ ধরনের দুগ্ধপানের মাধ্যমে কাউকেও তাঁদের নিকট প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেন, যতক্ষণ না সে দোলনায় থাকা অবস্থায় (শিশুকালে) দুধ পান করে। তাঁরা আয়িশাহ (রা.)-কে বললেন (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন): আল্লাহর কসম! আমরা জানি না, সম্ভবত এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কেবল সালিমের জন্যই বিশেষ অনুমতি ছিল, অন্য সাধারণ মানুষের জন্য নয়।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - حثنا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ مُصِيبَةٍ تُصِيبُ الْمُسْلِمَ إِلا كَفَّرَ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا»
১২ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, যুহরী থেকে বর্ণিত, উরওয়াহ ইবনে যুবায়র আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুসলিমের ওপর যে কোনো বিপদ আপতিত হয়, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার পাপ মোচন করে দেন, এমনকি তার গায়ে একটি কাঁটা ফুটলেও»
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: جَاءَتِ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا جَالِسَةٌ عِنْدَهُ وَأَبُو بَكْرٍ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ‌‌ إِنِّي كُنْتُ تَحْتَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَنِي فَبَتَّ طَلاقِي، فَتَزَوَّجْتُ بَعْدَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَإِنَّهُ مَا مَعَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلا مِثْلُ الْهُدْبَةِ، وَأَخَذَتْ هُدْبَةً مِنْ جِلْبَابِهَا، قَالَتْ: فَسَمِعَ خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ قَوْلَهَا وَهُو بِالْبَابِ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ ، قَالَتْ: فَقَالَ خَالِدٌ: يَا أَبَا بَكْرٍ أَلا تَنْهَى هَذِهِ عَمَّا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَقَالَتْ: لا وَاللَّهِ مَا يَزِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى التَّبَسُّمِ.

قَالَتْ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ، لا ، حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ وَتَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ» .

فَكَانَتْ سُنَّةً بَعْدَهُ
১৩ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুয়াইব যুহরী থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর আয়েশা (রা.) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রিফায়া আল-কুরাযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন যখন আমি এবং আবু বকর তাঁর নিকট বসা ছিলাম। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি রিফায়ার বিবাহাধীনে ছিলাম, এরপর তিনি আমাকে তালাক দেন এবং আমার তালাককে চূড়ান্ত করেন। অতঃপর আমি তাঁর পরে আবদুর রহমান ইবনুল যুবাইরকে বিবাহ করি। আর তাঁর সাথে, হে আল্লাহর রাসূল, ওড়নার ঝালরের মতো বস্তু ছাড়া আর কিছুই নেই। এবং তিনি তাঁর চাদর থেকে একটি ঝালর ধরলেন। আয়েশা (রা.) বলেন: খালিদ ইবনে সাঈদ তাঁর কথা শুনতে পেলেন যখন তিনি দরজার কাছে ছিলেন এবং তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আয়েশা (রা.) বলেন: তখন খালিদ বললেন: হে আবু বকর, আপনি কি এই মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে যা সে উচ্চস্বরে বলছে তা থেকে নিষেধ করবেন না?

আয়েশা (রা.) বলেন: না, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল মুচকি হাসলেন।

আয়েশা (রা.) বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সম্ভবত তুমি রিফায়ার কাছে ফিরে যেতে চাচ্ছো। না, যতক্ষণ না সে তোমার মধু আস্বাদন করবে এবং তুমি তার মধু আস্বাদন করবে।”

আর এটিই পরবর্তীতে সুন্নাহ (বিধান) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ ، كَانَتْ تَقُولُ: ‌‌«حَرِّمُوا مِنَ الرَّضَاعَةِ مَا تُحَرِّمُونَ مِنَ النَّسَبِ»
১৪ - আমাদের নিকট আবু আল-ইয়ামান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে শুআইব সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি বলেন: আমাকে উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে, আয়িশাহ (রা.) বলতেন: «দুগ্ধপানের কারণে তোমরা তা-ই হারাম সাব্যস্ত করো যা তোমরা বংশগত সম্পর্কের কারণে হারাম সাব্যস্ত করে থাকো»
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، حَدَّثَتْهُ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ ، حَدَّثَتْهَا، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا فَزِعًا يَقُولُ: ‌‌«لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ، فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ، وَحَلَّقَ بِإِصْبَعَيْهِ الإِبْهَامِ وَالَّتِي تَلِيهَا» .

