(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: -)
نسخة الزبير بن عدي   (الزبير بن عدي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: نسخة الزبير بن عدي

المؤلف: الزُّبَيْرُ بنُ عَدِيٍّ أَبُو عَدِيٍّ الهَمْدَانِيُّ اليَامِيُّ الكُوْفِيُّ، قَاضِي الرَّيِّ (ت 131 هـ)

الناشر: مخطوط نُشر في برنامج جوامع الكلم المجاني التابع لموقع الشبكة الإسلامية

الطبعة: الأولى، 2004

عدد الصفحات: 80

[الكتاب مخطوط]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জুবায়ের বিন আদির পাণ্ডুলিপি   (জুবায়ের বিন আদি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: জুবায়ের বিন আদির পাণ্ডুলিপি

লেখক: আয-জুবায়ের বিন আদি আবু আদি আল-হামদানি আল-য়ামি আল-কুফি، রাই-এর বিচারক (মৃত্যু ১৩১ হি.)

প্রকাশক: ইসলাম ওয়েব সাইটের অধীনস্থ বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য 'জাওয়ামিউল কালিম' প্রোগ্রামে প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ই জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১)
الْجُزْءُ الثَّانِي مِنْ نُسْخَةِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ أَبِي عَدِيٍّ الْكُوفِيِّ الْهَمْدَانِيِّ.

رِوَايَةُ أَبِي الْفَضْلِ عِيسَى بْنِ مُوسَى بْنِ الْمُتَوَكِّلِ ، عَنِ ابْنِ عُفَيْرٍ ، عَنِ الْحَجَّاجِ ، عَنْ بِشْرٍ ، عَنْهُ.

رِوَايَةُ أَبِي الْفَتْحِ هِلالِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْحَفَّارِ ، عَنْ أَبِي الْفَضْلِ ابْنِ الْمُتَوَكِّلِ.

رِوَايَةُ أَبِي عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِينَةَ ، عَنْ هِلالٍ.

رِوَايَةُ الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الْمَقْرِئُ ، عَنِ ابْنِ زِينَةَ.

رِوَايَةُ الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْعَالِمِ الْعَلامَةِ تَاجِ الدِّينِ أَبِي الْيَمَنِ زَيْدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ زَيْدٍ الْكِنْدِيِّ، عَنْهُ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ
আবু আদি আল-কুফি আল-হামদানি জুবাইর বিন আদির পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় অংশ।

আবুল ফজল ঈসা বিন মুসা বিন আল-মুতাওয়াক্কিলের বর্ণনা, তিনি ইবনে উফাইর থেকে, তিনি হাজ্জাজ থেকে, তিনি বিশর থেকে, তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবুল ফজল ইবনে আল-মুতাওয়াক্কিল থেকে আবু আল-ফাতহ হিলাল বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-হাফফারের বর্ণনা।

হিলাল থেকে আবু আলি আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন আবদুল্লাহ বিন জিনাহর বর্ণনা।

ইবনে জিনাহ থেকে শাইখ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আলি বিন আহমদ আল-মুকরির বর্ণনা।

