(খণ্ড: ১) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: -)
العواصم والقواصم في الذب عن سنة أبي القاسم   (ابن الوزير)

القسم: العقيدة


الكتاب: العواصم والقواصم في الذب عن سنة أبي القاسم

المؤلف: ابن الوزير، محمد بن إبراهيم بن علي بن المرتضى بن المفضل الحسني القاسمي، أبو عبد الله، عز الدين، من آل الوزير (ت 840 هـ)

حققه وضبط نصه، وخرج أحاديثه، وعلّق عليه: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]

الناشر: مؤسسة الرسالة للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت

الطبعة: الثالثة، 1415 هـ - 1994 م

عدد الأجزاء: 9

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1432

আবুল কাসিমের সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় আল-আওয়াসিম ওয়াল-কাওয়াসিম   (ইবনুল ওয়াজির)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: আবুল কাসিমের সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় আল-আওয়াসিম ওয়াল-কাওয়াসিম

লেখক: ইবনুল ওয়াজির, মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আলি ইবনে আল-মুরতাদা ইবনে আল-মুফাদদাল আল-হাসানি আল-কাসিমি, আবু আবদুল্লাহ, ইজ্জুদ্দিন, আল ওয়াজির বংশোদ্ভূত (মৃত্যু ৮৪০ হিজরি)

সম্পাদনা, পাঠ্য বিন্যাস, হাদিসের তাহরিজ ও টীকা প্রদান: শুআইব আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হিজরি]

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা, বৈরুত

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: -)
ـ[العواصم والقواصم في الذب عن سنة أبي القاسم]ـ

المؤلف: الإمام العلامة النظار المجتهد محمد بن إبراهيم الوزير اليماني المتوفى سنة 840 هـ

حققه وضبط نصه، وخرج أحاديثه، وعلّق عليه: شعيب الأرنؤوط

الناشر: مؤسسة الرسالة للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت

الطبعة: الثالثة، 1415 هـ - 1994 م

عدد الأجزاء: 9

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[আবুল কাসেমের সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় সুদৃঢ় সুরক্ষা ও বিধ্বংসী প্রতিরোধ]

লেখক: ইমাম আল্লামা গবেষক মুজতাহিদ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-ওয়াজির আল-ইয়ামানি, মৃত্যু ৮৪০ হিজরি

পাণ্ডুলিপি যাচাই, পাঠ্য বিন্যাস, হাদিস চয়ন ও বিশ্লেষণ এবং টীকা প্রদান করেছেন: শুয়াইব আল-আরনাউত

প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ প্রতিষ্ঠান, বৈরুত

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١)
العواصم والقواصم

في الذب عن سنة أبي القاسم

تصنيف الإمام العلامة النظار المجتهد محمد بن إبراهيم الوزير اليماني

المتوفى سنة 840 هـ

حققه وضبط نصه، وخرج أحاديثه، وعلّق عليه

شعيب الأرنؤوط

‌‌الجزء الأول

مؤسسة الرسالة
আল-আওয়াসিম ওয়াল-কাওয়াসিম

আবুল কাসিমের সুন্নাহর প্রতিরক্ষায়

ইমাম, প্রখ্যাত আলিম, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক ও মুজতাহিদ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-ওয়াজির আল-ইয়ামানির সংকলন

মৃত্যু ৮৪০ হিজরি

পাণ্ডুলিপি যাচাই, পাঠ বিশুদ্ধকরণ, হাদিসের উৎস নির্ধারণ ও টীকা প্রদান করেছেন

শুয়াইব আল-আরনাউত

প্রথম খণ্ড

মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢)
العواصم والقواصم

في

الذب عن سنة أبي القاسم

1
আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম (সুরক্ষাকারী ও চূর্ণকারীসমূহ)

প্রসঙ্গে

আবুল কাসিমের সুন্নাহর প্রতিরক্ষা

১
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٣)
جميع الحقوق محفوظَة

لمؤسسَة الرسَالة

ولا يحق لأية جهة أن تطبع أو تعطي حق الطبع لأحد.

سَواء كان مؤسسَة رسميّة أو أفراداً.

الطبعة الثالثة

1415 هـ - 1994 م

 

مؤسسة الرسالة للطباعة والنشر والتوزيع

مؤسسة الرسالة بَيْروت - شارع سُوريا - بناية صَمَدي وَصالحة

هاتف: 603243 - 815112 - ص. ب: 7460 برقياً، بيوشران
সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

মুয়াসসাসাতুর রিসালার জন্য

কোনো পক্ষের জন্য মুদ্রণ করা বা কাউকে মুদ্রণের অধিকার প্রদান করার বৈধতা নেই।

চাই তা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান হোক বা কোনো ব্যক্তিবিশেষ।

তৃতীয় সংস্করণ

১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

 

মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য মুয়াসসাসাতুর রিসালা

মুয়াসসাসাতুর রিসালা বৈরুত - সিরিয়া স্ট্রিট - সামাদি ও সালিহা ভবন

ফোন: ৬০৩২৪৩ - ৮১৫১১২ - পো. ব.: ৭৪৬০ তারবার্তা: বিউশরান
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অত্যন্ত দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٥)
قالوا في «العواصم» ومصنفه:

1 - «كان مقبلاً على الاشتغال بالحديث، شديد الميل إلى السُّنَّة». الحافظ ابن حجر «إنباء الغمر» 7/ 372

2 - «إن العواصم والقواصم يشتمل على فوائد في أنواع من العلوم، لا توجد في شيء من الكتب، ولو خرج هذا الكتاب إلى غير الديار اليمنية لكان من مفاخر اليمن وأهله». الشوكاني «البدر الطالع» 2/ 91

3 - «والذي يغلب على الظن أنّ شيوخه لو جمعوا جميعاً في ذاتٍ واحدةٍ لم يبلغ علمهم إلى مقدار علمه، وناهيك بهذا، ولو قلت: إن اليمن لم تنجب مثله، لم أبعد عن الصواب». الشوكاني «البدر الطالع» 2/ 92

4 - «كان فريد العصر، ونادرة الدهر، خاتمة النُّقاد، وحامل لواء الإسناد، وبقية أهل الاجتهاد، بلا خلاف وعناد، رأساً في المعقول والمنقول، إماماً في الفروع والأصول». صدّيق حسن خان «أبجد العلوم» 3/ 190
'আল-আওয়াসিম' এবং এর রচয়িতা সম্পর্কে তাঁরা বলেছেন:

১ - «তিনি হাদীস চর্চায় মনোযোগী ছিলেন এবং সুন্নাহর প্রতি ছিল তাঁর প্রবল অনুরাগ»। হাফেজ ইবনে হাজার, 'ইনবাউল গুমর' ৭/৩৭২

২ - «নিশ্চয়ই 'আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম' গ্রন্থটি বিভিন্ন শাস্ত্রের এমন সব তত্ত্ব ও তথ্যের সমাহার যা অন্য কোনো কিতাবে পাওয়া যায় না। এই কিতাবটি যদি ইয়েমেনের ভূখণ্ডের বাইরে ছড়িয়ে পড়ত, তবে এটি ইয়েমেন ও ইয়েমেনবাসীর জন্য এক অনন্য গৌরবের বিষয় হতো»। আশ-শাওকানী, 'আল-বাদরুত তালি' ২/৯১

৩ - «প্রবল ধারণা এই যে, তাঁর সকল উস্তাদকে যদি একত্রে এক ব্যক্তিতে রূপান্তর করা হতো, তবুও তাঁদের সম্মিলিত জ্ঞান তাঁর জ্ঞানের সমপর্যায়ে পৌঁছাত না। আপনার জন্য এটুকু জানাই যথেষ্ট। আমি যদি বলি যে, ইয়েমেন তাঁর মতো আর কাউকে জন্ম দেয়নি, তবে আমি সত্য থেকে বিচ্যুত হব না»। আশ-শাওকানী, 'আল-বাদরুত তালি' ২/৯২

৪ - «তিনি ছিলেন স্বীয় যুগের অদ্বিতীয় এবং মহাকালের এক বিরল প্রতিভা, সমালোচকগণের শেষ সমাপক, সনদের পতাকাবাহী এবং ইজতিহাদ চর্চাকারীদের অবশিষ্ট উত্তরসূরি—এতে কোনো মতভেদ বা শত্রুতা নেই। তিনি ছিলেন বুদ্ধিভিত্তিক ও শ্রুতিনির্ভর শাস্ত্রসমূহের শীর্ষস্থানীয় এবং ফুরু ও উসুল শাস্ত্রের ইমাম»। সিদ্দিক হাসান খান, 'আবজাদুল উলুম' ৩/১৯০
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٧)
الإمام محمد بن إبراهيم الوزير

وكتابه العواصم والقواصم

بقلم

القاضي الفاضل الأستاذ إسماعيل الأكوع

رئيس الهيئة العامة للآثار ودور الكتب باليمن الشمالي
ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-ওয়াযীর

এবং তাঁর গ্রন্থ আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম

লেখনীতে

বরেণ্য বিচারক অধ্যাপক ইসমাঈল আল-আকওয়া

উত্তর ইয়ামেনের পুরাকীর্তি ও গ্রন্থাগারসমূহের সাধারণ কর্তৃপক্ষের সভাপতি
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله نحمُده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ باللهِ من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهدِ الله، فهو المهتدي، ومن يُضلِل، فلا هادِيَ له ونصلي ونسلِّم على رسول الله الهادي إلى أقوم طريق، وأوضح سبيل، وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد، فإني لا أجد -وأنا أتحدثُ عن الإمام الجليل محمد بن إبراهيم الوزير، رحمه الله عبارةً تصفُ علماء السنة المجتهدين في اليمن وهو في مقدمتهم أدق وأشمل من كلمة شيخ الإسلام الشوكاني رحمه الله وهو يترجم للإمام تفسه في كتابه " البدر الطالع " مشيراً إلى جهل علماء المسلميين خارج اليمن بمكانة علماء السنة في اليمن، وعُلُوِّ منازلهم، وطول باعهم، ورسوخ أقدامهم في ميادين الاجتهاد وهذا نصُّها:

"ولا ريب أن علماء الطوائف لا يُكثرُون العناية بأهل هذه الديار (اليمن) لاعتقادهم في الزيدية ما لا مقتضى له إلا مجرد التقليد لمن لم يطَّلِع على الأحوال، فإن في ديار الزيدية من أئمة الكتاب والسنة عدداً
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করি আল্লাহর রাসূলের ওপর, যিনি সরলতম পথ ও সুস্পষ্ট পন্থার দিকে পথপ্রদর্শক, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর, মহান ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আল-ওয়াযীর (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আমি ইয়েমেনের সুন্নাহর মুজতাহিদ আলেমদের বর্ণনায়—যাদের অগ্রভাগে তিনি রয়েছেন—শাইখুল ইসলাম আশ-শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বাণীর চেয়ে অধিকতর সূক্ষ্ম ও ব্যাপক কোনো বক্তব্য খুঁজে পাই না। তিনি যখন তাঁর 'আল-বাদরুত তালি' গ্রন্থে ইমামের জীবনী বর্ণনা করছিলেন, তখন ইয়েমেনের বাইরের মুসলিম আলেমদের নিকট ইয়েমেনের সুন্নাহর আলেমদের মর্যাদা, তাঁদের উচ্চ অবস্থান, তাঁদের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ইজতিহাদের ময়দানে তাঁদের সুদৃঢ় পদচারণা সম্পর্কে অজ্ঞতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। সেই মূল বক্তব্যটি হলো এই:

"আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিভিন্ন মাযহাব ও মতাদর্শের আলেমগণ এই ভূখণ্ডের (ইয়েমেন) অধিবাসীদের প্রতি খুব একটা গুরুত্ব প্রদান করেন না। কারণ যায়দিয়াদের সম্পর্কে তাঁদের এমন কিছু ধারণা রয়েছে যার ভিত্তি প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয় এমন ব্যক্তিদের নিছক অন্ধ অনুসরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ নিশ্চয়ই যায়দিয়াদের ভূখণ্ডে কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী এমন বহু সংখ্যক ইমাম রয়েছেন—"
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١٠)
يُجاوِز الوصف، يتقيِّدونَ بالعمل بنصوص الأدلة، ويعتمدون على ما صحَّ في الأمهات الحديثية، وما يلتحق بها مِن دواوين الإسلام المشتملة على سنة سيد الأنام، ولا يرفعون إلى التقليد رأساً، لا يشوبون دينَهم بشيء من البدع التي لا يخلو أهلُ مذهب من المذاهب من شيء منها. بل هُم على نمط السلف الصالح في العمل بما يدل عليه كتابُ الله، وما صحَّ من سنة رسول الله مع كثرة اشتغالهم بالعلوم التي هي آلات علم الكتاب والسنة من نحوٍ وصرفٍ وبيانٍ وأصولٍ ولغةٍ، وعدم إخلالهم بما عدا ذلك من العلوم العقلية. ولو لم يكن لهم مِن المزية إلا التقيدُ بنصوصِ الكتاب والسنة، وطرح التقليد، فإن هذه خصيصة خصَّ اللهُ بها أهل هذه الديار في هذه الأزمنة الأخيرة، ولا تُوجد في غيرهم إلا نادراً" (1).

أما سببُ تفرد اليمن بظهور علماء مجتهدين ملتزمين بالعملِ بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم غير ميِّالين إلى أيِّ مذهب من المذاهب الإسلامية المعروفة، فيرجِعُ إلى أن المذهب الزيدي في أصل عقيدته يدعو إلى الاجتهاد، فلم يَحجُرْ على أتباعه حريةَ التفكير، ولا قيَّدهم بالتزام نصوصه وآرائه، ولكنه أطلق لهم العِنَانَ، وترك لهم الخِيار بعد أن جعل بات الاجتهاد مفتوحاً لمن حذق علومه واستوفى شروطه؛ فكان هذا حافزاً لمن وهبه اللهُ ذكاءً وفِطنة، ورزقه فهماً وبصيرة أن يعملَ بما أوصله إليه اجتهادُه من أدلة الكتاب والسنة، فكان الإمام محمد بن إبراهيم الوزير أبرزَ منْ بلغ أقصى درجاتِ الاجتهاد المطلق، وكذلك الحسن بن أحمد الجلال (1014 - 1084) وصالح بن مهدي المَقْبلي (1038 - 1108) ومحمد بن إسماعيل الأمير (1099 - 1182) ومحمد

--------------------------------------------

(1) البدر الطالع 2/ 83.
বর্ণনার ঊর্ধ্বে, তারা দলিলের ভাষ্যের (নুসুস) অনুসরণে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেন এবং হাদিসের মূল গ্রন্থসমূহ ও ইসলামের সেই সব সংকলনের ওপর নির্ভর করেন যাতে মানবজাতির সরদারের সুন্নাহ বিদ্যমান। তারা তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণের দিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করেন না; তারা তাদের দ্বীনকে এমন কোনো বিদআত দ্বারা কলুষিত করেন না, যা থেকে কোনো না কোনো মাযহাবের অনুসারীরা মুক্ত নয়। বরং তারা আল্লাহর কিতাব এবং আল্লাহর রাসূলের সহিহ সুন্নাহ যা নির্দেশ করে, সে অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে সালাফে সালেহিনের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পাশাপাশি তারা সেই সব বিদ্যায় ব্যাপকভাবে নিমগ্ন থাকেন যা কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়—যেমন: নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব), বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র), উসুল (মূলনীতি) ও ভাষা। এর পাশাপাশি অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানচর্চাতেও তারা কোনো ত্রুটি করেন না। যদি কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যের প্রতি অনুগত থাকা এবং তাকলিদ বর্জন করা ছাড়া তাদের আর কোনো বিশেষত্ব নাও থাকত, তবে এটিই এমন এক বৈশিষ্ট্য যা আল্লাহ এই শেষ যুগে এই ভূখণ্ডের অধিবাসীদের দান করেছেন, যা অন্যদের মাঝে বিরল ক্ষেত্র ছাড়া পাওয়া যায় না। (১)

পক্ষান্তরে, সুপরিচিত ইসলামি মাযহাবগুলোর কোনোটির প্রতি ঝুঁকে না পড়ে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মুজতাহিদ আলেমদের আবির্ভাবের মাধ্যমে ইয়ামেনের অনন্য হয়ে ওঠার কারণ হলো—যাইদি মাযহাব তার আকিদাগত মূলে ইজতিহাদের দাওয়াত দেয়। এটি তার অনুসারীদের চিন্তার স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করেনি এবং তাদের নিজস্ব ভাষ্য বা মতামতের অনুসরণে বাধ্য করেনি। বরং এটি তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে এবং তাদের পছন্দের সুযোগ দিয়েছে; কেননা এটি ইজতিহাদের দ্বার তাদের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে যারা এই বিদ্যায় পারদর্শী এবং এর শর্তাবলি পূরণ করতে সক্ষম। এটি তাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে যাদের আল্লাহ প্রখর মেধা ও বিচক্ষণতা দান করেছেন এবং রিযিক হিসেবে দান করেছেন সঠিক বুঝ ও অন্তর্দৃষ্টি, যাতে তারা কিতাব ও সুন্নাহর দলিল থেকে প্রাপ্ত ইজতিহাদ অনুযায়ী আমল করতে পারেন। ইমাম মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-ওয়াজির ছিলেন সেই সব ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ, যারা ইজতিহাদে মুতলাক বা নিরঙ্কুশ গবেষণার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন। একইভাবে আল-হাসান বিন আহমদ আল-জালাল (১০১৪ - ১০৮৪), সলিহ বিন মাহদি আল-মাকবালি (১০৩৮ - ১১০৮), মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমির (১০৯৯ - ১১৮২) এবং মুহাম্মদ...