قَالَتْ زَيْنَبُ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَهْلَكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ؟ فَقَالَ: «نَعَم، إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ»
১৫ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুল যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন যে, যায়নাব বিনতে আবু সালামাহ তাঁকে জানিয়েছেন যে, উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান যায়নাব বিনতে জাহশ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় প্রবেশ করলেন এবং বলতে লাগলেন: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সেই অনিষ্টের কারণে আরবদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর থেকে এই পরিমাণ উন্মুক্ত হয়েছে,” আর তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙুল (তর্জনী) দিয়ে একটি বৃত্ত তৈরি করলেন।

যায়নাব বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে সৎকর্মশীল ব্যক্তিরা থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন: “হ্যাঁ, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে।”
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، وَأُمُّهَا أُمُّ سَلَمَةَ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَخْبَرَتْهُ، أَنَّ أُمَّهَا أُمَّ سَلَمَةَ قَالَتْ: سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَلَبَةَ خِصَامٍ عِنْدَ بَابِهِ فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ ، فَقَالَ: ‌‌«إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ، وَإِنَّهُ يَأْتِينِي الْخَصْمُ، فَلَعَلَّ بَعْضَهُمْ أَنْ يَكُونَ أَبْلَغَ مِنْ بَعْضٍ فَأَقْضِيَ لَهُ بِذَلِك وَأَحْسَبُ أَنَّهُ صَادِقٌ، فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِحَقِّ مُسْلِمٍ فَإِنَّمَا هُوَ قِطْعَةٌ مِنْ نَارٍ فَلْيَأْخُذْهَا أَوْ لِيَدَعْهَا»
১৬ - আবু ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, যুহরী থেকে, তিনি বলেন উরওয়াহ ইবনে যুবাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, যায়নাব বিনতে আবি সালামাহ এবং তাঁর মা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর মা উম্মু সালামাহ বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দরজার কাছে বিবাদের শোরগোল শুনতে পেলেন, ফলে তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন: «আমি কেবল একজন মানুষ মাত্র। আমার কাছে বিবাদমান পক্ষ আসে, সম্ভবত তাদের কেউ অন্যজনের চেয়ে বেশি বাগ্মী হয়, ফলে আমি সেই অনুযায়ী তার পক্ষে রায় প্রদান করি এবং আমি মনে করি যে সে সত্যবাদী। সুতরাং আমি যদি অন্য কোনো মুসলিমের হকের ব্যাপারে কারো পক্ষে রায় দেই, তবে তা জাহান্নামের আগুনের একটি টুকরা বৈ নয়। অতএব সে তা গ্রহণ করুক কিংবা বর্জন করুক।»
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: قَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَتْ عَائِشَةُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ صَحِيحٌ ، يَقُولُ: " إِنَّهُ‌‌ لَمْ يُقْبَضْ نَبِيٌّ قَطُّ حَتَّى يَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ ثُمَّ يَحْيَى، فَلَمَّا اشْتَكَى وَحَضَرَهُ الْقَبْضُ وَرَأْسُهُ عَلَى فَخِذِ عَائِشَةَ غُشِيَ عَلَيْهِ ، فَلَمَّا أَفَاقَ شَخَصَ بَصَرُهُ نَحْوَ سَقْفِ الْبَيْتِ، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى» .

قَالَتْ عَائِشَةُ: فَقُلْتُ: إِذًا لا يُجَاوِرُنَا، وَعَرَفْتُ أَنَّهُ حَدِيثُهُ الَّذِي كَانَ يُحَدِّثُنَا.