তাঁর থেকে শাইখ, ইমাম, আলেম, আল্লামা তাজউদ্দীন আবুল ইয়ামান জায়েদ বিন আল-হাসান বিন জায়েদ আল-কিনদির বর্ণনা।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সুউচ্চ মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও কোনো শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الأَوْحَدُ الصَّدْرُ الْكَبِيرُ تَاجُ الدِّينِ أَبُو الْيَمَنِ زَيْدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ زَيْدٍ الْكِنْدِيُّ ، أَبْقَاهُ اللَّهُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الْمُقْرِئُ ، أنبا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِينَةَ ، أَنَبا أَبُو الْفَتْحِ هِلالُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْحَفَّارُ ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْفَضْلِ عِيسَى بْنِ مُوسَى بْنِ الْمُتَوَكِّلِ عَلَى اللَّهِ ، قَالَ: أنبا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُفَيْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ الْأَنْصَارِيُّ ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ قُتَيْبَةَ الأَصْبَهَانِيُّ ، ثنا بِشْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، ثنا الزُّبَيْرُ بْنُ عَدِيٍّ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ الْأَنْصَارِيِّ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ ثَلاثًا مِنْ غَيْرِ ضَرُورَةٍ كُتِبَ مُنَافِقًا فِي كِتَابِ اللَّهِ لا يَمْحُو أَوْ لا يُبَدَّلُ»
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, অদ্বিতীয় আলিম ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব তাজউদ্দীন আবুল ইয়ামান যাইদ ইবনুল হাসান ইবনে যাইদ আল-কিন্দি (আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী রাখুন); তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ আল-মুকরি; তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যিনাহ; তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-ফাতহ হিলাল ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আল-হাফফার; তিনি বলেন: আমি আবু আল-ফাদল ঈসা ইবনে মুসা ইবনুল মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহর নিকট পাঠ করেছি; তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উফায়র ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাহল ইবনে আবি হাসমাহ আল-আনসারি; তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ইবনে কুতাইবাহ আল-আসবাহানি; তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন বিশর ইবনুল হুসাইন; তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যুবাইর ইবনে আদি; তিনি আনাস ইবনে মালিক আল-আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই তিনবার জুমুআ বর্জন করবে, তাকে আল্লাহর কিতাবে মুনাফিক হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবে যা মোছা হবে না অথবা পরিবর্তন করা হবে না।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ৩)
2 - وَبِإِسْنَادِهِ قَالَ: ‌‌«مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ تَهَاوُنًا بِهَا طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ»
২ - এবং তাঁর সনদে তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি অবহেলাবশত জুমার নামাজ পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ৪)
3 - وَبِإِسْنَادِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: "‌‌ أَتَانِي جِبْرِيلُ بِمِرْآةٍ فِيهَا نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ ، فَقُلْتُ: مَا هَذِهِ يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: هَذِهِ الْجُمُعَةُ فُضِّلْتُ بِهَا أَنْتَ وَقَوْمُكَ ، وَاسْمُهَا عِنْدَ رَبِّكَ يَوْمُ الْمَزِيدِ ، قَالَ: فَقُلْتُ: فَمَا هَذِهِ النُّكْتَةُ؟ قَالَ: تَقُومُ فِيهَا السَّاعَةُ ، قُلْتُ: فَمَا يَوْمُ الْمَزِيدِ؟ قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ تبارك وتعالى اتَّخَذَ فِي الْجَنَّةِ وَادِيًا أَفْيَحَ فِيهِ كُثُبٌ مِنْ مِسْكٍ ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ نَزَلَ الرَّبُّ تبارك وتعالى ، وَحَفَّ مَجْلِسَهُ بِمَنَابِرَ مِنْ نُورٍ ، فَجَلَسَ عَلَيْهَا النَّبِيُّونَ ، وَحُفَّتْ تِلْكَ الْمَنَابِرُ بِمَنَابِرَ مِنْ ذَهَبٍ مُكَّلَلَةٍ بِالْيَاقُوتِ وَالزَّبَرْجَدِ ، فَجَلَسَ عَلَيْهَا الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ ، وَنَزَلَ أَهْلُ جَنَّاتِ عَدْنٍ ، فَكَانُوا عَلَى ذَلِكَ ، فَيَقُولُ اللَّهُ: أَنَا رَبُّكُمْ قَدْ صَدَقْتُكُمْ وَعْدِى ، فَاسْأَلُونِي أُعْطِكُمْ.

فَيَقُولُونَ: نَسْأَلُكَ رِضْوَانَكَ.

فَيَقُولُ: قَدْ رَضِيتُ عَنْكُمْ وَلَدَيَّ مَزِيدٌ.