--------------------------------------------

(১) আল-বাদরুত তালি' ২/ ৮৩।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١١)
ابن علي الشوكاني (1173 - 1250)، رحمهم الله جميعاً على تفاوتٍ فيما بينهم.

ولم أخص هؤلاء بالذكر إلا لأنهم نَعَوْا على العلماء المقلدين جمودَهم، وحثُّوا المسلمين على العمل بالكتاب والسنة، فهذا شيخ الإسلام الشوكاني يستطردُ في ترجمته للإمام الوزير استنكاره على العلماء المقلدين، فيقول: " وإني لأكثر التعجب من جماعة من أكابر العلماء المتأخرين الموجودين في القرن الرابع وما بَعده، كيف يقفونَ على تقليد عالم من العلماء، ويُقدمونه على كتاب الله وسنة رسوله مع كونهم قد عرفوا من علم اللسان ما يكفي فيم فهم الكتاب والسنة بعضه؟ فإن الرجل إذا عرف من لغة العرب ما يكون به فاهماً لما يسمعه منها، صار كأحد الصحابة الذين كانوا في زمنه صلى الله عليه وآله وسلم، ومن صار كذلك، وجب علبه التمسكُ بما جاء به رسولُ الله ععلى الله عليه وآله وسلم، وترك التعويل على محض الآراء. فكيف بمنْ وقف على دقائق اللغة وجلائلها إفراداً وتركيباً وإعراباً وبناء؟، وصار في الدقائق النحوية والصرفية والأسرار البيانية، والحقائق الأصولية بمقام لا يخفى عليه مِن لسان العرب خافية، ولا يَشذُّ عنه منها شاذة ولا فاذة، وصار عارفاً بما صحَّ عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم في تفسير كتاب الله، وما صحَّ عن علماء الصحابة والتابعين، ومنْ بعدهم إلى زمنه، وأتعب نفسه في سماع دواوين السنة التي صنفتها أئمة هذا الشأن في قديم الأزمان وفيما بعده فمن كان بهذه المثابة فكيف يسوغ له أن يعدل عن آية صريحةٍ، أو حديث صحيحٍ إلى رأي رآه أحدُ المجتهدين؟ حتى كأنه أحدُ الأغتام الذين لا يعرفون من رسوم الشريعة رسماً. فيالله العجب، إذا كانت نهايةُ العالم كبدايته؛ وآخر أمره كأوله، فقل لي: أيُّ فائدةٍ لتضييع الأوقات في المعارف العلمية؟ فإن قول
ইবন আলী আশ-শাওকানি (১১৭৩ - ১২৫০), তাদের মধ্যকার পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

আমি বিশেষভাবে এদের কথা উল্লেখ করেছি কারণ তারা মুকাল্লিদ আলেমদের জড়তার নিন্দা করেছেন এবং মুসলিমদের কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করতে উৎসাহিত করেছেন। এই তো শাইখুল ইসলাম আশ-শাওকানি ইমাম আল-ওয়াজিরের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে মুকাল্লিদ আলেমদের প্রতি তার অসম্মতি দীর্ঘায়িত করে বলেন: "চতুর্থ হিজরি শতাব্দী এবং তার পরবর্তী সময়ের একদল বড় বড় আলেমদের দেখে আমি অত্যন্ত বিস্মিত হই যে, কীভাবে তারা নির্দিষ্ট একজন আলেমের তাকলিদের ওপর থেমে থাকেন এবং তাকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ওপর প্রাধান্য দেন? অথচ তারা ভাষাতত্ত্বের যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছেন তা দিয়ে কিতাব ও সুন্নাহর অন্তত কিছু অংশ বোঝা সম্ভব। কেননা একজন ব্যক্তি যখন আরবি ভাষা থেকে এমন কিছু জানতে পারে যার মাধ্যমে সে যা শুনছে তা বুঝতে সক্ষম হয়, তখন সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সময়ের একজন সাহাবীর মতো হয়ে যায়। আর যার অবস্থা এমন হয়, তার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়ে ধরা এবং নিছক মতামতের ওপর নির্ভর করা পরিত্যাগ করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে একক শব্দ, বাক্য গঠন, ব্যাকরণ ও শব্দতত্ত্বের ক্ষেত্রে ভাষার সূক্ষ্ম ও বৃহৎ বিষয়সমূহ অবগত হয়েছে? এবং নাহু ও সরফের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ, অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্যসমূহ এবং উসূলের মূল বিষয়সমূহে এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যে তার কাছে আরবি ভাষার কোনো গোপন বিষয় অস্পষ্ট থাকে না এবং কোনো বিরল বা বিচ্ছিন্ন বিষয়ও তার দৃষ্টি এড়িয়ে যায় না। এবং আল্লাহর কিতাবের তাফসীর বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত, সাহাবী ও তাবিঈ আলেমগণ এবং তাদের পরবর্তী থেকে নিজের সময় পর্যন্ত যা সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে তা সে জেনেছে। এবং প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে এই শাস্ত্রের ইমামগণ কর্তৃক সংকলিত সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ শ্রবণে নিজেকে ক্লান্ত করেছে—এমন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য কীভাবে এটি বৈধ হতে পারে যে সে কোনো সুস্পষ্ট আয়াত বা সহীহ হাদীস ছেড়ে কোনো মুজতাহিদের দেওয়া মতামতের দিকে ফিরে যাবে? এমনকি সে তখন এমন এক অজ্ঞ ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যায় যে শরীয়তের কোনো চিহ্নই জানে না। আল্লাহর কসম, বড়ই আশ্চর্যের বিষয় যদি একজন আলেমের শেষ অবস্থা তার শুরুর অবস্থার মতোই হয় এবং তার শেষ পরিণতি প্রথম অবস্থার মতো হয়, তবে আমাকে বলুন: জ্ঞানার্জনে সময় ব্যয় করার ফায়দা কী? কেননা কথা হলো...
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١٢)
إمامه الذي يُقلِّده هو ما كان يفهمه قبل أن يشتغل بشيء من العلوم سواه كما نُشاهده في المقتصرين على علم الفقه، فإنهم يفهمونه، بل يصيرون فيه من التحقيق إلى غاية لا يخفى عليه منه شيء، ويدرسون فيه، ويُفتون به وهم لا يعرفون سواه، بل لا يُميزون بينَ الفاعل والمفعول (1).

ثم خَلَصَ شيخ الإسلام إلى هذه النصيحة: " والذي أدينُ الله به أنه لا رُخصةَ لمن علِمَ من لغة العرب ما يفهم به كتاب الله بعد أن يُقيم لسانه بشيء من علم النحو والصرف وشطرٍ من مهمات كليات أصول الفقه في ترك العمل بما يفهمه من آيات الكتاب العزيز، ثم إذا انضم إلى ذلك الاطلاعُ على كتب السنة المطهرة التي جمعها الأئمة المعتبرون، وعملَ بها المتقدمون والمتأخرون، كالصحيحين وما يلتحقُ بهما مما التزم فيه مصنفوه الصحة، أو جمعوا فيه بينَ الصحيح وغيره مع البيانِ لما هو صحيح، ولما هو حسن، ولما هو ضعيف، وجب العملُ بما كان كذلك من السنة، ولا يَحِل التمسكُ بما يُخالفه من الرأي، سواء كان قائله واحداً أو جماعة أو الجمهور، فلم يأت في هذه الشريعة الغراء ما يدل على وجوب التمسك بالآراء المتجردة عن معارضة الكتاب والسنة فكيف بما كان منها كذلك، بل الذي جاءنا في كتاب الله على لسان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم "وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا". إلى آخر ما أورده في الحث على العمل بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم وحدهما (2) ".

 

مولد الإمام الوزير:

وُلِدَ على المشهور الصحيح في رجب سنة 775 بهجرة الظَهْرَاوين

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه 2/ 84.

(2) المصدر نفسه 2/ 85.
তাঁর ইমাম, যাঁর তিনি তাকলীদ বা অনুসরণ করেন, তিনি হলেন এমন কেউ যাকে তিনি অন্য কোনো ইলম বা জ্ঞান অর্জনের পূর্বে বুঝেছিলেন; যেমনটি আমরা ইলমে ফিকহের মধ্যে সীমাবদ্ধ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করি। তারা তা বোঝেন, এমনকি গবেষণার ক্ষেত্রে এমন এক চূড়ান্তে পৌঁছান যে, এর কোনো কিছুই তাদের কাছে অস্পষ্ট থাকে না। তারা এতে পাঠদান করেন এবং ফতোয়া প্রদান করেন, অথচ তারা ফিকহ ছাড়া অন্য কিছু চেনেন না, এমনকি তারা ফায়েল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম)-এর মধ্যেও পার্থক্য করতে পারেন না। (১)

অতঃপর শায়খুল ইসলাম এই উপদেশে উপনীত হয়েছেন: "আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমি যে দ্বীন পালন করি তা হলো—যে ব্যক্তি আরবি ভাষার এতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছে যার মাধ্যমে আল্লাহর কিতাব বোঝা সম্ভব, এবং নাহু ও সরফ এর মাধ্যমে নিজের জিহ্বাকে শুদ্ধ করার পর এবং উসূলে ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহের একটি অংশ আয়ত্ত করার পর, মহাগ্রন্থ আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ থেকে সে যা বোঝে তার ওপর আমল করা বর্জন করার কোনো অবকাশ বা অনুমতি তার জন্য নেই। অতঃপর যদি এর সাথে পবিত্র সুন্নাহর সেই কিতাবসমূহের অধ্যয়ন যুক্ত হয় যা নির্ভরযোগ্য ইমামগণ সংকলন করেছেন এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ যার ওপর আমল করেছেন—যেমন সহীহাইন এবং এ দুটির সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গ্রন্থ যাতে লেখকগণ কেবল সহীহ হাদিস বর্ণনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অথবা যাতে তারা সহীহ ও অন্যান্য হাদিস একত্রিত করেছেন এবং কোনটি সহীহ, কোনটি হাসান ও কোনটি যয়ীফ তা বর্ণনা করে দিয়েছেন—তবে সুন্নাহর এ সকল বিষয়ের ওপর আমল করা ওয়াজিব হয়ে যায়। আর সুন্নাহর পরিপন্থী কোনো মতামতের (রা'য়) ওপর অটল থাকা বৈধ নয়, চাই সেই মতামতের প্রবক্তা একজন হোক, বা কোনো গোষ্ঠী হোক, কিংবা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) হোক। কেননা এই সমুজ্জ্বল শরীয়তে এমন কোনো প্রমাণ আসেনি যা কিতাব ও সুন্নাহর মোকাবিলাহীন নিছক মতামতের ওপর অটল থাকাকে ওয়াজিব সাব্যস্ত করে, তাহলে কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধী মতামতের ক্ষেত্রে তা কীভাবে হতে পারে! বরং আল্লাহর কিতাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জবানিতে আমাদের কাছে যা এসেছে তা হলো: 'রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো।' কেবল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর ওপর আমল করার ব্যাপারে তাঁর দেওয়া উৎসাহমূলক বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত এভাবেই বর্ণিত হয়েছে (২)।"

 

ইমাম আল-ওয়াজিরের জন্ম:

তিনি সঠিক ও প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী ৭৭৫ হিজরি সনের রজব মাসে যাহরাওয়াইন হিজরতে জন্মগ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস, ২/ ৮৪।

(২) একই উৎস, ২/ ৮৫।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١٣)
من شَظب (1) بيد أن المؤرخ عبد الوهاب بن عبد الرحمن البُرَيهي ذكر في تاريخه -وهو يترجم له- ما لفظه: " قلت: قرأتُ تاريخ مولده منقولاً من خطه، قال: مولدي سنة ست وسبعين وسبعمائة " وبمثل هذا روى الإمام شرف الدين في شرح مقدمة كتابه "الأثمار في فقه الأئمة الأطهار" حينما تعرض لذكر محمد بن إبراهيم الوزير استطراداً (2) فقال: " ورأيتُ لابن أخيه وأنا أدركتُ آخر مدته في أول وقت طلبي، رأيت له ترجمة لهذا بخطِّه؛ قال فيها: ولِدَ رحمه الله في شهر رجب الفرد -كما وجدته بخطه- في سنة ست وسبعين وسبعمائة بهجرة الظهْرَاويْن بشَظَب، وهو جبل عالٍ باليمن ".

قلت: وإذا كانت هذه الترجمة التي اعتمد عليها الإمامُ شرف الدين هي التي بين أيدينا اليوم، فهي ليست لابن أخيه؛ وإنما هي لابن ابن أخيه محمد بن عبد الله بن الهادي بن إبراهيم الوزير وقد ورد فيها ما لفظه: " مولده رضي الله عنه ورحمه- في شهر رجب الأصب مِن سنة خمس وسبعين وسبعمائة بهجرة الظَهْرَاوين من شَظَب، وهو جبل عالٍ باليمن، هكذا نقلتُه من خطه رضي الله عنه، وحفظتُه من غيره من الأهل ".

--------------------------------------------

(1) شظب: جبل من بلد بني حجاج من ناحية السُودَة شمال غرب صنعاء على مسافة (100) كيلو متر تقديراً وقد خربت هجرة الظهراوين ولم يبق إلا اطلالُها، وانظر في ذلك كتابنا "هجر العلم ومعاقله في اليمن".

(2) ذكره الإمام شرف الدين بعد أن ذكر أبا محمد الحسن بن أحمد الهَمْداني صاحب "الإكليل" ونشوان بن سعيد الحميرى صاحب "شمس العلوم" وشنع عليهم فقدح فيهم للتحذير من الانخداع بكلامهم، وعدم الالتفات إلى ما يدعون إليه، ونسب إلى الإمام محمد بن إبراهيم الوزير أشياء لم يذكرها سواه من علماء اليمن حتى خصومه الذين اختلفوا معه، وانتقدوه، واعترضوا عليه. والسبب في ذلك أنه كان -كأخيه العلامة الهادي بن ابراهيم- مؤيداً للإمام المنصور علي ابن الإمام صلاح الدين الذي تغلب على الإمام المهدي أحمد بن يحيى المرتضى جد الإمام شرف الدين، وألف فيه كتاباً أسماه " الحسام المشهور في الذب عن سيرة الإمام المنصور ".
শাযাব থেকে (১) তবে ঐতিহাসিক আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুর রহমান আল-বুরাইহি তার ইতিহাস গ্রন্থে—তার জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে—যা উল্লেখ করেছেন তার শব্দগুলো হলো: "আমি বলছি: আমি তার নিজ হস্তলিপি থেকে তার জন্ম তারিখটি নকল করা অবস্থায় পড়েছি, তিনি বলেছেন: আমার জন্ম সাতশত ছিয়াত্তর হিজরি সনে।" অনুরূপ বর্ণনা ইমাম শরাফ উদ্দিন তার 'আল-আসমার ফি ফিকহিল আইম্মাতিল আতহার' গ্রন্থের ভূমিকার ব্যাখ্যায় প্রদান করেছেন যখন তিনি প্রসঙ্গক্রমে (২) মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-ওয়াজিরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন: "আমি তার ভ্রাতুষ্পুত্রের একটি লেখা দেখেছি—আর আমি আমার জ্ঞান অন্বেষণের শুরুর দিকে তার জীবনের শেষ সময়টি পেয়েছিলাম—আমি তার হাতে লেখা একটি জীবনী দেখেছি; সেখানে বলা হয়েছে: তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) রজব মাসে—যেমনটি আমি তার নিজ হাতে লেখা পেয়েছি—সাতশত ছিয়াত্তর হিজরি সনে শাযাবের যাহরাওয়াইন হিজরাতে জন্মগ্রহণ করেন। আর এটি ইয়েমেনের একটি উঁচু পাহাড়।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইমাম শরাফ উদ্দিন যে জীবনীর ওপর নির্ভর করেছেন তা যদি বর্তমানে আমাদের সামনে থাকা জীবনীটিই হয়, তবে এটি তার ভ্রাতুষ্পুত্রের নয়; বরং এটি তার ভ্রাতুষ্পুত্রের পুত্র মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হাদি ইবনে ইব্রাহিম আল-ওয়াজিরের লেখা। সেখানে শব্দগুলো ছিল নিম্নরূপ: "তার জন্ম—আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং রহম করুন—সাতশত পঁচাত্তর হিজরি সনের বরকতময় রজব মাসে শাযাবের যাহরাওয়াইন হিজরাতে। এটি ইয়েমেনের একটি উঁচু পাহাড়। আমি এটি তার নিজ হস্তলিপি থেকে এভাবেই নকল করেছি এবং পরিবারের অন্যান্যদের কাছ থেকেও তা মুখস্থ রেখেছি।"