وَهُوَ صَحِيحٌ، رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ أَبِي الْيَمَانِ
১৭ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি বলেন: উরওয়াহ ইবনুত যুবাইর বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ থাকাকালীন বলতেন: "নিশ্চয়ই কোনো নবীর জান্নাতে তাঁর অবস্থান না দেখা পর্যন্ত তাঁর রূহ কবজ করা হয় না, এরপর তাঁকে বেঁচে থাকার বা পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়। অতঃপর যখন তিনি অসুস্থ হলেন এবং তাঁর মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হলো, এমতাবস্থায় তাঁর মাথা ছিল আয়িশার উরুর ওপর, তখন তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। অতঃপর যখন তাঁর চেতনা ফিরল, তিনি ঘরের ছাদের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন এবং বললেন: «হে আল্লাহ, মহান বন্ধুর (আর-রাফীকুল আ'লা) সঙ্গ চাই»।

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: তখন আমি মনে মনে বললাম: তাহলে তিনি আর আমাদের সান্নিধ্যে থাকবেন না। এবং আমি বুঝতে পারলাম যে এটিই সেই কথা যা তিনি সুস্থ অবস্থায় আমাদের নিকট বর্ণনা করতেন।

এটি সহীহ হাদীস, ইমাম বুখারী এটি আবু আল-ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ: ‌‌«اغْسِلُوا ثَوْبَيَّ هَذَيْنِ اللَّذَيْنِ كَانَ يَلْبَسُ، فَكَفِّنُونِي فِيهِمَا ، فَإِنَّ الْحَيَّ هُوَ أَفْقَرُ إِلَى الْجَدِيدِ مِنَ الْمَيِّتِ»
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, যুহরী থেকে বর্ণিত, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উরওয়াহ ইবনু যুবায়ের যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নী আয়িশা তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো তখন তিনি বলেছিলেন: «আমার এই কাপড় দুটি ধুয়ে দাও যা তিনি পরিধান করতেন এবং আমাকে এ দুটিতে কাফন দাও, কারণ জীবিত ব্যক্তি নতুনের প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী অপেক্ষা মৃত ব্যক্তির।»
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২০)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ، كَانَ يُحَدِّثُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلاةِ حِينَ يَقُولُ: ‌‌«سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ» ، ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ: «اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ وَسَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا كَسِنِيِّ يُوسُفَ» .

ثُمَّ يَقُولُ: «اللَّهُ أَكْبَرُ»
১৯ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব যুহরি থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আল-মুসায়্যাব ও আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করতেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতে দুআ করতেন যখন তিনি বলতেন: ‌‌«আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে; হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা», অতঃপর তিনি সিজদাহ করার আগে দণ্ডায়মান অবস্থায় বলতেন: «হে আল্লাহ, মুমিনদের মধ্য থেকে আল-ওয়ালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, সালামাহ ইবনে হিশাম এবং আয়্যাশ ইবনে আবি রাবিআহকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ, মুদার গোত্রের ওপর আপনার পাকড়াও কঠোর করুন এবং তাদের জন্য ইউসুফ (আ.)-এর বছরগুলোর মতো দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করুন»।

অতঃপর তিনি বলতেন: «আল্লাহু আকবার»
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২১)
20 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: ‌‌«تَفْضُلُ صَلاةُ الْجَمْعِ صَلاةَ أَحَدِكُمْ وَحْدَهُ بِخَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا ، وَتَجْتَمِعُ مَلائِكَةُ اللَّيْلِ وَمَلائِكَةُ النَّهَارِ فِي صَلاةِ الْفَجْرِ» .

ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ: اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {وَقُرْءَانَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْءَانَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا} [الإسراء: 78]
২০ - আমাদের নিকট আবু আল-ইয়ামান হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাকে যুহরী থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাকে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «জামাতের সালাত তোমাদের কারো একাকী সালাতের চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশি শ্রেষ্ঠত্ব রাখে, এবং রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতারা একত্রিত হয় ফজরের সালাতে।» .

অতঃপর আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন: তোমরা চাইলে পাঠ করো: {আর ফজরের কুরআন পাঠ (সালাত); নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ ফেরেশতাদের উপস্থিত হওয়ার সময়} [আল-ইসরা: ৭৮]
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২২)
21 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: أُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّي أَقُولُ:‌‌ لأَصُومَنَّ النَّهَارَ وَلأَقُومَنَّ اللَّيْلَ مَا عِشْتُ لَهُ.