وَلا يَوْمَ أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ "
৩ - এবং তাঁর বর্ণনাসূত্রে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ জিবরাঈল আমার নিকট একটি আয়না নিয়ে আসলেন যাতে একটি কালো বিন্দু ছিল। আমি বললাম: হে জিবরাঈল, এটি কী? তিনি বললেন: এটি জুমুআহ, এর মাধ্যমে আপনাকে এবং আপনার উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে; আর আপনার রবের নিকট এর নাম হলো 'ইয়াওমুল মাজীদ' (অতিরিক্ত প্রদানের দিন)। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলেন: আমি বললাম: এই বিন্দুটি কী? তিনি বললেন: এতে কিয়ামত সংঘটিত হবে। আমি বললাম: 'ইয়াওমুল মাজীদ' কী? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আপনার রব তাবারাকা ওয়া তায়ালা জান্নাতে একটি প্রশস্ত উপত্যকা নির্ধারণ করেছেন যাতে মিশকের টিলা রয়েছে। যখন জুমুআর দিন হয়, তখন রব তাবারাকা ওয়া তায়ালা অবতরণ করেন এবং তাঁর মজলিসের চারপাশ নূরের মিম্বরসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেন, যার ওপর নবীগণ বসেন। আর সেই মিম্বরগুলো ইয়াকুত ও যবরজদ খচিত স্বর্ণের মিম্বরসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে, যার ওপর সিদ্দিকগণ ও শহীদগণ বসেন। আর জান্নাতে আদন-বাসীরা সেখানে নেমে আসে এবং তারা এভাবেই অবস্থান করে। তখন আল্লাহ বলেন: আমি তোমাদের রব, আমি তোমাদের প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি সত্য করেছি, সুতরাং তোমরা আমার নিকট চাও, আমি তোমাদের দান করব।

তারা বলে: আমরা আপনার সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি।

তিনি বলেন: আমি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি এবং আমার নিকট আরও অতিরিক্ত (নেয়ামত) রয়েছে।

আর জুমুআর দিনের চেয়ে অধিক প্রিয় দিন তাদের নিকট আর কোনটিই নয়।"
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ৫)
4 - وَبِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «إِنَّ‌‌ أَغْبَطَ النَّاسِ عِنْدِي لَرَجُلٌ ذُو حَظٍّ مِنْ صَلاةٍ غَامِضٌ فِي النَّاسِ ، لا يُشَارُ إِلَيْهِ بِالأَصَابِعِ، وَيَمُوتُ إِذَا مَاتَ قَلِيلَ الْمِيرَاثِ وَالْبَوَاكِي، فَذَلِكَ صِفَةُ الْمُؤْمِنِ»
৪ - এবং তাঁর সূত্রেই বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ঈর্ষণীয় সেই ব্যক্তি, যে সালাতে বিশেষ সৌভাগ্যের অধিকারী, মানুষের মাঝে অখ্যাত, যার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয় না; আর যখন সে মারা যায় তখন সে অল্প মিরাস এবং অল্প বিলাপকারী রেখে যায়। এটাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ৬)
5 - وَبِهِ قَالَ: أُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَيْرٌ مَشْوِيٌّ ، فَلَمَّا وُضِعَ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ: ‌‌«اللَّهُمَّ ائْتِنِي بِأَحَبِّ خَلْقِكَ إِلَيْكَ يَأْكُلُ مَعِيَ مِنَ الطَّيْرِ» .

قَالَ: فَقُلْتُ فِي نَفْسِي: اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ رَجُلا مِنَ
الأَنْصَارِ ، قَالَ: فَجَاءَ عَلِيٌّ عليه السلام ، فَقَرَعَ الْبَابَ قَرْعًا خَفِيًّا ، فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: عَلِيٌّ.

فَقُلْتُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَاجَةٍ ، فَانْصَرَفَ ، قَالَ: فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَهُوَ يَقُولُ الثَّانِيَةَ: «اللَّهُمَّ ائْتِنِي بِأَحَبِّ خَلْقِكَ إِلَيْكَ يَأْكُلُ مَعِيَ مِنْ هَذَا الطَّيْرِ» .

فَقُلْتُ: اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ رَجُلا مِنَ الأَنْصَارِ ، قَالَ: فَجَاءَ عَلِيٌّ ، فَقَرَعَ الْبَابَ ، فَقُلْتُ: أَلَمْ أُخْبِرْكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَاجَةٍ ، انْصَرَفَ ، فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَهُوَ يَقُولُ الثَّالِثَةُ: «اللَّهُمَّ ائْتِنِي بِأَحَبِّ خَلْقِكَ إِلَيْكَ يَأْكُلُ مَعِيَ مِنْ هَذَا الطَّيْرِ» .