--------------------------------------------

(১) শাযাব: সানআর উত্তর-পশ্চিমে আস-সুদাহ অঞ্চলের বনী হাজ্জাজ জনপদের একটি পাহাড়, যার দূরত্ব আনুমানিক ১০০ কিলোমিটার। যাহরাওয়াইন হিজরাটি বর্তমানে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এখন কেবল এর ধ্বংসাবশেষ অবশিষ্ট আছে। এ বিষয়ে আমাদের 'হিজারুল ইলম ওয়া মাআকিলুহু ফিল ইয়ামান' গ্রন্থটি দেখুন।

(২) ইমাম শরাফ উদ্দিন তাকে উল্লেখ করেছেন 'আল-ইকলিল' রচয়িতা আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আহমদ আল-হামদানি এবং 'শামসুল উলুম' রচয়িতা নাশওয়ান ইবনে সাঈদ আল-হিমইয়ারির আলোচনার পর। তিনি তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং তাদের কথার মাধ্যমে বিভ্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করতে তাদের নিন্দা করেছেন, যাতে মানুষ তাদের দাওয়াতের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে। তিনি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-ওয়াজিরের প্রতি এমন কিছু বিষয় আরোপ করেছেন যা ইয়েমেনের অন্য কোনো আলেম এমনকি তার সাথে দ্বিমত পোষণকারী এবং সমালোচনাকারী প্রতিদ্বন্দ্বীরাও উল্লেখ করেননি। এর কারণ ছিল এই যে, তিনি—তার ভাই আল্লামা আল-হাদি ইবনে ইব্রাহিমের মতো—ইমাম মনসুর আলী ইবনে ইমাম সালাহউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন, যিনি ইমাম শরাফ উদ্দিনের দাদা ইমাম মাহদী আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুরতাদাকে পরাজিত করেছিলেন। তিনি তার সমর্থনে 'আল-হুসামুল মাশহুর ফিজ যাব্বি আন সিরাতিল ইমামিল মানসুর' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١٤)
أما ما ذكره السخاوي في " الضوء اللامع " بأنه وُلدَ تقريباً سنة 765 فلا صحةَ لذلك، وقد فَنَّد هذا الوهم شيخ الإسلام الإمام الشوكاني في " البدر الطالع " في ترجمته حيث قال: " وهذا التقريب بعيد والصواب الأول " (أي سنة 775).

 

نشأته ودراسته وشيوخه:

نشأ في هجرة الظهراوين بين أهله الذين آثروا طلبَ العلم على ما سواه، وانقطعوا له، واشتغلوا به درساً وتدريساً وتأليفاً، فأخذ يسيرُ على منهجهم، ويقتفي أثرَ من سبقه منهم، متبعاً خطاهم، وملتزماً بمسلكهم، فحفظ القرآن الكريم وجوده واستظهره، وحقظ متون كتب الطلب من نحوٍ وصرفٍ ومعانٍ وبيان وفقه وأصول، ثم أخذ في قراءة شروَحها المختصرة، ورحل إلى صعدة.

فأخذ عن أخيه الأكبر العلامة الهادي بن إبراهيم الوزير في جميع الفنون تحقيقاً، واستفاد منه كثيراً حتى في علم الأدب.

وأخذ عن القاضي العلامة محمد بن حمزة بن مظفر، وكان المشارَ إليه في علوم العربية واللغة والتفسير.

وقرأ علم الأصول على القاضي العلامة عبد الله بن حسن الدَّوَّاري.

ثم رحل إلى صنعاء، فأخذ عن القاضي علي بن أبي الخير " شرح الأصول " وهو معتمد الزيدية في اليمن، " والخلاصة " للرصاص، "والغياصة الجامعة لمعاني الخلاصة" للقاضي محمد بن يحيى بن حنش، وتذكرة الشيخ ابن متَّويه، وسمع عليه " مختصر المنتهى " في علم الأصول لابن الحاجب، كما قرأ هذا المختصر على السيد جمال الدين علي بن محمد بن أبي القاسم، ولما سمِعَه عليه، بهَرَهُ ما رأى من صفاء ذهنه، وحُسن نظره وألمعيته وبلاغته وفطنته وبراعته، وكان يُطنِبُ في الثناء عليه، ويرشد طلبة العلم إليه.
সাখাভী 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আনুমানিক ৭৬৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছেন, তার কোনো সত্যতা নেই। শায়খুল ইসলাম ইমাম শাওকানী 'আল-বدر আত-তালি' গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে এই বিভ্রম নিরসন করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: "এই অনুমানটি বাস্তবসম্মত নয়, বরং প্রথমটিই (অর্থাৎ ৭৭৫ হিজরি) সঠিক।"

 

তাঁর বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং শিক্ষকবৃন্দ:

তিনি হিজরাতুল জাহরাওয়াইনে তাঁর পরিবারের মাঝে বেড়ে ওঠেন, যারা অন্য সবকিছুর চেয়ে ইলম অর্জনকেই প্রাধান্য দিতেন। তাঁরা ইলমের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন এবং অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনায় নিবিষ্ট ছিলেন। তিনিও তাঁদের মানহাজ অনুসরণ করতে শুরু করেন এবং তাঁদের পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁদের পথে অবিচল থাকেন। অতঃপর তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেন এবং তাজবিদসহ তা আয়ত্ত করেন। এরপর তিনি নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব), মায়ানি ও বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র), ফিকহ (ফকিহশাস্ত্র) এবং উসুল (নীতিশাস্ত্র) এর মৌলিক পাঠ্যবইগুলো মুখস্থ করেন। এরপর তিনি সেগুলোর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো পড়তে শুরু করেন এবং সা’দা অভিমুখে সফর করেন।

তিনি তাঁর বড় ভাই আল্লামা আল-হাদী বিন ইব্রাহিম আল-ওয়াজিরের নিকট থেকে সকল শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করেন এবং তাঁর কাছ থেকে সাহিত্যশাস্ত্রেও প্রভূত জ্ঞান লাভ করেন।

তিনি বিচারক আল্লামা মুহাম্মদ বিন হামজা বিন মুজাফফরের নিকট শিক্ষালাভ করেন, যিনি আরবি ভাষা, ভাষাতত্ত্ব এবং তাফসির শাস্ত্রে প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

তিনি বিচারক আল্লামা আবদুল্লাহ বিন হাসান আদ-দাওয়ারীর নিকট উসুল শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।

এরপর তিনি সানআ সফর করেন এবং বিচারক আলী বিন আবিল খায়েরের নিকট থেকে 'শরহুল উসুল' পড়েন, যা ইয়ামেনের যায়দিয়াদের নির্ভরযোগ্য কিতাব। এছাড়া তিনি আর-রাসসাস রচিত 'আল-খুলাসা', বিচারক মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন হানাশ রচিত 'আল-গিয়াসাতুল জামিয়া লি মাআনিল খুলাসা' এবং শায়খ ইবনে মাত্তাওয়ায়েহ-এর 'তাজকিরা' পড়েন। তাঁর নিকট তিনি ইবনুল হাজিব রচিত উসুল শাস্ত্রের কিতাব 'মুখতাসারুল মুনতাহা' শ্রবণ করেন। অনুরূপভাবে তিনি এই মুখতাসারটি সাইয়্যেদ জামালুদ্দিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবিল কাসিমের নিকটও পাঠ করেন। তিনি যখন তাঁর নিকট এটি পাঠ করছিলেন, তখন তাঁর মেধার স্বচ্ছতা, গভীর অন্তর্দৃষ্টি, প্রখরতা, সাবলীলতা, বুদ্ধিমত্তা ও পারদর্শিতা দেখে তিনি বিমোহিত হয়ে যান। তিনি তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করতেন এবং ইলম অন্বেষণকারীদের তাঁর নিকট যাওয়ার পরামর্শ দিতেন।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١٥)
وأخذ أيضاً عن شيوخ آخرين.

أما ما قرأه لنفسه من سائر العلوم، فشيء كثير لا يأتي عليه الحصرُ.

وكان عمدة قراءته التي أفنى فيها عنفوان شبابه -كما ذكر أحمد بن عبد الله الوزير في كتابه الفضائل- علم أصول الفقه وعلم أصول الدين (علم لطيف الكلام) فقد جود فيهما غايةَ التجويد؛ وفحص وحقق وبحث، وبلغ الغاية القصوى، واطَّلع من أقوال أهل الفنين على ما لا يكادُ يعرفه إلا مثلُه، كما يُحدثنا هو نفسه في كتابه " العواصم والقواصم " الذي نقدم له بقوله: " وقد وهبتُ أيام شبابي وزمانَ اكتسابي لكدوره علم الكلام والجدال والنظر في مقالات أهل الضلال حتى عرفتُ قولَ من قال:

لقد طُفتُ في تلك المعاهد كلها … وسيَّرتُ طرفي بَيْن تلك المعالِمِ

وسبب إيثاري لذلك، وسلوكي تلك المسالك أن أول ما قرع سمعي، ورسخ في طبعي وجوب النظر والقول بأن من قلد في الاعتقاد كفر، فاستغرقتُ في ذلك حدة نظري وباكورة عمري. وما زلت أرى كل فرقة من المتكلمين تداوي أقوالاً مريضة؛ وتقوي أجنحة مهيضة، فلم أحصلْ على طائل، وتمثلت فيهم بقول القائل:

كل يداوي سقيماً من معايبه … فمن لنا بصحيحٍ ما به سقم

 

تحوُّله إلى علوم الكتاب والسنة:

فرجعت إلى كتاب الله وسنة رسوله، وقلت: " لا بد أن تكون فيهما براهين وردود على مخالفي الإسلام، وتعليم وإرشاد لمن اتبع الرسول عليه الصلاة والسلام، فتدبرت ذلك، وانشرح صدري، وصلح أمري وزال ما كنتُ به مبتلى ".
তিনি অন্যান্য শায়খদের থেকেও জ্ঞান অর্জন করেছেন।

আর অন্যান্য শাখা থেকে তিনি নিজে যা অধ্যয়ন করেছেন, তা এতই বিশাল যে তা গণনা করা সম্ভব নয়।

আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াযীর তাঁর 'আল-ফাদায়িল' গ্রন্থে যেমনটি উল্লেখ করেছেন—তাঁর অধ্যয়নের প্রধান বিষয়বস্তু যার পেছনে তিনি তাঁর যৌবনের সোনালী সময় ব্যয় করেছেন, তা হলো উসুলুল ফিকহ ও উসুলুদ দ্বীন (ইলমে কালাম)। তিনি এ দুটি বিষয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন; তিনি সেগুলোকে পরীক্ষা করেছেন, যাচাই করেছেন, গবেষণা করেছেন এবং চরম সীমায় পৌঁছেছিলেন। তিনি এই উভয় শাস্ত্রের পণ্ডিতদের এমন সব বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন যা তাঁর মতো ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ সচরাচর জানে না। যেমনটি তিনি নিজে তাঁর 'আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম' গ্রন্থে বলেছেন, যার ভূমিকা আমরা প্রদান করছি: "আমি আমার যৌবনের দিনগুলো এবং অর্জনের সময়গুলোকে ইলমে কালামের আবিলতা, বিতর্ক এবং পথভ্রষ্টদের মতবাদ পর্যালোচনার জন্য উৎসর্গ করেছিলাম, এমনকি আমি সেই কবির কথা উপলব্ধি করলাম যিনি বলেছিলেন:

আমি সেই সব বিদ্যাপীঠ পরিভ্রমণ করেছি … এবং সেই সব নিদর্শনের মাঝে আমার দৃষ্টি চালিত করেছি

আমার এগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার এবং সেই পথে চলার কারণ ছিল এই যে, সর্বপ্রথম যা আমার কানে এসেছিল এবং আমার স্বভাবে বদ্ধমূল হয়েছিল তা হলো—চিন্তা-গবেষণা করা ওয়াজিব এবং এই মত পোষণ করা যে আকিদাহর ক্ষেত্রে যে অন্ধ অনুকরণ করবে সে কাফির হয়ে যাবে। ফলে আমি আমার প্রখর দৃষ্টি এবং বয়সের প্রারম্ভকাল এতেই নিমগ্ন করেছিলাম। আমি অনবরত দেখছিলাম যে, মুতাকাল্লিমদের প্রতিটি দল রুগ্ন কথাগুলোর চিকিৎসা করছে এবং ভেঙে পড়া ডানাগুলোকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি কোনো সার্থকতা খুঁজে পাইনি। তাদের সম্পর্কে আমি কবির সেই কথার উদাহরণ দিচ্ছি:

প্রত্যেকেই তার ত্রুটিপূর্ণ রুগ্নটির চিকিৎসা করছে … তবে আমাদের জন্য এমন সুস্থ কোথায় যাতে কোনো রোগ নেই

 

কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞানের দিকে তাঁর প্রত্যাবর্তন:

অতঃপর আমি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফিরে আসলাম এবং বললাম: "অবশ্যই এ দুটির মধ্যে ইসলামের বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি ও খণ্ডন বিদ্যমান থাকবে এবং যারা রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অনুসরণ করে তাদের জন্য শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা থাকবে।" আমি তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলাম, ফলে আমার বক্ষ প্রশস্ত হলো, আমার অবস্থা সংশোধিত হলো এবং আমি যে সংকটে লিপ্ত ছিলাম তা দূর হয়ে গেল। "
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١٦)
ثم يقول: " هذا وإني لما رَتَبْتُ رُتوب (1) الكعب في مجالسة العلماء السادة، وثبت ثبوتَ القُطب في مجالس العلم والإفادة، ولم أزل منذ عرفت شمالي من يميني مشمراً في طلب معرفة ديني أتنقل في رتبة الشيوخ من قُدوة إلى قُدوة وأتوقَّل (2) في مدارس العلوم من ربوة إلى ربوة ولم يزل يَرَاعي للطائف الفوائد نواطف (3) وبناني للطف المعارف قواطف لم يكن حتماً أن يرجعَ طرف نظري عن المعارف خاسئاً حسيراً، ولم يجب قطعاً أن يعودَ جناحُ طلبي للفوائد مهيضاً كسيراً، ولم يكن بِدْعاً أن تنسمتُ من أعطارها روائح، وتبصرتُ من أنوارها لوائح أشربت قلبي محبةَ الحديث النبوي، والعلم المصطفوي، فكنتُ ممن يرى الحظ الأسنى في خدمة علومه، وتمهيدِ ما تعفى من رسومه، ورأيتُ أولى ما اشتغلتُ به ما تعيَّن فرض كفايته بعدَ الارتفاع، وتضيّق وقت القيام به بعدَ الاتساعِ من الذب عنه، والمحاماة عليه، والحثَّ على اتباعه، والدعاء إليه، فإنه علْمُ الصدر الأول، والذي عليه بعدَ القرآن المُعوِّلُ، وهو لعلوم الإسلام أصل وأساس، وهو المفسر للقرآن بشهادة {لتبين للناس} وهو الذي قال الله فيه تصريحاً {إنْ هُو إلا وَحْي يوحى} وهو الذي وصفه الصادق الأمين بمماثلة القرآن المبين، حيث قال في التوبيخ لكل مترف إمَّعة " إنِّي أُوتيتُ القُرآنَ ومِثلَه مَعه " (4).

لذلك فقد رسخ هذا الإمامُ في علوم القرآن والسنة حتى فاق أقرانه، وزاحم شيوخَه وتخطاهم، وبلغ مِن علوم الاجتهادِ ما لم يبلُغْه أحدٌ منهم.

--------------------------------------------

(1) في القاموس رتب رتوباً ثبت ولم يتحرك.

(2) في القاموس: وقل في الجبل: صعد.

(3) أي أن أقلامة لم تزل سائلة بلطائف الفوائد.