فَقُلْتُ لَهُ: قَدْ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، قَالَ: «فَإِنَّكَ لا تَسْتَطِيعُ
ذَلِكَ ، فَصُمْ وَأَفْطِرْ ، وَنَمْ، وَصُمْ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ ، فَإِنَّ الْحَسَنَةَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا وَذَلِكَ مِثْلُ صِيَامِ الدَّهْرِ» .

قَالَ: فَقُلْتُ: إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: «فَصُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا ، وَذَلِكَ صَوْمُ دَاوُدَ ، وَهُوَ أَعْدَلُ الصِّيَامِ» .

قَالَ: فَقُلْتُ: إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ، قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لا أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ» .

رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَبِي الْيَمَانِ فِي الصَّوْمِ.

وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةَ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ
২১ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব জুহরি থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দেওয়া হলো যে আমি বলছি:‌‌ আমি যতদিন বেঁচে থাকব, অবশ্যই দিনে রোজা রাখব এবং রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে ইবাদত করব।

অতঃপর আমি তাঁকে বললাম: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমি এটি বলেছি। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি তা করতে সক্ষম
হবে না; সুতরাং তুমি রোজা রাখো এবং রোজা ভঙ্গ করো (বিরতি দাও), ঘুমাও এবং প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখো। কেননা প্রতিটি নেক আমলের বিনিময় দশ গুণ, আর তা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।"

তিনি বলেন: আমি বললাম, আমি এর চেয়েও উত্তম আমল করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন: "তাহলে একদিন রোজা রাখো এবং একদিন রোজা ভঙ্গ করো, আর এটি দাউদ আলাইহিস সালামের রোজা এবং এটিই রোজার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ।"

তিনি বলেন: আমি বললাম, আমি এর চেয়েও উত্তম আমল করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই।"

ইমাম বুখারি এটি আবুল ইয়ামান থেকে রোজা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম মুসলিম এটি আবু তাহির ও হারমালাহ থেকে, তারা ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: ‌‌«مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِهِ كَمَثَلِ الصَّائِمِ الْقَائِمِ، وَتَوَكَّلَ اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِهِ بِأَنْ يَتَوَفَّاهُ فَيُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ ، أَوْ يُرْجِعَهُ سَالِمًا بِمَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ»
২২ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, যুহরী থেকে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, নিশ্চয়ই আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: «আল্লাহর পথে জিহাদকারীর উদাহরণ—আর আল্লাহই ভালো জানেন কে তাঁর পথে জিহাদ করছে—সেই ব্যক্তির ন্যায় যে রোজা রাখে ও (সালাতে) দাঁড়িয়ে থাকে। আর আল্লাহ জামিন হয়েছেন আল্লাহর পথে জিহাদকারীর জন্য যে, তিনি তাকে মৃত্যু দান করলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা তাকে প্রতিদান ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদসহ সহি-সালামতে ফিরিয়ে আনবেন।»
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ‌‌ لَوْلا أَنَّ رِجَالا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لا تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي وَلا أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ مَا تَخَلَّفْتُ عَنْ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ أَحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أَحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أَحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ»
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শুয়াইব, তিনি যুহরী থেকে, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যদি মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক না থাকত যাদের মন আমার পেছনে থেকে যাওয়ায় ক্ষুণ্ণ হতো এবং তাদের বহন করার মতো কোনো বাহন আমি পাচ্ছিলাম না, তবে আমি কক্ষনো পেছনে থাকতাম না আল্লাহর পথে যুদ্ধরত কোনো বাহিনী (সারিয়্যাহ) থেকে। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা করি যে আমি আল্লাহর পথে নিহত হই, অতঃপর জীবিত হই, অতঃপর নিহত হই, অতঃপর জীবিত হই, অতঃপর নিহত হই, অতঃপর জীবিত হই, অতঃপর নিহত হই।»
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: "‌‌ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، فَمَنْ قَالَ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ، فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي نَفْسَهُ وَمَالَهُ إِلا بِحَقِّهِ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى "
২৪ - আমাদের নিকট আবু আল-ইয়ামান হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাকে শুআইব সংবাদ দিয়েছেন যুহরী থেকে, তিনি বলেন, আমাকে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা তাকে অবহিত করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "‌‌আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি বলল—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে আমার থেকে রক্ষা করে নিল তার জীবন ও সম্পদ, তবে তার হক ব্যতীত; আর তার হিসাব মহান আল্লাহর জিম্মায়।"
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ ، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: ‌‌«مَا مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ مَوْلُودٍ إِلا يَمَسُّهُ الشَّيْطَانُ حِينَ يُولَدُ فَيَسْتَهِلُّ صَارِخًا مِنْ مَسِّ الشَّيْطَانِ، غَيْرَ مَرْيَمَ وَابْنِهَا» .

ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ: اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ: {وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ} [آل عمران: 36]
২৫ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আদম সন্তানদের মধ্যে এমন কোনো নবজাতক নেই যাকে জন্মের সময় শয়তান স্পর্শ করে না, ফলে সে শয়তানের স্পর্শের কারণে চিৎকার করে ওঠে, কেবল মারইয়াম এবং তাঁর পুত্র ব্যতীত।» .

এরপর আবু হুরায়রা বলতেন: তোমরা চাইলে পাঠ করো: {আর আমি তাকে এবং তার সন্তানদের বিতাড়িত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি।} [আলে ইমরান: ৩৬]
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: ‌‌«لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلْيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ عَلَى ذِي الْخَلَصَةِ» .

وَذُو الْخَلَصَةِ طَاغِيَةُ دَوْسٍ الَّذِي كَانُوا يَعْبُدُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ
২৬ - আবু আল-ইয়ামান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুআইব আমাকে যুহরী থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‌‌«ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না দাওস গোত্রের নারীদের নিতম্ব যুল-খালাসার নিকট আন্দোলিত হবে»।

আর যুল-খালাসা ছিল দাওস গোত্রের সেই প্রতিমা, জাহেলিয়াতের যুগে তারা যার উপাসনা করত।
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، قَالَ: ‌‌«الْمُقْسِطُونَ فِي الدُّنْيَا عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بَيْنَ يَدَيِ الرَّحْمَنِ لِمَا أَقْسَطُوا لَهُ فِي الدُّنْيَا»
27 - আমাদের নিকট আবুল ইয়ামান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে শুয়াইব সংবাদ দিয়েছেন জুহরি থেকে, তিনি বলেন, আমাকে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বলেছেন: «দুনিয়াতে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ কিয়ামত দিবসে রহমানের দুই হাতের সামনে নূরের মিম্বরসমূহের উপর থাকবেন; যেহেতু তারা তাঁর জন্য ন্যায়বিচার করেছিলেন দুনিয়াতে।»
(খণ্ড: ১) হাদীছু আবিল ইয়ামান (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَعَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ اللَّيْثِيُّ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُمَا أَنَّ النَّاسَ قَالُوا: " يَا رَسُولَ اللَّهِ،‌‌ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: هَلْ تُمَارُونَ فِي الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَيْسَ دُونَهُ سَحَابٌ؟ قَالُوا: لا يَا رَسُولَ اللَّهِ.

قَالَ: فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ ".

وَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ
২৮ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, যুহরী থেকে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং আতা ইবনে ইয়াযীদ আল-লায়সী যে, আবু হুরায়রা তাঁদের উভয়কে সংবাদ দিয়েছেন যে লোকেরা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল,‌‌ কিয়ামতের দিন কি আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাব? তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখা নিয়ে কি তোমরা কোনো বিতর্কে লিপ্ত হও যখন তার সামনে কোনো মেঘ থাকে না? তারা বলল: না, হে আল্লাহর রাসূল।

তিনি বললেন: তবে নিশ্চয়ই তোমরা তাঁকে দেখতে পাবে।"

এবং তিনি হাদীসটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।