قَالَ: فَجَاءَ عَلِيٌّ فَضَرَبَ الْبَابَ ضَرْبًا شَدِيدًا ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «افْتَحْ افْتَحْ افْتَحْ» .

قَالَ: فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «اللَّهُمَّ وَالِ ، اللَّهُمُّ وَالِ ، اللَّهُمَّ وَالِ» .

فَجَلَسَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ مَعَهُ الطَّيْرَ
৫ - এবং উক্ত সূত্রে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি ভাজা পাখি উপহার দেওয়া হয়েছিল। যখন সেটি তাঁর সামনে রাখা হলো, তিনি বললেন: “হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে আসুন, যিনি আমার সাথে এই পাখিটি থেকে আহার করবেন।”

তিনি বলেন: আমি মনে মনে বললাম: হে আল্লাহ! আপনি তাকে একজন ব্যক্তি বানান
আনসারদের মধ্য থেকে। তিনি বলেন: অতঃপর আলী আলাইহিস সালাম আসলেন এবং দরজায় মৃদু করাঘাত করলেন। আমি বললাম: কে এটি? তিনি বললেন: আলী।

আমি বললাম: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো প্রয়োজনে ব্যস্ত আছেন। তখন তিনি ফিরে গেলেন। তিনি বলেন: অতঃপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে আসলাম, তখন তিনি দ্বিতীয়বার বলছিলেন: “হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে আসুন, যিনি আমার সাথে এই পাখিটি থেকে আহার করবেন।”

আমি বললাম: হে আল্লাহ! আপনি তাকে আনসারদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি বানান। তিনি বলেন: তখন আলী আসলেন এবং দরজায় করাঘাত করলেন। আমি বললাম: আমি কি আপনাকে বলিনি যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো প্রয়োজনে ব্যস্ত আছেন? তিনি ফিরে গেলেন। অতঃপর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে আসলাম, তখন তিনি তৃতীয়বার বলছিলেন: “হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে আসুন, যিনি আমার সাথে এই পাখিটি থেকে আহার করবেন।”

তিনি বলেন: তখন আলী আসলেন এবং দরজায় সজোরে করাঘাত করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “খুলে দাও, খুলে দাও, খুলে দাও।”

তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে তাকালেন, তখন তিনি বললেন: “হে আল্লাহ! তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন; হে আল্লাহ! তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন; হে আল্লাহ! তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন।”

অতঃপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বসলেন এবং তাঁর সাথে সেই পাখি আহার করলেন।
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - وَبِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«تَسَحَّرُوا؛ فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً»
6 - এবং তাঁর বর্ণিত সনদে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সাহরি গ্রহণ করো; কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ৮)
7 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ ، وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ»
৭ - এবং উক্ত সূত্রে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করবে আমরা তাকে হত্যা করব, এবং যে ব্যক্তি তার দাসের অঙ্গহানি করবে আমরা তার অঙ্গহানি করব।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - وَبِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«مَنْ حَوَّلَ خَاتَمَهُ أَوْ عِمَامَتَهُ أَوْ عَلَّقَ خَيْطًا فِي إِصْبَعِهِ لِيُذَكِّرَهُ حَاجَتَهُ فَقَدْ أَشْرَكَ بِاللَّهِ ، إِنَّ اللَّهَ هُوَ يُذَكِّرُ الْحَاجَاتِ»
৮ - এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার আংটি বা পাগড়ি ঘুরিয়ে রাখল কিংবা তার আঙুলে কোনো সুতা বাঁধল যাতে তা তাকে তার প্রয়োজনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, সে আল্লাহর সাথে শিরক করল। নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন তিনি যিনি স্মরণ করিয়ে দেন প্রয়োজনসমূহ»
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১০)
9 - وَبِهِ حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ ، عَنْ أَنَسٍ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، كَانَ‌‌ إِذَا رَأَى فِي أَهْلِهِ مُنْكَرًا ، قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ» .