(4) الروض الباسم 5.
এরপর তিনি বলেন: "অতঃপর আমি যখন মহান আলেমদের মজলিসে অটলভাবে (১) অবস্থান করলাম এবং ইলম ও উপকারের মজলিসসমূহে ধ্রুবকের ন্যায় সুপ্রতিষ্ঠিত হলাম; আর যখন থেকে আমি আমার ডানে ও বামে পার্থক্য করতে শিখেছি, তখন থেকেই আমার দ্বীনের জ্ঞান অন্বেষণে কোমর বেঁধে লেগে আছি। আমি শিক্ষকদের স্তরে এক আদর্শ থেকে অন্য আদর্শে স্থানান্তরিত হয়েছি এবং ইলমের শিক্ষালয়গুলোতে এক উচ্চভূমি থেকে অন্য উচ্চভূমিতে আরোহণ (২) করেছি। আমার কলম সর্বদা সূক্ষ্ম কল্যাণসমূহ ঝরিয়ে চলেছে (৩) এবং আমার আঙ্গুলসমূহ সূক্ষ্ম জ্ঞানসমূহ আহরণ করে চলেছে। এটা অবধারিত ছিল না যে, জ্ঞান অন্বেষণ থেকে আমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসবে; আর এটাও নিশ্চিত ছিল না যে, কল্যাণ অন্বেষণে আমার জ্ঞানতৃষ্ণার ডানা ভেঙে চূর্ণ হয়ে ফিরে আসবে। আর এটা কোনো অভিনব বিষয় ছিল না যে, আমি তার সুগন্ধি থেকে ঘ্রাণ গ্রহণ করেছি এবং তার নূর থেকে উজ্জ্বল আভা প্রত্যক্ষ করেছি। আমার অন্তরকে নববী হাদিস ও মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইলমের ভালোবাসায় সিক্ত করা হয়েছে। ফলে আমি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হলাম যারা তাঁর ইলমের খিদমত করা এবং তাঁর বিলুপ্তপ্রায় চিহ্নগুলোকে বিন্যস্ত করার মধ্যে পরম সৌভাগ্য খুঁজে পায়। আর আমি মনে করেছি যে, আমার আত্মনিয়োগ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিষয় হলো সেটি—যা ফরজে কিফায়া হওয়ার পর (মানুষের অবহেলার কারণে) এখন ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে, এবং যা পালনের সময় আগে প্রশস্ত থাকলেও এখন সংকীর্ণ হয়ে গেছে—তা হলো সেই ইলমকে রক্ষা করা, তার প্রতিরক্ষা করা, তা অনুসরণে উৎসাহিত করা এবং তার দিকে দাওয়াত দেওয়া। নিশ্চয়ই এটি প্রথম প্রজন্মের ইলম এবং কুরআনের পর এর ওপরই নির্ভর করা হয়। এটি ইসলামের সকল ইলমের মূল ও ভিত্তি। আর কুরআনের এই সাক্ষ্য অনুযায়ী এটিই কুরআনের ব্যাখ্যাকারী: {যাতে আপনি মানুষের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন}। আর এটিই সেই বিষয় যার সম্পর্কে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন: {এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর কাছে পাঠানো হয়}। এবং সত্যবাদী ও আমানতদার রাসূল একে সুস্পষ্ট কুরআনের সমতুল্য বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রত্যেক বিলাসপ্রিয় ও ব্যক্তিত্বহীন অনুসারীকে তিরস্কার করে বলেছেন: 'নিশ্চয়ই আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তার অনুরূপ আরেকটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে' (৪)।"

এজন্যই এই ইমাম কুরআন ও সুন্নাহর ইলমে এতটা গভীরতা অর্জন করেছিলেন যে, তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর শিক্ষকদের সমপর্যায়ে পৌঁছেছিলেন এবং তাঁদের অতিক্রম করে গিয়েছিলেন। এমনকি তিনি ইজতিহাদের ইলমে এমন স্তরে পৌঁছেছিলেন যেখানে তাঁদের কেউ পৌঁছাতে পারেননি।

--------------------------------------------

(১) আল-কামুস অভিধানে রয়েছে: 'রতাবা রুতুবান' অর্থ সে অটলভাবে স্থির হলো, নড়াচড়া করল না।

(২) আল-কামুস অভিধানে রয়েছে: পাহাড়ে আরোহণ করা।

(৩) অর্থাৎ, তাঁর কলমসমূহ সর্বদা সূক্ষ্ম কল্যাণসমূহ ঝরিয়ে চলেছে।

(৪) আর-রাওদুল বাসিম, পৃষ্ঠা ৫।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١٧)
اجتهاده:

كان رحمه الله من أبرز علماء اليمن المجتهدين على الإطلاق، وقد وصف العلامة أحمد بن عبد الله الوزير في كتابه "الفضائل" مكانة اجتهاده وعلو منزلته بقوله: " وله في علوم الاجتهاد المَحلُّ الأعلى، والقدح المُعَلى، وبلغ مبلغ الأوائل، بل زاد، واستدرك، واختار وصنف، وألف وأفادَ وجمع وقيد، وبنا وشيد، وكان اجتهادُه اجتهاداً كاملاً مطلقاً، لا كاجتهاد بعض المتأخرين، فإن ذلك إنما يُسمَّى ترجيحاً لأدلة بعض الأئمة المستنبطين على بعض، لا ابتداء اجتهاد واستخراج للحكم عما عُرفَ من غير معترف انتهاض ذلك الدليل عليه بعدَ معرفته للحكم نفسه وللدليل، ولكيفية الدلالة، وانتفاء المعارض، وشروط الاستدلال في العقليات والسمعيات، والتبحر في علم الرواية، ومعرفة الرجال وأحوالهم في النقد (1) والاعتدال والوفيات والأنساب والشيوخ، والتعمق في علم الأصولين والعربية، والتوغل في معرفة الكتاب العزيز، والاطلاع السديد على تفسيره، وكلام المفسرين. ولم يكن بهذه الصفة بغير شك ولا مِرية غيرُ هذا السيد الإمام الأكبر النقيد في هذا الشأن الذي شَهِدَ له بذلك جميعُ أهل الزمان من الأقارب والأباعد، والمخالف له في الاعتقاد والمساعد، ولقد كان آية في زمانه لم يأت الزمانُ بمثلها.

وأما تلك المقاماتُ العالية، والاستخراجاتُ الأصلية من الأدلة الكلية مثل ما صنعه في استخراجاته واختياراته في مسائل الاجتهاد، فهم عن ذلك بمراحل؛ وكيف يكون ذلك؟ وهم يغلطونَ في أسماء الرجال المشهورين، وتلتبِسُ عليهم أزمانُهم، ويُصحِّفُون من أسماء كبارهم، ومن

--------------------------------------------

(1) في الأصل التقيد.
তাঁর ইজতিহাদ:

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ছিলেন নিরঙ্কুশভাবে ইয়ামেনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ আলেম। আল্লামা আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াযীর তাঁর 'আল-ফাদায়েল' গ্রন্থে তাঁর ইজতিহাদের মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থান বর্ণনা করে বলেছেন: "ইজতিহাদের জ্ঞানসমূহে তাঁর রয়েছে সর্বোচ্চ স্থান ও শ্রেষ্ঠতম মর্যাদা; তিনি পূর্ববর্তীদের সমপর্যায়ে পৌঁছেছিলেন, বরং আরও বেশি করেছেন, ভুল সংশোধন করেছেন, মত পছন্দ করেছেন ও গ্রন্থনা করেছেন, রচনা করেছেন ও উপকৃত করেছেন, সংকলন ও লিপিবদ্ধ করেছেন এবং জ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন ও তাকে সুদৃঢ় করেছেন। তাঁর ইজতিহাদ ছিল এক পূর্ণাঙ্গ ও নিরঙ্কুশ ইজতিহাদ, পরবর্তী যুগের কারো কারো ইজতিহাদের মতো নয়। কেননা তাকে (পরবর্তী যুগের ইজতিহাদকে) কেবল পূর্ববর্তী ইস্তিম্বাতকারী ইমামগণের কোনো কোনো দলীলের ওপর অন্য দলীলের প্রাধান্য প্রদান (তারজিহ) বলা হয়; তা মৌলিক ইজতিহাদ বা এমন হুকুম উদ্ঘাটন নয়—যা স্বয়ং হুকুম ও দলীল সম্পর্কে জানার পর, দলীলের ধরন, বিরোধপূর্ণ দলীলের অনুপস্থিতি এবং বুদ্ধিভিত্তিক ও শ্রুতিভিত্তিক দলীলের শর্তাবলি জানা সত্ত্বেও ঐ দলীলের দাবি অনুযায়ী স্বীকৃতি ব্যতীত বের করা হয়। সাথে সাথে বর্ণনাশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ, বর্ণনাকারীদের অবস্থা, তাদের সমালোচনা (১), ন্যায়পরায়ণতা, মৃত্যুসন, বংশপরম্পরা ও উস্তাদদের সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এবং উভয় উসূল (আকিদা ও ফিকহ) ও আরবি ভাষায় গভীরতা অর্জন করা, মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের জ্ঞানে প্রবেশ করা এবং এর তাফসীর ও মুফাসসিরদের বক্তব্যের ওপর সঠিক প্রজ্ঞা রাখা। বিনাসন্দেহে এই বিষয়ের এমন সূক্ষ্মদর্শী বড় ইমাম কেবল তিনিই ছিলেন, যার ব্যাপারে তাঁর সমকালীন নিকটাত্মীয়-পরজন এবং আকিদাগত মতভেদে লিপ্ত বা সমর্থক—সকলেই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি তাঁর যুগে এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন, যার সমতুল্য কেউ সেই যুগে আসেনি।

আর সেই উচ্চমাকাম এবং মৌলিক দলীলসমূহ হতে হুকুম উদ্ঘাটন, যেমনটি তিনি ইজতিহাদের মাসআলাসমূহে নিজের উদ্ভাবন ও পছন্দের ক্ষেত্রে করেছেন—অন্যরা সে থেকে বহুদূরে অবস্থান করছেন। আর তা সম্ভবও বা কীভাবে? যেখানে তারা প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের নামের ক্ষেত্রে ভুল করেন, তাদের সময়কাল গুলিয়ে ফেলেন এবং বড়দের নামের বর্ণবিকৃতি ঘটান, আর...

--------------------------------------------

(১) মূলে ‘আত-তাকয়িদ’ (আবদ্ধ করা) রয়েছে।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١٨)
جَهلَ الاسم كيف يعرف الحال؟ وكثيراً ما يضبِطون ألفاظاً في متون الحديث (1) مصحفة تصحيفاً يُفسد المعنى، ولا يُعرف منه المراد، ولا يَصِح معه ظن، ولا يصدق عنده اعتقاد. وهو الخبيرُ الخِرِّيتُ الماهِر من (2) ذلك المقصد، وبما تدورُ عليه من معرفة التخصيص والنسخ أعرفُ وأقعد، والترجيح عند التعارض وغير ذلك من الأحكام المترتبة على ذلك وله القوة والمَلَكَةُ في تقوية بعض الأدلة بالطريق التي يقويها على اختلاف أنواع ذلك بوجه صريحٍ، وتصرفٍ صحيح، ولفظ فصيح، وحجة لازمة وأدلة جازمة عقلية ونقلية، وفي تضعيف بعض الأدلة مثل ذلك لا يتبع في ذلك إلا محض الدليل، ولا يكتفي فيه بمجرد أنه قيل كما عليه أكثر الناس تساهلاً وعدم تمكن واقتدار.

وأمره في التفسير لكلام رب العزة كذلك في معرفته نفسه، ثم معرفته قراءته، ومعرفة المفسرين والنقلة عنهم، ومعرفة أحوال الجميع، ومعرفة أسباب النزول وزمانه ومكانه، ومعرفة الألفاظ، وكثيراً مما يتعلق بالتفسير وآيات الأحكام، وتنبني عليه قواعد شرع الإسلام مما يطولُ ذكرُه.

ثم قال: "وإنما الغرض التعريفُ أن حال هذا الرجل رحمه الله ليس كحالِ غيره، وأن اجتهادَه كاجتهاد أئمة المذاهب، لا كالمخرجين (3) ومجتهدي المذاهب، ولا كالمرجحين الذين لا يُرجِّحون بغير المعقول، ويشق عليهم معرفة الآثار النقلية، والاطلاعُ على الإسنادات، ومعرفة الرجال، وَيعْسرُ عليهم الأخذُ من لطائف أدلةِ الكتاب والسنة ومعرفتها ومعرفة أنواع الحديث ومراتبه وأقسامه من الصحة والحسن ونحوها التي

--------------------------------------------

(1) في نسخة الأحاديث.

(2) في نسخة في.

(3) كأبي طالب والمؤيد بالله الهارونيين.
যে নামই জানে না, সে অবস্থা জানবে কীভাবে? তারা প্রায়শই হাদিসের মূল পাঠের (১) শব্দগুলোকে এমনভাবে ভুলভাবে লিখে থাকে যা অর্থকে বিকৃত করে দেয়, তা থেকে উদ্দেশ্য বোধগম্য হয় না, কোনো ধারণাও সঠিক হয় না এবং কোনো বিশ্বাসও সেখানে সত্য বলে গণ্য হয় না। তিনি সেই বিষয়ে (২) একজন অভিজ্ঞ, পথপ্রদর্শক ও দক্ষ ব্যক্তি; এবং 'তাকসিস' (বিশেষায়ন) ও 'নাসখ' (রহিতকরণ) সম্পর্কে তিনি অধিক অবগত ও সুপ্রতিষ্ঠিত। বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান এবং এ থেকে উদ্ভূত অন্যান্য বিধিবিধানের ক্ষেত্রেও তিনি পারদর্শী। তাঁর এমন শক্তি ও যোগ্যতা রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি কোনো কোনো দলিলকে সুস্পষ্টভাবে, সঠিক পন্থায়, প্রাঞ্জল ভাষায় এবং অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও বর্ণনাগত প্রমাণের ভিত্তিতে শক্তিশালী করেন। আবার কোনো দলিলকে দুর্বল করার ক্ষেত্রেও তিনি অনুরূপ পদ্ধতি অবলম্বন করেন; এই ক্ষেত্রে তিনি কেবল খাঁটি দলিলেরই অনুসরণ করেন এবং অধিকাংশ মানুষের মতো শিথিলতা ও অক্ষমতাবশত কেবল 'বলা হয়েছে' কথাটির ওপর নির্ভর করেন না।

মহিমান্বিত রবের বাণীর তাফসিরের ক্ষেত্রেও তাঁর পারঙ্গমতা তদ্রূপ; তাফসির শাস্ত্রে তাঁর নিজস্ব জ্ঞান, এরপর কিরাত (পঠনরীতি) সংক্রান্ত জ্ঞান, মুফাসসিরগণ এবং তাঁদের নিকট থেকে বর্ণনাকারীদের পরিচয়, তাঁদের সকলের অবস্থা, শানে নুযূল (নাজিলের প্রেক্ষাপট), সময় ও স্থান সম্পর্কে জ্ঞান, শব্দতত্ত্ব এবং তাফসির ও আহকামের আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট বহু বিষয়—যার ওপর ইসলামের শরয়ি মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠিত—এসবের বর্ণনা দীর্ঘ হবে।

অতঃপর তিনি বললেন: "উদ্দেশ্য হলো এটি জানানো যে, এই ব্যক্তির (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) অবস্থা অন্যদের মতো নয়। তাঁর ইজতিহাদ হলো মাযহাবের ইমামগণের ইজতিহাদের ন্যায়; তাখরীজকারী (৩) বা মাযহাবের মুজতাহিদদের মতো নয়। কিংবা সেই সব অগ্রাধিকার প্রদানকারীদের মতোও নয় যারা যুক্তি ব্যতিরেকে অগ্রাধিকার প্রদান করেন না এবং যাদের নিকট বর্ণনাগত আছারসমূহ জানা, সনদের ওপর জ্ঞান রাখা ও বর্ণনাকারীদের পরিচয় লাভ করা কঠিন মনে হয়। কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের সূক্ষ্ম দিকসমূহ অনুধাবন করা এবং হাদিসের প্রকারভেদ, মান ও বিভাগসমূহ যথা—সহিহ, হাসান ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখা যাদের জন্য দুঃসাধ্য, যা—"

--------------------------------------------

(১) হাদিসসমূহের পাণ্ডুলিপিতে।

(২) পাণ্ডুলিপিতে 'মধ্যে' শব্দ রয়েছে।

(৩) যেমন আবু তালিব এবং আল-মুআইয়্যাদ বিল্লাহ আল-হারুনীদ্বয়।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ١٩)
عليها مدارُ الاجتهاد والترجيح والانتقاد، وليس لِغيره مثلُ هذه الأهلية، ولا أعطاهم الله -سبحانه- مثل هذه العطية" (1).

وما أصدق ما قاله شيخ الإسلام الشوكاني رحمه الله فيه حيث يقول: " والذي يَغْلِبُ على الظن أن شيوخه لو جُمِعُوا في ذاتٍ واحدة، لم يَبْلُغْ علمُهم إلى مقدار علمه، وناهيك بهذا، ثم يقول: بعدَ كلام طويل: " ولو قلتُ: إن اليمنَ لم تُنْجِبْ مثلَه لم أُبعِدْ عن الصواب " (2).