وَإِذَا رَأَى مَا يُحِبُّ ، قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمُنْعِمِ الْمُتَفَضِّلِ، اللَّهُمَّ بِنِعْمَتِكَ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ»
৯ - এবং এই সূত্রেই আল-যুবায়ের আমাদের নিকট আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁর পরিবারের মধ্যে কোনো অপছন্দনীয় বিষয় দেখতেন, তখন বলতেন: "সর্বাবস্থায় সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য"।

আর যখন তিনি পছন্দনীয় কিছু দেখতেন, তখন বলতেন: "সকল প্রশংসা নিয়ামতদাতা ও অনুগ্রহকারী আল্লাহর জন্য; হে আল্লাহ, আপনার নিয়ামতের মাধ্যমেই সকল সৎকাজ সম্পন্ন হয়"।
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১১)
10 - حَدَّثَنِي الزُّبَيْرُ ، عَنْ أَنَسٍ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ‌‌ إِذَا قُدِّمَ إِلَيْهِ الطَّعَامُ ، قَالَ: «سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ مَا أَكْثَرَ مَا تُعْطِينَا ، سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ مَا أَعْظَمَ مَا تُعَافِينَا ، سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ مَا أَحْسَنَ مَا تُبْلِينَا ، فَأَتْمِمْ عَلَيْنَا نِعْمَتَكَ ، وَوَسِّعْ عَلَيْنَا وَعَلَى فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ» .

قَالَ: وَكَانَ إِذَا تَنَاوَلَ الطَّعَامَ يَقُولُ: «بِسْمِ اللَّهِ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ» .

وَكَانَ يَحْمَدُ اللَّهَ بَيْنَ كُلِّ لُقْمَتَيْنِ ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ اللَّهَ بَيْنَ كُلِّ خُطْوَتَيْنِ ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَفَعَ يَدَهُ مِنَ الطَّعَامِ يَقُولُ: «أَطْعَمْتَ رَبِّي وَأَشْبَعْتَ ، لَكَ الْحَمْدُ فَهَنِّهِ ، أَكْثَرْتَ رَبِّي مِنَ الطَّيِّبِ ، لَكَ الْحَمْدُ فَزِدْ»
১০ - জুবায়ের আমার নিকট আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন এমন যে, যখন তাঁর নিকট খাবার পেশ করা হতো, তখন তিনি বলতেন: "আপনি পবিত্র এবং আপনারই প্রশংসা, আপনি আমাদের যা দান করেন তা কতই না প্রচুর! আপনি পবিত্র এবং আপনারই প্রশংসা, আপনি আমাদের যা দিয়ে মহানভাবে সুস্থতা দান করেন, আপনি পবিত্র এবং আপনারই প্রশংসা, আপনি আমাদের প্রতি যে উত্তম নেয়ামত দান করেন তা কতই না চমৎকার! সুতরাং আমাদের ওপর আপনার নেয়ামত পূর্ণ করুন এবং আমাদের জন্য ও অভাবী মুসলিমদের জন্য প্রশস্ততা দান করুন।"।

তিনি বলেন: আর তিনি যখন খাবার গ্রহণ করতেন, তখন বলতেন: "আল্লাহর নামে, এর শুরুতে এবং শেষে।"।

আর তিনি প্রতি দুই লোকমার মাঝে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি দুই কদমের মাঝে আল্লাহকে স্মরণ করতেন। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন খাবার থেকে তাঁর হাত উঠাতেন তখন বলতেন: "হে আমার প্রতিপালক! আপনি খাইয়েছেন এবং তৃপ্ত করেছেন, আপনারই প্রশংসা, সুতরাং একে সুখকর ও কল্যাণকর করুন। হে আমার প্রতিপালক! আপনি প্রচুর পরিমাণে উত্তম রিযিক দান করেছেন, আপনারই প্রশংসা, সুতরাং আরও বৃদ্ধি করে দিন।"
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১২)
11 - وَبِإِسْنَادِهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ إِذَا انْفَتَلَ مِنْ صَلاتِهِ مَسَحَ وَجْهَهُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى ، ثُمَّ قَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ اللَّهُمَّ أَذْهِبْ عَنِّي الْهَمَّ وَالْحَزَنَ»
১১ - এবং তিনি তাঁর সনদে বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সালাত শেষ করতেন, তখন তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল মুছতেন, অতঃপর বলতেন: ‘আল্লাহর নামে, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি পরম করুণাময় অত্যন্ত দয়ালু। হে আল্লাহ, আমার থেকে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর করে দিন।’
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১৩)
12 - وَبِهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَكْتَالَ لَهُ بِالْقَفِيزِ الأَوْفَى ، فَلْيَقُلْ: {فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ {17} وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ {18} يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَيُحْيِي الأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَكَذَلِكَ تُخْرَجُونَ {19} } [الروم: 17-19] .

{سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ {180} وَسَلامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ {181} وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ {182} } [الصافات: 180-182] "
১২ - এবং তাঁর সূত্রেই বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তার (প্রতিদানের) পরিমাপ পূর্ণ মাত্রায় করা হোক, সে যেন বলে: {অতএব আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন সকালে উপনীত হও। আর আসমানসমূহ ও জমিনে সকল প্রশংসা তাঁরই, এবং অপরাহ্নে ও যখন তোমরা দুপুরে উপনীত হও। {১৭-১৮} তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন, আর জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন; এবং এভাবেই তোমাদেরকেও বের করা হবে। {১৯} } [আর-রুম: ১৭-১৯] ।

{পবিত্র আপনার রব, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে। {১৮০} আর শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের ওপর। {১৮১} এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য। {১৮২} } [আস-সাফফাত: ১৮০-১৮২] "
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১৪)
13 - وَبِهِ عَنِ الزُّبَيْرِ ، عَنْ أَنَسٍ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«قَرْضُ مَرَّتَيْنِ فِي عَفَافٍ خَيْرٌ مِنْ صَدَقَةٍ مَرَّةً»
১৩ - এবং তাঁর সূত্রে জুবায়ের হতে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সততা ও পবিত্রতা বজায় রেখে দুইবার ঋণ প্রদান করা একবার সদকা করার চেয়ে উত্তম»
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১৫)
14 - وَبِهِ قَالَ: كَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ‌‌ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ اسْتَوَى قَائِمًا حَتَّى يُقِيمَ صُلْبَهُ ثُمَّ يَخِرُّ سَاجِدًا
১৪ - এবং এই সূত্রেই তিনি বলেছেন: আনাস ইবনে মালিক যখন রুকু থেকে তাঁর মাথা উঠাতেন, তখন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যতক্ষণ না তাঁর মেরুদণ্ড সোজা করতেন, অতঃপর সিজদাহে অবনত হতেন।
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১৬)
15 - وَبِهِ قَالَ: سُئِلَ أَنَسٌ‌‌ عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ تَرْكُهُ؟ قَالَ: «أَنْ أَصُومَ أَحَبُّ إِلَيَّ»
15 - এবং এই সনদেই তিনি বলেছেন: আনাস (রা.)-কে রমজান মাসে সফর অবস্থায় রোজা রাখা আপনার নিকট অধিক প্রিয় নাকি তা বর্জন করা—সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «রোজা রাখাই আমার কাছে অধিক প্রিয়»
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১৭)
16 - وَبِهِ عَنْ أَنَسٍ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«غُسْلُ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِلا امْرَأَةً حَائِضًا أَوْ مَرِيضًا»
১৬ - এবং তাঁর মাধ্যমেই আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জুমার গোসল প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব, তবে ঋতুবতী নারী অথবা অসুস্থ ব্যক্তি ব্যতীত।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 - وَبِهِ أَيْضًا، نا بِشْرٌ ، قَالَ: وَحَدَّثَ أَبُو سَعِيدٍ السِّجِسْتَانِيُّ ، عَنِ الْقَاسِمِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، مِثْلَ ذَلِكَ.

يَعْنِي مِثْلَ حَدِيثِ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: ‌‌«غُسْلُ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ»
১৭ - এবং তাঁর মাধ্যমেই একইভাবে, বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আস-সিজিস্তানি কাসিম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

অর্থাৎ আনাস (রা.) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসের অনুরূপ, তিনি বলেছেন: «প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য জুমার গোসল করা ওয়াজিব»
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
18 - وَبِهِ نا الزُّبَيْرُ ، قَالَ: كَانَ أَبُو الدَّرْدَاءِ ، يَقُولُ: ‌‌«أَبَى اللَّهُ لِصَاحِبِ الْخُلُقِ الْمُسِيء بِالتَّوْبَةِ» .

قِيلَ: وَكَيْفَ ذَلِكَ يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ؟ قَالَ: «لأَنَّهُ لا يَتُوبُ مِنْ ذَنْبٍ إِلا وَقَعَ فِي ذَنْبٍ أَعْظَمَ مِنَ الَّذِي قَدْ تَابَ مِنْهُ»
১৮ - এবং এই সনদে আমাদের নিকট যুবাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দারদা বলতেন: «আল্লাহ মন্দ চরিত্রের অধিকারীর তাওবা কবুল করতে অস্বীকার করেছেন»।

জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আবু দারদা, এটা কীভাবে? তিনি বললেন: «কারণ সে কোনো গুনাহ থেকে তাওবা করে না, তবে এমন গুনাহে লিপ্ত হয় যা তার সেই গুনাহের চেয়েও বড় যা থেকে সে ইতিপূর্বে তাওবা করেছিল»
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২০)
19 - نا الزُّبَيْرُ ، أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ ، قَالَ: "‌‌ يَوْمُ الْجُمُعَةِ وَقَدْ خَرَجَ الْإِمَامُ إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِلنَّاسِ: أَنْصِتُوا ، فَقَدْ لَغَا عَلَى نَفْسِه "
১৯ - জুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে মাসউদ বলেছেন: "‌‌ জুমার দিন যখন ইমাম (খুতবার জন্য) বের হয়েছেন, এমতাবস্থায় যদি কোনো ব্যক্তি লোকদের বলে: ‘চুপ করো’, তবে সে নিজের ওপর অনর্থক কাজ চাপিয়ে নিল।"
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২১)
20 - وَبِهِ نا الزُّبَيْرُ ، أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ وَشَقَّ الْجُيُوبَ وَدَعَا بِدُعَاءِ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ»

سَمِعْتُ الزُّبَيْرُ ، يَقُولُ: أَدْرَكْتُ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ مِنْهُمْ رَجُلٌ يَبْتَاعُ لَحْمًا بِدِرْهَمٍ.
২০ - এবং তাঁর সনদে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুবায়র যে, ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে (বিপদে) গালে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ বিদীর্ণ করে এবং জাহেলিয়াতের ন্যায় চিৎকার দেয়»

আমি যুবায়রকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আঠারোজন সাহাবীকে পেয়েছি, তাঁদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন না যিনি এক দিরহাম দিয়ে গোশত ক্রয় করতেন।
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২২)
21 - وَبِهِ حَدَّثَنِي الزُّبَيْرُ بْنُ عَدِيٍّ ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ ، قَالَ: صَلَّيْتُ خَلْفَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ صَلاةَ الْغَدَاةِ فَلَمَّا‌‌ فَرَغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ كَبَّرَ وَقَنَتَ بِهَاتَيْنِ السُّورَتَيْنِ فِي قِرَاءَةِ أُبَيٍّ ، ثُمَّ كَبَّرَ وَرَكَعَ
২১ - এবং তাঁর মাধ্যমে জুবাইর ইবনে আদি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের পেছনে ভোরের নামাজ আদায় করেছি; অতঃপর যখন তিনি কিরাত শেষ করলেন, তখন তাকবীর দিলেন এবং উবাই-এর কিরাত অনুযায়ী এই দুটি সূরা দিয়ে কুনুত পাঠ করলেন, অতঃপর তাকবীর দিলেন এবং রুকু করলেন।
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
22 - وَبِهِ عَنِ الزُّبَيْرِ ، عَنِ الضَّحَّاكِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، فِي قَوْلِهِ: " ‌‌{إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ} [النحل: 90] .

قَالَ: الْعَدْلُ صَلاةُ الْفَرِيضَةِ ، وَالإِحْسَانُ: قَوْلُهُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ "
২২ - এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত, যুবাইর থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: " {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও ইহসানের নির্দেশ দেন} [আন-নাহল: ৯০] .