ولما بلغ من العلم هذه الدرجة العليا، وبخاصة في علوم القرآنِ والسنة التي بَرزَ فيها، وأقبل على العمل بكتاب الله، وما صَح من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم داعياً إلى الاجتهاد، ومندِّداً بعلماء عصره الذين التزموا بالتقليد، لم يرُق لهم خروجُه على ما أَلفوهُ من التقليد ودعوته لهم إلى نبذه، والرجوع إلى العمل بكتاب الله وسنةِ رسوله صلى الله عليه وسلم، فناصبوه العداء، وشنعوا عليه، وشكَّكوا في دعوته، وصدُّوا الناسَ عن سلوكِ هذا المنهج القويم، والذي تَصَدَّرَ هذه المعارضة هو شيخُه العلامة جمالُ الدين علي (3) بن محمد بن أبي القاسم، فقد جرت بينَه وبينَ تلميذه منازعة في مسائل كما ذكر صاحب " الفضائل " وقال: " وكان مِن شيخه طَرَفٌ من الحَيف في السؤالات، وتحويلٌ لما يرويه الإمام محمد بن إبراهيم على صفة أنه يأخذ من كلامه مفهوماً لم يقصده، أو قد صرَّح بنفيه والإجماعُ منعقد على عدم اعتبار مفهومٍ وقع التصريحُ بخلافه، وما كان ذلك إلا لمكان دعوى الاجتهاد ".

--------------------------------------------

(1) الفضائل.

(2) البدر الطالع 2/ 92.

(3) هو مؤلف تجريد الكشاف، ويقال: إن له تفسيراً حافلاً في ثمان مجلدات. مولده سنة 769 ووفاته سنة 837.
এর উপরেই ইজতিহাদ, তারজিহ (প্রাধান্য দান) এবং সমালোচনার ভিত্তি আবর্তিত হয়। অন্য কারও মাঝে এ ধরণের যোগ্যতা নেই এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অন্য কাউকে এ ধরণের নেয়ামত দান করেননি। (১)।

তাঁর সম্পর্কে শায়খুল ইসলাম আশ-শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তা কতই না সত্য! তিনি বলেন: "প্রবল ধারণা এই যে, যদি তাঁর সকল উস্তাদকে এক ব্যক্তিতে পরিণত করা হতো, তবুও তাঁদের জ্ঞান তাঁর জ্ঞানের সমপর্যায়ে পৌঁছাত না, আর আপনার জন্য এটাই যথেষ্ট।" অতঃপর দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি বলেন: "আমি যদি বলি যে, ইয়ামান তাঁর মতো আর কাউকে জন্ম দেয়নি, তবে আমি সত্য থেকে দূরে থাকব না।" (২)।

যখন তিনি ইলমের এই উচ্চ পর্যায়ে উপনীত হলেন, বিশেষ করে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানে যাতে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন, এবং আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার প্রতি নিবিষ্ট হলেন, ইজতিহাদের দিকে আহ্বান জানালেন এবং তাঁর সমকালীন সে সকল আলেমদের নিন্দা করলেন যারা তাকলীদের প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন, তখন তাকলীদের যে অভ্যাসে তারা অভ্যস্ত ছিল তা থেকে তাঁর বেরিয়ে আসা এবং তাকলীদ বর্জন করে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান তাদের নিকট পছন্দনীয় হলো না। ফলে তারা তাঁর সাথে শত্রুতা শুরু করল, তাঁর কুৎসা রটনা করল, তাঁর দাওয়াতের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করল এবং মানুষকে এই সঠিক পথ অনুসরণ করা থেকে বিরত রাখল। এই বিরোধিতার নেতৃত্বে ছিলেন তাঁর উস্তাদ আল্লামা জামালুদ্দিন আলী (৩) বিন মুহাম্মদ বিন আবিল কাসিম। 'আল-ফাদায়িল' গ্রন্থের লেখক যেমনটি উল্লেখ করেছেন, কিছু বিষয়ে তাঁর এবং তাঁর ছাত্রের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বলেন: "তাঁর উস্তাদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে কিছুটা অন্যায্য আচরণ ছিল এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম যা বর্ণনা করতেন তাকে এমনভাবে পরিবর্তন করা হতো যেন তাঁর কথা থেকে এমন এক অর্থ গ্রহণ করা যায় যা তিনি উদ্দেশ্য করেননি অথবা যা তিনি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। আর এ ব্যাপারে ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত যে, যেখানে স্পষ্ট বক্তব্য বিদ্যমান থাকে সেখানে ভিন্ন অর্থ গ্রহণের কোনো অবকাশ নেই। আর এসবই হয়েছিল কেবল ইজতিহাদের দাবির কারণে।"

--------------------------------------------

(১) আল-ফাদায়িল।

(২) আল-বাদরুত তালি' ২/৯২।

(৩) তিনি 'তাজরীদুল কাশশাফ' এর রচয়িতা। বলা হয়ে থাকে যে, আট খণ্ডে তাঁর একটি বিশাল তাফসীর রয়েছে। তাঁর জন্ম ৭৬৯ হিজরীতে এবং মৃত্যু ৮৩৭ হিজরীতে।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
ثم قال: "وترسَّل السيدُ جمال برسالةٍ حكى فيها كلام الإمام محمد بن إبراهيم، وأجابه على حسب ما حكاه وطلح في موضع التطليح، وساقه مساقَ العلماء، وعلى منهاح الاستدلال والجدل الكامل في أحسن مساق وأوفى عبارة".

وقال محمد (1) بن عبد الله بن الهادي في ترجمته للإمام محمد بن إبراهيم: " وقد نسب -أي جمالُ الدين علي بن محمد بن القاسم في رسالته إلى محمد بن إبراهيم- القول بالرؤية، وبقدَمِ القرآن، ولمخالفته أهل البيت، وقد بناها على مجرَّد التوهمات الواهية والتخيلات الباردة ". وقال شيخ الإسلام الشوكاني في " البدر الطالع " في ترجمة علي بن محمد بن أبي القاسم المذكور: " ولكنه لما اجتهد السيد محمد بن إبراهيم، ورفض التقليد، وتبحر في المعارف، قام عليه صاحبُ الترجمة في جملة القائمين عليه، وترسل عليه برسالة تَدُلُّ على عدم إنصافه، ومزيد تعصبه سامحه الله ".

مع أن جمال الدين علي بن محمد بن أبي القاسم كان من المعجبين بتلميذه الإمام محمد بن إبراهيم، وكان يحُثُّ طلبة العلم على الأخذ عنه، وُيثني على علمه ونبوغه كما وصف ذلك أحمد بن عبد الله الوزير في كتابه " الفضائل " بقوله: ولقد حكى لنا السيدُ الإمام علي بن أبي القاسم -وكان من أجل مشايخه سئل عنه- وكان في نفسه عليه ما يقع في نفوس العلماء فقال: "هو أذكى الناس قلباً، وأزكاهم لُباً كأنَّ فؤاده جذوةُ نار تتوقد ذكاءاً، وغيرُه أكبرُ منه سناً ومثله وأصغر من علماء زمانه المصنفين لم يبلغوا هذا المحل، إنما غايةُ اجتهادهم أن يقولوا: هذا أولى، لأنه حاظر، والحظر أقدم من

--------------------------------------------

(1) هو محمد بن عبد الله بن الهادي بن إبراهيم الوزير كان عالماً مبرزاً في علوم العربية، وله معرفة قوية بالأنساب وله خط جميل.

مولده بصعدة في شعبان سنة 810 ووفاته في حدة سنة 897.
এরপর তিনি বললেন: "সাইয়্যেদ জামাল একটি পত্র প্রেরণ করেন যাতে তিনি ইমাম মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিমের বক্তব্য বর্ণনা করেন এবং তিনি যা বর্ণনা করেছেন সেই অনুযায়ী তাকে উত্তর দেন। তিনি যেখানে ভুল করার সেখানে ভুল করেছেন এবং একে আলেমদের পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছেন, আর দলিল প্রদান ও পূর্ণাঙ্গ বিতর্কের মানদণ্ডে সর্বোত্তম পন্থায় ও অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় তা পরিচালনা করেছেন।"

মুহাম্মদ (১) বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাদী ইমাম মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিমের জীবনীতে বলেছেন: "তিনি—অর্থাৎ জামালুদ্দিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসেম তার পত্রে মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিমের প্রতি—(আল্লাহকে) দেখার অভিমত, কুরআনের অনাদিত্বের অভিমত এবং আহলে বাইতের বিরোধিতার বিষয়টি আরোপ করেছেন। অথচ তিনি এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন কেবল কিছু দুর্বল সংশয় এবং ভিত্তিহীন কল্পনার ওপর।" শাইখুল ইসলাম শাওকানী 'আল-বাদরুত তালি' গ্রন্থে উক্ত আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবিল কাসেমের জীবনীতে বলেছেন: "কিন্তু যখন সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম ইজতিহাদ করলেন, তাকলীদ বর্জন করলেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে বুদপত্তি অর্জন করলেন, তখন এই জীবনীর অধিকারী ব্যক্তি তার বিরোধিতাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন এবং তার কাছে এমন একটি পত্র পাঠালেন যা তার ইনসাফের অভাব এবং চরম গোঁড়ামির প্রমাণ দেয়, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।"

যদিও জামালুদ্দিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবিল কাসেম তার ছাত্র ইমাম মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিমের গুণমুগ্ধদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি ইলম অন্বেষণকারীদের তার থেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য উৎসাহিত করতেন এবং তার ইলম ও মেধার প্রশংসা করতেন। যেমনটি আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াজির তার 'আল-ফাদায়িল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এই বলে: সাইয়্যেদ ইমাম আলী বিন আবিল কাসেম—যিনি তার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের অন্যতম ছিলেন—তাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। আলেমদের মধ্যে সচরাচর যা ঘটে থাকে, তার মনেও তার প্রতি তেমন কিছু ছিল, তবুও তিনি বলেছিলেন: "তিনি হৃদয়ের দিক থেকে মানুষের মাঝে সবচেয়ে মেধাবী এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে সবচেয়ে পবিত্র, যেন তার অন্তর বুদ্ধিমত্তায় প্রজ্বলিত এক অগ্নিশিখা। তার সমসাময়িক লেখক আলেমদের মধ্যে যারা বয়সে বড়, সমতুল্য বা ছোট, তারা এই সুউচ্চ স্থানে পৌঁছাতে পারেননি। তাদের ইজতিহাদের দৌড় কেবল এই পর্যন্তই যে তারা বলেন: এটিই উত্তম, কারণ এটি নিষিদ্ধকারী, আর নিষিদ্ধতা অগ্রাধিকার পায়...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাদী বিন ইব্রাহিম আল-ওয়াজির। তিনি আরবি সাহিত্যে একজন প্রথিতযশা আলেম ছিলেন এবং বংশপরম্পরা বিদ্যায় তার গভীর জ্ঞান ছিল এবং তার হাতের লেখা ছিল অত্যন্ত সুন্দর।

তিনি ৮১০ হিজরির শাবান মাসে সাদায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৯৭ হিজরিতে হাদ্দাহ নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢١)
الإباحة، أو عام ومعارِضُه خاص، أو مطلق ومعارضه مُقَيَّد ونحو ذلك" (1).

ورغم هذا الثناء والتقدير من شيخه، فإنه قد تحوَّل من مادح إلى قادح، ومن صديق إلى كاشح، ومن مُعجبٍ به وبعلمه ونبوغه إلى مسفِّهٍ له، ومنفرٍ للناس عنه مما آلم الإمام الوزير وأحزنه، فقال معاتباً شيخه:

عَرَفْتَ قدْرِي ثُم أنكَرتَهُ … فما عدا بالله مما بدا؟

في كل يوم لك بي موقف … أَسرَفْتَ بالقَوْل بسُوء البَدَا

أمْسِ الثنَا واليومَ سوءُ الأذى! … يا لَيْتَ شِعري كيف تضحي غدَا؟

يَا شيْبة العتْرةِ في وَقْتهِ … ومَنْصِبَ التعْلِيمِ والاقْتدَا

قَد خلَعَ العِلْمُ رداء الهُدَى … علَيْكَ، والشيْبُ رِداءَ الرَّدَى

فَصُنْ رِدَائَيكَ وطَهرْهُما … عَنَ دنسِ الإسْراف والإعتدَا

وقد ردَّ الإمام محمد بن إبراهيم الوزير على رسالة شيخه بكتابه " العواصم والقواصم في الذب عن سنة أبي القاسم " الذي يُعد ذخيرةً نفيسةً في عالم المؤلفات الإسلامية لم يَسْبِقْ لأحد في المتقدمين، ولا في المتأخرين أن ألف في موضوعه مثله.

وقد وصف ما حدث له مِن علماء زمانه المتمسكين بالمذهب، والمجاهرين بمعاداته لتمسكه بالسنة النبوية بقوله " وإني لما تمسكتُ بعروة السنن الوثيقة، وسلكتُ سنَن الطريقة العتيقة، تناولتني الألسنةُ البذيئة من أعداء السنة النبوية، ونسبوني إلى دعوى في العلم كبيرة، وأمورٍ غير ذلك كثيرة حرصاً على ألا يُتَبَّع (2) ما دعوتُ إليه من العمل بسنة سيد المرسلين،

--------------------------------------------

(1) الفضائل.

(2) وهذا هو ما جرى للإمام المقبلي، فقد حُورب حتى اضطر إلى بيع بيته وماله، وهاجر بأهله إلى مكة المكرمة. وجرت وقائع مماثلة للبدر محمد بن إسماعيل الأمير، ولشيخ الإسلام الشوكاني، وقد ذكر ما حدث له في كتابه " أدب الطلب ".
"বৈধতা, অথবা সাধারণ এবং তার বিপরীতে বিশেষ, অথবা নিরঙ্কুশ এবং তার বিপরীতে শর্তযুক্ত এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি" (১)।

তার উস্তাদের পক্ষ থেকে এই প্রশংসা ও মূল্যায়নের পরেও, তিনি প্রশংসাকারী থেকে নিন্দাকারীতে, বন্ধু থেকে বিদ্বেষী শত্রুতে এবং তিনি ও তার ইলম ও মেধার গুণমুগ্ধ থেকে তাকে তুচ্ছজ্ঞানকারীতে এবং মানুষকে তার থেকে দূরে সরিয়ে দানকারীতে পরিণত হলেন। এই বিষয়টি ইমাম আল-ওয়াযীরকে ব্যথিত ও শোকার্ত করল। অতঃপর তিনি তার উস্তাদকে অনুযোগ করে বললেন:

আপনি আমার মর্যাদা অনুধাবন করেছিলেন, অতঃপর তা অস্বীকার করলেন … আল্লাহর শপথ, হঠাৎ কী এমন প্রকাশ পেল?

প্রতিদিন আমার ব্যাপারে আপনার এক একটি অবস্থান থাকে … আপনি কটু কথা বলে সীমা লঙ্ঘন করেছেন।

গতকাল ছিল প্রশংসা আর আজ কুৎসিত কষ্ট দান! … হায়, আমি যদি জানতাম আগামীকাল আপনার কী অবস্থা হবে?

হে বর্তমান সময়ের বংশমর্যাদার প্রবীণ ব্যক্তি … এবং শিক্ষা ও অনুসরণের উচ্চাসীন ব্যক্তি।

ইলম আপনার ওপর হিদায়াতের চাদর অর্পণ করেছে … আর বার্ধক্য অর্পণ করেছে ধ্বংসের চাদর।

সুতরাং আপনার এই দুই চাদরকে সংরক্ষণ করুন এবং সেগুলোকে … সীমা লঙ্ঘন ও অবিচারের কলুষতা থেকে পবিত্র রাখুন।

ইমাম মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-ওয়াযীর তার উস্তাদের চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন তার 'আল-আওয়াসিম ওয়াল-কাওয়াসিম ফিয-যাববি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম' নামক গ্রন্থের মাধ্যমে, যা ইসলামি রচনাবলির জগতে এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কারো পক্ষেই এই বিষয়ের ওপর এমন কোনো গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি তার সমসাময়িক সেই সমস্ত আলেমদের দ্বারা তার প্রতি যা ঘটেছিল তা বর্ণনা করেছেন যারা মাযহাবের প্রতি কঠোর ছিলেন এবং সুন্নাহর অনুসরণের কারণে তার প্রতি প্রকাশ্য শত্রুতা পোষণ করতেন। তিনি বলেন, "আমি যখন সুন্নাহর মজবুত রজ্জুকে আঁকড়ে ধরলাম এবং প্রাচীন পথের অনুসারী হলাম, তখন সুন্নাহর শত্রুদের কটু জিহ্বাগুলো আমাকে আক্রমণ করল। তারা আমাকে ইলমের বড় বড় দাবি করার এবং এছাড়া আরও অনেক কিছুর সাথে অভিযুক্ত করল; যাতে করে আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন-এর সুন্নাহ পালনের যে দাওয়াত দিচ্ছিলাম, মানুষ যেন তার অনুসরণ (২) না করে।"

--------------------------------------------

(১) আল-ফাদায়িল।

(২) ইমাম আল-মাক্ববিলীর ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল। তাকে এতটাই হেনস্তা করা হয়েছিল যে তিনি তার বাড়ি ও সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং সপরিবারে মক্কা মুকাররমায় হিজরত করেছিলেন। বদর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমীর এবং শায়খুল ইসলাম আশ-শাওকানীর ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল। তিনি তার ‘আদাবুত তালাব’ গ্রন্থে তার সাথে যা ঘটেছিল তা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
والخلفاء الراشدين، والسلف الصالحين، فصبرت على الأذى، وعلمتُ أن الناس ما زالوا هكذا:

ما سَلِمَ اللهُ من بريَّته … ولا نبيُّ الهُدى فَكيف أنا! (1)

وقد اعترض عليه شيخُه المذكور برسالة وصفها الإمام ابنُ الوزير بقوله: " إلاّ أنه لما كثر الكلامُ وطال، واتسع مجال القيل والقال جاءتني رسالة محبَّرة، واعتراضات محررة، مشتملة على الزواجر والعظات، والتنبيه بالكلم المُوقِظَات، زعم صاحبها أنه من الناصحين المحبين، وأنه أدَّى بها ما عليه لي من حق الأقربين، وأَهلاً بمن أبدى النصيحة، فقد جاء الترغيب إلى ذلك في الأحاديث الصحيحة، وليس بضائرٍ إن شاء الله ما يَعْرِضُ في ذلك من الجدال مهما وُزِنَ بميزان الاعتدال، لأنه حينئذ يدخل في السنن، ويتناوله أمر {وَجَادِلهُم بالتِي هِيَ أحْسَنُ} (2) وقد أجاد من قال، وأحسن:

وجدالُ أَهلِ العِلْمِ لَيْس بِضائِرٍ … مَا بَيْنَ غَالبِهِم إلى المَغْلُوبِ

وعقب الإمام ابن الوزير على ما ورد في هذه الرسالة بقوله: بيد أنها لم تَضعْ تاجَ المرح والاختيال، وتستعملْ ميزان العدل في الاستدلال، بل خُلِطَت مِن سِيما المختالين بشوب، ومالت من التعنت في الحجاج إلى صوب، فجاءتني تمشي الخطَرَا، وتميس في محافِل الخطَرا، مفضوضةً لم تُختم، مشهورةً لم تكتم، متبرجةً قد كشفت حجابَها، وطرحت نِقابها، وطافت على الأكابر، وطاشت إلى الأصاغر حتى مضت أيدي الابتذال

--------------------------------------------

(1) قبله:

ولَيس يَخْلُو الزمانُ مِنْ شُغلٍ … فيه ولا مِنْ خيانةٍ وَخنَا

(2) النحل 125.
এবং খুলাফায়ে রাশিদিন ও পূর্বসূরি সৎকর্মশীলগণ (সালাফ আস-সালিহীন), তাই আমি কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেছি এবং জেনেছি যে মানুষ সর্বদা এমনই ছিল:

আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে রেহাই পাননি … আর না হিদায়াতের নবী, তবে আমি কে! (১)

তাঁর উল্লিখিত উস্তাদ একটি পত্রের মাধ্যমে তাঁর ওপর আপত্তি উত্থাপন করেছেন, যে পত্রটি সম্পর্কে ইমাম ইবনুল উজির বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: "তবে যখন কথাবার্তা বৃদ্ধি পেল ও দীর্ঘায়িত হলো, আর বাদানুবাদের পরিধি বিস্তৃত হলো, তখন আমার কাছে একটি সুশোভিত পত্র এবং লিখিত আপত্তি আসল, যা ধমক ও নসিহত এবং সচেতনকারী বাক্য দ্বারা সতর্কবার্তায় পরিপূর্ণ ছিল। এর লেখক দাবি করেছেন যে তিনি হিতাকাঙ্ক্ষী ও মহব্বতকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং এর মাধ্যমে তিনি আমার প্রতি নিকটাত্মীয়দের যে হক রয়েছে তা আদায় করেছেন। যে ব্যক্তি নসিহত পেশ করে তাকে স্বাগতম, কারণ সহিহ হাদিসসমূহে এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। আর ইনশাআল্লাহ এ ক্ষেত্রে যে বিতর্ক তৈরি হবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই, যতক্ষণ তা মধ্যপন্থার মানদণ্ডে পরিমাপ করা হবে; কারণ তখন তা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হবে এবং {তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করো} (২) - এই নির্দেশনার আওতায় আসবে। আর যিনি বলেছেন তিনি চমৎকার ও সুন্দর বলেছেন:

ইলমওয়ালাদের বিতর্ক ক্ষতিকারক নয় … তাদের মধ্যকার জয়ী বা বিজিত কারো জন্যই।

ইমাম ইবনুল উজির এই পত্রে যা এসেছে সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: কিন্তু এটি অহংকার ও দম্ভের মুকুট ত্যাগ করেনি এবং দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ইনসাফের মানদণ্ড ব্যবহার করেনি; বরং এতে দাম্ভিকদের আলামতের সংমিশ্রণ ঘটেছে এবং যুক্তিতর্কের ক্ষেত্রে একগুঁয়েমির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ফলে তা আমার কাছে দম্ভের সাথে এল এবং মহৎ ব্যক্তিদের মজলিসে দম্ভভরে বিচরণ করল। এটি উন্মুক্ত ছিল, সীলমোহরকৃত নয়; এটি ছিল সুপরিচিত, যা গোপন রাখা হয়নি। এটি এমনভাবে সজ্জিতা ছিল যে তার পর্দা খুলে ফেলেছিল এবং নেকাব সরিয়ে দিয়েছিল। এটি বড়দের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে এবং ছোটদের কাছেও পৌঁছে গিয়েছে, এমনকি তা তুচ্ছতা ও অবজ্ঞার হাতে পতিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এর পূর্বে রয়েছে:

যামানা কর্মব্যস্ততা থেকে মুক্ত নয় … এর মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা ও অশ্লীলতাও বিদ্যমান।

(২) আন-নাহল ১২৫।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
نضارتَها، وافتضت أفكارُ الرجال بكارتها، وخيرُ النصائح الخفي وخيرُ النُّصاح الحفى، وخيرُ الكتاب المختوم، وخير العتاب المكتوم.

ثم إني تأملت فصولها، وتدبرت أصولها، فوجدتها مشتملة على القدحِ تارةً فيما نُقِلَ عني من الكلام، وتارةً في كثير من قواعد العلماء الأعلام، وتارة في سنة رسول الله عليه أفضل الصلاة والسلام فرأيتُ ما يَخُصُّنِي غير جديرٍ بصرف العناية إليه، ولا كثير يستحق الإقبال بالجواب عليه.

وأما ما يختصُّ بالسنن النبوية، والقواعِد الإسلامية مثلَ قدحه في صحة الرجوع إلى الآيات القرآنية، والأخبار النبوية، والآثار الصحابية، ونحو ذلك من القواعد الأصولية، فإني رأيتُ القدحَ فيها ليس أمراً هيّناً، والذب عنها لازماً متعيناً، فتعرضتُ لجواب ما اشتملت عليه من نقض تلك القواعد الكبار التي قال بها الجِلَّةُ من العلماء الأخيار (1).

وقد قصدتُ وجه اللهِ تعالى في الذب عن السنن النبوية، والقواعد الدينية، وليس يضرني وقوفُ أهل المعرفة على ما لي من التقصير، ومعرفتهم أن باعي في هذا الميدان قصير، لاعترافي بأني لست من نُقَّاد هذا الشأن، ولا مِن فرسان هذا الميدان، لكني لم أجد من الأصحاب من تصدَّى لجواب هذه الرسالة لما يجُرُّ إليه ذلك من سوء القالة، فتصديتُ لذلك من غير إحسان ولا إعجاب، وَمَنْ عَدِمَ الماءَ تيممَ بالتراب، عالماً بأني لو كنت باريَ قوسها ونبالِها، وعنترةَ فوارسها ونزالها، فلن يخلو كلامي من الخطأ عند الانتقاد، ولا يصفو جوابي من الكدر عند النقاد. فالكلامُ الذي لا يأتيه

--------------------------------------------

(1) الروض الباسم 1/ 9 و10.
এর সতেজতা, এবং পুরুষদের চিন্তা এর কৌমার্য বিদীর্ণ করেছে। সর্বোত্তম নসিহত হলো গোপনটি এবং সর্বোত্তম নসিহতকারী হলো হিতৈষী ব্যক্তি। সর্বোত্তম কিতাব হলো মোহরকৃতটি এবং সর্বোত্তম তিরস্কার হলো প্রচ্ছন্নটি।

অতঃপর আমি এর অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে চিন্তা করলাম এবং এর মূলনীতিগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবলাম। আমি একে কখনো আমার থেকে বর্ণিত বক্তব্যের সমালোচনা সম্বলিত পেলাম, কখনো প্রথিতযশা আলেমদের অনেক মূলনীতির সমালোচনা সম্বলিত পেলাম, আবার কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর সমালোচনা সম্বলিত পেলাম। ফলে আমি দেখলাম যে, যা কেবল আমার সাথে সংশ্লিষ্ট তা মনোযোগ দেওয়ার যোগ্য নয়, এবং এর উত্তর দেওয়ার জন্য গুরুত্ব প্রদান করার মতো তেমন কিছু নেই।

কিন্তু যা নবীজির সুন্নাহ এবং ইসলামি মূলনীতিসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট—যেমন কুরআনের আয়াত, নববী সংবাদ, সাহাবীদের বর্ণনা এবং এই জাতীয় উসূলি মূলনীতিসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে তার সমালোচনা—আমি মনে করি যে এসবে সমালোচনা করা কোনো তুচ্ছ বিষয় নয় এবং এগুলোর প্রতিরক্ষা করা একান্ত অপরিহার্য। তাই আমি সেই সব মহান মূলনীতি লঙ্ঘনের জবাব দিতে প্রবৃত্ত হয়েছি, যা বরেণ্য ও নেককার আলেমগণ ব্যক্ত করেছেন (১)।

আমি নবীজির সুন্নাহ এবং দ্বীনি মূলনীতিসমূহের প্রতিরক্ষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করেছি। বিজ্ঞজনরা আমার ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হলে কিংবা এই ময়দানে আমার দৌড় যে সীমিত তা জানতে পারলে আমার কোনো ক্ষতি নেই। কারণ আমি স্বীকার করছি যে, আমি এই বিষয়ের কোনো সমালোচক নই এবং এই ময়দানের কোনো বীর অশ্বারোহীও নই। কিন্তু আমি আমার সঙ্গীদের মধ্যে এমন কাউকে পাইনি যিনি এই রিসালার জবাব দিতে অগ্রসর হয়েছেন, কারণ এটি মন্দ আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। তাই আমি কোনো নৈপুণ্যের দাবি বা আত্মমুগ্ধতা ছাড়াই এর মোকাবেলায় প্রবৃত্ত হয়েছি; আর যার পানি নেই সে মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে। আমি জানি যে, আমি যদি এর ধনুক ও তীরের কারিগর হতাম এবং এর অশ্বারোহী ও লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ‘আনতারা’ হতাম, তবুও সমালোচনার সময় আমার কথা ভুলভ্রান্তি মুক্ত হতো না এবং সমালোচকদের নিকট আমার জবাব আবিলতামুক্ত হতো না। কেননা যে কালামের কাছে...

--------------------------------------------

(১) আর-রওযুল বাসিম ১/ ৯ ও ১০।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
الباطل من بين يديه ولا من خلفه هو كلامُ الله الحكيم، وكلامُ من شهد بعصمتِهِ القرآن الكريم؛ وكُلُّ كلام بعدَ ذلك، فله خطأ وصواب، وقِشر ولُباب. ولو أن العلماء رضي الله عنهم تركوا الذبَّ عن الحق خوفاً من كلام الخلق، لكانوا قد أضاعوا كثيراً، وخافوا حقيراً، وأكثر ما يخافُ الخائفُ في ذلك أن يَكِلَّ حسامُهُ في معْتَرَكِ المناظرة، وينبو ويعثر جوادُهُ في مجال المحاجة ويكبو، فالأمر في ذلك قريب إن أخطأ فمن الذي عُصِمَ؟ وإن خُطِّىء فمن الذي ما وُصِمَ؟ والقاصد لوجه الله تعالى لا يخافُ أن يُنقد عليه خللٌ في كلامه، ولا يهابُ أن يُدل على بطلان قوله، بل يُحِبُّ الحقَّ من حيث أتاه، ويقبل الهُدى ممن أهداه، بل المخاشنةُ بالحق والنصيحة أحبُّ إليه من المداهنة على الأقوال القبيحة، وصديقك مَنْ صَدَقَكَ لا من صدَّقك. وفي نوابغ الحكمة: عليك بمن ينذر الإبسال والإبلاس، واياك ومن يقولُ: لا بَاسَ وَلا تَاس.

ثم إن الجواب لما تم -بحمد الله تعالى- اشتمل على علوم كثيرة، وفوائد غزيرة أثرية ونظرية، ودقيقة وجلية، وجدلية وأدبية، وكلُّها رياض للعارفين نضِرة، وفراديسُ عند المحققين مُزْهِرَة، لكني وضعته وأنا قوي النشاط، متوفر الداعية، ثائر الغَيرة، فاستكثرتُ من الاحتجاج رغبةً في

قطع اللجاج، فربما كانت المسألة في كتب العلماء رضي الله عنهم مذكورة غيرَ محتج عليها بأكثر من حجة واحدة، فأحتج عليها بعشر حُجج؛ وتارة بعشرينَ حُجة، وتارة بثلاثين حُجة، وكذلك قد يتعنَّت صاحبُ الرسالة، ويُظهِرُ العُجْبَ مما قاله فأحبُّ أن يظهر به ضعفُ اختياره، وعظيم اغتراره، فاستكثر من إيراد الإشكالات عليه حتى يتضِحَ له خروج الحق من يديه، فربما أوردتُ عليه في بعض المسائل أكثر من
যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল আসতে পারে না, তা হলো প্রজ্ঞাময় আল্লাহর বাণী এবং তাঁর বাণী যাঁর নিষ্পাপতার সাক্ষ্য আল-কুরআনুল কারীম দিয়েছে। এরপর অন্য যে কোনো কথা হোক না কেন, তাতে ভুল ও সঠিক উভয়ই থাকতে পারে এবং তাতে অসার ও সারবস্তু উভয়ই বিদ্যমান থাকে। আর আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যদি মানুষের সমালোচনার ভয়ে সত্যের প্রতিরক্ষা করা ছেড়ে দিতেন, তবে তাঁরা অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলতেন এবং অতি নগণ্য বিষয়কে ভয় করতেন। এ ক্ষেত্রে ভয়কারীর সবচেয়ে বড় ভয় হলো এই যে, বিতর্কের ময়দানে তার তলোয়ার ভোঁতা হয়ে যাবে এবং যুক্তির ক্ষেত্রে তার ঘোড়া হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে। অথচ বিষয়টি অত্যন্ত সহজ; যদি তিনি ভুল করেন, তবে এমন কে আছে যাকে ভুল থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে? আর যদি তাকে ভুল সাব্যস্ত করা হয়, তবে এমন কে আছে যাকে কোনো দোষারোপ করা হয়নি? আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষী, সে তার কথায় কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি ধরার ভয় করে না এবং তার বক্তব্য বাতিল প্রমাণিত হওয়াকেও পরোয়া করে না। বরং সত্য যেখান থেকেই আসুক না কেন সে তা ভালোবাসে এবং যে হেদায়েত দান করে তার থেকে তা গ্রহণ করে। প্রকৃতপক্ষে মন্দ কথার প্রতি তোষামোদ করার চেয়ে সত্য ও নসিহতের ক্ষেত্রে কঠোর হওয়া তার কাছে অধিক প্রিয়। তোমার প্রকৃত বন্ধু সে-ই যে তোমাকে সত্য কথা বলে, সে নয় যে কেবল তোমার কথায় সায় দেয়। হিকমতের প্রবাদসমূহে রয়েছে: তুমি তার সঙ্গ ধরো যে তোমাকে ধ্বংস ও নিরাশা থেকে সতর্ক করে, আর তার থেকে দূরে থাকো যে সর্বদা বলে: 'কোনো সমস্যা নেই, কোনো অসুবিধা নেই'।

অতঃপর আল্লাহর প্রশংসায় যখন উত্তরটি সমাপ্ত হলো, তখন তাতে অন্তর্ভুক্ত হলো বহু ইলম এবং প্রচুর ফায়দা—তা বর্ণনাগত হোক বা যুক্তিগত, সূক্ষ্ম হোক বা সুস্পষ্ট, তাত্ত্বিক হোক বা সাহিত্যিক। এগুলোর প্রতিটিই আরেফদের জন্য সতেজ বাগান এবং গবেষকদের জন্য প্রস্ফুটিত জান্নাত। তবে আমি এটি রচনা করেছি যখন আমার কর্মস্পৃহা ছিল প্রবল, প্রেরণা ছিল তুঙ্গে এবং আত্মমর্যাদাবোধ ছিল উদ্দীপ্ত। তাই বিবাদ নিরসনের উদ্দেশ্যে আমি দলিল-প্রমাণের আধিক্য ঘটিয়েছি। অনেক সময় এমন হয় যে, আলেমদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কিতাবসমূহে কোনো মাসআলা একটির বেশি দলিল ছাড়াই উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু আমি সেখানে দশটি দলিল দিয়েছি; কখনো বিশটি, আবার কখনো ত্রিশটি দলিল পেশ করেছি। একইভাবে, অনেক সময় পত্র লেখক হয়তো জেদ প্রদর্শন করেন এবং নিজের বক্তব্যে আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেন; এমতাবস্থায় আমি পছন্দ করি যে তার পছন্দের দুর্বলতা এবং তার মোহগ্রস্ততার বিশালতা প্রকাশ পাক। তাই তার উপর আমি বহু আপত্তির অবতারণা করেছি যাতে তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে সত্য তার হাত থেকে বেরিয়ে গেছে। এমনকি কোনো কোনো মাসআলায় আমি তার বিরুদ্ধে উল্লেখ করেছি...