তিনি বলেন: আদল (ন্যায়বিচার) হলো ফরয সালাত, এবং ইহসান হলো: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বলা।
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
23 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، " فِي قَوْلِهِ: ‌‌{مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا} [النمل: 89] .

{وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ} [
النمل: 90] .

قَالَ: يَعْنِي بِالْحَسَنَةِ: التَّوْحِيدُ قَوْلُ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ، وَيَعْنِي بِخَيْرٍ مِنْهَا: يَقُولُ لَهُ مِنْهَا الْجَنَّةُ ، قَالَ: وَيَعْنِي بِالسَّيِّئَةِ الشِّرْكَ ، يَقُولُ: {فَكُبَّتْ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ} [النمل: 90] "
২৩ - ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে: “যে ব্যক্তি সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তা অপেক্ষা উত্তম প্রতিদান পাবে” [আন-নামল: ৮৯]।

“আর যে ব্যক্তি মন্দকর্ম নিয়ে আসবে, তবে তাদের মুখোমুখি করে অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হবে” [
আন-নামল: ৯০]।

তিনি বলেন: ‘সৎকর্ম’ বলতে তাওহিদ তথা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’—এই সাক্ষ্য প্রদানকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘তা অপেক্ষা উত্তম’ বলতে তিনি বুঝিয়েছেন যে, এর বিনিময়ে তার জন্য রয়েছে জান্নাত। তিনি আরও বলেন: ‘মন্দকর্ম’ বলতে শিরককে বোঝানো হয়েছে, (যার পরিণাম সম্পর্কে) আল্লাহ বলেন: “তবে তাদের মুখোমুখি করে অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হবে” [আন-নামল: ৯০]।
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
24 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، فِي قَوْلِهِ: " ‌‌{وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ} [الأعراف: 156] .

فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ الشِّرْكَ "
২৪ - ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: " {আর আমার রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে} [আল-আরাফ: ১৫৬] .

অতঃপর আমি তা লিখে দেব তাদের জন্য যারা শিরক থেকে বেঁচে থাকে।"
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، فِي قَوْلِهِ: " ‌‌{يَسْلُكْهُ عَذَابًا صَعَدًا} [الجن: 17] .

قَالَ: جَبَلٌ فِي النَّارِ زَلِقٌ كُلَّمَا صَعَدَ الْفَاجِرُ زَلِقَ فَيَهْوِي فِي النَّارِ "
২৫ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে: "{তিনি তাকে কঠোর আযাবে প্রবেশ করাবেন} [আল-জিন: ১৭]।

তিনি বলেন: এটি জাহান্নামের একটি পিচ্ছিল পাহাড়; যখনই কোনো পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তাতে আরোহণ করে, তখনই সে পিছলে যায় এবং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়।"
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
26 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، فِي قَوْلِهِ: " ‌‌{وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ} [الفرقان: 27] .

قَالَ: هُوَ عُقْبَةُ بْنُ أَبِي مُعَيْطٍ ، وَأُبَيُّ بْنُ خَلَفٍ "
২৬ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: " {আর সেদিন জালেম ব্যক্তি আপন দু’হাত কামড়াবে} [আল-ফুরকান: ২৭] ।

তিনি বলেন: সে হলো উকবা ইবনে আবি মুআইত এবং উবাই ইবনে খালাফ।"
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২৮)
27 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: " ‌‌{وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا} [طه: 40] ابْتَلَيْنَاكَ ابْتِلاءً "
২৭ - ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত: " {এবং আমি তোমাকে বহুবিধ পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা করেছি} [ত্বহা: ৪০] আমি তোমাকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করেছি। "
(খণ্ড: ১) নুসখাতুয যুবাইর ইবনি আদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
28 - وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، فِي قَوْلِهِ: " ‌‌{وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ مَوْقُوفُونَ عِنْدَ رَبِّهِمْ} [سبأ: 31] .

قَالَ: يَعْنِي الْمُشْرِكِينَ "
২৮ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণিত: " {আর আপনি যদি দেখতেন যখন যালিমদেরকে তাদের রবের সামনে দণ্ডায়মান করা হবে} [সাবা: ৩১] ।

তিনি বলেছেন: "অর্থাৎ মুশরিকরা।"