(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
مئتي إشكال على مقدار نصف ورقة" (1).

وهذا هو ما أشار إليه شيخ الإسلام الشوكاني في معْرِضِ كلامه عن " العواصم والقواصم " في أثناء ترجمته لمؤلفه، فإنه قال: " ومن أراد أن يعرف حالَه -أي حال الإمام محمد بن إبراهيم الوزير- ومقدار علمه، فعليه بمطالعة مصنفاته، فإنها شاهدُ عدلٍ على علو طبقته، فإنه يسرد في المسألة الواحدة من الوجوه ما يبْهَرُ لُبَّ مطالعه، ويعرف بقصر باعه بالنسبة إلى علم هذا الإمام كما يفعله في " العواصم والقواصم " فإنه يورد كلامَ شيخه السيد العلامة علي بن محمد بن أبي القاسم في رسالته التي اعترض بها عليه، ثم ينسفه نسفاً بإيراد ما يُزَيِّفُهُ من الحجج الكثيرة التي لا يجد العالم الكبير في قوته استخراج البعض منها" (2).

 

رحلته إلى تعز

رحل الإمام ابن الوزير إلى تعز إلى الإمام نفيس الدين سليمان بن إبراهيم العلوي الحنفي، وبعث أخوه العلامة الهادي بن إبراهيم الوزير رسالة منه إلى الإمام نفيس الدين يصف علم أخيه جاء فيها ما يلي:

" وأما محمد أخي، فإنه لما أخذ من علم الحديث، جذب إليه القلوب ورقَّقها، ودعا إلى طائفةٍ من العلماء (3) … وشوّقها، وهو بحمد الله ممن جَوَّد في علم الكلام وصنف، وبرَّز فيه وشنَّف، وجالس في نقله الأفاضل، ومارس في العلم فأفحم كل مناضل إلاّ أنه نزل إليكم، ففاضت

--------------------------------------------

(1) الروض الباسم 1/ 11 و12.

(2) البدر الطالع 2/ 90.

(3) لم تظهر الكلمة في الأصل.
"আধা পাতার পরিমাণে দুইশত সংশয়" (১)।

এবং এটিই সেই বিষয় যার প্রতি শাইখুল ইসলাম আশ-শাওকানি ইঙ্গিত করেছেন "আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম" সম্পর্কে আলোচনা করার সময়, যখন তিনি এর লেখকের জীবনী বর্ণনা করছিলেন। তিনি বলেন: "আর যে ব্যক্তি তাঁর অবস্থা—অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-ওয়াযিরের অবস্থা—এবং তাঁর ইলমের গভীরতা সম্পর্কে জানতে চায়, তার উচিত তাঁর রচনাবলি পাঠ করা। কেননা সেগুলো তাঁর উচ্চ মর্যাদার এক ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষী। তিনি একটি মাসআলার ক্ষেত্রে এত অধিক দিক বা যুক্তি উপস্থাপন করেন যা পাঠকের বুদ্ধিকে বিমোহিত করে দেয়। এর মাধ্যমে পাঠক এই ইমামের ইলমের তুলনায় নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারে, যেমনটি তিনি করেছেন 'আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম'-এ। সেখানে তিনি তাঁর উস্তাদ সায়্যিদ আল-আল্লামা আলি বিন মুহাম্মাদ বিন আবিল কাসিমের সেই রিসালার বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যাতে তিনি তাঁর ওপর আপত্তি জানিয়েছিলেন, এরপর তিনি সেই বক্তব্যকে এমন সব শক্তিশালী যুক্তির মাধ্যমে সমূলে উৎপাটিত করেছেন যার সামান্য অংশ খুঁজে বের করার সামর্থ্যও অনেক বড় বড় আলেম রাখেন না" (২)।

 

তা'ইজ অভিমুখে তাঁর সফর

ইমাম ইবনুল ওয়াযির তা'ইজে ইমাম নাফীসুদ্দিন সুলাইমান বিন ইবরাহিম আল-আলাভি আল-হানাফির কাছে সফর করেন। তাঁর ভাই আল্লামা আল-হাদি বিন ইবরাহিম আল-ওয়াযির ইমাম নাফীসুদ্দিনের কাছে তাঁর ভাইয়ের ইলমের বর্ণনা দিয়ে একটি পত্র পাঠান, যাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বর্ণিত ছিল:

"আর আমার ভাই মুহাম্মাদের কথা যদি বলি, তবে তিনি যখন ইলমে হাদিস থেকে জ্ঞান আহরণ করলেন, তখন তিনি মানুষের হৃদয়কে নিজের দিকে আকৃষ্ট করলেন এবং সেগুলোকে বিগলিত করলেন। তিনি আলেমদের একটি দলের (৩) … এবং তাদের আগ্রহী করে তুললেন। আল্লাহর প্রশংসায় তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা ইলমুল কালামে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং তাতে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি এতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন এবং একে সুশোভিত করেছেন। তিনি বিজ্ঞজনদের থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন এবং ইলমের চর্চায় লিপ্ত হয়ে প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিরুত্তর করে দিয়েছেন। তবে এখন তিনি আপনাদের কাছে এসেছেন, ফলে..."

--------------------------------------------

(১) আর-রওযুল বাসিম ১/ ১১ ও ১২।

(২) আল-বাদরুত তালি' ২/ ৯০।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি স্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
بركاتُكُم على أحواله وأقواله، وصار في هذا الفن لا يُجارى، وكأنَّه لقنه هذا العلمَ شيخُ بخارى (1) مع إجادته في الفنين العظيمين: علمِ الكلام وعلمِ الأصول: فاعترضه بعضُ الأصحابِ الأكابر، وهي من ذوي الدفاتر والمحابر، فصنف كتابه الكبير في الرد على المعترض. ولما صنفه تراشقته الألسنُ، وتغامزت به الأعين، وتوغَّرت عليه الصدور، وقال الناسُ فيه مقالاً، وأغضب فيه رجال رجالاً، فتصفحتُ كتابَه الكبير، فلم أره أتى بما فيه ضراً (2) … الله هجراً، ولكنه سلك عندهم طريقاً وعراً، وأظهر مِن خلافهم أمراً إمرا، وجاء فيه مما لا يعتاد في جهتهم من الذبِّ عن علم الحديث وحملته ومن سلك مسلكه كان بين الناس غريباً، ووجب أن يتخذ من الصبر مجناً صليباً ". انتهى.

وقد أخذ الإمام الوزير عن الإمام نفيس الدين العلوي وأجازه بما لفظه:

بسم الله الرحمن الرحيم، والحمد لله حمداً يُوافي نعمه، ويُكافىء مزيده، لا نحصي ثناء عليه، والصلاة والسلامُ على رسوله سيدنا محمد النبي الأمي، وعلى آله وأصحابه وأزواجه وذرياته وأصهاره وأنصاره كلما ذكرهم الذاكرون، وَغَفَلَ عن ذكرهم الغافلون.

وبعد، فإنه شرفني الله تعالى، ورحل إلي، وقدِمَ على إلى بلدي مدينة تعز المحروس مستقر المملكة اليمنية الرسولية عَمَرَهَا الله بالعلم الشريف سَيِّدُنَا الإمام حقاً، والمجتهدُ صدقاً، الفائقُ على أقرانه من

--------------------------------------------

(1) الإمام محمد بن إسماعيل البخارى رحمه الله.

(2) أكلت الأرَضة مكان الفراغ.
আপনাদের বরকত তাঁর অবস্থা ও বাণীর ওপর রয়েছে, এবং তিনি এই বিদ্যায় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছেন যে তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, যেন বুখারার শাইখ (১) তাঁকে এই ইলম শিক্ষা দিয়েছেন। সাথে সাথে তিনি ইলমুল কালাম ও ইলমুল উসুল—এই মহান দুই বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। ফলে কিতাব ও কালির অধিকারী (তথা বড় আলেম) কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর বিরোধিতা করেন, তখন তিনি বিরোধিতাকারীদের খণ্ডনে তাঁর বৃহৎ গ্রন্থটি রচনা করেন। আর যখন তিনি এটি রচনা করলেন, তখন জিহ্বাগুলো তাঁর প্রতি বিদ্রূপাত্মক হয়ে উঠল, চোখগুলো বাঁকা ইশারায় তাঁকে বিদ্রূপ করতে লাগল এবং অন্তরগুলো তাঁর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ হয়ে উঠল। মানুষ তাঁকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলতে শুরু করল এবং এ কারণে ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে ক্রোধের সঞ্চার হলো। অতঃপর আমি তাঁর বৃহৎ গ্রন্থটি আদ্যোপান্ত পাঠ করলাম, কিন্তু তাতে আমি ক্ষতিকর কিছু পেলাম না (২) ... আল্লাহর জন্য বর্জনীয়, বরং তিনি তাদের সামনে এক দুর্গম পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধাচরণে এক বিস্ময়কর বিষয় প্রকাশ করেছিলেন। তিনি হাদিস শাস্ত্র এবং এর ধারক-বাহকদের পক্ষ সমর্থনের ক্ষেত্রে এমন সব দলিল উপস্থাপন করেছেন যা তাদের এলাকায় প্রচলিত ছিল না। আর যে ব্যক্তি তাঁর এই পথ অবলম্বন করে, সে মানুষের কাছে অপরিচিত হয়ে যায় এবং তাঁর জন্য ধৈর্যকে সুদৃঢ় ঢাল হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।" সমাপ্ত।

ইমাম উজির, ইমাম নাফিসুদ্দিন আল-আলাভীর নিকট হতে ইলম অর্জন করেছেন এবং তিনি তাঁকে যে শব্দাবলীতে ইজাজাহ বা অনুমতি প্রদান করেছেন তা হলো:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নিয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর বর্ধিত অনুগ্রহের প্রতিদান স্বরূপ। আমরা তাঁর প্রশংসার পরিমাপ করতে সক্ষম নই। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসুল আমাদের নেতা উম্মী নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, সহধর্মিণীগণ, বংশধরগণ, বৈবাহিক আত্মীয়গণ ও আনসারদের ওপর—যতক্ষণ স্মরণকারীরা তাঁকে স্মরণ করে এবং বিমুখরা তাঁর স্মরণ হতে বিমুখ থাকে।

অতঃপর, মহান আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করেছেন যে, রাসুলীয় ইয়েমেনি সালতানাতের কেন্দ্রস্থল সংরক্ষিত শহর তায়েজে—আল্লাহ একে মহান ইলমের মাধ্যমে আবাদ রাখুন—আমার কাছে সফর করে আগমন করেছেন আমাদের সত্যিকারের ইমাম, সত্যনিষ্ঠ মুজতাহিদ, যিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অগ্রগণ্য...

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.)।

(২) উইপোকা শূন্যস্থানের অংশটুকু খেয়ে ফেলেছে।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
الأغصان النبوية، والأفنان المصطفوية، المؤيَّد بالتأييد الإلهي، المختارُ لله تعالى، والموفِّق في اجتهاده، جمال العترة النبوية محمدُ بنُ إبراهيم بن علي ابن المرتضى بن المفضل بن منصور بن محمد العفيف، بن المفضل الحسني السني بحمد الله تعالى وسمع من لفظي، وقرأ علي ثُلُثَ كتاب "الجمع بين الصحيحين" صحيحي البخاري ومسلم رحمة الله عليهما جَمْع الإمام الحافظ أبي عبد الله محمد بن أبي نصر فتوح بن حُميد الأزدي الحُميدي الأندلسي الظاهري المذهب من كبار تلامذة ابن حزم، مولده في سنة عشرين وأربعمائة. أجمع العلماء أنه لم يكن في العلماء له نظير في براهينه وعفته وورعه. وتوفي سابع عشر من ذي الحجة سنة 488. وأجزته باقي الكتاب لأهليته لذلك ودينه وأمانته وعلمه وبراعته، وسمع معه ما ذكرتُهُ الفقيهُ الصالحُ النبيه صالحُ بن قاسم بن سليمان بن محمد الحنبلي ثم المَعمري القادم معه، وآخرون من بلادنا.

وأخبرتُهُم أني قرأته على شيخي الإمام الحافظ المحقق المجتهد المقدم على مقرئي كتاب الله تعالى أبي الحسن موفق بن علي بن أبي بكر ابن محمد بن شداد المقري الهَمْدَاني، ومولده سنة 694، ووفاته في شهر شوال سنة 771، قال: أنا الشيخُ الإمامُ الحافظ المجتهد أبو العباس شهابُ الدين أحمد بن أبي الخير بن منصور بن أبي الخير الشماخي السعدي، ومولده في سنة 657، ووفاته سنة 729 قال: أنا والدي الإمام الحافظ المجتهد أبو الخير، مولده في سنة 611، ووفاته في 673، قال: أخبرنا الحافظ أبو عبد الله محمد بن إبراهيم بن علي بن عبد العزيز الفَشَلي، قال: أنا الإمام برهان الدين أبو الفرج نصر بن علي الحصري البغدادي عرف بالبرهان بروايته عن أبي الفتح عبد الباقي بن أحمد الحنفي عرف بابن البطيّ بروايته عن الحميدي.
নবুওয়াতের শাখা-প্রশাখা, মুস্তফায়ী পল্লবসমূহ, ঐশ্বরিক সমর্থনে পুষ্ট, আল্লাহ তায়ালার মনোনীত এবং নিজ ইজতিহাদে সফলকাম, নববংশীয় গরিমা মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আলী ইবনুল মুরতাজা বিন আল-মুফাদদাল বিন মানসুর বিন মুহাম্মদ আল-আফিফ বিন আল-মুফাদদাল আল-হাসানি, আল্লাহর প্রশংসায় যিনি সুন্নি। তিনি আমার মুখ থেকে শুনেছেন এবং আমার কাছে ইমাম হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি নাসর ফুতুহ বিন হুমাইদ আল-আযদি আল-হুমাইদি আল-আন্দালুসি আল-জাহিরি মাযহাবি—যিনি ইবনে হাজমের অন্যতম প্রধান ছাত্র ছিলেন এবং ৪২০ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন—তাঁর সংকলিত 'আল-জাম' বাইনাস সহিহাইন' (সহিহ বুখারি ও মুসলিমের সংকলন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) বইটির এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করেছেন। আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, আলেমদের মাঝে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন, চারিত্রিক নিষ্কলুষতা এবং পরহেজগারির ক্ষেত্রে তাঁর কোনো নজির ছিল না। তিনি ৪৮৮ হিজরির ১৭ই জিলহজ ইন্তেকাল করেন। আমি তাঁর যোগ্যতা, দ্বীনদারিতা, আমানতদারি, ইলম এবং পারদর্শিতার কারণে তাঁকে কিতাবটির অবশিষ্ট অংশের অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছি। তাঁর সাথে আমি যা উল্লেখ করেছি তা শুনেছেন সৎ ও বিচক্ষণ ফকিহ সালেহ বিন কাসিম বিন সুলাইমান বিন মুহাম্মদ আল-হাম্বলি, পরবর্তীতে আল-মামারি, যিনি তাঁর সাথে এসেছেন এবং আমাদের দেশের আরও অনেকে।

আমি তাঁদের অবহিত করেছি যে, আমি এটি পাঠ করেছি আমার শায়খ, ইমাম হাফিজ, গবেষক, মুজতাহিদ এবং আল্লাহর কিতাবের কারীদের মধ্যে অগ্রগণ্য আবু হাসান মুওয়াফফাক বিন আলী বিন আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ বিন শাদ্দাদ আল-মুকরি আল-হামদানি-এর নিকট, যাঁর জন্ম ৬৯৪ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৭৭১ হিজরির শাওয়াল মাসে। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম হাফিজ মুজতাহিদ আবু আব্বাস শিহাব উদ্দিন আহমদ বিন আবুল খায়ের বিন মানসুর বিন আবুল খায়ের আশ-শাম্মাখি আস-সা'দি, যাঁর জন্ম ৬৫৭ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৭২৯ হিজরিতে। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা ইমাম হাফিজ মুজতাহিদ আবু খায়ের, যাঁর জন্ম ৬১১ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৬৭৩ হিজরিতে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-ফাশালি। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইমাম বুরহান উদ্দিন আবু আল-ফারাজ নাসর বিন আলী আল-হুসারি আল-বাগদাদি, যিনি বুরহান নামে পরিচিত ছিলেন; তিনি আবু আল-ফাতহ আব্দুল বাকি বিন আহমদ আল-হানাফি (যিনি ইবনুল বাত্তি নামে পরিচিত)-এর বর্ণনা সূত্রে আল-হুমাইদি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وأرويه عن والدي الإمام الحافظ أبي اسحاق برهان الدين إبراهيم بن عمر العلوي الحنفي إجازة منه لي في سنة 752 قال: أنا الإمام أحمد بن أبي الخير بسنده قال والدي رحمه الله. وأخبرنا الإمام الحافظ أبو الحجاج يوسف بن عبد الرحمن المِزي، والشيخ الإمام شمس الدين محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي وغيرهما، قالا: أخبرنا الشيخُ المسندُ علي بن أحمد البخاري، عن الإمام أبي محمد بن أبي بكر بن أبي القاسم بروايته عن الإمام الحافظ أبي القاسم إسماعيل بن أحمد بن عمر السمرقندي بروايته عن المصنف الحميدي.

وأرويه عن والدي، عن الذهبي قال: قرأته على أبي الفهم بن أحمد السلمي قال: أنا أبو محمد بن قُدَامَة (ح) قال الذهبي: وقرأت على أبي سعيد الحلبي، عن عبد اللطيف بن يوسف قالا: أنا أبو الفتح محمد ابن عبد الباقي عن الحميدي. وأجزته وصاحبَه جميعَ رواية صحيح الإمام الحافظ، المجتهد المقلِّد، المتبع لكتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بالجامع الصحيح المسند من أمور سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وأيامه ومغازيه أبي عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبه البخاري الجُعْفي رحمه الله تعالى، وأخبرته أني قرأته جميعاً على الشيخ الصالح العابد الناسك شرف الدين أبي عمران موسى بن مُرّ بن رماح الغزولي الحنفي الدمشقي الزُبَيْدي منسوب إلى القبيلة المعروفة رحمه الله، وقد قَدِمَ علينا ديارنا إلى تعز المحروس من البلاد اليمنية في خامس ربيع الأول سنة 795 وتم ذلك في ثلاثة وعشرين مجلساً آخرُها يوم الخميس ثاني وعشرين شهر ربيع الأول من السنة المذكورة، ومولده في سنة 741 وتوفي عندنا في تعز المحروس في المدرسة المجاهدية في ليلة الأحد من شهر جمادى الأولى سنة 795 وكأنه لم يصل إلينا إلا لنأخذ طريقَ
আমি এটি বর্ণনা করছি আমার পিতা, ইমাম, হাফিজ আবু ইসহাক বুরহান উদ্দিন ইব্রাহিম বিন উমর আল-আলাভি আল-হানাফি থেকে, ৭৫২ হিজরি সালে তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে প্রদত্ত অনুমতির (ইজাযাহ) মাধ্যমে। তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন ইমাম আহমদ বিন আবিল খায়ের তাঁর সনদের মাধ্যমে। আমার পিতা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম, হাফিজ আবু হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আবদুর রহমান আল-মিজ্জি এবং শেখ ইমাম শামস উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আজ-জাহাবি ও অন্যান্যরা। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শেখ আল-মুসনিদ আলি বিন আহমদ আল-বুখারি, ইমাম আবু মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আবিল কাসিম থেকে, যিনি বর্ণনা করেছেন ইমাম, হাফিজ আবু কাসিম ইসমাইল বিন আহমদ বিন উমর আস-সামারকান্দি থেকে, আর তিনি মূল গ্রন্থকার আল-হুমাইদি থেকে।

আমি এটি বর্ণনা করছি আমার পিতা থেকে, তিনি জাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন। জাহাবি বলেছেন: আমি এটি আবু ফাহম বিন আহমদ আস-সুলামির নিকট পড়েছি। তিনি বলেছেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন কুদামা। (হ) জাহাবি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-হালাবির নিকট পড়েছি, তিনি আবদুল লতিফ বিন ইউসুফ থেকে। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ফাতহ মুহাম্মদ ইবন আবদিল বাকি, তিনি হুমাইদি থেকে। আর আমি তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গীকে ইমাম, হাফিজ, মুজতাহিদ এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর অনুসারী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুগিরা বিন বারদিজবাহ আল-বুখারি আল-জু’ফি (রহমাতুল্লাহি তা’আলা)-এর বর্ণনাকৃত আমাদের নেতা আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কার্যাবলি, তাঁর দিনলিপি এবং যুদ্ধাভিযান সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ ও বিশুদ্ধ সংকলনের (সহিহ বুখারি) সমস্ত বর্ণনার অনুমতি প্রদান করলাম। আমি তাঁকে সংবাদ দিয়েছি যে, আমি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে পড়েছি নেককার, ইবাদতগুজার ও পরহেজগার শেখ শরাফ উদ্দিন আবু ইমরান মুসা বিন মুর বিন রামাহ আল-গাজুলি আল-হানাফি আদ-দিমাশকি আজ-জুবাইদি (বিখ্যাত গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত, রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট। তিনি আমাদের দেশ ইয়েমেনের সংরক্ষিত শহর তা’ইজ-এ ৭৯৫ হিজরি সালের ৫ই রবিউল আউয়াল আগমন করেছিলেন এবং তেইশটি মজলিসে এটি সম্পন্ন হয়েছিল, যার শেষটি ছিল উল্লেখিত বছরের ২২শে রবিউল আউয়াল, বৃহস্পতিবার। তাঁর জন্ম ৭৪১ হিজরি সালে এবং তিনি আমাদের নিকট সংরক্ষিত তা’ইজ শহরের মাদরাসা আল-মুজাহিদিয়ায় ৭৯৫ হিজরি সালের জমাদিউল উলা মাসের রবিবার রাতে ইন্তেকাল করেন। মনে হচ্ছিল তিনি যেন আমাদের নিকট কেবল আমাদের এই সনদ গ্রহণের সুযোগ করে দিতেই পৌঁছেছিলেন।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
الحجاز عنه محققة فلله الحمد. ووالدي رحمه الله وآخرون قالوا: أخبرنا بالجامع الصحيح المذكور الذي هو أصح الكُتُبِ بعدَ القرآن العزيز عند جماهير العلماء الشيخ الصالحُ الكبيرُ ملحق الأصاغر بالأكابر والأحفاد بالأجداد بعد أن استدعي به إلى مدينة دمشق المحروسة أبو العباس أحمد ابن أبي طالب نعمة بن أبي النِعَم بن علي بن حسن بن بيان عُرف بابن الشِّحِنة الحجار وهو المُعَمّرُ الذي أجمع علماءُ مصر والشام على الأخذ عنه لقرب سنده، وعلوِّ مشايخه، ومولده سنة 624، وفاته في خامس وعشرين صفر من سنة 730 وبلغ عمره 106 رحمه الله تعالى، قال: أنا الشيخ الصالح الحسين بن المبارك بن عمران بن المُسلم الزَبيدي بفتح الزاي، ومات في صفر سنة 631، ومولده في سنة 545، قال: أنا الشيخ الصالح أبو الوقت عبد الأول بن علي بن شعيب الصوفي الهروي السِّجزي ولد في سابع ذي القعدة في سنة 458 وماتت في ذي القعدة سنة 553 قال: أنا الشيخ الفقيه أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد بن المظفر بن محمد بن داود بن أحمد بن معاذ بن سهل بن الحكم الداوودي الشافعي، ولد في شهر ربيع الآخر سنة 364. ومات في شوال سنة 469 قال: أخبرنا الشيخ أبو محمد عبد الله بن أحمد بن حمويه الحموي السرخَسِي، ومولده في سنة 293 ومات في ذي القعدة (1) لليلتين بقيتا منه سنة 381 قال: أنا الشيخ الصالح محمد بن يوسف بن مطر الفربري بفَربرْ، وولد في سنة 231 ومات سنة 320 قال: أنا الشيخ الإمامُ الحافظُ أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبه البخاري الجُعفي مولاهم، ومولده بعد صلاة الجمعة لثلاث عشرة خلت من شوال سنة 194، وتوفي

--------------------------------------------

(1) كذا الأصل وفي سير أعلام النبلاء 16/ 493: ذي الحجة.
হিজাজ থেকে তার বর্ণনা সুনিশ্চিত, তাই আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা। আমার পিতা (আল্লাহ তাকে রহম করুন) এবং অন্যরা বলেছেন: জমহুর ওলামাদের নিকট মহিমান্বিত কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব হিসেবে পরিচিত উক্ত জামে সহীহ সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান নেককার শাইখ, যিনি ছোটদের বড়দের সাথে এবং নাতিদের দাদাদের সাথে (সনদগতভাবে) সংযুক্তকারী, যাকে সুরক্ষিত দামেস্ক শহরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তিনি হলেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবি তালিব নি'মাহ ইবনে আবিন নি'আম ইবনে আলী ইবনে হাসান ইবনে বায়ান, যিনি ইবনেশ শিহনা আল-হাজ্জার নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন দীর্ঘজীবী, যার সনদের নৈকট্য এবং উস্তাদদের উচ্চমর্যাদার কারণে তার থেকে হাদীস গ্রহণের ব্যাপারে মিশরের এবং সিরিয়ার ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তার জন্ম ৬২৪ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৭৩০ হিজরির ২৫ শে সফর। তার বয়স ১০৬ বছর পূর্ণ হয়েছিল, আল্লাহ তাআলা তাকে রহম করুন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শাইখ হুসাইন ইবনুল মুবারক ইবনে ইমরান ইবনুল মুসলিম আজ-জাবাইদি (যাই বর্ণে ফাতহা সহ), তিনি ৬৩১ হিজরির সফর মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তার জন্ম ৫৪৫ হিজরিতে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শাইখ আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আওয়াল ইবনে আলী ইবনে শুআইব আস-সুফি আল-হারাউয়ি আস-সিজজি, তিনি ৪৫৮ হিজরির ৭ই জিলকদ জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৫৩ হিজরির জিলকদ মাসে ইন্তেকাল করেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ফকীহ আবুল হাসান আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ ইবনে আহমদ ইবনে মুয়ায ইবনে সাহল ইবনুল হাকাম আদ-দাউদি আশ-শাফিয়ি, তিনি ৩৬৪ হিজরির রবিউস সানি মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৬৯ হিজরির শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হামুওয়াইহ আল-হামুয়ি আস-সারখাসি, তার জন্ম ২৯৩ হিজরিতে এবং তিনি ৩৮১ হিজরির জিলকদ মাস শেষ হতে (১) দুই রাত বাকি থাকতে ইন্তেকাল করেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শাইখ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার আল-ফিরাবরি, ফিরাবর নামক স্থানে; তিনি ২৩১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনুল মুগিরা ইবনে বারদিযবাহ আল-বুখারি আল-জু’ফি (তাদের মুক্তদাস), তার জন্ম ১৯৪ হিজরির শাওয়াল মাসের তেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার নামাজের পরে, এবং তিনি ইন্তেকাল করেন...

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে এভাবেই আছে, তবে সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৬/৪৯৩-এ আছে: জিলহজ মাস।
(খণ্ড: ١) আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ফীয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
في ليلة السبت هي ليلة الفطر بعدَ صلاة العشاء وذلك سنة 256.

قلت: فبيني وبين البخاري سبعة رجال وللمجاز له ثمانية رجال، وهذا غايةُ العلو في وقتنا، قال مشايخنا: ليس على وجه الأرض أعلى من هذا السند، وإنما كان كذلك، لأن كلاً من المشايخ عُمر مائة أو قريباً منها أو زيادة عليها.

قلتُ (1): هو كما قال النفيسُ العلوي فإني قد وقفت على إجازه الفقيه العالم المحدث شهاب الدين أحمد بن سليمان الأوزري الصَعدي للإمام الأعظم أمير المؤمنين الناصر لدين الله محمد بن علي بن محمد بن علي ابن منصور بن يحيى بن منصور بن المفضَّل كتب الحديث فوجدتُ هذه الإجازة أعلى إسناداً وأقدم ميلاداً، فإن بينَ الفقيه الأوزري وبين البخاري أحدَ عشرَ رجلاً، وللمجاز له اثنى عشر رجلاً، وطريق الفقيه أحمد الأوزري -نفع الله به- طريق الفقهاء بني مُطَيْر، وقد حققتُ ذلك، فوجدته كذلك، وكذلك وقفت على إجازة الأوزري رحمه الله لحي السيد العلامة جمال الدين علي بن محمد بن أبي القاسم الهادوي رحمه الله تعالى، فوجدتُ بينَ الفقيه الأوزري وبين البخاري أحد عشر رجلاً، وبين المجاز له وبين البخاري اثني عشر رجلاً وهذا سندٌ صحيح منه إلى البخاري والله أعلم.

قال: ولي في الحجاز مشايخ كثيرون.

وأجزته أيضاً رواية صحيح مسلم بن الحجّاج بن مسلم بن الورد ابن شاهنشاه القشيري، ورواية سنن الإمام أبي داود سليمان بن الأشعث السِّجستاني، ورواية جامع الإمام أبي عيسى بن محمد بن عيسى بن سورة

--------------------------------------------

(1) القائل هو محمد بن عبد الله بن الهادي الوزير.
২৫৬ হিজরি সনের ঈদুল ফিতরের রাতে, শনিবার রাতে, এশার সালাতের পর।

আমি বললাম: সুতরাং আমার এবং বুখারীর মাঝে সাতজন ব্যক্তি রয়েছেন এবং যাকে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে তার মাঝে আটজন ব্যক্তি রয়েছেন। এটি আমাদের সময়ে সনদের উচ্চমার্গের চূড়ান্ত পর্যায়। আমাদের শায়খগণ বলেছেন: পৃথিবীর বুকে এর চেয়ে উচ্চতর কোনো সনদ নেই। আর এটি কেবল এজন্যই হয়েছে যে, শায়খদের প্রত্যেকেই একশ বছর বা তার কাছাকাছি অথবা তার চেয়েও বেশি বয়স লাভ করেছিলেন।

আমি বললাম (১): নাফীস আল-আলাওয়ী যা বলেছেন বিষয়টি তেমনই। কারণ আমি ফকীহ, আলিম, মুহাদ্দিস শিহাব উদ্দিন আহমাদ বিন সুলাইমান আল-আওযারি আস-সাদি কর্তৃক হাদীসের কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে ইমামে আযম, আমীরুল মুমিনীন আন-নাসির লি-দীনিল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মানসুর বিন ইয়াহইয়া বিন মানসুর বিন আল-মুফাযযালকে প্রদানকৃত অনুমতির (ইজাযাহ) ওপর অবগত হয়েছি। আমি এই অনুমতিপত্রটিকে অধিকতর উচ্চতর সনদ এবং প্রাচীনতর সময়কালের হিসেবে পেয়েছি। কেননা ফকীহ আওযারি এবং বুখারীর মাঝে এগারোজন ব্যক্তি রয়েছেন এবং যাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে তার মাঝে বারোজন ব্যক্তি রয়েছেন। আর ফকীহ আহমাদ আওযারির—আল্লাহ তাকে দিয়ে উপকৃত করুন—সূত্রটি হলো বনু মুতাইর ফকীহদের সূত্র। আমি বিষয়টি যাচাই করেছি এবং তা এমনই পেয়েছি। একইভাবে আমি আওযারি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)-এর অনুমতির ওপর অবগত হয়েছি যা জীবিত সাইয়্যেদ আল্লামা জামাল উদ্দিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আবিল কাসিম আল-হাদাবী (আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন)-এর প্রতি ছিল। সেখানেও আমি ফকীহ আওযারি এবং বুখারীর মাঝে এগারোজন ব্যক্তি এবং যাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে তার এবং বুখারীর মাঝে বারোজন ব্যক্তি পেয়েছি। এটি তার পক্ষ থেকে বুখারী পর্যন্ত একটি সহীহ সনদ। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

তিনি বললেন: হিজাজে আমার অনেক শায়খ রয়েছেন।

আমি তাকে মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মুসলিম বিন আল-ওয়ার্দ বিন শাহানশাহ আল-কুশাইরীর সহীহ মুসলিম বর্ণনার, ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানির সুনান বর্ণনার এবং ইমাম আবু ঈসা বিন মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ-এর জামি' বর্ণনারও অনুমতি প্রদান করলাম।

--------------------------------------------

(১) বক্তা হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাদী আল-ওয়াযীর।